(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: -)
أبراج الزجاج في سيرة الحجاج   (عبد الرحمن بن وهف القحطاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أبراج الزجاج في سيرة الحجاج

المؤلف: عبد الرحمن بن سعيد بن علي بن وهف القحطاني (ت 1422هـ)

تحقيق: د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني

الناشر: مطبعة سفير، الرياض

توزيع: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 130

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1433

হাজ্জাজের জীবনীতে কাঁচের মিনারসমূহ   (আব্দুর রহমান বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: হাজ্জাজের জীবনীতে কাঁচের মিনারসমূহ

লেখক: আব্দুর রহমান বিন সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি (মৃত্যু ১৪২২ হি.)

তাহকিক: ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহতানি

প্রকাশক: সাফির প্রিন্টিং প্রেস, রিয়াদ

পরিবেশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৩০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-কদ ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: -)
أبراج الزجاج

في سيرة الحجاج

 

إعداد عبد الرحمن بن سعيد بن علي بن وهف رحمه الله

1403هـ- 1422هـ

تحقيق

د. سعيد بن علي بن وهف القحطاني
কাঁচের মিনারসমূহ

হাজ্জাজের জীবনী প্রসঙ্গে

 

প্রস্তুত করেছেন আবদুর রহমান বিন সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)

১৪০৩ হিজরী- ১৪২২ হিজরী

তাহকীক

ড. সাঈদ বিন আলী বিন ওয়াহাফ আল-কাহরানি
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، وسلم تسليماً كثيراً، أما بعد:

فهذه رسالة مختصرة مفيدة في سيرة الحجاج بن يوسف أمير العراق، كتبها الابن الشاب، وقد سمّاها رحمه الله: ((أبراج الزجاج في سيرة الحجاج))، وهي رسالة نافعة جداً، بيَّن فيها رحمه الله تعالى: نسب الحجاج، ومولده، وأسرته، وعدد أولاده، وزوجاته، وأخباره معهنّ، وبداية إمارته، وحال الحجاج قبل الإمارة، وقصة قتله لعبد الله بن الزبير رضي الله عنهما، وكيف تولى إمارة العراق، وفتوحات الحجاج، وصفات الحجاج، وإصلاحاته، وما قيل فيه من مدح، وما قيل فيه من ذم وهجاء، وخطابة الحجاج، ورسائله، ونقد الحجاج، وأقوال العلماء فيه، وما ذكر فيه من أحلام ورُؤىً بعد موته، وذكر وقت وفاته، وأثر وفاته على بعض الناس، ثم ذكر الابن عبد الرحمن رحمه الله خاتمة البحث، ثم التوصيات، ثم قائمة المراجع التي رجع إليها في سيرة الحجاج، وعندما رأيت هذا الترتيب الجميل، والاختصار المفيد، أحببت أن أقوم بإخراج هذه الرسالة التي توضح الحقيقة في شأن الحجاج، والله أسأل أن ينفع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

ইরাকের আমির হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জীবনী সম্পর্কে এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও উপকারী পুস্তিকা। তরুণ পুত্র এটি লিখেছেন এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এর নামকরণ করেছেন: "আবরাজিয যুজাজ ফি সিরাতিল হাজ্জাজ" (হাজ্জাজের জীবনীতে কাঁচের মিনারসমূহ)। এটি অত্যন্ত উপকারী একটি রিসালাহ, যাতে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) হাজ্জাজের বংশপরিচয়, তাঁর জন্ম, তাঁর পরিবার, তাঁর সন্তানের সংখ্যা, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁদের সাথে তাঁর ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন। সেইসাথে তাঁর শাসনের সূচনা, শাসনের পূর্বে হাজ্জাজের অবস্থা, আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে হত্যার কাহিনী, কীভাবে তিনি ইরাকের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন, হাজ্জাজের বিজয়সমূহ, তাঁর গুণাবলি ও সংস্কারসমূহ, তাঁর প্রশংসায় ও নিন্দায় যা বলা হয়েছে, হাজ্জাজের বাগ্মিতা, তাঁর পত্রাবলি, হাজ্জাজের সমালোচনা এবং তাঁকে নিয়ে ওলামায়ে কেরামের উক্তি এতে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে দেখা বিভিন্ন স্বপ্ন, তাঁর মৃত্যুর সময়কাল এবং কিছু মানুষের ওপর তাঁর মৃত্যুর প্রভাব সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। অতঃপর পুত্র আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) গবেষণার উপসংহার, সুপারিশমালা এবং হাজ্জাজের জীবনী রচনায় তিনি যেসব তথ্যসূত্রের সাহায্য নিয়েছেন তার একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন। যখন আমি এই সুন্দর বিন্যাস এবং সারগর্ভ সংক্ষিপ্ততা দেখলাম, তখন আমি এই পুস্তিকাটি প্রকাশ করতে আগ্রহী হলাম যা হাজ্জাজের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৪)
بها الابن عبد الرحمن، وأن يجعلها له من العمل الصالح، وأن ينفعه بها، وأن يبلغه أعلى منازل الشهداء؛ فإنه سبحانه وتعالى الكريم المنان، الرؤوف الرحيم، ذو الفضل والجود والإحسان.

وأصل هذه الرسالة بحث أعده الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى في الصف الثاني الثانوي، الفصل الثاني في العام الدراسي 1420 - 1421هـ في ثانوية أبي عمرو البصري لتحفيظ القرآن الكريم بمدينة الرياض، أشرف عليه الأستاذ محمد السليم حفظه الله تعالى، وجزاه خيراً.

وعندما توفي الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى ذهبت إلى المدرسة وطلبت هذا البحث، فدفعه إليّ وكيل المدرسة الشيخ محمد العوشن، جزاه الله خيراً.

وعملي في هذه الرسالة على النحو الآتي:

1 - كتبت سيرة مختصرة للابن عبد الرحمن، والابن عبد الرحيم رحمهما الله تعالى.

2 - قمت بمطابقة الرسالة على أصلها المخطوط بخط الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى.

3 - أحلت إلى أماكن ومواضع فصول البحث ومباحثه في أصول كتب التأريخ والسير؛ لتوثيق معلومات البحث في مراجعه الأصلية.

4 - إذا أضفت كلمة أو جملة جعلتها بين معقوفين هكذا: [ … ].

5 - إذا أضفت شيئاً من الفوائد جعلتها في الحاشية؛ لرغبتي في بقاء الرسالة على أصلها، لعل الله أن ينفع بها كاتبها.

6 - أضفت مواقف أعلام التابعين مع الحجاج، ومواقفه معهم.
এর মাধ্যমে পুত্র আবদুর রহমানকে (পুরস্কৃত করেন), এবং এটিকে তার জন্য একটি নেক আমল হিসেবে গণ্য করেন, এবং তাকে এর দ্বারা উপকৃত করেন, আর তাকে শহীদদের সর্বোচ্চ মাকামে পৌঁছান; নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র ও মহান, অত্যন্ত দানশীল ও অনুগ্রহকারী, অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময়, মহানুভবতা, উদারতা ও ইহসানের অধিকারী।

আর এই পুস্তিকার মূল হলো একটি গবেষণা কর্ম যা পুত্র আবদুর রহমান (আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন) দ্বিতীয় সাময়িকী পরীক্ষায় দ্বিতীয় বর্ষের উচ্চ মাধ্যমিকে ১৪২০-১৪২১ হিজরি শিক্ষাবর্ষে রিয়াদ শহরের আবু আমর আল-বসরি হিফজুল কুরআন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রস্তুত করেছিল। এটি উস্তাদ মুহাম্মদ আস-সালিম (আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন এবং তাকে উত্তম প্রতিদান দিন)-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল।

আর যখন পুত্র আবদুর রহমান (আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন) ইন্তেকাল করেন, আমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম এবং এই গবেষণা পত্রটি চেয়েছিলাম। তখন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শায়খ মুহাম্মদ আল-আউশান (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন) এটি আমার নিকট হস্তান্তর করেন।

এই পুস্তিকায় আমার কাজ নিম্নরূপ:

১ - আমি পুত্র আবদুর রহমান এবং পুত্র আবদুর রহিম (আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়ের ওপর রহম করুন)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছি।

২ - আমি পুত্র আবদুর রহমান (আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন)-এর স্বহস্তে লেখা মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এই পুস্তিকাটির মিল করেছি।

৩ - আমি গবেষণার অধ্যায় এবং পরিচ্ছেদগুলোর বিষয়বস্তুকে ইতিহাস ও সীরাতগ্রন্থের মূল উৎসগুলোর দিকে ন্যস্ত করেছি; যাতে গবেষণার তথ্যগুলো তার মূল উৎস থেকে প্রামাণিক করা যায়।

৪ - আমি যদি কোনো শব্দ বা বাক্য যোগ করি, তবে তা তৃতীয় বন্ধনীর ভেতর এভাবে রেখেছি: [ … ]।

৫ - যদি আমি কোনো অতিরিক্ত ফায়দা যোগ করি, তবে তা পাদটীকায় রেখেছি; যাতে মূল পুস্তিকাটি তার আদি অবস্থায় বজায় থাকে, যেন আল্লাহ এর দ্বারা এর লেখককে উপকৃত করেন।

৬ - আমি হাজ্জাজের সাথে প্রখ্যাত তাবেয়ীদের অবস্থান এবং তাদের সাথে তার আচরণের বিষয়গুলো যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله من العمل المقبول للابن عبد الرحمن وشقيقه الابن عبد الرحيم رحمهما الله تعالى، وأن يجعلهما شهداءَ أحياءً عند ربهم يرزقون، وأن يجمعني بهما في أعلى منازل الشهداء في الفردوس الأعلى مع نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم ووالدينا، ومشايخنا، وذرياتنا، وأزواجنا، وأحبابنا في الله تعالى جميعاً؛ إنه على كل شيء قدير، وبالإجابة جدير.

وصلى الله وسلم على عبده ورسوله، نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه، ومن سار على دربهم إلى يوم الدين.

أبو عبد الرحمن

حرر ضحى يوم الجمعة 7/ 8/ 1424هـ.
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই আমলটিকে কেবলমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং একে (আমার) পুত্র আবদুর রহমান ও তার সহোদর ভাই পুত্র আবদুর রহীমের জন্য—আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন—কবুলযোগ্য আমল হিসেবে গণ্য করেন। আর তিনি যেন তাদের উভয়কে এমন জীবিত শহীদ হিসেবে কবুল করেন যারা তাদের রবের নিকট রিযিকপ্রাপ্ত হন। এবং তিনি যেন আমাকে তাদের উভয়ের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসের শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানে আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আমাদের পিতামাতা, আমাদের শায়খগণ, আমাদের সন্তানাদি, আমাদের স্ত্রীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমাদের সকল প্রিয়জনদের সাথে একত্রিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং দোআ কবুলের উপযুক্ত।

আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।

আবু আবদুর রহমান

লিখিত হয়েছে জুমার দিন পূর্বাহ্নে, ৭/ ৮/ ১৪২৪ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৬)
* مولد الابن عبد الرحمن رحمه الله، ونشأته، وطلبه للعلم، وأخلاقه، وما قال عنه العلماء، وطلاب العلم، والأساتذة، ومعلموه، وزملاؤه، ووفاته رحمه الله تعالى:

 

‌‌أولاً: مولده: ولد رحمه الله قبل صلاة الظهر في اليوم السابع والعشرين من ذي القعدة: 27/ 11/1403هـ في سكن جامع الفاروق بإسكان القوات المسلمة طريق الخرج في مدينة الرياض.

‌‌ثانياً: نشأته: نشأ بتوفيق الله تعالى ورعايته وفضله وإحسانه على ما نشأ عليه أهل التوحيد، وكان يتّصف بالذكاء منذ الطفولة المبكرة، فلم يدخل المدرسة إلا وهو يحفظ جزء عمّ، ويقرأ الأحرف العربية، وفي السنة الثانية الابتدائية اختبر في الجماعة الخيرية في خمسة أجزاء، فاجتاز بتقدير ممتاز، وكان يدرس في الفترة الصباحية في المدرسة، وفي الفترة المسائية بعد العصر في الجامع في حلقات القرآن الكريم على الشيخ حافظ قاري غلام محمد بن فيض الله، جزاه الله خيراً.

وكان الابن عبد الرحمن رحمه الله لا يحب اللعب في طفولته كما يحبه الأطفال، حتى في المدرسة، وقد أخبرني رحمه الله أنه يجلس والطلاب يعلبون في ملعب المدرسة، وقد كان رحمه الله يذهب من البيت في سيارة ويرجع إليه، ثم من البيت إلى المسجد، ولا يختلط مع أبناء الجيران، وكان ملازماً لي مدة حياته إلا إذا سافرت، وكان يحب أن يصلي دائماً خلف الإمام من صغره إلى أن مات رحمه الله تعالى.
পুত্র আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জন্ম, বেড়ে ওঠা, ইলম অর্জন, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তাঁর সম্পর্কে আলিমগণ, ইলম অন্বেষীগণ, অধ্যাপকগণ, শিক্ষকবৃন্দ ও সহপাঠীদের বক্তব্য এবং তাঁর মৃত্যু (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা):

 

‌‌প্রথমত: তাঁর জন্ম: তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১৪০৩ হিজরি সনের ২৭ যিলকদ যোহরের সালাতের পূর্বে রিয়াদ শহরের খারজ রোডে অবস্থিত মুসলিম বাহিনীর আবাসনের অন্তর্গত জামে আল-ফারূকের বাসগৃহে জন্মগ্রহণ করেন।

‌‌দ্বিতীয়ত: তাঁর বেড়ে ওঠা: আল্লাহ তাআলার তাওফীক, তত্ত্বাবধান, অনুগ্রহ ও ইহসানে তিনি তাওহীদপন্থীদের আদর্শে বেড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। স্কুলে প্রবেশের পূর্বেই তিনি 'আম্মাপারা' হিফজ করেছিলেন এবং আরবি অক্ষরসমূহ পড়তে পারতেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় তিনি জামাআত খাইরিয়াতে ৫ পারার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং 'মুমতায' (চমৎকার) ফলাফলসহ উত্তীর্ণ হন। তিনি সকালে স্কুলে এবং বিকেলে আছরের পর মসজিদে শাইখ হাফেজ ক্বারী গুলাম মুহাম্মদ বিন ফয়যুল্লাহ-এর নিকট কুরআনের হালকায় পড়াশোনা করতেন, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

পুত্র আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) শৈশবে অন্যান্য শিশুদের মতো খেলাধুলা পছন্দ করতেন না, এমনকি স্কুলেও না। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যে, যখন ছাত্ররা স্কুলের মাঠে খেলাধুলা করত, তখন তিনি বসে থাকতেন। তিনি বাড়ি থেকে গাড়িতে করে যেতেন এবং গাড়িতেই ফিরতেন; এরপর বাড়ি থেকে মসজিদে যেতেন। তিনি পাড়া-প্রতিবেশীর ছেলেদের সাথে মিশতেন না। আমার সফরের সময়টুকু ছাড়া সারা জীবন তিনি সবসময় আমার সান্নিধ্যেই ছিলেন। তিনি শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবসময় ইমামের পেছনে সালাত আদায় করতে পছন্দ করতেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
* دخل‌‌ المدرسة الابتدائية في أوائل عام 1410هـ [مدرسة الإمام حمزة لتحفيظ القرآن الكريم] في حي الغبيراء بمدينة الرياض، وكان يثني على كثير من مدرسيها ويخصّ منهم الأستاذ سعيد بن سعد الطيشان، والأستاذ محمد بن سالم الهيشة، جزاهما الله خيراً، وتخرّج من هذه المدرسة عام 1415هـ.

*‌‌ ثم درس المتوسطة في المتوسطة الثانية لتحفيظ القرآن الكريم، وختم حفظ القرآن في الخامسة عشرة من عمره في هذه المدرسة [بتقدير ممتاز، وقد أخذ الدرجة كاملة 100%]، وذلك عام 1418هـ، وكان رحمه الله يثني على مديرها الشيخ حمّاد بن عبد الرحمن العمر حفظه الله، ويذكر من حسن خُلُقه وتربيته، وعنايته بالطلاب الشيء الكثير، كما يُثني كثيراً على مدرّس القرآن الكريم بهذه المدرسة: الشيخ إبراهيم التويم حفظه الله، ويذكر حرصه على نفع الطلاب واستقامتهم، ويثني على كثير من مدرّسي هذه المدرسة.

* ثم اختبر بعد ذلك في الجماعة الخيرية لتحفيظ القرآن فاجتاز بتقدير ممتاز أيضاً ولله الحمد، وذلك عام 1419هـ.

 

*‌‌ ثم انتقل إلى المرحلة الثانوية عام 1419هـفدرس في ثانوية أبي عمرو البصري لتحفيظ القرآن الكريم، وتعلّم فيها القراءات السبع مع مراجعة القرآن الكريم، وكان يثني كثيراً على الشيخ عادل بن عبد الله السنيد حفظه الله مدرّس القراءات، وقد أثّر على الابن عبد الرحمن في الإخلاص، وعلى الشيخ بدر بن ناصر العوَّاد حفظه الله مدرّس المواد الشرعية، وقد أثّر على
* তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪১০ হিজরির শুরুর দিকে প্রবেশ করেন [ইমাম হামজাহ কুরআন মুখস্থকরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়], যা রিয়াদ শহরের গুবাইরা মহল্লায় অবস্থিত। তিনি সেখানকার অনেক শিক্ষকের প্রশংসা করতেন এবং বিশেষভাবে উস্তাদ সাঈদ বিন সাদ আল-তাইশান ও উস্তাদ মুহাম্মদ বিন সালিম আল-হাইশাহ-র কথা উল্লেখ করতেন; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি এই বিদ্যালয় থেকে ১৪১৫ হিজরিতে শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

* অতঃপর তিনি মাধ্যমিকে পড়াশোনা করেন দ্বিতীয় কুরআন মুখস্থকরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তিনি এই বিদ্যালয়েই পনেরো বছর বয়সে কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন [চমৎকার ফলাফলসহ এবং তিনি পূর্ণ ১০০% নম্বর অর্জন করেছিলেন], আর তা ছিল ১৪১৮ হিজরি সালে। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি এই বিদ্যালয়ের পরিচালক শায়খ হাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-উমর (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর উত্তম চরিত্র, শিষ্টাচার শিক্ষা ও ছাত্রদের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্নের কথা প্রচুর উল্লেখ করতেন। একইভাবে তিনি এই বিদ্যালয়ের পবিত্র কুরআনের শিক্ষক শায়খ ইব্রাহিম আল-তুওয়াইম (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর অনেক প্রশংসা করতেন এবং ছাত্রদের কল্যাণ ও তাদের সঠিক পথে অটল রাখার বিষয়ে তাঁর একাগ্রতার কথা স্মরণ করতেন; সেই সাথে তিনি এই বিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষকের প্রশংসা করতেন।

* এরপর তিনি কুরআন মুখস্থকরণ কল্যাণ সংস্থায় পরীক্ষা দেন এবং সেখানেও চমৎকার ফলাফলসহ উত্তীর্ণ হন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর; আর তা ছিল ১৪১৯ হিজরি সালে।

 

* অতঃপর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পদার্পণ করেন ১৪১৯ হিজরিতে এবং আবু আমর আল-বাসরি কুরআন মুখস্থকরণ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি পবিত্র কুরআন পুনরাবৃত্তির পাশাপাশি সাত ক্বিরাত শিক্ষা করেন। তিনি ক্বিরাতের শিক্ষক শায়খ আদিল বিন আব্দুল্লাহ আল-সুনাইদ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর অনেক প্রশংসা করতেন, যিনি পুত্র আব্দুর রহমানের ইখলাস বা একনিষ্ঠতার ওপর প্রভাব ফেলেছিলেন। এছাড়াও তিনি শরয়ি বিষয়াবলির শিক্ষক শায়খ বদর বিন নাসির আল-আওয়াদ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর প্রশংসা করতেন, যিনি প্রভাব ফেলেছিলেন...
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৮)
الابن عبد الرحمن في البلاغة والشعر والأساليب الرائعة، ويشكرهما ويقول: ((هذان من العلماء))؛ لتأثره بتربيتهما؛ ولغزارة علمهما، وحرصهما على نفع الطلاب جزاهما الله خيراً، كما يُثني على وكيل هذه المدرسة: الشيخ محمد العوشن ويقول: ((هذا الرجل عليه سمت العلماء))، كما يُثني على كثير من مدرّسي هذه المدرسة جزاهم الله خيراً.

 

*‌‌ ثم تخرّج من هذه الثانوية عام 1422هـ، وكان من العشرة الأوائل على مدارس تحفيظ القرآن الكريم بمدينة الرياض، بتقدير ممتاز.

وأخبرني وكيل هذه المدرسة الشيخ محمد العوشن حفظه الله أن الابن عبد الرحمن رحمه الله أوصى بكتابه تقريب المعاني في شرح حرز الأماني في القراءات السبع للصف الثالث ثانوي في مدرسة أبي عمرو، وكان الابن عبد الرحمن قد كتب على هذا الكتاب بخط يده: ((هذا التقريب أُوصي به لطلاب ثالث ثانوي بعد مغادرتي المدرسة على خير إن شاء الله تعالى، والسلام عليكم)) (1).

 

*‌‌ ثم انتقل إلى المرحلة الجامعية، فدخل جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية في كلية الشريعة، قسم الشريعة، وذلك في 13 من جمادى الثاني عام 1422هـ، فدرّس بها بقيّة جمادى، ورجب، وشعبان، وستة عشر يوماً من رمضان رحمه الله.

--------------------------------------------

(1) نقل من خطه رحمه الله على الغلاف الداخلي من الكتاب المذكور.
পুত্র আব্দুর রহমান অলংকারশাস্ত্র, কবিতা ও চমৎকার শৈলীর ক্ষেত্রে তাঁদের প্রশংসা করেন এবং বলেন: "তাঁরা দুজনেই আলেমদের অন্তর্ভুক্ত"; তাঁদের লালনপালনে প্রভাবিত হওয়ার কারণে এবং তাঁদের জ্ঞানের প্রাচুর্য ও ছাত্রদের উপকারে তাঁদের প্রবল আগ্রহের কারণে। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি এই মাদরাসার উপ-প্রধান শাইখ মুহাম্মাদ আল-আওশান-এরও প্রশংসা করেন এবং বলেন: "এই ব্যক্তির মাঝে আলেমদের গাম্ভীর্য ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান"। এছাড়াও তিনি এই মাদরাসার অনেক শিক্ষকের প্রশংসা করেন, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

*‌‌ অতঃপর তিনি ১৪২২ হিজরি সালে এই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হন এবং তিনি রিয়াদ শহরের পবিত্র কুরআন মুখস্থকরণ মাদরাসাগুলোর মধ্যে মেধা তালিকায় প্রথম দশজনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এবং মুমতাজ (চমৎকার) ফলাফল অর্জন করেন।

এই মাদরাসার উপ-প্রধান শাইখ মুহাম্মাদ আল-আওশান (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) আমাকে জানান যে, পুত্র আব্দুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আবু আমর মাদরাসায় মাধ্যমিক তৃতীয় বর্ষের পাঠ্য 'সাবআ কিরাআতের' ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তাকরিবুল মাআনি ফি শারহি হিরজিল আমানি' বইটি অসিয়ত করে গেছেন। আব্দুর রহমান নিজ হাতে এই বইয়ের ওপর লিখেছিলেন: "ইনশাআল্লাহ তাআলা, মাদরাসা থেকে খায়েরের সাথে বিদায় নেওয়ার পর আমি এই 'তাকরিব' বইটি মাধ্যমিক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের জন্য অসিয়ত করছি। আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" (১)।

 

*‌‌ অতঃপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পদার্পণ করেন এবং ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরয়ি অনুষদের শরয়ি বিভাগে ১৪২২ হিজরির ১৩ই জুমাদাস সানি তারিখে ভর্তি হন। সেখানে তিনি জুমাদাস সানি মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোসহ রজব, শাবান এবং রমজানের ১৬ দিন পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

--------------------------------------------

(১) উল্লিখিত কিতাবের ভেতরের মলাটে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিজ হাতের লেখা থেকে সংকলিত।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌وكان من مشايخه في كلية الشريعة قسم الشريعة:

1 - الشيخ د. عبد الله بن مبارك البوصي يدرسه في الفقه.

2 - الشيخ د. عبد الحكيم العجلان، في الفقه أيضاً.

3 - الشيخ د. محمد المديميغ، في العقيدة ((الطحاوية)).

4 - الشيخ د. ناصر الجديع، في العقيدة ((الطحاوية)).

5 - الشيخ د. عبد العزيز العسكر في العقيدة ((الطحاوية)).

6 - الشيخ د. محمد الدريويش، في العقيدة ((الطحاوية)).

7 - الشيخ د. محمد بن عبد العزيز المبارك، في أصول الفقه.

8 - الشيخ د. إسماعيل بن خليل، في الحديث ((بلوغ المرام)).

9 - الشيخ د. محمد بن عبد الله الفهيد، في مصطلح الحديث.

10 - الشيخ د. فراج الحمد، في النحو ((أوضح المسالك)).

11 - الشيخ د. إبراهيم الفايز، في ((النظم)).

12 - الشيخ د. عبد الله العمرو، في ((النظم)).

13 - الشيخ د. شريف في ((علوم القرآن)).

14 - الشيخ د. جمعة، في ((التفسير)).

15 - الشيخ د. الزناتي، في ((التفسير)) أيضاً.
‌শরিয়াহ অনুষদের শরিয়াহ বিভাগে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন:

১ - শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন মুবারক আল-বুসি, তিনি তাঁকে ফিকহ পাঠদান করতেন।

২ - শায়খ ড. আবদুল হাকিম আল-আজলান, তিনিও ফিকহ শাস্ত্রে।

৩ - শায়খ ড. মুহাম্মদ আল-মাদাইমিগ, আকিদাহ ((তাহাবিয়্যাহ)) শাস্ত্রে।

৪ - শায়খ ড. নাসের আল-জুদি', আকিদাহ ((তাহাবিয়্যাহ)) শাস্ত্রে।

৫ - শায়খ ড. আবদুল আজিজ আল-আসকার, আকিদাহ ((তাহাবিয়্যাহ)) শাস্ত্রে।

৬ - শায়খ ড. মুহাম্মদ আদ-দারিবিশ, আকিদাহ ((তাহাবিয়্যাহ)) শাস্ত্রে।

৭ - শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-মুবারক, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে।

৮ - শায়খ ড. ইসমাইল বিন খলিল, হাদিস ((বুলুগুল মারাম)) শাস্ত্রে।

৯ - শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-ফুহাইদ, মুসতালাহুল হাদিস শাস্ত্রে।

১০ - শায়খ ড. ফাররাজ আল-হামদ, নাহু ((আওদাহুল মাসালিক)) শাস্ত্রে।

১১ - শায়খ ড. ইব্রাহিম আল-ফায়েজ, ((আন-নাজম)) শাস্ত্রে।

১২ - শায়খ ড. আবদুল্লাহ আল-আমর, ((আন-নাজম)) শাস্ত্রে।

১৩ - শায়খ ড. শরিফ, ((উলুমুল কুরআন)) শাস্ত্রে।

১৪ - শায়খ ড. জুমুআহ, ((তাফসির)) শাস্ত্রে।

১৫ - শায়খ ড. আজ-জানতি, তিনিও ((তাফসির)) শাস্ত্রে।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أما زملاؤه في كلية الشريعة قسم الشريعة فهم كثير جداً، لكن من أبرزهم وأحبهم إليه:

1 - عادل بن عبد الله المطرودي، وهو ممن يحفظ القرآن الكريم وصحيح البخاري ومسلم، وحفظ بعد ذلك السنن زاده الله علماً.

2 - عبد الرحمن بن عبد العزيز بن سليمان الشبيب.

3 - * ياسر بن محمد الحقيل، وهو قرين عبد الرحمن في البلاغة والشعر.

4 - تركي بن عبد الله الهويمل.

5 - عبد الله بن سعيد بن عبد الله بن بجاد القحطاني.

6 - عبد الرحمن بن سعود الدحيم.

7 - عبد العزيز بن سعد بن محمد الحمدِّي.

8 - عبد الحليم بن فاروق الأفغاني.

9 - عبد الحميد بن عبد الله المشعل.

10 - سلمان بن محمد بن ظافر الشهري.

11 - * يزيد بن علي المحسن.

12 - * عبد السلام بن سليمان الربيش.

13 - * عبد الرحمن بن سعد المبارك.

14 - * تركي بن إبراهيم المهنا.

15 - * متعب بن خالد الجندل.
শরীয়াহ অনুষদের শরীয়াহ বিভাগে তাঁর সহপাঠীদের সংখ্যা অনেক, তবে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট এবং তাঁর অত্যন্ত প্রিয় হলেন:

১ - আদিল বিন আবদুল্লাহ আল-মাত্রুদী; তিনি পবিত্র কুরআন এবং সহীহ বুখারী ও মুসলিম মুখস্থ করেছেন, অতঃপর তিনি সুনান গ্রন্থসমূহও মুখস্থ করেন, আল্লাহ তাঁর জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।

২ - আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ বিন সুলাইমান আশ-শাবিব।

৩ - * ইয়াসির বিন মুহাম্মদ আল-হুকাইল; তিনি অলঙ্কারশাস্ত্র ও কবিতার ক্ষেত্রে আবদুর রহমানের সমকক্ষ।

৪ - তুর্কি বিন আবদুল্লাহ আল-হুওয়াইমিল।

৫ - আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিজাদ আল-কাহতানি।

৬ - আবদুর রহমান বিন সাউদ আদ-দুহাইম।

৭ - আবদুল আজিজ বিন সাদ বিন মুহাম্মদ আল-হামাদি।

৮ - আবদুল হালিম বিন ফারুক আল-আফগানি।

৯ - আবদুল হামিদ বিন আবদুল্লাহ আল-মাশআল।

১০ - সালমান বিন মুহাম্মদ বিন জাফির আশ-শেহরি।

১১ - * ইয়াজিদ বিন আলী আল-মুহসিন।

১২ - * আবদুস সালাম বিন সুলাইমান আর-রুবাইশ।

১৩ - * আবদুর রহমান বিন সাদ আল-মুবারক।

১৪ - * তুর্কি বিন ইবরাহিম আল-মুহান্না।

১৫ - * মুতআব বিন খালিদ আল-জান্দাল।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
16 - * علي بن محمد المهوس.

17 - * عبد الله بن سليمان الرميان.

18 - * عبد الرحمن بن محمد الحمود.

19 - عبد الرحمن بن حمود البدراني.

20 - * عبد الله بن صالح الهزاني.

21 - * عبد الرحمن بن عبد العزيز الجلعود (1).

--------------------------------------------

(1) كل اسم أمامه نجمة فهو زميل لعبد الرحمن رحمه الله في ثانوية أبي عمرو لتحفيظ القرآن الكريم، ثم في كلية الشريعة، قسم الشريعة.
১৬ - * আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মাহওয়াস।

১৭ - * আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আর-রুমাইয়ান।

১৮ - * আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আল-হামুদ।

১৯ - আব্দুর রহমান বিন হামুদ আল-বাদরানি।

২০ - * আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আল-হাযযানি।

২১ - * আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আযীয আল-জালউদ (১)।

--------------------------------------------

(১) প্রতিটি নাম যার সামনে তারকা চিহ্ন রয়েছে, তিনি আবু আমর তাহফীজুল কুরআন আল-কারীম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীতে শরীয়াহ অনুষদের শরীয়াহ বিভাগে আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সহপাঠী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ثالثاً: طلبه للعلم خارج المدارس النظامية:

راجع القرآن مرات عديدة على شيخه في جامع الفاروق بإسكان أفراد القوات المسلحة، وعلى مجموعة من المدرسين، وكان يحضر معي الدروس الليلية، وفجر الخميس عند سماحة شيخنا الإمام عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله تعالى، وذلك في السنوات الأخيرة في حياة شيخنا رحمه الله تعالى، ومن أهم طلبه للعلم ما يأتي:

1 - حفظ بعد حفظه القرآن الكريم: الأربعين النووية للإمام النووي رحمه الله.

2 - قرأ كتاب التوحيد للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، وذلك على فضيلة الشيخ عبد الله بن صالح القصير حفظه الله عام 1420هـ في مدينة الباحة، ولم يكمله؛ لطول نفس الشيخ في الشرح، ثم قرأ هذا الكتاب عليّ من أوله إلى آخره وذلك عام 1422هـ في مدينة الباحة قبل موته بأشهر، واستمع لشرحه كاملاً، وبدأ يحفظ هذا الكتاب، فحفظ قبل موته سبعة عشر باباً سمَّعها عليَّ واستمع لشرحها، وآخر هذه الأبواب {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ الله يَهْدِي مَن يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} (1).

3 - قرأ القواعد الحسان لتفسير القرآن للعلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله، على فضيلة الشيخ د. عبد الله بن عبد العزيز الخضير حفظه الله، وذلك عام 1420هـفي مدينة الباحة.

--------------------------------------------

(1) سورة القصصِ، الآية: 56.
তৃতীয়ত: প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে তার জ্ঞান অর্জন:

তিনি সশস্ত্র বাহিনীর আবাসন এলাকায় অবস্থিত জামে আল-ফারুকে তার শায়খের নিকট বহুবার কুরআন পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং একদল শিক্ষকের নিকটও। তিনি আমার সাথে আমাদের শায়খ মহামান্য ইমাম আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট রাতের পাঠসমূহ এবং বৃহস্পতিবার ফজর পরবর্তী পাঠসমূহে উপস্থিত থাকতেন। এটি ছিল আমাদের শায়খের (রহিমাহুল্লাহ) জীবনের শেষ বছরগুলোতে। তার জ্ঞান অর্জনের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

১ - পবিত্র কুরআন হিফজ করার পর তিনি যা মুখস্থ করেছেন: ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) সংকলিত আরবাঈনুন নববী।

২ - তিনি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) রচিত কিতাবুত তাওহীদ পাঠ করেছেন। এটি তিনি ১৪২০ হিজরিতে আল-বাহা শহরে সম্মানিত শায়খ আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-কুসাইর (হাফিযাহুল্লাহ)-এর নিকট পাঠ করেন। তবে শায়খের দীর্ঘ ব্যাখ্যার কারণে তিনি তা সম্পন্ন করতে পারেননি। অতঃপর তার মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্বে ১৪২২ হিজরিতে আল-বাহা শহরে তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই কিতাবটি আমার নিকট পাঠ করেন এবং এর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা শ্রবণ করেন। তিনি এই কিতাবটি হিফজ করতে শুরু করেন এবং মৃত্যুর পূর্বে সতেরোটি অধ্যায় মুখস্থ করেন যা তিনি আমাকে শুনিয়েছেন এবং তার ব্যাখ্যা শুনেছেন। এই অধ্যায়গুলোর সর্বশেষটি ছিল: {আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত করতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে হেদায়েত করেন এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন} (১)।

৩ - তিনি আল্লামা আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত আল-কাওয়ায়িদুল হিসান লি-তাফসীরিল কুরআন কিতাবটি ১৪২০ হিজরিতে আল-বাহা শহরে সম্মানিত শায়খ ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-খুদাইর (হাফিযাহুল্লাহ)-এর নিকট পাঠ করেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
4 - قرأ نخبة الفكر للحافظ ابن حجر على فضيلة الشيخ منصور السماري حفظه الله، وذلك عام 1420هـفي مدينة الباحة.

5 - قرأ عليَّ كتاب بلوغ المرام إلى نهاية كتاب الجنائز ثلاث مرات: المرة الأولى مستمعاً في الطائف عام 1420هـ، والمرة الثانية قرأه عليَّ بنفسه في الباحة عام 1420هـ، والمرة الثالثة في مدينة الرياض، وقد وصل إلى نهاية كتاب الزكاة، وبدأ في الصيام إلى الحديث رقم 676 [حديث حفصة أم المؤمنين رضي الله عنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من لم يُبَيِّت الصيام قبل الفجر فلا صيام له)) (1).

6 - قرأ عليَّ كتاب ((منهاج السالكين وتوضيح الفقه في الدين)) للعلامة السعدي رحمه الله، وصل فيه إلى نهاية كتاب الزكاة قبل موته رحمه الله.

7 - قرأ عليَّ كتاب ((كشف الشبهات)) كاملاً، للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، واستمع لشرحه.

8 - سَمِعَ ثلاثة الأصول للإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، خمس مرات، مع شرحها.

9 - قرأ عليَّ ((الدروس المهمة لعامة الأمة)) للإمام ابن باز رحمه الله مرتين، ولم يكمل الثانية؛ لموته رحمه الله.

10 - حفظ عليَّ الرحبية في الفرائض إلى باب الحساب عام 1420هـ،

--------------------------------------------

(1) رواه الخمسة.
4 - ১৪২০ হিজরি সালে আল-বাহা শহরে হাফেজ ইবনে হাজার রহ.-এর ‘নুখবাতুল ফিকর’ গ্রন্থটি সম্মানিত শায়খ মানসুর আস-সামারি হাফিজাহুল্লাহ-এর নিকট পাঠ করেছেন।

5 - আমার নিকট ‘বুলুগুল মারাম’ কিতাবটি জানাজা অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত তিনবার পাঠ করেছেন: প্রথমবার ১৪২০ হিজরিতে তায়েফ শহরে শ্রবণকারী হিসেবে, দ্বিতীয়বার ১৪২০ হিজরিতে আল-বাহা শহরে তিনি নিজেই আমার নিকট পাঠ করেছেন, এবং তৃতীয়বার রিয়াদ শহরে; সেখানে তিনি জাকাত অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং সিয়াম অধ্যায়ের ৬৭৬ নম্বর হাদিস পর্যন্ত শুরু করেছিলেন [উম্মুল মুমিনীন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না, তার রোজা হবে না”] (১)।

6 - আল্লামা সাদি রহ.-এর ‘মিনহাজুস সালিকিন ওয়া তাওদিহুল ফিকহ ফিদ দ্বীন’ কিতাবটি আমার নিকট পাঠ করেছেন; তাঁর মৃত্যুর পূর্বে তিনি এতে জাকাত অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।

7 - শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রহ.-এর ‘কাশফুশ শুবুহাত’ কিতাবটি সম্পূর্ণ আমার নিকট পাঠ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা শ্রবণ করেছেন।

8 - ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রহ.-এর ‘থালাথাতুল উসুল’ ব্যাখ্যাসহ পাঁচবার শ্রবণ করেছেন।

9 - ইমাম ইবনে বাজ রহ.-এর ‘আদ-দুরুসুল মুহিম্মাহ লি আম্মাতিল উম্মাহ’ কিতাবটি আমার নিকট দুইবার পাঠ করেছেন; তাঁর মৃত্যুর কারণে দ্বিতীয়বার পূর্ণ করতে পারেননি।

10 - ১৪২০ হিজরিতে ফরায়েজ শাস্ত্রের ‘আর-রাহবিয়্যাহ’ কিতাবটি হিসাব অধ্যায় পর্যন্ত আমার নিকট মুখস্থ শুনিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وراجعها مرات.

11 - قرأ عليَّ ((الفوائد الجلية في المباحث الفرضية)) للعلامة ابن باز رحمه الله إلى باب الحساب.

12 - قرأ عليَّ ((الدرر البهية في المسائل الفقهية)) للإمام الشوكاني إلى نهاية كتاب الحج، وذلك عام 1422هـفي مدينة الباحة قبل وفاته رحمه الله بأشهر.

13 - سَمِعَ ((العقيدة الواسطية مع شرحها)) ثلاث مرات: الأولى سمعها من الشيخ الدكتور حمد الشتوي في الطائف عام 1420هـ، والثانية والثالثة سمعها في دروسي في الرياض.

14 - سَمِعَ ((القواعد الخمس الكبرى)) من الدكتور علي بن راشد الدبيان، وذلك في الطائف عام 1420هـ.

15 - سَمِعَ الفرائض إلى باب الحساب من الشيخ بدر الجويان، وذلك في الطائف عام 1420هـ.

 

16 - له ثلاثة‌‌ بحوث مفيدة:

‌‌الأول: الجنة والنار من الكتاب والسنة المطهرة، وقد طُبع ولله الحمد ثلاث طبعات: الطبعة الأولى سبعة آلاف نسخة، والطبعة الثانية عشرة آلاف نسخة، والطبعة الثالثة عشرون ألف نسخة، ولله الحمد.

‌‌الثاني: غزوة فتح مكة في السنة المطهرة، وقد طبع والله الحمد.
এবং তা কয়েকবার পর্যালোচনা করেছেন।

১১ - তিনি আমার কাছে আল্লামা ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আল-ফাওয়াইদুল জালিইয়্যাহ ফিল মাবাহিছিল ফারদিয়্যাহ’ গ্রন্থটি গণিত অধ্যায় পর্যন্ত পড়েছেন।

১২ - তিনি আমার কাছে ইমাম শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ফিল মাসায়িলিল ফিকহিয়্যাহ’ গ্রন্থটি হজ অধ্যায়ের সমাপ্তি পর্যন্ত পড়েছেন; আর তা ছিল ১৪২২ হিজরী সনে আল-বাহা শহরে, তাঁর ইন্তেকালের কয়েক মাস পূর্বে (রহিমাহুল্লাহ)।

১৩ - তিনি তিনবার ‘ব্যাখ্যাসহ আক্বীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ’ শুনেছেন: প্রথমবার ১৪২০ হিজরী সনে তায়েফে শাইখ ড. হামাদ আশ-শাতভী থেকে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার রিয়াদে আমার পাঠদানগুলোতে শুনেছেন।

১৪ - তিনি ১৪২০ হিজরী সনে তায়েফে ড. আলী বিন রাশিদ আদ-দুবইয়ান থেকে ‘আল-কাওয়াইদুল খামসুল কুবরা’ (পাঁচটি বৃহৎ মূলনীতি) শুনেছেন।

১৫ - তিনি ১৪২০ হিজরী সনে তায়েফে শাইখ বদর আল-জুয়াইয়ান থেকে ফারাইয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রের গণিত অধ্যায় পর্যন্ত শুনেছেন।

 

১৬ - তাঁর তিনটি উপকারী গবেষণা রয়েছে:

প্রথম: কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর আলোকে জান্নাত ও জাহান্নাম, আল্লাহর প্রশংসায় এটি তিনবার মুদ্রিত হয়েছে: প্রথম সংস্করণ সাত হাজার কপি, দ্বিতীয় সংস্করণ দশ হাজার কপি এবং তৃতীয় সংস্করণ বিশ হাজার কপি, সকল প্রশংসা আল্লাহর।

দ্বিতীয়: পবিত্র সুন্নাহর আলোকে মক্কা বিজয় যুদ্ধ, এটিও মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহর প্রশংসা।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الثالث: أبراج الزجاج في سيرة الحجاج، وقد طبع ولله الحمد.

17 - وُجد له تعليقات مفيدة على بعض كتبه التي قرأها في الحلقات العلمية رحمه الله منها ما وُجد على كتاب منهج السالكين وتوضيح الفقه في الدين للعلامة السعدي رحمه الله، فقد كتب الابن عبد الرحمن رحمه الله على مقدمة هذا الكتاب الكلمة المفيدة الآتية:

 

‌‌أ - فضل العلم:

1 - العلم إرث الأنبياء عليهم الصلاة والسلام.

2 - العلم يبقى والمال يفنى.

3 - العلم لا يتعب صاحبه في الحراسة.

4 - العلم يوصل إلى أن يكون صاحبه من الشهداء على الحق.

5 - أهل العلم أحد صنفي ولاة الأمر.

6 - لم يرغِّب النبي صلى الله عليه وسلم في أن يغبط أحدٌ أحداً على شيء إلا على العلم [صاحب القرآن الذي يعمل به]،وصاحب المال [الذي ينفقه في الحق].

7 - العلم طريق إلى الجنة.

8 - من وُفِّق للعلم فقد أراد الله به خيراً.

9 - إن الله يرفع صاحب العلم بعلمه.

 

‌‌ب - آداب طالب العلم:

1 - الإخلاص لله سبحانه.
তৃতীয়: আবরাজুজ জুজাজ ফি সিরাতিল হাজ্জাজ, এবং আল্লাহর প্রশংসায় এটি মুদ্রিত হয়েছে।

১৭ - ইলমি মজলিসসমূহে তিনি যে সমস্ত কিতাব পাঠ করেছেন, তার মধ্য হতে কিছু কিতাবের ওপর তার দরকারী টীকা বা ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। তার মধ্যে আল্লামা আস-সাদী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'মানহাজুস সালিকিন ওয়া তাওদিহুল ফিকহ ফিদ দীন'-এর ওপর প্রাপ্ত টীকাগুলো অন্যতম। তাঁর পুত্র আবদুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবের মুখবন্ধে নিচের উপকারী কথাগুলো লিখেছেন:

 

ক - ইলম বা জ্ঞানের ফযিলত:

১ - ইলম হলো আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামগণের উত্তরাধিকার।

২ - ইলম বাকি থাকে আর সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়।

৩ - ইলম তার অধিকারীকে তা পাহারার কাজে ক্লান্ত করে না।

৪ - ইলম তার অধিকারীকে সত্যের ওপর সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথে পৌঁছে দেয়।

৫ - আলেমগণ হলেন উলিল আমর বা শাসকবর্গের দুই প্রকারের মধ্যে এক প্রকার।

৬ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইলম [কুরআনের অধিকারী যে ব্যক্তি সে অনুযায়ী আমল করে] এবং সম্পদ [যা হকের পথে ব্যয় করা হয়] ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে কারো প্রতি ঈর্ষা পোষণ করতে উৎসাহিত করেননি।

৭ - ইলম জান্নাতের পথ।

৮ - যাকে ইলম অর্জনের তৌফিক দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তার কল্যাণ চেয়েছেন।

৯ - নিশ্চয় আল্লাহ ইলমের অধিকারীকে তার ইলমের মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।

 

খ - ইলম অন্বেষণকারীর আদব বা শিষ্টাচার:

১ - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতা অবলম্বন করা।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - ينوي بطلب العلم رفع الجهل عن نفسه، وعن غيره.

3 - ينوي بذلك الدِّفاع عن الدين بالعلم.

4 - العمل بالعلم.

5 - العبادة مبنية على: الإخلاص، والمتابعة للنبي صلى الله عليه وسلم.

6 - الدعوة إلى العلم.

7 - الصبر على التعلم.

 

‌‌جـ - عقبات في طريق العلم:

1 - فساد النية.

2 - حب الشهرة.

3 - التفريط في حلقات العلم.

4 - التذرّع بكثرة الأشغال.

5 - التفريط في طلب العلم في الصغر.

6 - العزوف عن طلب العلم.

7 - تزكية النفس.

8 - عدم العمل بالعلم.

9 - اليأس [واحتقار الذات].
2 - ইলম অর্জনের মাধ্যমে নিজের এবং অন্যের থেকে অজ্ঞতা দূর করার নিয়ত করবে।

3 - এর মাধ্যমে ইলম দ্বারা দ্বীনকে রক্ষা করার নিয়ত করবে।

4 - ইলম অনুযায়ী আমল করা।

5 - ইবাদত দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ।

6 - ইলমের দিকে দাওয়াত দেওয়া।

7 - জ্ঞান অর্জনে ধৈর্য ধারণ করা।

 

‌‌জিম - ইলমের পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ:

1 - নিয়তের কলুষতা।

2 - প্রসিদ্ধি বা খ্যাতির মোহ।

3 - ইলমি মজলিসগুলোতে অবহেলা করা।

4 - কাজের আধিক্যের অজুহাত দেখানো।

5 - শৈশবে ইলম অর্জনে অবহেলা করা।

6 - ইলম অর্জন থেকে বিমুখ থাকা।

7 - আত্ম-প্রশংসা করা।

8 - ইলম অনুযায়ী আমল না করা।

9 - নিরাশা [এবং হীনম্মন্যতা]।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
10 - التسويف في طلب العلم (1).

أسأل الله بوجهه الكريم أن يجعل العمل بهذه الآداب والفضائل في موازين حسنات الابن عبد الرحمن، فإنه جواد كريم.

وهناك تعليقات أخرى على بعض كتبه رحمه الله تعالى.

وكان رحمه الله تعالى يحضر جميع دروسي التي تُلقى في جامع علي بن أبي طالب رضي الله عنه في إسكان طريق الخرج، وفي جامع الفاروق المذكور آنفاً، وكانت الدروس ولله الحمد في: العقيدة، والحديث، والفقه، والتفسير، وكان يستمع لإذاعة القرآن الكريم، وخاصة قبل أن ينام، وكان من الصغر يحب الاطلاع، وزيارة المكتبات، وشراء الأشرطة والكتيبات النافعة، وقد عُيّن مؤذناً لجامع الفاروق بإسكان أفراد القوات المسلحة في 14/ 6/1421هـ، وقد أعطاه الله جمال الصوت وحُسنه في القراءة والأذان، فارتاح الناس له وأحبوه في الله تعالى، وقد أخبرني الثقات من جماعة الجامع أنهم كانوا يخشعون عندما يصلي بهم عبد الرحمن في الصلوات الجهرية؛ لحسن صوته، وذلك عندما أسافر؛ لأني إمام الجامع المذكور.

وكان يُدرِّس القرآن الكريم للطلاب في الجامع الذي يؤذّن فيه، حيث كلفه مدير مدرسة جامع علي بن أبي طالب رضي الله عنه لتحفيظ القرآن الكريم

--------------------------------------------

(1) وهذه الفضائل والآداب ملخص لما في كتاب العلم للعلامة ابن عثيمين رحمه الله تعالى.
১০ - ইলম অর্জনে গড়িমসি করা (১)।

আমি আল্লাহর কাছে তাঁর মহান চেহারার অসিলায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই আদব ও ফযীলতসমূহের ওপর আমল করাকে পুত্র আবদুর রহমানের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন, নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর আরও কিছু কিতাবের ওপর অন্যান্য টীকাও রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি আমার সেই সমস্ত দরসে উপস্থিত থাকতেন যা আল-খারজ রোডের আবাসন এলাকার আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জামে মসজিদে এবং পূর্বে উল্লেখিত আল-ফারুক জামে মসজিদে প্রদান করা হতো। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দরসগুলো ছিল: আক্বীদা, হাদীস, ফিকহ এবং তাফসীর বিষয়ক। তিনি কুরআনুল কারীম রেডিও শুনতেন, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে। শৈশব থেকেই তিনি পড়াশোনা করতে, লাইব্রেরি পরিদর্শন করতে এবং উপকারী অডিও ক্যাসেট ও পুস্তিকা ক্রয় করতে পছন্দ করতেন। ১৪/০৬/১৪২১ হিজরিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আবাসন এলাকার আল-ফারুক জামে মসজিদে তিনি মুয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত হন। আল্লাহ তাকে তিলাওয়াত ও আযানে অত্যন্ত সুন্দর ও সুমধুর কণ্ঠ দান করেছিলেন, তাই মানুষ তাঁর প্রতি প্রশান্তি অনুভব করত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁকে ভালোবাসত। উক্ত মসজিদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ আমাকে জানিয়েছেন যে, আমি যখন সফরে থাকতাম (যেহেতু আমি উক্ত মসজিদের ইমাম ছিলাম), তখন আবদুর রহমান যখন উচ্চস্বরে পাঠ্য সালাতসমূহে ইমামতি করতেন, তখন তাঁর সুমধুর কণ্ঠের কারণে তারা অত্যন্ত বিনম্র হতেন (খুশু-খুযু লাভ করতেন)।

তিনি যে মসজিদে আযান দিতেন, সেখানে শিক্ষার্থীদের কুরআনুল কারীম শিক্ষা দিতেন; কেননা আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুরআন হিফজ মাদরাসার পরিচালক তাঁকে কুরআন হিফজ করানোর জন্য এই দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) এই ফযীলত ও আদবসমূহ আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘কিতাবুল ইলম’-এর সংক্ষিপ্তসার।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الشيخ خالد بن ضيف الله البلادي حفظه الله، فأسند إليه تدريس حلقة مستقلة [حلقة الإمام الذهبي رحمه الله].

وتلاميذه في هذه الحلقة هم:

1 - إبراهيم بن عبد الله بن حسين القحطاني.

2 - إبراهيم بن محمد بن سعيد القرني.

3 - إبراهيم بن حسن بن محمد عسيري.

4 - أحمد بن فايع بن محمد عسيري.

5 - أحمد بن محمد بن عوضة عسيري.

6 - أحمد بن محمد بن زين الدين.

7 - أحمد بن عبد الرحمن بن سالم السريحي.

8 - ثامر بن مصلح بن عطا الله العنزي.

9 - سلطان بن ناصر بن مسفر الغامدي.

10 - خالد بن علي بن مرعي القرني.

11 - سلطان بن محمد بن علي عسيري.

12 - سلمان بن عبد الله الأسمري.

13 - بدر بن سلمان الشهري.

14 - عبد الله بن علي بن عبد الله العمري.
শায়খ খালিদ বিন দাইফুল্লাহ আল-বিলাদী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন), তাঁর প্রতি একটি স্বতন্ত্র পাঠচক্র [ইমাম আয-যাহাবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) পাঠচক্র] পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

এবং এই পাঠচক্রে তাঁর ছাত্ররা হলেন:

১ - ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন আল-কাহতানি।

২ - ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-কারনি।

৩ - ইবরাহিম বিন হাসান বিন মুহাম্মদ আসিরি।

৪ - আহমদ বিন ফায়ে' বিন মুহাম্মদ আসিরি।

৫ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আওয়াদাহ আসিরি।

৬ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন যাইনুদ্দীন।

৭ - আহমদ বিন আব্দুর রহমান বিন সালিম আস-সুরাইহি।

৮ - থামের বিন মুসলিহ বিন আতাউল্লাহ আল-আনাযি।

৯ - সুলতান বিন নাসির বিন মুসফির আল-গামদি।

১০ - খালিদ বিন আলী বিন মারঈ আল-কারনি।

১১ - সুলতান বিন মুহাম্মদ বিন আলী আসিরি।

১২ - সালমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আসমারি।

১৩ - বদর বিন সালমান আশ-শেহরি।

১৪ - আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-উমারি।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
15 - محمد بن أحمد بن محمد المجرشي.

16 - أنور بن حنتول بن يحيى سرحي.

17 - مجاهد بن صالح بن حمدان العمري.

وكان الطلاب يحبونه في الله تعالى ويجلُّونه؛ لحُسن خُلُقه، وإحسانه إليهم.

وقد أمَّ الناس في صلاة العشاء والتراويح في مسجد الزبير بن العوام رضي الله عنه، بإسكان طريق الخرج، ثلاث سنوات: 1420هـ، 1421هـ، وسبع عشرة ليلة من رمضان عام 1422هـ؛ حيث توفي رحمه الله بعد صلاة التراويح في هذه الليلة.
১৫ - মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-মাজরাশি।

১৬ - আনোয়ার বিন হানতুল বিন ইয়াহইয়া সারহি।

১৭ - মুজাহিদ বিন সালেহ বিন হামদান আল-উমারি।

শিক্ষার্থীরা তাঁকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসত এবং তাঁকে অনেক শ্রদ্ধা করত; তাঁর সুন্দর স্বভাব এবং তাদের প্রতি তাঁর সদাচরণের কারণে।

তিনি আল-খারজ রোডের আবাসন এলাকায় অবস্থিত জুবায়ের বিন আল-আওয়াম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মসজিদে তিন বছর যাবত ইশা ও তারাবিহ সালাতে ইমামতি করেছেন: ১৪২০ হিজরি, ১৪২১ হিজরি এবং ১৪২২ হিজরি সালের রমজান মাসের সতেরো রাত পর্যন্ত; আর এই রাতেই তারাবিহ সালাত শেষে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌رابعاً: الحِكَمُ التي كتبها رحمه الله قبل وفاته:

رسائل هاتفية أرسلها عبد الرحمن رحمه الله تعالى بهاتفه الجوال إلى جوال: زميله الشاب الصالح، أيمن بن عبد الله العاصمي قبل وفاته بيوم أو يومين 14 - 15 رمضان 1422هـكما يقول: الأخ أيمن، وكانت وفاة عبد الرحمن وأخيه بعد صلاة العشاء والتراويح ليلة الأحد 17/ 9/1422هـ.

الرسالة الأولى يقول فيها: ((المستأنس بالله: جنته في صدره، وبستانه في قلبه، ونزهته في رضى ربه)).

الرسالة الثانية قال فيها: ((اللهمّ إنك أعطيتنا الإسلام من غير أن نسألك فلا تحرمنا الجنة ونحن نسألك)).

الرسالة الثالثة: قال: ((فائدة: العزة في القناعة، والذلّ في المعصية، والهيبة في قيام الليل)) (1).

كما سبق وأن أرسل رسالة مكتوبة بخطّ يده لأيمن العاصمي قبل وفاته بحوالي شهرين تقريباً قال: بسم الله الرحمن الرحيم، الأخ أيمن … حفظه الله:

حسبك خمسة:

 

إذا ما مات ذو علم وتقوى … فقد ثلمت من الإسلام ثلمة

--------------------------------------------

(1) نقلت جميع هذه الرسائل، من جوال الأخ الشاب الصالح أيمن بن عبد الله العاصمي وفقه الله.
চতুর্থত: সেই হিকমতসমূহ যা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে লিখেছিলেন:

আবদুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর মৃত্যুর একদিন বা দুদিন পূর্বে ১৪-১৫ রমাদান ১৪২২ হিজরিতে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে তাঁর সহকর্মী সৎ যুবক আইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আসিমির মোবাইলে কিছু বার্তা পাঠিয়েছিলেন—যেমনটি ভাই আইমান বলেন। আর আবদুর রহমান ও তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছিল ১৭/৯/1422 হিজরি রবিবার দিবাগত রাতে এশা ও তারাবিহ সালাতের পর।

প্রথম বার্তা যাতে তিনি বলেন: ((আল্লাহর সাথে হৃদ্যতা অনুভবকারীর জান্নাত তার বক্ষে, তার বাগান তার হৃদয়ে এবং তার বিনোদন তার রবের সন্তুষ্টির মাঝে।))

দ্বিতীয় বার্তা যাতে তিনি বলেন: ((হে আল্লাহ! আপনি আমাদের না চাইতেই ইসলাম দান করেছেন, সুতরাং আমরা যখন আপনার কাছে প্রার্থনা করছি তখন আমাদের জান্নাত থেকে বঞ্চিত করবেন না।))

তৃতীয় বার্তা: তিনি বলেন: ((উপকারিতা: অল্পেতুষ্টিতে সম্মান, পাপে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামুল লাইলে (রাতের সালাতে) গাম্ভীর্য।)) (১)

এছাড়া তিনি তাঁর মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে আইমান আল-আসিমির কাছে নিজ হাতে লেখা একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তাতে তিনি বলেন: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, ভাই আইমান … (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন):

তোমার জন্য পাঁচটিই যথেষ্ট:

 

যখন কোনো ইলম ও তাকওয়াসম্পন্ন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন … তখন ইসলামের মাঝে একটি ফাটল তৈরি হয়।

--------------------------------------------

(১) এই সকল বার্তা সৎ যুবক ভাই আইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আসিমির (আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন) মোবাইল থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
وموت الحاكم العدل المولَّى … بحكم الشرع منقصة ونقمة

وموت العابد القوّام ليلاً … يناجي ربه في كل ظلمة

وموت فتى كثير الجود مَحْلٌ … فإن بقاءه خصب ونعمة

وموت الفارس الضرغام هدم … فكم شهدت له بالنصر عزمة

فحسبك خمسة يُبكى عليهم … وباقي الناس تخفيف ورحمة

وباقي الناس هم همج رعاع … وفي إيجادهم لله حكمه (1)

 

وقد وجد مكتوباً على الغلاف الداخلي من كتاب أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك للإمام ابن هشام رحمه الله تعالى، المقرر عليه في كلية الشريعة بخط يده رحمه الله يقول:

 

عرفت أن الحياة رحلة وطريق … فأحسنت اختيار الرفيق وتوليت القيادة

 

وكان الابن عبد الرحمن يقول الشعر، وقد وجد من شعره بعض الأبيات في جوال زميله الشاب الصالح ياسر بن محمد الحقيل، أرسل إليَّ بها، وهي خمسة وأربعون بيتاً، وهذا نصّ بعضها في رسالة الأخ ياسر إليَّ، قال:

بسم الله الرحمن الرحيم

هذه الرسائل التي كانت بيني وبين عبد الرحمن رحمه الله وقد رمزت للتي كتبها عبد الرحمن بـ (ع)، والتي أرسلتها له بـ (ي).

--------------------------------------------

(1) وجدنا هذه الرسالة بخط يد الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى، وعليها توقيعه، وهي محفوظة عند الأخ أيمن العاصمي وفقه الله تعالى.
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নিযুক্ত ন্যায়পরায়ণ শাসকের মৃত্যু … এক অপূরণীয় ক্ষতি ও মহাবিপদ

রাত জেগে ইবাদতকারী ব্যক্তির মৃত্যু … যিনি রাতের প্রত্যেক অন্ধকারে স্বীয় রবের সাথে সংগোপনে কথোপকথন করেন

অত্যধিক দানশীল যুবকের মৃত্যু যেন এক দুর্ভিক্ষ … কেননা তার বেঁচে থাকা ছিল প্রাচুর্য ও নেয়ামত স্বরূপ

সাহসী বীর যোদ্ধার মৃত্যু যেন এক ধ্বংসলীলা … কারণ তার দৃঢ় সংকল্প কতবারই না বিজয়ের সাক্ষ্য দিয়েছে

তোমার কান্নার জন্য এই পাঁচজনই যথেষ্ট … আর অবশিষ্ট মানুষের মৃত্যু তো বোঝা হালকা হওয়া ও রহমত স্বরূপ

বাকি মানুষেরা তো লক্ষ্যহীন সাধারণ জনতা মাত্র … আর তাদের সৃষ্টিতে আল্লাহর প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে (১)

 

ইমাম ইবনে হিশাম (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক' গ্রন্থের ভেতরের মলাটে—যা শরীয়াহ অনুষদে তাঁর পাঠ্য ছিল—তাঁর নিজের হাতের লেখায় (রাহিমাহুল্লাহ) লিখিত পাওয়া গেছে, তিনি বলছেন:

 

আমি জেনেছি যে জীবন একটি সফর ও পথ … তাই তুমি উত্তম সঙ্গী নির্বাচন করেছ এবং নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছ

 

পুত্র আব্দুর রহমান কবিতা রচনা করত। তার কবিতার কিছু পঙ্ক্তি তার সহপাঠী সৎ যুবক ইয়াসির বিন মুহাম্মদ আল-হুকাইলের মোবাইলে পাওয়া গেছে, যা সে আমার নিকট পাঠিয়েছে। এগুলো মোট পঁয়তাল্লিশটি পঙ্ক্তি। ভাই ইয়াসির আমার কাছে যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তাতে এর কিছু অংশ নিম্নরূপ, তিনি বলেছেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

এগুলো সেই বার্তা যা আমার এবং আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মধ্যে আদান-প্রদান হয়েছিল। আব্দুর রহমান যা লিখেছিলেন সেগুলোকে আমি (আ) এবং আমি তাকে যা পাঠিয়েছিলাম সেগুলোকে (ই) প্রতীক দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

--------------------------------------------

(১) আমরা এই পত্রটি পুত্র আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিজ হাতের লেখায় পেয়েছি এবং এতে তার স্বাক্ষর রয়েছে। এটি ভাই আয়মান আল-আসিমি (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন)-এর নিকট সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
ي - ألا فَارْدُدْ سَرِيعاً دُونَ خوفٍ … فخَيْرُ الرَّدِّ عَاجِلُهُ المُبِينا

ع - أنا لا أرهب الرَّدَّ المُقَفَّى … ولا أخشى سُبَابَ الشِّعْرِ فِينا

ع - ألا فانْشُرْ سَلامي في رُبَاكُم … وعَطِّر صحْبَنَا بالياسَمِينا

ي - قد انتشَرَ السَّلامُ كَخَيْرِ غَيثٍ … وعَمَّ العِطْرُ أرْجَاءَ المدينه

ع - رأيتُ الوُدَّ يَتْبَعهُ انقِطَاعٌ … وخَيْرُ الوُدِّ ما يُفشِي السَّكينه

ي - ألا فاعمَلْ حِسَاناً ما استطعتَ … فَخَيْرُ النَّاسِ مَنْ سَكَنَ المدينه

ي - رسولُ الله يُرفلُ في رُبَاهَا … ومَسْجِدُهُ نَحِنُّ له حَنِينَا

ع - ولا تَنْسَ بِمَكَّةَ خَيْرَ بَيْتٍ … يطُوفُ به صِحَابٌ تابعونا

ي - ولا تنسَ بنجدٍ خيرَ قومٍ … همُ للدِّينِ خيرُ الخَادِمِينا

ع - تَمَنَّ الخيرَ تكسَبْ مُجْتَناهُ … ولوْ طَالَتْ عواقِبُهُ سِنينا

ع - رأيتُ العِلْمَ لا يأتي رِجالاً … همُ في الصُّبْحِ شرُّ النَّائمينا (1)

ي -ألا فَاغْضُضْ بِطَرْفِكَ عَنْ مَرِيضٍ … بكُلِّ الَّليلِ إكثارُ الأنِينَا

 

قال الأخ ياسر: من آخر الرسائل التي أرسلها إليَّ عبد الرحمن كانت تهنئة بشهر رمضان وهي (بنسيم الرحمة، وعبير التوبة، ورجاء المغفرة، وبعد الزحمة أقول كل عام وأنت بخير) وكانت بتاريخ يوم الجمعة 1/ 9/1422هـالموافق 16/ 11/2001م.

--------------------------------------------

(1) قال الأخ ياسر أرسلها إلي عبد الرحمن رحمه الله عندما كنت غائباً يوماً عن الدراسة في الجامعة بسبب المرض.
ইয়া - শোনো, কোনো ভয় ছাড়াই দ্রুত উত্তর দাও … কারণ সর্বোত্তম উত্তর হলো দ্রুত ও স্পষ্ট উত্তর।

আ - আমি ছন্দবদ্ধ উত্তরের ভয় করি না … আর আমাদের সম্পর্কে কাব্যের গালমন্দকেও আমি শঙ্কা করি না।

আ - শোনো, আমাদের উচ্চভূমিগুলোতে আমার সালাম ছড়িয়ে দাও … এবং আমাদের সঙ্গীদের জেসমিনের সুবাসে সুবাসিত করো।

ইয়া - সালাম তো সর্বোত্তম বৃষ্টির ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে … আর সুগন্ধি মদিনার প্রতিটি প্রান্তে ব্যাপ্ত হয়েছে।

আ - আমি দেখেছি ভালোবাসা বিচ্ছিন্নতার অনুগামী হয় … আর সর্বোত্তম ভালোবাসা তা-ই যা প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়।

ইয়া - শোনো, সাধ্যমতো নেক আমল করো … কারণ সর্বোত্তম মানুষ তিনি যিনি মদিনায় বসবাস করেন।

ইয়া - আল্লাহর রাসূল এর উচ্চভূমিগুলোতে পদচারণা করেন … আর তাঁর মসজিদের প্রতি আমাদের রয়েছে গভীর ব্যাকুলতা।

আ - আর মক্কার সেই সর্বোত্তম ঘরের কথা ভুলে যেয়ো না … সাহাবী ও তাবেয়ীগণ যার চারদিকে তাওয়াফ করেন।

ইয়া - আর নজদ অঞ্চলের সেই সর্বোত্তম কওমকে ভুলে যেয়ো না … যারা দ্বীনের জন্য সর্বোত্তম খাদেম।

আ - কল্যাণের প্রত্যাশা করো তবেই তুমি তার ফসল লাভ করবে … যদিও তার পরিণাম আসতে বহু বছর সময় লাগে।

আ - আমি দেখেছি জ্ঞান এমন ব্যক্তিদের নিকট আসে না … যারা সকালবেলা নিকৃষ্টতম ঘুমন্ত ব্যক্তি। (১)

ইয়া -শোনো, সেই রোগীর দিক থেকে তুমি দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও … সারা রাত যার আর্তনাদ অনেক বেশি ছিল।

 

ভাই ইয়াসির বলেন: আব্দুর রহমান আমার কাছে যে শেষ বার্তাগুলো পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল রমজান মাসের শুভেচ্ছা, যা ছিল এরূপ: (রহমতের স্নিগ্ধ বাতাসে, তাওবার সুগন্ধিতে, ক্ষমার প্রত্যাশায় এবং ভিড় হওয়ার আগেই আমি বলছি, প্রতি বছর আপনি কল্যাণের মাঝে থাকুন)। এটি ছিল ১/৯/১৪২২ হিজরী মোতাবেক ১৬/১১/২০০১ খ্রিস্টাব্দ রোজ শুক্রবারের তারিখ।

--------------------------------------------

(১) ভাই ইয়াসির বলেন, আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) এটি আমার কাছে তখন পাঠিয়েছিলেন যখন আমি অসুস্থতার কারণে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে অনুপস্থিত ছিলাম।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
كتبه ياسر بن محمد الحقيل

بتاريخ 25/ 1/1423هـ

زميل عبد الرحمن رحمه الله في ثانوية أبي عمرو البصري لتحفيظ القرآن الكريم، ثم في كلية الشريعة، والمدرس في مدرسة تحفيظ القرآن الكريم في جامع القدس بحي القدس بالرياض.
এটি লিখেছেন ইয়াসির বিন মুহাম্মাদ আল-হুকাইল

তারিখ: ২৫/ ১/ ১৪২৩ হিজরি

পবিত্র কুরআন হিফজের জন্য আবু আমর আল-বসরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীতে শরিয়াহ অনুষদে আবদুর রহমানের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সহপাঠী; এবং রিয়াদের আল-কুদস মহল্লার আল-কুদস জামে মসজিদের হিফজুল কুরআন মাদরাসার শিক্ষক।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌خامساً: أمره بالمعروف ونهيه عن المنكر:

* وكان رحمه الله تعالى: يأمر أهل بيتنا بالمعروف وينهاهم عن المنكر إذا رأى شيئاً، وأخبرني بعض الأهل بعد موت عبد الرحمن رحمه الله أنه كان إذا لاحظ عليهم شيئاً أخذهم على انفراد، ونصحهم سراً.

* وأخبرتني والدته جبر الله قلبها وربط عليه؛ {لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} (1) أن عبد الرحمن رحمه الله رأى بعض أهل البيت أخطأ فشرب بشماله، فقال: ((هذا لا يجوز، ألا تحبون الجنة، وتخافون من النار؟))، وقد أثر ذلك في نفوسهم بعد موته رحمه الله تعالى.

* كما أخبرني الأخ زمراوي محمد خيري السوداني، وفقه الله، أنه كان سائراً مع الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى، فرأى الابن عبد الرحمن رجلاً يقرأ مجلة فيها صور غير مناسبة، فنصحه وقال له: ((ما وجدت شيئاً تقرأه غير هذا؟)).

* وأخبرني الشاب سعيد بن أحمد بن سعيد الشهري قال: الله يرحم عبد الرحمن قد نصحني أن أحفظ القرآن عندما سألته عن تفسير آية قبل ثلاث سنوات، فأخبرني بتفسيرها، ثم قال: ((احفظ القرآن)).

* وأخبرني زائد بن سعد الدوسري (2) بقوله: كنت مارّاً بسيارتي، فمررت بعبد الرحمن رحمه الله وهو أمام باب بيته، يريد أن يذهب إلى

--------------------------------------------

(1) سورة القصص، الآية: 10.

(2) وقد توفي زائد رحمه الله في حادث مروري في أول شهر رجب عام 1423هـ.
পঞ্চম: তাঁর সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ:

* তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) যখনই কিছু দেখতেন, আমাদের পরিবারের সদস্যদের সৎ কাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন। আবদুর রহমানের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) মৃত্যুর পর পরিবারের কিছু সদস্য আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি যখনই তাদের মাঝে কোনো ত্রুটি লক্ষ্য করতেন, তখন তাদের একান্তে ডেকে নিতেন এবং গোপনে নসিহত করতেন।

* তাঁর মাতা—আল্লাহ তাঁর অন্তরের শোক দূর করুন এবং তাকে ধৈর্য দান করুন; {যাতে তুমি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো} (১)—আমাকে জানিয়েছেন যে, আবদুর রহমান (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) পরিবারের কোনো এক সদস্যকে ভুলবশত বাম হাতে পান করতে দেখে বলেছিলেন: "এটি বৈধ নয়। তোমরা কি জান্নাতকে ভালোবাসো না এবং জাহান্নামকে ভয় করো না?" তাঁর মৃত্যুর পর এটি তাদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।

* যেমনটি ভ্রাতা জিমরাউই মুহাম্মদ খাইরি আস-সুদানি (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি পুত্র আবদুর রহমানের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) সাথে হাঁটছিলেন। তখন পুত্র আবদুর রহমান একজন ব্যক্তিকে এমন একটি সাময়িকী পড়তে দেখলেন যাতে অশোভন ছবি ছিল। তখন তিনি তাকে নসিহত করলেন এবং বললেন: "আপনি কি এটি ছাড়া পড়ার মতো আর কিছু পাননি?"

* যুবক সাঈদ ইবনে আহমাদ ইবনে সাঈদ আল-শাহরি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ আবদুর রহমানের প্রতি দয়া করুন, তিন বছর আগে যখন আমি তাঁকে একটি আয়াতের তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি আমাকে কুরআন হিফজ করার নসিহত করেছিলেন। তিনি আমাকে এর তাফসির বলে দিলেন এবং তারপর বললেন: "কুরআন হিফজ করো।"

* যায়েদ ইবনে সা’দ আদ-দাওসারি (২) আমাকে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে জানিয়েছেন: "আমি আমার গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি আবদুর রহমানের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, যখন তিনি তাঁর ঘরের দরজার সামনে ছিলেন এবং তিনি যেতে চাচ্ছিলেন..."

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ১০।

(২) যায়েদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ১৪২৩ হিজরি সনের রজব মাসের শুরুতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الصلاة، فسلّمت عليه، وكنت أستمع إلى شريط أغنية في سيارتي، فرد عليَّ السلام ونصحني بقوله: ((الغناء حرام لا يجوز سماعه وأنت في شهر عظيم)). قال الأخ زائد: وكان ذلك في رمضان قبل وفاة عبد الرحمن رحمه الله بيومين، وقد تركت الغناء بسبب نصيحة عبد الرحمن، وإذا ملتُ إلى الغناء أخذت شريط أمراض القلوب واستمعت إليه.

* كان الابن عبد الرحمن رحمه الله قد رأى رجلاً من المصلين ضرب ولده على وجهه، وكان رجلاً صالحاً، فقال له الابن عبد الرحمن: لا يجوز الضرب على الوجه، فما كان من هذا الرجل إلا أن قال لعبد الرحمن: جزاك الله خيراً، وقبَّل رأس عبد الرحمن، وكنت حاضراً شاهداً.

* كان بعض المشايخ يشرح حديث التشهد، فقال الشيخ: ((والسلام علينا وعلى عباد الله الصالحين))، فردّ عليه الابن عبد الرحمن فقال: ((السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين)) ليس فيها واو، فقبَّل هذا الشيخ يد الابن عبد الرحمن ودعا له، ولم يخطئ الشيخ مرة أخرى في إضافة الواو.

* كان الابن عبد الرحمن رحمه الله يدرِّس في الجامع في تحفيظ القرآن، فرأى كثيراً من طلاب التحفيظ يسبلون الثياب، فأفزعه ذلك، وطلب من مدير المدرسة الشيخ خالد البلادي - حفظه الله - أن ينصح الطلاب عن طريق المكبرات في الجامع، ويحذّرهم من الإسبال، وخاصة لأنهم يتعلمون القرآن الكريم، فأخذ الشيخ خالد المكبّر وحذّرهم من الإسبال، أخبرني بذلك الشيخ خالد البلادي، والأخ هانئ بن نايف الربيعي.
সালাত শেষ হলো, অতঃপর আমি তাঁকে সালাম দিলাম। আমি আমার গাড়িতে একটি গানের ক্যাসেট শুনছিলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং আমাকে এই বলে উপদেশ দিলেন: “গান হারাম, এটি শোনা বৈধ নয়, বিশেষ করে যখন আপনি একটি মহান মাসে রয়েছেন।” ভাই জায়েদ বলেন: এটি ছিল রমজান মাসে, আবদুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর ইন্তেকালের দুই দিন আগের ঘটনা। আবদুর রহমানের উপদেশের কারণে আমি গান শোনা ছেড়ে দিয়েছি। যখনই আমার গানের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়, আমি ‘অন্তরসমূহের ব্যাধি’ বিষয়ক ক্যাসেটটি বের করি এবং তা শুনি।

সন্তান আবদুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মুসল্লিদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে দেখেছিলেন যে তিনি তাঁর ছেলেকে মুখে আঘাত করছেন। লোকটি একজন নেককার মানুষ ছিলেন। তখন আবদুর রহমান তাঁকে বললেন: “চেহারায় আঘাত করা বৈধ নয়।” তখন সেই লোকটি আবদুর রহমানকে কেবল এইটুকুই বললেন, “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন” এবং তিনি আবদুর রহমানের মাথায় চুমু খেলেন। আমি সেখানে উপস্থিত থেকে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি।

জনৈক শায়খ তাশাহহুদের হাদিস ব্যাখ্যা করছিলেন। তখন শায়খ বললেন: “এবং আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।” তখন আবদুর রহমান তাঁর কথার সংশোধনী দিয়ে বললেন: “আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক”—বাক্যটির শুরুতে ‘এবং’ (ওয়াও) শব্দটি নেই। তখন সেই শায়খ আবদুর রহমানের হাতে চুমু খেলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। এরপর সেই শায়খ আর কখনও অতিরিক্ত ‘এবং’ (ওয়াও) যোগ করার ভুলটি করেননি।

সন্তান আবদুর রহমান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মসজিদে কুরআন হিফজ বিভাগে শিক্ষকতা করতেন। তিনি দেখলেন যে হিফজ বিভাগের অনেক ছাত্র তাদের পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরছে। এটি তাঁকে আতঙ্কিত করে তুলল। তিনি মাদরাসার পরিচালক শায়খ খালিদ আল-বিলাদী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর নিকট অনুরোধ করলেন যেন তিনি মসজিদের মাইকের মাধ্যমে ছাত্রদের উপদেশ দেন এবং তাদের টাখনুর নিচে কাপড় ঝোলানো থেকে সতর্ক করেন, বিশেষ করে যেহেতু তারা পবিত্র কুরআন শিখছে। তখন শায়খ খালিদ মাইক হাতে নিলেন এবং তাদের টাখনুর নিচে কাপড় ঝোলানো সম্পর্কে সতর্ক করলেন। আমাকে এই বিষয়ে শায়খ খালিদ আল-বিলাদী এবং ভাই হানী বিন নায়েফ আল-রুবাইয়ী অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
* أخبرني الأخ عبد الله بن علي بن عبد الله القرني أنه طلب من الابن عبد الرحمن رحمه الله أن يكتب له موعظة قصيرة يعظ فيها زملاء الأخ

عبد الله غير المستقيمين في الثانوية وفي غيرها، قال الأخ عبد الله: ((فوافق عبد الرحمن رحمه الله إلا أنه كان مشغولاً، ثم ذكَّرته مرات))، فقال عبد الرحمن رحمه الله: ((سأكتبها إن شاء الله، ولكن لا أستطيع أن أطبعها على جهاز الكمبيوتر لأني مشغول، ولكني سأعطيها عبد الرحيم يطبعها لك)).

قال الأخ عبد الله: ((فكتبها عبد الرحمن رحمه الله بخطّ يده ثم سلَّمها لشقيقه عبد الرحيم رحمه الله، فطبعها عبد الرحيم رحمه الله على الكمبيوتر ثم سلّمها لي، وهذا نصّها:

((بسم الله الرحمن الرحيم

** أخي الحبيب، حاول أن تجيب على هذه الأسئلة بكل صراحة؟

س/ كم مضى من عمرك؟ وهل الباقي من عمرك أكثر أم أقل؟

وحاول أن تحسب عمرك بالساعات والدقائق حسب المعادلة الآتية:

العمر بالسنوات ×360= (العمر بالأيام) × 24 = (العمر بالساعات).

س/ ماذا فعلت في هذه الساعات الماضية من عمرك؟ وهل أنت مستعد للقاء الله بهذه الأعمال؟؟)).
ভ্রাতা আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-কারনী আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি মরহুম পুত্র আব্দুর রহমানের নিকট অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি তার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত উপদেশমূলক নসিহত লিখে দেন, যার মাধ্যমে ভ্রাতা আব্দুল্লাহর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও অন্যান্য স্থানের সঠিক পথে অবিচল নয় এমন সহপাঠীদের উপদেশ প্রদান করা যায়।

ভ্রাতা আব্দুল্লাহ বলেন: "আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) এতে সম্মত হয়েছিলেন, তবে তিনি ব্যস্ত ছিলেন; এরপর আমি তাকে কয়েকবার স্মরণ করিয়ে দেই।" তখন আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) বললেন: "ইনশাআল্লাহ, আমি এটি লিখে দেব, তবে ব্যস্ততার কারণে আমি কম্পিউটারে টাইপ করতে পারছি না; আমি এটি আব্দুর রহিমকে দেব, সে আপনার জন্য টাইপ করে দেবে।"

ভ্রাতা আব্দুল্লাহ বলেন: "অতঃপর আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) নিজ হাতে এটি লিখলেন এবং তার সহোদর ভাই আব্দুর রহিমের (রহিমাহুল্লাহ) নিকট হস্তান্তর করলেন। এরপর আব্দুর রহিম (রহিমাহুল্লাহ) সেটি কম্পিউটারে টাইপ করে আমার নিকট সমর্পণ করলেন। আর এটি হলো তার মূল পাঠ:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

** আমার প্রিয় ভাই, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পূর্ণ সততার সাথে দেওয়ার চেষ্টা করুন:

প্রশ্ন: আপনার জীবনের কতটুকু সময় অতিবাহিত হয়েছে? আর আপনার জীবনের অবশিষ্ট সময় কি অতিবাহিত সময়ের চেয়ে বেশি নাকি কম?

আর নিচের সমীকরণ অনুযায়ী আপনার বয়সকে ঘণ্টা ও মিনিটে গণনা করার চেষ্টা করুন:

বছর হিসেবে বয়স × ৩৬০ = (দিন হিসেবে বয়স) × ২৪ = (ঘণ্টা হিসেবে বয়স)।

প্রশ্ন: আপনার জীবনের এই বিগত ঘণ্টাগুলোতে আপনি কী করেছেন? আর আপনি কি এই আমলসমূহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত?
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌سادساً: أخلاقه العظيمة رحمه الله تعالى:

* كان الابن عبد الرحمن رحمه الله لا يقهقه إذا ضحك، وإنما يبتسم ابتساماً بدون قهقهة مدة حياته رحمه الله.

* كان رحمه الله بارّاً بوالديه لا يعصي لهما أمراً، وكان يخفض جناحه لأمه كثيراً، ويكرمها أكرمه الله بالفردوس الأعلى من الجنة في أعلى منازل الشهداء، وكان إذا نادته أمه أو ناداه أبوه أجاب بقوله: ((لبيك))، وإذا ذهب إلى المدرسة أو الكلية طلب من أمه الدعاء، فإذا دعت له قال أحياناً: هل هذا الدعاء من قلبك؟ ثم يُقبّل رأسها أحياناً إذا ذهب، وإذا رجع من الدراسة، وإذا كنت في مكتبتي الخاصة دخل عليّ وسلّم ثم مدّ يده للمصافحة، وربما قبل رأسي أحياناً.

* كان الابن عبد الرحمن سليم الصدر، فلا يحمل الحسد، ولا البغضاء لأحد من الناس، ومن أبرز الأمثلة على ذلك أنه كان يرسل لزميله في الصف الثالث الثانوي محمد حسان بشور بعض الفوائد، ويرسل له محمد عن طريق الناسوخ بعض الفوائد كذلك، ومحمد حسان هذا هو الذي ينافسه على الترتيب الأول في الصف الثالث ثانوي، فشكرتهما على ذلك الخلق الكريم.

* كان رحمه الله يبغض الغيبة، ولا ينقل النميمة، وقد قال في مقابلة أجرتها معه ثانوية أبي عمرو البصري لتحفيظ القرآن الكريم حينما وُجِّه له أسئلة منها: ((كلمة عتاب توجهها لصديق؟))، فقال: ((أولئك
ষষ্ঠত: তাঁর মহান চরিত্র, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন:

* পুত্র আব্দুর রহমান (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) হাসার সময় কখনো অট্টহাসি দিতেন না, বরং তাঁর সারাজীবনে তিনি অট্টহাসি ছাড়াই কেবল মৃদু হাসতেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।

* তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর পিতামাতার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিলেন এবং তাঁদের কোনো আদেশ অমান্য করতেন না। তিনি তাঁর মায়ের সামনে অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্র থাকতেন এবং তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন—আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে শহীদদের উচ্চ মাকামে সম্মানিত করুন। যখনই তাঁর মা অথবা বাবা তাঁকে ডাকতেন, তিনি ‘লাব্বাইক’ (আমি উপস্থিত) বলে উত্তর দিতেন। যখন তিনি বিদ্যালয় বা কলেজে যেতেন, তখন মায়ের কাছে দোয়া চাইতেন; আর মা যখন তাঁর জন্য দোয়া করতেন, তখন তিনি মাঝে মাঝে বলতেন: “এই দোয়াটি কি আপনার অন্তর থেকে?” এরপর যাওয়ার সময় এবং পড়াশোনা শেষে ফিরে আসার সময় কখনো কখনো মায়ের মাথায় চুমু খেতেন। আর আমি যখন আমার ব্যক্তিগত পাঠাগারে থাকতাম, তখন তিনি আমার নিকট আসতেন এবং সালাম দিয়ে মুসাফাহার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতেন, আর কখনো কখনো আমার মাথায়ও চুমু খেতেন।

* পুত্র আব্দুর রহমান পরিচ্ছন্ন হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন; তিনি মানুষের প্রতি কোনো হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণ করতেন না। এর অন্যতম প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো, তিনি দ্বাদশ শ্রেণির (তৃতীয় মাধ্যমিক) তাঁর সহপাঠী মুহাম্মদ হাসান বাশশূরের কাছে বিভিন্ন ইলমি ফায়দা লিখে পাঠাতেন এবং মুহাম্মদও ফ্যাক্স মেশিনের মাধ্যমে তাঁর কাছে অনুরূপ কিছু ফায়দা পাঠাতেন। অথচ এই মুহাম্মদ হাসানই দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার লড়াইয়ে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন; আমি তাঁদের এই মহান চরিত্রের জন্য তাঁদের উভয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম।

* তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণা করতেন এবং চোগলখুরি করতেন না। আবি আমর আল-বাসরি হিফজুল কুরআন উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এক সাক্ষাৎকারে যখন তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছিল, যার একটি ছিল: “বন্ধুর প্রতি আপনার কোনো অভিযোগ বা অনুযোগের কথা বলবেন কি?” তখন তিনি বলেছিলেন: “ঐ সকল...
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الأصدقاء الذين يأكلون لحوم الناس، ويقعون في أعراضهم، أنصحهم أن يبتعدوا عن ذلك)).

* وكان رحمه الله يهتمّ بأمور المسلمين ويرحمهم، وكان يؤلمه ما يحصل للإخوة في فلسطين، والشيشان، وغيرهما من بلدان المسلمين، وقد كان يستمع الأخبار في المذياع من إذاعة القرآن الكريم، وقد قال في المقابلة التي أجرتها معه ثانوية أبي عمرو لتحفيظ القرآن الكريم حينما وُجِّه له أسئلة منها: ((موقف معبِّر أثَّر في حياتك؟))، فقال: ((الحملة الروسية اللعينة على جمهورية الشيشان!)).

* كان الابن عبد الرحمن - رحمه الله تعالى - في المجالس الخاصة والعامّة التي يحضرها لا يتكلّم إلا بخير أو يصمت، ولا يثرثر، بل يلزم السكوت، وإذا أعجبه شيء تبسَّم، وإذا سُئل عن شيء أجاب بهدوءٍ وأدب.

* كان إذا سار في طريقه إلى المسجد لا ينظر يمنة ولا يسرة، فلا ينظر في المارِّين ولا في السيارات العابرة، وإنما كان ينظر أمامهُ، ويمضي في سيره، وقد أخبرني الشيخ سالم بن عامر الشهري مؤذِّن مسجد عمر بن عبد العزيز بإسكان أفراد القوات المسلحة، أنه كان يمرُّ على سيارته في الطريق العام، ويرى عبد الرحمن رحمه الله يسير إلى الجامع فيحبّ أن يسلّم على عبد الرحمن رحمه الله مع الإشارة باليد، ولكن يقول: إن عبد الرحمن رحمه الله سائر في طريقه لا ينظر يمنةً ولا يسرةً، لا إلى سيارات ولا إلى غيرها، وهكذا أخبرني الشيخ سالم بن علي الخشرمي
যে বন্ধুরা মানুষের গোশত ভক্ষণ করে (অর্থাৎ গীবত করে) এবং মানুষের মান-সম্মানহানি ঘটায়, আমি তাদের তা থেকে দূরে থাকার নসিহত করছি।)

* তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মুসলিমদের বিষয়াবলি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতেন। ফিলিস্তিন, চেচনিয়া ও অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডে ভাইদের ওপর যা সংঘটিত হতো, তা তাকে ব্যথিত করত। তিনি রেডিওতে 'ইযায়াতুল কুরআন আল-কারীম' স্টেশন থেকে সংবাদ শুনতেন। আবু আমর হিফজুল কুরআন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত এক সাক্ষাৎকারে তাকে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি ছিল: "আপনার জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী কোনো স্মরণীয় ঘটনা?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রের ওপর অভিশপ্ত রুশ হামলা!"

* পুত্র আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) যেসব ব্যক্তিগত ও সাধারণ মজলিসে উপস্থিত হতেন, সেখানে তিনি কল্যাণকর কথা ব্যতীত কিছু বলতেন না অথবা নীরব থাকতেন। তিনি অনর্থক কথা বলতেন না, বরং নীরবতা অবলম্বন করতেন। যখন কোনো কিছু তাকে আনন্দিত করত, তখন তিনি মুচকি হাসতেন। আর যদি তাকে কিছু জিজ্ঞেস করা হতো, তবে তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে ও শিষ্টাচারের সাথে তার উত্তর দিতেন।

* তিনি যখন মসজিদের পথে হাঁটতেন, তখন ডানে-বামে তাকাতেন না। তিনি পথচারী কিংবা চলন্ত গাড়িগুলোর দিকেও দৃষ্টিপাত করতেন না; বরং কেবল সামনের দিকে তাকিয়ে পথ চলতেন। সশস্ত্র বাহিনীর আবাসন এলাকার ওমর ইবনুল আজিজ মসজিদের মুয়াজ্জিন শায়খ সালিম বিন আমির আশ-শেহরি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি যখন রাজপথ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতেন এবং আব্দুর রহমানকে (রহিমাহুল্লাহ) জামে মসজিদের দিকে হেঁটে যেতে দেখতেন, তখন তিনি হাতের ইশারায় আব্দুর রহমানকে (রহিমাহুল্লাহ) সালাম দিতে চাইতেন। কিন্তু তিনি বলেন: আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) নিজের পথে চলতেন, ডানে-বামে তাকাতেন না; গাড়ির দিকেও না, অন্য কিছুর দিকেও না। শায়খ সালিম বিন আলী আল-খাশরামিও আমাকে অনুরূপ জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الشهري إمام مسجد خالد بن الوليد بإسكان أفراد القوات المسلحة، يقول: ((إذا مررت مع الشارع العام على سيارتي ورأيت عبد الرحمن في طريقه إلى الجامع، فأريد السلام عليه مع الإشارة؛ لأنه لا يسمعني، ولكنه لا ينظر إليّ، ولا إلى أحد من المارّين، وإنما يمشي وينظر أمامه!)).

* وكذلك إذا كان داخل المسجد لا ينظر يمنة ولا يسرة، ولا يكثر الالتفات، بل يؤذن، ثم يصلي تحية المسجد، ثم يقرأ القرآن يراجعه.

* كان عبد الرحمن رحمه الله يصلي الرواتب كاملة: أربعاً قبل الظهر، وركعتين بعدها، ويصلي أربعاً قبل العصر نافلة، ويصلي ركعتين بعد المغرب، وركعتين بعد العشاء، وكان يحافظ على صلاة الوتر، وركعتين قبل الفجر، وكنت أشاهده يخشع في صلاته ولله الحمد، وقد أخبرني الشيخ حسن بن شريف المشيخي أنه شاهد عبد الرحمن رحمه الله يبكي في دعاء القنوت في رمضان خلف الشيخ خلوفة بن محمد الشهري القاضي بمحكمة الطائف الآن، وقد كان الشيخ خلوفة يُؤذِّن في جامع الفاروق، ويُصلِّي بالناس التراويح في غيابي، وكان عُمْرُ عبد الرحمن اثني عشر عاماً آنذاك تقريباً، فقد كان صغير السن، ومع ذلك يحصل له هذا الخشوع رحمه الله تعالى.

* وكان رحمه الله يصوم مع رمضان ستّاً من شوال، ويصوم يوم عاشوراء مع يوم قبله ويوم بعده أو يصوم يوماً قبله، ويصوم تسعة أيام من العشر الأول من ذي الحجة.
আশ-শেহরি, যিনি সশস্ত্র বাহিনীর আবাসন এলাকার খালিদ বিন ওয়ালিদ মসজিদের ইমাম, তিনি বলেন: ((আমি যখন আমার গাড়িতে করে প্রধান সড়ক দিয়ে চলি এবং আব্দুর রহমানকে মসজিদের পথে দেখি, তখন আমি তাকে ইশারার মাধ্যমে সালাম দিতে চাই; কারণ সে আমার কথা শুনতে পায় না, কিন্তু সে আমার দিকে বা পথচারীদের কারো দিকে তাকায় না, বরং সে কেবল সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে থাকে!))।

* তদ্রূপ সে যখন মসজিদের ভেতরে থাকত, তখন ডানে বা বামে তাকাত না এবং এদিক-ওদিক বেশি ভ্রুক্ষেপ করত না, বরং সে আযান দিত, তারপর তাহিয়্যাতুল মসজিদ সালাত আদায় করত, অতঃপর কুরআন তিলাওয়াত ও তা পুনরাবৃত্তি করত।

* আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ) সুন্নতে মুয়াক্কাদাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করতেন: যোহরের আগে চার রাকাত এবং পরে দুই রাকাত, আসরের আগে চার রাকাত নফল সালাত পড়তেন, মাগরিবের পর দুই রাকাত এবং এশার পর দুই রাকাত পড়তেন। তিনি বিতর সালাত এবং ফজরের পূর্বের দুই রাকাতের প্রতি যত্নবান ছিলেন। আমি তাকে তার সালাতে বিনয়ী হতে দেখতাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। শায়খ হাসান বিন শরীফ আল-মাশইয়াখি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি আব্দুর রহমানকে (রাহিমাহুল্লাহ) রমজান মাসে কুনুতের দোয়ায় কাঁদতে দেখেছেন, যা তিনি শায়খ খালুফা বিন মুহাম্মদ আশ-শেহরির পেছনে আদায় করেছিলেন—যিনি বর্তমানে তায়েফ আদালতের বিচারক। শায়খ খালুফা ফারুক মসজিদে আযান দিতেন এবং আমার অনুপস্থিতিতে লোকদের নিয়ে তারাবিহ সালাত পড়াতেন। সে সময় আব্দুর রহমানের বয়স ছিল প্রায় বারো বছর, সে অল্পবয়সী ছিল, তা সত্ত্বেও তার মধ্যে এই খুশু (বিনয়) পরিলক্ষিত হতো, আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন।

* তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) রমজানের সাথে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখতেন এবং আশুরার রোজা রাখতেন তার আগের একদিন ও পরের একদিনসহ, অথবা তার আগের একদিনসহ। আর তিনি যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের নয় দিন রোজা রাখতেন।
(খণ্ড: ১) আবরাজুয যুজাজি ফী সিরাতিল হাজ্জাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
* كان الابن عبد الرحمن رحمه الله يراجع القرآن كثيراً ولله الحمد، وقد أخبرني أنه يراجع كل يوم جزأين بين الأذان والإقامة للصلوات الخمس؛ لأنه كان يُؤذِّن في جامع الفاروق كما تقدم، أما قبل ذلك فكان يراجع على المدرسين تسميعاً، ويُسمِّع القرآن كاملاً في إجازة الصيف مرات عديدة، وشارك في مسابقات كثيرة، وفاز فيها، جعل الله ذلك كله في موازين حسناته.

* كان رحمه الله يحافظ على أذكار الصباح بعد صلاة الفجر، وأذكار المساء بعد صلاة المغرب، وخاصة: سيد الاستغفار، وآية الكرسي، والمعوذات الثلاث، ثلاث مرات، و ((بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء في الأرض ولا في السماء وهو السميع العليم)) ثلاث مرات، وغير ذلك، كما يحافظ على أذكار أدبار الصلوات ولله الحمد والمنّة.

* كان رحمه الله يحب الاطلاع والقراءة والاستماع لسيرة النبي صلى الله عليه وسلم، وكذلك قصص الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، وقد اشترى قصص الأنبياء من القرآن الكريم للشيخ حسن أيوب، وهو لا يزال في الصف السادس ابتدائي، وعمره تقريباً اثنا عشر عاماً، وقد كرّر استماع هذه الأشرطة أكثر من مرة، وكانت تشتمل على قصة عشرين نبيّاً في عشرين شريطاً، وقد طلب مني أن اشتري له كتاب الشجرة النبوية في سيرة خير البرية صلى الله عليه وسلم، لابن عبد الهادي المقدسي (ابن المبرّد)، 840 - 909هـ، فلم يدخل هذا الكتاب مكتبتي لولا الله ثم الابن عبد الرحمن رحمه الله تعالى، وقد اشترى قبل موته بشهر أو شهرين كتاب: استجلاب ارتقاء الغرف بحبِّ
ছেলে আব্দুর রহমান (আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন) প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত ও রিভিশন করত, আল্লাহর শোকর। সে আমাকে জানিয়েছিল যে, সে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দুই পারা করে রিভিশন করত; কারণ সে ইতিপূর্বে বর্ণিত আল-ফারুক জামে মসজিদে আযান দিত। তবে তার আগে সে শিক্ষকদের কাছে মৌখিকভাবে পাঠ শুনিয়ে রিভিশন করত এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বহুবার সম্পূর্ণ কুরআন শুনিয়েছে। সে অনেক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে এবং তাতে বিজয়ী হয়েছে। আল্লাহ এই সবকিছুকে তার নেকির পাল্লায় জমা করুন।

তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহমত করুন) ফজর সালাতের পর সকালের যিকির এবং মাগরিব সালাতের পর সন্ধ্যার যিকিরের প্রতি যত্নবান ছিলেন, বিশেষ করে: সাইয়িদুল ইস্তিগফার, আয়াতুল কুরসী এবং মুআওয়িযাত (তিন কুল) তিনবার করে এবং "আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ" তিনবার, এবং অন্যান্য যিকির। তদ্রূপ সে সালাত পরবর্তী যিকিরসমূহের প্রতিও যত্নবান ছিল, সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর।

তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহমত করুন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং নাবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) কাহিনী দেখা, পড়া ও শোনার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াকালীন শেখ হাসান আইয়ুব রচিত 'কুরআনুল কারীম থেকে নাবীগণের কাহিনী' সংগ্রহ করেছিল, তখন তার বয়স ছিল প্রায় বারো বছর। সে এই অডিও ক্যাসেটগুলো একাধিকবার শুনেছে। এতে ২০টি ক্যাসেটে ২০ জন নাবীর কাহিনী অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে আমার কাছে ইবনে আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি (ইবনুল মুবাররাদ), ৮৪০ - ৯০৯ হিজরি রচিত 'আশ-শাজারাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফি সিরাত খাইরিল বারিয়্যাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' বইটি কিনে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। আল্লাহ এবং তারপর ছেলে আব্দুর রহমানের (আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহমত করুন) আগ্রহ না থাকলে এই বইটি আমার লাইব্রেরিতে আসত না। মৃত্যুর এক বা দুই মাস আগে সে 'ইস্তিযলাব ইরতিকউল গুরফ বি-হুব্বি...' নামক বইটি কিনেছিল।