(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
العثمانية   (الجاحظ)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: العثمانية

المؤلف: عمرو بن بحر بن محبوب الكناني بالولاء، الليثي، أبو عثمان لجاحظ (ت 255 هـ)

تحقيق وشرح: عبد السلام محمد هارون

الناشر: دار الجيل، بيروت

الطبعة: الأولى، 1411 هـ - 1991 م

عدد الصفحات: 280

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1433

আল-উসমানিয়্যাহ   (আল-জাহিজ)

বিভাগ: ফেরকাসমূহ ও খণ্ডন


গ্রন্থ: আল-উসমানিয়্যাহ

লেখক: আমর ইবনে বাহর ইবনে মাহবুব আল-কিনানি (মাওলা সূত্রে), আল-লায়ছি, আবু উসমান আল-জাহিজ (মৃত্যু: ২৫৫ হিজরি)

তাহকিক ও ব্যাখ্যা: আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন

প্রকাশক: দার আল-জিল, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
كتاب العثمانية

للجاحظ
কিতাবুল উসমানিয়্যাহ

আল-জাহিজ বিরচিত
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
- بسم الله الرحمن الرحيم -

عونك اللهم

 

‌‌ثم إنا مخبرون عن مقالة العثمانية،

وبالله نستهدي وإياه نستعين، وعليه نتوكل، وما توفيقنا إلا به.

رووا أن أفضل هذه الأمة وأولاها بالإمامة أبو بكر بن أبي قحافة، وكان أول ما دلهم عند أنفسهم على فضيلته وخاصة منزلته، وشدة استحقاقه، إسلامه على الوجه الذي لم يسلم عليه أحد من عالمه وفي عصره. وذلك أن الناس اختلفوا في أول الناس إسلاما، فقال قوم: أبو بكر بن أبي قحافة، وقال آخرون: زيد بن حارثة، وقال نفر: خباب بن الأرت.

على أنه إذا تفقدنا أخبارهم، وأحصينا أحاديثهم وعدد رجالهم، و [نظرنا في] صحة أسانيدهم. كان الخبر في تقديم أبي بكر أعم، ورجاله أكثر، وإسناده أصح، وهم بذلك أشهر، واللفظ به أظهر، مع الأشعار الصحيحة والأخبار المستفيضة في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعد وفاته. وليس بين الأشعار وبين الأخبار فرق إذا امتنع في مجيئها وأصل مخرجها التباعد والاتفاق والتواطؤ، ولكنا ندع هذا المذهب [جانبا]، ونضرب عنه صفحا، اقتدارا على الحجة، وثقة بالفلج والقوة، ونقتصر على أدنى منازل أبي بكر، وننزل على حكم الخصم مع سرفه وميطه فنقول:

لما وجدنا من يزعم أن خبابا وزيدا أسلما قبله، فأوسط الأمور وأعدلها وأقربها من محبة الجميع ورضا المجادل أن نجعل إسلامهم كان معا، إذ ادعوا أن الأخبار في ذلك متكافئة، والآثار متدافعة، [وليس في الأشعار دلالة، ولا في الأمثال حجة]، ولم يجدوا إحدى القضيتين أولى في حجة العقل من الأخرى.

 

‌‌فصل: وقالوا: فإن قال قائل: فما بالكم لم تذكروا عليا في هذه الطبقة وقد تعلمون كثرة مقدميه والرواية فيه؟

قلنا: لأنا قد علمنا بالوجه الصحيح والشهادة القائمة أنه أسلم وهو حدث غرير وغلام صغير، فلم نكذب الناقلين، ولم نستطع أن ننزل أن إسلامه كان لاحقا بإسلام البالغين، لأن المقلل زعم أنه أسلم وهو ابن خمس سنين، والمكثر زعم أنه أسلم وهو ابن تسع سنين، والقياس أن يؤخذ بأوسط الروايتين، وبالأمر بين الامرين، وإنما تعرف [حق]
- পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে -

হে আল্লাহ! আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি

 

‌‌অতঃপর আমরা উসমানিয়াদের মতাদর্শ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করছি،

আমরা আল্লাহর নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি এবং তাঁরই সাহায্য চাই, তাঁর ওপরই ভরসা করি; আর তাঁর সাহায্য ব্যতীত কোনো সামর্থ্য নেই।

তারা বর্ণনা করেছেন যে, এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম এবং নেতৃত্বের (ইমামত) সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হলেন আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা। তাদের দৃষ্টিতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, বিশেষ মর্যাদা এবং যোগ্যতার প্রাবল্যের প্রথম প্রমাণ হলো এমন এক পদ্ধতিতে তাঁর ইসলাম গ্রহণ, যেভাবে তাঁর সমসাময়িক বা তাঁর যুগের অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করেননি। আর তা এই জন্য যে, সর্বপ্রথম কে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তা নিয়ে মানুষের মাঝে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেছে: আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা; অন্যরা বলেছে: যায়েদ ইবনে হারিসা; আর কিছু লোক বলেছে: খাব্বাব ইবনে আরত।

তা সত্ত্বেও, আমরা যদি তাদের সংবাদসমূহ অনুসন্ধান করি, তাদের বর্ণিত হাদিস ও বর্ণনাকারীদের সংখ্যা গণনা করি এবং তাদের সনদের বিশুদ্ধতা পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখা যায় যে আবু বকরকে অগ্রবর্তী করার সংবাদটি অধিকতর ব্যাপক, তার বর্ণনাকারী অধিক, সনদ অধিকতর বিশুদ্ধ এবং তারা এক্ষেত্রে অধিকতর প্রসিদ্ধ, আর এর শব্দপ্রয়োগও অধিক স্পষ্ট। সেই সাথে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় এবং তাঁর ওফাতের পর সহীহ কবিতা ও প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলোও এর সপক্ষে বিদ্যমান। কবিতা ও বর্ণনার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না যখন তাদের আগমনের পথ এবং মূল উৎসের ভিন্নতা সত্ত্বেও তা একসূত্রে মিলে যায় এবং কোনো যোগসাজশের সম্ভাবনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু আমরা এই পদ্ধতিটি একপাশে সরিয়ে রাখছি এবং এ থেকে বিমুখ হচ্ছি, প্রমাণের ওপর আমাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব ও বিজয়ের প্রতি আস্থার কারণে। আমরা আবু বকরের অবস্থানের ন্যূনতম স্তরের ওপর সীমাবদ্ধ থাকছি এবং প্রতিপক্ষের অতিরঞ্জন ও বিচ্যুতি সত্ত্বেও তাদের যুক্তিতে অবতরণ করে বলছি:

যেহেতু আমরা এমন লোক পেয়েছি যারা দাবি করে যে খাব্বাব ও যায়েদ তাঁর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাই সবচেয়ে মধ্যপন্থী, ন্যায়সংগত এবং সবার সন্তুষ্টির নিকটবর্তী সমাধান হলো আমরা ধরে নেব যে তারা একসাথেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কারণ তারা দাবি করে যে এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সমপর্যায়ের এবং তথ্যগুলো পরস্পরবিরোধী, [আর কবিতায় কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত নেই এবং প্রবাদসমূহে কোনো প্রমাণ নেই], আর তারা যুক্তির বিচারে একটি বিষয়কে অন্যটির চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো কোনো কারণ খুঁজে পায়নি।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: তারা আরও বলেছে: যদি কেউ প্রশ্ন করে: তোমাদের কী হলো যে তোমরা এই স্তরে আলীর নাম উল্লেখ করোনি অথচ তোমরা তাঁর অগ্রগণ্য হওয়ার পক্ষের লোকজনের আধিক্য এবং এ বিষয়ে বর্ণনার প্রাচুর্য সম্পর্কে অবগত?

আমরা বলব: কারণ আমরা সঠিক পদ্ধতিতে এবং বিদ্যমান সাক্ষ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তখন তিনি ছিলেন এক অপরিণত কিশোর ও অল্পবয়স্ক বালক। সুতরাং আমরা বর্ণনাকারীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করছি না, আবার তাঁর ইসলাম গ্রহণকে বয়স্কদের ইসলাম গ্রহণের সমপর্যায়ে গণ্য করতেও সক্ষম নই। কারণ যারা সংখ্যা কম বলেছে তারা দাবি করেছে যে তিনি পাঁচ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আর যারা বেশি বলেছে তারা দাবি করেছে যে তিনি নয় বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আর যুক্তি হলো এই দুই বর্ণনার মধ্যবর্তীটি গ্রহণ করা এবং দুই বিষয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা। আর প্রকৃতপক্ষে জানা যায় [অধিকার]...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ذلك من باطله بأن تحصى سنيه التي ولي فيها، وسني عثمان وسني عمر وسني أبي بكر، وسني الهجرة، ومقام النبي - صلى الله عليه - بمكة بعد أن دعا إلى الله وإلى رسالته إلى أن هاجر إلى المدينة، ثم تنظر في أقاويل الناس في عمره، وفي قول المقلل والمكثر، فتأخذ أوسطها وهو أعدلها، وتطرح قول المقصر والغالي، ثم تطرح ما حصل في يديك من أوسط ما روى من عمره [و] سنيه، وسني عثمان وسني عمر وسني أبي بكر، والهجرة ومقام النبي صلى الله عليه وسلم بمكة إلى وقت إسلامه، فإذا فعلت ذلك وجدت الأمر على ما قلنا وعلى ما فسرنا.

وهذه التأريخات والأعمار معروفة لا يستطيع أحد جهلها والخلاف عليها، لأن الذين نقلوا التاريخ لم يعتمدوا تفضيل بعض على بعض، وليس يمكن ذلك مع اختلاف عللهم وأسبابهم، فإذا ثبت عندك بالذي أوضحنا وشرحنا أنه كان يومئذ ابن سبع سنين أقل بسنة أو أكثر بسنة، علمت بذلك أنه لو كان أيضا ابن أكثر من ذلك بسنتين وثلاث وأربع لا يكون إسلامه إسلام المكلف العارف بفضيلة ما دخل فيه ونقصان ما خرج منه.

والتاريخ المجتمع عليه أن عليا قتل سنة أربعين في شهر رمضان.

وقالوا: فإن قالوا فلعله وهو ابن سبع سنين وثمان سنين قد بلغ من فطنته وذكائه وصحة لبه وصدق حسه وانكشاف العواقب له وإن لم يكن
তার এই বাতিল দাবি খণ্ডন করা সম্ভব এভাবে যে, তার খেলাফতের বছরগুলো এবং উসমান, উমর ও আবু বকরের খেলাফতের বছরগুলো এবং হিজরতের পরবর্তী বছরসমূহ ও আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রিসালাতের প্রতি দাওয়াত শুরু করার পর থেকে মদিনায় হিজরত করা পর্যন্ত মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের সময়কাল গণনা করা হবে। অতঃপর তার বয়স সম্পর্কে মানুষের নানামুখী বর্ণনা, অর্থাৎ যারা কম বলেছেন এবং যারা বেশি বলেছেন তাদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর এগুলোর মধ্য থেকে মধ্যমপন্থাটি গ্রহণ করতে হবে যা অধিকতর ইনসাফপূর্ণ এবং অপর্যাপ্ত ও অতিরঞ্জিত বর্ণনাগুলো পরিহার করতে হবে। অতঃপর তার বয়স সম্পর্কে বর্ণিত সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সেই হিসাব থেকে তার খেলাফতের বছরসমূহ এবং উসমান, উমর ও আবু বকরের খেলাফতের বছরসমূহ, হিজরত এবং ইসলাম গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের সময়কাল বাদ দিতে হবে। যদি আপনি তা করেন, তবে বিষয়টি তেমনই পাবেন যেমনটি আমরা বলেছি এবং ব্যাখ্যা করেছি।

এই ইতিহাস এবং বয়সসমূহ সুপরিচিত; কেউ এ সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে না কিংবা এ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারে না। কারণ যারা ইতিহাস বর্ণনা করেছেন তারা কারো ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্যে এটি করেননি, বরং তাদের ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য ও কারণের উপস্থিতিতে তেমনটি করা সম্ভবও নয়। অতএব, আমাদের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে যদি আপনার কাছে এটি প্রমাণিত হয় যে, সেদিন তার বয়স ছিল সাত বছর—এক বছর কম বা বেশি—তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে, যদি তার বয়স এর চেয়ে দুই, তিন বা চার বছর বেশিও হতো, তবুও তার ইসলাম গ্রহণ কোনো শরয়ী দায়বদ্ধতাসম্পন্ন (মুকাল্লাফ) ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ হতো না, যে ব্যক্তি যা গ্রহণ করছে তার মর্যাদা এবং যা বর্জন করছে তার অসারতা সম্পর্কে সম্যক অবহিত।

সর্বসম্মত ইতিহাস হলো, আলী হিজরি চল্লিশ সনের রমজান মাসে শহীদ হয়েছিলেন।

তারা বলেন: যদি তারা বলে যে, সম্ভবত সাত বা আট বছর বয়সেই তিনি এমন প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, বিবেকবোধ, প্রখর অনুভূতি এবং পরিণামদর্শিতা লাভ করেছিলেন—যদিও তিনি তখনও হননি
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
جرب الأمور، ولا فاتح الرجال، ولا نازع الخصوم، ما يعرف جميع ما يجب على البالغ معرفته والإقرار به.

قلنا: إنما نتكلم على ظاهر الأحكام وما شاهدنا عليه طباع الأطفال. وجدنا حكم ابن سبع سنين، وثمان سنين وتسع سنين، حيث قرأناه وبلغنا خبره - ما لم يعلم مغيب أمره، وخاصة طباعه - حكم الأطفال، وليس لنا أن نزيل ظاهر حكمه والذي نعرف من شكله بلعل وعسى، لأنا كنا لا ندري لعله قد كان ذا فضيلة في الفطنة، فلعله أن يكون ذا نقص فيها. أجاب منهم بهذا الجواب من يجوز أن يكون علي في المغيب قد أسلم إسلام البالغ المختار، غير أن الحكم فيه عنده على مجرى أمثاله وأشكاله الذين إذا أسلموا وهم في مثل سنه كان إسلامهم على تربية الحاضن، وتلقين القيم، ورياضة السائس.

 

‌‌فصل: فأما علماء العثمانية ومتكلموهم، وأهل القدم والرياسة منهم، فإنهم قالوا: إن عليا لو كان وهو ابن ست سنين وسبع سنين، وثمان سنين وتسع سنين، يعرف فصل ما بين الأنبياء والكهنة، وفرق ما بين الرسل والسحرة، وفرق ما بين خبر المنجم والنبي، وحتى يعرف الحجة من الحيلة، وقهر
অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি, পুরুষদের মুখোমুখি হননি এবং প্রতিপক্ষের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হননি; একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যা কিছু জানা ও স্বীকার করা অপরিহার্য, তার সবই তিনি জানতেন না।

আমরা বলেছি: আমরা কেবল বিধি-বিধানের বাহ্যিক দিক এবং শিশুদের স্বভাব সম্পর্কে আমাদের পর্যবেক্ষণের আলোকেই কথা বলছি। আমরা সাত, আট ও নয় বছর বয়সী শিশুদের সম্পর্কে যা কিছু পড়েছি এবং তাদের সংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছেছে—যতক্ষণ না তাদের অপ্রকাশিত অবস্থা ও বিশেষ স্বভাব সম্পর্কে জানা যাচ্ছে—তা শিশুদের বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত। আমাদের পক্ষে এটি সমীচীন নয় যে, আমরা তার বাহ্যিক অবস্থা এবং তার সমপর্যায়ের শিশুদের সম্পর্কে আমাদের জানাশোনাকে নিছক কোনো সম্ভাবনা বা অনুমানের ভিত্তিতে নাকচ করে দেব। কারণ আমরা জানি না যে, সম্ভবত তিনি তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন, অথবা সম্ভবত বুদ্ধিবৃত্তিতে কোনো ঘাটতি ছিল। তাদের মধ্যে যারা এই উত্তর দিয়েছেন, তারা মনে করেন যে গোপনে আলী হয়তো একজন স্বেচ্ছায় নির্বাচনকারী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন; কিন্তু তাদের মতে তার বিধানটি তার সমপর্যায়ের ও সমবয়সীদের বিধান অনুযায়ীই পরিচালিত হবে। তারা যখন এই বয়সে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তাদের ইসলাম গ্রহণ মূলত লালন-পালনকারীর প্রশিক্ষণ, অভিভাবকের দীক্ষা এবং পরিচালকের অনুশীলনের অনুগামী হয়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: উসমানিয়া সম্প্রদায়ের আলেম, তাদের কালামশাস্ত্রবিদ এবং তাদের প্রাচীন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য, তারা বলেন: আলী যদি ছয়, সাত, আট বা নয় বছর বয়সেই নবী ও গণকদের মধ্যকার ব্যবধান, রাসূল ও জাদুকরদের মধ্যকার পার্থক্য এবং জ্যোতিষী ও নবীর সংবাদের পার্থক্য অনুধাবন করতে পারতেন, এমনকি যদি তিনি অকাট্য প্রমাণ ও চাতুর্যের মধ্যে পার্থক্য বুঝতেন এবং পরাভূত করার...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الغلبة من قهر المعرفة، ويعرف كيد المريب وبعد غور المتنبي، وكيف يلبس على العقلاء، ويستميل عقول الدهماء، ويعرف الممكن في الطبائع من الممتنع فيها، وما يحدث بالاتفاق وما يحدث بالأسباب، ويعرف أقدار القوى في مبلغ الحيلة ومنتهى البطش، وما لا يحتمل إحداثه إلا الخالق، وما يجوز على الله مما لا يجوز في توحيده وعدله، وكيف التحفظ من الهوى، وكيف الاحتراس من تقدم الخادع في الحيلة - كان كونه بهذه الحال وعلى هذه الصفة مع فرط الصبا والحداثة، وقلة التجارب والممارسة، خروجا من نشوء العادة، والمعروف مما عليه تركيب الأمة. ولو كان على هذه الصفة ومعه هذه الخاصية، كان حجة على العامة، وآية تدل على المباينة، ولم يكن الله ليخصه بمثل هذه الآية وبمثل هذه الأعجوبة إلا وهو يريد أن يحتج بها له، ويخبر بها عنه، ويجعلها قاطعة لعذر الشاهد، وحجة على الغائب، ولا يضيعها هدرا، ولا يكتمها باطلا.

ولو أراد الاحتجاج بها شهر أمرها وكشف قناعها، وحمل النفوس على معرفتها، وسخر الألسنة لنقلها، والأسماع لإدراكها، لئلا يكون لغوا ساقطا، ونسيا منسيا، لأن الله لا يبتدع أعجوبة ولا يخترع آية ولا ينقض العادة إلا للتعريف والإعذار، والمصلحة والاستبصار. ولولا
জ্ঞানের প্রতাপের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়; তিনি সংশয়বাদীর কূটচাল এবং ভণ্ড দাবিদারের গভীর ধূর্ততা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি জানেন কীভাবে বুদ্ধিমানদের বিভ্রান্ত করা হয় এবং সাধারণ মানুষের মন জয় করা হয়। তিনি প্রকৃতির সম্ভাব্য ও অসম্ভব বিষয়গুলো চিনতে পারেন এবং কোনটি আকস্মিক সংযোগে আর কোনটি সুনির্দিষ্ট কারণের ওপর ভিত্তি করে ঘটে, তা উপলব্ধি করেন। তিনি চাতুর্যের পরিধি ও শক্তির চূড়ান্ত সীমানার গুরুত্ব বোঝেন, এবং অনুধাবন করেন যে কোন বিষয়টি কেবল স্রষ্টা ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তদুপরি, আল্লাহর একত্ববাদ ও ন্যায়বিচারের নিরিখে তাঁর ক্ষেত্রে যা সমীচীন ও যা অসমীচীন, সে সম্পর্কেও তিনি প্রাজ্ঞ। তিনি জানেন কীভাবে কুপ্রবৃত্তি থেকে আত্মরক্ষা করতে হয় এবং প্রবঞ্চকের কূটকৌশল থেকে সতর্ক থাকতে হয়। অল্প বয়স ও নবীনতা এবং অভিজ্ঞতা ও চর্চার স্বল্পতা সত্ত্বেও তাঁর এই উন্নত অবস্থা ও গুণাবলি অর্জন ছিল প্রথাগত নিয়মের এক ব্যতিক্রম এবং জাতির সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ঊর্ধ্বে এক অনন্য বিষয়। এমতাবস্থায় তিনি যদি এমন গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হন, তবে তা সাধারণ মানুষের জন্য একটি অকাট্য প্রমাণ এবং তাঁর স্বাতন্ত্র্যের পরিচায়ক এক বড় নিদর্শন। আল্লাহ তাঁকে এমন অলৌকিক নিদর্শন ও বিস্ময়কর ক্ষমতা দ্বারা বিশিষ্ট করতেন না, যদি না তিনি এর মাধ্যমে তাঁর সপক্ষে যুক্তি পেশ করতে এবং তাঁর সম্পর্কে অবগত করতে চাইতেন। তিনি একে প্রত্যক্ষদর্শীর জন্য ওজর-আপত্তির অবসানকারী এবং অনুপস্থিতদের জন্য অকাট্য প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; তিনি একে বৃথা অপচয় করেন না এবং নিরর্থকভাবে গোপনও রাখেন না।

যদি তিনি এর দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করতে চাইতেন, তবে তিনি এর বিষয়টিকে সুপ্রসিদ্ধ করতেন এবং এর আবরণ উন্মোচন করতেন; তিনি মানুষের মনকে এটি অনুধাবনের প্রেরণা দিতেন এবং জিহ্বাকে এটি বর্ণনায় ও কর্ণকে এটি শ্রবণে নিয়োজিত করতেন, যাতে তা কোনো তুচ্ছ বর্জনীয় বিষয় কিংবা বিস্মৃত কোনো বস্তুতে পরিণত না হয়। কারণ আল্লাহ কোনো অলৌকিকত্ব সৃষ্টি করেন না, কোনো নিদর্শন উদ্ভাবন করেন না এবং জাগতিক নিয়ম ভঙ্গ করেন না—একমাত্র আত্মপরিচয় দান, ওজর নিরসন, বৃহত্তর কল্যাণ এবং অন্তর্দৃষ্টি প্রদানের উদ্দেশ্য ব্যতীত। আর যদি না...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ذلك لم يكن لفعلها معنى، ولا لرسالته حجة. والله يتعالى أن يترك الأمور سدى، والتدبير نشرا. ولا يصل أحد إلى معرفة صدق نبي وكذب متنبئ حتى تجتمع له هذه المعارف التي ذكرنا، وهذه الأسباب التي فصلنا.

ولولا أن الله سبحانه خبر عن يحيى بن زكريا أنه آتاه الحكم صبيا، وأنه أنطق عيسى في المهد رضيعا، ما كانا في الحكم ولا في المغيب إلا كسائر الرسل، وما عليه طبع البشر.

فإذ لم ينطق لعلي بذلك قرآن. ولا جاء الخبر به مجئ الحجة القاطعة، والشهادة الصادقة، فالمعلوم عندنا في الحكم وفي المغيب جميعا أن طباعه كطباع عميه حمزة والعباس، وهما أمس بمعدن جماع الخير منه، وكطباع جعفر وعقيل أخويه، وكطباع أبويه ورجال عصره وسادة رهطه. ولو أن إنسانا ادعى مثل ذلك لأخيه جعفر أو لعمه حمزة أو لعمه العباس - وهو حليم قريش - ما كان عندنا في أمره إلا مثل ما عندنا فيه.

 

‌‌فصل: ولو لم تعرف الروافض ومن ذهب مذهبها في هذا باطل
অন্যথা তার কর্মের কোনো অর্থ থাকত না এবং তাঁর বাণীর সপক্ষে কোনো প্রমাণ থাকত না। আল্লাহ তাআলা বিষয়সমূহকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দিতে এবং ব্যবস্থাপনাকে বিশৃঙ্খল রাখতে অত্যন্ত ঊর্ধ্বে। কোনো ব্যক্তিই একজন নবীর সত্যবাদিতা এবং নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারের মিথ্যুক হওয়ার বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে না যতক্ষণ না তার মাঝে আমাদের বর্ণিত এই জ্ঞানসমূহ এবং বিস্তারিত আলোচিত কারণসমূহ একত্রিত হয়।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি ইয়াহিয়া বিন যাকারিয়া সম্পর্কে সংবাদ না দিতেন যে তিনি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং যদি ঈসাকে দোলনায় থাকা অবস্থায় কথা বলানোর সংবাদ না দিতেন, তবে প্রজ্ঞা ও অদৃশ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে তারা অন্যান্য রাসূল এবং সাধারণ মানবপ্রকৃতির অনুরূপই হতেন।

যেহেতু আলীর বিষয়ে কুরআন এমন কিছু বলেনি এবং সে বিষয়ে কোনো অকাট্য দলিল বা সত্য সাক্ষ্যও আসেনি, তাই আমাদের নিকট প্রজ্ঞা এবং অদৃশ্য বিষয়—উভয় ক্ষেত্রেই নিশ্চিত যে, তার প্রকৃতি ছিল তার দুই চাচা হামযাহ ও আব্বাসের প্রকৃতির মতোই—আর তারা উভয়ে কল্যাণের আধার হিসেবে তার চেয়েও নিবিড় ছিলেন—এবং তার দুই ভাই জাফর ও আকীল, তার পিতামাতা, সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ ও গোত্রীয় প্রধানদের স্বভাবের ন্যায় ছিল। যদি কোনো ব্যক্তি তার ভাই জাফর অথবা তার চাচা হামযাহ কিংবা তার চাচা আব্বাস—যিনি কুরাইশদের অত্যন্ত সহনশীল ব্যক্তি ছিলেন—সম্পর্কে অনুরূপ দাবি করত, তবে তার বিষয়ে আমাদের অবস্থান তেমনই হতো যেমনটি তার (আলী) ক্ষেত্রে রয়েছে।

 

পরিচ্ছেদ: যদি রাফেযী এবং যারা তাদের মতাদর্শ অবলম্বন করে তারা না জানত যে এতে অসারতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
هذه الدعوى، وفساد هذا المعنى إذا صدقت أنفسها ولم تقلد رجالها، وتحفظت من الهوى وآثرت التقوى، [إلا بترك] على ذكر ذلك لنفسه والاحتجاج به على خصمه وأهل دهره، منذ نازع الرجال، وخاصم الأكفاء، وجامع أهل الشورى وولي وولي عليه، والناس بين معاند يحتاج إلى التقريع، ومرادّ يحتاج إلى الإرشاد، وولي يحتاج إلى المادة، وغفل يحتاج إلى أن يكثر له من الحجة، ويتابع له بين الأمارات والدلالات مع حاجة القرن الثاني إلى معرفة الحق ومعدن الامر، لأن الحجة إذا لم تصح لعلي في نفسه، ولم يقو على أهل دهره، فهي عن ولده أعجز، وعنهم أضعف.

ثم لم ينقل ناقل واحد أن عليا احتج بذلك في موقف، ولا ذكره في مجلس، ولا قام به خطيبا، ولا أدلى به واثقا، ولا همس به إلى موافق، ولا احتج به على مخالف.

 

‌‌فصل: وقد ذكر فضائله وفخر بقرابته وسابقته، وكاثر بمحاسنه ومواقفه، منذ جامع الشورى وناضلهم. إلى أن ابتلي بمساورة معاوية له، وطمعه فيه، وجلوس أكثر أصحاب رسول الله عن عونه، والشد على عضده، كما قال عامر الشعبي: لقد وقعت الفتنة وبالمدينة عشرون ألفا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ما خف فيها منهم
এই দাবি এবং এই অর্থের অসারতা স্পষ্ট হয় যদি তারা নিজেদের প্রতি সত্যনিষ্ঠ হয়, তাদের নেতৃবৃন্দের অন্ধ অনুসরণ না করে, কুপ্রবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকে এবং তাকওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়; বিশেষ করে তাঁর নিজের জন্য এটি উল্লেখ না করা এবং তাঁর সমসাময়িক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে এটি দিয়ে দলিল পেশ না করা থেকে—যখন থেকে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছেন, সমকক্ষদের সাথে বিতর্ক করেছেন, শুরার সদস্যদের সাথে সমবেত হয়েছেন এবং তিনি যখন শাসক ছিলেন কিংবা শাসিত ছিলেন। তখন মানুষের অবস্থা ছিল এমন যে, কেউ ছিল একগুঁয়ে যাকে কঠোর শাসন প্রয়োজন, কেউ ছিল সত্য প্রত্যাখানকারী যাকে পথপ্রদর্শন প্রয়োজন, কেউ ছিল বন্ধু যার সমর্থন প্রয়োজন, আবার কেউ ছিল অসচেতন যাকে প্রচুর প্রমাণ ও নিদর্শনের মাধ্যমে আশ্বস্ত করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রজন্মের মানুষের জন্যও সত্যের স্বরূপ ও বিষয়ের মূল উৎস জানা জরুরি ছিল। কারণ, দলিল যদি আলীর নিজের ক্ষেত্রেই সাব্যস্ত না হয় এবং তাঁর যুগের লোকদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী না হয়, তবে তাঁর সন্তানদের ক্ষেত্রে তা হবে আরও অক্ষম এবং অধিকতর দুর্বল।

অতঃপর একজন বর্ণনাকারীও এটি বর্ণনা করেননি যে, আলী কোনো বিশেষ অবস্থানে এটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন, না কোনো মজলিসে তা উল্লেখ করেছেন, না কোনো জনসভায় এটি নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন, না দৃঢ়তার সাথে এটি উপস্থাপন করেছেন, না কোনো অনুসারীর নিকট এটি নিয়ে ফিসফিস করেছেন, আর না কোনো বিরোধীর সামনে এটি নিয়ে বিতর্ক করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: তিনি তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বংশীয় নিকটাত্মীয়তা ও ইসলামে অগ্রগামিতা নিয়ে গর্ব করেছেন, এবং তাঁর পুণ্যকর্ম ও অবস্থানসমূহ দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করেছেন, যখন থেকে তিনি শুরার সদস্যদের সাথে একত্রিত হয়েছেন ও তাঁদের সাথে বিতর্ক করেছেন। পরিশেষে তিনি মুয়াবিয়ার আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে পরীক্ষার সম্মুখীন হন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অধিকাংশ সাহাবী তাঁকে সাহায্য করা ও তাঁর শক্তি বৃদ্ধিতে নিবৃত্ত থাকেন। যেমন আমির আশ-শা'বী বলেছেন: যখন ফিতনা শুরু হয়েছিল, তখন মদিনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিশ হাজার সাহাবী উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্য থেকে যারা এতে অংশ নিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
عشرون، ومن زعم أنه شهد الجمل ممن شهد بدرا أكثر من أربعة فقد كذب، كان علي وعمار في شق وطلحة والزبير في شق.

وكيف يجوز عليه ترك الاحتجاج على المخالف وتشجيع الموافق وقد نصب نفسه للخاصة والعامة، وللخاذل والعادي، ومن لا يحل له في دينه ترك الإعذار إليهم، إذ كان يرى أن قتالهم كان واجبا، وقد نصبه الرسول مفزعا ومعلما، ونص عليه قائما، وجعله للناس إماما، وأوجب طاعته، وجعله حجة في الناس يقوم مقامه.

 

‌‌فصل: وأعجب من ذلك أنه لم يدع هذا له أحد في دهره كما لم يدعه لنفسه، مع عظيم ما قالوا فيه في عسكره وبعد وفاته، حتى يقول إنسان واحد إن الدليل على إمامته أن النبي صلى الله عليه وسلم دعاه إلى الإسلام، فكلف التصديق قبل بلوغه وإدراكه، ليكون ذلك آية له في عصره، وحجة له ولولده على من بعده. وقد كان علي أعلم بالأمور من أن يدع ذكر أكبر حججه والذي بان به من شكله، ويذكر أصغر حججه والذي يشاركه فيه غيره، وقد كان في عسكره من لا يألو في الإفراط، ومن يحسب أن الإفراط زيادة في القدر.

والعجب له، إن كان الأمر كما ذكرتم، كيف لم يقف يوم الجمل ويوم صفين أو يوم النهر في موقف يكون من عدوه بمرأى ومسمع،
বিশজন; আর বদরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে যারা উটের যুদ্ধে (জঙ্গে জামাল) উপস্থিত ছিলেন বলে চারজনের বেশি দাবি করবে, সে মিথ্যা বলেছে। আলী ও আম্মার ছিলেন এক পক্ষে, আর তালহা ও জুবায়ের ছিলেন অন্য পক্ষে।

আর বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন বর্জন করা এবং অনুসারীদের উৎসাহিত করা কীভাবে তাঁর জন্য বৈধ হতে পারে, অথচ তিনি নিজেকে সাধারণ ও বিশেষ, সাহায্যকারী ও শত্রু—সবার সামনে উপস্থাপন করেছিলেন? যাঁর দ্বীনী আদর্শে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পেশ করা বর্জন করা বৈধ ছিল না, যেহেতু তিনি মনে করতেন যে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ওয়াজিব ছিল। অথচ রাসূল (সা.) তাঁকে আশ্রয়স্থল ও শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছিলেন, তাঁকে মানুষের ইমাম বানিয়েছিলেন, তাঁর আনুগত্য আবশ্যক করেছিলেন এবং তাঁকে মানুষের মাঝে নিজের স্থলাভিষিক্ত প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর সমসাময়িক কেউ যেমন এটি তাঁর পক্ষে দাবি করেনি, তেমনি তিনি নিজেও নিজের জন্য তা দাবি করেননি, অথচ তাঁর সৈন্যবাহিনীতে থাকাকালীন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সম্পর্কে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছে। এমনকি একজন মানুষও বলেনি যে, তাঁর ইমামতের প্রমাণ হলো—নবী (সা.) তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং তাঁর বালেগ হওয়া ও পূর্ণ বোধোদয় লাভের পূর্বেই সত্যয়নের দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন, যাতে তা তাঁর যুগে তাঁর জন্য এক নিদর্শন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁর ও তাঁর সন্তানদের জন্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়। আলী (রা.) বিষয়গুলো সম্পর্কে এতই সম্যক অবগত ছিলেন যে, তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠতম প্রমাণসমূহ এবং যার মাধ্যমে তিনি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছেন তা বর্জন করে ক্ষুদ্রতম প্রমাণের কথা উল্লেখ করবেন যাতে অন্যরাও অংশীদার—এমনটি অসম্ভব। অথচ তাঁর বাহিনীতে এমন লোকও ছিল যারা অতিশয়োক্তি করতে কোনো কার্পণ্য করত না এবং যারা মনে করত যে অতিরঞ্জনই বুঝি মর্যাদার বৃদ্ধি ঘটায়।

আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিষয়টি যদি তেমনই হতো যেমনটি আপনারা বর্ণনা করেছেন, তবে কেন তিনি জঙ্গে জামাল, সিফফীন কিংবা নাহরাওয়ানের দিন এমন কোনো অবস্থানে দাঁড়ালেন না যেখান থেকে তিনি শত্রুর সরাসরি দৃষ্টিগোচর হতেন এবং তারা তাঁর কথা সরাসরি শুনতে পেত,
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فيقول: "تبا لكم وتعسا، كيف تقاتلوني وتجحدون فضلي وقد خصصت بآية حتى كنت كيحيى بن زكريا وعيسى بن مريم" ولا يمتنع الناس من أن يقولوا ويموجوا، فإذا ماجوا تكلموا على أقدار عللهم، وعللهم مختلفة، ولا ينشب أمرهم أن يعود إلى فرقة، فمن ذاكر قد كان ناسيا، ومن نازع قد كان مصرا. وكم مترنح قد كان غالطا، مع ما كان يشيع من الحجة في الآفاق، ويستفيض في الأطراف، ويحتمله الركبان ويتهادى في المجالس.

فهذا كان أشد على طلحة والزبير، وعائشة ومعاوية، وعبد الله بن وهب، من مائة ألف سنان طرير، وسيف مشهور.

 

‌‌فصل: ومعلوم عند ذوي التجربة والعارفين بطبائع الأتباع وعلل الأجناد، أن العساكر تنتقض مرائرها وينتشر أمرها، وتنقلب على قادتها بأيسر من هذه الحجة، وأخفى من هذه الشهادة.

‌‌فصل: وقد علمتم ما صنعت المصاحف في طبائع أصحاب علي، حين رفعها عمرو بن العاص أشد ما كان أصحاب علي استبصارا في قتالهم،
অতঃপর তিনি বলেন: "তোমাদের জন্য দুর্ভোগ ও বিনাশ হোক! কীভাবে তোমরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছ এবং আমার শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করছ, অথচ আমাকে এমন এক আয়াতের মাধ্যমে বিশিষ্ট করা হয়েছে যে আমি ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের সদৃশ হয়েছি।" মানুষ কথা বলা ও আলোড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে না। যখন তারা আলোড়িত হয়, তখন তারা তাদের বিচিত্র ওজর-আপত্তির মাত্রা অনুযায়ী কথা বলে। অচিরেই তাদের বিষয়টি পুনরায় বিভক্তির দিকে মোড় নেয়। ফলে কেউ পূর্বের বিস্মৃত বিষয় স্মরণ করে, আবার কেউ একগুঁয়েমির সাথে বিবাদে লিপ্ত থাকে। কতই না বিভ্রান্ত ব্যক্তি ভুল পথে ছিল, অথচ দিগন্তজুড়ে দলিল-প্রমাণ ছড়িয়ে পড়ছিল, প্রান্তসমূহে তা বিস্তারিত হচ্ছিল, আরোহীরা তা বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল এবং মজলিসগুলোতে তা উপঢৌকনস্বরূপ আলোচিত হচ্ছিল।

এটি তালহা, জুবাইর, আয়েশা, মুয়াবিয়া এবং আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের নিকট এক লক্ষ তীক্ষ্ণ বর্শাফলক ও উন্মুক্ত তরবারির চেয়েও অধিক কঠোর ছিল।

 

‌‌অনুচ্ছেদ: অভিজ্ঞ এবং অনুসারীদের স্বভাব ও সৈন্যদের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে জ্ঞানীদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, এই দলিলের চেয়েও তুচ্ছ এবং এই সাক্ষ্যের চেয়েও সূক্ষ্ম কারণে সেনাবাহিনীর দৃঢ় সংকল্প ভেঙে যায়, তাদের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় এবং তারা নিজ নেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

‌‌অনুচ্ছেদ: আপনারা অবশ্যই অবগত আছেন যে মুসহাফসমূহ আলীর সঙ্গীদের মানসিকতায় কী প্রভাব ফেলেছিল, যখন আমর ইবনুল আস সেগুলো উত্তোলন করেছিলেন; অথচ তখন আলীর সঙ্গীরা তাদের লড়াইয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ও দূরদর্শী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم لم ينتقض على علي من أصحابه إلا أهل الجد والنجدة، وأصحاب البرانس والبصيرة.

وكما علمتم من تحول شطر عسكر عبد الله بن وهب حين اعتزلوا مع فروة بن نوفل، لكلمة سمعوها من عبد الله بن وهب كانت تدل عندهم على ضعف الاستبصار والوهن في اليقين.

وهذا الباب أكثر من أن يحتاج مع ظهوره ومعرفة الناس به إلى أن نحشوا به كتابنا.

 

‌‌فصل: فأما إسلامه وهو حدث غرير وغلام صغير، فهذا ما لا ندفعه، غير أنه إسلام تلقين وتأديب وتربية. وبين إسلام التكليف والامتحان وبين التلقين والتربية فرق عظيم، ومحجة واضحة.

وقالت العثمانية: إن قالت الشيع: إن الأمور ليس كما حكيتم، ولا كما هيأتموه لأنفسكم، بل نزعم أنه قد كانت هناك في أيام صباه وحداثته فضيلة فطنة، ومزية ذكاء، ولم يبلغ الأمر قدر الأعجوبة والآية.

قلنا: إن الذي ذهبتم إليه أيضا لا بد فيه من أحد وجهين:

إما أن يكون قد كان لا يزال يوجد في الصبيان مثله في الفطنة
এরপর আলীর সঙ্গীদের মধ্য থেকে কেবল কঠোর পরিশ্রমী ও সাহসী এবং বিশেষ পোশাকধারী ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরাই তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল।

এবং যেমনটি আপনারা আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবের সেনাবাহিনীর সেই অংশের দলত্যাগ সম্পর্কে জানেন, যখন তারা ফারওয়া বিন নাওফালের সাথে পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন; আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবের মুখ থেকে শোনা একটি কথার কারণে, যা তাদের কাছে অন্তর্দৃষ্টির দুর্বলতা এবং বিশ্বাসের শিথিলতা হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছিল।

এই বিষয়টি এতই সুস্পষ্ট এবং মানুষের কাছে সুপরিচিত যে, এটি দিয়ে আমাদের গ্রন্থকে ভারাক্রান্ত করার প্রয়োজন নেই।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: তাঁর ইসলাম গ্রহণ যখন তিনি অল্পবয়সী ও সরল বালক ছিলেন, এটি এমন এক বিষয় যা আমরা অস্বীকার করি না, তবে তা ছিল কেবল দীক্ষা, শিষ্টাচার এবং লালন-পালনজনিত ইসলাম গ্রহণ। আর শরয়ী দায়বদ্ধতা ও পরীক্ষার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ এবং দীক্ষা ও লালন-পালনের মাধ্যমে ইসলামের মাঝে এক বিশাল ব্যবধান ও সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

উসমানিয়া গোষ্ঠী বলেছে: যদি শিয়ারা বলে যে, বিষয়টি আপনারা যেভাবে বর্ণনা করেছেন বা নিজেরা যেভাবে সাজিয়েছেন তেমন নয়, বরং আমরা দাবি করি যে তাঁর শৈশব ও কৈশোরে এক অনন্য প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব বিদ্যমান ছিল, তবে তা কোনো অলৌকিক ঘটনা বা নিদর্শনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

আমরা বলি: আপনারা যে মত গ্রহণ করেছেন, সেখানেও দুটি দিকের একটি থাকা অনিবার্য:

হয়তো বালকদের মধ্যে সর্বদা তাঁর মতো প্রখর মেধাসম্পন্ন কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
والذكاء وإن كان ذلك عزيزا قليلا، أو كان وجود ذلك ممتنعا، ومن العادة خارجا. فإذا كان قد كان يوجد مثله على عزته وقلته فما كان إلا كبعض من نرى اليوم ممن يتعجب من حسه وفطنته، وحفظه وحكايته وسرعة قبوله على صغر سنه وقلة تجريبه. وإن كانت حاله هذه الحال، وطبيعته على هذا المثال، فإنا لم نجد صبيا قط وإن أفرط كيسه وحسنت فطنته وأعجب [به] أهله يحتمل ولاية الله سبحانه وعداوته، والتمييز بين الأمور التي ذكرنا. مع أنه ما جاءنا ولا صح عند أحد منا بخبر صادق، ولا كتاب ناطق، أنه كان لعلي خاصة دون قريش عامة في صباه من إتقان الأمور وصحة المعارف وجودة المخارج ما لم يكن لأحد من إخوته وأعمامه وآبائه.

وإن كان القدر الذي كان عليه على من الذكاء والمعرفة القدر الذي لم نجد له [فيه] مثلا، ولا رأينا له شكلا - وهذا هو البديع الذي به يحتج على المنكرين، ويفلج على المعارضين، ويبين للمسترشدين - فهذا باب قد فرغنا منه مرة.

 

‌‌فصل: ولو كان الأمر في علي على ما يقولون لكانت في ذلك حجة للرسول في رسالته، ولعلي في إمامته. والآية إذا كانت للرسول وخليفة
মেধা ও প্রজ্ঞা যদিও অত্যন্ত দুর্লভ ও বিরল হয়ে থাকে, কিংবা এর অস্তিত্ব অসম্ভব এবং সাধারণ নিয়মের বহির্ভূত হয়; তবুও যদি তার বিরলতা ও স্বল্পতা সত্ত্বেও এর কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যেত, তবে তা বর্তমানকালে আমাদের দেখা সেই সব শিশুদের মতোই হতো, যাদের ইন্দ্রিয় সচেতনতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, মুখস্থ শক্তি, বর্ণনাভঙ্গি এবং অল্প বয়স ও অভিজ্ঞতাহীনতা সত্ত্বেও দ্রুত গ্রহণ করার ক্ষমতা দেখে মানুষ বিস্ময়াভিভূত হয়। যদি তার অবস্থাও এমন হতো এবং তার প্রকৃতিও এই দৃষ্টান্ত অনুযায়ী হতো, তবুও আমরা এমন কোনো বালক কখনো দেখিনি—তার চতুরতা ও বুদ্ধিমত্তা যতই প্রখর হোক এবং তার পরিবার তাকে নিয়ে যতই বিস্মিত হোক না কেন—যে মহান আল্লাহর বন্ধুত্ব ও শত্রুতার ভার বহন করার এবং আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করার সামর্থ্য রাখে। অধিকন্তু, আমাদের নিকট কোনো সত্য সংবাদ কিংবা সুস্পষ্ট কিতাবের মাধ্যমে এমন কোনো তথ্য আসেনি এবং আমাদের কারো কাছে তা প্রমাণিতও হয়নি যে, কুরাইশ বংশের সাধারণ মানুষদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে আলীর শৈশবে কর্মতৎপরতায় এমন পারঙ্গমতা, জ্ঞানের বিশুদ্ধতা এবং সংকট নিরসনে এমন দক্ষতা ছিল, যা তাঁর কোনো ভাই, চাচা বা পিতৃপুরুষদের কারো মধ্যে ছিল না।

আর আলীর মেধা ও প্রজ্ঞার স্তর যদি এমন পর্যায়ের হয়ে থাকে যার কোনো দৃষ্টান্ত আমরা খুঁজে পাইনি এবং যার সমরূপ আমরা দেখিনি—যা মূলত সেই অলৌকিক বিষয় যার মাধ্যমে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করা হয়, বিরোধীদের পরাভূত করা হয় এবং সত্যানুসন্ধানীদের নিকট সত্য স্পষ্ট করা হয়—তবে এ বিষয়টি আমরা ইতঃপূর্বে একবার আলোচনা করে শেষ করেছি।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: আলীর বিষয়টি যদি তেমনই হতো যেমনটি তারা বলে থাকে তবে তা রাসূলের নবুওয়তের সপক্ষে এবং আলীর ইমামতের সপক্ষে একটি অকাট্য দলিল হতো। আর কোনো নিদর্শন যখন কোনো রাসূল ও তাঁর খলীফার জন্য প্রকাশ পায়...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الرسول كان أشهر لها، لأن وضوح أمر الرسول يزيد على ما للامام ويزيده إشراقا واستنارة وبيانا. ولا يجوز أن يكون الله قد عرف أهل عصرهما ذلك، وهم الشهداء على من بعدهم من القرون ثم يسقط حجته، فلا تخلو تلك الحجة وتلك الشهادة من ضربين: إما أن تكون ضاعت وضلت، وإما أن تكون قد قامت وظهرت.

فإن كانت قد ضاعت فلعل كثيرا من حجج الرسول صلى الله عليه وسلم قد ضاع معها، وما جعل الباقي منها أولى بالتمام من الساقط، والساقط من شكل الثابت. على أن مع الساقط خاصة ليست مع الثابت لأنه حجة على شيئين، والثابت حجة على شئ. ولا يخلو أمر الساقط من ضربين: إما أن يكون الله لم يرد تمامه، أو يكون قد أراده.

وأي ذين [كان] ففساده واضح عند قارئ الكتاب.

وإن كانت الآية قد تمت إذ كانت الشهادة قد قامت علينا بها كما كانت شهادة العيان قائمة عليهم [فيها] فليس في الأرض عثماني إلا وهو يكابر عقله ويجحد علمه.

ولعمري إنا لنجد في الصبيان من لو لقنته وسددته أو كتبت له أغمض المعاني وألطفها، وأغوص الحجج وأبعدها، وأكثرها لفظا
রাসূল (সা.)-এর বিষয়টি ছিল এর জন্য অধিকতর প্রসিদ্ধ, কারণ রাসূলের আদেশের স্পষ্টতা ইমামের আদেশের চেয়ে অধিক এবং তা একে অধিকতর দ্যুতি, আলোকবর্তিকা ও সুস্পষ্টতা দান করে। এটা সমীচীন নয় যে, আল্লাহ তাআলা তাদের সমকালীনদের কাছে তা পরিচিত করাবেন—অথচ তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সাক্ষী—আর এরপর তাঁর সেই প্রমাণটি (হুজ্জাত) নিষ্ফল হয়ে যাবে। সুতরাং সেই হুজ্জাত এবং সাক্ষ্য দুটি অবস্থার বাইরে হতে পারে না: হয় তা হারিয়ে গেছে ও বিভ্রান্তিতে পর্যবসিত হয়েছে, অথবা তা প্রতিষ্ঠিত ও প্রকাশিত হয়েছে।

যদি তা হারিয়ে গিয়ে থাকে, তবে সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনেক হুজ্জাতও এর সাথে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর যা অবশিষ্ট রয়েছে তাকে বিলুপ্ত হওয়ার তুলনায় পূর্ণতার জন্য অধিকতর যোগ্য বলা যায় না, কেননা যা বিলুপ্ত হয়েছে তা বিদ্যমানটিরই সদৃশ। তদুপরি, বিলুপ্ত হওয়া বিষয়টির সাথে এমন একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিদ্যমানটির নেই, কারণ তা দুটি বিষয়ের হুজ্জাত বা প্রমাণ, আর বিদ্যমানটি কেবল একটি বিষয়ের হুজ্জাত। সেই বিলুপ্ত বিষয়ের ব্যাপারটিও দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় আল্লাহ এর পূর্ণতা চাননি, অথবা তিনি তা চেয়েছিলেন।

এই দুটির মধ্যে যা-ই হোক না কেন, গ্রন্থ পাঠকারীর নিকট তার অসারতা সুস্পষ্ট।

আর যদি নিদর্শনটি পূর্ণতা পেয়ে থাকে—যেহেতু আমাদের বিরুদ্ধে তার মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেমনটি তাদের বিরুদ্ধে চাক্ষুষ সাক্ষ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—তবে পৃথিবীতে এমন কোনো উসমানী নেই যে নিজের বিবেকের সাথে হঠকারিতা করছে না এবং নিজ জ্ঞানকে অস্বীকার করছে না।

আমার জীবনের শপথ, আমরা শিশুদের মধ্যেও এমন কাউকে পাই যাকে যদি আপনি পাঠদান করেন ও পরিচালিত করেন, অথবা তার জন্য অতি গূঢ় ও সূক্ষ্ম অর্থসমূহ, অতি গভীর ও সুদূরপ্রসারী যুক্তিপ্রমাণ এবং অত্যন্ত শব্দবহুল বিষয়াদি লিখে দেন...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وألطفها، وأطولها، ثم أخذته بدرسه وحفظه لحفظه حفظا عجيبا، ولهذه هذا ذليقا. فأما معرفته صحيحه من سقيمه، وحقه من باطله، وفصل ما بين المقرب والدليل، والاحتراس من حيث يؤتى المخدوعون، والتحفظ من مكر الخادعين، وتأتي المجرب، ورفق الساحر، وخلابة المتنبئ، وزجر الكاهن وإخبار المنجمين، وفرق ما بين نظم القرآن وتأليفه ونظم سائر الكلام وتأليفه - فليس يعرف فروق النظر واختلاف البحث إلا من عرف القصيد من الزجر، والمخمس من الأسجاع، والمزاوج من المنثور، والخطب من الرسائل، وحتى يعرف العجز العارض الذي يجوز ارتفاعه من العجز الذي هو صفة في الذات.

فإذا عرف صنوف التأليف عرف مباينة نظم القرآن لسائر الكلام، ثم لم يكتف بذلك حتى يعرف عجزه وعجز أمثاله عن مثله، وأن حكم البشر حكم واحد في العجز الطبيعي وإن تفاوتوا في العجز العارض.

وهذا ما لا يوجد عند صبي ابن سبع سنين وثمان سنين وتسع سنين أبدا، عرف ذلك عارف أو جهله جاهل. ولا يجوز أن يعرف عارف معنى الرسالة إلا بعد الفراغ من هذه الوجوه، إلا أن يجعل جاعل
এর সূক্ষ্মতম ও দীর্ঘতম অংশসমূহ; অতঃপর তিনি তা অধ্যয়ন ও মুখস্থকরণে আত্মনিয়োগ করলেন এবং বিস্ময়করভাবে তা স্মরণ রাখলেন, যার ফলে তাঁর বাগ্মিতা তীক্ষ্ণ ও সাবলীল হলো। আর বিশুদ্ধকে ত্রুটিপূর্ণ থেকে এবং সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক করার জ্ঞান; অকাট্য প্রমাণ ও আনুমানিক প্রমাণের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ; প্রতারিতরা যেখান থেকে বিভ্রান্ত হয় সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রতারকদের ধূর্ততা থেকে আত্মরক্ষা; অভিজ্ঞদের কর্মপদ্ধতি, জাদুকরের নিপুণতা, মিথ্যা নবীর প্রবঞ্চনা, গণকের মন্ত্রপাঠ ও জ্যোতিষীদের সংবাদের স্বরূপ অনুধাবন; এবং কুরআনের বিন্যাস ও রচনারীতির সাথে অন্যান্য সাধারণ বাক্যালাপের বিন্যাস ও রচনারীতির পার্থক্য অনুধাবন করা—ততক্ষণ পর্যন্ত এই সূক্ষ্ম দৃষ্টি ও গবেষণালব্ধ পার্থক্যসমূহ বোঝা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না কেউ কাসিদা ও ছন্দোবদ্ধ মন্ত্রের পার্থক্য জানবে; পঞ্চপদী ছন্দ ও অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্যের পার্থক্য জানবে; এবং যুগল গদ্য ও সাধারণ গদ্য এবং ভাষণ ও পত্রাবলীর মধ্যকার বৈষম্য বুঝবে; এমনকি সে আপতিক অক্ষমতা—যা দূরীভূত হওয়া সম্ভব—এবং সত্তাগত অক্ষমতার—যা মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য—মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে শিখবে।

অতঃপর যখন সে রচনার বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে অবগত হবে, তখন সে অন্যান্য সকল বাক্যের বিপরীতে কুরআনের বিন্যাসশৈলীর স্বাতন্ত্র্য অনুধাবন করতে পারবে। এরপর সে এতেই ক্ষান্ত হবে না, যতক্ষণ না সে নিজের এবং নিজের সমকক্ষদের সেই অনুরূপ কিছু সৃষ্টিতে অপারগতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আর প্রাকৃতিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে মানবজাতির বিধান অভিন্ন, যদিও আপতিক বা সাময়িক অপারগতার ক্ষেত্রে তাদের মাঝে তারতম্য থাকতে পারে।

আর এটি এমন এক বিষয় যা সাত, আট বা নয় বছর বয়সী বালকের মধ্যে কখনোই বিদ্যমান থাকে না; কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি তা জানুক বা কোনো অজ্ঞ তা অস্বীকার করুক। আর কোনো বোদ্ধার পক্ষে রিসালাতের মর্ম উপলব্ধি করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে এই বিষয়গুলো আয়ত্তকরণ থেকে অবসর লাভ করবে, যদি না কোনো দাবিদার এমন কিছু দাবি করে...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
التقليد والنشو والألف لما عليه الآباء وتعظيم الكبراء، معرفة ويقينا.

وليس بيقين ما اضطرب ودخله الخلاج عند ورود معاني لعل وعسى، وما لا يمكن في العقول إلا بحجة تخرج القلب إلى اليقين عن التجويز.

ولقد أعيانا أن نجد هذه المعرفة إلا في الخاص من الرجال وأهل الكمال في الأدب، فكيف بالطفل الصغير والحدث الغرير؟ مع أنك لو أدرت معاني بعض ما وصفت لك على أذكى صبي في الأرض وأسرعه قبولا وأحسنه حكاية وبيانا، وقد سويته [له] ودللته، وقربته [منه] وكفيته مؤونة الروية ووحشة الفكرة. لم يعرف قدره ولا فصل بين حقه من باطله، ولا فرق بين الدلالة وشبيه الدلالة، فكيف له بأن يكون هو المتولي لتجربته وحل عقده، وتخليص متشابهه، واستثارته من معدنه؟

وكل كلام خرج من التعارف فهو رجيع بهرج، ولغو ساقط.

 

‌‌فصل: وقد نجد الصبي الذكي يعرف من العروض وجها، ومن النحو صدرا، ومن الفرائض أبوابا، ومن الغناء أصواتا. فأما العلم بأصول الأديان ومخارج الملل، وتأويل الدين، والتحفظ من البدع، وقبل ذلك الكلام في حجج العقول، والتعديل والتجوير، والعلم بالأخبار وتقدير
পূর্বপুরুষদের রীতিনীতির অন্ধ অনুসরণ, লালন-পালন ও অভ্যস্ততা এবং বড়দের প্রতি অতিশয় ভক্তিকে জ্ঞান ও নিশ্চিত বিশ্বাস মনে করা।

যা অস্থির এবং যাতে 'হয়তো' বা 'সম্ভবত' জাতীয় সংশয় প্রবেশ করে, তাকে নিশ্চিত বিশ্বাস বলা যায় না। বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল ব্যতীত মনের সংশয় দূর করে তাকে স্থির ও নিশ্চিত প্রত্যয়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

আমাদের জন্য এই স্তরের জ্ঞান লাভ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে, যা কেবল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এবং শিষ্টাচারে পূর্ণতা অর্জনকারীদের মধ্যেই পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় একজন অবুঝ শিশু বা অনভিজ্ঞ কিশোরের পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব? এমনকি আপনি যদি বর্ণিত বিষয়গুলোর অর্থ পৃথিবীর সবচেয়ে মেধাবী, দ্রুত বোধসম্পন্ন এবং উত্তম প্রকাশভঙ্গির অধিকারী কোনো বালকের কাছে উপস্থাপন করেন—যাকে আপনি যথাযথভাবে প্রস্তুত করেছেন, পথ দেখিয়েছেন, বিষয়টিকে তার নিকটবর্তী করেছেন এবং গভীর চিন্তার শ্রম ও চিন্তাভাবনার একাকীত্ব থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছেন—তবুও সে এর প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারবে না। সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না এবং প্রকৃত প্রমাণ ও প্রমাণের ন্যায় প্রতীয়মান বিষয়ের মাঝে প্রভেদ করতে সক্ষম হবে না। এমতাবস্থায় সে কীভাবে নিজেই এই বিষয়সমূহ পরীক্ষা করার, এর জটিল গ্রন্থি উন্মোচন করার, অস্পষ্টতা দূর করার এবং এর মূল উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে?

প্রচলিত প্রজ্ঞার পরিপন্থী সকল কথাই প্রত্যাখ্যাত ও অসার এবং তা পরিত্যক্ত অর্থহীন প্রলাপ মাত্র।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: কখনও আমরা অত্যন্ত মেধাবী বালককে দেখি যে ছন্দশাস্ত্রের কিছু দিক জানে এবং ব্যাকরণশাস্ত্রের প্রাথমিক অংশসমূহ অবগত, উত্তরাধিকার আইনের কিছু অধ্যায় জানে এবং সংগীতের সুরসমূহ রপ্ত করে। কিন্তু ধর্মের মূলনীতি, বিভিন্ন মতাদর্শের উৎস ও গতিপ্রকৃতি, ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ, বিদআত থেকে আত্মরক্ষা এবং এর পূর্বে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণাদি নিয়ে আলোচনা, ন্যায় ও অন্যায়ের বিচার এবং ঐতিহাসিক সংবাদ ও তার সঠিক মূল্যায়ন করার জ্ঞান অর্জন সম্পূর্ণ ভিন্নতর বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الاشكال فليس هذا موجودا إلا عند العلماء. فأما الحشوة والطغام فإنما هم أداة للقادة، وجوارح للسادة. وإنما يعرف شدة الكلام في أصول الأديان من قد صلى به وعجمه، وسلك في مضايقه، وجاثى الأضداد، ونازع الأكفاء.

فإن قالت الشيع: الدليل على أن إسلام علي كان اختيارا ولم يكن تلقينا، أن عليا أسلم بدعاء النبي صلى الله عليه وسلم له، وفي ذكر الدعاء والإقرار به دليل على أن الإجابة اختيار، لأن المسلم بالدعاء مجيب للدعاء. ولا نعلم الدعاء يكون من حكيم لمدعو لا يختار ولا تحتمل فطرته تمييز الأمور وفضل ما بين ما دعا إليه وبين ما دعا إليه غيره. وليس بين قول القائل: دعا النبي - صلى الله عليه - فلانا إلا الإسلام وبين قوله: كلف النبي صلى الله عليه وسلم فلانا الإسلام فرق. وقول المسلمين: دعا النبي صلى الله عليه وسلم عليا كقولهم: دعا جميع العرب فمن مجيب طائع كعلي، ومن ممتنع عاص كفلان وفلان.
এই সংশয় বা জটিলতা কেবল আলেম বা পণ্ডিতদের নিকটই বিদ্যমান থাকে। সাধারণ অজ্ঞ জনতা কেবল নেতৃবৃন্দের হাতিয়ার এবং প্রভাবশালীদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তুল্য। দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির তাত্ত্বিক আলোচনার কাঠিন্য কেবল তারাই অনুধাবন করতে পারে যারা এতে দগ্ধ হয়েছে ও একে পরীক্ষা করেছে, এর সংকীর্ণ পথসমূহ অতিক্রম করেছে, বিরোধীদের মুখোমুখি হয়েছে এবং সমকক্ষদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে।

অতঃপর শিয়া সম্প্রদায় যদি বলে: আলী (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ যে কেবল বড়দের শেখানো বুলি ছিল না বরং তা ছিল স্বেচ্ছাধীন, তার প্রমাণ হলো—আলী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর এই আহ্বানের উল্লেখ এবং তা স্বীকার করে নেওয়ার মধ্যেই এ কথার প্রমাণ নিহিত যে, তাঁর এই সাড়া দান ছিল স্বেচ্ছাপ্রণোদিত; কারণ আহ্বানের মাধ্যমে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে সে মূলত আহ্বানে সাড়া প্রদানকারী হিসেবেই গণ্য হয়। আর আমরা জানি না যে, কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি এমন কাউকে কোনো কিছুর দিকে আহ্বান করেন যার কোনো স্বাধীন ইচ্ছা নেই, অথবা যার প্রকৃতি বিষয়াবলির পার্থক্য নিরূপণ করার এবং যে বিষয়ের দিকে তাকে আহ্বান জানানো হচ্ছে ও তার বিপরীতে যা রয়েছে সে দুইয়ের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্ব বোঝার সক্ষমতা রাখে না। আর কোনো বক্তার এই উক্তি যে, 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুককে ইসলামের দিকে আহ্বান করেছেন' এবং তার এই উক্তি যে, 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুককে ইসলামের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন'—এই দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আর মুসলিমদের এই কথা যে, 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে আহ্বান করেছেন' তা তাদের এই কথারই অনুরূপ যে, 'তিনি সমস্ত আরবকে আহ্বান করেছেন; অতঃপর তাদের মধ্যে আলীর ন্যায় কেউ অনুগত হয়ে সাড়া দিয়েছে, আবার কেউ অমুক ও অমুকের ন্যায় অবাধ্য হয়ে বিমুখতা প্রদর্শন করেছে'।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
قالت العثمانية عند ذلك: قد عرفنا أن بعضهم قد نقل أن عليا كان أول من أسلم، وقد نقلوا بأجمعهم أنه كان أول من أسلم. وبين قول القائل أسلم فلان أول الناس وبين أن يقول أسلم في أوائل الناس فرق. فأما أن يكون واحد من جميع الصنفين من البعض والجميع فسر مع روايته ومخرج خبره كيف كان إسلامه، أعلى وجه الدعاء والتكليف أم على وجه التلقين والتربية، فلم نر أحدا منهم ميز ذلك ولا فرقه في مخرج الخبر. ونحن لم ندع أن إسلامه كان إسلام تلقين من قبل تفسير الناقلين وتمييز المحدثين، ولكنا نظرنا في التاريخ فعرفنا عمره وابن كم كان يوم توفي، وعرفنا موضع اختلافهم واجتماعهم، فأخذنا أوسطه إذ كان أعدل ما فيه، وأسقطنا قول من كثر وقلل، ثم ألقينا منه سنيه إلى عام إسلامه، فوجدنا ذلك يوجب أنه كان ابن سبع. ولو أخذنا أيضا بقول المكثر فجعلناه ابن تسع، وتركنا قول من قلل وقول المقتصد، علمنا بذلك أيضا أن إسلامه كان إسلام تربية وتأديب وتلقين، كما أخذ الله على المسلمين أن يأخذوا به أولادهم.

وقالت العثمانية للعلوية: إنا لم ندع أنه أسلم وهو ابن سبع فإنا وجدنا ذلك قائما في خبرهم مفسرا في شهادتهم، ولكنه علم مستنبط من أخبارهم، ومستخرج من آثارهم عند المقابلة والموازنة. ومثل ذلك لو أن رجلا قال لرجل: خذ عشرة في عشرة، كان ذلك في المعنى كقوله: "خذ مائة" وإن لم يكن سماها له ولا ذكرها بلسانه.

وقالوا: ولولا أن من شأننا الأخذ بالقسط والحكم بالعدل لأخذنا الشيع بقولهم في عمره وبقول ولده، فإن أحدهما يزعم أن عليا توفي وهو ابن سبع وخمسين. وقال الآخرون: بل توفي وهو ابن ثمان
উসমানীয়রা তখন বলল: আমরা জেনেছি যে, তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন আলী ছিলেন প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী, আবার তারা সকলে মিলেও বর্ণনা করেছেন যে তিনি ছিলেন প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। কিন্তু কেউ যদি বলে 'অমুক ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন' আর কেউ যদি বলে 'তিনি প্রথম সারির ব্যক্তিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছেন'—তবে এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এখন এই দুই শ্রেণির বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ তাদের বর্ণনার সাথে এবং সংবাদের উৎসের সাথে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেননি যে, তাঁর ইসলাম গ্রহণ কেমন ছিল; তা কি দাওয়াত ও শরয়ী দায়িত্বার্পণের (তাকলিফ) ভিত্তিতে ছিল, নাকি তা ছিল কেবল শেখানো (তালকিন) ও লালন-পালনের (তরবিয়ত) মাধ্যমে? আমরা তাদের কাউকেই সংবাদের উৎসে এই পার্থক্য বা বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করতে দেখিনি। আমরা এই দাবি করছি না যে, বর্ণনাকারীদের ব্যাখ্যা বা মুহাদ্দিসদের নিরূপণের কারণে তাঁর ইসলাম গ্রহণ কেবল শিক্ষাদানের পর্যায়ের ছিল; বরং আমরা ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করেছি এবং তাঁর পূর্ণ বয়স ও মৃত্যুর দিনে তাঁর বয়স কত ছিল তা জেনেছি। তাঁদের মতভেদ ও ঐকমত্যের জায়গাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি এবং যা সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত, আমরা সেই মধ্যপন্থাটিই গ্রহণ করেছি। আমরা অতিশয়োক্তি ও স্বল্পোক্তি বর্জন করেছি। অতঃপর তাঁর মৃত্যুর বয়স থেকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের বছর পর্যন্ত সময়কাল বিয়োগ করে আমরা দেখেছি যে, ইসলাম গ্রহণের সময় তাঁর বয়স ছিল সাত বছর। আর আমরা যদি আধিক্যবাদীদের মত গ্রহণ করে তাঁর বয়স নয় বছরও ধরতাম এবং স্বল্পোক্তি ও পরিমিতিবাদীদের কথা বর্জন করতাম, তবুও আমরা এর মাধ্যমে জানতে পারতাম যে তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল লালন-পালন, শিষ্টাচার ও শেখানোর (তালকিন) পর্যায়ের ইসলাম—যেভাবে আল্লাহ মুসলিমদেরকে তাদের সন্তানদের গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।

উসমানীয়রা আলবীয়দের উদ্দেশ্যে আরও বলল: আমরা যে তাঁর সাত বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণের কথা বলছি, তা এমন নয় যে আমরা তাদের বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা অবস্থায় পেয়েছি বা তাদের সাক্ষ্যে সরাসরি বিদ্যমান রয়েছে; বরং এটি তাদেরই বর্ণিত সংবাদসমূহ থেকে আহরিত এবং তাদেরই রেখে যাওয়া তথ্যাদির পারস্পরিক তুলনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সংগৃহীত জ্ঞান। এর উদাহরণ হলো, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে বলে: 'দশকে দশ দিয়ে গুণ করো', তবে অর্থের দিক থেকে তা 'একশ গ্রহণ করো' বলার মতোই—যদিও সে স্পষ্টভাবে মুখে সেই সংখ্যাটির নাম নেয়নি বা উচ্চারণ করেনি।

তারা আরও বলল: ইনসাফ রক্ষা করা এবং ন্যায়ের সাথে বিচার করা যদি আমাদের নীতি না হতো, তবে আমরা শিয়াদেরকে তাদের নিজেদের বক্তব্য এবং তাঁর সন্তানদের বক্তব্যের মাধ্যমেই প্রতিহত করতাম; কারণ তাদের একজন দাবি করেন যে আলী সাতান্ন বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যরা বলেন: বরং তিনি আটান্ন বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وخمسين. ولو كان كما تقول الرافضة وولده ما كان أسلم إلا وهو ابن خمس أو ابن ست. وهم لا يألون ما نقصوا من عمره وصغروا من سنه لكي يجعلوا إسلامه آية له وحجة على إمامته.

ولعمري لو كان الذين نقلوا أنه كان أول من أسلم نقلوا مع خبرهم أنه أسلم بالدعاء والتكليف، لقد كان ما ذهبتهم إليه مذهبا، وما اعتصمتم به متعلقا، ولكن ما في الأرض كلها حامل خبر ولا صاحب أثر كان في خبره أنه أسلم بدعاء، ولا أنه أسلم بتلقين، وإنما هذا مستخرج من الأخبار.

فإن قالت الروافض: بل الدليل على أن إسلامه كان طاعة ولم يكن تلقينا قول جميع الأمة إن عليا كان من أول من أسلم، فنفس قولهم أسلم هو كقولهم أطاع واختار، وكذلك قولهم إذا قالوا: كفر فلان، فهو كقولهم: عصا واختار، وإن لم يفسروا. وليس بين قولهم أسلم فلان وكفر فلان فرق، لأن المخبر الصادق إذا قال كفر فلان فحكمه عند السامع العداوة والبراءة. ولو قال أسلم فلان كان حكمه المحبة والولاية: فإذا كانوا كلهم قد قالوا: أسلم علي، وحكم "أسلم" يثبت الاختيار وإجابة الولاية، قبل أن يجمعوا على أنه كان على التلقين والتربية. فعلي على هذا القياس مطيع في إسلامه، مختار له على غيره. وكذلك لو قالوا: كفر فلان، كان حكمه حكم العاصي المختار حتى
এবং পঞ্চাশ। আর বিষয়টি যদি রাফেযী এবং তাঁর বংশধরদের দাবি অনুযায়ী হতো, তবে তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তখন তাঁর বয়স পাঁচ বা ছয় বছরের বেশি হতো না। তারা তাঁর বয়স কমানোর ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করে না, যাতে তারা তাঁর ইসলাম গ্রহণকে তাঁর জন্য একটি অলৌকিক নিদর্শন এবং তাঁর ইমামতের স্বপক্ষে একটি প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করতে পারে।

আমার জীবনের শপথ! যদি সেই ব্যক্তিরা—যারা বর্ণনা করেছেন যে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—তাঁদের বর্ণনার সাথে এ কথাটিও উল্লেখ করতেন যে তিনি দাওয়াত এবং শরীয়তের দায়বদ্ধতার (তাকলীফ) মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তবে তোমাদের এই গৃহীত মতটি একটি যুক্তিযুক্ত পথ হতে পারত এবং তোমাদের এই অবলম্বনটি আঁকড়ে ধরার মতো হতো। কিন্তু সমগ্র পৃথিবীতে এমন কোনো সংবাদ বহনকারী বা বর্ণনাকারী নেই যার বর্ণনায় এটি পাওয়া যায় যে তিনি দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কিংবা তাঁকে এটি সরাসরি শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল (তালকীন)। বরং এটি কেবল বিভিন্ন বর্ণনা থেকে আহরিত বা উদ্ভাবিত একটি বিষয় মাত্র।

যদি রাফেযীরা বলে: বরং তাঁর ইসলাম গ্রহণ যে নিছক অনুকরণের পরিবর্তে আনুগত্যের ফসল ছিল, তার প্রমাণ হলো সমগ্র উম্মতের এই ঐকমত্য যে আলী সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সুতরাং তাঁদের এই 'ইসলাম গ্রহণ করেছেন' উক্তিটি তাঁদের 'আনুগত্য করেছেন ও স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছেন' উক্তির মতোই। অনুরূপভাবে যখন তাঁরা বলেন যে অমুক কুফরি করেছে, তখন সেটিও তাঁদের 'অবাধ্য হয়েছে ও স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছে' বলার সমতুল্য, যদিও তাঁরা তার ব্যাখ্যা প্রদান না করেন। 'অমুক ইসলাম গ্রহণ করেছে' এবং 'অমুক কুফরি করেছে'—এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ একজন সত্যনিষ্ঠ সংবাদ দাতা যখন বলেন যে অমুক কুফরি করেছে, তখন শ্রোতার নিকট তার বিধান হলো শত্রুতা ও সম্পর্কচ্ছেদ করা। আর যদি তিনি বলেন অমুক ইসলাম গ্রহণ করেছে, তবে তার বিধান হলো ভালোবাসা ও মিত্রতা। যেহেতু তাঁরা সকলেই বলেছেন 'আলী ইসলাম গ্রহণ করেছেন', এবং 'ইসলাম গ্রহণ' শব্দটি স্বেচ্ছায় পছন্দ ও আনুগত্য প্রকাশের বিষয়টিকেই সাব্যস্ত করে—তাঁরা এটি সরাসরি শিক্ষা ও লালন-পালনের মাধ্যমে হয়েছে বলে ঐকমত্য পোষণ করার পূর্বেই সাব্যস্ত হয়—সেহেতু এই যুক্তি অনুযায়ী আলী তাঁর ইসলাম গ্রহণে আনুগত্যশীল ছিলেন এবং অন্য সবকিছুর বিপরীতে এটিকেই বেছে নিয়েছিলেন। একইভাবে যদি তাঁরা বলেন যে অমুক কুফরি করেছে, তবে তার বিধান হবে একজন স্বেচ্ছায় অবাধ্য ব্যক্তির মতো, যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
يجمعوا أن كفره كان عن إكراه أو غلط أو هيج مرة، أو هجر النائم أو تلقين المؤدب. فلما كان هذا قياسا موجبا صحيحا، لم يكن لأحد أن يجعل إسلام علي إسلام تلقين إلا بمثل الحجة التي جعله بها مسلما، لأنهم قد أطبقوا بأجمعهم على إسلامه واختلفوا في السنة. فيجب ألا نزيل حكم أسلم إلا بإجماع منهم أنه كان عن تلقين وتربية.

قلنا لهم: لعمري لو لم يكن ها هنا إجماع يخبر أن إسلامه كان إسلام تلقين ونشو، كان حكم قولهم أسلم علي على ما قلتم، لا تجحدون حكمه ولا تظلمون معناكم فيه، ولكن الذين قالوا إنه توفي وهو ابن كذا وكذا فأخذنا بأوسطها نقصوا من سنيه فإذا هو قد أسلم وهو ابن سبع سنين. ولو أخذنا بقول المكثر وبخسنا القياس حظه كان أيضا إسلامه وهو ابن تسع سنين إسلام تلقين. فبهم عرفنا تقدمه في الإسلام، وبهم عرفنا صغر سنه وحداثته، إذ كان الصبي إذا كان ابن خمس سنين إلى عشر سنين لا يستتاب إن كفر، ولا يلام إن جهل، ولا يعذب إن ضيع. فإذا كانوا بأجمعهم قد قالوا إنه أسلم وهو ابن خمس أو ست أو ثمان أو سبع، فقد قالوا بأجمعهم إنه أسلم إسلام تلقين وإن لم يقولوا بأفواههم، كما قلتم إن قول القائل كفر فلان وأسلم فلان - وإن لم يذكره -[حكم] بالطاعة والمعصية.

قلنا: فكذلك إذا قال رجل أسلم فلان وهو ابن سبع سنين أو ثمان
...তারা সকলে ঐকমত্য পোষণ করবেন যে, তার কুফর বা অবিশ্বাস ছিল জবরদস্তি, ভুল, সাময়িক উত্তেজনা, ঘুমের ঘোরে প্রলাপ অথবা কোনো শিক্ষকের শেখানো বুলির বশবর্তী হয়ে। যেহেতু এটি একটি অকাট্য ও সঠিক যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, তাই কারো পক্ষে আলীর ইসলাম গ্রহণকে কেবল 'শেখানো বুলি' বা 'তাকলীন' হিসেবে সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সেই একই পর্যায়ের প্রমাণ উপস্থিত করা হয় যার ভিত্তিতে তাকে মুসলিম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। কারণ, তাঁরা সকলেই তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছেন, তবে তাঁর বয়সের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সুতরাং, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) ছাড়া যে এটি লালন-পালন ও শিক্ষার ফল ছিল, আমাদের পক্ষে তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিধানকে নাকচ করা সমীচীন নয়।

আমরা তাদের বললাম: আমার জীবনের শপথ! যদি এখানে এমন কোনো ঐকমত্য না থাকত যা প্রমাণ করে যে তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল শৈশবের লালন-পালন ও শিক্ষার ফল, তবে 'আলী ইসলাম গ্রহণ করেছেন'—তাঁদের এই উক্তির বিধান আপনাদের কথামতোই হতো; আপনারা এর বিধানকে অস্বীকার করতেন না এবং এর তাৎপর্যের ক্ষেত্রেও অবিচার করতেন না। কিন্তু যারা বর্ণনা করেছেন যে তিনি অমুক অমুক বয়সে ইন্তেকাল করেছেন, আমরা যদি তাঁদের বর্ণনার মধ্যপন্থাটি গ্রহণ করি তবে তাঁর বয়স কমে যায় এবং দেখা যায় যে তিনি সাত বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর যদি আমরা সর্বোচ্চ বয়সের বর্ণনাটি গ্রহণ করি এবং যৌক্তিক অনুমানকে উপেক্ষা করি, তবুও নয় বছর বয়সে তাঁর ইসলাম গ্রহণ কেবল 'শিক্ষার বুলি' (তাকলীন) হিসেবেই গণ্য হবে। তাঁদের মাধ্যমেই আমরা ইসলাম গ্রহণে তাঁর অগ্রগামিতা সম্পর্কে জেনেছি, আবার তাঁদের মাধ্যমেই আমরা তাঁর শৈশব ও অল্প বয়স সম্পর্কে অবগত হয়েছি। কেননা, একটি শিশু যখন পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সের হয়, তখন কুফরি করলে তাকে তওবা করতে বলা হয় না, অজ্ঞতার জন্য তাকে তিরস্কার করা হয় না এবং কোনো কিছু বিনষ্ট করলে তাকে শাস্তি দেওয়া হয় না। সুতরাং তাঁরা যখন সকলেই বলেছেন যে তিনি পাঁচ, ছয়, সাত বা আট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তখন তাঁরা প্রকারান্তরে একমত হয়ে এটিই বলেছেন যে তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল বড়দের শেখানো বুলির মাধ্যমে, যদিও তাঁরা মুখে তা স্পষ্টভাবে বলেননি। ঠিক যেমন আপনারা বলেন যে, যখন কেউ বলে—'অমুক কুফরি করেছে' বা 'অমুক ইসলাম গ্রহণ করেছে', তখন তার মাধ্যমে আনুগত্য ও অবাধ্যতার বিধান আরোপিত হয়, যদিও তা সরাসরি উল্লেখ করা না হয়।

আমরা বললাম: ঠিক একইভাবে, যখন কোনো ব্যক্তি বলে—'অমুক ব্যক্তি সাত বা আট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছে'...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
أو تسع، فقد قال إن إسلامه كان إسلام تلقين وإن لم يذكره ولم يتفوه به كما قلتم، حذو القذة بالقذة، والنعل بالنعل. فإذا ثبت أن إسلام علي إسلام تلقين في ذلك الدهر، فإسلام زيد وخباب أفضل من إسلامه. ولو أن عليا كان أيضا بالغا كان إسلام زيد وخباب أفضل من إسلامه، لأن إسلام المقتضب الذي لم يغذ به ولم يعوده ولم يمرن عليه أفضل من إسلام الناشئ الذي قد ربي فيه ونشأ عليه وحبب إليه، لأن خبابا وزيدا يعانيان من الفكر ويتخلصان إلى أمور، وصاحب التربية يبلغ حين يبلغ وقد أسقط إلفه عنه مؤونة الروية، والخطار بالجهالة، وقد أورثه الألف السكون، وكفاه اختلاج الشك واضطراب النفس وجولان القلب.

 

‌‌فصل: ولو كان علي أيضا بالغا وكان مقتضبا كزيد وخباب لم يكن إسلامه ليبلغ قدر إسلامهما، لأن إسلام التربية يكفي مؤونتين: إحداهما الخطار والتغرير، والأخرى شدة فراق الألف ومكابدة العادة ونزاع الطبيعة، مع أن من كان بحضرة الأعلام وفي منزل الوحي وفي رحال الرسل فالأعلام له أشد انكشافا، والخواطر على قلبه أقل اعتلاجا. وعلى قدر الكلفة في دفع الشبهة والإقرار بخلاف الألف والعادة، والمخاطرة باعتقاد الجهالة، يعظم الفضل، ويكثر الأجر.
অথবা নয় বছর বয়সে; তিনি বলেছেন যে তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল দীক্ষাপ্রসূত ইসলাম, যদিও তিনি তা উল্লেখ করেননি বা তা উচ্চারণ করেননি যেমনটি আপনারা বলেছেন, হুবহু এক চুল পরিমাণ এদিক-সেদিক না করে। সুতরাং যদি এটি প্রমাণিত হয় যে সেই যুগে আলীর ইসলাম ছিল দীক্ষাপ্রসূত ইসলাম, তবে জায়েদ ও খাব্বাবের ইসলাম গ্রহণ তাঁর ইসলামের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ। আর যদি আলী প্রাপ্তবয়স্কও হতেন, তবুও জায়েদ ও খাব্বাবের ইসলাম তাঁর ইসলামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতো; কারণ এমন ব্যক্তির ইসলাম—যে অকস্মাৎ তা গ্রহণ করেছে এবং যাকে এতে অভ্যস্ত করা হয়নি বা এর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি—তা সেই তরুণের ইসলামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যে এর ভেতরেই লালিত-পালিত হয়েছে, এতেই বেড়ে উঠেছে এবং একে তার কাছে প্রিয় করে তোলা হয়েছে। কারণ খাব্বাব ও জায়েদ চিন্তার ক্লেশ সহ্য করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ের সত্যতা পর্যন্ত উপনীত হন, আর লালন-পালনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা ব্যক্তি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তার অভ্যস্ততা তার থেকে গভীর চিন্তার দায়ভার এবং অজ্ঞতার ঝুঁকি দূর করে দেয়। এই অভ্যস্ততা তাকে স্থিরতা দান করে এবং তাকে সন্দেহের দোটানা, আত্মার অস্থিরতা ও হৃদয়ের দ্বিধা থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দেয়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: আলী যদি প্রাপ্তবয়স্ক হতেন এবং জায়েদ ও খাব্বাবের মতো স্বতন্ত্রভাবে ইসলাম গ্রহণকারী হতেন, তবুও তাঁর ইসলাম তাঁদের ইসলামের মর্যাদায় পৌঁছাত না, কারণ লালন-পালনজনিত ইসলাম দুটি কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়: একটি হলো ঝুঁকি ও বিভ্রান্তির আশঙ্কা, এবং অন্যটি হলো চিরচেনা পরিবেশের বিচ্ছেদ, আজন্ম অভ্যাসের সাথে লড়াই এবং স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বিরোধিতা। তদুপরি, যিনি সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীর সান্নিধ্যে, ওহীর অবতরণস্থলে এবং রাসূলের কাফেলায় থাকেন, তাঁর কাছে সত্যের নিদর্শনসমূহ অধিকতর উন্মোচিত হয় এবং তাঁর হৃদয়ে সংশয়ের দোলাচল কম অনুভূত হয়। আর সংশয় দূরীকরণে, পরিচিত রীতি ও অভ্যাসের বিপরীতে সত্য স্বীকারে এবং অজ্ঞতাপ্রসূত বিশ্বাসের ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষেত্রে কষ্টের মাত্রা অনুযায়ী মর্যাদা মহান হয় এবং পুরস্কারও বৃদ্ধি পায়।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولو كان أيضا علي أسلم بالغا مدركا، وكان مع إدراكه وبلوغه كهلا، وكان مع كهولته مقتضبا، كان إسلام زيد وخباب أفضل من إسلامه، لأن من أسلم وهو يعلم أن له ظهرا كأبي طالب، وردءا كبني هاشم، وموضعا في بني عبد المطلب، ليس كالحليف ولا المولى، والنزيل والتابع والعسيف، وكالرجل من عرض قريش وقاطني مكة. [أ] وما علمت أن قريشا خاصة وأهل مكة عامة لم يقدروا على أذى النبي - صلى الله عليه - ما كان أبو طالب حيا قائما؟ ولقد منع أبو طالب أبا سلمة بن عبد الأسد المخزومي لأنه كان ابن أخته، فما قدرت بنو مخزوم مع خيلائها وعرام شبابها ومع عزها وشدة عداوتها أن تحص منه شعرة ولا تسمعه كلمة حتى مشت إليه بأجمعها، للذي ترى له في أنفسها، فكان من قولهم له: هذا ابن أخيك قد فرق جماعتنا وسفه أحلامنا وشتم آلهتنا وقد منعته منا، فما بال صاحبنا؟ قال: من لم يمنع ابن أخته لم يمنع ابن أخيه!

فإذا كانت قريش وأهل مكة لا يقدرون على ابن أخيه وابن أخته معه فهم عن ابنه أعجز، وعنه أقعد، وله أعفى، وهو لابنه أحضر نصرا وأشد غضبا، وأحمى أنفا، وليس الممنوع كالمخذول، ولا الضعيف
এমনকি আলী যদি প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করতেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পাশাপাশি তিনি যদি প্রৌঢ় হতেন, আর প্রৌঢ়ত্বের সাথে সাথে তিনি যদি প্রভাবশালী হতেন, তবুও যায়িদ ও খাব্বাবের ইসলাম গ্রহণ তাঁর ইসলামের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ হতো। কারণ, যে ব্যক্তি এই জ্ঞান নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে যে তার পেছনে আবু তালিবের মতো পৃষ্ঠপোষক, বনু হাশিমের মতো সাহায্যকারী এবং বনু আবদুল মুত্তালিবের মতো সামাজিক অবস্থান রয়েছে, সে কোনো মিত্র, মুক্তদাস, আশ্রয়প্রার্থী, অনুসারী, ভৃত্য কিংবা কুরাইশের সাধারণ বংশজাত ও মক্কার সাধারণ বাসিন্দাদের মতো নয়। [ক] আপনি কি জানেন না যে, বিশেষ করে কুরাইশ এবং সাধারণভাবে মক্কাবাসীরা নবী —তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক— এর কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম হয়নি যতক্ষণ আবু তালিব জীবিত ও সক্রিয় ছিলেন? এমনকি আবু তালিব আবু সালামাহ ইবনে আবদুল আসাদ আল-মাখযুমিকেও সুরক্ষা দিয়েছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন তাঁর ভাগ্নে। ফলে বনু মাখযুম তাদের অহংকার, যুবকদের উদ্ধত স্বভাব, প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং চরম শত্রুতা সত্ত্বেও তাঁর একটি চুলও স্পর্শ করতে পারেনি এবং তাঁকে কোনো কটু কথা শোনাতেও সক্ষম হয়নি, যতক্ষণ না তারা সকলে মিলে আবু তালিবের কাছে গেল। তাদের মনে তাঁর যে প্রভাব ছিল, তার কারণেই তারা তাঁর কাছে গিয়ে বলেছিল: "আপনার এই ভ্রাতুষ্পুত্র আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করেছে, আমাদের বিচারবুদ্ধিকে উপহাস করেছে এবং আমাদের উপাস্যদের গালি দিয়েছে; আপনি তাকে আমাদের থেকে সুরক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের এই সঙ্গীর (আবু সালামাহ) কী হবে?" তিনি উত্তর দিলেন: "যে ব্যক্তি নিজের ভাগ্নেকে রক্ষা করে না, সে তার ভ্রাতুষ্পুত্রকেও রক্ষা করতে পারবে না!"

সুতরাং, কুরাইশ ও মক্কাবাসীরা যদি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ও ভাগ্নেকে তাঁর উপস্থিতিতে পরাস্ত করতে সক্ষম না হয়, তবে তাঁর নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে তারা আরও বেশি অক্ষম ও নিরুপায় হবে এবং তার প্রতি আরও বেশি নমনীয় হতে বাধ্য হবে। আর তিনি (আবু তালিব) নিজের সন্তানের জন্য আরও দ্রুত সাহায্যকারী, অধিক রাগান্বিত এবং অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হবেন। বস্তুত, সুরক্ষিত ব্যক্তি আর পরিত্যক্ত ব্যক্তি সমান নয়, আর না দুর্বল...
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
كالقوي، ولا الآمن كالخائف. فإذا كان إسلام زيد وخباب أفضل من إسلامه في ذلك الدهر كما عددنا من الطبقات، ورتبنا من المنازل، ونزلنا من الحالات، فإسلام أبي بكر أفضل من إسلامهما. فقد سقطت المنازعة، وارتفعت الخصومة عند من فهم كتابنا ولم يمنع نفسه الحظ بصحبتنا، لفرط التباين وعظم الفرق.

 

‌‌فصل: والدليل على أن إسلام أبي بكر كان أفضل من إسلام زيد وخباب أن زيدا كان رجلا غير مذكور بعلم، ولا مزن بمالـ ولا مغشى المجلس، ولا مزور الرحل، وكذلك كان خباب، وكان أبو بكر رضي الله عنه أعلم العرب بالعرب كلهم، وأرواها لمناقبها ومثالبها، وأعرفها بخيرها وشرها، ولذلك قال النبي صلى الله عليه وسلم لحسان مع سن حسان وعلمه وتحاكم الشعراء إليه، حيث أمره النبي عليه السلام أن يهجو أبا سفيان بن الحارث، وحيث قال له: "اهجهم ومعك روح القدس". وحيث قال له: هيج الغطاريف على بني عبد مناف - في قتل أبي أزيهر - والقَ أبا بكر فإنه أعلم الناس بهم.
যেমন শক্তিমান, আবার নিরাপদ ব্যক্তি ভীত ব্যক্তির ন্যায় নয়। সুতরাং সেই যুগে যদি যায়েদ ও খাব্বাবের ইসলাম গ্রহণ তার ইসলামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকে—যেমনটি আমরা বিভিন্ন স্তর গণনা করেছি, মর্যাদা বিন্যস্ত করেছি এবং অবস্থাসমূহ নির্ধারণ করেছি—তবে আবু বকরের ইসলাম গ্রহণ তাদের উভয়ের ইসলামের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অতএব, যারা আমাদের কিতাব অনুধাবন করেছেন এবং আমাদের সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেননি, তাদের কাছে বিবাদ বিলুপ্ত হয়েছে এবং বিতর্কের অবসান ঘটেছে; কারণ এর মধ্যকার বৈসাদৃশ্য অত্যধিক এবং পার্থক্য অত্যন্ত বিশাল।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: আবু বকরের ইসলাম গ্রহণ যে যায়েদ ও খাব্বাবের ইসলাম গ্রহণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল তার প্রমাণ যেহেতু যায়েদ এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি ইলম বা জ্ঞানের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন না, না তিনি বিপুল সম্পদের অধিকারী ছিলেন, না তাঁর মজলিসে মানুষের সমাগম হতো, আর না তাঁর আবাসে কেউ যাতায়াত করত। খাব্বাবের অবস্থাও ছিল তদ্রূপ। অপরদিকে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন সমগ্র আরবের মধ্যে আরব জাতি সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি, তাদের গুণাবলি ও দোষত্রুটি সম্পর্কে সর্বাধিক বর্ণনাকারী এবং তাদের ভালো-মন্দ বিষয়ে সবচেয়ে সম্যক অবগত। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসসানকে—হাসসানের অধিক বয়স, অগাধ জ্ঞান এবং কবিদের তাঁর কাছে বিচারপ্রার্থী হওয়ার বিষয়গুলো থাকা সত্ত্বেও—যখন তাঁকে আবু সুফিয়ান বিন হারিসকে ব্যঙ্গ করে কবিতা রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন: "তুমি তাদের কুৎসা বর্ণনা করে কবিতা লেখো, জিবরাঈল (রূহুল কুদুস) তোমার সাথে আছেন।" আরও যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আবু আযাইহির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বনু আবদে মানাফের উচ্চমর্যাদাশীলদের উত্তেজিত করো—এবং তুমি আবু বকরের সাথে সাক্ষাৎ করো, কারণ তিনি তাদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী।"
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌فصل: ولذلك كان جبير بن مطعم أعلم قريش بالعرب بعد أبي بكر، لأنه كان المتولي لتأديبه وتثقيفه، وقد كان أبو بكر قد سمى عائشة له، للذي رأى من حسن أثره عليه.

وكان أبو بكر، مع علمه بالناس وحسن معرفته، ذا مال كثير ووجه عريض، وتجارة واسعة، وكان جميلا عتيقا، ومزورا مغشيا، ومحببا أديبا، صاحب ضيافات، ويعين في الحمالات، ويجتمع إلى مجلسه كبراء أهل مكة، لما يجدون عنده من طريف الحديث وغريب الشعر، حتى كان مثل عتبة وشيبة يجلسان إليه، ويعجبان بحديثه، ثم يتخذ لهم ما يتحدثون عليه ويطول مجلسهم به، من شراب العسل والزبيب
পরিচ্ছেদ: এই কারণেই জুবায়ের ইবনে মুতয়িম আবু বকরের পরে কুরাইশদের মধ্যে আরবদের সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন, কেননা তিনি ছিলেন তাঁর শিষ্টাচার ও জ্ঞানতত্ত্ব শিক্ষার তত্ত্বাবধায়ক। আবু বকর জুবায়েরের মাঝে তাঁর নিজের শিক্ষার উত্তম প্রভাব লক্ষ্য করে তাঁর নিকট আয়েশাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

আবু বকর মানুষের বংশলতিকা ও তাদের অবস্থা সম্পর্কে অগাধ জ্ঞানের পাশাপাশি বিপুল ঐশ্বর্য, সুউচ্চ সামাজিক মর্যাদা ও বিশাল বাণিজ্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন, আভিজাত্যপূর্ণ এবং সকলের পরম শ্রদ্ধেয় ও কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়ভাজন, সুরুচিসম্পন্ন ও শিষ্টাচারী, মেহমানদারিতে নিপুণ এবং গোত্রীয় বিবাদ নিরসনে রক্তপণের দায়ভার গ্রহণকারী। তাঁর মজলিসে মক্কার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সমবেত হতেন, কারণ তাঁর নিকট তাঁরা চমকপ্রদ আলাপচারিতা ও বিরল কাব্যের আস্বাদ পেতেন। এমনকি উতবা ও শায়বার মতো ব্যক্তিরাও তাঁর মজলিসে বসতেন এবং তাঁর কথায় মুগ্ধ হতেন। অতঃপর তিনি তাঁদের আপ্যায়নের জন্য মধু ও কিশমিশের পানীয় প্রস্তুত করতেন, যা পান করতে করতে তাঁদের আলোচনার মজলিস দীর্ঘায়িত হতো।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
واللبن، فكانت قريش بعد إسلام أبي بكر وكثرة مستجيبيه بمكة تريد تنفير عتبة بن ربيعة من مجلسه وإيحاشه منه، مخافة أن يستميله بحسن دعائه، وتأتيه ورفقه، ورقة دموعه وشدة خشوعه، فتقول له: أما إنك ما تأتي ابن أبي قحافة إلا لطيب عسله وإلا لمذقته، وإنما نفروه بهذا وشبهه لأنه كان ذا عيال مملقا ثقيل المؤونة، خفيف ذات اليد، مع سنه وسؤدده وحلمه ورأيه.

ولا سواء إسلام ذي اليسر والمال الدثر، المنفق حريرة كسبه وعقيلة ملكه، والمفرق عنه جمعه والموحش منه أنيسه، الخارج من عز الغنى وكثرة الصديق، إلى ذل القلة وعجز الفاقة، وإسلام من لا حراك به ولا جدا عنده، تابع غير متبوع، ومستجد غير مجد. لأن من أشد ما يبتلى به الكريم السب بعد التحية، والضرب بعد الهيبة، والعسر بعد اليسر.

ولا سواء إسلام العالم الأديب الأريب، ذي الرأي السديد، وإسلام غيره.

ثم كان داعية من دعاة الرسول مقبول القول، متبوع الرأي. ومن كان في صفة أبي بكر فالخوف عليه أشد، والمكروه إليه أسرع، لأنه لم يكن على ظهرها عدو النبي صلى الله عليه وسلم إلا وأبو بكر يتلوه عنده في العداوة.

ولا سواء إسلام من أسلم على أن يمون ويكلف، وإسلام من كان يمان قبل إسلامه ويكلف بعد إسلامه.
...এবং দুধ। আবু বকরের ইসলাম গ্রহণ এবং মক্কায় তাঁর আহবানে সাড়া প্রদানকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির পর কুরাইশরা চাচ্ছিল উতবা ইবনে রবিআহকে তাঁর মজলিস থেকে দূরে সরিয়ে দিতে এবং তাঁর প্রতি বিমুখ করতে। তারা আশঙ্কা করছিল যে, আবু বকর তাঁর চমৎকার দাওয়াত, কোমলতা, অশ্রুসিক্ত নয়ন এবং গভীর বিনম্রতার মাধ্যমে তাকে আকৃষ্ট করে ফেলবেন। তাই তারা তাকে বলত: "তুমি ইবনে আবি কুহাফার কাছে যাও কেবল তার সুস্বাদু মধু এবং পানীয়র লোভে।" তারা তাকে এই জাতীয় কথা বলে দূরে সরিয়ে দিতে চাইত, কারণ উতবা ছিলেন অধিক সন্তান-সন্ততিসম্পন্ন ও দরিদ্র, যাঁর ভরণপোষণের বোঝা ছিল ভারী এবং সম্পদ ছিল সামান্য—অথচ তিনি ছিলেন বয়োবৃদ্ধ, মর্যাদাশীল, সহনশীল এবং প্রজ্ঞাবান।

বিত্তবান ও অঢেল সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ—যিনি তাঁর উপার্জনের শ্রেষ্ঠ অংশ ও অমূল্য সম্পদ ব্যয় করেন, যার জমায়েত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্তরঙ্গ বন্ধুরা বিমুখ হয়, যিনি প্রাচুর্যের সম্মান ও বন্ধুর আধিক্য ছেড়ে অভাবের লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যের অসহায়ত্বের দিকে বেরিয়ে আসেন—আর এমন ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ সমান নয় যার কোনো প্রভাব নেই, কোনো সামর্থ্য নেই, যে কেবল অনুসারী—নেতা নয়, এবং যে যাঞ্চাকারী—দাতা নয়। কারণ, একজন সম্মানিত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হলো সম্ভাষণের পর তিরস্কার সওয়া, প্রভাব-প্রতিপত্তির পর প্রহারের শিকার হওয়া এবং সচ্ছলতার পর অনটন ভোগ করা।

তেমনিভাবে জ্ঞানী, শিষ্টাচারী, বুদ্ধিমান এবং সঠিক সিদ্ধান্তের অধিকারী ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ আর অন্য কারও ইসলাম গ্রহণ সমান নয়।

অতঃপর তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূলের দাঈদের মধ্যে এমন একজন, যাঁর কথা ছিল গ্রহণযোগ্য এবং যাঁর রায় বা অভিমত অনুসরণ করা হতো। আর যাঁর গুণাবলী আবু বকরের মতো ছিল, তাঁর জন্য শঙ্কা ছিল তীব্রতর এবং বিপদ ছিল অতি দ্রুতগামী। কারণ, পৃথিবীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন কোনো শত্রু ছিল না, যার কাছে শত্রুতার ক্রমানুসারে আবু বকরের স্থান নবীর ঠিক পরেই ছিল না।

আর যে ব্যক্তি এই শর্তে ইসলাম গ্রহণ করে যে তার ভরণপোষণ ও দায়িত্ব অন্যে বহন করবে, আর যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে অন্যের ভরণপোষণ করত এবং ইসলাম গ্রহণের পর নিজে কষ্টের সম্মুখীন হয়—তাদের ইসলাম গ্রহণ কখনো সমান হতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا سواء إسلام الكهل النبيه الذي يحسن عند قريش مطالبته، ولا يستحي من طلب الثأر عنده، وإسلام الحدث الذي لا يفي بعداوة الجلة، ولا تستجيز مجازاته العلية.

ثم كان الذي يلقى أبو بكر في الله ورسوله ببطن مكة، وعلي خلي الروع آمن السرب رخي البال، كما لقي يوم دعا طلحة إلى الإسلام فأسلم ومضى به إلى النبي صلى الله عليه وسلم وخذلتهما تيم، وأخذهما نوفل بن خويلد بن أسد - فأما ابن إسحاق فزعم أنه كان من شياطين قريش، وأما الواقدي وغيره فزعموا أنه كان يلقب أسد قريش،
একজন সচেতন ও প্রাজ্ঞ বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ—যাকে কুরাইশরা জবাবদিহিতার আওতায় আনা সমীচীন মনে করত এবং যার নিকট থেকে প্রতিশোধ নিতে তারা সংকোচবোধ করত না—আর এমন একজন যুবকের ইসলাম গ্রহণ—যে বয়োজ্যেষ্ঠদের শত্রুতা মোকাবিলা করতে সক্ষম নয় এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা যাকে শাস্তি দেওয়া সমীচীন মনে করে না—উভয়টি কখনোই সমান হতে পারে না।

অতঃপর মক্কার প্রাণকেন্দ্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির পথে আবূ বকর যে নিগ্রহের শিকার হতেন, সেই সময়ে আলী ছিলেন শঙ্কামুক্ত, নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। যেমনটি ঘটেছিল সেই দিন যখন আবূ বকর তালহাকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁকে নিয়ে নবী (সা.)-এর নিকট গমন করেন; এমতাবস্থায় তায়ম গোত্র তাঁদের সাহায্য করা থেকে বিরত থাকে এবং নাওফাল ইবনে খুওয়ায়লিদ ইবনে আসাদ তাঁদের উভয়কে বন্দি করে—ইবনে ইসহাকের মতে সে ছিল কুরাইশদের শয়তানদের একজন, আর ওয়াকিদী ও অন্যদের মতে তাকে ‘কুরাইশের সিংহ’ উপাধিতে ভূষিত করা হতো।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهو الذي يقال له ابن العدوية - فقرنهما في حبل، وفتنهما على دينهما وعذبهما، فلذلك سمي أبو بكر وطلحة "القرينين".

وأبو بكر الذي قام دون النبي صلى الله عليه وسلم بمكة وقد اعتوره المشركون حين قال: "أما والله لقد جئتكم بالذبح! " قال أبو بكر ويلكم، أتقتلون رجلا أن يقول ربي الله! فصدعوا فودى رأسه.

ثم الذي لقي في مسجده الذي كان بناه على بابه في بني جمح، وحيث رد الجوار وقال: لا أريد جارا سوى الله. وقد كان بنى مسجدا يصلي فيه ويدعو الناس إلى الإسلام، وله صوت رقيق ووجه عتيق، فكان إذا قرأ وبكى، وقعت عليه المارة والنساء والصبيان والعبيد، فلما أوذي في الله حتى بلغ جهده استأذن النبي - صلى الله عليه - في الهجرة، فأذن له، فأقبل يريد المدينة فتلقاه الكناني سيد الأحابيش، فعقد له
তিনি সেই ব্যক্তি যাকে ইবনে আল-আদাবিয়্যাহ বলা হতো; তিনি তাঁদের উভয়কে এক রশিতে বেঁধেছিলেন এবং তাঁদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার জন্য পরীক্ষা ও নির্যাতন করেছিলেন। এই কারণেই আবু বকর ও তালহাকে 'আল-কারিনাইন' (যুগল) বলা হয়।

আর আবু বকর হলেন তিনি, যিনি মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন যখন মুশরিকরা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল, যখন তিনি (নবী) বলেছিলেন: "শোনো, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কাছে জবেহ (কঠিন শাস্তি) নিয়ে এসেছি।" আবু বকর বললেন, "ধিক তোমাদের! তোমরা কি এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে যিনি বলেন, 'আমার রব আল্লাহ'?" এরপর তারা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁর মাথা রক্তাক্ত করে দিল।

অতঃপর তিনি তাঁর সেই মসজিদে যা সহ্য করেছিলেন, যা তিনি বনী জুমাহ-তে তাঁর ঘরের দরজায় নির্মাণ করেছিলেন এবং যেখানে তিনি অন্যের আশ্রয় প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন: "আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও আশ্রয় আমি চাই না।" তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন যেখানে তিনি নামাজ পড়তেন এবং মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত কোমল এবং চেহারা ছিল উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়। তিনি যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং কাঁদতেন, তখন পথচারী, নারী, শিশু ও ক্রীতদাসরা তাঁর চারপাশে ভিড় জমাত। যখন আল্লাহর পথে তাঁকে চরমভাবে কষ্ট দেওয়া হলো এবং তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হিজরতের অনুমতি চাইলেন। নবী তাঁকে অনুমতি দিলে তিনি মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। পথিমধ্যে আহাবিশদের নেতা আল-কিনানির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো এবং তিনি তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
جوارا وقال: والله لا أدع مثلك يخرج من بين أخشبي مكة. فرجع وقد عقد له الكناني جوارا. كل ذلك رغبة في قرب النبي - صلى الله عليه -، فلما رجع إلى مكة عاد إلى مسجده وصنيعه. فمشت قريش إلى جاره وعظموا الأمر عنده وأجلبوا عليه فقالوا: قد أفسد أحداثنا، وعبيدنا وإماءنا ونساءنا، في منازلنا! فمشى إليه الكناني وقال: ليس على هذا أعطيتك الجوار، ادخل بيتك واصنع فيه ما بدا لك! قال له أبو بكر: أو أرد عليك جوارك وأرضى بجوار الله؟ فلما قطع الجوار وترادا العهد وتباريا لقي أبو بكر رضي الله عنه من الأذى والذل والضرب والاستخفاف ما بلغك. وهو أمر موجود في جميع السير. وليس المفتون كالوادع. قال الله سبحانه: {والفتنة أشد من القتل}. وذلك أن المشركين كانوا قد صاروا إلى أن يفتنوا الناس عن دينهم بالتعذيب، والمسلمون نفر يسير، قد خذلتهم عشائرهم، وأسلمتهم أهلوهم. فألقوا خبابا على الرضف، حتى ذهب ماء متنه. وكان أبو ذر حليفا مستضعفا فكان يدخل بالنهار في خلال أستار الكعبة ويخرج بالليل مستخفيا. وكانت بنو مخزوم تعذب عمارا وأباه وأمه برمضاء مكة، فيمر بهم النبي صلى الله عليه وسلم فيقول:

আশ্রয় প্রদান করে তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ! আমি আপনার মতো মানুষকে মক্কার এই দুই পাহাড়ের মাঝখান থেকে চলে যেতে দেব না।" অতঃপর তিনি ফিরে এলেন এবং কেনানী (ইবনে আদ-দুগুন্নাহ) তাঁর জন্য আশ্রয়ের অঙ্গীকার করলেন। এই সব কিছুর মূলে ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে থাকার আকাঙ্ক্ষা। যখন তিনি মক্কায় প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন তিনি পুনরায় তাঁর ইবাদতগাহে এবং নিজ অভ্যাসে ফিরে গেলেন। তখন কুরাইশরা তাঁর আশ্রয়দাতার কাছে গেল এবং বিষয়টি তাঁর নিকট অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে তুলে ধরল এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাকে উত্তেজিত করল। তারা বলল: "সে আমাদের ঘরবাড়ির ভেতরেই আমাদের তরুণদের, আমাদের দাস-দাসীদের এবং আমাদের নারীদের বিপথগামী করে ফেলেছে!" তখন কেনানী ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে বললেন: "আমি আপনাকে এই শর্তে আশ্রয় দেইনি। আপনি আপনার ঘরে প্রবেশ করুন এবং সেখানে যা খুশি করুন!" আবু বকর (রা.) তাঁকে বললেন: "বরং আমি আপনার দেওয়া আশ্রয় আপনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি এবং আমি আল্লাহর আশ্রয়েই সন্তুষ্ট।" অতঃপর যখন আশ্রয়ের নিরাপত্তা ছিন্ন হলো এবং তাঁরা একে অপরের চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নিলেন, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এমন নির্যাতন, লাঞ্ছনা, প্রহার ও অবজ্ঞার শিকার হলেন যা আপনার গোচরীভূত হয়েছে। এটি এমন এক বিষয় যা সকল সীরাত গ্রন্থেই বিদ্যমান। আর বিপদগ্রস্ত ও পরীক্ষিত ব্যক্তি কক্ষনো নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে থাকা ব্যক্তির সমতুল্য নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর ফিতনা (দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার নিপীড়ন) হত্যা অপেক্ষা অধিকতর ভয়াবহ}। আর তা এ কারণে যে, মুশরিকরা মানুষকে নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার পথ বেছে নিয়েছিল। আর তখন মুসলিমরা ছিল সংখ্যায় অতি অল্প; তাঁদের গোত্রগুলো তাঁদের সাহায্য করা ছেড়ে দিয়েছিল এবং তাঁদের পরিবারবর্গ তাঁদের অসহায় অবস্থায় বিসর্জন দিয়েছিল। তারা খাব্বাবকে উত্তপ্ত পাথরের ওপর শুইয়ে রাখত, এমনকি তাঁর পিঠের চর্বি গলে নিভে যেত। আবু যার ছিলেন একজন দুর্বল ও সহায়হীন মিত্র, তাই তিনি দিনের বেলা কাবার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকতেন এবং রাতের বেলা আত্মগোপন করে বের হতেন। আর বনু মাখযুম গোত্র আম্মার, তাঁর পিতা ও তাঁর মাতাকে মক্কার উত্তপ্ত মরুবালুকার ওপর নির্যাতন করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেন:

(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
"صبرا آل ياسر، فإن موعدكم الجنة! " فذكر عمار عند ذلك عياذ أبي بكر لبلال حين أعتقه من العذاب فيمن أعتق، فقال:

جزى الله خيرا عن بلال ودينه * عتيقا وأخزى فاكها وأبا جهل

وقال سعيد بن جبير: قلت لعبد الله بن عباس: أكان المشركون يبلغون من أصحاب رسول الله - صلى الله عليه - من العذاب ما يعذرون به في ترك دينهم؟ قال: والله إن كانوا ليضربون أحدهم ويعطشونه حتى لا يقدر أن يستوى جالسا من الجهد، حتى إن كان أحدهم ليعطيهم الذي سألوه، من الفتنة، وحتى يقال له: اللات والعزى إلهك من دون الله؟ فيقول: نعم، وحتى إن الجعل ليمر بهم فيقال له: هذا إلهك؟ فيقول: نعم.

فلو كان علي بن أبي طالب قد ساوى أبا بكر في الإسلام لقد كان فضله أبو بكر بأن أعتق من المفدين المفتونين بمكة، وحتى [لو] لم يكن غير ذلك لكان لحاقه عسيرا، ولو كان ذلك يوما واحدا لكان عظيما، فكيف وكان بين ظهور النبي عليه السلام ودعائه إلى أن هاجر إلى المدينة ثلاث عشرة سنة، في كل ذلك أبو بكر وخباب وأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يتجرعون المرار وعلي وادع رافه، غير طالب ولا مطلوب. وليس أنه لم يكن في طباعه النجدة والشهامة، وفي غريزته الدفع والحماية،
"ধৈর্য ধরো হে ইয়াসিরের পরিবার, তোমাদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি রয়েছে!" এরপর আম্মার (রা.) বেলালকে (রা.) শাস্তি থেকে আবু বকর (রা.) কর্তৃক মুক্ত করার কথা স্মরণ করে বললেন:

আল্লাহ তাআলা বেলালের পক্ষ থেকে এবং তার দ্বীনের পক্ষ থেকে আতীককে (আবু বকর) উত্তম প্রতিদান দান করুন, আর ফাকেহ ও আবু জেহেলকে লাঞ্ছিত করুন।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করলাম, মুশরিকরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের ওপর এমন মাত্রায় নির্যাতন চালাত যার কারণে তারা দ্বীন ত্যাগের বিষয়ে ওজরপ্রাপ্ত হতেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, তারা তাদের কাউকে এমনভাবে প্রহার করত এবং তৃষ্ণার্ত রাখত যে, যন্ত্রণার আতিশয্যে সে সোজা হয়ে বসে থাকতে সক্ষম হতো না; এমনকি তাদের কেউ কেউ তাদের কাঙ্ক্ষিত ফিতনার (কুফরি উক্তির) উত্তর দিয়ে দিত। এমনকি তাকে বলা হতো: "আল্লাহর পরিবর্তে লাত ও উজ্জা কি তোমার উপাস্য?" সে বলত: "হ্যাঁ।" এমনকি একটি গোবরে পোকা তাদের পাশ দিয়ে গেলে তাকে বলা হতো: "এটিই কি তোমার উপাস্য?" সে বলত: "হ্যাঁ।"

যদি আলী ইবনে আবি তালিব ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে আবু বকরের সমানও হতেন, তবুও মক্কায় নির্যাতিত ও ফিতনায় পতিত ব্যক্তিদের মুক্ত করার কারণে আবু বকর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতেন। এমনকি যদি এটি ছাড়া আর কোনো কারণ নাও থাকত, তবুও তার সমকক্ষ হওয়া দুষ্কর হতো। যদি এটি মাত্র একদিনের জন্যও হতো তবেই তা ছিল এক মহান বিষয়; অথচ রাসূলুল্লাহর (সা.) আত্মপ্রকাশ এবং দাওয়াত থেকে শুরু করে মদীনায় হিজরত করা পর্যন্ত দীর্ঘ তেরো বছর সময়কাল আবু বকর, খাব্বাব এবং অন্যান্য সাহাবীগণ চরম তিক্ততা ও যাতনা সহ্য করেছেন; আর আলী ছিলেন শান্ত ও নিরুদ্বেগ অবস্থায়, তিনি কাউকে খুঁজতেন না এবং তাকেও কেউ হন্যে হয়ে খুঁজত না। এর অর্থ এই নয় যে, তার চরিত্রে সাহসিকতা ও বীরত্ব ছিল না, কিংবা তার প্রকৃতিতে আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধের বৈশিষ্ট্য ছিল না।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومن أكرم عنصر وأطيب مغرس، ولكن لم تكن تمت له أداته، ولم تستجمع له قواه ولم تتكامل آدابه، لأن العقل وإن اشتد مغرزه وثبتت أواخيه وجاد نحته فإنه لا يبلغ بنفسه درك الغاية، دون كثرة السماع والتجربة، ولأن رجال الطلب وأصحاب الثأر وأهل السن والقدر يغمطون ذا الحداثة، ويزرون على [ذي] الصبا والغرارة إلى أن يلحق بالرجال يصير من الأكفاء. حتى كان آخر ما لقي هو وأهله في أمر الغار، وقد طلبته قريش وجعلت فيه مائة بعير كما جعلت في النبي صلى الله عليه وسلم، فلقي أبو جهل أسماء بنت أبي بكر - وهي ذات النطاقين - منصرفها من الغار، فسألها فكتمته فلطمها، فقالت أسماء: لقد لطمني لطمة أندر منها قرطا كان في أذني.

 

‌‌فصل: ثم الذي كان من دعائه إلى الإسلام وحسن احتجاجه حتى أسلم على يديه طلحة والزبير وسعد وعبد الرحمن وعثمان، لأنه ساعة ما أسلم دعا إلى الله ورسوله. وكان مألفا، لأدبه وعلمه ورحب عطنه.

وقالت أسماء: "ما عرفت أبي إلا وهو يدين بالدين، ولقد رجع إلينا يوم أسلم فدعانا إلى الإسلام فما رمنا حتى أسلمنا وأسلم أكثر جلسائه"، ولذلك قالوا: لمن أسلم بدعاء أبي بكر أكثر ممن أسلم
তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বংশ এবং অত্যন্ত পবিত্র উৎস থেকে আগত, কিন্তু তখনও তাঁর উপকরণসমূহ পূর্ণতা লাভ করেনি, তাঁর শক্তিসমূহ সংহত হয়নি এবং তাঁর শিষ্টাচারও পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়নি। কারণ মানুষের বুদ্ধি বা বিবেক যদিও গভীরমূল হয়, তার বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং তার গঠন সুনিপুণ হয়, তথাপি অধিক শ্রবণ ও অভিজ্ঞতা ব্যতিরেকে তা এককভাবে চরম লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। তাছাড়া জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তিত্ব, মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালীরা অল্পবয়স্কদের অবজ্ঞা করে এবং নবীন ও অনভিজ্ঞদের তুচ্ছজ্ঞান করে, যতক্ষণ না তারা পূর্ণবয়স্ক পুরুষদের স্তরে পৌঁছে তাদের সমকক্ষ হয়। এমনকি গুহার ঘটনার সময় তিনি এবং তাঁর পরিবার যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন—যখন কুরাইশরা তাঁকে খুঁজছিল এবং তাঁর জন্য একশত উট পুরস্কার নির্ধারণ করেছিল যেমনটি তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য করেছিল—তখন আবু জাহল আসমা বিনতে আবু বকর—যিনি 'জাতুন নিতাকাইন' (দুই কোমরবন্ধওয়ালী) নামে পরিচিত—এর দেখা পেল যখন তিনি গুহা থেকে ফিরছিলেন। সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিষয়টি গোপন রাখলেন, ফলে সে তাঁকে চড় মারল। আসমা বলেন: সে আমাকে এমন এক চড় মেরেছিল যে আমার কানে থাকা দুলটি ছিটকে পড়ে গিয়েছিল।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: অতঃপর ইসলামে তাঁর দাওয়াত এবং তাঁর চমৎকার যুক্তি উপস্থাপন, যার ফলে তালহা, জুবায়ের, সাদ, আবদুর রহমান এবং উসমান তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কারণ ইসলাম গ্রহণ করার মুহূর্ত থেকেই তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তিনি তাঁর শিষ্টাচার, জ্ঞান এবং প্রশস্ত হৃদয়ের কারণে সকলের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ও আকর্ষণীয় ছিলেন।

আসমা বলেন: "আমি আমার পিতাকে সর্বদাই এই দীনের অনুসারী হিসেবে পেয়েছি। তিনি যেদিন ইসলাম গ্রহণ করলেন, সেদিন আমাদের নিকট ফিরে এসে আমাদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন; আমরা সেখান থেকে সরে যাওয়ার আগেই ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং তাঁর মজলিসের অধিকাংশ লোকও ইসলাম গ্রহণ করল।" এই কারণেই বলা হয়: আবু বকরের দাওয়াতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাঁদের সংখ্যা অন্য কারো দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণকারীদের চেয়ে অনেক বেশি।
(খণ্ড: ১) আল-উসমানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
بالسيف. ولم يذهبوا من قولهم إلى العدد بل عنوا الكثرة في القدر، لأن من أسلم على يده خمسة من الشورى، كلهم يفي بالخلافة، وهم أكفاء علي ومنازعوه الرياسة والإمامة. فقد أسلم على يده أكثر ممن أسلم بالسيف، لأن هؤلاء أكثر من جميع الناس.

 

‌‌فصل: وممن أسلم على يده بلال، وهو الذي يقول فيه عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "بلال سيدنا ومولى سيدنا". ورووا أنه قال: "أبو بكر سيدنا وأعتق سيدنا". وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "بلال سابق الحبش". وبلال مولى أبي بكر ثلاث مرات، أسلم على يده فأعتقه من رق الكفر، وأعتقه من رق العذاب حيث كان يفتن في الله ورسوله، وأعتقه من رق العبودية.

وكان من قصة بلال أنه كان عبدا لبني جمح، وكانت دار أبي بكر ومسجده في حي جمح، ولم يكن ببطن مكة مسجد سواه، فلما سمع دعاء أبي بكر أسلم وحده، فلما سمع أمية بن خلف فكان يخرجه إذا حميت الظهيرة فيطرحه على ظهره ببطحاء مكة، ثم يضع صخرة على صدره، ثم يحلف بإلهه لا ينزعها عن صدره أو يكفر بمحمد وإلهه ويؤمن باللات والعزى! وبلال يأبى وهو يقول: أحد أحد! وكان يمر به ورقة بن نوفل فيقول: نعم يا بلال، أحد أحد! فمر به أبو بكر وهو يريد داره في بني جمح. فرأى أمية وما يصنع بلال، فقال: ألا تتقي الله؟
তলোয়ারের মাধ্যমে। আর তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে কেবল সংখ্যার আধিক্য বুঝাতে চাননি, বরং মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিয়েছেন। কারণ শুরা (পরামর্শ সভা)-র পাঁচজন সদস্য তাঁর হাতেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যাঁদের প্রত্যেকেই খিলাফতের জন্য উপযুক্ত ছিলেন এবং তাঁরা আলীর সমকক্ষ ও নেতৃত্ব ও ইমামতের ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিযোগী ছিলেন। সুতরাং তলোয়ারের মাধ্যমে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাদের তুলনায় তাঁর হাতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি; কারণ এই ব্যক্তিগণ সমস্ত মানুষের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: তাঁর হাতে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে বিলালও রয়েছেন, যাঁর সম্পর্কে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন: "বিলাল আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার মুক্ত করা দাস।" তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে তিনি আরও বলতেন: "আবু বকর আমাদের নেতা এবং তিনি আমাদের নেতাকে মুক্ত করেছেন।" নবী (সা.) বলেছেন: "বিলাল হাবশীদের মধ্যে অগ্রগামী।" আর বিলাল তিন দিক থেকে আবু বকরের অনুগ্রহভাজন ছিলেন: তিনি তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করায় তিনি তাঁকে কুফরির দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন, তাঁকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের খাতিরে তাঁকে পরীক্ষা করা হচ্ছিল, এবং তাঁকে শারীরিক গোলামির শৃঙ্খল থেকেও মুক্ত করেছিলেন।

বিলালের ঘটনার বিবরণ এই যে, তিনি বনু জুমাহ গোত্রের কৃতদাস ছিলেন। আবু বকরের ঘর ও তাঁর মসজিদটি জুমাহ এলাকাতেই অবস্থিত ছিল এবং মক্কার অভ্যন্তরে সেটি ছাড়া আর কোনো মসজিদ ছিল না। যখন বিলাল আবু বকরের পবিত্র আহ্বান শুনতে পেলেন, তখন তিনি একাই ইসলাম গ্রহণ করলেন। উমাইয়া ইবনে খালাফ যখন এটি জানতে পারল, তখন সে খাঁ খাঁ দুপুরে তাঁকে বের করে মক্কার উত্তপ্ত বালুচরে পিঠের ওপর শুইয়ে রাখত। এরপর সে তাঁর বুকের ওপর একটি ভারী পাথর চাপা দিত এবং নিজের উপাস্যের নামে কসম করে বলত যে, যতক্ষণ না তিনি মুহাম্মাদ ও তাঁর প্রভুকে অস্বীকার করবেন এবং লাত ও উজ্জার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবেন, ততক্ষণ সে তাঁর বুক থেকে পাথর সরাবে না! কিন্তু বিলাল তা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং বলতেন: "আহাদ, আহাদ!" (এক, এক)! ওরাকা ইবনে নাওফাল তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেন: "হ্যাঁ হে বিলাল, আহাদ আহাদ!" এমতাবস্থায় একদিন আবু বকর বনু জুমাহ এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজ গৃহের দিকে যাওয়ার পথে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি উমাইয়াকে দেখলেন এবং বিলালকে নিয়ে সে যা করছিল তাও লক্ষ্য করলেন। তখন তিনি বললেন: "তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না?"