(খণ্ড: ১) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: -)
ديوان الشيخ أحمد سحنون   (أحمد سحنون)

القسم: الشعر ودواوينه


الكتاب: ديوان الشيخ أحمد سحنون

المؤلف: أحمد سحنون

الناشر: منشورات الحبر (الجزائر)

الطبعة: الطبعة الثانية، 2007

عدد الأجزاء: 2

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1433

শেখ আহমদ সাহনুনের দিওয়ান   (আহমদ সাহনুন)

বিভাগ: কবিতা ও কাব্যসংকলন


বই: শেখ আহমদ সাহনুনের দিওয়ান

লেখক: আহমদ সাহনুন

প্রকাশক: মানশুরাত আল-হিবর (আলজেরিয়া)

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০০৭

খণ্ড সংখ্যা: ২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٣)
أحمد سحنون

ديوان

الشيخ أحمد سحنون

 

‌‌الديوان الأول

الطبعة الثانية 2007

منشورات الحبر
আহমদ সাহনুন

দিওয়ান

শায়খ আহমদ সাহনুন

 

প্রথম দিওয়ান

দ্বিতীয় সংস্করণ ২০০৭

আল-হিবর প্রকাশনী
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٤)
الكتاب: ديوان الشيخ أحمد سحنون

تأليف: أحمد سحنون

الطبعة: الثانية 2007

الناشر: منشورات الحبر
গ্রন্থ: শায়খ আহমাদ সাহনুনের দিওয়ান

রচনা: আহমাদ সাহনুন

সংস্করণ: দ্বিতীয় ২০০৭

প্রকাশক: মানশুরাত আল-হিবর
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌هذه القصائد

هذه مجموعة قصائد، بل مجموعة أحاسيس رقيقة، وخلاصة مشاعر سامية لقلب شاعر حساس في فترة من أصعب وأقسى فترات حياته العامرة بالأعمال العظكيف الحافلة بالمواقف الصلبة الصامدة.

وهل يوجد ما هو أصعب على القلب وأقسى على النفس من أن يعيش الإنسان منفردا معزولا مقطعا عن أهله وأحبائه مبعدا عن صحبه وخلانه؟ فكيف بالإنسان الشاعر رقيق القلب مرهف الإحساس؟

من الشعراء من يفضل الوحدة، وينشد العزلة لينظم أشعاره في هدوء، ويسرح بخياله بعيدا عن الضوضاء والضجيج، فالشاعر يضيق به صخب الحياة وضجيجها ومشاكل الناس ومضايقاتهم، فيلوذ بالخلاء أفقا أنيسا، يسرح بفكره ويسبح بروحه في الفضاء العريض، ويتأمل الكون العظيم، وينعم بالسكون الشامل، والهدوء الكامل، أو يتجول في الغابات والحقول بين الأشجار والورود والطيور، ليستمع لأفكاره، ويستوحي أشعاره من الطبيعة الخلابة، ومناظر بلاده الجميلة الساحرة.

وشاعرنا شاعر الطبيعة والجمال، وعاشق البحار والجبال، فكثيرا ما تغنى بحسن الربيع وعبير أزهاره وتغريد أطياره، وجمال البحر وعظمته وأسراره، وجلال الصحراء وغموضها وسكونها وشموخ الجبال وصمودها وكبريائها.

ولا أحد ينكر أن الشاعر يحتاج إلى فترات من الوحد ة يعتزل فيها الناس ويخلو إلى نفسه يعتكف بين أوراقه وكتبه، يجمع شتات فكره، ويتفرع لتنطيم نتاجه ونشر مؤلفاته، وهو في فلك مختار، مقرر بإرادته، حيث يشعر بكمال حريته وانطلاقه، أما هذه
এই কবিতাসমূহ

এটি একগুচ্ছ কবিতা, বরং একগুচ্ছ সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং একজন সংবেদনশীল কবির হৃদয়ের উচ্চতর আবেগের নির্যাস; যা তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন ও কঠোর এক সময়ে রচিত হয়েছে—যে জীবন মহৎ কর্মে পরিপূর্ণ এবং অবিচল ও দৃঢ় অবস্থানে সমৃদ্ধ ছিল।

একজন মানুষ তার পরিবার ও প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করার চেয়ে হৃদয়ের জন্য অধিক কষ্টদায়ক এবং আত্মার জন্য অধিক কঠোর আর কী হতে পারে? তাহলে সেই কোমল হৃদয়ের অধিকারী ও সূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন কবির অবস্থা কেমন হতে পারে?

কবিদের মধ্যে কেউ কেউ নির্জনতা পছন্দ করেন এবং প্রশান্তিতে কবিতা রচনার জন্য একাকীত্ব খোঁজেন, যাতে শোরগোল ও কোলাহল থেকে দূরে থেকে নিজের কল্পনাকে মেলে ধরতে পারেন। কবির কাছে জীবনের ব্যস্ততা, কোলাহল এবং মানুষের সমস্যা ও বিরক্তিকর আচরণগুলো সংকীর্ণ ঠেকে; ফলে তিনি নির্জন প্রান্তরকে বন্ধুসুলভ দিগন্ত হিসেবে বেছে নেন। সেখানে তিনি আপন চিন্তায় মগ্ন হন এবং সুবিস্তৃত শূন্যতায় নিজ আত্মাকে বিচরণ করান, মহান মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তা করেন এবং সার্বিক নিস্তব্ধতা ও পূর্ণ প্রশান্তি উপভোগ করেন। অথবা তিনি বন-জঙ্গল ও মাঠ-ঘাটে গাছপালা, ফুল ও পাখিদের মাঝে ঘুরে বেড়ান, যাতে নিজের চিন্তাগুলো শুনতে পান এবং চমৎকার প্রকৃতি ও তাঁর দেশের মোহনীয় সুন্দর দৃশ্যপট থেকে কবিতার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

আর আমাদের কবি হলেন প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের কবি, সাগর ও পাহাড়ের প্রেমিক। তিনি প্রায়ই বসন্তের সৌন্দর্য, ফুলের সুবাস ও পাখিদের কলকাকলি নিয়ে এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য, বিশালতা ও এর রহস্য নিয়ে গান গেয়েছেন; তেমনি তিনি মরুভূমির গাম্ভীর্য, এর রহস্যময়তা ও নিস্তব্ধতা এবং পাহাড়ের সুউচ্চ মর্যাদা, দৃঢ়তা ও অহংকারের কথাও তুলে ধরেছেন।

আর কেউ এ কথা অস্বীকার করবে না যে, একজন কবির নির্জনতার কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়, যখন তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে যান এবং নিজের সাথে একান্তে সময় কাটান। তিনি তাঁর কাগজ ও বইপত্রের মাঝে নিবিষ্ট হন, তাঁর বিক্ষিপ্ত চিন্তাগুলোকে একত্রিত করেন এবং নিজের সৃষ্টিশীল কাজগুলো গোছানো ও পাণ্ডুলিপি প্রকাশের জন্য সময় বের করেন। এটি তাঁরই নির্বাচিত একটি পরিমণ্ডল, যা তিনি নিজের ইচ্ছায় নির্ধারণ করেছেন; যেখানে তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন। পক্ষান্তরে এই
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٦)
العزلة التي فرضت عليه قسرا، وأرغم عليها ظلما وعدوانا، والتي قيدت حريته، وكبلت إرادته، وجعلته يحس برسف الأغلال وثقل القيود، وحرمته من الأماكن القريبة إلى نفسه، وأبعدت عنه الوجوه الحبيبة إلى قلبه، هذه الوحدة أثرت في نفسه الأدبية تأثيرا عميقا، وأصابت قلبه الكبير إصابة بالغة في الصميم.

لقد شعر بآلام الغربة وعذاب الحرمان من وطنه وهو على أديمه وتحت سمائه، وكابد لوعة الفراق والشوق والحنين إلى أحنانه وأبناء بلده وهو قريب منهم، فأي عذاب لقلبه الذي يجيش بالحب الخالص والوفاء النادر لوطنه؟ وأي شقاء لنفسه التي تفيض بالمحبة والحنان والرحمة لأبناء بلده؟

فإذا بنات قريحته تتدفق جنباتهن شعرا صادقا يعبر عن آمالهم وآلامهم، ويصف أفراحهم وجراحهم ويصور حيرتهم واضطرابهم، ويحرك وجدانهم، ويثير طموحهم، ويحثهم على الاتحاد والتآخي والتسامح، ويزرع في نفوسهم حب الخير والتمسك بالدين والإخلاص للوطن.

فالشاعر يجد السعادة القصوى والراحة الكبرى وهو بينهم يحس بمشاعرهم ويشاركهم أفراحهم وأحزانهم ويساعدهم في حل مشاكلهم، ويبعث في قلوبهم الأمل، ويقوي في نفوسهم الإيمان.

لذلك كان شعوره بالحرمان من ذلكم الوصال، وإبعاده المر المرير عميقا جدا لا يقدر على وصفه والتعبير عنه إلأ هذه القصائد المؤثرة التي هي أصداء نفسه ونبضات قلبه، وخلجات فكره، وزفرات روحه في تلك الفترة العسيرة من الزمن.

عائشة سحنون
যে নির্জনতা তার ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং জুলুম ও শত্রুতার মাধ্যমে তাকে এতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা তার স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করেছিল এবং তার ইচ্ছাশক্তিকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিল; যা তাকে শিকলের ঘর্ষণ ও বেড়িগুলোর ভার অনুভব করিয়েছিল, তাকে তার প্রিয় স্থানসমূহ থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং তার হৃদয়ের নিকটস্থ প্রিয় মুখগুলোকে তার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল; এই একাকিত্ব তার সাহিত্যিক সত্তার ওপর এক গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং তার বিশাল হৃদয়ের অন্তঃস্থলে এক মারাত্মক আঘাত হেনেছিল।

তিনি প্রবাসজীবনের বেদনা এবং নিজ ভূখণ্ডে অবস্থান করে তার উপরিভাগে ও আকাশের নিচে থেকেও স্বদেশ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আযাব অনুভব করেছিলেন। তিনি তার প্রিয়জন এবং দেশবাসীর প্রতি বিচ্ছেদ-যাতনা, আকাঙ্ক্ষা ও ব্যাকুলতা সহ্য করেছিলেন, অথচ তিনি তাদের নিকটেই ছিলেন। সুতরাং তার সেই হৃদয়ের জন্য কী নিদারুণ যন্ত্রণা, যা স্বদেশের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসা ও বিরল আনুগত্যে উদ্বেলিত? এবং তার সেই সত্তার জন্য কী দুর্ভাগ্য, যা তার দেশবাসীর প্রতি মহব্বত, স্নেহ ও করুণায় পরিপূর্ণ?

ফলে তার কাব্যপ্রতিভার ফলসমূহ সত্যনিষ্ঠ কবিতা হয়ে উপচে পড়তে লাগল, যা তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দুঃখ-বেদনার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়, তাদের আনন্দ ও ক্ষত বর্ণনা করে, তাদের বিভ্রান্তি ও অস্থিরতাকে চিত্রায়িত করে এবং তাদের বিবেককে জাগ্রত করে। এটি তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং তাদেরকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার প্রতি উৎসাহিত করে। এটি তাদের অন্তরে কল্যাণের প্রতি ভালোবাসা, দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা এবং স্বদেশের প্রতি একনিষ্ঠতার বীজ বপন করে।

কবি তাদের মধ্যে থেকে, তাদের অনুভূতি অনুভব করে, তাদের আনন্দ ও শোকে শরিক হয়ে এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে পরম সুখ ও মহান শান্তি খুঁজে পান। তিনি তাদের হৃদয়ে আশার সঞ্চার করেন এবং তাদের অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ় করেন।

সেই কারণেই সেই সংযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং সেই তিক্ত ও যন্ত্রণাদায়ক দূরত্বের অনুভূতি ছিল অত্যন্ত গভীর, যা বর্ণনা করার ও ব্যক্ত করার ক্ষমতা এই প্রভাবশালী কবিতাগুলো ছাড়া আর কারো নেই; যা ছিল সময়ের সেই কঠিন সময়ে তার আত্মার প্রতিধ্বনি, হৃদস্পন্দন, চিন্তার উদয় এবং প্রাণের দীর্ঘশ্বাস।

আয়েশা সাহনুন
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٧)
المقدمة
ভূমিকা
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مقدمة الشاعر

يضم هذا الديوان جل شعري لا كله، فإن بعضه ضاع، وبعضا آخر منه حذفته أو وأدته كما يئد بعض قبائل العرب بناتهم خوف عار يلحقهم بسبب حياة هؤلاء البنات.

وحتى هذا الذي أثبته أو بقي سالما بعد الضياع والحذف من شعري لولا الإلحاح المتكرر من الأصدقاء ومن الإخوة المعنيين بحفظ التراث، والموكول إليهم جمعه ونشره لما وجدت أي باعث لتقديمه إلى القراء.

اللهم إلا باعثا واحدا هو حاجة الطلاب والدارسين للأدب، بالخصوص في أبحاثهم ودراساتهم، فإن في هذا الديوان- ولا شك- مادة من الأدب الجزائري-كيفما كانت هذه المادة- وفي نشره بعض ما يساعدهم في أبحاثهم ودراساتهم، وفي ذلك ما يرضي شعوري ويريح ضميري.

وربما دهش القراء لهذا الزهد- فيما يحرص عليه الأدباء عدة من نشر نتاجهم ورؤيته متداولا بين الناس، وفي ذلك ما يرضي غرورهم أو طموحهم لأنه- في رأيهم- يثبت وجودهم، أو يؤكده أو يوسعه ويعمقه.

وأبادر فأشرح السبب لأول: إن سبب زهدي في تقديم ديواني إلى القراء هو أنني لا أرضى عن شعري لأنني لا أراه معبرا عما أشعر به من صور وأخيلة- لأن الشعر هو شعور الإنسان- والناس يختلفون في التعبير عن شعورهم ويتفارقون، وإذا كان شعري لا يرضيني في التعبير عن شعوري، فإن معنى ذلك أنه لا يرضي غروري أو طموحي كما يحلو للناس أن يغطوا هذا الغرور بالتعبير عنه بلفظ الطموح.
কবির ভূমিকা

এই কাব্যসমগ্র আমার অধিকাংশ কবিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে সবটুকু নয়; কেননা এর কিছু অংশ হারিয়ে গিয়েছে এবং অন্য কিছু অংশ আমি নিজেই বাদ দিয়েছি বা বিলীন করে দিয়েছি, ঠিক যেমন আরবের কিছু গোত্র তাদের কন্যা সন্তানদের কারণে লোকলজ্জার আশঙ্কায় তাদের জীবন্ত প্রোথিত করত।

এমনকি বিলুপ্তি ও বর্জনের পর আমার কবিতার যে অংশটুকু আমি বহাল রেখেছি বা যা অক্ষত রয়েছে, যদি বন্ধু-বান্ধব এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে আগ্রহী ও এর সংগ্রহ ও প্রকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত ভাইদের বারবার অনুরোধ না থাকত, তবে পাঠকদের কাছে এটি উপস্থাপনের কোনো তাগিদ আমি অনুভব করতাম না।

তবে কেবল একটিই কারণ বিদ্যমান, আর তা হলো সাহিত্যের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রয়োজন, বিশেষ করে তাদের অনুসন্ধান ও গবেষণার ক্ষেত্রে। কারণ এই কাব্যসংকলনে—নিঃসন্দেহে—আলজেরীয় সাহিত্যের কিছু উপাদান রয়েছে—তা যেমনই হোক না কেন—এবং এটি প্রকাশের ফলে তাদের গবেষণা ও অধ্যয়নে কিছুটা সহায়তা হতে পারে, যা আমার অনুভূতিকে তুষ্ট করে এবং আমার বিবেককে শান্তি দেয়।

পাঠকরা হয়তো এই নির্লিপ্ততা দেখে বিস্মিত হতে পারেন—যেখানে সাধারণত সাহিত্যিকগণ তাদের সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করতে এবং মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দিতে অত্যন্ত আগ্রহী থাকেন। এতে তাদের অহংবোধ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৃপ্ত হয়; কারণ তাদের দৃষ্টিতে এটি তাদের অস্তিত্বকে প্রমাণ করে, সুসংহত করে অথবা তা আরও বিস্তৃত ও গভীর করে।

আমি প্রথমেই কারণটি ব্যাখ্যা করছি: পাঠকদের নিকট আমার এই কাব্যসংকলন পেশ করার ক্ষেত্রে আমার বিরাগের কারণ হলো, আমি আমার কবিতা নিয়ে সন্তুষ্ট নই। কারণ আমি একে আমার অনুভূত চিত্র ও কল্পনার যথার্থ প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখি না—কেননা কবিতা হলো মানুষের অনুভূতি—আর মানুষ তাদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ও স্বতন্ত্র হয়ে থাকে। আমার কবিতা যদি আমার নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাকে তৃপ্ত করতে না পারে, তবে এর অর্থ হলো এটি আমার অহংবোধ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চরিতার্থ করবে না, যদিও মানুষ 'উচ্চাকাঙ্ক্ষা' শব্দের মাধ্যমে তাদের এই অহংবোধকে ঢেকে রাখতে পছন্দ করে।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٠)
وإني ما أزال أذكر كلمة لها أهميتها في هذا الباب لصديقنا الشيخ فرحات بن الدراجي رحمه الله، إذ يقول: "إنني أرى الشاعر غير معذور، فإما أن يكون شاعرا أو غير شاعر: شاعر يلفت الأنظار ويهز المشاعر ويحمل الناس على احترامه، وإلا فليدع الميدان لفرسانه، فليس عندي وجود لشاعر من الطبقة الثانية أو الطبقة المتوسطة، وإن شعرا يقال فيه: "شعر لا بأس به لا يصح أن يدعى شعرا".

كما أنني لا أستطيع أن أنسى كلمة لجبران لا يقول مثلها إلا جبران، وذلك إذ يقول: "أشتاق إلى الأبدية، لأنني سأجتمع فيها بقصائدي غير المنطومة، ورسومي غير المرسومة" وبعبارة أخرى: إن أعظم معبر عن غرور الإنسان هو الشعر وإن هذا الغرور الذي طبع عليه الإنسان لا يعرف حدا ينتهي إليه، وهذا هو السبب في زهد من زهد في إظهار إنتاجه، كما أنه- في الوقت نفسه- السبب في حرص من حرص على إظهار إنتاجه.

وهناك باعث آخر لنشر هذا الشعر الذي لست راضيا عنه، بالإضافة إلى واجب الحفاظ على التراث، وواجب إمداد الطلاب والدارسين، وواجب إرضاء الأصدقاء بإجابة رغبتهم-: هو أنه كان يعتبر شعرا له أهميته ومنزلته في فترة حاسمة سبقت فترتنا الحاضرة هذه، وكان فيها -حقا- حاديا في قافلة حركتنا الفكرية الإصلاحية التي سبقت الثورة ومهدت لها فكانت أساسا لها، ومن ثم فالذي يؤرخ لثورتنا التحريرية لا يسعه إلا أن يؤرخ لهذه الفترة الحاسمة التي تكون في أحشائها جنين الثورة، فإنه- بالحري- لا بد لكل ثورة مسلحة، أن تسبقها ثورة فكرية.

الجزائر 9 شوال 1395 هجرية، الموافق لـ 14 أكتوبر 1975 ميلادية

أحمد سحنون
এই প্রসঙ্গে আমাদের বন্ধু শেখ ফারহাত বিন আদ-দাররাজি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আমার এখনও স্মরণে আছে; তিনি বলতেন: "আমি মনে করি কবির কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য নয়। তাকে হয় কবি হতে হবে, নয়তো কবি হওয়া ছাড়তে হবে: এমন এক কবি যে দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, অনুভূতিকে নাড়া দেবে এবং মানুষকে তাকে সম্মান করতে বাধ্য করবে; অন্যথায় তার উচিত এই ময়দান এর প্রকৃত অশ্বারোহীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া। আমার কাছে দ্বিতীয় শ্রেণি বা মধ্যম শ্রেণির কোনো কবির অস্তিত্ব নেই। আর যে কবিতা সম্পর্কে বলা হয় 'কবিতাটি মন্দ নয়', তাকে আসলে কবিতা বলাই সমীচীন নয়।"

তদ্রূপ আমি জিবরানের একটি কথা ভুলতে পারি না, যা কেবল জিবরানের পক্ষেই বলা সম্ভব। তিনি বলেন: "আমি অনন্তকালের জন্য তৃষ্ণার্ত, কেননা সেখানে আমি আমার সেইসব কবিতার সাথে মিলিত হব যা আজও ছন্দোবদ্ধ হয়নি এবং আমার সেইসব চিত্রের সাথে যা আজও অঙ্কিত হয়নি।" অন্য কথায়: মানুষের উচ্চাভিলাষের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকাশ মাধ্যম হলো কবিতা। আর মানুষের মজ্জাগত এই উচ্চাভিলাষ এমন কোনো সীমা জানে না যেখানে গিয়ে তা থেমে যাবে। আর এটাই হলো সেই কারণ যার ফলে কেউ কেউ তাদের সৃষ্টি প্রকাশে বিমুখ থাকেন, আবার একই সাথে এটাই সেই কারণ যার ফলে অন্য কেউ কেউ তাদের সৃষ্টি প্রকাশে অত্যন্ত আগ্রহী হন।

এই কবিতাগুলো—যা নিয়ে আমি নিজে সন্তুষ্ট নই—তা প্রকাশের পেছনে ঐতিহ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব, ছাত্র ও গবেষকদের উপাদান সরবরাহ করার আবশ্যকতা এবং বন্ধুদের অনুরোধ রক্ষার দায়বদ্ধতার পাশাপাশি আরও একটি কারণ রয়েছে। তা হলো: আমাদের বর্তমান সময়ের পূর্ববর্তী এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সন্ধিক্ষণে এই কবিতাগুলো বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার অধিকারী বলে বিবেচিত হতো। তখন এগুলো আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কার আন্দোলনের কাফেলার অগ্রপথিক হিসেবে কাজ করেছিল, যা বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করেছিল এবং তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। সুতরাং, যারা আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করবেন, তাদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টির ইতিহাস তুলে ধরা অপরিহার্য, যার গর্ভে বিপ্লবের ভ্রূণ গঠিত হয়েছিল। কেননা, প্রতিটি সশস্ত্র বিপ্লবের আগে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব হওয়া অনিবার্য।

আলজেরিয়া, ৯ শাওয়াল ১৩৯৫ হিজরি, মোতাবেক ১৪ অক্টোবর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ

আহমাদ সাহনুন
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌ابتهال

يا ملهما لروائع الشعر … يا موحيا بخولد الفكر

يا مودع الإعجاز في الذكر … يا مبدع الرهبة في البحر

يا موجد البسمة في الفجر … يا خالق الفتنة في الثغر

هب لي خيال الشاعر الحر … وقوة التحليق كالنسر

وقدرة الغوص على الدر … لعلني أظفر بالسر

في مجتلى الفتنة والسحر … من عالم الإلهام والشعر

من كل معنى معجز بكر … يومض مثل الأنجم الزهر

له شذا مثل شذا الزهر … أبقى على الدهر من الدهر
বিনতি

হে কাব্যের চমৎকারিত্বের অনুপ্রেরণাদাতা … হে অবিনশ্বর চিন্তার উদ্দীপক

হে যিকিরের মাঝে অলৌকিকত্ব আমানতকারী … হে সমুদ্রের মাঝে ভয় ও গাম্ভীর্যের স্রষ্টা

হে উষার মাঝে হাসির সঞ্চারকারী … হে অধরের মাঝে মোহনীয়তার স্রষ্টা

আমাকে দান করুন মুক্ত কবির কল্পনাশক্তি … এবং ঈগলের মতো উড্ডয়ন ক্ষমতা

এবং মুক্তা আহরণে ডুব দেওয়ার সামর্থ্য … যেন আমি সেই রহস্যের জয়লাভে সমর্থ হই

মোহনীয়তা ও জাদুর প্রকাশস্থলে … ইলহাম ও কবিতার জগৎ থেকে

প্রতিটি অলৌকিক ও অনন্য অর্থ থেকে … যা উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির মতো ঝিলিক দেয়

যার রয়েছে সুবাস, ফুলের সুবাসের ন্যায় … যা কালের চেয়েও দীর্ঘকাল স্থায়ী।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌إلى القاريء

يا قارىء يا صديق ديواني … يا ملهمي يا أداة إحساني

أنا لم أفكر في الذي صغه … من كل أشعاري وألحاني

حتى لمحك في خيالي سنى … قد شع في فكري ووجداني

وعرفت كنه سؤالك لي … عن غايتي من نظم أوزاني

فجعلت منك معين ملحمتي … وسماء إلهامي وإيماني

حسبك أني- قارئي- لم أجيء … بلفظه من غير إمعان

وكل بيت صيغ لم أحبه … مني الحياة دون إتقان

وكان حادي رحلتي ما دجا … من ليل آلامي وأحزاني

فإن أكن قصرت عن غايتي … ولم يفز بالحمد ديواني

ولم انل ما كنت أملته … في الشعر من حسن وإحسان

ولم أعد من طل سعي سوى … بمحض إفلاس وخسران

ولم تكن يا قارئي راضيا … عنه فحسبي بذل إمكاني
পাঠকের প্রতি

হে পাঠক, হে আমার কাব্যগ্রন্থের বন্ধু … হে আমার অনুপ্রেরণাদাতা, হে আমার সদাচরণের মাধ্যম

আমি যা কিছু রচনা করেছি তা নিয়ে ভাবিনি … আমার সকল কবিতা ও সুরের মাঝে

যতক্ষণ না আমার কল্পনায় তোমার জ্যোতির ঝলক উদ্ভাসিত হয়েছে … যা আমার চিন্তা ও সত্তায় বিচ্ছুরিত হয়েছে

আর আমি তোমার সেই প্রশ্নের মর্মার্থ বুঝতে পেরেছি … যা ছিল আমার ছন্দ রচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে

তাই আমি তোমাকেই আমার মহাকাব্যের উৎস করেছি … এবং আমার প্রেরণা ও বিশ্বাসের আকাশ বানিয়েছি

হে পাঠক, তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি আসিনি … গভীর চিন্তা ব্যতিরেকে কোনো শব্দ নিয়ে

আর প্রতিটি পঙ্‌ক্তি যা রচিত হয়েছে আমি তাকে গ্রহণ করিনি … যদি না তা নিপুণতার সাথে জীবন লাভ করে

আর আমার যাত্রাপথের সারথি ছিল সেই অন্ধকার … যা আমার বেদনা ও দুঃখের রজনী থেকে উদ্ভূত

যদি আমি আমার লক্ষ্য পানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হই … আর আমার কাব্যগ্রন্থটি প্রশংসিত না হয়

আর আমি যা আশা করেছিলাম তা যদি না পাই … কবিতার সৌন্দর্য ও সুষমার মাঝে

আর আমি যদি আমার এই অন্বেষা থেকে ফিরে আসি … কেবল রিক্ততা ও লোকসান নিয়ে

আর হে পাঠক, তুমিও যদি এর প্রতি সন্তুষ্ট না হও … তবে আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টাই আমার জন্য যথেষ্ট
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌البصائر تتكلم*

طال صمتي تحت أعباء ثقال … وعواد أخرست كل مقال

طال صمتي تحت أحداث جسام … عبر الكون بها طور انتقال

ظن عجزي في سكوتي وفشا … كل قيل - سيء القصد- وقال

وغدا الناس فريقين فذو … مقة يمحضني الود وقال

سوف يدرون بأني صارم … لم يزده غمده غير صقال

فانشطوا للعمل المجدي فها … قد نشطت اليوم من أسر عقالي

لم أحد عن سيرتي الأولى وإن … "طال صمتي تحت أعباء ثقال"

--------------------------------------------

*- نشرت بالعدد الأول من السلسلة الثانية من البصائر، وكانت تعطلت عن الصدور مدة طويلة- ثم صدر العدد الأول منها في 7 رمضان عام 1366هـ الموافق 25 جويلية 1947م.
আল-বাসায়ির কথা বলছে*

ভারী বোঝার নিচে দীর্ঘকাল আমার নীরবতা বজায় ছিল … এবং প্রতিকূলতা সব বক্তব্যকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল

গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনার নিচে আমার নীরবতা দীর্ঘায়িত হয়েছিল … যার মধ্য দিয়ে বিশ্ব এক পরিবর্তনকালীন ধাপ অতিক্রম করছিল

আমার নীরবতাকে আমার অক্ষমতা মনে করা হয়েছিল এবং ছড়িয়ে পড়েছিল … মন্দ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব কানাঘুষা ও রটনা

মানুষ দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল; একদল অনুরাগী যারা আমাকে অকৃত্রিম ভালোবাসা দিচ্ছিল, আর অন্যদল বিদ্বেষী

তারা অচিরেই জানতে পারবে যে আমি এক তীক্ষ্ণ তলোয়ার … যার খাপ তার দীপ্তি বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছুই করেনি

সুতরাং ফলপ্রসূ কাজের জন্য তৎপর হও, কারণ এই যে … আজ আমি আমার বন্ধনের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে তৎপর হয়েছি

আমি আমার পূর্বের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি, যদিও … "ভারী বোঝার নিচে দীর্ঘকাল আমার নীরবতা বজায় ছিল"

--------------------------------------------

*- আল-বাসায়ির-এর দ্বিতীয় সিরিজের প্রথম সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়েছিল, যা দীর্ঘকাল প্রকাশনা বন্ধ থাকার পর পুনরায় প্রকাশিত হয়। অতঃপর এর প্রথম সংখ্যাটি ১৩৬৬ হিজরির ৭ রমজান মোতাবেক ১৯৪৭ সালের ২৫ জুলাই প্রকাশিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌إلى المعلم

نشرت بالعدد السابع من السلسلة الثانية من البصائر ثم طبعت مع قصيدة "إلى التلميذ" المنشورة بعدها ووزعت على مدارس "جمعية العلماء" باقتراح من كاتبها العام الأستاذ "أحمد توفيق المدني".

 

هات من نشء الحمى خير عتاد … وادخرهم لغد جند جهاد!

هات نشئا صالحا يبني العلا … ويفك الضاد من أسر الأعادي

هاته نشئا قويا باسلا … إن دجا خطب يكن أول فاد!

حطه بالإسلام من كل أذى … واحمه بالخلق من كل فساد!

واهده بالعلم فالعلم سنى! … ومن القران زوده بزاد!

صغه للإسلام نبراس هدى … ومثالا من ذكاء واجتهاد!

سر به في طرق مأمونة … إن في كفيك امال البلاد

إن في كفيك بذرا فاسقه … من ينابيع المعالي فهو صاد

إن في يمناك جيلا فاهده … نهجه إنك للأجيال هاد!

إن في يمناك شعبا كاملا … يتنزى بين ظلم واضطهاد

لم يزل في القيد منهوك القوى … منذ ألقى للأعادي بالقياد

فرقت أهواؤه أجزاءه! … ويحه لم يلتجيء للاتحاد!

وتفشى كل داء قاتل … فيه من جهل سوء اعتقاد
শিক্ষকের প্রতি

এটি আল-বাসায়ের সাময়িকীর দ্বিতীয় সিরিজের সপ্তম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল, অতঃপর এর পরবর্তী "ছাত্রের প্রতি" কবিতার সাথে মুদ্রিত হয়েছিল এবং এর সাধারণ সম্পাদক উস্তাদ "আহমদ তাওফিক আল-মাদানি"-এর প্রস্তাবে "জমিয়াতুল উলামা"-এর স্কুলগুলোতে বিতরণ করা হয়েছিল।

 

মাতৃভূমির নবীনদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম সরঞ্জাম নিয়ে এসো … এবং আগামীর জিহাদের সৈনিক হিসেবে তাদের সঞ্চয় করে রাখো!

এমন এক সৎ প্রজন্ম গড়ে তোলো যারা মর্যাদা নির্মাণ করবে … এবং শত্রুদের বন্দিদশা থেকে আরবি ভাষাকে মুক্ত করবে!

তাকে এক শক্তিশালী ও সাহসী প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তোলো … যদি কোনো বিপদ ঘনীভূত হয়, তবে সে যেন প্রথম আত্মউৎসর্গকারী হয়!

ইসলামের মাধ্যমে তাকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করো … এবং চরিত্রের মাধ্যমে তাকে সকল কলুষতা থেকে বাঁচিয়ে রাখো!

তাকে জ্ঞান দিয়ে পথ প্রদর্শন করো, কারণ জ্ঞান হলো আলো! … আর কুরআন থেকে তাকে পাথেয় সরবরাহ করো!

তাকে ইসলামের জন্য হেদায়েতের প্রদীপ হিসেবে গড়ে তোলো … এবং মেধা ও পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বানাও!

তাকে নিরাপদ পথে নিয়ে চলো … কেননা তোমার দুই করপুটে রয়েছে দেশের আশা-ভরসা।

তোমার দুই হাতে রয়েছে একটি বীজ, একে সেচন করো … শ্রেষ্ঠত্বের ঝরনাধারা থেকে, কারণ সে তৃষ্ণার্ত।

তোমার ডান হাতে রয়েছে একটি প্রজন্ম, তাকে পথ দেখাও … তার সঠিক পথে, নিশ্চয়ই তুমি প্রজন্মের পথপ্রদর্শক!

তোমার ডান হাতে রয়েছে এক পূর্ণ জাতি … যা জুলুম ও নিপীড়নের মাঝে ছটফট করছে।

সে আজও শৃঙ্খলিত ও শক্তিহীন হয়ে আছে … যখন থেকে সে শত্রুদের হাতে নিজের লাগাম সঁপে দিয়েছে।

তার খেয়াল-খুশি তার অংশগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে! … হায় আফসোস, সে ঐক্যের আশ্রয় নেয়নি!

আর প্রতিটি প্রাণঘাতী ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে … তার মাঝে অজ্ঞতা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٥)
وصل الناس إلى غاياتهم … وهو في أسر جمود كالجماد

يا مربي النشء يا باني النهى … يا محل الحب من كل فؤاد!

قد إلى العلياء أبناء الحمى … وإلى تحريرهم كن خير حاد

لا تقل: شمس بني الضاد اختفت … وطوت أيامهم سود عواد!

إن ذوى النبت فإن البذر … باطن الأرض لينمو في ازدياد

لا تضق ذرعا ولا تهلك أسى … أمة الضاد ستحظى بالمراد
মানুষ তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে … অথচ সে জড় পদার্থের ন্যায় স্থবিরতার বন্দিশালায় পড়ে আছে

হে নতুন প্রজন্মের লালনকারী, হে প্রজ্ঞার নির্মাতা … হে প্রতিটি হৃদয়ের ভালোবাসার আধার!

স্বদেশের সন্তানদের উচ্চতার দিকে পরিচালিত করো … আর তাদের মুক্তির পথে হও সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক

বলো না যে: ‘দাদ’ এর সন্তানদের সূর্য অস্তমিত হয়েছে … আর ঘোর কালো বিপদ তাদের দিনগুলোকে গ্রাস করেছে!

যদি চারাগাছ শুকিয়েও যায়, তবে বীজ তো … মাটির গভীরে রয়ে যায় উত্তরোত্তর বৃদ্ধির তরে

হতাশ হয়ো না এবং শোকে মুহ্যমান হয়ে যেও না … ‘দাদ’ এর জাতি অচিরেই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সফল হবে
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌إلى التلميذ

لكفي كل حشى نبع وداد … يا رجاء الضاد يا ذخر البلاد

شعبك الموثق لم يبق له … من عتاد، فلتكن خيرعتاد

لج الاستعمار في طغيانه … كل يوم منه ألوان اضطهاد

لغة الضاد التي ما برحت … لغة الإعجاز سيمت بكساد!

دينك الإسلام في أوطانه … ناله المكروه من أيدي الأعادي

وطباع الخير في النشء ذوت … فتولى خلقه كل فساد!

وذوو المال لهم أفئدة أكباد … من جمود صورت أو من جماد!

سود من الشح فما! … لهم في الخير من بيض أياد!

فمتى تحمى حمى سيم الأذى … فعلى نشء الحمى كل اعتماد؟

ومتى تفدى بلادا طالما … ساسها أعداؤها فالحر فاد؟

كن لها في سلمها رمزعلا … كن لها في حربها جند جهاد

وامتثل أمر مربيك وكن! … قبسا من روحه شهم الفؤاد

اجعل العلم دليلا وهدى … إنما الجهل دجى والعلم هاد!

واقرإ القرآن واعرف هديه … إنه نهج فلاح وسداد!

"خالق الناس بخلق حسن " … فجمال الخلق عنوان الرشاد!
ছাত্রের প্রতি

তোমার জন্য প্রত্যেক হৃদয়ে রয়েছে ভালোবাসার ঝরনাধারা … হে দাদ-এর ভাষার (আরবি ভাষার) আশা, হে দেশের সম্পদ।

তোমার শৃঙ্খলিত জাতির কোনো সরঞ্জাম আর অবশিষ্ট নেই … তাই তুমিই হও তাদের শ্রেষ্ঠ সরঞ্জাম।

সাম্রাজ্যবাদ তার ঔদ্ধত্যে মেতে উঠেছে … প্রতিদিন তাদের পক্ষ থেকে আসে নানা ধরনের নিপীড়ন।

দাদ-এর ভাষা (আরবি ভাষা), যা চিরকাল মুজিজা বা অলৌকিকত্বের ভাষা … আজ তাকে অবহেলার শিকারে পরিণত করা হয়েছে!

তোমার দ্বীন ইসলাম তার আপন ভূখণ্ডে … শত্রুদের হাতের দ্বারা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের ভেতর থেকে সৎ স্বভাব বিলীন হয়ে গেছে … ফলে তাদের চরিত্রে সকল প্রকার কলুষতা জেঁকে বসেছে!

আর ধনীদের হৃদয়গুলো এমন … যেন তা জড়তা অথবা কোনো জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি!

কৃপণতায় সেগুলো কালো হয়ে গেছে! … কল্যাণের কাজে তাদের কোনো শুভ হাত (দানশীলতা) নেই!

কবে রক্ষা করা হবে সেই সংরক্ষিত ভূমিকে যাকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে … অথচ সেই ভূমির তরুণদের ওপরই তো সকল নির্ভরতা?

কবে সেই দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা হবে যাকে দীর্ঘকাল … তার শত্রুরা শাসন করেছে? অতএব স্বাধীন ব্যক্তিই তো উৎসর্গকারী।

শান্তির সময় তুমি দেশের জন্য হও উচ্চমর্যাদার প্রতীক … যুদ্ধের সময় তুমি হও তার জন্য জিহাদের সৈনিক।

তোমার শিক্ষকের আদেশ পালন করো এবং হও … তাঁর রূহের এক প্রদীপ্ত শিখা ও উদারচিত্ত।

জ্ঞানকে করো পথপ্রদর্শক ও দিশারি … নিশ্চয়ই অজ্ঞতা হলো অন্ধকার আর জ্ঞান হলো সুপথপ্রদর্শক!

কুরআন পাঠ করো এবং তার হিদায়াত বা নির্দেশনাকে জানো … নিশ্চয়ই তা সফলতা ও সঠিক পথের পন্থা!

"মানুষের সাথে উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মেলামেশা করো" … কেননা চরিত্রের সৌন্দর্যই হলো সঠিক পথের পরিচয়!
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٧)
خلطة الأشرار داء فابتعد … من أذاها وابق منها في حياد

واجتهد تدرك أمانيك فما … تدرك الآمال إلا باجتهاد.

وليكن حاديك تحرير الحمى! … إن نحرير الحمى للحر حاد!

هذه غايتك المثلى التي! … إن تحصلها تنل كل مراد!
পাপাচারীদের সংশ্রব একটি ব্যাধি, সুতরাং দূরে থাকো … তাদের অনিষ্ট হতে এবং তাদের থেকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকো।

আর কঠোর পরিশ্রম করো যাতে তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষাগুলো অর্জন করতে পারো, কারণ … কঠোর পরিশ্রম ব্যতীত আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয় না।

আর স্বদেশ রক্ষা করাই হোক তোমার চালিকাশক্তি! … নিশ্চয়ই স্বদেশের সুযোগ্য রক্ষকই হলো স্বাধীন মানুষের প্রকৃত চালক!

এটাই তোমার সেই সর্বোত্তম লক্ষ্য! … যদি তুমি তা অর্জন করতে পারো, তবে তুমি তোমার সকল অভিপ্রায় পূর্ণ করতে পারবে!
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌كشاف

ألقيت بملعب "بولغين " وأهديت إلى كشافة "لودادا" هناك، ونشرت بالعدد الثالث من البصائر في سلسلتها الثانية.

 

"كشاف " يا ابن الطبيعة … وابن الحقول البديعه

كن للبلاد دليل … كن في الجهاد طليعه

كن للجزائرعينا … ترى وأذنا سميعه!

خصومها لم يزالوا … يبيتون الخديعه!

صل حبل كل إخاء … واقطع حبال القطيعه

أعد بغر المساعي! … لابن البلاد ربيعه

أنهض أماني شعب! … غدت مناه صريعه

وخذ له غير وان! … حق الحياة جميعه

الفجر أبدى سناه! … لمجده ليذيعه!

لا يدرك المجد إلا … ساع خطاه سريعه!

ومن ونسى فمناه! … مثل السراب بقيعه!

كشاف أنت مثال! … من الخلال الرفيعه

لك النشاط شعار … والجد فيك طبيعه

وفيك حلم وعطف … على النفوس الوجيعه

وفيك رقة طبع … والصبر عند الفجيعه!
স্কাউট

এটি 'বুলঘিন' স্টেডিয়ামে আবৃত্তি করা হয়েছে এবং সেখানকার 'লুদাদা' স্কাউটদের উৎসর্গ করা হয়েছে, এবং আল-বাসায়ির-এর দ্বিতীয় সিরিজের তৃতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

 

"স্কাউট" হে প্রকৃতির সন্তান … এবং মনোরম প্রান্তরসমূহের সন্তান

দেশের জন্য পথপ্রদর্শক হও … সংগ্রামে অগ্রগামী দল হও

আলজেরিয়ার জন্য চক্ষু হও … যা দেখে, এবং শ্রবণকারী কর্ণ হও!

তার শত্রুরা অবিরাম … প্রতারণার জাল বুনে চলেছে!

ভ্রাতৃত্বের সকল বন্ধন যুক্ত করো … এবং বিচ্ছেদের সকল রশি ছিন্ন করো

উত্তম প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনো! … দেশবাসীর জন্য তাদের বসন্তকালকে

একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করো! … যার স্বপ্নগুলো আজ মৃতপ্রায়

অক্লান্তভাবে তার জন্য ছিনিয়ে আনো! … জীবনের সকল অধিকার

ভোর তার আলোকচ্ছটা প্রকাশ করেছে! … তার মহিমা প্রচার করার জন্য!

মহিমা লাভ করতে পারে না কেউ … দ্রুত পদক্ষেপে সচেষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত!

আর যে অলসতা করে, তার আকাঙ্ক্ষা! … মরুভূমির মরীচিকার ন্যায়!

স্কাউট, তুমি তো এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত! … উচ্চতর গুণাবলির

কর্মতৎপরতা তোমার স্লোগান … এবং পরিশ্রম তোমার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য

তোমার মাঝে রয়েছে ধৈর্য ও মমতা … ব্যথিত প্রাণগুলোর প্রতি

তোমার মাঝে আছে স্বভাবের কোমলতা … এবং বিপদের সময় অবিচল ধৈর্য!
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ١٩)
تهوى الجمال بريئا … تهوى الحياة وديعه

تهوى النسيم يحيي … ذرى الجبال المنيعه

"كشاف" ماضيك خصب … أوصيك أن لا تضيعه
তুমি নিষ্পাপ সৌন্দর্যকে ভালোবাসো … তুমি শান্ত জীবনকে ভালোবাসো

তুমি সেই সমীরণকে ভালোবাসো যা প্রাণ সঞ্চার করে … সুউচ্চ দুর্ভেদ্য পর্বতশৃঙ্গসমূহকে

হে "অনুসন্ধানী", তোমার অতীত অত্যন্ত সমৃদ্ধ … আমি তোমাকে অসিয়ত করছি যেন তুমি তা নষ্ট না করো
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌إلى الشاعر! *

قال لي الشيخ "محمد البشير الإبراهيمي ": إن محمد العيد قد سكت، وقد كتبت إليه مرات كثيرة ليعود إلى الشعر فلم يجب " فقلت له: "إن محمد العيد الذي لا ينطق إلا بالشعر لا ينطقه إلا الشعر، فدعني له أحرك شاعريته بالشعر، فكتبت إليه على صفحات الجريدة هذه القصيدة فلما قرأها كتب إلى الشيخ … يقول: هذا صوت يجب أن يجاب، وعاد إلى الشعر وبعث إلى الجريدة بالقصيدة التي مطلعها: "هيجت وجدي يا حمام "، جوابا على قيصيدتي:

إلى البلبل الذي ملأ جو الجزائر تغريدا شجيا ساحرا،

إلى الوتر الذي أسمع الدنيا أناشيد الحرية والبطولة والمجد،

إلى الشاعر الذي سكت،

إلى الرفيق الذي حجب وجهه وصوته

إلى شاعر الجزائر العظيم الشيخ "محمد العيد":

 

شاعر الضاد والحمى ما دهاكا … فحرمت النهى ثمار نهاك؟

ما الذي أسكت الهزار عن … التغريد يا ملهمي جعلت فداكا؟.

ما الذي عاق يا أخا الوحي … والإلهام عن أن تبثنا شكواكا!؟

كنث كالطائر الصدوح فما … تنفك يوما مرددا نجواكا!.

كنت لا تستطيع صبراعن الشعر فمن ذا بهجره أغراكا؟

كان نجواك، كان سلواك … إن نابك خطب وفي الهوى ليلاكا

--------------------------------------------

*- نشرت بعدد 61 من البصائر السلسلة الثانية بتاريخ 8 صفر عام 7631 للهجرة.
‌‌কবির প্রতি! *

শায়খ "মুহাম্মদ আল-বাশির আল-ইবরাহিমি" আমাকে বললেন: "নিশ্চয়ই মুহাম্মদ আল-ঈদ নীরব হয়ে গেছেন। আমি তাঁকে পুনরায় কবিতা রচনায় ফিরে আসার জন্য অনেকবার লিখেছি, কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি।" আমি তাঁকে বললাম: "নিশ্চয়ই মুহাম্মদ আল-ঈদ, যিনি কবিতা ছাড়া কথা বলেন না, কেবল কবিতাই তাঁকে কথা বলাতে পারে। সুতরাং আমাকে তাঁর জন্য সুযোগ দিন, আমি কবিতার মাধ্যমেই তাঁর কবিত্ব শক্তিকে জাগিয়ে তুলি।" অতঃপর আমি পত্রিকার পাতায় তাঁর উদ্দেশ্যে এই কবিতাটি লিখলাম। তিনি যখন এটি পাঠ করলেন, তখন শায়খের নিকট লিখে পাঠালেন … এবং বললেন: "এটি এমন এক কণ্ঠস্বর যার উত্তর দেওয়া আবশ্যক।" অতঃপর তিনি পুনরায় কবিতা রচনায় ফিরে এলেন এবং পত্রিকায় একটি কবিতা পাঠালেন যার প্রারম্ভিক পঙক্তি ছিল: "হে কপোত, তুমি আমার বিরহ-বেদনাকে জাগিয়ে তুলেছ", যা ছিল আমার কবিতার উত্তর:

সেই বুলবুলের প্রতি, যে আলজেরিয়ার আকাশকে সুমধুর ও মোহনীয় কলকাকলিতে পূর্ণ করে দিয়েছিল,

সেই সুরের মূর্ছনার প্রতি, যা বিশ্ববাসীকে স্বাধীনতা, বীরত্ব ও গৌরবের সংগীত শুনিয়েছিল,

সেই কবির প্রতি, যিনি নীরব হয়ে গেছেন,

সেই সঙ্গীর প্রতি, যিনি তাঁর চেহারা ও কণ্ঠস্বরকে আড়াল করে নিয়েছেন,

আলজেরিয়ার মহান কবি শায়খ "মুহাম্মদ আল-ঈদ"-এর প্রতি:

 

আরবি ভাষা ও স্বদেশের কবি! তোমার কী হয়েছে … যে তুমি মেধাকে তোমার প্রজ্ঞার ফল থেকে বঞ্চিত করলে?

হে আমার অনুপ্রেরণা! তোমাকে উৎসর্গ করছি, কোন জিনিসটি বুলবুলকে … গান গাওয়া থেকে বিরত করল?

হে ওহি ও প্রেরণার ভ্রাতা! কোন বাধা তোমাকে … আমাদের কাছে তোমার দুঃখের কথা ব্যক্ত করা থেকে বিরত রাখল?

তুমি ছিলে এক সুকণ্ঠী পাখির মতো, যে প্রতিদিন … অবিরাম তোমার হৃদয়ের আকুতি ঝরিয়ে যেতে!

তুমি তো কবিতা ছাড়া ধৈর্য ধারণ করতে পারতে না, তবে কে তোমাকে … কবিতা ত্যাগে প্রলুব্ধ করল?

এটিই ছিল তোমার নিভৃত আলাপ, এটিই ছিল তোমার সান্ত্বনা … যখনই কোনো বিপদ তোমাকে আচ্ছন্ন করত, আর প্রেমের ক্ষেত্রে এটিই ছিল তোমার লায়লা।

--------------------------------------------

*- ১৩৭৬ হিজরি সনের ৮ই সফর তারিখে আল-বাশায়ের পত্রিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ৬১তম সংখ্যায় প্রকাশিত।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢١)
كان دنياك كلها كيف لم … تشغلك عن كل شاغل دنياك!

قد خلت من صداك أندية … الشعر وملء الوجود كان صداكا

عجبا تستبيح صمتك يوما … ويد البغي تستبيح حماكا!

أيطيب السكوت والضاد في … شدة أسر لم تلق منه فكاكا؟

أإذا طاف بالجزائر ما حرك … حتى الجماد طاب كراكا؟!

أإذا أوشكت بلادك أن … تجني ثمارالمنى قطعت مناكا؟

كان حب الحمى هواك فلما … جد جد الحمى تركت هواكا!

شبها ثورة على الظلم وابعثها … حروبا على الطغاة دراكا!

قد شباب الحمى إلى المجد والعلياء … وأحثث إلى الجهاد خطاكا

ولتسجل لابن الجزائر سفرا! … من فخار وسؤدد يمناكا!

ولترتل في مسمع الدهر إنشادك … سحرا يغري النهى شفتاك

قدم الشعر رافقت قدم … الوحي فقم بث بالقريض هداكا

عد كما كنت شاديا فلماذا قد … حرمت الأسماع سحر غناكا؟
তোমার সমগ্র জগত এমনই ছিল যে, কেন তোমার দুনিয়া … তোমাকে তোমার দুনিয়ার সমস্ত ব্যস্ততা থেকে বিমুখ করল না!

কাব্যের আসরগুলো তোমার প্রতিধ্বনি থেকে … শূন্য হয়ে গেছে, অথচ অস্তিত্ব জুড়ে ছিল তোমারই প্রতিধ্বনি।

আশ্চর্যের বিষয় যে, তুমি একদিন তোমার নীরবতাকে বৈধ মনে করলে … অথচ অন্যায়ের হাত তোমার পবিত্র স্থানকে লুণ্ঠন করছে!

আরবি ভাষা যখন নিগূঢ় … বন্দিদশায় যার কোনো মুক্তি নেই, তখন কি নীরব থাকা শোভা পায়?

আলজেরিয়ায় যখন এমন বিষয়ের সঞ্চার হলো যা … জড়বস্তুকেও বিচলিত করল, তখনও কি তোমার নিদ্রা সুখকর হলো?!

যখন তোমার দেশ কামনার … ফল আহরণের নিকটবর্তী হলো, তখন কি তুমি তোমার প্রত্যাশা ছিন্ন করলে?

স্বদেশের প্রেমই ছিল তোমার আসক্তি, কিন্তু যখন … স্বদেশের সংগ্রাম ঘনীভূত হলো, তখন তুমি তোমার আসক্তি ত্যাগ করলে!

একে জুলুমের বিরুদ্ধে এক বিপ্লব হিসেবে প্রজ্জ্বলিত করো এবং … জালিমদের বিরুদ্ধে একে একের পর এক যুদ্ধে প্রেরণ করো!

স্বদেশের যুবকদের মর্যাদা ও উচ্চতার দিকে পরিচালিত করো … এবং জিহাদের পথে তোমার পদক্ষেপকে দ্রুততর করো।

আর তোমার ডান হাত যেন আলজেরিয়ার সন্তানের জন্য … গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের এক মহাকাব্য লিপিবদ্ধ করে!

আর তোমার ওষ্ঠদ্বয় যেন মহাকালের কর্ণে তোমার সেই আবৃত্তি … পাঠ করে যা বুদ্ধিকে মোহিত করার মতো যাদু।

কবিতার পা ওহীর … পায়ের সঙ্গী হয়েছে, অতএব দণ্ডায়মান হয়ে কাব্যের ছন্দে তোমার হেদায়েত প্রচার করো।

ফিরে এসো পূর্বের ন্যায় গায়ক হয়ে, তবে কেন … শ্রবণেন্দ্রিয়কে তোমার সুরের যাদু থেকে বঞ্চিত করলে?
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
و‌‌هذه قصيدة الشيخ محمد العيد:

‌‌هيجت وجدي

ناحت عليك سواجع الاطيار … مذ أسكتتك فواجع الأغيار

وتساءل الاصحاب عنك فكلهم … متطلعون لأصدق الأخبار

من لي بإقناع الرفاق فإنهم … لم يقنعوا بقواطع الأعذار؟

لم يبق لي في الشعر غير بضاعة … قد لا تروج بمعرض الأفكار

هيجت وجدى يا حمام بنغمة … علوية اللهوات والأوتار

هب لي هوى كهوى الشبيبة يانعا … أقضي به ما رمت من اوطار

ولي عن الصبوات عزمي مدبرا … ونبا عن الندوات والأشعار

وعدلت متئد الخطى عن رحلة … في طيها استهدفت للأخطار

وفقدت فيها المسعفين فلم اجد … سلوى سوى التسليم للأقدار

وجنحت للحرم الذي فارقته … زمنا جنوح الطير للأوكار

فاهتف بلحنك يا حمام ونل به … ما ناله داوود بالمزمار

وابلغ به ما انت اهل بلوغه … من فتنة الأسماع والأبصار

مهما شدوت أملت أغصان النقا … وأجبت بالتصفيق في الأنهار

وهفت لك الاكباد في أحشائها … مشدوهة من لحنك السحار
এবং‌‌এটি শেখ মুহাম্মদ আল-ঈদের কবিতা:

‌‌তুমি আমার ব্যাকুলতাকে জাগিয়ে তুলেছ

পাখিদের সুমিষ্ট কূজন তোমার বিরহে বিলাপ করেছে … যবে থেকে ভাগ্যের বিপর্যয় তোমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

বন্ধুরা তোমার সম্পর্কে একে অপরকে জিজ্ঞাসা করছে, তারা সকলেই … সত্য খবরের প্রতীক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছে।

সঙ্গীদের আশ্বস্ত করার সামর্থ্য কার আছে? কারণ তারা … অকাট্য কোনো ওজুহাতেই তুষ্ট হচ্ছে না।

কাব্যের ভাণ্ডারে যৎসামান্য পুঁজি ছাড়া আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই … যা হয়তো চিন্তার এই প্রদর্শনীতে সমাদৃত হবে না।

হে কপোত, তুমি কণ্ঠ ও তন্ত্রীর এক উচ্চাঙ্গ সুরের মাধ্যমে … আমার ব্যাকুলতাকে জাগিয়ে তুলেছ।

আমাকে যৌবনের সজীব অনুরাগের মতো অনুরাগ দান করো … যাতে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহ পূরণ করতে পারি।

যৌবনের চপলতা থেকে আমার সংকল্প মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে … আর কাব্য ও সাহিত্য সভা থেকে তা বিমুখ হয়ে পড়েছে।

আমি ধীর পদক্ষেপে এমন এক সফর থেকে ফিরে এসেছি … যার পরতে পরতে আমি বিপদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলাম।

সেখানে আমি সাহায্যকারীদের হারিয়েছি, তাই ভাগ্যের ফয়সালার কাছে আত্মসমর্পণ ছাড়া … আর কোনো সান্ত্বনা আমি খুঁজে পাইনি।

দীর্ঘকাল বিচ্ছেদের পর আমি সেই পবিত্র আলয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছি … যেভাবে পাখি তার নীড়ের দিকে ফিরে আসে।

হে কপোত, তুমি তোমার সুরেলা কণ্ঠে গেয়ে ওঠো এবং তা দিয়ে অর্জন করো … দাউদ (আ.) তাঁর বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে যা অর্জন করেছিলেন।

এর মাধ্যমে তুমি সেই শিখরে পৌঁছাও যার তুমি যোগ্য … যা শ্রবণ ও দৃষ্টিকে বিমোহিত করে দেয়।

যখনই তুমি গেয়ে ওঠো, বালুকাময় তটের শাখাগুলো নুয়ে পড়ে … আর নদীগুলো তালি বাজিয়ে সাড়া দেয়।

অন্তরসমূহ পাঁজরের ভেতর তোমার দিকে ধাবিত হয় … তোমার জাদুকরী সুরে তারা আজ বিস্ময়াভিভূত।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
في كونك المعطار كون منصت … فانشر صداك بروضك المعطار

واقصر مداك فذو السهام وإن غفا … مترصدا ابدا لذى المنقار

لا تلحني في الصمت اني أرتئي … أن الضمير أحق بالإضمار

أما الحمى فهواه بين جوانحي … يرغى ويزبد زاخر التيار

متدفقا كالموج لكن صنته … عن شاطئ الحمات والأكدار

إن الذي هو مضغة لحمية … خلق يفوق البحر في الأغوار

علق السماء وهام في عليائها … متنقلا كالكوكب السيار

القلب بيت الله فهو منزه … عن ان تطيف به يد (استعمار)

ولرب مغض بات في إغضائه … يقضان يرعى النجم في الأسحار

ويسامر الدنيا فما يدري امرؤ … ما دار بينهما من الأسمار

ويح ابن ادم من عواقب بغيه … وولوعه بالعيث والإضرار

ووثوقه بالنفس وهي كحية … رقطاء فيه خفية الأجحار

ورضاه في الأعمال عن حسناته … ولعل أكثرها من الأوزار

وتراه يلهج بالعزائم وهو في … أيدي الضروف يدار (كالبركار)

ويح العباد من العباد فجلهم … في نفرة أبدا وفي استنفار

مثل الوحوش وما تسلحهم سوى … بدع من الأنياب والأضفار

من أفدح الأشرار أن يقضى على … حرم الإلاه بغارة الأشرار
তোমার সুগন্ধিময় ভুবনে তুমি এক মনোযোগী শ্রোতা হও … অতএব তোমার সুগন্ধি উদ্যানে তোমার প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে দাও।

তোমার পরিধিকে সংক্ষেপ করো, কারণ তীরন্দাজ যদিও তন্দ্রাচ্ছন্ন হয় … সে সর্বদা চঞ্চুবিশিষ্ট শিকারের সন্ধানে ওত পেতে থাকে।

আমার নীরবতার জন্য আমাকে তিরস্কার করো না, কারণ আমি মনে করি … অন্তরাত্মা বা বিবেকই গোপন রাখার অধিক যোগ্য।

আর সংরক্ষিত অঞ্চলের (স্বদেশ) প্রতি ভালোবাসা আমার পাঁজরের মাঝে … উত্তাল স্রোতের ন্যায় ফেনিল ও গর্জনকারী।

ঢেউয়ের মতো প্রবহমান, কিন্তু আমি একে রক্ষা করেছি … পঙ্কিলতা ও কলুষতার তীর থেকে।

যা কেবল একটি মাংসপিণ্ড (হৃদয়), সেটি এমন এক সৃষ্টি … যা গভীরতায় সমুদ্রকেও হার মানায়।

এটি আসমানের সাথে সম্পৃক্ত এবং তার উচ্চতায় বিচরণশীল … পরিভ্রমণকারী গ্রহের ন্যায় স্থান পরিবর্তনকারী।

অন্তর হলো আল্লাহর ঘর, তাই এটি পবিত্র … কোনো (উপনিবেশবাদী) হাত একে স্পর্শ করা থেকে।

অনেক চক্ষু বন্ধকারী ব্যক্তি এমনভাবে রাত কাটায় … যেন সে জাগ্রত থেকে শেষ রাতে নক্ষত্ররাজি পর্যবেক্ষণ করছে।

সে দুনিয়ার সাথে নিভৃতে আলাপ করে, অথচ কোনো মানুষই জানে না … তাদের মাঝে কী কথোপকথন হয়েছে।

আদম সন্তানের দুর্ভোগ তার অবাধ্যতার পরিণতির জন্য … এবং বিপর্যয় ও অনিষ্ট সাধনে তার আসক্তির জন্য।

আর নিজের নফসের ওপর তার আস্থার জন্য, যা একটি ছোপযুক্ত সাপের মতো … যা তার ভেতরে গোপন গর্তে লুকিয়ে থাকে।

আমলের ক্ষেত্রে নিজের নেক কাজগুলোর ওপর তার সন্তুষ্টির জন্য … অথচ সম্ভবত তার অধিকাংশ কাজই পাপের বোঝা।

তুমি তাকে উচ্চ সংকল্পের কথা বলতে দেখবে, অথচ সে … পরিস্থিতির হাতের মাঝে (কম্পাসের ন্যায়) ঘুরতে থাকে।

বান্দাদের জন্য দুর্ভোগ অন্য বান্দাদের পক্ষ থেকে, কারণ তাদের অধিকাংশই … সর্বদা ঘৃণা ও বিমুখতার মাঝে লিপ্ত।

তারা হিংস্র পশুর মতো, আর তাদের অস্ত্রশস্ত্র কেবল … নখ ও দাঁতের নব উদ্ভাবিত রূপ।

এটি অতি ভয়ানক অনিষ্ট যে, ধ্বংস করা হয় … পাপাচারীদের আক্রমণের মাধ্যমে আল্লাহর পবিত্র সীমানাকে।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
إن الذي زعم العدالة شرعة … آذى (الائمة) في رضى (الأحبار)

ودهى العمومة في وشائج نسلها … وسطى على الأجوار بالإجوار

وأحل بالقانون جرما فادحا … وأذل دين الله للدينار

قل لابن صهيون اغتررت فلا تجر … إن ابن يعرب ناهض للثار!

أعرضت عن خطط السلام موليا … فوقعت منها في خطوط النار

لا تحسبن بأن صبحك طالع … فالبدر ويحك خاح للسار

سترى امانيك التي شيدتها … منهارة مع ركنك المنهار

القدس لابن القدس لا لمشرد … متصهين ومهاجر غدار

يا لجنة التقسيم حدت عن الهدى … وسخرت منه فبؤت بالإنكار
নিশ্চয়ই সে, যে ন্যায়বিচারকে তার বিধান বলে দাবি করেছে … সে যাজকদের সন্তুষ্টির জন্য ইমামদের কষ্ট দিয়েছে।

সে বংশীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনদের বিপদে ফেলেছে … এবং জুলুমের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের ওপর চড়াও হয়েছে।

সে আইনের মাধ্যমে গুরুতর অপরাধকে বৈধ করেছে … এবং মুদ্রার বিনিময়ে আল্লাহর দ্বীনকে লাঞ্ছিত করেছে।

সায়ন-সন্তানকে বলো যে তুমি প্রতারিত হয়েছ, তাই সীমালঙ্ঘন করো না … নিশ্চয়ই আরবের সন্তান প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত!

তুমি শান্তির পরিকল্পনা থেকে বিমুখ হয়ে প্রস্থান করেছ … ফলে তুমি যুদ্ধের অগ্নিরেখার মধ্যে নিপতিত হয়েছ।

তুমি মনে করো না যে তোমার বিজয়-প্রভাত উদিত হতে যাচ্ছে … হায় পরিতাপ! পূর্ণিমা তো পথচারীদের জন্যই উদ্ভাসিত হয়েছে।

তুমি শীঘ্রই তোমার সেই ইমারতসম আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে দেখতে পাবে … যা তোমার ধসে পড়া স্তম্ভের সাথেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

কুদস তো কুদসের সন্তানদের জন্য, কোনো বাস্তুচ্যুত … সায়নবাদী কিংবা বিশ্বাসঘাতক অভিবাসীর জন্য নয়।

হে বিভাজন কমিটি! তোমরা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছ … এবং তার সাথে উপহাস করেছ, ফলে তোমরা প্রত্যাখ্যানের ভাগিদার হয়েছ।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌جمعية العلماء أدت رسالتها

ألقيت في الاجتماع العام (لجمعية العلماء) بقاعة "الماجستيك".

الأطلس- ونشرت بالبصائر في 18 ذي القعدة الحرام 1366 للهجرة.

 

هذى الجزائر- لا خابت أمانيها- … قد وحدتها جراحات تعانيها

الظلم أيقظ أهلها بها وبنى … من ضعفها قوة لا العدل بانيها

وليس كالظلم يجدو أمة قعدت … عن العلا وببث العزم وانيها

فهات من شعرك العذب الجميل … وصغ أغنية لشجي النفس عانيها!

هات القوافي التي تزجي بسامعها … إلى الفداء وتغريه أغانيها!

هات الأغانى التي ألفاظها قبس … من الحياة والهام معانيها!

غن الجزائر أنغاما سماوية … حتى تميد بها سكرا معانيها

غن الجزائر واهتف للألى وقفوا … في وجه كل مغير من أعاديها!

واذكر جهود حماة الضاد إنهم … صانوا حماها وذادوا عن مباديها

يهنى "الجزائر" أن هبت كعاصفة، … تبني المعالي ولبت صوت داعيها

هبت مؤيدة بالله معلنة، … جهادها بعدما قد قام ناعيها

تقودها لأمانيها وغايتها، … "جمعية العلما"جلت مساعيها

"جمعية العلما" أدت رسالتها، … رغم العوادي ولم تبرح تؤديها!

لم تأل جهدا ولم تخضع لطاغية، … ولم تضق بأذى ممن يعاديها
জমিয়াতুল উলামা তার দায়িত্ব পালন করেছে

"ম্যাজেস্টিক" হলে অনুষ্ঠিত "জমিয়াতুল উলামা"র সাধারণ সভায় এটি পাঠ করা হয়।

আল-আটলাস - এবং এটি ১৮ই যিলকদ ১৩৬৬ হিজরিতে "আল-বাশায়ির" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

 

এই সেই আলজেরিয়া—তার আকাঙ্ক্ষাগুলো যেন ব্যর্থ না হয়— … যে যাতনা সে সহ্য করছে, তা-ই তাকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

জুলুম তার অধিবাসীদের জাগ্রত করেছে এবং … তার দুর্বলতা থেকে এমন এক শক্তি বিনির্মাণ করেছে যা ইনসাফও করতে পারত না।

জুলুমের মতো অন্য কিছুই সেই জাতিকে জাগাতে পারে না যারা … উচ্চমর্যাদা থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং অলসতায় যার সংকল্প শিথিল হয়েছে।

সুতরাং তোমার সুমিষ্ট ও সুন্দর কাব্য থেকে কিছু শোনাও … আর ব্যথিত ও বন্দি আত্মার জন্য একটি গান রচনা করো!

নিয়ে এসো সেই ছন্দমালা যা তার শ্রোতাকে … আত্মত্যাগের দিকে ধাবিত করে এবং যার সুর তাকে অনুপ্রাণিত করে!

নিয়ে এসো সেই সঙ্গীত যার শব্দাবলি জীবনের এক একটি স্ফুলিঙ্গ … আর যার অর্থগুলো এক মহান অনুপ্রেরণা!

আলজেরিয়ার তরে আসমানি সুরে গান গাও … যেন তার অর্থগুলোর মত্ততায় আলজেরিয়া দুলে ওঠে।

আলজেরিয়ার জয়গান গাও এবং তাদের জন্য উচ্চকণ্ঠ হও … যারা শত্রুদের প্রতিটি আক্রমণকারীর সামনে রুখে দাঁড়িয়েছে!

আর স্মরণ করো আরবি ভাষার রক্ষকদের প্রচেষ্টাকে, কারণ তারা … এর সীমানা রক্ষা করেছে এবং এর আদর্শসমূহকে হেফাযত করেছে।

আলজেরিয়া ধন্য যে সে ঝড়ের মতো জেগে উঠেছে, … সে উচ্চমর্যাদা বিনির্মাণ করছে এবং তার আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিয়েছে।

সে আল্লাহর সাহায্যে বলীয়ান হয়ে নিজের জিহাদ ঘোষণা করে জেগে উঠেছে, … যখন তার ধ্বংসের সংবাদ প্রচারকারীরা উদ্যত হয়েছিল।

তাকে তার আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্যের দিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে … "জমিয়াতুল উলামা", যার প্রচেষ্টা অত্যন্ত মহিমান্বিত।

"জমিয়াতুল উলামা" তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে, … সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এবং সে তা নিরন্তর পালন করে চলেছে!

সে প্রচেষ্টায় কোনো ত্রুটি করেনি এবং কোনো স্বৈরশাসকের কাছে মাথা নত করেনি, … আর শত্রুদের পক্ষ থেকে আসা কোনো কষ্টে সে দমে যায়নি।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌بوركت يا دار!

ألقيت في حفلة افتتاح "دار العلماء"- المركز العام- ونشرت بالعدد "54"

بالبصائر، في 22 ذى الحجة الحرام عام 1367 للهجرة.

 

بوركت يا دار لاحت لك أكدار! … فأنت معقل جنلى العلم يا دار

قد كنت حلما جميلا رف طائره … بالوهم حتى اجتلتك اليوم أنظار

قد كنت واجب شعب هب مندفعا … كالسيل تحدوه للأوطان أوطار

قد كنت حاجة نفس للعلا طمحت … فحققت حاجة في النفس أقدار

قد كنت فكرة بناء لأمته … واليوم أنت بناء ليس ينهار

وهكذا العزم لا تثنيه عادية … عن المضي ولا يطفيه إعصار!

عزم "البشير" أحال الضعف عاصفة … والعزم كالسيف للأخطار بتار

"جمعية العلماء" اليوم إن طفرت … نشوى فكم نالها من قبل أكدار!

قد هزها من وناها واستقل بها … نسر تعود خوض الجو جبار!

فاليوم نستقبل الدنيا بأفئدة … شعت بها من أماني المجد أنوار

واليوم نهتف بالبشرى مرددة … نشيدها الحلو أرجاء وأقطار

واليوم نفرغ للأعمال في ثقة … والكل للكل أعوان وأنصار!

نمضي لتحقيق غايات مقدسة … فيها يحاربنا باغ وغدار

سلاحنا الحق والإيمان قائدنا … وجندنا الصبر لا يعروه إدبار

"جمعية العلماء" اليوم قد وجدت … أداتها فلتسر لم تبق أعذار
হে গৃহ, তুমি বরকতপূর্ণ হও!

"দারুল উলামা"—কেন্দ্রীয় কার্যালয়—এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পঠিত এবং ১৩৬৭ হিজরি সনের ২২ যিলহজ্জ "আল-বাসায়ির" পত্রিকার ৫৪তম সংখ্যায় প্রকাশিত।

 

হে গৃহ, তুমি বরকতপূর্ণ হও, তোমার সামনে প্রতিকূলতা প্রকাশ পেয়েছে! … হে গৃহ, তুমি তো জ্ঞানের সৈনিকদের এক সুরক্ষিত দুর্গ।

তুমি ছিলে এক মনোরম স্বপ্ন যার পাখিটি কল্পনার ডানা ঝাপটাচ্ছিল … যতক্ষণ না আজ চাক্ষুষ দৃষ্টি তোমাকে প্রত্যক্ষ করল।

তুমি ছিলে এমন এক জাতির অর্পিত দায়িত্ব যারা প্লাবনের ন্যায় বেগে ধাবিত হয়েছে … যাদেরকে স্বদেশের লক্ষ্যসমূহ পরিচালিত করছে।

তুমি ছিলে উচ্চাকাঙ্ক্ষী আত্মার এক বিশেষ প্রয়োজন … অতঃপর তাকদীর অন্তরের সেই প্রয়োজন পূরণ করেছে।

তুমি ছিলে উম্মতের জন্য এক নির্মাতার চিন্তাপ্রসূত ভাবনা … আর আজ তুমি এক সুদৃঢ় অট্টালিকা যা কখনো ধসে পড়বে না।

দৃঢ় সংকল্প এমনই হয়, কোনো প্রতিকূলতা তাকে পথ চলা থেকে ফেরাতে পারে না … এবং কোনো ঘূর্ণিঝড় তাকে নিভিয়ে দিতে পারে না!

"বাশির"-এর সংকল্প দুর্বলতাকে প্রবল ঝড়ে রূপান্তরিত করেছে … আর দৃঢ় সংকল্প তো বিপদের মোকাবিলায় ধারালো তলোয়ারের মতো।

"জামঈয়াতুল উলামা" আজ যদি আনন্দে উদ্বেলিত হয় … তবে জেনে রেখো, অতীতে তারা কতই না দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছে!

তাকে তার স্থবিরতা থেকে জাগ্রত করেছেন এবং তাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন … এক পরাক্রমশালী ঈগল যে মহাশূন্যে বিচরণে অভ্যস্ত!

আজ আমরা এমন হৃদয়ে বিশ্বকে স্বাগত জানাচ্ছি … যাতে মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা থেকে আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হচ্ছে।

আজ আমরা সুসংবাদের ধ্বনি তুলছি যা সুমিষ্ট সংগীতের মতো … দিক-দিগন্তে বারংবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

আজ আমরা আস্থার সাথে কর্মে আত্মনিয়োগ করছি … যেখানে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সাহায্যকারী ও সহযোগী!

আমরা পবিত্র লক্ষ্যসমূহ অর্জনে এগিয়ে চলছি … যেখানে বিদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতকরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত।

আমাদের হাতিয়ার হলো সত্য এবং ঈমান আমাদের চালক … আর আমাদের সৈন্যবাহিনী হলো ধৈর্য, যাদের পিছু হটার কোনো অবকাশ নেই।

"জামঈয়াতুল উলামা" আজ তার কর্মপন্থা খুঁজে পেয়েছে … সুতরাং তারা এগিয়ে চলুক, এখন আর কোনো ওজর অবশিষ্ট নেই।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
فجر الحياة بدا في الأفق مؤتلقا … تهفو قلوب لمرآه وأبصار!

يا دار فيك جمال الفن قد ظهرت … آياته كل جزء فيه آثار!

وشى مبانيك فن من بنيك سما … كما توشي حواشي الروض أزهار

يا دار يهنيك ما تجنيه من ثمر! … فيك البلاد وللأعمال أثمار

يا دار فيك تعيد الضاد عزتها … وكل قلب به للضاد إكبار!

وفيك يبعث ماض طالما حييت … على مجانيه أجيال وأعصار

وتستعاد عكاظ فيك ثانية … بها تدوي أناشيد وأشعار

تفديك دور لغير الهدم ما بنيت … بل تفتديك من الأسواء أعمار

يفديك جيران سوء منك أكمدهم … جيش من السادة الأحرار جرار

غصوا بهم حنقا منهم ولا عجب … ليسوا بأول جيران لنا جاروا

يا فتية الضاد حان الوقت فاطرحوا … هذا الونى وانهضوا فالناس قد طاروا

سيرواعلى نهج آباء لكم سلفوا … فإنهم في طريق المجد قد ساروا

شقوا الزحام إلى العلياء واقتحموا … أخطارها إنما العلياء أخطار

اسعوا لتحيوا حياة العز أو فردوا … حوض الردى فالردى يمحى به العار

أرواح آبائكم في الخلد قد هتفت … تحرووا فجميع الناس أحرار
জীবনের প্রভাত দিগন্তে উজ্জ্বল হয়ে উদ্ভাসিত হয়েছে … হৃদয় ও দৃষ্টিসমূহ তার দর্শনের জন্য ব্যাকুল হয়!

হে আলয়, তোমার মাঝে শিল্পের সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে … যার প্রতিটি অংশে নিহিত রয়েছে নিদর্শন ও কীর্তিসমূহ!

তোমার সন্তানদের সুউচ্চ শিল্পকর্ম তোমার ভবনসমূহকে সুশোভিত করেছে … যেমন পুষ্পরাজি উদ্যানের প্রান্তসমূহকে সুসজ্জিত করে।

হে আলয়, তুমি যে ফল আহরণ করছ তার জন্য তোমাকে অভিনন্দন! … তোমার মাঝেই দেশ এবং কর্মসমূহের সার্থকতা নিহিত।

হে আলয়, তোমার মাঝে আরবী ভাষা তার হারানো গৌরব ফিরে পায় … আর প্রতিটি হৃদয়ে তার জন্য রয়েছে সুগভীর শ্রদ্ধা!

তোমার মাঝে সেই অতীত পুনর্জীবিত হয় যা দীর্ঘকাল বেঁচে ছিল … যুগ ও প্রজন্মসমূহ যার আঙিনায় বিচরণ করেছে।

তোমার মাঝে পুনরায় 'উকায' ফিরে আসে … যেখানে মুখরিত হয় সংগীত ও কাব্যের ঝঙ্কার।

সেইসব গৃহ তোমার জন্য উৎসর্গ হোক যা কেবল ধ্বংস হওয়ার জন্যই নির্মিত হয়েছে … বরং সকল অনিষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করতে জীবনসমূহ উৎসর্গিত হোক।

অনিষ্টকারী প্রতিবেশীরা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক যাদেরকে ব্যথিত করেছে … স্বাধীন মহৎ ব্যক্তিদের এক বিশাল বাহিনী।

তারা তাদের প্রতি প্রচণ্ড ক্রোধে রুদ্ধকণ্ঠ হয়েছে এবং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই … তারা আমাদের প্রথম প্রতিবেশী নয় যারা আমাদের প্রতি অবিচার করেছে।

হে আরবী ভাষার তরুণদল, সময় সমাগত, সুতরাং বর্জন করো … এই জড়তা এবং জেগে ওঠো, কেননা মানুষ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রদর্শিত পথে অগ্রসর হও … কারণ তাঁরা সম্মানের পথেই পরিচালিত হয়েছিলেন।

সুউচ্চ মর্যাদার পানে ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাও এবং মোকাবিলা করো … সকল বিপদের, কেননা উচ্চতা মানেই তো বিপদসঙ্কুল পথ।

মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের চেষ্টা করো নতুবা বরণ করে নাও … মরণসুধা, কেননা মৃত্যুর মাধ্যমেই গ্লানি মুছে যায়।

জান্নাতে তোমাদের পিতৃপুরুষদের রূহসমূহ উচ্চৈঃস্বরে বলছে … স্বাধীন হও, কারণ সকল মানুষই স্বাধীন।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌الصحراء! *

أصحراء أنت الكون بل أنت أكبر … ومرآك في عيني أبهى وأبهر!

بلى أنت دنيا لا تحد على المدى … إذا كانت الدنيا تحد وتحصر!

بلى أنت دنيا من هناء وغبطة … وصفو على الأيام لا يتكدر!

بلى أنت دنيا الوحي والشعر والحجى … فقلبي نشوان بحبك يطفر!

إذا بجمال البحر قد هام معشر … وأعجبهم منه محاسن تذكر

أهيم بمعنى فيك مهما اجتليته … تبدى لعيني دونه البحر يزخر

وإن شاقهم منه هدير مرجع، … فصمتك ذو صوت بأذني يهدر

وإن سكن الناس المدائن إنني … لجأت إلى سكنى بحضنيك يؤثر

وكيف أرى سكنى المدائن بعدما … رأيت بها ما يستذم وينكر

نفاق على كل الوجوه مخيم … وبغض على كل الجباه مسطر

وفوضى على رغم ادعاء حضارة … بها لم تدع شيئا يحب ويقدر

وسعي وراء العيش ليس بمنته … وهم على تحصيله ليس يفتر!

--------------------------------------------

* نشرت بالبصائر في 13 ذي الحجة الحرام 1366 للهجرة.
মরুভূমি! *

হে মরুভূমি! তুমিই মহাবিশ্ব, বরং তুমি তার চেয়েও বড় … আর আমার চোখে তোমার দৃশ্য অতি মনোরম ও অতি উজ্জ্বল!

হ্যাঁ, তুমি এমন এক জগৎ যা দিগন্তে সীমাবদ্ধ নয় … যদি দুনিয়া সীমাবদ্ধ ও সংকীর্ণ হয়েও থাকে!

হ্যাঁ, তুমি প্রশান্তি ও আনন্দের এক জগৎ … এবং দিনাতিপাতে এমন এক স্বচ্ছতা যা কখনো ঘোলাটে হয় না!

হ্যাঁ, তুমি ওহি, কবিতা এবং প্রজ্ঞার জগৎ … তাই আমার হৃদয় তোমার ভালোবাসায় মাতোয়ারা হয়ে উথলে উঠছে!

যদি কোনো সম্প্রদায় সমুদ্রের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় … আর তার বর্ণিত রূপমাধুর্য তাদের মুগ্ধ করে,

তবে আমি তোমার মাঝে এমন এক অর্থের প্রেমে মগ্ন যা আমি যখনই অবলোকন করি … তখন আমার চোখে উত্তাল সমুদ্রকেও তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়!

আর যদি সমুদ্রের গর্জন তাদের বিমোহিত করে, … তবে তোমার নিস্তব্ধতা আমার কানে এক গম্ভীর ধ্বনি হয়ে বাজে!

আর মানুষ যদি শহরে বসবাস করে, তবে আমি … তোমার কোলঘেঁষে থাকাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে আশ্রয় নিয়েছি!

আর আমি কীভাবে শহরে বসবাস করা সঙ্গত মনে করি, যখন আমি সেখানে … এমন সব বিষয় দেখেছি যা নিন্দনীয় ও গর্হিত!

সেখানে প্রতিটি মুখে নিফাক ডেরা গেড়েছে … আর প্রতিটি ললাটে বিদ্বেষের রেখা অঙ্কিত হয়েছে!

সভ্যতার দাবি সত্ত্বেও সেখানে এক চরম বিশৃঙ্খলা … যা ভালোবাসার বা মূল্যায়নের মতো কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি!

আর জীবিকার পেছনে সেখানে অন্তহীন এক দৌড় … এবং তা অর্জনের চিন্তায় কোনো বিরাম নেই!

--------------------------------------------

* ১৩ জিলহজ ১৩৬৬ হিজরিতে আল-বাসায়ের পত্রিকায় প্রকাশিত।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وإن قيل: في الصحراء جدب ووحشة … وحر غدت نيرانه تتسعر!

ففيها جلال يبهر العين شخصه … ولكن قليل من بمعناه يشعر

وفي أرضها شب الرسول محمد … ومن أفقها انبث الهدى يتفجر

أصحراء ضميني إليك فإنني! … -وحقك- من سكنى المدائن أضجر

أنا ابنك قد لقيت حبك ناشئا … وإني على ذا الحب لا أتغير

وشاعرك الباني علاك ومن غدا … بمجدك في الدنيا يتيه ويفخر!!
যদি বলা হয়: মরুভূমিতে রয়েছে শুষ্কতা ও নির্জনতা … এবং উত্তাপ যার অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে!

কিন্তু তাতে এমন এক গাম্ভীর্য রয়েছে যা চক্ষুকে ধাঁধিয়ে দেয় … তবে খুব অল্প সংখ্যক লোকই এর অন্তর্নিহিত অর্থ অনুভব করে।

আর এর ভূমিতেই রাসূল মুহাম্মদ বেড়ে উঠেছেন … এবং এর দিগন্ত থেকেই হিদায়াত বিচ্ছুরিত হয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

হে মরুভূমি, আমাকে তোমার বক্ষে টেনে নাও! কেননা আমি … —তোমার শপথ— নগরের আবাসে বিরক্ত হয়ে উঠেছি।

আমি তোমারই সন্তান, শৈশব থেকেই তোমার ভালোবাসা লাভ করেছি … আর আমি এই ভালোবাসার ক্ষেত্রে কখনো পরিবর্তিত হব না।

আর আমি তোমার সেই কবি যে তোমার মর্যাদা তুলে ধরে এবং যে ব্যক্তি … বিশ্বে তোমার গৌরব নিয়ে বিভোর থাকে ও গর্ববোধ করে!!
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌منجاة البحر! * (1)

هكذا قلت في الصحراء عندنا كنت أسكن الصحراء فلما انتقلت إلى الجزائر" العاصمة" وسكنت بحي "بولوغين"- سانت أوجين- قريبا من البحر لقيني صديقي الشاعر الشيخ محمد العيد فقال لي: من حق البحر عليك وقد أصبح جارك أن تقول فيه شيئا، حي الله الشيخ العيد فما أرق شعوره أنه يذكرنا بحق الجوار حتى مع البحر.

ولم تطل ساعة الاستجابة فقد أتيته في اليوم التالي وقلت له: "إن جار البحر قال في جاره شيئا"، وقرأت عليه القصيدة التالية:

 

ماذا بنفسك قد ألم … يا أيها البحرالخضم

نام الخلائق كلهم … وبقيت وحدك لم تنم

فالكون في صمت عميق … غير صوتك فهو لم …

والجو مؤتلق وفي … جنباته البدر ابتسم

وأرى العبوس على محياك … الجليل قد ارتسم

وأرى أنينك صارخا … كالرعد دوى في الأكم

وأراك كالمشفى يضج … من النسيم إذا ألم

فكأن موجك وهو … يعثر بالصخور إذا اصطدم

دمع جرى من موجع … فقد التصبر فانسجم!

يا بحر ما هذى الشكاة … ألست توصف بالعظم؟

ماذا التبرم بالحياة … كأنما أشجاك هم؟

*- نشرت بالبصائر والشهاب.
সমুদ্রের সাথে নিভৃত আলাপ! * (১)

আমাদের মরুভূমিতে থাকাকালীন আমি এমনটি বলেছিলাম। আমি যখন মরুভূমি থেকে রাজধানী আলজিয়ার্সে স্থানান্তরিত হলাম এবং সমুদ্রের নিকটবর্তী "বোলোগিন" (সেন্ট ইউজিন) এলাকায় বসবাস শুরু করলাম, তখন আমার বন্ধু কবি শেখ মুহাম্মদ আল-ঈদ আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: সমুদ্র এখন আপনার প্রতিবেশী, তাই তার প্রতি আপনার কর্তব্যের দাবি হলো আপনি তাকে নিয়ে কিছু বলুন। আল্লাহ শেখ আল-ঈদকে দীর্ঘজীবী করুন, তাঁর অনুভূতি কতই না সূক্ষ্ম যে, তিনি আমাদের সমুদ্রের সাথেও প্রতিবেশীসুলভ হকের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।

সাড়া দিতে খুব বেশি সময় লাগেনি; পরদিনই আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে বললাম: "সমুদ্রের প্রতিবেশী তার প্রতিবেশী সম্পর্কে কিছু বলেছে", এবং তাঁকে নিম্নোক্ত কবিতাটি পড়ে শোনালাম:

 

হে বিশাল সমুদ্র! তোমার অন্তরে এমন কী আপতিত হয়েছে যা তোমাকে পীড়িত করছে? …

সমস্ত সৃষ্টিজগৎ নিদ্রামগ্ন, অথচ তুমি একাই নির্ঘুম জেগে আছো …

মহাবিশ্ব এক গভীর নিস্তব্ধতায় নিমজ্জিত, কেবল তোমার কণ্ঠস্বর ছাড়া যা থামেনি …

পরিবেশ সমুজ্জ্বল এবং এর দিগন্তে পূর্ণিমা চাঁদ মুচকি হাসছে …

অথচ আমি তোমার মহিমান্বিত মুখমণ্ডলে বিষণ্ণতার ছাপ অঙ্কিত দেখছি …

আমি দেখছি তোমার আর্তনাদ চিৎকার করে উঠছে, যা পাহাড়ের চূড়ায় বজ্রধ্বনির মতো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে …

আমি তোমাকে দেখছি যেন এক আর্তনাদমুখর রুগ্ণ হৃদয়ের মতো, যা মৃদু বাতাসের পরশেও ব্যথিত হয় …

তোমার ঢেউগুলো যখন পাথরের গায়ে আছড়ে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়, তখন মনে হয় যেন— …

কোনো এক শোকাতুর ব্যক্তির অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে, যে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে এবং অঝোরে কাঁদছে! …

হে সমুদ্র! এই বিলাপ কিসের? তোমাকে কি বিশালতার গুণে গুণান্বিত করা হয় না? …

জীবনের প্রতি এই বিতৃষ্ণা কেন? যেন কোনো এক গভীর দুঃখ তোমাকে ব্যথিত করেছে? …

*- আল-বাসাইর ও আশ-শিহাব পত্রিকায় প্রকাশিত।
(খণ্ড: ١) দিওয়ানুশ শাইখ আহমাদ সাহনুন (পৃষ্ঠা: ٣١)
أتضيق ذرعا كابن … آدم بالوجود وما انتظم؟

ومن المعمر إذ طغى … كم أباد وكم هدم؟

أتضج من شرف يداس … ومن المسيطر إذ ظلم!

إتضج من حر يهان … ومن حقوق تهتضم؟

أتضج من جار يجود … ومن وضيع يحترم؟

أتضج من عبث السياسة … ومن أخ خان الذمم

إني حيالك واقف … فكرت فيك فلم أنم!

وسئمت من أرقي فجئت … إليك أطرح السأم!

فلعل منظرك الجميل … يذود عن قلبي الألم

وسماء وحي للأديب … حويت لمجتليك وكم حكم!

كم قد طويت من القرون … وكم محوت من الأمم

كم قد حويت من الرفات … وكم ضممت من الرمم

أفأنت تاريخ تضمن … ما جرى منذ القدم؟

دم مسترادا للحزين … وسلوة لذوي الألم

وسماء وحي للأديب … ومجتلى حسنا أتم!
তুমি কি আদম সন্তানের মতো অস্তিত্ব এবং এর সুশৃঙ্খল বিন্যাস নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছ? … অস্তিত্ব এবং এর সুশৃঙ্খল বিন্যাস নিয়ে?

আর সেই দীর্ঘজীবীকে নিয়ে, যে যখন সীমা লঙ্ঘন করেছে, … তখন সে কতটা বিনাশ আর কতটাই না ধ্বংস করেছে?

পদদলিত সম্মান আর জালেম শাসকের অত্যাচারে … তুমি কি আর্তনাদ করছ!

লাঞ্ছিত স্বাধীন মানুষ আর লুণ্ঠিত অধিকারের কারণে … তুমি কি বিচলিত?

তুমি কি বিচলিত কোনো দানশীল প্রতিবেশী … আর কোনো নীচ ব্যক্তির সম্মানপ্রাপ্তি দেখে?

রাজনীতির অর্থহীন খেলা আর আমানত খেয়ানতকারী … কোনো ভাইয়ের আচরণে কি তুমি ক্ষুব্ধ?

আমি তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি; … তোমার ভাবনায় বিভোর হয়ে আমি ঘুমাতে পারিনি!

নিজের অনিদ্রায় বিরক্ত হয়ে আমি তোমার কাছে এসেছি … ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে!

সম্ভবত তোমার এই সুন্দর দৃশ্য … আমার অন্তর থেকে বেদনা দূর করে দেবে।

সাহিত্যিকের জন্য তুমি এক প্রেরণার আকাশ; … যে তোমাকে দেখে তার জন্য তুমি কতই না প্রজ্ঞা ধারণ করে আছ!

তুমি কত শতাব্দী অতিক্রম করেছ … আর কত জাতিকে বিলুপ্ত করে দিয়েছ!

কত মানুষের দেহাবশেষ তুমি ধারণ করেছ … আর কত জীর্ণ হাড়কে তুমি নিজের বুকে ঠাঁই দিয়েছ!

তবে তুমি কি সেই ইতিহাস, যা অনাদিকাল থেকে … ঘটে যাওয়া সবকিছুকে নিজের ভেতর আগলে রেখেছে?

দুঃখীদের আশ্রয়স্থল আর ব্যথিতদের সান্ত্বনা হয়ে … তুমি চিরকাল টিকে থাকো।

সাহিত্যিকের জন্য এক প্রেরণার আকাশ … আর পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্যের এক পরম লীলাভূমি!