(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
تفنيد الشبهات حول ميراث المرأة في الإسلام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تفنيد الشبهات حول ميراث المرأة في الإسلام
المؤلف: أبو عاصم الشحات شعبان محمود عبد القادر البركاتي المصري
تقديم: الشيخ وحيد عبد السلام بالي.
الناشر: دار الصفا والمروة بالاسكندرية
الطبعة: الأولى، 2010 م
عدد الصفحات: 63
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 شعبان 1433
ইসলামে নারীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সংশয়সমূহের খণ্ডন বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামে নারীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সংশয়সমূহের খণ্ডন
লেখক: আবু আসিম আশ-শাহহাত শাবান মাহমুদ আব্দুল কাদির আল-বারাকাতি আল-মিসরি
উপস্থাপনা: শায়খ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালী.
প্রকাশক: দারুস সাফা ওয়াল মারওয়া, আলেকজান্দ্রিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ শাবান ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
تفنيد الشبهات
حول ميراث المرأة في الإسلام
راجعه وقدم له
فضيلة الشيخ / وحيد بن عبد السلام بالي
أعده
أبو عاصم البركاتي المصري
دار الصفا والمروة بالاسكندرية
সংশয়সমূহের খণ্ডন
ইসলামে নারীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত
পর্যালোচনা ও ভূমিকা প্রদান করেছেন
ফযীলাতুশ শায়খ / ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালী
প্রস্তুত করেছেন
আবু আসিম আল-বারাকাতি আল-মিসরি
দারুস সাফা ওয়াল মারওয়া, আলেকজান্দ্রিয়া
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
حقوق الطبع التجاري محفوظة
الطبعة الأولى رقم الايداع/7906/ 2010
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
বাণিজ্যিক পুনর্মুদ্রণের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ, নিবন্ধন নম্বর/৭৯০৬/ ২০১০
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة فضيلة الشيخ وحيد بالي حفظه الله.
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهديه واستن بسنته إلى يوم الدين، وبعد:
فإن الإسلام دين كامل شامل أنزله الله ليحكم حياة الناس؛ وفق ما يُرْضِي اللهَ ربهم وخالقهم، فهو صالح لقيادة البشرية في كل زمان ومكان، فمهما تطورت البشرية فلن تصل إلى السعادة الحقيقية إلا إذا سارت على شرع الله في العقائد والعبادات والمعاملات هذه حقيقة يجب أن يعيها المسلمون قبل غيرهم.
ولكن للأسف طلع علينا أُنَاسٌ يتَسَمَون بأسماء
সম্মানিত শাইখ ওয়াহিদ বালি-এর ভূমিকা আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সকল সঙ্গী এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে ও তাঁর সুন্নাহর ওপর অটল থাকে তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য; তাদের প্রতিপালক ও স্রষ্টা আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক। এটি প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি স্থানে মানবজাতিকে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য উপযোগী। সুতরাং মানবজাতি পার্থিবভাবে যতই উন্নতি লাভ করুক না কেন, তারা কখনোই প্রকৃত সুখের সন্ধান পাবে না, যতক্ষণ না তারা আকিদাহ, ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে আল্লাহর শরিয়ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এটি এমন এক বাস্তবতা যা অন্যদের পূর্বে মুসলমানদের অনুধাবন করা কর্তব্য।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের মাঝে এমন কিছু লোকের উদ্ভব ঘটেছে যারা নিজেদের এমন সব নামে পরিচয় দেয়...
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
المسلمين، يشككون في بعض أحكام الإسلام الثابتة في القرآن والسنة.
والعجيب في الأمر أنك إذا ناقشتهم وجدت معلوماتهم الدينية ضحلة جدًا، حتى إنك لا تكاد تملك نفسك من الاستغراق في الضحك حينما تستمع لشبهاتهم التي يسمونها أدلة، وتتعجب كيف صبروا سنوات طوالًا على تعلم بعض العلوم الدنيوية، حتى نالوا منها قسطًا لا بأس به، ولم يكلف أحدهم نفسه أن يصبر ولو نصف هذه السنوات لدراسة بعض علوم الإسلام مثل:
1ـ أصول العقيدة.
2ـ أصول الفقه.
3ـ أصول الحديث.
মুসলমানদের একাংশ, যারা কুরআন ও সুন্নাহতে সুপ্রতিষ্ঠিত ইসলামের কিছু বিধানের ব্যাপারে সংশয় পোষণ করে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, আপনি যখন তাদের সাথে আলোচনায় বসবেন, তখন তাদের ধর্মীয় জ্ঞান অত্যন্ত অগভীর দেখতে পাবেন; এমনকি আপনি যখন তাদের সংশয়গুলো শুনবেন—যেগুলোকে তারা ‘দলিল’ বলে অভিহিত করে—তখন নিজের হাসি সংবরণ করা আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। আপনি বিস্মিত হবেন যে, তারা জাগতিক কিছু বিদ্যা অর্জনে কীভাবে দীর্ঘ বছর ধৈর্য ধারণ করেছে এবং তাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও লাভ করেছে, অথচ ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের জন্য তারা সেই সময়ের অর্ধেক ধৈর্য ধারণ করারও কষ্টটুকু স্বীকার করেনি। যেমন:
১. আকীদার মূলনীতি (أصول العقيدة)।
২. ফিকহের মূলনীতি (أصول الفقه)।
৩. হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث)।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
4ـ أصول التفسير.
5 ـ تاريخ التشريع الإسلامي.
6ـ فقه العبادات.
7ـ فقه المعاملات.
8 ـ الفقه المقارن.
9 ـ فقه السيرة النبوية.
فلو قرأ ولو كتابًا واحدًا في كل علم من هذه العلوم لاستطاع أن يفهم كلام العلماء المتخصصين إذا سمعه أو قرأه.
ولو أنه تواضع وسأل العلماء المتخصصين عما يجهله من دين الله لعلموه وبَسَّطُوا له ما يصعب عليه من أمور دينه.
৪. তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)।
৫. ইসলামি বিধিব্যবস্থার ইতিহাস (تاريخ التشريع الإسلامي)।
৬. ইবাদত সংক্রান্ত ফিকহ (فقه العبادات)।
৭. লেনদেন সংক্রান্ত ফিকহ (فقه المعاملات)।
৮. তুলনামূলক ফিকহ (الفقه المقارن)।
৯. সিরাতুন্নবীর ফিকহ (فقه السيرة النبوية)।
যদি তিনি এই বিজ্ঞানগুলোর প্রত্যেকটি থেকে অন্তত একটি কিতাবও অধ্যয়ন করতেন, তবে বিশেষজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য শোনা বা পড়ার সময় তা বুঝতে সক্ষম হতেন।
আর তিনি যদি বিনয় অবলম্বন করতেন এবং আল্লাহর দ্বীনের যে বিষয়গুলো তাঁর অজানা, সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করতেন, তবে তাঁরা তাঁকে তা শিখিয়ে দিতেন এবং দ্বীনি বিষয়ের যা কিছু তাঁর কাছে জটিল মনে হয়, তা তাঁরা সহজবোধ্য করে দিতেন।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أمَّا أن يعترض ويجادل في أمور لم يدرسها أصلًا، ويحاول أن يظهر بمظهر المفكر المجدد المتنوِّر فسوف يظهر في كلامه عدة أمور دون أن يشعر:
(1) ركاكةُ العبارات.
(2) عدمُ فهم المصطلحات.
(3) مخالفة الإجماع.
(4) مخالفة الأصول المتفق عليها بين أهل الفن.
(5) السقوط من عين المستمع.
(6) التشبع بما لم يعط.
(7) ظهور الجهل الفاضح في أثناء تأصيل القضية.
(8) التناقض الواضح في كلامه.
(9) ضرب الأصول بعضها ببعض.
কিন্তু যদি কেউ এমন বিষয়ে আপত্তি তোলে বা বিতর্ক করে যা সে আদৌ অধ্যয়ন করেনি, এবং নিজেকে একজন আধুনিকমনা, সংস্কারক ও প্রজ্ঞাবান চিন্তাবিদ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করে, তবে তার অজান্তেই তার বক্তব্যের মধ্যে বেশ কিছু বিষয় প্রকাশ পাবে:
(1) শব্দচয়ন ও বাক্যগঠনের দুর্বলতা।
(2) পরিভাষা (مصطلحات) বুঝতে অক্ষমতা।
(3) সর্বসম্মত ঐক্যমত (إجماع) এর বিরুদ্ধাচরণ।
(4) সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট স্বীকৃত মূলনীতি (أصول) সমূহের বিরোধিতা।
(5) শ্রোতার নিকট মর্যাদা হারানো।
(6) নিজের কাছে যা নেই, তা আছে বলে ভান করা।
(7) কোনো বিষয়ের মূলনীতি গঠন (تأصيل) করার সময় নির্লজ্জ অজ্ঞতা প্রকাশ পাওয়া।
(8) তার বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট স্ববিরোধিতা।
(9) এক মূলনীতিকে (أصول) অন্যটির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
(10) يُجَرِئ عليه صغار الطلبة فضلًا عن المتخصصين.
(11) التعرض لمذمة الناس له؛ والنيل من عرضه.
ولذلك ننصح هؤلاء الذين:
- لم يفهموا بعض الأحاديث الصحيحة الثابتة.
- والذين لم يستوعبوا بعض الأحكام الشرعية.
والذين سمعوا بأحكام شرعية صحيحة ثابتة لم يسمعوا عنها من قبل؛ لعدم علمهم وتقصيرهم في دراسة هذا العلم.
ننصحهم جميعًا بألا يسارعوا بالاعتراض والإنكار قبل أن يسألوا أهل التخصص، ولا يغتروا بألقاب الدكتوراه والأستاذية؛ فقد يكون الإنسان عالمًا في فن من الفنون جاهلاً بغيره.
(10) এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের তো বটেই, এমনকি বিশেষজ্ঞদেরও তার বিরুদ্ধে দুঃসাহসী করে তোলে।
(11) মানুষের নিকট নিন্দিত হওয়া এবং নিজের সম্মানহানি ঘটার সম্মুখীন হওয়া।
তাই আমরা তাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি যারা:
- কিছু প্রমাণিত সহিহ (صحيح) হাদিস বুঝতে পারেননি।
- এবং যারা কিছু শরিয়তসম্মত বিধান অনুধাবন করতে পারেননি।
এবং যারা এমন কিছু প্রমাণিত সহিহ (صحيح) শরিয়তসম্মত বিধান সম্পর্কে শুনেছেন যা আগে কখনো শোনেননি; তাদের অজ্ঞতা এবং এই ইলম চর্চায় অবহেলার কারণে।
আমরা তাদের সবাইকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তারা যেন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের নিকট জিজ্ঞাসা করার আগে আপত্তি ও অস্বীকৃতি জানাতে তাড়াহুড়ো না করেন। তারা যেন ডক্টরেট বা অধ্যাপনার ন্যায় খেতাব দেখে বিভ্রান্ত না হন; কেননা কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট একটি শাস্ত্রে পণ্ডিত হলেও অন্য বিষয়ে অজ্ঞ হতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
وعلماء الشرع يحترمون تخصصاتكم فيجب عليكم أيضًا أن تكون كذلك معهم.
ومن ذلك قضية ميراث المرأة في الإسلام حيث ظن بعض من لم يستو سوقه في الفقه أن الإسلام ظلم المرأة في الميراث:
قال العبد الفقير: لِمَ ......... ؟
قال المعترض: لأن الإسلام أعطى المرأة نصف الرجل في الميراث.
قال العبد الفقير: من أين فهمت ذلك؟
قال المعترض: من قوله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ}
(النساء:11).
শরীয়তের আলেমগণ আপনাদের বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই আপনাদেরও তাদের প্রতি অনুরূপ হওয়া আবশ্যক।
এরই একটি দৃষ্টান্ত হলো ইসলামে নারীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়টি; যেখানে ফিকহ শাস্ত্রে যাদের পাণ্ডিত্য এখনো পরিপক্ক হয়নি এমন কিছু ব্যক্তি ধারণা করেন যে, ইসলাম উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীর প্রতি জুলুম করেছে:
এই অধম বান্দা বলল: কেন ......... ?
আপত্তিকারী বলল: কারণ ইসলাম উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের অর্ধেক অংশ প্রদান করেছে।
এই অধম বান্দা বলল: আপনি এটি কোথা থেকে অনুধাবন করলেন?
আপত্তিকারী বলল: মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান}
(নিসা: ১১)।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال العبد الفقير: ماذا فهمتَ من هذه الآية الكريمة؟
قال المعترض: فهمتُ أن المرأة في الإسلام ترث نصف الرجل مطلقًا.
قال العبد الفقير: أرأيت لو كان فهمك هذا خاطئًا؟
قال المعترض: كيف يكون خاطئًا والآية واضحة {لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ}.
قال العبد الفقير: هكذا يكون الفهم قاصرًا إذا لم يكن الإنسان على دراية بعلوم الشرع.
قال المعترض: عجباً .... عجباً ....... كيف ذلك؟
قال العبد الفقير: هل تعلم أن المرأة قد ترث مثل الذكر تمامًا لا فرق بينهما؟ مناقشة علمية عميقة؛ فأتى على بُنْيَانَهم من القواعد فلم يترك لهم قاعدة.
এই অকিঞ্চন বান্দা বললেন: আপনি এই মহিমান্বিত আয়াতটি থেকে কী বুঝেছেন?
আপত্তি উত্থাপনকারী বললেন: আমি বুঝেছি যে, ইসলামে নারী নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) পুরুষের অর্ধেক উত্তরাধিকার লাভ করে।
এই অকিঞ্চন বান্দা বললেন: আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে আপনার এই বুঝ যদি ভুল হয় তবে কী হবে?
আপত্তি উত্থাপনকারী বললেন: এটি ভুল হবে কীভাবে অথচ আয়াতটি সুস্পষ্ট (واضح): "এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান"।
এই অকিঞ্চন বান্দা বললেন: মানুষ যখন শরয়ি জ্ঞান (علوم الشرع) সম্পর্কে অবগত থাকে না, তখন তার বুঝ এভাবেই অসম্পূর্ণ (قاصر) হয়ে থাকে।
আপত্তি উত্থাপনকারী বললেন: বিস্ময়কর! ... বিস্ময়কর! ... সেটি কীভাবে সম্ভব?
এই অকিঞ্চন বান্দা বললেন: আপনি কি জানেন যে, নারী কখনো হুবহু পুরুষের সমান উত্তরাধিকার পেতে পারে যেখানে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না? এটি একটি গভীর তাত্ত্বিক আলোচনা; যা তাদের নীতিমালার (قواعد) ভিত্তিমূলকে উপড়ে ফেলেছে এবং তাদের জন্য কোনো ভিত্তিই অবশিষ্ট রাখেনি।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال المعترض: أنا أتحدى أن توجد في الإسلام حالة ترث المرأة فيها كالذكر.
قال العبد الفقير: هكذا يكون الجهل المركب ولو قلتَ: لا أدري أو طلبتَ من يعلمك ما تجهل لكان أجمل بك وأحفظ لماء وجهك.
قال المعترض: أجبني ولا تُحِدْ عن الجواب.
قال العبد الفقير: لو مات رجل وترك: أخًا لأم وأختًا لأم وعمًا فكم ترث الأخت في هذه الحالة؟
ترث مثل الأخ تمامًا، لأن الإخوة لأم يرثون الأخت مثل الأخ، وهي ما تسمى في الشرع بالكلالة، هل سمعت عنها قبل ذلك أيها المعترض بجهل؟
وهذه صورتها:
আপত্তিকারী বললেন: আমি চ্যালেঞ্জ করছি যে, ইসলামে এমন কোনো ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে একজন নারী একজন পুরুষের সমান উত্তরাধিকার লাভ করে।
এই অধম বললেন: একেই বলে চরম মূর্খতা। আপনি যদি বলতেন ‘আমি জানি না’ অথবা আপনার অজানা বিষয়ে আপনাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো জ্ঞানীর সাহায্য প্রার্থনা করতেন, তবে তা আপনার জন্য অধিক শোভনীয় হতো এবং আপনার সম্মান রক্ষা পেত।
আপত্তিকারী বললেন: আমাকে উত্তর দিন এবং উত্তর দেওয়া থেকে বিচ্যুত হবেন না।
এই অধম বললেন: যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে একজন বৈপিত্রীয় ভাই, একজন বৈপিত্রীয় বোন এবং একজন চাচা রেখে যান, তবে এই অবস্থায় বোন কতটুকু উত্তরাধিকার পাবে?
সে হুবহু ভাইয়ের সমান অংশ পাবে, কারণ বৈপিত্রীয় ভাই-বোনেরা সমান উত্তরাধিকার পেয়ে থাকে; শরীয়তের পরিভাষায় একেই ‘কালালাহ’ বলা হয়। হে অজ্ঞতাপূর্ণ আপত্তিকারী, আপনি কি ইতিপূর্বে এটি সম্পর্কে শুনেছেন?
আর এটি হলো তার চিত্র:
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
6 أسهم
الثلث: للأخ لأم وللأخت لأم =2
الأخ لأم ........ 1
الأخت لأم ..... 1
ب للعم ....... 4
فللأخ والأخت الثلث يشتركان فيه بالسوية لا فضل لأحدهما على الآخر.
نصيب الأخ لأم: سهم.
نصيب الأخت لأم: سهم.
نصيب العم: الباقي وهو 4 أسهم.
ولو أنك سألت أهل العلم قبل أن تعترض على شرع
৬টি অংশ
এক-তৃতীয়াংশ: বৈপিত্রীয় ভাই এবং বৈপিত্রীয় বোনের জন্য = ২
বৈপিত্রীয় ভাই ........ ১
বৈপিত্রীয় বোন ..... ১
অবশিষ্টাংশ চাচার জন্য ....... ৪
সুতরাং ভাই এবং বোন এক-তৃতীয়াংশ অংশে সমভাবে অংশীদার হবে; তাদের একজনের ওপর অন্যজনের কোনো আধিক্য বা শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
বৈপিত্রীয় ভাইয়ের অংশ: এক অংশ।
বৈপিত্রীয় বোনের অংশ: এক অংশ।
চাচার অংশ: অবশিষ্টাংশ, যা হলো ৪ অংশ।
শারীয়াহর বিধানের ওপর আপত্তি করার পূর্বে আপনি যদি বিজ্ঞ আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করতেন!
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
الله لبينوا لك أن الله ذكر ذلك في القرآن لو أنك قرأت القرآن.
قال المعترض: هل هناك آية في القرآن تدل على أن الأخت تأخذ مثل أخيها؟
قال العبد الفقير: نعم إذا كانوا إخوة لأم.
قال المعترض: أين هذه الآية؟
قال العبد الفقير: قوله تعالى في سورة النساء في الآية (12):
{وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ}.
আল্লাহ (রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন) যাতে তাঁরা আপনার নিকট এটি স্পষ্ট করেন যে, আল্লাহ তা কুরআনে উল্লেখ করেছেন, যদি আপনি কুরআন পাঠ করতেন।
আপত্তিকারী বললেন: কুরআনে কি এমন কোনো আয়াত আছে যা প্রমাণ করে যে, বোন তার ভাইয়ের সমান অংশ লাভ করবে?
এই অধম বান্দা বলল: হ্যাঁ, যদি তারা বৈপিত্রেয় ভাই-বোন হয়।
প্রতিবাদকারী বললেন: এই আয়াতটি কোথায়?
এই অধম বান্দা বলল: সূরা আন-নিসার ১২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী:
{আর যদি কোনো পুরুষ বা মহিলার উত্তরাধিকার কালালাহ পদ্ধতিতে হয়—অর্থাৎ যার কোনো সন্তান বা পিতা-মাতা নেই—এবং তার এক ভাই অথবা এক বোন থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ। আর যদি তারা এর চেয়ে অধিক হয়, তবে তারা এক-তৃতীয়াংশের অংশীদার হবে।}
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وهذه حالة أخرى ترث فيها المرأة مثل الرجل تمامًا:
إذا مات وترك أبًا وأمًا وابنًا:
فيكون توزيعها:
نصيب الأب: السدس =1
نصيب الأم: السدس =1
نصيب الابن: الباقي = 4
فانظر كيف أخذت المرأة مثل الرجل تمامًا في حالة وجود الابن
وقد ذكر الله ذلك في القرآن لو كنت ـ أيها المعترض على شرع الله ـ قد قرأت القرآن.
قال المعترض: وهذا أيضًا في القرآن؟!!!
قال العبد الفقير: نعم سأذكره لك بشرط ألا
এটি অন্য একটি অবস্থা যেখানে নারী ঠিক পুরুষের মতোই উত্তরাধিকার লাভ করেন:
যদি কেউ মৃত্যুবরণ করেন এবং পিতা, মাতা ও এক পুত্র রেখে যান:
তবে এর বন্টন পদ্ধতি হবে:
পিতার অংশ: এক-ষষ্ঠাংশ (السدس) = ১
মাতার অংশ: এক-ষষ্ঠাংশ (السدس) = ১
পুত্রের অংশ: অবশিষ্ট (الباقي) = ৪
লক্ষ্য করুন, পুত্রের উপস্থিতিতে কীভাবে নারী ঠিক পুরুষের সমান অংশ গ্রহণ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে এটি উল্লেখ করেছেন—হে আল্লাহর শরিয়তের ওপর আপত্তিকারী—যদি আপনি কুরআন পাঠ করতেন (তবে তা জানতেন)।
আপত্তিকারী বললেন: এটাও কি কুরআনে আছে?!!!
এই অধম বান্দা বললেন: হ্যাঁ, আমি আপনার কাছে এটি উল্লেখ করব এই শর্তে যে...
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تعترض بعد ذلك على شرع الله الحكيم؛ ولا تتحدث فيما لا علم لك به.
قال تعالى في سورة النساء في الآية (11): {وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ}.
فالمقصود بالأبوين هنا الأب والأم.
وهذه صورتها:
6
السدس للأب = 1 سهم.
السدس للأم = 1 سهم.
ب (الباقي) للابن = 4 أسهم.
এরপর আপনি আল্লাহর প্রজ্ঞাময় শরিয়তের ওপর আপত্তি করছেন; আর যে বিষয়ে আপনার কোনো জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথা বলবেন না।
মহান আল্লাহ সূরা আন-নিসার ১১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন: {আর তার যদি সন্তান থাকে, তবে তার পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকের জন্য তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে এক-ষষ্ঠাংশ রয়েছে।}
সুতরাং এখানে 'পিতা-মাতা' বলতে পিতা ও মাতাকেই বোঝানো হয়েছে।
এর রূপরেখাটি নিম্নরূপ:
৬
পিতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ = ১ অংশ।
মাতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ = ১ অংশ।
পুত্রের জন্য অবশিষ্টাংশ = ৪ অংশ।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال العبد الفقير: هل تعلم أيها المعترض على شرع الله بجهل أن المرأة قد ترث في الإسلام أكثر من الرجل؟؟؟.
قال المعترض: لا يوجد هذا في الإسلام أبدًا.
قال العبد الفقير: ألم أقل لك بأن جهلك مركب، وهو أصعب أنواع الجهل.
يقول الأصوليون: الجهل البسيط: هو الجاهل الذي يعلم أنه يجهل فيسأل ليتعلم.
أما الجهل المركب: فهو الجاهل الذي يجهل أنه يجهل فلا هو يسأل ليتعلم ولا يعترف بأنه جاهل فيصعب علاجه.
وقد يكون السبب في هذا الجهل المركب حصوله
নগণ্য বান্দা বললেন: হে আল্লাহর বিধানের ওপর অজ্ঞতাবশত আপত্তিকারী, আপনি কি জানেন কি যে ইসলামে নারী কখনো কখনো পুরুষের চেয়েও বেশি উত্তরাধিকার লাভ করতে পারে?
আপত্তিকারী বললেন: ইসলামে এটি কখনোই বিদ্যমান নেই।
নগণ্য বান্দা বললেন: আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনার অজ্ঞতা হলো জটিল অজ্ঞতা (الجهل المركب), আর এটি অজ্ঞতার কঠিনতম প্রকার।
উসূলবিদগণ (الأصوليون) বলেন: সরল অজ্ঞতা (الجهل البسيط) হলো সেই অজ্ঞ ব্যক্তি যে জানে যে সে অজ্ঞ, ফলে সে শেখার জন্য জিজ্ঞাসা করে।
পক্ষান্তরে জটিল অজ্ঞতা (الجهل المركب) হলো সেই অজ্ঞ ব্যক্তি যে জানে না যে সে অজ্ঞ, ফলে সে শেখার জন্য প্রশ্নও করে না এবং সে যে অজ্ঞ তাও স্বীকার করে না, তাই এর প্রতিকার করা কঠিন।
আর এই জটিল অজ্ঞতার (الجهل المركب) কারণ হতে পারে তার অর্জিত...
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
على شهادة عالية في تخصص دنيوي فيظن أنه بذلك صار عالمًا في كل العلوم.
وقد يكون الغرور المحض فاللهم علمنا ما جهلنا وانفعنا بما علمتنا.
نعم قد ترث المرأة أكثر من الرجل:
لو مات وترك: بنتًا وأمًا وأبًا فيكون:
نصيب البنت: النصف لانفرادها = 3 أسهم
نصيب الأم: السدس لوجود الفرع الوارث =1سهم
نصيب الأب: السدس + الباقي لوجود الفرع الوارث الأنثى =1+1=2 (سهمان).
فالبنت وهي امرأة أخذت أكثر من الأب وهو رجل.
তিনি একটি জাগতিক বিশেষায়নে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, ফলে তিনি মনে করেন যে এর মাধ্যমে তিনি সকল বিদ্যায় বিজ্ঞ হয়ে গেছেন।
আর এটি নিছক অহংকারও হতে পারে; হে আল্লাহ! যা আমরা জানি না তা আমাদের শিখিয়ে দিন এবং যা আপনি আমাদের শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করুন।
হ্যাঁ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী পুরুষের চেয়ে বেশি উত্তরাধিকার পেয়ে থাকে:
যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে এক কন্যা, মাতা ও পিতা রেখে যায়, তবে বণ্টন হবে এরূপ:
কন্যার অংশ: একা হওয়ার কারণে অর্ধেক = ৩ ভাগ
মাতার অংশ: উত্তরাধিকারী বংশধর থাকার কারণে এক-ষষ্ঠাংশ = ১ ভাগ
পিতার অংশ: নারী উত্তরাধিকারী বংশধর থাকার কারণে এক-ষষ্ঠাংশ + অবশিষ্ট = ১+১=২ (দুই ভাগ)।
এখানে কন্যা—যিনি একজন নারী—পিতার তুলনায় বেশি পেলেন, অথচ পিতা একজন পুরুষ।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذه صورتها:
6
النصف للبنت = 3 أسهم.
السدس للأم = 1 سهم
السدس + الباقي للأب = 1+1 = 2 سهم.
وكذلك لو ترك زوجة وبنتًا وأخًا.
الزوجة: الثمن لوجود الفرع الوارث = 1
البنت: النصف لانفرادها = 4
الأخ: الباقي تعصيبًا = 3
এর চিত্রটি হলো নিম্নরূপ:
৬
কন্যার জন্য অর্ধেক (النصف) = ৩টি অংশ (أسهم)।
মাতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ (السدس) = ১টি অংশ (سهم)
পিতার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ (السدس) + অবশিষ্ট (الباقي) = ১+১ = ২ অংশ (سهم)।
একইভাবে যদি কেউ স্ত্রী, এক কন্যা এবং এক ভাই রেখে যান।
স্ত্রী: এক-অষ্টমাংশ (الثمن), উত্তরাধিকারী শাখার (الفرع الوارث) উপস্থিতির কারণে = ১
কন্যা: অর্ধেক (النصف), তার একাকী হওয়ার কারণে = ৪
ভাই: আসাবা হিসেবে (تعصيبًا) অবশিষ্ট অংশ (الباقي) = ৩
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فقد أخذت البنت وهي امرأة أكثر من الأخ وهو رجل، فأين الظلم أيها الظالم لنفسك؟؟؟
وهذه صورتها:
8
الثمن للزوجة = 1 سهم.
النص للبنت= 4 أسهم.
الباقي للأخ وهو 3 أسهم.
এখানে কন্যা একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও ভাইয়ের—যিনি একজন পুরুষ—চেয়ে অধিক অংশ গ্রহণ করেছে। হে নিজের প্রতি জুলুমকারী, তবে এখানে অবিচার কোথায়???
আর এর বিন্যাসটি নিম্নরূপ:
৮
স্ত্রীর জন্য এক-অষ্টমাংশ (الثمن) = ১ অংশ (سهم)।
কন্যার জন্য অর্ধেক (النصف) = ৪ অংশ (أسهم)।
অবশিষ্টাংশ (الباقي) ভাইয়ের জন্য এবং তা ৩ অংশ (أسهم)।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وبعد: فقد وقفت على هذه الرسالة المباركة (تفنيد الشبهات حول ميراث المرأة في الإسلام) لفضيلة الشيخ أبي عاصم البركاتي؛ فوجدتها على صغرها مفيدة نافعة حيث ناقش الشبهات
وكَرَّ على شُبُهَاتِهم فلم يترك لهم شُبْهَةً، فاللهَ أسألُ أن يجزيه خير الجزاء، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين
وكتبه العبد الفقير إلى الله تعالى: وحيد بن عبد السلام بن بالي
مصر ـ كفر الشيخ ـ منشأة عباس
في 27/ 5 / 1430 هـ
অতঃপর: আমি ফযীলাতুশ শাইখ আবু আসিম আল-বারকাতি রচিত এই বরকতময় রিসালা (ইসলামে নারীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সংশয় নিরসন) পর্যালোচনা করেছি। আয়তনে ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও আমি একে অত্যন্ত উপকারী ও ফলপ্রসূ হিসেবে পেয়েছি, যেখানে তিনি সংশয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এবং তিনি তাদের উত্থাপিত সংশয়গুলোর ওপর এমনভাবে আক্রমণ চালিয়েছেন যে, তাদের জন্য আর কোনো সংশয়ই অবশিষ্ট থাকেনি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা: ওয়াহিদ ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে বালি
মিসর — কাফরুশ শাইখ — মানশাতু আব্বাস
তারিখ: ২৭/ ০৫ / ১৪৩০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم
على سبيل التقديمإن الحمد لله تعالى نحمده، ونستعينه، ونستهديه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران:102).
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনা স্বরূপনিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (আল ইমরান: ১০২)।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট অধিকার চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়ে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (আন-নিসা: ১)।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}
(الأحزاب: 70 - 71)
وبعد،،،
فإن أصدق الحديث كتاب الله وأحسن الهدى هدى محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
فنحن في زمن كثرت فيه فتن الشهوات وفتن الشبهات، بعد مجانبة العلم والعلماء، وفُشُّو الجهلِ وتَصَدُرُ السفهاء، والشبهات لا شك هي الأعظم خطراً وأثراً، لأنها إذا تمكنت من القلب أفسدته، بل تضربه في مقتل، فلا يرجى له عَوْد أو فَيْء أو إفاقة، وكم رأينا أناساً كانوا دُعَاةَ حقٍ وصدقٍ فيما يظهرُ،
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে (৭১)}
(আল-আহযাব: ৭০ - ৭১)
অতঃপর,
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী (হাদিস) আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মাঝে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে যাবে।
আমরা বর্তমানে এমন এক যুগে রয়েছি যেখানে জ্ঞান ও আলেমদের সান্নিধ্য ত্যাগ করার ফলে প্রবৃত্তির ফিতনা ও সংশয়ের ফিতনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মূর্খতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং নির্বোধরা নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হয়েছে। আর সংশয়সমূহ (شبهات) নিঃসন্দেহে বিপদ ও প্রভাবের দিক থেকে অধিক গুরুতর; কারণ তা যখন হৃদয়ে জেঁকে বসে তখন তাকে কলুষিত করে ফেলে, এমনকি তা হৃদয়ে মরণঘাতী আঘাত হানে, ফলে সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন, ফিরে আসা বা সুস্থ হওয়ার আর কোনো আশা থাকে না। আমরা এমন কত মানুষকে দেখেছি যারা দৃশ্যত সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠার আহ্বায়ক ছিলেন,
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فجاءتهم الشبهات والتلبيسات، فإذا هم دُعَاةُ باطلٍ وزورٍ وبهتانٍ، ولهذا تعلم الحكمة في نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمر بن الخطاب رضي الله عنه عن القراءة في صحيفة التوراة، فعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِكِتَابٍ أَصَابَهُ مِنْ بَعْضِ أَهْلِ الْكُتُبِ فَقَرَأَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَغَضِبَ؛ فَقَالَ: أَمُتَهَوِّكُونَ فِيهَا يَا ابْنَ الْخَطَّابِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً لَا تَسْأَلُوهُمْ عَنْ شَيْءٍ فَيُخْبِرُوكُمْ بِحَقٍّ فَتُكَذِّبُوا بِهِ أَوْ بِبَاطِلٍ فَتُصَدِّقُوا بِهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ مُوسَى صلى الله عليه وسلم كَانَ حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا أَنْ يَتَّبِعَنِيِِِِ (1).
وروى مسلم وغيره عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «بادروا بالأَعَمَالِ فتناً كقطعِ الليلِ المظلمِ يُصْبِحُ الرجلُ مؤمناً ويُمْسِي كافراً أو يُمْسِي مؤمناً ويُصْبِحُ كافراً يبَِيعُ دِينَه بعَرَضٍ من الدنيا (2)».
--------------------------------------------
ফলে তাদের নিকট নানাবিধ সংশয় ও বিভ্রান্তি উপস্থিত হলো, আর তারা বাতিল, মিথ্যা ও অপবাদের আহ্বায়কে পরিণত হলো। এ কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাওরাতের পাণ্ডুলিপি পাঠ করতে নিষেধ করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিকমত বা প্রজ্ঞা অনুধাবন করা যায়। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আহলে কিতাবদের কোনো এক ব্যক্তির নিকট থেকে প্রাপ্ত একটি কিতাব নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পাঠ করলেন এবং রাগান্বিত হলেন; অতঃপর তিনি বললেন: "হে খাত্তাবের পুত্র! তোমরা কি এতে বিভ্রান্তিতে আছ? সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি তোমাদের নিকট একটি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে এসেছি। তোমরা তাদের কাছে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো না; কারণ এমন হতে পারে যে তারা তোমাদের সত্য কথা বলবে আর তোমরা তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, অথবা তারা তোমাদের নিকট মিথ্যা বলবে আর তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস করবে। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি মূসা আলাইহিস সালাম জীবিত থাকতেন, তবে আমার অনুসরণ করা ছাড়া তাঁর অন্য কোনো উপায় থাকত না।" (১)।
ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যগণ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অন্ধকার রাতের ন্যায় ঘনঘোর ফিতনা আসার পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক আমল করো। তখন মানুষ সকালে মুমিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে, অথবা সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে এবং সকালে কাফির হয়ে যাবে। সে দুনিয়ার সামান্য পার্থিব স্বার্থের বিনিময়ে নিজের দ্বীনকে বিক্রি করে দেবে।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ونقول هذا لمن يتلقون عن المستشرقين المعادين للإسلام في غالب أحوالهم وأطروحاتهم، أو لمن يدخلون ويتصفحون مواقع الشبكة العنكبوتية (النت) ففيها من الخبث الكثير والكثير، وكلها مواقع تحارب الإسلام يشرف عليها اليهود والنصارى وغيرهم من الملاحدة والعلمانيين والمستغربين.
ومما يثار من حين لآخر من أولئك العلمانيين والمستغربين وغيرهم قولهم: بأن المرأة ظلمها تشريع الإسلام؛ لأنه جعل ميراثها على النصف من ميراث الرجل، وبناء عليه يطالبون بمساواة المرأة
আমরা এই কথাগুলো তাদের উদ্দেশে বলছি যারা তাদের অধিকাংশ অবস্থা ও উপস্থাপিত মতবাদসমূহে ইসলামবিদ্বেষী প্রাচ্যবিদদের নিকট থেকে পাঠ গ্রহণ করে, অথবা যারা ইন্টারনেট (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব) ব্রাউজ করে; কেননা সেখানে রয়েছে প্রচুর কলুষতা ও বিদ্বেষ। আর এগুলোর প্রতিটিই ইসলামবিদ্বেষী ওয়েবসাইট যা ইহুদি, নাসারা এবং অন্যান্য নাস্তিক, সেকুলারিস্ট ও পাশ্চাত্যানুসারীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
সেই সকল সেকুলারিস্ট, পাশ্চাত্যানুসারী ও অন্যদের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে যে বিষয়গুলো উত্থাপিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো তাদের এই দাবি যে: ইসলামি শরিয়ত নারীর ওপর জুলুম করেছে; কারণ এটি নারীর উত্তরাধিকারকে পুরুষের উত্তরাধিকারের অর্ধেক সাব্যস্ত করেছে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই তারা নারীর সমঅধিকারের দাবি উত্থাপন করে।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بالرجل في الميراث (1).
--------------------------------------------
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুরুষের সমান (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ونحن في هذه المقالة نحاول جاهدين أن نعرض حقائق الإسلام وإنصافه للمرأة في كل قضاياها، بل وإنصافه للبشرية كلها، وهذا واضح لمن نظر وأنصف، ونبذ الحقد والتعصب، وببيان الحق يتبين زيف رأي هؤلاء، وفساد قولهم، وسوء نياتهم أو عدم فهمهم، والله وحده من وراء القصد، اللهم احطط عني بها وزرا، واكتب لي بها أجرا، واجعلها لي عندك زخرا، والحمد لله رب العالمين.
أبو عاصم البركاتي
الشحات شعبان محمود
هاتف/01064763195
আমরা এই নিবন্ধে ইসলামের প্রকৃত সত্য এবং নারীর প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে এর ইনসাফ, বরং সমগ্র মানবজাতির প্রতি ইসলামের ন্যায়বিচার উপস্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যারা নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিদ্বেষ ও গোঁড়ামি পরিহার করেন, তাদের নিকট এটি সুস্পষ্ট। সত্য প্রকাশের মাধ্যমে তাদের মতামতের অসারতা, বক্তব্যের ভ্রান্তি এবং তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বা সঠিক বুঝের অভাব প্রমাণিত হয়। আল্লাহই একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত। হে আল্লাহ! আপনি এর মাধ্যমে আমার পাপ মোচন করুন, আমার জন্য সওয়াব লিখে দিন এবং একে আপনার নিকট আমার জন্য পাথেয় হিসেবে কবুল করুন। সকল প্রশংসা মহান রব্বুল আলামীনের জন্য।
আবু আসিম আল-বারকাতি
আশ-শাহহাত শাবান মাহমুদ
টেলিফোন/০১০৬৪৭৬৩১৯৫
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وهذا أوان تحصيل المطلوب:
شبهات المستشرقين وأتباعهميظن المستشرقون وأتباعهم أنهم بإثارة مثل هذه الشبهات، وتخرص مثل هذا الكلام أنهم أصابوا الإسلام في أسسه التي يقوم عليها، ولو أنصفوا لعلموا أن جهلهم مركب، وأن مثل هذا النوع من الجهل يفضح صاحبه، ويودي به إلى المعاطب والمهالك، ويتنزل عليه قول الشاعر:
كناطحٍ صخرةً يوماً لِيُوْهِنَها .... فلم يَضِرْها وأَوْهَى قرنَه الوَعِلُ
وقول الشاعر:
يا ناطح الجبل العالي ليكلمه .... أشفق على الرأس لا تشفق على الجبل
والعجيب أن المستشرقين متخبطون في أطروحاتهم،
এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের এটাই উপযুক্ত সময়:
প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারীদের উত্থাপিত সংশয়সমূহ (شبهات)প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারীরা ধারণা করে যে, এ জাতীয় সংশয় (شبهات) উত্থাপন করে এবং এ ধরণের ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথাবার্তা ছড়িয়ে দিয়ে তারা ইসলামের মূল ভিত্তিমূলে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ তারা যদি ন্যায়নিষ্ঠ হতো, তবে অবশ্যই জানত যে তাদের এই অজ্ঞতা হলো জটিল মূর্খতা (جهل مركب)। আর এ জাতীয় অজ্ঞতা তার ধারককে জনসমক্ষে লজ্জিত করে এবং তাকে ধ্বংস ও বিনাশের পথে পরিচালিত করে। তাদের ক্ষেত্রে কবির এই উক্তিটি প্রযোজ্য:
সেই পাহাড়ী ছাগলের মতো যে কোনো এক সুদৃঢ় পাথরে ঢুঁ মেরেছিল তাকে দুর্বল করতে; কিন্তু সে পাথরের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি বরং নিজের শিংটিকেই ভেঙে দুর্বল করে ফেলেছে।
এবং কবির অন্য একটি উক্তি:
হে সুউচ্চ পাহাড়ে আঘাতকারী যেন তাতে চিহ্ন রাখা যায়, নিজের মাথার ওপর দয়া করো, পাহাড়ের ওপর দয়া করার প্রয়োজন নেই।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রাচ্যবিদরা তাদের উপস্থাপিত মতবাদ বা থিসিসগুলো নিয়ে বিভ্রান্তিতে লিপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فتارة لما يعجبهم تشريع الإسلام يقولون أنه مستمد من القانون الروماني القديم، حتى لا تكون المزية للإسلام، وتارة يهاجمون تشريع الإسلام، ويتهمونه بالنقص والظلم؛ كما في مسألتنا موضوع البحث، وهي طريقة الجاهليين من العرب الذين كانوا يسمون النبي صلى الله عليه وسلم بالصادق الأمين، ويقولون: ما جربنا عليك كذباً، ثم صاروا بعد أن دعاهم يقولون: ساحر، شاعر، مجنون، يفرق بين المرء وزوجه؛ وهي نفس مقالة الذين يقولون بأن الإسلام ظلم المرأة لحساب الرجل!!!!.
قال تعالى: {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ. هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} [الصف: 8 ـ9].
কখনও কখনও যখন ইসলামের বিধান তাদের নিকট বিস্ময়কর মনে হয়, তখন তারা বলে যে এটি প্রাচীন রোমান আইন থেকে আহরিত, যাতে ইসলামের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব না থাকে। আবার কখনও তারা ইসলামের বিধানের ওপর আক্রমণ করে এবং একে অসম্পূর্ণতা ও জুলুমের অভিযোগে অভিযুক্ত করে; যেমনটি আমাদের এই গবেষণার আলোচ্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এটি মূলত সেই জাহেলি আরবদের পদ্ধতি, যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে 'সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত' (الصادق الأمين) বলে অভিহিত করত এবং বলত: "আমরা আপনার মাঝে কখনও কোনো মিথ্যা (كذب) পাইনি"। অতঃপর তিনি যখন তাদের দাওয়াত দিলেন, তখন তারা বলতে শুরু করল: "জাদুকর, কবি, পাগল, যে ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়"; এটি মূলত তাদেরই বক্তব্যের অনুরূপ যারা বলে থাকে যে, ইসলাম পুরুষের স্বার্থে নারীর ওপর জুলুম করেছে!!!!.
মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।} [আস-সাফ: ৮-৯]।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الإجابة عليهم:وللإجابة عليهم نقول والله المستعان:
وليس يصح في الأذهان شيء
… إذا احتاج النهار إلى دليل
أولاً: أن الله تعالى تعبدنا بالاستسلام له، والرضا والانقياد لما أمر به، قال سبحانه: {وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ. وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ} [الزمر:54ـ55].
وقال جل وعلا: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [النور:51].
তাদের প্রতি উত্তর:তাদের উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমরা বলছি:
বিবেক-বুদ্ধিতে কোনো কিছুই আর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে না
… যখন দিবালোকের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্যও দলিলের প্রয়োজন পড়ে।
প্রথমত: আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, তাঁর বিধানে সন্তুষ্টি এবং তাঁর আদেশের অনুবর্তিতার মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: {তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর অনুগত হও তোমাদের নিকট আজাব আসার পূর্বে; এরপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না। এবং অনুসরণ করো তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ শ্রেষ্ঠ বিষয়ের—তোমাদের নিকট অতর্কিতভাবে আজাব আসার পূর্বে, যখন তোমরা উপলব্ধিও করতে পারবে না।} [যুমার: ৫৪-৫৫]।
আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আরও এরশাদ করেছেন: {মুমিনদের বক্তব্য তো কেবল এটাই—যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম।} [নূর: ৫১]।
(খণ্ড: ১)
তাফনীদুশ শুবুহাতি হাওলা মীরাসিল মারআতি ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والله سبحانه وتعالى خلق خلقه وهو وحده الذي يعلم ما يصلح لهم وما لا يصلح.
وقد خلق الذكر والأنثى وفرق بينهما في الخِلقَةِ، ولهذا قال سبحانه: {وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثَى} [آل عمران:36].
فالمرأة تحمل وتلد وترضع وتربي وتقوم على شئون بيتها وزوجها وأولادها، والرجل يسعى ويكتسب، وينفق، وله ولاية وقوامة على زوجته وأولاده، قال تعالى: {وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [البقرة:228]،وقال جل شأنه: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} [النساء:34].
وبهذا تسير الحياة بهذا التوازن الذي أمر الله به، فالمرأة لها دورها ولها مكانتها ولها منزلتها
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই একমাত্র জানেন তাদের জন্য কোনটি কল্যাণকর এবং কোনটি অকল্যাণকর।
তিনি পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের সৃষ্টিগত অবয়বে পার্থক্য রেখেছেন। একারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর পুরুষ নারীর মতো নয়} [আলে ইমরান: ৩৬]।
নারী গর্ভধারণ করে, সন্তান প্রসব করে, স্তন্যদান করে, লালন-পালন করে এবং তার গৃহ, স্বামী ও সন্তানদের যাবতীয় বিষয় দেখাশোনা করে। আর পুরুষ প্রচেষ্টা চালায় ও উপার্জন করে এবং ব্যয়ভার বহন করে। তার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর তার কর্তৃত্ব (ولاية) ও অভিভাবকত্ব (قوامة) রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর নারীদের ওপর পুরুষদের এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [বাকারা: ২২৮]। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {পুরুষেরা নারীদের ওপর অভিভাবক (قوامون), যেহেতু আল্লাহ তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে} [নিসা: ৩৪]।
এর মাধ্যমেই জীবন আল্লাহর নির্দেশিত এই ভারসাম্যের ওপর পরিচালিত হয়। সুতরাং নারীর রয়েছে নিজস্ব ভূমিকা, বিশেষ অবস্থান ও সুউচ্চ মর্যাদা।