(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: -)
السيوف المشرقة ومختصر الصواقع المحرقة القسم: الفرق والردود
الكتاب: السيوف المشرقة ومختصر الصواقع المحرقة
وهو: مختصر لكتاب (الصواقع المحرقة لإخوان الشياطين والزندقة)
مؤلف الأصل: نصير الدين محمد الشهير بخواجه نصر الله الهندي المكي
اختصره وشذبه: أبو المعالي محمود شكري بن عبد الله بن محمد بن أبي الثناء الألوسي (ت 1342هـ)
تحقيق: الدكتور مجيد الخليفة
الناشر: مكتبة الإمام البخاري للنشر والتوزيع، القاهرة
الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 693
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1433
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাহ ওয়া মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুহরিকাহ বিভাগ: বিভিন্ন উপদল ও মতবাদ খণ্ডন
গ্রন্থ: আস-সুয়ুফুল মুশরিকাহ ওয়া মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুহরিকাহ
এটি মূলত: (আস-সাওয়াইকুল মুহরিকাহ লি ইখওয়ানিশ শায়াতিনি ওয়াজ যান্দাকাহ) গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার
মূল গ্রন্থকার: নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ, যিনি খাওয়ারজা নাসরুল্লাহ আল-হিন্দি আল-মাক্কি নামে পরিচিত
সংক্ষিপ্তকরণ ও পরিমার্জন: আবু আল-মাআলি মাহমুদ শুকরি বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আস-সানা আল-আলুসি (মৃত্যু ১৩৪২ হিজরি)
তাহকিক: ডক্টর মাজিদ আল-খলিফা
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমাম আল-বুখারি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
- بسم الله الرحمن الرحيم -
[مقدمة المؤلف]الحمد لله الذي أبطل شبه القاصرين عن إدراك اليقين وقطع بما وصل من سلسلة حفظة دينه دابر الكافرين، والصلاة والسلام على من نطق بجوامع الكلم وموجز المقال وبين بمختصر لفظه سائر الأحكام من الحرام والحلال وميز بما جاء به بين أهل الحق وفرق الكفر والضلال، وعلى آله وأصحابه نجوم سماء الهداية ورجوم شياطين الغواية صلاة وسلاما دائمين إلى النهاية.
أما بعد، فيقول الفقير إلى لطف الله تعالى الهادي محمود شكري بن السيد عبد الله بهاء الدين بن العلامة المفسر الشهير أبي الثناء السيد محمود شهاب الدين الحسيني الآلوسي البغدادي: إن أشرف ما يتعاطاه الإنسان ويصرف فيه نفائس الأوقات والأزمان هو الاشتغال بالعلوم الدينية واقتناص شوارد الأحكام الشرعية، سيما ما يتعلق برد شبه أهل البدع والأهواء ويدمغ أم رأس الزائغين عن المحجة البيضاء. ألا وإن أضرهم على الإسلام وأجرأهم في الهجوم على حمى محارم الملك العلام فرق الروافض المتمسكين بكل ما يناقض الدين المحمدي ويعارض، فهم الأولى بإعداد العدد والأحق ممن خالف أهل الحق بما نستمده من كل برهان وسند، فلقد فرقوا عصا المسلمين وأوهنوا الدين المحمدي المبين بدسائس لا تدري اليهود بعشرها وحيل لا تعرف الشياطين على خبثها ومكرها:
لقد جربتهم فرأيت منهم
… خبائث بالمهيمن نستجير
ولقد أصبح اليوم أعراق قطر العراق مملوّة من سم أذنابهم، فلا ينجع فيه ترياق ولا ألف راق، فقد ارتد غالب القبائل والعربان على أعقابهم ورجعوا -والأمر لله تعالى- على أدبارهم، فرفضوا شعائر الإسلام وأهملوا سائر الأحكام واتخذوا بغض أئمة الدين عبادة وصيروا مقت أصحاب سيد المرسلين وسيلة لنيل السعادة وقعدوا عن نصرة إمام المسلمين في الجهاد، بل عدوا ذلك من باطل الاعتقاد.
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -
[গ্রন্থকারের ভূমিকা]সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি নিশ্চিত জ্ঞান লাভে অক্ষম ব্যক্তিদের সংশয়সমূহকে অসার প্রতিপন্ন করেছেন এবং তাঁর দ্বীনের সংরক্ষকদের পরম্পরা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে কাফিরদের মূল শিকড় কর্তন করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যিনি সারগর্ভ ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের অধিকারী এবং যিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত বাণীর মাধ্যমে হালাল ও হারামের সমস্ত বিধান সুস্পষ্ট করেছেন, আর যাঁর আনীত জীবনবিধানের মাধ্যমে সত্যপন্থী এবং কুফর ও ভ্রান্ত উপদলসমূহের মাঝে পার্থক্য সূচিত হয়েছে। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যাঁরা হিদায়াতের আসমানের নক্ষত্রতুল্য এবং পথভ্রষ্টতার শয়তানদের প্রতি নিক্ষিপ্ত উল্কাসদৃশ। এমন দরুদ ও সালাম যা অনন্তকাল অব্যাহত থাকবে।
অতঃপর, মহান আল্লাহর অনুগ্রহের ভিখারি হেদায়েতপ্রাপ্ত মাহমূদ শুকরী বিন আস-সায়্যিদ আবদুল্লাহ বাহাউদ্দীন বিন আল্লামা বিখ্যাত মুফাসসির আবুস সানা আস-সায়্যিদ মাহমূদ শিহাবুদ্দীন আল-হুসাইনী আল-আলূসী আল-বাগদাদী বলছেন: নিশ্চয়ই মানুষের জন্য সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ কাজ এবং অমূল্য সময় ব্যয় করার সর্বোত্তম ক্ষেত্র হলো দ্বীনী ইলম চর্চায় আত্মনিয়োগ করা এবং শরীয়তের গূঢ় বিধানসমূহ আহরণ করা; বিশেষ করে সেই বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত জ্ঞান, যা বিদআতপন্থী ও প্রবৃত্তি পূজারীদের সংশয় নিরসন করে এবং সত্য পথ থেকে বিচ্যুতদের মস্তকে আঘাত হেনে তাদের অসারতা প্রমাণ করে। জেনে রাখা উচিত যে, ইসলামের জন্য সর্বাধিক ক্ষতিকর এবং সর্বজ্ঞানী মালিক আল্লাহর নির্ধারিত পবিত্র সীমালঙ্ঘনে সবচেয়ে দুঃসাহসী গোষ্ঠী হলো রাফেযী সম্প্রদায়, যারা মুহাম্মাদী দ্বীনের পরিপন্থী ও বিরোধী সকল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং তারাই হলো সেই পক্ষ যাদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণ করা সবচেয়ে জরুরি এবং সত্যপন্থীদের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে তারাই প্রতিটি দলীল ও প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিহত হওয়ার অধিকতর যোগ্য। কেননা তারা মুসলমানদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে এবং তাদের এমন সব ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট মুহাম্মাদী দ্বীনকে দুর্বল করেছে, যার দশমাংশ সম্পর্কেও ইয়াহুদীরা অবগত নয় এবং শয়তানরাও তাদের খবিস প্রকৃতি ও কূটকৌশলের কারণে এজাতীয় ফন্দি জানে না:
আমি তাদের পরীক্ষা করেছি এবং তাদের মাঝে দেখেছি এমন সব খবিস স্বভাব, যা থেকে আমরা মহান হেফাযতকারী আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।
আজ ইরাক ভূখণ্ডের প্রতিটি প্রান্ত তাদের অনুসারীদের বিষে জর্জরিত হয়ে পড়েছে, যেখানে কোনো প্রতিষেধক কিংবা হাজারো ঝাড়ফুঁককারীও কার্যকর হচ্ছে না। অধিকাংশ গোত্র ও মরুবাসী তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে গেছে—আর সকল বিষয় আল্লাহর ইচ্ছাধীন—তারা সত্য বিমুখ হয়েছে। ফলে তারা ইসলামের নিদর্শনসমূহ বর্জন করেছে, যাবতীয় বিধানকে উপেক্ষা করেছে এবং দ্বীনের ইমামদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাকেই ইবাদত বানিয়ে নিয়েছে। তদুপরি তারা রাসূলগণের সরদারের সাহাবীদের ঘৃণা করাকে সৌভাগ্য লাভের সোপান মনে করেছে এবং জিহাদের ময়দানে মুসলমানদের ইমামকে সাহায্য করা থেকে বিরত থেকেছে; বরং তারা একে ভ্রান্ত বিশ্বাস বলে গণ্য করেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فلذا ترى أحبارهم ورهبانهم يسرعون إليهم إذا قامت حرب بين المسلمين والكفار، فيعظونهم بالقعود عن نصرة المسلمين وإعانتهم ولو بأقل مقدار. إن سمعوا بنكبة المسلمين كان ذلك أسعد عيد، وإن أخبروا بنصرتهم غشيهم همّ ليس عليه من مزيد. فما أشبه حالهم بما قص تعالى في كتابه من حال إخوانهم اليهود حصب جهنم وحطبها: {إِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا}، كل ذلك من إهمال أولي الأمر وعدم المبالاة بهذا الأمر الأمَرّ.
فلم يعيّنوا من يلقن عقائد الدين جهلة الناس وعوام المسلمين ولا من يبين لهم الأحكام ويميز لهم بين الحلال والحرام:
وتراخى الأمر حتى أصحبت
… هملا يطمع فيها من يراها
فإن إزاحة جيوش ظلام الضلال بإيقاد مصباح الهدى والرشاد لا تتيسر من غير مساعدة من ولاه الله تعالى زمام أمور العباد. ومع ذلك إن من وقف على ما انطووا عليه واطلع زيغهم وضلالهم وشبههم فيما ذهبوا إليه ظهر له أنهم ليسوا على شيء وتبين لديه أن ما هم عليه ضلال وغي، فيستمسك المؤمن بعرى دينه ويعض بنواجذه على إيمانه ويقينه.
وقد أُلف في إبطال مذاهب هذه الفرقة السالكة طريق الردى والفئة الزائغة عن منهج الهدى كتب تصدع بالحق وتنطق بالصدق وتقلع أساس الكفر من محله وتستأصل عرق الرفض من أصله. غير أن البعض منها فيه إطناب ممل، والبعض الآخر فيه إيجاز مخل.
ولقد لخصت فيما مضى ترجمة التحفة الاثني عشرية بألفاظ موجزة وعبارات مرضية. وقد ظفرت في هذه الأيام بكتاب الصواقع المحرقة لإخوان الشياطين والزندقة لخاتمة فحول الأنام وشيخ العلماء الأعلام فريد دهره ووحيد عصره: نصير الدين الشيخ
এজন্যই আপনি তাদের পন্ডিত ও যাজকদের দেখবেন যে, যখনই মুসলিম ও কাফেরদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তারা দ্রুত তাদের কাছে ছুটে যায় এবং মুসলিমদের সাহায্য ও সহযোগিতা থেকে—এমনকি সামান্যতম হলেও—বিরত থাকার উপদেশ দেয়। যদি তারা মুসলিমদের কোনো বিপর্যয়ের সংবাদ শোনে, তবে সেটি তাদের জন্য সবচাইতে আনন্দের উৎসবে পরিণত হয়; আর যদি তাদের বিজয়ের খবর পায়, তবে তারা এমন চরম দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন হয় যার কোনো সীমা নেই। তাদের অবস্থা ঠিক তেমনই, যেমন মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাদের ভাই ইহুদিদের—যারা জাহান্নামের ইন্ধন ও কাঠ—অবস্থা বর্ণনা করেছেন: {যদি তোমাদের কোনো কল্যাণ স্পর্শ করে তবে তারা ব্যথিত হয়, আর যদি তোমাদের কোনো অকল্যাণ হয় তবে তারা তাতে আনন্দিত হয়}। এ সবকিছুর কারণ হলো শাসনকর্তাদের অবহেলা এবং এই অতি তিক্ত বিষয়ে উদাসীনতা।
তারা অজ্ঞ লোক ও সাধারণ মুসলিমদের দ্বীনের আকিদা শেখানোর জন্য কাউকে নিযুক্ত করেনি, আর না এমন কাউকে রেখেছে যারা তাদের কাছে শরীয়তের বিধানাবলি বর্ণনা করবে এবং হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে দেবে:
বিষয়টি শিথিল হতে হতে শেষ পর্যন্ত এমন
… অবহেলিত অবস্থায় পরিণত হয়েছে যে, যে কেউ তা দেখে সে-ই লোভাতুর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।
নিশ্চয়ই হিদায়েত ও সঠিক পথের প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে পথভ্রষ্টতার অন্ধকারের বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় ওই সত্তার সহায়তা ব্যতীত, যাকে মহান আল্লাহ বান্দাদের বিষয়াবলীর লাগাম অর্পণ করেছেন। তা সত্ত্বেও, যে ব্যক্তি তাদের অন্তরের গোপন উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হবে এবং তাদের বিচ্যুতি, গোমরাহী ও তাদের গৃহীত মতাদর্শের সংশয়গুলো প্রত্যক্ষ করবে, তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে তাদের কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি প্রতীয়মান হবে যে তারা যা কিছুর ওপর আছে তা কেবল ভ্রষ্টতা ও বিপথগামিতা। ফলে মুমিন তার দ্বীনের রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং তার ঈমান ও একিনের ওপর দাঁত দিয়ে কামড়ে পড়ে থাকে।
ধ্বংসের পথে চলা এই দল এবং হিদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত এই গোষ্ঠীর মতবাদ বাতিল করার জন্য এমন সব কিতাব রচিত হয়েছে যা সত্যকে সমুন্নত করে, সত্যের সাথে কথা বলে, কুফরের ভিত্তিকে তার স্থান থেকে উপড়ে ফেলে এবং রাফেজিয়াতের শেকড়কে সমূলে উৎপাটন করে। তবে সেগুলোর কোনোটিতে বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে, আবার কোনোটিতে ক্ষতিকারক সংক্ষিপ্ততা বিদ্যমান।
ইতিপূর্বে আমি 'তুহফায়ে ইতনা আশারিয়া'-র অনুবাদ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শব্দে ও পছন্দনীয় চয়নশৈলীতে সারসংক্ষেপ করেছি। আর বর্তমানে আমি শয়তান ও যিন্দিকদের ভাইদের বিরুদ্ধে রচিত 'আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা' নামক কিতাবটি লাভ করেছি, যা শ্রেষ্ঠ মনীষীদের শেষ স্মারক, প্রখ্যাত উলামায়ে কেরামের শায়খ, নিজ যুগের অনন্য ও অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব নাসিরুদ্দিন আশ-শায়খের রচনা।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
محمد الشهير بخواجة نصر الله الهندي المكي ابن العلامة جامع المعقول والمنقول حادي الفروع والأصول خواجة محمد سميع الشهير بمولانا برخور ولد الحسيني الصديقي، سقى الله ثراه صيب رحمته وأسكنه جل شأنه فسيح جنته. فرأيته كتابا تشد إليه الرواحل وتقطع دونه المنازل. وهو أشبه شيء بالتحفة الاثني عشرية وأوفقها بجميع ما انطوت عليه من كلية وجزئية:
فإن لم يكنها أو تكنه فإنه
… أخوها غذته أمه بلبانها
غير أن فيه بعض زيادات تعد من جمة الإفادات. وكان مفتقرا إلى الإيجاز وتبديل بعض عبارات فيه كالألغاز، حيث أن المؤلف رحمه الله تعالى أدى غالب مقاصده بألفاظ غير مأنوسة الاستعمال وكلمات لا تكاد تعرف إلا بمراجعة كتب اللغة وكملّ الرجال. وقد اشتملت مع ذلك على ذكر حكايات لا تفيد شيئا لدى الخصام والمشاجرات وعلى عبارات لا دخل لها في المقصد ولا تعرض لها في دفع الخصم الألد.
فأحببت أن ألخصها ليعم نفعها وأختصرها كي يسهل أخذها ونقلها. وسميت ما كتبته واختصرته ولخصته "السيوف المشرقة ومختصر الصواقع المحرقة". والله سبحانه الميسر وهو المعين وبه جل شأنه في كل الأمور نستعين.
মুহম্মদ, যিনি খাজা নাসরুল্লাহ আল-হিন্দি আল-মাক্কি নামে সুপ্রসিদ্ধ, তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক ও শ্রুতিনির্ভর শাস্ত্রের সমাহারকারী এবং ফুরু ও উসুল শাস্ত্রের দিশারি আল্লামা খাজা মুহম্মদ সামি—যিনি মাওলানা বারখুর ওয়লাদ আল-হুসাইনি আস-সিদ্দিকি নামে সমধিক পরিচিত—তাঁর তনয়; আল্লাহ তাঁর কবরকে রহমতের বারিধারায় সিক্ত করুন এবং মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে স্থান দান করুন। অতঃপর, আমি এই গ্রন্থটিকে এমন এক কিতাব হিসেবে অবলোকন করেছি, যার অন্বেষণে বাহন প্রস্তুত করে দুর্গম পথ অতিক্রম করা বাঞ্ছনীয়। এটি 'তুহফা ইথনা আশারিয়া'র সর্বাপেক্ষা সাদৃশ্যপূর্ণ এবং এর অন্তর্ভুক্ত যাবতীয় মৌলিক ও আনুষঙ্গিক বিষয়ের সাথে পূর্ণ সংগতিপূর্ণ:
যদি এটি সেই (মূল গ্রন্থ) না-ও হয় অথবা সেটি এটি না-ও হয়, তবে এটি
… তারই ভ্রাতৃসম, যার জননী তাকে নিজ দুগ্ধে লালন-পালন করেছেন।
তবে এতে এমন কিছু অতিরিক্ত সংযোজন রয়েছে যা অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ ও উপকারী হিসেবে বিবেচিত। কিতাবটি সংক্ষিপ্তকরণের এবং এর কিছু দুর্বোধ্য ধাঁধার ন্যায় বাক্য পরিবর্তনের মুখাপেক্ষী ছিল; কেননা লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর অধিকাংশ উদ্দেশ্য এমন সব অপ্রচলিত শব্দে ব্যক্ত করেছেন যা অভিধান এবং পারদর্শী মনীষীদের গ্রন্থাবলির সাহায্য ব্যতীত প্রায় দুর্বোধ্য। তদুপরি এতে এমন কিছু কাহিনীর অবতারণা করা হয়েছিল যা বিতর্ক ও বাদানুবাদের সময় কোনো বিশেষ উপকারে আসে না, এবং এমন কিছু প্রসঙ্গের অবতারণা ছিল যার মূল লক্ষ্যের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং চরম শত্রুকে নিরস্ত করার ক্ষেত্রেও যার কোনো ভূমিকা নেই।
তাই আমি এর উপকারিতাকে সর্বজনীন করার নিমিত্তে একে সারসংক্ষেপ করার এবং একে সংক্ষিপ্ত করার সংকল্প করেছি যাতে তা আয়ত্ত করা এবং অন্যের নিকট পৌঁছে দেওয়া সহজতর হয়। আমি আমার এই লিখিত ও সংক্ষিপ্তকৃত সংকলনটির নামকরণ করেছি "আস-সুয়ুফুল মুশরিকা ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকুল মুহরিকা"। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সকল কাজ সহজকারী এবং তিনি একমাত্র সাহায্যকারী, আর আমরা যাবতীয় বিষয়ে মহান আল্লাহরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
المقصد الأول في بيان سبب ظهور الرافضة وسبب افتراقهم وعدد فرقهموبيان أول من لقب بالشيعة ومدتهم وذكر مكائدهم وغير ذلك مما سيجئ إن شاء الله تعالى في فصول متعددة
প্রথম মাকসাদ: রাফেজিদের আত্মপ্রকাশের কারণ, তাদের বিভক্তি এবং তাদের উপদলসমূহের সংখ্যা বর্ণনায়এবং সর্বপ্রথম কাকে ‘শিয়া’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল তার বিবরণ, তাদের স্থিতিকাল, তাদের ষড়যন্ত্রসমূহের উল্লেখ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الفصل الأول في بيان مبدأ ظهور الرافضةاعلم أن الله تعالى لما فتح بلاد الكفار من اليهود والنصارى والمجوس وعباد الوثن والنار على أيدي أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأيدي من اتبعهم بإحسان رضي الله تعالى عنهم وشرفهم وعظمهم وكرمهم، وهلكت أعداء الله بسيوفهم القاطعة وأسنتهم اللامعة وضربت عليهم الذلة والمسكنة وباؤوا بغضب من الله، ذلك بما قدمت أيديهم من معصية خالقهم عز اسمه وجل علاه؛ تستر من تستر منهم بإظهار الإسلام وجعله جنة لرشق مصيب السهام، فأظهروا الانقياد والإيمان وأبطنوا الضلال والكفران، ومع ذلك فهم لم يألوا جهدا في إعداد ما يطفئ نور الله الذي أراد ظهوره، وأنى لهم ذلك ويأبى الله إلا أن يتم نوره. فكان الدين المحمدي إذ ذاك في ترقٍ واستظهار، وكلمة المسلمين غير مختلفة ويدهم واحدة على الكفار، فلم يحصل مراد المنافقين من تشتيت شمل الموحدين، ولم يتيسر لأولئك الأشقياء إلقاء العداوة بينهم والبغضاء، حتى خرج أهل مصر بتقدير العزيز العليم على ثالث الخلفاء ذي النورين عثمان بن عفان المبشر على بلوى تصيبه بجنات النعيم. فانتهز المنافقون إذ ذاك فرصة الظفر بمقاصدهم ونيل أوطارهم ومرادهم فاتبعوا أولئك المارقين، واتفقوا مع الخارجين وحملوا حينئذ على قتل عثمان وسقيه كأس المنون، فقتلوه قاتلهم الله أنى يؤفكون.
فحل بالمسلمين من البلاء ما حل، والأمر كله لله عز وجل. وبعد أن استشهد رضي الله تعالى عنه بويع لعلي كرم الله تعالى وجهه بالخلافة، وكان أهلا لذلك، فقد اختاره للإمامة من اختار أسلافه. وقد خرج عليه من خرج وبغى عليه من بغى ممن أخطأ في ذلك المنهج، فسمي حينئذ من تابع الأمير بشيعة علي ذي القدر الخطير، وكانوا على اعتقاد أهل الحق، ثم تابعهم المنافقون ومن خرج على عثمان واختلطوا جميعا وقيل للكل شيعة علي. وكان من جملة المنافقين عبد الله بن سبأ اليماني الصنعاني. وكان أول أمره
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাফেজি সম্প্রদায়ের উৎপত্তির বিবরণ প্রসঙ্গেজেনে রাখুন যে, মহান আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এবং তাঁদের যথাযথ অনুসারীগণের হাতে—যাঁদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং যাঁদেরকে তিনি সম্মানিত, মহিমান্বিত ও মর্যাদাবান করেছেন—ইহুদি, নাসারা, অগ্নিউপাসক, মূর্তিপূজক এবং অগ্নিনমস্যকারী কাফেরদের দেশসমূহ জয় করে দিলেন এবং আল্লাহর শত্রুরা তাঁদের ধারালো তলোয়ার ও উজ্জ্বল বর্শাফলকের আঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো, আর তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য পতিত হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হলো। আর এটি ছিল তাদের স্রষ্টা—যাঁর নাম মহিমান্বিত ও মর্যাদা অতি উচ্চ—তাঁর অবাধ্যতা স্বরূপ তাদের কৃতকর্মেরই ফল। তখন তাদের মধ্যে যারা আত্মগোপন করার ছিল, তারা ইসলাম প্রকাশ করার মাধ্যমে নিজেদের লুকিয়ে ফেলল এবং একে নিক্ষিপ্ত তীরের আঘাত থেকে বাঁচার ঢাল হিসেবে গ্রহণ করল। ফলে তারা বাহ্যিকভাবে আনুগত্য ও ঈমান প্রকাশ করল, কিন্তু অন্তরে পথভ্রষ্টতা ও কুফর গোপন রাখল। তা সত্ত্বেও তারা আল্লাহর নূর—যা তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন—তাকে নিভিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির ব্যাপারে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখল না। কিন্তু তাদের পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব? অথচ আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া আর কিছুই চান না। সেই সময়ে মোহাম্মদী দ্বীন উন্নতি ও বিজয়ের শিখরে ছিল এবং মুসলিমদের ঐক্য অটুট ছিল। কাফেরদের বিরুদ্ধে তারা একতাবদ্ধ ছিলেন। ফলে তাওহীদে বিশ্বাসীদের ঐক্য বিনষ্ট করার যে উদ্দেশ্য মুনাফিকদের ছিল, তা সফল হয়নি। আর সেই হতভাগ্যদের পক্ষে মুমিনদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিশেষে সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর অমোঘ বিধানে মিসরবাসীরা তৃতীয় খলিফা যুন-নুরাইন উসমান বিন আফফান (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল, যাঁকে তাঁর ওপর আপতিত বিপদের ধৈর্যের বিনিময়ে জান্নাতুল নাঈমের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছিল। তখন মুনাফিকরা তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ পেয়ে গেল। ফলে তারা সেই ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের অনুসরণ করল এবং তাদের সাথে একাত্ম হয়ে উসমান (রা.)-কে হত্যা করার ও তাঁকে মৃত্যুর পেয়ালা পান করানোর সংকল্প করল। অবশেষে তারা তাঁকে হত্যা করল; আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা সত্য থেকে কোথায় বিচ্যুত হচ্ছে!
এর ফলে মুসলিমদের ওপর যে বিপদ আসার ছিল তা আসলো, আর সকল বিষয়ই মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি (উসমান রা.) শহীদ হওয়ার পর আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর হাতে খিলাফতের বায়আত অনুষ্ঠিত হলো। তিনি এর যোগ্যই ছিলেন, কারণ যাঁদের মনোনয়নে তাঁর পূর্বসূরিগণ ইমামত লাভ করেছিলেন, তাঁরাই তাঁকে ইমামতের জন্য মনোনীত করেছিলেন। অতঃপর যাঁরা সেই পথে ভুল করেছিলেন, তাঁদের মধ্য হতে যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ছিল তারা করল এবং সীমালঙ্ঘনকারীরা সীমালঙ্ঘন করল। সেই সময়ে আমীরের (আলী রা.) অনুসারীদের ‘উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আলীর শিয়া’ (অনুগামী) নামে অভিহিত করা হতো। তাঁরা সত্যপন্থীদের আকীদার ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। এরপর মুনাফিক এবং উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীরাও তাঁদের সাথে যোগ দিল এবং সকলে মিশে একাকার হয়ে গেল, ফলে সকলকেই ‘আলীর শিয়া’ বলা হতে লাগল। সেই মুনাফিকদের দলের মধ্যেই ছিল ইয়েমেনের সানআ নিবাসী আবদুল্লাহ বিন সাবা। আর তার শুরুর বিষয়টি ছিল এরূপ...
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
يهوديا خبيث النفس، فأظهر للشيعة الذين كانوا على نهج الحق كمال المحبة لعلي وسائر أهل البيت رضي الله تعالى عنهم أجمعين، وحث المسلمين على ذلك ورغبهم فيما هنالك، وهو يستبطن إضلالهم وتفريق شملهم، حتى تأكد لديهم أنه من المخلصين ومن أجلة المسلمين، وأنه حل عندهم أعلى محل.
ولما تيقن أن قوله لديهم يسمع وأمره مقبول ومطاع وأن خزعبلاته تروج عليهم، ذكر لهم أن أمير المؤمنين أفضل البشر بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم لأنه أخوه وابن عمه ووصيه وصهره وأولى الناس به، وتلا لهم الآيات الواردة في فضائله وروى الأحاديث الصحيحة والموضوعة في مناقبه. فلما صدقوه بذلك وانطوت عقائدهم على ما هنالك، ألقى على طائفة من هؤلاء الشيعة دسائس أخرى، وهي أن أمير المؤمنين كان وصي النبي صلى الله عليه وسلم وخليفته من بعده، وقد نصّ على خلافته وأمر أصحابه باتباعه والاعتراف بإمامته وأوصاهم بإطاعته وأنزل الله تعالى فيه لما تصدق بخاتمه وهو في الصلاة راكعا: {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ}،
সে ছিল এক কুটিল স্বভাবের ইহুদি; ফলে যারা সত্য পথে অবিচল ছিল, সেই শিয়াদের কাছে সে আলী এবং আহলে বাইতের অন্যান্য সদস্যদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা প্রদর্শন করল। সে মুসলমানদের এ বিষয়ে উৎসাহিত ও প্রলুব্ধ করল, অথচ তার অন্তরে ছিল তাদের পথভ্রষ্ট করা এবং তাদের সংহতি বিনষ্ট করার গোপন অভিসন্ধি। একসময় তাদের কাছে এটি নিশ্চিত হলো যে, সে একনিষ্ঠ ও মর্যাদাবান মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের নিকট সে সর্বোচ্চ আসনে *ইস্তিওয়া* হলো।
যখন সে নিশ্চিত হলো যে, তার কথা গুরুত্বের সাথে শোনা হচ্ছে, তার আদেশ গ্রহণযোগ্য ও পালিত হচ্ছে এবং তার মিথ্যা রটনাগুলো তাদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, তখন সে তাদের নিকট বর্ণনা করল যে, আমিরুল মুমিনীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি। কারণ তিনি তাঁর ভ্রাতা, চাচাতো ভাই, তাঁর অসি (উত্তরাধিকারী), জামাতা এবং মানুষের মধ্যে তাঁর সর্বাধিক নিকটবর্তী। সে তাদের নিকট তাঁর ফযীলত সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করল এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে সহীহ ও বানোয়াট উভয় প্রকার হাদীস বর্ণনা করল। যখন তারা তাকে এসব বিষয়ে বিশ্বাস করল এবং তাদের আকিদা-বিশ্বাস এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠল, তখন সে এই শিয়াদের একটি দলের মাঝে আরও কিছু কুচক্রী ধারণা ঢুকিয়ে দিল। তা হলো— আমিরুল মুমিনীন ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসি এবং তাঁর পরবর্তী খলীফা; নবী তাঁর খিলাফতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে অনুসরণ করতে ও তাঁর ইমামতকে স্বীকার করে নিতে এবং তাঁর আনুগত্য করার অসিয়ত করেছেন। সে আরও দাবি করল যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর শানেই এই আয়াত নাযিল করেছেন যখন তিনি নামাযে রুকু অবস্থায় থাকাকালে নিজের আংটি দান করেছিলেন: "তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ—যারা নামায কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে এবং তারা রুকু অবস্থায় থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
ولكن الصحابة أضاعوا وصيته في وصيّه، ولم يطيعوا الله ورسوله فيما أمروا به، ونبذوا أمر الرسول وراء ظهورهم وارتدوا على أعقابهم إلا أربعة منهم، وعصب أبو بكر وصاحباه حقه وظلموه. فاعتقدوا ذلك حقا وحسبوا هنالك صدقا، فصدق إبليس عليهم ظنه فاتبعوه من دون الله، لا يلتفتون في ذلك لعذل عاذل ولا يصغون لقول قائل ولا يفيدهم الوعظ والزجر ولا ينفعهم الدعاء والذكر. والذكرى تنفع المؤمنين وتفيد الموحدين.
ثم إن ابن سبأ لما رأى من طاعة قومه له ما رأى وحصل له بعض الأماني، قصد أن يظهر مطلوبه ويطلب منهم مراده ومقصوده، فاختلى بطائفة منهم ممن لا يفرق بين القشر واللب ولا يميز بين الغث والسمين، وناجاهم بأنكم قد شاهدتم من خوارق الأمير ما شاهدتم وعلمتم أن ذلك مما لا يمكن صدوره عن بشر، كقلب الأعيان وإحياء الموتى والإخبار عن الغيوب وإبراء الأكمه والأبرص وغير ذلك، فما تقولون فيه؟ قالوا أنت أعلم به منا وأبصر بحاله. قال هلموا إلي في الليل أبين لكم رأيي فيه. فلما جاءوه عشاءً قال: يا معشر الأحباب وذوي الألباب، إنكم لتعلمون أنه لا يمكن صدور مثل تلك الأمور إلا من الله، فاعلموا أن عليا هو الإله لا إله إلا هو، وقد سمعت منه أنه يناجي: أنا حي لا يموت، أنا باعث من في القبور، أنا أقيم القيامة! فجذبهم بعنان كذبه وافترائه إلى الكذب والضلال لأنهم كانوا مستعدين لمثل هذا، {وَالَّذِي خَبُثَ لَا يَخْرُجُ إِلَّا نَكِدًا}، وكل ميسر لما خلق له، {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ}.
তবে সাহাবায়ে কিরাম তাঁর উত্তরসূরির ব্যাপারে তাঁর অসীয়তকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন এবং যা করতে তাঁদের আদেশ করা হয়েছিল তাতে তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করেননি। তাঁরা রাসূলের নির্দেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন এবং চারজন ব্যতীত সবাই পিছুটান দিয়েছেন। আবু বকর ও তাঁর দুই সঙ্গী তাঁর অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁর ওপর অন্যায় করেছেন। তাঁরা সেটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছেন এবং সেখানে সত্যের ধারণা পোষণ করেছেন। ফলে ইবলিস তাদের ওপর তার সংশয়কে সত্যে পরিণত করল এবং তারা আল্লাহকে ত্যাগ করে তার অনুসরণ করল। তাঁরা এ বিষয়ে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভ্রূক্ষেপ করেন না এবং কোনো বক্তার কথায় কর্ণপাত করেন না। কোনো উপদেশ বা ভর্ৎসনা তাঁদের উপকারে আসে না এবং কোনো প্রার্থনা বা স্মরণ তাঁদের কাজে আসে না। অথচ উপদেশ কেবল মুমিনদের উপকারে আসে এবং একত্ববাদীদের পাথেয় হয়।
অতঃপর ইবনে সাবা যখন তার অনুসারীদের পক্ষ থেকে আশাতীত আনুগত্য লক্ষ্য করল এবং তার কিছু অভিপ্রায় সিদ্ধ হলো, তখন সে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ করার এবং তাদের নিকট তার লক্ষ্য উপস্থাপনের ইচ্ছা করল। তাই সে তাদের মধ্য থেকে এমন এক দলের সাথে নির্জনে মিলিত হলো যারা ফলের খোসা ও শাঁসের মধ্যে পার্থক্য করতে জানে না এবং অসার ও সারবস্তুর মধ্যে তফাত করতে পারে না। সে তাদের সাথে গোপনে এই আলাপ করল যে, তোমরা আমীরের পক্ষ থেকে যেসব অলৌকিক কাজ প্রত্যক্ষ করেছ এবং তোমরা জেনেছ যে মানুষের পক্ষে এমনটি সম্ভব নয়—যেমন বস্তুর রূপান্তর, মৃতকে পুনর্জীবিত করা, অদৃশ্যের সংবাদ দান এবং জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান ইত্যাদি—এসবের প্রেক্ষাপটে তাঁর সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী? তারা বলল, আপনিই আমাদের চেয়ে তাঁর সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। সে বলল, রাতে তোমরা আমার কাছে এসো, আমি তাঁর সম্পর্কে আমার সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করব। অতঃপর যখন তারা রাতের বেলা তার কাছে এল, তখন সে বলল: হে বন্ধুগণ ও প্রজ্ঞাবানগণ! তোমরা অবশ্যই জানো যে, এ ধরনের বিষয় আল্লাহ ব্যতীত আর কারো দ্বারা সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। অতএব জেনে রাখো যে, আলীই হলেন উপাস্য, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি এমন এক চিরঞ্জীব যাঁর মৃত্যু নেই, আমিই কবরে শায়িতদের পুনরুত্থানকারী, আমিই কিয়ামত কায়েমকারী! এভাবে সে তার মিথ্যাচার ও অপবাদের লাগাম দিয়ে তাদেরকে ভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর দিকে টেনে নিয়ে গেল; কারণ তারা পূর্ব থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। "আর যা নিকৃষ্ট, তা থেকে কষ্টকর বস্তু ব্যতীত আর কিছুই বের হয় না।" প্রত্যেকে যে কাজের জন্য সৃষ্ট হয়েছে তার জন্য তা সহজসাধ্য করে দেওয়া হয়। "তাদের মুখ থেকে নির্গত হওয়া কথাটি কতই না ভয়ংকর!"
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وكان ابن سبأ يدعو الناس إلى ما دعى إليه سرا وعلانية، حتى قال هو وأصحابه للأمير شفاها بعد ما رأوا شيئا من خوارقه: أنت الإله حقا، فزجرهم ونهاهم عن ذلك واستتابهم، فأظهروا التوبة، فنفاهم إلى المدائن. فلما استقر ابن سبأ وأصحابه بها شرعوا يغوون الناس ويستميلونهم إلى عقائدهم الخبيثة، ووافقهم جم غفير على القول بألوهية علي رضي الله تعالى عنه، فضلوا ضلالا بعيدا.
وسيّر ابن سبأ دعاته إلى البلاد الدانية والقاصية ليدعوا الناس إليه، حيث لم يكن له عن هذا الأمر دافع ولا صاد.
وافترقت الشيعة حينئذ إلى أربع فرقالفرقة الأولى المخلصون: وهم الناجية الذين هم أهل السنة والجماعة ما عدا البغاة.
الفرقة الثانية التفضيلية: وهم الذين يفضلون عليا كرم الله تعالى وجهه على كافة أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم.
والثالثة السبئية: وهم الذين يسبون أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، بل يكفرونهم، وحاشاهم رضي الله تعالى عنهم.
والرابعة الغلاة: وهم الذين يقولون بألوهية علي كرم الله تعالى وجهه.
ثم إنه قد افترق كل من الفرقتين الأخيرتين إلى فرق كثيرة وصاروا طرائق قددا. وسيجيء إن شاء الله تعالى ذكرهم بالتفصيل، ومنه الهداية والتوفيق.
ইবনে সাবা মানুষকে তার মতবাদের দিকে গোপনে ও প্রকাশ্যে আহ্বান জানাত। এমনকি সে এবং তার সঙ্গীরা আমীর (আলী রা.)-এর কিছু অলৌকিক ক্ষমতা দেখার পর সরাসরি তাকে বলেছিল: "আপনিই প্রকৃত ইলাহ।" তিনি তখন তাদের কঠোরভাবে ধমক দিলেন, এ কাজ থেকে বিরত থাকতে বললেন এবং তাদের তওবা করতে নির্দেশ দিলেন। তারা বাহ্যিকভাবে তওবা করল, ফলে তিনি তাদের মাদায়েনে নির্বাসিত করলেন। যখন ইবনে সাবা ও তার সঙ্গীরা সেখানে থিতু হলো, তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং তাদের কলুষিত আকিদার দিকে প্রলুব্ধ করতে শুরু করল। এক বিশাল গোষ্ঠী আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খোদায়িত্বের দাবির ব্যাপারে তাদের সাথে একমত হলো এবং তারা চরমভাবে পথভ্রষ্ট হলো।
ইবনে সাবা তার প্রচারকদের নিকটবর্তী ও দূরবর্তী দেশগুলোতে পাঠিয়ে দিল যাতে তারা মানুষকে তার দিকে আহ্বান করে। সেখানে এই কাজ থেকে তাকে বাধা দেওয়ার বা প্রতিহত করার কেউ ছিল না।
তখন শিয়ারা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলপ্রথম দল হলো 'মুখলিসুন' বা একনিষ্ঠগণ: তারা হলো নাজাতপ্রাপ্ত দল, যারা বিদ্রোহীগণ ব্যতীত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় দল হলো 'তাফদিলিয়া': তারা সেই সব লোক যারা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমস্ত সাহাবীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করে।
তৃতীয় দল হলো 'সাবায়িয়া': তারা সেই সব লোক যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবায়ে কেরামকে গালিগালাজ করে, বরং তাদের কাফের পর্যন্ত বলে; অথচ সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এসব কলঙ্ক থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
চতুর্থ দল হলো 'গুলাত' বা চরমপন্থী: তারা সেই সব লোক যারা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খোদায়িত্বের দাবি করে।
অতঃপর শেষোক্ত দুই দলের প্রতিটি আবার অনেক উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং তারা নানা মত ও পথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে তাদের বিস্তারিত আলোচনা আসবে। আর হিদায়াত ও তাওফিক আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الفصل الثاني في بيان سبب افتراق الرافضةاعلم أن ابن سبأ لما دعى الناس إلى ما دعاهم إليه من الرفض والضلال، وأجابه من أجابه من الحمقاء، صارت الرافضة فرقتين، وكانت دعاة كل فرقة يدعون الناس إلى مذهبهم. ولما دعى بعض دعاة الفرقة الغلاة إلى مذهبه طائفة من الفرقة السبئية وتبعه منهم من تبعه، وكان فيهم من له أدنى روية وعقلٍ أعرض عنه وشدد عليه النكير، وقال من يأكل ويشرب ويصحّ ويمرض ويجوع ويعرى ويلد ويولد كغيره من الحيوانات أنى يسوغ أن يدعى فيه الألوهية.
فلما أذعن طائفة منهم إلى هذا القول واستشكل عليه الأمر والتبس عليه طريقه، راجع من يعوّل عليه ويقبل قوله لديه، ففكر وقدر ثم قتل كيف قدر، ثم قال له مجيبا: إن الله روح حلّ في علي وهو ليس بإله، وإنما حلّ الإله فيه كما حلّ في عيسى بن مريم واتحد بناسوته. فاستحسنه جماعة من الحمقى وعقدوا قلوبهم عليه. فافترقت فرقة الغلاة إذ ذاك فرقتين: فرقة تقول إن عليا هو الإله، وأخرى تقول بحلول الإله فيه. تعالى الله عما يقول الظالمون علوا كبيرا.
ثم زاد رؤساء كل فرقة ما دعته له أهواؤهم وأوحته إليهم شياطينهم. فكثرت فرقهم وتشعبت طرقهم. ولما استشهد ريحانة الرسول الإمام الحسين رضي الله تعالى عنه، ومضت برهة من الزمان، نهض كيسان مولى السبط الأكبر يدعو الناس إلى إمامة محمد بن علي بن أبي طالب، لأنه بعد أن جاء مولاه بنفسه لازم صحبة أخيه محمد وأخذ عنه
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাফেজিদের বিভক্তির কারণ বর্ণনা প্রসঙ্গেজেনে রাখুন যে, ইবনে সাবা যখন মানুষকে সেই ধর্মত্যাগ ও পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করেছিল যেদিকে সে তাদের ডাকত, এবং নির্বোধদের মধ্যে যারা তার ডাকে সাড়া দেওয়ার তারা দিয়েছিল, তখন রাফেজিরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। আর প্রতিটি দলের প্রচারকরা মানুষকে তাদের নিজস্ব মতাদর্শের দিকে আহ্বান করতে থাকে। যখন চরমপন্থী দলের কিছু প্রচারক সাবায়ি দলের একটি গোষ্ঠীকে তাদের মতবাদের দিকে ডাকল এবং তাদের মধ্য থেকে যারা অনুসরণ করার তারা করল, তখন তাদের মধ্যে যাদের সামান্যতম বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান ছিল তারা তাদের থেকে বিমুখ হলো এবং এর তীব্র প্রতিবাদ করল। তারা বলল, যে ব্যক্তি অন্যান্য প্রাণীর মতো আহার করে, পান করে, সুস্থ হয়, অসুস্থ হয়, ক্ষুধার্ত হয়, বস্ত্রহীন হয় এবং যার জন্ম হয় ও যে সন্তান জন্ম দেয়, তার মধ্যে ঈশ্বরত্ব বা উলুহিয়্যাত আছে বলে দাবি করা কীভাবে সম্ভব হতে পারে?
যখন তাদের একটি গোষ্ঠী এই যুক্তিতে নতি স্বীকার করল এবং বিষয়টি তাদের কাছে জটিল হয়ে উঠল ও পথ বিভ্রান্তিকর মনে হলো, তখন তারা এমন একজনের শরণাপন্ন হলো যার ওপর তারা নির্ভর করত এবং যার কথা তারা গ্রহণ করত। এরপর সে চিন্তা করল এবং এক পরিকল্পনা করল—অভিশাপ তার ওপর, সে কেমন পরিকল্পনা করল! অতঃপর সে তাদের উত্তর দিয়ে বলল: "নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন একটি রূহ যা আলীর মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছে, অথচ আলী নিজে ঈশ্বর নন। বরং ঈশ্বর তাঁর মধ্যে সেভাবেই প্রবিষ্ট হয়েছেন যেভাবে তিনি ঈসা ইবনে মারিয়ামের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছিলেন এবং তাঁর মানবীয় সত্তার সাথে একীভূত হয়েছিলেন।" একদল নির্বোধ একে উত্তম মনে করল এবং এর ওপর তাদের বিশ্বাস স্থাপন করল। ফলে চরমপন্থী দলটি তখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল: এক দল বলতে লাগল যে আলী নিজেই ঈশ্বর, আর অন্য দল বলতে লাগল যে ঈশ্বর তাঁর মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছেন। জালেমরা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অতি উচ্চ ও মহান।
এরপর প্রত্যেক দলের নেতারা তাদের খেয়ালখুশি এবং শয়তানের প্ররোচনায় নতুন নতুন বিষয় যোগ করল। ফলে তাদের উপদলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং তাদের পথসমূহ বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুগন্ধি পুষ্প ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাত বরণ করলেন এবং কিছুকাল অতিবাহিত হলো, তখন বড় দৌহিত্রের (ইমাম হাসানের) মুক্তদাস কায়সান উঠে দাঁড়াল এবং মানুষকে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের ইমামতের দিকে আহ্বান করতে লাগল। কারণ, তার মনিবের প্রয়াণের পর সে তার ভাই মুহাম্মদের সান্নিধ্যে ছিল এবং তাঁর কাছ থেকেই জ্ঞান অর্জন করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
غرائب العلوم، فلبى دعوته جمع من الفرقة الأولى، منهم مختار بن أبي عبيدة الثقفي، وسمَت نفسه للسلطنة، فادعى أنه استخلفه محمد لطلب ثأر أخيه والجهاد مع أعدائه، إلا أنه قال بإمامة السبطين وكان كيسان ينكرها، ودعى جمعا كثيرا إلى مذهبه فاتبعوه، ولقب أصحابه بالمختارية. وحاربوا معه النواصب من المروانية فهزموهم بإذن الله، واستولى على العراق وديار بكر والأهواز وأذربيجان. ثم اختلفوا في الإمام بعد محمد:
فقال أبو كريب وكان من رؤسائهم: محمد خاتم الأئمة، وقد اختفى من خوف الأعداء وسيظهر بعد حين.
وقال إسحاق منهم: الإمام بعد محمد ابنه أبو هاشم بن حرب، وكان من
বিস্ময়কর জ্ঞানরাজির প্রতি (আহ্বান জানানো হলে), প্রথম দলের একটি গোষ্ঠী তার আহ্বানে সাড়া দেয়, যাদের মধ্যে মুখতার বিন আবি উবাইদা আল-ছাকাফি অন্যতম ছিলেন। তার মনে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হলো, ফলে তিনি দাবি করলেন যে, মুহাম্মদ (ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ) তাকে তার ভাইয়ের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণ এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন। তবে তিনি দুই দৌহিত্রের (হাসান ও হুসাইন) ইমামতের প্রবক্তা ছিলেন, অথচ কায়সান তা অস্বীকার করতেন। তিনি বহু লোককে নিজের মতবাদের দিকে আহ্বান করলেন এবং তারা তার অনুসারী হলো। তার সঙ্গীদের ‘মুখতারিয়া’ নামে অভিহিত করা হয়। তারা তার সাথে মারওয়ানি বংশীয় নাওয়াসিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাদের পরাজিত করে। তিনি ইরাক, দিয়ার বকর, আহওয়াজ ও আজারবাইজান দখল করেন। অতঃপর মুহাম্মদের পর পরবর্তী ইমামের বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলো:
তাদের অন্যতম প্রধান আবু কুরাইব বললেন: মুহাম্মদ হলেন ইমামদের সমাপ্তকারী; তিনি শত্রুদের ভয়ে আত্মগোপন করেছেন এবং কিছুকাল পর পুনরায় আবির্ভূত হবেন।
তাদের মধ্য থেকে ইসহাক বললেন: মুহাম্মদের পর ইমাম হলেন তাঁর পুত্র আবু হাশিম বিন হারব, এবং তিনি ছিলেন
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
رؤساء الكيسانية.
وذهبت فئة من موالي آل جعفر بن أبي طالب إلى أن الإمام بعد أبي هاشم عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر بن أبي طالب، وتبعهم جمع كثير.
وذهبت جماعة أخرى من الكيسانية إلى أن الإمام بعد ابي هاشم علي بن عبد الله بن عباس لما انتقلت الخلافة إلى آل عباس ثم إلى أولاد المنصور.
ولما خرج زيد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب رضي الله تعالى عنهم على ابن عبد الملك بن مروان الأموي، وتابعه جماعة من الشيعة المخلصين واثنا عشر ألفا من الفرقة الأولى من الرافضة، وحاربوا معه يوسف بن عمرو الثقفي أمير العراقين، ورفضه الرافضة واستشهد؛ قال لأصحابه: إن الإمام بعد الحسين زيد. ثم اختلفوا في تعيين الإمام بمقتضى ما عرض لأوهامهم.
কায়সানিয়্যাহ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
জা’ফর ইবনে আবি তালিবের বংশধরদের একদল অনুসারী এই মত পোষণ করেন যে, আবু হাশিমের পর ইমাম হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মুআওয়িয়াহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জা’ফর ইবনে আবি তালিব; এবং এক বিশাল গোষ্ঠী তাদের অনুসরণ করে।
কায়সানিয়্যাহদের অন্য একটি দল মনে করে যে, আবু হাশিমের পর ইমাম হলেন আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, যেহেতু খেলাফত আব্বাসীয় বংশের নিকট এবং পরবর্তীতে আল-মনসুরের সন্তানদের নিকট স্থানান্তরিত হয়েছিল।
যখন যায়েদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) উমাইয়া শাসক ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং একদল একনিষ্ঠ শিয়া ও রাফেজিদের প্রথম উপদলের বারো হাজার লোক তাঁর অনুসরণ করে, তাঁরা তাঁর সাথে দুই ইরাকের আমির ইউসুফ ইবনে আমর আস-সাকাফীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন; অতঃপর রাফেজিরা তাঁকে বর্জন করে এবং তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তখন কেউ কেউ তাঁদের সঙ্গীদের বলল: হুসাইনের পরে ইমাম হলেন যায়েদ। অতঃপর তাঁরা নিজেদের কল্পনাপ্রসূত ভ্রান্ত ধারণা অনুযায়ী ইমাম নির্ধারণের বিষয়ে বিভিন্ন মতবিরোধে লিপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
ونهض بعض الفرقة الأولى لما سمَت نفسه للرئاسة يدعو الناس إلى إمامة الحسن المثنى بن الحسن السبط، وجمع [عددا] منهم إلى إمامة علي بن الحسين. وكان أفضل أهل زمانه في العلم والورع. فاتبعه جمع كثير ودعوا الشيعة إليه.
وكان من تلك الدعاة هشام بن الحكم الأحول وهشام بن
প্রথম দলের একদল লোক যখন নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠল, তখন তারা হাসান আস-সিবতের পুত্র হাসান আল-মুসান্নার ইমামতের প্রতি জনগণকে আহ্বান করতে লাগল। আবার তাদের একটি অংশ আলী ইবনুল হুসাইনের ইমামতের পক্ষে সমবেত হলো। তিনি ইলম ও তাকওয়ার দিক থেকে তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি ছিলেন। ফলে এক বিশাল জনগোষ্ঠী তাঁর অনুসারী হলো এবং তারা শিয়াদের তাঁর দিকে আহ্বান জানাল।
সেই দাঈদের মধ্যে হিশাম ইবনুল হাকাম আল-আহওয়াল এবং হিশাম ইবনে... অন্যতম ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
سالم الجواليقي وشيطان الطاق والميثمي وزرارة بن أعين.
وقالوا الإمام بعد علي بن الحسين ابنه محمد الباقر. واختلفوا فيه، فقال جمع إنه حي وقال آخرون إنه مات والإمام ابنه زكريا وهو حي. وقالت جماعة الإمام بعده ابنه الصادق، فتبعهم جمع كثير ولقبوا بالإمامية. وزاد كل
সালেম আল-জাওয়ালিকী, শায়তান আত-তাক, আল-মাইছামী এবং যুরারাহ ইবনে আ'ইয়ান।
এবং তারা বলেছিল যে, আলী ইবনুল হুসাইনের পরে ইমাম হলেন তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ আল-বাকির। তবে তাঁকে নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলো; একদল বলল যে তিনি জীবিত আছেন, আবার অন্যেরা বলল যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁর পুত্র জাকারিয়া হলেন ইমাম এবং তিনি জীবিত। অপর এক দল বলল যে তাঁর পরে ইমাম হলেন তাঁর পুত্র আস-সাদিক; ফলে এক বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের অনুসরণ করল এবং তারা ‘ইমামিয়া’ নামে অভিহিত হলো। আর প্রত্যেকেই বৃদ্ধি করল
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫০)
منهم في أصول المذهب أشياء ودعى الناس إليه فتبعه جمع كثير. فافترقت الإمامية ست فرق: الحسنية والحكمية والسالمية والشيطانية والميثمية والزرارية. ثم اختلفوا في الإمام بعد الصادق. فقالت جماعة هو حي لكنه اختفى وسيظهر بعد حين، وقال جمع إنه مات والإمام بعده ابنه موسى. ثم افترقوا وسبب ذلك اختلافهم في تعيين الإمام بعد الإمام السابق أو إنكار أو ادعاء رجوعه بعد الموت، ولذلك كثرت فرقهم.
وقالت جماعة أخرى الإمام بعد جعفر ابنه إسماعيل. وافترقوا فرقتين. منهم من قال إنه حي وهو خاتم الأئمة، ومنهم من قال إنه مات والإمام بعده ابنه محمد.
وافترقت الفرقة الثانية أيضا. وسبب افتراقهم أنه لما مات إسماعيل خلّف ابنا يدعى محمدا، فقدم مع جده إلى بغداد ومات هناك ودفن في مقابر قريش. وكان له عبد حجازي سماه المبارك، وكان مشهورا بجودة الخط والقرمطة، فلاقاه عبد الله بن ميمون القداح الأهوازي بعد وفاة الصادق، فادعى أنه من شيعة هؤلاء، وكان ينادمه ويلازمه حتى حل
তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাযহাবের মূলনীতিসমূহে কিছু নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেন এবং মানুষকে সেদিকে আহ্বান জানান, ফলে এক বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের অনুসারী হয়। অতঃপর ইমামিয়া সম্প্রদায় ছয়টি দলে বিভক্ত হয়ে যায়: হাসানিয়া, হাকামিয়া, সালমিয়া, শাইতানিয়া, মাইসামিয়া এবং যুরারিয়া। এরপর তারা ইমাম সাদিকের পরবর্তী ইমামের বিষয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হয়। একদল বলল যে তিনি জীবিত আছেন কিন্তু আত্মগোপন করে আছেন এবং অচিরেই আত্মপ্রকাশ করবেন। অন্য একটি দল বলল যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন তাঁর পুত্র মুসা। অতঃপর তারা আরও বিভক্ত হয়; এর কারণ ছিল পূর্ববর্তী ইমামের পর পরবর্তী ইমাম নির্ধারণে তাদের মতভেদ, অথবা মৃত্যু অস্বীকার করা কিংবা মৃত্যুর পর ফিরে আসার দাবি করা; আর এই কারণেই তাদের উপদলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্য একটি দল বলল যে জা’ফরের পরবর্তী ইমাম হলেন তাঁর পুত্র ইসমাইল। তারা আবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তাদের মধ্যে একদল বলল যে তিনি জীবিত এবং তিনিই শেষ ইমাম। অন্য দলটি বলল যে তিনি মারা গেছেন এবং তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ।
দ্বিতীয় দলটি পুনরায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের এই বিভক্তির কারণ ছিল এই যে, ইসমাইল যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি মুহাম্মদ নামক এক পুত্র রেখে যান। তিনি তাঁর দাদার সাথে বাগদাদে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন ও কুরাইশ গোরস্তানে সমাহিত হন। তাঁর মুবারক নামক একজন হিজাজি ক্রীতদাস ছিল, যে চমৎকার হস্তাক্ষর এবং কারমাতি লিপির জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। ইমাম সাদিকের মৃত্যুর পর আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন আল-কাদ্দাহ আল-আহওয়াজি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দাবি করেন যে তিনি এই শিয়াদেরই অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর সাথে নিয়মিত বৈঠক ও সাহচর্য বজায় রাখতেন যতক্ষণ না পরিস্থিতি অনুকূল হলো...
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫১)
عنده محل الروح من الجسد وقال: قد ظهر لي من مولاك محمد ما ظهر من الأسرار المكتومة على غيري، فراج عليه كذب حتى ألحّ عليه أن يبين له ما باح له مولاه من أسراره، فقال له: بشرط أن يجعل ليلك ليل أنقد، وأعطاه مال عن ظهر يد. فذكر له شيئا من كلام الأئمة في المقطعات، ودس فيه شيئا من الفلسفة، وعلمه طرفا من الشعوذة والسحريات والطلاسم، وكان ماهرا في تلك العلوم. وقد ذكره محمد بن زكريا الرازي في كتاب المخاريق مع غيره من الحكماء. ثم بين له شيئا من عقائده الزائغة، فراج عليه زيفها وقبل ما ألقاه عليه. ثم افترقا. فخرج المبارك إلى الكوفة ودعا أهلها إلى مذهب الإسماعيلية، فأجاب دعوته جمع كثير ممن لا يفرق بين النقير والقطمير، ولقب شيعته بالمباركية والقرامطية أيضا. وخرج عبد الله بن ميمون إلى قهستان العراق ودعى جمعا إلى مذهبه، فاتبعه فريق من الضالين ورهط من المفسدين، ولقب شيعته بالميمونية. ثم استخلف رجلا اسمه خلف
তার কাছে তিনি ছিলেন দেহের অভ্যন্তরে আত্মার ন্যায় মর্যাদাসীন। তিনি বললেন: "তোমার মনিব মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে আমার নিকট এমন কিছু নিগূঢ় রহস্য উন্মোচিত হয়েছে যা অন্য কারো নিকট প্রকাশিত হয়নি।" তার এই মিথ্যাচার ফলপ্রসূ হলো, এমনকি অপর ব্যক্তি তার মনিবের ব্যক্ত করা সেই রহস্যসমূহ উন্মোচনের জন্য প্রবল পিড়াপিড়ি শুরু করল। তখন তিনি বললেন: "এই শর্তে যে, তুমি তোমার রাতকে অতিবাহিত করবে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়।" এবং তিনি তাকে অগ্রিম প্রচুর অর্থ প্রদান করলেন। অতঃপর তিনি তার নিকট হুরুফে মুকাত্তাআত সম্পর্কে ইমামগণের কিছু উক্তি বর্ণনা করলেন এবং তাতে কিছু দর্শনতত্ত্বের অনুপ্রবেশ ঘটালেন। এছাড়াও তিনি তাকে ভেলকিবাজি, জাদুবিদ্যা এবং তিলজিমাতের কিছু অংশ শিক্ষা দিলেন; কেননা তিনি এই সকল বিদ্যায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনে যাকারিয়া আল-রাজি তাঁর 'কিতাবুল মাখারিক' গ্রন্থে অন্যান্য পণ্ডিতদের সাথে তার কথাও উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি তার নিকট নিজের কিছু বিভ্রান্তিকর আকিদা প্রকাশ করলেন, যার অসারতা ওই ব্যক্তির নিকট গ্রহণযোগ্য মনে হলো এবং সে তার সকল শিক্ষা গ্রহণ করে নিল। অতঃপর তারা একে অপরের থেকে বিদায় নিলেন। মুবারক কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন এবং সেখানকার লোকদের ইসমাইলিয়া মতবাদের প্রতি আহ্বান জানালেন। সেখানে এক বিশাল অজ্ঞ জনগোষ্ঠী—যারা তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়েও পার্থক্য করতে অক্ষম—তার আহ্বানে সাড়া দিল। তার অনুসারী সম্প্রদায়কে 'মুবারকিয়া' ও 'কারামাতিয়া' নামেও অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন ইরাকের কুহিস্তানে গমন করলেন এবং একদল লোককে নিজের মতবাদের দিকে দাওয়াত দিলেন। একদল পথভ্রষ্ট ও অনিষ্টকারী লোক তার অনুগামী হলো এবং তার অনুসারীদের 'মাইমুনিয়া' বলা হতে লাগল। অতঃপর তিনি খালাফ নামক এক ব্যক্তিকে নিজের স্থলাভিষিক্ত মনোনীত করলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫২)
سيّره إلى خراسان وقم وقاشان، فأضل من ابتع هواه وأطاع الشيطان وعصى الإله. وارتحل ميمون إلى البصرة فدعى جمعا من أهلها إلى مذهبه فأبى أكثرهم. ولم يزل يروق لهم كلماته ويموه عليهم غلطاته حتى أجابه الغفير الجمّ منهم. وقدم خلف طبرستان ودعى الشيعة إلى مذهب القداح، وقال هو مذهب أهل البيت، وإذا خرج قائمهم أذاع ذلك وسيخرج عن قريب. ثم قدم الكوفة فأضل من أضل. ثم توجه إلى نيسابور فأقام في قراها يدعو الناس إلى مذهبه الباطل، فأجابه من الجهلة من أجابه. وقد انتشر أمره بين أهل السنة فقصدوه، فلما أحس بذلك هرب منهم وشرع يجول في الفلوات، إلى أن قصم الله عمره.
ثم أقام مقام الخلف بعده أحمد واستخلف رجلا من علماء السوء اسمه غياث وسيره إلى العراق وحثه على استمالة الناس إلى مذهبه.
وكان غياث أديبا ماهرا في النحو واللغة شاعرا مجيدا، فصنف في أصول مذهب الباطنية كتابا سماه بالبيان، وقد رصعه بأمثال العرب وأشعارهم، واستدل على مذهبه بالآيات والأخبار، وذكر معنى الوضوء والصلاة والصوم والزكاة والحج وغيرها من الأحكام لغةً، وقال هو مراد الشارع دون ما فهمته العامة. وكان كثير الجدل والمناظرة مع مخالفيه، فأتاه ذوو الضلال من كل فج عميق وأسرعوا له من كل بلد سحيق، ليأخذوا عنه مذهبه الباطل ظنا منهم أنه الحق، ولم يدروا أنه بعيد
তিনি তাকে খোরাসান, কোম এবং কাশানে প্রেরণ করেন; ফলে তিনি সেই ব্যক্তিদের পথভ্রষ্ট করেন যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছিল, শয়তানের আনুগত্য করেছিল এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল। মাইমুন বসরায় যাত্রা করে সেখানকার একদল মানুষকে নিজ মতবাদের দিকে আহ্বান জানান, কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা প্রত্যাখ্যান করে। তিনি অনবরত তাদের সামনে নিজের কথাগুলোকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে থাকেন এবং নিজের ভুলগুলোকে সুশোভিত করতে থাকেন, যতক্ষণ না তাদের এক বিশাল জনগোষ্ঠী তার আহ্বানে সাড়া দেয়। অতঃপর খালফ তাবারিস্তানে আগমন করেন এবং শিয়াদের কাদ্দাহর মতবাদের দিকে আহ্বান জানান; তিনি বলেন যে এটিই আহলে বাইতের প্রকৃত মতবাদ এবং যখন তাদের ‘কায়েম’ আবির্ভূত হবেন তখন তিনি তা প্রকাশ করবেন, আর অচিরেই তাঁর আবির্ভাব ঘটবে। এরপর তিনি কুফায় আসেন এবং যাদের পথভ্রষ্ট করার ছিল তাদের করেন। অতঃপর তিনি নিশাপুরের অভিমুখে যাত্রা করে সেখানকার গ্রামগুলোতে অবস্থান করে মানুষকে নিজের বাতিল মতবাদের দিকে আহ্বান করতে থাকেন; ফলে মূর্খদের মধ্য থেকে যারা বিভ্রান্ত হওয়ার ছিল তারা তার আহ্বানে সাড়া দেয়। আহলে সুন্নতের মাঝে তার এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তারা তাকে ধরার সংকল্প করে; যখন তিনি তা বুঝতে পারলেন তখন তাদের থেকে পালিয়ে জনমানবহীন প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তার আয়ু শেষ করে দিলেন।
অতঃপর খালফের মৃত্যুর পর আহমদ তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং গিয়াস নামক এক অসৎ আলেমকে নিজের প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। তিনি তাকে ইরাকে প্রেরণ করেন এবং মানুষকে নিজ মতবাদের দিকে আকৃষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেন।
গিয়াস ছিলেন ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্বে সুনিপুণ এক সাহিত্যিক এবং একজন উচ্চাঙ্গের কবি। তিনি বাতিনিয়া মতবাদের মূলনীতির ওপর ‘আল-বায়ান’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা তিনি আরবদের প্রবাদ ও কবিতামালা দিয়ে সুসজ্জিত করেন এবং নিজের মতবাদের সপক্ষে বিভিন্ন আয়াত ও বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেন। তিনি অজু, নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ ও অন্যান্য আহকামের আভিধানিক অর্থ বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে, সাধারণ মানুষ যা বোঝে তা নয় বরং এই আভিধানিক অর্থই শরয়ি বিধানদাতার প্রকৃত উদ্দেশ্য। তিনি বিরোধীদের সাথে অধিক মাত্রায় বিতর্ক ও বাহাস করতেন। ফলে পথভ্রষ্টরা দূর-দূরান্তের পথ পাড়ি দিয়ে এবং বিভিন্ন প্রত্যন্ত শহর থেকে তার কাছে ছুটে আসতে থাকে, যাতে তারা তার কাছ থেকে এই ভ্রান্ত মতবাদ গ্রহণ করতে পারে; তারা মনে করেছিল এটিই সত্য, অথচ তারা জানত না যে এটি সত্য থেকে কত দূরে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
عنه بمنازل. ولقب تابعيه بالخليفية، وكان ذلك سنة اثنين ومائتين. فينما هو راكب متن ضلاله سائر في أودية سوء أفعاله إذ أخبره رجل بأن الملأ يريدون قتلك. فخرج حينئذ منها إلى مرو الشاهجان. فأقام هناك مدة وأضل فيه من أضل بتقدير الله عز وجل. ثم رجع إلى الري فأُخبر أن أهل السنة يطلبونه، فهرب منهم هو وأتباعه الفجرة، فاختارته المنية في الطريق، ومات في البصرة ودفن هناك.
واستخلف بعده ولده أحمد. وكان يتلو تلو أبيه من البصرة إلى الشام ولم ينل هناك شيئا من بغيته، فارتحل إلى المغرب وثوى في بلد كان أكثر أهله كالأنعام. ودعاهم إلى مذهب الإسماعيلية فاتبعوه إلا فريقا من المؤمنين. ثم رجع إلى الشام فلم ينل مراده أيضا، فقدم البصرة ولقي هناك هند الأخاسس، وخلّف ابنه محمدا، فخرج إلى المغرب فعلا قدره
তাঁহার হইতে অনেক দূরে রহিয়াছেন। তাঁহার অনুসারীগণ খলিফিয়্যা উপাধিতে ভূষিত হইয়াছিল এবং ইহা ছিল দুইশত দুই হিজরি সনের ঘটনা। যখন তিনি স্বীয় পথভ্রষ্টতার বাহনে সওয়ার হইয়া নিজের মন্দ কর্মের উপত্যকায় বিচরণ করিতেছিলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁহাকে সংবাদ দিল যে, প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ তাঁহাকে হত্যা করিবার সংকল্প করিয়াছে। অতঃপর তিনি তথা হইতে মার্ভ আশ-শাহজানের উদ্দেশ্যে বাহির হইলেন। সেখানে তিনি কিছুকাল অবস্থান করিলেন এবং মহান আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী যাহাদের পথভ্রষ্ট করিবার ছিল, তাহাদের পথভ্রষ্ট করিলেন। অতঃপর তিনি রাই নগরীতে প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং অবগত হইলেন যে, আহলে সুন্নাতের অনুসারীগণ তাঁহার সন্ধানে রহিয়াছে। তখন তিনি ও তাঁহার পাপাচারী অনুসারীগণ পলায়ন করিলেন; কিন্তু পথিমধ্যেই মৃত্যু তাঁহার নিকট আসিয়া উপস্থিত হইল। তিনি বসরা নগরীতে মৃত্যুবরণ করিলেন এবং সেখানেই তাঁহাকে সমাহিত করা হইল।
তাঁহার পর তাঁহার পুত্র আহমদ স্থলাভিষিক্ত হইলেন। তিনি বসরা হইতে শাম পর্যন্ত স্বীয় পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়াছিলেন, কিন্তু সেখানে তিনি স্বীয় অভীষ্টের কিছুই লাভ করিতে সক্ষম হন নাই। অতঃপর তিনি মাগরিবের দিকে যাত্রা করিলেন এবং এমন এক জনপদে অবস্থান করিলেন যাহার অধিকাংশ অধিবাসী চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় ছিল। তিনি তাহাদিগকে ইসমাইলিয়া মতবাদের দিকে আহ্বান করিলেন এবং মুমিনদের একটি ক্ষুদ্র দল ব্যতীত সকলেই তাঁহার অনুসারী হইল। অতঃপর তিনি পুনরায় শামে ফিরিয়া আসিলেন কিন্তু সেখানেও স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হইলেন। পরে তিনি বসরায় আসিয়া সেখানে হিন্দ আল-আখাসিসের সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। তিনি স্বীয় পুত্র মুহাম্মদকে স্থলাভিষিক্ত করিলেন, যিনি মাগরিবে গমন করিয়া উচ্চ মর্যাদা ও প্রতিপত্তি লাভ করিয়াছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
ثمّة، وادعى أنه هو المهدي الموعود به. فاستولى على الإفريقية وغيرها من بلاد المغرب. ولقب أتباعه بالمهدوية. ثم افترقت المهدوية بعد مدة فرقتين. وسبب ذلك أن المستنصر من ولد المهدي نصّ على إمامة ولده نزار ثم على إمامة ولده المستعلي، فأخذ جمع بالنص الأول وآخرون بالثاني.
ثم خرج من هؤلاء القوم محمد بن علي البرقعي في الأهواز سنة خمس وخمسين ومائتين. وادعى أنه من العلوية ولم يكن منهم، إلا أن بعض العلوية تزوج بأمه فعزا نفسه إليه. واستولى على خوزستان بصرة وأهواز. وأضل خلقا كثيرا من الناس. ولقب أتباعه بالبرقعية.
وأرسل إليهم المعتضد العباسي غير مرة جنودا كثيرة، فغلبوا عليهم في كل مرة
সেখানে তিনি নিজেকে প্রতিশ্রুত মাহদি হিসেবে দাবি করেন। অতঃপর তিনি ইফ্রিকিয়া ও মাগরিবের অন্যান্য অঞ্চলসমূহ করায়ত্ত করেন। তাঁর অনুসারীদের ‘মাহদাবিয়া’ নামে অভিহিত করা হতো। পরবর্তীতে এই মাহদাবিয়া গোষ্ঠী দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর কারণ ছিল এই যে, মাহদির বংশধর আল-মুস্তানসির প্রথমে তাঁর পুত্র নিজারের ইমামতের ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর অপর পুত্র আল-মুস্তালির ইমামতের নির্দেশ দেন। ফলে একদল প্রথম নির্দেশটি গ্রহণ করে এবং অন্যদল দ্বিতীয়টি গ্রহণ করে।
অতঃপর ২৫৫ হিজরি সনে এই সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে আহওয়াজে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বুরকায়ি আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি নিজেকে আলাউয়ি বংশীয় বলে দাবি করতেন, যদিও তিনি প্রকৃতপক্ষে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না; তবে জনৈক আলাউয়ি ব্যক্তি তাঁর মাতাকে বিবাহ করার কারণে তিনি নিজেকে সেই বংশের সাথে সম্পর্কিত করেন। তিনি খুজিস্তান, বসরা ও আহওয়াজ দখল করেন এবং বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। তাঁর অনুসারীদের ‘বুরকায়িয়া’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাদিদ তাদের বিরুদ্ধে বারবার বিশাল সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং প্রতিবারই তাঁরা তাদের ওপর বিজয়ী হন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
بتقدير الله تعالى. وبقي خمس عشرة سنة في أرغد عيش حتى أتى أمر الله، فسيّر المعتضد جنودا لا قبل لهم بها، وذلك سنة سبعين ومائتين، فقاتلوا جنوده أشد القتال، فهزموهم بإذن الله وأسروا البرقعي وذهبوا به إلى بغداد. فأمر المعتضد أمير العسكر أن يقتله ويصلبه في جذع نخلة، ففعل كما أمر، فاضمحل الباطل حينئذ وانقشعت غيوم الضلال وتفرقت أتباعه أيادي سبأ.
ثم خرج سنة ثمان وسبعين ومائتين رئيس القرامطة واستولى على قطيف. وخرج هذه السنة فيما وراء النهر رجل منهم يقال له حكيم بن هشام الملقب بالمقنع، وكان بليغا ماهرا في علوم الشعوذة والحيل والنجوم والسحريات والطلمسات وكثير من علوم الفلاسفة، وكان يظهر للناس أمورا غريبة من السحر والشعوذة. فتبعه جمع كثير من الجهلة، حتى عمل قليبا في بلدة نسف يخرج منه بعد المغرب قمر منير يضيء خمس فراسخ ثم يأفل فيه قبل طلوع الفجر. فكثرت أتباعه إذ ذاك. ولقب تابعيه بالمقنعية. وادعى الخبيث أنه رابع أربعة آلهة فصدقته شيعته.
فأرسل إليه الخليفة وملوك ما وراء النهر جنودا تترى يقاتلونهم ثم يغلبون، حتى
মহান আল্লাহর অমোঘ ফয়সালায়। তিনি পনেরো বছর অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন অতিবাহিত করেন, অবশেষে আল্লাহর নির্দেশ (তথা পতন) ঘনিয়ে এল। মুতাদিদ এমন এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ করলেন যাদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। এটি ছিল দুইশ সত্তর হিজরি সালের ঘটনা। তারা তার বাহিনীর সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের পরাজিত করল। তারা বুরকায়িকে বন্দি করে বাগদাদে নিয়ে গেল। তখন মুতাদিদ সেনাপতিকে তাকে হত্যা করে একটি খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়ানোর নির্দেশ দিলেন। সেনাপতি নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন। এর ফলে বাতিলের বিনাশ ঘটল, গোমরাহীর মেঘপুঞ্জ বিদূরিত হলো এবং তার অনুসারীরা সাবা গোত্রের ন্যায় চারদিকে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ল।
এরপর দুইশ আটাত্তর হিজরি সালে কারামাতিদের প্রধানের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং সে কাতিফ অঞ্চল দখল করে নেয়। একই বছর মা ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলে তাদের মধ্য থেকে হাকিম বিন হিশাম নামক এক ব্যক্তির উদ্ভব ঘটে, যার উপাধি ছিল 'আল-মুকান্না'। সে ছিল অত্যন্ত বাকপটু এবং ভেলকিবাজি, কৌশল, জ্যোতিষশাস্ত্র, জাদুবিদ্যা, তিলিসমাতি এবং দার্শনিকদের অনেক বিদ্যায় পারদর্শী। সে মানুষের সামনে জাদু ও ভেলকিবাজির মাধ্যমে অদ্ভুত সব বিষয় প্রদর্শন করত। ফলে এক বিশাল মূর্খ জনগোষ্ঠী তার অনুসারী হয়ে গেল। এমনকি সে নাসাফ শহরে একটি কূয়া তৈরি করেছিল যেখান থেকে মাগরিবের পর একটি উজ্জ্বল চাঁদ উদিত হতো যা পাঁচ ফারসাখ পর্যন্ত এলাকা আলোকিত করত এবং ফজর হওয়ার আগেই তাতে অস্ত যেত। সেই সময় তার অনুসারী সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়। তার অনুসারীদের 'মুকান্নিয়াহ' বলা হতো। এই খবীশ ব্যক্তি নিজেকে চারজন ইলাহ বা উপাস্যের মধ্যে চতুর্থ বলে দাবি করল এবং তার অনুসারীরা তা বিশ্বাস করে নিল।
অতঃপর খলিফা এবং মা ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের রাজন্যবর্গ তার বিরুদ্ধে একের পর এক বাহিনী প্রেরণ করতে লাগলেন। তারা তাদের সাথে লড়াই করত এবং পরাজিত হতো, যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
جاء أمر الله، فأرسل الخليفة والملوك وأمراء خراسان جنودا متتابعة، فحاربهم فضاقت عليه الأرض، فتحصن هو وأصحابه حصنا حصينا قد بناه على بعض التلال وهرب الآخرون منهم، وقاتل المسلمون أهل الحصن من وراء الجدر. فلما نفد ما عندهم من الزاد أمر أصحابه أن يوقدوا نارا عظيمة فأوقدوها، ثم سقاهم سما مع الخمر فماتوا جميعا، فألقى أجسادهم في النار، فلما صارت رمادا نسفها نسفا، ثم دخل الخبيث في جب من المياه الحارة التي لا يقع فيها شيء إلا صار ماءً، وكانت في زاوية من زوايا الحصن جارية مريضة قد أغمي عليها، فأفاقت بعد يومين ولم تر أحدا في الحصن، فزحفت إلى الباب فنادت أن ليس في الحصن أحد غيري، فستور جمع منهم الحصن فلم يروا منهم أحدا، فنزلوا وفتحوا الباب ودخل فيه المسلمون فلم يروا منهم أثر فتعجبوا. وزعم أتباعه الذين تفرقوا في البلاد أنه عرج هو وأصحابه إلى السماء.
وخرج أيضا رجل منهم في عهد المعتضد، وهو أبو سعيد الحسن بن بهرام الجنابي، في البحرين على أبحر والحسا والقطيف وسائر بلاد البحرين. ودعى الناس إلى مذهب الباطنية من الرافضة. ولقب تابعيه بالجنابية. وكانوا يغيرون على القرى ويقطعون السبل ويقتلون المسلمين. فقتله خادم له في الحمام سنة إحدى وثلاثمائة. وقام مقامه ولده طاهر، وكان هو وأبوه على عقيدة واحدة، وهوه الذي قتل الحجاج في الموسم سنة سبع عشرة وثلاثمائة، وقيل قتلهم أبوه. وأذاع مذهب الباطنية. وكان يسعى غاية السعي في الإضلال حتى صاحت به وبأكثر أتباعه حوادث الدهر.
আল্লাহর নির্দেশ উপনীত হলো, তখন খলিফা, রাজন্যবর্গ এবং খোরাসানের আমিরগণ একের পর এক সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করলেন। তারা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন এবং জমিন তার জন্য সংকুচিত হয়ে এল। তখন সে ও তার সঙ্গীরা একটি সুদৃঢ় দুর্গে আশ্রয় নিল, যা সে পাহাড়ের চূড়ায় নির্মাণ করেছিল এবং তাদের মধ্য হতে অন্যরা পলায়ন করল। মুসলিমগণ দুর্গের প্রাচীরের আড়াল থেকে দুর্গবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন। যখন তাদের নিকট সঞ্চিত রসদ ফুরিয়ে গেল, তখন সে তার সঙ্গীদের এক বিশাল অগ্নি প্রজ্বলিত করার আদেশ দিল এবং তারা তা প্রজ্বলিত করল। এরপর সে তাদের মদের সাথে বিষ পান করাল এবং তারা সকলে মৃত্যুবরণ করল। অতঃপর সে তাদের মৃতদেহগুলো আগুনে নিক্ষেপ করল। যখন সেগুলো ছাই হয়ে গেল, সে তা সমূলে উড়িয়ে দিল। এরপর সেই পাপিষ্ঠ গরম পানির এমন এক কুণ্ডে প্রবেশ করল, যাতে কোনো কিছু পতিত হওয়া মাত্রই তা পানিতে রূপান্তরিত হয়ে যেত। দুর্গের এক কোণে এক অসুস্থ দাসী ছিল যে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিল। দুই দিন পর যখন সে সজাগ হলো, দুর্গে কাউকে দেখতে পেল না। সে হামাগুড়ি দিয়ে দরজার কাছে গেল এবং উচ্চস্বরে ঘোষণা করল যে, দুর্গে আমি ব্যতীত আর কেউ নেই। তখন একদল লোক দুর্গে আরোহণ করে কাউকে দেখতে পেল না। অতঃপর তারা নিচে নেমে দরজা খুলে দিল এবং মুসলিমগণ তাতে প্রবেশ করলেন, কিন্তু সেখানে তাদের কোনো চিহ্ন না পেয়ে বিস্ময়াভিভূত হলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া তার অনুসারীরা দাবি করল যে, সে এবং তার সঙ্গীরা আকাশে আরোহণ করেছে।
মুতাজিদের শাসনামলে তাদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করল, যার নাম ছিল আবু সাঈদ হাসান ইবনে বাহরাম আল-জান্নাবি। সে বাহরাইনের আবহার, হাসা, কাতিফ এবং বাহরাইনের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্রোহ ও আধিপত্য বিস্তার করল। সে মানুষকে রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত বাতেনি মতবাদের দিকে আহ্বান করল। তার অনুসারীদের জান্নাবিয়া উপাধিতে ভূষিত করা হতো। তারা গ্রামগুলোতে লুটতরাজ চালাত, পথিমধ্যে দস্যুতা করত এবং মুসলিমদের হত্যা করত। অতঃপর ৩০১ হিজরিতে গোসলখানায় তার এক ভৃত্য তাকে হত্যা করে। তার স্থলাভিষিক্ত হয় তার পুত্র তাহের। সে এবং তার পিতা একই আকিদাপোষণকারী ছিল। এই ব্যক্তিই ৩১৭ হিজরিতে হজের মৌসুমে হাজিদের হত্যা করেছিল; মতান্তরে তার পিতা তাদের হত্যা করেছিল। সে বাতেনি মতবাদ প্রচার করত এবং লোকজনকে পথভ্রষ্ট করার জন্য চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, পরিশেষে কালের অমোঘ বিপর্যয় তাকে এবং তার অধিকাংশ অনুসারীকে গ্রাস করল।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
ونهض حمدان منهم، وكان من قرمط يدعو الناس إلى إمامة محمد بن إسماعيل وأنه حي لم يمت وهو المهدي. ولقب أتباعه بالقرمطية، وغلب عليهم بهذا اللقب، ولا يلقب به المباركية بعده.
ثم نهض ابن أبي الشمط وخالف حمدان وقال الإمام بعد إسماعيل أخوه محمد ثم أخوه موسى الكاظم ثم أخوه عبد الله ثم أخوه إسحاق. ولم ينكر إمامة محمد بن إسماعيل لكن أنكر حياته. ودعى الناس إليه. ولقب أصحابه بالشمطية. وعاش أعواما في إضلال الناس حتى ورد حياض غتيم.
والميمونية والخلفية والبرقعية والمقنعية والجنابية والقرمطية كلهم من الباطنية. ولا خلاف بينهم في العقائد إلا في بعض المسائل. وكلهم يوجبون العمل ببواطن النصوص لا بظواهرها، ولذا لقبوا بالباطنية. لكن لقبت كل قوم منهم بلقب ليتعارفوا، إلا أن المقنع في أواخر ايامه ادعى الألوهية.
والباطنية كلهم من الإباحية وغلاة الرافضة. وكان بين البرقعي والمقنع والقرمطي عيبة مكفوفة، وكان بينهم مكاتبات، وهم على وتيرة واحدة. وأول من دعى الناس إلى مذهب الباطنية القداح. وأول من جهر به البرقعي ثم المقنع والجنابي ثم الحسن من
তাদের মধ্য থেকে হামদান আবির্ভূত হন; তিনি কারমত বংশীয় ছিলেন এবং মানুষকে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের ইমামতের দিকে আহ্বান করতেন। তিনি দাবি করতেন যে তিনি জীবিত আছেন, মৃত্যুবরণ করেননি এবং তিনিই মাহদী। তাঁর অনুসারীদের ‘কারমাতিয়া’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং এই উপাধিটিই তাদের ওপর প্রবল হয়ে ওঠে। তাঁর পরে মুবারকিয়াদের এই উপাধিতে আর অভিহিত করা হতো না।
অতঃপর ইবনে আবি শামত আবির্ভূত হয়ে হামদানের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে, ইসমাইলের পরে ইমাম হলেন তাঁর ভাই মুহাম্মদ, অতঃপর তাঁর ভাই মুসা আল-কাযিম, এরপর তাঁর ভাই আবদুল্লাহ এবং তাঁর পর তাঁর ভাই ইসহাক। তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের ইমামতকে অস্বীকার করেননি, কিন্তু তাঁর জীবিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং মানুষকে সেদিকেই আহ্বান জানান। তাঁর সঙ্গীদের ‘শামতিয়া’ উপাধিতে ডাকা হতো। তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করার কাজে দীর্ঘ বছর অতিবাহিত করেন, অবশেষে তিনি মৃত্যুর উপত্যকায় উপনীত হন।
মায়মুনিয়া, খালফিয়া, বুরকুইয়া, মুকান্নাইয়া, জানাবিয়া এবং কারমাতিয়া—এরা সবাই বাতিনিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। গুটিকতক মাসয়ালা বা বিষয় ছাড়া তাদের আকিদাগত কোনো মতভেদ নেই। তারা সবাই নস বা ধর্মীয় পাঠের বাহ্যিক অর্থের পরিবর্তে তার অভ্যন্তরীণ (বাতিন) মর্ম অনুযায়ী আমল করাকে আবশ্যক মনে করে, আর এ কারণেই তাদের ‘বাতিনিয়া’ উপাধি দেওয়া হয়েছে। তবে পরিচিতির সুবিধার্থে তাদের প্রতিটি দলকে পৃথক পৃথক নামে অভিহিত করা হয়েছে; তবে মুকান্না তাঁর শেষ জীবনে খোদায়িত্ব বা উলুহিয়্যাতের দাবি করেছিলেন।
বাতিনিয়াদের সকলেই ইবাহিয়া (নিষিদ্ধকে বৈধকারী) এবং চরমপন্থী রাফিযিদের অন্তর্ভুক্ত। বুরকুই, মুকান্না এবং কারমাতিদের মধ্যে গোপন সখ্যতা ও পত্রালাপ ছিল এবং তারা সবাই একই নীতি ও আদর্শের অনুসারী ছিল। বাতিনিয়া মতবাদের দিকে মানুষকে সর্বপ্রথম আহ্বান করেন আল-কাদ্দাহ। আর সর্বপ্রথম এই মতবাদকে প্রকাশ্যে প্রচার করেন বুরকুই, অতঃপর মুকান্না ও জানাবি, এরপর হাসান...
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
النزارية ثم غير واحد من ولده. والمهدوية منهم يبالغون في إجراء الأحكام الشرعية خشية أن ينفر عنهم الناس.
وتقول أئمتهم لكل من شيعتهم سبح يغتروا.
নজারিয়া সম্প্রদায় এবং পরবর্তীতে তাঁর সন্তানদের মধ্য হতে আরও অনেকে। তাদের মধ্যস্থ মাহদিয়াপন্থীরা শরীয়তের বিধানাবলী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়াকড়ি প্রদর্শন করে, এই আশঙ্কায় যে পাছে মানুষ তাদের থেকে বিমুখ হয়ে যায়।
তাদের ইমামগণ তাদের অনুসারীদের প্রত্যেককে বলে থাকেন: ‘তসবিহ পাঠ করো যাতে তারা বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত থাকে।’
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
الفصل الثالث في بيان فرق الشيعةاعلم أن فرق الشيعة كثيرة، وأصولهم خمسة: الشيعة الأولى والغلاة والكيسانية والزيدية والإمامية. وأصل الفرق الأربعة الكذب والبهتان، وجل مقالاتهم في اتباع الهوى.
أما الشيعة الأولى فهم المخلصون. وهم الذين شايعوا عليا كرم الله تعالى وجهه بعد أن بايعه المسلمون للخلافة ولازموا صحبته من المهاجرين والأنصار وسائر الصحابة وغيرهم ممن تبعهم بإحسان رضي الله تعالى عنهم. وهؤلاء افترقوا فرقتين: السنية قالوا إن عليا هو الخليفة بعد عثمان والإمام الذي افترضت طاعته، ومن خرج عليه فو باغ مخطئ؛ والتفضيلية قالوا إن عليا وأولاده أحق بالخلافة من غيرهم وهو أفضل الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يذكرون الصحابة إلا بخير ولا يعزونهم إلى الضلال. ولا خلاف بينهم وبين الفرقة الأولى في هذه المسألة.
وأما الغلاة فأربع وعشرون فرقةالأولى السبئية: أصحاب عبد الله بن سبأ. قالوا إن عليا هو الإله حقا وإنه لم يقتل وإنما قتل ابن ملجم شيطانا تصور بصورته وإنه في السحاب وإن الرعد صوته والبرق سوطه وإنه ينزل بعد حين يقتل أعداءه.
الثانية المفضلية: أصحاب المفضل الصيرفي. قالوا في الأئمة مثل ما قالت النصارى في المسيح وإنه تعالى حل فيهم واتحد بناسوته وإن النبوة لم تنقطع،
শিয়াদের দলসমূহের বর্ণনায় তৃতীয় পরিচ্ছেদজেনে রাখুন যে, শিয়াদের অনেক দল রয়েছে এবং তাদের মূল উৎস হলো পাঁচটি: প্রাথমিক শিয়া, গুলাত (চরমপন্থী), কায়সানিয়া, যায়দিয়া এবং ইমামিয়া। আর পরবর্তী চারটি দলের ভিত্তি হলো মিথ্যা ও অপবাদ এবং তাদের অধিকাংশ মতবাদই প্রবৃত্তি অনুসরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আর প্রাথমিক শিয়াদের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তারা ছিলেন একনিষ্ঠ অনুসারী। তারা হলেন ওই সকল ব্যক্তি যারা খিলাফতের জন্য মুসলমানদের হাতে বাইয়াত গ্রহণের পর আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন)-এর অনুসরণ করেছিলেন এবং তাঁর সাহচর্যে ছিলেন; যারা মুহাজির, আনসার এবং অন্যান্য সাহাবী ও তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা আবার দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছেন: সুন্নিপন্থী, যারা বলেন যে আলী উসমানের পর খলিফা এবং এমন এক ইমাম যাঁর আনুগত্য ফরজ ছিল; আর যারা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল তারা ছিল ভুলকারী বিদ্রোহী। এবং তাফজিলিয়া (শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানকারী), যারা বলেন যে আলী ও তাঁর সন্তানগণ অন্যদের তুলনায় খিলাফতের অধিক হকদার এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তারা সাহাবায়ে কেরামকে কল্যাণের সাথেই স্মরণ করেন এবং তাঁদেরকে পথভ্রষ্টতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন না। এ মাসআলায় তাদের ও প্রথম দলের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
আর গুলাত বা চরমপন্থীদের চব্বিশটি দল রয়েছেপ্রথমটি হলো সাবায়িয়া: আবদুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী। তারা বলে যে, আলী প্রকৃতপক্ষে ইলাহ (উপাস্য) এবং তাঁকে হত্যা করা হয়নি; বরং ইবনে মুলজাম কেবল এমন এক শয়তানকে হত্যা করেছে যে তাঁর রূপ ধারণ করেছিল। তারা আরও বলে যে, তিনি মেঘমালার মধ্যে রয়েছেন এবং বজ্র হলো তাঁর কণ্ঠস্বর আর বিদ্যুৎ হলো তাঁর চাবুক; তিনি কিছুকাল পর অবতীর্ণ হয়ে তাঁর শত্রুদের হত্যা করবেন।
দ্বিতীয়টি হলো মুফাদ্দালিয়া: মুফাদ্দাল আস-সাইরাফির অনুসারী। তারা ইমামদের সম্পর্কে তেমন কথা বলে যেমনটি নাসারারা (খ্রিস্টানরা) মাসীহ সম্পর্কে বলেছিল। তারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছেন এবং তাঁদের মানবসত্তার সাথে একীভূত হয়েছেন, আর নবুওয়াত ধারা ছিন্ন হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৬০)
وينتحلون النبوة والرسالة.
الثالثة السريغية: أصحاب السريغ. قالوا إن الله تعالى حل في خمسة أشخاص، النبي والعباس وعلي وجعفر وعقيل.
الرابعة البزيعية: أصحاب بزيع بن يونس. قالوا جعفر بن محمد هو الإله لا يرى، ولكن شبه بهذه الصورة، والأئمة يوحى إليهم ويرقون في الملكوت.
الخامسة الكاملية: أصحاب أبي كامل. قالوا إن لله تعالى مكانا وإن الأرواح تتناسخ وكان روح الله في آدم ثم في ولده شيث ثم في الأنبياء والأئمة، وكذلك تتناسخ في سائر بني آدم، وإن الصحابة كفروا بترك بيعة علي، وكذا علي بترك طلب الحق.
السادسة المغيرية: أصحاب مغيرة بن سعد العجلي. قالوا إن الله تعالى على صورة رجل وإنه جسم على رأسه تاج من نور قلبه منبع الحكم.
السابعة الجناحية: قالوا الأرواح تتناسخ، وكان روح الله تعالى في آدم ثم في شيث ثم سائر الأنبياء والأئمة حتى انتهت إلى علي وأولاده الثلاثة ثم إلى عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر ذي الجناحين، وهو الإمام بعد محمد بن الحنفية. وأنكروا المعاد
এবং তারা নবুওয়ত ও রিসালাতের দাবি করে।
তৃতীয় দল আস-সারীগিয়্যাহ: তারা সারীগের অনুসারী। তারা বলে যে, মহান আল্লাহ পাঁচজন ব্যক্তির মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছেন—নবী (সা.), আব্বাস, আলী, জাফর এবং আকীল।
চতুর্থ দল আল-বাজিইয়্যাহ: তারা বাজি ইবনে ইউনুসের অনুসারী। তারা বলে যে, জাফর ইবনে মুহাম্মদই হলেন প্রকৃত উপাস্য (ইলাহ), তাঁকে দেখা যায় না, তবে তিনি এই মানব আকৃতি ধারণ করেছেন; আর ইমামদের নিকট ওহী আসে এবং তারা ঊর্ধ্বজগতে (মালাকুত) আরোহণ করেন।
পঞ্চম দল আল-কামিলিয়্যাহ: তারা আবু কামিলের অনুসারী। তারা বলে যে, মহান আল্লাহর একটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে এবং আত্মার পুনর্জন্ম বা জন্মান্তর (তানাশু্খ) ঘটে। আল্লাহর রূহ প্রথমে আদমের মধ্যে ছিল, অতঃপর তাঁর পুত্র শীষের মধ্যে, এরপর নবী ও ইমামদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে; একইভাবে তা অন্যান্য বনী আদমের মধ্যেও আবর্তিত হয়। তারা আরও দাবি করে যে, আলীর আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) ত্যাগ করার কারণে সাহাবীগণ কুফরী করেছেন, আর আলীও স্বীয় অধিকার আদায়ে সচেষ্ট না হওয়ার কারণে অনুরূপ করেছেন।
ষষ্ঠ দল আল-মুগীরিয়্যাহ: তারা মুগীরা ইবনে সাদ আল-ইজলীর অনুসারী। তারা বলে যে, মহান আল্লাহ একজন পুরুষের আকৃতিতে এবং তিনি একটি দেহবিশিষ্ট সত্তা; তাঁর মাথায় নূরের একটি মুকুট রয়েছে এবং তাঁর হৃদয় হলো হিকমত বা প্রজ্ঞার উৎস।
সপ্তম দল আল-জানাহিয়্যাহ: তারা বলে যে, আত্মার জন্মান্তর ঘটে। মহান আল্লাহর রূহ প্রথমে আদমের মধ্যে ছিল, এরপর শীষের মধ্যে, এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নবী ও ইমামদের মধ্য দিয়ে আলী ও তাঁর তিন সন্তানের নিকট পৌঁছেছে। পরিশেষে তা আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর যুল-জানাহাইনের নিকট স্থানান্তরিত হয়েছে, যিনি মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর পরবর্তী ইমাম। তারা পরকাল বা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৬১)
واستحلوا المحارم.
الثامنة البيانية: أصحاب بيان بن سمعان النهدي. قالوا إن لله تعالى صورة وإنه حل في علي واتحد بناسوته ثم في ابنه محمد ثم في ولده أبي هاشم ثم في بيان واتحد بناسوته.
التاسعة المنصورية: أصحاب أبي منصور العجلي، ويقال لهم العجلية أيضا. قالوا الرسل لا تنقطع أبدا وإن العالم قديم. وأنكروا الأحكام والجنة والنار وأولوها. وقالوا الإمامة صارت إلى محمد بن علي بن الحسين ثم انتقلت منه إلى أبي منصور هذا.
العاشرة الغمامية: ويقال لهم الربيعية أيضا. قالوا إن الله تعالى ينزل إلى الأرض كل ربيع في غمام فيطوف الدنيا ثم يعرج إلى السماء.
الحادية عشرة الأموية: أصحاب الأموي. قالوا إن عليا كان شريكا لمحمد في النبوة.
এবং তারা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করে নিয়েছিল।
অষ্টম দল আল-বায়ানিয়্যাহ: তারা বায়ান ইবনে সামআন আন-নাহদির অনুসারী। তারা দাবি করত যে, আল্লাহ তাআলার একটি অবয়ব রয়েছে এবং তিনি আলীর মাঝে প্রবিষ্ট হয়েছিলেন ও তার মানবসত্তার সাথে একীভূত হয়েছিলেন। অতঃপর তার পুত্র মুহাম্মাদের মাঝে, এরপর তার বংশধর আবু হাশিমের মাঝে এবং পরিশেষে বায়ানের মাঝে প্রবিষ্ট হয়ে তার মানবসত্তার সাথে একীভূত হয়েছিলেন।
নবম দল আল-মানসুরিয়্যাহ: তারা আবু মানসুর আল-ইজলির অনুসারী এবং তাদেরকে আল-ইজলিয়্যাহও বলা হয়। তারা বলত যে, রাসূল প্রেরণের ধারা কখনো সমাপ্ত হবে না এবং এই জগৎ অনাদি। তারা শরীয়তের বিধানাবলি এবং জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করত এবং সেগুলোর অপব্যাখ্যা করত। তারা আরও বলত যে, ইমামত মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইনের নিকট ছিল এবং পরবর্তীতে তা তার থেকে এই আবু মানসুরের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে।
দশম দল আল-গামামিয়্যাহ: তাদেরকে আর-রাবিয়্যাহও বলা হয়। তারা দাবি করত যে, আল্লাহ তাআলা প্রতি বসন্তকালে মেঘমালার আশ্রয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, অতঃপর সারা বিশ্ব পরিভ্রমণ করে পুনরায় আকাশে আরোহণ করেন।
একাদশ দল আল-উমাবিয়্যাহ: তারা আল-উমাবির অনুসারী। তারা বলত যে, আলী নবুওয়াতের দায়িত্বে মুহাম্মাদের অংশীদার ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৬২)
الثانية عشرة التفويضية: قالوا إن الله تعالى خلق الدنيا وفوضها إلى محمد وأباح له كل ما فيها. وقالت طائفة منهم فوضها إلى علي. وقالت أخرى إليهما.
الثالثة عشر الخطابية: أصحاب أبي الخطاب محمد بن أبي زينب الأجدع الأسدي. قالوا إن الأئمة أبناء الله وعلي إله وجعفر الصادق الإله الأصغر وأبو الخطاب نبي، والأنبياء فرضوا على الناس طاعة أبي الخطاب. وكان يأمر أصحابه بشهادة الزور على مخالفيه.
الرابعة عشر المعمرية: أصحاب المعمر. قالوا جعفر بن محمد الصادق نبي ثم بعده أبو الخطاب وبعد قتله معمر، وأحكام الشريعة مفوضة إلى النبي وقد أسقطها معمر. وهؤلاء فرقة من الخطابية.
الخامسة عشر الغرابية: قالوا إن الله تعالى أرسل جبريل فغلط في تبليغ الرسالة من علي إلى محمد، وكان محمد لعلي أشبه من الغراب بالغراب، لذلك لقبوا بالغرابية.
السادسة عشر الذبابية: قالوا إن عليا إله وإن محمدا نبي وهو أشبه له من الذباب بالذباب. وهؤلاء طائفة من الغرابية رجعوا عن عقيدتهم إلى هذه العقيدة.
السابعة عشر الذمية: قالوا إن عليا إله، ويذمون محمدا لأنهم يزعمون أن عليا هو
দ্বাদশ উপদল- তাফউইযিয়্যাহ: তারা বলে যে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং এর কর্তৃত্ব মুহাম্মাদের নিকট অর্পণ করেছেন এবং এর মধ্যকার সবকিছু তাঁর জন্য বৈধ করে দিয়েছেন। তাদের একদল বলে যে, তিনি তা আলীর নিকট অর্পণ করেছেন। অন্য দল বলে যে, তিনি তা উভয়ের নিকট অর্পণ করেছেন।
ত্রয়োদশ উপদল- খাত্তাবিয়্যাহ: তারা আবু আল-খাত্তাব মুহাম্মাদ ইবনে আবি যয়নব আল-আজদা আল-আসাদীর অনুসারী। তারা বলে যে, ইমামগণ আল্লাহর সন্তান এবং আলী হলেন ইলাহ এবং জাফর আস-সাদিক ছোট ইলাহ, আর আবু আল-খাত্তাব হলেন নবী। আর নবীগণ মানুষের ওপর আবু আল-খাত্তাবের আনুগত্য করাকে আবশ্যক করেছেন। সে তার অনুসারীদেরকে তার বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দিত।
চতুর্দশ উপদল- মুয়াম্মারিয়্যাহ: এরা মুয়াম্মারের অনুসারী। তারা বলে যে, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাদিক নবী, এরপর আবু আল-খাত্তাব এবং তার হত্যার পর মুয়াম্মার নবী। আর শরীয়তের বিধানসমূহ নবীর ইখতিয়ারে ছিল এবং মুয়াম্মার সেগুলো রহিত করে দিয়েছে। তারা খাত্তাবিয়্যাহ সম্প্রদায়েরই একটি শাখা।
পঞ্চদশ উপদল- গুরাবিয়্যাহ: তারা বলে যে, আল্লাহ তাআলা জিবরাঈলকে প্রেরণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ভুল করে আলীর পরিবর্তে মুহাম্মাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। আর মুহাম্মাদ আলীর সাথে এতটাই সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন যেমন একটি দাঁড়কাক অন্যটির সাথে সদৃশ হয়, একারণেই তাদের 'গুরাবিয়্যাহ' উপাধি দেওয়া হয়েছে।
ষোড়শ উপদল- জুবাবিয়্যাহ: তারা বলে যে, আলী হলেন ইলাহ এবং মুহাম্মাদ নবী, আর তিনি তাঁর সাথে এতটাই সদৃশ যেমন একটি মাছি অন্য মাছির সাথে হয়। এরা গুরাবিয়্যাহদেরই একটি দল যারা তাদের আকিদা থেকে ফিরে এই আকিদা পোষণ করেছে।
সপ্তদশ উপদল- জাম্মিয়্যাহ: তারা বলে যে, আলী হলেন ইলাহ এবং তারা মুহাম্মাদ (সা.)-এর নিন্দা করে, কারণ তাদের দাবি হলো আলী-ই হলেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
الإله وقد بعث محمدا ليدعو الناس إليه فدعاهم إلى نفسه دونه، فلذا لقبوا بالذمية.
الثامنة عشر الاثنينية: قالوا إن محمدا وعليا كلاهما إله، وافترقوا فرقتين؛ فقدمت فرقة عليا وقدمة فرقة أخرى محمدا، وهؤلاء الفرقة من الذمية رجعوا عن الذم وشاركوا محمدا مع علي في الإلهية.
التاسعة عشر الخمسية: وهم فرقة من الذمية أيضا. قالوا الآلهة خمسة محمد وعلي وفاطمة وحسن والحسين، وزعموا أن الخمسة شيء واحد وأن الروح حالة فيهم على السوية لا مزية لواحد منهم على الآخر. ومن أعجب العجائب أن طائفة منهم كانوا يحذفون التاء من فاطمة تحاشيا عن وصمة التأنيث مع اعترافهم بأنها بنت محمد وبعلة علي وأم الحسن والحسين، وذلك من فرط شركهم وجهالتهم وغباوتهم وضلالتهم. وربما يطلق عليهم وعلى الاثنينية النزة الأولى مع أنهم تبرؤوا عن الذم.
العشرون النصيرية: أصحاب نُصير. قالوا إن الله تعالى حل في علي ثم الأئمة من ولده، ولذا أطلقوا الألوهية على علي والأئمة.
الحادية والعشرون الإسحاقية: أصحاب إسحاق. قالوا الأرض لا تخلو من نبي، والله حل في علي ثم في الأئمة من ولده كما قالت النصيرية. إلا أنهم اختلفوا فيمن حل الله فيه بعد علي من ولده.
الثانية والعشرون [العلبائية]: أصحاب [علباء] بن دراع الأوسي، وقيل
তিনিই উপাস্য, আর তিনি মুহাম্মদকে প্রেরণ করেছেন যেন তিনি মানুষকে তাঁর (আলী) দিকে আহ্বান করেন। কিন্তু তিনি (মুহাম্মদ) মানুষকে তাঁর (আলী) পরিবর্তে নিজের দিকে আহ্বান করেন; এ কারণেই তাদেরকে 'যাম্মিয়্যা' (নিন্দাকারী) উপাধি দেওয়া হয়েছে।
আঠারোতম হলো ইসনাইনিইয়্যাহ: তারা বলে যে, মুহাম্মদ এবং আলী উভয়েই উপাস্য। তারা দুই উপদলে বিভক্ত হয়েছে; এক দল আলীকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে এবং অন্য দল মুহাম্মদকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে। যাম্মিয়্যাদের এই দলটি নিন্দা (যাম্ম) থেকে সরে আসে এবং মুহাম্মদকে আলীর সাথে উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদার সাব্যস্ত করে।
ঊনিশতম হলো খামসিয়্যাহ: তারাও যাম্মিয়্যাদেরই একটি উপদল। তারা বলে যে, উপাস্য পাঁচজন—মুহাম্মদ, আলী, ফাতিমা, হাসান এবং হুসাইন। তারা দাবি করে যে, এই পাঁচজন মূলত একই সত্তা এবং তাদের সবার মধ্যে রূহ সমানভাবে বিদ্যমান; তাদের একজনের ওপর অন্যজনের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তাদের একটি গোষ্ঠী 'ফাতিমা' নাম থেকে 'তা' (স্ত্রীলিঙ্গবাচক বর্ণ) বর্জন করত নারীত্বের চিহ্ন এড়ানোর জন্য, অথচ তারা স্বীকার করত যে তিনি মুহাম্মদের কন্যা, আলীর স্ত্রী এবং হাসান ও হুসাইনের মাতা। এটি তাদের চরম শিরক, মূর্খতা, নির্বুদ্ধিতা এবং পথভ্রষ্টতার পরিচায়ক। কখনো কখনো তাদেরকে এবং ইসনাইনিইয়্যাহদের 'নুযাহ আল-উলা' নামেও অভিহিত করা হয়, যদিও তারা নিন্দা (যাম্ম) থেকে নিজেদের মুক্ত ঘোষণা করেছে।
বিশতম হলো নুসাইরিয়্যাহ: এরা নুসাইরের অনুসারী। তারা বলে যে, আল্লাহ তা'আলা আলীর মধ্যে এবং পরবর্তীতে তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে ইমামগণের মধ্যে অবতীর্ণ (হুলুল) হয়েছেন। এ কারণেই তারা আলীকে এবং ইমামগণকে উপাস্য বলে অভিহিত করে।
একুশতম হলো ইসহাকিয়্যাহ: এরা ইসহাকের অনুসারী। তারা বলে যে, পৃথিবী কখনোই নবীশূন্য থাকে না এবং আল্লাহ আলীর মধ্যে ও পরবর্তীতে তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে ইমামগণের মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছেন, যেমনটি নুসাইরিয়্যাহরা বলেছিল। তবে আলীর পর তাঁর কোন বংশধরের মধ্যে আল্লাহ অবতীর্ণ হয়েছেন, এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
বাইশতম হলো [ইলবাঈয়্যাহ]: এরা [ইলবা] বিন দেরা আল-আওসীর অনুসারী। কথিত আছে যে...
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
الأسدي. قالوا إن عليا هو الإله وهو أفضل من محمد وإن بايعه.
الثالثة والعشرون الرزامية: أصحاب الرزام. قالوا الإمام بعد علي ابنه محمد ثم ولده أبو هاشم ثم علي بن عبد الله بن العباس بوصية أبي هاشم له ثم محمد بن علي ثم أولاده إلى المنصور ثم حل الله تعالى في أبي مسلم صاحب الدعوة وإنه لم يقتل. واستحلوا المحارم وتركوا الفرائض.
الرابعة والعشرون المقنعية: أصحاب المقنع. ادعوا الألوهية في المقنع، وقالوا الآلهة أربعة علي والحسن والحسين والمقنع. وهؤلاء فرقة من الرزامية.
وأما الكيسانية فهم أصحاب كيسان مولى الحسن السبط، وقيل مولى علي بن أبي طالب. وقال الجوهري في صحاحه: كيسان لقب المختار، وتبعه غيره. والصحيح ما قدمناه. تتلمذ على محمد بن علي وأخذ عنه العلوم الغريبة. وهم ست فرق:
আল-আসাদী। তারা বলত যে আলী-ই ইলাহ এবং তিনি মুহাম্মাদ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যদিও তিনি তাঁর আনুগত্যের শপথ করেছিলেন।
তেইশতম, রিজামিয়্যাহ: এরা রিজামের অনুসারী। তারা বলত আলীর পরে ইমাম হলেন তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ, অতঃপর তাঁর পুত্র আবু হাশিম, এরপর আবু হাশিমের অসিয়ত অনুযায়ী আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস, অতঃপর মুহাম্মাদ বিন আলী এবং তাঁর সন্তানগণ থেকে আল-মনসুর পর্যন্ত। এরপর (তাদের দাবি অনুযায়ী) আল্লাহ তাআলা দাওয়াতের হোতা আবু মুসলিমের মাঝে আবিষ্ট হয়েছেন এবং তিনি নিহত হননি। তারা হারাম কাজসমূহকে বৈধ জ্ঞান করত এবং ফরজ ইবাদতসমূহ বর্জন করেছিল।
চব্বিশতম, মুকান্নাআয়্যাহ: এরা মুকান্নার অনুসারী। তারা মুকান্নার মধ্যে খোদায়িত্ব দাবি করত এবং বলত যে উপাস্য হলেন চারজন: আলী, হাসান, হুসাইন ও মুকান্না। এরা রিজামিয়্যাহদেরই একটি শাখা।
আর কায়সানিয়্যাহরা হলো হাসান আস-সিবতের আযাদকৃত দাস কায়সানের অনুসারী, আবার বলা হয় তিনি আলী বিন আবি তালিবের আযাদকৃত দাস ছিলেন। জাওহারি তাঁর 'সিহাহ' গ্রন্থে বলেছেন: কায়সান হলো মুখতারের উপাধি, এবং অন্যান্যরাও তাঁর অনুকরণে এটিই বলেছেন। তবে সঠিক সেটিই যা আমরা আগে উল্লেখ করেছি। তিনি মুহাম্মাদ বিন আলীর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর থেকে গূঢ় ও দুর্লভ জ্ঞানসমূহ অর্জন করেন। তারা ছয়টি উপদলে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১)
আস-সুয়ুফুল মুশরিকাতি ওয়া মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুহরিকা
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
الفرقة الأولى الكربية: أصحاب أبي كريب الضرير. قالوا الإمام بعد علي ابنه أبو القاسم محمد لأن عليا رفع إليه الراية بالبصرة وإنه حي مقيم بجبل رضوى في شعب منه، وهو صاحب الزمان، دخل الشعب ومعه أربعون رجلا من أصحابه، وعنده عينان نضاختان يجريان عسلا وماء. وإلى هذا يشير كُثير عزة الشاعر المشهور من جملة أبياته، وكان كيساني الاعتقاد:
وسبط لا يذوق الموت حتى
… يقود الخيل يقدمها اللواء
تغيّب لا يُرى فيهم زمانا
… برضوى عنده عسل وماء
وأبو كريب هذا أول من قال باختفاء صاحب الزمان من خوف الأعداء وظهوره بعد حين، وتبعه جماهير الإمامية فوقعوا في وادي الجبت.
الفرقة الثانية الإسحاقية: أصحاب إسحاق بن عمر. قالوا الإمام بعد محمد ابنه أبو الهاشم وبعده أولاده بوصية الآباء للأبناء.
الفرقة الثالثة الكندية: أصحاب عبد الله بن الحرب، ويقال لهم الحربية أيضا. قالوا الإمام بعد أبي الهاشم عبد الله بن الحرب الكندي بوصيته له.
الفرقة الرابعة العباسية: قالوا الإمام بعد أبي الهاشم [علي بن عبد الله بن العباس] ثم انتقلت إلى ولده محمد بن
প্রথম দল হলো কারবিয়্যাহ: তারা আবু কুরাইব আল-দারির-এর অনুসারী। তারা বলে, আলীর পরে ইমাম হলেন তাঁর পুত্র আবুল কাসিম মুহাম্মদ; কারণ আলী বসরার যুদ্ধে তাঁর হাতে পতাকা অর্পণ করেছিলেন। তিনি জীবিত আছেন এবং রাদওয়া পাহাড়ের একটি গিরিপথে অবস্থান করছেন। তিনিই যুগের অধিপতি (সাহিবুজ জামান), তিনি তাঁর চল্লিশজন সঙ্গীসহ সেই গিরিপথে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে তাঁর কাছে দুটি টলটলে ঝরনা রয়েছে যা থেকে মধু ও পানি প্রবাহিত হয়। বিখ্যাত কবি কুসাইয়ির আজ্জাহ্ তাঁর কবিতার চরণে এই বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন; তিনি কাইসানিয়্যাহ আকিদায় বিশ্বাসী ছিলেন:
এবং এমন এক বংশধর যিনি মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না
… তিনি অশ্বারোহী বাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন যাদের সামনে থাকবে একটি পতাকা।
তিনি এক দীর্ঘ সময় তাদের থেকে অদৃশ্য থাকবেন
… রাদওয়া পাহাড়ে তাঁর নিকট মধু ও পানি রয়েছে।
আর এই আবু কুরাইবই সর্বপ্রথম শত্রুদের ভয়ে যুগের অধিপতির অন্তর্ধান এবং কিছুকাল পরে তাঁর পুনরাবির্ভাবের কথা বলেছিলেন। অধিকাংশ ইমামি সম্প্রদায় তাঁর অনুসরণ করে বিভ্রান্তির গহ্বরে নিপতিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দল হলো ইসহাকিয়্যাহ: তারা ইসহাক বিন ওমরের অনুসারী। তারা বলে, মুহাম্মদের পরে ইমাম হলেন তাঁর পুত্র আবু হাশিম এবং এরপর পিতার অসিয়ত অনুযায়ী তাঁর সন্তানরা উত্তরাধিকার লাভ করবে।
তৃতীয় দল হলো কিন্দিয়্যাহ: তারা আবদুল্লাহ ইবনুল হারব-এর অনুসারী, তাদের হারবিয়্যাহও বলা হয়। তারা বলে, আবু হাশিমের অসিয়ত অনুযায়ী তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন আবদুল্লাহ ইবনুল হারব আল-কিন্দি।
চতুর্থ দল হলো আব্বাসীয়: তারা বলে, আবু হাশিমের পরে ইমাম হলেন [আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস], অতঃপর ইমামত তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন-এর নিকট স্থানান্তরিত হয়।