(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: -)
الربا القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الربا - أضراره وآثاره في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
تقديم: معالي العلامة الشيخ الدكتور صالح بن فوزان الفوزان
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 81
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
সুদ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সুদ - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ক্ষতিকর দিক ও প্রভাবসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি
উপস্থাপনা: মহামান্য আল্লামা শায়খ ডক্টর সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশনায়: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যিলকদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الربا
أضراره وآثاره
في ضوء الكتاب والسنة
تقديم معالي العلامة الشيخ الدكتور
صالح بن فوزان الفوزان
عضو هيئة كبار العلماء
تأليف الفقير إلى الله تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানির রচনাসমগ্র
সুদ (الربا)
এর অপকারিতা ও প্রভাবসমূহ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
উপস্থাপনায়: মহামান্য আল্লামা শাইখ ডক্টর
সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
সদস্য, সিনিয়র উলামা পরিষদ
রচনায়: আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী
ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، وبعد، فقد تصفحّت هذا الكتاب في موضوع الربا من تأليف الشيخ سعيد بن علي القحطاني، فوجدته كتاباً مفيداً في موضوعه، وتمسّ الحاجة إلى قراءته، والاستفادة منه. وفق الله الشيخ المؤلِّف إلى كلِّ خير، ونفع بما كتب.
وصلى الله وسلّم على نبينا محمد.
كتبه
صالح بن فوزان الفوزان
عضو هيئة كبار العلماء
26/ 1/1431هـ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অতঃপর, আমি শায়খ সাঈদ বিন আলী আল-কাহত্বানি রচিত সুদ (الربا) বিষয়ক এই বইটি আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি। আমি এই বিষয়বস্তুতে এটিকে একটি উপকারী গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি এবং এটি পাঠ করা ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আল্লাহ লেখক শায়খকে সকল কল্যাণের তাওফিক দান করুন এবং তাঁর এই রচনার মাধ্যমে ফায়দা পৌঁছে দিন।
আমাদের নবি মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
সদস্য, উচ্চতর উলামা পরিষদ
২৬/১/১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1).
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} (2).
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} (3).
أما بعد، فإن أحسن الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرّ الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
لا شك أن موضوع الربا، وأضراره، وآثاره الخطيرة جدير بالعناية، ومما يجب على كل مسلم أن يعلم أحكامه وأنواعه؛ ليبتعد عنه؛ لأن من
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (১)।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (২)।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} (৩)।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম হাদিস হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয় (محدثة), আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة), আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্তকারী।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুদের (الربا) বিষয়টি এবং এর ক্ষয়ক্ষতি ও ভয়াবহ প্রভাবসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বের দাবিদার। সুদের বিধান ও এর প্রকারভেদগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক; যাতে সে এ থেকে দূরে থাকতে পারে; কারণ যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ৪)
تعامل بالربا فهو محارب لله وللرسول صلى الله عليه وسلم.
ولأهمية هذا الموضوع جمعت لنفسي، ولمن أراد من القاصرين مثلي الأدلة من الكتاب والسنة في أحكام الربا، وبيّنت أضراره، وآثاره على الفرد والمجتمع.
وقد قسمت البحث إلى: مقدمة، وثلاثة أبواب، وخاتمة على النحو الآتي:
الباب الأول: الربا قبل الإسلام، واشتمل على فصول:
الفصل الأول: تعريف الربا لغة وشرعاً.
الفصل الثاني: الربا عند اليهود.
الفصل الثالث: الربا في الجاهلية.
الباب الثاني: موقف الإسلام من الربا، وشمل ما يأتي:
الفصل الأول: التحذير من الربا.
الفصل الثاني: ربا الفضل.
أولاً: تعريفه.
ثانياً: بعض ما ورد في ربا الفضل من النصوص.
ثالثاً: حكمه وسائر أنواع الربا.
رابعاً: أسباب تحريم الربا وحِكَمُهُ.
الفصل الثالث: ربا النسيئة.
أولاً: تعريفه.
সুদ নিয়ে যে কারবার করে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী।
এই বিষয়ের গুরুত্বের কারণে আমি নিজের জন্য এবং আমার মতো যারা স্বল্পজ্ঞানী রয়েছে তাদের জন্য কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সুদের বিধানাবলি সম্পর্কিত প্রমাণাদি (الأدلة) একত্রিত করেছি এবং ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর ক্ষতিকর দিক ও প্রভাবসমূহ বর্ণনা করেছি।
আমি গবেষণাটিকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: ইসলামপূর্ব যুগে সুদ, এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে সুদের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের নিকট সুদ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাহেলি যুগে সুদ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সুদের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুদের ব্যাপারে সতর্কবাণী।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বাড়তি সুদ (ربا الفضل)।
প্রথমত: এর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয়ত: বাড়তি সুদ (ربا الفضل) সম্পর্কে বর্ণিত কিছু মূল পাঠ (النصوص)।
তৃতীয়ত: এর এবং সুদের অন্যান্য প্রকারের বিধান (حكم)।
চতুর্থত: সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ এবং এর অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা (حكمة)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মেয়াদি সুদ (ربا النسيئة)।
প্রথমত: এর সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ৫)
ثانياً: بعض ما ورد في ربا النسيئة من النصوص.
الفصل الرابع: بيع العينة.
أولاً: تعريف بيع العينة.
ثانياً: حكمه وبعض ما ورد من النصوص في ذَمِّهِ.
الباب الثالث: ما يجوز فيه التفاضل والنسيئة:
الفصل الأول: جواز التفاضل في غير المكيل والموزون، وبيع الحيوان بالحيوان نسيئة.
الفصل الثاني: الصرف وأحكامه.
الفصل الثالث: الحثّ على الابتعاد عن الشبهات.
الباب الرابع: فتاوى في مسائل من الربا المعاصر.
الباب الخامس: مضار الربا، ومفاسده، وآثاره.
الخاتمة: وفيها أهم النتائج.
والله أسألُ أن يجعل هذا العمل القليل مباركاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله حجة لي لا حجة عليَّ، وأن ينفعني به في حياتي وبعد مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه تعالى خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، وأمينه على وحيه، نبينا محمد وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر في عام 1405هـ
দ্বিতীয়ত: বিলম্বে পরিশোধের সুদ (ربا النسيئة) সম্পর্কিত বর্ণিত কিছু দলিল (النصوص)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বায়'উল ঈনাহ (بيع العينة)।
প্রথমত: বায়'উল ঈনাহ (بيع العينة)-এর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয়ত: এর বিধান এবং এর নিন্দায় বর্ণিত কিছু দলিল (النصوص)।
তৃতীয় অধ্যায়: যাতে কম-বেশি করা (التفاضل) এবং বিলম্বে প্রদান করা (النسيئة) বৈধ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পরিমাপযোগ্য (المكيل) ও ওজনযোগ্য (الموزون) নয় এমন বস্তুতে অতিরিক্ত গ্রহণ (التفاضল) এবং বাকিতে (نسيئة) প্রাণীর বিনিময়ে প্রাণী বিক্রয় করার বৈধতা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুদ্রা বিনিময় (الصرف) এবং এর বিধানসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ (الشبهات) থেকে দূরে থাকার অনুপ্রেরণা।
চতুর্থ অধ্যায়: আধুনিক সুদ (الربا المعاصر) সংক্রান্ত বিভিন্ন মাসআলার ফাতাওয়া।
পঞ্চম অধ্যায়: সুদের (الربا) অপকারিতা, অনিষ্টতা এবং এর প্রভাবসমূহ।
উপসংহার: এতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণালব্ধ ফলাফলসমূহ।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সামান্য কাজটিকে বরকতময় ও একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত (خالصاً) হিসেবে কবুল করেন। তিনি যেন এটিকে আমার পক্ষে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করেন, আমার বিপক্ষে দলিল (حجة) না করেন। তিনি যেন আমাকে আমার জীবনে এবং মৃত্যুর পরে এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকেও উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্য প্রার্থনার আধার এবং মহান আকাঙ্ক্ষিত সত্তা। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। আল্লাহ তাআলা সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর বান্দা ও রাসুলের ওপর, যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত এবং তাঁর ওহীর আমানতদার—আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার (إحسان) সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের সবার ওপর।
লেখক
১৪০৫ হিজরি সনে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ৭)
الباب الأول: الربا قبل الإسلام
الفصل الأول: تعريف الربا لغة وشرعاً
أولاً: تعريف الربا في اللغة:الربا في اللغة: هو الزيادة، قال الله تعالى: {فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ} (1).
وقال تعالى: {أَنْ تَكُونَ أُمَّةٌ هِيَ أَرْبَى مِنْ أُمَّةٍ} (2)، أي أكثر عدداً يقال: ((أربى فلان على فلان، إذا زاد عليه)) (3).
وأصل الربا الزيادة، إما في نفس الشيء، وإما مقابله كدرهم بدرهمين، ويطلق الربا على كل بيعٍ محرم أيضاً (4).
ثانياً: تعريف الربا شرعاً:الربا في الشرع: هو الزيادة في أشياء مخصوصة، والزيادة على الدَّيْن مُقَابل الأجل مطلقاً.
وقيل: هو الزيادة في بيع شيئين يجري فيهما الربا (5).
وهو يطلق على شيئين: يطلق على ربا الفضل، وربا النسيئة (6).
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ইসলামের পূর্বে রিবাপ্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে রিবার সংজ্ঞাপ্রথমত: আভিধানিক অর্থে রিবার সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে রিবা হলো: বৃদ্ধি (الزيادة), আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত (উদ্বেলিত) হয়} (১)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যাতে এক জাতি অন্য জাতি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হয়} (২), অর্থাৎ সংখ্যায় অধিক। বলা হয়ে থাকে: “অমুক ব্যক্তি অমুকের ওপর বৃদ্ধি (أربى) করেছে, যখন সে তার চেয়ে বেশি হয়ে যায়” (৩)।
রিবার মূল অর্থ হলো বৃদ্ধি; চাই তা কোনো বস্তুর স্বীয় সত্তার মধ্যে হোক অথবা তার বিনিময়ের ক্ষেত্রে হোক, যেমন এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম। এছাড়া সকল প্রকার নিষিদ্ধ (محرم) বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও রিবা শব্দটি প্রয়োগ করা হয় (৪)।
দ্বিতীয়ত: শরয়ি পরিভাষায় রিবার সংজ্ঞা:শরয়ি পরিভাষায় রিবা হলো: বিশেষ কিছু বস্তুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত (الزيادة) গ্রহণ এবং ঋণের ওপর সময়ের বিনিময়ে নিঃশর্তভাবে অতিরিক্ত গ্রহণ করা।
বলা হয়েছে: এটি হলো এমন দুটি বস্তু বিক্রয়কালে অতিরিক্ত (الزيادة) গ্রহণ করা যেগুলোর ক্ষেত্রে রিবার বিধান প্রযোজ্য হয় (৫)।
এটি মূলত দুটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়: রিবা আল-ফজল (ربا الفضل) এবং রিবা আন-নাসিয়াহ (ربا النسيئة) (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الثاني: الربا عند اليهودلا شك أن اليهود لهم حيل، وأباطيل كثيرة كانوا يحتالون بها، ويخادعون بها أنبياءهم عليهم الصلاة والسلام، ومن تلك الحيل الباطلة احتيالهم لأكل الربا وقد نهاهم الله عنه، وحرَّمه عليهم.
قال الله تعالى: {فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيراً * وَأَخْذِهِمُ الرِّبا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ} (1).
قال الإمام الحافظ ابن كثير رحمه الله تعالى: ((إن الله قد نهاهم – أي اليهود – عن الربا، فتناولوه، وأخذوه، واحتالوا عليه بأنواع الحيل، وصنوف من الشبه، وأكلوا أموال الناس بالباطل)) (2).
وقد صرف اليهود النص المُحَرِّمَ للربا حيث قصروا التحريم فيه على التعامل بين اليهود، أما معاملة اليهودي لغير اليهودي بالربا، فجعلوه جائزاً لا بأس به.
يقول أحد ربانييهم واسمه راب: ((عندما يحتاج النصراني إلى درهم فعلى اليهودي أن يستولي عليه من كل جهة، ويضيف الربا الفاحش إلى الربا الفاحش، حتى يرهقه، ويعجز عن إيفائه ما لم يتخلَّ عن أملاكه، أو حتى يضاهي المال مع الفائدة أملاك النصراني، وعندئذ يقوم اليهودي
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইহুদিদের নিকট সুদএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইহুদিদের বহু প্রকার অপকৌশল ও অসার পন্থা রয়েছে যা দিয়ে তারা প্রতারণা করত এবং তাদের নবিগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) সাথে প্রবঞ্চনা করত। তাদের সেই বাতিল কৌশলগুলোর অন্যতম হলো সুদ ভক্ষণ করার জন্য হিলা বা বাহানা করা, অথচ আল্লাহ তাআলা তাদের তা থেকে নিষেধ করেছিলেন এবং তাদের ওপর তা হারাম করেছিলেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {বস্তুত ইহুদিদের জুলুমের কারণে আমি তাদের ওপর এমন কিছু পবিত্র বস্তু হারাম করে দিয়েছি যা তাদের জন্য হালাল ছিল এবং আল্লাহর পথে তাদের অনেককে বাধা দেওয়ার কারণে। আর তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, অথচ তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল} (১)।
ইমাম হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের — অর্থাৎ ইহুদিদের — সুদ থেকে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন প্রকার অপকৌশল ও নানা প্রকার অযুহাতের মাধ্যমে তা আত্মসাৎ করেছে এবং মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করেছে)) (২)।
ইহুদিরা সুদের নিষিদ্ধতা সংক্রান্ত মূল পাঠকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে, যার ফলে তারা এই নিষেধাজ্ঞাকে শুধুমাত্র ইহুদিদের নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করে নিয়েছে। আর কোনো ইহুদি যখন কোনো অ-ইহুদি বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর সাথে সুদী কারবার করে, তখন তারা সেটাকে বৈধ ও নির্দোষ মনে করে।
তাদের একজন রব্বানি (ধর্মগুরু), যার নাম 'রাব', বলেন: ((যখন কোনো খ্রিস্টান ব্যক্তির এক দিরহামের প্রয়োজন হয়, তখন ইহুদির উচিত সব দিক থেকে তাকে গ্রাস করা এবং সুদের ওপর অতিরিক্ত সুদ যোগ করা, যতক্ষণ না সে তাকে বিপর্যস্ত করে ফেলে এবং সে তার সম্পত্তি ত্যাগ না করা পর্যন্ত তা পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়ে, অথবা সুদে-আসলে পাওনা টাকা ওই খ্রিস্টানের সম্পত্তির সমপরিমাণ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় ইহুদি...))
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ৯)
على مدينه – غريمه – وبمعاونة الحاكم يستولي على أملاكه)) (1)، فاتّضح من كلام الله تعالى أن الله قد حرّم الربا في التوراة على اليهود، فخالفوا أمر الله، واحتالوا، وحرَّفوا، وبدَّلوا، واعتبروا أن التحريم إنما يكون بين اليهود فقط، أما مع غيرهم فلا يكون ذلك محرماً في زعمهم الباطل؛ ولذلك ذمّهم الله في كتابه العزيز كما بيّنت ذلك آنفاً.
--------------------------------------------
...তার ঋণগ্রহীতা—পাওনাদারের—উপর এবং বিচারকের সহায়তায় তার সম্পদ দখল করে নেয়)) (১), সুতরাং মহান আল্লাহ তাআলার বাণী থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের জন্য তাওরাতে সুদ (الربا) নিষিদ্ধ (حرام) করেছিলেন; কিন্তু তারা আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতা করেছে এবং প্রতারণা, বিকৃতি (تحريف) ও পরিবর্তনের আশ্রয় নিয়েছে। তারা ধারণা করেছিল যে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল ইহুদিদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কিন্তু অন্যদের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে তাদের এই ভিত্তিহীন (باطل) দাবি অনুযায়ী তা নিষিদ্ধ (محرم) নয়; এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত গ্রন্থে তাদের নিন্দা করেছেন, যেমনটি আমি ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الثالث: الربا في الجاهليةلقد كان الربا منتشراً في عصر الجاهلية انتشاراً كبيراً، وقد عدّوه من الأرباح العظيمة – في زعمهم – التي تعود عليهم بالأموال الطائلة، فقد روى الإمام الطبري – رحمه الله – بسنده في تفسيره عن مجاهد أنه قال: ((كانوا في الجاهلية يكون للرجل على الرجل الدَّين فيقول: لك كذا وكذا، وتؤخر عني فيؤخر عنه)) (1).
وغالب ما كانت تفعله الجاهلية أنه إذا حلّ أجل الدَّين قال من هو له لمن هو عليه: أتقضي أم تُربِي؟ فإذا لم يقض زاد مقداراً في المال الذي عليه، وأخّر له الأجل إلى حين.
وقد كان الربا في الجاهلية في التضعيف أيضاً، وفي السِّنِّ كذلك، فإذا كان للرجل فضل دَين على آخر فإنه يأتيه إذا حلّ الأجل، فيقول له: تقضيني أو تزيدني؟ فإن كان عنده شيء يقضيه قضاه، وإلا حوّله إلى السّنِّ التي فوق سنِّه من تلك الأنعام التي هي دَين عليه، فإن كان عليه بنت مخاض، جعلها بنت لبون في السنة الثانية، فإذا أتاه في السنة الثانية ولم يستطع القضاء، جعلها حِقّة في السنة الثالثة، ثم يأتيه في نهاية الأجل فيجعلها جذعة، ثم رباعيّاً، وهكذا حتى يتراكم على المدين أموال طائلة.
وفي الأثمان يأتيه فإن لم يكن عنده أضعفه في العام القابل، فإن لم يكن عنده في العام القابل أضعفه أيضاً، فإذا كانت مائة جعلها إلى قابل
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাহেলিয়াত যুগে সুদ (الربا)জাহেলিয়াত যুগে সুদের (الربا) ব্যাপক প্রচলন ছিল। তারা একে তাদের ধারণামতে—বিশাল মুনাফা হিসেবে গণ্য করত, যা তাদের নিকট প্রচুর অর্থ বয়ে নিয়ে আসত। ইমাম তাবারী—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—তাঁর তাফসীর গ্রন্থে তাঁর সনদের মাধ্যমে (بسنده) মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "জাহেলিয়াত যুগে এক ব্যক্তির নিকট অন্য ব্যক্তির ঋণ থাকত; তখন ঋণগ্রহীতা বলত: আমি তোমাকে এত এত পরিমাণ অতিরিক্ত দেব, বিনিময়ে তুমি আমার ঋণের মেয়াদ পিছিয়ে দাও; তখন পাওনাদার তার মেয়াদ পিছিয়ে দিত।" (১)
জাহেলিয়াত যুগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা করা হতো তা হলো, যখন ঋণের মেয়াদ শেষ হতো, তখন পাওনাদার ঋণগ্রহীতাকে বলত: তুমি কি ঋণ পরিশোধ করবে নাকি সুদ (تُربِي) বৃদ্ধি করবে? যদি সে পরিশোধ না করত, তবে পাওনাদার তার পাওনা মালের পরিমাণ বাড়িয়ে দিত এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তার মেয়াদ বাড়িয়ে দিত।
জাহেলিয়াত যুগে সুদ (الربا) চক্রবৃদ্ধি হারে (التضعيف) বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে এবং গবাদি পশুর বয়সের (السِّنِّ) ক্ষেত্রেও প্রচলিত ছিল। যদি একজনের নিকট অন্যজনের পাওনা ঋণ থাকত, তবে মেয়াদ শেষ হলে পাওনাদার তার নিকট আসত এবং বলত: তুমি কি আমাকে পরিশোধ করবে নাকি পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে? ঋণগ্রহীতার নিকট পরিশোধ করার মতো কিছু থাকলে সে তা পরিশোধ করে দিত। অন্যথায় পাওনাদার সেই গবাদি পশুটিকে ঋণের দায় হিসেবে তার চেয়ে এক ধাপ উপরের বয়সের (السِّنِّ) পশুতে উন্নীত করত। যেমন, তার ওপর যদি এক বছর বয়সী উষ্ট্রী (بنت مخاض) পাওনা থাকত, তবে দ্বিতীয় বছর সেটিকে দুই বছর বয়সী উষ্ট্রী (بنت لبون) বানিয়ে দিত। দ্বিতীয় বছর আসার পর যদি সে পরিশোধ করতে না পারত, তবে তৃতীয় বছর সেটিকে তিন বছর বয়সী উষ্ট্রী (حقة) বানিয়ে দিত। এরপর মেয়াদের শেষে যখন আসত, তখন সেটিকে চার বছর বয়সী উষ্ট্রী (جذعة) বানিয়ে দিত, এরপর পাঁচ বছর বয়সী উট (رباعياً), এভাবে ঋণগ্রহীতার ওপর বিশাল পরিমাণ সম্পদ পুঞ্জীভূত হতো।
আর মুদ্রার ক্ষেত্রে পাওনাদার তার নিকট আসত; যদি ঋণগ্রহীতার কাছে অর্থ না থাকত, তবে পাওনাদার আগামী বছরের জন্য তা দ্বিগুণ (أضعفه) করে দিত। যদি আগামী বছরও তার নিকট কিছু না থাকত, তবে সেটিকে পুনরায় দ্বিগুণ (أضعفه) করা হতো। এভাবে একশত থাকলে আগামী বছরের জন্য তা বৃদ্ধি পেয়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১১)
مائتين، فإن لم يكن عنده من قابل جعلها أربعمائة يضعفها له كل سنة أو يقضيه (1)، فهذا قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا الرِّبا أَضْعَافاً مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (2).
فالربا في الجاهلية كان يُعدّ – كما ذكرت آنفاً – من الأرباح التي يحصل عليها ربّ المال، ولا يهمه ضرر أخيه الإنسان سواء ربح، أم خسر أصابه الفقر، أم غير ذلك؟ المهم أنه يحصل على المال الطائل، ولو أدّى ذلك إلى إهلاك الآخرين، وما ذلك إلا لقبح أفعال الجاهلية وفساد أخلاقهم، وتغيّر فطرهم التي فطرهم الله عليها، فهم في مجتمع قد انتشرت فيه الفوضى، والرذائل، وعدم احترام الآخرين، فالصغير لا يوقّر الكبير، والغني لا يعطف على الفقير، والكبير لا يرحم الصغير، فالقوم في سكرتهم يعمهون، ومما يؤسف له أن الربا لم يقتصر على عصر الجاهلية الأولى فحسب، بل إنه انتشر في المجتمعات التي تدِّعي الإسلام، وتدَّعي تطبيق أحكام الله تعالى في أرض الله
… ! فيجب على كل مسلم أن يُطبِّق أوامر الله ويُنَفِّذ أحكامه، أما من تعامل بالربا ممن يدّعي الإسلام، فنقول له بعد أن نوجه إليه النصيحة ونُحَذِّرُهُ من هذا الْجُرْمِ الكبير:
إنه قد عاد إلى ما كانت عليه الجاهلية الأولى قبل نزول القرآن الكريم بل قبل مبعث النبي محمد صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
দুইশত, অতঃপর আগামী বছর যদি তার নিকট (পরিশোধের ব্যবস্থা) না থাকত, তবে সে তা চারশত করে দিত; এভাবে প্রতি বছর সে তার জন্য তা দ্বিগুণ করত অথবা সে তা পরিশোধ করত (১)। এটাই মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে (أضعافاً مضاعفة) সুদ (الربا) ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} (২)।
পূর্বেই যেমন উল্লেখ করেছি, জাহেলিয়াত যুগে সুদ (الربا) পুঁজিপতির অর্জিত মুনাফার অংশ হিসেবে গণ্য হতো। তার মানবভ্রাতার কী ক্ষতি হলো—সে লাভ করল না কি লোকসান করল, দারিদ্র্য তাকে গ্রাস করল কি না—এসব নিয়ে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। তার কাছে মুখ্য ছিল বিপুল অর্থসম্পদ হস্তগত করা, এমনকি যদি তা অন্যদের ধ্বংসের কারণও হয়। আর এটি ছিল কেবল জাহেলি যুগের কর্মকাণ্ডের কদর্যতা, তাদের চারিত্রিক অবক্ষয় এবং আল্লাহ প্রদত্ত তাদের সহজাত প্রকৃতির (فطرة) বিকৃতির ফল। তারা এমন এক সমাজে ছিল যেখানে বিশৃঙ্খলা, পাপাচার এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে ছোটরা বড়দের সম্মান করত না, ধনীরা দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল না এবং বড়রা ছোটদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করত না। ফলে সেই জাতি তাদের মত্ততায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সুদের (الربا) এই ব্যাধি কেবল প্রথম জাহেলিয়াত যুগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এমন সব সমাজেও ছড়িয়ে পড়েছে যারা ইসলামের দাবি করে এবং আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধানসমূহ (أحكام) বাস্তবায়নের দাবিদার
… ! সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হলো আল্লাহর নির্দেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর বিধানসমূহ (أحكام) কার্যকর করা। আর যারা ইসলামের দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও সুদের (الربا) কারবার করে, তাদেরকে নসিহত প্রদান এবং এই মহাপাপ সম্পর্কে সতর্ক করার পর আমরা বলব:
সে যেন সেই অবস্থায় ফিরে গেছে, যে অবস্থায় কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে, বরং নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী প্রথম জাহেলিয়াত যুগ ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الباب الثاني: موقف الإسلام من الربا
الفصل الأول: التحذير من الربالقد ورد في التحذير من الربا نصوص كثيرة من نصوص الكتاب والسنة؛ وبما أن كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم هما المصدران الصافيان، فمن أخذ بهما واتبع ما جاء فيهما، فقد فاز وأفلح، ومن أعرض عنهما فإن له معيشة ضنكاً، وسيحشر يوم القيامة أعمى، ونسمع بعض ما ورد في شأن الربا من نصوص الكتاب والسنة، والله المستعان، وعليه التكلان.
1 - قال الله تعالى: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبا لا يَقُومُونَ إِلاّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} (1).
2 - وقال سبحانه وتعالى: {يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ} (2).
3 - وقال عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ * فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لا تَظْلِمُونَ وَلا تُظْلَمُونَ} (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: সুদ সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুদ সম্পর্কে সতর্কীকরণসুদ সম্পর্কে সতর্কীকরণের বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর অসংখ্য ভাষ্য (نصوص) বর্ণিত হয়েছে; যেহেতু আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ হলো দুটি বিশুদ্ধ উৎস, তাই যে ব্যক্তি এই দুটিকে গ্রহণ করবে এবং এতে যা এসেছে তা অনুসরণ করবে, সে-ই সফলকাম ও সার্থক হবে। আর যে ব্যক্তি এ দুটি থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে। আমরা কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে সুদ সংক্রান্ত বর্ণিত কিছু বাণী (نصوص) শুনব। আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা রাখছি।
১ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {যারা সুদ খায়, তারা (কিয়ামতের দিন) সে ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দেয়। তা এ জন্য যে, তারা বলে: ‘ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই’। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতএব, যার কাছে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে, অতঃপর সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তার; আর তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট সোপর্দ। কিন্তু যারা পুনরায় শুরু করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।} (১)।
২ - আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা বলেন: {আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন। আর আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে পছন্দ করেন না।} (২)।
৩ - আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হও। কিন্তু যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর যদি তোমরা তওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে; তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال ابن عباس رضي الله عنهما: ((هذه آخر آية نزلت على النبي صلى الله عليه وسلم)) (1).
4 - وقال سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا الرِّبا أَضْعَافاً مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (2).
5 - وقال سبحانه وتعالى في شأن اليهود حينما نهاهم عن الربا وحرمه عليهم، فسلكوا طريق الحيل لإبطال ما أمرهم به، قال سبحانه في ذلك: {وَأَخْذِهِمُ الرِّبا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَاباً أَلِيماً} (3).
6 - وقال عز وجل: {وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِباً لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ} (4).
7 - وعن جابر رضي الله عنه قال: ((لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم: آكل الربا، وموكله، وكاتبه، وشاهديه))، وقال: ((هم سواء)) (5).
8 - وعن سمرة بن جندب رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((رأيت الليلة رجلين أتياني فأخرجاني إلى أرض مُقَدَّسة، فانطلقنا حتى أتينا على نهر من دم فيه رجل قائم، وعلى وسط النهر رجل بين يديه حجارة، فأقبل الرجل الذي في النهر، فإذا أراد أن يخرج رمى الرجل بحجر في فيه، فَرُدَّ حيث كان فجعل
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: ((এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ সর্বশেষ আয়াত)) (১)।
৪ - এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} (২)।
৫ - এবং মহান আল্লাহ ইয়াহূদীদের সম্পর্কে বলেছেন যখন তিনি তাদের সুদ থেকে নিষেধ করেছিলেন এবং তা তাদের জন্য হারাম করেছিলেন, তখন তারা তাঁর নির্দেশ অমান্য করার জন্য হিলার (অপকৌশলের) পথ অবলম্বন করেছিল। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, অথচ তা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল এবং অন্যায়ভাবে মানুষের ধন-সম্পদ গ্রাস করার কারণে; আর আমি তাদের মধ্য থেকে কাফিরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি} (৩)।
৬ - এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা যে যাকাত দাও, তারাই হচ্ছে দ্বিগুণ লাভবান} (৪)।
৭ - জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, এর লেখক এবং এর সাক্ষীদ্বয়কে লানত করেছেন)), এবং তিনি বলেছেন: ((তারা সবাই সমান)) (৫)।
৮ - সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আজ রাতে আমি দু’জন ব্যক্তিকে দেখলাম যারা আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেলেন। তারপর আমরা চলতে থাকলাম যতক্ষণ না আমরা একটি রক্তের নদীর নিকট পৌঁছালাম, যেখানে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিল। আর নদীর মাঝখানে একজন ব্যক্তি ছিল যার সামনে পাথর ছিল। নদীর ভেতরের লোকটি যখনই বের হতে চাইল, অন্য লোকটি তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করল এবং তাকে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দিল, অতঃপর সে করতে লাগল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كلما جاء ليخرج رمى في فيه بحجر فيرجع كما كان، فقلت: ما هذا؟ فقال: الذي رأيته في النهر آكل الربا)) (1).
9 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((اجتنبوا السبع الموبقات))، قالوا: يا رسول الله، وما هن؟ قال: ((الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حرّم اللَّهُ إلا بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتّولّي يوم الزّحف، وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات)) (2).
10 - وعن ابن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((ما أحدٌ أكثر من الربا إلا كان عاقبة أمره إلى قِلَّة)) (3).
11 - وعن سلمان بن عمرو عن أبيه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع يقول: ((ألا إن كل ربا من ربا الجاهلية موضوع، لكم رؤوس أموالكم لا تَظلمون ولا تُظلمون، ألا وإن كل دم من دم الجاهلية موضوع، وأول دم أضع منها دم الحارث بن عبد المطلب كان مسترضعاً في بني ليث فقتلته هذيل، قال: اللهم هل بلّغت؟ قالوا: نعم، ثلاث
--------------------------------------------
যখনই সে বেরিয়ে আসতে চায়, তখনই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং সে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এটা কী? তিনি বললেন: যাকে আপনি নদীতে দেখেছিলেন সে সুদখোর। (১)
৯ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, যাদু, আল্লাহ যা হারাম করেছেন এমন প্রাণীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী সরলমনা মুমিন নারীদের ওপর অপবাদ দেওয়া।" (২)
১০ - ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তিই অত্যধিক মাত্রায় সুদে লিপ্ত হয়, তার পরিণাম শেষ পর্যন্ত অভাব ও স্বল্পতাই হয়।" (৩)
১১ - সালমান ইবনে আমর তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "জেনে রেখো! জাহেলিয়াত যুগের সকল সুদ রহিত (موضوع) করা হলো। তোমাদের জন্য কেবল তোমাদের মূলধন প্রাপ্য; তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না। জেনে রেখো! জাহেলিয়াত যুগের সকল রক্তের দাবি রহিত (موضوع) করা হলো। আমি প্রথম যে রক্তের দাবি রহিত করছি তা হলো হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের রক্ত; সে বনী লাইস গোত্রে দুগ্ধপোষ্য ছিল এবং হুযাইল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল। তিনি (নবীজী) বললেন: হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তারা বললেন: হ্যাঁ, তিনবার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مرات. قال: اللهم اشهد ثلاث مرّات)) (1).
ففي هذا الحديث أن ما أدركه الإسلام من أحكام الجاهلية فإنه يلقاه بالرّدّ والتّنكير، وأنّ الكافر إذا أربى في كفره ثم لم يقبض المال حتى أسلم، فإنه يأخذ رأس ماله، ويضع الربا، فأما ما كان قد مضى من أحكامهم، فإن الإسلام يلقاه بالعفو فلا يتعرض لهم فيما مضى، وقد عفا الله عن الماضي، فالإسلام يَجبّ ما قبله من الذنوب (2).
12 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((ليأتينّ على الناس زمان لا يبالي المرء بما أخذ المال أمِنَ الحلال أم مِنَ الحرام)) (3)، أخبر النبي صلى الله عليه وسلم بهذا تحذيراً من فتنة المال، فهو من بعض دلائل نبوته صلى الله عليه وسلم لإخباره بالأمور التي لم تكن في زمنه، ووجه الذّمّ من جهة التّسوية بين الأمرين، وإلا فأخذ المال من الحلال ليس مذموماً من حيث هو، والله أعلم (4).
13 - وعن أبي جحيفة عن أبيه رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((نهى عن ثمن الدم، وثمن الكلب، وَكَسْبِ الأَمَةِ، ولعن الواشمة، والمستوشمة، وآكل الربا، وموكله، ولعن المصوِّر)) (5).
--------------------------------------------
বার। তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন—তিনবার)) (১)।
এই হাদিসে এটি স্পষ্ট যে, জাহেলি যুগের যেসব বিধিবিধানের মুখোমুখি ইসলাম হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকৃতির মাধ্যমে মোকাবিলা করেছে। আর কোনো কাফির যদি তার কুফরি অবস্থায় সুদি কারবার করে এবং ইসলাম গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত সেই অর্থ গ্রহণ না করে, তবে সে কেবল তার মূলধন গ্রহণ করবে এবং সুদ বর্জন করবে। তবে তাদের অতীত বিধিবিধানের যা গত হয়েছে, ইসলাম তাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে; ফলে যা গত হয়েছে সে বিষয়ে ইসলাম তাদের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীত ক্ষমা করে দিয়েছেন; আর ইসলাম তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয় (২)।
১২ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মানুষের ওপর অবশ্যই এমন এক সময় আসবে, যখন ব্যক্তি পরোয়া করবে না যে সে কীভাবে সম্পদ গ্রহণ করল—হালাল থেকে না কি হারাম থেকে)) (৩)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পদের ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে এই সংবাদ দিয়েছেন। এটি তাঁর নবুয়তের অন্যতম নিদর্শন, কারণ তিনি এমন সব বিষয়ের সংবাদ দিয়েছেন যা তাঁর সময়ে বিদ্যমান ছিল না। আর এখানে নিন্দার বিষয়টি হলো উভয় বিষয়ের (হালাল ও হারাম) মধ্যে সমতা বিধান করা; অন্যথায় হালাল উপায়ে সম্পদ গ্রহণ করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিন্দনীয় নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন (৪)।
১৩ - আবু জুহাইফা তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): ((রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য এবং দাসীর (অনৈতিক) উপার্জন নিষিদ্ধ করেছেন। আর তিনি অভিশাপ দিয়েছেন উল্কি অংকনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণীকে, সুদখোর ও সুদদাতাকে এবং অভিশাপ দিয়েছেন ছবি অংকনকারীকে)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
14 - وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((الربا ثلاثة وسبعون باباً أيسرها مثل أن ينكح الرجل أُمَّهُ، وإنَّ أربى الربا عرض الرجل المسلم)) (1).
15 - ورُوِيَ عن عبد الله بن حنظلة غسيل الملائكة أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((درهم ربا يأكله الرجل وهو يعلم أشدُّ من ستٍّ وثلاثين زنية)) (2).
16 - وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تُشْتَرى الثمرة حتى تُطْعَم، وقال: ((إذا ظهر الزنا والربا في قرية فقد أحلّوا بأنفسهم عذاب الله)) (3).
--------------------------------------------
14 - আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "সুদের তিয়াত্তরটি দরজা রয়েছে, যার মধ্যে ক্ষুদ্রতমটি হলো কোনো ব্যক্তির তার আপন মাকে বিবাহ করার সমতুল্য। আর সবচেয়ে বড় সুদ হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তির মান-সম্মানহানি করা।" (১)।
15 - ফেরেশতা কর্তৃক গোসল করানো আব্দুল্লাহ ইবনে হানযালা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জেনে-বুঝে এক দিরহাম সুদ ভক্ষণ করা ছত্রিশবার ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য।" (২)।
16 - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ফল খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে তা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: "যখন কোনো জনপদে ব্যভিচার ও সুদ প্রকাশ পায়, তখন তারা নিজেদের ওপর আল্লাহর আজাবকে অবধারিত করে নেয়।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الفصل الثاني: ربا الفضل
أولاً: تعريف ربا الفضل: هو الزيادة في مبادلة مال ربوي بمال ربويٍّ من جنسه (1).
ثانياً: بعض ما ورد في ربا الفضل من النصوص:1 - عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تبيعوا الذهب بالذهب، إلا مثلاً بمثل، ولا تَشفوا بعضها على بعض (2)، ولا تبيعوا الوَرِق بالورِق إلا مِثْلاً بِمِثْلٍ، ولا تَشفُّوا بعضها على بعض، ولا تبيعوا منها غائباً بناجز)) (3)، والمراد بالناجز الحاضر، وبالغائب المؤجّل.
2 - وعن عثمان بن عفان رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تبيعوا الدينار بالدينارين، ولا الدّرهم بالدّرهمين)) (4).
3 - وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبر بالبر، والشعير بالشعير، والتمر بالتمر، والملح بالملح، مثلاً بمثل، يداً بيد، فمن زاد أو استزاد فقد أربى، الآخذ
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রিবাল ফজল
প্রথমত: রিবাল ফজলের সংজ্ঞা: রিবাল ফজল হলো একই জাতীয় সুদযোগ্য সম্পদের বিনিময়ে সমজাতীয় সম্পদ আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গ্রহণ করা (১)।
দ্বিতীয়ত: রিবাল ফজল সম্পর্কে বর্ণিত কিছু দলিল:১ - আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করো না, তবে সমান সমান হলে ভিন্ন কথা, এবং একটির ওপর অন্যটির আধিক্য করো না (২); আর রুপার বিনিময়ে রুপা বিক্রি করো না, তবে সমান সমান হলে ভিন্ন কথা, এবং একটির ওপর অন্যটির আধিক্য করো না; আর অনুপস্থিত কোনো কিছু নগদের বিনিময়ে বিক্রি করো না)) (৩)। এখানে ‘নাজেজ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উপস্থিত এবং ‘গায়েব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিলম্বে পরিশোধযোগ্য।
২ - উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা এক দীনারের বিনিময়ে দুই দীনার এবং এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম বিক্রি করো না)) (৪)।
৩ - আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((সোনার বিনিময়ে সোনা, রুপার বিনিময়ে রুপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ, সমান সমান এবং হাতে হাতে হতে হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি বৃদ্ধি করল কিংবা বৃদ্ধির দাবি করল, সে সুদে লিপ্ত হলো। গ্রহণকারী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والمعطي فيه سواء)) (1).
4ـ وعن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبر بالبر، والشعير بالشعير، والتمر بالتمر، والملح بالملح، مثلاً بمثل، سواء بسواء، يداً بيد، فإذا اختلفت هذه الأصناف فبيعوا كيف شئتم، إذا كان يداً بيد)) (2).
5 - وعن معمر بن عبد الله أنه أرسل غلامه بصاع قمح، فقال: بِعْهُ ثم اشترِ به شعيراً، فذهب الغلام فأخذ صاعاً وزيادة بعض صاع، فلما جاء معمراً أخبره بذلك، فقال له معمر: لم فعلت ذلك؟ انطلق فردَّه ولا تأخذنَّ إلا مثلاً بمثل، فإني كنت أسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((الطعام بالطعام مثلاً بمثل))، قال: وكان طعامنا يومئذ الشعير، قيل له: فإنه ليس بمثله، قال: إني أخاف أن يضارع (3) (4).
واحتج مالك بهذا الحديث في كون الحنطة والشعير صنفاً واحداً لا يجوز بيع أحدهما بالآخر متفاضلاً، أما مذهب الجمهور فهو خلاف ما ذهب إليه الإمام مالك رحمه الله تعالى؛ فإن الجمهور على أن الحنطة
--------------------------------------------
...এবং এর দাতা (উভয়ই) সমান)) (১)।
৪- উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ; সমান সমান, হাতে হাতে (নগদে)। অতঃপর যখন এই শ্রেণী (الأصناف)গুলো ভিন্ন ভিন্ন হবে, তখন তোমরা যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো, যদি তা হাতে হাতে (নগদে) হয়)) (২)।
৫ - মা'মার ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর গোলামকে এক সা' গম দিয়ে পাঠালেন এবং বললেন: এটি বিক্রি করো এবং এর বিনিময়ে যব ক্রয় করো। অতঃপর গোলামটি গেল এবং এক সা' ও তার অতিরিক্ত কিছু যব গ্রহণ করল। যখন সে মা'মারের নিকট ফিরে এসে তাঁকে তা অবহিত করল, তখন মা'মার তাকে বললেন: কেন তুমি এমন করলে? যাও এবং এটি ফেরত দাও, আর সমান সমান ছাড়া গ্রহণ করো না; কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((খাবারের বিনিময়ে খাবার সমান সমান হতে হবে))। বর্ণনাকারী বলেন: আর সে সময় আমাদের খাবার ছিল যব। তাঁকে বলা হলো: এটি তো এর (গমের) সমতুল্য নয়। তিনি বললেন: আমি আশঙ্কা করি যে এটি সদৃশ (يضارع) হয়ে যাবে (৩) (৪)।
ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, গম ও যব একই শ্রেণীভুক্ত (صنفاً واحداً), তাই এ দুটির একটির বিনিময়ে অন্যটি কম-বেশি করে (متفاضلاً) বিক্রি করা জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মাযহাব হলো ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যা গ্রহণ করেছেন তার বিপরীত; কেননা জমহুর (جمهور) মনে করেন যে, গম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২০)
صنف، والشعير صنف آخر يجوز التفاضل بينهما إذا كان البيع يداً بيد، كالحنطة مع الأرز، ومن أدلة الجمهور قوله صلى الله عليه وسلم: ((فإذا اختلفت هذه الأصناف فبيعوا كيف شئتم إذا كان يداً بيد)) (1).
6ـ وقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا بأس ببيع البر بالشعير والشعير أكثر يداً بيد، وأما نسيئة فلا)) (2)، وأما حديث معمر السابق فلا حجة فيه كما قال ذلك الإمام النووي رحمه الله؛ لأنه لم يُصرِّح بأن البر والشعير جنس واحد، وإنما خاف من ذلك فتورّع عنه احتياطاً (3).
وعلى هذا فلا إشكال في ذلك والحمد لله، فيكون الشعير جنساً مستقلاً، والبر جنساً آخر يجوز التفاضل بينهما إذا كان البيع يداً بيد، والقبض قبل التفرق.
7 - وعن سعيد بن المسيب رحمه الله أن أبا هريرة، وأبا سعيد رضي الله عنهما حدثاه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث أخا بني عدي الأنصاري فاستعمله على خيبر، فقدم بتمر جنيب (4)، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أكلّ تمر خيبر هكذا؟))
--------------------------------------------
...একটি শ্রেণী, আর যব হলো অন্য একটি শ্রেণী। লেনদেন হাতে হাতে (নগদ) হলে এদের মধ্যে কম-বেশি হওয়া বৈধ, যেমন গমের সাথে চালের বিনিময়। জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামাদের) অন্যতম দলিল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যখন এই শ্রেণীগুলো ভিন্ন ভিন্ন হবে, তখন তোমরা যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো, যদি তা হাতে হাতে (নগদ) হয়" (১)।
৬- এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "গমের বিনিময়ে যব বিক্রিতে কোনো অসুবিধা নেই এবং যব যদি পরিমাণে বেশিও হয় (তাতে সমস্যা নেই) যদি তা হাতে হাতে (নগদ) হয়, তবে বাকিতে হলে চলবে না" (২)। আর মা'মার বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিসটির ব্যাপারে কোনো প্রমাণ নেই যেমনটি ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন; কারণ তিনি স্পষ্ট করেননি যে গম ও যব একই জাতীয় বস্তু, বরং তিনি এ বিষয়ে আশঙ্কা করেছিলেন এবং সতর্কতাস্বরূপ তা থেকে বিরত ছিলেন (৩)।
সুতরাং এমতাবস্থায় এতে কোনো সংশয় নেই, আলহামদুলিল্লাহ। যব একটি স্বতন্ত্র জাতীয় বস্তু এবং গম অন্য একটি জাতীয় বস্তু, যদি লেনদেন হাতে হাতে (নগদ) হয় এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই হস্তগত (কবজা) করা হয়, তবে তাদের মধ্যে কম-বেশি করা বৈধ।
৭ - সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদ (রা.) তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বনু আদি আল-আনসারী গোত্রের এক ব্যক্তিকে খায়বারের আমিল (কর্মকর্তা) নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। তিনি 'জানীব' (উৎকৃষ্ট মানের খেজুর) নিয়ে আসলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: "খায়বারের সব খেজুর কি এই রকম?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال: لا والله يا رسول الله، إنَّا لنشتري الصاع بالصاعين من الجمع (1)، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تفعلوا، ولكن مثلاً بمثل، أو بيعوا هذا واشتروا بثمنه من هذا، وكذلك الميزان)) (2).
8 - وعن أبي سعيد قال: جاء بلال بتمر برني فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من أين هذا))؟ فقال بلال: تمر كان عندنا رديء بعت منه صاعين بصاع لمطعم النبي صلى الله عليه وسلم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك ((أوّه (3)، عين الربا (4)، لا تفعل، ولكن إذا أردت أن تشتري فبعه ببيع آخر، ثم اشترِ به)) (5).
9ـ وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: كنا نُرْزَق تمر الجمع على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو الخلط (6) من التمر، فَكُنَّا نبيع صاعين بصاع، فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((لا صاعي تمر بصاع، ولا صاعي حنطة بصاع، ولا درهم بدرهمين)) (7).
10 - عن فضالة بن عبيد الله الأنصاري رضي الله عنه قال: أُتِيَ رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بخيبر بقلادة فيها خرز، وذهب، وهي من المغانم تباع، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "না, আল্লাহর কসম হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এক সা-এর বিনিময়ে দুই সা 'জাম' (১) খেজুর ক্রয় করি।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তোমরা এমন করো না; বরং সমান সমান (مثلاً بمثل) বিনিময় করো, অথবা এটি বিক্রি করো এবং সেই মূল্য দিয়ে ওইটি ক্রয় করো। ওজন করার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।" (২)।
8 - আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বিলাল (রা.) কিছু 'বারনি' খেজুর নিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "এটি কোথা থেকে এলো?" বিলাল (রা.) বললেন: "আমাদের কাছে কিছু নিম্নমানের খেজুর ছিল, আমি নবী (সা.)-এর খাবারের জন্য তার দুই সা-এর বিনিময়ে এক সা (উন্নত খেজুর) বিনিময় করেছি।" তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "হায় আফসোস (৩)! এটিই সরাসরি সুদ (عين الربا) (৪)। এমন করো না। বরং তুমি যখন ক্রয় করতে চাও, তখন তোমার খেজুর অন্য বিক্রয়ের মাধ্যমে বিক্রি করো, তারপর তা দিয়ে এটি ক্রয় করো।" (৫)।
9ـ আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আমাদের 'জাম' খেজুর দেওয়া হতো, যা ছিল খেজুরের মিশ্রণ (الخلط) (৬)। আমরা তখন দুই সা-এর বিনিময়ে এক সা বিক্রি করতাম। এই সংবাদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: "দুই সা খেজুর এক সা-এর বিনিময়ে নয়, দুই সা গম এক সা-এর বিনিময়ে নয় এবং এক দিরহাম দুই দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করা যাবে না।" (৭)।
10 - ফাদালাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন খায়বারে ছিলেন, তখন তাঁর নিকট পুঁতি ও স্বর্ণখচিত একটি হার আনা হলো। এটি ছিল গনিমতের অন্তর্ভুক্ত যা বিক্রি করা হচ্ছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২২)
بالذهب الذي في القلادة فنُزِعَ وحده، ثم قال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الذهب بالذهب وزناً بوزن)) (1).
11 - وعن فضالة أيضاً قال: اشتريت يوم خيبر قلادة باثني عشر دينارًا فيها ذهب وخرز، ففصلتها (2)، فوجدت فيها أكثر من اثني عشر ديناراً، فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: ((لا تباع حتى تُفْصَل)) (3).
ففي هذا الحديث أنه لا يجوز بيع ذهب مع غيره بذهب حتى يُفْصَل، فيباع الذهب بوزنه ذهباً، ويباع الآخر بما أراد، وكذا لا تباع فضة مع غيرها بفضة، وكذا الحنطة لا تباع مع غيرها بحنطة، والملح مع غيره بملح، وكذا سائر الربويات بل لا بد من فصلها، وهذه المسألة المشهورة والمعروفة بمسألة ((مُدُّ عَجْوَة))، وصورتها باع مدّ عجوة ودرهماً بمدَّي عجوة أو بدرهمين لا يجوز؛ لهذا الحديث، وهذا منقول عن عمر بن الخطاب وابنه رضي الله عنهما، وجماعة من السلف، وهو مذهب الشافعي، وأحمد بن حنبل (4).
--------------------------------------------
সেই স্বর্ণের বিনিময়ে যা হারের মধ্যে ছিল, অতঃপর তা আলাদা করা হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: "স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ ওজনে সমান সমান হতে হবে" (১)।
১১ - ফাদালাহ (রা.) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি খায়বারের যুদ্ধের দিন বারো দিনারের বিনিময়ে একটি হার ক্রয় করলাম যাতে স্বর্ণ ও পুতি ছিল। অতঃপর আমি তা পৃথক (২) করলাম এবং তাতে বারো দিনারের চেয়ে বেশি স্বর্ণ পেলাম। আমি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "এটি পৃথক না করা পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে না" (৩)।
এই হাদিসে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, স্বর্ণের সাথে অন্য কিছু মিশ্রিত থাকলে তা পৃথক না করা পর্যন্ত স্বর্ণের বিনিময়ে বিক্রি করা বৈধ নয়। সুতরাং স্বর্ণ তার সম-ওজনের স্বর্ণের বিনিময়ে বিক্রি করা হবে এবং অন্য অংশটি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বিক্রি করা যাবে। অনুরূপভাবে রূপার সাথে অন্য কিছু মিশ্রিত থাকলে তা রূপার বিনিময়ে বিক্রি করা যাবে না; এবং গমের সাথে অন্য কিছু মিশ্রিত থাকলে গমের বিনিময়ে এবং লবণের সাথে অন্য কিছু থাকলে লবণের বিনিময়ে বিক্রি করা যাবে না। ঠিক তেমনিভাবে অন্যান্য সুদযুক্ত পণ্যও, বরং তা পৃথক করা আবশ্যক। এই মাসআলাটি 'মুদ্দে আজওয়া' মাসআলা হিসেবে প্রসিদ্ধ ও পরিচিত। এর স্বরূপ হলো: এক মুদ আজওয়া খেজুর ও একটি দিরহামকে দুই মুদ আজওয়া অথবা দুই দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করা যা বৈধ নয়; এই হাদিসের কারণে। এটি উমর ইবনুল খাত্তাব এবং তাঁর পুত্র (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং একদল পূর্বসূরি আলেম থেকেও বর্ণিত। এটি ইমাম শাফেয়ী ও আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثالثاً: حكم الربا:قال الإمام النووي رحمه الله تعالى: ((أجمع المسلمون على تحريم الربا في الجملة، وإن اختلفوا في ضابطه وتعاريفه)) (1)، ونص النبي صلى الله عليه وسلم على تحريم الربا في ستة أشياء: الذهب، والفضة، والبر، والشعير، والتمر، والملح.
قال أهل الظاهر: لا ربا في غير هذه الستة، بناء على أصلهم في نفي القياس.
وقال جميع العلماء سواهم: لا يختص بالستة، بل يتعدّى إلى ما في معناها، وهو ما يشاركها في العلَّة.
واختلفوا في العلَّة التي هي سبب تحريم الربا في الستة:
فقال الشافعية: العلة في الذهب، والفضة: كونهما جنس الأثمان، فلا يتعدَّى الربا منهما إلى غيرهما من الموزونات، وغيرها؛ لعدم المشاركة، والعلَّة في الأربعة الباقية: كونها مطعومة فيتعدَّى الربا منها إلى كل مطعوم.
ووافق مالك الشافعي في الذهب والفضة.
أما في الأربعة الباقية فقال: العلَّة فيها: كونها تُدَّخَر للقوت وتصلح له.
وأما مذهب أبي حنيفة رحمه الله تعالى: فهو أن العلَّة في الذهب والفضة الوزن، وفي الأربعة الكيل، فيتعدَّى إلى كل موزون
… وإلى كل مكيل.
ومذهب أحمد، والشافعي في القديم، وسعيد بن المسيب: أن العلَّة في
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: রিব্যার (ربا) বিধান:ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((মুসলিমগণ সাধারণভাবে রিব্যার (ربا) হারামে (تحريم) ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন, যদিও তাঁরা এর মাপকাঠি ও সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন)) (১), এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছয়টি বস্তুর ক্ষেত্রে রিব্যা (ربا) হারাম (تحريم) হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান প্রদান করেছেন: স্বর্ণ, রৌপ্য, গম, যব, খেজুর এবং লবণ।
আহলে জাহেরগণ বলেছেন: এই ছয়টি বস্তু ব্যতীত অন্য কিছুতে রিব্যা (ربا) নেই; এটি কিয়াসের (قياس) অস্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে তাদের নির্ধারিত মূলনীতির কারণে।
তাঁরা ব্যতীত অন্যান্য সকল আলেম বলেছেন: রিব্যা কেবল এই ছয়টি বস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলোর অর্থ বহনকারী অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যা এগুলোর কার্যকর কারণ বা ইল্লাতের (علة) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আর উক্ত ছয়টি বস্তুতে রিব্যা (ربا) হারাম (تحريم) হওয়ার পেছনে কার্যকর কারণ বা ইল্লাত (علة) কী, সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন:
শাফেয়ীগণ বলেছেন: স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে ইল্লাত (علة) হলো এগুলোর মূল্যমান (أثمان) জাতীয় হওয়া; তাই সমজাতীয়তা না থাকায় এ দুটি থেকে ওজনযোগ্য (موزونات) অন্যান্য বস্তুতে রিব্যা (ربا) সম্প্রসারিত হবে না। আর অবশিষ্ট চারটির ক্ষেত্রে ইল্লাত (علة) হলো খাদ্যদ্রব্য (مطعومة) হওয়া; তাই এগুলো থেকে রিব্যার (ربا) বিধান প্রতিটি খাদ্যদ্রব্যের (مطعوم) ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে ইমাম মালিক ইমাম শাফেয়ীর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
তবে অবশিষ্ট চারটির ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: এগুলোর ইল্লাত (علة) হলো এগুলো খাদ্য হিসেবে সংরক্ষণযোগ্য হওয়া এবং এর উপযোগী হওয়া।
আর ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো: স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে ইল্লাত (علة) হলো ওজন (وزن), এবং অবশিষ্ট চারটির ক্ষেত্রে পরিমাপ (كيل); ফলে এটি প্রতিটি ওজনযোগ্য (موزون)
… এবং প্রতিটি পরিমাপযোগ্য (مكيل) বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ইমাম আহমাদ, ইমাম শাফেয়ীর পূর্বতন মত এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের মাযহাব হলো: এগুলোর ইল্লাত (علة)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأربعة كونها مطعومة موزونة، أو مكيلة، بشرط الأمرين (1).
قال الإمام ابن تيمية رحمه الله تعالى: ((اتفق جمهور الصحابة، والتابعين، والأئمة الأربعة على أنه لا يباع الذهب، والفضة، والحنطة، والشعير، والتمر، والزبيب، بجنسه إلا مثلاً بمثل، إذ الزيادة على المثل أكلٌ للمال بالباطل)) (2).
وأجمع العلماء كذلك على أنه لا يجوز بيع الربوي بجنسه وأحدهما مُؤجَّل، وعلى أنه لا يجوز التفاضل إذا بيع بجنسه حالاً: كالذهب بالذهب، وأجمعوا على أنه لا يجوز التفرق قبل التقابض إذا باعه بجنسه: كالذهب بالذهب، أو التمر بالتمر - أو بغير جنسه مما يشاركه في العلَّة، كالذهب بالفضة والحنطة بالشعير (3)، وقال الإمام ابن قدامة رحمه الله في حكم الربا: ((وهو محرم بالكتاب والسنة والإجماع)) (4).
والحاصل مما تقدم أن العلة في جريان الربا في الذهب والفضة: هو مطلق الثمنية، وهو رواية عن الإمام أحمد، واختارها شيخ الإسلام ابن تيمية (5)، فيلحق بالذهب والفضة ما كان في معناهما، ويكون ثمناً للأشياء.
--------------------------------------------
চারটি (পণ্য) খাদ্যদ্রব্য হওয়া সত্ত্বেও ওজনের ভিত্তিতে পরিমাপযোগ্য (موزونة) অথবা আয়তনের ভিত্তিতে পরিমাপযোগ্য (مكيلة) হওয়া, উভয় শর্ত সাপেক্ষে (১)।
ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: "সাহাবীগণের জমহুর (جمهور), তাবিঈগণ এবং চার ইমাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, স্বর্ণ, রৌপ্য, গম, যব, খেজুর এবং কিশমিশ—এগুলো যখন একই জাতীয় বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি করা হবে, তখন সমান সমান হওয়া ব্যতিরেকে তা বিক্রি করা যাবে না; কারণ পরিমাণের অতিরিক্ত গ্রহণ করা অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ করার শামিল" (২)।
আলেমগণ এ বিষয়েও ইজমা (إجماع) পোষণ করেছেন যে, সুদযুক্ত (الربوي) পণ্য একই জাতীয় পণ্যের বিনিময়ে বিক্রি করার ক্ষেত্রে কোনোটিই বাকিতে বা বিলম্বিত (مؤجل) বিক্রয় করা জায়েজ নয়। একইভাবে তারা একমত হয়েছেন যে, নগদ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কম-বেশি বা আধিক্য (التفاضل) করা জায়েজ নয়: যেমন স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ। তারা আরও ইজমা (أجمعوا) করেছেন যে, একই জাতীয় পণ্য হস্তান্তরের পূর্বে পৃথক হওয়া জায়েজ নয়: যেমন স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ অথবা খেজুরের বিনিময়ে খেজুর—অথবা ভিন্ন জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও যদি তাদের মধ্যে ইল্লত বা কার্যকর কারণ (العلة) একই থাকে, যেমন রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং যবের বিনিময়ে গম (৩)। ইমাম ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) সুদের বিধান সম্পর্কে বলেছেন: "এটি কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা (إجماع) দ্বারা হারাম" (৪)।
উপরোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে সুদের প্রভাব কার্যকর হওয়ার ইল্লত বা কার্যকর কারণ (العلة) হলো: এগুলোর নিরঙ্কুশ মূল্যমান বা বিনিময়যোগ্যতা (الثمنية)। এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা বা রেওয়াত (رواية) এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (৫) এটিকেই গ্রহণ করেছেন। অতএব, স্বর্ণ ও রৌপ্যের সমার্থক বা একই অর্থ বহনকারী সকল বিষয়ই এ দুটির অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যা কোনো জিনিসের বিনিময় মূল্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أما الأربعة الباقية فكل ما اجتمع فيه الكيل، أو الوزن، والطعم من جنس واحد ففيه الربا، مثل: البر، والشعير، والذرة، والأرز، والدخن، وهو رواية عن الإمام أحمد، واختارها شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (1).
وأما ما انعدم فيه الكيل، والوزن، والطعم واختلف جنسه فلا ربا فيه، وهو قول أكثر أهل العلم، مثل: القت، والنوى (2).
رابعاً: أسباب تحريم الربا وحِكَمَهُ:لا يشك المسلم في أَنَّ الله عز وجل لا يأمر بأمر ولا ينهى عن شيء، إلا وله فيه حكمة عظيمة، فإن عَلِمْنا بالحكمة، فهذا زيادة علم ولله الحمد، وإذا لم نعلم بتلك الحكمة، فليس علينا جناح في ذلك، إنما الذي يُطلب منَّا هو أن نُنَفِّذْ ما أمر الله به، وننتهي عما نهى الله عنه ورسوله صلى الله عليه وسلم.
ومن هذه الأسباب ما يأتي:
1 - الربا ظلم، والله حرم الظلم.
2 - قطع الطريق على أصحاب النفوس المريضة.
3 - الربا فيه غبن.
4 - المحافظة على المعيار الذي تقوم به السلع.
5 - الربا مضاد لمنهج الله تعالى (3).
--------------------------------------------
অবশিষ্ঠ চারটির ক্ষেত্রে, যেসকল বস্তুর মাঝে পরিমাপ (كيل), ওজন (وزন) এবং স্বাদ (طعم) একই জাতীয় (جنس) হয়ে একত্রিত হয়, তাতে সুদ (ربا) বিদ্যমান; যেমন: গম, যব, ভুট্টা, চাল এবং বাজরা। এটি ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এটিই পছন্দ করেছেন (১)।
আর যেগুলোতে পরিমাপ (كيل), ওজন (وزন) ও স্বাদ (طعم) অনুপস্থিত এবং তার শ্রেণি (جنس) ভিন্ন, তাতে কোনো সুদ (ربا) নেই। এটি অধিকাংশ ইলম অন্বেষী বা আলিমের অভিমত (قول); যেমন: ঘাস ও খেজুরের আঁটি (২)।
চতুর্থত: সুদ (ربا) হারামের কারণ ও এর হিকমতসমূহ (حكمة):একজন মুসলিম এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না যে, মহান আল্লাহ কোনো আদেশ করেন না বা কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করেন না, যদি না তাতে কোনো সুমহান হিকমত (حكمة) নিহিত থাকে। আমরা যদি সেই হিকমত সম্পর্কে অবগত হই, তবে তা জ্ঞানের বৃদ্ধি এবং আল্লাহর প্রশংসা। আর যদি আমরা সেই হিকমত সম্পর্কে অবগত না হতে পারি, তবে তাতে আমাদের কোনো অপরাধ নেই। আমাদের নিকট যা কাম্য তা হলো, আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকা।
এর কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে নিম্নরূপ:
১ - সুদ (ربا) হলো জুলুম, আর আল্লাহ জুলুম হারাম করেছেন।
২ - অসুস্থ অন্তরের অধিকারীদের পথ রুদ্ধ করা।
৩ - সুদের মাঝে ঠকানো বা প্রবঞ্চনা (غبن) রয়েছে।
৪ - পণ্যের মূল্যায়নকারী মানদণ্ড সংরক্ষণ করা।
৫ - সুদ (ربا) আল্লাহ তাআলার পদ্ধতির (منهج) পরিপন্থী (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الفصل الثالث: ربا النسيئة
أولاً: تعريف ربا النسيئة: هو تأخير القبض في بيع كل جنسين اتفقا في علة ربا الفضل (1).
وقيل: ربا النسيئة: هو بيع الربوي بجنسه نسيئة (2).
والأقرب - والله أعلم - أن يقال: هو تأخير القبض في بيع الربوي بالربوي، سواء كان من جنسه أو من غير جنسه إذا اتفقا في العلة.
وربا النسيئة: هو الذي كان مشهوراً في الجاهلية؛ لأن الواحد منهم كان يدفع ماله لغيره إلى أجل، على أن يأخذ منه كل شهر قدراً معيناً، ورأس المال باق بحاله، فإذا حلّ طالبه برأس ماله، فإن تعذر عليه الأداء زاد في الحق والأجل، وتسمية هذا نسيئة مع أنه يصدق عليه ربا الفضل؛ لأن النسيئة هي المقصودة منه بالذات.
وكان ابن عباس رضي الله عنهما لا يُحرِّمُ إلا ربا النسيئة محتجّاً بأنه المتعارف بينهم (3).
وسيأتي ذكر أدلّة رجوعه عن قوله رضي الله عنه قريباً، وانضمامه إلى الصحابة في تحريم ربا الفضل، وربا النسيئة جميعاً، فلا إشكال في ذلك، ولله الحمد
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রিবান নাসিয়াহ (ربا النسيئة)
প্রথমত: রিবان নাসিয়াহ-এর (ربا النسيئة) সংজ্ঞা: এটি হলো এমন প্রতিটি দুই শ্রেণির পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হস্তান্তরে বিলম্ব (نسيئة) করা, যারা রিবাল ফদলের (ربا الفضل) ইল্লত (علة) বা কারণের ক্ষেত্রে একীভূত (১)।
এবং বলা হয়েছে: রিবান নাসিয়াহ (ربا النسيئة) হলো: সুদযোগ্য (ربوي) বস্তু তার নিজ শ্রেণির বিনিময়ে বিলম্বে (نسيئة) বিক্রয় করা (২)।
আর অধিকতর সঠিক—আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—হলো এভাবে বলা: এটি হলো সুদযোগ্য (ربوي) বস্তুর বিনিময়ে সুদযোগ্য (ربوي) বস্তু বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হস্তান্তরে বিলম্ব করা, চাই তা সমজাতীয় হোক বা ভিন্নজাতীয়, যদি তারা ইল্লত (علة) বা কারণের ক্ষেত্রে একীভূত হয়।
আর রিবান নাসিয়াহ (ربا النسيئة) হলো সেটিই, যা জাহেলি যুগে প্রসিদ্ধ ছিল; কেননা তাদের মধ্যে কেউ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অন্য কাউকে তার অর্থ প্রদান করত এই শর্তে যে, সে প্রতি মাসে তার কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রহণ করবে, আর মূলধন তার অবস্থায় বহাল থাকবে। অতঃপর যখন মেয়াদ পূর্ণ হতো, তখন সে তার মূলধন দাবি করত; যদি গ্রহীতার পক্ষে তা পরিশোধ করা অসম্ভব হতো, তবে সে পাওনা এবং মেয়াদ উভয়ই বৃদ্ধি করে দিত। একে নাসিয়াহ (نسيئة) নামে অভিহিত করা হয় যদিও এর ওপর রিবাল ফদলের (ربا الفضل) সংজ্ঞা প্রযোজ্য হয়; কারণ এখানে মূলত বিলম্বই (نسيئة) বিশেষভাবে উদ্দেশ্য থাকে।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কেবল রিবান নাসিয়াহকেই (ربا النسيئة) হারাম বলতেন, এই যুক্তিতে যে এটিই তাদের মাঝে প্রচলিত ছিল (৩)।
শীঘ্রই তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই অভিমত থেকে ফিরে আসার এবং রিবাল ফদল (ربا الفضل) ও রিবান নাসিয়াহ (ربا النسيئة) উভয়টি হারাম করার বিষয়ে সাহাবীদের সাথে ঐকমত্য পোষণের দলিলসমূহ সামনে আসবে, সুতরাং এতে কোনো সংশয় নেই, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والمنة.
ثانياً: بعض ما ورد في ربا النسيئة من النصوص:لا شك أن ربا النسيئة لا خلاف في تحريمه بين الأمة جمعاء، إنما الخلاف في ربا الفضل بين الصحابة وابن عباس وذكر عن ابن عمر أيضاً رضي الله عنهم أجمعين، وقد ثبت عن ابن عباس أنه رجع عن قوله، وانضمّ إلى الصحابة في القول بتحريم ربا الفضل.
أما بالنسبة لربا النسيئة، فتحريمه ثابت بالكتاب، والسنة، والإجماع:
عن أبي صالح قال: سمعت أبا سعيد الخدري رضي الله عنه يقول: ((الدينار بالدينار، والدرهم بالدرهم، مثلاً بمثل، فمن زاد أو استزاد فقد أربى))، فقلت له: إن ابن عباس يقول غير هذا، فقال: لقد لقيت ابن عباس فقلت له: أرأيت هذا الذي تقول، أشيء سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو وجدته في كتاب الله عز وجل؟ فقال: لم أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم أجده في كتاب الله، ولكن حدثني أسامة بن زيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((الربا في النسيئة)) (1).
وفي رواية عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: حدثني أسامة بن زيد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ألا إنما الربا في النسيئة)) (2).
--------------------------------------------
এবং সকল অনুগ্রহ।
দ্বিতীয়ত: নাসীআহ সুদ (ربا النسيئة) সম্পর্কে বর্ণিত কিছু পাঠ (نصوص):নিঃসন্দেহে সমগ্র উম্মাহর মধ্যে নাসীআহ সুদ (ربا النسيئة) নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। মতভেদ কেবল ফজল সুদ (ربا الفضل) নিয়ে সাহাবীগণ এবং ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে; ইবনে উমর (রাযি.) থেকেও এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। তবে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি তাঁর পূর্ববর্তী অভিমত থেকে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন এবং ফজল সুদ (ربا الفضل) নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার বিষয়ে সাহাবীদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন।
আর নাসীআহ সুদের (ربا النسيئة) ক্ষেত্রে এর নিষিদ্ধতা (تحريم) কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার (الإجماع) মাধ্যমে প্রমাণিত:
আবু সালেহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি: ((দীনারের বিনিময়ে দীনার এবং দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম সমান সমান হতে হবে। যে ব্যক্তি বৃদ্ধি করল বা বৃদ্ধি চাইল, সে সুদে লিপ্ত হলো))। তখন আমি তাঁকে বললাম: ইবনে আব্বাস (রাযি.) তো এর ভিন্ন কথা বলেন। তিনি বললেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বললাম: আপনি যা বলছেন তা কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন নাকি আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে এটি শুনিনি এবং আল্লাহর কিতাবেও এটি পাইনি; তবে ওসামা ইবনে যায়েদ (রাযি.) আমার নিকট বর্ণনা (حدثني) করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((সুদ কেবল নাসীআহ বা বিলম্বে পরিশোধের (النسيئة) ক্ষেত্রেই হয়)) (১)।
ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেন: ওসামা ইবনে যায়েদ (রাযি.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((জেনে রেখো, সুদ কেবল নাসীআহ বা বিলম্বে পরিশোধের (النسيئة) মধ্যেই সীমাবদ্ধ)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الإمام النووي رحمه الله تعالى: ((كان معتمد ابن عباس، وابن عمر حديث أسامة بن زيد: ((إنما الربا في النسيئة))، ثم رجع ابن عمر، وابن عباس عن ذلك، وقالا بتحريم بيع الجنس بعضه ببعض متفاضلاً حين بلغهما حديث أبي سعيد كما ذكره مسلم من رجوعهما صريحاً، وهذه الأحاديث التي ذكرها مسلم تدلّ على أن ابن عمر، وابن عباس لم يكن بلغهما حديث النهي عن التفاضل في غير النسيئة، فلما بلغهما رجعا إليه.
وأما حديث أسامة: ((لا ربا إلا في النسيئة)) فقال قائلون: ((بأنه منسوخ بهذه الأحاديث، وقد أجمع المسلمون على ترك العمل بظاهره وهذا يدل على نسخه)) (1).
قال الحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه الله: ((اتفق العلماء على صحة حديث أسامة، واختلفوا في الجمع بينه وبين حديث أبي سعيد، فقيل: منسوخ، لكن النسخ لا يثبت بالاحتمال.
وقيل: المعنى في قوله: ((لا ربا)) الربا الأغلظ الشديد المتوعد عليه بالعقاب الشديد، كما تقول العرب: لا عالم في البلد إلا زيد، مع أن فيها علماء غيره، وإنما القصد نفي الأكمل، لا نفي الأصل، وأيضاً نفي تحريم ربا الفضل من حديث أسامة إنما هو بالمفهوم، فيقدم عليه حديث أبي سعيد؛ لأن دلالته بالمنطوق، ويحمل حديث أسامة على الربا الأكبر كما
--------------------------------------------
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইবনে আব্বাস এবং ইবনে উমর (রা.)-এর প্রধান ভিত্তি ছিল উসামা বিন যাইদ (রা.) বর্ণিত হাদিস: ((সুদ তো কেবল বাকিতে লেনদেনের (النسيئة) মধ্যেই সীমাবদ্ধ))। পরবর্তীতে ইবনে উমর এবং ইবনে আব্বাস (রা.) সেই অবস্থান থেকে ফিরে আসেন। যখন আবু সাঈদ (রা.) বর্ণিত হাদিসটি তাদের কাছে পৌঁছে, তখন তারা একই জাতীয় পণ্য কম-বেশি করে লেনদেন করাকে হারাম বলেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম স্পষ্টভাবে তাদের এই মত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। মুসলিম বর্ণিত এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, ইবনে উমর এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে বাকিতে লেনদেন (النسيئة) ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার হাদিসটি পৌঁছেনি। যখনই তাদের কাছে তা পৌঁছেছে, তারা সে মতের দিকেই ফিরে এসেছেন।
আর উসামা (রা.)-এর হাদিস: ((বাকিতে (النسيئة) ব্যতীত কোনো সুদ নেই)) প্রসঙ্গে একদল আলিম বলেছেন: ((এটি এই হাদিসগুলো দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়েছে এবং মুসলিমগণ এর বাহ্যিক অর্থের ওপর আমল বর্জন করার ব্যাপারে ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন, যা এর রহিত (منسوخ) হওয়ারই প্রমাণ দেয়)) (১)।
হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((উলামায়ে কিরাম উসামা (রা.)-এর হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) এর ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তবে এই হাদিস এবং আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে তারা মতপার্থক্য করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: এটি রহিত (منسوخ), তবে নিছক সম্ভাবনার ভিত্তিতে রহিতকরণ (النسخ) প্রমাণিত হয় না।
আবার কেউ কেউ বলেছেন: ((কোনো সুদ নেই))—এই বাণীর অর্থ হলো, সেই ভয়াবহ ও কঠোর সুদ যার জন্য কঠোর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে। যেমন আরবরা বলে থাকে: শহরে জায়েদ ছাড়া আর কোনো আলিম নেই, অথচ সেখানে অন্য আলিমও থাকেন। এখানে উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গতা অস্বীকার করা, মূল অস্তিত্বকে অস্বীকার করা নয়। এছাড়া উসামা (রা.)-এর হাদিসে অতিরিক্ত লেনদেনের সুদ (রিবাল ফদল) নিষিদ্ধ হওয়াকে অস্বীকার করা হয়েছে পরোক্ষ ইঙ্গিত বা ধারণালব্ধ অর্থের (المفهوم) মাধ্যমে, তাই এর বিপরীতে আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসটি অগ্রাধিকার পাবে; কারণ সেটির প্রমাণ সরাসরি বক্তব্যের (المنطوق) মাধ্যমে। আর উসামা (রা.)-এর হাদিসকে সবচেয়ে বড় সুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরা হবে যেমন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تقدّم، والله أعلم)) (1).
فاتّضح مما تقدّم تحريم: ربا الفضل، وربا النسيئة، فلا إشكال في ذلك، ولله الحمد.
--------------------------------------------
পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ)) (১)।
সুতরাং পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে: রিবা আল-ফজল (ربا الفضل) এবং রিবা আন-নাসিয়াহ (ربا النسيئة) নিষিদ্ধ (تحريم); সুতরাং এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الفصل الرابع: بيع العينة
أولاً: تعريف العينة:العينة: هي أن يبيع شيئاً من غيره بثمن مؤجل ويُسلِّمه إلى المشتري، ثم يشتريه قبل قبض الثمن بثمن نقد أقل من ذلك القدر (1).
قلت: ومثال ذلك: أن يبيع شخص سلعة على شخص آخر بمبلغ مائة ريال مؤجلة لمدة سنة، ثم في نفس الوقت يشتري البائع سلعته من المشتري بمبلغ خمسين ريالاً نقداً، وتبقى المائة في ذمة المشتري الأول!
ثانياً: بعض ما ورد في ذلك من النصوص:عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إذا تبايعتم بالعينة، وأخذتم أذناب البقر، ورضيتم بالزرع، وتركتم الجهاد، سلّط الله عليكم ذُلاًّ لا ينزعه حتى ترجعوا إلى دينكم)) (2)، وللحديث روايات أخرى (3).
وقد ذهب إلى عدم جواز بيع العينة جمع من العلماء، منهم: الإمام مالك بن أنس، والإمام أبو حنيفة، والإمام أحمد، والهادوية، وبعض
--------------------------------------------
চতুর্থ অধ্যায়: ইনা লেনদেন (بيع العينة)
প্রথমত: ইনা-এর সংজ্ঞা:ইনা (العينة): এটি হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কারো নিকট কোনো বস্তু বিলম্বে পরিশোধযোগ্য (مؤجل) মূল্যে বিক্রয় করা এবং তা ক্রেতার নিকট হস্তান্তর করা, অতঃপর সেই মূল্য হস্তগত করার পূর্বেই উক্ত বস্তু তার চেয়ে কম মূল্যে নগদ (نقد) অর্থে ক্রয় করা (১)।
আমি বলছি: এর উদাহরণ হলো: কোনো ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির নিকট একটি পণ্য এক বছর মেয়াদে বিলম্বে পরিশোধযোগ্য একশত রিয়াল মূল্যে বিক্রয় করল, অতঃপর একই সময়ে বিক্রেতা ক্রেতার নিকট থেকে তার পণ্যটি পঞ্চাশ রিয়াল নগদ মূল্যে ক্রয় করে নিল, আর একশত রিয়াল প্রথম ক্রেতার জিম্মায় (ঋণ হিসেবে) থেকে গেল!
দ্বিতীয়ত: এই বিষয়ে বর্ণিত কিছু শরয়ি প্রমাণ (النصوص):ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যখন তোমরা ইনা (العينة) পদ্ধতিতে কেনাবেচা করবে, গরুর লেজ ধরবে (অর্থাৎ কৃষিকাজে মগ্ন হবে), চাষাবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ বর্জন করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন, যা তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত অপসারিত করবেন না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে" (২)। এই হাদিসের আরও অন্যান্য বর্ণনা (روايات) রয়েছে (৩)।
একদল আলেম ইনা (العينة) লেনদেন বৈধ না হওয়ার (عدم جواز) মত পোষণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম মালিক ইবনে আনাস, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আহমাদ, হাদাবিয়া সম্প্রদায় এবং আরও অনেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিবা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الشافعية.
قال الإمام الشوكاني رحمه الله تعالى: ((ومن المعلوم أن العينة عند من يستعملها إنما يسميها بيعاً، وقد اتفقا – أي البائع والمشتري – على حقيقة الربا الصريح قبل العقد، ثم غيّر اسمها إلى المعاملة وصورتها إلى التبايع الذي لا قصد لهما فيه البتة، إنما هو حيلة ومكر، وخديعة لله، فمن أسهل الحيل على من أراد فعله: أن يعطيه مثلاً: ألفاً إلا درهماً باسم القرض، ويبيعه خرقة تساوي درهماً بخمسمائة درهم. وقوله صلى الله عليه وسلم: ((إنما الأعمال بالنيات)) (1) أصل في إبطال الحيل، فإن من أراد أن يعامله معاملة يعطيه فيها ألفاً بألف وخمسمائة، إنما نوى بالإقراض تحصيل الربح الزائد الذي أظهر أنه ثمن الثوب، فهو في الحقيقة أعطاه ألفاً حالة بألف وخمسمائة مؤجلة، وجعل صورة القرض وصورة البيع محللاً لهذا المحرم، ومعلوم أن هذا لا يرفع التحريم، ولا يرفع المفسدة التي حُرِّم الربا لأجلها بل يزيدها قوة، وتأكيداً من وجوه، منها: أنه يقدم على مطالبة الغريم المحتاج من جهة السلطان والحكام إقداماً لا يفعله المربي؛ لأنه واثق بصورة العقد الذي تحيّل به)) (2).
--------------------------------------------
শাফিঈগণ।
ইমাম শাওকানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: "এটি সর্বজনবিদিত যে, যারা 'এনা' লেনদেন করে তারা একে কেবল ক্রয়-বিক্রয় নামেই অভিহিত করে। অথচ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই সুস্পষ্ট সুদের প্রকৃত বাস্তবতার বিষয়ে একমত হয়। অতঃপর তারা এর নাম পরিবর্তন করে 'মুআমালা' (লেনদেন) রাখে এবং এর বাহ্যিক রূপকে এমন এক ক্রয়-বিক্রয়ে রূপান্তর করে, যেখানে তাদের কোনো প্রকৃত উদ্দেশ্যই থাকে না। এটি কেবলই একটি অপকৌশল, চাতুর্য এবং আল্লাহর সাথে এক প্রকার প্রতারণা। যে ব্যক্তি এটি করতে চায় তার জন্য সবচেয়ে সহজ অপকৌশল হলো: সে ঋণের নামে তাকে এক দিরহাম কম এক হাজার দিরহাম প্রদান করবে, আর বিনিময়ে মাত্র এক দিরহাম মূল্যের একটি কাপড়ের টুকরো তার কাছে পাঁচশ দিরহামে বিক্রয় করবে। আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: 'নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' (১), এটি অপকৌশলসমূহ বাতিলের একটি মূল ভিত্তি। কারণ, যে ব্যক্তি এমন লেনদেন করতে চায় যাতে সে এক হাজারের বিনিময়ে দেড় হাজার প্রদান করবে, সে মূলত ঋণের মাধ্যমে সেই অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনেরই নিয়ত করেছে যা সে কাপড়ের মূল্য হিসেবে প্রকাশ করেছে। সুতরাং বাস্তবে সে তাকে নগদে এক হাজার দিরহাম প্রদান করল এবং বিলম্বে পরিশোধের শর্তে দেড় হাজার দিরহাম গ্রহণ করল। সে ঋণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের রূপকে এই হারাম বিষয়টিকে বৈধ করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে। আর এটি জানা কথা যে, এটি সেই হারামের বিধানকে যেমন উঠিয়ে দেয় না, তেমনি সেই অনিষ্টকেও দূর করে না যার কারণে সুদকে হারাম করা হয়েছে; বরং এটি বিভিন্ন দিক থেকে একে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করে। এর অন্যতম কারণ হলো: সে শাসক ও বিচারকদের মাধ্যমে অভাবী ঋণগ্রহীতার নিকট পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে এমনভাবে অগ্রসর হয় যা একজন প্রকাশ্য সুদখোরও করে না; কারণ সে সেই চুক্তির কাঠামোর ওপর আস্থাশীল যার মাধ্যমে সে অপকৌশল অবলম্বন করেছে।" (২)।
--------------------------------------------