(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: -)
الأدب المفرد - بأحكام الألباني - ت الزهيري   (البخاري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأدب المفرد

المؤلف: محمد بن إسماعيل البخاري (194 هـ - 256 هـ)

حققه وقابله على أصوله: سمير بن أمين الزهيري

مستفيدًا من تخريجات وتعليقات محمد ناصر الدين الألباني

الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض

الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 744

تنبيهات:

1 - هذه النسخة الإلكترونية محذوفة الأسانيد والتعليقات، والمطبوع ليس كذلك، وستتم إضافتها في إصدار لاحق إن شاء الله

2 - الأحكام التالية للحديث: للشيخ الألباني، وأما التخريجات بالرموز فقد نقلها من ت محمد فؤاد عبدالباقي مع التعليق على انتقده من ذلك

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আদাবুল মুফরাদ - আলবানীর হুকুমসহ - জুহাইরীর সম্পাদনা   (বুখারী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আল-আদাবুল মুফরাদ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (১৯৪ হি. - ২৫৬ হি.)

মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তাহকীক ও মুকাবিলা করেছেন: সামীর বিন আমীন আল-জুহাইরী

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানীর তাখরীজ ও টীকা থেকে উপকৃত হয়ে

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪৪

সতর্কীকরণসমূহ:

১ - এই ইলেকট্রনিক কপিটি সনদ ও টীকাবিহীন, তবে মুদ্রিত কপিটি এমন নয়; ইনশাআল্লাহ পরবর্তী সংস্করণে এগুলো যুক্ত করা হবে

২ - হাদীসের পরবর্তী হুকুমসমূহ: শায়খ আলবানীর; আর প্রতীকের মাধ্যমে প্রদত্ত তাখরীজসমূহ মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর সম্পাদনা থেকে নেওয়া হয়েছে, সাথে তাঁর সমালোচিত বিষয়গুলোর ওপর টীকা রয়েছে

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌1 - بَابُ قَوْلِهِ تَعَالَى (وَوَصَّيْنَا الْأِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْناً) (1)

1 - عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عز وجل؟ قَالَ: (الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا) قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ (ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ) قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ (ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ) - قَالَ حدثني بهن ولو استزدته لزادنى -

صحيح «الإرواء» (1198) : [خ: 9-مواقيت الصلاة، 5- ب فضل الصلاة لوقتها. م: 1ك الإيمان ح 137، 139، 140]

--------------------------------------------

(1) - (سورة العنكبوت: 8)
১ - মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ: (আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি) (১)

১ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, মহান আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন: (সময়মতো সালাত আদায় করা)। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: (তারপর পিতামাতার প্রতি সদাচরণ করা)। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: (তারপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা)। তিনি (ইবনে মাসউদ) বলেন, নবীজি আমাকে এই বিষয়গুলো বলেছেন; আমি যদি তাঁর কাছে আরও জানতে চাইতাম, তবে তিনি আমাকে আরও বলতেন।

সহীহ «আল-ইরওয়া» (১১৯৮) : [বুখারি: ৯-সালাতের ওয়াক্তসমূহ, ৫- পরিচ্ছেদ: ওয়াক্তমতো সালাত আদায়ের মর্যাদা। মুসলিম: ১-কিতাবুল ঈমান, হাদিস ১৩৭, ১৩৯, ১৪০]

--------------------------------------------

(১) - (সূরা আল-আনকাবুত: ৮)
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٤)
2 - (ث1) عن عبد الله بن عمر رضي الله عنه قَالَ: (رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِ وَسَخَطُ الرب في سخط الوالد)

حسن موقوفا، وصح مرفوعا - «الصحيحة» (515)

 

‌‌2 - باب بر الأم

3 - عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جده (معاوية بن حيدة) رضي الله عنه قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَبَرُّ؟

قَالَ: (أُمَّكَ) قُلْتُ مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: (أُمَّكَ) قُلْتُ مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: (أُمَّكَ) قُلْتُ مَنْ أَبَرُّ؟ قال: (أباك ثم الأقرب فالأقرب) .

حسن - «الإرواء» (2232، 829) : [ت: 25-ك: البر والصلة، 1- ب ما جاء في بر الوالدين]

 

4 - (ث 2) عن عطاء عن ابن عباس رضي الله عنهما أَنَّهُ أَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ
২ - (১) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (প্রতিপালকের সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং প্রতিপালকের অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে নিহিত)

মাওকুফ হিসেবে হাসান এবং মারফু হিসেবে সহিহ - «আস-সহিহাহ» (৫১৫)

 

‌‌২ - অধ্যায়: মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার

৩ - বাহজ ইবনে হাকিম তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা (মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ) (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কার প্রতি সবচেয়ে বেশি সদাচরণ করব?

তিনি বললেন: (তোমার মায়ের)। আমি বললাম: এরপর কার প্রতি সদাচরণ করব? তিনি বললেন: (তোমার মায়ের)। আমি বললাম: এরপর কার প্রতি সদাচরণ করব? তিনি বললেন: (তোমার মায়ের)। আমি বললাম: এরপর কার প্রতি সদাচরণ করব? তিনি বললেন: (তোমার পিতার, এরপর যে তোমার অধিক নিকটবর্তী, তারপর যে অধিক নিকটবর্তী)।

হাসান - «আল-ইরওয়া» (২২৩২, ৮২৯) : [তিরমিজি: ২৫-কিতাব: আল-বিরর ওয়াস-সিলাহ, ১- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে]

 

৪ - (২) আতা থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট এক ব্যক্তি আসল এবং বলল
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٥)
إِنِّي خَطَبْتُ امْرَأَةً فَأَبَتْ أَنْ تَنْكِحَنِي وَخَطَبَهَا غَيْرِي فَأَحَبَّتْ أَنْ تَنْكِحَهُ فَغِرْتُ عَلَيْهَا فَقَتَلْتُهَا فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ؟ قَالَ أُمُّكَ حَيَّةٌ؟ قَالَ لَا، قَالَ تُبْ إِلَى اللَّهِ عز وجل وَتَقَرَّبْ إِلَيْهِ مَا اسْتَطَعْتَ، فَذَهَبْتُ فَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ لِمَ سَأَلْتَهُ عَنْ حَيَاةِ أُمِّهِ؟ فَقَالَ: (إِنِّي لَا أَعْلَمُ عَمَلًا أَقْرَبَ إِلَى الله عز وجل من بر الوالدة)

صحيح: «الصحيحة» (2799)

 

‌‌3- باب بر الأب

5 - عن أبى هريرة رضي الله عنه قال: قيل يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَبَرُّ؟ قَالَ: (أُمَّكَ) قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ (أُمَّكَ) قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ (أُمَّكَ) قَالَ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ (أباك)

صحيح: «الإرواء» (837) ، «الضعيفة» تحت (4992) : خ: [78- ك الأدب، 2-ب من أحق الناس بحسن الصحبة. م: 45- ك البر والصلة والآداب، ح1، 2، 3]
আমি এক মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করল। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে তাকে বিয়ে করতে পছন্দ করল। এতে আমি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে হত্যা করে ফেললাম। এখন কি আমার তাওবাহ করার কোনো সুযোগ আছে? তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: তোমার মা কি জীবিত আছেন? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে তুমি মহান আল্লাহর কাছে তাওবাহ করো এবং সাধ্যমতো তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো। এরপর আমি গিয়ে ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কেন তাকে তার মায়ের জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি মহান আল্লাহর নিকট মায়ের প্রতি সদাচরের চেয়ে অধিক নৈকট্যদানকারী আর কোনো আমল সম্পর্কে জানি না।

সহিহ: «আস-সহিহাহ» (২৭৯৯)

 

‌‌৩- অধ্যায়: পিতার সাথে সদাচার

৫ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কার সাথে সবচেয়ে বেশি সদাচার করব? তিনি বললেন: (তোমার মায়ের সাথে)। তিনি বললেন, তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: (তোমার মায়ের সাথে)। তিনি বললেন, তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: (তোমার মায়ের সাথে)। তিনি বললেন, তারপর কার সাথে? তিনি বললেন: (তোমার পিতার সাথে)

সহিহ: «আল-ইরওয়া» (৮৩৭), «আদ-দাইফাহ» (৪৯৯২)-এর অধীনে : বুখারি: [৭৮- আদব অধ্যায়, ২- মানুষের মধ্যে উত্তম সাহচর্যের অধিক হকদার কে পরিচ্ছেদ। মুসলিম: ৪৫- সদাচার, আত্মীয়তার বন্ধন ও শিষ্টাচার অধ্যায়, হাদিস ১, ২, ৩]
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٦)
6 - عن أبى هريرة رضي الله عنه قال أَتَى رَجُلٌ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقال: ما تأمرنى؟ قال (بِرَّ أُمَّكَ) ثُمَّ عَادَ فَقَالَ (بِرَّ أُمَّكَ) ثُمَّ عَادَ فَقَالَ (بِرَّ أُمَّكَ) ثُمَّ عَادَ الرابعه فقال (بر أمك) ثم عاد الخامسة فقال (بر أباك)

صحيح: انظر ما قبله

 

‌‌4- باب بر والديه وإن ظلما

7 - (ث3) عن ابن عباس رضي الله عنهم قَالَ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ لَهُ وَالِدان مُسلمان يُصْبِحُ إِلَيْهِمَا مُحْتَسِبًا إِلَّا فَتْحَ لَهُ اللَّهُ بابين -يعنى من الجنة - وإن كان واحد فَوَاحِدٌ وَإِنْ أَغْضَبَ أَحَدَهُمَا لَمْ يرضَ اللَّهُ عَنْهُ حَتَّى يَرْضَى عَنْهُ قِيلَ: وَإِنْ ظَلَمَاهُ؟ قال وإن ظلماه.

ضعيف الإسناد؛ سعيد مجهول

 

‌‌5- باب لين الكلام لوالديه

8 - (ث 4) عن طَيْسَلة (واسمه علي) بْنُ مَيّاس قَالَ:
6 - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি আমাকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, (তোমার মায়ের সাথে সদাচরণ করো)। অতঃপর তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, (তোমার মায়ের সাথে সদাচরণ করো)। অতঃপর তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, (তোমার মায়ের সাথে সদাচরণ করো)। তিনি চতুর্থবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, (তোমার মায়ের সাথে সদাচরণ করো)। অতঃপর তিনি পঞ্চমবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, (তোমার পিতার সাথে সদাচরণ করো)।

সহীহ: পূর্ববর্তী হাদীসটি দেখুন।

 

‌‌৪- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতা যুলুম করলেও তাদের সাথে সদাচরণ করা

7 - (সা৩) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে কোনো মুসলিমের দুইজন মুসলিম পিতা-মাতা থাকে এবং সে সওয়াবের প্রত্যাশায় তাদের সেবা করে সকালে উপনীত হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের দুটি দরজা খুলে দেন। আর যদি একজন থাকে তবে একটি দরজা। আর যদি সে তাদের কোনো একজনকে রাগান্বিত করে, তবে আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হন না যতক্ষণ না সেই পিতা বা মাতা তার ওপর সন্তুষ্ট হয়। জিজ্ঞাসা করা হলো: যদিও তারা তার ওপর যুলুম করে? তিনি বললেন: যদিও তারা তার ওপর যুলুম করে।

সনদটি দুর্বল; সাঈদ অজ্ঞাত (মাজহুল)।

 

‌‌৫- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার সাথে নরম ভাষায় কথা বলা

8 - (সা৪) তায়সালা (যার নাম আলী) ইবনে মাইয়াস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٧)
كُنْتُ مَعَ النَّجَدَاتِ (1) فَأَصَبْتُ ذُنُوبًا لَا أَرَاهَا إِلَّا مِنَ الْكَبَائِرِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِابْنِ عُمَرَ قَالَ مَا هِيَ؟ قُلْتُ كَذَا وَكَذَا قَالَ لَيْسَتْ هَذِهِ مِنَ الْكَبَائِرِ هُنَّ تِسْعٌ: الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَقَتْلُ نَسَمَةٍ وَالْفِرَارُ مِنَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَةِ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَإِلْحَادٌ فِي الْمَسْجِدِ وَالَّذِي يَسْتَسْخِرُ وَبُكَاءُ الْوَالِدَيْنِ مِنَ العقوق.

قال لي بن عمر أتفرق من النَّارَ وَتُحِبُّ أَنْ تَدْخُلَ الْجَنَّةَ؟ قُلْتُ: إِي وَاللَّهِ قَالَ: أَحَيٌّ وَالِدُكَ؟

قُلْتُ: عِنْدِي أُمِّي قَالَ: فَوَاللَّهِ لَوْ أَلَنْتَ لَهَا الْكَلَامَ وَأَطْعَمْتَهَا الطعام لتدخلن الجنة ما اجتنبت الكبائر.

صحيح «الصحيحة» (2898)

 

9 - (ث 5) عن عروة بن الزبير في قوله تعالى: (وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ) (2) قال: لا تمتنع من شيء أحباه

--------------------------------------------

(1) - النجدات: نسبة إلى نجدة بن عامر الخارجي، قوم من الحرورية.

(2) - (سورة الاسراء: 24)
আমি নাজাতপন্থীদের (১) সাথে ছিলাম। আমি এমন কিছু পাপে লিপ্ত হলাম যেগুলোকে আমি কবিরা গুনাহ ব্যতীত অন্য কিছু মনে করতাম না। আমি ইবনে উমরের নিকট তা উল্লেখ করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেগুলো কী? আমি বললাম: অমুক অমুক। তিনি বললেন: এগুলো কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত নয়। কবিরা গুনাহ হলো নয়টি: আল্লাহর সাথে শিরক করা, কোনো প্রাণ হত্যা করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা, সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া, সুদ খাওয়া, ইয়াতিমের মাল ভক্ষণ করা, মসজিদে (হারামে) অবমাননাকর বা ধর্মদ্রোহী কাজ করা, বিদ্রূপকারী এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে পিতা-মাতাকে কাঁদানো।

ইবনে উমর আমাকে বললেন: তুমি কি জাহান্নামকে ভয় করো এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে ভালোবাসো? আমি বললাম: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তিনি বললেন: তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত?

আমি বললাম: আমার মা জীবিত আছেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! তুমি যদি তাঁর সাথে নরম ভাষায় কথা বলো এবং তাঁকে খাবার খাওয়াও, তবে তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে—যতক্ষণ তুমি কবিরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকবে।

সহিহ "আস-সহিহাহ" (২৮৯৮)

 

৯ - (আসার ৫) উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে মহান আল্লাহর বাণী: (আর মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনমিত করো) (২) প্রসঙ্গে বর্ণিত; তিনি বলেন: তারা যে জিনিসটি পছন্দ করেন, তা থেকে তাঁদের বিন্দুমাত্র বাধা দেবে না।

--------------------------------------------

(১) - নাজাতপন্থী: নাজাহ বিন আমির আল-খারেজির অনুসারী, যারা হারুরিয়্যাহ সম্প্রদায়ের একটি দল।

(২) - (সূরা আল-ইসরা: ২৪)
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٨)
صحيح الإسناد

 

‌‌6- باب جزاء الوالدين

10 - (ث 6) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (لَا يَجْزِى وَلَدُ وَالِدَهُ إِلَّا أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوكًا فيشتَريَه فيعتقه) .

صحيح - الإرواء (1747) : [م: 20-ك العتق، ح25، 26]

 

11 - عن أبى بردة قال سمعت أبي يحدث (بن أبي موسى الأشعري، اسمه الحارث وقيل عامر) أنه شهدابن عُمَرَ ورجلُ يَمَانِيٌّ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ - حَمَلَ أُمَّهُ وراء ظهره - يقول:

إِنِّي لَهَا بَعِيرُهَا الْمُذَلَّلُ … إِنْ أُذْعِرَتْ رِكَابُهَا لَمْ أُذْعَرِ

ثُمَّ قَالَ: يَا ابْنَ عُمَرَ أَتُرَانِي جَزَيْتُهَا؟ قَالَ: لَا وَلَا بِزَفْرَةٍ وَاحِدَةٍ،

ثُمَّ طَافَ ابْنُ عُمَرَ فَأَتَى الْمَقَامَ فَصَلَّى ركعتين ثم قال: يا بن أَبِي مُوسَى إِنَّ كُلَّ رَكْعَتَيْنِ تُكّفِران مَا أمامهما.

صحيح الإسناد.
সনদের দিক থেকে সহিহ

 

‌‌৬- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার প্রতিদান

১০ - (সা ৬) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কোনো সন্তানই তার পিতার প্রতিদান দিতে পারে না, তবে যদি সে তাকে ক্রীতদাস হিসেবে পায় এবং তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেয়।) ।

সহিহ - আল-ইরওয়া (১৭৪৭) : [মুসলিম: ২০- কিতাবুল ইতক, হাদিস ২৫, ২৬]

 

১১ - আবু বুরদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে (আবু মুসা আল-আশআরীর পুত্র, তার নাম হারিস এবং বলা হয় আমির) বলতে শুনেছি যে, তিনি ইবনে ওমরকে প্রত্যক্ষ করেছেন; এ সময় একজন ইয়েমেনি লোক তার মাকে নিজের পিঠে বহন করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিল এবং বলছিল:

আমি তার জন্য এক অনুগত উট … তার অন্যান্য বাহন যদি ভীত হয়ে পড়ে, তবুও আমি ভীত হই না

অতঃপর সে বলল: হে ইবনে ওমর! আপনি কি মনে করেন আমি তার প্রতিদান দিতে পেরেছি? তিনি বললেন: না, এমনকি (প্রসবকালীন) একটি দীর্ঘশ্বাসের সমানও নয়।

এরপর ইবনে ওমর তাওয়াফ করলেন এবং মাকামে (ইব্রাহিমে) এসে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন: হে আবু মুসার পুত্র! নিশ্চয়ই প্রতি দুই রাকাত সালাত তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়।

সনদের দিক থেকে সহিহ।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٩)
12 - (ث 7) عَنْ أَبِي مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلٍ أَنَّ أَبَا هريرة رضي الله عنه كَانَ يَسْتَخْلِفُهُ مَرْوَانُ وَكَانَ يَكُونُ بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَكَانَتْ أُمُّهُ فِي بَيْتٍ وَهُوَ فِي آخَرَ قَالَ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ وَقَفَ عَلَى بَابِهَا فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكِ يَا أُمَّتَاهُ وَرَحْمَةُ الله وبركاته فتقول وعليك يَا بُنَيَّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ فَيَقُولُ رَحِمَكِ اللَّهُ كَمَا رَبَّيْتِنِي صَغِيرًا فَتَقُولُ رَحِمَكَ اللَّهُ كَمَا بَرَرْتَنِي كَبِيرًا ثُمَّ إِذَا أَرَادَ أَنْ يدخل صنع مثله.

ضعيف الإسناد، فيه سعيد بن أبي هلال، كان اختلط

 

13 - عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُبَايِعُهُ عَلَى الْهِجْرَةِ وَتَرَكَ أَبَوَيْهِ يَبْكِيَانِ فَقَالَ: (ارْجِعْ إِلَيْهِمَا وأضْحِكْهُما كَمَا أبْكَيْتَهُما)

صحيح - «التعليق الرغيب» (3/213) : [د: 15-ك الجهاد، 31-ب في الرجل يغزو وأبواه كارهان. ن: 39-ك البيعة على الجهاد، 10- ب البيعة على الهجرة. جه: 34- ك الجهاد 13- ب الرجل يغزو وله ابوان ح2782]
১২ - (৭) আকিলের মুক্ত দাস আবু মুররাহ থেকে বর্ণিত যে, মারওয়ান আবু হুরায়রা (রাযি.)-কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করতেন এবং তিনি যুল-হুলাইফায় থাকতেন। তাঁর মা এক ঘরে থাকতেন এবং তিনি অন্য ঘরে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, যখন তিনি বের হতে চাইতেন তখন তাঁর মায়ের দরজায় গিয়ে দাঁড়াতেন এবং বলতেন: হে আমার মা! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। তিনি (মা) বলতেন: হে আমার প্রিয় পুত্র! তোমার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। তিনি (আবু হুরায়রা) বলতেন: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন যেমনটি আপনি আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন। তিনি (মা) বলতেন: আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন যেমনটি তুমি আমার বার্ধক্যে আমার প্রতি সদাচরণ করেছ। অতঃপর যখন তিনি (ঘরে) প্রবেশ করতে চাইতেন, তখনও অনুরূপ করতেন।

সনদটি দুর্বল, এতে সাঈদ ইবনে আবু হিলাল রয়েছেন, তিনি স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন

 

১৩ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হিজরতের ওপর বায়আত গ্রহণের জন্য আসলেন এবং তিনি তাঁর পিতা-মাতাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় রেখে এসেছেন। তখন তিনি (নবী) বললেন: "তুমি তাঁদের নিকট ফিরে যাও এবং তাঁদেরকে হাসাও যেমনটি তুমি তাঁদেরকে কাঁদিয়েছ।"

সহিহ - ‘আত-তালীকুর রগীব’ (৩/২১৩) : [আবু দাউদ: ১৫- কিতাবুল জিহাদ, ৩১- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি জিহাদ করে অথচ তার পিতা-মাতা তা অপছন্দ করেন। নাসায়ি: ৩৯- কিতাবুল বায়আত আলাল জিহাদ, ১০- অনুচ্ছেদ: হিজরতের ওপর বায়আত। ইবনে মাজাহ: ৩৪- কিতাবুল জিহাদ ১৩- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি জিহাদ করে অথচ তার পিতা-মাতা রয়েছেন, হাদিস ২৭৮২]
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٠)
14 - (ث 8) عَنْ أَبِي حَازِمٍ أَنَّ أَبَا مُرَّةَ مَوْلَى أم هانئ بنت أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ رَكِبَ مَعَ أَبِي هريرة رضي الله عنه إِلَى أَرْضِهِ بِالْعَقِيقِ فَإِذَا دَخَلَ أَرْضَهُ صَاحَ بِأَعْلَى صَوْتِهِ عَلَيْكِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ يَا أُمَّتَاهُ،

تَقُولُ وَعَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، يَقُولُ رَحِمَكِ اللَّهُ رَبَّيْتِنِي صَغِيرًا، فَتَقُولُ يَا بُنَيَّ وَأَنْتَ فَجَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا وَرَضِيَ عَنْكَ كَمَا بَرَرْتَنِي كَبِيرًا، قَالَ مُوسَى كَانَ اسْمُ أَبِي هُرَيْرَةَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو

حسن الاسناد

 

‌‌7- باب عقوق الوالدين

15 - عن أبي بكرة رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ؟) ثَلَاثًا قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: (الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ) وَجَلَسَ وَكَانَ مُتَّكِئًا (أَلَا وَقَوْلُ الزُّورِ) مَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى قُلْتُ لَيْتَهُ سكت
১৪ - আবু হাযিম থেকে বর্ণিত যে, আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানির আযাদকৃত গোলাম আবু মুররা তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আকীক উপত্যকায় তাঁর জমিতে সওয়ার হয়ে গিয়েছিলেন। যখন তিনি তাঁর জমিতে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি উচ্চস্বরে ডেকে বললেন, "হে আমার মা! আপনার উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।"

তিনি (মা) বলতেন, "তোমার উপরও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।" তিনি (আবু হুরায়রা) বলতেন, "আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, যেভাবে আপনি আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন।" তিনি (মা) বলতেন, "হে আমার বৎস! তোমাকেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন এবং তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যেভাবে তুমি আমার বার্ধক্যে আমার প্রতি সদ্ব্যবহার করেছ।" মূসা বলেন, আবু হুরায়রার নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আমর।

সনদটি হাসান।

 

‌‌৭- অধ্যায়: পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া

১৫ - আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার বললেন, "আমি কি তোমাদেরকে সবচাইতে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না?" তাঁরা বললেন, "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।" এরপর তিনি হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, "সাবধান! আর মিথ্যা কথা বলা।" তিনি এটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমি (মনে মনে) বলছিলাম, যদি তিনি এখন থামতেন!
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١١)
صحيح - «غاية المرام» (277) : [خ: 78-ك الأدب، 6-ب عقوق الوالدين من الكبائر. م: -الإيمان، ح 143]

 

16 - عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَنْهَى عَنْ كَثْرَةِ السُّؤَالِ وَإِضَاعَةِ الْمَالِ وَعَنْ قيل وقال»

صحيح - «الضعيفة» تحت رقم (5598)

 

‌‌8- باب لعن الله من لعن والديه

17 - عن عن علي رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَرَقَ مَنَارَ الْأَرْضِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَيْهِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ آوَى محدثا)

صحيح - «المشكاة» (4070) : [م: 35- ك الأضاحي، ح44، 45]
সহিহ - «গয়াতুল মারাম» (২৭৭) : [বুখারি: ৭৮-আদব অধ্যায়, ৬-পরিচ্ছেদ: পিতামাতার অবাধ্য হওয়া কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। মুসলিম: -ঈমান অধ্যায়, হাদিস ১৪৩]

 

১৬ - মুগিরা ইবনে শু'বা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তিনি অধিক সওয়াল করা (অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন বা যাঞ্চা করা), সম্পদ নষ্ট করা এবং ভিত্তিহীন কথা (বলাবলি করা) থেকে নিষেধ করেছেন।»

সহিহ - «আদ-দঈফাহ» নং (৫৫৯৮)-এর অধীনে

 

‌‌৮- পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তার পিতামাতাকে অভিশাপ দেয়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন

১৭ - আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন তাকে, যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশ্যে জবেহ করে। আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন তাকে, যে জমির সীমানা চিহ্ন চুরি করে। আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন তাকে, যে নিজ পিতামাতাকে অভিশাপ দেয়। আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন তাকে, যে কোনো বিদআত সৃষ্টিকারী বা অপরাধীকে আশ্রয় দেয়।)

সহিহ - «আল-মিশকাত» (৪০৭০) : [মুসলিম: ৩৫- কোরবানি অধ্যায়, হাদিস ৪৪, ৪৫]
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌9- بَابُ يَبَرُّ وَالِدَيْهِ مَا لَمْ يَكُنْ مَعْصِيَةً

18 - عن أبى الدرداء رضي الله عنه قَالَ أَوْصَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتِسْعٍ: (لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُطِّعْت أَوْ حُرِّقت وَلَا تَتْرُكَنَّ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ مُتَعَمِّدًا وَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ وَلَا تشربنَّ الْخَمْرَ فإنَّها مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ، وأطعْ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ دُنْيَاكَ فَاخْرُجْ لَهُمَا، وَلَا تنازعنَّ وُلَاةَ الْأَمْرِ وَإِنْ رَأَيْتَ أَنَّكَ أَنْتَ وَلَا تَفْرُرْ مِنَ الزَّحْفِ وَإِنْ هَلَكْتَ وَفَرَّ أَصْحَابُكَ وَأَنْفِقْ مِنْ طولك على أهلك ولا ترفع عصاك على أهلك وأخفهم في الله عز وجل

حسن - «الإرواء» (2026) : [جه: 36- ك الفتن، 23- ب الصبر على البلاء ح4034]

19 - عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ جِئْتُ
৯- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা, যতক্ষণ না তা কোনো পাপের কাজ হয়

১৮ - আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে নয়টি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন: আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয় অথবা পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয সালাত বর্জন করো না, কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে, তার ওপর থেকে (আল্লাহর) নিরাপত্তার জিম্মাদারি উঠে যায়। আর তুমি মদ পান করো না, কেননা তা সকল মন্দের চাবিকাঠি। তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য করো, যদি তারা তোমাকে তোমার পার্থিব সম্পদ ত্যাগ করে বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন, তবে তাদের সন্তুষ্টির জন্য তুমি তা-ই করো। আর তুমি ক্ষমতাশীলদের সাথে শাসন ক্ষমতা নিয়ে বিবাদ করো না, যদিও তুমি মনে করো যে তুমিই এর প্রকৃত হকদার। রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করো না, যদিও তুমি ধ্বংস হয়ে যাও এবং তোমার সাথীরা পলায়ন করে। তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করো। তোমার পরিবারের ওপর থেকে শাসনের লাঠি সরিয়ে নিও না এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ব্যাপারে তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করো।

হাসান - «আল-ইরওয়া» (২০২৬) : [ইবনে মাজাহ: ৩৬- ফিতনা অধ্যায়, ২৩- বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ পরিচ্ছেদ, হা/৪০৩৪]

১৯ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, আমি এসেছি
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٣)
أُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَتَرَكْتُ أَبَوَيَّ يَبْكِيَانِ قَالَ: (ارجع إليهما فأضحكهما كما أبكيتهما)

صحيح - «التعليق الرغيب» (3/213)

 

20 - عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يريد الجهاد فقال «أحى والدك» قال نعم فقال «ففيهما فجاهد»

صحيح - «الإرواء» (1199) : [خ: 56- ك الجهاد، 138 - ب الجهاد بإذن الوالدين. م: 45 - ك البر والصلة والآداب ح5-6]

 

‌‌10- بَابُ مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ

21 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (رَغِمَ أنْفُه رَغِمَ أنْفُه رَغِمَ أنْفُه قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ؟ قَالَ: (مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ عنده الكبر أو أحدهما فدخل النار)
আমি হিজরতের ওপর আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছি, অথচ আমি আমার পিতা-মাতাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় রেখে এসেছি। তিনি বললেন: (তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের হাসাও যেমন তুমি তাদের কাঁদিয়েছ।)

সহীহ - «আত-তালীকুর রাগীব» (৩/২১৩)

 

২০ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন জিহাদ করার ইচ্ছা নিয়ে। তিনি বললেন, «তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত?» সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, «তাহলে তাদের মধ্যেই জিহাদ করো (অর্থাৎ তাদের সেবায় আত্মনিয়োগ করো)»

সহীহ - «আল-ইরওয়া» (১১৯৯) : [বুখারি: ৫৬- কিতাবুল জিহাদ, ১৩৮ - পিতা-মাতার অনুমতিক্রমে জিহাদের পরিচ্ছেদ। মুসলিম: ৪৫ - কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব, হাদিস ৫-৬]

 

‌‌১০- পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে (বার্ধক্যে) পেল অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না

২১ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (সে লাঞ্ছিত হোক, সে লাঞ্ছিত হোক, সে লাঞ্ছিত হোক। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে? তিনি বললেন: (যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার উভয়কে অথবা একজনকে তার নিকট বার্ধক্যে উপনীত অবস্থায় পেল, তবুও সে (তাদের সেবা না করার কারণে) জাহান্নামে প্রবেশ করল।)
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٤)
صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 215) : {م: 45- ك البر والآداب ح 9 و 10) .

 

‌‌11- بَابُ مَنْ بَرَّ وَالِدَيْهِ زَادَ اللَّهُ فِي عمره

22 - عن معاذ الجهني رضي الله عنه قَالَ: قَالَ: النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: (مَنْ بَرَّ وَالِدَيْهِ طُوبَى لَهُ زَادَ اللَّهُ عز وجل في عمره)

ضعيف - «الأحاديث الضعيفة» : {ليس في شئ من الكتب الستة}

 

‌‌12- باب لا يستغفر لأبيه المشرك

23 - (ث 9) عن ابن عباس رضي الله عنهما فِي قَوْلِهِ عز وجل: (إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً) إِلَى قَوْلِهِ (كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيراً) (الإسراء: 23- 24) فَنَسَخَتْهَا الْآيَةُ فِي بَرَاءَةَ (مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ) (التوبة: 113) حسن الإسناد.
সহিহ - «আত-তালিকুর রগিব» (৩/ ২১৫) : {মুসলিম: ৪৫- নেক আমল ও শিষ্টাচার অধ্যায়, হাদিস ৯ ও ১০}।

 

‌‌১১- পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করে, আল্লাহ তার হায়াত বাড়িয়ে দেন

২২ - মুআয আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করে, তার জন্য সুসংবাদ, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার হায়াত বাড়িয়ে দেবেন)

জয়িফ - «আল-আহাদিসুদ জয়িফাহ» : {প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের কোনোটিতেই এটি নেই}

 

‌‌১২- পরিচ্ছেদ: মুশরিক পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা যাবে না

২৩ - (সা ৯) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত: (তোমার কাছে তাদের একজন বা উভয়জন বার্ধক্যে উপনীত হলে তুমি তাদের ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না, আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো) থেকে (যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন) (সূরা আল-ইসরা: ২৩-২৪) পর্যন্ত। অতঃপর সূরা বারাআতের (আত-তাওবাহ) এই আয়াতটি তা রহিত করে দিয়েছে: (নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে তারা জাহান্নামের অধিবাসী) (সূরা আত-তাওবাহ: ১১৩)। এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌13- باب بر الوالد المشرك

24 - (ث 10) عن سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: نَزَلَتْ فِيَّ أَرْبَعُ آيَاتٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى، كَانَتْ أُمِّي حَلَفَتْ أَنْ لَا تَأْكُلَ وَلَا تَشْرَبَ حَتَّى أُفَارِقَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: (وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلَى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفاً) (1) . وَالثَّانِيَةُ: أَنِّي كُنْتُ أَخَذْتُ سَيْفًا أَعْجَبَنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَبْ لِي هَذَا فَنَزَلَتْ: (يَسْأَلونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ) (2) وَالثَّالِثَةُ: أَنِّي مَرِضْتُ فَأَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَقْسِمَ مَالِي أَفَأُوصِي بِالنِّصْفِ فَقَالَ لَا فَقُلْتُ الثُّلُثُ فَسَكَتَ فَكَانَ الثُّلُثُ بَعْدَهُ جَائِزًا.

وَالرَّابِعَةُ إِنِّي شَرِبْتُ الْخَمْرَ مَعَ قَوْمٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَضَرَبَ رَجُلٌ مِنْهُمْ أنفى بلحيى جَمَلٍ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فأنزل عز وجل تحريم الخمر.

صحيح - المشكاة (3072) : {م: 44- ك فضائل الصحابة ح 43، 44} .

--------------------------------------------

(1) - (سورة لقمان: 15)

(2) - (لأنفال: 1)
১৩- মুশরিক পিতার সাথে সদ্ব্যবহারের অধ্যায়

২৪ - (সা ১০) সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলার কিতাবের চারটি আয়াত আমার সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমার মা শপথ করেছিলেন যে, যতক্ষণ না আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ত্যাগ করব, ততক্ষণ তিনি পানাহার করবেন না। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করেন: "আর যদি তারা পিতা-মাতা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাথে সদাচরণ করো।" (১)। দ্বিতীয়টি হলো: আমি একটি তলোয়ার নিয়েছিলাম যা আমার পছন্দ হয়েছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এটি দান করুন। তখন অবতীর্ণ হলো: "তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে।" (২) তৃতীয়টি হলো: আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার সম্পদ বণ্টন করতে চাই; আমি কি অর্ধেকের ওসিয়ত করতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে কি এক-তৃতীয়াংশ? তখন তিনি নীরব থাকলেন। এরপর থেকে এক-তৃতীয়াংশের ওসিয়ত করা বৈধ সাব্যস্ত হলো।

চতুর্থটি হলো: আমি আনসারদের এক দলের সাথে মদ পান করেছিলাম। তখন তাদের এক ব্যক্তি উটের চোয়ালের হাড় দিয়ে আমার নাকে আঘাত করল। এরপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা মদ হারাম করার বিধান অবতীর্ণ করলেন।

সহিহ - আল-মিশকাত (৩০৭২) : {মুসলিম: ৪৪- সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়, হাদিস ৪৩, ৪৪}।

--------------------------------------------

(১) - (সূরা লোকমান: ১৫)

(২) - (সূরা আনফাল: ১)
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٦)
25 - عن أسماء بنت أبى بكر رضي الله عنها قَالَتْ: أَتَتْنِي أُمِّي رَاغِبَةً فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أفأصلها؟ قَالَ: (نَعَمْ) .

قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل فِيهَا: (لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ َ) (1)

صحيح - «صحيح أبي داود» (1468) : [خ: 51- ك الهبة، 29- ب الهدية للمشركين. م: 12 - ك الزكاة ح 49، 50]

 

26 - عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: رَأَى عُمَرُ رضي الله عنه حُلَّةً سَِيَراءَ (2) تُبَاعُ،

فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْتَعْ هَذِهِ فَالْبَسْهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَإِذَا جَاءَكَ الْوُفُودُ، قَالَ: (إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ) فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا بِحُلَلٍ فَأَرْسَلَ إِلَى عُمَرَ بِحُلَّةٍ فَقَالَ كَيْفَ أَلْبَسُهَا وَقَدْ قُلْتَ فِيهَا مَا قُلْتَ؟ قَالَ: (إِنِّي لَمْ أُعْطِكَهَا لِتَلْبَسَهَا وَلَكِنْ تَبِيعَهَا أَوْ تكسوها)

--------------------------------------------

(1) - (سورة الممتحنة: 8)

(2) - نوع من البرود يخالطه حرير كالسيور.
২৫ - আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আমার মা (আমার সাথে সুসম্পর্ক করার) ইচ্ছা নিয়ে আমার কাছে আসলেন। তখন আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব? তিনি বললেন: (হ্যাঁ)।

ইবন উয়ায়নাহ বলেন, তখন মহান আল্লাহ এই বিষয়ে আয়াত নাযিল করেন: (আল্লাহ তোমাদের ঐসব লোকদের সাথে সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে নিষেধ করেন না যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি) (১)

সহীহ - «সহীহ আবু দাউদ» (১৪৬৮) : [বুখারী: ৫১- হিবা অধ্যায়, ২৯- মুশরিকদের উপহার প্রদান পরিচ্ছেদ। মুসলিম: ১২ - যাকাত অধ্যায়, হাদিস ৪৯, ৫০]

 

২৬ - ইবন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রেশমি ডোরাকাটা একটি পোশাক (সিয়ারা) (২) বিক্রি হতে দেখলেন।

তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এটি ক্রয় করুন এবং জুমআর দিন ও যখন প্রতিনিধি দল আপনার কাছে আসে তখন এটি পরিধান করুন। তিনি বললেন: (এটি কেবল সেই ব্যক্তিই পরিধান করে যার [পরকালে] কোনো অংশ নেই)। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এ জাতীয় কিছু পোশাক নিয়ে আসা হলো এবং তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে একটি পোশাক পাঠালেন। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি এটি কীভাবে পরিধান করব অথচ আপনি এই পোশাক সম্পর্কে যা বলার তা তো আগেই বলেছেন? তিনি বললেন: (আমি এটি তোমাকে পরিধান করার জন্য দিইনি, বরং তুমি এটি বিক্রি করে দাও অথবা কাউকে পরতে দাও)।

--------------------------------------------

(১) - (সূরা আল-মুমতাহিনা: ৮)

(২) - এক ধরণের চাদর বা পোশাক যাতে ফিতার মতো রেশম মিশ্রিত থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٧)
فَأَرْسَلَ بِهَا عُمَرُ إِلَى أَخٍ لَهُ مِنْ أهل مكة قبل أن يسلم.

صحيح - «صحيح أبي داود» (987) : [خ: 11- ك الجمعة، 7- ب يلبس أحسن ما يجد. م: 37- ك اللباس والزينة، ح6 و 7 و 9]

 

‌‌14- باب لا يسب والديه

27 - عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: (مِنَ الْكَبَائِرِ أَنْ يَشْتِمَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ) فَقَالُوا كَيْفَ يَشْتِمُ؟ قَالَ: (يَشْتِمُ الرجلَ فيشتمُ أَبَاهُ وأمَه)

صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 221) : [خ: 78- ك الأدب، 4 - ب لا يسب الرجل والديه. م: 1-ك الإيمان، ح 146]

 

28 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنهما قال: (مِنَ الْكَبَائِرِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى أَنْ يستَسبَّ الرجلُ لوالده)

حسن الإسناد.
অতঃপর উমর সেটি মক্কায় বসবাসকারী তাঁর এক ভাইয়ের নিকট পাঠিয়েছিলেন, যে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি।

সহীহ - «সহীহ আবু দাউদ» (৯৮৭) : [বুখারী: ১১- জুমুআ অধ্যায়, ৭- অনুচ্ছেদ: যা পায় তার মধ্যে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করা। মুসলিম: ৩৭- পোশাক ও অলংকার অধ্যায়, হাদিস ৬, ৭ ও ৯]

 

‌‌১৪- অনুচ্ছেদ: পিতা-মাতাকে গালি না দেওয়া

২৭ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (কোনো ব্যক্তির তার পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত)। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, সে কীভাবে গালি দেয়? তিনি বললেন: (সে অন্য কোনো ব্যক্তিকে গালি দেয়, ফলে সেই ব্যক্তি তার পিতা ও তার মাতাকে গালি দেয়)।

সহীহ - «আত-তালিকুর রাগিব» (৩/ ২২১) : [বুখারী: ৭৮- আদব অধ্যায়, ৪- অনুচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি যেন তার পিতা-মাতাকে গালি না দেয়। মুসলিম: ১- ঈমান অধ্যায়, হাদিস ১৪৬]

 

২৮ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলার নিকট কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো ব্যক্তির তার পিতা-মাতাকে গালি দেওয়ার কারণ হওয়া)।

সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌15- باب عقوبة عقوق الوالدين

29 - عن أبى بكرة رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجَّلَ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةُ مَعَ مَا يُدَّخَرُ له من البغى وقطيعة الرحم)

صحيح - «الصحيحة» (918، 978) : [د: 40- ك الأدب، 43- ب النهي عن البغي. ت: 351- ك القيامة، 57- ب حدثنا علي بن حجر. جه: 37- ك الزهد، 23- ب البغي ح 4211]

 

30 - عن عمران بن حصين رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (مَا تَقُولُونَ فِي الزِّنَا وَشُرْبِ الْخَمْرِ وَالسَّرِقَةِ؟) قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: (هُنَّ الْفَوَاحِشُ وَفِيهِنَّ الْعُقُوبَةُ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ الشِّرْكُ بِاللَّهِ عز وجل وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ) وَكَانَ متكئا فاحتفز قال: (والزور)
১৫- পিতামাতার অবাধ্যতার শাস্তির অধ্যায়

২৯ - আবু বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (বিদ্রোহ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার চেয়ে এমন কোনো গুনাহ নেই, যার কর্তাকে দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা এবং সেই সাথে তার জন্য পরকালেও তা জমা রাখা অধিক সমীচীন হবে।)

সহীহ - «আস-সহীহাহ» (৯১৮, ৯৭৮) : [আবু দাউদ: ৪০- আদব অধ্যায়, ৪৩- বিদ্রোহ নিষেধ অনুচ্ছেদ। তিরমিজি: ৩৫১- কিয়ামত অধ্যায়, ৫৭- অনুচ্ছেদ: আলী ইবনে হুজর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। ইবনে মাজাহ: ৩৭- যুহদ অধ্যায়, ২৩- বিদ্রোহ অনুচ্ছেদ, হাদীস ৪২১১]

 

৩০ - ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ব্যভিচার, মদ্যপান এবং চুরি সম্পর্কে তোমরা কী বলো?) আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: (এগুলো অশ্লীল কাজ এবং এগুলোতে নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে। আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? মহান আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।) তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: (আর মিথ্যা কথা।)
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ١٩)
ضعيف الإسناد، فيه عنعنة الحسن البصري، والحكم بن عبد الملك، ضعيف: [ليس في شيء من الكتب الستة]

 

‌‌16- باب بكاء الوالدين

31 - (ث 11) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: (بكاء الوالدين من العقوق والكبائر)

صحيحح- «الصحيحة» (2898) .

 

‌‌17- باب دعوة الوالدين

32 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: (ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مستجاباتٌ لَهُنَّ لَا شَكَّ فيهنَّ: دعوة المظلوم ودعوة المسافر ودعوة الوَالِدَين على وَلَدِهِمَا)

حسن - «الصحية» (596) : [د: ك الصلاة، 29 - ب الدعاء بظهر الغيب ت: 25-ك البر الصلة، 7 - ب ما جاء في دعوة الولدين. جه: 34 - ك الدعاء، 11 -ب دعوة الولد ودعوة المظلوم ح 2862]
সনদটি দুর্বল, এতে হাসান বসরীর 'আনআনা' (অস্পষ্ট বর্ণনা রীতি) রয়েছে এবং হাকাম ইবনে আব্দুল মালিক রয়েছেন যিনি দুর্বল: [এটি কুতুবে সিত্তাহ বা ছয়টি কিতাবের কোনোটিতে নেই]

 

‌‌১৬- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতাকে কাঁদানো

৩১ - (সা ১১) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (পিতা-মাতাকে কাঁদানো অবাধ্যতা ও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত)

সহিহ- «আস-সহিহাহ» (২৮৯৮)।

 

‌‌১৭- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার দোয়া

৩২ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তিনটি দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই: মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার দোয়া)

হাসান - «আস-সহিহাহ» (৫৯৬): [আবু দাউদ: সালাত অধ্যায়, ২৯- অনুচ্ছেদ: অগোচরে দোয়া করা; তিরমিজি: ২৫- সদ্ব্যবহার ও আত্মীয়তা রক্ষা অধ্যায়, ৭- পিতা-মাতার দোয়া বিষয়ক অনুচ্ছেদ; ইবনে মাজাহ: ৩৪- দোয়া অধ্যায়, ১১- সন্তানের দোয়া ও মজলুমের দোয়া অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৮৬২]
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
33 - عن أبى هريرة رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: (مَا تَكَلَّمَ مَوْلُودٌ مِنَ النَّاسِ في مهد الا عيسى بن مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم، وَصَاحِبُ جُرَيْجٍ) قِيلَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَمَا صَاحِبُ جُرَيْجٍ؟ قَالَ: (فَإِنَّ جُرَيْجًا كَانَ رَجُلًا رَاهِبًا فِي صَوْمَعَةٍ لَهُ وَكَانَ رَاعِيَ بَقَرٍ يَأْوِي إِلَى أَسْفَلِ صَوْمَعَتِهِ وَكَانَتِ امْرَأَةٌ مِنْ أَهْلِ الْقَرْيَةِ تَخْتَلِفُ إِلَى الرَّاعِي فَأَتَتْ أُمُّهُ يَوْمًا فَقَالَتْ: يَا جُرَيْجُ، وَهُوَ يُصَلِّي فَقَالَ فِي نَفْسِهِ: وَهُوَ يُصَلِّي: أُمِّي وَصَلَاتِي؟ فَرَأَى أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ ثُمَّ صَرَخَتْ بِهِ الثَّانِيَةَ فَقَالَ فِي نَفْسِهِ: أُمِّي وَصَلَاتِي؟ فَرَأَى أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ ثُمَّ صَرَخَتْ بِهِ الثَّالِثَةَ فَقَالَ: أُمِّي وَصَلَاتِي؟ فَرَأَى أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ فَلَمَّا لَمْ يُجِبْهَا قَالَتْ: لَا أَمَاتَكَ اللَّهُ يَا جُرَيْجُ حَتَّى تَنْظُرَ فِي وَجْهِ الْمُومِسَاتِ ثُمَّ انْصَرَفَتْ فأُتِىَ المَلِكُ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ وَلَدت
৩৩ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (মানুষের সন্তানদের মধ্যে দোলনায় থাকাবস্থায় ঈসা ইবনে মারইয়াম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং জুরাইজের সাথী ব্যতীত আর কেউ কথা বলেনি)। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর নবী! জুরাইজের সাথী কে? তিনি বললেন: (জুরাইজ ছিলেন একজন ইবাদতকারী ব্যক্তি যিনি তার নির্জন উপাসনালয়ে অবস্থান করতেন। এক রাখাল তার গরু নিয়ে সেই উপাসনালয়ের পাদদেশে আশ্রয় নিত। গ্রামের এক নারী সেই রাখালের কাছে যাতায়াত করত। একদিন জুরাইজের মা আসলেন এবং ডাকলেন: হে জুরাইজ! তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তিনি সালাত রত অবস্থায় মনে মনে বললেন: আমার মা, নাকি আমার সালাত? অতঃপর তিনি তার সালাতকেই প্রাধান্য দেওয়া সমীচীন মনে করলেন। তারপর মা তাকে দ্বিতীয়বার উচ্চস্বরে ডাকলেন, তিনি মনে মনে বললেন: আমার মা, নাকি আমার সালাত? এবারও তিনি তার সালাতকেই প্রাধান্য দেওয়া সমীচীন মনে করলেন। এরপর মা তাকে তৃতীয়বার উচ্চস্বরে ডাকলেন, তিনি মনে মনে বললেন: আমার মা, নাকি আমার সালাত? এবারও তিনি তার সালাতকেই প্রাধান্য দেওয়া সমীচীন মনে করলেন। যখন তিনি মায়ের ডাকে সাড়া দিলেন না, তখন মা বললেন: হে জুরাইজ! আল্লাহ যেন তোমাকে মৃত্যু না দেন যতক্ষণ না তুমি ব্যভিচারিণীদের মুখ দেখবে। অতঃপর তিনি চলে গেলেন। এরপর সেই নারীকে বাদশাহর নিকট আনা হলো যখন সে সন্তান জন্ম দিল...)
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢١)
فَقَالَ: مِمَّنْ؟ قَالَتْ: مِنْ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَصَاحِبُ الصَّوْمَعَةِ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ: اهْدِمُوا صَوْمَعَتَهُ وَأْتُونِي بِهِ فَضَرَبُوا صَوْمَعَتَهُ بِالْفُئُوسِ حَتَّى وَقَعَتْ فَجَعَلُوا يَدَهُ إِلَى عُنُقِهِ بِحَبْلٍ ثُمَّ انْطُلِقَ بِهِ فَمُرَّ بِهِ عَلَى الْمُومِسَاتِ فَرَآهُنَّ فَتَبَسَّمَ وَهُنَّ يَنْظُرْنَ إِلَيْهِ فِي النَّاسِ، فَقَالَ الْمَلِكُ مَا تَزْعُمُ هَذِهِ؟ قَالَ: مَا تَزْعُمُ؟ قَالَ: تَزْعُمُ أَنَّ وَلَدَهَا مِنْكَ، قَالَ أَنْتِ تَزْعُمِينَ؟ قَالَتْ: نعم قال أين هذا الصغير؟ قالوا هو ذا فِي حِجْرِها فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ: مَنْ أَبُوكَ؟ قَالَ: رَاعِي الْبَقَرِ،

قَالَ: الْمَلِكُ أَنَجْعَلُ صَوْمَعَتَكَ مِنْ ذَهَبٍ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: مِنْ فِضَّةٍ؟ قَالَ: لَا: قَالَ: فَمَا نَجْعَلُهَا؟ قَالَ: رُدُّوهَا كَمَا كَانَتْ، قَالَ: فَمَا الَّذِي تَبَسَّمْت؟ قَالَ: أَمْرًا عرفتُه، أَدْرَكَتْنِي دَعْوَةُ أُمِّي ثُمَّ أخْبَرَهُم)

صحيح: [خ: 60- ك الأنبياء، 48- ب {واذكر في الكتب مريم} ] مريم: 16 [م: 45 - ك البر والصلة والآداب، ح 7، 8]

 

‌‌18- باب عرض الإسلام على الأم النصرانية

34 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال مَا سَمِعَ بِي أحدٌ يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ إِلَّا أَحَبَّنِي، إِنَّ أُمِّي كُنْت أُرِيدُها
তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কার থেকে? সে বলল: জুরাইজ থেকে। তিনি বললেন: সেই গির্জার অধিবাসী? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তার গির্জাটি ভেঙে ফেলো এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। এরপর তারা কুঠার দিয়ে তার গির্জাটিতে আঘাত করতে লাগল যতক্ষণ না তা ধসে পড়ল। তখন তারা তার হাত দুটি দড়ি দিয়ে ঘাড়ের সাথে বেঁধে ফেলল এবং তাকে নিয়ে রওনা হলো। তাকে যখন পতিতা নারীদের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সে তাদের দেখে মুচকি হাসল, আর তারা মানুষের ভিড়ের মধ্যে তার দিকে তাকিয়ে ছিল। তখন রাজা বললেন: এই মহিলাটি কী দাবি করছে? সে বলল: সে কী দাবি করছে? রাজা বললেন: সে দাবি করছে যে তার সন্তানটি তোমার থেকে। তিনি বললেন: তুমি কি এমনটি দাবি করছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এই শিশুটি কোথায়? তারা বলল: এই তো তার কোলে। তখন তিনি তার দিকে অগ্রসর হলেন এবং বললেন: তোমার পিতা কে? সে বলল: গরুর রাখাল।

রাজা বললেন: আমরা কি তোমার গির্জাটি সোনা দিয়ে বানিয়ে দেব? তিনি বললেন: না। রাজা বললেন: রুপা দিয়ে? তিনি বললেন: না। রাজা বললেন: তবে আমরা এটি কী দিয়ে বানাব? তিনি বললেন: এটিকে আগের মতোই বানিয়ে দাও। রাজা জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কেন মুচকি হেসেছিলে? তিনি বললেন: একটি বিষয় যা আমি বুঝতে পেরেছিলাম; আমার মায়ের বদদোয়া আমাকে পেয়ে বসেছিল। এরপর তিনি তাদের বিষয়টি জানালেন।)

সহিহ: [বুখারি: ৬০- আম্বিয়া অধ্যায়, ৪৮- অনুচ্ছেদ {এবং কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করো} মারইয়াম: ১৬] [মুসলিম: ৪৫- সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন ও শিষ্টাচার অধ্যায়, হাদিস ৭, ৮]

 

‌‌১৮- পরিচ্ছেদ: খ্রিষ্টান মায়ের কাছে ইসলাম পেশ করা

৩৪ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো ইহুদি বা খ্রিষ্টান আমার কথা শোনামাত্রই আমাকে ভালোবেসে ফেলেছে। নিশ্চয়ই আমি আমার মাকে (ইসলামের দাওয়াত দিতে) চাচ্ছিলাম...
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
عَلَى الْإِسْلَامِ فَتَأْبَى فَقُلْتُ لَهَا فَأَبَتْ فأتيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: ادْعُ اللَّهَ لَهَا فَدَعَا فَأَتَيْتُهَا وَقَدْ أجُافُتْ (1) عَلَيْهَا الْبَابَ فَقَالَتْ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنِّي أَسْلَمْتُ، فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ ادْعُ اللَّهَ لِي وَلِأُمِّي فَقَالَ: (اللَّهُمَّ عَبْدُك أبو هريرة وأُمُّهُ أَحِبَّهُما إلى الناس)

حسن - «المشكاة» (5895) : [لم أعثر عليه في شيء من الكتب الستة] . (2)

 

‌‌19- باب برالوالدين بعد موتهما

35 - عن أبي أسيد - مالك بن ربيعة الساعدي رضي الله عنه قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ بَقِيَ مِنْ بِرِّ أَبَوَيَّ شَيْءٌ بَعْدَ مَوْتِهِمَا أَبَرُّهُمَا؟ قَالَ: (نَعَمْ، خصالٌ أَرْبَعٌ: الدُّعَاءُ لَهُمَا، والاستغفار لهما، وإنفاذ عهدها، وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا، وصِلةُ الرَّحم الَّتِي لَا رحمَ لك إلا من قِبَلِهما)

ضعيف - «الضعيفة» (597) : [ليس في شيء من الكتب السنة] . (3)

 

36 - (ث12) عن أبى هريرة رضي الله عنه قال:

--------------------------------------------

(1) - أي أغلقت

(2) * - الحديث رواه مسلم في كتاب فضائل الصحابة باب من فضائل أبي هريرة رضي الله عنه.

(3) * - الحديث رواه أبو داود وضعفه المحقق رحمه الله في سنن أبي داود -5142- وابن ماجه وقد ضعفه أيضا - 3664-
ইসলাম গ্রহণ করার দাওয়াত দিলাম কিন্তু সে অস্বীকার করল। আমি তাকে পুনরায় বললাম, সে আবারও অস্বীকার করল। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম: আপনি তার জন্য আল্লাহর নিকট দুয়া করুন। তিনি দুয়া করলেন। এরপর আমি তার কাছে ফিরে এলাম, এমতাবস্থায় সে দরজা বন্ধ (১) করে রেখেছিল। সে বলল: হে আবু হুরায়রা, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি অবহিত করলাম এবং বললাম, আপনি আমার ও আমার মায়ের জন্য আল্লাহর নিকট দুয়া করুন। তিনি বললেন: (হে আল্লাহ, আপনার বান্দা আবু হুরায়রা এবং তার মাকে মানুষের নিকট প্রিয়পাত্র করে দিন)।

হাসান - ‘আল-মিশকাত’ (৫৮৯৫): [আমি এটি কুতুবে সিত্তাহর কোনো কিতাবে খুঁজে পাইনি]। (২)

 

‌‌১৯- পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের প্রতি সদাচরণ

৩৫ - আবু উসাইদ - মালিক ইবনে রাবিআ আল-সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর কি এমন কোনো সদাচরণ অবশিষ্ট আছে যা আমি তাদের সাথে করতে পারি? তিনি বললেন: (হ্যাঁ, চারটি কাজ: তাদের জন্য দুয়া করা, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের অঙ্গীকার বা অসিয়ত বাস্তবায়ন করা, তাদের বন্ধুদের সম্মান করা এবং ঐ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা যা কেবল তাদের মাধ্যমেই তোমার সাথে যুক্ত হয়েছে)।

যঈফ - ‘আদ-দাঈফাহ’ (৫৯৭): [এটি কুতুবে সিত্তাহর কোনো কিতাবে নেই]। (৩)

 

৩৬ - (সা১২) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) - অর্থাৎ বন্ধ করে দিয়েছিল।

(২) * - হাদিসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন ‘সাহাবীগণের ফযীলত’ কিতাবের ‘আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত’ পরিচ্ছেদে।

(৩) * - হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং মুহাক্কিক (রহিমাহুল্লাহ) সুনানে আবু দাউদে (৫১৪২) একে যঈফ বলেছেন; ইবনে মাজাহও (৩৬৬৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনিও একে যঈফ সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
تُرْفَعُ لِلْمَيِّتِ بَعْدَ مَوْتِهِ درجَتُه فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ أَيُّ شَيْءٍ هَذِهِ؟ فَيُقال: ولدُك استغفَرَ لك)

حسن لإسناد.

37 - (ث 13) عن محمد بن سيرين قال: كنا عند أبى هريرة رضي الله عنه لَيْلَةً، فَقَالَ: (اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِي هُرَيْرَةَ وَلِأُمِّي ولمن استغفر لهما) قال مُحَمَّدٌ: فَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُ لَهُمَا حَتَّى نَدْخُلَ فِي دعوة أبى هريرة.

صحيح الإسناد.

 

38 - عن أبى هريرة رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (إِذَا مَاتَ العبدُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُه إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ)

صحيح - «الإرواء» (1580) : [م: 25 - ك الوصية، ح 14]

 

39 - عن ابن عباس رضي الله عنهما أَنَّ رَجُلًا قَالَ:
মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে: হে আমার রব, এটি কিসের জন্য? তখন বলা হয়: তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।

এর সনদ হাসান।

৩৭ - মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা এক রাতে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি বললেন: (হে আল্লাহ! আবু হুরায়রাকে, তার মাকে এবং যারা তাদের উভয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে তাদের ক্ষমা করে দিন)। মুহাম্মাদ বলেন: সুতরাং আমরা তাদের উভয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি যাতে আমরা আবু হুরায়রার দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।

সনদ সহিহ।

 

৩৮ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা এমন নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।)

সহিহ - «আল-ইরওয়া» (১৫৮০) : [মুসলিম: ২৫ - অসিয়ত অধ্যায়, হাদিস ১৪]

 

৩৯ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল:
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوِفِيَت وَلَمْ توصِ أَفَيَنْفَعُهَا أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا؟ قَالَ: (نَعَمْ) .

صحيح - «صحيح أبي دواود» (2566) : خ وغيره. ولم يقف عليه عبد الباقي في شيء من الكتب الستة! (1)

 

‌‌20- باب بر من كان يصله أبوه

40 - عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: مَرَّ أَعْرَابِيٌّ فِي سَفَرٍ فَكَانَ أَبُو الْأَعْرَابِيِّ صديقا لعمر رضي الله عنه، فقال الأعرابي: أَلَسْتَ ابْنَ فُلَانٍ؟ قَالَ: بَلَى، فَأَمَرَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ بِحِمَارٍ كَانَ يَسْتَعْقِبُ (2) وَنَزَعَ عِمَامَتَهُ عَنْ رَأْسِهِ فَأَعْطَاهُ فَقَالَ: بَعْضُ مَنْ مَعَهُ أَمَا يَكْفِيهِ دِرْهَمَانِ؟

فَقَالَ: قَالَ: النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: (احْفَظ وِدَّ أبِيْك لَا تقطعُْه فيُطفىء الله نُورَكَ)

صحيح - «الضعيفة» (2089) : [م: 45- ك البر والصلة، ح11 - 13] . (3)

--------------------------------------------

(1) * -رواه البخاري في كتاب الوصايا باب إذا قال أرضي أو بستاني صدقة لله عن أمي.....

(2) - كان ابن عمر يستصحب حمارا يسترح عليه إذا ضجر من ركوب البعير (النووي)

(3) * - ليس في مسلم هذا اللفظ.
হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা ইন্তেকাল করেছেন এবং তিনি কোনো অসিয়ত করে যাননি। আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে সাদাকা করি, তবে কি তা তাঁর উপকারে আসবে? তিনি বললেন: (হ্যাঁ)।

সহীহ - «সহীহ আবি দাউদ» (২৫৬৬) : বুখারী ও অন্যান্য। আব্দুল বাকী কুতুবে সিত্তাহর কোথাও এটি পাননি! (১)

 

‌‌২০- অনুচ্ছেদ: যার সাথে পিতার সুসম্পর্ক ছিল, তার প্রতি সদাচরণ

৪০ - ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সফরে এক গ্রাম্য ব্যক্তির সাথে দেখা হলো। সেই গ্রাম্য ব্যক্তির পিতা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বন্ধু ছিলেন। গ্রাম্য ব্যক্তিটি বলল: আপনি কি অমুকের পুত্র নন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এরপর ইবনে উমর তাকে একটি গাধা প্রদানের নির্দেশ দিলেন যা পর্যায়ক্রমে আরোহণের জন্য ব্যবহৃত হতো (২) এবং নিজের মাথা থেকে পাগড়িটি খুলে তাকে দিয়ে দিলেন। তাঁর সাথে থাকা কেউ একজন বলল: তার জন্য কি দুই দিরহামই যথেষ্ট ছিল না?

তখন তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমার পিতার ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব রক্ষা করো, তা ছিন্ন করো না; অন্যথায় আল্লাহ তোমার নূর নিভিয়ে দেবেন)

সহীহ - «আদ-দঈফাহ» (২০৮৯) : [মুসলিম: ৪৫- কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, হাদিস ১১ - ১৩]। (৩)

--------------------------------------------

(১) * - বুখারী এটি কিতাবুল ওয়াসায়া-র 'যখন কেউ বলে আমার জমি বা বাগান আল্লাহর জন্য আমার মায়ের পক্ষ থেকে সাদাকা...' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

(২) - ইবনে উমর একটি গাধা সাথে রাখতেন যাতে উটের পিঠে চড়তে চড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তিনি তাতে আরোহণ করে আরাম করতে পারেন (নববী)।

(৩) * - মুসলিমে এই শব্দগুলো নেই।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
41 - عن ابن عمر رضي الله عنهما عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (إِنَّ أَبَّر البِّر أَنْ يصِلَ الرجلُ أهل وِدِّ أبيه)

صحيح - «السلسلة الصحيحة» : (1432، 3063) [م: 45- ك البر والصلة والآداب ح 11و 12 و 13] .

 

‌‌21- بَابُ لَا تَقْطَعْ مَنْ كَانَ يَصِلُ أَبَاكَ فيطفأ نورك

42 - (ث 14) عن عبد الله بن لا حق قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ مَعَ عمرو بن عثمان فَمَرَّ بنا عبد الله بن سلام متكئا على بن أَخِيهِ فَنَفَذَ عَنِ الْمَجْلِسِ ثُمَّ عَطَفَ عَلَيْهِ فَرَجَعَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ: مَا شِئْتَ عَمْرَو بْنَ عُثْمَانَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا فَوَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ إِنَّهُ لَفِي كتاب عز وجل مَرَّتَيْنِ (لَا تَقْطَعْ مَنْ كَانَ يصل أباك فيطفأ بذلك نورك) .

ضعيف الإسناد، سعد الرزقي مجهول
৪১ - ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (সর্বোত্তম পুণ্য কাজ হলো কোনো ব্যক্তির তার পিতার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।)

সহিহ - «আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ»: (১৪৩২, ৩০৬৩) [মুসলিম: ৪৫- কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব, হাদিস নং ১১, ১২ ও ১৩]।

 

‌‌২১- অধ্যায়: যে ব্যক্তি তোমার পিতার সাথে সুসম্পর্ক রাখত তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, অন্যথায় তোমার নূর (জ্যোতি) নিভে যাবে

৪২ - (সা ১৪) আবদুল্লাহ ইবনে লাহিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মদিনার মসজিদে আমর ইবনে উসমানের সাথে বসে ছিলাম। এমতাবস্থায় আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের ওপর ভর দিয়ে আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি মজলিস অতিক্রম করে যাওয়ার পর পুনরায় আমাদের দিকে ফিরে আসলেন। অতঃপর তিনি দুই বা তিনবার বললেন: "আমর ইবনে উসমান! তুমি যা চাও (তা-ই করো)।" অতঃপর বললেন: "সেই সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাবে দুইবার রয়েছে—(তোমার পিতার সাথে যার সুসম্পর্ক ছিল তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, অন্যথায় এর ফলে তোমার নূর নিভে যাবে)।"

সনদটি দুর্বল, সা’দ আর-রিজকি অপরিচিত (মাজহুল)।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌22- باب الود يتوارث

43 - عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: كَفَيْتُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال: (إن الوِّدَ يَتَوَارَث)

ضعبف - «الضعيفة» (3161) .

 

‌‌23- بَابُ لَا يُسَمِّي الرَّجُلُ أَبَاهُ وَلَا يَجْلِسُ قبله ولا يمشى أمامه

44 - (ث 15) عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه أَبْصَرَ رَجُلَيْنِ فَقَالَ: لِأَحَدِهِمَا مَا هَذَا مِنْكَ؟ فَقَالَ أَبِي فَقَالَ: (لَا تُسَمِّهِ بِاسْمِهِ وَلَا تمش أمامه ولا تجلس قبله)

صحيح الإسناد
২২- অধ্যায়: ভালোবাসা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়

৪৩ - আবু বকর ইবনে হাযম থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তোমার জন্য যথেষ্ট তথ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই ভালোবাসা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়)

যয়ীফ - «আদ-দাঈফাহ» (৩১৬১)।

 

‌২৩- অধ্যায়: ব্যক্তি তার পিতাকে নাম ধরে ডাকবে না, তার আগে বসবে না এবং তার সামনে হাঁটবে না

৪৪ - (সা ১৫) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি দুই ব্যক্তিকে দেখলেন এবং তাদের একজনকে জিজ্ঞেস করলেন: এই ব্যক্তি তোমার কে হয়? সে বলল: আমার পিতা। তখন তিনি বললেন: (তুমি তাকে নাম ধরে ডাকবে না, তার সামনে হাঁটবে না এবং তার আগে বসবে না)

সনদ সহীহ
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌24- باب هل يكنى أباه

45 - (ث 16) عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ سَالِمٌ: (الصَّلَاةَ يَا أبا عبد الرحمن)

ضعيف الإسناد، لصعيف شهر من قبل حفظه.

 

46 - (ث 17) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: (لكن أبو حفص عُمرُ قضى)

صحيبح الإسناد.

 

‌‌25- باب وجوب وصلة الرحم

47 - عن بكر بن الحارث الأنماري رضي الله عنه -وقيل اسمه كليب -: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أبرُّ؟ قَالَ: (أُمَّكَ وَأَبَاكَ، وَأُخْتَكَ وَأَخَاكَ، وَمَوْلَاكَ الَّذِي يَلِي ذَاكَ، حقٌ واجبٌ ورَحمٌ موصولة)

 

ضعيف - «الإرواء» (837، 2163) .
২৪- অনুচ্ছেদ: পিতাকে কি কুনিয়াত (উপনাম) দিয়ে ডাকা যাবে?

৪৫ - (১৬) শাহর বিন হাওশাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনে উমরের সাথে বের হলাম, তখন সালেম তাকে বললেন: (হে আবু আব্দুর রহমান, সালাতের সময় হয়েছে)

এর সানাদ দুর্বল, শাহরের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে।

 

৪৬ - (১৭) ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (কিন্তু আবু হাফস উমর ফয়সালা করেছেন)

সানাদটি সহীহ।

 

‌২৫- অনুচ্ছেদ: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আবশ্যকতা

৪৭ - বকর বিন আল-হারিস আল-আনমারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত—এবং বলা হয় তার নাম কুলাইব—: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কার সাথে সবচেয়ে বেশি সদাচরণ করব? তিনি বললেন: (তোমার মা, তোমার বাবা, তোমার বোন, তোমার ভাই এবং তোমার সেই আযাদকৃত দাস যে এর পরবর্তী স্তরের নিকটবর্তী; এটি একটি সুনিশ্চিত অধিকার এবং রক্ষাযোগ্য আত্মীয়তার সম্পর্ক)

 

যঈফ - «আল-ইরওয়া» (৮৩৭, ২১৬৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
48 - عن أبى هريرة رضي الله عنه قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ (وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ) (1) ، قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَنَادَى: (يَا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤي أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بَنِي هَاشِمٍ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ. فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّ لكم رحماً سأبُلُّها بِبِلالِهَا)

صحيح - «الصحيحة (3177) : [خ: 55 - ك الوصايا، 11 - ب يدخل النساء والولد في الأقارب؟ . م: 1-ك الإيمان، ح 348] (2) .

--------------------------------------------

(1) - (سورة الشعراء: 214)

(2) * - ليس عند البخاري بهذا اللفظ.
৪৮ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো— (আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন) (১), তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং ডাক দিলেন: (হে কাব বিন লুয়াই-এর বংশধরগণ! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে আবদে মানাফ-এর বংশধরগণ! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে হাশেম-এর বংশধরগণ! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে আবদুল মুত্তালিব-এর বংশধরগণ! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। হে মুহাম্মাদ-এর কন্যা ফাতিমা! তুমি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। কেননা আল্লাহর পাকড়াও হতে তোমাকে বাঁচাতে আমার কোনো ক্ষমতা নেই; তবে তোমাদের সাথে আমার যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, আমি তা যথাযথভাবে বজায় রাখব।)

সহীহ - আস-সহীহাহ (৩১৭৭) : [বুখারি: ৫৫ - অসিয়ত অধ্যায়, ১১ - পরিচ্ছেদ: নারীরা এবং সন্তানরা কি নিকটাত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত হবে? মুসলিম: ১- ঈমান অধ্যায়, হাদিস ৩৪৮] (২)।

--------------------------------------------

(১) - (সূরা আশ-শুআরা: ২১৪)

(২) * - বুখারিতে এই শব্দে বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌26- باب صلة الرحم

49 - عن أبى أيوب الأنصاري رضي الله عنه أن أعرابيا عَرَض للنبي صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرِهِ فَقَالَ: أَخْبِرْنِي مَا يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: (تعبدُ اللَّهَ وَلَا تشركُ بِهِ شَيْئًا، وتقيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وتصلُ الرَّحِمَ) .

صحيح - «الترغيب (743) : [خ: 24- ك الزكاة، 1- ب وجوب الزكاة. م: 1 - ك الإيمان ح 12]

 

50 - عن أبى هريرة رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (خَلَقَ اللَّهُ عز وجل الخَلْق فَلَمَّا فرغَ مِنه قَامَتِ الرَّحِم فَقَالَ: مَهْ، قَالَتْ: هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ بِكَ مِنَ الْقَطِيعَةِ، قَالَ: أَلَا تَرْضَيْنَ أَنْ أصِلَ مَنْ وَصَلَكِ وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ: بَلَى يَا رَبِّ، قَالَ: فذلك لك،) ثم قال أبو هريرة اقرأوا إِنْ شِئْتُمْ: (فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ) (1) .

--------------------------------------------

(1) - (سورة محمد: 22)
২৬- আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার অধ্যায়

৪৯ - আবু আইয়ুব আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথিমধ্যে তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে বলল: আমাকে এমন আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: (তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে)।

সহিহ - «আত-তারগিব (৭৪৩) : [বুখারি: ২৪- জাকাত অধ্যায়, ১- জাকাত ওয়াজিব হওয়া পরিচ্ছেদ। মুসলিম: ১- ঈমান অধ্যায়, হাদিস ১২]

 

৫০ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যখন সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করে শেষ করলেন, তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক দাঁড়িয়ে গেল। আল্লাহ বললেন: থামো! সে বলল: আত্মীয়তা ছিন্ন করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর দাঁড়ানোর স্থান এটি। তিনি বললেন: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক যুক্ত রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক যুক্ত রাখব, আর যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব? সে বলল: অবশ্যই, হে আমার রব! তিনি বললেন: তোমার জন্য তা-ই হবে।) তারপর আবু হুরায়রা বললেন, তোমরা চাইলে পাঠ করো: (তবে কি তোমরা এই আশা করছ যে, যদি তোমরা ক্ষমতা লাভ করো তবে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে) (১)।

--------------------------------------------

(১) - (সুরা মুহাম্মদ: ২২)
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
صحيح - «السلسلة الصحيحة» (2741) : [خ: 65- ك التفسير، 47- سورة محمد صلى الله علية وسلم. م 45- ك البر والصلة والآداب، ح13]

51 - (ث 18) عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى: (وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلا تُبَذِّرْ تَبْذِيراً) (1) . قَالَ: بَدَأَ فأمَرَهُ بِأَوْجَبِ الْحُقُوقِ ودلَّه عَلَى أَفْضَلِ الْأَعْمَالِ إِذَا كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَقَالَ: (وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ) وعلَّمه إِذَا لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ شَيْءٌ كَيْفَ يَقُولُ فَقَالَ: (وَإِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ابْتِغَاءَ رَحْمَةٍ مِنْ رَبِّكَ تَرْجُوهَا فَقُلْ لَهُمْ قَوْلاً مَيْسُوراً) (2) . عِدَةً حَسَنَةً كَأَنَّهُ قَدْ كَانَ ولعلَّه أَنْ يَكُونَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ: (وَلا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ) (3) . لَا تُعْطِي شَيْئًا: (وَلا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ) . تعطى ما عندك (فَتَقْعُدَ مَلُوماً) يَلُومُكَ مَنْ يَأْتِيكَ بَعْدُ وَلَا يجدُ عِنْدَكَ شيئا (مَحْسُوراً) قال: قد حسَّرك مَنْ قد أعطيتَهُ.

ضعيف الإسناد، محمد بن أبي موسى لا يعرف، والراوي عنه أبو سعد - واسمة سعيد بن المرزيان - مدلس.

--------------------------------------------

(1) - (سورة الاسراء: 26)

(2) - (سورة الاسراء: 28)

(3) - (سورة الاسراء: 29)
সহিহ - «আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ» (২৭৪১) : [বুখারি: ৬৫- কিতাবুত তাফসির, ৪৭- সুরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মুসলিম ৪৫- কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব, হাদিস ১৩]

৫১ - (ছা ১৮) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বর্ণিত: "আর আত্মীয়-স্বজনকে তার প্রাপ্য দান করো এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় করো না।" (১) । তিনি বলেন: আল্লাহ শুরু করেছেন এবং তাকে সবচেয়ে অপরিহার্য অধিকারসমূহ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকে শ্রেষ্ঠ আমলগুলোর দিকে পথ দেখিয়েছেন যখন তার কাছে কিছু থাকে। তিনি বলেছেন: "আর আত্মীয়-স্বজনকে তার প্রাপ্য দান করো এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও।" আর যখন তার নিকট কিছু না থাকে তখন তিনি কী বলবেন তা-ও তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আর যদি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোনো রহমত লাভের আশায়—যার তুমি প্রত্যাশা করো—তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেই হয়, তবে তাদের সাথে নরম কথা বলো।" (২) । অর্থাৎ সুন্দর প্রতিশ্রুতি দেওয়া, যেন তা হয়েই গেছে এবং ইনশাআল্লাহ হয়তো তা হবে। "আর তুমি তোমার হাত তোমার গ্রীবায় আবদ্ধ করে রেখো না" (৩) । অর্থাৎ তুমি কিছুই দান করবে না এমন যেন না হয়। "এবং তা সম্পূর্ণ প্রসারিত করো না" । অর্থাৎ তোমার কাছে যা আছে সব দিয়ে দেওয়া। "ফলে তুমি তিরস্কৃত হয়ে বসে পড়বে" । অর্থাৎ পরে যারা তোমার কাছে আসবে এবং তোমার কাছে কিছু পাবে না, তারা তোমাকে তিরস্কার করবে। "নিঃস্ব হয়ে" । তিনি বলেন: যাকে তুমি দান করেছ সে তোমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

সনদ দুর্বল, মুহাম্মদ বিন আবি মুসা অপরিচিত, আর তার থেকে বর্ণনাকারী আবু সাদ — যার নাম সাঈদ বিন মারযিয়ান — একজন মুদাল্লিস।

--------------------------------------------

(১) - (সুরা আল-ইসরা: ২৬)

(২) - (সুরা আল-ইসরা: ২৮)

(৩) - (সুরা আল-ইসরা: ২৯)
(খণ্ড: ১) আল-আদাবুল মুফরাদ - বিআহকামিল আলবানী - তাহকীক আয-যুহাইরী (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌27- باب فضل صلة الرحم

52 - عن أبى هريرة رضي الله عنه قَالَ: أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي قَرَابَةً أَصِلُهم ويقطعونِ، وأحسنُ إِلَيْهِمْ وَيُسِيئُونَ إليَّ، وَيَجْهَلُونَ عليَّ وَأَحْلُمُ عَنْهُمْ، قَالَ: (لَئِنْ كَانَ كَمَا تَقُولُ كَأَنَّمَا تُسِفُّهُم المَلَّ (1) ، وَلَا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظهيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمت على ذلك) .

صحيح - «السلسلة الصحيحة» (2597) : [م: 45- ك البر والصلة والآداب، ح 22] .

 

53 - عن عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: (قَالَ اللَّهُ عز وجل: أَنَا الرَّحْمَنُ وَأَنَا خَلَقْتُ الرَّحِمَ واشتققتُ لَهَا مِنَ اسْمِي فَمَنْ وَصَلَهَا وصلتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بتَتُّه)

--------------------------------------------

(1) - الرماد الحار
২৭- আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার ফযিলত অধ্যায়

৫২ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার কিছু আত্মীয় আছে, আমি তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখি কিন্তু তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমি তাদের সাথে সদাচরণ করি কিন্তু তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে, তারা আমার সাথে মূর্খতাসূলভ আচরণ করে কিন্তু আমি তাদের সাথে সহনশীলতা প্রদর্শন করি। তিনি বললেন: (যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমনটি তুমি বলছ, তবে তুমি যেন তাদেরকে উত্তপ্ত ছাই খাওয়াচ্ছ। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার সাথে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে একজন সাহায্যকারী থাকবেন যতক্ষণ তুমি এই অবস্থায় অবিচল থাকবে)।

সহীহ - «আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ» (২৫৯৭) : [মুসলিম: ৪৫- নেকি, সুসম্পর্ক ও শিষ্টাচার অধ্যায়, হাদিস ২২] ।

 

৫৩ - আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: (আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: আমি রহমান, আমিই আত্মীয়তার বন্ধন (রহিম) সৃষ্টি করেছি এবং একে আমার নাম থেকে নির্গত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বন্ধন বজায় রাখবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক রাখব। আর যে এই বন্ধন ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব)

--------------------------------------------

(১) - উত্তপ্ত ছাই