(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: -)
الأباطيل والمناكير والصحاح والمشاهير   (الجورقاني)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: الأباطيل والمناكير والصحاح والمشاهير

المؤلف: الحسين بن إبراهيم بن الحسين بن جعفر، أبو عبد الله الهمذاني الجورقاني (ت 543هـ)

تحقيق وتعليق: الدكتور عبد الرحمن بن عبد الجبار الفريوائي

الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية، مؤسسة دار الدعوة التعليمية الخيرية، الهند

الطبعة: الرابعة، 1422 هـ - 2002 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আবাতিল ওয়াল মানাকির ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহির   (আল-জাওরাকানি)

বিভাগ: ইল্লাল এবং হাদিস বিষয়ক প্রশ্নসমূহ


বই: আল-আবাতিল ওয়াল মানাকির ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহির

লেখক: আল-হুসাইন বিন ইব্রাহিম বিন আল-হুসাইন বিন জাফর، আবু আবদুল্লাহ আল-হামদানি আল-জাওরাকানি (মৃত্যু ৫৪৩ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: ডক্টর আবদুর রহমান বিন আবদুল জব্বার আল-ফারিওয়াই

প্রকাশক: দার আস-সুআইমি প্রকাশনা ও বিতরণ، রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য، মুয়াসসাসাহ দারুদ দাওয়াহ তালিমিইয়াহ খাইরিইয়াহ، ভারত

সংস্করণ: চতুর্থ، ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খন্ড সংখ্যা: ২

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১২৫)
1 - فَقَالَ: فِيمَا أَخْبَرَ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ عَلِيٍّ الْمَقْدِسِيُّ، رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبُنْدَارِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» .

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ،
১ - অতঃপর তিনি বলেন: আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে তাহির ইবনে আলী আল-মাকদিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যা বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে, তিনি বলেন: আলী ইবনে আহমদ ইবনে আল-বুন্দার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-মুখলিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামাহ জুহাইর ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে সুহাইব থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নিল।»

এটি একটি সহীহ হাদীস।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১২৬)
أَخْرَجَهُ الْإِمَامُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ النَّيْسَابُورِيُّ فِي صَحِيحِهِ، عَنْ أَبِي خَيْثَمَةَ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ هَكَذَا

2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ بْنُ نُجَيْرٍ الْبَصْرِيُّ الْفَقِيهُ، رضي الله عنه، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْمُخَلِّصُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ مَنْ يَكْذِبْ عَلَيَّ يَلِجِ النَّارَ» .

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، أَخْرَجَهُ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْجَعْدِ هَكَذَا

3 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَضْلِ الْحَافِظُ
ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু খাইসামা জুহাইর ইবনে হারব থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন।

২ - ফকিহ আবুল ফারাজ ইবনে নুজাইর আল-বাসরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-হাশেমি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তাহির আল-মুখাল্লিস আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনুল জা'দ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বা আমাদের কাছে মানসুর থেকে, তিনি রিবয়ী ইবনে হিরাশ থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমরা আমার নামে মিথ্যা বলো না; কেননা যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা বলবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।»।

এটি একটি সহিহ হাদিস, ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আলী ইবনুল জা'দ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন।

৩ - হাফেজ আবু তাহির ইবনে আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১২৭)
الرُّوذْرَاوَرِيُّ، رضي الله عنه، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَلَفٍ الشِّيرَازِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْأَصَمُّ، أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ الْبَيْرُوتِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبِي، أَخْبَرَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ، وَحَدِّثُوا عَنِّي وَلَا تَكْذِبُوا، فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» .

فَارْتَكَبَ هَذِهِ الْكَبِيرَةَ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ: مُحَمَّدُ بْنُ السَّائِبِ الْكَلْبِيُّ وَعَمْرُو بْنُ عُبَيْدٍ الْمُعْتَزِلِيُّ
আর-রুজরাওয়ারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন); আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন খালাফ আশ-শিরাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ বিন মাজীদ আল-বৈরুতী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আওযাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসসান বিন আতিয়্যাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কাবশাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়, আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো এতে কোনো দোষ নেই, এবং আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো তবে আমার নামে মিথ্যা বলো না; কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নিল।"

অতএব, একদল লোক এই কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে: মুহাম্মদ বিন আস-সায়েব আল-কালবী এবং আমর বিন উবায়েদ আল-মুতাযিলী।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১২৮)
وَوَهْبُ بْنُ وَهْبٍ الْقَاضِي وَمُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الشَّامِيُّ الْمَصْلُوبُ فِي الزَّنْدَقَةِ وَأَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ عَمْرٍو النَّخَعِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ نَجِيحٍ الْمَلْطِيُّ وَأَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَبَانٍ الْمِصْرِيُّ وَغِيَاثُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيُّ
ওয়াহাব বিন ওয়াহাব আল-কাজী, মুহাম্মদ বিন সাঈদ আশ-শামী যাকে যিন্দিক হওয়ার কারণে শূলে চড়ানো হয়েছিল, আবু দাউদ সুলায়মান বিন আমর আন-নাখায়ী, ইসহাক বিন নাজিহ আল-মালতী, আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আবান আল-মিসরী এবং গিয়াছ বিন ইব্রাহিম আন-নাখায়ী।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১২৯)
وَالْمُغِيرَةُ بْنُ سَعِيدٍ الْكُوفِيُّ وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوَيْبَارِيُّ وَمَأْمُونُ بْنُ أَحْمَدَ الْهَرَوِيُّ السُّلَمِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ عُكَّاشَةَ الْكِرْمَانِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الطَّايَكَانِيُّ وَغَيْرُهُمْ مِمَّنْ يَطُولُ ذِكْرُهُمْ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ، فَهَؤُلَاءِ كُلُّهُمْ كَذَّابُونَ وَضَّاعُونَ، لَا يَجُوزُ قَبُولُ خَبَرِهِمْ، وَلَا الِاحْتِجَاجُ بِحَدِيثِهِمْ، وَيَجِبُ عَلَى الْحُفَّاظِ بَيَانُ أُمُورِهِمْ، وَإِظْهَارُ أَحْوَالِهِمْ وَأَدْيَانِهِمْ، وَلْيُتْرَكْ حَدِيثُهُمْ، وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ غَيْبَةً

আল-মুগীরা ইবনে সাঈদ আল-কুফী, আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জুয়াইবা‌রী, মামুন ইবনে আহমাদ আল-হারাভী আস-সুলামী, মুহাম্মাদ ইবনে উক্কাশাহ আল-কিরমানী, মুহাম্মাদ ইবনে আল-কাসিম আত-তাইকানী এবং আরও অনেকে যাদের কথা এখানে উল্লেখ করলে দীর্ঘ হয়ে যাবে; তারা সকলেই চরম মিথ্যাবাদী ও জালকারী। তাদের সংবাদ গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং তাদের বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করাও চলে না। হাফেজে হাদিসদের জন্য আবশ্যক হলো তাদের স্বরূপ উন্মোচন করা এবং তাদের অবস্থা ও ধর্মীয় অবস্থান প্রকাশ করে দেওয়া। তাদের হাদিস অবশ্যই বর্জনীয়, আর এটি গীবত বা পরনিন্দার অন্তর্ভুক্ত হবে না।

(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩০)
4 - فَقَدْ أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا أَبُو يَحْيَى زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، أَنَّهَا قَالَتْ: أَقْبَلَ رَجُلٌ، فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «بِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ» ، فَلَمَّا جَاءَ وَجَلَسَ، كَلَّمَهُ وَانْبَسَطَ إِلَيْهِ وَجَلَسَ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: إِنَّكَ قُلْتَ مَا قُلْتَ، فَلَمَّا دَخَلَ الْبَيْتَ أَلَنْتَ لَهُ الْقَوْلَ، فَقَالَ: «يَا عَائِشَةُ، إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْزِلَةً عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ فُحْشِهِ» .

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، وَفِيهِ الدِّلَالَةُ عَلَى أَنَّ الْإِخْبَارَ عَمَّا فِي الرَّجُلِ عَلَى الدِّيَانَةِ لَيْسَ مِنَ الْغَيْبَةِ
৪ - হামযা ইবনে আহমদ ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে আলী ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি এল, অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখলেন, তখন বললেন: «সে তার বংশের কতই না মন্দ ভাই!» যখন সে এল এবং বসল, তিনি তার সাথে কথা বললেন এবং তার প্রতি প্রফুল্লতা প্রকাশ করলেন। আয়েশা বললেন: আপনি তো তার সম্পর্কে যা বলার বলেছিলেন, অথচ যখন সে প্রবেশ করল, আপনি তার সাথে কোমলভাবে কথা বললেন। তখন তিনি বললেন: «হে আয়েশা, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যার অশালীন আচরণের ভয়ে মানুষ তাকে বর্জন করে চলে»।

এটি একটি সহিহ হাদিস। এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, দ্বীনি প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবগত করা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩১)
5 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغْرَمِ رضي الله عنه، أَخْبَرَنَا ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ بُنْدَارٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ لَالٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ: قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: سَأَلْتُ شُعْبَةَ، وَسُفْيَانَ بْنَ سَعِيدٍ، وَسُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، وَمَالِكَ بْنَ أَنَسٍ عَنِ الرَّجُلِ لَا يَحْفَظُ أَوْ يُتَّهَمُ فِي الْحَدِيثِ؟ فَقَالُوا: بَيِّنْ أَمْرَهُ "

6 - أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ النَّوَوِيُّ، رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، أَخْبَرَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الزَّاهِدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ، قَالَ:
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুগরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে বুন্দার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনে লাল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আহমাদ আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্বল ইবনে ইসহাক, আমাকে বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আফফান, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: আমি শু’বাহ, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ এবং মালিক ইবনে আনাসকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যার হিফজ (স্মৃতিশক্তি) ভালো নয় অথবা যার বিরুদ্ধে হাদিসের ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে? তাঁরা বললেন: "তার অবস্থা বর্ণনা করো।"

৬ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে জাফর আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহু তা’আলা), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আজ-জাহিদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কুদামাহ, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩২)
سَمِعْتُ ابْنَ مَهْدِيٍّ، يَقُولُ: مَرَرْتُ مَعَ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ بِرَجُلٍ، فَقَالَ: «كَذَّابٌ وَاللَّهِ، لَوْلَا أَنَّهُ لَا يَحِلُّ لِي أَنْ أَسْكُتَ لَسَكَتُّ»

7 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْأَصَمُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكِيمِ، قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ، يَقُولُ: «إِذَا عَلِمَ الرَّجُلُ مِنْ مُحَدِّثٍ الْكَذِبَ، لَمْ يَسَعْهُ السُّكُوتُ عَلَيْهِ، وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ غَيْبَةً، فَإِنَّ مَثَلَ الْعُلَمَاءِ كَالنُّقَّادِ، لَا يَسَعُ النَّاقِدَ فِي دِينِهِ أَنْ لَا يُبَيِّنَ الزُّيُوفَ مِنْ غَيْرِهَا»

8 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نُجَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ
আমি ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরীর সাথে এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, সে মিথ্যাবাদী; যদি আমার জন্য চুপ থাকা বৈধ না হতো, তবে আমি অবশ্যই চুপ থাকতাম।"

৭ - মুহাম্মদ ইবনে আবি আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আল-আসাম আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকিম আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আশ-শাফিঈকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "যখন কোনো ব্যক্তি কোনো হাদিস বর্ণনাকারীর মিথ্যা সম্পর্কে অবগত হয়, তখন তার পক্ষে নীরব থাকা বৈধ নয়। আর এটি গীবত (পরনিন্দা) বলে গণ্য হবে না। কারণ আলেমদের দৃষ্টান্ত হলো মুদ্রা যাচাইকারীদের মতো; একজন মুদ্রা যাচাইকারীর জন্য তার দ্বীনি আমানতদারিতার খাতিরে জাল ও আসল মুদ্রার পার্থক্য স্পষ্ট না করে দেওয়া সম্ভব নয়।"

৮ - আব্দুল মালিক ইবনে আলী ইবনে নুজাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ، فِي كِتَابِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْأَزْهَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ الدَّقَّاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ دَاوُدَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ بُنْدَارٍ السَّبَّاكَ الْجُرْجَانِيَّ، يَقُولُ: قُلْتُ لِأْحَمْدَ بْنِ حَنْبَلٍ رضي الله عنه: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، إِنَّهُ لَيَشْتَدُّ عَلَيَّ أَنْ أَقُولَ: فُلَانٌ كَذَّابٌ، فُلَانٌ ضَعِيفٌ، فَقَالَ لِي: «إِذَا سَكَتَّ أَنْتَ، وَسَكَتُّ أَنَا، فَمَتَى يَعْرِفُ الْجَاهِلُ الصَّحِيحَ مِنَ السَّقِيمِ» .

فَظَهَرَ بِهَذَا الْإِجْمَاعِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ أَنَّ الطَّرِيقَ إِلَى مَعْرِفَةِ الْحَدِيثِ: الْجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ، وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُصَنَّفَ الْكِتَابُ مُعَلَّلًا، فَإِنَّ الْعِلَلَ أَجَلُّ أَنْوَاعِ عِلْمِ الْحَدِيثِ

9 - فَقَدْ أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ
বিন সাবিত আল-খতিব তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-আজহারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন উসমান আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মাখলাদ, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন দাউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন সালামাহ বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন বুন্দার আস-সাব্বাক আল-জুরজানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললাম: হে আবু আবদুল্লাহ! আমার কাছে এটি অত্যন্ত কঠিন মনে হয় যে, আমি বলব অমুক ব্যক্তি মিথ্যাবাদী, অমুক ব্যক্তি দুর্বল। তখন তিনি আমাকে বললেন: "যদি আপনিও চুপ থাকেন আর আমিও চুপ থাকি, তবে মূর্খ ব্যক্তি কীভাবে সহিহ (বিশুদ্ধ) ও সাকিম (অশুদ্ধ)-এর মধ্যে পার্থক্য জানবে?"

সুতরাং আমরা যে ইজমার (ঐক্যমত্য) কথা উল্লেখ করেছি, তা থেকে স্পষ্ট হলো যে, হাদিস জানার পথ হলো 'জারহ ও তা'দিল' (হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই)। আর কিতাবসমূহকে 'মুআল্লাল' (সূক্ষ্ম ত্রুটি বিশ্লেষণমূলক) পদ্ধতিতে সংকলন করা মুস্তাহাব বা উত্তম। কেননা হাদিসের ইলমের প্রকারভেদের মধ্যে 'ইলাল' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কিত জ্ঞান অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ।

৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামজাহ বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আলী বিন উমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন...
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
إِسْحَاقَ الْهَاشِمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا قُدَامَةَ السَّرَخْسِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ، يَقُولُ: «لَأَنْ أَعْرِفَ عِلَّةَ حَدِيثٍ هُوَ عِنْدِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَكْتُبَ عِشْرِينَ حَدِيثًا لَيْسَ عِنْدِي»

10 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَكِّيِّ بْنِ بُنْجَيْرٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، فِي كِتَابِهِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نُعَيْمٍ الضَّبِّيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ دَاوُدَ بْنِ عَلِيٍّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: «مَنْ لَمْ يَعْرِفْ حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ سَمَاعِهِ، وَلَمْ يُمَيِّزْ بَيْنَ صَحِيحِهِ وَسَقِيمِهِ، فَلَيْسَ بِعَالِمٍ»

11 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمُزَكِّيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ النُّورِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ الْخَفَّافُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ السَّرَّاجُ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ، يَقُولُ:
ইসহাক আল-হাশিমী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সালামাহ বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমি আবু কুদামাহ আস-সারখাসীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান বিন মাহদীকে বলতে শুনেছি: "একটি হাদীসের ত্রুটি জানতে পারা আমার নিকট এমন বিশটি হাদীস লিখে রাখার চেয়েও অধিক প্রিয় যা আমার নিকট নেই।"

10 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন মাক্কী বিন বুঞ্জাইর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত তাঁর কিতাবে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইয়াকুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন নুআইম আদ-দাব্বী, তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মাদ আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুযানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর মুহাম্মাদ বিন দাউদ বিন আলীকে বলতে শুনেছি, তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস শোনার পর তা চিনতে পারে না এবং এর সহীহ ও অসুস্থের (দুর্বলতার) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, সে আলেম নয়।"

11 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-মুযাক্কী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন জাফর আন-নূরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন আল-খাফফাফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ, তিনি বলেন: আমি উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান বিন মাহদীকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
«إِنَّ الْعَالِمَ إِذَا لَمْ يَعْرِفِ الصَّحِيحَ وَالسَّقِيمَ مِنَ الْحَدِيثِ لَا يُسَمَّى عَالِمًا» ، فَمِمَّا يُعْرَفُ بِهِ صَحِيحُ الْأَحَادِيثِ مِنْ سَقِيمِهَا أَنْ يَكُونَ الْحَدِيثُ مُتَعَرِّيًا مِنْ سَبْعِ خِصَالٍ: فَالْأَوَّلُ: أَنْ لَا يَكُونَ الشَّيْخُ الَّذِي يَرْوِيهِ مَجْرُوحًا.

وَالثَّانِي: أَنْ لَا يَكُونَ فَوْقَهُ شَيْخٌ مَجْهُولٌ يَبْطُلُ الْحَدِيثُ بِهِ.

وَالثَّالِثُ: أَنْ لَا يَكُونَ الْحَدِيثُ مُرْسَلًا، فَإِنَّ الْمُرْسَلَ عِنْدَنَا لَا يَقُومُ بِهِ الْحُجَّةُ.

الرَّابِعُ: أَنْ لَا يَكُونَ الْحَدِيثُ مُنْقَطِعًا، فَإِنَّ الْمُنْقَطِعَ عِنْدَنَا أَسْوَأُ حَالًا مِنَ الْمُرْسَلِ.

الْخَامِسُ: أَنْ لَا يَكُونَ الْحَدِيثُ مُعْضَلًا، فَإِنَّ الْمُعْضَلَ عِنْدَنَا أَسْوَأُ حَالًا مِنَ الْمُنْقَطِعِ.

السَّادِسُ: أَنْ لَا يَكُونَ الْحَدِيثُ مُدَلَّسًا، فَإِنَّ الْمُدَلَّسَ مِنَ الْأَحَادِيثِ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ قَدْ دُلِّسَ وَأُسْقِطَ مِنْ إِسْنَادِهِ اسْمُ رَاوٍ ضَعِيفٍ، يَبْطُلُ الْحَدِيثُ بِظُهُورِهِ.

السَّابِعُ: أَنْ لَا يَكُونَ الْحَدِيثُ مُضْطَرِبًا، فَإِنَّ الْمُضْطَرِبَ لَا يُحْتَجُّ بِهِ فَمَتَى مَا وُجِدَ الْحَدِيثُ يَعْرَى عَنْ هَذِهِ الْخِصَالِ فَهُوَ صَحِيحٌ،
«নিশ্চয়ই কোনো আলেম যদি হাদিসের সহিহ এবং রুগ্ন (দুর্বল) প্রকারভেদ সম্পর্কে অবগত না হন, তবে তাকে আলেম বলা হয় না», রুগ্ন হাদিস থেকে সহিহ হাদিস চেনার উপায় হলো হাদিসটি সাতটি বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত থাকা: প্রথমত: যে শায়খ এটি বর্ণনা করবেন, তিনি যেন মাজরুহ (সমালোচিত বা ত্রুটিযুক্ত) না হন।

দ্বিতীয়ত: তার উপরে যেন এমন কোনো অজ্ঞাত (মাজহুল) শায়খ না থাকেন যার কারণে হাদিসটি বাতিল হয়ে যায়।

তৃতীয়ত: হাদিসটি যেন মুরসাল না হয়, কারণ আমাদের নিকট মুরসাল হাদিস দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না।

চতুর্থত: হাদিসটি যেন মুনকাতি না হয়, কারণ আমাদের নিকট মুনকাতি হাদিস মুরসাল হাদিসের চেয়েও মন্দ অবস্থায় থাকে।

পঞ্চমত: হাদিসটি যেন মুদাল না হয়, কারণ আমাদের নিকট মুদাল হাদিস মুনকাতি হাদিসের চেয়েও মন্দ অবস্থায় থাকে।

ষষ্ঠত: হাদিসটি যেন মুদাল্লাস না হয়, কারণ মুদাল্লাস হাদিসের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা থাকে যে, এতে তাদলীস (প্রতারণা) করা হয়েছে এবং এর সনদ থেকে কোনো দুর্বল বর্ণনাকারীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা প্রকাশ পেলে হাদিসটি বাতিল হয়ে যায়।

সপ্তমত: হাদিসটি যেন মুততারিব না হয়, কারণ মুততারিব হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; সুতরাং যখনই কোনো হাদিস এই বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে মুক্ত পাওয়া যাবে, তখন তা সহিহ,
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
قَبُولُهُ وَاجِبٌ، الْعَمَلُ بِهِ لَازِمٌ، وَالرَّادُّ لَهُ آثِمٌ

12 - أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ الشِّيرَازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُؤَمِّلِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عِيسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّعْرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ عِيسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْقُرَشِيِّ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُمَيْرٍ الثُّمَالِيِّ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ صَعْبٌ، مُسْتَصْعَبٌ لِمَنْ كَرِهَهُ، مُيَسَّرٌ لِمَنْ تَبِعَهُ، وَإِنَّ حَدِيثِي صَعْبٌ مُسْتَصْعَبٌ لِمَنْ كَرِهَهُ مُيَسَّرٌ لِمَنْ تَبِعَهُ، مَنْ سَمِعَ حَدِيثِي فَحَفِظَهُ وَعَمِلَ بِهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْقُرْآنِ، وَمَنْ تَهَاوَنَ بِحَدِيثِي فَقَدْ تَهَاوَنَ بِالْقُرْآنِ، وَمَنْ تَهَاوَنَ بِالْقُرْآنِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ»
এটি গ্রহণ করা ওয়াজিব, এর ওপর আমল করা আবশ্যক এবং যে এটি প্রত্যাখ্যান করবে সে পাপী।

১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামযাহ ইবনে আহমাদ ইবনুল হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনে উমর আশ-শিরাজি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুআম্মিল ইবনুল হাসান ইবনে ঈসা, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ আশ-শা'রানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ, ঈসা ইবনে ইবরাহীম আল-কুরাশি থেকে, তিনি মুসা ইবনে আবি হাবীব থেকে, তিনি আল-হাকাম ইবনে উমায়ের আস-সুমালি থেকে—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে ধন্য ছিলেন—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই কুরআন কঠিন ও দুরূহ তার জন্য যে একে অপছন্দ করে, আর সহজ তার জন্য যে একে অনুসরণ করে। আর নিশ্চয়ই আমার হাদিস কঠিন ও দুরূহ তার জন্য যে একে অপছন্দ করে, আর সহজ তার জন্য যে একে অনুসরণ করে। যে ব্যক্তি আমার হাদিস শ্রবণ করল, অতঃপর তা সংরক্ষণ করল এবং সেই অনুযায়ী আমল করল, সে কিয়ামতের দিন কুরআনের সাথে উপস্থিত হবে। আর যে ব্যক্তি আমার হাদিসকে অবজ্ঞা করল, সে কুরআনকেই অবজ্ঞা করল। আর যে ব্যক্তি কুরআনকে অবজ্ঞা করল, সে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।»
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ الْبُرُوجِرْدِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بِنَيْسَابُورَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَدِيبُ النَّحْوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو بْنِ حَمْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى الْمُوصِلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَارِيَةُ بْنُ هِرَمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ الْحِبْرَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا كَبْشَةَ الْأَنْمَارِيَّ، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا أَوْ رَدَّ شَيْئًا مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا فِي جَهَنَّمَ»
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আল-হুসাইন আল-বুরূজিরদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফযল আহমদ ইবন আল-হাসান ইবন আলী ইবন আব্দুল্লাহ নাইসাবুরে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ আল-আদীব আন-নাহবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর ইবন হামদান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারিয়াহ ইবন হীরাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন বুসর আল-হিবরানী, তিনি বলেন: আমি আবু কাবশাহ আল-আনমারীকে বলতে শুনেছি—যিনি রাসূলুল্লাহর সাহচর্য লাভ করেছিলেন (সাহাবী ছিলেন)—তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করছিলেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে অথবা আমার নির্দেশিত কোনো বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।»
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
‌‌كِتَابُ الْإِيمَانُ

قال الإمام الأجل أبو عبد الله الحسين بن إبراهيم بن الحسين الجوزقاني رحمه الله: أنا خصم يوم القيامة لرجل يكتب عنى هذا الكتاب أو يسمع بعضه ، ثم يروى عنى حديثا مما ذكرت في هذا الكتاب مفردا من غير علله ،أو خارجا من كتابي هذا مطلقا من غير كلامي عليه إلا في هذا الكتاب علي سبيل الطعن والقدح في واضعه وناقله علي حسب يتنبه بعلله ليدفع بذلك الكذب عن رسول الله صلي الله عليه وسلم.
ঈমান অধ্যায়

মহাসম্মানিত ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-হুসাইন আল-জাওযাকানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করব, যে আমার থেকে এই কিতাবটি লিপিবদ্ধ করবে অথবা এর কিছু অংশ শ্রবণ করবে, অতঃপর এই কিতাবে আমার উল্লিখিত হাদীসগুলোর কোনোটি এর ত্রুটিসমূহ (ইল্লাত) উল্লেখ করা ব্যতিরেকে এককভাবে বর্ণনা করবে, অথবা আমার মন্তব্য ছাড়াই এই কিতাবের বাইরে ঢালাওভাবে বর্ণনা করবে। তবে এই কিতাবে যেভাবে সংকলক ও বর্ণনাকারীর ওপর আপত্তি ও সমালোচনা করার মাধ্যমে ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করা হয়েছে, সেভাবে বর্ণনা করা এর ব্যতিক্রম; যাতে এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরোপিত মিথ্যাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪০)
‌‌بَابٌ: زِيَادَةُ الْإِيمَانِ وَنُقْصَانِهِ

14 - أَخْبَرَنَا حَمَدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَزْوِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ تَرْكَانَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ التَّمِيمِيُّ الْخُوَارَزْمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَأْمُونُ بْنُ أَحْمَدَ
পরিচ্ছেদ: ঈমানের হ্রাস ও বৃদ্ধি

১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ হামাদ বিন নাসর বিন আহমাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান বিন গাযউ বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন আহমাদ বিন তারকান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আহনাফ বিন কায়েস আত-তামীমী আল-খুওয়ারাজমী, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন মামুন বিন আহমাদ।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪১)
السُّلَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوَيْبَارِيُّ الْهَرَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الِإيمَانُ لَا يَزِيدُ وَلَا يَنْقُصُ»

15 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْوَاعِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبُنْدَارِيُّ الْقَوْمَسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الزَّرْجَاهِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ،
আস-সুলামী বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুওয়াইবারী আল-হারাওয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন, ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না»

১৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ায়েজ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-বুনদারী আল-কাউমাসী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আমর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আজ-জারজাহী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আদী আল-হাফিজ বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪২)
قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كِرَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْإِيمَانُ لَا يَزِيدُ وَلَا يَنْقُصُ» .

هَذَا حَدِيثٌ مَوْضُوعٌ بَاطِلٌ، وَلَيْسَ لَهُ أَصْلٌ، وَهُوَ مِنْ مَوْضُوعَاتِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوَيْبَارِيِّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ هَذَا كَانَ خَبِيثًا دَجَّالًا مِنَ الدَّجَاجِلَةِ، كَذَّابًا، يَرْوِي عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، وَوَكِيعٍ، وَأَبِي ضَمْرَةَ وَغَيْرِهِمْ مِنْ ثِقَاتِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ، وَيَضَعُ عَلَيْهِمْ مَا لَمْ يُحَدِّثُوا، وَقَدْ رَوَى عَنْ هَؤُلَاءِ الْأَئِمَّةِ أُلُوفَ حَدِيثٍ مَا حَدَّثُوا بِشَيْءٍ مِنْهَا، كَانَ يَضَعُهَا عَلَيْهِمْ، لَا يَحِلُّ ذِكْرُهُ فِي الْكُتُبِ إِلَّا عَلَى سَبِيلِ الْجَرْحِ فِيهِ.

أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْمَقْدِسِيُّ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْعِدَةَ بِجُرْجَانَ، أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ، قَالَ:
তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আলী আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে কিরাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শাইবানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না»।

এটি একটি বানোয়াট ও বাতিল হাদিস, যার কোনো ভিত্তি নেই। এটি আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জুয়াইবারি-র জাল করা হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ছিল একজন নিকৃষ্ট ও দাজ্জালদের অন্তর্ভুক্ত এক দাজ্জাল এবং চরম মিথ্যুক। সে ইবনে উয়াইনা, ওয়াকি, আবু যামরাহ এবং হাদিসের অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ইমামদের থেকে বর্ণনা করত এবং তাদের নামে এমন সব হাদিস জাল করত যা তারা বর্ণনা করেননি। সে এই সকল ইমামদের নামে হাজার হাজার হাদিস বর্ণনা করেছে যার কিছুই তারা বলেননি; বরং সে নিজেই তা তাদের নামে জাল করত। তার ত্রুটি বা সমালোচনা (জারহ) বর্ণনা করা ব্যতীত কিতাবসমূহে তার উল্লেখ করা বৈধ নয়।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাদল আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুরজানে ইসমাইল ইবনে মুসয়াদা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামজা ইবনে ইউসুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু আহমদ আব্দুল্লাহ ইবনে আদি, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
" أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ يُعْرَفُ بِالْجُوَيْبَارِيِّ، كَانَ يَضَعُ الْأَحَادِيثَ لِابْنِ كِرَامٍ عَلَى مَا يُرِيدُهُ، وَكَانَ ابْنُ كِرَامٍ يَضَعُهَا فِي كُتُبِهِ عَنْهُ، وَيُسَمِّيهِ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الشَّيْبَانِيَّ

16 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْمَقْدِسِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَدِيبُ، أَخْبَرَنَا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَهْلٍ مُحَمَّدَ بْنَ سُلَيْمَانَ الْحَنَفِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ السَّرَّاجَ، يَقُولُ: شَهِدْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيَّ، رحمه الله، وَرُفِعَ إِلَيْهِ كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ كِرَامٍ يَسْأَلُهُ، عَنْ أَحَادِيثَ مِنْهَا سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْإِيمَانُ لَا يَزِيدُ وَلَا يَنْقُصُ» .

فَكَتَبَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ عَلَى ظَهْرِ كِتَابِهِ: مَنْ حَدَّثَ بِهَذَا اسْتَوْجَبَ الضَّرْبَ الشَّدِيدَ وَالْحَبْسَ الطَّوِيلَ

17 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ
আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাওয়ী, যিনি আল-জুওয়াইবারী নামে পরিচিত ছিলেন; তিনি ইবনে কাররামের জন্য তার ইচ্ছানুযায়ী হাদীস জাল করতেন এবং ইবনে কাররাম তার থেকে সেগুলো নিজ কিতাবে বর্ণনা করতেন এবং তাকে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শায়বানী বলে অভিহিত করতেন।

১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আল-মাকদিসী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আল-আদীব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমি আবু সাহল মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-হানাফীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাররাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-কে প্রত্যক্ষ করেছি যখন তাঁর নিকট মুহাম্মদ ইবনে কাররামের পক্ষ থেকে একটি পত্র পাঠানো হয় যাতে তিনি কিছু হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যার মধ্যে একটি ছিল সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না»।

অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী সেই পত্রের পৃষ্ঠদেশে লিখে দিলেন: যে ব্যক্তি এটি বর্ণনা করবে সে কঠোর প্রহার এবং দীর্ঘ কারাবাসের যোগ্য।

১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের ইবনে আল-ফজল ইবনে আহমদ আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَلَفٍ الشِّيرَازِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ دَلْوَيْهِ الْمُذَكِّرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ: مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُطِيعٍ الْبَلْخِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ وَفْدَ ثَقِيفٍ جَاءُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلُوهُ عَنِ الْإِيمَانِ، هَلْ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ؟ فَقَالَ: «لَا، زِيَادَتُهُ كُفْرٌ وَنُقْصَانُهُ شِرْكٌ» .

هَذَا حَدِيثٌ مَوْضُوعٌ بَاطِلٌ لَا أَصْلَ لَهُ، وَهُوَ مِنْ مَوْضُوعَاتِ أَبِي مُطِيعٍ
আহমাদ বিন আলী বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন খালাফ আল-শিরাজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান বিন দালওয়াইহ আল-মুযাক্কির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন সাহল, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন ইয়াযিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুতী আল-বালখি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, আবু আল-মুহাযযিম থেকে বর্ণিত, আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত যে, সাকিফ গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তা কি বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়? তিনি বললেন: «না, এর বৃদ্ধি হলো কুফর এবং এর হ্রাস হলো শিরক»।

এটি একটি জাল ও বাতিল হাদিস যার কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি আবু মুতীর জালকৃত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
الْبَلَخِيِّ، وَأَبُو مُطِيعٍ ذَا اسْمُهُ الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ اللُّهِ الْبُلْخِيُّ، كَانَ مِنْ رُؤَسَاءِ الْمُرْجِئَةِ مِمَّنْ يَضَعُ الْحَدِيثَ وَيَبْغَضُ السُّنَنَ.

قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: " سَأَلْتُ أَبِي عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَبِي مُطِيعٍ الْبَلْخِيِّ؟ قَالَ: لَا يَنْبَغِي أَنْ يُرْوَى عَنْهُ ".

وَقَالَ الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ: عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ، أَنَّهُ قَالَ: «أَبُو مُطِيعٍ الْخُرَاسَانِيُّ لَيْسَ بِشَيْءٍ» .

وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيُّ: " سَأَلْتُ أَبِي عَنْ أَبِي مُطِيعٍ الْبَلْخِيِّ؟ فَقَالَ: كَانَ قَاضِيَ بَلْخٍ، وَكَانَ مُرْجِئًا كَذَّابًا، وَانْتَهَى فِي كِتَابِ الزَّكَاةِ إِلَى حَدِيثٍ لَهُ فَامْتَنَعَ مِنْ قِرَاءَتِهِ، وَقَالَ: لَا أُحَدِّثُ عَنْهُ "

18 - أَخْبَرَنَا حَمَدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، رحمه الله، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ بُنْدَارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ لَالٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا
আল-বালখি; আর আবু মুতিয়, তার নাম হলো হাকাম বিন আব্দুল্লাহ আল-বালখি। তিনি মুরজিয়াদের প্রধানদের একজন ছিলেন, যিনি হাদিস জাল করতেন এবং সুন্নাহকে ঘৃণা করতেন।

আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: "আমি আমার পিতাকে হাকাম বিন আব্দুল্লাহ আবু মুতিয় আল-বালখি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি? তিনি বললেন: 'তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা উচিত নয়'।"

আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দুরি ইয়াহইয়া বিন মায়িন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আবু মুতিয় আল-খুরাসানি কোনো উল্লেখযোগ্য কেউ নন।"

আব্দুর রহমান বিন আবি হাতিম আর-রাজি বলেন: "আমি আমার পিতাকে আবু মুতিয় আল-বালখি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম? তখন তিনি বললেন: 'তিনি বালখের বিচারক ছিলেন, তিনি একজন মিথ্যাবাদী মুরজিয়া ছিলেন।' তিনি যখন যাকাত অধ্যায়ে তার একটি হাদিসের কাছে পৌঁছালেন, তখন সেটি পাঠ করা থেকে বিরত থাকলেন এবং বললেন: 'আমি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করি না'।"

১৮ - হাফিজ হামাদ বিন নাসর বিন আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন বুন্দার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আলি বিন লাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ التَّيْمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَلَمَةَ السُّلَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَغْرِبِيُّ الْأُمَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَدِمَ وَفْدُ ثَقِيفٍ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنِ الْإِيمَانِ، أَيَزِيدُ أَوْ يَنْقُصُ؟ قَالَ: «الْإِيمَانُ مُثَبَّتٌ فِي الْقُلُوبِ كَالْجِبَالِ الرَّوَاسِي وَزِيَادَتُهُ وَنُقْصَانُهُ كُفْرٌ» .

هَذَا حَدِيثٌ لَا يَرْجِعُ مِنْهُ إِلَى الصِّحَّةِ، وَلَيْسَ هَذَ الْحَدِيثُ أَصْلًا مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَعُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَغْرِبِيُّ هَذَا كَذَّابٌ، فَسَرَقَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي مُطِيعٍ
আহমদ ইবনে উবাইদ বলেন, মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আহমদ আত-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাফর ইবনে আহমদ ইবনে সালামাহ আস-সুলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবি আল-উমাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাযযিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাকিফ গোত্রের এক প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার নিকট ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি, তা কি বৃদ্ধি পায় নাকি হ্রাস পায়? তিনি বললেন: "ঈমান সুদৃঢ় পাহাড়ের ন্যায় অন্তরে প্রোথিত, আর এর বৃদ্ধি ও হ্রাস হলো কুফরি।"

এই হাদিসটি সহিহ বা বিশুদ্ধ হওয়ার কোনো পর্যায়ভুক্ত নয় এবং এই হাদিসটি মূলত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো হাদিসই নয়। আর এই উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবি একজন চরম মিথ্যাবাদী; সে এই হাদিসটি আবু মুতি থেকে চুরি করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
الْبَلْخِيِّ، فَرَوَاهُ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، وَهَذَا شَيْءٌ وَضَعَهُ أَبُو مُطِيعٍ الْبَلْخِيُّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ

19 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَلَاءِ الْأَدِيبُ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الطَّايَكَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي هَارُونَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْإِيمَانَ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ، فَزِيَادَتُهُ نِفَاقٌ، وَنُقْصَانُهُ كُفْرٌ، فَإِنْ تَابُوا وَإِلَّا فَاضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ بِالسَّيْفِ، أُوَلِئكَ أَعْدَاءُ الرَّحْمَنِ، فَارَقُوا دِينَ اللَّهِ، وَانْتَحَلُوا الْكُفْرَ، وَخَاصَمُوا فِي اللَّهِ، طَهَّرَ اللَّهُ الْأَرْضَ مِنْهُمْ، أَلَا وَلَا صَلَاةَ لَهُمْ، أَلَا وَلَا صَوْمَ لَهُمْ، أَلَا وَلَا زَكَاةَ لَهُمْ، أَلَا وَلَا حَجَّ لَهُمْ، أَلَا وَلَا بِرَّ لَهُمْ، هُمْ بَرَاءٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَرُسُولُ اللَّهِ بَرِيءٌ مِنْهُمْ» .
আল-বালখি; তিনি এটি হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি এমন কিছু যা আবু মুতি' আল-বালখি হাম্মাদ বিন সালামাহ-এর নামে জাল করেছেন।

১৯ - আবুল আলা আল-আদিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আলী বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আল-কাসিম আত-তায়কানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ বিন খালিদ থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আবু হারুন থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি দাবি করে যে ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়, তবে তার বৃদ্ধি হলো নিফাক এবং তার হ্রাস হলো কুফর। অতঃপর যদি তারা তাওবা করে তবে ভালো, নতুবা তরবারি দিয়ে তাদের গর্দান দ্বিখণ্ডিত করো। তারাই রহমানের শত্রু, তারা আল্লাহর দ্বীন ত্যাগ করেছে, কুফরকে অবলম্বন করেছে এবং আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে। আল্লাহ তাদের থেকে জমিনকে পবিত্র করুন। জেনে রেখো, তাদের কোনো সালাত নেই, জেনে রেখো, তাদের কোনো সিয়াম নেই, জেনে রেখো, তাদের কোনো জাকাত নেই, জেনে রেখো, তাদের কোনো হজ নেই, জেনে রেখো, তাদের কোনো নেক আমল নেই। তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আল্লাহর রাসুলও (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের থেকে মুক্ত।"
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
هَذَا حَدِيثٌ مَوْضُوعٌ، وَهُوَ مِنْ مَوْضُوعَاتِ مُحَمَّدِ بْنِ الْقَاسِمِ الطَّايَكَانِيِّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ هَذَا كَانَ كَذَّابًا خَبِيثًا، وَكَانَ مِنْ أَهْلِ بَلْخٍ، يَرْوِي عَنِ الْعِرَاقِيِّينَ، وَأَهْلِ بَلَدِهِ وَلَا أَصْلَ لَهُ، وَرَوَى عَنْهُ أَهْلُ خُرَاسَانَ، لَا يَحِلُّ ذِكْرُهُ فِي الْكُتُبِ إِلَّا عَلَى سَبِيلِ الطَّعْنِ فِيهِ.

سَمِعْتُ أَبَا طَاهِرٍ الْحَافِظَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الشِّيرَازِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْحَاكِمَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: «مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الطَّايَكَانِيُّ كَانَ مِنْ رُؤَسَاءِ الْمُرْجِئَةِ مِمَّنْ يَضَعُ الْحَدِيثَ عَلَى مَذْهَبِهِمْ»

فِي خِلَافِ ذَلِكَ

20 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمَدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الصِّوفِيُّ، رضي الله عنه، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ سِنَانٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا
এটি একটি জাল হাদীস, এবং এটি মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আত-তায়কানী-র জালকৃত বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর এই মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম ছিল এক জঘন্য মিথ্যাবাদী। সে বাল্খ-এর অধিবাসী ছিল, সে ইরাকী এবং তার নিজ শহরের লোকদের থেকে বর্ণনা করত, অথচ তার বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই; আর তার থেকে খুরাসানবাসীরা বর্ণনা করেছে। কিতাবসমূহে তার সমালোচনা করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তাকে উল্লেখ করা বৈধ নয়।

আমি আবু তাহির আল-হাফিযকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আশ-শিরাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাকিম আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আত-তায়কানী মুরজিআদের প্রধানদের একজন ছিল, যে তাদের মতবাদের সপক্ষে হাদীস জাল করত»

এর বিপরীতে

২০ - আব্দুর রহমান ইবনে হামাদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক আস-সূফী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী ইবনে সিনান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
سُفْيَانُ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» .

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ سُفْيَانَ

21 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْمِقْرِئُ، فِي كِتَابِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا خَلَصَ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ فَأَمِنُوا فَمَا مُجَادَلَةُ أَحَدِكُمْ صَاحِبَهُ فِي الْحَقِّ يَكُونُ لَهُ فِي الدُّنْيَا بِأَشَدِّ مُجَادَلَةٍ مِنَ الْمُؤْمِنيِنَ لِرَبِّهِمْ فِي إِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ ادْخِلُوا النَّارَ، يَقُولُونَ: رَبَّنَا إِخْوَانَنَا كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَنَا، وَيَصُومُونَ مَعَنَا،
সুফিয়ান, কায়েস ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-খুদরি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় দেখবে, সে যেন তা তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দিয়ে। আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দিয়ে; আর এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর»।

এটি একটি সহিহ হাদিস, যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে, তিনি ওকি’ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।

২১ - আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান আল-মিকরি তাঁর কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন, আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাবারি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং নিরাপদ হবে, তখন দুনিয়াতে সত্যের বিষয়ে তোমাদের কারো তার সঙ্গীর সাথে বিবাদ করার চেয়েও অধিক কঠোরভাবে মুমিনগণ তাদের প্রতিপালকের সাথে তাদের ঐ সকল ভাইদের ব্যাপারে বিতর্ক করবে যাদের জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে। তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত এবং আমাদের সাথে রোজা রাখত,"
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৫০)
وَيَحُجُّونَ مَعَنَا، فَأَدْخَلْتَهُمْ فِي النَّارِ! فَيَقُولُ: اذْهَبُوا فَأَخْرِجُوا مِنْهُمْ مَنْ عَرَفْتُمْ، فَيَأْتُونَهُمْ، فَيْعَرِفُونَهُمْ بِصُوَرِهِمْ، لَا تَأْكُلُ النَّارُ صُوَرَهُمْ، فَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ النَّارُ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ إِلَى كَعْبَيْهِ، فَيُخْرِجُونَهُمْ، فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا أَخْرَجْنَا مَنْ أَمَرْتَنَا، ثُمَّ يَقُولُ: أَخْرِجُوا مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ وَزْنُ دِينَارٍ مِنْ إِيمَانٍ، ثُمَّ مَنْ كَانُ فِي قَلْبِهِ وَزْنُ نِصْفِ دِينَارٍ، حَتَّى يَقُولَ: مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ ".

قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَمَنْ لَمْ يُصَدِّقْ بِهَذَا، فَلْيَقْرَأْ هَذِهِ الْآيَةَ: {إِنَّ اللَّهَ لا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا} [النساء: 40] ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا قَدْ أَخْرَجْنَا مَنْ أَمَرْتَنَا، فَلَمْ يَبْقَ فِي النَّارِ أَحَدٌ فِيهِ خَيْرٌ، قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: شَفَعَتِ الْمَلَائِكَةُ وَشَفَعَتِ الْأَنْبِيَاءُ، وَشَفَعَ الْمُؤْمِنُونَ، وَبَقِيَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ، قَالَ: فَيَقْبِضُ قَبْضَةً مِنَ النَّارِ، أَوْ قَالَ: قَبْضَتَيْنِ، نَاسًا لَمْ يَعْمَلُوا خَيْرًا
এবং তারা আমাদের সাথে হজ্জ করত, অথচ আপনি তাদের আগুনে প্রবেশ করিয়েছেন! তখন তিনি বলবেন: তোমরা যাও এবং তাদের মধ্য থেকে যাদের তোমরা চিনতে পারো তাদের বের করে নিয়ে আসো। অতঃপর তারা তাদের নিকট আসবে এবং তাদের চেহারার আকৃতি দেখে তাদের চিনতে পারবে; আগুন তাদের চেহারার আকৃতি গ্রাস করবে না। তাদের মধ্যে কেউ এমন থাকবে যাকে আগুন তার দুই নলার অর্ধেক পর্যন্ত গ্রাস করেছে, আবার কেউ এমন থাকবে যাকে আগুন তার দুই গোড়ালি পর্যন্ত গ্রাস করেছে। তারা তাদের বের করে আনবে এবং বলবে: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের যাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আমরা তাদের বের করে এনেছি। এরপর তিনি বলবেন: যার অন্তরে এক দীনার ওজন পরিমাণ ঈমান আছে তাকে বের করে আনো, তারপর যার অন্তরে অর্ধেক দীনার ওজন পরিমাণ ঈমান আছে, এমনকি তিনি বলবেন: যার অন্তরে অণু পরিমাণ ওজন অবশিষ্ট আছে।

আবু সাঈদ বলেন: যে ব্যক্তি এটি বিশ্বাস করে না, সে যেন এই আয়াতটি পাঠ করে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না, আর যদি তা সৎকর্ম হয় তবে তিনি তা দ্বিগুণ করে দেন এবং তাঁর নিকট থেকে মহাপুরস্কার প্রদান করেন।} [নিসা: ৪০]। তিনি বলেন: অতঃপর তারা বলবে: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের যাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আমরা তাদের বের করে এনেছি, এখন আগুনে এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যার মধ্যে কোনো কল্যাণ রয়েছে। তিনি বলেন: এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন: ফেরেশতারা সুপারিশ করেছে, নবীগণ সুপারিশ করেছেন এবং মুমিনরা সুপারিশ করেছে, আর এখন কেবল সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু অবশিষ্ট আছেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি আগুন থেকে এক মুষ্টি — অথবা তিনি বলেছেন: দুই মুষ্টি — এমন সব লোক গ্রহণ করবেন যারা কখনো কোনো কল্যাণকর কাজ করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৫১)
قَطُّ، قَدِ احْتَرَقُوا حَتَّى صَارُوا حِمَمًا، قَالَ: فَيُؤْتَى بِهِمْ إِلَى مَاءٍ يُقَالُ: لَهُ: مَاءُ الْحَيَاةِ، فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ، فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الْحَبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ، قَالَ: فَيَخْرُجُونَ مِنْ أَجْسَادِهِمَ مِثْلَ اللُّؤْلُؤِ، فِي أَعْنَاقِهِمُ الْخَاتَمُ عُتَقَاءُ اللَّهِ عز وجل، قَالَ: ادْخُلُوا الْجَنَّةَ، فَمَا رَأَيْتُمْ وَتَمَنّيْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ لَكُمْ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ، قَالَ: فَيَقُولُ: فَإِنَّ لَكُمْ عِنْدِي أَفْضَلَ مِنْهُ، فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا وَمَا أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ، فَيَقُولُ: رِضَايَ عَنْكُمْ، فَلَا أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ أَبَدًا ".

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، اتَّفَقَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَلَى إِخْرَاجِهِ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ حَدِيثِ حَفْصِ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَسَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ.

فَأَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ آدَمَ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ سُوَيْدٍ جَمِيعًا، عَنْ حَفْصِ بْنِ مَيْسَرَةَ، كَذَلِكَ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ، عَنِ اللَّيْثِ.
কখনো নয়, তারা এমনভাবে দগ্ধ হয়েছিল যে কয়লায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন: এরপর তাদের ‘মাউল হায়াত’ (জীবন-বারি) নামক পানির কাছে নিয়ে আসা হবে এবং তাদের ওপর তা ঢেলে দেওয়া হবে। ফলে তারা এমনভাবে অঙ্কুরিত হবে যেমন স্রোতের পলিতে বীজ অঙ্কুরিত হয়। তিনি বলেন: অতঃপর তারা তাদের দেহ থেকে মুক্তার ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে। তাদের গলায় মোহর থাকবে যে, তারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত। তিনি (আল্লাহ) বলবেন: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো; তোমরা যা দেখবে এবং যা আকাঙ্ক্ষা করবে, তা-ই তোমাদের জন্য। তিনি বলেন: তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এমন কিছু দান করেছেন যা বিশ্বজগতের আর কাউকেই দান করেননি। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ বলবেন, আমার কাছে তোমাদের জন্য এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ কিছু রয়েছে। তারা বলবে, হে আমাদের রব! এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কী হতে পারে? তিনি বলবেন, তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি; আমি আর কখনো তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হব না।

এটি একটি সহীহ হাদীস। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাদের ‘সহীহ’ গ্রন্থদ্বয়ে হাফস ইবনে মাইসারা ও সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তাঁরা যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে—এই সূত্রে হাদীসটি উদ্ধৃত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

ইমাম বুখারী এটি আদম থেকে এবং ইমাম মুসলিম সুওয়াইদ থেকে বর্ণনা করেছেন—তাঁরা সকলে হাফস ইবনে মাইসারা থেকে। একইভাবে ইমাম বুখারী এটি ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি লাইস থেকে—এই সূত্রেও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৫২)
وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ عِيسَى بْنِ حَمَّادٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ

22 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمَدِ بْنِ الْحَسَنِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي شِهَابٍ، حَدَّثَنِي أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَيَّ، وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثَّدْيَ، وَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ دُونَ ذَلِكَ، وَعُرِضَ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ» ، قَالَوا: فَمَاذَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الدِّينُ» .

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، اتَّفَقَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَلَى إِخْرَاجِهِ فِي الصَّحِيحَيْنِ، فَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি খালিদ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবু হিলাল থেকে।

২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে হামাদ ইবনে আল-হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ ইবনে কায়সান থেকে, তিনি আবু শিহাব থেকে, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমামাহ ইবনে সাহল, যে তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরীকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমি যখন ঘুমন্ত ছিলাম তখন দেখলাম যে, মানুষকে আমার সামনে পেশ করা হচ্ছে এবং তাদের পরনে জামা রয়েছে। তাদের কারও জামা বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং কারও জামা তার চেয়েও ছোট। আর উমর ইবনুল খাত্তাবকে আমার সামনে পেশ করা হলো এমতাবস্থায় যে, তিনি তার জামা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন (অর্থাৎ জামাটি দীর্ঘ ছিল)»। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন: «দ্বীন»।

এটি একটি সহীহ হাদীস, ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
عَلِيٍّ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ.

وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ زُهْيرٍ، وَحَسَنٍ الْحُلْوَانِيِّ، وَعَبْدِ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ يَعْقُوبَ

23 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَكِّيِّ بْنِ بُنَجَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْبَجَلَيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ لَالٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الْأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ مُضَرٍ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،
আলী থেকে, ইয়াকুব ইবন ইব্রাহীম এর সূত্রে।

এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন যুহাইর, হাসান আল-হুলওয়ানী এবং আবদ ইবন হুমাইদ থেকে, তারা ইয়াকুব থেকে।

২৩ - আব্দুল মালিক ইবন মাক্কী ইবন বুনাইজির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবন আহমদ ইবন আব্দুল হামীদ আল-বাজালী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবন আলী ইবন লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন বকর ইবন আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু দাউদ সুলাইমান ইবন আল-আশআস আস-সিজিস্তানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন আমর ইবন আস-সারহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন ওয়াহব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বকর ইবন মুদার থেকে, তিনি ইবনুল হাদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন দীনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,
(খণ্ড: ১) আল-আবাতীল ওয়াল মানাকীর ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহীর (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
قَالَ: «مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَلَا دِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبٍّ مِنْكُنَّ» ، قَالَتِ امْرَأَةٌ: وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ؟ قَالَ: «شَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ شَهَادَةُ رَجُلٍ، وَأَمَّا نُقْصَانُ الدِّينِ، فَإِنَّ إِحْدَاكُنَّ تَفْطُرُ فِي رَمَضَانَ، وَتُقِيمُ أَيَّامًا لَا تُصَلِّي» .

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ، عَنْ أَبِي الطَّاهِرِ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ

24 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْقُوبَ يُوسُفُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ التَّاجِرُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْدَهْ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سِرَاجٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَامِعُ بْنُ سَوَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ أَبِي نُعَيْمٍ، حَدَّثَنِي الْأَعْرَجُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْإِيمَانُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ» .
তিনি বললেন: "বুদ্ধি ও দ্বীনদারিতে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বুদ্ধিমান ব্যক্তির ওপর তোমাদের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী আমি আর কাউকে দেখিনি।" এক নারী আরজ করলেন: "বুদ্ধি ও দ্বীনদারির ঘাটতি কী?" তিনি বললেন: "দুই মহিলার সাক্ষ্য এক পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর দ্বীনদারির ঘাটতি হলো এই যে, তোমাদের কেউ রমজানে রোজা ভঙ্গ করে এবং কয়েক দিন সালাত আদায় না করে অতিবাহিত করে।"

এটি একটি সহিহ হাদিস, ইমাম মুসলিম এটি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে আবু তাহির আহমদ বিন আমর বিন সারাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন আহমদ বিন আলী আত-তাজির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আলী বিন সিরাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন জামি বিন সাওয়াদাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নাফি বিন আবি নুআইম, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-আরাজ, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।"