(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: -)
زكاة الأثمان   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: زكاة الأثمان الذهب، والفضة، والعملات المعدنية، والورقية - مفهوم، وضوابط، ومسائل، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 58

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

মূল্যের যাকাত (যাকাতুল আসমান)   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: মূল্যের যাকাত: স্বর্ণ, রৌপ্য, ধাতব মুদ্রা, এবং কাগুজে মুদ্রা - কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে এর সংজ্ঞা, নীতিমালা, মাসআলা, এবং বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-কাদাহ ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: -)
رسائل سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

زكاة الأثمان

الذهب، والفضة، والعملات المعدنية، والورقية

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি-এর নিবন্ধসমূহ

 

নগদ অর্থ ও মূল্যবান ধাতুর জাকাত

স্বর্ণ, রৌপ্য, ধাতব এবং কাগজের মুদ্রা

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

রচনা: আল্লাহ তাআলার নিকট মুখাপেক্ষী

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((زكاة الأثمان)): من الذهب، والفضة، وما يقوم مقامهما من العملات الورقية، والمعدنية، بيَّنت فيها بإيجاز: مفهوم الأثمان: لغة، واصطلاحاً، وأوضحت وجوب الزكاة في الذهب والفضة: بالكتاب، والسنة، والإجماع، وذكرت مقدار نصاب الذهب والفضة، وأوضحت زكاة العملات الورقية والمعدنية المتداولة بين الناس الآن، وحكم ضمّ الذهب والفضة بعضهما إلى بعض في تكميل النصاب، وضمّ عروض التجارة إلى كل من الذهب والفضة في تكميل النصاب، وأن مقدار الواجب من الزكاة في الذهب والفضة: ربع العشر، وضربت الأمثلة على كيفية إخراج الزكاة بالطرق الحسابية الميسرة، وأوضحت حكم إخراج أحد النقدين عن الآخر في الزكاة، وذكرت ما يباح للرجال: من الفضة، والذهب، وما يباح للنساء من ذلك، وأن آنية الذهب والفضة محرمة على الرجال والنساء جميعاً، وذكرت أن الزكاة تجب في الحلي محرّم الاستعمال: من الذهب، والفضة، أو إذا كان من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌উপক্রমণিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি ‘নগদ সম্পদের জাকাত’ (زكاة الأثمان) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা: যেখানে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং বর্তমানের প্রচলিত কাগজের নোট ও ধাতব মুদ্রাসমূহ যা এগুলোর স্থলাভিষিক্ত, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমি এতে সংক্ষেপে শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে নগদ সম্পদের ধারণা ব্যাখ্যা করেছি। পাশাপাশি কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ (سنة) এবং ঐক্যমত্যের (إجماع) আলোকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের জাকাত আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। এতে আমি স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিসাবের পরিমাণ উল্লেখ করেছি এবং বর্তমানে মানুষের মাঝে প্রচলিত কাগজের নোট ও ধাতব মুদ্রার জাকাতের বিধান স্পষ্ট করেছি। এছাড়া নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে স্বর্ণ ও রৌপ্য একে অপরের সাথে যুক্ত করার বিধান এবং নিসাব পূর্ণ করার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের সাথে ব্যবসার পণ্যের সমন্বয় করার বিধান বর্ণনা করেছি। স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে জাকাতের নির্ধারিত পরিমাণ যে এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ (ربع العشر), তা উল্লেখ করেছি এবং সহজ গাণিতিক পদ্ধতিতে জাকাত বের করার নিয়ম উদাহরণসহ তুলে ধরেছি। জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে এক প্রকার মুদ্রার পরিবর্তে অন্য প্রকার মুদ্রা প্রদানের বিধান স্পষ্ট করেছি। পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের যা কিছু বৈধ এবং নারীদের জন্য যা কিছু বৈধ, তা আলোচনা করেছি। স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার যে পুরুষ ও নারী সকলের জন্যই নিষিদ্ধ, তা উল্লেখ করেছি। আরও উল্লেখ করেছি যে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার যদি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ (محرم) হয়, তবে তাতে জাকাত প্রদান করা আবশ্যক; অথবা যদি তা...
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ৪)
عروض التجارة إجماعاً، ثم ذكرت أقوال العلماء في حكم زكاة الحلي المباح المعدّ للاستعمال، وأدلّة كل فريق، واجتهدت في اختيار القول الذي يدل عليه الكتاب، والسنة، والآثار عن الصحابة رضي الله عنهم، ثم ذكرت ترجيح بعض العلماء قديماً وحديثاً في حكم زكاة الحلي، وختمت هذه الأقوال بفتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، ثم ذكرت: مصارف الزكاة: أهل الزكاة بأصنافهم الثمانية، وختمت ذلك بالأصناف الذين لا يصح دفع الزكاة إليهم، وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات سماحة شيخنا الإمام عبدالعزيز بن عبد الله ابن باز، رفع الله منزلته، ونوَّر له في قبره، ورحمه رحمة واسعة.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله مباركاً، نافعاً، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، وأمينه على وحيه، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه، وأتباعه بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف أبو عبدالرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر عشية الأحد الموافق 15/ 3/1426هـ بالرياض
ব্যবসা-পণ্যের ওপর ঐক্যমত (إجماعاً) অনুযায়ী জাকাত ওয়াজিব, অতঃপর আমি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত বৈধ অলঙ্কারের জাকাতের বিধান সম্পর্কে আলেমগণের অভিমত এবং প্রত্যেক পক্ষের দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি। আমি কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-দের থেকে বর্ণিত আসার (الآثار) দ্বারা নির্দেশিত মতটি বেছে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এরপর আমি অলঙ্কারের জাকাতের বিধান সম্পর্কে প্রাচীন ও বর্তমান যুগের কিছু আলেমের প্রাধান্যদানকৃত মত (ترجيح) উল্লেখ করেছি এবং এই মতামতের সমাপ্তি টেনেছি 'ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা' এর ফতোয়া দ্বারা। এরপর আমি বর্ণনা করেছি: জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ অর্থাৎ আট শ্রেণীর জাকাত প্রাপ্য ব্যক্তি এবং পরিশেষে সেইসব শ্রেণীর বর্ণনা দিয়েছি যাদেরকে জাকাত প্রদান করা সঠিক নয় (لا يصح)। আমি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ-এর ব্যাখ্যা (تقريرات) ও প্রাধান্যদানসমূহ (ترجيحات) থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি; আল্লাহ তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন, তাঁর কবরকে আলোকিত করুন এবং তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন এবং এটিকে বরকতময় ও কল্যাণকর করেন। তিনি যেন আমার জীবনে এবং মৃত্যুর পর এর দ্বারা আমাকে উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং মহান আশাস্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুমহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সামর্থ্য ও শক্তি নেই। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তি এবং তাঁর ওহীর আমানতদার—আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর দরূদ, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।

লেখন আবু আব্দুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি

রিয়াদে ১৫/০৩/১৪২৬ হিজরী, রবিবার সন্ধ্যায় সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ৫)
زكاة الأثمان: الذهب والفضة، والعملات: الورقية، والمعدنية

 

‌‌أولاًَ: مفهوم الأثمان:

‌‌الأثمان لغة: الثمن: العوض، والجمع أثمان، مثل: سبب وأسباب، يقال: ثمَّنته تثميناً: جعلت له ثمناً بالحدس والتخمين (1).

والثمن: العوض الذي يؤخذ على التراضي في مقابلة البيع عيناً كان أو سلعة (2).

 

‌‌واصطلاحاً: الذهب والفضة أو ما يقوم مقامهما من العملات الورقية، أو النحاسية المستعملة الآن، ويقال أيضاً للذهب والفضة: النقدان، وجمعها نقود، والنقد هو العملة من الذهب والفضة أو ما يقوم مقامهما من العملات المستعملة بين الناس في البيع والشراء، وأنواع المنافع والمصالح (3).

والخلاصة: أن النقدين من الذهب والفضة: ما اتَّخذه الناس ثمناً من المعادن المضروبة أو الأوراق المطبوعة الصادرة عن المؤسسة المالية، صاحب الاختصاص، وجمع النقدين: نقود (4).

 

‌‌ثانياً: زكاة الذهب والفضة: واجبة ب‌‌الكتاب والسنة والإجماع:

أما الكتاب؛ فلقول الله تعالى: {وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ الله فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ* يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ

--------------------------------------------

(1) المصباح المنير، للفيومي، 1/ 84.

(2) القاموس الفقهي لغة واصطلاحاً، لسعدي أبو جيب، ص 52.

(3) معجم لغة الفقهاء، للأستاذ الدكتور، محمد رواس، ص 456،والقاموس الفقهي لغة واصطلاحاً، ص 358.

(4) معجم لغة الفقهاء، ص 456، وانظر: الشرح المختصر على زاد المستقنع، للفوزان، 2/ 275.
মূল্যমানের (الأثمان) জাকাত: স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং মুদ্রাসমূহ: কাগজের ও ধাতব

 

‌‌প্রথমত: মূল্যমানের (الأثمان) ধারণা:

‌‌শাব্দিক অর্থে: ‘ছামান’ (الثمن) অর্থ হলো বিনিময় বা প্রতিদান, এর বহুবচন হলো ‘আছমান’ (أثمان); যেমন— ‘সাবাব’ ও ‘আসবাব’। বলা হয়: ‘ছাম্মানতুহু তাছমিনান’ (ثمَّنته تثميناً) অর্থাৎ আমি অনুমানের ভিত্তিতে এর মূল্য নির্ধারণ করেছি (১)।

আর ‘ছামান’ (الثمن) হলো সেই বিনিময় যা ক্রয়-বিক্রয়ের বিপরীতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়, চাই তা নগদ অর্থ হোক বা পণ্য (২)।

 

‌‌পারিভাষিক অর্থে: স্বর্ণ ও রৌপ্য অথবা বর্তমানে প্রচলিত কাগজের বা তাম্র মুদ্রা যা এ দুটির স্থলাভিষিক্ত হয়। স্বর্ণ ও রৌপ্যকে ‘নাকদান’ (النقدان) বা ‘দুই মুদ্রা’ও বলা হয়, এর বহুবচন হলো ‘নুকুন্দ’ (نقود)। আর ‘নাকদ’ (النقد) হলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রা অথবা ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন প্রকার সুযোগ-সুবিধা ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মানুষের মাঝে প্রচলিত এ দুটির স্থলাভিষিক্ত মুদ্রাসমূহ (৩)।

সারসংক্ষেপ: স্বর্ণ ও রৌপ্যজাত দুই মুদ্রা (النقدين) বলতে বুঝায়: মানুষ ধাতু দ্বারা তৈরি বা কোনো বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যু করা মুদ্রিত কাগজকে বিনিময় মূল্য হিসেবে যা গ্রহণ করেছে। আর ‘নাকদান’-এর বহুবচন হলো ‘নুকুন্দ’ (نقود) (৪)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: স্বর্ণ ও রৌপ্যের জাকাত: কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে এটি আবশ্যক (واجب):

কুরআনের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে...

--------------------------------------------

(১) আল-মিসবাহুল মুনীর, আল-ফাইয়ুমি, ১/ ৮৪।

(২) আল-কামুস আল-ফিকহী লুগাতান ওয়া ইস্তিলাহান, সা’দী আবু জাইব, পৃ. ৫২।

(৩) মু’জামু লুগাতিল ফুকাহা, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রাওয়াস, পৃ. ৪৫৬; এবং আল-কামুস আল-ফিকহী লুগাতান ওয়া ইস্তিলাহান, পৃ. ৩৫৮।

(৪) মু’জামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃ. ৪৫৬; আরও দেখুন: আশ-শারহুল মুখতাসার আলা জাদিল মুস্তাকনি’, আল-ফাওজান, ২/ ২৭৫।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ৬)
فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ} (1).

قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ولا يتوعد بهذه العقوبة إلا على ترك واجب)) (2).

وقال الله سبحانه وتعالى: {وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آَتَاهُمُ الله مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلِله مِيرَاثُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالله بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} (3).

 

وأما‌‌ السنة؛ فلحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما من صاحب ذهب ولا فضةلا يؤدي منها حقها، إلا إذا كان يوم القيامة صُفِّحت له صفائح من نار فأحمي عليها في نار جهنم، فيكوى

بها جنبه، وجبينه، وظهره، كلما بردت أعيدت له في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة، حتى يقضى بين العباد فيرى سبيله إما إلى الجنة وإما إلى النار)) (4)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من آتاه الله مالاً فلم يؤدِّ زكاته مُثِّل له يوم القيامة شجاعاً أقرع (5) له زبيبتان (6) يطوِّقه يوم القيامة،

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآيتان: 34 - 35.

(2) المغني، 4/ 208.

(3) (سورة آل عمران، الآية: 180.

(4) (متفق عليه: البخاري مختصراً، كتاب الزكاة، باب إثم مانع الزكاة، برقم 1402، ومسلم بلفظه، كتاب الزكاة، باب إثم مانع الزكاة، برقم 987، ومن حديث جابر عند مسلم، برقم 988، وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام.

(5) الشجاع: الحية الذكر، والأقرع: الذي انحسر الشعر عن رأسه من كثرة سمه، شرح السنة للبغوي، 5/ 479.

(6) زبيبتان: النكتتان السوداوان فوق عينيه، وهو أوحش ما يكون من الحيات وأخبثه، ويقال الزبيبتان: الزبعتان تكون في الشدقين إذا غضب الإنسان، أو كثر كلامه. شرح السنة للبغوي، 5/ 479.
...অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপাল, পার্শ্বদেশ এবং পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (বলা হবে,) এটিই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য সঞ্চয় করেছিলে; সুতরাং তোমরা যা সঞ্চয় করতে তার স্বাদ গ্রহণ করো।} (১)।

ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “আর এ ধরনের শাস্তির হুঁশিয়ারি কেবল কোনো আবশ্যিক (واجب) বিধান পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়।” (২)।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদেরকে দান করেছেন, তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে, তা তাদের জন্য মঙ্গলজনক; বরং তা তাদের জন্য ক্ষতিকর। তারা যা নিয়ে কৃপণতা করেছে, কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ী হিসেবে পরিয়ে দেওয়া হবে। আর আসমান ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই। আর তোমরা যা আমল করো, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।} (৩)।

 

আর সুন্নাহ (سنة)-এর দলিল হলো আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে স্বর্ণ বা রৌপ্যের মালিক তার হক (যাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের কতগুলো পাত তৈরি করা হবে এবং জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে

তার পার্শ্বদেশ, কপাল এবং পিঠ দগ্ধ করা হবে। যখনই তা ঠান্ডা হয়ে যাবে, তখনই তা পুনরায় উত্তপ্ত করা হবে (এমন এক দিনে) যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না বান্দাদের মধ্যে বিচার ফয়সালা সম্পন্ন হয়। অতঃপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে।” (৪); এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন অথচ সে তার যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে তার জন্য একটি বিষধর টেকো (৫) সাপের রূপ দান করা হবে যার (চোখের ওপর) দুটি কালো বিন্দু (৬) থাকবে। কিয়ামতের দিন তা তার গলায় বেড়ী হয়ে জড়িয়ে থাকবে...”

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩৪ - ৩৫।

(২) আল-মুগনি, ৪/ ২০৮।

(৩) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮০।

(৪) (সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি সংক্ষেপে, কিতাবুয যাকাত, যাকাত প্রদান নাকারীর গুনাহ পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৪০২; এবং মুসলিম তার শব্দে, কিতাবুয যাকাত, যাকাত প্রদান নাকারীর গুনাহ পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৯৮৭; এবং মুসলিমের অন্য বর্ণনায় জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে, হাদিস নং ৯৮৮; আর এর হাদিসের উৎস বর্ণনা (تخريج) ইতিপূর্বে ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

(৫) 'শুজা' অর্থ পুরুষ সাপ; আর 'আকরা' ঐ সাপকে বলা হয় যার প্রচুর বিষের কারণে মাথার পশম পড়ে গেছে। শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাউয়ী, ৫/ ৪৭৯।

(৬) 'যবিবাতাইন' অর্থ তার দুই চোখের উপরের দুটি কালো বিন্দু। এটি সাপের নিকৃষ্টতম ও ভয়ংকরতম অবস্থা। অন্যমতে এটি হলো চোয়ালের দুই পাশে অবস্থিত দুটি মাংসপিণ্ড যা রাগের সময় বা কথা বলার সময় প্রকাশ পায়। শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাউয়ী, ৫/ ৪৭৯।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ৭)
ثم يأخذ بلهزمتيه - يعني شدقيه - ثم يقول: أنا مالك، أنا كنزك، ثم تلا هذه الآية: {وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آَتَاهُمُ الله مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلِله مِيرَاثُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالله بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} (1). وفي لفظ: ((يكون كنز أحدكم يوم القيامة شجاعاً أقرع يفرُّ منه صاحبه ويطلبه ويقول: أنا كنزك، قال: والله لن يزال يطلبه حتى يبسط يده فيلقمها فاه)) (2).

 

أما‌‌ الإجماع، فقال الإمام ابن المنذر رحمه الله تعالى: ((وأجمعوا على أن في مائتي درهم خمسة دراهم، وأجمعوا على أن الذهب إذا كان عشرين مثقالاً وقيمتها مائتا درهمٍ أن الزكاة تجب فيه وانفرد الحسن البصري … )) (3). وقال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وأجمع أهل العلم على أن في مائتي درهم خمسة دراهم، وعلى أن الذهب إذا كان عشرين مثقالاً، وقيمته مائتا درهم أن الزكاة تجب فيه، إلا ما اختلف فيه عن الحسن)) (4).

‌‌ثالثاً: نصاب الذهب والفضة على النحو الآتي:

1 -‌‌ نصاب الفضة، إذا بلغت الفضة مائتي درهم ففيها الزكاة؛

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 180.

(2) البخاري، كتاب الزكاة، باب إثم مانع الزكاة، برقم 1403، وكتاب التفسير، باب: {وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آَتَاهُمُ الله مِنْ فَضْلِهِ} (آل عمران: 180، وكتاب الحيل، باب في الزكاة، وأن لا يفرق بين مجتمع ولا يجمع بين متفرق خشية الصدقة، برقم 6957، وتقدم تخريجه أيضاً في منزلة الزكاة في الإسلام.

(3) الإجماع، لابن المنذر، ص 53.

(4) المغني، 4/ 208.
এরপর সে (সাপটি) তার দুই কপালে—অর্থাৎ গালের দুই পাশে—কামড়ে ধরবে এবং বলবে: আমিই তোমার সম্পদ, আমিই তোমার সঞ্চিত ধন। এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দান করেছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে, তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে তা তাদের জন্য মঙ্গলজনক; বরং তা তাদের জন্য অমঙ্গলজনক। তারা যাতে কার্পণ্য করেছে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি স্বরূপ পরিয়ে দেওয়া হবে। আর আসমান ও যমীনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই এবং তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।} (১)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ((কিয়ামতের দিন তোমাদের কারো সঞ্চিত ধন এক বিষধর মাথায় চুলহীন সাপে পরিণত হবে, যা থেকে তার মালিক পলায়ন করবে কিন্তু সাপটি তাকে তাড়া করবে এবং বলবে: আমি তোমার গচ্ছিত ধন। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, সেটি তাকে তাড়া করতেই থাকবে যতক্ষণ না ব্যক্তিটি তার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং সাপটি তা মুখে পুরে নেয়)) (২)।

 

পক্ষান্তরে‌‌ ঐকমত্য (إجماع)-এর বিষয়ে ইমাম ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তারা এ বিষয়ে একমত (أجمعوا) হয়েছেন যে, দুইশত দিরহামে পাঁচ দিরহাম যাকাত ওয়াজিব। তারা এ বিষয়েও একমত (أجمعوا) হয়েছেন যে, যদি স্বর্ণ বিশ মিসকাল হয় এবং তার মূল্য দুইশত দিরহাম হয়, তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে। তবে কেবল হাসান বসরী … )) (৩)। ইমাম ইবনে কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((বিদ্বানগণ এ বিষয়ে একমত (أجمع) হয়েছেন যে, দুইশত দিরহামে পাঁচ দিরহাম যাকাত দিতে হবে এবং স্বর্ণ যখন বিশ মিসকাল হয় এবং তার মূল্য দুইশত দিরহাম হয়, তখন তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে; তবে হাসান বসরী থেকে যা ভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে তা ছাড়া)) (৪)।

‌‌তৃতীয়ত: স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিসাব নিম্নরূপ:

১ -‌‌রৌপ্যের নিসাব, যখন রৌপ্যের পরিমাণ দুইশত দিরহামে পৌঁছাবে, তখন তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে;

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮০।

(২) বুখারি, কিতাবুজ যাকাত, যাকাত প্রদান না করার পাপ অধ্যায়, হাদিস নম্বর ১৪০৩; এবং কিতাবুত তাফসির, অনুচ্ছেদ: {আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দান করেছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে...} (আলে ইমরান: ১৮০); এবং কিতাবুল হিয়াল, যাকাত সংক্রান্ত অধ্যায়, যাকাত ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে একত্রিত মাল পৃথক না করা এবং পৃথক মাল একত্রিত না করা অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৬৯৫৭; এবং ইতিপূর্বে যাকাতের মর্যাদা আলোচনায় এর উৎস নির্দেশ (تخريج) করা হয়েছে।

(৩) আল-ইজমা, ইবনুল মুনযির, পৃষ্ঠা ৫৩।

(৪) আল-মুগনি, ৪/ ২০৮।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ৮)
لحديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((قد عفوت عن الخيل والرقيق، فهاتوا صدقة الرقة (1) من كل أربعين درهماً درهماً، وليس في تسعين ومائة شيء، فإذا بلغت مائتين ففيها خمسة دراهم)) (2)؛ ولحديث علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم وفيه: (( … فإذا كانت لك مائتا درهم وحال عليها الحول ففيها خمسة دراهم … )) (3)؛ ولحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((ليس فيما دون خمس أواقٍ [من الورق] صدقة، وليس فيما دون خمس ذودٍ [من الإبل] صدقة، وليس فيما دون خمسة أوسقٍ [من التمر] صدقة)) (4). قال الإمام ابن الأثير رحمه الله تعالى: ((الأقية التي جاء ذكرها في الأحاديث مبلغها أربعون درهماً .. )) (5). قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وجملة ذلك أن نصاب الفضة مائتا درهم، لا خلاف في ذلك

--------------------------------------------

(1) الرقة: هي الدراهم المضروبة، أصلها الوَرِق، حذفت الواو وعُوِّض عنها الهاء، كعِدَةٍ وزنة. العون، 4/ 316، وجامع الأصول، 4/ 583، وجاء في فتح الباري لابن حجر، 3/ 321: ((الرقة - بكسر الراء وتخفيف القاف - الفضة، سواء كانت مضروبة أو غير مضروبة)).

(2) أبو داود، كتاب الزكاة، باب زكاة السائمة برقم 1574، والنسائي، كتاب الزكاة، باب زكاة الورق، برقم 2477، وابن ماجه، كتاب الزكاة، باب زكاة الورق والذهب، برقم 1459 - 1817، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436، ورواه أيضاً الترمذي، كتاب الزكاة، باب ما جاء في زكاة الذهب والورق، برقم 620.

(3) أبو داود، كتاب الزكاة، باب في زكاة السائمة، برقم 1573، وصححه الألباني، في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436.

(4) متفق عليه: البخاري، كتاب الزكاة، باب ما أدي زكاته فليس بكنز، برقم 1405، وباب زكاة الورق، برقم 1447، وبابٌ: ليس فيما دون خمس ذود صدقة، برقم 1459، وبابٌ: ليس فيما دون خمسة أوسق، برقم 1484، ومسلم، كتاب الزكاة، باب ليس فيما دون خمسة أوسقٍ صدقة، برقم 979.

(5) جامع الأصول لابن الأثير، 4/ 589.
আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি ঘোড়া এবং দাসের (যাকাত) অব্যাহতি দিয়েছি, সুতরাং তোমরা রৌপ্য মুদ্রার (১) যাকাত প্রদান করো; প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম। আর একশত নব্বই দিরহামে কোনো যাকাত নেই, তবে যখন তা দুইশত দিরহামে পৌঁছাবে তখন তাতে পাঁচ দিরহাম যাকাত ওয়াজিব হবে।" (২); এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিসে আরও রয়েছে: " … যখন তোমার নিকট দুইশত দিরহাম থাকে এবং তার উপর এক বছর পূর্ণ হয়, তখন তাতে পাঁচ দিরহাম যাকাত ওয়াজিব হবে … " (৩); এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস, যেখানে তিনি বলেছেন: "পাঁচ উকিয়ার [রুপার] কম পরিমাণে কোনো যাকাত নেই, পাঁচটির কম উটের ক্ষেত্রে কোনো যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের [খেজুরের] কম পরিমাণে কোনো যাকাত নেই।" (৪)। ইমাম ইবনুল আসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "হাদিসসমূহে যে উকিয়ার উল্লেখ এসেছে তার পরিমাণ হলো চল্লিশ দিরহাম..." (৫)। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সারকথা হলো, রুপার নিসাব হলো দুইশত দিরহাম, এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।"

--------------------------------------------

(১) আর-রিক্কাহ: এটি হলো প্রচলিত দিরহাম, এর মূল শব্দ হলো 'আল-ওয়ারিক', এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে 'হা' যুক্ত করা হয়েছে, যেমন 'ইদাতুন' ও 'যিনাতুন' শব্দে হয়ে থাকে। আল-আউন, ৪/৩১৬; জামেউল উসুল, ৪/৫৮৩। ফাতহুল বারী ইবনে হাজার, ৩/৩২১-এ এসেছে: "আর-রিক্কাহ - 'রা' বর্ণে কাসরা এবং 'কাফ' বর্ণে হালকা উচ্চারণ সহ - এর অর্থ হলো রুপা, তা মুদ্রা হোক বা অলঙ্কার।"

(২) আবু দাউদ, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: চারণভূমিতে বিচরণকারী পশুর যাকাত, হাদিস নং ১৫৭৪; নাসায়ী, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: রুপার যাকাত, হাদিস নং ২৪৭৭; ইবনে মাজাহ, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সোনা ও রুপার যাকাত, হাদিস নং ১৪৫৯ - ১৮১৭; আলবানী একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৪৩৬-এ সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন; এবং তিরমিজিও এটি বর্ণনা করেছেন, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সোনা ও রুপার যাকাত প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং ৬২০।

(৩) আবু দাউদ, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: চারণভূমিতে বিচরণকারী পশুর যাকাত প্রসঙ্গে, হাদিস নং ১৫৭৩; আলবানী একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৪৩৬-এ সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যার যাকাত প্রদান করা হয়েছে তা পুঞ্জীভূত সম্পদ নয়, হাদিস নং ১৪০৫; পরিচ্ছেদ: রুপার যাকাত, হাদিস নং ১৪৪৭; পরিচ্ছেদ: পাঁচটির কম উটের ক্ষেত্রে যাকাত নেই, হাদিস নং ১৪৫৯; পরিচ্ছেদ: পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণে যাকাত নেই, হাদিস নং ১৪৮৪; এবং মুসলিম, যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণে যাকাত নেই, হাদিস নং ৯৭৯।

(৫) জামেউল উসুল ইবনুল আসির, ৪/৫৮৯।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ৯)
بين علماء الإسلام، وقد بيَّنته السنة التي رويناها بحمد الله، والدراهم التي يعتبر بها النصاب: هي الدراهم التي كلُّ عشرة منها وزنُ سبعة مثاقيل بمثقال الذهب، وكلُّ دِرْهَمٍ نصف مثقال وخُمْسُهُ، وهي الدراهم الإسلامية التي تقدَّر بها نُصُبُ الزكاة، ومقدار الجزية، والديات، ونصاب القطع في السرقة، وغير ذلك .. )) (1) (2). وقد ذكر المرداوي رحمه الله في كتابه الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف: أن زنة كل مثقال اثنتان وسبعون حبة شعير متوسطة (3). وقال العلامة عبدالرحمن القاسم: ((المثقال زنة اثنتان وسبعون حبة من حب الشعير الممتلئ، غير الخارج عن مقادير حب الشعير غالباً)) (4). وحرر شيخنا الإمام عبدالعزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله ذلك فقال: ((زنة المثقال اثنتان وسبعون حبة شعير متوسطة)) (5) (6).

--------------------------------------------

(1) المغني، 4/ 209.

(2) وكانت الدراهم في صدر الإسلام صنفين سُوداً، وطبريَّةً، وكانت السود ثمانية دوانق، والطبرية أربعة دوانق، فجمعا في الإسلام وجعلا درهمين متساويين في كل درهم ستة دوانق، [والدانق سدس الدرهم] فعل ذلك بنو أمية، فاجتمعت فيها ثلاثة أوجه: أحدها: أن كل عشرة وزن سبعة، والثاني: أنه عَدْلٌ بين الصغير والكبير، والثالث: أنه موافق لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ودرهمه الذي قدَّر به المقادير الشرعية، ولا فرق في ذلك بين التبر والمضروب، ومتى نقص النصاب عن ذلك فلا زكاة فيه، سواء كان النقص يسيراً أو كثيراً، هذا ظاهر كلام الخرقي، ومذهب الشافعي، وإسحاق، وابن المنذر؛ لظاهر قوله عليه [الصلاة] والسلام: ((ليس فيما دون خمس أواق صدقة))، والأقيَّةُ: أربعون درهماً بغير خلاف، فيكون ذلك مائتي دِرْهَمٍ، المغني، 4/ 209.

(3) الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، المطبوع مع المقنع والشرح الكبير، 7/ 9، وقال: ((وقيل: المثقال اثنان وثمانون حبة وثلاثة أعشار حبة، وعشر عشر حبة)).

(4) حاشية ابن قاسم على الروض المربع، 3/ 244.

(5) مجموع فتاوى ابن باز، 14/ 79.

(6) وقالت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء: نصاب الفضة: ((مائتا درهم، الدرهم وزنه نصف مثقال وخمس مثقال، والنصاب يساوي مائة وأربعين مثقالاً، ومائتا درهم تساوي ستة وخمسين ريالاً سعودياً فضياً)). (فتاوى اللجنة الدائمة، 9/ 252.
ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে, এবং আল্লাহর প্রশংসায় আমরা যে সুন্নাহ (سنة) বর্ণনা করেছি তা এটি স্পষ্ট করেছে; আর যে দিরহামের মাধ্যমে নিসাব বিবেচিত হয়: তা হলো সেই দিরহাম যার প্রতি দশটির ওজন স্বর্ণের মিসকালের ওজনে সাত মিসকাল হয়ে থাকে। প্রতিটি দিরহাম হলো আধা মিসকাল ও তার এক-পঞ্চমাংশ। এগুলো হলো সেই ইসলামি দিরহাম যার মাধ্যমে জাকাতের নিসাব, জিজিয়ার পরিমাণ, দিয়াত (রক্তপণ), চুরির কারণে অঙ্গচ্ছেদের নিসাব এবং অন্যান্য বিষয় নির্ধারিত হয় .. )) (১) (২)। ইমাম আল-মারদাউয়ি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে: প্রতিটি মিসকালের ওজন বাহাত্তরটি মাঝারি বার্লির দানা (৩)। আল্লামা আবদুর রহমান আল-কাসিম বলেছেন: ((মিসকাল হলো চুয়াত্তরটি পুষ্ট বার্লির দানার ওজন, যা সাধারণত বার্লির দানার স্বাভাবিক পরিমাপের বাইরে নয়)) (৪)। আমাদের শাইখ ইমাম আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বিষয়টি সুস্পষ্ট করে বলেছেন: ((মিসকালের ওজন বাহাত্তরটি মাঝারি বার্লির দানা)) (৫) (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি, ৪/ ২০৯।

(২) ইসলামের প্রাথমিক যুগে দিরহাম দুই প্রকারের ছিল: 'সুদ' (কালো) এবং 'তাবারিয়া'। কালো দিরহাম ছিল আট দানিক ওজনের এবং তাবারিয়া ছিল চার দানিক ওজনের। পরবর্তীতে ইসলামের যুগে এই দুইয়ের সমন্বয় করা হয় এবং সমমানের দুটি দিরহাম তৈরি করা হয় যেখানে প্রতিটি দিরহামের ওজন ছিল ছয় দানিক। [এক দানিক হলো দিরহামের ছয় ভাগের এক ভাগ]। বনু উমাইয়ারা এটি করেছিলেন, ফলে এতে তিনটি দিক অর্জিত হয়েছিল: প্রথমত, প্রতি দশটির ওজন সাত মিসকাল হওয়া; দ্বিতীয়ত, এটি ছোট ও বড়র মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া; এবং তৃতীয়ত, এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) এবং তাঁর দিরহামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া যার মাধ্যমে তিনি শরিয়তের বিভিন্ন পরিমাণ নির্ধারণ করেছিলেন। স্বর্ণপিণ্ড (তুবর) এবং মুদ্রা (মাদরুব) এর মধ্যে এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। যখন নিসাব এর থেকে কমে যাবে, তাতে কোনো জাকাত নেই, চাই সেই ঘাটতি সামান্য হোক বা বেশি। এটিই আল-খিরাকির বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ এবং ইমাম শাফেয়ি, ইসহাক এবং ইবনুল মুনযিরের মাযহাব; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি [ওয়াসাল্লাম]-এর বাণীর প্রকাশ্য অর্থ হলো: ((পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে কোনো সদকা (জাকাত) নেই))। আর কোনো মতভেদ ছাড়াই এক উকিয়া হলো চল্লিশ দিরহাম, ফলে নিসাব হবে দুইশত দিরহাম। আল-মুগনি, ৪/ ২০৯।

(৩) আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ, আল-মুকনি ও আশ-শারহুল কাবিরের সাথে মুদ্রিত, ৭/ ৯। তিনি বলেছেন: ((বলা হয়ে থাকে: মিসকাল হলো বিরাশি দানা এবং একটি দানার দশ ভাগের তিন ভাগ এবং এক-দশমাংশের এক-দশমাংশ))।

(৪) আর-রাওদুল মুরব্বি-এর ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ৩/ ২৪৪।

(৫) মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/ ৭৯।

(৬) স্থায়ী ফতোয়া কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা) বলেছে: রুপার নিসাব: ((দুইশত দিরহাম। দিরহামের ওজন হলো আধা মিসকাল এবং মিসকালের এক-পঞ্চমাংশ। নিসাব একশত চল্লিশ মিসকালের সমপরিমাণ এবং দুইশত দিরহাম ছাপ্পান্ন সৌদি রুপালি রিয়ালের সমান))। (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ৯/ ২৫২)।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد جَرَّبْتُ ذلك بنفسي، فأخذت اثنتين وسبعين حبة من حب الشعير المتوسط ووزنته في ميزان الذهب عند أصحاب الذهب فكان وزنه أربعة غرامات وستة من عشرة (4.6) (1). وهذا هو وزن المثقال الواحد، وحرر

--------------------------------------------

(1) في يوم الأحد بتاريخ 8/ 3/1426هـ أخذت ثلاث مجموعات من حب الشعير اليمني، وكل مجموعة: ثنتان وسبعون حبة ممتلئة متوسطة، ثم وزنت كل مجموعة لوحدها عند أصحاب الذهب بمدينة الرياض بالبطحاء، فكانت النتائج على النحو الآتي:

1 - المجموعة الأولى 72 حبة وزنها = 4.8 جرام.

2 - المجموعة الثانية 72 حبة وزنها = 4.6 جرام.

3 - المجموعة الثالثة 72 حبة وزنها = 4.4 جرام.

وكررت الوزن أكثر من مرة، فلم يتغير، ثم انتقلت إلى محل آخر فلم يتغير، ومن الغريب أني لا أستطيع تمييز المجموعة بالنظر المجرد عن المجموعة الأخرى، وهذا يدل على دقة الميزان، وتقارب المجموعات في الثقل الحقيقي والشكل الخارجي، ثم بعد ذلك اخترت وزن 4.6 جرام وأنه وزن المثقال؛ لثلاثة أمور: الأمر الأول: أنه الوزن الأوسط، والأمر الثاني: لأن ذلك هو تحرير سماحة شيخنا ابن باز رحمه الله، وهو تحرير اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، الأمر الثالث: أنه المتوسط الحسابي لهذه الأوزان: 4.8 = 4.6 = 4.4 = 13.8 ÷ 3 = 4.6، وهو الذي تطمئن إليه النفس، ثم ضربنا هذا الوزن [4.6] في مائة وأربعين مثقالاً وهو نصاب الفضة بالمثاقيل فكان الناتج 644 جراماً وهو نصاب الفضة بالجرامات، ثم وجدنا وزن الريال السعودي الفضي 11.6 جرام ثم ضربناها في 56 فكان الناتج 649.6 جرام، وسألت في نفس التاريخ عن سعر الريال السعودي الفضي فكان 8 ريالات، فضربناها في 56 فكان الناتج 448 ريالاً سعودياً ورقياً، وأما الذهب فكان وزن المثقال كما تقدم آنفاً 4.6 ضربناها في عشرين مثقالاً، الذي هو نصاب الذهب فكان الناتج 92 جراماً، وكان وزن الجنية 8 جرامات، وقسمت 92 ÷ 8 فكان الناتج 11.5، وكان سعر جرام الجنيه في نفس التاريخ 44.70 ريالاً سعودياً ورقياً، فضربنا ذلك في الجرامات [44.70 × 92] فكان الناتج 4112.4 ريالاً سعودياً ورقياً. فاتضح ما يلي:

1 - نصاب الفضة 200 درهم = 140 مثقالاً = 644 جراماً، وهي تقارب 56 ريالاً سعودياً فضياً وسعرها في نفس اليوم 448 ريالاً سعودياً ورقياً.

2 - نصاب الذهب عشرون ديناراً = عشرون مثقالاً =92 جراماً = 11.5 جنيهاً سعودياً وسعرها في نفس اليوم4112.4 ريالاً سعودياً ورقياً. والله تعالى أعلم، وهو المستعان وحده.
আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি পরীক্ষা করেছি; আমি মাঝারি আকারের বাহাত্তরটি যব দানা গ্রহণ করেছি এবং স্বর্ণকারদের নিকট স্বর্ণ পরিমাপের তুলাদণ্ডে তা ওজন করেছি, যার ওজন হয়েছে চার দশমিক ছয় (৪.৬) গ্রাম (১)। আর এটিই হলো এক মিথকালের ওজন, এবং এটি সুনির্ধারিত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) রবিবার ৮/৩/১৪২৬ হিজরি তারিখে আমি ইয়েমেনি যব দানার তিনটি দল নিয়েছি; প্রতিটি দলে ছিল বাহাত্তরটি পুষ্ট ও মাঝারি আকারের দানা। অতঃপর আমি রিয়াদের আল-বাতা নামক স্থানে স্বর্ণকারদের নিকট প্রতিটি দল আলাদাভাবে ওজন করি। ফলাফলগুলো ছিল নিম্নরূপ:

১ - প্রথম দল ৭২টি দানা, যার ওজন = ৪.৮ গ্রাম।

২ - দ্বিতীয় দল ৭২টি দানা, যার ওজন = ৪.৬ গ্রাম।

৩ - তৃতীয় দল ৭২টি দানা, যার ওজন = ৪.৪ গ্রাম।

আমি ওজন প্রক্রিয়াটি একাধিকবার পুনরাবৃত্তি করেছি এবং তা অপরিবর্তিত ছিল। এরপর আমি অন্য একটি দোকানে যাই এবং সেখানেও তা পরিবর্তন হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমি খালি চোখে এক দলের দানা থেকে অন্য দলের দানা আলাদা করতে পারছিলাম না; এটি তুলাদণ্ডের সূক্ষ্মতা এবং দানার দলগুলোর প্রকৃত ওজন ও বাহ্যিক আকৃতিতে কাছাকাছি হওয়ার প্রমাণ দেয়। এরপর আমি ৪.৬ গ্রাম ওজনকে এক মিথকালের ওজন হিসেবে বেছে নিয়েছি; যার পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে: প্রথম কারণ: এটি হলো মধ্যম ওজন। দ্বিতীয় কারণ: এটিই আমাদের শাইখ ইবনে বাজ রাহিমাহুল্লাহ-এর যাচাইকৃত মান এবং এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির নির্ধারিত মান। তৃতীয় কারণ: এটি এই ওজনগুলোর গাণিতিক গড়: ৪.৮ + ৪.৬ + ৪.৪ = ১৩.৮ ÷ ৩ = ৪.৬। এটিই এমন মান যার প্রতি মন আশ্বস্ত হয়। এরপর আমরা এই ওজন [৪.৬]-কে একশত চল্লিশ মিথকাল দিয়ে গুণ করেছি—যা মিথকালের হিসেবে রুপার নিসাব—ফলে উত্তর আসে ৬৪৪ গ্রাম, যা গ্রামের হিসেবে রুপার নিসাব। এরপর আমরা রৌপ্য নির্মিত সৌদি রিয়ালের ওজন পেয়েছি ১১.৬ গ্রাম এবং তাকে ৫৬ দিয়ে গুণ করি, ফলে উত্তর আসে ৬৪৯.৬ গ্রাম। আমি একই তারিখে রৌপ্য নির্মিত সৌদি রিয়ালের বাজারদর সম্পর্কে জানতে চাইলে তা ৮ রিয়াল ছিল; অতঃপর আমরা তাকে ৫৬ দিয়ে গুণ করলে তার মান ৪৪৮ সৌদি কাগুজে রিয়াল হয়। আর স্বর্ণের ক্ষেত্রে মিথকালের ওজন যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে ৪.৬, আমরা একে বিশ মিথকাল দিয়ে গুণ করেছি—যা স্বর্ণের নিসাব—ফলে উত্তর আসে ৯২ গ্রাম। স্বর্ণমুদ্রার ওজন ছিল ৮ গ্রাম এবং আমি ৯২-কে ৮ দিয়ে ভাগ করি, যার ফল আসে ১১.৫। একই তারিখে এক গ্রাম স্বর্ণমুদ্রার মূল্য ছিল ৪৪.৭০ সৌদি কাগুজে রিয়াল; ফলে আমরা তাকে মোট গ্রাম দিয়ে গুণ করি [৪৪.৭০ × ৯২], যার ফল আসে ৪১১২.৪ সৌদি কাগুজে রিয়াল। এর মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হলো যে:

১ - রুপার নিসাব ২০০ দিরহাম = ১৪০ মিথকাল = ৬৪৪ গ্রাম, যা প্রায় ৫৬টি সৌদি রৌপ্য রিয়ালের সমান এবং একই দিনে এর মূল্য ৪৪৮ সৌদি কাগুজে রিয়াল।

২ - স্বর্ণের নিসাব ২০ দিনার = ২০ মিথকাল = ৯২ গ্রাম = ১১.৫টি সৌদি স্বর্ণমুদ্রা এবং একই দিনে এর মূল্য ৪১১২.৪ সৌদি কাগুজে রিয়াল। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত, এবং তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১১)
شيخنا الإمام عبدالعزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله، وحررت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء أن نصاب الفضة مائة وأربعون مثقالاً (1)، فيكون النصاب بالغرامات:

4.6 جرامات × 140مثقالاً = 644 جراماً، وهذا الوزن هو نصاب الفضة تقريباً، وهو وزن خمس أواقٍ من الفضة، ويعادل مائتي درهم كما تقدم، فإذا نقص المال عن ذلك التقدير فلا زكاة فيه إلا أن يكون في ملكه عروض تجارة؛ فإنها تضم إلى الفضة في تكميل النصاب.

قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: (( … عروض التجارة تضمُّ إلى كل واحد من الذهب والفضة، ويكمّل به نصابه، لا نعلم فيه اختلافاً)). قال الخطابي: ((لا أعلم عامتهم اختلفوا فيه؛ لأن الزكاة إنما تجب في قيمتها فتقوم بكل واحد منها، فتضم إلى كل واحد منهما، ولو كان له ذهب وفضة وعروض وجب ضم الجميع إلى بعضٍ في تكميل النصاب؛ لأن العرض مضمومٌ إلى كل واحد منهما، فيجب ضمهما إليه، وجَمْع الثلاثة)). فلو كان يملك عشرة مثاقيل من الفضة، وخمسة مثاقيل من الذهب، وعقار معروض للبيع، وكلها دار عليها الحول؛ فإنه في هذه الحالة يضم بعضها إلى بعض في تكميل النصاب، فيحصي قيمة الذهب، والفضة، والعقار، ثم

--------------------------------------------

(1) فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، 9/ 254.
আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ) নির্ধারণ করেছেন যে, রূপার নিসাব (نصاب) হলো একশ চল্লিশ মিসকাল (مثقال) (১), সুতরাং গ্রামে এই নিসাব (نصاب) হবে:

৪.৬ গ্রাম × ১৪০ মিসকাল (مثقال) = ৬৪৪ গ্রাম, আর এই ওজনটিই হলো রূপার আনুমানিক নিসাব (نصاب)। এটি রূপার পাঁচ উকিয়া (أواقٍ)-এর সমপরিমাণ ওজন এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত দুইশ দিরহামের (درهم) সমান। সুতরাং যদি সম্পদ এই পরিমাণের চেয়ে কম হয়, তবে তাতে জাকাত (زكاة) নেই; তবে যদি তার মালিকানায় ব্যবসার পণ্য (عروض تجارة) থাকে, তবে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার জন্য তা রূপার সাথে যুক্ত করা হবে।

ইমাম ইবনে কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (( … ব্যবসার পণ্য (عروض التجارة) সোনা ও রূপার প্রত্যেকের সাথে যুক্ত করা হবে এবং এর মাধ্যমে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করা হবে, এ বিষয়ে আমরা কোনো মতভেদ (اختلاف) জানি না))। আল-খাত্তাবী বলেন: ((আমি জানি না যে তাঁদের সাধারণ আলিমগণ এ বিষয়ে মতভেদ (اختلاف) করেছেন; কারণ জাকাত (زكاة) কেবল তার মূল্যের ওপর ওয়াজিব (واجب) হয়, তাই সেগুলোর প্রত্যেকটি দ্বারা মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং প্রত্যেকের সাথে যুক্ত করা হবে। যদি কারো কাছে সোনা, রূপা ও ব্যবসার পণ্য থাকে, তবে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সবগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা ওয়াজিব (واجب); কারণ পণ্যটি এই দুটির প্রত্যেকের সাথেই যুক্ত হয়, তাই এই দুটিকে তার সাথে যুক্ত করা এবং তিনটিকে একত্রিত করা আবশ্যক))। সুতরাং যদি কেউ দশ মিসকাল (مثقال) রূপা, পাঁচ মিসকাল (مثقال) সোনা এবং বিক্রির জন্য রাখা কোনো স্থাবর সম্পত্তির (عقار) মালিক হয় এবং সবগুলোর ওপর এক বছর অতিবাহিত (حول) হয়; তবে এমতাবস্থায় সে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার জন্য সেগুলোকে একটির সাথে অন্যটি যুক্ত করবে। অতঃপর সে সোনা, রূপা এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্য গণনা করবে, তারপর

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা, ৯/ ২৫৪।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১২)
يخرج الزكاة (1).

 

2 -‌‌ نصاب الذهب، إذا بلغ الذهب عشرين ديناراً، أو عشرين مثقالاً ففيه الزكاة؛ لحديث علي رضي الله عنه يرفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم قال: (( … فإذا كانت لك مائتا درهم وحال عليها الحول ففيها خمسة دراهم، وليس عليك شيء، - يعني في الذهب - حتى يكون لك عشرون ديناراً، فإذا كان لك عشرون ديناراً؛ وحال عليها الحول ففيها نصف دينار، فما زاد فبحساب ذلك، وليس في مال زكاة حتى يحول عليه الحول)) (2)؛ ولحديث عائشة أم المؤمنين وابن عمر رضي الله عنهم أن النبي صلى الله عليه وسلم ((كان يأخذ من كل عشرين ديناراً فصاعداً نصف دينار، ومن الأربعين ديناراً ديناراً)) (3). ولحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده مرفوعاً: ((ليس في أقل من عشرين مثقالاً من الذهب ولا في أقل من مائتي درهم صدقة)) (4).

--------------------------------------------

(1) قال الإمام ابن قدامة: ((فأما إن كان له من كل واحد: من الذهب والفضة ما لا يبلغ نصاباً بمفرده، أو كان له نصاب من أحدهما وأقل من نصابٍ من الآخر فقد توقف أحمد عن ضم أحدهما إلى الآخر في رواية الأثرم وجماعة، وقطع في رواية حنبل أنه لا زكاة عليه حتى يبلغ كل واحد منهما نصاباً، وذكر الخرقي فيه روايتين .. )) المغني، 4/ 210، قلت: وسيأتي التفصيل في ذلك والترجيح إن شاء الله تعالى. والله المستعان.

(2) أبو داود، برقم 1573، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436، وتقدم تخريجه في زكاة الفضة.

(3) ابن ماجه، كتاب الزكاة، باب زكاة الورق والذهب، برقم 1791، وصححه الألباني في صحيح ابن ماجه، 2/ 98، وإرواء الغليل، برقم 813.

(4) أخرجه أبو عبيد في الأموال، 409، برقم 1113، وأخرجه أيضاً الدارقطني، 199، وصححه الألباني في إرواء الغليل، برقم 815.
জাকাত প্রদান করবে (১)।

 

২ -‌‌ স্বর্ণের নিসাব, যখন স্বর্ণ বিশ দিনার বা বিশ মিসকালে পৌঁছাবে, তখন তাতে জাকাত ওয়াজিব হবে; আলী (রা.) কর্তৃক বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসের কারণে, তিনি নবী (সা.)-কে উদ্ধৃত করে বলেন: (( ... যখন তোমার নিকট দুইশত দিরহাম থাকবে এবং তার ওপর এক বছর অতিক্রান্ত হবে, তখন তাতে পাঁচ দিরহাম (জাকাত) দিতে হবে। আর স্বর্ণের ক্ষেত্রে তোমার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক হবে না যতক্ষণ না তোমার নিকট বিশ দিনার হয়। যখন তোমার নিকট বিশ দিনার হবে এবং তার ওপর এক বছর পূর্ণ হবে, তখন তাতে অর্ধেক দিনার জাকাত দিতে হবে। আর যা অতিরিক্ত হবে তা এই হিসেবেই ধার্য হবে। আর কোনো সম্পদে জাকাত নেই যতক্ষণ না তার ওপর এক বছর অতিবাহিত হয়)) (২); এছাড়া উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) এবং ইবনে ওমর (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী (সা.) ((প্রত্যেক বিশ দিনার বা তার ঊর্ধ্বের পরিমাণের জন্য অর্ধেক দিনার এবং চল্লিশ দিনারের জন্য এক দিনার (জাকাত) গ্রহণ করতেন)) (৩)। এবং আমর ইবনে শুআইব কর্তৃক তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসের কারণে: ((বিশ মিসকালের কম স্বর্ণে এবং দুইশত দিরহামের কম রুপাতে কোনো সদকা (জাকাত) নেই)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম ইবনে কুদামা বলেন: ((পক্ষান্তরে যদি কারো নিকট স্বর্ণ ও রুপা উভয়ের এমন পরিমাণ থাকে যা পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ নয়, অথবা একটি নিসাব পরিমাণ কিন্তু অন্যটি নিসাবের চেয়ে কম, তবে আছরামের বর্ণনা ও একদল আলেমের মতে ইমাম আহমাদ একটির সাথে অন্যটি যোগ করার বিষয়ে বিরত (توقف) থেকেছেন। কিন্তু হাম্বলের বর্ণনায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তার ওপর জাকাত নেই যতক্ষণ না প্রত্যেকটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ হয়। আর খিরাকি এই বিষয়ে দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন...)) আল-মুগনি, ৪/ ২১০। আমি বলি: এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও অগ্রগণ্য (ترجيح) মত ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য কাম্য।

(২) আবু দাউদ, হাদিস নং ১৫৭৩, এবং আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/ ৪৩৬-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং এর তাখরিজ (تخريج) রুপার জাকাত অধ্যায়ে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৩) ইবনে মাজাহ, কিতাবুয জাকাত, বাবু জাকাতিল ওয়ারিকি ওয়ায যাহাব, হাদিস নং ১৭৯১ এবং আলবানি একে সহিহ ইবনে মাজাহ, ২/ ৯৮ এবং ইরওয়াউল গালিল, হাদিস নং ৮১৩-তে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(৪) আবু উবাইদ আল-আমওয়াল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ৪০৯, হাদিস নং ১১১৩। এছাড়া দারাকুতনিও এটি বর্ণনা করেছেন, ১৯৯ এবং আলবানি একে ইরওয়াউল গালিল, হাদিস নং ৮১৫-তে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال الإمام ابن المنذر رحمه الله: ((وأجمعوا على أن الذهب إذا كان عشرين مثقالاً وقيمتها مائتا درهم أن الزكاة تجب فيه، وانفرد الحسن البصري فقال: ليس فيما دون أربعين ديناراً صدقة، وأجمعوا على أن الذهب إذا كان أقل من عشرين مثقالاً، ولا يبلغ قيمتها مائتي درهم أن لا زكاة فيه)) (1). وقد حقق الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى أن نصاب الذهب عشرون مثقالاً من غير اعتبار قيمتها؛ للأدلة الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم (2)؛ ولأن الذهب والفضة مال تجب الزكاة في عينه، فلم يعتبر بغيره كسائر الأموال، وهذا هو الصواب الذي لا شك فيه (3).

والخلاصة أن نصاب الذهب عشرون ديناراً، وهي عشرون مثقالاً، وزن المثقال الواحد 4.6 جرامات، ووزن عشرين مثقالاً يساوي 92 جراماً، وهي تساوي 11.5 جنيهاً سعودياً، وزن الجنيه مثقالان إلا ربع، أي: 1.75 أي جنيه وخمسة وسبعون بالمائة تقريباً. قال سماحة شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله: ((وقد حررنا هذا فوجدنا النصاب اثنين وتسعين [يعني جراماً] إلا كسراً يسيراً، يعني عشرين مثقالاً، وهي أحد عشر جنيهاً

--------------------------------------------

(1) الإجماع، لابن المنذر، ص 53 – 54.

(2) قال ابن قدامة رحمه الله: ((وقال عامة الفقهاء: نصاب الذهب عشرون مثقالاً من غير اعتبار قيمتها إلا ما حكي عن عطاء، وطاووس، والزهري، وسليمان بن حرب، وأيوب السختياني، أنهم قالوا: هو معتبر بالفضة، فما كان قيمته مائتي درهم ففيه الزكاة، وإلا فلا؛ لأنه لم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم تقدير نصابه، فثبت أنه حمله على الفضة)) ثم ساق ابن قدامة رحمه الله الأدلة عن النبي صلى الله عليه وسلم في الرد عليهم، وأنه الذي حدد نصاب الذهب تحديداً لا ريب فيه [المغني، 4/ 212 - 213].

(3) المغني لابن قدامة، 4/ 213.
ইমাম ইবনুল মুনযির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((তারা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, স্বর্ণ যখন বিশ মিছকাল হয় এবং এর মূল্য দুইশ দিরহাম হয়, তখন তাতে জাকাত ওয়াজিব হয়। তবে হাসান বসরী একক মত (انفرد) পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: চল্লিশ দিনারের কম পরিমাণে কোনো সাদাকাহ (জাকাত) নেই। তারা আরও ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, স্বর্ণ যখন বিশ মিছকালের কম হয় এবং এর মূল্য দুইশ দিরহামে না পৌঁছায়, তখন তাতে কোনো জাকাত নেই)) (১)। ইমাম ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) সুনিশ্চিত করেছেন যে, স্বর্ণের নিসাব হলো এর মূল্যের কোনো প্রকার বিবেচনা ছাড়াই বিশ মিছকাল; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সুসাব্যস্ত (ثابت) দলীলসমূহের কারণে (২); এবং যেহেতু স্বর্ণ ও রৌপ্য এমন সম্পদ যার মূল সত্তার ওপরই জাকাত ওয়াজিব হয়, তাই অন্য সকল সম্পদের ন্যায় একে অন্য কিছুর মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে না। আর এটিই হলো সঠিক (صواب) মত যাতে কোনো সন্দেহ নেই (৩)।

সারকথা হলো স্বর্ণের নিসাব বিশ দিনার, আর তা হলো বিশ মিছকাল। এক মিছকালের ওজন ৪.৬ গ্রাম এবং বিশ মিছকালের ওজন ৯২ গ্রামের সমান। যা ১১.৫ সৌদি জুনিহ-এর সমান। এক জুনিহ-এর ওজন পৌনে দুই মিছকাল, অর্থাৎ ১.৭৫ বা প্রায় এক জুনিহ এবং পঁচাত্তর শতাংশ। আমাদের সম্মানিত শাইখ ইমাম ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আমরা এটি নিরূপণ করেছি এবং নিসাব পেয়েছি সামান্য ভগ্নাংশ ব্যতীত বিরানব্বই [অর্থাৎ গ্রাম], যার অর্থ বিশ মিছকাল, আর তা হলো এগারো জুনিহ...

--------------------------------------------

(১) আল-ইজমা, ইবনুল মুনযির, পৃ. ৫৩ – ৫৪।

(২) ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সাধারণ ফকীহগণ বলেছেন: স্বর্ণের নিসাব হলো এর মূল্যের কোনো প্রকার বিবেচনা ছাড়াই বিশ মিছকাল। তবে আতা, তাউস, যুহরী, সুলাইমান ইবনে হারব এবং আইয়ুব সাখতিয়ানী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত; তারা বলেছেন: এটি রৌপ্যের মাধ্যমে মূল্যায়নযোগ্য। সুতরাং যার মূল্য দুইশ দিরহাম হবে তাতে জাকাত রয়েছে, অন্যথায় নয়; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর নিসাব নির্ধারণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি (لم يثبت), ফলে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে তিনি একে রৌপ্যের ওপর নির্ভরশীল করেছেন)) অতঃপর ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাদের খণ্ডনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত দলীলসমূহ পেশ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তিনিই স্বর্ণের নিসাব এমন সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন যাতে কোনো সংশয় নেই [আল-মুগনী, ৪/ ২১২ - ২১৩]।

(৩) আল-মুগনী, ইবনে কুদামাহ, ৪/ ২১৩।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১৪)
ونصف جنيه سعودي [لأن زنة الجنيه المذكور مثقالان إلا ربع مثقال].

وقال في موضع آخر: ((ومقدار النصاب بالجنيه السعودي والإفرنجي حتى يمكن تقدير الأوراق النقدية والعروض التجارية بذلك - أحد عشر جنيهاً وثلاثة أسباع الجنيه)) (1). وهكذا قالت

اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء (2). والله تعالى أعلم (3). وتقدم أن الإمام ابن قدامة رحمه الله حكى الإجماع على أن عروض التجارة تضم إلى كل واحدٍ من الذهب والفضة في تكميل النصاب، وكذلك لو كان له ذهب، وفضة، وعروض تجارة لم يبلغ أحد منهم النصاب فإنه يضم بعضها إلى بعض، والخلاف إنما جاء في ضم الفضة إلى الذهب وليس معهما عروض تجارة (4). فلو كان له عشرة مثاقيل من الفضة، وخمسة مثاقيل من الذهب، وبيت قد عرضه للبيع وكلها دار عليها الحول؛ فإنه يحصي قيمة الجميع ثم يخرج زكاتها.

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ابن باز، 14/ 79، 80، 91.

(2) قالوا: ((المحرر عندنا أن نصاب الذهب الذي تجب فيه الزكاة عشرون مثقالاً، ومقدار ذلك بالجنيه السعودي أحد عشر جنيهاً وثلاثة أسباع الجنيه)) [فتاوى اللجنة، 9/ 252].

(3) وقد سبق أن ذكرت أني جربت ذلك بنفسي فوزنت 72 حبة شعير متوسطة، فكان وزنها على ثلاث مجموعات: المجموعة الأولى 72 حبة وزنها 4.8، والثانية 72 حبة وزنها 4.6، والثالثة وزنها 4.4 جرام، فاخترت الوسط 4.6 جرام؛ لأنه وافق فتاوى شيخنا ابن باز رحمه الله، وكان قريباً جداً من فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء. فكان نصاب الذهب بالجرامات على هذا الوزن هو 4.6 × 20 مثقال يساوي 92 جراماً. ووزنَّا الجنيه السعودي فوجدناه 8 جرامات، فيكون على هذا نصاب الذهب بجرامات الجنيهات = 8 × 11.5 = 92 جراماً أيضاً.

(4) انظر: المغني، 4/ 210، وسيأتي التفصيل في ذلك إن شاء الله تعالى.
এবং অর্ধেক সৌদি জুনেইহ [কারণ উল্লিখিত জুনেইহ-এর ওজন হলো পৌনে দুই মিসকাল (مثقال)]।

তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: ((সৌদি ও বিদেশি জুনেইহ-এর মাধ্যমে নিসাব (نصاب)-এর পরিমাণ—যাতে এর দ্বারা কাগজের মুদ্রা এবং বাণিজ্যিক পণ্য (عروض تجارة)-এর হিসাব করা সম্ভব হয়—তা হলো এগারো জুনেইহ এবং এক জুনেইহ-এর সাত ভাগের তিন ভাগ)) (১)। আর স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ড (২) এভাবেই বলেছে। এবং আল্লাহ তাআলাই অধিক পরিজ্ঞাত (৩)। ইতঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন যে, নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক পণ্য (عروض تجارة)-কে সোনা ও রূপা উভয়ের প্রত্যেকটির সাথে যুক্ত করা হবে। অনুরূপভাবে, যদি কারো কাছে সোনা, রূপা এবং বাণিজ্যিক পণ্য থাকে যেগুলোর কোনটিই এককভাবে নিসাব (نصاب) পরিমাণ না হয়, তবে সেগুলোর একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করা হবে। আর মতভেদ (خلاف) কেবল বাণিজ্যিক পণ্য সাথে না থাকা অবস্থায় রূপাকে সোনার সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে হয়েছে (৪)। সুতরাং যদি কারো কাছে দশ মিসকাল (مثقال) রূপা এবং পাঁচ মিসকাল (مثقال) সোনা থাকে, আর একটি ঘর থাকে যা সে বিক্রির জন্য পেশ করেছে এবং সে সবগুলোর ওপর এক বছর (حول) অতিবাহিত হয়, তবে সে সবগুলোর মোট মূল্য হিসাব করবে এবং এরপর তার জাকাত প্রদান করবে।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/ ৭৯, ৮০, ৯১।

(২) তারা বলেছেন: ((আমাদের নিকট নির্ধারিত বিষয় হলো, সোনার নিসাব (نصاب) যাতে জাকাত ওয়াজিব হয় তা হলো বিশ মিসকাল (مثقال), আর সৌদি জুনেইহ-এর হিসেবে এর পরিমাণ হলো এগারো জুনেইহ এবং এক জুনেইহ-এর সাত ভাগের তিন ভাগ)) [ফাতাওয়া আল-লাজনাহ, ৯/ ২৫২]।

(৩) আমি ইতঃপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আমি নিজেই এটি পরীক্ষা করে দেখেছি। আমি ৭২টি মাঝারি দানার যব ওজন করেছি। তিনটি পৃথক ভাগে এর ওজন ছিল নিম্নরূপ: প্রথম ভাগে ৭২টি দানার ওজন ৪.৮ গ্রাম, দ্বিতীয় ভাগে ৪.৬ গ্রাম এবং তৃতীয় ভাগে ৪.৪ গ্রাম। আমি এর মধ্যমমান ৪.৬ গ্রাম গ্রহণ করেছি; কারণ এটি আমাদের শায়খ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ফাতাওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ডের ফাতাওয়ার অত্যন্ত কাছাকাছি। সে অনুযায়ী গ্রাম হিসেবে সোনার নিসাব (نصاب) হলো ৪.৬ × ২০ মিসকাল = ৯২ গ্রাম। আমরা সৌদি জুনেইহ ওজন করে তা ৮ গ্রাম পেয়েছি, সুতরাং জুনেইহ-এর গ্রাম হিসেবে সোনার নিসাব হবে = ৮ × ১১.৫ = ৯২ গ্রাম।

(৪) দেখুন: আল-মুগনি, ৪/ ২১০। ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌رابعاً: زكاة العملات المعدنية والورقية:

إذا بلغت العملات الورقية أو المعدنية نصاب الذهب أو الفضة زُكِّيت؛ فإن حكمها حكم النقدين على القول الصحيح، فينظر إلى ما يقابلها من النقدين؛ فإن بلغت قيمتها عشرين مثقالاً من الذهب، أو مائتي درهم من الفضة، وحال عليها الحول ففيها الزكاة (1)؛ لأنها بمنزلة النقدين في وجوب الزكاة؛ لدخولها في عموم قول الله تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} (2)؛ ولعموم قوله عليه الصلاة والسلام لمعاذ بن جبل رضي الله عنه حينما بعثه إلى اليمن، وفيه: (( … فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم زكاة تؤخذ من أموالهم وتردُّ على فقرائهم .. )) (3).

فالعملات الورقية، والمعدنية مال، والناس يجعلونها في منزلة النقدين من الذهب والفضة؛ ولهذا تكون الزكاة فيها واجبة إذا بلغت نصاب الذهب أو نصاب الفضة، وحال عليها الحول (4).

 

‌‌خامساً: حقيقة الأوراق النقدية:

‌‌قرار هيئة كبار العلماء

رقم (10) وتاريخ 17/ 4/1393 ه
ـ

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، محمد، وعلى آله وصحبه، وبعد:

--------------------------------------------

(1) الموسوعة الفقهية في فقه الكتاب والسنة، للعوايشة، 3/ 38.

(2) سورة التوبة، الآية: 103.

(3) متفق عليه: البخاري، برقم 1458،ومسلم، برقم 19،وتقدم تخريجه في منزلة الزكاة في الإسلام.

(4) انظر: الشرح الممتع، 4/ 99، وفتاوى ابن باز، 14/ 125، وأبحاث هيئة كبار العلماء، 1/ 88.
চতুর্থত: ধাতব ও কাগজের মুদ্রার জাকাত:

যদি কাগজের বা ধাতব মুদ্রা সোনা অথবা রূপার নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয়, তবে তার জাকাত দিতে হবে; কেননা বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে এগুলোর বিধান সোনা-রূপার বিধানের অনুরূপ। সুতরাং সোনা ও রূপার বিপরীতে এগুলোর মান বিবেচনা করা হবে; যদি এগুলোর মান বিশ মিসকাল সোনা বা দুইশ দিরহাম রূপার সমপরিমাণ হয় এবং তার ওপর এক বছর (حول) অতিবাহিত হয়, তবে তাতে জাকাত ওয়াজিব হবে (১); কারণ জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো সোনা ও রূপার সমপর্যায়ভুক্ত। কেননা এগুলো মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশুদ্ধ করবেন} (২); এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় তাঁর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ব্যাপকতার কারণে, যাতে রয়েছে: (( ...তাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে... )) (৩)।

অতএব, কাগজের ও ধাতব মুদ্রা হলো সম্পদ, এবং মানুষ এগুলোকে সোনা ও রূপার সমপর্যায়ে গণ্য করে; এই কারণেই এগুলোতে জাকাত ওয়াজিব হয় যখন তা সোনা বা রূপার নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয় এবং তার ওপর এক বছর (حول) অতিবাহিত হয় (৪)।

 

‌‌পঞ্চমত: কাগজের মুদ্রার হাকিকত:

‌‌হাইআতু কিবারিল উলামা-র সিদ্ধান্ত

নম্বর (১০) এবং তারিখ ১৭/ ৪/ ১৩৯৩ হিজরি

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে কোনো নবী নেই—মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর। অতঃপর:

--------------------------------------------

(১) আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ফি ফিকহিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, আল-আওয়ায়েশাহ, ৩/ ৩৮।

(২) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০৩।

(৩) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি, নম্বর ১৪৫৮, এবং মুসলিম, নম্বর ১৯; ইসলামে জাকাতের মর্যাদা অধ্যায়ে এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

(৪) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি, ৪/ ৯৯, ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৪/ ১২৫ এবং আবহাসু হাইআতি কিবারিল উলামা, ১/ ৮৮।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
فبناء على توصية رئيس إدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، والأمين العام لهيئة كبار العلماء بدراسة موضوع الورق النقدي من قبل هيئة كبار العلماء؛ استناداً إلى المادة السابعة من لائحة سير العمل في الهيئة التي تنص على أن ما يجري بحثه في مجلس الهيئة يتم بطلب من ولي الأمر، أو بتوصية من الهيئة، أو من أمينها، أو من رئيس إدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، أو من اللجنة الدائمة المتفرعة عن الهيئة، فقد جرى إدراج الموضوع في جدول أعمال الهيئة لدورتها الثالثة المنعقدة فيما بين 1/ 4/1393هـ و17/ 4/1393هـ، وفي تلك الدورة جرى دراسة الموضوع بعد الاطلاع على البحث المقدم عنه من اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء.

وبعد استعراض الأقوال الفقهية التي قيلت في حقيقة الأوراق النقدية من اعتبارها أسناداً، أو عروضاً، أو فلوساً، أو بدلاً عن ذهب أو فضة، أو نقداً مستقلاً بذاته، وما يترتب على تلك الأقوال من أحكام شرعية – جرى تداول الرأي فيها، ومناقشة ما على كل قول منها من إيرادات. فتنتج عن ذلك عديد من التساؤلات التي تتعلق بالإجراءات المتخذة من قبل الجهات المصدرة لها:

وحيث إن الموضوع من المسائل التي تقضي المادة العاشرة من لائحة سير عمل الهيئة بالاستعانة بالشؤون الاقتصادية والاجتماعية والأنظمة العامة بما في ذلك القضايا البنكية والتجارية والعمالية؛ فإن عليها أن تشرك في البحث معها واحداً أو أكثر من المتخصصين في تلك العلوم – فقد جرى استدعاء سعادة محافظ مؤسسة النقد العربي السعودي
বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগসমূহের প্রধান এবং উলামায়ে কিরামের উচ্চতর পরিষদের মহাসচিবের সুপারিশক্রমে, উলামায়ে কিরামের উচ্চতর পরিষদের মাধ্যমে কাগজের মুদ্রার বিষয়টি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এটি পরিষদের কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত সংবিধির সপ্তম ধারার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যেখানে বিধিবদ্ধ রয়েছে যে, পরিষদের মজলিসে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে তা অভিভাবকের অনুরোধে, অথবা পরিষদের বা এর মহাসচিবের সুপারিশে, অথবা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগসমূহের প্রধানের সুপারিশে, অথবা পরিষদের অধীনস্থ স্থায়ী কমিটির সুপারিশে হতে হবে। তদানুযায়ী বিষয়টি পরিষদের তৃতীয় অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা ১/৪/۱۳৯৩ হিজরি থেকে ১৭/৪/۱۳৯৩ হিজরি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উক্ত অধিবেশনে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র পর্যালোচনার পর বিষয়টি নিয়ে নিবিড় অধ্যয়ন সম্পন্ন করা হয়।

কাগজের মুদ্রার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে যেসব ফিকহি অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে—যেমন এগুলোকে দলিল (أسناد), অথবা বাণিজ্যিক পণ্য, অথবা খুচরা পয়সা, অথবা স্বর্ণ বা রৌপ্যের প্রতিনিধি, কিংবা স্বতন্ত্র মুদ্রা হিসেবে গণ্য করা এবং এই অভিমতগুলোর ওপর ভিত্তি করে যেসব শরয়ী বিধান উদ্ভূত হয়—সেগুলো পর্যালোচনার পর তা নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা হয় এবং প্রতিটি মতের ওপর আনীত আপত্তিগুলো নিয়ে বিতর্ক করা হয়। এর ফলে নোট ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নের উদয় হয়:

যেহেতু বিষয়টি এমন একটি মাসয়ালা যা পরিষদের কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত সংবিধির দশম ধারা অনুযায়ী অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাধারণ প্রবিধান—যার মধ্যে ব্যাংকিং, বাণিজ্যিক ও শ্রম সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোর সহায়তা গ্রহণের দাবি রাখে; তাই পরিষদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ছিল উক্ত জ্ঞানসমূহে পারদর্শী এক বা একাধিক বিশেষজ্ঞকে এই গবেষণায় সম্পৃক্ত করা। এরই প্রেক্ষিতে সৌদি আরবীয় মুদ্রা সংস্থার মহামান্য গভর্নরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
الدكتور أنور علي، وحضر معه الدكتور عمر شابريه أحد المختصين في العلوم الاقتصادية، ووجهت إلى سعادته الأسئلة التالية:

س1: هل تعتبر مؤسسة النقد ورق النقد السعودي نقداً قائماً بذاته أم تعتبره سندات تتعهد الدولة بدفع قيمتها لحاملها، كما هو مُدوَّنٌ على كل فئة من فئات أوراق النقد السعودي، وإذا لم يرد معنى هذه العبارة، فما معنى الالتزام بتسجيلها على كل ورقة، وهل يعني ذلك التعهد أن ورق النقد السعودي مغطى بريالات فضية أم لا؟

س 2: هل لكل عملة ورقية غطاء مادي محفوظ في خزائن مصدِّريها، وإذا كان كذلك فهل هو غطاء كامل أم غطاء للبعض فقط، وإذا كان غطاء للبعض فما هو الحد الأعلى للتغطية، وما هو الحد الأدنى لها؟

س 3: ما نوع غطاء العملات الورقية، وهل توجد عملة لأي دولة ما مغطاة بالفضة، وهل هناك جهات إصدار تخلت عن فكرة التغطية المادية مطلقاً؟

س 4: المعروف أن الورقة النقدية لا قيمة لها في ذاتها، وإنما قيمتها في أمر خارج عنها، فما هي مقومات هذه القيمة؟

س 5: نرغب شرح نظرية غطاء النقد بصفة عامة، وما هي مقومات اعتبار العملة الورقية على الصعيدين الدولي والمحلي؟

س 6: هل الغطاء لا يكون إلا بالذهب، وإذا كان بالذهب وغيره فهل غير الذهب فرع عن الذهب باعتبار أنه قيمة له، وهل يكفي للغطاء ملاءة ومتانة اقتصادها وقوتها ولو لم يكن لنقدها رصيد؟
ড. আনোয়ার আলী, এবং তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণের অন্যতম ড. উমর চাপরা। তাঁর নিকট নিম্নোক্ত প্রশ্নাবলি পেশ করা হয়েছে:

প্রশ্ন ১: মুদ্রা সংস্থা কি সৌদি ব্যাংক নোটকে একটি স্বতন্ত্র মুদ্রা (نقد) হিসেবে গণ্য করে, নাকি একে রাষ্ট্র কর্তৃক বাহককে এর মূল্য পরিশোধের অঙ্গীকারনামা (سندات) হিসেবে বিবেচনা করে—যেমনটি সৌদি ব্যাংক নোটের প্রতিটি মানের ওপর লিপিবদ্ধ রয়েছে? যদি এই বাক্যের কোনো বিশেষ অর্থ না থাকে, তবে প্রতিটি নোটের ওপর এটি লিখে রাখার বাধ্যবাধকতার তাৎপর্য কী? আর এই অঙ্গীকারের অর্থ কি এই যে, সৌদি ব্যাংক নোটগুলো রৌপ্য রিয়ালের বিনিময়ে সংরক্ষিত বা কাভার্ড (مغطى), নাকি নয়?

প্রশ্ন ২: প্রতিটি কাগজের মুদ্রার কি কোনো বস্তুগত রিজার্ভ (غطاء مادي) আছে যা এর ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের ভল্টে সংরক্ষিত থাকে? যদি থাকে, তবে তা কি পূর্ণাঙ্গ রিজার্ভ নাকি আংশিক রিজার্ভ? যদি আংশিক হয়, তবে রিজার্ভের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা কত?

প্রশ্ন ৩: কাগজের মুদ্রার রিজার্ভের (غطاء) ধরন কী? এমন কোনো দেশ কি আছে যাদের মুদ্রার বিপরীতে রৌপ্য রিজার্ভ রাখা হয়? এমন কোনো ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ কি আছে যারা মুদ্রার বিপরীতে বস্তুগত রিজার্ভ রাখার ধারণাটি পুরোপুরি বর্জন করেছে?

প্রশ্ন ৪: এটি সর্বজনবিদিত যে, কাগজের নোটের নিজস্ব কোনো মূল্য নেই, বরং এর মূল্য এর বহির্ভূত অন্য কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই মূল্যের ভিত্তি বা উপাদানগুলো কী কী?

প্রশ্ন ৫: আমরা সাধারণভাবে মুদ্রার রিজার্ভ (غطاء النقد) তত্ত্বের ব্যাখ্যা জানতে চাই। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে কাগজের মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ডগুলো কী কী?

প্রশ্ন ৬: রিজার্ভ (الغطاء) কি কেবল স্বর্ণের মাধ্যমেই হতে হবে? আর যদি তা স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদের মাধ্যমে হয়, তবে স্বর্ণ ব্যতীত অন্য সম্পদগুলো কি স্বর্ণেরই শাখা (فرع) হিসেবে গণ্য হবে—যেহেতু স্বর্ণই মূল্যের মানদণ্ড? কোনো দেশের অর্থনীতির সচ্ছলতা ও সক্ষমতাই কি মুদ্রার রিজার্ভ হিসেবে যথেষ্ট হতে পারে, যদিও তার বিপরীতে কোনো নগদ গচ্ছিত তহবিল (رصيد) না থাকে?
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১৮)
س 7: ما يسمى بالدينار، والجنيه هل هو مغطى بالذهب؛ ولذا سمي ديناراً أو جنيهاً رمزاً لما غطي به، ومثله الريال السعودي هل هو مغطى بفضة أم أن هذه التسميات يقصد منها المحافظة على التسميات القديمة للعُمَلِ المتداولة فيما مضى بغض النظر عما هي مستندة عليه من ذهب أو فضة؟

س 8: ما السبب في عدم الثقة في النقد المتداول اليوم مما أدى إلى ارتفاع الذهب ارتفاعاً لم يسبق له نظير؟

وأجاب سعادته عنها بواسطة المترجم القائد الدكتور أحمد المالك إجابة جرى رصد خلاصتها في محضر الجلسة مع سعادته، وقد توصلت بها الأكثرية من الهيئة إلى الاقتناع بما ارتأته فيها من رأي.

ثم بعد إعادة النظر في الأقوال الفقهية التي قيلت فيها على ضوء الإيضاحات التي ذكرها سعادة المحافظ قرر المجلس بالأكثرية ما يلي:

بناء على أن النقد هو كل شيء يجري اعتباره في العادة أو الاصطلاح، بحيث يلقى قبولاً عاماً كوسيط للتبادل، كما أشار إلى ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية حيث قال: ((وأما الدرهم والدينار فما يعرف له حد طبعي ولا شرعي، بل مرجعه إلى العادة والاصطلاح؛ وذلك لأنه في الأصل لا يتعلق المقصود به، بل الغرض أن يكون معياراً لما يتعاملون به، والدراهم والدنانير لا تقصد لنفسها، بل هي وسيلة إلى التعامل بها؛ ولهذا كانت أثماناً … إلى أن قال: والوسيلة المحضة التي لا يتعلق بها غرض، لا بمادتها ولا بصورتها يحصل بها المقصود كيفما كانت)). اهـ (1).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 29/ 251.
প্রশ্ন ৭: দিনার এবং পাউন্ড নামে যা পরিচিত, তা কি স্বর্ণ দ্বারা সমর্থিত? একে কি দিনার বা পাউন্ড বলা হয় মূলত যে ধাতু দ্বারা এটি সমর্থিত তার প্রতীক হিসেবে? অনুরূপভাবে সৌদি রিয়াল কি রৌপ্য দ্বারা সমর্থিত, নাকি এই নামকরণগুলোর উদ্দেশ্য হলো অতীতে প্রচলিত মুদ্রাসমূহের প্রাচীন নামগুলো টিকিয়ে রাখা—সেগুলো স্বর্ণ বা রৌপ্যের ওপর ভিত্তি করে কি না তা বিবেচনা না করেই?

প্রশ্ন ৮: বর্তমানে প্রচলিত মুদ্রার ওপর আস্থার অভাবের কারণ কী, যার ফলে স্বর্ণের দাম এমন উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়েছে যার কোনো নজির ইতিপূর্বে ছিল না?

মহামান্য (গভর্নর) অনুবাদক ড. আহমদ আল-মালিকের মাধ্যমে এগুলোর উত্তর প্রদান করেছেন, যার সারসংক্ষেপ তাঁর সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পরিষদের অধিকাংশ সদস্য তাঁর উপস্থাপিত মতামতের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন।

অতঃপর মহামান্য গভর্নরের ব্যাখ্যাবলীর আলোকে এ সংক্রান্ত ফিকহী (فقهية) মতামতগুলো পুনরায় পর্যালোচনার পর পরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে:

এই ভিত্তির ওপর যে, মুদ্রা (النقد) হলো এমন বিষয় যা প্রথা (عادة) বা পারিভাষিক পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী বিবেচিত হয়, যাতে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা অর্জিত হয়। যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ইঙ্গিত করেছেন, তিনি বলেছেন: "দিরহাম ও দিনারের কোনো প্রাকৃতিক বা শরয়ি (شرعي) সীমা জানা নেই, বরং এর মূল ভিত্তি হলো প্রথা (عادة) ও পারিভাষিক পরিভাষা (اصطلاح); কারণ মূলত এর সত্তার সাথে কোনো উদ্দেশ্য জড়িত নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো লেনদেনের ক্ষেত্রে এটি একটি মানদণ্ড হওয়া। দিরহাম ও দিনার নিজস্ব সত্তার জন্য উদ্দেশ্য নয়, বরং এগুলো লেনদেনের মাধ্যম মাত্র; এজন্যই এগুলোকে মূল্যমান (أثماناً) হিসেবে গণ্য করা হয়... (তিনি আরও) বলেন: যা নিছক মাধ্যম এবং যার উপাদান বা রূপের সাথে কোনো উদ্দেশ্য জড়িত নয়, তা যেকোনোভাবেই হোক না কেন, তার দ্বারা উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।" সমাপ্ত। (১)।

--------------------------------------------

(১) মাজমু ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ২৯/ ২৫১।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
وذكر نحو ذلك الإمام مالك في (المدونة) من كتاب الصرف حيث قال: ((ولو أن الناس أجازوا بينهم الجلود حتى يكون لها سكة وعين لكرهتها أن تباع بالذهب والورق نظرة)) اهـ (1).

وحيث إن الورق النقدي يلقى قبولاً عاماً في التداول، ويحمل خصائص الأثمان من كونه مقياساً للقيم ومستودعاً للثروة، وبه الإبراء العام، وحيث ظهر من المناقشة مع سعادة المحافظ: أن صفة السندية فيها غير مقصودة، والواقع يشهد بذلك ويؤكده، كما ظهر أن الغطاء لا يلزم أن يكون شاملاً لجميع الأوراق النقدية، بل يجوز في عرف جهات الإصدار أن يكون جزءاً من عملتها بدون غطاء، وأن الغطاء لا يلزم أن يكون ذهباً، بل يجوز أن يكون من أمور عدة: كالذهب والعملات الورقية القوية، وأن الفضة ليست غطاءً كلياً أو جزئياً لأي عملة في العالم، كما اتضح أن مقومات الورقة النقدية قوة وضعفاً مستمدة مما تكون عليه حكومتها من حال اقتصادية، فتقوى الورقة بقوة دولتها وتضعف بضعفها، وأن الخامات المحلية؛ كالبترول والقطن والصوف لم تعتبر حتى الآن لدى أي من جهات الإصدار غطاء للعملات الورقية.

وحيث إن القول باعتبار مطلق الثمنية علة في جريان الربا في النقدين هو الأظهر دليلاً، والأقرب إلى مقاصد الشريعة، وهو إحدى الروايات عن الأئمة مالك، وأبي حنيفة، وأحمد، قال أبو بكر: روى ذلك عن أحمد

--------------------------------------------

(1) المدونة الكبرى، للإمام مالك، 3/ 5، توزيع مكتبة دار الباز بمكة المكرمة.
ইমাম মালিক 'আল-মুদাওয়ানাহ' এর 'কিতাবুস সারফ'-এ অনুরূপ উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "মানুষ যদি নিজেদের মধ্যে চামড়াকে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করত, এমনকি তার যদি একটি নির্দিষ্ট ছাঁচ ও বাজারমূল্য থাকত, তবুও আমি স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে তা বাকিতে (نظرة) বিক্রয় করাকে অপছন্দ করতাম।" সমাপ্ত (১)।

যেহেতু কাগজের মুদ্রা লেনদেনে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং মূল্যের পরিমাপক ও সম্পদের ভাণ্ডার হওয়ার মতো মুদ্রার বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ দায়মুক্তি ঘটে; আর যেহেতু মাননীয় গভর্নরের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এতে ঋণের দলীল হওয়ার বিষয়টি উদ্দেশ্য নয় এবং বাস্তব পরিস্থিতিও এর সাক্ষ্য দেয় ও তা নিশ্চিত করে; যেমনটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সমস্ত কাগজের মুদ্রার বিপরীতে রিজার্ভ থাকা আবশ্যক নয়, বরং ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মুদ্রার একটি অংশ রিজার্ভ ছাড়াই থাকা জায়েজ; এবং রিজার্ভ যে কেবল স্বর্ণ হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, বরং তা বিভিন্ন বিষয়ের হতে পারে: যেমন স্বর্ণ ও শক্তিশালী কাগজের মুদ্রা; এবং রৌপ্য বিশ্বের কোনো মুদ্রার জন্যই পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক রিজার্ভ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না; আর এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, কাগজের মুদ্রার শক্তি ও দুর্বলতা সংশ্লিষ্ট সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল, ফলে রাষ্ট্রের শক্তির সাথে সাথে মুদ্রা শক্তিশালী হয় এবং দুর্বলতার সাথে সাথে তা দুর্বল হয়; আর স্থানীয় কাঁচামাল যেমন পেট্রোল, তুলা ও উল এখন পর্যন্ত কোনো ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজের মুদ্রার রিজার্ভ হিসেবে গণ্য হয়নি।

আর যেহেতু স্বর্ণ ও রৌপ্যের (النقدين) ক্ষেত্রে সুদের (الربا) প্রবর্তনের মূল কারণ (علة) হিসেবে নিঃশর্ত 'মূল্যমান' (الثمنية) হওয়ার মতটিই দলীলগতভাবে অধিকতর স্পষ্ট এবং শরীয়াহর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের (مقاصد الشريعة) অধিক নিকটবর্তী; এবং এটি ইমাম মালিক, আবু হানিফা ও আহমাদ-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত অন্যতম একটি বর্ণনা (الروايات); আবু বকর বলেছেন: এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে

--------------------------------------------

(১) আল-মুদাওয়ানাহ আল-কুবরা, ইমাম মালিক, ৩/৫, মাকতাবাতু দারিল বায, মক্কা মুকাররামা কর্তৃক পরিবেশিত।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২০)
جماعة، كما هو اختيار بعض المحققين من أهل العلم؛ كشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم وغيرهما.

وحيث إن الثمنية متحققة بوضوح في الأوراق النقدية؛ لذلك كله فإن هيئة كبار العلماء تقرر بأكثريتها: أن الورق النقدي يعتبر نقداً قائماً بذاته كقيام النقدية في الذهب والفضة وغيرها من الأثمان، وأنه أجناس تتعدد بتعدد جهات الإصدار، بمعنى: أن الورق النقدي السعودي جنس، وأن الورق النقدي الأمريكي جنس، وهكذا كل عملة ورقية جنس مستقل بذاته، وأنه يترتب على ذلك الأحكام الشرعية الآتية:

أولاً: جريان الربا بنوعيه فيها، كما يجري الربا بنوعيه في النقدين: الذهب، والفضة، وفي غيرهما من الأثمان كالفلوس، وهذا يقتضي ما يلي:

(أ) لا يجوز بيع بعضه ببعض أو بغيره من الأجناس النقدية الأخرى من ذهب أو فضة أو غيرهما – نسيئة مطلقاً، فلا يجوز مثلاً بيع الدولار الأمريكي بخمسة أريلة سعودية أو أقل أو أكثر نسيئة.

(ب) لا يجوز بيع الجنس الواحد منه بعضه ببعض متفاضلاً، سواء كان ذلك نسيئة أو يداً بيد، فلا يجوز مثلاً بيع عشرة أريلة سعودية ورق بأحد عشر ريالاً سعودياً ورقاً.

(ج) يجوز بيع بعضه ببعض من غير جنسه مطلقاً، إذا كان ذلك يداً بيد، فيجوز بيع الليرة السورية أو اللبنانية بريال سعودي، ورقاً كان أو فضة، أو أقل من ذلك أو أكثر، وبيع الدولار الأمريكي بثلاثة أريلة سعودية أو أقل أو أكثر إذا كان ذلك يداً بيد، ومثل ذلك في الجواز بيع
একদল আলেম, যেমনটি ইলম অন্বেষী আলেমদের মধ্যকার কতিপয় গবেষকের অভিমত; যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম ও অন্যান্যগণ।

যেহেতু কাগজের মুদ্রার মধ্যে মূল্যমান হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান; সেহেতু এ সকল কারণে ‘হায়াতু কিবারিল উলামা’ (জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ) অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে যে: কাগজের মুদ্রা একটি স্বতন্ত্র মুদ্রা হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং অন্যান্য বিনিময় মূল্যের ক্ষেত্রে মুদ্রামান বিদ্যমান থাকে। এবং এর প্রকারসমূহ ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের ভিন্নতা অনুযায়ী বহুবিধ হবে। এর অর্থ হলো: সৌদি কাগজের মুদ্রা একটি প্রকার, আমেরিকান কাগজের মুদ্রা একটি প্রকার—এভাবে প্রতিটি কাগজের মুদ্রা নিজেই একটি স্বতন্ত্র প্রকার। আর এর ওপর ভিত্তি করে নিম্নোক্ত শরয়ী বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে:

প্রথমত: এতে উভয় প্রকারের সুদ কার্যকর হবে, যেভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্য—এই দুই মুদ্রা এবং অন্যান্য বিনিময় মূল্য যেমন ফুলুস (তাম্রমুদ্রা)-এর ক্ষেত্রে উভয় প্রকার সুদ কার্যকর হয়। এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে আবশ্যক করে:

(ক) এর একটির বিনিময়ে অপরটি অথবা স্বর্ণ, রৌপ্য বা অন্য কোনো প্রকারের মুদ্রার বিনিময়ে—বাকিতে ক্রয়-বিক্রয় করা মোটেও জায়েজ নয়। উদাহরণস্বরূপ, পাঁচ সৌদি রিয়াল বা তার কম-বেশি মূল্যে আমেরিকান ডলার বাকিতে ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ নয়।

(খ) একই প্রকারের মুদ্রার একটির সাথে অন্যটি কম-বেশি করে বিক্রি করা জায়েজ নয়, চাই তা বাকিতে হোক বা হাতে হাতে। উদাহরণস্বরূপ, দশ সৌদি কাগজের রিয়াল এগারো সৌদি কাগজের রিয়ালের বিনিময়ে বিক্রি করা বৈধ নয়।

(গ) এক প্রকার মুদ্রার সাথে অন্য প্রকার মুদ্রা শর্তহীনভাবে কম-বেশি করে বিক্রি করা জায়েজ, যদি তা হাতে হাতে হয়। সুতরাং সিরিয়ান বা লেবানিজ লিরা সৌদি রিয়ালের বিনিময়ে বিক্রি করা বৈধ, চাই তা কাগজ হোক বা রৌপ্য, কম হোক বা বেশি। একইভাবে আমেরিকান ডলার তিন সৌদি রিয়াল বা তার কম-বেশি মূল্যে বিক্রি করা বৈধ যদি তা হাতে হাতে হয়। অনুরূপভাবে বিক্রয় বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২১)
الريال السعودي الفضة بثلاثة أريلة سعودية ورق أو أقل أو أكثر يداً بيد؛ لأن ذلك يعتبر بيع جنس بغير جنسه ولا أثر لمجرد الاشتراك في الاسم مع الاختلاف في الحقيقة.

ثانياً: وجوب زكاتها إذا بلغت قيمتها أدنى النصابين من ذهب أو فضة أو كانت تكمل النصاب مع غيرها من الأثمان والعروض المعدة للتجارة إذا كانت مملوكة لأهل وجوبها.

ثالثاً: جواز جعلها رأس مال في السلم والشركات.

والله أعلم، وبالله التوفيق، وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.

هيئة كبار العلماء (1)

رئيس الدورة الثالثة: محمد الأمين الشنقيطي (متوقف) … صالح بن لحيدان (متوقف) … عبد الله بن منيع

عبد الرزاق عفيفي: لي وجهة نظر أخرى في الأوراق النقدية أقدم بها بياناً إن شاءالله … عبد الله بن حميد (متوقف) … عبدالعزيز بن باز

عبد الله خياط

عبدالمجيد حسن … عبدالعزيز بن صالح … محمد الحركان

إبراهيم محمد آل الشيخ … سليمان بن عبيد … صالح بن غصون

عبد الله بن غديان (متوقف) … راشد بن خنين … محمد بن جبير

 

‌‌سادساً: حكم ضم الذهب والفضة بعضهما إلى بعض في تكميل النصاب:

قال الإمام الحجَّاوي رحمه الله: ((ويُضمُّ الذهب إلى الفضة في تكميل

--------------------------------------------

(1) أبحاث هيئة كبار العلماء، 1/ 88 - 93.
রৌপ্য নির্মিত সৌদি রিয়াল তিন বা তার কম-বেশি কাগজের সৌদি রিয়ালের বিনিময়ে হাতে হাতে (يداً بيد) লেনদেন করা বৈধ; কারণ এটি এক প্রকারের (جنس) সাথে ভিন্ন প্রকারের (بغير جنسه) বিক্রয় হিসেবে গণ্য হবে। আর বাস্তবতায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কেবল নামের সাদৃশ্যের কোনো প্রভাব নেই।

দ্বিতীয়: এর জাকাত প্রদান আবশ্যক (وجوب) হওয়া, যখন এর মূল্য স্বর্ণ বা রৌপ্যের দুই নিসাব (النصابين)-এর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছাবে, অথবা যখন এটি অন্যান্য মুদ্রা বা ব্যবসার পণ্যের (العروض المعدة للتجارة) সাথে মিলে নিসাব (النصاب) পূর্ণ করবে, যদি তা জাকাত আবশ্যক হওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিদের মালিকানাধীন হয়।

তৃতীয়: সালাম (السلم) এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একে মূলধন হিসেবে নির্ধারণ করা বৈধ।

আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন এবং আল্লাহর তাওফিকের মাধ্যমেই সব কিছু সম্পন্ন হয়। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

হাইআতু কিবারিল উলামা (১)

তৃতীয় অধিবেশনের সভাপতি: মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতি (স্থগিত - متوقف) … সালিহ বিন লুহাইদান (স্থগিত - متوقف) … আবদুল্লাহ বিন মানি'

আবদুর রাজ্জাক আফিফি: কাগজের মুদ্রার ব্যাপারে আমার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যা আমি ইনশাআল্লাহ একটি বিবৃতির মাধ্যমে পেশ করব … আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ (স্থগিত - متوقف) … আবদুল আজিজ বিন বাজ

আবদুল্লাহ খাইয়াত

আবদুল মাজিদ হাসান … আবদুল আজিজ বিন সালিহ … মুহাম্মদ আল-হারকান

ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-শেখ … সুলাইমান বিন উবাইদ … সালিহ বিন গুসুন

আবদুল্লাহ বিন গুদাইয়ান (স্থগিত - متوقف) … রাশিদ বিন খুনাইন … মুহাম্মদ বিন জুবাইর

 

‌‌ষষ্ঠ: নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে স্বর্ণ ও রৌপ্যকে একে অপরের সাথে যোগ করার বিধান:

ইমাম আল-হাজ্জাউই (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে স্বর্ণকে রৌপ্যের সাথে যোগ করা হবে...

--------------------------------------------

(১) আবহাউস হাইআতি কিবারিল উলামা, ১/ ৮৮ - ৯৩।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২২)
النصاب، وتضمُّ قيمة العروض إلى كل منهما)) (1). وقال العلامة محمد بن مفلح المقدسي رحمه الله: ((ويكمل نصاب أحدهما بالآخر في روايةٍ اختارها الأكثر: الخلَاّلُ، والخرقيُّ، والقاضي وأصحابه، وصاحب ((المحرر)) وغيرهم، حاضراً (2)، أو دينٌ فيه زكاةٌ؛ لأن مقاصدهما وزكاتهما متفقةٌ، فهما كنوعي الجنس)) (3). ((من حبٍّ أو ثمرٍ في ضم أحدهما إلى الآخر، وفي الاجتزاء بأحدهما عن الآخر)) (4) (5).

--------------------------------------------

(1) المدونة الكبرى للإمام مالك، 3/ 5، توزيع مكتبة دار الباز بمكة المكرمة.

(2) حاضراً: ضد الغائب، فلا فرق بين الحاضر في وجوب الزكاة، والدين وهو ما له أجل مسمى أولاً، كقرض ونحوه ففيها الزكاة إذا اكتملت الشروط [حاشية ابن قاسم على الروض المربع، 3/ 246].

(3) كتاب الفروع لابن مفلح، 4/ 136.

(4) حاشية ابن قاسم على الروض المربع، 3/ 246.

(5) اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في ضم الذهب والفضة بعضهما إلى بعض في تكميل النصاب إذا لم يكن معهما عروض تجارة على قولين:

القول الأول: إن الذهب والفضة يضم أحدهما إلى الآخر في تكميل النصاب، وهو رواية عن الإمام أحمد رحمه الله، وهو قول الحسن، وقتادة، ومالك، والأوزاعي، والثوري، وأصحاب الرأي؛ لأن أحدهما يضم إلى ما يضم إليه الآخر، فيضم إلى الآخر، كأنواع الجنس؛ ولأن نفعهما واحد، والمقصود منهما متحد؛ فإنهما قيم المتلفات، وأروش الجنايات، وأثمان البيعات، وحليٌّ لمن يريدها لذلك فأشبها النوعين، ثم اختلف من قال بالضم: هل يضم الذهب إلى الفضة في تكميل النصاب بالأجزاء؟ أو يكون الضم بالقيمة؟ على قولين:

1 – رواية عن الإمام أحمد، والإمام مالك، وأبي يوسف، ومحمد، والأوزاعي: أن الذهب والفضة يضم أحدهما إلى الآخر بالأجزاء، يعني أن كل واحد منهما يحتسب من نصابه فإذا كملت أجزاؤهما نصاباً وجبت الزكاة، مثل: أن يكون عنده نصف نصاب من أحدهما، ونصف نصاب أو أكثر من الآخر، أو ثلث من أحدهما وثلثان أو أكثر من الآخر، فلو ملك: مائة درهم وعشرة دنانير، أو مائة وخمسين درهماً وخمسة دنانير، أو مائة وعشرين درهماً وثمانية دنانير وجبت الزكاة فيهما، وإن نقصت أجزاؤهما عن نصاب فلا زكاة فيهما؛ لأن كل واحد منهما لا تعتبر قيمته في وجوب الزكاة إذا كان منفرداً، فلا تعتبر إذا كان عنده مضموماً: كالحبوب، والثمار، وأنواع الأجناس كلها.

2 – رواية عن الإمام أحمد، وقول الإمام أبي حنيفة: يضم الذهب والفضة بعضهما إلى بعض في تكميل النصاب بالقيمة، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((والأول أصح [أي الضم بالأجزاء]-؛ لأن الأثمان تجب الزكاة في أعيانها، فلا تعتبر قيمتها)) [المغني، 4/ 211 - 212].

قال العلامة ابن عثيمين رحمه الله في الشرح الممتع: ((والصواب من هذين القولين: أنه يضم بالأجزاء لا بالقيمة))، [و] يستثنى من هذه المسألة أموال الصيارف؛ فإنه يضم فيها الذهب إلى الفضة، لا ضم جنس إلى جنس، ولكن المراد بهما التجارة، فهما عروض تجارة)) 6/ 109.

القول الثاني: أن الذهب والفضة لا يضم أحدهما إلى الآخر في تكميل النصاب، فلا زكاة على صاحبهما حتى يبلغ كل واحدٍ منهما نصاباً، وهو رواية عن الإمام أحمد، والشافعي، وهو قول أبي ليلى، والحسن بن صالح، وشريك، وأبي عبيد، وأبي ثور، واختاره أبو بكر بن عبدالعزيز؛ لقوله عليه الصلاة والسلام: ((ليس فيما دون خمس أواق صدقة)) [تقدم تخريجه]؛ ولأنهما مالان يختلف نصابهما، فلا يضم أحدهما إلى الآخر، كأجناس الماشية، وهذا القول هو ظاهر ما نصره ابن قدامة في المغني، وجزم به في المنتخب، وقدمه في الكافي. [ورجح العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله هذا القول؛ لأمور:

1 – قول الرسول صلى الله عليه وسلم: ((ليس فيما دون خمس أواق صدقة)) [متفق عليه، وتقدم تخريجه].

2 – قوله صلى الله عليه وسلم: ((وليس عليك شيء حتى يكون لك عشرون ديناراً)) [أبو داود، وتقدم تخريجه].

3 – أن الشعير لا يضم إلى البر في تكميل النصاب، فلو كان عند الإنسان نصف نصاب من الشعير ونصف نصاب من البر لم يضم أحدهما إلى الآخر في تكميل النصاب.

4 – أن الضأن لا تضم إلى البقر، فلو كان عند الإنسان نصف نصاب من الضأن ونصف نصاب من البقر، فلا يكمل أحدهما بالآخر لتكميل النصاب؛ لأن الجنس لا يضم إلى جنس آخر، وأما النوع فيضم إلى نوعه الآخر: كأنواع النخيل، وأنواع البر، وأنواع … الشعير، بضم بعضها إلى بعض، قال رحمه الله: ((وعليه: فإذا كان عنده عشرة دنانير، ومائة درهم فلا زكاة عليه؛ لأن الذهب وحده والفضة وحدها، وهذا هو القول الراجح)). [الشرح الممتع، 4/ 107 - 108].

وانظر في مسائل ضم أحد النقدين إلى الآخر في تكميل النصاب أو عدمه: [المغني لابن قدامة،

4/ 210 – 212، والفروع لابن مفلح، 4/ 136 – 137، وتصحيح الفروع للمرداوي مع كتاب الفروع، 4/ 136 – 137، والشرح الكبير على المقنع، ومع الإنصاف، 7/ 15، والكافي لابن قدامة، 2/ 148، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 3/ 245].
নিসাব, এবং পণ্যসামগ্রীর মূল্য এই দুটির যেকোনো একটির সাথে যোগ করা হবে (১)। আল্লামা মুহাম্মাদ বিন মুফলিহ আল-মাকদিসি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী, যা অধিকাংশ আলিম পছন্দ করেছেন, যেমন: আল-খাল্লাল, আল-খিরাকি, আল-কাজি ও তাঁর অনুসারীরা, ‘আল-মুহাররার’ গ্রন্থের লেখক এবং অন্যান্যরা—এই দুটির একটির মাধ্যমে অন্যটির নিসাব পূর্ণ করা হবে; তা নগদ (২) হোক বা এমন ঋণ যাতে জাকাত রয়েছে; কারণ এগুলোর উদ্দেশ্য এবং জাকাত অভিন্ন, তাই এগুলো একই জাতীয় জিনিসের দুটি প্রকারের মতো (৩)। শস্য বা ফলের ক্ষেত্রে একটির সাথে অপরটি যুক্ত করার বিষয়ে এবং একটির মাধ্যমে অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান (৪) (৫)।”

--------------------------------------------

(১) ইমাম মালিকের আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ৩/৫, মক্কা মুকাররমার মাকতাবাতু দারুল বায কর্তৃক পরিবেশিত।

(২) নগদ: অনুপস্থিত বা বাকির বিপরীত। জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে নগদ অর্থ এবং ঋণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ঋণ বলতে যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রদান করা হয়, যেমন কর্জ বা এই জাতীয় কিছু। শর্ত পূর্ণ হলে এতে জাকাত আবশ্যক [আর-রওদুল মুরবি-র ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ৩/২৪৬]।

(৩) ইবনে মুফলিহ-র কিতাবুল ফুরু, ৪/১৩৬।

(৪) আর-রওদুল মুরবি-র ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ৩/২৪৬।

(৫) সোনা ও রুপার সাথে যদি ব্যবসার পণ্য না থাকে, তবে নিসাব পূর্ণ করার জন্য সোনা ও রুপা একে অপরের সাথে যোগ করা হবে কি না, সে বিষয়ে উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: সোনা ও রুপা একটির সাথে অন্যটি যোগ করে নিসাব পূর্ণ করা হবে। এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)। হাসান, কাতাদাহ, মালিক, আওযায়ি, সাওরি এবং আসহাবুর রায়-এর অভিমতও এটি। কারণ, যেগুলোর সাথে একটি যুক্ত হয়, অন্যটিও সেগুলোর সাথে যুক্ত হয়; তাই এগুলো একই প্রকারের বিভিন্ন জিনিসের মতো। এছাড়া এ দুটির উপযোগিতা এক এবং এদের উদ্দেশ্যও অভিন্ন। কারণ উভয়টি নষ্ট হওয়া মালের বিনিময় মূল্য, অপরাধের ক্ষতিপূরণ (দিয়াত), ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্য এবং যারা চায় তাদের অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এগুলো একই প্রকারের দুটি জিনিসের মতো। এরপর যারা যোগ করার পক্ষে, তারা আবার দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে কি অংশ হিসেবে যোগ হবে নাকি মূল্যের হিসেবে?

১ – ইমাম আহমাদ, ইমাম মালিক, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ ও আওযায়ি থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية): সোনা ও রুপা অংশ হিসেবে একে অপরের সাথে যোগ করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেকটি থেকে প্রাপ্ত অংশ নিসাব হিসেবে গণনা করা হবে। যখন তাদের অংশগুলো মিলে নিসাব পূর্ণ হবে, তখন জাকাত ওয়াজিব হবে। যেমন: কারো কাছে একটির অর্ধেক নিসাব এবং অন্যটির অর্ধেক নিসাব বা তার বেশি আছে, অথবা একটির এক-তৃতীয়াংশ এবং অন্যটির দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি আছে। সুতরাং যদি কারো কাছে একশ দিরহাম ও দশ দিনার থাকে, অথবা দেড়শ দিরহাম ও পাঁচ দিনার থাকে, অথবা একশ বিশ দিরহাম ও আট দিনার থাকে, তবে জাকাত ওয়াজিব হবে। আর যদি অংশগুলো নিসাবের চেয়ে কম হয়, তবে জাকাত নেই। কারণ একা অবস্থায় জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য যেমন মূল্য ধর্তব্য নয়, তেমনি যোগ করার ক্ষেত্রেও নয়: যেমন শস্য, ফল এবং সকল প্রকারের জিনিস।

২ – ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) এবং ইমাম আবু হানিফার অভিমত হলো: সোনা ও রুপা মূল্যের ভিত্তিতে একে অপরের সাথে যোগ করে নিসাব পূর্ণ করা হবে। ইমাম ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক [অর্থাৎ অংশ হিসেবে যোগ করা]—কারণ অর্থের মূল সত্তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হয়, তাই এর মূল্য ধর্তব্য নয়” [আল-মুগনি, ৪/২১১-২১২]।

আল্লামা ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) আশ-শারহুল মুমতি-তে বলেছেন: “এই দুই মতের মধ্যে সঠিক হলো: এটি অংশ হিসেবে যোগ করা হবে, মূল্যের হিসেবে নয়।” তবে মানি এক্সচেঞ্জারদের সম্পদ এই মাসআলার ব্যতিক্রম। তাদের ক্ষেত্রে সোনা ও রুপা একে অপরের সাথে যোগ করা হবে, তবে তা এক জাতীয় বস্তুকে অন্য জাতীয় বস্তুর সাথে যোগ করার মতো নয়, বরং ব্যবসার পণ্য হিসেবে। কারণ সেগুলো তখন বাণিজ্যিক পণ্য [৬/১০৯]।

দ্বিতীয় মত: নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সোনা ও রুপা একে অপরের সাথে যোগ করা হবে না। যতক্ষণ না প্রত্যেকটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ হয়, ততক্ষণ মালিকের ওপর জাকাত নেই। এটি ইমাম আহমাদ ও শাফিঈর একটি বর্ণনা (رواية)। আবু লায়লা, হাসান ইবনে সালিহ, শারিক, আবু উবাইদ ও আবু সাওর-এর অভিমতও এটি। আবু বকর বিন আব্দুল আজিজ এটিকেই পছন্দ করেছেন। কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে কোনো সদকা নেই” [এর তাখরিজ আগে গত হয়েছে]; এছাড়া এ দুটি ভিন্ন সম্পদ যাদের নিসাব আলাদা, তাই গবাদিপশুর মতো এগুলো একে অপরের সাথে যোগ করা হবে না। এটিই ইবনে কুদামাহ আল-মুগনি-তে সমর্থন করেছেন, আল-মুন্তাখাব-এ নিশ্চিত করেছেন এবং আল-কাফি-তে প্রাধান্য দিয়েছেন। [আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) কয়েকটি কারণে এই মতটিকে প্রধান্য দিয়েছেন:

১ – রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: “পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে কোনো সদকা নেই” [এটি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত (متفق عليه), এবং এর তাখরিজ আগে গত হয়েছে]।

২ – রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: “তোমার নিকট বিশ দিনার না হওয়া পর্যন্ত তোমার ওপর কোনো জাকাত নেই” [আবু দাউদ, এবং এর তাখরিজ আগে গত হয়েছে]।

৩ – নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে যবকে গমের সাথে যোগ করা হয় না। সুতরাং কারো কাছে অর্ধেক নিসাব যব এবং অর্ধেক নিসাব গম থাকলে নিসাব পূর্ণ করার জন্য একটিকে অন্যটির সাথে যোগ করা হবে না।

৪ – ভেড়াকে গরুর সাথে যোগ করা হয় না। সুতরাং কারো কাছে অর্ধেক নিসাব ভেড়া এবং অর্ধেক নিসাব গরু থাকলে নিসাব পূর্ণ করার জন্য একটির দ্বারা অন্যটি পূর্ণ করা হবে না। কারণ এক জাতীয় প্রাণীকে অন্য জাতীয় প্রাণীর সাথে যোগ করা যায় না। তবে একই জাতীয় জিনিসের বিভিন্ন প্রকার হলে একটিকে অন্যটির সাথে যোগ করা যায়: যেমন বিভিন্ন প্রকারের খেজুর, বিভিন্ন প্রকারের গম, বিভিন্ন প্রকারের… যব, এগুলো একে অপরের সাথে যোগ করা হবে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এর ভিত্তিতে: যদি কারো কাছে দশ দিনার এবং একশ দিরহাম থাকে, তবে তার ওপর জাকাত নেই; কারণ সোনা ও রুপা পৃথক বিষয়। এটিই শক্তিশালী মত।” [আশ-শারহুল মুমতি, ৪/১০৭-১০৮]।

নিসাব পূর্ণ করার ক্ষেত্রে এক মুদ্রাকে অন্য মুদ্রার সাথে যোগ করা বা না করা সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর জন্য দেখুন: [ইবনে কুদামাহর আল-মুগনি, ৪/২১০–২১২; ইবনে মুফলিহ-র আল-ফুরু, ৪/১৩৬–১৩৭; ইবনে মুফলিহ-র আল-ফুরু এর সাথে আল-মারদাওয়ির তাসহিহুল ফুরু, ৪/১৩৬–১৩৭; আল-মুকনি-র ওপর আশ-শারহুল কাবির এবং আল-ইনসাফসহ, ৭/১৫; ইবনে কুদামাহর আল-কাফি, ২/১৪৮; ইবনে কাসিমের হাশিয়াসহ আর-রওদুল মুরবি, ৩/২৪৫]।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌سابعاً: تضم عروض التجارة إلى كل من الذهب والفضة:

عروض التجارة: كل ما أعد للتجارة، وهذه تضم قيمتها إلى كل من
সপ্তম: স্বর্ণ ও রৌপ্য উভয়ের সাথে ব্যবসার পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা:

ব্যবসার পণ্য: যা কিছু ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে; আর এগুলোর মূল্য যুক্ত করা হবে নিম্নোক্ত প্রত্যেকটির সাথে
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২৪)
الذهب والفضة في تكميل النصاب؛ لأن عروض التجارة تضم إليهما في تكميل النصاب، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((لا نعلم فيه خلافاً)). وقال ابن قدامة رحمه الله أيضاً: ((ولو كان له ذهب، وفضة، وعروض، وجب ضم الجميع بعضه إلى بعض في تكميل النصاب؛ لأن العروض مضمومٌ إلى كل واحد منهما، فيجب ضمهما إليه وجمع الثلاثة … )) (1). والاختلاف إنما وقع إذا كان للإنسان المسلم من كل واحد من الذهب والفضة مالاً يبلغ نصاباً بمفرده، أو كان له نصاب من أحدهما وأقل من نصاب من الآخر)) (2). [وتقدم تفصيل ذلك].

 

‌‌ثامناً: مقدار الزكاة في الذهب والفضة: ربع العشر:

فإذا تمت الفضة مائتي درهمٍ، والذهب عشرين ديناراً فالواجب في كلٍ منهما: ربع العشر، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((ولا نعلم خلافاً بين أهل العلم في أن زكاة الذهب والفضة: رُبعُ عُشْرِهِ)) (3). وقد ثبت ذلك في حديث أنس رضي الله عنه الذي كتب له أبو بكر رضي الله عنه في فريضة الصدقة التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين، وفيه: ((وفي الرقة ربع العشر، فإن لم تكن إلا تسعين ومائة فليس فيها شيء إلا أن يشاء ربها)) (4)؛ ولحديث علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((هاتوا ربع العشور: من كل أربعين درهماً درهم، وليس عليكم شيء حتى تتمّ مائتي درهمٍ، فإذا كانت مائتي درهمٍ ففيها خمسة

--------------------------------------------

(1) المغني لابن قدامة رحمه الله، (4/ 210، والفروع لابن مفلح، (4/ 138، والكافي، 2/ 148.

(2) المرجع السابق، 4/ 210.

(3) المغني لابن قدامة، 4/ 215.

(4) البخاري، كتاب الزكاة، باب زكاة الغنم برقم، 1454.
নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে স্বর্ণ ও রূপা; কেননা ব্যবসার পণ্য নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার জন্য এই দুটোর সাথে যুক্ত করা হয়। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আমরা এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) আছে বলে জানি না))। ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: ((যদি কারও নিকট স্বর্ণ, রূপা এবং ব্যবসার পণ্য থাকে, তবে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার জন্য সবগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা ওয়াজিব (واجب); কারণ ব্যবসার পণ্য এই দুটির প্রত্যেকটির সাথেই যুক্ত করা হয়, তাই এই দুটিকে তার সাথে যুক্ত করা এবং তিনটিকে একত্রিত করা ওয়াজিব (واجب) … )) (১)। আর মতভেদ (اختلاف) কেবল তখনই ঘটে যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তির নিকট স্বর্ণ ও রূপার প্রত্যেকটি থেকে এমন পরিমাণ সম্পদ থাকে যা এককভাবে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করে, অথবা তার কাছে একটির নিসাব (نصاب) পরিমাণ এবং অন্যটির নিসাব (نصاب) অপেক্ষা কম পরিমাণ থাকে)) (২)। [এর বিস্তারিত বিবরণ পূর্বে গত হয়েছে]।

 

‌‌অষ্টম: স্বর্ণ ও রূপার জাকাতের পরিমাণ: এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ (ربع العشر):

সুতরাং যখন রূপা দুইশত দিরহাম এবং স্বর্ণ বিশ দিনার পূর্ণ হয়, তখন তাদের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে ওয়াজিব (واجب) হলো: এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ (ربع العشر)। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আহলে ইলমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) আছে বলে আমাদের জানা নেই যে, স্বর্ণ ও রূপার জাকাত হলো: এর এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ (ربع العشر))) (৩)। আর তা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে, যা আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর জন্য সদকার ফরয (فريضة) বিধান হিসেবে লিখেছিলেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিমদের ওপর ফরয (فرض) করেছিলেন। তাতে রয়েছে: ((এবং রূপার (الرقة) ক্ষেত্রে এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ (ربع العشر); আর তা যদি কেবল একশত নব্বই (দিরহাম) হয় তবে তাতে কিছু নেই, যদি না এর মালিক সদকা করতে চায়)) (৪); এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের কারণে যে তিনি বলেছেন: ((তোমরা এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ (ربع العشر) নিয়ে আসো: প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম। আর তোমাদের ওপর কোনো কিছু নেই যতক্ষণ না দুইশত দিরহাম পূর্ণ হয়। অতঃপর যখন দুইশত দিরহাম হবে, তখন তাতে পাঁচ

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি লি-ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ), ৪/২১০; আল-ফুরু লি-ইবনে মুফলিহ, ৪/১৩৮; আল-কাফি, ২/১৪৮।

(২) প্রাগুক্ত উৎস, ৪/২১০।

(৩) আল-মুগনি লি-ইবনে কুদামা, ৪/২১৫।

(৪) বুখারি, কিতাবুজ জাকাত, বাব জাকাতুল গানাম, হাদিস নং ১৪৫৪।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২৫)
دراهم، فما زاد فعلى حساب ذلك)) (1)؛ولحديث علي رضي الله عنه أيضاً عن النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه: (( … فإذا كانت لك مائتا درهم، وحال عليها الحول ففيها خمسة دراهم، وليس عليك شيء - يعني في الذهب - حتى يكون لك عشرون ديناراً، فإذا كان لك عشرون ديناراً، وحال عليها الحول ففيها نصف دينار، فما زاد فبحساب ذلك … وليس في مال زكاة حتى يحول عليه الحول)) (2)؛ ولحديث عائشة وابن عمر رضي الله عنهم: أن النبي صلى الله عليه وسلم ((كان يأخذ من كل عشرين ديناراً نصف دينارٍ، ومن كل أربعين ديناراً ديناراً)) (3). وفي الزيادة على نصاب الذهب والفضة الزكاة بحساب ذلك حتى ولو كانت الزيادة قليلة؛ لحديث علي رضي الله عنه عنه المذكور آنفاً (( … فما زاد فعلى حساب ذلك … )). وفي لفظ: ((فما زاد فبحساب ذلك)) (4).

قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وروي ذلك عن علي، وابن عمر رضي الله عنهم موقوفاً عليهما ولم يعرف لهما مخالفاً من الصحابة، فيكون إجماعاً؛ ولأنه مال متَّجرٌ، فلم يكن له عفوٌ بعد النصاب كالحبوب)) (5).

 

‌‌تاسعاً: كيفية إخراج الزكاة من المال تكون بطرق منها:

‌‌الطريقة الأولى: ربع العشر: واحد من أربعين، وهذا يفيد المسلم

--------------------------------------------

(1) أبو داود، كتاب الزكاة، باب زكاة السائمة، برقم 1572، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 435.

(2) أبو داود، برقم 1573، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 436، وتقدم تخريجه في نصاب الذهب وفي نصاب الفضة.

(3) ابن ماجه، برقم 1791، وصححه الألباني في صحيح ابن ماجه، 2/ 98، وتقدم تخريجه في نصاب الذهب.

(4) أبو داود، برقم 1572، ورقم 1573، وتقدم تخريجهما.

(5) المغني، لابن قدامة، 4/ 216.
দিরহাম, আর যা অতিরিক্ত হবে তা সেই অনুপাতে হিসাব হবে)) (১); এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অন্য একটি হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: (( … সুতরাং যখন তোমার নিকট দুইশত দিরহাম থাকবে এবং তার ওপর এক বছর পূর্ণ (حول) হবে, তখন তাতে পাঁচ দিরহাম (যাকাত) দিতে হবে। আর স্বর্ণের ক্ষেত্রে তোমার ওপর কোনো কিছু নেই যতক্ষণ না তোমার বিশ দিনার হয়। যখন তোমার বিশ দিনার হবে এবং তার ওপর এক বছর পূর্ণ (حول) হবে, তখন তাতে অর্ধেক দিনার (যাকাত) দিতে হবে। অতঃপর যা অতিরিক্ত হবে তা সেই অনুপাতে হিসাব হবে … এবং কোনো সম্পদে যাকাত নেই যতক্ষণ না তার ওপর এক বছর অতিক্রান্ত (حول) হয়)) (২); এবং আয়েশা ও ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ((প্রতি বিশ দিনারে অর্ধেক দিনার এবং প্রতি চল্লিশ দিনারে এক দিনার গ্রহণ করতেন)) (৩)। আর স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিসাবের অতিরিক্ত অংশের ক্ষেত্রেও সেই অনুপাতে যাকাত দিতে হবে, যদিও সেই বৃদ্ধি সামান্য হয়; পূর্বে উল্লিখিত আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিসের কারণে (( … সুতরাং যা অতিরিক্ত হবে তা সেই অনুপাতে হিসাব হবে … ))। এবং অন্য শব্দে এসেছে: ((অতঃপর যা অতিরিক্ত হবে তা সেই অনুপাতে হিসাব হবে)) (৪)।

ইমাম ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এটি আলী এবং ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে তাদের ওপর স্থগিত (موقوف) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং সাহাবীদের মধ্যে তাদের কোনো বিরোধিতার কথা জানা নেই, সুতরাং এটি একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع); কারণ এটি একটি ব্যবসায়িক সম্পদ, তাই নিসাবের পরে শস্যের মতো এতে কোনো ছাড় নেই)) (৫)।

 

‌‌নবম: সম্পদ থেকে যাকাত আদায়ের পদ্ধতি বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌প্রথম পদ্ধতি: এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر): চল্লিশ ভাগের এক ভাগ, যা মুসলিমদের জন্য ফলপ্রসূ

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, যাকাত অধ্যায়, গবাদি পশুর যাকাত পরিচ্ছেদ, নম্বর ১৫৭২, এবং আলবানী একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন, ১/৪৩৫।

(২) আবু দাউদ, নম্বর ১৫৭৩, এবং আলবানী একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন, ১/৪৩৬, এবং এর তাখরীজ স্বর্ণের নিসাব ও রৌপ্যের নিসাবের বর্ণনায় গত হয়েছে।

(৩) ইবনে মাজাহ, নম্বর ১৭৯১, এবং আলবানী একে সহিহ ইবনে মাজাহ-তে সহিহ (صحيح) বলেছেন, ২/৯৮, এবং এর তাখরীজ স্বর্ণের নিসাবের বর্ণনায় গত হয়েছে।

(৪) আবু দাউদ, নম্বর ১৫৭২, এবং ১৫৭৩, এবং এদের তাখরীজ পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৫) আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৪/২১৬।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২৬)
الذي عنده زكاة: أن يقسم ما عنده من المال على أربعين، فما خرج فهو الزكاة، فمثلاً: أربعون مليوناً تقسيم أربعين يساوي مليوناً، وهذا زكاتها (1) فعلى هذا يكون الجزء الثابت لحساب الزكاة: هو جميع ما عند المسلم من المال يقسم على أربعين، والناتج: هو زكاة ماله.

أمثلة على هذه الطريقة لاستخراج الزكاة:

1 - رجل يملك خمسة آلاف ريال سعودي فزكاتها:

5000 ÷ 40 = 125 ريالاً سعودياً.

2 - شخص يملك عشرة آلاف دولار، فتكون زكاتها:

10000 ÷ 40 = 250 دولاراً.

3 - امرأة تملك مائة ألف جنيه، فتكون زكاتها:

100000 ÷ 40 = 2500 جنيهاً.

4 - مالك يملك مليون ريالاً سعودياً، فزكاتها: 1000000 ÷ 40 = 25000

5 - مالك يملك تسعة وتسعين مليون روبية، فزكاته:

99000000 ÷ 40 = 2475000 روبية

وهكذا يقسم جميع المال على أربعين، والناتج هو زكاة المال.

 

‌‌الطريقة الثانية: اثنين ونصف بالمائة تضرب في جميع المال، ثم يقسم الناتج على مائة، والناتج: هو الزكاة فمثلاً: أربعون مليوناً رأس

--------------------------------------------

(1) انظر: الشرح الممتع لابن عثيمين، 6/ 102.
যার কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ রয়েছে: সে তার কাছে থাকা মোট অর্থকে চল্লিশ দিয়ে ভাগ করবে, অতঃপর যা বের হবে তা-ই হলো জাকাত। উদাহরণস্বরূপ: চল্লিশ মিলিয়নকে চল্লিশ দিয়ে ভাগ করলে এক মিলিয়ন হয়, আর এটিই হলো তার জাকাত (১)। এই নিয়ম অনুযায়ী জাকাত হিসাব করার নির্ধারিত পদ্ধতি হলো: একজন মুসলিমের কাছে থাকা সকল অর্থ চল্লিশ দিয়ে ভাগ করা এবং যা ফলাফল আসবে তা-ই হলো তার মালের জাকাত।

জাকাত বের করার এই পদ্ধতির উদাহরণসমূহ:

১ - জনৈক ব্যক্তি পাঁচ হাজার সৌদি রিয়ালের মালিক হলে তার জাকাত হবে:

৫০০০ ÷ ৪০ = ১২৫ সৌদি রিয়াল।

২ - জনৈক ব্যক্তি দশ হাজার ডলারের মালিক হলে তার জাকাত হবে:

১০০০০ ÷ ৪০ = ২৫০ ডলার।

৩ - জনৈকা মহিলা এক লক্ষ পাউন্ডের মালিক হলে তার জাকাত হবে:

১০০০০০ ÷ ৪০ = ২৫০০ পাউন্ড।

৪ - জনৈক মালিক এক মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের মালিক হলে তার জাকাত: ১০০০০০০ ÷ ৪০ = ২৫০০০

৫ - জনৈক মালিক নিরানব্বই মিলিয়ন রুপির মালিক হলে তার জাকাত:

৯৯০০০০০০ ÷ ৪০ = ২৪৭৫০০০ রুপি

এভাবে সমস্ত সম্পদকে চল্লিশ দিয়ে ভাগ করা হয় এবং যা ফলাফল আসবে তা-ই হলো মালের জাকাত।

 

‌‌দ্বিতীয় পদ্ধতি: আড়াই শতাংশকে (২.৫%) মোট অর্থের সাথে গুণ করতে হবে, অতঃপর ফলাফলকে একশ দিয়ে ভাগ করতে হবে, আর প্রাপ্ত ফলাফলই হবে জাকাত। উদাহরণস্বরূপ: চল্লিশ মিলিয়ন মূলধন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে উসাইমীন রচিত আশ-শারহুল মুমতি, ৬/ ১০২।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২৭)
المال، وزكاتها اثنان ونصف بالمائة ضرب أربعين مليوناً، والناتج يقسم على مائة، والناتج يساوي مليوناً.

والطريقة الأولى أسهل، وأيسر، وأفضل؛ لقول عائشة وابن عمر رضي الله عنهم: إن النبي صلى الله عليه وسلم ((كان يأخذ من كل عشرين ديناراً فصاعداً نصف دينار، ومن الأربعين ديناراً ديناراً)) (1).

أمثلة على هذه الطريقة لاستخراج الزكاة:

1 - 5000 زكاتها: 2.5 × 5000 = 12500 ÷ 100 = 125

2 - 10000 زكاتها: 2.5 × 10000 = 25000 ÷ 100 = 250

3 - 100000 زكاتها: 2.5 × 10000 = 250000 ÷ 100 = 2500

وهكذا مجموع المال يضرب في اثنين ونصف، والناتج يقسم على مائة، والناتج يكون هو الزكاة المفروضة.

والطريقة الأولى أسهل وأيسر، والله تعالى الموفق.

وتقدم أن العملات الورقية أو المعدنية إذا بلغت نصاب الذهب أو الفضة زكيت؛ لأن حكمها حكم النقدين، وما تقدم هنا يمثل العملات الورقية أو المعدنية.

أما نصاب الذهب فقد سبق أن أقله ((عشرون ديناراً)) وهي تساوي (عشرون مثقالاً) والمثقال يساوي وزنه 4.6 جرام وهو وزن 72 حبة شعير متوسطة كما تقدم، فيكون نصاب الذهب 4.6 × 20 = 92 جراماً، وهي

--------------------------------------------

(1) ابن ماجه، برقم 1791، وتقدم تخريجه في نصاب الذهب.
সম্পদ, এবং এর জাকাত হলো আড়াই শতাংশ; অর্থাৎ মোট সম্পদকে আড়াই দিয়ে গুণ করতে হবে এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে একশ দিয়ে ভাগ করতে হবে, ফলে ফলাফল দাঁড়াবে এক মিলিয়ন।

প্রথম পদ্ধতিটি অধিক সহজ, সরল এবং উত্তম; আয়েশা ও ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এর বাণীর কারণে: নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি বিশ দিনার বা তার ঊর্ধ্বে অর্ধেক দিনার এবং চল্লিশ দিনার থেকে এক দিনার গ্রহণ করতেন (১)।

জাকাত বের করার এই পদ্ধতির উদাহরণসমূহ:

১ - ৫০০০ এর জাকাত: ২.৫ × ৫০০০ = ১২৫০০ ÷ ১০০ = ১২৫

২ - ১০০০০ এর জাকাত: ২.৫ × ১০০০০ = ২৫০০০ ÷ ১০০ = ২৫০

৩ - ১০০০০০ এর জাকাত: ২.৫ × ১০০০০ = ২৫০০০০ ÷ ১০০ = ২৫০০

এভাবেই মোট সম্পদকে আড়াই দিয়ে গুণ করতে হবে এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে একশ দিয়ে ভাগ করতে হবে, ফলে প্রাপ্ত ফলাফলটিই হবে নির্ধারিত জাকাত।

প্রথম পদ্ধতিটি অধিক সহজ ও সরল, আর আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা।

ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, কাগজী মুদ্রা বা ধাতব মুদ্রা যদি স্বর্ণ বা রৌপ্যের নিসাব (نصاب) পরিমাণ হয় তবে তার জাকাত দিতে হবে; কেননা এগুলোর বিধান স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিধানের অনুরূপ। আর এখানে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা কাগজী ও ধাতব মুদ্রারই উদাহরণ।

আর স্বর্ণের নিসাবের (نصاب) ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো "বিশ দিনার", যা "বিশ মিসকাল" (مثقال) এর সমান। এক মিসকাল (مثقال) এর ওজন ৪.৬ গ্রামের সমান, যা ৭২টি মাঝারি দানার যবের ওজনের সমান যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং স্বর্ণের নিসাব (نصاب) হবে ৪.৬ × ২০ = ৯২ গ্রাম, যা...

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর ১৭৯১, এবং স্বর্ণের নিসাব বর্ণনায় এর তাখরিজ (تخريج) ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২৮)
تساوي بالجنيه السعودي 11.5 جنيهاً، ووزن الجنية 8 جرامات × 11.5 = 92 جرام. وسعر جرام الجنيه بتاريخ 8/ 3/1426هـ = 44.70 × 8 = 357.6 ريال سعودي فيكون سعر نصاب الذهب بالريال السعودي 357.6 × 11.5 جنيه = 4112.4 ريالاً سعودياً، أو يضرب سعر جرام الجنيه في عدد جرامات النصاب 44.7 × 92 = 112.4 ريالاً سعودياً، وأما نصاب الفضة فقد سبق أن وزن المثقال 4.6 جرام × نصاب الفضة 140 مثقالاً = 644 جراماً، وهذا نصاب الفضة بالجرامات تقريباً، وتضرب الجرامات هذه في سعر الجرام بالريال، فينتج النصاب بالعملة الورقية، وكان وزن الريال السعودي الفضّي بتاريخ 8/ 3/1426هـ 11.6جرام وسعره=8 ريالات سعودية ورقية وقد سبق أن النصاب بريالات الفضة 56 ريالاً سعودياً فضِّياً فيكون النصاب أيضاً بجرامات الريال السعودي الفضي = 56 × 11.6 = 649.6 جرام، وهذا يزيد 5.6 جرام، ولكن هذا يكون بالتقريب.

إذاً يكون نصاب الفضة بالريالات السعودية الورقية في تاريخ 8/ 3/1426هـ هو: 8 × 56 = 448 ريالاً تقريباً، والله تعالى أعلم.

 

‌‌عاشراً: إخراج أحد النقدين: من الذهب والفضة عن الآخر في الزكاة:

قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وهل يجوز إخراج أحد النقدين عن الآخر؟ فيه روايتان. نص عليهما: إحداهما: لا يجوز، وهو اختيار أبي بكر؛ لأن أنواع الجنس لا يجوز إخراج أحدهما عن الآخر إذا كان أقل في المقدار، فمع اختلاف الجنس أولى، والثانية: يجوز وهو أصح إن شاء الله؛
এটি সৌদি গিনি হিসেবে ১১.৫ গিনির সমান, এবং প্রতি গিনির ওজন ৮ গ্রাম × ১১.৫ = ৯২ গ্রাম। এবং ৮/৩/১৪২৬ হিজরী তারিখে প্রতি গ্রাম গিনির মূল্য = ৪৪.৭০ × ৮ = ৩৫৭.৬ সৌদি রিয়াল। সুতরাং সৌদি রিয়ালে স্বর্ণের নিসাবের মূল্য হবে ৩৫৭.৬ × ১১.৫ গিনি = ৪১১২.৪ সৌদি রিয়াল। অথবা গিনির প্রতি গ্রামের মূল্যকে নিসাবের মোট গ্রাম সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে: ৪৪.৭ × ৯২ = ১১২.৪ সৌদি রিয়াল। আর রূপার নিসাবের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক মিসকালের ওজন ৪.৬ গ্রাম × রূপার নিসাব ১৪০ মিসকাল = ৬৪৪ গ্রাম। আর এটি গ্রামে রূপার নিসাবের আনুমানিক পরিমাণ। এই গ্রামগুলোকে রিয়ালে প্রতি গ্রামের মূল্য দিয়ে গুণ করলে কাগজের মুদ্রায় নিসাবের পরিমাণ বের হয়ে আসবে। ৮/৩/১৪২৬ হিজরী তারিখে রূপার তৈরি সৌদি রিয়ালের ওজন ছিল ১১.৬ গ্রাম এবং এর মূল্য ছিল = ৮ সৌদি কাগজের রিয়াল। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রূপার রিয়াল হিসেবে নিসাব হলো ৫৬ সৌদি রূপার রিয়াল। সুতরাং রূপার তৈরি সৌদি রিয়ালের গ্রামেও নিসাবের পরিমাণ হবে = ৫৬ × ১১.৬ = ৬৪৯.৬ গ্রাম। এটি ৫.৬ গ্রাম বেশি, তবে তা আনুমানিক হিসেবে ধরা হয়।

অতএব, ৮/৩/১৪২৬ হিজরী তারিখে সৌদি কাগজের রিয়ালে রূপার নিসাব হলো: ৮ × ৫৬ = প্রায় ৪৪৮ রিয়াল। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌দশম: যাকাতের ক্ষেত্রে সোনা ও রূপার একটির পরিবর্তে অন্যটি প্রদান করা:

ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সোনা ও রূপার একটির পরিবর্তে অন্যটি প্রদান করা কি জায়েজ? এই বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে। তিনি এই দুইটির ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন: প্রথমটি: এটি জায়েজ নয়, এবং এটি আবু বকর-এর পছন্দ (বা চয়ন); কারণ একই জাতীয় জিনিসের একটির পরিবর্তে অন্যটি প্রদান করা যদি পরিমাণের দিক থেকে কম হয় তবে জায়েজ নয়, সুতরাং ভিন্ন জাতীয় জিনিসের ক্ষেত্রে তা না হওয়া আরও বেশি সংগত। দ্বিতীয়টি: এটি জায়েজ এবং এটিই ইনশাআল্লাহ অধিক বিশুদ্ধ (أصح);
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ২৯)
لأن المقصود من أحدهما يحصل بإخراج الآخر، فيجزئ كأنواع الجنس، وذلك لأن المقصود منهما جميعاً الثمنية، والتوسل بهما إلى المقاصد، وهما يشتركان فيه على السواء، فأشبه إخراج المكسَّرة عن الصحاح بخلاف سائر الأجناس، والأنواع مما تجب فيه الزكاة؛ فإن لكل جنس مقصوداً مختصاً به لا يحصل من الجنس الآخر، وكذلك أنواعها، فلا يحصل بإخراج غير الواجب من الحكمة ما يحصل من إخراج الواجب، وههنا المقصود حاصل فوجب إجزاؤه، إذ لا فائدة في اختصاص الأجزاء بعين، مع مساواة غيرها لها في الحكمة؛ وكون ذلك أرفق: بالمعطي والآخذ، وأنفع لهما، ويندفع به الضرر عنهما؛ فإنه لو تعين إخراج زكاة الدنانير منها شق على من يملك أقل من أربعين ديناراً إخراج جزء من دينار، ويحتاج إلى التشقيص ومشاركة الفقير له في دينار من ماله، أو بيع أحدهما نصيبه، فيستضر المالك والفقير، وإذا جاز إخراج الدراهم عنها دفع إلى الفقير من الدراهم بقدر الواجب فيسهل ذلك عليه، وينتفع الفقير من غير كلفة، ولا ضرر … وفي جواز إخراج أحدهما عن الآخر نفع محض ودفع لهذا الضرر، وتحصيل لحكمة الزكاة على التمام والكمال، فلا حاجة، ولا وجه لمنعه .. )) (1). قال العلامة ابن عثيمين رحمه الله: ((والصحيح أنه لا بأس أن تخرج من أحد النوعين يعني بالقيمة)) (2).

--------------------------------------------

(1) المغني لابن قدامة، 4/ 218، وانظر: الكافي له، 2/ 149، والمقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 7/ 17، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 3/ 246، ومنار السبيل، 1/ 252.

(2) الشرح الممتع، 6/ 110.
কারণ একটির পরিবর্তে অন্যটি প্রদানের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য হাসিল হয়, তাই এটি একই জাতীয় বিভিন্ন প্রকারের ন্যায় যথেষ্ট হবে। এর কারণ হলো উভয়টির মাধ্যমেই মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যমান হওয়া এবং সেগুলোর মাধ্যমে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো। আর উভয়ই এ ক্ষেত্রে সমানভাবে অংশীদার। তাই এটি ত্রুটিপূর্ণ মুদ্রার পরিবর্তে নিখুঁত মুদ্রা আদায়ের সদৃশ; যা জাকাত আবশ্যক হয় এমন অন্যান্য সকল জাতি ও প্রকারের বিপরীত। কেননা প্রতিটি জাতির এমন একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে যা অন্য জাতি দ্বারা অর্জিত হয় না, এবং তাদের প্রকারভেদগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা। সুতরাং নির্ধারিত ওয়াজিব ব্যতীত অন্য কিছু প্রদানের মাধ্যমে সেই নিগূঢ় রহস্য অর্জিত হয় না যা ওয়াজিব আদায়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়। কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে, তাই এটি যথেষ্ট হওয়া আবশ্যক। যেহেতু নির্দিষ্ট বস্তুর মাধ্যমে আদায়ের মধ্যে বিশেষ কোনো ফায়দা নেই যখন অন্য বস্তুও হিকমতের ক্ষেত্রে তার সমান হয়। আর এটি দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের জন্য অধিক সহজতর ও উপকারী এবং এর মাধ্যমে তাদের উভয় থেকে ক্ষতি দূরীভূত হয়। কারণ দিনারের জাকাত যদি দিনার থেকেই আদায় করা আবশ্যক হতো, তবে যার কাছে চল্লিশ দিনারের কম আছে তার জন্য দিনারের একটি অংশ বের করা কষ্টকর হতো। তখন দিনার খণ্ড-বিখণ্ড করার প্রয়োজন হতো এবং দরিদ্র ব্যক্তি তার সম্পদের একটি দিনারে অংশীদার হয়ে যেত অথবা তাদের একজনকে নিজের অংশ বিক্রি করে দিতে হতো; ফলে মালিক এবং দরিদ্র উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতো। আর যখন এর পরিবর্তে দিরহাম প্রদান করা বৈধ হয়, তখন দরিদ্র ব্যক্তিকে ওয়াজিব পরিমাণ দিরহাম প্রদান করা হবে, যা দাতার জন্য সহজ হবে এবং দরিদ্র ব্যক্তি কোনো কষ্ট ও ক্ষতি ছাড়াই উপকৃত হবে … আর একটির পরিবর্তে অন্যটি আদায়ের বৈধতার মধ্যে কেবল বিশুদ্ধ কল্যাণ এবং এ জাতীয় ক্ষতি নিবারণ নিহিত রয়েছে, সেই সাথে এর মাধ্যমে জাকাতের হিকমতও পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁতভাবে অর্জিত হয়। তাই এটি নিষেধ করার কোনো প্রয়োজন বা যৌক্তিকতা নেই। )) (১)। আল্লামা ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এবং সঠিক (صحيح) মত হলো, দুই প্রকারের যেকোনো একটি থেকে অর্থাৎ মূল্যের ভিত্তিতে আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই)) (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি লি-ইবনে কুদামা, ৪/২১৮, এবং দেখুন: তার রচিত আল-কাফি, ২/১৪৯; আল-মুকনি মা’আশ শারহিল কাবির ওয়াল ইনসাফ, ৭/১৭; আর-রওদুল মুরবি মা’আ হাশিয়াতি ইবনি কাসিম, ৩/২৪৬; এবং মানারুস সাবিল, ১/২৫২।

(২) আশ-শারহুল মুমতি, ৬/১১০।
(খণ্ড: ১) যাকাতুল আছমান (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الحادي عشر: ما يباح للرجال: من الفضة والذهب: يباح من ذلك الآتي:

1 - خاتم الفضة؛ لحديث أنس بن مالك رضي الله عنه، قال: ((كان خاتم النبي صلى الله عليه وسلم في هذه، وأشار إلى الخنصر من يده اليسرى)). وفي لفظ: (( … كأني أنظر إلى وبيض خاتمه من فضةٍ، ورفع أصبعه اليسرى بالخنصر)). وفي لفظ: ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لبس خاتم فضة في يمينه، فيه فصٌّ حبشيٌّ، كان يجعل فَصَّهُ مما يلي كفه)). وهذه الألفاظ الثلاثة لمسلم، أما ألفاظ البخاري لحديث أنس هذا فهي: ((أن نبي الله صلى الله عليه وسلم أراد أن يكتب إلى رهطٍ أو أناسٍ من الأعاجم [وفي رواية: الروم] فقيل له: إنهم لا يقبلون [وفي رواية: لن يقرؤوا] كتاباً إلا عليه خاتم [وفي رواية: إلا أن يكون مختوماً] فاتخذ النبي صلى الله عليه وسلم خاتماً من فضةٍ نقشهُ: محمدٌ رسول الله [وقال: إني اتخذت خاتماً من ورقٍ، ونقشت فيه محمد رسول الله فلا ينقش أحد على نقشه] فكأني بوبيص أو بصيص الخاتم [وفي رواية: كأني أنظر إلى بياضه] في إصبع النبي صلى الله عليه وسلم، أو في كفه [وفي طريق: قال: فإني لأرى بريقه في خنصره] [قال أنس: كان خاتم النبي صلى الله عليه وسلم في يده، وفي يد أبي بكر بعده، وفي يد عمر بعد أبي بكر، فلما كان عثمان جلس على بئر أريس، فأخرج الخاتم فجعل يَعبثُ به فسقط، قال: فاختلفنا ثلاثة أيام مع عثمان - أي في الذهاب والرجوع والنزول إلى البئر والطلوع منها - فننزح البئر فلم نجده (([وكان نقش الخاتم ثلاثة أسطر: محمد سطر، ورسول سطر، والله سطر] (1).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، بالأرقام الآتية: 65، 2938، 5870، 5872، 5874، 5875، 5877، 7162، ومسلم برقم 2092، وفي لفظ: ((أراد أن يكتب إلى كسرى وقيصر، والنجاشي، فقيل: إنهم لا يقبلون إلا كتاباً بخاتم … )). ومسلم برقم 2094، ورقم 2095، وفي هذا لفظ: ((من يده اليسرى)) ورقم 640 وفيه: ((أصبعه اليسرى)) أما في يده اليمنى فبرقم 2094 وهي رواية لمسلم في غير أصل الحديث.
‌একাদশ অধ্যায়: পুরুষদের জন্য যা বৈধ: রৌপ্য ও স্বর্ণের মধ্য থেকে: তন্মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বৈধ:

১ - রৌপ্যের আংটি; আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুসারে, তিনি বলেন: "নবী (সা.)-এর আংটি এতে ছিল" এবং তিনি তাঁর বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের দিকে ইশারা করলেন। অপর এক শব্দে বর্ণিত হয়েছে: " ... আমি যেন তাঁর রৌপ্য নির্মিত আংটির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি, তিনি তাঁর বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলটি উঁচিয়ে ধরলেন।" অন্য এক শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ডান হাতে একটি রৌপ্যের আংটি পরিধান করতেন, যাতে একটি হাবশী (আবিসিনীয়) পাথর ছিল এবং তিনি আংটির পাথরটি তাঁর হাতের তালুর দিকে রাখতেন।" এই তিনটি শব্দবিন্যাস মুসলিমের; আর আনাস (রা.)-এর বর্ণিত এই হাদিসটির ক্ষেত্রে বুখারীর শব্দবিন্যাস হলো: "আল্লাহর নবী (সা.) একদল বা এক সম্প্রদায় অনারব মানুষের কাছে [অন্য বর্ণনা (رواية): রোমানদের কাছে] পত্র লিখতে চাইলেন। তাঁকে বলা হলো: তারা মোহর বা সিলবিহীন কোনো পত্র গ্রহণ করে না [অন্য বর্ণনা (رواية): তারা পড়বে না]। তখন নবী (সা.) রৌপ্যের একটি আংটি তৈরি করালেন, যার খোদাইকৃত লিপি ছিল: 'মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ'। [তিনি বললেন: আমি রৌপ্যের একটি আংটি তৈরি করেছি এবং তাতে 'মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ' খোদাই করেছি, সুতরাং কেউ যেন এই নকশায় আর কিছু খোদাই না করে।] আমি যেন নবী (সা.)-এর আঙুলে অথবা তাঁর হাতের তালুতে আংটির উজ্জ্বলতা বা চকমকানি [অন্য বর্ণনা (رواية): আমি যেন তার শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছি] দেখতে পাচ্ছি। [অন্য এক সূত্রে বর্ণিত: তিনি বললেন: আমি তাঁর কনিষ্ঠা আঙুলে এর উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি।] [আনাস (রা.) বলেন: নবী (সা.)-এর আংটিটি তাঁর হাতে ছিল, তাঁর পরে আবু বকর (রা.)-এর হাতে এবং আবু বকর (রা.)-এর পর ওমর (রা.)-এর হাতে ছিল। অতঃপর উসমান (রা.)-এর সময় তিনি আরিস নামক কূয়ার পাড়ে বসলেন এবং আংটিটি বের করে তা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলেন, ফলে তা পড়ে গেল। তিনি বলেন: আমরা উসমান (রা.)-এর সাথে তিন দিন ধরে সেখানে যাতায়াত করলাম - অর্থাৎ কূয়ায় নামা এবং উঠার মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করলাম - আমরা কূয়ার পানি সেঁচে ফেললাম কিন্তু তা খুঁজে পেলাম না।] [আংটির খোদাই করা লিপিটি ছিল তিনটি লাইনে: 'মুহাম্মদ' এক লাইন, 'রাসূল' এক লাইন এবং 'আল্লাহ' এক লাইন।] (১)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারী, নিম্নোক্ত নম্বরসমূহে: ৬৫, ২৯৩৮, ৫৮৭০, ৫৮৭২, ৫৮৭৪, ৫৮৭৫, ৫৮৭৭, ৭১৬২; এবং মুসলিম, হাদিস নং ২০৯২। এক শব্দে বর্ণিত: "তিনি কিসরা, কায়সার এবং নাজ্জাশীর নিকট পত্র লেখার সংকল্প করলেন, তখন বলা হলো: তারা মোহরবিহীন কোনো পত্র গ্রহণ করে না..."। এবং মুসলিম, হাদিস নং ২০৯৪ এবং ২০৯৫; এতে শব্দ রয়েছে: "তাঁর বাম হাত থেকে" এবং নং ৬৪০, যাতে রয়েছে: "তাঁর বাম আঙুল"। তবে ডান হাতের বিষয়টি ২০৯৪ নং এ রয়েছে, যা মূল হাদিস (أصل الحديث) বহির্ভূত মুসলিমের একটি বর্ণনা (رواية)।