(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: -)
منكرات الأفراح   (غانم غالب غانم)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: منكرات الأفراح

المؤلف: غانم غالب غانم

راجعه: د. محمد عساف

عدد الصفحات: 104

[ترقيم الكتاب موافق لنسخة المؤلف]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1433

বিবাহ অনুষ্ঠানের অস্বীকৃত (منكرات) বিষয়সমূহ   (গানিম গালিব গানিম)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: বিবাহ অনুষ্ঠানের অস্বীকৃত (منكرات) বিষয়সমূহ

লেখক: গানিম গালিব গানিম

নিরীক্ষণ করেছেন: ড. মুহাম্মদ আসসাফ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪

[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস লেখকের মূল কপির অনুরূপ]

আল-শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: -)
منكرات الأفراح

 

تأليف

غانم غالب غانم

 

راجعه

د. محمد عساف

رئيس دائرة الفقه والتشريع ـ كلية الدعوة وأصول الدين ـ جامعة القدس
বিবাহ-উৎসবের গর্হিত (منكرات) বিষয়সমূহ

 

গ্রন্থনায়

ঘানেম গালিব ঘানেম

 

পর্যালোচনায়

ড. মুহাম্মদ আসসাফ

প্রধান, ফিকহ ও আইন প্রণয়ন বিভাগ — দাওয়া ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ — আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

 

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) (آل عمران: 102).

(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا). (النساء: 1)

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا). (الأحزاب: 71،70)

 

أما بعد:

فان أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

 

ثم أما بعد:

فإن مما لا شك فيه أن موضوع المنكر بشكل عام ينبغي أن يكون في اهتمامات كل مسلم غيور على دينه، لأن المسلم الحق إذا علم
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

(হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না) (আল ইমরান: ১০২)।

(হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন)। (আন-নিসা: ১)

(হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল)। (আল-আহজাব: ৭০-৭১)

 

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

 

তারপর:

নিঃসন্দেহে সাধারণভাবে প্রত্যাখ্যাত (منكر) এর বিষয়টি প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমের বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে; কারণ একজন প্রকৃত মুসলিম যখন জানতে পারে...
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
المنكر ابتعد عنه خوفا من أن يغضب ربه، ويقع تحت طائلة العذاب «يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ (88) إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ (89)» (الشعراء: 89،88).

والمشكلة الكبيرة أن يصبح المنكر أمرا طبيعيا عند المسلمين، وأن يقره العرف، بل يتعدى الأمر أكثر من ذلك، فإن الأعراف اليوم تستنكر الكثير من الأفراح التي تقل فيها المنكرات، بحجة أن الفرح لم يواكب التقدم الحاصل في الأفراح، دون النظر في كونه حلالا أم حراما.

وقد كنت من سنوات أحب أن أجمع رسالة في منكرات الأفراح، لأن الزواج آية من آيات الله تعالى، التي تدل على كمال قدرته في التأليف بين القلوب، وتكثير الشعوب، وهو من نعم الله العظيمة، ولا يخلو بيت من بيوت المسلمين إلا وفيه في يوم من الأيام فرح.

فلا بد أن يكون هذا الفرح نظيفا من المنكرات التي تغضب الله تعالى.

ومن هنا جاءت هذه الرسالة لتوجه الناس نحو ما يحبه الله ويرضاه في أفراحنا التي ينعم الله بها علينا «وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ» (إبراهيم: 34).

فكثير من الناس يطلب النعمة دائما فإذا حصل له ما يريد أدار ظهره لأوامر الله تعالى، ولم يحسن شكر هذه النعمة، عدا عن توظيفها فيما يحبه الله ويرضاه.

وقد حاولت أن أجمع ما أستطيع من هذه المنكرات التي تفعل في أفراح المسلمين، سواء بالرجوع إلى الكتب الحديثة والقديمة، وشبكات المعلومات، أو ما نسمعه ونشاهده في حياتنا اليومية، أو ما يحدثنا الناس عما شاهدوه وسمعوه في أفراح المسلمين.

ولا يمكن لي أن أدعي أني جمعت كل المنكرات في هذه الرسالة،
বর্জিত বা অপছন্দনীয় বিষয় (منكر) থেকে তিনি দূরে থাকতেন এই ভয়ে যে পাছে তাঁর রব অসন্তুষ্ট হন এবং তিনি সেই শাস্তির অন্তর্ভুক্ত হন, "যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে-ই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হবে।" (আশ-শুআরা: ৮৮-৮৯)।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই বর্জিত বিষয় (منكر) মুসলিমদের নিকট একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হওয়া এবং প্রথা বা রীতিনীতি দ্বারা তা স্বীকৃত হওয়া। বরং বিষয়টি এর চেয়েও বেশি ছাড়িয়ে গেছে; বর্তমানের সামাজিক রীতিনীতি এমন অনেক অনুষ্ঠানকে প্রত্যাখ্যান করে যেখানে বর্জিত বিষয়সমূহ (منكرات) কম থাকে, এই অজুহাতে যে সেই অনুষ্ঠান আধুনিক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে না—সেটি হালাল নাকি হারাম তা বিবেচনা না করেই।

আমি বিগত কয়েক বছর ধরে বিয়ের অনুষ্ঠানের বর্জিত বিষয়গুলো (منكرات) নিয়ে একটি পুস্তিকা সংকলন করতে চাচ্ছিলাম। কারণ বিবাহ মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি নিদর্শন, যা হৃদয়ের মেলবন্ধন এবং বংশবিস্তারে তাঁর অসীম কুদরতের প্রমাণ দেয়। এটি আল্লাহর মহান নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং মুসলিমদের এমন কোনো ঘর নেই যেখানে কোনো না কোনো দিন আনন্দের অনুষ্ঠান হয় না।

তাই এই আনন্দ অনুষ্ঠানকে অবশ্যই মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি জাগায় এমন বর্জিত বিষয়সমূহ (منكرات) থেকে মুক্ত হতে হবে।

এখান থেকেই এই পুস্তিকার অবতারণা, যাতে আমাদের আনন্দ অনুষ্ঠানগুলোতে মানুষকে সেই দিকে পরিচালিত করা যায় যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আল্লাহ আমাদের যে নেয়ামত দান করেছেন সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "আর তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ অতিমাত্রায় জালেম ও অকৃতজ্ঞ।" (ইব্রাহিম: ৩৪)।

অনেক মানুষ সর্বদা নেয়ামত প্রার্থনা করে, কিন্তু যখন সে যা চায় তা পেয়ে যায়, তখন আল্লাহর নির্দেশের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে। সেই নেয়ামত আল্লাহর পছন্দ ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজে লাগানো তো দূরের কথা, বরং সে সঠিকভাবে এর শুকরিয়া আদায় করতেও ব্যর্থ হয়।

আমি মুসলিমদের বিয়ের অনুষ্ঠানে সচরাচর ঘটে থাকে এমন বর্জিত বিষয়গুলো (منكرات) সাধ্যমতো সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি; এক্ষেত্রে আমি আধুনিক ও প্রাচীন গ্রন্থসমূহ, তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দেখা বা শোনা ঘটনা অথবা মুসলিমদের অনুষ্ঠানে মানুষ যা দেখেছে বা শুনেছে এবং আমাদের জানিয়েছে, সেগুলোর সাহায্য নিয়েছি।

আমি এমন দাবি করতে পারি না যে, আমি এই পুস্তিকায় সকল বর্জিত বিষয় (منكرات) একত্রিত করতে পেরেছি।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
لأن الذي يحيط بكل شيء إنما هو الله تبارك وتعالى" وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ " (البقرة: 255)، سيما وأن هذه المنكرات تختلف من بلد لآخر، عدا عن كونها تختلف من دولة لأخرى.

وقد حاولت أن يكون أسلوبي فيه سهلا، بعيدا عن التأصيل العلمي، وذكر الخلاف في المسائل الفقهية، وذلك لأمرين:

الأول: الاختصار، وتوصيل المعلومة بأقصر الطرق مع الدلالة على المطلوب إن شاء الله.

الثاني: إن الكتاب موجه لعامة الناس، وربما يمل بعض الناس من قراءة الآراء الفقهية وأدلة كل فريق في كل مسألة، ومناقشة الأدلة، ثم الترجيح، بل يحبون الوصول للمطلوب بشكل مباشر.

ولكني كنت أرد أحيانا على بعض الشبهات التي يناقش بها الناس مما يسمعونه في بعض الفضائيات، التي تحاول أن تسهل المنكر في حياة الناس، فتعلقهم بشبهات واهية، أو تستضيف بعض الشخصيات المتأثرة بالفكر الغربي، والآراء الدخيلة على الإسلام، وغالب هذه الشخصيات هم من المفكرين الذين لا علاقة لهم بالعلم الشرعي، فيلبسون على الناس أمر دينهم.

ورغم عدم وجود الكتب المتخصصة في هذا الموضوع فيما أعلم، إلا أن الكتابة فيه ليست صعبة لأن مفرداته موجودة في بطون الكتب الفقهية التي يعرفها طلاب العلم.

وقد عثرت قبل الكتابة في الموضوع، على ثلاثة أبحاث في ذات الموضوع استفدت منها استفادة كبيرة:

الأول: للشيخ عبد العزيز الغامدي.

الثاني: للشيخ ندا أبو أحمد، وكلاهما على موقع صيد الفوائد

الثالث: للطالبة نور كراجة، مقدم للدكتور موسى البسيط في كلية
কেননা একমাত্র বরকতময় ও সুমহান আল্লাহই সবকিছুর পরিবেষ্টনকারী, "তাঁর জ্ঞানের সামান্যতম অংশও তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত" (আল-বাকারা: ২৫৫); বিশেষ করে যেহেতু এই আপত্তিকর বা মুনকার (المنكرات) বিষয়সমূহ এক দেশ থেকে অন্য দেশে এবং এক রাষ্ট্র থেকে অন্য রাষ্ট্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

আমি আমার লেখনশৈলীকে সহজ করার চেষ্টা করেছি, তাত্ত্বিক জটিলতা এবং ফিকহী মাসআলার মতবিরোধ বর্ণনা করা থেকে দূরে থেকেছি। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত: সংক্ষিপ্ততা এবং ইনশাআল্লাহ কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের প্রতি দিকনির্দেশনার পাশাপাশি সংক্ষিপ্ততম উপায়ে তথ্য পৌঁছে দেওয়া।

দ্বিতীয়ত: এই বইটি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে রচিত। অনেক সময় প্রতিটি মাসআলায় বিভিন্ন পক্ষের ফিকহী মতামত ও দলীলসমূহ পাঠ করা, দলীলের পর্যালোচনা এবং অতঃপর প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) বা সঠিকটি নির্ধারণের বিষয়টি পাঠকদের নিকট একঘেয়েমি তৈরি করতে পারে; বরং তারা সরাসরি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোই পছন্দ করেন।

তবে আমি মাঝে মাঝে এমন কিছু সংশয়ের জবাব দিয়েছি যা মানুষ বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে আলোচনারত অবস্থায় শুনে থাকে। এই চ্যানেলগুলো মানুষের জীবনে মন্দ বা মুনকার (المنكر) কাজগুলোকে সহজ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। ফলে তারা মানুষকে ভিত্তিহীন সংশয়ে লিপ্ত করে অথবা পশ্চিমা চিন্তাধারা ও ইসলামের সাথে সম্পর্কহীন মতামতের দ্বারা প্রভাবিত কিছু ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়। এই ব্যক্তিদের অধিকাংশই এমন বুদ্ধিজীবী যাদের শারঈ ইলমের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, ফলে তারা মানুষের নিকট তাদের দ্বীনি বিষয়গুলোকে সংশয়াচ্ছন্ন করে ফেলে।

যদিও আমার জানামতে এই বিষয়ে কোনো বিশেষায়িত গ্রন্থ নেই, তবুও এ নিয়ে লেখা খুব একটা কঠিন নয়; কারণ এর উপাদানগুলো ফিকহ শাস্ত্রের মূল কিতাবসমূহে বিদ্যমান যা ইলম অন্বেষণকারীরা অবগত আছেন।

এই বিষয়ে লেখার পূর্বে আমি একই বিষয়ের ওপর তিনটি গবেষণাপত্র পেয়েছিলাম, যা থেকে আমি ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি:

প্রথমটি: শেখ আব্দুল আজিজ আল-গামিদীর।

দ্বিতীয়টি: শেখ নিদা আবু আহমাদ-এর। এই উভয়টিই সাইদুল ফাওয়াইদ ওয়েবসাইটে রয়েছে।

তৃতীয়টি: ছাত্রী নূর কারাজাহ-এর, যা অনুষদের ডক্টর মুসা আল-বাসীতের নিকট পেশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
الدعوة وأصول الدين.

وقد حاولت في هذه الرسالة أن أستقصي المنكرات التي تحصل في كل مرحلة من مراحل العرس:

فتحدثت عن المنكرات قبل العرس، وفي الخطبة، وعند العقد، وفي أثناء العرس (وهي أكثرها)، وختمت ببعض المنكرات التي تحصل بعد العرس.

وقبل الختام فإني أتقدم بالشكر الجزيل لكل من قدم لي النصح في إخراج هذه الرسالة على أكمل وجه، وأخص بالذكر:

أستاذي الفاضل: الدكتور محمد عساف.

والأستاذ الفاضل عبد الله سلامة.

وكلا من الأخوة:

حسن مفارجة، محمد عليان، حسن معتوق، كنعان سحويل، تامر سحويل، فجزاهم الله عنا كل خير.

وفي ختام هذه المقدمة أسأل الله سبحانه أن يبارك لنا في أوقاتنا وأعمالنا، وأن يجعل عملنا وعلمنا خالصا لوجهه الكريم، لأن الكُتّاب في هذا العصر كثر، وقلة هم الذين يكتبون لله:

وما من كاتب إلا سيفنى … ويُبقي الدهر ما كتبت يداه

فلا تكتب بكفك غير شيء … يسرك في القيامة أن تراه

 

واسأله سبحانه أن يعصمنا من الزلل في القول والعمل، وأن ينفع بهذا الكتاب عباده، وإن أصبنا في هذا الكتاب فمن الله وحده لأنه صاحب الفضل دائما وأبدا، وإن وقع فيه زلل فمنا ومن الشيطان ونسأله سبحانه وتعالى أن يغفر لنا.
দাওয়াহ ও উসুল আদ-দীন।

আমি এই পুস্তিকাটিতে বিবাহের প্রতিটি পর্যায়ে সংঘটিত প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি:

ফলে আমি বিবাহের পূর্বের, বাগদানের সময়ের, বিবাহের চুক্তির সময়ের এবং বিবাহের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ের (যা সংখ্যায় সর্বাধিক) প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি; আর পরিশেষে বিবাহের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত কিছু প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয় উল্লেখ করে ইতি টেনেছি।

সমাপ্তির পূর্বে, আমি সেই সমস্ত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই পুস্তিকাটিকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের জন্য আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন এবং বিশেষভাবে উল্লেখ করছি:

আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ: ডক্টর মুহাম্মদ আসসাফ।

এবং সম্মানিত উস্তাদ আব্দুল্লাহ সালামাহ।

এবং নিম্নোক্ত ভাইদের প্রত্যেককে:

হাসান মাফারিজা, মুহাম্মদ আলিয়ান, হাসান মাতুক, কানআন সাহওয়িল, তামের সাহওয়িল; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

এই ভূমিকার শেষে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সময় ও কর্মে বরকত দান করেন এবং আমাদের কাজ ও জ্ঞানকে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন; কারণ বর্তমান যুগে লেখকের সংখ্যা অনেক, কিন্তু যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য লেখেন তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য:

প্রত্যেক লেখকই একদিন বিলীন হয়ে যাবে … কিন্তু কালপ্রবাহে তার হাতের লেখাটুকুই অবশিষ্ট থাকবে।

সুতরাং নিজ হাতে এমন কিছু লিখো না … যা কিয়ামতের ময়দানে দেখে তুমি আনন্দিত হবে।

 

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কথা ও কাজে ভুলভ্রান্তি থেকে হিফাযত করেন এবং এই কিতাব দ্বারা তাঁর বান্দাদের উপকৃত করেন। যদি আমি এই কিতাবে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে থাকি, তবে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, কারণ সকল অনুগ্রহ সর্বদা তাঁরই। আর যদি এতে কোনো বিচ্যুতি ঘটে থাকে, তবে তা আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে এবং আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وأقول لمن يقرأ هذا الكتاب:

بالله يا ناظرا فيه ومنتفعا … منه سل الله توفيقا لجامعه

وقل أنله إله العرش مغفرة … واقبل دعاه وجنب عن موانعه

وخص نفسك من خير دعوت به … ومن يقوم بما يكفي لطابعه

والمسلمين جميعا ما بدا قمر … وكوكب مستنير من مطالعه

 

غانم غانم

إمام مسجد ديرابزيع- رام الله

20/جمادى الأولى/1432هـ.

23/نيسان/2011م.
আর যারা এই কিতাব পাঠ করবেন আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলছি:

আল্লাহর শপথ, হে এর পাঠক এবং এ থেকে উপকৃত ব্যক্তি! … আপনি এর সংকলকের জন্য আল্লাহর নিকট তাওফীক প্রার্থনা করুন।

আর বলুন, আরশের ইলাহ যেন তাকে ক্ষমা দান করেন … এবং তার দোয়া কবুল করেন ও যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা থেকে তাকে রক্ষা করেন।

আর আপনি যে কল্যাণের প্রার্থনা করেছেন তাতে নিজেকেও শামিল করুন … এবং তাকেও যে এর মুদ্রণ কার্যের যথাযথ আঞ্জাম দিয়েছেন।

এবং সকল মুসলিমদের জন্যও (দোয়া করুন), যতদিন চন্দ্রের উদয় ঘটে … এবং উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি তাদের উদয়স্থল থেকে আলো বিকিরণ করে।

 

গানেম গানেম

ইমাম, দাইর ইবজি মসজিদ - রামাল্লাহ

২০ জুমাদাল উলা ১৪৩২ হিজরি

২৩ এপ্রিল ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تمهيد:

‌‌تعريفات:

المنكر: ضد المعروف وكلُّ ما قبحه الشرع وحَرَّمَهُ وكرهه فهو منكر، وفي التنزيل: «لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا» (الكهف: 74) (1).

والمنكر عند أهل الأصول هو الحرام، لذا فإني لم أجد من علماء الأصول من عرف المنكر تعريفا اصطلاحيا، لأنهم يكتفون بتعريف الحرام، على اعتبار أن كل منكر: حرام، وكذلك كل حرام: منكر.

فالحرام عند علماء الأصول: ما لا يحل فعله ويكون تاركه مأجورا مطيعا، وفاعله آثما عاصيا (2).

وأما الفرح: فهو نقيض الحزن، وهو أن يجد في قلبه خفة، والفرحة: المسرة. (3)

ولا شك أننا عندما نتحدث عن منكرات الأفراح نقصد بذلك المعاصي والآثام التي يقترفها الناس في أفراحهم، والتركيز هنا على موضوع الأعراس على وجه الخصوص، وإن كانت الأفراح

--------------------------------------------

(1) لسان العرب: 2/ 541، مادة: نكر

(2) الإحكام لابن حزم: ص 365.

(3) لسان العرب: 14/ 282، مادة: فرح
উপস্থাপনা:

সংজ্ঞাসমূহ:

প্রত্যাখ্যাত (منكر): এটি সুপরিচিত (معروف)-এর বিপরীত। শরিয়ত যা কিছুকে কদর্য সাব্যস্ত করেছে, হারাম (حرام) করেছে এবং অপছন্দ করেছে, তা-ই প্রত্যাখ্যাত (منكر)। আল-কুরআনে এসেছে: "আপনি তো এক গর্হিত (نكرًا) কাজ করেছেন" (আল-কাহাফ: ৭৪) (১)।

উসুলবিদদের (أهل الأصول) নিকট প্রত্যাখ্যাত (منكر) হলো হারাম (حرام)। এই কারণে আমি উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মাঝে এমন কাউকে পাইনি যিনি প্রত্যাখ্যাত (منكر)-এর কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা (تعريف اصطلاحي) প্রদান করেছেন; কেননা তারা হারাম (حرام)-এর সংজ্ঞা প্রদানকেই যথেষ্ট মনে করেন। কারণ প্রতিটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়ই হারাম (حرام), এবং প্রতিটি হারাম (حرام) বিষয়ই প্রত্যাখ্যাত (منكر)।

উসুলবিদদের (أهل الأصول) নিকট হারাম (حرام) হলো: যা করা বৈধ নয় এবং যা বর্জনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত ও অনুগত হিসেবে গণ্য হয়, আর সম্পাদনকারী পাপী ও অবাধ্য হিসেবে বিবেচিত হয় (২)।

আর আনন্দ (فرح): এটি দুঃখের বিপরীত, যা অন্তরে এক ধরণের ফুরফুরে ভাব বা হালকা অনুভব তৈরি করে; আর খুশি (الفرحة) হলো আনন্দ বা উল্লাস। (৩)

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমরা যখন আনন্দ-উৎসবের গর্হিত বিষয়াবলি (منكرات) নিয়ে আলোচনা করি, তখন আমাদের উদ্দেশ্য থাকে সেইসব পাপ ও গুনাহ যা মানুষ তাদের আনন্দ-উৎসবে লিপ্ত হয়ে সম্পাদন করে। এখানে বিশেষভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানের বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যদিও আনন্দ-উৎসব...

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব: ২/ ৫৪১, মূলশব্দ: নকর (نكر)

(২) ইবনে হাজমের আল-ইহকাম: পৃ. ৩৬৫।

(৩) লিসানুল আরব: ১৪/ ২৮২, মূলশব্দ: ফারাহ (فرح)
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الأخرى يرتكب فيها من المعاصي ما يرتكب، إلا أن العرس هو المقصود في حديثنا هنا.

 

‌‌«ونبلوكم بالشر والخير فتنة»:

لقد خلق الله الإنسان في هذه الدنيا وجعله في اختبار دائم يستغرق وقته وحياته، حتى يميز الله الخبيث من الطيب، فيبتلى المسلم بالمصائب والمحن، ويبتلى بالفقر وقلة الرزق، ويبتلى بالشهوات وأعظم من ذلك الشبهات، وأكثر من ذلك أن يستهزأ به لأنه مؤمن، أو ملتزم بدينه وهو يرى أهل الباطل والفسق ينتفشون ويكبرون، ويتسابق الناس في صنع الأمجاد لهم.

إلا أن الكثير من الناس يظنون أن الفتنة والاختبار الإلهي إنما يكون في المصائب فقط، وإن شئت فقل: في الشر، وقد وضح الحق سبحانه في كتابه أن الفتنة تعم الأمرين: الخير والشر، فقال سبحانه: «وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً» (الأنبياء: 35).

ومن ظن أن فتنة الشر أعظم وقعا على النفس من فتنة الخير فهو مخطئ، فالمصيبة تحتاج من الإنسان إلى الصبر، ولكن اختبار الخير يحتاج من المسلم إلى الشكر، وإلى توظيف هذه النعمة فيما أمر الله به، أو على الأقل فيما لا يسخط الله.

ولعل الزواج واحد من هذا، فهو من النعم العظيمة بل هو من آيات الله تعالى التي تدل على قدرته، فيتزوج الإنسان ويفرح ويسكن لزوجته ويكون بينهما المودة والرحمة والأولاد وحسن العشرة.

فهل يليق بكل هذه النعم التي ينتجها الزواج أن يقابل المنعم سبحانه بكفرانها، وأن تُشكر بمعصية الله تعالى؟

والله الحق سبحانه يقول: «لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ
অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষ পাপাচারের (معصية) যা করার তা তো করেই, তবে আমাদের এখানে আলোচনায় বিবাহের বিষয়টিই উদ্দেশ্য।

 

‌‌«আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোর মাধ্যমে পরীক্ষা (فتنة) করি»:

আল্লাহ তাআলা মানুষকে এই পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে এক নিরন্তর পরীক্ষার (فتنة) মধ্যে রেখেছেন যা তার সময় ও জীবনকে পরিবেষ্টন করে আছে, যাতে আল্লাহ অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করতে পারেন। ফলে মুসলিম ব্যক্তি বিপদ-আপদ ও মুসিবতের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়, দারিদ্র্য ও জীবিকার সংকটের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়, কুপ্রবৃত্তি (شهوات) এবং তার চেয়েও ভয়াবহ সংশয়ের (شبهات) মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়। তদুপরি, মুমিন হওয়ার কারণে অথবা দ্বীনের প্রতি অবিচল থাকার কারণে তাকে উপহাসের শিকার হতে হয়; অথচ সে দেখে যে বাতিলপন্থী ও পাপাচারীরা (فسق) দম্ভভরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং মানুষ তাদের মহিমা প্রচারে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।

তবে অনেক মানুষ মনে করে যে, ফিতনা বা পরীক্ষা (فتنة) এবং খোদায়ী আজমাইশ কেবল বিপদ-আপদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, অথবা বলা যায় কেবল মন্দের মধ্যেই নিহিত। অথচ মহান সত্য আল্লাহ তাঁর কিতাবে স্পষ্ট করেছেন যে, পরীক্ষা (فتنة) উভয় বিষয়কেই শামিল করে: ভালো ও মন্দ। মহান আল্লাহ বলেন: «আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোর মাধ্যমে পরীক্ষা (فتنة) করি» (সূরা আল-আম্বিয়া: ৩৫)।

আর যে ব্যক্তি মনে করে যে মন্দের পরীক্ষা (فتنة) অন্তরের ওপর ভালোর পরীক্ষার চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী, সে ভুল করছে। কারণ বিপদের সময় মানুষের ধৈর্যের প্রয়োজন হয়, কিন্তু কল্যাণের পরীক্ষার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের প্রয়োজন হয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং এই নেয়ামতকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে অথবা অন্ততপক্ষে যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন না এমন কাজে ব্যয় করা।

সম্ভবত বিবাহ এর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয়। এটি একটি মহান নেয়ামত, বরং এটি আল্লাহ তাআলার সেই নিদর্শনগুলোর অন্যতম যা তাঁর কুদরতের প্রমাণ দেয়। মানুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, আনন্দিত হয়, স্ত্রীর কাছে প্রশান্তি লাভ করে এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা, দয়া, সন্তান-সন্ততি ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন গড়ে ওঠে।

সুতরাং বিবাহের মাধ্যমে অর্জিত এই সমস্ত নেয়ামতের বিনিময়ে নেয়ামতদাতা মহান আল্লাহর সাথে অকৃতজ্ঞতা পোষণ করা এবং আল্লাহর অবাধ্যতার (معصية) মাধ্যমে তাঁর শুকরিয়া আদায় করা কি সমীচীন?

অথচ মহান সত্য আল্লাহ বলেন: «যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও তবে...»
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
عَذَابِي لَشَدِيدٌ» (إبراهيم: 7).

ولا شك أن تهاون الناس في مثل هذه المنكرات جر على البيوت العديد من الويلات، ولعل هذا يكون واحدا من أسباب الفشل في الحياة الزوجية، لأنه لا يمكن للمعاصي أن تأتي بخير بل كل المصائب التي تصيب الإنسان والشرور التي تلحقه سببها المعاصي والآثام، قال تعالى: «وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ» (الشورى: 30).

 

‌‌أسباب منكرات الأفراح:

لعل السبب الرئيس للمنكرات بشكل عام: هو ضعف الوازع الديني عند الناس، مما أدى إلى استهانتهم في الوقوع في سائر المحرمات، وما عاد الكثير من الناس يحركهم الدين في الحياة، فصار الكثير من الناس يأخذ من الدين ما شاء ويدع ما شاء، فصار الدين كالفاكهة، إن أحبها أكلها وإن كرهها تركها، أو يختار من أصنافها ما يشاء، حتى صدق عليهم قول الحق تبارك وتعالى: «أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ» (الجاثية: 23).

فصحيح أنه يصلي، إلا أنه في عرسه فعل المنكرات، وشرب المسكرات، وأغضب رب الأرض والسموات، وما ردته صلاته عن المعصية والعياذ بالله.

 

ولعل من أسباب منكرات الأفراح بشكل خاص (1):

--------------------------------------------

(1) بدع ومنكرات الأفراح للشيخ ندا أبو أحمد، بحث منشور على موقع صيد الفوائد: مقدمة البحث.
আমার শাস্তি অবশ্যই অত্যন্ত কঠোর।’ (ইব্রাহিম: ৭)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ জাতীয় গর্হিত কাজের (منكرات) প্রতি মানুষের শিথিলতা ঘরবাড়িতে বহু বিপদ-আপদ বয়ে এনেছে। সম্ভবত এটি দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হতে পারে; কেননা পাপাচার কখনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না; বরং মানুষের ওপর আপতিত সকল মুসিবত এবং অকল্যাণ যা তাকে স্পর্শ করে, তার মূলে রয়েছে পাপাচার ও গোনাহ। মহান আল্লাহ বলেন: ‘তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদেরই হাতের কামাই এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।’ (আশ-শুরা: ৩০)।

 

‌‌বিবাহ অনুষ্ঠানের গর্হিত কাজসমূহের (منكرات) কারণসমূহ:

সাধারণভাবে গর্হিত কাজগুলোর (منكرات) প্রধান কারণ সম্ভবত মানুষের মাঝে ধর্মীয় অনুপ্রেরণার দুর্বলতা; যার ফলে তারা অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয়ে (محرمات) লিপ্ত হওয়াকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে শুরু করেছে। বর্তমানে অনেক মানুষের জীবনধারা দ্বীন দ্বারা পরিচালিত হয় না, ফলে তারা দ্বীনের যতটুকু ইচ্ছা গ্রহণ করে আর যতটুকু ইচ্ছা বর্জন করে। দ্বীন যেন তাদের কাছে ফলের মতো হয়ে গেছে; পছন্দ হলে ভক্ষণ করে আর অপছন্দ হলে বর্জন করে, অথবা তার প্রকারভেদ থেকে যা ইচ্ছা বেছে নেয়। এমনকি তাদের ক্ষেত্রে মহান সত্য আল্লাহ তাআলার এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে: ‘তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে?’ (আল-জাছিয়াহ: ২৩)।

এটি সত্য যে সে সালাত আদায় করে, কিন্তু নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে সে নানাবিধ গর্হিত কাজ (منكرات) করে, মাদকদ্রব্য পান করে এবং আসমান ও জমিনের প্রতিপালককে রাগান্বিত করে; আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই—তার সালাত তাকে পাপাচার থেকে বিরত রাখল না।

 

বিশেষভাবে বিবাহ অনুষ্ঠানের গর্হিত কাজগুলোর (منكرات) কারণসমূহ হলো (১):

--------------------------------------------

(১) শায়খ নিদা আবু আহমাদ রচিত ‘বিদা ও মুনকারাত আল-আফরাহ’, সায়েদুল ফাওয়ায়িদ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রবন্ধ: প্রবন্ধের ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أن الناس يظنون أن يوم الفرح لا حساب عليه، ويردد الكثير منهم عبارة: هو يوم في العمر، حتى يتسابق العديد منهم أيهم يسبق ويزيد ولو بالمعاصي والآثام، بحجة المباهاة وأن فرح آل فلان ليس أفضل من فرحي فيحصل منهم الغيرة في الباطل فيتسابقون عليه، وقد بين الحق سبحانه أن الفرح الحقيقي إنما يكون بما عند الله، قال الله تبارك وتعالى: «قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ» (يونس: 58).

ولقد غفل هؤلاء أن المسلم الحق هو الذي ينضبط في أفراحه وأحزانه بمنهج الله تعالى.

وأن المؤمن الحق هو الذي يعرف بإيمانه في هذه الأوقات.

ومن أسباب منكرات الأفراح أن الأمة الإسلامية اليوم أمة مقلدة تحب كل شيء مستورد من ركام الغرب وفضلاته، فما يأتي إلينا من تحلل وسفور، واختلاط ومجون، وشرب خمور نتسابق لتطبيقه دون النظر في حله وحرمته، ودون سؤال لأهل العلم عن حكمه.

وقد صدق في العديد من الناس اليوم قول رسولنا صلى الله عليه وسلم: «لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ قَبْلَكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ، وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ سَلَكُوا جُحْرَ ضَبٍّ لَسَلَكْتُمُوهُ، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: فَمَنْ» رواه البخاري: 3456.

وليعلم هؤلاء خطورة التشبه بالكفار، لما يجره ذلك من ويلات على الأمة الإسلامية جمعاء في الدنيا والآخرة، «ومن تشبه بقوم فهو منهم» كما قال رسولنا صلى الله عليه وسلم» رواه أبو داود: 4031، وقال الألباني: حسن صحيح.
মানুষ মনে করে যে আনন্দের দিনে কোনো হিসাব নেই এবং তাদের অনেকেই এই কথাটি আওড়ায়: 'এটি জীবনের একটি দিন মাত্র', এমনকি তাদের অনেকে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় যে কে পাপ ও গুনাহের মাধ্যমে হলেও অগ্রগামী হবে এবং তা বৃদ্ধি করবে। এর পেছনে তাদের অজুহাত হলো লোকদেখানো বড়াই করা এবং এই চিন্তা যে, অমুক বংশের আনন্দ আমার আনন্দের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। ফলে তাদের মধ্যে মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে ঈর্ষা তৈরি হয় এবং তারা তাতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। অথচ সত্য মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, প্রকৃত আনন্দ কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে যা আসে তার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: «বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায় যেন তারা আনন্দিত হয়। এটি তারা যা জমা করে তার চেয়ে উত্তম» (ইউনুস: ৫৮)।

এসব লোক এটি ভুলে গেছে যে, প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যে তার আনন্দ ও বিষাদে আল্লাহ তাআলার মানহাজ বা পদ্ধতির অনুসারী হয়।

আর প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে এই সময়গুলোতে তার ঈমানের মাধ্যমেই চেনা যায়।

উৎসবের বর্জনীয় বা মন্দ কাজসমূহের (منكرات) অন্যতম কারণ হলো, মুসলিম উম্মাহ আজ একটি অনুকরণপ্রিয় জাতিতে পরিণত হয়েছে যারা পাশ্চাত্যের আবর্জনা ও উচ্ছিষ্ট থেকে আমদানিকৃত সবকিছুই পছন্দ করে। ফলে তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চারিত্রিক বিচ্যুতি, বেপর্দা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, নির্লজ্জতা এবং মদ্যপানের যা কিছু আসে, আমরা তার হালাল-হারাম বিচার না করে এবং তার বিধান সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমদের জিজ্ঞাসা না করেই তা পালনে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হই।

আজকের বহু মানুষের ক্ষেত্রে আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সত্য হয়েছে: «তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত পরিমাণ এবং হাত পরিমাণ অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, ইহুদি ও নাসারারা? তিনি বললেন: তবে আর কে?» বর্ণিত হয়েছে সহিহ বুখারিতে: ৩৪৫৬।

আর এদের জানা উচিত কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ভয়াবহতা সম্পর্কে, কারণ এটি দুনিয়া ও আখেরাতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ওপর ধ্বংস ও বিপর্যয় ডেকে আনে। আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে» বর্ণিত হয়েছে আবু দাউদে: ৪০৩১, এবং আলবানী বলেছেন: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌العزوف عن الزواج وأضراره.

لقد حث الإسلام على الزواج ورغب فيه، فقال عليه الصلاة والسلام في وصيته المشهورة للشباب: «يا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ» رواه البخاري: 1905، ومسلم: 1400.

وقد أمر الإسلام بتسهيل سبل الزواج حتى يكون في متناول كل محتاج، فحث على عدم المغالاة في المهور.

كما شنع النبي صلى الله عليه وسلم على من أراد أن يتبتل بحجة الانقطاع لأعظم شيء في هذه الدنيا، للشيء الذي خلق الله العباد من أجله، ألا وهو العبادة.

ويتضح ذلك جليا في قصة الثلاثة الذين جاءوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم يسألون عن عبادته كما يرويها الإمام البخاري في صحيحه (5063): من حديث أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه قالُ: جَاءَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ إِلَى بُيُوتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، يَسْأَلُونَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا أُخْبِرُوا، كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوهَا، فَقَالُوا: وَأَيْنَ نَحْنُ مِنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ.

قَالَ أَحَدُهُمْ: أَمَّا أَنَا فَإِنِّي أُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا، وَقَالَ آخَرُ: أَنَا أَصُومُ الدَّهْرَ وَلَا أُفْطِرُ، وَقَالَ آخَرُ: أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا.

فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: أَنْتُمْ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا، أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ، وَأَتْقَاكُمْ لَهُ، لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُ، وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي».
বিবাহবিমুখতা ও এর অপকারিতা.

ইসলাম বিবাহের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। যুবকদের প্রতি তাঁর সুপ্রসিদ্ধ উপদেশে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে; কেননা তা দৃষ্টিকে অধিকতর নিম্নগামী রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিকতর সুরক্ষা প্রদান করে। আর যে সামর্থ্য রাখে না, তার কর্তব্য হলো রোজা রাখা; কারণ তা তার কামপ্রবৃত্তি দমনের মাধ্যম স্বরূপ»। এটি বুখারি: ১৯০৫ এবং মুসলিম: ১৪০০ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

ইসলাম বিবাহের পথ সুগম করার নির্দেশ দিয়েছে যাতে তা প্রত্যেক অভাবী ব্যক্তির নাগালে থাকে; তাই মোহরের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি না করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছে।

একইভাবে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওই ব্যক্তির কঠোর নিন্দা করেছেন যে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম বিষয় অর্থাৎ ইবাদতের অজুহাতে—যার জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন—সংসারবিবাগী হতে চেয়েছেন।

এটি সেই তিন ব্যক্তির ঘটনায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যারা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন, যেমনটি ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৫০৬৩) আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তিন ব্যক্তির একটি দল নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পত্নীগণের গৃহসমূহে আসলেন এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। যখন তাদের এ বিষয়ে জানানো হলো, তারা যেন একে নগণ্য মনে করলেন এবং বললেন: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তুলনায় আমরা কোথায়? তাঁর তো পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।

তাদের একজন বললেন: আমি আজীবন সারা রাত সালাত আদায় করব। অপরজন বললেন: আমি সারা বছর রোজা রাখব এবং কখনো বিরতি দেব না। অন্যজন বললেন: আমি নারীসঙ্গ ত্যাগ করব এবং কখনো বিবাহ করব না।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: «তোমরা কি সেই লোক যারা এই এই কথা বলেছ? আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে অধিক ভয় করি এবং তোমাদের মধ্যে তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। অথচ আমি রোজা রাখি আবার ইফতারও করি, সালাত আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই এবং নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর প্রতি বিমুখ হবে, সে আমার আদর্শভুক্ত নয়»।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فترك الزواج مخالفة لسنة النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه من المضار ما فيه خصوصا، ونحن نعيش في زمن كثرت فيه الفتن، وتبرجت النساء، وقل الحياء، فمن أراد أن يحصن نفسه فعليه بالزواج.

والغريب أن الغرب يحذرون من خطورة الزواج المبكر، وينشرون الكتب، والمقالات عن ذلك، بل ويساعدون الجمعيات والمؤسسات المصطنعة التي تدعم موقفهم.

نجدهم يجيزون في بلادهم الزواج المبكر، بل إن المفهوم من قوانينهم الحث عليه.

فمثلا: سن الزواج للفتيات في كل من فرنسا ورومانيا وبلجيكا واليابان: هو سن الخامسة عشرة.

وأما إيطاليا فتجيز المحكمة عقد الزواج على فتاة سنها الرابعة عشرة، بل إن بريطانيا وإسبانيا والأرجنتين حددت سن الزواج بالثانية عشرة للفتاة. (1)

ويتبين من مخططاتهم أنهم يريدون بذلك هلاك المجتمع في بلادنا، لأن أفكارهم وتوجيهاتهم تحذر من الزواج المبكر، وتحث النساء على التبرج.

فماذا يكون حال المجتمع إذا أصغى لمثل هذه الأفكار؟

إنه مجتمع تنتشر فيه الفواحش ما ظهر منها وما بطن، وخاصة: جريمة الزنا وما تجره من نتائج على المجتمع، من: أولاد الحرام، وقلة الأسر وغير ذلك.

فأنا أقول أنه ليس هناك حجة من ترك الزواج إلا الفقر وعدم

--------------------------------------------

(1) شرح قانون الأحوال الشخصية للأشقر: ص56.
বিয়ে পরিত্যাগ করা নবী (সা.)-এর সুন্নাহ (سنة)-এর পরিপন্থী। এতে নানাবিধ ক্ষতিকর দিক রয়েছে, বিশেষ করে আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে ফিতনা (فتنة) বৃদ্ধি পেয়েছে, নারীদের বেপর্দা চলাচল বেড়েছে এবং লজ্জা কমে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করতে চায়, তার কর্তব্য হলো বিয়ে করা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, পশ্চিমারা বাল্যবিবাহের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে এবং এ বিষয়ে বই ও প্রবন্ধ প্রকাশ করে; এমনকি তারা তাদের এই অবস্থানকে সমর্থনকারী কৃত্রিম সমিতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তাও প্রদান করে।

অথচ আমরা দেখতে পাই যে, তারা তাদের নিজ দেশগুলোতে বাল্যবিবাহকে বৈধতা দেয়; বরং তাদের আইনগুলো পর্যালোচনায় এটিই স্পষ্ট হয় যে, তারা এর প্রতি উৎসাহিত করে।

উদাহরণস্বরূপ: ফ্রান্স, রোমানিয়া, বেলজিয়াম এবং জাপানে মেয়েদের বিয়ের বয়স হলো পনেরো বছর।

আর ইতালিতে আদালত চৌদ্দ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের চুক্তি সম্পাদনের অনুমতি দেয়। এমনকি ব্রিটেন, স্পেন এবং আর্জেন্টিনায় মেয়েদের বিয়ের বয়স বারো বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। (১)

তাদের এসব নীল নকশা থেকে এটিই প্রতিভাত হয় যে, এর মাধ্যমে তারা আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থার ধ্বংস চায়। কারণ তাদের চিন্তাধারা ও নির্দেশনাগুলো একদিকে বাল্যবিবাহের ব্যাপারে সতর্ক করে, আবার অন্যদিকে নারীদের বেপর্দা হতে প্ররোচিত করে।

সমাজ যদি এই ধরনের ধ্যান-ধারণার প্রতি কর্ণপাত করে, তবে সমাজের অবস্থা কী দাঁড়াবে?

এটি এমন এক সমাজে পরিণত হবে যেখানে প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে; বিশেষ করে জেনা (الزنا)-এর মতো অপরাধ এবং সমাজে এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পরিণতি, যেমন: অবৈধ সন্তান, পরিবার ব্যবস্থার বিলুপ্তি ইত্যাদি বৃদ্ধি পাবে।

তাই আমি বলব যে, দারিদ্র্য এবং সামর্থ্যের অভাব ছাড়া বিয়ে না করার পেছনে অন্য কোনো যুক্তি নেই...

--------------------------------------------

(১) শারহু কানুনিল আহওয়ালিশ শাখসিয়্যাহ লিল আশকার: পৃ. ৫৬।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الاستطاعة، وأما ما يمليه الناس من حجج فليس لها من الواقع رصيد: من إكمال الدراسة، أو لا يزوج الصغيرة قبل الكبيرة، أو المغالاة الكبيرة في المهور التي تبعد الرجال عن الزواج.

فعلى الجميع أن يسهلوا أمور الزواج وييسروا سبله، حتى يعيش المجتمع براحة واستقرار.
সক্ষমতা; আর মানুষ যেসব অজুহাত দাঁড় করায়, বাস্তবে সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই: যেমন পড়াশোনা সম্পন্ন করা, কিংবা বড় মেয়ের আগে ছোট মেয়ের বিয়ে না দেওয়া, অথবা মোহরের ক্ষেত্রে অত্যধিক বাড়াবাড়ি করা যা পুরুষদের বিয়ে থেকে বিমুখ করে দেয়।

অতএব, সকলের কর্তব্য হলো বিয়ের বিষয়াদি সহজ করা এবং এর পথগুলো সুগম করে দেওয়া, যাতে সমাজ স্বস্তি ও স্থিতিশীলতার সাথে বসবাস করতে পারে।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الأول: منكرات قبل الزواج

‌‌المطلب الأول: الرغبة عن ذوات الدين

حث الإسلام أن يتزوج المسلم الزوجة ذات الدين، صاحبة الصلاح والتقوى، فهي خير متاع يتمتع به المسلم في دنياه، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «الدنيا متاع وخير متاعها المرأة الصالحة» رواه مسلم: 2668.

وقد بين النبي صلى الله عليه وسلم حال الرجال، ورغبتهم في صفات الزوجة المستقبلية، فمنهم من يبحث عن نسب قد يكون تافها ليسد ما عنده من عجز في شخصيته.

ومنهم من يبحث عن مال ما هو في الحياة إلا زينة وليس قيمة، ومنهم من يبحث عن جمال قد يتهاوى بعد فرحه بأيام عندما تكشف الحياة الزوجية عن طبيعتها، فهي ليست مجرد خيال وآمال، طموح وتطلعات، جنس وفراش.

بل إن في الحياة الزوجية ما فيها من التعب والعناء والمشقة، وتربية الأولاد التربية الصالحة، والتنشئة الصحيحة.

قال النبي صلى الله عليه وسلم: «تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ» رواه البخاري:4700، ومسلم:2518.

وإذا كان ينبغي للرجل أن يبحث عن ذوات الدين، فينبغي أيضا للمسلمة أن تبحث عن الرجل الصالح، عن المسلم التقي النقي، صاحب الخلق، كما أمر بذلك الذي لا ينطق عن الهوى، قال صلى الله عليه وسلم: «إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ إِلَّا
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিবাহ-পূর্ব অপছন্দনীয় বিষয়সমূহ

প্রথম অনুচ্ছেদ: দ্বীনদার নারীদের প্রতি বিমুখতা

ইসলাম একজন মুসলিমকে দ্বীনদার, সৎ ও মুত্তাকী স্ত্রী গ্রহণ করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। কেননা পার্থিব জীবনে একজন মুসলিমের জন্য দ্বীনদার স্ত্রীই হলো শ্রেষ্ঠ সম্পদ। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পৃথিবী হলো ভোগের বস্তু এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো পুণ্যবতী নারী।" এটি মুসলিম: ২৬৬৮-এ বর্ণিত হয়েছে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষদের অবস্থা এবং তাদের ভবিষ্যৎ স্ত্রীর গুণাবলীর প্রতি তাদের আগ্রহের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেবল বংশমর্যাদা খোঁজেন যা হয়তো তুচ্ছ হতে পারে; তিনি এর মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা ঢাকতে চান।

আবার তাদের মধ্যে কেউ সম্পদের সন্ধান করেন যা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক শোভা ছাড়া আর কিছু নয় এবং এর কোনো প্রকৃত মূল্য নেই। কেউ আবার সৌন্দর্যের অনুসন্ধান করেন, যা দাম্পত্য জীবনের বাস্তবতা ফুটে ওঠার কয়েকদিন পরেই ম্লান হয়ে যেতে পারে। কারণ দাম্পত্য জীবন কেবল কল্পনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, উচ্চাভিলাষ ও জৈবিক চাহিদার নাম নয়।

বরং দাম্পত্য জীবনে রয়েছে ক্লান্তি, শ্রম ও পরিশ্রম এবং সন্তানদের সুষ্ঠু ও সুন্দর লালন-পালনের দায়িত্ব।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "চারটি গুণ দেখে নারীকে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকেই জয় করে নাও, নতুবা তোমার হাত ধূলিমলিন হোক (অর্থাৎ তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে)।" এটি বুখারি: ৪৭০০ এবং মুসলিম: ২৫১৮-এ বর্ণিত হয়েছে।

যদি পুরুষের জন্য দ্বীনদার নারী অন্বেষণ করা আবশ্যক হয়, তবে একজন মুসলিম নারীর জন্যও উচিত একজন সৎ, ধর্মপ্রাণ, পবিত্র ও সচ্চরিত্রবান পুরুষকে খুঁজে নেওয়া। যেমনটি তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের নিকট যখন এমন কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারী এবং চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিয়ে সম্পন্ন করো। অন্যথায়...
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ» رواه الترمذي: 1084، وحسنه الألباني في صحيح سنن الترمذي.

والرغبة عن ذوات الدين، ورغبة المسلمة عن المسلم الصالح يستحق بحق أن يكون من منكرات الأفراح، لما يجره على الأمة من الويلات الكثيرة، من حياة زوجية مليئة بالنكد والمشاكل، وأولاد سوء تربوا على أيدي والدَين منحرفين.

ونحن نرى في هذا الزمن والله المستعان من يتساهل في هذا الأمر كثيرا، فيزوج الرجل ابنته من تارك الصلاة وهو يعلم أن أمره دائر بين الكفر والفسق والعياذ بالله، ومن شارب الخمر، كما نرى ونشاهد.

وقد يصل الأمر إلى أبعد من هذا فيزوج ابنته من رجل يسب الذات الإلهية ويسب دين المسلمين والعياذ بالله، فعدا عن كون الزواج باطلا لأن الزوج كافر بمسبته هذه، فماذا سيكون مصير الأسرة إذا كان الرجل فيها يسب الذات الإلهية؟

وفي المقابل قد ينسى الرجل صفة الخلق والدين في المرأة التي يريد خطبتها، في مقابل الجمال، أو المال، أو غير ذلك، مما يؤدي إلى أسرة لا تعرف معروفا ولا تنكر منكرا.

وكم ندم الرجل، وكم ندمت المرأة في مشاهد حية من المجتمع عندما لم يبحثوا عن هذا الأصل الأصيل.
«...যদি তোমরা তা না করো, তবে জমিনে ফিতনা ও মহা বিপর্যয় সৃষ্টি হবে» তিরমিযি বর্ণনা করেছেন: ১০৮৪, এবং আলবানি একে সহিহ সুনান তিরমিযি-তে হাসান (حسن) বলেছেন।

দীনদার নারীদের প্রতি বিমুখতা এবং একজন মুসলিম নারীর একজন সৎ মুসলিম পুরুষের প্রতি অনাগ্রহ প্রদর্শন করা প্রকৃতপক্ষে বিবাহের অনাচারগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি রাখে; কারণ এটি উম্মাহর জন্য দাম্পত্য জীবনের চরম দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যা এবং বিচ্যুত পিতা-মাতার হাতে বেড়ে ওঠা মন্দ সন্তানাদির মতো বহুবিধ বিপর্যয় বয়ে আনে।

আমরা এই যুগে—আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই—এমন অনেককে দেখি যারা এই বিষয়ে অনেক শিথিলতা প্রদর্শন করে। একজন ব্যক্তি তার কন্যাকে এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহ দেয় যে নামাজ ত্যাগকারী, অথচ সে জানে যে লোকটির অবস্থা কুফর (كفر) ও ফিসক (فسق)-এর মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে—আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই—কিংবা মদ্যপায়ী ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেয়, যেমনটি আমরা সচরাচর প্রত্যক্ষ করছি।

বিষয়টি কখনো এর চেয়েও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন কেউ তার কন্যাকে এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহ দেয় যে মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে কটূক্তি করে এবং মুসলিমদের দ্বীনকে গালি দেয়—আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই। এই গালি দেওয়ার কারণে স্বামী কাফির (كافر) হয়ে যাওয়ায় বিবাহটি বাতিল (باطل) হওয়া ছাড়াও, সেই পরিবারের ভবিষ্যৎ কী হবে যদি পরিবারের প্রধান ব্যক্তিই মহান আল্লাহর সত্তাকে গালি দেয়?

অপরদিকে, কোনো পুরুষ তার হবু স্ত্রীর সৌন্দর্য, সম্পদ বা অন্য কিছুর লোভে তার চরিত্র ও দ্বীনদারির গুণাবলির কথা ভুলে যেতে পারে, যা এমন এক পরিবারের জন্ম দেয় যারা কোনো নেক কাজ (معروف) চেনে না এবং কোনো মন্দ কাজকেও (منكر) মন্দ মনে করে না।

সমাজের বাস্তব চিত্রগুলোতে কত পুরুষ ও নারী অনুতপ্ত হয়েছে যখন তারা এই সুদৃঢ় মূলনীতির অনুসন্ধান করেনি।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المطلب الثاني: العلاقات المحرمة قبل الزواج

يبدو أن الكثير من المسلمين فقدوا الغيرة على أعراضهم، فسمحوا لبناتهم أن يخرجن متبرجات، وأن يكلمن الرجال، ويصافحنهم، وقد يقر البعض صداقة ابنته مع بعض الشباب، بحجة الانفتاح والاستفادة من الثقافات أحيانا، والحرية الشخصية أحيانا أخرى.

وبذلك يكون حديث النبي صلى الله عليه وسلم له من الواقع الرصيد الكبير، عندما قال عليه الصلاة والسلام: «ثلاثة لا ينظر الله عز وجل إليهم يوم القيامة: العاق لوالديه، والمرأة المترجلة، والديوث» (رواه النسائي: 2562، وصححه الألباني).

والديوث: هو الذي يقر الخبث في أهله ولا يغار على عرضه (1) ، فينبغي على كل مسلم غيور، وعلى كل شهم، أن يكون عرضه مصونا محفوظا، محل الثناء والتقدير، ولا يكون مرتعا لفساق الناس.

بل لا يقف الأمر عند هذا، فإن المسلم الغيور ليخاطر بحياته، ويعرض نفسه للخطر إذا حاول أحدهم أن يعتدي على عرضه.

وقد مدح النبي صلى الله عليه وسلم أمثال هذا عندما قال: «من قتل دون أهله فهو شهيد» رواه الترمذي:1421، وقال: هذا حديث حسن صحيح، وصححه الألباني.

وقد أقر النبي صلى الله عليه وسلم غيرة سعد في أهله، فعَنْ الْمُغِيرَةِ قَالَ: قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ: «لَوْ رَأَيْتُ رَجُلًا مَعَ امْرَأَتِي لَضَرَبْتُهُ بِالسَّيْفِ غَيْرَ مُصْفَحٍ (أي بحد السيف لا بعرضه) فَبَلَغَ ذَلِكَ

--------------------------------------------

(1) فتح الباري: ج 17/ص97.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহপূর্ব নিষিদ্ধ সম্পর্কসমূহ

মনে হচ্ছে যে, অনেক মুসলিমই তাদের পরিবারের সম্ভ্রমের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে তারা তাদের কন্যাদের বেপর্দা হয়ে বাইরে বের হওয়ার, পরপুরুষের সাথে কথা বলার এবং তাদের সাথে করমর্দন করার অনুমতি দিচ্ছেন। কখনও প্রগতিশীলতা ও বিভিন্ন সংস্কৃতি থেকে উপকৃত হওয়ার দোহাই দিয়ে, আবার কখনও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অজুহাতে কেউ কেউ নিজ কন্যার সাথে পরপুরুষের বন্ধুত্বকে সমর্থন করছেন।

এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসটি বর্তমান বাস্তবতার সাথে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, যখন তিনি বলেছিলেন: "তিন ব্যক্তির দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা দৃষ্টিপাত করবেন না: পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের বেশধারী নারী এবং দাইউস।" (নাসায়ি: ২৫৬২, আলবানি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করেছেন)।

দাইউস হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে তার পরিবারে অনাচারকে প্রশ্রয় দেয় এবং স্বীয় পরিবারের সম্ভ্রমের ব্যাপারে কোনো আত্মমর্যাদাবোধ পোষণ করে না (১)। সুতরাং প্রত্যেক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ব্যক্তিত্ববান মুসলিমের উচিত তার পরিবারের সম্মান-মর্যাদাকে সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত রাখা, যাতে তা প্রশংসা ও মূল্যায়নের পাত্র হয় এবং পাপাচারীদের বিচরণক্ষেত্রে পরিণত না হয়।

বরং বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মুসলিম তার জীবনের ঝুঁকি নেন এবং নিজেকে বিপদের সম্মুখীন করেন যদি কেউ তার পরিবারের সম্ভ্রমের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জাতীয় ব্যক্তিদের প্রশংসা করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার পরিবারের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য নিহত হয়, সে শহীদ।" (তিরমিযি: ১৪২১, তিনি বলেন: এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস এবং আলবানি একে সহিহ (صحيহ) বলেছেন)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের প্রতি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধকে সমর্থন করেছেন। মুগিরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা’দ ইবনে উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "আমি যদি আমার স্ত্রীর সাথে কোনো পরপুরুষকে দেখি, তবে তাকে তলোয়ারের ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব (অর্থাৎ তলোয়ারের চওড়া পাশ দিয়ে নয় বরং ধার দিয়ে)।" এই সংবাদ যখন পৌঁছাল...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি: ১৭ খণ্ড/ ৯৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: أَتَعْجَبُونَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ لَأَنَا أَغْيَرُ مِنْهُ وَاللَّهُ أَغْيَرُ مِنِّي، وَمِنْ أَجْلِ غَيْرَةِ اللَّهِ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ» رواه البخاري: 6866.

ومما يعين على ذهاب الغيرة من النفوس تلك الأقلام الساقطة، والأفلام الهابطة التي تدعمها ثلة مجرمة من الحاقدين على الإسلام وتعاليمه وأهله المخلصين.

ونحن نعيش في زمن اختلطت فيه المرأة في معظم مجالات الحياة بالرجال: في المؤسسات، وفي الدوائر الرسمية وغير الرسمية، وأوسع من ذلك في دور العلم والجامعات.

وتخطئ الكثير من الفتيات عندما يقرأن لكاتب غربي، أو لرجل مهووس من المسلمين ممن تأثروا بالثقافة المنحرفة (وهم في هذا الزمان كثير)، أن الزواج لا ينجح إلا إذا كان قبل ذلك علاقة مفتوحة بينها وبين ذلك الرجل الذي تريد أن تتزوج منه، حتى تدرس أفكاره، وتتعرف على شخصيته كما يزعمون.

وقد بين القرآن أن الزواج الناجح هو الذي تنشأ العلاقات فيه بعد الزواج لا قبله، كما يفهم من قوله تعالى: «وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ» (الروم:21).

فبعد الزواج يكون السكن، وبعد الزواج تكون المودة والرحمة.

وأما الحب المنشود الذي يبحث عنه الكثير من الشباب والفتيات فما هو إلا سراب، وقد سمعنا بعض هؤلاء الشباب الذين يبحثون عن مثل هذا الحب، يخالف قولهم فعلهم ولتبصر الفتيات شهاداتهم:

هم يريدون علاقات محرمة، ولكن كلهم لا يقبل هذه العلاقة لأخته، أو أمه أو أي من أقاربه.

وهو أيضا وإن كان يبحث عن مثل هذه العلاقات، إلا أنه لا يقبل
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধে বিস্ময় প্রকাশ করছ? অবশ্যই আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাবান এবং আল্লাহ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাবান। আর আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধের কারণেই তিনি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল প্রকার অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন।” এটি বর্ণিত (رواه) বুখারি: ৬৮৬৬।

অন্তর থেকে আত্মমর্যাদাবোধ বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে যা সহায়ক হিসেবে কাজ করে, তা হলো সেই সব কুরুচিপূর্ণ লেখনী এবং নিম্নমানের চলচ্চিত্র, যা ইসলাম, এর শিক্ষা এবং এর একনিষ্ঠ অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী একদল অপরাধী চক্রের মদদে পরিচালিত হয়।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অবাধ সংমিশ্রণ ঘটছে: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে এবং তার চেয়েও ব্যাপকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

অনেক তরুণী তখনই ভুল করে যখন তারা কোনো পাশ্চাত্য লেখক কিংবা বিচ্যুত সংস্কৃতিতে প্রভাবিত (যাদের সংখ্যা বর্তমান সময়ে অনেক) কোনো বিকারগ্রস্ত মুসলিম ব্যক্তির লেখা পড়ে এই ধারণা পোষণ করে যে—বিবাহ ততক্ষণ পর্যন্ত সফল হয় না, যতক্ষণ না বিবাহের পূর্বে সেই কাঙ্ক্ষিত পুরুষের সাথে তার একটি উন্মুক্ত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যাতে তারা একে অপরের চিন্তাধারা ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে অবগত হতে পারে—যেমনটি তারা দাবি করে থাকে।

অথচ কুরআন স্পষ্ট করেছে যে, সফল বিবাহ সেটিই যেখানে বিবাহের পরেই সম্পর্কের সূচনা হয়, বিবাহের পূর্বে নয়; যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী থেকে অনুধাবন করা যায়: “আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তোমাদের মাঝে সৃষ্টি করেছেন মায়া ও মমতা। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।” (আর-রুম: ২১)।

সুতরাং বিবাহের পরেই প্রশান্তি আসে, এবং বিবাহের পরেই ভালোবাসা ও মমতা তৈরি হয়।

আর সেই কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসা যা অনেক তরুণ-তরুণী খুঁজে বেড়ায়, তা মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা এ জাতীয় ভালোবাসা অন্বেষণকারী কিছু যুবকের কথা শুনেছি যাদের কথা ও কাজের মধ্যে বৈপরীত্য বিদ্যমান; তরুণীদের উচিত তাদের এই সাক্ষ্যগুলোর প্রতি লক্ষ্য করা:

তারা নিষিদ্ধ সম্পর্ক কামনা করে, কিন্তু তাদের কেউই নিজের বোন, মা কিংবা কোনো আত্মীয়ের জন্য এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি নয়।

সে নিজেও যদিও এ ধরনের সম্পর্কের অন্বেষণ করে, তবুও সে তা গ্রহণ করে না...
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
هذه البنت زوجة له، لإيمانه: أن هذه التي تبني معه علاقة، فعندها الاستعداد أن تبني مع غيره فلا يؤمَن جانبها.

وإتماما للفائدة لا بد من الإجابة على سؤال روتيني يسأله كل شاب وشابة:

 

‌‌ما هو حكم الحب؟

بداية: يضيق الناس مفهوم الحب كثيرا، حتى إذا ذكرت هذه الكلمة انصرفت عند الغالبية العظمى من الناس إلى العلاقة بين الرجل والمرأة وضيقت في هذا المفهوم.

والحق الذي ينبغي أن يعرفه الجميع أن الحب عقيدة مهمة من عقائد المسلمين.

فلا يتم الإيمان إلا بحب الله ورسوله وكتابه والصحابة وجماعة المؤمنين، وهذا ما جاءت به الأدلة الكثيرة من القرآن الكريم والسنة النبوية الشريفة التي تدل على هذا الأصل العظيم.

فقد بين الحق سبحانه أن حب الله لا يتم إلا باتباع أمر النبي صلى الله عليه وسلم: «قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ» (آل عمران:31).

وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم:» لا يُؤْمِنُ عَبْدٌ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ» رواه مسلم: 62.

وكثيرة هي أنواع الحب التي ينساها الناس، فإذا ذكر الحب انصرف إلى العلاقة بين الرجل والمرأة فحسب.

وأما الحب بين الرجل والمرأة فنوعان:

 

النوع الأول: ما لا يستطيع القلب رده وهذا يعرض على القلب، ولا دخل للإنسان فيه.
এই মেয়েটি তার জন্য স্ত্রী হিসেবে গণ্য; কারণ তার বিশ্বাস হলো: যে মেয়েটি তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে, তার মাঝে অন্যের সাথেও সম্পর্ক গড়ার মানসিক প্রস্তুতি থাকে, তাই তাকে নিরাপদ মনে করা যায় না।

আলোচনার পূর্ণতার খাতিরে প্রতিটি যুবক-যুবতীর করা একটি চিরাচরিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন:

 

‌‌ভালোবাসার বিধান কী?

প্রারম্ভিক কথা: মানুষ ভালোবাসার ধারণাকে অত্যন্ত সংকীর্ণ করে ফেলেছে। এমনকি যখন এই শব্দটি উচ্চারণ করা হয়, তখন অধিকাংশ মানুষের মনে কেবল নারী ও পুরুষের মধ্যকার সম্পর্কের কথাটিই আসে এবং তারা ধারণাগতভাবে বিষয়টিকে এই গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ করে ফেলে।

অথচ প্রকৃত সত্য, যা প্রত্যেকের জানা উচিত, তা হলো—ভালোবাসা মুসলিমদের আকিদাহ বা বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কেননা আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব, সাহাবীগণ এবং মুমিনদের জামাতের প্রতি ভালোবাসা ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হয় না। পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর অসংখ্য দলিল এই মহান মূলনীতির প্রমাণ দেয়।

মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল পূর্ণতা পায়: "বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" (আলে ইমরান: ৩১)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পরিবার, তার ধন-সম্পদ এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।" বর্ণনা করেছেন মুসলিম: ৬২।

ভালোবাসার এমন অনেক প্রকার রয়েছে যা মানুষ ভুলে যায়; ফলে যখনই ভালোবাসার কথা আসে, তখন তা কেবল নারী ও পুরুষের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

আর নারী ও পুরুষের মধ্যকার ভালোবাসা দুই প্রকার:

 

প্রথম প্রকার: যা হৃদয় প্রত্যাখ্যান করতে পারে না; এটি হৃদয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে উদিত হয় এবং এতে মানুষের কোনো হাত থাকে না।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فمثلا: إذا ذكرت امرأة ومدحها الناس لجمالها أو لعلمها أو لدينها وأخلاقها أو لشيء تتميز به، فإن بعض قلوب السامعين يتعلق بها دون أن يكون له قصد أو دخل في هذا.

وقد يرى الرجل المرأة بنظرة عابرة فيحصل هذا الذي يجده في قلبه من حبها، والتعلق بها، ويتمنى أن تكون زوجته.

وقد يكون العكس فالمرأة قد يذكر أمامها رجل، بصفات مثالية من خلق ودين وعلم وغير ذلك، أو تراه وتعجب لشيء فيه فيدخل في قلبها وتتمنى أن يكون زوجا لها.

وهذا النوع من الحب: لا يأثم به المسلم لأنه خارج عن إرادته.

وهذا الذي كان النبي صلى الله عليه وسلم يطلب من ربه أن يسامحه عليه: ميل القلب الذي لا يملكه الإنسان.

قالت عائشة رضي الله عنها: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقسم فيعدل، ويقول: «اللَّهُمَّ هَذَا قَسْمِي فِيمَا أَمْلِكُ فَلَا تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلَا أَمْلِكُ» رواه أبو داود: 2134.

وقال الشوكاني: صححه ابن حبان والحاكم (1)، وضعفه الألباني.

 

النوع الثاني: ما كان القلب فيه مختارا، وتسرح فيه الجوارح بما تشاء من كلام وغزل ومراسلات، وأحيانا اختلاط وخلوة، مما يدمر البيوت ويذر الديار بلاقع، ويسبب العداوة والبغضاء فيما بين الناس. ولعل هذا الذي يقصده أكثر الشباب في أسئلتهم.

وإقامة هذا النوع من الحب كانت وسائله في القديم قليلة، لا بد فيها من اللقاء بين الرجل والمرأة، أو على الأقل وجود من يسوق مثل

--------------------------------------------

(1) نيل الأوطار: 6/ 252.
উদাহরণস্বরূপ: যখন কোনো নারীর কথা উল্লেখ করা হয় এবং মানুষ তার সৌন্দর্য, জ্ঞান, দ্বীনদারিতা, চরিত্র অথবা তার স্বতন্ত্র কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্য তার প্রশংসা করে, তখন কিছু শ্রোতার অন্তর তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে, যদিও এতে তাদের কোনো উদ্দেশ্য বা হাত থাকে না।

আবার কোনো পুরুষ হয়তো কোনো নারীর প্রতি আকস্মিক দৃষ্টিপাত করল, ফলে তার অন্তরে তার প্রতি ভালোবাসা ও আসক্তি তৈরি হলো এবং সে তাকে স্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করল।

এর বিপরীতও হতে পারে; কোনো নারীর সামনে আদর্শ চরিত্র, দ্বীনদারি, জ্ঞান বা অন্য কোনো গুণের অধিকারী কোনো পুরুষের কথা উল্লেখ করা হলো, অথবা সে তাকে দেখল এবং তার কোনো কিছুতে মুগ্ধ হলো, ফলে তার প্রতি ভালোবাসা তার অন্তরে প্রবেশ করল এবং সে তাকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করল।

আর এই প্রকারের ভালোবাসা: এর কারণে কোনো মুসলিম গুনাহগার হবে না, কারণ এটি তার ইচ্ছার বহির্ভূত।

আর এটিই সেই বিষয় যার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন: অন্তরের সেই ঝোঁক যা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (স্ত্রীদের মধ্যে সময়) ভাগ করে দিতেন এবং তাতে ইনসাফ করতেন, আর বলতেন: "হে আল্লাহ! এটি আমার সেই বণ্টন যা আমার নিয়ন্ত্রণে আছে, সুতরাং আপনি যেটির মালিক কিন্তু আমি নই (অর্থাৎ অন্তরের টান), সে বিষয়ে আমাকে তিরস্কার করবেন না।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ: ২১৩৪।

আর শাওকানী বলেন: ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন (১), এবং আলবানী একে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন।

 

দ্বিতীয় প্রকার: যাতে অন্তরের সক্রিয় ভূমিকা থাকে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী কথাবার্তা, প্রেমলিপি ও বার্তা আদান-প্রদান, এবং কখনও কখনও অবাধ মেলামেশা ও নির্জনে অবস্থানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়; যা ঘরবাড়ি ধ্বংস করে, জনপদকে জনশূন্য করে দেয় এবং মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের সৃষ্টি করে। সম্ভবত অধিকাংশ যুবক তাদের প্রশ্নে এটিই বুঝিয়ে থাকে।

এই প্রকারের ভালোবাসা গড়ে তোলার মাধ্যমগুলো অতীতে ছিল সীমিত, যেখানে নারী ও পুরুষের মধ্যে সাক্ষাৎ বা অন্তত এমন কারো উপস্থিতি জরুরি ছিল যে...

--------------------------------------------

(১) নাইলুল আওতার: ৬/ ২৫২।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
هذا الحب.

وأما اليوم فوسائله كثيرة، وسبله سهلة خصوصا في عهد الاتصالات، والهواتف المحمولة، وأكثر من ذلك شبكات الانترنت.

وحكم هذا الحب: حرام بالأدلة النقلية والعقلية:

 

الأدلة على تحريمه:

1 - لما كان النبي صلى الله عليه وسلم في الحج: « ...... اسْتَفْتَتْهُ جَارِيَةٌ شَابَّةٌ مِنْ خَثْعَم (1): فَقَالَتْ: إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ قَدْ أَدْرَكَتْهُ فَرِيضَةُ اللَّهِ فِي الْحَجِّ، أَفَيُجْزِئُ أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ؟ قَالَ: حُجِّي عَنْ أَبِيكِ.

قَالَ: وَلَوَى عُنُقَ الْفَضْلِ بن العباس، فَقَالَ الْعَبَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ لَوَيْتَ عُنُقَ ابْنِ عَمِّكَ؟ قَالَ: رَأَيْتُ شَابًّا وَشَابَّةً فَلَمْ آمَنْ الشَّيْطَانَ عَلَيْهِمَا ........ » رواه الترمذي: 885، وقال: هذا حديث حسن صحيح، وحسنه الألباني.

فلما رآه النبي صلى الله عليه وسلم وفي نظراته شيء، خشي عليه من الفتنة، فتخيل لو تطور الأمر إلى الكلام بينهما، والمغازلة فهل سيسكت النبي صلى الله عليه وسلم عنهما؟!!

فدل على أن ذلك حرام بطريق الأولى.

2 - إذا كانت هناك علاقة بينهما فلا بد أن يكون هناك نظر، ونظر الرجل للمرأة حرام إذا لم يكن هناك حاجة.

والأدلة على ذلك كثيرة، منها على سبيل المثال لا الحصر،

--------------------------------------------

(1) قبيلة من قبائل اليمن: تحفة الأحوذي: 3/ 362.
এই ভালোবাসা।

আর বর্তমান যুগে এর মাধ্যমসমূহ অনেক এবং এর পথগুলো সহজ, বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, মোবাইল ফোন এবং সর্বোপরি ইন্টারনেটের যুগে।

আর এই ভালোবাসার বিধান হলো: শরয়ি ও যৌক্তিক দলিলের ভিত্তিতে এটি হারাম:

 

এটি হারাম হওয়ার দলিলসমূহ:

১ - যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজে ছিলেন: « ...... খাসআম গোত্রের জনৈক যুবতী তাঁর কাছে ফতোয়া চাইল (১): সে বলল: আমার পিতা একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ, তাঁর ওপর আল্লাহর ফরজ হজ অর্পিত হয়েছে; আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে পারি? তিনি বললেন: তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ আদায় করো।

বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি ফজল ইবনে আব্বাসের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন। তখন আব্বাস বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন আপনার ভাতিজার ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন? তিনি বললেন: আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে দেখলাম, তাই তাদের উভয়ের ব্যাপারে শয়তানের প্ররোচনা থেকে আমি নিরাপদ বোধ করলাম না...। » তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন: ৮৮৫, এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح), এবং আলবানী একে হাসান (حسن) বলেছেন।

যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন এবং তার দৃষ্টিতে বিশেষ কিছু লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি তার ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা করলেন। তবে কল্পনা করুন, যদি বিষয়টি তাদের মাঝে কথোপকথন ও প্রেমালাপ পর্যন্ত গড়াত, তবে কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে নীরব থাকতেন?!!

যা থেকে প্রমাণিত হয় যে, এ জাতীয় বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে হারাম।

২ - যদি তাদের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, তবে সেখানে অবশ্যই দৃষ্টি বিনিময় হবে। আর প্রয়োজন ব্যতীত নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিপাত হারাম।

এ বিষয়ে দলিল অনেক রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তবে এগুলোই সব নয়—

--------------------------------------------

(১) ইয়েমেনের একটি গোত্র: তুহফাতুল আহওয়াযি: ৩/৩৬২।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قوله تعالى: «قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ» (النور: 30).

وكذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنْ الزِّنَا، أَدْرَكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ، فَزِنَا الْعَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ الْمَنْطِقُ، وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي، وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ أَوْ يُكَذِّبُهُ» رواه البخاري: 6122.

3 - قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان» رواه الترمذي: 1171، وقال: هذا حديث حسن صحيح غريب، وصححه الألباني.

فهذا الحديث وغيره من مثله الكثير يحرم الخلوة بالمرأة الأجنبية، فإذا تطورت العلاقة بينهما فسيصبح هناك لقاءات وخلوات، وكل ذلك لا يقره ديننا، ولا الفِطَر السليمة.

4 - قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن المرأة تقبل في صورة شيطان وتدبر في صورة شيطان فإذا رأى أحدكم امرأة فأعجبته، فليأت أهله، فإن ذاك يرد ما في نفسه» رواه مسلم: 2491.

فإذا كان لا أمان من مرور المرأة أمام الرجل فكيف بالحديث والجلوس معه ومراسلته، فدل ذلك من باب أولى على حرمته.

5 - قال النبي صلى الله عليه وسلم: «الإثم ما حاك في صدرك وكرهت أن يطلع عليه الناس» رواه مسلم: 4632.

فالإثم لا يتماشى مع النفس، بل النفس المؤمنة تنكره وتكرهه، ولو سألنا هؤلاء الناس الذين يقيمون العلاقات مع النساء: هل تحب أن يراك أحد وأنت مع هذه الفتاة؟ الجواب: لا.

أتقبل أن يقيم أحد علاقة مع أختك؟
মহান আল্লাহর বাণী: «মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত» (আন-নূর: ৩০)।

অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম সন্তানের ওপর জিনার নির্ধারিত অংশ লিখে দিয়েছেন, যা সে অবশ্যই প্রাপ্ত হবে। চোখের জিনা হলো দৃষ্টিপাত করা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, মন আকাঙ্ক্ষা ও কামনা করে এবং লজ্জাস্থান তা সত্যে পরিণত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে» এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন: ৬১২২।

৩ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে মিলিত না হয়, অন্যথায় শয়তান হয় তাদের তৃতীয় জন» এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন: ১১৭১, এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি উত্তম (حسن) বিশুদ্ধ (صحيح) বিরল (غريب), এবং আলবানি একে বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন।

এই হাদিস এবং এই জাতীয় আরও অনেক হাদিস পরনারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করাকে হারাম সাব্যস্ত করে। যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে তবে সেখানে সাক্ষাৎ ও নির্জনতার সুযোগ তৈরি হবে, যার কোনোটিই আমাদের দ্বীন এবং সুস্থ প্রকৃতি সমর্থন করে না।

৪ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই নারী শয়তানের বেশে সামনে আসে এবং শয়তানের বেশে ফিরে যায়। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি কোনো নারীকে দেখে এবং সে তাকে মুগ্ধ করে, তবে সে যেন তার স্ত্রীর কাছে আসে; কেননা তা তার অন্তরের কামনাবাসনাকে দূর করে দেয়» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন: ২৪৯১।

যদি পুরুষের সামনে দিয়ে নারীর যাতায়াতের মধ্যেই নিরাপত্তা না থাকে, তবে তার সাথে কথা বলা, বসা এবং বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি কেমন হতে পারে? সুতরাং এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তার অবৈধতার প্রমাণ দেয়।

৫ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «গুনাহ হলো তাই যা তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং মানুষ তা জেনে ফেলুক এটা তুমি অপছন্দ করো» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন: ৪৬৩২।

গুনাহ মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং মুমিন ব্যক্তি তা প্রত্যাখ্যান করে এবং অপছন্দ করে। যারা নারীদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে আমরা যদি তাদের জিজ্ঞাসা করি: তুমি কি পছন্দ করো যে, এই মেয়ের সাথে থাকাবস্থায় কেউ তোমাকে দেখে ফেলুক? উত্তর হবে: না। আপনি কি পছন্দ করবেন যে, কেউ আপনার বোনের সাথে এমন সম্পর্ক রাখুক?
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
سيكون الجواب وبدون تفكير أو تردد: لا.

فإذا كان لا يقبل هذا لنفسه فكيف يقبله لبنات المسلمين.

فدل ذلك بما لا يدع مجالا للشك أن ذلك حرام، وأن المسلم ينبغي له أن يحافظ على عرض المسلمات كما يحافظ على عرضه، لأن المجتمع أمانة في أعناق الجميع.
উত্তর হবে কোনো প্রকার চিন্তা বা দ্বিধা ব্যতিরেকেই: না।

তিনি যদি এটি নিজের জন্য গ্রহণ না করেন, তবে মুসলিম কন্যাদের জন্য তা কীভাবে মেনে নেবেন?

এটি কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ ছাড়াই প্রমাণ করে যে তা নিষিদ্ধ (حرام); আর একজন মুসলিমের উচিত মুসলিম নারীদের সম্ভ্রম রক্ষা করা যেমন তিনি নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করেন, কেননা সমাজ সকলের স্কন্ধে এক মহান আমানত।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الثاني: منكرات الخطبة

‌‌المطلب الأول: قراءة الفاتحة عند الاتفاق

يقوم الناس اليوم بقراءة الفاتحة بعد الاتفاق، وبعد الموافقة على هذا الرجل أن يكون زوجا لهذه الفتاة، في جلسة تكون غالبا عائلية بين أهل العروسين، ثم تقرأ مرة أخرى في مراسم الخطبة الأساسية عند الناس اليوم.

ويقوم غالبا رجل بطلب يد البنت صوريا لأن الاتفاق يكون مسبقا، ثم يقرأ الناس الفاتحة تبركا، أن يكون هذا العقد والزواج مباركا.

حتى قال لي أحد المثقفين، (ولكنه من العوام في دين الله): لا يصح الزواج بدون قراءة الفاتحة.

والحق أنه لم يكن في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يعهد لأمته قراءة الفاتحة عند عقود الزواج أو عند أي عقد آخر، ولم يفعل ذلك واحد في القرون المفضلة.

والأصل في مثل هذه الأمور أن تكون مشروعة بدليل، ولا دليل هنا، وقد نص على ذلك جمع من أهل العلم، منهم الشيخ ابن باز، وابن العثيمين وغيرهما الكثير.

والأصل في إحداث مثل هذه الأمور أنها مخالفة لهدي النبي صلى الله عليه وسلم، يقول عليه الصلاة والسلام: «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ» رواه البخاري: 2499، ومسلم: 3242.

وهدي الرسول صلى الله عليه وسلم في ذلك أن يقول الذي يطلب العروس: خطبة الحاجة، ثم يبارك للعروسين بما جاء في السنة المطهرة.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বাগদানের অগ্রহণযোগ্য বিষয়সমূহ (منكرات)

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: সম্মতির সময় সূরা ফাতিহা পাঠ

বর্তমানে মানুষ বর-কনের বিয়ের ব্যাপারে পারস্পরিক সমঝতা ও সম্মতিতে পৌঁছানোর পর সূরা ফাতিহা পাঠ করে থাকে। এটি সাধারণত বর-কনের উভয় পরিবারের ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বর্তমানে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী বাগদানের মূল আনুষ্ঠানিকতার সময় এটি পুনরায় পাঠ করা হয়।

সাধারণত কোনো ব্যক্তি রূপকভাবে মেয়ের পাণিপ্রার্থনা করে, কারণ সমঝতা আগে থেকেই হয়ে থাকে। এরপর বরকতের আশায় মানুষ সূরা ফাতিহা পাঠ করে, যাতে এই চুক্তি ও বিবাহ বরকতময় হয়।

এমনকি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি (যিনি দ্বীনের বিষয়ে সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্ত) আমাকে বলেছেন: সূরা ফাতিহা পাঠ করা ব্যতীত বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

প্রকৃতপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না এবং বিয়ের আকদ বা অন্য কোনো চুক্তির সময় সূরা ফাতিহা পাঠ করার বিষয়ে তিনি উম্মতকে কোনো নির্দেশনা দেননি। এমনকি শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের (القرون المفضلة) কেউ এমনটি করেননি।

এই ধরণের বিষয়সমূহের মূল নীতি হলো—তা দলিলের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ (مشروع) হতে হবে, অথচ এখানে কোনো দলিল নেই। একদল আহলে ইলম এ বিষয়ে সুস্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ইবনে বাজ, ইবনে উসাইমীন এবং আরও অনেকে।

এই ধরণের নতুন বিষয় উদ্ভাবনের মূল হুকুম হলো—এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিদায়াত বা আদর্শের পরিপন্থী। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (رد)"। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী: ২৪৯৯ এবং মুসলিম: ৩২৪২।

এই ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ হলো—যিনি কনের পাণিপ্রার্থনা করবেন তিনি খুতবাতুল হাজাহ (خطبة الحاجة) পাঠ করবেন, অতঃপর পবিত্র সুন্নাহয় বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে বর-কনের জন্য বরকতের দোয়া করবেন।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فعَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فِي خُطْبَةِ الْحَاجَةِ فِي النِّكَاحِ وَغَيْرِهِ: عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةَ الْحَاجَةِ:

«إنْ الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا، مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا: (اتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا)، يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ، يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا». رواه أبو داود: 2118، وصححه الألباني.

وأما الدعاء فيكون موافقا لما ورد في الحديث، من حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا رَفَّأَ (1) الْإِنْسَانَ إِذَا تَزَوَّجَ قَالَ «بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي الْخَيْرِ» رواه ابن ماجه: 1905، والترمذي: 1091، وقال: هذا حديث حسن صحيح، وصححه الألباني.

قالت اللجنة الدائمة (2): قراءة الفاتحة قبل الزواج بدعة، لأن ذلك لم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولا عن أحد من صحابته، وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد «رواه البخاري: 2499.

--------------------------------------------

(1) رفأ: الرفاء: الالتئام، وإذا رفأ: إذا أراد أن يدعو بالالتئام عند الزواج: حاشية السندي: 6/ 128.

(2) فتاوى اللجنة الدائمة: 2/ 538.
আবু উবাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বিবাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনে খুতবাতুল হাজাহ (প্রয়োজনীয় খুতবা) সম্পর্কে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খুতবাতুল হাজাহ শিখিয়েছেন:

«নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য লাভ করে।» এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন: ২১১৮, এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

আর দোয়ার বিষয়টি হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুরূপ হবে; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো ব্যক্তিকে বিবাহের সময় শুভেচ্ছা বা দোয়া (رفأ) করতেন, তখন বলতেন: «আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণের সাথে একত্রিত করুন।» এটি ইবনে মাজাহ: ১৯০৫ এবং আল-তিরমিজি: ১০৯১ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস, এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন।

স্থায়ী কমিটি (২) বলেছে: বিবাহের পূর্বে সূরা ফাতিহা পাঠ করা একটি বিদআত (بدعة), কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয় এবং তাঁর কোনো সাহাবী থেকেও নয়। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد) হিসেবে গণ্য হবে।» এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন: ২৪৯৯।

--------------------------------------------

(১) রাফফা (رفأ): আর-রিফা অর্থ মিলন বা ঐক্য। ‘ইযা রাফফা’ অর্থ: যখন বিবাহের সময় মিলনের জন্য দোয়া করার ইচ্ছা করা হয়: হাশিয়াতুস সিন্দি: ৬/১২৮।

(২) ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ: ২/৫৩৮।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المطلب الثاني: لبس الذهب للرجال

وبعد الاتفاق، وفي مراسم الخطبة، تقوم العروس بوضع دبلة من الذهب (1) في يد العريس، أو خاتما من ذهب (2)، كما يقوم هو

--------------------------------------------

(1) اختلف العلماء في حكم لبس دبلة الفضة للرجال بين مجيز ومانع:

يستدل المانعون: على أنها من عادات النصارى التي سرت إلى بلاد المسلمين، وأن النصارى كانوا ينقلونها بين أصابع العريس، قائلين بين كل أصبع وأصبع: بسم الأب، بسم الابن، بسم روح القدس، وهذه هي عقيدة التثليث التي حكم القرآن بكفر أهلها.

ويستدل المجيزون: أن هذه من العادات التي سرت إلى بلاد المسلمين، وصارت عند المسلمين من الأمور المعروفة، ومن عاداتهم التي لا يقصد بها أي نوع من عبادات الكفار الباطلة.

بدليل أنك لو سألت عريسا: هل تقصد بلبسك هذه الدبلة اتباع الكفار وتقليدهم؟

أجاب بدون تردد: أنه لا ينوي ذلك أبدا إلا اتباع أعراف البلد التي يعيش فيها، عدا عن كون أكثرهم لم يسمع بهذا أبدا.

وصارت هذه عند المسلمين، كأنها من الشروط اللازمة للعرس، بحيث أن العريس إذا رفض أن يلبسها، غضبت عليه العروس، واتهمته أنه لا يحبها.

ويستدل المجيزون أيضاً بأمثلة أخرى من الأشياء التي سرت إلى بلاد المسلمين وصارت عندهم عادة: مثل ربطة العنق (ما يسمى بالجرافة)، وحتى البنطال، ليس من عادات المسلمين، بل هو من العادات المستوردة إلينا من الغرب، ولكنه صار لباسا رسميا عند المسلمين.

والحق في هذه المسألة أنه ليس هناك من الأدلة الشافية التي يستطيع من خلالها الجزم أنها من عادات النصارى، أو ربما تكون من العادات القديمة عندهم.

مع النصيحة للشباب أن يتجنبوا مثل هذه الأمور، خصوصا وأن هناك ثلة من جهابذة العلماء الكبار قالوا بتحريمها.=

= ولو استبدل مكانها خاتم الفضة لكان أفضل لأن ذلك من السنة التي جاءت عن رسولنا صلى الله عليه وسلم، قال ابن عمر: ...... اتَّخَذَ رسول الله صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، فَاتَّخَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَ الْفِضَّةِ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: فَلَبِسَ الْخَاتَمَ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرُ، ثُمَّ عُثْمَانُ، حَتَّى وَقَعَ مِنْ عُثْمَانَ فِي بِئْرِ أَرِيسَ» رواه البخاري: 5417.

(قلت: وفي الحديث خطأ ما يقال أن خاتم النبي صلى الله عليه وسلم موجود في متحف في تركيا، لأنه قد ضاع من عثمان رضي الله عنه في البئر).

(2) خفت هذه العادة كثيرا (أقصد لبس الذهب)، والحمد لله لوعي الناس وتوجههم إلى اتباع الحق، ولكثرة الدعاة إلى الخير الذين يقومون بتوعية الناس في هذه الجوانب.

وصارت محلات الذهب التي يشتري منها العريس ذهبا لزوجته تقدم دبلة فضة كهدية للعريس.

عسى الله أن يمن علينا بأن تنتهي كل المنكرات من أفراح المسلمين.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুরুষদের স্বর্ণ পরিধান করা

পারস্পরিক সম্মতির পর বাগদান অনুষ্ঠানে কনে বরের হাতে একটি স্বর্ণের আংটি (১) পরিয়ে দেয় অথবা স্বর্ণের কোনো আংটি (২), একইভাবে বরও পরিয়ে দেয়

--------------------------------------------

(১) পুরুষদের রূপার আংটি পরিধান করার বিধান (حكم) সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম বৈধতাদানকারী (مجيز) এবং নিষেধকারী (مانع) — এই দুই মতে বিভক্ত হয়েছেন:

নিষেধকারীরা দলিল পেশ করেন যে: এটি খ্রিস্টানদের রীতিনীতি যা মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। খ্রিস্টানরা বরের এক আঙুল থেকে অন্য আঙুলে এটি পরিবর্তন করত এবং প্রতিটি আঙুলের পরিবর্তনের সময় বলত: পিতার নামে, পুত্রের নামে, পবিত্র আত্মার নামে; আর এটিই হলো ত্রিত্ববাদ (تثليث) আকীদা, যার অনুসারীদের ব্যাপারে কুরআন কুফর (كفر) হওয়ার ফয়সালা দিয়েছে।

পক্ষান্তরে বৈধতাদানকারীরা দলিল পেশ করেন যে: এটি বর্তমানে এমন এক প্রথায় পরিণত হয়েছে যা মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মুসলমানদের নিকট একটি পরিচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটি তাদের এমন এক প্রথা যাতে কাফেরদের কোনো প্রকার বাতিল ইবাদতের উদ্দেশ্য থাকে না।

এর প্রমাণ স্বরূপ, আপনি যদি কোনো বরকে জিজ্ঞাসা করেন: আপনি কি এই আংটি পরিধানের মাধ্যমে কাফেরদের অনুসরণ বা অনুকরণের উদ্দেশ্য পোষণ করেন?

সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই উত্তর দেবে: সে কখনোই এমন নিয়ত করে না, বরং সে যে দেশে বাস করে সেখানকার প্রচলিত প্রথা অনুসরণ করাই তার উদ্দেশ্য। তাছাড়া তাদের অধিকাংশ লোক এই (খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের) কথা কখনোই শোনেনি।

এটি বর্তমানে মুসলমানদের নিকট বিয়ের একটি আবশ্যকীয় শর্তের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে; এমনকি বর যদি এটি পরতে অস্বীকার করে, তবে কনে তার ওপর রাগান্বিত হয় এবং তাকে অপবাদ দেয় যে সে তাকে ভালোবাসে না।

বৈধতাদানকারীরা মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়া এবং প্রথায় পরিণত হওয়া অন্যান্য জিনিসের উদাহরণও পেশ করেন: যেমন টাই (যাকে ক্রাভাট বলা হয়), এমনকি প্যান্টও মুসলমানদের নিজস্ব পোশাক ছিল না, বরং এগুলো পশ্চিম থেকে আমদানিকৃত সংস্কৃতি, কিন্তু বর্তমানে এটি মুসলমানদের আনুষ্ঠানিক পোশাকে পরিণত হয়েছে।

এই বিষয়ের সঠিক সমাধান হলো, এমন কোনো অকাট্য দলিল নেই যার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে এটি কেবল খ্রিস্টানদেরই বৈশিষ্ট্য, অথবা সম্ভবত এটি তাদের প্রাচীন কোনো প্রথা ছিল।

তবে যুবকদের প্রতি নসিহত হলো যেন তারা এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে, বিশেষ করে যেহেতু বরেণ্য প্রাজ্ঞ আলেমদের একটি বড় দল এটি হারাম (حرام) হওয়ার কথা বলেছেন।=

= এর পরিবর্তে যদি রূপার আংটি ব্যবহার করা হতো তবে তা উত্তম হতো, কারণ এটি আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সুন্নাহ (سنة) এর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ...... "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপার একটি আংটি তৈরি করেছিলেন। এরপর লোকজনও রূপার আংটি তৈরি করতে শুরু করে। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই আংটিটি পরিধান করেন, এরপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং এরপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু; শেষ পর্যন্ত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত থেকে আংটিটি আরীস নামক কূপে পড়ে যায়।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন: ৫৪১৭।

(আমি বলছি: কোনো কোনো হাদিসে যে বলা হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আংটি তুরস্কের জাদুঘরে বিদ্যমান, তা ভুল; কারণ এটি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট থেকে কূপে হারিয়ে গিয়েছিল)।

(২) এই প্রথাটি (অর্থাৎ স্বর্ণ পরিধান করা) বর্তমানে অনেক কমে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ। এটি মানুষের সচেতনতা ও সত্য অনুসরণের আগ্রহ এবং কল্যাণকামী দাঈদের আধিক্যের কারণে সম্ভব হয়েছে, যারা এই বিষয়গুলোতে মানুষকে সচেতন করছেন।

এখন স্বর্ণের দোকানগুলো যেখান থেকে বর তার স্ত্রীর জন্য স্বর্ণ ক্রয় করে, তারা বরকে উপহার হিসেবে একটি রূপার আংটি প্রদান করে।

আল্লাহ যেন আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন যাতে মুসলমানদের বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে সকল প্রকার অপছন্দনীয় বা নিষিদ্ধ বিষয়গুলো (منكرات) দূর হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
بتلبيسها وتحليتها بالذهب.

وقد يزداد المنكر ويعظم الإثم عندما يكون ذلك بحضرة النساء، والاختلاط بهن، وفي المكان تبرج وسفور، وسيأتي الكلام عن هذه المنكرات.

وقد حرم الإسلام الذهب على الرجال، وجاءت النصوص الكثيرة في ذلك.

منها:

قول النبي صلى الله عليه وسلم:» حُرِّمَ لِبَاسُ الْحَرِيرِ وَالذَّهَبِ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي: وَأُحِلَّ لِإِنَاثِهِمْ» رواه الترمذي: 1720، وقال: هذا حديث حسن صحيح، وصححه الألباني.

وقد «رأى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ
স্বর্ণের প্রলেপ এবং তা দ্বারা অলঙ্কৃত করার মাধ্যমে।

এই বর্জনীয় কাজ (منكر) আরও বৃদ্ধি পায় এবং পাপ গুরুতর হয়ে দাঁড়ায় যখন তা নারীদের উপস্থিতিতে এবং তাদের সাথে অবাধ মেলামেশারত অবস্থায় হয়, যেখানে বেপর্দা ও নগ্নতা বিদ্যমান থাকে; আর এই বর্জনীয় বিষয়গুলো (منكرات) সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসছে।

ইসলাম পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম করেছে এবং এ সম্পর্কে অনেক দলিলসমূহ (نصوص) বর্ণিত হয়েছে।

তন্মধ্যে রয়েছে:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "রেশমি পোশাক ও স্বর্ণ আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে এবং তাদের নারীদের জন্য তা হালাল করা হয়েছে।" এটি তিরমিযী (১৭২০) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি উত্তম (حسن) বিশুদ্ধ (صحيহ) হাদিস; আর আলবানী একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনের হাতে একটি স্বর্ণের আংটি দেখেছিলেন...
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
رَجُلٍ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ.

فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، خُذْ خَاتِمَكَ انْتَفِعْ بِهِ، قَالَ: لَا وَاللَّهِ لَا آخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» َرواه مسلم: 3897.

وقد يضاف إلى هذا المنكر منكر عقدي آخر: وهو أن هذه الدبلة صارت شعارا للحب بين الزوجين، وعلامة من علامات المودة والتوفيق فيما بينهما، حتى صارت مظهرا من مظاهر السعادة.

حتى إذا حدثت مشكلة بين الزوجين، ألقى العريس الدبلة في وجه العروس، أو على الأرض، علامة لتوتر العلاقة بينهما.

وإذا صارت هذه من علامات النفع والضر فيما بين الزوجين، حرمت قولا واحدا، سواء من الذهب أو الفضة، حتى لو كانت خاتما.

فالنفع والضر بيد الله وحده، وهذه التمائم لا تنفع ولا تضر، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ» رواه أحمد: 16781، وصححه الألباني. (1)

--------------------------------------------

(1) قال الألباني في السلسلة الصحيحة، حديث: 492:

فائدة: التميمة: خرزات كانت العرب تعلقها على أولادهم يتقون بها العين في زعمهم، فأبطلها الإسلام.

قلت (أي: الألباني): ولا تزال هذه الضلالة فاشية بين البدو، والفلاحين، وبعض المدنيين، ومثلها الخرزات التي يضعها بعض السائقين أمامهم في السيارة يعلقونها على المرآة!

وبعضهم يعلق نعلا في مقدمة السيارة، أو في مؤخرتها! وغيرهم يعلقون نعل فرس في واجهة الدار، أو الدكان! كل ذلك لدفع العين زعموا، وغير ذلك مما عم وطم بسبب الجهل بالتوحيد، وما ينافيه من الشركيات، = =والوثنيات التي ما بعثت الرسل، وأنزلت الكتب إلا من أجل إبطالها، والقضاء عليها، فإلى الله المشتكى من جهل المسلمين اليوم، وبعدهم عن الدين.
জনৈক ব্যক্তি, অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) তা খুলে ফেললেন এবং নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ কি আগুনের জ্বলন্ত অঙ্গারের দিকে হাত বাড়াবে এবং তা নিজ হাতে পরিধান করবে?"

রাসূলুল্লাহ ﷺ চলে যাওয়ার পর লোকটিকে বলা হলো, তোমার আংটিটি তুলে নাও এবং এর দ্বারা উপকৃত হও। সে বলল: "না, আল্লাহর কসম! আমি তা কখনোই গ্রহণ করব না যা রাসূলুল্লাহ ﷺ ফেলে দিয়েছেন।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন: ৩৮৯৭।

এই মন্দ/অস্বীকৃত (منكر) কর্মটির সাথে আরও একটি আকিদাগত মন্দ/অস্বীকৃত (منكر) বিষয় যুক্ত হতে পারে: আর তা হলো এই আংটি (বিয়ের আংটি) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছে এবং এটি তাদের মধ্যকার হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যের অন্যতম নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এমনকি এটি সুখের একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এমনকি যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো সমস্যা তৈরি হয়, তখন বর সেই আংটিটি কনের মুখের ওপর কিংবা মেঝেতে ছুড়ে মারে, যা তাদের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির চিহ্ন হিসেবে কাজ করে।

আর যদি এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে লাভ ও ক্ষতির কারণ হিসেবে গণ্য হতে থাকে, তবে তা সর্বসম্মতভাবে হারাম হয়ে যাবে; চাই তা স্বর্ণের হোক বা রুপার, এমনকি সেটি সাধারণ আংটি হলেও।

কেননা লাভ ও ক্ষতি একমাত্র আল্লাহর হাতে, আর এই কবচ/তাবিজগুলো (تمائم) কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না। নবী ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি কবচ/তাবিজ (تميمة) ঝোলাল, সে শিরক করল।" আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন: ১৬৭৮১, এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) আলবানী সিলসিলাতুস সহিহাহ গ্রন্থে বলেছেন, হাদিস: ৪৯২:

শিক্ষা: তাবিজ (التميمة): এগুলো হলো পুঁতি যা আরবরা তাদের সন্তানদের ওপর ঝোলাত, তাদের ধারণা মতে এর মাধ্যমে তারা কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা পেত, অতঃপর ইসলাম এটিকে বাতিল করে দিয়েছে।

আমি (অর্থাৎ: আলবানী) বলছি: এই পথভ্রষ্টতা এখনো বেদুঈন, কৃষক এবং কিছু শহরবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে আছে। যেমন কিছু চালক তাদের গাড়ির আয়নার সামনে পুঁতি ঝুলিয়ে রাখে!

আবার কেউ কেউ গাড়ির সামনে অথবা পেছনে জুতো ঝুলিয়ে রাখে! অন্য কেউ কেউ ঘর বা দোকানের সামনে ঘোড়ার খুর ঝুলিয়ে রাখে! তাদের দাবি অনুযায়ী এসবই করা হয় কুদৃষ্টি প্রতিরোধের জন্য। এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় যা তাওহিদ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এর পরিপন্থী শিরক ও মূর্তিপূজার কারণে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ এসকল বিষয়কে বাতিল ও নির্মূল করার উদ্দেশ্যেই রাসূলগণকে পাঠানো হয়েছিল এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছিল। বর্তমান যুগের মুসলমানদের অজ্ঞতা এবং দ্বীন থেকে তাদের দূরত্বের বিষয়ে আল্লাহর কাছেই অভিযোগ পেশ করছি।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال عليه الصلاة والسلام:» من علق تميمة فلا أتم الله له» رواه الحاكم: 7501، وقال: صحيح الإسناد، وقال الهيثمي (1): رجاله ثقات.

فالذي ينبغي على المسلمين أن يتحرروا من الأوهام والخرافات، وأن تكون ثقتهم بالله وحده لا شريك له، مالك الأرض والسموات، الذي يتصرف في ملكه كيفما شاء، فهو سبحانه الذي «لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ» (الأنبياء: 23)، فمن توكل على الله فهو حسبه.

 

‌‌المطلب الثالث: الخلوة بالمخطوبة.

ينبغي على الخاطب بداية أن يجمع كامل المعلومات عن البنت التي يريد الزواج منها، عن خلقها وخلق أمها، وعن أهلها جميعا لأن العرق دساس كما أرشد لذلك النبي صلى الله عليه وسلم، حيث قال: «تَخَيَّرُوا لِنُطَفِكُمْ وَانْكِحُوا الْأَكْفَاءَ وَأَنْكِحُوا إِلَيْهِمْ» رواه ابن ماجه: 1968، وحسنه الألباني.

وبعد جمع المعلومات ينبغي للخاطب أن ينظر إلى مخطوبته، وينبغي على أهلها أن يمكنوه من ذلك، والغرض من ذلك حتى تدوم الحياة بينهما بالوفاق، لأن كل رجل له في نظره حظ، وعنده في قلبه صفات يريدها أن تكون في زوجته، وهي كذلك.

--------------------------------------------

(1) مجمع الزوائد: 5/ 103.
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তাবিয ঝোলাল, আল্লাহ যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন।" এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং: ৭৫০১) এবং তিনি বলেছেন: এটি সহিহ বা সঠিক সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট। আর হাইসামি (১) বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

সুতরাং মুসলমানদের জন্য কর্তব্য হলো বিভ্রম ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়া এবং তাদের পূর্ণ আস্থা যেন কেবল এক অদ্বিতীয় আল্লাহর ওপর থাকে, যিনি পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলীর মালিক এবং যিনি তাঁর রাজ্যে যেভাবে ইচ্ছা কর্তৃত্ব করেন। তিনি সেই পবিত্র সত্তা, যাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে" (আল-আম্বিয়া: ২৩)। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বাগদত্তার (হবু স্ত্রী) সাথে নির্জনে অবস্থান.

বিবাহপ্রার্থীর জন্য আবশ্যক হলো শুরুতে সেই পাত্রী সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা যাকে সে বিবাহ করতে চায়; তার চরিত্র, তার মায়ের চরিত্র এবং তার সকল পরিজন সম্পর্কে। কেননা বংশগত স্বভাবের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমরা তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন করো, সমমর্যাদাসম্পন্নদের মধ্যে বিবাহ করো এবং তাদের কাছে বিবাহ দাও।" এটি ইবনে মাজাহ (১৯৬৮) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে হাসান (حسن) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তথ্য সংগ্রহের পর বিবাহপ্রার্থীর উচিত তার বাগদত্তাকে দেখা, এবং মেয়ের পরিবারের উচিত তাকে সে সুযোগ করে দেওয়া। এর উদ্দেশ্য হলো যেন তাদের পারস্পরিক মিল-মহব্বতের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয়। কারণ প্রত্যেক পুরুষের দৃষ্টিতে ভালো লাগার একটি মাপকাঠি থাকে এবং তার অন্তরে এমন কিছু গুণের প্রত্যাশা থাকে যা সে তার স্ত্রীর মাঝে দেখতে চায়; আর নারীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।

--------------------------------------------

(১) মাজমাউজ জাওয়াইদ: ৫/ ১০৩।
(খণ্ড: ১) মুনকারাতুল আফরাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولو لزم الأمر أن ينظر إليها أكثر من مرة فلا بأس في ذلك.

روى مسلم في صحيحه: 2552، من حديث أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنْ الْأَنْصَارِ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قَالَ: لَا، قَالَ: فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِي أَعْيُنِ الْأَنْصَارِ شَيْئًا».

وخطب المغيرة بن شعبة امرأة، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «انْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا» رواه الترمذي: 1087، وصححه الألباني.

فإذا نظر إليها وأعجبته، وتقدم لخطبتها، وتمت الموافقة فلا بد من الحذر من كثرة جلوس الخاطب معها.

والناس في ذلك على أصناف:

فيعيش كثير من الناس في حياتهم بين إفراط وتفريط، فبعض الناس يتشددون، ولا يسمح للخاطب أن يجلس مع المخطوبة، أو يسمع لحديثها، حتى يتعرف كل منهما على الآخر أكثر.

وبعضهم على النقيض تماما فيسمح بالجلوس متى وكيفما شاء الخاطب، في أي ساعة من ليل أو نهار، وربما جلسا في غرفة مغلقة، أو خرجا إلى السوق، ويزيد البعض وربما يتهور بالسماح لهما بالسفر مع بعضهما البعض.

والسبب في كل هذا أن البعض يتشدد عن عادة لا عن دين، والبعض يريد أن يعيش الحياة الغربية ولو للحظات من عمره، والبعض لا يعرف معنى الخطبة، فيظن أن الخاطب صار زوجا لابنته.

 

فما هو معنى الخطبة؟
যদি প্রয়োজন হয় যে তার (পাত্রীর) দিকে একাধিকবার তাকাতে হবে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২৫৫২) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে সংবাদ দিলেন যে তিনি জনৈক আনসারী নারীকে বিবাহ করতে চাচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: তুমি কি তাকে দেখেছ? তিনি বললেন: না। নবীজি বললেন: তবে যাও এবং তাকে দেখে নাও, কারণ আনসারদের চোখে কিছু (একটি বিশেষত্ব) থাকে।»

আর মুগীরা ইবনে শু'বা (রা.) এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: «তুমি তাকে দেখে নাও, কেননা এটি তোমাদের উভয়ের মধ্যে হৃদ্যতা ও মিল সৃষ্টির জন্য অধিক কার্যকর।» এটি তিরমিজি (১০৮৭) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) বলে গণ্য করেছেন।

অতঃপর যদি সে তাকে দেখে এবং তাকে তার পছন্দ হয়, আর সে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং সম্মতি পাওয়া যায়, তবে বাগদত্তার তার সাথে অধিক সময় বসে থাকার ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক।

আর এ বিষয়ে মানুষ বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত:

অনেক মানুষ তাদের জীবনে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝে অতিবাহিত করে। কিছু মানুষ অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করে এবং প্রস্তাবকারীকে (পাত্র) পাত্রীর সাথে বসার বা তার কথা শোনার অনুমতি দেয় না, যাতে তারা একে অপরকে আরও ভালোভাবে জানতে পারে।

আবার কেউ কেউ এর ঠিক উল্টো অবস্থানে থাকে; তারা পাত্রকে যখন ইচ্ছা এবং যেভাবে ইচ্ছা বসার অনুমতি দেয়—দিন বা রাতের যেকোনো সময়ে। এমনকি তারা হয়তো কোনো বন্ধ ঘরে নির্জনে বসে অথবা বাজারে বের হয়; কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে অবিবেচকের মতো তাদের একে অপরের সাথে ভ্রমণে যাওয়ার অনুমতিও দিয়ে দেয়।

এসবের মূল কারণ হলো, কেউ কেউ ধর্মীয় কারণে নয় বরং প্রথার কারণে কঠোরতা দেখায়, আবার কেউ কেউ তার জীবনের অন্তত কিছু মুহূর্তের জন্য হলেও পশ্চিমা জীবনযাপন করতে চায়। আর কেউ কেউ বিয়ের প্রস্তাব বা বাগদানের (الخطبة) অর্থই বোঝে না, ফলে তারা মনে করে যে প্রস্তাবকারী ব্যক্তি বুঝি তার মেয়ের স্বামী হয়ে গেছে।

 

তাহলে বিয়ের প্রস্তাব বা বাগদানের (الخطبة) প্রকৃত অর্থ কী?