(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: -)
التجريد الصريح لأحاديث الجامع الصحيح   (الزبيدي، زين الدين)

القسم: كتب السنة


الكتاب: التجريد الصريح لأحاديث الجامع الصحيح

المؤلف: أحمد بن أحمد بن عبد اللطيف الشرجي، زين الدين الزبيدي (ت 893هـ)

اعتنى به وخرج أحاديثه: حسن عبد المنعم شلبي، كسرى صالح العلي

الناشر: مؤسسة الرسالة ناشرون، دمشق - سوريا

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: 1

(تنبيهات):

1 - ترقيم الأحاديث هنا هو ترقيم المطبوع (ط الرسالة)، وقد قال عنه المحقق/ ترقيم علمي دقيق، تتميز به طبعتنا عن غيرها من الطبعات، حيث أننا أضفنا بضعة أحاديث وردت في النسخة الخطية، وقد سقطت من النسخ المطبوعة، وكثيرا ما كنا نرى في النسخ المطبوعة حديثين برقم واحد أو العكس، فكان لا بد من تصويب ذلك، وهذا هو سبب اختلاف ترقيم طبعتنا عن غيرها

2 - أضاف المحقق عناوين الأبواب من صحيح البخاري، ونحن التزمنا في هذا الكتاب الإلكتروني بعمل الزبيدي حيث لم يذكر إلا أسماء الكتب فقط

3 - تجد في هذا الكتاب الإلكتروني - عقب كل حديث - رقمه في صحيح البخاري

4 - للمحدث الشيخ عمر ضياء الدين الداغستاني نزيل مصر (1265 - 1340 هـ)، كتاب (زوائد الزبيدي) (طبع فى الإسكندرية 1336 هـ)، استدرك فيه 105 حديث يرى أنها فاتت الزبيدي في تجريده مع كونها غير مكررة، وكلها مسندة ومتصلة لا مقطوعة ولا معلقة

ويقول الشيخ عبد الكريم الخضير/ لكن من خلال تأمل هذه الزوائد نجد أنها لا ترد على الزبيدي؛ لأن الزبيدي لا يهتم بمثل هذه الفروق اليسيرة التي لا تؤثر في حكم، ولا تخل بمعنى.

وقد أضيفت هذه الأحاديث لهذه النسخة الإلكترونية في مواضعها مع التنبه على أنها من الزوائد

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 رمضان 1433

আত-তাজরীদুস সারীহ লি-আহাদীসিল জামিইইস সহীহ   (আয-যুবাইদী, যাইনুদ্দীন)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


কিতাব: আত-তাজরীদুস সারীহ লি-আহাদীসিল জামিইইস সহীহ

লেখক: আহমাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল লতিফ আশ-শারজী, যাইনুদ্দীন আয-যুবাইদী (মৃত্যু ৮৯৩ হিজরি)

সম্পাদনা ও হাদিস বিন্যাস: হাসান আব্দুল মুনইম শালাবি, কিসরা সালেহ আল-আলী

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ নাশিরুন, দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

(সতর্কবার্তা):

১ - এখানে হাদিসের নম্বরসমূহ হলো মুদ্রিত সংস্করণের (আর-রিসালাহ সংস্করণ) নম্বর অনুযায়ী। মুহাক্কিক (গবেষক) এর ব্যাপারে বলেছেন: এটি একটি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক নাম্বারিং, যা আমাদের এই সংস্করণকে অন্যান্য সংস্করণ থেকে আলাদা করে। কারণ আমরা এখানে এমন কিছু হাদিস যোগ করেছি যা পাণ্ডুলিপিতে ছিল কিন্তু মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে বাদ পড়ে গিয়েছিল। আমরা প্রায়ই দেখতাম মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে দুটি হাদিস একই নম্বরে দেওয়া আছে অথবা এর বিপরীত। তাই এটি সংশোধন করা জরুরি ছিল, আর এটাই অন্যান্য সংস্করণের সাথে আমাদের নাম্বারিংয়ের পার্থক্যের কারণ।

২ - মুহাক্কিক সহীহ বুখারী থেকে অধ্যায়ের শিরোনামসমূহ যোগ করেছেন, তবে আমরা এই ই-বুকটিতে আয-যুবাইদীর মূল কাজ অনুসরণ করেছি, যেখানে তিনি শুধুমাত্র কিতাবগুলোর (মূল অধ্যায়ের) নাম উল্লেখ করেছেন।

৩ - এই ই-বুকটিতে আপনি প্রতিটি হাদিসের পরে সহীহ বুখারীতে তার নম্বরটি খুঁজে পাবেন।

৪ - মিশরে বসবাসকারী মুহাদ্দিস শাইখ উমর জিয়াউদ্দীন আদ-দাগিস্তানি (১২৬৫ - ১৩৪০ হিজরি)-এর ‘যাওয়াইদুজ যুবাইদী’ (যুবাইদীর অতিরিক্তগুলো) নামক একটি কিতাব রয়েছে (১৩৩৬ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ায় মুদ্রিত), সেখানে তিনি ১০৫টি হাদিস সংযোজন করেছেন যা তাঁর মতে আয-যুবাইদী তাঁর সংক্ষেপে বাদ দিয়েছিলেন, অথচ সেগুলো পুনরাবৃত্তি নয়। এই সবগুলো হাদিসই মুসনাদ এবং মুত্তাসিল (সনদযুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন), কোনোটিই মাকতু' বা মুআল্লাক নয়।

শাইখ আব্দুল কারীম আল-খুদাইর বলেন: কিন্তু এই অতিরিক্ত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এগুলো আয-যুবাইদীর ওপর কোনো আপত্তি তৈরি করে না; কারণ আয-যুবাইদী এই ধরনের সামান্য পার্থক্যের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেননি যা কোনো হুকুম বা বিধানে প্রভাব ফেলে না এবং অর্থের কোনো ক্ষতি করে না।

এই হাদিসগুলো এই ই-সংস্করণে তাদের নিজ নিজ স্থানে যোগ করা হয়েছে এবং এগুলো যে অতিরিক্ত (যাওয়াইদ) তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

[কিতাবটির নাম্বারিং মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রমজান ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[التجريد الصريح لأحاديث الجامع الصحيح]ـ

المؤلف: أحمد بن أحمد بن عبد اللطيف الشرجي، زين الدين الزبيدي (المتوفى: 893هـ)

اعتنى به وخرج أحاديثه: حسن عبد المنعم شلبي، كسرى صالح العلي

الناشر: مؤسسة الرسالة ناشرون، دمشق - سوريا

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

(تنبيهات)

1 - ترقيم الأحاديث هنا هو ترقيم المطبوع (ط الرسالة): وقد قال عنه المحقق: ترقيم علمي دقيق، تتميز به طبعتنا عن غيرها من الطبعات، حيث أننا أضفنا بضعة أحاديث وردت في النسخة الخطية، وقد سقطت من النسخ المطبوعة، وكثيرا ما كنا نرى في النسخ المطبوعة حديثين برقم واحد أو العكس، فكان لا بد من تصويب ذلك، وهذا هو سبب اختلاف ترقيم طبعتنا عن غيرها

2 - أضاف المحقق عناوين الأبواب من صحيح البخاري، ونحن التزمنا في هذا الكتاب الإلكتروني بعمل الزبيدي حيث لم يذكر إلا أسماء الكتب فقط

3 - تجد في هذا الكتاب الإلكتروني - عقب كل حديث - رقمه في صحيح البخاري

4 - للمحدث الشيخ عمر ضياء الدين الداغستاني نزيل مصر (1265 - 1340 هـ)، كتاب (زوائد الزبيدي) (طبع فى الإسكندرية 1336 هـ)، استدرك فيه 105 حديث يرى أنها فاتت الزبيدي في تجريده مع كونها غير مكررة، وكلها مسندة ومتصلة لا مقطوعة ولا معلقة

ويقول الشيخ عبد الكريم الخضير: لكن من خلال تأمل هذه الزوائد نجد أنها لا ترد على الزبيدي؛ لأن الزبيدي لا يهتم بمثل هذه الفروق اليسيرة التي لا تؤثر في حكم، ولا تخل بمعنى.

وقد أضيفت هذه الأحاديث لهذه النسخة الإلكترونية في مواضعها مع التنبه على أنها من الزوائد
আত-তাজরীদ আস-সারীহ লি-আহাদীস আল-জামি আস-সহীহ

লেখক: আহমাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল লতিফ আশ-শারজী, যাইনুদ্দীন আয-যাবীদী (মৃত্যু: ৮৯৩ হিজরি)

সম্পাদনা ও হাদীস যাচাই: হাসান আব্দুল মুনইম শালবী, কাসরা সালিহ আল-আলী

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ নাশিরুন, দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

--------------------------------------------

(সতর্কবার্তা)

১ - এখানে হাদীসের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির (আর-رিসালাহ সংস্করণ) অনুরূপ: গবেষক এটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি একটি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক নম্বর বিন্যাস, যা আমাদের সংস্করণকে অন্যান্য সংস্করণ থেকে আলাদা করে। কারণ আমরা পাণ্ডুলিপিতে থাকা এমন কিছু হাদীস যুক্ত করেছি যা মুদ্রিত সংস্করণগুলো থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল। আমরা প্রায়শই মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে দুটি হাদীসকে একটি নম্বরে অথবা উল্টোটি দেখতাম, তাই সেটি সংশোধন করা আবশ্যক ছিল। এটাই আমাদের সংস্করণের নম্বর বিন্যাস অন্যদের থেকে ভিন্ন হওয়ার কারণ।

২ - গবেষক সহীহ বুখারী থেকে পরিচ্ছেদসমূহের শিরোনাম যোগ করেছেন, কিন্তু আমরা এই ইলেকট্রনিক বইটিতে যাবীদীর কাজের ধারা বজায় রেখেছি, যেখানে তিনি কেবল কিতাবসমূহের নাম উল্লেখ করেছেন।

৩ - এই ইলেকট্রনিক বইটিতে প্রতিটি হাদীসের পরে সহীহ বুখারীতে তার নম্বরটি খুঁজে পাবেন।

৪ - মুহাদ্দিস শেখ উমর যিয়াউদ্দীন আদ-দাগিস্তানি (মিশরে বসবাসকারী, ১২৬৫ - ১৩৪০ হিজরি)-র একটি বই রয়েছে (যাওয়াইদ আল-যাবদী) (আলেকজান্দ্রিয়ায় মুদ্রিত ১৩৩৬ হিজরি), যাতে তিনি ১০৫টি হাদীস সংযোজন করেছেন যা তাঁর মতে যাবীদী তাঁর সংক্ষেপে বাদ দিয়ে গেছেন, যদিও সেগুলো পুনরাবৃত্তি নয়। এই সবগুলোই মুসনাদ (বর্ণনাসূত্রসহ) এবং মুত্তাসিল (সংযুক্ত), মাকতু (বিচ্ছিন্ন) বা মুআল্লাক (ঝুলন্ত) নয়।

শেখ আব্দুল করীম আল-খুদাইর বলেন: কিন্তু এই সংযোজনগুলো পর্যালোচনা করলে আমরা দেখি যে, এগুলো যাবীদীর ওপর কোনো আপত্তি হিসেবে আসে না; কারণ যাবীদী এই ধরণের সামান্য পার্থক্যের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন না যা কোনো হুকুম বা বিধানে প্রভাব ফেলে না এবং অর্থের কোনো ক্ষতি করে না।

এই হাদীসগুলো এই ইলেকট্রনিক সংস্করণের স্ব স্ব স্থানে যুক্ত করা হয়েছে এবং এটি সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে এগুলো সংযোজিত (যাওয়াইদ) অংশ।
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
- بسم الله الرحمن الرحيم -

الحمد لله البارئ المصور الخلاق الوهاب الفتاح الرزاق المبتدئ بالنعم قبل الاستحقاق، وصلاته وسلامه على رسوله الذي بعثه ليتمم مكارم الأخلاق، وفضله على كافة المخلوقين على الإطلاق، حتى فاق جميع البرايا في الآفاق، وعلى آله الكرام الموصوفين بكثرة الإنفاق، وعلى أصحابه أهل الطاعة والوفاق، صلاة دائمة مستمرة بالعشي والإشراق، آمين.

أما بعد، فاعلم أن كتاب الجامع الصحيح للإمام الكبير الأوحد مقدم أصحاب الحديث أبي عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري رحمه الله تعالى، من أعظم الكتب المصنفة في الإسلام وأكثرها فوائد. إلا أن الأحاديث المتكررة فيه متفرقة في الأبواب، وإذا أراد الإنسان أن ينظر في الحديث في أي باب لا يكاد يهتدي إليه إلا بعد جهد وطول فتش. ومقصود البخاري رحمه الله تعالى بذلك كثرة طرق الحديث وشهرته، ومقصودنا هنا أخذ أصل الحديث لكونه قد علم أن جميع ما فيه صحيح. قال الإمام النووي في مقدمة كتابه شرح مسلم: وأما البخاري فإنه يذكر الوجوه المختلفة في أبواب متفرقة متباعدة، وكثير منها يذكره في غير بابه الذي يسبق إليه الفهم أنه أولى به، فيصعب على الطالب جمع طرقه وحصول الثقة بجميع ما ذكره من طرق الحديث. قال: وقد رأيت جماعة من الحفاظ المتأخرين غلطوا في مثل هذا، فنفوا من رواية البخاري أحاديث هي موجودة في صحيحه في غير مظانها السابقة إلى الفهم. انتهى ما ذكره النووي رحمه الله تعالى.

فلما كان كذلك أحببت أن أجرد أحاديثه من غير تكرار. وجعلتها محذوفة الأسانيد ليقرب انتوال الحديث من غير تعب. وإذا أتى الحديث المتكرر أثبته في أول مرة، وإن كان في الموضع الثاي زيادة فيها فائدة ذكرتها، وإلا فلا. وقد يأتي حديث مختصر ويأتي بعد في رواية أخرى أبسط وفيه زيادة على الأول، فأكتب الثاني وأترك الأول لزيادة الفائدة وإن بعد. ولا أذكر من الأحاديث إلا ما كان مسندا متصلا. وأما ما كان مقطوعا أو معلقا فلا أتعرض له. وكذلك ما كان من أخبار
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উদ্ভাবক, রূপদানকারী, মহান স্রষ্টা, অবারিত দাতা, উন্মোচনকারী, রিযিকদাতা; যিনি যোগ্য হওয়ার পূর্বেই নিআমত দান শুরু করেন। তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের প্রতি, যাঁকে তিনি পাঠিয়েছেন সচ্চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য, এবং যাঁকে তিনি সমস্ত সৃষ্টির ওপর নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, এমনকি তিনি দিগন্তজুড়ে সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। আরও (সালাম ও দরুদ বর্ষিত হোক) তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গের প্রতি, যাঁরা অধিক দানশীলতার গুণে গুণান্বিত, এবং তাঁর অনুগত ও একনিষ্ঠ সাহাবীবর্গের প্রতি; এমন দরুদ যা সকাল-সন্ধ্যা চিরস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ষিত হয়। আমীন।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, মহান ইমাম, অদ্বিতীয়, হাদিস বিশারদগণের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) রচিত 'আল-জামি আস-সহীহ' গ্রন্থটি ইসলামে সংকলিত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধিক কল্যাণকর গ্রন্থসমূহের অন্যতম। তবে এতে পুনরাবৃত্ত হাদিসগুলো বিভিন্ন অধ্যায়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো একটি হাদিস কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ে খুঁজতে চায়, তবে কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ তল্লাশি ছাড়া সেটির হদিস পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর উদ্দেশ্য ছিল হাদিসের বহুবিধ সূত্র ও প্রসিদ্ধি ফুটিয়ে তোলা। আর আমাদের উদ্দেশ্য হলো হাদিসের মূল পাঠ গ্রহণ করা, যেহেতু এটি সুনিশ্চিত যে এতে যা কিছু আছে সবই সহীহ। ইমাম নববী তাঁর 'শরহে মুসলিম' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "বুখারীর বিষয়টি হলো এই যে, তিনি (হাদিসের) বিভিন্ন সংস্করণসমূহ দূরবর্তী ও ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ে উল্লেখ করেন। এর অনেকগুলো তিনি এমন অধ্যায়ে উল্লেখ করেন যা সাধারণ বুঝের বাইরে, ফলে শিক্ষার্থীর জন্য এর সকল সূত্র একত্রিত করা এবং তিনি যেসব সূত্র উল্লেখ করেছেন সে সম্পর্কে পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।" তিনি আরও বলেন: "আমি পরবর্তী যুগের একদল হাফেযে হাদিসকে দেখেছি যারা এ জাতীয় বিষয়ে ভুল করেছেন। তারা বুখারীর বর্ণনা থেকে এমন কিছু হাদিস অস্বীকার করেছেন যা তাঁর সহীহ গ্রন্থে বিদ্যমান ছিল, তবে সেগুলো প্রত্যাশিত স্থানে ছিল না।" ইমাম নববী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) যা উল্লেখ করেছেন তা এখানেই শেষ।

যখন বিষয়টি এমন, তখন আমি পছন্দ করলাম যে তাঁর হাদিসগুলোকে পুনরাবৃত্তি ছাড়াই সংকলন করব। আমি সেগুলোর সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) বাদ দিয়েছি যাতে কোনো ক্লান্তি ছাড়াই হাদিস আয়ত্ত করা সহজ হয়। যখন কোনো পুনরাবৃত্ত হাদিস আসবে, আমি তা প্রথমবারই সাব্যস্ত করব। যদি দ্বিতীয় স্থানে কোনো উপকারী অতিরিক্ত অংশ থাকে, তবে আমি তা উল্লেখ করব, অন্যথায় নয়। কখনো এমন হতে পারে যে একটি সংক্ষিপ্ত হাদিস এসেছে এবং পরে অন্য একটি বর্ণনায় তা আরও বিস্তারিতভাবে এসেছে যাতে প্রথমটির চেয়ে অতিরিক্ত কিছু আছে; সেক্ষেত্রে আমি অধিক উপকারের জন্য দ্বিতীয়টি লিখব এবং প্রথমটি ছেড়ে দেব, যদিও তা অনেক পরে আসে। আমি কেবল সেই হাদিসগুলোই উল্লেখ করব যা মুসনাদ (বর্ণনাকারীর পরম্পরাসহ) ও মুত্তাসিল (সংযুক্ত)। আর যা মাকতু (বিচ্ছিন্ন) বা মুআল্লাক (ঝুলন্ত), সেগুলোর ধারে-কাছে আমি যাব না। অনুরূপভাবে ঐতিহাসিক সংবাদসমূহের মধ্য হতে যা...
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
الصحابة فمن بعدهم مما ليس له تعلق بالحديث ولا فيه ذكر النبي صلى الله عليه وسلم فلا أذكره، كحكاية مشي أبي بكر وعمر رضي الله عنهما إلى سقيفة بني ساعدة وما كان فيه من المقاولة بينهم، وكقصة مقتل عمر رضي الله عنه ووصيته لولده في أن يستأذن عائشة ليدفن مع صاحبيه، وكلامه في أمر الشورى، وبيعة عثمان رضي الله عنه، ووصية الزبير لولده في قضاء دينه وما أشبه ذلك. ثم إني أذكر اسم الصحابي الذي روى الحديث في كل حديث ليعلم من رواه، وألتزم كثيرا ألفاظه في الغالب مثل أن يقول: عن عائشة، وتارة يقول: عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم، وتارة يقول: أم المؤمنين، وأحيانا يقول: عن ابن عباس، وحينا يقول: عن عبد الله بن عباس، وكذلك ابن عمر، وحينا يقول: عن أنس، وحينا يقول: عن أنس بن مالك، فأتبعه في جميع ذلك. وتارة يقول: عن فلان -يعني الصحابي- عن النبي صلى الله عليه وسلم، وتارة يقول: قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحينا يقول: إن النبي صلى الله عليه وسلم قال كذا وكذا، فأتبعه في جميع ذلك. فمن وجد في هذا الكتاب ما يخالف ألفاظه فلعله من اختلاف النسخ.

ولي بحمد الله في الكتاب المذكور أسانيد كثيرة متصلة بالمصنف عن مشايخ عدة. فمن ذلك روايتي له عن شيخي العلامة نفيس الدين أبي الربيع سليمان بن إبراهيم العلوي رحمه الله تعالى قراءة مني عليه لبعضه وسماعا لأكثره وإجازة في الباقي بمدينة تعز سنة ثلاث وعشرين وثمانمائة، قال: أخبرنا به والدي إجازة وشيخنا الإمام الكبير شرف المحدثين موسى بن موسى بن علي الدمشقي المشهور بالغزولي، قراءة مني عليه لجميعه، قالا: أخبرنا به الشيخ المسند المعمر أبو العباس أحمد بن أبي طالب الحجار إجازة للأول وسماعا للثاني. ومنها روايتي له عن الشيخ الصالح الإمام ولي الله تعالى أبي الفتح محمد بن الإمام زين الدين أبي بكر بن الحسين المدني العثماني سماعا لأكثره وإجازة لجميعه، والشيخ خاتمة الحفاظ شمس الدين أبي الخير محمد بن محمد بن محمد الجزري الدمشقي، والقاضي العلامة تقي الدين محمد بن أحمد الفاسي الشريف الحسني المكي قاضي المالكية بمكة المشرفة إجازة معينة منهم لجميعه رحمهم الله تعالى، قالوا ثلاثتهم: أنبأنا به الشيخ الإمام الحافظ شيخ المحدثين أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن صديق الدمشقي المعروف بابن الرسام، قال: أنبأنا به أبو العباس الحجار. وأخبرني به عاليا الشيخ الإمام زين الدين أبو بكر بن الحسين المدني المراغي ولد شيخنا أبي الفتح، وقاضي القضاة مجد الدين محمد بن يعقوب الشيرازي إجازة عامة، قالا: أخبرنا به أبو العباس الحجار، قال: أنبأنا به الشيخ الصالح الحسين بن المبارك الزبيدي، قال: أنبأنا به الشيخ الصالح أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب الهروي الصوفي، قال: أنبأنا به الشيخ الفقيه عبد الرحمن بن محمد بن المظفر الدودي، قال: أنبأنا به الإمام أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حموية السرخسي، قال: أنبأنا به الشيخ الصالح محمد بن يوسف الفربري، قال: أنبأنا به الإمام الكبير أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله تعالى.
সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ব্যক্তিদের সম্পর্কিত যেসব বিষয় হাদীসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো উল্লেখ নেই, আমি তা উল্লেখ করব না। যেমন- আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার সাকিফা বনী সাঈদার দিকে গমনের ঘটনা এবং সেখানে তাঁদের মধ্যে যে কথোপকথন হয়েছিল, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের কাহিনী এবং তাঁর দুই সঙ্গীর সাথে দাফন হওয়ার জন্য আয়েশার নিকট অনুমতি চাওয়ার ব্যাপারে তাঁর পুত্রকে কৃত ওসিয়ত, শূরা (পরামর্শ সভা) সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্য, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বায়আত গ্রহণ, ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে জুবায়েরের তাঁর পুত্রকে কৃত ওসিয়ত এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। অতঃপর আমি প্রত্যেক হাদীসে হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম উল্লেখ করব যাতে জানা যায় কে তা বর্ণনা করেছেন। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল শব্দগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করব। যেমন কখনো বলা হয়: আয়েশা থেকে বর্ণিত, কখনো বলা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী আয়েশা থেকে বর্ণিত, আবার কখনো বলা হয়: উম্মুল মুমিনীন থেকে। কখনো বলা হয়: ইবনে আব্বাস থেকে, আবার কখনো বলা হয়: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে। ইবনে উমরের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। কখনো বলা হয়: আনাস থেকে, আবার কখনো বলা হয়: আনাস ইবনে মালেক থেকে। আমি এই সকল ক্ষেত্রে মূল শব্দের অনুসরণ করব। কখনো বলা হয়: অমুক থেকে (অর্থাৎ সাহাবী থেকে), তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। কখনো বলা হয়: তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। আবার কখনো বলা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন এমন বলেছেন। আমি এই সকল ক্ষেত্রেই মূল শব্দের অনুসরণ করব। সুতরাং কেউ যদি এই কিতাবে মূল শব্দের বিপরীত কিছু পান, তবে তা সম্ভবত পাণ্ডুলিপি বা কপির ভিন্নতার কারণে হতে পারে।

আল্লাহর প্রশংসায়, উল্লিখিত কিতাবটির ব্যাপারে আমার কাছে অনেক অবিচ্ছিন্ন সনদ রয়েছে যা বিভিন্ন শায়খের মাধ্যমে গ্রন্থকারের সাথে মিলিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো আমার শায়খ আল্লামা নাফিসুদ্দীন আবু রাবী সুলাইমান বিন ইবরাহিম আল-আলাওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে আমার বর্ণনা। আমি তাঁর কাছে এর কিছু অংশ পাঠ করেছি, অধিকাংশ শুনেছি এবং অবশিষ্টাংশ বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) পেয়েছি ৮২৩ হিজরীতে তায়েজ শহরে। তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে ইজাজত দিয়েছেন এবং আমাদের শায়খ মহান ইমাম শরফ আল-মুহাদ্দিসীন মুসা বিন মুসা বিন আলী আদ-দিমাশকী—যিনি আল-গাজুলি নামে পরিচিত—তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমি তাঁর কাছে এর পুরোটাই পাঠ করেছি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন প্রবীণ শায়খ মুসনিদ আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবি তালিব আল-হাজ্জার; প্রথমজনের জন্য ইজাজত হিসেবে এবং দ্বিতীয়জনের জন্য সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে। অন্যান্য সনদের মধ্যে রয়েছে—নেককার শায়খ ইমাম ও আল্লাহর ওলী আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন ইমাম যাইনুদ্দীন আবু বকর বিন হুসাইন মাদানী ওসমানী থেকে আমার বর্ণনা, এর অধিকাংশ শ্রবণ এবং পুরোটির ইজাজত হিসেবে। এবং হাফেজদের সমাপ্তকারী শায়খ শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-জাযারী আদ-দিমাশকী এবং আল্লামা কাজী তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফাসি আশ-শরিফ আল-হাসানি আল-মাক্কী—যিনি মক্কা মুকাররমার মালেকী কাজী ছিলেন—তাঁদের পক্ষ থেকে পুরো কিতাবটির জন্য নির্দিষ্ট ইজাজত (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন)। তাঁরা তিনজনই বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম হাফেজ মুহাদ্দিসগণের শায়খ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সিদ্দিক আদ-দিমাশকী, যিনি ইবনুর রাসসাম নামে পরিচিত। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-হাজ্জার। আমাকে উচ্চ সনদে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম যাইনুদ্দীন আবু বকর বিন হুসাইন মাদানী আল-মারাগী (যিনি আমাদের শায়খ আবুল ফাতহের পুত্র) এবং প্রধান বিচারক মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আশ-শিরাজী সাধারণ ইজাজত হিসেবে। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-হাজ্জার। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ হুসাইন বিন মুবারক আজ-জুবাইদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুয়াইব আল-হারাবী আস-সুফী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ফকীহ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুজাফফর আদ-দাওদী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্মুইয়া আস-সারখাসি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)।
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
ولكل واحد من هؤلاء المذكورين إلى البخاري أسانيد كثيرة بطرق متنوعة. ولي بحمد الله أسانيد غير هذه عن مشايخ كثيرين يطول تعدادهم، اقتصرت منها على هذه الطرق لشهرتها وعلوها. وسميت هذا الكتاب المبارك بالتجريد الصريح لأحاديث الجامع الصحيح. والمسؤول من الله تعالى أن ينفع بذلك ويجعله خالصا لوجهه الكريم، وأن يصلح المقاصد والأعمال بجاه سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين. وهذا حين الشروع إن شاء الله تعالى.
উল্লিখিত এই ব্যক্তিদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ইমাম বুখারী পর্যন্ত বিভিন্ন পথে বহু সনদ রয়েছে। আল্লাহর প্রশংসায়, আমার নিকট এগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য মাশায়েখ থেকে অনেক সনদ রয়েছে যাদের গণনা সুদীর্ঘ হবে; আমি সেগুলোর মধ্য থেকে কেবল এই পথগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এগুলোর প্রসিদ্ধি ও উচ্চমানের কারণে। আমি এই বরকতময় কিতাবটির নাম রেখেছি ‘আত-তাজরীদুস সারীহ লি-আহাদীসিল জামিইইস সহীহ’। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং একে তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন, আর আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের মর্যাদার উসিলায় আমাদের উদ্দেশ্য ও আমলসমূহ সংশোধন করে দেন। আল্লাহ তাআলা চাইলে এখনই শুরু করছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌كتاب بدء الوحي

كيف كان بدء الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم -
ওহীর সূচনার কিতাব

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ওহীর সূচনা কেমন ছিল -
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
1 - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ». (بخاري: 1)
১ - ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য কেবল তা-ই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।» (বুখারি: ১)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
2 - عَنْ عَائشَةَ أُمِّ الْمُوُمِنِينَ رضي الله عنها: أَنَّ الْحَارِثْ بْنَ هِشَامٍ رضي الله عنه سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثلَ صَلْصَلَة الْجَرَسِ وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمثَّلُ لِيَ الْمَلَكُ رَجُلًا فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ» قَالَتْ عَائشَة رضي الله عنها: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا. (بخاري: 2)
২ - উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত: হারিস ইবনে হিশাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «কখনও তা ঘণ্টার ঝনঝন শব্দের ন্যায় আমার নিকট আসে, আর তা-ই আমার ওপর সবচেয়ে কঠিন হয়। অতঃপর যখন ওহীর অবস্থা সমাপ্ত হয়, তখন তিনি যা বলেছেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলি। আবার কখনও ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সামনে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা আয়ত্ত করে নেই।’ আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি; ওহী শেষ হওয়ার পর তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত। (বুখারী: ২)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
3 - عَنْ عَائشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ: أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ، فَكَانَ لا يَرَى رُؤْيَا إِلا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلاءُ، وَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّتْ فِيهِ وَهُوَ التَّعَبُّدُ اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ ثْمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَة فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ: اقْرَأْ قَالَ: «مَا

⦗ص: 18⦘ أَنَا بِقَارِئٍ» قَالَ: «فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ، قُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثْانِيَة حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ، فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَالِثَةَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ}» فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْجُفُ فُوُادُهُ فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ رضي الله عنها فَقَالَ: «زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي» فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ فَقَالَ لِخَدِيجَةَ وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ «لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي» فَقَالَتْ خَدِيجَةُ: كَلَّا وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ. فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ، وَكَانَ امْرَأً قَدْ تَنَصَّرَ فِي الْجَاهِلِيَّة، وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعِبْرَانِيَّ، فَيَكْتُبُ مِنَ الإِنْجِيلِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِيَ، فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: يَا ابْنَ عَمِّ اسْمَعْ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَبَرَ مَا رَأَى فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى، يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا، لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَمُخْرِجِيَّ هُمْ؟» قَالَ: نَعَمْ، لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلا عُودِيَ وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا، ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ وَفَتَرَ الْوَحْيُ. (بخاري: 3)
৩ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর মতো উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশ পেত। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে পরিবারের কাছে ফিরে আসার আগে টানা কয়েক রাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য আবার পাথেয় নিয়ে যেতেন। এভাবে হেরা গুহায় অবস্থানকালেই তাঁর কাছে সত্য (ওহী) আসল। তখন ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন: 'পড়ুন'। তিনি বললেন: 'আমি

⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ পড়তে জানি না'। তিনি বললেন: "এরপর তিনি আমাকে জাপটে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, যাতে আমি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: 'পড়ুন'। আমি বললাম: 'আমি পড়তে জানি না'। তখন তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জাপটে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, যাতে আমি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: 'পড়ুন'। আমি বললাম: 'আমি পড়তে জানি না'। এরপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার জাপটে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: {পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন এবং আপনার রব অত্যন্ত মহিমান্বিত}।" এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কম্পিত হৃদয়ে তা নিয়ে ফিরে আসলেন এবং খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ করে বললেন: "আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।" তখন তারা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। এরপর তিনি খাদিজাকে সব ঘটনা জানালেন এবং বললেন: "আমি আমার নিজের জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি।" তখন খাদিজা বললেন: "কখনই নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেন, অতিথিদের মেহমানদারি করেন এবং সত্য পথের দুর্যোগে মানুষকে সাহায্য করেন।" এরপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযার কাছে গেলেন। জাহেলি যুগে তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু কিতাব লিখতে জানতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ইনজিল থেকে হিব্রু ভাষায় যা আল্লাহ চাইতেন তা লিখতেন। তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: 'হে চাচাতো ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন'। তখন ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: 'হে ভাতিজা, তুমি কী দেখছ?' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তা তাঁকে জানালেন। ওয়ারাকা তাঁকে বললেন: 'ইনি তো সেই বার্তাবাহক (নামুস), যাকে আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম! আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যখন তোমার কওম তোমাকে বের করে দেবে!' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তারা কি আমাকে বের করে দেবে?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছ তা নিয়ে ইতিপূর্বে যে কেউ এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। তোমার সেই দিনটি যদি আমি পাই, তবে আমি তোমাকে সর্বাত্মক সাহায্য করব।' এরপর ওয়ারাকা বেশিদিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই ইন্তেকাল করলেন এবং ওহী সাময়িকভাবে বন্ধ থাকল। (বুখারী: ৩)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
4 - عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ فَقَالَ فِيْ حَدِيْثِهِ: «بَيْنَا أَنَا أَمْشِي سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ بَصَرِي قِبَلَ السَّمَاءِ فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ قَاعِدٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، فرُعِبتُ مِنْهُ فَجِئْتُ أَهْلِي فَقُلْتُ زَمِّلُوْنِيْ، زَمِّلُوْنِيْ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ} إِلَى قَوْلِهِ: {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} فَحَمِيَ الْوَحْيُ وَتَتَابَعَ». (بخاري: 4)
৪ - জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি ওহী স্থগিত থাকার সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি তাঁর বর্ণনায় বলেন: «আমি যখন হাঁটছিলাম, তখন হঠাৎ আকাশ থেকে একটি আওয়ায শুনতে পেলাম। আমি আকাশের দিকে দৃষ্টি তুললাম এবং দেখলাম সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন, তিনি আসমান ও যমীনের মাঝে একটি কুরসীর উপর বসে আছেন। তাঁকে দেখে আমি আতঙ্কিত হলাম। আমি আমার পরিজনদের নিকট ফিরে এসে বললাম, ‘আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {হে চাদর আবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন} আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং অপবিত্রতা (মূর্তি) বর্জন করুন}। এরপর ওহী তেজোদ্দীপ্ত হলো এবং ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হতে লাগল»। (বুখারী: ৪)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: -)
• عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ قَالَ: وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الوَحْيِ فَقَالَ فِي حَدِيثِهِ: «بَيْنَا أَنَا أَمْشِي إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ بَصَرِي، فَإِذَا المَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، فَرُعِبْتُ مِنْهُ، فَرَجَعْتُ فَقُلْتُ: زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي» فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا المُدَّثِّرُ. قُمْ فَأَنْذِرْ} إِلَى قَوْلِهِ {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ}. فَحَمِيَ الوَحْيُ وَتَتَابَعَ. (4) وله روايات أخر في تفسير سورة المدثر مسندة ومتصلة، فترك الزبيدي كلها.

 

‌‌هذا الحديث من زوائد الضياء الداغستاني وليس من أصل الزبيدي
• জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ওহী স্থগিত থাকার সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর হাদীসে বলেন: "একদা আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুললাম এবং দেখলাম, সেই ফেরেশতা যিনি হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি আসনে উপবিষ্ট আছেন। আমি তাঁকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম এবং ফিরে এসে বললাম: 'আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো'।" তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন} তাঁর বাণী {এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন} পর্যন্ত। এরপর ওহীর ধারা প্রবল হলো এবং তা নিয়মিতভাবে অবতীর্ণ হতে লাগল। (৪) সূরা আল-মুদ্দাসসিরের তাফসীরে তাঁর আরও কিছু মুসনাদ ও মুত্তাসিল বর্ণনা রয়েছে, তবে যুবাইদী সেগুলোর সবকটি বর্জন করেছেন।

 

‌‌এই হাদীসটি যিয়া আদ-দাগিস্তানির যওয়াইদ (সংযোজন) থেকে নেওয়া হয়েছে, এটি যুবাইদীর মূল রচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
5 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ} قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةً، وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَأَنَا أُحَرِّكُهُمَا لَكُمْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَرِّكُهُمَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} قَالَ: جَمْعُهُ لَكَ فِي صَدْرِكَ وَتَقْرَأَهُ {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} قَالَ: فَاسْتمِعْ لَهُ وَأَنْصِتْ {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا قَرَأَهُ. (بخاري: 5)
৫ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {তাড়াহুড়ো করে ওহি আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না} এর ব্যাখ্যায় বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহি নাযিলের সময় অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করতেন এবং ওহি সংরক্ষিত করার আকাঙ্ক্ষায় তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়াতেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি তোমাদের সামনে আমার ঠোঁট দুটি নাড়ছি ঠিক যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়তেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন: {তাড়াহুড়ো করে ওহি আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না। নিশ্চয়ই এটি সংরক্ষণ করা এবং তিলাওয়াত করানো আমাদেরই দায়িত্ব।} তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: অর্থাৎ এটি আপনার অন্তরে সংরক্ষণ করা এবং আপনার মাধ্যমে তা পাঠ করানো আমাদের দায়িত্ব। {সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।} তিনি বলেন: অর্থাৎ মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং চুপ থাকুন। {এরপর এর বর্ণনা করার দায়িত্ব আমাদেরই।} অর্থাৎ এরপর আপনার মাধ্যমে তা পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। এরপর থেকে যখনই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসতেন, তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। যখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) চলে যেতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক সেভাবেই পাঠ করতেন যেভাবে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) পাঠ করেছিলেন। (বুখারী: ৫)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
6 - وَعَنْهُ رضي الله عنهما قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ فَلَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ. (بخاري: 6)
৬ - তাঁর (ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজান মাসে যখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যায়ন করতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণের কাজে প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন। (বুখারি: ৬)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
7 - وَعَنْهُ رضي الله عنهما: أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ وَكَانُوا تُجَّارًا بِالشَّامِ فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَادَّ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ وَكُفَّارَ قُرَيْشٍ، فَأَتَوْهُ وَهُمْ بِإِيلِيَاءَ فَدَعَاهُمْ وَحَوْلَهُ عُظَمَاءُ الرُّومِ ثُمَّ دَعَاهُمْ وَدَعَا بِتَرْجُمَانِهِ فَقَالَ: أَيُّكُمْ أَقْرَبُ بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ، فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَقُلْتُ: أَنَا أَقْرَبُهُمْ نَسَبًا فَقَالَ: أَدْنُوهُ مِنِّي وَقَرِّبُوا أَصْحَابَهُ فَاجْعَلُوهُمْ عِنْدَ ظَهْرِهِ ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ: قُلْ لَهُمْ إِنِّي سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ، فَإِنْ

⦗ص: 20⦘ كَذَبَنِي فَكَذِّبُوهُ، فَوَاللَّهِ لَوْلا الْحَيَاءُ مِنْ أَنْ يَأثْرُوا عَلَيَّ كَذِبًا لَكَذَبْتُ عَنْهُ. ثُمَّ كَانَ أَوَّلَ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ أَنْ قَالَ: كَيْفَ نَسَبُهُ فِيكُمْ؟ قُلْتُ: هُوَ فِينَا ذُو نَسَبٍ. قَالَ: فَهَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ مِنْكُمْ أَحَدٌ قَطُّ قَبْلَهُ؟ قُلْتُ: لا. قَالَ: فَهَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ؟ قُلْتُ: لا. قَالَ: فَأَشْرَافُ النَّاسِ اتَّبَعُوهُ أَمْ ضُعَفَاوُهُمْ؟ فَقُلْتُ: بَلْ ضُعَفَاوُهُمْ. قَالَ: أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ قُلْتُ: بَلْ يَزِيدُونَ. قَالَ: فَهَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ قُلْتُ: لا. قَالَ: فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ قُلْتُ: لا. قَالَ: فَهَلْ يَغْدِرُ؟ قُلْتُ: لا وَنَحْنُ مِنْهُ فِي مُدَّةٍ لا نَدْرِي مَا هُوَ فَاعِلٌ فِيهَا. قَالَ: وَلَمْ تُمْكِنِّي كَلِمَةٌ أُدْخِلُ فِيهَا شَيْئًا غَيْرُ هَذِهِ الْكَلِمَة قَالَ: فَهَلْ قَاتَلْتُمُوهُ؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَكَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ؟ قُلْتُ: الْحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالٌ، يَنَالُ مِنَّا وَنَنَالُ مِنْهُ. قَالَ: مَاذَا يَأْمُرُكُمْ؟ قُلْتُ: يَقُولُ اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ، وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالصِّلَةِ، فَقَالَ لِلتَّرْجُمَانِ: قُلْ لَهُ: سَأَلْتُكَ عَنْ نَسَبِهِ فَذَكَرْتَ أَنَّهُ فِيكُمْ ذُو نَسَبٍ، فَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِي نَسَبِ قَوْمِهَا، وَسَأَلْتُكَ: هَلْ قَالَ أَحَدٌ مِنْكُمْ هَذَا الْقَوْلَ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا.

فَقُلْتُ: لَوْ كَانَ أَحَدٌ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ قَبْلَهُ، لَقُلْتُ: رَجُلٌ يَأْتَسِي بِقَوْلٍ قِيلَ قَبْلَهُ، وَسَأَلْتُكَ: هَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، قُلْتُ: فَلَوْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ قُلْتُ: رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ أَبِيهِ، وَسَأَلْتُكَ: هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، فَقَدْ أَعْرِفُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَذَرَ الْكَذِبَ عَلَى النَّاسِ وَيَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ، وَسَأَلْتُكَ: أَشْرَافُ النَّاسِ اتَّبَعُوهُ أَمْ ضُعَفَاوُهُمْ؟ فَذَكَرْتَ أَنَّ ضُعَفَاءَهُمِ اتَّبَعُوهُ، وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ، وَسَأَلْتُكَ: أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ فَذَكَرْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ أَمْرُ الإِيمَانِ حَتَّى يَتِمَّ، وَسَأَلْتُكَ: أَيَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ الْقُلُوبَ، وَسَأَلْتُكَ: هَلْ يَغْدِرُ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لا تَغْدِرُ، وَسَأَلْتُكَ: بِمَا يَأْمُرُكُمْ؟ فَذَكَرْتَ أَنَّهُ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَيَنْهَاكُمْ عَنْ عِبَادَةِ الأَوْثَانِ، وَيَأْمُرُكُمْ بِالصَّلاة وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ، فَإِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًّا فَسَيَمْلِكُ مَوْضِعَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ، وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّهُ خَارِجٌ لَمْ أَكُنْ أَظُنُّ أَنَّهُ مِنْكُمْ، فَلَوْ أَعْلَمُ أَنِّي أَخْلُصُ إِلَيْهِ لَتَجَشَّمْتُ لِقَاءَهُ وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ عَنْ قَدَمِهِ، تْمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي بَعَثَ بِهِ دِحْيَةُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى فَدَفَعَهُ إِلَى هِرَقْلَ فَقَرَأَهُ فَإِذَا فِيْهِ:

بسم الله الرحمن الرحيم

مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ سَلامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الإِسْلامِ أَسْلِمْ تَسْلَمْ يُوُتِكَ اللَّهُ

⦗ص: 21⦘ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إثْمَ الأَرِيسِيِّينَ وَ {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَنْ لا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوْا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ}.

قَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَلَمَّا قَالَ مَا قَالَ وَفَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الْكِتَابِ، كثُرَ عِنْدَهُ الصَّخَبُ وَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ، وَأُخْرِجْنَا، فَقُلْتُ لأَصْحَابِي حِينَ أُخْرِجْنَا: لَقَدْ أَمِرَ أَمْرُ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ إِنَّهُ يَخَافُهُ مَلِكُ بَنِي الأَصْفَرِ، فَمَا زِلْتُ مُوقِنًا أَنَّهُ سَيَظْهَرُ حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَيَّ الإِسْلامَ. وَكَانَ ابْنُ النَّاطُورِ صَاحِبُ إِيلِيَاءَ، وَهِرَقْلَ أسقُفًّا عَلَى نَصَارَى الشَّأْمِ يُحَدِّثْ أَنَّ هِرَقْلَ حِينَ قَدِمَ إِيلِيَاءَ أَصْبَحَ يَوْمًا خَبِيثَ النَّفْسِ، فَقَالَ بَعْضُ بَطَارِقَتِهِ: قَدِ اسْتَنْكَرْنَا هَيْئَتَكَ. قَالَ ابْنُ النَّاطُورِ: وَكَانَ هِرَقْلُ حَزَّاءً يَنْظُرُ فِي النُّجُومِ فَقَالَ لَهُمْ حِينَ سَأَلُوهُ: إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَة حِينَ نَظَرْتُ فِي النُّجُومِ مَلِكَ الْخِتَانِ قَدْ ظَهَرَ، فَمَنْ يَخْتَتِنُ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ؟ قَالُوا: لَيْسَ يَخْتَتِنُ إِلَّا الْيَهُودُ، فَلا يُهِمَّنَّكَ شَأْنُهُمْ، وَاكْتُبْ إِلَى مَدَايِنِ مُلْكِكَ فَيَقْتُلُوا مَنْ فِيهِمْ مِنَ الْيَهُودِ، فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى أَمْرِهِمْ أُتِيَ هِرَقْلُ بِرَجُلٍ أَرْسَلَ بِهِ مَلِكُ غَسَّانَ، يُخْبِرُ عَنْ خَبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا اسْتَخْبَرَهُ هِرَقْلُ قَالَ: اذْهَبُوا فَانْظُرُوا أَمُخْتَتِنٌ هُوَ أَمْ لا فَنَظَرُوا إِلَيْهِ فَحَدَّثوهُ أَنَّهُ مُخْتَتِنٌ، وَسَأَلَهُ عَنِ الْعَرَبِ فَقَالَ: هُمْ يَخْتَتِنُونَ. فَقَالَ هِرَقْلُ: هَذَا مُلْكُ هَذِهِ الأُمَّةِ قَدْ ظَهَرَ، ثْمَّ كَتَبَ هِرَقْلُ إِلَى صَاحِبٍ لَهُ بِرُومِيَة، وَكَانَ نَظِيرَهُ فِي الْعِلْمِ، وَسَارَ هِرَقْلُ إِلَى حِمْصَ فَلَمْ يَرِمْ حِمْصَ، حَتَّى أَتَاهُ كِتَابٌ مِنْ صَاحِبِهِ يُوَافِقُ رَأْيَ هِرَقْلَ عَلَى خُرُوجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَّهُ نَبِيٌّ فَأَذِنَ هِرَقْلُ لِعُظَمَاءِ الرُّومِ فِي دَسْكَرَةٍ لَهُ بِحِمْصَ، ثُمَّ أَمَرَ بِأَبْوَابِهَا فَغُلِّقَتْ، ثُمَّ اطَّلَعَ فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ الرُّومِ هَلْ لَكُمْ فِي الْفَلاحِ وَالرُّشْدِ، وَأَنْ يَثْبُتَ مُلْكُكُمْ، فَتُبَايِعُوا هَذَا النَّبِيَّ فَحَاصُوا حَيْصَةَ حُمُرِ الْوَحْشِ إِلَى الأَبْوَابِ فَوَجَدُوهَا قَدْ غُلِّقَتْ فَلَمَّا رَأَى هِرَقْلُ نَفْرَتَهُمْ وَأَيِسَ مِنَ الإِيمَانِ، قَالَ: رُدُّوهُمْ عَلَيَّ وَقَالَ: إِنِّي قُلْتُ مَقَالَتِي آنِفًا أَخْتَبِرُ بِهَا شِدَّتَكُمْ عَلَى دِينِكُمْ، فَقَدْ رَأَيْتُ، فَسَجَدُوا لَهُ وَرَضُوا عَنْهُ فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ شَأْنِ هِرَقْلَ. (بخاري: 7)
৭ - তাঁর (ইবনে আব্বাস) থেকে বর্ণিত: আবু সুফিয়ান ইবনে হারব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস তাঁর কাছে কুরাইশদের একটি কাফেলাসহ লোক পাঠালেন। তারা তখন সিরিয়ায় ব্যবসারত ছিলেন। আর এটি ছিল সেই সময়ের ঘটনা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান ও কুরাইশ কাফিরদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সন্ধি করেছিলেন। তারা হিরাক্লিয়াসের নিকট উপস্থিত হলেন যখন তিনি ঈলিয়ায় (জেরুজালেমে) ছিলেন। হিরাক্লিয়াস তাদের ডাকলেন এবং তাঁর চারপাশে রোমের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি তাদের ডাকলেন এবং তাঁর দোভাষীকে ডাকলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে এই ব্যক্তির বংশের দিক থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী কে, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করছেন? আবু সুফিয়ান বললেন: আমি বললাম, বংশের দিক থেকে আমিই তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী। তখন তিনি বললেন: তাকে আমার নিকটবর্তী করো এবং তার সঙ্গীদেরও নিকটবর্তী করে তাকে তাদের সামনে রাখো। অতঃপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন: তাদের বলে দাও যে, আমি একে এই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করব; যদি সে আমার কাছে মিথ্যা বলে, তবে তোমরা তাকে মিথ্যাবাদী বলে ধরিয়ে দেবে। আবু সুফিয়ান বলেন: আল্লাহর কসম! আমার সঙ্গীরা আমার ওপর মিথ্যা আরোপের অপবাদ দেবে এই লজ্জা যদি না থাকত, তবে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম। এরপর তিনি আমাকে সর্বপ্রথম যে কথাটি জিজ্ঞেস করলেন তা হলো: তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশ কেমন? আমি বললাম: আমাদের মধ্যে তিনি উচ্চ বংশীয়। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে এর আগে কি আর কেউ কখনো এ কথা (নবুওয়াতের দাবি) বলেছে? আমি বললাম: না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কোনো রাজা ছিলেন? আমি বললাম: না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত লোকেরা কি তাঁর অনুসরণ করছে নাকি দুর্বল লোকেরা? আমি বললাম: বরং দুর্বল লোকেরাই তাঁর অনুসরণ করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তারা কি সংখ্যায় বাড়ছে নাকি কমছে? আমি বললাম: বরং তারা বাড়ছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাঁর ধর্মে প্রবেশ করার পর কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্মত্যাগ করে? আমি বললাম: না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তিনি যা বলেছেন তা বলার আগে তোমরা কি কখনো তাঁকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলে? আমি বললাম: না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কি কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন? আমি বললাম: না, তবে আমরা তাঁর সাথে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদী চুক্তিতে রয়েছি, আমরা জানি না এই সময়ে তিনি কী করবেন। আবু সুফিয়ান বলেন: এই কথাটি ছাড়া অন্য কোনো কথা যোগ করার সুযোগ আমার হয়নি। হিরাক্লিয়াস জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তাঁর সাথে তোমাদের যুদ্ধ কেমন ছিল? আমি বললাম: আমাদের ও তাঁর মধ্যে যুদ্ধ বালতির মতো উঠা-নামা করে; কখনো তিনি জয়ী হন, আবার কখনো আমরা জয়ী হই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তিনি তোমাদের কী আদেশ দেন? আমি বললাম: তিনি বলেন, তোমরা কেবল আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না, আর তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যা বলত তা বর্জন করো। তিনি আমাদের নামাজ, জাকাত, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দেন। এরপর তিনি দোভাষীকে বললেন: তাকে বলো, আমি তোমাকে তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তুমি বলেছ যে তোমাদের মধ্যে তিনি উচ্চ বংশীয়; আর রাসূলগণ তাঁদের কওমের উচ্চ বংশেই প্রেরিত হয়ে থাকেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি যে তোমাদের মধ্যে আর কেউ এই কথা বলেছে কি না, তুমি বলেছ না।

অতঃপর আমি বললাম: যদি এর আগে কেউ এই কথা বলত, তবে আমি বলতাম যে তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর আগের কোনো কথার অনুকরণ করছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কোনো রাজা ছিলেন কি না, তুমি বলেছ না। আমি বললাম: যদি তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কোনো রাজা থাকতেন, তবে আমি বলতাম যে তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর পিতার রাজত্ব ফিরে পেতে চাইছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি তাঁর এই দাবি করার আগে তোমরা তাঁকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করতে কি না, তুমি বলেছ না; এতে আমি বুঝতে পারছি যে, এমন হতে পারে না যে তিনি মানুষের সাথে মিথ্যা বলা ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করবেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি সম্ভ্রান্ত লোকেরা কি তাঁর অনুসরণ করছে না কি দুর্বলরা, তুমি বলেছ দুর্বলরাই তাঁর অনুসরণ করছে; আর এরাই হলেন রাসূলগণের অনুসারী। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি তারা বাড়ছে না কি কমছে, তুমি বলেছ তারা বাড়ছে; আর ঈমানের বিষয়টি পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এমনই হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি তাঁর ধর্মে প্রবেশ করার পর কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্মত্যাগ করে, তুমি বলেছ না; আর ঈমানের সজীবতা যখন অন্তরের সাথে মিশে যায় তখন এমনই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি তিনি কি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন, তুমি বলেছ না; আর রাসূলগণ কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন, তুমি বলেছ তিনি তোমাদের কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করার আদেশ দেন এবং তোমাদের মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করেন, আর তোমাদের নামাজ, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক পবিত্রতার আদেশ দেন। তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে অচিরেই তিনি আমার এই দুই পায়ের নিচের জায়গার মালিক হবেন। আমি জানতাম যে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে, কিন্তু আমি ভাবিনি যে তিনি তোমাদের মধ্য থেকে হবেন। আমি যদি জানতাম যে আমি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারব, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য যেকোনো কষ্ট সহ্য করতাম। আর যদি আমি তাঁর কাছে থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর পা ধুয়ে দিতাম। এরপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই চিঠিটি চাইলেন যা দিয়ে তিনি দিহইয়াকে বসরার অধিপতির নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি সেটি হিরাক্লিয়াসকে দিলেন। তিনি সেটি পাঠ করলেন, তাতে ছিল:

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। শান্তি বর্ষিত হোক তার ওপর যে হিদায়াত অনুসরণ করে। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াতের দিকে আহ্বান করছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে

⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন। আর যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনার প্রজাসাধারণের পাপও আপনার ওপর বর্তাবে। এবং "হে আহলে কিতাব! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করব না। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম।"

আবু সুফিয়ান বলেন: হিরাক্লিয়াস যখন তাঁর কথা শেষ করলেন এবং চিঠি পড়া শেষ হলো, তখন সেখানে শোরগোল শুরু হলো এবং মানুষের আওয়াজ উচ্চ হতে লাগল। আমাদের বের করে দেওয়া হলো। বের হয়ে আমি আমার সঙ্গীদের বললাম: আবু কাবশার ছেলের (মুহাম্মাদের) বিষয় তো অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, এমনকি বনূ আসফারের (রোমের) রাজাও তাঁকে ভয় পাচ্ছে। এরপর থেকে আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি অচিরেই বিজয়ী হবেন, অবশেষে আল্লাহ আমাকে ইসলামে দাখিল করলেন। ঈলিয়ার গভর্নর এবং হিরাক্লিয়াসের সঙ্গী ইবনুন নাতুর, যিনি সিরিয়ার খ্রিস্টানদের বিশপ ছিলেন, বর্ণনা করেন যে, হিরাক্লিয়াস যখন ঈলিয়ায় আসলেন, তখন একদিন সকালে তাঁকে বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল। তাঁর জনৈক দরবারী বললেন: আপনার অবস্থা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। ইবনুন নাতুর বলেন: হিরাক্লিয়াস জ্যোতিষশাস্ত্র জানতেন এবং নক্ষত্রের গতি পর্যবেক্ষণ করতেন। যখন তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি তাঁদের বললেন: আজ রাতে আমি নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে খতনা করা জাতির রাজা আত্মপ্রকাশ করেছেন। বর্তমান সময়ের জাতিগুলোর মধ্যে কারা খতনা করে? তাঁরা বললেন: ইহুদিরা ছাড়া তো কেউ খতনা করে না। তাদের ব্যাপারে আপনি উদ্বিগ্ন হবেন না। আপনি আপনার রাজ্যের শহরগুলোতে লিখে পাঠান যাতে সেখানে থাকা সকল ইহুদিকে হত্যা করা হয়। তারা যখন এই সিদ্ধান্তে ছিলেন, তখনই হিরাক্লিয়াসের কাছে এক ব্যক্তিকে আনা হলো যাকে গাসসানের রাজা পাঠিয়েছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ দেওয়ার জন্য। হিরাক্লিয়াস তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বললেন: তোমরা গিয়ে দেখো সে খতনা করা কি না। তারা তাকে দেখে জানাল যে সে খতনা করা। তিনি তাকে আরবদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলল: তারা খতনা করে। হিরাক্লিয়াস বললেন: এই উম্মতের রাজত্ব প্রকাশিত হয়েছে। এরপর হিরাক্লিয়াস রোমে তাঁর এক বন্ধুর কাছে চিঠি লিখলেন, যিনি জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। আর হিরাক্লিয়াস হিমসের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। তিনি হিমস পৌঁছানোর আগেই তাঁর সেই বন্ধুর চিঠি আসলো, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব এবং তিনি যে একজন নবী এই ব্যাপারে হিরাক্লিয়াসের মতকে সমর্থন করছিল। এরপর হিরাক্লিয়াস হিমসে তাঁর এক প্রাসাদে রোমের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডাকলেন। এরপর তিনি এর সকল দরজা বন্ধ করার আদেশ দিলেন। তারপর তিনি সামনে এসে বললেন: হে রোমবাসী! তোমরা কি কল্যাণ ও সঠিক পথ চাও এবং তোমাদের রাজত্ব অটুট রাখতে চাও? তবে এই নবীর বাইআত গ্রহণ করো। এ কথা শুনে তারা বন্য গাধার মতো দরজার দিকে ছুটতে লাগল, কিন্তু সেগুলো বন্ধ পেল। হিরাক্লিয়াস যখন তাদের এই বিমুখতা দেখলেন এবং তাদের ঈমান আনা থেকে নিরাশ হলেন, তখন তিনি বললেন: ওদের আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। তিনি বললেন: আমি এইমাত্র যে কথাটি বলেছি, তা কেবল তোমাদের দ্বীনের প্রতি অবিচলতা পরীক্ষা করার জন্য বলেছি; আর আমি তা দেখে নিয়েছি। তখন তারা তাঁকে সেজদা করল এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলো। হিরাক্লিয়াসের জীবনের এটাই ছিল শেষ পরিণতি। (বুখারী: ৭)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌كتاب الإيمان
ঈমান বিষয়ক কিতাব
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
8 - عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ». (بخاري: 8)
৮ - ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।» (বুখারী: ৮)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
9 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ». (بخاري: 9)
9 - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।» (বুখারী: ৯)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
10 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ». (بخاري: 10)
১০ - আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে; আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে»। (বুখারী: ১০)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
11 - عَنْ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الإِسْلامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ». (بخاري: 11)
১১ - আবু মূসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের কোন বিষয়টি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: “যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।” (বুখারী: ১১)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
12 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الإِسْلامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ». (بخاري: 12)
১২ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: ইসলামের কোন কাজটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: “তুমি অন্নদান করবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম প্রদান করবে।” (বুখারি: ১২)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
13 - عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ». (بخاري: 13)
13 - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।» (বুখারি: ১৩)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
14 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ». (بخاري: 14)
১৪ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে (আল্লাহর হাত) আমার প্রাণ রয়েছে, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।» (বুখারী: ১৪)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
15 - عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ». (بخاري: 15)
15 - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই»। (বুখারি: ১৫)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
16 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلاوَةَ الإِيمَانِ: أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لا يُحِبُّهُ إِلا لِلَّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ». (بخاري: 16).
১৬ - আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার নিকট অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া, কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে তেমনি অপছন্দ করা যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।" (বুখারী: ১৬)।
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
17 - عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «آيَةُ الإِيمَانِ حُبُّ الأَنْصَارِ، وَآيَةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الأَنْصَارِ». (بخاري: 17)
১৭ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারদের ভালোবাসা এবং নিফাকের নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।» (বুখারী: ১৭)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
18 - عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: «بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلا تَسْرِقُوا، وَلا تَزْنُوا، وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ، وَلا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ

⦗ص: 25⦘ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلا تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَّى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللَّهُ فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ». فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِك. (بخاري: 18)
১৮ - উবাদাহ ইবনুত সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চারপাশে তাঁর সাহাবীদের একটি দল থাকা অবস্থায় বলেছেন: «তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করো যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না এবং এমন কোনো অপবাদ রটাবে না যা তোমরা বানিয়েছ

⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ তোমাদের হাত ও তোমাদের পায়ের মাঝখানে, আর কোনো সৎ কাজে অবাধ্য হবে না। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (এই অঙ্গীকার) পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হলো এবং দুনিয়াতে তাকে তার দণ্ড দেওয়া হলো, তবে তা তার জন্য কাফফারা (পাপমোচন)। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হলো এবং আল্লাহ তা গোপন রাখলেন, তবে তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন এবং চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন।» অতঃপর আমরা তাঁর নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করলাম। (বুখারী: ১৮)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
19 - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ». (بخاري: 19)
১৯ - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন একজন মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ হবে বকরি, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির স্থানে চলে যাবে; ফিতনা থেকে নিজের দ্বীনকে রক্ষার জন্য সে পলায়ন করবে।» (বুখারী: ১৯)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
20 - عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَمَرَهُمْ أَمَرَهُمْ مِنَ الأَعْمَالِ بِمَا يُطِيقُونَ، قَالُوا: إِنَّا لَسْنَا كَهَيْئَتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ، فَيَغْضَبُ حَتَّى يُعْرَفَ الْغَضَبُ فِي وَجْهِهِ ثُمَّ يَقُولُ: «إِنَّ أَتْقَاكُمْ وَأَعْلَمَكُمْ بِاللَّهِ أَنَا». (بخاري: 20)
২০ - আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁদের কোনো কাজের নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁদের সামর্থ্যের অনুকূল আমলেরই নির্দেশ দিতেন। তাঁরা বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আপনার মতো নই, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।' এতে তিনি রাগান্বিত হতেন, এমনকি তাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন ফুটে উঠত। অতঃপর তিনি বলতেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আমিই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং আমিই আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানি।" (বুখারি: ২০)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
21 - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ، ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ، فَيُخْرَجُونَ مِنْهَا قَدِ اسْوَدُّوا فَيُلْقَوْنَ فِي نَهَرِ الْحَيَا أَوِ الْحَيَاةِ» شَكَّ مَالِكٌ «فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي جَانِبِ السَّيْلِ، أَلَمْ تَرَ أَنَّهَا تَخْرُجُ صَفْرَاءَ مُلْتَوِيَةً». (بخاري: 22)
২১ - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপর মহান আল্লাহ বলবেন: 'জাহান্নাম থেকে তাকে বের করে আনো, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে।' অতঃপর তারা সেখান থেকে এমন অবস্থায় বের হবে যে তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদের 'আল-হায়া' অথবা 'আল-হায়াত' (জীবন) নামক নদে নিক্ষেপ করা হবে।" (বর্ণনাকারী) মালেক শব্দটির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন। "ফলে তারা সেখানে এমনভাবে গজিয়ে উঠবে যেভাবে স্রোতবাহিত পলিমাটিতে শস্যদানা গজিয়ে থাকে। তোমরা কি দেখনি যে সেগুলো হলুদ বর্ণের ও আঁকাবাঁকা হয়ে বের হয়?" (বুখারি: ২২)
(খণ্ড: ১) আত-তাজরীদুস সারীহু লি আহাদীসিল জামিয়িস সহীহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
22 - وَعَنهُ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَيَّ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ، مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثُّدِيَّ، وَمِنْهَا مَا دُونَ ذَلِكَ، وَعُرِضَ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ». قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الدِّينَ». (بخاري: 23)
২২ - তাঁর থেকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি যখন ঘুমন্ত ছিলাম, তখন মানুষকে আমার নিকট উপস্থাপন করা হলো; তাদের পরনে ছিল জামা। তাদের কারও কারও জামা ছিল বক্ষদেশ পর্যন্ত, আবার কারও জামা ছিল তার চেয়েও ছোট। আর উমর ইবনুল খাত্তাবকে আমার সামনে উপস্থাপন করা হলো এমতাবস্থায় যে, তাঁর পরনে ছিল এমন এক জামা যা তিনি টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।» তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন? তিনি বললেন: «দীন (ধর্ম)»। (বুখারী: ২৩)