(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أركان الصلاة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أركان الصلاة - وواجباتها، وسننها، ومكروهاتها، ومبطلاتها في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: د. سعيد بن على بن وهف القحطاني
الناشر: مطبعة سفير، الرياض
توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض
عدد الصفحات: 41
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433
নামাজের রুকনসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: নামাজের রুকনসমূহ - এবং এর ওয়াজিবসমূহ, সুন্নাতসমূহ, মাকরুহসমূহ, ও নামাজ ভঙ্গের কারণসমূহ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে
লেখক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহফ আল-কাহতাহানি
প্রকাশক: সাফির প্রেস, রিয়াদ
পরিবেশক: আল-জুরাইসি পাবলিশিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং ফাউন্ডেশন, রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ জিলকদ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مؤلفات سعيد بن علي بن وهف القحطاني
أركان الصلاة
وواجباتها، وسننها، ومكروهاتها، ومبطلاتها
في ضوء الكتاب والسنة
সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহফ আল-কাহতানির রচনাসমগ্র
নামাজের রুকনসমূহ (أركان)
এবং এর ওয়াজিবসমূহ (واجبات), সুন্নাতসমূহ (سنن), মাকরূহসমূহ (مكروهات) ও বাতিলকারী বিষয়সমূহ (مبطلات)
কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) আলোকে
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين، وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد:
فهذه رسالة مختصرة في: ((أركان الصلاة وواجباتها))، بيَّنت فيها بإيجاز: مفهوم أركانها، وعددها، وواجبات الصلاة، وسننها، ومكروهاتها، ومبطلاتها، بالأدلة من الكتاب والسنة.
وقد استفدت كثيرًا من تقريرات وترجيحات سماحة شيخنا الإمام العلامة عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رفع الله درجاته في الفردوس الأعلى.
والله أسأل أن يجعل هذا العمل القليل مباركًا، وخالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعني به في حياتي وبع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ (উপাস্য) নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের উপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি 'সালাতের রুকনসমূহ (أركان) ও তার ওয়াজিবসমূহ (واجبات)' সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এতে আমি সংক্ষেপে সালাতের রুকনসমূহের (أركান) ধারণা, এগুলোর সংখ্যা, সালাতের ওয়াজিবসমূহ (واجبات), সুন্নাতসমূহ (سنن), মাকরূহসমূহ (مكروهات) এবং সালাত বাতিলকারী বিষয়সমূহ (مبطلات) কুরআন ও সুন্নাহর দলীলসহ বর্ণনা করেছি।
আমি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ, ইমাম, আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ ইবন বাজ-এর সিদ্ধান্তসমূহ এবং অগ্রাধিকারমূলক বিশ্লেষণ (ترجيحات) থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি—আল্লাহ জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই নগণ্য আমলটিকে বরকতময় করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আর তিনি যেন আমার জীবনে এবং আমার মৃত্যুর পর...
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
مماتي، وينفع به كل من انتهى إليه؛ فإنه سبحانه خير مسؤول، وأكرم مأمول، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله، وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
المؤلف
حرر في ضحى يوم الجمعة الموافق 18/ 8/1420هـ
আমার মৃত্যুর পর, এবং এর মাধ্যমে উপকৃত করবেন প্রত্যেককে যার নিকট এটি পৌঁছাবে; নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহান, শ্রেষ্ঠতম প্রার্থিত সত্তা এবং মহত্তম আশার স্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
লেখক
১৮/০৮/১৪২০ হিজরি মোতাবেক শুক্রবার পূর্বাহ্নে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أركان الصّلاة وواجباتها وسننها
أولاً: أركان الصلاة:أفعال الصلاة وأقوالها تنقسم إلى ثلاثة أقسام: أركان: وهي ما لا يسقط جهلاً ولا عمدًا ولا سهوًا، وواجبات: وهي ما تبطل به عمدًا ويسقط جهلاً وسهوًا ويجبر بسجود السهو، وسنن: وهي ما لا تبطل به عمدًا ولا سهوًا.
الركن في اللغة جانب الشيء الأقوى، الذي لا يقوم ولا يتم إلا به، وسميت أركان الصلاة: تشبيهًا لها بأركان البيت الذي لا يقوم إلا بها، والركن في الاصطلاح: ماهية الشيء والذي يتركب منه ويكون جزءًا من أجزائه، ولا يوجد ذلك الشيء إلا به، وهو عبارة عن جزء الماهية: وهي الصورة (1).
وأركان الصلاة أربعة عشر ركنًا على النحو الآتي:
الأول: القيام في الفرض مع القدرة؛ لقول الله تعالى:
{حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُواْ للهِ
--------------------------------------------
নামাজের রুকনসমূহ (أركان الصلاة), ওয়াজিবসমূহ (واجبات) এবং সুন্নতসমূহ (سنن)প্রথমত: নামাজের রুকনসমূহ (أركان الصلاة):নামাজের কার্যাবলি ও কথাগুলো তিন ভাগে বিভক্ত: রুকনসমূহ (أركان): এগুলো এমন বিষয় যা অজ্ঞতাবশত, ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত কোনো অবস্থাতেই বাদ যায় না। ওয়াজিবসমূহ (واجبات): এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলে নামাজ বাতিল হয়ে যায়, তবে অজ্ঞতাবশত বা ভুলবশত বাদ পড়লে তা রহিত হয় এবং সাহু সিজদার মাধ্যমে তা সংশোধন করা যায়। এবং সুন্নতসমূহ (سنن): এগুলো ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত বাদ দিলে নামাজ বাতিল হয় না।
আভিধানিক অর্থে রুকন (ركن) হলো কোনো বস্তুর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক, যা ব্যতীত সেই বস্তু দণ্ডায়মান হতে পারে না এবং পূর্ণতা পায় না। নামাজের কার্যাবলিকে ঘরের খুঁটির সাথে সাদৃশ্য রেখে রুকন (أركان) নামকরণ করা হয়েছে, কারণ খুঁটি ছাড়া ঘর দণ্ডায়মান হতে পারে না। আর পারিভাষিক অর্থে রুকন (ركن) হলো কোনো বস্তুর মূল সত্তা, যা দ্বারা সেটি গঠিত হয় এবং যা তার অবিচ্ছেদ্য অংশের অন্তর্ভুক্ত; ওই রুকন ব্যতীত সেই বস্তুর কোনো অস্তিত্ব থাকে না। এটি মূলত মূল সত্তারই একটি অংশ: আর তা হলো এর অবয়ব (১)।
নামাজের রুকনসমূহ (أركان) হলো চৌদ্দটি, যা নিম্নরূপ:
প্রথম: সামর্থ্য থাকা সাপেক্ষে ফরজ নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে:
{তোমরা সকল নামাজের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
قَانِتِينَ} (1)؛ ولحديث عمران بن حصين رضي الله عنه قال: كانت بي بواسير، فسألت النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة؟ فقال: ((صلِّ قائمًا، فإن لم تستطع فقاعدًا، فإن لم تستطعْ فعلى جنب)) (2)؛ ولحديث مالك بن الحويرث رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((صلّوا كما رأيتموني أصلّي)) (3).
الثاني: تكبيرة الإحرام؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث المسيء صلاته: ((إذا قمت إلى الصلاة فكبر)) (4)؛ ولحديث علي رضي الله عنه يرفعه: ((مفتاح الصلاة الطّهور، وتحريمُها التكبير، وتحليلُها التسليم)) (5).
الثالث: قراءة الفاتحة مرتبة في كل ركعة؛ لحديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا صلاةَ لمَنْ لم يقرأْ بفاتحة الكتاب)) (6)، وفيها إحدى عشرة تشديدة،
--------------------------------------------
নিষ্ঠাবান অনুগত হয়ে} (১); এবং ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমার অর্শ ব্যাধি ছিল, তাই আমি নবী (সা.)-কে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: ((দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি সক্ষম না হও তবে বসে, আর যদি তাও সক্ষম না হও তবে পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়ো)) (২); এবং মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রা.) বর্ণিত নবী (সা.)-এর হাদিসের কারণে: ((তোমরা সেভাবেই নামাজ পড়ো যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ)) (৩)।
দ্বিতীয়: তাকবিরে তাহরিমা; নামাজে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসে নবী (সা.)-এর বাণীর কারণে: ((যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে তখন তাকবির বলবে)) (৪); এবং আলী (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু (يرفعه) হাদিসের কারণে: ((নামাজের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা, এর শুরু হলো তাকবির এবং এর সমাপ্তি হলো সালাম)) (৫)।
তৃতীয়: প্রত্যেক রাকাতে ধারাবাহিকভাবে সূরা ফাতিহা পাঠ করা; উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করল না তার নামাজ হলো না)) (৬), আর এতে এগারোটি তাশদিদ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فإن ترك حرفًا ولم يأت بما ترك لم تصحَّ صلاته.
الرابع: الركوع؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} (1)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه في قصة المسيء صلاته، وفيه: ((ثمّ اركعْ حتى تطمئنَّ راكعًا)) (2).
الخامس: الرفع من الركوع والاعتدال قائمًا؛ لقوله صلى الله عليه وسلم في حديث المُسيء صلاته، وفيه: ((ثمّ ارفعْ حتى تعدلَ قائمًا)) (3).
السادس: السجود على الأعضاء السبعة؛ لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} (4)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه في قصة المسيء صلاته، وفيه: ((ثمّ اسجدْ حتى تطمئنَّ ساجدًا)) (5)؛ ولحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((أُمرتُ أن أسجدَ على سبعة أعْظُمٍ: على الجبهة - وأشار بيده على أنفه - واليدين، والركبتين،
--------------------------------------------
যদি কেউ একটি অক্ষরও বাদ দেয় এবং যা বাদ পড়েছে তা আদায় না করে, তবে তার সালাত সঠিক হবে না।
চতুর্থ: রুকু করা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো এবং সিজদা করো} (১); এবং সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির ঘটনায় আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((অতঃপর রুকু করো যতক্ষণ না রুকু অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও)) (২)।
পঞ্চম: রুকু থেকে মাথা তোলা এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানো; সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর কারণে, যাতে রয়েছে: ((অতঃপর মাথা তোলো যতক্ষণ না সোজা হয়ে (تعدل) দাঁড়াও)) (৩)।
ষষ্ঠ: সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো এবং সিজদা করো} (৪); এবং সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির ঘটনায় আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((অতঃপর সিজদা করো যতক্ষণ না সিজদা অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও)) (৫); এবং ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: ((আমাকে সাতটি অস্থির (অঙ্গের) ওপর সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এবং তিনি হাত দিয়ে তাঁর নাকের দিকে ইশারা করলেন—উভয় হাত, উভয় হাঁটু,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأطراف القدمين)) (1).
السابع: الرفع من السجود؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((ثم ارفع حتى تطمئن جالسًا)) (2).
الثامن: الجلسة بين السجدتين، لقوله صلى الله عليه وسلم: ((حتى تطمئن جالسًا)) (3).
التاسع: الطمأنينة في جميع الأركان؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لَمّا علَّمَ المسيء صلاته كان يقول له في كل ركن: ((حتى تطمئنَّ)) (4) والطمأنينة: هي السكون بقدر الذكر الواجب، فلو لم يسكن لم يطمئن (5).
العاشر: التشهد الأخير؛ لحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه وفيه: ((لا تقولوا: السلامُ على الله، فإن الله هو السلام، ولكن قولوا: التحيات لله
… )) (6). ولفظه عند النسائي: كنا
--------------------------------------------
এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগ)) (১)।
সপ্তম: সেজদা থেকে মাথা তোলা; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((অতঃপর মাথা তোলো যতক্ষণ না স্থির হয়ে উপবেশন করো)) (২)।
অষ্টম: দুই সেজদার মধ্যবর্তী বৈঠক; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যতক্ষণ না স্থির হয়ে উপবেশন করো)) (৩)।
নবম: সমস্ত রুকনে স্থিরতা (طمأنينة) অবলম্বন করা; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ভুলভাবে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি তাকে প্রতিটি রুকনের ক্ষেত্রে বলছিলেন: ((যতক্ষণ না তুমি স্থির হও)) (৪) আর স্থিরতা (طمأنينة) হলো: ওয়াজিব জিকির পরিমাণ সময় শান্ত থাকা, সুতরাং যদি কেউ শান্ত না হয় তবে সে স্থিরতা (طمأنينة) অবলম্বনকারী হতে পারবে না (৫)।
দশম: শেষ তাশাহহুদ; আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((তোমরা বলো না: আল্লাহর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, কারণ আল্লাহ নিজেই সালাম (শান্তি), বরং তোমরা বলো: সমস্ত মৌখিক ইবাদত আল্লাহর জন্য
… )) (৬)। নাসায়ীতে এর শব্দরূপ হলো: আমরা ছিলাম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
نقول في الصلاة قبل أن يُفرض التشهد: السلام على الله، السلام على جبريل، وميكائيل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تقولوا هكذا، فإنَّ اللهَ هو السلام، ولكن قولوا: التحياتُ لله
… )) (1).
الحادي عشر: الجلوس للتشهد الأخير؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم فعله جالسًا، وداوم عليه، كما تقدم في الأحاديث، وقد أمرنا صلى الله عليه وسلم بالصلاة كصلاته، فقال: ((صلُّوا كما رأيتموني أصلِّي)) (2).
الثاني عشر: الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في التشهد الأخير؛ لقول الله تعالى: {إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (3)؛ ولحديث كعب بن عجرة (4) رضي الله عنه وفيه: ((يا رسول الله قد علمنا كيف نُسلِّمُ عليك، فكيف نُصلِّي عليك؟ قال: ((قولوا: اللهم
--------------------------------------------
আমরা নামাজের মধ্যে তাশাহহুদ (التشهد) নির্ধারিত (يفرض) হওয়ার পূর্বে বলতাম: আল্লাহর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, জিবরাঈল ও মিকাইলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((তোমরা এভাবে বলো না, কারণ আল্লাহ তাআলাই হলেন শান্তি (السلام), বরং তোমরা বলো: সকল মৌখিক ইবাদত (التحيات) আল্লাহর জন্য
… )) (১)।
একাদশতম: শেষ তাশাহহুদের (التشهد) জন্য উপবেশন; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বসা অবস্থায় সম্পাদন করেছেন এবং এর ওপর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন, যেমনটি পূর্ববর্তী হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাঁর নামাজের মতো করে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: ((তোমরা সেভাবে নামাজ পড়ো, যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ)) (২)।
দ্বাদশতম: শেষ তাশাহহুদের (التشهد) মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ (الصلاة) পাঠ করা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত (يصلون) বর্ষণ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ (صلوا) পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম (تسليماً) পেশ করো} (৩); এবং কা’ব বিন উজরা (৪) রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে কীভাবে সালাম (نسلم) পেশ করতে হয় তা জেনেছি, কিন্তু আপনার ওপর দরুদ (نصلي) কীভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন: ((তোমরা বলো: হে আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
صلِّ على محمد صلى الله عليه وسلم)) الحديث)) (1)؛ ولحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه وفيه: ((أمرنا الله أن نصلي عليك يا رسول الله، فكيف نصلي عليك؟ فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى تمنينا أنه لم يسأله، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((قولوا: اللهمَّ صلِّ على محمد صلى الله عليه وسلم)) الحديث (2).
الثالث عشر: الترتيب بين أركان الصلاة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم علم المسيء صلاته مرتبة بـ ((ثُمَّ))، فقال: ((إذا قمت إلى الصلاة فكبِّرْ، ثم اقرأْ ما تيسَّرَ معك مِنَ القرآن، ثمَّ اركعْ حتى تطمئنَّ راكعًا، ثم ارفعْ حتى تعتدلَ قائمًا، ثمَّ اسجدْ حتى تطمئنَّ ساجدًا، ثمَّ ارفعْ حتى تطمئنَّ جالسًا، ثمَّ اسجدْ حتى تطمئنَّ ساجدًا، ثمَّ ارفعْ حتى تطمئنَّ جالسًا، ثم افعلْ ذلك في صلاتك كلها)) (3)، وقال أبو أسامة في الأخير: ((حتى تستويَ قائمًا)) (4)؛ ولأن النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
"মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করুন..." - হাদিসের অবশিষ্টাংশ (الحديث) (১); এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: "আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা আপনার ওপর দরুদ পাঠ করি হে আল্লাহর রাসুল, তবে আমরা আপনার ওপর কীভাবে দরুদ পাঠ করব? তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরব থাকলেন, এমনকি আমরা আকাঙ্ক্ষা করলাম যে যদি প্রশ্নকারী তাঁকে প্রশ্ন না করতেন! অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা বলো: 'হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন'..." - হাদিসের অবশিষ্টাংশ (الحديث) (২)।
ত্রয়োদশ: নামাজের রুকনসমূহের (أركان) মধ্যে ধারাবাহিকতা (الترتيب) বজায় রাখা; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামাজে ভুলকারী ব্যক্তিকে 'অতঃপর' (ثم) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বিন্যস্তভাবে (مرتبة) শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বললেন: "যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে তখন তাকবির বলবে, অতঃপর কুরআনের যা তোমার জন্য সহজ তা পাঠ করবে, অতঃপর রুকু করবে যতক্ষণ না তুমি রুকু অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও, অতঃপর মাথা উঠাবে যতক্ষণ না তুমি সোজা হয়ে দাঁড়াও, অতঃপর সিজদাহ করবে যতক্ষণ না তুমি সিজদাহ অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও, অতঃপর মাথা উঠাবে যতক্ষণ না তুমি বসা অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও, অতঃপর পুনরায় সিজদাহ করবে যতক্ষণ না তুমি সিজদাহ অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও, অতঃপর মাথা উঠাবে যতক্ষণ না তুমি বসা অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও, এরপর তোমার পুরো নামাজে এভাবেই করবে" (৩)। এবং আবু উসামা শেষোক্ত বর্ণনায় বলেছেন: "যতক্ষণ না তুমি সোজা হয়ে দাঁড়াও" (৪); এবং কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
واظب على هذا الترتيب، وقال: ((صلّوا كما رأيتموني أصلّي)) (1).
الرابع عشر: التسليمتان؛ لحديث علي رضي الله عنه يرفعه: ((مفتاح الصلاة الطّهور، وتحريمها التّكْبير، وتحليلُها التسليم)) (2)؛ ولحديث عامر بن سعد عن أبيه رضي الله عنه قال: ((كنت أرى رسول الله صلى الله عليه وسلم يسلم عن يمينه وعن يساره حتى أرى بياض خده)) (3).
ثانيًا: واجبات الصلاة:واجبات الصلاة ثمانية، تبطل الصلاة بتركها عمدًا، وتسقط سهوًا وجهلاً، وتجبر بسجود السهو، وهي على النحو الآتي:
الأول: جميع التكبيرات غير تكبيرة الإحرام (4)؛ لحديث
--------------------------------------------
তিনি এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এবং বলেছেন: ((তোমরা সেভাবেই নামাজ পড়ো যেভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখেছ)) (১)।
চতুর্দশ: দুই দিকে সালাম ফেরানো; আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত মারফু (يرفعه) হাদিসের কারণে: ((নামাজের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা, এর তাহরিম বা শুরু হলো তাকবির এবং এর তাহলিল বা সমাপ্তি হলো সালাম)) (২); এবং আমের ইবন সাদ তাঁর পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ((আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফেরাতে দেখতাম, এমনকি আমি তাঁর গণ্ডদেশের শুভ্রতা দেখতে পেতাম)) (৩)।
দ্বিতীয়ত: নামাজের ওয়াজিবসমূহ:নামাজের ওয়াজিব হলো আটটি। ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো ত্যাগ করলে নামাজ বাতিল হয়ে যায়, আর ভুলবশত বা না জানার কারণে বাদ পড়লে তা রহিত হয়ে যায় এবং সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ করা হয়। সেগুলো হলো নিম্নরূপ:
প্রথম: তাকবিরে তাহরিমা ব্যতীত অন্যান্য সকল তাকবির (৪); হাদিসের কারণে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أنس رضي الله عنه يرفعه: ((إنما جُعلَ الإمامُ ليؤتمَّ به، فإذا كبَّر فكبروا)) (1)؛ ولحديث ابن عباس رضي الله عنهما قال عكرمة: رأيت رجلاً عند المقام يكبّر في كل خفض ورفع، وإذا قام وإذا وضع، فأخبرت ابن عباس رضي الله عنهما فقال: ((أوليس تلك صلاة النبي صلى الله عليه وسلم لا أم لك؟)) (2). وفي رواية: ((صليت خلف شيخ بمكةَ فكبّر ثنتين وعشرين تكبيرة، فقلت لابن عباس: إنه أحمق، فقال: ثكلتك أمك، سُنّة أبي القاسم صلى الله عليه وسلم)) (3)؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة يكبّر حين يقوم، ثم يكبّر حين يركع، ثم يقول: سمع الله لمن حمده حين يرفع صلبه من الركوع، ثم يقول وهو قائم: ربنا لك الحمد، ثم
--------------------------------------------
আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত: ((ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে যেন তাকে অনুসরণ করা হয়; সুতরাং তিনি যখন তাকবীর দিবেন, তোমরাও তাকবীর দাও)) (১); আর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, ইকরিমা বলেন: আমি মাকামে ইবরাহীমের নিকট এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে প্রত্যেক অবনত হওয়া ও উঠার সময় তাকবীর দিচ্ছিল, এবং যখন দাঁড়াত ও যখন সিজদাবনত হতো। আমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে এ সংবাদ দিলে তিনি বললেন: ((তোমার মা তোমার জন্য বিলাপ করুক! এটি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত নয়?)) (২)। অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: ((আমি মক্কায় এক বৃদ্ধের পেছনে সালাত আদায় করলাম, তিনি বাইশবার তাকবীর দিলেন। আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: সে তো নির্বোধ। তখন তিনি বললেন: তোমার মা তোমার জন্য বিলাপ করুক, এটি আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত (سنة))) (৩); আর আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন দাঁড়ানো অবস্থায় তাকবীর দিতেন, এরপর যখন রুকু করতেন তখনও তাকবীর দিতেন। রুকু থেকে পিঠ সোজা করার সময় তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেন: ‘রব্বানা লাকাল হামদ’, এরপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يكبر حين يهوي ثم يكبر حين يرفع رأسه، ثم يكبر حين يسجد، ثم يكبر حين يرفع رأسه، ثم يفعل ذلك في الصلاة كلها، حتى يقضيها، ويكبر حين يقوم من الثنتين بعد الجلوس)) (1).
الثاني: قول: سبحان ربي العظيم في الركوع؛ لحديث حذيفة رضي الله عنه يرفعه: ((فكان يقول في ركوعه: سبحان ربي العظيم)) (2)؛ ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((وأما الركوع فعظِّمُوا فيه الربَّ عز وجل)) (3).
الثالث: قول: ((سمع الله لمن حمده)) للإمام والمنفرد؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه يرفعه وفيه: ((ثم يقول: سمع الله لمن حمده إذا رفع صلبه من الركوع)) (4).
الرابع: قول: ربنا ولك الحمد للكل [الإمام، والمنفرد، والمأموم] أما الإمام والمنفرد؛ فلحديث أبي هريرة رضي الله عنه
--------------------------------------------
তিনি অবনত হওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, এরপর মাথা তোলার সময় তাকবীর বলতেন, এরপর সিজদাহ করার সময় তাকবীর বলতেন, পুনরায় মাথা তোলার সময় তাকবীর বলতেন। এভাবে তিনি পুরো নামাজ শেষ করা পর্যন্ত করতেন এবং দুই রাকাত শেষে বসার পর দাঁড়ানোর সময়ও তাকবীর বলতেন। (১)
দ্বিতীয়ত: রুকুতে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ বলা; হুজায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের কারণে যা তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন (يرفعه): "তিনি তাঁর রুকুতে বলতেন: সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম" (২); এবং নবী (সা.)-এর বাণীর কারণে: "আর রুকুতে তোমরা মহান রবের মহিমা ঘোষণা করো" (৩)।
তৃতীয়ত: ইমাম এবং একাকী নামাজ আদায়কারীর জন্য ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলা; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের কারণে যা তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন (يرفعه), যাতে রয়েছে: "এরপর তিনি যখন রুকু থেকে পিঠ সোজা করতেন তখন বলতেন: সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" (৪)।
চতুর্থত: সকলের [ইমাম, একাকী নামাজ আদায়কারী এবং মুক্তাদী] জন্য ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলা। ইমাম এবং একাকী নামাজ আদায়কারীর ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يرفعه وفيه: ((ثم يقول وهو قائم: ربنا ولك الحمد)) (1). وأما المأموم؛ فلحديث أنس رضي الله عنه يرفعه وفيه: ((وإذا قال: سمع الله لمن حمده فقولوا: ربنا ولك الحمد)) (2).
الخامس: قول: سبحان ربي الأعلى في السجود؛ لحديث حذيفة يرفعه وفيه: ((ثم سجد فقال: سبحان ربي الأعلى)) (3).
السادس: قول: ((ربِّ اغفر لي بين السجدتين))؛ لحديث حذيفة رضي الله عنه يرفعه وفيه: وكان يقول: ((ربِّ اغفر لي، ربِّ اغفر لي)) (4).
السابع: التشهد الأول؛ لحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: علَّمَنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نقول إذا جلسنا في الركعتين: التحيات لله، والصلوات، والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا عبده
--------------------------------------------
তিনি এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন (يرفعه), যাতে রয়েছে: ((অতঃপর তিনি দণ্ডায়মান অবস্থায় বলতেন: রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ)) (১)। আর মুক্তাদীর ক্ষেত্রে; আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন (يرفعه), তাতে রয়েছে: ((আর যখন তিনি (ইমাম) বলবেন: সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, তখন তোমরা বলো: রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ)) (২)।
পঞ্চম: সিজদাহয় ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা’ বলা; হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন (يرفعه), তাতে রয়েছে: ((অতঃপর তিনি সিজদাহ করলেন এবং বললেন: সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা)) (৩)।
ষষ্ঠ: দুই সিজদাহর মাঝে ‘রাব্বিগফিরলী’ বলা; হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন (يرفعه), তাতে রয়েছে: তিনি বলতেন: ((রাব্বিগফিরলী, রাব্বিগফিরলী)) (৪)।
সপ্তম: প্রথম তাশাহহুদ; আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের শিখিয়েছেন যে, যখন আমরা দুই রাকাত (শেষে) বসবো তখন যেন বলি: সমস্ত সম্মানজনক সম্ভাষণ আল্লাহর জন্য, সমস্ত সালাত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ورسوله (1)؛ ولحديث عبد الله بن بحينة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قام في صلاة الظهر وعليه جلوس، فلما أتم صلاته سجد سجدتين يكبِّر في كل سجدة وهو جالس قبل أن يسلِّم، وسجدهما الناس معه مكان ما نسي من الجلوس (2).
الثامن: الجلوس للتشهد الأول؛ لحديث عبد الله بن بحينة السابق وفيه: ((قام في صلاة الظهر وعليه جلوس، فلما أتم صلاته سجد سجدتين يكبر في كل سجدة وهو جالس، قبل أن يسلم وسجدهما الناس معه، مكان ما نسي من الجلوس)) (3).
ثالثًا: سنن الصلاة:وهي سنن أقوال وأفعال، ولا تبطل الصلاة بترك شيء منها عمدًا ولا سهوًا، وسنن الصلاة، هي ما عدا الشروط، والأركان، والواجبات، وهي على النحو
--------------------------------------------
...এবং তাঁর রাসূল (১); আর আব্দুল্লাহ ইবনে বুহাইনা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোহরের নামাজে (প্রথম তাশাহহুদের জন্য) বসা বাদ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর নামাজ শেষ করলেন, তখন সালাম ফেরানোর পূর্বে বসা অবস্থায় তিনি দুইবার সেজদাহ দিলেন এবং প্রতি সেজদায় তাকবির বললেন। আর তিনি যে বসা ভুলে গিয়েছিলেন তার পরিবর্তে মানুষও তাঁর সাথে সেই সেজদাহগুলো করল (২)।
অষ্টম: প্রথম তাশাহহুদের জন্য বসা; পূর্বে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে বুহাইনা-এর হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: "তিনি যোহরের নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন অথচ তাঁর ওপর বসা (ওয়াজিব) ছিল। অতঃপর যখন তিনি তাঁর নামাজ শেষ করলেন, তখন সালাম ফেরানোর আগে বসা অবস্থায় তিনি দুইবার সেজদাহ দিলেন এবং প্রতি সেজদায় তাকবির বললেন। আর মানুষও তাঁর সাথে সেই সেজদাহগুলো করল, যা তিনি বসা থেকে ভুলে গিয়েছিলেন তার পরিবর্তে" (৩)।
তৃতীয়ত: নামাজের সুন্নতসমূহ:এগুলো হলো কথা ও কাজের সুন্নতসমূহ, আর এগুলোর কোনোটি ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত ছেড়ে দিলে নামাজ বাতিল হয় না। নামাজের সুন্নত হলো শর্তসমূহ (شروط), রোকনসমূহ (أركান) এবং ওয়াজিবসমূহ (واجبات) ব্যতীত যা কিছু রয়েছে। আর সেগুলো নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الآتي (1):
1 - رفع اليدين حذو المنكبين أو الأذنين، مع تكبيرة الإحرام، وعند الركوع، وعند الرفع منه، وعند القيام من التشهد الأول؛ لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما (2)؛ ولحديث مالك بن الحويرث رضي الله عنه (3).
2 - وضع اليد اليمنى على اليد اليسرى على الصدر؛ لحديث وائل رضي الله عنه (4)؛ ولحديث سهل رضي الله عنه (5).
3 - النظر إلى موضع السجود في الصلاة؛ لحديث عشرة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم (6).
--------------------------------------------
নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ (১):
১ - তাকবিরে ইহরামের সময়, রুকুতে যাওয়ার সময়, রুকু থেকে উঠার সময় এবং প্রথম তাশাহহুদ শেষে দাঁড়ানোর সময় কাঁধ বা কান বরাবর উভয় হাত উত্তোলন করা; আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস (২) এবং মালিক ইবনে আল-হুওয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস (৩)-এর কারণে।
২ - বুকের ওপর বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা; ওয়ায়েল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস (৪) এবং সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস (৫)-এর কারণে।
৩ - নামাজে সিজদার জায়গার দিকে দৃষ্টি রাখা; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দশজন সাহাবি বর্ণিত হাদিস (৬)-এর কারণে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
4 - دعاء الاستفتاح؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه (1).
5 - التعوذ بالله من الشيطان؛ للآية؛ ولحديث أبي سعيد رضي الله عنه (2).
6 - البسملة؛ لحديث أنس رضي الله عنه (3).
7 - قول آمين بعد قراءة الفاتحة، يجهر بها في الجهرية ويُسرُّ في السّرية؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه (4).
8 - قراءة سورة بعد الفاتحة في الركعتين الأوليين، أو ما تيسَّرَ من القرآن؛ لحديث أبي قتادة رضي الله عنه (5).
9 - الجهر بالقراءة في الصلاة الجهرية؛ لحديث جبير بن مطعم رضي الله عنه (6)؛ ولغيره من الأحاديث (7).
10 - الإسرار في الصلاة السِّرية؛ لحديث خباب رضي الله عنه
--------------------------------------------
৪ - দো'আ আল-ইসতিফতাহ (সালাত শুরুর দো'আ); আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে (১)।
৫ - শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা; আয়াতের কারণে এবং আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে (২)।
৬ - বিসমিল্লাহ পাঠ করা; আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে (৩)।
৭ - সূরা ফাতিহা পাঠের পর 'আমীন' বলা, উচ্চস্বর বিশিষ্ট সালাতে তা উচ্চস্বরে এবং নিম্নস্বর বিশিষ্ট সালাতে নিচুস্বরে বলতে হয়; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে (৪)।
৮ - প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা পাঠ করা অথবা কুরআন থেকে যা সহজসাধ্য হয় তা পাঠ করা; আবু কাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে (৫)।
৯ - উচ্চস্বর বিশিষ্ট সালাতে কিরাআত উচ্চস্বরে পাঠ করা; জুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে (৬); এবং অন্যান্য হাদিসের ভিত্তিতে (৭)।
১০ - নিম্নস্বর বিশিষ্ট সালাতে কিরাআত নিচুস্বরে পাঠ করা; খাব্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأنهم كانوا يعرفون قراءة النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الظهر والعصر، باضطراب لحيته (1).
11 - السكتة اللطيفة بعد الفراغ من القراءة كلها؛ لحديث الحسن عن سمرة رضي الله عنه (2).
12 - وضع اليدين مفرجتي الأصابع على الركبتين كأنه قابض عليهما؛ لحديث أبي حُميد الساعدي رضي الله عنه (3).
13 - مدّ الظَّهْر في الركوع حتى لو صب عليه الماء لاستقر، وجعل الرأس حيال الظهر؛ لحديث رفاعة بن رافع رضي الله عنه (4)؛ ولحديث وابصة بن معبد رضي الله عنه (5).
14 - مجافاة اليدين عن الجنبين في الركوع؛ لحديث أبي حميد الساعدي رضي الله عنه (6).
15 - ما زاد على التسبيحة الواحدة في الركوع
--------------------------------------------
এবং তাঁরা জোহর ও আসরের সালাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিরাত পাঠের বিষয়টি বুঝতে পারতেন তাঁর দাড়ি মোবারকের নড়াচড়া দেখে (১)।
১১ - সম্পূর্ণ কিরাত শেষ করার পর সামান্য বিরতি (السكتة اللطيفة); সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত হাসানের হাদিসের কারণে (২)।
১২ - দুই হাত আঙুলগুলো ফাঁক করে হাঁটুদ্বয়ের ওপর রাখা, যেন তিনি সেগুলো আঁকড়ে ধরে আছেন; আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রা.)-এর হাদিসের কারণে (৩)।
১৩ - রুকুতে পিঠ সোজা করে রাখা, এমনকি তার ওপর পানি ঢেলে দিলেও যেন তা স্থির থাকে এবং মাথাকে পিঠের সমান্তরালে রাখা; রিফআহ বিন রাফি (রা.)-এর হাদিসের কারণে (৪) এবং ওয়াবিসাহ বিন মাবাদ (রা.)-এর হাদিসের কারণে (৫)।
১৪ - রুকুতে উভয় হাতকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখা; আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রা.)-এর হাদিসের কারণে (৬)।
১৫ - রুকুতে এক তাসবিহ (التسبيحة)-এর অতিরিক্ত যা পাঠ করা হয়--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والسجود؛ لحديث حذيفة بن اليمان رضي الله عنه (1).
16 - ما زاد على المرة الواحدة في سؤال الله المغفرة بين السجدتين؛ لحديث حذيفة رضي الله عنه (2).
17 - قول ((ملء السموات وملء الأرض، وملء ما شئت من شيء بعد)) بعد قول: ربنا لك الحمد؛ لحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه (3).
18 - وضع الركبتين قبل اليدين في السجود، ورفع اليدين قبل الركبتين في القيام؛ لحديث وائل بن حُجر رضي الله عنه (4).
19 - ضم أصابع اليدين في السجود؛ لحديث وائل رضي الله عنه (5).
20 - تفريج أصابع الرجلين في السجود؛ لحديث أبي حُميد رضي الله عنه (6).
21 - استقبال القبلة بأطراف أصابع اليدين والرجلين--------------------------------------------
এবং সিজদাহ; হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (১)।
১৬ - দুই সিজদার মাঝখানে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনায় একবারের বেশি পাঠ করা; হুযাইফা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (২)।
১৭ - 'রব্বানা লাকাল হামদ' বলার পর ((আকাশমন্ডলী পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা চান এমন কিছু দিয়ে পূর্ণ করে)) বলা; আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৩)।
১৮ - সিজদাহ করার সময় হাতের আগে হাঁটু রাখা, এবং দাঁড়ানোর সময় হাঁটুর আগে হাত তোলা; ওয়াইল বিন হুজর (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৪)।
১৯ - সিজদাহ করার সময় হাতের আঙুলগুলো একত্রে রাখা; ওয়াইল (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৫)।
২০ - সিজদাহ করার সময় পায়ের আঙুলগুলো ফাঁকা রাখা; আবু হুমাইদ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৬)।
২১ - হাত ও পায়ের আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে কিবলামুখী হওয়া--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
في السجود؛ لحديث أبي حُميد الساعدي (1).
22 - مجافاة العضدين عن الجنبين في السجود؛ لحديث عبد الله بن مالك بن بُحينة رضي الله عنه (2).
23 - مجافاة البطن عن الفخذين، والفخذين عن الساقين، والتفريج بين الفخذين؛ لحديث أبي حُميد رضي الله عنه (3).
24 - وضع اليدين حذو المنكبين أو الأذنين في السجود، والسجود بينهما؛ لحديث أبي حُميد رضي الله عنه (4)، وحديث وائل رضي الله عنه (5)؛ والبراء رضي الله عنه (6).
25 - ضم القدمين والعقبين ونصبهما في السجود؛ لحديث عائشة رضي الله عنها (7).
26 - الإكثار من الدعاء في السجود؛ لحديث أبي
--------------------------------------------
সেজদার ক্ষেত্রে; আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (১)।
২২ - সেজদার সময় দুই বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখা; আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে বুহাইনা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (২)।
২৩ - পেটকে দুই উরু থেকে, এবং দুই উরুকে দুই নলা থেকে পৃথক রাখা এবং দুই উরুর মাঝে ফাঁকা রাখা; আবু হুমাইদ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৩)।
২৪ - সেজদার সময় দুই হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর রাখা, এবং দুই হাতের মাঝখানে সেজদাহ করা; আবু হুমাইদ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৪), ওয়ািল (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৫) এবং বারা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৬)।
২৫ - সেজদায় দুই পা ও দুই গোড়ালি একত্রে মেলানো এবং সেগুলোকে খাড়া রাখা; আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে (৭)।
২৬ - সেজদার মধ্যে অধিক পরিমাণে দোয়া করা; আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
هريرة رضي الله عنه (1)؛ ولحديث ابن عباس رضي الله عنهما (2).
27 - افتراش الرجل اليسرى ونصب اليمنى في الجلوس بين السجدتين وفي التشهد الأول؛ لحديث عائشة رضي الله عنها (3).
28 - وضع اليد اليمنى على الفخذ اليمنى واليسرى على اليسرى إذا جلس في الصلاة، أو وضع الكفين على الركبتين، أو وضع الكف اليمنى على الفخذ اليمنى واليسرى على اليسرى ويُلْقِمُ كفّه اليسرى ركبته؛ لحديث عبد الله بن الزبير عن أبيه (4)؛ وحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهم (5).
29 - وضع الذارعين على الفخذين في التشهد، وفي الجلوس بين السجدتين؛ لحديث وائل بن حُجر رضي الله عنه (6).
--------------------------------------------
...আবু হুরায়রা (রা.) (১); এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে (২)।
২৭ - দুই সেজদার মাঝে এবং প্রথম তাশাহহুদে বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দেওয়া এবং ডান পা খাড়া করে রাখা; আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে (৩)।
২৮ - নামাজে বসার সময় ডান হাত ডান উরুর ওপর এবং বাম হাত বাম উরুর ওপর রাখা, অথবা উভয় হাতের তালু দুই হাঁটুর ওপর রাখা, অথবা ডান হাতের তালু ডান উরুর ওপর এবং বাম হাতের তালু বাম উরুর ওপর রাখা এবং বাম হাতের তালু দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরা; আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রা.) তাঁর পিতা থেকে যা বর্ণনা করেছেন (৪); এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে (৫)।
২৯ - তাশাহহুদে এবং দুই সেজদার মাঝে বসার সময় দুই বাহু দুই উরুর ওপর রাখা; ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
30 - قبض خِنصر وبِنصر اليد اليمنى في التشهد، والتّحْليق
بين الإبهام والوُسْطى، والإشارة بالسبابة وتحريكها إلى القبلة عند ذكر الله، وعند الدعاء؛ لحديث وائل بن حجر رضي الله عنه (1).
31 - جلسة الاستراحة قبل القيام إلى الركعة الثانية، والركعة الرابعة؛ لحديث مالك بن الحويرث رضي الله عنه (2)؛ ولحديث أبي حُميد السّاعدي رضي الله عنه (3)، وأبي هريرة رضي الله عنه (4).
32 - التورُّك في التشهد الثاني؛ لحديث أبي حُميد الساعدي رضي الله عنه (5).
33 - النظر إلى السبابة عند الإشارة بها في الجلوس؛ لحديث عبد الله بن الزبير (6)؛ولحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهم (7).
34 - الصلاة والتبريك على محمد وآل محمد، وعلى
--------------------------------------------
৩০ - তাশাহহুদে ডান হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুল বন্ধ রাখা, এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার সাহায্যে বৃত্ত (التّحْليق) তৈরি করা, আর আল্লাহ্র জিকিরের সময় এবং দোয়ার সময় তর্জনী দিয়ে ইশারা করা ও কিবলার দিকে তা নাড়ানো; ওয়ায়িল বিন হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে (১)।
৩১ - বিশ্রামের বৈঠক (جلسة الاستراحة) দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাকাতে দাঁড়ানোর পূর্বে; মালিক বিন আল-হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে (২); এবং আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস (৩) ও আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে (৪)।
৩২ - দ্বিতীয় তাশাহহুদে তাওয়াররুক (التورُّك) করা; আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে (৫)।
৩৩ - বসা অবস্থায় তর্জনী দিয়ে ইশারা করার সময় সেটির দিকে দৃষ্টি রাখা; আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবাইর-এর হাদিসের কারণে (৬); এবং আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাদিসের কারণে (৭)।
৩৪ - মুহাম্মদ এবং আলে মুহাম্মদের ওপর সালাত ও বরকত পেশ করা, এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إبراهيم وآل إبراهيم في التشهد الأول؛ لعموم الأدلة (1).
35 - الدعاء والتعوُّذ من أربع بعد التشهد الثاني؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه (2).
36 - الالتفات يمينًا وشمالاً في التسليمتين؛ لحديث عامر بن سعد عن أبيه رضي الله عنه (3).
37 - نيته في سلامه الخروج من الصلاة، والسلام على الملائكة والحاضرين؛ لأدلة كثيرة (4)، منها حديث جابر بن سمرة رضي الله عنه وفيه: ((علامَ تؤمِئُون بأيديكم كأنها أذناب خيل شُمُسٍ، إنما يكفي أحدَكم أن يضعَ يدَه على فخذه ثم يسلِّم على أخيه: من على يمينه وشماله)) (5).
مكروهات الصلاة ومبطلاتها:
أولاً: مكروهات الصلاة:ينبغي للمسلم العناية بصلاته والإقبال عليها بقلبه؛
--------------------------------------------
প্রথম তাশাহহুদে ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর দরুদ পাঠ করা; দলিলের ব্যাপকতার কারণে (১)।
৩৫ - দ্বিতীয় তাশাহহুদের পর চারটি বিষয় থেকে দোয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করা; আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে (২)।
৩৬ - দুই সালামের সময় ডানে ও বামে মুখ ফেরানো; আমের ইবনে সাদ কর্তৃক তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে (৩)।
৩৭ - সালাম প্রদানের মাধ্যমে সালাত থেকে বের হওয়ার এবং ফেরেশতা ও উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর সালাম প্রদানের নিয়ত করা; অনেক দলিলের কারণে (৪), যার মধ্যে রয়েছে জাবির ইবনে সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তাতে আছে: ((তোমরা কেন তোমাদের হাত দিয়ে এমনভাবে ইশারা করছ যেন তা অবাধ্য ঘোড়ার লেজ? তোমাদের প্রত্যেকের জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে তার হাত উরুর ওপর রাখবে, তারপর তার ভাইয়ের ওপর সালাম দেবে: যে তার ডানে ও বামে আছে)) (৫)।
সালাতের অপছন্দীয় (مكروهات) বিষয়াবলি ও তা বাতিলকারী (مبطلات) বিষয়াবলি:
প্রথমত: সালাতের অপছন্দীয় (مكروهات) বিষয়াবলি:একজন মুসলিমের উচিত তার সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং একাগ্রচিত্তে তাতে মনোনিবেশ করা;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لأنه يناجي ربه عز وجل؛ لحديث أنس رضي الله عنه يرفعه وفيه: ((إن أحدَكم إذا قام في صلاته فإنه يناجي ربَّه، أو إن ربَّه بينه
وبين القِبلة، فلا يبزُقنَّ أحدُكم قِبَل قبلته
… )) (1)؛ ولحديث ابن عمر رضي الله عنهما يرفعه وفيه: ((إذا كان أحدُكم يصلّي، فلا يبصُق قِبَل وجهه؛ فإن الله قِبَل وجهه إذا صلى)) (2). والصلاة لا تبطل بفعل ما يكره فيها ولكن كمال الأدب يقتضي البعد عن جميع المكروهات، ومنها:
1 - الالتفات لغير حاجة؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الالتفات في الصلاة، فقال: ((هو اختلاسٌ يختلِسُه الشيطانُ من صلاةِ أحدِكم)) (3)، والالتفات نوعان:
النوع الأول: التفات حِسّي، وعلاجه بالسكون في الصلاة، وعدم الحركة.
النوع الثاني: التفات معنوي بالقلب، وهذا علاجه
--------------------------------------------
কারণ তিনি তাঁর রব্ব আযযা ওয়া জাল্লা-এর সাথে গোপনে আলাপ করেন; আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত মারফু (يرفعه) হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে মূলত তার রব্বের সাথে সংলাপে রত থাকে, অথবা তার রব্ব তার এবং
কিবলার মাঝখানে থাকেন, সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কিবলার দিকে থুথু না ফেলে...
… )) (১); এবং ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত মারফু (يرفعه) হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: ((তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুথু না ফেলে; কেননা সে যখন সালাত আদায় করে তখন আল্লাহ তার সামনের দিকে থাকেন)) (২)। আর সালাতের ভেতর কোনো অপছন্দনীয় (يكره) কাজ করলে সালাত বাতিল হয়ে যায় না, তবে আদবের পূর্ণতা সকল অপছন্দনীয় (المكروهات) বিষয় থেকে দূরে থাকাকেই দাবি করে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - প্রয়োজন ছাড়া এদিক-ওদিক তাকানো (الالتفات); আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতে এদিক-ওদিক তাকানো (الالتفات) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: ((এটি একটি ছিনতাই, যা শয়তান তোমাদের কারো সালাত থেকে ছিনিয়ে নেয়)) (৩), আর এদিক-ওদিক তাকানো (الالتفات) দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এদিক-ওদিক তাকানো (التفات حسي), আর এর প্রতিকার হলো সালাতে স্থির থাকা এবং নড়াচড়া না করা।
দ্বিতীয় প্রকার: অন্তরের মাধ্যমে অর্থগত এদিক-ওদিক ফেরা (التفات معنوي), আর এর প্রতিকার হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
صعب شاقٌّ، إلا على من يسَّره الله عليه، ولكن من أعظم العلاج استحضار عظمة الله، والوقوف بين يديه،
والاستعاذة بالله من الشيطان، والتفل عن اليسار ثلاثًا؛ لحديث عثمان بن أبي العاص أنه أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله إن الشيطان قد حال بيني وبين صلاتي وقراءتي يُلَبِّسُها عليّ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ذاك شيطان يقال له: خنزبٌ فإذا أحْسَسْتَه فتعوذْ بالله منه، واتفلْ عن يسارك ثلاثًا)) قال: ففعلت ذلك فأذهبه الله عني (1).
2 - رفع البصر إلى السماء؛ لحديث أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما بالُ أقوامٍ يرفعون أبصارَهم إلى السماء في صلاتهم))؟ فاشتدَّ قوله في ذلك حتى قال: ((لينتهُنَّ عن ذلك أو لتُخَطَفَنَّ أبصارُهم)) (2).
3 - افتراش الذراعين في السجود؛ لحديث أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((اعتدِلوا في السجود، ولا يبسطُ
--------------------------------------------
এটি কঠিন ও শ্রমসাধ্য কাজ, তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন তার জন্য ভিন্ন। তবে এর মহান প্রতিকার হলো আল্লাহর মহিমা হৃদয়ে উপস্থিত করা এবং তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হওয়া,
শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করা; উসমান ইবনে আবিল আস-এর হাদিস অনুযায়ী যে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! শয়তান আমার এবং আমার সালাত ও তিলাওয়াতের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((ওটা হলো এক শয়তান, যাকে 'খিনজাব' বলা হয়। যখন তুমি তার উপস্থিতি অনুভব করবে, তখন আল্লাহর নিকট তার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং তোমার বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে।)) তিনি বলেন: আমি তা-ই করলাম এবং আল্লাহ আমার থেকে তা দূর করে দিলেন (১)।
২ - আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করা; আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস অনুযায়ী যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((লোকদের কী হলো যে তারা তাদের সালাতে আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করছে?)) এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত কঠোর হলো, এমনকি তিনি বললেন: ((তারা যেন অবশ্যই এ থেকে বিরত থাকে, অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়া হবে)) (২)।
৩ - সিজদাহর সময় দুই বাহু বিছিয়ে রাখা; আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস অনুযায়ী যে, তিনি বলেছেন: ((তোমরা সিজদাহর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করো, এবং বিছিয়ে দিও না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أحدُكم ذراعيه انبساطَ الكلب)) (1).
4 - التخصر؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: ((نهى رسول
الله صلى الله عليه وسلم أن يصلي الرجل مختصِرًا)) (2)؛ ولقول عائشة رضي الله عنها ((أنها كانت تكره أن يجعل المصلي يدَه في خاصرته، وتقول: إن اليهود تفعله)) (3).
5 - النظر إلى ما يلهي ويشغل؛ لحديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى في خميصة (4) لها أعلام، فنظر إلى أعلامها نظرة، فلما انصرف قال: ((اذهبوا بخميصتي هذه إلى أبي جَهْمٍ، وائتوني بأنجبانية (5) أبي جَهْم؛ فإنها ألهتني آنفًا عن صلاتي)) (6).
6 - الصلاة إلى ما يشغل ويُلهي؛ لحديث أنس رضي الله عنه
--------------------------------------------
[তোমাদের] কেউ যেন তার দুই বাহুকে কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়)) (১)।
৪ - কোমরে হাত রাখা; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তিকে নামাজে কোমরে হাত রেখে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন)) (২); এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর উক্তি অনুযায়ী ((তিনি অপছন্দ করতেন যে মুসল্লি তার হাত কোমরে রাখবে, এবং তিনি বলতেন: ইহুদিরা এরূপ করে)) (৩)।
৫ - মনোযোগ নষ্টকারী ও বিভ্রান্তিকর বস্তুর দিকে তাকানো; আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার নকশাযুক্ত একটি চাদরে (৪) নামাজ আদায় করলেন, অতঃপর তিনি তার নকশার দিকে একবার তাকালেন। নামাজ শেষ করে তিনি বললেন: ((আমার এই চাদরটি আবু জাহমের কাছে নিয়ে যাও এবং আবু জাহমের কাছ থেকে আনজাবানিয়্যাহ (৫) নিয়ে আসো; কারণ এটি এখনই আমার নামাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছিল)) (৬)।
৬ - মনোযোগ বিঘ্নকারী ও বিভ্রান্তিকর বস্তুর সামনে নামাজ পড়া; আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: كان قرام (1) لعائشة سترت به جانب بيتها، فقال
النبي صلى الله عليه وسلم: ((أميطي عنا قرامك؛ فإنه لا تزال تصاويرُه تعرِض [لي] في صلاتي)) (2).
7 - الإقعاء المذموم؛ لحديث عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم وفيه: ((وكان ينهى عن عقبة الشيطان)) (3)، هذا الإقعاء المكروه وهو: أن يلصق أليتيه بالأرض، وينصب ساقيه، ويضع يديه على الأرض كما يقعي الكلب وغيره من السباع، وهذا الإقعاء على هذه الصفة مكروه باتفاق العلماء (4).
وقد جاء نوع آخر في جواز الإقعاء بل سنيته، فعن طاوس، قال: قلنا لابن عباس في الإقعاء على القدمين فقال: ((هي السنة)) فقلنا له: إنا لنراه جفاءً بالرجل، فقال
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আয়েশা (রা.)-এর একটি রঙিন পাতলা পর্দা (১) ছিল যা দিয়ে তিনি তাঁর ঘরের একপাশ ঢেকে রেখেছিলেন। অতঃপর
নবী (সা.) বললেন: "আমাদের থেকে তোমার এই পর্দাটি সরিয়ে নাও; কারণ এর ছবিগুলো আমার সালাতের মধ্যে বারবার [আমার] সামনে আসছে" (২)।
৭ - নিন্দনীয় ইকআ (পাছার ওপর বিশেষ ভঙ্গিতে বসা); আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী (সা.)-এর হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: "তিনি শয়তানের বসার ভঙ্গি (উকবাতুশ শায়তান) থেকে নিষেধ করতেন" (৩)। এটি হলো সেই অপছন্দনীয় (مكروه) ইকআ, যা হলো: নিজের পাছা জমিনে লাগানো, দুই পা খাড়া রাখা এবং দুই হাত জমিনে রাখা, যেভাবে কুকুর ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণী বসে। এই পদ্ধতিতে বসা আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে অপছন্দনীয় (مكروه) (৪)।
ইকআ জায়েজ হওয়া বরং এটি সুন্নাত (سنة) হওয়ার ব্যাপারে অন্য একটি বর্ণনা এসেছে। তাউস (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা ইবনে আব্বাস (রা.)-কে দুই পায়ের ওপর ইকআ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "এটিই সুন্নাত (سنة)।" আমরা তাঁকে বললাম: আমরা তো একে পায়ের প্রতি রূঢ়তা মনে করি। তখন তিনি বললেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ابن عباس: ((بل هي سنة نبيكم صلى الله عليه وسلم)) (1)، وقد ذكر النووي
رحمه الله أن العلماء اختلفوا اختلافًا كثيرًا في الإقعاء
وتفسيره، ثم قال: ((والصواب الذي لا معدل عنه أن الإقعاء نوعان: أحدهما: أن يلصق أليتيه بالأرض وينصب ساقيه ويضع يديه على الأرض، كإقعاء الكلب
… وهذا النوع هو المكروه الذي ورد فيه النهين، والنوع الثاني: أن يجعل أليتيه على عقبيه بين السجدتين، وهذا هو مراد ابن عباس بقوله: ((سنة نبيكم صلى الله عليه وسلم)) (2) فظهر أن الإقعاء الذي اختار ابن عباس وغيره من العبادلة أنه من السنة: هو وضع الأليتين على العقبين بين السجدتين والركبتين على الأرض (3) وهناك نوع ثالث للإقعاء وهو أن يفرش
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস: ((বরং এটি তোমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة))) (১), আর ইমাম নববী
রহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, আলেমগণ ইকআ (الإقعاء)
এবং এর ব্যাখ্যা নিয়ে অনেক মতপার্থক্য করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: ((সঠিক কথা, যা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো উপায় নেই তা হলো, ইকআ (الإقعاء) দুই প্রকার: প্রথমটি হলো: পাছাদ্বয় মাটিতে লাগানো এবং পায়ের নলা খাড়া রাখা ও হাত মাটিতে রাখা, কুকুরের বসার মতো
… আর এই প্রকারটি হলো অপছন্দনীয় (مكروه) যে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: দুই সিজদার মাঝখানে দুই গোড়ালির ওপর পাছাদ্বয় রাখা; আর ইবনে আব্বাসের উক্তি: ((তোমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة))) (২) দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য।)) সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য ইবাদিলাহগণ (العبادلة) যে ইকআ (الإقعاء)-কে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তা হলো দুই সিজদা এবং দুই হাঁটুর মাঝখানে দুই গোড়ালির ওপর পাছাদ্বয় রাখা (৩)। আর ইকআ (الإقعاء)-এর একটি তৃতীয় প্রকারও রয়েছে, আর তা হলো বিছিয়ে বসা (افتراش)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قدميه فيجعل ظهورهما نحو الأرض ويجلس (1) على
عقبيه (2).
8 - عبث المصلي بجوارحه، أو مكانه لغير حاجة؛ لحديث معيقيب رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في الرجل يسوِّي التراب حيث يسجد، قال: ((إن كنت فاعلاً فواحدة)) (3).
9 - تشبيك الأصابع، وفرقعتها في الصلاة؛ لحديث كعب بن عُجرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا توضأ أحدُكم فأحسنَ وضوءَه، ثم خرج عامدًا إلى المسجد فلا يشبكن بين أصابعه؛ فإنه في صلاة)) (4). فمن كان في الصلاة فهو
--------------------------------------------
পায়ের পাতা দুটি রাখবেন, ফলে সেগুলোর পিঠ মাটির দিকে থাকবে এবং তিনি তাঁর দুই গোড়ালির ওপর বসবেন (১) (২)।
৮ - নামাজি ব্যক্তির প্রয়োজন ছাড়া নিজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা নামাজের স্থান নিয়ে নাড়াচাড়া (عبث) করা; মুআইকিব (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার স্থানে মাটি সমানকারী এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন: ((যদি তোমাকে তা করতেই হয়, তবে একবার করো)) (৩)।
৯ - নামাজের মধ্যে আঙ্গুলসমূহ একটির ভেতরে অন্যটি প্রবেশ করানো (تشبيك الأصابع) এবং আঙ্গুল ফুটানো; কাব বিন উজরাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যখন ভালোভাবে অজু করে, অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে যেন তার আঙ্গুলসমূহ একটির ভেতরে অন্যটি প্রবেশ না করায়; কারণ সে নামাজের মধ্যেই আছে)) (৪)। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজে থাকে সে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরকানুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أولى بالنهي (1)؛ ولقول ابن عمر رضي الله عنهما في الذي يصلي
وهو مشبك بين يديه: ((تلك صلاة المغضوب عليهم)) (2). والتشبيك بين الأصابع يكره أثناء الذهاب إلى الصلاة، وفي أثناء الصلاة، أما بعد الصلاة فلا بأس به (3)؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه يرفعه وفيه: ((صلى بنا ركعتين ثم سلم فقام إلى خشبة معروضة في المسجد فاتكأ عليها كأنه غضبان ووضع يده اليمنى على اليسرى وشبك بين أصابعه
… الحديث)) (4).
10 - الصلاة بحضرة الطعام؛ لحديث عائشة رضي الله عنها
--------------------------------------------
এটি নিষেধাজ্ঞার অধিক দাবিদার (১); এবং ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সেই ব্যক্তির সম্পর্কে উক্তির কারণে যে নামায পড়ছিল
এমতাবস্থায় যে সে তার হাতসমূহ একে অপরের আঙুলে প্রবেশ করিয়ে রেখেছিল (তাশবিক): ((এটি তাদের নামায যাদের ওপর আল্লাহ ক্রোধান্বিত হয়েছেন)) (২)। আর আঙুলে আঙুল প্রবেশ করানো (তাশবিক) নামাযে যাওয়ার সময় এবং নামায চলাকালীন মাকরূহ (يكره), তবে নামাযের পর এতে কোনো সমস্যা নেই (৩); আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফু (يرفعه) হাদিসের কারণে যাতে রয়েছে: ((তিনি আমাদের নিয়ে দুই রাকাত নামায পড়লেন, এরপর সালাম ফিরালেন এবং মসজিদের সামনের দিকে রাখা একটি কাঠের খুঁটির দিকে এগিয়ে গেলেন। তিনি সেটির ওপর এমনভাবে হেলান দিলেন যেন তিনি রাগান্বিত, আর তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখলেন এবং আঙুলে আঙুল প্রবেশ করালেন
… হাদিস)) (৪)।
১০ - খাবারের উপস্থিতিতে নামায আদায়; আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে
--------------------------------------------