(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: -)
الاختلاط بين الرجال والنساء القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الاختلاط بين الرجال والنساء - مفهومه، وأنواعه، وأقسامه، وأحكامه، وأضراره في ضوء الكتاب والسنة وآثار الصحابة - رضي الله عنهم -
المؤلف: د. سعيد بن على بن وهف القحطاني
تقديم: معالي العلامة الشيخ الدكتور صالح بن فوزان الفوزان
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 289
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা (الاختلاط) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা (الاختلاط) - কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বর্ণিত আসার (آثار) এর আলোকে এর সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, শ্রেণিবিভাগ, বিধান ও ক্ষয়ক্ষতি -
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতানি
উপস্থাপনা: মহামান্য আল্লামা শায়খ ড. সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২)
تقديم معالي العلامة الدكتور الشيخ صالح بن فوزان الفوزان: عضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للإفتاء
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه، وبعد: فقد تصفحت الكتاب الذي هو بعنوان: (الاختلاط بين الرجال والنساء) لفضيلة الشيخ الدكتور: سعيد بن علي بن وهف القحطاني، فوجدته كتاباً وافياً في موضوعه، جيداً في صياغته، وتقاسيمه، وعناوينه، شاملاً لكل أطراف الموضوع، شاملاً لبيان الأدلة، وأقوال العلماء، مما لا يدع مجالاً للتشكيك في هذه المسألة الخطرة التي تنكرها الفطر السليمة، والأخلاق القويمة، لولا ما تلوَّثَتْ به بعض الأفكار من آثار الحضارة الغربية، التي أقحمت المرأة في كل ميدان، مما يحوجها إلى خلع الحجاب؛ لتجاري الوضع السائد؛ لأنها خرجت عن محيط تخصصها إلى مشاركة الرجال، فكان لا بد من بيان الحق، فجزى اللَّه الشيخ سعيداً على ما قام به من مجهود علمي مفيد، قاطعاً لكل لسان يهرف بما لايعرف. وهدى اللَّه المسلمين إلى التمسك بدينهم، وآدابهم، وأخلاقهم، وصلى اللَّه وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
كتبه
صالح بن فوزان الفوزان
عضو هيئة كبار العلماء
في 16/ 10/ 1432هـ
সম্মানিত আল্লামা ডক্টর শায়খ সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান-এর উপস্থাপনা: সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য এবং স্থায়ী ফতোয়া কমিটির সদস্য
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অতঃপর: আমি ফযীলাতুশ শায়খ ডক্টর সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানি রচিত ‘নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা’ শীর্ষক বইটি পর্যালোচনা করেছি। আমি একে তার আলোচ্য বিষয়ে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যা এর রচনাশৈলী, বিন্যাস ও শিরোনামের দিক থেকে চমৎকার। এটি বিষয়টির সকল দিক এবং দলিলসমূহ (الأدلة) ও আলেমদের মতামত বর্ণনার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গতা অর্জন করেছে। এটি এমন এক গুরুতর বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না, যা সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং সঠিক নৈতিকতা অস্বীকার করে। তবে পশ্চিমা সভ্যতার প্রভাবে কিছু চিন্তাধারা কলুষিত হয়ে পড়েছে, যা নারীকে প্রতিটি ক্ষেত্রে টেনে নামিয়েছে এবং বিদ্যমান পরিস্থিতির সাথে তাল মেলাতে তাকে হিজাব বিসর্জন দিতে বাধ্য করেছে। কারণ সে তার নিজস্ব বিশেষায়িত ক্ষেত্র ছেড়ে পুরুষদের সাথে অংশগ্রহণের দিকে বেরিয়ে এসেছে। তাই সত্য স্পষ্ট করা আবশ্যক ছিল। শায়খ সাঈদ যে উপকারী ইলমি প্রচেষ্টা সম্পন্ন করেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন; এটি না জেনে কথা বলা প্রত্যেক ব্যক্তির মুখ বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ মুসলিমদের তাদের দ্বীন, শিষ্টাচার ও নৈতিকতা আঁকড়ে ধরার তাওফিক দান করুন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান
সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য
১৬/ ১০/ ১৪৩২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةإن الحمد للَّه، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى اللَّه عليه، وعلى آله، وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليماً كثيراً. أما بعد:
فهذه رسالة في «الاختلاط بين الرجال والنساء: مفهومه، وأنواعه، وأقسامه، وأحكامه، وأضراره في ضوء الكتاب والسنة وآثار الصحابة» (1)، وقد قسمتها إلى مباحث على النحو الآتي:
المبحث الأول: تعريف الاختلاط: لغة واصطلاحاً.
المبحث الثاني: أنواع الاختلاط وأقسامه، وبداياته.
المبحث الثالث: حكم الاختلاط وتحريم الأسباب الموصلة إليه وبيان عادة الإباحية.
المبحث الرابع: الأدلة على تحريم اختلاط النساء بالرجال الأجانب عنهن.
المبحث الخامس: أضرار الاختلاط ومفاسده.
المبحث السادس: شبهات دعاة الاختلاط والرد عليها.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি পুরুষ ও নারীর অবাধ মেলামেশা (اختلاط) বিষয়ক একটি পুস্তিকা; যেখানে এর স্বরূপ, প্রকারভেদ, শ্রেণিবিভাগ, বিধান এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীগণের বর্ণনার (آثار) আলোকে এর অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে (১)। আমি একে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মেলামেশার (اختلاط) সংজ্ঞা: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاحاً)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মেলামেশার (اختلاط) প্রকারভেদ, এর শ্রেণিবিভাগ ও এর সূত্রপাত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মেলামেশার (اختلاط) বিধান, এর দিকে ধাবিতকারী মাধ্যমসমূহের নিষিদ্ধতা এবং তথাকথিত অবাধ স্বাধীনতার অভ্যাসের বর্ণনা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বেগানা পুরুষদের সাথে নারীদের মেলামেশা (اختلاط) নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণাদি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মেলামেশার (اختلاط) অপকারিতা ও এর অনিষ্টসমূহ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মেলামেশার (اختلاط) প্রবক্তাদের সংশয়সমূহ ও তার খণ্ডন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ৪)
المبحث السابع: الفتاوى المحققة المعتمدة في تحريم اختلاط النساء بالرجال الأجانب.
واللَّه أسأل أن يجعل هذا العمل مباركاً نافعًا، خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي، وبعد مماتي، وينفع به من انتهى إليه، وأن يجعله حجةً لنا، لا حجةً علينا؛ فإنه عز وجل خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا باللَّه العلي العظيم، وصلى اللَّه وسلّم، على نبيِّنا محمد، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلّم تسليمًا كثيرًا.
المؤلف أبو عبد الرحمن
سعيد بن علي بن وهف القحطاني
حرر في عصر يوم السبت الموافق
22/ 8/1432هـ
সপ্তম পরিচ্ছেদ: পরপুরুষের সাথে নারীদের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে যাচাইকৃত ও নির্ভরযোগ্য (معتمد) ফতোয়াসমূহ।
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই আমলটিকে বরকতময় ও উপকারী করেন এবং একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। তিনি যেন আমাকে আমার জীবনে এবং মৃত্যুর পর এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং যাদের নিকট এটি পৌঁছাবে তাদেরও এর দ্বারা উপকৃত করেন। তিনি যেন এটিকে আমাদের স্বপক্ষে দলিল (حجة) হিসেবে কবুল করেন, আমাদের বিপক্ষে দলিল (حجة) হিসেবে নয়। নিশ্চয়ই তিনি মহান সত্তা, যাঁর নিকট প্রার্থনা করা যায় এমন সর্বোত্তম এবং তিনি সর্বাধিক সম্মানিত আকাঙ্ক্ষিত সত্তা। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ মহান আল্লাহর তৌফিক ছাড়া কারো কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁদের ওপর প্রচুর পরিমাণে সালাম বর্ষিত হোক।
লেখক আবু আবদুর রহমান
সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহত্বানি
এটি শনিবার আসর বেলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যা নিম্নোক্ত তারিখের সাথে সংগতিপূর্ণ
২২/০৮/১৪৩২ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: تعريف الاختلاط: لغة واصطلاحاً
أولاً: الاختلاط لغة: يقال: خَلَطَ الشيء بالشيء يَخْلِطُه خَلْطاً، وخَلَّطَه فاخْتَلَطَ: مَزَجَه، واخْتَلَطا وخالطَ الشيءَ مُخالَطة وخِلاطاً: مازَجَه.
والخِلاط: اخْتِلاطُ الإِبِل، والناسِ، والمَواشي، ويقال:
… أَخْلاطٌ من الناس، وخَلِيطٌ، وخُلَيْطى، وخُلَّيْطى: أَي أَوْباشٌ مُجْتَمِعُون مُخْتَلِطُون.
وخلَط القومَ خَلْطاً، وخالَطَهم: داخَلَهم.
والخَلِطُ: المختلط بالناس المُتَحَبِّبُ، يكون للذي يَتَمَلَّقُهم، ويتحَبَّبُ إِليهم، ويكون للذي يُلْقي نساءَه ومتاعَه بين الناس (1).
وقال العلامة الفيُّومي رحمه الله: «خلطت الشيء بغيره خَلْطًا من باب ضرب: ضممته إليه فَاخْتَلَطَ هو، وقد يمكن التمييز بعد ذلك كما في خلط الحيوانات، وقد لا يمكن كَخَلْطِ المائعات فيكون مزجاً
… وقد توسع فيه حتى قيل: رجل خَلِيطٌ إذا اخْتَلَطَ بالناس كثيراً، والجمع: الخُلَطَاءُ» (2).
وقال ابن فارس رحمه الله: «(خلط): الخاء، واللام، والطاء أصل
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইখতিলাত (الاختلاط)-এর সংজ্ঞা: শাব্দিক ও পারিভাষিকপ্রথমত: শাব্দিকভাবে ইখতিলাত (الاختلاط): বলা হয়: ‘সে এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত (خلطاً) করেছে’ এবং ‘সে সেটিকে অতিশয় মিশ্রিত (خلطه) করেছে, ফলে তা মিশ্রিত (اختلط) হয়ে গেছে’: অর্থাৎ সেটিকে সংমিশ্রণ (مزجه) করেছে। আর তারা পরস্পর সংমিশ্রিত হয়েছে এবং সে বস্তুর সাথে মেলামেশা (مخالطة) ও সংমিশ্রণ (خلاطاً) করেছে: অর্থাৎ সেটির সাথে মিশে গেছে।
আর ‘আল-খিলাত’ (الخلاط) হলো: উট, মানুষ এবং গবাদি পশুর সংমিশ্রণ (اختلاط)। বলা হয়:
… একদল মিশ্রিত লোক (أخلاط من الناس), মিশ্রিত (خليط), জটলা (خليطى) ও জগাখিচুড়ি (خليطى): অর্থাৎ তারা সমবেত হওয়া বিভিন্ন স্তরের মিশ্রিত (مختلطون) জনতা।
আর ‘সে সম্প্রদায়ের সাথে মিশেছে (خلطاً)’ এবং ‘সে তাদের সাথে মেলামেশা (خالطهم) করেছে’: অর্থাৎ সে তাদের মাঝে প্রবেশ করেছে (داخلهم)।
আর ‘আল-খালিত’ (الخلط) হলো: মানুষের সাথে অধিক মেলামেশাকারী (المختلط) ও প্রিয়পাত্র; এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যে মানুষের সাথে তোষামোদপূর্ণ আচরণ করে এবং তাদের কাছে প্রিয় হতে চায়। আবার এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যে তার পরিবার ও আসবাবপত্র মানুষের মাঝে রেখে দেয় (১)।
আল্লামা ফাইয়ুমি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আমি এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত (خلطاً) করেছি যা ‘দারাবা’ বাব থেকে এসেছে: আমি সেটিকে অন্যটির সাথে মিলিয়ে দিয়েছি ফলে তা মিশ্রিত (اختلط) হয়েছে। এরপর পৃথক করা সম্ভবও হতে পারে যেমন প্রাণীদের মিশ্রণের ক্ষেত্রে, আবার কখনও সম্ভব নাও হতে পারে যেমন তরল পদার্থের মিশ্রণের ক্ষেত্রে, তখন সেটি পূর্ণ সংমিশ্রণ (مزجاً) হিসেবে গণ্য হয়
… এই শব্দটির ব্যবহারে ব্যাপকতা আনা হয়েছে এমনকি বলা হয়: অমুক ব্যক্তি ‘খালিত’ (خليط), যখন সে মানুষের সাথে অধিক মেলামেশা করে। এর বহুবচন হলো: ‘আল-খুলাতা’ (الخلطاء)» (২)।
ইবনে ফারিস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «(খালাতা): খা, লাম এবং ত বর্ণত্রয় একটি মূল ধাতু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ৬)
واحد
… تقول: خلطت الشيء بغيره فاختلط» (1).
ويقال: خلط الشيء بالشيء: ضمه إليه، قال اللَّه تعالى: {وَآخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا عَسَى اللَّهُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (2).
والخليط: المجاور، والشريك، ومنه قول اللَّه تعالى: {وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} (3) (4).
فالاختلاط في اللغة: يطلق على الامتزاج، والاجتماع، والمداخلة بالأبدان، والانضمام والضم، والمجاورة، والاشتراك من الشريك، واللَّه تعالى أعلم.
ثانياً: تعريف الاختلاط المحرم في الاصطلاح:1 - هو اجتماع الرجل بالمرأة التي ليست بمحرم له اجتماعاً يؤدي إلى ريبة (5).
2 - وقيل: هو اجتماع الرجال بالنساء غير المحارم في مكان واحد
--------------------------------------------
এক
… আপনি বলেন: ‘আমি এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত করেছি ফলে তা সংমিশ্রিত (اختلط) হয়েছে’» (১)।
এবং বলা হয়: এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে সংমিশ্রণ (خلط) করা অর্থ হলো তাকে তার সাথে যুক্ত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর অন্য লোক আছে যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা নেক আমলের সাথে মন্দ আমলের মিশ্রণ (خلطوا) ঘটিয়েছে। শীঘ্রই আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন; নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (২)।
আর 'খালিত' (الخليط) অর্থ হলো: প্রতিবেশী এবং অংশীদার। এ থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর অংশীদারদের (الخلطاء) অনেকেই একে অপরের ওপর জুলুম করে থাকে, তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে} (৩) (৪)।
অতএব, আভিধানিক অর্থে সংমিশ্রণ (الاختلاط) বলতে মিলন, একত্র হওয়া, শারীরিকভাবে মেলামেশা, পরস্পর যুক্ত হওয়া, প্রতিবেশী হওয়া এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শরিক হওয়াকে বোঝায়। আর আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে নিষিদ্ধ সংমিশ্রণের (الاختلاط) সংজ্ঞা:১ - তা হলো পুরুষের এমন মহিলার সাথে একত্র হওয়া যে তার মাহরাম (محرم) নয়, এবং এমনভাবে সমবেত হওয়া যা সন্দেহের উদ্রেক করে (৫)।
২ - এবং বলা হয়েছে: তা হলো গায়রে মাহরাম (غير المحارم) পুরুষ ও নারীদের এক স্থানে সমবেত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ৭)
يمكنهم فيه الاتصال فيما بينهم: بالنظر، أو الإشارة، أو الكلام، أو البدن من غير حائل، أو مانع يدفع الريبة والفساد (1).
3 - وقيل: الاختلاط هو اجتماع الرجال بالنساء الأجنبيات في مكان واحد، بحكم العمل، أو البيع، أو الشراء، أو النزهة، أو السفر، أو نحو ذلك (2).
4 - وقيل: «هو اختلاط جنسي الذكور والإناث اختلاطاً منظماً، ومقنّناً في مجال العلم، أو العمل، أو نحوهما، بمختلف الوجوه، كالاختلاط في الدراسة الجامعية، أو في ميدان العمل بالدوائر الرسمية، والمحلات التجارية، والشركات، والمعامل وغير ذلك» (3).
5 - وقيل: هو: «اجتماع الرجال بالنساء في التعليم، والعمل، والمؤتمرات، والندوات، والاجتماعات العامة، والخاصة، وغيرها» (4).
6 - وقيل: «هو اختلاط جنسي الذكور والإناث بمختلف الوجوه،
--------------------------------------------
যাতে তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়: দৃষ্টিপাত, ইশারা, কথোপকথন অথবা শরীরের মাধ্যমে কোনো প্রকার পর্দা বা অন্তরায় ছাড়াই যা সংশয় ও ফাসাদকে প্রতিহত করে (১)।
৩ - এবং বলা হয়েছে: সংমিশ্রণ (الاختلاط) হলো কর্মক্ষেত্র, ক্রয়-বিক্রয়, বিনোদন, সফর বা এই জাতীয় কোনো কারণে পরপুরুষ ও পরনারীদের এক স্থানে একত্রিত হওয়া (২)।
৪ - এবং বলা হয়েছে: "এটি হলো শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র বা এই জাতীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয় লিঙ্গের সুশৃঙ্খল ও বিধিবদ্ধ সংমিশ্রণ (الاختلاط); যেমন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনায় অথবা সরকারি দপ্তর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, কল-কারখানা এবং অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে সংমিশ্রণ (الاختلاط)" (৩)।
৫ - এবং বলা হয়েছে: এটি হলো: "শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, সম্মেলন, সেমিনার এবং সাধারণ ও বিশেষ সভাসমূহ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের একত্রিত হওয়া" (৪)।
৬ - এবং বলা হয়েছে: "এটি হলো বিভিন্নভাবে নারী ও পুরুষ উভয় লিঙ্গের সংমিশ্রণ (الاختلاط),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ৮)
كالاختلاط في الدراسة الجامعية، أو في ميدان العمل بالدوائر الرسمية، والمحلات التجارية، والشركات، والمعامل، وغير ذلك» (1).
7 - وقيل: الاختلاط: هو اجتماع الرجل بالمرأة التي ليست بمحرم اجتماعاً يؤدي إلى ريبة، والأمر بالقرار في البيت وتحريم الخلوة يعتبران نهياً عنه» (2).
8 - وقيل: الاختلاط المحرم: هو اجتماع النساء بالرجال الأجانب اجتماعاً خاصاً أو عاماً يحدث بسببه الافتتان» (3).
9 - والتعريف الاصطلاحي المختار للاختلاط المحرم هو: انضمام واجتماع ومداخلة الرجال بالنساء غير المحارم في مكان واحد يمكنهم فيه الاتصال فيما بينهم: بالنظر، أو الإشارة، أو الكلام، أو البدن، من غير حائل أو مانع يدفع الريبة والفساد. واللَّه تعالى أعلم.
ويؤخذ من هذا التعريف الاصطلاحي للاختلاط المحرم: أنه كل اجتماع بين الرجال الأجانب والنساء غير المحارم، يحصل به انضمام، أو اجتماع، أو مداخلة بالنظر، أو الإشارة، أو الابتسامة والضحك، أو الكلام المحرم، أو ملامسة الأبدان بالاحتكاك أو
--------------------------------------------
যেমন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনায়, অথবা সরকারি দপ্তর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, কারখানা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মেলামেশা (اختلاط)» (১)।
৭ - এবং বলা হয়েছে: মেলামেশা (اختلاط) হলো গায়রে মাহরাম (ليست بمحرم) নারীর সাথে পুরুষের এমনভাবে একত্রিত হওয়া যা সন্দেহের উদ্রেক করে; আর ঘরে অবস্থানের নির্দেশ এবং নির্জনে অবস্থান (خلوة) নিষিদ্ধ হওয়াকে এই মেলামেশার প্রতি নিষেধাজ্ঞা হিসেবে গণ্য করা হয়» (২)।
৮ - এবং বলা হয়েছে: নিষিদ্ধ মেলামেশা (اختلاط محرم) হলো পরপুরুষের সাথে নারীদের এমন কোনো বিশেষ বা সাধারণ সমাবেশ, যার কারণে ফিতনা (الافتتان) সৃষ্টি হয়» (৩)।
৯ - নিষিদ্ধ মেলামেশার (اختلاط محرم) জন্য মনোনীত পারিভাষিক সংজ্ঞাটি হলো: একই স্থানে গায়রে মাহরাম নারীদের সাথে পুরুষদের এমনভাবে যুক্ত হওয়া, একত্রিত হওয়া বা সংমিশ্রণ (مداخلة) ঘটা, যেখানে তাদের মধ্যে একে অপরের সাথে দৃষ্টি, ইশারা, কথা বা দৈহিক স্পর্শের মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়; এবং সেখানে এমন কোনো অন্তরায় বা বাধা না থাকে যা সন্দেহ ও ফাসাদ দূর করতে পারে। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
নিষিদ্ধ মেলামেশার (اختلاط محرم) এই পারিভাষিক সংজ্ঞা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে: পরপুরুষ ও গায়রে মাহরাম নারীদের মধ্যকার এমন প্রতিটি সমাবেশই এর অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে দৃষ্টি, ইশারা, মুচকি হাসি ও অট্টহাসি, নিষিদ্ধ কথা কিংবা ঘর্ষণের মাধ্যমে শরীরের স্পর্শ দ্বারা একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়া, একত্রিত হওয়া বা সংমিশ্রণ (مداخلة) ঘটে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ৯)
المصافحة، أو غير ذلك، مثل ما يحصل: في الدراسة الجماعية في الجامعات المختلطة، أو المدارس المختلطة بين الجنسين، وكذا ما يحصل في ميدان العمل بالدوائر الرسمية، أو البيع أو الشراء، أو النزهة أو السفر، أو العمل بالشركات أو المحلات التجارية، أو المستشفيات: والاختلاط بين الأطباء والطبيبات، وبالممرضين والممرضات، ومن ذلك كل طبيب عنده ممرضة، أو طبيبة عندها ممرض، يخلو بها في بعض الأوقات، أو السكرتيرة للطبيب، والسكرتير للطبيبة، أو الاختلاط في المؤتمرات، أو الندوات، أو المحاضرات، أو الاجتماعات، أو الأكل الجماعي في المطاعم، سواء كانت عامة أو خاصة، أو خدمة النساء للرجال الأجانب، وتقديم الأطعمة أو المشروبات مباشرة بدون حجاب، ولا حائل، كما يحصل في الطائرات وغيرها.
فهذا هو الاختلاط المحرم الذي لا شك في تحريمه، نسأل اللَّه السلامة والعافية.
মুসাফাহা (করমর্দন) বা এই জাতীয় অন্য কিছু, যেমনটি ঘটে থাকে: সহশিক্ষা বিদ্যমান এমন মিশ্র (مختلط) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলগত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে অথবা উভয় লিঙ্গের উপস্থিতিতে পরিচালিত মিশ্র (مختلط) স্কুলগুলোতে; একইভাবে সরকারি দপ্তরের কর্মক্ষেত্রে, কেনাবেচা, ভ্রমণ বা সফরে, বিভিন্ন কোম্পানি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা হাসপাতালগুলোতে যা ঘটে থাকে। হাসপাতালগুলোতে পুরুষ ও নারী চিকিৎসক এবং নার্সদের মধ্যে মেলামেশা (اختلاط) হয়; এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো পুরুষ চিকিৎসকের নিকট নারী সেবিকা থাকা অথবা নারী চিকিৎসকের নিকট পুরুষ সেবক থাকা, যার ফলে তারা মাঝেমধ্যে নির্জনে অবস্থান করে। একইভাবে পুরুষ চিকিৎসকের নারী সচিব কিংবা নারী চিকিৎসকের পুরুষ সচিব থাকা, অথবা বিভিন্ন সম্মেলন, সেমিনার, লেকচার, সভা-সমাবেশ কিংবা রেস্তোরাঁগুলোতে (চাই তা সাধারণ হোক বা বিশেষ) নারী-পুরুষের একত্রে ভোজন; অথবা পরপুরুষের প্রতি নারীদের সেবা প্রদান এবং পর্দা বা কোনো অন্তরাল ব্যতিরেকে সরাসরি খাদ্য বা পানীয় পরিবেশন করা, যেমনটি বিমানে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
মূলত এটিই সেই নিষিদ্ধ (محرم) মেলামেশা (اختلاط) যার অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: أنواع الاختلاط وأقسامه، وبداياته
أولاً: أنواع الاختلاط المحرم، وصوره على النحو الآتي:
1 - اختلاط الأولاد: الذكور والإناث - ولو كانوا إخوة- في المضاجع بعد التمييز، فقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالتفريق بينهم في المضاجع، فعن عبد اللَّه بن عمرو بن العاص رضي الله عنه، قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِينَ، وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِى الْمَضَاجِعِ» (1).
2 - اتخاذ الخدم الرجال، واختلاطهم بالنساء، وحصول الخلوة بهن، رُوِي في بعض الآثار أن فاطمة عليها السلام لما ناوَلَت أحَدَ ابنَيْها بلالًا أو أنسًا قال: «رأيت كفًا» يعني أنه لم يَرَ وجهًا (2)، وقد كان أنس رضي الله عنه خادمًا خاصّاً للنبي صلى الله عليه وسلم، وكان يعيش عنده كأحد أهله.
3 - اتخاذ الخادمات اللائي يبقين بدون محارم، وقد تحصل بهن الخلوة.
4 - السماح للخطيبين بالمصاحبة والمخالطة التي تجر إلى الخلوة، ثم
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইখতিলাত (সংমিশ্রণ)-এর প্রকারভেদ, শ্রেণিবিভাগ ও এর সূচনাপ্রথমত: নিষিদ্ধ ইখতিলাত (সংমিশ্রণ)-এর ধরণ এবং এর স্বরূপসমূহ নিম্নরূপ:১ - সন্তানদের সংমিশ্রণ: পুত্র ও কন্যা—তারা ভাই-বোন হলেও—বুঝমান (تمييز) হওয়ার পর শয্যায় একত্রে থাকা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শয্যা পৃথক করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের সন্তানদের যখন সাত বছর বয়স হয় তখন তাদের সালাতের নির্দেশ দাও, আর যখন দশ বছর বয়স হয় তখন তাদের (সালাত না পড়ার কারণে) প্রহার করো এবং তাদের শয্যা পৃথক করে দাও» (১)।
২ - পুরুষ ভৃত্য নিয়োগ করা, এবং নারীদের সাথে তাদের সংমিশ্রণ ও নির্জনে অবস্থান (خلوة) ঘটা। কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, ফাতিমা আলাইহাস সালাম যখন তাঁর দুই পুত্রের একজনকে (সেবার জন্য) বিলাল অথবা আনাসকে দিচ্ছিলেন, তখন তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: «আমি একটি হাতের তালু দেখতে পেলাম», অর্থাৎ তিনি মুখমণ্ডল দেখেননি (২)। অথচ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ খাদেম ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মতই সেখানে থাকতেন।
৩ - নারী গৃহকর্মী নিয়োগ করা যারা মাহরাম (محرم) ব্যতিরেকে অবস্থান করে, যার ফলে তাদের সাথে নির্জনে অবস্থান (خلوة) সংঘটিত হতে পারে।
৪ - বাগদত্ত যুগলকে একত্রে চলাফেরা ও মেলামেশার সুযোগ দেওয়া যা নির্জনে অবস্থান (خلوة)-এর দিকে ধাবিত করে, অতঃপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১১)
إلى ما لا تحمد عقباه، فيقع العبث بأعراض الناس بحجة التعارف ومدارسة بعضهم بعضًا.
5 - استقبال المرأة أقارب زوجها الأجانب، وأصدقاءه- في حال غيابه ومجالستهم.
6 - الاختلاط في دور التعليم كالمدارس، والجامعات، والمعاهد، والدروس الخصوصية.
7 - الاختلاط في الوظائف، والأندية، والمواصلات، والأسواق، والمستشفيات، والزيارات بين الجيران، والأعراس، والحفلات.
8 - الخلوة في أي مكان ولو بصفة مؤقتة كالمصاعد، والمكاتب، والعيادات، وغيرها (1).
ثانياً: أقسام الاختلاط: المباح، والمحرم: له ثلاث حالات:قال العلامة محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله: «اختلاط الرجال بالنساء له ثلاث حالات:
الأولى: اختلاط النساء بمحارمهن من الرجال، وهذا لا إشكال في جوازه.
الثانية: اختلاط النساء بالأجانب لغرض الفساد، وهذا لا إشكال في تحريمه.
--------------------------------------------
...এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকে, যার ফলে পরিচিত হওয়া এবং একে অপরের সাথে জ্ঞানচর্চার অজুহাতে মানুষের ইজ্জত-সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়।
৫ - স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার গাইরে-মাহরাম (أجانب) আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের অভ্যর্থনা জানানো ও তাদের সাথে বসা।
৬ - শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট এবং প্রাইভেট টিউশনে অবাধ মেলামেশা (اختلاط)।
৭ - কর্মস্থল, ক্লাব, যানবাহন, বাজার, হাসপাতাল, প্রতিবেশীদের মধ্যে যাতায়াত, বিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অবাধ মেলামেশা (اختلاط)।
৮ - যেকোনো স্থানে নির্জনবাস (خلوة) এমনকি তা লিফট, অফিস, ক্লিনিক বা অন্য কোনো জায়গায় সাময়িক সময়ের জন্য হলেও (১)।
দ্বিতীয়ত: অবাধ মেলামেশার (اختلاط) প্রকারভেদ: বৈধ (مباح) এবং নিষিদ্ধ (محرم): এর তিনটি অবস্থা রয়েছে:আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «পুরুষদের সাথে নারীদের অবাধ মেলামেশার (اختلاط) তিনটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম: নারীদের তাদের মাহরাম (محارم) পুরুষদের সাথে মেলামেশা, এটি বৈধ হওয়ার বিষয়ে কোনো সংশয় নেই।
দ্বিতীয়: ফাসাদ বা মন্দের উদ্দেশ্যে নারীদের পরপুরুষদের (أجانب) সাথে মেলামেশা, এটি নিষিদ্ধ (محرم) হওয়ার বিষয়ে কোনো সংশয় নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১২)
الثالثة: اختلاط النساء بالأجانب في: دور العلم، والحوانيت، والمكاتب، والمستشفيات، والحفلات، ونحو ذلك، فهذا في الحقيقة قد يظن السائل في بادئ الأمر أنه لا يؤدي إلى افتتان كل واحد من النوعين بالآخر؛ ولكشف حقيقة هذا القسم فإنَّا نجيب عنه من طريق: مجمل، ومفصل:
أما المجمل: فهو أن اللَّه تعالى جبل الرجال على القوة والميل إلى النساء، وجبل النساء على الميل إلى الرجال مع وجود ضعف ولين، فإذا حصل الاختلاط نشأ على ذلك آثار تؤدي إلى حصول الغرض السيئ؛ لأن النفوس أمارة بالسوء، والهوى يعمي ويصم، والشيطان يأمر بالفحشاء والمنكر.
وأما المفصَّل: فالشريعة مبنية على المقاصد ووسائلها، ووسائل المقصود الموصلة إليه لها حكمه، فالنساء مواضع قضاء وطر الرجال، وقد سدَّ الشارع الأبواب المفضية إلى تعلق كل فرد من أفراد النوعين بالآخر، وينجلي ذلك بما نسوقه لك من الأدلة من الكتاب والسنة.
أما الأدلة من الكتاب فستة:
… ». ثم ذكرها رحمه الله (1)، ثم قال: «وأما
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান, অফিস, হাসপাতাল, অনুষ্ঠান এবং এই জাতীয় স্থানসমূহে পরপুরুষের (أجانب) সাথে নারীদের অবাধ সংমিশ্রণ (اختلاط)। প্রকৃতপক্ষে, প্রশ্নকারী প্রাথমিকভাবে মনে করতে পারেন যে এটি উভয় লিঙ্গের একে অপরের প্রতি প্রলুব্ধ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না; তবে এই বিষয়ের বাস্তবতা উন্মোচনের জন্য আমরা একে সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও বিস্তারিত (مفصل) ভাবে উত্তর দেব:
সংক্ষিপ্ত (مجمل) উত্তরটি হলো: মহান আল্লাহ পুরুষকে শক্তিশালী এবং নারীদের প্রতি অনুরাগী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং নারীদের দুর্বলতা ও কোমলতা সহ পুরুষদের প্রতি অনুরাগী করে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যখন অবাধ সংমিশ্রণ (اختلاط) ঘটে, তখন এর এমন কিছু প্রভাব সৃষ্টি হয় যা মন্দ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার দিকে নিয়ে যায়; কারণ মানুষের প্রবৃত্তি মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়, প্রবৃত্তি মানুষকে অন্ধ ও বধির করে দেয় এবং শয়তান অশ্লীলতা ও গর্হিত কাজের আদেশ দেয়।
আর বিস্তারিত (مفصل) উত্তর হলো: শরিয়ত লক্ষ্য (مقاصد) এবং এর উপায়সমূহের (وسائل) ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর কোনো লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমও (وسيلة) সেই লক্ষ্যের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়। নারীরা পুরুষদের জৈবিক চাহিদা পূরণের আধার, আর বিধানদাতা (الشارع) এমন সব পথ বন্ধ করে দিয়েছেন যা এক লিঙ্গের ব্যক্তিকে অন্য লিঙ্গের প্রতি আসক্ত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আমরা যে প্রমাণসমূহ পেশ করব তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
কুরআন থেকে প্রমাণসমূহ হলো ছয়টি:
… »। অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সেগুলো উল্লেখ করেন (১), তারপর তিনি বলেন: «আর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأدلة من السنة، فإننا نكتفي بعشرة أدلة»، ثم ساقها رحمه الله (1) (2).
ثالثاً: بدايات الاختلاط في أماكن العمل والتعليم في بلاد المسلمين:لم يكن اختلاط الرجال بالنساء في أماكن العمل والتعليم معروفاً في مجتمعات المسلمين، ولم يعرف قبل تمكن الاحتلال الفرنسي والإنجليزي من أرض الإسلام، وقد ذكر صاحب كتاب تاريخ التعليم في العراق 1921 م- 1932 أن أعيان البصرة كتبوا لرئيس مجلس الوزراء في العراق كتاباً يتضمن استنكاراً لما قام به مدير المعارف في وقته من زيارة مدرسة للبنات، واعتبروا ذلك تغريباً وسبيلاً للسفور (3).
وقد دخل الاختلاط في أماكن التعليم بلاد الإسلام في أول الأمر عن طريق المدارس الأجنبية التي أنشأها المحتل الأجنبي (4)، حيث إن أول مدرسة للبنات فتحها المنصرون في الدولة العثمانية في بيروت عام 1830 م، تبع ذلك افتتاح مدارس كثيرة للبنات في مصر والسودان وسوريا والعراق وفلسطين والهند والأفغان، التي بدأت في أول أمرها للبنات، ثم تحولت مختلطة بين الجنسين (5).
--------------------------------------------
সুন্নাহ থেকে প্রমাণাদি, আমরা কেবল দশটি দলীলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকব; অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সেগুলো বর্ণনা করেছেন (১) (২)।
তৃতীয়ত: মুসলিম দেশসমূহে কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবাধ সংমিশ্রণের (اختلاط) সূচনা:মুসলিম সমাজগুলোতে কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের অবাধ সংমিশ্রণ (اختلاط) পরিচিত ছিল না এবং ফরাসি ও ব্রিটিশ উপনিবেশ মুসলিম ভূখণ্ডে আধিপত্য বিস্তারের পূর্বে তা পরিলক্ষিত হয়নি। 'তারিখুত তালিম ফিল ইরাক ১৯২১-১৯৩২' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, বসরার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে তৎকালীন শিক্ষা পরিচালক কর্তৃক একটি বালিকা বিদ্যালয় পরিদর্শনের প্রতি তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছিল। তারা একে পশ্চিমা অনুকরণ এবং পর্দা হীনতার (سفور) একটি পথ হিসেবে গণ্য করেছিলেন (৩)।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিদেশি দখলদারদের প্রতিষ্ঠিত বিদেশি স্কুলগুলোর মাধ্যমেই মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবাধ সংমিশ্রণ (اختلاط) প্রবেশ করে (৪)। উসমানীয় খিলাফতের বৈরুতে ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকরা সর্বপ্রথম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করে। এরপর মিশর, সুদান, সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, ভারত ও আফগানিস্তানে অনেক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা শুরুতে কেবল মেয়েদের জন্য থাকলেও পরবর্তীতে উভয় লিঙ্গের অবাধ সংমিশ্রণে (مختلطة) রূপান্তরিত হয় (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وظهر التيار التغريبي في مصر - أنموذجاً- وجرى على يديه الاختلاط في أماكن العمل والتعليم عن طريق ثلاثة مسارات:
المسار الأول: عن طريق المستغربين [كأحمد لطفي السيد الهالك سنة 1382هـ]، وهو أول من أدخل الفتيات المصريات في الجامعات مختلطات بالطلاب سافرات الوجوه، لأوَّل مرة في تاريخ مصر، يناصره في ذلك طه حسين الهالك سنة 1393هـ] (1)، الذين أمسكوا بأزمة الجامعة المصرية، فأدخلوا البنات فيها بشكل تدريجي حتى صارت مختلطة بين الطالبات والطلاب، ولما ثار عليهم علماء الأزهر، قال طه حسين قولته الماكرة: «لاأعلم نصاً في كتاب اللَّه أو سنة نبيه يمنع اختلاط الشبان بالشابات لطلب العلم»!!! (2).
ولما وقعت بعض جرائم الزنا إبان افتتاح الجامعة المصرية قال بكل صراحة: «لا بد من ضحايا» لكنه لم يذكر هذه الضحايا في سبيل ماذا؟!! (3).
المسار الثاني: كتابات بعض المنتسبين للعلم الذين دعوا إلى الاختلاط بين الرجال والنساء، فكانوا سنداً للمستغربين، وعوناً لهم، كرفاعة الطهطاوي في كتابه «تلخيص الإبريز في تاريخ باريز»، وخير
--------------------------------------------
মিশরে পাশ্চাত্যপন্থী ধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটে—উদাহরণস্বরূপ—এবং তাদের হাত ধরেই তিনটি পথের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবাধ মেলামেশা (اختلاط) ছড়িয়ে পড়ে:
প্রথম পথ: পাশ্চাত্যপন্থীদের মাধ্যমে [যেমন ১৩৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আহমদ লুৎফি আস-সায়্যিদ], যিনি মিশরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মিশরীয় ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সাথে অবাধ মেলামেশার (اختلاط) মাধ্যমে এবং অনাবৃত মুখে প্রবেশের সুযোগ করে দেন। এ কাজে তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন ১৩৯৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ত্বহা হোসেন] (১), যারা মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেছিলেন। তারা পর্যায়ক্রমে সেখানে মেয়েদের প্রবেশ করান, এমনকি শেষ পর্যন্ত তা ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধ মেলামেশার (اختلاط) স্থলে পরিণত হয়। যখন আল-আজহারের উলামায়ে কেরাম তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন, তখন ত্বহা হোসেন তার চাতুর্যপূর্ণ উক্তিটি করেন: “আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর নবীর সুন্নাহতে আমি এমন কোনো স্পষ্ট পাঠ (نص) জানি না যা জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে যুবক-যুবতীদের অবাধ মেলামেশাকে (اختلاط) নিষিদ্ধ করে”!!! (২)।
মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধনের সময় যখন ব্যভিচারের কিছু অপরাধ সংঘটিত হয়, তখন তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন: “অবশ্যই কিছু বলির শিকারের প্রয়োজন আছে”; কিন্তু তিনি উল্লেখ করেননি যে, এই বলিদান কিসের উদ্দেশ্যে ছিল?!! (৩)।
দ্বিতীয় পথ: ইলমের সাথে সম্পৃক্ত এমন কিছু ব্যক্তির লেখালেখি যারা নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশার (اختلاط) আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে তারা পাশ্চাত্যপন্থীদের জন্য এক প্রকার সনদ (سند) ও সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন; যেমন রিফায়াহ আত-তহতাবি তার ‘তাখলিস আল-ইবরিজ ফি তারিখ বারিজ’ গ্রন্থে, এবং খায়র...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الدين التونسي في كتابه «أقوم المسالك في معرفة أحوال الممالك» (1)، ومحمد عبده الذي كتب بعض فصول كتاب «تحرير المرأة» لقاسم أمين (2)، وعبد العزيز جاويش الذي أنشأ مجلة «الهداية»، وهي تستهدف تقريب الدين من الثقافة الغربية الحديثة، وقد نشرت مقالاً لعبد القادر المغربي عن حجاب المرأة دعا فيه إلى السفور والاختلاط، واستشهد فيه - على زعمه - بأحاديث وآثار شرعية!! (3).
المسار الثالث: نشطت الصحافة في نشر الأفكار المنحرفة المتعلقة بعمل المرأة وتعليمها واختلاطها بالرجال، مستهدفة ذلك الحاجز القوي الذي أقامه الإسلام على أساس المحافظة على العِرض والشرف والخلق، حين دعا إلى حماية كرامة المرأة بالفصل بينها وبين الرجل في المجتمعات ودوائر الأعمال، وفي لقاء البيوت والأسر (4).
وهكذا انتشر وباء الاختلاط في مجتمعات المسلمين بعد تآزر قوى الظلام (المستغربون، أدعياء العلم، أقلام الصحافة المسمومة) وحسبنا اللَّه ونعم الوكيل (5).
--------------------------------------------
দ্বীন আল-তিউনিসি তাঁর ‘আকওয়ামুল মাসালিক ফি মা’রিফাতি আহওয়ালিল মামালিক’ গ্রন্থে (১), এবং মুহাম্মদ আবদুহ, যিনি কাসেম আমিনের ‘তাহরীরুল মারআ’ গ্রন্থের কিছু অধ্যায় লিখেছিলেন (২), এবং আব্দুল আজিজ জাউয়িশ, যিনি ‘আল-হিদায়াহ’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল ধর্মকে আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসা। সেই পত্রিকা আব্দুল কাদির আল-মাগরিবির পর্দার বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল যেখানে তিনি পর্দা ত্যাগ ও অবাধ মেলামেশার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি—তাঁর দাবি অনুযায়ী—হাদিস এবং শরয়ী বর্ণনা (آثار) দিয়ে প্রমাণ পেশ করেছিলেন!! (৩)।
তৃতীয় পথ: সংবাদমাধ্যমগুলো ভ্রান্ত চিন্তা ছড়িয়ে দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে যা নারীর কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশা সংশ্লিষ্ট ছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সেই শক্তিশালী প্রতিবন্ধকতাটি ভেঙে ফেলা যা ইজ্জত-সম্মান ও চরিত্র রক্ষার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছিল, যখন ইসলাম নারী ও পুরুষের মধ্যে সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রে এবং ঘরোয়া ও পারিবারিক সম্মিলনে পৃথকীকরণের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিল (৪)।
এভাবেই মুসলিম সমাজে অবাধ মেলামেশার মহামারি ছড়িয়ে পড়ে যখন অন্ধকার শক্তিগুলো (পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুসারীগণ, ইলমের মিথ্যা দাবিদারগণ এবং সংবাদমাধ্যমের বিষাক্ত কলমসমূহ) একে অপরের সহযোগী হয়; আমাদের জন্য আল্লাহ-ই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالث: حكم الاختلاط وتحريم الأسباب الموصلة إليه وبيان عادة الإباحية
أولاً: الاختلاط بين النساء والرجال الأجانب محرّم تحريماً مؤكداً؛ لأن العِفَّة حجاب يُمَزِّقه الاختلاط، ولهذا صار طريق الإسلام التفريق والمباعدة بين المرأة والرجل الأجنبي عنها، فالمجتمع الإسلامي مجتمع فردي لا زوجي، فللرجال مجتمعاتهم، وللنساء مجتمعاتهن، ولا تخرج المرأة إلى مجتمع الرجال إلا لضرورة أو حاجة بضوابط الخروج الشرعية.
كل هذا لحفظ الأعراض، والأنساب، وحراسة الفضائل، والبعد عن الرِّيب والرذائل، وعدم إشغال المرأة عن وظائفها الأساسية في بيتها؛ ولذا حُرِّم الاختلاط، سواء في التعليم، أم العمل، والمؤتمرات، والندوات، والاجتماعات العامة، والخاصة، وغيرها؛ لما يترتب عليه من هتك الأعراض ومرض القلوب، وخطرات النفس، وخنوثة الرجال، واسترجال النساء، وزوال الحياء، وتقلص العفة والحشمة، وانعدام الغيرة.
ولهذا فإن أهل الإسلام لا عهد لهم باختلاط نسائهم بالرجال الأجانب عنهن، وإنما حصلت أول شرارة قدحت للاختلاط على أرض الإسلام من خلال: «المدارس الاستعمارية الأجنبية العالمية»، التي فتحت أول ما فتحت في بلاد الإسلام في: (لبنان) كما بينه العلامة بكر أبو زيد رحمه الله في كتابه: «المدارس الاستعمارية
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অবাধ মেলামেশার (اختلاط) বিধান, এর দিকে ধাবিতকারী কারণসমূহের নিষিদ্ধকরণ এবং অবাধ স্বাধীনতার অভ্যাসের বর্ণনা
প্রথমত: নারী ও পরপুরুষের (أجنبي) মধ্যে অবাধ মেলামেশা (اختلاط) সুনিশ্চিতভাবে হারাম (محرم); কারণ সতীত্ব হলো একটি পর্দা যা অবাধ মেলামেশা (اختلاط) ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এই কারণেই ইসলামের পদ্ধতি হলো নারী এবং তার নিকট পরপুরুষের (أجنبي) মধ্যে পার্থক্য ও দূরত্ব বজায় রাখা। কারণ ইসলামি সমাজ হলো এককেন্দ্রিক সমাজ, দ্বৈত নয়। সুতরাং পুরুষদের জন্য রয়েছে নিজস্ব পরিমণ্ডল এবং নারীদের জন্য রয়েছে নিজস্ব পরিমণ্ডল। কোনো নারী একান্ত প্রয়োজন বা বিশেষ দরকার ছাড়া এবং বের হওয়ার শারয়ি শর্তাবলি মেনে চলা ব্যতীত পুরুষদের সমাজে বের হবে না।
এই সবকিছুই করা হয়েছে সম্ভ্রম ও বংশমর্যাদা রক্ষা, সচ্চরিত্রতা হেফাজত, সন্দেহ ও পঙ্কিলতা থেকে বিমুখ থাকা এবং নারীকে তার গৃহের মৌলিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত না করার জন্য। আর এই কারণেই অবাধ মেলামেশা (اختلاط) হারাম (محرم) করা হয়েছে, চাই তা শিক্ষা ক্ষেত্রে হোক, কিংবা কর্মক্ষেত্রে, সম্মেলন, সেমিনার এবং সাধারণ ও বিশেষ সভা বা অন্য কিছুতে। কারণ এর ফলে সম্ভ্রমহানি, অন্তরের ব্যাধি, কুপ্রবৃত্তি, পুরুষদের মধ্যে নারীসুলভ আচরণ ও নারীদের মধ্যে পুরুষসুলভ আচরণের প্রবণতা তৈরি হয়, লজ্জাশীলতা বিলুপ্ত হয়, সতীত্ব ও শালীনতা হ্রাস পায় এবং আত্মমর্যাদাবোধের বিনাশ ঘটে।
এ কারণে ইসলামের অনুসারীদের মাঝে তাদের নারীদের পরপুরুষের (أجنبي) সাথে অবাধ মেলামেশার (اختلاط) কোনো ইতিহাস ছিল না। ইসলামি ভূখণ্ডে অবাধ মেলামেশার (اختلاط) প্রথম যে স্ফুলিঙ্গটি প্রজ্বলিত হয়েছিল, তা মূলত ‘আন্তর্জাতিক বিদেশি ঔপনিবেশিক বিদ্যালয়গুলোর’ মাধ্যমে হয়েছিল; যা ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম লেবাননে প্রতিষ্ঠিত হয়, যেমনটি আল্লামা বকর আবু যাইদ (রহিমাহুল্লাহ) তার ‘আল-মাদারিসুল ইস্তিমারিইয়াহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
-الأجنبية العالمية- تاريخها ومخاطرها على الأمة الإسلامية» (1).
وقد عُلِم تاريخيّاً أن ذلك من أقوى الوسائل لإذلال الرعايا وإخضاعها؛ بتضييع مقومات كرامتها، وتجريدها من الفضائل، ولا حول ولا قوة إلا باللَّه العلي الحكيم.
كما عُلِمَ تاريخياً أن التبذل والاختلاط من أعظم أسباب انهيار الحضارات، وزوال الدول، كما كان ذلك لحضارة (2) اليونان والرومان، وهكذا عواقب الأهواء والمذاهب المضلة، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: «إن دولة بني أمية كان انقراضها بسبب هذا الجَعْدِ المعطِّل وغيره من الأسباب» (3).
وقال ابن القيم رحمه الله ما مختصره: «فصل: ومن ذلك أن وليّ الأمر يجب عليه أن يمنع اختلاط الرجال بالنساء في الأسواق، والفُرَج، ومجامع الرجال
…فالإمام مسؤول عن ذلك، والفتنة به عظيمة قال صلى الله عليه وسلم: «ما تركت بعدي فتنة أضر على الرجال من النساء» (4)،
… وفي حديث آخر أنه قال للنساء: «علَيْكُنَّ حافات الطريق» (5).
--------------------------------------------
-আন্তর্জাতিক বৈদেশিক- এর ইতিহাস এবং মুসলিম উম্মাহর ওপর এর বিপদসমূহ» (১)।
ঐতিহাসিকভাবে এটি স্বীকৃত যে, প্রজাদের লাঞ্ছিত ও বশীভূত করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো তাদের মর্যাদার ভিত্তি নষ্ট করে দেওয়া এবং তাদেরকে সচ্চরিত্রতা থেকে বঞ্চিত করা। সুউচ্চ ও প্রজ্ঞাবান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।
ঐতিহাসিকভাবে আরও জানা যায় যে, বেহায়াপনা ও অবাধ মেলামেশা (اختلاط) সভ্যতা ভেঙে পড়ার এবং রাষ্ট্রের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। যেমনটি ঘটেছিল গ্রিক ও রোমান সভ্যতার (২) ক্ষেত্রে। প্রবৃত্তি পূজা ও ভ্রান্ত মতাদর্শের পরিণতি এমনই হয়ে থাকে। যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «নিশ্চয়ই বনু উমাইয়া রাষ্ট্রের পতন ঘটেছিল এই গুণাবলি অস্বীকারকারী (المعطِّل) জা’দ এবং আরও অন্যান্য কারণে» (৩)।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো: «পরিচ্ছেদ: এর অন্তর্ভুক্ত হলো যে, শাসক বা কর্তৃপক্ষের জন্য আবশ্যক হলো বাজার, উন্মুক্ত স্থান এবং পুরুষদের সমাগমস্থলে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা (اختلاط) বন্ধ করা
…সুতরাং ইমাম বা শাসক এ বিষয়ে দায়বদ্ধ, আর এ ক্ষেত্রে ফিতনা অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর আর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি» (৪),
… এবং অন্য এক হাদিসে তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: «তোমরা রাস্তার পাশ দিয়ে চলো» (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ويجب عليه منع النساء من الخروج متزينات متجملات، ومنعهن من الثياب التي يكنَّ بها كاسيات عاريات، كالثياب الواسعة، والرقاق، ومنعهنّ من حديث الرجال في الطرقات، ومنع الرجال من ذلك.
وإن رأى وليّ الأمر أن يفسد على المرأة - إذا تجملت وتزينت وخرجت - ثيابها بحبر ونحوه، فقد رخّص في ذلك بعض الفقهاء وأصاب، وهذا من أدنى عقوبتهن المالية.
وله أن يحبس المرأة إذا أكثرت الخروج من منزلها، ولا سيما إذا خرجت متجملة؛ بل إقرار النساء على ذلك إعانة لهن على الإثم والمعصية، واللَّه سائلٌ وليّ الأمر عن ذلك.
وقد منع أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه النساء من المشي في طريق الرجال، والاختلاط بهم في الطريق.
فعلى وليِّ الأمر أن يقتدي به في ذلك.
وقال الخلال في جامعه: أخبرني محمد بن يحيى الكحال: أنه قال لأبي عبد اللَّه: أرى الرجل السوء مع المرأة؟ قال: صِحْ به، وقد أخبر النبيّ صلى الله عليه وسلم: «أن المرأة إذا تطيَّبت وخرجت من بيتها فهي زانية» (1).
--------------------------------------------
শাসক বা দায়িত্বশীলের জন্য আবশ্যক হলো নারীদের সুসজ্জিত ও অলংকৃত হয়ে বাইরে বের হতে বাধা প্রদান করা এবং তাদের এমন পোশাক পরিধান করা থেকে নিষেধ করা যাতে তারা পোশাক পরিহিতা হয়েও নগ্ন থাকে, যেমন ঢিলেঢালা অথচ অতি পাতলা পোশাক; এছাড়া রাস্তায় পুরুষদের সাথে কথা বলা থেকে তাদের বারণ করা এবং পুরুষদেরও এ থেকে বিরত রাখা।
যদি শাসক বা দায়িত্বশীল মনে করেন যে, কোনো নারী—যখন সে সুসজ্জিত ও অলংকৃত হয়ে বাইরে বের হয়—তার পোশাক কালি বা এজাতীয় কিছু দিয়ে নষ্ট করে দেবেন, তবে কোনো কোনো ফকিহ একে বৈধ বলেছেন এবং এটি সঠিক; আর এটি তাদের জন্য নূ্যনতম আর্থিক শাস্তির অন্তর্ভুক্ত।
কোনো নারী যদি ঘর থেকে অত্যধিক বাইরে বের হয়, তবে শাসকের তাকে বন্দি করার অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে যখন সে সুসজ্জিত হয়ে বের হয়। বরং নারীদের এসবে ছাড় দেওয়া তাদের পাপ ও নাফরমানিতে সহযোগিতা করার শামিল; আর আল্লাহ এই বিষয়ে শাসক বা দায়িত্বশীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু নারীদের পুরুষদের পথে চলাফেরা করতে এবং রাস্তায় তাদের সাথে মেলামেশা করতে নিষেধ করেছিলেন।
সুতরাং শাসকের উচিত এ বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করা।
আল-খলাল তাঁর জামি গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-কাহহাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আমি কোনো দুশ্চরিত্র লোককে কোনো নারীর সাথে দেখি (সেক্ষেত্রে করণীয় কী)?" তিনি বললেন: "তাকে চিৎকার করে ধমক দাও।" আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন: "নিশ্চয়ই কোনো নারী যখন সুগন্ধি মেখে ঘর থেকে বের হয়, তখন সে একজন ব্যভিচারিণী" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويمنع المرأة إذا أصابت بخوراً أن تشهدَ عشاء الآخرة في المسجد، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «المرأة إذا خرجت استشرفها الشيطان» (1).
ولا ريب أن تمكين النساء من اختلاطهن بالرجال، أصل كل بلية وشرّ، وهو من أعظم أسباب نزول العقوبات العامة، كما أنه من أسباب فساد أمور العامة والخاصة، واختلاط الرجال بالنساء سبب لكثرة الفواحش والزنا، وهو من أسباب الموت العام والطواعين المتصلة (2).
ولما اختلط البغايا بعسكر موسى، وفشت فيهم الفاحشة، أرسل اللَّه عليهم الطاعون، فمات في يوم واحد سبعون ألفاً، والقصة مشهورة في كتب التفاسير.
فمن أعظم أسباب الموت العام: كثرة الزنا، بسبب تمكين النساء من اختلاطهن بالرجال، والمشي بينهم متبرجات متجملات، ولو علم أولياء الأمر ما في ذلك من فساد الدنيا والرعية -قبل الدين - لكانوا أشد شيء منعاً لذلك» انتهى كلامه رحمه الله (3).
--------------------------------------------
কোন নারী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে, তবে তাকে মসজিদে এশার নামাজে উপস্থিত হতে বাধা দিতে হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নারী যখন ঘর থেকে বের হয়, শয়তান তার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকায়।" (1).
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নারীদের পরপুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দেওয়া সকল বিপর্যয় ও অনিষ্টের মূল। এটি গণ-শাস্তি নাজিল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এবং সাধারণ ও বিশেষ সকল বিষয় বিনষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। পুরুষ ও নারীর অবাধ মেলামেশা অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের আধিক্যের কারণ, যা গণমৃত্যু ও সংক্রামক মহামারীর অন্যতম কারণ (2).
যখন ব্যভিচারিণীগণ মুসার (আলাইহিস সালাম) সৈন্যদলের সাথে সংমিশ্রিত হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন আল্লাহ তাদের ওপর মহামারী পাঠিয়েছিলেন; ফলে একদিনেই সত্তর হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। এই ঘটনাটি তাফসির গ্রন্থসমূহে সুপরিচিত।
সুতরাং গণমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো: ব্যভিচারের আধিক্য, যা নারীদেরকে পুরুষদের সাথে মেলামেশার সুযোগ দান এবং তাদের মাঝে বেপর্দা ও সুসজ্জিত হয়ে চলাফেরার কারণে ঘটে থাকে। যদি দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ জানতেন যে এতে দুনিয়া ও প্রজাসাধারণের—দীনের আগে—কতটা অনিষ্ট নিহিত রয়েছে, তবে তারা এটি প্রতিরোধে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।" তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য সমাপ্ত হলো (3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثانياً: تحريم الأسباب الموصلة إلى الاختلاط بين النساء والرجال غير المحارم؛ ولهذا قال العلامة بكر أبو زيد رحمه الله بعد أن ساق كلام ابن القيم رحمه الله آنف الذكر: «ولهذا حرمت الأسباب المفضية إلى الاختلاط، وهتك سنة المباعدة بين الرجال والنساء
… » (1)، ثم ذكر رحمه الله الأسباب التي توصل إلى الاختلاط على النحو الآتي:
1 - تحريم الدخول على الأجنبية والخلوة بها، للأحاديث المستفيضة كثرة وصحة، ومنها: خلوة السائق، والخادم، والطبيب وغيرهم بالمرأة، وقد تنتقل من خلوة إلى أخرى، فيخلو بها الخادم في البيت، والسائق في السيارة، والطبيب في العيادة، وهكذا!!.
2 - تحريم سفر المرأة بلا محرم، والأحاديث فيه متواترة معلومة.
3 - تحريم النظر العمد من أيٍّ منهما إلى الآخر، بنص القرآن والسنة.
4 - تحريم دخول الرجال على النساء، حتى الأحماء -وهم أقارب الزوج- فكيف بالجلسات العائلية المختلطة، مع ما هن عليه من الزينة، وإبراز المفاتن، والخضوع بالقول، والضحك .. ؟.
5 - تحريم مسّ الرجل بدن الأجنبية، حتى المصافحة للسلام.
6 - تحريم تشبه أحدهما بالآخر (2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: মাহরাম নয় এমন নারী ও পুরুষের মাঝে অবাধ মেলামেশার (اختلاط) মাধ্যমসমূহ নিষিদ্ধকরণ; একারণেই আল্লামা বকর আবু যাইদ (রহিমাহুল্লাহ), ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর পূর্বোক্ত বক্তব্যের পর বলেছেন: «আর এ কারণেই অবাধ মেলামেশার (اختلاط) দিকে ধাবিতকারী মাধ্যমসমূহ এবং নারী ও পুরুষের মাঝে দূরত্ব বজায় রাখার সুন্নাতকে লঙ্ঘন করা হারাম করা হয়েছে
… » (১), অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অবাধ মেলামেশার (اختلاط) দিকে নিয়ে যায় এমন মাধ্যমসমূহ নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করেছেন:
১ - গায়রে মাহরাম নারীর নিকট প্রবেশ এবং তার সাথে নির্জনে অবস্থান (خلوة) নিষিদ্ধকরণ, এর স্বপক্ষে প্রচুর সংখ্যক ও বিশুদ্ধ (صحيحة) সুপ্রসিদ্ধ (مستفيضة) হাদিস বিদ্যমান; যার অন্তর্ভুক্ত হলো: চালক, গৃহকর্মী, চিকিৎসক এবং অন্যদের নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান (خلوة) করা। আর কখনও কখনও এটি এক নির্জনতা থেকে অন্য নির্জনতায় রূপ নিতে পারে; যেমন গৃহকর্মী ঘরে নির্জনে থাকছে, চালক গাড়িতে নির্জনে থাকছে এবং চিকিৎসক ক্লিনিকে নির্জনে থাকছে, আর এভাবেই চলতে থাকে!!।
২ - মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর নিষিদ্ধকরণ, আর এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সুপ্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির (متواترة)।
৩ - ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টিপাত করা নিষিদ্ধকরণ, কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য প্রমাণ (نص) অনুযায়ী যা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই নিষিদ্ধ।
৪ - নারীদের নিকট পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধকরণ, এমনকি স্বামীর আত্মীয়-স্বজনদের (أحماء) জন্যও। সুতরাং যেখানে নারীরা সাজসজ্জা করে, সৌন্দর্য প্রদর্শন করে, পরপুরুষের সাথে নম্র ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে (خضوع بالقول) কথা বলে এবং হাসি-তামাশা করে, সেখানে পারিবারিক যৌথ আড্ডার অবস্থা তাহলে কেমন হতে পারে?
৫ - পরনারী স্পর্শ করা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধকরণ, এমনকি সালাম বিনিময়ের সময় করমর্দন করাও।
৬ - একে অপরের সাদৃশ্য গ্রহণ (تشبه) করা নিষিদ্ধকরণ (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثم قال رحمه الله: «وشرع لها صلاتها في بيتها، فهي من شعائر البيوت الإسلامية، وصلاة المرأة في بيتها خير لها من صلاتها في مسجد قومها، وصلاتها في مسجد قومها خير من صلاتها في مسجد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، كما ثبت الحديث بذلك.
ولهذا سقط عنها وجوب الجمعة، وأُذِنَ لها بالخروج للمسجد وفق الأحكام الآتية:
الأول: أن تؤمن الفتنة بها وعليها.
الثاني: أن لا يترتب على حضورها محذور شرعي.
الثالث: أن لا تزاحم الرجال في الطريق ولا في الجامع.
الرابع: أن تخرج تَفِلةً غير متطيبة.
الخامس: أن تخرج متحجبة غير متبرجة بزينة.
السادس: إفراد باب خاص للنساء في المساجد، يكون دخولها وخروجها معه، كما ثبت الحديث بذلك في سنن أبي داود وغيره.
السابع: تكون صفوف النساء خلف الرجال.
الثامن: خير صفوف النساء آخرها بخلاف الرجال.
التاسع: إذا نابَ الإمامَ شيء في صلاته سَبَّح رجل، وصفقت امرأة.
العاشرة: تخرج النساء من المسجد قبل الرجال، وعلى الرجال الانتظار حتى انصرافهن إلى دُورهن، كما في حديث أم سلمة
এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আর তিনি নারীর জন্য তার ঘরে সালাত আদায় করা বিধিবদ্ধ করেছেন; এটি ইসলামি গৃহের অন্যতম নিদর্শন। নারীর জন্য তার নিজ ঘরে সালাত আদায় করা তার সম্প্রদায়ের মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম, আর তার সম্প্রদায়ের মসজিদে সালাত আদায় করা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম, যেমনটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে।»
একারণে তার ওপর থেকে জুমার আবশ্যকতা (وجوب) রহিত করা হয়েছে এবং তাকে নিম্নোক্ত বিধানসমূহ অনুযায়ী মসজিদে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে:
প্রথম: যেন তার দ্বারা এবং তার ওপর ফিতনার আশঙ্কা না থাকে।
দ্বিতীয়: তার উপস্থিতির ফলে যেন কোনো শরিয়তনিষিদ্ধ (محذور) বিষয় সংঘটিত না হয়।
তৃতীয়: রাস্তায় কিংবা জামে মসজিদে যেন পুরুষদের সাথে ভিড় না হয়।
চতুর্থ: সুগন্ধি ব্যবহার না করে (غير متطيبة) সাদামাটা অবস্থায় বের হওয়া।
পঞ্চম: সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) না করে পর্দা সহকারে বের হওয়া।
ষষ্ঠ: মসজিদে নারীদের জন্য পৃথক দরজার ব্যবস্থা করা, যাতে তাদের প্রবেশ ও প্রস্থান সেখান দিয়েই হয়, যেমনটি সুনান আবু দাউদ ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে।
সপ্তম: নারীদের কাতার (صفوف) পুরুষদের পেছনে হওয়া।
অষ্টম: পুরুষদের বিপরীতে নারীদের কাতারের (صفوف) মধ্যে সর্বোত্তম হলো শেষ কাতার।
নবম: সালাতে ইমামের কোনো ভুল হলে পুরুষ তাসবিহ পাঠ করবে এবং নারী হাততালি দেবে।
দশম: নারীরা পুরুষদের আগে মসজিদ থেকে বের হবে এবং পুরুষদের উচিত তারা নারীদের নিজ নিজ আবাসে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা, যেমনটি উম্মে সালামাহ-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২২)
- رضي الله عنها، في صحيح البخاري وغيره.
إلى غير ذلك من الأحكام التي تباعد بين أنفاس النساء والرجال، واللَّه أعلم». (1)
ثالثاً: عادة الإباحية للاختلاط بين الرجال والنساء الأجانب، قال العلامة بكر أبو زيد رحمه الله: «ولا بد من التنبيه إلى أن دعاة الإباحية، لهم بدايات تبدو خفيفة، وهي تَحْمِلُ مكايد عظيمة، منها في وضع لبنة الاختلاط، يبدؤون بها من رياض الأطفال، وفي برامج الإعلام، وركن التعارف الصحفي بين الأطفال، وتقديم طاقات -وليس باقات- الزهور من الجنسين في الاحتفالات».
ثم قال رحمه الله: «إذا كان الاختلاط بين الجنسين في رياض الأطفال مرفوضاً؛ لأنه ليس من عمل المسلمين على مدى تاريخهم الطويل في تعليم أولادهم في الكتاتيب وغيرها؛ ولأنه ذريعة إلى الاختلاط فيما فوقها من مراحل التعليم، فالدعوة إلى الاختلاط في الصفوف الأولى من الدراسة الابتدائية مرفوضة من باب أولى، فاحذروا أن تخدعوا أيها المسلمون!!.
وهكذا .. من دواعي كسر حاجز النفرة من الاختلاط، بمثل هذه البدايات، التي يستسهلها كثير من الناس.
--------------------------------------------
আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যা সহিহ বুখারি ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
এ ছাড়াও এমন আরও অনেক বিধান (أحكام) রয়েছে যা নারী ও পুরুষের পারস্পরিক সান্নিধ্যকে পৃথক রাখে, এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (১)
তৃতীয়ত: পরপুরুষ ও পরনারীদের মধ্যে অবাধ মেলামেশার (اختلاط) চর্চা, আল্লামা বকর আবু যাইদ রহিমাহুল্লাহ বলেন: «এটি অবশ্যই সতর্ক করা উচিত যে, অবাধ মেলামেশার প্রচারকদের সূচনাগুলো আপাতদৃষ্টিতে নগণ্য মনে হলেও তা গুরুতর ষড়যন্ত্র বহন করে। যার মধ্যে রয়েছে অবাধ মেলামেশার (اختلاط) ভিত্তি স্থাপন করা; তারা এটি শুরু করে কিন্ডারগার্টেন, মিডিয়া প্রোগ্রাম, শিশুদের জন্য সংবাদপত্রের পরিচিতি কর্নার এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উভয় লিঙ্গের শিশুদের মাধ্যমে ফুলের স্তবক—তোড়া নয়—প্রদানের মাধ্যমে»।
অতঃপর তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেন: «যদি কিন্ডারগার্টেনে উভয় লিঙ্গের অবাধ মেলামেশা (اختلاط) প্রত্যাখ্যাত (مرفوض) হয়; কারণ এটি মুসলমানদের দীর্ঘ ইতিহাস জুড়ে সন্তানদের মক্তব ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং যেহেতু এটি পরবর্তী শিক্ষা স্তরগুলোতে অবাধ মেলামেশার (اختلاط) মাধ্যম (ذريعة) হিসেবে কাজ করে, তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিগুলোতে মেলামেশার (اختلاط) আহ্বান জানানো আরও জোরালোভাবে বর্জনীয়। সুতরাং হে মুসলিমগণ! আপনারা প্রতারিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকুন!!।
এভাবেই মেলামেশার (اختلاط) প্রতি সহজাত জড়তা ভাঙার পথ প্রশস্ত করা হয় এমন সব সূচনার মাধ্যমে, যেগুলোকে অনেক মানুষই অতি সাধারণ মনে করে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فليتق اللَّه أهلُ الإسلام في مواليهم، وليحسبوا خطوات السير في حياتهم، وليحفظوا ما استرعاهم اللَّه عليه من رعاياهم، والحذر الحذر من التفريط والاستجابة لفتنة: الاستدراج إلى مدارج الضلالة، وكل امرئٍ حسيب نفسه» (1).
--------------------------------------------
অতএব, ইসলাম অনুসারীদের উচিত তাদের অধীনস্থদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা, তাদের জীবন-পরিক্রমার প্রতিটি পদক্ষেপের হিসাব রাখা এবং আল্লাহ যাদেরকে তাদের তত্ত্বাবধানে রেখেছেন, সেই প্রজাসাধারণের রক্ষণাবেক্ষণ করা। আর সাবধান! চরম সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত অবহেলা (تفريط) এবং পথভ্রষ্টতার সোপানে ক্রমান্বয়ে ধাবিত হওয়ার (استدراج) ফিতনা (فتنة)-র ডাকে সাড়া দেওয়া থেকে; বস্তুত প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের হিসাব গ্রহণের জন্য যথেষ্ট» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الرابع: الأدلة على تحريم اختلاط النساء بالرجال الأجانب عنهنلما حرَّم الله الزنا حرَّم الأسباب الموصلة إليه؛ ولهذا قال العلامة بكر أبو زيد رحمه الله: «قاعدة الشرع المطهّر: أن اللَّه سبحانه إذا حرّم شيئاً حرّم الأسباب والطرق والوسائل المفضية إليه، تحقيقاً لتحريمه، ومنعاً من الوصول إليه، أو القرب من حماه
… وفاحشة الزنا من أعظم الفواحش، وأقبحها وأشدها خطراً وضرراً، وعاقبةً على ضروريات الدين؛ ولهذا صار تحريم الزنا معلوماً من الدين بالضرورة.
قال اللَّه تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلاً} (1).
ولهذا حرِّمت الأسباب الموصلة إليه من: السفور ووسائله، والتبرج ووسائله، والاختلاط ووسائله، وتشبه المرأة بالرجل، وتشبهها بالكافرات .. وهذا من أسباب الرِّيبة، والفتنة، والفساد» (2).
أولاً: الأدلة من القرآن العظيم على تحريم اختلاط النساء بالرجال الأجانب عنهن:
الدليل الأول: قول اللَّه تعالى: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ * وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ} (3).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গায়র-মাহরাম পুরুষদের সাথে নারীদের অবাধ মেলামেশা (اختلاط) নিষিদ্ধ হওয়ার দলীলসমূহযখন আল্লাহ ব্যভিচারকে হারাম করেছেন, তখন তিনি এর দিকে ধাবিতকারী কারণগুলোকেও হারাম করেছেন; একারণেই আল্লামা বকর আবু যায়দ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «পবিত্র শরীয়তের মূলনীতি হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন কোনো কিছু হারাম করেন, তখন তিনি এর দিকে ধাবিতকারী কারণ, পথ ও মাধ্যমসমূহকেও হারাম করে দেন; যেন সেই হারামের বিষয়টি বাস্তবায়িত হয় এবং তা ঘটা বা তার সীমানার কাছে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখা যায়... আর ব্যভিচারের অশ্লীলতা জঘন্যতম অশ্লীলতাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির জন্য অত্যন্ত কদর্য, বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর এবং এর ভয়াবহ পরিণাম বয়ে আনে; একারণেই ব্যভিচার হারাম হওয়ার বিষয়টি দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ (معلوماً من الدين بالضرورة) বিষয় হিসেবে গণ্য হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটি একটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ} (১)।
একারণেই এর দিকে ধাবিতকারী কারণসমূহকেও হারাম করা হয়েছে, যেমন: পর্দা হীনতা (السفور) ও এর মাধ্যমসমূহ, বেপর্দা চলাফেরা (التبرج) ও এর মাধ্যমসমূহ, অবাধ মেলামেশা (الاختلاط) ও এর মাধ্যমসমূহ, পুরুষের সাথে নারীর সাদৃশ্যতা এবং কাফের নারীদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন... আর এগুলো সন্দেহ (الرِّيبة), ফিতনা (الفتنة) এবং ফাসাদের (الفساد) অন্যতম কারণ» (২)।
প্রথমত: গায়র-মাহরাম পুরুষদের সাথে নারীদের অবাধ মেলামেশা (اختلاط) নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের দলীলসমূহ:প্রথম দলীল: আল্লাহ তায়ালার বাণী: {মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يأمر اللَّه تعالى نبيه عليه الصلاة والسلام أن يبلغ المؤمنين والمؤمنات وجوب غض البصر، وحفظ الفرج عن الزنا، ومعلوم أن حفظ الفرج من الفاحشة إنما يكون باجتناب وسائلها، واختلاط النساء بالرجال في أماكن العمل والتعليم من أعظم وسائل وقوع الفاحشة (1).
وقال العلامة محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله: «
… فإذا نهى الشارع عن النظر إليهن؛ لما يؤدي إليه من المفسدة، وهو حاصل في الاختلاط، فكذلك الاختلاط ينهى عنه؛ لأنه وسيلة إلى ما لا تحمد عقباه من التمتع بالنظر، والسعي إلى ما هو أسوأ منه» (2).
الدليل الثاني: قال اللَّه تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ} (3).
«يقول اللَّه تعالى آمرًا رسوله صلى الله عليه وسلم أن يأمر النساء المؤمنات خاصة أزواجه وبناته لشرفهن بأن يدنين عليهن جلابيبهن ليتميزن عن سمات نساء الجاهلية (4). فلا يتعرض لهن من في قلبه مرض، فإذا كانت الشريعة تأمر المرأة بالحجاب عند خروجها لئلا يتعرض لها
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীকে (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের দৃষ্টি অবনত রাখার আবশ্যকতা এবং ব্যভিচার থেকে লজ্জাস্থান হিফাযত করার কথা পৌঁছে দেন। এটি সর্বজনবিদিত যে, অশ্লীলতা থেকে লজ্জাস্থানের সুরক্ষা কেবল তার উপায় ও মাধ্যমগুলো বর্জনের মাধ্যমেই সম্ভব। আর কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অশ্লীলতা সংঘটিত হওয়ার অন্যতম বড় মাধ্যম (১)।
আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: « ... যখন শারী‘আত প্রণেতা নারীদের দিকে তাকানো নিষেধ করেছেন—যেহেতু তা অনিষ্টের দিকে ধাবিত করে এবং যা অবাধ মেলামেশার ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে—তেমনিভাবে অবাধ মেলামেশাও নিষিদ্ধ; কারণ এটি দৃষ্টির মাধ্যমে তৃপ্তি লাভ এবং তার চেয়েও জঘন্য কোনো বিষয়ের দিকে ধাবিত হওয়ার একটি অশুভ পরিণতিসম্পন্ন মাধ্যম» (২)।
দ্বিতীয় দলীল: মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না} (৩)।
«মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তিনি মুমিন নারীদের, বিশেষ করে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের—তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে—নির্দেশ দেন যেন তাঁরা নিজেদের ওপর তাঁদের চাদর টেনে দেয়, যাতে তাঁরা জাহিলিয়াতের যুগের নারীদের বৈশিষ্ট্য থেকে স্বতন্ত্র হতে পারেন (৪)। ফলে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা যেন তাঁদের উত্যক্ত করতে না পারে। সুতরাং শারী‘আত যখন নারীকে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পর্দার নির্দেশ দেয় যাতে তিনি উত্যক্ত না হন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من في قلبه مرض، أفيتصور أن تجيز هذه الشريعة اجتماع الرجال بالنساء السافرات في أماكن العمل والتعليم مع ما يفرضه ذلك على المرأة من التبذل، ومن ثمَّ جرأة الفساق عليها؟!.
الدليل الثالث: قول اللَّه تعالى: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} (1).
ومعنى هذه الآية الكريمة الأمر بلزوم البيت، وإن كان الخطاب لنساء النبي صلى الله عليه وسلم فقد دخل غيرهن فيه بالمعنى، هذا لو لم يرد دليل يعم جميع النساء بالمعنى «فإذا كانت أمهات المؤمنين الطاهرات قد أُمرن بذلك فغَيْرهن من باب أولى؛ ولأنهن القدوة لنساء الأمة» (2)، كيف والشريعة جاءت بلزوم النساء بيوتهن، والانطفاف عن الخروج منها إلا لضرورة (3)، وإذا كانت الشريعة قد جاءت بمنع المرأة من الخروج من بيتها لغير حاجة درءاً للفتنة، وصيانة للمرأة، فهل يصحّ أن يكون خروجها للعمل والدراسة مع الرجال التي هي مواضع فتنة جائزاً شرعاً؟
ويؤخذ من قوله تعالى: {وَقَرْنَ في بُيُوتِكُنَّ} الأمر بالقرار في البيوت سداً لباب الاختلاط؛ لأنه خروج لغير ضرورة معتبرة فاتح لباب الاختلاط، ويؤخذ من قوله تعالى: {وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ
--------------------------------------------
যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তারা কি কল্পনা করতে পারে যে, এই শরিয়ত কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেপর্দা নারীদের সাথে পুরুষদের মেলামেশার অনুমতি দেবে? যেখানে এটি নারীর ওপর অনাড়ম্বরহীনতা চাপিয়ে দেয় এবং এর ফলে পাপাচারীরা তার ওপর দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ পায়?!
তৃতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না, আর তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো} (১)।
এই মহান আয়াতের অর্থ হলো ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ। যদিও এই সম্বোধন নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের প্রতি করা হয়েছে, তবুও মর্মগতভাবে অন্যান্য নারীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। এমনকি যদি সকল নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনো সাধারণ দলিল না-ও থাকত, তবুও (বলা যেত): "পবিত্র উম্মাহাতুল মুমিনিনদের যদি এই নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে অন্যরা তো আরও অগ্রগণ্যভাবে এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ তাঁরাই হলেন উম্মতের নারীদের জন্য আদর্শ" (২)। কীভাবে সম্ভব (যে এটি অনুমোদিত হবে), যেখানে শরিয়ত নারীদের ঘরে অবস্থান করার এবং অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা (ضرورة) ব্যতীত সেখান থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে (৩)। আর শরিয়ত যেখানে ফিতনা (فتنة) রোধে এবং নারীর সুরক্ষার স্বার্থে কোনো প্রয়োজন (حاجة) ব্যতীত ঘর থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে পুরুষদের সাথে তার কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা কি শরিয়তসম্মত হতে পারে, যা মূলত ফিতনার (فتنة) স্থান?
মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান করো} থেকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ গ্রহণ করা হয়েছে যেন মেলামেশার পথ রুদ্ধ করা যায়; কেননা কোনো গ্রহণযোগ্য অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা (ضرورة) ছাড়া বের হওয়া মেলামেশার পথ উন্মুক্ত করে দেয়। আর আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না} থেকে নেওয়া হয়েছে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الجَاهِلِيَّةِ} أن تبرج المرأة يدعو إلى القرب منها، واللقاء بها، والمحادثة معها، فترك التبرج يحميها من الاختلاط (1).
الدليل الرابع: قول اللَّه تعالى: {وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَن نَّفْسِهِ وَغَلَّقَتِ الأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ} (2). قال العلامة محمد بن إبراهيم آل الشيخ مفتي الديار السعودية في وقته: «وجه الدلالة أنه لما حصل اختلاط بين امرأة عزيز مصر وبين يوسف عليه السلام ظهر منها ما كان كامناً، فطلبت منه أن يوافقها، ولكن أدركه اللَّه برحمته، فعصمه منها، وذلك في قوله تعالى: {فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} (3)، وكذلك إذا حصل اختلاط بالنساء، اختار كل من النوعين من يهواه من النوع الآخر، وبذل بعد ذلك الوسائل للحصول عليه» (4).
الدليل الخامس: قول اللَّه تعالى: {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاء حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} (5).
--------------------------------------------
জাহেলিয়াত (الجاهلية)} হলো এই যে, নারীর সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) তাকে কাছে পাওয়ার, তার সাথে সাক্ষাৎ করার এবং তার সাথে কথোপকথন করার প্রতি প্রলুব্ধ করে। অতএব, সৌন্দর্য প্রদর্শন বর্জন করা তাকে মেলামেশা (اختلاط) থেকে রক্ষা করে (১)।
চতুর্থ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, সেই মহিলা তাকে প্রলুব্ধ করল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল ও বলল, ‘এসো’। সে বলল, ‘আল্লাহর পানাহ! তিনি আমার প্রতিপালক, তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয়ই জালিমরা সফল হয় না’} (২)। তৎকালীন সৌদি আরবের মুফতি আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-শেখ বলেছেন: "দলিলটির তাৎপর্য (وجه الدلالة) হলো, যখন মিশরের আজিজের স্ত্রী এবং ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর মধ্যে মেলামেশা (اختلاط) সংঘটিত হলো, তখন মহিলার মাঝে যা সুপ্ত ছিল তা প্রকাশ পেল। ফলে সে তার কাছে তার ইচ্ছার অনুকূল হওয়ার দাবি করল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমত দ্বারা রক্ষা করলেন এবং তাকে তার অনিষ্ট থেকে হিফাজত করলেন। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে ব্যক্ত হয়েছে: {অতঃপর তার পালনকর্তা তার ডাকে সাড়া দিলেন এবং তাদের চক্রান্ত তার থেকে ফিরিয়ে নিলেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} (৩)। তদ্রূপ যখন নারীদের সাথে মেলামেশা (اختلاط) ঘটে, তখন উভয় লিঙ্গের প্রত্যেকেই অন্য লিঙ্গ থেকে যাকে তার পছন্দ হয় তাকে বেছে নেয় এবং এরপর তাকে পাওয়ার জন্য যাবতীয় উপায় অবলম্বন করে" (৪)।
পঞ্চম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমরা তাদের কাছে কোনো প্রয়োজনীয় বস্তু চাইবে, তখন পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র} (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أمر اللَّه تعالى المؤمنين إذا سألوا نساء النّبيّ صلى الله عليه وسلم حاجة - ويدخل في ذلك جميع النساء بالمعنى - أن يسألوهم من وراء حجاب (1)، والأمر بكون سؤالهن من وراء حجاب دليل واضح على لزوم الحواجز وعدم الاختلاط (2).
الدليل السادس: قول اللَّه تعالى: {وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ} (3).
ففي هذه الآية بيّن جلّ وعلا أن ابنتي شيخ مدين لا تسقيان الماء حتى يصدر الرعاء لئلا يختلطا بالرجال (4)، وهذا فيه مدح وثناء على هذا الخُلُق والسلوك كما هو بيِّنٌ من السياق.
الدليل السابع: قول الله تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا} (5).
قال السعدي رحمه الله: «والنهي عن قربانه أبلغ من النهي عن مجرد فعله؛ لأن ذلك يشمل النهي عن جميع مقدماته ودواعيه فإن: «من حام حول الحمى يوشك أن يقع فيه» خصوصاً هذا الأمر الذي في
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কোনো প্রয়োজনের কথা বলবে—এবং অর্থগতভাবে সকল নারীই এর অন্তর্ভুক্ত—তখন যেন তারা পর্দার (حجاب) আড়াল থেকে তা বলে (১)। আর তাঁদের কাছে পর্দার (حجاب) আড়াল থেকে চাওয়ার এই নির্দেশটি হলো আবশ্যিক অন্তরাল বজায় রাখা এবং অবাধ মেলামেশা (اختلاط) বর্জন করার একটি সুস্পষ্ট দলিল (২)।
ষষ্ঠ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তিনি মাদইয়ানের জলাশয়ে উপস্থিত হলেন, তখন সেখানে একদল লোককে (পশুদের) পানি পান করাতে দেখলেন এবং তাদের পরিবর্তে দু’জন নারীকে দেখলেন যারা (নিজেদের পশুদের) আগলে রাখছে। তিনি বললেন: ‘তোমাদের ব্যাপার কী?’ তারা বলল: ‘আমরা পানি পান করাতে পারি না যতক্ষণ না রাখালরা (তাদের পশু নিয়ে) চলে যায়; আর আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ।’} (৩)।
এই আয়াতে মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, মাদইয়ানের বৃদ্ধের কন্যাদ্বয় রাখালরা চলে না যাওয়া পর্যন্ত পানি পান করাত না যাতে তারা পুরুষদের সাথে মেলামেশা (اختلاط) না করে (৪)। প্রসঙ্গের বর্ণনা অনুযায়ী এটি এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আচরণের এক মহান প্রশংসা ও গুণকীর্তন যা সুস্পষ্ট।
সপ্তম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা ব্যভিচারের (الزنا) নিকটবর্তী হয়ো না; নিশ্চয়ই এটি এক অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।} (৫)।
ইমাম আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «ব্যভিচারের (الزنا) নিকটবর্তী হতে নিষেধ করা কেবল তা করা থেকে নিষেধ করার চেয়েও অধিক গুরুত্ববহ; কারণ এটি এর সকল প্রকার ভূমিকা ও প্ররোচনাকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা: ‘যে ব্যক্তি সংরক্ষিত সীমানার আশেপাশে বিচরণ করে, অচিরেই তার সেখানে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’ বিশেষ করে এই বিষয়টি যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كثير من النفوس أقوى داع إليه» (1).
وقال الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله: «ولا يصح لعاقل أن يشك في أن اختلاط الجنسين في غاية الشباب ونضارته وحسنه أنه أكبر وسيلة وأنجح طريق إلى انتشار الفاحشة وفشو الرَّذيلة بين الجنسين» (2).
وقال أيضاً: «ومعلوم أن اختلاط الجنسين في الجامعات على الحالات المعهودة في جامعات أوروبا ونحوها أنه فتح للباب على مصراعيه لذريعة الزنا كما هو مشاهد مشاهدة لا يمكن معها الجدال إلا من مكابر» (3).
الدليل الثامن: قول اللَّه تعالى: {يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ} (4)، قال العلامة محمد بن إبراهيم آل الشيخ مفتي الديار السعودية في وقته: «وجه الدلالة أن اللَّه تعالى وصف العين التي تسارق النظر إلى ما لا يحل النظر إليه من النساء بأنها خائنة، فكيف بالاختلاط» (5).
ثانياً: الأدلة من السنة النبوية المطهرة على تحريم اختلاط النساء بالرجال:
الدليل الأول: حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا
--------------------------------------------
অধিকাংশ নফসের জন্য এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী প্ররোচনা (১)।
শেখ মুহাম্মদ আল-আমিন আল-শানকিতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে এটি নিয়ে সন্দেহ করা সঠিক নয় যে, যৌবনের পূর্ণতা, সজীবতা ও সৌন্দর্যের সময় উভয় লিঙ্গের অবাধ মেলামেশা (اختلاط) অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার এবং উভয় লিঙ্গের মধ্যে চারিত্রিক পতন বিস্তারের বৃহত্তম মাধ্যম ও সফলতম পথ” (২)।
তিনি আরও বলেছেন: “এটি সুবিদিত যে, ইউরোপ ও তার অনুরূপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচলিত পরিস্থিতির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উভয় লিঙ্গের অবাধ মেলামেশা (اختلاط) ব্যভিচারের উপকরণের জন্য পুরোপুরি দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়; যেমনটি বর্তমানে চাক্ষুষ করা যায়, আর এই বাস্তবতা নিয়ে কেবল একগুঁয়ে ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ বিতর্ক করতে পারে না” (৩)।
অষ্টম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি চোখের খيانةকারী (خائنة) দৃষ্টি এবং অন্তরের গোপন বিষয়সমূহ জানেন} (৪), তৎকালীন সৌদি আরবের মুফতি আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-শেখ তাঁর সময়ে বলেছেন: “দলিলের দিকটি হলো, আল্লাহ তাআলা সেই চোখকে খيانةকারী (خائنة) হিসেবে অভিহিত করেছেন যা নারীদের প্রতি এমনভাবে চোরের দৃষ্টিতে তাকায় যা দেখা হালাল নয়; এমতাবস্থায় অবাধ মেলামেশার (اختلاط) অবস্থা কেমন হবে?” (৫)।
দ্বিতীয়ত: নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা (اختلاط) হারাম হওয়ার স্বপক্ষে পবিত্র সুন্নাহ (سنة) থেকে দলিলসমূহ:
প্রথম দলিল: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস- তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “পুরুষদের সারির মধ্যে সর্বোত্তম হলো প্রথমটি এবং নিকৃষ্টতম হলো শেষটি। আর নারীদের সারির মধ্যে সর্বোত্তম হলো শেষটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাতু বাইনার রিজালি ওয়ান নিসা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا» (1).
فدلّ هذا الحديث العظيم على: أن تفضيل الصفوف الأخيرة مع فوات أجر التقدم (2) يدلّ على مشروعية بعد المرأة عن الرجال، وأنها كلما كانت أبعد عنهم كانت أقرب إلى الخير، وكلما قربت منهم كانت أقرب إلى الشر، فدلّ على أن الاختلاط شر، والبعد عنه خير.
قال الإمام النووي رحمه الله: «وَإِنَّمَا فَضَّلَ آخِر صُفُوف النِّسَاء الْحَاضِرَات مَعَ الرِّجَال؛ لِبُعْدِهِنَّ مِنْ مُخَالَطَة الرِّجَال، وَرُؤْيَتهمْ، وَتَعَلُّق الْقَلْب بِهِمْ عِنْد رُؤْيَة حَرَكَاتهمْ، وَسَمَاع كَلَامهمْ وَنَحْو ذَلِكَ، وَذَمَّ أَوَّلَ صُفُوفهنَّ لِعَكْسِ ذَلِكَ. وَاَللَّه أَعْلَم» (3).
وقال الشوكاني رحمه الله: «قوله: «خير صفوف النساء آخرها» إنما كان خيرها لما في الوقوف فيه من البعد عن مخالطة الرجال» (4).
وقال السندي رحمه الله في حاشيته على سنن النسائي: «أي أقلها أجراً، وفي النساء بالعكس؛ وذلك لأن مقاربة أنفاس الرجال للنساء يخاف منها أن تشوش المرأة على الرجل والرجل على المرأة، ثم
--------------------------------------------
«এবং সেগুলোর মধ্যে নিকৃষ্ট হলো প্রথমটি» (১)।
এই মহান হাদিসটি নির্দেশ করে যে: অগ্রবর্তী হওয়ার সওয়াব হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও পেছনের কাতারগুলোকে প্রধান্য দেওয়া পুরুষদের থেকে নারীদের দূরে থাকার বৈধতা নির্দেশ করে। নারী তাদের থেকে যত বেশি দূরে থাকবে, সে কল্যাণের তত নিকটবর্তী হবে; আর সে তাদের যত নিকটে থাকবে, অকল্যাণের তত নিকটবর্তী হবে। সুতরাং এটি একথাই প্রমাণ করে যে, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ক্ষতিকর এবং তা থেকে দূরে থাকা কল্যাণকর।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «পুরুষদের সাথে উপস্থিত নারীদের পেছনের কাতারগুলোকে কেবল এ কারণেই শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে যে, তারা পুরুষদের সাথে মেলামেশা, তাদের দেখা এবং তাদের অঙ্গভঙ্গি প্রত্যক্ষ করা ও কথা শোনার সময় হৃদয়ের আসক্তি থেকে দূরে থাকতে পারে। আর এর বিপরীত হওয়ার কারণেই তাদের প্রথম কাতারগুলোর নিন্দা করা হয়েছে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন» (৩)।
ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «তাঁর এই বাণী: «নারীদের সর্বোত্তম কাতার হলো পেছনেরটি» মূলত সেখানে অবস্থানের মাধ্যমে পুরুষদের সাথে মেলামেশা থেকে দূরত্ব বজায় থাকে বলেই তা সর্বোত্তম হয়েছে» (৪)।
ইমাম সিন্ধি (রহিমাহুল্লাহ) সুনান নাসায়ীর টিকায় বলেন: «অর্থাৎ সওয়াবের দিক থেকে সেগুলোতে সওয়াব সবচেয়ে কম। আর নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি এর বিপরীত; কেননা পুরুষদের নিঃশ্বাস নারীদের কাছাকাছি হলে এই আশঙ্কা থাকে যে, নারী পুরুষের জন্য এবং পুরুষ নারীর জন্য বিভ্রান্তির কারণ হবে। অতঃপর...
--------------------------------------------