(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
المساجد القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المساجد - مفهوم، وفضائل، وأحكام، وحقوق، وآداب في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 120
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
মসজিদসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: মসজিদসমূহ - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ধারণা, ফজিলত, বিধানসমূহ, অধিকার এবং আদবসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
31
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
_
المساجد
مفهوم، وفضائل، وأحكام، وحقوق، وآداب
في ضوء الكتاب والسنة
31
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানী-এর রচনাবলি সিরিজ
_
মসজিদসমূহ
সংজ্ঞা, ফজিলত, বিধি-বিধান, অধিকার ও আদবসমূহ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلَّم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في ((المساجد)) بيّنت فيها: مفهوم المساجد، وفضلها، وفضل بنائها وعمارتها: الحسيّة والمعنويّة، وفضل المشي إليها، وآدابه، وأحكام المساجد، وأهمية حلقات العلم في المساجد، وكل مسألة قرنتها بدليلها.
وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات سماحة شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز نوَّر الله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি ‘মসজিদ’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি মসজিদের পরিচয়, এর মর্যাদা, মসজিদ নির্মাণ এবং এর বাহ্যিক ও আত্মিক আবাদ করার ফজিলত, মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়ার সওয়াব ও আদবসমূহ, মসজিদের বিধানাবলি এবং মসজিদে ইলমি হালকাসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা করেছি। আর প্রতিটি মাসআলাই আমি তার দলিলসহ উল্লেখ করেছি।
আমি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ — আল্লাহ তাঁকে নূরান্বিত করুন — এর সিদ্ধান্ত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ضريحه، ورفع درجاته في الفردوس الأعلى.
والله تعالى أسأل أن يجعل هذا العمل مقبولاً، مباركاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، نبينا وإمامنا وقدوتنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر ضحى يوم الخميس الموافق 28/ 2/1421هـ.
...তাঁর সমাধিকে [আলোকিত করুন] এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে কবুল (مقبول), বরকতময় এবং একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমার জীবনে ও মরণোত্তরকালে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন; কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বোত্তম আশাস্থল। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই। আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, আমাদের নবী, আমাদের ইমাম ও আমাদের আদর্শ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, আর তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের ওপর।
লেখক
২৮/ ২/ ১৪২১ হিজরি মোতাবেক বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্নে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: مفهوم المساجد: جمع مَسجِد، إن أُريد به المكان المخصوص المُعَدّ للصلوات الخمس، وإن أُريد به موضع سجود الجبهة، فإنه بالفتح لا غير ((مَسجَد)) (1).
ف
المسجد لغة: الموضع الذي يسجد فيه، ثم اتّسع المعنى إلى البيت المُتّخذ لاجتماع المسلمين لأداء الصلاة فيه، قال الزركشي رحمه الله: ((ولَمّا كان السجود أشرف أفعال الصلاة، لقرب العبد من ربه، اشتق اسم المكان منه فقيل: مسجد، ولم يقولوا: مركع، ثم إن العُرف خصص المسجد بالمكان المهيّأ للصلوات الخمس، حتى يخرج المُصلّى المجتمع فيه للأعياد ونحوها، فلا يُعطى حكمه)) (2).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): মাসজিদের ধারণা: এটি 'মাসজিদ'-এর বহুবচন। যদি এর দ্বারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য নির্ধারিত বিশেষ স্থানকে বোঝানো হয়, তবে তা 'মাসজিদ'। আর যদি কপালে সিজদাহ করার স্থানকে বোঝানো হয়, তবে তা জবর (ফাতহা) যোগে কেবল 'মাসজাদ' (مَسجَد) হিসেবেই ব্যবহৃত হবে (১)।
ভাষাগতভাবে (لغة)
মাসজিদ হলো: সিজদাহ করার স্থান। পরবর্তীতে এর অর্থ বিস্তৃত হয়ে এমন ঘরকে বোঝানো হয়েছে যা মুসলিমদের সালাত আদায়ের জন্য একত্রিত হওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়। ইমাম যারকাশি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যেহেতু সিজদাহ হলো সালাতের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ—যেহেতু এর মাধ্যমে বান্দা তার রবের অধিকতর নিকটে থাকে—তাই এই স্থানটির নাম সিজদাহ থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে এবং একে 'মাসজিদ' বলা হয়েছে; একে 'মারকা' (রুকুর স্থান) বলা হয়নি। পরবর্তীতে প্রচলন (العرف) অনুযায়ী মাসজিদ শব্দটিকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য প্রস্তুতকৃত স্থানের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, এমনকি এর ফলে ঈদগাহ বা অনুরূপ স্থানগুলো—যেখানে সালাতের জন্য মানুষ একত্রিত হয়—এর বহির্ভূত থাকে এবং সেগুলোকে মাসজিদের বিধান (حكم) প্রদান করা হয় না" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
و
المسجد في الاصطلاح الشرعي: المكان الذي أُعِدّ للصلاة فيه على الدّوام (1)، وأصل المسجد شرعاً: كل موضع من الأرض يُسجد لله فيه (2)؛لحديث جابر رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((
… وجُعِلَت لي الأرض مسجداً وطهوراً، فأيُّما رجل من أمّتي أدركته الصلاة، فليصلِّ)) (3)، وهذا من خصائص نبيّنا صلى الله عليه وسلم وأمّته، وكانت الأنبياء قبله إنما أُبيحت لهم الصلاة في مواضع مخصصة: كالبِيَع والكنائس (4).
وقد ثبت في حديث أبي ذرّ رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((
… وأينما أدركتك الصلاة فصلِّ، فهو مسجد)) (5)، قال
--------------------------------------------
এবং
শরয়ি পরিভাষায় মাসজিদ হলো: সেই স্থান যা স্থায়ীভাবে সালাত আদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে (১), আর শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে মাসজিদের মূল অর্থ হলো: জমিনের প্রতিটি স্থান যেখানে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাহ করা হয় (২); জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত: ((
… আর আমার জন্য জমিনকে মাসজিদ ও পবিত্রকারী করা হয়েছে, সুতরাং আমার উম্মতের যে কোনো ব্যক্তির যখন সালাতের সময় হবে, সে যেন সালাত আদায় করে নেয়)) (৩)। এটি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর উম্মতের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; অথচ তাঁর পূর্ববর্তী নবিদের জন্য কেবল নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সালাত আদায়ের অনুমতি ছিল: যেমন ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয় (৪)।
আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: ((
… আর যেখানেই তোমার সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নাও, কারণ সেটিই মাসজিদ)) (৫), তিনি বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإمام النووي رحمه الله: ((فيه جواز الصلاة في جميع المواضع إلا ما استثناه الشرع من الصلاة: في المقابر، وغيرها من المواضع التي فيها النجاسة: كالمزبلة، والمجزرة، وكذا ما نُهِيَ عنه لمعنى آخر: فمن ذلك أعطان الإبل،
… ومنه قارعة الطريق، والحمام، وغيرها؛ لحديث ورد فيها)) (1).
أما
الجامع: فهو نعت للمسجد، سمّي بذلك؛ لأنه يجمع أهله؛ ولأنه علامة للاجتماع، فيقال: المسجد الجامع، ويجوز: ((مسجد الجامع)) بالإضافة، بمعنى: مسجد اليوم الجامع (2)، ويقال للمسجد الذي تُصلَّى فيه الجمعة، وإن كان صغيراً؛ لأنه يجمع الناس في وقت معلوم.
المبحث الثاني: فضل المساجد وشرفها: لأهميّة المساجد، ومكانتها وفضلها، ذكرها الله عز وجل في كتابه في
--------------------------------------------
ইমাম নববী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: ((এতে সকল স্থানে সালাত আদায়ের বৈধতা (جواز) থাকার প্রমাণ রয়েছে, তবে শরিয়ত যা সালাত আদায় থেকে স্বতন্ত্র রেখেছে তা ব্যতীত: যেমন কবরস্থান এবং অন্যান্য নাপাকিযুক্ত স্থান: যথা ময়লা ফেলার স্থান, পশুজবাইখানা। অনুরুপভাবে অন্য কোনো অর্থের কারণে যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে: তার মধ্যে রয়েছে উট বসার স্থান,
… এবং রাস্তার মূল চলাচলের পথ, গোসলখানা ও অন্যান্য স্থান; যেহেতু এ সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত হয়েছে)) (১)।
আর
জামে (الجامع): এটি মসজিদের একটি বিশেষণ, একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি এর মুসল্লিদের একত্রিত করে; এবং যেহেতু এটি সমাবেশের একটি চিহ্ন। তাই বলা হয়: 'আল-মাসজিদুল জামে', আর সম্বন্ধপদ (ইজাফাত) হিসেবে 'মাসজিদুল জামে' বলাও বৈধ, যার অর্থ: সমাবেশের দিনের মসজিদ (২)। এছাড়া যে মসজিদে জুমার সালাত আদায় করা হয় তাকেও 'জামে' বলা হয়, যদিও তা আকারে ছোট হয়; কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে মানুষকে একত্রিত করে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মসজিদের ফজিলত ও মর্যাদা: মসজিদের গুরুত্ব, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ثمانية عشر موضعاً (1).
ولمكانتها العالية وعظم منزلتها عند الله تعالى أضافها إلى نفسه إضافة تشريف وتكريم؛ فإن المضاف إلى الله عز وجل نوعان:
النوع الأول: صفات لا تقوم بأنفسها: كالعلم، والقدرة، والكلام، والسمع، والبصر، فهذه إضافة صفة إلى الموصوف بها، فعلمه، وكلامه، وقدرته، وحياته، ووجهه، ويده، صفاتٌ له لا يشبهه فيها أحد من خلقه، وهي تليق به عز وجل.
والنوع الثاني: إضافة أعيان منفصلة عنه، كالبيت، والناقة، والعبد، والرسول، والروح، فهذه إضافة مخلوق إلى خالقه، لكنها إضافة تقتضي تخصيصاً وتشريفاً يتميز بها المضاف عن غيره (2).
--------------------------------------------
আঠারোটি স্থান (১)।
আল্লাহ তাআলার নিকট এর সুউচ্চ মর্যাদা ও মহান অবস্থানের কারণে তিনি একে সম্মান ও মর্যাদাদানের উদ্দেশ্যে নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন; কারণ আল্লাহর দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) করা হয় তা দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: এমন গুণাবলি (صفات) যা স্বতন্ত্রভাবে বিরাজমান থাকতে পারে না: যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা, কথা, শ্রবণ ও দর্শন। এগুলো হলো গুণকে গুণান্বিত সত্তার দিকে সম্বন্ধ (إضافة) করার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তাঁর জ্ঞান, কথা, ক্ষমতা, জীবন, চেহারা এবং হাত সবই তাঁর গুণাবলি (صفات), যাতে তাঁর সৃষ্টির কেউ তাঁর সদৃশ নয় এবং এগুলো মহান আল্লাহর শানের জন্য যথোপযুক্ত।
দ্বিতীয় প্রকার: এমন স্বতন্ত্র সত্তার (أعيان) সম্বন্ধ যা তাঁর থেকে পৃথক, যেমন ঘর, উটনী, বান্দা, রাসুল এবং রুহ। এগুলো হলো সৃষ্টিকে (مخلوق) তার স্রষ্টার (خالق) দিকে সম্বন্ধ করা, তবে এই সম্বন্ধ বিশেষত্ব ও সম্মান প্রদান করে, যার মাধ্যমে এই সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) বিষয়টি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والله عز وجل أضاف المساجد إلى نفسه إضافة تشريف، وفضل، كقوله تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ الله أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} (1). وكقوله عز وجل: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ الله مَنْ آمَنَ بِالله وَالْيَوْمِ الآخِرِ} (2). وقوله سبحانه وتعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لله فَلا تَدْعُوا مَعَ الله أَحَدًا} (3). مع أن جميع البقاع وما فيها ملك لله عز وجل، فهو خالق كل شيء ومالكه، ولكن المساجد لها ميزة وشرف؛ لأنها تختص بكثير من العبادات، والطاعات، والقربات، فليست المساجد لأحد سوى الله، كما أن العبادة التي كلف الله بها عباده لا يجوز أن تصرف لأحد سواه (4). ومن هذه الإضافة ما أضافه النبي صلى الله عليه وسلم إلى الله إضافة تشريف بقوله صلى الله عليه وسلم: ((وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله،
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তায়ালা মসজিদসমূহকে নিজের সাথে সম্মান ও মর্যাদাবাচকভাবে সম্বন্ধ (إضافة) করেছেন; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়?} (১)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে} (২)। এবং তাঁর মহান বাণী: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} (৩)। যদিও সমস্ত ভূখণ্ড এবং তাতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ তায়ালার মালিকানাধীন, কেননা তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক; তবে মসজিদসমূহের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা রয়েছে। কারণ তা অনেক ইবাদত, আনুগত্য এবং নৈকট্য লাভের কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট। সুতরাং মসজিদ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নয়; ঠিক যেমন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর যে ইবাদত অর্পণ করেছেন, তা তিনি ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করা বৈধ নয় (৪)। আর এই সম্বন্ধের (إضافة) অন্তর্ভুক্ত হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রতি সম্মানসূচকভাবে সম্বন্ধ করে বলেছেন: ((যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة، وغشيتهم الرحمة وذكرهم الله فيمن عنده)) (1).
ومما يدل على فضل المساجد، ومكانتها قول الله تعالى: {وَلَوْلا دَفْعُ الله النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ الله كَثِيرًا} (2). فالجهاد شُرع لإعلاء كلمة الله، والمساجد هي أفضل البقاع التي تُرْفَع فيها كلمة التوحيد، وتُؤَدَّى فيها أعظم الفرائض بعد الشهادتين، ولهذا كان الدفاع عنها واجباً على المسلمين، فقوله تعالى: {وَلَوْلا دَفْعُ الله النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ} قال الإمام ابن جرير رحمه الله: ((أولى الأقوال في ذلك بالصواب أن يقال: إن الله تعالى ذكره أخبر أنه لولا دفاعه الناس بعضهم ببعض، لهدم ما ذكر، من دفعه تعالى ذكره بعضهم ببعض، وكفه المشركين بالمسلمين عن ذلك، ومنه كفه ببعضهم التظالم:
--------------------------------------------
...এবং তারা তা নিজেদের মধ্যে পঠন-পাঠন করে, তবে অবশ্যই তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, রহমত তাদের ঢেকে নেয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন)) (১)।
মসজিদের ফজিলত ও মর্যাদার প্রমাণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের আশ্রম, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং সেইসব মসজিদ যাতে অধিক পরিমাণে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়} (২)। বস্তুত আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যেই জিহাদ প্রবর্তিত হয়েছে। আর মসজিদ হলো ভূপৃষ্ঠের সেই সর্বোত্তম স্থান যেখানে তাওহীদের বাণী সমুন্নত রাখা হয় এবং শাহাদাতাইনের পর ইসলামের মহান ফরজসমূহ আদায় করা হয়; এ কারণেই মসজিদ রক্ষা করা মুসলিমদের ওপর অপরিহার্য কর্তব্য। আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন} প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে জারীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক সঠিক বক্তব্য হলো এই যে: মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে উল্লেখিত স্থানসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত; আল্লাহ তাআলা কর্তৃক একদলকে অন্য দলের মাধ্যমে প্রতিহত করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—মুসলিমদের দ্বারা মুশরিকদের দমন করা এবং এর মাধ্যমে একে অপরের ওপর করা জুলুম-অবিচার প্রতিহত করা:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
كالسلطان الذي كف به رعيته عن التظالم بينهم، ومنه كفُّه لمن أجاز شهادته بينهم بعضهم عن الذهاب بحق من له قبله حق، ونحو ذلك
… )) (1). وقال الإمام ابن كثير رحمه الله: ((أي لولا أنه يدفع بقوم عن قوم، ويكفّ شرور أناس عن غيرهم بما يخلقه ويقدره من الأسباب، لفسدت الأرض، ولأهلك القوي الضعيف)) (2). وقال الإمام البغوي رحمه الله: ((ومعنى الآية ولولا دفع الله الناس بعضهم ببعض بالجهاد، وإقامة الحدود، لهدم في شريعة كل نبي مكان صلاتهم، لهدم في زمن موسى الكنائس، وفي زمن عيسى البيع والصوامع، وفي زمن محمد صلى الله عليه وسلم المساجد)) (3).
وقيل: الضمير في قوله تعالى: {يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ الله كَثِيرًا} عائد إلى المساجد؛ لأنها أقرب المذكورات، قال الإمام ابن جرير رحمه الله: ((وأولى الأقوال في ذلك بالصواب، قول من
--------------------------------------------
যেমন সেই সুলতান (শাসক), যাঁর মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রজাদের একে অপরের ওপর জুলুম করা থেকে বিরত রাখেন; এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ব্যক্তিকে বিরত রাখা—যাঁর সাক্ষ্য তিনি তাদের মাঝে গ্রহণযোগ্য (أجاز) করেছেন—যাতে সে অন্যের প্রাপ্য অধিকার নষ্ট করতে না পারে, এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো
… )) (১)। এবং ইমাম ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((অর্থাৎ, যদি আল্লাহ একদলের মাধ্যমে অন্যদলকে প্রতিহত না করতেন এবং তাঁর সৃষ্টি ও নির্ধারণকৃত বিভিন্ন কার্যকরণের মাধ্যমে কিছু মানুষের অনিষ্ট থেকে অন্যদের রক্ষা না করতেন, তবে পৃথিবী কলুষিত হয়ে যেত এবং শক্তিশালীরা দুর্বলদের ধ্বংস করে ফেলত)) (২)। এবং ইমাম বাগাওয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((আর আয়াতের অর্থ হলো—যদি আল্লাহ জিহাদ এবং দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর করার মাধ্যমে একদল মানুষকে অন্যদল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে প্রত্যেক নবীর শরীয়তেই তাঁদের ইবাদতখানাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হতো; মূসার যুগে গির্জাগুলো, ঈসার যুগে নাসারাদের উপাসনালয় ও মঠগুলো এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মসজিদগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হতো)) (৩)।
বলা হয়েছে: মহান আল্লাহর বাণী— {যাতে তাঁর নাম প্রচুর পরিমাণে স্মরণ করা হয়}-এ বিদ্যমান সর্বনামটি মসজিদের দিকে ফিরেছে; কারণ এটি উল্লিখিত শব্দগুলোর মধ্যে নিকটতম। ইমাম ইবনে জারীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((এ বিষয়ে সঠিকতম অভিমত হলো সেই ব্যক্তির উক্তি যিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال: معنى ذلك: لهدِّمت صوامع الرهبان، وبيع النصارى، وصلوات اليهود وهي كنائسهم، ومساجد المسلمين التي يذكر فيها اسم الله كثيراً)) (1).
ومن دافع عن المساجد ونصر دين الله نصره الله تعالى، كما قال عز وجل: {وَلَيَنصُرَنَّ الله مَن يَنصُرُهُ إِنَّ الله لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} (2). ثم بيَّن الله عز وجل صفات ناصريه (3)، فقال: {الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلله عَاقِبَةُ الأُمُورِ} (4).
ولعظم فضل المساجد جعل الله عز وجل من أقبح القبائح، وأعظم الظلم المنع من عمارتها، فقال عز وجل: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ الله أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي
خَرَابِهَا} (5). ولا شك أن الله عز وجل نسخ جميع الشرائع
--------------------------------------------
তিনি বলেন: এর অর্থ হলো: সন্ন্যাসীদের মঠ, খ্রিস্টানদের গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয়—যা তাদের সিনাগগ—এবং মুসলমানদের মসজিদসমূহ যেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে স্মরণ করা হয়, তা ধ্বংস হয়ে যেত (১)।
আর যে ব্যক্তি মসজিদসমূহকে রক্ষা করে এবং আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করে, মহান আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী} (২)। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর সাহায্যকারীদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন (৩), তিনি বলেছেন: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর হাতে} (৪)।
মসজিদের ফজিলত অত্যধিক হওয়ার কারণে মহান আল্লাহ এর আবাদকরণে বাধা প্রদান করাকে নিকৃষ্টতম জঘন্য কাজ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ জুলুম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং তা ধ্বংস করার চেষ্টা করে?} (৫)। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ পূর্ববর্তী সকল শরিয়ত রহিত (نسخ) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
السابقة كلها بالإسلام، فبعد هذا النسخ يتعين منع عمارة الكنائس، والصوامع، والبيع، وجميع المعابد، ويجب إظهار هذه المساجد ورفعها، والعناية بها، لقوله عز وجل (1):
{فِي بُيُوتٍ أَذِنَ الله أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} (2) والله المستعان (3).
وفضل المساجد ثبت فيه حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((أَحَبُّ البلاد إلى الله مساجدها، وأبغض البلاد إلى الله أسواقها)) (4).
قال الإمام النووي رحمه الله: ((أحبّ البلاد إلى الله مساجدها))؛ لأنها بيوت الطاعات، وأساسها على التقوى، ((وأبغض البلاد إلى الله أسواقها))؛ لأنها محل الغش، والخداع، والربا، والأيمان الكاذبة، وإخلاف الوعد،
--------------------------------------------
ইসলামের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল ধর্ম রহিত হওয়ার পর, এই রহিতকরণ (النسخ)-এর কারণে গির্জা, মঠ, সিনাগগ এবং সকল প্রকার উপাসনালয় নির্মাণ নিষিদ্ধ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আর এই মসজিদসমূহকে প্রকাশ করা, সমুন্নত রাখা এবং এগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া ওয়াজিব, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে (১):
{সেই সকল ঘরে (মসজিদে), যেগুলোকে সমুন্নত করতে এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন} (২) আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি (৩)।
মসজিদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত নবী (সা.)-এর একটি হাদিস সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড হলো তার মসজিদসমূহ, আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় ভূখণ্ড হলো তার বাজারসমূহ” (৪)।
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড হলো তার মসজিদসমূহ”; কারণ সেগুলো আনুগত্যের ঘর এবং সেগুলোর ভিত্তি তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। “আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় ভূখণ্ড হলো তার বাজারসমূহ”; কারণ সেগুলো হলো প্রতারণা, শঠতা, সুদ (الربا), মিথ্যা শপথ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জায়গা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والإعراض عن ذكر الله، وغير ذلك مما في معناه)) (1).
وقال الإمام القرطبي رحمه الله: ((أحبّ البلاد إلى الله مساجدها)) أي أحب بيوت البلاد، أو بقاعها، وإنما كان ذلك لما خُصَّت به من العبادات، والأذكار، واجتماع المؤمنين، وظهور شعائر الدين، وحضور الملائكة، وإنما كانت الأسواق أبغض البلاد إلى الله؛ لأنها مخصوصة بطلب الدنيا، ومطالب العباد، والإعراض عن ذكر الله؛ ولأنها مكان الأيمان الفاجرة، وهي معركة الشيطان، وبها يركز رايته)) (2).
المبحث الثالث: أفضل المساجد: المساجد الثلاثة: المسجد الحرام، ومسجد النبي صلى الله عليه وسلم، والمسجد الأقصى؛ لحديث أبي ذر رضي الله عنه قال: قلت: يا رسول الله، أي مسجد وضع في الأرض أوَّل؟ قال: ((المسجد الحرام)). قلت: ثم أيُّ؟ قال: ((المسجد الأقصى)). قلت: كم بينهما؟ قال:
--------------------------------------------
...এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা এর অন্তর্ভুক্ত)) (১)।
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((আল্লাহর নিকট জনপদের সর্বাধিক প্রিয় স্থান হলো এর মসজিদসমূহ)) অর্থাৎ জনপদের ঘরসমূহের বা এর ভূখণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। আর এটি কেবল এজন্য যে, মসজিদসমূহ ইবাদত, জিকির, মুমিনদের সমাবেশ, দ্বীনি নিদর্শনাবলীর বহিঃপ্রকাশ এবং ফেরেশতাদের উপস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট। পক্ষান্তরে বাজারসমূহ আল্লাহর নিকট জনপদের সবচেয়ে ঘৃণিত স্থান; কারণ তা দুনিয়া অন্বেষণ, বান্দাদের চাহিদা পূরণ এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট; আর যেহেতু তা পাপাচারী শপথের স্থান, এটি শয়তানের যুদ্ধক্ষেত্র এবং সেখানে সে তার পতাকা গেঁড়ে বসে)) (২)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সর্বোত্তম মসজিদসমূহ: তিনটি মসজিদ: মসজিদে হারাম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদ এবং মসজিদে আকসা; আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে? তিনি বললেন: ((মসজিদে হারাম))। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: ((মসজিদে আকসা))। আমি বললাম: এ দুটির মধ্যে ব্যবধান কতটুকু? তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
((أربعون سنة، وأينما أدركتك الصلاة فصلِّ، فهو مسجد)) (1).
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((نزل الحجر الأسود من الجنة، وهو أشد بياضاً من اللبن، فسوَّدته خطايا بني آدم)). ولفظ ابن خزيمة: (( .. أشد بياضاً من الثلج)) (2).
وعنه رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((والله ليبعثنه الله يوم القيامة، له عينان يبصر بهما، ولسان ينطق به، يشهد على من استلمه بحق)) (3).
--------------------------------------------
((চল্লিশ বছর। আর যেখানেই সালাতের সময় হবে সেখানেই সালাত আদায় করে নিও, কেননা সেটিই মসজিদ)) (১)।
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল, অতঃপর বনী আদমের গুনাহসমূহ একে কালো করে দিয়েছে))। আর ইবনে খুজাইমাহর শব্দ হলো: (( .. বরফের চেয়েও বেশি সাদা)) (২)।
তাঁর (ইবনে আব্বাস) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আল্লাহর শপথ! কিয়ামতের দিন আল্লাহ অবশ্যই একে পুনরুত্থিত করবেন; এর দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। যে ব্যক্তি যথাযথভাবে একে স্পর্শ করেছে, তার পক্ষে সে সাক্ষ্য দেবে)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((صلاة في مسجدي هذا خير من ألف صلاة فيما سواه إلا المسجد الحرام)). ولفظ مسلم: ((صلاة في مسجدي هذا أفضل من ألف صلاة فيما سواه إلا المسجد الحرام)) (1). والصواب أن الصلاة في المسجد الحرام تضاعف داخل الحرم كله (2).
وعن جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((صلاة في مسجدي أفضل من ألف صلاة فيما سواه إلا المسجد الحرام، وصلاة في المسجد الحرام أفضل من مائة ألف صلاة فيما سواه)) (3). وقد جاء: ((والصلاة في بيت المقدس بخمسمائة صلاة)) (4).
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো স্থানের এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম।" মুসলিমের শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো স্থানের এক হাজার সালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ (১)।" আর সঠিক অভিমত হলো যে, মসজিদুল হারামে সালাতের সওয়াব বহুগুণ হওয়ার বিষয়টি পুরো হারাম সীমানার ভেতরেই কার্যকর (২)।
জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো স্থানের এক হাজার সালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আর মসজিদুল হারামে এক ওয়াক্ত সালাত অন্য যেকোনো স্থানের এক লক্ষ সালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ (৩)।" আরও বর্ণিত হয়েছে: "আর বাইতুল মাকদিসে সালাত পাঁচশ সালাতের সমতুল্য (৪)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((لا تشدّ الرّحال إلا إلى ثلاثة مساجد: مسجدي هذا، ومسجد الحرام، والمسجد الأقصى)). ولفظ البخاري: ((لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام، ومسجد الرسول صلى الله عليه وسلم، ومسجد الأقصى)) (1).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((ما بين بيتي ومنبري روضة من رياض الجنة، ومنبري على حوضي)) (2).
المبحث الرابع: مسجد قباء أفضل المساجد بعد المساجد الثلاثة؛ لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال:
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে না: আমার এই মসজিদ, মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল আকসা))। বুখারীর শব্দ হলো: ((তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে সফর করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা)) (১)।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহ থেকে একটি বাগান, আর আমার মিম্বরটি আমার হাউযের উপর অবস্থিত)) (২)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তিনটি মসজিদের পর কুবা মসজিদ সর্বোত্তম মসজিদ; আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
((كان النبي صلى الله عليه وسلم يأتي مسجد قباء كل سبتٍ ماشياً وراكباً)). وكان عبد الله بن عمر يفعله. وفي لفظ لمسلم: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتي مسجد قباء، راكباً، وماشياً، فيصلي فيه ركعتين)) (1).
وعن سهل بن حنيف رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من تطهّر في بيته، ثم أتى مسجد قباء فصلى فيه صلاة كان له كأجر عمرة)) (2).
وعن أسيد بن ظُهير الأنصاري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((الصلاة في مسجد قباءٍ كعُمرة)) (3).
--------------------------------------------
((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি শনিবারে পায়ে হেঁটে এবং সওয়ার হয়ে মসজিদে কুবাতে আসতেন))। আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) এটি করতেন। মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে এবং পায়ে হেঁটে মসজিদে কুবাতে আসতেন, অতঃপর সেখানে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন)) (১)।
সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, এরপর মসজিদে কুবাতে এল এবং সেখানে সালাত আদায় করল, তার জন্য একটি উমরার সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে)) (২)।
আসায়িদ ইবনে জুহাইর আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((মসজিদে কুবাতে সালাত আদায় করা একটি উমরার সমতুল্য)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذا لمن لم يشدَّ الرحال، وإنما زار مسجد قباء من المدينة، أو قدم للمدينة ثم أراد زيارة قباء، أما شدُّ الرحال فلا يجوز إلا للمساجد الثلاثة كما تقدم آنفاً.
المبحث الخامس: فضل بناء المساجد وعمارتها، جاء فيه نصوص كثيرة تدل على العناية بها، كقول الله عز وجل:
{إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ الله مَنْ آمَنَ بِالله وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَاّ الله فَعَسَى أُوْلَئِكَ أَن يَكُونُواْ مِنَ الْمُهْتَدِينَ} (1). وتكون عمارة المساجد ببنائها، وتنظيفها، وفرشها، وإنارتها، كما تكون عمارتها: بالصلاة فيها، وكثرة التردد عليها لحضور الجماعات، وتعلم وتعليم العلوم النافعة، وأعظم العلم النافع تعلُّم القرآن وتعليمه، وغير ذلك من أنواع الطاعات (2)، وإخلاص هذه العبادات كلها لله تعالى، كما قال عز وجل: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ
--------------------------------------------
এটি তাদের জন্য যারা সফরের সংকল্প (شد الرحال) করেনি, বরং মদিনা থেকে কুবা মসজিদ জিয়ারত করেছে অথবা মদিনায় আসার পর কুবা জিয়ারত করার ইচ্ছা পোষণ করেছে। আর সফরের সংকল্প (شد الرحال) করা কেবল তিনটি মসজিদ ব্যতীত বৈধ নয়, যেমনটি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মসজিদ নির্মাণ ও তা আবাদ করার ফযিলত; এ বিষয়ে অনেক দলিল (نصوص) বর্ণিত হয়েছে যা মসজিদের প্রতি যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
{নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে তারাই, যারা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছে, সালাত কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনি। অতএব আশা করা যায় তারা হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (১)। আর মসজিদ আবাদ করা হয় তা নির্মাণ, পরিচ্ছন্নকরণ, বিছানা বা কার্পেট বিছানো এবং আলোকসজ্জা করার মাধ্যমে। অনুরূপভাবে মসজিদ আবাদ হয় তাতে সালাত আদায় করা, জামাতে শরীক হওয়ার জন্য বারবার যাতায়াত করা এবং উপকারী ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে। আর সবচেয়ে মহান উপকারী ইলম হলো কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া এবং অন্যান্য নেক আমলসমূহ (২)। এই সকল ইবাদত একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
لله فَلا تَدْعُوا مَعَ الله أَحَدًا} (1).
وقال الله عز وجل: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ الله أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالآصَالِ، رِجَالٌ لاّ تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ الله وَإِقَامِ الصَّلاةِ وَإِيتَاء الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالأَبْصَارُ، لِيَجْزِيَهُمُ الله أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ وَالله يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ} (2).
وقوله تعالى: {أَذِنَ الله أَن تُرْفَعَ}: أي أمر الله عز وجل ببنائها، ورفعها، وأمر بعمارتها، وتطهيرها، وقيل: أمر الله بتعاهدها، وتطهيرها من الدنس، واللغو، والأقوال، والأفعال التي لا تليق فيها (3). وذكر الإمام الطبري رحمه الله أن معنى: {أَذِنَ الله أَن تُرْفَعَ} أي: أذن الله أن تُبنى، وقال بعضهم: ((أذن الله أن تعظم
… )). ثم رجح القول
--------------------------------------------
...আল্লাহর জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} (১)।
আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {সেই ঘরসমূহে যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেগুলোকে সমুन्नत করা হোক এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা হোক; সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এমন লোকগণ, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদান হতে বিচ্যুত করে না; তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন হৃদয় ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। যাতে আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের সর্বোত্তম প্রতিদান দেন এবং স্বীয় অনুগ্রহে তাদের আরও বৃদ্ধি করে দেন; আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিজিক দান করেন} (২)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেগুলোকে সমুन्नत করা হোক}: অর্থাৎ আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী সেগুলোকে নির্মাণের ও উচ্চ করার নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তিনি সেগুলোকে আবাদ করা ও পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আবার বলা হয়েছে: আল্লাহ সেগুলোর দেখাশোনা করার এবং সেগুলোকে অপবিত্রতা, অসার কথাবার্তা এবং সেখানে শোভনীয় নয় এমন কথা ও কাজ থেকে পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছেন (৩)। ইমাম তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, {আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেগুলোকে সমুन्नत করা হোক} এর অর্থ হলো: আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে সেগুলো নির্মাণ করা হোক। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: ((আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে সেগুলোকে সম্মান করা হোক
… ))। এরপর তিনি এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الأول فقال: ((وأولى القولين عندي بالصواب القول الذي قاله مجاهد، وهو أن معناه: أذن الله أن ترفع بناءً، كما قال جل ثناؤه: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ
الْبَيْتِ} (1). وذلك أن هذا هو الأغلب في معنى الرفع في البيوت والأبنية)) (2).
وقال العلامة السعدي رحمه الله: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ الله أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} هذا مجموع أحكام المساجد، فيدخل في رفعها: بناؤها، وكنسها، وتنظيفها من النجاسات والأذى، وصونها من المجانين والصبيان، الذين لا يتحرزون من النجاسات، وعن الكافر، وأن تصان عن اللغو فيها، ورفع الأصوات بغير ذكر الله)) (3).
وعن عمرو بن ميمون رحمه الله قال: ((أدركت أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم يقولون: المساجد بيوت
--------------------------------------------
প্রথমজন বলেছেন: ((আমার নিকট দুটি মতের মধ্যে সঠিক হলো সেই কথাটি যা মুজাহিদ বলেছেন, আর তা হলো এর অর্থ: আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, এগুলো নির্মাণের মাধ্যমে সমুন্নত করা হোক, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর স্মরণ করুন যখন ইবরাহিম ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিলেন
ঘরের (বায়তুল্লাহর)} (১)। আর এটিই হলো ঘরবাড়ি ও দালানকোঠার ক্ষেত্রে ‘উত্তোলন’ বা ‘সমুন্নত’ করার অর্থের মধ্যে অধিক প্রচলিত)) (২)।
আল্লামা সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: {সেই সব ঘরে যাকে সমুন্নত করার এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন} এটি মসজিদের যাবতীয় বিধানের সমষ্টি। এর সমুন্নত করার অন্তর্ভুক্ত হলো: তা নির্মাণ করা, ঝাড়ু দেওয়া, অপবিত্রতা ও ময়লা-আবর্জনা থেকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং একে পাগল ও শিশুদের থেকে হেফাজত করা যারা অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকতে পারে না, আর কাফেরদের থেকে পবিত্র রাখা। এছাড়া সেখানে অসার কথা বলা এবং আল্লাহর স্মরণ ব্যতীত উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করা থেকে তা রক্ষা করা)) (৩)।
আমর ইবনে মাইমুন (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের (أصحاب) সান্নিধ্য পেয়েছি, তাঁরা বলতেন: মসজিদসমূহ হলো ঘর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الله، وإنه حق على الله أن يكرم من زاره)) (1).
وقد حثّ النبي صلى الله عليه وسلم على بناء المساجد ورغَّب في ذلك، فعن عثمان بن عفان رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من بنى مسجداً)) قال بكير: حسبت أنه قال: ((يبتغي به وجه الله)) ((بنى الله له مثله في الجنة)). ولفظ مسلم: ((من بنى مسجداً لله)) قال بكير: حسبت أنه قال: ((يبتغي به وجه الله تعالى، بنى الله له بيتاً في الجنة)) (2).
وذكر ابن حجر رحمه الله أن قوله صلى الله عليه وسلم: ((من بنى مسجداً)) التنكير فيه للشيوع فيدخل فيه الكبير والصغير)) (3). ووقع في رواية أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من بنى لله مسجداً صغيراً أو كبيراً بنى الله له بيتاً في الجنة)) (4). وجاء
--------------------------------------------
আল্লাহর ওপর, আর আল্লাহর এটি পাওনা যে তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎকারীকে সম্মানিত করবেন (১)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ নির্মাণের প্রতি তাকিদ দিয়েছেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। উসমান ইবন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করবে,” বুকাইর বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন: “যার দ্বারা সে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে,” “আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।” মুসলিম-এর পাঠে রয়েছে: “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে,” বুকাইর বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন: “যার দ্বারা সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন” (২)।
ইবন হাজার (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: “যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করবে” - এখানে মসজিদ শব্দটি অনির্দিষ্ট (نكرة) হওয়ার কারণে তা ব্যাপক অর্থ প্রদান করে, ফলে এতে বড় ও ছোট উভয় প্রকার মসজিদই অন্তর্ভুক্ত হবে (৩)। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ছোট কিংবা বড় একটি মসজিদ নির্মাণ করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন” (৪)। এসেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
من حديث أبي ذر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من بنى لله مسجداً ولو قدر مفحص قطاة (1) بنى الله له بيتاً في الجنة)) (2).
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((وحمل أكثر العلماء ذلك على المبالغة؛ لأن المكان الذي تفحص القطاة عنه؛ لتضع فيه بيضها، وترقد عليه لا يكفي مقداره للصلاة فيه، وقيل: هو على ظاهره، والمعنى أن يزيد في مسجد قدراً يحتاج إليه تكون تلك الزيادة هذا القدر، أو يشترك جماعة في بناء مسجد، فتقع حصة كل واحد منهم ذلك القدر، وهذا كله بناء على أن المراد بالمسجد ما يتبادر إلى
--------------------------------------------
আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, চাই তা কাতা পাখির ডিম পাড়ার স্থানের (১) পরিমাণের ন্যায়ও হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন" (২)।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "অধিকাংশ আলেম একে অতিরঞ্জন হিসেবে গ্রহণ করেছেন; কারণ কাতা পাখি ডিম পাড়ার জন্য এবং তাতে তা দেওয়ার জন্য যে স্থানটি খনন করে, তার পরিমাণ সেখানে সালাত আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি তার বাহ্যিক অর্থেই প্রযোজ্য, আর এর অর্থ হলো—কোনো মসজিদে প্রয়োজন অনুযায়ী এমন পরিমাণ অংশ বৃদ্ধি করা যা এই পরিমাণের সমান হয়, অথবা একদল লোক মিলে একটি মসজিদ নির্মাণে শরিক হওয়া এবং তাদের প্রত্যেকের অংশ এই পরিমাণের সমান হওয়া। আর এ সবই এই ভিত্তিতে যে, মসজিদ বলতে যা বুঝায় তা হলো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الذهن، وهو المكان الذي يتخذ للصلاة فيه، فإن كان المراد بالمسجد موضع السجود وهو ما يسع الجبهة فلا يحتاج إلى شيء مما ذكر، لكن قوله: ((بنى)) يشعر بوجود بناء على الحقيقة، ويؤيده قوله في رواية أم حبيبة رضي الله عنها: ((من بنى لله بيتاً)) أخرجه سمويه في فوائده بإسناد حسن
… لكن لا يمنع إرادة الآخر مجازاً إذ بناء كل شيء بحسبه، وقد شاهدنا كثيراً من المساجد في طرق المسافرين يحوطونها إلى جهة القبلة، وهي في غاية الصغر، وبعضها لا تكون أكثر من قدر موضع السجود، وروى البيهقي في الشعب من حديث عائشة نحو حديث عثمان، وزاد: قلت: وهذه المساجد التي في الطرق؟ قال: نعم، وللطبراني نحوه من حديث أبي قرصافة وإسنادهما حسن)) (1).
أما قوله صلى الله عليه وسلم: ((من بنى مسجداً لله)) فمعناه: ((أي مخلصاً في بنائه لله تعالى)) (2). وذكر ابن حجر رحمه الله عن ابن
--------------------------------------------
মন-মস্তিষ্ক, আর তা হলো এমন স্থান যা সেখানে সালাত আদায়ের জন্য গ্রহণ করা হয়। যদি মসজিদ দ্বারা সিজদার জায়গা উদ্দেশ্য হয়—যা কপাল রাখার মতো প্রশস্ত—তবে উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনোটির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তাঁর (রাসূল ﷺ) বাণী: "নির্মাণ করল" শব্দটি প্রকৃতপক্ষে একটি স্থাপনার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। আর উম্মে হাবিবা (রা.)-এর বর্ণনা (رواية)-য় তাঁর এই বাণীটি একে সমর্থন করে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি ঘর নির্মাণ করল।" সুমুওয়াইহ তাঁর ফাওয়াইদ গ্রন্থে এটি একটি হাসান (حسن) সনদের (إسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন
… তবে রূপকার্থে অন্যটি (সিজদার জায়গা) উদ্দেশ্য হওয়াকে বাধা দেয় না, কেননা প্রতিটি জিনিসের নির্মাণ তার প্রকৃতি অনুযায়ী হয়ে থাকে। আমরা মুসাফিরদের পথে অনেক মসজিদ দেখেছি যেগুলোকে কিবলার দিকে দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়, অথচ সেগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং কোনো কোনোটি সিজদার জায়গার পরিমাণের চেয়ে বড় নয়। বায়হাকি 'শুআবুল ইমান' গ্রন্থে আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে উসমান (রা.)-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: আমি বললাম, "আর রাস্তার ধারের এই মসজিদগুলো?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" তাবারানি আবু কুরসাফাহ (রা.)-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের উভয়ের সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।
পক্ষান্তরে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করল" এর অর্থ হলো: "অর্থাৎ তা নির্মাণে মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে।" ইবনে হাজার (রহ.) ইবনে... থেকে উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الجوزي رحمه الله أنه قال: ((من كتب اسمه على المسجد الذي يبنيه كان بعيداً من الإخلاص)) (1).ومن بناه بالأجرة لا يحصل له هذا الوعد المخصوص؛ لعدم الإخلاص، وإن كان يؤجر في الجملة على حسب إخلاصه، لكن الإخلاص الكامل لا يحصل إلا من المتطوع (2).
أما قوله صلى الله عليه وسلم في حديث عثمان رضي الله عنه: ((بنى الله له مثله في الجنة)) فقال القرطبي رحمه الله: ((هذه المثلية ليست على ظاهرها
… وإنما يعني أنه بنى له بثوابه بناءً أشرف وأعظم، وأرفع)) (3). وقال الإمام النووي رحمه الله تعالى -: ((يحتمل قوله: ((مثله)) أمرين: أحدهما أن يكون معناه: بنى الله تعالى له مثله في مسمى البيت، وأما صفته في السعة وغيرها فمعلوم فضلها أنها مما لا عين رأت، ولا أذن سمعت، ولا خطر على قلب بشر.
--------------------------------------------
আল-জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যে ব্যক্তি তার নির্মিত মসজিদের ওপর নিজের নাম লেখে, সে একনিষ্ঠতা (إخلاص) থেকে দূরে থাকে" (১)। আর যে ব্যক্তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এটি নির্মাণ করে, সে একনিষ্ঠতার (إخلاص) অভাবে এই বিশেষ প্রতিশ্রুতি লাভ করবে না; যদিও সে সাধারণভাবে তার একনিষ্ঠতার (إخلاص) মাত্রা অনুযায়ী সওয়াব পাবে, তবে পূর্ণাঙ্গ একনিষ্ঠতা (إخلاص) কেবল স্বেচ্ছাসেবী (متطوع) ব্যক্তির মাধ্যমেই অর্জিত হয় (২)।
উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী— "আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন"—প্রসঙ্গে ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই অনুরূপ হওয়াটা তার বাহ্যিক (ظاهر) অর্থের ওপর ভিত্তি করে নয়... বরং এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা তার সওয়াবের বিনিময়ে এমন একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন যা আরও অধিক সম্মানজনক, মহান এবং সুউচ্চ" (৩)। ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন: "তাঁর বাণী 'অনুরূপ' শব্দটি দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে: একটি হলো এর অর্থ—আল্লাহ তাআলা তার জন্য গৃহের সংজ্ঞার দিক থেকে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন; আর এর প্রশস্ততা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে এর শ্রেষ্ঠত্ব তো সর্বজনবিদিত যে, তা এমন নেয়ামত যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়েও তা কখনো উদিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الثاني: ((أن معناه أن فضله على بيوت الجنة كفضل المسجد على بيوت الدنيا)) (1).
وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((ومن الأجوبة المرضية، أيضاً أن المثلية هنا بحسب الكمية، والزيادة حاصلة بحسب الكيفية، فكم من بيت خير من عشرة بل من مائة)) (2).وهذا هو الاحتمال الأول عند النووي. ولا شك أن التفاوت حاصل قطعاً بالنسبة إلى ضيق الدنيا، وسعة الجنة؛ لأن موضع شبر فيها خير من الدنيا وما فيها (3).
وجاء عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن مما يلحق المؤمن من عمله وحسناته بعد موته: علماً علَّمه ونشره، وولداً صالحاً تركه، ومصحفاً ورَّثه، أو مسجداً بناه، أو بيتاً لابن السبيل بناه، أو نهراً أجراه، أو صدقة أخرجها من ماله في صحته وحياته يلحقه من بعد موته)) (4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: ((এর অর্থ হলো জান্নাতের ঘরসমূহের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব দুনিয়ার ঘরসমূহের ওপর মসজিদের শ্রেষ্ঠত্বের মতো।)) (১)।
এবং হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((সন্তোষজনক উত্তরসমূহের মধ্যে এটিও একটি যে, এখানে সাদৃশ্যটি পরিমাণের বিচারে, আর আধিক্য অর্জিত হয়েছে গুণগত মানের বিচারে। সুতরাং এমন অনেক ঘর রয়েছে যা দশটি বরং একশটি ঘরের চেয়েও উত্তম।)) (২)। এবং ইমাম নববীর নিকট এটিই প্রথম সম্ভাবনা। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা এবং জান্নাতের প্রশস্ততার বিবেচনায় পার্থক্য নিশ্চিতভাবে বিদ্যমান; কেননা জান্নাতে এক বিঘত পরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম। (৩)।
এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক কাজসমূহের মধ্যে যা তার সাথে যুক্ত হয় তা হলো: এমন ইলম যা সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে, নেককার সন্তান যা সে রেখে গিয়েছে, এমন কুরআন যা সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গিয়েছে, অথবা কোনো মসজিদ যা সে নির্মাণ করেছে, অথবা মুসাফিরদের জন্য কোনো গৃহ যা সে নির্মাণ করেছে, অথবা কোনো পানির নহর যা সে প্রবাহিত করেছে, অথবা এমন সদকা যা সে তার সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় তার সম্পদ থেকে দান করেছে; তা তার মৃত্যুর পর তার আমলনামায় যুক্ত হবে।)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث السادس: فضل المشي إلى المساجد: المشي إلى المساجد، لأداء الصلاة جماعة من أعظم الطاعات، وقد ثبت في ذلك فضائل عظيمة كثيرة، منها:
1 - شديد الحب للمساجد في ظل الله يوم القيامة؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((سبعة يظلّهم الله تعالى في ظلّه يوم لا ظلَّ إلا ظلّه: الإمام العادل، وشاب نشأ في عباده الله، ورجل قلبه مُعلّق في المساجد، ورجلان تحابّا في الله اجتمعا عليه وتفرّقا عليه، ورجل دعته امرأة ذات منصب وجمال فقال: إني أخاف الله، ورجل تصدق بصدقة فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه، ورجل ذكر الله خالياً ففاضت عيناه)). وفي لفظ لمسلم: ((ورجل مُعلّق بالمسجد إذا خرج منه حتى يعود إليه)) (1).
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মসজিদে যাওয়ার মর্যাদা: জামাতের সাথে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ আনুগত্যপূর্ণ ইবাদত। এই বিষয়ে অনেক মহান ও অসংখ্য ফজিলত প্রমাণিত হয়েছে, তন্মধ্যে রয়েছে:
১ - কিয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়াতলে স্থান পাওয়া সেই ব্যক্তির জন্য যার মসজিদের প্রতি গভীর ভালোবাসা রয়েছে; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না: ন্যায়পরায়ণ ইমাম, এমন যুবক যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে, এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে, এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে—সেই ভালোবাসার ভিত্তিতেই তারা একত্রিত হয় এবং তার ওপরই বিচ্ছিন্ন হয়, এমন ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চবংশীয় সুন্দরী নারী আহ্বান জানায় কিন্তু সে বলে: 'নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি', এমন ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে তার ডান হাত যা খরচ করে তা তার বাম হাত জানতে পারে না এবং এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে ফলে তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়))। সহিহ মুসলিম-এর এক বর্ণনায় এসেছে: ((এবং এমন ব্যক্তি যে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় ফিরে না আসা পর্যন্ত তার অন্তর মসজিদের সাথে লটকে থাকে)) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الإمام النووي رحمه الله في شرح قوله صلى الله عليه وسلم: ((ورجل قلبه معلّق في المساجد)) ((ومعناه شديد الحب لها، والملازمة للجماعة فيها، وليس معناه دوام القعود في المسجد)) (1). وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((معلّق في المساجد)) هكذا في الصحيحين، وظاهره أنه من التعليق، كأنه شبهه بالشيء المعلق في المسجد، كالقنديل مثلاً، إشارة إلى طول الملازمة بقلبه وإن كان جسده خارجاً عنه، ويدل عليه رواية الجوزقي: ((كأنما قلبه معلّق في المسجد)) ويحتمل أن يكون من العلاقة: وهي شدة الحب. ويدلّ عليه رواية أحمد: ((معلّق بالمساجد)) (2).
2 - المشي إلى المساجد تُرفع به الدرجات، وتُحطّ الخطايا، وتُكتب الحسنات؛ لحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أنه قال: ((وما من رجل يتطهر فيحسن الطهور ثم يعمد
--------------------------------------------
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: ((এবং এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে ঝুলন্ত)) এর ব্যাখ্যায় বলেন: ((এর অর্থ হলো মসজিদের প্রতি প্রবল ভালোবাসা এবং সেখানে জামাতের সাথে নিয়মিত উপস্থিত থাকা; এর অর্থ সর্বদা মসজিদে বসে থাকা নয়)) (১)। হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((মসজিদের সাথে ঝুলন্ত)) - সহীহাইন-এ এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। এর বাহ্যিক দিক হলো এটি ঝুলানো (تعليق) শব্দ থেকে উদ্ভূত; যেন তিনি বিষয়টিকে মসজিদের কোনো ঝুলন্ত বস্তুর সাথে তুলনা করেছেন, যেমন বাতি; এটি শরীরের বাইরে থাকা সত্ত্বেও অন্তরের দীর্ঘকালীন আসক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে। আল-জাওযাকীর বর্ণনা (رواية) এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়: ((যেন তার অন্তর মসজিদে ঝুলন্ত))। আর এটিও সম্ভাবনা রাখে যে শব্দটি 'আলাকাহ' (علاقة) থেকে এসেছে, যার অর্থ তীব্র ভালোবাসা। ইমাম আহমাদের বর্ণনা (رواية) এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়: ((মসজিদসমূহের প্রতি আসক্ত)) (২)।
২ - মসজিদের দিকে পদব্রজে যাওয়া মর্যাদা বৃদ্ধি করে, পাপ মোচন করে এবং নেকি লিপিবদ্ধ করে; আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি বলেছেন: ((কোনো ব্যক্তি যখন পবিত্রতা অর্জন করে এবং উত্তমরূপে পবিত্রতা (طهور) অর্জন করে, অতঃপর সে সংকল্প করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إلى مسجد من هذه المساجد إلا كتب الله له بكل خطوة يخطوها حسنة، ويرفعه بها درجة، ويحطّ عنه بها سيئة
… )) (1)؛ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه يرفعه وفيه: ((
… وذلك أن أحدكم إذا توضأ فأحسن الوضوء ثم خرج إلى المسجد لا يخرجه إلا الصلاة، لم يخطُ خطوة إلا رُفِعَ له بها درجة، وحُطّ عنه بها خطيئة
… )) (2). وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من تطهّر في بيته ثم مشى إلى بيت من بيوت الله، ليقضي فريضة من فرائض الله كانت خطواته: إحداهما تحطّ خطيئة، والأخرى ترفع درجة)) (3).
قال الإمام القرطبي رحمه الله: ((قال الداودي: إن كانت له ذنوب حُطت عنه وإلا رفعت له بها درجات، قلت: وهذا يقتضي أن الحاصل بالخطوة درجة واحدة، إمّا الحطّ وإمّا الرّفع، وقال غيره: بل الحاصل بالخطوة
--------------------------------------------
...এই মসজিদসমূহের কোনো একটির দিকে যায়, আল্লাহ তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে একটি নেকি লিখে দেন, তার মাধ্যমে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার থেকে একটি গুনাহ মিটিয়ে দেন
… )) (১); এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসে রয়েছে: ((
… আর তা এই কারণে যে, তোমাদের কেউ যখন উত্তমরূপে ওজু করে, এরপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তাকে বের না করে, তবে সে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে একটি মর্যাদা উন্নীত হয় এবং তার থেকে একটি পাপ মিটিয়ে দেওয়া হয়
… )) (২)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, তারপর আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটির দিকে হেঁটে গেল, যাতে আল্লাহর ফরজ (فريضة) সমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি ফরজ আদায় করা যায়, তবে তার কদমগুলোর একটি পাপ মোচন করে এবং অন্যটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে)) (৩)।
ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((দাউদি বলেছেন: যদি তার গুনাহ থাকে তবে তা মিটিয়ে দেওয়া হয়, অন্যথায় তার মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলি: এটি দাবি করে যে, প্রতিটি কদমে কেবল একটি বিষয়ই অর্জিত হয়—হয় গুনাহ মোচন নতুবা মর্যাদা বৃদ্ধি। অন্যরা বলেছেন: বরং প্রতিটি কদমে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الواحدة: ثلاثة أشياء، لقوله في الحديث الآخر: ((كتب الله له بكل خطوة حسنة، ويرفعه بها درجة، ويحطّ عنه بها سيئة)) والله أعلم انتهى (1).
وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله يقول: ((كلّ خطوة واحدة: يُرفع بها درجة، وتُحطّ عنه بها خطيئة، وتُكتب له حسنة، وهذه الزيادة الأخيرة ((الحسنة)) في مسلم عن ابن مسعود، وإذا صحت رواية إحداهما يُرفع بها درجة، والأخرى يُحط عنه بها خطيئة، فتكون هذه الرواية أولاً ثم تفضل الله بالزيادة، فجعل بكل خطوة واحدة ثلاث فضائل: رفع درجة، وحط خطيئة، وكتب حسنة)) (2).
3 - يكتب له المشي إلى بيته كما كتب له المشي إلى الصلاة في المسجد، إذا احتسب ذلك، لحديث أبي بن كعب رضي الله عنه قال: كان رجل لا أعلم رجلاً أبعد من المسجد منه، لا
--------------------------------------------
একটি পদক্ষেপ: তিনটি বিষয়, যেহেতু অন্য একটি হাদিসে তাঁর বাণী রয়েছে: ((আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি সওয়াব (حسنة) লিখে দেন, এর মাধ্যমে তার একটি মর্যাদা (درجة) বৃদ্ধি করেন এবং এর দ্বারা তার একটি গুনাহ (سيئة) মোচন করেন)) আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। সমাপ্ত (১)।
আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ((প্রতিটি একক পদক্ষেপ: এর দ্বারা একটি মর্যাদা (درجة) উন্নীত করা হয়, একটি পাপ (خطيئة) মোচন করা হয় এবং তার জন্য একটি সওয়াব (حسنة) লেখা হয়। আর এই শেষোক্ত সংযোজন—((সওয়াব (حسنة)))—ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত মুসলিম-এ রয়েছে। আর যদি কোনো একটি বর্ণনা (رواية) সঠিক (صحيح) হয় যে, একটি পদক্ষেপে মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং অন্যটিতে পাপ মোচন হয়, তবে এই বর্ণনাটি (رواية) ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য, অতঃপর আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহপূর্বক তা বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। ফলে তিনি প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তিনটি ফযিলত নির্ধারণ করেছেন: মর্যাদা বৃদ্ধি, পাপ মোচন এবং সওয়াব লিখন।)) (২)।
৩ - বাড়ি ফিরে যাওয়ার হাঁটাও তার জন্য সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে যেমনটি মসজিদে সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার হাঁটার জন্য লেখা হয়, যদি সে সওয়াবের আশা (احتساب) করে। এটি উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি ছিল, যার চেয়ে মসজিদ থেকে অধিক দূরবর্তী আর কাউকে আমি জানতাম না, তবুও সে...
--------------------------------------------