(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: -)
زكاة الخارج من الأرض القسم: مسائل فقهية
الكتاب: زكاة الخارج من الأرض الحبوب، والثمار، والمعدن، والركاز في ضوء الكتاب والسنة - مفهوم، وشروط، وضوابط، وأحكام، ومسائل
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 30
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসলের জাকাত বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ভূমি থেকে উৎপাদিত শস্যদানা, ফলমূল, খনিজ, এবং গুপ্তধনের জাকাত - ধারণা, শর্তাবলী, নীতিমালা, বিধিবিধান, এবং মাসআলাসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০
[গ্রন্থটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-কাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: -)
45
رسائل سعيد بن علي بن وهف القحطاني
زكاة الخارج من الأرض
الحبوب، والثمار، والمعدن، والركاز
في ضوء الكتاب والسنة
تأليف الفقير إلى الله تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
45
সাইদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানির রিসালাহসমূহ
ভূম্যুৎপন্ন ফসলের জাকাত
শস্য, ফলমূল, খনিজ এবং প্রোথিত সম্পদ (ركاز)
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত
ড. সাইদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في ((زكاة الخارج من الأرض)) من الحبوب، والثمار، والمعدن، والركاز، وهي من نعم الله على عباده: أنعم بها عليهم؛ ليعبدوه ولا يشركوا به شيئاً، بيّنت فيها بإيجاز: وجوب زكاة الحبوب والثمار: بالكتاب، والسُّنَّة، والإجماع، وذكرت شروط وجوب الزكاة فيها بالأدلة، وأن الثمار يضم بعضها إلى الآخر في تكميل النصاب، وكذلك الحبوب، وأن الزكاة تجب إذا اشتد الحب وبدا صلاح الثمر، ولكن لا يستقر الوجوب حتى تصير الثمرة في الجرين، والحَبّ في البيدر، وبيّنت قدر الزكاة، وأحكام خرص الثمار، وغير ذلك من المسائل في هذا الموضوع، وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز ابن باز رحمه الله.
واللهَ أسألُ أن يجعل هذا العمل مباركاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি শস্য, ফলমূল, খনিজ এবং ভূগর্ভস্থ গুপ্তধন তথা ‘ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসলের জাকাত’ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এটি বান্দাদের ওপর আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত; তিনি তাদের এগুলো দান করেছেন যাতে তারা তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে। আমি এতে সংক্ষেপে কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার আলোকে শস্য ও ফলমূলের জাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছি। আমি এতে দলীলসহ জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি উল্লেখ করেছি এবং এটিও উল্লেখ করেছি যে, নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে এক ফলকে অন্য ফলের সাথে এবং একইভাবে এক শস্যকে অন্য শস্যের সাথে যুক্ত করা হবে। শস্য যখন শক্ত হয় এবং ফল যখন পরিপক্ক হতে শুরু করে তখন জাকাত ওয়াজিব হয়, তবে এই ওয়াজিব হওয়া ততক্ষণ পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না যতক্ষণ না ফল শুকানোর স্থানে এবং শস্য মাড়াইয়ের খামারে পৌঁছায়। আমি জাকাতের পরিমাণ, ফল পরিমাপের বিধান এবং এই বিষয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাসআলাসমূহ বর্ণনা করেছি। আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ থেকে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে বরকতময় ও একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে এর দ্বারা আমাকে উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং মহান আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই...
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف أبو عبد الرحمن
حرر صباح الأربعاء 13/ 2/1426هـ
...মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি নেই। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসুল, তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মনোনীত ব্যক্তি, আমাদের নবি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
লেখক আবু আব্দুর রহমান
লিপিবদ্ধ হয়েছে বুধবার সকালে, ১৩/০২/১৪২৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
زكاة الحبوب، والثمار، والركاز، والمعدن
أولاً: زكاة الحبوب والثمار واجبة: بالكتاب، والسنة، والإجماع:
أما الكتاب؛ فلقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ} (1)؛ ولقوله تعالى: {وَآَتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} (2)، قال ابن عباس رضي الله عنهما: ((حقّه الزّكاة المفروضة))، وقال مرّة: ((العشر، ونصف العشر)) (3).
وأمّا السُّنَّة؛ فلحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((فيما سقتِ السّماءُ والعيون، أو كان عَثَريّاً (4): العشرُ، وما سُقيَ بالنضح (5): نصف العشر)) (6)؛ ولحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((فيما سقت الأنهارُ والغيمُ: العشورُ، وفيما سُقي بالسانية (7): نصف العشر)) (8) ولفظ حديث ابن عمر رضي الله عنهما عند النسائي وأبي داود: ((فيما سقت السماء والأنهار، والعيون، - أو كان
--------------------------------------------
শস্য, ফলমূল, রিকাজ (الركاز) এবং খনিজ সম্পদের জাকাত
প্রথমত: শস্য ও ফলমূলের জাকাত ওয়াজিব (واجبة): কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার (إجماع) মাধ্যমে:
কুরআন থেকে দলীল; আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করো এবং আমি তোমাদের জন্য যা ভূমি থেকে উৎপন্ন করি, তা থেকে উৎকৃষ্ট অংশ ব্যয় করো} (১); এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {ফসল কাটার দিনে তার হক আদায় করো} (২), ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: ((এর হক হলো নির্ধারিত ফরজ (المفروضة) জাকাত)), এবং তিনি অন্য এক বর্ণনায় বলেছেন: ((উশর (العشر) এবং নিসফ-উশর (نصف العشر))) (৩)।
সুন্নাহ থেকে দলীল; আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যা আকাশ ও ঝরনা দ্বারা সিক্ত হয় অথবা যা আছারি (عثريّاً) (৪) হয় তাতে উশর (العشر), আর যা সেচের (النضح) (৫) মাধ্যমে সিক্ত করা হয় তাতে নিসফ-উশর (نصف العشر))) (৬); এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: ((যা নদী ও মেঘমালা দ্বারা সিক্ত হয় তাতে উশর (العشر), আর যা সানিয়াহর (السانية) (৭) মাধ্যমে সিক্ত করা হয় তাতে নিসফ-উশর (نصف العشر))) (৮) এবং নাসাঈ ও আবু দাউদের বর্ণনায় ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের শব্দ হলো: ((যা আকাশ, নদী ও ঝরনা দ্বারা সিক্ত হয় অথবা যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بعلاً (1) -: العشر، وفيما سُقِيَ بالسواني أو النضح: نصف العشر)) (2)؛ ولحديث معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: ((بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن فأمرني أن آخذ مما سقتِ السماء: العشر، وفيما سقي بالدوالي (3): نصف العشر)) (4).
وأما الإجماع: فأجمع العلماء على أن الصدقة واجبة: في الحنطة، والشعير، والزبيب، والتمر، قاله ابن المنذر، وابن عبد البر (5).
ثانياً: شروط وجوب الزكاة في الحبوب والثمار
الشرط الأول: أن يكون حبّاً أو ثمراً؛ لحديث أبي سعيد رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((ليس في حَبٍّ ولا تمرٍ صدقة حتى يبلغ خمسة أوسقٍ، ولا فيما دون خمس ذودٍ صدقة، ولا فيما دون خمس أواق صدقة)) وفي رواية لمسلم: ((
… ليس في حبٍّ ولا ثمرٍ صدقة حتى يبلغ خمسة أوسق
… )) (6) وهذا يدل على وجوب الزكاة في الحب والثمر وانتفائها عن غيرها (7).
--------------------------------------------
বাল (البعل) (১) -: এক-দশমাংশ, এবং যা সওয়ানি (পানি বহনকারী উট) বা নাদহ (সেচ যন্ত্র) দ্বারা সেচ দেওয়া হয় তাতে: এক-দশমাংশের অর্ধেক (২); এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন এবং নির্দেশ দেন যেন আমি আসমানের বৃষ্টির পানিতে সিক্ত ফসলে এক-দশমাংশ গ্রহণ করি, আর যা দালিয়া (৩) (সেচযন্ত্র) দ্বারা সেচ দেওয়া হয়েছে তাতে এক-দশমাংশের অর্ধেক গ্রহণ করি)) (৪)।
আর ইজমা (إجماع): আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, গম, যব, কিসমিস এবং খেজুরের ক্ষেত্রে যাকাত ওয়াজিব। ইবনে মুনজির এবং ইবনে আব্দুল বার এটি উল্লেখ করেছেন (৫)।
দ্বিতীয়ত: দানাশস্য ও ফলমূলের যাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ
প্রথম শর্ত: তা দানাশস্য বা ফলমূল হওয়া; আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((দানাশস্য বা খেজুরে কোনো সদকা নেই যতক্ষণ না তা পাঁচ ওসাক পর্যন্ত পৌঁছায়, পাঁচটি উটের কম পরিমাণে কোনো সদকা নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে কোনো সদকা নেই)) এবং সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় রয়েছে: (( … দানাশস্য বা ফলে কোনো সদকা নেই যতক্ষণ না তা পাঁচ ওসাক পর্যন্ত পৌঁছায় … )) (৬) এটি দানাশস্য ও ফলে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার এবং এ ছাড়া অন্য কিছুর ক্ষেত্রে যাকাত না থাকার প্রমাণ বহন করে (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الشرط الثاني: أن يكون مكيلاً؛ لتقديره بالأوسق، وهي مكاييل، فيدل ذلك على اعتبارها (1).
الشرط الثالث: أن يكون مما يُدَّخر؛ لأن جميع ما اتفق على زكاته مدخر؛ ولأن غير المدخر لا تكمل ماليته؛ لعدم التمكن من الانتفاع به في المال، فتجب الزكاة في جميع الحبوب والثمار المكيلة التي تدخر: مثل: الحنطة، والشعير، والتمر، والزبيب، وغيرها من كل حبٍّ أو ثمرٍ يكال ويدخر (2). (3)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় শর্ত: তা পরিমাপযোগ্য (مكيل) হওয়া; কারণ একে আওসুক (أوسق) দ্বারা পরিমাপ করা হয়, যা এক প্রকার পরিমাপক পাত্র, আর এটি এই শর্তের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয় (১)।
তৃতীয় শর্ত: তা সংরক্ষণযোগ্য (مدخر) হওয়া; কারণ যে সকল বস্তুর জাকাত প্রদানের বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেগুলো সংরক্ষণযোগ্য; আর যেহেতু যা সংরক্ষণযোগ্য নয় তার পূর্ণ সম্পদমূল্য অর্জিত হয় না; কারণ সেই সম্পদ থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা লাভ করা সম্ভব নয়। অতএব, পরিমাপযোগ্য (مكيل) এবং সংরক্ষণযোগ্য (مدخر) এমন সকল শস্য ও ফলের জাকাত ওয়াজিব হবে: যেমন: গম, যব, খেজুর, কিসমিস এবং অন্যান্য সকল শস্য বা ফল যা পরিমাপ করা হয় এবং সংরক্ষণ করা হয় (২)। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الشرط الرابع: أن ينبت بإنبات الآدمي في أرضه: فأما النابت بنفسه فلا زكاة فيه؛ لأنه إنما يملك بحيازته، والزكاة إنما تجب ببدو الصلاح، ولم
চতুর্থ শর্ত (الشرط): মানুষের আবাদের ফলে তার জমিতে যা উৎপন্ন হয়: তবে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎপন্ন হয় তাতে কোনো জাকাত নেই; কারণ এটি কেবল হস্তগত করার মাধ্যমেই মালিকানাভুক্ত হয়, আর জাকাত কেবল পরিপক্কতা প্রকাশ (بدو الصلاح) পাওয়ার মাধ্যমেই আবশ্যক হয় (تجب), এবং...
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
يكن ملكاً له حينئذٍ فلم تجب زكاته (1) وعبّر البعض عن هذا الشرط بقوله: ((ويعتبر أن يكون النصاب مملوكاً له وقت وجوب الزكاة)) (2).
الشرط الخامس: أن يبلغ نصاباً قدره خمسة أوسق؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((ليس فيما دون خمسة أوسق صدقة
… )) (3).
والوسق ستون صاعاً (4)، والصاع أربعة أمداد، والمد ملء كفي الرجل المعتدل، فيكون الصاع أربع حفنات بكفي الرجل المعتدل (5). وتعتبر خمسة الأوسق بعد التصفية في الحبوب والجفاف في الثمر (6).
وذكر الزركشي رحمه الله شروطاً قريباً من هذه الشروط، فقال: ((يشترط في وجوب الزكاة في الخارج من الأرض شروط:
أحدها: أن يكون مما ييبس فلا تجب في الخضراوات.
الشرط الثاني: أن يكون مما يبقى - أي يدخر عادة - فلا تجب في التين ونحوه (7).
--------------------------------------------
তখন এটি তার মালিকানাধীন ছিল না, তাই এর ওপর জাকাত ওয়াজিব হয়নি (১)। কেউ কেউ এই শর্তটি এভাবে ব্যক্ত করেছেন: "জাকাত ওয়াজিব হওয়ার সময় নিসাব পরিমাণ সম্পদ ব্যক্তির মালিকানায় থাকা আবশ্যক বিবেচিত হবে" (২)।
পঞ্চম শর্ত: নিসাব অর্থাৎ পাঁচ ওয়াসাক পরিমাণ হওয়া; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণে কোনো সদকা নেই..." (৩)।
আর এক ওয়াসাক হলো ষাট সা', এক সা' হলো চার মুদ, আর এক মুদ হলো একজন সাধারণ মানুষের দুই হাতের পূর্ণ অঞ্জলি; সুতরাং এক সা' হলো একজন সাধারণ মানুষের দুই হাতের চার অঞ্জলি পরিমাণ (৫)। শস্যের ক্ষেত্রে মাড়াই করার পর এবং ফলের ক্ষেত্রে শুকানোর পর পাঁচ ওয়াসাক হিসাব করা হবে (৬)।
ইমাম যারকাশী (রহিমাহুল্লাহ) এই শর্তগুলোর কাছাকাছি কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসলের জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে:
প্রথমত: তা শুকানো যায় এমন হতে হবে; সুতরাং শাকসবজির ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়।
দ্বিতীয় শর্ত: তা দীর্ঘস্থায়ী বা সংরক্ষণযোগ্য হতে হবে - অর্থাৎ যা সাধারণত গুদামজাত করা যায় - সুতরাং ডুমুর বা এই জাতীয় ফলের ওপর জাকাত ওয়াজিব নয় (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الشرط الثالث: أن يكون مما يكال، فلا تجب في الجزر
… والتين
… ونحوها.
الشرط الرابع: أن يبلغ خمسة أوسق)) (1) والله تعالى أعلم (2).
ثالثاً: تضم ثمرة العام الواحد لبعضها في تكميل النصاب:فالتمر أنواع كثيرة يضم بعضها إلى بعض في تكميل النصاب، فمثلاً: السكري، والبرحي، والخلاص، وغير هذه الأنواع يضم بعضها إلى بعضٍ في تكميل النصاب.
وكذلك الزبيب أنواع يضم بعضها إلى بعض في تكميل النصاب. ولا يضم الجنس إلى جنس آخر: فلا يضم التمر إلى الزبيب ولا الزبيب إلى التمر في تكميل النصاب؛ لاختلاف الجنس؛ وإنما يضم أنواع الجنس الواحد إلى بعضه في تكميل النصاب.
--------------------------------------------
তৃতীয় শর্ত: এটি পরিমাপযোগ্য (مما يكال) হতে হবে, সুতরাং গাজর
… ডুমুর
… এবং এই জাতীয় ফসলের ওপর যাকাত ওয়াজিব নয়।
চতুর্থ শর্ত: এটি পাঁচ ওয়াসাক (خمسة أوسق) পরিমাণ হতে হবে)) (১) আর মহান আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন (২)।
তৃতীয়ত: নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে একই বছরের ফলসমূহকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা হবে:খেজুরের অনেক প্রকার রয়েছে, নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে এগুলোর একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা হবে। উদাহরণস্বরূপ: সুক্কারী, বারহী, খালাস এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রকারগুলো নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে যুক্ত করা হবে।
অনুরূপভাবে কিসমিসেরও বিভিন্ন প্রকার রয়েছে যা নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে যুক্ত করা হবে। তবে এক জাতীয় বস্তুকে অন্য জাতীয় বস্তুর সাথে যুক্ত করা হবে না: যেমন নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে খেজুরকে কিসমিসের সাথে কিংবা কিসমিসকে খেজুরের সাথে যুক্ত করা হবে না; কারণ তাদের মধ্যে জাতীয় ভিন্নতা (اختلاف الجنس) রয়েছে। বরং নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার জন্য কেবল একই জাতীয় ফসলের বিভিন্ন প্রকারকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وكذلك ما يحمل في السنة الواحدة حملين يضم كل نوع إلى جنسه من الثمرة (1).
وتضم أنواع الحبوب إلى بعضها من كل جنس، فجنس الحنطة أنواع يضم بعضها إلى بعض، والشعير أنواع يضم بعضها إلى بعض، وهكذا لو جذّ الزرع ثم ظهر زرع آخر في نفس العام ضم بعضه إلى بعض في تكميل النصاب، ولا يضم الجنس إلى جنس آخر، فلا يضم البر إلى الشعير، ولا الذرة إلى الشعير؛ لاختلاف الأجناس: وكذلك إذا كان للرجل بساتين في أماكن مختلفة، فإنه يضم بعضها إلى بعض في تكميل النصاب (2).
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে, যা এক বছরে দুইবার ফল দেয়, তার প্রতিটি প্রকারকে ফলের একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হবে (১)।
এবং প্রতিটি শ্রেণি থেকে শস্যের প্রকারগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা হবে। যেমন—গমের বিভিন্ন প্রকারকে একত্রে যুক্ত করা হবে, এবং বার্লির বিভিন্ন প্রকারকে একত্রে যুক্ত করা হবে। একইভাবে, যদি ফসল কাটার পর একই বছরে পুনরায় অন্য ফসল উৎপাদিত হয়, তবে নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা হবে। কিন্তু এক শ্রেণিকে অন্য শ্রেণির সাথে যুক্ত করা হবে না। ফলে গমকে বার্লির সাথে বা ভুট্টাকে বার্লির সাথে যুক্ত করা হবে না; কারণ এগুলোর শ্রেণি ভিন্ন। অনুরূপভাবে, যদি কোনো ব্যক্তির বিভিন্ন স্থানে বাগান থাকে, তবে নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সেগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা হবে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
رابعاً: تجب الزكاة في الحبوب والثمار:إذا اشتد الحبُّ فصار قويّاً لا ينضغط إذا ضُغِطَ، وجبت الزكاة فيه. وإذا بدا صلاح الثمر: فاحمرَّ أو اصفرَّ في ثمر النخيل، وفي العنب: أن يموّه حلواً: أي بدلاً من أن يكون قاسياً يكون ليناً متموِّهاً وبدلاً من أن يكون حامضاً يكون حلواً. فإذا اشتدَّ الحبّ وبدا صلاح الثمر وجبت الزكاة، وقد ثبت تفسير بدوِّ الصلاح عن النبي صلى الله عليه وسلم من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: أنه: نَهَى عن بيع الثمار حتى تُزهي. قيل: وما زَهْوَها؟ قال: ((تَحْمَارُّ وتصفارُّ)) (1) وعنه رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم ((نَهى عن بيع العنب حتى يسودَّ، وعن بيع الحبِّ حتى يشتدَّ)) (2)، وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال:
((نَهَى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الثمار حتى يبدُوَ صلاحها، نهى البائع والمبتاع)). وفي لفظ للبخاري: كان إذا سُئل عن صلاحها قال:
((حتى تذهب عاهتها)) (3).
--------------------------------------------
চতুর্থত: শস্য ও ফলের জাকাত ওয়াজিব হওয়া:যখন শস্যদানা শক্ত হয়ে যায় এবং এমন মজবুত হয় যে তাতে চাপ দিলে আর সংকুচিত হয় না, তখন তাতে জাকাত ওয়াজিব হয়। আর যখন ফলের পরিপক্বতা প্রকাশ পায়: যেমন খেজুরের ক্ষেত্রে তা লাল বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা, এবং আঙুরের ক্ষেত্রে: তা মিষ্টি ও রসাল হওয়া—অর্থাৎ শক্ত থাকার পরিবর্তে নরম ও রসাল হওয়া এবং টক হওয়ার পরিবর্তে মিষ্টি হওয়া। সুতরাং যখন শস্যদানা শক্ত হয় এবং ফলের পরিপক্বতা প্রকাশ পায় তখন জাকাত ওয়াজিব হয়। ফলের পরিপক্বতা প্রকাশের ব্যাখ্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: ফল পরিপক্ব (রঙিন) হওয়ার পূর্বে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: তার পরিপক্বতা (রঙিন হওয়া) কী? তিনি বললেন: ((তা লাল বা হলুদ হওয়া)) (১)। তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ((আঙুর কালো না হওয়া পর্যন্ত এবং শস্যদানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন)) (২)। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের পরিপক্বতা প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন; তিনি বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন))। বুখারি-এর এক শব্দে বর্ণিত আছে: যখন তাঁকে ফলের পরিপক্বতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি বলতেন:
((যতক্ষণ না এর রোগ-বালাই দূর হয়)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإذا بدا صلاح الثمرة، واشتدّ الحبّ، وجبت الزّكاة في الحبوب والثمار (1) وفائدة ذلك: أن المالك لو تصرف في الثمرة أو الحب قبل الوجوب لا شيء عليه؛ لأنه تصرف قبل الوجوب، فأشبه ما لو أكل السائمة أو باعها قبل الحول، إلا أن يقصد الفرار من الزكاة فتجب عليه، وإن تصرف فيها بعد الوجوب لم تسقط الزكاة عنه، كما لو فعل ذلك في السائمة بعد اكتمال الحول، ولا يستقر الوجوب حتى تصير الثمرة في الجرين والزرع في البيدر، ولو تلف قبل ذلك بغير إتلافه أو تفريط منه فيه فلا زكاة عليه، سواء خرصت أو لم تخرص؛ لأنّها في حكم ما لم تثبت اليد عليه، وإن تلفت بعد جعلها في الجرين فحكمها حكم السائمة بعد الحول يضمنها؛ لأنه استقر الوجوب في ذمته فصارت ديناً عليه (2).
وعلى هذا فيكون
للثمر والزرع ثلاثة أحوال:
الحالة الأولى: أن يتلف قبل وجوب الزكاة: أي قبل اشتداد الحبِّ وقبل بدوِّ صلاح الثمر، فهذا لا شيء على المالك مطلقاً سواء تلف: بتعدٍّ أو تفريط أو بغير ذلك، إلا إذا قصد بذلك الفرار من الزكاة.
الحالة الثانية: أن يتلف بعد الوجوب: أي بعد اشتداد الحبِّ وبدوِّ
--------------------------------------------
যখন ফলের পরিপক্কতা প্রকাশ (بدو صلاح) পাবে এবং শস্যদানা শক্ত (اشتداد الحب) হবে, তখন শস্য ও ফলের ক্ষেত্রে জাকাত আবশ্যক (وجوب) হবে (১)। এর উপকারিতা হলো: মালিক যদি জাকাত আবশ্যক (وجوب) হওয়ার আগে ফল বা শস্যে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করে, তবে তার ওপর কোনো দায় থাকবে না; কারণ সে আবশ্যকতা (وجوب) তৈরির আগে হস্তক্ষেপ করেছে। ফলে এটি বছর পূর্ণ (الحول) হওয়ার আগে বিচরণশীল গবাদিপশু (السائمة) খাওয়া বা বিক্রি করার সদৃশ হবে। তবে যদি তার উদ্দেশ্য জাকাত ফাঁকি দেওয়া (الفرار من الزكاة) হয়, তবে তার ওপর তা আবশ্যক (وجوب) হবে। আর যদি জাকাত ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার পর সে এতে হস্তক্ষেপ করে, তবে তার ওপর থেকে জাকাত রহিত হবে না; যেমনটি বছর পূর্ণ (الحول) হওয়ার পর বিচরণশীল গবাদিপশুর (السائمة) ক্ষেত্রে করলে হয়। আর এই ওয়াজিব (وجوب) হওয়া ততক্ষণ পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত (استقرار) হয় না যতক্ষণ না ফল শুকানোর স্থানে (الجرين) এবং শস্য মাড়াই করার স্থানে (البيدر) পৌঁছায়। যদি এর আগে তার কোনো বিনষ্টকরণ বা অবহেলা (تفريط) ছাড়াই তা নষ্ট হয়ে যায়, তবে তার ওপর কোনো জাকাত নেই; চাই তা অনুমান করে পরিমাপ (خرص) করা হোক বা না হোক। কারণ এটি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আর যদি শুকানোর স্থানে (الجرين) রাখার পর তা নষ্ট হয়, তবে এর বিধান বছর অতিক্রান্ত (الحول) হওয়ার পর বিচরণশীল গবাদিপশুর (السائمة) বিধানের ন্যায়, যার দায় তাকে গ্রহণ করতে হবে; কারণ তার জিম্মায় এই ওয়াজিব (وجوب) হওয়া সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি তার ওপর ঋণ হিসেবে গণ্য হয়েছে (২)।
আর এই ভিত্তিতে ফল ও শস্যের তিনটি অবস্থা (أحوال) রয়েছে:
প্রথম অবস্থা (الحالة الأولى): জাকাত আবশ্যক (وجوب) হওয়ার আগে নষ্ট হয়ে যাওয়া: অর্থাৎ শস্যদানা শক্ত হওয়ার এবং ফলের পরিপক্কতা প্রকাশ (بدو صلاح) পাওয়ার আগে। এমতাবস্থায় মালিকের ওপর নিরঙ্কুশভাবে কোনো দায় নেই, চাই তা সীমা লঙ্ঘন (تعدٍّ), অবহেলা (تفريط) বা অন্য কোনোভাবে নষ্ট হোক না কেন; তবে যদি এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য জাকাত ফাঁকি দেওয়া (الفرار من الزكاة) হয়।
দ্বিতীয় অবস্থা (الحالة الثانية): ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার পর নষ্ট হওয়া: অর্থাৎ শস্যদানা শক্ত হওয়ার এবং পরিপক্কতা প্রকাশ (بدو صلاح) পাওয়ার পর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صلاح الثمر، لكن لم يجعله في البيدر أو الجرين ففي ذلك تفصيل: إن كان بِتَعَدٍّ من المالك أو تفريط؛ فإنه يضمن الزكاة، وإن كان بلا تعدٍّ ولا تفريط لم يضمن الزكاة.
الحالة الثالثة: أن يتلف بعد جعله في الجرين أو البيدر فتجب عليه الزكاة مطلقاً: سواء فرَّط أو تعدَّ أو لم يفرط ولم يتعدَّ؛ لأن الزكاة استقرت في ذمته فصارت ديناً عليه (1).
قال العلامة ابن عثيمين رحمه الله: ((والصحيح في الحالة الثالثة أنّها لا تجب الزكاة عليه ما لم يتعدَّ أو يفرط؛ لأن المال عنده بعد وضعه في الجرين أمانة؛ فإن تعدّى أو فرط: بأن أَخَّر صرف الزكاة حتى سرق المال أو ما أشبه ذلك فهو ضامن، وإن لم يتعدَّ ولم يفرط وكان مجتهداً في أن يبادر بتخليصه ولكنه تلف مع كمال التحفظ والحراسة فلا يضمن)) (2) والله تعالى أعلم.
خامساً: قدر الزكاة في الحبوب والثمار على النحو الآتي:
1 - يجب العشر فيما سُقي بلا مؤنة: كالزرع الذي يشرب من الأمطار، والأنْهَار، والعيون التي تجري، وما يشرب بعروقه: وهو الذي يزرع ويغرس في أرضٍ ماؤها قريب من وجه الأرض فتصل إليه عروق الشجر فيستغني عن السقي، وكذلك ما كانت عروقه تصل إلى نهر أو ساقية، وكذلك ما يشرب من السيوح - وهي المياه الجارية على وجه
--------------------------------------------
ফল পরিপক্ব হওয়া সত্ত্বেও যদি তা শস্যমাড়াইয়ের স্থানে না রাখা হয়, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ রয়েছে: যদি মালিকের পক্ষ থেকে কোনো সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা থাকে, তবে সে জাকাতের জন্য দায়ী (ضامن) হবে। আর যদি কোনো সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা ছাড়াই তা নষ্ট হয়, তবে সে জাকাতের জন্য দায়ী (ضامن) হবে না।
তৃতীয় অবস্থা: শস্যমাড়াইয়ের স্থানে রাখার পর যদি তা নষ্ট হয়ে যায় তবে তার ওপর জাকাত প্রদান করা নিরঙ্কুশভাবে আবশ্যিক (واجب) হবে: চাই সে অবহেলা বা সীমালঙ্ঘন করুক কিংবা না করুক; কারণ জাকাত তার জিম্মায় সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং তা তার ওপর ঋণ হিসেবে গণ্য হয়েছে (১)।
আল্লামা ইবনে উসাইমিন (রহ.) বলেন: "তৃতীয় অবস্থার ক্ষেত্রে সঠিক (صحيح) মত হলো, সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা না করা পর্যন্ত তার ওপর জাকাত ওয়াজিব (واجب) হবে না; কারণ শস্যমাড়াইয়ের স্থানে রাখার পর ওই সম্পদ তার কাছে আমানতস্বরূপ। সুতরাং সে যদি সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা করে: যেমন জাকাত বিতরণে বিলম্ব করার কারণে সম্পদটি চুরি হয়ে গেল বা এই জাতীয় কিছু ঘটল, তবে সে দায়ী (ضامن) হবে। আর যদি সে সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা না করে এবং তা দ্রুত বিতরণের চেষ্টা করা সত্ত্বেও পূর্ণ সতর্কতা ও পাহারার মাঝে তা নষ্ট হয়ে যায়, তবে সে দায়ী (ضامن) হবে না" (২)। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
পঞ্চম: শস্য ও ফলের জাকাতের পরিমাণ নিম্নরূপ:
১ - বিনা খরচে সেচকৃত ফসলের ক্ষেত্রে এক-দশমাংশ (উশর) প্রদান করা আবশ্যিক (واجب): যেমন ওই ফসল যা বৃষ্টির পানি, নদী এবং প্রবহমান ঝরনার মাধ্যমে সিক্ত হয়, এবং যা নিজ শেকড়ের মাধ্যমে পানি শোষণ করে: অর্থাৎ যা এমন জমিতে চাষ বা রোপণ করা হয় যার পানির স্তর মাটির খুব কাছাকাছি, ফলে গাছের শেকড় সেখানে পৌঁছে যায় এবং কৃত্রিম সেচের প্রয়োজন হয় না। অনুরূপভাবে যার শেকড় নদী বা খালের পানি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, কিংবা যা ঢালু জমির পানির মাধ্যমে সিক্ত হয়—যা ভূপৃষ্ঠে প্রবহমান পানি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الأرض: من الأنهار، والسواقي وغيرها -.
2 – يجب نصف العشر فيما سُقِيَ بمؤنة: كالدّوالي – وهي الدولاب وهي الدلاء – والنّواضح – وهي الإبل، والبقر، وسائر الحيوانات -، وما يُسقى بالغروب والسواني، والمكائن، والآلات: كالرشاشات التي ترش الماء وتوزعه على الزرع (1). والأصل في هذا كله حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((فيما سقت السماء، والعيون، أو كان عثريّاً: العشر، وما سُقي بالنضح: نصف العشر)) (2)؛ ولحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((فيما سقت الأنهارُ والغيمُ: العشورُ، وفيما سقي بالسانية نصف العشر)) (3)؛ ولحديث معاذ رضي الله عنه قال: بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن فأمرني: ((أن آخذ مما سقتِ السماء العشر، وفيما سقي بالدوالي نصف العشر)) (4).
3 – ويجب ثلاثة أرباع العشر فيما يشرب بمؤنة نصف، ويشرب بغير مؤنة نصف، ومثاله: نخل يُسقى نصف العام بمؤنة، ويُسقى النصف الثاني من العام بغير مؤنة: أي الصيف يُسقى بمؤنة، والشتاء يُسقى من الأمطار، فهذا فيه ثلاثة أرباع العشر؛ لأن كل واحد منهما لو وجد في جميع السنة لأوجب مقتضاه، فإذا وجد نصفه أوجب نصفه، وحكى الإجماع على ذلك غير واحد من أهل العلم (5).
--------------------------------------------
ভূমি: নদ-নদী, নালা এবং অন্যান্য উৎস থেকে -।
২ – ব্যয়বহুল সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে যা সিক্ত করা হয় তাতে অর্ধেক ওশর (نصف العشر) ওয়াজিব (يجب): যেমন ডাওয়ালি (الدوالي) – যা পানি তোলার চাকা বা বালতি – এবং নাওয়াদিহ (النواضح) – যা উট, গরু এবং অন্যান্য পশু –, এবং যা বড় বালতি, সেচ যন্ত্র, মেশিন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সিক্ত করা হয়: যেমন স্প্রিংকলার যা ফসলের ওপর পানি ছিটিয়ে দেয় এবং তা বণ্টন করে (১)। আর এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস, তিনি বলেছেন: "যা আকাশের বৃষ্টি ও ঝরনাধারা সিক্ত করে অথবা যা নালা বা মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে (عثرياً), তাতে পূর্ণ ওশর (العشر) প্রদান করতে হবে। আর যা সেচের মাধ্যমে সিক্ত করা হয়, তাতে অর্ধেক ওশর (نصف العشر) প্রদান করতে হবে" (২); এবং জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "নদ-নদী এবং মেঘ যা সিক্ত করে তাতে পূর্ণ ওশর (العشر) এবং যা সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে সিক্ত করা হয় তাতে অর্ধেক ওশর (نصف العشر) দিতে হবে" (৩); এবং মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন: "আমি যেন আকাশের বৃষ্টিতে সিক্ত ফসল থেকে পূর্ণ ওশর (العشر) গ্রহণ করি এবং বালতি বা চাকা দ্বারা সেচকৃত ফসল থেকে অর্ধেক ওশর (نصف العشر) গ্রহণ করি" (৪)।
৩ – ওশরের তিন-চতুর্থাংশ (ثلاثة أرباع العشر) প্রদান করা ওয়াজিব (يجب) সেই ফসলে যা অর্ধেক সময় ব্যয়বহুল সেচের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক সময় সেচ ব্যয় ছাড়াই সিক্ত হয়, উদাহরণস্বরূপ: খেজুর গাছ যা বছরের অর্ধেক সময় কৃত্রিম সেচের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক সময় সেচ ছাড়াই সিক্ত হয়: অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে কৃত্রিম সেচ দেওয়া হয় এবং শীতকালে বৃষ্টির পানিতে সিক্ত হয়। এমন ফসলে ওশরের তিন-চতুর্থাংশ (ثلاثة أرباع العشر) প্রদান করতে হবে; কারণ এই দুই পদ্ধতির প্রতিটি যদি সারা বছর বিদ্যমান থাকত তবে তার নিজস্ব বিধান ওয়াজিব (أوجب) হতো। যেহেতু প্রতিটি অর্ধেক সময় বিদ্যমান, তাই প্রতিটির অর্ধেক অংশ ওয়াজিব (أوجب) হবে। একাধিক আলেম এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (الإجماع) বর্ণনা করেছেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
4 - ما يُسقى بمؤنة وبغير مؤنة مع الاختلاف: أي يُسقى أحدهما أكثر من الآخر: فالذي يكثر انتفاع النخل بسقيه، أو الشجر، أو الزرع فهو المعتبر، فإذا كان نموّه بمؤنة أكثر منه فيما إذا شرب بلا مؤنة فالمعتبر نصف العشر؛ لأن سقيه بالمؤنة أكثر نفعاً فاعتبر به، وإذا كان نموّه بغير مؤنة أكثر نفعاً فالمعتبر العشر، فاعتبر بالأكثر كالسوم (1).
5 - وإن جُهِلَ المقدار غلَّبنا إيجاب العشر؛ لأنه الأصل، فالأصل وجوب الزكاة: العشر حتى نعلم أنه سُقِيَ بمؤنة (2).
سادساً: خرص النخيل والأعناب إذا بدا صلاح الثمر:يسن للإمام أن يرسل ساعياً إلى أهل النخيل والأعناب إذا بدا صلاح الثمر فيخرصه (3) عليهم؛ ليتصرَّفوا في ثمارهم، ويعرِّف الساعي المالك قدر الزكاة كيلاً، ثم يخلي بينهم وبين ثمرهم؛ ليأكلوا أو يتصرَّفوا فيه، ثم يُؤدُّون الزكاة عند الجذاذ على قدر ما خُرِص، وهذا فيه توسعة على أهل الثمار؛ ليأكلوا، أو يبيعوا، أو يتصرَّفوا (4) والخرص لثمر النخيل والأعناب فيه مسائل
--------------------------------------------
৪ - যেখানে ব্যয়ের মাধ্যমে এবং ব্যয় ব্যতীত উভয়ভাবেই সেচ প্রদান করা হয় তার বিধান: অর্থাৎ একটির চেয়ে অন্যটি বেশি ব্যবহৃত হয়: খেজুর গাছ, অন্য গাছ বা ফসলের বৃদ্ধিতে যে ধরনের সেচের উপযোগিতা বা প্রভাব বেশি, সেটিই ধর্তব্য হবে। সুতরাং ব্যয়বহুল (مؤنة) সেচের কারণে যদি ফলন বেশি হয়, তবে এক-বিংশতাংশ বা পাঁচ শতাংশ (نصف العشر) প্রদান করতে হবে; কারণ এক্ষেত্রে ব্যয়বহুল সেচটিই বেশি ফলপ্রসূ হয়েছে, তাই সেটিই ধর্তব্য। আর যদি ব্যয়হীন সেচ বেশি ফলপ্রসূ হয়, তবে এক-দশমাংশ (العشر) ধর্তব্য হবে; এখানে আধিক্যকে বিবেচনায় নেওয়া হবে, যেমনটি গবাদি পশুর চারণভূমির (السوم) ক্ষেত্রে করা হয়। (১)
৫ - যদি সেচের পরিমাণ অজ্ঞাত থাকে, তবে আমরা এক-দশমাংশ (العشر) ওয়াজিব হওয়াকে প্রাধান্য দেব; কারণ এটিই মূল বিধান। সুতরাং মূল বিধান হলো যাকাত হিসেবে এক-দশমাংশ (العشر) ওয়াজিব হওয়া: যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে এটি ব্যয়ের (مؤنة) মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়েছে। (২)
ষষ্ঠত: ফল পরিপক্ক হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে খেজুর ও আঙুরের অনুমিত পরিমাণ (الخرص) নির্ধারণ:ইমামের (নেতার) জন্য সুন্নত হলো খেজুর ও আঙুর পরিপক্ক হতে শুরু করলে ফল মালিকদের কাছে একজন পরিমাপক (ساعي) পাঠানো, যিনি ফলের পরিমাণ অনুমান (خرص) (৩) করবেন; যাতে মালিকরা তাদের ফলের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই পরিমাপক (ساعي) মালিককে যাকাতের পরিমাণ ওজনের মাপে জানিয়ে দেবেন, অতঃপর ফল ও মালিকের মাঝে কোনো বাধা রাখবেন না; যাতে তারা তা খেতে পারে বা ব্যবহার করতে পারে। পরবর্তীতে ফল সংগ্রহের সময় সেই অনুমিত (خرص) পরিমাণ অনুযায়ী তারা যাকাত আদায় করবে। এতে ফল মালিকদের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে; যেন তারা ফল খেতে পারে, বিক্রি করতে পারে বা অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারে। (৪) খেজুর ও আঙুরের অনুমিত পরিমাণ (الخرص) নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
على النحو الآتي:
1 – ثبتت مشروعية الخرص في السنة عن النبي صلى الله عليه وسلم -؛ لحديث أبي حميد الساعدي رضي الله عنه قال: غزونا مع النبي صلى الله عليه وسلم غزوة تبوك فلما جاء وادي القرى إذا امرأةٌ في حديقةٍ لها فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه: ((اخرصوا)) وخرص رسول الله صلى الله عليه وسلم عشرة أوسق، فقال لها: ((أحصي ما يخرج منها))
… فلما أتى وادي القرى قال للمرأة: ((كم جاء حديقتك))؟ قالت: ((عشرة أوسقٍ خَرْصَ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم
… )) (1).
وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يقول: ((فيه جواز الخرص حتى يتصرف أهل النخيل في نخيلهم، والخرص يخرص بما يؤول إليه تمراً)) (2).
2 – يستحب أن يبعث الإمام من يخرص الثمار عند بدوِّ الصلاح؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم حين افتتح خيبر، اشترط عليهم أنَّ له الأرض، وكُلَّ صفراءَ وبيضاء – يعني الذهب والفضة – وقال له أهل خيبر: نحن أعلم بالأرض فأعطناها على أن نعملها ويكون لنا نصف الثمرة ولكم نصفُها، فزعم أنه أعطاهم على ذلك، فلما كان حين تصرم النخل بعث إليهم ابن رواحة فحزر (3) النخل، وهو الذي يدعونه أهل المدينة: الخرص، فقال: في ذا كذا وكذا، فقالوا:
--------------------------------------------
নিম্নরূপভাবে:
১ – সুন্নাহর আলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ফলন অনুমান করার (الخرص) বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে- ; আবু হুমাইদ আল-সা’ঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। যখন তিনি ওয়াদি আল-কুরায় পৌঁছালেন, তখন সেখানে এক নারী তার বাগানে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন: “তোমরা ফলন অনুমান (اخرصوا) করো।” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ ওয়াসক পরিমাণ অনুমান করলেন। তিনি সেই নারীকে বললেন: “এ থেকে কী পরিমাণ ফলন বের হয় তা গণনা করে রেখো।”... যখন তিনি ওয়াদি আল-কুরায় ফিরে আসলেন, তখন সেই নারীকে জিজ্ঞেস করলেন: “তোমার বাগান থেকে কী পরিমাণ ফলন এসেছে?” সে বলল: “দশ ওয়াসক, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমান (خَرْصَ) করেছিলেন...” (১)।
আমি আমাদের শাইখ ইমাম ইবনে বাজ (রহ.)-কে বলতে শুনেছি: “এর মধ্যে ফলন অনুমান করার (الخرص) বৈধতা রয়েছে যাতে খেজুর বাগানের মালিকরা তাদের খেজুরের ব্যাপারে ইচ্ছামতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। আর ফলন অনুমানের (الخرص) ক্ষেত্রে গাছে থাকা ফলের এমন পরিমাণ অনুমান করা হয় যা পরবর্তীতে শুকনো খেজুরে পরিণত হবে।” (২)।
২ – ফল পাকার লক্ষণ দেখা দিলে ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধান) পক্ষ থেকে ফলন অনুমানকারী পাঠানো মুস্তাহাব (يستحب); ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার বিজয় করলেন, তখন তিনি তাদের সাথে এই শর্তারোপ করেছিলেন যে, এই ভূমি এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য—অর্থাৎ সোনা ও রূপা—সবই তাঁর হবে। খায়বারবাসীরা তাঁকে বলল: আমরা ভূমি সম্পর্কে অধিক অবগত, তাই এটি আমাদের দিন যাতে আমরা এতে কাজ করতে পারি, আর অর্ধেকের ফলন আমাদের হবে এবং অর্ধেক আপনাদের। বর্ণনাকারী মনে করেন যে, তিনি তাদের সেই শর্তেই তা দিয়েছিলেন। যখন খেজুর কাটার সময় হলো, তখন তিনি ইবনে রাওয়াহাকে তাদের কাছে পাঠালেন এবং তিনি খেজুর গাছগুলোর ফলন পরিমাপ (حزر) করলেন—আর মদিনাবাসীরা একেই ফলন অনুমান করা (الخرص) বলে অভিহিত করে। তিনি বললেন: এতে এই এই পরিমাণ আছে। তখন তারা বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أكثرت علينا يا ابن رواحة، فقال: فأنا أحزر النخل وأعطيكم نصف الذي قلتُ: قال: فقالوا: هذا الحقُّ وبه تقوم السماءُ والأرضُ. فقالوا: قد رضينا أن نأخذ بالذي قلتَ (1).
3 - يجزئ أن يرسل الإمام خارصاً واحداً؛ للحديث السابق؛ ولأنه يفعل ما يؤديه إليه اجتهاده فجاز أن يكون واحداً، كالحاكم، ويعتبر أن يكون مسلماً، أميناً، غير متهم، ذا خبرة.
4 - يخرص الرطب والعنب؛ لحديث عتابِ بنِ أُسيدٍ رضي الله عنه قال: أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أن يُخرصَ العنبُ كما يخرصُ النخلُ، وتؤخَذَ زكاتُهُ زبيباً كما تؤخَذُ صدقةُ النخلِ تمراً)) (2).
5 - يترك الخارص لصاحب الثمار الثلث أو الربع، توسعة على رب المال؛ لأنه يحتاج إلى الأكل هو وأضيافه، ويطعم جيرانه وأهله،
--------------------------------------------
তুমি আমাদের ওপর অনেক কঠোরতা করেছ হে ইবনে রাওয়াহা, তখন তিনি বললেন: "আমি খেজুর গাছের ফলন অনুমান করছি এবং আমি যা বলেছি তার অর্ধেক তোমাদের দিয়ে দিচ্ছি।" বর্ণনাকারী বলেন: তারা বলল: "এটাই ন্যায়বিচার এবং এর মাধ্যমেই আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত।" তারা আরও বলল: "আপনি যা বলেছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি" (১)।
৩ - ইমামের জন্য একজন ফলন অনুমানকারী (خارص) পাঠানোই যথেষ্ট; পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে; এবং যেহেতু তিনি তাঁর ইজতিহাদ অনুযায়ী কাজ করেন, তাই একজন হওয়াই বৈধ, যেমন বিচারক; তবে তাকে মুসলিম, বিশ্বস্ত, অপবাদমুক্ত এবং অভিজ্ঞ হতে হবে।
৪ - কাঁচা খেজুর এবং আঙুরের ফলন অনুমান (خرص) করা হবে; আত্তাব ইবনে উসাইদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন: "যেন আঙুরের ফলন অনুমান করা হয় যেমনটি খেজুর গাছের ক্ষেত্রে করা হয় এবং এর যাকাত কিসমিস হিসেবে গ্রহণ করা হয় যেমনটি খেজুরের সদকা শুকনা খেজুর হিসেবে নেওয়া হয়" (২)।
৫ - অনুমানকারী (خارص) ফসলের মালিকের জন্য এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দেবেন, এটি সম্পদের মালিকের জন্য প্রশস্ততা স্বরূপ; কারণ তার নিজের এবং তার মেহমানদের খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এবং সে তার প্রতিবেশী ও পরিবারকেও খাওয়াবে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويأكل منها المارَّةُ، ويكون في الثمرة الساقطة، وينتابها الطير، فلو استوفى الكلّ أضرّ بِهم، والمرجع في تقدير المتروك إلى اجتهاد الساعي الخارص، فإن رأى الأكلة كثيراً ترك الثلث، وإلا ترك الربع؛ لحديث سهل بن أبي حثمة رضي الله عنه قال: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إذا خرصتم فخذوا ودعوا الثلث، فإن لم تدعوا الثلث فدعوا الربع)) (1) وسمعت شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله يقول: ((هذا يدل على الخرص، وأنه مستحب، فإن تُرِكوا وصُدِّقوا فلا بأس، والخرص عليهم هو السنة؛ لأن فيه مصالح منها:
1 - معرفة مبلغ هذا التمر، والعنب.
2 - التوسعة على أهله: يتصرَّفون، ويبيعون، وقد عرفوا ما لديهم من الزكاة، والسنة أن يترك لهم الربع أو الثلث، يتحرّى الخارص على حسب ضيوفهم وكثرتهم فيدع ما هو الأنسب" (2).
سابعاً: زكاة الحبوب والثمار على مستأجر الأرض:قال الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى: ((ومن استأجر أرضاً فزرعها
--------------------------------------------
পথচারীরা সেখান থেকে খায়, ঝরে পড়া ফল থাকে এবং পাখিরাও সেখানে বিচরণ করে। সুতরাং যদি সবটুকুই (যাকাত হিসেবে) গ্রহণ করা হয়, তবে তাদের (মালিকদের) ক্ষতি হবে। ছেড়ে দেওয়ার পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি যাকাত আদায়কারী মূল্যায়নকারীর ইজতিহাদের ওপর নির্ভর করে। যদি তিনি দেখেন ভক্ষণকারীর সংখ্যা বেশি, তবে তিনি এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দেবেন, নতুবা এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দেবেন। কারণ সাহল ইবনে আবি হাসমাহ রযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন: "যখন তোমরা (ফলের পরিমাণ) নির্ধারণ করবে, তখন যাকাত গ্রহণ করো এবং এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দাও। যদি এক-তৃতীয়াংশ না ছাড়ো, তবে অন্তত এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দাও।" (১) আমি আমাদের শাইখ ইমাম ইবনে বাজ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি: "এটি আনুমানিক মূল্যায়ন বা খারস-এর প্রমাণ দেয় এবং এটি মুস্তাহাব। যদি তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের (তথ্যের ওপর) বিশ্বাস করা হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে তাদের ক্ষেত্রে খারস বা মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রয়োগ করাই সুন্নাহ; কারণ এতে কিছু কল্যাণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - এই খেজুর ও আঙুরের মোট পরিমাণ জানা।
২ - মালিকপক্ষের জন্য স্বস্তি প্রদান: যাতে তারা এগুলো ব্যবহার ও বিক্রি করতে পারে এবং তাদের কী পরিমাণ যাকাত দিতে হবে তাও জানতে পারে। সুন্নাহ হলো তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দেওয়া। মূল্যায়নকারী তাদের মেহমানদের সংখ্যা ও আধিক্য বিবেচনা করে যেটি অধিক উপযুক্ত মনে হবে, সেই পরিমাণ ছেড়ে দেবেন।" (২)।
সপ্তম: জমির ইজারাদারের ওপর শস্য ও ফলের যাকাত:ইমাম ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জমি ইজারা নিয়ে তাতে চাষাবাদ করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فالعشر عليه دون مالك الأرض)) (1) وقال رحمه الله: ((ولو استعار أرضاً فزرعها فالزكاة على صاحب الزرع؛ لأنه مالكه، وإن غصبها فزرعها وأخذ الزرع فالعشر عليه أيضاً؛ لأنه ثبت على ملكه، وإن أخذه مالكها قبل اشتداد حبه فالعشر عليه، وإن أخذه بعد ذلك احتمل أن يجب عليه أيضاً؛ لأن أخذه إياه استند إلى أول زرعه، فكأنه أخذه من تلك الحال، ويحتمل أن تكون زكاته على الغاصب؛ لأنه كان مالكاً له حين وجوب عشره، وهو حين اشتداد حبه)) (2).
ثامناً: زكاة الحبوب والثمار: المزارعة، والمساقاة.
قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وإن زارع رجلاً مزارعة فاسدة فالعشر على من يجب الزرع له، وإن كانت صحيحة فعلى كل واحد منهما عشر حصته إن بلغت خمسة أوسق أو كان له من الزرع ما يبلغ بضمه إليها خمسة أوسق، وإلا فلا عشر عليه)) (3) أي لا زكاة على من لم يبلغ عنده النصاب.
تاسعاً: يجتمع العشر والخراج في الأرض الخراجية:
الأرض قسمان: أرض صلح، وأرض عنوة:
فأما أرض الصلح: فهي كل أرض صُولِحَ أهلها عليها؛ لتكون لهم ويؤدون عنها خراجاً معلوماً، فهذه الأرض مِلك لأهلها، وهذا الخراج
--------------------------------------------
সুতরাং উশর (عشر) তার ওপরই বর্তাবে, জমির মালিকের ওপর নয়)) (১) এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((যদি কেউ জমি ধার করে তাতে চাষাবাদ করে, তবে জাকাত ফসলের মালিকের ওপর ওয়াজিব হবে; কারণ সে-ই এর মালিক। আর যদি কেউ জমি জবরদখল করে তাতে চাষাবাদ করে এবং ফসল সংগ্রহ করে, তবে উশর (عشر) তার ওপরও ওয়াজিব হবে; কারণ এটি তার মালিকানাধীন হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আর যদি জমির মালিক দানা শক্ত হওয়ার পূর্বেই তা গ্রহণ করে নেয়, তবে উশর (عشر) তার ওপর ওয়াজিব হবে। আর যদি এর পরে তা গ্রহণ করে, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে তখনও তার ওপরই ওয়াজিব হবে; কারণ তার ফসল গ্রহণ চাষাবাদের শুরুর সময়ের সাথে সম্পর্কিত, যেন সে সেই অবস্থা থেকেই তা গ্রহণ করেছে। আবার এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এর জাকাত জবরদখলকারীর ওপর ওয়াজিব হবে; কারণ উশর (عشر) ওয়াজিব হওয়ার সময় সে-ই এর মালিক ছিল, আর তা হলো দানা শক্ত হওয়ার সময়)) (২)।
অষ্টম: শস্য ও ফলের জাকাত: মুজারাআ (বর্গাচাষ) ও মুসাকাত (সেচভিত্তিক চাষ).
ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((যদি কেউ কোনো ব্যক্তির সাথে ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) মুজারাআ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে, তবে উশর (عشر) তার ওপর বর্তাবে যার জন্য ফসল পাওয়া ওয়াজিব। আর যদি তা সঠিক (صحيح) হয়, তবে তাদের প্রত্যেকের ওপর নিজ নিজ অংশের উশর (عشر) ওয়াজিব হবে যদি তা পাঁচ ওয়াসাক পরিমাণ হয়, অথবা তার কাছে এমন পরিমাণ ফসল থাকে যা এর সাথে যুক্ত করলে পাঁচ ওয়াসাক পূর্ণ হয়। অন্যথায় তার ওপর কোনো উশর (عشر) নেই)) (৩) অর্থাৎ যার নিকট নিসাব (نصاب) পরিমাণ পৌঁছেনি তার ওপর কোনো জাকাত নেই।
নবম: খরাজি জমিতে উশর (عشر) ও খরাজ (خراج) একত্রিত হওয়া:
জমি দুই প্রকার: সন্ধিকৃত জমি (আৰ্দু সুলহ) এবং বিজিত জমি (আৰ্দু আনওয়াহ):
সন্ধিকৃত জমি প্রসঙ্গে: এটি এমন সব জমি যেগুলোর অধিবাসীদের সাথে এই মর্মে সন্ধি করা হয়েছে যে, জমি তাদেরই থাকবে এবং তারা এর বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট খরাজ (خراج) প্রদান করবে। সুতরাং এই জমি তাদের মালিকানাধীন, আর এই খরাজ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
في حكم الجزية متى أسلموا سقط عنهم، وإن انتقلت إلى مسلم لم يكن عليهم خراج. وهذه الأرض تجب الزكاة في حبوبها وثمارها إذا لم يكن عليها خراج؛ لأن الخراج في أرض الصلح لا يؤخذ إلا من الكفار ولا زكاة فيها في هذه الحالة. أي مادامت في أيدي أهلها الكفار، فإذا أسلموا أو انتقلت إلى مسلم سقط الخراج ووجبت الزكاة في ثمارها وحبوبها إذا اكتملت شروط وجوب الزكاة.
وأما أرض العنوة فهي ما أُجلِيَ عنها أهلها بالسيف؛ لامتناعهم عن الدخول في الإسلام أو عن دفع الجزية، فإذا لم تقسم بين الغانمين فهذه تصير وقفاً للمسلمين يضرب عليها خراجٌ معلومٌ يؤخذ منها في كل عامٍ يكون أجرةً لها، ثم ينظر في باقي ثمرتها وحبوبها فإن كان الباقي نصاباً ففيه الزكاة إن كانت بيد مسلم، وإن لم يبلغ الباقي نصاباً أو بلغ نصاباً ولم يكن لمسلم فلا زكاة فيه.
فعلى هذا يجتمع العشر والخراج في أرض فتحت عنوة: الخراج في رقبتها، والعشر زكاة في غلتها؛ لأن الخراج كالأجرة (1). والله تعالى أعلم (2).
--------------------------------------------
জিজিয়ার (جزية) বিধান হলো, যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করবে তখন তা তাদের ওপর থেকে রহিত হয়ে যাবে, আর যদি তা কোনো মুসলিমের মালিকানায় হস্তান্তরিত হয় তবে তাদের ওপর কোনো খারাজ (خراج) থাকবে না। এই জমির শস্য ও ফলের ওপর জাকাত ফরজ হবে যখন তার ওপর কোনো খারাজ (خراج) থাকবে না; কারণ সন্ধি করা (صلح) জমির খারাজ (خراج) কেবল কাফিরদের থেকেই নেওয়া হয় এবং এই অবস্থায় তাতে কোনো জাকাত নেই। অর্থাৎ যতক্ষণ তা তার অমুসলিম মালিকদের অধীনে থাকে। অতঃপর তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে অথবা তা কোনো মুসলিমের মালিকানায় হস্তান্তরিত হয়, তবে খারাজ (خراج) রহিত হয়ে যাবে এবং এর ফল ও শস্যের ওপর জাকাত ফরজ হবে যদি জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি পূর্ণ হয়।
আর যুদ্ধলব্ধ জমি (عنوة) প্রসঙ্গে তা হলো এমন ভূমি যেখানকার বাসিন্দাদের তরবারির মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হয়েছে; কারণ তারা ইসলামে প্রবেশ করতে বা জিজিয়া (جزية) প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সুতরাং তা যদি যুদ্ধজয়ীদের মাঝে বণ্টন না করা হয়, তবে তা মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ (وقف) হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ওপর একটি নির্দিষ্ট খারাজ (خراج) ধার্য করা হবে যা প্রতি বছর খাজনা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। অতঃপর তার অবশিষ্ট ফল ও শস্যের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হবে; যদি অবশিষ্ট অংশ নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয়, তবে তাতে জাকাত ওয়াজিব হবে যদি তা কোনো মুসলিমের অধীনে থাকে। আর যদি অবশিষ্ট অংশ নিসাব (نصاب) পরিমাণ না হয় অথবা নিসাব (نصاب) পরিমাণ হলেও তা কোনো মুসলিমের না হয়, তবে তাতে কোনো জাকাত নেই।
এই ভিত্তিতে, যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত (عنوة) ভূমিতে উশর (عشر) এবং খারাজ (خراج) উভয়ই একত্রিত হতে পারে: জমির মূলের ওপর খারাজ (خراج) এবং তার উৎপন্ন ফসলের ওপর জাকাত হিসেবে উশর (عشر); কারণ খারাজ (خراج) হলো ভাড়াস্বরূপ (১)। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
عاشراً: الزكاة لا تؤخذ من رديء المال؛ لقول الله تعالى:
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآَخِذِيهِ إِلَّا أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ} (1)؛ ولحديث البراء بن عازب في قوله سبحانه: {وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ} قال: ((نزلت في الأنصار؛ كانت الأنصار تخرج - إذا كان جدادُ (2) النخل - من حيطانها (3) أقناء البسر (4) فيعلقونه على حبلٍ بين اسطوانتين في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم فيأكل منه فقراء المهاجرين، فيعمد أحدهم فيدخلُ قنواً فيه الحشف (5) يظن أنه جائز في كثرة ما يوضع من الأقناء، فنَزَلَ فيمن فعل ذلك: {وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ} يقول: لا تعمدوا للحشف منه تنفقون {وَلَسْتُمْ بِآَخِذِيهِ إِلَّا أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ} يقول: لو أهدي لكم ما قبلتموه إلا على استحياء من صاحبه، غيظاً أنه بعث إليكم ما لم يكن لكم فيه حاجةٌ، واعلموا أن الله غني عن صدقاتكم)) (6).
وعن أبي أمامة رضي الله عنه: في الآية التي قال الله عز وجل: {وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ
--------------------------------------------
দশম: নিম্নমানের সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ করা হবে না; আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে:
{হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি যা তোমাদের জন্য ভূমি হতে উৎপন্ন করেছি তা হতে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তার মধ্য হতে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না, অথচ তোমরা তা গ্রহণ করবে না, যদি না তোমরা চোখ বন্ধ করে থাক। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ অভাবমুক্ত ও চির প্রশংসিত।} (১); এবং বারা বিন আজিব (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি যা তোমাদের জন্য ভূমি হতে উৎপন্ন করেছি তা হতে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তার মধ্য হতে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না} প্রসঙ্গে তিনি বলেন: ((এটি আনসারদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; যখন খেজুর কাটার সময় (২) হতো, তখন আনসারগণ তাদের বাগান (৩) হতে আধপাকা খেজুরের ছড়া (৪) নিয়ে আসতেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদের দুই পিলারের মাঝখানে রশিতে ঝুলিয়ে রাখতেন, যা অভাবী মুহাজিরগণ খেতেন। তখন তাদের কেউ কেউ নিম্নমানের শুকনা খেজুর (৫) মিশ্রিত একটি ছড়া নিয়ে আসতেন এবং অসংখ্য ছড়ার ভিড়ে সেটি রাখা বৈধ মনে করে সেখানে প্রবেশ করিয়ে দিতেন। তখন যারা এটি করত তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়: {এবং তার মধ্য হতে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না} অর্থাৎ তিনি বলছেন: তোমরা ব্যয় করার জন্য নিকৃষ্ট শুকনা খেজুরের সংকল্প করো না। {অথচ তোমরা তা গ্রহণ করবে না, যদি না তোমরা চোখ বন্ধ করে থাক} অর্থাৎ তিনি বলছেন: যদি তোমাদেরকে তা উপহার দেওয়া হতো, তবে তোমরা দাতার প্রতি লজ্জাবশত বিরক্তির সাথে গ্রহণ করা ছাড়া তা নিতে না, কারণ তিনি তোমাদের কাছে এমন কিছু পাঠিয়েছেন যাতে তোমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ তোমাদের সদকা থেকে অভাবমুক্ত।)) (৬)।
আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল যে আয়াতে বলেছেন: {এবং তোমরা নিকৃষ্ট বস্তুর সংকল্প করো না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مِنْهُ تُنْفِقُونَ} قال: ((هو الجعرور (1) ولون حبيقٍ (2)، فنهى رسول الله صلى الله عليه وسلم: أن تؤخذ في الصدقة: الرُّذالة)) (3).
وعن عوف بن مالك رضي الله عنه، قال: دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم المسجد وبيده عصاً وقد علّق رجل قِنْوَ حشفٍ فجعل يطعن بالعصا في ذلك القِنوِ، وقال: ((لو شاء رب هذه الصدقة تصدق بأطيب منها)) وقال: ((إن ربَّ هذه الصدقة يأكل حشفاً يوم القيامة)) (4).
الحادي عشر: زكاة العسل المحمي والمتخذ للتجارة (5)؛
--------------------------------------------
সেখান থেকে তোমরা ব্যয় করো} তিনি বললেন: ((তা হলো জা’রুর (১) এবং লুন হাবিক (২)। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকা হিসেবে নিম্নমানের বস্তু (الرُّذالة) গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন)) (৩)।
আওফ ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি শুষ্ক ও নিম্নমানের খেজুরের (حشف) একটি কাঁদি ঝুলিয়ে রেখেছিল। তিনি সেই কাঁদিতে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন এবং বললেন: ((যদি এই সদকা দাতা চাইতেন তবে এর চেয়ে উত্তম বস্তু সদকা করতে পারতেন)) এবং বললেন: ((নিশ্চয়ই এই সদকা দাতা কিয়ামতের দিন শুষ্ক খেজুর (حشف) ভক্ষণ করবে)) (৪)।
একাদশ: সংরক্ষিত ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখা মধুর জাকাত (৫);
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده، قال جاء هلال – أحد بني مُتعان - إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بعشور نحلٍ له، وكان سأله أن يحمي له وادياً يقال له: سَلَبَة، فحمى له رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك الوادي، فلما ولي عمر بن الخطاب رضي الله عنه، كتب سفيان بن وهيب إلى عمر بن الخطاب يسأله عن ذلك؛ فكتب عمر رضي الله عنه: ((إن أدَّى إليك ما كان يؤدّي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من عشور نحله فاحمِ له سَلَبَةَ، وإلا فإنما هو ذُبابُ غيثٍ يأكله من يشاء)) وفي رواية لأبي داود بنحوه، وقال: ((من كل عشر قربٍ قربة)) (1) فالحديث
--------------------------------------------
لحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده، قال جاء هلال – أحد بني مُتعان - إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بعشور نحلٍ له، وكان سأله أن يحمي له وادياً يقال له: سَلَبَة، فحمى له رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك الوادي، فلما ولي عمر بن الخطاب رضي الله عنه، كتب سفيان بن وهيب إلى عمر بن الخطাব يسأله عن ذلك؛ فكتب عمر رضي الله عنه: ((إن أدَّى إليك ما كان يؤدّي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من عشور نحله فاحمِ له سَلَبَةَ، وإلا فإنما هو ذُبابُ غيثٍ يأكله من يشاء)) وفي رواية لأبي داود بنحوه، وقال: ((من كل عشر قربٍ قربة)) (1) فالحديث
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
محمول على أن أخذ العشر من العسل في مقابلة الحمى كما يدل عليه كتاب عمر بن الخطاب رضي الله عنه، إلا إذا كان العسل من عروض التجارة ففيه زكاة عروض التجارة، والله تعالى أعلم (1).
الثاني عشر: زكاة المعدن: وهو كل ما خرج من الأرض مما يُخلقُ
--------------------------------------------
এটি এই মর্মে ব্যাখ্যা করা হয় যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর পত্রে যেমনটি নির্দেশিত হয়েছে, মধুর এক-দশমাংশ গ্রহণ করা হতো (মৌমাছির চারণভূমি) সুরক্ষার বিনিময়ে; তবে মধু যদি ব্যবসার পণ্য হয়, তবে তাতে ব্যবসার পণ্যের জাকাত প্রযোজ্য হবে। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন (১)।
দ্বাদশ: খনিজ সম্পদের জাকাত: আর তা হলো জমিন থেকে উৎপন্ন সেই সব বস্তু যা সৃষ্টিগতভাবে বিদ্যমান থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فيها من غيرها مما له قيمة: كالحديد، والياقوت، والزبرجد، والعقيق، والسُّبح، والكحل، والكبريتات، والذهب، والفضة، والنفط، وغير ذلك مما ينطبق عليه اسم المعدن، ولا تخرج زكاته إلا بعد سبكه وتصفيته، والمعدن أشبه بالثمار من غيرها، وزكاته ربع العشر إذا كمل النصاب، وهل يشترط له الحول أو لا يشترط؟ ذهب الحنابلة، والشافعية، والمالكية، والأحناف إلى أنه لا يشترط له الحول، وقال إسحاق وابن المنذر: لا شيء في المعدن حتى يحول عليه الحول؛ لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا زكاة في مال حتى يحول عليه الحول)) (1) ورجح شيخنا ابن باز رحمه الله تعالى: أن المعدن لا زكاة فيه حتى يحول عليه الحول (2).
--------------------------------------------
এতে রয়েছে মূল্যবান অন্যান্য বস্তু: যেমন লোহা, ইয়াকুত, যবরজদ, আকিক, তসবিহ (এর দানা), সুরমা, সালফেট, সোনা, রুপা, পেট্রোলিয়াম এবং খনিজ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয়। এর জাকাত কেবল তা গলানো এবং পরিশোধনের পরেই আদায় করা হবে। খনিজ সম্পদ অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে ফলের সাথে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। যখন নিসাব পূর্ণ হবে তখন এর জাকাত হলো এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ (২.৫%)। তবে এতে কি এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত কি না? হাম্বলি, শাফেয়ী, মালিকি এবং হানাফি মাযহাবের মতে এতে এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। ইসহাক এবং ইবনুল মুনযির বলেছেন: এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত খনিজে কোনো জাকাত নেই; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্পদে জাকাত নেই।" (১) আমাদের শায়খ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে: খনিজ সম্পদে এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জাকাত নেই (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الثالث عشر: زكاة الركاز، والركاز: هو دِفنُ الجاهلية وكنزها، وهو المدفون في الأرض، ويقال له: ركاز؛ لأن صاحبه ركزه في الأرض أي أثبته (1) وفيه الخمس؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((العَجماءُ جُرْحُها جُبارٌ، والبئرُ جُبارٌ، والمعدنُ جبارٌ، وفي الركاز الخمس)) وفي لفظ
--------------------------------------------
ত্রয়োদশ: রিকাজ (الركاز)-এর জাকাত, আর রিকাজ (الركاز) হলো: জাহেলিয়াত আমলের প্রোথিত সম্পদ ও গুপ্তধন, যা মাটির নিচে দাফনকৃত থাকে। একে রিকাজ (الركاز) বলা হয়; কারণ এর মালিক একে মাটির নিচে গেঁথে দিয়েছিল অর্থাৎ সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছিল (১)। এতে এক-পঞ্চমাংশ (الخمس) প্রদান করা আবশ্যক; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((পশু কর্তৃক সংঘটিত জখমের কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, কূপের কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, খনির কোনো ক্ষতিপূরণ নেই এবং রিকাজ (الركاز)-এ এক-পঞ্চমাংশ (الخمس) রয়েছে))। আর একটি শব্দে বা বর্ণনায় (لفظ) রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لمسلم: ((البئر جرحها جبار، والمعدن جرحه جبار، والعجماء جرحها جبارٌ وفي الركاز الخمس)) (1). (2)
والخمس يجب في قليله وكثيره من أي نوع كان من غير حول لذلك، ويجب على كل من وجده من أهل الزكاة وغيرهم (3).
--------------------------------------------
মুসলিমে বর্ণিত: ((কূপের কারণে কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, খনির কারণে কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, পশুর কারণে সৃষ্ট ক্ষতির কোনো ক্ষতিপূরণ নেই এবং রিকাজ (মাটিতে পোঁতা গুপ্তধন) থেকে এক-পঞ্চমাংশ (خمس) প্রদান করতে হবে)) (১)। (২)
এই এক-পঞ্চমাংশ (خمس) এর পরিমাণ কম হোক বা বেশি হোক, যেকোনো প্রকারের সম্পদের ক্ষেত্রেই বর্ষ পূর্ণ হওয়ার শর্ত ছাড়াই তা প্রদান করা ওয়াজিব। আর জাকাত প্রদানের উপযুক্ত ব্যক্তি বা অন্য যে কেউ এটি লাভ করবে, তাদের সকলের ওপরই তা প্রদান করা ওয়াজিব হবে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাকাতুল খারিজি মিনাল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً.
تمت بحمد الله تعالى الرسالة الثالثة ويليها إن شاء الله تعالى الرسالة الرابعة ((زكاة الأثمان)) الذهب، والفضة، والأوراق النقدية.
আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
আল্লাহ তাআলার প্রশংসার সাথে তৃতীয় পুস্তিকাটি সমাপ্ত হলো এবং এরপর ইনশাআল্লাহ চতুর্থ পুস্তিকাটি আসবে: "মূল্যবান সম্পদের জাকাত (زكاة الأثمان)"—অর্থাৎ স্বর্ণ, রৌপ্য ও কাগুজে মুদ্রা।