(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
المفاهيم الصحيحة للجهاد في سبيل الله تعالى في ضوء الكتاب والسنة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المفاهيم الصحيحة للجهاد في سبيل الله تعالى في ضوء الكتاب والسنة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 30

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

কুরআন ও সুন্নাহ (السنة)-এর আলোকে মহান আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদের সঠিক ধারণাসমূহ   (সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহ্হানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহ (السنة)-এর আলোকে মহান আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদের সঠিক ধারণাসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহ্হানি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসী ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

 

المفاهيم الصحيحة للجهاد

في سبيل الله تعالى

في ضوء الكتاب والسنة

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানির গ্রন্থাবলি সিরিজ

 

জিহাদের সঠিক (صحيح) ধারণাসমূহ

মহান আল্লাহর পথে

কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে

 

মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী দাসের রচনা

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلّى الله عليه وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فقد كثر الكلام في هذه الأيام عن الجهاد في سبيل الله عز وجل؛ ولأهمية الأمر، وخطورته، أحببت أن أذكر لإخواني بعض المفاهيم الصحيحة التي ينبغي معرفتها وفقهها قبل أن يتكلم المسلم عن الجهاد، ولا شك أن باب الجهاد، وأحكامه باب واسع يحتاج إلى عناية فائقة، ولكني أقتصر من ذلك على كلمات مختصرات تُبيِّن الحق إن شاء الله تعالى في الأمور الآتية: مفهوم الجهاد في سبيل الله تعالى، وحكمه، ومراتبه، والحكمة من مشروعيته، وأنواعه، وشروط وجوب الجهاد، ووجوب استئذان الوالدين في الخروج إلى جهاد التطوع في سبيل الله تعالى، وأنَّ أمر الجهاد موكول إلى الإمام المسلم، واجتهاده، ويلزم الرعية طاعته فيما يراه من ذلك ما لم يأمر بمعصية، ووجوب الاعتصام بالكتاب والسنة وخاصة أيام الفتن.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل القليل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা যাঞ্চা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

বর্তমান সময়ে মহান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হওয়ার কারণে আমি আমার ভাইদের নিকট এমন কিছু সঠিক ধারণা উল্লেখ করা পছন্দ করেছি, যা একজন মুসলিমের জিহাদ নিয়ে কথা বলার আগে জানা ও অনুধাবন (فقه) করা আবশ্যক। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জিহাদের অধ্যায় এবং এর বিধানাবলি একটি সুবিস্তৃত বিষয় যা বিশেষ যত্নের দাবি রাখে। তবে আমি এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত কিছু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব যা ইনশাআল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সত্যকে স্পষ্ট করবে: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ধারণা, এর বিধান, স্তরসমূহ, এর বিধান প্রণয়নের হিকমত বা প্রজ্ঞা, এর প্রকারভেদ, জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি, আল্লাহর রাস্তায় নফল বা স্বেচ্ছামূলক (تطوع) জিহাদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনুমতি গ্রহণের আবশ্যকতা এবং জিহাদের বিষয়টি মুসলিম ইমাম ও তাঁর ইজতিহাদের (اجتهاد) ওপর ন্যস্ত; শাসক যা সমীচীন মনে করবেন সে বিষয়ে তাঁর আনুগত্য করা প্রজাসাধারণের জন্য অপরিহার্য যতক্ষণ না তিনি কোনো পাপাচারের নির্দেশ দেন। এছাড়া বিশেষ করে ফিতনার সময়গুলোতে কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সামান্য আমলটুকুকে বরকতময়, উপকারী এবং একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন। এটি যেন আমার ইহকালীন জীবনে ও মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে উপকারে আসে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، وصلّى الله وسلّم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

أبو عبد الرحمن

سعيد بن علي بن وهف القحطاني

حرر يوم 29/ 10/1422هـ
তাঁরই নিকট (সব সমর্পণ); কেননা মহান আল্লাহ সর্বোত্তম যাচ্ঞাস্থল এবং মহানতম আশার স্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ (أصحابه) এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।

 

আবু আবদুর রহমান

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানী

লিখিত হয়েছে ২৯/১০/১৪২২ হিজরী
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أولاً: مفهوم الجهاد‌‌ لغة و‌‌شرعاً:

لغة: بذل واستفراغ ما في الوسع والطاقة من قول أو فعل (1).

شرعاً: بذل الجهد من المسلمين في قتال الكفار المعاندين المحاربين، والمرتدّين، والبغاة ونحوهم؛ لإعلاء كلمة الله تعالى (2).

‌‌ثانياً: حكم الجهاد في سبيل الله:

الجهاد فرض كفاية إذا قام به من يكفي من المسلمين سقط الإثم عن الباقين (3)، قال الله تعالى: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَآفَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُواْ إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} (4).

قال العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله تعالى في فرضية الجهاد: ((لابد فيه من شرط، وهو أن يكون عند المسلمين قدرة وقوة يستطيعون بها القتال، فإن لم يكن لديهم قدرة، فإن إقحام أنفسهم في القتال إلقاء بأنفسهم إلى التهلكة؛ ولهذا لم يوجب الله سبحانه وتعالى على المسلمين القتال وهم في مكة؛ لأنهم عاجزون ضعفاء، فلما هاجروا إلى المدينة،

--------------------------------------------

(1) انظر: النهاية في غريب الحديث لابن الأثير، 1/ 319 باب الجيم مع الهاء، والمصباح المنير، مادة ((جهد))، 1/ 112.

(2) فتح الباري، لابن حجر، 6/ 2، ومنتهى الإرادات، لمحمد بن أحمد الفتوحي، 2/ 203، والإقناع لطالب الانتفاع، للحجّاوي، 2/ 61، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم، 4/ 253، وسبل السلام للصنعاني، 7/ 237، ونيل الأوطار للشوكاني، 5/ 6، والمغني لابن قدامة، 13/ 10، والمقنع مع الشرح الكبير والإنصاف، 10/ 12، والشرح الممتع لابن عثيمين، 8/ 8.

(3) انظر: المغني لابن قدامة، 13/ 6.

(4) سورة التوبة، الآية: 122.
‌‌প্রথমত: জিহাদের ধারণা‌‌ শাব্দিক ও‌‌পারিভাষিক:

শাব্দিক অর্থ: কথা বা কাজের মাধ্যমে সাধ্য ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যয় ও চেষ্টা করা (১)।

পারিভাষিক অর্থ: আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে অবাধ্য ও যুদ্ধরত কাফের, মুরতাদ, বিদ্রোহী এবং অনুরূপ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুসলিমদের প্রচেষ্টা ব্যয় করা (২)।

‌‌দ্বিতীয়ত: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের বিধান:

জিহাদ হলো ফরজে কিফায়া; যদি মুসলিমদের একটি পর্যাপ্ত দল তা সম্পাদন করে, তবে অবশিষ্টদের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যায় (৩), মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুমিনদের সকলের একসাথে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়} (৪)।

জিহাদের আবশ্যকতা সম্পর্কে আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন রহিমাহুল্লাহ বলেন: ((এর জন্য একটি শর্ত থাকা আবশ্যক, আর তা হলো মুসলিমদের এমন সক্ষমতা ও শক্তি থাকতে হবে যার মাধ্যমে তারা লড়াই করতে পারে। যদি তাদের সক্ষমতা না থাকে, তবে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল। এই কারণেই মহান আল্লাহ মুসলিমদের ওপর লড়াই ফরজ করেননি যখন তারা মক্কায় ছিলেন; কারণ তারা ছিলেন অক্ষম ও দুর্বল। অতঃপর যখন তারা মদিনায় হিজরত করলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস - ইবনুল আসির, ১/৩১৯, জিম ও হা পরিচ্ছেদ; আল-মিসবাহুল মুনির, 'জাহাদ' মূলধাতু, ১/১১২।

(২) ফাতহুল বারি - ইবনে হাজার, ৬/২; মুনতাহাল ইরাদাত - মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফুতুহি, ২/২০৩; আল-ইকনা লি তালিবিল ইনতিফা - আল-হাজ্জাউয়ি, ২/৬১; আর-রওদুল মুরবি মা'আ হাশিয়াত ইবনে কাসিম, ৪/২৫৩; সুবুলুস সালাম - আস-সানআনি, ৭/২৩৭; নাইলুল আওতার - আশ-শাওকানি, ৫/৬; আল-মুগনি - ইবনে কুদামা, ১৩/১০; আল-মুকনি মা'আশ শারহিল কাবির ওয়াল ইনসাফ, ১০/১২; আশ-শারহুল মুমতি - ইবনে উসাইমিন, ৮/৮।

(৩) দেখুন: আল-মুগনি - ইবনে কুদামা, ১৩/৬।

(৪) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২২।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وكوَّنوا الدولة الإسلامية، وصار لهم شوكة أُمروا بالقتال، وعلى هذا فلابد من هذا الشرط، وإلا سقط عنهم كسائر الواجبات؛ لأن جميع الواجبات يشترط فيها القدرة؛ لقوله تعالى: {فَاتَّقُوا الله مَا اسْتَطَعْتُمْ} (1)، وقوله: {لَا يُكَلِّفُ الله نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا} (2)). انتهى كلامه رحمه الله (3).

ويكون الجهاد فرض عين في ثلاث حالات (4):

 

‌‌1 - إذا حضر المسلم المُكلَّف القتال والتقى الزحفان وتقابل الصفان، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُواْ وَاذْكُرُواْ الله كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلَحُونَ} (5)، وقال سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُواْ زَحْفاً فَلَا تُوَلُّوهُمُ الأَدْبَارَ* وَمَن يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَاّ مُتَحَرِّفاً لِّقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِّنَ الله وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ} (6)، وذكر النبي صلى الله عليه وسلم أن التولِّي يوم الزحف من السَّبع الموبقات (7).

‌‌2 - إذا حضر العدو بلداً من بلدان المسلمين تعيّن على أهل البلاد قتاله وطرده منها، ويلزم المسلمين أن ينصروا ذلك البلد إذا عجز أهله عن إخراج العدو ويبدأ الوجوب بالأقرب فالأقرب (8)، قال تعالى: {يَا

--------------------------------------------

(1) سورة التغابن، الآية: 16.

(2) سورة البقرة، الآية: 286.

(3) الشرح الممتع على زاد المستقنع، 8/ 9، وانظر: المحلى لابن حزم، 7/ 291، وفتح الباري لابن حجر، 6/ 38.

(4) انظر: المغني لابن قدامة، 13/ 18.

(5) سورة الأنفال، الآية: 45.

(6) سورة الأنفال، الآيتان: 15 - 16.

(7) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الوصايا، باب قول الله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا … }، برقم 2766، ومسلم، في كتاب الإيمان، باب بيان الكبائر وأكبرها، برقم 89.

(8) الاختيارات الفقهية لشيخ الإسلام ابن تيمية، ص448.
এবং তারা ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করেন এবং তাদের প্রভাব ও শক্তি অর্জিত হলে তাদের যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় এই শর্তটি অপরিহার্য, অন্যথায় অন্যান্য আবশ্যকীয় বিধানের ন্যায় এটিও তাদের উপর থেকে রহিত হয়ে যাবে; কারণ সমস্ত আবশ্যকীয় বিধান পালনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা থাকা শর্ত। আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো তোমাদের সাধ্যানুযায়ী} (১), এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার অর্পণ করেন না} (২))। তাঁর আলোচনা এখানেই সমাপ্ত, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (৩)।

এবং জিহাদ তিনটি অবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض عين) হয়ে থাকে (৪):

 

‌‌১ - যখন কোনো শরয়ি দায়বদ্ধ (مكلف) মুসলিম যুদ্ধে উপস্থিত হয় এবং উভয় বাহিনী ও কাতার পরস্পর মুখোমুখি হয়, আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কোনো বাহিনীর মোকাবিলা করো, তখন অবিচল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো যাতে তোমরা সফলকাম হও} (৫)। তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কাফেরদের মোকাবিলা করবে যুদ্ধের ময়দানে, তখন তাদের সামনে থেকে পিঠ প্রদর্শন করবে না। আর সেদিন যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন অথবা নিজ বাহিনীর সাথে মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্য ব্যতীত যে ব্যক্তি পিঠ প্রদর্শন করবে, সে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে এবং তার আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম, আর তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল} (৬)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে, রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা সাতটি ধ্বংসাত্মক মহাপাপের (الموبقات) অন্তর্ভুক্ত (৭)।

‌‌২ - যখন শত্রু মুসলিমদের কোনো ভূখণ্ডে উপস্থিত হয় তখন সেই দেশের অধিবাসীদের ওপর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাদের তাড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক হয়ে পড়ে। যদি সেই ভূখণ্ডের অধিবাসীরা শত্রুকে বহিষ্কার করতে অক্ষম হয়, তবে অন্যান্য মুসলিমদের ওপর তাদের সাহায্য করা আবশ্যক হয়ে যায় এবং এই আবশ্যকতা নিকটতম দেশ থেকে পর্যায়ক্রমে দূরবর্তী দেশের দিকে বর্তাবে (৮)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬।

(৩) আশ-শারহুল মুমতি আলা জাদিল মুস্তাকনি, ৮/৯; আরও দেখুন: ইবনে হাজমের আল-মুহাল্লা, ৭/২৯১ এবং ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি, ৬/৩৮।

(৪) দেখুন: ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ১৩/১৮।

(৫) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৪৫।

(৬) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ১৫ - ১৬।

(৭) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, অসিয়ত অধ্যায়ে, আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই যারা এতিমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে...} অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ২৭৬৬; এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়ে, কবিরা গুনাহ ও তার মধ্যে বড়গুলো বর্ণনা অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ৮৯।

(৮) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৪৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ قَاتِلُواْ الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلِيَجِدُواْ فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُواْ أَنَّ الله مَعَ الْمُتَّقِينَ} (1).

 

‌‌3 - إذا استنفر إمام المسلمين الناس وطلب منهم ذلك، قال الله تعالى: {انْفِرُواْ خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَاهِدُواْ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ الله ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ} (2)، وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا هجرة بعدَ الفتحِ ولكن جهادٌ ونِيَّةٌ، وإذا استُنْفِرْتُم فانفِروا)) (3)، وقال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُواْ فِي سَبِيلِ الله اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الأَرْضِ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلَاّ قَلِيلٌ} (4).

قال العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله: ((ولا يشترط أن يكون إماماً عاماً للمسلمين؛ لأن الإمامة العامة انقرضت من أزمنة متطاولة، والنبي صلى الله عليه وسلم قال: ((اسمعوا وأطيعوا ولو تأمَّر عليكم عبد حبشي)) (5)، فإذا تأمر إنسان على جهة ما صار بمنزلة الإمام العام، وصار قوله نافذاً، وأمره مطاعاً، ومن عهد أمير المؤمنين عثمان بن عفان رضي الله عنه والأمة الإسلامية بدأت تتفرق، فابن الزبير في الحجاز، وابن مروان في الشام، والمختار بن عبيد وغيره في العراق، فتفرقت الأمة، ومازال أئمة الإسلام يدينون بالولاء

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآية: 123.

(2) سورة التوبة، الآية: 41.

(3) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الجهاد والسير، باب فضل الجهاد والسير، برقم2783، ومسلم، في كتاب الحج، باب تحريم مكة وصيدها وخلاها وشجرها ولقطتها إلا لمنشد، برقم 1353.

(4) سورة التوبة، الآية: 38.

(5) أخرجه البخاري، في كتاب الأذان، باب إمامة العبد والمولى، برقم 693.
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন} (১)।

 

‌‌৩ - যখন মুসলিমদের ইমাম বা শাসক জনগণকে অভিযানে বের হওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের কাছে তা দাবি করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা হালকা কিংবা ভারী যে কোনো অবস্থায় অভিযানে বের হয়ে পড়ো এবং আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো। এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে} (২)। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে। আর যখন তোমাদের যুদ্ধের ডাক দেওয়া হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়ো)) (৩)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের কী হলো যে, যখন তোমাদের আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয়, তখন তোমরা অলসতায় মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট হয়েছ? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী অতি সামান্যই} (৪)।

আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য একজন সাধারণ ইমাম হওয়া শর্ত নয়; কারণ দীর্ঘ সময় ধরে এই সাধারণ ইমামত বা সামগ্রিক খেলাফত ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা শোনো এবং আনুগত্য করো, যদিও কোনো হাবশি কৃতদাসকেও তোমাদের ওপর আমীর নিয়োগ করা হয়)) (৫)। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি কোনো অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণ করে, সে সাধারণ ইমামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়, তার কথা কার্যকর হয় এবং তার নির্দেশ মান্য করা আবশ্যক হয়। আর আমীরুল মুমিনীন উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়কাল থেকেই উম্মত বিভক্ত হতে শুরু করে। হিজাজে ইবনুল জুবায়ের, সিরিয়ায় ইবনে মারওয়ান এবং ইরাকে মুখতার বিন উবাইদ ও অন্যান্যরা ছিলেন। ফলে উম্মাহ বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং ইসলামের ইমামগণ আনুগত্যের সাথে দায়বদ্ধ থেকে আসছিলেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২৩।

(২) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৪১।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন, জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায়, জিহাদ ও সিয়ারের ফযীলত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৭৮৩; এবং মুসলিম, হজ অধ্যায়, মক্কার পবিত্রতা ও এর শিকার, ঘাস, গাছপালা ও পড়ে থাকা বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া নিষেধ হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৩৫৩।

(৪) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩৮।

(৫) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন, আযান অধ্যায়, গোলাম ও আযাদকৃত দাসের ইমামত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৬৯৩।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والطاعة لمن تأمر على ناحيتهم، وإن لم تكن له الخلافة العامة، وبهذا نعرف ضلال ناشئة نشأت تقول: إنه لا إمام للمسلمين اليوم فلا بيعة لأحد، نسأل الله العافية، ولا أدري أيريد هؤلاء أن تكون الأمور فوضى ليس للناس قائد يقودهم؟ أم يريدون أن يقال كل إنسان أمير نفسه؟ هؤلاء إذا ماتوا من غير بيعة فإنهم يموتون ميتة جاهلية؛ لأن عمل المسلمين من أزمنة متطاولة: على أن من استولى على ناحية من النواحي وصارت له الكلمة العليا فيها فهو إمام فيها، وقد نصَّ على ذلك العلماء مثل صاحب سبل السلام، وقال: إن هذا لا يمكن الآن تحقيقه؛ ولأن الناس لو تمردوا في هذا الحال على الإمام لحصل الخلل الكبير على الإسلام، إذ إن العدو سوف يقاتل ويتقدم إذا لم يجد من يقاومه، ويدافعه)) (1).

وجنس الجهاد فرض عين: إما بالقلب، وإما باللسان، وإما بالمال، وإما باليد، فيجب على المسلم أن يجاهد في سبيل الله بنوع من هذه الأنواع حسب الحاجة والقدرة، والأمر بالجهاد بالنفس والمال كثير في القرآن والسنة، وقد ثبت من حديث أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((جاهدوا المشركين بألسنتكم، وأنفسكم، وأموالكم، وأيديكم)) (2).

وأضاف العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله حالة رابعة: وهي إذا احتيج إلى المسلم في الجهاد وجب عليه.

--------------------------------------------

(1) الشرح الممتع على زاد المستقنع، 8/ 12.

(2) أخرجه أبو داود، في كتاب الجهاد، باب كراهية ترك الغزو، برقم 2504، والنسائي، في كتاب الجهاد، باب وجوب الجهاد، برقم 3098، وأحمد، في المسند، 3/ 124، 153، 251، والحاكم، 2/ 81 وصححه، وكذا صححه الألباني في صحيح الجامع، برقم 3090.
এবং যারা তাদের ভূখণ্ডে শাসনকার্য পরিচালনা করেন তাদের প্রতি আনুগত্য করা আবশ্যক, যদিও তার সার্বজনীন খেলাফত (সার্বজনীন নেতৃত্ব) না থাকে। এর মাধ্যমেই আমরা সেই উদীয়মান দলের পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে জানতে পারি যারা বলে: আজ মুসলিমদের কোনো ইমাম নেই, তাই কারো প্রতি আনুগত্যের শপথ (بيعة) নেই। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। আমি জানি না তারা কি চায় যে বিষয়গুলো বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ুক এবং মানুষের কোনো নেতা না থাকুক যে তাদের পরিচালিত করবে? নাকি তারা চায় যে বলা হোক প্রতিটি মানুষ নিজেই নিজের আমির? এরা যদি আনুগত্যের শপথ (بيعة) ব্যতীত মৃত্যুবরণ করে, তবে তারা জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করবে; কারণ দীর্ঘকাল ধরে মুসলিমদের কর্মপন্থা হলো: যে ব্যক্তি কোনো একটি অঞ্চলের ক্ষমতা দখল করে এবং সেখানে তার নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, সে সেখানে ইমাম হিসেবে গণ্য হবে। 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থের লেখকের মতো আলেমগণ এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: বর্তমানে এটি (সার্বজনীন খেলাফত) বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়; আর কারণ এই যে, মানুষ যদি এই অবস্থায় ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তবে ইসলামের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে, কেননা শত্রু যুদ্ধ করবে এবং অগ্রসর হবে যদি সে এমন কাউকে না পায় যে তাকে বাধা দিবে ও প্রতিহত করবে। (১)

জিহাদের প্রকৃতি হলো ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (فرض عين): হয় অন্তরের মাধ্যমে, নতুবা জিহ্বার মাধ্যমে, নতুবা সম্পদের মাধ্যমে, অথবা হাতের মাধ্যমে। সুতরাং প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী মুসলিমদের ওপর এই প্রকারগুলোর কোনো একটির মাধ্যমে আল্লাহর পথে জিহাদ করা আবশ্যক। জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করার নির্দেশ কুরআন ও সুন্নাহতে প্রচুর রয়েছে। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের জিহ্বা, জান, মাল এবং হাত দিয়ে জিহাদ করো।" (২)

আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) চতুর্থ একটি অবস্থা যোগ করেছেন: আর তা হলো যখন জিহাদের ময়দানে কোনো মুসলিমের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তা তার ওপর আবশ্যক হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) আশ-শারহুল মুমতি আলা জাদিল মুস্তাকনি, ৮/ ১২।

(২) আবু দাউদ এটি সংকলন করেছেন (أخرجه), জিহাদ অধ্যায়, যুদ্ধ ত্যাগ করার অপছন্দনীয়তা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৫০৪; নাসায়ি, জিহাদ অধ্যায়, জিহাদ ওয়াজিব হওয়া অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩০৯৮; আহমাদ, মুসনাদ, ৩/ ১২৪, ১৫৩, ২৫১; এবং হাকেম, ২/ ৮১ এবং একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন, অনুরূপভাবে আলবানি একে সহিহুল জামি'-এ বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নং ৩০৯০।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ثالثاً: مراتب الجهاد في سبيل الله:

الجهاد له أربع مراتب: جهاد النفس، والشيطان، والكفار، والمنافقين، وأصحاب الظلم والبدع والمنكرات:

 

‌‌المرتبة الأولى: جهاد النفس له أربع مراتب:

‌‌1 - جهادها على تعلم أمور الدين والهُدى الذي لا فلاح لها ولا سعادة في معاشها ومعادها إلا به.

‌‌2 - جهادها على العمل به بعد علمه، وإلا فمجرّد العلم بلا عمل إن لم يضرّها لم ينفعها.

‌‌3 - جهادها على الدعوة إليه ببصيرة، وتعليمه من لا يعلمه، وإلا كان من الذين يكتمون ما أنزل الله من الهدى والبينات، ولا ينفعه علمه ولا ينجيه من عذاب الله.

‌‌4 - جهادها على الصبر على مشاق الدعوة إلى الله، وأذى الخلق، وأن يتحمل ذلك كله لله، فمن علم وعمل، وصبر فذاك يُدعى عظيماً في ملكوت السموات.

‌‌المرتبة الثانية: جهاد الشيطان وله مرتبتان:

‌‌1 - جهاده على دفع ما يلقي إلى العبد من الشبهات والشكوك القادحة في الإيمان.

‌‌2 - جهاده على دفع ما يلقي إليه من الشهوات والإرادات الفاسدة، فالجهاد الأول بعد اليقين، والثاني بعد الصبر، قال الله تعالى: {وَجَعَلْنَا
‌‌তৃতীয়ত: আল্লাহর পথে জিহাদের স্তরসমূহ:

জিহাদের চারটি স্তর রয়েছে: নফসের (প্রবৃত্তির) বিরুদ্ধে জিহাদ, শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ, কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ, মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং অন্যায়কারী, বিদআত (بدعة) ও গর্হিত কাজে লিপ্তদের বিরুদ্ধে জিহাদ:

 

‌‌প্রথম স্তর: নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের চারটি পর্যায় রয়েছে:

‌‌১ - দ্বীনি বিধি-বিধান এবং হিদায়াত (هدى) শিক্ষা করার সাধনা করা যা ব্যতীত ইহকাল ও পরকালে তার কোনো মুক্তি ও সৌভাগ্য নেই।

‌‌২ - ইলম অর্জনের পর সেই অনুযায়ী আমল করার সাধনা করা, অন্যথায় আমলহীন নিছক ইলম যদি ক্ষতির কারণ না-ও হয়, তবে তা কোনো উপকারে আসবে না।

‌‌৩ - দূরদর্শিতার সাথে দ্বীনের দিকে দাওয়াত (دعوة) দেওয়ার এবং যারা জানে না তাদের শিক্ষা দেওয়ার সাধনা করা; অন্যথায় সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হিদায়াত (هدى) ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদি গোপন করে। তখন তার ইলম তার কোনো উপকারে আসবে না এবং আল্লাহর আযাব থেকেও তাকে মুক্তি দেবে না।

‌‌৪ - আল্লাহর পথে দাওয়াতের (دعوة) কষ্ট এবং মানুষের পক্ষ থেকে আসা দুঃখ-কষ্টের ওপর ধৈর্য (صبر) ধারণের সাধনা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তা সহ্য করা। সুতরাং যে ইলম অর্জন করল, আমল করল এবং ধৈর্য ধারণ করল, আসমানি জগতে তাকে 'মহান' বলে অভিহিত করা হয়।

‌‌দ্বিতীয় স্তর: শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ; এর দুটি পর্যায় রয়েছে:

‌‌১ - শয়তান বান্দার মনে যে সব সংশয় (شبهات) এবং ঈমানের পরিপন্থী সন্দেহ তৈরি করে, তা প্রতিহত করার সাধনা করা।

‌‌২ - শয়তান মানুষের মধ্যে যেসব কুপ্রবৃত্তি (شهوات) ও মন্দ ইচ্ছার উদ্রেক করে, তা প্রতিহত করার সাধনা করা, প্রথম প্রকারের জিহাদ সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين) এর মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়টি ধৈর্যের (صبر) মাধ্যমে অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আমি নির্ধারণ করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} (1)، والشيطان أخبث الأعداء، قال الله تعالى: {إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ} (2).

 

‌‌المرتبة الثالثة: جهاد الكفار والمنافقين:

وله أربع مراتب:

1 - بالقلب.

2 - اللسان.

3 - المال.

4 - اليد.

وجهاد الكفار أخصّ باليد، وجهاد المنافقين أخصّ باللسان.

 

‌‌المرتبة الرابعة: جهاد أصحاب الظلم والعدوان، والبدع والمنكرات:

وله ثلاث مراتب:

1 - باليد إذا قدر المجاهد على ذلك.

2 - فإن عجز انتقل إلى اللسان.

3 - فإن عجز جاهد بالقلب، فعن أبي سعيد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من رأى منكم منكراً فليغيّره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، وذلك أضعف الإيمان)) (3).

--------------------------------------------

(1) سورة السجدة، الآية: 24.

(2) سورة فاطر، الآية: 6.

(3) أخرجه مسلم، في كتاب الإيمان، باب بيان كون النهي عن المنكر من الإيمان وأن الإيمان يزيد وينقص، برقم 49.
তাদের মধ্য থেকে আমি নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশ অনুযায়ী পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত} (১), আর শয়তান হলো নিকৃষ্টতম শত্রু। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো। সে তো তার অনুসারী দলকে কেবল এজন্যই আহ্বান করে যেন তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনের অধিবাসী হয়} (২)।

 

‌‌তৃতীয় স্তর: কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ:

আর এর চারটি পর্যায় রয়েছে:

১ - অন্তরের মাধ্যমে।

২ - জিহ্বার মাধ্যমে।

৩ - সম্পদের মাধ্যমে।

৪ - হাতের মাধ্যমে।

কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ বিশেষভাবে হাতের মাধ্যমে এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ বিশেষভাবে জিহ্বার মাধ্যমে হয়ে থাকে।

 

‌‌চতুর্থ স্তর: যুলুম, সীমালঙ্ঘন, বিদআত ও গর্হিত কাজের (منكرات) হোতাদের বিরুদ্ধে জিহাদ:

এর তিনটি পর্যায় রয়েছে:

১ - হাতের মাধ্যমে, যদি মুজাহিদ তাতে সক্ষম হন।

২ - যদি অক্ষম হন তবে জিহ্বার মাধ্যমে জিহাদ করবেন।

৩ - আর যদি তাতেও অক্ষম হন তবে অন্তরের মাধ্যমে জিহাদ করবেন। আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: ((তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো গর্হিত কাজ (منكراً) দেখে, তবে সে যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি তাতে সক্ষম না হয় তবে নিজ জিহ্বা দিয়ে; আর যদি তাতেও সক্ষম না হয় তবে তার অন্তর দিয়ে। আর এটিই হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ২৪।

(২) সূরা ফাতির, আয়াত: ৬।

(৩) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ঈমান-এ; অনুচ্ছেদ: গর্হিত কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পায় তার বর্ণনা, হাদিস নং ৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فهذه ثلاث عشرة مرتبة من الجهاد، وأكمل الناس عند الله من كمَّل مراتب الجهاد كلها، والخلق متفاوتون في منازلهم عند الله تفاوتهم في مراتب الجهاد؛ ولهذا كان أكمل الخلق وأكرمهم على الله محمد صلى الله عليه وسلم خاتم أنبيائه ورسله؛ فإنه كمّل مراتب الجهاد، وجاهد في الله حق جهاده (1)، فصلوات الله وسلامه عليه ما تتابع الليل والنهار.

ولما كان جهاد أعداء الله في الخارج فرعاً على جهاد العبد نفسه في ذات الله كما قال صلى الله عليه وسلم في حديث فضالة بن عبيد الله رضي الله عنه: ((ألا أخبركم بالمؤمن؟ من أمنه الناس على أموالهم وأنفسهم، والمسلم من سلم الناس من لسانه ويده، والمجاهد من جاهد نفسه في طاعة الله، والمهاجر من هجر الخطايا والذنوب)) (2): كان جهاد النفس مقدَّماً على جهاد العدو في الخارج وأصلاً له؛ فإنه ما لم يُجاهد نفسه أولاً لتفعل ما أمرها الله به، وتترك ما نهاها الله عنه ويحاربها في الله، لم يمكنه جهاد عدوه في الخارج، فكيف يمكنه جهاد عدوه والانتصار عليه، وعدوّه الذي بين جنبيه غالب له وقاهر له؟ ولا يمكنه الخروج إلى عدوّه حتى يجاهد نفسه على الخروج، فهذان عدوّان (3)، وبينهما عدو ثالث لا يمكن للعبد أن يجاهدهما إلا بجهاده، وهو واقف بينهما يُثبِّط الإنسان عن جهادهما، ويخوِّفه ويخذله، ولا يزال يُخوِّفُه ما في جهادهما من المشاقّ، وفوات اللذات،

--------------------------------------------

(1) انظر: زاد المعاد لابن القيم، 3/ 10، و12.

(2) أحمد في المسند، 6/ 21، والحاكم وصححه، ووافقه الذهبي، 1/ 11، قال الألباني في إسناد الإمام أحمد: ((وهذا إسناد صحيح))، انظر: سلسلة الأحاديث الصحيحة، 2/ 89 - 90، برقم 549.

(3) النفس، والعدو في خارجها.
এগুলো জিহাদের তেরোটি স্তর। আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, যে জিহাদের এই সকল স্তর পূর্ণ করেছে। আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মর্যাদার তারতম্য জিহাদের স্তরের তারতম্য অনুযায়ী হয়ে থাকে। এ কারণেই সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি নবী ও রাসুলগণের সমাপ্তিকারী। তিনি জিহাদের সকল স্তর পূর্ণ করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন (১)। দিবা-রাত্রির আবর্তনে তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

যেহেতু বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে আল্লাহর পথে জিহাদ করা হলো বান্দার নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করারই একটি শাখা, যেমনটি ফাদালাহ বিন উবাইদিল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি কি তোমাদের মুমিন সম্পর্কে সংবাদ দেব না? মুমিন সেই ব্যক্তি, যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে। আর মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। আর মুজাহিদ সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে ভুলত্রুটি ও পাপ বর্জন করে" (২): সেহেতু নফসের জিহাদ বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের চেয়ে অগ্রগণ্য এবং তার মূল ভিত্তি। কেননা, বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের নফসকে আল্লাহর আদেশ পালনে এবং আল্লাহর নিষেধ বর্জনে বাধ্য করার জন্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এর বিরুদ্ধে লড়াই না করবে, ততক্ষণ বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। সে কীভাবে তার শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করবে এবং বিজয় লাভ করবে, যখন তার দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী শত্রু (নফস) তাকে পরাস্ত ও পদানত করে রেখেছে? আর সে তো শত্রুর মোকাবিলায় বের হতেই পারবে না যতক্ষণ না সে বের হওয়ার ব্যাপারে নিজের নফসের সাথে জিহাদ করবে। সুতরাং এরা হলো দুই শত্রু (৩), আর তাদের মাঝে রয়েছে তৃতীয় এক শত্রু—যাকে পরাস্ত করা ছাড়া বান্দার পক্ষে অপর দুই শত্রুর সাথে জিহাদ করা সম্ভব নয়। সে (শয়তান) এই দুই শত্রুর মাঝে দাঁড়িয়ে মানুষকে জিহাদ থেকে নিরুৎসাহিত করে, তাকে ভয় দেখায় এবং লাঞ্ছিত করে। সে সর্বদা তাকে জিহাদের শ্রম-কষ্ট এবং স্বাদ ও ভোগবিলাসিতা হাতছাড়া হওয়ার ভয় দেখাতে থাকে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের যাদুল মাআদ, ৩/১০ ও ১২।

(২) আহমাদ তাঁর মুসনাদে, ৬/২১; হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে বিশুদ্ধ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, ১/১১। ইমাম আহমাদের সনদ (إسناد) সম্পর্কে আলবানি বলেছেন: "এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (إسناد)"। দেখুন: সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহাহ, ২/৮৯-৯০, হাদিস নং ৫৪৯।

(৩) নফস এবং বাহ্যিক শত্রু।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
والشهوات، فلا يمكنه أن يجاهد هذين العدوين إلا بجهاد هذا العدو الثالث، وهو الأصل لجهادهما وهو الشيطان (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: زاد المعاد، 3/ 6.
এবং কুপ্রবৃত্তি; তাই এই তৃতীয় শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা ছাড়া তার পক্ষে এই দুই শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা সম্ভব নয়, আর এই তৃতীয় শত্রুটিই হলো অপর দুই শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের মূল উৎস, আর সেটি হলো শয়তান (১)।

--------------------------------------------

(1) দেখুন: যাদুল মাআদ, ৩/ ৬।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌رابعاً: الحكمة من مشروعية الجهاد

بيَّن الله عز وجل الحكمة والغاية من الجهاد في سبيل الله تعالى، قال سبحانه: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لله فَإِنِ انتَهَوْاْ فَإِنَّ الله بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} (1)، وقال عز وجل: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لله فَإِنِ انتَهَواْ فَلَا عُدْوَانَ إِلَاّ عَلَى الظَّالِمِينَ} (2).

قال الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله في المقصود من الجهاد: ((الجهاد نوعان: جهاد طلب، وجهاد دفاع، والمقصود منهما جميعاً هو تبليغ دين الله، ودعوة الناس إليه، وإخراجهم من الظلمات إلى النور، وإعلاء دين الله في أرضه، وأن يكون الدين كله لله وحده … ))، ثم قال رحمه الله تعالى بعد أن أورد الآيتين السابقتين، وقال عز وجل في سورة التوبة: {فَإِذَا انسَلَخَ الأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُواْ الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُواْ لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ الصَّلَاةَ وَآتَوُاْ الزَّكَاةَ فَخَلُّواْ سَبِيلَهُمْ إِنَّ الله غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (3)، والآيات في هذا المعنى كثيرة، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((أُمرت أن أُقاتل النَّاسَ حتى يشهدوا أن لا إله إلاّ الله، وأنَّ محمداً رسول الله، ويُقيموا الصلاة، ويُؤتوا الزكاة فإذا فعلوا ذلك عصموا منِّي دماءهم وأموالهم إلاّ بحقِّ الإسلام وحسابهم على الله عز وجل)) (4)، انتهى كلامه

--------------------------------------------

(1) سورة الأنفال، الآية: 39.

(2) سورة البقرة، الآية: 193.

(3) سورة التوبة، الآية: 5.

(4) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الإيمان، باب {فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ الصَّلَاةَ وَآتَوُاْ الزَّكَاةَ فَخَلُّواْ سَبِيلَهُمْ}، برقم 25، ومسلم، في كتاب الإيمان، باب الأمر بقتال الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله محمد رسول الله، برقم 22.
চতুর্থত: জিহাদ বিধিবদ্ধ হওয়ার পেছনে নিহিত প্রজ্ঞা

মহান আল্লাহ তাআলা আল্লাহর পথে জিহাদ করার প্রজ্ঞা ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। অতঃপর তারা যদি বিরত হয়, তবে তারা যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা} (১), এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও বলেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। অতঃপর যদি তারা বিরত হয়, তবে যালিমরা ছাড়া আর কারও ওপর কোনো জবরদস্তি নেই} (২)।

জিহাদের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে ইমাম আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((জিহাদ দুই প্রকার: অগ্রগামী জিহাদ এবং রক্ষণাত্মক জিহাদ। এই উভয় প্রকার জিহাদেরই মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দেওয়া, মানুষের নিকট এর দাওয়াত পেশ করা, তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা, আল্লাহর যমীনে তাঁর দ্বীনকে সমুন্নত করা এবং দ্বীন যেন একমাত্র আল্লাহর জন্যই নিবেদিত হয় … ))। অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) পূর্বোক্ত আয়াত দুটি উল্লেখ করার পর আরও বলেন যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সূরা আত-তাওবায় ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো, তাদের বন্দী করো, তাদের অবরোধ করো এবং প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে বসে থাকো। কিন্তু যদি তারা তাওবা করে, নামাজ কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (৩)। এই মর্মে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা নামাজ কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে। তারা যখন এগুলো করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল; তবে ইসলামের হকের কথা ভিন্ন, আর তাদের হিসাবের দায়ভার মহান আল্লাহর ওপর)) (৪), তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৯।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৩।

(৩) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৫।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: {যদি তারা তাওবা করে, নামাজ কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও}, হাদিস নম্বর ২৫; এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল—একথা না বলা পর্যন্ত মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ২২।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
رحمه الله (1)، فعلى هذا يكون الهدف والحكمة من الجهاد الأمور الآتية:

 

‌‌الأمر الأول: إعلاء كلمة الله تعالى؛ لحديث أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، الرجلُ يُقاتل للمغنم، والرجلُ يُقاتل ليُذكر، والرجلُ يُقاتل ليُرى مكانه، فمن في سبيل الله؟ قال: ((من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله)) (2).

‌‌الأمر الثاني: نصر المظلومين، قال تعالى: {وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الله وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاء وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا} (3).

‌‌الأمر الثالث: رَدُّ العُدوان وحفظ الإسلام، قال الله تعالى: {الشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُواْ عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ وَاتَّقُواْ الله وَاعْلَمُواْ أَنَّ الله مَعَ الْمُتَّقِينَ} (4)، وقال سبحانه: {الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلاّ أَن يَقُولُوا رَبُّنَا الله وَلَوْلا دَفْعُ الله النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ الله كَثِيرًا وَلَيَنصُرَنَّ الله مَن يَنصُرُهُ إِنَّ الله لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} (5).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ابن باز، 18/ 70، وانظر: 18/ 70 - 86، ومحاضرة له رحمه الله بعنوان: ((ليس الجهاد للدفاع فقط)) في مجموع الفتاوى، 18/ 101 - 144، وانظر: المغني لابن قدامة، 12/ 10، والمقنع مع الشرح الكبير، والإنصاف، 10/ 12.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب العلم، باب من سأل وهو قائم عالماً جالساً، برقم 123، ومسلم، في كتاب الإمارة، باب من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله، برقم 1904.

(3) سورة النساء، الآية: 75.

(4) سورة البقرة، الآية: 194.

(5) سورة الحج، الآية: 40.
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (১), এর ভিত্তিতে জিহাদের লক্ষ্য ও হিকমতসমূহ হলো নিম্নরূপ:

 

‌‌প্রথম বিষয়: মহান আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করা; আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! কোনো ব্যক্তি গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ মাল) জন্য যুদ্ধ করে, কোনো ব্যক্তি বীরত্বের সুখ্যাতি লাভের জন্য যুদ্ধ করে, আর কোনো ব্যক্তি নিজের অবস্থান দেখানোর (প্রদর্শনপ্রিয়তা) জন্য লড়াই করে; তবে এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করার লক্ষ্যে লড়াই করে, সে-ই আল্লাহর পথে (রয়েছে)।” (২)।

‌‌দ্বিতীয় বিষয়: মজলুমদের সাহায্য করা, মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং সেই সব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে লড়াই করছ না, যারা বলে: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এই জনপদ থেকে বের করে নিন যার অধিবাসীরা জালেম এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করে দিন এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন।} (৩)।

‌‌তৃতীয় বিষয়: আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং ইসলাম রক্ষা করা, আল্লাহ তাআলা বলেন: {সম্মানিত মাস সম্মানিত মাসের বিনিময়ে এবং পবিত্র বিষয়সমূহ সমতাবিধানের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ আক্রমণ করবে যেরূপ সে তোমাদের ওপর করেছে। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ মুত্তাকিদের সাথে আছেন।} (৪), এবং তিনি সুবহানাহু বলেন: {যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধু এই কারণে যে, তারা বলে ‘আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ’। আল্লাহ যদি মানুষের এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হয়ে যেত সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ—যেখানে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী।} (৫)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১৮/ ৭০, এবং দেখুন: ১৮/ ৭০ - ৮৬; এবং মাজমুউ ফাতাওয়াতে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) একটি বক্তৃতা যার শিরোনাম: “জিহাদ কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়”, ১৮/ ১০১ - ১৪৪; আরও দেখুন: ইবনে কুদামাহ-এর আল-মুগনি, ১২/ ১০; এবং আল-মুকনি-সহ আশ-শারহুল কাবির ও আল-ইনসাফ, ১০/ ১২।

(২) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন ‘কিতাবুল ইলম’ (জ্ঞানের অধ্যায়), ‘যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বসে থাকা আলেমকে প্রশ্ন করে’ নামক পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ১২৩; এবং ইমাম মুসলিম ‘কিতাবুল ইমারাহ’ (নেতৃত্বের অধ্যায়), ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করার লক্ষ্যে লড়াই করে, সে আল্লাহর পথে’ নামক পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ১৯০৪।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৭৫।

(৪) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৪।

(৫) সূরা আল-হজ, আয়াত: ৪০।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌خامساً: أنواع جهاد الأعداء:

جهاد الأعداء أنواع؛ منها ما يلي:

 

‌‌1 - جهاد الكفار، والمنافقين والمرتدين (1).

‌‌2 - جهاد البغاة المعتدين الذين يخرجون على الإمام المسلم ولهم تأويل سائغ وشوكة، وفيهم منعة وقوة (2)، والأصل في ذلك قوله تعالى: {وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِن بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ الله فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ الله يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ * إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا الله لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (3)، وعن عرفَجَة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنه ستكون هناتٌ وهناتٌ (4)، فمن أراد أن يُفرِّق أمر هذه الأمة وهي جميع فاضربوه بالسيف كائناً من كان))، وفي لفظ: ((من أتاكم وأمرُكُم جميعٌ على رجل واحد يريد أن يَشُقَّ عصاكم أو يُفرِّق جماعتكم فاقتلوه)) (5).

‌‌3 - الدِّفاع عن الدين، والنفس، والأهل، والمال، ويدخل في هذا النوع جهاد قُطّاع الطُّرق (6)، وعن سعيد بن زيد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من قُتل دون ماله فهو شهيد، ومن قُتل دون أهله فهو شهيد، ومن

--------------------------------------------

(1) انظر: التفصيل في ذلك: زاد المعاد، 3/ 100، و3/ 6 - 11، والمغني لابن قدامة، 12/ 264.

(2) انظر: المغني 12/ 237.

(3) سورة الحجرات، الآيتان: 9، 10.

(4) الهنات: الفتن والأمور الحادثة.

(5) أخرجه مسلم، في كتاب الإمارة، باب حكم من فرق أمر المسلمين وهو مجتمع، برقم 1852.

(6) انظر: المغني لابن قدامة، 12/ 474، ومجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 34/ 241.
‌‌পঞ্চম: শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের প্রকারভেদ:

শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ কয়েক প্রকার; তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:

 

‌‌১ - কাফের, মুনাফিক এবং ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে জিহাদ (১)।

‌‌২ - ওইসব সীমালঙ্ঘনকারী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জিহাদ যারা মুসলিম ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং যাদের নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও শক্তি-সামর্থ্য রয়েছে, আর তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রভাব আছে (২); এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি মুমিনদের দুই দল লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করো, ততক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তবে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে ফয়সালা করো এবং ন্যায়বিচার করো। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচারকদের ভালোবাসেন। মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই, অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও} (৩)। আর আরফাজা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((অচিরেই অনেক ফিতনা ও অকল্যাণ (هنَّات) দেখা দেবে (৪), সুতরাং যে ব্যক্তি এই উম্মতের ঐক্যবদ্ধ থাকাবস্থায় তাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, সে যেই হোক না কেন, তোমরা তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করো))। অন্য শব্দে এসেছে: ((তোমাদের নিকট যদি কেউ এমন অবস্থায় আসে যখন তোমরা একজন ব্যক্তির অধীনে ঐক্যবদ্ধ আছো এবং সে তোমাদের ঐক্য নষ্ট করতে চায় অথবা তোমাদের জামাতে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তবে তাকে হত্যা করো)) (৫)।

‌‌৩ - দ্বীন, জীবন, পরিবার এবং সম্পদ রক্ষা করা, আর ডাকাতদের বিরুদ্ধে জিহাদও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত (৬)। সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ, আর যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ, আর যে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: এ বিষয়ে বিস্তারিত: যাদুল মাআদ, ৩/১০০ এবং ৩/৬-১১; ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনী, ১২/২৬৪।

(২) দেখুন: আল-মুগনী ১২/২৩৭।

(৩) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৯, ১০।

(৪) আল-হানাত (الهنات): ফিতনা (فتنة) ও নতুন উদ্ভূত বিষয়সমূহ।

(৫) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, 'যে ব্যক্তি মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থায় বিভেদ সৃষ্টি করে তার বিধান' পরিচ্ছেদ, হাদিস নং: ১৮৫২।

(৬) দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনী, ১২/৪৭৪; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত মাজমু আল-ফাতাওয়া, ৩৪/২৪১।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قُتل دون دينه فهو شهيد، ومن قُتل دون دمه فهو شهيد)) (1)، وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه قال لخالد بن العاص: أما علمت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من قُتل دون ماله فهو شهيد)) (2).

وعن مُخارق رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى النَّبي صلى الله عليه وسلم فقال الرجل يأتيني يُريد مالي؟ قال: ((ذكِّرهُ بالله))، قال فإن لم يذكر؟ قال: ((فاستعن عليه من حولك من المسلمين))، قال: فإن لم يكن حولي أحد من المسلمين؟ قال: ((فاستعن عليه السلطان))، قال: فإن نأى السلطان عني [وعجل عليَّ]، قال: ((قاتل دون مالك حتى تكون من شُهداء الآخرة أو تمنع مالك)) (3).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، أرأيت إن جاء رجل يريد أخذ مالي؟ قال: ((فلا تعطه مالك)) قال: أرأيت إن قاتلني؟ قال: ((قاتله))، قال: أرأيت إن قتلني؟ قال: ((فأنت شهيد)) قال: أرأيت إن قتلته؟ قال: ((هو في النار)) (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود، في كتاب السنة، باب في قتال اللصوص، برقم 4772، والنسائي، في كتاب المحاربة، باب من قاتل دون أهله، برقم 4091، وفي باب من قاتل دون دينه، برقم 4092، والترمذي، في كتاب الديات، باب من قاتل دون ماله، برقم 1421، وقال: ((هذا حديث حسن صحيح))، وصححه الألباني في صحيح الجامع، برقم 6445.

(2) أخرجه مسلم، في كتاب الإيمان، باب الدليل على أن من قصد أخذ مال غيره بغير حق كان القاصد مهدر الدم في حقه، برقم 141.

(3) أخرجه النسائي، في كتاب تحريم الدم، باب ما يفعل من تعرض لماله، برقم 4086، وصححه الألباني في صحيح الجامع، برقم 4293.

(4) أخرجه مسلم، في كتاب الإيمان، باب الدليل على أن من قصد أخذ مال غيره بغير حق كان القاصد مهدر الدم في حقه، برقم 140.
যে ব্যক্তি তার দ্বীনের রক্ষার্থে নিহত হয় সে শহীদ, আর যে তার জীবনের রক্ষার্থে নিহত হয় সে শহীদ)) (১), এবং আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি খালিদ বিন আসকে বলেছিলেন: তুমি কি জানো না যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি তার সম্পদের রক্ষার্থে নিহত হয় সে শহীদ)) (২)।

এবং মুখারিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, এক ব্যক্তি এসে আমার সম্পদ নিতে চায়? তিনি বললেন: ((তাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দাও)), সে বলল, যদি সে স্মরণ না করে? তিনি বললেন: ((তবে তোমার আশেপাশে থাকা মুসলিমদের সাহায্য নাও)), সে বলল, যদি আমার আশেপাশে কোনো মুসলিম না থাকে? তিনি বললেন: ((তবে সুলতানের সাহায্য নাও)), সে বলল, যদি সুলতান আমার থেকে দূরে থাকে [এবং সে ব্যক্তি আমার ওপর চড়াও হয়]? তিনি বললেন: ((তোমার সম্পদের রক্ষার্থে লড়াই করো, যতক্ষণ না তুমি আখিরাতের শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হও অথবা তোমার সম্পদ রক্ষা করো)) (৩)।

এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি মনে করেন যদি এক ব্যক্তি এসে আমার সম্পদ নিতে চায়? তিনি বললেন: ((তাকে তোমার সম্পদ দিও না)), সে বলল: আপনি কি মনে করেন যদি সে আমার সাথে লড়াই করে? তিনি বললেন: ((তার সাথে লড়াই করো)), সে বলল: আপনি কি মনে করেন যদি সে আমাকে হত্যা করে? তিনি বললেন: ((তবে তুমি শহীদ)), সে বলল: আপনি কি মনে করেন যদি আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন: ((সে জাহান্নামে যাবে)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুস সুন্নাহ, চোরদের বিরুদ্ধে লড়াই অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৪৭৭২; নাসাঈ, কিতাবুল মুহারাবা, পরিবারের রক্ষার্থে লড়াইকারী অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৪০৯১, এবং দ্বীনের রক্ষার্থে লড়াইকারী অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৪০৯২; এবং তিরমিজি, কিতাবুদ দিয়াত, সম্পদের রক্ষার্থে লড়াইকারী অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ১৪২১, এবং তিনি বলেছেন: ((এটি একটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস)); আর আলবানী একে সহিহ আল-জামি'-এ সহিহ (صححه) আখ্যা দিয়েছেন, হাদিস নম্বর ৬৪৪৫।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ লুণ্ঠনকারীর রক্তপাত বৈধ হওয়ার দলীল অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ১৪১।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন নাসাঈ, কিতাবুত তাহরীমুদ দাম, যার সম্পদের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয় তার করণীয় অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৪০৮৬; এবং আলবানী একে সহিহ আল-জামি'-এ সহিহ (صححه) আখ্যা দিয়েছেন, হাদিস নম্বর ৪২৯৩।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ লুণ্ঠনকারীর রক্তপাত বৈধ হওয়ার দলীল অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ১৪০।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌سادساً: شروط وجوب الجهاد:

قد ذكر العلماء رحمهم الله تعالى شروطاً للجهاد، منها ما ذكره الإمام ابن قُدامة رحمه الله تعالى بقوله: ((ويشترط لوجوب الجهاد سبعة شروط: الإسلام، والبلوغ، والعقل، والحُرِّيّة، والذُّكورية، والسلامة من الضرر، ووجود النفقة))، ثم شرح ذلك بالتفصيل والتحقيق رحمه الله تعالى (1).

 

‌‌سابعاً: استئذان الوالدين في الخروج إلى الجهاد:

لا شكَّ أن برَّ الوالدين أفضل الأعمال بعد الصلاة التي هي أعظم دعائم الإسلام؛ لأن النَّبي صلى الله عليه وسلم أخبر بذلك، ورتَّبه بثمَّ التي تعطي الترتيب والمُهلة (2)، فعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم: أيُّ العمل أفضل؟ قال: ((الصلاة لوقتها))، قال: قلت: ثم أيُّ؟ قال: ((ثم بر الوالدين))، قال: قلت: ثم أيُّ؟ قال: ((ثم الجهاد في سبيل الله)) (3)؛ ولأهمية بر الوالدين، وأنه من أعظم القربات، قال النبي صلى الله عليه وسلم لمن استأذنه في الجهاد: ((أحيٌّ والداك؟)) قال: نعم، قال: ((ففيهما فجاهد)) (4)، أي خصصهما بجهاد النفس في رضاهما (5)، وقد بيَّن الحافظ ابن حجر رحمه الله: أن هذا الرجل استفصل (( … عن الأفضل في أعمال الطاعات؛ ليعمل به؛ لأنه سمع فضل الجهاد فبادر

--------------------------------------------

(1) المغني لابن قدامة، 13/ 8.

(2) انظر: الجامع لأحكام القرآن للقرطبي، 10/ 243.

(3) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب مواقيت الصلاة، باب فضل الصلاة لوقتها، برقم 527، ومسلم، في كتاب الإيمان، باب كون الإيمان بالله تعالى أفضل الأعمال، برقم 85.

(4) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الجهاد، باب الجهاد بإذن الأبوين، برقم 3004، ومسلم، في كتاب البر والصلة والآداب، باب بر الوالدين وأنهما أحق به، برقم 2549.

(5) انظر: فتح الباري لابن حجر، 6/ 140.
‌ষষ্ঠত: জিহাদ ফরজ হওয়ার শর্তাবলি:

উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) জিহাদের জন্য কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে যা উল্লেখ করেছেন: "জিহাদ ফরজ হওয়ার জন্য সাতটি শর্ত রয়েছে: ইসলাম গ্রহণ করা, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া, স্বাধীন হওয়া, পুরুষ হওয়া, শারীরিক অক্ষমতা থেকে মুক্ত থাকা এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা থাকা।" অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বিস্তারিত এবং গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা ব্যাখ্যা করেছেন (১)।

 

‌‌সপ্তমত: জিহাদে গমনের ক্ষেত্রে পিতামাতার অনুমতি গ্রহণ:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সালাতের পর পিতামাতার প্রতি সদাচরণ সর্বোত্তম আমল, আর সালাত হলো ইসলামের মহান স্তম্ভসমূহের অন্যতম। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং একে 'সুম্মা' (অতঃপর) অব্যয় দ্বারা বিন্যস্ত করেছেন, যা দ্বারা ধারাবাহিকতা ও অবকাশ বোঝানো হয় (২)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা।" আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "অতঃপর পিতামাতার প্রতি সদাচরণ করা।" আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "অতঃপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা" (৩)। আর পিতামাতার প্রতি সদাচরণের গুরুত্ব এবং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হওয়ার কারণে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনাকারীকে বলেছিলেন: "তোমার পিতামাতা কি জীবিত আছেন?" সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তবে তাদের সন্তুষ্টি অর্জনেই জিহাদ করো" (৪)। অর্থাৎ, তাদের সন্তুষ্টি অর্জনে নফসের জিহাদকে নির্দিষ্ট করো (৫)। হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্ট করেছেন যে, এই ব্যক্তি … আনুগত্যমূলক আমলসমূহের মধ্যে কোনটি সর্বোত্তম তা বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন, যেন তিনি সে অনুযায়ী আমল করতে পারেন; কারণ তিনি জিহাদের ফজিলত সম্পর্কে শুনেছিলেন এবং সেদিকে ত্বরান্বিত হয়েছিলেন...

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ১৩/ ৮।

(২) দেখুন: কুরতুবি রচিত আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, ১০/ ২৪৩।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): ইমাম বুখারি এটি 'সালাতের ওয়াক্তসমূহ' কিতাবের 'সময়মতো সালাত আদায়ের ফজিলত' পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ৫২৭; এবং ইমাম মুসলিম 'ঈমান' কিতাবের 'আল্লাহর প্রতি ঈমান সর্বোত্তম আমল হওয়া' পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ৮৫-এ বর্ণনা করেছেন।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه): ইমাম বুখারি এটি 'জিহাদ' কিতাবের 'পিতামাতার অনুমতি নিয়ে জিহাদে যাওয়া' পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ৩০০৪; এবং ইমাম মুসলিম 'সদাচরণ, সুসম্পর্ক ও শিষ্টাচার' কিতাবের 'পিতামাতার প্রতি সদাচরণ এবং তারাই এর অধিক হকদার' পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ২৫৪৯-এ বর্ণনা করেছেন।

(৫) দেখুন: ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারী, ৬/ ১৪০।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
إليه، ثم لم يقنع حتى استأذن فيه، فَدُلَّ على ما هو أفضل منه في حقِّه)) (1)، فقوله صلى الله عليه وسلم: ((ففيهما فجاهد))، قال الحافظ ابن حجر أيضاً: ((أي إن كان لك أبوان فبالغ جهدك في برهما، والإحسان إليهما؛ فإن ذلك يقوم مقام الجهاد)) (2)؛ لأن المراد بالجهاد في الوالدين: بذل الجهد، والوسع، والطاقة في برهما؛ ولأهمية ذلك بيَّن العلماء أنه لا يجوز الخروج للجهاد إلا بإذن الأبوين بشرط أن يكونا مسلمين؛ لأن برهما فرض عين، والجهاد فرض كفاية؛ فإن تعيّن الجهاد، وكان فرض عين فلا إذن؛ لأن الجهاد أصبح فرضاً على الجميع: إما باستنفار الإمام، أو هجوم العدوِّ على البلاد، أو حضور الصَّفِّ (3)، أما إذا كان الجهاد فرض كفاية فلا يجوز الخروج إليه إلا بإذن الوالدين؛ ولهذا جاء في حديث ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((رِضَى الرب في رضى الوالد، وسخط الرب في سخط الوالد)) (4)،وجاء في حديث جاهمة أنه جاء إلى صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله أردتُ أن أغزوَ وقد جئت أستشيرك، فقال صلى الله عليه وسلم: ((هل لك من أمٍّ؟))،قال: نعم، قال: ((فالْزَمها فإِنَّ الجنَّة تحت (5) رِجْلَيْهَا)) (6)، وعن أبي الدرداء

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، 6/ 140.

(2) فتح الباري بشرح صحيح البخاري، لابن حجر، 10/ 403.

(3) انظر: مشكل الآثار للطحاوي، 5/ 563، ومعالم السنن للخطابي، 3/ 378، والمفهم لِمَا أشكل من تلخيص كتاب مسلم، للقرطبي، 6/ 509.

(4) أخرجه الترمذي، في كتاب البر والصلة، باب ما جاء من الفضل في رضا الوالدين، برقم 1899، والحاكم وصححه على شرط مسلم، ووافقه الذهبي، 4/ 152، وصححه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة، برقم 516،وفي صحيح الأدب المفرد، ص 33،برقم 2.

(5) تحت رجليها: أي نصيبك من الجنة لا يصل إليك إلا برضاها، وكأنه لها وهي قاعدة عليه، فلا يصل إليك إلا من جهتها، [حاشية السندي على سنن النسائي، 6/ 11].

(6) أخرجه النسائي، في كتاب الجهاد، باب الرخصة في التخلف لمن له والدة، برقم 3104، وأحمد في المسند، 3/ 429، والحاكم وصححه، ووافقه الذهبي، 4/ 151، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد، 8/ 138: ((رواه الطبراني في الأوسط ورجاله ثقات))، وحسنه عبد القادر الأرنؤوط في جامع الأصول، 1/ 403.
তার কাছে, অতঃপর তিনি এতে সন্তুষ্ট না হয়ে অনুমতি চাইলেন, তখন তাকে তার ক্ষেত্রে এর চেয়েও উত্তম বিষয়ের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো)) (১)। অতঃপর নবী (সা.)-এর বাণী: ((সুতরাং তাদের মাঝেই জিহাদ করো)), হাফিজ ইবনে হাজার আরও বলেন: ((অর্থাৎ যদি তোমার পিতামাতা জীবিত থাকে, তবে তাদের সেবা ও তাদের সাথে সদাচরণে তোমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করো; কেননা তা জিহাদের স্থলাভিষিক্ত হয়)) (২)। কারণ পিতামাতার ক্ষেত্রে জিহাদের উদ্দেশ্য হলো: তাদের সেবায় সামর্থ্য ও শক্তি ব্যয় করা। এর গুরুত্বের কারণে আলেমগণ বর্ণনা করেছেন যে, পিতামাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদে যাওয়া জায়েয নয়, শর্ত হলো তাদের উভয়কে মুসলিম হতে হবে; কেননা তাদের সেবা করা হলো ব্যক্তিগত ফরজ (فرض عين), আর জিহাদ হলো সামষ্টিক ফরজ (فرض كفاية)। কিন্তু যদি জিহাদ অবধারিত হয়ে যায় এবং তা ব্যক্তিগত ফরজ (فرض عين) হয়ে দাঁড়ায়, তবে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই; কারণ জিহাদ তখন সকলের জন্য ফরজ হয়ে যায়: হয় ইমামের আহ্বানের কারণে, অথবা দেশে শত্রু আক্রমণের কারণে, অথবা যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হওয়ার কারণে (৩)। আর যদি জিহাদ সামষ্টিক ফরজ (فرض كفاية) হয়, তবে পিতামাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদে যাওয়া জায়েয নয়। এই কারণেই ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: ((পিতার সন্তুষ্টিতে রবের সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে রবের অসন্তুষ্টি নিহিত)) (৪)। এবং জাহিমাহ এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নবী (সা.)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি এবং আপনার পরামর্শ নিতে এসেছি। তখন নবী (সা.) বললেন: ((তোমার কি মা আছে?)) তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ((তবে তাকেই আঁকড়ে ধরো, কেননা তার পদতলেই (৫) জান্নাত রয়েছে)) (৬)। এবং আবু দারদা থেকে বর্ণিত

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, ৬/১৪০।

(২) ফাতহুল বারী বি-শারহি সহীহ বুখারী, ইবনে হাজার, ১০/৪০৩।

(৩) দ্রষ্টব্য: তহাবীর মুশকিলুল আসার, ৫/৫৬৩; খাত্তাবীর মাআলিমুস সুনান, ৩/৩৭৮; এবং কুরতুবীর আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখীসি কিতাবি মুসলিম, ৬/৫০৯।

(৪) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন ‘সদাচরণ ও আত্মীয়তা’ অধ্যায়ে, ‘পিতামাতার সন্তুষ্টির ফজিলত’ পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ১৮৯৯; এবং হাকেম এটি বর্ণনা করে মুসলিমের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন, ৪/১৫২। আলবানী একে সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ-তে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নম্বর ৫১৬; এবং সহীহ আদাবুল মুফরাদ-এ, পৃষ্ঠা ৩৩, হাদিস নম্বর ২।

(৫) তার পদতলে: অর্থাৎ জান্নাতের অংশ তোমার কাছে পৌঁছাবে না তার সন্তুষ্টি ব্যতীত, যেন জান্নাত তার অধীনে এবং তিনি তার ওপর উপবিষ্ট, ফলে তার দিক থেকেই কেবল তা তোমার কাছে পৌঁছাতে পারে, [সুনান নাসাঈর ওপর সিনদীর হাশিয়া, ৬/১১]।

(৬) নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন জিহাদ অধ্যায়ে, ‘যার মা আছে তার যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি’ পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর ৩১০৪; এবং আহমদ মুসনাদে, ৩/৪২৯; এবং হাকেম একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন, ৪/১৫১। হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলেছেন (৮/১৩৮): ((তাবারানী এটি আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات))) এবং আব্দুল কাদির আরনাউত জামিউল উসূল গ্রন্থে একে হাসান (حسن) বলেছেন, ১/৪০৩।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
- رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((الوالد أوسط أبواب الجنة، فإن شئت فأضِعْ ذلك الباب أو احفظه)) (1)؛ ولهذه الأحاديث لا يجوز الخروج إلى جهاد التَّطوّع، وفرض الكفاية إلا بإذن الوالدين، والبقاء معهما، والإحسان إليهما أفضل من الخروج بإذنهما، أما إذا تعيَّن الجهاد فلا؛ لأنه أصبح فرضاً على الجميع.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي، في كتاب البر والصلة، باب ما جاء من الفضل في رضا الوالدين، برقم 1900، وقال: ((هذا حديث صحيح))، وقال عبد القادر الأرنؤوط في حاشيته على جامع الأصول، 1/ 404: ((وهو كما قال)).

আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((পিতা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা; সুতরাং তুমি চাইলে সেই দরজাটি নষ্ট করে দিতে পারো অথবা তা সংরক্ষণ করতে পারো)) (১); আর এই হাদিসগুলোর কারণে পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতীত নফল জিহাদ এবং যৌথ আবশ্যিক (فرض الكفاية) জিহাদে বের হওয়া বৈধ নয়। তাঁদের সাথে অবস্থান করা এবং তাঁদের প্রতি সদাচরণ করা তাঁদের অনুমতি নিয়ে বের হওয়ার চেয়েও উত্তম। তবে জিহাদ যখন ব্যক্তিগতভাবে অবধারিত হয়, তখন আর এই অনুমতি প্রযোজ্য নয়; কারণ তখন এটি সকলের জন্য আবশ্যিক (فرض) হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযি এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, পিতা-মাতার সন্তুষ্টির ফজিলত বিষয়ক পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৯০০; তিনি বলেছেন: ((এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস))। আব্দুল কাদির আল-আরনাউত জামিউল উসুল-এর টীকায় (১/৪০৪) বলেছেন: ((তিনি যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই))।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌ثامناً: أمر الجهاد موكول إلى إمام المسلمين واجتهاده:

ويلزم الرعية طاعته فيما يراه من ذلك؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ الله وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِالله وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} (1)؛ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني، فقد عصى الله، ومن أطاع أميري فقد أطاعني، ومن عصى أميري فقد عصاني)) (2)، وفي حديث حذيفة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال له: ((تسمع وتطيع للأمير وإن ضرب ظهرك، وأخذ مالك، فاسمع وأطع)) (3).

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((فطاعة الله ورسوله واجبة على كل أحد، وطاعة ولاة الأمر واجبة؛ لأمر الله بطاعتهم، فمن أطاع الله ورسوله بطاعة ولاة الأمر فأجره على الله، ومن كان لا يطيعهم إلا لما يأخذه من الولاية والمال فإن أعطوه أطاعهم وإن منعوه عصاهم: فما له في الآخرة من خلاق)) (4).

ومن طاعة ولي الأمر عدم الجهاد إلا بإذنه؛ لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم يستأذنه في الجهاد فقال: ((أحيٌّ

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، الآية: 59.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الأحكام، باب قول الله تعالى: {أَطِيعُواْ الله وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ}، برقم 7137، ومسلم، في كتاب الإمارة، باب وجوب طاعة الأمراء في غير معصية، وتحريمها في المعصية، برقم 1835.

(3) أخرجه مسلم، في كتاب الإمارة، باب وجوب ملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال، برقم 1847/ 52.

(4) فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 35/ 16 - 17.
অষ্টম: জিহাদের বিষয়টি মুসলিমদের ইমাম এবং তাঁর ইজতিহাদের (اجتهاد) ওপর ন্যস্ত:

এবং প্রজাসাধারণের ওপর এ বিষয়ে ইমামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক; কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য হতে উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট} (১); এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: ((যে আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো। এবং যে আমার (নিযুক্ত) আমিরের আনুগত্য করল, সে মূলত আমারই আনুগত্য করল; আর যে আমার আমিরের অবাধ্য হলো, সে মূলত আমারই অবাধ্য হলো)) (২)। আর হুজাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: ((তুমি আমিরের কথা শুনবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে, যদিও তিনি তোমার পিঠে প্রহার করেন এবং তোমার ধন-সম্পদ কেড়ে নেন; তবুও তুমি শুনবে ও আনুগত্য করবে)) (৩)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য প্রত্যেকের ওপর ওয়াজিব (واجب)। আর উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করাও ওয়াজিব (واجب); যেহেতু আল্লাহ তাদের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি উলুল আমরের আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যে ব্যক্তি কেবল শাসনক্ষমতা বা ধন-সম্পদ লাভের আশায় তাদের আনুগত্য করে—অর্থাৎ তারা তাকে প্রদান করলে সে আনুগত্য করে, আর না দিলে অবাধ্য হয়—পরকালে তার কোনো অংশ নেই)) (৪)।

আর অভিভাবকের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর অনুমতি ব্যতীত জিহাদে না যাওয়া; আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করল, তখন তিনি বললেন: ((তোমার (পিতা-মাতা) কি জীবিত...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, আহকাম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী: {তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসুলের ও তোমাদের মধ্য হতে উলুল আমরের}, হাদিস নম্বর ৭১৩৭; এবং ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, ইমারাহ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: পাপের কাজ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে আমিরদের আনুগত্য করা ওয়াজিব (واجب) হওয়া এবং পাপে অবাধ্য হওয়া হারাম হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ১৮৩৫।

(৩) ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, ইমারাহ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ফিতনার প্রকাশকালে এবং সর্বাবস্থায় মুসলিম জামাতের সাথে থাকা অপরিহার্য হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর ১৮৪৭/ ৫২।

(৪) ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩৫/ ১৬ - ১৭।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
والداك))؟ قال: نعم، قال: ((ففيهما فجاهد)) (1)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إنَّما الإمام جُنَّة يُقاتل من ورائه، ويتقى به، فإن أمر بتقوى الله عز وجل وعدل كان له بذلك أجر، وإن أمر بغيره كان عليه منه)) (2)، ومما يفسر ذلك قول الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى: ((وأمر الجهاد موكول إلى الإمام واجتهاده، ويلزم الرعية طاعته فيما يراه من ذلك)) (3)، وقال الإمام الخرقي رحمه الله: ((وواجب على الناس إذا جاء العدو أن ينفروا: المقلّ منهم والمُكثر، ولا يخرجون إلى العدوِّ إلا بإذن الأمير، إلا أن يفجأهم عدوٌّ يخافون كلبَهُ – أي شرّه وأذاه – فلا يُمْكِنهم أن يستأذنوه)) (4)، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((فإذا ثبت هذا فإنهم لا يخرجون إلا بإذن الأمير؛ لأن أمر الحرب موكول إليه، وهو أعلم بكثرة العدو وقلّتهم، ومكامن العدو، وكيدهم، فينبغي أن يُرجع إلى رأيه؛ لأنه أحوط للمسلمين إلا أن يتعذر استئذانه؛ لمفاجأة عدوهم لهم، فلا يجب استئذانه؛ لأن المصلحة تتعين في قتالهم، والخروج إليه؛ لتعيّن الفساد في تركهم، ولذلك لما أغار الكفار على لقاح النبي صلى الله عليه وسلم فصادفهم سلمة بن الأكوع خارجاً من المدينة تبعهم فقاتلهم من غير إذن، فمدحه النبي صلى الله عليه وسلم بقوله (5): ((وخير رجَّالتنا سلمة)) فأعطاه النبي صلى الله عليه وسلم سهمين: سهم الفارس،

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، برقم 3004، ومسلم، برقم 2549، وتقدم تخريجه في استئذان الوالدين في الخروج إلى الجهاد في سبيل الله تعالى.

(2) أخرجه مسلم، في كتاب الإمارة، باب الإمام جنة يقاتل به من ورائه أو يتقى به، برقم 1841.

(3) المغني لابن قدامة، 13/ 16.

(4) مختصر الخرقي المطبوع مع المغني، 3/ 33.

(5) المغني لابن قدامة، 13/ 33 - 34.
(তোমার) বাবা-মা কি জীবিত?)) তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: ((তবে তাদের সেবায় জিহাদ করো)) (১); এবং আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত নবী (সা.)-এর হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই ইমাম বা নেতা হলেন ঢালস্বরূপ, যার পেছনে থেকে যুদ্ধ করা হয় এবং যার মাধ্যমে সুরক্ষা অর্জন করা হয়। তিনি যদি মহান আল্লাহর তাকওয়া এবং ইনসাফের নির্দেশ দেন, তবে তার জন্য সওয়াব রয়েছে; আর যদি তিনি অন্য কিছুর নির্দেশ দেন, তবে এর দায়ভার তাঁর ওপরই বর্তাবে)) (২)। ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.)-এর নিম্নোক্ত উক্তিটি এরই ব্যাখ্যা প্রদান করে: ((জিহাদের বিষয়টি ইমাম এবং তাঁর গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত বা ইজতিহাদের (اجتهاد) ওপর ন্যস্ত, এবং এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজাসাধারণের জন্য তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক)) (৩)। ইমাম খিরকি (রহ.) বলেন: ((শত্রু যখন আক্রমণ করে, তখন সৈন্য সংখ্যা কম হোক বা বেশি, সকলের জন্য যুদ্ধে বের হওয়া আবশ্যিক (واجب)। তবে আমিরের অনুমতি ব্যতীত তারা শত্রুর মোকাবিলায় বের হবে না; যদি না কোনো শত্রু হঠাৎ এমনভাবে আক্রমণ করে যে তাদের অনিষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে এবং আমিরের অনুমতি নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে)) (৪)। ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন: ((যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন তারা আমিরের অনুমতি ব্যতীত (জিহাদে) বের হবে না; কেননা যুদ্ধের বিষয়টি তাঁর ওপর ন্যস্ত। তিনি শত্রুর সংখ্যাধিক্য বা স্বল্পতা, তাদের গোপন ঘাঁটি এবং রণকৌশল সম্পর্কে অধিক অবগত। সুতরাং তাঁর সিদ্ধান্তের দিকেই ফিরে আসা উচিত; কারণ এটি মুসলিমদের জন্য অধিক নিরাপদ ও সতর্কতামূলক। তবে যদি শত্রুর আকস্মিক আক্রমণের কারণে অনুমতি গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে অনুমতি নেওয়া আবশ্যিক (واجب) নয়। কারণ তখন তাদের মোকাবিলায় বের হওয়া এবং যুদ্ধের মধ্যেই কল্যাণ সুনিশ্চিত হয় এবং তাদের ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে নিশ্চিত অমঙ্গল নিহিত থাকে। এ কারণেই কাফেররা যখন নবী (সা.)-এর দুগ্ধবতী উষ্ট্রীগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল, তখন মদিনার বাইরে থাকা সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) তাদের মুখোমুখি হন এবং অনুমতি ছাড়াই তাদের পিছু নিয়ে যুদ্ধ করেন। নবী (সা.) তাঁর প্রশংসা করে বলেছিলেন (৫): ((আমাদের পদাতিক বাহিনীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো সালামা।)) অতঃপর নবী (সা.) তাঁকে দুই ব্যক্তির অংশ প্রদান করেন: একজন অশ্বারোহীর অংশ,

--------------------------------------------

(১) একমত পোষণকৃত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নম্বর ৩০০৪, এবং মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫৪৯; আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে পিতামাতার অনুমতি গ্রহণের বিষয়ে এর উৎস নির্দেশ বা তাখরিজ (تخريج) পূর্বে করা হয়েছে।

(২) মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত, কিতাবুল ইমারাহ, অনুচ্ছেদ: ইমাম হলেন ঢালস্বরূপ যার পেছনে থেকে যুদ্ধ করা হয় বা সুরক্ষা নেওয়া হয়, হাদিস নম্বর ১৮৪১।

(৩) ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনি, ১৩/ ১৬।

(৪) আল-মুগনির সাথে মুদ্রিত মুখতাসার আল-খিরকি, ৩/ ৩৩।

(৫) ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনি, ১৩/ ৩৩ - ৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وسهم الراجل (1)، وذكر الإمام الخرقي وابن قدامة أيضاً أنه لا يجوز حتى الخروج من العسكر إلا بإذن الأمير، ولا يُحدث حدثاً إلا بإذنه (2)؛ لقول الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِالله وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالله وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَن لِّمَن شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ الله إِنَّ الله غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (3)؛ ولأن الأمير أعرف بحال العدو، ومكامنهم، ومواضعهم، وقربهم، وبعدهم، فإذا خرج خارج بغير إذنه لم يأمن أن يصادف كميناً للعدوِّ فيأخذه … )) (4).

ولِما تقدّم لا يجوز لأحد من أفراد رعية الإمام المسلم – وإن كان عاصياً – أن يخرج إلى الجهاد إلا بإذنه على حسب ما تقدم. قال الإمام الخرقي رحمه الله: ((ويُغزى مع كلِّ برٍّ وفاجرٍ))، قال ابن قدامة: ((يعني مع كل إمام)) (5).

ولا يجوز لأحد من رعية الإمام أن يدعو الناس إلى الجهاد بدون إذن الإمام؛ لما في ذلك من المفاسد، والأضرار، ومخالفة إمام المسلمين الذي أمرنا الله بطاعته، وعلى كل مسلم أن يسأل أهل العلم إن لم يعلم؛ ولهذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((والواجب أن يُعتبر في أمور

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم، في كتاب الجهاد والسير، باب غزوة ذي قرد وغيرها، برقم 1807.

(2) المغني لابن قدامة، 13/ 37.

(3) سورة النور، الآية: 62.

(4) المغني لابن قدامة، 13/ 38.

(5) المرجع السابق، 13/ 14.
পদাতিক সৈন্যের অংশ (১), এবং ইমাম আল-খারকি ও ইবনু কুদামা আরও উল্লেখ করেছেন যে, আমিরের অনুমতি ব্যতিরেকে এমনকি সৈন্যদল থেকে বের হওয়াও বৈধ নয়, এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না (২); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনে এবং তারা যখন তাঁর সঙ্গে কোনো সামষ্টিক কাজে থাকে, তখন তাঁর অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয়ই যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনে। অতএব তারা তাদের কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তোমার কাছে অনুমতি চাইলে তুমি তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দেবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (৩); আর যেহেতু আমির শত্রুর অবস্থা, তাদের ওত পেতে থাকার জায়গা, অবস্থান, নৈকট্য এবং দূরত্ব সম্পর্কে সম্যক অবগত, তাই যদি কেউ তাঁর অনুমতি ছাড়া বের হয়, তবে সে শত্রুর অ্যাম্বুশ বা গুপ্ত হামলার শিকার হওয়া থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না … )) (৪)।

আর পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, মুসলিম ইমামের প্রজাসাধারণের কারো জন্য—এমনকি তিনি পাপাচারী হলেও—তাঁর অনুমতি ব্যতীত জিহাদে বের হওয়া বৈধ নয়, যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আল-খারকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((প্রত্যেক নেককার ও পাপাচারী [ইমামের] সাথে জিহাদ করতে হবে)), ইবনু কুদামা বলেন: ((অর্থাৎ প্রত্যেক ইমামের সাথে)) (৫)।

আর ইমামের প্রজাদের কারো জন্য ইমামের অনুমতি ব্যতীত মানুষকে জিহাদের দিকে আহ্বান করা বৈধ নয়; কারণ এতে বিশৃঙ্খলা, ক্ষতি এবং মুসলিমদের ইমামের বিরোধিতা নিহিত রয়েছে, যাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন। আর প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো, যদি সে না জানে তবে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করা; এ কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এবং কর্তব্য হলো বিষয়সমূহ বিবেচনা করা...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه), জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায়, যি কারাদ যুদ্ধ ও অন্যান্য পরিচ্ছেদ, নং ১৮০৭।

(২) ইবনু কুদামার আল-মুগনি, ১৩/ ৩৭।

(৩) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬২।

(৪) ইবনু কুদামার আল-মুগনি, ১৩/ ৩৮।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, ১৩/ ১৪।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الجهاد برأي أهل الدين الصحيح، في الباطن الذين لهم خبرة بما عليه أهل الدنيا، فأما أهل الدنيا الذين يغلب عليهم النظر في ظاهر الدين فلا يُؤخذ برأيهم، ولا برأي أهل الدين الذين لا خبرة لهم في الدنيا)) (1).

ومما يُؤكد أهمية السمع والطاعة ما حصل لصحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم مع رسول الله عليه الصلاة والسلام في صلح الحديبية حينما اشتد عليهم الكرب بمنعهم من العمرة، وما رأوا من غضاضة على المسلمين في الظاهر، ولكنهم امتثلوا أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان ذلك فتحاً قريباً، وخلاصة ذلك أن سهيل بن عمرو قال للنبي صلى الله عليه وسلم حينما كتب: بسم الله الرحمن الرحيم: اكتب باسمك اللهم، فوافق معه النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك، ولم يوافق سهيل على كَتب محمد رسول الله، فتنازل النبي صلى الله عليه وسلم وأمر أن يكتب محمد بن عبد الله، ومنع سهيل في الصلح أن تكون العمرة في هذا العام، وإنما في العام المقبل، وفي الصلح أن من أسلم من المشركين يردُّه المسلمون، ومن جاء من المسلمين إلى المشركين لا يُردّ، وأول من نُفِّذ عليه الشرط أبو جندل بن سهيل بن عمرو، فردَّهُ النبي صلى الله عليه وسلم بعد محاورة عظيمة، وحينئذٍ غضب الصحابة لذلك حتى قال عمر رضي الله عنه للنبي صلى الله عليه وسلم: ألست نبيّ الله حقّاً؟ قال: ((بلى))، قال: ألسنا على الحق، وعدوُّنا على الباطل؟ قال صلى الله عليه وسلم: ((بلى))، قال: فلم نُعطي الدنية في ديننا إذاً؟ قال: ((إني رسول الله، ولست أعصيه، وهو ناصري))، قال عمر: فعملت لذلك أعمالاً، فلما فرغ الكتاب أمر النبي صلى الله عليه وسلم الناس أن ينحروا ويحلقوا فلم يفعلوا، فدخل على أم سلمة رضي الله عنها، فشكا ذلك، فقالت: انحر واحلق،

--------------------------------------------

(1) الاختيارات الفقهية لشيخ الإسلام ابن تيمية، ص449.
জিহাদ কেবল সেই সকল সঠিক দীনদার লোকেদের মতামতের ভিত্তিতে হবে যারা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং যাদের পার্থিব বিষয়াবলি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা রয়েছে। পক্ষান্তরে, সেই সকল দুনিয়াদার লোক যাদের ওপর দীনের বাহ্যিক দৃষ্টিই কেবল প্রবল থাকে, তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে না; এমনকি সেই সব দীনদার লোকের মতামতও নয় যাদের পার্থিব বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই।)) (১)।

শোনা ও আনুগত্যের গুরুত্বের ব্যাপারে একটি বড় প্রমাণ হলো হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর সাহাবীদের যা ঘটেছিল। যখন উমরাহ পালনে বাধা দেওয়ায় তারা চরম কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের জন্য অপমানজনক কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন, কিন্তু তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ পালন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি আসন্ন বিজয়ে পরিণত হয়েছিল। সংক্ষেপে সেই ঘটনা হলো, যখন সন্ধিপত্র লেখা হচ্ছিল, তখন সুহাইল ইবনে আমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম'-এর পরিবর্তে 'আল্লাহুম্মা বিইসমিকা' (হে আল্লাহ! আপনার নামে) লিখুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে তার সাথে সম্মত হলেন। সুহাইল 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' লেখার ব্যাপারে রাজি হননি, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড় দিলেন এবং 'মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ' লিখতে নির্দেশ দিলেন। সুহাইল সন্ধিতে এই শর্তারোপ করলেন যে, এ বছর উমরাহ করা যাবে না, বরং আগামী বছর করতে হবে। সন্ধির আরও শর্ত ছিল যে, মুশরিকদের মধ্য থেকে কেউ ইসলাম গ্রহণ করে চলে আসলে মুসলিমরা তাকে ফিরিয়ে দিবে, কিন্তু মুসলমানদের মধ্য থেকে কেউ মুশরিকদের কাছে চলে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। যাঁর ওপর প্রথম এই শর্ত প্রয়োগ করা হয়েছিল তিনি হলেন আবু জান্দাল ইবনে সুহাইল ইবনে আমর। দীর্ঘ আলোচনার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এতে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। এমনকি উমর (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: "আপনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন?" তিনি বললেন: "অবশ্যই।" উমর (রা.) বললেন: "আমরা কি সত্যের ওপর নই এবং আমাদের শত্রুরা কি বাতিলের ওপর নয়?" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "অবশ্যই।" উমর (রা.) বললেন: "তাহলে কেন আমরা আমাদের দীনের ব্যাপারে হীনম্মন্যতা মেনে নেব?" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর রাসূল, আমি তাঁর অবাধ্য হই না এবং তিনিই আমার সাহায্যকারী।" উমর (রা.) বলেন: "আমি এই কাজের (ভুলের কাফফারা) জন্য অনেক আমল করেছি।" যখন চুক্তিপত্র লেখা শেষ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের পশু কোরবানি করতে ও মাথা মুণ্ডন করতে আদেশ দিলেন, কিন্তু তারা তা করলেন না। তখন তিনি উম্মে সালামাহ (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করে এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন: "আপনি নিজে কোরবানি করুন এবং মাথা মুণ্ডন করুন,"

--------------------------------------------

(১) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার আল-ইখতিয়ারাত আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فخرج فنحر، وحلق، فنحر الناس وحلقوا حتى كاد يقتل بعضهم بعضاً (1)، فحصل بهذا الصلح من المصالح ما الله به عليم، ونزلت سورة الفتح، ودخل في السنة السادسة والسابعة في الإسلام مثل ما كان في الإسلام قبل ذلك أو أكثر، ثم دخل الناس في دين الله أفواجاً بعد الفتح في السنة الثامنة.

وهذا ببركة طاعة الله ورسوله؛ ولهذا قال سهيل بن حنيف رضي الله عنه: ((اتهموا رأيكم، رأيتني يوم أبي جندل لو أستطيع أن أردّ أمر النبي صلى الله عليه وسلم لرددته)) (2)، وهذا يدل على مكانة الصحابة رضي الله عنهم، وتحكيمهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فحصل لهم من الفتح والنصر ما حصل ولله الحمد والمنة.

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الشروط، باب الشروط في الجهاد، برقم 2731، 2732، ومسلم، في كتاب الجهاد والسير، باب صلح الحديبية، برقم 1784.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الجزية والموادعة، باب رقم 18، برقم 3181، ومسلم، في كتاب الجهاد والسير، باب صلح الحديبية في الحديبية، برقم 1785/ 95.
অতঃপর তিনি বের হয়ে পশু কুরবানি করলেন এবং মাথা মুণ্ডন করলেন। ফলে অন্য লোকেরাও কুরবানি করল এবং মাথা মুণ্ডন করল, এমনকি ভিড়ের প্রচণ্ডতায় তারা একে অপরের ওপর চড়ে বসার বা প্রায় মেরে ফেলার উপক্রম হয়েছিল (১)। এই সন্ধির ফলে এমন সব কল্যাণ ও উপকারিতা অর্জিত হয়েছিল যা কেবল আল্লাহই সম্যক অবগত। সূরা আল-ফাতহ অবতীর্ণ হলো এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম হিজরি সনে ইসলামে এত অধিক সংখ্যক লোক প্রবেশ করল যা পূর্বেকার ইসলামের ইতিহাসে প্রবেশকারী লোকদের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি ছিল। অতঃপর অষ্টম হিজরি সনে মক্কা বিজয়ের পর মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল।

আর এটি ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের বরকত। এই কারণেই সুহাইল ইবনে হুনাইফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “তোমরা নিজদের রায়ের (মতামতের) ব্যাপারে সন্দিহান হও। আবু জানদালের (ঘটনার) দিনে আমি নিজেকে দেখেছি যে, যদি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই তা করতাম” (২)। এটি সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সুউচ্চ মর্যাদা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করার প্রমাণ বহন করে। এর ফলে তাদের জন্য যে বিজয় ও সাহায্য অর্জিত হয়েছিল তা তো সবারই জানা; সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহরই জন্য।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুশ শুরূত (শর্তাবলি অধ্যায়), জিহাদের ক্ষেত্রে শর্তাবলি অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৭৩১, ২৭৩২; এবং মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৭৮৪।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল জিজয়া ওয়াল মুওয়াদাআ, অনুচ্ছেদ নং ১৮, হাদিস নং ৩১৮১; এবং মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, হুদায়বিয়ার সন্ধি অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ১৭৮৫/ ৯৫।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌تاسعاً: الاعتصام بالكتاب والسنة وخاصة أيام الفتن:

يجب على المسلم أن يعتصم بالكتاب والسنة، وخاصة في أيام الفتن؛ ولهذا حذّر النبي صلى الله عليه وسلم من الفتن واستعاذ منها، وأمر بلزوم جماعة المسلمين، فقال صلى الله عليه وسلم: ((تعوَّذُوا بالله من الفتن ما ظهر منها وما بطن)) (1)، وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((يتقارب الزمان، وينقص العمل، ويُلقى الشحّ، وتظهر الفتن، ويكثر الهرج))، قالوا: يا رسول الله، أيّما هو؟ قال: ((القتل، القتل))، وفي لفظ: ((يتقارب الزمان، وينقص العلم … )) (2).

وقد بيّن النبي صلى الله عليه وسلم أنه لا يأتي زمان إلا والذي بعده أشرّ منه، فعن الزبير بن عدي رضي الله عنه قال: أتينا أنس بن مالك فشكونا إليه ما يلقون من الحَجَّاج فقال: ((اصبروا، فإنه لا يأتي عليكم زمان إلا والذي بعده أشرّ منه حتى تلقوا ربكم))، سمعته من نبيكم صلى الله عليه وسلم (3).

وحثَّ صلى الله عليه وسلم على الأعمال الصالحة قبل الانشغال عنها بما يحدث من الفتن الشاغلة المتكاثرة، فقال: ((بادروا بالأعمال فتناً كقطع الليل المظلم، يُصبح الرجل مؤمناً ويُمسِي كافراً، أو يمسي مؤمناً ويصبح كافراً، يبيع دينه بعرض من الدنيا)) (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم، في كتاب الجنة وصفة نعيمها وأهلها، باب عرض مقعد الميت من الجنة أو النار عليه وإثبات عذاب القبر والتعوذ منه، برقم 2867.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الفتن، باب ظهور الفتن، برقم 7061، ومسلم، في كتاب العلم، باب رفع العلم وقبضه وظهور الجهل والفتن في آخر الزمان، برقم 157/ 12، بعد حديث رقم 2672.

(3) أخرجه البخاري، في كتاب الفتن، باب لا يأتي زمان إلا الذي بعده شر منه، برقم 7068.

(4) أخرجه مسلم، في كتاب الإيمان، باب الحث على المبادرة بالأعمال قبل تظاهر الفتن، برقم 118.
‌‌নবম: কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, বিশেষ করে ফিতনার দিনগুলোতে:

একজন মুসলিমের জন্য কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য, বিশেষ করে ফিতনার দিনগুলোতে; এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন, আর মুসলিমদের জামাতের সাথে যুক্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা ফিতনার প্রকাশ্য ও গোপন উভয় দিক থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো)) (১)। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, আমল হ্রাস পাবে, মানুষের অন্তরে কৃপণতা ঢেলে দেওয়া হবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং 'হারজ' বৃদ্ধি পাবে))। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! 'হারজ' কী? তিনি বললেন: ((হত্যা, হত্যা))। অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: ((সময় সংকুচিত হয়ে আসবে এবং ইলম হ্রাস পাবে...)) (২)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট করেছেন যে, এমন কোনো সময় আসবে না যার পরবর্তী সময়টি তার চেয়ে মন্দ হবে না। জুবায়ের ইবনে আদি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আনাস ইবনে মালিকের কাছে আসলাম এবং হাজ্জাজের পক্ষ থেকে আমরা যে জুলুমের শিকার হচ্ছিলাম সে সম্পর্কে অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেন: ((তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, কারণ তোমাদের ওপর এমন কোনো সময় আসবে না যার পরবর্তী সময়টি তার চেয়ে মন্দ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। আমি এটি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি)) (৩)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্রমবর্ধমান এবং বিভ্রান্তিকর ফিতনার মাধ্যমে ব্যস্ত হয়ে পড়ার আগেই নেক আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন: ((তোমরা অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ঘনঘোর ফিতনা আসার আগেই দ্রুত নেক আমলের দিকে অগ্রসর হও। সে সময় সকালে একজন ব্যক্তি মুমিন থাকবে কিন্তু সন্ধ্যায় কাফেরে পরিণত হবে, অথবা সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে কিন্তু সকালে কাফেরে পরিণত হবে; সে দুনিয়ার নগণ্য সম্পদের বিনিময়ে নিজের দ্বীনকে বিক্রি করে দেবে)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, জান্নাত, এর নিয়ামত এবং জান্নাতবাসীদের বিবরণ অধ্যায়ে, মৃত ব্যক্তির সামনে জান্নাত বা জাহান্নামের স্থান পেশ করা এবং কবরের আজাব সাব্যস্ত হওয়া ও তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ২৮৬৭।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, ফিতনা অধ্যায়ে, ফিতনার প্রকাশ পাওয়া পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ৭০৬১; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন, ইলম অধ্যায়ে, ইলম তুলে নেওয়া ও তা কবজ করা এবং শেষ জামানায় মূর্খতা ও ফিতনার প্রকাশ পাওয়া পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ১৫৭/১২, হাদিস নং ২৬৭২-এর পরে।

(৩) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, ফিতনা অধ্যায়ে, এমন কোনো সময় আসে না যার পরবর্তী সময়টি তার চেয়ে মন্দ হয় না পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ৭০৬৮।

(৪) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, ঈমান অধ্যায়ে, ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার পূর্বেই নেক আমলের প্রতি দ্রুত অগ্রসর হওয়ার উৎসাহ প্রদান পরিচ্ছেদে, হাদিস নং ১১৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ستكون فتنٌ القاعد فيها خير من القائم، والقائم فيها خير من الماشي، والماشي فيها خير من الساعي، ومن تشرَّف لها تستشرفه، ومن وجد ملجأ أو معاذاً فليعذ به)) (1).

والمخرج من جميع الفتن المضلَّة التمسك بالكتاب والسُّنَّة، ولزوم جماعة المسلمين وإمامهم؛ لأن من خالف ذلك فهو من الضَّالين.

قال الله عز وجل: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى الله وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ الله وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُّبِينًا} (2)، وقال سبحانه وتعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا} (3).

وقال تعالى: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى * قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا * قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آَيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى} (4)، وقال تعالى فيمن يخالف أمر النبي صلى الله عليه وسلم: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (5).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب المناقب، باب علامات النبوة في الإسلام، برقم 3601، ومسلم، في كتاب الفتن وأشراط الساعة، باب نزول الفتن كمواقع القطر، برقم 2886.

(2) سورة الأحزاب، الآية: 36.

(3) سورة النساء، الآية: 65.

(4) سورة طه، الآيات: 124 – 126.

(5) سورة النور، الآية: 63.
আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অচিরেই এমন ফিতনা দেখা দেবে যাতে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে, এবং দণ্ডায়মান ব্যক্তি বিচরণকারী ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে, এবং বিচরণকারী ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। যে ব্যক্তি সেই ফিতনার দিকে উঁকি দেবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। আর যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয়স্থল বা পলায়নের জায়গা পাবে, সে যেন সেখানে আশ্রয় নেয়।" (১)।

আর সকল বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে মুক্তির উপায় হলো কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং মুসলিম জামাত ও তাদের ইমামের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকা; কারণ যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হলো।" (২), এবং তিনি আরও বলেন: "কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের মধ্যকার বিবাদীয় বিষয়ে আপনাকে বিচারক মান্য করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেন তা পালনে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।" (৩)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর যে আমার জিকির (স্মরণ) থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব। সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম। তিনি বলবেন: এভাবেই তোমার নিকট আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; তদ্রূপ আজ তোমাকে বিস্মৃত করা হবে।" (৪), এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশের বিরোধিতাকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নেমে আসতে পারে।" (৫)।

--------------------------------------------

(১) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল মানাকিব', 'ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী' অধ্যায়, হাদিস নং ৩৬০১; এবং ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতুস সাআ', 'বৃষ্টির পতনের ন্যায় ফিতনা নাযিল হওয়া' অধ্যায়, হাদিস নং ২৮৮৬।

(২) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৬।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫।

(৪) সূরা ত্ব-হা, আয়াত: ১২৪ – ১২৬।

(৫) সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((وجعل الذُّلّ والصَّغار على من خالف أمري، ومن تشبه بقوم فهو منهم)) (1)، وجاء في السُّنن والمسانيد ما أُثر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا ألفينّ أحدكم متكئاً على أريكة (2) يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول: بيننا وبينكم هذا القرآن، فما وجدنا فيه من حلال استحللناه، وما وجدنا فيه من حرام حرَّمناه، ألا وإني أُوتيتُ الكتاب ومثله معه، ألا وإنه مثل القرآن أو أعظم)) (3).

قال شيخ الإسلام ابن تيمية – رحمه الله: ((فعلى كل مؤمن أن لا يتكلَّم في شيء من الدين إلا تبعاً لما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، ولا يتقدم بين يديه، بل ينظر ما قال فيكون قوله تبعاً لقوله، وعمله تبعاً لأمره، فهكذا كان الصحابة رضي الله عنهم، ومن سلك سبيلهم من التابعين لهم بإحسان، وأئمة المسلمين؛ فلهذا لم يكن أحد منهم يُعارض النصوص بمعقوله، ولا

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد، 2/ 50، 92، وعبد بن حميد، برقم 848، والطبراني في مسند الشاميين، برقم 216، وابن الأعرابي في معجمه، برقم 1137، وعلق البخاري الجزء الأول منه في صحيحه بصيغة التمريض في كتاب الجهاد والسير، باب ما قيل في الرماح ويذكر عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((جعل رزقي تحت ظل رمحي وجعل الذلة والصغار على من خالف أمري))، وأخرج أبو داود آخر الحديث في كتاب اللباس، باب في لبس الشهرة، برقم 4031، وصحح إسناده العلامة أحمد بن محمد شاكر في شرحه وترتيبه للمسند، برقم 5114، 5115، 5667 من حديث ابن عمر رضي الله عنهما، وصحح الحديث أيضاً الشيخ الألباني في صحيح الجامع، برقم 2831.

(2) الأريكة: السرير في الحجلة، ولا يسمى منفرداً أريكة، وقيل: هو كل ما اتكئ عليه، وقوله: ((لا ألفين)) يقال: ألفيت الشيء إذا وجدته، وصادفته، جامع الأصول، لابن الأثير، 1/ 282.

(3) أخرجه أبو داود، في كتاب السنة، باب لزوم السنة، برقم 4604، 4605، وابن ماجه، في المقدمة، باب تعظيم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، والتغليظ على من عارضه، برقم 12، وصححه الألباني من حديث أبي رافع، وأبي ثعلبة، وأبي هريرة رضي الله عنهم في صحيح أبي داود، 3/ 318، وانظر: مجموع فتاوى ابن تيمية، 19/ 85.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "এবং আমার আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারীর জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা নির্ধারণ করা হয়েছে; আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।" (১), এবং সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থগুলোতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ—যা আমি প্রদান করেছি অথবা যা থেকে আমি নিষেধ করেছি—পৌঁছাল, আর সে বলল: আমাদের ও তোমাদের মাঝে এই কুরআনই যথেষ্ট; এতে আমরা যা হালাল পাব তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তা হারাম হিসেবে গণ্য করব। জেনে রেখো! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! এটি কুরআনের ন্যায় অথবা তার চেয়েও মহান।" (৩)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "প্রত্যেক মুমিনের উচিত দ্বীনের কোনো বিষয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ ব্যতীত কথা না বলা এবং তাঁর আগে বেড়ে কিছু না বলা। বরং তিনি কী বলেছেন তা লক্ষ্য করা, যাতে তার কথা হয় তাঁর কথার অনুগামী এবং তার আমল হয় তাঁর আদেশের অনুগামী। সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ এবং মুসলিমগণের ইমামগণ এভাবেই ছিলেন। এই কারণেই তাঁদের কেউ দালিলিক পাঠ (نصوص)-কে নিজের যুক্তির মাধ্যমে বিরোধিতা করতেন না, অথবা...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, ২/৫০, ৯২; আবদ বিন হুমাইদ, হাদিস নং ৮৪৮; তাবরানি মুসনাদুশ শামিয়্যিন-এ, হাদিস নং ২১৬; এবং ইবনুল আরাবি তাঁর মু'জাম-এ, হাদিস নং ১১৩৭। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ-এর জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায়ে, 'বল্লম সম্পর্কে যা বলা হয়েছে' অনুচ্ছেদে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: "আমার রিজিক আমার বল্লমের ছায়ার নিচে রাখা হয়েছে এবং আমার আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারীর জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা নির্ধারণ করা হয়েছে"—এই হাদিসের প্রথমাংশ সংশয়সূচক শব্দ (صيغة التمريض) যোগে তালীক (علق) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ হাদিসটির শেষাংশ লিবাস অধ্যায়ের 'যশ-খ্যাতির পোশাক পরিধান করা' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ৪০৩১। আল্লামা আহমাদ বিন মুহাম্মাদ শাকির মুসনাদ-এর ব্যাখ্যা ও বিন্যাসকালে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত এই হাদিসের সনদকে (إسناد) সহিহ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নং ৫১১৪, ৫১১৫, ৫৬৬৭। শায়খ আলবানিও সহিহুল জামি'-এ হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন, হাদিস নং ২৮৩১।

(২) আরিকাহ (الأريكة): পর্দাঘেরা খাটের উপর রক্ষিত পালঙ্ক; তবে একা কোনো কিছুকে আরিকাহ বলা হয় না। কেউ বলেছেন: যে জিনিসের উপর হেলান দেওয়া হয় তা-ই আরিকাহ। আর তাঁর বাণী "আমি যেন না পাই" (لا ألفين): বলা হয় 'আলফাইতুশ শাই' (ألفيت الشيء) অর্থাৎ আমি জিনিসটি পেয়েছি বা তার দেখা পেয়েছি। জামি'উল উসুল, ইবনুল আসির, ১/২৮২।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুন্নাহ অধ্যায়ে, 'সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা' অনুচ্ছেদে, হাদিস নং ৪৬০৪, ৪৬০৫; এবং ইবনে মাজাহ তাঁর মুকাদ্দিমায় 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসকে সম্মান করা এবং এর বিরুদ্ধাচরণকারীর প্রতি কঠোরতা' অনুচ্ছেদে, হাদিস নং ১২। আলবানি আবু রাফি, আবু সালাবা এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটিকে সহিহ আবু দাউদ-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন, ৩/৩১৮। দেখুন: মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১৯/৮৫।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
يُؤسِّس ديناً غير ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، وإذا أراد معرفة شيء من الدِّين نظر فيما قاله الله والرسول صلى الله عليه وسلم، فمنه يتعلم، وبه يتكلم، وفيه ينظر، وبه يستدلّ، فهذا أصل أهل السنة)) (1).

ولا شك أن الاختلاف يسبب الشرور الكثيرة، والفرقة، والعذاب؛ ولهذا قال الله تعالى: {وَلَا تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} (2).

وقد بيّن النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: ((افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على ثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة))، قيل: من هم يا رسول الله، قال: ((هم من كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي))، وفي لفظ: ((الجماعة)) (3)، أي: هم من كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي.

وعن حذيفة رضي الله عنه قال: ((كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير، وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني، فقلت: يا رسول الله، إنَّا كنا في جاهلية وشر، فجاءنا الله بهذا الخير فهل بعد هذا الخير من شر؟ قال: ((نعم))، قلت: هل بعد ذلك الشرّ من خير؟ قال: ((نعم وفيه دخن))، قلت: وما دخنه؟ قال: ((قوم يستنّون بغير سُنتي، ويهتدون بغير هَديي،

--------------------------------------------

(1) مجموعة فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 13/ 63.

(2) سورة آل عمران، الآية: 105.

(3) أخرجه أبو داود، في كتاب السنة، باب شرح السنة، برقم 4596، 4597، والترمذي، في كتاب الإيمان، باب افتراق هذه الأمة، برقم 2641، وابن ماجه، في كتاب الفتن، باب افتراق الأمم، برقم 3992.
...এমন কোনো দ্বীন প্রতিষ্ঠা করে না যা রাসূল (সা.) নিয়ে আসেননি। যখন সে দ্বীনের কোনো বিষয় জানতে চায়, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) যা বলেছেন তার প্রতি সে লক্ষ্য করে। তা থেকেই সে শিক্ষা গ্রহণ করে, তার আলোকেই কথা বলে, তা নিয়ে সে চিন্তা-গবেষণা করে এবং তা দিয়েই সে প্রমাণ পেশ করে (يستدل) ; এটিই আহলে সুন্নাতের মূলনীতি (أصل)। (১)

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মতভেদ অনেক অনিষ্ট, বিভক্তি (فرقة) ও শাস্তির কারণ হয়ে থাকে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও মতভেদে লিপ্ত হয়েছে; তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি} (২)।

নবী (সা.) তাঁর বাণীর মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন: ((ইয়াহুদিরা একাত্তর দলে (فرقة) বিভক্ত হয়েছিল এবং নাসারাগণ বাহাত্তর দলে (فرقة) বিভক্ত হয়েছিল। আর অচিরেই এই উম্মত তিয়াত্তর দলে (فرقة) বিভক্ত হবে, যার একটি ছাড়া বাকি সব জাহান্নামে যাবে))। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: ((তারা তারাই যারা সেই আদর্শের ওপর থাকবে যার ওপর আমি ও আমার সাহাবীগণ রয়েছি))। অন্য বর্ণনায় (لفظ): ((আল-জামাআত (الجماعة))) (৩), অর্থাৎ তারা তারাই যারা সেই আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত যার ওপর আমি ও আমার সাহাবীগণ আছি।

হুযাইফা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((মানুষ রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে, তা যেন আমাকে গ্রাস না করে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহেলিয়াত ও অনিষ্টের মধ্যে ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাদের নিকট এই কল্যাণ নিয়ে আসলেন। এই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ))। আমি বললাম: সেই অকল্যাণের পর কি কোনো কল্যাণ আছে? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, তবে তাতে ধোঁয়াশা (دخن) থাকবে))। আমি বললাম: সেই ধোঁয়াশা কী? তিনি বললেন: ((এমন এক জাতি যারা আমার সুন্নাত (سنة) ব্যতিরেকে অন্য আদর্শ অনুসরণ করবে এবং আমার পথনির্দেশ (هدي) ছাড়া অন্য পথে পরিচালিত হবে...))

--------------------------------------------

(১) মাজমু ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ১৩/৬৩।

(২) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০৫।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুস সুন্নাহ, সুন্নাতের ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৪৫৯৬, ৪৫৯৭; তিরমিযি, কিতাবুল ঈমান, এই উম্মতের বিভক্তি পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ২৬৪১; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, উম্মতসমূহের বিভক্তি পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩৯৯২।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
تعرف منهم وتُنكر))، فقلت: هل بعد ذلك الخير من شر؟ قال: ((نعم دعاة على أبواب جهنم، من أجابهم إليها قذفوه فيها))، فقلت: يا رسول الله صفهم لنا، قال: ((نعم، قوم من جلدتنا، ويتكلمون بألسنتنا))، قلت: يا رسول الله، فما ترى إن أدركني ذلك؟ قال: ((تلزم جماعة المسلمين وإمامهم))، فقلت: فإن لم تكن لهم جماعة ولا إمام؟ قال: ((فاعتزل تلك الفرق كلها، ولو أن تعضّ على أصل شجرة حتى يدركك الموت وأنت على ذلك)) (1).

قال الإمام النووي – رحمه الله: ((وفي حديث حذيفة هذا: لزوم جماعة المسلمين، وإمامهم، ووجوب طاعته، وإن فسق، وعمل المعاصي: من أخذ الأموال، وغير ذلك فتجب طاعته في غير معصية، وفيه معجزات لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي هذه الأمور التي أخبر بها وقد وقعت كلها)) (2).

ولا شك أن أمة محمد صلى الله عليه وسلم لا تزال فيهم طائفة على الحق منصورة، لا يضرهم من خذلهم أو خالفهم حتى تقوم الساعة؛ لحديث معاوية رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا تزال طائفةٌ من أمتي قائمةً بأمر الله، لا يضرّهم من خذلهم، أو خالفهم حتى يأتي أمر الله، وهم ظاهرون على الناس)) (3).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب الفتن، باب كيف الأمر إذا لم تكن جماعة، برقم 7084، ومسلم، في كتاب الإمارة، باب وجوب ملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال وتحريم الخروج على الطاعة ومفارقة الجماعة، برقم 1847.

(2) شرح النووي على صحيح مسلم، 12/ 479، وانظر: فتح الباري، لابن حجر، 13/ 37.

(3) متفق عليه: أخرجه البخاري، في كتاب المناقب، باب رقم 28، برقم 3641، ومسلم، في كتاب الإمارة، باب قوله صلى الله عليه وسلم: ((لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خالفهم))، برقم 1037/ 174.
((তাদের কিছু কাজ তুমি চিনতে পারবে এবং কিছু কাজ অপছন্দ করবে))। আমি বললাম: সেই কল্যাণের পর কি আর কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজার দিকে আহ্বানকারী একদল লোকের সৃষ্টি হবে; যে ব্যক্তি তাদের সেই আহ্বানে সাড়া দেবে, তারা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে))। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, তারা আমাদেরই স্বজাতি এবং আমাদের ভাষাতেই কথা বলবে))। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, তবে আপনার নির্দেশ কী? তিনি বললেন: ((তুমি মুসলিমদের জামাআত (جماعة) ও তাদের ইমামের (إمام) সাথে সংলগ্ন থাকবে))। আমি বললাম: যদি তাদের কোনো জামাআত (جماعة) ও ইমাম (إمام) না থাকে? তিনি বললেন: ((তখন তুমি সেই সকল দলের সংশ্রব ত্যাগ করবে, এমনকি যদি তোমাকে কোনো গাছের শিকড় কামড়ে ধরে পড়ে থাকতে হয় এবং সেই অবস্থায় তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়, তবুও (তাদের থেকে বিমুখ থাকবে))) (১)।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((হুজাইফার এই হাদিসে মুসলিমদের জামাআত (جماعة) ও তাদের ইমামের (إمام) সাথে সংলগ্ন থাকা এবং তার আনুগত্য করা আবশ্যক (واجب) হওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যদিও তিনি পাপাচার (فسق) করেন কিংবা সম্পদ আত্মসাতের মতো গুনাহের কাজ করেন; তথাপি পাপাচার নয় এমন বিষয়ে তার আনুগত্য করা আবশ্যক (واجب)। এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের অনেক অলৌকিক নিদর্শন (معجزات) রয়েছে, যা তিনি আগে থেকেই সংবাদ দিয়েছিলেন এবং তার প্রতিটিই বাস্তবায়িত হয়েছে)) (২)।

এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি দল সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে কিংবা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অটল থাকবে; যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে কিংবা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা আল্লাহর ফয়সালা (কিয়ামত) না আসা পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, আর তারা মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, ফিতনা অধ্যায়ে, 'জামাআত না থাকলে পরিস্থিতি কেমন হবে' পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৭০৮৪; এবং মুসলিম, ইমারাহ অধ্যায়ে, 'ফিতনা প্রকাশকালে এবং সর্বাবস্থায় মুসলিম জামাআতের সাথে থাকার আবশ্যকতা এবং আনুগত্য ত্যাগ ও জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নিষেধাজ্ঞা' পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১৮৪৭।

(২) সহিহ মুসলিমের ওপর নববীর ব্যাখ্যা (شرح), ১২/৪৭৯; এবং দেখুন: ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারী, ১৩/৩৭।

(৩) ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه): এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, মানাকিব অধ্যায়ে, ২৮ নং পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬৪১; এবং মুসলিম, ইমারাহ অধ্যায়ে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে..." পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১০৩৭/১৭৪।
(খণ্ড: ১) আল-মাফাহীমুস সহীহাহ লিল জিহাদি ফী সাবীলিল্লাহি তাআলা ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর (أصحابه) ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক; আর যারা নিষ্ঠার সাথে বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপরও।