(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: -)
الجهاد في سبيل الله تعالى القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الجهاد في سبيل الله تعالى - مفهومه، وحُكْمه، ومراتبه، وضوابطه، وأنواعه، وأهدافه، وفضله، وأسباب النصر على الأعداء في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 93
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদ - এর ধারণা، এর বিধান، এর স্তরসমূহ، এর নীতিমালা، এর প্রকারভেদ، এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ، এর মর্যাদা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শত্রুদের ওপর বিজয়ের কারণসমূহ
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহনি
প্রকাশক: সাফির প্রেস، রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভারটাইজিং، রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الجهاد
في سبيل الله تعالى
مفهومه، وحُكْمه، ومراتبه، وضوابطه، وأنواعه، وأهدافه، وفضله، وأسباب النصر على الأعداء
في ضوء الكتاب والسنة
تأليف الفقير إلى الله تعالى
د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
الطبعة السادسة 1431هـ
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি-এর রচনাসমগ্র
জিহাদ
মহান আল্লাহর পথে
এর ধারণা, বিধান, স্তরসমূহ, নীতিমালা, প্রকারভেদ, লক্ষ্যসমূহ, ফজিলত এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ের কারণসমূহ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক রচিত
ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
ষষ্ঠ সংস্করণ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، بلَّغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حقَّ جهاده، فصلوات الله وسلامه عليه، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم يبعثون، وسلم تسليمًا كثيرًا. أما بعد.
فهذه كلمات مختصرات في ((الجهاد في سبيل الله تعالى))، بَيَّنْتُ فيها: مفهوم الجهاد، وحكمه، ومراتبه، وضوابطه، وأنواع الجهاد في سبيل الله، وأهدافه، والحكمة من مشروعيته، وفضله، والترهيب مِن ترك الجهاد في سبيل الله، وبيان شهداء غير المعركة، وأسباب وعوامل النصر على الأعداء، والله عز وجل أسال أن ينصر المجاهدين في سبيله في كل مكان، وأن يوفقهم للعمل بعوامل النصر وأسبابه، والإخلاص في القول والعمل، والرغبة فيما عند الله من الثواب العظيم، والتجارة الرابحة، والفوز بسعادة الدنيا والآخرة.
وأسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل القليل مباركًا، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه أكرم مأمول وخير مسؤول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মাহকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের প্রকৃত হক আদায় করে জিহাদ করেছেন। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর; আর তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক অফুরন্ত শান্তি। অতঃপর...
এগুলো ‘আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদ’ বিষয়ক কিছু সংক্ষিপ্ত কথা, যাতে আমি জিহাদের ধারণা, এর বিধান (حكم), এর স্তরসমূহ, নীতিমালা, আল্লাহর পথে জিহাদের প্রকারভেদ, এর উদ্দেশ্যসমূহ, এর বিধানগত প্রজ্ঞা, এর ফযিলত, আল্লাহর পথে জিহাদ ত্যাগের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন, রণক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য শহীদদের বিবরণ এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভের কারণ ও উপাদানসমূহ স্পষ্ট করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন প্রতিটি স্থানে তাঁর পথে মুজাহিদদের বিজয় দান করেন এবং তাঁদেরকে বিজয়ের উপকরণ ও কারণসমূহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন; আর কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা (إخلاص), আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত মহান সওয়াব ও লাভজনক ব্যবসার প্রতি আগ্রহ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের পরম সৌভাগ্য লাভের তাওফিক দান করেন।
আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই নগণ্য আমলটুকুকে বরকতময় করেন এবং এর দ্বারা আমার জীবনে ও মৃত্যুর পর আমাকে উপকৃত করেন; আর যাঁর কাছেই এটি পৌঁছাবে তাঁকে এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহান, তিনি সর্বোত্তম কাম্য ও শ্রেষ্ঠতম সাহায্যকারী। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই কেবল...
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৪)
بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
الرياض في 6/ 2/1411هـ
মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবিগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
গ্রন্থকার
রিয়াদ, ৬/২/১৪১১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: تعريف الجهاد لغة وشرعاً
أولاً: تعريف الجهاد لغة:هو: بذل واستفراغ ما في الوسع والطاقة من قول أو فعل (1).
ثانياً: تعريف الجهاد شرعاً:هو: بذل الجهد من المسلمين في قتال الكفار المعاندين المحاربين، والمرتدين، والبغاة ونحوهم؛ لإعلاء كلمة الله تعالى (2).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: জিহাদের আভিধানিক ও শরিয়তসম্মত সংজ্ঞাপ্রথমত: জিহাদের আভিধানিক সংজ্ঞা:এটি হলো: কথা বা কাজের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্য ও শক্তির সবটুকু বিলিয়ে দেওয়া ও ব্যয় করা (১)।
দ্বিতীয়ত: জিহাদের শরিয়তসম্মত সংজ্ঞা:এটি হলো: আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করার লক্ষ্যে অবাধ্য ও যুদ্ধরত কাফির, মুরতাদ, বিদ্রোহী এবং তাদের সমগোত্রীয়দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মুসলিমদের পক্ষ থেকে শ্রম ও শক্তি ব্যয় করা (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الثاني: حكم الجهاد في سبيل اللهالجهاد فرض كفاية إذا قام به من يكفي من المسلمين سقط الإثم عن الباقين (1). قال الله تعالى: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَآفَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُواْ إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} (2).
قال العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله تعالى في فرضية الجهاد: ((لابد فيه من شرط، وهو أن يكون عند المسلمين قدرة وقوة يستطيعون بها القتال، فإن لم يكن لديهم قدرة، فإن إقحام أنفسهم في القتال إلقاء بأنفسهم إلى التهلكة؛ ولهذا لم يوجب الله سبحانه وتعالى على المسلمين القتال وهم في مكة؛ لأنهم عاجزون ضعفاء، فلما هاجروا إلى المدينة، وكوَّنوا الدولة الإسلامية، وصار لهم شوكة أُمروا بالقتال، وعلى هذا فلابد من هذا الشرط، وإلا سقط عنهم كسائر الواجبات؛ لأن جميع الواجبات يشترط فيها القدرة؛ لقوله تعالى: {فَاتَّقُوا اللهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} (3)، وقوله: {لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا} (4)) (5). انتهى كلامه رحمه الله.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পথে জিহাদের বিধানজিহাদ হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), যখন মুসলিমদের মধ্য থেকে পর্যাপ্ত একদল লোক এটি পালন করবে, তখন বাকিদের থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যাবে (১)। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুমিনদের পক্ষে এটা সম্ভব নয় যে, তারা সকলে একসাথে অভিযানে বের হবে। তবে তাদের প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি ক্ষুদ্র দল কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যেন তারা বেঁচে থাকে} (২)।
আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) জিহাদ ফরজ হওয়ার বিষয়ে বলেন: ((এক্ষেত্রে অবশ্যই একটি শর্ত থাকতে হবে, আর তা হলো— মুসলিমদের সামর্থ্য ও শক্তি থাকতে হবে যার মাধ্যমে তারা যুদ্ধ করতে সক্ষম হবে। যদি তাদের সামর্থ্য না থাকে, তবে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া হবে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। আর এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলিমদের মক্কায় থাকাকালীন যুদ্ধ করাকে আবশ্যক করেননি; কারণ তারা ছিল অক্ষম ও দুর্বল (ضعفاء)। যখন তারা মদিনায় হিজরত করলেন এবং ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করলেন এবং তাদের শক্তি বৃদ্ধি পেল, তখন তাদেরকে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হলো। সুতরাং, এই শর্তটি থাকা আবশ্যক, অন্যথায় অন্যান্য ওয়াজিবের মতো এটিও তাদের উপর থেকে রহিত হয়ে যাবে। কেননা সমস্ত ওয়াজিব পালনের ক্ষেত্রেই সামর্থ্য থাকা শর্ত; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {অতএব তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহকে ভয় করো} (৩), এবং তাঁর এই বাণী: {আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করেন না} (৪)) (৫)। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো (রহিমাহুল্লাহ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৭)
ويكون الجهاد فرض عين في ثلاث حالات (1):
1 - إذا حضر المسلم المكلَّف القتال والتقى الزحفان وتقابل الصفان، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُواْ وَاذْكُرُواْ اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (2). وقال سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُواْ زَحْفاً فَلَا تُوَلُّوهُمُ الأَدْبَارَ*وَمَن يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَاّ مُتَحَرِّفاً لِّقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ} (3). وذكر النبي صلى الله عليه وسلم أن التولي يوم الزحف من السبع الموبقات (4).
2 - إذا حضر العدو بلداً من بلدان المسلمين تَعيَّن على أهل البلاد قتاله وطرده منها، ويلزم المسلمين أن ينصروا ذلك البلد إذا عجز أهله عن إخراج العدو ويبدأ الوجوب بالأقرب فالأقرب (5)، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ قَاتِلُواْ الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلِيَجِدُواْ فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ} (6).
3 - إذا استنفر إمام المسلمين الناس وطلب منهم ذلك، قال الله تعالى:
--------------------------------------------
জিহাদ তিনটি অবস্থায় ফরযে আইন (ব্যক্তিগত আবশ্যকতা) হয়ে থাকে (১):
১ - যখন কোনো শরীয়তসম্মত দায়িত্বশীল (মুকাল্লাফ) মুসলিম যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয় এবং দুই বাহিনী মুখোমুখি হয় ও কাতারবন্দি হয়, মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কোনো বাহিনীর সম্মুখীন হও, তখন অবিচল থাক এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও} (২)। এবং তিনি সুবহানাহু বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কাফিরদের যুদ্ধের ময়দানে মোকাবিলা করো, তখন তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না। আর সেদিন রণকৌশল পরিবর্তন বা নিজ দলে আশ্রয় নেওয়া ব্যতীত কেউ যদি তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, তবে সে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে প্রত্যাবর্তন করল এবং তার আবাসস্থল জাহান্নাম; আর তা কতই না মন্দ গন্তব্যস্থল} (৩)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা সাতটি ধ্বংসাত্মক মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত (৪)।
২ - যখন শত্রু কোনো মুসলিম দেশ আক্রমণ করে, তখন সেই দেশের অধিবাসীদের ওপর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ও তাদের বিতাড়িত করা আবশ্যক হয়ে যায়, আর যদি সেই দেশের অধিবাসীরা শত্রুদের বের করে দিতে অক্ষম হয়, তবে অন্যান্য মুসলিমদের ওপর তাদের সাহায্য করা আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং এক্ষেত্রে নিকটবর্তী এলাকা থেকে ক্রমান্বয়ে এই আবশ্যকতা শুরু হয় (৫), মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখতে পায়। আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন} (৬)।
৩ - যখন মুসলিমদের ইমাম জনতাকে যুদ্ধের ডাক দেন এবং তাদের কাছে তা প্রত্যাশা করেন, মহান আল্লাহ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৮)
{انْفِرُواْ خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَاهِدُواْ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ} (1)، وقال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُواْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الأَرْضِ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلَاّ قَلِيلٌ} (2).
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا هجرة بعدَ الفتحِ ولكن جهادٌ ونِيَّةٌ، وإذا استُنْفِرْتُم فانفِروا)) (3).
قال العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله: ((ولا يشترط أن يكون إماماً عاماً للمسلمين؛ لأن الإمامة العامة انقرضت من أزمنة متطاولة، والنبي صلى الله عليه وسلم قال: ((اسمعوا وأطيعوا ولو تأمَّر عليكم عبد حبشي)) (4)، فإذا تأمر إنسان على جهة ما صار بمنزلة الإمام العام، وصار قوله نافذاً، وأمره مطاعاً، ومن عهد أمير المؤمنين عثمان بن عفان رضي الله عنه والأمة الإسلامية بدأت تتفرق، فابن الزبير في الحجاز، وابن مروان في الشام، والمختار بن عبيد وغيره في العراق، فتفرقت الأمة، ومازال أئمة الإسلام يدينون بالولاء والطاعة لمن تأمر على ناحيتهم، وإن لم تكن له
--------------------------------------------
{তোমরা অভিযানে বের হয়ে পড় হালকা কিংবা ভারী অবস্থায় এবং আল্লাহর পথে তোমাদের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করো; এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে} (১), এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের কী হলো যে, যখন তোমাদের আল্লাহর পথে বের হতে বলা হয়, তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে জমিনে নুইয়ে পড়? তোমরা কি আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হয়ে গেলে? আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী তো অতি সামান্য} (২)।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে। আর যখন তোমাদের অভিযানে বের হতে বলা হবে, তখন তোমরা বের হবে" (৩)।
আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর এর জন্য মুসলমানদের সাধারণ ইমাম হওয়া শর্ত নয়; কারণ সাধারণ ইমামত দীর্ঘকাল আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা শোনো এবং আনুগত্য করো, যদিও তোমাদের ওপর কোনো হাবশি গোলামকে আমির নিযুক্ত করা হয়" (৪)। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি কোনো অঞ্চলের ওপর আমির নিযুক্ত হন, তিনি সাধারণ ইমামের স্থলাভিষিক্ত হন এবং তাঁর কথা কার্যকর ও নির্দেশ আনুগত্যযোগ্য হয়। আমীরুল মুমিনীন উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ থেকেই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি শুরু হয়; তখন ইবনুল যুবাইর হিজাজে, ইবনে মারওয়ান শামে এবং মুখতার বিন উবাইদ ও অন্যান্যরা ইরাকে ছিলেন। ফলে উম্মাহ বিভক্ত হয়ে পড়ে। আর ইসলামের ইমামগণ সর্বদা তাঁদের নিজ নিজ অঞ্চলের আমিরের প্রতি আনুগত্য ও বাধ্যবাধকতা পোষণ করে এসেছেন, যদিও তাঁর নিকট...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الخلافة العامة، وبهذا نعرف ضلال ناشئة نشأت تقول: إنه لا إمام للمسلمين اليوم فلا بيعة لأحد، نسأل الله العافية، ولا أدري أيريد هؤلاء أن تكون الأمور فوضى ليس للناس قائد يقودهم؟ أم يريدون أن يقال كل إنسان أمير نفسه؟ هؤلاء إذا ماتوا من غير بيعة فإنهم يموتون ميتة جاهلية؛ لأن عمل المسلمين من أزمنة متطاولة: على أن من استولى على ناحية من النواحي وصارت له الكلمة العليا فيها فهو إمام فيها، وقد نصَّ على ذلك العلماء مثل صاحب سبل السلام، وقال: إن هذا لا يمكن الآن تحقيقه؛ ولأن الناس لو تَمرَّدُوا في هذا الحال على الإمام لحصل الخلل الكبير على الإسلام، إذ إن العدو سوف يقاتل ويتقدم إذا لم يجد من يقاومه، ويدافعه)) (1).
وجنس الجهاد فرض عين: إما بالقلب، وإما باللسان، وإما بالمال، وإما باليد. فيجب على المسلم أن يجاهد في سبيل الله بنوع من هذه الأنواع حسب الحاجة والقدرة. والأمر بالجهاد بالنفس والمال كثير في القرآن والسنة، وقد ثبت من حديث أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((جاهدوا المشركين بألسنتكم، وأنفسكم، وأموالكم، وأيديكم)) (2).
--------------------------------------------
সাধারণ খিলাফত; এর মাধ্যমেই আমরা এমন এক উদীয়মান গোষ্ঠীর বিভ্রান্তি সম্পর্কে জানতে পারি যারা বলে: বর্তমানে মুসলিমদের জন্য কোনো ইমাম (إمام) নেই, তাই কারো প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার বা বাইয়াত (بيعة) নেই। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। আমি জানি না এরা কি চায় যে সব বিষয় বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ুক এবং মানুষকে পরিচালনা করার মতো কোনো নেতা না থাকুক? নাকি তারা চায় যে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেই নিজের আমির হবে? এই লোকেরা যদি বাইয়াত (بيعة) বিহীন অবস্থায় মারা যায়, তবে তারা জাহিলিয়াতের মৃত্যু (ميتة جاهلية) বরণ করবে। কারণ দীর্ঘকাল ধরে মুসলিমদের কর্মপন্থা হলো: যে ব্যক্তি কোনো একটি অঞ্চলের ক্ষমতা দখল করে এবং সেখানে তার কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ হয়, তবে সে অঞ্চলের জন্য সে-ই ইমাম (إمام)। সুবুলুস সালাম-এর রচয়িতার মতো আলেমগণও এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়; কারণ মানুষ যদি এই অবস্থায় ইমামের (إمام) অবাধ্যতা করে, তবে ইসলামের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে। যেহেতু শত্রু আক্রমণ করবে এবং অগ্রসর হতে থাকবে যদি সে এমন কাউকে না পায় যে তাকে প্রতিহত ও প্রতিরোধ করবে। (১)।
জিহাদের সাধারণ প্রকার হলো ফরজে আইন (فرض عين): হয় অন্তর দিয়ে, নয়তো জবান দিয়ে, নয়তো সম্পদ দিয়ে, অথবা হাত দিয়ে। সুতরাং মুসলিমদের ওপর আবশ্যক হলো প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী এসব প্রকারের কোনো একটির মাধ্যমে আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করার নির্দেশ কুরআন ও সুন্নাহতে বহুবার এসেছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: ((তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের জবান, জান, মাল এবং হাত দিয়ে জিহাদ করো)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأضاف العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله حالة رابعة: وهي إذا احتيج إلى المسلم في الجهاد وجب عليه (1).
--------------------------------------------
এবং আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) চতুর্থ একটি অবস্থার কথা যোগ করেছেন: আর তা হলো যখন জিহাদে কোনো মুসলিমের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তা তার ওপর আবশ্যক (واجب) হয়ে যায় (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثالث: مراتب الجهاد في سبيل الله
الجهاد له أربع مراتب: جهاد النفس، والشيطان، والكفار، والمنافقين، وأصحاب الظلم والبدع والمنكرات:
المرتبة الأولى: جهاد النفس:وله أربع مراتب:
1 - جهادها على تعلّم أمور الدين والهدى الذي لا فلاح لها ولا سعادة في معاشها ومعادها إلا به.
2 - جهادها على العمل به بعد علمه، وإلا فمجرد العلم بلا عمل إن لم يضرها لم ينفعها.
3 - جهادها على الدعوة إليه ببصيرة، وتعليمه من لا يعلمه، وإلا كان من الذين يكتمون ما أنزل الله من الهدى والبينات، ولا ينفعه علمه ولا ينجيه من عذاب الله.
4 - جهادها على الصبر على مشاق الدعوة إلى الله، وأذى الخلق، وأن يتحمل ذلك كله لله. فمن عَلِمَ، وعَمِلَ، وصبر، فذاك يُدعى عظيماً في ملكوت السموات.
المرتبة الثانية: جهاد الشيطان وله مرتبتان:
1 - جهاده على دفع ما يلقي إلى العبد من الشبهات والشكوك القادحة في الإيمان.
2 - جهاده على دفع ما يلقي إليه من الشهوات والإرادات
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পথে জিহাদের স্তরসমূহজিহাদের চারটি স্তর রয়েছে: নফস, শয়তান, কাফের, মুনাফিক এবং অন্যায়কারী, নবপ্রবর্তন (بدعة) ও মন্দ কাজে (منكر) লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিহাদ:
প্রথম স্তর: নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ:এর চারটি পর্যায় রয়েছে:
১ - দ্বীনি বিষয়াদি এবং হিদায়াত শিক্ষা করার জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা যা ব্যতিরেকে ইহকাল ও পরকালে নফসের কোনো সফলতা ও সৌভাগ্য নেই।
২ - ইলম অর্জনের পর সেই অনুযায়ী আমল করার জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, অন্যথায় আমলবিহীন শুধু ইলম যদি নফসের কোনো ক্ষতি নাও করে, তবে কোনো উপকারে আসবে না।
৩ - অন্তর্দৃষ্টির সাথে দ্বীনের দাওয়াত প্রদান এবং অজ্ঞদের তা শেখানোর জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, অন্যথায় সে ঐসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা আল্লাহর নাযিলকৃত হিদায়াত ও সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ গোপন করে। ফলে তার ইলম তার কোনো উপকারে আসবে না এবং আল্লাহর আযাব থেকেও তাকে মুক্তি দেবে না।
৪ - আল্লাহর পথে দাওয়াতের কষ্টসমূহ এবং মানুষের পক্ষ থেকে আসা দুঃখ-কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তা সহ্য করার জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করল, সেই অনুযায়ী আমল করল এবং ধৈর্য ধারণ করল, আসমানী জগতে তাকে 'মহান' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
দ্বিতীয় স্তর: শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং এর দুটি পর্যায় রয়েছে:১ - ঈমানের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক যেসব সংশয় শয়তান বান্দার মনে নিক্ষেপ করে, তা প্রতিহত করার জন্য তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা।২ - শয়তান মানুষের মনে যেসব কুপ্রবৃত্তি ও কুমন্ত্রণা নিক্ষেপ করে, তা প্রতিহত করার জন্য তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفاسدة، فالجهاد الأول بعد اليقين والثاني بعد الصبر، قال الله تعالى: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ} (1)، والشيطان أخبث الأعداء، قال الله تعالى: {إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ} (2).
المرتبة الثالثة: جهاد الكفار والمنافقين:
وله أربع مراتب:
1 - بالقلب.
2 - اللسان.
3 - المال.
4 - اليد.
و
جهاد الكفار أخص باليد وجهاد المنافقين أخص باللسان.
المرتبة الرابعة: جهاد أصحاب الظلم والعدوان، والبدع والمنكرات:
وله ثلاث مراتب:
1 - باليد إذا قدر المجاهد على ذلك.
2 - فإن عجز انتقل إلى اللسان.
3 - فإن عجز جاهد بالقلب، فعن أبي سعيد رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من رأى منكم منكراً فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه فإن لم
--------------------------------------------
...মন্দ বা কলুষিত; প্রথম জিহাদ হলো দৃঢ় বিশ্বাসের পরে এবং দ্বিতীয়টি হলো ধৈর্যের পরে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথ প্রদর্শন করত যখন তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত} (১)। আর শয়তান হলো নিকৃষ্টতম শত্রু; মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে কেবল তার দলকে এ জন্যই আহ্বান করে যেন তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী হয়} (২)।
তৃতীয় স্তর: কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ:
এর চারটি স্তর রয়েছে:
১ - অন্তরের মাধ্যমে.
২ - জিহ্বার মাধ্যমে.
৩ - সম্পদের মাধ্যমে.
৪ - হাতের মাধ্যমে.
আর
কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ বিশেষভাবে হাতের মাধ্যমে এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ বিশেষভাবে জিহ্বার মাধ্যমে হয়ে থাকে.
চতুর্থ স্তর: জুলুম ও সীমালঙ্ঘনকারী এবং বিদআত ও অপছন্দনীয় বা গর্হিত বিষয়ের (منكرات) হোতাদের বিরুদ্ধে জিহাদ:
এর তিনটি স্তর রয়েছে:
১ - হাতের মাধ্যমে, যদি মুজাহিদ তাতে সক্ষম হন.
২ - যদি অক্ষম হন তবে জিহ্বার মাধ্যমে (জিহাদ করবেন).
৩ - যদি তাতেও অক্ষম হন তবে অন্তরের মাধ্যমে জিহাদ করবেন, আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অপছন্দনীয় বা গর্হিত কাজ (منكراً) দেখে, তবে সে যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন জিহ্বা দিয়ে (প্রতিবাদ করে); আর যদি সে তাতেও..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان)) (1).
فهذه ثلاثة عشرة مرتبة من الجهاد، وأكمل الناس عند الله من كمَّل مراتب الجهاد كلها، والخلق متفاوتون في منازلهم عند الله تفاوتهم في مراتب الجهاد؛ ولهذا كان أكمل الخلق وأكرمهم على الله محمد صلى الله عليه وسلم خاتم أنبيائه ورسله؛ فإنه كمّل مراتب الجهاد وجاهد في الله حق جهاده (2)، فصلوات الله وسلامه عليه ما تتابع الليل والنهار.
ولما كان جهاد أعداء الله في الخارج فرعاً على جهاد العبد نفسه في ذات الله كما قال النبي صلى الله عليه وسلم في حديث فضالة بن عبيد الله رضي الله عنه: ((ألا أخبركم بالمؤمن؟ من أمنه الناس على أموالهم وأنفسهم، والمسلم من سلم الناس من لسانه ويده، والمجاهد من جاهد نفسه في طاعة الله، والمهاجر من هجر الخطايا والذنوب)) (3): كان جهاد النفس مقدَّماً على جهاد العدو في الخارج وأصلاً له؛ فإنه ما لم يجاهد نفسه أولاً لتفعل ما أمرها الله به وتترك ما نهاها الله عنه ويحاربها في الله، لم يمكنه جهاد عدوّه في الخارج، فكيف يمكنه جهاد عدوّه والانتصار عليه وعدوّه الذي بين جنبيه غالب
--------------------------------------------
(যদি না) পারে তবে তার হৃদয়ের মাধ্যমে, আর এটিই হলো ঈমানের দুর্বলতম পর্যায়)) (১)।
এই হলো জিহাদের তেরোটি স্তর। আল্লাহর নিকট মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই পূর্ণাঙ্গ, যে জিহাদের সকল স্তর পূর্ণ করেছে। আর আল্লাহর নিকট মানুষের মর্যাদার বিচারে সৃষ্টির বৈচিত্র্য হলো জিহাদের স্তরের বৈচিত্র্য অনুযায়ী। এই কারণেই সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি তাঁর নবী ও রাসুলগণের সমাপ্তিকারী। কেননা তিনি জিহাদের সকল স্তর পূর্ণ করেছেন এবং আল্লাহর পথে তাঁর প্রাপ্য জিহাদ যথাযথভাবে করেছেন (২); সুতরাং দিন ও রাতের পরিক্রমায় তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
যেহেতু বাইরে আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বান্দার নিজ নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের একটি শাখা মাত্র—যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাদালা বিন উবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: ((আমি কি তোমাদের মুমিন সম্পর্কে সংবাদ দেব না? সেই ব্যক্তি যার থেকে মানুষ তাদের ধন-সম্পদ ও প্রাণের ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করে। আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহবা ও হাত থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে। আর মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। আর মুহাজির সেই ব্যক্তি যে ভুল-ত্রুটি ও পাপ বর্জন করে)) (৩): নফসের জিহাদ বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ওপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এবং এটি তার মূলভিত্তি। কেননা যতক্ষণ না সে প্রথমে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে—আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করতে এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করবে—ততক্ষণ তার জন্য বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা সম্ভব নয়। সুতরাং সে কীভাবে তার শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করবে এবং তার ওপর বিজয়ী হবে, যেখানে তার দুই পাঁজরের মাঝখানে থাকা শত্রুটিই (নফস) তাকে পরাস্ত করে রেখেছে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
له وقاهر له؟ ولا يمكنه الخروج إلى عدوّه حتى يجاهد نفسه على الخروج. فهذان عدوان (1) وبينهما عدو ثالث لا يمكن للعبد أن يجاهدهما إلا بجهاده، وهو واقف بينهما يُثبِّط الإنسان عن جهادهما ويخوِّفه ويخذله، ولا يزال يُخَوِّفه ما في جهادهما من المشاق، وفوات اللذات، والشهوات، فلا يمكنه أن يجاهد هذين العدوين إلا بجهاد هذا العدو الثالث وهو الأصل لجهادهما وهو الشيطان (2).
--------------------------------------------
তার উপর কি প্রবল ও পরাক্রমশালী? আর কোনো ব্যক্তির পক্ষে তার শত্রুর বিরুদ্ধে বের হওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে বের হওয়ার সংকল্পে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। সুতরাং এরা হলো দুইজন শত্রু (১) এবং এদের মাঝখানে রয়েছে তৃতীয় এক শত্রু, যার বিরুদ্ধে জিহাদ করা ব্যতীত বান্দার পক্ষে ঐ দুই শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা সম্ভব নয়। সে উভয়ের মাঝে অবস্থান করে মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা থেকে নিরুৎসাহিত করে, তাকে ভীতি প্রদর্শন করে এবং হতোদ্যম করে দেয়। সে সর্বদা তাকে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার পথে বিদ্যমান কষ্টসমূহ এবং স্বাদ ও প্রবৃত্তি বিলুপ্ত হওয়ার ভয় দেখাতে থাকে। ফলে এই তৃতীয় শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা ব্যতীত তার পক্ষে ঐ দুই শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা সম্ভব নয়। আর এই তৃতীয় শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদই হলো অপর দুইজনের বিরুদ্ধে জিহাদের মূল ভিত্তি, আর সে হলো শয়তান (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الرابع: ضوابط الجهاد في سبيل الله تعالى
الضابط الأول: فقه شروط وجوب الجهاد:قد ذكر العلماء رحمهم الله تعالى شروطاً للجهاد منها ما ذكره الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى بقوله: ((ويشترط لوجوب الجهاد سبعة شروط: الإسلام، والبلوغ، والعقل، والحرية، والذكورية، والسلامة من الضرر، ووجود النفقة))، ثم شرح ذلك بالتفصيل والتحقيق رحمه الله تعالى (1).
الضابط الثاني: استئذان الوالدين في الخروج إلى الجهاد:لا شك أن بر الوالدين أفضل الأعمال بعد الصلاة التي هي أعظم دعائم الإسلام؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر بذلك، ورتبه بثمَّ التي تعطي الترتيب والمهلة (2)، فعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم: أيُّ العمل أفضل؟ قال: ((الصلاة لوقتها)) قال: قلت: ثم أيٌّ؟ قال: ((ثم بر الوالدين)) قال: قلت: ثم أيٌّ؟ قال: ((ثم الجهاد في سبيل الله)) (3)؛ ولأهمية بر الوالدين، وأنه من أعظم القربات، قال النبي صلى الله عليه وسلم لِمَن استأذنه في الجهاد: ((أحيٌّ والداك؟)) قال: نعم، قال: ((ففيهما فجاهد)) (4)، أيّ
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর পথে জিহাদের নীতিমালা
প্রথম নীতিমালা: জিহাদ ফরজ হওয়ার শর্তাবলির প্রজ্ঞা (فقه):উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) জিহাদের জন্য বেশ কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে ইমাম ইবনু কুদামা (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: "জিহাদ আবশ্যক (واجب) হওয়ার জন্য সাতটি শর্ত প্রযোজ্য: ইসলাম, বালেগ হওয়া, সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া, স্বাধীন হওয়া, পুরুষ হওয়া, শারীরিক অক্ষমতা হতে মুক্ত থাকা এবং আর্থিক সক্ষমতা থাকা।" অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) সবিস্তারে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন (১)।
দ্বিতীয় নীতিমালা: জিহাদে গমনের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনুমতি গ্রহণ:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামের সর্বোচ্চ স্তম্ভ নামাজের পর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করাই হলো সর্বোত্তম আমল; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি 'সুম্মা' (অতঃপর) অব্যয় দ্বারা বিন্যস্ত করেছেন, যা দ্বারা পর্যায়ক্রমিকতা ও বিরতি বোঝানো হয় (২)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "সময়মতো নামাজ আদায় করা।" আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা।" আমি বললাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা" (৩)। আর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের গুরুত্বের কারণে এবং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হওয়ায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিহাদের অনুমতি প্রার্থনাকারীকে জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত?" তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তবে তাদের সেবার মাধ্যমেই জিহাদ করো" (৪), অর্থাৎ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خَصِّصهما بجهاد النفس في رضاهما (1)، وقد بيَّن الحافظ ابن حجر رحمه الله: أن هذا الرجل استفصل ((
… عن الأفضل في أعمال الطاعات؛ ليعمل به؛ لأنه سمع فضل الجهاد فبادر إليه، ثم لم يقنع حتى استأذن فيه فَدُلَّ على ما هو أفضل منه في حقه)) (2)، فقوله صلى الله عليه وسلم: ((ففيهما فجاهد))، قال الحافظ ابن حجر أيضاً: ((أي إن كان لك أبوان فبالغ جهدك في برهما، والإحسان إليهما؛ فإن ذلك يقوم مقام الجهاد)) (3)؛ لأن المراد بالجهاد في الوالدين: بذل الجهد، والوسع، والطاقة في برهما؛ ولأهمية ذلك بيَّن العلماء أنه لا يجوز الخروج للجهاد إلا بإذن الأبوين بشرط أن يكونا مسلمين؛ لأن برهما فرض عين والجهاد فرض كفاية؛ فإن تعيّن الجهاد وكان فرض عين فلا إذن؛ لأن الجهاد أصبح فرضاً على الجميع: إما باستنفار الإمام، أو هجوم العدوِّ على البلاد، أو حضور الصف (4)، أما إذا كان الجهاد فرض كفاية فلا يجوز الخروج إليه إلا بإذن الوالدين؛ ولهذا جاء في حديث ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((رِضَى الرب في رضى الوالد، وسخط الرب في سخط الوالد)) (5)، وجاء في حديث جاهمة
--------------------------------------------
তাদের সন্তুষ্টি অর্জনে নফসের জিহাদে তাদের উভয়কে নির্দিষ্ট করুন (১), এবং হাফিয ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন: এই ব্যক্তিটি... আনুগত্যমূলক ইবাদতগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে উত্তম আমল তা বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন, যাতে তিনি তা পালন করতে পারেন; কারণ তিনি জিহাদের ফজিলত শুনেছিলেন এবং সেই দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি তাতে পূর্ণ সন্তুষ্ট না হয়ে (বরং নিশ্চয়তার জন্য) অনুমতি চাইলেন। তখন তাকে এমন একটি বিষয়ের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো যা তার ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি উত্তম (২)। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তবে তাদের মধ্যেই জিহাদ করো", এ সম্পর্কে হাফিয ইবনে হাজার আরও বলেন: "অর্থাৎ, তোমার যদি পিতা-মাতা জীবিত থাকেন, তবে তাদের প্রতি সদাচরণ এবং ইহসানের ক্ষেত্রে তোমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করো; কেননা তা জিহাদের স্থলাভিষিক্ত হবে" (৩)। কারণ পিতা-মাতার ক্ষেত্রে জিহাদের অর্থ হলো: তাদের প্রতি সদাচরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, সামর্থ্য এবং শক্তি ব্যয় করা। এই বিষয়ের গুরুত্বের কারণেই উলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন যে, পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদে বের হওয়া জায়েয নেই, তবে শর্ত হলো তাদের উভয়কে মুসলিম হতে হবে; কেননা তাদের প্রতি সদাচরণ করা ব্যক্তিগতভাবে ফরজ (فرض عين) এবং জিহাদ হলো সামষ্টিকভাবে ফরজ (فرض كفاية)। কিন্তু যদি জিহাদ সুনির্দিষ্টভাবে ব্যক্তিগতভাবে ফরজ (فرض عين) হয়ে যায়, তবে আর কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই; কারণ তখন জিহাদ সবার ওপর ফরজ হয়ে যায়: হয় ইমামের আহ্বানের কারণে, অথবা দেশে শত্রুর আক্রমণের কারণে, অথবা রণক্ষেত্রে উপস্থিত হওয়ার কারণে (৪)। তবে যদি জিহাদ সামষ্টিকভাবে ফরজ (فرض كفاية) হয়, তবে পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া সেখানে যাওয়া জায়েয নেই; এই কারণেই ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রবের সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং রবের অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে নিহিত" (৫)। জাহামাহ বর্ণিত হাদিসেও এসেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أنه جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله أردت أن أغزوَ وقد جئت أستشيرك، فقال صلى الله عليه وسلم: ((هل لك من أُمٍّ؟))، قال: نعم، قال: ((فالزمها فإن الجنة تحت (1) رجليها)) (2)، وعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((الوالد أوسط أبواب الجنة فإن شئت فأضِعْ ذلك الباب أو احفظه)) (3)؛ ولهذه الأحاديث لا يجوز الخروج إلى جهاد التطوع، وفرض الكفاية إلا بإذن الوالدين، والبقاء معهما، والإحسان إليهما أفضل من الخروج بإذنهما، أما إذا تعين الجهاد فلا؛ لأنه أصبح فرضاً على الجميع.
الضابط الثالث: أمر الجهاد موكول إلى إمام المسلمين واجتهاده:ويلزم الرعية طاعته فيما يراه من ذلك؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ
--------------------------------------------
তিনি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি এবং আপনার নিকট পরামর্শ নিতে এসেছি। তখন তিনি (সা.) বললেন: "তোমার কি মা আছে?" তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (সা.) বললেন: "তবে তাঁর খিদমতে লেগে থাকো, কেননা জান্নাত তাঁর (১) পদতলে।" (২); এবং আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "পিতা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা; এখন তুমি চাইলে সেই দরজাটি নষ্ট করে দিতে পারো অথবা তা সংরক্ষণ করতে পারো।" (৩); আর এই হাদিসগুলোর কারণে পিতামাতার অনুমতি ব্যতীত নফল জিহাদ এবং ফরজে কিফায়া পালনের উদ্দেশ্যে বের হওয়া জায়েজ নেই। তাঁদের সাথে অবস্থান করা এবং তাঁদের প্রতি ইহসান (সদাচরণ) করা তাঁদের অনুমতি নিয়ে বের হওয়ার চেয়েও উত্তম। তবে যখন জিহাদ অবধারিত (ফরজ আইন) হয়ে যায়, তখন আর অনুমতির অবকাশ থাকে না; কারণ তখন এটি সবার ওপর ব্যক্তিগত ফরজ হয়ে যায়।
তৃতীয় মূলনীতি: জিহাদের বিষয়টি মুসলিমদের ইমাম এবং তাঁর ইজতিহাদের ওপর ন্যস্ত:আর ইমাম এ বিষয়ে যা সমীচীন মনে করেন, তাতে তাঁর আনুগত্য করা প্রজাসাধারণের জন্য আবশ্যক; কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের); অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} (1)؛ ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله، ومن أطاع أميري فقد أطاعني، ومن عصى أميري فقد عصاني)) (2)، وفي حديث حذيفة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال له: ((تسمع وتطيع للأمير وإن ضرب ظهرك، وأخذ مالك، فاسمع وأطع)) (3).
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((فطاعة الله ورسوله واجبة على كل أحد، وطاعة ولاة الأمر واجبة؛ لأمر الله بطاعتهم، فمن أطاع الله ورسوله بطاعة ولاة الأمر فأجره على الله، ومن كان لا يطيعهم إلا لما يأخذه من الولاية والمال فإن أعطوه أطاعهم وإن منعوه عصاهم: فما له في الآخرة من خلاق)) (4).
ومن طاعة ولي الأمر عدم الجهاد إلا بإذنه؛ لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم يستأذنه في الجهاد فقال: ((أحي
--------------------------------------------
তবে তোমরা তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখো; এটিই শ্রেষ্ঠ এবং পরিণামের দিক থেকে অতি উত্তম (১)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: ((যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে আমার অবাধ্য হল সে আল্লাহরই অবাধ্য হল; আর যে আমার নিযুক্ত আমিরের আনুগত্য করল সে আমারই আনুগত্য করল, আর যে আমার নিযুক্ত আমিরের অবাধ্য হল সে আমারই অবাধ্য হল)) (২)। এবং হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: ((তুমি আমিরের কথা শুনবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে, যদিও তোমার পিঠে প্রহার করা হয় এবং তোমার সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়, তবুও তুমি শুনবে ও আনুগত্য করবে)) (৩)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: ((আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা প্রত্যেকের ওপর আবশ্যক, আর উলুল আমরের আনুগত্য করাও আবশ্যক; কারণ আল্লাহ তাঁদের আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি উলুল আমরের আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর যে ব্যক্তি কেবল পদমর্যাদা ও সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যে তাঁদের আনুগত্য করে—যদি তাকে দেওয়া হয় তবে সে আনুগত্য করে, আর যদি না দেওয়া হয় তবে সে অবাধ্যতা করে—পরকালে তার কোনো প্রাপ্য অংশ নেই)) (৪)।
আর উলুল আমরের আনুগত্যের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে জিহাদ না করা; আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইল, তিনি বললেন: ((জীবিত কি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والداك))؟ قال: نعم، قال: ((ففيهما فجاهد)) (1)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إنما الإمام جُنَّة يُقاتل من ورائه، ويُتَّقَى به، فإن أمر بتقوى الله عز وجل وعدل كان له بذلك أجر، وإن أمر بغيره كان عليه منه)) (2) ومما يُفَسِّر ذلك قول الإمام ابن قدامة رحمه الله تعالى: ((وأمر الجهاد موكول إلى الإمام واجتهاده ويلزم الرعية طاعته فيما يراه من ذلك)) (3)، وقال الإمام الخرقي رحمه الله: ((وواجب على الناس إذا جاء العدو أن ينفروا: المقلّ منهم والمُكثر، ولا يخرجون إلى العدوِّ إلا بإذن الأمير، إلا أن يفجأهم عدوٌّ يخافون كلبَهُ – أي شره وأذاه – فلا يُمْكِنهم أن يستأذنوه)) (4)، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((فإذا ثبت هذا فإنهم لا يخرجون إلا بإذن الأمير؛ لأن أمر الحرب موكول إليه، وهو أعلم بكثرة العدو وقِلَّتهم، ومكامن العدو، وكيدهم، فينبغي أن يُرجع إلى رأيه؛ لأنه أحوط للمسلمين إلا أن يتعذر استئذانه؛ لمفاجأة عدوهم لهم، فلا يجب استئذانه؛ لأن المصلحة تتعين في قتالهم، والخروج إليه؛ لتعيّن الفساد في
--------------------------------------------
(তোমার) পিতা-মাতা (বেঁচে আছে কি)? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তবে তাদের সেবার মাধ্যমেই জিহাদ করো।" (১); আর আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত নবী (সা.)-এর হাদিসের কারণে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইমাম (নেতা) হলেন ঢালস্বরূপ, যার পেছনে থেকে যুদ্ধ করা হয় এবং যার মাধ্যমে সুরক্ষা অর্জন করা হয়। যদি তিনি আল্লাহভীতির নির্দেশ দেন এবং ইনসাফ করেন, তবে তাঁর জন্য এর সওয়াব রয়েছে। আর যদি তিনি অন্য কিছুর নির্দেশ দেন, তবে এর দায়ভার তাঁর ওপরই বর্তাবে।" (২) ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.)-এর বক্তব্যও এর ব্যাখ্যা প্রদান করে: "জিহাদের বিষয়টি ইমাম এবং তাঁর গবেষণা (اجتهاد)-এর ওপর ন্যস্ত, আর এ বিষয়ে তিনি যা সমীচীন মনে করেন তাতে প্রজাদের জন্য তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক।" (৩) ইমাম খিরাকী (রহ.) বলেছেন: "যখন শত্রুর আগমন ঘটে, তখন সক্ষম ও অক্ষম নির্বিশেষে সকলের জন্য যুদ্ধে বের হওয়া ওয়াজিব (واجب)। তারা আমীরের অনুমতি ব্যতীত শত্রুর মোকাবিলায় বের হবে না, যদি না শত্রু হঠাৎ অতর্কিত আক্রমণ করে এবং তাদের অনিষ্টের—অর্থাৎ মন্দ ও ক্ষয়ক্ষতির—আশঙ্কা থাকে, এমতাবস্থায় আমীরের অনুমতি নেওয়া সম্ভব হয় না।" (৪) ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) বলেছেন: "যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন তারা আমীরের অনুমতি ব্যতীত বের হবে না; কেননা যুদ্ধের বিষয়টি তাঁর ওপর ন্যস্ত। তিনি শত্রুর সংখ্যাধিক্য ও স্বল্পতা, তাদের গোপন আস্তানা এবং রণকৌশল সম্পর্কে অধিক অবগত। সুতরাং তাঁর সিদ্ধান্তের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা উচিত; কারণ এটি মুসলিমদের জন্য অধিক নিরাপদ, যদি না শত্রুর অতর্কিত আক্রমণের কারণে তাঁর অনুমতি নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় তাদের সাথে যুদ্ধ করা এবং তাদের মোকাবিলায় বের হওয়ার মধ্যেই জনকল্যাণ সুনিশ্চিত হয়; কারণ [বের না হওয়ার মধ্যে] বিপর্যয় সুনিশ্চিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২০)
تركهم، ولذلك لما أغار الكفار على لقاح النبي صلى الله عليه وسلم (1) فصادفهم سلمة بن الأكوع خارجاً من المدينة تبعهم فقاتلهم من غير إذن، فمدحه النبي صلى الله عليه وسلم بقوله (2): ((وخير رجَّالتنا سلمة)) فأعطاه النبي صلى الله عليه وسلم سهمين: سهم الفارس وسهم الراجل (3)، وذكر الإمام الخرقي وابن قدامة أيضاً أنه لا يجوز حتى الخروج من العسكر إلا بإذن الأمير، ولا يحدث حدثاً إلا بإذنه (4)؛ لقول الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَن لِّمَن شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (5)؛ ولأن الأمير أعرف بحال العدو، ومكامنهم، ومواضعهم، وقربهم، وبعدهم فإذا خرج خارج بغير إذنه لم يأمن أن يصادف كميناً للعدوِّ فيأخذه
… )) (6).
ولمِا تقدم لا يجوز لأحد من أفراد رعية الإمام المسلم – وإن كان عاصياً – أن يخرج إلى الجهاد إلا بإذنه على حسب ما تقدم. قال الإمام
--------------------------------------------
তাদের তিনি বর্জন করেছেন। আর এ কারণেই যখন কাফিররা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ধবতী উষ্ট্রীগুলোর (১) ওপর অতর্কিত আক্রমণ করল, তখন সালামাহ ইবনুল আকওয়া মদীনার বাইরে থাকাবস্থায় তাদের মুখোমুখি হলেন এবং অনুমতি ছাড়াই তাদের অনুসরণ করে লড়াই করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে তাঁর প্রশংসা করলেন (২): "আমাদের পদাতিক সৈন্যদের মধ্যে সালামাহ শ্রেষ্ঠ।" এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দুটি অংশ প্রদান করলেন: অশ্বারোহীর অংশ এবং পদাতিকের অংশ (৩)। ইমাম আল-খিরাকী এবং ইবনে কুদামা আরও উল্লেখ করেছেন যে, আমীরের অনুমতি ব্যতীত এমনকি সেনাশিবির থেকে বের হওয়াও বৈধ নয় এবং তাঁর অনুমতি ব্যতীত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না (৪); কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে এবং যখন তারা তাঁর সাথে কোনো সামষ্টিক বিষয়ে থাকে, তখন তাঁর অনুমতি ব্যতীত চলে যায় না। নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে। সুতরাং তারা তাদের কোনো প্রয়োজনে আপনার অনুমতি চাইলে আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (৫); কারণ আমীর শত্রুর অবস্থা, তাদের ওত পেতে থাকার স্থান, অবস্থান এবং তাদের নৈকট্য ও দূরত্ব সম্পর্কে অধিক অবগত। সুতরাং যদি কেউ তাঁর অনুমতি ব্যতীত বের হয়, তবে সে শত্রুর ওত পেতে থাকা দলের কবলে পড়ার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে না
… )) (৬)।
আর উল্লিখিত আলোচনার কারণে মুসলিম ইমামের অধীনস্থ কোনো ব্যক্তির জন্য—যদিও সে ইমাম পাপিষ্ঠ হয়—পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী তাঁর অনুমতি ব্যতীত জিহাদে বের হওয়া বৈধ নয়। ইমাম বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২১)
الخرقي رحمه الله: ((ويُغزى مع كل برٍّ وفاجرٍ))، قال ابن قدامة: ((يعني مع كل إمام)) (1).
ولا يجوز لأحد من رعية الإمام أن يدعو الناس إلى الجهاد بدون إذن الإمام؛ لما في ذلك من المفاسد، والأضرار، ومخالفة إمام المسلمين الذي أمرنا الله بطاعته. وعلى كل مسلم أن يسأل أهل العلم إن لم يعلم؛ ولهذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ((والواجب أن يُعتبر في أمور الجهاد برأي أهل الدين الصحيح، في الباطن الذين لهم خبرة بما عليه أهل الدنيا، فأما أهل الدنيا الذين يغلب عليهم النظر في ظاهر الدين فلا يؤخذ برأيهم، ولا برأي أهل الدين الذين لا خبرة لهم في الدنيا)) (2).
ومما يؤكد أهمية السمع والطاعة ما حصل للصحابة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في صلح الحديبية حينما اشتد عليهم الكرب بمنعهم من العمرة، وما رأوا من غضاضة على المسلمين في الظاهر، ولكنهم امتثلوا أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان ذلك فتحاً قريباً، وخلاصة ذلك أن سهيل بن عمرو قال للنبي صلى الله عليه وسلم حينما كتب: بسم الله الرحمن الرحيم: أكتب باسمك اللهم، فوافق معه النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك، ولم يوافق سهيل على كتب محمد رسول الله، فتنازل النبي صلى الله عليه وسلم وأمر أن يكتب محمد بن عبد الله، ومنع سهيل في الصلح أن تكون العمرة في هذا العام، وإنما في العام المقبل، وفي الصلح أن من أسلم
--------------------------------------------
আল-খিরাকি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "প্রত্যেক নেককার ও পাপাচারীর নেতৃত্বে জিহাদ করা হবে," ইবনে কুদামা বলেছেন: "অর্থাৎ প্রত্যেক ইমামের নেতৃত্বে" (১)।
ইমামের (শাসকের) প্রজাদের মধ্যে কারও জন্য ইমামের অনুমতি ব্যতীত মানুষকে জিহাদের দিকে আহ্বান করা বৈধ নয়; কেননা এর মধ্যে নানাবিধ ফাসাদ (বিপর্যয়), ক্ষয়ক্ষতি এবং মুসলিমদের ইমামের বিরোধিতা রয়েছে, যার আনুগত্য করার নির্দেশ আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন। আর প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো সে যদি না জানে তবে আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা; একারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জিহাদের বিষয়াবলীতে ওই সকল সঠিক (صحيح) দ্বীনদার ব্যক্তিদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া ওয়াজিব, যারা অন্তরের দিক থেকে নিষ্ঠাবান এবং যাদের জাগতিক বিষয়াদি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা রয়েছে। পক্ষান্তরে ঐ সকল দুনিয়াদার লোক, যাদের কাছে দ্বীনের বাহ্যিক বিষয়ের বিচারই প্রবল থাকে, তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে না এবং ঐ সকল দ্বীনদার ব্যক্তিদের মতামতও নেওয়া হবে না যাদের জাগতিক বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই" (২)।
আনুগত্য ও অনুসরণের গুরুত্ব যা দ্বারা সাব্যস্ত হয় তা হলো হুদায়বিয়ার সন্ধিকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাহাবায়ে কেরামের যা ঘটেছিল। যখন উমরাহ পালনে বাধা দেওয়ার ফলে তারা তীব্র কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং বাহ্যিকভাবে মুসলিমদের জন্য এতে অমর্যাদাকর কিছু দেখেছিলেন। কিন্তু তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ পালন করেছিলেন, যার ফলে তা নিকটবর্তী বিজয় হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছিল। এর সারসংক্ষেপ হলো, সুহাইল ইবনে আমর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম" লিখতে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: "আপনি লিখুন— 'হে আল্লাহ, আপনার নামে'।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাতে সম্মত হলেন। সুহাইল "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" লেখাতেও সম্মত হয়নি, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড় দিলেন এবং "মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ" লেখার নির্দেশ দিলেন। আর সুহাইল সন্ধিপত্রে এ বছর উমরাহ পালনে বাধা প্রদান করল এবং শর্ত হলো তা পরবর্তী বছর পালিত হবে। আর সন্ধিতে শর্ত ছিল যে, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২২)
من المشركين يرده المسلمون، ومن جاء من المسلمين إلى المشركين لا يُردُّ، وأول من نُفِّذ عليه الشرط أبو جندل بن سهيل بن عمرو، فردّه النبي صلى الله عليه وسلم بعد محاورة عظيمة، وحينئذ غضب الصحابة لذلك حتى قال عمر رضي الله عنه للنبي صلى الله عليه وسلم: ألست نبي الله حقّاً؟ قال: ((بلى))، قال: ألسنا على الحقّ، وعدوُّنا على الباطل؟ قال: ((بلى))، قال: فَلِمَ نعطي الدنية في ديننا إذاً؟ قال: ((إني رسول الله ولست أعصيه وهو ناصري))، قال عمر: فَعَمِلْتُ لذلك أعمالاً، فلما فرغ الكتاب أمر النبي صلى الله عليه وسلم الناس أن ينحروا ويحلقوا فلم يفعلوا، فدخل على أم سلمة رضي الله عنها فشكا ذلك فقالت: انحر واحلق فخرج فنحر، وحلق، فنحر الناس وحلقوا حتى كاد يقتل بعضهم بعضاً (1)، فحصل بهذا الصلح من المصالح ما الله به عليم، ونزلت سورة الفتح، ودخل في السنة السادسة والسابعة في الإسلام مثل ما كان في الإسلام قبل ذلك أو أكثر، ثم دخل الناس في دين الله أفواجاً بعد الفتح في السنة الثامنة.
وهذا ببركة طاعة الله ورسوله؛ ولهذا قال سهيل بن حنيف رضي الله عنه: ((اتهموا رأيكم، رأيتني يوم أبي جندل لو أستطيع أن أردّ أمر النبي صلى الله عليه وسلم لرددته)) (2). وهذا يدل على مكانة الصحابة رضي الله عنهم وتحكيمهم رسول الله صلى الله عليه وسلم،
--------------------------------------------
মুশরিকদের পক্ষ থেকে কেউ আসলে মুসলিমরা তাকে ফিরিয়ে দেবে, আর মুসলিমদের মধ্য থেকে কেউ মুশরিকদের কাছে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। এই শর্তটি সর্বপ্রথম যার ওপর কার্যকর হয়েছিল তিনি হলেন আবু জান্দাল ইবন সুহাইল ইবন আমর। এক দীর্ঘ কথোপকথনের পর নবী (সা.) তাকে ফিরিয়ে দিলেন। তখন সাহাবীগণ এই ঘটনায় রাগান্বিত হলেন, এমনকি উমর (রা.) নবী (সা.)-কে বললেন: "আপনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" উমর (রা.) বললেন: "আমরা কি সত্যের ওপর এবং আমাদের শত্রু বাতিলের ওপর নেই?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" উমর (রা.) বললেন: "তবে কেন আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনম্মন্যতা প্রদর্শন করব?" নবী (সা.) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল এবং আমি তাঁর অবাধ্য হই না, আর তিনিই আমার সাহায্যকারী।" উমর (রা.) বললেন: "আমি এই (ভুল আচরণের) জন্য পরবর্তীকালে অনেক (নফল) আমল করেছি।" যখন চুক্তিপত্র লেখা সম্পন্ন হলো, নবী (সা.) সাহাবীগণকে কোরবানি করতে এবং মাথা মুণ্ডন করতে নির্দেশ দিলেন, কিন্তু তারা তা করলেন না। এরপর তিনি উম্মে সালামাহ (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন: "আপনি নিজে কোরবানি করুন এবং মাথা মুণ্ডন করুন।" অতঃপর তিনি বের হয়ে কোরবানি করলেন ও মাথা মুণ্ডন করলেন। তখন মানুষও কোরবানি করল এবং মাথা মুণ্ডন করতে শুরু করল, এমনকি ভিড়ের প্রচণ্ডতায় তারা একে অপরের ওপর প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ছিল (১)। এই সন্ধির ফলে এমন সব কল্যাণ অর্জিত হয়েছিল যা একমাত্র আল্লাহই সম্যক অবগত। এরপর সূরা আল-ফাতহ নাজিল হলো এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম হিজরীতে ইসলামে যত মানুষ প্রবেশ করেছিল, তা ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত হওয়া মুসলিমদের সংখ্যার সমান বা তার চেয়েও বেশি ছিল। অতঃপর অষ্টম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের পর মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল।
আর এটি ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের বরকত; এজন্যই সুহাইল ইবন হুনাইফ (রা.) বলতেন: "তোমরা নিজেদের অভিমতকে (ভ্রান্ত মনে করে) অভিযুক্ত করো; আবু জান্দালের (ঘটনার) দিন আমি নিজেকে দেখেছি যে, আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই তা করতাম" (২)। এটি সাহাবীগণের (রা.) উচ্চ মর্যাদা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফয়সালা মেনে নেওয়ার প্রমাণ বহন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فحصل لهم من الفتح والنصر ما حصل ولله الحمد والمنة.
الضابط الرابع: الاعتصام بالكتاب والسنة وخاصة أيام الفتن:يجب على المسلم أن يعتصم بالكتاب والسنة وخاصة في أيام الفتن؛ ولهذا حذَّر النبي صلى الله عليه وسلم من الفتن واستعاذ منها، وأمر بلزوم جماعة المسلمين، فقال صلى الله عليه وسلم: ((تعوذوا بالله من الفتن ما ظهر منها وما بطن)) (1)، وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((يتقارب الزمان، وينقص العمل، ويُلقى الشح، وتظهر الفتن، ويكثر الهرج)) قالوا: يا رسول الله، أيما هو؟ قال: ((القتل، القتل)). وفي لفظ: ((يتقارب الزمان، وينقص العلم
… )) (2).
وقد بيّن النبي صلى الله عليه وسلم أنه لا يأتي زمان إلا والذي بعده أشرّ منه، فعن الزبير بن عدي قال: أتينا أنس بن مالك فشكونا إليه ما يلقون من الحجاج فقال: ((اصبروا فإنه لا يأتي عليكم زمان إلا والذي بعده أشر منه حتى تلقوا ربكم)) سمعته من نبيكم صلى الله عليه وسلم (3).
وحث النبي صلى الله عليه وسلم على الأعمال الصالحة قبل الانشغال عنها بما يحدث من الفتن الشاغلة المتكاثرة، فقال: ((بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ فِتَناً كَقِطَعِ اللَّيْلِ
--------------------------------------------
ফলে তাদের যে বিজয় ও সাহায্য অর্জিত হওয়ার ছিল তা হয়েছে, আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই জন্য।
চতুর্থ মূলনীতি: কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, বিশেষ করে ফিতনার (الفتن) দিনগুলোতে:একজন মুসলিমের জন্য কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব (يجب), বিশেষ করে ফিতনার (الفتن) দিনগুলোতে; এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতনা (الفتن) সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তিনি মুসলিম জামাতকে আঁকড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর নিকট ফিতনা (الفتن) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো, তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন।" (১), এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, আমল কমে যাবে, মানুষের অন্তরে কৃপণতা ঢেলে দেওয়া হবে, ফিতনা (الفتن) প্রকাশ পাবে এবং হারজ (الهرج) বৃদ্ধি পাবে।" সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কী?" তিনি বললেন: "হত্যা, হত্যা।" অন্য শব্দে এসেছে: "সময় সংকুচিত হবে এবং জ্ঞান (العلم) কমে যাবে..." (২)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, এমন কোনো যামানা আসবে না যার পরবর্তী সময়টি তার চেয়েও খারাপ হবে না। জুবায়ের ইবনে আদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট আসলাম এবং হাজ্জাজের পক্ষ থেকে আমরা যে কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছিলাম সে সম্পর্কে অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, কারণ তোমাদের ওপর এমন কোনো যামানা আসবে না যার পরবর্তী যামানাটি তার চেয়েও নিকৃষ্ট হবে না—যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে।" আমি এটি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি (৩)।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ফিতনার (الفتن) ব্যস্ততায় লিপ্ত হওয়ার আগেই নেক আমল করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন যা মানুষকে দিকভ্রান্ত করে ফেলে এবং বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেছেন: "অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনা (الفتن) আসার আগেই তোমরা দ্রুত আমল করো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المُظلمِ، يُصبحُ الرَّجلُ مُؤمِناً ويُمْسِي كَافراً، أو يُمْسِي مُؤمِناً ويُصْبِحُ كَافراً، يَبيعُ دِينَه بعَرَضٍ مِنَ الدُّنيا)) (1).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ستكون فتنٌ القاعد فيها خير من القائم، والقائم فيها خير من الماشي، والماشي فيها خير من الساعي، ومن تشرَّف لها تستشرفه، ومن وجد ملجأ أو معاذاً فليعذ به)) (2).
والمخرج من جميع الفتن المضلة التمسك بالكتاب والسنة، ولزوم جماعة المسلمين وإمامهم؛ لأن من خالف ذلك فهو من الضالين.
قال الله عز وجل: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُّبِينًا} (3)، وقال سبحانه وتعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا} (4).
وقال تعالى: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى * قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا * قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آَيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى} (5)، وقال تعالى فيمن
--------------------------------------------
...অন্ধকার রাতের ন্যায়। একজন ব্যক্তি সকালে মুমিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফিরে (অবিশ্বাসী) পরিণত হবে, অথবা সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে এবং সকালে কাফিরে পরিণত হবে। সে দুনিয়ার সামান্য পার্থিব সম্পদের বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে দেবে (১)।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: ((অচিরেই এমন ফিতনা দেখা দেবে যাতে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম, দণ্ডায়মান ব্যক্তি পথচারীর চেয়ে উত্তম এবং পথচারী ধাবমান ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি সেই ফিতনার দিকে উঁকি দেবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। আর যে ব্যক্তি এর থেকে কোনো আশ্রয়স্থল বা নিরাপদ স্থান খুঁজে পায়, সে যেন সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করে)) (২)।
আর সকল পথভ্রষ্টকারী ফিতনা থেকে উত্তরণের পথ হলো কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং মুসলিমদের জামাত ও তাদের ইমামের সাথে থাকাকে অপরিহার্য করে নেওয়া; কেননা যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে, সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো} (৩)। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: {সুতরাং না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধাবোধ না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} (৪)।
মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: {আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব। সে বলবে: হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন, অথচ আমি তো চক্ষুমান ছিলাম? তিনি বলবেন: এভাবেই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলি এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; একইভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে} (৫)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন—এমন ব্যক্তি সম্পর্কে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يخالف أمر النبي صلى الله عليه وسلم: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (1).
وثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((وَجُعِلَ الذُّلُّ والصغار على من خالف أمري، ومن تشبه بقوم فهو منهم)) (2)، وجاء في السنن والمسانيد ما أُثر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا ألفين أحدكم متكئاً على أريكة (3) يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول: بيننا وبينكم هذا القرآن، فما وجدنا فيه من حلال استحللناه، وما وجدنا فيه من حرام حرَّمناه، ألا وإني أُوتيتُ الكتاب ومثله معه ألا وإنه مثل القرآن أو أعظم)) (4).
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের বিরোধিতা করা প্রসঙ্গে: {অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদের উপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} (১)।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার নির্দেশের বিরোধিতা করে, তার জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা নির্ধারিত করা হয়েছে; আর যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত" (২)। এবং সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে (৩) হেলান দিয়ে বসে আছে, আর তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ বা নিষেধ পৌঁছানোর পর সে বলে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে এই কুরআনই যথেষ্ট, এতে আমরা যা হালাল পাবো তাকেই হালাল গণ্য করবো আর যা হারাম পাবো তাকেই হারাম গণ্য করবো।' জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই এটি কুরআনের মতো অথবা তার চেয়েও মহান" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية – رحمه الله: ((فعلى كل مؤمن أن لا يتكلم في شيء من الدين إلا تبعاً لما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، ولا يتقدم بين يديه، بل ينظر ما قال فيكون قوله تبعاً لقوله، وعمله تبعاً لأمره، فهكذا كان الصحابة رضي الله عنهم، ومن سلك سبيلهم من التابعين لهم بإحسان، وأئمة المسلمين؛ فلهذا لم يكن أحد منهم يعارض النصوص بمعقوله، ولا يؤسس ديناً غير ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، وإذا أراد معرفة شيء من الدين نظر فيما قاله الله والرسول صلى الله عليه وسلم فمنه يتعلم، وبه يتكلم، وفيه ينظر، وبه يستدل، فهذا أصل أهل السنة)) (1).
ولا شك أن الاختلاف يسبب الشرور الكثيرة، والفرقة، والعذاب؛ ولهذا قال الله تعالى: {وَلَا تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} (2).
وقد بيّن النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: ((افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على ثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة))، قيل: من هم يا رسول الله، قال: ((هم من كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي)) وفي لفظ: ((الجماعة)) (3)
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ((প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হলো দ্বীনের কোনো বিষয়ে কথা না বলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ ব্যতীত। তাঁর চেয়ে অগ্রগামী না হওয়া, বরং তিনি কী বলেছেন তা লক্ষ্য করা; ফলে তার কথা হবে রাসূলের কথার অনুসারী এবং তার আমল হবে রাসূলের নির্দেশের অনুসারী। সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ ও মুসলিমদের ইমামগণ এভাবেই ছিলেন। এই কারণেই তাঁদের কেউ যুক্তির দোহাই দিয়ে নصوص (নসুস/দলিল) এর বিরোধিতা করতেন না এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীনের ভিত্তি স্থাপন করতেন না। যখন তাঁরা দ্বীনের কোনো বিষয় জানতে চাইতেন, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী বলেছেন তা লক্ষ্য করতেন; সেখান থেকেই তাঁরা জ্ঞান অর্জন করতেন, তার আলোকেই কথা বলতেন, সেটিই পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তার মাধ্যমেই দলিল পেশ করতেন। এটিই হলো আহলুস সুন্নাহর মূলনীতি।)) (১)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মতভেদ বহু অনিষ্ট, বিচ্ছিন্নতা ও আজাবের কারণ হয়ে থাকে; এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতভেদ করেছে তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর; আর তাদের জন্যই রয়েছে মহাশাস্তি} (২)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন: ((ইয়াহুদিরা একাত্তরটি দলে (فرقة) বিভক্ত হয়েছিল এবং নাসারারা বাহাত্তরটি দলে (فرقة) বিভক্ত হয়েছিল। আর অচিরেই এই উম্মত তেয়াত্তরটি দলে (فرقة) বিভক্ত হবে, একটি ব্যতীত যার সবগুলোই জাহান্নামে যাবে।)) জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: ((আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তারা তার ওপর থাকবে।)) অন্য বর্ণনায় এসেছে: ((আল-জামাআত (الجماعة))) (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أي: هم من كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي.
وعن حذيفة رضي الله عنه قال: ((كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني، فقلت: يا رسول الله، إنا كُنَّا في جاهلية وشر، فجاءنا الله بهذا الخير فهل بعد هذا الخير من شر؟ قال: ((نعم)) قلت: هل بعد ذلك الشر من خير؟ قال: ((نعم وفيه دخن))، قلت: وما دخنه؟ قال: ((قوم يستنون بغير سنتي ويهتدون بغير هديي، تعرف منهم وتنكر)) فقلت: هل بعد ذلك الخير من شر؟ قال: ((نعم دعاة على أبواب جهنم، من أجابهم إليها قذفوه فيها)). فقلت: يا رسول الله صفهم لنا، قال: ((نعم، قوم من جلدتنا ويتكلمون بألسنتنا))، قلت: يا رسول الله، فما ترى إن أدركني ذلك؟ قال: ((تلزم جماعة المسلمين وإمامهم))، فقلت: فإن لم تكن لهم جماعة ولا إمام؟ قال: ((فاعتزل تلك الفرق كلها ولو أن تعض على أصل شجرة حتى يدركك الموت وأنت على ذلك)) (1).
قال الإمام النووي – رحمه الله: ((وفي حديث حذيفة هذا: لزوم
--------------------------------------------
অর্থাৎ: তারা হলো ঐ সকল লোক যারা আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে পথের ওপর আছি, তার অনুরূপ পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মানুষ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই আশঙ্কায় যে, পাছে তা আমাকে পেয়ে না বসে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহেলিয়াত ও অকল্যাণের মধ্যে নিমজ্জিত ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাদের নিকট এই কল্যাণ (ইসলাম) নিয়ে আসলেন। এই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'। আমি বললাম: সেই অকল্যাণের পর কি পুনরায় কোনো কল্যাণ আছে? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, তবে তাতে কিছু ধোঁয়াশা থাকবে'। আমি বললাম: সেই ধোঁয়াশা কী? তিনি বললেন: 'এমন একদল লোক যারা আমার সুন্নাহ বর্জন করে অন্য পথ অবলম্বন করবে এবং আমার প্রদর্শিত পথ ব্যতীত অন্য পথে পরিচালিত হবে। তাদের কোনো কাজ তোমার কাছে ভালো মনে হবে, আর কোনো কাজ মন্দ।' আমি বললাম: সেই কল্যাণের পর কি পুনরায় কোনো অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজাসমূহের দিকে আহ্বানকারী একদল লোক; যে কেউ তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে, তারা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।' আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, তারা আমাদেরই জাতির লোক এবং আমাদের ভাষাতেই কথা বলবে।' আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, তবে আপনার নির্দেশ কী? তিনি বললেন: 'তুমি মুসলিমদের জামাত এবং তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে।' আমি বললাম: যদি তাদের কোনো জামাত বা ইমাম না থাকে? তিনি বললেন: 'তবে তুমি ঐ সকল দলের সব কটি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে, যদিও তোমাকে কোনো গাছের শিকড় কামড়ে পড়ে থাকতে হয়, যতক্ষণ না তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয় আর তুমি সেই অবস্থাতেই অবিচল থাকো'।" (১)।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "হুযায়ফার এই হাদিসে রয়েছে: মুসলিম জামাত আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
جماعة المسلمين، وإمامهم، ووجوب طاعته، وإن فسق، وعمل المعاصي: من أخذ الأموال، وغير ذلك فتجب طاعته في غير معصية، وفيه معجزات لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي هذه الأمور التي أخبر بها وقد وقعت كلها)) (1).
ولا شك أن أمة محمد صلى الله عليه وسلم لا تزال فيهم طائفة على الحق منصورة، لا يضرهم من خذلهم أو خالفهم حتى تقوم الساعة؛ لحديث معاوية رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا تزال طائفةٌ من أمتي قائمةً بأمر الله، لا يضرهم من خذلهم، أو خالفهم حتى يأتي أمر الله، وهم ظاهرون على الناس)) (2).
--------------------------------------------
মুসলিমদের জামাত, তাদের ইমাম এবং তার আনুগত্যের আবশ্যকতা, যদিও তিনি পাপাচারী (فاسق) হন এবং পাপাচার বা নাফরমানিমূলক কাজে (عمل المعاصي) লিপ্ত হন: যেমন সম্পদ কেড়ে নেওয়া বা অন্য কিছু, তবে গুনাহের কাজ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (معجزات) বিদ্যমান, আর এগুলো হলো সেই বিষয়সমূহ যা সম্পর্কে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন এবং তার সবগুলোই সংঘটিত হয়েছে। (১)
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি দল সত্যের ওপর সাহায্যপ্রাপ্ত (منصورة) থাকবে, কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় অথবা যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। মুআবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: ((আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকবে। যারা তাদের অপদস্থ করতে চায় কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে, আর তারা মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে।)) (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الخامس: أنواع الجهاد في سبيل اللهالجهاد في سبيل الله أنواع منها ما يلي:
النوع الأول: جهاد الكفار وهو نوعان: جهاد الطلب، وجهاد الدفع (1).
النوع الثاني: جهاد المنافقين، والمرتدين (2).
النوع الثالث: جهاد البغاة المعتدين الذين يخرجون على الإمام المسلم ولهم تأويل سائغ وشوكة، وفيهم منعة وقوة (3)، والأصل في ذلك قوله تعالى: {وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِن بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ* إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (4)، وعن عرفَجَة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنه ستكون هناتٌ وهناتٌ (5) فمن أراد أن يفرق أمر هذه الأمة وهي
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পথে জিহাদের প্রকারভেদআল্লাহর পথে জিহাদ কয়েক প্রকার, যার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম প্রকার: কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং তা দুই প্রকার: আক্রমণাত্মক জিহাদ ও প্রতিরোধমূলক জিহাদ (১)।
দ্বিতীয় প্রকার: মুনাফিক ও মুরতাদদের (স্বধর্মত্যাগীদের) বিরুদ্ধে জিহাদ (২)।
তৃতীয় প্রকার: সেই সকল আক্রমণকারী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জিহাদ যারা মুসলিম ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং যাদের একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও নিজস্ব শক্তি রয়েছে এবং তাদের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সামর্থ্য বিদ্যমান (৩), আর এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগভাবে মীমাংসা করে দাও এবং ইনসাফ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন। মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই; কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও} (৪), আর আরফাজা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই অচিরেই অনেক অনিষ্ট ও বিপর্যয় (৫) দেখা দেবে, সুতরাং যে ব্যক্তি এই উম্মতের ঐক্য বিনষ্ট করতে চাইবে অথচ তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহি তাআলা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
جميع فاضربوه بالسيف كائناً من كان))، وفي لفظ: ((من أتاكم وأمرُكُم جميعٌ على رجل واحد يريد أن يشق عصاكم أو يفرق جماعتكم فاقتلوه)) (1).
النوع الرابع: الدفاع عن الدين، والنفس، والأهل، والمال. ويدخل في هذا النوع جهاد قطاع الطرق (2)، وعن سعيد بن زيد رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من قُتِل دون ماله فهو شهيد، ومن قُتِل دون أهله فهو شهيد، ومن قُتِل دون دينه فهو شهيد، ومن قُتِل دون دمه فهو شهيد)) (3)، وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه قال لخالد بن العاص: أما علمت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من قُتِلَ دون ماله فهو شهيد)) (4).
وعن مخارق رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: الرجل يأتيني يريد مالي؟ قال: ((ذكِّرهُ بالله)) قال فإن لم يذكر؟ قال: ((فاستعن عليه من
--------------------------------------------
(সকল মুসলিম) ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায়, তবে সে যেই হোক না কেন তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করো)), এবং অন্য শব্দে আছে: ((তোমাদের নিকট যদি এমন কেউ আসে যখন তোমাদের সকল বিষয় একজন ব্যক্তির অধীনে সুসংগঠিত রয়েছে, আর সে তোমাদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চায় অথবা তোমাদের জামায়াতকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়, তবে তাকে হত্যা করো)) (১)।
চতুর্থ প্রকার: দ্বীন, জীবন, পরিবার ও সম্পদ রক্ষা করা। এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ (২), আর সাঈদ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ, যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ, যে ব্যক্তি তার দ্বীন রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ এবং যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ)) (৩), আর আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, তিনি খালিদ ইবনুল আসকে বলেছিলেন: তুমি কি জানো না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ)) (৪)।
আর মুখারিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে আমার সম্পদ কেড়ে নিতে চায়? তিনি বললেন: ((তাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দাও)) সে বলল: যদি সে স্মরণ না করে? তিনি বললেন: ((তবে তার বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করো...
--------------------------------------------