(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: -)
ثواب القرب المهداة إلى أموات المسلمين   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: ثواب القرب المهداة إلى أموات المسلمين - فضائل، وآداب، وأنواع، وأحكام في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 41

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

মুসলিম মৃতদের নিকট প্রেরিত উপহারস্বরূপ সৎকাজের সওয়াব   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: মুসলিম মৃতদের নিকট প্রেরিত উপহারস্বরূপ সৎকাজের সওয়াব - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফযিলত, আদব, প্রকারভেদ এবং বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: -)
418

سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

ثواب القرب المهداة

إلى أموات المسلمين

فضائل، وآداب، وأنواع، وأحكام

في ضوء الكتاب والسنة
418

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির গ্রন্থাবলি সিরিজ

 

মৃত মুসলিমদের প্রতি উপহার হিসেবে প্রেরিত নেক আমলের সওয়াব

মৃত মুসলিমদের প্রতি

ফজিলত, আদব, প্রকারভেদ এবং বিধানসমূহ

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه، وعلى آله، وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((ثواب القرب المهداة إلى أموات المسلمين)) ذكرت فيها أربعة مباحث:

المبحث الأول: مفهوم ثواب القُرَبِ لغةً واصطلاحاً.

المبحث الثاني: ما يلحق الميت من عمله.

المبحث الثالث: وصول ثواب القرب المهداة إلى أموات المسلمين، بيَّنت في هذا المبحث الأدلّة من الكتاب والسة في وصول ثواب القرب المهداة إلى أموات المسلمين.

المبحث الرابع: أنواع القرب المهداة إلى أموات
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এটি "মুসলিম মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত নৈকট্যদানকারী আমলের (القرب) সওয়াব (ثواب)" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যাতে আমি চারটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক (لغةً) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে নৈকট্যদানকারী আমলের (القرب) সওয়াবের (ثواب) ধারণা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তি তার নিজের আমল থেকে যা প্রাপ্ত হয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম মৃত ব্যক্তিদের নিকট উৎসর্গকৃত নৈকট্যদানকারী আমলের (القرب) সওয়াব (ثواب) পৌঁছানো; এই পরিচ্ছেদে আমি মুসলিম মৃত ব্যক্তিদের নিকট উৎসর্গকৃত নৈকট্যদানকারী আমলের (القرب) সওয়াব (ثواب) পৌঁছানোর বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) থেকে দলীলসমূহ (الأدلة) বর্ণনা করেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মৃতদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত নৈকট্যদানকারী আমলের (القرب) প্রকারভেদ
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৪)
المسلمين، ذكرت فيه أقوال أهل العلم في أنواع القرب المهداة إلى أموات المسلمين.

وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز ابن باز رحمه الله تعالى، كما استفدت كثيراً من تخريجات العلاّمة المحدث ناصر الدين الألباني غفر الله له ورحمه.

واللهَ أسأل أن يجعل هذا العمل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه، وأن ينفع به أموات المسلمين، ويشرح صدور المسلمين إلى الإهداء إلى أمواتهم الذين هم بأشد الحاجة إلى صدقاتهم، وإحسانهم؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوّة إلا بالله العليّ العظيم.

وصلّى الله، وسلّم على نبينا محمّد، وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

المؤلف: أبو عبد الرحمن

حرّر بعد عصر يوم الخميس 2/ 5/ 1426هـ الرياض
মুসলিমদের উদ্দেশ্যে; এতে আমি মুসলিম মৃত ব্যক্তিদের জন্য উৎসর্গকৃত বিভিন্ন প্রকার নেক আমল সম্পর্কে আলেমদের মতামত উল্লেখ করেছি।

আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উপস্থাপনা ও অগ্রাধিকারমূলক (ترجيحات) সিদ্ধান্তসমূহ থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি; যেমনটি আমি আল্লামা মুহাদ্দিস (محدث) নাসিরুদ্দিন আলবানী (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন ও তাঁর ওপর রহম করুন)-এর হাদিস যাচাই ও সূত্র নির্দেশ (تخريجات) থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এই কাজটিকে বরকতময়, উপকারী এবং তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন; এর মাধ্যমে আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করেন; যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং মুসলিম মৃত ব্যক্তিদেরও এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। আর তিনি যেন মুসলমানদের অন্তরকে তাদের মৃতদের উদ্দেশ্যে নেক আমল উপহার প্রদানের জন্য প্রশস্ত করে দেন, যারা তাদের দান-সদকা ও ইহসানের অত্যন্ত মুখাপেক্ষী। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত এবং সর্বোচ্চ আশার স্থল; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

লেখক: আবু আব্দুর রহমান

২/ ৫/ ১৪২৬ হিজরী, বৃহস্পতিবার আসরের পর লিখিত, রিয়াদ।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول: مفهوم ثواب القرب لغة واصطلاحاً

لغة: الثواب والمثوبة، والمثابة: الأجر، وجزاء الطاعة، ومنه ثواب العمل الصالح (1)، قال الله تعالى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} (2)، قال ابن الأثير رحمه الله: ((يقال: أثابه، يثيبه، إثابةً، والاسم: الثواب، ويكون في الخير والشر، إلاّ أنه بالخير أخصّ، وأكثر استعمالاً)) (3).

اصطلاحاً: الثواب هو الأجر، وثواب الأعمال الصالحة.

القُرَبُ لغةً: مفردها: قربة، والجمع: قُرَبٌ، وقرباتٌ، والقربان: جمعه: قرابين، وهو كل ما يتقرَّب به إلى الله تعالى من الطاعات، تقول: قَرَّبْت لله قرباناً، وتقرَّب إلى الله بشيء: طلب به القربة عنده.

--------------------------------------------

(1) مختار الصحاح، ص 38، و220، والمصباح المنير، 1/ 86.

(2) سورة البقرة، الآية: 103.

(3) النهاية في غريب الحديث، 1/ 227.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সওয়াব ও কুররাব-এর ধারণা

আভিধানিকভাবে: আস-সওয়াব, আল-মাথুবাহ এবং আল-মাথাবাহ-এর অর্থ হলো প্রতিদান এবং আনুগত্যের বিনিময়। আর নেক আমলের সওয়াব (১) কথাটি এখান থেকেই এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যদি তারা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সওয়াব অবশ্যই উত্তম হতো, যদি তারা জানত।" (২) ইবনুল আসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "বলা হয়: আছাবাহু, ইউছীবুহু, ইছাবাতান; আর এর বিশেষ্য পদ হলো সওয়াব। এটি ভালো এবং মন্দ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়, তবে কল্যাণের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ অধিক সুনির্দিষ্ট এবং ব্যবহার বেশি।" (৩)।

পারিভাষিকভাবে: সওয়াব হলো প্রতিদান এবং নেক আমলসমূহের বিনিময়।

আল-কুররাব আভিধানিকভাবে: এর একবচন ‘কুরবাহ’ এবং বহুবচন হলো ‘কুররাব’ ও ‘কুররাবাত’। আর ‘কুরবান’-এর বহুবচন হলো ‘কারাবীন’। আনুগত্যের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যা কিছু করা হয়, তাকেই ‘কুরবান’ বলা হয়। যেমন বলা হয়: ‘আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি পেশ করেছি’। আর ‘কোনো কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা’ বলতে বোঝায়, সেটির মাধ্যমে তাঁর নিকট নৈকট্য প্রার্থনা করা।

--------------------------------------------

(১) মুখতার আস-সিহাহ, পৃ. ৩৮ ও ২২০; আল-মিসবাহুল মুনীর, ১/ ৮৬।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১০৩।

(৩) আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদিস, ১/ ২২৭।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৬)
واصطلاحاً: القُرَب ما يُتقرَّب به إلى الله تعالى من أعمال البر والطاعة (1).

قال الله تعالى: {وَمِنَ الْأَعْرَابِ مَنْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَتَّخِذُ مَا يُنْفِقُ قُرُبَاتٍ عِنْدَ اللَّهِ وَصَلَوَاتِ الرَّسُولِ أَلَا إِنَّهَا قُرْبَةٌ لَهُمْ سَيُدْخِلُهُمُ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (2).

--------------------------------------------

(1) المصباح المنير، 2/ 495، والقاموس الفقهي لسعدي أبو جيب، ص 298، ولغة الفقهاء، ص 135.

(2) سورة التوبة، الاية: 99.
পারিভাষিক অর্থে: নৈকট্য (قرب) হলো এমন সব সৎকর্ম ও আনুগত্য (طاعة) যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য অন্বেষণ করা হয় (১)।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর বেদুইনদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এবং যা ব্যয় করে তাকে আল্লাহর নৈকট্য (قربات) লাভের এবং রাসূলের দোয়ার মাধ্যম হিসেবে গণ্য করে। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তা তাদের জন্য নৈকট্য (قربة) লাভের উপায়। অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে তাঁর রহমতে দাখিল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-মিসবাহুল মুনীর, ২/ ৪৯৫; সাদী আবু জাইব রচিত আল-কামুস আল-ফিকহী, পৃ. ২৯৮; এবং লুগাতুল ফুকাহা, পৃ. ১৩৫।

(২) সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৯৯।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المبحث الثاني: ما يلحق الميت من عمله

يلحق الميت من عمله بعد موته كل عمل تسبب فيه الميت في حياته؛ للأدلة الآتية:

 

‌‌الدليل الأول: حديث أبي هريرة رضي الله عنه - أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة: إلا من صدقةٍ جاريةٍ، أو علم ينتفع به، أو ولدٍ صالحٍ يدعو له)) (1).

‌‌الدليل الثاني: حديث أبي هريرة رضي الله عنه - قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنّ مما يلحق المؤمن من عمله وحسناته بعد موته: علماً علَّمه ونشره، وولداً صالحاً تركه، ومصحفاً ورَّثه، أو مسجداً بناه، أو بيتاً لابن السبيل بناه، أو نهراً أجراه، أو صدقة أخرجها من ماله في صحته وحياته، يلحقه من بعد موته)) (2).

‌‌الدليل الثالث: حديث معاذ بن أنس رضي الله عنه - أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من

--------------------------------------------

(1) مسلم، كتاب الوصية، باب ما يلحق الإنسان من الثواب بعد وفاته، برقم 1631.

(2) ابن ماجه، المقدمة، باب ثواب معلم الناس الخير، برقم 242، وحسنه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 2/ 98، وإرواء الغليل، 6/ 29.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির আমল থেকে যা তার সাথে যুক্ত হয়

মৃত ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় যে সকল আমলের কারণ হয়ে থাকেন, মৃত্যুর পর তার প্রতিটিই তার আমলনামায় যুক্ত হয়; এর সপক্ষে দলিলসমূহ নিম্নরূপ:

 

প্রথম দলিল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" (১)

দ্বিতীয় দলিল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস - তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক কাজ থেকে যা কিছু প্রাপ্ত হয় তা হলো: যে জ্ঞান সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে, যে নেক সন্তান সে রেখে গেছে, উত্তরাধিকার হিসেবে যে কুরআন রেখে গেছে, অথবা যে মসজিদ সে নির্মাণ করেছে, কিংবা মুসাফিরদের জন্য যে গৃহ সে নির্মাণ করেছে, অথবা যে নহর সে প্রবাহিত করেছে, কিংবা তার সুস্থতা ও জীবদ্দশায় তার সম্পদ থেকে যে সদকা সে বের করেছে; এ সবকিছুই তার মৃত্যুর পর তার সাথে যুক্ত হবে।" (২)

তৃতীয় দলিল: মুয়াজ বিন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল অসিয়্যাহ, পরিচ্ছেদ: মৃত্যুর পর মানুষের কাছে যে সওয়াব পৌঁছায়, হাদিস নং ১৬৩১।

(২) ইবনে মাজাহ, মুকাদ্দিমা, পরিচ্ছেদ: মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেওয়ার সওয়াব, হাদিস নং ২৪২; এবং আলবানী একে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ২/ ৯৮, এবং ইরওয়াউল গালিল, ৬/ ২৯-এ।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৮)
علَّم علماً فله أجر من عمل به، لا ينقص من أجر العامل)) (1).

 

‌‌الدليل الرابع: حديث سهل بن سعد رضي الله عنه -:أن النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم خيبر لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه: (( … فوالله لأن يهدي الله بك رجلاً واحداً خير لك من أن يكون لك حُمْرُ النَّعَم)) (2).

وهذا يُبيِّن أهمية تعليم الناس الخير، ونشر العلم بينهم، قال الإمام الخطابي رحمه الله في معنى الحديث: ((لأن يهدي الله بك رجلاً واحداً خير لك أجراً وثواباً من أن يكون لك حمر النعم، فتتصدق بها)) (3)، وقد ذكر القرطبي والأُبِّيُّ والسنوسيُّ رحمهم الله: ((إن في هذا الحديث الشريف حضّاً عظيماً على تعلم العلم وبثَّه في الناس، وعلى الوعظ والتذكير، ويعني أن ثواب تعليم رجل

--------------------------------------------

(1) ابن ماجه، المقدمة، باب ثواب معلم الناس الخير، برقم 240، وحسنه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 2/ 97.

(2) متفق عليه، البخاري، كتاب الجهاد والسير، باب دعاء النبي صلى الله عليه وسلم إلى الإسلام، برقم 2942، وأطرافه برقم 3009، ورقم 3701، ورقم 4210، ومسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب من فضائل علي بن أبي طالب رضي الله عنه، برقم 2406.

(3) أعلام الحديث في شرح صحيح البخاري، 2/ 1408.
"যে ইলম শিক্ষা দিল, তার জন্য সেই ব্যক্তির সমান প্রতিদান রয়েছে যে তার ওপর আমল করল; এতে আমলকারীর প্রতিদান থেকে সামান্যও হ্রাস পাবে না" (১)।

 

‌‌চতুর্থ দলীল: সাহল ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস-: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: (( … আল্লাহর শপথ! আল্লাহ যদি আপনার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা আপনার জন্য মূল্যবান লাল উটের মালিক হওয়ার চেয়েও উত্তম)) (২)।

এটি মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের মাঝে ইলম প্রচার করার গুরুত্ব স্পষ্ট করে। ইমাম খাত্তাবি রহিমাহুল্লাহ এই হাদিসের মর্মার্থ সম্পর্কে বলেছেন: ((আল্লাহ যদি আপনার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা আপনার জন্য লাল উটের মালিক হয়ে তা সদকা করার চেয়েও সওয়াব ও প্রতিদানের দিক থেকে অধিক উত্তম)) (৩)। ইমাম কুরতুবি, উব্বি এবং সানুসি রহিমাহুমুল্লাহ উল্লেখ করেছেন: ((নিশ্চয়ই এই সম্মানিত হাদিসের মধ্যে ইলম অর্জন করা ও তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং উপদেশ ও নসিহতের প্রতি এক মহান উৎসাহ নিহিত রয়েছে। এর অর্থ হলো একজন ব্যক্তিকে শিক্ষা দেওয়ার সওয়াব...

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ, মুকাদ্দিমাহ, পরিচ্ছেদ: মানুষকে কল্যাণ শিক্ষাদানকারীর সওয়াব, হাদিস নং ২৪০; আলবানী একে সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ-তে হাসান (حسن) বলেছেন, ২/৯৭।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه), বুখারি, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামে দাওয়াত প্রদান, হাদিস নং ২৯৪২, এবং এর অন্যান্য সূত্র নং ৩০০৯, ৩৭০১, ৪২১০; এবং মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা, হাদিস নং ২৪০৬।

(৩) আলামুল হাদিস ফি শারহি সহিহিল বুখারি, ২/১৪০৮।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৯)
واحد وإرشاده أفضل من ثواب الصدقة بهذه الإبل النفيسة؛ لأن ثواب الصدقة بها ينقطع بموتها، وثواب العلم والهدى لا ينقطع إلى يوم القيامة)) (1).

 

‌‌الدليل الخامس: حديث أبي مسعود الأنصاري رضي الله عنه - أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من دلَّ على خير فله مثل أجر فاعله)) (2).

‌‌الدليل السادس: حديث جرير بن عبد الله رضي الله عنه -، وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (( … من سنَّ في الإسلام سُنَّةً حسنةً فَعُمِل بها بعده كُتِبَ له مثلُ أجر من عمل بها، ولا ينقص من أجورهم شيءٌ، ومن سَنَّ في الإسلام سُنَّةً سيئة، فَعُمِلَ بها بعده، كُتِبَ عليه مثل وِزْر من عمل بها، ولا ينقص من أوزارهم شيءٌ)) (3).

‌‌الدليل السابع: حديث أبي هريرة رضي الله عنه - أن رسول الله صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) انظر: المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم، للقرطبي، 6/ 276، وإكمال إكمال المعلم، للأبي، 8/ 231، ومكمل إكمال الإكمال، للسنوسي، 8/ 231.

(2) صحيح مسلم، كتاب الإمارة، باب إعانة الغازي في سبيل الله بمركوب وبغيره، وخلافته في أهله بخير، 3/ 1506 برقم1893،من حديث أبي مسعود الأنصاري رضي الله عنه.

(3) مسلم، كتاب العلم، باب من سن في الإسلام سنة حسنة أو سيئة؛ ومن دعا إلى هدى أو ضلالة، 4/ 2059، برقم 1017، من حديث جرير بن عبد الله رضي الله عنه.
...একজনকে (সঠিক পথ দেখানো) এবং তাকে পথপ্রদর্শন করা এই মূল্যবান উটগুলো সদকা করার সওয়াবের চেয়েও উত্তম; কারণ এগুলো সদকা করার সওয়াব সেগুলোর মৃত্যুর সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ইলম ও হেদায়াতের সওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত শেষ হয় না)) (১)।

 

‌‌পঞ্চম দলীল: আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখাবে, সে উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব লাভ করবে)) (২)।

‌‌ষষ্ঠ দলীল: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস - এতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (( … যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম নিয়ম (سنة) চালু করল এবং তার পরবর্তীকালে সেটি অনুসরণ করা হলো, তবে তার জন্য উক্ত আমলকারীর সমান সওয়াব লেখা হবে, অথচ তাদের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ নিয়ম (سنة) চালু করল এবং তার পরবর্তীকালে সেটি অনুসরণ করা হলো, তবে তার ওপর উক্ত আমলকারীর সমান পাপের বোঝা বর্তাবে, অথচ তাদের পাপের বোঝা থেকে কিছুই কমানো হবে না)) (৩)।

‌‌সপ্তম দলীল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস - আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিস কিতাব মুসলিম, কুরতুবী, ৬/২৭৬; এবং ইকমালু ইকমালিল মুয়াল্লিম, আল-আব্বী, ৮/২৩১; এবং মুকাম্মিলু ইকমালিল ইকমাল, সানুসী, ৮/২৩১।

(২) সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, অনুচ্ছেদ: আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকারীকে বাহন বা অন্য কিছু দিয়ে সাহায্য করা এবং তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের উত্তম দেখাশোনা করা, ৩/১৫০৬, হাদিস নং ১৮৯৩, আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে।

(৩) মুসলিম, কিতাবুল ইলম, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম বা মন্দ নিয়ম (سنة) চালু করল; এবং যে ব্যক্তি হেদায়াত বা ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করল, ৪/২০৫৯, হাদিস নং ১০১৭, জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১০)
قال: ((من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثلُ أجور من تبعه، لا ينقص ذلك من أجورهم شيئاً، ومن دعا إلى ضلالةٍ كان عليه من الإثم مثلُ آثام من تبعه، لا ينقص ذلك من آثامهم شيئاً)) (1).

 

‌‌الدليل الثامن: حديث أبي أمامة رضي الله عنه - يرفعه: ((فضل العالم على العابد كفضلي على أدناكم)) ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنَّ الله، وملائكته، وأهل السموات، والأرضين، حتى النملة في جحرها، وحتى الحوت، لَيُصلُّون على مُعَلِّم الناس الخير)) (2).

‌‌الدليل التاسع: حديث أبي الدرداء رضي الله عنه - قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إنه ليستغفر للعالم مَن في السموات، ومَن في الأرض، حتى الحيتان في البحر)) (3).

--------------------------------------------

(1) مسلم، في كتاب العلم، باب من سن في الإسلام سنة حسنة أو سيئة، ومن دعا إلى هدى أو ضلالة، 4/ 2060، برقم 2674.

(2) الترمذي، كتاب العلم، باب ما جاء في فضل الفقه على العبادة،5/ 50، برقم 2685،وصححه الألباني في صحيح سنن الترمذي، 2/ 343،وانظر: مشكاة المصابيح بتحقيق الألباني، 1/ 74، برقم 213.

(3) ابن ماجه، المقدمة، باب ثواب معلم الناس الخير، برقم 239، وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 1/ 97.
তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সুপথের দিকে আহ্বান জানাবে, সে তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানাবে, তার ওপর তার অনুসারীদের সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে, এতে তাদের পাপ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।" (১)।

 

‌‌অষ্টম দলীল: আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস - যা তিনি মারফু (يرفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "আবেদের ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির ওপর আমার শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়।" এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসীগণ, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং মাছ পর্যন্ত মানুষের কল্যাণ শিক্ষাদানকারীর জন্য দোয়া করে।" (২)।

‌‌নবম দলীল: আবু الدرداء (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস - তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের অধিবাসীগণ আলেমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছও।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো বা মন্দ রীতির প্রচলন করে এবং যে সুপথ বা ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানায়, ৪/ ২০৬০, হাদিস নম্বর ২৬৭৪।

(২) তিরমিজি, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: ইবাদতের ওপর ফিকহ-এর শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক, ৫/ ৫০, হাদিস নম্বর ২৬৮৫, এবং আলবানি একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন সহিহ সুনান তিরমিজিতে, ২/ ৩৪৩; আরও দেখুন: মিশকাতুল মাসাবিহ, আলবানি কর্তৃক তাহকিককৃত, ১/ ৭৪, হাদিস নম্বর ২১৩।

(৩) ইবনে মাজাহ, মুকাদ্দিমা, পরিচ্ছেদ: মানুষের কল্যাণ শিক্ষাদানকারীর সওয়াব, হাদিস নম্বর ২৩৯, এবং আলবানি একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ-তে, ১/ ৯৭।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الثالث: وصول ثواب القرب المهداة إلى أموات المسلمين

مما يدل على وصول ثواب الأعمال المهداة إلى أموات المسلمين من الكتاب والسنة الأدلة الآتية:

 

‌‌أولاً: الأدلة من القرآن الكريم، منها ما يأتي:

الدليل الأول: قوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاؤُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ} (1).

الدليل الثاني: قوله عز وجل: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ الله وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالله يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ} (2).

الدليل الثالث: قوله تعالى ذاكراً قول نوح: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِناً وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَاّ تَبَاراً} (3).

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر، الآية: 10.

(2) سورة محمد، الآية: 19.

(3) سورة نوح، الآية: 28.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত মুসলিমদের নিকট উপহারকৃত নেক আমলের সওয়াব পৌঁছানো

কুরআন ও সুন্নাহর নিম্নোক্ত প্রমাণাদি মৃত মুসলিমদের নিকট প্রেরিত আমলের সওয়াব পৌঁছানোর বিষয়টি নির্দেশ করে:

 

প্রথমত: পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণাদি, তার মধ্যে রয়েছে:

প্রথম দলীল: মহান আল্লাহর বাণী: "আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু, পরম করুণাময়।" (১)।

দ্বিতীয় দলীল: মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্যও। আল্লাহ তোমাদের বিচরণ ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন।" (২)।

তৃতীয় দলীল: নূহ (আ.)-এর উক্তি উল্লেখ করে মহান আল্লাহর বাণী: "হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের ক্ষমা করুন। আর যালিমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০।

(২) সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৯।

(৩) সূরা নূহ, আয়াত: ২৮।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১২)
الدليل الرابع: قوله تعالى ذاكراً قول إبراهيم: {رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ * رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ} (1).

 

‌‌ثانياً: الأدلة من السنة النبوية المطهّرة، منها ما يأتي:

‌‌الدليل الأول: حديث عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من مات وعليه صيام، صام عنه وليه)) (2).

‌‌الدليل الثاني: حديث ابن عباس رضي الله عنهما: ((أن امرأة ركبت البحر فنذرت، إن الله تبارك وتعالى أنجاها أن تصوم شهراً، فأنجاها الله عز وجل، فلم تصم حتى ماتت، فجاءت قَرابة لها [إما أختها أو ابنتها] إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فذكرت ذلك له، فقال: [أرأيتك لو كان عليها دين كنتِ تقضينه؟ قالت: نعم، قال: فدين الله أحقُّ أن يُقضى]

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم، الآيتان: 41 - 42.

(2) أخرجه البخاري، كتاب الصوم، باب من مات وعليه صوم، برقم 1952، ومسلم، كتاب الصيام، باب قضاء الصيام عن الميت، برقم 1147، وأبو داود، كتاب الصوم، باب فيمن مات وعليه صيام، برقم 2400، ومن طريقه البيهقي، 6/ 279، والطحاوي في ((مشكل الآثار))، 3/ 140، و141، وأحمد، 6/ 69.
চতুর্থ দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী যেখানে তিনি ইব্রাহিমের উক্তি উল্লেখ করেছেন: {হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দুআ কবুল করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন} (১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: পবিত্র সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত দলিলসমূহ, যার মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্তর্ভুক্ত:

‌‌প্রথম দলিল: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এমতাবস্থায় যে তার ওপর সিয়ামের জিম্মাদারি ছিল, তবে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক সিয়াম পালন করবে)) (২)।

‌‌দ্বিতীয় দলিল: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদিস: ((এক মহিলা সমুদ্রযাত্রা করেছিলেন এবং মানত করেছিলেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাকে মুক্তি দিলে তিনি এক মাস সিয়াম পালন করবেন। অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে মুক্তি দিলেন, কিন্তু তিনি সিয়াম পালন করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর এক নিকটাত্মীয় [হয়তো তাঁর বোন অথবা তাঁর কন্যা] নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বিষয়টি নিবেদন করলেন। তিনি বললেন: [তোমার কী মনে হয়, যদি তাঁর ওপর কোনো ঋণ থাকত তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করাই অধিকতর পাওনা (হক)]))

--------------------------------------------

(১) সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৪১ - ৪২।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবুস সাওম, অনুচ্ছেদ: যার জিম্মায় সিয়াম থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয়, হাদিস নম্বর ১৯৫২; মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম, অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সিয়াম কাজা করা, হাদিস নম্বর ১১৪৭; আবু দাউদ, কিতাবুস সাওম, অনুচ্ছেদ: যার ওপর সিয়াম বাকি থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয়, হাদিস নম্বর ২৪০০; এবং তাঁর সূত্রে বায়হাকি, ৬/২৭৯; তহাবি তাঁর ‘মুশকিলুল আসার’ গ্রন্থে, ৩/১৪০ ও ১৪১; এবং আহমাদ, ৬/৬৯।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
[فـ] اقْضِ [عن أمك])) (1).

 

‌‌الدليل الثالث: حديث ابن عباس رضي الله عنهما: ((أن سعد بن عبادة رضي الله عنه استفتى رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن أمي ماتت وعليها نذر؟ فقال: ((اقضِهِ عنها)) (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، كتاب الأيمان والنذور، باب في قضاء النذر عن الميت، برقم 3308، والنسائي في كتاب النذر، باب من مات وعليه نذر برقم 3850، والطحاوي، 3/ 140، والبيهقي، 4/ 255، 256، 10/ 85، والطيالسي، برقم 2630، وأحمد، 1861، 1970، 3137، 3224، 3420، والسياق مع الزيادة الثانية له، وإسناده صحيح على شرط الشيخين، والزيادة الأولى لأبي داود والبيهقي.

وأخرجه البخاري، كتاب الصوم، باب من مات وعليه صوم، برقم 1953، ومسلم، كتاب الصيام، باب قضاء الصيام عن الميت، برقم 1148، والترمذي، كتاب الصوم، باب ما جاء في الصوم عن الميت، برقم 716، وابن ماجه، كتاب الصيام، باب من مات وعليه صيام من نذر، برقم 1758، 1759 بنحوه، وفيه عندهم جميعاً الزيادة الثانية، وعند مسلم الأخيرة.

(2) أخرجه البخاري، كتاب الأيمان والنذور، باب إذا نذر أو حلف … برقم 6698، ومسلم، كتاب النذر، باب الأمر بقضاء النذر برقم 6638، وأبو داود، كتاب الأيمان والنذور، باب في قضاء النذر عن الميت، برقم 3307، والترمذي، كتاب النذور، باب قضاء النذر عن الميت، برقم 1546، والنسائي، كتاب الأيمان، باب من مات وعليه نذر برقم 3848، وابن ماجه، كتاب الكفارات، باب من مات وعليه نذر، برقم 2132،وصححه البيهقي،4/ 256، 6/ 278، 10/ 85، والطيالسي، 2717، وأحمد، 1893، 3049، 6/ 47.
[সুতরাং] তোমার মায়ের পক্ষ থেকে তা পূরণ করো)) (১)।

 

‌‌তৃতীয় প্রমাণ: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস: ((সাদ ইবনে উবাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ফতোয়া চাইলেন যে: নিশ্চয়ই আমার মা ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে তার ওপর একটি মানত অবশিষ্ট ছিল? তিনি বললেন: ((তার পক্ষ থেকে তা পূরণ করো)) (২)।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, শপথ ও মানত অধ্যায়, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে মানত পূরণ অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩৩০৮; এবং নাসায়ি, মানত অধ্যায়, যার মৃত্যু হয়েছে এমতাবস্থায় যে তার ওপর মানত ছিল অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩৮৫০; এবং তহাবি, ৩/১৪০; বায়হাকি, ৪/২৫৫, ২৫৬, ১০/৮৫; তায়ালিসি, হাদিস নম্বর ২৬৩০; এবং আহমদ, ১৮৬১, ১৯৭০, ৩১৩৭, ৩২২৪, ৩৪২০; প্রেক্ষাপট ও দ্বিতীয় বর্ধিতাংশটি ইমাম আহমদের বর্ণিত, এবং এর সনদ (إسناد) শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح), আর প্রথম বর্ধিতাংশটি আবু দাউদ ও বায়হাকির।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, রোজা অধ্যায়, যার মৃত্যু হয়েছে এমতাবস্থায় যে তার ওপর রোজা রয়ে গেছে অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ১৯৫৩; এবং মুসলিম, রোজা অধ্যায়, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা আদায় অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ১১৪৮; এবং তিরমিজি, রোজা অধ্যায়, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৭১৬; ইবনে মাজাহ, রোজা অধ্যায়, যার মৃত্যু হয়েছে এমতাবস্থায় যে তার ওপর মানতের রোজা ছিল অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ১৭৫৮, ১৭৫৯ এর সমার্থক শব্দে (بنحوه); এবং তাদের সকলের নিকট এতে দ্বিতীয় বর্ধিতাংশটি রয়েছে, আর মুসলিমের নিকট শেষ অংশটিও রয়েছে।

(২) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, শপথ ও মানত অধ্যায়, যখন কেউ মানত করে বা শপথ করে... অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৬৬৯৮; এবং মুসলিম, মানত অধ্যায়, মানত পূরণের আদেশ অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৬৬৩৮; আবু দাউদ, শপথ ও মানত অধ্যায়, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে মানত পূরণ অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩৩০৭; তিরমিজি, মানত অধ্যায়, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে মানত পূরণ অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ১৫৪৬; নাসায়ি, শপথ অধ্যায়, যার মৃত্যু হয়েছে এমতাবস্থায় যে তার ওপর মানত ছিল অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩৮৪৮; এবং ইবনে মাজাহ, কাফফারা অধ্যায়, যার মৃত্যু হয়েছে এমতাবস্থায় যে তার ওপর মানত ছিল অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ২১৩২; এবং বায়হাকি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, ৪/২৫৬, ৬/২৭৮, ১০/৮৫; তায়ালিসি, ২৭১৭; এবং আহমদ, ১৮৯৩, ৩০৪৯, ৬/৪৭।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الدليل الرابع: حديث سعد بن الأطول رضي الله عنه -: ((أن أخاه مات وترك ثلاثمائة درهم، وترك عيالاً، قال: فأردت أن أُنفقها على عياله، قال: فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن أخاك محبوسٌ بدينه [فاذهب] فاقضِ عنه)) [فذهبت فقضيت عنه، ثم جئت]، قال: يا رسول الله، قد قضيت عنه إلا دينارين ادَّعتهما امرأة، وليست لها بينة، قال: ((أعطِها فإنها مُحقة))، (وفي رواية: صادقة) (1).

‌‌الدليل الخامس: حديث سمرة بن جندب رضي الله عنه -: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم صلَّى على جنازة (وفي رواية: صلَّى الصبح)،فلما انصرف قال: ((أهاهنا من آل فلان أحد؟)) [فسكت القوم، وكان إذا ابتدأهم بشيء سكتوا] فقال ذلك مراراً [ثلاثاً لا يُجيبه أحدٌ]، [فقال رجل: هُوذا]، قال: فقام رجل يجرُّ إزاره من مؤخر الناس [فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: ((ما منعك

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن ماجه، كتاب الصدقات، باب أداء الدين عن الميت، برقم 2433، وأحمد، 4/ 136، 5/ 7،والبيهقي، 10/ 142، وأحد إسناديه صحيح، والآخر مثل إسناد ابن ماجه، وصححه البوصيري في ((الزوائد))، وسياق الحديث والرواية الثانية للبيهقي، وهي والزيادات لأحمد في رواية.
চতুর্থ দলিল: সা'দ ইবনুল আতওয়াল (রা.) বর্ণিত হাদিস -: ((তাঁর ভাই ইন্তেকাল করেন এবং তিনশত দিরহাম ও পরিবার-পরিজন রেখে যান। তিনি বলেন: আমি সেগুলো তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন: তখন নবী (সা.) আমাকে বললেন: ((নিশ্চয়ই তোমার ভাই তাঁর ঋণের কারণে আটকে আছে, [সুতরাং যাও] এবং তাঁর পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করো)) [অতঃপর আমি গেলাম এবং তাঁর পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করলাম, তারপর ফিরে এলাম]। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি তাঁর পক্ষ থেকে সব পরিশোধ করেছি কেবল দুই দিনার ব্যতীত, যা এক মহিলা দাবি করেছে কিন্তু তাঁর কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি (সা.) বললেন: ((তাঁকে তা দিয়ে দাও, কারণ তিনি সত্যের ওপর আছেন (محقة))) (অন্য বর্ণনায়: সত্যবাদী (صادقة))) (১)।

পঞ্চম দলিল: সামুরা বিন জুনদুব (রা.) বর্ণিত হাদিস -: ((নবী (সা.) একটি জানাজার নামাজ পড়ালেন (অন্য বর্ণনায়: ফজরের নামাজ পড়ালেন), অতঃপর নামাজ শেষে তিনি বললেন: ((এখানে কি অমুক গোত্রের কেউ আছে?)) [লোকেরা চুপ করে রইল, আর তিনি যখন তাদের কোনো কিছু বলতেন তারা চুপ থাকত]। তিনি এটি কয়েকবার [তিনবার] বললেন কিন্তু কেউ তাঁকে উত্তর দিচ্ছিল না। [এক ব্যক্তি বলল: এই যে সে]। বর্ণনাকারী বলেন: তখন এক ব্যক্তি মানুষের পেছন থেকে তাঁর পরিধেয় বস্ত্র টেনে (দ্রুত) উঠে এল। [নবী (সা.) তাকে বললেন: ((তোমাকে কিসে বাধা দিল...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ, কিতাবুস সাদাকাত, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৪৩৩; আহমদ, ৪/১৩৬, ৫/৭; এবং বায়হাকি, ১০/১৪২। এর দুটি সনদের একটি সহিহ (صحيح) এবং অন্যটি ইবনে মাজাহর সনদের অনুরূপ। আল-বুসাইরি এটি আয-যাওয়াইদ-এ সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। হাদিসের প্রেক্ষাপট ও দ্বিতীয় বর্ণনাটি বায়হাকির, আর এটি ও অতিরিক্ত অংশগুলো আহমদের একটি বর্ণনায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
في المرتين الأولين أن تكون أجبتني؟] أما إني لم أنوِّه باسمك إلا لخير، إن فلاناً - لرجل منهم -[مأسور بدينه عن الجنة، فإن شئتم فافدوه، وإن شئتم فأسلموه إلى عذاب الله]،فلو رأيت أهله ومن يتحرون أمره قاموا فقضوا عنه، [حتى ما أحدٌ يطلبه بشيء] (1) (2).

 

‌‌الدليل السادس: حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه - قال: ((مات رجل، فغسَّلناه وكفَّنَّاه وحنطناه، ووضعناه لرسول الله صلى الله عليه وسلم حيث تُوضع الجنائز، عند مقام جبريل، ثم آذنّا رسول الله

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، كتاب البيوع والإجارات، باب في التشديد في الدين، برقم 3341، والنسائي، كتاب البيوع، باب التغليظ في الدين برقم 4689، والحاكم، 2/ 25، 26، والبيهقي، 6/ 4/76، والطيالسي في ((مسنده))، برقم 891، 892، وكذا أحمد، 5/ 11، 13، 20، قال الألباني: ((بعضهم عن الشعبي عن سمرة، وبعضهم أدخل بينهما سمعان بن مشنج، وهو على الوجه الأول صحيح على شرط الشيخين كما قال الحاكم ووافقه الذهبي، وعلى الوجه الثاني صحيح فقط. والرواية الأخرى للمُسْنَدَين، والزيادة الأولى والثانية للحاكم، وكذا الثالثة والخامسة، وللبيهقي الثانية، ولأحمد الثالثة والرابعة، وللطيالسي الخامسة، وله ولأحمد وأبي داود السادسة)).

(2) وقال الألباني رحمه الله: وله شاهد من حديث ابن عباس، رواه الطبراني في المعجم الكبير، ق156/ 2، بسند ضعيف.
প্রথম দুইবার কি আপনি আমাকে উত্তর দিয়েছিলেন? জেনে রাখুন, আমি আপনার নাম কেবল কল্যাণের জন্যই উল্লেখ করেছি। নিশ্চয়ই অমুক ব্যক্তি — তাদের মধ্যকার একজন লোক — [তার ঋণের কারণে জান্নাত থেকে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। যদি তোমরা চাও তবে তার ঋণ পরিশোধ করে তাকে মুক্ত করো, আর যদি চাও তবে তাকে আল্লাহর আজাবের দিকে ঠেলে দাও]। এরপর আপনি যদি দেখতেন যে, তার পরিবার এবং যারা তার ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছিল, তারা দাঁড়িয়ে তার ঋণ শোধ করে দিল, [এমনকি কেউই তার কাছে আর কিছু পাওনা থাকল না] (১) (২)।

 

‌‌ষষ্ঠ দলিল: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস - তিনি বলেন: ((এক ব্যক্তি মারা গেল, আমরা তাকে গোসল করালাম, কাফন পরালাম এবং সুগন্ধি মাখালাম। এরপর আমরা তাকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে জিবরাইল (আ.)-এর মাকামের নিকট রাখলাম, যেখানে জানাজা রাখা হয়। তারপর আমরা আল্লাহর রাসুলকে সংবাদ দিলাম

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ু ওয়াল ইজারাত, অধ্যায়: ঋণ পরিশোধে কঠোরতা প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ৩৩৪১; আন-নাসায়ি, কিতাবুল বুয়ু, অধ্যায়: ঋণ পরিশোধে কঠোরতা প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ৪৬৮৯; আল-হাকিম, ২/ ২৫, ২৬; আল-বাইহাকি, ৬/ ৪/৭৬; আত-তায়ালিসি তার 'মুসনাদ'-এ, হাদিস নম্বর ৮৯১, ৮৯২; এবং আহমাদ, ৫/ ১১, ১৩, ২০। আলবানী বলেন: ((তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি শাবি থেকে, তিনি সামুরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; আবার কেউ কেউ উভয়ের মাঝে সামআন ইবনে মুশনাজ-কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রথম সূত্র অনুযায়ী এটি শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী (شرط الشيخين) সহিহ (صحيح), যেমনটি হাকিম বলেছেন এবং দাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন। আর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী এটি কেবল সহিহ (صحيح)। মুসনাদদ্বয়ের ক্ষেত্রে অপর একটি বর্ণনা রয়েছে; প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ধিত অংশ হাকিমের, একইভাবে তৃতীয় ও পঞ্চম অংশটিও। দ্বিতীয় বর্ধিত অংশটি বাইহাকির, তৃতীয় ও চতুর্থটি আহমাদের এবং পঞ্চমটি তায়ালিসির। আর তায়ালিসি, আহমাদ ও আবু দাউদের নিকট ষষ্ঠ অংশটি রয়েছে))।

(২) আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইবনে আব্বাসের বর্ণনা থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে, যা তাবারানি 'আল-মুজামুল কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন (১৫৬/ ২), যার সনদ (سند) দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
- صلى الله عليه وسلم بالصلاة عليه، فجاء معنا، [فتخطى] خُطَىً، ثم قال: ((لعلَّ على صاحبكم ديناً؟)) قالوا: نعم، ديناران، فَتَخَلَّفَ، [قال: صلوا على صاحبكم]، فقال له رجل منَّا يُقال له: أبو قتادة: يا رسول الله هُما عَلَيّ، فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((هما عليك وفي مالك، والميت منهما بريء؟)) فقال: نعم، فصلى عليه فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا لقي أبا قتادة يقول. (وفي رواية: ثم لقيه من الغد فقال): ((ما صنعتِ الديناران؟)) [قال: يا رسول الله إنما مات أمس] حتى كان آخر ذلك (وفي الرواية الأخرى: ثم لقيه من الغد فقال: ((ما فعل الديناران؟)) قال: قد قضيتهما يا رسول الله، قال: ((الآن حين بَرَدَتْ عليه جلدُه)) (1) (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحاكم، 2/ 58، والسياق له، والبيهقي، 6/ 74 - 75، والطيالسي، 1673، وأحمد، 3/ 330، قال الألباني: ((بإسناد حسن كما قال الهيثمي، 3/ 39)). أما الحاكم فقال: صحيح الإسناد، ووافقه الذهبي!

والرواية الأخرى مع الزيادات عندهم جميعاً إلا الحاكم، إلا الزيادة الثانية فهي للطيالسي وحده.

(2) أي: بسبب رفع العذاب عنه بعد وفاء دينه.
...সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানাজা পড়ার জন্য আহ্বান জানানো হলো, তিনি আমাদের সাথে আসলেন, [কয়েক] কদম অগ্রসর হলেন, তারপর বললেন: ((সম্ভবত তোমাদের সঙ্গীর ওপর কোনো ঋণ আছে?)) তারা বলল: হ্যাঁ, দুই দিনার। তখন তিনি পিছিয়ে গেলেন [এবং বললেন: তোমাদের সঙ্গীর জানাজা তোমরাই পড়]। তখন আমাদের মধ্য থেকে আবু কাতাদা নামক এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, ওই দুই দিনার আমার জিম্মায়। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন: ((এই দায়ভার তোমার ওপর এবং তোমার সম্পদ থেকে পরিশোধযোগ্য, আর মৃত ব্যক্তি কি তা থেকে দায়মুক্ত?)) তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তাঁর জানাজা পড়লেন। এরপর যখনই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু কাতাদার সাথে দেখা করতেন, তখনই বলতেন (অন্য বর্ণনায় রয়েছে: পরদিন তাঁর সাথে দেখা হলে তিনি বললেন): ((সেই দুই দিনারের কী হলো?)) [তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, তিনি তো মাত্র গতকাল মারা গেছেন]। অবশেষে শেষ পর্যায়ে (অন্য বর্ণনায়: পরদিন তাঁর সাথে দেখা হলে তিনি বললেন: ((দুই দিনারের কী খবর?)) তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি তা পরিশোধ করে দিয়েছি। তিনি বললেন: ((এখন তাঁর চামড়া শীতল হলো।)) (১) (২)।

--------------------------------------------

(১) হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন, ২/৫৮, এবং শব্দবিন্যাস তাঁর; বায়হাকি, ৬/৭৪-৭৫; তায়ালিসি, ১৬৭৩; এবং আহমাদ, ৩/৩৩০। আলবানি বলেছেন: ((হাসান (حسن) সনদ (إسناد) সহকারে, যেমনটি হাইসামি বলেছেন, ৩/৩৯))। আর হাকেম বলেছেন: সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح), এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন!

পরিবর্ধনসহ অপর বর্ণনাটি হাকেম ব্যতীত তাঁদের সকলের নিকট বর্ণিত হয়েছে, তবে দ্বিতীয় পরিবর্ধনটি কেবল তায়ালিসির একক বর্ণনা।

(২) অর্থাৎ: ঋণ পরিশোধ করার কারণে তাঁর ওপর থেকে আজাব বা শাস্তি দূর হওয়ার ফলে।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الدليل السابع: حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن أباه استشهد يوم أُحُد، وترك ست بنات، وترك عليه ديناً [ثلاثين وسْقاً]، [فاشتد الغرماء في حقوقهم]، فلما حضره جذاذ النخل، أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله قد علمت أن والدي استشهد يوم أحد، وترك عليه ديناً كثيراً، وإني أُحب أن يراك الغرماء، قال: ((اذهب فبيدر كل تمر على حدة))، ففعلت، ثم دعوت، [فغدا علينا حين أصبح]، فلما نظروا إليه أغروا بي تلك الساعة، فلما رأى ما يصنعون أطاف حول أعظمها بيدراً ثلاثاً [ودعا في ثمرها بالبركة]، ثم جلس عليه، ثم قال: ((ادعُ أصحابك))، فما زال يكيل لهم، حتى أدَّى الله أمانة والدي (1)،وأنا والله راض أن يؤدي الله أمانة والدي، ولا أرجع إلى أخواتي بتمرة، فسلمت والله البيادر كلها حتى إني أنظر إلى البيدر الذي عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم كأنه لم ينقص تمرة واحدة، [فوافيت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) أي وصيته إياهم بقضاء الدين عنه.
সপ্তম দলিল: জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস যে, তাঁর পিতা ওহুদের দিন শহিদ হয়েছিলেন এবং ছয়জন কন্যা সন্তান রেখে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ওপর ঋণ [ত্রিশ ওসাক] রেখে গিয়েছিলেন, [আর পাওনাদাররা তাদের পাওনার দাবিতে কঠোরতা শুরু করল]। যখন খেজুর সংগ্রহের সময় হলো, তখন আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অবগত আছেন যে ওহুদের দিন আমার পিতা শহিদ হয়েছেন এবং তিনি প্রচুর ঋণ রেখে গেছেন। আমি চাই যে পাওনাদাররা আপনাকে দেখুক। তিনি বললেন: ((যাও এবং প্রত্যেক প্রকারের খেজুর পৃথকভাবে স্তূপ করো))। আমি তা-ই করলাম, তারপর তাঁকে ডাকলাম। [অতঃপর ভোরবেলা তিনি আমাদের নিকট আসলেন]। পাওনাদাররা যখন তাঁকে দেখল, তখন তারা সেই মুহূর্তে আমার সাথে আরও কঠোর আচরণ করতে শুরু করল। তিনি যখন তাদের আচরণ দেখলেন, তখন তিনি বড় স্তূপটির চারপাশে তিনবার চক্কর দিলেন [এবং এর ফলে বরকতের দোয়া করলেন]। এরপর তিনি তার ওপর বসলেন এবং বললেন: ((তোমার পাওনাদারদের ডাকো))। তিনি তাদের জন্য মেপে দিতে থাকলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ আমার পিতার আমানত (১) আদায় করে দিলেন। আল্লাহর কসম, আমি এতেই সন্তুষ্ট ছিলাম যে আল্লাহ আমার পিতার ঋণ আদায় করে দেবেন, যদিও আমি আমার বোনদের কাছে একটি খেজুরও নিয়ে না ফিরি। আল্লাহর কসম, সবকটি স্তূপই অক্ষত রয়ে গেল, এমনকি আমি যে স্তূপের ওপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসেছিলেন সেটির দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম যেন তা থেকে একটি খেজুরও কমেনি। [অতঃপর আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তাঁর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি ঋণ পরিশোধ করার অসিয়ত।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
المغرب، فذكرت ذلك له فضحك، فقال: ((ائت أبا بكر وعمر فأخبرهما))، فقالا: لقد علمنا إذ صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم ما صنع أن سيكون ذلك)) (1).

 

‌‌الدليل الثامن: حديث جابر رضي الله عنه - قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم فيخطب، فيحمد الله، ويُثني عليه بما هو أهل له، ويقول: ((من يهده الله فلا مضل له، ومَن يضلل فلا هادي له، إن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، [وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار]، وكان إذا ذكر الساعة احمرت عيناه، وعلا صوته، واشتدَّ غضبه، كأنَّه منذر جيش [يقول:] صبحكم ومساكم، من ترك مالاً

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري والسياق مع الزيادات له، كتاب الصلح، باب الصلح بين الغرماء، برقم 2709، ورواه بنحوه أبو داود، كتاب الوصايا، باب ما جاء في الرجل يموت وعليه دين وله وفاء، برقم 2884، والنسائي، كتاب الوصايا، باب الوصية بالثلث، برقم 3666، وابن ماجه كتاب الصدقات، باب أداء الدين عن الميت، برقم 2434. والبيهقي، 6/ 64، وأحمد، 3/ 313، 365، 373، 391، 397، مطولاً ومختصراً. وقال الألباني رحمه الله: وفيه عند أحمد زيادات كثيرة لم أوردها خشية الإطالة.
মাগরিব (المغرب), অতঃপর আমি সেটি তাঁর নিকট উল্লেখ করলে তিনি হাসলেন এবং বললেন: ((আবু বকর ও উমরের নিকট যাও এবং তাদের এ সংবাদ দাও))। তারা উভয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন, তিনি যখন তা করেছিলেন তখনই আমরা জানতাম যে এমনটিই ঘটবে)) (১)।

 

‌‌অষ্টম দলিল: জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস - তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করতেন, তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতেন যেভাবে তিনি প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য। অতঃপর বলতেন: ((আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদের আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثاتها), আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), [এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে]।)) আর যখন তিনি কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করতেন, তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উঁচু হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্রতর হতো; যেন তিনি কোনো সেনাবাহিনীর সতর্ককারী [বলতেন:] তিনি তোমাদের সকাল ও সন্ধ্যার আক্রমণ সম্পর্কে সতর্ক করছেন। যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত অংশসহ (الزيادات) বর্ণনাভঙ্গিটি তাঁরই; কিতাবুস সুলহ, ঋণদাতাদের মধ্যে সন্ধি পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৭০৯। আবু দাউদ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; কিতাবুল ওয়াসায়া, যে ব্যক্তি মারা যায় এবং তার ওপর ঋণ থাকে ও তা পরিশোধের ব্যবস্থা থাকে সেই পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৮৮৪। নাসাঈ; কিতাবুল ওয়াসায়া, এক-তৃতীয়াংশ অসিয়ত করা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬৬৬। ইবনে মাজাহ; কিতাবুস সাদাকাত, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৪৩৪। বায়হাকি, ৬/৬৪; আহমাদ, ৩/৩১৩, ৩৬৫, ৩৭৩, ৩৯১, ৩৯৭; বিস্তারিত ও সংক্ষেপে। আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: আহমাদে এর মধ্যে অনেক অতিরিক্ত অংশ (زيادات) রয়েছে যা দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমি উল্লেখ করিনি।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
فلورثته، ومن ترك ضياعاً (1) أو ديناً فعليَّ، وإليَّ، وأنا [أ] ولى [بـ] المؤمنين (وفي رواية: بكل مؤمن من نفسه)) (2).

 

‌‌الدليل التاسع: حديث عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من حَمَل من أمتي ديناً، ثم جهد في قضائه فمات ولم يقضه فأنا وليُّه)) (3).

‌‌الدليل العاشر: يُبادر بقضاء دينه بعد موته من ماله، فإن لم يكن له مال فعلى الدولة، فإن لم تقم به، وتطوّع به

--------------------------------------------

(1) قال الألباني رحمه الله: أي عيالاً، قال ابن الأثير: ((وأصله مصدر ضاع يضيع ضياعاً، فسمي العيال بالمصدر كما تقول: من مات وترك فقراً، أي فقراء)).

(2) أخرجه مسلم، كتاب الجمعة، باب تخفيف الصلاة والخطبة برقم 867، والبيهقي في السنن، 3/ 213 - 214، وفي الأسماء والصفات، ص 82، وأحمد، 3/ 296 - 310، 311، 338 - 371، والسياق له، وأبو نعيم في الحلية، 3/ 189، قال الألباني رحمه الله: والزيادة الأولى له، وللنسائي والبيهقي وإسنادهما صحيح على شرط مسلم، والزيادة الثانية له وللبيهقي، والثالثة والرابعة لأحمد، والرواية الثانية لمسلم.

(3) أخرجه أحمد، 6/ 74، قال الألباني رحمه الله: وإسناده صحيح على شرط الشيخين. وقال المنذري، 3/ 33: ((رواه أحمد بإسناد جيد، وأبو يعلى والطبراني في الأوسط)). ونحوه في المجمع، 4/ 132، إلا أنه قال: ((ورجال أحمد رجال الصحيح)). وفي فتح الباري، 5/ 54 فوائد مهمة في هذه المسألة.
...তবে তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য; আর যে ব্যক্তি অসহায় পরিবার (ضياعاً) (১) অথবা ঋণ রেখে যায়, তবে তার দায়িত্ব আমার ওপর এবং তা আমার নিকটেই (আনা হবে)। আর আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী (এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: প্রত্যেক মুমিনের জন্য তার জানের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী)) (২)।

 

‌‌নবম দলিল: আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি ঋণের বোঝা বহন করল, অতঃপর তা পরিশোধের আপ্রাণ চেষ্টা করল, কিন্তু পরিশোধ করার আগেই মারা গেল, তবে আমিই তার অভিভাবক" (৩)।

‌‌দশম দলিল: মৃত্যুর পর তার নিজস্ব সম্পদ থেকে দ্রুত তার ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যদি তার কোনো সম্পদ না থাকে তবে তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে। আর যদি রাষ্ট্র তা পালন না করে এবং কেউ স্বেচ্ছায় তা আদায় করতে চায়...

--------------------------------------------

(১) আলবানি (রহ.) বলেন: অর্থাৎ পরিবার-পরিজন। ইবনুল আসির বলেন: ((এর মূল হলো 'দিয়া' (ضياعاً) নামক ক্রিয়ামূল (مصدر)। এখানে পরিবার-পরিজনকে ক্রিয়ামূলের নামে অভিহিত করা হয়েছে, যেমনটি বলা হয়: যে ব্যক্তি দারিদ্র্য রেখে মারা গেল, অর্থাৎ দরিদ্র পরিজন রেখে গেল))।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, জুমার অধ্যায়, সালাত ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করার অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৮৬৭; বায়হাকি সুনান গ্রন্থে, ৩/২১৩-২১৪; আল-আসমা ওয়াস-সিফাত গ্রন্থে, পৃ. ৮২; আহমাদ, ৩/২৯৬-৩১০, ৩১১, ৩৩৮-৩৭১, এবং শব্দবিন্যাস তার; আবু নুআইম আল-হিলইয়া গ্রন্থে, ৩/১৮৯। আলবানি (রহ.) বলেন: প্রথম অতিরিক্ত অংশটি তার এবং নাসায়ি ও বায়হাকির; আর তাদের সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)। দ্বিতীয় অতিরিক্ত অংশটি তার এবং বায়হাকির; তৃতীয় ও চতুর্থ অংশটি আহমাদের; এবং দ্বিতীয় বর্ণনাটি (رواية) মুসলিমের।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, ৬/৭৪। আলবানি (রহ.) বলেন: এর সনদ (إسناد) শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)। মুনজিরি বলেন (৩/৩৩): ((আহমাদ এটি উত্তম (جيد) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন; আবু ইয়ালা এবং তাবারানিও আল-আউসাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন))। মাজমা গ্রন্থেও অনুরূপ রয়েছে (৪/১৩২), তবে সেখানে বলা হয়েছে: ((আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারী))। ফাতহুল বারিতে (৫/৫৪) এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা বা আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২০)
بعض الحاضرين جاز؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يُؤتى بالرجل الميت عليه الدين، فيسأل: ((هل ترك لدينه من قضاء؟))، فإنحُدِّث أنه ترك وفاء صلّى عليه، وإلاّ قال: ((صلُّوا على صاحبكم))، ولمّا فتح الله عليه الفتوح قال: ((أنا أولى بالمؤمنين من أنفسهم، فمن تُوفِّيَ وعليه دين، فعليَّ قضاؤه، ومن ترك مالاً فلورثته)) (1).

 

‌‌الدليل الحادي عشر: عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((يُغفر للشهيد كل ذنب إلا الدين)) (2).

‌‌الدليل الثاني عشر: تُنفَّذ وصيته: الثلث فأقلّ؛ لأن إنفاذ الوصية واجب، والإسراع بالتنفيذ إما واجب أو مستحب؛ لأن الوصية إن كانت في واجب، فَلِلْإسراع في إبراء ذمته، وإن كانت في تطوع فللإسراع في الأجر له، والوصية إما

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، كتاب الكفالة، باب الدين، برقم 2298، ومسلم، كتاب الفرائض، باب من ترك مالاً فلورثته، برقم 1619.

(2) مسلم، كتاب الإمارة، باب من قتل في سبيل الله كفّرت خطاياه إلا الدين، برقم 1886.
উপস্থিত ব্যক্তিদের কারো কারো ক্ষেত্রে এটি বৈধ; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এমন কোনো মৃত ব্যক্তিকে আনা হতো যার ওপর ঋণ রয়েছে, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করতেন: ((সে কি তার ঋণ পরিশোধের জন্য কিছু রেখে গিয়েছে?)), যদি তাঁকে জানানো হতো যে সে পরিশোধ করার মতো সম্পদ রেখে গিয়েছে, তবে তিনি তাঁর জানাযার সালাত আদায় করতেন। অন্যথায় তিনি বলতেন: ((তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযা আদায় করো))। আর যখন আল্লাহ তাঁর জন্য বিজয়ের দ্বার খুলে দিলেন, তখন তিনি বললেন: ((আমি মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর যে সম্পদ রেখে যাবে, তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য)) (১)।

 

‌‌একাদশ দলিল: আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((শহীদের ঋণ ব্যতীত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়)) (২)।

‌‌দ্বাদশ দলিল: তার অসিয়ত কার্যকর করা: এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম; কারণ অসিয়ত কার্যকর করা আবশ্যিক (واجب), আর তা দ্রুত সম্পাদন করা হয় আবশ্যিক (واجب) অথবা পছন্দনীয় (مستحب)। কেননা অসিয়ত যদি কোনো আবশ্যিক (واجب) বিষয়ের ওপর হয়, তবে তা তার দায়মুক্তির ক্ষেত্রে দ্রুততার জন্য; আর যদি তা ঐচ্ছিক (নফল) হয়, তবে তা তার সওয়াব বা প্রতিদান প্রাপ্তিতে দ্রুততার জন্য। আর অসিয়ত হয়...

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল কাফালাহ, ঋণের অধ্যায়, হাদিস নং ২২৯৮; এবং মুসলিম, কিতাবুল ফারায়িয, যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায় তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৬১৯।

(২) মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, আল্লাহর পথে নিহত ব্যক্তির ঋণ ব্যতীত সকল পাপ মোচন করা হয় অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৮৮৬।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২১)
واجبة، وإما تطوّع، قال أهل العلم: فينبغي أن تنفذ قبل أن يدفن (1)؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((نفس المؤمن مُعلَّقةٌ بدَيْنه حتى يُقضى عنه)) (2).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من أخذ أموال الناس يريد أداءها أدَّى الله عنه، ومن أخذها يريد إتلافها أتلفه الله)) (3).

 

‌‌الدليل الثالث عشر: ومما يلحقه ما يفعله الولد الصالح من الأعمال الصالحة؛ فإن لوالديه مثل أجره دون أن ينقص من أجره شيء؛ لأن الولد من سعيهما وكسبهما، والله عز وجل يقول: {وَأَن لَّيْسَ لِلإنسَانِ إلَاّ مَا سَعَى} (4)،وقال رسول

--------------------------------------------

(1) انظر: الشرح الممتع لابن عثيمين، 5/ 332.

(2) أحمد، 2/ 440، والترمذي، كتاب الجنائز، باب ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((نفس المؤمن معلقة بدينه حتى يقضى عنه))، برقم 1078، و1079، وابن ماجه، كتاب الصدقات، باب التشديد في الدين، برقم 2413، وصححه الألباني في صحيح الترمذي، 1/ 547، وغيره.

(3) البخاري، كتاب المساقاة، باب من أخذ أموال الناس يريد أداءها أو إتلافها، برقم 2387.

(4) سورة النجم، الآية: 39.
(এটি) ওয়াজিব অথবা নফল; আলেমগণ বলেছেন: (মৃতের সম্পদ থেকে) তা দাফন করার পূর্বেই সম্পন্ন করা উচিত (১); আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের আত্মা তার ঋণের সাথে ঝুলে থাকে যতক্ষণ না তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়" (২)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ তা পরিশোধের নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা আত্মসাৎ বা নষ্ট করার নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন" (৩)।

 

‌‌ত্রয়োদশ দলীল: মৃত ব্যক্তির কাছে যা পৌঁছে তার মধ্যে রয়েছে নেককার সন্তানের সৎ আমলসমূহ; কেননা তার পিতামাতা তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবেন তাদের সওয়াব থেকে কোনো কিছু কম না করেই। কারণ সন্তান তাদেরই প্রচেষ্টা ও উপার্জনের অংশ। আর মহান আল্লাহ বলেন: "এবং মানুষের জন্য তা-ই রয়েছে যা সে নিজে করার চেষ্টা করেছে" (৪), এবং রাসূলুল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবন উসাইমীন রচিত আশ-শারহুল মুমতি, ৫/ ৩৩২।

(২) আহমদ, ২/ ৪৪০; তিরমিযী, কিতাবুল জানাইয, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত অনুচ্ছেদ: 'মুমিনের আত্মা তার ঋণের সাথে ঝুলে থাকে যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়', হাদিস নং ১০৭৮ ও ১০৭৯; ইবনে মাজাহ, কিতাবুস সাদাকাত, ঋণ গ্রহণের কঠোরতা বিষয়ক অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৪১৩; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ তিরমিযী গ্রন্থে, ১/ ৫৪৭ এবং অন্যান্য গ্রন্থে।

(৩) বুখারি, কিতাবুল মুসাকাত, যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ পরিশোধ বা নষ্ট করার নিয়তে গ্রহণ করে বিষয়ক অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৩৮৭।

(৪) সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৯।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২২)
الله صلى الله عليه وسلم: ((إن أطيب ما أكل الرجل من كسبه، وإنّ ولده من كسبه)) (1).

 

‌‌الدليل الرابع عشر: حديث عائشة رضي الله عنها: ((أن رجلاً قال: إن أمي افتلتت (2) نفسها [ولم تُوصِ]، وأظنها

لو تكلمت تصدقت، فهل لها أجرٌ إن تصدقتُ عنها [ولي أجر]؟ قال: نعم، [فتصدَّق عنها])) (3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، كتاب البيوع والإجارات، باب في الرجل يأكل من مال ولده برقم 3528، والترمذي، كتاب الأحكام، باب الوالد يأخذ من مال ولده، برقم 1358، والنسائي، كتاب البيوع، باب الحث على الكسب برقم 4454، وابن ماجه، كتاب التجارات، باب الحث على الكسب، برقم 2137، والحاكم (2/ 46)، والطيالسي، برقم 1580، وأحمد، 6/ 41، 126، 162، 173، 193، 201، 202، 220، وقال الحاكم: ((صحيح على شرط الشيخين))، ووافقه الذهبي! وقال الألباني رحمه الله: وهو خطأ من وجوه لا يتسع المجال لبيانها، وله شاهد من حديث عبد الله بن عمرو: رواه أبو داود وابن ماجه وأحمد، 2/ 179، 204، 214 بسند حسن.

(2) قال الألباني رحمه الله: بضم المثناة وكسر اللام، أي سلبت، على ما لم يسم فاعله، أي ماتت فجأة.

(3) أخرجه البخاري، كتاب الجنائز، باب موت الفجأة: البغتة، برقم 1388، ومسلم، كتاب الزكاة، باب وصول ثواب الصدقة عن الميت إليه، برقم 1004، وأبو داود، كتاب الوصايا، باب ما جاء فيمن مات من غير وصية يُتصدق عنه، برقم 2881، والنسائي، كتاب الوصايا، باب إذا مات الفجأة هل يستحب لأهله أن يتصدقوا عنه، برقم 3679، وابن ماجه، كتاب الوصايا، باب الدين قبل الوصية، برقم 2717، والبيهقي، 4/ 62، 6/ 277 - 278، وأحمد، 6/ 51.

قال الألباني رحمه الله: والسياق للبخاري في إحدى روايتيه، والزيادة الأخيرة له في الرواية الأخرى، وابن ماجه، وله الزيادة الثانية، ولمسلم الأولى.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: ((নিশ্চয়ই মানুষ যা আহার করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার নিজ উপার্জিত সম্পদ, আর তার সন্তানও তার উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত)) (১)।

 

‌‌চতুর্দশ দলিল: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস: ((এক ব্যক্তি বললেন: আমার মা হঠাৎ (২) মৃত্যুবরণ করেছেন [এবং কোনো ওসিয়ত করেননি], আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে সদকা করতেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি তবে কি তিনি প্রতিদান পাবেন [এবং আমিও কি প্রতিদান পাব]? তিনি বললেন: হ্যাঁ, [অতএব তার পক্ষ থেকে সদকা করো])) (৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ু ওয়াল ইজারাতি, অনুচ্ছেদ: ব্যক্তি তার সন্তানের সম্পদ থেকে আহার করা প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ৩৫২৮; তিরমিজি, কিতাবুল আহকাম, অনুচ্ছেদ: পিতা তার সন্তানের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ১৩৫৮; নাসায়ি, কিতাবুল বুয়ু, অনুচ্ছেদ: উপার্জনে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ৪৪৫৪; ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তিজারাতি, অনুচ্ছেদ: উপার্জনে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ২১৩৭; হাকীম (২/৪৬); তায়ালিসি, হাদিস নম্বর ১৫৮০; এবং আহমাদ, ৬/৪১, ১২৬, ১৬২, ১৭৩, ১৯৩, ২০১, ২০২, ২২০। হাকীম বলেছেন: "শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)", এবং যাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন! আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: এটি কয়েকটি কারণে ভুল যা বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই; তবে আবদুল্লাহ বিন আমর বর্ণিত হাদিস থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে: এটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং আহমাদ (২/১৭৯, ২০৪, ২১৪) হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন।

(২) আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: শব্দটি 'তা' বর্ণে পেশ এবং 'লাম' বর্ণে যের যোগে গঠিত, অর্থাৎ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; এটি কর্মবাচ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো তিনি আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবুল জানায়েয, অনুচ্ছেদ: আকস্মিক মৃত্যু, হাদিস নম্বর ১৩৮৮; মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকার সওয়াব পৌঁছানো প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ১০০৪; আবু দাউদ, কিতাবুল ওয়াসায়া, অনুচ্ছেদ: ওসিয়ত ব্যতীত মৃত্যুবরণকারীর পক্ষ থেকে সদকা করা প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ২৮৮১; নাসায়ি, কিতাবুল ওয়াসায়া, অনুচ্ছেদ: হঠাৎ মারা গেলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সদকা করা মুস্তাহাব কি না, হাদিস নম্বর ৩৬৭৯; ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ওয়াসায়া, অনুচ্ছেদ: ওসিয়তের পূর্বে ঋণ পরিশোধ, হাদিস নম্বর ২৭১৭; বায়হাকি, ৪/৬২, ৬/২৭৭ - ২৭৮; এবং আহমাদ, ৬/৫১।

আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: মূল বর্ণনাভঙ্গিটি বুখারি'র একটি বর্ণনা অনুযায়ী, আর শেষ অতিরিক্ত অংশটুকু বুখারি'র অন্য বর্ণনা এবং ইবনে মাজাহ'র বর্ণনায় রয়েছে; দ্বিতীয় অতিরিক্ত অংশটি ইবনে মাজাহ'র এবং প্রথমটি মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الدليل الخامس عشر: حديث ابن عباس رضي الله عنهما: ((أن سعد بن عبادة - أخا بني ساعدة - توفيت أمه وهو غائب عنها، فقال: يا رسول الله إن أمي توفيت، وأنا غائب عنها، فهل ينفعها إن تصدقت بشيء عنها؟ قال: ((نعم))، قال: فإني أشهدك أن حائطي المخراف (1) صدقةٌ عليها)) (2).

‌‌الدليل السادس عشر: حديث سعد بن عبادة رضي الله عنه - قال: قلت: يا رسول الله، إن أمي ماتت، أفأتصدق عنها؟ قال: ((نعم)) قلت: فأي صدقة أفضل؟ قال: ((سقي الماء))

--------------------------------------------

(1) أي المثمر، سمي بذلك لما يخرف منه أي يجنى من الثمرة.

(2) أخرجه البخاري، كتاب الوصايا، باب إذا قال: أرضي أو بستاني صدقة لله عن أمي … برقم 2756، وأبو داود، كتاب الوصايا، باب ما جاء فيمن مات عن غير وصية يتصدق عنه برقم 2882، والنسائي كتاب الوصايا، باب فضل الصدقة على الميت برقم 3685، والترمذي، كتاب الزكاة، باب الصدقة على الميت برقم 669، والبيهقي، 6/ 278، وأحمد، 3080 - 3505 - 3508، والسياق له.
পনেরতম দলীল: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস: ((নিশ্চয়ই সাদ বিন উবাদাহ -বনু সাঈদা গোত্রের এক ভাই- এর মা মারা যান যখন তিনি তাঁর নিকট অনুপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা মারা গেছেন অথচ আমি অনুপস্থিত ছিলাম, আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কিছু দান করি তবে কি তা তাঁর উপকারে আসবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ", তিনি বললেন: আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমার ফলবান বাগানটি (১) তাঁর পক্ষ থেকে সদকা।)) (২)।

ষোলোতম দলীল: সাদ বিন উবাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস - তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা মারা গিয়েছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে দান করব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। আমি বললাম: কোন দানটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "পানি পান করানো" (অর্থাৎ পানির ব্যবস্থা করা)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ ফলবান; একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তা থেকে ফল আহরণ করা হয়।

(২) এটি বের করেছেন (أخرجه) বুখারী, কিতাবুল ওয়াসায়া, পরিচ্ছেদ: যখন কেউ বলে: আমার জমি বা বাগান আমার মায়ের পক্ষ থেকে আল্লাহর জন্য সদকা … হাদিস নং ২৭৫৬; আবু দাউদ, কিতাবুল ওয়াসায়া, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি অসিয়ত না করে মারা যায় তার পক্ষ থেকে সদকা করা প্রসঙ্গে, হাদিস নং ২৮৮২; নাসাঈ, কিতাবুল ওয়াসায়া, পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকার ফজিলত, হাদিস নং ৩৬৮৫; তিরমিযী, কিতাবুজ জাকাত, পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করা প্রসঙ্গে, হাদিস নং ৬৬৯; বাইহাকী, ৬/২৭৮; এবং আহমাদ, ৩০৮০ - ৩৫০৫ - ৩৫০৮; আর শব্দবিন্যাস (السياق) তাঁর।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
فتلك سقاية سعد بالمدينة (1).

 

‌‌الدليل السابع عشر: حديث أبي هريرة رضي الله عنه -: أن رجلاً قال للنبي صلى الله عليه وسلم: إن أبي مات وترك مالاً ولم يُوصِ فهل يُكفِّر عنه أن أتصدق عنه؟ قال: ((نعم)) (2).

‌‌الدليل الثامن عشر: حديث عبد الله بن عمرو: ((أن العاص بن وائل السهمي أوصى أن يُعتق عنه مائة رقبة، فأعتق ابنه هشام خمسين رقبة، وأراد ابنه عمرو أن يعتق عنه الخمسين الباقية، قال: حتى أسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله إن أبي أوصى أن يُعتق عنه مائة رقبة، وإن هشاماً أعتق عنه خمسين، وبقيت عليه خمسون، أفأعتق

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي، كتاب الوصايا، باب ذكر الاختلاف على سفيان، برقم 3663، 3664، وأبو داود، كتاب الزكاة، باب في فضل سقي الماء، برقم 1681، وابن ماجه، كتاب الأدب، باب صدقة الماء برقم 3684، وحسنه الألباني في صحيح سنن النسائي، 2/ 560 - 561، وأخرجه أحمد، 5/ 285.

(2) أخرجه مسلم، كتاب الوصية، باب وصول ثواب الصدقات إلى الميت، برقم 1630، والنسائي كتاب الوصايا، باب فضل الصدقة على الميت، برقم 3650،والبيهقي، 6/ 278، وأحمد، 2/ 371.
এটিই মদিনায় সা'দ-এর পানীয় সরবরাহ কেন্দ্র (১)।

 

‌‌সপ্তদশ দলিল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস -: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: আমার পিতা ইন্তেকাল করেছেন এবং সম্পদ রেখে গেছেন কিন্তু কোনো অসিয়ত করেননি। আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে সাদাকা করি তবে কি তাঁর পাপ মোচন হবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ" (২)।

‌‌অষ্টাদশ দলিল: আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত হাদিস: ((আস বিন ওয়ায়েল আস-সাহমি তাঁর পক্ষ থেকে একশত গোলাম মুক্ত করার অসিয়ত করেছিলেন। ফলে তাঁর পুত্র হিশাম পঞ্চাশ জন গোলাম মুক্ত করেন। তাঁর অপর পুত্র আমর অবশিষ্ট পঞ্চাশ জন মুক্ত করতে চাইলেন এবং বললেন: যতক্ষণ না আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করি (ততক্ষণ কিছু করব না)। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা একশত গোলাম মুক্ত করার অসিয়ত করেছিলেন। হিশাম তাঁর পক্ষ থেকে পঞ্চাশ জন মুক্ত করেছেন এবং তাঁর জিম্মায় আরও পঞ্চাশ জন বাকি আছে। আমি কি মুক্ত করব...

--------------------------------------------

(১) এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন, অসিয়ত অধ্যায়, সুফিয়ানের বর্ণনায় মতভেদ অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬৬৩, ৩৬৬৪; আবু দাউদ, জাকাত অধ্যায়, পানি পান করানোর ফজিলত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৬৮১; ইবনে মাজাহ, আদব অধ্যায়, পানি সাদাকা করার অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬৮৪; আলবানি একে সহিহ সুনানে নাসাঈ-তে একে হাসান (حسن) সাব্যস্ত করেছেন, ২/ ৫৬০-৫৬১; এবং আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন, ৫/ ২৮৫।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, অসিয়ত অধ্যায়, মৃত ব্যক্তির কাছে সাদাকার সওয়াব পৌঁছানো অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৬৩০; নাসাঈ, অসিয়ত অধ্যায়, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাদাকা করার ফজিলত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬৫০; বাইহাকি, ৬/ ২৭৮; এবং আহমাদ, ২/ ৩৭১।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
عنه؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنه لو كان مسلماً فأعتقتم أو تصدقتم عنه، أو حججتم عنه بلغه ذلك، (وفي رواية): فلو كان أقرّ بالتوحيد فصُمت وتصدقت عنه نفعه ذلك)) (1). (2).

 

‌‌الدليل التاسع عشر: حديث الشِّرِّيد بن سويد الثقفي رضي الله عنه - قال: أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: إن أمي أوصت أن تعتق عنها رقبة، وإن عندي جارية نوبية أفيجزئ عني أن أعتقها عنها؟ قال: ((ائتني بها)) فأتيته بها فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم: ((مَن ربك؟)) قالت: الله، قال: ((مَن أنا؟)) قالت: أنت رسول الله، قال: ((أعتقها فإنها مؤمنة)) (3).

‌‌الدليل العشرون: حديث ابن عباس رضي الله عنهما: أن امرأة من خثعم قالت: يا رسول الله إن فريضة الله على عباده في

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، كتاب الوصايا، باب ما جاء في وصية الحربي، يسلم وليه أيلزمه أن ينفذها، برقم 2883، والبيهقي، 6/ 279، قال الألباني: والسياق له، وأحمد، رقم 6704، والرواية الأخرى له، وإسنادهم حسن.

(2) قلت: هذه الرواية ظاهرها أن ثواب صيام التطوع يلحق الميت إذا أُهدي له، والله تعالى أعلم.

(3) أخرجه النسائي، كتاب الوصايا، باب فضل الصدقة على الميت، برقم 3651، وحسنه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة، برقم 3161.
তাঁর পক্ষ থেকে? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই তিনি যদি মুসলিম হতেন এবং তোমরা তাঁর পক্ষ থেকে দাস মুক্ত করতে কিংবা দান-সদকাহ করতে অথবা তাঁর পক্ষ থেকে হজ সম্পাদন করতে, তবে তা তাঁর কাছে পৌঁছাত। (অন্য এক বর্ণনায় (رواية)): যদি তিনি তাওহীদের স্বীকৃতি দিয়ে থাকতেন এবং তুমি তাঁর পক্ষ থেকে রোজা রাখতে ও দান-সদকাহ করতে, তবে তা তাঁর উপকারে আসত।" (১)। (২)।

 

‌‌উনবিংশতম দলিল: শিররিদ বিন সুওয়াইদ আস-সাকাফী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস - তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললাম: আমার মা একজন দাস মুক্ত করার অসিয়ত (وصية) করে গেছেন। আমার কাছে একজন নুবীয় দাসী আছে; আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে তাকে মুক্ত করে দেই, তবে কি তা আমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: "তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" আমি তাকে নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার রব কে?" সে বলল: আল্লাহ। তিনি বললেন: "আমি কে?" সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: "তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিন (مؤمنة)।" (৩)।

‌‌বিংশতম দলিল: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস: জনৈক খাশআমী নারী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই বান্দাদের ওপর আল্লাহর নির্ধারিত ফরয ইবাদত...

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ সংকলন করেছেন, কিতাবুল ওয়াসায়া (অসিয়ত অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: হারবী কাফিরের অসিয়ত প্রসঙ্গে যার অভিভাবক ইসলাম গ্রহণ করেছে—তাকে কি তা কার্যকর করতে হবে?, হাদিস নং ২৮৮৩; এবং বাইহাকী, ৬/২৭৯, আলবানী বলেছেন: শব্দবিন্যাস তাঁর; এবং আহমাদ, হাদিস নং ৬৭০৪, আর অন্য বর্ণনাটি (رواية) তাঁরই, এবং তাঁদের সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।

(২) আমি বলছি: এই বর্ণনার (رواية) বাহ্যিক দিক হলো, নফল (تطوع) রোজার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যখন তা তাঁর জন্য হাদিয়া বা উপহার হিসেবে পেশ করা হয়, আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।

(৩) এটি নাসাঈ সংকলন করেছেন, কিতাবুল ওয়াসায়া (অসিয়ত অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকাহ করার ফজিলত, হাদিস নং ৩৬৫১; এবং আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা গ্রন্থে একে হাসান (حسن) বলেছেন, হাদিস নং ৩১৬১।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
الحج أدركت أبي شيخاً كبيراً لا يستطيع أن يثبت على الراحلة أفأحج عنه؟ قال: ((نعم)) وذلك في حجة الوداع. وفي رواية لمسلم: ((فحجي عنه)) (1).

 

‌‌الدليل الحادي والعشرون: حديث أبي رزين رضي الله عنه - أنه قال: يا رسول الله إن أبي شيخ كبير لا يستطيع الحج، ولا العمرة، ولا الظعن، قال: ((فحج عن أبيك واعتمر)) (2).

‌‌الدليل الثاني والعشرون: حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: أمرت امرأة سنان بن عبد الله الجهني أن يسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أمها ماتت ولم تحج أفيجزئ عن أمها أن

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري، كتاب جزاء الصيد، باب الحج عمن لا يستطيع الثبوت على الراحلة، برقم 1854، ومسلم، كتاب الحج، باب الحج عن العاجز لزمانه وهرم ونحوهما أو للموت، برقم 1334.

(2) أخرجه أبو داود، كتاب المناسك، باب الرجل يحج عن غيره، برقم 1810، والترمذي، كتاب الحج، باب الحج عن الشيخ الكبير، برقم 930، والنسائي كتاب الحج، باب العمرة عن الرجل الذي لا يستطيع، برقم 3638، وابن ماجه، كتاب المناسك، باب الحج عن الحي إذا لم يستطع برقم، 2906. وانظر: صحيح سنن النسائي، 2/ 556، وصحيح سنن أبي داود، 1/ 341، وصحيح سنن ابن ماجه، 2/ 152، وصحيح سنن الترمذي، 1/ 275.
হজ; আমি আমার পিতাকে বার্ধক্যের এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, তিনি বাহনের ওপর স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেন না। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ সম্পাদন করব? তিনি (সা.) বললেন: "হ্যাঁ।" আর এটি ছিল বিদায় হজের ঘটনা। মুসলিম-এর এক বর্ণনায় রয়েছে: "তুমি তাঁর পক্ষ থেকে হজ সম্পাদন করো" (১)।

 

‌‌একুশতম দলিল: আবু রাজিন (রা.)-এর হাদিস - তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ মানুষ, তিনি হজ, উমরা কিংবা সফরের কষ্ট সহ্য করতে সক্ষম নন। তিনি (সা.) বললেন: "তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ ও উমরা সম্পাদন করো" (২)।

‌‌বাইশতম দলিল: ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস তিনি বলেন: সিনান ইবনে আবদুল্লাহ আল-জুহানির স্ত্রী তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন যে, তাঁর মা ইন্তেকাল করেছেন অথচ তিনি হজ করেননি; তাঁর মায়ের পক্ষ থেকে কি তা যথেষ্ট হবে যে

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): ইমাম বুখারি এটি সংকলন করেছেন, শিকারের বিনিময় অধ্যায়, বাহনের ওপর স্থির থাকতে অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজের পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৮৫৪; এবং মুসলিম, হজ অধ্যায়, অসুস্থতা, বার্ধক্য বা অনুরূপ কারণে অথবা মৃত্যুর কারণে অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজের পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৩৩৪।

(২) আবু দাউদ এটি সংকলন করেছেন, মানাসিক অধ্যায়, অন্যের পক্ষ থেকে হজ আদায়ের পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৮১০; তিরমিজি, হজ অধ্যায়, অতি বৃদ্ধ ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজের পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৯৩০; নাসাঈ, হজ অধ্যায়, অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে উমরার পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬৩৮; এবং ইবনে মাজাহ, মানাসিক অধ্যায়, জীবিত অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজের পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৯০৬। আরও দেখুন: সহিহ সুনানে নাসাঈ, ২/৫৫৬; সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৩৪১; সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ২/১৫২; এবং সহিহ সুনানে তিরমিজি, ১/২৭৫।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
تحج عنها؟ قال: ((نعم، لو كان على أمها دين فقضته عنها أكان يجزئ عنها؟)) قال: نعم، قال: ((فلتحج عن أمها)) (1).

 

‌‌الدليل الثالث والعشرون: حديث ابن عباس رضي الله عنهما: أن امرأة جاءت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: إن أمي نذرت أن تحج فماتت قبل أن تحج أفأحج عنها؟ قال: ((نعم حجي عنها، أرأيت لو كان على أمك دين أكنت قاضيته؟)) قالت: نعم. قال: ((اقضوا الله فالله أحق بالوفاء)) (2).

وفي رواية: ((فاقضوا الله الذي له؛ فإن الله أحق بالوفاء)) (3).

وفي رواية: أن رجلاً قال: إن أختي نذرت أن تحج وإنها ماتت فقال: ((فاقض الله فهو أحق بالقضاء)) (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد، 1/ 217، 244، 279، والنسائي كتاب مناسك الحج، باب الحج عن الميت الذي لم يحج، برقم 2631، وابن خزيمة، برقم 3034، 3035، وحسنه الألباني في صحيح سنن النسائي، 2/ 559.

(2) أخرجه البخاري، كتاب جزاء الصيد، باب الحج والنذور عن الميت، برقم 1852.

(3) أخرجه البخاري، كتاب الاعتصام، باب من شبه أصلاً معلوماً بأصل مبين قد بيّن الله حكمهما ليفهم السائل، برقم 7315.

(4) أخرجه البخاري، كتاب الإيمان والنذور، باب من مات وعليه نذر، برقم 6699.
তিনি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করবেন? তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: ((হ্যাঁ, যদি তাঁর মায়ের ওপর কোনো ঋণ থাকত এবং সে তা আদায় করত, তবে কি তা তাঁর পক্ষ থেকে যথেষ্ট হতো?)) তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: ((তাহলে সে যেন তাঁর মায়ের পক্ষ থেকে হজ করে)) (১)।

 

‌‌তেইশতম দলীল: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস: এক নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: আমার মা হজ করার মানত করেছিলেন, কিন্তু তিনি হজ করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করব? তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: ((হ্যাঁ, তুমি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করো। তোমার কী মনে হয়, যদি তোমার মায়ের ওপর কোনো ঋণ থাকত, তবে কি তুমি তা আদায় করতে না?)) তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: ((আল্লাহর ঋণ আদায় করো, কারণ আল্লাহই পাওনা পরিশোধের অধিক হকদার)) (২)।

অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: ((আল্লাহর প্রাপ্য আদায় করো; কারণ আল্লাহই পাওনা পরিশোধের অধিক হকদার)) (৩)।

অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: এক ব্যক্তি বললেন: আমার বোন হজ করার মানত করেছিলেন এবং তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: ((আল্লাহর ঋণ আদায় করো, কারণ তিনিই ঋণ পরিশোধের অধিক হকদার)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, ১/২১৭, ২৪৪, ২৭৯; এবং নাসায়ি, কিতাবুল মানাসিকিল হাজ্জ, অনুচ্ছেদ: যে মৃত ব্যক্তি হজ করেনি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করা, হাদিস নম্বর ২৬৩১; এবং ইবনে খুযাইমা, হাদিস নম্বর ৩০৩৪, ৩০৩৫; এবং আলবানি একে সহিহ সুনানে নাসায়ি-তে হাসান (حسن) বলেছেন, ২/৫৫৯।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবু জাযাউস সাইদ, অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ ও মানত আদায়, হাদিস নম্বর ১৮৫২।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবুল ইতিসাম, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি প্রশ্নকারীকে বোঝানোর জন্য কোনো সুপরিচিত মূলনীতিকে এমন এক সুস্পষ্ট মূলনীতির সাথে তুলনা করেন যা আল্লাহ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর ৭৩১৫।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবুল আইমান ওয়ান নুযুর, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে তাঁর ওপর মানত অবশিষ্ট ছিল, হাদিস নম্বর ৬৬৯৯।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الدليل الرابع والعشرون: حديث ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سمع رجلاً يقول: لبيك عن شبرمة. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من شبرمة؟)) قال: أخٌ لي أو قريبٌ لي، قال: ((حججت عن نفسك؟)) قال: لا. قال: ((حج عن نفسك ثم عن شبرمة)) (1).

‌‌الدليل الخامس والعشرون: حديث عائشة وأبي هريرة رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا أراد أن يضحي اشترى كبشين، عظيمين، سمينين، أقرنين، أملحين، موجوءين، فذبح أحدهما عن أمته، لمن شهد لله بالتوحيد وشهد له بالبلاغ، وذبح الآخر عن محمد وعن آل محمد صلى الله عليه وسلم)) (2).

‌‌الدليل السادس والعشرون: حديث أبي رافع رضي الله عنه - قال: ((ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بكبشين، أملحين، موجبين (3)،

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، كتاب المناسك، باب الرجل يحج عن غيره، برقم 1811، وابن ماجه، كتاب الحج، باب الحج عن الميت، برقم 2903، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 341، وإرواء الغليل، 4/ 171.

(2) ابن ماجه، كتاب الأضاحي، باب أضاحي رسول الله صلى الله عليه وسلم، برقم 3122، وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 3/ 81.

(3) موجبين: وفي مجمع الزوائد، 4/ 22: ((موجوءين)).
‌চব্বিশতম প্রমাণ: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, "শুবরুমার পক্ষ থেকে লাব্বাইক।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "শুবরুমা কে?" সে বলল, "আমার এক ভাই অথবা আমার এক নিকটাত্মীয়।" তিনি বললেন, "তুমি কি নিজের পক্ষ থেকে হজ করেছ?" সে বলল, "না।" তিনি বললেন, "আগে নিজের পক্ষ থেকে হজ কর, তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে।" (১)।

‌‌পঁচিশতম প্রমাণ: আয়েশা ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কুরবানী করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি দুটি বড়, হৃষ্টপুষ্ট, শিংবিশিষ্ট, সাদা-কালো এবং খাসিকৃত ভেড়া ক্রয় করতেন। অতঃপর তিনি তাদের একটি তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে যবাই করতেন—যারা আল্লাহর তাওহীদের সাক্ষ্য দিত এবং তাঁর (রাসূলের) রিসালাত পৌঁছানোর সাক্ষ্য দিত—আর অন্যটি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের পক্ষ থেকে যবাই করতেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। (২)।

‌‌ছাব্বিশতম প্রমাণ: আবু রাফে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস - তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি সাদা-কালো ও খাসিকৃত ভেড়া কুরবানী করেছিলেন (৩),

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, হজের অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: অন্যের পক্ষ থেকে হজ করা, হাদিস নং ১৮১১; এবং ইবনে মাজাহ, হজের অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ করা, হাদিস নং ২৯০৩; আলবানী একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/৩৪১ এবং ইরওয়াউল গালিল, ৪/১৭১ গ্রন্থে।

(২) ইবনে মাজাহ, কুরবানী অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কুরবানীসমূহ, হাদিস নং ৩১২২; আলবানী একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩/৮১ গ্রন্থে।

(৩) মুজাবাইন (খাসিকৃত): আর মাজমাউয যাওয়াইদ, ৪/২২ গ্রন্থে এটি 'মাওজুয়াইন' (موجوءين) শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
خصيين، فقال: أحدهما لمن شهد بالتوحيد، وله بالبلاغ، والآخر عنه وعن أهل بيته، قال: فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد كفانا))، وفي رواية لأحمد: ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا ضحى اشترى كبشين، سمينين، أقرنين، أملحين، فإذا صلَّى وخطب الناس أُتي بأحدهما وهو قائم في مصلَاّه فذبحه بنفسه بالمدية (1) ثم يقول: ((اللهم إن هذا عن أمتي جميعاً ممن شهد لك بالوحدانية، وشهد لي بالبلاغ))، ثم يؤتى بالآخر فيذبحه بنفسه ويقول: ((هذا عن محمد وآل محمد))، فيطعمها جميعاً المساكين، ويأكل هو وأهله منهما، فمكثنا سنين ليس رجل من بني هاشم يُضحِّي قد كفاه الله المؤنة برسول الله صلى الله عليه وسلم والغُرْمَ)) (2).

--------------------------------------------

(1) المدية: هي لغة في السِّكِّين، والمشهورُ بلا هاء. انظر: النهاية في غريب الحديث والأثر،

2/ 971، مادة (سكن).

(2) أحمد في المسند، 6/ 8، 6/ 391، وصححه الألباني في إرواء الغليل، برقم 1147.
...দুইটি খাসি করা [মেষ], অতঃপর তিনি বললেন: “এগুলোর একটি তাদের পক্ষ থেকে যারা তাওহীদের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং আমার রিসালাত পৌঁছানোর সাক্ষ্য দিয়েছে, আর অন্যটি তাঁর নিজের এবং তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে।” তিনি (রাবী) বললেন: “আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছিলেন।” আর আহমাদ-এর একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: “আল্লাহর রাসূল (সা.) যখন কুরবানি করতেন, তখন দুটি মোটাতাজা, শিংবিশিষ্ট এবং সাদা-কালো মিশ্রিত বর্ণের মেষ ক্রয় করতেন। অতঃপর যখন তিনি সালাত আদায় করতেন এবং মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করতেন, তখন তাঁর সালাতের স্থানে দণ্ডায়মান থাকাবস্থায় সেগুলোর একটি তাঁর কাছে আনা হতো এবং তিনি নিজ হাতে বড় ছুরি (১) দিয়ে সেটি জবেহ করতেন। এরপর তিনি বলতেন: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই এটি আমার পুরো উম্মতের পক্ষ থেকে, যারা আপনার একত্ববাদের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং আমার রিসালাত পৌঁছানোর সাক্ষ্য দিয়েছে।’ এরপর অন্যটি আনা হতো এবং তিনি সেটিও নিজ হাতে জবেহ করতেন এবং বলতেন: ‘এটি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের পক্ষ থেকে।’ এরপর তিনি সেগুলোর গোশত মিসকিনদের খাওয়াতেন এবং নিজে ও তাঁর পরিবারবর্গ তা থেকে আহার করতেন। ফলে আমরা এমন বহু বছর অতিবাহিত করেছি যখন বনু হাশেমের কোনো ব্যক্তি কুরবানি করত না; কারণ আল্লাহ তাআলা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর মাধ্যমে তাদের ভরণপোষণ ও দায়ভার মিটিয়ে যথেষ্ট করেছিলেন।” (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুদইয়াহ: এটি ‘সিক্কীন’ (ছুরি) শব্দের একটি আভিধানিক রূপ, প্রসিদ্ধ মতে এটি ‘হা’ বর্ণ ব্যতিরেকে। দেখুন: আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদিস ওয়াল আসার,

২/৯৭১, শব্দমূল: (সাকান)।

(২) আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে, ৬/৮, ৬/৩৯১; এবং আলবানি একে ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন, হাদিস নং ১১৪৭।
(খণ্ড: ১) ছাওয়াবুল কুরবিল মুহদাহ ইলা আমওয়াতিল মুসলিমীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المبحث الرابع: أنواع القرب المهداة إلى أموات المسلمين

تصل إليهم إذا أهدى ثوابها الحي إلى الميت المسلم؛ لما تقدم من الأدلة على ذلك، وسأذكر في هذا المبحث أقوال العلماء مع بعض ما استدلوا به على النحو الآتي:

 

‌‌أولاً: قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((وأيُّ قربة فعلها، وجعل ثوابها للميت المسلم نفعه ذلك، إن شاء الله، أما الدعاء، والاستغفار، والصدقة، وأداء الواجبات فلا أعلم فيه خلافاً، إذا كانت الواجبات مما تدخله النيابة، وقد قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاؤُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ} (1)، وقال الله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا الله وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالله يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ} (2)، ودعا النبي

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر، الآية: 10.

(2) سورة محمد، الآية: 19.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মৃত মুসলিমদের উদ্দেশ্যে উপহারস্বরূপ প্রেরিত নেক আমলের (قربة) প্রকারভেদ

জীবিত ব্যক্তি যদি মৃত মুসলিমের নিকট সওয়াব অর্পণ করে, তবে তা তাদের নিকট পৌঁছে যায়; যেহেতু ইতিপূর্বে এ বিষয়ে দলিলসমূহ বর্ণিত হয়েছে। আমি এই পরিচ্ছেদে আলেমগণের উক্তি এবং তাদের পেশকৃত কিছু দলিল নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করব:

 

‌‌প্রথমত: ইমাম ইবনে কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((যেকোনো নেক আমল (قربة) যা কেউ সম্পাদন করে এবং তার সওয়াব মৃত মুসলিমের জন্য নিবেদন করে, ইনশাআল্লাহ তা তার উপকারে আসবে। তবে দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار), দান-সদকা (صدقة) এবং ওয়াজিব (واجب) ইবাদতসমূহ পালনের ক্ষেত্রে আমি কোনো মতপার্থক্য (خلاف) জানি না, যদি ওয়াজিব আমলগুলো এমন হয় যাতে প্রতিনিধিত্ব (نيابة) করা সম্ভব। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রে অতিবাহিত হয়েছে। আর মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়} (১), এবং আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: {অতএব জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) করুন আপনার নিজের ত্রুটির জন্য এবং মুমিন নারী ও পুরুষদের জন্য। আল্লাহ তোমাদের বিচরণ ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত} (২), এবং নবী (সা.) দোয়া করেছেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০।

(২) সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৯।