(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
الهدي النبوي في تربية الأولاد في ضوء الكتاب والسنة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الهدي النبوي في تربية الأولاد في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 329

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সন্তান লালন-পালনে নববী নির্দেশনা   (সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহত্বানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সন্তান লালন-পালনে নববী নির্দেশনা

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহত্বানি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশনায়: আল-জুরাইসী ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং প্রতিষ্ঠান, রিয়াদ

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩২৯

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه، وعلى آله، وأصحابه، وأتباعه بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:

فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار (1).

فهذه رسالة في ((الهدي النبوي في تربية الأولاد في ضوء الكتاب والسنة)) كتبت أصلها في النصف الثاني من سنة 1402هـ ثم في عام 1431هـ، نظرت فيها، وتأملت وحررتها تحريراً، وزدت عليها زيادات نافعة إن شاءالله تعالى، وقد قسمت البحث إلى أربعة وعشرين مبحثاً على النحو الآتي:

المبحث الأول: أهمية تربية الأولاد في الإسلام.

--------------------------------------------

(1) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته واشتد غضبه، حتى كأنه منذر جيش يقول: صبَّحكم ومسَّاكم. ويقول: بعثت أنا والساعة كهاتين، ويقرن بين إصبعيه السبابة والوسطى، ويقول: أما بعد: فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة. أخرجه مسلم برقم 867.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম (১)।

এটি হলো "কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সন্তান প্রতিপালনে নববী আদর্শ" বিষয়ক একটি পুস্তিকা। আমি এর মূল অংশ ১৪০২ হিজরীর দ্বিতীয়ার্ধে লিখেছিলাম, অতঃপর ১৪৩১ হিজরীতে আমি এটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করি, গভীরভাবে চিন্তা করি এবং এটি যথাযথভাবে পরিমার্জন করি। আল্লাহ তাআলা চাইলে এতে কিছু উপকারী বিষয়ও সংযোজন করেছি। আমি এই গবেষণা কর্মটিকে নিম্নোক্ত চব্বিশটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামে সন্তান প্রতিপালনের গুরুত্ব।

--------------------------------------------

(১) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উচ্চ হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্র হতো, যেন তিনি কোনো সৈন্যবাহিনীকে সতর্ক করছেন এবং বলছেন: (শত্রু সৈন্য) সকালে অথবা সন্ধ্যায় তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে। তিনি বলতেন: "আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি" এবং তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দুটিকে একত্রিত করতেন। তিনি আরও বলতেন: "অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদের আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৮৬৭।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
المبحث الثاني: أهمية اختيار الزوجة الصالحة في تربية الأولاد.

المبحث الثالث: العقيقة واختيار الاسم الحسن حق للأولاد على الآباء.

المبحث الرابع: أهمية الإنفاق على الأسرة من الحلال.

المبحث الخامس: مداعبة الأولاد.

المبحث السادس: الرعاية الصحية.

المبحث السابع: الرضاعة.

المبحث الثامن: الحضانة.

المبحث التاسع: النفقة على الأولاد.

المبحث العاشر: تعليمهم التعليم الشرعي.

المبحث الحادي عشر: تعليمهم حرفة شريفة يكتسبون منها.

المبحث الثاني عشر: الرعاية العقلية.

المبحث الثالث عشر: تعويدهم على الأخلاق الفاضلة.

المبحث الرابع عشر: تأديبهم بالأدب النبوي.

المبحث الخامس عشر: العدل بين الأولاد.

المبحث السادس عشر: الحلم والرفق بهم.

المبحث السابع عشر: الرحمة بالأولاد.

المبحث الثامن عشر: التلطف بالأولاد والتبسط معهم وإدخال السرور عليهم.

المبحث التاسع عشر: مصاحبتهم بعد البلوغ.

المبحث العشرون: تعليمهم اختيار الجليس الصالح والصاحب الصالح.

المبحث الحادي والعشرون: فوائد وثمرات التربية الحسنة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সন্তান প্রতিপালনে নেককার স্ত্রী নির্বাচনের গুরুত্ব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আকীকা এবং সুন্দর নাম নির্বাচন করা পিতার ওপর সন্তানের অধিকার।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পরিবারের জন্য হালাল উপার্জনের মাধ্যমে ব্যয়ের গুরুত্ব।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সন্তানদের সাথে আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলা করা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: স্বাস্থ্যসেবা ও যত্ন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: স্তন্যদান।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: শিশুর লালন-পালন ও তত্ত্বাবধান।

নবম পরিচ্ছেদ: সন্তানদের ভরণপোষণ।

দশম পরিচ্ছেদ: তাদের শরয়ী শিক্ষা প্রদান।

একাদশ পরিচ্ছেদ: তাদের এমন কোনো সম্মানজনক পেশা শেখানো যার মাধ্যমে তারা উপার্জন করতে পারে।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: মানসিক যত্ন ও মেধার বিকাশ।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: তাদের উত্তম চরিত্রে অভ্যস্ত করা।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: তাদের নববী আদব বা শিষ্টাচারের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল করা।

পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: সন্তানদের মাঝে ন্যায়বিচার করা।

ষোড়শ পরিচ্ছেদ: তাদের প্রতি সহিষ্ণুতা ও কোমলতা প্রদর্শন।

সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: সন্তানদের প্রতি দয়া ও মায়া।

অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: সন্তানদের সাথে কোমল আচরণ করা, তাদের সাথে মেলামেশা করা এবং তাদের আনন্দিত করা।

ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ: সাবালক হওয়ার পর তাদের সাহচর্য প্রদান।

বিংশ পরিচ্ছেদ: তাদের নেককার সঙ্গী ও সৎ বন্ধু নির্বাচনের শিক্ষা প্রদান।

একবিংশ পরিচ্ছেদ: উত্তম প্রতিপালনের উপকারিতা ও সুফল।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الثاني والعشرون: مضار التربية السيئة.

المبحث الثالث والعشرون: الهدي النبوي في تربية الشباب.

المبحث الرابع والعشرون: التربية والتأديب بالقوة عند الحاجة.

والله أسأل أن يجعله نافعاً، مباركاً، خالصاً لوجهه الكريم،

وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه ومن تبعه بإحسان إلى يوم الدين.

أبو عبد الرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

كُتبَ أصله في النصف الثاني من عام 1402هـ

وحرِّر في ضحى يوم الأحد الموافق 1/ 7/1431هـ
দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ: কু-শিক্ষার অপকারিতা।

ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ: যুবকদের লালন-পালনে নববী নির্দেশনা।

চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ: প্রয়োজনের সময় কঠোরতার মাধ্যমে শিক্ষা ও শিষ্টাচার প্রদান।

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে উপকারী, বরকতময় এবং একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন,

এবং যেন তিনি এর দ্বারা আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে উপকৃত করেন, আর যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আর আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সকলের ওপর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।

আবু আব্দুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি

এর মূল পাণ্ডুলিপি ১৪০২ হিজরী সনের দ্বিতীয়ার্ধে লিখিত হয়েছে

এবং ১/৭/১৪৩১ হিজরী মোতাবেক রবিবার পূর্বাহ্ণে এটি পরিমার্জিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المبحث الأول: أهمية تربية الأولاد في الإسلام

‌‌أولاً: حرص الأنبياء والمرسلين على تربية أهليهم وأولادهم:

‌‌1 - نوح عليه وعلى نبينا أفضل الصلاة والسلام:

1 - قال اللَّه في قصته مع ابنه: (يَا بُنَيَّ ارْكَبْ مَعَنَا وَلَا تَكُنْ مَعَ الْكَافِرِينَ * قَالَ سَآوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ) (1).

قال العلامة السعدي رحمه الله: (وَنَادَى نُوحٌ ابْنَهُ) لما ركب، ليركب معه (وَكَانَ) ابنه (فِي مَعْزِلٍ) عنهم، حين ركبوا، أي: مبتعداً وأراد منه، أن يقرب ليركب، فقال له: (يَا بُنَيَّ ارْكَبْ مَعَنَا وَلا تَكُنْ مَعَ الْكَافِرِينَ) فيصيبك ما يصيبهم.

فـ (قَالَ) ابنه، مُكذِّباً لأبيه أنه لا ينجو إلا من ركب معه السفينة:

(سَآوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ) أي: سأرتقي جبلاً أمتنع به من الماء، فـ (قَالَ) نوح: (لا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلا مَنْ رَحِمَ)، فلا يعصم أحداً، جبل ولا غيره، ولو تسبب بغاية ما يمكنه من الأسباب، لما نجا إن لم ينجه الله: (وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ) الابن (مِنَ الْمُغْرَقِينَ) (2).

--------------------------------------------

(1) سورة هود، الآيات: 42 - 43.

(2) تيسير الكريم الرحمن، (ص 382).
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামে সন্তানদের লালন-পালনের গুরুত্ব

‌প্রথমত: নিজ পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনে নবী ও রাসূলগণের ঐকান্তিক আগ্রহ:

‌১ - নূহ (তাঁর ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক):

১ - আল্লাহ তাআলা তাঁর পুত্রের সাথে তাঁর কাহিনীর বর্ণনায় বলেন: (হে আমার প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহণ করো এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। সে বলল, আমি শীঘ্রই এমন এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। তিনি বললেন, আজ আল্লাহর নির্দেশ হতে রক্ষা করার মতো কেউ নেই, একমাত্র তিনি যাকে দয়া করেন তিনি ছাড়া। এরপর তাদের উভয়ের মাঝে তরঙ্গ অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হলো) (১)।

আল্লামা সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আর নূহ তাঁর পুত্রকে ডাকলেন) যখন তিনি আরোহণ করলেন, যাতে সেও তাঁর সাথে আরোহণ করে। এবং তাঁর পুত্র তাদের থেকে (বিচ্ছিন্ন স্থানে ছিল) যখন তারা আরোহণ করছিল; অর্থাৎ, দূরে অবস্থান করছিল। তিনি চেয়েছিলেন সে যেন কাছে আসে এবং আরোহণ করে, তাই তিনি তাকে বললেন: (হে আমার প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহণ করো এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না), অন্যথায় তাদের ওপর যা আপতিত হবে তোমার ওপরও তা-ই আপতিত হবে।

তখন তাঁর পুত্র তাঁর পিতাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে—যে ব্যক্তি তাঁর সাথে নৌকায় আরোহণ করবে সে ব্যতীত অন্য কেউ মুক্তি পাবে না এই কথার বিপরীতে—বলল:

(আমি শীঘ্রই এমন এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে) অর্থাৎ, আমি এমন এক পাহাড়ে চড়ব যা আমাকে পানি থেকে বাধা দেবে। তখন নূহ বললেন: (আজ আল্লাহর নির্দেশ হতে রক্ষা করার মতো কেউ নেই, একমাত্র তিনি যাকে দয়া করেন তিনি ছাড়া)। সুতরাং আজ কোনো পাহাড় বা অন্য কিছুই কাউকে রক্ষা করতে পারবে না; এমনকি সে যদি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উপায়ও অবলম্বন করে, তবুও সে মুক্তি পাবে না যদি না আল্লাহ তাকে মুক্তি দেন। (এরপর তাদের উভয়ের মাঝে তরঙ্গ অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, ফলে) পুত্রটি (নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হলো) (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা হুদ, আয়াত: ৪২ - ৪৩।

(২) তাইসিরুল কারীমির রাহমান, (পৃষ্ঠা ৩৮২)।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
2 - (وَنَادَى نُوحٌ رَبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنْتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ * قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنِّي أَعِظُكَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ * قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُنْ مِنَ الْخَاسِرِينَ) (1).

قوله عز وجل: (وَنَادَى نُوحٌ رَبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ) أي: وقد قلت لي: فـ (احْمِلْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ) ولن تخلف ما وعدتني به؛ لعله عليه الصلاة والسلام، حملته الشفقة، وأن الله وعده بنجاة أهله، ظن أن الوعد لعمومهم، من آمن، ومن لم يؤمن، فلذلك دعا ربه بذلك الدعاء، ومع هذا، ففوّض الأمر لحكمة الله البالغة، فـ (قَالَ) الله له: (إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ) الذين وعدتك بإنجائهم (إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ) أي: هذا الدعاء الذي دعوت به، لنجاة كافر، لا يؤمن بالله ولا رسوله.

(فَلا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ) أي: ما لا تعلم عاقبته، ومآله، وهل يكون خيراً، أو غير خير.

(إِنِّي أَعِظُكَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ) أي: أني أعظك وعظاً تكون به من الكاملين، وتنجو به من صفات الجاهلين.

--------------------------------------------

(1) سورة هود، الآيات: 45 - 47.
২ - (আর নূহ তার রবকে ডেকে বললেন, হে আমার রব! নিশ্চয় আমার ছেলে আমার পরিবারভুক্ত এবং নিশ্চয় আপনার ওয়াদা সত্য আর আপনিই বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক * তিনি বললেন, হে নূহ! নিশ্চয় সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়, নিশ্চয় সে অসৎ কর্মশীল; সুতরাং তুমি আমার কাছে এমন বিষয়ে আবেদন করো না যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যাতে তুমি জাহেলদের অন্তর্ভুক্ত না হও * তিনি বললেন, হে আমার রব! যে বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই সে বিষয়ে আপনাকে কিছু বলা থেকে আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমার ওপর দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব) (১)।

মহান আল্লাহর বাণী: (আর নূহ তার রবকে ডেকে বললেন, হে আমার রব! নিশ্চয় আমার ছেলে আমার পরিবারভুক্ত এবং নিশ্চয় আপনার ওয়াদা সত্য) অর্থাৎ: আপনি আমাকে বলেছিলেন: (তাতে উঠিয়ে নিন প্রত্যেক জোড়া থেকে দুটি এবং আপনার পরিবারকে), আর আপনি আপনার কৃত ওয়াদা কখনই ভঙ্গ করবেন না; সম্ভবত তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হৃদয়ে মমতা জেগে উঠেছিল এবং আল্লাহ যেহেতু তাঁকে তাঁর পরিবারকে নাজাত দেওয়ার ওয়াদা করেছিলেন, তাই তিনি মনে করেছিলেন যে এই ওয়াদাটি সবার জন্য সাধারণ, চাই সে ঈমান আনুক বা না আনুক। এই কারণেই তিনি তাঁর রবের কাছে এই দুআ করেছিলেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি বিষয়টি আল্লাহর সুদূরপ্রসারী হিকমতের ওপর সোপর্দ করেছিলেন। তখন আল্লাহ তাঁকে বললেন: (নিশ্চয় সে তোমার সেই পরিবারভুক্ত নয়) যাদের আমি নাজাত দেওয়ার ওয়াদা করেছি। (নিশ্চয় সে অসৎ কর্মশীল) অর্থাৎ: তোমার করা এই দুআটি একজন কাফিরের মুক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান রাখে না।

(সুতরাং তুমি আমার কাছে এমন বিষয়ে আবেদন করো না যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই) অর্থাৎ: যার পরিণাম ও শেষ ফল সম্পর্কে তোমার জানা নেই যে তা ভালো হবে নাকি মন্দ হবে।

(আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যাতে তুমি জাহেলদের অন্তর্ভুক্ত না হও) অর্থাৎ: আমি তোমাকে এমন এক নসিহত করছি যার দ্বারা তুমি পূর্ণতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং মূর্খদের বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্তি পাবে।

--------------------------------------------

(১) সূরা হুদ, আয়াত: ৪৫ - ৪৭।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
فحينئذ ندم نوح عليه السلام، ندامة شديدة، على ما صدر منه، و (قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُنْ مِنَ الْخَاسِرِينَ).

فبالمغفرة والرحمة ينجو العبد من أن يكون من الخاسرين، ودلّ هذا على أن نوحاً عليه السلام، لم يكن عنده علم، بأن سؤاله لربه، في نجاة ابنه محرم، داخل في قوله: (وَلا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا إِنَّهُمْ مُغْرَقُونَ) بل تعارض عنده الأمران، وظنّ دخوله في قوله: (وَأَهْلَكَ). وبعد ذلك تبين له أنه داخل في المنهي عن الدعاء لهم، والمراجعة فيهم)) (1).

 

‌‌2 - إبراهيم عليه وعلى نبيّنا أفضل الصلاة والسلام:

1 - (وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ) (2).

((يخبر تعالى، عن عبده وخليله، إبراهيم عليه السلام، المتفق على إمامته وجلالته، الذي كل من طوائف أهل الكتاب تدّعيه، بل وكذلك المشركون: أن الله ابتلاه وامتحنه بكلمات، أي: بأوامر ونواهي، كما هي عادة اللَّه في ابتلائه لعباده، ليتبين الكاذب الذي لا يثبت عند الابتلاء والامتحان من الصادق، الذي ترتفع درجته،

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 382 - 383).

(2) سورة البقرة، الآية: 124.
তখন নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর থেকে যা প্রকাশ পেয়েছিল তার জন্য অত্যন্ত অনুতপ্ত হলেন এবং (বললেন: হে আমার পালনকর্তা! আমি আপনার কাছে এমন বিষয় চাওয়া থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যে সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই। আর আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমার ওপর দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।)

সুতরাং ক্ষমা ও দয়ার মাধ্যমেই বান্দা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে মুক্তি পায়। এটি প্রমাণ করে যে, নূহ আলাইহিস সালামের এই জ্ঞান ছিল না যে, তাঁর ছেলের মুক্তির ব্যাপারে তাঁর রবের কাছে প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ এবং তা আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: (আর তুমি যালিমদের ব্যাপারে আমার কাছে কোনো আবেদন করো না, নিশ্চয়ই তারা নিমজ্জিত হবে)। বরং তাঁর কাছে দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী মনে হয়েছিল এবং তিনি ভেবেছিলেন যে এটি আল্লাহর বাণী (এবং তোমার পরিবার)-এর অন্তর্ভুক্ত। এরপর তাঁর কাছে স্পষ্ট হলো যে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের জন্য দুআ করা এবং যাদের ব্যাপারে সুপারিশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে)) (১)।

 

‌‌২ - ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক:

১ - (এবং স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বাণী দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করলেন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির জন্য ইমাম বানাব। তিনি বললেন, আর আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও? তিনি বললেন, আমার অঙ্গীকার যালিমদের কাছে পৌঁছাবে না) (২)।

((মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা ও খলীল ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন—যাঁর ইমামত ও মর্যাদার ব্যাপারে সকলে একমত, আহলে কিতাবদের প্রতিটি দল যাঁর সাথে সম্পৃক্ততার দাবি করে, এমনকি মুশরিকরাও: আল্লাহ তাঁকে কয়েকটি বাণী অর্থাৎ আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে পরীক্ষা ও যাচাই করেছেন, যেমনটি বান্দাদের পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি। যাতে করে সেই মিথ্যাবাদী—যে পরীক্ষা ও যাচাইয়ের সময় অটল থাকে না—তাকে সেই সত্যবাদী থেকে পৃথক করা যায় যার মর্যাদা উন্নত হয়,

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃষ্ঠা ৩৮২ - ৩৮৩)।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১২৪।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ويزيد قدره، ويزكو عمله، ويخلص ذهبه، وكان من أجلِّهم في هذا المقام، الخليل عليه السلام.

فأتمّ ما ابتلاه اللَّه به، وأكمله ووفَّاه، فشكر اللَّه له ذلك، ولم يزل اللَّه شكوراً، فقال: (إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا) أي: يقتدون بك في الهدى، ويمشون خلفك إلى سعادتهم الأبدية، ويحصل لك الثناء الدائم، والأجر الجزيل، والتعظيم من كل أحد.

وهذه - لعمر اللَّه - أفضل درجة، تنافس فيها المتنافسون، وأعلى مقام، شمّر إليه العاملون، وأكمل حالة حصّلها أولو العزم من المرسلين وأتباعهم، من كلِّ صدّيق متَّبِعٍ لهم، داعٍ إلى اللَّه وإلى سبيله.

فلما اغتبط إبراهيم بهذا المقام، وأدرك هذا، طلب ذلك لذرّيته (قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي)؛ لتعلو درجته ودرجة ذريّته، وهذا أيضاً من إمامته، ونصحه لعباد اللَّه، ومحبّته أن يكثر فيهم المرشدون، فلله عظمة هذه الهمم العالية، والمقامات السامية.

فأجابه الرحيم اللطيف، وأخبر بالمانع من نيل هذا المقام، فقال: (لا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ) أي: لا ينال الإمامة في الدين، من ظلم نفسه وضرّها، وحطّ قدرها، لمنافاة الظلم لهذا المقام، فإنه مقام آلته الصبر واليقين، ونتيجته أن يكون صاحبه على جانب عظيم من الإيمان، والأعمال الصالحة، والأخلاق الجميلة، والشمائل السديدة، والمحبّة التامّة، والخشية والإنابة، فأين الظلم وهذا المقام؟
এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, তাঁর আমল পবিত্র হয় এবং তাঁর সারসত্তা খাঁটি হয়। আর এই মাকামে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে মহান ছিলেন খলিল (আলাইহিস সালাম)।

অতঃপর আল্লাহ তাঁকে যে পরীক্ষা করেছিলেন তা তিনি পূর্ণ করেছেন এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন। ফলে আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর কর্মের কদর করেছেন, আর আল্লাহ সর্বদা অত্যন্ত গুণগ্রাহী। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানুষের জন্য ইমাম বানাচ্ছি।" অর্থাৎ: হেদায়াতের পথে তারা তোমাকে অনুসরণ করবে এবং তোমার পেছনে চলে তারা তাদের চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের দিকে অগ্রসর হবে। আর তোমার জন্য অর্জিত হবে নিরন্তর প্রশংসা, মহান প্রতিদান এবং প্রত্যেকের পক্ষ থেকে সম্মান।

আল্লাহর কসম, এটিই সর্বোত্তম মর্যাদা, যার জন্য প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করে এবং এটিই সর্বোচ্চ মাকাম, যার জন্য আমলকারীরা কঠোর পরিশ্রম করে। আর এটিই সেই পূর্ণাঙ্গ অবস্থা যা উলুল আজম রাসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারী প্রত্যেক সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি অর্জন করেছেন, যারা আল্লাহর দিকে এবং তাঁর পথের দিকে আহ্বান জানান।

যখন ইবরাহিম এই মাকামের প্রতি আকাঙ্ক্ষা করলেন এবং এটি অনুধাবন করলেন, তখন তিনি তাঁর বংশধরদের জন্যও তা চাইলেন (তিনি বললেন: এবং আমার বংশধরদের থেকেও); যাতে তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর বংশধরদের মর্যাদা উচ্চ হয়। আর এটিও তাঁর ইমামতের অংশ এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা ও এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ যে, তাদের মধ্যে যেন পথপ্রদর্শনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং আল্লাহর জন্যই এই সুউচ্চ হিম্মত ও মহান মাকামসমূহের সকল মহিমা।

অতঃপর পরম দয়ালু ও মেহেরবান আল্লাহ তাঁর উত্তর দিলেন এবং এই মাকাম অর্জনের পথে অন্তরায় সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি বললেন: "জালিমরা আমার প্রতিশ্রুতি লাভ করবে না।" অর্থাৎ: দ্বীনের ইমামত বা নেতৃত্ব এমন ব্যক্তি লাভ করবে না যে নিজের ওপর জুলুম করেছে, নিজের ক্ষতি করেছে এবং নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। কারণ জুলুম এই মাকামের পরিপন্থী। কেননা এটি এমন এক মাকাম যার উপকরণ হলো সবর ও ইয়াকিন, এবং এর ফলাফল হলো এর অধিকারী ব্যক্তি ঈমান, নেক আমল, সুন্দর চরিত্র, সঠিক গুণাবলী, পূর্ণ ভালোবাসা এবং আল্লাহর ভয় ও তাঁর অভিমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে এক মহান স্তরে উন্নীত হবে। সুতরাং কোথায় জুলুম আর কোথায় এই মাকাম?
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ودلّ مفهوم الآية، أن غير الظالم، سينال الإمامة، ولكن مع إتيانه بأسبابها)) (1).

2 - (وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ * رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ) (2).

أي: واذكر إبراهيم وإسماعيل، في حالة رفعهما القواعد من البيت الأساس، واستمرارهما على هذا العمل العظيم، وكيف كانت حالهما من الخوف والرجاء، حتى إنهما مع هذا العمل دعَوَا اللَّه أن يتقبّل منهما عملهما، حتى يحصل فيه النفع العميم.

ودعَوَا لأنفسهما، وذريتهما بالإسلام، الذي حقيقته، خضوع القلب، وانقياده لربه، المتضمِّن لانقياد الجوارح. (وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا) أي: علّمناها على وجه الإراءة والمشاهدة، ليكون أبلغ. يحتمل أن يكون المراد بالمناسك: أعمال الحج كلّها، كما يدلّ عليه السياق والمقام، ويحتمل أن يكون المراد ما هو أعمُّ من ذلك، وهو الدّين كلّه، والعبادات كلّها، كما يدلّ عليه عموم اللفظ، لأن النسك: التعبد، ولكن غلب على متعبّدات الحج، تغليباً عرفياً، فيكون

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 65).

(2) سورة البقرة، الآيتان: 127 - 128.
আয়াতের মর্মার্থ নির্দেশ করে যে, যারা যালিম নয়, তারা ইমামত লাভ করবে, তবে তা অর্জনের কারণসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। (১)।

২ - (এবং স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবার ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিল [এবং বলছিল]: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আপনার প্রতি অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকেও আপনার প্রতি অনুগত এক উম্মত তৈরি করুন। আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলি আমাদের দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।) (২)।

অর্থাৎ: ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে স্মরণ করুন, যখন তারা ভিত্তি থেকে ঘরটি উত্তোলন করছিল এবং এই মহান কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত ছিল। লক্ষ্য করুন ভয় ও আশার মাঝে তখন তাদের অবস্থা কেমন ছিল, এমনকি তারা এই মহান কাজ করা সত্ত্বেও আল্লাহর কাছে তা কবুল করার প্রার্থনা করছিল, যাতে এর মাধ্যমে ব্যাপক কল্যাণ সাধিত হয়।

এবং তারা নিজেদের ও নিজেদের বংশধরদের জন্য ইসলামের প্রার্থনা করেছিলেন, যার প্রকৃত রূপ হলো হৃদয়ের বিনম্রতা এবং স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি আনুগত্য, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আনুগত্যকেও অন্তর্ভুক্ত করে। (আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলি আমাদের দেখিয়ে দিন) অর্থাৎ: আমাদের তা দর্শন ও প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে শিক্ষা দিন, যাতে তা অধিকতর ফলপ্রসূ হয়। সম্ভাবনা রয়েছে যে, মানাসিক বলতে হজের সমস্ত কার্যাবলি বোঝানো হয়েছে, যেমনটি প্রসঙ্গের ধারা ও প্রেক্ষিত নির্দেশ করে। আবার সম্ভাবনা রয়েছে যে এর দ্বারা আরও ব্যাপক কিছু উদ্দেশ্য, আর তা হলো পূর্ণাঙ্গ দ্বীন এবং যাবতীয় ইবাদত, যেমনটি শব্দের সাধারণ অর্থ নির্দেশ করে। কারণ 'নুসুক' অর্থ হলো ইবাদত করা, তবে প্রচলিত পরিভাষায় এটি হজের ইবাদতসমূহের ওপরই প্রাধান্য পেয়েছে, ফলে তা...

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃ. ৬৫)।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১২৭ - ১২৮।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
حاصل دعائهما، يرجع إلى التوفيق للعلم النافع، والعمل الصالح، ولمّا كان العبد - مهما كان - لا بد أن يعتريه التقصير، ويحتاج إلى التوبة قالا: (وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ) (1).

3 - (إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ* وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) (2).

(إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ) امتثالاً لربه: (أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ) إخلاصاً وتوحيداً، ومحبة، وإنابة فكان التوحيد للَّه نعته. ثم ورثه في ذريته، ووصّاهم به، وجعلها كلمة باقية في عقبه، وتوارثت فيهم، حتى وصلت ليعقوب، فوصّى بها بنيه.

فأنتم - يا بني يعقوب - قد وصّاكم أبوكم بالخصوص، فيجب عليكم كمال الانقياد، واتباع خاتم الأنبياء قال: (يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ) أي: اختاره وتخيره لكم، رحمة بكم، وإحساناً إليكم، فقوموا به، واتصفوا بشرائعه، وانصبغوا بأخلاقه، حتى تستمروا على ذلك، فلا يأتيكم الموت إلا وأنتم عليه، لأن من عاش على شيء، مات عليه، ومن مات على شيء، بعث عليه)) (3).

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 66).

(2) سورة البقرة، الآيتان: 131 - 132.

(3) تيسير الكريم الرحمن، (ص 66).
তঁদের উভয়ের দোয়ার সারমর্ম হলো উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমলের তাওফিক লাভ করা। আর বান্দা—সে যে-ই হোক না কেন—তার পক্ষ থেকে ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটা অনিবার্য এবং তার তওবা বা অনুশোচনার প্রয়োজন হয়, তাই তাঁরা বলেছেন: “আর আমাদের তওবা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।” (১)।

৩ - “স্মরণ করো, যখন তার রব তাকে বললেন, ‘আত্মসমর্পণ করো’; সে বলল, ‘আমি রাব্বুল আলামীনের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।’ আর ইবরাহিম ও ইয়াকুব তাঁদের সন্তানদের এ অসিয়ত করে গিয়েছিলেন, ‘হে আমার পুত্রগণ! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না’।” (২)।

(যখন তার রব তাকে বললেন, ‘আত্মসমর্পণ করো’, তখন সে বলল) স্বীয় রবের আনুগত্য প্রদর্শনার্থে: (আমি রাব্বুল আলামীনের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম) ইখলাস, তাওহীদ, ভালোবাসা এবং একনিষ্ঠতা সহকারে। ফলে আল্লাহর একত্ববাদই তার বৈশিষ্ট্যে পরিণত হলো। অতঃপর তিনি তাঁর বংশধরদের মাঝে এর উত্তরাধিকার রেখে গেছেন এবং তাঁদের এ বিষয়ে অসিয়ত করেছেন। তিনি একে তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি শাশ্বত বাণী হিসেবে রেখে গেছেন, যা তাঁদের মাঝে উত্তরাধিকার সূত্রে চলতে থাকে এবং ইয়াকুব পর্যন্ত পৌঁছে; ফলে তিনিও তাঁর সন্তানদের এ অসিয়ত করেন।

অতএব হে ইয়াকুবের সন্তানগণ! তোমাদের পিতা তোমাদের বিশেষভাবে অসিয়ত করেছেন, তাই তোমাদের ওপর অপরিহার্য হলো পরিপূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করা এবং শেষ নবীর অনুসরণ করা। তিনি বলেছেন: (হে আমার পুত্রগণ! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন) অর্থাৎ: তোমাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ স্বরূপ তিনি তোমাদের জন্য একে পছন্দ ও মনোনীত করেছেন। সুতরাং তোমরা এর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো, এর শরিয়তের বিধানাবলী দ্বারা ভূষিত হও এবং এর চরিত্রে রঞ্জিত হও, যেন তোমরা এর ওপর অবিচল থাকতে পারো এবং মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত তোমরা এর ওপরেই কায়েম থাকো। কারণ যে ব্যক্তি যে বিষয়ের ওপর জীবন অতিবাহিত করে, সে তার ওপরই মৃত্যুবরণ করে; আর যে যার ওপর মৃত্যুবরণ করে, সে তার ওপরই পুনরুত্থিত হবে)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃষ্ঠা ৬৬)।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৩১ - ১৩২।

(৩) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃষ্ঠা ৬৬)।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
4 - (وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ * رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ) (1).

((أي: (وَ) اذكر إبراهيم عليه الصلاة والسلام في هذه الحالة الجميلة، إذ قَال: (رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ) أي: الحرم) آمِنًا (فاستجاب الله دعاءه شرعاً وقدراً، فحرّمه الله في الشرع، ويسّر من أسباب حرمته قدراً ما هو معلوم، حتى إنه لم يُرده ظالم بسوء إلاّ قصمه اللَّه، كما فعل بأصحاب الفيل وغيرهم.

ولما دعا له بالأمن دعا له ولبنيه بالأمن، فقال: (وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الأصْنَامَ) أي: اجعلني وإياهم جانباً بعيداً عن عبادتها، والإلمام بها، ثم ذكر الموجب لخوفه عليه وعلى بنيه بكثرة من افتتن، وابتلي بعبادتها فقال: (رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ) أي: ضلوا بسببها، (فَمَنْ تَبِعَنِي) على ما جئت به من التوحيد والإخلاص للَّه ربّ العالمين (فَإِنَّهُ مِنِّي) لتمام الموافقة، ومن أحبّ قوماً وتبعهم التحق بهم.

(وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ) وهذا من شفقة الخليل عليه الصلاة والسلام؛ حيث دعا للعاصين بالمغفرة والرحمة من اللَّه،

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم، الآيتان: 35 - 36.
৪ - (আর স্মরণ করুন যখন ইবরাহিম বললেন, হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা হতে দূরে রাখুন। হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয় এই মূর্তিগুলো মানুষের মধ্যে অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে, সে আমার দলভুক্ত; আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু) (১)।

((অর্থাৎ: (এবং) ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে এই সুন্দর অবস্থায় স্মরণ করুন, যখন তিনি বললেন: (হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে করুন) অর্থাৎ: হারামকে) নিরাপদ (অতঃপর আল্লাহ শরয়ী ও তাকদিরি উভয়ভাবেই তাঁর দোয়া কবুল করলেন। সুতরাং আল্লাহ একে শরিয়তের বিধানে হারাম বা পবিত্র করেছেন এবং এর পবিত্রতা ও নিরাপত্তার মাধ্যমগুলোকে তাকদিরিভাবে সহজ করে দিয়েছেন যা সুবিদিত। এমনকি কোনো জালেম একে কোনো মন্দ উদ্দেশ্যে লক্ষ্য করলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, যেমনটি তিনি হস্তীবাহিনী ও অন্যদের সাথে করেছিলেন।

আর যখন তিনি এই ভূখণ্ডের জন্য নিরাপত্তার দোয়া করলেন, তখন তিনি নিজের এবং সন্তানদের জন্যও প্রার্থনা করে বললেন: (এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা হতে দূরে রাখুন) অর্থাৎ: আমাকে ও তাদেরকে মূর্তিপূজা এবং এর সংস্পর্শ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখুন। অতঃপর তিনি নিজের এবং সন্তানদের জন্য তাঁর ভয়ের কারণ উল্লেখ করেছেন যে, অনেক মানুষই এই মূর্তিপূজার দ্বারা বিভ্রান্ত ও পরীক্ষিত হয়েছে। তাই তিনি বললেন: (হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয় এই মূর্তিগুলো মানুষের মধ্যে অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে) অর্থাৎ: এগুলোর কারণে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে) আমি যে তাওহিদ এবং রাব্বুল আলামিনের প্রতি ইখলাস নিয়ে এসেছি তার ওপর, (সে আমার দলভুক্ত) পূর্ণ ঐকমত্যের কারণে। আর যে কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে এবং তাদের অনুসরণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হয়।

(আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু) এটি খলিল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের দয়া ও করুণার বহিঃপ্রকাশ; যেখানে তিনি অবাধ্যদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩৫ - ৩৬।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
واللَّه تبارك وتعالى أرحم منه بعباده، لا يعذب إلا من تمرّد عليه)) (1).

5 - (رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ * رَبَّنَا إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِي وَمَا نُعْلِنُ وَمَا يَخْفَى عَلَى اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ * الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ) (2).

وذلك أنه أتى بـ (هاجر) أم إسماعيل، وبابنها إسماعيل عليه الصلاة والسلام، وهو في الرضاع، من الشام حتى وضعهما في مكة، وهي -إذ ذاك- ليس فيها سكن، ولا داعٍ، ولا مجيب، فلما وضعهما دعا ربه بهذا الدعاء، فقال - متضرعاً متوكلاً على ربه: (رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي) أي: لا كل ذريتي؛ لأن إسحاق في الشام، وباقي بنيه كذلك، وإنما أسكن في مكة إسماعيل وذريته، وقوله: (بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ) أي: لأن أرض مكة لا تصلح للزراعة، (رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلاةَ) أي: اجعلهم موحدين مقيمين الصلاة؛ لأن إقامة الصلاة من أخصّ وأفضل العبادات الدينية، فمن أقامها كان مقيما لدينه، (فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ) أي: تحبّهم وتحب الموضع الذي هم ساكنون فيه، فأجاب اللَّه دعاءه، فأخرج

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 426 - 427).

(2) سورة إبراهيم، الآيات: 37 - 40.
আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর (সেই ব্যক্তির) চেয়েও অধিক দয়ালু, তিনি কেবল তাকেই শাস্তি দেন যে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে (১)।

৫ - (হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের কতককে আপনার পবিত্র ঘরের কাছে চাষাবাদহীন এক উপত্যকায় বসবাস করালাম। হে আমাদের প্রতিপালক! যাতে তারা সালাত কায়েম করে। অতএব আপনি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন এবং ফলমূল দিয়ে তাদের রিযিক দান করুন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আপনি জানেন যা আমরা গোপন করি এবং যা আমরা প্রকাশ করি। আর পৃথিবী ও আসমানের কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বার্ধক্যে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক দুআ শ্রবণকারী।) (২)।

আর তা এই কারণে যে, তিনি ইসমাঈলের মাতা (হাজেরা) এবং তাঁর পুত্র ইসমাঈলকে (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)—যিনি তখন দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন—শাম দেশ থেকে নিয়ে এসে মক্কায় রেখে গিয়েছিলেন। সেই সময় সেখানে কোনো জনবসতি ছিল না এবং কোনো আহ্বানকারী বা উত্তরদাতা ছিল না। যখন তিনি তাদের সেখানে রেখে আসলেন, তখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের কাছে বিনীত হয়ে ও তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা করে এই প্রার্থনা করলেন। তিনি বললেন: (হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের কতককে বসবাস করালাম) অর্থাৎ: আমার সমস্ত বংশধরকে নয়; কারণ ইসহাক ছিলেন শামে এবং তাঁর অন্য সন্তানরাও সেখানেই ছিল। তিনি কেবল ইসমাঈল ও তাঁর বংশধরদের মক্কায় বসবাস করালেন। আর তাঁর কথা: (চাষাবাদহীন এক উপত্যকায়) অর্থাৎ: যেহেতু মক্কার ভূমি চাষাবাদের যোগ্য নয়। (হে আমাদের প্রতিপালক! যাতে তারা সালাত কায়েম করে) অর্থাৎ: তাদের একেশ্বরবাদী ও সালাত প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে গড়ে তুলুন; কারণ সালাত কায়েম করা ধর্মীয় ইবাদতসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিশিষ্ট ও উত্তম ইবাদত। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাত কায়েম করল, সে যেন তার দ্বীনকেই প্রতিষ্ঠিত করল। (অতএব আপনি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন) অর্থাৎ: মানুষ যেন তাদের ভালোবাসে এবং তারা যে স্থানে বসবাস করছে সেটিকেও যেন ভালোবাসে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করলেন এবং বের করলেন...

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃষ্ঠা ৪২৬ - ৪২৭)।

(২) সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩৭ - ৪০।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
من ذرية إسماعيل محمداً صلى الله عليه وسلم، حتى دعا ذريته إلى الدين الإسلامي، وإلى ملة أبيهم إبراهيم، فاستجابوا له، وصاروا مقيمي الصلاة. وافترض اللَّه حجّ هذا البيت الذي أسكن به ذرية إبراهيم، وجعل فيه سراً عجيباً جاذباً للقلوب، فهي تحجّه، ولا تقضي منه وطراً على الدوام، بل كلما أكثر العبد التردد إليه، ازداد شوقه، وعظم ولعه، وتوقه، وهذا سرّ إضافته تعالى إلى نفسه المقدسة. (وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ) فأجاب اللَّه دعاءه، فصار يجبى إليه ثمرات كل شيء، فإنك ترى مكة المشرّفة كل وقت والثمار فيها متوفرة، والأرزاق تتوالى إليها من كل جانب.

(رَبَّنَا إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِي وَمَا نُعْلِنُ) أي: أنت أعلم بنا منّا، فنسألك من تدبيرك، وتربيتك لنا، أن تيسّر لنا من الأمور التي نعلمها، والتي لا نعلمها، ما هو مقتضى علمك ورحمتك، (وَمَا يَخْفَى عَلَى اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ فِي الأرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ)، ومن ذلك هذا الدعاء الذي لم يقصد به الخليل إلا الخير، وكثرة الشكر للَّه ربّ العالمين. فهبتهم من أكبر النعم، وكونهم على الكبر في حال الإياس من الأولاد نعمة أخرى، وكونهم أنبياء صالحين أجلّ وأفضل، (إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ) أي: لقريب الإجابة ممّن دعاه، وقد دعوته فلم يخيب رجائي)) (1).

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 427 - 428).
ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পাঠিয়েছেন, এমনকি তিনি তাঁর বংশধরদের ইসলামের দিকে এবং তাঁদের পিতা ইবরাহীমের আদর্শের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে তাঁরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন এবং সালাত কায়েমকারী হয়েছেন। আর আল্লাহ এই ঘরের (কা'বা) হজ ফরজ করেছেন যেখানে তিনি ইবরাহীমের বংশধরদের আবাসন দিয়েছিলেন এবং তিনি এতে হৃদসমূহকে আকর্ষণকারী এক বিস্ময়কর রহস্য নিহিত রেখেছেন; ফলে মানুষ সেখানে হজ করতে যায় এবং কখনোই সেখান থেকে তাদের মনের তৃপ্তি পূর্ণ হয় না। বরং বান্দা যত বেশি সেখানে যাতায়াত করে, তার আকাঙ্ক্ষা ততই বৃদ্ধি পায় এবং তার অনুরাগ ও ব্যাকুলতা ততই প্রবল হয়। আর এটাই হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক এই ঘরকে তাঁর নিজের পবিত্র সত্তার দিকে সম্পৃক্ত করার রহস্য। (আর আপনি তাঁদেরকে ফলমূল দিয়ে রিজিক দান করুন যেন তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।) অতঃপর আল্লাহ তাঁর দুআ কবুল করলেন, ফলে সেখানে সব ধরণের ফলমূল সংগৃহীত হতে লাগল। আপনি সম্মানিত মক্কাকে সব সময় এমন অবস্থায় দেখবেন যে সেখানে ফলমূলের প্রাচুর্য রয়েছে এবং সবদিক থেকে সেখানে অনবরত রিজিক আসতে থাকে।

(হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা আমরা গোপন করি এবং যা আমরা প্রকাশ করি।) অর্থাৎ: আমাদের সম্পর্কে আপনি আমাদের চেয়েও অধিক পরিজ্ঞাত। তাই আপনার পরিচালনা ও আমাদের প্রতি আপনার প্রতিপালনের উসিলায় আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যে, আমরা যা জানি এবং যা জানি না—এমন সব বিষয়ে আপনি আমাদের জন্য সহজ করে দিন যা আপনার জ্ঞান ও রহমতের দাবি। (আর আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আল্লাহর নিকট গোপন থাকে না।) আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো এই দুআ যার মাধ্যমে খলীল (আলাইহিস সালাম) কেবল কল্যাণ এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর অধিক শুকরিয়া আদায়ের সংকল্প করেছিলেন। সুতরাং তাঁদের দান করাটা ছিল অন্যতম বড় নিয়ামত, আর বার্ধক্যের সময় যখন সন্তান লাভের আশা ক্ষীণ ছিল তখন তাঁদের লাভ করা ছিল আরেকটি নিয়ামত। আবার তাঁদের নেককার নবী হওয়া ছিল আরও মহান ও শ্রেষ্ঠ বিষয়। (নিশ্চয়ই আমার রব দুআ শ্রবণকারী।) অর্থাৎ: যে তাঁকে ডাকে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেওয়ার অত্যন্ত নিকটবর্তী। আর আমি তাঁর নিকট দুআ করেছি এবং তিনি আমার আশা ভঙ্গ করেননি। (১)।

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃ. ৪২৭ - ৪২৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
6 - (رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ * رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ) (1).

ثم دعا لنفسه ولذريته، فقال: (رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ * رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ) فاستجاب الله له في ذلك كله إلا أن دعاءه لأبيه إنما كان عن موعدة وعده إياه فلما تبين له أنه عدو لله تبرأ منه

7 - (رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ * فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ) (2).

(رَبِّ هَبْ لِي) ولداً يكون (مِنَ الصَّالِحِينَ)، وذلك عند ما أيس من قومه، ولم يرَ فيهم خيراً، دعا اللَّه أن يهب له غلاماً صالحاً، ينفع الله به في حياته، وبعد مماته، فاستجاب الله له، وقال: (فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلامٍ حَلِيمٍ)، وهذا إسماعيل عليه السلام بلا شك، فإنه ذكر بعده البشارة بإسحاق؛ ولأن الله تعالى قال في بشراه بإسحاق (فَبَشَّرْنَاهُ بِإِسْحَاقَ وَمِنْ وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ) فدلّ على أن إسحاق غير الذبيح، ووصف الله إسماعيل عليه السلام بالحلم، وهو يتضمّن الصبر، وحسن الخلق، وسعة الصدر والعفو عمن جنى)) (3).

 

‌‌3 - إسماعيل بن إبراهيم عليهما وعلى نبيّنا أفضل الصلاة والسلام:

(وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ

--------------------------------------------

(1) سورة إبراهيم، الآيتان: 40 - 41.

(2) سورة الصافات، الآيتان: 100 - 101.

(3) تيسر الكريم الرحمن، (ص 705).
6 - (হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক! আর আমার দোয়া কবুল করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে) (১)।

অতঃপর তিনি নিজের জন্য ও নিজের বংশধরদের জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন: (হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক! আর আমার দোয়া কবুল করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে)। অতঃপর আল্লাহ তাঁর এই সমস্ত দোয়া কবুল করলেন; তবে তাঁর পিতার জন্য দোয়াটি ছিল কেবল একটি ওয়াদার কারণে যা তিনি তাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে সে আল্লাহর শত্রু, তখন তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন।

7 - (হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এক সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন। অতঃপর আমি তাকে এক ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম) (২)।

(হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দান করুন) এমন এক সন্তান যে (সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত) হবে। আর এটি ছিল তখন, যখন তিনি তাঁর কওম থেকে নিরাশ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ দেখতে পাননি। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যেন তিনি তাকে এক সৎকর্মশীল পুত্র দান করেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর জীবনে ও মৃত্যুর পরে কল্যাণ দান করবেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং বললেন: (অতঃপর আমি তাকে এক ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম)। আর এটি নিঃসন্দেহে ইসমাইল আলাইহিস সালাম। কেননা এর পরেই ইসহাকের সুসংবাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; আর যেহেতু আল্লাহ তাআলা ইসহাকের সুসংবাদ সম্পর্কে বলেছেন: (অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের এবং ইসহাকের পরে ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম)। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে ইসহাক যবেহকৃত ব্যক্তি নন। আর আল্লাহ ইসমাইল আলাইহিস সালামকে 'হিলম' বা ধৈর্যশীলতা গুণে গুণান্বিত করেছেন, যা ধৈর্য, উত্তম চরিত্র, প্রশস্ত হৃদয় এবং অপরাধীকে ক্ষমা করে দেওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে)) (৩)।

 

‌‌৩ - ইব্রাহিম-পুত্র ইসমাইল, তাঁদের উভয়ের ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক:

(আর আপনি কিতাবে ইসমাইলের কথা আলোচনা করুন, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন ওয়াদা পালনে সত্যবাদী এবং তিনি ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৪০ - ৪১।

(২) সূরা আস-সাফফাত, আয়াত: ১০০ - ১০১।

(৩) তাইসিরুল কারিমির রহমান, (পৃষ্ঠা ৭০৫)।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
رَسُولًا نَبِيًّا * وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهِ

مَرْضِيًّا) (1).

((أي: واذكر في القرآن الكريم، هذا النبي العظيم، الذي خرج منه الشعب العربي، أفضل الشعوب، وأجلّها، الذي منهم سيّد ولد آدم. (إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ) أي: لا يعد وعداً إلا وفى به. وهذا شامل للوعد الذي يعقده مع اللَّه، أو مع العباد؛ ولهذا لمّا وعد من نفسه الصبر على ذبح أبيه له، وقال: (سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ)، وفى بذلك، ومكّن أباه من الذبح، الذي هو أكبر مصيبة تصيب الإنسان، ثم وصفه بالرسالة والنبوة، التي هي أكبر منن اللَّه على عبده، وأهلها من الطبقة العليا من الخلق. (وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ) أي: كان مقيماً لأمر اللَّه على أهله، فيأمرهم بالصلاة المتضمنة للإخلاص للمعبود، وبالزكاة المتضمّنة للإحسان إلى العبيد، فكمل نفسه، وكمل غيره، وخصوصاً أخصّ الناس عنده، وهم أهله؛ لأنهم أحقّ بدعوته من غيرهم. (وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا)، وذلك بسبب امتثاله لمراضي ربه، واجتهاده فيما يرضيه، ارتضاه اللَّه وجعله من خواصّ عباده، وأوليائه المقربين، فرضي اللَّه عنه، ورضي هو عن ربه)) (2).

 

‌‌4 - يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم عليهم وعلى نبينا أفضل الصلاة والسلام:

(أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ

--------------------------------------------

(1) سورة مريم، الآيتان: 54 - 55.

(2) تيسير الكريم الرحمن، (ص 496).
রাসূল ও নবী। এবং তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর রবের কাছে সন্তোষভাজন ছিলেন) (১)।

((অর্থাৎ: আপনি পবিত্র কুরআনে এই মহান নবীর কথা স্মরণ করুন, যাঁর থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও অতি সম্মানিত জাতি আরব জাতির উদ্ভব হয়েছে, যাদের মধ্য থেকে আদম সন্তানদের নেতা (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবির্ভূত হয়েছেন। (নিশ্চয় তিনি ছিলেন ওয়াদা পালনে সত্যবাদী) অর্থাৎ: তিনি কোনো ওয়াদা করলে তা অবশ্যই পূরণ করতেন। এটি আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা অথবা বান্দাদের সাথে কৃত ওয়াদা—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এজন্যই যখন তিনি নিজের পক্ষ থেকে তাঁর পিতার হাতে কোরবানি হওয়ার ব্যাপারে সবর করার ওয়াদা করেছিলেন এবং বলেছিলেন: (আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন), তখন তিনি তা পূর্ণ করেছিলেন এবং তাঁর পিতাকে জবেহ করার সুযোগ দিয়েছিলেন, যা কোনো মানুষের ওপর আপতিত হওয়া সবচেয়ে বড় মুসিবত। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে রিসালাত ও নবুওয়াতের গুণে গুণান্বিত করেছেন, যা কোনো বান্দার ওপর আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত এবং এর অধিকারীরা সৃষ্টির সর্বোচ্চ স্তরের অন্তর্ভুক্ত। (আর তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিতেন) অর্থাৎ: তিনি তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠাকারী ছিলেন। তিনি তাদেরকে সালাতের নির্দেশ দিতেন যা মা'বূদের প্রতি ইখলাস বা একনিষ্ঠতাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যাকাতের নির্দেশ দিতেন যা বান্দাদের প্রতি ইহসান বা অনুগ্রহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এভাবে তিনি নিজেকেও পূর্ণতা দান করেছেন এবং অন্যদেরও পূর্ণতা দিয়েছেন, বিশেষ করে তাঁর নিকটতম ব্যক্তিদের, যারা তাঁর পরিবারবর্গ; কারণ অন্যদের তুলনায় তারাই তাঁর দাওয়াতের অধিক হকদার। (আর তিনি তাঁর রবের কাছে সন্তোষভাজন ছিলেন), আর এটি হয়েছে তাঁর রবের সন্তুষ্টির কাজসমূহ পালন করা এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করার বিষয়ে তাঁর প্রচেষ্টার কারণে। ফলে আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে তাঁর খাস বান্দা ও নৈকট্যপ্রাপ্ত বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তিনিও তাঁর রবের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন)) (২)।

 

‌‌৪ - ইয়াকূব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম, তাঁদের সবার ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক:

(তোমরা কি উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকূবের মৃত্যু ঘনিয়ে এল? যখন সে তার পুত্রদের বলল, ‘আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে?’ তারা বলল, ‘আমরা আপনার ইলাহ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহের ইবাদত করব’

--------------------------------------------

(১) সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৪ - ৫৫।

(২) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃষ্ঠা ৪৯৬)।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ) (1).

((ولمّا كان اليهود يزعمون أنهم على ملّة إبراهيم، ومن بعده يعقوب، قال تعالى منكراً عليهم: (أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ) أي: حضوراً (إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ) أي: مقدماته وأسبابه، فقال لبنيه على وجه الاختبار، ولتقرّ عينه في حياته بامتثالهم ما وصاهم به: (مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي)؟ فأجابوه بما قرّت به عينه، فقالوا: (نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا)، فلا نشرك به شيئاً، ولا نعدل به أحداً، (وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ) فجمعوا بين التوحيد والعمل. ومن المعلوم أنهم لم يحضروا يعقوب؛ لأنهم لم يوجدوا بعد، فإذا لم يحضروا، فقد أخبر اللَّه عنه أنه وصّى بنيه بالحنيفية، لا باليهودية)) (2).

 

‌‌5 - زكريا عليه وعلى نبيّنا أفضل الصلاة والسلام:

(هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ) (3).

((أي: دعا زكريا عليه السلام ربه أن يرزقه ذرية طيبة، أي: طاهرة الأخلاق، طيبة الآداب، لتكمل النعمة الدينية والدنيوية بهم.

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 133.

(2) تيسير الكريم الرحمن، (ص 66).

(3) سورة آل عمران، الآية: 38.
একমাত্র ইলাহ এবং আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম।) (১)।

((যেহেতু ইহুদিরা দাবি করত যে তারা ইবরাহিমের এবং তাঁর পরে ইয়াকুবের আদর্শের ওপর রয়েছে, তাই মহান আল্লাহ তাদের প্রতিবাদ করে বলেন: (তোমরা কি উপস্থিত ছিলে) অর্থাৎ হাজির ছিলে (যখন ইয়াকুবের নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল) অর্থাৎ তার পূর্বলক্ষণ ও কারণসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল, তখন তিনি তাঁর সন্তানদের পরীক্ষার উদ্দেশ্যে এবং নিজের জীবদ্দশায় তাদের পক্ষ থেকে তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে চক্ষু শীতল করার জন্য বললেন: (আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে)? তারা তাঁকে এমন উত্তর দিল যাতে তাঁর চক্ষু শীতল হলো, তারা বলল: (আমরা আপনার ইলাহ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের ইলাহ—একমাত্র ইলাহের ইবাদত করব), সুতরাং আমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং কাউকে তাঁর সমকক্ষ করব না, (এবং আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম)। এভাবে তারা তাওহিদ ও আমলকে একত্রিত করল। আর এটি জানা কথা যে, তারা ইয়াকুবের নিকট উপস্থিত ছিল না; কারণ তখন তাদের জন্মই হয়নি। সুতরাং যেহেতু তারা উপস্থিত ছিল না, তাই আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর সন্তানদের একত্ববাদের অসিয়ত করেছিলেন, ইহুদিধর্মের নয়)) (২)।

 

‌‌৫ - জাকারিয়া আলাইহিস সালাম (তাঁর ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক):

(সেখানেই জাকারিয়া তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করলেন, তিনি বললেন: হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে এক পবিত্র সন্তান দান করুন, নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী) (৩)।

((অর্থাৎ: জাকারিয়া আলাইহিস সালাম তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করলেন যেন তিনি তাঁকে এক পবিত্র সন্তান দান করেন, অর্থাৎ: পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, উত্তম শিষ্টাচারসম্পন্ন, যাতে তাদের মাধ্যমে দ্বীনি ও দুনিয়াবি নেয়ামত পূর্ণতা পায়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৩৩।

(২) তাইসিরুল কারিমির রহমান, (পৃ. ৬৬)।

(৩) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩৮।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فاستجاب له دعاءه)) (1).

(وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ * فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ) (2).

((أي: واذكر عبدنا ورسولنا زكريا، منوهاً بذكره، ناشراً لمناقبه وفضائله، التي من جملتها، هذه المنقبة العظيمة المتضمّنة لنصحه للخلق، ورحمة الله إياه، وأنه (نَادَى رَبَّهُ رَبِّ لا تَذَرْنِي فَرْدًا) أي: (قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا * وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا * يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا) (3) من هذه الآيات علمنا أن قوله: (رَبِّ لا تَذَرْنِي فَرْدًا) أنه لما تقارب أجله، خاف أن لا يقوم أحد بعده مقامه في الدعوة إلى اللَّه، والنصح لعباد اللَّه، وأن يكون في وقته فرداً، ولا يخلف من يشفعه ويعينه، على ما قام به، (وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ) أي: خير الباقين، وخير من خلفني بخير، وأنت أرحم بعبادك مني، ولكني أريد ما يطمئنّ به قلبي، وتسكن له نفسي، ويجري في موازيني ثوابه. (فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى) النبي الكريم، الذي

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 129).

(2) سورة الأنبياء، الآيتان: 89 - 90.

(3) سورة مريم، الآيات: 4 - 6.
সুতরাং তিনি তাঁর দুআ কবুল করলেন (১)।

(আর যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি তাঁর রবকে ডেকেছিলেন: হে আমার রব! আমাকে একা রাখবেন না, আর আপনিই তো শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী। অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দান করলাম ইয়াহইয়াকে আর তাঁর জন্য তাঁর স্ত্রীকে সুস্থ করে দিলাম। নিশ্চয়ই তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত এবং আশা ও ভীতি নিয়ে আমাকে ডাকত। আর তারা ছিল আমার প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী) (২)।

(অর্থাৎ: আমাদের বান্দা ও রাসূল যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন তাঁর আলোচনাকে উচ্চকিত করে এবং তাঁর গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো এই মহান মর্যাদাটি যা সৃষ্টির প্রতি তাঁর শুভকামনা এবং তাঁর ওপর আল্লাহর রহমতকে শামিল করে; আর তিনি যে (তাঁর রবকে ডেকে বলেছিলেন: হে আমার রব! আমাকে একা রাখবেন না) অর্থাৎ: (তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার রব! আমার হাড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যে মাথা সাদা হয়ে জ্বলে উঠেছে; হে আমার রব! আপনাকে ডেকে আমি কখনো বঞ্চিত হইনি। আমি আমার পর উত্তরাধিকারীদের ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি, আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা; সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন, যে আমার উত্তরাধিকার লাভ করবে এবং ইয়াকুবের বংশের উত্তরাধিকার লাভ করবে; আর হে আমার রব! তাকে করুন আপনার পছন্দনীয়’) (৩) এই আয়াতগুলো থেকে আমরা জানতে পারি যে, তাঁর এই কথা: (হে আমার রব! আমাকে একা রাখবেন না)—এর তাৎপর্য হলো, যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এল, তিনি আশঙ্কা করলেন যে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া এবং আল্লাহর বান্দাদের নসিহত করার ক্ষেত্রে তাঁর পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো কেউ থাকবে না। আর তিনি চাইলেন না যে তাঁর সময়ে তিনি একাকী হয়ে যান এবং এমন কাউকে রেখে না যান যিনি তাঁর কাজ পরিচালনায় তাঁকে সমর্থন ও সাহায্য করবেন। (আর আপনিই তো শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী) অর্থাৎ: সর্বশ্রেষ্ঠ চিরঞ্জীব এবং আমার পরে সর্বোত্তম স্থলাভিষিক্ত দানকারী। আর আপনি আপনার বান্দাদের প্রতি আমার চেয়েও বেশি দয়ালু। তবে আমি এমন কিছু চাই যা দ্বারা আমার অন্তর প্রশান্ত হবে, আমার আত্মা শান্তি পাবে এবং যার সাওয়াব আমার পাল্লায় জারি থাকবে। (অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দান করলাম ইয়াহইয়াকে) সেই সম্মানিত নবী, যিনি...

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃ. ১২৯)।

(২) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৮৯ - ৯০।

(৩) সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৪ - ৬।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
لم يجعل اللَّه له من قبل سمياً. (وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ) بعدما كانت عاقراً، لا يصلح رحمها للولادة، فأصلح اللَّه رحمها للحمل، لأجل نبيه زكريا، وهذا من فوائد الجليس، والقرين الصالح، أنه مبارك على قرينه، فصار يحيى مشتركاً بين الوالدين. ولمّا ذكر هؤلاء الأنبياء والمرسلين، كلاً على انفراده، أثنى عليهم عموماً، فقال: (إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ) أي: يبادرون إليها، ويفعلونها في أوقاتها الفاضلة، ويكملونها على الوجه اللائق الذي ينبغي، ولا يتركون فضيلة يقدرون عليها، إلا انتهزوا الفرصة فيها، (وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا) أي: يسألوننا الأمور المرغوب فيها، من مصالح الدنيا والآخرة، ويتعوّذون بنا من الأمور المرهوب منها، من مضارّ الدارين، وهم راغبون راهبون، لا غافلون، لاهون، ولا مدلون، (وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ) أي: خاضعين متذلّلين متضرّعين، وهذا لكمال معرفتهم بربهم)) (1).

 

‌‌6 - محمد خاتم الأنبياء والمرسلين صلى الله عليه وسلم -:

1 - أمره اللَّه تعالى بقوله: (وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى) (2).

((أي: حثّ أهلك على الصلاة، وأزعجهم إليها من فرض ونفل. والأمر بالشيء، أمر بجميع ما لا يتمّ إلا به، فيكون أمراً

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 129).

(2) سورة طه، الآية: 132.
আল্লাহ ইতিপূর্বে তাঁর সমনামীয় কাউকে করেননি। (এবং আমি তাঁর জন্য তাঁর স্ত্রীকে সংশোধন করে দিয়েছি) তিনি বন্ধ্যা হওয়ার পর, যাঁর গর্ভাশয় সন্তান জন্মদানের উপযোগী ছিল না, অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবী যাকারিয়ার খাতিরে তাঁর গর্ভাশয়কে গর্ভধারণের উপযোগী করে দিলেন। এটি সৎ সঙ্গী ও সহচরের একটি উপকারিতা যে, সে তার সঙ্গীর জন্য বরকতময় হয়। ফলে ইয়াহইয়া উভয় পিতামাতার মাঝে অংশীদার হলেন। যখন তিনি এই নবী ও রাসূলগণের প্রত্যেকের কথা পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করলেন, তখন তিনি সাধারণভাবে তাঁদের প্রশংসা করে বললেন: (নিশ্চয়ই তাঁরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করতেন) অর্থাৎ: তাঁরা সেদিকে দ্রুত অগ্রসর হতেন, সেগুলোর ফযীলতপূর্ণ সময়ে তা সম্পাদন করতেন এবং যথাযথভাবে তা পূর্ণ করতেন। আর তাঁরা এমন কোনো ফযীলতপূর্ণ কাজ ছেড়ে দিতেন না যা করতে তাঁরা সক্ষম, বরং সেটির সুযোগ লুফে নিতেন। (এবং তাঁরা আমাদের ডাকতেন আশা ও ভয় নিয়ে) অর্থাৎ: তাঁরা আমাদের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকর ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়সমূহ প্রার্থনা করতেন এবং উভয় জগতের ক্ষতিকর ও ভীতিপ্রদ বিষয়গুলো থেকে আমাদের কাছে আশ্রয় চাইতেন। তাঁরা ছিলেন আশাবাদী ও ভীত-সন্ত্রস্ত; গাফেল, উদাসীন কিংবা অহঙ্কারী ছিলেন না। (এবং তাঁরা ছিলেন আমাদের প্রতি বিনীত) অর্থাৎ: অনুগত, বিনম্র ও অনুনয়-বিনয়কারী। আর এটি ছিল তাঁদের রব্ব সম্পর্কে তাঁদের পূর্ণ জ্ঞানের কারণে)) (১)।

 

‌‌৬ - মুহাম্মদ সর্বশেষ নবী ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -:

১ - আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন: (এবং আপনি আপনার পরিবারবর্গকে সালাতের নির্দেশ দিন এবং তার ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিযিক চাই না, আমিই আপনাকে রিযিক দেই। আর শুভ পরিণাম তো তাকওয়ার জন্যই।) (২)।

((অর্থাৎ: আপনার পরিবারকে সালাতের প্রতি উৎসাহিত করুন এবং ফরয ও নফল সালাতের জন্য তাঁদের উদ্বুদ্ধ করুন। কোনো বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া মানে সেই সবকিছুরই নির্দেশ দেওয়া যা ছাড়া ওই বিষয়টি পূর্ণ হয় না। অতএব এটি নির্দেশ হবে...

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রহমান, (পৃ. ১২৯)।

(২) সূরা ত্ব-হা, আয়াত: ১৩২।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
بتعليمهم، ما يصلح الصلاة ويفسدها ويكملها. (وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا) أي: على الصلاة بإقامتها، بحدودها وأركانها وآدابها وخشوعها، فإن ذلك مشق على النفس، ولكن ينبغي إكراهها وجهادها على ذلك، والصبر معها دائماً، فإن العبد إذا أقام صلاته على الوجه المأمور به، كان لما سواها من دينه أحفظ وأقوم، وإذا ضيعها كان لما سواها أضيع، ثم ضمن تعالى لرسوله الرزق، وأن لا يشغله الاهتمام به عن إقامة دينه، فقال: (نَحْنُ نَرْزُقُكَ) أي: رزقك علينا قد تكفّلنا به، كما تكفّلنا بأرزاق الخلائق كلهم، فكيف بمن قام بأمرنا، واشتغل بذكرنا؟! ورزق اللَّه عام للمتقي وغيره، فينبغي الاهتمام بما يجلب السعادة الأبدية، وهو: التقوى، ولهذا قال: (وَالْعَاقِبَةُ) في الدنيا والآخرة (لِلتَّقْوَى) التي هي فعل المأمور، وترك المنهي، فمن قام بها، كان له العاقبة، كما قال تعالى: (وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ) (1).

2 - أوحى اللَّه عز وجل إليه بقوله: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ) (2).

((أي: يا مَنْ مَنَّ اللَّه عليهم بالإيمان، قوموا بلوازمه وشروطه، فـ (قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا) موصوفة بهذه الأوصاف الفظيعة،

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 517).

(2) سورة التحريم، الآية: 6.
তাদের শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে যে, কী সালাতকে সংশোধন করে, কী তা নষ্ট করে এবং কী তা পূর্ণতা দান করে। (আর এর ওপর অবিচল থাকুন) অর্থাৎ: সালাত কায়েম করার ওপর, তার সীমারেখা, রুকনসমূহ, আদব ও খুশু বা একাগ্রতাসহ। কেননা এটি নফসের ওপর কষ্টসাধ্য, তবে এর ওপর নফসকে বাধ্য করা ও নফসের সাথে জিহাদ করা এবং এতে সর্বদা ধৈর্য ধারণ করা উচিত। কেননা বান্দা যখন নির্দেশিত পন্থায় তার সালাত কায়েম করে, তখন সে তার দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে অধিক রক্ষণশীল ও সুদৃঢ় হয়। আর যদি সে তা নষ্ট করে, তবে অন্য সব কিছুকে সে আরও বেশি নষ্টকারী হবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের জন্য রিযিকের জামিন হয়েছেন এবং তাঁকে এই আশ্বাস দিয়েছেন যে, রিযিকের চিন্তা যেন তাঁকে দ্বীন প্রতিষ্ঠা থেকে বিমুখ না করে। তাই তিনি বলেছেন: (আমিই তোমাদের রিযিক দেই) অর্থাৎ: তোমার রিযিক আমাদের জিম্মায়, আমরা এর দায়িত্ব নিয়েছি, যেমন আমরা সমস্ত সৃষ্টির রিযিকের দায়িত্ব নিয়েছি। তাহলে তাঁর কী অবস্থা হবে যে আমাদের আদেশ পালন করে এবং আমাদের স্মরণে মশগুল থাকে?! আল্লাহর রিযিক মুত্তাকী এবং অন্য সকলের জন্য সাধারণ। সুতরাং যা চিরস্থায়ী সুখ বয়ে আনে তার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, আর তা হলো: তাকওয়া। একারণেই তিনি বলেছেন: (আর শুভ পরিণাম) দুনিয়া ও আখিরাতে (তাকওয়ার জন্য) যা হলো নির্দেশিত বিষয়সমূহ পালন করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তা পালন করবে, পরিণাম তারই হবে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য) (১)।

২ - আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর প্রতি ওহী করেছেন এই বাণীর মাধ্যমে: (হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; সেখানে নিয়োজিত আছে কঠোর স্বভাবের ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই সম্পাদন করে) (২)।

((অর্থাৎ: হে তারা যাদের ওপর আল্লাহ ঈমানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, তোমরা এর আবশ্যকতা ও শর্তাবলী পূরণ করো। সুতরাং (তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে) যা এই ভয়াবহ গুণাবলীতে বিশেষায়িত...

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রাহমান, (পৃ. ৫১৭)।

(২) সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ووقاية الأنفس بإلزامها أمر اللَّه، والقيام بأمره امتثالاً، ونهيه اجتنابًا، والتوبة عما يسخط اللَّه، ويوجب العذاب، ووقاية الأهل، والأولاد، بتأديبهم، وتعليمهم، وإجبارهم على أمر اللَّه، فلا يسلم العبد إلا إذا قام بما أمر اللَّه به في نفسه، وفيما يدخل تحت ولايته من الزوجات والأولاد وغيرهم ممن هو تحت ولايته وتصرفه. ووصف اللَّه النار بهذه الأوصاف، ليزجر عباده عن التهاون بأمره فقال: (وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ) كما قال تعالى: (إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُونَ). (عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ) أي: غليظة أخلاقهم، عظيم انتهارهم، يفزعون بأصواتهم ويخيفون بمرآهم، ويهينون أصحاب النار بقوتهم، ويمتثلون فيهم أمر اللَّه، الذي حتم عليهم العذاب، وأوجب عليهم شدة العقاب، (لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ)، وهذا فيه أيضًا مدح للملائكة الكرام، وانقيادهم لأمر اللَّه، وطاعتهم له في كلّ ما أمرهم به)) (1).

3 - أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس بقوله: ((مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِينَ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِع)) (2).

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن، (ص 874).

(2) أخرجه أحمد (11/ 369، رقم 6756)، وابن أبي شيبة، (1/ 347، رقم 3501)، وأبوداود بلفظه، كتاب الصلاة، باب متى يؤمر الغلام بالصلاة، برقم 495، وأبو نعيم في الحلية (10/ 26)، والحاكم (1/ 197، رقم 708)، والبيهقي (2/ 228). وقال الألباني في صحيح سنن أبي داود (2/ 401): ((إسناده حسن صحيح)).
আর নিজেদের রক্ষা করা হলো আল্লাহর নির্দেশের প্রতি নিজেদের বাধ্য করার মাধ্যমে, আনুগত্যের সাথে তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে, এবং যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে ও আযাব অবধারিত করে তা থেকে তাওবার মাধ্যমে। আর পরিবার ও সন্তানদের রক্ষা করা হলো তাদের শিষ্টাচার শিক্ষা দান, জ্ঞান দান এবং আল্লাহর আদেশের ওপর তাদের বাধ্য করার মাধ্যমে। সুতরাং কোনো বান্দাই ততক্ষণ পর্যন্ত মুক্তি পাবে না যতক্ষণ না সে নিজের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশিত বিষয়সমূহ পালন করবে এবং তার অভিভাবকত্ব ও কর্তৃত্বের অধীনে থাকা স্ত্রী, সন্তান ও অন্যদের ক্ষেত্রেও তা বাস্তবায়ন করবে। আল্লাহ জাহান্নামের আগুনকে এই সকল বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করেছেন যাতে তিনি তাঁর বান্দাদের তাঁর নির্দেশের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন থেকে বিরত রাখেন। তাই তিনি বলেছেন: "যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর", যেমনটি মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো, সেগুলো জাহান্নামের ইন্ধন; তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে।" "যার ওপর নিয়োজিত আছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ", অর্থাৎ: তাদের স্বভাব কঠোর, তাদের ধমক অত্যন্ত ভয়াবহ, তারা তাদের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আতঙ্কিত করে এবং তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে ভীতসন্ত্রস্ত করে। তারা তাদের শক্তির মাধ্যমে জাহান্নামীদের লাঞ্ছিত করে এবং তাদের ওপর আল্লাহর সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে যা তাদের জন্য আযাবকে সুনিশ্চিত করেছে এবং তাদের ওপর কঠোর শাস্তি অবধারিত করেছে। "আল্লাহ তাদের যে আদেশ দেন তারা তা অমান্য করে না এবং তারা তাই করে যা তাদের আদেশ করা হয়"। এর মধ্যে সম্মানিত ফেরেশতাদের প্রশংসাও রয়েছে এবং আল্লাহর আদেশের প্রতি তাদের আনুগত্য ও তিনি তাদের যা নির্দেশ দেন তার সবটুকুর প্রতি তাদের বাধ্যগত হওয়ার বর্ণনা রয়েছে (১)।

৩ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও, আর যখন তাদের বয়স দশ বছর হয় তখন এর জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দাও" (২)।

--------------------------------------------

(১) তায়সিরুল কারিমির রহমান, (পৃষ্ঠা ৮৭৪)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (১১/ ৩৬৯, নম্বর ৬৭৫৬), ইবনে আবি শাইবাহ (১/ ৩৪৭, নম্বর ৩৫০১), আবু দাউদ এই শব্দে: সালাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: কখন শিশুকে সালাতের নির্দেশ দেওয়া হবে, নম্বর ৪৯৫; আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ গ্রন্থে (১০/ ২৬), হাকেম (১/ ১৯৭, নম্বর ৭০৮), এবং বাইহাকি (২/ ২২৮)। আলবানী সহিহ সুনান আবু দাউদ গ্রন্থে (২/ ৪০১) বলেছেন: "এর সনদ হাসান সহিহ"।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ثانياً: حرص الصالحين الصادقين على صلاح الذرية:

‌‌1 - حرص امرأة عمران: (إِذْ قَالَتِ امْرَأَتُ عِمْرَانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ * فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنْثَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثَى وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ * فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنْبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّى لَكِ هَذَا قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ) (1).

قوله تعالى: ((إذ قالت امرأة عمران) أي: والدة مريم لمّا حملت: (رب إني نذرت لك ما في بطني محررًا) أي: جعلتُ ما في بطني خالصاً لوجهك، محرراً لخدمتك وخدمة بيتك (فتقبل مني) هذا العمل المبارك (إنك أنت السميع العليم) تسمع دعائي، وتعلم نيّتي وقصدي، هذا وهي في البطن قبل وضعها، (فلما وضعتها قالت رب إني وضعتها أنثى) كأنها تشوّفت أن يكون ذكراً؛ ليكون أقدر على الخدمة، وأعظم موقعاً، ففي كلامها نوع عذر من ربّها، فقال اللَّه: (واللَّه أعلم بما وضعت) أي: لا يحتاج إلى إعلامها، بل علمه متعلِّق بها قبل أن تعلم أمّها ما هي (وليس الذكر

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآيات: 35 - 37.
দ্বিতীয়ত: সৎ ও সত্যবাদী বান্দাদের তাদের সন্তানদের সংশোধনের ব্যাপারে আগ্রহ:

১ - ইমরানের স্ত্রীর আগ্রহ: (স্মরণ করুন, যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিলেন, হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে আমি তা একনিষ্ঠভাবে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম, সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। অতঃপর যখন তিনি তাকে প্রসব করলেন, তখন বললেন, হে আমার রব! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি। আর আল্লাহ ভালো করেই জানেন তিনি কী প্রসব করেছেন। আর পুত্র তো কন্যার মতো নয়। আর আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম এবং আমি তাকে ও তার বংশধরদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি। অতঃপর তার রব তাকে উত্তমভাবে গ্রহণ করলেন এবং তাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুললেন। আর যাকারিয়াকে তার অভিভাবক নিযুক্ত করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবে তার কাছে আসতেন, তখনই সেখানে খাদ্য দেখতে পেতেন। তিনি বললেন, হে মারইয়াম! তোমার কাছে এসব কোথা থেকে এলো? সে বলল, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।) (১)।

মহান আল্লাহর বাণী: ((যখন ইমরানের স্ত্রী বললেন) অর্থাৎ: মারইয়ামের মাতা যখন গর্ভধারণ করেছিলেন: (হে আমার রব! আমার গর্ভে যা আছে আমি তা একনিষ্ঠভাবে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম) অর্থাৎ: আমার গর্ভে যা আছে তা আমি কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্য এবং আপনার ও আপনার ঘরের খিদমতের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছি (সুতরাং আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন) এই বরকতময় আমলটি (নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ) আপনি আমার দুআ শোনেন এবং আমার নিয়ত ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানেন। এই প্রার্থনা তিনি করেছিলেন সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায়, প্রসবের পূর্বে। (অতঃপর যখন তিনি তাকে প্রসব করলেন, তখন বললেন, হে আমার রব! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি) মনে হচ্ছিল তিনি পুত্র সন্তান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন; যাতে সে খিদমতের কাজে অধিক সক্ষম হয় এবং তার অবস্থান সুদৃঢ় হয়। তাই তার এই কথায় রবের সমীপে এক প্রকার ওজর প্রকাশ পেয়েছে। তখন আল্লাহ বললেন: (আর আল্লাহ ভালো করেই জানেন তিনি কী প্রসব করেছেন) অর্থাৎ: আল্লাহকে জানানোর প্রয়োজন নেই, বরং তার জননী জানার পূর্বেই আল্লাহর জ্ঞান তার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল (আর পুত্র তো নয়

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩৫ - ৩৭।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
كالأنثى وإني سميتها مريم) فيه دلالة على تفضيل الذكر على الأنثى، وعلى التسمية وقت الولادة، وعلى أن للأم تسمية الولد إذا لم يكره الأب (وإنّي أُعيذها بك وذرّيتها من الشيطان الرجيم) دعت لها ولذرّيتها أن يُعيذهم اللَّه من الشيطان الرجيم. (فتقبّلها ربها بقبولٍ حسنٍ) أي: جعلها نذيرة مقبولة، وأجارها وذرّيتها من الشيطان (وأنبتها نباتًا حسنًا) أي: نبتت نباتاً حسناً في بدنها وخلقها وأخلاقها، لأن اللَّه تعالى قيّض لها زكريا عليه السلام (وكفّلها) إيّاه، وهذا من رفقه بها؛ ليربيها على أكمل الأحوال، فنشأت في عبادة ربها، وفاقت النساء، وانقطعت لعبادة ربّها، ولزمت محرابها أي: مصلَاّها فكان (كلّما دخل عليها زكريّا المحراب وجد عندها رزقًا) أي: من غير كسب ولا تعب، بل رزق ساقه اللَّه إليها، وكرامة أكرمها اللَّه بها، فيقول لها زكريا: (أنَّى لك هذا قالت هو من عند اللَّه) فضلاً وإحساناً (إن اللَّه يرزق من يشاء بغير حساب) أي: من غير حسبان من العبد، ولا كسب، قال تعالى: (ومن يتَّقِ اللَّهَ يجعلْ له مخرجًا ويرزقْهُ من حيثُ لا يحتسب) وفي هذه الآية دليل على إثبات كرامات الأولياء الخارقة للعادة، كما قد تواترت الأخبار بذلك، خلافاً لمن نفى ذلك)) (1).

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن (ص 128).

...নারীর মতো নয়, আর আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম।) এতে নারীর ওপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রয়েছে, জন্মের সময়েই নামকরণ করার প্রমাণ রয়েছে, এবং পিতার অপছন্দ না থাকলে মা-ও সন্তানের নাম রাখতে পারেন এর প্রমাণ রয়েছে। (আর আমি তাকে এবং তার বংশধরদের অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।) তিনি তার এবং তার বংশধরদের জন্য দুআ করেছেন যেন আল্লাহ তাদের অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেন। (অতঃপর তার রব তাকে উত্তমভাবে কবুল করলেন।) অর্থাৎ: তাকে কবুলকৃত উৎসর্গ হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং তাকে ও তার বংশধরদের শয়তান থেকে রক্ষা করলেন। (এবং তাকে উত্তমভাবে বড় করলেন।) অর্থাৎ: তার শরীর, গঠন এবং চরিত্রে উত্তম বিকাশ ঘটালেন, কারণ আল্লাহ তাআলা তার জন্য জাকারিয়া আলাইহিস সালামকে নিয়োজিত করেছিলেন (এবং তাকে তার অভিভাবকত্বে দিলেন।) এটি ছিল তার প্রতি আল্লাহর দয়া; যেন তিনি তাকে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় লালন-পালন করেন। ফলে তিনি তার রবের ইবাদতে বড় হতে থাকেন, নারীদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন, রবের ইবাদতে নিবিষ্ট হন এবং নিজের মিহরাবে অর্থাৎ নামাজের স্থানে অবস্থান করতে থাকেন। ফলে (জাকারিয়া যখনই মিহরাবে তার কাছে আসতেন, তখনই সেখানে খাদ্যসামগ্রী পেতেন।) অর্থাৎ: কোনো উপার্জন বা পরিশ্রম ছাড়াই, বরং আল্লাহই সেই রিজিক তার কাছে পাঠাতেন এবং এটি ছিল এক অলৌকিক সম্মান (কারামত) যা দিয়ে আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছিলেন। তখন জাকারিয়া তাকে বলতেন: (হে মারইয়াম, কোথা থেকে তোমার কাছে এটি এল? তিনি বলতেন: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে।) অনুগ্রহ ও দয়া স্বরূপ। (নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অগণিত রিজিক দান করেন।) অর্থাৎ: বান্দার কোনো হিসাব বা উপার্জন ছাড়াই। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।) আর এই আয়াতে ওলিদের অভ্যাস বহির্ভূত অলৌকিক কারামত সাব্যস্ত করার দলীল রয়েছে, যেমনটি এই বিষয়ে অসংখ্য বর্ণনা ধারাবাহিকভাবে (তাওয়াতুর) বর্ণিত হয়েছে। এটি তাদের মতের বিপরীত যারা একে অস্বীকার করে।

--------------------------------------------

(১) তায়সীরুল কারীমুর রহমান (পৃ. ১২৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌2 - حرص لقمان الحكيم:

1 - (وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ) (1).

2 - (يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ * يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ * وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ * وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ إِنَّ أَنْكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ) (2).

((والله تعالى لم يذكر عنه إلا أنه آتاه الحكمة، وذكر بعض ما يدلّ على حكمته في وعظه لابنه، فذكر أصول الحكمة وقواعدها الكبار فقال: (وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ)، أو قال له قولاً به يعظه بالأمر، والنهي، المقرون بالترغيب والترهيب، فأمره بالإخلاص، ونهاه عن الشرك، وبيَّن له السبب في ذلك فقال: (إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ) ووجه كونه عظيماً، أنه لا أفظع وأبشع ممّن سَوَّى المخلوق من تراب، بمالك الرقاب، وسوَّى الذي لا يملك

--------------------------------------------

(1) سورة لقمان، الآية: 13.

(2) سورة لقمان، الآيات: 16 - 19.
২ - লোকমান হাকিমের ঐকান্তিকতা:

১ - (আর স্মরণ করো যখন লোকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিচ্ছিল, তখন সে বলেছিল: হে আমার প্রিয় বৎস, আল্লাহর সাথে শরিক করো না; নিশ্চয়ই শিরক এক মহাপাপ [মহা জুলুম]।) (১)।

২ - (হে আমার প্রিয় বৎস, কোনো বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি কোনো পাথরের ভেতরে থাকে অথবা আকাশমণ্ডলীর কোথাও থাকে কিংবা জমিনের ভেতরে থাকে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। হে আমার প্রিয় বৎস, সালাত কায়েম করো, সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ করো এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই এগুলো দৃঢ় সংকল্পের কাজ। আর অহঙ্কারবশে তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না এবং জমিনে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও আত্মম্ভরী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। আর তোমার চলায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো; নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বরের মধ্যে গাধার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।) (২)।

((আর আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে এটুকুই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁকে হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেছেন। আর তাঁর পুত্রকে উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর হিকমতের পরিচয়বাহী কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি হিকমতের মূলনীতিসমূহ এবং এর বড় বড় ভিত্তিগুলো উল্লেখ করে বলেছেন: (আর স্মরণ করো যখন লোকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিচ্ছিল), অথবা তিনি তাকে এমন কথা বলেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি তাকে আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে উপদেশ দিচ্ছিলেন, যা উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনের সাথে যুক্ত ছিল। সুতরাং তিনি তাকে ইখলাসের (একনিষ্ঠতা) আদেশ দিলেন এবং শিরক থেকে নিষেধ করলেন। আর তিনি এর কারণ বর্ণনা করে বললেন: (নিশ্চয়ই শিরক এক মহাপাপ [মহা জুলুম])। আর এটি মহান বা বড় হওয়ার কারণ হলো, যে ব্যক্তি মাটি থেকে সৃষ্ট মাখলুককে (সৃষ্টিকে) সমস্ত প্রাণের অধিপতির সাথে সমান করে দেয়, এবং যে ব্যক্তি কোনো কিছুর মালিক নয় তাকে সমান করে দেয় [তার চেয়ে জঘন্য ও কদর্য আর কেউ হতে পারে না])।

--------------------------------------------

(১) সূরা লোকমান, আয়াত: ১৩।

(২) সূরা লোকমান, আয়াতসমূহ: ১৬ - ১৯।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
من الأمر شيئاً، بمن له الأمر كله، وسوَّى الناقص الفقير من جميع الوجوه، بالربّ الكامل الغني من جميع الوجوه، وسوَّى من لم ينعم بمثقال ذرة من النعم بالذي ما بالخلق من نعمة في دينهم، ودنياهم وأخراهم، وقلوبهم، وأبدانهم، إلاّ منه، ولا يصرف السوء إلا هو، فهل أعظم من هذا الظلم شيء؟؟!

وهل أعظم ظلماً ممن خلقه الله لعبادته وتوحيده، فذهب بنفسه الشريفة، فجعلها في أخس المراتب جعلها عابدة لمن لا يسوى شيئا، فظلم نفسه ظلماً كبيراً.

(يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ) التي هي أصغر الأشياء وأحقرها، (فَتَكُنْ فِي صَخْرَةٍ) أي في وسطها (أَوْ فِي السَّمَوَاتِ أَوْ فِي الأرْضِ) في أي جهة من جهاتهما (يَأْتِ بِهَا اللَّهُ) لسعة علمه، وتمام خبرته، وكمال قدرته، ولهذا قال: (إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ) أي: لطيف في علمه وخبرته، حتى اطلع على البواطن والأسرار، وخفايا القفار والبحار. والمقصود من هذا، الحثّ على مراقبة الله، والعمل بطاعته، مهما أمكن، والترهيب من عمل القبيح، قَلَّ أو كَثُرَ. (يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلاةَ) حثّه عليها، وخصّها لأنها أكبر العبادات البدنية، (وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ) وذلك يستلزم العلم بالمعروف ليأمر به، والعلم بالمنكر لينهى عنه. والأمر بما لا يتمّ الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر إلا به، من الرفق، والصبر، وقد صرح به في قوله: (وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ) ومن كونه فاعلاً
যিনি কোনো বিষয়ের সামান্যতম কিছুর মালিক নন, তাকে সেই সত্তার সমান করা হয়েছে যাঁর হাতে সকল বিষয়ের চাবিকাঠি। এবং সকল দিক থেকে অসম্পূর্ণ ও মুখাপেক্ষীকে সকল দিক থেকে পূর্ণ ও অভাবমুক্ত রবের সমান করা হয়েছে। এবং এমন সত্তাকে সেই মহান সত্তার সমান করা হয়েছে যে অণু পরিমাণ নিআমতও দান করে না, অথচ সৃষ্টি জগতের দ্বীন, দুনিয়া, আখিরাত, অন্তর ও দেহের যাবতীয় নিআমত কেবল তাঁরই পক্ষ থেকে আসে এবং তিনি ব্যতীত কেউ অনিষ্ট দূর করতে পারে না। সুতরাং এর চেয়ে বড় জুলুম আর কী হতে পারে??!

আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যাকে আল্লাহ তাঁর ইবাদত ও তাওহীদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, অথচ সে তার সম্মানিত নফসকে নিয়ে হীনতম স্তরে পতিত হলো এবং তাকে এমন কিছুর উপাসনাকারী বানাল যা কোনো কিছুরই সমকক্ষ নয়; ফলে সে নিজের ওপর অনেক বড় জুলুম করল।

(হে প্রিয় বৎস, নিশ্চয় তা যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়) যা ক্ষুদ্রতম ও তুচ্ছতম বস্তু, (অতঃপর তা কোনো পাথরের অভ্যন্তরে থাকে) অর্থাৎ তার মাঝখানে (অথবা আসমানসমূহে বা জমিনে থাকে) এর যেকোনো প্রান্তেই হোক না কেন, (আল্লাহ তা উপস্থিত করবেন) তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা, পূর্ণ অভিজ্ঞতা এবং পরিপূর্ণ ক্ষমতার কারণে। এই কারণেই তিনি বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত) অর্থাৎ: তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, এমনকি তিনি অভ্যন্তরীণ রহস্যসমূহ এবং মরুভূমি ও সমুদ্রের লুকায়িত বিষয়গুলো সম্পর্কেও অবগত। আর এর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নজরদারির ব্যাপারে উৎসাহিত করা এবং সাধ্যমতো তাঁর আনুগত্যের কাজ করা, আর মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করা, তা অল্প হোক কিংবা বেশি। (হে প্রিয় বৎস, তুমি সালাত কায়েম করো) তিনি তাকে এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং একে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন কারণ এটি শারীরিক ইবাদতসমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ, (এবং সৎকাজের আদেশ দাও ও অসৎকাজে নিষেধ করো) আর এটি সৎকাজ সম্পর্কে জানার আবশ্যকতা রাখে যাতে সেটির আদেশ করা যায় এবং অসৎকাজ সম্পর্কে জানার আবশ্যকতা রাখে যাতে তা থেকে নিষেধ করা যায়। আর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ যার মাধ্যম ছাড়া সম্পন্ন হয় না—যেমন নম্রতা ও ধৈর্য—তাও এতে অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি তাঁর এই বাণীতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: (এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ করো) এবং তার কাজ সম্পাদনকারী হওয়ার কারণে...
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
لما يأمر به، كافّاً لما ينهى عنه، فتضمّن هذا، تكميل نفسه بفعل الخير، وترك الشر، وتكميل غيره بذلك، بأمره ونهيه. ولما علم أنه لا بدّ أن يبتلى إذا أمر ونهى، وأن في الأمر والنهي مشقة على النفوس، أمره بالصبر على ذلك فقال: (وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ) الذي وعظ به لقمان ابنه (مِنْ عَزْمِ الأمُورِ) أي: من الأمور التي يعزم عليها، ويهتمّ بها، ولا يوفق لها إلا أهل العزائم. (وَلا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ) أي: لا تُمِلْهُ وتعبس بوجهك للناس، تكبُّرًا عليهم، وتعاظماً. (وَلا تَمْشِ فِي الأرْضِ مَرَحًا) أي: بطراً، فخراً بالنعم، ناسياً المنعم، معجباً بنفسك. (إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ) في نفسه وهيئته وتعاظمه (فَخُور) بقوله. (وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ) أي: امش متواضعاً مستكيناً، لا مَشْيَ البطر والتكبّر، ولا مشي التماوت. (وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ) أدباً مع الناس ومع الله، (إِنَّ أَنْكَرَ الأصْوَاتِ) أي أفظعها وأبشعها (لَصَوْتُ الْحَمِيرِ) فلو كان في رفع الصوت البليغ فائدة ومصلحة، لما اختصّ بذلك الحمار، الذي قد عُلمت خسّته وبلادته. وهذه الوصايا، التي وصّى بها لقمان لابنه، تجمع أمّهات الحِكَم، وتستلزم ما لم يذكر منها، وكل وصية يقرن بها ما يدعو إلى فعلها، إن كانت أمراً، وإلى تركها إن كانت نهياً. وهذا يدلّ على ما ذكرنا في تفسير الحكمة، أنها العلم بالأحكام، وحِكَمِها ومناسباتها، فأمره بأصل الدين، وهو التوحيد، ونهاه عن الشرك، وبيَّن له الموجب لتركه، وأمره ببر الوالدين، وبين له السبب

তিনি যা আদেশ করেন তা নিজে পালনকারী এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে নিজে বিরত থাকেন। ফলে এটি সৎকাজ সম্পাদনের মাধ্যমে নিজের সংশোধন এবং আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে অন্যের সংশোধন—উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর যখন তিনি অবগত হলেন যে, আদেশ ও নিষেধ করলে অবশ্যই পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় এবং আদেশ ও নিষেধের মধ্যে নফসের জন্য কষ্টসাধ্য বিষয় রয়েছে, তখন তিনি তাকে এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়ে বললেন: (এবং তোমার ওপর যা আপতিত হয় তাতে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই এটি) যা লোকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিয়েছিলেন (দৃঢ় সংকল্পের কাজ)। অর্থাৎ: এটি এমন সব কাজের অন্তর্ভুক্ত যা পালনের সংকল্প করা হয় এবং যার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়, আর দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্য কেউ এর তাওফিক প্রাপ্ত হয় না। (আর তুমি মানুষের প্রতি অবজ্ঞায় তোমার গাল বাঁকিয়ে রেখো না) অর্থাৎ: মানুষের প্রতি অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে গিয়ে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং ভ্রুকুটি করো না। (আর পৃথিবীতে দম্ভভরে বিচরণ করো না) অর্থাৎ: নিয়ামতের কারণে দম্ভ ও অহংকার করে, নিয়ামতদাতাকে বিস্মৃত হয়ে এবং আত্মমুগ্ধ হয়ে চলাফেরা করো না। (নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিককে পছন্দ করেন না) যে তার নিজের সত্তা, বাহ্যিক রূপ ও বড়ত্ব নিয়ে অহংকার করে (এবং আত্মশ্লাঘাকারীকেও পছন্দ করেন না) যে তার কথার মাধ্যমে বড়ত্ব প্রকাশ করে। (আর তোমার চলায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো) অর্থাৎ: বিনয় ও প্রশান্তির সাথে চলাফেরা করো; দম্ভ ও অহংকারের সাথে নয়, আবার অতিশয় হীন বা প্রাণহীনের মতোও নয়। (এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো) মানুষের সাথে এবং আল্লাহর সাথে শিষ্টাচার স্বরূপ। (নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বরের মধ্যে নিকৃষ্টতম) অর্থাৎ সবচেয়ে কদর্য ও কুরুচিপূর্ণ (হলো গাধার শব্দ)। যদি উচ্চৈঃস্বরে কথা বলার মধ্যে কোনো বিশেষ সার্থকতা ও কল্যাণ থাকত, তবে তা গাধার সাথে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতো না, যার হীনতা ও নির্বুদ্ধিতা সর্বজনবিদিত। লোকমান তার পুত্রকে যে সকল উপদেশ দিয়েছেন, তা হিকমতের মূল ভিত্তিগুলোকে একত্রিত করেছে এবং যা এখানে উল্লিখিত হয়নি এমন অনেক বিষয়কেও তা আবশ্যক করে নেয়। প্রতিটি উপদেশের সাথেই এমন বিষয়কে যুক্ত করা হয়েছে যা তা পালনের প্রতি উৎসাহিত করে—যদি তা আদেশ হয়, আর যা তা ত্যাগের প্রতি আহ্বান জানায়—যদি তা নিষেধ হয়। এটি আমরা হিকমতের তাফসীরে যা উল্লেখ করেছি তার ওপর প্রমাণ বহন করে যে, হিকমত হলো শরীয়তের বিধানসমূহ এবং এর নিগূঢ় রহস্য ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। তাই তিনি তাকে দ্বীনের মূল ভিত্তি তথা তাওহীদের আদেশ দিয়েছেন এবং শির্ক থেকে নিষেধ করেছেন এবং তা বর্জনের কারণ স্পষ্ট করেছেন। আর তিনি তাকে পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর কারণও বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الموجب لبرّهما، وأمره بشكره وشكرهما، ثم احترز بأن محل برهما وامتثال أوامرهما، ما لم يأمرا بمعصية، ومع ذلك فلا يعقهما، بل يحسن إليهما، وإن كان لا يطيعهما إذا جاهداه على الشرك. وأمره بمراقبة الله، وخوَّفه القدوم عليه، وأنه لا يغادر صغيرة ولا كبيرة من الخير والشر، إلا أتى بها. ونهاه عن التكبّر، وأمره بالتواضع، ونهاه عن البطر والأشر، والمرح، وأمره بالسكون في الحركات والأصوات، ونهاه عن ضد ذلك. وأمره بالأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، وإقامة الصلاة، وبالصبر اللذين يسهل بهما كل أمر، كما قال تعالى، فحقيق بمن أوصى بهذه الوصايا، أن يكون مخصوصاً بالحكمة، مشهوراً بها. ولهذا من منة الله عليه وعلى سائر عباده، أن قصّ عليهم من حكمته، ما يكون لهم به أسوة حسنة)) (1).

 

‌‌3 - حرص عباد الرحمن: (وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا*أُولَئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةً وَسَلَامًا * خَالِدِينَ فِيهَا حَسُنَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا) (2).

(وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا) أي: قرنائنا من أصحاب وأقران وزوجات، (وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ) أي: تقر بهم أعيننا. وإذا استقرأنا حالهم، وصفاتهم عرفنا من هممهم، وعلوّ

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن (ص 648 - 649).

(2) سور الفرقان، الآيات: 74 - 76.
যা তাদের (পিতামাতার) প্রতি সদাচরণের আবশ্যকতা তৈরি করে এবং তিনি তাঁর নিজের শুকরিয়া ও তাদের উভয়ের শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি সতর্ক করেছেন যে, তাদের প্রতি সদাচরণ এবং তাদের আদেশ পালনের ক্ষেত্র ততক্ষণই, যতক্ষণ তারা কোনো পাপের আদেশ না দেয়। তা সত্ত্বেও সে তাদের অবাধ্য হবে না, বরং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করবে, যদিও সে তাদের আনুগত্য করবে না যখন তারা তাকে শিরক করার জন্য চাপ দিবে। তিনি তাকে আল্লাহর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর কাছে ফিরে আসার বিষয়ে তাকে সতর্ক করেছেন; আর (জানিয়েছেন) যে আল্লাহ কল্যাণ ও অকল্যাণের ছোট বা বড় কোনো কিছুই বাদ দেবেন না, বরং তা উপস্থিত করবেন। তিনি তাকে অহংকার থেকে নিষেধ করেছেন, বিনয় অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দম্ভ, ঔদ্ধত্য ও মাত্রাতিরিক্ত উল্লাস থেকে বারণ করেছেন। চলাফেরায় ও কণ্ঠস্বরে গাম্ভীর্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর বিপরীত আচরণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাকে সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, সালাত কায়েম এবং ধৈর্যের নির্দেশ দিয়েছেন, যে দুটির মাধ্যমে প্রতিটি বিষয় সহজ হয়ে যায়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন। সুতরাং যিনি এই সব উপদেশ প্রদান করেছেন, তিনি প্রজ্ঞার জন্য বিশেষিত হওয়ার এবং তার মাধ্যমে প্রসিদ্ধ হওয়ার যোগ্য। এই কারণে এটি তাঁর প্রতি এবং তাঁর অন্যান্য বান্দাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের কাছে তাঁর সেই প্রজ্ঞার কথা বর্ণনা করেছেন, যা তাদের জন্য এক উত্তম আদর্শ হতে পারে (১)।

 

‌‌৩ - রহমান-এর বান্দাদের আকাঙ্ক্ষা: (এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর বস্তু দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন। তাদের প্রতিদান হিসেবে সুউচ্চ কক্ষ দেওয়া হবে তাদের ধৈর্যের কারণে এবং সেখানে তাদের অভিবাদন ও সালাম দিয়ে স্বাগত জানানো হবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে; আশ্রয়স্থল ও বসতি হিসেবে সেটি কতই না চমৎকার!) (২)।

(এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে আমাদের দান করুন) অর্থাৎ: আমাদের সঙ্গী-সাথী, সহচর এবং স্ত্রীদের পক্ষ থেকে, (এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর বস্তু দান করুন) অর্থাৎ: যাদের মাধ্যমে আমাদের চক্ষু শীতল হবে। আর আমরা যদি তাদের অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যবেক্ষণ করি, তবে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সুউচ্চ...

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমির রাহমান (পৃষ্ঠা ৬৪৮ - ৬৪৯)।

(২) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪ - ৭৬।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
مرتبتهم أنهم لا تقرّ أعينهم حتى يروهم مطيعين لربهم، عالمين عاملين، وهذا كما أنه دعاء لأزواجهم وذرياتهم في صلاحهم، فإنه دعاء لأنفسهم؛ لأن نفعه يعود عليهم، ولهذا جعلوا ذلك هبة لهم فقالوا: (هَبْ لَنَا) بل دعاؤهم يعود إلى نفع عموم المسلمين؛ لأن بصلاح من ذكر يكون سبباً لصلاح كثير ممن يتعلّق بهم وينتفع بهم. (وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا) أي: أوصلنا يا ربنا إلى هذه الدرجة العالية، درجة الصديقين، والكمّل من عباد اللَّه الصالحين، وهي درجة الإمامة في الدين، وأن يكونوا قدوة للمتقين في أقوالهم وأفعالهم، يقتدى بأفعالهم، ويطمئن لأقوالهم، ويسير أهل الخير خلفهم فيهدون ويهتدون. ومن المعلوم أن الدعاء ببلوغ شيء دعاء بما لا يتمّ إلا به، وهذه الدرجة -درجة الإمامة في الدين- لا تتمّ إلا بالصبر واليقين، كما قال تعالى: (وَجَعَلْنَاهم أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ)، فهذا الدعاء يستلزم من الأعمال، والصبر على طاعة اللَّه، وعن معصيته، وأقداره المؤلمة، ومن العلم التامّ الذي يوصل صاحبه إلى درجة اليقين، خيراً كثيراً وعطاءً جزيلاً وأن يكونوا في أعلى ما يمكن من درجات الخلق بعد الرسل؛ ولهذا لمّا كانت هممهم ومطالبهم عالية، كان الجزاء من جنس العمل، فجازاهم بالمنازل العاليات، فقال: (أُولَئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا) أي: المنازل الرفيعة والمساكن الأنيقة الجامعة لكل ما يشتهى، وتلذّه الأعين، وذلك بسبب صبرهم نالوا ما نالوا، كما قال
তাদের মর্যাদা হলো এই যে, তাদের চক্ষু ততক্ষণ শীতল হয় না যতক্ষণ না তারা তাদের পরিবার-পরিজনকে তাদের রবের অনুগত, জ্ঞানী ও আমলকারী হিসেবে দেখতে পান। আর এটি যেমন তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সংশোধনের জন্য দুআ, তেমনি এটি তাদের নিজেদের জন্যও দুআ; কারণ এর কল্যাণ তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। এই কারণেই তারা বিষয়টিকে তাদের জন্য একটি দান হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: (আমাদের দান করুন)। বরং তাদের এই দুআ সাধারণ মুসলিমদের কল্যাণের দিকেও ধাবিত হয়; কেননা যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সংশোধনের মাধ্যমে এমন অনেক মানুষের সংশোধনের কারণ তৈরি হয় যারা তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের দ্বারা উপকৃত হয়। (আর আমাদের মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বানিয়ে দিন) অর্থাৎ: হে আমাদের রব, আমাদের এই উচ্চ মর্যদায় পৌঁছে দিন, যা হলো সিদ্দিকীন এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের মধ্যে যারা পূর্ণতা লাভ করেছেন তাদের মর্যাদা। আর এটি হলো দ্বীনের ইমামতের মর্যাদা, এবং তারা যেন তাদের কথা ও কাজে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ হতে পারেন, যাদের কর্মকে অনুসরণ করা হবে, যাদের কথায় মানুষ আশ্বস্ত হবে এবং পুণ্যবান লোকেরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে; ফলে তারা নিজেরাও পথ দেখাবেন এবং অন্যের মাধ্যমে পরিচালিতও হবেন। আর এটি সুবিদিত যে, কোনো কিছু প্রাপ্তির জন্য দুআ করা মানে হলো এমন সব বিষয়ের জন্যও দুআ করা যা ছাড়া তা অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। আর এই মর্যাদা—অর্থাৎ দ্বীনের ইমামতের মর্যাদা—সবর এবং ইয়াকিন ছাড়া অর্জিত হয় না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম যারা আমার আদেশানুসারে পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা সবর করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত)। সুতরাং এই দুআটি প্রচুর নেক আমল, আল্লাহর আনুগত্যের ওপর সবর, পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার ওপর সবর, আল্লাহর বেদনাদায়ক ফয়সালার ওপর সবর এবং এমন পূর্ণাঙ্গ ইলমকে আবশ্যক করে যা তার অধিকারীকে ইয়াকিনের স্তরে পৌঁছে দেয়; যা এক বিশাল কল্যাণ ও মহান দান। আর তারা যেন রাসুলগণের পর সৃষ্টির সর্বোচ্চ স্তরের মর্যদায় আসীন হতে পারেন। এই কারণেই যখন তাদের সংকল্প ও আকাঙ্ক্ষা ছিল সুউচ্চ, তখন তাদের প্রতিদানও হয়েছে কর্মের প্রকৃতির অনুরূপ। তাই তিনি তাদের উচ্চ মর্যদাসম্পন্ন স্থানসমূহ দ্বারা পুরস্কৃত করেছেন এবং বলেছেন: (তাদের সবরের কারণে তাদের জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ প্রতিদান হিসেবে দেওয়া হবে)। অর্থাৎ: সুউচ্চ মর্যদা ও মনোরম বাসগৃহ, যা যাবতীয় কাম্য বস্তু ও নয়নপ্রীতিকর বিষয়ের সমষ্টি। তারা যা কিছু লাভ করেছেন তা তাদের সবরের কারণেই লাভ করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
تعالى: (وَالْمَلائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ سَلامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ)، ولهذا قال هنا: (وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةً وَسَلامًا) من ربهم، ومن ملائكته الكرام، ومن بعض على بعض، ويسلمون من جميع المنغصات والمكدرات.

والحاصل: أن اللَّه وصفهم بالوقار والسكينة والتواضع له ولعباده، وحسن الأدب والحلم، وسعة الخلق والعفو عن الجاهلين، والإعراض عنهم، ومقابلة إساءتهم بالإحسان، وقيام الليل، والإخلاص فيه، والخوف من النار والتضرّع لربهم أن ينجيهم منها، وإخراج الواجب والمستحب في النفقات والاقتصاد في ذلك - وإذا كانوا مقتصدين في الإنفاق الذي جرت العادة بالتفريط فيه أو الإفراط، فاقتصادهم وتوسّطهم في غيره من باب أولى- والسلامة من كبائر الذنوب، والاتصاف بالإخلاص للَّه في عبادته، والعفة عن الدماء والأعراض والتوبة عند صدور شيء من ذلك، وأنهم لا يحضرون مجالس المنكر والفسوق القولية والفعلية، ولا يفعلونها بأنفسهم، وأنهم يتنزّهون من اللغو والأفعال الرديَّة التي لا خير فيها، وذلك يستلزم مروءتهم وإنسانيتهم وكمالهم، ورفعة أنفسهم عن كل خسيس قولي وفعلي، وأنهم يقابلون آيات اللَّه بالقبول لها، والتفهم لمعانيها والعمل بها، والاجتهاد في تنفيذ أحكامها، وأنهم يدعون اللَّه تعالى بأكمل الدعاء، في الدعاء الذي ينتفعون به، وينتفع به من يتعلّق بهم، وينتفع به المسلمون من صلاح أزواجهم وذريتهم، ومن
মহান আল্লাহ বলেন: "আর ফেরেশতারা তাদের কাছে প্রতিটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন (এবং বলবেন): 'তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, যেহেতু তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছিলে। সুতরাং পরকালের এই আবাস কতই না চমৎকার!'"। একারণেই তিনি এখানে বলেছেন: "সেখানে তাদের অভিবাদন ও সালাম দিয়ে স্বাগত জানানো হবে" তাদের রবের পক্ষ থেকে, তাঁর সম্মানিত ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে এবং একে অপরের পক্ষ থেকে। আর তারা সকল প্রকার কষ্টদায়ক ও কলুষিত বিষয় থেকে নিরাপদ থাকবে।

সারকথা হলো: আল্লাহ তাদের গাম্ভীর্য, প্রশান্তি এবং তাঁর প্রতি ও তাঁর বান্দাদের প্রতি বিনয়, উত্তম আদব ও সহিষ্ণুতা, প্রশস্ত চরিত্র ও মূর্খদের ক্ষমা করা এবং তাদের থেকে বিমুখ থাকা, তাদের মন্দের বিপরীতে সদ্ব্যবহার করা, রাত জেগে ইবাদত করা এবং তাতে ইখলাস বজায় রাখা, জাহান্নামের ভয় এবং তা থেকে মুক্তি পেতে তাদের রবের কাছে আকুল প্রার্থনার গুণে বিশেষিত করেছেন। এছাড়া ব্যয়ের ক্ষেত্রে ওয়াজিব ও মুস্তাহাব অংশ প্রদান করা এবং তাতে পরিমিতিবোধ বজায় রাখা—আর তারা যদি এমন ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখে যে ক্ষেত্রে সাধারণত অবহেলা বা বাড়াবাড়ি হয়ে থাকে, তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের পরিমিতিবোধ ও মধ্যপন্থা অবলম্বন তো অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। তারা কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত থাকে, আল্লাহর ইবাদতে ইখলাস অবলম্বন করে, রক্তপাত ও ইজ্জত-সম্মান নষ্ট করা থেকে পবিত্র থাকে এবং এ জাতীয় কোনো কিছু ঘটে গেলে তওবা করে। তারা কথা ও কাজের মাধ্যমে সংঘটিত অন্যায় ও পাপাচারের মজলিসে উপস্থিত হয় না এবং নিজেরাও তা করে না। তারা অসার কথাবার্তা ও মন্দ কাজ—যাতে কোনো কল্যাণ নেই—তা থেকে নিজেদের পবিত্র রাখে। এটি তাদের মনুষ্যত্ব, মানবিকতা, পূর্ণতা এবং সকল প্রকার কথা ও কাজের নীচতা থেকে তাদের আত্মার উচ্চমর্যাদাকেই আবশ্যক করে। তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে কবুল করার মাধ্যমে তার মোকাবিলা করে, এর অর্থসমূহ অনুধাবন করে ও সে অনুযায়ী আমল করে এবং এর বিধানগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকে। তারা মহান আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম পন্থায় দোয়া করে—এমন দোয়ার মাধ্যমে যা দ্বারা তারা নিজেরা উপকৃত হয়, তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপকৃত হয় এবং তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সংশোধনের মাধ্যমে মুসলিমরা উপকৃত হয়, এবং...
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
لوازم ذلك سعيهم في تعليمهم ووعظهم ونصحهم؛ لأن من حرص على شيء، ودعا اللَّه فيه، لا بد أن يكون متسبباً فيه، وأنهم دعوا اللَّه ببلوغ أعلى الدرجات الممكنة لهم، وهي درجة الإمامة والصديقية. فَلِلَّهِ ما أعلى هذه الصفات، وأرفع هذه الهمم، وأجلّ هذه المطالب، وأزكى تلك النفوس، وأطهر تلك القلوب، وأصفى هؤلاء الصفوة، وأتقى هؤلاء السادة، وللَّه فضل اللَّه عليهم ونعمته ورحمته التي جلّلتهم، ولطفه الذي أوصلهم إلى هذه المنازل. وللَّه، منة اللَّه على عباده أن بين لهم أوصافهم، ونعت لهم هيئاتهم، وبين لهم هممهم، وأوضح لهم أجورهم، ليشتاقوا إلى الاتصاف بأوصافهم، ويبذلوا جهدهم في ذلك، ويسألوا الذي منّ عليهم وأكرمهم الذي فضله في كل زمان ومكان، وفي كل وقت وأوان، أن يهديهم كما هداهم ويتولاهم بتربيته الخاصة كما تولاهم)) (1).

 

‌‌4 - حرص المؤمنين على صلاح ذريتهم، قال الله تعالى: (وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ * أُولَئِكَ الَّذِينَ نَتَقَبَّلُ عَنْهُمْ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا وَنَتَجَاوَزُ عَنْ سَيِّئَاتِهِمْ فِي أَصْحَابِ الْجَنَّةِ وَعْدَ الصِّدْقِ الَّذِي كَانُوا

--------------------------------------------

(1) تيسير الكريم الرحمن (ص 587 - 588).
এর অনুষঙ্গ হলো তাদের শিক্ষা প্রদান, ওয়াজ-নসীহত এবং উপদেশের ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা; কারণ যে ব্যক্তি কোনো কিছুর প্রতি আগ্রহী হয় এবং সে বিষয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করে, তাকে অবশ্যই সে বিষয়ে যথাযথ উপায়-উপকরণ গ্রহণকারী হতে হয়। আর তারা আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সম্ভব সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌঁছানোর প্রার্থনা করেছিলেন, যা হলো ইমামত এবং সিদ্দীকিয়্যাতের মর্যাদা। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, কতই না উচ্চ এই গুণাবলি, কতই না সুউচ্চ এই সংকল্পসমূহ, কতই না মহান এই চাওয়াগুলো, কতই না পবিত্র সেই নফসগুলো, কতই না পরিচ্ছন্ন সেই অন্তরগুলো, কতই না নির্মল এই মনোনীত ব্যক্তিবর্গ এবং কতই না মুত্তাকী এই মহান নেতৃবৃন্দ! তাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ, নিআমত এবং রহমত যা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে এবং তাঁরই করুণা যা তাদেরকে এই সকল মকামে পৌঁছে দিয়েছে—সবই আল্লাহর দান। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি এটি এক বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের নিকট এই মহান ব্যক্তিদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তাদের অবস্থার বিবরণ দিয়েছেন, তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন এবং তাদের প্রতিদানসমূহ স্পষ্ট করেছেন; যাতে মানুষ তাদের গুণে গুণান্বিত হওয়ার জন্য লালায়িত হয় এবং এ পথে নিজেদের প্রচেষ্টা ব্যয় করে। আর তারা যেন সেই সত্তার কাছে প্রার্থনা করে—যিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন, যাঁর অনুগ্রহ প্রতিটি কাল ও স্থানে এবং প্রতিটি সময়ে বিদ্যমান—যেন তিনি তাদেরকেও হিদায়াত দান করেন যেমনটি তিনি তাদেরকে হিদায়াত করেছিলেন এবং তাদেরকে তাঁর বিশেষ প্রতিপালনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধান করেন যেমনটি তিনি তাদের করেছিলেন। (১)

 

‌‌৪ - সন্তানদের সংশোধনের ব্যাপারে মুমিনদের আগ্রহ, মহান আল্লাহ বলেন: (আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করেছে কষ্টের সাথে এবং তাকে প্রসব করেছে কষ্টের সাথে। তার গর্ভধারণ ও দুধ ছাড়ানোর সময়কাল হলো ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হয় এবং চল্লিশ বছরে পদার্পণ করে, তখন সে বলে: হে আমার রব! আপনি আমাকে তাওফিক দিন যাতে আমি আপনার সেই নিআমতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছেন এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আপনি আমার জন্য আমার সন্তানদের সংশোধন করে দিন। নিশ্চয় আমি আপনার কাছে তওবা করলাম এবং অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। * তারাই তারা, যাদের সর্বোত্তম আমলগুলো আমি কবুল করি এবং তাদের মন্দ কাজগুলো মার্জনা করি, তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। এটিই সেই সত্য প্রতিশ্রুতি যা তাদের দেওয়া হতো...)

--------------------------------------------

(১) তাইসীরুল কারীমুর রহমান (পৃষ্ঠা ৫৮৭ - ৫৮৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাদিউন নাবাবী ফী তারবিয়াতিল আওলাদ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
يُوعَدُونَ) (1).

((هذا من لطفه تعالى بعباده، وشكره للوالدين، أن وصّى الأولاد وعهد إليهم أن يحسنوا إلى والديهم بالقول اللطيف، والكلام الليّن، وبذل المال والنفقة، وغير ذلك من وجوه الإحسان. ثم نبّه على ذكر السبب الموجب لذلك، فذكر ما تحمّلته الأمّ من ولدها، وما قاسته من المكاره وقت حملها، ثمّ مشقّة ولادتها المشقّة الكبيرة، ثم مشقّة الرضاع، وخدمة الحضانة، وليست المذكورات مدة يسيرة ساعة أو ساعتين، وإنما ذلك مدّة طويلة قدرها (ثَلاثُونَ شَهْرًا) للحمل تسعة أشهر ونحوها، والباقي للرضاع هذا هو الغالب.

ويستدلّ بهذه الآية مع قوله: (وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ) (2) أن أقلّ مدّة الحمل ستة أشهر؛ لأنّ مدّة الرضاع -وهي سنتان- إذا سقطت منها السنتان بقي ستة أشهر مدّة للحمل، (حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ) أي: نهاية قوته وشبابه، وكمال عقله، (وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي) أي: ألهمني ووفقني (أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ) أي: نعم الدين، ونعم الدنيا، وشكره بصرف النعم في طاعة مسديها وموليها، ومقابلة منته بالاعتراف والعجز عن الشكر، والاجتهاد في الثناء بها على اللَّه، والنعم على الوالدين: نعم على أولادهم وذريتهم؛ لأنهم لا بد أن

--------------------------------------------

(1) سورة الأحقاف، الآيتان: 15 - 16.

(2) سورة البقرة، الآية: 233.
(যাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে) (১)।

((এটি বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর করুণা এবং পিতামাতার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ যে, তিনি সন্তানদেরকে তাদের পিতামাতার সাথে উত্তম ব্যবহার করার, নম্র ভাষায় কথা বলার, সম্পদ ও ভরণপোষণ ব্যয় করার এবং অন্যান্য সব ধরনের সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন ও প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। এরপর তিনি এর কারণ উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন; অর্থাৎ মা তার সন্তানের জন্য যা সহ্য করেছেন, গর্ভাবস্থায় যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন, তারপর প্রসবের চরম ও বড় ধরনের কষ্ট, তারপর স্তন্যদান ও লালন-পালনের কষ্ট। আর এই বিষয়গুলো এক বা দুই ঘণ্টার মতো কোনো সামান্য সময়ের জন্য নয়, বরং এটি দীর্ঘ সময়কাল যার পরিমাণ (ত্রিশ মাস)। এর মধ্যে গর্ভাবস্থার জন্য নয় মাস বা এই জাতীয় সময় এবং বাকি সময় স্তন্যদানের জন্য; এটিই সাধারণত হয়ে থাকে।

আর এই আয়াতের সাথে মহান আল্লাহর বাণী: (মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর স্তন্যপান করাবে) (২)-কে মিলিয়ে এই দলিল গ্রহণ করা হয় যে, গর্ভাবস্থার সর্বনিম্ন সময়সীমা ছয় মাস। কেননা স্তন্যদানের সময়কাল—যা দুই বছর—তা যদি (ত্রিশ মাস থেকে) বাদ দেওয়া হয়, তবে গর্ভাবস্থার জন্য ছয় মাস সময় অবশিষ্ট থাকে। (অবশেষে যখন সে তার পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হয়) অর্থাৎ: তার শক্তি ও যৌবনের শেষ সীমায় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পূর্ণতায় পৌঁছে, (এবং চল্লিশ বছরে পদার্পণ করে, তখন সে বলে: হে আমার রব! আমাকে সামর্থ্য দিন) অর্থাৎ: আমাকে ইলহাম ও তাওফিক দান করুন (যাতে আমি আপনার সেই নিআমতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে এবং আমার পিতামাতাকে দান করেছেন) অর্থাৎ: দ্বীন ও দুনিয়ার নিআমতসমূহ। আর নিআমতের শুকরিয়া হলো সেই নিআমতসমূহকে দাতার আনুগত্যে ব্যয় করা, তাঁর অনুগ্রহের বিপরীতে নিজের অক্ষমতার স্বীকৃতি দেওয়া, শুকরিয়া আদায়ে নিজের অপারগতা স্বীকার করা এবং আল্লাহর প্রশংসায় আপ্রাণ চেষ্টা করা। আর পিতামাতার ওপর নিআমত হওয়া মানে তাদের সন্তানদের ও বংশধরদের ওপরও নিআমত হওয়া; কারণ তারা অবশ্যই

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ১৫ - ১৬।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩৩।