(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: -)
الغناء والمعازف في ضوء الكتاب والسنة وآثار الصحابة - رضي الله عنهم - القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الغناء والمعازف في ضوء الكتاب والسنة وآثار الصحابة - رضي الله عنهم -
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
تقديم: معالي العلامة الشيخ الدكتور صالح بن فوزان الفوزان
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 166
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
আল-কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের (الصحابة) আছারের (آثار) আলোকে গান ও বাদ্যযন্ত্র - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: আল-কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের (الصحابة) আছারের (آثار) আলোকে গান ও বাদ্যযন্ত্র - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
উপস্থাপনা: মান্যবর আল্লামা শায়খ ডক্টর সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: 166
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ১৭ জুল কাদা ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الغناء والمعازف في ضوء الكتاب والسنة وآثار الصحابة رضي الله عنهم
تقديم معالي العلامة الشيخ الدكتور صالح بن فوزان الفوزان عضو هيئة كبار العلماء
تأليف الفقير إلى الله تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনির রচনাসমগ্র
কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আসার (آثار)-এর আলোকে গান ও বাদ্যযন্ত্র
উপস্থাপনায়: মান্যবর আল্লামা শাইখ ড. সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান, সদস্য, জেষ্ঠ্য উলামা পরিষদ
আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত
ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: -)
تقديم معالي العلامة الشيخ الدكتور صالح بن فوزان الفوزان عضو هيئة كبار العلماء
بسم الله الرحمن الرحيم
وعليكم السلام ورحمة اللَّه وبركاته/ وبعد: فقد تصفحت الرسالة المذكورة، فوجدتها مفيدة في موضوعها، مستوفية للأدلة من الكتاب والسنة، وكلام أهل العلم في تحريم الغناء والمعازف، والرد على من استباح ذلك، فجزاكم اللَّه خيراً على ما قمتم به من واجب النصيحة، والرد على من خالف من غير دليل. وصلى اللَّه وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
كتبه
صالح بن فوزان الفوزان
عضو هيئة كبار العلماء
2/ 10/ 1431هـ
উপস্থাপনা: মহামান্য আল্লামা শাইখ ডক্টর সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান, সদস্য, জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর: আমি উল্লিখিত পুস্তিকাটি আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি এবং একে এর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ পেয়েছি। এটি কুরআন ও সুন্নাহর প্রমাণ (دليل) এবং গান ও বাদ্যযন্ত্র হারাম হওয়ার ব্যাপারে এবং যারা এগুলোকে বৈধতা দিয়েছে তাদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যে সমৃদ্ধ। নসিহতের আবশ্যিক দায়িত্ব পালন এবং যারা কোনো প্রমাণ (دليل) ছাড়াই বিরোধিতা করেছে তাদের প্রত্যুত্তর প্রদানের জন্য আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমাদের নবি মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান
সদস্য, জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ
০২/১০/১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه، وعلى آله، وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليماً كثيراً، أما بعد:
فقد ظهر بعض القُرَّاءِ للقرآن الكريم في النصف الثاني من هذا العام 1431هـ يفتي بجواز الغناء، والموسيقى، وفتن نفسه، وفتن غيره من ضعفاء العلم والإيمان من الناس، والعياذ باللَّه، وليته شكر اللَّه تعالى على ما أعطاه من إجادة حروف القرآن، وحسن الصوت في قراءته، وليته سأل اللَّه العلم والعمل بالقرآن على الوجه الذي يرضيه سبحانه وتعالى، وليته ردَّ هذا الأمر إلى القرآن الذي أتقن حفظ حروفه، وإلى سنة النبي صلى الله عليه وسلم، فقد أمر اللَّه بالردِّ إليهما عند التنازع، وليته استفاد من علماء عصره المحققين، أمثال الإمام ابن باز رحمه الله، والعلامة ابن عثيمين رحمه الله، ومفتي عام المملكة، وأمثالهم من أهل العلم الراسخين المخلصين، ولكن قدّر اللَّه، وما شاء فعل، واللَّه يعفو عنا وعنه.
وقد كتبت هذه الرسالة ((الغناء والمعازف في ضوء الكتاب والسنة، وآثار الصحابة)) ردَّاً عليه، وعلى أمثاله، وقد بيّنت فيها بالأدلّة من الكتاب والسنة، وأقوال الصحابة، وأعلام التابعين، والأئمة الأربعة، وغيرهم من أهل العلم المحققين تحريم الأغاني والمعازف، كما بيّنت ما يجوز من الغناء المباح، وقد قسمت هذه الرسالة إلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ (الصحابة) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এই ১৪৩১ হিজরী সনের দ্বিতীয়ার্ধে কুরআনুল কারীমের এমন কিছু কারী বা আবৃত্তিকারের আবির্ভাব ঘটেছে যারা গান ও বাদ্যযন্ত্র বৈধ হওয়ার ফতোয়া দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ফিতনায় ফেলেছেন এবং মানুষের মধ্য থেকে ইলম ও ঈমানে যারা দুর্বল, তাদেরকেও ফিতনায় ফেলেছেন—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। হায়! তিনি যদি কুরআন তিলাওয়াতের দক্ষতা এবং সুমধুর কণ্ঠের যে নিআমত আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন, সেজন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন! তিনি যদি আল্লাহর কাছে এমন ইলম এবং কুরআনের ওপর আমল করার তাওফিক চাইতেন যা মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে! তিনি যদি এই বিষয়টি কুরআনের দিকে ফিরিয়ে নিতেন—যার শব্দসমূহ তিনি নিখুঁতভাবে মুখস্থ করেছেন—এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে নিতেন; কেননা আল্লাহ তাআলা কোনো বিরোধ দেখা দিলে এই দুইয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যদি তাঁর সমসাময়িক গবেষক আলেমদের থেকে উপকৃত হতেন, যেমন ইমাম ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ), আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ), কিংডমের গ্র্যান্ড মুফতি এবং তাঁদের মতো অন্যান্য গভীর জ্ঞানের অধিকারী মুখলিস আলেমগণ। কিন্তু আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা-ই হয়েছে এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন। আল্লাহ আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করুন।
আমি এই রিসালাহটি—'কিতাব, সুন্নাহ ও সাহাবীদের আসার-এর আলোকে গান ও বাদ্যযন্ত্র'—তাঁর এবং তাঁর মতো অন্যদের প্রতি উত্তর হিসেবে লিখেছি। এতে আমি কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবীগণের (الصحابة) বাণী, প্রখ্যাত তাবিঈগণ (التابعين), চার ইমাম এবং অন্যান্য বিজ্ঞ গবেষক আলেমদের দলীল দ্বারা গান ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। পাশাপাশি বৈধ (مباح) গানের মধ্য থেকে কতটুকু জায়েজ তাও বর্ণনা করেছি। আমি এই পুস্তিকাটিকে নিম্নোক্ত অংশে বিভক্ত করেছি-
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৪)
المباحث الآتية:
المبحث الأول: مفهوم الغناء والمعازف.
المبحث الثاني: تحريم القول على اللَّه بغير علم.
المبحث الثالث: تحريم الغناء بالكتاب والسنة، وأقوال الصحابة.
المبحث الرابع: الوعيد الشديد لأهل الغناء والمعازف.
المبحث الخامس: أسماء الغناء والمعازف وآلات اللهو.
المبحث السادس: مسائل مهمة في الغناء والمعازف والمزامير.
المبحث السابع: أضرار الغناء ومفاسده.
المبحث الثامن: ما يباح من الغناء.
المبحث التاسع: الردُّ على من ضعّف أحاديث الغناء.
المبحث العاشر: الفتاوى المحققة في الأغاني والمعازف، وآلات اللهو.
وقد استفدت كثيراً من تقريرات شيخنا عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله.
واللَّهَ أسأل أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، مباركاً، نافعاً، صواباً، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به من انتهى إليه؛ فإنه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا باللَّه العليّ العظيم.
وصلى اللَّه وسلّم وبارك على عبده، ورسوله، وخيرته من خلقه، وأمينه على وحيه، نبينا محمد بن عبد اللَّه، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أبو عبد الرحمن
حرر بعد ظهر يوم الثلاثاء الموافق 8/ 8/1431هـ.
নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গান ও বাদ্যযন্ত্রের ধারণা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলম বা জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে কোনো কিছু বলা নিষিদ্ধ হওয়া।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের বক্তব্যের আলোকে গান নিষিদ্ধ হওয়া।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গান ও বাদ্যযন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গান, বাদ্যযন্ত্র এবং খেল-তামাশার উপকরণের নামসমূহ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: গান, বাদ্যযন্ত্র ও বাঁশি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: গানের অপকারিতা ও অনিষ্টসমূহ।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: গানের যে অংশটুকু বৈধ।
নবম পরিচ্ছেদ: যারা গানের হাদিসগুলোকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন, তাদের প্রত্যুত্তর।
দশম পরিচ্ছেদ: গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেল-তামাশার সরঞ্জামাদি সম্পর্কে যাচাইকৃত ফতোয়াসমূহ।
আমি আমাদের শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উপস্থাপনা ও ব্যাখ্যাসমূহ থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, একে বরকতময়, উপকারী ও সঠিক করেন এবং আমার জীবনে ও মরণের পরে আমাকে এর দ্বারা উপকৃত করেন। আর যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও যেন এর দ্বারা উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।
আল্লাহ তাঁর বান্দা, রাসূল, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং ওহীর আমানতদার—আমাদের নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
আবু আব্দুর রহমান
মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর সম্পাদিত, ৮/ ৮/ ১৪৩১ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: مفهوم الغناء والمعازفالغناء: التطريب، والترنم بالكلام الموزون وغيره، ويكون مصحوباً بالموسيقى وغير مصحوب، والأغنية: ما يترنم به من الكلام، والجمع: أغاني، وغنَّى: طرّب، وترنّم بالكلام الموزون، وغيره (1).
والغناء: هو المعروف بين أهل اللهوِ واللعب (2).
والغِناء من الصوت: ما طُرِّب به
… ويقال: غنَّى فلانٌ يُغنِّي أُغنية، وتغنَّى بأغنية حسنة، وجمعها الأغاني (3).
والغناء اصطلاحاً: هو ترديد الصوت بالشعر ونحوه بالألحان، أما التغنِّي فهو الترنّم (4).
والمعازف: يقال: عزف عزفاً: لَهَا، والمعازف: الملاهي، وواحد المعازف: عزْف على غير قياس، والملاعب التي يضرب بها، يقولون للواحد: عزْف، والجمع: معازف.
العزف: اللعب بالمعازف، وهي الدفوف وغيرها مما يُضرب، وكلُّ لعب عزف، والعازف: اللاعب بها والمُغَنِّي (5).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: গিনা (গান) ও বাদ্যযন্ত্রের ধারণাগিনা (গান): সুর সৃষ্টি করা, এবং ছন্দোবদ্ধ বাক্য বা অন্য কিছু গুঞ্জন করা; এটি বাদ্যযন্ত্রের সাথে হতে পারে আবার বাদ্যযন্ত্র ছাড়াও হতে পারে। আর উগনিয়া (গান): যা সুর করে গুঞ্জন করা হয়; এর বহুবচন হলো ‘আগানি’। আর ‘গান্না’ অর্থ: সুর করা এবং ছন্দোবদ্ধ কথা বা অন্য কিছু গুঞ্জন করা (১)।
গিনা (গান): এটি আমোদ-প্রমোদ ও খেল-তামাশায় লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সুপরিচিত একটি বিষয় (২)।
কণ্ঠস্বর থেকে উদ্ভূত গিনা (গান) হলো: যা দ্বারা সুর তোলা হয়... বলা হয়: অমুক ব্যক্তি গান গেয়েছে, সে একটি সুন্দর গান গেয়েছে; আর এর বহুবচন হলো ‘আগানি’ (৩)।
পারিভাষিক অর্থে গিনা (গান) হলো: কবিতা বা অনুরূপ কিছু সুরের মাধ্যমে কণ্ঠে বারবার প্রতিধ্বনিত করা। অন্যদিকে ‘তাজান্নি’ হলো সুর করে গুঞ্জন করা (৪)।
মাআজিফ (বাদ্যযন্ত্র): বলা হয়ে থাকে: সে বাদ্য বাজিয়েছে—অর্থাৎ সে আমোদ-প্রমোদ করেছে। মাআজিফ হলো বিনোদনের উপকরণসমূহ। আর নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে মাআজিফ-এর একবচন হলো ‘আযফ’; যা মূলত এমন ক্রীড়া সরঞ্জাম যা আঘাত করে বাজানো হয়। তারা একবচনের ক্ষেত্রে আযফ এবং বহুবচনে মাআজিফ বলে থাকে।
আযফ: বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে আমোদ-প্রমোদ করা, আর তা হলো দফ (খঞ্জনি) বা এজাতীয় যা কিছু আঘাত করে বাজানো হয়। প্রতিটি ক্রীড়াই আযফ-এর অন্তর্ভুক্ত। আর আযিফ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এগুলো বাজান এবং গান গাওয়ার কাজে নিয়োজিত থাকেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقيل: عزف - بفتح فسكون-: مصدر عزف: اللعب بآلات العزف: أي الموسيقى: كالعود، والطنبور، ونحوهما (1).
--------------------------------------------
এবং বলা হয়েছে: আযফ (عزف) —প্রথম বর্ণে ফাতহাহ ও দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন যোগে—: এটি ‘আযফ’ এর ক্রিয়ামূল; বাদ্যযন্ত্র বাজানো: অর্থাৎ সংগীত: যেমন উদ, তানবুর এবং এই জাতীয় অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الثاني: تحريم القول على الله بغير علميظهر بعض الناس في كلّ زمان فيتكلمون، ويُفتون بغير علم، ولا هُدىً، ويخالفون الكتاب، والسنة، وأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، والأئمة الأعلام من المحققين من علماء الإسلام، حتى في بعض المسائل العظيمة التي لو عرضت على أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه، لجمع لها أهل بدر، والمهاجرين، والأنصار؛ لخشيته لله، ومراقبته له عز وجل، وهذا يدل على عدم خشيتهم لله تعالى، وأنهم من أجهل الناس، ويجهلون ما جاء في الكتاب الكريم، وسنة النبي صلى الله عليه وسلم من تحريم القول على الله بغير علم:
1 - قال اللَّه تعالى: (قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} (1)، ومعنى القول على اللَّه بغير علم: أي بغير دليل صريح من كتاب أو سنة صحيحة صريحة، سواء كان ذلك في أصول الدين، أو فروعه.
2 - وقال اللَّه عز وجل: (وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলার নিষেধাজ্ঞাপ্রত্যেক যুগে এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটে যারা কোনো জ্ঞান ও হেদায়েত ছাড়াই কথা বলে এবং ফতোয়া প্রদান করে। তারা কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এবং ইসলামের বিজ্ঞ ও প্রথিতযশা ইমামগণের বিরোধিতা করে। এমনকি তারা এমন কিছু গুরুতর বিষয়ের ক্ষেত্রেও এটি করে, যা যদি আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সামনে উপস্থাপন করা হতো, তবে তিনি আল্লাহর প্রতি তাঁর ভয় এবং তাঁর নজরদারির কারণে এর জন্য বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী (أهل بدر), মুহাজির (المهاجرين) এবং আনসারদের (الأنصار) একত্রিত করতেন। এটি তাদের আল্লাহর প্রতি ভয়হীনতা এবং চরম মূর্খতারই প্রমাণ দেয়। তারা কিতাবুল্লাহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর সেই বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ, যেখানে জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে কোনো কিছু বলাকে হারাম করা হয়েছে:
১ - মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমার প্রতিপালক কেবল হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন—আর পাপাচার ও অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছু শরিক করা যার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না} (১)। জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলার অর্থ হলো: কুরআন অথবা সুস্পষ্ট ও সহিহ (صحيحة) সুন্নাহর কোনো দ্ব্যর্থহীন দলিল ছাড়া কথা বলা; চাই তা দ্বীনের মৌলিক বিষয় (أصول الدين) সংক্রান্ত হোক কিংবা শাখা-প্রশাখা (فروعه) সংক্রান্ত বিষয় হোক।
২ - মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমাদের জিহ্বা থেকে সাজানো মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে তোমরা বলবে না যে, এটি হালাল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ * مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (1).
3 - وقال سبحانه وتعالى: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ * إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ
بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاءِ وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} (2).
4 - وقال اللَّه تبارك وتعالى: (قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ رِزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِنْهُ حَرَامًا وَحَلَالًا قُلْ آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ * وَمَا ظَنُّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ} (3).
5 - وقال سبحانه وتعالى: (أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} (4)، فقد جعل الله من شرَّع للناس شيئاً من الدين لم يشرعه اللَّه شريكاً له في تشريعه، ومن أطاعه في ذلك فهو مشرك باللَّه تعالى شرك الطاعة.
--------------------------------------------
আর এটি হারাম, যাতে তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করতে পারো। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করে তারা সফলকাম হবে না। (এটি) সামান্য ভোগ, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} (১)।
৩ - এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: (হে মানুষ! জমিনে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো তোমাদের কেবল
মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলতে বলে যা তোমরা জানো না।} (২)।
৪ - এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: (বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিজিক অবতীর্ণ করেছেন, অতঃপর তোমরা তার কিছু অংশ হারাম ও কিছু অংশ হালাল করেছ? বলো, আল্লাহ কি তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করছ? আর যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যার (كذب) অপবাদ দেয়, কিয়ামতের দিন সম্পর্কে তাদের কী ধারণা? নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।} (৩)।
৫ - এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: (নাকি তাদের এমন কিছু অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} (৪), সুতরাং আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে—যে মানুষের জন্য দ্বীনের এমন কিছু বিধান প্রবর্তন করে যা আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি—তাঁর বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীদার সাব্যস্ত করেছেন। আর যে ব্যক্তি এ কাজে তার আনুগত্য করল, সে আনুগত্যের শিরক (شرك الطاعة)-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সাথে শিরককারী হিসেবে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ৯)
6 - وعن عبد اللَّه بن عمرو رضي الله عنهما، قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يَتْرُكْ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤُوسًا جُهَّالًا، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا))، وفي لفظ للبخاري: ((
… حتى إذا لم يبق عالم
… )) الحديث (1).
وقد ظهر في هذا الزمان من القول على اللَّه بغير علم الكثير من الناس إلا من عصم اللَّه بالتوبة: فهذا يقول: لا بأس بالاختلاط
بين الرجال والنساء في المدارس، والجامعات في الدراسة، وفي الوظائف في المستشفيات وغيرها، وهذا يفتي بجواز خلوة الرجل السائق بالمرأة، وليس معهما أحد، وذاك يقول بجواز سفر المرأة بدون محرم، والآخر يبيح الربا في البنوك باسم المساهمات، أو الفوائد، وذاك يجيز الاقتراض من البنوك بفوائد، وآخر يجيز قيادة المرأة للسيارة، واختلاطها برجال المرور وغيرهم، وآخر يجيز تصوير المرأة، ونشر صورتها، وآخر يجيز الصلاة في البيوت، ولا
--------------------------------------------
৬ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন না; বরং তিনি আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমেই ইলম তুলে নেবেন। শেষ পর্যন্ত যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা বানিয়ে নেবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হলে তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে।)), এবং বুখারীর একটি শব্দে রয়েছে: ((
… যতক্ষণ না কোনো আলেম বাকি থাকবে
… )) হাদিস (১)।
বর্তমান সময়ে অনেক মানুষের পক্ষ হতে ইলম ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলার প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে, তবে আল্লাহ যাদের তাওবার মাধ্যমে রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত। কেউ বলছে: বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অধ্যয়নকালে এবং হাসপাতাল ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশায় কোনো সমস্যা নেই।
কেউ ফতোয়া দিচ্ছে যে, নারী ও তার পুরুষ চালক একাকী অবস্থান বা নির্জনবাস (خلوة) করতে পারবে যখন তাদের সাথে অন্য কেউ থাকবে না। অন্য কেউ বলছে যে, মাহরাম (محرم) ছাড়াই নারীর সফর করা বৈধ। অপর একজন শেয়ার বা মুনাফার নামে ব্যাংকের সুদকে বৈধ সাব্যস্ত করছে। কেউ ব্যাংকের সুদে ঋণ গ্রহণকে বৈধ মনে করছে। অন্য কেউ নারীর গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক পুলিশ ও অন্যদের সাথে তার মেলামেশাকে বৈধ বলছে। কেউ নারীর ছবি তোলা এবং তার ছবি প্রকাশ করাকে জায়েজ মনে করছে। আর অন্য কেউ (পুরুষদের জন্য) ঘরে সালাত আদায় করাকে জায়েজ বলছে এবং আর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১০)
يرى وجوب صلاة الجماعة على الرجال القادرين، وآخر يبيح الغناء والمزامير، وغير ذلك، فإنا للَّه وإنا إليه راجعون))، وهذا يذكرنا بقول سفيان بن عيينة: ((كان يُقال: العلماء ثلاثة: عالم بالله يخشى الله، ليس بعالم بأمر الله، وعالمٌ بالله، عالم بأمر الله، يخشى الله، فذاك العالم الكامل، وعالم بأمر الله، ليس بعالم بالله، لا يخشى الله، فذلك العالم الفاجر)) (1).
--------------------------------------------
সক্ষম পুরুষদের ওপর জামাতে সালাত আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب) পোষণ করেন, আবার অন্য কেউ গান ও বাদ্যযন্ত্র বৈধ মনে করেন, এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিছু; সুতরাং আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। এটি আমাদের সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ-র একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দেয়: "বলা হতো: আলেম তিন প্রকার: ১. আল্লাহ সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আলেম যিনি আল্লাহকে ভয় করেন, কিন্তু আল্লাহর বিধান (أمر الله) সম্পর্কে পরিজ্ঞাত নন। ২. আল্লাহ সম্পর্কে প্রাজ্ঞ ও আল্লাহর বিধান সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আলেম যিনি আল্লাহকে ভয় করেন—তিনিই হলেন পূর্ণাঙ্গ আলেম। ৩. আল্লাহর বিধান সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আলেম যিনি আল্লাহ সম্পর্কে প্রাজ্ঞ নন এবং আল্লাহকে ভয় করেন না—তিনি হলেন পাপাচারী (فاجر) আলেম।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثالث: تحريم الغناء من الكتاب والسنة، وآثار الصحابة والتابعين ومن بعدهم من العلماء
أولاً: القرآن الكريم يُحرِّم الأغاني والملاهي، ويُحذِّر منها، ومن ذلك ما يأتي:
1 - قال اللَّه تعالى للشيطان: {اذْهَبْ فَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَاؤُكُمْ جَزَاءً مَوْفُورًا * وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلََيْهِمْ بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا} (1).
قوله تعالى: (وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ (أي: استخف واستجهل (2)، قال مجاهد في قوله: (وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ (: قال: باللهوِ والغِناء، وقال ابن عباس رضي الله عنهما: ((صوته: كل داعٍ دعا إلى معصية الله عز وجل)).
قال الإمام ابن جرير رحمه الله: ((وأولى الأقوال بالصحة أن يُقال: إن اللَّه تبارك وتعالى قال لإبليس: واستفزز من ذرّية آدم من استطعت أن تستفزّه بصوتك، ولم يخصِّص من ذلك صوتاً دون صوت، فكلّ صوت كان دعاء إليه، وإلى عمله وطاعته، وخلافاً للدعاء إلى طاعة اللَّه، فهو داخل في معنى صوته الذي قال الله تبارك وتعالى اسمه له: (وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ)) (3). وهذا
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তী আলেমদের আসার (آثار) থেকে গান-বাজনা নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গেপ্রথমত: পবিত্র কুরআন গান এবং বাদ্যযন্ত্রকে হারাম করে এবং এ থেকে সতর্ক করে, যার মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য হলো:১ - আল্লাহ তাআলা শয়তানকে বললেন: {দূর হও, তাদের মধ্য থেকে যে তোমার অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই জাহান্নাম হবে তোমাদের সবার যথাযথ শাস্তি। আর তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারো প্ররোচিত করো, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ো, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হয়ে যাও এবং তাদের প্রতিশ্রুতি দাও; আর শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।} (১)।আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারো প্ররোচিত করো) অর্থাৎ: তাদের লাঞ্ছিত ও অজ্ঞতায় নিমজ্জিত করো (২), মুজাহিদ (রহ.) আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারো প্ররোচিত করো) এর ব্যাখ্যায় বলেন: তা হলো খেল-তামাশা এবং গান-বাজনা। এবং ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "তার কণ্ঠ হলো: প্রত্যেক ওই আহ্বানকারী যে আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে আহ্বান করে।"
ইমাম ইবনে জারীর (রহ.) বলেন: "বক্তব্যসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধতার (الصحة) দিক থেকে সবচেয়ে অগ্রগণ্য হলো এটি বলা যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইবলিসকে বলেছেন: আদম সন্তানের মধ্য থেকে যাকে পারো তোমার কণ্ঠ দিয়ে প্ররোচিত করো। এখানে তিনি কোনো বিশেষ কণ্ঠকে অন্য কণ্ঠের চেয়ে নির্দিষ্ট করেননি; সুতরাং প্রত্যেক ওই কণ্ঠ যা তার দিকে, তার কাজের দিকে ও তার আনুগত্যের দিকে আহ্বান করে এবং আল্লাহর আনুগত্যের আহ্বানের পরিপন্থী হয়, তা-ই তার সেই কণ্ঠের অন্তর্ভুক্ত যা সম্পর্কে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: (আর তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারো প্ররোচিত করো)" (৩)। এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১২)
يدل على أن كل داعٍ دعا إلى معصية اللَّه عز وجل من صوت الشيطان (1)، سواء كان ذلك من اللعب المحرم، أو اللهو والغناء المحرم، أو من المزامير، والموسيقى، وأصوات المسلسلات والطبول، والربابة، وغير ذلك من الأصوات، والله
تعالى أعلم.
وقال الإمام البغوي رحمه الله: ((( .. بصوتك) قال الأزهري: معناه: ادعهم دعاءً تستفزّهم به إلى جنابك، أي: تستخفّهم)) (2)، وقال الضحاك: صوت المزمار، وقيل: ((بصوتك)): بوسوستك)) (3)، والصواب أن صوت الشيطان يشمل كل ما تقدم، واللَّه أعلم.
2 - قال اللَّه عز وجل: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ
--------------------------------------------
এটি নির্দেশ করে যে, মহান আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে আহ্বানকারী প্রতিটি শব্দই শয়তানের কণ্ঠস্বরের (১) অন্তর্ভুক্ত, চাই তা নিষিদ্ধ খেলাধুলা, অথবা নিষিদ্ধ আমোদ-প্রমোদ ও গান-বাজনা হোক, কিংবা বাঁশি, সংগীত, সিরিয়াল, ঢোল, রবাব এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ হোক। আর আল্লাহ
তাআলাই সর্বজ্ঞ।
ইমাম বাগভী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “(...তোমার কণ্ঠস্বর দ্বারা); আল-আজহারী বলেন: এর অর্থ হলো: তাদের এমনভাবে আহ্বান করো যার মাধ্যমে তুমি তাদের তোমার দিকে প্ররোচিত করবে, অর্থাৎ: তাদের প্রলুব্ধ করবে” (২)। দাহহাক বলেন: (এর অর্থ) বাঁশির শব্দ। আবার বলা হয়েছে: “তোমার কণ্ঠস্বর দ্বারা” অর্থাৎ: তোমার কুমন্ত্রণার মাধ্যমে (৩)। তবে সঠিক মত হলো, শয়তানের কণ্ঠস্বর পূর্বোল্লিখিত সব বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
২ - মহান আল্লাহ বলেন: {মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে ‘লাহওয়াল হাদিস’ (অসার কথা) ক্রয় করে যাতে (মানুষকে আল্লাহর পথ) থেকে বিচ্যুত করতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৩)
سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ * وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا وَلَّى مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِي أُذُنَيْهِ وَقْرًا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} (1).
قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ}.
قيل: ((من يشتري الشراء المعروف بالثمن)).
وقيل: ((بل معنى ذلك: من يختار لهو الحديث ويستحبّه)) (2).
وقيل: ((أي يستبدل ويختار الغناء، والمزامير، والمعازف على القرآن)) (3).
وقيل: ((يشتري)) أي يختار ويرغب رغبة من يبذل الثمن في الشيء)) (4).
وأما قوله تعالى: ((لَهْوَ الْحَدِيثِ))، فقال عبد اللَّه بن مسعود رضي الله عنه:
((الغناء والذي لا إله إلا هو، يُرَدِّدُها ثلاث مرات)) (5).
وقال عبد الله بن عباس رضي الله عنهما: ((الغناء وأشباهه))، وفي رواية عنه: ((شراء المغنية))، وفي رواية عنه أيضاً، قال: ((باطل الحديث: هو الغناء ونحوه)) (6).
وقال جابر بن عبد اللَّه رضي الله عنهما: ((هو الغناء، والاستماع له)) (7).
وفسَّر الإمام مجاهد رحمه الله (لَهْوَ الْحَدِيثِ) بـ (الغناء)، وفي
--------------------------------------------
...আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বিচ্যুত করার জন্য অজ্ঞতাবশত এবং একে তারা উপহাস হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। আর যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন সে দম্ভের সাথে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শুনতেই পায়নি, যেন তার দুই কানে বধিরতা রয়েছে। সুতরাং তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও} (১)।
মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে অবান্তর কথাবার্তা ক্রয় করে যাতে সে অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে}।
বলা হয়েছে: ((যে ব্যক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে প্রসিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে))।
আবার বলা হয়েছে: ((বরং এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি অবান্তর কথাবার্তা পছন্দ করে এবং একে পছন্দনীয় মনে করে)) (২)।
আরও বলা হয়েছে: ((অর্থাৎ সে কুরআনের পরিবর্তে গান, বাঁশি ও বাদ্যযন্ত্র বিনিময় ও নির্বাচন করে নেয়)) (৩)।
বলা হয়েছে: (('ক্রয় করে')) অর্থাৎ সে এমনভাবে নির্বাচন ও আগ্রহী হয় যেমন কোনো ব্যক্তি কোনো বস্তুর জন্য মূল্য ব্যয় করতে আগ্রহী হয়)) (৪)।
আর মহান আল্লাহর বাণী: ((অবান্তর কথাবার্তা)) সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন:
((আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, এটি হলো গান; তিনি কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করেন)) (৫)।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: ((গান ও এই জাতীয় কিছু))। তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: ((গায়িকা ক্রয় করা))। তাঁর থেকে অপর এক বর্ণনায় (رواية) তিনি আরও বলেন: ((বাতিল কথাবার্তা হলো গান ও তদ্রূপ কিছু)) (৬)।
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন: ((এটি হলো গান এবং তা শ্রবণ করা)) (৭)।
ইমাম মুজাহিদ (রহ.) 'অবান্তর কথাবার্তা'-এর ব্যাখ্যা গান দিয়ে করেছেন, আর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৪)
رواية عنه: ((المغني، والمغنية بالمال الكثير، أو الاستماع إليه، أو إلى مثله من الباطل))، وفي رواية عنه: ((عَنَى باللهو: الطبل)) (1).
وفسَّر عكرمة رحمه الله (لَهْوَ الْحَدِيثِ) بالغناء (2).
وفسَّر الضحاك رحمه الله (لَهْوَ الْحَدِيثِ) بالشرك (3).
قال الإمام الطبري رحمه الله: ((والصواب من القول في ذلك أن يُقال: عَنَى به كلَّ ما كان من الحديث ملهياً عن سبيل الله ممّا نهى اللَّه عن استماعه، أو رسوله [صلى الله عليه وسلم]؛ لأن الله تعالى عمَّ بقوله: ((لَهْوَ الْحَدِيثِ))، ولم يُخَصِّصْ بعضاً دون بعض، فذلك على عمومه حتى يأتي ما يدلّ على خصوصه، والغناء والشرك من ذلك)) (4).
وقال الإمام ابن كثير رحمه الله في تفسير هاتين الآيتين:
{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ
عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ*وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا وَلَّى مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِي أُذُنَيْهِ وَقْرًا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} (5).
لما ذكر تعالى حال السعداء، وهم الذين يهتدون بكتاب اللَّه، وينتفعون بسماعه، كما قال تعالى: {اللَّهُ نزلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ
--------------------------------------------
তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية): ((গায়ক ও গায়িকা প্রচুর অর্থের বিনিময়ে গান গাওয়া, অথবা তা শ্রবণ করা, কিংবা অনুরূপ বাতিল বা অসার বিষয়সমূহ শোনা)), এবং তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: ((তিনি ‘অসারতা’ বলতে ঢোলকে বুঝিয়েছেন)) (১)।
ইকরিমা (রাহিমাহুল্লাহ) ‘অসার বাক্য’-কে গান দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন (২)।
দাহহাক (রাহিমাহুল্লাহ) ‘অসার বাক্য’-কে শিরক দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন (৩)।
ইমাম তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এই বিষয়ে সঠিক বক্তব্য হলো এই যে, অসার বাক্য বলতে এমন প্রত্যেকটি কথাকে বুঝানো হয়েছে যা আল্লাহর পথ থেকে বিমুখকারী এবং যা শ্রবণ করা আল্লাহ অথবা তাঁর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নিষেধ করেছেন; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণী ‘অসার বাক্য’-এর মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক (عام) করেছেন এবং কোনো নির্দিষ্ট অংশকে বিশেষায়িত করেননি। সুতরাং এটি তার ব্যাপকতার (عموم) ওপরই বহাল থাকবে যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ আসে যা একে বিশেষায়িত (خصوص) করার নির্দেশ দেয়; আর গান ও শিরক এরই অন্তর্ভুক্ত)) (৪)।
ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াত দুটির তাফসিরে বলেন:
{আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বিচ্যুত করার জন্য অজ্ঞতাবশত অসার বাক্য ক্রয় করে এবং তাকে উপহাসের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে; এদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। আর যখন তার সামনে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন সে অহংকারের সাথে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শোনেনি, যেন তার দুই কানে বধিরতা রয়েছে। সুতরাং তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন} (৫)।
যখন আল্লাহ তাআলা সৌভাগ্যবানদের অবস্থা বর্ণনা করলেন—আর তারা হলো ঐসব লোক যারা আল্লাহর কিতাব দ্বারা হিদায়াত লাভ করে এবং তা শ্রবণ করে উপকৃত হয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোত্তম হাদিস সম্বলিত কিতাব, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়; এতে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৫)
جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} (1)، عطف بذكر حال الأشقياء، الذين أعرضوا عن الانتفاع بسماع كلام اللَّه، وأقبلوا على استماع المزامير والغناء بالألحان، وآلات الطرب، كما قال ابن مسعود في قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} قال: هو - واللَّه-الغناءُ.
قال ابن جرير: حدثني يونس [بن عبد الأعلى]،أخبرنا ابن وهب، أخبرني يزيد عن يونس، عن أبي صخر، عن أبي معاوية البجلي، عن سعيد بن جبير، عن أبي الصهباء البكري، أنه سمع عبد الله بن مسعود رضي الله عنه وهو يُسأل عن هذه الآية: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} - فقال عبد الله: الغناء، واللَّه الذي لا إله إلا هو، يرددها ثلاث مرات.
حدثنا عمرو بن علي، حدثنا صفوان بن عيسى، أخبرنا حُمَيْد الخرّاط، عن عمار، عن سعيد بن جبير، عن أبي الصهباء: أنه سأل ابن مسعود عن قول اللَّه: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} قال: الغناء.
وكذا قال ابن عباس، وجابر، وعِكْرِمة، وسعيد بن جُبَيْر، ومجاهد، ومكحول، وعمرو بن شعيب، وعلي بن بَذيمة.
وقال الحسن البصري: أُنزلت هذه الآية: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ} في الغناء
--------------------------------------------
...তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে (বিনম্র হয়)। এটি আল্লাহর হেদায়েত, তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।} (১), এটি সেই হতভাগাদের অবস্থার বর্ণনার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে, যারা আল্লাহর কালাম শুনে উপকৃত হওয়া থেকে বিমুখ হয়েছে এবং তারা বাদ্যযন্ত্র, সুরলহরী বিশিষ্ট গান ও আমোদ-প্রমোদের উপকরণের দিকে ঝুঁকে পড়েছে; যেমনটি ইবনে মাসউদ (রা.) আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অবান্তর কথা ক্রয় করে}—তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ, তা হলো গান।
ইবনে জারীর বলেন: আমার নিকট ইউনুস [ইবনে আবদুল আ'লা] বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ, ইউনুস থেকে, তিনি আবু সাখর থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া আল-বাজালি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবুস সাহবা আল-বাকরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছেন: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অবান্তর কথা ক্রয় করে}—তখন আবদুল্লাহ বললেন: আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, এটি হলো গান; তিনি এই কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন।
আমাদের নিকট আমর ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাফওয়ান ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ আল-খাররাত, আম্মার থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবুস সাহবা থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি ইবনে মাসউদ (রা.)-কে আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অবান্তর কথা ক্রয় করে} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: (তা হলো) গান।
অনুরূপ কথা ইবনে আব্বাস, জাবির, ইকরিমা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ, মাকহুল, আমর ইবনে শুআইব এবং আলী ইবনে বাযিমা বলেছেন।
হাসান বসরী বলেন: এই আয়াতটি: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অবান্তর কথা ক্রয় করে} গানের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والمزامير.
وقال قتادة: قوله: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ
عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ}: واللَّه لعله لا ينفق فيه مالاً، ولكنْ شراؤه استحبابه، بحَسْب المرء من الضلالة أن يختارَ حديثَ الباطل على حديث الحق، وما يضرّ على ما ينفع.
وقيل: عنى بقوله: {يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ}: اشتراء المغنيات من الجواري
…وقال الضّحّاك في قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} يعني: الشرك، وبه قال عبد الرحمن بن زيد بن أسلم؛ واختار ابن جرير أنه كل كلام يصدُّ عن آيات اللَّه، واتّباع سبيله.
وقوله: {لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} أي: إنما يصنع هذا للتخالف للإسلام وأهله، وعلى قراءة فتح الياء، تكون اللام لام العاقبة، أو تعليلاً للأمر القدري، أي: قُيِّضوا لذلك ليكونوا كذلك.
وقوله: {وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا} قال مجاهد: ويتخذ سبيل اللَّه هزواً، يستهزئ بها.
وقال قتادة: يعني: ويتخذ آيات اللَّه هزواً. وقول مجاهد أولى.
وقوله تعالى: {أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ} أي: كما استهانوا بآيات اللَّه وسبيله، أُهينوا يوم القيامة في العذاب الدائم المستمر.
ثم قال تعالى: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا وَلَّى مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِي أُذُنَيْهِ وَقْرًا} أي: هذا المقبل على اللهو واللّعب والطرب، إذا تُليت عليه الآيات القرآنية، ولَّى عنها، وأعرض وأدبر وتَصَامّ وما به من صَمَم، كأنه ما يسمعها؛ لأنه يتأذّى بسماعها، إذ لا
...এবং বাদ্যযন্ত্র।
কাতাদাহ (রহ.) বলেন, মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা অবান্তর কথা (لهو الحديث) ক্রয় করে মানুষকে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য}: আল্লাহর কসম, সম্ভবত সে এতে কোনো অর্থ ব্যয় করে না, বরং তার 'ক্রয় করা' বলতে সেটিকে পছন্দ করাকে বুঝানো হয়েছে। একজন মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে সত্য বাণীর ওপর মিথ্যা বা অবান্তর কথাকে এবং উপকারী বিষয়ের ওপর ক্ষতিকর বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়।
বলা হয়েছে: {অবান্তর কথা (لهو الحديث) ক্রয় করে} কথাটি দ্বারা গায়িকা দাসী ক্রয় করাকে বুঝানো হয়েছে
…দাহহাক (রহ.) মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা অবান্তর কথা ক্রয় করে} এর অর্থ করেছেন: শিরক (الشرك); আর আবদুর রহমান ইবনে যাইদ ইবনে আসলাম (রহ.)-ও একই কথা বলেছেন। ইবনে জারির (রহ.) এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, এটি এমন প্রতিটি কথা যা আল্লাহর নিদর্শনাবলী এবং তাঁর পথ অনুসরণ থেকে বিমুখ করে রাখে।
এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য} অর্থাৎ, সে ইসলাম ও এর অনুসারীদের বিরোধিতা করার জন্যই এটি করে থাকে। আর 'ইয়া' বর্ণে ফাতহাহ যোগে পাঠরীতি (قراءة) অনুযায়ী, এখানে 'লাম' টি হবে পরিণাম প্রকাশক (لام العاقبة), অথবা এটি তাকদিরি বিষয়ের কারণ দর্শানো (تعليلاً); অর্থাৎ, তাদের জন্য এটাই অবধারিত করা হয়েছে যাতে তারা এমনই হয়।
এবং তাঁর বাণী: {এবং একে উপহাস হিসেবে গ্রহণ করে} মুজাহিদ (রহ.) বলেন: সে আল্লাহর পথকে উপহাসের বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করে।
কাতাদাহ (রহ.) বলেন: অর্থাৎ, সে আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাস হিসেবে গ্রহণ করে। তবে মুজাহিদ (রহ.)-এর বক্তব্যটিই অধিকতর অগ্রগণ্য।
মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি} অর্থাৎ, যেহেতু তারা আল্লাহর আয়াত ও তাঁর পথকে তুচ্ছজ্ঞান করেছে, তাই কিয়ামতের দিন চিরস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন শাস্তির মাধ্যমে তাদের লাঞ্ছিত করা হবে।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন: {যখন তার নিকট আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন সে অহংকারের সাথে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শুনতেই পায়নি, যেন তার উভয় কানে বধিরতা (وقر) রয়েছে} অর্থাৎ, আমোদ-প্রমোদ ও গান-বাজনায় মগ্ন এই ব্যক্তির সামনে যখন কুরআনের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন সে তা থেকে বিমুখ হয় এবং অহংকারের সাথে পিঠ ফিরিয়ে নেয় এবং কোনো বধিরতা না থাকা সত্ত্বেও বধির সাজার ভান করে, যেন সে তা শুনছেই না; কারণ তা শ্রবণে সে কষ্ট অনুভব করে, যেহেতু সে...
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৭)
انتفاع له بها، ولا أرَبَ له فيها، {فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} أي: يوم القيامة يؤلمه، كما تألمَّ بسماع كتاب اللَّه وآياته (1).
وقال الإمام القرطبي رحمه الله في تفسير قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ} (2) (من) في موضع رفع بالابتداء، و ((لَهْوَ الْحَدِيثِ)) الغناء في قول ابن مسعود، وابن عباس، وغيرهما، ثم بسط الكلام في تفسير هذه الآية، ثم قال: المسألة الثانية: وهو الغناء المعتاد عند المشتهرين
به، الذي يحرِّك النفوس، ويبعثها على الهوى والغزل، والمجون، الذي يحرك الساكن، ويبعث الكامن، فهذا النوع إذا كان في شعر يُشبَّب (3) فيه بذكر النساء، ووصف محاسنهن، وذكر الخمور والمحرّمات، لا يختلف في تحريمه؛ لأنه اللهو والغناء المذموم بالاتفاق، فأما ما سلم من ذلك فيجوز القليل منه في أوقات الفرح: كالعرس، والعيد، وعند التنشيط على الأعمال الشاقة، كما كان في حفر الخندق، وحدو أنجشة، وسلمة بن الأكوع، فأما ما ابتدعته الصوفية اليوم من الإدمان على سماع الأغاني بالآلات المطربة من الشبّابات، والطار، والمعازف، والأوتار فحرام)). انتهى (4).
قال شيخنا الإمام ابن باز رحمه الله معلقاً على كلام القرطبي هذا:
--------------------------------------------
এর দ্বারা তার কোনো উপকার নেই এবং এতে তার কোনো উদ্দেশ্যও নেই। {কাজেই তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন} অর্থাৎ: কিয়ামতের দিন তা তাকে ব্যথিত করবে, ঠিক যেমন সে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর আয়াতসমূহ শুনে ব্যথিত হতো (১)।
আর ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অবান্তর কথা (লেহওয়াল হাদিস) ক্রয় করে, যাতে অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে} (২) এর তাফসীরে বলেছেন: (من) শব্দটি এখানে শুরুতে আসার কারণে রফ্-এর স্থলে আছে। আর ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস ও অন্যদের মতে ‘অবান্তর কথা’ (লেহওয়াল হাদিস) বলতে গানকে বুঝানো হয়েছে। এরপর তিনি এই আয়াতের তাফসীরে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: দ্বিতীয় মাসআলা: আর তা হলো ঐ প্রচলিত গান যা গায়কদের নিকট পরিচিত,
যা আত্মাকে আন্দোলিত করে এবং তাকে প্রবৃত্তি, প্রেম-কাব্য ও নির্লজ্জতার দিকে ধাবিত করে; যা স্থিরতাকে বিচলিত করে এবং সুপ্ত আবেগকে জাগ্রত করে। সুতরাং এই প্রকারের গান যদি এমন কবিতায় হয় যাতে নারীদের উল্লেখের মাধ্যমে প্রণয় প্রকাশ (৩) করা হয়, তাদের রূপ-সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হয় এবং মদ ও হারাম বিষয়াদির উল্লেখ থাকে, তবে এর নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই; কারণ এটি সর্বসম্মতিক্রমে নিন্দনীয় অবান্তর কাজ ও গান। পক্ষান্তরে যা এসব থেকে মুক্ত, তা আনন্দের সময়ে অল্প পরিমাণে বৈধ: যেমন বিয়ে, ঈদ এবং কঠোর পরিশ্রমের সময় কর্মোদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য; যেমনটি ছিল খন্দক খননের সময় এবং আনজাশাহ ও সালামাহ ইবনুল আকওয়ার উট চালনার গান (হুদু) গাওয়ার ক্ষেত্রে। আর বর্তমানে সুফিরা বাঁশি, দফ, বাদ্যযন্ত্র ও তন্ত্রীযন্ত্রের মতো চিত্তাকর্ষক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে গান শোনার যে আসক্তি উদ্ভাবন করেছে তা হারাম। (সমাপ্ত) (৪)।
আমাদের শায়খ ইমাম ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) কুরতুবীর এই কথার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৮)
((وهذا الذي قاله القرطبي كلام حسن، وبه تجتمع الآثار الواردة في هذا الباب)) (1).
3 - وقال اللَّه تعالى: {أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ * وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ * وَأَنْتُمْ سَامِدُونَ} (2).
قال الإمام الطبري رحمه الله: ((أفمن هذا القرآن أيها الناس تعجبون، أنْ نَزَلَ على محمد صلى الله عليه وسلم، وتضحكون منه استهزاءً به، ولا تبكون مما فيه من الوعيد لأهل معاصي اللَّه، وأنتم من أهل معاصيه (وَأَنْتُمْ سَامِدُونَ) يقول: وأنتم لاهون عما فيه من العِبر والذكر، معرضون عن آياته; يُقال للرجل: دعْ عنا سُمودَك، يُراد به: دَعْ عنَّا لهوك، يقال منه: سَمَدَ فلان يَسْمُد سُمُوداً.
وبنحو الذي قلنا في ذلك قال أهل التأويل، وإن اختلفت ألفاظهم بالعبارة عنه، فقال بعضهم: غافلون، وقال بعضهم: مُغنّون
… )) (3).
وقوله تعالى: {وَأَنْتُمْ سَامِدُونَ}، قال ابن عباس رضي الله عنهما: ((هو الغناء، وهي يمانية: يقولون: اسمد لنا: تغَنَّ لنا))، وفي رواية عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: ((السامدون: المغنُّون بالحميرية))، وكذا قال عكرمة، وقال الضحاك: ((السمود: اللهو واللعب)) (4).
--------------------------------------------
((ইমাম কুরতুবী যা বলেছেন তা অত্যন্ত উত্তম (حسن) কথা, এবং এর মাধ্যমেই এই অধ্যায়ে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর (الآثار) মাঝে সমন্বয় ঘটে।)) (১)।
৩ - এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে কি তোমরা এই হাদিস বা বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছ? এবং হাসছ, অথচ কাঁদছ না? আর তোমরা বিমুখ হয়ে আছ।} (২)।
ইমাম তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((হে লোকসকল! তোমরা কি এই কুরআনের প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করছ যে, তা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে? আর তোমরা তা বিদ্রূপবশত হাসছ, এবং আল্লাহর অবাধ্যদের জন্য এতে যে শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে তা দেখে কাঁদছ না? অথচ তোমরা তাঁর নাফরমানদের অন্তর্ভুক্ত। (আর তোমরা বিমুখ) তিনি বলেন: অর্থাৎ তোমরা এর শিক্ষা ও নসিহত থেকে উদাসীন এবং এর আয়াতসমূহ থেকে বিমুখ। জনৈক ব্যক্তিকে বলা হয়: তোমার ‘সুমুদ’ বর্জন করো; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তোমার খেল-তামাশা বর্জন করো। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি উদাসীন হয়েছে।
এবং আমরা এ বিষয়ে যা বলেছি, ব্যাখ্যাকারগণও সেরূপই বলেছেন, যদিও তাদের শব্দের অভিব্যক্তিতে ভিন্নতা রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: ‘উদাসীন’, আবার কেউ কেউ বলেছেন: ‘সংগীত পরিবেশনকারী’...)) (৩)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা বিমুখ}, এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: ((এর অর্থ গান করা; এটি একটি ইয়ামানী শব্দ। তারা বলে: ‘ইসমাদ লানা’ অর্থাৎ আমাদের জন্য গান গাও))। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা (رواية) - এ রয়েছে: ((হিময়্যারী ভাষায় ‘সামিদুন’ অর্থ হলো গায়ক বা সংগীতশিল্পী))। একইভাবে ইকরিমাহও বলেছেন এবং যাহহাক বলেছেন: ((সুমুদ অর্থ হলো খেল-তামাশা ও আমোদ-প্রমোদ)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال الإمام البغوي رحمه الله: ((وقال عكرمة [عن ابن عباس]: هو الغناء بلغة أهل اليمن، وكانوا إذا سمعوا القرآن تغنَّوا ولعبوا)) (1)، يعني المشركين، وقال سفيان الثوري عن أبيه عن ابن عباس رضي الله عنهما: {وَأَنْتُمْ سَامِدُونَ} قال: ((الغناء، هي يمانية: اسمد لنا: غَنِّ لنا)) (2).
والسمد كما تقدم: الغفلة، واللهو، ويدخل في ذلك الغناء (3).
4 - قال اللَّه عز وجل: {وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا} (4).
قوله: {لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ}، قال الضحاك: ((الشرك، وقال مجاهد: لا يسمعون الغناء، وقال ابن جريج: هو قول الكذب)).
قال الإمام الطبري رحمه الله: ((فإذا كان ذلك كذلك، فأولى الأقوال بالصواب في تأويله أن يُقال: والذين لا يشهدون شيئاً من الباطل: لا شِركاً، ولا غِناءً، ولا كذباً ولا غيره، وكلّ ما لزمه اسم الزور؛ لأن الله عمّ في وصفه إياهم أنهم لا يشهدون الزور، فلا ينبغي أن يُخَصَّ من ذلك شيء إلا بحجة يجب التسليم لها، من خبر
أو عقل)) (5).
--------------------------------------------
ইমাম বাগভী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((ইকরিমা [ইবনে আব্বাস থেকে] বর্ণনা করেছেন: এটি ইয়েমেনের অধিবাসীদের ভাষায় গান গাওয়া; তারা যখন কুরআন শুনত তখন গান গাইত এবং খেলায় মেতে উঠত)) (১), অর্থাৎ মুশরিকরা। সুফিয়ান সাওরি তাঁর পিতার সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন: {আর তোমরা খেল-তামাশায় মত্ত} তিনি বলেছেন: ((এটি গান করা, এটি ইয়েমেনি শব্দ: 'আসমিদ লানা' অর্থ আমাদের জন্য গান গাও)) (২)।
যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, 'সামদ' মানে হলো অসতর্কতা এবং নিরর্থক ক্রীড়া-কৌতুক; গান এর অন্তর্ভুক্ত (৩)।
৪ - মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যারা মিথ্যা ও অসার কাজে উপস্থিত হয় না এবং যখন তারা অসার ক্রিয়াকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন সসম্মানে চলে যায়} (৪)।
তাঁর বাণী: {যারা মিথ্যা ও অসার কাজে উপস্থিত হয় না}, দাহহাক বলেছেন: ((শিরক)), মুজাহিদ বলেছেন: ((তারা গান শোনে না)), ইবনে জুরাইজ বলেছেন: ((এটি হলো মিথ্যা কথা বলা))।
ইমাম তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে এর ব্যাখ্যায় সবচেয়ে সঠিক কথা হলো এই যে: যারা বাতিলের কোনো কিছুতেই উপস্থিত হয় না—না শিরকে, না গানে, না মিথ্যায় আর না অন্য কিছুতে; এবং এমন প্রতিটি বিষয় যা 'যুর' (মিথ্যা/অসার) নামের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ যখন তাদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তখন সাধারণভাবে বলেছেন যে তারা অসার বিষয়ে (যুর) উপস্থিত হয় না। সুতরাং এর থেকে কোনো কিছুকে নির্দিষ্ট করা উচিত নয়, যদি না এমন কোনো প্রমাণ থাকে যা মেনে নেওয়া আবশ্যক, তা কোনো বর্ণিত সংবাদ (خبر) অথবা যুক্তি (عقل) প্রসূত হোক)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال الإمام ابن كثير رحمه الله: (({لا يَشْهَدُونَ الزُّورَ} قيل: هو الشرك، وعبادة الأصنام، وقيل: الكذب، والفسق، واللغو، والباطل، وقال محمد بن الحنفية: ((لا يَشْهَدُونَ)): اللهو والغناء
… )) (1).
5 - قال اللَّه تعالى: {وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً} (2).
قال الإمام ابن جرير رحمه الله: (({وَمَا كَانَ صَلاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ}، يعني: بيت الله العتيق ((إلاّ مُكاءً))، وهو الصفير
… وقد قيل: إن (المكو): أن يجمع الرجل يديه، ثم يدخلهما في فيه، ثم يصيح، ويُقال منه: ((مَكت است الدابة مُكاءً))، إذا نفخت بالريح، ويقال: ((إنه لا يمكو إلا استٌ مكشوفة))؛ ولذلك قيل للاست: (المَكْوة)، سُمِّيت بذلك (3).
وأما ((التصدية))، فإنها التصفيق، يُقال: ((صدَّى يُصدِّي تصديةً))، و ((صفَّق))، و ((صفّح))، بمعنىً واحد (4).
قال عبد الله بن عباس، وعبد الله بن عمر رضي الله عنهم: ((المكاء)): التصفير، و ((التصدية)): التصفيق)) (5).
--------------------------------------------
وقال ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) বলেছেন: (({"তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না (لا يَشْهَدُونَ الزُّورَ)"} বলা হয়েছে: এটি হলো শিরক এবং মূর্তিপূজা; আবার বলা হয়েছে: এটি হলো মিথ্যা, পাপাচার, অসার কথা এবং বাতিল কাজ। মুহাম্মদ ইবনে হানফিয়্যাহ বলেন: {"তারা উপস্থিত হয় না"}: আনন্দ-তামাশা ও গান-বাজনার আসরে
… )) (১)।
৫ - আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর বাইতুল্লাহর নিকট তাদের সালাত শিস দেওয়া ও তালি বাজানো ছাড়া আর কিছুই ছিল না} (২)।
ইমাম ইবনে জারীর (রহ.) বলেছেন: (({"আর বাইতুল্লাহর নিকট তাদের সালাত ছিল না"}, অর্থাৎ: আল্লাহর প্রাচীন ঘর বাইতুল্লাহর নিকট, {"শিস দেওয়া ছাড়া"}, আর তা হলো শিস দেওয়া
… আর বলা হয়েছে যে: (আল-মাকউ): হলো জনৈক ব্যক্তির তার দুই হাত একত্রিত করা, অতঃপর তা তার মুখে প্রবেশ করিয়ে চিৎকার করা। এ থেকে বলা হয়: ((পশুটি বায়ু নির্গত করার সময় শিস দেওয়ার মতো শব্দ করল)), যখন সে বায়ু নির্গত করে। আরও বলা হয়: ((উন্মুক্ত মলদ্বার ছাড়া কেউ শিস দেয় না)); এ কারণেই মলদ্বারকে (আল-মাকওয়াহ) বলা হয়, এই নামকরণের কারণও এটিই (৩)।
আর ((আত-তাসদিয়াহ)) হলো তালি বাজানো। বলা হয়: ((সাদ্দা ইয়ুসাদ্দি তাসদিয়াহ)), এবং ((সাফফাকা)) ও ((সাফফাহা)) একই অর্থে ব্যবহৃত হয় (৪)।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বলেছেন: ((মুক্কা)): শিস দেওয়া, এবং ((তাসদিয়াহ)): তালি বাজানো)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال بذلك: مجاهد، وسعيد بن جبير، وأبو سلمة بن عبد الرحمن، والضحاك، وقتادة، وابن زيد (1)، وعكرمة، وأبو رجاء العطاردي، ومحمد بن كعب القرظي، وحجر بن عنبس
… وزاد مجاهد: وكانوا
يدخلون أصابعهم في أفواههم (2).
قال ابن كثير: ((وقال السدي: المُكَاء: الصفير
… والتصدية: التصفيق، وقال ابن عباس: كانت قريش تطوف بالكعبة عراة تُصفِّرُ وتُصفِّق، والمكاء: الصفير، وإنما شبهوا بصفير الطير، وتصدية التصفيق
… قال قُرَّة: وحكى لنا عطية فعل ابن عمر، فصفَّر ابن عمر، وأمال خدّه، وصفَّق بيديه، وعن ابن عمر أيضًا أنه قال: كانوا يضعون خدودهم على الأرض، ويُصَفِّقُون ويُصَفِّرُون
… وقال عكرمة: كانوا يطوفون بالبيت على الشمال، وقال مجاهد: وإنما كانوا يصنعون ذلك ليخلطوا بذلك على النبي صلى الله عليه وسلم صلاته، وقال الزهري: يستهزئون بالمؤمنين)) (3).
وقال العلامة عبد الرحمن السعدي: (({وَمَا كَانَ صَلاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً} أي: صفيراً وتصفيقاً، فعل الجهلة الأغبياء، الذين ليس في قلوبهم تعظيم لربهم، ولا معرفة بحقوقه، ولا احترام لأفضل البقاع وأشرفها، فإذا كانت هذه صلاتهم فيه، فكيف ببقية العبادات؟ فبأي: شيء كانوا أولى بهذا البيت من المؤمنين الذين هم
--------------------------------------------
এবং এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন: মুজাহিদ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, আদ-দাহহাক, কাতাদাহ, ইবনে যায়েদ (১), ইকরিমা, আবু রাজা আল-উতারিদি, মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযি এবং হুজর ইবনে আনবাস
… আর মুজাহিদ আরও বর্ধিত করেছেন: তারা
তাদের আঙ্গুলসমূহ তাদের মুখে প্রবেশ করাত (২)।
ইবনে কাসীর বলেন: ((আস-সুদ্দী বলেছেন: 'আল-মুকা' হলো শিস দেওয়া
… এবং 'আত-তাসদিয়াহ' হলো তালি দেওয়া। ইবনে আব্বাস বলেছেন: কুরাইশরা উলঙ্গ অবস্থায় কাবা তওয়াফ করত, তারা শিস দিত ও তালি দিত। 'আল-মুকা' হলো শিস দেওয়া, মূলত একে পাখির শিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে, আর 'আত-তাসদিয়াহ' হলো তালি দেওয়া
… কুররাহ বলেন: আতিয়্যাহ আমাদের নিকট ইবনে উমরের কর্ম বর্ণনা করেছেন, তখন ইবনে উমর শিস দিলেন এবং তাঁর গাল একদিকে কাত করলেন এবং তাঁর দুই হাত দিয়ে তালি দিলেন। ইবনে উমর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: তারা তাদের গাল মাটির ওপর রাখত এবং তালি দিত ও শিস দিত
… ইকরিমা বলেছেন: তারা বাইতুল্লাহর বাম দিক দিয়ে তওয়াফ করত। মুজাহিদ বলেছেন: তারা কেবল এটি করত যাতে এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যায়। আর যুহরী বলেছেন: তারা মুমিনদের সাথে উপহাস করত)) (৩)।
আল্লামা আবদুর রহমান আস-সাদী বলেছেন: (({বায়তুল্লাহর নিকট তাদের সালাত শিস দেওয়া ও তালি দেওয়া ব্যতীত আর কিছুই ছিল না} অর্থাৎ: শিস ও তালি; যা ছিল ঐসব মূর্খ ও নির্বোধদের কাজ, যাদের হৃদয়ে তাদের প্রতিপালকের প্রতি কোনো মহিমা নেই, তাঁর অধিকার সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই এবং সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। সুতরাং যদি এই স্থানে তাদের সালাতের অবস্থা এমন হয়, তবে অন্যান্য ইবাদতের অবস্থা কেমন হবে? অতএব, তারা কোন কারণে মুমিনদের তুলনায় এই ঘরের অধিক হকদার হতে পারে, যারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২২)
في صلاتهم خاشعون، والذين هم عن اللغو معرضون، إلى آخر ما وصفهم الله به من الصفات الحميدة، والأفعال السديدة)) (1).
ثانياً: السنة النبوية الصحيحة الصريحة تحرّم الغناء، والمزامير، وآلات اللهو المحرمة، وهي على النحو الآتي:
1 - عن عبد الرحمن بن غنم قال حدثني أَبُو مَالِكٍ الْأَشْعَرِيُّ رضي الله عنه، وَاللَّهِ مَا كَذَبَنِي: سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ، وَالْحَرِيرَ، وَالْخَمْرَ، وَالْمَعَازِفَ، وَلَيَنْزِلَنَّ أَقْوَامٌ إِلَى جَنْبِ عَلَمٍ (2)
يَرُوحُ عَلَيْهِمْ بِسَارِحَةٍ لَهُمْ يَأْتِيهِمْ - يَعْنِي الْفَقِيرَ- لِحَاجَةٍ، فَيَقُولُونَ: ارْجِعْ إِلَيْنَا غَدًا فَيُبَيِّتُهُمْ اللَّهُ، وَيَضَعُ الْعَلَمَ، وَيَمْسَخُ آخَرِينَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ)) (3).
2 - وعن شَبِيب بن بشر البجلي، قال: سَمِعْتُ أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: قال رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: ((صَوْتَانِ مَلْعُونَانِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ: مِزْمَارٌ عِنْدَ نِعْمَةٍ، وَرَنَّةٌ عِنْدَ مُصِيبَةٍ)) (4).
--------------------------------------------
...যারা তাদের সালাতে বিনয়ী, এবং যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে বিমুখ; আল্লাহ তাআলা তাদের যে সকল প্রশংসনীয় গুণাবলী ও সঠিক কার্যাবলীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন তার শেষ পর্যন্ত)) (১)।
দ্বিতীয়ত: সহিহ (صحيح) ও সুস্পষ্ট সুন্নাহ গান, বাদ্যযন্ত্র এবং নিষিদ্ধ বিনোদনের সরঞ্জামসমূহকে হারাম ঘোষণা করে, যা নিম্নরূপ:
১ - আব্দুর রহমান বিন গানাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু মালিক আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন—আল্লাহর কসম তিনি আমার কাছে মিথ্যা বলেননি—তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ((অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু সম্প্রদায় হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল (حلال) মনে করবে। আর কিছু লোক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করবে। সন্ধ্যাবেলায় যখন রাখাল তাদের পশুগুলো নিয়ে ফিরবে, তখন তাদের কাছে একজন অভাবী লোক নিজের প্রয়োজনে আসবে। তারা বলবে: "আগামীকাল আমাদের কাছে এসো।" অতঃপর আল্লাহ তাআলা রাতের বেলা তাদের বিনাশ করবেন এবং পাহাড় ধসিয়ে দেবেন। আর বাকিদের কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করে দেবেন)) (৩)।
২ - শাবিব বিন বিশর আল-বাজালি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((দুটি শব্দ দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত: নেয়ামত প্রাপ্তির সময় বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ এবং বিপদের সময় বিলাপের আওয়াজ)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3 - وعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى أُمَّتِي: الْخَمْرَ، وَالْمَيْسِرَ، وَالْمِزْرَ، وَالْكُوبَةَ، وَالْغبيراء، وَزَادَنِي صَلَاةَ الْوَتْر)) (1).
والمزر: هونبيذٌ يُتَّخَذُ من الذُّرَة. وقيل: من الشَّعِير أو الحِنْطَةِ (2)، والكوبة: هي النَّرْد، وقيل: الطَّبْل، وقيل: البَرْبَط [آلة موسيقية] (3). والغبيراء: ضَرْب من الشَّراب يتَّخِذه الحَبش من
الذُّرَة، وهي تُسكِرُ (4).
4 - وعن أَبَي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال: ((لَيَشْرَبَنَّ أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ، يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا، يُعْزَفُ عَلَى رُءُوسِهِمُ بالْمَعَازِفِ وَالْمُغَنِّيَاتِ، يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الأَرْضَ، وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ)) (5).
--------------------------------------------
৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য মদ, জুয়া, মিযর, কূবাহ এবং গুবাইরা হারাম করেছেন এবং তিনি আমার জন্য বিতর সালাত অতিরিক্ত দিয়েছেন" (১)।
মিযর হলো এমন এক প্রকার পানীয় (নাবীয) যা ভুট্টা থেকে তৈরি করা হয়। কেউ কেউ বলেছেন: তা যব বা গম থেকে তৈরি করা হয় (২)। কূবাহ হলো পাশা খেলা, কেউ কেউ বলেছেন: ঢোল, আবার কেউ কেউ বলেছেন: বারবাত [এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র] (৩)। আর গুবাইরা হলো আবিসিনীয়দের (হাবশি) প্রস্তুতকৃত এক প্রকার পানীয় যা ভুট্টা থেকে তৈরি করা হয় এবং এটি নেশা সৃষ্টিকারী (৪)।
৪ - আবু মালেক আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের কিছু লোক অবশ্যই মদ পান করবে এবং তারা এর ভিন্ন নামকরণ করবে। তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকাদের দ্বারা গান-বাজনা করা হবে। আল্লাহ তাদেরকে জমিনে ধসিয়ে দেবেন এবং তাদের মধ্য থেকে অনেককে বানর ও শুকরে পরিণত করবেন" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৪)
5 - عَنْ جَابِرٍ بن عبد اللَّه رضي الله عنهما، قَالَ: أخَذَ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم بيدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رضي الله عنه، فَانْطَلَقَ بهِ إِلَى ابْنِهِ إِبْرَاهِيمَ، وَهُوَ يَجُودُ بِنَفْسِهِ، فَأخَذه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعَه فِي حِجْرِهِ، فَبَكَى، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: أتبكي؟ أولم تَنْهَنَا عَنِ الْبُكَاءِ؟ قَالَ: ((لَا ولكن نَهَيْتُ عَنْ صَوْتَيْنِ أَحْمَقَيْنِ فَاجِرَيْنِ: صَوْتٍ عِنْدَ مُصِيبَةٍ: خَمْشِ وُجُوهٍ، وشَقِّ جُيُوبٍ، وَرَنَّةِ شَيْطَانٍ (1))) (2).
ولفظ أبي داود الطيالسي: ((لَمْ أَنْهَ عَنِ الْبُكَاءِ، إِنَّمَا نَهَيْتُ عَنْ صَوْتَيْنِ فَاجِرَيْنِ: صَوْتِ مِزْمَارٍ عِنْدَ نِعْمَةٍ: مِزْمَارِ شَيْطَانٍ وَلَعِبٍ، وَصَوْتٍ عِنْدَ مُصِيبَةٍ: شَقِّ الْجُيُوبِ، وَرَنَّةِ شَيْطَانٍ،
وَإِنَّمَا هَذِهِ رَحْمَةٌ)) (3)، ومعنى: ((وإنما هذه رحمة: يعني دمع العين عند المصيبة)).
--------------------------------------------
5 - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাত ধরলেন এবং তাঁকে নিয়ে তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের কাছে গেলেন, তখন সে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে কোলে নিলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। তখন আব্দুর রহমান (রাযিআল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: আপনিও কি কাঁদছেন? আপনি কি আমাদের কাঁদতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেন: “না, বরং আমি কেবল দুটি নির্বোধ ও পাপাচারী শব্দ (আওয়াজ) করতে নিষেধ করেছি: বিপদের সময় আর্তনাদ করা—মুখমণ্ডলে আঁচড় কাটা, জামার বুক চিরে ফেলা এবং শয়তানি বিলাপ (১)।” (২)।
আবু দাউদ আল-তয়ালিসির শব্দে রয়েছে: “আমি কাঁদতে নিষেধ করিনি, বরং কেবল দুটি পাপাচারী শব্দ থেকে নিষেধ করেছি: নেয়ামতের সময় বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ—শয়তানি বাদ্য ও খেলতামাশা এবং বিপদের সময় আর্তনাদ—জামার বুক চিরে ফেলা এবং শয়তানি বিলাপ,
আর এটি (অশ্রু) তো কেবল রহমত।” (৩)। আর “এটি কেবল রহমত”—এর অর্থ হলো: বিপদের সময় চোখের পানি পড়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ولفظ الحاكم في مستدركه: ((إني لم أنْهَ عن البكاء، ولكني نهيت عن صوتين أحمقين فاجرين: صوت عند نغمة: لهو، ولعب، ومزامير الشيطان، وصوت عند مصيبة: لطم وجوه، وشق جيوب وهذه رحمة، ومن لا يَرْحَمْ لَا يُرْحَمْ)) (1).
6 - وخَطَبَ النَّاسَ مُعَاوِيَةُ رضي الله عنه بِحِمْصَ، فَذَكَرَ فِي خُطْبَتِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّمَ سَبْعَةَ أَشْيَاءَ، وَإِنِّي أُبْلِغُكُمْ ذَلِكَ، وَأَنْهَاكُمْ عَنْهُ، مِنْهُنَّ: النَّوْحُ، وَالشِّعْرُ (2)، وَالتَّصَاوِيرُ، وَالتَّبَرُّجُ، وَجُلُودُ السِّبَاعِ، وَالذَّهَبُ، وَالْحَرِيرُ)) (3).
7 - عنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قال: قال رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ الْخَمْرَ، وَالْمَيْسِرَ، وَالْكُوبَةَ))، وَقَالَ: ((كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ)) (4). ولفظ أبي داود: ((إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيَّ - أَوْ حُرِّمَ-:
--------------------------------------------
আল-হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: ((আমি ক্রন্দন করতে নিষেধ করিনি, বরং আমি দুটি নির্বোধ ও পাপাচারী কণ্ঠস্বর থেকে নিষেধ করেছি: আমোদ-প্রমোদ, খেলাধুলা ও শয়তানের বাদ্যযন্ত্রের সময়কার কণ্ঠস্বর এবং বিপদের সময়কার কণ্ঠস্বর: চেহারায় চপেটাঘাত করা এবং কাপড়ের বুক চিরে ফেলা। আর এটি হলো রহমত, আর যে দয়া করে না তার প্রতি দয়া করা হয় না।)) (১)।
৬ - মুয়াবিয়া (রা.) হিমস নামক স্থানে মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সাতটি বিষয় হারাম করেছেন। আমি তোমাদের কাছে তা পৌঁছে দিচ্ছি এবং তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি। সেগুলো হলো: বিলাপ করা, কবিতা (২), চিত্রকর্ম, বেপর্দা চলাফেরা করা, হিংস্র প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করা, স্বর্ণ এবং রেশম। (৩)।
৭ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য মদ, জুয়া এবং ঢোল হারাম করেছেন।)) তিনি আরও বলেছেন: ((প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম।)) (৪)। আবু দাউদ-এর শব্দ নিম্নরূপ: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার ওপর হারাম করেছেন —অথবা হারাম করা হয়েছে—:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الْخَمْرُ، وَالْمَيْسِرُ، وَالْكُوبَةُ (1)))، قَالَ: ((وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ)) (2).
8 - عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((
… كُلُّ مَا يَلْهُو بِهِ الرَّجُلُ المسْلِمُ بَاطِلٌ: إِلَاّ رَمْيَهُ بِقَوْسِهِ، وَتَأْدِيبَهُ فَرَسَهُ، وَمُلَاعَبَتَهُ أَهْلَهُ، فَإِنَّهُنَّ مِنَ الْحَقِّ)) (3).
9 - عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إِنَّ اللَّهَ عز وجل بَعَثَنِي رَحْمَةً وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ، وَأَمَرَنِي أَنْ أَمْحَقَ الْمَزَامِيرَ، وَالْكَبَارَاتِ، -يَعْنِي الْبَرَابِطَ- وَالْمَعَازِفَ، وَالْأَوْثَانَ الَّتِي كَانَتْ تُعْبَدُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ)) (4)، ولفظ أبي داود الطيالسي: ((إنَّ اللَّهَ عز وجل بَعَثَنِي هُدًى، وَرَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ، وَأَمَرَنِي بِمَحْقِ: الْمَعَازِفِ، وَالْمَزَامِيرِ،
--------------------------------------------
মদ, জুয়া এবং কূবাহ (১)))। তিনি বলেন: ((এবং প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম (حرام))) (২)।
৮ - উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (( ... মুসলিম ব্যক্তি যা কিছু নিয়ে খেল-তামাশা করে তার সবই বাতিল; তবে তার ধনুক দিয়ে তীর নিক্ষেপ করা, স্বীয় ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিজ স্ত্রীর সাথে বিনোদন করা ব্যতীত, কারণ এগুলো হকের অন্তর্ভুক্ত)) (৩)।
৯ - আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত ও হেদায়েত স্বরূপ পাঠিয়েছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন বাঁশি, কাবারাত—তথা তম্বুরা—বাদ্যযন্ত্র এবং জাহেলিয়াত যুগে যে সব মূর্তির পূজা করা হতো তা মিটিয়ে দিতে)) (৪)। আবু দাউদ আত-তায়ালিসির বর্ণনাটি হলো: ((নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে হেদায়েত ও বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন: বাদ্যযন্ত্র ও বাঁশি মিটিয়ে দিতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالأَوْثَانِ، وَالصُّلُبِ، وَأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ)) (1).
10 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْجَرَسُ مَزَامِيرُ الشَّيْطَانِ» (2).
11 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا كَلْبٌ أَوْ جَرَسٌ)) (3).
12 - عَنْ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَلَّمَ يَقُولُ: ((لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ جُلْجُلٌ، وَلَا جَرَسٌ، وَلَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا جَرَسٌ)) (4).
13 - عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ((أَمَرَ بِالْأَجْرَاسِ أَنْ تُقْطَعَ مِنْ أَعْنَاقِ الْإِبِلِ يَوْمَ بَدْرٍ)) (5).
--------------------------------------------
এবং প্রতিমা, ক্রুশ এবং জাহেলি যুগের কর্মকাণ্ড।)) (১)।
১০ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ঘণ্টি হলো শয়তানের বাদ্যযন্ত্র» (২)।
১১ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((ফেরেশতারা এমন কাফেলার সঙ্গী হন না যার মধ্যে কুকুর বা ঘণ্টি থাকে)) (৩)।
১২ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((ফেরেশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করেন না যেখানে ঘুঙুর বা ঘণ্টি থাকে, আর ফেরেশতারা এমন কাফেলার সঙ্গী হন না যাতে ঘণ্টি থাকে)) (৪)।
১৩ - আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ((বদরের যুদ্ধের দিন উটের গলা থেকে ঘণ্টিগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثالثاً: أقوال الصحابة رضي الله عنهم في ذم الغناء وآلات اللهو والتحذير من ذلك، ومنها ما يأتي:
1 - أمير المؤمنين أبو بكر رضي الله عنه -، سمّى الغناء مزامير الشيطان فَعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ مِنْ جَوَارِي الْأَنْصَارِ، تُغَنِّيَانِ بِمَا تَقَاوَلَتْ الْأَنْصَارُ يَوْمَ بُعَاثَ (1)، قَالَتْ وَلَيْسَتَا بِمُغَنِّيَتَيْنِ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَمَزَامِيرُ الشَّيْطَانِ فِي بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ وَذَلِكَ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا، وَهَذَا عِيدُنَا)) (2)، وهذا لفظ البخاري، وفي رواية للبخاري: ((دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ تُغَنِّيَانِ بِغِنَاءِ بُعَاثَ، فَاضْطَجَعَ عَلَى الْفِرَاشِ، وَحَوَّلَ وَجْهَهُ، وَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَانْتَهَرَنِي، وَقَالَ: مِزْمَارَةُ الشَّيْطَانِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: ((دَعْهُمَا)) فَلَمَّا غَفَلَ غَمَزْتُهُمَا فَخَرَجَتَا)) (3).
وفي رواية للبخاري ومسلم أيضاً: ((أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه دَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا جَارِيَتَانِ فِي أَيَّامِ مِنًى تُغَنِّيَانِ، وَتَضْرِبَانِ، وَرَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: গান-বাদ্য ও বিনোদনের বাদ্যযন্ত্রের নিন্দা এবং এ বিষয়ে সতর্কীকরণ সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর উক্তি, তার মধ্যে কিছু নিচে দেওয়া হলো:
১ - আমিরুল মুমিনীন আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) — তিনি গানকে শয়তানের বাঁশি হিসেবে অভিহিত করেছেন। আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) আমার ঘরে আসলেন, তখন আমার কাছে আনসারদের দুইজন বালিকা ছিল। তারা বুয়াস যুদ্ধের দিন আনসাররা যা একে অপরকে বলেছিল তা গেয়ে শোনাচ্ছিল (১)। তিনি (আয়েশা) বলেন: তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। তখন আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) বললেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি? আর তা ছিল ঈদের দিন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((হে আবু বকর, নিশ্চয়ই প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদ)) (২)। এটি বুখারি-র শব্দবিন্যাস। আর বুখারি-র একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: ((আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আমার কাছে দুইজন বালিকা বুয়াসের গান গাচ্ছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) প্রবেশ করলেন এবং আমাকে ধমক দিলেন। তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে শয়তানের বাঁশি? তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিকে ফিরে বললেন: ((ওদের ছেড়ে দাও))। এরপর যখন তিনি অন্যমনস্ক হলেন, তখন আমি তাদের ইশারা করলাম এবং তারা বেরিয়ে গেল)) (৩)।
বুখারি ও মুসলিম-এর অপর একটি বর্ণনায় (رواية) আরও রয়েছে: ((আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে তাঁর কাছে দুইজন বালিকা গান গাচ্ছিল এবং বাদ্য বাজাচ্ছিল, আর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গিনা ওয়াল মাআজিফ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া আছারিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম -
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مُسَجًّى (1) بِثَوْبِهِ، فَانْتَهَرَهُمَا أَبُو بَكْرٍ، فَكَشَفَ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ، وَقَالَ: ((دَعْهُمَا يَا أَبَا بَكْرٍ، فَإِنَّهَا أَيَّامُ عِيدٍ)) (2).
فلم ينكر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على أبي بكر رضي الله عنه تسمية الغناء مزامير الشيطان، وأقرّ الجاريتين معلّلاً تركهما بأنها أيام عيد.
وإذا كان الغناء بأشعار الشجاعة والحروب من مزامير الشيطان، فكيف بأشعار الخلاعة والمجون التي هي غالب بضاعة أهل الإذاعات، وأكبر مقاصد الأكثرين من المتخذين لآلات اللهو والمعازف؟! (3).
2 - أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه -، ((فعَن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ قَال: سَمِعْتُ بُرَيْدَةَ يَقُولُ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ جَاءَتْ جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ نَذَرْتُ إِنْ رَدَّكَ اللَّهُ صَالِحاً أَنْ أَضْرِبَ بَيْنَ يَدَيْكَ بِالدُّفِّ، وَأَتَغَنَّى، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِنْ كُنْتِ نَذَرْتِ فَاضْرِبِي، وَإِلَّا
فَلَا))، فَجَعَلَتْ تَضْرِبُ، فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ، وَهِيَ تَضْرِبُ، ثُمَّ دَخَلَ عَلِيٌّ، وَهِيَ تَضْرِبُ، ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ، وَهِيَ تَضْرِبُ، ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ، فَأَلْقَتْ الدُّفَّ تَحْتَ اسْتِهَا، ثُمَّ قَعَدَتْ عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَخَافُ مِنْكَ يَا عُمَرُ، إِنِّي كُنْتُ جَالِسًا وَهِيَ تَضْرِبُ، فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ وَهِيَ تَضْرِبُ، ثُمَّ
--------------------------------------------
(১) তাঁর কাপড় দিয়ে আবৃত ছিলেন, তখন আবু বকর তাদের ধমক দিলেন, ফলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে দিলেন এবং বললেন: ((হে আবু বকর, ওদের ছেড়ে দাও, কারণ এগুলো ঈদের দিন)) (২)।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গানকে শয়তানের বাঁশি হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর কোনো আপত্তি জানাননি; বরং তিনি বালিকা দুটির বিষয়টি এই যুক্তিতে বহাল রেখেছিলেন যে, সেগুলো ছিল ঈদের দিন।
যদি বীরত্ব ও যুদ্ধ-বিগ্রহের কবিতার গান শয়তানের বাঁশির অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতাপূর্ণ কবিতার কী অবস্থা হবে, যা অধিকাংশ প্রচার মাধ্যমের প্রধান সামগ্রী এবং যারা খেল-তামাশা ও বাদ্যযন্ত্রের সরঞ্জাম গ্রহণ করেছে তাদের অধিকাংশের প্রধান লক্ষ্য?! (৩)।
২ - আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) - , ((আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বুরাইদাহকে বলতে শুনেছি: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কোনো এক যুদ্ধে বের হলেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন একজন কৃষ্ণাঙ্গ বালিকা এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমি মানত করেছিলাম যে, আল্লাহ যদি আপনাকে সহিহ-সালামতে ফিরিয়ে আনেন তবে আমি আপনার সামনে দফ বাজাব এবং গান গাইব। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: ((যদি তুমি মানত করে থাকো তবে বাজাও, অন্যথায় নয়)), ফলে সে বাজাতে লাগল। সে বাজানো অবস্থায় আবু বকর প্রবেশ করলেন, এরপর আলী প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় সে বাজাচ্ছিল, তারপর উসমান প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় সে বাজাচ্ছিল, এরপর উমর প্রবেশ করলেন, তখন সে দফটি তার নিচে ফেলে দিয়ে তার ওপর বসে পড়ল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((হে উমর, শয়তান অবশ্যই তোমাকে ভয় পায়। আমি বসে ছিলাম এমতাবস্থায় সে বাজাচ্ছিল, এরপর আবু বকর প্রবেশ করল এমতাবস্থায় সে বাজাচ্ছিল, এরপর...
--------------------------------------------