(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
خواطر حول الوهابية   (محمد إسماعيل المقدم)

القسم: كتب عامة


الكتاب: خواطر حول الوهابية

المؤلف: محمد بن أحمد بن إسماعيل المقدم

الناشر: دار التوحيد للتراث، الإسكندرية

الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م

عدد الصفحات: 113

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 رمضان 1433

ওহাবিবাদ সম্পর্কে কিছু ভাবনা   (মুহাম্মাদ ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


বই: ওহাবিবাদ সম্পর্কে কিছু ভাবনা

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম

প্রকাশক: দারুত তাওহীদ লিত-তুরাস, আলেকজান্দ্রিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রমজান ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
خواطر حول الوهابية

إعداد

محمد إسماعيل المقدم

عفا الله عنه

دار التوحيد للتراث

الإسكندرية
ওহাবীবাদ প্রসঙ্গে কিছু চিন্তা

প্রস্তুতি ও সংকলন

মুহাম্মদ ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন

দারুত তাওহীদ লিত-তুরাস

আলেকজান্দ্রিয়া
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
حقُوق الطبع محفُوظَة

دار التوحيد للتراث

الإسكندرية

لصاحبها/ أشرف نصار

الطبعة الأولى

1429 هـ - 2008 م

رقم الإيداع 2008/ 4171

جمهورية مصر العربية - الإسكندرية- الورديان

بجوار مسجدي أبي بكر الصديق وناصر السنة

هاتف: 0124060045
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দারুত তাওহিদ লিত-তুরাহ (ঐতিহ্য প্রকাশনী)

আলেকজান্দ্রিয়া

স্বত্বাধিকারী: আশরাফ নাসসার

প্রথম সংস্করণ

১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

ডিপোজিট নম্বর ২০০৮/ ৪১৭১

আরব প্রজাতন্ত্র মিশর - আলেকজান্দ্রিয়া - ওয়ারদিয়ান

আবু বকর আল-সিদ্দিক এবং নাসির আল-সুন্নাহ মসজিদের পাশে

টেলিফোন: ০১২৪০৬০০৪৫
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
خواطر حول الوهابية
ওহাবীবাদ প্রসঙ্গে কিছু চিন্তাধারা
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي نصر نبيه وخليله محمدًا صلى الله عليه وسلم بالرعب مسيرة شهر، وجعل النصر حليف من اتبعه إلى آخر الدهر، وصلى الله على عبده ورسوله محمدٍ وآله وصحبه، وسلم صلاة وسلامًا دائمَيْنِ بلا حَصْر.

أما بعد:

فقد مضت سنة الله -تَعَالى- التي لا تتبدل أن يعارض أهلُ الباطل أهلَ الحق الداعن إليه، وأن يشنعوا عليهم، ويثيروا الشبه والشكوك حولهم ليصدوا عن سبيل الله، ويبغوها عوجًا.

ولأن دعواتِ الإصلاح والتجديد لا ترضى بالحلول الوسط، ولا بأنصاف الحلول، فإنها تصارع المعتقداتِ الفاسدة، وتلقي في أول أمرها مقاومة عنيفة كرد فعل دفاعي من خصومها، إذ إنها حين تصطدم بالمألوف "المُتكَلِّس" وتحاول تغييره، فإنها تتحدى أهلَه والمنتفعين به، وتستفزهم مهما كانت فدائية ومنقذة لهم، تلك طبيعة الأشياء، ولذلك جابههت دعوة التجديد التي أنار شعلتهاَ شيخُ الإسلام محمد بن عبد الوهاب -رحمه الله تعالى- حالة عدم الانقياد والتصلب التي أظهرها معارضوه، ولم تقتصر تلك الحالة على شَهْر السلاح في وجه هذه الدعوة وتجييشِ الجيوش، بل انضم إليها أقلام متعصبة حاولت مسخ حقيقتها، وتشويه صورتها بالافتراء والكذب.

لقد تسرع الكثيرون في الحكم على الشيخ، ولعل بعضهم لم يقرأ للشيخ أصلًا، وإنما قرأ عنه من أعدائه، ولعبت السياسة دورًا في هذا، لا سيما السياسة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নবী ও বন্ধু মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন এবং কালান্তকাল পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর; এমন দরুদ ও সালাম যা চিরন্তন ও অসীম।

অতঃপর:

মহান আল্লাহর এই অপরিবর্তনীয় রীতি চলে আসছে যে, বাতিলের অনুসারীরা হকের পথে আহ্বানকারী সত্যপন্থীদের বিরোধিতা করবে, তাদের নিন্দা করবে এবং তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করবে, যাতে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ করা যায় এবং সেই পথকে বক্র করার অপচেষ্টা করা যায়।

যেহেতু সংস্কার ও পুনর্জাগরণের দাওয়াত কোনো মধ্যপন্থা বা আপসকামিতায় সন্তুষ্ট থাকে না, তাই এটি ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। সূচনালগ্নে এটি বিরোধীদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া স্বরূপ তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। কারণ, এটি যখন প্রথাগত 'স্থবিরতা'র সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং তা পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তখন এটি সেই প্রথার ধারক ও সুবিধাভোগীদের চ্যালেঞ্জ করে এবং তাদের প্ররোচিত করে—যদিও এই দাওয়াত তাদের জন্য আত্মত্যাগ ও মুক্তির বার্তাবাহক হয়। এটাই জগতের স্বাভাবিক নিয়ম। আর এ কারণেই শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ) যে পুনর্জাগরণের মশাল প্রজ্বলিত করেছিলেন, তাকে তাঁর বিরোধীদের পক্ষ থেকে আনুগত্যহীনতা ও অনমনীয়তার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এই বিরোধিতা কেবল অস্ত্রধারণ বা সৈন্য সমাবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কিছু গোঁড়া লেখক, যারা অপবাদ (افتراء) ও মিথ্যা (كذب) প্রদানের মাধ্যমে এর প্রকৃত রূপকে বিকৃত করতে এবং এর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেষ্টা করেছিল।

শায়খ সম্পর্কে রায় (حكم) দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই তাড়াহুড়ো করেছেন; সম্ভবত তাদের কেউ কেউ মূল শায়খের কোনো লেখাই পড়েননি, বরং তাঁর শত্রুদের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পর্কে জেনেছেন। এ ক্ষেত্রে রাজনীতিও একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষ করে রাজনীতি...
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
الإنكليزية التي كانت ترصد وتراقب بواعث النهضة في الأمة الإسلامية، وتحاول الإجهاز عليها قبل أن تؤتي ثمارها.

كما أن الدولة العثمانية -التي انتشرت في ظلها طرق صوفية غالية- انطلقت في هجومها على الدعوة السلفية لمخالفتها لها في المنهاج، وفي بعض متعلقات العقيدة كالتوسل، والاستغاثة بالموتى، وسائر البدع والشركيات.

أضف إلى ذلك جماعة الروافض الذين ينالون من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورضي الله عنهم-، ومن أعلام أهل السنة، ويتورطون في شركيات يزعمونها من أصول الدين.

ولا يظن ظانٌّ أن مناطق الاحتكاك أو مسائل الاختلاف بين الوهابيين وخصومهم تخص الوهابيين وحدهم، بل هي معتقد السلف الصالح والصدر الأول المبنيُّ على أدلة الكتاب والسنة، انطلاقًا من "منهاج النبوة"، وليس للوهابية سوى فضل إحيائها، وتجديدها، وتذكير المسلمين بها، وتنبيههم إليها، ونفض غبار البدع عنها.

ولست بمقتصرٍ -لتأييد هذه الحقيقة- على ذكر شهادات المئات من أعلام المسلمين الذين نافحوا عن هذه الدعوة، وأقروا بدورها التجديدي العظيم، ولكني أعرض أولاً شهاداتِ خصوم الإسلام ممن أنصفوها، من باب:

ومليحةٍ شهدت لها ضَرَّاتُها … والفضل ما شهدت به الأعداءُ

ثم أُثنِّي بذكر شهادات بعض أعلام المسلمين ممن أشادوا بها (1).

--------------------------------------------

(1) وعامتها منقول من كتاب "الشيخ محمد بن عبد الوهاب" للشيخ أحمد بن حجر آل بوطامي -رحمه الله تعالى- ص (80 - 117) بتصرف.
ইংরেজি শক্তি যারা ইসলামী উম্মাহর জাগরণের কারণসমূহ পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি করছিল এবং এর সুফল অর্জিত হওয়ার আগেই একে সমূলে বিনাশ করার চেষ্টা করছিল।

তেমনিভাবে উসমানীয় সাম্রাজ্য—যাদের ছত্রছায়ায় চরমপন্থী (غالية) সুফি তরীকাগুলো বিস্তার লাভ করেছিল—সালাফি দাওয়াতের ওপর আক্রমণ শুরু করে। কারণ এই দাওয়াত তাদের মানহাজ এবং আকিদাহর কিছু সংশ্লিষ্ট বিষয়, যেমন: তাওয়াসসুল, মৃতদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা (استغاثة), এবং অন্যান্য নবউদ্ভাবন (بدع) ও শিরকপূর্ণ কার্যাবলির (شركيات) পরিপন্থী ছিল।

এর সাথে যোগ করুন রাফেজি (روافض) গোষ্ঠীকে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এবং আহলে সুন্নাতের বরেণ্য ইমামগণের নিন্দা করে এবং এমন সব শিরকপূর্ণ কাজে লিপ্ত হয় যা তারা দ্বীনের মৌলিক বিষয় (أصول الدين) বলে দাবি করে।

কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি যেন এমনটি মনে না করেন যে, ওয়াহাবীদের সাথে তাদের বিরোধীদের সংঘর্ষের ক্ষেত্র বা মতপার্থক্যের বিষয়গুলো কেবল ওয়াহাবীদেরই নিজস্ব কোনো বিষয়; বরং এটি হলো কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর ভিত্তি করে নেককার পূর্বসূরি (السلف الصالح) এবং প্রথম যুগের (الصدر الأول) আকিদাহ, যা "মানহাজুন নবুওয়াত" থেকে উৎসারিত। ওয়াহাবিয়াতের কৃতিত্ব কেবল এই আকিদাহকে পুনরুজ্জীবিত করা, এর সংস্কার সাধন, মুসলিমদের এ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া ও সচেতন করা এবং এর উপর থেকে বিদআতের ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলার মধ্যে নিহিত।

এই সত্যটি সমর্থনের জন্য আমি কেবল সেই শত শত মুসলিম মনীষীর সাক্ষ্য উল্লেখ করেই সীমাবদ্ধ থাকছি না যারা এই দাওয়াতের পক্ষে প্রতিরক্ষা করেছেন এবং এর মহান সংস্কারমূলক ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন; বরং আমি প্রথমে ইসলামের শত্রুদের সাক্ষ্যসমূহ উপস্থাপন করছি যারা এর প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন করেছে, এই নীতির ভিত্তিতে যে:

রূপসীর রূপের কথা সতিনরাও স্বীকার করেছে … আর শ্রেষ্ঠত্ব তো সেটিই যার সাক্ষ্য শত্রুরাও দেয়।

অতঃপর আমি কয়েকজন বরেণ্য মুসলিম মনীষীর সাক্ষ্য উল্লেখ করব যারা এই দাওয়াতের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) এর অধিকাংশ শেখ আহমদ বিন হাজার আল-বুতামি (রহিমাহুল্লাহ)-র "শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব" নামক গ্রন্থ (পৃ. ৮০-১১৭) থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিতভাবে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
جاء في "دائرة المعارف البريطانية":

"الحركة الوهابية اسم لحركة التطهير في الإسلام، والوهابيون يتبعون تعاليم الرسول وحده، ويهملون كل ما سواها، وأعداء الوهابية هم أعداء الإسلام الصحيح".

وقال المستشرق الأسباني "أرمانو":

"إن كل ما ألصق بالوهابية من سفاسف وأكاذيب لا صحة له على الإطلاق، فالوهابيون قوم يريدون الرجوع بالإسلام إلى عصر صحابة محمد صلى الله عليه وسلم ".

وقال المستشرق "جولدتسيهر" في كتابه "العقيدة والشريعة":

"إذا أردنا البحث في علاقة الإسلام السني بالحركة الوهابية نجد أنه مما يسترعي انتباهنا خاصة من وجهة النظر الخاصة بالتاريخ المديني الحقيقة الآتية:

يجب على كل من ينصب نفسه للحكم على الحوادث الإسلامية أن يعتبر الوهابيين أنصارًا للديانة الإسلامية على الصورة التي وضعها النبي وأصحابه، فغاية الوهابية هي إعادة الإسلام كما كان" اهـ.

وقال "برنارد لويس" في كتابه "العرب في التاريخ":

"وباسم الإسلام الخالي من الشوائب الذي ساد في القرن الأول، نادى محمد ابن عبد الوهاب بالابتعاد عن جميع ما أضيف للعقيدة والعبادات من زيادات باعتبارها بدعًا خرافية غريبة عن الإسلام الصحيح"اهـ
"এ্যানসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা"-তে বর্ণিত হয়েছে:

"ওয়াহাবি আন্দোলন হলো ইসলামে একটি বিশুদ্ধকরণ আন্দোলনের নাম। ওয়াহাবিরা শুধুমাত্র রাসূলের শিক্ষা অনুসরণ করেন এবং তদ্ব্যতীত অন্য সবকিছু বর্জন করেন; আর ওয়াহাবিদের শত্রুরা হলো সঠিক (صحيح) ইসলামেরই শত্রু।"

স্প্যানিশ প্রাচ্যবিদ "আরমানো" বলেছেন:

"ওয়াহাবিদের সাথে যুক্ত করা সমস্ত অসারতা ও মিথ্যাচারের কোনো ভিত্তি নেই। মূলত ওয়াহাবিরা এমন এক জাতি যারা ইসলামকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের (صحابة) যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।"

প্রাচ্যবিদ "গোল্ডজিহার" তার "আল-আকিদাহ ওয়াশ-শারিয়াহ" গ্রন্থে বলেছেন:

"আমরা যদি সুন্নি ইসলামের সাথে ওয়াহাবি আন্দোলনের সম্পর্কের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে চাই, তবে নাগরিক ইতিহাসের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিম্নোক্ত সত্যটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে:

ইসলামি ঘটনাবলির বিচারক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনকারী প্রত্যেকের উচিত ওয়াহাবিদের ইসলাম ধর্মের এমন সমর্থক হিসেবে গণ্য করা যা নবী এবং তাঁর সাহাবীগণের (أصحابه) মাধ্যমে নির্ধারিত রূপের ওপর প্রতিষ্ঠিত। মূলত ওয়াহাবিদের উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে তার আদি অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।" সমাপ্ত।

"বার্নার্ড লুইস" তার "আরব ইন হিস্ট্রি" গ্রন্থে বলেছেন:

"প্রথম শতাব্দীতে বিদ্যমান কলুষমুক্ত ইসলামের দোহাই দিয়ে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব আকিদা ও ইবাদতে সংযোজিত সমস্ত অতিরিক্ত বিষয়কে সঠিক (صحيح) ইসলামের পরিপন্থী কাল্পনিক নব-উদ্ভাবিত প্রথা (بدعًا) হিসেবে আখ্যায়িত করে সেগুলো বর্জনের আহ্বান জানান।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال المستشرق الإنكليزي "جب" في كتابه "الاتجاهات المدنية في الإسلام":

"أما مجال الفكر: فإن الوهابية بما قامت به من الفتن ضد التدخلات العدوانية، وضد الأصول القائلة بوحدة الوجود، التي تريد تدنيس التوحيد في الإسلام، فقد كانت عاملًا مفيدًا للخلاص الأبدي، وحركة تجديد أخذت تنجح في العالم الإسلامي شيئًا فشيئًا"اهـ

وقال بوكهارت: "وما الوهابية -إن شئنا أن نصفها- إلا الإسلام في طهارته الأولى"اهـ، وقال: "لكي نصف الدين الوهابي، فإن ذلك يعني وصف العقيدة الإسلامية، ولذا فإن علماء القاهرة أعلنوا أنهم لم يجدوا أي هرطقة -أي بدعة أو خروجًا عن الدين- في الوهابية"اهـ.

وذكر الدكتور "داكبرت" المؤرخ الألماني في كتابه "عبد العزيز" أن الشيخ محمد ابن عبد الوهاب كانت تملأ قلبه فكرة جديدة للقوى العربية، وأنه عزا تلاشي قوة العرب الذي أخضعهم للنفوذ الأجنبي إلى ابتعادهم عن سيرة السلف الصالح، وانقسامهم إلى شيع، وابتعادهم عن خُلُقهم العربي الأصيل، ثم قال د. "داكبرت": "ورأى الشيخ أن سبب الإنقاذ هو الرجوع إلى تعاليم الدين المشروعة، إلى تعاليم الرسول الصحيحة، فراح يبشر -بوحي من ضميره وعقيدته - بمحاربة البدع التي أُدْخِلت على الإسلام عبر العصور الغايرة، والضالِّ المضل من تقارير علماء الدين غيرَ مقيمٍ وزنًا إلا لما نصَّ عليه القرآن صراحة، أو لما يمكن نسبتُه بصورة قاطعةٍ للنبي محمد صلى الله عليه وسلم، وراح يحارب بكل قواه المستمدة من عقيدته الصلبة تقديسَ الأولياء، وجعلهم واسطة بين الله وبين الناس، وينادي
ইংরেজি প্রাচ্যবিদ "গিব" তাঁর "ইসলামে আধুনিক প্রবণতাসমূহ" গ্রন্থে বলেছেন:

"চিন্তা ও দর্শনের ক্ষেত্রে: ওহাবি আন্দোলন আক্রমণাত্মক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং ইসলামের তাওহিদ (توحيد)-কে কলুষিত করতে চাওয়া 'ওয়াহদাতুল উজুদ' (وحدة الوجود - অস্তিত্বের একত্ববাদ) বিষয়ক সেইসব মূলনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে চিরন্তন মুক্তির জন্য একটি উপকারী উপাদান এবং একটি সংস্কারমূলক আন্দোলন (حركة تجديد) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যা মুসলিম বিশ্বে ধীরে ধীরে সাফল্য লাভ করছে।"

বুর্খহার্ট বলেছেন: "আমরা যদি ওহাবি মতবাদকে বর্ণনা করতে চাই, তবে তা আদিম পবিত্রতায় উদ্ভাসিত ইসলাম ছাড়া আর কিছুই নয়।" তিনি আরও বলেন: "ওহাবি আদর্শের বর্ণনা দেওয়ার অর্থ হলো ইসলামী আকিদা (عقيدة)-এর বর্ণনা দেওয়া। একারণেই কায়রোর উলামায়ে কেরাম ঘোষণা করেছেন যে, তারা ওহাবি মতবাদের মধ্যে কোনো ধর্মদ্রোহিতা—অর্থাৎ কোনো বিদআত (بدعة) বা দ্বীন থেকে বিচ্যুতি—খুঁজে পাননি।"

জার্মান ঐতিহাসিক ডক্টর "ডাকবার্ট" তাঁর "আবদুল আজিজ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের হৃদয় আরব শক্তির পুনর্জাগরণের এক নতুন ভাবনায় আচ্ছন্ন ছিল। তিনি আরব শক্তির বিলুপ্তি—যা তাদের বিদেশি প্রভাবের অধীনে নিয়ে এসেছিল—তাকে দায়ী করেছেন সালফে সালেহীন (سلف صالح)-এর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, বিভিন্ন উপদলে (شيع) বিভক্তি এবং তাদের মূল আরবীয় চরিত্র থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে। অতঃপর ডক্টর ডাকবার্ট বলেন: "শেখ মনে করতেন যে, মুক্তির পথ হলো দ্বীনের শরয়ী বিধানের দিকে এবং রাসূলের সহিহ (صحيح) শিক্ষার দিকে ফিরে যাওয়া। তাই তিনি—নিজের বিবেক ও আকিদা (عقيدة)-এর তাড়নায়—বিগত শতাব্দীগুলোতে ইসলামের ভেতর অনুপ্রবেশকারী বিদআত (بدعة)-সমূহের বিরুদ্ধে এবং ধর্মীয় আলেমদের বিভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর (ضال مضل) ব্যাখ্যাগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার দাওয়াত দিতে থাকেন। তিনি পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট নস (نص) অথবা যা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে অকাট্যভাবে সম্পর্কিত করা সম্ভব, তা ব্যতীত অন্য কিছুর গুরুত্ব দেননি। তিনি তাঁর সুদৃঢ় আকিদা (عقيدة) থেকে প্রাপ্ত সর্বশক্তি দিয়ে আউলিয়াদের অতি-পবিত্রকরণ এবং তাদেরকে আল্লাহ ও মানুষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী (واسطة) হিসেবে গ্রহণ করার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন এবং এই আহ্বান জানান..."
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بهدم الأضرحة، ومزارات الأولياء، وإزالة معالمها، اقتداءً بالنبي الكريم، الذي حارب بدعة تقديس الهياكل، وعبادة الأصنام الموروثة من الجاهلية"اهـ. ملخصًا.

وقال المؤرخ الفرنسي الشهير "سيديو" ما معناه:

"إن انكلترا وفرنسا حين علمتا بقيام محمد بن عبد الوهاب وابن سعود وبانضمام جميع العرب إليهما لأن قيامهما كان لإحياء كلمة الدين، خافتا أن ينتبه المسلمون فينضموا إليهما، وتذهب عنهم غفلتهم، ويعود الإسلام كما كان في أيام عمر رضي الله عنه، فيترتب على ذلك حروب دينية وفتوحات إسلامية ترجع أوروبا منها في خسران عظيم، فحرضتا الدولة العلية على حرجهم، وهي فوضت ذلك إلى محمد علي باشا"اهـ (1).

…

وفي كتابه "الحياة الأدبية في جزيرة العرب" ص (13) قال الدكتور "طه حسين" مشيرًا إلى المذهب الوهابي:

--------------------------------------------

(1) هكذا نقله عنه أحمد بن سعيد البغدادي في كتابه "نديم الأديب" ص (11)، حيث قال: "وأما سبب حرب صاحب مصر لهذه الطائفة فقد ذكره المؤرخ الشهير الموسيو (سيديو) الفرنساوي، وكلامه هذا محذوف من ترجمة كتابه التي أمر بها المرحوم على باشا مبارك، وخلاصة معناه"، ثم ذكر كلامه المثبت أعلاه وانظر: "الشيخ محمد بن عبد الوهاب" للشيخ أحمد بن حجر آل بوطامي ص (97).
"...সমাধিস্তম্ভ ও ওলীদের মাজারসমূহ গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং এগুলোর চিহ্নসমূহ মিটিয়ে ফেলার মাধ্যমে; যা মহানবী (সা.)-এর অনুসরণে করা হয়েছে, যিনি গম্বুজ বা স্থাপত্যকে পবিত্র জ্ঞান করার নব উদ্ভাবন (بدعة) এবং জাহেলি যুগ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত প্রতিমা পূজার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।" - সংক্ষেপে সমাপ্ত।

বিখ্যাত ফরাসি ঐতিহাসিক "সিডিও" তাঁর বক্তব্যের সারমর্মে বলেছেন:

"নিশ্চয়ই ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স যখন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ও ইবনে সউদের উত্থান এবং তাঁদের সাথে সমস্ত আরবের যোগদানের কথা জানতে পারল—যেহেতু তাঁদের এই উত্থান ছিল দ্বীনের বাণীকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য—তখন দেশ দুটি ভয় পেয়ে গেল যে, মুসলমানরা সজাগ হয়ে তাঁদের সাথে যোগ দিতে পারে। এর ফলে মুসলিম উম্মাহর অসতর্কতা দূর হয়ে যাবে এবং ইসলাম পুনরায় উমর (রা.)-এর আমলের মতো শক্তিশালী রূপে ফিরে আসবে। এর ফলে ধর্মীয় যুদ্ধ ও ইসলামি বিজয় সূচিত হবে যার দরুন ইউরোপ বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই তারা উসমানীয় সাম্রাজ্যকে তাঁদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিল এবং উসমানীয় কর্তৃপক্ষ এই দায়িত্ব মুহাম্মদ আলী পাশার ওপর ন্যস্ত করল।" - সমাপ্ত (১)।

…

ডক্টর "তহা হোসেন" তাঁর "আল-হায়াতুল আদাবিয়্যাহ ফি জাজিরাতিল আরব" গ্রন্থের ১৩ পৃষ্ঠায় ওহাবি মতবাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) আহমাদ বিন সাঈদ আল-বাগদাদি তাঁর "নাদিমুল আদিব" গ্রন্থের ১১ পৃষ্ঠায় এভাবেই এটি উদ্ধৃত করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: "আর মিশরের অধিপতির এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণ বিখ্যাত ফরাসি ঐতিহাসিক মসিউ (সিডিও) উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যটি সেই বইয়ের অনুবাদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যার নির্দেশ মরহুম আলী পাশা মুবারক দিয়েছিলেন। এর মূল নির্যাস হলো—", এরপর তিনি উপরে বর্ণিত কথাগুলো উল্লেখ করেন। আরও দেখুন: শায়খ আহমাদ বিন হাজার আল-বুতামি রচিত "আশ-শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব", পৃষ্ঠা ৯৭।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
"قلت: إن هذا الذهب جديد وقديم معًا، والواقع أنه جديد بالنسبة إلى المعاصرين، ولكنه قديم في حقيقة الأمر، لأنه ليس إلا الدعوة القويمة إلى الإسلام الخالص النقي المطهر من كل شوائب الشرك والوثنية، هو الدعوة إلى الإسلام كما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم خالصًا لله وحده، مُلغيًا كل واسطة بين الله والناس"اهـ.

وقال أيضاً في صفحتَيْ (14،13):

" … ولولا أن الترك والمصرين اجتمعوا على حرب هذا المذهب، وحاربوه في داره بقوى وأسلحة لا عهد لأهل البادية بها، لكان من المرجو أن يُوحِّدَ هذا المذهبُ كلمة العرب في القرن الثاني عشر والثالث عشر الهجري كما وحد ظهور الإسلام كلمتهم في القرن الأول".

وقال "طه حسين" أيضاً: "إذا كان الوهابيون لم يستطيعوا تكرار الفتح الإسلامي، فقد استطاعوا أن يبرهنوا على إمكانية تحقيقه، أو على الأقل استطاعوا أن يدعموا حجة الرافضين للحل التغريبي" (1).

موقف الشيخ "محمد عبده":

قال أحمد أمين (2): "وفي مصر شب الشيخ محمد عبده فرأى تعاليم ابن عبد الوهاب تملأ الجو، فرجع إلى هذه التعاليم في أصولها من عهد

--------------------------------------------

(1) نقله عنه في "السعوديون والحل الإسلامي" ص (110).

(2) في كتابه "من زعماء الإصلاح" ص (19).
আমি বলেছি: "এই স্বর্ণটি একই সাথে নতুন এবং প্রাচীন। বাস্তবতা হলো, এটি সমসাময়িকদের কাছে নতুন হলেও প্রকৃত বিচারে এটি প্রাচীন; কারণ এটি শিরক ও পৌত্তলিকতার সকল পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত বিশুদ্ধ, নির্মল ও পরিচ্ছন্ন ইসলামের সঠিক দাওয়াত ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি সেই ইসলামের দিকেই আহ্বান যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়ে এসেছিলেন—তা একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ এবং আল্লাহ ও মানুষের মাঝে সমস্ত মাধ্যমকে বিলুপ্তকারী।" সমাপ্ত।

তিনি ১৩ ও ১৪ পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন:

" … আর যদি তুর্কি ও মিশরীয়রা এই মতাদর্শের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ না হতো এবং তাদের নিজ ভূখণ্ডে এমন শক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ না করত যা মরুবাসীদের কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত, তবে আশা করা যেত যে এই মতাদর্শ দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ হিজরি শতাব্দীতে আরবদের ঐক্যবদ্ধ করত, যেমনটি ইসলামের আবির্ভাব প্রথম শতাব্দীতে তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল।"

তাহা হোসেন আরও বলেন: "ওয়াহাবিরা যদি ইসলামি বিজয়ের পুনরাবৃত্তি করতে সক্ষম নাও হয়ে থাকে, তবুও তারা এর সম্ভাব্যতা প্রমাণ করতে পেরেছে, অথবা অন্তত তারা পশ্চিমা সমাধানের প্রত্যাখ্যানকারীদের যুক্তিকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে" (১)।

শেখ "মুহাম্মদ আবদুহ"-এর অবস্থান:

আহমদ আমিন (২) বলেন: "মিশরে শেখ মুহাম্মদ আবদুহ যখন বেড়ে ওঠেন, তখন তিনি ইবনে আবদুল ওয়াহাবের শিক্ষাগুলোকে চারদিকে পরিব্যাপ্ত দেখেন। ফলে তিনি এই শিক্ষাগুলোর মূল উৎসের দিকে ফিরে যান সেই যুগ থেকে..."

--------------------------------------------

(১) 'আস-সাউদিয়্যুন ওয়াল হাল্লুল ইসলামি' পৃষ্ঠা (১১০) থেকে উদ্ধৃত।

(২) তাঁর 'মিন যুয়ামাইল ইসলাহ' গ্রন্থের পৃষ্ঠা (১৯)-এ।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الرسول صلى الله عليه وسلم إلى عهد ابن تيمية إلى عهد ابن عبد الوهاب وكان أكبر أمله أن يقوم في حياته للمسلمين بعمل صالح، فأداه اجتهاده وبحثه إلى هذين الأساسين اللذين بني عليهما محمد بن عبد الوهاب تعاليمه، وهما:

1 - محاربة البدع وما دخل على العقيدة الإسلامية من فساد بإشراك الأولياء والقبور والأضرحة مع الله تعالى.

2 - فتح باب الاجتهاد الذي أغلقه ضعاف العقول من المقلدين، وجرد نفسه لخدمة هذين الغرضين" …

وفي كتابه "خمسون عامًا في جزيرة العرب" يذكر الشيخ حافظ وهبة أنه سمع الشيخ محمد عبده مفتي مصر "يثني في دروسه بالأزهر على الشيخ محمد بن عبد الوهاب، ويلقبه بالمصلح العظيم، ويلقي تبعة وقف دعوته الإصلاحية على الأتراك، وعلى محمد علي الألباني لجهلهم، ومسايرتهم لعلماء عصرهم، ممن ساروا على سنة من سبقهم من مؤيدي البدع والخرافات، ومجافاة حقائق الإسلام"اهـ (1).

استدراك:

إن القول بأن دعوة الشيخ محمد عبده صدًى لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب لا يخلو من مسامحة، ولا شك في وجود بعض الملامح المشرقة في

--------------------------------------------

(1) نقلًا من "من زعماء الإصلاح" لأحمد أمين ص (21).
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে ইবনে তাইমিয়ার যুগ এবং ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের যুগ পর্যন্ত। তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আশা ছিল তাঁর জীবদ্দশায় মুসলমানদের জন্য কোনো নেক আমল সম্পাদন করা। তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং গবেষণা তাঁকে এমন দুটি ভিত্তির দিকে পরিচালিত করেছিল যার ওপর মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সেগুলো হলো:

1 - বিদআত (بدعة) এবং আল্লাহর সাথে ওলি, কবর ও মাজারকে অংশীদার করার মাধ্যমে ইসলামী আকিদায়ে (عقيدة) যে বিকৃতি প্রবেশ করেছিল তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।

2 - ইজতিহাদের (اجتهاد) দ্বার উন্মোচন করা যা মুকাল্লিদদের (مقلدين) মধ্যে দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা রুদ্ধ করে দিয়েছিল এবং তিনি নিজেকে এই দুটি উদ্দেশ্য সাধনে উৎসর্গ করেছিলেন …

এবং তাঁর "খামসুনা আমান ফি জাজিরাতিল আরব" গ্রন্থে শেখ হাফিজ ওয়াহবা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মিশরের মুফতি শেখ মুহাম্মদ আবদুহকে আল-আযহারের পাঠদানে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের প্রশংসা করতে শুনেছেন এবং তাঁকে 'মহান সংস্কারক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি তাঁর সংস্কারমূলক দাওয়াত (دعوة) থমকে যাওয়ার দায়ভার তুর্কিদের ওপর এবং মুহাম্মদ আলী আলবেনীয়র ওপর তাদের অজ্ঞতা এবং সমসাময়িক আলেমদের অনুকরণের কারণে চাপিয়েছেন; যারা তাদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করত যারা বিদআত (بدعة) ও কুসংস্কারের সমর্থক ছিল এবং ইসলামের প্রকৃত সত্য থেকে বিমুখ ছিল। সমাপ্ত (১)।

পুনর্বিবেচনা (استدراك):

শেখ মুহাম্মদ আবদুহর দাওয়াত (دعوة) শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতেরই প্রতিধ্বনি—এ কথা বলা কিছুটা উদারতাপূর্ণ মন্তব্য (مسامحة) থেকে মুক্ত নয়; তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এর মধ্যে কিছু উজ্জ্বল দিক বিদ্যমান...

--------------------------------------------

(১) আহমদ আমীন রচিত "মিন জুয়ামাইল ইসলাহ", পৃষ্ঠা (২১) থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
دعوة الأول، لكن أن نغلو في وصفها حتى نعدها امتدادًا للمنهج السلفي الواضح الذي تبناه ابن عبد الوهاب فهذه مجازفة، أضف إلى ذلك النّفس الاعتزالي الذي اتسمت به دعوة الشيخ محمد عبده، التي تميزت بالمبالغة في الاعتداد بالعقل، والانهزام أمام الغرب المكذِّب بعالم الغيب.

وإذا كان الشيخ محمد عبده قد هاجم بدع الصوفية وانحرافاتهم، الأمر الذي يلتقي به مع الوهابية، لكن ذلك بمجرده لا يكفي لوصف منهج محمد عبده بأنه سلفي، يقول د. محمد محمد حسين رحمه الله:

" .. حتى خلطوا بهم - أي بالوهابيين السلفين - كل من دعا بهذه الدعوة - أي: مهاجمة الصوفية - واعتبروه منهم، غافلين عن أن التصوف يمكن أن يهاجم من منطلقين مختلفين:

- من منطلق سلفي يهاجم الابتداع.

- ومن منطلق عَلْماني ينكر الغيبيات، ويخضعها للتفكير الحر، ومن هذا المنطلق خلطوا بين الأفغاني ومحمد عبده، وبن محمد بن عبد الوهاب"اهـ (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: "دعاوى المناوئين لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب" ص (29).

استدراك:

ويكفي للتدليل على بعد الشيخ محمد عبده عن المنهج السلفي أنه في "رسالة التوحيد" لم يورد توحيد العبادة الذي هو أول واجب على المكلف، حتى استدرك عليه تلميذه العلامة السيد محمد رشيد رضا رحمه الله قائلاً: فات الأستاذَ أن يصرح بتوحيد العبادة، وهو أن =
প্রথমজনের দাওয়াত, তবে এর বর্ণনায় আমাদের এতটুকু অতিরঞ্জন করা যে একে ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক গৃহীত সুস্পষ্ট সালাফি মানহাজ (المنهج السلفي)-এর একটি সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা হবে একটি দুঃসাহস। এর সাথে যুক্ত হয়েছে শেখ মুহাম্মদ আবদুহ-র দাওয়াতের সেই মুতাজিলা ভাবধারা (النفس الاعتزالي), যা আকল বা বিবেকের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা এবং অদৃশ্য জগতে (عالم الغيب) অবিশ্বাসী পশ্চিমাদের সামনে পরাজয়বরণ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

যদিও শেখ মুহাম্মদ আবদুহ সুফিদের বিদআত (بدع) ও তাদের বিচ্যুতিগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলেন, যে বিষয়টি তাকে ওয়াহাবিবাদীদের সাথে একবিন্দুতে মিলিত করে, কিন্তু শুধুমাত্র এটিই মুহাম্মদ আবদুহ-র মানহাজকে (منهج) সালাফি (سلفي) হিসেবে অভিহিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:

" .. এমনকি তারা তাদের সাথে—অর্থাৎ সালাফি ওয়াহাবিবাদীদের সাথে—সেই প্রতিটি ব্যক্তিকে গুলিয়ে ফেলেছে যারা এই দাওয়াতের দিকে—অর্থাৎ সুফিবাদকে আক্রমণের দিকে—আহ্বান করেছে এবং তাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত মনে করেছে। তারা এই বিষয়টি সম্পর্কে গাফেল ছিল যে, তাসাউফকে (التصوف) দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আক্রমণ করা সম্ভব:

- একটি সালাফি (سلفي) দৃষ্টিকোণ থেকে, যা নব-উদ্ভাবনকে (الابتداع) আক্রমণ করে।

- এবং একটি ধর্মনিরপেক্ষ (علمانية) দৃষ্টিকোণ থেকে, যা অদৃশ্যের বিষয়গুলোকে (الغيبيات) অস্বীকার করে এবং সেগুলোকে মুক্তচিন্তার অধীন করে ফেলে। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তারা আফগানী ও মুহাম্মদ আবদুহ-র সাথে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবকে গুলিয়ে ফেলেছে।" সমাপ্ত (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "দাওয়া আল-মুনায়িইন লি-দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব" পৃষ্ঠা (২৯)।

সংশোধনমূলক সংযোজন (استدراك):

সালাফি মানহাজ (المنهج السلفي) থেকে শেখ মুহাম্মদ আবদুহ-র দূরত্বের প্রমাণ হিসেবে এটিই যথেষ্ট যে, তিনি তার 'রিসালাতুত তাওহীদ' গ্রন্থে 'তাওহিদুল ইবাদাহ' (توحيد العبادة) উল্লেখ করেননি, যা একজন মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির (المكلف) ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব (واجب)। এমনকি তার ছাত্র আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রশিদ রিদা (রাহিমাহুল্লাহ) তার ভুল সংশোধন (استدرك) করে বলেছেন: ওস্তাদ তাওহিদুল ইবাদাহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন, আর তা হলো এই যে =
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= يعبد الله وحده، ولا يُعبَدَ غَيرُه بدعاءٍ، ولا بغير ذلك مما يتقرب به المشركون إلى ما عبدوا معه من الصالحين والأصنام … هذا التوحيد هو الذي كان أول ما يدعو إليه كلُّ رسولٍ قومَه بقوله: {أعبُدُوا اَللهَ مَا لَكُم مِن إِلَهَ غَيرُه}.

وقال الدكتور محمد خليل هراس رحمه الله في كتابه "دعوة التوحيد":

"وقد عرَّفه -أي: التوحيد- الشيخ محمد عبده رحمه الله في رسالة التوحيد بأنه: (علم يُبحث فيه عن وجود الله، وما يجب أن يثبت له من صفات، وما يجوز أن يوصف به، وما يجب أن يُنفى عنه، وعن الرسل لإثبات رسالتهم، وما يجب أن يكونوا عليه، وما يجوز أن ينسب إليهم، وما يمتنع أن يلحق بهم)، فلم يذكر في تعريفه شئون الغيب، وأحوال المعاد" -مع أن الحد ينبغي أن يكون جامعًا مانعًا- ثم قال بعد ذلك: "وأصل معنى التوحيد اعتقاد أن الله واحد لا شريك له، وسمِّي هذا العلم به تسميةً له بأهم أجزائه، وهو إثبات الوحدة لله في الذات والفعل في خلق الأكوان، وأنه وحده مرجع كل كون، ومنتهى كل قصد، وهذا المطلب كان الغاية العظمى من بعثة النبي صلى الله عليه وسلم كما تشهد به آيات الكتاب العزيز) "اهـ.

وقد غلط الشيخ محمد عبده في اعتباره توحيد الربوبية والانفراد بالخلق هو الغاية العظمى من بعثة الرسل -عليهم الصلاة والسلام- … ولعل فضيلة الشيخ عبده في هذا كان متأثرًا بالأشعرية الذين جعلوا الانفراد بالخلق هو أخص خصائص الإلهية، واهتموا في كتبهم بإقامة البراهين على هذا النوع من التوحيد دون أن يشيروا إلى توحيد الإلهية الذي هو أقصى الغايات ونهاية النهايات"اهـ انظر: "دعوة التوحيد" ص (8 - 10).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করা হবে এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারো নিকট প্রার্থনা বা অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে ইবাদত করা হবে না, যা দ্বারা মুশরিকরা তাদের উপাস্য নেককার বান্দা ও মূর্তিদের নৈকট্য পাওয়ার চেষ্টা করত … এই তাওহিদই ছিল সেই মূল বিষয় যার দিকে প্রত্যেক রাসুল সর্বপ্রথম স্বীয় কওমকে এই বলে আহ্বান জানিয়েছিলেন যে: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই}।

ডক্টর মুহাম্মদ খলিল হাররাস (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "দাওয়াতুত তাওহিদ" গ্রন্থে বলেছেন:

"শাইখ মুহাম্মদ আবদুহু (রাহিমাহুল্লাহ) 'রিসালাতুত তাওহিদ' গ্রন্থে তাওহিদের—অর্থাৎ একত্ববাদের—সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: (এটি এমন এক শাস্ত্র যাতে আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, এবং তাঁর জন্য যেসকল গুণাবলি বা সিফাত সাব্যস্ত করা আবশ্যক, যেসকল গুণে তাঁকে বিশেষিত করা বৈধ, এবং যা তাঁর থেকে নাকচ করা আবশ্যক তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর রাসুলদের রিসালাত প্রমাণের লক্ষ্যে তাঁদের সম্পর্কে যা আবশ্যক, তাঁদের যে গুণাবলি থাকা আবশ্যক, যা তাঁদের প্রতি সম্বন্ধ করা বৈধ এবং যা তাঁদের ক্ষেত্রে হওয়া অসম্ভব—সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়)। তিনি তাঁর সংজ্ঞায় অদৃশ্যের বিষয়াবলি এবং পরকালের অবস্থাসমূহ উল্লেখ করেননি—অথচ একটি সংজ্ঞা হওয়া উচিত ছিল পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট—অতঃপর তিনি এরপর বলেছেন: "আর তাওহিদের মূল অর্থ হলো এই বিশ্বাস পোষণ করা যে আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর এই শাস্ত্রের নামকরণ এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের ভিত্তিতে করা হয়েছে, যা হলো বিশ্বজগত সৃষ্টিতে আল্লাহর সত্তা ও কর্মে তাঁর একত্ব সাব্যস্ত করা; এবং তিনিই একমাত্র নিখিল বিশ্বের প্রত্যাবর্তনস্থল এবং সকল উদ্দেশ্যের শেষ সীমা। আর এই বিষয়টিই ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরণের মহান লক্ষ্য, যেমনটি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াতসমূহ সাক্ষ্য দেয়)" সমাপ্ত।

শাইখ মুহাম্মদ আবদুহু তাওহিদে রুবুবিয়্যাহ এবং সৃষ্টিতে আল্লাহর এককত্বকে রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রেরণের মহান লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করে ভুল করেছেন … সম্ভবত শাইখ আবদুহু এক্ষেত্রে আশআরিপন্থীদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যারা সৃষ্টিতে আল্লাহর এককত্বকেই উলুহিয়্যাহর প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহে তাওহিদের এই প্রকারটির ওপর প্রমাণাদি উপস্থাপনে সচেষ্ট হয়েছেন, অথচ তাঁরা তাওহিদে উলুহিয়্যাহর দিকে কোনো ইঙ্গিত করেননি যা হলো সর্বোচ্চ লক্ষ্য এবং চূড়ান্ত গন্তব্য।" সমাপ্ত। দেখুন: "দাওয়াতুত তাওহিদ" পৃষ্ঠা (৮ - ১০)।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال أحمد بن سعيد البغدادي:

"وأما حقيقة هذه الطائفة فإنها حنبلية المذهب، وجميع ما ذكر المؤرخون عنها من جهة الاعتقاد محرف، وفيه تناقض كلي لمن اطلع عليه بتأمل، لأن غالب مؤرخي الشرقيين ينقلون عن الكتب الإفرنجية، فإن كان المؤرخ المنقول عنه صاحب دراية وصادق الرواية تجد أن من يترجم كتابه يجعل الترجمة على قدر اللفظ فيضيع مزية الأصل، وإن كان المؤرخ غير صادق الرواية فمِن باب أولى، ومنهم من يقول إن هذه الطائفة تنهى عن وصف النبي عليه الصلاة والسلام بأوصاف المدح والتعظيم، ويقول إنها تؤمن بقدم القرآن، وبهذا يظهر بدهية التناقض، لأن من يؤمن بقدم القرآن يؤمن بما فيه، وفي القرآن الشريف مدح النبي عليه الصلاة والسلام، قال تعالى: {وَإِنَكَ لَعَلىَ خُلُقٍ عَظِيمٍ}، وقال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا}، وآيات غير هذه كثيرة، أما ما نهى عنه محمد بن عبد الوهاب فإنما هو الوصف بأوصاف الألوهية كالقدرة والإرادة وعلم الغيب كما وصف النصارى عيسى عليه وعلى نبينا أفضل الصلاة وأتم السلام، فقد قال عليه الصلاة والسلام: "اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنًا يُعبد"، وَمَنْ أراد أن يعرف جليًّا اعتقاد هذه الطائفة فليطالع كتب مذهب الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه فإنه مذهبهم .. " إلى أن قال رحمه الله:

"وهذه الطائفة بريئة مما ينسب إليها الجاهلون، ومَنْ سَبَّها يأثم، والله أعلم بغيبه وأحكم"اهـ (1).

--------------------------------------------

(1) "نديم الأديب" ص (11).
আহমদ বিন সাঈদ আল-বাগদাদি বলেছেন:

"আর এই দলটির প্রকৃত স্বরূপ হলো তারা হাম্বলি মাযহাবের অনুসারী। ইতিহাসবিদরা তাদের আকিদা সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন তা বিকৃত এবং যারা মনোযোগ দিয়ে তা পর্যবেক্ষণ করবেন তাদের নিকট এতে পূর্ণাঙ্গ স্ববিরোধিতা পরিলক্ষিত হবে। কারণ প্রাচ্যের অধিকাংশ ঐতিহাসিক মূলত ইউরোপীয় কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি দেন। সুতরাং যদি সেই উদ্ধৃত ঐতিহাসিক বিজ্ঞ বা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন (صاحب دراية) এবং বর্ণনায় সত্যবাদী (صادق الرواية) হন, তবে দেখা যায় যিনি তার কিতাব অনুবাদ করছেন তিনি আক্ষরিক অনুবাদের ওপর নির্ভর করেন, ফলে মূল রচনার বিশেষত্ব হারিয়ে যায়। আর যদি ঐতিহাসিক বর্ণনায় সত্যবাদী (غير صادق الرواية) না হন, তবে তো বিভ্রান্তি ঘটা আরও স্বাভাবিক। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, এই দলটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশংসা ও মহিমার গুণাবলীতে ভূষিত করতে নিষেধ করে, আবার তারা দাবি করে যে এই দলটি কুরআনের অনাদিত্বে (قدم القرآن) বিশ্বাসী। এর মাধ্যমেই স্ববিরোধিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে; কারণ যারা কুরআনের অনাদিত্বে (قدم القرآن) বিশ্বাস করে, তারা এতে যা আছে তার ওপরও ঈমান রাখে। আর পবিত্র কুরআনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনেক প্রশংসা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী}, এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করো}। এছাড়াও এই বিষয়ে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। মূলত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ঐ সকল গুণাবলীতে নবীকে ভূষিত করতে নিষেধ করেছেন যা কেবল উলুহিয়্যাত বা ঈশ্বরত্বের বৈশিষ্ট্য, যেমন: সার্বভৌম ক্ষমতা, ইচ্ছা এবং অদৃশ্যের জ্ঞান (علم الغيب); যেভাবে খ্রিস্টানরা ঈসা (আ.)-কে গুণান্বিত করেছিল। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং বলেছেন: 'হে আল্লাহ, আপনি আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার ইবাদত করা হয়'। সুতরাং কেউ যদি এই দলটির আকিদা স্পষ্টভাবে জানতে চায়, তবে সে যেন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাযি.)-এর মাযহাবের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করে, কেননা সেটিই তাদের মাযহাব...।" ইমাম বাগদাদি (রহ.) আরও বলেন:

"এই দলটি অজ্ঞদের দ্বারা আরোপিত অপবাদ থেকে মুক্ত এবং যারা তাদের গালি দেয় তারা পাপে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তায়ালা অদৃশ্যের বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত এবং প্রজ্ঞাবান।" সমাপ্ত (১)।

--------------------------------------------

(১) "নাদিমুল আদীব", পৃষ্ঠা (১১)।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكتب الأستاذ محمد كرد علي رحمه الله فصلًا ممتعًا عن أصل الوهابية في كتابه "القديم والحديث"، ثُم قال في أهل نجد:

"وما ابن عبد الوهاب إلا داعية، هداهم من الضلال، وساقهم إلى الدين السمح، وإذا بدت شدة من بعضهم، فهي ناشئة من نشأة البادية، وقلما رأينا شعبًا من أهل الإسلام يغلب عليه التدين والصدق والإخلاص، مثل هؤلاء القوم.

وقد اختبرنا عامتهم وخاصتهم، سنين طويلة، فلم نرهم حادوا عن الإسلام قِيدَ غَلْوَة (1)، وما يتهمهم به أعداؤهم، فزورٌ لا أصل له"اهـ

وقال الدكتور محمد عبد الله ماضي في كتابه "حاضر العالم الإسلامي":

"كما بُعث الرسول محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم بين العرب، وهم في فوضى شاملة، وانحطاط عام، وتفكك وانحلال، ليس لهم وحدة تربطهم، ولا فكرة صالحة تجمعهم، فنشر مبادئ الإسلام بينهم، وجمعهم على التوحيد، فوحَّد بينهم في العقيدة، فأصبحوا يدينون بمبدأ واحد، ويعبدون الله وحده، فوحَّد بينهم في المظهر، وجعل منهم أمة واحدة عربية مسلمة، قوية عزيزة الجانب، وأقام لهم دولة على أساس من الدين الحنيف.

فكذلك أخذ المصلح المديني، والزعيم الإسلامي محمد بن عبد الوهاب في منتصف القرن الثاني عشر الهجري، يدعو إلى تصحيح العقيدة، والرجوع إلى

--------------------------------------------

(1) أي: مقدار رمية سهم، وتقدر بثلاث مائة ذراع إلى أربع مئة.
উস্তাদ মুহাম্মদ কুর্দ আলী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-কাদীম ওয়াল-হাদীস' গ্রন্থে ওয়াহাবিয়াতের উৎস সম্পর্কে একটি চমৎকার অধ্যায় লিখেছেন, অতঃপর তিনি নজদবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন:

"ইবনে আব্দুল ওয়াহাব একজন দাঈ বৈ কিছু নন; তিনি তাদেরকে পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের পথে এনেছেন এবং সহজ-সরল দ্বীনের দিকে পরিচালিত করেছেন। যদি তাদের কারো মধ্যে কঠোরতা প্রকাশ পায়, তবে তা মরুচারী স্বভাব থেকেই উদ্ভূত। ইসলাম অনুসারীদের মধ্যে এমন কোনো জনগোষ্ঠী আমরা খুব কমই দেখেছি যাদের মাঝে দ্বীনদারি, সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতা এই কওমের মতো প্রবল।

আমরা দীর্ঘ বছর ধরে তাদের সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে পরীক্ষা করেছি, কিন্তু তাদেরকে ইসলামের পথ থেকে এক তিল পরিমাণও বিচ্যুত হতে দেখিনি (১)। আর তাদের শত্রুরা তাদের বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেয়, তা ভিত্তিহীন (لا أصل له) মিথ্যা।" সমাপ্ত।

ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ মাদী তাঁর 'হাদিরুল আলামিল ইসলামি' গ্রন্থে বলেছেন:

"যেভাবে রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরবদের মাঝে প্রেরিত হয়েছিলেন যখন তারা চরম বিশৃঙ্খলা, ব্যাপক অবক্ষয় এবং বিভেদ ও পতনের মাঝে নিমজ্জিত ছিল; তাদের কোনো ঐক্যবদ্ধ করার বন্ধন ছিল না এবং তাদের একত্রিত করার মতো কোনো সঠিক আদর্শ ছিল না। অতঃপর তিনি তাদের মাঝে ইসলামের মূলনীতিগুলো প্রচার করলেন এবং তাদের তাওহীদের ওপর একত্রিত করলেন। তিনি তাদের আকিদার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ করলেন, ফলে তারা এক আদর্শের অনুসারী হলো এবং কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করতে শুরু করল। তিনি তাদের বাহ্যিকভাবেও এক করলেন এবং তাদের একটি শক্তিশালী ও সম্মানিত একতাবদ্ধ আরবি মুসলিম উম্মাহ হিসেবে গড়ে তুললেন এবং দ্বীনে হানিফের ভিত্তিতে তাদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলেন।

অনুরূপভাবে, দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীর মধ্যভাগে মদিনার সংস্কারক ও ইসলামী নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব আকিদা সংশোধন এবং প্রত্যাবর্তনের দাওয়াত দিতে শুরু করেন...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: একটি তীরের পাল্লা বা নিক্ষেপের দূরত্ব, যা প্রায় তিনশ থেকে চারশ হাতের সমান।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
مبادئ الإسلام الصحيحة، واعتناقها من جديد بين النجدين، وكانوا قد فسدت عقيدتهم، وضلَّت سيرتهم "اهـ.

وقال الدكتور محمد ضياء الدين الريس أستاذ التاريخ الإسلامي بجامعة فؤادا لأول:

"والوهابيون يتبعون في فروع الأحكام حيث الفقه، مذهب الإمام أحمد بن حنبل، وفي العقائد مذهب أهل السنة، وبخاصة - كما قررها وفسرها الإمام السني، العلامة ابن تيمية.

وابن تيمية هو الأستاذ المباشر لابن عبد الوهاب (1)، وإن فصل بينهما أربعة قرون (2).

--------------------------------------------

(1) "كان الشيخ محمد بن عبد الوهاب محبًّا لابن تيمية وما أحبَّ أحدًا من علماء الدين الذين سبقوه، بعد الإمام أحمد بن حنبل، كما أحب ابن تيمية"اهـ. من "حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب" لحسين خزعل ص (334).

(2) ولئن وصف الأستاذ مالك بن نبي دعوة شيخ الإسلام ابن تيمية وأثرها في التراث الإسلامي بأنها: "تكوِّن الترسانة الفكرية التي لا زالت تمد الحركات الإصلاحية بالأفكار النموذجية إلى اليوم" -كما في تقديمه لكتاب "حتى يغيروا ما بأنفسهم" لجودت سعيد ص (9) - فإن الدعوة الوهابية هي الثمرة الكبرى لتلك البذور الباركة التي هيَّأ تربتها وبذرها وسقاها شيخ الإسلام ابن تيمية وتلامذته العظام من بعده، وقد آتت أكلها "بعد حين" بإذن ربها مجسدة في الدعوة الوهابية التجديدية.
ইসলামের সঠিক (صحيح) মূলনীতিসমূহ এবং নজদ অঞ্চলের অধিবাসীদের মাঝে পুনরায় তার অনুশীলন; অথচ ইতিপূর্বে তাদের আকিদা কলুষিত হয়েছিল এবং তাদের জীবনধারা বিপথগামী হয়েছিল।" সমাপ্ত।

ফুয়াদ আল-আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি ইতিহাসের অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আল-রাইস বলেন:

"ফقه বা বিধানের শাখাসমূহ অনুসরণের ক্ষেত্রে ওয়াহাবিরা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব অনুসরণ করে, আর আকিদার ক্ষেত্রে তারা আহলুস সুন্নাহর মাযহাব অনুসরণ করে, বিশেষ করে সুন্নি ইমাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া যেভাবে তা নির্ধারণ ও ব্যাখ্যা করেছেন।

আর ইবনে তাইমিয়া হলেন ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের প্রত্যক্ষ শিক্ষক (১), যদিও তাদের উভয়ের মাঝখানে চার শতাব্দীর ব্যবধান রয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) "শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ইবনে তাইমিয়ার একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের পর পূর্ববর্তী ধর্মীয় আলেমদের মধ্যে তিনি ইবনে তাইমিয়ার মতো অন্য কাউকে ভালোবাসেননি।" সমাপ্ত। হুসাইন খাযআলের 'হায়াতুশ শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব' থেকে, পৃষ্ঠা (৩৩৪)।

(২) যদিও অধ্যাপক মালিক বিন নবী শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দাওয়াত এবং ইসলামি ঐতিহ্যে তার প্রভাবকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যে: "এটি এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক ভাণ্ডার যা আজও সংস্কারবাদী আন্দোলনগুলোকে আদর্শিক ধারণা যুগিয়ে যাচ্ছে" — যেমনটি জাওদাত সাঈদের বই 'যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে' (হাত্তা ইউগাইয়্যিরু মা বি-আনফুসিহিম)-এর ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, পৃষ্ঠা (৯) — তবে ওয়াহাবি দাওয়াত হলো সেই বরকতময় বীজের মহত্তম ফসল, যার মাটি প্রস্তুত করেছিলেন, বপন করেছিলেন এবং সিঞ্চন করেছিলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও তার পরবর্তী মহান ছাত্রগণ। আর সেই ফসল তার রবের ইচ্ছায় 'একসময়' ফল দিতে শুরু করেছে, যা ওয়াহাবি সংস্কারবাদী দাওয়াতের মাধ্যমে মূর্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فقد قرأ كتبه (1) وتأثر كل التأثر، بتعاليمه.

والمبادئ الأساسية للدعوة الوهابية، هي تنقية معنى التوحيد من شوائب الشرك، ظاهرة وخفية، وإخلاص الدين لله، وعدم الالتجاء إلى غير الله، وعدم الغلو في تمجيد الرسول بما يخرجه عن حدود الطبيعة البشرية، وتحديد معنى الرسالة التي كلف بإبلاغها.

ومصادر العقيدة هي: الرجوع إلى مذهب السلف في فهم الدين، وتفسيرِ آيات القرآن، وأحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم.

وتكره الوهابية التعقيدات التي أدخلها المتكلمون والفلاسفة والصوفية، ولا مانع من الاجتهاد، كما يرون ضرورة القيام بواجب الجهاد.

وهذه الحركة كانت نهضة أخلاقية شاملة، ووثبة روحية جريئة ودعوة إلى دين الحق والإصلاح.

فقد أيقظت العقول الراقدة، وحركت المشاعر الخامدة، ودعت إلى إعادة النظر في الدين، لتصفية العقيدة، وتطهير العقول من الخرافات والأوهام، فقد احتوت على مبدأَين، كان لهما أكبر الأَثر في تطور العالم الإسلامي وتقدمه، وهما:

--------------------------------------------

(1) أولع الشيخ محمد بن عبد الوهاب بمصنفات شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم، حتى كان ينسخ الكثير منها، وتوجد حتى اليوم بالمتحف البريطاني في لندن كتب لشيخ الإسلام ابن تيمية بخط الإمام محمد بن عبد الوهاب - مجلة العربي- العدد (147) - فبراير 1971م- مقالة "الوهابية وزعيمها الشيخ محمد بن عبد الوهاب" للشيخ حسن بن عبد الله آل الشيخ.
তিনি তাঁর গ্রন্থগুলো পাঠ করেছিলেন (১) এবং তাঁর শিক্ষার দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

ওয়াহাবি দাওয়াতের মৌলিক নীতিসমূহ হলো, তাওহীদের (توحيد) অর্থকে প্রকাশ্য ও গোপন শিরকের (شرك) পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করা, আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট আশ্রয় প্রার্থনা না করা এবং রাসূলের মহিমাকীর্তনে এমন অতিরঞ্জন না করা যা তাঁকে মানবীয় প্রকৃতির সীমানার বাইরে নিয়ে যায় এবং তাঁর প্রতি অর্পিত রিসালাতের (رسالة) অর্থের সীমা নির্ধারণ করা।

আকিদাহর (عقيدة) উৎসসমূহ হলো: দ্বীন অনুধাবনের ক্ষেত্রে সালাফদের (سلف) মাজহাবের (مذهب) দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং কুরআনের আয়াত ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ব্যাখ্যা করা।

ওয়াহাবিগণ ইলমুল কালামবিদ (متكلمون), দার্শনিক এবং সুফিদের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকৃত জটিলতাগুলোকে অপছন্দ করেন। তাঁরা ইজতিহাদ (اجتهاد) করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেখেন না, পাশাপাশি তাঁরা জিহাদের (جهاد) আবশ্যিক কর্তব্য পালনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

আর এই আন্দোলনটি ছিল একটি সর্বজনীন নৈতিক জাগরণ, একটি সাহসী আধ্যাত্মিক উত্থান এবং সত্য দ্বীন ও সংস্কারের প্রতি আহ্বান।

এটি সুপ্ত বিবেকসমূহকে জাগ্রত করেছিল, নিস্তেজ অনুভূতিগুলোকে আন্দোলিত করেছিল এবং আকিদাহর (عقيدة) বিশুদ্ধিকরণ ও কুসংস্কার ও অমূলক ধারণা থেকে মস্তিষ্ককে পবিত্র করার লক্ষ্যে দ্বীনের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল। এটি এমন দুটি মূলনীতির ধারক ছিল, মুসলিম বিশ্বের বিবর্তন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে যেগুলোর সর্বাধিক প্রভাব ছিল, আর সেগুলো হলো:

--------------------------------------------

(১) শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিমের রচনাবলির প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত ছিলেন, এমনকি তিনি এগুলোর অনেকগুলো নিজ হাতে অনুলিপিও করেছিলেন। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আজও ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের হস্তাক্ষরে লিখিত শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর গ্রন্থসমূহ সংরক্ষিত রয়েছে। - আল-আরাবি ম্যাগাজিন - সংখ্যা (১৪৭) - ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ - শায়খ হাসান বিন আব্দুল্লাহ আলুশ শায়খ রচিত "আল-ওয়াহাবিয়্যাতু ওয়া যাঈমুহা আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব" নামক প্রবন্ধ।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الدعوة إلى الرجوع إلى مذهب السلف -مع الاعتماد على الكتاب والسنة- وتقرير مبدأ الاجتهاد، فكان هذان المبدآن أساسًا لنهضة فلسفية روحية.

والواقع أن كل حركات الإصلاح التي ظهرت في الشرق، في القرن التاسع عشر، كانت مدينة للدعوة الوهابية، لتقرير هذه الأُصول.

ويمكن تحديد الصلة بينها وبين كل من هذه الحركات، إما عن طريق الاقتباس أو المحاكاة، أو مجرد التأثر" انتهى ملخصًا.

وقال الأستاذ عبد الكريم الخطيب في كتابه "محمد بن عبد الوهاب" العقل الحر:

"الكلمة الطيبة كلمة مباركة، أصلها ثابت وفرعها في السماء، لأنها كلمة الحق، والحق في ظل الله، يباركه وينتصر له.

ودعوة محمد بن عبد الوهاب من الكلم الطيب، لأنها تستند إلى الحق، وتدعو له، وتعمل في سبيله، لهذا كانت دعوة مباركة، وفيرة الثمر، كثيرة الخير.

لقد قام صاحبها، يدعو إلى الله، لا يبغي بهذا جاهًا، ولا يطلب سلطانًا، وإنما يضيء للناس معالم الطريق، ويكشف لهم المعاثر والمزالق التي أقامها الشيطان وأعوان الشيطان".

إلى أن قال: "والذي لا شك فيه، أن الدعوة الوهابية، كانت أشبه بالقذيفة الصارخة، تنفجر في جوف الليل، والناس نيام.

كانت صوتًا راعدًا أيقظ المجتمع الإسلامي كله، وأزعج طائر النوم المُحَوِّمَ على أوطانهم منذ أمد بعيد"اهـ
কিতাব ও সুন্নাহর ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি সালাফদের মাযহাবের দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান এবং ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করা; এই দুটি মূলনীতিই ছিল একটি দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক জাগরণের ভিত্তি।

প্রকৃতপক্ষে ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রাচ্যে যে সকল সংস্কারবাদী আন্দোলন আবির্ভূত হয়েছিল, সেগুলো এই মূলনীতি (الأصول) গুলো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ওহাবী দাওয়াতের কাছে ঋণী ছিল।

ওহাবী দাওয়াত এবং এই প্রতিটি সংস্কার আন্দোলনের মধ্যাকার যোগসূত্র হয় উদ্ধৃতি গ্রহণ, অথবা অনুকরণ কিংবা নিছক প্রভাবের মাধ্যমে নিরূপণ করা সম্ভব।" — সারসংক্ষেপ সমাপ্ত।

উস্তাদ আব্দুল কারীম আল-খাতীব তাঁর 'মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব: আল-আকলুল হুর' গ্রন্থে বলেছেন:

"পবিত্র বাক্য একটি বরকতময় কথা, যার মূল সুদৃঢ় এবং শাখা আকাশে বিস্তৃত। কারণ এটি হকের বাণী, আর হক আল্লাহর আশ্রয়ে থাকে, তিনি একে বরকত দান করেন এবং এর পক্ষে বিজয় দান করেন।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত ছিল সেই পবিত্র বাক্যেরই অন্তর্ভুক্ত; কেননা তা হকের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, হকের দিকেই আহ্বান জানায় এবং হকের পথেই কাজ করে। এই কারণেই এটি ছিল একটি বরকতময় দাওয়াত, যা ছিল ফলপ্রসূ এবং প্রভূত কল্যাণে ভরপুর।

এই দাওয়াতের প্রবক্তা আল্লাহর দিকে ডাকার জন্য আত্মনিয়োগ করেছিলেন; এর মাধ্যমে তিনি কোনো যশ-খ্যাতি বা ক্ষমতার প্রত্যাশা করেননি। বরং তিনি মানুষের জন্য পথের দিশা আলোকোজ্জ্বল করেছেন এবং শয়তান ও শয়তানের দোসরদের তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা ও পদস্খলনের স্থানগুলোকে উন্মোচিত করেছেন।"

তিনি আরও বলেন: "নিঃসন্দেহে ওহাবী দাওয়াত ছিল এক প্রচণ্ড গর্জনকারী গোলার মতো, যা গভীর রাতে মানুষ যখন ঘুমন্ত ছিল তখন সশব্দে বিস্ফোরিত হয়েছিল।

এটি ছিল এক বজ্রকণ্ঠ যা সমগ্র মুসলিম সমাজকে জাগ্রত করেছিল এবং দীর্ঘকাল ধরে তাদের ভূখণ্ডের ওপর জেঁকে বসা তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবকে দূর করেছিল।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال الزركلي في "الأعلام" في ترجمة الشيخ محمد بن عبد الوهاب:

"إنه كان ناهجًا منهج السلف الصالح، وداعيًا إلى التوحيد الخالص، ونبذ البدع، وتحطيم ما علق بالإسلام من الأوهام، وكانت دعوته الشعلة الأولى لليقظة الحديثة في العالم الإسلامي كله، تأثر بها رجال الإصلاح في الهند ومصر والعراق والشام وغيره"اهـ (1). مختصرًا.

وقال الشيخ علي طنطاوي رحمه الله في كتابه "محمد بن عبد الوهاب":

"فشت البدع قبل ولادة الشيخ محمد، واعتقد الناس النفع والضرر بالرسول والصالحين، وبالقبور والأشجار، والقباب والمزارات، فيطلبون منهم الحاجات، ويرجعون في الشدائد إليهم، وينذرون لهم، ويذبحون لهم، واشتد تعظيم الأموات.

وكان حظ نجد في هذه الجاهلية الجديدة أكبر الحظوظ، فقد اجتمع على أهله الجهل، والبداوة، والفقر، والانقسام في كل ناحية من نواحي نجد، من الأمراء، بمقدار ما كان فيها من القرى، ففي كل قرية أمير، وفي كل ناحية جمعية أمم، وكان في كل إمارة قبر، عليه بناء، أو شجرة لها أسطورة، يقوم عليها سادن من شياطين الإنس، يزين للناس الكفر، ويدعوهم إلى الاعتقاد بالقبر والذبح له، والتبرك به، والدعاء عنده.

--------------------------------------------

(1) "الأعلام" للزركلي (6/ 257)، وانظر نص كلام الزركلي، والتعليق عليه في كتاب "الانحرافات العقدية والعلمية" (2/ 364 - 372).
আল-জিরিকলি তাঁর "আল-আলাম" গ্রন্থে শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনীতে বলেছেন:

"তিনি ছিলেন সৎকর্মপরায়ণ পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) মানহাজের অনুসারী, বিশুদ্ধ একত্ববাদের (التوحيد) দিকে আহ্বানকারী, বিদআতসমূহ (البدع) বর্জনকারী এবং ইসলামের সাথে মিশে যাওয়া সকল অলীক ধারণার ধ্বংসকারী। তাঁর দাওয়াত ছিল সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আধুনিক জাগরণের প্রথম স্ফুলিঙ্গ, যার মাধ্যমে ভারত, মিশর, ইরাক, সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের সংস্কারকগণ প্রভাবিত হয়েছিলেন।" সমাপ্ত (১)। সংক্ষেপিত।

শেখ আলী তানতাভি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব" গ্রন্থে বলেছেন:

"শেখ মুহাম্মদের জন্মের পূর্বে বিদআতসমূহ (البدع) ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মানুষ রাসূল ও নেককার ব্যক্তিবর্গ, কবর, গাছপালা, গম্বুজ ও মাজারের মাধ্যমে উপকার ও অপকার পাওয়ার আকিদা পোষণ করত। তারা তাদের কাছে নিজেদের প্রয়োজন প্রার্থনা করত, বিপদে তাদের দিকে ফিরে যেত, তাদের নামে মানত করত ও পশু জবাই করত এবং মৃতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে চরম বাড়াবাড়ি শুরু হয়েছিল।

এই নব্য জাহেলিয়াতের (الجاهلية) ক্ষেত্রে নজদ অঞ্চলের অংশ ছিল সবচেয়ে বেশি। এর অধিবাসীদের মধ্যে মূর্খতা, মরুবাসিতা, দারিদ্র্য এবং নজদের প্রতিটি অঞ্চলে বিভক্তি চরমভাবে জেঁকে বসেছিল। নজদে যতগুলো গ্রাম ছিল, ঠিক ততজন আমির বা শাসক ছিল। প্রতিটি গ্রামেই ছিল একজন আমির এবং প্রতিটি অঞ্চলে ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমাবেশ। প্রতিটি শাসিত অঞ্চলে একটি করে কবর ছিল যার ওপর স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল, অথবা ছিল কোনো কিংবদন্তি ঘেরা গাছ। সেগুলোকে কেন্দ্র করে শয়তানরূপী কিছু মানুষ খাদেম হিসেবে নিয়োজিত থাকত, যারা মানুষের সামনে কুফরকে (الكفر) সুশোভিত করত এবং তাদের কবরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তার জন্য পশু জবাই করা, সেখান থেকে বরকত (التبرك) হাসিল করা এবং সেখানে দুআ করার আহ্বান জানাত।

--------------------------------------------

(১) জিরিকলির "আল-আলাম" (৬/ ২৫৭); জিরিকলির মূল বক্তব্য এবং তার ওপর পর্যালোচনা দেখুন "আল-ইনহিরাফাত আল-আকাদিয়াহ ওয়াল ইলমিয়াহ" গ্রন্থে (২/ ৩৬৪ - ৩৭২)।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ثم ذكر شجرة تسمى "شجرة الذئب"، وقبر "زيد بن الخطاب" وذلك على سبيل المثال.

قال: وكان العلماء قلة، والحكام عتاه ظلمة، والناس فوضى يغزو بعضهم بعضًا، ويعدُو قويهم على ضعيفهم.

في تلك البيئة نشأ "محمد بن عبد الوهاب" رحمه الله فرأى شمس الإسلام إلى أَفول، ورأى ظلمة الكفر إلى امتداد وشمول.

وأراد الله له الخير، فقدر له أن يكون أحد الذين أخبر الرسول أنهم يبعثون ليجددوا لهذه الأمة دينها، بل لقد كان أحق بهذا الوصف من كل من وصِفَ به في تاريخنا.

فقد حقق الله على يديه عودة نجد إلى التوحيد الصحيح، والدين الحق، والألفة بعد إلاختلاف، والوَحدة بعد الانقسام.

ولا أقول: إن الرجل كامل، فالكمال لله، ولا أقول: إنه معصوم، فالعصمة للأنبياء، ولا أقول: إنه عارٍ عن العيوب والأخطاء.

ولكن أقول: إن هذه اليقظة، التي عمت نجدًا ثم امتدت حتى جاوزته إلى أطراف الجزيرة، ثم إلى ما حولها، ثم امتدت حتى وصلت إلى آخر بلاد الإسلام ليست إلا حسنة من حسناته عند الله إن شاء الله"اهـ.

وقال الأستاذ محمد جلال كشك رحمه الله وعفا عنه-:

"ونحن إذ نصف (الوهابية) بأنها أول استجابة للتحدي الذي خيَّم على العالم الإسلامي، فلأنها أول حركة تعلن أن هناك خطأ في الجتمع الإسلامي يجب
এরপর তিনি উদাহরণস্বরূপ "শাজরাতুয যিব" (নেকড়ের গাছ) নামক একটি গাছ এবং "যায়িদ ইবনে আল-খাত্তাব"-এর কবরের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন: আলেমদের সংখ্যা ছিল সামান্য, শাসকরা ছিল চরম স্বৈরাচারী ও জালিম এবং জনগণের অবস্থা ছিল বিশৃঙ্খল; তারা একে অপরের ওপর আক্রমণ করত এবং তাদের মধ্যকার সবলরা দুর্বলদের ওপর জুলুম করত।

এমন এক পরিবেশেই "মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব" (রহিমাহুল্লাহ) বেড়ে ওঠেন; তিনি ইসলামের সূর্যকে অস্তমিতপ্রায় এবং কুফরের অন্ধকারকে ক্রমবর্ধমান ও সর্বব্যাপী হতে দেখেন।

আর আল্লাহ তাঁর জন্য কল্যাণ চেয়েছিলেন, তাই তাঁর জন্য এটি নির্ধারিত করে দিলেন যে, তিনি হবেন তাদের একজন যাদের সম্পর্কে রাসূল সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তারা এই উম্মতের দ্বীনকে পুনর্জীবিত করার জন্য প্রেরিত হবেন; বরং আমাদের ইতিহাসে যাদের এই বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে, তাদের মাঝে তিনিই এই বর্ণনার অধিক উপযুক্ত ছিলেন।

বস্তুত আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নজদ ভূখণ্ডকে সঠিক (صحيح) তাওহীদ, সত্য দ্বীন, বিভেদের পর সৌহার্দ্য এবং বিভক্তির পর ঐক্যের পথে ফিরিয়ে আনেন।

আমি এ কথা বলছি না যে এই ব্যক্তিটি নিখুঁত ছিলেন, কারণ নিখুঁত হওয়া কেবল আল্লাহর জন্য; আমি এও বলছি না যে তিনি নিষ্পাপ (معصوم) ছিলেন, কারণ নিষ্পাপ (معصوم) হওয়া কেবল নবীদের বৈশিষ্ট্য; আর আমি এ কথা বলছি না যে তিনি দোষ-ত্রুটি বা ভুলভ্রান্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন।

তবে আমি বলব যে: এই যে জাগরণ যা নজদে পরিব্যাপ্ত হয়েছিল এবং এরপর নজদ ছাড়িয়ে জাযিরাতুল আরবের প্রান্তসীমা পর্যন্ত ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে বিস্তৃতি লাভ করেছিল, এমনকি যা মুসলিম বিশ্বের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছেছে—তা ইনশাআল্লাহ আল্লাহর নিকট তাঁর পুণ্যসমূহেরই একটি হবে।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

অধ্যাপক মুহাম্মদ জালাল কিশক (রহিমাহুল্লাহ)—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বলেছেন:

"আমরা যখন (ওয়াহাবিবাদ)-কে মুসলিম বিশ্বের ওপর চেপে বসা প্রতিকূলতার মোকাবিলায় প্রথম সাড়া হিসেবে বর্ণনা করি, তখন তার কারণ হলো এটিই ছিল প্রথম আন্দোলন যা ঘোষণা করেছিল যে, মুসলিম সমাজে এমন কিছু ভুল রয়েছে যা অবশ্যই
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
إصلاحه، وهي أول حركة تقول: إن الحل هو في العودة إلى الإسلام، وليس بتَخَطِّيه، أو البحث عن حل عصري، ثم هي أول حركة تجرب ذلك فعلًا، وتثبت نجاحه، فأعطت زخمًا وقناعة طوال القرنين التاليين، وما زالت، وكل الثورات الإسلامية في القرنين التاسع عشر والعشرين ضد الغزو الأوروبي ستحمل في طياتها بذرة وهابية، وحجة وأمل بتحقيق ما حققه السعوديون في جزيرة العرب" (1) اهـ.

وقال - أيضًا-:

"إذا كان محمد بن عبد الوهاب من ناحية العقيدة ليس بمبتدع، فهو من الناحية السياسية، مجدد ومبتدع (2) ومبدع، لقد استطاع أن يوقف حركة التاريخ، ويلويَ عنقَ الأحداث التي كانت تدفع العالم الإسلامي دفعًا إلى التغريب، فمع الهزيمة الشاملة التي أصابت العالم الإسلامي أمام الغزو الأوروبي الذي كاد أن يشبه القدر المحتوم .. كان الظن أو اتجاه الأحداث، هو خضوع العالم الإسلامي للقانون الحضاري العام، وهو فناء المهزوم بالاندماج في حضارة المنتصر، فجاء الشيخ من أعماق نجد يعلن أن الإسلام هو الطريق، وأن المشكلة ليسَت في العقيدة، بل في الانحراف عنها، وأن العودة إلى جوهرها الصافي كفيل بإعطاء

--------------------------------------------

(1) "السعوديون والحل الإسلامي" ص (105).

(2) يقصد هنا الابتداع بمعناه اللغوي، وليس الشرعي.
তার সংস্কার; এটিই প্রথম আন্দোলন যা বলে: সমাধান হচ্ছে ইসলামে প্রত্যাবর্তনের মাঝে, একে এড়িয়ে যাওয়া বা কোনো আধুনিক সমাধানের খোঁজে নয়। এরপর এটিই প্রথম আন্দোলন যা বাস্তবে এর প্রয়োগ করে এবং এর সফলতা প্রমাণ করে। ফলে এটি পরবর্তী দুই শতাব্দী জুড়ে এক প্রবল গতি ও দৃঢ় বিশ্বাস সঞ্চার করেছে এবং তা এখনও অব্যাহত। ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল ইসলামি বিপ্লবই তাদের পরতে পরতে ওয়াহাবি ভাবধারার বীজ এবং আরব উপদ্বীপে সৌদিরা যা অর্জন করেছিল, তা অর্জনের স্বপক্ষে যুক্তি ও প্রত্যাশা বহন করবে" (১) সমাপ্ত।

তিনি আরও বলেন:

"আকিদা (عقيدة)-র দিক থেকে যদি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব বিদআতি (مبتدع) না-ও হন, তবে রাজনৈতিক দিক থেকে তিনি ছিলেন একজন সংস্কারক (مجدد), প্রবর্তক (مبتدع) (২) এবং উদ্ভাবক (مبدع)। তিনি ইতিহাসের গতিধারাকে থামিয়ে দিতে এবং ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা মুসলিম বিশ্বকে পাশ্চাত্যকরণের দিকে প্রবলভাবে ঠেলে দিচ্ছিল। ইউরোপীয় আগ্রাসনের সামনে মুসলিম বিশ্বের যে সর্বাত্মক পরাজয় ঘটেছিল, যা অনেকটা অনিবার্য নিয়তির মতো মনে হচ্ছিল... তখন ধারণা বা ঘটনার গতিপ্রকৃতি ছিল এমন যে, মুসলিম বিশ্ব সভ্যতার সাধারণ নিয়মের বশ্যতা স্বীকার করবে—আর তা হলো বিজিতদের বিজয়ী সভ্যতায় বিলীন হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে বিলুপ্তি ঘটা। এমতাবস্থায় শাইখ নজদের গভীর থেকে এসে ঘোষণা করলেন যে, ইসলামই হলো পথ; সমস্যা আকিদা (عقيدة)-র মধ্যে নয়, বরং তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার মধ্যে। আর এর বিশুদ্ধ মূলসত্তায় প্রত্যাবর্তনই প্রদানের জন্য যথেষ্ট...

--------------------------------------------

(১) "আস-সাউদিয়্যুন ওয়াল হালুল ইসলামি" পৃষ্ঠা (১০৫)।

(২) এখানে উদ্ভাবন (ابتداع) বলতে এর আভিধানিক অর্থ বুঝানো হয়েছে, শরয়ি (شرعي) অর্থে নয়।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
المسلمين القدرة على مواجهة التحدي الأوروبي وقهره (1) .. صحيح أنه لم يواجه قوة أوروبية بشكل مباشر وشامل، لا هو ولا خلفاؤه، فقد شغلتهم حروبهم مع الرافضن المسلمين والعرب، إلا أن انتصاراتهم على التخلف، وقدرتهم على خلق المحارب الذي يكاد أن لا يُقهر، عززت حجة الرافضين لمنطق الهزيمة، وأبقت الفرضية مطروحة إلى اليوم، وهي اكتساب القوة المادية، بنفس الأسلوب الذي اكتسبها به أجدادنا المسلمون الأوائل" (2) اهـ.

وقال- أيضًا رحمه الله:

"فالدولة السعودية، أو الثورة الوهابية كانت ضد التخلف العثماني، كانت محاولة للإفلات من السفينة العثمانية الغارقة، والتي لم يبق بها إلاطابور انكشاري يعترض طريق كل من يحاول سد خروق السفينة" (3).

--------------------------------------------

(1) وهذا عكس خط "محمد علي" وهو الاستجابة للتحدي الغربي عن طريق التغريب وتقليد الغرب، وكأنه قال: "فلنمتلك تكنولوجيا الغرب ولو تخلينا عن الإسلام، أو على الأقل بحصر الدين في المسجد والبيت" … وهكذا بدأ الحوار الدامي بين: إسلام بلا تكنولوجيا، وتكنولوجيا بلا إسلام".

(2) "السعوديون والحل الإسلامي" ص (109).

(3) "نفسه" ص (103)، ولقد وصف المؤرخ "توينبي" الكارثة التي كانت تواجه العالم الإسلامي، فقال: "في أقل من قرن، لم يقتصر الأمر على الإحداق بالعالم الإسلامي، بل أمكن تطويقه تمامًا، ووضع الطوق حول رقبة الفريسة … وانقض الجانبان أوروبا الغربية وروسيا على فريسة عاجزة عجزًا واضحًا .. وبالنسبة للجانب الإسلامي، أصبح الموقف هو محاولة الإفلات من ذلك المأزق العصيب"، وصحيح أن الانتفاضة العثمانية، قد صدت الغزوة الأوروبية، وأبقتها أكثر من =
মুসলিমদের ইউরোপীয় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা ও তা পরাভূত করার সক্ষমতা (১)... এটা সত্য যে তিনি বা তাঁর উত্তরসূরিগণ কেউই সরাসরি এবং ব্যাপকভাবে কোনো ইউরোপীয় শক্তির মুখোমুখি হননি, কারণ মুসলিম ও আরব বিরোধীদের সাথে যুদ্ধ তাঁদের ব্যস্ত রেখেছিল। তবে অনগ্রসরতার বিরুদ্ধে তাঁদের বিজয় এবং প্রায় অপরাজেয় যোদ্ধা তৈরি করার সক্ষমতা পরাজয়ের যুক্তি প্রত্যাখ্যানকারীদের দাবিকে শক্তিশালী করেছে এবং সেই ধারণাটিকে আজও সচল রেখেছে, আর তা হলো—ঠিক সেই পদ্ধতিতে বস্তুগত শক্তি অর্জন করা যেভাবে আমাদের পূর্বসূরি মুসলিমগণ তা অর্জন করেছিলেন" (২) সমাপ্ত।

এবং তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আরও বলেছেন:

"সৌদি রাষ্ট্র বা ওয়াহাবি বিপ্লব ছিল উসমানীয় অনগ্রসরতার বিরুদ্ধে; এটি ছিল নিমজ্জমান উসমানীয় জাহাজ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একটি প্রচেষ্টা, যাতে কেবল একদল জানিসারি অবশিষ্ট ছিল যারা জাহাজের ছিদ্রগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করা প্রত্যেক ব্যক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আর এটি ছিল "মুহাম্মদ আলি"র পন্থার বিপরীত, যা ছিল পাশ্চাত্যকরণ ও পাশ্চাত্যের অনুকরণের মাধ্যমে পশ্চিমা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা। যেন তিনি বলেছিলেন: "আসুন আমরা পাশ্চাত্যের প্রযুক্তি গ্রহণ করি যদিও আমাদের ইসলাম ত্যাগ করতে হয়, অথবা অন্তত ধর্মকে মসজিদ ও ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিই" … এভাবেই শুরু হলো প্রযুক্তিহীন ইসলাম এবং ইসলামহীন প্রযুক্তির মধ্যে এক রক্তাক্ত সংলাপ।"

(২) "আস-সাউদিইয়ুন ওয়াল হাল আল-ইসলামি" পৃষ্ঠা (১০৯)।

(৩) "একই গ্রন্থ" পৃষ্ঠা (১০৩); ঐতিহাসিক "টয়েনবি" মুসলিম বিশ্ব যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এক শতাব্দীরও কম সময়ে বিষয়টি কেবল মুসলিম বিশ্বকে ঘিরে ফেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং একে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করা সম্ভব হয়েছিল এবং শিকারের গলায় ফাঁস পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল … পশ্চিম ইউরোপ ও রাশিয়া—উভয় পক্ষই এক স্পষ্টত অসহায় শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল... আর মুসলিমদের জন্য পরিস্থিতি ছিল সেই চরম সংকট থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার চেষ্টার মতো।" এবং এটি সত্য যে উসমানীয় অভ্যুত্থান ইউরোপীয় আক্রমণ প্রতিহত করেছিল এবং একে দীর্ঘ সময় ধরে =
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الوهابية زلزال نفسي بنَّاء

إن حركة التجديد التي قام بها شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب -رحمه الله تعالى- كانت بمثابة زلزال نفسي بَنَّاء بعث الحيوية والحركة والنشاط في الأمة الإسلامية، وأيقظها من سُباتها، وأعاد إليها شبابها ونضارتها.

ومما يلفت النظر في تلك الحركة التجديدية أن ثمارها وبركاتها وآثارها تخطت حدود المكان فملأت آفاق الأرض، وتخطت حدود الزمان فتجاوزت القرن الثاني عشر إلى عصرنا الحاضر.

--------------------------------------------

= ثلاثة قرون بعيدة عن العالم العربي، أو قلب العالم الإسلامي، إلا أنها كانت انتفاضة عسكرية، وليست بعثًا حضاريًّا، انتصرت فيها روح الجهاد الإسلامية ولم تنتصر روحه الحضارية، بل ربما كانت هذه الانتفاضة، هي عامل من أهم عوامل الهزيمة الشاملة، فقد أخفت حقيقة وخطورة التحدي، بل أعطت اطمئنانًا كاذبًا، وخدرًا لذيذًا لأمة كانت تغالب النعاس، فزعة من هجمات الأوروبيين، فجاء النصر العثماني، يغريها بالنوم، فأمة محمد بخير، وادعوا للسلطان بالنصر فقد رد العثمانيون البرابرة الفرنجة على أعقابهم. ومن ثم زال الشعور بالتحدي في ذات الوقت الذي وصل فيه التحدي إلى ذروته ودخل أخطر مراحله. وضع المسلمون مصيرهم في يد الأستانة، واعتببروا الدفاع عن أرضهم مسئولية الدولة التي كانت أول دولة إسلامية، منذ العصر العباسي الأول، تحاول أن تحكم بشكل أقرب ما يكون للمركزية، أو بصيغة الإمبراطوريات الحديثة .. ونسى المسلمون العثمانيون، العالم الإسلامي الهائل خارج نطاق السلطنة، ووقفوا متفرجين غير معنيين، وممالكه وشعوبه تتساقط واحدة بعد الأخرى في قبضة العدو، حتى أحكم الطوق، ودب الوهن في القلب، وتعفن الجهاز العثماني، بينما زادت اتكالية الشعوب العربية، فقد عزلهم العثمانيون عن مهام الدفاع أو البناء الحضاري، واكتفوا منهم بقراءة البخاري لنصر الأسطول العثماني، وتمويل الخزينة المثقوبة"اهـ من "السعوديون" ص (103).
ওহাবি আন্দোলন: একটি গঠনমূলক মনস্তাত্ত্বিক আলোড়ন (زلزال نفسي)

শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রহমতুল্লাহি আলাইহি) পরিচালিত সংস্কারমূলক আন্দোলনটি (حركة التجديد) ছিল একটি গঠনমূলক মনস্তাত্ত্বিক আলোড়নের মতো, যা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রাণশক্তি, গতিশীলতা ও উদ্দীপনা সঞ্চার করেছিল। এটি উম্মাহকে তার গভীর নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তুলেছিল এবং তার যৌবন ও সজীবতা ফিরিয়ে দিয়েছিল।

সেই সংস্কারমূলক আন্দোলনের (حركة التجديد) একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এর সুফল, বরকত ও প্রভাব ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে পৃথিবীর দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করে দ্বাদশ শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

= তিনটি শতাব্দী আরব বিশ্ব বা মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র থেকে দূরে ছিল, তবে এটি ছিল একটি সামরিক অভ্যুত্থান (انتفاضة عسكرية), কোনো সভ্যতামূলক পুনর্জাগরণ (بعث حضاري) নয়। এতে ইসলামের জিহাদের চেতনা (روح الجهاد) জয়ী হলেও তার সভ্যতামূলক চেতনা জয়ী হয়নি। বরং সম্ভবত এই অভ্যুত্থানটিই ছিল সামগ্রিক পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ; কারণ এটি চ্যালেঞ্জের প্রকৃত স্বরূপ ও ভয়াবহতাকে আড়াল করে রেখেছিল। এমনকি এটি তন্দ্রাচ্ছন্ন এক উম্মাহকে, যারা ইউরোপীয়দের আক্রমণে আতঙ্কিত ছিল, একটি মিথ্যা আশ্বস্ততা এবং আনন্দদায়ক অসাড়তা প্রদান করেছিল। ওসমানীয়দের বিজয় তাদের ঘুমের দিকে প্রলুব্ধ করেছিল—এই বলে যে 'মুহাম্মদের উম্মাহ শান্তিতে আছে, সুলতানের বিজয়ের জন্য দোয়া করো, কারণ ওসমানীয়রা বর্বর ক্রুসেডারদের হটিয়ে দিয়েছে'। ফলস্বরূপ, চ্যালেঞ্জের সেই অনুভূতি বিলীন হয়ে গেল ঠিক তখনই, যখন চ্যালেঞ্জটি তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছিল। মুসলিমরা তাদের ভাগ্য আস্তানা (ইস্তাম্বুল)-এর হাতে সঁপে দিল এবং নিজেদের ভূমি রক্ষার দায়িত্ব সেই রাষ্ট্রের ওপর অর্পণ করল, যেটি আব্বাসীয় যুগের পর প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে বা আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী ধাঁচে শাসন করার চেষ্টা করছিল... ওসমানীয় মুসলিমরা সালতানাতের সীমানার বাইরের বিশাল মুসলিম বিশ্বকে ভুলে গিয়েছিল এবং তাদের রাজ্য ও জাতিগুলো একের পর এক শত্রুর কবলে পড়ার সময় উদাসীন দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। অবশেষে যখন অবরোধ কঠোর হলো এবং হৃদয়ে দুর্বলতা (وهن) দেখা দিল, তখন ওসমানীয় শাসনব্যবস্থায় পচন ধরল। অন্যদিকে, আরব জাতিগুলোর পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেল, কারণ ওসমানীয়রা তাদের প্রতিরক্ষা বা সভ্যতা বিনির্মাণের দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। তারা কেবল ওসমানীয় নৌবাহিনীর বিজয়ের জন্য বুখারি পাঠ করা এবং ছিদ্রযুক্ত রাজকোষে অর্থ যোগান দেওয়ার মধ্যেই তাদের সীমাবদ্ধ রেখেছিল।"—'আস-সাউদিউন' (السعوديون), পৃষ্ঠা ১০৩ থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعلى كثرة ما أُلِّف في الدفاع عن "الوهابية" وعن إمامها، لكنها لا تزال بحاجة إلى من يسبر أغوارها، ويستخرج كنوزها المخبوءة.

إن معظم الدراسات حول هذه الحركة التجديدية كانت دراساتٍ وصفيةً (1)، تُعْنى بالسردِ التاريخي للوقائع والأحداث، أو تختص بدفع شبهات الخصوم في القضايا التقليدية التي استهلكت كثيرًا من الطاقات، وأهدرت كثيرًا من أوقات الذين اضطروا للتصدي لها، مع ما فيها من الفوائد العظيمة بالنظر إلى سهام الشبهات التي صوبها خصومها لصد الناس عنها.

ولعله آن الأوان لكي تُنتَدَبَ طائفةٌ من المختصين المؤهَّلين فتخرج لنا دراسة تحليلية عميقة، تسلط الضوء على سر نجاح هذه الدعوة هذا النجاح الفائق، وتُبْحِرُ في أعماق نفسية هذا الرجل "الأمة"، وتكشف لنا أغوار تلك الشخصية "الفذة" التي يندر أن يجود التاريخ بمثلها.

…

--------------------------------------------

(1) باستثناء دراسات قليلة جمعت بين السرد التاريخي مع تحليل الوقائع والأحداث، من أبرزها: "السعوديون والحل الإسلامي" لمحمد جلال كشك رحمه الله، و"الدولة السعودية" للأستاذ أحمد رائف -وفقه الله تعالى-.
"ওয়াহাবিবাদ" এবং এর ইমামের প্রতিরক্ষায় প্রচুর গ্রন্থ রচিত হওয়া সত্ত্বেও, এটি এখনও এমন পর্যালোচকের প্রয়োজন অনুভব করে যিনি এর গভীরতা অন্বেষণ করবেন এবং এর লুকানো রত্নভাণ্ডার উন্মোচন করবেন।

এই সংস্কারবাদী (تجديدية) আন্দোলন সম্পর্কে অধিকাংশ গবেষণাই ছিল বর্ণনামূলক (১), যা মূলত বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির ঐতিহাসিক বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে, অথবা প্রচলিত বিষয়গুলোতে বিরোধীদের সংশয় (شبهات) নিরসনে নিবেদিত ছিল। এসব বিষয় যেমন প্রচুর শক্তি ব্যয় করেছে, তেমনি যারা এর মোকাবিলায় নিয়োজিত হতে বাধ্য হয়েছিলেন তাদের সময়েরও ব্যাপক অপচয় ঘটিয়েছে; যদিও মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য বিরোধীদের নিক্ষিপ্ত সংশয়ের (شبهات) তিরের বিপরীতে এসব কাজের ব্যাপক উপকারিতা রয়েছে।

সম্ভবত এখনই উপযুক্ত সময় একদল যোগ্য বিশেষজ্ঞকে এই কাজে নিয়োজিত করার, যারা আমাদের একটি গভীর বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা উপহার দেবেন। সেই গবেষণাটি এই দাওয়াতের (دعوة) এই অভাবনীয় সাফল্যের রহস্যের ওপর আলোকপাত করবে, এবং এই ‘উম্মাহ’ তুল্য ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক গভীরতায় বিচরণ করে আমাদের সামনে সেই ‘অনন্য’ ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ উন্মোচন করবে, যার দৃষ্টান্ত ইতিহাস খুব কমই সৃষ্টি করতে পেরেছে।

...

--------------------------------------------

(১) গুটিকয়েক গবেষণা ব্যতীত যা ঐতিহাসিক বর্ণনার সাথে ঘটনা ও পরিস্থিতির বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: মুহাম্মদ জালাল কিশক (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "আস-সাউদিয়্যুন ওয়াল হাল্লুল ইসলামি" এবং উস্তাদ আহমদ রাইফ (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) রচিত "আদ-দাওলাতুস সাউদিয়্যাহ"।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌من ثمارهم تعرفونهم

ولئن كانت مراتب الشخصيات التاريخية الفذة تحدَّدُ -ضمن ما تحدد- بالبصمة التي طَبَعَتْها في تاريخ البشرية، وبالآثار التي تركتها في الدنيا، فإن ابن عبد الوهاب بهذا المقياس يتقدم على كثيرين ممن أُعْطُوا هذه المنزلة.

قال الشيخ عثمان بن بشر النجدي -رحمه الله تعالى- في ترجمته للشيخ محمد بن عبد الوهاب -رحمه الله تعالى-:

(وأما محمد فهو شيخ الإسلام والحبر الهمام، الذي عمت بركة علمه الأنام، فنصر السنة، وعظمت به من الله المنة، بعدما كان الإسلام غريبًا، فقام بهذا الدين، ولم يكن في البلاد إلا اسمه، وانتشر في الآفاق، فكل امرئ أخذ منه حظه وقسمته.

ونشرت راية الجهاد بعد أن كانت فتنًا وقتالًا، وعرف التوحيدَ الصغيرُ والكبيرُ بعد أن كان لا يعرفه إلا الخواص، واجتمع الناس على الصلوات والدروس والسؤال عن أصل الإسلام وشروط الصلاة وأركانها وواجباتها ومعاني قراءتها، وتعلمها الصغير والكبير، والقارئ والأمي بعد أن كان لا يعرفه إلا الخصائص، وانتفع بعلمه أهل الآفاق، لأنهم يسألون عما يأمر به وينهى عنه فيقال لهم: يأمر بأمر التوحيد، وينهى عن المنكر. ويقال لهم: إن أهل نجد يمقتونكم بذلك فانتهى أناس كثير من أهل الآفاق بسبب ما سمعوا من أوامره ونواهيه، وهَدَمَ المسلمون ببركة علمه جميع القباب والمشاهد التي بنيت على القبور وغيرها من جميع المواضع الشركية في أقاصي الأقطار من الحرمين واليمن وتهامة وعمان والإحساء ونجد وغير ذلك، حتى لا تجد في جميع من شملته ولاية
তাদের কর্মফলের মাধ্যমেই তোমরা তাদের চিনতে পারবে

যদি অনন্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের মর্যাদা—অন্যান্য নির্ণায়কের পাশাপাশি—মানব ইতিহাসে তাদের রাখা পদচিহ্ন এবং পৃথিবীতে তাদের রেখে যাওয়া কীর্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, তবে এই মাপকাঠিতে ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এমন অনেক ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী যাদের এই সুউচ্চ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।

শেখ উসমান বিন বিশর আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর জীবনী (ترجمة) আলোচনায় বলেন:

(আর মুহাম্মদের কথা বলতে গেলে, তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম এবং এক মহান প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, যাঁর ইলমের বরকত সকল সৃষ্টির মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সুন্নাহকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান অনুগ্রহ অবতীর্ণ হয়েছে; এমন এক সময়ে যখন ইসলাম অপরিচিত হয়ে পড়েছিল। এরপর তিনি এই দ্বীন পুনর্জীবিত করতে দাঁড়িয়েছিলেন, অথচ তখন জনপদে এর নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। অতঃপর তা দিগন্তময় ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা থেকে নিজ নিজ অংশ ও সৌভাগ্য লাভ করে।

ফিতনা-ফ্যাসাদ ও পারস্পরিক যুদ্ধের অবসানের পর জিহাদের ঝাণ্ডা উড্ডীন হয় এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ ছোট-বড় সবাই তাওহিদ সম্পর্কে অবগত হয়। মানুষ নামাজ, ইলমি দরস এবং ইসলামের মূল ভিত্তি, নামাজের শর্তাবলি, রোকনসমূহ, ওয়াজিবাতসমূহ ও পঠিত কিরাতের মর্মার্থ সম্পর্কে জানার জন্য সমবেত হতে থাকে। বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি ছোট-বড় এবং শিক্ষিত ও নিরক্ষর সবাই তা শিখতে শুরু করে। তাঁর ইলম দ্বারা পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ উপকৃত হয়েছে, কারণ তারা যা কিছু তিনি আদেশ করতেন বা নিষেধ করতেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত। তাদের বলা হতো: তিনি তাওহিদের নির্দেশ দিচ্ছেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করছেন। তাদের আরও বলা হতো যে: নাজদবাসীরা এজন্যই তোমাদের অপছন্দ করে। ফলে বিশ্বের বহু মানুষ তাঁর আদেশ ও নিষেধ শোনার কারণে (ভ্রান্তি থেকে) নিবৃত্ত হয়। তাঁর ইলমের বরকতে মুসলিমরা হারামাইন, ইয়েমেন, তিহামাহ, ওমান, আহসা, নাজদ এবং অন্যান্য দূরবর্তী অঞ্চলের কবরের উপর নির্মিত সকল গম্বুজ ও মাজারসহ সকল শিরকি আস্তানা ধ্বংস করে দেয়, এমনকি তাঁর শাসন ও কর্তৃত্বাধীন এলাকার কোথাও এমন কিছু আর অবশিষ্ট ছিল না...
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
المسلمين الشرك الأصغر فضلاً عن غيره، حاشا الرياء الذي قال فيه النبي صلى الله عليه وسلم "إنه أخفى من دبيب النمل على صفاة سوداء في ظلمة الليل" (1).

وأمر جميع أهل البلدان من أهل النواحي يسألون الناس في المساجد كل يوم بعد صلاة الصبح وبين العشاءين عن معرفة الأصول: وهي معرفة الله، ومعرفة دين الإسلام، ومعرفة أركانه، وما ورد عليها من أدلة من القرآن، ومعرفة محمد صلى الله عليه وسلم ونسبه ومبعثه وهجرته، وأول ما دعا إليه: وهي لا إله إلا الله، ومعرفة معناها، والبعث بعد الموت وشروط الصلاة وأركانها وواجباتها وفروض الوضوء ونواقضه، وما يتبع ذلك من تحقيق التوحيد من أنواع العبادة التي لا تنبغي إلا لله كالدعاء والذبح والنذر والخوف والرجاء والخشية والرغبة والرهبة والتوكل والإنابة وغير ذلك.

وبالجملة فمحاسنه وفضائله أكثر من أن تحصر، وأشهر من أن تُذكر. ولو بسطت القول فيها لا تسع الأسفار، ولكن هذه قطرة من بحر فضائله على وجه الاختصار. وكفى بفضله شرفًا ما حصل بسببه من إزالة البدع، واجتماع المسلمين وتقويم الجماعات والجمع، وتجديد الدين بعد دروسه، وقطع أصول الشرك بعد غروسه.

كان -رحمه الله تعالى- هو الذي يجهز الجيوش، ويبعث السرايا، ويكاتب

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحاكم (2/ 290)، وأبو نعيم في "الحلية" (8/ 368) بأطول من هذا، وصحح الألباني الشطر المذكور هنا بمعناه بشواهده، انظر: "السلسلة الضعيفة" (8/ 229) رقم (3755).

মুসলমানদের ছোট শিরক (الشرك الأصغر) এবং অন্যান্য শিরক থেকে মুক্ত করা, তবে রিয়া (الرياء) বা লোকদেখানো ইবাদত ব্যতীত, যার সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি অন্ধকার রাতে কালো পাথরের ওপর পিঁপড়ার চলার শব্দের চেয়েও অধিক গোপনীয়।" (১)।

তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে মসজিদে মানুষকে মূলনীতিসমূহ (الأصول) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে: আর তা হলো আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানা এবং এর রুকনসমূহ (أركان) সম্পর্কে জানা, আর এই বিষয়গুলোর স্বপক্ষে কুরআন থেকে কী কী দলীল (أدلة) বর্ণিত হয়েছে তা জানা। সেই সাথে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিচয়, তাঁর বংশ পরিচয়, তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তি ও হিজরত এবং তিনি সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিয়েছিলেন—অর্থাৎ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং এর অর্থ জানা। আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, নামাজের শর্তাবলি (شروط), রুকনসমূহ (أركان) ও ওয়াজিবসমূহ (واجبات), ওযুর ফরজসমূহ ও ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ (نواقض), এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট তাওহীদ (التوحيد) প্রতিষ্ঠার বিষয়াদি তথা ইবাদতের বিভিন্ন প্রকার—যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য প্রাপ্য নয়—যেমন দুআ, জবেহ, মানত, ভয়, আশা, ভীতি, আকাঙ্ক্ষা, উদ্বেগ, তাওয়াক্কুল (التوكل), ইনাবাত (الإنابة) ইত্যাদি।

সারসংক্ষেপ হলো, তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব এত বেশি যে তা সীমাবদ্ধ করা অসম্ভব এবং তা উল্লেখ করার চেয়েও বেশি প্রসিদ্ধ। যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় তবে কিতাবসমূহেও তার সংকুলান হবে না, তবে এগুলো সংক্ষেপে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সমুদ্র থেকে এক ফোঁটা মাত্র। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তাঁর উসিলায় বিদআত (البدع) বিদূরিত হয়েছে, মুসলমানদের ঐক্য অর্জিত হয়েছে এবং জামাত ও জুমআর সালাত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বীন জরাজীর্ণ হওয়ার পর তার পুনর্জাগরণ ঘটেছে এবং শিরকের (الشرك) মূল প্রোথিত হওয়ার পর তার উৎপাটন করা হয়েছে।

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বাহিনী প্রস্তুত করতেন, ছোট সেনাদল (السرايا) প্রেরণ করতেন এবং পত্রালাপ করতেন

--------------------------------------------

(১) এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন (أخرجه) (২/২৯০) এবং আবু নুআইম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে (৮/৩৬৮) এর চেয়ে দীর্ঘাকারে বর্ণনা করেছেন। আলবানি এখানে উল্লিখিত অংশটিকে এর অর্থগত সমর্থক বর্ণনাসমূহের (شواهد) ভিত্তিতে সহিহ (صحح) বলেছেন। দেখুন: সিলসিলাহ দফিয়া (৮/২২৯), হাদিস নং ৩৭৫৫।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أهل البلدان ويكاتبونه، فلم يزل مجاهدًا حتى أذعن أهل نجد وتابعوا، وعمل فيها بالحق والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وبايعوا، فعمرت نجد بعد خرابها، وصلحت بعد فسادها، ونال الفخرَ والملكَ من آواه، وصاروا ملوكًا بعد الذل والقتال. وهكذا كل من نصر الشريعة من قديم الزمان وحديثه الله يظهره على أعداه، ويجعله مالكًا لمن عاداه) اهـ (1).

وفتش في مشارق الأرض ومغاربها عن المنصفين من أهل الإسلام، بل من غيرهم، تجدهم مُجْمِعين على أن دعوة الشيخ كانت دعوة تجديدية خالصة أعادت فهم الإسلام كما كان في خير القرون، وتجدهم يشيدون بآثارها المباركة التي امتدت لتشمل الصحوة الإسلامية المباركة في العالم الإسلامي اليوم.

…

--------------------------------------------

(1) "المختار المصون من أعلام القرون" (3/ 1909، 1910) نقلاً عن: "عنوان المجد في تاريخ نجد" ..
বিভিন্ন জনপদের অধিবাসীগণ তাঁর সাথে পত্রালাপ করতেন। তিনি অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না নজদবাসীগণ আনুগত্য প্রকাশ করল এবং তাঁর অনুসারী হলো। তিনি সেখানে সত্যের সাথে আমল করলেন এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (المنكر) বাস্তবায়ন করলেন। তারা বায়আত গ্রহণ করল; ফলে নজদ তার বিধ্বস্ত অবস্থার পর পুনর্গঠিত হলো এবং তার বিপর্যয়ের পর সংশোধিত হলো। যারা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিল তারা গৌরব ও রাজত্ব লাভ করল এবং লাঞ্ছনা ও যুদ্ধের পর তারা শাসক শ্রেণিতে পরিণত হলো। এভাবেই প্রাচীনকাল থেকে আধুনিককাল পর্যন্ত যে ব্যক্তিই শরীয়তকে সহায়তা করেছে, আল্লাহ তাকে তার শত্রুদের ওপর বিজয়ী করেন এবং তাকে তার বিরোধীদের ওপর কর্তৃত্ব দান করেন। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত] (১)।

আপনি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ইসলামের অনুসারীদের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধান করুন, এমনকি অন্যদের মাঝেও; আপনি তাদের এই বিষয়ে একমত পাবেন যে, শায়খের দাওয়াত ছিল একটি বিশুদ্ধ সংস্কারমূলক দাওয়াত, যা ইসলামের সঠিক উপলব্ধিকে ঠিক সেভাবে ফিরিয়ে এনেছে যেমনটি শ্রেষ্ঠ শতাব্দীগুলোতে ছিল। আপনি তাদের এই দাওয়াতের বরকতময় প্রভাবের প্রশংসা করতে দেখবেন, যা বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বরকতময় ইসলামী জাগরণ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

…

--------------------------------------------

(১) "আল-মুখতার আল-মাসুন মিন আ’লাম আল-কুরুন" (৩/ ১৯০৯, ১৯১০), উদ্ধৃতি: "উনওয়ান আল-মাজদ ফি তারিখ নজদ" থেকে ..
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الوهابية ثورة "ثقافية"

لما تجهز شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله من بلد العيينة إلى حج بيت الله الحرام، وقضى حجه، سار إلى المدينة -على ساكنها أفضل الصلاة والسلام-، فلما وصلها وجد فيها الشيخ العالم عبد الله بن إبراهيم بن سيف من آل سيف رؤساء بلد "المجمَعَة" القرية المعروفة في ناحية "سدير"، فأخذ الشيخ محمد عنه.

قال الشيخ محمد رحمه الله: كنت عنده يومًا، فقال لي: "تريد أن أريَكَ سلاحًا أعددته للمَجْمَعَةِ؟ " قلت: نعم، فأدخلني منزلًا عنده فيه كتب كثيرة، وقال: "هذا الذي أعددنا لها" (1).

لا شك أن هذا الموقف قد انطبع في نفس شيخ الإسلام، وأنه أثَّر في طبيعة دعوته، فإن شيخ الإسلام لم يتفرغ للدعوة إلا بعد أن تفرغ للعلم، ونهل منه، وأسس دعوته على العلم والبراهين، والحجج والأدلة (2)، وصدق الشاعر إذ يقول:

قد يكونُ الرمحُ مِن سِنِّ القلمْ … ومن العلمِ حضاراتُ الأممْ

--------------------------------------------

(1) "نفس المرجع" (3/ 1898).

(2) كان شيخ الإسلام يطلب الكتب من الأمصار، وفي إحدى مراسلاته كتب: "وتعرف حرصي على الكتب"، وكانت الكتب أول ما يبحث عنه هو وتلاميذه عندما يفتحون بلدًا، أو حتى وهم في المنافي، وانظر: "السعوديون والحل الإسلامي" ص (96)، وانظر ما يأتي ص (93، 94).
ওহাবিবাদ একটি "সাংস্কৃতিক" বিপ্লব

শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) যখন উয়াইনা শহর থেকে আল্লাহর পবিত্র ঘর হজের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন এবং তাঁর হজ সম্পাদন করলেন, তখন তিনি মদিনার—তার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—দিকে যাত্রা করলেন। যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন, তখন সেখানে "সাদির" অঞ্চলের প্রসিদ্ধ জনপদ "আল-মাজমাআহ"-এর নেতৃস্থানীয় বংশ আলে সাইফ-এর আলেম শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফকে পেলেন। অতঃপর শাইখ মুহাম্মদ তাঁর নিকট ইলম বা শিক্ষা গ্রহণ করলেন।

শাইখ মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: একদা আমি তাঁর নিকট ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: "আমি মাজমাআহর জন্য যে অস্ত্র প্রস্তুত করেছি, তা কি তুমি দেখতে চাও?" আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি আমাকে তাঁর নিকটস্থ একটি ঘরে নিয়ে গেলেন যেখানে প্রচুর কিতাব ছিল এবং বললেন: "এটাই সেই সরঞ্জাম যা আমি এর জন্য প্রস্তুত করেছি" (১)।

নিঃসন্দেহে এই ঘটনাটি শাইখুল ইসলামের মনে গভীর রেখাপাত করেছিল এবং এটি তাঁর দাওয়াতের প্রকৃতিতেও প্রভাব ফেলেছিল। কেননা শাইখুল ইসলাম ইলম অর্জনে নিমগ্ন হওয়ার এবং তা থেকে সিক্ত হওয়ার পরই কেবল দাওয়াতের জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। তিনি তাঁর দাওয়াতকে ইলম, অকাট্য প্রমাণ, যুক্তি (حجج) ও দলিল (أدلة)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন (২)। কবি সত্যই বলেছেন:

কলমের নিব থেকেও বর্শার সৃষ্টি হতে পারে … আর ইলম থেকেই গড়ে ওঠে জাতিসমূহের সভ্যতা।

--------------------------------------------

(১) "একই সূত্র" (৩/ ১৮৯৮)।

(২) শাইখুল ইসলাম বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিতাব সংগ্রহ করতেন। তাঁর একটি চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন: "কিতাবের প্রতি আমার আগ্রহের কথা তো তুমি জানোই"। তিনি এবং তাঁর ছাত্ররা যখন কোনো জনপদ বিজয় করতেন অথবা যখন তারা নির্বাসনে থাকতেন, তখনও কিতাবই ছিল তাঁদের সর্বপ্রথম অনুসন্ধানের বিষয়। দেখুন: "আস-সাউদিউন ওয়াল হালুল ইসলামি", পৃষ্ঠা (৯৬) এবং পরবর্তী ৯৩ ও ৯৪ পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) গাওয়াতিরু হাওলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
لقد أولى شيخ الإسلام "سلاح العلم" و"رمح القلم اهتمامًا أولويًّا في مسار دعوته، ولم يقتصر على استقطاب "النخبة" أو "الصفوة" (1) -على حد تعبيرنا المعاصر-، وإنما تمدد اهتمامه البالغ حتى طال "رجل الشارع" -على حد تعبيرنا اليوم أيضًا-.

فقد أمرهم - أي عوامَّ أهل نجد - بتعلم أصول الإسلام وشرائطه، وسائر أحكام الدين، وأمر جميع أهل البلاد بالمذاكرة في المساجد كل يوم بعد صلاة الصبح وبين العشاءين بمعرفة الله، ومعرفة دين الإسلام، ومعرفة أركانه، ومعرفة النبي صلى الله عليه وسلم ونسبه ومبعثه وهجرته، وأول ما دعا إليه كلمة التوحيد، وسائر العبادات التي لا تنبغي إلا لله، كالدعاء والذبح والنذر والخوف والرجاء والخشية والرغبة والتوكل والإنابة وغير ذلك، فلم يبق أحد من عوام نجد جاهلًا بأحكام دين الإسلام، بل كلهم تعلموا ذلك، بعد أن كانوا جاهلين إلا الخواص منهم".

لقد كان أهل نجد في نهاية من الجهالة والضلال فنشرف الدعوة فيهم علوم الشريعة المطهرة وآلاتها، وأصبحت الدرعية كعبة العلوم والمعارف وانتشر العلم في جميع الطبقات حتى قال المؤرخون:

--------------------------------------------

(1) لم تكن دعوة الشيخ دعوة "نخبوية" متعالية تستقطب الفئة المتعلمة فقط، أو تستهدف ذوي الوجاهة الاجتماعية والسلطة السياسية والقوة الاقتصادية، وإنما كانت دعوة "جماهيرية" تهتم بصياغة كل فرد في المجتمع صياغة جديدة، بحيث يتحول بعد تهذيبه من حجر خام مبعثر الأبعاد إلى لَبِنَةٍ قد هُذِّبت أبعادُها الستة، وصلحت لأن تكون جزءًا من البنيان المرصوص الذي يشد بعضه بعضًا، وانظر: "السعوديون والحل الإسلامي" ص (95، 96).
শায়খুল ইসলাম তাঁর দাওয়াতের ধারায় "জ্ঞানের অস্ত্র" এবং "কলমের বর্শা"কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছিলেন। তিনি কেবল "অভিজাত" বা "মনোনীত" (১) -আমাদের বর্তমান পরিভাষায়- ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তাঁর সুগভীর মনোযোগ "সাধারণ মানুষ" পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল -যা আমাদের বর্তমান পরিভাষায়ও ব্যবহৃত হয়।

তিনি তাঁদেরকে অর্থাৎ নজদ অঞ্চলের সাধারণ জনগণকে ইসলামের মূলনীতি (أصول) ও শর্তাবলি এবং দীনের যাবতীয় বিধিবিধান (أحكام) শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জনপদের সকল অধিবাসীকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর এবং মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে মসজিদে সমবেত হয়ে মহান আল্লাহর পরিচয়, ইসলাম ধর্মের পরিচয়, এর রুকনসমূহ (أركان), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিচয়, তাঁর বংশপরিচয়, নবুয়ত প্রাপ্তি ও হিজরত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দেন। তিনি সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন তা হলো তাওহিদের বাণী এবং ঐ সকল ইবাদত যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য হওয়া সমীচীন নয়; যেমন: দোয়া, জবেহ, মানত, ভয়, আশা, ভীতি, আকাঙ্ক্ষা, তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), প্রত্যাবর্তন এবং আরও অনেক কিছু। এর ফলে নজদের সাধারণ জনগণের মধ্যে ইসলামের বিধিবিধান (أحكام) সম্পর্কে কেউ অজ্ঞ থাকেনি, বরং তারা সকলেই তা শিখে নিয়েছিল; অথচ ইতিপূর্বে তারা চরম অজ্ঞতায় নিমজ্জিত ছিল, কেবল বিশেষ কিছু ব্যক্তি ব্যতীত।

নজদবাসী চরম অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার শেষ সীমায় ছিল; অতঃপর দাওয়াতের ফলে তাদের মাঝে পবিত্র শরিয়াহর জ্ঞান ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ প্রস্ফুটিত হয়। দিরইয়াহ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং সকল স্তরের মানুষের মাঝে ইলম ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি ঐতিহাসিকগণ বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) শায়খের দাওয়াত কোনো "অভিজাততান্ত্রিক" বা উচ্চমন্য দাওয়াত ছিল না যা কেবল শিক্ষিত সমাজকে আকৃষ্ট করত অথবা সামাজিক প্রতিপত্তি ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতার অধিকারীদের লক্ষ্য বানাত; বরং এটি ছিল একটি "জনমুখী" দাওয়াত যা সমাজের প্রতিটি ব্যক্তিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করত। যাতে একজন ব্যক্তিকে সংস্কারের মাধ্যমে অগোছালো কোনো কাঁচামাল থেকে এমন একটি সুবিন্যস্ত ইটে রূপান্তর করা যায় যার ছয়টি দিকই সুসংহত এবং যা একটি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় শক্তিশালী ইমারতের অংশ হওয়ার যোগ্য হয়, যা পরস্পরকে সুদৃঢ় রাখে। দেখুন: "আস-সুউদিয়্যুন ওয়াল হাল্লুল ইসলামি" পৃষ্ঠা (৯৫, ৯৬)।