(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الصيام في الإسلام في ضوء الكتاب والسنة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الصيام في الإسلام في ضوء الكتاب والسنة - مفهومٌ، وفضائلُ، وفوائدُ، وخصائصُ، وشروط، وأركان، ومسائل، وآداب، وحكمٌ، وأحكامٌ
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مركز الدعوة والإرشاد بالقصب
الطبعة: الثانية، 1431 هـ - 2010 م
عدد الصفحات: 759
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামে সিয়াম বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামে সিয়াম - সংজ্ঞা, ফযিলত, উপকারিতা, বৈশিষ্ট্যসমূহ, শর্তাবলী, রোকনসমূহ, মাসায়েল, আদবসমূহ, তাৎপর্য, ও বিধানাবলী
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: মার্কাজুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ বিল কাসাব
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩১ হিজরী - ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল ক্বাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الصيام في الإسلام
في ضوء الكتاب والسنة
مفهومٌ، وفضائلُ، وفوائدُ، وخصائصُ، وشروط، وأركان، ومسائل، وآداب، وحكمٌ، وأحكامٌ
تأليف الفقير إلى الله تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
ইসলামে সিয়াম
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
সংজ্ঞা, ফযিলত, উপকারিতা, বৈশিষ্ট্যসমূহ, শর্তাবলি, রোকনসমূহ, মাসয়ালাসমূহ, আদবসমূহ, হিকমত ও বিধানাবলি
আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত
ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনী
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
4 - الصيام في الإسلام في ضوء الكتاب والسنة
مركز الدعوة والإرشاد بالقصب، 1431هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر.
القحطاني، سعيد بن علي بن وهف
أركان الإسلام./ سعيد بن علي بن وهف القحطاني - القصب، 1431هـ
5 مج.
ردمك: 5 - 0 - 90179 - 603 - 978 (مجموعة)
3 - 4 - 90179 - 603 - 978 (ج4)
(خمسة أجزاء في صندوق واحد)
1 - الإسلام 2 - العبادات (فقه إسلامي) 3 - التربية الإسلامية.
أ. العنوان
ديوي 252
… ...
… ...
… ...
… ...
… 4396/ 1431
رقم الإيداع: 4396/ 1431
ردمك: 5 - 0 - 90179 - 603 - 978 (مجموعة)
3 - 4 - 90179 - 603 - 978 (ج4)
الطبعة الأولى: شعبان 1428هـ- 2008م
الطبعة الثانية: شوال 1431هـ- 2010م
৪ - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামে রোজা
দাওয়াহ ও ইরশাদ কেন্দ্র, আল-কাসাব, ১৪৩১ হিজরী
প্রকাশনা কালীন কিং ফাহাদ জাতীয় লাইব্রেরির তালিকাভুক্তি।
আল-কাহতানি, সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ
ইসলামের রুকনসমূহ।/ সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি - আল-কাসাব, ১৪৩১ হিজরী
৫ খণ্ড।
আইএসবিএন: ৫ - ০ - ৯০১৭৯ - ৬০৩ - ৯৭৮ (সমষ্টি)
৩ - ৪ - ৯০১৭৯ - ৬০৩ - ৯৭৮ (৪র্থ খণ্ড)
(এক বক্সে পাঁচটি অংশ)
১ - ইসলাম ২ - ইবাদত (ইসলামী ফিকহ) ৩ - ইসলামী শিক্ষা।
ক. শিরোনাম
ডিউই ২৫২
… ...
… ...
… ...
… ...
… ৪৩৯৬/ ১৪৩১
জমা নম্বর: ৪৩৯৬/ ১৪৩১
আইএসবিএন: ৫ - ০ - ৯০১৭৯ - ৬০৩ - ৯৭৮ (সমষ্টি)
৩ - ৪ - ৯০১৭৯ - ৬০৩ - ৯৭৮ (৪র্থ খণ্ড)
প্রথম সংস্করণ: শাবান ১৪২৮ হিজরী- ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
দ্বিতীয় সংস্করণ: শাওয়াল ১৪৩১ হিজরী- ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فهذه رسالة في ((الصيام في الإسلام)) بيّنت فيها بإيجاز: كل ما يحتاجه المسلم في صيامه، وقرنت ذلك بالأدلة من الكتاب والسنة، فما كان من صواب فمن الله الواحد المنَّان، وما كان من خطأ أو تقصير: فمني ومن الشيطان، والله بريء منه ورسوله صلى الله عليه وسلم (1).
وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز، رفع الله منزلته، وغفر له، وجزاه عني وعن المسلمين خيراً.
وقد قسمت البحث إلى عدة مباحث على النحو الآتي:
--------------------------------------------
পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার ওপর অবারিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
এটি ‘ইসলামে সিয়াম’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যাতে আমি একজন মুসলিমের সিয়াম পালনে যা যা প্রয়োজন তা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি এবং বিষয়গুলোকে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের সাথে যুক্ত করেছি। এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা মূলত এক ও সুমহান দাতা আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর যা কিছু ভুল বা ত্রুটি হয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ থেকে মুক্ত (১)।
আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ-এর বর্ণনা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং আমার ও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি এই গবেষণাটিকে নিম্নোক্ত কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
المبحث الأول: مفهوم الصيام: لغة، وشرعاً.
المبحث الثاني: فضائل الصيام وخصائصه.
المبحث الثالث: فوائد الصيام ومنافعه العظيمة.
المبحث الرابع: فضائل شهر رمضان وخصائصه.
المبحث الخامس: حكم صيام شهر رمضان ومراتب فرضيته.
المبحث السادس: ثبوت دخول شهر رمضان وخروجه.
المبحث السابع: أنواع الصيام وأقسامه.
المبحث الثامن: شروط الصيام.
المبحث التاسع: أركان الصيام.
المبحث العاشر: تيسير الله تعالى في الصيام.
المبحث الحادي عشر: أهل الأعذار المبيحة للفطر في نهار رمضان.
المبحث الثاني عشر: المفطرات: مفسدات الصيام.
المبحث الثالث عشر: شروط المفطرات.
المبحث الرابع عشر: الصيام في بلاد يطول فيها النهار.
المبحث الخامس عشر: آداب الصيام الواجبة.
المبحث السادس عشر: محرمات الصيام.
المبحث السابع عشر: آداب الصيام المستحبة.
المبحث الثامن عشر: مكروهات الصيام.
المبحث التاسع عشر: مباحات الصيام.
المبحث العشرون: قضاء الصيام.
المبحث الحادي والعشرون: صلاة التراويح.
المبحث الثاني والعشرون: أخطاء يقع فيها بعض الصائمين.
المبحث الثالث والعشرون: صيام التطوع.
المبحث الرابع والعشرون: الصيام المحرم والمكروه.
المبحث الخامس والعشرون: ليلة القدر.
المبحث السادس والعشرون: الاعتكاف.
المبحث السابع والعشرون: فضائل وخصائص العشر الأواخر.
প্রথম পরিচ্ছেদ: রোযার ধারণা: শাব্দিক ও শরয়ী অর্থ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রোযার ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রোযার উপকারিতা ও এর মহান কল্যাণসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রমযান মাসের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রমযান মাসের রোযার বিধান ও এর ফরয হওয়ার স্তরসমূহ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: রমযান মাস শুরু ও শেষ হওয়া সাব্যস্ত হওয়া।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: রোযার প্রকারভেদ ও এর শ্রেণীবিভাগ।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: রোযার শর্তাবলী।
নবম পরিচ্ছেদ: রোযার রুকনসমূহ।
দশম পরিচ্ছেদ: রোযার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলার সহজীকরণ।
একাদশ পরিচ্ছেদ: রমযানের দিনে রোযা ভঙ্গের অনুমতিপ্রাপ্ত ওযরগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গ।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: রোযা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ: যা রোযাকে নষ্ট করে।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: রোযা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের শর্তাবলী।
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: দীর্ঘ দিন বিশিষ্ট দেশসমূহে রোযা পালন।
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: রোযার ওয়াজিব আদবসমূহ।
ষোড়শ পরিচ্ছেদ: রোযার নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ।
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: রোযার মুস্তাহাব আদবসমূহ।
অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: রোযার মাকরূহ বিষয়সমূহ।
উনবিংশ পরিচ্ছেদ: রোযার বৈধ বিষয়সমূহ।
বিংশ পরিচ্ছেদ: রোযার কাযা।
একবিংশ পরিচ্ছেদ: তারাবীহর সালাত।
দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ: কিছু রোযাদারের সংঘটিত ভুলসমূহ।
ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ: নফল রোযা।
চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ: হারাম ও মাকরূহ রোযা।
পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ: লাইলাতুল কদর।
ষড়বিংশ পরিচ্ছেদ: ইতিকাফ।
সপ্তবিংশ পরিচ্ছেদ: শেষ দশকের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الثامن والعشرون: فضائل تلاوة القرآن الكريم في رمضان وغيره، وآدابها وأثرها.
المبحث التاسع والعشرون: زكاة الفطر من رمضان.
المبحث الثلاثون: آداب العيد.
والله أسأل أن يجعل هذا العمل القليل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، مقرّباً لمؤلفه، وقارئه، وناشره من الفردوس الأعلى، أعلى جنات النعيم، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وأن ينفع به كلَّ من انتهى إليه؛ إنه سميع مجيب، قريب، خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم، وبارك على خيرته من خلقه، وأمينه على وحيه، نبينا وإمامنا وأسوتنا محمد بن عبد الله، وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أبو عبد الرحمن
سعيد بن علي بن وهف القحطاني
حرر بعد عصر يوم الأحد 26/ 4/1428هـ.
আঠাশতম পরিচ্ছেদ: রমজান ও অন্যান্য সময়ে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত, আদব এবং এর প্রভাব।
ঊনত্রিশতম পরিচ্ছেদ: রমজানের জাকাতুল ফিতর।
ত্রিশতম পরিচ্ছেদ: ঈদের আদবসমূহ।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সামান্য কাজটিকে বরকতময়, উপকারী এবং শুধুমাত্র তাঁর মহান সত্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন। এটি যেন এর লেখক, পাঠক এবং প্রকাশককে জান্নাতুল ফিরদাউসের—যা নিয়ামতে ভরপুর জান্নাতসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ—নিকটবর্তী করে। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে উপকৃত করেন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, কবুলকারী এবং অতি নিকটবর্তী। তিনি সর্বোত্তম যাচিত সত্তা এবং শ্রেষ্ঠ আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান ও উচ্চমর্যাদাবান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত ব্যক্তি এবং তাঁর ওহীর আমানতদার—আমাদের নবী, ইমাম ও আদর্শ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
আবু আব্দুর রহমান
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি
২৬/০৪/১৪২৮ হিজরি, রবিবার আসরের পর লিখিত।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الأول: مفهوم الصيام: لغة وشرعاً
1 - الصوم والصيام لغة: الإمساك (1)، يقال: صام النهار إذ وقف سير الشمس، قال الله تعالى إخباراً عن مريم: {إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا} (2) أي: صمتاً؛ لأنه إمساك عن الكلام، ويفسره قوله تعالى:
{فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا} (3).
وقال الشاعر النابغة الذبياني:
خَيْلٌ صِيامٌ وخَيْلٌ غَيْرُ صَائِمَةٍ
… تَحْتَ العَجَاجِ وأُخْرَى تَعْلُكُ اللُّجُمَا
يعني بالخيل الصائمة: القائمة بلا اعتلاف، وقيل: الممسكة عن الصهيل (4).
والصيام: مصدر صام يصوم صوماً وصياماً (5).
2 - الصوم شرعاً: قيل: ((هو عبارة عن إمساك مخصوص: وهو
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সিয়ামের ধারণা: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ১ - অভিধানে সাওম ও সিয়ামের অর্থ: বিরত থাকা (১), বলা হয়: 'সওমান নাহার' (দিন রোজা রেখেছে), যখন সূর্যের গতি থেমে যায়। আল্লাহ তাআলা মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর কথা সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {নিশ্চয় আমি পরম দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাওম (রোজা) মানত করেছি} (২) অর্থাৎ: মৌনতা বা চুপ থাকা; কারণ এটি কথা বলা থেকে বিরত থাকা, আর আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারাই এর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়:
{অতএব আমি আজ কোন মানুষের সাথে কথাই বলব না} (৩)।
কবি নাবিগাহ আল-জুবইয়ানি বলেছেন:
কিছু ঘোড়া রোজা অবস্থায় (স্থির) রয়েছে এবং কিছু ঘোড়া রোজা অবস্থায় নেই
… ধূলিঝড়ের মাঝে, আর অন্যগুলো তাদের লাগাম চিবোচ্ছে।
'রোজা রাখা ঘোড়া' বলতে বুঝানো হয়েছে: যারা ঘাস খাওয়া ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে, আবার কেউ কেউ বলেছেন: যারা হ্রেষাধ্বনি (ঘোড়ার ডাক) থেকে বিরত রয়েছে (৪)।
আর সিয়াম হলো: 'সামা-ইয়াসুমু-সাওমান-ওয়া-সিয়ামান' ক্রিয়ার মূল (৫)।
২ - শরিয়তের পরিভাষায় সাওম: বলা হয়েছে: ((এটি একটি বিশেষ বিরত থাকার নাম: আর তা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإمساك عن الأكل، والشرب، والجماع من الصبح إلى المغرب مع النية)) (1).
وقيل: هو عبارة عن إمساك عن أشياء مخصوصة في وقت مخصوص (2).
وقيل: ((هو عبارة: عن إمساك مخصوص، في وقت مخصوص، على وجه مخصوص)) (3).
وقيل: ((هو الإمساك عن المفطر على وجه مخصوص)) (4).
وقيل: ((إمساكٌ بِنِيَّةٍ عن أشياء مخصوصة، في زمن معيَّن، من شخص مخصوص)) (5).
وقيل: ((هو: الإمساك عن الأكل والشرب والجماع وغيرها مما ورد به الشرع في النهار على الوجه المشروع)) (6) (7).
وقيل: الإمساك عن الأكل والشرب والجماع، وغيرها مما ورد به
--------------------------------------------
নিয়তের সাথে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনমিলন থেকে বিরত থাকা (১)।
এবং বলা হয়েছে: এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকার নাম (২)।
এবং বলা হয়েছে: ((এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট বিষয় থেকে বিরত থাকার নাম)) (৩)।
এবং বলা হয়েছে: ((এটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা)) (৪)।
এবং বলা হয়েছে: ((একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় থেকে নিয়তসহকারে বিরত থাকা)) (৫)।
এবং বলা হয়েছে: ((এটি হলো দিনের বেলা শরয়ি পদ্ধতিতে পানাহার, যৌনমিলন এবং শরয়ি দলিলে বর্ণিত অন্যান্য বিষয় থেকে বিরত থাকা)) (৬) (৭)।
এবং বলা হয়েছে: পানাহার, যৌনমিলন এবং অন্যান্য যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে বিরত থাকা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الشرع في النهار على الوجه المشروع، ويتبع ذلك الإمساك عن الرفث والجهل وغيرها من الكلام المحرم والمكروه (1).
وقيل: إمساك مخصوص من شخص مخصوص، عن شيء مخصوص، في زمنٍ مخصوص (2).
و
المختار في تعريف الصيام شرعاً: أن يُقال:
((هو التعبد لله تعالى بالإمساك بنية: عن الأكل، والشرب، وسائر المفطرات، من طلوع الفجر الثاني إلى غروب الشمس، من شخص مخصوص، بشروط مخصوصة)) (3).
وسمي الصيام صبراً؛ لحديث: ((صوم شهر الصبر وثلاثة أيام من كل شهر يذهبن وحر الصدر)) (4) (5).
وقد قيل: إنه عُني بقوله: {وَاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ} (6)؛ لأن
--------------------------------------------
শরীয়ত অনুযায়ী দিনের বেলা শরীয়তসম্মত উপায়ে বিরত থাকা, এবং এর সাথে সাথে অশ্লীলতা, মূর্খতা ও অন্যান্য হারাম ও মাকরূহ কথা থেকে বিরত থাকা (১)।
আরও বলা হয়েছে: এক বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক, বিশেষ সময়ে, বিশেষ কিছু বস্তু হতে বিশেষ পদ্ধতিতে বিরত থাকা (২)।
ও
শরীয়তের পরিভাষায় সিয়ামের সংজ্ঞায় পছন্দনীয় মত হলো: এই বলা যে:
((নিয়তসহকারে মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সিয়াম ভঙ্গকারী সকল বিষয় থেকে বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক বিশেষ শর্তাবলীতে বিরত থাকা)) (৩)।
আর সিয়ামকে ধৈর্য বা 'সবর' হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ হাদিসে এসেছে: ((ধৈর্যের মাস (রমজান) এবং প্রতি মাসের তিন দিন সিয়াম পালন করা অন্তরের কালিম দূর করে দেয়)) (৪) (৫)।
আর বলা হয়েছে যে, আল্লাহর বাণী: {তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো} (৬) দ্বারা একেই (সিয়াম) বোঝানো হয়েছে; কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الصائم يُصبِّر نفسه عن شهواتها (1).
وسمي أيضاً: السياحة (2).
--------------------------------------------
রোযাদার নিজের প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখে ধৈর্যধারণ করায় (১)।
একে ‘সিয়াহাত’ (ভ্রমণ)-ও নামকরণ করা হয়েছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: فضائل الصيام وخصائصهالصيام له فضائل وخصائص عظيمة على النحو الآتي:
1 - الصيام من الأعمال التي يُعِدُّ الله بها المغفرة والأجر العظيم؛ لقول الله تعالى: {إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ الله كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ الله لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} (1).
2 - الصيام خير للمسلم لو كان يعلم؛ لقول الله تعالى: {وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُون} (2).
3 - الصيام سبب من أسباب التقوى؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون} (3).
4 - الصوم جُنة، يستجنُّ بها العبد المسلم من النار؛ لحديث جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((قال ربنا عز وجل: الصيامُ جنةٌ يستجنُّ بها العبدُ من النار (4)،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সিয়ামের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যসমূহসিয়ামের মহান ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১ - সিয়াম সেই সকল আমলের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও সিয়াম পালনকারী নারী, নিজেদের লজ্জাস্থান হিফাযতকারী পুরুষ ও হিফাযতকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও স্মরণকারী নারী—আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন।} (১)।
২ - সিয়াম মুমিনের জন্য কল্যাণকর যদি সে জানত; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর তোমাদের সিয়াম পালন করা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।} (২)।
৩ - সিয়াম তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} (৩)।
৪ - সিয়াম হলো ঢাল, যার মাধ্যমে মুসলিম বান্দা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা করে; জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((আমাদের প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: সিয়াম হলো ঢাল, যার মাধ্যমে বান্দা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পায় (৪),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وهو لي وأنا أجزي به)) (1).
وعن كعب بن عُجرة رضي الله عنه قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أُعيذك بالله يا كعبَ بن عُجْرَةَ من أُمراءَ يكونون من بعدي، فمن غشي أبوابَهم فصدَّقهم في كذبهم، وأعانهم على ظلمهم، فليس منِّي ولستُ منه، ولا يرِدُ عليَّ الحوض، ومن غَشِيَ أبوابهم أو لم يغشَ فلم يصدقهم في كذبهم ولم يُعنهم على ظلمهم فهوَ منِّي وأنا منه، وسَيَرِدُ عليَّ الحوض، يا كعبَ بنَ عُجرةَ: الصلاةُ برهانٌ، والصومُ جنّةٌ حصينةٌ، والصدقةُ تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماءُ النارَ، يا كعبَ بنَ عُجرةَ، إنه لا يدخل الجنة لحمٌ نَبَتَ من سُحْتٍ، النارُ أولى به، يا كعبَ بنَ عُجرةَ، الناسُ غاديان: فمبتاعٌ نَفْسَه فمُعْتقها، وبائعٌ نَفْسَه فمُوبِقُها)) (2).
وعن عثمان بن أبي العاص رضي الله عنه قال: إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((الصيامُ جُنَّةٌ كجُنَّةِ أحدكم من القتال)) قال: وكان آخر ما عَهِدَ إليَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم حين بعثني إلى الطائف قال: ((يا عثمان تجوَّز في الصلاة؛ فإن في القوم الكبير وذا الحاجة))، وفي لفظ: ((الصيام جُنَّةٌ من النار كجُنَّةِ أحدكم من القتال)) (3).
--------------------------------------------
এবং তা আমারই জন্য আর আমিই তার প্রতিদান দেব (১)।
কা'ব ইবনে উজরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন: "হে কা'ব ইবনে উজরাহ! আমি তোমাকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন সব আমীরদের (নেতাদের) থেকে যারা আমার পরে আসবে। যারা তাদের দ্বারে উপস্থিত হবে অতঃপর তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নেবে এবং তাদের জুলুমে তাদের সাহায্য করবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তার অন্তর্ভুক্ত নই; আর সে আমার হাউজের নিকট উপস্থিত হতে পারবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাদের দ্বারে যাবে কিংবা যাবে না, কিন্তু তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নেবে না এবং তাদের জুলুমে তাদের সাহায্য করবে না, সে আমার অন্তর্ভুক্ত এবং আমিও তার অন্তর্ভুক্ত; আর সে অচিরেই আমার হাউজের নিকট উপস্থিত হবে। হে কা'ব ইবনে উজরাহ! সালাত হলো প্রমাণ, আর সিয়াম (রোজা) হলো মজবুত ঢাল, আর সাদাকা গুনাহকে মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। হে কা'ব ইবনে উজরাহ! হারাম উপার্জনে গঠিত মাংস জান্নাতে প্রবেশ করবে না, জাহান্নামই তার জন্য অধিকতর উপযোগী। হে কা'ব ইবনে উজরাহ! মানুষ দুই ধরনের: একদল যারা নিজেকে (আল্লাহর আনুগত্যের বিনিময়ে) বিক্রয় করে তাকে মুক্ত করে, আর অন্য দল যারা নিজেকে বিক্রয় করে (শয়তানের অনুসারী হয়ে) তাকে ধ্বংস করে" (২)।
উসমান ইবনে আবিল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "সিয়াম হলো ঢালস্বরূপ, যেমন যুদ্ধের ময়দানে তোমাদের কারো ঢাল থাকে।" তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তায়েফে পাঠানোর সময় সর্বশেষ আমাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হলো: "হে উসমান! সালাতে সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করো; কারণ মুক্তাদীদের মধ্যে বৃদ্ধ এবং অভাবগ্রস্ত (জরুরি কাজ সম্পন্নকারী) লোক থাকে।" আর অন্য এক বর্ণনায় আছে: "সিয়াম হলো জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল, যেমন যুদ্ধের ময়দানে তোমাদের কারো ঢাল থাকে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
5 - الصيام حِصْنٌ حصين من النار؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((الصيام جُنَّةٌ وحِصْنٌ حَصِينٌ من النار)) (1).
6 - الصيام جُنّةٌ من الشهوات؛ لحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، قال: لقد قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يا معشر (2) الشباب من استطاع منكم الباءة (3) فليتزوج؛ فإنه أغض للبصر، وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم؛ فإنه له وِجاءٌ)) (4) (5).
7 - صيام يوم في سبيل الله يباعد الله النار عن وجه صاحبه سبعين سنة؛ لحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
--------------------------------------------
৫ - সিয়াম হলো জাহান্নাম থেকে এক সুরক্ষিত দুর্গ; আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের কারণে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ((সিয়াম হলো ঢাল এবং জাহান্নাম থেকে এক সুরক্ষিত দুর্গ)) (১)।
৬ - সিয়াম হলো প্রবৃত্তি থেকে বাঁচার ঢাল; আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বলেছেন: ((হে যুবসমাজ (২)! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য (৩) রাখে সে যেন বিবাহ করে; কারণ এটি দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক হেফাযত করে। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন সিয়াম পালন করে; কারণ এটি তার জন্য কামভাব দমনকারী (৪))) (৫)।
৭ - আল্লাহর পথে একদিন সিয়াম পালন করলে আল্লাহ সেই ব্যক্তির চেহারা থেকে জাহান্নামকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন; আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের কারণে, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
((من صام يوماً في سبيل الله بَعَّدَ الله وجهه عن النار سبعين خريفاً)) (1).
8 - صيام يوم في سبيل الله يبعد صاحبه عن النار كما بين السماء والأرض؛ لحديث أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه،عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من صامَ يوماً في سبيل الله جعل الله بينه وبين النار خندقاً كما بين السماء والأرض)) (2).
وقد قال الإمام القرطبي رحمه الله تعالى في قوله صلى الله عليه وسلم: ((من صام يوماً في سبيل الله))، ((أي: في طاعة الله، يعني: قاصداً به وجه الله تعالى، وقد قيل عنه: إنه الجهاد في سبيل الله)) (3)، وقال الإمام النووي رحمه الله: ((فيه فضيلة الصيام في سبيل الله، وهو محمول على من لا يتضرر به، ولا يفوت به حقاً، ولا يختل به قتاله ولا غيره من مهمات غزوه، ومعناه: المباعدة عن النار، والمعافاة منها، والخريف السنة، والمراد به سبعين سنة)) (4)، وسمعت شيخنا ابن باز رحمه الله يقول: ((وهذا الحديث حمله قوم على الجهاد، وهو ظاهر كلام المؤلف، إذا لم يشق عليهم، وقال قوم: هذا الحديث في سبيل الله: أي في طاعة الله)) (5) (6).
--------------------------------------------
((যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেবেন)) (১)।
৮ - আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখা তার পালনকারীকে জাহান্নাম থেকে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায় দূরে সরিয়ে দেয়; আবু উমামা আল-বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ((যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায় একটি পরিখা তৈরি করে দেবেন)) (২)।
ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখবে)) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, ((অর্থাৎ: আল্লাহর আনুগত্যে, মানে: এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য পোষণ করে; আর এ সম্পর্কে এও বলা হয়েছে যে: এটি হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ)) (৩), ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: ((এতে আল্লাহর রাস্তায় রোজা রাখার ফজিলত রয়েছে, আর এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার এতে কোনো ক্ষতি হয় না, কোনো হক নষ্ট হয় না এবং যার ফলে তার যুদ্ধ বা যুদ্ধের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিঘ্ন ঘটে না। এর অর্থ হলো: জাহান্নাম থেকে দূরত্ব এবং তা থেকে মুক্তি। আর ‘খারীফ’ মানে বছর, এখানে সত্তর বছর উদ্দেশ্য করা হয়েছে)) (৪), এবং আমি আমাদের শায়খ ইবনে বাজ রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি: ((একদল আলেম এই হাদিসটিকে জিহাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন—যা লেখকের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকেও বোঝা যায়—যদি তা তাদের জন্য কষ্টকর না হয়। আবার অন্য একদল বলেছেন: এই হাদিসে আল্লাহর রাস্তায় বলতে আল্লাহর আনুগত্য বুঝানো হয়েছে)) (৫) (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
9 - الصوم وصية النبي صلى الله عليه وسلم، ولا مثل له، ولا عدل؛ لحديث أبي أمامة رضي الله عنه، قال: قلت: يا رسول الله: مُرني بأمر ينفعني الله به، قال: ((عليك بالصوم فإنه لا مِثْلَ له))، وفي لفظ: أن أبا أمامة سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي العمل أفضل؟ قال: ((عليك بالصوم فإنه لا عدل له))، وفي رواية أنه رضي الله عنه قال: قلت: يا رسول الله مُرْني بعملٍ، قال: ((عليك بالصوم فإنه لا عِدْل له))، قلت: يا رسول الله مرني بعملٍ، قال: ((عليك بالصوم فإنه لا عدل له)) (1)، وفي لفظ ابن حبان في صحيحه: قال أبو أمامة: أنشأ رسول الله صلى الله عليه وسلم جيشاً، فأتيته فقلت: يا رسول الله، ادعُ الله لي بالشهادة، قال: ((اللهم سلِّمهم وغنِّمهم))، فغزونا فسلمنا وغنمنا، حتى ذكر ذلك ثلاث مرات، قال: ثم أتيته فقلت: يا رسول الله إني أتيتك تترى ثلاث مرات أسألك أن تدعوَ لي بالشهادة، فقلت: ((اللهم سلِّمهم وغنِّمهم))، فسلمنا وغنمنا، يا رسول الله، فمرني بعَمَلٍ أدخلُ به الجنة، فقال: ((عليك بالصوم؛ فإنه لا مِثْلَ لهُ))، فكان أبو أمامة لا يُرَى في بيته الدُّخانُ نهاراً، إلا إذا نزل بهم ضيفٌ، فإذا رأوا الدخان نهاراً، عرفوا أنه قد اعتراهم ضيفٌ)) (2).
--------------------------------------------
৯ - রোজা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি ওয়াসিয়ত (উপদেশ), আর এর কোনো নজির নেই এবং এর সমতুল্য কিছু নেই; আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যার দ্বারা আল্লাহ আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেন: ((তুমি রোজাকে আঁকড়ে ধরো, কারণ এর কোনো নজির নেই))। অন্য এক শব্দে বর্ণিত হয়েছে: আবু উমামাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: ((তুমি রোজাকে আঁকড়ে ধরো, কারণ এর কোনো সমতুল্য নেই))। অন্য এক বর্ণনায় তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কোনো একটি আমলের নির্দেশ দিন। তিনি বললেন: ((তুমি রোজাকে আঁকড়ে ধরো, কারণ এর কোনো সমতুল্য নেই))। আমি পুনরায় বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কোনো একটি আমলের নির্দেশ দিন। তিনি বললেন: ((তুমি রোজাকে আঁকড়ে ধরো, কারণ এর কোনো সমতুল্য নেই)) (১)। সহীহ ইবনে হিব্বানের এক পাঠে রয়েছে: আবু উমামাহ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করলেন। আমি তাঁর কাছে এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য আল্লাহর কাছে শাহাদাতের দোয়া করুন। তিনি বললেন: ((হে আল্লাহ! আপনি তাদের নিরাপদ রাখুন এবং তাদের গনিমত দান করুন))। এরপর আমরা যুদ্ধে গেলাম, নিরাপদ রইলাম এবং গনিমত লাভ করলাম। এভাবে তিনি বিষয়টি তিনবার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: এরপর আমি তাঁর কাছে আসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে ধারাবাহিকভাবে তিনবার এসেছিলাম আপনার কাছে শাহাদাতের দোয়ার আরজি নিয়ে, আর আপনি বলেছিলেন: ((হে আল্লাহ! আপনি তাদের নিরাপদ রাখুন এবং তাদের গনিমত দান করুন)), ফলে আমরা নিরাপদ রয়েছি এবং গনিমত লাভ করেছি। হে আল্লাহর রাসূল! এখন আমাকে এমন একটি আমলের নির্দেশ দিন যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন: ((তুমি রোজাকে আঁকড়ে ধরো; কারণ এর কোনো নজির নেই))। ফলে আবু উমামাহ-এর বাড়িতে দিনের বেলা কখনও ধোঁয়া দেখা যেত না, যদি না তাদের বাড়িতে কোনো মেহমান আসত। সুতরাং যখনই (লোকেরা) দিনের বেলা ধোঁয়া দেখত, তখনই তারা বুঝতে পারত যে তাদের কোনো মেহমান এসেছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
10 - الصوم يدخل الجنة من باب الريان؛ لحديث سهل بن سعد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن في الجنة باباً يُقالُ له: الريَّان، يدخل منه الصائمون يوم القيامة، لا يدخل منه أحد غيرهم، يقال: أين الصائمون؛ فيقومون لا يدخل منه أحد غيرُهم، فإذا دخل آخرهم أُغلق فلم يدخل منه أحد)) (1)،وفي رواية: ((في الجنة ثمانية أبواب، فيها باب يُسمَّى الريان لا يدخله إلا الصائمون)) (2).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من أنفق زوجين في سبيل الله نُوديَ من أبواب الجنة: يا عبد الله هذا خير، فمن كان من أهل الصلاة دُعيَ من باب الصلاة، ومن كان من أهل الجهاد دُعيَ من باب الجهاد، ومن كان من أهل الصيام دُعيَ من باب الريَّان، ومن كان من أهل الصدقة دُعيَ من باب الصدقة))، فقال أبو بكر رضي الله عنه: بأبي أنت وأمِّي يا رسول الله؛ ما على من دُعي من تلك الأبواب من ضرورة، فهل يُدعَى أحدٌ من تلك الأبواب كلِّها؟ قال: ((نعم، وأرجو أن تكون منهم)) (3)، وفي لفظ للبخاري: ((من أنفق زوجين في سبيل الله دعاه خزنة الجنة: كلُّ
--------------------------------------------
১০ - সিয়াম রায়্যান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করায়; সাহল ইবনে সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে ‘রায়্যান’ বলা হয়, কিয়ামতের দিন সেই দরজা দিয়ে কেবল সিয়াম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে, তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। বলা হবে: ‘সিয়াম পালনকারীরা কোথায়?’ তখন তারা দাঁড়াবে, তারা ছাড়া অন্য কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে, ফলে আর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না)) (১), এবং অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ((জান্নাতে আটটি দরজা আছে, তার মধ্যে একটি দরজার নাম রায়্যান, সিয়াম পালনকারীরা ছাড়া আর কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারবে না)) (২)।
আর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া (কোনো বস্তু) দান করবে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে আহ্বান করা হবে: হে আল্লাহর বান্দা! এটিই উত্তম, অতএব যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে তাকে সালাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে জিহাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে সিয়াম পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে তাকে রায়্যান দরজা দিয়ে ডাকা হবে, আর যে সদকা দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে তাকে সদকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে))। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চরণে আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোন; যাকে এই সকল দরজার কোনো একটি থেকে ডাকা হবে তার তো কোনো অভাব বা উৎকণ্ঠা থাকবে না, তবে এমন কেউ কি আছে যাকে এই সকল দরজার সবকটি থেকেই ডাকা হবে? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, আর আমি আশা করি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে)) (৩), বুখারীর এক শব্দে রয়েছে: ((যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া দান করবে, জান্নাতের রক্ষীরা তাকে ডাকবে: প্রত্যেক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خزنةِ بابٍ: أي فُل، هَلُمَّ
… )) (1) وفي لفظ للبخاري أيضاً: ((من أنفق زوجين من شيء من الأشياء في سبيل الله
… )) (2).
11 - الصيام من أول الخصال التي تُدْخِلُ الجنةَ؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((من أصبح اليوم منكم صائمًا؟))،قال أبو بكر: أنا. قال:
((فمن اتَّبع منكم اليوم جنازة؟))،قال أبو بكر: أنا. قال:
((فمن أطعم منكم اليوم مسكيناً؟))،قال أبو بكر: أنا. قال:
((فمن عاد منكم اليوم مريضاً؟))،قال أبو بكر: أنا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما اجتمعن في امرئ إلا دخل الجنة)) (3). ولفظ البخاري في الأدب المفرد: ((ما اجتمعت هذه الخصال في رجل في يوم إلا دخل الجنة)) (4).
12 - الصيام كفارة للذنوب؛ لحديث حذيفة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((فتنة الرجل في أهله، وماله، وولده، وجاره، تكفِّرها: الصلاة، والصوم، والصدقة، والأمر، والنهي))،وفي لفظ: ((والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)) (5) وهذا من نعم الله تعالى العظيمة أن يكفر ما يقع من المسلم من
--------------------------------------------
দরজার পাহারাদার বলবে: হে অমুক, এদিকে এসো
… )) (১) বুখারীর অন্য এক শব্দেও এসেছে: ((যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোনো জিনিসের এক জোড়া খরচ করবে
… )) (২)।
১১ - সিয়াম বা রোজা জান্নাতে প্রবেশকারী প্রাথমিক গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
((তোমাদের মধ্যে আজ কে রোজা রেখেছে?)), আবু বকর বললেন: আমি। তিনি বললেন:
((তোমাদের মধ্যে আজ কে জানাজায় অংশ নিয়েছে?)), আবু বকর বললেন: আমি। তিনি বললেন:
((তোমাদের মধ্যে আজ কে কোনো মিসকিনকে খাবার খাইয়েছে?)), আবু বকর বললেন: আমি। তিনি বললেন:
((তোমাদের মধ্যে আজ কে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়েছে?)), আবু বকর বললেন: আমি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ((যেকোনো ব্যক্তির মধ্যে এই গুণগুলো একত্রিত হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)) (৩)। আল-আদাবুল মুফরাদে বুখারীর শব্দ হলো: ((একই দিনে কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই গুণাবলি একত্রিত হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)) (৪)।
১২ - সিয়াম বা রোজা গুনাহের কাফফারা; হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: ((পরিবার, সম্পদ, সন্তান এবং প্রতিবেশীর বিষয়ে মানুষের ফিতনা বা গুনাহের কাফফারা হলো: নামাজ, রোজা, সদকা এবং আদেশ ও নিষেধ)), অন্য এক শব্দে এসেছে: ((সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ)) (৫)। আর এটি মহান আল্লাহর বিশাল নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যে, একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে সংঘটিত হওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الزلل مع أهله، وولده وماله، وجيرانه، بالصلاة، والصوم، والصدقة، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فينبغي للمسلم أن يكثر من هذه الخصال، وهذا في الصغائر، أما الكبائر فلا بد فيها على الصحيح من التوبة بشروطها (1).
13 - يوفَّى الصائمون أجرهم بغير حساب.
14 - للصائم فرحتان: فرحة في الدنيا، وفرحة في الآخرة.
15 - خلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك. وقد دلَّ على هذه الفضائل الثلاث حديث أبي هريرة رضي الله عنه:قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((قال الله تعالى: كلُّ عمل ابن آدم له إلا الصيام؛ فإنه لي وأنا أجزي به، والصيام جنة (2)،وإذا كان يومُ صَوْمِ أحدِكم فلا يرفث (3) ولا يصخب (4)،
--------------------------------------------
পরিবার, সন্তান, সম্পদ এবং প্রতিবেশীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে হয়ে যাওয়া বিচ্যুতিসমূহ নামাজ, রোজা, সদকা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমে মোচন করা হয়। সুতরাং একজন মুসলমানের উচিত এই গুণগুলো অধিক পরিমাণে অর্জন করা। এটি ছোট গুনাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে কবিরা বা বড় গুনাহের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে তওবা করা আবশ্যক (১)।
১৩ - রোজাদারদের তাদের প্রতিদান হিসাবহীনভাবে পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে.
১৪ - রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ দুনিয়াতে এবং একটি আনন্দ আখিরাতে.
১৫ - রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক উত্তম। এই তিনটি ফজিলতের প্রমাণ পাওয়া যায় আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: বনী আদমের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, শুধু রোজা ব্যতীত; কারণ তা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। আর রোজা হলো ঢাল (২)। তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে (৩) এবং শোরগোল না করে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فإن سابَّهُ أحدٌ أو قاتله (1) فليقل: إنِّي امرؤٌ صائمٌ، والذي نفسُ محمد بيده! لخلوفُ فم الصائم (2) أطيب عند الله من ريح المسك، للصائم فرحتان يفرحهما: إذا أفطر فرح، وإذا لقي ربَّه فَرِحَ بصومه))، وفي لفظ للبخاري: ((الصيام جُنَّة، فلا يرفث، ولا يجهل (3) وإن امرُؤٌ قاتله أو شاتمه فليقل: إني صائم - مرتين - والذي نفس محمد بيده لخلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك، يترك طعامه، وشرابه، وشهوته من أجلى، الصيام لي وأنا أجزي به، والحسنة بعشر أمثالها))، وفي لفظ لمسلم: ((كلُّ عملِ ابن آدم يُضاعف له: الحسنةُ عشرُ أمثالها إلى سبعمائة ضعف، قال الله عز وجل: إلا الصوم فإنه لي وأنا أجزي به، يدع شهوته وطعامه من أجلي، للصائم فرحتان: فرحة عند فطره، وفرحة عند لقاء ربه، ولخلوف فيه أطيب عند الله من ريح المسك))، وفي لفظ لمسلم: ((
… وللصائم فرحتان يفرحهما: إذا أفطر فرح بفطره، وإذا لقي ربه فرح بصومه)) (4) (5).
--------------------------------------------
যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে লড়াই করতে চায় (১), তবে সে যেন বলে: আমি একজন রোজা পালনকারী ব্যক্তি। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, তাঁর শপথ! অবশ্যই রোজা পালনকারীর মুখের গন্ধ (২) আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়। রোজা পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে যা তাকে আনন্দিত করে: যখন সে ইফতার করে তখন সে আনন্দিত হয়, আর যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে তার রোজার কারণে আনন্দিত হবে। আর বুখারীর শব্দে এসেছে: রোজা হলো ঢাল স্বরূপ; সুতরাং সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় আচরণ না করে (৩)। যদি কোনো ব্যক্তি তার সাথে লড়াই করে বা তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন বলে: আমি রোজা পালনকারী—দুই বার। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! অবশ্যই রোজা পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়। সে আমার জন্যই তার খাদ্য, পানীয় ও কামনাবাসনা বর্জন করে। রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব; আর প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব দশ গুণ। আর মুসলিমের শব্দে এসেছে: আদম সন্তানের প্রতিটি আমলই বৃদ্ধি করা হয়: একটি নেকির সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: রোজা ব্যতীত, কেননা তা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব। সে আমার জন্য নিজের কামনাবাসনা ও আহার বর্জন করে। রোজা পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ তার ইফতারের সময়, আর অপর আনন্দটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর অবশ্যই তার মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়। আর মুসলিমের অপর এক শব্দে আছে:
... আর রোজা পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে যা তাকে আনন্দিত করে: যখন সে ইফতার করে তখন সে তার ইফতারের মাধ্যমে আনন্দিত হয়, আর যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে তার রোজার কারণে আনন্দিত হবে (৪) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
16 - الصيام والقرآن يشفعان لصاحبهما يوم القيامة؛ لحديث عبد الله بن عمرو، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الصيامُ والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة، يقول الصيام: أي ربِّ منعته الطعام والشهوات بالنهار، فشفعني فيه، ويقول القرآن: منعته النوم بالليل فشفعني فيه قال: فيشفعان)) (1).
17 - الصوم يزيل الأحقاد والضغائن والوسوسة من الصدور؛ لحديث الأعرابي الصحابي، وحديث ابن عباس رضي الله عنهم،عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((صوم شهر الصبر وثلاثة أيامٍ من كل شهرٍ: يذهبن وحر الصدر)) (2) (3).
--------------------------------------------
১৬ - কিয়ামতের দিন সিয়াম ও কুরআন তাদের পালনকারীর জন্য সুপারিশ করবে; আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((সিয়াম ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সিয়াম বলবে: হে আমার রব, আমি তাকে দিনের বেলা আহার ও প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছিলাম, তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে: আমি তাকে রাতের বেলা ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম, তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তিনি বলেন: অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে)) (১)।
১৭ - সিয়াম বক্ষ থেকে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও কুমন্ত্রণা দূর করে; জনৈক মরুবাসী সাহাবি এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ((ধৈর্যের মাস এবং প্রতি মাসের তিন দিন সিয়াম পালন করা অন্তরের কালিমা দূর করে)) (২) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
18 - الصوم باب من أبواب الخير؛ لحديث معاذ بن جبل رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: ((ألا أدلُّك أبواب الخير)) قلت: بلى يا رسول الله: قال: ((الصوم جنة، والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار، وصلاة الرجل من جوف الليل))، ثم تلا: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ}، حتى بلغ يعملون)) (1) (2).
19 - من خُتِمَ له بصيام يومٍ يريد به وجه الله أدخله الله الجنة؛ لحديث حذيفة رضي الله عنه قال: أسندتُ النبي صلى الله عليه وسلم إلى صدري فقال: ((من قال: لا إله إلا الله ابتغاء وجه الله خُتِمَ له بها دخل الجنة، ومن صام يوماً ابتغاء وجه الله خُتِمَ له بها (3) دخل الجنة، ومن تصدق بصدقة ابتغاء وجه الله خُتِمَ له بها دخل الجنة)) (4).
وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه في حديث القدر عن النبي صلى الله عليه وسلم وفيه: (( ..... وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل النار حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل الجنة فيدخُلُها)) (5)، وفي
--------------------------------------------
১৮ - রোজা কল্যাণের দরজাগুলোর একটি; মুআয ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: ((আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাগুলো দেখিয়ে দেব না?)) আমি বললাম: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: ((রোজা হচ্ছে ঢাল, আর দান-সদকা পাপকে মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়, এবং গভীর রাতে কোনো ব্যক্তির নামাজ)), তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, তারা তাদের রবকে ডাকে}, ‘তারা যা আমল করত’ পর্যন্ত (১) (২)।
১৯ - যার জীবনের সমাপ্তি আল্লাহর চেহারা কামনায় একদিনের রোজার মাধ্যমে হবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমার বুকের ওপর হেলান দিয়ে রেখেছিলাম, তখন তিনি বললেন: ((যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারা কামনায় 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে এবং এর ওপরই তার জীবনের সমাপ্তি ঘটবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারা কামনায় একদিন রোজা রাখবে এবং এর ওপরই তার জীবনের সমাপ্তি ঘটবে (৩), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারা কামনায় কোনো দান-সদকা করবে এবং এর ওপরই তার জীবনের সমাপ্তি ঘটবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে)) (৪)।
আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তকদির সংক্রান্ত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাতে রয়েছে: ((...আর তোমাদের মধ্যকার কোনো ব্যক্তি অবশ্যই জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, তখন তার ওপর তকদির বিজয়ী হয় এবং সে জান্নাতীদের আমল শুরু করে, ফলে সে তাতে প্রবেশ করে)) (৫), এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
لفظ أحمد في المسند: ((
… وإن الرجل ليعمل بعمل أهل النار حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيُختم له بعمل أهل الجنة فيدخلها)) (1).
20 - أعد الله الغرف العاليات في الجنة لمن تابع الصيام المشروع، وأطعم الطعام، وألان الكلام، وأفشى السلام، وصلى بالليل والناس نيام؛ لحديث أبي مالك الأشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إنَّ في الجنة غرفاً يُرى ظاهرها من باطنها، وباطنها من ظاهرها، أعدَّها الله تعالى لمن أطعم الطعام، وألان الكلام، وتابع الصيام، وأفشى السلام، وصلَّى بالليل والناس نيام)) (2).
من عمل هذه الأعمال كانت له هذه الغرف، وهي جمع غرفة: أي علالي في غاية اللطافة، ونهاية الصفا والنظافة، وهي شفافة لا تحجب من وراءها، وهي مخصصة لمن له خلق حسن مع الناس، وخاصة بمن يطيُّب الكلام؛ لكونه من عباد الرحمن الذين يمشون على الأرض هوناً، وإذا خاطبهم الجاهلون قالوا سلاماً، وهي لمن أطعم الطعام: للعيال، والفقراء، والأضياف، ونحو ذلك، ولمن أدام الصيام: أي أكثر منه بعد
--------------------------------------------
মুসনাদে আহমাদ-এর শব্দ হলো: ((
... নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীদের মতো আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান অবশিষ্ট থাকে, এমতাবস্থায় তার ওপর লিখিত ফয়সালা (তাকদির) জয়ী হয় এবং তার জীবনের শেষ আমলটি জান্নাতীদের আমলের মতো হয়, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে)) (১)।
২০ - আল্লাহ তাআলা জান্নাতে সেই ব্যক্তির জন্য সুউচ্চ কক্ষসমূহ প্রস্তুত করে রেখেছেন, যে শরিয়তসম্মত রোজা একাধারে পালন করে, অন্ন দান করে, নরম ভাষায় কথা বলে, সালামের প্রসার ঘটায় এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে সালাত আদায় করে; আবু মালেক আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন কিছু কক্ষ রয়েছে যার ভেতর থেকে বাহির এবং বাহির থেকে ভেতর দেখা যায়। আল্লাহ তাআলা তা সেই ব্যক্তির জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন যে অন্ন দান করে, নরম ভাষায় কথা বলে, একাধারে রোজা রাখে, সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাতে সালাত আদায় করে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে)) (২)।
যে ব্যক্তি এই আমলগুলো করবে, তার জন্য এই কক্ষগুলো থাকবে। এটি 'গুরফাহ' শব্দের বহুবচন: অর্থাৎ এমন সুউচ্চ অট্টালিকা যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন। সেগুলো স্বচ্ছ হওয়ার কারণে তার অন্তরালের কোনো কিছু আড়াল করে না। এগুলো সেই ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত যার মানুষের সাথে উত্তম চরিত্র রয়েছে এবং বিশেষভাবে সেই ব্যক্তির জন্য যে মিষ্টভাষী; কারণ সে রহমানের সেই সব বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত যারা জমিনের ওপর বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের সাথে সম্বোধন করে তখন তারা বলে 'সালাম'। আর এই কক্ষগুলো তার জন্য যে অন্ন দান করে: পরিবার-পরিজন, দরিদ্র ও মেহমানদের এবং এই জাতীয় অন্যদের। আর সেই ব্যক্তির জন্য যে দীর্ঘস্থায়ী রোজা রাখে: অর্থাৎ এর পর থেকে অধিক পরিমাণে রোজা রাখে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفريضة، وأقلّه أن يصوم من كل شهر ثلاثة أيام، وهي لمن صلى بالليل والناس نيام: أي غالبهم نيام أو غافلون عنه؛ لأن العمل بالليل والناس نيام لارياء فيه ولا سمعة، وهذا يؤكد على أن من فعل ذلك فقد بلغ الغاية العظمى في الإخلاص لله عز وجل، وهي لمن أفشى السلام، وبذل السلام لمن عرف ومن لا يعرف، والمقصود أن هذا الحديث فيه الترغيب في هذه الخصال العظيمة، فمن فعلها كانت له هذه الغرف (1).
21 - الصائم له دعوة لا تُردُّ حتى يفطر؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ثلاثة لا تُردُّ دعوتهم: الإمام العادل، والصائم حتى يفطر، ودعوة المظلوم يرفعها الله فوق الغمام ويفتحُ لها أبواب السماء، ويقول الربُّ: وعزتي لأنصرنك ولو بعد حين)) (2).
22 - الصائم دعوته لا ترد حين يفطر؛ لما رُوي عن عبد الله بن أبي مليكة، قال: سمعت عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن للصائم عند فطره لدعوةً ما تُردُّ))، قال ابن أبي
--------------------------------------------
...ফরজ (সালাত), আর এর ন্যূনতম পরিমাণ হলো প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা। আর এটি তাদের জন্য যারা রাতে সালাত আদায় করে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে: অর্থাৎ তাদের অধিকাংশ যখন ঘুমন্ত বা এ বিষয়ে গাফেল; কারণ রাতে আমল করা যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন তাতে কোনো রিয়া (লোকদেখানো) বা সুমআ (খ্যাতি লাভের ইচ্ছা) থাকে না। এটি একথারই নিশ্চয়তা দেয় যে, যে ব্যক্তি এরূপ করল সে মহান আল্লাহর প্রতি ইখলাসের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেল। আর এটি তার জন্য যে সালামের প্রচার করল এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকেই সালাম দিল। মূল উদ্দেশ্য হলো, এই হাদিসটিতে এই মহান গুণাবলির প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তি তা অর্জন করবে, সে এই জান্নাতি কক্ষগুলো লাভ করবে (১)।
২১ - রোজাদারের জন্য এমন একটি দোয়া রয়েছে যা ইফতার না করা পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়া হয় না; আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে এবং মজলুমের দোয়া; আল্লাহ তা মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেন এবং তার জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। আর প্রতিপালক বলেন: আমার সম্মানের কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, যদিও তা কিছুকাল পরে হয়)) (২)।
২২ - ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না; যা আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই ইফতারের সময় রোজাদারের জন্য এমন একটি দোয়া রয়েছে যা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না)), ইবনে আবি... বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مليكة: سمعت عبد الله بن عمرو يقول إذا أفطر: اللهم إني أسألك برحمتك التي وسعت كلَّ شيء أن تغفر لي)) (1)، وقد جاء في لفظ بعض نسخ الترمذي للحديث الذي قبل هذا: ((ثلاثة لا ترد دعوتهم: الإمام العادل، والصائم حين يفطر، ودعوة المظلوم)) (2)، ويعضد ذلك حديث أبي أمامة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن لله عند كلِّ فطر عتقاء)) (3).
23 - تفطير الصائمين فيه الأجر الكبير؛ لحديث زيد بن خالد الجهني رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من فطَّر صائماً كان له مثل أجره، غير أنه لا ينقص من أجر الصائم شيئاً)) (4).
24 - لعظم أجر الصيام جعله الله تعالى من الكفارات على النحو الآتي:
أ- كفارة فدية الأذى، قال الله تعالى: {وَلَا تَحْلِقُواْ رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضاً أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن
--------------------------------------------
মালিহা (বা মালিকা) থেকে বর্ণিত: আমি আবদুল্লাহ বিন আমরকে ইফতারের সময় বলতে শুনেছি: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার সেই রহমতের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন।" (১), তিরমিযীর কিছু পাণ্ডুলিপিতে এর আগের হাদীসটির শব্দ এভাবে এসেছে: "তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোযাদার যখন সে ইফতার করে এবং মজলুমের দুআ।" (২), এটি আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীস দ্বারা সমর্থিত: "নিশ্চয়ই প্রতিটি ইফতারের সময় আল্লাহর নিকট জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক বান্দা থাকে।" (৩)।
২৩ - রোযাদারদের ইফতার করানোয় রয়েছে বিশাল সওয়াব; যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, তার জন্য ওই রোযাদারের সমান সওয়াব হবে, তবে এতে রোযাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।" (৪)।
২৪ - রোযার ফযীলত মহান হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা একে নিম্নোক্ত উপায়ে কাফফারা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন:
ক- কষ্টের ফিদইয়ার কাফফারা, আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মাথা মুণ্ডন করো না, যতক্ষণ না কুরবানির পশু তার গন্তব্যে পৌঁছায়। আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা যার মাথায় কোনো কষ্ট রয়েছে, তবে তার ফিদইয়া হলো...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} (1).
ب- من لم يجد الهدي صام ثلاثة أيام في الحج وسبعة إذا رجع إلى أهله؛ لقول الله تعالى: {فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} (2).
ج-كفارة قتل الخطأ؛ لقول الله تعالى: {وَإِن كَانَ مِن قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِّيثَاقٌ فَدِيَةٌ مُّسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ تَوْبَةً مِّنَ الله وَكَانَ الله عَلِيمًا حَكِيمًا} (3).
د- كفارة اليمين؛ لقول الله تعالى: {لَا يُؤَاخِذُكُمُ الله ِباللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُواْ أَيْمَانَكُمْ} (4).
هـ - جزاء قتل الصيد في الإحرام؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لَا تَقْتُلُواْ الصَّيْدَ وَأَنتُمْ حُرُمٌ وَمَن قَتَلَهُ مِنكُم مُّتَعَمِّدًا فَجَزَاء مِّثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ
--------------------------------------------
রোজা পালন অথবা সদকা প্রদান অথবা পশু কোরবানি করা} (১)।
খ- যে ব্যক্তি কোরবানির পশু পাবে না, সে হজের সময় তিনটি রোজা রাখবে এবং ফিরে যাওয়ার পর সাতটি রোজা রাখবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {অতঃপর যে ব্যক্তি ওমরাহ সমাপ্ত করে হজের সময় পর্যন্ত লাভবান হবে, সে সহজলভ্য পশু কোরবানি করবে। কিন্তু যে ব্যক্তি তা পাবে না, সে হজের সময় তিনটি রোজা রাখবে এবং যখন তোমরা ফিরে যাবে তখন সাতটি রোজা রাখবে; এই হলো পূর্ণ দশটি। এই বিধান তার জন্য, যার পরিবার মসজিদুল হারামের নিবাসী নয়} (২)।
গ- ভুলবশত হত্যার কাফফারা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যদি সে এমন এক কওমের হয় যাদের ও তোমাদের মধ্যে চুক্তি রয়েছে, তবে তার পরিবারকে রক্তপণ অর্পণ করতে হবে এবং একজন মুমিন ক্রীতদাস মুক্ত করতে হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখবে না, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তওবা স্বরূপ একাদিক্রমে দুই মাস রোজা রাখবে; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} (৩)।
ঘ- শপথের কাফফারা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য তোমাদের ধরবেন না, কিন্তু যে শপথ তোমরা পাকাপোক্তভাবে কর তার জন্য তোমাদের ধরবেন। এর কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের আহার দান করা যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাক, অথবা তাদের বস্ত্র দান করা কিংবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করা। অতঃপর যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখবে না সে তিন দিন রোজা রাখবে। এটিই তোমাদের শপথের কাফফারা যদি তোমরা শপথ কর; আর তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা করো} (৪)।
ঙ - ইহরাম অবস্থায় শিকার করার দণ্ড; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার হত্যা করো না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে, তার দণ্ড হলো অনুরূপ গৃহপালিত পশু যা সে হত্যা করেছে, যার ফয়সালা করবে তোমাদের মধ্যকার দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি—পশুটি যেন কা’বায় পৌঁছানো কোরবানি হিসেবে হয়—অথবা কাফফারা হিসেবে খাদ্য প্রদান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مَسَاكِينَ أَو عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا لِّيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ عَفَا الله عَمَّا سَلَف وَمَنْ عَادَ فَيَنتَقِمُ الله مِنْهُ والله عَزِيزٌ ذُو انْتِقَام} (1).
وكفارة الظهار؛ لقول الله تعالى: {وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِن نِّسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِّن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ وَالله بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِير * فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا فَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ذَلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِالله وَرَسُولِهِ وَتِلْكَ حُدُودُ الله وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيم} (2).
ز- كفارة الجماع في نهار شهر رمضان؛ لحديث: ((جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: هَلَكْتُ يَا رَسُولَ الله. قَالَ: ((وَمَا أَهْلَكَكَ)).قَالَ: وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِى رَمَضَانَ. قَالَ: ((هَلْ تَجِدُ مَا تُعْتِقُ رَقَبَةً)). قَالَ: لَا. قَالَ: ((فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ)). قَالَ: لَا. قَالَ: ((فَهَلْ تَجِدُ مَا تُطْعِمُ سِتِّينَ مِسْكِينًا)). قَالَ: لَا، قَالَ ثُمَّ جَلَسَ فَأتِيَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ. فَقَالَ: ((تَصَدَّقْ بِهَذَا)). قَالَ: أَفْقَرَ مِنَّا؟ فَمَا بَيْنَ لَابَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَحْوَجُ إِلَيْهِ مِنَّا. فَضَحِكَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ثُمَّ قَالَ: ((اذْهَبْ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ)) (3).
--------------------------------------------
মিসকীনদের আহার দান করা অথবা সমপরিমাণ রোজা রাখা, যাতে সে তার কাজের প্রতিফল আস্বাদন করতে পারে। অতীতে যা হয়ে গেছে আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন; কিন্তু কেউ যদি পুনরায় তা করে তবে আল্লাহ তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন; আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী} (১)।
এবং যিহারের কাফফারা; আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: {আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে এবং পরে তাদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তবে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একজন দাস মুক্ত করতে হবে। তোমাদেরকে এর মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে; আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত। কিন্তু যে ব্যক্তি (দাস) পাবে না, একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে তাকে একাদিক্রমে দুই মাস রোজা রাখতে হবে। আর যে তাতেও অক্ষম, সে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে। এটি এই জন্য যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} (২)।
ছ- রমজান মাসের দিনে সহবাসের কাফফারা; হাদিসের কারণে: ((এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেন: ((কিসে তোমাকে ধ্বংস করেছে?)) সে বলল: আমি রমজান মাসে আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন: ((তোমার কি এমন সামর্থ্য আছে যে একজন দাস মুক্ত করবে?)) সে বলল: না। তিনি বললেন: ((তবে কি তুমি একাদিক্রমে দুই মাস রোজা রাখতে পারবে?)) সে বলল: না। তিনি বললেন: ((তবে কি তুমি ষাটজন মিসকীনকে আহার করানোর সামর্থ্য রাখো?)) সে বলল: না। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে বসে পড়ল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটি ঝুড়ি আনা হলো যাতে খেজুর ছিল। তিনি বললেন: ((এটি সদকা করে দাও।)) সে বলল: আমাদের চেয়েও দরিদ্র কাউকে? মদিনার দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী এলাকায় আমাদের চেয়ে বেশি অভাবী কোনো পরিবার নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল, তারপর তিনি বললেন: ((যাও, এটি তোমার পরিবারকে আহার করাও)) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الثالث: فوائد الصيام ومنافعه العظيمة وحكمه ومصالحهقال الإمام ابن قيم الجوزية رحمه الله: ((لما كان المقصود من الصيام حبس النفس عن الشهوات، وفطامها عن المألوفات، وتعديل قوتها الشهوانية؛ لتستعدَّ لطلب ما فيه غاية سعادتها ونعيمها، وقبول ما تزكو به مما فيه حياتها الأبدية، ويكسِر الجوع والظمأ من حدتها وسَوْرتها، ويذكّرها بحال الأكباد الجائعة من المساكين، وتضيق مجاري الشيطان من العبد بتضييق مجاري الطعام والشراب، وتحبس قُوى الأعضاء عن استرسالها لحكم الطبيعة فيما يضرها في معاشها ومعادها، ويُسكِّن كلَّ عضو منها وكل قوة عن جماحه، وتلجم بلجامه، فهو لجام المتقين، وجُنة المحاربين، ورياضة الأبرار والمقربين، وهو لرب العالمين من بين سائر الأعمال، فإن الصائم لا يفعل شيئاً، وإنما يترك شهوته وطعامه وشرابه من أجل معبوده، فهو ترك محبوبات النفس وتلذذاتها إيثاراً لمحبة الله ومرضاته، وهو سرٌّ بين العبد وربه لا يطَّلِع عليه سواه، والعباد قد يطَّلِعون منه على ترك المفطرات الظاهرة، وأما كونه ترك طعامه وشرابه وشهوته من أجل معبوده، فهو أمر لا يطلع عليه بشر، وذلك حقيقة الصوم.
وللصوم تأثير عجيب في حفظ الجوارح الظاهرة، والقوى الباطنة، وحميتها عن التخليط الجالب لها المواد الفاسدة التي إذا استولت عليها أفسدتها، واستفراغ المواد الرديئة المانعة لها من صحتها، فالصوم يحفظ على القلب والجوارح صحتها، ويعيد إليها ما استلبته منها أيدي الشهوات، فهو من أكبر العون على التقوى كما قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সিয়ামের উপকারিতা, এর মহান কল্যাণসমূহ, হিকমত এবং উদ্দেশ্যসমূহইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((যেহেতু সিয়ামের উদ্দেশ্য হলো নফসকে প্রবৃত্তির লালসা থেকে বিরত রাখা, অভ্যস্ত বিষয়সমূহ থেকে তাকে নিবৃত্ত করা এবং তার কামনাবাসনার শক্তিকে পরিমিত করা; যাতে সে তার চরম সৌভাগ্য ও নেয়ামত অনুসন্ধানের জন্য প্রস্তুত হতে পারে এবং এমন বিষয় গ্রহণ করতে পারে যার মাধ্যমে সে পবিত্র হবে এবং যাতে তার অনন্ত জীবন নিহিত রয়েছে। আর ক্ষুধা ও তৃষ্ণা তার তীব্রতা ও তেজকে চূর্ণ করে দেয়, তাকে মিসকিনদের ক্ষুধার্ত হৃদয়ের অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, এবং খাদ্য ও পানীয়ের পথ সংকুচিত করার মাধ্যমে বান্দার ভেতরে শয়তানের চলাচলের পথকে সংকুচিত করে দেয়। এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শক্তিগুলোকে প্রবৃত্তির তাড়নায় এমন সব কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে যা তার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য ক্ষতিকর, এবং এর প্রতিটি অঙ্গ ও শক্তিকে অবাধ্যতা থেকে শান্ত করে ও লাগাম টেনে ধরে। সুতরাং এটি মুত্তাকিদের জন্য লাগাম, যোদ্ধাদের জন্য ঢাল এবং পুণ্যবান ও নৈকট্যপ্রাপ্তদের জন্য রিয়াজত (সাধনা)। অন্যান্য সমস্ত আমলের ভিড়ে এটি বিশেষভাবে রব্বুল আলামীনের জন্য, কেননা সিয়াম পালনকারী দৃশ্যত কোনো কাজ করে না, বরং সে তার মা’বুদের সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রবৃত্তি, খাদ্য ও পানীয় বর্জন করে। সুতরাং এটি হলো আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নফসের প্রিয় ও স্বাদযুক্ত বিষয়সমূহকে ত্যাগ করা। আর এটি বান্দা ও তার রবের মধ্যকার এমন এক গোপন রহস্য যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। মানুষ হয়তো তার প্রকাশ্য রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলো ত্যাগ করার বিষয়টি দেখতে পায়, কিন্তু সে যে তার মা’বুদের জন্য তার খাদ্য, পানীয় ও প্রবৃত্তি বর্জন করেছে—এটি এমন এক বিষয় যা কোনো মানুষ অবগত হতে পারে না। আর এটাই হলো সিয়ামের হাকিকত বা প্রকৃত রূপ।
বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলোকে হিফাজত করার ক্ষেত্রে এবং সেগুলোকে এমন সব মন্দ উপাদানের মিশ্রণ থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সিয়ামের এক বিস্ময়কর প্রভাব রয়েছে, যা আধিপত্য বিস্তার করলে সেগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। এটি সেই সব ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেয় যা সুস্থতার পথে অন্তরায়। অতএব সিয়াম অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতা রক্ষা করে এবং প্রবৃত্তির হাত যা কিছু কেড়ে নিয়েছিল তা পুনরায় ফিরিয়ে দেয়। এটি তাকওয়া অর্জনের সর্বশ্রেষ্ঠ সহায়ক, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর বিধান দেওয়া হয়েছে (বা সিয়াম ফরজ করা হয়েছে)
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون} (1).
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((الصوم جنة))، وأمر من اشتدت عليه شهوة النكاح، ولا قدرة له عليه بالصيام، وجعله وِجاءَ هذه الشهوة.
والمقصود: أن مصالح الصوم لما كانت مشهودة بالعقول السليمة، والفطر المستقيمة، شرعه الله لعباده رحمةً بهم، وإحساناً إليهم، وحُميةً لهم وجُنّة)) (2).
فالصيام له فوائد ومنافع وحِكَمٌ عظيمة، منها الفوائد الآتية:
1 - الصوم وسيلة إلى التقوى (3)؛ لأن النفس إذا انقادت للامتناع عن الحلال طمعاً في مرضاة الله، وخوفاً من أليم عقابه، فمن باب أولى أن تنقاد للامتناع عن الحرام، فكان الصوم سبباً للتقوى؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون} (4)؛ ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((من لم يدع قول الزور والعمل به، والجهل فليس لله حاجة أن يدع طعامه وشرابه)) (5).
--------------------------------------------
তোমাদের ওপর সিয়াম বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার} (১)।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((সিয়াম হলো ঢাল স্বরূপ)), এবং তিনি সেই ব্যক্তিকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন যার বিবাহের কামনাবাসনা প্রবল হয়েছে অথচ তা করার সামর্থ্য নেই, এবং তিনি একে এই কামনাবাসনা দমনের উপায় সাব্যস্ত করেছেন।
উদ্দেশ্য হলো: সিয়ামের কল্যাণসমূহ যেহেতু সুস্থ বিবেক এবং সঠিক স্বভাবের কাছে দৃশ্যমান, তাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ হিসেবে এবং তাদের জন্য সুরক্ষা ও ঢাল স্বরূপ এটি তাঁর বান্দাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন (২)।
সুতরাং সিয়ামের বহু মহান উপকারিতা, সুফল এবং হিকমত রয়েছে, যার মধ্যে নিম্নোক্ত উপকারিতাগুলো অন্যতম:
১ - সিয়াম তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম (৩); কারণ নফস যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এবং তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ভয়ে হালাল বস্তু থেকে বিরত থাকার অনুগত হয়, তবে হারাম বস্তু থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে তা আরও বেশি অনুগত হওয়া স্বাভাবিক। তাই সিয়াম হলো তাকওয়ার কারণ; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার} (৪); একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, সে অনুযায়ী কাজ এবং মূর্খতা বর্জন করেনি, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2 - الصوم وسيلة إلى شكر النعم (1)؛ لأن كفّ النفس عن الأكل، والشرب، وسائر المفطرات من أجلِّ النعم وأعلاها؛ لأن الامتناع عن هذه النعم زماناً معتبراً يُعرِّفُ قدرها؛ لأن النعم مجهولة، فإذا فقدت عُرفت، فيحمل ذلك على القيام بشكر الله تعالى؛ ولهذا إذا أفطر الصائم وجد لذة عظيمة للشراب البارد على الظمأ، وكذلك الطعام، فيحمله ذلك على شكر الله عز وجل، وقد جاءت الإشارة إلى ذلك أثناء الكلام عن الصيام، قال الله تعالى: {وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُون} (2).
3 - الصوم يقهر الطبع ويكسر النفس ويحدُّ من الشهوة؛ لأن النفس إذا شبعت رغبت في الشهوات؛ لأن الشّبع والرّيّ ومباشرة النساء تحمل النفس على الأشر والبطر والغفلة (3)،وإذا جاعت امتنعت عما تهوى؛ ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج؛ فإنه أغض للبصر، وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم؛ فإنه له وجاء)) (4)،يكون الصوم من أسباب الامتناع عن المعاصي (5).
4 - الصوم يجعل القلب يتخلَّى للذكر والفكر؛ لأن تناول الشهوات يوجب الغفلة، ورُبما يقسِّي القلب، ويعمي عن الحق، ويحول بين
--------------------------------------------
২ - রোজা হলো নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের একটি মাধ্যম (১); কারণ পানাহার এবং অন্যান্য রোজা ভঙ্গকারী বিষয় থেকে নফসের নিবৃত্ত থাকা অন্যতম মহান ও উচ্চমর্যাদার নেয়ামত; কেননা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসব নেয়ামত থেকে বিরত থাকা এগুলোর কদর বা গুরুত্ব অনুধাবন করতে সাহায্য করে; কারণ নেয়ামত যখন বিদ্যমান থাকে তখন তা অজ্ঞাত থাকে, আর যখন তা হারিয়ে যায় তখন তার মূল্য বোঝা যায়। আর এটি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে উদ্ধুদ্ধ করে; এজন্যই রোজাদার যখন ইফতার করে, তখন সে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় শীতল পানীয়ের মাঝে এক মহান তৃপ্তি লাভ করে, অনুরূপভাবে খাবারের ক্ষেত্রেও, যা তাকে মহান আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ে উদ্বুদ্ধ করে। সিয়ামের বর্ণনার ফাঁকে এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো} (২)।
৩ - রোজা কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে, নফসের দম্ভ ভেঙে দেয় এবং কামস্পৃহা সীমিত করে; কারণ নফস যখন পরিতৃপ্ত থাকে তখন সে লালসার দিকে ঝুঁকে পড়ে; কেননা উদরপূর্তি, তৃষ্ণা নিবারণ এবং স্ত্রী সহবাস নফসকে ঔদ্ধত্য, দম্ভ ও উদাসীনতার দিকে ঠেলে দেয় (৩)। আর যখন সে ক্ষুধার্ত থাকে তখন সে আপন কামনা-বাসনা থেকে বিরত থাকে; একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে; কারণ এটি দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক হেফাজত করে। আর যে সক্ষম নয়, সে যেন রোজা রাখে; কেননা এটি তার জন্য দমনকারী বা ঢালস্বরূপ)) (৪), রোজা গুনাহ থেকে বিরত থাকার অন্যতম কারণ হয়ে থাকে (৫)।
৪ - রোজা অন্তরকে জিকির ও ফিকিরের (স্মরণ ও চিন্তা) জন্য ফুরসত করে দেয়; কারণ প্রবৃত্তি পূরণ উদাসীনতা সৃষ্টি করে এবং অনেক সময় অন্তরকে কঠোর করে দেয়, সত্য দেখা থেকে অন্ধ করে দেয় এবং অন্তরায় সৃষ্টি করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াম ফিল ইসলাম ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
العبد وبين الذكر والفكر، ويستدعي الغفلة، وخلة البطن من الطعام والشراب ينوّر القلب ويوجب رقته ويزيل قسوته، ويُخليه للذكر والفكر (1).
5 - الصوم به يعرفُ الغنيُّ قدر نعم الله تعالى عليه وقد حُرمها كثير من الخلق (2).
6 - الصوم سبب في التمرّن على ضبط النفس والسيطرة عليها، حتى يتمكن المسلم من قيادة نفسه لما فيه سعادتها في الدنيا والآخرة.
7 - الصوم يضبط النفس ويُقلِّل من كبريائها.
8 - الصوم يسبب الرحمة والعطف على المساكين؛ لأن الصائم إذا ذاق ألم الجوع في بعض الأوقات ذكر من هذا حاله في جميع الأوقات أو غالبها، فتسارع إلى قلبه الرقة والرحمة لهؤلاء المساكين، فيحسن إليهم، فيحصل بذلك على الثواب العظيم من الله تعالى (3).
9 - الصوم فيه موافقة للفقراء بتحمل ما يتحملون، فيرفع ذلك شأن الصائم عند الله تعالى (4).
10 - الصوم يُضيِّق مجاري الدم بسبب الجوع (5) والعطش،
--------------------------------------------
বান্দা এবং জিকর ও ফিকরের মাঝে [পর্দা সৃষ্টি করে] এবং উদাসীনতাকে ত্বরান্বিত করে; আর খাদ্য ও পানীয় থেকে উদর শূন্য রাখা অন্তরকে আলোকিত করে, এর কোমলতা নিশ্চিত করে, কঠোরতা দূর করে এবং একে জিকর ও ফিকরের জন্য প্রস্তুত করে (১)।
৫ - সিয়ামের মাধ্যমে ধনী ব্যক্তি তার ওপর আল্লাহ তাআলার নিআমতের কদর বুঝতে পারে যা থেকে সৃষ্টির অনেক মানুষই বঞ্চিত (২)।
৬ - সিয়াম নফসকে নিয়ন্ত্রণ ও তার ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রশিক্ষণের কারণ, যাতে মুসলিম তার নফসকে সেদিকে পরিচালিত করতে সক্ষম হয় যাতে দুনিয়া ও আখেরাতে তার কল্যাণ ও সুখ রয়েছে।
৭ - সিয়াম নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তার অহংকার কমিয়ে দেয়।
৮ - সিয়াম মিসকীনদের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার উদ্রেক করে; কেননা সিয়াম পালনকারী যখন কোনো কোনো সময় ক্ষুধার যন্ত্রণা আস্বাদন করে, তখন সে তাদের কথা স্মরণ করে যাদের অবস্থা সর্বদা বা অধিকাংশ সময় এমন থাকে। ফলে তার অন্তরে এই মিসকীনদের প্রতি কোমলতা ও দয়া জাগ্রত হয়, ফলে সে তাদের প্রতি সদাচরণ করে এবং এর মাধ্যমে সে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মহান সওয়াব লাভ করে (৩)।
৯ - সিয়ামের মধ্যে দরিদ্ররা যা সহ্য করে তা সহ্য করার মাধ্যমে তাদের সাথে একাত্মতা রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলার নিকট সিয়াম পালনকারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে (৪)।
১০ - সিয়াম ক্ষুধা (৫) ও তৃষ্ণার কারণে রক্ত চলাচলের পথকে সংকুচিত করে,
--------------------------------------------