(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
العلاقة المثلى بين الدعاة ووسائل الإتصال الحديثة في ضوء الكتاب والسنة القسم: كتب عامة
الكتاب: العلاقة المثلى بين الدعاة ووسائل الإتصال الحديثة في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
الطبعة: الأولى، 1432 هـ
عدد الصفحات: 108
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দাঈ এবং আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দাঈ এবং আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির মুদ্রণালয়, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জেরাইসি বিতরণ ও বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান, রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
العلاقة المثلى بين الدعاة ووسائل الإتصال الحديثة في ضوء الكتاب والسنة
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দাঈ ও আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক
ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن سار على هديه إلى يوم الدين.
أما بعد:
فهذا بحث مختصر في ((العلاقة المثلى بين العلماء والدعاة، ووسائل الاتصال الحديثة))، قُرِّر علي أثناء دراستي المنهجية في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية في السنة التمهيدية لتحضير الماجستير، في عام 1407هـ، وكان المشرف آنذاك الأستاذ الدكتور الشيخ: سيِّد محمد ساداتي الشنقيطي، جزاه الله خيراً، ثم حال بيني وبين نشره ما ثبت في الأحاديث الصحيحة من الوعيد الشديد للمصوِّرين، وتحريم التصوير لذوات الأرواح، وفي عام 1431هـ، نظرت وتأمَّلت في البحث فوجدته مفيداً جدًّا؛ لخطر وسائل الإعلام الحديثة إذا تُرِك الحبل على الغارب لدعاة الضلالة،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসারী হবে, তাদের সকলের প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
এটি "আলেম ও দায়ীদের এবং আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক" বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা। এটি ১৪০৭ হিজরি সনে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রস্তুতির প্রারম্ভিক বর্ষে আমার পদ্ধতিগত অধ্যয়নের অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। সেই সময় তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অধ্যাপক ডক্টর শায়খ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ সাদাতী আশ-শানকিতী, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। এরপর এটি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় সহিহ (الصحيحة) হাদিসসমূহে চিত্রকরদের জন্য বর্ণিত কঠোর হুঁশিয়ারি এবং প্রাণীর ছবি নির্মাণ বা অঙ্কন করার নিষিদ্ধতা। অতঃপর ১৪৩১ হিজরি সনে আমি এই গবেষণাপত্রটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে একে অত্যন্ত উপযোগী হিসেবে পেলাম; কারণ বিভ্রান্তির প্রচারকদের জন্য যদি আধুনিক গণমাধ্যমগুলোকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ونشرهم الفساد في وسائل الإعلام: المسموعة، والمرئية، والمقروءة، فإن تُركت هذه الوسائل لهؤلاء زاد الفساد، وعمَّ، وطمَّ، إلا ما شاء الله، فرأيت أن الدخول فيها لأهل العلم المخلصين والمصلحين الصادقين، والدعاة الناصحين يقلل من الشرِّ كثيراً جداً، وفيه نفع عظيم، وخير كثير؛ ولأن من قواعد الشريعة: أن المفاسد إذا تعارضت: ارتكب أدناها لتفويت أعلاها إذا لم يمكن السلامة منهما جميعاً، وإذا تعارضت المصالح والمفاسد فتَرْكُ المفاسد مُقدَّم على جلب المصالح، وإذا تعارضت المصالح عُمِلَتْ أعلى المصلحتين إذا لم يمكن تحصيلهما جميعاً؛ ولهذا عزمت بتوفيق الله على إخراج هذا البحث بعد تحريره وتخريج أحاديثه وتحقيقه؛ ليكون فيه حجة لمن شرح الله صدره للدخول في هذه الوسائل، وسيجدون الثواب العظيم من الله تعالى إذا حَسُن قصدهم؛ للدفاع عن دين الله بالحجة وبالبرهان، ابتغاء مرضاته، أما أنا فلم ينشرح صدري للدخول في التلفاز، والفديو إلا إذا حصل ذلك بدون قصدٍ منِّي ولا طلب؛ لما جاء من الوعيد الشديد في التصوير، فمن دخل في هذه الوسائل بنيَّةٍ صادقة، وشرح الله صدره لذلك؛ لإعلاء كلمة الله، فليبشر بالخير الكثير والأجر العظيم.
والله أسأل أن يجعل هذا البحث خالصاً لوجهه، وأن يجعله صواباً وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من
এবং মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়া: যেমন শ্রবণযোগ্য, দৃশ্যমান এবং পঠনযোগ্য মাধ্যমগুলো। যদি এই মাধ্যমগুলো তাদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়, তবে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে এবং তা ব্যাপক ও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, যদি না আল্লাহ অন্য কিছু ইচ্ছা করেন। তাই আমি মনে করি যে, একনিষ্ঠ আলেম সমাজ, সত্যনিষ্ঠ সংস্কারক এবং হিতাকাঙ্ক্ষী দাঈগণের এই মাধ্যমগুলোতে প্রবেশ করা মন্দের পরিমাণ অনেকাংশেই কমিয়ে দেবে এবং এতে মহান কল্যাণ ও প্রচুর মঙ্গল নিহিত রয়েছে। কেননা শরীয়তের অন্যতম একটি মূলনীতি হলো: যখন একাধিক ক্ষতিকর বিষয় (مفاسد) পরস্পরের মুখোমুখি হয় এবং উভয়টি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব না হয়, তখন বড় ক্ষতি এড়াতে ছোট ক্ষতিটি বেছে নেওয়া হয়। আর যখন কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অকল্যাণ বর্জন করাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আর যখন একাধিক কল্যাণকর বিষয় সাংঘর্ষিক হয় এবং উভয়টি অর্জন করা সম্ভব না হয়, তখন উচ্চতর কল্যাণকর বিষয়টির ওপর আমল করা হয়। এই কারণেই আমি আল্লাহর তাওফিকে এই গবেষণাটি পরিমার্জন, এর হাদিসসমূহের সূত্র বিশ্লেষণ (تخريج) এবং গবেষণালব্ধ যাচাই (تحقيق) করার পর প্রকাশের সংকল্প করেছি; যেন এটি ঐ ব্যক্তিদের জন্য দলিল হয় যাদের অন্তরকে আল্লাহ এই মাধ্যমগুলোতে দাওয়াতি কাজের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আর যদি তাদের উদ্দেশ্য সৎ হয়, তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনকে রক্ষা করার বিনিময়ে তারা মহান আল্লাহর নিকট থেকে মহাপুরস্কার লাভ করবেন। তবে আমার নিজের কথা বললে, টেলিভিশন বা ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে আমার মন সায় দেয়নি, যদি না তা আমার ইচ্ছা বা অনুরোধ ছাড়াই ঘটে থাকে; কেননা ছবি তোলার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি (وعيد) বর্ণিত হয়েছে। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য একনিষ্ঠ নিয়তে এই মাধ্যমগুলোতে প্রবেশ করেছেন এবং আল্লাহ তার অন্তরকে এর জন্য প্রশস্ত করেছেন, তিনি যেন প্রভূত কল্যাণ ও মহান প্রতিদানের সুসংবাদ গ্রহণ করেন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই গবেষণাকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, একে সঠিক (صواب) করেন এবং আমার ইহকালে ও পরকালে এর দ্বারা আমাকে উপকৃত করেন এবং এর দ্বারা প্রত্যেককে উপকৃত করেন যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
انتهى إليه، فإنه خير مسؤول وأكرم مأمول.
وقد قسمت هذا البحث إلى ثلاثة فصول وخاتمة، وكل فصل يشتمل على عدة مباحث على النحو الآتي:
الفصل الأول: تعريف ومفاهيم.
المبحث الأول: تعريف وسائل الاتصال لغة واصطلاحاً.
المبحث الثاني: تعريف الإعلام لغة واصطلاحاً.
المبحث الثالث: تعريف الدعوة لغة واصطلاحاً.
المبحث الرابع: تعريف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لغة واصطلاحاً.
المبحث الخامس: الفرق بين مفهوم الإعلام ومفهوم الاتصال.
المبحث السادس: مفهوم الدعوة ومفهوم الإعلام.
المبحث السابع: إيثار القرآن لفظ الدعوة على لفظ الإعلام.
المبحث الثامن: العملية الاتصالية، ونماذج الاتصال.
الفصل الثاني: حكم الدعوة، وفضل العلم والعلماء:
المبحث الأول: حكم الدعوة إلى الله.
المبحث الثاني: فضل العلم والعلماء والدعوة والدعاة.
المبحث الثالث: الإخلاص لله والمتابعة للنبي صلى الله عليه وسلم.
المبحث الرابع: خطر كتم العلم النافع.
الفصل الثالث: الدعاة ووسائل الاتصال:
المبحث الأول: خطر وأهمية وسائل الاتصال الحديثة.
তাঁর নিকটেই সবকিছুর সমাপ্তি, নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশার স্থল।
আমি এই গবেষণাকে তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায় নিম্নোক্তভাবে বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত হয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: সংজ্ঞা ও ধারণাসমূহ।
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে যোগাযোগের মাধ্যমসমূহের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে গণমাধ্যমের সংজ্ঞা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে দাওয়াতের সংজ্ঞা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের সংজ্ঞা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যম ও যোগাযোগের ধারণার মধ্যকার পার্থক্য।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: দাওয়াতের ধারণা ও গণমাধ্যমের ধারণা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যম শব্দের পরিবর্তে দাওয়াত শব্দটির প্রতি কুরআনের অগ্রাধিকার।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: যোগাযোগ প্রক্রিয়া এবং যোগাযোগের নমুনা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: দাওয়াতের বিধান এবং জ্ঞান ও জ্ঞানীদের মর্যাদা:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পথে দাওয়াতের বিধান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞান, জ্ঞানী, দাওয়াত ও দায়ীদের মর্যাদা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ইখলাস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উপকারী জ্ঞান গোপন করার ভয়াবহতা।
তৃতীয় অধ্যায়: দায়ীগণ ও যোগাযোগের মাধ্যমসমূহ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর গুরুত্ব ও ঝুঁকি।
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الثاني: العلاقة المثلى بين العلماء والدعاة ووسائل الاتصال الحديثة.
المبحث الثالث: استغلال الوسائل الحديثة في الدعوة إلى الله وكيفية استخدامها.
1 - الصحافة.
2 - الكتاب.
3 - الإذاعة.
4 - التلفزيون.
5 - السينما.
6 - أشرطة التسجيل الكاسيت، والأقراص المدمجة ((السيديات)).
7 - أشرطة الشرائح.
8 - الأفلام.
9 - أشرطة الفيديو.
10 - الهاتف الثابت.
11 - الناسوخ.
12 - الهاتف الجوال.
13 - الإنترنت.
المبحث الرابع: واجب العلماء والدعاة نحو ما ينشر في وسائل الإعلام.
المبحث الخامس: الهدف الذي يريده كل مسلم من الإعلام.
والله تعالى أسأل أن يوفق الجميع لما يحبه ويرضاه، وأن يجعل هذا العمل القليل خالصاً لوجهه الكريم، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
المؤلف: أبو عبد الرحمن
سعيد بن علي بن وهف القحطاني
كُتِبَ أصله في النصف الثاني من عام 1407هـ
وحرر بعد ظهر يوم الأحد الموافق 1/ 7/1431هـ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আলেম, দাঈ এবং আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আধুনিক মাধ্যমগুলোর সদ্ব্যবহার এবং তা ব্যবহারের পদ্ধতি।
১ - সংবাদপত্র।
২ - বই।
৩ - বেতার।
৪ - টেলিভিশন।
৫ - সিনেমা।
৬ - অডিও রেকর্ড ক্যাসেট এবং কম্প্যাক্ট ডিস্ক (সিডি)।
৭ - স্লাইড।
৮ - চলচ্চিত্র।
৯ - ভিডিও ক্যাসেট।
১০ - ল্যান্ডফোন।
১১ - ফ্যাক্স।
১২ - মোবাইল ফোন।
১৩ - ইন্টারনেট।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয় সে বিষয়ে আলেম ও দাঈদের দায়িত্ব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যম থেকে প্রত্যেক মুসলিমের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন এবং এই নগণ্য আমলটুকুকে একনিষ্ঠভাবে কেবল তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বক্ষমতাবান।
আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। আর মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।
লেখক: আবু আব্দুর রহমান সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহনী
মূল পাণ্ডুলিপিটি ১৪০৭ হিজরির শেষার্ধে লিখিত
এবং ১/ ৭/১৪৩১ হিজরি রোজ রবিবার জোহরের পর সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأول: تعريف ومفاهيم.
المبحث الأول: تعريف وسائل الاتصال: لغة واصطلاحاً.
المبحث الثاني: تعريف الإعلام: لغة واصطلاحاً.
المبحث الثالث: تعريف الدعوة: لغة واصطلاحاً.
المبحث الرابع: تعريف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لغة واصطلاحاً.
المبحث الخامس: الفرق بين مفهوم الإعلام ومفهوم الاتصال.
المبحث السادس: مفهوم الدعوة ومفهوم الإعلام.
المبحث السابع: إيثار القرآن لفظ الدعوة على لفظ الإعلام.
المبحث الثامن: العملية الاتصالية، ونماذج الاتصال.
প্রথম অধ্যায়: সংজ্ঞা ও ধারণাসমূহ.
প্রথম পরিচ্ছেদ: যোগাযোগের মাধ্যমসমূহের সংজ্ঞা: আভিধানিক ও পারিভাষিক।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যমের সংজ্ঞা: আভিধানিক ও পারিভাষিক।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দাওয়াতের সংজ্ঞা: আভিধানিক ও পারিভাষিক।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের (منكر) নিষেধের সংজ্ঞা: আভিধানিক ও পারিভাষিক।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যম ও যোগাযোগের ধারণার মধ্যকার পার্থক্য।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: দাওয়াতের ধারণা ও গণমাধ্যমের ধারণা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যম শব্দের পরিবর্তে দাওয়াত শব্দটিকে কুরআনের অগ্রাধিকার প্রদান।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: যোগাযোগ প্রক্রিয়া ও যোগাযোগের মডেলসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: تعريف وسائل الاتصال
الوسيلة لغة: التوصل إلى الشيء برغبة، وهي أخص من الوصلة لتضمنها معنى الرغبة، قال تعالى: {وَابْتَغُواْ إِلَيهِ الْوَسِيلَةَ} (1). وحقيقة الوسيلة إلى الله تعالى مراعاة سبيله بالعلم والعبادة، وتحرِّي مكارم الشريعة وهي كالقربة، والواسل الراغب إلى الله تعالى (2).
واصطلاحاً: وسائل الاتصال الحديثة هي أدوات لنشر كافة أنواع المعلومات عن طريق الوسائل الإلكترونية (3).
الاتصال لغة: وصل بمعنى اتصل، والوصل ضد الهجران، وبينهما وصلة أي: اتصال وذريعة، وكل شيء اتصل بشيء فما بينهما وصلة، والجمع وصل، والتواصل ضد التقاطع (4).
وقيل: الاتصال لغة: اتخاذ الأشياء بعضها ببعض كاتحاد طرفي الدائرة ويضاد الانفصال (5).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: যোগাযোগের মাধ্যমের সংজ্ঞা
মাধ্যম (الوسيلة) শাব্দিক অর্থে (لغة): আকাঙ্ক্ষা বা আগ্রহের সাথে কোনো কিছুর নিকট পৌঁছানো। এটি সংযোগের (الوصلة) চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট, কারণ এতে আকাঙ্ক্ষার অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তোমরা তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম (الوسيلة) অন্বেষণ করো} (১)। মহান আল্লাহর নিকট মাধ্যম (الوسيلة) হওয়ার প্রকৃত রূপ হলো জ্ঞান ও ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করা এবং শরীয়াহর সুমহান গুণাবলি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া; যা মূলত নৈকট্যের (القربة) মতো। আর 'ওয়াসিল' (الواسل) হলো মহান আল্লাহর প্রতি অনুরাগী ব্যক্তি (২)।
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً): আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যম (وسائل الاتصال) হলো ইলেকট্রনিক উপায়ে সকল প্রকার তথ্য প্রচার করার সরঞ্জামসমূহ (৩)।
যোগাযোগ (الاتصال) শাব্দিক অর্থে (لغة): وصل শব্দটি اتصل (যুক্ত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল-ওয়াসল (الوصل) হলো বিচ্ছেদের (الهجران) বিপরীত। তাদের উভয়ের মাঝে সংযোগ (وصلة) রয়েছে, অর্থাৎ: যোগাযোগ (اتصال) ও যোগসূত্র। যখনই কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুর সাথে যুক্ত হয়, তখন তাদের মাঝে একটি সংযোগ (وصلة) থাকে। এর বহুবচন হলো 'উসাল' (وصل)। পারস্পরিক যোগাযোগ (التواصل) হলো বিচ্ছিন্নতার (التقاطع) বিপরীত (৪)।
বলা হয়েছে: শাব্দিক অর্থে যোগাযোগ (الاتصال) হলো বস্তুসমূহের একে অপরের সাথে এমনভাবে মিলে যাওয়া যেন একটি বৃত্তের দুই প্রান্তের মিলন, যা বিচ্ছিন্নতার (الانفصال) বিপরীত (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الاتصال اصطلاحاً: له تعاريف كثيرة منها:
هو العملية التي بمقتضاها يتفاعل مرسل الرسالة ومستقبلها في مضامين معينة، أو هو تفاعل بين طرفين، وفي هذا التفاعل تنقل أفكار ومعلومات أو وقائع وعواطف وآراء، ومشاركة الصور الذهنية، والتوجيه والإقناع (1).
أو هو العملية التي ينقل بمقتضاها الفرد - القائم بالاتصال - منبهات - عادة رموز لغوية - لكي يعدل سلوك الأفراد الآخرين - مستقبلي الرسالة (2).
وسائل الاتصال الجماهيرية:هي أدوات الاتصال التي تصل إلى أعداد كبيرة من الناس على الفور، وهي تحمل لهم رسالة واحدة (3).
* * *
--------------------------------------------
পারিভাষিক অর্থে যোগাযোগ (الاتصال): এর অনেক সংজ্ঞা রয়েছে, তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বার্তার প্রেরক ও প্রাপক সুনির্দিষ্ট বিষয়ের প্রেক্ষিতে পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পাদন করেন, অথবা এটি হলো দুই পক্ষের মধ্যকার মিথষ্ক্রিয়া। এই মিথষ্ক্রিয়ায় চিন্তা, তথ্য বা বাস্তবতা, আবেগ ও মতামত আদান-প্রদান এবং মানসিক প্রতিচ্ছবির অংশীদারিত্ব ঘটে এবং এতে দিকনির্দেশনা ও প্রেষণা প্রদান করা হয় (১)।
অথবা এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি—যোগাযোগকারী—উদ্দীপকসমূহ (সাধারণত ভাষাগত প্রতীক) প্রেরণ করেন যাতে অন্য ব্যক্তিদের—বার্তার প্রাপকদের—আচরণ পরিবর্তন করা যায় (২)।
গণযোগাযোগ মাধ্যমসমূহ:এগুলো হলো যোগাযোগের এমন উপকরণ যা তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং এটি তাদের কাছে একই বার্তা বহন করে নিয়ে যায় (৩)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: تعريف وسائل الإعلام
الوسائل لغة واصطلاحاً كما تقدم في تعريف وسائل الاتصال:
الإعلام لغة: أعلمته وعلمته في الأصل واحد إلا أن الإعلام اختص بما كان بإخبار سريع، والتعليم اختص بما كان بتكرير وتكثير حتى يحصل منه أثر في نفس المتعلم (1).
الإعلام في الاصطلاح: له من التعريفات ما لا يمكن حصرها.
ومنها: هو التعبير الموضوعي عن عقلية الجماهير، وروحها وميولها واتجاهاتها في نفس الوقت (2).
* * *
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যমের সংজ্ঞাশাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে মাধ্যম (الوسائل) যেমনটি ইতিপূর্বে যোগাযোগ মাধ্যমের সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে:
শাব্দিক অর্থে (لغة) ইলাম (الإعلام): 'আমি তাকে অবহিত করেছি' (أعلمته) এবং 'আমি তাকে শিক্ষা দিয়েছি' (علمته) মূলত একই অর্থবোধক; তবে পার্থক্য হলো ‘ইলাম’ দ্রুত সংবাদ প্রদানের সাথে নির্দিষ্ট, আর ‘তালিম’ (التعليم) বা শিক্ষা দান পুনরাবৃত্তি ও আধিক্যের সাথে নির্দিষ্ট, যতক্ষণ না শিক্ষার্থীর মনে এর প্রভাব সৃষ্টি হয় (১)।
পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً) ইলাম (الإعلام): এর অসংখ্য সংজ্ঞা রয়েছে যা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
তন্মধ্যে একটি হলো: এটি একই সাথে জনসাধারণের মনস্তত্ত্ব, চেতনা, ঝোঁক এবং দৃষ্টিভঙ্গির একটি বস্তুনিষ্ঠ প্রকাশ (২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثالث: تعريف الدعوة لغة واصطلاحاًلغة: الدعاء إلى الشيء والحث عليه، قال تعالى: {والله يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ} (1).
والدعوة مختصة بادعاء النسبة، وأصلها للحالة التي عليها الإنسان نحو: القعدة والجلسة (2).
وقيل: الدال والعين والحرف المعتل أصل واحد، وهو أن تميل الشيء بصوت وكلام يكون منك (3).
و
الدعوة في الاصطلاح: هي العلم الذي به تعرف كافة المحاولات الفنيَّة المتعددة الرامية إلى تبليغ الناس الإسلام بما حوى من عقيدة وشريعة وأخلاق (4).
أو هي فنٌّ يبحث في الكيفيات المناسبة التي نجذب بها الآخرين إلى الإسلام، أو نحافظ على دينهم بواسطتها (5).
أو هي في الإمالة للجمهور نحو شيء معين بأي وسيلة كانت متاحة صوتية كانت أو كلامية (6).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে দাওয়াতের সংজ্ঞাআভিধানিক অর্থ: কোনো কিছুর প্রতি আহ্বান জানানো এবং সেদিকে উৎসাহিত করা। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন} (১)।
দাওয়াত শব্দটি মূলত সম্পর্কের দাবির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এর মূল গঠন মূলত মানুষের কোনো অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়; যেমন: বসার বিশেষ ভঙ্গি বা উপবেশন (২)।
বলা হয়েছে: দাল, আইন এবং হরফে ইল্লাত—এগুলোর মূল উৎস এক; আর তা হলো নিজের কণ্ঠস্বর বা বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো কিছুকে নিজের দিকে ঝুঁকিয়ে নেওয়া বা আকৃষ্ট করা (৩)।
এবং
পারিভাষিক অর্থে দাওয়াত: এটি এমন একটি বিজ্ঞান বা জ্ঞান যার মাধ্যমে ইসলামের আকিদা, শরিয়াহ এবং আখলাকসহ এর সামগ্রিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গৃহীত সকল প্রকার শৈল্পিক ও বহুমুখী প্রচেষ্টা সম্পর্কে জানা যায় (৪)।
অথবা এটি এমন এক শিল্প যা সেইসব উপযুক্ত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে, যার মাধ্যমে আমরা অন্যদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করি অথবা এর মাধ্যমে তাদের দ্বীনকে রক্ষা করি (৫)।
অথবা এটি হলো লভ্য যে কোনো মাধ্যম—তা ধ্বনিগত হোক বা বাচনিক—ব্যবহার করে জনসমষ্টিকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে ধাবিত করা (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
واختار شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: أن الدعوة إلى الله عز وجل هي: «الدعوة إلى الإيمان به، وبما جاءت به رسله: بتصديقهم
فيما أخبروا، وطاعتهم فيما أمروا، وذلك يتضمن الدعوة إلى: الشهادتين، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت، والدعوة إلى الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره، والدعوة إلى أن يعبد العبد ربه كأنه يراه» (1).
* * *
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) পছন্দ করেছেন যে: মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত হলো: «তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি আহ্বান করা: তাঁরা যা সংবাদ দিয়েছেন
সে বিষয়ে তাঁদের সত্যয়ন করা এবং তাঁরা যা আদেশ করেছেন সে বিষয়ে তাঁদের আনুগত্য করা; আর তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আহ্বানকে অন্তর্ভুক্ত করে: শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্য), সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ও তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা এবং বান্দা তার রবের ইবাদত এমনভাবে করবে যেন সে তাঁকে দেখতে পাচ্ছে—এই আহ্বান জানানো» (১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الرابع: تعريف الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
لغة: المعروف اسم لكل فعل يُعرفُ بالعقل أو الشرع حسنه، والمنكر ما ينكر بهما (1). قال تعالى: {يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ} (2). وقال سبحانه وتعالى: {وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ} (3).
وفي الاصطلاح: هو أمر بالمعروف إذا ظهر تركه، ونهي عن المنكر إذا ظهر فعله (4).
* * *
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধের (النهي عن المنكر) সংজ্ঞাশাব্দিক অর্থে: 'মা'রুফ' (المعروف) হলো এমন প্রত্যেক কাজের নাম, বুদ্ধি অথবা শরিয়াহর দৃষ্টিতে যার কল্যাণ পরিজ্ঞাত, আর 'মুনকার' (المنكر) হলো যা এই দুটির মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হয় (১)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা সৎ কাজের আদেশ (بالمعروف) দেয় এবং অসৎ কাজ (عن المنكر) থেকে নিষেধ করে} (২)। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {এবং সৎ কাজের আদেশ দাও ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করো} (৩)।
পারিভাষিক সংজ্ঞায় (اصطلاحاً): এটি হলো সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দেওয়া যখন তা বর্জন করা প্রকাশ পায়, এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (النهي عن المنكر) করা যখন তা সংঘটিত হওয়া প্রকাশ পায় (৪)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الخامس: الفرق بين الإعلام والاتصالالإعلام هو الشجرة الباسقة المورقة في بستان الاتصال. وذلك أن الاتصال عام، بمعنى أنه لا يقتصر على الاتصال الإنساني - أي الاتصال بين البشر - بل يشمل الاتصال الإنساني والاتصال بين مخلوقات الله غير المرئية، والاتصال في العائلة الحيوانية، وعند الطيور، والأسماك، والحشرات.
إن حركة النمل والنحل تدلنا على عموم الاتصال، وإذا كان الاتصال عاماً فإن الإعلام خاص، ثم إن الاتصال الإنساني أو الاتصال البشري يمكننا أن نقسمه إلى قسمين:
القسم الأول: اتصال ذاتي.
القسم الثاني: اتصال بالآخرين.
فالذاتي لمحادثة نفسه، ونظره في المرآة ليرى صورته، ومحاسبة نفسه.
و
الاتصال بالآخرين ينقسم إلى قسمين:
1 - اتصال الإنسان بأخيه الإنسان.
2 - اتصال الإنسان بغيره من مخلوقات الله.
وما يهمنا هو القسم الأول - اتصال الإنسان بأخيه الإنسان - اتصال وعي وإدراك - وهنا يمكننا أن نبيِّن ثلاثة أنواع رئيسة:
النوع الأول: اتصال شخصي أو مباشر، وهو اتصال شخص بصديقه أو بعدد محدد من أفراد أسرته، أو زملائه.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যম ও যোগাযোগের মধ্যে পার্থক্যগণমাধ্যম (الإعلام) হলো যোগাযোগ (الاتصال) রূপ উদ্যানে একটি বিশাল ও পত্রপল্লবশোভিত বৃক্ষ। কারণ, যোগাযোগ হলো একটি সাধারণ (عام) বিষয়; অর্থাৎ এটি কেবল মানবিক যোগাযোগ—তথা মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ—এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষসহ আল্লাহর অন্যান্য অদৃশ্য সৃষ্টি এবং প্রাণীজগৎ, পাখি, মাছ ও কীটপতঙ্গের মধ্যকার যোগাযোগকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
পিঁপড়া ও মৌমাছির চলাচল আমাদের যোগাযোগের সামগ্রিকতার (عموم) দিকে নির্দেশ করে। যোগাযোগ যখন একটি সাধারণ (عام) বিষয়, তখন গণমাধ্যম হলো একটি বিশেষ (خاص) বিষয়। অতঃপর, মানবিক যোগাযোগ বা মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি:
প্রথম অংশ: আত্মিক যোগাযোগ (اتصال ذاتي)।
দ্বিতীয় অংশ: অন্যের সাথে যোগাযোগ (اتصال بالآخرين)।
আত্মিক যোগাযোগ হলো নিজের সাথে কথোপকথন, নিজের প্রতিচ্ছবি দেখার জন্য আয়নার দিকে তাকানো এবং নিজের হিসাব গ্রহণ বা আত্মপর্যালোচনা করা।
ও
অন্যের সাথে যোগাযোগ দুই ভাগে বিভক্ত:
১ - মানুষের সাথে তার মানবভ্রাতৃবৃন্দের যোগাযোগ।
২ - মানুষের সাথে আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টির যোগাযোগ।
আর আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রথম অংশটি—তথা মানুষের সাথে তার মানবভ্রাতৃবৃন্দের যোগাযোগ—যা সচেতনতা ও উপলব্ধির স্তরে হয়ে থাকে। আর এখানে আমরা প্রধান তিনটি প্রকার বর্ণনা করতে পারি:
প্রথম প্রকার: ব্যক্তিগত বা প্রত্যক্ষ যোগাযোগ (اتصال مباشر); এটি হলো কোনো ব্যক্তির তার বন্ধুর সাথে, অথবা তার পরিবারের নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য বা সহকর্মীদের সাথে সম্পাদিত যোগাযোগ।
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
النوع الثاني: اتصال جماهيري: وهو اتصال شخص، أو هيئة بالجماهير الغفيرة، سواء كانت جماهير ذات نوعية خاصة أو عامة، جماهير مرتبطة بإقليم معين، أو منطقة بذاتها، أو العالم أجمع.
النوع الثالث: اتصال حضاري أو ثقافي وهو اتصال الحضارات أو الثقافات عبر الأمم والأجيال.
وفي الاتصال الشخصي، والاتصال الجماهيري، والاتصال الحضاري نجد أن الأول يغلب عليه في شكل الإعلام القديم، والثاني يغلب عليه في شكل الإعلام المعاصر، والثالث جمع في استمراريته بين الشكلين، بل لا بد أن يجمع كل شكل جديد مستحدث، وإذا كانت وسائل الاتصال الشخصي هي: المحادثة والمناظرة، ثم الخطابة والتليفون، فإن وسائل الاتصال الجماهيري هي: الراديو، والصحيفة، والتلفزيون، والسينما، وغير ذلك من الوسائل الإعلامية العصرية.
كذلك فإن وسائل الاتصال الحضاري والثقافي هي: السياحة، والحروب، والحج، والتجارة، وتبادل الوفود والبعثات وغير ذلك (1).
والخلاصة أن مفهوم الاتصال في الدراسات الإعلامية أوسع من مفهوم الإعلام وأعمق (2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় প্রকার: গণযোগাযোগ (اتصال جماهيري): এটি হলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিশাল জনসমষ্টির সাথে সংযোগ স্থাপন, চাই সেই জনসমষ্টি বিশেষ শ্রেণির হোক বা সাধারণ, কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ত হোক অথবা সমগ্র বিশ্বের।
তৃতীয় প্রকার: সভ্যতাগত বা সাংস্কৃতিক যোগাযোগ (اتصال حضاري أو ثقافي): এটি হলো বিভিন্ন জাতি ও প্রজন্মের মাঝে সভ্যতা বা সংস্কৃতির মেলবন্ধন।
ব্যক্তিগত যোগাযোগ (الاتصال الشخصي), গণযোগাযোগ (الاتصال الجماهيري) এবং সভ্যতাগত যোগাযোগের (الاتصال الحضاري) ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, প্রথমটির প্রাধান্য ছিল প্রাচীন প্রচারমাধ্যমের (الإعلام القديم) যুগে, দ্বিতীয়টির প্রাধান্য সমকালীন প্রচারমাধ্যমের (الإعلام المعاصر) যুগে এবং তৃতীয়টি তার ধারাবাহিকতায় উভয় রূপকেই ধারণ করেছে; বরং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত রূপকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক। যদি ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমগুলো হয়: কথোপকথন (المحادثة) ও বিতর্ক (المناظرة), অতঃপর ভাষণ (الخطابة) ও টেলিফোন; তবে গণযোগাযোগের মাধ্যমগুলো হলো: রেডিও, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সিনেমা এবং অন্যান্য আধুনিক প্রচার মাধ্যম।
অনুরূপভাবে সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো হলো: পর্যটন (السياحة), যুদ্ধ (الحروب), হজ্জ (الحج), বাণিজ্য (التجارة), প্রতিনিধি দল ও মিশন বিনিময় এবং অন্যান্য (১)।
সারকথা (الخلاصة): যোগাযোগের ধারণাটি প্রচারমাধ্যম সংক্রান্ত গবেষণায় প্রচারমাধ্যমের ধারণার চেয়ে অধিক বিস্তৃত ও গভীর (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث السادس: الفرق بين الدعوة والإعلامالدعوة تكاد توازي مفهوم الإعلام؛ لأن الدعوة هي الإعلام بالإسلام والتعريف به، والدعوة جزء من الإعلام الإسلامي.
والدعوة لا تشمل وسائل الإعلام فحسب، بل تشمل القدوة الحسنة، والإجراءات الاقتصادية المشابهة لدعم المؤلفة قلوبهم وما شابه ذلك، وليس في قولنا بأن الدعوة إلى الإسلام جزء من الإعلام الإسلامي تضخيم للإعلام الإسلامي أو تصغير للدعوة الإسلامية. ولكن شبيه بهذا الموقف قولنا بأن العلاقات العامة تستخدم كافة وسائل الإعلام؛ لتحقيق أهدافها إلى جانب الاتصال الشخصي والحلول الإدارية وتنظيم الحفلات والإقامة وما شابه ذلك، برغم أن علم العلاقات العامة جزء من علم الإعلام، وأن التخصص في العلاقات العامة فرع من الإعلام وهو الأصل (1).
وهناك مفاهيم للدعوة ومفاهيم للإعلام كثيرة جداً (2).
* * *
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: দাওয়াহ (الدعوة) এবং প্রচারমাধ্যমের (الإعلام) মধ্যে পার্থক্যদাওয়াহ (الدعوة) ধারণাটি প্রায় প্রচারমাধ্যমের (الإعلام) ধারণার সমান্তরাল; কারণ দাওয়াহ (الدعوة) হলো ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করা এবং এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, আর দাওয়াহ (الدعوة) হলো ইসলামি প্রচারমাধ্যমের (الإعلام الإسلامي) একটি অংশ।
দাওয়াহ (الدعوة) শুধুমাত্র প্রচারমাধ্যমকেই (وسائل الإعلام) অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং এটি উত্তম আদর্শ (القدوة الحسنة), এবং যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি অনুরাগী করা প্রয়োজন (المؤلفة قلوبهم) তাদের সহযোগিতার জন্য অনুরূপ অর্থনৈতিক পদক্ষেপসমূহ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আমাদের এই কথার দ্বারা যে, ইসলামের দিকে দাওয়াহ (الدعوة) দেওয়া ইসলামি প্রচারমাধ্যমের (الإعلام الإسلامي) একটি অংশ—তাতে ইসলামি প্রচারমাধ্যমকে অতিরঞ্জিত করা বা ইসলামি দাওয়াহকে (الدعوة الإسلامية) ছোট করে দেখা হয় না। বরং এই বিষয়টি আমাদের এমন বক্তব্যের সদৃশ যে, জনসংযোগ (العلاقات العامة) তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যক্তিগত যোগাযোগ, প্রশাসনিক সমাধান, অনুষ্ঠান আয়োজন ও আবাসন এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রচারমাধ্যমের (وسائل الإعلام) সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করে; যদিও জনসংযোগ (العلاقات العامة) বিজ্ঞান হলো প্রচারমাধ্যম (الإعلام) বিজ্ঞানের একটি অংশ, আর জনসংযোগে বিশেষায়িত হওয়া প্রচারমাধ্যমেরই একটি শাখা, যা মূল ভিত্তি (১)।
দাওয়াহ (الدعوة) এবং প্রচারমাধ্যমের (الإعلام) আরও অনেক সংজ্ঞা ও ধারণা রয়েছে (২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث السابع: إيثار القرآن لفظ الدعوة على لفظ الإعلامنجد أن القرآن الكريم يُعبِّر عن الفكرة الإعلامية الواجبة في التعريف بالإسلام، وبيان مزاياه الكريمة بلفظ آخر بديل عن الإعلام هو الدعوة. قال تعالى: {ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (1).
وقال سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَجِيبُواْ لِلّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُم لِمَا يُحْيِيكُمْ} (2).
وقال تعالى في قول نوح: {قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلاً وَنَهَارًا * فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِي إِلَاّ فِرَارًا} (3).
فهذه النصوص وغيرها توضح أن المطلوب من أهل العلم في الإسلام الدعوة إلى دين الله.
والدعوة أكثر شمولاً وأعظم دلالة على طبيعة العمل المفروض علينا نحو ديننا الكريم - من لفظ الإعلام - وهي أقوى إيحاء وأدق تحديداً للنشاط الحركي، والقول المطلوب في عمل الدعاة، وذلك لما يأتي:
1 - الدعوة ذات صفة موجهة تتطلب معرفة سابقة عن المدعو ضماناً لنجاح أثر الرسالة الموجهة إليه.
2 - الدعوة تتطلب التزاماً من الداعي نحو من يدعوهم، فهو يوجه هذه
--------------------------------------------
সপ্তম পরিচ্ছেদ: 'ইলাম' (إعلام - প্রচার) শব্দের পরিবর্তে 'দাওয়াহ' (دعوة - আহ্বান) শব্দটিকে কুরআনের অগ্রাধিকার প্রদানআমরা দেখতে পাই যে, আল-কুরআনুল কারীম ইসলামের পরিচিতি তুলে ধরা এবং এর মহান বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে ইসলামের আবশ্যকীয় প্রচারমূলক ধারণাকে 'ইলাম' (إعلام - তথ্য প্রদান/প্রচার) শব্দের পরিবর্তে একটি বিকল্প শব্দ 'দাওয়াহ' (دعوة - আহ্বান) এর মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়।} (১)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে।} (২)।
নূহ (আ.)-এর উক্তি প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি আমার সম্প্রদায়কে রাত-দিন দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই কেবল বৃদ্ধি করেছে।} (৩)।
সুতরাং এই সব টেক্সট (نصوص) এবং অন্যান্য প্রমাণাদি স্পষ্ট করে যে, ইসলামের জ্ঞানী সমাজের (أهل العلم) নিকট যা কাম্য তা হলো আল্লাহর দ্বীনের দিকে দাওয়াহ (دعوة - আহ্বান) প্রদান করা।
'ইলাম' (إعلام - প্রচার) শব্দের তুলনায় 'দাওয়াহ' (دعوة - আহ্বান) শব্দটি আমাদের মহান দ্বীনের প্রতি আমাদের ওপর অর্পিত কাজের প্রকৃতির ক্ষেত্রে অধিক ব্যাপক এবং তাৎপর্যপূর্ণ - এটি দাঈদের (دعاة) কর্মপদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় গতিশীল তৎপরতা এবং বাচনিক কর্মের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী ইঙ্গিতবহ ও সুনির্দিষ্ট; আর তা নিম্নোক্ত কারণে:
১ - দাওয়াহর একটি দিকনির্দেশনামূলক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি (مدعو) সম্পর্কে পূর্বজ্ঞানের দাবি রাখে যাতে প্রেরিত বার্তার প্রভাবের সফলতা নিশ্চিত করা যায়।
২ - দাওয়াহ দাঈর (داعي - আহ্বানকারী) পক্ষ থেকে যাদেরকে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে তাদের প্রতি এক প্রকার দায়বদ্ধতা দাবি করে, কেননা তিনি এটি পরিচালনা করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الدعوة إلى غيره، لينضم إلى الجانب الذي سبق له الانضمام إليه.
3 - الدعوة تتطلب المتابعة والمراجعة لمعرفة مدى النداء الموجَّه، ومن شأن الدعوة أن يكون لها إجابة، وليست مجرد صياح أو لغو في الفضاء الواسع.
ولا نجد في لفظة الإعلام من تحمل المسؤولية ومن الجديَّة في تحديد الدعوة أو التلقي، ومن الاهتمام يرجع الصدى بعد توجيه الدعوة ما نجده في هذا اللفظ القرآني - لفظ الدعوة -.
إذاً القرآن الكريم آثر لفظ الدعوة في مجال النشاط القائم، والعمل الدائم للتعريف بالإسلام؛ لأن فيها ما يوحي بالمعاني الحركية المتضمنة في العملية الاتصالية، وهي المسماة الآن: ب
طرق التأثير الإعلامي.
وهي ثلاث شعب:
1 - التكرار: ويقصد به الإلحاح المستمر والمتجدد في عرض الرسالة الإعلامية.
2 - التوليد: ويقصد به استخراج فهمٍ من فهمٍ آخر.
3 - التذكير: ويقصد به تحديد الفهم مرة أخرى (1).
--------------------------------------------
অন্যের প্রতি আহ্বান (دعوة), যাতে সে সেই পক্ষে যোগদান করতে পারে যে পক্ষে সে ইতিপূর্বে যোগদান করেছিল।
৩ - দাওয়াহর (دعوة) জন্য প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনা, যাতে নির্দেশিত আহ্বানের (نداء) মাত্রা অনুধাবন করা যায়, আর দাওয়াহর (دعوة) বৈশিষ্ট্য হলো এর জন্য একটি ইতিবাচক সাড়া থাকতে হবে; এটি কেবল বিশাল শূন্যতায় কোনো চিৎকার বা অসার বাক্য (لغو) নয়।
আর আমরা 'ইলাম' বা প্রচার (إعلام) শব্দের মাঝে সেই দায়িত্ববোধ এবং দাওয়াহর (دعوة) সুনির্দিষ্টকরণ বা তা গ্রহণ (تلقي) করার ক্ষেত্রে সেই গাম্ভীর্য খুঁজে পাই না, কিংবা দাওয়াহ (دعوة) প্রদানের পর তার প্রতিধ্বনির প্রত্যাবর্তনের যে গুরুত্ব, তা আমরা এই কুরআনিক শব্দ—'দাওয়াহ' (دعوة)—এর মাঝে যেভাবে পাই, উক্ত শব্দে তা অনুপস্থিত।
অতএব, কুরআনুল কারিম ইসলামের পরিচিতি তুলে ধরার চলমান তৎপরতা এবং স্থায়ী কর্মতৎপরতার ক্ষেত্রে 'দাওয়াহ' (دعوة) শব্দটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে; কেননা এর মাঝে এমন গতিশীল অর্থ নিহিত রয়েছে যা যোগাযোগ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত; বর্তমানে যাকে বলা হয়:
প্রচার মাধ্যমের প্রভাব বিস্তারের পদ্ধতিসমূহ (طرق التأثير الإعلامي)।
আর তা তিনটি শাখায় বিভক্ত:
১ - পুনরাবৃত্তি (تكرار): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রচারবার্তা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন এবং নবায়নকৃত তাগিদ প্রদান।
২ - উৎপাদন বা আহরণ (توليد): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক প্রকার উপলব্ধি থেকে অন্য প্রকার উপলব্ধি নির্গত করা।
৩ - স্মরণ করিয়ে দেওয়া (تذكير): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুনরায় উপলব্ধিকে সুনির্দিষ্ট করা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثامن: العملية الاتصالية ونماذج الاتصاللا يختلف الباحثون في أن العملية الإعلامية تشمل العناصر الخمسة الآتية:
1 - المرسل للرسالة الإعلامية.
2 - الرسالة الإعلامية.
3 - الوسيلة التي تقوم بنقل هذه الرسالة.
4 - المستقبل للرسالة الإعلامية.
5 - الاستجابة أو التأثير للرسالة الإعلامية.
وتتلخص عملية الاتصال في هذا السؤال المركب الذي يشمل كل العناصر للعملية الاتصالية: وهو:
من يقول؟
ماذا يقول؟
وبأي وسيلة؟
وإلى من؟
وبأي تأثير؟
وهناك من يضيف عنصراً سادساً، وهو رد الفعل، فيزيد في السؤال المركب: وما هو رد الفعل؟
وهذا السؤال المركب يُبيِّن لنا عملية مستمرة ومركبة، ويحلل
অষ্টম পরিচ্ছেদ: যোগাযোগ প্রক্রিয়া ও যোগাযোগের মডেলসমূহগবেষকগণ এই বিষয়ে একমত যে, সংবাদ বা তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া নিম্নোক্ত পাঁচটি উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করে:
১ - সংবাদ বা বার্তার প্রেরক.
২ - সংবাদ বা বার্তা.
৩ - সংবাদ বা বার্তা স্থানান্তরের মাধ্যম.
৪ - সংবাদ বা বার্তার প্রাপক.
৫ - সংবাদ বা বার্তার প্রতিক্রিয়া অথবা প্রভাব.
যোগাযোগের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়াটি এই সমন্বিত প্রশ্নের মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করা যায়, যা যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সকল উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর তা হলো:
কে বলছেন?
কী বলছেন?
কোন মাধ্যমে বলছেন?
কার উদ্দেশ্যে বলছেন?
এবং কী প্রভাবে বলছেন?
আবার কেউ কেউ ষষ্ঠ একটি উপাদান যোগ করেন, যা হলো পাল্টা প্রতিক্রিয়া (ফিডব্যাক)। ফলে তারা সমন্বিত প্রশ্নটিতে বৃদ্ধি করেন: এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া কী?
এই সমন্বিত প্রশ্নটি আমাদের নিকট একটি নিরন্তর ও জটিল প্রক্রিয়াকে স্পষ্ট করে এবং বিশ্লেষণ করে...
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
لنا العناصر الرئيسية في عملية الاتصال، وكل عنصر منها يشبه الحلقة في السلسلة لا بد من وجودها لتتم عملية الاتصال (1). وسأقتصر على هذا رغبة في الاختصار وعدم الإطالة في شرح هذه العملية عنصراً عنصراً.
* * *
--------------------------------------------
আমাদের নিকট যোগাযোগ প্রক্রিয়ার (عملية الاتصال) মূল উপাদানগুলো (العناصر الرئيسية) বিদ্যমান, এবং এর প্রতিটি উপাদান একটি শিকলের (السلسلة) আংটার (الحلقة) মতো; যোগাযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য এগুলোর উপস্থিতি অপরিহার্য (১)। সংক্ষেপ করার (اختصار) লক্ষে এবং এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি উপাদান পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করে দীর্ঘায়িত না করার ইচ্ছায় আমি এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকব।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثاني: حكم الدعوة إلى الله تعالى، وفضل العلم والعلماءالمبحث الأول: حكم الدعوة إلى الله تعالى.
المبحث الثاني: فضل العلم والعلماء والدعوة والدعاة.
المبحث الثالث: الإخلاص لله والمتابعة للنبي صلى الله عليه وسلم.
المبحث الرابع: خطر كتم العلم النافع.
দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার পথে দাওয়াতের বিধান এবং ইলম ও আলেমদের মর্যাদাপ্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার পথে দাওয়াতের বিধান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলম, আলেম সমাজ, দাওয়াত ও দাঈদের মর্যাদা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর জন্য ইখলাস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উপকারী জ্ঞান গোপন করার ভয়াবহতা।
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الأول: حكم الدعوة إلى اللهقد دلت الأدلة من الكتاب والسنة على وجوب الدعوة إلى الله عز وجل، وأنها من الفرائض، والأدلة في ذلك كثيرة منها:
1 - قوله سبحانه وتعالى: {وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُون} (1).
2 - قوله عز وجل: {ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (2).
3 - ومنها قوله جل وعلا: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِي} (3). فبين سبحانه أن اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم هم الدعاة إلى الله. والواجب كما هو معلوم اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم كما قال سبحانه وتعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ الله كَثِيرًا} (4).
وصَرَّحَ العلماء أن الدعوة إلى الله فرض كفاية بالنسبة للأقطار التي يقوم فيها الدعاة
… إذا قام بالدعوة من يكفي سقط عن الباقين ذلك الواجب، وصارت الدعوة في حق الباقين سنة مؤكدة وعملاً صالحاً جليلاً.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পথে আহ্বানের বিধানকুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ মহান আল্লাহর পথে আহ্বান করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং এটি অন্যতম ফরজ (الفرائض)। এই বিষয়ে বহু দলিল রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
1 - সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম।} (১)।
2 - মহান আল্লাহর বাণী: {তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়।} (২)।
3 - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা জেনেশুনে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি।} (৩)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীরাই হলেন আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী। আর সুপরিচিত বিষয় হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা ওয়াজিব (الواجب), যেমনটি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।} (৪)।
আলেমগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, যেসব অঞ্চলে দাঈগণ দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন, সেসব অঞ্চলে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া ফরজে কেফায়া (فرض كفاية) … যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দেন তবে অবশিষ্টদের ওপর থেকে সেই ওয়াজিব (الواجب) রহিত হয়ে যায় এবং অন্যদের ক্ষেত্রে দাওয়াতের কাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة) ও একটি মহান নেক আমল হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وإذا لم يقم أهل الإقليم أو أهل القطر المُعيَّن بالدعوة على التمام صار الإثم عاماً وصار الواجب على الجميع، وعلى كل إنسان أن يقوم بالدعوة حسب طاقته وإمكاناته، أما بالنظر إلى عموم البلاد فالواجب أن يوجه طائفة منتصبة تقوم بالدعوة إلى الله
عز وجل في أرجاء المعمورة، تُبلِّغ دعوة الإسلام وتُبيِّن أمر الله
عز وجل بالطرق الممكنة، فإن الرسول صلى الله عليه وسلم قد بعث الدعاة وأرسل الكتب إلى الناس وإلى الملوك والرؤساء ودعاهم إلى الله عز وجل.
وقد تكون الدعوة فرض عين إذا كنت في مكان ليس فيه من يؤدي ذلك سواك، كالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؛ فإنه يكون فرض عين ويكون فرض كفاية
… وبهذا يُعلم أن كون الدعوة فرض عين وكونها فرض كفاية أمر نسبي يختلف: فقد تكون الدعوة فرض عين بالنسبة إلى أقوام وإلى أشخاص، وسنة بالنسبة إلى أشخاص وإلى أقوام؛ لأنه وجد في مكانهم من قام بالأمر وكفى عنهم
… أما بالنسبة إلى ولاة الأمور ومن لهم القدرة الواسعة فعليهم من الواجب أكثر، وعليهم أن يُبلِّغوا الدعوة إلى ما استطاعوا من الأقطار حسب الإمكان بالطرق الممكنة، وباللغات الحيَّة التي ينطق بها الناس
… فإن الأمر الآن ممكن وميسور بالطرق الميسرة اليوم، ولم تنتشر في السابق: طرق الإذاعة، والتلفزة، والصحافة، وغير ذلك من الطرق. ونظراً إلى انتشار الدعوة إلى المبادئ الهدامة وإلى الإلحاد وإنكار رب العباد، والرسالات، واليوم الآخر، وانتشار الدعوة
যদি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা ভূখণ্ডের অধিবাসীরা দাওয়াতের কাজ পূর্ণাঙ্গরূপে পালন না করে, তবে গুনাহ সবার ওপর বর্তাবে এবং তা সবার জন্য আবশ্যিক (واجب) হয়ে দাঁড়াবে। প্রত্যেকের উচিত নিজ সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দেওয়া। আর সামগ্রিকভাবে ভূখণ্ডের দিকে তাকালে, আবশ্যিক (واجب) হলো এমন একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দলকে নিয়োজিত করা যারা মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করবে
যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত—সারা বিশ্বে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেবে এবং সম্ভাব্য পদ্ধতিতে আল্লাহর নির্দেশ
যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত—বর্ণনা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঈদের প্রেরণ করেছেন এবং মানুষের কাছে ও রাজা-বাদশাহ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নিকট পত্র পাঠিয়েছেন এবং তাদেরকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে আহ্বান করেছেন।
দাওয়াতের কাজ ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين) হতে পারে যদি আপনি এমন কোনো স্থানে অবস্থান করেন যেখানে আপনি ছাড়া এই কাজ সম্পাদন করার মতো আর কেউ নেই; যেমন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ; কেননা এটি ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين) এবং সামষ্টিক আবশ্যিক কর্তব্য (فرض كفاية) উভয়ই হয়ে থাকে
… এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, দাওয়াত ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين) হওয়া বা সামষ্টিক আবশ্যিক কর্তব্য (فرض كفاية) হওয়া একটি আপেক্ষিক বিষয় যা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভিন্ন হয়: কোনো সম্প্রদায় বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে দাওয়াত ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين) হতে পারে, আবার কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে তা সুন্নাহ (سنة) হতে পারে; কারণ তাদের এলাকায় এমন লোক পাওয়া গেছে যারা এই দায়িত্ব পালন করেছে এবং অন্যদের পক্ষ থেকে তা যথেষ্ট হয়েছে
… তবে শাসকবর্গ এবং যাদের ব্যাপক সক্ষমতা রয়েছে, তাদের ওপর আবশ্যিক (واجب) দায়িত্ব অনেক বেশি। তাদের কর্তব্য হলো সম্ভাব্য সকল উপায়ে এবং মানুষের প্রচলিত জীবন্ত ভাষা ব্যবহার করে যথাসম্ভব বিভিন্ন ভূখণ্ডে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া
… বর্তমানে সহজলভ্য উপায়গুলোর মাধ্যমে বিষয়টি সম্ভব ও সহজতর হয়ে পড়েছে, যা অতীতে বিস্তৃত ছিল না; যেমন বেতার, টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং অন্যান্য মাধ্যম। বিশেষ করে যখন ধ্বংসাত্মক মতবাদ, নাস্তিক্যবাদ, সৃষ্টিজগতের প্রতিপালককে অস্বীকার করা, রিসালাত ও পরকাল অস্বীকারের দাওয়াত বা প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ছে এবং দাওয়াতের প্রচার...
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
النصرانية في الكثير من البلدان، وغير ذلك من الدعوات المضللة إلى هذا، فإن الدعوة إلى الله عز وجل اليوم أصبحت فرضاً عاماً وواجباً عاماً على جميع العلماء وعلى جميع الحكام، الذين يدينون بالإسلام فرض عليهم أن يبلغوا دين الله: حسب الطاقة، والإمكان بالكتابة، والخطابة، وبالإذاعة، وبكل وسيلة استطاعوا، وألاّ يتقاعسوا عن ذلك، أو يتَّكلوا على زيد وعمر؛ فإن الضرورة ماسة اليوم إلى التعاون والاشتراك، والتكاتف في هذا الأمر العظيم أكثر مما كان قبل ذلك؛ لأن أعداء الله قد تكاتفوا وتعاونوا بكل وسيلة للصدِّ عن سبيل الله، والتشكيك في دينه، ودعوة الناس إلى ما يخرجهم من دين الله عز وجل فوجب على أهل الإسلام أن يقابلوا هذا النشاط المضلل وهذا النشاط الملحد بنشاطٍ إسلامي، وبدعوةٍ إسلامية على شتى المستويات والوسائل بجميع الطرق الممكنة، وهذا من باب أداء ما أوجب الله على عباده ومن الدعوة إلى سبيله (1).
* * *
--------------------------------------------
অনেক দেশে খ্রিস্টধর্মের বিস্তার এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রেক্ষাপটে, বর্তমানে মহান আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত প্রদান করা সকল আলেম এবং সকল শাসকের ওপর একটি সাধারণ ফরজ (فرض) ও সাধারণ ওয়াজিব (واجب) দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। যারা ইসলামকে নিজেদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাদের ওপর আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দেওয়া ফরজ (فرض); সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী লিখনী, বক্তৃতা, বেতার এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ের মাধ্যমে। তারা যেন এ বিষয়ে অলসতা না করেন অথবা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে বসে না থাকেন; কারণ এই মহান কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, অংশগ্রহণ এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা বর্তমান সময়ে পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। কেননা আল্লাহর শত্রুরা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ করতে, তাঁর দ্বীন সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করতে এবং মানুষকে আল্লাহর দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার জন্য সকল উপায়ে ঐক্যবদ্ধ ও সচেষ্ট হয়েছে। তাই মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব (واجب) হলো এই বিভ্রান্তিকর ও নাস্তিক্যবাদী তৎপরতার মোকাবিলা করা ইসলামি তৎপরতা ও ইসলামি দাওয়াতের মাধ্যমে, যা পরিচালিত হবে বিভিন্ন স্তরে এবং সকল সম্ভাব্য পন্থায়। এটি মূলত বান্দাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং তাঁর পথের দাওয়াতেরই অন্তর্ভুক্ত (১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الثاني: فضل العلم والعلماء، والدعوة والدعاةمدح الله تعالى العلماء، وأثنى عليهم وبين فضلهم في كتابه الكريم، ومن ذلك الأدلة الآتية:
1 - قال تعالى: {شَهِدَ الله أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قائِماً بالقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيم} (1).
2 - وقال تعالى: {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ} (2).
3 - وقال سبحانه وتعالى: {وَتِلْكَ الأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَاّ الْعَالِمُون} (3).
4 - وقال سبحانه وتعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء} (4).
5 - وقال سبحانه وتعالى: {يَرْفَعِ الله الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} (5).
6 - وقال تعالى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الأَلْبَاب} (6).
7 - وعن معاوية رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((من يُرِدْ الله بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ في الدِّينِ، وَإِنَّمَا أنا قَاسِمٌ، وَاللَّهُ يُعْطِي، وَلَنْ تَزَالَ هذه الْأُمَّةُ
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞান ও জ্ঞানীদের মর্যাদা এবং দাওয়াত ও দাঈদের ফজিলতমহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে জ্ঞানীদের প্রশংসা করেছেন, তাঁদের গুণগান গেয়েছেন এবং তাঁদের উচ্চ মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। এর কিছু দলিল নিম্নরূপ:
1 - মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং ফেরেশতাগণ ও জ্ঞানীগণও; তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (১)।
2 - মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বরং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের অন্তরে এটি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ} (২)।
3 - মহান আল্লাহ বলেন: {আমি মানুষের জন্য এই সকল দৃষ্টান্ত পেশ করি, কিন্তু কেবল জ্ঞানীগণই তা অনুধাবন করতে পারে} (৩)।
4 - মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীগণই তাঁকে ভয় করে} (৪)।
5 - মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করবেন} (৫)।
6 - মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান? কেবল বুদ্ধিমান লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে} (৬)।
7 - মুয়াবিয়া (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি তো কেবল বণ্টনকারী, আর আল্লাহ দাতা। আর এই উম্মত সর্বদা...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قَائِمَةً على أَمْرِ اللَّهِ لَا يَضُرُّهُمْ من خَالَفَهُمْ حتى يَأْتِيَ أَمْرُ الله)) (1).
8 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فيه عِلْمًا سَهَّلَ الله له طَرِيقًا إلى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رضاً بمَا يَصْنَعَ، وَإِنَّ العالمَ يَسْتَغْفِرُ له من في السَّمَوات ومَنْ في الْأَرْضِ حتى الْحِيتَانِ في الْمَاءِ، وَفضْلُ الْعَالِمِ على الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ على سَائِرِ الْكَوَاكِبِ، وإنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، وإنَّ الْأَنْبِيَاءَ لم يُوَرِّثُوا دِينَارًا، ولا دِرْهَمًا إنَّما وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ)) (2).
9 - وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال صلى الله عليه وسلم: ((إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ من الناس، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمُ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حتَّى لم يَتْركَ عَالِمًا اتَّخَذَ الناسُ رُؤُوسًا جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا)) (3).
10 - وعن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((فَضْلُ
--------------------------------------------
আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) উপস্থিত হয়)) (১)।
৮ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেন। আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, এমনকি পানির মাছও বিদ্ধানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। ইবাদতকারীর ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমনই যেমন সমস্ত নক্ষত্রের ওপর পূর্ণিমার চাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব। নিশ্চয়ই ওলামাগণ নবীদের উত্তরসূরি। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা ইলম বা জ্ঞানকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক বিশাল অংশ লাভ করল)) (২)।
৯ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে, আর তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে)) (৩)।
১০ - হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((শ্রেষ্ঠত্ব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
العلمِ خَيْرٌ مِنْ فَضْلِ العِبَادةِ، وخَيرُ دينِكُم الوَرَعُ)) (1).
11 - وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا حَسَدَ إلَاّ في اثْنَتَين: رَجُلٌ آتَاهُ الله مَالاً فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ في الحَقِّ، ورَجُلٌ آتَاهُ الله حِكْمَةً فَهُو يَقْضِي بِها ويُعَلِّمُها)) (2). والمراد بالحسد في هذا الحديث الغبطة.
12 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يقول: ((الدُّنْيا مَلْعُونَةٌ، مَلْعُونَ مَا فِيْها إلا ذِكْرَ الله ومَا وَلاهُ، وعَالمِاً أو مُتَعَلِّماً)) (3).
13 – وعن أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((فَضْلُ العَالِمِ عَلى العَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أدْنَاكُمْ، وأنَّ الله عز وجل ومَلائِكَتَهُ، وأَهْلُ السَّمواتِ والأرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ في جُحْرِهَا، وحتَّى
--------------------------------------------
ইবাদতের আধিক্য অপেক্ষা জ্ঞান অর্জন করা উত্তম এবং তোমাদের দ্বীনের শ্রেষ্ঠ বিষয় হলো তাকওয়া (الورع)।)) (১)।
১১ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা পোষণ করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে সত্যের পথে তা নিঃশেষ করার ক্ষমতা দিয়েছেন। আর অন্য এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত দান করেছেন এবং সে তা দ্বারা বিচার-ফয়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।)) (২)। আর এই হাদিসে হাসাদ (হিংসা) বলতে ঈর্ষা (غبطة) উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
১২ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((দুনিয়া অভিশপ্ত এবং দুনিয়ায় যা কিছু আছে সবই অভিশপ্ত; তবে আল্লাহর যিকর ও তাঁর আনুগত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়, আর আলিম ও শিক্ষার্থী ব্যতীত।)) (৩)।
১৩ – আবু উমামা আল-বাহিলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আবেদের (ইবাদতকারী) ওপর আলিমের শ্রেষ্ঠত্ব তেমনি, যেমন তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির ওপর আমার শ্রেষ্ঠত্ব। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, আসমান ও জমিনের অধিবাসীগণ, এমনকি গর্তের পিপীলিকা এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الحَوتُ يُصَلُّونَ عَلى مُعَلِّم النَّاسِ الخيرِ)) (1).
14 – وعن أبي مسعود الأنصاري رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْل أَجْرِ فَاعِلُه)) (2).
15 – وعن زيد بن خالد الجهني رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ جَهَّزَ غَازِياً فَقَدْ غَزَا، ومَنْ خَلَفَهُ في أهْلِهِ بِخيرٍ فَقَدْ غَزَا)) (3).
16 – وعن جرير بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ سنَّ في الإسْلامِ سُنَّةً حَسَنةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأجْرُ مَنْ عَمِلَ بَها بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أجُوْرِهِم شَيْءٌ، ومَنْ سَنَّ في الإسْلامِ سُنَّةً سَيِّئةً كانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بها مِنْ بَعْدِهِ، مِنْ غَيْرِ أنْ يَنْقُصَ مِنْ أوْزَارِهم شَيْءٌ)) (4).
17 – وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((من دَعَا إلى هُدًى كان له من الأجْرِ مِثْلُ أُجُورِ من تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذلك من أُجُورِهِمْ شيئاً، وَمَنْ دَعَا إلى ضَلَالَةٍ كانَ عَلَيْهِ من الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ من
--------------------------------------------
...সমুদ্রের মাছও মানুষের কল্যাণ শিক্ষাদানকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (১)।
১৪ – আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখাবে, সে তার সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে)) (২)।
১৫ – যায়িদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো আল্লাহর পথের যোদ্ধাকে যুদ্ধের সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করে দিল, সে যেন নিজেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল। আর যে ব্যক্তি কোনো যোদ্ধার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের উত্তমরূপে দেখাশোনা করল, সেও যেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল)) (৩)।
১৬ – জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো রীতির প্রচলন করল, সে তার প্রতিদান পাবে এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের প্রতিদানও সে পাবে, তবে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যও কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রচলন করল, তার ওপর সেই মন্দ কাজের গুনাহ বর্তাবে এবং তার পরে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের গুনাহের বোঝাও তার ওপর চাপবে, তবে তাদের গুনাহ থেকে সামান্যও কমানো হবে না)) (৪)।
১৭ – আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান জানাবে, তার জন্য তাকে অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে, যা তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমাবে না। আর যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানাবে, তার ওপর তাকে অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
اتَّبَعَهُ لَا يَنْقُصُ ذلك من آثَامِهِمْ شيئاً)) (1).
18 – وعن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه: ((فوالله لأنْ يَهْدِيَ الله بِكَ رَجُلاً واحِداً خَيْرٌ لَكَ مِنْ أنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النِّعَم)) (2).
19 – وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إذا مَاتَ الإنْسانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلَهُ إلا مِنْ ثَلاثَةٍ: إلَاّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أوْ عِلْمٍ يُنتفَعُ بِهِ، أو وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ)) (3).
وهذا فضل عظيم يؤتيه الله من يشاء من عباده، فهو المتفضل على عبده بالعلم النافع ويثيبه على طلبه وعلى نشره.
وما على المسلم الراغب في فضل الله العظيم إلا أن يبذل الأسباب، ويسأل الله العلم النافع والعمل الصالح، وهذه الآيات والأحاديث إنما هي في حق العالِم العامل بعلمه، وأما العالم غير العامل فإنه من أشد الناس عذاباً يوم القيامة، وكذا العالم الذي لم يبتغ بعلمه وجه الله عز وجل لا يشم رائحة الجنة، وهو أحد الثلاثة الذين تسعَّر بهم النار قبل الخلائق كلهم (4).
--------------------------------------------
যারা তাকে অনুসরণ করেছে, এতে তাদের পাপরাশি থেকে সামান্যতমও হ্রাস পাবে না)) (১)।
১৮ – সাহল ইবনে সা'দ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: ((আল্লাহর শপথ! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উট অপেক্ষা অধিক কল্যাণকর)) (২)।
১৯ – আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: ((যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি মাধ্যম ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে)) (৩)।
এটি এক মহান অনুগ্রহ যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা দান করেন। তিনি তাঁর বান্দাকে উপকারী জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন এবং এই জ্ঞান অন্বেষণ ও প্রচারের জন্য তাকে পুরস্কৃত করেন।
আল্লাহর মহান অনুগ্রহ লাভে আগ্রহী একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো এর জন্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা এবং আল্লাহর কাছে উপকারী জ্ঞান ও নেক আমলের প্রার্থনা করা। এই আয়াত ও হাদিসসমূহ মূলত সেই আলেম সম্পর্কে যে তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে। পক্ষান্তরে, যে আলেম তার জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে না, কিয়ামতের দিন সে মানুষের মধ্যে কঠোরতম আজাব ভোগ করবে। তদ্রূপ যে আলেম তার অর্জিত জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করেনি, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। সে তো সেই তিন ব্যক্তির একজন যাদের দ্বারা সর্বপ্রথম জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আলাকাতুল মুসলা বাইনাদ দুআতি ওয়া ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালিল হাদীসাহ ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومن أعظم الأدلة على فضل الدعوة إلى الله – إضافة إلى ما تقدم –
20 - قوله تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِين} (1). وليس هناك أحد أحسن قولاً ممن دعا إلى الله وعمل بما يعلم، وطابق قوله واعتقاده فعله.
--------------------------------------------
আল্লাহর দিকে আহ্বানের ফযিলতের অন্যতম মহত্তম দলিল হলো—পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তার পাশাপাশি—
২০ - মহান আল্লাহর বাণী: {আর তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, নেক আমল করে এবং বলে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত} (১)। এমন কেউ নেই যার কথা ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায় এবং যা জানে সে অনুযায়ী আমল করে, আর যার কথা ও বিশ্বাস তার কর্মের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
--------------------------------------------