(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: -)
آثار البلاد وأخبار العباد القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: آثار البلاد وأخبار العباد
المؤلف: زكرياء بن محمد بن محمود القزويني
الناشر: دار صادر - بيروت
عام النشر: 1380 هـ - 1960 م
(ثم صُوِّرَ بعد ذلك مرارا)
عدد الصفحات: 621
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দেশসমূহের নিদর্শন ও বান্দাদের ইতিবৃত্ত বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী
বই: দেশসমূহের নিদর্শন ও বান্দাদের ইতিবৃত্ত
লেখক: যাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-কাযওয়িনী
প্রকাশক: দার সাদির - বৈরুত
প্রকাশকাল: ১৩৮০ হিজরি - ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ
(এরপর এটি বহুবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
القزويني(1283 - 1203 م)
هو زكريا بن محمد بن محمود القزويني يرجع بنسبه إلى أنس بن مالك إمام المدينة وفقيهها المشهور.
ولد في قزوين وإليها نسب، ثم رحل إلى دمشق، وهو شاب، وتولى بعدئذ قضاء واسط والحلة في زمن المستعصم العباسي، آخر خلفاء بني العباس في بغداد، وسقطت بغداد في يد هولاكو المغولي، وهو في ذاك المنصب.
كان عالماً في التاريخ والجغرافية، وكتابه «عجائب المخلوقات» أول كتاب في هذا الموضوع في اللغة العربية بحث فيه في العلوم الطبيعية والسياسية والتاريخية والأدبية.
وآثار القزويني كلها تتصل بعلمي الجغرافية ووصف الكائنات، وكتابه هذا «آثار البلاد وأخبار العباد» يساوي في قيمته كتابه «عجائب المخلوقات»، فقد جمع فيه، كما يقول في مقدمته: «كل ما وقع له وعرفه وسمع به وشاهده من لطائف صنع الله وعجائب حكمته المودعة في بلاده وعباده».
بدأ فيه بالكلام على الحاجة الداعية إلى إحداث المدن والقرى، ثم أخذ يصف المدن التي عرفها من بلاد العرب والفرس والروم والفرنجة، ويذكر تاريخ بناء المدن التي يعرف تاريخ بنائها، ويذكر ما حدث فيها من أمور.
وبين أن لكل قطعة من الأرض خاصة لا توجد في غيرها، وأن الجواهر الكريمة تتولد من الحجارة الصلبة، والزروع من الطين، وتكلم على الإنسان فقال إنه حيوان متساوي الآحاد في الحد والحقيقة، وإنما يختلف كل واحد عن الآخر إما بعلمه أو بصنعته أو بتعبده.
আল-কাযউইনি(১২০৩ - ১২৮৩ খ্রিস্টাব্দ)
তিনি হলেন যাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-কাযউইনি। বংশগতভাবে তিনি মদীনার ইমাম এবং তাঁর প্রসিদ্ধ ফকীহ আনাস বিন মালিকের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
তিনি কাযউইনে জন্মগ্রহণ করেন এবং এই শহরের দিকেই তিনি সম্বন্ধযুক্ত। এরপর যুবক বয়সে তিনি দামেস্কে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদের আব্বাসীয় বংশের শেষ খলিফা মুসতাসিম আব্বাসীয়র আমলে ওয়াসিত ও হিল্লার বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যখন এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তখনই মঙ্গোলীয় হালাকু খাঁ-র হাতে বাগদাদের পতন ঘটে।
তিনি ইতিহাস ও ভূগোলের একজন পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর রচিত ‘আজািবুল মাখলুকাত’ গ্রন্থটি আরবি ভাষায় এই বিষয়ের উপর প্রথম গ্রন্থ, যাতে তিনি প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক এবং সাহিত্যিক বিজ্ঞানসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আল-কাযউইনির সকল রচনাবলিই ভূগোল এবং সৃষ্টিজগতের বর্ণনার সাথে সম্পর্কিত। তাঁর এই ‘আসারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ’ গ্রন্থটি গুরুত্বের দিক থেকে তাঁর ‘আজািবুল মাখলুকাত’ গ্রন্থের সমতুল্য। তিনি এর ভূমিকায় যেমনটি বলেছেন, এতে তিনি সংগ্রহ করেছেন: “আল্লাহর নিপুণ কারুকার্য এবং তাঁর দেশ ও বান্দাদের মাঝে নিহিত হিকমতের বিস্ময়কর যা কিছু তাঁর সামনে এসেছে, যা তিনি জেনেছেন, শুনেছেন এবং প্রত্যক্ষ করেছেন তার সবকিছু।”
তিনি এতে শহর ও গ্রাম তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন। এরপর তিনি আরব, পারস্য, রোম ও ইউরোপীয় দেশসমূহের পরিচিত শহরগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। যেসব শহরের নির্মাণের ইতিহাস তাঁর জানা ছিল তিনি তা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, পৃথিবীর প্রতিটি অংশের এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য কোথাও নেই। মূল্যবান রত্নসমূহ কঠিন পাথর থেকে উৎপন্ন হয় এবং শস্য উৎপন্ন হয় মাটি থেকে। তিনি মানুষ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন যে, মানুষ এমন এক জীব যার প্রতিটি সদস্য সংজ্ঞা ও স্বভাবের দিক থেকে সমান; কেবল জ্ঞান, পেশা অথবা ইবাদতের মাধ্যমেই একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
غير أنه لم يكن يدعم أبحاثه بأن للكون خالقاً حكيماً قديراً، وأن الكائنات كلها من صنعه تعالى، على أنه كان يستشهد أحياناً بعبارات دينية كقوله مثلاً: «سبحانه ما أعظم شأنه» وهذه الاستشهادات وإن دلّت على إيمانه بالله تعالى لم تكن أساساً لأبحاثه.
والذي يؤخذ عليه أنه نقل أخباراً وحكايات كثيرة عن الرواة الذين كانوا يوردون الخرافات والمستحيلات دون تمحيص، وكان يقبلها على علاتها ويثبتها دون أن يحكَّم فيها عقله على أنه كان يتخلّص أحياناً من تبعتها بقوله: «والله أعلم».
ومهما كان الأمر فإن القزويني عالم كبير من علماء التاريخ والجغرافية، وكتاباه اللذان ذكرناهما من أفيد الكتب القديمة وأعظمها قيمة وأجمعها للفوائد التاريخية والجغرافية حتى إنه استحق بهما لقب هيرودوت القرون الوسطى، وبلين العرب، وكلا الرجلين مؤرّخ من القرون القديمة يوثق به ويؤخذ بأقواله.
তবে তিনি তাঁর গবেষণাসমূহকে এই ভিত্তির উপর দাঁড় করাননি যে, মহাবিশ্বের একজন প্রজ্ঞাময় ও সর্বশক্তিমান স্রষ্টা রয়েছেন এবং সমস্ত সৃষ্টিরাজি মহান আল্লাহরই সৃষ্টি। যদিও তিনি মাঝে মাঝে ধর্মীয় উক্তি উদ্ধৃত করতেন, যেমন তাঁর এই কথা: «তিনি পবিত্র, তাঁর শান কতই না মহান»; আর এই উদ্ধৃতিগুলো যদিও মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর ঈমানের প্রমাণ দেয়, তবুও তা তাঁর গবেষণার মূল ভিত্তি ছিল না।
তাঁর ক্ষেত্রে যে বিষয়টি ত্রুটি হিসেবে ধরা হয় তা হলো, তিনি এমন সব বর্ণনাকারীদের থেকে অনেক সংবাদ ও কিচ্ছা বর্ণনা করেছেন যারা কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই রূপকথা ও অসম্ভব বিষয়াদি উল্লেখ করত। তিনি এগুলোকে ত্রুটিসহই গ্রহণ করতেন এবং স্বীয় বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ না করেই তা লিপিবদ্ধ করতেন; তবে মাঝে মাঝে তিনি «আল্লাহই ভালো জানেন» বলে এর দায়ভার থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতেন।
বিষয়টি যা-ই হোক না কেন, আল-কাজউইনি ইতিহাস ও ভূগোলের পণ্ডিতদের মধ্যে একজন মহান আলেম। আমাদের উল্লিখিত তাঁর গ্রন্থদ্বয় প্রাচীন বইগুলোর মধ্যে অত্যন্ত উপকারী, অত্যন্ত মূল্যবান এবং ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক তথ্যে সমৃদ্ধ; এমনকি এই গ্রন্থদ্বয়ের কারণে তিনি «মধ্যযুগের হেরোডোটাস» এবং «আরবদের প্লিনি» উপাধিতে ভূষিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই উল্লিখিত দুজনেই প্রাচীন যুগের এমন ঐতিহাসিক ছিলেন যাঁদের উপর আস্থা রাখা হয় এবং যাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
العزّ لك، والجلال لكبريائك، والعظمة لثنائك، والدوام لبقائك، يا قديم الذات ومفيض الخيرات. أنت الأوّل لا شيء قبلك، وأنت الآخر لا شيء بعدك، وأنت الفرد لا شريك لك، يا واهب العقول وجاعل النور والظلمات، منك الابتداء وإليك الانتهاء، وبقدرتك تكوّنت الأشياء، وبإرادتك قامت الأرض والسموات، أفض علينا أنوار معرفتك، وطهّر نفوسنا عن كدورات معصيتك، وألهمنا موجبات رحمتك ومغفرتك، ووفقنا لما تحبّ وترضى من الخيرات والسعادات، وصلّ على ذوي الأنفس الطاهرات والمعجزات الباهرات، خصوصا على سيّد المرسلين وإمام المتّقين، وقايد الغرّ المحجّلين محمّد بن عبد اللّه بن عبد المطّلب بن هاشم، أفضل الصلوات، وعلى آله وأصحابه الطيّبين والطيّبات، وعلى الذين اتبعوهم بإحسان من أهل السنّة والجماعات.
يقول العبد زكرياء بن محمّد بن محمود القزويني، تولّاه اللّه بفضله، بعد حمد اللّه حمدا يرضيه، ويوجب مزيد فضله وأياديه: إني قد جمعت في هذا الكتاب ما وقع لي وعرفته، وسمعت به وشاهدته من لطايف صنع اللّه تعالى، وعجايب حكمته المودعة في بلاده وعباده؛ فإنّ الأرض جرم بسيط متشابه الأجزاء، وبسبب تأثير الشمس فيها، ونزول المطر عليها، وهبوب الرياح بها، ظهرت فيها آثار عجيبة، وتختصّ كلّ بقعة بخاصيّة لا توجد في غيرها: فمنها ما صار حجرا صلدا، ومنها ما صار طينا حرّا، ومنها ما صار طينة سبخة. ولكلّ واحد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত মর্যাদা আপনারই, সমস্ত মহিমা আপনার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য, সমস্ত গরিমা আপনার প্রশংসার জন্য এবং স্থায়িত্ব আপনার অবিনশ্বরতার জন্য; হে অনাদি সত্তা এবং কল্যাণধারা বর্ষণকারী। আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছু নেই; আপনিই শেষ, আপনার পরে কিছু নেই; এবং আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই। হে বুদ্ধি প্রদানকারী এবং আলো ও অন্ধকারের স্রষ্টা। আপনার পক্ষ থেকেই শুরু এবং আপনার দিকেই শেষ। আপনার কুদরতেই সকল বস্তু অস্তিত্ব লাভ করেছে এবং আপনার ইচ্ছাতেই পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। আমাদের ওপর আপনার মারিফাতের নূর বর্ষণ করুন, আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার অবাধ্যতার পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করুন, আমাদের আপনার রহমত ও মাগফিরাত লাভের উপায়গুলো অন্তরে জাগ্রত করে দিন এবং আমাদের সেই সব কল্যাণ ও সৌভাগ্যের তৌফিক দিন যা আপনি ভালোবাসেন ও যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন। এবং বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ সেই সব পবিত্র আত্মা ও সুস্পষ্ট মুজিজাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওপর, বিশেষ করে রাসুলগণের সরদার, মুত্তাকিদের ইমাম এবং উজ্জ্বল ললাট ও শুভ্র অঙ্গ-প্রত্যঙ্গবিশিষ্টদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের ওপর, আর তাঁর পবিত্র বংশধর ও সাহাবীগণের ওপর এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ওপর।
আল্লাহর সন্তুষ্টিদায়ক এবং তাঁর অধিকতর অনুগ্রহ ও দান লাভের উপযোগী প্রশংসা জ্ঞাপনের পর বান্দা জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল-কাজউইনি—আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাঁকে রক্ষা করুন—বলছেন: আমি এই কিতাবে আল্লাহ তাআলার নিপুণ সৃষ্টির সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ এবং তাঁর জনপদ ও বান্দাদের মাঝে নিহিত প্রজ্ঞার বিস্ময়কর বিষয়াবলি থেকে যা কিছু আমার গোচরীভূত হয়েছে, যা আমি জেনেছি, শুনেছি ও প্রত্যক্ষ করেছি তা সংকলন করেছি। কেননা পৃথিবী একটি সাধারণ জড়বস্তু যার অংশসমূহ বাহ্যত সদৃশ, কিন্তু এতে সূর্যের প্রভাব, বৃষ্টির পতন এবং বায়ু প্রবাহের কারণে বিস্ময়কর সব নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিটি ভূখণ্ড এমন সব বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না: কোনোটি শক্ত পাথরে পরিণত হয়েছে, কোনটি খাঁটি মাটি হয়েছে, আবার কোনটি লোনা মাটিতে পরিণত হয়েছে। আর এর প্রত্যেকটির...
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
منها خاصيّة عجيبة وحكمة بديعة، فإن الحجر الصلد يتولّد فيه الجواهر النفيسة كاليواقيت والزبرجد وغيرهما، والطين الحرّ ينبت الثمار والزروع بعجيب ألوانها وأشكالها وطعومها وروايحها، والطينة السبخة يتولّد منها الشبوب والزاجات والاملاح بفوايدها، وكذلك الإنسان حيوان متساوي الآحاد بالحدّ والحقيقة، لكن بواسطة الالطاف الإلهيّة تختلف آثارهم، فصار أحدهم عالما محقّقا، والآخر عابدا ورعا، والآخر صانعا حاذقا. فالعالم ينفع الناس بعلمه، والعابد ببركته، والصانع بصنعته؛ فذكرت في هذا الكتاب ما كان من البلاد مخصوصا بعجيب صنع اللّه تعالى، ومن كان من العباد مخصوصا بمزيد لطفه وعنايته، فإنّه جليس أنيس يحدثك بعجيب صنع اللّه تعالى، ويعرّفك أحوال الأمم الماضية، وما كانوا عليه من مكارم الأخلاق ومآثر الآداب، ويفصح بأحوال البلاد كأنّك تشاهدها، ويعرب عن أخبار الكرام كأنّك تجالسهم:
جليس أنيس يأمن الناس شرّه
… ويذكر أنواع المكارم والنّهى
ويأمر بالإحسان والبرّ والتّقى
… وينهى عن الطّغيان والشرّ والأذى
ومن انتفع بكتابي هذا وذكرني بالخير، جعله اللّه من الأبرار ورفع درجاته في عقبى الدار. وأسأل اللّه تعالى العفو عمّا طغى به القلم أو همّ أوسها بذلك أو لمّ، إنّه على كلّ شيء قدير وبالإجابة جدير. ولنقدّم على المقصود مقدّمات لابدّ منها، لحصول تمام الغرض، واللّه الموفق للصواب وإليه المرجع والمآب.
এর মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য এবং এক অনবদ্য প্রজ্ঞা; কেননা শক্ত পাথরের ভেতরে জন্ম নেয় মহামূল্যবান মণি-মাণিক্য, যেমন ইয়াকুত, যবরজদ এবং আরও অন্যান্য। আর উর্বর মাটি উৎপন্ন করে ফলমূল ও শস্যরাজি, যা রঙ, আকৃতি, স্বাদ ও সুগন্ধির দিক থেকে বিস্ময়কর। এবং লোনা ও অনুর্ভর মাটি থেকে উৎপন্ন হয় স্ফটিক, তুঁতে ও লবণসমূহ, যার রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা। তদ্রূপ মানুষও এমন এক প্রাণী যার প্রতিটি সদস্য সংজ্ঞা ও প্রকৃত সত্তার দিক থেকে সমান, কিন্তু মহান আল্লাহর অনুগ্রহের বরকতে তাদের প্রভাব ও কার্যাবলি ভিন্ন ভিন্ন হয়। ফলে তাদের কেউ হয় সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী মুহাক্কিক আলেম, কেউ হয় পরহেজগার ইবাদতকারী, আবার কেউ হয় দক্ষ কারিগর। আলেম তার জ্ঞান দিয়ে মানুষের উপকার করেন, ইবাদতকারী তার বরকতের মাধ্যমে এবং কারিগর তার নিপুণ কারুকার্য দিয়ে। তাই আমি এই গ্রন্থে সেসব জনপদের কথা উল্লেখ করেছি যা মহান আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টিশৈলীর জন্য বিশিষ্ট, এবং সেসব বান্দাদের কথা উল্লেখ করেছি যারা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ ও যত্নের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি এমন এক অন্তরঙ্গ সঙ্গী যা আপনাকে মহান আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টিশৈলী সম্পর্কে বর্ণনা করবে এবং অতীত জাতিসমূহের অবস্থা সম্পর্কে আপনাকে জানাবে; আর জানাবে তাদের মহান চরিত্র ও শিষ্টাচারের অনুসরণীয় কীর্তিগাঁথা সম্পর্কে। এটি জনপদসমূহের অবস্থা এমন স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবে যেন আপনি তা স্বচক্ষে দেখছেন, এবং মহৎ ব্যক্তিদের সংবাদ এমনভাবে বর্ণনা করবে যেন আপনি তাদের মজলিসে বসে আছেন:
এমন এক অন্তরঙ্গ সঙ্গী যার অনিষ্ট থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে
… এবং যা বর্ণনা করে বিভিন্ন প্রকার মহানুভবতা ও প্রজ্ঞার কথা।
এটি সদাচরণ, পুণ্য ও তাকওয়ার আদেশ দেয়
… এবং অবাধ্যতা, মন্দ ও কষ্টদায়ক কাজ থেকে নিষেধ করে।
যে ব্যক্তি আমার এই কিতাব থেকে উপকৃত হবে এবং আমাকে কল্যাণের সাথে স্মরণ করবে, আল্লাহ তাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পরকালে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আর আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি সেই সব স্খলনের জন্য যা কলম থেকে বিচ্যুত হয়েছে, কিংবা যার সংকল্প করা হয়েছে অথবা যা বিস্মৃতিবশত বা ভ্রান্তিজনিত কারণে ঘটে গেছে। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। মূল বিষয়ে প্রবেশের আগে আমি কিছু অপরিহার্য ভূমিকা পেশ করছি, যাতে উদ্দেশ্য পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জিত হয়। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা এবং তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة الأولىفي الحاجة الداعية إلى إحداث المدن والقرىاعلم أن اللّه تعالى خلق الإنسان على وجه لا يمكنه أن يعيش وحده كساير الحيوانات، بل يضطرّ إلى الاجتماع بغيره حتى يحصل الهيئة الاجتماعيّة التي يتوقف عليها المطعم والملبس، فإنّهما موقوفان على مقدّمات كثيرة لا يمكن لكلّ واحد القيام بجميعها وحده. فإن الشخص الواحد كيف يتولّى الحراثة فإنّها موقوفة على آلاتها، وآلاتها تحتاج إلى النجّار، والنجّار يحتاج إلى الحداد، وكيف يقوم بأمر الملبوس وهو موقوف على الحراثة والحلج والندف والغزل والنسج، وتهيئة آلاتها، فاقتضت الحكمة الإلهيّة الهيئة الاجتماعيّة، وألهم كلّ واحد منهم القيام بأمر من تلك المقدّمات، حتى ينتفع بعضهم ببعض، فترى الخبّاز يخبز الخبز، والعجّان يعجنه، والطحّان يطحنه، والحرّاث يحرثه، والنجّار يصلح آلات الحرّاث، والحدّاد يصلح آلات النجّار، وهكذا الصناعات بعضها موقوفة على البعض.
وعند حصول كلّها يتمّ الهيئة الاجتماعيّة، ومتى فقد شيء من ذلك فقد اختلّت الهيئة الاجتماعيّة، كالبدن إذا فقد بعض أعضائه فيتوقف نظام معيشة الإنسان.
ثمّ عند حصول الهيئة الاجتماعيّة لو اجتمعوا في صحراء لتأذّوا بالحرّ والبرد والمطر والريح، ولو تستروا بالخيام والخرقاهات لم يأمنوا مكر اللصوص والعدوّ، ولو اقتصروا على الحيطان والأبواب كما ترى في القرى التي لا سور لها، لم يأمنوا صولة ذي البأس، فألهمهم اللّه تعالى اتّخاذ السور والخندق والفصيل،
প্রথম ভূমিকাশহর ও গ্রাম সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গেজেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, অন্যান্য প্রাণীর মতো তার পক্ষে একা বসবাস করা সম্ভব নয়; বরং সে অন্যদের সাথে একত্রিত হতে বাধ্য হয় যাতে সামাজিক ব্যবস্থা গঠিত হয়, যার ওপর আহার ও পরিধেয় বস্ত্র নির্ভরশীল। কেননা এ দুটি বিষয় এমন অনেক প্রাথমিক কার্যের ওপর নির্ভরশীল যা প্রত্যেকের পক্ষে একা সম্পাদন করা সম্ভব নয়। একজন ব্যক্তি কীভাবে একাকী চাষাবাদের দায়িত্ব পালন করবে যখন তা কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল, আর সেই যন্ত্রপাতির জন্য সূত্রধরের প্রয়োজন, আবার সূত্রধরের প্রয়োজন কামারের। আর সে কীভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করবে যখন তা তুলা চাষ, তুলা পরিষ্কার করা, ধুনট করা, সুতা কাটা, বয়ন করা এবং এগুলোর যন্ত্রপাতি তৈরির ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং ঐশী প্রজ্ঞা সামাজিক ব্যবস্থার দাবি রাখে এবং তিনি তাদের প্রত্যেককে এই প্রাথমিক কার্যাবলীর কোনো একটি সম্পাদনের ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দিয়েছেন, যাতে তারা একে অপরের দ্বারা উপকৃত হতে পারে। ফলে আপনি দেখতে পান যে, রুটিওয়ালা রুটি তৈরি করছে, ময়দা খামিরকারী তা মাখছে, পেষণকারী তা পিষছে, কৃষক চাষ করছে, সূত্রধর কৃষকের যন্ত্রপাতি ঠিক করছে এবং কামার সূত্রধরের যন্ত্রপাতি ঠিক করছে। এভাবেই শিল্পসমূহ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
আর যখন এই সবকিছুর সমন্বয় ঘটে, তখন সামাজিক ব্যবস্থা পূর্ণতা পায়। আর যখন এর কোনো কিছুর অভাব ঘটে, তখন সামাজিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়, যেমন শরীরের কোনো অঙ্গ হারিয়ে গেলে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
অতঃপর সামাজিক ব্যবস্থা গঠিত হওয়ার পর তারা যদি কোনো প্রান্তর বা মরুভূমিতে সমবেত হতো, তবে তারা গরম, ঠান্ডা, বৃষ্টি ও বায়ুর কারণে কষ্ট পেত। আর যদি তারা তাবু বা ঝুপড়িতে আশ্রয় নিত, তবে চোর ও শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে নিরাপদ থাকতে পারত না। আবার যদি তারা কেবল দেয়াল ও দরজার ওপর নির্ভর করত—যেমনটি আপনি প্রাচীরহীন গ্রামগুলোতে দেখেন—তবে তারা শক্তিশালী শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে পারত না। তাই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে প্রাচীর, পরিখা ও নগর-প্রাচীর নির্মাণের ইলহাম দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فحدثت المدن والأمصار والقرى والديار. ثمّ إن الملوك الماضية لمّا أرادوا بناء المدن، أخذوا آراء الحكماء في ذلك، فالحكماء اختاروا أفضل ناحية في البلاد، وأفضل مكان في الناحية، وأعلى منزل في المكان من السواحل والجبال ومهبّ الشمال، لأنّها تفيد صحّة أبدان أهلها وحسن أمزجتها، واحترزوا من الآجام والجزائر وأعماق الأرض، فإنّها تورث كربا وهرما.
واتّخذوا للمدن سورا حصينا مانعا، وللسور أبوابا عدّة حتى لا يتزاحم الناس بالدخول والخروج، بل يدخل ويخرج من أقرب باب إليه. واتّخذوا لها قهندزا لمكان ملك المدينة والنادي لاجتماع الناس فيه، وفي البلاد الإسلامية المساجد والجوامع والأسواق والخانات والحمّامات، ومراكض الخيل، ومعاطن الإبل، ومرابض الغنم، وتركوا بقيّة مساكنها لدور السكان، فأكثر ما بناها الملوك العظماء على هذه الهيئة، فترى أهلها موصوفين بالأمزجة الصحيحة والصور الحسنة والأخلاق الطيّبة، وأصحاب الآراء الصالحة والعقول الوافرة، واعتبر ذلك بمن مسكنه لا يكون كذلك مثل الديالم والجيل والأكراد، والتركمان وسكان البحر في تشويش طباعهم وركاكة عقولهم واختلاف صورهم.
ثمّ اختصّت كلّ مدينة لاختلاف تربتها وهوائها بخاصيّة عجيبة، وأوجد الحكماء فيها طلسمات غريبة، ونشأ بها صنف من المعادن والنبات والحيوان لم يوجد في غيرها، وأحدث بها أهلها عمارات عجيبة، ونشأ بها أناس فاقوا أمثالهم في العلوم والأخلاق والصناعات، فلنذكر ما وصل إلينا من خاصيّة بقعة بقعة، إن شاء اللّه تعالى.
এভাবে শহর, নগর, গ্রাম ও জনপদসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অতঃপর প্রাচীন রাজাগণ যখন শহর নির্মাণের সংকল্প করতেন, তখন তারা এ বিষয়ে প্রাজ্ঞজন ও পণ্ডিতদের পরামর্শ নিতেন। পণ্ডিতগণ ভূখণ্ডের শ্রেষ্ঠ অঞ্চল, সেই অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ স্থান এবং সেই স্থানের সর্বোচ্চ উঁচু এলাকা নির্বাচন করতেন—যেমন উপকূলবর্তী এলাকা, পাহাড় ও উত্তরবায়ু প্রবাহের স্থানসমূহ। কারণ এগুলো অধিবাসীদের শারীরিক সুস্থতা ও স্বভাবের ভারসাম্যের জন্য উপকারী। তারা ঝোপঝাড়পূর্ণ জলাভূমি, দ্বীপ ও ভূগর্ভস্থ গভীর নিচু এলাকা এড়িয়ে চলতেন, কারণ তা দুশ্চিন্তা ও অকালবার্ধক্য বয়ে আনে।
তারা শহরগুলোর জন্য অভেদ্য ও মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করতেন এবং সেই প্রাচীরে একাধিক প্রবেশপথ রাখতেন যেন লোকজনের যাতায়াতে ভিড় না হয়, বরং প্রত্যেকে তার নিকটবর্তী পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারে। তারা শহরের অধিপতির অবস্থানের জন্য কেল্লা এবং মানুষের সমাবেশের জন্য মিলনায়তন নির্মাণ করতেন। আর ইসলামি জনপদগুলোতে থাকত মসজিদ, জামে মসজিদ, বাজার, সরাইখানা, হাম্মামখানা, ঘোড়দৌড়ের ময়দান, উট রাখার স্থান এবং মেষের খোঁয়াড়। অবশিষ্ট জায়গাগুলো তারা জনসাধারণের বাসস্থানের জন্য ছেড়ে দিতেন। মহান রাজাদের অধিকাংশই এই আদলে শহর নির্মাণ করতেন। ফলে আপনি দেখবেন সেখানকার অধিবাসীরা সুস্থ মেজাজ, সুন্দর রূপ, উত্তম চরিত্র, সঠিক মতামত ও প্রখর মেধার অধিকারী হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে যাদের বাসস্থান এমন নয়—যেমন দায়লামি, জিলানি, কুর্দি, তুর্কমেন ও সমুদ্রতীরবর্তী বাসিন্দাদের অবস্থা বিবেচনা করুন; তাদের প্রকৃতিতে বিশৃঙ্খলা, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা ও অবয়বে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
অতঃপর মাটি ও আবহাওয়ার ভিন্নতার কারণে প্রতিটি শহর বিচিত্র বৈশিষ্ট্যে অনন্য হয়ে ওঠে। প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ সেখানে অদ্ভুত সব রহস্যময় কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। সেখানে এমন কিছু খনিজ দ্রব্য, উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল তৈরি হয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। সেখানকার অধিবাসীরা বিস্ময়কর সব স্থাপত্যশৈলী নির্মাণ করেছে এবং সেখানে এমন সব মানুষের জন্ম হয়েছে যারা বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও শিল্পকলায় তাদের সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছে। অতএব, আল্লাহ তাআলা চাহেন তো প্রতিটি অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাদের কাছে যা কিছু পৌঁছেছে তা আমরা একে একে বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقدمة الثانيةفي خواصّ البلادوفيها فصلان:
الفصل الأوّل في تأثير البلاد في سكّانها؛ قالت الحكماء:إن الأرض شرق وغرب وجنوب وشمال، فما تناهى في التشريق وتحجّ منه نور المطلع فهو مكروه لفرط حرارته وشدّة إحراقه، فإن الحيوان يحترق بها، والنبات لا ينبت، وما تناهى في التغريب أيضا مكروه لموازاته التشريق في المعنى الذي ذكرناه، وما تناهى في الشمال أيضا مكروه لما فيه من البرد الشديد الذي لا يعيش الحيوان معه، وما تناهى في الجنوب أيضا كذلك لفرط الحرارة، فإنّها أرض محترقة لدوام مسامتة الشمس إيّاها. فالذي يصلح للسكنى من الأرض قدر يسير هو أوساط الإقليم الثالث والرابع والخامس، وما سوى ذلك فأهلها معذّبون، والعذاب عادة لهم، وقالوا أيضا: المساكن الحارّة موسّعة للمسام، مرخية للقوى، مضعفة للحرارة العزيزيّة، محلّلة للروح، فتكون أبدان سكّانها متخلخلة ضعيفة، وقلوبهم خائفة، وقواهم ضعيفة لضعف هضمهم.
وأمّا المساكن الباردة فإنّها مصلبّة للبدن مسددة للمسام مقوية للحرارة العزيزيّة، فتكون أبدان سكّانها صلبة، وفيهم الشجاعة وجودة القوى والهضم الجيّد. فإن استيلاء البرد على ظاهر أبدانهم يوجب احتقان الحرارة العزيزيّة في باطنهم.
وأمّا المساكن الرطبة فلا يسخّن هواؤهم شديدا ولا يبرد شتاؤهم قويّا، وسكّانها موصوفون بالسحنة الجيّدة، ولين الجلود وسرعة قبول الكيفيّات والاسترخاء في الرياضات وكلال القوى.
দ্বিতীয় ভূমিকাভূখণ্ডের বৈশিষ্ট্যাবলি সম্পর্কেএতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: অধিবাসীদের ওপর ভূখণ্ডের প্রভাব সম্পর্কে; প্রজ্ঞাবানগণ বলেন:নিশ্চয়ই পৃথিবী পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর ভাগে বিভক্ত। সুদূর প্রাচ্য এবং উদয়স্থলের আলোর বিচ্ছুরণস্থল বসবাসের জন্য অনুপযোগী; কারণ সেখানে প্রচণ্ড উত্তাপ ও দহন ক্ষমতার আধিক্য রয়েছে, যার ফলে জীবজন্তু পুড়ে যায় এবং কোনো উদ্ভিদ জন্মায় না। সুদূর পশ্চিমাঞ্চলও বসবাসের জন্য অনুপযোগী, কেননা আমরা পূর্বে যে কারণ উল্লেখ করেছি সেই একই কারণে তা প্রাচ্যের সমান্তরাল। তদ্রূপ সুদূর উত্তরাঞ্চলও চরম শীতের কারণে বসবাসের অনুপযোগী, যেখানে কোনো প্রাণী বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। সুদূর দক্ষিণাঞ্চলও চরম উত্তাপের কারণে একই রকম। কেননা সূর্যের নিরবচ্ছিন্ন অবস্থানের কারণে তা এক দগ্ধ ভূমি। পৃথিবীর সামান্য কিছু অংশই বসবাসের যোগ্য, আর তা হলো তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানসমূহ। এছাড়া অবশিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীরা কষ্টে নিপতিত এবং এই কষ্টই তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তারা আরও বলেন: উষ্ণ জনপদসমূহ শরীরের লোমকূপকে প্রসারিত করে, শক্তিকে শিথিল করে, সহজাত তাপমাত্রাকে দুর্বল করে এবং রুহকে ক্ষয় করে দেয়; ফলে সেখানকার অধিবাসীদের দেহ হয় শিথিল ও দুর্বল, তাদের অন্তর হয় ভীতু এবং হজমশক্তি দুর্বল হওয়ার কারণে তাদের শারীরিক সক্ষমতাও কম হয়।
পক্ষান্তরে শীতল জনপদসমূহ শরীরকে সুদৃঢ় করে, লোমকূপকে সংকুচিত করে এবং সহজাত তাপমাত্রাকে শক্তিশালী করে; ফলে সেখানকার অধিবাসীদের শরীর হয় মজবুত এবং তাদের মধ্যে সাহস, উন্নত শারীরিক শক্তি ও উত্তম হজমশক্তি বিদ্যমান থাকে। কেননা শরীরের বাহ্যিক অংশে ঠান্ডার আধিক্য দেহের অভ্যন্তরে সহজাত তাপমাত্রাকে পুঞ্জীভূত রাখতে সহায়ক হয়।
আর আর্দ্র জনপদসমূহের বাতাস খুব বেশি উত্তপ্ত হয় না এবং তাদের শীতকালও খুব তীব্র হয় না; সেখানকার অধিবাসীরা সুশ্রী চেহারা, কোমল ত্বক, বাহ্যিক অবস্থা দ্রুত গ্রহণ করার প্রবণতা, শারীরিক পরিশ্রমে শৈথিল্য এবং শারীরিক শক্তির দুর্বলতার জন্য পরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأمّا المساكن اليابسة فتسدّد المسام وتورث القشف والنحول ويكون صيفها حارّا وشتاؤها باردا، وأدمغة أهلها يابسة لكن قواهم حادّة.
وأمّا المساكن الحجريّة فهواؤها في الصيف حارّ وفي الشتاء بارد، وأبدان أهلها صلبة، وعندهم سوء الخلق والتكبّر والاستبداد في الأمور، والشجاعة في الحروب.
وأمّا المساكن الآجاميّة والبحريّة فهي في حكم المساكن الرطبة وأنزل حالا وقد جرى ذكر المساكن الرطبة.
الفصل الثاني: في تأثير البلاد في المعادن والنبات والحيوان.أمّا المعادن فالذهب لا يتكوّن إلّا في البراري الرملة والجبال الرخوة، والفضّة والنحاس والرصاص والحديد لا يتكوّن إلّا في الأحجار المختلطة بالتراب اللين، والكبريت لا يتكوّن إلّا في الأراضي الناريّة، والزيبق لا يتكوّن إلّا في الأراضي المائية، والأملاح لا تنعقد إلّا في الأراضي السبخة، والشبوب والزاجات لا تتكوّن إلّا في التراب العفص، والقار والنفط لا يتكوّن إلّا في الأراضي الدهنة، أمّا تولّد الأحجار التي لها خواص فلا يعلم معادنها وسببها إلّا اللّه تعالى.
وأمّا النبات فإنّ النخل والموز لا ينبتان إلّا بالبلاد الحارّة، وكذلك الأترج والنارنج والرمان والليمون، وأمّا الجوز واللوز والفستق فلا ينبت إلّا بالبلاد الباردة، والقصب على شطوط الأنهار، وكذا الدلب والمغيلان بالأراضي الصلبة والبراري القفار، والقرنفل لا ينبت إلّا بجزيرة بأرض الهند، والنارجيل والفلفل والزنجبيل لا ينبت إلّا بالهند، وكذلك الساج والآبنوس والورس لا ينبت إلّا باليمن، والزعفران بأرض الجبال بروذراورد، وقصب الذريرة بأرض نهاوند، والترنجبين يقع على شوك بخراسان.
وأمّا الحيوان فإنّ الفيل لا يتولّد إلّا في جزائر البحار الجنوبيّة، وعمرها بأرض الهند أطول من عمرها بغير أرض الهند، وأنيابها لا تعظم مثل ما تعظم بأرضها، والزرافة لا تتولّد إلّا بأرض الحبشة، والجاموس لا يتولّد إلّا بالبلاد
শুষ্ক আবাসস্থলের ক্ষেত্রে তা লোমকূপ বন্ধ করে দেয় এবং রুক্ষতা ও কৃশতা সৃষ্টি করে। এর গ্রীষ্মকাল উত্তপ্ত এবং শীতকাল ঠান্ডা হয়। এর অধিবাসীদের মস্তিষ্ক শুষ্ক থাকে, তবে তাদের শক্তি হয় প্রখর।
পাথুরে আবাসস্থলগুলোর বাতাস গ্রীষ্মে উত্তপ্ত এবং শীতে ঠান্ডা থাকে। এর অধিবাসীদের শরীর শক্ত হয় এবং তাদের মধ্যে মেজাজের রুক্ষতা, অহংকার, বিভিন্ন বিষয়ে একগুঁয়েমি ও যুদ্ধে সাহসিকতা বিদ্যমান থাকে।
জলাভূমি ও সমুদ্রতীরবর্তী আবাসস্থলগুলো আর্দ্র আবাসস্থলের পর্যায়ভুক্ত, বরং এর অবস্থাও নিম্নতর; আর আর্দ্র আবাসস্থলের বর্ণনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খনিজ, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর ভূখণ্ডের প্রভাব প্রসঙ্গে।খনিজের ক্ষেত্রে, স্বর্ণ কেবল বালুকাময় মরুভূমি এবং নরম পাহাড়েই গঠিত হয়। রূপা, তামা, সিসা এবং লোহা কেবল নরম মাটির সাথে মিশ্রিত পাথরে গঠিত হয়। গন্ধক কেবল উত্তপ্ত অগ্নিময় ভূমিতে গঠিত হয়। পারদ কেবল জলীয় ভূমিতে গঠিত হয়। লবণ কেবল নোনা ভূমিতে জমাট বাঁধে। ফিটকিরি ও কাসিস কেবল কষায় মাটিতে গঠিত হয়। আলকাতরা ও খনিজ তেল কেবল তৈলাক্ত ভূমিতে গঠিত হয়। আর বিশেষ গুণসম্পন্ন পাথরগুলোর উৎপত্তি, তাদের আধার ও কারণ আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কেউ জানেন না।
উদ্ভিদের ক্ষেত্রে, খেজুর গাছ ও কলা গাছ কেবল উষ্ণ দেশেই জন্মায়। একইভাবে বাতাবি লেবু, কমলা লেবু, ডালিম ও লেবুও। আখরোট, কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদাম কেবল শীতল দেশেই জন্মায়। নদীর তীরে নলখাগড়া জন্মে; একইভাবে শক্ত মাটি ও জনমানবহীন মরুভূমিতে চেনাল গাছ ও বাবলা জাতীয় গাছ জন্মে। লবঙ্গ কেবল ভারতের একটি দ্বীপে জন্মায়। নারিকেল, গোলমরিচ ও আদা কেবল ভারতেই জন্মায়। তেমনি সেগুন, আবলুস ও ওয়ারস কেবল ইয়েমেনে জন্মায়। জাফরান জাবাল অঞ্চলের রুদরাওয়ারে, সুগন্ধি নলখাগড়া নেহাওয়ান্দে এবং তরঞ্জাবীন খোরাসানের কাঁটাযুক্ত ঝোপে পতিত হয়।
প্রাণীর ক্ষেত্রে, হাতি কেবল দক্ষিণা সমুদ্রের দ্বীপপুঞ্জেই জন্মায়। ভারতের মাটিতে তাদের আয়ু অন্য কোনো স্থানের তুলনায় দীর্ঘতর হয় এবং তাদের দাঁত ভারতের ভূমির মতো অন্য কোথাও অত বড় হয় না। জিরাফ কেবল আবিসিনিয়া ভূমিতে জন্মায় এবং মহিষ কেবল ঐ সব দেশে জন্মায়...
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحارّة قرب المياه، ولا يعيش بالبلاد الباردة، وعير العانة ليس له سفاد في غير بلاده كما يكون ذلك في بلاده، ويحتاج أن يؤخذ من حافره ولا كذلك في بلاده، والسنجاب والسمور وغزال المسك لا يتولّد إلّا في البلاد الشرقيّة الشماليّة، والصقر والبازي والعقاب لا يتفرّخ إلّا على رؤوس الجبال الشامخة، والنعامة والقطا لا يفرّخان إلّا في الفلوات، والبطوط وطيور الماء لا تفرّخ إلّا في شطوط الأنهار والبطائح والآجام، والفواخت والعصافير لا تفرّخ إلّا في العمارات، والبلابل والقنابر لا تفرّخ إلّا في البساتين، والحجل لا يفرّخ إلّا في الجبال، هذا هو الغالب فإن وقع شيء على خلاف ذلك فهو نادر. واللّه الموفق للصواب.
উষ্ণ অঞ্চলের পানির সন্নিকটে (এসব প্রাণী বাস করে), এবং শীতল দেশগুলোতে এরা বাস করে না। বুনো গাধার প্রজনন তার নিজ দেশ ব্যতীত অন্য কোথাও সেভাবে সম্পন্ন হয় না যেভাবে তার নিজ দেশে হয়; এমনকি তার ক্ষুর ছেঁটে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, যা তার নিজ দেশে প্রয়োজন হয় না। কাঠবিড়ালি, সীবল এবং কস্তুরী মৃগ কেবল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোতেই জন্মলাভ করে। শিকরা, বাজপাখি এবং ঈগল কেবল সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গেই ডিম পাড়ে। উটপাখি এবং কাতা পাখি কেবল জনশূন্য মরুপ্রান্তরেই বংশবৃদ্ধি করে। হাঁস ও জলচর পাখিরা কেবল নদীর তীর, জলাভূমি এবং বন-জঙ্গলেই ডিম পাড়ে। ঘুঘু ও চড়ুই পাখি কেবল জনবসতিপূর্ণ দালান-কোঠায় বংশবৃদ্ধি করে। বুলবুলি এবং ভরত পাখি কেবল বাগানসমূহে বংশবৃদ্ধি করে এবং তিতির পাখি কেবল পাহাড়ে ডিম পাড়ে। এটিই সাধারণ নিয়ম, সুতরাং এর ব্যতিক্রম যা কিছু ঘটে তা অত্যন্ত বিরল। আল্লাহই সঠিক বিষয়ের তাওফিক দাতা।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المقدمة الثالثةفي أقاليم الأرضقال أبو الريحان الخوارزمي: إذا فرضنا أن دائرة معدل النهار تقطع كرة الأرض بنصفين: يسمّى أحد النصفين جنوبا، والآخر شمالا. وإذا فرضنا دائرة تعبر عن قطبي معدّل النهار وتقطع الأرض، صارت كرة الأرض أربعة أرباع: ربعان جنوبيّان، وربعان شماليّان، فالربع الشمالي المكشوف يسمّى ربعا مسكونا، والربع المسكون مشتمل على البحار والجزائر والأنهار والجبال والمفاوز والبلدان والقرى، على أن ما بقي منها تحت قطب الشمال قطعة غير مسكونة من افراط البرد وتراكم الثلوج، وهذا الربع المسكون قسموه سبعة أقسام، كلّ قسم يسمّى إقليما، كأنّه بساط مفروش من الشرق إلى الغرب طولا، ومن الجنوب إلى الشمال عرضا، وإنّها مختلفة الطول والعرض، فأطولها وأعرضها الإقليم الأوّل، فإن طوله من المشرق إلى المغرب نحو من ثلاثة آلاف فرسخ، وعرضه من الجنوب إلى الشمال نحو من مائة وخمسين فرسخا، وأقصرها طولا وعرضا الإقليم السابع، فإن طوله من المشرق إلى المغرب نحو من ألف وخمسمائة فرسخ، وعرضه من الجنوب إلى الشمال نحو من خمسين فرسخا.
وأمّا سائر الأقاليم فمختلف طولها وعرضها، وعلى الصفحة المقابلة صورة كرة الأرض بأقاليمها.
وهذه القسمة ليست قسمة طبيعيّة، لكنّها خطوط وهميّة وضعها الأوّلون الذين طافوا بالربع المسكون من الأرض، ليعلموا بها حدود الممالك والمسالك، مثل افريدون النّبطي وإسكندر الرومي واردشير الفارسي، وإذا جاوزوا الأقاليم
তৃতীয় উপস্থাপনাপৃথিবীর অঞ্চলসমূহ প্রসঙ্গেআবু রায়হান আল-খাওয়ারিজমি বলেন: যদি আমরা কল্পনা করি যে নিরক্ষরেখা ভূ-গোলককে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করেছে, তবে এক ভাগকে দক্ষিণ এবং অন্য ভাগকে উত্তর বলা হয়। আর যদি আমরা এমন একটি বৃত্ত কল্পনা করি যা নিরক্ষরেখার মেরুদ্বয়কে অতিক্রম করে পৃথিবীকে ছেদ করে, তবে ভূ-গোলকটি চারটি চতুর্থাংশে বিভক্ত হয়ে যায়: দুটি দক্ষিণাঞ্চলীয় চতুর্থাংশ এবং দুটি উত্তরাঞ্চলীয় চতুর্থাংশ। অতঃপর উন্মুক্ত উত্তরাঞ্চলীয় চতুর্থাংশকে 'জনবসতিপূর্ণ চতুর্থাংশ' বলা হয়। এই জনবসতিপূর্ণ চতুর্থাংশ সাগর, দ্বীপপুঞ্জ, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, মরুভূমি, দেশ ও গ্রামসমূহের সমন্বয়ে গঠিত। তবে উত্তর মেরুর পাদদেশে থাকা অবশিষ্ট অংশটুকু প্রচণ্ড শীত এবং তুষার স্তূপের কারণে জনবসতিহীন। এই জনবসতিপূর্ণ চতুর্থাংশকে তাঁরা সাতটি ভাগে বিভক্ত করেছেন, যার প্রতিটি ভাগকে একেকটি 'অঞ্চল' (ইকলিম) বলা হয়। এটি যেন পূর্ব থেকে পশ্চিমে দৈর্ঘ্য বরাবর এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রস্থ বরাবর বিছিয়ে রাখা একটি গালিচা। এগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ভিন্ন ভিন্ন; তন্মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ও প্রশস্ত হলো প্রথম অঞ্চল। পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন হাজার ফারসাখ এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে এর প্রস্থ প্রায় একশত পঞ্চাশ ফারসাখ। আর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সবচেয়ে ছোট হলো সপ্তম অঞ্চল। পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার পাঁচশত ফারসাখ এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে এর প্রস্থ প্রায় পঞ্চাশ ফারসাখ।
অন্যান্য অঞ্চলগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থও ভিন্ন ভিন্ন। বিপরীত পৃষ্ঠায় অঞ্চলসহ পৃথিবীর গোলকের একটি চিত্র দেওয়া হয়েছে।
এই বিভাজন কোনো প্রাকৃতিক বিভাজন নয়, বরং এগুলো কিছু কাল্পনিক রেখা যা সেই প্রাচীন মনীষীরা নির্ধারণ করেছিলেন যারা পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ চতুর্থাংশ পরিভ্রমণ করেছিলেন, যেন এর মাধ্যমে তাঁরা সাম্রাজ্যসমূহের সীমানা ও পথঘাট সম্পর্কে অবগত হতে পারেন; যেমন নাবতি বংশীয় আফ্রিদুন, রোমান আলেকজান্ডার এবং পারস্যের আরদাশির। আর যখন তারা অঞ্চলসমূহ অতিক্রম করলেন...
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
السبعة فمنعهم من سلوكها البحار الزاخرة والجبال الشامخة، والأهوية المفرطة التغيّر في الحرّ والبرد، والظلمة في ناحية الشمال تحت مدار بنات النعش، فإن البرد هناك مفرط جدّا، لأنّ ستّة أشهر هناك شتاء وليل، فيظلم الهواء ظلمة شديدة ويجمد الماء لشدّة البرد، فلا حيوان هناك ولا نبات. وفي مقابلتها من ناحية الجنوب تحت مدار سهيل يكون ستّة أشهر صيفا نهارا كلّه، فيحمى الهواء ويصير نارا سموما يحرق كلّ شيء، فلا نبات ولا حيوان هناك.

এই সাতটি [অঞ্চল], এগুলোতে বিচরণ করার পথে অন্তরায় হয়েছে উত্তাল সমুদ্রসমূহ, সুউচ্চ পর্বতমালা এবং তাপ ও শৈত্যের অতিশয় পরিবর্তনশীল আবহাওয়া। এছাড়া উত্তর দিকে 'বানাতুন নাশ' নক্ষত্রপুঞ্জের কক্ষপথের নিচের অন্ধকারও একটি বাধা। কারণ সেখানে শীত অত্যন্ত প্রবল; সেখানে বছরের ছয় মাসই শীতকাল ও রাত থাকে। ফলে বায়ুমণ্ডল ঘোর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং তীব্র ঠান্ডায় পানি জমে যায়। এ কারণে সেখানে কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ নেই। আর এর বিপরীতে দক্ষিণ দিকে 'সুহাইল' নক্ষত্রের কক্ষপথের নিচে ছয় মাস গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে এবং পুরো সময়টিই দিন থাকে। তখন বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়ে বিষাক্ত অগ্নিসম লু-হাওয়ায় পরিণত হয় যা সবকিছুকে দগ্ধ করে ফেলে। তাই সেখানে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী অবশিষ্ট থাকে না।

(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأمّا جانب المغرب فيمنع البحر المحيط السلوك فيه لتلاطم الأمواج. وأمّا جانب المشرق فيمنع البحر والجبال الشامخة، فإذا تأمّلت وجدت الناس محصورين في الأقاليم السبعة، وليس لهم علم بحال بقية الأرض. فلنذكر ما وصل إلينا بقعة بقعة في إقليم إقليم، مرتبة على حروف المعجم، واللّه الموفق للسداد والهادي إلى سواء الصراط.
আর পশ্চিম দিকের কথা বলতে গেলে, উত্তাল ঢেউয়ের সংঘাতের কারণে পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর সেখানে যাতায়াত করতে বাধা প্রদান করে। আর পূর্ব দিকের ক্ষেত্রে সমুদ্র এবং সুউচ্চ পর্বতমালা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আপনি যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন তবে দেখতে পাবেন যে, মানুষ সাতটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং পৃথিবীর অবশিষ্টাংশের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। সুতরাং আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তা আমরা স্থানভেদে ও অঞ্চলভেদে বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করব; আর আল্লাহই সঠিক কর্মের তাওফিকদাতা এবং সরল পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الإقليم الأولفجنوبيّه ما يلي بلاد الزنج والنوبة والحبشة، وشماليّه الإقليم الثاني، وأوله حيث يكون الظلّ نصف النهار إذا استوى الليل والنهار قدما واحدة ونصفا وعشرا وسدس عشر قدم، وآخره حيث يكون ظلّ الاستواء فيه نصف النهار قدمين وثلاثة أخماس قدم. وقد يبتدئ من أقصى المشرق من بلاد الصين، ويمرّ على ما يلي الجنوب من الصين جزيرة سرنديب، وعلى سواحل البحر في جنوب الهند، ويقطع البحر إلى جزيرة العرب ويقطع بحر قلزم إلى بلاد الحبشة، ويقطع نيل مصر وأرض اليمن إلى بحر المغرب؛ فوقع في وسطه من أرض صنعاء وحضرموت، ووقع طرفه الذي يلي الجنوب أرض عدن، ووقع في طرفه الذي يلي الشمال بتهامة قريبا من مكّة.
ويكون أطول نهار هؤلاء اثنتي عشرة ساعة ونصف الساعة في ابتدائه، وفي وسطه ثلاث عشرة ساعة، وفي آخره ثلاث عشرة ساعة وربع الساعة. وطوله من المشرق إلى المغرب تسعة آلاف ميل وسبعمائة واثنان وسبعون ميلا وإحدى وأربعون دقيقة، وعرضه أربعمائة ميل واثنان وأربعون ميلا واثنتان وعشرون دقيقة وأربعون ثانية، ومساحته مكسرا أربعة آلاف ألف وثلاثمائة ألف وعشرون ألف ميل وثمانمائة وسبعة وسبعون ميلا وإحدى وعشرون دقيقة، ولنذكر بعض بلادها مرتبا على حروف المعجم.
إرم ذات العمادبين صنعاء وحضرموت، من بناء شدّاد بن عاد، روي أن شداد بن عاد كان جبّارا من الجبابرة، لما سمع بالجنّة وما وعد اللّه فيها أولياءه من قصور
প্রথম জলবায়ু অঞ্চলএর দক্ষিণে রয়েছে জান্জ, নুবিয়া এবং হাবশা দেশসমূহ, আর এর উত্তরে দ্বিতীয় জলবায়ু অঞ্চল। এর শুরু সেখানে যেখানে দিন ও রাত সমান হওয়ার সময় দ্বিপ্রহরে ছায়া হয় এক কদম (ফুট), অর্ধেক, এক-দশমাংশ এবং এক ফুটের ষোল ভাগের এক ভাগ। আর এর শেষ হয় সেখানে যেখানে দিন ও রাত সমান হওয়ার সময় দ্বিপ্রহরে ছায়া হয় দুই কদম এবং এক কদমের তিন-পঞ্চমাংশ। এটি সুদূর প্রাচ্যের চীন দেশ থেকে শুরু হয়েছে এবং চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সারান্দ্বীপ দ্বীপ ও দক্ষিণ ভারতের সমুদ্র উপকূল দিয়ে অতিক্রম করেছে। এরপর এটি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আরব উপদ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং কুলজুম সাগর পাড়ি দিয়ে হাবশা দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। অতঃপর এটি মিশরের নীল নদ ও ইয়েমেন ভূমি অতিক্রম করে পশ্চিম সাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর মধ্যবর্তী স্থানে সানা এবং হাজরামাউত ভূমি অবস্থিত। এর দক্ষিণ প্রান্তে এডেন ভূমি এবং উত্তর প্রান্তে মক্কার নিকটবর্তী তিহামা অঞ্চল অবস্থিত।
এসব অঞ্চলের দীর্ঘতম দিন শুরুতে সাড়ে বারো ঘণ্টা, মাঝখানে তেরো ঘণ্টা এবং শেষে সোয়া তেরো ঘণ্টা হয়। এর দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে নয় হাজার সাতশত বাহাত্তর মাইল এবং একচল্লিশ মিনিট। এর প্রস্থ চারশত বিয়াল্লিশ মাইল, বাইশ মিনিট এবং চল্লিশ সেকেন্ড। এর মোট ক্ষেত্রফল তিপ্পান্ন লক্ষ বিশ হাজার আটশত সত্তর মাইল এবং একুশ মিনিট। এখন আমরা বর্ণানুক্রমিকভাবে এর কিছু দেশের কথা উল্লেখ করব।
স্তম্ভবিশিষ্ট ইরামএটি সানা এবং হাজরামাউতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, যা শাদ্দাদ বিন আদ নির্মাণ করেছিল। বর্ণিত আছে যে, শাদ্দাদ বিন আদ ছিল সমকালীন দাম্ভিক স্বৈরশাসকদের একজন। যখন সে জান্নাত এবং সেখানে আল্লাহ তাঁর ওলিদের জন্য যে সব প্রাসাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সে সম্পর্কে জানতে পারল, তখন সে অনুরূপ কিছু নির্মাণের সংকল্প করল।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الذهب والفضّة والمساكن التي تجري من تحتها الأنهار، والغرف التي فوقها غرف، قال: إني متّخذ في الأرض مدينة على صفة الجنّة، فوكل بذلك مائة رجل من وكلائه، تحت يد كلّ وكيل ألف من الأعوان، وأمرهم أن يطلبوا أفضل فلاة من أرض اليمن، ويختاروا أطيبها تربة. ومكّنهم من الأموال ومثّل لهم كيفيّة بنائها، وكتب إلى عمّاله في سائر البلدان أن يجمعوا جميع ما في بلادهم من الذهب والفضّة والجواهر؛ فجمعوا منها صبرا مثل الجبال، فأمر باتّخاذ اللبن من الذهب والفضّة، وبنى المدينة بها، وأمر أن يفضّض حيطانها بجواهر الدرّ والياقوت والزبرجد، وجعل فيها غرفا فوقها غرف، أساطينها من الزبرجد والجزع والياقوت. ثمّ أجرى إليها نهرا ساقه إليها من أربعين فرسخا تحت الأرض فظهر في المدينة، فأجرى من ذلك النهر سواقي في السكك والشوارع، وأمر بحافتي النهر والسواقي فطليت بالذهب الأحمر، وجعل حصاه أنواع الجواهر الأحمر والأصفر والأخضر، ونصب على حافتي النهر والسواقي أشجارا من الذهب، وجعل ثمارها من الجواهر واليواقيت.
وجعل طول المدينة اثني عشر فرسخا وعرضها مثل ذلك، وصيّر سورها عاليا مشرفا، وبنى فيها ثلاثمائة ألف قصر، مفضّضا بواطنها وظواهرها بأصناف الجواهر. ثمّ بنى لنفسه على شاطئ ذلك النهر قصرا منيفا عاليا، يشرف على تلك القصور كلّها، وجعل بابه يشرع إلى واد رحيب، ونصب عليه مصراعين من ذهب مفضّض بأنواع اليواقيت.
وجعل ارتفاع البيوت والسور ثلاثمائة ذراع. وجعل تراب المدينة من المسك والزعفران.
وجعل خارج المدينة مائة ألف منظرة أيضا من الذهب والفضّة لينزلها جنوده.
ومكث في بنائها خمسمائة عام، فبعث اللّه تعالى إليه هودًا النبي، عليه السلام، فدعاه إلى اللّه تعالى، فتمادى في الكفر والطغيان. وكان إذ ذاك تمّ ملكه سبعمائة سنة، فأنذره هود بعذاب اللّه تعالى وخوّفه بزوال ملكه، فلم يرتدع عمّا كان
সোনা, রুপা এবং সেই সকল বাসগৃহ যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় এবং সেই সকল কক্ষ যার উপরে কক্ষ নির্মিত রয়েছে—সে (শাদ্দাদ) বলল: "আমি পৃথিবীতে জান্নাতের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ একটি শহর নির্মাণ করব।" এরপর সে তার প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে একশ জন ব্যক্তিকে এই দায়িত্ব অর্পণ করল এবং প্রত্যেক প্রতিনিধির অধীনে এক হাজার করে সাহায্যকারী নিয়োজিত করল। সে তাদের নির্দেশ দিল যেন তারা ইয়ামেন ভূখণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম মরুপ্রান্তর খুঁজে বের করে এবং তার মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাটি নির্বাচন করে। সে তাদের প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করল এবং তাদের সামনে এর নির্মাণ পদ্ধতির নমুনা পেশ করল। সে বিভিন্ন দেশের তার আমিলদের (কর্মকর্তাদের) নিকট পত্র লিখল যেন তারা তাদের দেশে বিদ্যমান সকল সোনা, রুপা ও মণি-মুক্তা সংগ্রহ করে। ফলে তারা পাহাড়ের ন্যায় স্তূপাকার ধন-রত্ন সংগ্রহ করল। অতঃপর সে সোনা ও রুপার ইট তৈরির নির্দেশ দিল এবং তা দিয়ে শহরটি নির্মাণ করল। সে নির্দেশ দিল যেন এর দেয়ালগুলো মুক্তা, ইয়াকুত ও জাবারজাদ পাথরের অলঙ্কারে সজ্জিত করা হয়। সে সেখানে কক্ষের উপর কক্ষ নির্মাণ করল, যার স্তম্ভগুলো ছিল জাবারজাদ, জায্' ও ইয়াকুত পাথরের। এরপর সে মাটির নিচ দিয়ে চল্লিশ ফারসাখ দূর থেকে একটি নদী প্রবাহিত করে শহর পর্যন্ত নিয়ে আসল এবং তা শহরে প্রকাশ পেল। সেই নদী থেকে সে অলি-গলি ও রাস্তাগুলোতে ছোট ছোট খাল প্রবাহিত করল। সে নদী ও খালের উভয় তীরে লাল সোনা দিয়ে প্রলেপ দেওয়ার নির্দেশ দিল এবং তার তলদেশের নুড়ি পাথরগুলো বিভিন্ন প্রকার লাল, হলুদ ও সবুজ রত্ন দিয়ে পূর্ণ করল। সে নদী ও খালের উভয় পাশে সোনার গাছ স্থাপন করল এবং সেগুলোর ফল হিসেবে নির্ধারণ করল মণি-মুক্তা ও ইয়াকুত।
সে শহরটির দৈর্ঘ্য বারো ফারসাখ এবং প্রস্থও অনুরূপ নির্ধারণ করল। সে এর প্রাচীরকে অত্যন্ত উঁচু ও দর্শনীয় করল এবং সেখানে তিন লক্ষ প্রাসাদ নির্মাণ করল, যেগুলোর ভেতর ও বাহির বিভিন্ন প্রকার রত্ন দ্বারা খচিত ছিল। অতঃপর সে সেই নদীর তীরে নিজের জন্য একটি অত্যুচ্চ ও সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করল, যা অন্য সকল প্রাসাদের উপর দৃষ্টিগোচর হতো। সে এর দরজাটি একটি প্রশস্ত উপত্যকার দিকে উন্মুক্ত রাখল এবং তাতে বিভিন্ন প্রকার ইয়াকুত খচিত স্বর্ণের দুই কপাটের একটি দ্বার স্থাপন করল।
সে ঘরগুলো ও প্রাচীরের উচ্চতা তিনশ হাত নির্ধারণ করল এবং শহরের মাটি মেশক ও জাফরান দ্বারা প্রস্তুত করল।
সে শহরের বাইরেও সৈন্যবাহিনীর অবস্থানের জন্য সোনা ও রুপার এক লক্ষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করল।
শহরটি নির্মাণ করতে পাঁচশ বছর সময় অতিবাহিত হলো। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার নিকট নবী হুদ আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন। তিনি তাকে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের দিকে আহ্বান করলেন, কিন্তু সে কুফরি ও সীমালঙ্ঘনে অবিচল রইল। সে সময় তার রাজত্বের সাতশ বছর পূর্ণ হয়েছিল। হুদ তাকে আল্লাহ তাআলার আজাব ও তার রাজত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার ভয় দেখালেন, কিন্তু সে যা করছিল তা থেকে নিবৃত্ত হলো না।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عليه. وعند ذلك وافاه الموكلون ببناء المدينة وأخبروه بالفراغ منها، فعزم على الخروج إليها في جنوده، وخرج في ثلاثمائة ألف رجل من أهل بيته، وخلّف على ملكه مرثد بن شدّاد ابنه، وكان مرثد، فيما يقال، مؤمنا بهود، عليه السلام. فلمّا انتهى شدّاد إلى قرب المدينة بمرحلة جاءت صيحة من السماء، فمات هو وأصحابه وجميع من كان في أمر المدينة من القهارمة والصنّاع والفعلة، وبقيت لا أنيس بها فأخفاها اللّه، لم يدخلها بعد ذلك إلّا رجل واحد في أيّام معاوية يقال له عبد اللّه بن قلابة، فإنّه ذكر في قصة طويلة ملخّصها أنّه خرج من صنعاء في طلب إبل ضلّت، فأفضى به السير إلى مدينة، صفتها ما ذكرنا، فأخذ منها شيئا من المسك والكافور وشيئا من الياقوت، وقصد الشام وأخبر معاوية بالمدينة، وعرض عليه ما أخذه من الجواهر، وكانت قد تغيّرت بطول الزمان. فأحضر معاوية كعب الأحبار وسأله عن ذلك فقال: هذا إرم ذات العماد التي ذكرها اللّه تعالى في كتابه، بناها شداد بن عاد، لا سبيل إلى دخولها ولا يدخلها إلّا رجل واحد صفته كذا وكذا. وكانت تلك الصفة صفة عبد اللّه ابن قلابة؛ فقال له معاوية: أمّا أنت يا عبد اللّه فأحسنت النصح، ولكن لا سبيل لها. وأمر له بجائزة.
وحكي أنّهم عرفوا قبر شدّاد بن عاد بحضرموت، وذلك أنّهم وقعوا في حفيرة، وهي بيت في جبل منقورة مائة ذراع في أربعين ذراعا، وفي صدره سرير عظيم من ذهب، عليه رجل عظيم الجسم، وعند رأسه لوح فيه مكتوب:
اعتبر يا أيّها المغرور بالعمر المديد
… أنا شدّاد بن عاد صاحب القصر المشيد
وأخو القوّة والبأساء والملك الحسيد
… دان أهل الأرض طرّا لي من خوف وعيدي
فأتى هود وكنّا في ضلال قبل هود
তার ওপর। আর সেই সময় শহর নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন এবং তা সম্পন্ন হওয়ার সংবাদ দিলেন। ফলে তিনি তাঁর সৈন্যদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার সংকল্প করলেন। তিনি তাঁর পরিবারবর্গের তিন লক্ষ লোক নিয়ে বের হলেন এবং তাঁর রাজ্যে তাঁর পুত্র মারছাদ ইবনে শাদ্দাদকে স্থলাভিষিক্ত করলেন। কথিত আছে যে, মারছাদ হূদ আলাইহিস সালামের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন। যখন শাদ্দাদ শহরের এক মনজিল নিকটে পৌঁছালেন, তখন আকাশ থেকে এক বিকট শব্দ এল। ফলে তিনি, তাঁর সঙ্গীরা এবং শহরের ব্যবস্থাপক, কারিগর ও শ্রমিকদের মধ্যে যারা সেখানে ছিল, তারা সবাই মারা গেল। শহরটি জনশূন্য অবস্থায় রয়ে গেল এবং আল্লাহ তা গোপন করে দিলেন। এরপর মুয়াবিয়ার আমলে আব্দুল্লাহ ইবনে কিলাবা নামক এক ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। এক দীর্ঘ কাহিনীর সারসংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর হারিয়ে যাওয়া উটের সন্ধানে সানআ থেকে বের হয়েছিলেন। সফর করতে করতে তিনি এমন এক শহরে গিয়ে পৌঁছালেন যার বর্ণনা আমরা দিয়েছি। তিনি সেখান থেকে কিছু কস্তুরী, কর্পূর এবং ইয়াকুত পাথর নিলেন। এরপর তিনি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং মুয়াবিয়াকে সেই শহর সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি যে সব রত্ন সংগ্রহ করেছিলেন তা তাঁর কাছে পেশ করলেন, যা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। তখন মুয়াবিয়া কাব আল-আহবারকে ডেকে পাঠালেন এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: এটিই সেই ইরাম জাতুল ইমাদ (উঁচু স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম) যার কথা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এটি আদ বংশীয় শাদ্দাদ নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে প্রবেশের কোনো পথ নেই এবং এমন ও এমন বৈশিষ্ট্যের এক ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ সেখানে প্রবেশ করবে না। সেই বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে কিলাবারই। তখন মুয়াবিয়া তাঁকে বললেন: হে আব্দুল্লাহ, তুমি তো উত্তম পরামর্শই দিলে, কিন্তু সেখানে যাওয়ার তো আর কোনো পথ নেই। এরপর তিনি তাঁর জন্য পুরস্কারের নির্দেশ দিলেন।
বর্ণিত আছে যে, তারা হাজরামাউতে শাদ্দাদ ইবনে আদের কবরের সন্ধান পেয়েছিলেন। তা ঘটেছিল এভাবে যে, তারা একটি গর্তের সন্ধান পান যা ছিল পাহাড়ের ভেতর খোদাই করা একটি ঘর, যা দৈর্ঘ্যে একশ হাত এবং প্রস্থে চল্লিশ হাত। তার মাঝখানে স্বর্ণের একটি বিশাল পালঙ্ক ছিল, যার ওপর বিশালদেহী এক ব্যক্তি শায়িত ছিলেন। তাঁর মাথার কাছে একটি ফলক ছিল যাতে লেখা ছিল:
হে দীর্ঘ জীবনে প্রতারিত ব্যক্তি! শিক্ষা গ্রহণ করো
… আমিই সুউচ্চ প্রাসাদের অধিপতি শাদ্দাদ ইবনে আদ
আমি শক্তি, বিক্রম ও ঈর্ষণীয় রাজত্বের অধিকারী ছিলাম
… আমার হুমকির ভয়ে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আমার বশ্যতা স্বীকার করেছিল
এরপর হূদ আসলেন, অথচ আমরা হূদের আগমনের পূর্বে পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فدعانا لو قبلناه إلى الأمر الرّشيد
… فعصيناه ونادينا: ألا هل من محيد؟
فأتتنا صيحة تهوي من الأفق البعيد
فشوينا مثل زرع وسط بيداء حصيد
واللّه الموفّق للصواب.
البجّةبلاد متّصلة بأعلى عيذاب في غرب منه، أهلها صنف من الحبش، بها معادن الزمرذ. يحمل منها إلى سائر الدنيا، ومعادنه في جبال هناك، وزمرذها أحسن أصناف الزمرذ الأخضر السّلقي الكثير المائية، يسقى المسموم منه فيبرأ، وإذا نظرت الأفعى إليه سالت حدقتها.
بكيلمخلاف باليمن؛ قال عمارة في تاريخه: بهذا المخلاف نوع من الشجر لأقوام معيّنين في أرض لهم، وهم يشحّون به ويحفظونه من غيرهم مثل شجر البلسان بأرض مصر؛ وليس ذلك الشجر إلّا لهم يأخذون منه سمّا يقتل به الملوك، وذكر أن ملوك بني نجاح ووزراءهم أكثرهم قتلوا بهذا السمّ.
بلاد التّبرهي بلاد السودان في جنوب المغرب؛ قال ابن الفقيه: هذه البلاد حرّها شديد جدّا. أهلها بالنهار يكونون في السراديب تحت الأرض، والذهب ينبت في رمل هذه البلاد كما ينبت الجزر بأرضنا، وأهلها يخرجون عند بزوغ الشمس ويقطفون الذهب، وطعامهم الذّرة واللوبيا، ولباسهم جلود الحيوانات،
তিনি আমাদের সঠিক পথের দিকে আহ্বান করেছিলেন, যদি আমরা তা গ্রহণ করতাম
… কিন্তু আমরা তাঁর অবাধ্য হলাম এবং চিৎকার করে বললাম: পালানোর কোনো পথ আছে কি?
অতঃপর সুদূর দিগন্ত থেকে এক ভয়াবহ গর্জন আমাদের দিকে ধেয়ে এলো
ফলে আমরা মরুভূমির মাঝখানে কর্তিত শস্যের ন্যায় ভস্মীভূত হলাম
আল্লাহই সঠিক পথের তৌফিকদাতা।
বাজজাহএটি আইজাবের উপরিভাগের সাথে সংযুক্ত একটি অঞ্চল, যা তার পশ্চিমে অবস্থিত। এর অধিবাসীরা হাবশিদের একটি শ্রেণি। সেখানে পান্নার খনি রয়েছে, যা পৃথিবীর সব প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। এই খনিগুলো সেখানকার পাহাড়গুলোতে অবস্থিত। সেখানকার পান্নাগুলো হলো সবুজ সিলকি জাতীয় পান্নার শ্রেষ্ঠতম প্রকার, যা অত্যন্ত স্বচ্ছ। বিষাক্রান্ত ব্যক্তিকে তা পান করালে সে সুস্থ হয়ে যায়, আর যদি কোনো সাপ এর দিকে তাকায় তবে তার চোখের মণি গলে পড়ে যায়।
বাকিলএটি ইয়ামেনের একটি জেলা; উমারা তার ইতিহাসে বলেছেন: এই জেলায় নির্দিষ্ট কিছু লোকের মালিকানাধীন জমিতে এক প্রকার গাছ হয়। তারা এই গাছের ব্যাপারে খুবই কৃপণতা করে এবং মিশর ভূখণ্ডের বালসান গাছের মতো অন্যদের থেকে একে রক্ষা করে। এই গাছগুলো কেবল তাদের কাছেই থাকে, যা থেকে তারা এক প্রকার বিষ সংগ্রহ করে যার দ্বারা রাজাদের হত্যা করা হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বনু নাজাহর অধিকাংশ রাজা এবং তাদের উজিরগণ এই বিষের মাধ্যমে নিহত হয়েছেন।
স্বর্ণের ভূখণ্ডএটি মাগরিবের দক্ষিণে অবস্থিত সুদান অঞ্চল; ইবনুল ফাকিহ বলেছেন: এই অঞ্চলের গরম অত্যন্ত প্রচণ্ড। এখানকার মানুষ দিনের বেলা মাটির নিচের সুড়ঙ্গে অবস্থান করে। আমাদের দেশে যেভাবে গাজর জন্মায়, এই অঞ্চলের বালুতে সেভাবে সোনা জন্মায়। এখানকার অধিবাসীরা সূর্যোদয়ের সময় বের হয় এবং সোনা সংগ্রহ করে। তাদের খাদ্য হলো ভুট্টা ও বরবটি এবং তাদের পোশাক হলো পশুর চামড়া।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأكثر ملبوسهم جلد النمر، والنمر عندهم كثير.
ومن سجلماسة إلى هذه البلاد ثلاثة أشهر، والتجار من سجلماسة يمشون إليها بتعب شديد، وبضايعهم الملح وخشب الصنوبر وخشب الأرز، وخرز الزجاج والأسورة والخواتيم منه، والحلق النحاسيّة.
وعبورهم على براري معطشة، فيها سمايم بماء فاسد لا يشبه الماء إلّا في الميعان، والسمايم تنشف المياه في الأسقية، فلا يبقى الماء معهم إلّا أيّاما قلائل.
فيحتالون بأن يستصحبوا معهم جمالا فارغة من الأحمال، ويعطشونها قبل ورودهم الماء الذي يدخلون منه في تلك البراري، ثمّ أوردوها على الماء نهلا وعللا حتى تمتلي أجوافها، ويشدون أفواهها كي لا تجتر فتبقى الرطوبة في أجوافها، فإذا نشف ما في أسقيتهم واحتاجوا إلى الماء، نحروا جملا جملا وترمّقوا بما في بطونها، وأسرعوا بالسير حتى يردوا مياها أخرى، وحملوا منها في أسقيتهم.
وهكذا ساروا بعناء شديد حتى قدموا الموضع الذي يحجز بينهم وبين أصحاب التبر، فعند ذلك ضربوا طبولا ليعلم القوم وصول القفل. يقال: انّهم في مكان وأسراب من الحرّ وعراة كالبهائم لا يعرفون الستر. وقيل: يلبسون شيئا من جلود الحيوان، فإذا علم التجار أنّهم سمعوا صوت الطبل أخرجوا ما معهم من البضائع المذكورة، فوضع كلّ تاجر بضاعته في جهة منفردة عن الأخرى وذهبوا وعادوا مرحلة فيأتي السودان بالتبر، ووضعوا بجنب كلّ متاع شيئا من التبر وانصرفوا. ثمّ يأتي التجار بعدهم فيأخذ كلّ واحد ما وجد بجنب بضاعته من التبر ويترك البضاعة، وضربوا بالطبول وانصرفوا، ولا يذكر أحد من هؤلاء التجّار أنّه رأى أحدا منهم.
তাদের অধিকাংশ পোশাক চিতাবাঘের চামড়া দিয়ে তৈরি, আর সেখানে চিতাবাঘ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
সিজিলমাসা থেকে এই দেশ পর্যন্ত তিন মাসের পথ, এবং সিজিলমাসার বণিকরা অত্যন্ত কষ্টের সাথে সেখানে যাতায়াত করে। তাদের পণ্যসামগ্রী হলো লবণ, পাইন কাঠ, সিডার কাঠ, কাঁচের পুঁতি ও তা দিয়ে তৈরি চুড়ি ও আংটি, এবং তামার কানের দুল।
তাদের অতিক্রম করতে হয় অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত মরুভূমি, যেখানে প্রবাহিত হয় দূষিত পানিযুক্ত উত্তপ্ত লু-হাওয়া, যা তরল অবস্থা ছাড়া অন্য কোনো দিক থেকে পানির সদৃশ নয়। এই লু-হাওয়া মশকের পানি শুকিয়ে ফেলে, ফলে তাদের কাছে পানি মাত্র কয়েক দিনের বেশি অবশিষ্ট থাকে না।
তাই তারা এই কৌশল অবলম্বন করে যে, তারা মালবোঝাইহীন কিছু অতিরিক্ত উট সাথে নেয়। সেই মরুভূমিতে প্রবেশের পূর্বে তারা উটগুলোকে তৃষ্ণার্ত রাখে, অতঃপর পানির স্থানে পৌঁছালে উটগুলোকে বারবার পেট ভরে পানি পান করায়। এরপর তারা উটগুলোর মুখ বেঁধে দেয় যাতে সেগুলো জাবর কাটতে না পারে এবং তাদের উদরে আর্দ্রতা বজায় থাকে। যখন তাদের মশকের পানি ফুরিয়ে যায় এবং তাদের পানির প্রয়োজন হয়, তখন তারা একটি একটি করে উট জবাই করে এবং তাদের পেটের পানি পান করে প্রাণ রক্ষা করে। তারা দ্রুতগতিতে পথ চলে যতক্ষণ না অন্য কোনো পানির উৎসে পৌঁছাতে পারে এবং সেখান থেকে মশকে পানি ভরে নেয়।
এভাবে তারা চরম কষ্টের সাথে পথ চলে যতক্ষণ না সেই স্থানে পৌঁছায় যা তাদের এবং স্বর্ণরেণুর অধিকারীদের মধ্যে ব্যবধান হয়ে থাকে। সেখানে পৌঁছে তারা ঢোল বাজায় যাতে ওই জাতি কাফেলার আগমন সম্পর্কে জানতে পারে। বলা হয় যে, তারা প্রচণ্ড উত্তপ্ত স্থানে ও গর্তে বসবাস করে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো নগ্ন থাকে, তারা লজ্জা নিবারণ বোঝে না। আবার বলা হয় যে, তারা পশুর চামড়া দ্বারা তৈরি কিছু পরিধান করে। বণিকরা যখন বুঝতে পারে যে তারা ঢোলের শব্দ শুনেছে, তখন তারা তাদের উল্লিখিত পণ্যসামগ্রী বের করে। প্রত্যেক বণিক তার পণ্য অন্যটি থেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখে এবং সেখান থেকে এক মঞ্জিল দূরে সরে যায়। এরপর কৃষ্ণাঙ্গরা স্বর্ণরেণু নিয়ে আসে এবং প্রতিটি পণ্যের পাশে কিছু স্বর্ণরেণু রেখে চলে যায়। এরপর বণিকরা পুনরায় আসে এবং প্রত্যেকেই তার পণ্যের পাশে স্বর্ণরেণুর যা অংশ পায় তা গ্রহণ করে এবং পণ্যটি রেখে যায়। এরপর তারা ঢোল বাজিয়ে প্রস্থান করে। এই বণিকদের কেউ কখনও তাদের কাউকে দেখেছে বলে উল্লেখ করেনি।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
بلاد الحبشةهي أرض واسعة شمالها الخليج البربري، وجنوبها البرّ. وشرقها الزنج، وغربها البجة. الحرّ بها شديد جدّا، وسواد لونهم لشدّة الاحتراق، وأكثر أهلها نصاري يعاقبة، والمسلمون بها قليل. وهم من أكثر الناس عددا وأطولهم أرضا، لكن بلادهم قليلة وأكثر أرضهم صحارى لعدم الماء وقلّة الأمطار، وطعامهم الحنطة والدخن، وعندهم الموز والعنب والرمان، ولباسهم الجلود والقطن.
ومن الحيوانات العجيبة عندهم: الفيل والزرافة. ومركوبهم البقر، يركبونها بالسرج واللجام مقام الخيل، وعندهم من الفيلة الوحشيّة كثير وهم يصطادونها.
فأمّا الزرافة فإنّها تتولّد عندهم من الناقة الحبشيّة والضبعان وبقر الوحش، يقال لها بالفارسيّة «اشتركاوپلنك» رأسها كرأس الإبل، وقرنها كقرن البقر، وأسنانها كأسنانه، وجلدها كجلد النمر، وقوائمها كقوائم البعير، وأظلافها كأظلاف البقر، وذنبها كذنب الظباء، ورقبتها طويلة جدّا، ويداها طويلتان ورجلاها قصيرتان.
وحكى طيماث الحكيم أنّه بجانب الجنوب، قرب خطّ الاستواء في الصيف، تجتمع حيوانات مختلفة الأنواع على مصانع الماء من شدّة العطش والحرّ، فيسفد نوع غير نوعه فتولد حيوانات غريبة مثل الزرافة، فإنّها من الناقة الحبشيّة والبقرة الوحشيّة والضبعان، وذلك أن الضبعان يسفد الناقة الحبشيّة فتأتي بولد عجيب من الضبعان والناقة، فإن كان ذلك الولد ذكرا ويسفد البقرة الوحشيّة أتت بالزرافة.
ولهم ملك مطاع يقال له أبرهة بن الصبّاح. ولمّا مات ذو يزن، وهو آخر الأذواء من ملوك اليمن، استولى الحبشة على اليمن، وكان عليها أبرهة من قبل النجاشي، فلمّا دنا موسم الحجّ رأى الناس يجهزّون للحجّ، فسأل عن ذلك، فقالوا: هؤلاء يحجّون بيت اللّه بمكّة. قال: فما هو؟ قالوا: بيت من حجارة.
হাবশা দেশএটি একটি প্রশস্ত ভূখণ্ড যার উত্তরে বারবারি উপসাগর এবং দক্ষিণে মূল ভূখণ্ড অবস্থিত। এর পূর্বে জাঞ্জ এবং পশ্চিমে বাজা অঞ্চল। সেখানে অত্যন্ত তীব্র গরম, এবং রোদের প্রচণ্ড দহনের কারণে তাদের গায়ের রং কালো। তাদের অধিকাংশ অধিবাসী ইয়াকুবি খ্রিস্টান, আর সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তারা জনসংখ্যার দিক থেকে অধিক এবং তাদের ভূখণ্ড অত্যন্ত দীর্ঘ, কিন্তু পানির অভাব ও বৃষ্টিপাতের স্বল্পতার কারণে বসতি খুবই কম এবং অধিকাংশ ভূমিই মরুভূমি। তাদের খাদ্য হলো গম ও বাজরা; আর তাদের কাছে কলা, আঙুর ও ডালিম পাওয়া যায়। তাদের পোশাক চামড়া ও তুলা দিয়ে তৈরি।
তাদের ওখানকার বিস্ময়কর প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে: হাতি ও জিরাফ। তাদের সওয়ারি বা বাহন হলো গরু; তারা ঘোড়ার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জিন ও লাগাম দিয়ে গরুর পিঠে আরোহণ করে। তাদের কাছে প্রচুর বন্য হাতি রয়েছে এবং তারা সেগুলো শিকার করে থাকে।
আর জিরাফ সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি হাবশি উটনী, হায়েনা ও বন্য গরুর মিলনে উৎপন্ন হয়। ফারসি ভাষায় একে ‘উশতুর-গাও-পালং’ বলা হয়। এর মাথা উটের মাথার মতো, শিং গরুর শিঙের মতো এবং দাঁতও গরুর দাঁতের মতো। এর চামড়া চিতার চামড়ার মতো, পাগুলো উটের পায়ের মতো, খুরগুলো গরুর খুরের মতো এবং লেজ হরিণের লেজের মতো। এর ঘাড় অত্যন্ত লম্বা, সামনের দুই পা দীর্ঘ এবং পেছনের দুই পা ছোট।
বিজ্ঞ তিমাথ বর্ণনা করেছেন যে, দক্ষিণ পার্শ্বে গ্রীষ্মকালে বিষুব রেখার নিকটবর্তী স্থানে তীব্র তৃষ্ণা ও গরমের কারণে জলাশয়গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী একত্রিত হয়। তখন এক প্রজাতির প্রাণী ভিন্ন প্রজাতির সাথে মিলিত হয়, ফলে জিরাফের মতো অদ্ভুত সব প্রাণী জন্ম নেয়। কেননা জিরাফ হলো হাবশি উটনী, বন্য গরু ও হায়েনার সংকর। তা এভাবে যে, পুরুষ হায়েনা হাবশি উটনীর সাথে মিলিত হলে হায়েনা ও উটনীর সংমিশ্রণে একটি অদ্ভুত বাচ্চা জন্ম নেয়। সেই বাচ্চাটি যদি পুরুষ হয় এবং বন্য গরুর সাথে মিলিত হয়, তবে জিরাফ উৎপন্ন হয়।
তাদের একজন প্রভাবশালী রাজা ছিলেন যাকে আবরাহা ইবনে সাবাহ বলা হতো। যখন ইয়েমেনের রাজন্যবর্গ ‘আদওয়া’-দের শেষ রাজা যু-ইয়াযান মারা গেলেন, তখন হাবশারা ইয়েমেন দখল করে নেয়। নাজ্জাশির পক্ষ থেকে আবরাহা সেখানে নিযুক্ত ছিলেন। যখন হজের মৌসুম ঘনিয়ে এল, তখন তিনি দেখলেন মানুষ হজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল: এরা মক্কায় আল্লাহর ঘরের হজ করতে যাচ্ছে। তিনি বললেন: সেটি কী? তারা বলল: পাথর দিয়ে তৈরি একটি ঘর।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال: لأبنينّ لكم بيتا خيرا منه! فبنى بيتا من الرخام الأبيض والأحمر والأصفر والأسود، وحلّاه بالذهب والفضّة ورصّعه بالجواهر، وجعل أبوابه من صفائح من ذهب، وجعل للبيت سدنة ودخنه بالمندليّ، وأمر الناس بحجّه وسمّاه القليّس، وكتب إلى النجاشي: إني بنيت لك كنيسة ما لأحد من الملوك مثلها! أريد أصرف إليه حجّ العرب. فسمع بذلك رجل من بني مالك بن كنانة، انتهز الفرصة حتى وجدها خالية، فقعد فيها ولطخها بالنجاسة.
فلّا عرف أبرهة ذلك اغتاظ وآلى أن يمشي إلى مكّة، ويخرّب الكعبة غيظا على العرب. فجمع عساكره من الحبشة ومعه اثنا عشر فيلا، فلمّا دنا من مكّة أمر أصحابه بالتأهّب والغارة، فأصابوا مائتي إبل لعبد المطّلب، جدّ رسول اللّه، صلى الله عليه وسلم. وبعث أبرهة رسولا إلى مكّة يقول:
إني ما جئت لقتالكم إلّا أن تقاتلوني! وإنّما جئت لخراب هذا البيت والانصراف عنكم! فقال عبد المطّلب، وهو رئيس مكّة إذ ذاك: ما لنا قوّة قتالك وللبيت ربّ يحفظه، هو بيت اللّه ومبنى خليله! فذهب عبد المطّلب إليه، فقيل له:
إنّه صاحب عير مكّة وسيّد قريش، فأدخله، وكان عبد المطّلب رجلا وسيما جسيما، فلمّا رآه أكرمه فقال له الترجمان: الملك يقول ما حاجتك؟ فقال:
حاجتي مائتا بعير أصابها. فقال أبرهة للترجمان: قد كنت أعجبتني حين رأيتك، وقد زهدت فيك لأني جئت لهدم بيت هو دينك ودين آبائك! جئت ما تكلّمت فيه وتكلّمت في الإبل! فقال عبد المطّلب: أنا ربّ هذه العير، وللبيت ربّ سيمنعه! فردّ إليه إبله، فعاد عبد المطّلب وأخبر القوم بالحال، فهربوا وتفرّقوا في شعاب الجبال خوفا فأتى عبد المطّلب الكعبة وأخذ بحلقة الباب وقال:
جرّوا جميع بلادهم
… والفيل كي يسبوا عيالك!
عمدوا حماك بجهلهم
… كيدا وما رقبوا حلالك
لاهمّ إنّ المرء يم
… نع حلّه فامنع حلالك
তিনি বললেন: আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য এর চেয়েও উত্তম একটি ঘর নির্মাণ করব! অতঃপর তিনি সাদা, লাল, হলুদ ও কালো মার্বেল পাথর দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করলেন এবং তা সোনা-রুপা দিয়ে অলঙ্কৃত করলেন ও মণি-মুক্তা খচিত করলেন। তিনি এর দরজাগুলো সোনার পাত দিয়ে তৈরি করলেন। তিনি ঘরের জন্য সেবক নিযুক্ত করলেন এবং মন্ডলী (সুগন্ধি কাঠ) দ্বারা একে সুবাসিত করলেন। তিনি মানুষকে এর হজ্জ করার আদেশ দিলেন এবং এর নাম রাখলেন 'আল-কুল্লাইস'। তিনি নাজাশির কাছে লিখে পাঠালেন: "আমি আপনার জন্য এমন এক গির্জা নির্মাণ করেছি যার সমতুল্য কোনো রাজার নেই! আমি আরবদের হজ্জ এদিকে ফিরিয়ে নিতে চাই।" বনু মালিক ইবনে কিনানার এক ব্যক্তি এ সংবাদ শুনতে পেল। সে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং গির্জাটিকে খালি পেয়ে সেখানে মলত্যাগ করে একে অপবিত্র করে দিল।
যখন আবরাহা এ কথা জানতে পারলেন, তিনি প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত হলেন এবং আরবের প্রতি ক্ষোভ থেকে মক্কায় গিয়ে কাবা ধ্বংস করার শপথ নিলেন। অতঃপর তিনি হাবশা থেকে তার সৈন্যবাহিনী সংগ্রহ করলেন এবং তার সাথে বারোটি হাতি ছিল। যখন তিনি মক্কার নিকটবর্তী হলেন, তখন তার সাথীদের প্রস্তুত হওয়ার ও লুণ্ঠন করার আদেশ দিলেন। তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের দুইশত উট ধরে নিয়ে গেল। আবরাহা মক্কায় এই বলে একজন দূত পাঠালেন:
আমি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসিনি, যদি না তোমরা আমার সাথে যুদ্ধ করো! আমি কেবল এই ঘরটি ধ্বংস করতে এসেছি এবং এরপর তোমাদের ছেড়ে চলে যাব! তখন মক্কার প্রধান আবদুল মুত্তালিব বললেন: তোমার সাথে যুদ্ধ করার কোনো শক্তি আমাদের নেই। আর এই ঘরের একজন রব আছেন যিনি একে রক্ষা করবেন। এটি আল্লাহর ঘর এবং তাঁর খলিল (ইবরাহিম আলাইহিস সালাম)-এর নির্মিত ঘর। অতঃপর আবদুল মুত্তালিব তার কাছে গেলেন। তাকে বলা হলো:
তিনি মক্কার পশুপালের মালিক এবং কুরাইশদের নেতা। অতঃপর তিনি তাকে ভেতরে প্রবেশ করালেন। আবদুল মুত্তালিব ছিলেন একজন সুদর্শন ও দীর্ঘদেহী ব্যক্তি। তাকে দেখে আবরাহা তাকে সম্মান প্রদর্শন করলেন এবং দোভাষীকে বললেন: রাজা জিজ্ঞেস করছেন, আপনার প্রয়োজন কী? তিনি বললেন:
আমার প্রয়োজন হলো আমার দুইশত উট যা ধরে নেওয়া হয়েছে। আবরাহা দোভাষীকে বললেন: তোমাকে দেখার পর আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু এখন তোমার প্রতি আমার কোনো শ্রদ্ধা নেই। কারণ আমি এসেছি সেই ঘর ধ্বংস করতে যা তোমার এবং তোমার পূর্বপুরুষদের দ্বীন, অথচ তুমি সে সম্পর্কে কোনো কথা না বলে উট নিয়ে কথা বলছো! আবদুল মুত্তালিব বললেন: আমি তো কেবল এই উটগুলোর মালিক, আর এই ঘরেরও একজন রব আছেন যিনি একে রক্ষা করবেন! তখন তিনি তার উটগুলো ফিরিয়ে দিলেন। আবদুল মুত্তালিব ফিরে এসে জনগণকে সব জানালেন। তারা ভয়ে পলায়ন করে পাহাড়ের গিরিপথে ছড়িয়ে পড়ল। অতঃপর আবদুল মুত্তালিব কাবার কাছে এলেন এবং দরজার আংটা ধরে বললেন:
তারা তাদের সমগ্র ভূখণ্ড এবং হাতি টেনে নিয়ে এসেছে
… যাতে আপনার পরিবার-পরিজনকে বন্দী করতে পারে!
তারা তাদের অজ্ঞতাবশত ষড়যন্ত্র নিয়ে আপনার পবিত্র সীমানা লক্ষ্য করেছে
… এবং তারা আপনার পবিত্রতার পরোয়া করেনি!
হে আল্লাহ! মানুষ তো তার আবাস্থল রক্ষা করে
… অতএব আপনিও আপনার পবিত্র সম্পদ রক্ষা করুন!
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
لا يغلبنّ صليبهم
… ومحالهم أبدا محالك
إن كنت تاركهم وكع
… بتنا فأمر ما بدا لك!
وترك عبد المطّلب الحلقة وتوجّه مع قومه في بعض الوجوه، فالحبش قاموا بفيلهم قاصدين مكّة، فبعث اللّه من جانب البحر طيرا أبابيل مثل الخطّاف، مع كلّ طائر ثلاثة أحجار: حجران في رجليه، وحجر في منقاره على شكل الحمّص. فلمّا غشين القوم أرسلنها عليهم فلم تصب أحدا إلّا هلك، فذلك قوله تعالى: وأرسل عليهم طيرا أبابيل، ترميهم بحجارة من سجّيل، فجعلهم كعصف مأكول.
ومنها النجاشي الذي كان في عهد رسول اللّه، صلى الله عليه وسلم، واسمه أصحمة، كان وليّا من أولياء اللّه يبعث إلى رسول اللّه الهدايا، والنبي، صلى الله عليه وسلم، يقبلها. وفي يوم مات أخبر جبرائيل، عليه السلام، رسول اللّه بذلك مع بعد المسافة، وكان ذلك معجزة لرسول اللّه، صلى الله عليه وسلم، في يوم موته، صلّى عليه الصلاة مع أصحابه وهو ببلاد الحبشة.
بلاد الزّنجمسيرة شهرين، شمالها اليمن وجنوبها الفيافي، وشرقها النوبة وغربها الحبشة، وجميع السودان من ولد كوش بن كنعان بن حام، وبلاد الزنج شديدة الحرّ جدّا، وحلكة سوادهم لاحتراقهم بالشمس. وقيل: إن نوحا، عليه السلام، دعا على ابنه حام فاسودّ لونه، وبلادهم قليلة المياه قليلة الأشجار، سقوف بيوتهم من عظام الحوت.
زعم الحكماء أنّهم شرار الناس ولهذا يقال لهم سباع الإنس. قال جالينوس:
الزنج خصّصوا بأمور عشرة: سواد اللون وفلفلة الشعر وفطس الأنف وغلظ الشفة وتشقق اليد والكعب، ونتن الرائحة وكثرة الطرب وقلّة العقل وأكل
তাদের ক্রুশ এবং তাদের কলাকৌশল যেন আপনার কৌশলের ওপর কখনোই জয়লাভ না করে
…।
যদি আপনি তাদেরকে এবং আমাদের কা
… বার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেন, তবে আপনার যা অভিপ্রায় তা-ই ঘটবে!
অতঃপর আব্দুল মুত্তালিব কাবার দরজার আংটা ছেড়ে দিলেন এবং তাঁর কওমের সাথে কোনো এক দিকে চলে গেলেন। হাবশীরা তাদের হস্তিবাহিনী নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। তখন আল্লাহ সমুদ্রের দিক থেকে আবাবিল (ঝাঁকে ঝাঁকে) পাখি পাঠালেন যা সোয়ালো পাখির মতো। প্রতিটি পাখির সাথে তিনটি পাথর ছিল: দুটি তার পায়ে এবং একটি তার ঠোঁটে, যা মটরদানার আকৃতির। যখন তারা সেই কওমের ওপর ছেয়ে গেল, তখন সেগুলো তাদের ওপর নিক্ষেপ করল। ফলে যার ওপরই সেই পাথর পড়ল, সে-ই ধ্বংস হয়ে গেল। আর তা-ই আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর তিনি তাদের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠালেন, যারা তাদের ওপর কঙ্কর নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণের মতো করে দিলেন।"
তাদের মধ্যে ছিলেন সেই নাজ্জাশী, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিলেন এবং যাঁর নাম ছিল আসহামা। তিনি আল্লাহর বন্ধুদের (ওলী) মধ্যে একজন ছিলেন, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উপহার পাঠাতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা গ্রহণ করতেন। যেদিন তিনি ইন্তেকাল করেন, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম দূরবর্তী পথ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তা অবহিত করেন। এটি তাঁর ইন্তেকালের দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য একটি মুজিজা ছিল। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে তাঁর জানাযার সালাত আদায় করেন, অথচ তিনি তখন হাবশা ভূমিতে ছিলেন।
যানজ ভূমিএটি দুই মাসের পথ। এর উত্তরে ইয়ামেন, দক্ষিণে বিশাল জনশূন্য প্রান্তর, পূর্বে নুবিয়া এবং পশ্চিমে হাবশা। সমস্ত কৃষ্ণাঙ্গ জাতি কূশ বিন কানআন বিন হামের বংশধর। যানজ ভূমি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং রোদে দগ্ধ হওয়ার কারণে তাদের গায়ের রঙ নিকষ কালো। বলা হয়ে থাকে যে, নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর পুত্র হামের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন, ফলে তার বর্ণ কালো হয়ে যায়। তাদের দেশে পানির অভাব এবং গাছের সংখ্যা খুব কম। তাদের ঘরের ছাদ তিমির হাড় দিয়ে তৈরি।
বিজ্ঞজনদের ধারণা এই যে, তারা মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম এবং এ কারণেই তাদেরকে 'মানবীয় হিংস্র প্রাণী' বলা হয়। জালিনুস (গ্যালেন) বলেছেন:
যানজ জাতি দশটি বৈশিষ্ট্যের জন্য স্বতন্ত্র: গায়ের নিকষ কালো রঙ, কোঁকড়ানো চুল, চ্যাপ্টা নাক, মোটা ঠোঁট, হাত ও গোড়ালির চামড়া ফাটা, শরীরের দুর্গন্ধ, অত্যধিক আনন্দ-উল্লাস, বুদ্ধির স্বল্পতা এবং ভক্ষণ...
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بعضهم بعضا، فإنّهم في حروبهم يأكلون لحم العدو، ومن ظفر بعدوّ له أكله.
وأكثرهم عراة لا لباس لهم، ولا يرى زنجيّ مغموما، الغمّ لا يدور حولهم والطرب يشملهم كلّهم؛ قال بعض الحكماء: سبب ذلك اعتدال دم القلب، وقال آخرون: بل سببه طلوع كوكب سهيل عليهم كلّ ليلة فإنّه يوجب الفرح.
وعجائب بلادهم كثيرة منها كثرة الذهب، ومن دخل بلادهم يحبّ القتال، وهواؤهم في غاية اليبوسة، لا يسلم أحد من الجرب حتى يفارق تلك البلاد.
والزنوج إذا دخلوا بلادنا وآنقهم هذه البلاد استقامت أمزجتهم وسمنوا.
ولهم ملك اسمه اوقليم، يملك سائر بلاد الزنج في ثلاثمائة ألف رجل. ودوابهم البقر يحاربون عليها بالسرج واللجم، تمشي مشي الدواب، ولا خيل لهم ولا بغال ولا إبل، وليس لهم شريعة يراجعونها، بل رسوم رسمها ملوكهم وسياسات.
وفي بلادهم الزرافة والفيل كثيرة وحشيّة في الصحارى يصطادها الزنوج.
ولهم عادات عجيبة، منها أنّ ملوكهم إذا جاروا قتلوهم وحرموا عقبة الملك، ويقولون: الملك إذا جار لا يصلح أن يكون نائب ملك السموات والأرض.
ومنها أكل العدوّ إذا ظفر به. وقيل: إن عادة بعضهم ليس عادة الكلّ. ومنها اتّخاذ نبيذ من شربها طمس عقله؛ قيل: إنّها مأخوذة من النارجيل يسقون منها من أرادوا الكيد به. ومنها التحلّي بالحديد مع كثرة الذهب عندهم، يتّخذون الحليّ من الحديد كما يتّخذ غيرهم من الذهب والفضّة، يزعمون أن الحديد ينفرّ الشيطان ويشجّع لابسه. ومنها قتالهم على البقر وانّها تمشي كالخيل، قال المسعودي: رأيت من هذا البقر وانّها حمر العيون يبرك كالإبل بالحمل ويثور بحمله. ومنها اصطيادهم الفيل وتجاراتهم على عظامها، وذلك لأن الفيل الوحشيّة ببلاد الزنج كثيرة، والمستأنسة أيضا كذلك، والزنج لا يستعملونها في الحرب ولا في العمل، بل ينتفعون بعظامها وجلودها ولحومها، وذاك أن
একে অপরকে [খায়], কেননা তারা তাদের যুদ্ধে শত্রুর মাংস ভক্ষণ করে এবং যে কেউ তার শত্রুর ওপর বিজয়ী হয়, সে তাকে খেয়ে ফেলে।
তাদের অধিকাংশ লোক নগ্ন, তাদের কোনো পোশাক নেই। কোনো জাঞ্জিকে কখনো বিষণ্ণ দেখা যায় না, দুঃখ-বেদনা তাদের ধারেকাছে ঘেঁষে না এবং উল্লাস তাদের সকলকে আচ্ছন্ন করে রাখে। জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: এর কারণ হলো হৃদপিণ্ডের রক্তের সাম্যাবস্থা। অন্যেরা বলেছেন: বরং এর কারণ হলো প্রতি রাতে তাদের ওপর সুহাইল নক্ষত্রের উদয় হওয়া, যা আনন্দের উদ্রেক করে।
তাদের দেশের বিস্ময়কর বিষয় অনেক, তার মধ্যে একটি হলো স্বর্ণের প্রাচুর্য। যে ব্যক্তি তাদের দেশে প্রবেশ করে সে যুদ্ধ করতে পছন্দ করে। তাদের আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক, ফলে দেশ ত্যাগ না করা পর্যন্ত কেউই চুলকানি বা খোসপাঁচড়া থেকে রেহাই পায় না।
আর জাঞ্জিরা যখন আমাদের দেশে প্রবেশ করে এবং এই দেশ তাদের নিকট পছন্দনীয় হয়, তখন তাদের শারীরিক মেজাজ সুসংগত হয় এবং তারা স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে।
তাদের একজন রাজা আছেন যার নাম আউকলিম; তিনি তিন লক্ষ সৈন্য নিয়ে সমগ্র জাঞ্জি দেশ শাসন করেন। তাদের বাহন হলো গাভী, যেগুলোর ওপর তারা জিন ও লাগাম লাগিয়ে যুদ্ধ করে; সেগুলো চতুষ্পদ পশুর মতোই দ্রুত চলে। তাদের কোনো ঘোড়া, খচ্চর বা উট নেই। তাদের কোনো (ধর্মীয়) বিধান নেই যা তারা অনুসরণ করে, বরং তাদের রাজাদের প্রবর্তিত কিছু রীতি-নীতি ও শাসনব্যবস্থা রয়েছে।
তাদের দেশে প্রচুর জিরাফ ও হাতি রয়েছে। এগুলো মরুভূমিতে বন্য অবস্থায় থাকে এবং জাঞ্জিরা সেগুলো শিকার করে।
তাদের কিছু অদ্ভুত প্রথা রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো: তাদের রাজারা যখন অন্যায় বা জুলুম করে, তখন তারা তাদের হত্যা করে এবং রাজবংশের উত্তরাধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করে। তারা বলে: রাজা যখন জুলুম করেন, তখন তিনি আসমান ও জমিনের মালিকের প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য থাকেন না।
অন্যটি হলো শত্রুর ওপর বিজয়ী হলে তাকে ভক্ষণ করা। বলা হয়েছে যে, এটি তাদের কারো কারো অভ্যাস, সবার নয়। আরেকটি হলো এমন এক প্রকার পানীয় তৈরি করা যা পান করলে বুদ্ধি লোপ পায়; বলা হয় যে, এটি নারিকেল থেকে তৈরি করা হয় এবং তারা যাকে ঘায়েল করতে চায় তাকে এটি পান করায়। আরেকটি হলো স্বর্ণের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও লোহার অলঙ্কার পরিধান করা; অন্যরা যেমন সোনা ও রুপা দিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে, তারা লোহা দিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে। তারা বিশ্বাস করে যে, লোহা শয়তানকে বিতাড়িত করে এবং পরিধানকারীকে সাহসী করে তোলে। আরেকটি হলো গাভীর পিঠে চড়ে তাদের যুদ্ধ করা এবং সেগুলো ঘোড়ার মতো দ্রুত চলে। আল-মাসউদী বলেছেন: আমি এই গাভীগুলো দেখেছি, সেগুলোর চোখ লাল এবং এগুলো বোঝার ভার নিয়ে উটের মতো হাঁটু গেড়ে বসে এবং ভার নিয়েই লাফিয়ে ওঠে। আরেকটি হলো হাতি শিকার এবং হাতির হাড়ের ব্যবসা; কারণ জাঞ্জি দেশে বন্য হাতি প্রচুর, পোষা হাতিও তদ্রূপ। কিন্তু জাঞ্জিরা যুদ্ধে বা কোনো কাজে হাতি ব্যবহার করে না, বরং তারা হাতির হাড়, চামড়া ও মাংস দ্বারা উপকৃত হয়; আর তা এই কারণে যে...
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عندهم ورقا يطرحونها في الماء، فإذا شرب الفيل من ذلك الماء أسكره فلا يقدر على المشي، فيخرجون إليه ويقتلونه، وعظام الفيل وأنيابها تجلب من أرض الزنج، وأكثر أنيابه خمسون منّا إلى مائة منّ، وربّما يصل إلى ثلاثمائة منّ.
بلاد السودانهي بلاد كثيرة وأرض واسعة، ينتهي شمالها إلى أرض البربر، وجنوبها إلى البراري، وشرقها إلى الحبشة، وغربها إلى البحر المحيط. أرضها محترقة لتأثير الشمس فيها، والحرارة بها شديدة جدّا لأنّ الشمس لا تزال مسامتة لرؤوسهم، وأهلها عراة لا يلبسون من شدّة الحرّ، منهم مسلمون ومنهم كفّار.
أرضهم منبت الذهب، وبها حيوانات عجيبة: كالفيل والكركدن والزرافة.
وبها أشجار عظيمة لا توجد في غيرها من البلاد.
وحدّثني الفقيه علي الجنحاني المغربي أنّه شاهد تلك البلاد، ذكر أنّ أهلها اتّخذوا بيوتهم على الأشجار العظيمة من الأرضة، وان الأرضة بها كثيرة جدّا، ولا يتركون شيئا من الأثاث والطعام على وجه الأرض إلّا وأفسده الأرضة، فجميع قماشهم وطعامهم في البيوت التي اتّخذوها على أعالي الأشجار. وذكر، رحمه الله، انّه أوّل ما نزل بها نام في طرف منها فما استيقظ إلّا والأرضة قرضت من ثيابه ما كان يلاقي وجه الأرض.
بلاد النّوبةأرض واسعة في جنوبي مصر وشرقي النيل وغربيّه. هي بلاد واسعة، وأهلها أمّة عظيمة نصارى بعامتهم، ولهم ملك اسمه كابيل يزعمون أنّه من نسل حمير؛ قال، صلى الله عليه وسلم: خير سبيكم النوبة. وقال أيضا:
من لم يكن له أخ فليتّخذ أخا نوبيّا.
ومن عاداتهم تعظيم الملك الذي اسمه كابيل، وهو يوهم أنّه لا يأكل،
তাদের কাছে এমন কিছু পাতা রয়েছে যা তারা পানিতে ফেলে দেয়, ফলে হাতি যখন সেই পানি পান করে তখন তা তাকে মত্ত করে দেয় এবং সে আর চলতে সক্ষম হয় না। তখন তারা তার কাছে গিয়ে তাকে হত্যা করে। হাতির হাড় ও দাঁতসমূহ জাঞ্জ ভূমি থেকে নিয়ে আসা হয়। তার অধিকাংশ দাঁতের ওজন সাধারণত পঞ্চাশ মান্ন থেকে একশ মান্ন পর্যন্ত হয়, আবার কখনো কখনো তা তিনশ মান্ন পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
সুদান অঞ্চলসমূহএটি অনেক শহর ও বিশাল এক ভূখণ্ড, যার উত্তর সীমা বারবারদের ভূমি পর্যন্ত, দক্ষিণ সীমা মরুপ্রান্তর পর্যন্ত, পূর্ব সীমা হাবশা (আবিসিনিয়া) পর্যন্ত এবং পশ্চিম সীমা মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। সূর্যের প্রভাবে এখানকার ভূমি দগ্ধ এবং এখানকার তাপমাত্রা অত্যন্ত তীব্র, কারণ সূর্য সর্বদা তাদের মাথার উপরে লম্বভাবে অবস্থান করে। এখানকার অধিবাসীরা প্রচণ্ড গরমের কারণে উলঙ্গ থাকে এবং কোনো পোশাক পরিধান করে না। তাদের মধ্যে কেউ মুসলিম এবং কেউ কাফির।
তাদের ভূমি স্বর্ণের উৎপত্তিস্থল এবং সেখানে হাতি, গণ্ডার ও জিরাফের মতো অদ্ভুত সব প্রাণী রয়েছে।
সেখানে এমন সব বিশাল বৃক্ষ রয়েছে যা অন্য কোনো দেশে পাওয়া যায় না।
ফকিহ আলী আল-জানহানি আল-মাগরিবি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সেই দেশগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উইপোকার উপদ্রবের কারণে সেখানকার অধিবাসীরা বিশাল সব বৃক্ষের উপর তাদের ঘর নির্মাণ করেছে। সেখানে উইপোকা অত্যন্ত বেশি। তারা মাটির ওপর কোনো আসবাবপত্র বা খাদ্যদ্রব্য রাখে না, রাখলে উইপোকা তা নষ্ট করে দেয়। ফলে তাদের যাবতীয় কাপড় ও খাবার বৃক্ষের চূড়ায় নির্মিত ঘরগুলোতে রাখা হয়। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন সেখানে প্রথম অবতরণ করেন, তখন এর এক প্রান্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এরপর যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তখন দেখলেন যে উইপোকা তাঁর পোশাকের সেই অংশটুকু কুুরে খেয়ে ফেলেছে যা মাটির সংস্পর্শে ছিল।
নুবা অঞ্চলসমূহএটি মিসরের দক্ষিণে এবং নীল নদের পূর্ব ও পশ্চিম তীর জুড়ে এক বিস্তৃত ভূখণ্ড। এটি এক বিশাল দেশ এবং এর অধিবাসীরা এক বিরাট জাতি যাদের সাধারণ মানুষ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। তাদের একজন রাজা রয়েছে যার নাম কাবিল, তারা মনে করে যে সে হিমইয়ার বংশোদ্ভূত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো নুবা বংশীয়রা। তিনি আরও বলেছেন:
যার কোনো ভাই নেই সে যেন কোনো নুবাবাসীকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করে।
তাদের একটি রীতি হলো কাবিল নামক রাজার প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করা এবং সে এমন ভান করে যেন সে আহার করে না,
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويدخلون الطعام عليه سرّا، فإن عرف ذلك أحد من الرعيّة قتلوه لوقته، ويشرب شرابا من الذّرة مقوّى بالعسل، ولبسه الثياب الرفيعة من الصوف والخزّ والديباج، وحكمه نافذ في رعيته، ويده مطلقة يسترق من شاء ويتصرّف في أموالهم، وهم يعتقدون أنّه يحيي ويميت ويصحّ ويمرض.
وجرى ذكر ملك النوبة في مجلس المهدي أمير المؤمنين، فقال بعض الحاضرين إن له مع محمّد بن مروان قصّة عجيبة، فأمر المهدي بإحضار محمّد بن مروان، وسأله عمّا جرى بينه وبين ملك النوبة، فقال: لمّا التقينا أبا مسلم بمصر وانهزمنا وتشتّت جمعنا، وقعت أنا بأرض النوبة، فأحببت أن يمكنني ملكهم من المقام عنده زمانا، فجاءني زائرا، وهو رجل طويل أسود اللون، فخرجت إليه من قبّتي وسألته أن يدخلها، فأبى أن يجلس إلّا خارج القبّة على التراب.
فسألته عن ذلك فقال: إن اللّه تعالى أعطاني الملك فحقّ عليّ أن أقابله بالتواضع.
ثمّ قال لي: ما بالكم تشربون النبيذ وانّها محرّمة في ملّتكم؟ قلت: نحن ما نفعل ذلك وإنّما يفعله بعض فساق أهل ملّتنا! فقال: كيف لبست الديباج ولبسه حرام في ملّتكم؟ قلت: إن الملوك الذين كانوا قبلنا، وهم الأكاسرة، كانوا يلبسون الديباج، فتشبّهنا بهم لئلا تنقص هيبتنا في غير الرعايا. فقال: كيف تستحلّون أخذ أموال الرعايا من غير استحقاق؟ قلت: هذا شيء لا نفعله نحن ولا نرضى به، وإنّما يفعله بعض عمّالنا السوء! فأطرق وجعل يردّد مع نفسه: يفعله بعض عمّالنا السوء! ثمّ رفع رأسه وقال: إن للّه تعالى فيكم نعمة ما بلغت غايتها، اخرج من أرضي حتى لا يدركني شؤمك! ثمّ قام ووكّل بي حتى ارتحلت من أرضه، واللّه الموفق.
تغارةبلدة في جنوبي المغرب بقرب البحر المحيط، حدّثني الفقيه علي الجنحاني أنّه دخلها فوجد سور المدينة من الملح، وكذلك جميع حيطانها، وكذلك السواري
তারা তার কাছে গোপনে খাবার নিয়ে আসে, যদি প্রজাদের কেউ তা জানতে পারে তবে তারা তাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করে। সে মধু দিয়ে মিশ্রিত ভুট্টার এক প্রকার পানীয় পান করে এবং পশম, রেশম ও কারুকার্যখচিত দামী পোশাক পরিধান করে। তার প্রজাদের ওপর তার হুকুম কার্যকর হয়; তার হাত অবারিত, সে যাকে ইচ্ছা দাস বানায় এবং তাদের ধন-সম্পদে হস্তক্ষেপ করে। তারা বিশ্বাস করে যে, সে-ই জীবন দান করে, মৃত্যু ঘটায় এবং সুস্থতা ও অসুস্থতা দেয়।
আমিরুল মুমিনীন আল-মাহদির মজলিসে নূবার রাজার কথা আলোচিত হলো। তখন উপস্থিতদের কেউ একজন বললেন যে, মুহাম্মাদ বিন মারওয়ানের সাথে তার একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। তখন মাহদি মুহাম্মাদ বিন মারওয়ানকে হাজির করার নির্দেশ দিলেন এবং নূবার রাজার সাথে তার কী ঘটেছিল তা জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: যখন মিশরে আবু মুসলিমের সাথে আমাদের যুদ্ধ হলো এবং আমরা পরাজিত ও ছিন্নভিন্ন হলাম, তখন আমি নূবার ভূমিতে গিয়ে পড়লাম। আমি চেয়েছিলাম তাদের রাজা যেন আমাকে সেখানে কিছুকাল থাকার অনুমতি দেন। তখন তিনি আমার সাথে দেখা করতে এলেন; তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী একজন কালো মানুষ। আমি আমার তাঁবু থেকে বেরিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে অনুরোধ করলাম, কিন্তু তিনি তাঁবুর বাইরে মাটির ওপর বসা ছাড়া অন্য কিছুতে অস্বীকৃতি জানালেন।
আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: মহান আল্লাহ আমাকে রাজত্ব দান করেছেন, তাই আমার কর্তব্য হলো বিনয়ের মাধ্যমে তাঁর সম্মুখবর্তী হওয়া।
তারপর তিনি আমাকে বললেন: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা মদ পান করো, অথচ তোমাদের ধর্মে তা হারাম? আমি বললাম: আমরা তা করি না, বরং আমাদের ধর্মের কিছু পাপাচারী লোক তা করে থাকে! তিনি বললেন: তোমরা কীভাবে রেশমি পোশাক পরিধান করো, অথচ তোমাদের ধর্মে তা পরিধান করা হারাম? আমি বললাম: আমাদের পূর্ববর্তী পারস্য সম্রাটরা রেশমি পোশাক পরতেন, তাই আমরা তাদের অনুকরণ করেছি যেন প্রজাদের বাইরে অন্যদের নিকট আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়। তিনি বললেন: তোমরা কীভাবে প্রজাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা বৈধ মনে করো? আমি বললাম: এটি এমন কাজ যা আমরা করি না এবং এতে আমরা সন্তুষ্টও নই, বরং আমাদের কিছু মন্দ কর্মচারীরা তা করে থাকে! তখন তিনি মাথা নিচু করলেন এবং নিজের মনে বলতে লাগলেন: আমাদের কিছু মন্দ কর্মচারীরা তা করে থাকে! তারপর তিনি মাথা তুললেন এবং বললেন: তোমাদের প্রতি মহান আল্লাহর এমন এক নেয়ামত রয়েছে যার সীমা এখনো শেষ হয়নি। আমার দেশ থেকে চলে যাও যেন তোমার অমঙ্গল আমাকে স্পর্শ না করে! তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং আমি তার দেশ ত্যাগ না করা পর্যন্ত আমার ওপর লোক নিযুক্ত করে দিলেন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
তেগারামরক্কোর দক্ষিণে মহাসমুদ্রের নিকটবর্তী একটি শহর। ফকিহ আলী আল-জুনহানি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সেখানে প্রবেশ করে শহরের প্রাচীর লবণের তৈরি দেখতে পান এবং একইভাবে সেখানকার সমস্ত দেয়াল ও স্তম্ভগুলোও ছিল লবণের তৈরি।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والسقوف، وكذلك الأبواب فإنّها من صفائح ملحيّة مغطاة بشيء من جلد الحيوان كي لا يتشعّب أطرافها. وذكر أن جميع ما حول هذه المدينة من الأراضي سبخة وفيها معدن الملح والشبّ، وإذا مات بها شيء من الحيوان يلقى في الصحراء فيصير ملحا، والملح بأرض السودان عزيز جدّا، والتجّار يجلبونه من تغارة إلى سائر بلادهم يبتاع كلّ وقر بمائة دينار.
ومن العجب أن هذه المدينة أرضها سبخة جدّا، ومياه آبارهم عذبة، وأهلها عبيد مسوّفة، ومسوفة قبيلة عظيمة من البربر. وأهل تغارة في طاعة امرأة من إماء مسوّفة، شغلهم جمع الملح طول السنة. يأتيهم القفل في كلّ سنة مرّة يبيعون الملح ويأخذون من ثمنه قدر نفقاتهم، والباقي يؤدّونه إلى ساداتهم من مسوّفة، وليس بهذه المدينة زرع ولا ضرع، ومعاشهم على الملح كما ذكرنا.
تكرورمدينة في بلاد السودان عظيمة مشهورة، قال الفقيه علي الجنحاني المغربي:
شاهدتها وهي مدينة عظيمة لا سور لها، وأهلها مسلمون وكفّار، والملك فيها للمسلمين، وأهلها عراة رجالهم ونساؤهم، إلّا أشراف المسلمين فإنّهم يلبسون قميصا طولها عشرون ذراعا، ويحمل ذيلهم معهم خدمهم للحشمة، ونساء الكفّار يسترن قبلهنّ بخرزات العقيق، ينظمنها في الخيوط ويعلقنها عليهن، ومن كانت نازلة الحال فخرزات من العظم.
وذكر أيضا أن الزرافة بها كثيرة، يجلبونها ويذبحونها مثل البقر، والعسل والسمن والأرز بها رخيص جدّا. وبها حيوان يسمّى لبطى، يؤخذ من جلده المجنّ يبتاع كلّ مجنّ بثلاثين دينارا، وخاصيّته أن الحديد لا يعمل فيه البتّة.
وحكى أنّه لمّا كان بها إذ ورد قاصد من بعض عمّال الملك يقول:
قد دهمنا سواد عظيم لا نعرف ما هو. فاستعدّ الملك للقتال وخرج بعساكره، فإذا فيلة كثيرة جاوزت العدّ والحصر، فجاءت حتى ترد الماء بقرب تكرور،
এবং ছাদসমূহ, অনুরূপভাবে দরজাসমূহও লবণের পাত দিয়ে তৈরি, যা পশুর চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে যাতে সেগুলোর প্রান্তগুলো ফেটে না যায়। উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই শহরের চারপাশের সমস্ত ভূমি লোনা এবং সেখানে লবণ ও ফটকিরির খনি রয়েছে। যদি সেখানে কোনো প্রাণী মারা যায়, তবে তা মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তা লবণে পরিণত হয়। সুদান অঞ্চলে লবণ অত্যন্ত মূল্যবান; বণিকরা তা তাগারা থেকে তাদের অন্যান্য দেশে নিয়ে যায় এবং প্রতি বোঝা একশ দিনারে বিক্রি হয়।
আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এই শহরের ভূমি অত্যন্ত লোনা, অথচ তাদের কূপের পানি মিষ্টি। এখানকার অধিবাসীরা মাসুফাহ গোত্রের দাস; আর মাসুফাহ বারবারদের একটি বিশাল গোত্র। তাগারা অঞ্চলের লোকেরা মাসুফাহ গোত্রের একজন দাসীর আনুগত্য স্বীকার করে। সারা বছর তাদের কাজ হলো লবণ সংগ্রহ করা। বছরে একবার কাফেলা তাদের কাছে আসে; তারা লবণ বিক্রি করে এবং তার মূল্য থেকে তাদের খরচের সমপরিমাণ গ্রহণ করে, আর বাকিটা মাসুফাহ গোত্রের তাদের প্রভুদের নিকট প্রদান করে। এই শহরে কোনো চাষাবাদ বা গবাদি পশু নেই, তাদের জীবিকা কেবল লবণের ওপর নির্ভরশীল, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।
তাকরুরএটি সুদান অঞ্চলের একটি বিশাল ও প্রসিদ্ধ শহর। ফকিহ আলী আল-জানহানি আল-মাগরিবি বলেন:
আমি এটি দেখেছি এবং এটি একটি বিশাল শহর যার কোনো প্রাচীর নেই। এর অধিবাসীদের মধ্যে মুসলিম ও কাফির উভয়ই রয়েছে, তবে রাজত্ব মুসলমানদের হাতে। এখানকার নারী ও পুরুষরা নগ্ন থাকে, কেবল সম্ভ্রান্ত মুসলমানরা ছাড়া; তারা বিশ হাত লম্বা কামিজ পরিধান করে এবং আভিজাত্য রক্ষার জন্য তাদের ভৃত্যরা তাদের কাপড়ের প্রান্তভাগ বহন করে। কাফির নারীরা তাদের লজ্জাস্থান আকিকের পুঁতি দিয়ে ঢেকে রাখে, যা তারা সুতায় গেঁথে শরীরে ঝুলিয়ে রাখে। আর যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ, তারা হাড়ের পুঁতি ব্যবহার করে।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেখানে জিরাফ প্রচুর পাওয়া যায়; তারা সেগুলো নিয়ে আসে এবং গরুর মতো জবাই করে। সেখানে মধু, ঘি এবং চাল অত্যন্ত সস্তা। সেখানে 'লাবতি' নামক একটি প্রাণী রয়েছে, যার চামড়া দিয়ে ঢাল তৈরি করা হয়। প্রতিটি ঢাল ত্রিশ দিনারে বিক্রি হয় এবং এর বিশেষ গুণ হলো এই যে, লোহা এতে কোনোভাবেই কাজ করে না।
বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন সেখানে ছিলেন, তখন রাজার জনৈক কর্মচারীর কাছ থেকে এক বার্তাবাহক এসে বলল:
এক বিশাল কৃষ্ণকায় দল আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে, আমরা জানি না ওটা কী। তখন রাজা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেন এবং সৈন্যসামন্ত নিয়ে বের হলেন। দেখা গেল যে, সেগুলো অসংখ্য হাতি, যা গণনা বা সীমাবদ্ধ করা অসম্ভব। সেগুলো এগিয়ে এসে তাকরুরের নিকটবর্তী জলাশয়ে পানি পান করতে শুরু করল।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فقال الملك: احشوها بالنبل. فلم يكن يعمل فيها شيء من النبال، وكانت تخفي خراطيمها تحت بطنها لئلّا يصيبها النبل، وإذا أصاب شيئا من بدنها أمرّت عليها الخرطوم ورمتها، فشربت الماء ورجعت. واللّه الموفق.
جابرسامدينة بأقصى بلاد المشرق، عن ابن عبّاس، رضي الله عنه، قال: إن بأقصى المشرق مدينة اسمها جابرس، أهلها من ولد ثمود، وبأقصى المغرب مدينة اسمها جابلق أهلها من ولد عاد، ففي كلّ واحد بقايا من الأمّتين. يقول اليهود: إن أولاد موسى، عليه السلام، هربوا في حرب بخت نصّر، فسيّرهم اللّه تعالى وأنزلهم بجابرس، وهم سكّان ذلك الموضع لا يصل إليهم أحد ولا يحصى عددهم.
وعن ابن عبّاس، رضي الله عنه، أن النبيّ، صلى الله عليه وسلم، في ليلة أسري به قال لجبريل، عليه السلام: إني أحبّ أن أرى القوم الذين قال اللّه تعالى فيهم: ومن قوم موسى أمّة يهدون بالحقّ وبه يعدلون. فقال جبريل، عليه السلام: بينك وبينهم مسيرة ستّ سنين ذاهبا وستّ سنين راجعا، وبينك وبينهم نهر من رمل يجري كجري السهم، لا يقف إلّا يوم السبت، لكن سل ربّك، فدعا النبي، صلى الله عليه وسلم، وأمّن جبريل، عليه السلام، فأوحى اللّه إلى جبريل أن أجبه إلى ما سأل، فركب البراق وخطا خطوات، فإذا هو بين أظهر القوم، فسلّم عليهم فسألوه: من أنت؟ فقال: أنا النبيّ الاميّ! فقالوا: نعم، أنت الذي بشّر بك موسى، عليه السلام، وإن أمّتك لولا ذنوبها لصافحتها الملائكة، قال رسول اللّه، صلى الله عليه وسلم: رأيت قبورهم على باب دورهم فقلت لهم: لم ذاك؟ قالوا: لنذكر الموت صباحا ومساء، وإن لم نفعل ذلك ما نذكر إلّا وقتا بعد وقت! فقال، صلى الله عليه وسلم: ما لي أرى بنيانكم مستويا؟ قالوا: لئلّا يشرف بعضنا على بعض،
রাজা বললেন: "সেটিকে তীরে বিদ্ধ করো।" কিন্তু তীরগুলোর কোনোটিই তার ওপর কার্যকর হলো না, কারণ সে তার শুঁড়গুলো পেটের নিচে লুকিয়ে রাখত যাতে তীর তাকে আঘাত করতে না পারে। আর যখনই তার শরীরের কোনো অংশে কোনো তীর বিদ্ধ হতো, তখন সে তার শুঁড় দিয়ে তা টেনে বের করে ছুড়ে ফেলত। এরপর সে পানি পান করল এবং ফিরে গেল। আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
জাবরসাএটি প্রাচ্যের দূরতম প্রান্তের একটি শহর। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই প্রাচ্যের শেষ প্রান্তে জাবরিস নামক একটি শহর রয়েছে, যার অধিবাসীরা সামূদ জাতির বংশধর। আর প্রতীচ্যের শেষ প্রান্তে জাবালক নামক একটি শহর রয়েছে, যার অধিবাসীরা আদ জাতির বংশধর। সুতরাং এই শহর দুটির প্রত্যেকটিতে ওই দুই উম্মতের অবশিষ্টাংশ বসবাস করে।" ইহুদিরা বলে: "মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধররা বখত নসরের যুদ্ধের সময় পলায়ন করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের পরিচালিত করে জাবরিসে নামিয়ে দেন। তারা সেই স্থানের অধিবাসী, সেখানে কেউ পৌঁছাতে পারে না এবং তাদের সংখ্যাও গণনা করা সম্ভব নয়।"
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসরার রাতে জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিলেন: "আমি সেই কওমকে দেখতে পছন্দ করি যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে একদল লোক রয়েছে যারা ন্যায়পথ প্রদর্শন করে এবং সে অনুযায়ী ইনসাফ করে'।" জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) বললেন: "আপনার এবং তাদের মাঝখানে যাওয়ার পথে ছয় বছর এবং আসার পথে ছয় বছরের দূরত্ব রয়েছে। আর আপনার ও তাদের মাঝে বালুর একটি নদী রয়েছে যা তীরের মতো দ্রুত প্রবাহিত হয়, যা কেবল শনিবার ছাড়া থামে না। তবে আপনি আপনার রবের কাছে প্রার্থনা করুন।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়া করলেন এবং জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) আমিন বললেন। তখন আল্লাহ তাআলা জিবরাইলের প্রতি ওহি পাঠালেন যে, তিনি যেন তাঁকে তাঁর প্রার্থিত স্থানে নিয়ে যান। তখন তিনি বুরাকে আরোহণ করলেন এবং মাত্র কয়েক কদম চললেন, অমনি তিনি সেই কওমের মাঝে পৌঁছে গেলেন। তিনি তাদের সালাম দিলেন, তারা জিজ্ঞাসা করল: "আপনি কে?" তিনি বললেন: "আমি উম্মি নবী!" তারা বলল: "হ্যাঁ, আপনিই তিনি যার সম্পর্কে মূসা (আলাইহিস সালাম) সুসংবাদ দিয়েছিলেন। যদি আপনার উম্মতের গোনাহ না থাকত, তবে ফেরেশতারা তাদের সাথে মুসাফাহা করত।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "আমি তাদের ঘরগুলোর দরজার সামনে তাদের কবরসমূহ দেখলাম। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করলাম: এটা কেন? তারা বলল: যাতে আমরা সকাল-সন্ধ্যা মৃত্যুকে স্মরণ করতে পারি; কারণ আমরা যদি এমন না করতাম তবে কেবল মাঝেমধ্যে মৃত্যুকে স্মরণ করতাম!" তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন: "কী ব্যাপার, আমি তোমাদের দালানকোঠাগুলো সব সমান দেখছি কেন?" তারা বলল: "যাতে আমাদের কেউ অন্যের ওপর উঁকি দিতে না পারে,"
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولئلّا يسدّ بعضنا الهواء عن بعض. فقال، صلى الله عليه وسلم: ما لي لا أرى فيكم سلطانا ولا قاضيا؟ فقالوا: أنصف بعضنا بعضا، وأعطينا الحقّ من أنفسنا، فلم نحتج إلى أحد ينصف بيننا، فقال، صلى الله عليه وسلم: ما لأسواقكم خالية؟ فقالوا: نزرع جميعا ونحصد جميعا، فيأخذ كلّ رجل منّا ما يكفيه ويدع الباقي لأخيه. فقال، صلى الله عليه وسلم: ما لي أرى هؤلاء القوم يضحكون؟ قالوا: مات لهم ميت! قال: ولم يضحكون؟ قالوا:
سرورا بأنّه قبض على التوحيد! قال، صلى الله عليه وسلم: وما لهؤلاء يبكون؟ قالوا: ولد لهم مولود وهم لا يدرون على أيّ دين يقبض. قال، صلى الله عليه وسلم: إذا ولد لكم مولود ذكر ماذا تصنعون؟ قالوا: نصوم للّه شهرا شكرا. قال: وإن ولدت لكم أنثى؟ قالوا: نصوم للّه شهرين شكرا، لأنّ موسى، عليه السلام، أخبرنا أن الصبر على الأنثى أعظم أجرا من الصبر على الذكر. قال، صلى الله عليه وسلم: أفتزنون؟ قالوا: وهل يفعل ذلك أحد إلّا حصبته السماء من فوقه، وخسفت به الأرض من تحته؟ قال: افتربون؟ قالوا: إنّما يربي من لا يؤمن رزق اللّه! قال: أفتمرضون؟ قالوا: لا نذنب ولا نمرض وإنّما تمرض أمّتك ليكون كفّارة لذنوبهم. قال، صلى الله عليه وسلم: أفلكم سباع وهوام؟ قالوا: نعم تمرّ بنا ونمرّ بها فلا تؤذينا.
فعرض عليهم النبيّ. صلى الله عليه وسلم، شريعته، فقالوا: كيف لنا بالحجّ وبيننا وبينه مسافة بعيدة؟ فدعا النبي، صلى الله عليه وسلم، قال ابن عبّاس: تطوى لهم الأرض حتى يحجّ من يحجّ منهم مع الناس.
قال: فلمّا أصبح النبيّ، صلى الله عليه وسلم، أخبر من حضر من قومه، وكان فيهم أبو بكر، رضي الله عنه، قال: إن قوم موسى بخير، فعلم اللّه تعالى ما في قلوبهم فأنزل: وممّن خلقنا أمّة يهدون بالحقّ وبه يعدلون. فصام أبو بكر شهرا واعتق عبدا، إذ لم يفضل اللّه أمة موسى على أمّة محمّد، صلى الله عليه وسلم.
এবং যাতে আমাদের কেউ অন্যের বাতাস চলাচলে বাধা না দেয়। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ব্যাপার কী, আমি তোমাদের মধ্যে কোনো শাসক বা বিচারক দেখতে পাচ্ছি না কেন? তারা বলল: আমরা একে অপরের প্রতি ইনসাফ করি এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের পক্ষ থেকে হক আদায় করে দিই, তাই আমাদের মাঝে ফয়সালা করার জন্য কারো প্রয়োজন হয় না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমাদের বাজারগুলো খালি কেন? তারা বলল: আমরা সবাই মিলে চাষ করি এবং সবাই মিলে ফসল কাটি, তারপর আমাদের প্রত্যেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করে এবং বাকিটুকু তার ভাইয়ের জন্য রেখে দেয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমার কী হলো যে আমি এই লোকদের হাসতে দেখছি? তারা বলল: তাদের একজন লোক মারা গেছে! তিনি বললেন: আর তারা হাসছে কেন? তারা বলল:
এই আনন্দে যে সে তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আর এরা কাঁদছে কেন? তারা বলল: তাদের একটি সন্তান জন্ম নিয়েছে, আর তারা জানে না সে কোন দ্বীনের ওপর মৃত্যুবরণ করবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যখন তোমাদের কোনো পুত্রসন্তান জন্ম নেয়, তখন তোমরা কী করো? তারা বলল: আমরা শুকরিয়া স্বরূপ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক মাস রোজা রাখি। তিনি বললেন: আর যদি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়? তারা বলল: আমরা শুকরিয়া স্বরূপ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই মাস রোজা রাখি, কারণ মুসা (আলাইহিস সালাম) আমাদের জানিয়েছেন যে, কন্যাসন্তানের লালন-পালনে ধৈর্য ধারণের সওয়াব পুত্রসন্তানের চেয়েও মহান। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা কি ব্যভিচার করো? তারা বলল: কেউ কি এমন কাজ করতে পারে? করলে তো উপর থেকে আকাশ তার ওপর পাথর বর্ষণ করবে এবং নিচ থেকে জমিন তাকে ধসিয়ে দেবে! তিনি বললেন: তোমরা কি সুদ খাও? তারা বলল: কেবল সেই সুদি কারবার করে যে আল্লাহর রিজিকের ওপর বিশ্বাস রাখে না! তিনি বললেন: তোমরা কি অসুস্থ হও? তারা বলল: আমরা গুনাহ করি না, তাই অসুস্থও হই না; বরং আপনার উম্মত অসুস্থ হয় যাতে তা তাদের গুনাহের কাফফারা হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমাদের কি হিংস্র প্রাণী ও বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ আছে? তারা বলল: হ্যাঁ, তারা আমাদের পাশ দিয়ে যায় এবং আমরাও তাদের পাশ দিয়ে যাই, কিন্তু তারা আমাদের কোনো ক্ষতি করে না।
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সামনে তাঁর শরীয়ত পেশ করলেন। তারা বলল: আমাদের পক্ষে হজ করা কীভাবে সম্ভব যখন আমাদের ও হজের স্থানের মাঝে সুদীর্ঘ দূরত্ব? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়া করলেন। ইবনে আব্বাস বলেন: তাদের জন্য জমিন সংকুচিত করে দেয়া হয়, ফলে তাদের মধ্য থেকে যারা হজ করার তারা অন্যান্য মানুষের সাথেই হজ সম্পাদন করে।
বর্ণনাকারী বলেন: যখন সকাল হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কওমের উপস্থিত ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালেন, যাদের মধ্যে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: মুসার কওম কল্যাণের ওপর আছে। আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরের অবস্থা জানতেন, তাই তিনি অবতীর্ণ করলেন: 'আর আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন এক উম্মত রয়েছে যারা সত্যের মাধ্যমে পথ প্রদর্শন করে এবং তার মাধ্যমেই ইনসাফ কায়েম করে।' অতঃপর আবু বকর এক মাস রোজা রাখলেন এবং একজন দাস মুক্ত করলেন, যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুসার উম্মতকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেননি।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
جاوةهي بلاد على ساحل بحر الصين ممّا يلي بلاد الهند، وفي زماننا هذا لا يصل التجّار من أرض الصين إلّا إلى هذه البلاد، والوصول إلى ما سواها من بلاد الصين متعذّر لبعد المسافة واختلاف الأديان، والتجّار يجلبون من هذه البلاد العود الجاوي والكافور والسنبل والقرنفل والبسباسة، والغضائر الصيني منها يجلب إلى سائر البلاد.
جزاير الخالداتويقال لها أيضا جزاير السعادات، وانّها في البحر المحيط في أقصى المغرب كان بها مقام جمع من الحكماء بنوا عليها ابتداء طول العمارات، قال أبو الريحان الخوارزمي: هي ستّ جزاير واغلة في البحر المحيط، قريبات من مائتي فرسخ، وإنّما سميّت بجزاير السعادات لأن غياطها أصناف الفواكه والطيب من غير غرس وعمارة، وأرضها تحمل الزرع مكان العشب، وأصناف الرياحين العطرة بدل الشوك.
قالوا: في كلّ جزيرة صنم طوله مائة ذراع كالمنار ليهتدى بها، وقيل:
إنّما عملوا ذلك ليعلم أن ليس بعد ذلك مذهب فلا يتوسّط البحر المحيط، واللّه أعلم بذلك.
جزيرة الرّامنيفي بحر الصين؛ قال محمّد بن زكريّاء الرازي: بها ناس عراة لا يفهم كلامهم لأنّه مثل الصفير، طول أحدهم أربعة أشبار، شعورهم زغب أحمر،
يتسلّقون على الأشجار، وبها الكركدن وجواميس لا أذناب لها، وبها من الجواهر والافاويه ما لا يحصى، وبها شجر الكافور والخيزران والبقمّ وعروق هذا
জাওয়াএটি চীন সাগরের উপকূলে ভারত সংলগ্ন একটি দেশ। আমাদের এই সময়ে চীন দেশ থেকে বণিকেরা কেবল এই দেশ পর্যন্তই পৌঁছাতে পারে। দূরত্বের আধিক্য এবং ধর্মের ভিন্নতার কারণে এই দেশ ছাড়া চীনের অন্যান্য অংশে পৌঁছানো দুঃসাধ্য। বণিকেরা এই দেশ থেকে জাওয়া আগর, কর্পূর, জটামাংসী, লবঙ্গ ও জয়িত্রী সংগ্রহ করে। আর চীনা মাটির পাত্রসমূহ এখান থেকেই বিশ্বের অন্যান্য দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
জাজাইর আল-খালিদাতএকে জাজাইর আস-সাআদাত (সৌভাগ্যময় দ্বীপপুঞ্জ)-ও বলা হয়। এগুলো পশ্চিমের শেষ প্রান্তে মহাসাগরে অবস্থিত। এখানে একদল প্রাজ্ঞ ব্যক্তির আবাস ছিল, যারা দ্রাঘিমাংশ গণনার প্রারম্ভ এখান থেকে নির্ধারণ করেছিলেন। আবু রায়হান আল-খাওয়ারিজমি বলেন: এগুলো মহাসাগরের গভীরে অবস্থিত ছয়টি দ্বীপ, যা প্রায় দুইশ ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত। একে সৌভাগ্যময় দ্বীপপুঞ্জ নাম দেওয়ার কারণ হলো—এর বনভূমিতে কোনো প্রকার রোপণ বা আবাদ ছাড়াই নানা প্রকারের ফল ও সুগন্ধি উৎপন্ন হয়। এখানকার ভূমিতে ঘাসের পরিবর্তে ফসল জন্মে এবং কাঁটার বদলে বিভিন্ন সুগন্ধি ফুল ফুটে থাকে।
তারা বলেন: প্রতিটি দ্বীপে দিকনির্দেশনার জন্য মিনার সদৃশ একশ হাত দীর্ঘ একটি করে মূর্তি রয়েছে। আরও বলা হয়েছে:
তারা এগুলো নির্মাণ করেছিল যেন এটি জানা যায় যে এর পরে আর কোনো গম্যপথ নেই, ফলে কেউ যেন মহাসাগরের গভীরে প্রবেশ না করে। আর আল্লাহ-ই এ বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত।
জাজিরাত আর-রামনিএটি চীন সাগরে অবস্থিত; মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আর-রাজি বলেন: সেখানে একদল নগ্ন মানুষ বাস করে যাদের কথা বোঝা যায় না, কারণ তা শিসের মতো। তাদের প্রত্যেকের উচ্চতা চার বিঘত, তাদের চুলগুলো লাল রঙের পাতলা লোমের মতো।
তারা গাছের ওপর চড়ে বেড়ায়। সেখানে গণ্ডার এবং লেজহীন মহিষ রয়েছে। সেখানে অগণিত মণিমাণিক্য ও সুগন্ধি মশলা পাওয়া যায়। সেখানে কর্পূর গাছ, বাঁশ, বকম কাঠ এবং এসবের শিকড় রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
البقّم دواء من سمّ الأفاعي، وحمله شبه الخرنوب وطعمه طعم العلقم.
وقال ابن الفقيه: بها ناس عراة رجال ونساء على أبدانهم شعور تغطي سوآتهم، وهم أمّة لا يحصى عددها، مأكولهم ثمار الأشجار، وإذا اجتاز بهم شيء من المراكب يأتونه بالسباحة مثل هبوب الريح، وفي أفواههم عنبر يبيعونه بالحديد.
جزيرة زانجإنّها جزيرة عظيمة في حدود الصين ممّا يلي بلاد الهند، بها أشياء عجيبة ومملكة بسيطة، وملك مطاع يقال له المهراج؛ قال محمّد بن زكريّاء: للمهراج جباية تبلغ كلّ يوم مائتي منّ ذهبا، يتّخذها لبنات ويرميها في الماء، والماء بيت ماله، وقال أيضا: من عجائب هذه الجزيرة شجر الكافور وانّه عظيم جدّا، يظلّ مائة إنسان وأكثر، يثقب أعلى الشجر فيسيل منه ماء الكافور عدّة جرار، ثمّ يثقب أسفل من ذلك وسط الشجرة فينساب منها قطع الكافور وهو صمغ تلك الشجرة، غير أنّه في داخلها، فإذا أخذت ذلك منه يبست الشجرة.
وحكى ماهان بن بحر السيرافي قال: كنت في بعض جزاير زانج فرأيت بها وردا كثيرا أحمر وأصفر وأزرق وغير ذلك، فأخذت ملاءة حمراء وجعلت فيها شيئا من الورد الأزرق، فلمّا أردت حملها رأيت نارا في الملاءة واحترق ما فيها من الورد ولم تحترق الملاءة، فسألت عنها فقالوا: إن في هذا الورد منافع كثيرة لكن لا يمكن إخراجها من هذه الغيطة.
وقال ابن الفقيه: بهذه الجزيرة قوم على صورة البشر، إلّا أن أخلاقهم بالسباع أشبه، يتكلّم بكلام لا يفهم ويطفر من شجرة إلى شجرة. وبها صنف من السنانير لها أجنحة كأجنحة الخفافيش من الأذن إلى الذنب، وبها وعول كالبقر الجبليّة، ألوانها حمر منقّطة ببياض، وأذنابها كأذناب الظباء ولحومها حامضة، وبها دابّة الزباد وهي شبيهة بالهرّ يجلب منها الزباد، وبها فارة المسك.
বক্কম (এক প্রকার কাঠ) হলো সাপের বিষের প্রতিষেধক; এর ফল ক্যারোব সদৃশ এবং এর স্বাদ তিক্ত।
ইবনুল ফকিহ বলেন: সেখানে উলঙ্গ একদল মানুষ রয়েছে—পুরুষ ও নারী—যাদের শরীরে লোম রয়েছে যা তাদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখে। তারা এমন এক জাতি যাদের সংখ্যা অগণিত। বৃক্ষের ফলমূল তাদের খাদ্য। যখনই কোনো জাহাজ তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তারা বাতাসের বেগে সাঁতার কেটে সেটির কাছে আসে। তাদের মুখে থাকে আম্বর, যা তারা লোহার বিনিময়ে বিক্রি করে।
জাঞ্জ দ্বীপএটি চীনের সীমানায় ভারত সংলগ্ন এক বিশাল দ্বীপ। এখানে বহু বিস্ময়কর বস্তু এবং এক বিশাল সাম্রাজ্য রয়েছে। সেখানকার আনুগত্যপ্রাপ্ত রাজাকে 'মহারাজ' বলা হয়। মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া বলেন: মহারাজের প্রতিদিনের রাজস্ব সংগ্রহ দুইশত 'মান' স্বর্ণে পৌঁছায়। তিনি সেগুলো দিয়ে ইট তৈরি করেন এবং পানিতে নিক্ষেপ করেন; আর পানিই হলো তাঁর বায়তুল মাল (কোষাগার)। তিনি আরও বলেন: এই দ্বীপের অন্যতম বিস্ময় হলো কর্পূর গাছ; এটি অত্যন্ত বিশাল। এটি একশ বা তার বেশি মানুষকে ছায়া দেয়। গাছের উপরের অংশে ছিদ্র করলে সেখান থেকে কয়েক কলস কর্পূর-পানি প্রবাহিত হয়। অতঃপর গাছের মধ্যবর্তী নিচের অংশে ছিদ্র করলে সেখান থেকে কর্পূরের টুকরো বেরিয়ে আসে। এটি মূলত ওই গাছের আঠা, যা এর অভ্যন্তরে থাকে। তবে গাছ থেকে এটি সংগ্রহ করলে গাছটি শুকিয়ে যায়।
মাহান ইবনে বাহর আস-সিরাফি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি জাঞ্জ দ্বীপপুঞ্জের কোনো একটি দ্বীপে ছিলাম। সেখানে আমি লাল, হলুদ, নীল ও অন্যান্য রঙের প্রচুর ফুল দেখলাম। আমি একটি লাল চাদর নিলাম এবং তাতে কিছু নীল ফুল রাখলাম। যখন আমি সেটি বহন করতে চাইলাম, তখন চাদরের ভেতরে আগুন দেখতে পেলাম। ফলে চাদরের ভেতরের ফুলগুলো পুড়ে গেল কিন্তু চাদরটি পুড়ল না। আমি এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল: এই ফুলে অনেক উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু এই বাগান থেকে তা বের করা সম্ভব নয়।
ইবনুল ফকিহ বলেন: এই দ্বীপে এমন একদল লোক রয়েছে যারা দেখতে মানুষের মতো, কিন্তু তাদের স্বভাব বন্যপশুর মতো। তারা এমন ভাষায় কথা বলে যা বোঝা যায় না এবং তারা এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে বেড়ায়। সেখানে এমন এক প্রকার বিড়াল রয়েছে যাদের কানের লতি থেকে লেজ পর্যন্ত বাদুড়ের ডানার মতো ডানা আছে। সেখানে পাহাড়ি গরুর মতো বুনো ছাগল রয়েছে, যাদের গায়ের রঙ লাল এবং সাদা ছোপযুক্ত। তাদের লেজ হরিণের লেজের মতো এবং তাদের মাংস টক। সেখানে জাবাদ (গন্ধগোকুল) নামক এক প্রকার জন্তু রয়েছে যা বিড়ালের সদৃশ এবং তা থেকে সুগন্ধি জাবাদ সংগ্রহ করা হয়। সেখানে কস্তুরী ইঁদুরও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আছারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وبها جبل النصبان، وهو جبل فيه حيّات عظام تبلع البقر والجاموس، ومنها ما يبلع الفيل، وبها قردة بيض كأمثال الجواميس والكباش، وبها صنف آخر بيض الصدر سود الظهر.
وقال زكرياء بن محمّد بن خاقان: بجزيرة زانج ببغاء بيض وصفر وحمر، يتكلّم بأيّ لغة يكون، وبها طواويس رقط وخضر، وبها طير يقال له الحوارى دون الفاختة، أبيض البطن أسود الجناحين أحمر الرجلين أصفر المنقار، وهو أفصح من الببغاء، واللّه الموفق للصواب.
جزيرة سكسارجزيرة بعيدة عن العمران في بحر الجنوب، حكى يعقوب بن إسحاق السرّاج قال: رأيت رجلا في وجهه خموش، فسألته عن ذلك، فقال: خرجنا في مركب فألقتنا الريح إلى جزيرة لم نقدر أن نبرح عنها، فأتانا قوم وجوههم وجوه الكلاب وسائر بدنهم كبدن الناس، فسبق إلينا واحد ووقف الآخرون فساقنا إلى منازلهم، فإذا فيها جماجم الناس وأسوقهم وأذرعهم، فأدخلنا بيتا فإذا فيه إنسان أصابه مثل ما أصابنا، فجعلوا يأتوننا بالفواكه والمأكول، فقال لنا الرجل: إنّما يطعمونكم لتسمنوا فمن سمن أكلوه، قال: فكنت أقصّر في الأكل حتى لا أسمن، فأكلوا الكلّ وتركوني وذاك الرجل لأني كنت أقصّر في الأكل حتى لا أسمن، فأكلوا الكلّ وتركوني وذاك الرجل لأني كنت نحيفا والرجل كان عليلا، فقال لي الرجل: قد حضر لهم عيد يخرجون إليه بأجمعهم ويمكثون ثلاثا، فإن أردت النجاة فانج بنفسك! وأمّا أنا فقد ذهبت رجلاي لا يمكنني الذهاب. واعلم أنّهم أسرع شيء طلبا وأشدّ اشتياقا وأعرف بالأثر، إلّا من دخل تحت شجرة كذا فإنّهم لا يطلبونه ولا يقدرون عليه. قال: فخرجت أسير ليلا وأكمن النهار تحت الشجرة، فلمّا كان اليوم الثالث رجعوا، وكانوا يقصّون أثري، فدخلت تحت الشجرة فانقطعوا عني ورجعوا فأمنت.
حكى الرجل المخموش وقال: بينا أنا أسير في تلك الجزيرة إذ رفعت لي
সেখানে নুসবান পাহাড় রয়েছে, এটি এমন এক পাহাড় যেখানে বিশালাকার সাপ রয়েছে যারা গরু ও মহিষ গিলে ফেলে, আর তাদের মধ্যে এমন কিছু আছে যা হাতিকেও গিলে ফেলে। সেখানে মহিষ ও ভেড়ার মতো সাদা বানর রয়েছে, এবং সেখানে অন্য এক প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যাদের বুক সাদা এবং পিঠ কালো।
জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খাকান বলেছেন: জাঞ্জ দ্বীপে সাদা, হলুদ ও লাল তোতাপাখি রয়েছে, যারা যেকোনো ভাষায় কথা বলতে পারে। সেখানে ফুটফুটে চিত্রবিচিত্র এবং সবুজ ময়ূর রয়েছে। সেখানে হাওয়ারী নামক একটি পাখি রয়েছে যা ঘুঘুর চেয়ে ছোট, যার পেট সাদা, ডানা কালো, পা দুটো লাল এবং ঠোঁট হলুদ। এটি তোতাপাখির চেয়েও স্পষ্টভাষী। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।
সাকসার দ্বীপএটি দক্ষিণ সাগরের জনবসতি থেকে সুদূর এক দ্বীপ। ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আস-সাররাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম যার মুখে আঁচড়ের চিহ্ন ছিল। আমি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমরা একটি নৌকায় বের হয়েছিলাম, তখন বাতাস আমাদের এমন এক দ্বীপে নিয়ে গেল যেখান থেকে আমরা চলে যেতে পারছিলাম না। তখন আমাদের কাছে এমন এক জাতি আসলো যাদের চেহারা কুকুরের মতো কিন্তু শরীরের বাকি অংশ মানুষের মতো। তাদের একজন আমাদের দিকে এগিয়ে আসলো এবং অন্যরা দাঁড়িয়ে থাকল। সে আমাদের তাড়িয়ে তাদের বসতিতে নিয়ে গেল। সেখানে মানুষের মাথার খুলি, পায়ের নলা এবং হাত পড়ে ছিল। তারা আমাদের একটি ঘরে প্রবেশ করালো, সেখানে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার অবস্থা আমাদের মতোই হয়েছিল। তারা আমাদের ফলমূল ও খাবার দিতে শুরু করল। তখন ওই লোকটি আমাদের বলল: তারা তোমাদের কেবল মোটা করার জন্যই খাওয়াচ্ছে, যে মোটা হবে তাকেই তারা খেয়ে ফেলবে। তিনি বললেন: আমি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিলাম যাতে মোটা না হই। তারা অন্য সবাইকে খেয়ে ফেলল এবং আমাকে ও ওই লোকটিকে রেখে দিল, কারণ আমি কম খেতাম যাতে মোটা না হই; তারা সবাইকে খেয়ে ফেলল এবং আমাকে ও ওই লোকটিকে রেখে দিল কারণ আমি ছিলাম ক্ষীণকায় আর ওই লোকটি ছিল অসুস্থ। লোকটি আমাকে বলল: তাদের একটি উৎসব উপস্থিত হয়েছে যেখানে তারা সবাই মিলে বের হবে এবং সেখানে তিন দিন অবস্থান করবে। তুমি যদি মুক্তি চাও তবে নিজেকে রক্ষা করো! আর আমার কথা যদি বলো, আমার পা দুটো অকেজো হয়ে গেছে, আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। আর জেনে রেখো, তারা সন্ধানে অত্যন্ত দ্রুতগামী, অত্যন্ত উৎসুক এবং পদচিহ্ন অনুসরণ করতে পারদর্শী; তবে কেউ যদি অমুক গাছের নিচে প্রবেশ করে, তবে তারা তাকে আর খোঁজে না এবং তার ওপর কোনো ক্ষমতাও রাখে না। তিনি বললেন: আমি রাতে পথ চলতে শুরু করলাম এবং দিনে ওই গাছের নিচে আত্মগোপন করে থাকতাম। যখন তৃতীয় দিন হলো তারা ফিরে আসল এবং আমার পদচিহ্ন অনুসরণ করছিল, তখন আমি ওই গাছের নিচে ঢুকে পড়লাম। ফলে তারা আমার সন্ধান ছেড়ে ফিরে গেল এবং আমি নিরাপদ হলাম।
সেই আঁচড়যুক্ত মুখাবয়বের লোক বর্ণনা করে বলেন: আমি যখন ওই দ্বীপে পথ চলছিলাম তখন আমার সামনে ভেসে উঠল...