(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: -)
الميسر في علم تخريج الحديث النبوي   (عبد القادر المحمدي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الميسر في علم تخريج الحديث النبوي

المؤلف: أبو ذر عبد القادر بن مصطفى بن عبد الرزاق المحمدي

الناشر: بحث منشور في مجلة جامعة الأنبار 2010م.

عدد الصفحات: 101

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 شوّال 1433

নবীজির হাদিস তাখরিজ (تخريج الحديث) শাস্ত্রের সহজ পাঠ   (আব্দুল কাদির আল-মুহাম্মাদী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: আল-মুয়াসসার ফি ইলমিত তাখরিজিল হাদিসিন নাবাবি

লেখক: আবু যার আব্দুল কাদির বিন মুস্তফা বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-মুহাম্মাদী

প্রকাশক: আনবার ইউনিভার্সিটি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ শাওয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة

إنّ الحمد لله نحمده ونستعينه، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله أما بعد:

فقد طلب مني بعض الأخوة الأفاضل أن أكتب محاضرات في مادة علم تخريج الحديث النبوي، لطلاب قسم الحديث في الجامعة الإسلامية ببغداد، فعقدت العزم بعد التوكل على الله تعالى وشرعت بكتابة محاضرات فيها بعبارة سهلة تيسر على الطالب الاستفادة منها عملياً إن شاء الله تعالى، إذ الغالب في البحوث التي تعرضت لهذا العنوان غلبت عليها الدراسة الوصفية النظرية، فأردت في هذه العجالة تيسير عرضه على الطلبة ولا سيما بعد ضعف الهمة في طلب العلم وقصور الطالبين على المختصرات حتى بلغ ببعض من تخصص في الحديث في الدراسات العليا أن يكتفي في دراسة الإسناد بعزو الحديث إلى مصدر أو مصدرين ويسميه تخريجاً!

ومما دفعني أكثر إلى كتابة هذا البحث ما رأيت من بعض المشتغلين -اليوم- بالحديث النبوي وتحقيقه من تخبط في تخريج الحديث أو قصور فيه، ومنهم من يظن أنّ الحكم على الإسناد هو عملية رياضية (1+1=2)، فيعمد إلى تقريب التهذيب للحافظ ابن حجر العسقلاني ثم يدرس رجال الإسناد: فإن كانوا ثقاتاً قال: صحيح، وإن كانوا صدوقين أو فيهم صدوق قال: حسن، وإن كان فيه ضعيف قال ضعيف! من دون الرجوع إلى دواوين العلل والرجال، وهذا غلط محض، وقد صُحِّحتْ عشرات بل مئات الأحاديث بناءً على هذه الطريقة، ولو فتشت عن هذه الأحاديث بتأنٍّ في كتب العلل لوجدتها هناك ولا أرى يخلص منها إلا مثل همل النعم.

وإن تعجب فعجب من أولئك الذين يُخطِّئون أئمة النقد الجهابذة، ويردون كلامهم وأحكامهم بفهم معوج لقواعد مصطلح الحديث، أو يحاكمونهم على وفق قواعد المتأخرين! وكم من مرة تقرأ مثل ذلك هنا أو هناك، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، فأردت في هذا البحث -المتواضع- إرشاد طلبتنا الأعزاء والأخوة الباحثين بأيسر العبارة، دون غوص في تفرعات الموضوع، كما وجدته في كثيرٍ من البحوث التي تحدثت عن التخريج
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর:

আমার কিছু সম্মানিত দ্বীনি ভাই বাগদাদের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য 'হাদিস চয়ন ও উৎস অনুসন্ধান' (تخريج) বিষয়ের ওপর কিছু বক্তৃতামালা প্রস্তুত করতে অনুরোধ করেছেন। তাই আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে সংকল্প করেছি এবং সহজ ভাষায় এ বিষয়ে বক্তৃতা লিখতে শুরু করেছি, যাতে শিক্ষার্থীরা ইনশাআল্লাহ এর থেকে ব্যবহারিকভাবে উপকৃত হতে পারে। কারণ এই শিরোনামে রচিত অধিকাংশ গবেষণাপত্রে কেবল বর্ণনামূলক ও তাত্ত্বিক আলোচনার প্রাধান্য দেখা যায়। তাই আমি এই সংক্ষিপ্ত রচনায় শিক্ষার্থীদের সামনে বিষয়টি সহজভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি; বিশেষ করে বর্তমানে ইলম অর্জনে আগ্রহের অভাব এবং ছাত্রদের কেবল সংক্ষিপ্তসারগুলোর ওপর নির্ভর করার প্রবণতা দেখে। এমনকি উচ্চতর গবেষণায় হাদিস নিয়ে বিশেষায়িত কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায় যে, তারা সনদ (إسناد) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে হাদিসটিকে কেবল একটি বা দুটি উৎসের দিকে সম্বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয় এবং তাকেই উৎস অনুসন্ধান (تخريج) বলে অভিহিত করে!

এই গবেষণাটি লিখতে আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে বর্তমান সময়ে হাদিস চর্চা ও এর সম্পাদনার (تحقيق) কাজে নিয়োজিত কিছু ব্যক্তির মধ্যে হাদিস চয়ন ও উৎস অনুসন্ধানে (تخريج) বিভ্রান্তি বা অসম্পূর্ণতা। তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, সূত্রের (إسناد) ওপর হুকুম লাগানো একটি গাণিতিক প্রক্রিয়ার (১+১=২) মতো। তারা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির তাকরিবুত তাহজিব গ্রন্থটির আশ্রয় নেন এবং সূত্রের বর্ণনাকারীদের (رجال) পর্যালোচনা করেন: যদি তারা নির্ভরযোগ্য (ثقات) হন, তবে তারা বলেন: বিশুদ্ধ (صحيح); যদি তারা সত্যবাদী (صدوق) হন বা তাদের মধ্যে কোনো সত্যবাদী (صدوق) থাকেন, তবে বলেন: উত্তম (حسن); আর যদি তাতে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী থাকে, তবে বলেন দুর্বল (ضعيف)! অথচ তারা সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) এবং বর্ণনাকারী (رجال) বিষয়ক মূল গ্রন্থগুলোর দিকে ফিরেও তাকান না। এটি একটি স্পষ্ট ভুল। এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে দশ দশটি নয় বরং শত শত হাদিসকে বিশুদ্ধ (صحيح) বলা হয়েছে; অথচ আপনি যদি সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে ধৈর্যের সাথে এই হাদিসগুলো অনুসন্ধান করেন, তবে সেগুলোকে সেখানেই (ত্রুটিযুক্ত হিসেবে) পাবেন। আমার মনে হয় খুব অল্প সংখ্যক হাদিসই এই ত্রুটি থেকে রক্ষা পায়।

আর যদি আপনি আশ্চর্য হতে চান, তবে তাদের দেখে আশ্চর্য হোন যারা বিজ্ঞ সমালোচক (نقد) ইমামগণকে ভুল সাব্যস্ত করেন এবং হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার (مصطلح الحديث) নিয়মাবলীর বিকৃত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাঁদের কথা ও সিদ্ধান্তগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন, অথবা পরবর্তীকালের আলেমদের নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের বিচার করেন! আপনি কতবার যে এখানে-সেখানে এমনটি পড়তে পাবেন! মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। তাই আমি এই বিনম্র গবেষণায় আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থী ও গবেষক ভাইদের সহজতম ভাষায় দিকনির্দেশনা দিতে চেয়েছি, যাতে বিষয়ের শাখা-প্রশাখায় খুব বেশি না ডুবেও মূল কথাগুলো বোঝা যায়, যেমনটি আমি উৎস অনুসন্ধান (تخريج) নিয়ে রচিত অনেক গবেষণাপত্রে দেখেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩)
،بحيث أرهق البحث بتفريعات كثيرة هي مفيدة ومهمة ولكنها قد تحير الباحث المبتدئ، لذا حاولنا ههنا التركيز على الجانب التطبيقي منه أكثر من الجانب النظري، وقد انتفعت مما كتبه الأخوة والأساتذة في هذا الميدان، وحاولت تسهيل الأمر على طلبتنا الأعزاء بطريقة ميسرة، وحاولت فتح الباب أمامهم للولوج في هذا العلم، معتذرا عن أي قصور وقع في بعض مباحثه، فإن وفقت فمن الله وحده وإن كانت الأخرى فمن نفسي والشيطان. والحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا وعلى آله وصحبه أولاً وآخراً.

...যাতে গবেষণাটি এমন অনেক উপ-শাখায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে যা উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন শিক্ষানবিশ গবেষককে বিভ্রান্ত করতে পারে; তাই আমরা এখানে এর তাত্ত্বিক দিকের চেয়ে প্রায়োগিক দিকের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি এই ক্ষেত্রে ভ্রাতৃবৃন্দ ও শিক্ষকগণের রচনাবলি থেকে উপকৃত হয়েছি এবং আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি সহজ পদ্ধতিতে সহজবোধ্য করার প্রয়াস পেয়েছি। আমি এই জ্ঞানে প্রবেশের নিমিত্তে তাঁদের সামনে একটি দ্বার উন্মোচনের চেষ্টা করেছি এবং এর কোনো কোনো আলোচনায় (مباحث) সংঘটিত ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি অন্যথা হয় তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আদি-অন্ত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪)
المُيَسّر

في علم تخريج الحديث النبوي

 

بقلم

الدكتور عبد القادر مصطفى المحمدي

الأستاذ المساعد في قسم الحديث -كلية أصول الدين

1431هـ-2010م
আল-মুয়াসসার

নবীজির হাদিসের উৎস নির্ণয় (تخريج) বিদ্যা প্রসঙ্গে

 

লেখনীতে

ডক্টর আব্দুল কাদির মুস্তফা আল-মুহাম্মাদী

সহকারী অধ্যাপক, হাদিস বিভাগ - উসুল আদ-দীন অনুষদ

১৪৩১ হিজরি-২০১০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الفصل الأول

الدراسة النظرية لعلم تخريج الحديث

‌‌المبحث الأول

تعريف التخريج وفوائده

‌‌المطلب الأول: تعريف التخريج لغة واصطلاحاً:

التخريج: لغة: خَرَجَ خُرُوجاً " نقيض دَخَلَ دُخُولاً " ومَخْرَجاً " بالفتح مَصدرٌ أَيضاً فهو خارِجٌ وخَرُوجٌ وخَرَّاجٌ وقد أَخْرَجَه وخَرَجَ به. والمخرج: موضع الخروج .. ِوخَرَّجَ فلانٌ عَمَله إِذا جعله ضروباً يخالف بعضه بعضا (1).

وفي الاصطلاح:

من يتتبع صنيع المحدثين الأقدمين يجد أنّ معنى التخريج عندهم إذا أطلق إنما يريدون به: ما ينتقيه الراوي لنفسه من أصول سماعاته من أحاديث شيوخه.

وقد يكون هذا الانتقاء مرتباً على أسماء مشايخه بحسب حروف المعجم وحينئذٍ يسمى معجماً، أو يكون حسب الأقدم من شيوخه وهذا يسمونه (مشيخة)،أو يرتب بشكل فوائد منتقاة عشوائياً بغير ترتيب، وحينئذٍ يسمى (فوائد) .. وهكذا (2).

وأحياناً يعسر على الراوي ذلك (التخريج) فيستعين ببعض أقرانه (زملائه) ممن يحسن ذلك.

--------------------------------------------

(1) ينظر: لسان العرب ابن منظور مادة (خرج) 2/ 249،وينظر مادة (خرج) في القاموس المحيط، الفيروز آبادي 1/ 238،،وتاج العروس، الزبيدي 4/ 158،ومختار الصحاح، الرازي ص196.

(2) ينظر: تحرير علوم الحديث، عبد الله الجديع 2/ 734،وكيف ندرس علم التخريج، الدكتور حمزة المليباري والدكتور سلطان العكايلة ص 16.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

হাদিস তাখরিজ (تخريج) বিদ্যার তাত্ত্বিক আলোচনা

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ

তাখরিজের (تخريج) সংজ্ঞা ও এর উপকারিতা

‌‌প্রথম অন্বেষণ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাখরিজের (تخريج) সংজ্ঞা:

তাখরিজ (تخريج): আভিধানিক অর্থে: ‘খারাজা’ (خَرَجَ) ‘খুরুজান’ (خُرُوجاً) যা ‘দাখালা’ (دَخَلَ) ‘দুখুলান’ (دُخُولاً)-এর বিপরীত। ‘মাখরাজান’ (مَخْرَجاً) ফাতহা যোগে এটিও একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ নির্গত হওয়া; এর কর্তৃবাচক শব্দ হলো ‘খারিয’ (خارِجٌ), ‘খারুজ’ (خَرُوجٌ) এবং ‘খাররাজ’ (خَرَّاجٌ)। বলা হয়, ‘সে তাকে বের করেছে’ (أَخْرَجَه) এবং ‘সে তাকে নিয়ে বের হয়েছে’ (خَرَجَ به)। ‘মাখরাজ’ (المخرج) বলতে বের হওয়ার স্থানকে বোঝায়। আর বলা হয় ‘অমুক তার কাজকে খরাজা (خَرَّجَ) করেছে’ তখন, যখন সে সেটিকে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করে যার একটি অন্যটির থেকে ভিন্ন হয় (১)।

পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে:

প্রাচীন মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি যারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তারা দেখতে পাবেন যে, তাদের নিকট সাধারণভাবে তাখরিজ (تخريج) বলতে যা বোঝায় তা হলো: বর্ণনাকারী (راوي) তার শায়খদের নিকট থেকে শোনা হাদিসসমূহের মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নিজের জন্য যা নির্বাচন (انتقاء) করেন।

এই নির্বাচন (انتقاء) কখনো তার শায়খদের নামের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে হতে পারে, সেক্ষেত্রে একে ‘মু’জাম’ বলা হয়। অথবা এটি শায়খদের জ্যেষ্ঠতার বিন্যাস অনুযায়ী হতে পারে যাকে তারা ‘মাশইয়াখাহ’ (مشيخة) বলে অভিহিত করেন। আবার কখনো কখনো কোনো বিন্যাস ছাড়াই উদ্দেশ্যহীনভাবে নির্বাচিত হাদিসসমূহের সংগ্রহ হতে পারে, সেক্ষেত্রে তাকে ‘ফাওয়ায়িদ’ (فوائد) বলা হয়... এভাবেই চলতে থাকে (২)।

কখনো কখনো বর্ণনাকারীর (راوي) জন্য এই তাখরিজ (تخريج) করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তিনি তার সমসাময়িক (أقران) সহকর্মীদের (زملاء) মধ্যে যারা এ বিষয়ে দক্ষ তাদের সাহায্য গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লিসানুল আরব, ইবন মানজুর, ‘খা-রা-জা’ (خرج) অনুচ্ছেদ, ২/২৪৯; এবং দেখুন আল-কামুসুল মুহিত, ফিরোজাবাদি, ‘খা-রা-জা’ (خرج) অনুচ্ছেদ, ১/২৩৮; তাজুল আরুস, জাবিদি, ৪/১৫৮; মুখতারুস সিহাহ, রাজি, পৃষ্ঠা ১৯৬।

(২) দেখুন: তাহরির উলুমিল হাদিস, আবদুল্লাহ আল-জুদিই, ২/৭৩৪; কাইফা নাদরুসু ইলমাত তাখরিজ, ড. হামজাহ আল-মালিবারি ও ড. সুলতান আল-আকাইলাহ, পৃষ্ঠা ১৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২)
قال الخطيب:" وإن لم يكن الراوي من أهل المعرفة بالحديث وعلله واختلاف وجوهه وطرقه وغير ذلك من أنواع علومه فينبغي له أن يستعين ببعض حفاظ وقته في تخريج الأحاديث التي يريد إملاءها قبل يوم مجلسه فقد كان جماعة من شيوخنا يفعلون ذلك فمنهم أبو الحسين بن بشران كان محمد بن أبي الفوارس يخرج له الإملاء … " (1).

وفي هذا يقول الحافظ السخاوي: "التخريج: إخراج المحدث الأحاديث من بطون الأجزاء والمشيخات والكتب ونحوها وسياقها من مرويات نفسه، أو بعض شيوخه أو أقرانه، أو نحو ذلك، والكلام عليها وعزوها لمن رواها من أصحاب الكتب والدواوين مع بيان البدل والموافقة ونحوهما مما سيأتي تعريفه. وقد يتوسع في إطلاقه على مجرد الإخراج، والتصنيف، والعزو وجعل كل صنف على حده" (2).

وأما عند المعاصرين فعرفه الغماري:"عزو الأحاديث التي تذكر في المصنفات مطلقة غير مسندة ولا معزوة إلى كتاب أو كتب مسندة، إما مع الكلام عليها تصحيحاً وتضعيفاً وداً وقبولاً وبيان ما فيها من علل، وإما بالاقتصار على العزو إلى الأصول" (3).

وعرفه الدكتور محمد أبو شهبة:" عزو الأحاديث إلى من ذكرها في كتابه من الأئمة وبيان درجتها من الصحة أو الحسن أو الضعف" (4).

وعرفه الدكتور محمود الطحان فقال:" هو الدلالة على موضع الحديث في مصادره الأصلية التي أخرجته مع بيان درجته صحة أو ضعفاً عند الحاجة إلى ذلك" (5).

--------------------------------------------

(1) الجامع لأخلاق الراوي 2/ 88.

(2) فتح المغيث 2/ 372.

(3) حصول التفريج بأصول التخريج ص21.

(4) حاشية كتاب الوسيط في علوم ومصطلح الحديث ص 353.

(5) أصول التخريج ودراسة الأسانيد ص 10.
আল-খতিব বলেন: "বর্ণনাকারী (راوي) যদি হাদিস, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة), এর পাঠের বিভিন্নতা ও সনদ (طرق) এবং হাদিস বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা সম্পর্কে অভিজ্ঞ না হন, তবে তার উচিত তার মজলিসের নির্ধারিত দিনের পূর্বেই তার সমসাময়িক কোনো হাফিজের নিকট থেকে সেই হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخريج) করার বিষয়ে সাহায্য নেওয়া, যা তিনি ইমলা (إملاء) করাতে চান। আমাদের অনেক শায়খই এটি করতেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন আবুল হোসেন বিন বুশরান; মুহাম্মদ বিন আবিল ফাওয়ারিস তার জন্য ইমলার হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخরিজ) করে দিতেন..." (১)।

এ প্রসঙ্গে হাফিজ সাখাভি বলেন: "তাখরিজ (تخريج) হলো: একজন মুহাদ্দিস কর্তৃক বিভিন্ন জুয (أجزاء), মাশয়াখাত (مشيخات), কিতাব ও অনুরূপ উৎসগুলো থেকে হাদিস বের করা এবং সেগুলোকে নিজের বর্ণনা কিংবা তার কোনো শায়খ বা সমসাময়িক কারো বর্ণনাসূত্র থেকে উদ্ধৃত করা। একই সাথে হাদিসগুলোর ওপর আলোচনা করা এবং মূল কিতাব ও সংকলনসমূহের রচয়িতাদের দিকে সেগুলো সম্বন্ধ করা (عزو); সেই সঙ্গে বদল (بدل), মুয়াফাকাত (موافقة) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় বর্ণনা করা, যা সামনে সংজ্ঞায়িত করা হবে। কখনও কখনও ব্যাপক অর্থে তাখরিজ (تخريج) শব্দটি কেবল হাদিস বের করা, শ্রেণীবিন্যাস করা, মূল কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করা (عزو) এবং প্রত্যেক প্রকারকে আলাদা করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়" (২)।

আর বর্তমান যুগের আলিমদের মাঝে আল-গুমারি একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "মুসান্নাফগুলোতে সনদবিহীন ও কোনো কিতাবের সাথে সম্বন্ধহীনভাবে উল্লিখিত হাদিসগুলোকে এক বা একাধিক সনদযুক্ত কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করা (عزو); হয় সেই হাদিসগুলোর ওপর সহিহ (صحيح), জইফ (ضعيف), বর্জনীয় (رد) বা গ্রহণযোগ্য (قبول) হওয়ার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি সেগুলোর সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) বর্ণনা করার মাধ্যমে, অথবা কেবল মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করার (عزو) মাধ্যমে" (৩)।

ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: "হাদিসকে সে সকল ইমামদের দিকে সম্বন্ধ করা (عزو) যারা এটি নিজ কিতাবে উল্লেখ করেছেন, এবং সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) অথবা জইফ (ضعيف) হওয়ার বিচারে হাদিসের মান বর্ণনা করা" (৪)।

ডক্টর মাহমুদ তাহহান বলেন: "এটি হলো হাদিসের মূল উৎসগুলোর অবস্থান নির্দেশ করা যা থেকে এটি সংগৃহীত হয়েছে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে হাদিসটি সহিহ (صحيح) নাকি জইফ (ضعيف) তা বর্ণনা করা" (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আখলাকির রাবি ২/ ৮৮।

(২) ফাতহুল মুগিস ২/ ৩৭২।

(৩) হুসুলুত তাফরিজ বি উসুলিত তাখরিজ পৃ. ২১।

(৪) আল-ওয়াসিত ফি উলুমি ওয়া মুসতালাহিল হাদিস কিতাবের টীকা পৃ. ৩৫৩।

(৫) উসুলুত তাখরিজ ওয়া দিরাসাতুল আসানিদ পৃ. ১০।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৩)
وعرفه الدكتور دخيل بن صالح بأنه:" بيان مصادر الحديث وإسناده، ومتنه ودرجته بحسب الحاجة" (1).

وعرفه الدكتور حاتم العوني:"عزو الحديث إلى مصادره الأصلية المسندة، فإن تعذرت فإلى الفرعية المسندة، فإن تعذرت فإلى الناقلة عنها بأسانيدها، مع بيان مرتبة الحديث غالباً " (2).

وقال الدكتور محمد أبو الليث: التخريج يطلق على استعمالين:"الأول: رواية المحدث الأحاديث في كتابه بأسانيده. والثاني: عزو فلان أحاديث كتاب كذا أي عزاها ونسبها إلى من رواها من الأئمة في كتابه بإسناده مع بيان درجتها من حيث القبول والرد" (3).

وهكذا نجد تعاريف هؤلاء المعاصرين كلها تدور في فلك واحد، هو عزو الحديث والحكم عليه عند الحاجة، وحتى من اعترض على هذه التعاريف فإنه لم يبتعد بما حده عن فلك تلك التعريفات، إذ عرفه الدكتور حمزة المليباري بعد اعتراضه على ما سبق:"هو كشف مظان الحديث من المصادر الأصلية التي تعتمد في نقله على الرواية المباشرة، لمعرفة حالة روايته من حيث التفرد أو الموافقة أو المخالفة" (4).قلت: وما أضافه أستاذنا المليباري، ليس إضافة جديدة، بل هو من لوازم دراسة الحديث للحكم عليه.

وكذا الشيخ عبد الله الجديع، إذ قال بعد اعتراضه:"أن تعمد إلى حديث فتجمع طرقه: أسانيده ومتونها، من الكتب الحديثية التي تقوم على الإسناد لا الكتب الناقلة عنها ثم التأليف بينها لتحرير مواضع الاتفاق والافتراق في الأسانيد فتتبين المتابعات والشواهد، وفي المتون

--------------------------------------------

(1) طرق التخريج بحسب الراوي الأعلى ص7.

(2) تخريج ودراسة الأسانيد ص2.

(3) تخريج الحديث نشأته ومنهجيته ص 16.

(4) كيف ندرس علم تخريج الحديث ص28.
ড. দাখিল বিন সালিহ একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "প্রয়োজনানুসারে হাদিসের উৎস, এর সনদ (إسناد), মতন (متن) এবং এর মান (درجة) বর্ণনা করা।" (১)।

ড. হাতিম আল-আওনি একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "হাদিসকে এর মূল সূত্রবদ্ধ (المسندة) উৎসসমূহের দিকে সম্বন্ধ করা; যদি তা সম্ভব না হয়, তবে গৌণ সূত্রবদ্ধ (المسندة) উৎসসমূহের দিকে; আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে সনদসহ (بأسانيدها) বর্ণনাকারী উৎসসমূহের দিকে, সাথে সাধারণত হাদিসের মান (مرتبة) বর্ণনা করা।" (২)।

ড. মুহাম্মদ আবু আল-লাইস বলেন: তাখরিজ (التخريج) শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: "প্রথমত: মুহাদ্দিস কর্তৃক তার কিতাবে নিজস্ব সনদসমূহসহ (بأسانيده) হাদিসসমূহ বর্ণনা করা। দ্বিতীয়ত: অমুক ব্যক্তি অমুক কিতাবের হাদিসসমূহকে তাখরিজ করেছেন—অর্থাৎ সেগুলোকে সেই ইমামদের দিকে সম্বন্ধ ও নিসবত করা যারা তা নিজস্ব সনদসহ (بإسناده) কিতাবে বর্ণনা করেছেন, সাথে গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের (القبول والرد) দিক থেকে হাদিসের মান (درجة) বর্ণনা করা।" (৩)।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, এই সমসাময়িক আলেমদের সংজ্ঞাসমূহ একই বৃত্তে আবর্তিত হচ্ছে, আর তা হলো হাদিসকে তার উৎসের দিকে সম্বন্ধ করা এবং প্রয়োজনানুসারে এর ওপর হুকুম (الحكم) প্রদান করা। এমনকি যারা এই সংজ্ঞাগুলোর ওপর আপত্তি করেছেন, তারাও তাদের সংজ্ঞায় এই বৃত্ত থেকে দূরে সরে যাননি। ড. হামজা আল-মালিবারি পূর্বোক্ত সংজ্ঞাগুলোর ওপর আপত্তি করার পর একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "সরাসরি বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল মূল উৎসসমূহ থেকে হাদিসের সম্ভাব্য স্থানসমূহ খুঁজে বের করা, যাতে হাদিসটির বর্ণনার অবস্থা জানা যায়—চাই তা একক বর্ণনা (التفرد) হোক কিংবা সামঞ্জস্য (الموافقة) বা বৈচিত্র্য (المخالفة) প্রকাশকারী হোক।" (৪)। আমি বলি: আমাদের উস্তাদ আল-মালিবারি যা যোগ করেছেন তা কোনো নতুন সংযোজন নয়, বরং হাদিসের ওপর হুকুম (الحكم) প্রদানের জন্য তা হাদিস পর্যালোচনার অপরিহার্য অনুষঙ্গ।

অনুরূপভাবে শেখ আবদুল্লাহ আল-জুদিয়ি তার আপত্তির পর বলেন: "কোনো একটি হাদিসকে গ্রহণ করা এবং এর সকল সূত্র (طرق) তথা এর সনদসমূহ (أسانيد) ও মতনসমূহ (متونها) সেই হাদিসগ্রন্থগুলো থেকে সংগ্রহ করা যা সনদের (الإسناد) ওপর ভিত্তি করে রচিত, পরবর্তী উদ্ধৃতিমূলক কিতাব থেকে নয়; অতঃপর সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা যাতে সনদসমূহের ঐক্য ও পার্থক্যের স্থানগুলো চিহ্নিত করা যায়, ফলে মুতাবাআত (المتابعات) ও শাওয়াহিদ (الشواهد) স্পষ্ট হয় এবং মতনসমূহের (المتون) ক্ষেত্রে..."

--------------------------------------------

(১) তুরুকুত তাখরিজ বি-হাসাবির রাবি আল-আ'লা, পৃ. ৭।

(২) তাখরিজ ওয়া দিরাসাতুল আসানিদ, পৃ. ২।

(৩) তাখরিজুল হাদিস: নাশআতুহু ওয়া মানহাজিয়্যাতুহু, পৃ. ১৬।

(৪) কাইফা নাদরুসু ইলমাত তাখরিজিল হাদিস, পৃ. ২৮।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৪)
فيتبين ما فيها من التوافق اللفظي والمعنوي والزيادة والاختلاف" (1).ولا أخاله خرج عن هذا الفلك.

فالتخريج يطلقه المحدثون على معانٍ منها:

1 - معرفة المصنفات التي أخرجت هذا الحديث، وذكرته بالإسناد.

2 - يطلق ويراد به مخرج الحديث ويعنون به الصحابي تحديداً، ثم بعد الوقوف على الصحابي الذي رواه يبحثون في الطرق الموصلة إليه.

وهكذا يمكننا تعريفه باختصار فنقول: علم يُعنى بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث عزوه إلى مصادره الأصلية، وبيان درجته من خلال دراسة الإسناد والمتن رواية ودراية.

*شرح التعريف:

قولنا: (علم يعتني بحديث الرسول صلى الله عليه وسلم):ويدخل فيه المرفوعات والموقوفات والمعلقات .. الخ ويلحق به آثار الصحابة.

ويخرج من هذا التعريف الآيات القرآنية وأقوال الفقهاء، والقواعد الفقهية والأحكام، والشعر والنثر.

قولنا: (من حيث عزوه إلى مصادره الأصلية): ونعني بـ (مصادره الأصلية):الكتب التي خرجت الحديث النبوي متصلاً أو غير متصل كالصحاح والجوامع والمصنفات والمسانيد والموطآت .... الخ. ويخرج بهذا القيد الكتب الفرعية (إلا عند الضرورة كما سيأتي لاحقاً).

قولنا: (وبيان درجته من خلال دراسة الإسناد والمتن):أي إصدار الحكم على الحديث، ويكون ذلك باتصال سنده أو عدمه والنظر إلى حال رواته، ثم بيان علته إن كانت هناك علة في الحديث.

--------------------------------------------

(1) تحرير علوم الحديث 2/ 736.
"ফলে এর মধ্যে বিদ্যমান শব্দগত ও অর্থগত সামঞ্জস্য, অতিরিক্ত অংশ এবং পার্থক্যগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে" (১)। আর আমি মনে করি না যে তিনি এই বৃত্তের বাইরে গিয়েছেন।

হাদিস বিশারদগণ 'তাখরিজ' শব্দটিকে কয়েকটি অর্থে ব্যবহার করেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - সেই সংকলনগুলো সম্পর্কে জানা যা এই হাদিসটি বের করেছে এবং তা সনদ (إسناد) সহ উল্লেখ করেছে।

২ - এটি হাদিসের উৎস (مخرج) হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা বিশেষভাবে সাহাবীকে বোঝানো হয়। এরপর যে সাহাবী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাকে চিহ্নিত করার পর, তারা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ বা সূত্রগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করেন।

এভাবে আমরা সংক্ষেপে এর সংজ্ঞা প্রদান করতে পারি: এটি এমন এক ইলম বা বিদ্যা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসকে তার মূল উৎসগুলোর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং সনদ (إسناد) ও মতন (متن)-এর বর্ণনাগত ও জ্ঞানগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার মান বা স্তর (درجة) বর্ণনা করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

*সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

আমাদের বক্তব্য: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বিষয়ক বিদ্যা): এর মধ্যে মারফু (مرفوع), মাওকুফ (موقوف), মুয়াল্লাক (معلق) ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সাহাবীদের আসার (آثار) বা বর্ণনাগুলোও এর সাথে যুক্ত হয়।

এই সংজ্ঞার বাইরে থাকবে কুরআনের আয়াত, ফকিহগণের বক্তব্য, ফিকহী উসুল বা মূলনীতি ও বিধানসমূহ এবং কবিতা ও গদ্য।

আমাদের বক্তব্য: (তার মূল উৎসগুলোর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার দিক থেকে): আর 'মূল উৎস' বলতে আমরা বুঝাচ্ছি: সেই সব কিতাব যা নববী হাদিসকে অবিচ্ছিন্ন (متصل) বা বিচ্ছিন্ন (غير متصل) সনদে সংকলন করেছে, যেমন সিহাহ, জাওয়ামি, মুসান্নাফাত, মুসনাদ এবং মুয়াত্তা ইত্যাদি। এই শর্তের মাধ্যমে শাখা বা গৌণ গ্রন্থগুলো বাদ পড়ে যাবে (তবে বিশেষ প্রয়োজনে তা নেওয়া যেতে পারে যা সামনে আসবে)।

আমাদের বক্তব্য: (এবং সনদ ও মতনের বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার স্তর বর্ণনা করা): অর্থাৎ হাদিসের ওপর হুকুম (حكم) বা সিদ্ধান্ত প্রদান করা। আর এটি সম্ভব হয় সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال) বা বিচ্ছিন্নতা যাচাই এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। এরপর হাদিসে কোনো ত্রুটি (علة) থাকলে তা বর্ণনা করা।

--------------------------------------------

(১) তাহরিরু উলূমিল হাদিস ২/ ৭৩৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৫)
قولنا: (روايةً ودرايةً): أي النقد الحديثي في أطار الجرح والتعديل والعلل، ثم الموازنة والترجيح عند التعارض من جهة المتن والسند واختلاف طرق الحديث وألفاظه

 

‌‌المطلب الثاني: فوائد التخريج.

وهي كثيرة منها (1):

1 - الوقوف على مواضع الحديث بشكل يسهل على الباحث.

2 - الوقوف على طرق الحديث المتعددة -متابعاته وشواهده-.

3 - معرفة درجة الحديث وحكمه عند الحاجة.

4 - الوقوف على علل الحديث –إن وجدت-.

5 - الوقوف على الألفاظ المدرجة إن وجدت في الحديث من خلال المقارنة بين الطرق.

6 - - معرفة المقصود الذي سيق لأجله الحديث،

7 - تمييز المهمل وتعيين المبهم.

8 - تقريب مناهج المحدثين المتعددة في ترتيب مؤلفاتهم، ومعرفة الضوابط الدقيقة للتخريج العملي، ومعرفة طرق التخريج للمشتغلين في إعداد برامج الحاسب الآلي.

9 - حماية السنة من الدخلة والمنتحلين، ذلك بإشاعة الصحيح من السنة، إذ تخريج الحديث من أهم أبوابه كما قال ابن المديني:" الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبين خطؤه".

10 - احترام العلماء من سلفنا الكرام بمعرفة ما بذلوه من جهد ووقت في خدمة هذا العلم الشريف.

--------------------------------------------

(1) ينظر: التخريج ودراسة الأسانيد ص 14،وتخريج الحديث نشأته ومنهجيته ص26،وعلم التخريج ودوره في حفظ السنة النبوية، د. محمد بن ظافر ص29.
আমাদের বক্তব্য: (বর্ণনাগত (روايةً) এবং বিশ্লেষণগত (درايةً)): অর্থাৎ জারহ ও তা’দিল (الجرح والتعديل) এবং সুপ্ত ত্রুটি (العلل) এর কাঠামোর মধ্যে হাদিসের সমালোচনা, অতঃপর মতন (المتن) ও সনদ (السند) এর দিক থেকে এবং হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (طرق) ও শব্দাবলির পার্থক্যের ক্ষেত্রে বৈপরীত্য দেখা দিলে ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) করা।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাখরিজ (التخريج) এর উপকারিতা।

এটি অনেক, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য (১):

১ - এমনভাবে হাদিসের উৎসস্থল সম্পর্কে অবগত হওয়া যা গবেষকের জন্য সহজসাধ্য হয়।

২ - হাদিসের একাধিক সূত্র (طرق) —এর মুতাবা’আত (متابعاته) এবং সাওয়াহিদ (وشواهده)— সম্পর্কে অবগত হওয়া।

৩ - প্রয়োজনে হাদিসের মান এবং এর হুকুম (حكمه) সম্পর্কে অবগত হওয়া।

৪ - হাদিসের সুপ্ত ত্রুটি (العلل) —যদি থাকে— সে সম্পর্কে অবগত হওয়া।

৫ - বিভিন্ন সূত্রের (طرق) মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে হাদিসে বিদ্যমান প্রক্ষিপ্ত শব্দাবলি (الألفاظ المدرجة) —যদি থাকে— তা চিহ্নিত করা।

৬ - - হাদিসটি যে প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া।

৭ - উপেক্ষিত (المهمل) রাবিকে শনাক্ত করা এবং অস্পষ্ট (المبهم) রাবিকে নির্দিষ্ট করা।

৮ - মুহাদ্দিসগণের গ্রন্থ বিন্যাসের নানাবিধ পদ্ধতিসমূহ নিকটবর্তী করা, ব্যবহারিক তাখরিজ (التخريج) এর সূক্ষ্ম নীতিমালা জানা এবং কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য তাখরিজ (التخريج) এর পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

৯ - সুন্নাহকে বিজাতীয় অনুপ্রবেশ এবং জালিয়াতিকারীদের হাত থেকে রক্ষা করা; আর তা সুন্নাহর সহিহ (الصحيح) অংশগুলো প্রচারের মাধ্যমে। কেননা হাদিসের তাখরিজ (تخريج) এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যেমনটি ইবনুল মাদিনি বলেছেন: "কোনো বিষয়ের সূত্রসমূহ (طرقه) একত্রিত না করলে তার ভুল প্রকাশ পায় না।"

১০ - আমাদের সম্মানিত পূর্বসূরি (سلفنا) আলেমগণ এই মহৎ ইলমের সেবায় যে শ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন তা জানার মাধ্যমে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আত-তাখরিজ ওয়া দিরাসাতুল আসানিদ, পৃ. ১৪; তাখরিজুল হাদিস: নাশআতুহু ওয়া মানহাজিয়াতুহু, পৃ. ২৬; এবং ইলমুত তাখরিজ ওয়া দাওরুহু ফি হিফজিস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ড. মুহাম্মদ বিন জাফির, পৃ. ২৯।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المبحث الثاني

المصادر الأصلية والفرعية للحديث النبوي الشريف
.

‌‌المطلب الأول: المصادر الأصلية:

وهي الكتب التي تُروى بالأسانيد من المؤلف إلى النبي صلى الله عليه وسلم،ومنها كتب اشتملت على جميع أبواب الدين، وأخرى على أغلب أبواب الدين، وثالثة اشتملت على باب ٍأو بعض أبواب الدين.

*الفرع الأول: كتب اشتملت على جميع أبواب الدين، ومنها:

أولاً-الجوامع: مفردها جامع: وهو كتاب جمع الأبواب الفقهية والسير والمغازي والتوحيد وغيرها من فنون العلم: ومنها:

1 - الجامع لمعمر بن راشد البصري ت (153هـ).

2 - الجامع لسفيان الثوري ت (161هـ).

3 - الجامع لعبد الله بن وهب ت (197هـ).

4 - الجامع لسفيان بن عيينة ت (198هـ).

5 - الجامع لعبد الرزاق بن همام الصنعاني ت (211هـ).

6 - مسند الدارمي لعبد الله بن محمد الدارمي ت (255هـ)،ويسمى سنن الدارمي، والصواب أنه مسند (1).

7 - الجامع المختصر من السنن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعرفة الصحيح والمعلول وما عليه العمل. لأبي عيس الترمذي ت (279هـ)،ويسمى اختصاراً: (جامع الترمذي)، وأحياناً: (سنن الترمذي).

وغيرها كثير.

--------------------------------------------

(1) ينظر للفائدة: التقييد والإيضاح، الحافظ العراقي ص56.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের মৌলিক ও আনুষঙ্গিক উৎসসমূহ
.

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: মৌলিক উৎসসমূহ:

এগুলো হলো সেই সকল কিতাব যা সংকলক থেকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু কিতাব দ্বীনের সকল অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, কিছু কিতাব দ্বীনের অধিকাংশ অধ্যায়কে এবং তৃতীয় প্রকারের কিছু কিতাব দ্বীনের একটি বা কয়েকটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

*প্রথম শাখা: দ্বীনের সকল অধ্যায় সম্বলিত কিতাবসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত- আল-জাওয়ামি: এর একবচন হলো জামে; এটি এমন কিতাব যা ফিকহি অধ্যায়সমূহ, সিরাত, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), তাওহিদ এবং ইলমের অন্যান্য শাখাগুলোকে একত্রিত করে। যেমন:

১ - মা'মার ইবনে রাশিদ আল-বাসরি (মৃত্যু ১৫৩ হি.)-এর আল-জামে।

২ - সুফিয়ান আল-সাওরি (মৃত্যু ১৬১ হি.)-এর আল-জামে।

৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব (মৃত্যু ১৯৭ হি.)-এর আল-জামে।

৪ - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ (মৃত্যু ১৯৮ হি.)-এর আল-জামে।

৫ - আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আল-সানআনি (মৃত্যু ২১১ হি.)-এর আল-জামে।

৬ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দারিমি (মৃত্যু ২৫৫ হি.)-এর মুসনাদ আদ-দারিমি; এটি সুনান আদ-দারিমি নামেও পরিচিত, তবে সঠিক হলো এটি একটি মুসনাদ (১)।

৭ - আবু ঈসা আত-তিরমিজি (মৃত্যু ২৭৯ হি.) সংকলিত ‘আল-জামে আল-মুখতাসার মিনাস সুনান আন রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া মা'রিফাতুস সহিহ (صحيح) ওয়াল মা'লুল (معلول) ওয়া মা আলাইহিল আমাল’। সংক্ষেপে একে ‘জামে আত-তিরমিজি’ এবং কখনো ‘সুনান আত-তিরমিজি’ বলা হয়।

এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিতাব রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) বিস্তারিত উপকারের জন্য দেখুন: আল-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ, হাফিজ আল-ইরাকি, পৃষ্ঠা ৫৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৭)
ثانياً- الصحاح: جمع صحيح: وهو كتاب التزم صاحبه ألا يدخل فيه إلا الحديث الصحيح، ولا يعني من وجود الحديث في هذا الكتاب الجزم بصحته، خلا صحيحي البخاري ومسلم لتلقي الأمة لكتابيهما بالقبول، ومنها:

1 - الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه، لمحمد بن إسماعيل البخاري ت (256هـ)،ويسمى اختصاراً صحيح البخاري، وهو أصح كتاب بعد كتاب الله تعالى، وقد تلقته الأمة بالقبول.

2 - المسند الصحيح، للإمام مسلم بن حجاج النيسابوري ت (261هـ) والمسمى (صحيح مسلم)،وهو ثاني كتاب بعد صحيح البخاري في الصحة وهو مما تلقته الأمة بالقبول.

3 - المسند الصحيح المتصل بنقل العدل عن العدل من غير قطع في المسند ولا جرح في النقلة، لمحمد بن إسحاق بن خزيمة النيسابوري ت (311هـ)،والمسمى (صحيح ابن خزيمة).

4 - المسند الصحيح على التقاسيم والأنواع من غير وجود قطع في سندها ولا ثبوت جرح في ناقليها، لمحمد بن حبان البستي ت (354هـ)،والمسمى (صحيح ابن حبان).

ثالثاً-المستخرجات: وهو أن يأتي المصنف إلى أحاديث كتاب من كتب السنة المسندة ويروي أحاديثه بأسانيده هو، من غير طريق صاحب الأصل، فيجتمع مع صاحب الأصل في طبقة من طبقات السند في شيخه أو فيمن فوقه ولو إلى الصحابي، لأغراض كثيرة كطلب علو الإسناد، أو تقوية الحديث الأصل بتعدد طرقه وهكذا، والمستخرجات لا تتضمن إلا المرفوع من الحديث فقط، ومنها:

1 - المستخرج على صحيح البخاري، لأبي بكر الإسماعيلي ت (295هـ).

2 - مختصر المسند الصحيح المؤلف على مسلم، لأبي عوانة يعقوب بن إسحاق الإسفراييني ت (316هـ)،والمعروف بـ (مستخرج أبي عوانة).

3 - المستخرج على صحيح البخاري، لأبي نعيم الأصفهاني (430هـ).
দ্বিতীয়ত- সিহাহ (صحاح): এটি সহিহ (صحيح)-এর বহুবচন। এটি এমন কিতাব যার সংকলক এতে কেবল সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিম ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবে কোনো হাদিস থাকলেই তা নিশ্চিতভাবে সহিহ (صحيح) হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে না, কারণ উম্মাহ এই দুটি কিতাবকে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে নিয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি, এটি মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি (মৃত্যু: ২৫৬ হিজরি) কর্তৃক রচিত এবং সংক্ষেপে সহিহ বুখারি নামে পরিচিত। আল্লাহর কিতাবের পর এটিই বিশুদ্ধতম কিতাব এবং মুসলিম উম্মাহ একে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে নিয়েছে।

২ - আল-মুসনাদ আস-সহিহ, এটি ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ আন-নিশাপুরি (মৃত্যু: ২৬১ হিজরি) কর্তৃক রচিত এবং 'সহিহ মুসলিম' নামে পরিচিত। বিশুদ্ধতার দিক থেকে সহিহ বুখারির পর এটিই দ্বিতীয় কিতাব এবং এটিও উম্মাহর নিকট সর্বজনগৃহীত।

৩ - আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুত্তাসিল বিনাকলিল আদলি আনিল আদলি মিন গাইরি কাতয়িন ফিল মুসনাদি ওয়ালা জারহিন ফিন নাকলাহ, এটি মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ আন-নিশাপুরি (মৃত্যু: ৩১১ হিজরি) কর্তৃক রচিত এবং 'সহিহ ইবনে খুজাইমাহ' নামে পরিচিত। (এই কিতাবটি মূলত ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী কর্তৃক ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী হতে বর্ণিত নিরবচ্ছিন্ন সূত্রের কিতাব, যাতে সনদে কোনো বিচ্ছিন্নতা (قطع) নেই এবং বর্ণনাকারীদের মাঝে কোনো ত্রুটি (جرح) নেই)।

৪ - আল-মুসনাদ আস-সহিহ আলাত তাকাসিম ওয়াল আনওয়া মিন গাইরি উজদি কাতয়িন ফি সানাদিহা ওয়ালা সুবুতি জারহিন ফি নাকিলিহা, এটি মুহাম্মাদ বিন হিব্বান আল-বুস্তি (মৃত্যু: ৩৫৪ হিজরি) কর্তৃক রচিত এবং 'সহিহ ইবনে হিব্বান' নামে পরিচিত। (এর অর্থ হলো সেই সহিহ মুসনাদ যা বিন্যাস ও প্রকারভেদের ভিত্তিতে বিন্যস্ত, যার সনদে কোনো বিচ্ছিন্নতা (قطع) নেই এবং বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো ত্রুটি (جرح) সাব্যস্ত নয়)।

তৃতীয়ত- মুস্তাখরাজাত (مستخرجات): এর অর্থ হলো, কোনো গ্রন্থকার সুন্নাহর কোনো মুসনাদ কিতাবের হাদিসগুলোর দিকে লক্ষ্য করেন এবং সেই কিতাবের মূল সংকলকের সূত্র ব্যতিরেকে নিজস্ব সনদসমূহ (أسانيد) দিয়ে সেই হাদিসগুলো বর্ণনা করেন। এতে তিনি মূল সংকলকের সাথে সনদের কোনো একটি স্তরে (طبقة)—তা তাঁর উস্তাদ বা তাঁর উপরের কেউ হতে পারে, এমনকি সাহাবি পর্যন্তও হতে পারে—গিয়ে মিলিত হন। এর অনেকগুলো উদ্দেশ্য থাকে, যেমন উচ্চতর সনদ (علو الإسناد) লাভ করা অথবা একাধিক সূত্রের মাধ্যমে মূল হাদিসটিকে শক্তিশালী করা ইত্যাদি। মুস্তাখরাজাত কেবল মারফু (مرفوع) হাদিসগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - মুস্তাখরাজ আলা সহিহ বুখারি, এটি আবু বকর আল-ইসমাঈলি (মৃত্যু: ২৯৫ হিজরি) কর্তৃক রচিত।

২ - মুখতাসার আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুআল্লাফ আলা মুসলিম, এটি আবু আওয়ানা ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-ইসফরাইনি (মৃত্যু: ৩১৬ হিজরি) কর্তৃক রচিত এবং এটি 'মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা' নামে পরিচিত।

৩ - মুস্তাখরাজ আলা সহিহ বুখারি, এটি আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি (মৃত্যু: ৪৩০ হিজরি) কর্তৃক রচিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৮)
4 - المسند المستخرج على صحيح مسلم، لأبي نعيم.

5 - المستخرج على الجامع الصحيح، لأحمد بن موسى بن مردويه الأصفهاني ت (410هـ).

6 - المستخرج على سنن أبي داود، لمحمد بن عبد الملك بن أيمن القرطبي ت (330هـ).

رابعاً- المستدركات: كتب يقصد مؤلفها استدراك أحاديث على كتاب معين أو أكثر –كصحيح البخاري أو مسلم أو كليهما مثلاً-مما يظن أنها على شرطه أو شرطهما. وهي قليلة جداً، منها:

- الإلزامات، لعلي بن عمر الدارقطني ت (385هـ).

- المستدرك على الصحيحين، لأبي عبد الله الحاكم النيسابوري ت (405هـ).

- الأحاديث المختارة مما لم يخرجه البخاري ومسلم في صحيحيهما، لمحمد بن عبد الواحد المقدسي، أبي عبد الله ضياء الدين الحنبلي ت (643هـ) (1).

وهذه المستدركات ليست من قبيل الصحاح، إذ فيها الصحيح والحسن والضعيف، بل والموضوع، ولا سيما مستدرك الحاكم الذي حشاه بالأحاديث المنكرة والمعلولة، فلا يلتفت إلى تصحيحه أو موافقة الذهبي له، فإنما لخصه الذهبي في ابتداءٍ كما قال الذهبي: "في المستدرك شيء كثير على شرطهما، وشيء كثير على شرط أحدهما، ولعل مجموع ذلك ثلث الكتاب بل أقل، فإن في كثير من ذلك أحاديث في الظاهر على شرط أحدهما أو كليهما، وفي الباطن لها علل خفية مؤثرة، وقطعة من الكتاب إسنادها صالح وحسن وجيد، وذلك نحو ربعه، وباقي الكتاب مناكير وعجائب، وفي غضون ذلك أحاديث نحو المائة يشهد القلب ببطلانها، كنت قد

--------------------------------------------

(1) وقد يصلح أن يسمى مسندا، وصحيحا، ومعجماً، وهو غير تام مات رحمه الله ولم يتمه.
4 - আবু নুআইম-এর সহিহ মুসলিম-এর ওপর মুসনাদ মুস্তাখরাজ (مستخرج)।

5 - আহমদ বিন মুসা বিন মারদুবাইহ আল-আসবাহানি (মৃত্যু ৪১০ হি.)-এর আল-জামি আল-সহিহ-এর ওপর মুস্তাখরাজ (مستخرج)।

6 - মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আইমান আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৩৩০ হি.)-এর সুনানে আবু দাউদ-এর ওপর মুস্তাখরাজ (مستخرج)।

চতুর্থত- মুস্তাদরাক (مستدركات) গ্রন্থসমূহ: এগুলো এমন সব কিতাব যেখানে লেখক কোনো নির্দিষ্ট কিতাব বা একাধিক কিতাবের—যেমন সহিহ বুখারি বা সহিহ মুসলিম অথবা উভয়টির—এমন সব হাদিস সংযোজন (استدراك) করার সংকল্প করেন, যা তাঁর ধারণা অনুযায়ী ওই কিতাব বা কিতাবদ্বয়ের শর্ত (شرط) পূরণ করে। এ ধরনের কিতাব সংখ্যায় খুব কম, তন্মধ্যে রয়েছে:

- আলী বিন উমর আদ-দারা কুতনি (মৃত্যু ৩৮৫ হি.)-এর আল-ইলজামাত।

- আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরি (মৃত্যু ৪০৫ হি.)-এর সহিহাইন-এর ওপর মুস্তাদরাক (مستدرك)।

- যিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৬৪৩ হি.)-এর আল-আহাদিস আল-মুখতারাহ মিম্মা লাম ইউখরিজহু আল-বুখারি ওয়া মুসলিম ফি সহিহাইনাহুমা (১)।

আর এই মুস্তাদরাক (مستدركات) গ্রন্থগুলো সহিহ (صحاح) কিতাবসমূহের পর্যায়ের নয়; কারণ এতে সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف), এমনকি জাল (موضوع) হাদিসও রয়েছে। বিশেষ করে হাকিমের মুস্তাদরাক, যা তিনি প্রত্যাখ্যাত (منكرة) এবং ত্রুটিযুক্ত (معلولة) হাদিসে পরিপূর্ণ করেছেন। অতএব, তাঁর সহিহ আখ্যা দান (تصحيح) কিংবা তাঁর সাথে যাহাবির ঐকমত্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। যাহাবি কেবল তাঁর প্রাথমিক জীবনে এটি সংক্ষেপ করেছিলেন, যেমন যাহাবি বলেছেন: "মুস্তাদরাক-এ অনেক হাদিস তাদের শর্ত (شرط) অনুযায়ী রয়েছে এবং অনেক হাদিস তাদের কোনো একজনের শর্ত (شرط) অনুযায়ী রয়েছে; সম্ভবত এর সমষ্টি কিতাবটির এক-তৃতীয়াংশ বা তারও কম হবে। কেননা এর অনেক হাদিস বাহ্যিকভাবে তাদের কোনো একজনের বা উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর ভেতরে সূক্ষ্ম ও প্রভাব বিস্তারকারী ত্রুটি (علل) রয়েছে। কিতাবটির একটি অংশের সনদ (إسناد) গ্রহণযোগ্য (صالح), হাসান (حسن) এবং উত্তম (جيد), যা কিতাবটির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। আর কিতাবের অবশিষ্ট অংশ প্রত্যাখ্যাত (مناكير) ও অদ্ভুত বর্ণনায় পূর্ণ। এর মাঝে প্রায় একশটি হাদিস রয়েছে যেগুলোর ভিত্তিহীনতা (بطلان) অন্তর সাক্ষ্য দেয়। আমি যখন..."

--------------------------------------------

(১) একে মুসনাদ, সহিহ কিংবা মুজাম হিসেবে অভিহিত করাও সঙ্গত হতে পারে; এটি একটি অসম্পূর্ণ গ্রন্থ, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এটি সমাপ্ত করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ৯)
أفردت منها جزءً، وحديث الطير بالنسبة إليها سماء، وبكل حال فهو كتاب مفيد قد اختصرته، ويعوز عملا وتحريرا" (1).

*الفرع الثاني: كتب اشتملت على أغلب أبواب الدين، ومنها:

أولاً- السنن: وهي كتب يرتبها المصنف على حسب الأبواب الفقهية، وتتضمن أحاديث الأحكام غالباً وليس فيها شيء من الآثار، ومنها:

1 - السنن، لسعيد بن منصور الخراساني ت (227هـ).

2 - السنن، لمحمد بن يزيد بن ماجه القزويني ت (273هـ)،والمشهور بسنن ابن ماجه.

3 - السنن، لأبي داود السجستاني ت (275هـ) والمشهور بسنن أبي داود.

4 - السنن، لأحمد بن شعيب النسائي ت (303هـ)،ويسمى سنن النسائي، أو (المجتبى) أو (المجتنى).

5 - السنن الكبرى للنسائي نفسه.

6 - السنن، لعلي بن عمر الدارقطني ت (385هـ).

7 - السنن الكبرى، لأحمد بن الحسين البيهقي ت (458هـ).

8 - السنن الصغرى، للبيهقي.

ثانياً- المسانيد: وهي التي ترتب فيها الأحاديث على حسب اسم الصحابي الذي يرويها، ويرتب الصحابة بحسب أفضليتهم أو سابقتهم، ومنها (2):

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 17/ 167،وقد كتب الأخ الحبيب ورفيق طلب العلم الشيخ الدكتور عزيز رشيد الدايني -رحمه الله تعالى- بحثاً نفيساً: (منهج الذهبي في تلخيص مستدرك الحاكم)،فلينظر، والشيخ عزيز الدايني من أفذاذ طلبة العلم في العراق، رافقنا في طلب العلم مع خيرة طلبة العلم آنذاك وهو من الدعاة والخطباء اللامعين، ومن القراء المتقنين، اغتالته يد الغدر في بغداد عام 2006م، نسأل الله أن يتقبله في الشهداء، له مؤلفات مفيدة.

(2) ينظر: مقدمة ابن الصلاح ص 20.
"আমি এটি থেকে একটি অংশ পৃথক করেছি, আর এটির তুলনায় হাদিসে তাইর (পাখির হাদিস) আকাশের মতো। যাই হোক, এটি একটি উপকারী গ্রন্থ যা আমি সংক্ষিপ্ত করেছি, তবে এটি আরও কাজ ও সম্পাদনা দাবি করে" (১)।

*দ্বিতীয় শাখা: এমন গ্রন্থসমূহ যা দ্বীনের অধিকাংশ অধ্যায়কে শামিল করেছে, তার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত- সুনান: এগুলো এমন গ্রন্থ যা সংকলক ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন এবং এতে সাধারণত বিধান সংক্রান্ত হাদিস অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং এতে সাহাবীদের বাণী (الآثار) এর তেমন কিছু থাকে না, তার মধ্যে রয়েছে:

১ - সুনান, সাঈদ ইবনে মানসুর আল-খুরাসানি (মৃত্যু ২২৭ হি.) এর।

২ - সুনান, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযউইনি (মৃত্যু ২৭৩ হি.) এর, যা সুনান ইবনে মাজাহ নামে প্রসিদ্ধ।

৩ - সুনান, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (মৃত্যু ২৭৫ হি.) এর, যা সুনান আবু দাউদ নামে প্রসিদ্ধ।

৪ - সুনান, আহমাদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি (মৃত্যু ৩০৩ হি.) এর, একে সুনান আন-নাসায়ি বা (আল-মুজতাবা) অথবা (আল-মুজতানা) বলা হয়।

৫ - সুনান আল-কুবরা, স্বয়ং নাসায়ি-এর।

৬ - সুনান, আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি (মৃত্যু ৩৮৫ হি.) এর।

৭ - সুনান আল-কুবরা, আহমাদ ইবনে হুসাইন আল-বায়হাকি (মৃত্যু ৪৫৮ হি.) এর।

৮ - সুনান আস-সুগরা, আল-বায়হাকি এর।

দ্বিতীয়ত- মাসানিদ: এগুলো সেই গ্রন্থ যাতে হাদিসসমূহ বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়, আর সাহাবীদের বিন্যস্ত করা হয় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বা অগ্রগামিতা অনুসারে, তার মধ্যে রয়েছে (২):

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৭/১৬৭, প্রিয় ভাই ও ইলম অন্বেষণের সাথী শেখ ডক্টর আজিজ রশিদ আদ-দায়িনি -রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা- একটি মূল্যবান গবেষণা লিখেছেন: (হাকিমের মুস্তাদরাক সংক্ষিপ্তকরণে যাহাবীর মানহাজ), এটি দ্রষ্টব্য। শেখ আজিজ দায়িনি ইরাকের ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে অন্যতম মেধাবী ছিলেন, তিনি সেই সময়ের সর্বোত্তম ইলম অন্বেষণকারীদের সাথে আমাদের সাথী ছিলেন। তিনি প্রখ্যাত দাঈ ও খতিবদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং একজন সুদক্ষ ক্বারী ছিলেন। ২০০৬ সালে বাগদাদে বিশ্বাসঘাতকতার হাত তাকে হত্যা করে, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন। তাঁর কিছু উপকারী রচনা রয়েছে।

(২) দ্রষ্টব্য: মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ পৃ. ২০।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১০)
1 - المسند، لأبي حنيفة النعمان بن ثابت ت (150هـ).

2 - المسند، لعبد الله بن المبارك المروزي ت (181هـ).

3 - المسند، لمحمد بن إدريس الشافعي ت (204هـ).

4 - المسند: لعبد الله بن الزبير بن عيسى الحميدي ت (219هـ).

5 - المسند، لأحمد بن حنبل الشيباني ت (241هـ).

وغيرها كثير.

ثالثاً- المعاجم: هي أن ترتب الأحاديث على اسم الصحابي ولكن حسب حروف الهجاء، ومنها:

1 - المعجم الكبير، لسليمان بن أحمد اللخمي الطبراني ت (360هـ).وهذا مرتب حسب أسماء الصحابة.

2 - المعجم الأوسط، للطبراني. وهو مرتب حسب أسماء شيوخه.

3 - المعجم الصغير، للطبراني. وهذا مرتب حسب أسماء شيوخه.

رابعاً- المصنفات: كتب مرتبة على الأبواب الفقهية، وتشتمل على الأحاديث المرفوعة والموقوفة والمقطوعة، منها:

1 - المصنف، لعبد الرازق بن همام الصنعاني ت (211هـ).

2 - المصنف، لابن أبي شيبة، لأبي بكر عبد الله بن محمد بن أبي شيبة ت (235هـ).

خامساً- الموطّآت: هي كتب مصنفة على أبواب الفقه، وتشمل المرفوعات والموقوفات والمقطوعة، فهي كالمصنف، واختلافهما اختلاف تسمية فقط، ويقصد مصنفها تسهيل السنة على الناس، لذا سميت بالموطآت، وقيل إنّ الإمام مالكاً عرضه على سبعين من فقهاء المدينة فوافقوه وتواطؤوا عليه. ومنها:
1 - মুসনাদ, আবু হানিফা আন-নুমান ইবনে সাবিত (মৃত্যু ১৫০ হিজরি) এর রচিত।

2 - মুসনাদ, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াজি (মৃত্যু ১৮১ হিজরি) এর রচিত।

3 - মুসনাদ, মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ২০৪ হিজরি) এর রচিত।

4 - মুসনাদ, আবদুল্লাহ ইবনে আজ-জুবাইর ইবনে ঈসা আল-হুমাইদি (মৃত্যু ২১৯ হিজরি) এর রচিত।

5 - মুসনাদ, আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানি (মৃত্যু ২৪১ হিজরি) এর রচিত।

এবং এমন আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।

তৃতীয়- মুজাম: এটি হলো সাহাবীর (صحابي) নামের ভিত্তিতে হাদিসসমূহ বিন্যস্ত করার পদ্ধতি, তবে তা বর্ণানুক্রম অনুসারে সাজানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

1 - আল-মুজাম আল-কাবির, সুলাইমান ইবনে আহমাদ আল-লাখমি আত-তাবারানি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি) এর রচিত। এটি সাহাবীদের (صحابة) নাম অনুযায়ী বিন্যস্ত।

2 - আল-মুজাম আল-আওসাত, আত-তাবারানি এর রচিত। এটি তাঁর শাইখদের (شيوخه) নাম অনুযায়ী বিন্যস্ত।

3 - আল-মুজাম আস-সাগির, আত-তাবারানি এর রচিত। এটি তাঁর শাইখদের (شيوخه) নাম অনুযায়ী বিন্যস্ত।

চতুর্থ- মুসান্নাফ: এগুলো ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত গ্রন্থাবলি, যার মধ্যে মারফু (المرفوعة), মাওকুফ (الموقوفة) এবং মাকতু (المقطوعة) হাদিসসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মধ্যে রয়েছে:

1 - মুসান্নাফ, আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আস-সানআনি (মৃত্যু ২১১ হিজরি) এর রচিত।

2 - মুসান্নাফ, ইবনে আবি শাইবা— আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শাইবা (মৃত্যু ২৩৫ হিজরি) এর রচিত।

পঞ্চম- মুয়াত্তাত: এগুলো ফিকহের অধ্যায় অনুসারে সংকলিত গ্রন্থ, যার মধ্যে মারফু (المرفوعات), মাওকুফ (الموقوفات) এবং মাকতু (المقطوعة) হাদিসসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এগুলো মূলত মুসান্নাফের মতোই, এদের পার্থক্য কেবল নামকরণে। গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য হলো মানুষের জন্য সুন্নাহকে সহজ ও সুগম করা, এজন্যই একে মুয়াত্তাত বলা হয়। বলা হয় যে, ইমাম মালিক এটি মদিনার সত্তর জন ফকিহদের (فقهاء) সামনে পেশ করেছিলেন এবং তাঁরা এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১১)
1 - الموطأ، لمحمد بن عبد الرحمن بن أبي ذئب المدني ت (158هـ) (1).

2 - الموطأ، لمالك بن أنس المدني ت (179هـ).

*الفرع الثالث: كتب مصنفة على بابٍ أو بعض أبواب الدين، ومنها:

الأجزاء الحديثية: ويجمع فيها الأئمة أحاديث خاصة بمسألة معينة أو مراد معين، كأن تكون في العقيدة أو في الفقه أو في الزهد أو في السيرة .. وهكذا، ففي العقيدة مثلاً:

1 - الإيمان، لعبد الله بن أبي شيبة ت (235هـ).

2 - التوحيد، لمحمد بن إسحاق بن خزيمة ت (311هـ).

وفي الفقه مثلاً:

1 - الأشربة، لأحمد بن حنبل ت (241هـ).

2 - رفع اليدين، لمحمد بن إسماعيل البخاري ت (256هـ).

3 - القراءة خلف الإمام، لأحمد بن الحسين البيهقي ت (458هـ).

وفي الزهد مثلاً:

1 - الزهد، لعبد الله بن المبارك ت (181هـ).

2 - الزهد، لأحمد بن حنبل ت (241هـ).

3 - الزهد، لهناد بن السري (243هـ).

ب - الأمالي: وهي أن يجلس الشيخ ويملي على تلاميذه أحاديث في باب معين أو أبواب متفرقة بإسناده إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد يكون الإملاء في يوم معين كيوم الجمعة أو الاثنين .. وهكذا. ومنها:

--------------------------------------------

(1) وهو مفقود، قال الخطيب في الجامع لأخلاق الراوي 2/ 282:"ابن أبي ذئب صنف موطأ فلم يخرج "،ونقل السيوطي في تدريب الراوي 1/ 89،والصنعاني في توضيح الأفكار 1/ 49:" لابن أبي ذئب موطأ أكبر من موطأ مالك بأضعاف حتى قيل لمالك: ما الفائدة في تصنيفك؟ فقال: ما كان لله بقي ".
১ - মুয়াত্তা, মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন আবু যিব আল-মাদানি (মৃত্যু ১৫৮ হি.) (১)।

২ - মুয়াত্তা, মালিক বিন আনাস আল-মাদানি (মৃত্যু ১৭৯ হি.)।

*তৃতীয় শাখা: দ্বীনের কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায় বা কয়েকটি অধ্যায়ের ভিত্তিতে রচিত গ্রন্থাবলি, যার মধ্যে রয়েছে:

হাদিস সংক্রান্ত পরিচ্ছেদসমূহ (الأجزاء الحديثية): এতে ইমামগণ কোনো বিশেষ মাসআলা বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত হাদিসগুলো একত্রিত করেন, যেমন—তা আকিদাহ, ফিকহ, যুহদ (সংসারবিরাগ) কিংবা সিরাত সংক্রান্ত হতে পারে... ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ আকিদাহ বিষয়ক:

১ - আল-ঈমান, আবদুল্লাহ বিন আবু শায়বাহ (মৃত্যু ২৩৫ হি.)।

২ - আত-তাওহিদ, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ (মৃত্যু ৩১১ হি.)।

এবং ফিকহ বিষয়ক উদাহরণস্বরূপ:

১ - আল-আশরিবা, আহমাদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.)।

২ - রাফউল ইয়াদাইন, মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হি.)।

৩ - আল-কিরাআতু খালাফাল ইমাম, আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকি (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)।

এবং যুহদ (সংসারবিরাগ) বিষয়ক উদাহরণস্বরূপ:

১ - আজ-জুহদ, আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক (মৃত্যু ১৮১ হি.)।

২ - আজ-জুহদ, আহমাদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.)।

৩ - আজ-জুহদ, হান্নাদ বিন আস-সারি (মৃত্যু ২৪৩ হি.)।

খ - আল-আমালি (الأمالي): এটি হলো শাইখের উপবেশন করে তার ছাত্রদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায় বা বিচ্ছিন্ন অধ্যায়সমূহের হাদিসগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিজ সনদের (إسناد) মাধ্যমে শ্রুতলিপি প্রদান করা। এই শ্রুতলিপি প্রদান কোনো নির্দিষ্ট দিনে হতে পারে, যেমন—শুক্রবার বা সোমবার... ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) এটি বর্তমানে বিলুপ্ত, আল-খাতিব আল-জামি লি-আখলাক আল-রাওয়ি গ্রন্থে (২/২৮২) বলেন: "ইবনে আবু যিব একটি মুয়াত্তা সংকলন করেছিলেন কিন্তু তা প্রকাশ করেননি"। আস-সুয়ুতি তাদরীবুর রাওয়ি গ্রন্থে (১/৮৯) এবং আস-সানআনি তাওদিহুল আফকার গ্রন্থে (১/৪৯) উদ্ধৃত করেছেন: "ইবনে আবু যিবের মুয়াত্তা ইমাম মালিকের মুয়াত্তার চেয়ে কয়েক গুণ বড় ছিল, এমনকি মালিককে বলা হয়েছিল: আপনার এই সংকলনের উপকারিতা কী? তখন তিনি বলেছিলেন: যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয় তা-ই অবশিষ্ট থাকে"।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১২)
1 - الأمالي، للحسين بن إسماعيل بن محمد المحاملي ت (330هـ).

2 - الأمالي، لأبي القاسم، ابن بشران البغدادي ت (430هـ).

3 - الأمالي، لأبي الفضل عبد الرحيم بن الحسين العراقي ت (806هـ).

هذه باختصار أهم المصادر الأصلية للحديث النبوي.

 

‌‌المطلب الثاني: المصادر الفرعية.

ونعني بها: الكتب الحديثية الناقلة عن الكتب الأصلية، وهي أما تكون مصنفة على السند أو المتن.

الفرع الأول: ما كان مصنفاً على السند: مثل: (كتب الأطراف، والجوامع).

*ومن أهم كتب الأطراف:

1 - تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف، لأبي الحجاج يوسف بن عبد الرحمن المزي (742هـ).

2 - إتحاف المهرة بالفوائد المبتكرة من أطراف العشرة، لأبي الفضل أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (852هـ).

3 - إتحاف الخيرة المهرة بزوائد المسانيد العشرة، لأحمد بن أبي بكر بن إسماعيل البوصيري (840 هـ)

*ومن أهم كتب الجوامع:

1 - جامع المسانيد والسنن الهادي لأقوم سنن، لأبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير الدمشقي (774هـ).

2 - جمع الجوامع، لجلال الدين السيوطي (911هـ).

الفرع الثاني: ما كان مصنفاً حسب المتن، مثل: (كتب الزوائد، وكتب التخريج).

ومن أهم كتب الزوائد:
১ - আল-আমালি, হুসাইন ইবন ইসমাঈল ইবন মুহাম্মদ আল-মাহামিলি (মৃ. ৩৩০ হি.)।

২ - আল-আমালি, আবুল কাসিম ইবন বিশরান আল-বাগদাদি (মৃ. ৪৩০ হি.)।

৩ - আল-আমালি, আবুল ফজল আব্দুর রহিম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকি (মৃ. ৮০৬ হি.)।

সংক্ষেপে এগুলোই হলো নবিজির হাদিসের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক উৎসসমূহ (المصادر الأصلية)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গৌণ উৎসসমূহ (المصادر الفرعية)।

এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো: সেই হাদিস গ্রন্থসমূহ যা মৌলিক গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে; আর এগুলো হয় সনদ (السند) অথবা মতন (المتن) এর ভিত্তিতে বিন্যস্ত।

প্রথম শাখা: যা সনদের (السند) ভিত্তিতে বিন্যস্ত: যেমন: (আতরাফ গ্রন্থসমূহ এবং জামে গ্রন্থসমূহ)।

*আতরাফ গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

১ - তুহফাতুল আশরাফ বি-মা'রিফাতিল আতরাফ, আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবন আব্দুর রহমান আল-মিজ্জি (৭৪২ হি.)।

২ - ইত্তিহাফুল মাহারা বিল-ফাওয়াইদিল মুবতাকারা মিন আতরাফিল আশারা, আবুল ফজল আহমাদ ইবন আলি ইবন হাজার আল-আসকালানি (৮৫২ হি.)।

৩ - ইত্তিহাফুল খাইরাতিল মাহারা বি-জাওয়াইদিল মাসানিদিল আশারা, আহমাদ ইবন আবি বকর ইবন ইসমাঈল আল-বুসিরি (৮৪০ হি.)।

*জামে গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

১ - জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান আল-হাদি লি-আকওয়ামি সুনান, আবুল ফিদা ইসমাঈল ইবন উমর ইবন কাসির আদ-দামেশকি (৭৭৪ হি.)।

২ - জামউল জাওয়ামি, জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি (৯১১ হি.)।

দ্বিতীয় শাখা: যা মতন (المتن) অনুযায়ী বিন্যস্ত, যেমন: (জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহ এবং তাখরিজ (التخريج) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ)।

জাওয়াইদ গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো:
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৩)
1 - مجمع الزوائد ومنبع الفوائد، لنور الدين علي بن أبي بكر الهيثمي (807هـ)،جمع فيه الأحاديث الزائدة الواردة في: (مسند الإمام أحمد، ومسند أبي يعلى، ومسند البزار، ومعاجم الطبراني الثلاثة، على ما جاء في الكتب الستة).

2 - المطالب العالية في زوائد المسانيد الثمانية، لأبي الفضل أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (852هـ)،جمع فيه: (الأحاديث الزائدة الواردة في مسند أبي يعلى، ومسند مسدد بن مسرهد، ومسند ابن أبي عمر العدني، ومسند أحمد بن منيع، ومسند الطيالسي، ومسند الحارث بن أبي أسامة، ومسند الحميدي، ومسند إسحاق بن راهويه، على ما في الكتب الستة).

ومن أهم كتب التخريج:

1 - نصب الراية لأحاديث الهداية، لجمال الدين عبد الله بن يوسف الزيلعي (762هـ).

2 - الهداية في تخريج أحاديث البداية، لأحمد بن الصديق الغماري (1380هـ)،وهو في تخريج أحاديث كتاب: بداية المجتهد لابن رشد في المذهب المالكي.

3 - البدر المنير لابن الملقن (804هـ) وهو من أنفع كتب التخريج.

4 - تخريج أحاديث إحياء علوم الدين للحافظ العراقي (806بهـ).

5 - التلخيص الحبير في تخريج أحاديث الرافعي الكبير، للحافظ أبي الفضل أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (852هـ).

ولا يجوز للمشتغل بالتخريج العدول عن المصادر الأصلية إلى المصادر الفرعية إلا بشروط، منها (1):

1 - أن يكون هذا الحديث غير موجود في الأصلية كونه مفقوداً أو مخطوطاً أو تعذر الوصول إليه.

--------------------------------------------

(1) ينظر: التخريج ودراسة الأسانيد ص 6،وتخريج الحديث نشأته ومنهجيته ص18،ومذكرة في تخريج الحديث، سامي جاد الله ص11.
1 - মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ, এটি নূরুদ্দীন আলী বিন আবি বকর আল-হাইসামি (৮০৭ হি.)-এর রচনা। তিনি এতে সেই অতিরিক্ত (زوائد) হাদিসগুলো সংকলন করেছেন যা মুসনাদে ইমাম আহমাদ, মুসনাদে আবু ইয়ালা, মুসনাদে বাজ্জার এবং তাবারানির তিনটি মুজাম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু কুতুবে সিত্তাহ-তে নেই।

2 - আল-মাতালিবুল আলিয়া ফি যাওয়াইদিল মাসানিদিস সামানিয়া, এটি আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি (৮৫২ হি.)-এর রচনা। তিনি এতে মুসনাদে আবু ইয়ালা, মুসনাদে মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ, মুসনাদে ইবনু আবি উমর আল-আদানি, মুসনাদে আহমাদ বিন মানি, মুসনাদে তায়ালিসি, মুসনাদে হারিস বিন আবি উসামাহ, মুসনাদে হুমাইদি এবং মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-তে বর্ণিত সেই অতিরিক্ত (زوائد) হাদিসগুলো সংকলন করেছেন যা কুতুবে সিত্তাহ-তে নেই।

আর উৎস-নির্দেশ (تخريج) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:

1 - নাসবুর রায়াহ লি-আহাদিসিল হিদায়াহ, এটি জামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আয-যাইলায়ি (৭৬২ হি.)-এর রচনা।

2 - আল-হিদায়াহ ফি তাখরিজি আহাদিসিল বিদায়াহ, এটি আহমাদ বিন সিদ্দিক আল-গুুমারি (১৩৮০ হি.)-এর রচনা। এটি মালিকি মাজহাবের ইবনে রুশদ রচিত 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ' গ্রন্থের হাদিসসমূহের উৎস-নির্দেশ (تخريج) সংক্রান্ত।

3 - ইবনুল মুলাক্কিন (৮০৪ হি.) রচিত আল-বাদরুল মুনির; এটি উৎস-নির্দেশ (تخريج) সংক্রান্ত অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থগুলোর অন্যতম।

4 - হাফিজ আল-ইরাকি (৮০৬ হি.) কর্তৃক ইহয়াউ উলুমিদ্দীনের হাদিসসমূহের উৎস-নির্দেশ (تخريج)।

5 - আত-তালখিসুল হাবির ফি তাখরিজি আহাদিসির রাফেয়িল কাবির, এটি হাফিজ আবুল ফাদল আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি (৮৫২ হি.)-এর রচনা।

উৎস-নির্দেশ (تخريج)-এর কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য কিছু শর্ত ছাড়া মূল (الأصلية) উৎসগুলো ছেড়ে গৌণ (الفرعية) উৎসগুলোর দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ নয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে (১):

1 - সংশ্লিষ্ট হাদিসটি মূল (الأصلية) উৎসে না থাকা; যেমন সেটি বিলুপ্ত হওয়া বা পাণ্ডুলিপি (مخطوطاً) অবস্থায় থাকা অথবা সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব হওয়া।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আত-তাখরিজ ওয়া দিরাসাতুল আসানিদ, পৃষ্ঠা ৬; তাখরিজুল হাদিস নাশআতুহু ওয়া মানহাজিয়্যাতুহু, পৃষ্ঠা ১৮; এবং মুযাক্কিরাতুন ফি তাখরিজিল হাদিস, সামি জাদুল্লাহ, পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৪)
فمثلاً: هناك بعض الكتب التي لم تصلنا أصلاً أو لم تصلنا كاملة، ولكنها موجود في زمن الحافظ المزي أو مغلطاي أو الذهبي أو ابن حجر، فيجوز لك أن تخرجه من هذا الكتاب الفرعي وتعزو إليه.

فمثلاً كتاب التمييز (1) للإمام النسائي فيه تراجم وروايات، ولكنه مفقود، وهو إلى زمن الحافظ ابن حجر (852هـ) موجود ومتداول، وصرح بالنقل منه ابن خلفون والمزي والذهبي ومغلطاي وابن حجر وغيرهم، فتقول في مثله: أخرجه النسائي في التمييز كما نقله مغلطاي في إكمال تهذيب الكمال.

-مثال آخر-:يمكنك أن تخرج من كتاب إتحاف المهرة للحافظ ابن حجر أحاديث مسند أبي عوانة المفقودة من المطبوع؛ لأن الحافظ ابن حجر كانت عنده نسخة كاملة، فنقول: أخرجه أبو عوانة في مسنده كما قال الحافظ في (إتحاف المهرة).أو نحوها من العبارات الأخرى.

فهذا الكتاب مصدرٌ فرعي؛ لأنه نقل عن الكتب التي تروي بالإسناد، يجوز لنا أن ننقل منه بهذه الطريقة.

أما أن ننقل من مصدر فرعي حديثاً مخرجاً في المصادر الأصلية، والكتاب مطبوع متداول، فلا يصح علمياً، كأن تخرج حديثاً من إتحاف المهرة –مثلاً – وتعزوه على صحيح ابن خزيمة وهو في المطبوع.

2 - أن يكون المصدر الفرعي نقل الحديث بالإسناد.

والحقيقة أنه يشمل كلا المصدرين، فلابد للمصدر الأصلي والفرعي أن يكون مسنداً، فكتاب (الشهاب) للقضاعي ت (454هـ) من المصادر الأصلية؛ لكنه لم يحوي على أسانيد حتى جاء المؤلف وصنف مسنده (مسند الشهاب) فهذا مصدر أصلي مسند.

--------------------------------------------

(1) وقد يسر الله تعالى لنا جمع أقوله المبثوثة في بطون الكتب في جزء مستقل أسميناه: (أقوال الإمام النسائي في كتابه أسماء الرواة والتمييز بينهم)،ودرسنا الرواة الذين وقفنا عليهم، موازنة بأقوال أئمة الجرح والتعديل.
उदाहरणস্বরূপ: এমন কিছু কিতাব রয়েছে যা আমাদের নিকট মূল আকারে পৌঁছায়নি অথবা পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছায়নি, কিন্তু সেগুলো হাফেজ মিজ্জি, মুগলতাই, যাহাবি অথবা ইবনে হাজার (রহ.)-এর যুগে বিদ্যমান ছিল। সুতরাং আপনার জন্য এই গৌণ (فرعي) কিতাব থেকে হাদিসটির উৎস নির্ধারণ করা (تخريج) এবং এর দিকে সম্বন্ধ করা (عزو) বৈধ।

যেমন উদাহরণস্বরূপ, ইমাম নাসায়ি-এর 'কিতাবুত তাময়িজ' (১) গ্রন্থটিতে রাবিদের জীবনী (تراجم) এবং বর্ণনা (روايات) রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে এটি নিখোঁজ (مفقود)। তবে হাফেজ ইবনে হাজার (৮৫২ হিজরি)-এর সময় পর্যন্ত এটি বিদ্যমান ও প্রচলিত ছিল এবং ইবনে খালফুন, মিজ্জি, যাহাবি, মুগলতাই, ইবনে হাজার ও অন্যান্যরা এটি থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় আপনি এই কিতাব সম্পর্কে বলতে পারেন: "নাসায়ি এটি 'তাময়িজ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (أخرجه), যেমনটি মুগলতাই 'ইকমালু তাহজিবিল কামাল' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।"

—অন্য একটি উদাহরণ—: আপনি হাফেজ ইবনে হাজারের 'ইতহাফুল মাহারা' কিতাব থেকে মুসনাদে আবু আওয়ানার সেই হাদিসগুলো উৎস হিসেবে গ্রহণ (تخريج) করতে পারেন যা মুদ্রিত কপি থেকে নিখোঁজ (مفقود); কারণ হাফেজ ইবনে হাজারের নিকট এর একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি ছিল। তাই আমরা বলব: "আবু আওয়ানা এটি তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন (أخرجه), যেমনটি হাফেজ 'ইতহাফুল মাহারা' গ্রন্থে বলেছেন।" অথবা এই জাতীয় অন্যান্য বাক্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই কিতাবটি একটি গৌণ উৎস (مصدر فرعي); কারণ এটি এমন সব কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছে যা সনদ (إسناد) সহ বর্ণিত হয়েছে। আমাদের জন্য এই পদ্ধতিতে তা থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা বৈধ।

তবে কোনো গৌণ উৎস (مصدر فرعي) থেকে এমন কোনো হাদিস উদ্ধৃত করা (تخريج) যা মূল উৎসসমূহে (المصادر الأصلية) বিদ্যমান এবং কিতাবটি মুদ্রিত ও প্রচলিত, তবে তা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। যেমন উদাহরণস্বরূপ— 'ইতহাফুল মাহারা' থেকে কোনো হাদিস গ্রহণ করা এবং তা সহিহ ইবনে খুজাইমার দিকে সম্বন্ধ করা (عزو), অথচ হাদিসটি মূল মুদ্রিত কপিতেই বিদ্যমান।

2 - গৌণ উৎসটি (المصدر الفرعي) হাদিসটি সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করে থাকতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে এটি উভয় প্রকার উৎসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সুতরাং মূল উৎস (المصدر الأصلي) এবং গৌণ উৎস (المصدر الفرعي) উভয়টিকেই সনদযুক্ত (مسند) হতে হবে। যেমন কুদায়ি (মৃত্যু ৪৫৪ হিজরি)-এর 'আশ-শিহাব' কিতাবটি মূল উৎসসমূহের (المصادر الأصلية) অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু এটি সনদ (أسانيد) সংবলিত ছিল না, যতক্ষণ না লেখক নিজে তার মুসনাদ (মুসনাদুশ শিহাব) সংকলন করেন। সুতরাং এটি একটি সনদযুক্ত (مسند) মূল উৎস (مصدر أصلي)।

--------------------------------------------

(১) আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন কিতাবের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে থাকা তাঁর বক্তব্যসমূহকে একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে আমাদের জন্য সংগ্রহ করা সহজ করে দিয়েছেন, যার নাম আমরা রেখেছি: 'আকওয়ালুল ইমামিন নাসায়ি ফি কিতাবিহি আসমাউর রুওয়াত ওয়াত তাময়িজি বাইনাহুম' (ইমাম নাসায়ি-এর কিতাবে রাবিদের নাম ও তাদের মধ্যকার পার্থক্য বিষয়ক বক্তব্যসমূহ)। সেখানে আমরা সেই বর্ণনাকারীদের (الرواة) সম্পর্কে আলোচনা করেছি যাদের ব্যাপারে আমরা অবগত হয়েছি, যা জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর ইমামদের বক্তব্যের সাথে তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكذا: كتاب (الفردوس) للديلمي ت (509هـ) من المصادر الأصلية، وهو غير مسند، لكن كتاب (مسند الفردوس) لابنه (أبي منصور) مصدر أصلي ومسند.

وقل مثله في المصادر الفرعية فكتاب (الأذكار)،للنووي مصدر فرعي غير مسند، لكن كتاب (نتائج الأفكار) للحافظ ابن حجر، كتاب فرعي مسند؛ لأنه كتاب مسند ويسوق أحاديث كتاب الأذكار بإسناده هو - ابن حجر-.

وقد جوز بعض الباحثين المعاصرين النقل من الكتب الفرعية وإن لم تكن مسندة، وأطلق بعضهم عليها أسم (مصادر غير أصلية)،وأطلق على المسندة منها (مصادر شبه الأصلية) (1).

وننبه: أننا نقول عند النقل من المصادر الأصلية: أخرجه، ومن المصادر الفرعية: أورده.

ومن أهم فوائد التخريج من المصادر الفرعية (2):

أ- الوقوف على الأحاديث المفقودة أو التي يعسر وقوفنا عليها.

ب- أنها تمثل المفتاح والدليل الموصل إلى المصادر الأصلية.

ج- معرفة أحكام بعض الأحاديث التي لم يبين الأئمة حكمها في المصادر الأصلية لسبب أو لآخر.

--------------------------------------------

(1) ينظر: تخريج الحديث نشأته ومنهجيته ص19.

(2) ينظر: المفصل في أصول التخريج ودراسة الأسانيد، علي بن نايف الشحوذ ص23.
অনুরূপভাবে: দাইলামী (মৃ. ৫০৯ হি.)-র 'আল-ফিরদাউস' গ্রন্থটি মৌলিক উৎসগুলোর (المصادر الأصلية) অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি সনদবিহীন (غير مسند); কিন্তু তাঁর পুত্র (আবু মনসুর)-এর 'মুসনাদুল ফিরদাউস' গ্রন্থটি একটি মৌলিক উৎস (مصدر أصلي) এবং সনদযুক্ত (مسند)।

মাধ্যমিক উৎসগুলোর (المصادر الفرعية) ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; যেমন ইমাম নববীর 'আল-আজকার' গ্রন্থটি একটি সনদবিহীন (غير مسند) মাধ্যমিক উৎস (مصدر فرعي), কিন্তু হাফেজ ইবনে হাজারের 'নাতাইযুল আফকার' গ্রন্থটি একটি সনদযুক্ত (مسند) মাধ্যমিক উৎস; কারণ এটি একটি সনদসমৃদ্ধ (مسند) গ্রন্থ এবং এতে তিনি 'আল-আজকার' গ্রন্থের হাদিসসমূহ নিজের সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ ইবনে হাজার।

কোনো কোনো সমসাময়িক গবেষক সনদবিহীন (غير مسند) হলেও মাধ্যমিক গ্রন্থগুলো থেকে উদ্ধৃতি প্রদান বৈধ বলেছেন। তাদের কেউ কেউ এগুলোকে 'অমৌলিক উৎস' (مصادر غير أصلية) নামে অভিহিত করেছেন, আর এগুলোর মধ্যে যেগুলো সনদযুক্ত (مسند) সেগুলোকে 'আধা-মৌলিক উৎস' (مصادر شبه الأصلية) বলেছেন (১)।

আমরা সতর্ক করছি যে: মৌলিক উৎস (المصادر الأصلية) থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় আমরা বলি: 'আখরাজাহু' (أخرجه - তিনি এটি সংকলন করেছেন), আর মাধ্যমিক উৎস (المصادر الفرعية) থেকে উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে বলি: 'আওরাদাহু' (أورده - তিনি এটি উল্লেখ করেছেন)।

মাধ্যমিক উৎস (المصادر الفرعية) থেকে তাখরিজ (التخريج) করার গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে (২):

ক- হারিয়ে যাওয়া অথবা আমাদের জন্য খুঁজে পাওয়া কঠিন এমন হাদিসগুলো অবগত হওয়া।

খ- এগুলো মৌলিক উৎসগুলোতে (المصادر الأصلية) পৌঁছানোর চাবিকাঠি ও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।

গ- এমন কিছু হাদিসের হুকুম বা মান (أحكام) জানা যায়, যেগুলোর মান ইমামগণ কোনো না কোনো কারণে মৌলিক উৎসগুলোতে (المصادر الأصلية) বর্ণনা করেননি।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তাখরিজুল হাদিস: নাশআতুহু ওয়া মানহাজিয়্যাতুহু, পৃষ্ঠা ১৯।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-মুফাসসাল ফি উসুলিত তাখরিজ ওয়া দিরাসাতিল আসানিদ, আলী বিন নায়েফ আশ-শুহুদ, পৃষ্ঠা ২৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الثالث

مراحل تخريج الحديث

لتخريج الحديث خمس مراحل:

1 - معرفة مظان الحديث من كتب السنة الأصلية.

2 - جمع طرق الحديث المختلفة.

3 - تحديد موضع التفرد في الإسناد.

4 - ترجمة رجال الإسناد.

5 - الحكم على الحديث.

والآن نتحدث بتفصيل عن كل مرحلة منها:

 

‌‌المطلب الأول: معرفة مظان الحديث.

ونعني بها معرفة مكان وجود هذه الأحاديث في الكتب الأصلية من كتب السنة المعتمدة كالكتب الستة، ومصنفات مؤلفيها الأخرى وموطأ مالك، وسنن الدارمي، ومسند أحمد، ومصنف عبد الرزاق، ومصنف ابن أبي شيبة، ومسند الطيالسي، ومسند الحميدي، ومسند عبد بن حميد، وصحيح ابن خزيمة، وصحيح ابن حبان، وسنن الدارقطني، وسنن البيهقي ..... الخ.

ومعرفة مظان الحديث تكون إما عن طريق المتن أو السند، إذ يختلف العلماء في تصنيف كتب السنة، قال الخطيب البغدادي: "من العلماء من يختار تصنيف السنن وتخريجها على الأحكام
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

হাদিস আহরণ বা উৎস নির্ণয়ের (تخريج) পর্যায়সমূহ

হাদিস আহরণের (تخريج) পাঁচটি পর্যায় রয়েছে:

১ - সুন্নাহর মূল গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসের সম্ভাব্য উৎসস্থল (مظان) সম্পর্কে অবগত হওয়া।

২ - হাদিসের বিভিন্ন সূত্রসমূহ (طرق) একত্রিত করা।

৩ - সনদ বা বর্ণনাপরম্পরার (إسناد) মধ্যে এককত্বের (تفرد) স্থান নির্ধারণ করা।

৪ - সনদের বর্ণনাকারীদের (رجال) জীবনী ও অবস্থা (ترجمة) পর্যালোচনা করা।

৫ - হাদিসের ওপর হুকুম বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদান করা।

এখন আমরা এর প্রতিটি পর্যায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: হাদিসের সম্ভাব্য উৎসস্থল (مظان) সম্পর্কে অবগত হওয়া।

এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থসমূহে এই হাদিসগুলোর অবস্থান জানা; যেমন— কুতুবুস সিত্তাহ এবং এদের লেখকদের অন্যান্য সংকলনসমূহ, মুয়াত্তা মালিক, সুনান আদ-দারিমি, মুসনাদ আহমাদ, মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ, মুসনাদ আত-তায়ালিসি, মুসনাদ আল-হুমাইদি, মুসনাদ আবদ বিন হুমাইদ, সহিহ ইবনে খুজাইমাহ, সহিহ ইবনে হিব্বান, সুনান আদ-দারা কুতনি, সুনান আল-বাইহাকি... ইত্যাদি।

হাদিসের সম্ভাব্য উৎসস্থল (مظان) সম্পর্কে অবগত হওয়া হয় মূল পাঠ (متن) অথবা সনদ (سند)-এর মাধ্যমে; কেননা সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ শ্রেণিবিন্যাস করার ক্ষেত্রে আলিমগণের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে। খতিব আল-বাগদাদি বলেন: "আলিমদের মধ্যে কেউ কেউ সুনান গ্রন্থসমূহ শ্রেণিবিন্যাস এবং তা থেকে হাদিস আহরণ (تخريج) করার ক্ষেত্রে ফিকহি বিধানের (أحكام) তারতিবকে পছন্দ করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وطريقة الفقه، ومنهم من يختار تخريجها على المسند، وضم أحاديث كل واحد من الصحابة بعضها إلى بعض" (1).

ويقول الحافظ أبو عمرو بن الصلاح:"وللعلماء بالحديث في تصنيفه طريقتان: إحداهما: التصنيف على الأبواب، وهو: تخريجه على أحكام الفقه وغيرها، وتنويعه أنواعاً، وجمع ما ورد في كل حكم وكل نوع في باب فباب، والثانية: تصنيفه على المسانيد وجمع حديث كل صحابي وحده، وإن اختلفت أنواعه" (2).

وقال ابن حجر:"وتصنيفه إما على المسانيد، أو الأبواب، أو العلل، أو الأطراف" (3).

ويقول السخاوي: ولهم طريقة أخرى في جمع الحديث وهي جمعه على حروف المعجم ...... ومنهم من يرتب على الكلمات لكن غير متقيد بحروف مقتصرا على ألفاظ النبوة فقط .... ثم من هؤلاء من يلم بغريب الحديث وإعرابه أو أحكامه وآرائه فيه .... وجمعوا أيضا أبوابا من أبواب الكتب المصنفة الجامعة للأحكام وغيرها فأفردوها بالتأليف .... " (4).

وهكذا فطرق التصنيف مختلفة وطريقة البحث فيها مختلفة أيضاً، وتكون:

أولا: عن طريق المتن.

ويكون إما عن طريق طرف الحديث أو لفظة بارزة في المتن.

أ- عن طريق معرفة طرف الحديث: أي أوله، إذ ترتب فيه الأحاديث على حروف المعجم لتسهل عملية كشف موضع الحديث، ومن الكتب المصنفة في هذا الباب:

--------------------------------------------

(1) الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع 2/ 284.

(2) مقدمة ابن الصلاح ص 143.

(3) نخبة الفكر ص30.

(4) فتح المغيث 2/ 387.
এবং ফিকহ-এর পদ্ধতি; আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসনাদ (المسند)-এর ভিত্তিতে হাদিস চয়ন (تخريج) করা এবং প্রত্যেক সাহাবীর হাদিসসমূহকে একত্রে বিন্যস্ত করা পছন্দ করেন (১)।

হাফেজ আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেন: "হাদিস বিশারদগণের নিকট হাদিস সংকলনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে: একটি হলো: অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস (التصنيف على الأبواب), আর তা হলো: ফিকহ-এর বিধিবিধান ও অন্যান্য বিষয়ের ভিত্তিতে হাদিস চয়ন (تخريج) করা, সেগুলোকে বিভিন্ন প্রকারে বিন্যস্ত করা এবং প্রতিটি বিধান ও প্রকারের অধীনে বর্ণিত হাদিসসমূহকে পৃথক পৃথক পরিচ্ছেদে একত্রিত করা। আর দ্বিতীয়টি হলো: মুসনাদসমূহের (المسانيد) ভিত্তিতে সংকলন করা এবং প্রত্যেক সাহাবীর হাদিসকে আলাদাভাবে একত্রিত করা, যদিও তার প্রকারভেদ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে" (২)।

ইবনু হাজার বলেন: "হাদিস সংকলন হয় মুসনাদসমূহ (المسانيد), অথবা অধ্যায়সমূহ (الأبواب), অথবা ত্রুটিসমূহ (العلل), অথবা হাদিসের প্রারম্ভিক অংশ (الأطراف)-এর ভিত্তিতে" (৩)।

আল-সাখাবী বলেন: "হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁদের আরও একটি পদ্ধতি রয়েছে, আর তা হলো বর্ণানুক্রমিক (حروف المعجم) বিন্যাস... তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শব্দের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেন, তবে বর্ণের ক্রমানুসারে সীমাবদ্ধ না থেকে কেবল নবুওয়াতের বাণীর ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন... এরপর তাঁদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা বিরল শব্দ (غريب الحديث), এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعرابه) অথবা এর বিধান ও এ সংক্রান্ত মতামতগুলো আলোচনা করেন... এবং তাঁরা বিধিবিধান ও অন্যান্য বিষয় সম্বলিত সংকলিত গ্রন্থসমূহের বিভিন্ন অধ্যায়কে একত্রিত করে সেগুলোকে পৃথক কিতাব হিসেবে রচনা করেছেন..." (৪)।

এভাবে সংকলনের পদ্ধতিসমূহ যেমন ভিন্ন ভিন্ন, সেগুলোতে অনুসন্ধানের পদ্ধতিও ভিন্ন ভিন্ন। তা হতে পারে:

প্রথমত: মূল পাঠ (المتن)-এর মাধ্যমে।

আর তা হয় হাদিসের প্রারম্ভিক অংশ (طرف الحديث) অথবা মূল পাঠ (المتن)-এর মধ্যে বিদ্যমান কোনো বিশেষ শব্দের মাধ্যমে।

ক- হাদিসের প্রারম্ভিক অংশ (طرف الحديث) জানার মাধ্যমে: অর্থাৎ হাদিসের শুরু, যেখানে বর্ণানুক্রমিক (حروف المعجم) বিন্যাসে হাদিসগুলো সাজানো থাকে যাতে হাদিসের অবস্থান খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া সহজ হয়। এই অধ্যায়ে সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি ২/২৮৪।

(২) মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ, পৃষ্ঠা ১৪৩।

(৩) নুখবাতুল ফিকার, পৃষ্ঠা ৩০।

(৪) ফাতহুল মুগিস ২/৩৮৭।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৮)
أولاً-جمع الجوامع: وهو المسمى بالجامع الكبير للحافظ جلال الدين السيوطي ت (911هـ)،وهو مقسم على قسمين قسم للأقوال، والآخر للأفعال. وقد استل منها ما يقارب عشرة آلاف حديث في الأحاديث القولية القصيرة فقط. أما الأحاديث الفعلية أو القولية الطويلة فلا تجدها فيه، واستخدم الرموز الآتية:

(خ) للبخاري، (م) لمسلم، و (ق) للبخاري ومسلم، (هـ) لابن ماجه، (د) لأبي داود، (ت) للترمذي، (ن)،للنسائي، و (4):للأربعة سوى البخاري ومسلم، (3):للأربعة سوى ابن ماجه، (حم):لأحمد في المسند، (عم):لما زاده ابنه عبد الله في المسند، (ك):للحاكم، (خد) للبخاري في الأدب المفرد، (تخ):له في التاريخ، (حب):لابن حبان، (طب):للطبراني في الكبير، (طس):له في الأوسط، (طص):له في الصغير، (ص):لسعيد بن منصور في سننه، (ش):لابن أبي شيبة، (عب):لعبد الرزاق في مصنفه، (ع):لأبي يعلى في مسنده، (قط):للدارقطني في سننه، (فر):للديلمي في مسند الفردوس، (حل):لأبي نعيم في الحلية، (هق):للبيهقي في سننه، (هب):له في شعب الإيمان، (عد):لابن عدي في الكامل، (عق):للعقيلي في الضعفاء، (خط): للخطيب في تاريخه.

وأستعمل (صح):للدلالة على صحة الحديث عنده. و (ح) للحسن، و (ض):للضعيف.

ثانيا-فيض القدير للمناوي، وهو شرح للجامع الصغير.

ثالثاً- الدرر المتناثرة في الأحاديث المشتهرة للسيوطي.

رابعاً-المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة، للحافظ السخاوي ت (902 هـ).

خامساً-كشف الخفاء ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس، لإسماعيل العجلوني (1162هـ).

سادساً- موسوعة أطراف الحديث، لمحمد السعيد بسيوني زغلول.
প্রথমত- জামউল জাওয়ামি: এটি হাফিজ জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) সংকলিত 'আল-জামিউল কাবীর' নামেও অভিহিত; এটি দুটি অংশে বিভক্ত—একটি বাণীর জন্য এবং অন্যটি কর্মের জন্য। তিনি সেখান থেকে কেবল সংক্ষিপ্ত বাণীমূলক হাদিসসমূহের মধ্য থেকে প্রায় দশ হাজার হাদিস চয়ন করেছেন। তবে এতে কর্মমূলক বা দীর্ঘ বাণীমূলক হাদিসগুলো পাওয়া যাবে না। তিনি নিম্নোক্ত প্রতীকসমূহ ব্যবহার করেছেন:

(খ): বুখারি, (ম): মুসলিম, (ক): বুখারি ও মুসলিম, (হ): ইবনে মাজাহ, (দ): আবু দাউদ, (ত): তিরমিজি, (ন): নাসায়ি, (৪): বুখারি ও মুসলিম ব্যতীত চার সুনান গ্রন্থকার, (৩): ইবনে মাজাহ ব্যতীত বাকি তিন সুনান গ্রন্থকার, (হাম): মুসনাদে আহমদ, (আম): মুসনাদে আহমদে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ, (কা): হাকেম, (খদ): আদাবুল মুফরাদ-এ বুখারি, (তখ): তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে, (হাব): ইবনে হিব্বান, (তব): তাবারানির আল-মু'জামুল কাবীর, (তস): তাঁর আল-মু'জামুল আওসাত, (তসো): তাঁর আল-মু'জামুস সাগীর, (স): সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর, (শ): ইবনে আবি শাইবাহ, (আব): মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, (আ): মুসনাদে আবু ইয়ালা, (কত): সুনানে দারাকুতনি, (ফর): মুসনাদুল ফিরদাউসে দাইলামি, (হল): হিলয়াতুল আউলিয়া-তে আবু নুয়াইম, (হক): সুনানে বায়হাকি, (হব): তাঁর শুআবুল ঈমান, (আদ): আল-কামিল-এ ইবনে আদি, (আক): দুর্বল বর্ণনাকারী (الضعفاء) বিষয়ক গ্রন্থে উকায়লি, (খত): তারিখে খতিব বাগদাদি।

তিনি (সাহ) ব্যবহার করেছেন তাঁর নিকট হাদিসটির সহিহ (صحيح) হওয়ার নির্দেশক হিসেবে; (হা): হাসান (حسن)-এর জন্য এবং (দ): দুর্বল (ضعيف)-এর জন্য।

দ্বিতীয়- আল-মানাউয়ি রচিত 'ফয়জুল কাদির', যা 'আল-জামিউস সাগীর'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

তৃতীয়- আস-সুয়ূতী রচিত 'আদ-দুরারুল মুনতাসিরা ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরা'।

চতুর্থ- হাফিজ আস-সাখাভী (মৃত্যু ৯০২ হিজরি) রচিত 'আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফি বায়ানি কাসিরিম মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরা আলাল আলসিনাহ'।

পঞ্চম- ইসমাইল আল-আজলুনি (মৃত্যু ১১৬২ হিজরি) রচিত 'কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মা ইশতাহারা মিনাল আহাদিসি আলা আলসিনাতিন নাস'।

ষষ্ঠ- মুহাম্মদ আস-সাঈদ বাসইউনি যাগলুল রচিত 'মাওসুআতু আতরাফিল হাদিস'।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وغيرها من الكتب الأخرى، وقد ينتفع طالب العلم من الفهارس الملحقة بالتحقيقات والمؤلفات التي اشتهرت اليوم كفهارس تحفة الأشراف وفهارس المسند الجامع وفهارس مسند أحمد وفهارس صحيح ابن حبان … وغيرها كثير جداً.

ب- عن طريق لفظة بارزة في المتن.

وما يعينك في ذلك كتاب: (المعجم المفهرس لألفاظ الحديث)، لمجموعة من المستشرقين بإشراف الدكتور (أرند جاي فنسك)،وهو مختص بالكتب التسعة (الستة والموطأ ومسند الدارمي ومسند أحمد) وقد طبع في ثماني مجلدات.

وللبحث فيه نرجع الكلمة إلى مصدرها اللغوي كأنك تبحث في معاجم اللغة، ثم نبحث عن مشتقات تلك الكلمة ترتيبًا أبجديًا فيبدأ بألف باء ثم بعدها ألف تاء … وهكذا.

وقد جاءت الفهارس في المجلد الثامن منه.

وللكتاب رموز خاصة به موجودة في حاشية كل صفحة من الكتاب، وهي:

(خ): للبخاري، (م): لمسلم، (د): لأبي داود، (ت):للترمذي، (ن):للنسائي، (جه): لابن ماجه، (ط):لموطأ مالك، (حم):لمسند أحمد، (دي):لسنن الدارمي.

وطريقة إشارته إلى الموضع: يذكر جملة من الحديث التي حوت الكلمة المقصودة من البحث ويضع أمامها اسم الكتاب (الإيمان، الصلاة، والصيام .... )،ثم رقم الباب (4،3،2،1 .... ). وهذا بالنسبة لجميع المصنفات خلا صحيح مسلم وموطأ مالك ومسند أحمد، إذ استعمل مع صحيح مسلم والموطأ عنوان الباب ورقم الحديث، وينفعك ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي لهما- طبعته-.

أما مسند أحمد فإنه يشير إلى رقم الجزء والصفحة، ويستعمل رقمين أحدهما كبير للجزء والآخر صغير للصفحة، وتعتمد فيها الطبعة الميمنية أو المصورة عنها، والمطبوعة في ست مجلدات.
এবং অন্যান্য কিতাবসমূহ; ইলম অন্বেষণকারী বর্তমানে প্রসিদ্ধ তাহকীককৃত গ্রন্থ ও সংকলনগুলোর সাথে যুক্ত নির্ঘণ্ট (فهارس) সমূহ থেকেও উপকৃত হতে পারেন, যেমন: তুহফাতুল আশরাফ-এর নির্ঘণ্ট, আল-মুসনাদ আল-জামি'-এর নির্ঘণ্ট, মুসনাদ আহমাদ-এর নির্ঘণ্ট, সহিহ ইবনে হিব্বান-এর নির্ঘণ্ট … এবং আরও অনেক।

খ- মতন (متن) এর অন্তর্ভুক্ত কোনো বিশেষ শব্দের মাধ্যমে।

এ ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্যকারী গ্রন্থটি হলো: 'আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস লি-আলফাযিল হাদিস', যা ডক্টর আরেন্ড জ্যান ওয়েনসিনক-এর তত্ত্বাবধানে একদল প্রাচ্যবিদের প্রচেষ্টায় সংকলিত। এটি কুতুবে তিসআ বা নয়টি কিতাব (কুতুবে সিত্তা, মুওয়াত্তা মালিক, মুসনাদ আদ-দারিমি ও মুসনাদ আহমাদ) এর জন্য বিশেষায়িত এবং এটি আটটি খণ্ডে (مجلدات) মুদ্রিত হয়েছে।

এতে অনুসন্ধানের জন্য আমরা শব্দটিকে তার ভাষাগত মূল শব্দ (مصدر) বা ধাতু রূপে ফিরিয়ে নেব, ঠিক যেমনটি আপনি অভিধানে অনুসন্ধান করে থাকেন। এরপর আমরা সেই শব্দের বিভিন্ন রূপান্তরসমূহ বর্ণানুক্রমিক (ترتيب أبجدي) বিন্যাসে খুঁজব; যা আলিফ-বা থেকে শুরু হয়ে এরপর আলিফ-তা … এভাবে চলবে।

গ্রন্থটির নির্ঘণ্ট (فهارس) সমূহ এর অষ্টম খণ্ডে (مجلد) প্রদান করা হয়েছে।

কিতাবটির নিজস্ব কিছু সংকেত (رموز) রয়েছে যা কিতাবের প্রতিটি পৃষ্ঠার টীকায় (حاشية) বিদ্যমান। সেগুলো হলো:

(খ): বুখারি, (ম): মুসলিম, (দ): আবু দাউদ, (ত): তিরমিযি, (ন): নাসাঈ, (জ): ইবনে মাজাহ, (ত্ব): মুওয়াত্তা মালিক, (হা-মীম): মুসনাদ আহমাদ, (দা): সুনান আদ-দারিমি।

স্থান নির্দেশ করার পদ্ধতি: এটি হাদিসের সেই বাক্যটি উল্লেখ করে যাতে অনুসন্ধানকৃত শব্দটি রয়েছে এবং তার সামনে কিতাবের নাম (ঈমান, সালাত, সাওম....) বসায়, এরপর অনুচ্ছেদ (باب) নম্বর (১, ২, ৩, ৪....) উল্লেখ করে। সহিহ মুসলিম, মুওয়াত্তা মালিক এবং মুসনাদ আহমাদ ব্যতীত অন্যান্য সকল সংকলন (مصنفات) এর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। কারণ সহিহ মুসলিম ও মুওয়াত্তার ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদের শিরোনাম (عنوان الباب) ও হাদিস নম্বর ব্যবহৃত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির কৃত নম্বর বিন্যাস (তার মুদ্রিত সংস্করণ) আপনার জন্য উপকারী হবে।

আর মুসনাদ আহমাদ-এর ক্ষেত্রে এটি খণ্ড (جزء) ও পৃষ্ঠা নম্বর নির্দেশ করে। এতে দুটি সংখ্যা ব্যবহৃত হয়, যার একটি বড় যা খণ্ড (جزء) নির্দেশ করে এবং অন্যটি ছোট যা পৃষ্ঠা নির্দেশ করে। এতে মাইমানিয়া সংস্করণ অথবা তার ছায়া সংস্করণকে ভিত্তি ধরা হয়েছে, যা ছয় খণ্ডে (مجلدات) মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২০)
ولمن لا يعرف طريقة ترتيب أبواب وكتب كل كتاب من هذه الكتب التسعة، فعليه مراجعة مقدمة مفتاح كنوز السنة لمحمد فؤاد عبد الباقي فإنه ذكر أرقام الأبواب والكتب مرتبة حسب التسلسل.

فمثلا: لو أردت البحث عن كلمة (أصحابي)،فإنك تبحث في المعجم عن الكلمة بعد تجريدها إلى الفعل الثلاثي (صحب)،ثم تبحث في مشتقاتها فتجد مثلاً:

صَحبَ، صَحْب، صاحب، صاحبة، أصاحب، أصحابه، أصحابي، صحابة، صحاببي .. أصيحابي .......

ويذكر أمام كل لفظة طرف الحديث وموضعه من الكتب التسعة بالرموز الموضحة فيه.

ثانياً: معرفة المظان عن طريق السند:

وقيل إن أول من خرج على السند نعيم بن حماد، قال أحمد بن محمد بن غالب الفقيه: أخبرنا أبو الحسن الدارقطني، قال: وأول من صنف مسندا وتتبعه نعيم بن حماد (1).

وتعقبه الخطيب فقال:"وقد صنف أسد بن موسى المصري مسندا وكان أسد أكبر من نعيم سناً وأقدم سماعا فيحتمل أن يكون نعيم سبقه إلى تخريج المسند، وتتبع ذلك في حداثته وخرج أسد بعده على كبر سنه والله اعلم" (2).

ويطلق عليه المعاصرون: التخريج عن طريق (الراوي الأعلى) للحديث، ويراد به أعلى رجل في الإسناد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم سواء كان صحابياً أو تابعياً أو دونه.

وأفضل ما يفيد في هذا الباب كتب المسانيد وهي مرتبة على أسماء الصحابة رضي الله عنهم، فمنها ما يرتب على الفضل والشرف، أو على السابقة في الإسلام، ومنها ما يرتب على حروف المعجم، ومن أهمها مسند الطيالسي، ومسند الحميدي ومسند أحمد، وغيرها، ومن أهم

--------------------------------------------

(1) الجامع لأخلاق الراوي 2/ 290.

(2) المصدر نفسه.
যাঁরা এই নয়টি গ্রন্থের প্রত্যেকটির অধ্যায় (أبواب) এবং গ্রন্থসমূহের (كتب) বিন্যাস পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন, তাঁদের উচিত মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী রচিত মিফতাহ কুনুজ আল-সুন্নাহ-এর ভূমিকাটি দেখে নেওয়া; কারণ তিনি সেখানে অধ্যায় ও গ্রন্থসমূহের নম্বরগুলো ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ: আপনি যদি (আসহাবি) শব্দটি নিয়ে অনুসন্ধান করতে চান, তবে আপনাকে নির্ঘণ্টে (المعجم) শব্দটি তার মূল ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূল (সাহাবা) হিসেবে খুঁজতে হবে। এরপর এর বিভিন্ন রূপান্তরগুলোর মধ্যে আপনি পাবেন, যেমন:

সাহাবা, সাহাব, সাহিব, সাহিবাহ, আসাহিব, আসহাবুহু, আসহাবি, সাহাবাহ, সাহাবি.. আসাইহাবি .......

এবং প্রতিটি শব্দের সামনে হাদিসের প্রথমাংশ (طرف الحديث) এবং নয়টি গ্রন্থে এর অবস্থান তাতে বর্ণিত প্রতীকগুলোর মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: সনদের (السند) মাধ্যমে হাদিসের উৎস জানা:

ব বলা হয়ে থাকে যে, সনদের (السند) ভিত্তিতে সর্বপ্রথম যিনি হাদিস বিন্যাস (خرج) করেছেন তিনি হলেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ। আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে গালিব আল-ফকিহ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আল-দারাকুতনি, তিনি বলেছেন: এবং সর্বপ্রথম যিনি একটি মুসনাদ সংকলন করেছেন এবং এর অনুসরণ করেছেন তিনি হলেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ (১)।

আল-খতিব এর পর্যালোচনা করে বলেছেন: "আসাদ ইবনে মুসা আল-মিসরি একটি মুসনাদ সংকলন করেছিলেন। আসাদ বয়সে নুআইমের চেয়ে বড় ছিলেন এবং হাদিস শ্রবণেও (سماعا) অগ্রবর্তী ছিলেন। তবে সম্ভবত নুআইম মুসনাদ সংকলনের (تخريج) ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন এবং যৌবনেই তিনি তা অনুসরণ করেছিলেন, আর আসাদ তাঁর বার্ধক্যে এটি সংকলন (خرج) করেছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন" (২)।

সমকালীন পণ্ডিতগণ একে ‘শীর্ষ বর্ণনাকারীর’ (الراوي الأعلى) মাধ্যমে হাদিস বিন্যাস (التخريজ) বলে থাকেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত ইসনাদের (الإسناد) সর্বোচ্চ স্তরের ব্যক্তি, চাই তিনি সাহাবি (صحابياً) হোন কিংবা তাবেয়ি (تابعياً) অথবা তাঁর পরবর্তী স্তরের কেউ।

এই বিষয়ে সবচেয়ে উপকারী হলো মুসনাদ গ্রন্থসমূহ, যা সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নামের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। এগুলোর কোনোটি শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার ভিত্তিতে, আবার কোনোটি ইসলাম গ্রহণের অগ্রবর্তিতার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। আবার কোনোটি বর্ণানুক্রমিক (حروف المعجم) ভাবে বিন্যস্ত। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মুসনাদ আল-তায়ালিসি, মুসনাদ আল-হুমাইদি এবং মুসনাদ আহমদ ইত্যাদি। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আখলাক আল-রাবি ২/ ২৯০।

(২) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২১)
كتب المعاجم: معجم الطبراني الكبير، ومعجم الطبراني الأوسط، ومعجم الطبراني الصغير وغيرها، ومنها ما رتب على أطراف مسانيد الصحابة رضي الله عنهم أجمعين، إذ يذكر طرفاً من حديثه (جزء منه) وليس بالضرورة أوله، ومن أهم كتب الأطراف:

1 - أطراف الصحيحين، لأبي مسعود: إبراهيم بن محمد بن عبيد الدمشقي ت (401) هـ.

2 - أطراف الصحيحين، لأبي محمد: خلف بن محمد بن علي بن حمدون الواسطي ت (401) هـ.

3 - أطراف الكتب الستة، للحافظ أبي الفضل: محمد بن طاهر المقدسي، المعروف بابن القيسراني ت (507) هـ.

5 - الإشراف على معرفة الأطراف، للحافظ ابن عساكر ت (571) هـ، وهو في أطراف السنن الأربع.

6 - أطراف الستة، لأبي بكر: محمد بن أحمد بن علي المصري القسطلاني ت (686) هـ.

7 - تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف للإمام المِزِّي ت (742) هـ.

8 - إتحاف المهرة بالفوائد المبتكرة من أطراف العشرة، للحافظ ابن حجر العسقلاني ت (852) هـ.

9 - إطراف المسْنِد المعتلي بأطراف المُسنَد الحنبلي، للحافظ ابن حجر.

ولنأخذ أهمها وأكثرها انتشاراً بين طلبة العلم اليوم وهو كتاب تحفة الأشراف للمزي مثالاً:

كتاب تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف .... للإمام الحافظ المزي ت (742هـ):

وللتعريف بالإمام المزي ننقل باختصار بعض ما قاله تلميذه النجيب الإمام الذهبي:" شيخنا الإمام العالم الحبر الحافظ الأوحد محدث الشام جمال الدين أبو الحجاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن بن يوسف القضاعي ثم الكلبي الدمشقي الشافعي، ولد بظاهر حلب سنة أربع وخمسين وستمائة ونشأ بالمزة، وحفظ القرآن وتفقه قليلا ثم أقبل على هذا الشأن .... ونظر في
মু'জাম (المعاجم) গ্রন্থসমূহ: মু'জামে তাবারানি আল-কাবির, মু'জামে তাবারানি আল-আওসাত, মু'জামে তাবারানি আস-সগির এবং অন্যান্য। এগুলোর মধ্যে এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর মুসনাদসমূহের (مسانيد) আতরাফ (أطراف) অর্থাৎ হাদিসের প্রথমাংশের বর্ণনাক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। যেখানে হাদিসের একটি অংশ বা সূত্র (طرفاً) (হাদিসের কিয়দংশ) উল্লেখ করা হয়, তবে তা আবশ্যিকভাবে হাদিসের শুরু থেকেই হতে হবে এমন নয়। আতরাফ (أطراف) বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

1 - আতরাফুস সহীহাইন: আবু মাসউদ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৪০১ হিজরি) কর্তৃক রচিত।

2 - আতরাফুস সহীহাইন: আবু মুহাম্মদ খালাফ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন হামদুন আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু ৪০১ হিজরি) কর্তৃক রচিত।

3 - আতরাফুল কুতুবুস সিত্তা: হাফেজ (الحافظ) আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি, যিনি ইবনুল কাইসারানি (মৃত্যু ৫০৭ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত।

5 - আল-ইশরাফ আলা মারিফাতিল আতরাফ: হাফেজ (الحافظ) ইবনে আসাকির (মৃত্যু ৫৭১ হিজরি) কর্তৃক রচিত, এটি চার সুনান গ্রন্থের আতরাফ (أطراف) বিষয়ক গ্রন্থ।

6 - আতরাফুস সিত্তা: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলি আল-মিসরি আল-কাসতালানি (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি) কর্তৃক রচিত।

7 - তুহফাতুল আশরাফ বি-মারিফাতিল আতরাফ: ইমাম মিজ্জি (মৃত্যু ৭৪২ হিজরি) কর্তৃক রচিত।

8 - ইতহাফুল মাহারা বিল ফাওয়ায়িদিল মুবতাকারা মিন আতরাফিল আশারা: হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) কর্তৃক রচিত।

9 - ইতরাফুল মুসনিদিল মু'তালি বি-আতরাফিল মুসনাদিল হাম্বলি: হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার কর্তৃক রচিত।

বর্তমান যুগে ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল প্রচলিত ইমাম মিজ্জির 'তুহফাতুল আশরাফ' গ্রন্থটিকে উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করা যাক:

তুহফাতুল আশরাফ বি-মারিফাতিল আতরাফ... ইমাম হাফেজ (الحافظ) মিজ্জি (মৃত্যু ৭৪২ হিজরি) রচিত:

ইমাম মিজ্জির পরিচিতির জন্য আমরা তাঁর কৃতী (النجيب) ছাত্র ইমাম যাহাবির কিছু বক্তব্য সংক্ষেপে উদ্ধৃত করছি: "আমাদের শাইখ (شيخ), ইমাম (إمام), বিজ্ঞ পণ্ডিত (العالم), প্রাজ্ঞ (الحبر), অদ্বিতীয় হাফেজ (الحافظ الأوحد), শামের হাদিস বিশারদ (محدث) জামালুদ্দিন আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আয-যাকি আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-কুদায়ি অতঃপর আল-কালবি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি। তিনি ৬৫৪ হিজরি সনে হালাব তথা আলেপ্পোর উপকণ্ঠে জন্মগ্রহণ করেন এবং মিজ্জা-তে বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং সামান্য ফিকহ (فقه) অধ্যয়ন করেন, অতঃপর তিনি এই শাস্ত্রের (হাদিস শাস্ত্র) প্রতি মনোনিবেশ করেন... এবং গবেষণা করেন..."
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২২)
اللغة ومهر فيها وفي التصريف وقرأ العربية وأما معرفة الرجال فهو حامل لوائها والقائم بأعبائها لم تر العيون مثله عمل كتاب تهذيب الكمال في مائتي جزء وخمسين جزءً وعمل كتاب الأطراف في بضعة وثمانين جزءً، وخرج لنفسه وأملى مجالس وأوضح مشكلات ومعضلات ما سبق إليها في علم الحديث ورجاله، وولي المشيخة بأماكن منها الدار الأشرفية، وكان ثقة حجة، كثير العلم حسن الأخلاق، كثير السكوت قليل الكلام جداً، صادق اللهجة لم تعرف له صبوة، وكان يطالع وينقل الطباق إذا حدث، وهو في ذلك لا يكاد يخفى عليه شيء مما يقرأ بل يرد في المتن والإسناد ردا مفيدا يتعجب منه فضلاء الجماعة وكان متواضعا حليما صبورا مقتصدا في ملبسه ومأكله كثير المشي في مصالحه ترافق هو وابن تيمية كثيرا في سماع الحديث وفي النظر في العلم" (1).

وأما كتابه تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف:

فقد مر كلام الذهبي في الثناء على التحفة آنفاً، وقال ابن حجر العسقلاني:"إن من الكتب الجليلة المصنَّفة في علوم الحديث كتاب تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف تأليف شيخ شيوخنا الحافظ أبي الحجاج: يوسف بن الزكي عبد الرحمن بن يوسف المِزِّي، وقد حصل الانتفاع به شرقاً وغرباً، وتنافس العلماء في تحصيله بعداً وقرباً" (2).

وأفاد المزي من صنيع سابقيه، فقال في مقدمة التحفة:" معتمداً عامة ذلك على: كتاب أبي مسعود الدمشقي، وكتاب خلف الواسطي، في أحاديث الصحيحين، وعلى كتاب أبي القاسم بن عساكر، في كتب السنن" (3)،كما أنه استدرك عليهم بعض الأحاديث.

--------------------------------------------

(1) تذكرة الحفاظ 4/ 1500.

(2) النكت الظراف على الأطراف 1/ 4.

(3) تحفة الأشراف 1/ 4.
ভাষা ও শব্দতত্ত্বে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং আরবি ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেছিলেন। আর বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান (معرفة الرجال) অর্জনে তিনি ছিলেন এর অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঝাণ্ডাবাহী এবং এই বিষয়ের গুরুভার বহনকারী; চক্ষুসমূহ তাঁর তুল্য আর কাউকে দেখেনি। তিনি ২৫০ খণ্ডে 'তাহজিবুল কামাল' এবং ৮০-এর অধিক খণ্ডে 'আতরাফ' (তুহফাতুল আশরাফ) গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি নিজে হাদিস চয়ন করেছেন, হাদিসের মজলিসে পাঠদান করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث) ও বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞানে এমন সব জটিল ও কঠিন বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা ইতিপূর্বে কেউ দেয়নি। তিনি দারুল আশরাফিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে প্রধান শায়খের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও অকাট্য দলিল (حجة), প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি অত্যন্ত নীরব ও স্বল্পভাষী ছিলেন; তিনি ছিলেন সত্যভাষী (صادق اللهجة) এবং তাঁর চরিত্রে কখনও কোনো চপলতা বা স্খলন পরিলক্ষিত হয়নি। হাদিস বর্ণনা করার সময় তিনি পাণ্ডুলিপিসমূহ অধ্যয়ন করতেন এবং পাঠের রেকর্ড বা টীকাগুলো মিলিয়ে দেখতেন; পাঠকালে কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে থাকত না, বরং তিনি মূল পাঠ (متن) এবং বর্ণনাসূত্রে (إسناد) এমন সব তথ্যবহুল ও হিতকর সংশোধনী প্রদান করতেন যা দেখে সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ বিদ্বানগণও বিস্মিত হতেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, সহনশীল, ধৈর্যশীল এবং পোশাক ও আহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী ছিলেন। নিজের প্রয়োজনে তিনি প্রচুর পায়ে হাঁটতেন। হাদিস শ্রবণ ও জ্ঞান অন্বেষণে তিনি ও ইবনে তাইমিয়্যাহ দীর্ঘকাল একে অপরের সঙ্গী ছিলেন। (১)।

আর তাঁর তুহফাতুল আশরাফ বি-মা'রিফাতিল আতরাফ গ্রন্থটি সম্পর্কে:

ইতিপূর্বে তুহফাতুল আশরাফ-এর প্রশংসায় ইমাম যাহাবীর বক্তব্য অতিক্রান্ত হয়েছে। হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি বলেন: "হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) ওপর সংকলিত মহান গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো তুহফাতুল আশরাফ বি-মা'রিফাতিল আতরাফ। এটি আমাদের শায়খদের শায়খ হাফিজ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন যাকি আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-মিজ্জির অনবদ্য রচনা। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে এর দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়েছে এবং দূর-দূরান্তের আলেমগণ এটি সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন।" (২)।

ইমাম মিজ্জি তাঁর পূর্বসূরিদের কাজ থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনি তুহফাতুল আশরাফ-এর ভূমিকায় বলেছেন: "আমি এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুখারি ও মুসলিমের হাদিসসমূহের বর্ণনায় আবু মাসউদ আদ-দিমাশকি ও খালাফ আল-ওয়াসিতির গ্রন্থের ওপর এবং সুনান গ্রন্থসমূহের বর্ণনায় আবুল কাসিম ইবনে আসাকিরের গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি।" (৩), এছাড়াও তিনি তাঁদের অনেক হাদিসের ওপর তদারকি ও সংশোধনী প্রদান করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৫০০।

(২) আন-নুকাতুয যিরাফ আলাল আতরাফ ১/৪।

(৩) তুহফাতুল আশরাফ ১/৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২৩)
إذن اشتمل الكتاب على الكتب الستة، وبعض مصنفات أصحابها الأخرى وجعل لكل واحد منها رمزا خاصاً بها وهي:

(خ): لصحيح الإمام البخاري. و (خت): لما استشهد به البخاري تعليقاً.

(م): لصحيح مسلم ومقدمته. (د): لسنن أبي داود. و (مد): لما أخرجه أبو داود في المراسيل.

(ت): لجامع الترمذي. و (تم):لما أخرجه في الشمائل. (س):لسنن النسائي الصغرى والكبرى.

و (سي):لما أخرجه النسائي في كتاب عمل يوم وليلة. (ق):لسنن ابن ماجه. (ع):لما رواه هؤلاء الستة.

(ز):لما زاد على ذلك: أحاديث يذكرها، فاتت من سبقه أو لم ينبه عليها.

(ك):لما استدركه على الحافظ ابن عساكر.

وقد زاد على الكتب الستة بعض مؤلفات أصحابها الأخرى، كـ:

1 ـ مقدمة صحيح مسلم.

2 ـ كتاب المراسيل لأبي داود.

3 ـ كتاب العلل الصغير للترمذي.

4 ـ كتاب الشمائل للترمذي.

5 ـ كتاب عمل اليوم والليلة للنسائي.

وقد رتب المزي كتابه على حسب أسماء الصحابة، إذ رتب أسماء الصحابة على حروف المعجم، ثم رتب أحاديث كل صحابي على وفق أسماء الرواة عنه من التابعين، ثم رتب أحاديث كل تابعي عن ذلك الصحابي على وفق أسماء من روى عنه، وهكذا، وقد جعل اسم الصحابي بالخط العريض، ثمَّ يضع طرف الحديث وتخريج الحديث.

واشتمل على المرفوع والموقوف والمرسل والمقطوع تبعاً لما احتوته هذه المصادر، وقد أفرد المِزِّي قسماً خاصاً للمراسيل في آخر تحفة الأشراف.
অতএব, গ্রন্থটি কুতুবুস সিত্তা এবং তাদের লেখকদের অন্যান্য কিছু রচনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তিনি এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য একটি বিশেষ সংকেত নির্ধারণ করেছেন, যা নিম্নরূপ:

(خ): ইমাম বুখারীর সহীহ বুখারী-র জন্য। এবং (خت): বুখারী যা মুআল্লাক (تعليقاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন তার জন্য।

(م): সহীহ মুসলিম এবং এর ভূমিকার জন্য। (د): সুনানে আবু দাউদ-এর জন্য। এবং (مد): আবু দাউদ যা কিতাবুল মারাসিল-এ বর্ণনা করেছেন তার জন্য।

(ت): জামে তিরমিযীর জন্য। এবং (تم): যা তিনি শামায়িল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন তার জন্য। (س): সুনানে নাসাঈ আস-সুগরা এবং আল-কুবরা-র জন্য।

এবং (سي): নাসাঈ যা আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন তার জন্য। (ق): সুনানে ইবনে মাজাহ-র জন্য। (ع): যা এই ছয়জন ইমামই বর্ণনা করেছেন তার জন্য।

(ز): এর অতিরিক্ত বর্ণনার জন্য: যেসব হাদিস তিনি উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর পূর্বসূরিদের থেকে বাদ পড়েছিল অথবা যেগুলোর ব্যাপারে তাঁরা সজাগ করেননি।

(ك): হাফেজ ইবনে আসাকিরের ওপর তিনি যা ইস্তিদরাক (استدركه) করেছেন তার জন্য।

তিনি কুতুবুস সিত্তাহ-র সাথে তাদের লেখকদের আরও কিছু রচনা যুক্ত করেছেন, যেমন:

১ ـ মুকাদ্দিমা সহীহ মুসলিম।

২ ـ আবু দাউদের কিতাবুল মারাসিল।

৩ ـ তিরমিযীর কিতাবুল ইলাল আস-সগীর।

৪ ـ তিরমিযীর কিতাবুল শামায়িল।

৫ ـ নাসাঈর কিতাবুল আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ।

ইমাম মিযযী তাঁর গ্রন্থটি সাহাবীদের নামের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন; তিনি সাহাবীদের নামসমূহ বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন, অতঃপর প্রত্যেক সাহাবীর হাদিসগুলো তাঁদের থেকে বর্ণনাকারী তাবেয়ীগণের (التابعين) নামের অনুক্রমে সাজিয়েছেন, এরপর সেই সাহাবী থেকে বর্ণনাকারী প্রত্যেক তাবেয়ীর হাদিসগুলোকে তাঁদের থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাঁদের নামের অনুক্রমে সাজিয়েছেন। এভাবেই বিন্যাসটি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সাহাবীর নাম মোটা অক্ষরে লিখেছেন, এরপর হাদিসের অংশবিশেষ (طرف الحديث) এবং হাদিসের তাখরিজ (تخريج) উল্লেখ করেছেন।

এই উৎসগুলোতে যা বিদ্যমান ছিল সেই অনুযায়ী এটি মারফু (المرفوع), মাওকুফ (الموقوف), মুরসাল (المرسل) এবং মাকতু (المقطوع) হাদিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইমাম মিযযী তুহফাতুল আশরাফ-এর শেষে মুরসাল (المراسيل) হাদিসগুলোর জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومما يبين دقة المزي واعتناءه بالعلل أنه يذكر اختلاف الرواة كثيراً، وينبه على وقوع الغلط في المتن أو اسم رجل، فجمع إلى الأطراف عللا وتراجم، وترجيحات فتأمل! فمثلاً: قال في حديث (4823): "اختلف فيه على أبي قلابة اختلافاً كثيراً، قد ذكرنا بعضه في ترجمة أبي الأشعث، عن شداد بن أوسٍ ".

وقال في حديث (113):"كذا رواه ت عن عليّ بن حُجر، عن هُشيم، بلفظ سفيان بن عُيينة جعل حديث أحدهما على حديث الآخر والمحفوظ عن عليّ بن حجر لفظُ س عنه كما تقدّم التنبيه عليه".

وقال في (195):"والصواب عبد الله بن زياد قاله محمد بن خَلَف الحدّاديّ، عن سعد بن عبد الحميد. وتابعه أبو بكر محمد بن صالح بن يزيد القنّاد، عن محمد بن الحجَّاج، عن عبد الله بن زياد السُحَيْميّ".

وقال في (1740):"ولم يُتابع على قوله عن أبيه، فإنّه محفوظ عن شعبة، عن النعمان، عن ابن عمرو بن أوس، عن جدِّه أوس".

ونقل كلام الأئمة في عدة مواضع، منها في حديث (4167) قال:"رواه أبو عوانة الإسفرائينيُّ، عن أبي داود السجستانيِّ، عن هدبة بقصَّة الكتابة وقال: وهو منكر، أخطأ فيه همَّام، هو من قول أبي سعيد ".

وقال في حديث (16287):"عبد الله بن محمد بن أبي بكر الصديق، عن عمته عائشة وهو أخو القاسم بن محمد بن أبي بكر، ومن قال: إنه ابن أبي عتيق، فقد أخطأ".وغيرها كثير لمن تتبع.

وقد اعتنى الشيخ عبد الصمد شرف الدين بهذا الكتاب العظيم، ووضع له الفهارس النافعة التي تعين الباحث في مجلد مستقل سمّاه (الكشاف عن أبواب مراجع تحفة الأشراف
ইমাম মিযযির সূক্ষ্মতা এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) শাস্ত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্নের বিষয়টি এর মাধ্যমে ফুটে ওঠে যে, তিনি বর্ণনাকারীদের মতভেদ (اختلاف الرواة) প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করেন এবং মতন (متن) বা কোনো ব্যক্তির নামে ভুল (غلط) হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেন। ফলে তিনি আতরাফের পাশাপাশি সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل), জীবনী (تراجم) এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতসমূহ (ترجيحات) একত্রিত করেছেন; সুতরাং গভীরভাবে চিন্তা করুন! উদাহরণস্বরূপ: তিনি ৪৮২৩ নম্বর হাদিসে বলেছেন: "আবু কিলাবার ক্ষেত্রে এই বর্ণনায় অনেক মতভেদ (اختلاف) হয়েছে, যার কিছুটা আমি শাদ্দাদ ইবনে আউস থেকে বর্ণনাকারী আবু আশআস-এর জীবনীতে (ترجمة) উল্লেখ করেছি।"

১১৩ নম্বর হাদিসে তিনি বলেন: "ইমাম তিরমিজি আলী ইবনে হুজর থেকে, তিনি হুশাইম থেকে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার শব্দের (لفظ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তিনি একজনের হাদিস অন্যজনের হাদিসের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। তবে আলী ইবনে হুজর থেকে সংরক্ষিত (محفوظ) হলো ইমাম নাসায়ীর বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর শব্দের (لفظ) সাথে, যেমনটি আগে সতর্ক করা হয়েছে।"

১৯৫ নম্বর বর্ণনায় তিনি বলেন: "সঠিক (صواب) হলো আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ; এ কথা মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-হাদ্দাদি, সাদ ইবনে আব্দুল হামিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে ইয়াযিদ আল-কান্নাদ, মুহাম্মদ ইবনে হাজ্জাজ থেকে আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আস-সুহাইমির বর্ণনায় তাকে সমর্থন (تابعه) করেছেন।"

১৭৪০ নম্বর বর্ণনায় তিনি বলেন: "তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত বর্ণনার কোনো সমর্থন (يتابع) পাওয়া যায় না; বরং এটি সংরক্ষিত (محفوظ) শুবা থেকে, নুমান থেকে, তিনি ইবনে আমর ইবনে আউস থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা আউস থেকে বর্ণনা করেছেন।"

তিনি বেশ কিছু স্থানে ইমামগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তন্মধ্যে ৪১৬৭ নম্বর হাদিসে বলেন: "আবু আওয়ানা আল-ইসফরাইনি, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি থেকে এবং তিনি হুদবাহ থেকে লিখিত বিষয়ের ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি প্রত্যাখ্যাত (منكر), এতে হাম্মাম ভুল (أخطأ) করেছেন; আসলে এটি আবু সাঈদের নিজস্ব উক্তি।"

১৬২৮৭ নম্বর হাদিসে তিনি বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক তাঁর ফুফু আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরের ভাই। আর যে বলেছে তিনি ইবনে আবু আতিক, সে ভুল (أخطأ) করেছে।" যারা অনুসন্ধান করেন তাদের জন্য এমন আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

শায়খ আব্দুস সামাদ শরফুদ্দিন এই মহান গ্রন্থের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং গবেষকদের সহায়তার জন্য একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে উপকারী নির্ঘণ্ট (فهارس) তৈরি করেছেন, যার নাম দিয়েছেন 'আল-কাশশাফ আন আবওয়াবি মারাজি তুহফাতুল আশরাফ'।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২৫)
بمعرفة الأطراف)،وزاد من انتفاع طلبة الحديث ما صنعه الدكتور بشار عواد معروف لما جمع المسند الجامع إلى تحفة الأشراف.

وكذا حققها الشيخ عبد الرزاق المهدي، وخرّج الأحاديث، وقام الدكتور خليل بن مأمون شيحا بتجريد تحفة الأشراف من الأسانيد في كتابه: تقريب تحفة الأشراف المسمى (تجريد الأطراف من مسانيد الأشراف)،ووضع له فهارس عامة لأطراف الحديث ومسانيد الرواة.

ثالثاً: معرفة المظان عن طريق موضوع الحديث.

كأن يكون في باب معين أو موضوع ما، ومما يعين في هذا كتاب مفتاح كنوز السنة للمستشرق الدكتور (أرند جاي فنسك)،وقد نقله إلى العربية الأستاذ محمد فؤاد عبد الباقي وهو كتاب مرتب على الأبواب يدلك على موضع وجود الحديث في الكتب التسعة مع مسند الطيالسي، ومسند زيد بن علي، وسيرة ابن هشام، وكتاب المغازي للواقدي، وكتاب الطبقات الكبير لابن سعد.

وبعض هذه الكتب المزيدة تدلّ بوضوح أهداف المستشرقين من فهرست كتب السنة النبوية والتاريخ الإسلامي، فما مكانة كتاب المغازي للواقدي -مثلاً- إلى المصنفات والجوامع المهمة، ويبدو أنهم فعلوا:"ذلك لتوظيف ما تم تتبعه من كتب السنة والتاريخ من الأحاديث والآثار والأحداث التاريخية لخدمة أغراض الأبحاث الاستشراقية" (1).

ومما ينفع في هذا الباب: جامع الأصول من أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم) لابن الأثير ت (606هـ)،وكتاب (مجمع الزوائد ومنبع الفوائد)،للحافظ الهيثمي ت (807هـ)،وكتاب (الترغيب والترهيب) للإمام المنذري ت (656هـ)،وغيرها كثير.

--------------------------------------------

(1) كيف ندرس علم التخريج ص35.
হাদিসের একাংশ বা পার্শ্বসূত্র চেনার মাধ্যমে (بمعرفة الأطراف), এবং হাদিসের ছাত্রদের জন্য উপকারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন ড. বাশার আওয়াদ মারুফ, যখন তিনি 'আল-মুসনাদ আল-জামি' গ্রন্থটিকে 'তুহফাতুল আশরাফ'-এর সাথে একত্রিত করেছেন।

অনুরূপভাবে, শেখ আব্দুর রাজ্জাক আল-মাহদী এটি সম্পাদনা করেছেন এবং হাদিসসমূহের সূত্র বিশ্লেষণ (تخريج) করেছেন। ড. খলিল ইবনে মামুন শিহা তাঁর 'তাকরীব তুহফাতুল আশরাফ' নামক গ্রন্থে—যার নাম দেওয়া হয়েছে (তাজরীদুল আতরাফ মিন মাসানিদিল আশরাফ)—'তুহফাতুল আশরাফ' থেকে সনদসমূহকে (الأسانيد) বাদ দিয়ে তা সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এতে হাদিসের পার্শ্বসূত্র (الأطراف) ও বর্ণনাকারীদের মুসনাদসমূহের জন্য সাধারণ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছেন।

তৃতীয়ত: হাদিসের বিষয়ের মাধ্যমে হাদিসের উৎসস্থল (المظان) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

যেমন কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায় (باب) বা কোনো বিশেষ বিষয়ে হাদিস থাকা। এ ক্ষেত্রে যা সাহায্য করে তা হলো প্রাচ্যবিদ ড. (এরেন্ড জ্যান ওয়েনসিনক)-এর গ্রন্থ 'মিফতাহ কুনুজুস সুন্নাহ', যা উস্তাদ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি আরবিতে অনুবাদ করেছেন। এটি অধ্যায় (أبواب) ভিত্তিক বিন্যস্ত একটি গ্রন্থ যা আপনাকে 'কুতুবুত তিসআ' (নয়টি কিতাব) সহ মুসনাদে তায়ালিসি, মুসনাদে জায়েদ ইবনে আলী, সিরাতে ইবনে হিশাম, ওয়াকিদির কিতাবুল মাগাজি এবং ইবনে সা'দের কিতাবুত তাবাকাতুল কুবরা-তে হাদিসের অবস্থান নির্দেশ করে।

এই অতিরিক্ত বইগুলোর কিছু অংশ সুন্নাহর কিতাব ও ইসলামি ইতিহাসের নির্ঘণ্ট তৈরিতে প্রাচ্যবিদদের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, গুরুত্বপূর্ণ মুসান্নাফ ও জামে (الجوامع) গ্রন্থগুলোর তুলনায় ওয়াকিদির কিতাবুল মাগাজি-এর অবস্থান কী? প্রতীয়মান হয় যে, তারা এটি করেছেন: "যাতে সুন্নাহ ও ইতিহাসের বইগুলো থেকে সংগৃহীত হাদিস, আছার (الآثار) এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলিকে প্রাচ্যদেশীয় গবেষণার উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যবহার করা যায়" (১)।

এই ক্ষেত্রে যা ফলপ্রসূ হয় তা হলো: ইবনুল আসিরের (মৃত্যু ৬০৬ হি.) 'জামেউল উসুল মিন আহাদিসির রাসুল', হাফেজ হাইসামির (মৃত্যু ৮০৭ হি.) 'মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ', ইমাম মুনজিরির (মৃত্যু ৬৫৬ হি.) 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' এবং এ জাতীয় আরও অনেক গ্রন্থ।

--------------------------------------------

(১) কাইফা নাদরুসু ইলমাত তাখরীজ, পৃষ্ঠা ৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুয়াসসারু ফী ইলমি তাখরীজিল হাদীসিন নাবাউয়ী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإذا كان الموضوع في الأحكام فينبغي الرجوع إلى الكتب المصنفة في تخريج أحاديث الأحكام كبلوغ المرام لابن حجر العسقلاني ت (852هـ) والمنتقى من الأخبار في الأحكام لمجد الدين بن تيمية (1)،وغيرها.

ومن العلماء من صنف في تخريج أحاديث مذهب فقهي معين، منها:

1 - كتاب: نصب الراية في تخريج أحاديث الهداية للإمام الزيلعي ت (762هـ) وهو في تخريج أحاديث الهداية للمرغناني ت (593هـ) وهو في المذهب الحنفي.

2 - كتاب: التلخيص الحبير في تخريج أحاديث الرافعي الكبير، وهو أصلاً تلخيص لكتاب البدر المنير لابن الملقن ت (804هـ)، وهو في المذهب الشافعي.

3 - إرواء الغليل في تخريج أحاديث الرافعي الكبير للشيخ الألباني.

 

‌‌المطلب الثاني: جمع طرق الحديث.

نريد به: جمع الأسانيد الكثيرة للحديث الواحد باعتبار الصحابي الواحد (المتابعات)،لأن حديث كل صحابي يعد مستقلاً عن غيره من الصحابة رضي الله عنهم أجمعين.

والطرق جمع طريق، والطريق: هو سلسلة رجال السند الموصلة إلى موضع التفرد ولو إلى الصحابي. فبعض الأحاديث أفراد ليس لها إلا إسناد واحد، وبعضها لها إسنادان أو ثلاثة أو … عشرة الخ. على أن كثرة الأسانيد قد تنفع وقد لا تنفع؛ لأن الغرابة لا تنافي الصحة مطلقاً مثلما أن الشهرة لا تعني صحة الإسناد كما هو مقرر عند أهل الصنعة.

ولابد من التنبيه على استعمال الأئمة لحرف (ح) وهو تحويل لطريق جديد في الإسناد.

--------------------------------------------

(1) وقد انتقد بعض العلماء تسرع مجد الدين بن تيمية في أحكامه، ينظر كلام الشوكاني في نيل الأوطار 1/ 1.
আর যদি বিষয়টি শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে হয়, তবে শরয়ী বিধানের হাদিসসমূহ তাখরিজ (تخريج) করার জন্য সংকলিত গ্রন্থসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করা উচিত। যেমন ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃ. ৮৫২ হি.) রচিত বুলুগুল মারাম এবং মাজদুদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত আল-মুন্তাকা মিনাল আখবার ফিল আহকাম (১) এবং অন্যান্য।

আলিমদের মধ্যে কেউ কেউ নির্দিষ্ট কোনো ফিকহি মাযহাবের হাদিসসমূহ তাখরিজ (تخريج) করার বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেমন:

1 - কিতাব: ইমাম যায়লায়ি (মৃ. ৭৬২ হি.) রচিত নাসবুর রায়া ফি তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়া। এটি মারগিনানি (মৃ. ৫৯৩ হি.) রচিত আল-হিদায়া কিতাবের হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج), যা হানাফি মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত।

2 - কিতাব: আত-তালখিসুল হাবির ফি তাখরিজি আহাদিসির রাফেয়িল কাবির। এটি মূলত ইবনুল মুলাক্কিন (মৃ. ৮০৪ হি.) রচিত আল-বাদরুল মুনির কিতাবের সারসংক্ষেপ, যা শাফেয়ি মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত।

3 - শায়খ আলবানি রচিত ইরওয়াউল গালিল ফি তাখরিজি আহাদিসির রাফেয়িল কাবির।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের সনদসমূহ (طرق) একত্রিত করা।

এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো: একই সাহাবির প্রেক্ষিতে একটি হাদিসের অনেকগুলো সনদ (أسانيد) একত্রিত করা যেগুলোকে মুতাবাআ’ত (المتابعات) বলা হয়; কারণ প্রত্যেক সাহাবির বর্ণিত হাদিস অন্য সাহাবিদের বর্ণিত হাদিস থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে গণ্য হয় (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন)।

আর 'তুরুক' হলো 'তারিক' এর বহুবচন। আর তারিক (طريق) হলো: সনদের (السند) বর্ণনাকারীদের এমন পরম্পরা যা একক বর্ণনার (التفرد) স্থান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, এমনকি তা সাহাবি পর্যন্ত হলেও। ফলে কিছু হাদিস একক (أفراد) যার কেবল একটিই সনদ (إسناد) থাকে, আবার কিছু হাদিসের দুটি, তিনটি বা... দশটি ইত্যাদি সনদ থাকে। তবে সনদের (الأسانيد) আধিক্য কখনো উপকারে আসতে পারে আবার কখনো নাও আসতে পারে; কারণ কোনো হাদিস বিরল (الغرابة) হওয়া মোটেও তা সহিহ (الصحة) হওয়ার পরিপন্থী নয়, ঠিক যেমনটি কোনো হাদিস প্রসিদ্ধ হওয়া মানেই সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الإسناد) নয়, যেমনটি এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট সুনির্ধারিত।

আর ইমামগণ কর্তৃক (ح) বর্ণটির ব্যবহারের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি, যা সনদের (الإسناد) মধ্যে নতুন একটি সনদের দিকে উত্তরণ (تحويل) নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

(১) কোনো কোনো আলিম মাজদুদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহর হুকুম বা সিদ্ধান্তের (أحكامه) ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করার সমালোচনা করেছেন। দেখুন: আশ-শাওকানি-র নাইলুল আওতার ১/১।