(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإمامة في الصلاة   (سعيد بن وهف القحطاني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الإمامة في الصلاة - مفهوم، وفضائل، وأنواع، وآداب، وأحكام في ضوء الكتاب والسُّنَّة

المؤلف: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 168

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

নামাজে ইমামতি   (সাঈদ বিন ওহাফ আল-কাহতাহনি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: নামাজে ইমামতি - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ধারণা, ফজিলত, প্রকারভেদ, আদব এবং বিধানসমূহ

লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওহাফ আল-কাহতাহনি

প্রকাশক: সাফীর প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি পরিবেশনা ও বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-কাদাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
329

سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني

_

الإمامة في الصلاة

مفهوم، وفضائل، وأنواع، وآداب، وأحكام

 

في ضوء الكتاب والسُّنَّة

 

تأليف الفقير إلى الله تعالى

_
329

সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানির রচনাবলি

_

সালাতে ইমামত

সংজ্ঞা, মর্যাদা, প্রকারভেদ, আদব ও বিধানসমূহ

 

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে

 

মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দার রচনা

_
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدّمة

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً. أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة في ((الإمامة في الصلاة)) بيّنت فيها بإيجاز: مفهوم الإمامة، وفضل الإمامة في الصلاة والعلم، وحكم طلب الإمامة إذا صلحت النّيّة، وأولى الناس بالإمامة، وأنواع الأئمة والإمامة، وأنواع وقوف المأموم مع الإمام، وأهمية الصفوف في الصلاة وترتيبها، وتسويتها، وألفاظ النبي صلى الله عليه وسلم في تسويتها، وفضل الصفوف الأُوَل وميامن الصفوف، وحكم صلاة المنفرد خلف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ পরিণাম থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল; তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর আল্লাহর অগণিত দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

এটি ‘সালাতে ইমামতি’ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা; যাতে আমি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি: ইমামতির ধারণা, সালাত ও ইলমের ক্ষেত্রে ইমামতির মর্যাদা, নিয়ত শুদ্ধ থাকলে ইমামতি কামনার বিধান, ইমামতির জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তি, ইমাম ও ইমামতির প্রকারভেদ, ইমামের সাথে মুক্তাদীর দাঁড়ানোর পদ্ধতিসমূহ, সালাতে কাতারের গুরুত্ব, এর বিন্যাস ও তা সোজা করা, কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শব্দাবলী, প্রথম কাতারসমূহ ও কাতারের ডান দিকের ফযীলত এবং পেছনে একাকী সালাত আদায়কারীর বিধান।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الصف، وصلاة المأمومين بين السواري، وجواز انفراد المأموم لعذر، وانتقال المنفرد إماماً، والإمام مأموماً، والمأموم إماماً، وأحوال المأموم مع الإمام، وأحكام الاقتداء بالإمام داخل المسجد وخارجه، والاقتداء بمن أخطأ بترك شرط أو ركن ولم يعلم المأموم، والاقتداء بمن ذكر أنه مُحدث وحكم الاستخلاف، وآداب الإمام، وآداب المأموم، وغير ذلك من الأحكام المهمة المتعلقة بالإمامة وآدابها، وكل ذلك بالأدلة من الكتاب والسنة، حسب الإمكان.

وقد استفدت كثيراً من تقريرات وترجيحات شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل مباركاً، نافعاً، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وأن ينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم وبارك على
সারি (صف), স্তম্ভসমূহের মাঝে মুক্তাদিদের সালাত আদায়, ওজরের কারণে মুক্তাদির একাকী দাঁড়ানোর বৈধতা, একাকী সালাত আদায়কারীর ইমামে রূপান্তরিত হওয়া এবং ইমামের মুক্তাদিতে ও মুক্তাদির ইমামে রূপান্তরিত হওয়া, ইমামের সাথে মুক্তাদির বিবিধ অবস্থা, মসজিদের ভেতরে ও বাইরে ইমামের অনুসরণের বিধানাবলি, কোনো শর্ত (شرط) বা রুকন (ركن) বর্জন করার মাধ্যমে ভুলকারী ব্যক্তির অনুসরণ করা অথচ মুক্তাদি তা অবগত নয়, যে ব্যক্তি অপবিত্র (محدث) হওয়ার কথা স্মরণ করেছে তার অনুসরণ ও স্থলাভিষিক্ত করার (الاستخلاف) বিধান, ইমামের আদবসমূহ, মুক্তাদির আদবসমূহ এবং ইমামত ও এর আদব সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিধানাবলি; আর এ সবই সাধ্যানুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা সাব্যস্ত।

আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উপস্থাপিত বর্ণনা ও অগ্রাধিকারসমূহ (ترجيحات) থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি এই কাজটিকে বরকতময়, উপকারী এবং তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ (خالصاً) হিসেবে কবুল করুন। তিনি এর মাধ্যমে আমাকে আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে উপকৃত করুন এবং যার কাছেই এটি পৌঁছাবে তাকেও উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, তিনি সর্বোত্তম আবেদন গ্রহণকারী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশার স্থল। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক (نعم الوكيل)। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন...
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
عبده ورسوله الأمين، نبينا، وقدوتنا، محمد بن عبد الله، وعلى آله، وأصحابه، ومن اهتدى بهداه إلى يوم الدين.

المؤلف

حرّر في يوم الأحد الموافق 12/ 6/1421هـ
তাঁর বান্দা ও তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল, আমাদের নবি এবং আমাদের আদর্শ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করবে তাদের ওপর (সালাম বর্ষিত হোক)।

গ্রন্থকার

১২/০৬/১৪২১ হিজরি মোতাবেক রবিবার দিনটিতে এটি লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
الإمامة في الصّلاة

 

‌‌أولاً: مفهوم الإمامة والإمام:

الإمامة: مصدر أمَّ الناس: صار لهم إماماً يتبعونه في صلاته (1). أي: تقدّم رجل المصلين ليقتدوا به في صلاتهم، والإمامة: رياسة المسلمين، والإمامة الكبرى: رياسة عامة في الدين والدنيا، خلافة عن النبي صلى الله عليه وسلم، والخلافة هي الإمامة الكبرى، وإمام المسلمين: الخليفة ومن جرى مجراه (2). والإمامة الصغرى: ربط صلاة المؤتم بالإمام بشروط (3).

الإمام: كل من اقتُدِي به، وقُدِّم في الأمور، والنبي صلى الله عليه وسلم إمام الأئمة، والخليفة: إمام الرعية، والقرآن إمام المسلمين، وإمام الجند: قائدهم.

والإمام جَمْعُهُ: أئمة، والإمام في الصلاة: من يتقدم

--------------------------------------------

(1) حاشية الروض المربع، للعلامة عبد الرحمن بن محمد بن قاسم، 2/ 296.

(2) انظر: القاموس الفقهي لغة واصطلاحاً، لسعدي أبو حبيب، ص24.

(3) انظر: المصدر السابق، ص24.
সালাতে ইমামত (الإمامة في الصلاة)

 

‌‌প্রথমত: ইমামত (الإمامة) ও ইমামের (الإمام) ধারণা:

ইমামত (الإمامة): এটি 'আম্মা আন-নাস' ক্রিয়ামূল থেকে আগত মূলশব্দ (مصدر); এর অর্থ হলো মানুষের এমন ইমাম (الإمام) হওয়া যাকে তারা সালাতে অনুসরণ করে (১)। অর্থাৎ: সালাত আদায়কারীদের সামনে একজন ব্যক্তির এগিয়ে যাওয়া যাতে তারা তাদের সালাতে তাঁকে অনুসরণ করতে পারে। ইমামত (الإمامة) হলো মুসলিমদের নেতৃত্ব। আর মহান ইমামত (الإمامة الكبرى) হলো দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সাধারণ নেতৃত্ব; আর খিলাফত (الخلافة) হলো মহান ইমামত (الإمامة الكبرى)। মুসলিমদের ইমাম (الإمام) হলেন খলিফা (الخليفة) এবং যারা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয় (২)। আর ক্ষুদ্রতর ইমামত (الإمامة الصغرى) হলো নির্দিষ্ট কিছু শর্তে মুক্তাদির (المؤتم) সালাতকে ইমামের (الإمام) সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট করা (৩)।

ইমাম (الإمام): যাঁর অনুসরণ করা হয় এবং যাকে বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগণ্য করা হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সকল ইমামের ইমাম। খলিফা (الخليفة) হলেন প্রজাসাধারণের ইমাম (الإمام), কুরআন হলো মুসলিমদের ইমাম (الإمام) এবং সেনাবাহিনীর ইমাম (الإمام) হলেন তাদের নেতা (قائد)।

ইমাম (الإمام) শব্দের বহুবচন হলো: আইম্মাহ (أئمة)। আর সালাতে ইমাম (الإمام) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সামনে দাঁড়ান।

--------------------------------------------

(১) হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি', আল্লামা আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম বিরচিত, ২/ ২৯৬।

(২) দেখুন: আল-কামুস আল-ফিকহী লুগাতান ওয়া ইসতিলাহান, সা'দী আবু হাবীব, পৃষ্ঠা ২৪।

(৩) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
المصلين ويتابعونه في حركات الصلاة. والإمام: من يأتم به الناس من رئيس وغيره، محقّاً كان أو مبطلاً، ومنه: إمام الصلاة، والإمام: العالم المقتدى به، وإمام كل شيء: قيِّمه والمصلح له (1).

 

‌‌ثانياً: فضل الإمامة في الصلاة والعلم:

‌‌1 - الإمامة في الصلاة ولاية شرعية ذات فضل؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((يؤمُّ القوم أقرؤهم لكتاب الله)) (2). ومعلوم أن الأقرأ أفضل، فقرنها بأقرأ يدل على أفضليتها (3).

‌‌2 - الإمام في الصلاة يُقتدى به في الخير، ويدلّ على ذلك عموم قول الله عز وجل في وصفه لعباد الرحمن، وأنهم

--------------------------------------------

(1) انظر: معجم مقاييس اللغة، لابن فارس، كتاب الهمزة، باب الهمزة في الذي يقال له مضاعف، ص48، ولسان العرب، لابن منظور، باب الميم، فصل الهمزة،

12/ 25، ومفردات ألفاظ القرآن، للراغب الأصفهاني، مادة: ((أمَّ))، ص87، ومعجم لغة الفقهاء، للأستاذ الدكتور محمد رواس، ص68 - 69.

(2) مسلم، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب من أحق بالإمامة، برقم 673، من حديث أبي مسعود رضي الله عنه.

(3) انظر: الشرح الممتع، للعلامة محمد بن صالح العثيمين، 2/ 36.
মুসল্লিগণ এবং তারা নামাজের অঙ্গভঙ্গিতে তাকে অনুসরণ করে। আর ইমাম হলেন এমন এক ব্যক্তি যাকে মানুষ অনুসরণ করে, তিনি নেতা হোন বা অন্য কেউ, সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হোন বা বাতিলের ওপর। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নামাজের ইমাম। ইমাম বলতে এমন আলেমকেও (العالم) বোঝায় যাকে অনুসরণ করা হয়; আর কোনো কিছুর ইমাম মানে হলো তার পরিচালক ও সংশোধনকারী (১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: নামাজ ও ইলমের ক্ষেত্রে ইমামতের ফযিলত:

‌‌১ - নামাজের ইমামত হলো ফযিলতপূর্ণ একটি শরয়ি দায়িত্ব (ولاية شرعية); কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "লোকদের মধ্যে সেই ইমামতি করবে যে আল্লাহর কিতাব পাঠে অধিক পারদর্শী" (২)। এটি সর্বজনবিদিত যে, যে অধিক পারদর্শী সে-ই শ্রেষ্ঠ; সুতরাং ইমামতকে অধিক পারদর্শিতার সাথে সম্পৃক্ত করা এর শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে (৩)।

‌‌২ - নামাজের ইমামকে কল্যাণের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়, আর ইবাদুর রহমানের গুণাবলি বর্ণনায় মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা এর প্রমাণ দেয়, যে তারা হলেন—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুজাম মাকায়িসুল লুগাহ, ইবনে ফারিস, কিতাবুল হামযাহ, বাবু আল-হামযাহ ফিল্লাজি ইউকালু লাহু মুদাআফ, পৃষ্ঠা ৪৮; এবং লিসানুল আরব, ইবনুল মানযুর, বাবুল মিম, ফাসলুল হামযাহ, ১২/ ২৫; এবং মুফরাদাতু আলফাযিল কুরআন, রাগেব আল-ইসফাহানি, মাদ্দাহ: ((আম্মা)), পৃষ্ঠা ৮৭; এবং মুজামু লুগাতিল ফুকাহা, প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ রাওয়াস, পৃষ্ঠা ৬৮ - ৬৯।

(২) মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, ইমামতির অধিক হকদার কে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ, নম্বর ৬৭৩, আবু মাসুদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস হতে।

(৩) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি, আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন, ২/ ৩৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
يقولون في دعائهم لربهم: {وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ

إِمَاماً} (1). المعنى: اجعلنا أئمة يُقتدى بنا في الخير، وقيل: المعنى: اجعلنا هُداةً مهتدين دعاةً إلى الخير (2). فسألوا الله أن يجعلهم أئمة التقوى يقتدي بهم أهل التقوى، قال ابن زيد كما قال لإبراهيم: {إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَاما} (3)، وامتنّ الله عز وجل على من وفقه للإمامة في الدين فقال:

{وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآياتِنَا يُوقِنُونَ} (4) أي لَمّا كانوا صابرين على أوامر الله عز وجل وترك نواهيه، والصبر على التعلم والتعليم والدعوة إلى الله، ووصلوا في إيمانهم إلى درجة اليقين - وهو العلم التام الموجب للعمل - كان منهم أئمة يهدون إلى الحق

--------------------------------------------

(1) سورة الفرقان، الآية: 74.

(2) انظر: جامع البيان عن تأويل آي القرآن، للإمام الطبري، 19/ 319، وتفسير القرآن العظيم لابن كثير، ص966.

(3) انظر: جامع البيان عن تأويل آي القرآن، 19/ 319.

(4) سورة السجدة، الآية: 24.
তারা তাদের প্রতিপালকের সমীপে করা দোয়ায় বলে: {এবং যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতি দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য

ইমাম (إِمَاماً) করুন} (১)। এর তাৎপর্য হলো: আপনি আমাদের এমন ইমাম (أئمة) বানান যাদের কল্যাণের পথে অনুসরণ করা হবে; আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো আমাদের এমন সুপথপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শক এবং কল্যাণের দিকে আহ্বানকারী বানান যারা সঠিক পথে পরিচালিত (২)। অতএব তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন তিনি তাদের তাকওয়ার ইমাম (أئمة) বানান যাদেরকে মুত্তাকি ব্যক্তিরা অনুসরণ করবে। ইবনে যায়েদ বলেন, যেমনটি আল্লাহ ইবরাহিমকে বলেছিলেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানুষের জন্য ইমাম (إِمَاما) নিযুক্ত করছি} (৩)। আর আল্লাহ তাআলা যাকে দ্বীনের ইমামত (الإمامة) দান করার তাওফিক দিয়েছেন তার প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করে বলেছেন:

{এবং আমি তাদের মধ্য থেকে ইমাম (أئمة) মনোনীত করেছিলাম যারা আমার নির্দেশানুসারে পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাস (يُوقِنُونَ) পোষণ করত} (৪)। অর্থাৎ যখন তারা মহান আল্লাহর আদেশ পালনে এবং তাঁর নিষেধ বর্জনে ধৈর্যশীল ছিলেন, এবং ইলম অর্জন, শিক্ষাদান ও আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সবর করেছিলেন, এবং তাদের ঈমানের ক্ষেত্রে ইয়াকিন (اليقين) বা দৃঢ় বিশ্বাসের স্তরে পৌঁছেছিলেন—যা এমন এক পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান যা আমলকে আবশ্যক করে—তখন তাদের মধ্য থেকে সত্যের দিকে পথপ্রদর্শনকারী ইমাম (أئمة) তৈরি হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪।

(২) দেখুন: জামিউল বায়ান আন তাবিল আইল কুরআন, ইমাম তাবারী রচিত, ১৯/৩১৯, এবং তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ইবনে কাসীর রচিত, পৃষ্ঠা ৯৬৬।

(৩) দেখুন: জামিউল বায়ান আন তাবিল আইল কুরআন, ১৯/৩১৯।

(৪) সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ২৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بأمر الله، ويدعون إلى الخير، ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر (1).

 

‌‌3 - دعاء النبي صلى الله عليه وسلم للأئمة بالإرشاد، فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الإمام ضامنٌ والمؤذن مؤتمن، اللهم أرشد الأئمة واغفر للمؤذنين)) (2).

‌‌4 - الإمامة فضلها مشهور، تولاها النبي صلى الله عليه وسلم بنفسه، وكذلك خلفاؤه الراشدون، وما زال يتولاها أفضل المسلمين علماً وعملاً، ولا يمنع هذا الفضل العظيم أن يكون الأذان له ثواب أكثر؛ لِمَا فيه من إعلان ذكر الله تعالى، ولِمَا فيه من المشقّة، ولهذا اختلف العلماء في أيهما أفضل: الأذان أم الإمامة؟ فمنهم من قال: الإمامة أفضل، لِمَا سبق من الأدلة، ومنهم من قال: الأذان

--------------------------------------------

(1) انظر: جامع البيان عن تأويل آي القرآن، للطبري، 20/ 194، وتفسير القرآن العظيم لابن كثير، ص1019، وتيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، للسعدي، ص604، وفتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، 23/ 340.

(2) أبو داود، برقم 517، والترمذي، برقم 207، وابن خزيمة، برقم 528، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 105، وتقدم تخريجه في فضل الأذان.
আল্লাহর আদেশে, এবং তারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে (১)।

 

‌‌৩ - ইমামদের সঠিক পথের দিশা পাওয়ার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুআ, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((ইমাম হলেন যামিন (ضامن) এবং মুয়াযযিন হলেন আমানতদার (مؤتمن)। হে আল্লাহ! আপনি ইমামদের সঠিক পথের দিশা দান করুন এবং মুয়াযযিনদের ক্ষমা করুন)) (২)।

‌‌৪ - ইমামতের ফযীলত সুপ্রসিদ্ধ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তা পালন করেছেন, এবং একইভাবে তাঁর খলিফায়ে রাশেদীনগণও তা সম্পাদন করেছেন। ইলম ও আমলের দিক দিয়ে সর্বোত্তম মুসলিমরাই সর্বদা এটি পালন করে আসছেন। এই মহান ফযীলত আযানের সওয়াব অধিক হওয়ার পথে কোনো অন্তরায় নয়; কারণ আযানে আল্লাহর যিকিরের প্রকাশ্য ঘোষণা রয়েছে এবং এতে কষ্ট ও শ্রম রয়েছে। এই কারণে আলেমগণ এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, কোনটি অধিক উত্তম: আযান নাকি ইমামত? তাঁদের মধ্যে কেউ বলেছেন: পূর্বোক্ত দলীলসমূহের ভিত্তিতে ইমামত অধিক উত্তম, আবার কেউ বলেছেন: আযান উত্তম।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবারির জামিউল বায়ান আন তাউইলি আয়িল কুরআন, ২০/ ১৯৪; ইবনে কাসীরের তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, পৃ. ১০১৯; সা'দীর তাইসীরুল কারীমির রহমান ফি তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৬০৪ এবং ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৩/ ৩৪০।

(২) আবু দাউদ, নম্বর ৫১৭; তিরমিজি, নম্বর ২০৭; ইবনে খুযাইমা, নম্বর ৫২৮; আলবানী একে সহিহ (صححه) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ-এ, ১/ ১০৫; এবং আযানের ফযীলত অধ্যায়ে ইতিপূর্বে এর তাখরীজ (تخريج) প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أفضل، لقوله صلى الله عليه وسلم: ((الإمام ضامن والمؤذن مؤتمن، اللهم أرشد الأئمة واغفر للمؤذنين)). ومنزلة الأمانة فوق منزلة الضمان وأعلى منه، والمدعو له بالمغفرة أفضل من المدعو له بالرشد، فالمغفرة أعلى من الإرشاد؛ لأن المغفرة نهاية الخير (1).

واختار شيخ الإسلام رحمه الله أن الأذان أفضل من الإمامة (2). وأما إمامة النبي صلى الله عليه وسلم وإمامة الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم فكانت متعينة عليهم؛ فإنها وظيفة الإمام الأعظم ولم يمكن الجمع بينها وبين الأذان، فصارت الإمامة في حقهم أفضل من الأذان؛ لخصوص أحوالهم، وإن كان لأكثر الناس الأذان أفضل (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: المغني، لابن قدامة، 2/ 55، وشرح العمدة، لشيخ الإسلام ابن تيمية،

2/ 136 - 140، وحاشية عبد الرحمن القاسم على الروض المربع، 2/ 296، والشرح الممتع لابن عثيمين، 2/ 36.

(2) انظر: شرح العمدة، 2/ 137، والاختيارات الفقهية لشيخ الإسلام ابن تيمية،

ص56، ورجح قول شيخ الإسلام العلامة ابن عثيمين في الشرح الممتع، 2/ 36.

(3) الاختيارات الفقهية، لشيخ الإسلام ابن تيمية ص56،وشرح العمدة له، 2/ 139.
(আজানই) শ্রেষ্ঠতর, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইমাম হলেন জামিনদার (ضامن) এবং মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার (مؤتمن)। হে আল্লাহ! আপনি ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন (رشد) করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা (مغفرة) করে দিন।" আর আমানতদারিতার (أمانة) মর্যাদা জামিনদারিতার (ضمان) মর্যাদার ঊর্ধ্বে এবং তা থেকে উচ্চতর। আর যার জন্য ক্ষমার (مغفرة) দোয়া করা হয়েছে, সে ওই ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ যার জন্য সঠিক পথ প্রদর্শনের (رشد) দোয়া করা হয়েছে; কেননা ক্ষমাই (مغفرة) হলো কল্যাণের চূড়ান্ত সীমা (১)।

শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন যে, আজান ইমামতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ (২)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইমামতি করা তাঁদের ওপর নির্ধারিত ছিল; কেননা তা ছিল প্রধান ইমামের (الإمام الأعظم) দায়িত্ব এবং সে সময় ইমামতি ও আজানের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব ছিল না। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে তাঁদের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আজানের চেয়ে ইমামতিই শ্রেষ্ঠ সাব্যস্ত হয়েছে, যদিও অধিকাংশ মানুষের জন্য আজানই শ্রেষ্ঠ (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ২/৫৫; এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত শারহুল উমদাহ,

২/১৩৬-১৪০; এবং আল-রওদুল মুরবি-র ওপর আব্দুর রহমান আল-কাসিমের হাশিয়া, ২/২৯৬; এবং ইবনে উসাইমীনের আশ-শারহুল মুমতি, ২/৩৬।

(২) দেখুন: শারহুল উমদাহ, ২/১৩৭; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ,

পৃ. ৫৬; এবং আল্লামা ইবনে উসাইমীন আশ-শারহুল মুমতি-তে শাইখুল ইসলামের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন, ২/৩৬।

(৩) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, পৃ. ৫৬; এবং তাঁর রচিত শারহুল উমদাহ, ২/১৩৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌5 - عظم شأن الإمامة وخطره على من استهان بأمرها ظاهر في حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((يصلون لكم فإن أصابوا فلكم [ولهم] وإن أخطأوا فلكم وعليهم)) (1). والمعنى: ((يصلون)) أي الأئمة ((لكم)) أي لأجلكم، ((فإن أصابوا)) في الأركان والشروط، والواجبات، والسنن ((فلكم)) ثواب صلاتكم، ((ولهم)) ثواب صلاتهم، ((وإن أخطأوا)) أي ارتكبوا الخطيئة في صلاتهم، ككونهم محدثين ((فلكم))، ثوابها، ((وعليهم)) عقابها (2). وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((مَن أمّ الناس فأصاب الوقت فله ولهم، ومن انتقص من ذلك شيئاً فعليه ولا عليهم)) (3).

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الأذان، باب إذا لم يتم الإمام وأتم من خلفه، برقم 694 وما بين المعقوفين في نسخة دار السلام، وعند أحمد، 2/ 355.

(2) انظر: فتح الباري لابن حجر، 2/ 187، وإرشاد الساري للقسطلاني، 2/ 341.

(3) أحمد، 4/ 154، وابن ماجه، كتاب الصلاة، باب ما يجب على الإمام، برقم 983، أبو داود، كتاب الصلاة، باب جماع الإمامة وفضلها، برقم 580، وقال الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 115: ((حسن صحيح))، وصححه في صحيح سنن ابن ماجه، 1/ 293.
5 - ইমামতের সুমহান মর্যাদা এবং যারা এর বিষয়টিকে অবজ্ঞা করে তাদের জন্য এর ভয়াবহতা আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এটি সুস্পষ্ট যে, তিনি বলেছেন: ((তারা তোমাদের ইমামতি করবে; যদি তারা সঠিকভাবে আদায় করে তবে তা তোমাদের জন্য [ও তাদের জন্য], আর যদি তারা ভুল করে তবে তা তোমাদের অনুকূলে কিন্তু তাদের প্রতিকূলে যাবে)) (১)। এর অর্থ হলো: ((তারা সালাত আদায় করবে)) অর্থাৎ ইমামগণ, ((তোমাদের জন্য)) অর্থাৎ তোমাদের কল্যাণে; ((যদি তারা সঠিকভাবে আদায় করে)) সালাতের রুকনসমূহ (الأركان), শর্তাবলি (الشروط), ওয়াজিবসমূহ (الواجبات) ও সুন্নাতসমূহের (السنن) ক্ষেত্রে, তবে ((তোমাদের জন্য)) তোমাদের সালাতের সওয়াব এবং ((তাদের জন্য)) তাদের সালাতের সওয়াব। ((আর যদি তারা ভুল করে)) অর্থাৎ সালাতে কোনো ত্রুটি বা পাপ করে ফেলে, যেমন অপবিত্র অবস্থায় সালাত পড়ানো, তবে ((তোমাদের জন্য)) এর সওয়াব বহাল থাকবে, আর ((তাদের ওপর)) এর শাস্তি বর্তাবে (২)। উকবাহ বিন আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি মানুষের ইমামতি করল এবং সময়মতো তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করল, তবে তা তার জন্য ও তাদের জন্য। আর যে এতে কোনো ঘাটতি করল, তবে এর দায়ভার তার ওপর বর্তাবে, তাদের ওপর নয়)) (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-বুখারি, কিতাবুল আজান, বাব: যখন ইমাম সালাত পূর্ণ করেন না কিন্তু তার পেছনের মুক্তাদিরা পূর্ণ করেন, হাদিস নং ৬৯৪; এবং দারুস সালাম সংস্করণের বন্ধনীভুক্ত অংশসহ; এবং আহমাদ, ২/৩৫৫।

(২) দেখুন: ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি, ২/১৮৭; এবং আল-কাসতালানি রচিত ইরশাদুল সারি, ২/৩৪১।

(৩) আহমাদ ৪/১৫৪; ইবনে মাজাহ, কিতাবুস সালাত, বাব: ইমামের ওপর যা ওয়াজিব, হাদিস নং ৯৮৩; আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, বাব: ইমামতির গুরুত্ব ও এর ফজিলত, হাদিস নং ৫৮০; এবং আলবানি সহিহ সুনান আবু দাউদ (১/১১৫)-এ একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন এবং সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ (১/২৯৩)-তে একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وعن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((الإمام ضامن فإن أحسن فله ولهم، وإن أساء

- يعني - فعليه ولا عليهم)) (1).

 

‌‌ثالثاً: طلب الإمامة في الصلاة إذا صلحت النية لا بأس به؛ لحديث عثمان بن أبي العاص رضي الله عنه قال: يا رسول الله، اجعلني إمام قومي، فقال: ((أنت إمامهم واقتدِ بأضعفهم، واتخذ مؤذناً لا يأخذ على أذانه أجراً)) (2).

والحديث يدلّ على جواز طلب الإمامة في الخير، وقد ورد في أدعية عباد الرحمن الذين وصفهم الله بتلك الأوصاف الجميلة أنهم يقولون: {وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَاماً} (3). وليس ذلك من طلب الرياسة المكروهة؛ فإن

--------------------------------------------

(1) ابن ماجه، كتاب الصلاة، باب ما يجب على الإمام، برقم 981، وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه، 1/ 292.

(2) أبو داود، برقم 531، والترمذي، برقم 209، والنسائي، برقم 672، وتقدم تخريجه في الأذان، آداب المؤذن، وصححه الألباني في الإرواء، 5/ 315.

(3) سورة الفرقان، الآية: 74.
এবং সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ((ইমাম হলো জামিনদার; যদি সে উত্তম কাজ করে তবে তা তার জন্য এবং তাদের (মুক্তাদিদের) জন্য, আর যদি সে মন্দ করে—অর্থাৎ—তবে তা তার ওপরই বর্তাবে, তাদের ওপর নয়)) (১)।

 

‌‌তৃতীয়ত: নিয়ত সঠিক হলে সালাতে ইমামতি প্রার্থনা করার মধ্যে কোনো অসুবিধা নেই; উসমান ইবনে আবিল আস (রা.)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে আমার কওমের ইমাম বানিয়ে দিন। তিনি বললেন: ((তুমিই তাদের ইমাম, আর তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে দুর্বল তার অনুসরণ করো; এবং এমন একজন মুয়াজ্জিন গ্রহণ করো যে তার আযানের জন্য কোনো বিনিময় গ্রহণ করবে না)) (২)।

হাদিসটি কল্যাণকর কাজে ইমামতি প্রার্থনা করার বৈধতার ওপর দলিল প্রদান করে। আর ‘ইবাদুর রহমান’-দের দোয়াসমূহের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে—যাদের আল্লাহ সেই সুন্দর গুণাবলিতে বিশেষিত করেছেন—যে তারা বলে: {এবং যারা বলে: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্য থেকে চক্ষু শীতলকারী দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বানিয়ে দিন} (৩)। এটি সেই অপছন্দনীয় নেতৃত্ব কামনার অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: ইমামের ওপর যা ওয়াজিব, হাদিস নং ৯৮১; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ-তে, ১/ ২৯২।

(২) আবু দাউদ, হাদিস নং ৫৩১, তিরমিযী, হাদিস নং ২০৯, নাসায়ী, হাদিস নং ৬৭২; এর তাখরিজ ইতিপূর্বে আযান, মুয়াজ্জিনের আদবসমূহ আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন আল-ইরওয়া-তে, ৫/ ৩১৫।

(৩) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ذلك فيما يتعلق برياسة الدنيا التي لا يعان من طلبها، ولا يستحق أن يُعطاها من سألها (1)، فإذا صلحت النية وتأكدت الرغبة في القيام بالواجب والدعوة إلى الله عز وجل فلا حرج من طلب ذلك.

 

رابعاً: أولى الناس بالإمامة: الأقرأ (2) العالم فقه صلاته (3)، فإن استووا فأفقههم، فإن استووا فأقدمهم

--------------------------------------------

(1) انظر: سبل السلام، للصنعاني، 2/ 86، والمنهل العذب المورود في شرح سنن الإمام أبي داود، للشيخ محمود بن محمد بن خطاب السبكي، 4/ 208.

(2) الأقرأ: قيل: الأقرأ: هو أكثرهم قرآناً، وقيل: أجودهم وأحسنهم وأتقنهم قراءة، والصواب القول الأول؛ لحديث عمرو بن سلمة وفيه: (( … وليؤمكم أكثركم قرآناً))، [البخاري برقم 4302]؛ ولحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه وفيه: ((وأحقهم بالإمامة أقرؤهم))، [مسلم برقم 672]، ومعناه: أكثرهم قرآناً، ولكن لو استووا في القرآن بحيث قد استظهروا القرآن كله فيرجح من كان أتقنهم قراءة وأضبط لها، وأحسن ترتيلاً؛ لأنه الأقرأ بالنسبة لهؤلاء الذين استووا في كثرة الحفظ. [انظر: المفهم، للقرطبي، 2/ 297، والمغني، لابن قدامة، 2/ 14، ونيل الأوطار، للشوكاني، 2/ 390].

(3) العالم فقه صلاته: أي يعلم شروطها، وأركانها، وواجباتها، ومبطلاتها، ونحو ذلك، قال الحافظ ابن حجر: ((ولا يخفى أن محل تقديم الأقرأ إنما هو حيث يكون عارفًا بما يتعين معرفته من أحوال الصلاة، فأما إذا كان جاهلاً بذلك فلا يقدم اتفاقاً)) فتح الباري، 2/ 171، وانظر: حاشية ابن قاسم على الروض المربع، 2/ 296، والشرح الممتع، لابن عثيمين، 4/ 291.
এটি পার্থিব নেতৃত্বের সাথে সম্পর্কিত, যার অন্বেষণে সাহায্য করা হয় না এবং যে তা প্রার্থনা করে সে তা পাওয়ার যোগ্য নয় (১)। তবে যদি নিয়ত বিশুদ্ধ হয় এবং ওয়াজিব পালন ও মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ব্যাপারে আকাঙ্ক্ষা সুদৃঢ় হয়, তবে তা অন্বেষণ করতে কোনো অসুবিধা নেই।

 

চতুর্থ: ইমামতের জন্য মানুষের মধ্যে অধিক যোগ্য: সর্বোত্তম কিরাআত পাঠকারী (২), যিনি তাঁর নামাজের ফিকহ সম্পর্কে অবগত (৩); যদি তারা তাতে সমান হয় তবে তাদের মধ্যে যে অধিক ফকিহ, আর তারা যদি তাতেও সমান হয় তবে তাদের মধ্যে যে অগ্রগামী।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সানআনি রচিত সুবুলুস সালাম, ২/ ৮৬; এবং শায়খ মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খাত্তাব আস-সুবকি রচিত আল-মানহালুল আযবুল মাওরুদ ফি শারহি সুনানি ইমাম আবি দাউদ, ৪/ ২০৮।

(২) আল-আকরা (সর্বোত্তম পাঠকারী): বলা হয়েছে: 'আল-আকরা' বলতে উদ্দেশ্য হলো যার কাছে অধিক কুরআন মুখস্থ আছে। আবার বলা হয়েছে: যার কিরাআত অধিক উৎকৃষ্ট, সুন্দর এবং নিখুঁত। সঠিক কথা হলো প্রথমটি; আমর ইবনে সালামাহ বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: "...এবং তোমাদের মধ্যে যার কাছে অধিক কুরআন আছে সে যেন ইমামতি করে" [বুখারি, হাদিস নং ৪৩০২]; এছাড়া আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: "এবং ইমামতের জন্য তাদের মধ্যে অধিক যোগ্য সেই ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে অধিক কিরাআত পাঠকারী," [মুসলিম, হাদিস নং ৬৭২]। এর অর্থ হলো: যার কাছে অধিক কুরআন মুখস্থ আছে। কিন্তু যদি তারা কুরআনের ক্ষেত্রে সমান হয় অর্থাৎ সকলেই সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে থাকে, তবে যে অধিক নিখুঁত কিরাআত পাঠকারী, অধিক শুদ্ধকারী এবং উত্তম তারতিলকারী তাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে; কারণ হিফজ বা মুখস্থের আধিক্যের ক্ষেত্রে সমান ব্যক্তিদের মাঝে সেই ব্যক্তিই 'আল-আকরা' হিসেবে গণ্য। [দেখুন: কুরতুবি রচিত আল-মুফহিম, ২/ ২৯৭; ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ২/ ১৪; শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ২/ ৩৯০]।

(৩) নামাজের ফিকহ সম্পর্কে অবগত: অর্থাৎ যে নামাজের শর্তাবলি, রোকনসমূহ, ওয়াজিবসমূহ, নামাজ ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জানে। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "এটি অস্পষ্ট নয় যে, উত্তম পাঠকারীকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি কেবল তখনই কার্যকর হবে যখন সে নামাজের অবস্থা সম্পর্কে যা জানা অপরিহার্য সে বিষয়ে অবগত হবে। পক্ষান্তরে যদি সে এ বিষয়ে অজ্ঞ হয়, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না।" ফাতহুল বারি, ২/ ১৭১; আরও দেখুন: আর-রওদুল মুরবি-এর ওপর ইবনে কাসিমের হাশিয়া, ২/ ২৯৬; এবং ইবনে উসাইমীন রচিত আশ-শারহুল মুমতি, ৪/ ২৯১।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
هجرة، فإن استووا فأقدمهم إسلاماً، لحديث أبي مسعود الأنصاري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يؤمُّ القوم أقرؤهم لكتاب الله (1) فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة، فإن كانوا في السنة سواءً فأقدمهم هجرة (2)، فإن كانوا في

--------------------------------------------

(1) يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله: فيه دليل واضح على أنه يقدم الأقرأ على الأفقه، وهو مذهب الإمام أحمد، وأبي حنيفة، وبعض أصحاب الشافعي، وقال الإمام مالك والشافعي وأصحابهما: الأفقه مقدم على الأقرأ؛ لأن الذي يحتاج إليه من القراءة مضبوط والذي يحتاج إليه من الفقه غير مضبوط، وقد يعرض في الصلاة أمر لا يقدر على مراعاة الصواب فيه إلا كامل الفقه، لكن في قوله صلى الله عليه وسلم: ((فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة)): دليل على تقديم الأقرأ مطلقاً، والصواب أن الأقرأ يقدم إذا كان عارفاً فقه صلاته. [انظر: شرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 178، والمفهم في تلخيص كتاب مسلم، للقرطبي، 2/ 297، والمغني لابن قدامة، 3/ 11 - 12، وفتح الباري لابن حجر، 2/ 171، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 389، وحاشية ابن قاسم على الروض المربع، 2/ 296، والشرح الممتع لابن عثيمين،

4/ 289 - 291، وسبل السلام للصنعاني، 3/ 95].

(2) فإن كانوا في السنة سواء فأقدمهم هجرة: الهجرة المقدَّم بها في الإمامة لا تختص بالهجرة في عصره صلى الله عليه وسلم، بل هي التي لا تنقطع إلى يوم القيامة كما ثبت ذلك في الأحاديث؛ لأن الهجرة من دار الكفر إلى دار الإسلام قربة وطاعة، فقدم السابق إليها؛ لسبقه إلى الطاعة. انظر: المغني لابن قدامة، 3/ 15، وشرح النووي على صحيح مسلم، 5/ 179، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 390، وسبل السلام للصنعاني، 3/ 96.
হিজরত; তারা যদি এ ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে আগে ইসলাম গ্রহণ করেছে (সে অগ্রাধিকার পাবে)। আবু মাসউদ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে ভালো পাঠকারী (১), যদি তারা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সমান হয় তবে তাদের মধ্যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তি, আর যদি সুন্নাহর জ্ঞানেও সমান হয় তবে তাদের মধ্যে হিজরতের দিক থেকে অগ্রগামী ব্যক্তি (২), আর যদি তারা...

--------------------------------------------

(১) লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে ভালো পাঠকারী: এতে স্পষ্ট দলিল রয়েছে যে, ফিকহশাস্ত্রে অধিক জ্ঞানীর তুলনায় উত্তম ক্বারী বা পাঠককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এটি ইমাম আহমাদ, আবু হানিফা এবং শাফেয়ি মাযহাবের কোনো কোনো অনুসারীর অভিমত। ইমাম মালিক, শাফেয়ি এবং তাঁদের অনুসারীরা বলেছেন: ফিকহশাস্ত্রে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তি উত্তম ক্বারীর চেয়ে অগ্রগণ্য; কারণ কিরাতের যতটুকু প্রয়োজন তা সুনির্দিষ্ট, পক্ষান্তরে ফিকহের যতটুকু প্রয়োজন তা সুনির্দিষ্ট নয়। সালাতের মধ্যে এমন বিষয় উদ্ভূত হতে পারে যেখানে ফিকহশাস্ত্রে পূর্ণ জ্ঞান না থাকলে সঠিক সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যদি তারা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সমান হয় তবে সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের মধ্যে যে অধিক জ্ঞানী", এটি নিরঙ্কুশভাবে উত্তম ক্বারীকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার দলিল। সঠিক মত হলো, উত্তম ক্বারী তখনই অগ্রাধিকার পাবেন যখন তিনি নিজের সালাতের ফিকহ সম্পর্কে অবগত থাকবেন। [দেখুন: শারহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম, ৫/১৭৮; আল-মুফহিম ফী তালখিস কিতাব মুসলিম লিল-কুরতুবী, ২/২৯৭; আল-মুগনী লি-ইবনু কুদামা, ৩/১১-১২; ফাতহুল বারী লি-ইবনু হাজার, ২/১৭১; নাইলুল আওতার লিশ-শাওকানি, ২/৩৮৯; হাশিয়া ইবনু কাসিম আলা আর-রাওদ আল-মুরবি, ২/২৯৬; আশ-শারহুল মুমতি লি-ইবনু উসাইমিন, ৪/২৮৯-২৯১; সুবুলুস সালাম লিস-সানআনি, ৩/৯৫]।

(২) আর যদি সুন্নাহর জ্ঞানে সমান হয় তবে তাদের মধ্যে হিজরতের দিক থেকে অগ্রগামী ব্যক্তি: ইমামতের ক্ষেত্রে যে হিজরতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তা কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের হিজরতের সাথে নির্দিষ্ট নয়; বরং এটি সেই হিজরত যা কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হবে না, যেমনটি হাদিসসমূহে সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে। কারণ কুফর রাষ্ট্র থেকে ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরত করা একটি নেক কাজ ও আনুগত্য। তাই যে ব্যক্তি এ কাজে অগ্রণী, আনুগত্যের ক্ষেত্রে তার অগ্রবর্তিতার কারণে তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেখুন: আল-মুগনী লি-ইবনু কুদামা, ৩/১৫; শারহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম, ৫/১৭৯; নাইলুল আওতার লিশ-শাওকানি, ২/৩৯০; সুবুলুস সালাম লিস-সানআনি, ৩/৯৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الهجرة سواءً فأقدمهم سلماً - وفي رواية - سنّاً (1) ولا يؤمّنَّ الرَّجلُ الرَّجلَ في سلطانه (2)، ولا يقعد في بيته على تكْرِمَتِه (3) إلا بإذنه)). وفي لفظ: ((يؤم القوم أقرؤهم

--------------------------------------------

(1) الأقدم سلماً وفي رواية ((سنّاً))، وفي الرواية الأخرى ((فأكبرهم سنّاً))، وهذا لفضيلة السبق إلى الإسلام، والرواية الأخرى ((سنّاً)) راجع إلى سبق السن بالإسلام؛ لأن الأكبر سبق الأصغر. [انظر: المفهم للقرطبي، 2/ 298] وسمعت شيخنا ابن باز يقول أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 436: ((ومن كان أقدم سلماً فهو أكبرهم سنّاً إلا أن يكونوا كفاراً ثم أسلموا، فأقدمهم إسلاماً هو من جنس أقدمهم هجرة)) [وانظر: شرح النووي على صحيح مسلم،5/ 180، ونيل الأوطار للشوكاني،2/ 390،وسبل السلام للصنعاني،3/ 96،والمغني لابن قدامة،3/ 15].

(2) ولا يؤمّنّ الرجل الرجل في سلطانه أي في موضع سلطته، وهو ما يملكه أو يتسلط عليه بالتصرف فيه، ويدخل فيه صاحب البيت والمجلس، وإمام المسجد، وأعظم السلطة السلطان الأعظم؛ لأن ولايته عامة، وصاحب المكان أحق فإن شاء تقدم وإن شاء قدم من يريده، وإن كان ذلك الذي يقدمه مفضولاً بالنسبة للحاضرين؛ لأنه سلطانه فيتصرف فيه كيف شاء، والسلطان مقدم على إمام المسجد وصاحب البيت، ويستحب لصاحب البيت أن يأذن لمن هو أفضل منه. [انظر: المفهم للقرطبي، 2/ 299، والمغني لابن قدامة، 3/ 42، وشرح النووي، 5/ 180، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 391، وسبل السلام للصنعاني، 3/ 97، والشرح الممتع لابن عثيمين، 4/ 299].

(3) ((ولا يقعد على تكرمته إلا بإذنه))، وفي رواية: ((ولا تجلس على تكرمته في بيته إلا أن يأذن لك أو بإذنه))، والتكرمة: الفراش ونحوه مما يبسط لصاحب المنزل ويخص به، ووجه هذا المنع أنه مبني على منع التصرف في ملك الغير إلا بإذنه، غير أنه خص التكرمة بالذكر للتساهل في القعود عليها، وإذا منع القعود فمنع التصرف بنقلها أو بيعها أولى. المفهم للقرطبي، 2/ 299،وشرح النووي على صحيح مسلم،5/ 180.
হিজরতের ক্ষেত্রেও তারা সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী —অন্য বর্ণনায় (رواية)— বয়সে জ্যেষ্ঠ (১)। কোনো ব্যক্তি যেন অপর ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীন স্থানে (২) ইমামতি না করে এবং তার অনুমতি ব্যতীত তার ঘরে তার জন্য সংরক্ষিত বিশেষ আসনে (৩) যেন না বসে। অন্য শব্দে (لفظ) এসেছে: ((লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর কিতাব পাঠে অধিক দক্ষ...

--------------------------------------------

(১) ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী (أقدم سلماً) এবং অন্য বর্ণনায় (رواية) এসেছে "বয়সে জ্যেষ্ঠ (سنّاً)"। অপর এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে "তাদের মধ্যে বয়সে সর্বজ্যেষ্ঠ (فأكبرهم سنّاً)"। এটি ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী হওয়ার মর্যাদার কারণে। অন্য বর্ণনায় (رواية) "বয়স (سنّاً)" শব্দটি ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়সে অগ্রগামী হওয়ার দিকেই ফিরে যায়; কারণ যে বয়সে বড় সে ছোটর তুলনায় অগ্রগামী। [দেখুন: আল-মুফহিম লিল কুরতুবি, ২/ ২৯৮]। আমি আমাদের শায়খ ইবন বাজকে 'বুলুগুল মারাম'-এর ৪৩৬ নম্বর হাদিসের আলোচনার সময় বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী, সে বয়সেও বড়, তবে যদি তারা কাফির থাকা অবস্থায় পরে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তাদের মধ্যে যে আগে ইসলাম গ্রহণ করেছে সে হিজরতে অগ্রণী ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত হবে।" [আরও দেখুন: সহিহ মুসলিমের ওপর শরহুন নববী, ৫/ ১৮০; শাওকানির নাইলুল আওতার, ২/ ৩৯০; সান'আনির সুবুলুস সালাম, ৩/ ৯৬; ইবনু কুদামার আল-মুগনি, ৩/ ১৫]।

(২) "কোনো ব্যক্তি যেন অপর ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীন স্থানে (في سلطانه) ইমামতি না করে" অর্থাৎ তার আধিপত্যের জায়গায়। আর তা হলো যা সে মালিকানায় রাখে অথবা যার ওপর সে কর্তৃত্ব পরিচালনা করে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো বাড়ির মালিক, মজলিসের অধিকারী এবং মসজিদের ইমাম। আর কর্তৃত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলো মহান সুলতান (শাসক); কারণ তার অভিভাবকত্ব সর্বজনীন। স্থানের মালিক ইমামতির জন্য অধিক হকদার; তিনি চাইলে নিজে ইমামতি করবেন অথবা চাইলে যাকে ইচ্ছা তাকে এগিয়ে দেবেন, যদিও যাকে তিনি এগিয়ে দিচ্ছেন সে উপস্থিত ব্যক্তিদের তুলনায় মর্যাদাক্রমের দিক থেকে নিচে (مفضول) হয়; কারণ সেটি তার কর্তৃত্বাধীন জায়গা, তাই তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিচালনা করবেন। সুলতান (শাসক) মসজিদের ইমাম এবং বাড়ির মালিকের তুলনায় অগ্রগণ্য। বাড়ির মালিকের জন্য মুস্তাহাব হলো তার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তিকে ইমামতির অনুমতি দেওয়া। [দেখুন: আল-মুফহিম লিল কুরতুবি, ২/ ২৯৯; আল-মুগনি লি ইবনু কুদামা, ৩/ ৪২; শরহুন নববী, ৫/ ১৮০; নাইলুল আওতার লিশ-শাওকানি, ২/ ৩৯১; সুবুলুস সালাম লিস-সান'আনি, ৩/ ৯৭; ইবনু উসাইমীনের আশ-শারহুল মুমতি, ৪/ ২৯৯]।

(৩) "তার অনুমতি ব্যতীত তার জন্য সংরক্ষিত বিশেষ আসনে (على تكرمته) যেন না বসে"। অন্য বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "তুমি কারো ঘরে তার বিশেষ আসনে বসো না যতক্ষণ না সে তোমাকে অনুমতি দেয়"। 'তাকরামাহ' (تكرمة) হলো বিছানা বা অনুরূপ কিছু যা ঘরের মালিকের জন্য বিছানো হয় এবং তার জন্য নির্দিষ্ট থাকে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে তার অনুমতি ছাড়া হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ। তবে এখানে বিশেষভাবে 'তাকরামাহ'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ সাধারণত মানুষ এতে বসার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে। যদি বসা নিষিদ্ধ হয়, তবে তা স্থানান্তর বা বিক্রি করার মতো হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। [দেখুন: আল-মুফহিম লিল কুরতুবি, ২/ ২৯৯; সহিহ মুসলিমের ওপর শরহুন নববী, ৫/ ১৮০]।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
لكتاب الله وأقدمهم قراءة، فإن كانت قراءتهم سواءً … )) (1).

أما حديث مالك بن الحويرث رضي الله عنه الذي فيه: ((فإذا حضرت الصلاة فليؤذِّن لكم أحدُكم ثم ليؤمَّكم أكبرُكم)) (2). فقدم الأكبر؛ لأنهم استووا في باقي الخصال والشروط؛ لأنهم هاجروا جميعاً، وصحبوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ولازموه عشرين ليلة، فاستووا في الأخذ عنه، ولم يبق ما يقدم به إلا السن (3).

فالمراتب خمس: يقدم الأقرأ، فالأعلم بالسنة، فالأقدم

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب من أحق بالإمامة، برقم 673.

(2) متفق عليه: البخاري، كتاب الأذان، باب من قال: ليؤذن في السفر مؤذن واحد، برقم 628، ومسلم، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب من الأحق بالإمامة، برقم 674.

(3) انظر: شرح النووي على مسلم، 5/ 181، والمفهم للقرطبي، 2/ 301.
...আল্লাহর কিতাবের অধিক পারদর্শী এবং তাদের মধ্যে তিলাওয়াতে অগ্রগামী। যদি তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তারা সমান হয় … )) (১)।

আর মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, যাতে রয়েছে: ((যখন সালাতের সময় উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যেন আজান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে যেন ইমামতি করে)) (২)। এখানে বয়োজ্যেষ্ঠকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; কারণ তারা অন্যান্য গুণাবলি ও শর্তাবলীতে সমান ছিলেন; কেননা তারা সকলেই হিজরত করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ করেছিলেন এবং বিশ রাত তাঁর সাথে অবস্থান করেছিলেন। ফলে তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা সমান ছিলেন এবং বয়স ছাড়া অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না (৩)।

সুতরাং পর্যায়ক্রম হলো পাঁচটি: (প্রথমে) তিলাওয়াতে অধিক পারদর্শীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এরপর সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ব্যক্তিকে, এরপর হিজরতে অগ্রগামী ব্যক্তিকে...

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, পরিচ্ছেদ: ইমামতির অধিক হকদার কে, হাদিস নং ৬৭৩।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুল আজান, পরিচ্ছেদ: সফর অবস্থায় একজন মুয়াজ্জিন আজান দিবে বলে যে ব্যক্তি মত দিয়েছেন, হাদিস নং ৬২৮, এবং মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, পরিচ্ছেদ: ইমামতির অধিক হকদার কে, হাদিস নং ৬৭৪।

(৩) দেখুন: শরহুন নববী আলা মুসলিম, ৫/১৮১, এবং আল-মুফহিম লিল কুরতুবি, ২/৩০১।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
هجرة، فالأقدم إسلاماً، فالأكبر سنّاً (1).

 

‌‌خامساً: أنواع الإمامة في الصلاة على النحو الآتي:

‌‌1 - إمامة الصبي جائزة على الصحيح (2)؛ لحديث عمرو بن سلمة قال: كنا بماء ممرِّ الناس (3)، وكان يمرّ بنا الرّكبان فنسألهم ما للناس ما للناس؟ ما هذا الرجل؟ (4) فيقولون: يزعم أن الله أرسله، أوحى إليه، أوحى الله بكذا، فكنت أحفظ ذاك الكلام، فكأنما يقرُّ في صدري، وكانت العرب تلوَّم بإسلامهم الفتح (5)، فيقولون اتركوه

--------------------------------------------

(1) انظر: الشرح الممتع، 4/ 296.

(2) اختلف أهل العلم في إمامة الصبي: فمذهب الشافعية أنها تصح مطلقاً في الفريضة والنفل، ومذهب المالكية، والحنفية، والحنابلة أن إمامة الصبي لا تصح في الفرض بالبالغ. انظر: المغني لابن قدامة، 3/ 70، والشرح الكبير ومعه المقنع والإنصاف،

4/ 387، وفتح الباري لابن حجر، 8/ 23، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 401.

(3) بماء ممر الناس: موضع مرورهم. انظر: فتح الباري لابن حجر، 8/ 23، وإرشاد الساري للقسطلاني، 9/ 284.

(4) ما هذا الرجل: يسألون عن حال النبي صلى الله عليه وسلم وحال العرب معه. فتح الباري لابن حجر، 8/ 23.

(5) تلوَّم: تنتظر. فتح الباري لابن حجر، 8/ 23.
হিজরতের দিক থেকে অগ্রগামী, এরপর ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী, তারপর বয়সে বড় (১)।

 

‌‌পঞ্চম: নামাজে ইমামতির প্রকারভেদ নিম্নরূপ:

‌‌১ - সঠিক (الصحيح) মতানুসারে নাবালকের ইমামতি বৈধ (২); আমর ইবনে সালামা বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমরা এমন এক জলাশয়ের পাশে ছিলাম যা মানুষের যাতায়াতের পথ ছিল (৩), আমাদের পাশ দিয়ে আরোহীরা যাতায়াত করতেন এবং আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করতাম মানুষের অবস্থা কী? মানুষের খবর কী? এই লোকটির (নবী ﷺ) পরিচয় কী? (৪) তারা বলতেন: তিনি দাবি করেন যে আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন, তাঁর কাছে ওহি পাঠিয়েছেন, আল্লাহ এই এই বিষয়ে ওহি নাজিল করেছেন। আমি সেই কথাগুলো মুখস্থ করতাম, ফলে তা যেন আমার হৃদয়ে গেঁথে যেত। আর আরবরা তাদের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি বিজয়ের (মক্কা বিজয়) অপেক্ষায় স্থগিত রেখেছিল (৫), তারা বলত তাকে এবং তার কওমকে ছেড়ে দাও...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি, ৪/২৯৬।

(২) নাবালকের ইমামতি প্রসঙ্গে আহলে ইলমগণ মতভেদ করেছেন: শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী ফরজ ও নফল উভয় নামাজে তা সাধারণভাবে শুদ্ধ (تصح)। আর মালেকি, হানাফি এবং হাম্বলি মাযহাবের মতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফরজ নামাজে নাবালকের ইমামতি শুদ্ধ (تصح) নয়। দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি, ৩/৭০; আশ-শারহুল কাবীর ও সেইসাথে আল-মুকনি এবং আল-ইনসাফ, ৪/৩৮৭; ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি, ৮/২৩; শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ২/৪০১।

(৩) ‘বি-মায়ি মামাররিন নাস’: তাদের যাতায়াতের স্থান। দেখুন: ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি, ৮/২৩; কাসতালানি রচিত ইরশাদুস সারি, ৯/২৮৪।

(৪) ‘মা হাজা আর-রাজুল’: তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা এবং তাঁর সাথে আরবদের আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। ফাতহুল বারি ইবনে হাজার, ৮/২৩।

(৫) ‘তালওয়াম’: অপেক্ষা করা। ফাতহুল বারি ইবনে হাজার, ৮/২৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقومه، فإن ظهر عليهم فهو نبي صادق، فلما كانت وقعة أهل الفتح بادر كل قوم بإسلامهم، وبدر أبي قومي بإسلامهم (1)، فلما قَدِمَ قال: ((جئتكم والله من عند النبي صلى الله عليه وسلم حقّاً، فقال: ((صلّوا صلاة كذا في حين كذا، وصلّوا صلاة كذا في حين كذا، فإذا حضرت الصّلاة فليؤذِّن أحدُكم، وليؤمَّكم أكثرُكم قرآناً)) فنظروا فلم يكن أحد أكثر قرآناً منّي؛ لِمَا كنت أتلقَّى من الركبان، فقدّموني بين أيديهم، وأنا ابن ست أو سبع سنين، وكانت عليَّ بردة، كنت إذا سجدت تقلَّصت عني (2)، فقالت امرأة من الحي: ألا تغطُّون عنا است قارئكم؟ فاشتروا (3) فقطعوا لي قميصاً فما فرحت بشيء فرحي بذلك القميص)). وفي أبي داود زيادة: ((قال عمرو بن سلمة فما شهدت مجمعاً من جرم إلا كنت إمامهم، وكنت أصلي على جنائزهم إلى

--------------------------------------------

(1) بدر: سبق. المرجع السابق، 8/ 23.

(2) بردة: كساء صغير مربع ويقال كساء أسود، ومعنى: تقلصت: انكشفت عنه. انظر: فتح الباري لابن حجر، 8/ 23، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 401.

(3) فاشتروا: أي ثوباً، انظر: فتح الباري، 8/ 23.
...এবং তাঁর কওম। যদি তিনি তাদের ওপর বিজয়ী হন, তবে তিনি একজন সত্যবাদী (صادق) নবি। যখন মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটল, তখন প্রতিটি কওম ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করল এবং আমার পিতা আমার কওমের পক্ষ থেকে ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী হলেন (১)। যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন বললেন: "আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের কাছে নবি (صلى الله عليه وسلم)-এর পক্ষ থেকে নিশ্চিত সত্য নিয়ে এসেছি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন: 'তোমরা অমুক নামাজ অমুক সময়ে এবং অমুক নামাজ অমুক সময়ে আদায় করো। যখন নামাজের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যেন আজান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে কোরআনে অধিক পারদর্শী, সে যেন তোমাদের ইমামতি করে'।" তারা অনুসন্ধান করলেন কিন্তু আমার চেয়ে বেশি কোরআন জানা কাউকে পেলেন না; কারণ আমি আরোহী কাফেলাগুলোর কাছ থেকে কোরআন শিখতাম। ফলে তারা আমাকে তাদের সামনে (ইমামতির জন্য) এগিয়ে দিলেন, অথচ তখন আমার বয়স মাত্র ছয় কি সাত বছর। আমার পরিধানে একটি চাদর (بردة) ছিল, যা আমি সেজদা করলে আমার শরীর থেকে সংকুচিত হয়ে যেত (تقلصت) (২)। তখন গোত্রের এক মহিলা বললেন: "তোমরা কি তোমাদের কারির পশ্চাদ্দেশ আমাদের থেকে আবৃত করবে না?" তখন তারা কাপড় ক্রয় করলেন (৩) এবং আমার জন্য একটি কামিজ তৈরি করে দিলেন। সেই কামিজটি পেয়ে আমি যতটা আনন্দিত হয়েছিলাম, অন্য কোনো কিছুতে ততটা হইনি।" সুনানে আবু দাউদ-এ অতিরিক্ত (زيادة) বর্ণিত হয়েছে: "আমর ইবনে সালামাহ বলেন, এরপর 'জারম' গোত্রের যেখানেই কোনো সমাবেশ হয়েছে, আমি তাদের ইমামতি করেছি। এমনকি আমি তাদের জানাজার নামাজেও ইমামতি করতাম..."

--------------------------------------------

(১) বাদার (بدر): অর্থাৎ অগ্রগামী হওয়া। প্রাগুক্ত গ্রন্থ, ৮/২৩।

(২) বুরদাহ (بردة): বর্গাকৃতির ছোট চাদর, কেউ কেউ বলেছেন এটি কালো চাদর। 'তাকালাছাত' (تقلصت) শব্দের অর্থ: তাঁর শরীর থেকে সরে যেত বা উন্মুক্ত হয়ে পড়ত। দেখুন: ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি, ৮/২৩ এবং শাওকানির নাইলুল আওতার, ২/৪০১।

(৩) ফাশতারাউ (فاشتروا): অর্থাৎ একটি কাপড় ক্রয় করলেন, দেখুন: ফাতহুল বারি, ৮/২৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
يومي هذا)) (1).

وهذا هو الصّواب أنّ إمامة الصّبي تصحّ بالفرض والنّفل إذا قدّمه القوم وكان أكثرهم قرآناً، وقد بلغ سبع سنين؛ لأنه لا قياس في مقابلة النّصّ؛ ولأنّ إمامة عمرو بن سلمة بقومه كانت زمن الوحي، فلو كانت الصّلاة باطلة وعمله منكراً؛ لأنكره الله تعالى؛ ولأنّ الذين قدَّموا عمراً كانوا كلهم صحابة (2)، وقد قال جابر رضي الله عنه: ((كنّا نعزل والقرآن ينزل)) وفي لفظ: ((كنّا نعزل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم)) (3). وفي رواية مسلم: ((كنّا نعزل والقرآن ينزل، ولو كان شيئاً ينهى عنه لنهانا عنه القرآن)).

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب المغازي، باب مقام النبي صلى الله عليه وسلم بمكة زمن الفتح، برقم 4302، وزيادة أبي داود: ((فاشتروا لي قميصاً عُمانيّاً))، برقم 585،وزاد في روايته رقم 587: ((فما شهدت مجمعاً من جرم إلا كنت إمامهم، وكنت أصلي على جنائزهم إلى يومي هذا)).

(2) انظر: نيل الأوطار للشوكاني، 2/ 401، وفتح الباري لابن حجر، 8/ 23،

و2/ 185، وسبل السلام للصنعاني، 3/ 94، ومجموع فتاوى ابن باز، 12/ 198، والشرح الممتع لابن عثيمين، 4/ 317 - 318.

(3) متفق عليه: البخاري، كتاب النكاح، باب العزل، برقم 5207 - 5209، ومسلم، كتاب النكاح، باب حكم العزل، برقم 1440.
...আমার এই দিন পর্যন্ত)) (১)।

এবং এটিই সঠিক যে, নাবালকের ইমামতি ফরজ ও নফল উভয় সালাতে শুদ্ধ হয় যখন লোকসমাজ তাকে ইমাম হিসেবে অগ্রগামী করে এবং সে তাদের মধ্যে কুরআনে অধিক পারদর্শী হয়, এমতাবস্থায় যে সে সাত বছর বয়সে উপনীত হয়েছে; কেননা অকাট্য দলিলের বিপরীতে কোনো কিয়াস বা অনুমান চলে না। আর এজন্য যে, আমর ইবনে সালামাহ কর্তৃক তাঁর কওমের ইমামতি করার বিষয়টি ছিল ওহীর সমকালীন। সুতরাং যদি সালাত বাতিল হতো এবং তাঁর সেই কাজ পরিত্যাজ্য (منكر) হতো, তবে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তা প্রত্যাখ্যান করতেন; কারণ যারা আমরকে ইমাম হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন তারা সকলেই ছিলেন সাহাবী (صحابة) (২)। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা আজল করতাম এমতাবস্থায় যে কুরআন নাজিল হচ্ছিল।" আর এক শব্দে (لفظ): "আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর যুগে আজল করতাম" (৩)। মুসলিমের এক বর্ণনায় (رواية): "আমরা আজল করতাম এবং কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল, যদি তা এমন কিছু হতো যা থেকে নিষেধ করা আবশ্যক, তবে কুরআন অবশ্যই আমাদের তা থেকে নিষেধ করত।"

--------------------------------------------

(১) বুখারি, কিতাবুল মাগাজি, মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় নবী (সা.)-এর অবস্থান বিষয়ক অধ্যায়, হাদিস নং ৪৩০২; এবং আবু দাউদের অতিরিক্ত অংশ: ((তারা আমার জন্য একটি ওমানি জামা ক্রয় করে দিল)), হাদিস নং ৫৮৫। তিনি তাঁর বর্ণনায় (رواية) নং ৫৮৭-এ আরও বৃদ্ধি করেছেন: ((আমি জুরম গোত্রের এমন কোনো সমাবেশে উপস্থিত হইনি যেখানে আমি তাদের ইমামতি করিনি, এবং আমি আমার এই দিন পর্যন্ত তাদের জানাজার সালাত পড়াচ্ছি))।

(২) দেখুন: শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ২/৪০১; ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি, ৮/২৩ এবং ২/১৮৫; সানয়ানি রচিত সুবুলুস সালাম, ৩/৯৪; মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১২/১৯৮; এবং ইবনে উসাইমিন রচিত আশ-শারহুল মুমতি, ৪/৩১৭-৩১৮।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, কিতাবুন নিকাহ, আজল বিষয়ক অধ্যায়, হাদিস নং ৫২০৭-৫২০৯; এবং মুসলিম, কিতাবুন নিকাহ, আজল এর বিধান বিষয়ক অধ্যায়, হাদিস নং ১৪৪০।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز

رحمه الله يرجّح صحّة إمامة الصبي الذي بلغ سبع سنين في الفرض والنّفل، وأنه يعتدّ بالصّبي في المصافة في الصّلاة، وأنّ الأصل في الفرائض والنّوافل سواء إلا ما خصّه الدّليل (1).

 

‌‌2 - إمامة الأعمى صحيحة بلا كراهة؛ لحديث أنس رضي الله عنه أنّ النبي صلى الله عليه وسلم استخلف ابن أمِّ مكتوم يؤمُّ الناس وهو أعمى (2)، وفي رواية عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم استخلف ابن أمِّ مكتوم على المدينة مرتين (3). وقد عُدَّت مراتُ استخلاف ابن أم مكتوم فبلغت ثلاث عشرة مرة، وهذا دليل على

--------------------------------------------

(1) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام الحديث رقم 435، وأثناء تقريره على صحيح البخاري، الحديث رقم 4302.

(2) ابو داود، كتاب الصلاة، باب إمامة الأعمى، برقم 595،وأحمد في المسند، 3/ 192، والبيهقي في السنن الكبرى، 3/ 88، وله شاهد عن عائشة رضي الله عنها عند ابن حبان في [الإحسان،5/ 506 برقم 2134]،وقال الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 118: ((حسن صحيح)).

(3) أبو داود، كتاب الخراج، باب في الضرير يولَّى، برقم 2931، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 2/ 566.
আমি আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে সাত বছর বয়সে উপনীত হওয়া শিশুর ফরজ ও নফল সালাতে ইমামতির বিশুদ্ধতাকে (صحة) প্রাধান্য দিতে শুনেছি, এবং তিনি মনে করতেন যে সালাতে কাতারবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে শিশুর উপস্থিতি গণ্য হবে। আর মূলত ফরজ ও নফল উভয় ইবাদতের বিধান একই, যতক্ষণ না কোনো দলিলের মাধ্যমে সেটিকে নির্দিষ্ট করা হয় (১)।

 

‌২ - অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি কোনো অপছন্দনীয়তা ছাড়াই সহিহ (صحيحة); আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে উম্মে মাকতুম-কে মানুষের ইমামতি করার জন্য স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন, অথচ তিনি ছিলেন একজন অন্ধ (২)। তাঁর থেকে বর্ণিত অপর একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে উম্মে মাকতুম-কে মদিনায় দুইবার স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন (৩)। ইবনে উম্মে মাকতুমের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সংখ্যা গণনা করা হয়েছে এবং তা তেরো বার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা এই বিষয়ের দলিল যে—

--------------------------------------------

(১) আমি এটি তাঁর নিকট থেকে বুলুগুল মারাম-এর হাদিস নম্বর ৪৩৫ এবং সহিহ বুখারি-র হাদিস নম্বর ৪৩০২-এর ব্যাখ্যা প্রদানকালে শুনেছি।

(২) আবু দাউদ, সালাত অধ্যায়, অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৫৯৫; আহমাদ, মুসনাদ, ৩/১৯২; বায়হাকি, সুনানুল কুবরা, ৩/৮৮; এবং আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে ইবনে হিব্বানের আল-ইহসান গ্রন্থে, ৫/৫০৬, হাদিস নম্বর ২১৩৪; এবং আলবানি সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/১১৮ গ্রন্থে একে "হাসান সহিহ (حسن صحيح)" বলেছেন।

(৩) আবু দাউদ, কিতাবুল খারাজ, অন্ধ ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ২৯৩১; এবং আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ২/৫৬৬ গ্রন্থে সহিহ (صححه) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
صحّة إمامة الأعمى من دون كراهة في ذلك (1)، ويدلّ على ذلك ما رواه محمود بن الربيع الأنصاري رضي الله عنه أن عتبان بن مالك كان يؤمُّ قومَهُ وهو أعمى، وأنه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم، يا رسول الله: إنها تكون الظلمة والسيل، وأنا رجل ضرير البصر، فصلِّ يا رسول الله في بيتي مكاناً أتخذه مُصلَّى، فجاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((أين تحبّ أن أصلّي))؟ فأشار إلى مكان من البيت فصلّى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم (2).

 

‌‌3 - إمامة العبد والمولى صحيحة؛ لحديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: لَمّا قَدِمَ المهاجرون الأوّلون العقبة - موضع بقباء - قبل مقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يؤمُّهم سالم مولى أبي حذيفة رضي الله عنه وكان أكثرهما قرآناً (3).

وفي رواية: عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: كان سالم مولى أبي حذيفة يؤم المهاجرين الأولين وأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في

--------------------------------------------

(1) انظر: سبل السلام للصنعاني، 3/ 120، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 395.

(2) البخاري، كتاب الأذان، باب الرخصة في المطر والعلة أن يصلي في رحله، برقم 667.

(3) البخاري، كتاب الأذان، باب إمامة العبد والمولى، برقم 692.
কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) ছাড়াই অন্ধ ব্যক্তির ইমামতির (إمامة) বৈধতা (১); এবং এর প্রমাণ হচ্ছে মাহমুদ ইবনুর রবি' আল-আনসারী (রাযিআল্লাহু আনহু) কর্তৃক বর্ণিত (رواه) হাদিস যে, ইতবান বিন মালিক (রাযিআল্লাহু আনহু) অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কওমের ইমামতি (إمامة) করতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিবেদন করেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, অনেক সময় অন্ধকার ও প্লাবনের সৃষ্টি হয়, আর আমি একজন দৃষ্টিহীন মানুষ; অতএব হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার গৃহে এমন একটি স্থানে সালাত আদায় করুন যেটিকে আমি সালাতের স্থান (مصلى) হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আগমন করলেন এবং বললেন: “তুমি কোথায় আমি সালাত আদায় করি তা পছন্দ করো?” তিনি ঘরের একটি স্থানের দিকে ইঙ্গিত করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সালাত আদায় করলেন (২)।

 

‌‌৩ - দাস ও মুক্ত দাসের ইমামতি (إمامة) সহিহ (صحيحة); ইবনে উমর (রাযিআল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বে যখন প্রথম হিজরতকারী মুহাজিরগণ আল-আকাবাতে — যা কুবার একটি স্থান — উপনীত হলেন, তখন আবু হুজাইফা (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর মুক্ত দাস সালিম তাঁদের ইমামতি (إمامة) করতেন এবং তিনি তাঁদের মধ্যে কুরআন বিষয়ে সর্বাধিক পারদর্শী ছিলেন (৩)।

অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): ইবনে উমর (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হুজাইফার মুক্ত দাস সালিম প্রথম হিজরতকারী মুহাজিরগণ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ইমামতি (إمامة) করতেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সুবুলুস সালাম লিস-সানআনী, ৩/১২০, এবং নাইলুল আওতার লিশ-শাওকানী, ২/৩৯৫।

(২) বুখারি, কিতাবুল আজান, বৃষ্টি ও ওজরের কারণে নিজ আবাসে সালাত আদায়ের অনুমতি অধ্যায়, হাদিস নং ৬৬৭।

(৩) বুখারি, কিতাবুল আজান, দাস ও মুক্ত দাসের ইমামতি অধ্যায়, হাদিস নং ৬৯২।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
مسجد قباء، فيهم أبو بكر، وعمر، وأبو سلمة، وزيد، وعامر بن ربيعة (1).

وكان سالم مولى امرأة من الأنصار فأعتقته، وكانت إمامته بهم قبل أن يُعتق، وإنما قيل له: مولى أبي حذيفة؛ لأنه لازم أبا حذيفة بعد أن أعتق فتبناه، فلما نهوا عن ذلك قيل له: مولاه، وسبب تقديمهم له؛ لأنه كان أكثرهم قرآناً (2)، قال البخاري رحمه الله: ((باب إمامة العبد المولى، وكانت عائشة يؤمها عبدها ذكوان من المصحف. وولد البغي والأعرابي والغلام الذي لم يحتلم، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((يؤمُّهم أقرؤهم لكتاب الله)) ولا يُمنع العبد من الجماعة بغير علة)) (3).

 

‌‌4 - إمامة المرأة للنساء صحيحة؛ لحديث أم ورقة بنت عبد الله بن الحارث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يزورها في بيتها، وجعل لها مؤذناً يؤذن لها، وأمرها أن تؤمَّ أهل دارها.

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب الأحكام، باب استقضاء الموالي واستعمالهم، برقم 7175.

(2) انظر: فتح الباري لابن حجر، 2/ 186، ونيل الأوطار للشوكاني، 2/ 396.

(3) البخاري، كتاب الأذان، باب إمامة العبد والمولى، قبل الحديث رقم 692.
কুবা মসজিদে, তাদের মাঝে ছিলেন আবু বকর, উমর, আবু সালামাহ, যাইদ এবং আমির বিন রবিয়াহ (১)।

এবং সালিম ছিলেন আনসারদের একজন মহিলার আযাদকৃত দাস (مولى), অতঃপর তিনি তাকে আযাদ করে দিয়েছিলেন। তাকে আযাদ করার পূর্বেই তিনি তাদের ইমামতি (إمامة) করতেন। তাকে মূলত আবু হুজাইফার আযাদকৃত দাস (مولى) বলা হতো; কারণ আযাদ হওয়ার পর তিনি আবু হুজাইফার সাথে সার্বক্ষণিকভাবে থাকতেন এবং আবু হুজাইফা তাকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যখন এ বিষয়ে (পালক পুত্র ডাকা) নিষেধ করা হলো, তখন তাকে তার আযাদকৃত দাস (مولى) বলা হতে লাগল। তাকে ইমাম হিসেবে এগিয়ে দেওয়ার কারণ ছিল এই যে, তিনি তাদের মধ্যে কুরআন পাঠে অধিক পারদর্শী (أكثرهم قرآناً) ছিলেন (২)। বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “অনুচ্ছেদ: আযাদকৃত দাসের (المولى) ইমামতি সংক্রান্ত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইমামতি (يؤمها) করতেন তাঁর দাস যাকওয়ান এবং তিনি মুসহাফ (কুরআন) দেখে দেখে পড়তেন। আরও বৈধ ব্যভিচারের সন্তান, বেদুইন এবং স্বপ্নদোষ না হওয়া অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকের ইমামতি; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘তাদের ইমামতি (يؤمُّهم) করবে আল্লাহর কিতাব পাঠে তাদের মধ্যে যে সর্বাধিক পারদর্শী (أقرؤهم)।’ আর কোনো সঙ্গত কারণ ছাড়া দাসকে জামাআতে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া যাবে না” (৩)।

 

‌‌৪ - নারীদের জন্য নারীর ইমামতি (إمامة) সঠিক (صحيحة); উম্মে ওয়ারাকাহ বিনতে আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস-এর হাদিসের কারণে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তার বাড়িতে দেখতে যেতেন এবং তার জন্য একজন মুআযযিন নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন যে তার জন্য আযান দিত, আর তিনি তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তার গৃহবাসীদের ইমামতি (تؤمَّ) করেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারি, কিতাবুল আহকাম, আযাদকৃত দাসদের বিচারক নিয়োগ ও তাদের ব্যবহার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৭১৭৫।

(২) দেখুন: ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি, ২/ ১৮৬, এবং শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ২/ ৩৯৬।

(৩) বুখারি, কিতাবুল আযান, দাস ও আযাদকৃত দাসের ইমামতি সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৬৯২-এর পূর্বে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال عبد الرحمن بن خلَاّد الراوي عنها: ((أنا رأيتُ مؤذنها شيخاً كبيراً)) (1). وهذا يدلّ على مشروعية صلاة النساء جماعة منفردات عن الرجال (2)، ورجح الإمام ابن القيم رحمه الله استحباب صلاة النساء جماعة؛ لحديث أم ورقة؛ ولأن عائشة رضي الله عنها أمَّت نسوة في المكتوبة فأمتهنَّ بينهن وسطاً (3)؛ ولأن أم سلمة رضي الله عنها أمَّت نساء فقامت وسطهن (4)، ولو لم يكن في المسألة إلا عموم قوله صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) أبو داود، بلفظه، كتاب الصلاة، باب إمامة النساء، برقم 592، وأحمد، 6/ 405، والحاكم، 1/ 203، والبيهقي، 3/ 130، والدارقطني، 1/ 403، وابن خزيمة في صحيحه،3/ 89،برقم 1676،وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود،1/ 118.

(2) اختلف العلماء في صلاة الجماعة للنساء منفردات عن الرجال في بيوتهن: فقيل: سنة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر ورقة أن تؤم أهل دارها، وقيل: مكروهة، وقالوا: بأن حديث ورقة ضعيف، وقيل: مباحة؛ لأن النساء من أهل الجماعة في الجملة؛ ولهذا أبيح لها أن تحضر في المسجد لإقامة الجماعة، فتكون إقامة الجماعة في بيتها مباحة مع ما في ذلك من التستر. انظر: المغني لابن قدامة 3/ 37، والشرح الممتع لابن عثيمين 4/ 198 - 199.

(3) عبد الرزاق في المصنف، 3/ 141 برقم 5086، وابن أبي شيبة، 2/ 89، والحاكم

1/ 203، والدارقطني، 1/ 404، والبيهقي، 3/ 131، وابن حزم، 3/ 171.

(4) عبد الرزاق في المصنف، 2/ 140، برقم 5082، وابن أبي شيبة، 2/ 88، والشافعي في المسند، 6/ 86، والدارقطني، 1/ 404، والبيهقي، 3/ 131، وابن حزم، 3/ 172.
উম্মে ওয়ারাকা (রা.) থেকে বর্ণনাকারী আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ বলেন: ((আমি তাঁর মুয়াজ্জিনকে একজন বয়োবৃদ্ধ শায়খ হিসেবে দেখেছি)) (১)। এটি পুরুষদের থেকে আলাদা হয়ে নারীদের জামাতে সালাত আদায়ের বৈধতার প্রমাণ দেয় (২), এবং ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) নারীদের জামাতে সালাত আদায় মুস্তাহাব হওয়ার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন; উম্মে ওয়ারাকার হাদিসের কারণে; এবং যেহেতু আয়েশা (রা.) ফরজ সালাতে নারীদের ইমামতি করেছিলেন এবং তিনি তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন (৩); আর যেহেতু উম্মু সালামাহ (রা.) নারীদের ইমামতি করেছিলেন এবং তিনি তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন (৪), যদি এই বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাধারণ বাণীর ব্যাপকতা ছাড়া আর কিছু নাও থাকত:

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, তাঁর শব্দে, কিতাবুস সালাত, নারীদের ইমামতি অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৫৯২; আহমাদ, ৬/৪০৫; হাকেম, ১/২০৩; বায়হাকি, ৩/১৩০; দারাকুতনি, ১/৪০৩; ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে, ৩/৮৯, হাদিস নং ১৬৭৬; এবং আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে হাসান (حسن) বলে অভিহিত করেছেন, ১/১১৮।

(২) পুরুষদের থেকে আলাদা হয়ে নিজেদের ঘরে নারীদের জামাতে সালাত আদায়ের বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন: কারো মতে তা সুন্নাহ; কারণ নবী (সা.) উম্মে ওয়ারাকাকে তাঁর ঘরের অধিবাসীদের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারো মতে তা অপছন্দনীয়; তাঁরা বলেন যে, উম্মে ওয়ারাকার হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। কারো মতে তা বৈধ; কারণ নারীরাও সাধারণভাবে জামাতের অন্তর্ভুক্ত; একারণেই জামাতে অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের মসজিদে উপস্থিত হওয়া বৈধ করা হয়েছে। সুতরাং পর্দার বিষয়টি বজায় রেখে নিজ ঘরে জামাত কায়েম করা বৈধ হবে। দেখুন: ইবনে কুদামা প্রণীত আল-মুগনি ৩/৩৭, এবং ইবনে উসাইমিন প্রণীত আশ-শারহুল মুমতি ৪/১৯৮-১৯৯।

(৩) আব্দুর রাজ্জাক প্রণীত আল-মুসান্নাফ, ৩/১৪১, হাদিস নং ৫০৮৬; ইবনে আবি শায়বাহ, ২/৮৯; হাকেম, ১/২০৩; দারাকুতনি, ১/৪০৪; বায়হাকি, ৩/১৩১; ইবনে হাজম, ৩/১৭১।

(৪) আব্দুর রাজ্জাক প্রণীত আল-মুসান্নাফ, ২/১৪০, হাদিস নং ৫০৮২; ইবনে আবি শায়বাহ, ২/৮৮; শাফেয়ি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে, ৬/৮৬; দারাকুতনি, ১/৪০৪; বায়হাকি, ৩/১৩১; ইবনে হাজম, ৩/১৭২।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
((تفضل صلاة الجماعة على صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة)) (1) لكفى (2).

وسمعت شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله يقول عن حديث ورقة: ((وأنه يدلّ على مشروعية ذلك، ولا بأس به، ويستحب ذلك، والحديث وإن كان في إسناده كلام، ولكن مثله نوع مستقل ويعمل به، ويعضده ما جاء عن عائشة، وأم سلمة أنهما كانتا تؤمان أهل بيتهما، لكن تقف في وسط النساء، وصلاة الجماعة لا تجب عليهن، ولكن تستحب)) (3).

 

‌‌5 - إمامة الرجل للنساء فقط صحيحة؛ لأخبار وردت في ذلك (4)؛ ولأن الأصل صحة صلاة الجماعة وانعقادها

--------------------------------------------

(1) متفق عليه، وتقدم تخريجه في فضل صلاة الجماعة.

(2) إعلام الموقعين، 3/ 357.

(3) سمعته أثناء تقريره على بلوغ المرام، الحديث رقم 447، وانظر: مجموع فتاوى ومقالات له، 12/ 130.

(4) مسند أبي يعلى، 3/ 336 برقم 1801، وانظر: مجمع الزوائد للهيثمي، 2/ 74، وسبل السلام للصنعاني، 3/ 119.
((একাকী সালাতের তুলনায় জামাতের সালাত সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ)) (১) - এটুকুই যথেষ্ট হতো (২)।

আমি আমাদের শাইখ ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ওয়ারাকার হাদিস সম্পর্কে বলতে শুনেছি: ((এটি এর বৈধতার ওপর দলীল প্রদান করে, এতে কোনো দোষ নেই এবং এটি মুস্তাহাব। যদিও হাদিসটির সনদে (إسناد) কিছু সমালোচনা (كلام) রয়েছে, কিন্তু এই ধরণের হাদিস একটি স্বতন্ত্র প্রকার এবং এর ওপর আমল করা হয়। আয়েশা ও উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা একে শক্তিশালী করে (يعضده), যেখানে তারা উভয়েই তাদের পরিবারের নারীদের ইমামতি করতেন, তবে তারা নারীদের মাঝখানে দাঁড়াতেন। আর নারীদের জন্য জামাতের সালাত ওয়াজিব নয়, তবে তা মুস্তাহাব)) (৩)।

 

‌‌৫ - শুধুমাত্র নারীদের জন্য পুরুষের ইমামতি করা শুদ্ধ (صحيحة); কারণ এ বিষয়ে কিছু বর্ণনা (أخبار) বর্ণিত হয়েছে (৪); এবং যেহেতু মূল বিধান হলো জামাতের সালাত শুদ্ধ (صحيحة) হওয়া এবং তা প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه), এর তাখরিজ জামাতের সালাতের ফযিলত অধ্যায়ে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

(২) ইলামুল মুওয়াক্কিইন, ৩/ ৩৫৭।

(৩) বুলুগুল মারাম-এর ওপর তাঁর আলোচনার সময় আমি এটি শুনেছি, হাদিস নম্বর ৪৪৭, এবং দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত লিহু, ১২/ ১৩০।

(৪) মুসনাদে আবি ইয়ালা, ৩/ ৩৩৬, নম্বর ১৮০১, এবং দেখুন: মাজমাউয যাওয়ায়েদ লিল হাইসামি, ২/ ৭৪ এবং সুবুলুস সালাম লিস সানআনি, ৩/ ১১৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بالنساء مع الرجل، بل بالمرأة مع الرجل ومن منع فعليه الدليل (1)، إلا إذا كانت أجنبية وحدها فإنه يحرم أن يؤمَّها؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما يرفعه: ((لا يخلونَّ أحدُكم بامرأة إلا مع ذي محرم)) (2)، والصحيح أن إمامة النساء لا تكره إلا إذا خاف الفتنة؛ ابتعد عن ذلك؛ لأن ما كان ذريعة إلى حرام فهو حرام (3)، وقد كان ذكوان مولى عائشة رضي الله عنهما يؤمها من المصحف (4).

 

‌‌6 - إمامة المفضول للفاضل صحيحة؛ لحديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه حينما كان مع النبي في غزوة تبوك، وذكر وضوء النبي صلى الله عليه وسلم وأنه جاء معه قال: حتى نجد الناس قد قدَّموا عبد الرحمن بن عوف فصلى بهم حين كان وقت الصلاة، قال: ووجدنا عبد الرحمن وقد صلى بهم ركعة من صلاة

--------------------------------------------

(1) انظر: نيل الأوطار للشوكاني، 2/ 369.

(2) متفق عليه: البخاري، برقم 1862،ومسلم، برقم 1341،وتقدم تخريجه في صلاة الجماعة.

(3) انظر: الشرح الممتع، لابن عثيمين، 4/ 352.

(4) البخاري، كتاب الأذان، باب إمامة العبد والمولى، قبل الحديث رقم 692.
পুরুষের সাথে নারীদের, এমনকি পুরুষের সাথে একজন মহিলার জামাতে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য; আর যে ব্যক্তি এটি নিষিদ্ধ মনে করেন তাকে প্রমাণ পেশ করতে হবে (১)। তবে যদি মহিলাটি একা পরনারী (অজনবী) হন, তবে তাঁর ইমামতি করা হারাম; কারণ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত মারফূ (يرفعه) হাদিসে এসেছে: "তোমাদের কেউ যেন কোনো মহিলার সাথে মাহরাম ব্যতীত নির্জনে অবস্থান না করে" (২)। এবং সঠিক (الصحيح) মত হলো নারীদের ইমামতি অপছন্দনীয় নয়, যতক্ষণ না ফিতনার আশঙ্কা থাকে; এমতাবস্থায় তা থেকে দূরে থাকতে হবে; কারণ যা হারামের মাধ্যম হয় তাও হারাম (৩)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর মুক্তদাস যাকওয়ান মুসহাফ (কুরআন) দেখে তাঁর ইমামতি করতেন (৪)।

 

‌‌৬ - উত্তম ব্যক্তির উপস্থিতিতে অপেক্ষাকৃত অনুত্তম ব্যক্তির ইমামতি সঠিক (صحيحة); মুগীরা ইবনে শুবা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে, যখন তিনি তাবুক যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলেন এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওযুর কথা উল্লেখ করলেন যে তিনি তাঁর সাথে আসলেন; তিনি বলেন: অবশেষে আমরা লোকদের পেলাম যে তারা আবদুর রহমান ইবনে আউফকে ইমামতির জন্য সামনে এগিয়ে দিয়েছে এবং নামাজের সময় হওয়ায় তিনি তাদের নিয়ে নামাজ পড়ছেন। তিনি বলেন: আমরা আবদুর রহমানকে পেলাম এমতাবস্থায় যে তিনি তাদের নিয়ে নামাজের এক রাকাত আদায় করে ফেলেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শাওকানির নাইলুল আওতার, ২/ ৩৬৯।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৮৬২; মুসলিম, হাদিস নং ১৩৪১; এবং জামাতবদ্ধ সালাত অধ্যায়ে এর তাখরীজ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৩) দেখুন: ইবনে উসাইমীনের আশ-শারহুল মুমতি, ৪/ ৩৫২।

(৪) বুখারি, কিতাবুল আযান, দাস ও মুক্তদাসের ইমামতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৬৯২-এর পূর্বে।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الفجر، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فصفَّ مع المسلمين فصلى وراء عبد الرحمن بن عوف الركعة الثانية، فلما سلَّم عبد الرحمن قام رسول الله صلى الله عليه وسلم يتمُّ صلاته، قال: فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاته أقبل عليهم ثم قال: ((أحسنتم))، أو ((قد أصبتم))، يغبطهم أن صلّوا الصلاة لوقتها (1)، وهذا يدلّ على صحّة إمامة المفضول للفاضل.

 

‌‌7 - إمامة المتيمم للمتوضئ جائزة؛ لحديث عمرو بن العاص رضي الله عنه قال: احتلمت في ليلة باردة شديدة البرد في غزوة ذات السلاسل فأشفقت إن اغتسلت أن أهلك، فتيممت ثم صليت بأصحابي الصبح، فذكروا ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((يا عمرو صلّيت بأصحابك وأنت جنب))؟ فأخبرته بالذي منعني من الاغتسال، وقلت: إني سمعت الله يقول: {وَلا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ الله كَانَ بِكُمْ رَحِيماً} (2)، فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يقل شيئاً (3). وفي

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: البخاري، برقم 182،ومسلم برقم 274،وتقدم تخريجه في صلاة الجماعة.

(2) سورة النساء، الآية: 29.

(3) أبو داود، كتاب الطهارة، باب إذا خاف الجنب البرد أيتيمم؟ برقم 334، وأحمد،

4/ 203، والدارقطني، 1/ 178، والحاكم، 1/ 177، والبيهقي، 1/ 226، وابن حبان، برقم 1315، والبخاري تعليقاً في كتاب التيمم، باب إذا خاف الجنب على نفسه المرض أو الموت أو خاف العطش تيمم، قبل الحديث رقم 345، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 68.
...ফজর (নামাজ শুরু হয়েছিল), এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে মুসলিমদের সাথে কাতারে দাঁড়ালেন এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফের পেছনে দ্বিতীয় রাকাতে নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর যখন আব্দুর রহমান সালাম ফেরালেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে নিজের নামাজ পূর্ণ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ শেষ করলেন, তখন তিনি তাদের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: "তোমরা উত্তম কাজ করেছ" অথবা "তোমরা সঠিক কাজটি করেছ"। তিনি তাদের প্রশংসা করলেন যে তারা ওয়াক্তমত নামাজ আদায় করেছে (১)। আর এটি 'উত্তম' ব্যক্তির উপস্থিতিতে 'কম উত্তম' ব্যক্তির ইমামতির শুদ্ধতা (صحة) নির্দেশ করে।

 

‌‌৭ - অজুকারীর পেছনে তায়াম্মুমকারীর ইমামতি বৈধ (جائز); আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটির কারণে; তিনি বলেন: জাতুস সালাসিল যুদ্ধে এক প্রচণ্ড শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়েছিল। তখন আমার আশঙ্কা হলো যে, যদি আমি গোসল করি তবে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। তাই আমি তায়াম্মুম করলাম এবং আমার সাথীদের নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। তারা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "হে আমর! তুমি কি তোমার সাথীদের নিয়ে নামাজ পড়েছ এমতাবস্থায় যে তুমি অপবিত্র (جنب) ছিলে?" তখন আমি তাঁকে গোসল থেকে বিরত থাকার কারণটি জানালাম এবং বললাম: আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি: {আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু} (২)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং কিছুই বললেন না (৩)। وفي

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, হাদিস নং ১৮২, এবং মুসলিম, হাদিস নং ২৭৪; এর তাখরিজ ইতিপূর্বে জামায়াতের নামাজ অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯।

(৩) আবু দাউদ, পবিত্রতা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: অপবিত্র ব্যক্তি যদি শীতের ভয় পায় তবে কি তায়াম্মুম করবে?, হাদিস নং ৩৩৪; আহমাদ ৪/২০৩; দারা কুতনি ১/১৭৮; হাকিম ১/১৭৭; বাইহাকি ১/২২৬; ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ১৩১৫; বুখারি, তায়াম্মুম অধ্যায়ে ঝুলন্ত (تعليقاً) বর্ণনা হিসেবে, অনুচ্ছেদ: যখন অপবিত্র ব্যক্তি নিজের ওপর অসুস্থতা, মৃত্যু বা পিপাসার ভয় পায় তখন তায়াম্মুম করবে, ৩৪৫ নম্বর হাদিসের পূর্বে; এবং আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ ১/৬৮-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
رواية: ((فغسل مغابنه وتوضأ وضوءه للصلاة ثم صلّى بهم … )) (1).

قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((وقال البيهقي: يمكن الجمع بين الروايات بأنه توضأ ثم تيمم عن الباقي، وقال النووي: وهو متعيّن)) (2).وفي لفظ البخاري: ((فذكر للنبي صلى الله عليه وسلم فلم يعنِّف))، ووقع في رواية ((فلم يعنِّفه))، قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: ((وفي هذا الحديث جواز التيمم لمن يتوقع من استعمال الماء الهلاك، سواء كان من أجل برد أو غيره، وجواز صلاة المتيمم بالمتوضئين .. )) (3). قال ابن قدامة رحمه الله: ((ويصحَّ ائتمام المتوضئ بالمتيمم لا أعلم فيه خللاً)) (4).ولكن لا يتيمم لشدة البرد من أمكنه

--------------------------------------------

(1) أبو داود في الكتاب والباب المذكور، برقم 335، وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود، 1/ 68.

(2) فتح الباري، 1/ 454.

(3) فتح الباري 1/ 454، والمغني لابن قدامة، 3/ 66.

(4) المغني، 3/ 66.
বর্ণনা (رواية): ((অতঃপর তিনি শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থানসমূহ ধৌত করলেন এবং সালাতের ন্যায় অজু করলেন, তারপর তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন … )) (১)।

হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((আর বায়হাকী বলেন: বর্ণনাগুলোর (روايات) মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, তিনি অজু করেছেন অতঃপর শরীরের বাকি অংশের জন্য তায়াম্মুম করেছেন। আর নববী বলেন: এটিই সুনির্ধারিত)) (২)।বুখারীর পাঠে (لفظ) রয়েছে: ((অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তা উল্লেখ করা হলে তিনি তাকে তিরস্কার করেননি)), আর অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে ((অতঃপর তিনি তাকে তিরস্কার করেননি))। হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((এই হাদিসে সেই ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুমের বৈধতা রয়েছে যে পানি ব্যবহারের ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা করে, চাই তা শীতের কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণে। আর অজুকারীদের ওপর তায়াম্মুমকারীর ইমামতি বৈধ...)) (৩)। ইবনে কুদামাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((তায়াম্মুমকারীর পিছনে অজুকারীর সালাত শুদ্ধ; এতে আমি কোনো ত্রুটি আছে বলে জানি না)) (৪)।তবে তীব্র শীতের কারণে সেই ব্যক্তি তায়াম্মুম করবে না যার পক্ষে (পানি ব্যবহার) সম্ভব...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, উল্লিখিত কিতাব ও অধ্যায়ে, নম্বর ৩৩৫; আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ১/ ৬৮।

(২) ফাতহুল বারী, ১/ ৪৫৪।

(৩) ফাতহুল বারী, ১/ ৪৫৪; এবং ইবনে কুদামার আল-মুগনী, ৩/ ৬৬।

(৪) আল-মুগনী, ৩/ ৬৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أن يسخن الماء أو يستعمله على وجه يأمن الضرر منه (1).

 

‌‌8 - إمامة المسافر للمقيم صحيحة ويتم المقيم بعد سلام المسافر؛ للآثار في ذلك (2) والإجماع، قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: ((أجمع أهل العلم على أن المقيم إذا ائتم بالمسافر وسلم المسافر من ركعتين أن على المقيم إتمام الصلاة)) (3). وعن عمر رضي الله عنه أنه كان إذا قدم بمكة صلى بهم ركعتين ثم يقول: ((يا أهل مكة أتموا صلاتكم فإنا قومٌ سفْرٌ)) (4).

فظهر من ذلك أن المقيم إذا صلى خلف المسافر صلاة

--------------------------------------------

(1) انظر: نيل الأوطار للشوكاني، 1/ 294.

(2) روي عن عمران رضي الله عنه يرفعه: ((أنه صلى الله عليه وسلم أقام بمكة زمان الفتح ثماني عشرة ليلة يصلي بالناس ركعتين ركعتين إلا المغرب ثم يقول: يا أهل مكة قوموا فصلوا ركعتين أخريين فإنا سفر)) أحمد بلفظه، 4/ 430، وأبو داود، كتاب صلاة السفر، باب متى يتم المسافر، برقم 1229 ولفظه: ((يا أهل البلد صلوا أربعاً فإنا قوم سفر))، وفي سنده علي بن زيد بن جدعان ضعيف، قال الشوكاني: ((وإنما حسّن الترمذي حديثه (545) لشواهده))، نيل الأوطار، 2/ 402.

(3) المغني، 3/ 146، وانظر: نيل الأوطار للشوكاني، 2/ 403.

(4) مالك في الموطأ موقوفاً، كتاب قصر الصلاة في السفر، باب صلاة المسافر إذا كان إماماً أو كان وراء الإمام، برقم 19، 1/ 149. قال الإمام الشوكاني في نيل الأوطار، 2/ 402: ((وأثر عمر رجال إسناده أئمة ثقات)).
পানি গরম করা অথবা এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে (১)।

 

‌‌৮ - মুসাফিরের পেছনে মুকিমের (স্থায়ী বাসিন্দা) ইমামতি করা সহিহ (صحيحة) এবং মুসাফির সালাম ফিরানোর পর মুকিম তার সালাত পূর্ণ করবে; এ বিষয়ে বর্ণিত আসার (آثار) (২) এবং ইজমার (إجماع) কারণে এটি বিধেয়। ইমাম ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আহলুল ইলমগণ (বিদ্বানগণ) এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মুকিম যখন মুসাফিরের পেছনে ইকতিদা করে এবং মুসাফির দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরায়, তখন মুকিমের ওপর সালাত পূর্ণ করা আবশ্যক।" (৩)। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন মক্কায় আসতেন, তখন তাদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন: "হে মক্কাবাসী! তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করে নাও, কারণ আমরা মুসাফির দল।" (৪)।

এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, মুকিম যখন মুসাফিরের পেছনে সালাত আদায় করবে...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ১/২৯৪।

(২) ইমরান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (يرفعه) সূত্রে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় আঠারো রাত অবস্থান করেছিলেন। তিনি মানুষকে নিয়ে মাগরিব ছাড়া বাকি সালাত দুই রাকাত করে পড়াতেন। এরপর বলতেন: 'হে মক্কাবাসী! তোমরা দাঁড়াও এবং আরও দুই রাকাত পড়ো, কারণ আমরা মুসাফির'।" আহমদ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন, ৪/৪৩০; আবু দাউদ, কিতাবুস সালাতিস সাফার, অনুচ্ছেদ: মুসাফির কখন সালাত পূর্ণ করবে, হাদিস নং ১২২৯। এর শব্দ হলো: "হে শহরবাসী! তোমরা চার রাকাত পড়ো, কারণ আমরা মুসাফির দল।" এই বর্ণনার সনদে আলী ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন রয়েছে, যে দুর্বল (ضعيف)। শাওকানি বলেছেন: "তিরমিজি তাঁর এই হাদিসটিকে (৫৪৫) হাসান (حسّن) বলেছেন এর শাওয়াহিদ (শাহিদ-এর বহুবচন) (شواهده) থাকার কারণে।" নাইলুল আওতার, ২/৪০২।

(৩) আল-মুগনি, ৩/১৪৬; আরও দেখুন: শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, ২/৪০৩।

(৪) মালেক মুওয়াত্তা গ্রন্থে মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কিতাবু কাসরিস সালাতি ফিস সাফার, অনুচ্ছেদ: মুসাফির যখন ইমাম হয় অথবা ইমামের পেছনে থাকে, হাদিস নং ১৯, ১/১৪৯। ইমাম শাওকানি নাইলুল আওতার গ্রন্থে (২/৪০২) বলেছেন: "উমরের এই আসারটির (أثر) সনদের বর্ণনাকারীগণ হলেন নির্ভরযোগ্য (ثقات) ইমামগণ।"
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الفريضة: كالظهر، والعصر، والعشاء، فإنه يلزمه أن يكمل صلاته أربعاً، أما إذا صلى المقيم خلف المسافر طلباً لفضل الجماعة، وقد صلى المقيم فريضته، فإنه يصلي مثل صلاة المسافر: ركعتين؛ لأنها في حقه نافلة (1).

وإذا أمّ المسافر المقيمين فأتمَّ بهم فصلاتهم تامّة صحيحة وخالف الأفضل (2).

 

‌‌9 - إمامة المقيم للمسافر صحيحة، ويتمّ المسافر مثل صلاة إمامه، سواء أدرك جميع الصلاة، أو ركعة، أو أقل، وحتى لو دخل معه في التشهد الأخير قبل السلام فإنه يتم، وهذا هو الصواب من قولي أهل العلم، لِمَا ثبت عن ابن عباس رضي الله عنهما من حديث موسى بن سلمة رحمه الله

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع فتاوى ومقالات متنوعة، للإمام ابن باز، 12/ 259 - 261.

(2) انظر: المغني، لابن قدامة، 3/ 146، ومجموع فتاوى ابن باز، 12/ 260، وقد كان عثمان رضي الله عنه يتم بالناس في الحج في السنوات الأخيرة من خلافته، وثبت عن عائشة رضي الله عنها أنها كانت تتم الصلاة في السفر، وتقول: إنه لا يشق عليها، فلا حرج في إتمام المسافر، ولكن الأفضل ما فعله النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه المشرع المعلم صلى الله عليه وسلم. انظر: مجموع فتاوى ابن باز، 12/ 260، وحديث عثمان في مسلم، برقم 694، 695.
ফরজ (الفريضة): যেমন জোহর, আসর এবং ইশা; এক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই চার রাকাত সালাত পূর্ণ করতে হবে। তবে যদি কোনো মুকিম ব্যক্তি জামাতের ফজিলত লাভের আশায় মুসাফিরের পেছনে সালাত আদায় করেন, অথচ মুকিম ইতিপূর্বেই তার ফরজ (الفريضة) সালাত আদায় করে ফেলেছেন, তবে তিনি মুসাফিরের সালাতের অনুরূপ দুই রাকাতই আদায় করবেন; কারণ এটি তার ক্ষেত্রে নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে (১)।

আর যদি মুসাফির ব্যক্তি মুকিমদের ইমামতি করেন এবং তাদের নিয়ে পূর্ণ (চার রাকাত) সালাত আদায় করেন, তবে তাদের সালাত পূর্ণ ও সঠিক (صحيحة) হবে, তবে তা উত্তম (الأفضل) পদ্ধতির পরিপন্থী হবে (২)।

 

‌‌৯ - মুসাফিরের জন্য মুকিমের ইমামতি সঠিক (صحيحة), এবং মুসাফির তার ইমামের সালাতের ন্যায় পূর্ণ সালাত আদায় করবেন, চাই তিনি পুরো সালাত পান, অথবা এক রাকাত, কিংবা তার চেয়েও কম; এমনকি যদি সালাম ফেরানোর পূর্বে শেষ তাশাহহুদ (التشهد)-এ শরিক হন, তবুও তিনি পূর্ণ সালাত আদায় করবেন। আলেমদের মতদ্বয়ের মধ্যে এটিই সঠিক অভিমত, কারণ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মুসা ইবনে সালামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণিত হাদিস দ্বারা এটি প্রমাণিত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআহ, ইমাম ইবনে বাজ, ১২/ ২৫৯ - ২৬১।

(২) দেখুন: আল-মুগনি, ইবনে কুদামা, ৩/ ১৪৬, এবং মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১২/ ২৬০। উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর খিলাফতের শেষ বছরগুলোতে হজের সময় মানুষের সাথে পূর্ণ সালাত আদায় করতেন। আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকেও প্রমাণিত যে তিনি সফরে সালাত পূর্ণ করতেন এবং বলতেন: এটি তাঁর জন্য কষ্টকর নয়। সুতরাং মুসাফিরের জন্য সালাত পূর্ণ করাতে কোনো বাধা নেই, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা করেছেন সেটিই উত্তম (الأفضل); কারণ তিনি হলেন শরিয়ত প্রণেতা ও শিক্ষক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ১২/ ২৬০, এবং মুসলিমে বর্ণিত উসমানের হাদিস, নম্বর ৬৯৪, ৬ ৯৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইমামাহ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال: كنّا مع ابن عباس بمكة فقلت: إنا إذا كُنّا معكم صلّينا أربعاً وإذا رجعنا إلى رحالنا صلينا ركعتين، قال: ((تلك سنّة أبي القاسم صلى الله عليه وسلم)) (1). وكان ابن عمر رضي الله عنهما إذا صلّى مع الإمام صلّى أربعاً وإذا صلاها وحده صلّى ركعتين (2).

وذكر الإمام ابن عبد البر رحمه الله أن في إجماع الجمهور من الفقهاء على أن المسافر إذا دخل في صلاة المقيمين فأدرك منها ركعة أنه يلزمه أن يصلي أربعاً (3). وقال: ((قال أكثرهم إنه إذا أحرم المسافر خلف المقيم قبل سلامه أنه تلزمه صلاة المقيم، وعليه الإتمام)) (4).

ومما يدلّ على أنّ المسافر إذا صلى خلف المقيم يلزمه

--------------------------------------------

(1) أحمد في المسند، 1/ 216، قال الألباني في إرواء الغليل، 3/ 21: ((قلت وسنده صحيح رجاله رجال الصحيح))، والحديث أخرجه مسلم بلفظ: ((كيف أصلي إذا كنت بمكة إذا لم أصلِّ مع الإمام؟ فقال: ((ركعتين سنة أبي القاسم صلى الله عليه وسلم))، مسلم، كتاب صلاة المسافرين وقصرها، باب صلاة المسافرين وقصرها، برقم 688.

(2) مسلم، الكتاب والباب السابق، برقم 17 (688)، وانظر آثاراً في موطأ الإمام مالك، 1/ 149 - 150.

(3) التمهيد، 16/ 311 - 312.

(4) التمهيد 16/ 315.
তিনি বর্ণনা করেছেন: আমরা মক্কায় ইবনে আব্বাসের সাথে ছিলাম। আমি বললাম: আমরা যখন আপনাদের সাথে থাকি তখন চার রাকাত সালাত আদায় করি, আর যখন আমাদের ডেরায় ফিরে যাই তখন দুই রাকাত পড়ি। তিনি বললেন: ((এটিই আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة))) (১)। আর ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যখন ইমামের সাথে সালাত পড়তেন তখন চার রাকাত পড়তেন, আর যখন একা পড়তেন তখন দুই রাকাত পড়তেন (২)।

ইমাম ইবনে আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, অধিকাংশ ফকিহগণের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী মুসাফির ব্যক্তি যখন মুকিমদের সালাতে শরিক হয় এবং তার অন্তত এক রাকাত পায়, তখন তার জন্য চার রাকাত পড়া আবশ্যক (৩)। তিনি বলেন: ((তাদের অধিকাংশই বলেছেন যে, মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকিমের সালাম ফেরানোর আগে তার পেছনে ইহরাম বাঁধে, তবে তার ওপর মুকিমের সালাত আবশ্যক হয়ে যায় এবং তার জন্য সালাত পূর্ণ করা (إتمام) জরুরি)) (৪)।

মুসাফির ব্যক্তি যখন মুকিমের পেছনে সালাত আদায় করে তখন তার জন্য যা আবশ্যক হয়, তার দলিলের মধ্যে রয়েছে—

--------------------------------------------

(১) আহমদ মুসনাদে, ১/ ২১৬; আলবানি ইরওয়াউল গালিলে বলেছেন, ৩/ ২১: ((আমি বলছি যে, এর সূত্র (سند) বিশুদ্ধ (صحيح) এবং এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) সহিহ-এর বর্ণনাকারী))। হাদিসটি মুসলিম এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ((আমি যখন মক্কায় থাকি এবং ইমামের সাথে সালাত না পড়ি তখন কীভাবে সালাত পড়ব? তিনি বললেন: ((দুই রাকাত, যা আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة)))। মুসলিম, কিতাব সালাতিল মুসাফিরিন ওয়া কাসরিহা, বাব সালাতিল মুসাফিরিন ওয়া কাসরিহা, নম্বর ৬৮৮।

(২) মুসলিম, পূর্বোক্ত কিতাব ও অধ্যায়, নম্বর ১৭ (৬৮৮); এবং ইমাম মালিকের মুয়াত্তা-এর কিছু বর্ণনা (آثار) দেখুন, ১/ ১৪৯-১৫০।

(৩) আত-তামহিদ, ১৬/ ৩১১-৩১২।

(৪) আত-তামহিদ, ১৬/ ৩১৫।