(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: -)
دلالة الاقتران ووجه الاحتجاج بها عند الأصوليين   (أبو عاصم البركاتي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: دلالة الاقتران ووجه الاحتجاج بها عند الأصوليين

المؤلف: أبو عاصم الشحات شعبان محمود عبد القادر البركاتي المصري

راجعه وقدم له:

فضيلة الشيخ / أبو حفص سامي بن العربي الأثري حفظه الله تعالى

فضيلة الشيخ / وحيد بن عبد السلام بالي حفظه الله تعالى

الناشر: دار النشر والتوزيع الإسلامية

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 74

تاريخ النشر بالشاملة: 28 شعبان 1433

উসুলবিদদের নিকট সহ-অবস্থানগত নির্দেশিকা এবং তার দালিলিক প্রামাণ্যতা   (আবু আসিম আল-বারকাতি)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


গ্রন্থ: উসুলবিদদের নিকট সহ-অবস্থানগত নির্দেশিকা এবং তার দালিলিক প্রামাণ্যতা

লেখক: আবু আসিম আশ-শাহহাত শা’বান মাহমুদ আব্দুল কাদির আল-বারকাতি আল-মিসরি

পর্যালোচনা ও ভূমিকা:

ফজিলাতুশ শায়খ / আবু হাফস সামি বিন আল-আরবি আল-আসারি (হাফিজাহুল্লাহু তায়ালা)

ফজিলাতুশ শায়খ / ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালি (হাফিজাহুল্লাহu তায়ালা)

প্রকাশক: দারুন নাশর ওয়াত তাওজি আল-ইসলামিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ শাবান ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১)
دلالةُ الاقْتِرَانِ ووجهُ الاحْتِجَاجِ

بِهَا

عند الأُصولِيينَ

 

أعده

أبو عاصم البركاتي المصري

 

راجعه وقدم له

فضيلة الشيخ / أبو حفص سامي بن العربي الأثري

حفظه الله تعالى

فضيلة الشيخ / وحيد بن عبد السلام بالي

حفظه الله تعالى
সহাবস্থানগত প্রমাণ (دلالة الاقتران) এবং এর মাধ্যমে দলিল পেশের (احتجاج) ধরণ

এর প্রাসঙ্গিকতা

মূলনীতিবিদদের (أصوليين) নিকট

 

প্রস্তুত করেছেন

আবু আসিম আল-বারাকাতি আল-মিসরি

 

পর্যালোচনা এবং ভূমিকা প্রদান করেছেন

সম্মানিত শাইখ / আবু হাফস সামি বিন আল-আরাবি আল-আসারি

আল্লাহ তাআলা তাকে রক্ষা করুন

সম্মানিত শাইখ / ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালি

আল্লাহ তাআলা তাকে রক্ষা করুন
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২)
كل الحقوق محفوظة للمؤلف

دار النشر والتوزيع الإسلامية

الطبعة الأولى

1432 هـ 2011م
সকল স্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত

দারুন নাশর ওয়াত তাওজি আল-ইসলামিয়্যাহ

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌شكر وتقدير

عملا بقول الرسول الكريم سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم: «لَا يَشْكُرُ اللَّهَ مَنْ لَا يَشْكُرُ النَّاسَ» أخرجه أحمد وأبو داود والترمذي عن أبي هريرة وصححه الألباني.

أشكر كلا الشيخين الجليلين

شيخنا أبا عمار وحيد بن بالي حفظه الله تعالى، فهو صاحب فكرة هذا البحث، والموجه والمراجع له.

كما أشكر شيخنا أبا حفص بن العربي الأثري حفظه الله تعالى، لما بذله من جهد في مراجعة الكتاب، وفي إبداء النصح والتنبيه على بعض الملاحظات التي أفادت الباحث وبحثه.
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি

সম্মানিত রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না» এর ওপর আমলস্বরূপ। হাদিসটি আহমদ, আবু দাউদ এবং তিরমিজি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

আমি উভয় সম্মানিত শায়খের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমাদের শায়খ আবু আম্মার ওয়াহিদ বিন বালি (আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন); তিনি এই গবেষণার মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশক এবং এর পর্যালোচনাকারী।

আমি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাদের শায়খ আবু হাফস বিন আল-আরাবি আল-আসারি (আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন)-এর প্রতি, কিতাবটি পর্যালোচনায় তাঁর ব্যয়িত শ্রম এবং নসিহত প্রদান ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, যা গবেষক ও তাঁর গবেষণাকে বিশেষভাবে উপকৃত করেছে।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمة فضيلة الشيخ أبي حفص سامي بن العربي حفظه الله

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأولين والآخرين وعلى آله وأصحابه أجمعين، والمهتدين بهديه والمستنين بسنته إلى يوم الدين.

أما بعد:

فإن علمَ أصولِ الفقه من أجلِ العلومِ قدرًا، وأوقعها أثرًا، وأكثرها فائدة، إذ هو الأصل والمنهج الذي يسير عليه المفتي والفقيه لاستنباط الأحكام الشرعية، وبه يفهم طالب العلم كيف استنبط العلماء؟، وكيف يُفْهَم كلامهم؟ وكيفية الترجيح بين كلامهم؟.

ومن مسائل أصول الفقه التي تحتاج إلى بحثٍ مسألةُ " دلالة الاقتران" وهل هي حجة؟ ومتى تكون حجة ومتى لا تكون؟!.
মহামান্য শাইখ আবু হাফস সামি বিন আল-আরাবি (আল্লাহ তাকে সংরক্ষণ করুন)-এর ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সরদার, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবে ও তাঁর সুন্নাহর ওপর অটল থাকবে তাদের ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই উসুলে ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্র মর্যাদার দিক থেকে অত্যন্ত মহিমান্বিত, প্রভাবের দিক থেকে সুগভীর এবং উপকারের দিক থেকে অধিকতর ফলপ্রসূ। কেননা এটিই সেই মূলভিত্তি ও পদ্ধতি, যার ওপর ভিত্তি করে মুফতি ও ফকিহগণ শরয়ি বিধানসমূহ আহরণ (استنباط) করে থাকেন। এর মাধ্যমেই ইলম অন্বেষণকারী অনুধাবন করতে পারেন যে, উলামায়ে কেরাম কীভাবে বিধানসমূহ আহরণ করেছেন? কীভাবে তাদের বক্তব্য বুঝতে হবে? এবং তাদের মতামতের মাঝে প্রাধান্য (الترجيح) দেওয়ার পদ্ধতিই বা কী?

উসুলে ফিকহের (أصول الفقه) মাসআলাসমূহের মধ্যে যা বিস্তারিত গবেষণার দাবি রাখে, তা হলো "দালালাতুল ইক্তিরাণ" (دلالة الاقتران) বা অনুষঙ্গগত প্রমাণ্যতা। এটি কি কোনো দলিল (حجة)? এটি কখন দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে আর কখন হবে না?!
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৫)
وقد بحث ذلك أخونا في الله الشيخ الشحات بن شعبان أبو عاصم البركاتي، وبذل جهده. وقد اطلعت على هذا البحث المبارك وراجعته كاملًا، وكتبت بعض الملاحظات.

فأسأل الله أن ينفع بالمؤلف الإسلام والمسلمين، وأن ينفعه بالعلم النافع والعمل الصالح، وأن يعصمنا وإياه من الفتن ما ظهر منها وما بطن.

والحمد لله رب العالمين.

وكتب/ أبو حفص بن العربي الأثري

الجمعة: 19/ 5/ 1432

22/ 4/2011

مدينة السويس زائرًا.
আল্লাহ্‌র জন্য আমাদের ভাই শাইখ আশ-শাহাত বিন শাবান আবু আসিম আল-বারকাতি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তাঁর যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। আমি এই বরকতময় গবেষণাটি পর্যবেক্ষণ করেছি, এটি পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করেছি এবং কিছু টীকা লিখেছি।

আমি আল্লাহ্‌র নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই লেখকের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর উপকার করেন এবং লেখককে উপকারী জ্ঞান ও নেক আমলের মাধ্যমে উপকৃত করেন; আর আমাদের ও তাঁকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্‌র জন্য।

লিখেছেন/ আবু হাফস বিন আল-আরাবি আল-আসারি

শুক্রবার: ১৯/ ৫/ ১৪৩২ হিজরি

২২/ ৪/ ২০১১ ইংরেজি

সুয়েজ শহর, সফররত অবস্থায়।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌مقدمة فضيلة الشيخ وحيد بالي حفظه الله

الحمد لله الذي هدى من الضلالة، وعَلَّمَ من الجهالة، وأنطق من بُكْمٍ، وبَصَّرَ من عَمَى، وقوى من ضعفٍ، وأطعم من جوعٍ، وكَسَىَ من عُريٍ، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبدُه ورسولُه، وبعد:

فإن علمَ الأصولِ من العلومِ المساعدةِ على فهم النصوص الشرعية كعلمي اللغة ومصطلح الحديث، فهذه العلوم الثلاثة يسميها العلماء علوم الآلة، أي الآلات التي تساعد على طالب العلم على الوصول إلى الحكم الشرعي.

فعلم المصطلح: يُعَلِمَهُ صحة الحديث من عدمه.

وعلم اللغة: يُعَلِمَهُ المراد بالألفاظ والتراكيب في لغة العرب.

وعلم الأصول: يُعَلِمَهُ الفهم الصحيح للنص الشرعي.

فينبغي لطالب العلم أن يحفظ مختصراً في كل فن من هذه الفنون.
মর্যাদাবান শাইখ ওয়াহিদ বালি (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন)-এর ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পথভ্রষ্টতা থেকে পথ প্রদর্শন করেছেন, অজ্ঞতা থেকে শিক্ষা দান করেছেন, বাকশক্তিহীনকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, অন্ধকে দৃষ্টি দান করেছেন, দুর্বলকে সামর্থ্য দিয়েছেন, ক্ষুধার্তকে অন্ন দিয়েছেন এবং বস্ত্রহীনকে পরিহিত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:

নিশ্চয়ই উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্র হলো শরয়ী মূলপাঠসমূহ (নস) অনুধাবনে সহায়ক জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমন ভাষাতত্ত্ব এবং হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্র। উলামায়ে কিরাম এই তিনটি শাস্ত্রকে সহায়ক শাস্ত্র (علوم الآلة) বলে অভিহিত করেন; অর্থাৎ এমন সব মাধ্যম যা জ্ঞান অন্বেষণকারীকে শরয়ী বিধান বা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

পরিভাষা শাস্ত্র (علم المصطلح): এটি হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) কিংবা তার অভাব সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।

ভাষাতত্ত্ব: এটি আরবি ভাষার শব্দাবলী ও বাক্যবিন্যাসের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।

উসুল শাস্ত্র: এটি শরয়ী মূলপাঠের (নস) সঠিক উপলব্ধি অর্জনে সাহায্য করে।

সুতরাং জ্ঞান অন্বেষণকারীর উচিত এই প্রতিটি শাস্ত্রের মধ্য থেকে একটি করে সংক্ষিপ্ত পাঠ্য (مختصر) মুখস্থ করা।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৭)
ففي المصطلح: يحفظ "نخبة الفكر"، ثم يدرس "تيسير مصطلح الحديث"، ثم يتوسع.

وفي اللغة: يحفظ "الآجرومية"، ثم يدرس "القواعد الأساسية"، ثم يتوسع.

وفي الأصول: يحفظ "البداية في أصول الفقه"، ثم يدرس "الواضح في أصول الفقه"، ثم يتوسع.

ولكن لا يقدم هذه العلوم على فروض الأعيان، كأصول التوحيد، وفقه العبادات. بل عليه أن يتعلم أولاً ما يصح به توحيده، كأصول الإيمان الستة، وما تصح به عباداته.

ولقد وقفت على رسالة " دلالة الاقتران" للشيخ أبي عاصم البركاتي - حفظه الله- فوجدته قد درسها بشيء من التوسع، مع سلاسة الأسلوب، وجمال العبارة، ومما أعجبني في هذه الرسالة: التركيز على التطبيقات الفقهية على دلالة الاقتران، وبيان ما يقبل منها وما يرد.

فجزى الله المؤلف خيراً، وزاده من العلم النافع والعمل الصالح.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

وكتبه الفقير إلى عفو ربه/

وحيد بن عبد السلام بن بالي.
পরিভাষা (المصطلح) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে: "নুখবাতুল ফিকার" মুখস্থ করবে, তারপর "তাইসিরু মুসতালাহিল হাদিস" অধ্যয়ন করবে, এরপর বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করবে।

ভাষা (اللغة) শিক্ষার ক্ষেত্রে: "আল-আজুরুমিয়্যাহ" মুখস্থ করবে, তারপর "আল-কাওয়ায়িদুল আসাসিয়্যাহ" অধ্যয়ন করবে, অতঃপর বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করবে।

উসুল (الأصول) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে: "আল-বিদায়াহ ফি উসুলিল ফিকহ" মুখস্থ করবে, তারপর "আল-ওয়াদিহ ফি উসুলিল ফিকহ" অধ্যয়ন করবে, এরপর পাণ্ডিত্য অর্জন করবে।

তবে এই শাস্ত্রগুলোকে ব্যক্তিগত আবশ্যিক দায়িত্ব (فروض الأعيان) সমূহের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না, যেমন—তাওহিদের মূলনীতি এবং ইবাদতের ফিকহ। বরং তার ওপর কর্তব্য হলো প্রথমে সেই বিষয়গুলো শিক্ষা করা যা দ্বারা তার তাওহিদ বিশুদ্ধ হয়, যেমন—ইমানের ছয়টি মূলস্তম্ভ এবং যা দ্বারা তার ইবাদতসমূহ শুদ্ধ হয়।

আমি শায়খ আবু আসিম আল-বারকাতি—আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন—রচিত "দালালতুল ইকরান" (دلالة الاقتران) শীর্ষক গবেষণাপত্রটি পাঠ করেছি। আমি দেখতে পেয়েছি যে, তিনি অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গি ও চমৎকার অভিব্যক্তির মাধ্যমে এটি কিছুটা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। এই গবেষণাপত্রটিতে আমার কাছে যা ভালো লেগেছে তা হলো—সহযোগী দ্যোতনার (دلالة الاقتران) ওপর ফিকহি প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ এবং এর মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) আর কোনটি বর্জনীয় (مردود) তার বর্ণনা।

আল্লাহ লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর উপকারী ইলম ও নেক আমল বৃদ্ধি করে দিন।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা—

ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বিন বালি কর্তৃক লিখিত।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المؤلف

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102).

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1).

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (الأحزاب: 70 - 71).

أما بعد ..

فإن أصدقَ الحديثِ كلامُ اللهِ، وخيرَ الهديِ هديُ محمدٍ صلى الله عليه وسلم، وشرَ الأمورِ محدثاتُها، وكلَ محدثةٍ بدعةُ، وكلَ بدعةٍ ضلالةُ وكلَ ضلالةٍ في النارِ.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

 

‌‌লেখকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (আলে ইমরান: ১০২)।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} (আন-নিসা: ১)।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} (আল-আহজাব: ৭০-৭১)।

অতঃপর...

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী বা হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ; প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৯)
إخوة الإسلام:

فإن دلالةَ الاقترانِ من المسائلِ الأُصُولِيَّةِ التي حَصَلَ في ثبوتِ الأحكامِ بها خلافٌ، فبعض العلماء اعتبرها وقال بها واستعملها في إثبات الأحكام، فهي من طرق الاستدلال على رأي أولئك الذين قالوا بها، وفريق آخر وهم الجمهور أنكرها وقال بضعفها.

وفي هذا البحث تجد بتوفيق الله تعالى تفصيل هذا الكلام وأدلة كل فريق ومناقشتهم، وذكر الأمثلة الفقهية، لأن علمَ أُصُولِ الفِقْهِ لا ينفك أبداً عن التطبيقِ الفقهي والواقعِ العمليِ، وإلا كان ضربًا من الخيالِ، ونوعًا من التَّرَفِ العَقْلِيِ.

هذا والتوفيق والسداد من الله وحده، وإن كان من خطأٍ فمني ومن الشيطان، وأتوب إلى الله منه، ورحم الله من رأى خللاً فنصحنا وهو يحتسب لله، فإن " الدين النصيحة" ونحن مع الحق أينما كان.

وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا ونبينا محمد وآله وصحبه والتابعين إلى يوم الدين. والحمد لله رب العالمين.

كتبه/

أبو عاصم البركاتي المصري

الشحات شعبان محمود عبد القادر

هاتف |00201064763195
হে ইসলামের ভ্রাতৃমণ্ডলী:

নিশ্চয়ই সহাবস্থানগত প্রমাণ (دلالة الاقتران) হলো এমন একটি উসূল সংক্রান্ত বিষয় (المسائل الأصولية), যার মাধ্যমে শরয়ি বিধান (الأحكام) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে মতভেদ বিদ্যমান। কিছু আলেম (العلماء) এটিকে গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন, এর সপক্ষে মত দিয়েছেন এবং বিধান (الأحكام) প্রমাণের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করেছেন; সুতরাং যারা এর প্রবক্তা, তাদের নিকট এটি প্রমাণ গ্রহণের (الاستدلال) একটি পদ্ধতি। পক্ষান্তরে অন্য একটি দল, যারা জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور), তারা এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এর দুর্বলতার (بضعفها) কথা বলেছেন।

আল্লাহ তাআলার তাওফিকে এই গবেষণাপত্রে (البحث) আপনি এ প্রসঙ্গের বিস্তারিত আলোচনা, প্রতিটি পক্ষের দলীলসমূহ (أدلة) ও তাদের পর্যালোচনা এবং ফিকহী উদাহরণসমূহের (الأمثلة الفقهية) উল্লেখ পাবেন। কারণ উসূলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রটি ফিকহী প্রয়োগ ও ব্যবহারিক বাস্তবতা থেকে কখনোই বিচ্ছিন্ন নয়; অন্যথায় এটি নিছক কল্পনাপ্রসূত এবং এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতায় পরিণত হবে।

যাবতীয় তাওফিক ও সঠিক পথে অটল থাকা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আমি এ জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করছি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যিনি কোনো ত্রুটি দেখে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমাদের নসীহত (النصيحة) করবেন; কারণ "দীন হলো নসীহত (النصيحة)" এবং সত্য (الحق) যেখানেই থাকুক আমরা তার সাথেই আছি।

আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লেখক/

আবু আসিম আল-বারকাতি আল-মিসরি

আশ-শাহাত শাবান মাহমুদ আব্দুল কাদির

ফোন | 00201064763195
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌خطة البحث

تَعْرِيفُ الدلالَةِ.

تَعْرِيفُ الاقترانِ.

التَعْرِيفُ اللَقَبِي لدلالَةِ الاقْتِرَانِ.

أمثلةٌ لاستعمالِ دلالةِ الاقترانِ في استنباطِ الأحكامِ.

أقْوَالُ العُلَمَاءِ في دلالَةِ الاقْتِرَانِ.

بحثٌ في واو العَطْفِ واستعمالاتها.

عَطْفُ السُّنَةِ على الواجبِ.

أنواعُ دلالَةِ الاقْتِرَانِ.

الأنواعُ التي يُحْتَجُ بها والأنواعُ التي لا يُحْتَجُ بها.

تطبيقاتٌ فقهيةٍ استعملَ فيها الفقهاءُ دلالةَ الاقترانِ ومناقشتُهم فيها.

خلاصَةُ البَحْثِ.

الخَاتِمَةُ.
গবেষণার রূপরেখা

অর্থনির্দেশের (الدلالة) সংজ্ঞা।

সহাবস্থানের (الاقتران) সংজ্ঞা।

সহাবস্থানগত অর্থনির্দেশের (دلالة الاقتران) পারিভাষিক সংজ্ঞা (التعريف اللقبي)।

বিধান আহরণে (استنباط الأحكام) সহাবস্থানগত অর্থনির্দেশের (دلالة الاقتران) ব্যবহারের উদাহরণ।

সহাবস্থানগত অর্থনির্দেশ (دلالة الاقتران) সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের অভিমত।

সংযোজক ওয়াও (واو العطف) এবং এর ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা।

ওয়াজিবের (الواجب) ওপর সুন্নাহর (السنة) সংযোজন।

সহাবস্থানগত অর্থনির্দেশের (دلالة الاقتران) প্রকারভেদ।

যে প্রকারগুলো দলীলযোগ্য (يحتج بها) এবং যে প্রকারগুলো দলীলযোগ্য নয়।

ফিকহী প্রয়োগসমূহ যেখানে ফকীহগণ সহাবস্থানগত অর্থনির্দেশ (دلالة الاقتران) ব্যবহার করেছেন এবং সে বিষয়ে তাঁদের পর্যালোচনা।

গবেষণার সারসংক্ষেপ।

উপসংহার।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌تَعْرِيفُ الدلالَةِ لغةً واصطلاحاً:

الدَّلالة بفتح الدال وكسرها مصدر من الفعل دَلَّ، أي أرشد، والجمعُ دلائلُ ودلالات، وقال ابن دريد: الدَّلالة بالفتح حِرْفة الدَّلَاّل (1). ودَليلٌ بَيِّن الدِّلالة بالكسر لا غير.

وفي الاصطلاحِ:

الدَّلالَةُ: كونُ اللَّفظِ متَى أُطْلِقَ أو أُحِسَّ فُهِم منه معناه للعِلْم بوَضْعِه، وهي مُنْقَسِمة إلى المُطابَقة والتَّضمُّن والالتِزام؛ لأنّ اللفظَ الدالَّ بالوَضْعِ يَدُلُّ على تَمام ما وُضِع له بالمُطابَقة؛ وعلَى جُزئِه بالتَّضمُّن إن كان له جزءٌ وعلَى ما يُلازِمه في الذِّهن بالالتِزام، كالإنسان فإنه يدلُّ على تَمامِ الحيوان الناطقِ بالمطابَقةِ وعلى أحدِهما بالتَّضمُّن وعلى قابِلِ العِلْم بالالتِزام (2).

* وقيل دلالة اللفظ: ما يقتضيه عند إطلاقه.

--------------------------------------------

(1) الدَّلَاّل الذي يجمع بين البَيِّعَيْن أو هو الذي ينادي على السلعة.

(2) تاج العروس من جواهر القاموس لمرتضى الزَّبيدي مادة د ل ل (28 |498) طبعة دار الهداية.
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে নির্দেশনার (دلالة) সংজ্ঞা:

‘দালাল্লাহ’ (الدلالة) শব্দটি ‘দাল’ বর্ণের ফাতহাহ (যবর) ও কাসরাহ (জের) উভয় যোগে গঠিত, যা ‘দাল্লা’ (دل) ক্রিয়া থেকে নির্গত মূলশব্দ (مصدر); এর অর্থ হলো পথপ্রদর্শন করা। এর বহুবচন হলো ‘দালা-ইল’ ও ‘দালাল্লাহ-ত’। ইবনে দুরিদ বলেন: ফাতহাহ যোগে ‘আদ-দালাল্লাহ’ অর্থ হলো দালালের পেশা (১)। আর ‘দালীল’ (দালীল) শব্দটি যখন সুস্পষ্ট নির্দেশনা (الدلالة) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তা কেবল কাসরাহ যোগে পঠিত হয়।

পারিভাষিক সংজ্ঞায়:

নির্দেশনা (الدلالة): কোনো শব্দ (لفظ) যখন উচ্চারিত হয় বা অনুভূত হয়, তখন তার প্রয়োগবিধি সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে তা থেকে যে অর্থ অনুধাবন (فهم) করা হয়, তাকেই নির্দেশনা (الدلالة) বলে। এটি সামঞ্জস্যতা (المطابقة), অন্তর্ভুক্তিকরণ (التضمن) এবং অপরিহার্যতা (الالتزام)—এই তিন ভাগে বিভক্ত। কারণ, একটি নির্দেশক শব্দ (اللفظ الدال) তার প্রায়োগিক সত্তার কারণে পূর্ণ অর্থকে সামঞ্জস্যতার (المطابقة) মাধ্যমে নির্দেশ করে; আর যদি শব্দটির অংশ থাকে, তবে তার অংশবিশেষকে অন্তর্ভুক্তিকরণের (التضمن) মাধ্যমে নির্দেশ করে; এবং সেই শব্দের সাথে মানসিকভাবে যা ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকে, তাকে অপরিহার্যতার (الالتزام) মাধ্যমে নির্দেশ করে। যেমন: ‘মানুষ’ শব্দটি তার পূর্ণ অর্থ ‘বাকশক্তি সম্পন্ন জীব’-কে সামঞ্জস্যতার (المطابقة) মাধ্যমে নির্দেশ করে, আবার এই দুইয়ের যেকোনো একটিকে অন্তর্ভুক্তিকরণের (التضمن) মাধ্যমে এবং তার জ্ঞান অর্জনের সক্ষমতাকে অপরিহার্যতার (الالتزام) মাধ্যমে নির্দেশ করে (২)।

* আরও বলা হয়েছে যে, শব্দের নির্দেশনা (دلالة اللفظ) হলো: শব্দ উচ্চারণের সময় তা যা দাবি করে।

--------------------------------------------

(১) দালাল হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে সংযোগ ঘটান অথবা যিনি পণ্যের জন্য আহ্বান বা ডাক দেন।

(২) মুরতাজা আয-যাবিদি রচিত তাজুল আরূস মিন জাওয়াহিরিল কামূস, অনুচ্ছেদ: দ ল ল (২৮/৪৯৮), দারুল হিদায়াহ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تَعْرِيفُ الدليل:

والدَّلِيلُ: المرشد، وهو ما يُستَدَلُّ به، قال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظِّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِناً ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلاً} (الفرقان:45). وجمع الدليل: أدلة وأدلاء.

واصطلاحاً: هو الذي يلزم من العلم به العلم بشيء آخر (1).

وقيل: ما يمكن التوصل بصحيح النظر فيه إلى العلم بالغير.

وقيل: مَا يُمْكِنُ التَّوَصُّلُ بِصَحِيحِ النَّظَرِ فِيهِ إلَى مَطْلُوبٍ خَبَرِيٍّ (2).

 

و‌‌الاستِدلالُ: تَقرِيرُ الدَّلِيلِ لإثبات المَدْلُول.

والدَّلُ: السَّمْتُ حُسْن الهيئة والمَنْظَر في الدين وهيئة أَهل الخير من السكينة والوقار في الهيئة والمَنْظر والشمائل وغير ذلك، وفي الحديث أَن أَصحاب ابن مسعود رضي الله عنه كانوا يَرْحَلون إِلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه فينظرون إِلى سَمْتِه وهَدْيه ودَلِّه فيتشبهون به.

--------------------------------------------

(1) التعريفات للجرجاني رقم (692).

(2) إرشاد الفحول إلي تحقيق الحق من علم الأصول للشوكاني (1/ 66) تحقيق شيخنا أبي حفص سامي بن العربي؛ طبعة دار الفضيلة.
‌প্রমাণের (دليل) সংজ্ঞা:

দলিল (دليل) হলো পথপ্রদর্শক, আর এটি এমন বিষয় যার মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করা হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {তুমি কি তোমার প্রতিপালকের প্রতি লক্ষ্য কর না, তিনি কীভাবে ছায়াকে সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে একে স্থির রাখতে পারতেন; অতঃপর আমি সূর্যকে এর নির্দেশক (دليل) করেছি} (আল-ফুরকান: ৪৫)। 'দলিল' (دليل)-এর বহুবচন হলো আদিল্লাহ (أدلة) এবং আদিল্লা' (أدلاء)।

পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন বিষয় যার জ্ঞান অর্জিত হওয়া অন্য কোনো বিষয়ের জ্ঞান অর্জিত হওয়াকে আবশ্যক করে (১)।

কেউ কেউ বলেছেন: যাতে সঠিক চিন্তাভাবনার (صحيح النظر) মাধ্যমে অন্য কোনো বিষয়ের জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়।

আবার বলা হয়েছে: যাতে সঠিক চিন্তাভাবনার (صحيح النظر) মাধ্যমে কোনো সংবাদমূলক উদ্দিষ্ট (مطلوب خبري) বিষয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় (২)।

 

এবং ‌ইস্তিদলাল (الاستدلال): সাব্যস্তকৃত বিষয়কে (مدلول) প্রমাণের জন্য দলিল (دليل) উপস্থাপন করা।

আর 'দাল' (دل) হলো: দ্বীনের ক্ষেত্রে উত্তম বেশভূষা ও সুন্দর অবয়ব এবং নেককার লোকদের চালচলন যেমন গাম্ভীর্য, স্থৈর্য, বাহ্যিক রূপ, স্বভাব-চরিত্র ইত্যাদি। হাদিসে এসেছে যে, ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ছাত্ররা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে সফর করতেন এবং তাঁরা তাঁর ব্যক্তিত্ব (سمت), আদর্শ (هدي) ও আচার-আচরণ (دل) প্রত্যক্ষ করতেন এবং তাঁর সাদৃশ্য গ্রহণ করতেন।

--------------------------------------------

(১) আল-জুরজানি কৃত আত-তারিফাত, নম্বর (৬৯২)।

(২) আশ-শাওকানি কৃত ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল (১/ ৬৬), আমাদের শায়খ আবু হাফস সামি বিন আল-আরবির তাহকিক; দারুল ফাজিলা সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وفي الحديث: «فقلنا لحذيفة: أَخْبِرْنا برجل قريب السَّمْت والهَدْي والدَّلِّ من رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى نَلْزَمه فقال: ما أَحد أَقرب سَمْتاً ولا هَدْياً ولا دَلاًّ من رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يواريه جِدارُ الأَرض من ابن أُمِّ عَبْدٍ (1)».

ودَلُّ المرأَةِ ودَلالُها تَدَلُّلها على زوجها وذلك أَن تُرِيه جَراءةً عليه في تَغَنُّج وتَشَكُّل كأَنها تخالفه وليس بها خِلاف وقد تَدَلَّلت عليه، وامرأَة ذات دَلٍّ أَي شَكْل تَدِلُّ به (2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (3762) وأحمد (23350) (23413).

(2) انظر: لسان العرب (11 |247) لابن منظور، الطبعة الأولى دار صادر بيروت.
এবং হাদিসে এসেছে: «আমরা হুজাইফাহকে বললাম: আমাদের এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিন যার স্বভাব-চরিত্র, চাল-চলন এবং আচার-আচরণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে নিকটবর্তী, যাতে আমরা তার সান্নিধ্য গ্রহণ করতে পারি। তখন তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বভাব-চরিত্র, চাল-চলন এবং আচার-আচরণে ইবন উম্মে আবদ (১) অপেক্ষা অধিক নিকটবর্তী আর কেউ নেই, যতক্ষণ না কবরের দেয়াল তাকে আড়াল করে নেয়।»

আর নারীর 'দাল' এবং 'দালাল' বলতে তার স্বামীর প্রতি সোহাগপূর্ণ আচরণকে বোঝায়। আর তা হলো এই যে, সে লাবণ্য ও কৃত্রিম মান-অভিমানের মাধ্যমে স্বামীর প্রতি এমন প্রগলভতা প্রদর্শন করে যেন সে তার বিরোধিতা করছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তার মনে কোনো বিরোধ নেই, বরং সে কেবল সোহাগ করছিল। আর 'দাল' বিশিষ্ট নারী মানে হলো রূপ-লাবণ্যময়ী নারী যার মাধ্যমে সে সোহাগ প্রকাশ করে (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (৩৭৬২) এবং আহমাদ (২৩৩৫০) (২৩৪১৩) বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: ইবন মানজুরের লিসান আল-আরব (১১/২৪৭), প্রথম সংস্করণ, দার সাদির বৈরুত।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تعريف الاقتران لغةً واصطلاحاً:

الاقتران لغة:

القران (1): المصاحبة كالمقارنة، قارن الشيء مقارنة وقراناً اقترن به وصاحبه، وقارنته قراناً صاحبته، والاقتران يقتضي شيئين اتحد أحدهما بالآخر.

ومَصْدَرُ قَوْلكَ: قَرَنْتُ الشَّيْءَ أقْرُنُه قَرْناً: إذا شدَدْتَه إلى شَيْءٍ وقَرَنْتَه إليه.

والقِرَانُ: الحَبْل الذي يُقْرَنُ به، وجَمْعُه قُرُنٌ

والقَرِيْنُ: صاحِبُكَ الذي يُقارِنُكَ. وامْرَأةُ الرجُلَ: قَرِيْنَتُه.

والقَرْن: قَرْن الثور وغيره، والجمع قُرون. والقَرْن من الناس: الأمَّة منهم، والجمع قرون أيضاً.

--------------------------------------------

(1) انظر: معجم مقاييس اللغة لأبي الحسين أحمد بن فارس بن زكريا (5| 76 ـ 77) تحقيق: عبد السلام محمد هارون، الطبعة الثانية دار الجيل، بيروت،1420هـ - 1999م بتصرف، وتهذيب اللغة للأزهري (9 |84 وما بعدها) بتصرف، حققه محمد عوض مرعب، طبعة أولى دار إحياء التراث العربي - بيروت - 2001م.
‌ইকরিতান (اقتران)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে ইকরিতান (اقتران):

আল-কিরান (القران) (১): এর অর্থ হলো সহগামিতা (المصاحبة) যেমন মুকারানাহ (المقارنة)। কোনো কিছুর মুকারানাহ (مقارنة) বা কিরান (قراناً) করা মানে তার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া (اقترن به) এবং সঙ্গী হওয়া (صاحبه)। আর "আমি তার সাথে কিরান (قراناً) করেছি" অর্থ আমি তার সাথী হয়েছি। ইকরিতান (الاقتران) এমন দুটি বস্তুর দাবি রাখে যার একটি অপরটির সাথে একীভূত হয়।

আপনার উক্তি "আমি বস্তুটিকে যুক্ত করেছি" (قَرَنْتُ الشَّيْءَ أقْرُنُه قَرْناً)-এর ক্রিয়ামূল বা মাসদার হলো 'কারন' (قَرْناً); যখন আপনি একে অন্য কোনো কিছুর সাথে বেঁধে দেন এবং তার সাথে যুক্ত করেন।

আর আল-কিরান (القِرَانُ) হলো সেই রশি যা দিয়ে কোনো কিছুকে একত্রে বাঁধা হয়, এর বহুবচন হলো কুরুগুন (قُرُنٌ)।

আর কারিন (القَرِيْنُ) হলো আপনার সেই সঙ্গী যে আপনার সাথে থাকে। আর ব্যক্তির স্ত্রীকে তার কারিনাহ (قَرِيْنَتُه) বলা হয়।

আর কার্ন (القَرْن) হলো ষাঁড় বা অন্য প্রাণীর শিং, এর বহুবচন হলো কুরুগুন (قُرون)। আর মানুষের ক্ষেত্রে কার্ন (القَرْن) বলতে তাদের কোনো একটি প্রজন্ম বা উম্মতকে বোঝায়, এর বহুবচনও কুরুগুন (قرون)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে ফারিস ইবনে জাকারিয়া রচিত মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ (৫/ ৭৬-৭৭), তাহকিক: আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন, দ্বিতীয় সংস্করণ, দার আল-জিল, বৈরুত, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ (পরিমার্জিত); এবং আল-আজহারি রচিত তাহজিব আল-লুগাহ (৯/ ৮৪ এবং পরবর্তী), তাহকিক: মুহাম্মদ আওয়াদ মুরাব, প্রথম সংস্করণ, দার ইহয়া আল-তুরাস আল-আরাবি - বৈরুত - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقُرون المرأة: ذوائبها. وامرأة قَرناءُ، وهي التي تظهر قرْنَة رحِمها من فرجها، وهو عيب، والاسم القَرَن.

وعلى هذا فَالْقَرْنُ فِي الْفَرْجِ مَانِعٌ يَمْنَعُ مِنْ سُلُوكِ الذَّكَرِ فِيهِ إمَّا غُدَّةٌ غَلِيظَةٌ أَوْ لَحْمَةٌ مُرْتَتِقَةٌ أَوْ عَظْمٌ (وَامْرَأَةٌ قَرْنَاءُ) بِهَا ذَلِكَ.

وقَرْن الشمس: أول شعاعها.

والقَرْنُ: جانب الرأس.

وقَرْنُ الثَّعالب: قرنُ المنازلِ ميقاتُ نجدٍ.

قال الله جل وعز: {أوَلَم يَرَوْا كَمْ أهلكْنا مِن قَبْلِهمْ مِنْ قَرْنٍ}.

قال أبو إسحاق: قيل القرن ثمانون سنة، وقيل: سبعون.

قال: والذي يقع عندي والله أعلم أن القرن أهل كل مدة كان فيها نبي أو كان فيها طبقة من أهل العلم قَلت السنون أو كثرت. والدليل على هذا قول النبي صلى الله عليه وسلم: «خيركم
নারীর 'কুরুন' (قُرون) হলো তার চুলের বেণী বা অলকগুচ্ছ। আর 'কারনা' (قَرناءُ) হলো এমন নারী যার জরায়ুর অগ্রভাগ তার বিশেষ অঙ্গ দিয়ে প্রকাশ পায়, যা একটি ত্রুটি; আর এই অবস্থার নাম হলো 'কারান' (القَرَن)।

এর ভিত্তিতে, বিশেষ অঙ্গে 'কারন' (قَرْن) হলো এমন এক প্রতিবন্ধকতা যা পুরুষাঙ্গ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে; এটি হয় একটি শক্ত গ্রন্থি অথবা মাংসপিণ্ড যা জোড়া লেগে আছে অথবা কোনো হাড়। আর 'কারনা' (قَرناءُ) হলো সেই নারী যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে।

সূর্যের 'কারন' (قَرْن) হলো তার প্রথম রশ্মি।

আর 'কারন' (قَرْن) হলো মাথার পার্শ্বদেশ।

'কারনুল থাআলিব' (قَرْنُ الثَّعالب) হলো 'কারনুল মানাজিল', যা নাজদ অঞ্চলের মিকাত।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তারা কি দেখেনি যে, তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্ম (قرن) ধ্বংস করেছি?}।

আবু ইসহাক বলেন: বলা হয়েছে, 'কারন' (القرن) হলো আশি বছর, আবার বলা হয়েছে সত্তর বছর।

তিনি বলেন: আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তাহলো 'কারন' (القرن) হলো প্রত্যেক ওই সময়ের অধিবাসী যাতে কোনো নবী বিদ্যমান ছিলেন অথবা যাতে ইলম অন্বেষণকারীদের কোনো স্তর (طبقة) বিদ্যমান ছিল, বছরের সংখ্যা কম হোক বা বেশি। এর দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম..."
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
قرني بمعنى أصحابي - ثم الذين يلونهم - يعني التابعين - ثم الذين يلونهم (1)» يعني الذين أخذوا عن التابعين.

 

و‌‌الاقتران اصطلاحاً: جاء في شرح الكوكب المنير:

القِرَانُ: أن يُقْرِن الشارعُ بين شيئينِ لفظاً (2).اهـ

قال الراغبُ: الاقترانُ كالازدواجِ في كونه اجتماع شيئين أو أشياء في معنى من المعاني (3).اهـ

--------------------------------------------

(1) أخرجه: البخاري (2651) (2652) (6428) ومسلم (2535).

(2) شرح الكوكب المنير المسمى بمختصر التحرير (3| 259) لابن النجار الحنبلي ط مكتبة العبيكان بالرياض 1413هـ ـ 1993م.

(3) المفردات في غريب القران ص 401 تأليف أبى القاسم الحسين بن محمد المعروف بالراغب الأصفهاني المتوفى سنة 502 هـ
আমার যুগ বলতে আমার সাহাবি (أصحابي) উদ্দেশ্য—অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী—অর্থাৎ তাবেয়ি (التابعين)—অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী (১)» অর্থাৎ যারা তাবেয়িগণের (التابعين) নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

 

আর পারিভাষিক অর্থে ইকতীরান (الاقترান): শরহু আল-কাওকাব আল-মুনীর গ্রন্থে এসেছে:

আল-কিরান (القِرَانُ): শারী'আত প্রণেতা কর্তৃক শাব্দিকভাবে দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা (২)। সমাপ্ত।

আর-রাগিব বলেছেন: ইকতীরান (الاقترান) হলো ইজতিওয়াজ (الازدواج)-এর মতো, যা কোনো একটি অর্থের ভিত্তিতে দুই বা ততোধিক বিষয়ের একত্র হওয়াকে বোঝায় (৩)। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারি (২৬৫১) (২৬৫২) (৬৪২৮) এবং মুসলিম (২৫৩৫)।

(২) ইবনুন নাজ্জার আল-হাম্বলি রচিত শরহু আল-কাওকাব আল-মুনীর, যা মুখতাসারুত তাহরীর নামে পরিচিত (৩/ ২৫৯), মাকতাবাতুল উবাইকান, রিয়াদ, ১৪১৩ হি. — ১৯৯৩ খ্রি.

(৩) আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন, পৃষ্ঠা ৪০১, রচনায়: আবুল কাসিম আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ, যিনি আর-রাগিব আল-ইসফাহানি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫০২ হি.
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌دلالة الاقتران اصطلاحاً (التعريف اللقبي):

وعلى ما سبق فنقول إنَّ دلالة الاقتران: هي أن يُجْمَع بين شيئين أو أشياءٍ في الأمرِ أو النهيِ، ثم يُبَيَّنُ حكمُ أحدِهما، فيستدل بالقِرَانِ على ثبوتِ ذلك الحُكْمِ للآخر (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: تشنيف المسامع بجمع الجوامع للزركشي (2 |759) بتصرف يسير، طبعة ثالثة 1419هـ ـ 1999م مؤسسة قرطبة بالقاهرة تحقيق د|سيد عبد العزيز ، ود| عبد الله ربيع.
পারিভাষিক অর্থে অনুষঙ্গ নির্দেশক প্রমাণ (دلالة الاقتران) (সংজ্ঞায়ন):

পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে, অনুষঙ্গ নির্দেশক প্রমাণ (دلالة الاقتران) হলো: কোনো আদেশ বা নিষেধের ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক বিষয়কে একত্রে উল্লেখ করা, অতঃপর তাদের কোনো একটির বিধান (حكم) বর্ণনা করা; ফলে উভয়ের একত্র অবস্থান বা অনুষঙ্গকে (القران) অন্যটির ক্ষেত্রেও সেই বিধান সাব্যস্ত হওয়ার দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (১)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আয-যারকাশী রচিত তাশনীফুল মাসামি বি জামউল জাওয়ামি (২/৭৫৯) সামান্য পরিমার্জনসহ, তৃতীয় সংস্করণ ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা, কায়রো; সম্পাদনায়: ড. সাইয়্যেদ আব্দুল আজীজ এবং ড. আব্দুল্লাহ রাবী।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن‌‌ الأمثلة الفقهية التي استعملت فيها دلالة الاقتران:

(1) استدل من قال بأن‌‌ نجاسة الخمر معنوية وليست حسية حقيقية بقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (المائدة:90).

وذلك لأنها اقترنت بالميسر والأنصاب والأزلام، وليست أعيانهم نجسة (1).

--------------------------------------------

(1) ذهب جمهور العلماء إلى نجاسة الخمر إلا ما حكي عن داود فإنه قال بطهارتها وكذلك ربيعة شيخ الإمام مالك، والليث بن سعد، والمزني صاحب الإمام الشافعي ومن المتأخرين الشوكاني والصنعاني وصدِّيق حسن خان في كتابه " الروضة البهية " ذاهِبَا إلى أن الأصل الطهارة فلا ينقل عنها إلا ناقل صحيح، والشيخ محمد رشيد رضا في تفسير " المنار " مال إلى القول بعدم نجاسة الكحول والخمر لعدم وجود الدليل الصحيح على النجاسة، ولأن الرجس في الخمر رجس حكمي بمعنى التحريم. انظر: الفتاوى الإسلامية (5| ص1652) وتفسير المنار- المجلد الرابع ص 505، 821، 866 ". وشرح مسند أبي حنيفة ص 62 لملا علي القاري الحنفي، تحقيق الشيخ خليل محيي الدين الميس مدير أزهر لبنان، طبعة دار الكتب العلمية بيروت.

وقال الشيخ العلامة ابن عثيمين رحمه الله عن نجاسة الخمر:

إنَّه يُراد بالنَّجاسةِ النَّجاسةُ المعنويَّة، لا الحسِّيَّة لوجهين:
এবং ফিকহী উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি যাতে সাহচর্যগত প্রমাণ (دلالة الاقتران) ব্যবহৃত হয়েছে:

(১) যারা বলেন যে মদের অপবিত্রতা (نجاسة) অর্থগত (معنوية), ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (حسية) বা প্রকৃত নয়, তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক তীর—এসবই শয়তানের অপবিত্র (رجس) কাজ। অতএব, তোমরা এসব পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (আল-মায়িদাহ: ৯০)।

এর কারণ হলো, এটি জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক তীরের সাথে একত্রে উল্লিখিত হয়েছে, অথচ এগুলোর মূল সত্তা অপবিত্র (نجاسة) নয় (১)।

--------------------------------------------

(১) অধিকাংশ আলেম (جمهور) মদের অপবিত্রতার (نجاسة) অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তবে দাউদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ভিন্ন, তিনি এর পবিত্রতার (طهارة) কথা বলেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম মালিকের উস্তাদ রাবিয়াহ, লাইস ইবনে সাদ এবং ইমাম শাফেয়ীর সহচর আল-মুযানীও একই মত দিয়েছেন। আর পরবর্তীকালের আলেমদের মধ্যে শাওকানী, সানআনী এবং সিদ্দীক হাসান খান তাঁর "আল-রওদাতুল বাহিয়্যাহ" গ্রন্থে এই মত পোষণ করেছেন যে, মূল বিধান (الأصل) হলো পবিত্রতা (طهارة), সুতরাং কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণ ছাড়া তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। শেখ মুহাম্মদ রশিদ রিদা "তাফসীর আল-মানার"-এ অ্যালকোহল ও মদের অপবিত্র (نجاسة) না হওয়ার মতের দিকে ঝুঁকেছেন, কারণ অপবিত্রতার ওপর কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) দলিল নেই এবং মদের ক্ষেত্রে 'রিজস' (رجس) হলো বিধানগত অপবিত্রতা যা হারামের অর্থ বহন করে। দেখুন: আল-ফাতাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ (৫/১৬৫২) এবং তাফসীর আল-মানার- ৪থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০৫, ৮২১, ৮৬৬। এবং মোল্লা আলী কারী আল-হানাফী রচিত শারহ মুসনাদ আবি হানিফা, পৃষ্ঠা ৬২, তাহকীক শেখ খলীল মুহিউদ্দীন আল-মাইস, পরিচালক আজহার লেবানন, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ বৈরুত সংস্করণ।

এবং আল্লামা শেখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) মদের অপবিত্রতা (نجاسة) সম্পর্কে বলেছেন:

নিশ্চয়ই এখানে অপবিত্রতা (نجاسة) দ্বারা অর্থগত অপবিত্রতা (معنوية) বোঝানো হয়েছে, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (حسية) নয়—দুটি কারণে:
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২০)
.........

--------------------------------------------

= الأول: أنها قُرِنَت بالأنصاب والأزلام والميسر، ونجاسة هذه معنويَّة.

الثاني: أن الرِّجس هنا قُيِّد بقوله {من عمل الشيطان} فهو رجسٌ عمليٌّ، وليس رجساً عينيّاً تكون به هذه الأشياء نجسة. انظر الشرح الممتع (1 |431) ط دار ابن الجوزي.

قلت: معلوم أن كل نجس حرام وليس كل حرام نجس، فحرم في الخمر شربها وبيعها وشرائها والتداوي بها وسائر أنواع الانتفاع، إلا أنها كالسم، حرام وليس بنجس.

ومن الجدير بالذكر أن الشيخ محمد ابن صالح العثيمين يقول بضعف دلالة الاقتران، فقد جاء في الشرح الممتع على زاد المستقنع (5 |276) ما يلي:

قوله: "ثم يوضئه ندباً ".ودليل ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم للنساء اللاتي يغسلن ابنته: «ابدأن بميامنها، ومواضع الوضوء منها».

وليس على سبيل الوجوب بدليل أمر النبي صلى الله عليه وسلم أن يغسل الرجل الذي وقصته ناقته بعرفة فمات، فقال: "اغسلوه بماءٍ وسدر"، ولم يقل: وضئوه، فدل على أن الوضوء ليس على سبيل الوجوب، بل على سبيل الاستحباب.

ولو قال قائل: ألا يدل قوله صلى الله عليه وسلم: "ابدأن بميامنها، ومواضع الوضوء منها" على استحباب الوضوء؛ لأنه قرنه بالبدء بالميامن وهو مستحب؟ فنقول: لا يتم الاستدلال به على ذلك؛ لأن هذا من باب دلالة الاقتران وهي ضعيفة، بل الذي يصح دليلاً على الاستحباب: حديث الذي وقصته ناقته، وقد ذكرنا وجهه. اهـ

--------------------------------------------

= প্রথমত: একে (মদকে) মূর্তিপূজার বেদী, ভাগ্যনির্ধারক শর ও জুয়ার সাথে পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে, আর এগুলোর নাপাকি হলো অর্থগত (معنويَّة)।

দ্বিতীয়ত: এখানে 'রিজস' (অপবিত্রতা) শব্দটিকে {শয়তানের কর্ম} কথাটি দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, সুতরাং এটি কর্মগত অপবিত্রতা (رجسٌ عمليٌّ), কোনো বস্তুগত অপবিত্রতা (رجساً عينيّاً) নয় যার কারণে এই বস্তুগুলো নাপাক (نجسة) হয়ে যায়। দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি (১/৪৩১), দার ইবনে আল-জাওজি সংস্করণ।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি সর্বজনবিদিত যে, প্রতিটি নাপাক (نجس) বস্তুই হারাম, কিন্তু প্রতিটি হারাম বস্তু নাপাক (نجس) নয়। সুতরাং মদের ক্ষেত্রে এটি পান করা, কেনা-বেচা করা, এর মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং অন্যান্য সকল প্রকার ব্যবহার হারাম করা হয়েছে; তবে এটি বিষের মতো—হারাম, কিন্তু নাপাক (نجس) নয়।

উল্লেখ্য যে, শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমিন 'পাশাপাশি উল্লেখ করার প্রমাণ' (دلالة الاقتران)-কে দুর্বল (ضعف) বলে গণ্য করেন। আশ-শারহুল মুমতি আলা জাদিল মুস্তাকনি (৫/২৭৬) গ্রন্থে নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এসেছে:

লেখকের কথা: "অতঃপর তাকে পছন্দনীয় (ندباً) হিসেবে অজু করাবে।" এর দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই বাণী যা তিনি তাঁর কন্যাকে গোসলদানকারী নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: «তোমরা তার ডান দিক থেকে এবং তার অজুর অঙ্গগুলো থেকে শুরু করো।»

আর এটি আবশ্যকীয় (الوجوب) হিসেবে নয়, যার দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই নির্দেশ যা তিনি আরাফায় উট থেকে পড়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি সম্পর্কে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও", কিন্তু তিনি বলেননি: "তাকে অজু করাও"। এটি প্রমাণ করে যে, অজু করানো আবশ্যকীয় (الوجوب) নয়, বরং মুস্তাহাব (الاستحباب)।

যদি কেউ বলে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—"তোমরা তার ডান দিক থেকে এবং তার অজুর অঙ্গগুলো থেকে শুরু করো"—কি অজুর মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ বহন করে না? কারণ তিনি একে ডান দিক থেকে শুরু করার সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন যা একটি মুস্তাহাব আমল। এর উত্তরে আমরা বলব: এর মাধ্যমে সেই দলিল পূর্ণ হয় না; কারণ এটি 'পাশাপাশি উল্লেখ করার প্রমাণ' (دلالة الاقتران)-এর অন্তর্ভুক্ত যা দুর্বল (ضعيفة)। বরং যা মুস্তাহাব হওয়ার সঠিক দলিল হিসেবে গণ্য তা হলো: উট থেকে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির হাদিসটি, যার যৌক্তিক দিক আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। [সমাপ্ত]
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২১)
(2) استدل القائلون باشتراط‌‌ التسمية على الوضوء بقوله صلى الله عليه وسلم: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا وُضُوءَ لَهُ وَلَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَيْهِ (1)» وذلك لاقترانه بالوضوء للصلاة، والوضوء شرط فقالوا باشتراط التسمية.

قال الطحاوي (2) في شرح معاني الآثار (1|27): فَذَهَبَ قَوْمٌ إلَى أَنَّ من لم يُسَمِّ على وُضُوءِ الصَّلَاةِ فَلَا يُجْزِيهِ وضوؤه،

--------------------------------------------

(1) حسن: أخرجه الترمذي (25) وابن ماجه (398) وأحمد (16651) (23236) (27145) عن سعيد بن زيد رضي الله عنه، وأبو داود (101) وابن ماجه (399) وأحمد (9418) عن أبي هريرة رضي الله عنه، وابن ماجه (400) عن سهل بن سعد الساعدي رضي الله عنه. وحسنه الألباني في الإرواء (81) وفي صحيح الجامع رقم: 7514.

(2) الطحاوي (239 ـ 321 هـ) هو أحمد بن سلامة الأزدي، أبو جعفر. نسبته إلى (طحا) قرية بصعيد مصر. كان إماما حنفيًا. وكان ابن أخت المزني صاحب الشافعي. وتفقه عليه أولاً. وانتقل من عنده وتفقه على مذهب أبي حنيفة. وكان عالما بجميع مذاهب الفقهاء. من تصانيفه (أحكام القرآن)؛ و (معاني الآثار)؛ و (شرح مشكل الآثار) وهو آخر تصانيفه؛ و (النوادر الفقهية)؛ و (العقيدة) المشهورة بالعقيدة الطحاوية؛ و (الاختلاف بين الفقهاء).

[الجواهر المضية 1/ 102؛ والأعلام للزركلي 1/ 196؛ والبداية والنهاية 11/ 174].
(২) যারা ওযুর শুরুতে তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ বলা) আবশ্যিক হওয়ার (اشتراط) পক্ষে মত দিয়েছেন, তারা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: «যার ওযু নেই তার সালাত নেই, আর যে আল্লাহর নাম নেয়নি তার ওযু নেই (১)»। তারা এটি এজন্য বলেছেন যে, এখানে এটি সালাতের ওযুর সাথে যুক্ত হয়েছে, আর ওযু যেহেতু একটি শর্ত (شرط), তাই তারা তাসমিয়াহকেও শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন।

ইমাম তাহাবি (২) শরহ মাআনী আল-আসার (১/২৭) গ্রন্থে বলেন: একদল আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি সালাতের ওযুতে বিসমিল্লাহ বলবে না, তার ওযু যথেষ্ট হওয়া বা শুদ্ধ (يجزيه) হবে না।

--------------------------------------------

(১) হাসান (حسن): হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (২৫), ইবনে মাজাহ (৩৯৮) এবং আহমাদ (১৬৬৫১) (২৩২৩৬) (২৭১৪৫) সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) থেকে; আবু দাউদ (১০১), ইবনে মাজাহ (৩৯৯) এবং আহমাদ (৯৪১৮) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে; এবং ইবনে মাজাহ (৪০০) সাহল বিন সাদ আল-সায়েদি (রা.) থেকে। আলবানী ইরওয়াউল গালীল (৮১) এবং সহিহুল জামি (নং ৭৫১৪) গ্রন্থে একে হাসান (حسن) বলে অভিহিত করেছেন।

(২) তাহাবি (২৩৯ - ৩২১ হি.) হলেন আবু জাফর আহমদ বিন সালামাহ আল-আজদি। তার নিসবত (সম্বন্ধ) হলো মিসরের উচ্চাঞ্চলের 'তাহা' নামক গ্রামের দিকে। তিনি ছিলেন একজন হানাফি ইমাম। তিনি ইমাম শাফিয়ির ছাত্র মুজানির ভাগ্নে ছিলেন এবং প্রথমে তার কাছেই ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে চলে যান এবং হানাফি মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ অর্জন করেন। তিনি ফকিহগণের সকল মাযহাব সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: (আহকামুল কুরআন); (মাআনী আল-আসার); (শরহ মুশকিল আল-আসার)—এটি তার শেষ রচনা; (আল-নাওয়াদির আল-ফিকহিয়্যাহ); (আল-আকিদাহ)—যা আকিদাহ তাহাবিয়া নামে প্রসিদ্ধ; এবং (আল-ইখতিলাফ বাইনাল ফুকাহা)।

[আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ১/ ১০২; আয-যিরিকলির আল-আলাম ১/ ১৯৬; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/ ১৭৪]।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২২)
وَاحْتَجُّوا في ذلك بِهَذِهِ الآثَارِ وَخَالَفَهُمْ في ذلك آخَرُونَ فَقَالُوا: من لم يُسَمِّ على وُضُوئِهِ فَقَدْ أَسَاءَ وقد طَهُرَ بِوُضُوئِهِ ذلك.

اهـ
তারা এই বিষয়ে এই সকল বর্ণিত বর্ণনার (الآثار) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। তবে অন্যরা এই বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: যে ব্যক্তি তার ওজুর প্রারম্ভে আল্লাহর নাম নেয়নি, সে নিশ্চিতভাবেই মন্দ কাজ করেছে, তবে তার সেই ওজুর মাধ্যমেই সে পবিত্রতা অর্জন করেছে।

— সমাপ্ত
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌أقوال العلماء في دلالة الاقتران

اختلف العلماء في الأخذ بدلالة الاقتران والاستدلال بها على قولين.

 

‌‌أولا القائلون بها (1):

قال بها جماعةٌ من أهل العلمِ فمن الحنفيةِ أبو يوسف (2)

--------------------------------------------

(1) انظر: البحر المحيط للزركشي (8| 109) طبعة أولى دار الكتبي 1414 هـ 1994م، واختيارات ابن القيم الأصولية (2 |494) لأبي عبد الرحمن عبد المجيد جمعة الجزائري، طبعة أولى دار ابن باديس، ودار ابن حزم 1426هـ ـ 2005م

(2) أبو يوسف ( … ـ 181 هـ) هو يعقوب بن إبراهيم بن حبيب. القاضي الإمام. من ولد سعد بن حبتة الأنصاري صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم. أخذ الفقه عن أبي حنيفة رضي الله عنه، وهو المقدم من أصحابه جميعًا. ولي القضاء للهادي والمهدي والرشيد. وثقة أحمد وابن معين وابن المديني، قيل: إنه أول من وضع الكتب في أصول الفقه. من تصانيفه: (الخراج)؛ و (أدب القاضي)؛ و (الجوامع).

[الجواهر المضية ص220 ـ 222؛ وتاريخ بغداد 14/ 242؛ والبداية والنهاية 10/ 180].
সহাবস্থানগত প্রমাণের (دلالة الاقتران) ক্ষেত্রে আলেমগণের অভিমত

সহাবস্থানগত প্রমাণ (دلالة الاقتران) গ্রহণ এবং এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে আলেমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন।

 

‌‌প্রথমত: যারা এর সপক্ষে মত দিয়েছেন (১):

আলেমদের একটি দল এই মত পোষণ করেছেন; হানাফিদের মধ্যে ইমাম আবু ইউসুফ (২) তাঁদের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আয-যারকাশী রচিত আল-বাহরুল মুহিত (৮/ ১০৯), প্রথম সংস্করণ, দারুল কুতুবী ১৪১৪ হিজরি, ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ; এবং আবু আবদির রহমান আব্দুল মাজিদ জুমআ আল-জাযাইরি রচিত ইখতিয়ারাতে ইবনুল কাইয়্যিম আল-উসুলিয়্যাহ (২/ ৪৯৪), প্রথম সংস্করণ, দারু ইবনি বাদিস ও দারু ইবনি হাযম ১৪২৬ হিজরি — ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ।

(২) আবু ইউসুফ (... — ১৮১ হিজরি) হলেন ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হাবিব। তিনি একজন বিচারক (কাজী) ও ইমাম। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী সা'দ ইবনে হাবতাহ আল-আনসারীর বংশধর। তিনি ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন এবং তিনি তাঁর সকল ছাত্রের মধ্যে অগ্রগণ্য। তিনি আল-হাদী, আল-মাহদী এবং আল-রশীদের শাসনামলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। ইমাম আহমাদ, ইবনে মাঈন এবং ইবনুল মাদিনী তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনিই সর্বপ্রথম উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-খারাজ, আদাবুল কাজী এবং আল-জাওয়ামি।

[আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২২০-২২২; তারিখু বাগদাদ, ১৪/ ২৪২; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/ ১৮০]।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن الشافعيةِ المزَنِيُ (1) وابنُ أبي هريرة (2) والصيرفيُ وحَكَىَ ذلك الباجيُ (3) عن

--------------------------------------------

(1) المزني (175 - 264 هـ) هو إسماعيل بن يحيى بن إسماعيل المزني؛ أبو إبراهيم من أهل مصر وأصله من مزينة. صاحب الإمام الشافعي. كان زاهدا عالما مجتهدا قوي الحجة غواصا على المعاني الدقيقة. وهو إمام الشافعية. قال فيه الشافعي (المزني ناصر مذهبي).

من كتبه: (الجامع الكبير)؛ و (الجامع الصغير)؛ و (المختصر)؛ و (والترغيب في العلم).

[طبقات الشافعية للسبكي 1/ 239 - 247؛ ومعجم المؤلفين 1/ 300].

(2) ابن أبي هريرة (؟ - 345 هـ) هو الحسين بن الحسين بن أبي هريرة، أبو علي، البغدادي الشافعي. تفقه على ابن سريج وأبي إسحاق المروزي وغيرهما، وتخرج عليه خلق كثير مثل أبي علي الطبري والدارقطني. وتولى القضاء. من تصانيفه: "شرح مختصر المزني " في فروع الفقه الشافعي. [طبقات الشافعية 2/ 206، ومعجم المؤلفين 3/ 220، ومرآة الجنان 2/ 337، وسير أعلام النبلاء 15/ 430].

(3) الباجي (403 - 474 هـ) هو سليمان بن خلف بن سعد، أبو الوليد الباجي، نسبة إلى مدينة باجة بالأندلس. من كبار المحدثين، ومن كبار فقهاء المالكية. رحل إلى المشرق 13 سنة. ثم عاد إلى بلاده ونشر الفقه والحديث. وكان بينه وبين ابن حزم مناظرات ومجادلات ومجالس، وشهد له ابن حزم. وكان سببا في إحراق كتب ابن حزم. ولي القضاء. من تصانيفه " الاستيفاء شرح = الموطأ "، واختصره في المنتقى "، ثم اختصر المنتقى في " الإيماء "، وله " شرح المدونة "، و " أحكام الفصول في إحكام الأصول ".

[الديباج المذهب ص 122، والأعلام للزركلي 3/ 186]
শাফিয়ি মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে রয়েছেন আল-মুযানী (১), ইবনে আবু হুরায়রা (২) এবং আস-সাইরাফি। আর এটি আল-বাজি (৩) বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-মুযানী (১৭৫ - ২৬৪ হিজরি): তিনি হলেন ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল আল-মুযানী; আবু ইব্রাহিম, তিনি মিসরের অধিবাসী এবং তার বংশমূল মুজাইনাহ গোত্রের। তিনি ইমাম শাফিয়ির অন্যতম সঙ্গী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দুনিয়াবিমুখ (زاهد), আলেম ও মুজতাহিদ (مجتهد), অকাট্য যুক্তির অধিকারী এবং সুক্ষ্ম অর্থ অন্বেষণে পারদর্শী। তিনি শাফিয়ি মাজহাবের একজন ইমাম। ইমাম শাফিয়ি তার সম্পর্কে বলেছেন, (মুযানী আমার মাজহাবের সাহায্যকারী)।

তার গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: 'আল-জামি আল-কাবির', 'আল-জামি আস-সগির', 'আল-মুখতাসার' এবং 'আত-তারগিব ফিল ইলম'।

[তবকাতুশ শাফিয়িয়াহ লিস-সুবকি ১/ ২৩৯ - ২৪৭; মুজামুল মুআল্লিফিন ১/ ৩০০]।

(২) ইবনে আবু হুরায়রা (? - ৩৪৫ হিজরি): তিনি হলেন আল-হুসাইন বিন আল-হুসাইন বিন আবু হুরায়রা, আবু আলি, বাগদাদি শাফিয়ি। তিনি ইবনে সুরাইজ এবং আবু ইসহাক আল-মারওয়াযি ও অন্যদের নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন এবং তার নিকট থেকে আবু আলি আত-তাবারানি ও আদ-দারাকুতনির মতো বহু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি বিচারকের (قضاء) দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সংকলনসমূহের মধ্যে রয়েছে: শাফিয়ি ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক গ্রন্থ "শারহু মুখতাসারিল মুযানী"। [তবকাতুশ শাফিয়িয়াহ ২/ ২০৬, মুজামুল মুআল্লিফিন ৩/ ২২০, মিরাতুল জানান ২/ ৩৩৭, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/ ৪৩০]।

(৩) আল-বাজি (৪০৩ - ৪৭৪ হিজরি): তিনি হলেন সুলাইমান বিন খালাফ বিন সাদ, আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি, আন্দালুসের বাজা শহরের সাথে তার নিসবত (সম্বন্ধ)। তিনি শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসদের (محدثين) একজন এবং মালিকি মাজহাবের প্রধান ফকিহদের (فقهاء) অন্যতম ছিলেন। তিনি ১৩ বছর প্রাচ্যের দেশসমূহে সফর করেন। এরপর নিজ দেশে ফিরে এসে ফিকহ ও হাদিস প্রচার করেন। তার এবং ইবনে হাজমের মধ্যে বহু বিতর্ক, আলোচনা ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ইবনে হাজম তার পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি ইবনে হাজমের কিতাবসমূহ পুড়িয়ে ফেলার কারণ ছিলেন। তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তার সংকলনসমূহের মধ্যে রয়েছে "আল-ইসতিফা শারহুল মুওয়াত্তা", তিনি এটিকে "আল-মুন্তাকা" নামে সংক্ষেপ করেছেন, এরপর "আল-মুন্তাকা"কে "আল-ইমা" নামে সংক্ষেপ করেছেন। এছাড়াও তার "শারহুল মুদাওয়ানাহ" এবং "আহকামুল ফুসুল ফি ইহকামিল উসুল (أصول)" গ্রন্থদ্বয় রয়েছে।

[আদ-দিবাজুল মাজহাব পৃষ্ঠা ১২২, আল-আলাম লিয-যিরিকলি ৩/ ১৮৬]
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
بعضِ المالكيةِ؛ قال: ورأيتُ ابنَ نصرٍ (1) يستعملها كثيراً، ونقله ابنُ الموازِ (2) عن مالكِ رحمه الله،

--------------------------------------------

(1) ابن نصر الله (765 ـ 844 هـ) هو أحمد بن نصر الله بن أحمد بن محمد أبو الفضل، البغدادي، الحنبلي، المعروف بابن نصر الله. فقيه، محدث، مفسر. شيخ المذهب، مفتي الديار المصرية. أخذ عن مشايخ، منهم: سراج الدين البلقيني وزين الدين العراقي وابن الملقن وغيرهم. من تصانيفه: (حاشية على المحرر)، و (حاشية على الوجيز)، و (حاشية على فروع ابن مفلح) في الفقه، و (حاشية على تنقيح الزركشي) في الحديث. [الضوء اللامع 2/ 233، وشذرات الذهب 7/ 250، ومعجم المؤلفين 2/ 195].

(2) ابن المواز (180 - 269 وقيل 281 هـ) هو محمد بن إبراهيم بن زياد المعروف بابن المواز من كبار فقهاء المالكية. من أهل الإسكندرية. تفقه بابن الماجشون وابن عبد الحكم. كان راسخًا في الفقه والفتيا. توفي بدمشق. له كتابه المشهور " بالموازية ". [الديباج المذهب ص 232، 233، والأعلام للزركلي 6/ 183، والشذرات 2/ 177].
কিছু মালেকি [বিদ্বান]; তিনি বলেন: আমি ইবনে নাসর (১)-কে এটি প্রচুর ব্যবহার করতে দেখেছি, আর ইবনে আল-মাওয়াজ (২) এটি ইমাম মালিক (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন,

--------------------------------------------

(১) ইবনে নাসরুল্লাহ (৭৬৫ - ৮৪৪ হি.) হলেন আহমদ বিন নাসরুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আবুল ফজল, বাগদাদি, হানবালি, যিনি ইবনে নাসরুল্লাহ নামে পরিচিত। তিনি একজন ফকিহ (فقيه), মুহাদ্দিস (محدث) ও মুফাসসির (مفسر)। তিনি মাযহাবের শায়খ এবং মিসরের প্রধান মুফতি ছিলেন। তিনি সিরাজুদ্দিন আল-বালকিনি, জয়নুদ্দিন আল-ইরাকি এবং ইবনে আল-মুলাক্কিনসহ অনেক শায়খদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ফিকহ শাস্ত্রে (হাশিয়া আলাল মুহাররার), (হাশিয়া আলাল ওয়াজিজ), এবং (হাশিয়া আলা ফুরু-ই ইবনে মুফলিহ); আর হাদিস শাস্ত্রে (হাশিয়া আলা তানকিহিয যারকাশি)। [আদ-দাও আল-লামি ২/২৩৩, শাজারাতুয যাহাব ৭/২৫০, মু'জামুল মুয়াল্লিফিন ২/১৯৫]।

(২) ইবনে আল-মাওয়াজ (১৮০ - ২৬৯ এবং মতান্তরে ২৮১ হি.) হলেন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন জিয়াদ, যিনি ইবনে আল-মাওয়াজ নামে পরিচিত; তিনি মালেকি মাযহাবের প্রথিতযশা ফকিহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার অধিবাসী ছিলেন। তিনি ইবনুল মাজিশুন ও ইবনে আব্দুল হাকাম এর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ফিকহ ও ফতোয়া প্রদানে সুদৃঢ় ছিলেন। তিনি দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'আল-মাওয়াজিয়্যাহ'। [আদ-দিবাজুল মুযাহহাব পৃ. ২৩২, ২৩৩, আল-আ'লাম লিয যিরিকলি ৬/১৮৩, আশ-শাজারাত ২/১৭৭]।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
واختاره القاضي أبو يعلى (1) شيخ الحنابلة في وقته، وقال: قد استدلَ أحمدُ رحمه الله بالقرينة في بابِ التخصيصِ، فلولا أنها حجة لم يخصص اللفظَ بها واختاره أيضاً من الحنابلةِ الحلواني (2).

--------------------------------------------

(1) القاضي أبو يعلى (380 - 458 هـ) هو محمد بن الحسين بن محمد بن خلف بن أحمد بن الفراء شيخ الحنابلة في وقته. وعالم عصره في الأصول والفروع وأنواع الفنون. من أهل بغداد. ولاه القائم العباسي قضاء دار الخلافة والحريم وحران وحلوان. من تصانيفه: (أحكام القرآن)؛ و (الأحكام السلطانية)؛

و (المجرد)؛ و (الجامع الصغير) في الفقه؛ و (العدة)؛و (الكفاية) في الأصول.

[طبقات الحنابلة لابن أبي يعلى 2/ 193 - 230؛ والأعلام للزركلي 6/ 231؛ وشذرات الذهب 3/ 306].

(2) الحلواني (439 - 505 هـ) هو محمد بن علي بن محمد، أبو الفتح، الحلواني. نسبة إلى بيع الحلوي. من أهل بغداد. شيخ الحنابلة في عصره. درس الفقه أصولا وفروعا وبرع فيهما، وأفتى ودرس. من تصانيفه: (كفاية المبتدي) في الفقه مجلدة؛ و (مختصر العبادات)؛ وله منتصف أصول الفقه في مجلدين.

[الذيل على الطبقات الحنابلة (1/ 106) والأعلام (7/ 164)؛ ومعجم المؤلفين (11/ 50)]
এবং তাঁর সময়ের হাম্বলিদের শায়খ কাজী আবু ইয়ালা (১) এই মতটি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: "ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ) সুনির্দিষ্টকরণ (التخصيص) অধ্যায়ে আনুষঙ্গিক প্রমাণ (القرينة)-এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। সুতরাং এটি যদি দলিল (حجة) না হতো, তবে তিনি এর দ্বারা শব্দকে সুনির্দিষ্ট করতেন না।" হাম্বলিদের মধ্য থেকে আল-হালওয়ানিও (২) এই মতটি গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) কাজী আবু ইয়ালা (৩৮০ - ৪৫৮ হিজরি) হলেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে আহমদ ইবনুল ফারা, যিনি তাঁর সময়ের হাম্বলিদের শায়খ ছিলেন। তিনি উসুল (أصول) ও ফুরু (فروع) এবং বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী আলেম ছিলেন। তিনি বাগদাদের অধিবাসী ছিলেন। আব্বাসীয় খলিফা আল-কায়িম তাঁকে দারুল খিলাফত, আল-হারিম, হাররান এবং হালওয়ানের বিচারিক দায়িত্ব (قضاء) প্রদান করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: (আহকামুল কুরআন); (আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ);

(আল-মুজাররাদ); ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের (আল-জামি আস-সগির); (আল-উদ্দাহ); এবং উসুল (أصول) শাস্ত্রের (আল-কিফায়াহ)।

[তাবাকাতুল হানাবিলাহ লি-ইবনে আবি ইয়ালা ২/ ১৯৩ - ২৩০; আল-আলাম লিয-যিরিকলি ৬/ ২৩১; শাযারাতুয যাহাব ৩/ ৩০৬]।

(২) আল-হালওয়ানি (৪৩৯ - ৫০৫ হিজরি) হলেন মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ, আবুল ফাতহ, আল-হালওয়ানি। মিষ্টি বিক্রির সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে এই নাম দেওয়া হয়েছে। তিনি বাগদাদের অধিবাসী এবং তাঁর যুগের হাম্বলিদের শায়খ ছিলেন। তিনি ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের উসুল (أصول) ও ফুরু (فروع) অধ্যয়ন করেন এবং উভয় বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন; তিনি ফতোয়া প্রদান ও শিক্ষকতাও করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ফিকহ (الفقه) বিষয়ে এক খণ্ডের (কিফায়াতুল মুবতাদি); (মুখতাসারুল ইবাদাত); এবং দুই খণ্ডে উসুলুল ফিকহ বিষয়ে তাঁর রচিত 'মুনতাসাফ' রয়েছে।

[আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১/ ১০৬) এবং আল-আলাম (৭/ ১৬৪); মুজামুল মুয়াল্লিফিন (১১/ ৫০)]
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ثانياً المانعون من الاستدلال بدلالة الاقتران:

ذهب الشافعية وأكثر المالكية وأكثر الحنابلة إلى إنكار دلالة الاقتران، وقالوا: إن الاقتران في اللفظ لا يوجب القران في الحكم (1)، وهو قول الجمهور.

 

‌‌أدلة حجية دلالة الاقتران عند القائلين بها:

احتج المثبتون لدلالة الاقتران بأن العطف يقتضي المشاركة، فَإِنَّ حَرْفَ الْوَاوِ لِلْعَطْفِ ، وَالْعَطْفُ لِلِاشْتِرَاكِ بَيْنَ الْمَعْطُوفِ وَالْمَعْطُوفِ عَلَيْهِ فِي الْخَبَرِ فَيَقُولُ الرَّجُلُ جَاءَنِي زَيْدٌ وَعَمْرُو فَيَكُونُ إخْبَارًا بِمَجِيئِهِمَا.

واحتج أبو حنيفة رحمه الله على اقتضاء الاشتراك دون الترتيب (2) بدخولها في باب التفاعل، تقول تضارب زيد وعمرو فانه يدل على الجمع المطلق دون الترتيب ، ولهذا لا يصح أن يقال تضارب زيد ثم عمرو.

--------------------------------------------

(1) انظر: اختيارات ابن القيم الأصولية (2 |494).

(2) تنازع الفقهاء والأصوليون فيما بينهم حول حرف العطف الواو هل لمطلق الجمع من دون الترتيب أم للجمع والترتيب؟ فذهب الشافعي أنها للترتيب، وهو قول بعض الكوفيين منهم ثعلب وابن درستويه، وذهب الجمهور من أئمة العربية والأصول والفقه ونص عليه أنها للجمع من غير ترتيب، قال أبو علي الفارسي أجمع البصريون والكوفيون على أنها للجمع المطلق. وقال أبو سعيد السيرافي: أجمع النحويون واللغويون من الكوفيين والبصريين إلا قليلا منهم وجمهور = = الفقهاء على أن الواو للجمع من غير ترتيب. انظر: الفصول المفيدة في الواو المزيدة لصلاح الدين كيكلدي العلائي (ص 67ـ 73) دار البشير - عمان الطبعة الأولى، 1990 م تحقيق: د. حسن موسى الشاعر.

قلت: ليس هذا محل بحثنا، وإنما محل البحث هو هل واو العطف تقتضي المشاركة في المعنى أو الحكم بين المعطوف والمعطوف عليه؟ والمعروف أن واو العَطْف هي أصلُ حروفِ العطف، ومَعْناها: إشراكُ الثاني فيمَا دَخَل فيه الأوّل، وليسَ فيها دليلٌ على أيّهما كانَ أوّلا.

وجاء في المستصفى لأبي حامد الغزالي (1|240) ط دار الكتب العلمية:

مَسْأَلَةٌ: ظَنَّ قَوْمٌ أَنَّ مِنْ مُقْتَضَيَاتِ الْعُمُومِ الِاقْتِرَانَ بِالْعَامِّ، وَالْعَطْفَ عَلَيْهِ. وَهُوَ غَلَطٌ إذْ الْمُخْتَلِفَانِ قَدْ تَجْمَعُ الْعَرَبُ بَيْنَهُمَا فَيَجُوزُ أَنْ يُعْطَفَ الْوَاجِبُ عَلَى النَّدْبِ، وَالْعَامُّ عَلَى الْخَاصِّ، فَقَوْلُهُ تَعَالَى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ} عَامٌّ وَقَوْلُهُ بَعْدُ: {وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ} خَاصٌّ وقَوْله تَعَالَى: {كُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ} إبَاحَةٌ وَقَوْلُهُ بَعْدَهُ: {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} إيجَابٌ ، وقَوْله تَعَالَى: {فَكَاتِبُوهُمْ} اسْتِحْبَابٌ وَقَوْلُهُ: {وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ} إيجَابٌ اهـ
‌‌দ্বিতীয়ত: সমবস্থান নির্দেশক প্রমাণের (دلالة الاقتران) মাধ্যমে দলিল গ্রহণের বিরোধিতাকারীবৃন্দ:

শাফেঈ মাজহাবের অনুসারীগণ, অধিকাংশ মালিকী এবং অধিকাংশ হাম্বলী সমবস্থান নির্দেশক প্রমাণকে (دلالة الاقتران) অস্বীকার করার দিকে গিয়েছেন। তারা বলেছেন: শব্দগত নৈকট্য বা সমবস্থান হুকুমের ক্ষেত্রে সমতা বা অংশীদারিত্বকে অপরিহার্য করে না (১), আর এটিই জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাদের (الجمهور) অভিমত।

 

‌‌সমবস্থান নির্দেশক প্রমাণের (دلالة الاقتران) প্রামাণিকতার প্রবক্তাদের সপক্ষে দলীলাদি:

যারা সমবস্থান নির্দেশক প্রমাণকে (دلالة الاقتران) সাব্যস্ত করেন তারা এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, সংযোজন (العطف) অংশীদারিত্বের দাবি রাখে। কেননা 'ওয়াও' (و) বর্ণটি সংযোজনের (العطف) জন্য ব্যবহৃত হয়, আর সংযোজন (العطف) সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে অনুগামী (المعطوف) ও পূর্ববর্তী পদের (المعطوف عليه) মধ্যে অংশীদারিত্বের (الاشتراك) দাবি রাখে। যেমন একজন লোক বলে: "জায়েদ ও আমর আমার নিকট এসেছে", সুতরাং এটি তাদের উভয়ের আসার সংবাদ প্রদান করছে।

ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) ক্রমিকতা (الترتيب) ছাড়াই কেবল অংশীদারিত্বের (الاشتراك) দাবির বিষয়ে যুক্তি দিয়েছেন যে (২), এটি পারস্পরিক ক্রিয়া বা 'তাফাউল' (التفاعل) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আপনি বলেন: "জায়েদ ও আমর একে অপরকে প্রহার করেছে", এটি মূলত ক্রমিকতা ছাড়াই কেবল উভয়ের একত্রিত হওয়ার বিষয়টিকে নির্দেশ করে। এই কারণেই "জায়েদ এবং এরপর (ثم) আমর একে অপরকে প্রহার করেছে" বলা সঠিক নয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইখতিয়ারাতু ইবনিল কাইয়্যিম আল-উসুলিয়্যাহ (২/৪৯৪)।

(২) ফকীহ ও উসুলবিদগণ নিজেদের মধ্যে সংযোজক বর্ণ 'ওয়াও' (و)-এর বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি ক্রমিকতা ছাড়াই কেবল একত্রিত করার জন্য, নাকি একত্রিত করা ও ক্রমিকতা (الترتيب) উভয়টির জন্য? ইমাম শাফেঈর মতে এটি ক্রমিকতার (الترتيب) জন্য, যা ছালাব ও ইবনু দুরুসতুওয়াইহ সহ কতিপয় কুফাবাসীরও অভিমত। পক্ষান্তরে আরবি ভাষা, উসুল ও ফিকহ শাস্ত্রের ইমামগণ এবং জমহুর ওলামাগণ (الجمهور) এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি ক্রমিকতা (الترتيب) ছাড়াই কেবল একত্রিত করার জন্য। আবু আলী আল-ফারসী বলেন: বসরী ও কুফী উভয় ঘরানার ভাষাবিদগণ একমত হয়েছেন যে এটি সাধারণ সমষ্টির (الجمع المطلق) জন্য। আবু সাঈদ আস-সিরাফী বলেন: কুফী ও বসরী ঘরানার ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণ (অল্প সংখ্যক ব্যতীত) এবং জমহুর (جمهور) ফকীহগণ এই বিষয়ে একমত যে, 'ওয়াও' (و) ক্রমিকতা (الترتيب) ছাড়াই একত্রিত করার অর্থ প্রদান করে। দেখুন: সালাহুদ্দীন কাইকালদী আল-আলাঈ রচিত আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াওয়িল মাযিদাহ (পৃ. ৬৭-৭৩), দারুল বাশীর - আম্মান, প্রথম সংস্করণ, ১৯৯০ খ্রি., তাহকীক: ড. হাসান মুসা আশ-শাঈর।

আমি বলছি: এটি আমাদের বর্তমান আলোচনার মূল ক্ষেত্র নয়, বরং আলোচনার বিষয় হলো সংযোজক 'ওয়াও' (واو العطف) কি অনুগামী (المعطوف) ও পূর্ববর্তী পদের (المعطوف عليه) মধ্যে অর্থ বা হুকুমের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের (المشاركة) দাবি রাখে? সুপরিচিত বিষয় হলো, সংযোজক বর্ণসমূহের মধ্যে 'ওয়াও' হলো মূল, এবং এর অর্থ হলো: প্রথমটি যে বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাতে দ্বিতীয়টিকেও অংশীদার (إشراك) করা, আর তাদের মধ্যে কোনটি আগে ছিল সে বিষয়ে এতে কোনো প্রমাণ নেই।

আবু হামিদ আল-গাজালীর আল-মুস্তাসফা (১/২৪০) গ্রন্থে (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) এসেছে:

মাসআলা: একদল লোক ধারণা করেছেন যে, ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের (العموم) দাবি সমূহের মধ্যে একটি হলো ব্যাপক (العام) শব্দের সাথে সমবস্থান (الاقتران) এবং তার উপর সংযোজন (العطف)। আর এটি একটি ভুল ধারণা, কেননা আরবরা দুটি ভিন্নধর্মী বিষয়ের মাঝেও সমন্বয় করে থাকে। সুতরাং একটি পছন্দনীয় বা নফল (الندب) বিষয়কে একটি আবশ্যিক (الواجب) বিষয়ের সাথে অথবা একটি সাধারণ (العام) বিষয়কে একটি বিশেষ (الخاص) বিষয়ের সাথে যুক্ত করা বৈধ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদেরকে তিন পিরিয়ড পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখবে} - এটি একটি সাধারণ (عام) বিধান, এরপরই তাঁর বাণী: {এবং তাদের স্বামীরা এ সময়ের মধ্যে তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার অধিক হকদার} - এটি একটি বিশেষ (خاص) বিধান। মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা এর ফল খাও} - এটি বৈধতা (إباحة) জ্ঞাপক, এরপরই তাঁর বাণী: {এবং ফসল কাটার দিনে তার হক (যাকাত) প্রদান করো} - এটি অপরিহার্যতা (إيجاب) জ্ঞাপক। আল্লাহর বাণী: {তবে তোমরা তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হও} - এটি পছন্দনীয় হওয়া (استحباب) বুঝায় এবং তাঁর বাণী: {এবং তাদেরকে আল্লাহর সেই সম্পদ থেকে দান করো যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন} - এটি অপরিহার্যতা (إيجاب) জ্ঞাপক। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
قالوا: ولأن قول القائل رأيت زيداً وعمراً ولا يقتضي ترتيباً في وضع اللسان ولا يفهم منه ذلك ويدل عليه من طريق النقل قوله تعالى: {وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّداً وَقُولُوا حِطَّةٌ} (البقرة: 58).

ثم قال في سورة الأعراف: {وَقُولُوا حِطَّةٌ وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّداً} (الأعراف: 161).

والقصة واحدة ولولا إن الواو لا تقتضي الترتيب لما جاز ذلك وكذلك قوله تعالى: {يا مريم اقنتي لربك واسجدي واركعي مع الراكعين} والركوع مقدم على السجود (1).اهـ

إذن فأبو حنيفة وأكثر أصحابه على أن العطف موجب للاشتراك بين المعطوف والمعطوف عليه في الحكم أو في المعنى أو في الصفة، فالعطف على العام يوجب العموم في المعطوف (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: تخريج الفروع على الأصول لمحمود بن أحمد الزنجاني أبو المناقب ص 55، مؤسسة الرسالة - بيروت الطبعة الثانية، 1398 هـ تحقيق: د/ محمد أديب صالح.

(2) راجع: الإحكام في أصول الأحكام (2 |258 ـ 259) للعلامة علي بن محمد الآمدي علق عليه العلامة الشيخ عبد الرزاق عفيفي، الطبعة الثانية - المكتب الإسلامي 1402 هـ
তারা বলেছেন: কেননা কোনো বক্তার এই উক্তি—'আমি জায়েদ এবং ওমরকে দেখেছি'—ভাষাগত প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ক্রম (ترتيب) দাবি করে না এবং তা থেকে এ জাতীয় কিছু বোঝাও যায় না। এর সপক্ষে বর্ণনাগত (نقل) প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ তাআলার এই বাণী উল্লেখযোগ্য: {এবং অবনত মস্তকে দরজায় প্রবেশ করো এবং বলো: ক্ষমা প্রার্থনা করছি} (আল-বাকারা: ৫৮)।

অতঃপর তিনি সূরা আল-আরাফে বলেছেন: {এবং বলো: ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অবনত মস্তকে দরজায় প্রবেশ করো} (আল-আরাফ: ১৬১)।

অথচ ঘটনাটি এক ও অভিন্ন। যদি 'ওয়াও' অব্যয়টি কোনো ক্রম (ترتيب) দাবি না করত, তবে এমনটি হওয়া বৈধ হতো না। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মারইয়াম, তোমার রবের আনুগত্য করো এবং সিজদাহ করো ও রুকুকারীদের সাথে রুকু করো}। অথচ রুকু মূলত সিজদাহর পূর্ববর্তী বিষয় (১)। সমাপ্ত।

সুতরাং ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারীদের মত হলো, সংযোজন (عطف) হুকুম, অর্থ বা গুণাবলির ক্ষেত্রে মা'তুফ (معطوف) এবং মা'তুফ আলাইহির (معطوف عليه) মধ্যে অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করে। অতএব, কোনো ব্যাপক (عام) শব্দের ওপর সংযোজন করা হলে তা মা'তুফ (معطوف)-এর ক্ষেত্রেও ব্যাপকতা (عموم) সাব্যস্ত করে (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাখরিজুল ফুরু 'আলাল উসুল, লেখক মাহমুদ বিন আহমাদ আল-জানজানি আবু আল-মানাকিব, পৃষ্ঠা ৫৫, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৯৮ হিজরি, সম্পাদনা: ড. মুহাম্মাদ আদিব সালিহ।

(২) আরও দেখুন: আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম (২/২৫৮-২৫৯), আল্লামা আলি বিন মুহাম্মাদ আল-আমিদি রচিত; টীকা লিখেছেন আল্লামা শেখ আব্দুর রাজ্জাক আফিফি, দ্বিতীয় সংস্করণ - আল-মাকতাব আল-ইসলামি ১৪০২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌وأجاب المانعون عن هذا فقالوا:

إن الاقتران في النظم لا يستلزم الاقتران في الحكم والشركة إنما تكون في المتعاطفات الناقصة المحتاجة إلى ما تتم به فإذا تمت بنفسها فلا مشاركة كما في قوله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ} (الفتح: 29) فإن الجملة الثانية معطوفة على الأولى، والصحابة لا يشاركون النبي صلى الله عليه وسلم في الرسالة ونحو ذلك كثير في الكتاب والسنة، والأصل في كل كلام تام أن ينفرد بحكمه ولا يشاركه غيره، فمن ادعى خلاف هذا في بعض المواضع فلدليل خارجي ولا نزاع فيما كان كذلك ولكن الدلالة فيه ليست للاقتران بل للدليل الخارجي، أما إذا كان المعطوف ناقصا بأن لا يذكر خبره كقول القائل فلانة طالق وفلانة فلا خلاف في المشاركة، ومثله عطف المفردات وإذا كان بينهما مشاركة في العلة فالتشارك في الحكم إنما كان لأجلها لأجل الاقتران وقد احتج الشافعي على وجوب العمرة بقوله تعالى: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} (البقرة:196)، والأمر يقتضي الوجوب فكان احتجاجه بالأمر دون الاقتران.

والمروي عن الحنفية كما حكاه الزركشي (1)

--------------------------------------------

(1) الزَّرْكشي (745 - 794 هـ) هو محمد بن بهادر بن عبد الله، أبو عبد الله، بدر الدين، الزركشي. فقيه شافعي أصولي. تركي الأصل، مصري المولد والوفاة. له تصانيف كثيرة في عدة فنون.

من تصانيفه: " البحر المحيط " في أصول الفقه 3 مجلدات، و " إعلام الساجد بأحكام المساجد "، و " الديباج في توضيح المنهاج " فقه، " المنثور " يعرف بقواعد الزركشي. [الأعلام 6/ 286، والدرر الكامنة 3/ 397].
নিষেধকারীগণ (বা অসম্মতি জ্ঞাপনকারীরা) এর উত্তর দিয়ে বলেন:

বাক্যবিন্যাসে সমান্তরাল অবস্থান (الاقتران) বিধানের সমান্তরাল হওয়াকে (একই বিধানভুক্ত হওয়াকে) অপরিহার্য করে না। আর অংশীদারিত্ব কেবল সেই অসম্পূর্ণ সংযোজক পদগুলোর ক্ষেত্রে হয় যা পূর্ণ হওয়ার জন্য এমন কিছুর মুখাপেক্ষী থাকে যা দ্বারা তা পূর্ণতা পায়। সুতরাং বাক্য যদি নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, তবে সেখানে আর কোনো অংশীদারিত্ব থাকে না; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তার সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর} (আল-ফাতহ: ২৯)। এখানে দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথমটির সাথে সংযোজিত (معطوف), অথচ সাহাবীগণ রিসালাতের ক্ষেত্রে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে অংশীদার নন। কুরআন ও সুন্নাহতে এ ধরনের উদাহরণ অনেক রয়েছে। মূল নিয়ম হলো প্রতিটি পূর্ণ বাক্য তার নিজস্ব বিধানের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র থাকবে এবং অন্য কোনো বাক্য তাতে অংশীদার হবে না। সুতরাং যদি কেউ কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর বিপরীত দাবি করে, তবে তা কোনো বাহ্যিক প্রমাণের (دليل خارجي) ভিত্তিতেই হবে। আর যেখানে বিষয়টি এমন হবে সেক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই, তবে সেখানে নির্দেশনাটি সমান্তরাল অবস্থানের (الاقتران) কারণে নয় বরং বাহ্যিক প্রমাণের কারণেই হবে। তবে যদি সংযোজকটি অসম্পূর্ণ হয়, যেমন তার খবর (প্রেডিকেট) উল্লেখ না করা—যেমন কারোর উক্তি: 'অমুক মহিলা তালাকপ্রাপ্ত এবং অমুক মহিলাও'—তবে এক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। একক শব্দসমূহের সংযোগের (عطف المفردات) বিষয়টিও অনুরূপ। আর যদি তাদের উভয়ের মাঝে ইল্লত বা কারণের (العلة) ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব থাকে, তবে বিধানের অংশীদারিত্ব কেবল সেই কারণের জন্যই হয়, সমান্তরাল অবস্থানের কারণে নয়। ইমাম শাফিঈ উমরার ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো} (আল-বাকারা: ১৯৬) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এখানে নির্দেশটি (الأمر) ওয়াজিব হওয়াকে সাব্যস্ত করে, তাই তার দলিল পেশ করার ভিত্তি ছিল নির্দেশের ওপর, সমান্তরাল অবস্থানের (الاقتران) ওপর নয়।

আর হানাফী মাযহাব থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি যারকাশী (১) বর্ণনা করেছেন:

--------------------------------------------

(১) যারকাশী (৭৪৫ - ৭৯৪ হিজরি) হলেন মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ, আবু আব্দুল্লাহ, বদরুদ্দীন যারকাশী। তিনি একজন শাফিঈ ফকীহ এবং উসূলবিদ (أصولي)। তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত, মিসরে জন্ম ও মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর তাঁর অনেক রচনা রয়েছে।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: উসূলে ফিকহের ওপর ৩ খণ্ডের 'আল-বাহরুল মুহীত', 'ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ', ফিকহ বিষয়ক 'আদ-দিবাজ ফী তাওদীহিল মিনহাজ' এবং 'আল-মানসূর' যা কাওয়াইদে যারকাশী নামে পরিচিত। [আল-আলাম ৬/২৮৬, আদ-দুরাকুল কামিনাহ ৩/৩৯৭]।
(খণ্ড: ১) দালালাতুল ইাকতিরান ওয়া ওয়াজহুল ইহতিজাজি বিহা ইনদাল উসূলিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
عنهم في "البحر" أنها إذا عطفت جملة على جملة فإن كانتا تامتين كانت المشاركة في أصل الحكم لا في جميع صفاته؛ وقال: لا تقتضي المشاركة أصلاً وهي التي تسمى واو الاستئناف كقوله تعالى: {فَإِنْ يَشَإِ اللَّهُ يَخْتِمْ عَلَى قَلْبِكَ وَيَمْحُ اللَّهُ الْبَاطِلَ} (الشورى:24)، فإن قوله: {وَيَمْحُ اللَّهُ الْبَاطِلَ} جملة مستأنفة لا تعلق لها بما قبلها ولا هي داخلة في جواب الشرط وإن كانت الثانية ناقصة شاركت الأولى في جميع ما هي عليه (1).

وقال العلامة الآمدي (2) في الإحكام (2|258) رداً على من قال بأن العطف على العام يوجب العموم في المعطوف:

استدل أصحابنا على أن المسلم لا يقتل بالذمي بقوله صلى الله عليه وسلم: «لَا يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ (3)» وهو عام بالنسبة إلى كل كافر، حربياً كان أو ذمياً.

--------------------------------------------

(1) راجع: إرشاد الفحول للشوكاني (2 |1013) طبعة دار الفضيلة.

(2) الآمدي (551ـ631 هـ) هو علي بن أبي علي بن محمد بن سالم الثعلبي، أبو الحسن، سيف الدين الآمدي. ولد بآمد من ديار بكر. أصولي باحث. كان حنبليا ثم تحول إلى المذهب الشافعي. برع في علم الخلاف وتفنن في علم أصول الدين وأصول الفقه والفلسفة والعقليات. دخل الديار المصرية وتصدر للإقراء. حسده بعض الفقهاء ونسبوه إلى فساد العقيدة والتعطيل ومذهب الفلاسفة. فخرج منها إلى البلاد الشامية، وتوفي بدمشق. من تصانيفه: " الإحكام في أصول الأحكام "؛ و " أبكار الأفكار " في علم الكلام؛ و " لباب الألباب ".

[الأعلام للزركلي 5/ 153؛ وطبقات الشافعية للسبكي 5/ 129 ـ 130]

(3) صحيح أخرجه بهذا اللفظ: أحمد (6690) (6796) وأبو داود (2751) وصححه الألباني في صحيح الجامع (7752) وهو جزء حديث في صحيح البخاري (3047).
'আল-বাহর' গ্রন্থে তাঁদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন একটি বাক্য অপর একটি বাক্যের ওপর সংযুক্ত (عطف) হয়, তখন উভয়ই যদি পূর্ণাঙ্গ বাক্য হয়, তবে অংশীদারিত্ব কেবল মূল বিধানের ক্ষেত্রে হয়, এর সকল বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে নয়। তিনি বলেন: এটি আদতে কোনো অংশীদারিত্ব দাবি করে না, আর একে প্রারম্ভিক ওয়াও (واو الاستئناف) বলা হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ চাইলে আপনার অন্তরে মোহর মেরে দিতেন। আর আল্লাহ বাতিলকে মিটিয়ে দেন} (আশ-শুরা: ২৪)। এখানে {আর আল্লাহ বাতিলকে মিটিয়ে দেন} কথাটি একটি প্রারম্ভিক বাক্য (جملة مستأنفة), যার পূর্ববর্তী অংশের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি শর্তের উত্তর (جواب الشرط)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যদি দ্বিতীয় বাক্যটি অসম্পূর্ণ হয়, তবে তা প্রথম বাক্যের সকল অবস্থার সাথে অংশীদার হবে (১)।

আল্লামা আমেদি (২) তাঁর 'আল-ইহকাম' (২/২৫৮) গ্রন্থে ঐ সকল ব্যক্তির জবাবে বলেন, যারা দাবি করেন যে সাধারণ (عام) শব্দের ওপর সংযোগ (عطف) করা হলে তা সংযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রেও সাধারণত্ব (عموم) আবশ্যক করে:

আমাদের (মাযহাবের) সাথীরা জিম্মির (ذمي) বিনিময়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে না—এই মর্মে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: «কোনো কাফিরের বিনিময়ে মুসলিমকে হত্যা করা হবে না (৩)»। আর এটি সকল কাফিরের ক্ষেত্রে সাধারণ (عام), সে হারবি (حربي) হোক কিংবা জিম্মি (ذمي) হোক।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শাওকানি রচিত ইরশাদুল ফুহুল (২/১০১৩), দারুল ফাদিলা সংস্করণ।

(২) আমেদি (৫৫১-৬৩১ হি.) হলেন আলী বিন আবি আলী বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম আস-সা’লাবি, আবুল হাসান, সাইফুদ্দিন আমেদি। তিনি দিয়ার বকরের আমেদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মূলনীতিবিদ (أصولي) ও গবেষক। তিনি প্রথমে হাম্বলি ছিলেন, পরবর্তীতে শাফেয়ি মাজহাব গ্রহণ করেন। তিনি মতপার্থক্য বিষয়ক জ্ঞান (علم الخلاف), ইলমে উসুলুদ দ্বীন, উসুলুল ফিকহ, দর্শন ও যুক্তিশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি মিশরে প্রবেশ করেন এবং শিক্ষকতায় নিয়োজিত হন। কিছু ফকিহ তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর আকিদায় বিচ্যুতি, সিফাত অস্বীকার (تعطيل) এবং দার্শনিক মতাদর্শের দিকে তাঁকে নিসবত করেন। ফলে তিনি সেখান থেকে সিরিয়ায় চলে যান এবং দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম', ইলমে কালাম শাস্ত্রে 'আবকারুল আফকার' এবং 'লুবাবুল আলবাব'।

[আল-আ’লাম লিয-যিরিকলি ৫/১৫৩; তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ লিস-সুবকি ৫/১২৯-১৩০]

(৩) সহিহ (صحيح); যা এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: আহমাদ (৬৬৯০, ৬৭৯৬) এবং আবু দাউদ (২৭৫১)। আলবানি সহিহুল জামি' (৭৭৫২) গ্রন্থে একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন। এটি সহিহ বুখারি (৩০৪৭)-তে বর্ণিত একটি হাদিসের অংশ।