(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإباضية في ميزان أهل السنة القسم: الفرق والردود
الكتاب: الإباضية في ميزان أهل السنة
المؤلف: عبد الله بن مسعود السني
عدد الصفحات: 52
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1433
আহলে সুন্নাতের মানদণ্ডে ইবাদি মতবাদ বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন
বই: আহলে সুন্নাতের মানদণ্ডে ইবাদি মতবাদ
লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আস-সুন্নি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
الإباضية
في ميزان
أهل السنة والجماعة
جمع وتأليف
عبد الله بن مسعود السني
ইবাদি মতবাদ
মানদণ্ডে
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের
সংকলন ও রচনায়
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ আস-সুন্নি
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمةالحمد لله الذي جعل في كل زمان فترة من الرسل بقايا من أهل العلم يدعون من ضل إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى، ويحيون بكتاب الله تعالى الموتى، ويبصرون بنور الله أهل العمى، فكم من قتيل لإبليس قد أحيوه، وكم من ضال تائه قد هدوه، فما أحسن أثرهم على الناس وما أقبح أثر الناس عليهم، ينفون عن كتاب الله تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، الذين عقدوا ألوية البدعة، وأطلقوا عنان الفتنة، فهم مختلفون في الكتاب، مخالفون للكتاب، مجمعون على مفارقة الكتاب، يقولون على الله وفي الله وفي كتاب الله بغير علم، يتكلمون بالمتشابه من الكلام، ويخدعون جهال الناس بما يشبهون عليهم; فنعوذ بالله من فتنة المضلين، أما بعد:
فإن من المضلين الضالين في هذا الزمان وقبله بأزمان الإباضية فقد جمعوا بين عقيدة الخوارج -إذ هم فرع عنهم- والمعتزلة الجهمية وسموا أنفسهم أهل الحق والاستقامة!
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলগণের আগমনের মধ্যবর্তী প্রতিটি শূন্যতার যুগে একদল আলিমকে অবশিষ্ট রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন, তাদের পক্ষ থেকে আসা দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করেন, মহান আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে (আধ্যাত্মিকভাবে) মৃতদের জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের সাহায্যে অন্ধদের সত্যের পথ দেখান। শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে মৃতপ্রায় কত মানুষকেই না তারা জীবন দান করেছেন এবং কতই না পথহারা বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে তারা সুপথ দেখিয়েছেন! মানুষের ওপর তাদের প্রভাব কতই না চমৎকার, অথচ তাদের প্রতি মানুষের আচরণ কতই না জঘন্য! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন; যারা বিদআতের পতাকা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। তারা কিতাব (কুরআন) বিষয়ে নিজেরা মতভেদকারী, কিতাবের বিরুদ্ধাচরণকারী এবং কিতাব বর্জনের ব্যাপারে একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে এবং সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মূর্খ মানুষদের প্রতারিত করে। আমরা পথভ্রষ্টকারীদের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অতঃপর:
নিশ্চয়ই বর্তমান সময়ে এবং এর পূর্ববর্তী সময়গুলোতে অন্যতম পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত দল হলো ‘ইবাদিয়া’ সম্প্রদায়। তারা মূলত খাওয়ারিজদের একটি শাখা হওয়ার কারণে তাদের আকিদাহ এবং মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের আকিদাহর সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে, অথচ তারা নিজেদের ‘আহলুল হক ওয়াল ইস্তিকামাহ’ (সত্য ও অবিচলতার অনুসারী) নামে অভিহিত করে থাকে!
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
قال الإمام البخاري رحمه الله في الجامع الصحيح (1):
حدثنا قتيبة حدثنا عبد الواحد عن عمارة بن القعقاع بن شبرمة حدثنا عبد الرحمن بن أبي نعم قال سمعت أبا سعيد الخدري يقول بعث علي بن أبي طالب رضي الله عنه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من اليمن بذهيبة في أديم مقروظ لم تحصل من ترابها قال فقسمها بين أربعة نفر بين عيينة بن بدر وأقرع بن حابس وزيد الخيل والرابع إما علقمة وإما عامر بن الطفيل فقال رجل من أصحابه كنا نحن أحق بهذا من هؤلاء قال فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء يأتيني خبر السماء صباحًا ومساءً قال فقام رجل غائر العينين مشرف الوجنتين ناشز الجبهة كث اللحية محلوق الرأس مشمر الإزار فقال يا رسول الله اتق الله قال ويلك أو لست أحق أهل الأرض أن يتقي الله قال ثم ولى الرجل قال خالد بن الوليد يا رسول الله ألا أضرب عنقه قال لا لعله أن يكون يصلي فقال خالد وكم من مصل يقول بلسانه ما ليس في قلبه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إني لم أؤمر أن أنقب عن قلوب الناس ولا أشق بطونهم قال ثم نظر إليه وهو مقف فقال إنه يخرج من ضئضئ هذا قوم يتلون كتاب الله رطبًا لا يجاوز
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) আল-জামি আস-সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১):
আমাদের নিকট কুতাইবা বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি উমারা ইবনে আল-কাক্কা ইবনে শুবরুমা থেকে, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আবি নুয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ আল-খুদরীকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতে শুনেছি যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়ামেন থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট করজ গাছের পাতা দ্বারা পাকা করা চামড়ার একটি থলিতে করে কিছু স্বর্ণখণ্ড পাঠিয়েছিলেন, যা তখনও আকরিক মাটি থেকে পরিশোধন করা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তা চারজন ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করে দিলেন— উয়াইনা ইবনে বদর, আকরা ইবনে হাবিস, যায়েদ আল-খাইল এবং চতুর্থজন হলেন আলকামা অথবা আমির ইবনে তুফায়েল। তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন, "আমরা এদের চেয়ে এই মালের অধিক হকদার ছিলাম।" বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন, "তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না? অথচ আমি আসমানে যিনি আছেন তাঁর নিকট আমানতদার। আমার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় আসমানি খবর (ওহী) আসে।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেল যার চোখ দু’টি কোটরগত, গণ্ডদেশ ফোলা, কপাল উঁচু, ঘন দাড়ি, মাথা মুণ্ডানো এবং পরিহিত কাপড় উঁচুতে তোলা ছিল। সে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহকে ভয় করুন।" তিনি বললেন, "তোমার জন্য পরিতাপ! আমি কি জমিনবাসীর মধ্যে আল্লাহকে ভয় করার সবচেয়ে বেশি হকদার নই?" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল। তখন খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তার শিরশ্ছেদ করব না?" তিনি বললেন, "না, সম্ভবত সে সালাত আদায় করে।" খালিদ বললেন, "অনেক মুসল্লিই তো মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "নিশ্চয়ই আমি মানুষের অন্তর অনুসন্ধান করতে কিংবা তাদের পেট চিরে দেখতে আদিষ্ট হইনি।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি লোকটির দিকে তাকালেন যখন সে প্রস্থান করছিল এবং বললেন, "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তির বংশ বা মূল থেকে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা সাবলীলভাবে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তা তাদের অতিক্রম করবে না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
حناجرهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية وأظنه قال لئن أدركتهم لأقتلنهم قتل ثمود.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية في النصيحة الكبرى: "ثبت عنه صلى الله عليه وسلم في الصحاح وغيرها من رواية أمير المؤمنين علي بن أبي طالب وأبي سعيد الخدري وسهل بن حنيف وأبي ذر الغفاري وسعد بن أبي وقاص وعبد الله بن عمر وابن مسعود رضي الله عنهم وغير هؤلاء أن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر الخوارج فقال: «يحقر أحدكم صلاته مع صلاتهم وصيامه مع صيامهم وقراءته مع قراءتهم يقرءون القرآن لا يجاوز حناجرهم يمرقون من الإسلام كما يمرق السهم من الرمية أينما لقيتموهم فاقتلوهم أو قال فقاتلوهم فإن في قتلهم أجراً عند الله لمن قتلهم يوم القيامة لئن أدركتهم لاقتلنهم قتل عاد». اهـ
وقال في رسالة الفرقان: "والأحاديث في ذمهم يعني الخوارج والأمر بقتالهم كثيرة جداً وهي متواترة عند أهل الحديث مثل أحاديث الرؤية وعذاب القبر وفتنته وأحاديث الشفاعة والحوض" (1).
--------------------------------------------
তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে শিকার থেকে তীর বেরিয়ে যায়। এবং আমার ধারণা তিনি বলেছেন: "যদি আমি তাদের নাগাল পাই তবে আমি তাদের সামুদ জাতির মতো অবশ্যই হত্যা করব।"
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘আন-নাসিহাহ আল-কুবরা’ গ্রন্থে বলেছেন: “আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবু তালিব, আবু সাঈদ আল-খুদরী, সাহল ইবনে হুনাইফ, আবু যার আল-গিফারী, সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের ছাড়াও অন্যদের বর্ণনায় সহীহ ও অন্যান্য হাদিসগ্রন্থসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি খাওয়ারিজদের বিষয়ে আলোচনা করে বলেছেন: ‘তোমাদের কেউ তাদের সালাতের তুলনায় নিজের সালাতকে, তাদের সিয়ামের তুলনায় নিজের সিয়ামকে এবং তাদের তিলাওয়াতের তুলনায় নিজের তিলাওয়াতকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে শিকার থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তোমরা যেখানেই তাদের পাবে, তাদের হত্যা করবে—অথবা তিনি বলেছেন—তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। কেননা তাদের হত্যা করার মধ্যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট হত্যাকারীর জন্য পুরস্কার রয়েছে। আমি যদি তাদের নাগাল পাই তবে আমি তাদের আদ জাতির মতো অবশ্যই হত্যা করব’।” সমাপ্ত।
তিনি ‘রিসালাতুল ফুরকান’-এ আরও বলেছেন: “তাদের অর্থাৎ খাওয়ারিজদের নিন্দা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ সম্বলিত হাদিসসমূহ সংখ্যায় অত্যধিক এবং সেগুলো মুহাদ্দিসগণের নিকট মুতাওয়াতির পর্যায়ের, যেমন—আল্লাহর দিদার (রুইয়াত), কবরের আজাব ও ফিতনা এবং শাফায়াত ও হাউজ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।” (১)。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإباضية من فرق الخوارجيتفق العلماء والباحثون قديماً وحديثاً على أن الإباضية في أصولها العقدية فرع عن الخوارج، وتلتقي معهم في أغلب الأصول التي خرجت بها الخوارج عن الأمة وأن الخلاف الذي انشعبت به عنهم كان في موقفهم من بقية المسلمين، وحكم الإقامة معهم ومتى يكون قتالهم، وأحكامهم في السلم والحرب (1).
--------------------------------------------
খাওয়ারিজদের অন্যতম উপদল ইবাদিয়াপ্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেম ও গবেষকগণ এ বিষয়ে একমত যে, ইবাদিয়া সম্প্রদায় তাদের আকিদাগত মূলনীতির ক্ষেত্রে খাওয়ারিজদের একটি শাখা। খাওয়ারিজরা যেসকল মূলনীতির ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, তার অধিকাংশের মধ্যেই ইবাদিয়ারা তাদের সাথে একমত। তবে খাওয়ারিজদের থেকে তাদের ভিন্নতা বা পৃথক হওয়ার বিষয়টি ছিল মূলত অবশিষ্ট মুসলিমদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের সাথে একত্রে বসবাসের বিধান, কখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ এবং শান্তি ও যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধানাবলীর ক্ষেত্রে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
إلى من تنسب الإباضية؟
رغم أن المذهب الإباضي ينسب إلى عبد الله بن إباض لكن لا يوجد في المصادر الإباضية ولا في غيرها ما يمكن أن يعتبر سيرة تاريخية له إلا بعض المقتطفات المتناثرة في بعض الكتب التاريخية.
فكل ما يمكن أن يقال عنه أنه ينتمي إلى قبيلة تميم التي كانت تسكن في البصرة ولا يعرف تاريخ مولده ولا تاريخ وفاته بالتحديد ولكنه أدرك معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه وهو شاب وعاش إلى زمن عبد الملك بن مروان. وبذلك يكون قد عاش في نفس الفترة التاريخية التي وجد فيها أبو بلال وجابر بن زيد ونافع بن الأزرق.
ويقول الدكتور عوض خليفات: "إن المصادر الإباضية تُجمع على أن ابن إباض لم يكن إمامهم الحقيقي ومؤسس دعوتهم وإنْ كان من علمائهم ورجالهم البارزين في التقوى والصلاح" (1). وممن تنتحله الإباضية وتنتسب إليه جابر بن زيد أبو الشعثاء.
--------------------------------------------
ইবাদি মতবাদ কার প্রতি সম্বন্ধিত?
যদিও ইবাদি মাযহাবকে আবদুল্লাহ বিন ইবাদের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়, তবে ইবাদি বা অন্য কোনো উৎসে তার এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক জীবনী পাওয়া যায় না যাকে প্রামাণ্য বলা যেতে পারে; কেবল কিছু ঐতিহাসিক গ্রন্থে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু বিচ্ছিন্ন উদ্ধৃতি ছাড়া।
তার সম্পর্কে শুধু এটুকুই বলা যায় যে, তিনি বসরার বনু তমিম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার জন্ম কিংবা মৃত্যুর সঠিক তারিখ জানা যায় না। তবে তিনি যুবক অবস্থায় মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.)-এর যুগ পেয়েছিলেন এবং আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের সময় পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। এভাবে তিনি সেই একই ঐতিহাসিক যুগে বসবাস করেছেন যে যুগে আবু বিলাল, জাবির ইবনে যায়েদ এবং নাফি ইবনুল আজরাক বিদ্যমান ছিলেন।
ডক্টর আওয়াদ খুলাইফাত বলেন: "ইবাদি উৎসসমূহ এই বিষয়ে একমত যে, ইবনে ইবাদ তাদের প্রকৃত ইমাম এবং তাদের দাওয়াতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না, যদিও তিনি তাদের বিশিষ্ট আলেম এবং তাকওয়া ও পরহেযগারিতে অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন" (১)। আর ইবাদিগণ যাদের নিজেদের বলে দাবি করে এবং যাদের দিকে নিজেদের সম্বন্ধিত করে, তাদের একজন হলেন জাবির ইবনে যায়েদ আবুশ শা'সা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بل يعتبر جابر بن زيد (عندهم) الإمام الأول للإباضية والمؤسس الحقيقي للفكر والمذهب الإباضي.
وهذه ترجمة موجزة له:
جابر بن زيد الأزدي اليحمدي، مولاهم، البصري، الخوفي -بخاء معجمة- والخوف ناحية من عمان، كان عالم أهل البصرة في زمانه، يُعدُّ مع الحسن وابن سيرين، وهو من كبار تلامذة ابن عباس.
حدث عنه عمرو بن دينار، وأيوب السختياني، وقتادة، وآخرون. روى عطاء عن ابن عباس، قال: لو أن أهل البصرة نزلوا عند قول جابر بن زيد لأوسعهم علما عمّا في كتاب الله.
ورُوِي عن ابن عباس أنه قال: تسألوني وفيكم جابر بن زيد!.
وعن عمرو بن دينار، قال: ما رأيت أحدا أعلم من أبي الشعثاء.
والثابت عنه رحمه الله تعالى يدفع ما ادعاه الإباضية فقد روى ابن سعد –رحمه الله في الطبقات (1) عن عزرة وهو ابن ثابت الأنصاري، قال: قلت لجابر بن زيد إن الإباضية يزعمون أنك منهم قال أبرأ إلى الله منهم زاد في رواية سعيد بن عامر (شيخ ابن سعد) قلت له ذلك وهو يموت.
--------------------------------------------
বস্তুত জাবির ইবনে যায়েদকে (তাদের মতে) ইবাদিয়াদের প্রথম ইমাম এবং ইবাদি চিন্তা ও মাযহাবের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
আর এটি তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী:
জাবির ইবনে যায়েদ আল-আযদি আল-ইয়াহমাদি, তাঁদের মুক্তদাস, বসরী, আল-খাওফী—'খ' বর্ণের ওপর নুকতা সহযোগে—আর খাওফ ওমানের একটি অঞ্চল; তিনি তাঁর সময়ের বসরাবাসীদের শ্রেষ্ঠ আলিম ছিলেন, যাঁকে হাসান বসরী ও ইবনে সীরীনের সমপর্যায়ের গণ্য করা হতো এবং তিনি ইবনে আব্বাসের অন্যতম প্রধান ছাত্র ছিলেন।
তাঁর থেকে আমর ইবনে দীনার, আইয়ুব আল-সাখতিয়ানী, কাতাদাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আতা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেছেন: যদি বসরার অধিবাসীরা জাবির ইবনে যায়েদের সিদ্ধান্তের শরণাপন্ন হতো, তবে আল্লাহর কিতাবের ইলম তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।
ইবনে আব্বাস থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: তোমরা আমাকে প্রশ্ন করছ অথচ তোমাদের মাঝে জাবির ইবনে যায়েদ বিদ্যমান!
আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবুশ শা'সা অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।
আর তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) থেকে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত, তা ইবাদিয়াদের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। ইবনে সা'দ (রহিমাহুল্লাহ) 'তাবাকাত' গ্রন্থে (১) আযরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি ইবনে সাবিত আল-আনসারী—তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে যায়েদকে বললাম, নিশ্চয়ই ইবাদিয়ারা দাবি করে যে আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত; তিনি বললেন: আমি তাদের থেকে আল্লাহর নিকট সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। সাঈদ ইবনে আমিরের (ইবনে সা'দের শাইখ) বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে: আমি তাঁকে এই কথাটি বলেছিলাম যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وثبت عند ابن سعد في الطبقات (1) عن ثابت أن الحسن قال لجابر إن الإباضية تتولاك قال: فقال: أبرأ إلى الله منهم. قال: فما تقول في أهل النهروان؟ قال: فقال: أبرأ إلى الله منهم. وفي الطبقات أيضًا (2) عن محمد بن سيرين أنه قال: كان بريئًا مما يقولون يعني جابر بن زيد قال عارم –شيخ ابن سعد- وكانت الإباضية ينتحلونه.
--------------------------------------------
ইবনে সা'দ তাঁর ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থে (১) সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাসান জাবিরকে বললেন: “নিশ্চয়ই ইবাদিয়া সম্প্রদায় আপনাকে নিজেদের লোক মনে করে।” তিনি বললেন: “আমি আল্লাহর নিকট তাদের থেকে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি।” তিনি (হাসান) জিজ্ঞেস করলেন: “তাহলে নাহরাওয়ানবাসীদের সম্পর্কে আপনি কী বলেন?” তিনি বললেন: “আমি আল্লাহর নিকট তাদের থেকেও সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি।” ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থে আরও বর্ণিত হয়েছে (২) মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে যে তিনি বলেছেন: “তারা যা বলে তা থেকে তিনি (অর্থাৎ জাবির বিন যায়েদ) মুক্ত ছিলেন।” ইবনে সা'দের উস্তাদ আরিম বলেন: “ইবাদিয়ারা তাঁর প্রতি মিথ্যা সম্বন্ধ আরোপ করত।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أماكن تواجدهمتنتشر الإباضية في سلطنة عُمان وجبل نفوسة وفي زوارة في ليبيا ووادي مزاب في الجزائر وجربة في تونس وبعض المناطق في شمال أفريقيا إضافة إلى جزيرة زنجبار فيما يسمى الآن تنزانيا.
তাদের অবস্থানস্থলইবাদি সম্প্রদায় ওমান সালতানাত, লিবিয়ার জাবালে নাফুসা ও জুয়ারা, আলজেরিয়ার ওয়াদি মিজাব, তিউনিসিয়ার জেরবা এবং উত্তর আফ্রিকার কিছু অঞ্চল ছাড়াও বর্তমানে তানজানিয়া নামে পরিচিত জানজিবার দ্বীপে বিস্তৃত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
527 - c3
عقيدة الإباضية1 - التوحيد عند الإباضية:
2 - خلق القرآن عند الإباضية:
3 - إنكار رؤية المؤمنين ربهم يوم القيامة:
4 - إنكار الشفاعة والقول بتخليد العصاة في النار:
5 - الإيمان عند الإباضية:
6 - الأسماء والصفات:
7 - الصراط:
8 - موقفهم من الصحابة:
9 - التقية عند الإباضية:
৫২৭ - c3
ইবাদি আকিদা১ - ইবাদিদের নিকট তাওহীদ:
২ - ইবাদিদের নিকট কুরআন সৃষ্টির মাসআলা:
৩ - কিয়ামতের দিন মুমিনদের কর্তৃক তাদের প্রতিপালককে দেখার বিষয়টিকে অস্বীকার করা:
৪ - শাফায়াত অস্বীকার এবং অবাধ্যদের চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার অভিমত:
৫ - ইবাদিদের নিকট ঈমান:
৬ - আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলী):
৭ - সিরাত:
৮ - সাহাবায়ে কিরামের ব্যাপারে তাদের অবস্থান:
৯ - ইবাদিদের নিকট তাকিয়্যাহ:
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
1 - التوحيد عند الإباضية:جاء في لباب الآثار لمهنا بن خلفان البورسعيدي:
مسألة: ومن نذر لشيء من القبور أو لموضع ولم يبين الشيء هل يثبت، وفيم يجعل؟
قال: يثبت ويجعل في مصالح الموضع أو القبر أن احتاج وإلا يوقف إلى أن يحتاج، وقول يفرق في الفقراء والله أعلم (1).
ومنه: ومن نذر برأس غنم ليؤكل عند القبر الفلاني كل سنة تدور مادام حيا، ثم ترك قضاء النذر سنتين ثم أراد قضاء الماضي ما يلزمه؟
قال: يجزي البدل لما مضى وعليه التوبة والاستغفار وفي الكفارة عليه اختلاف وهي كفارة يمين مرسلة والله أعلم (2).
مسألة: ومنه: ومن قعد ليأكل نذرته عند القبر فجاء آخر واكل منها من غير رضاه، ولم ينكر عليه حياء منه أو غلبة ما ترى في ذلك؟
قال: إن لم يرض له لم يجزه وعليه بدله والأكل بغير إذن عليه الضمان والإثم والله أعلم (3).
--------------------------------------------
১ - ইবাদি মতবাদে তাওহীদ:মুহান্না বিন খালফান আল-বুসাঈদি রচিত 'লুবাবুল আসার' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:
মাসআলা: যদি কেউ কোনো কবরের জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট স্থানের জন্য কোনো মানত করে কিন্তু মানতকৃত বস্তু স্পষ্ট না করে, তবে তা কি সাব্যস্ত হবে এবং তা কী কাজে ব্যয় করা হবে?
তিনি বলেন: তা সাব্যস্ত হবে এবং প্রয়োজন হলে ঐ স্থানের বা কবরের জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে; অন্যথায় প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হবে। একটি অভিমত হলো, এটি দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (১)।
অন্যত্র বর্ণিত: যদি কেউ জীবিত থাকাকালীন প্রতি বছর কোনো নির্দিষ্ট কবরের নিকট একটি ছাগল জবাই করে আহার করার মানত করে, অতঃপর দুই বছর সেই মানত পূরণ করা ছেড়ে দেয় এবং পরবর্তীতে সেই অতীত মানত পূরণ করতে চায়, তবে তার ওপর কী আবশ্যক হবে?
তিনি বলেন: অতীত সময়ের জন্য তার বিনিময় প্রদান করলেই যথেষ্ট হবে, তবে তার ওপর তাওবা ও ইস্তিগফার করা আবশ্যক। আর কাফফারার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; এটি একটি সাধারণ শপথের কাফফারার সমতুল্য। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (২)।
মাসআলা: আরও বর্ণিত: যদি কেউ কবরের নিকট মানতের খাবার খাওয়ার জন্য বসে এবং অন্য কেউ এসে তার সম্মতি ছাড়াই সেখান থেকে কিছু খেয়ে ফেলে, আর সে লজ্জাবশত বা পরিস্থিতির কারণে তাকে বাধা না দেয়, তবে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
তিনি বলেন: যদি সে সন্তুষ্ট না থাকে তবে মানতকারীর মানত আদায় হবে না এবং তাকে এর বিনিময় প্রদান করতে হবে। আর অনুমতি ছাড়া ভক্ষণকারীর ওপর ক্ষতিপূরণ এবং গুনাহ বর্তাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وفيمن عليه نذر لقبر، هل له أن يأمر من يقضي عنه ممن يأمنه أم لا؟
قال: إذا لم يكن نذر أن يصل بنفسه فجائز له أن يأمر من يثق به أن يقضي عنه نذره والله اعلم (1).
ومن نذر بشيء مسمى لقبر الشيخ أو غيره من القبور فقول: انه يكون للفقراء. وقول: انه نذر باطل لا يلزم. وان كان منذورا به أن يؤكل عند القبر فلا يجوز أن يؤكل بعضه ويرد بعضه ويكون القرب من القبر مايقع في المعنى أنه عند القبر ولا يحتاج أن يؤكل عند رأس القبر (2).
حكم ذلك عند أهل السنة:لو قال لله علي إن شفى الله مريضي أن أذبح للشيخ فلان ذبيحة، للبدوي، أو للحسين، أو للشيخ عبد القادر، أو لغيرهم هذا شركٌ أكبر هذا ما يجوز، هذا لا يحل الوفاء به، وعليه التوبة إلى الله من ذلك؛ لأن هذا شركٌ أكبر، الذبح للأموات، والتقرب إليهم بالذبائح، أو النذور هذا شركٌ أكبر، العبادة حق الله وحده، يقول -سبحانه-: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَاّ تَعْبُدُواْ إِلَاّ إِيَّاهُ} (23) سورة الإسراء. ويقول سبحانه: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي. .}، يعني قل يا محمد للناس {إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي} يعني
--------------------------------------------
জনৈক ব্যক্তি যার ওপর কোনো কবরের উদ্দেশ্যে মানত রয়েছে, সে কি তার বিশ্বস্ত কাউকে তা পূর্ণ করার দায়িত্ব দিতে পারবে কি না?
তিনি উত্তর দিলেন: যদি সে নিজে সশরীরে গিয়ে তা পৌঁছানোর মানত না করে থাকে, তবে সে যাকে বিশ্বাস করে তাকে তার পক্ষ থেকে মানত পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া জায়েজ। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ (১)।
আর যে ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট জিনিস কোনো শায়খের কবর বা অন্য কোনো কবরের জন্য মানত করে, তবে এক মতে বলা হয়েছে: তা দরিদ্রদের প্রাপ্য হবে। অন্য মতে বলা হয়েছে: এটি একটি বাতিল মানত যা পালন করা আবশ্যক নয়। আর যদি কবরের নিকট বসে আহার করার মানত করা হয়, তবে এর কিছু অংশ খাওয়া এবং কিছু অংশ ফিরিয়ে দেওয়া জায়েজ নয়। আর কবরের নিকটবর্তী বলতে বোঝায় যা সাধারণভাবে কবরের সন্নিকটস্থ হিসেবে গণ্য হয়; কবরের একদম শিয়রে বসে খাওয়ার প্রয়োজন নেই (২)।
আহলে সুন্নতের নিকট এর বিধান:যদি কেউ বলে, "আল্লাহর ওয়াস্তে আমার ওপর মানত রইল যে, আল্লাহ যদি আমার রোগীকে আরোগ্য দান করেন তবে আমি অমুক শায়খের জন্য একটি পশু জবেহ করব", যেমন—বাদাওয়ী, হুসাইন, শায়খ আব্দুল কাদের কিংবা অন্য কারো জন্য; তবে এটি শিরকে আকবর বা বড় শিরক। এটি করা জায়েজ নয় এবং তা পূর্ণ করাও বৈধ নয়। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য এ থেকে আল্লাহর নিকট তওবা করা আবশ্যক; কারণ এটি শিরকে আকবর। মৃতদের উদ্দেশ্যে জবেহ করা এবং পশুবলি বা মানতের মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভ করতে চাওয়া শিরকে আকবর। ইবাদত কেবল একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না" (সূরা আল-ইসরা: ২৩)। তিনি আরও বলেন: "বলো, নিশ্চয়ই আমার সালাত..." অর্থাৎ হে মুহাম্মদ, আপনি লোকদের উদ্দেশ্যে বলুন, "নিশ্চয়ই আমার সালাত ও আমার কুরবানি..." অর্থাৎ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ذبحي {وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} (162 - 163) سورة الأنعام. ويقول سبحانه للنبي-صلى الله عليه وسلم: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ * فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (1 - 2) سورة الكوثر. ويقول النبي-صلى الله عليه وسلم: «لعن الله من ذبح لغير الله»، فلا يجوز الذبح للجن، ولا للمشايخ أصحاب القبور، ولا لغيرهم من أصنام، أو أشجار، أو أحجار، أو ملائكة، أو أنبياء، لا، هذا يكون لله وحده (1).
--------------------------------------------
আমার জবেহ করা {এবং আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই, আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম} (১৬২ - ১৬৩) সূরা আল-আনআম। এবং মহান আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেন: {নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। অতএব আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন} (১ - ২) সূরা আল-কাওসার। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «আল্লাহর লানত তার ওপর যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে জবেহ করে», সুতরাং জিনের উদ্দেশ্যে, কবরস্থ মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে, কিংবা অন্য কোনো প্রতিমা, বৃক্ষ, পাথর, ফেরেশতা বা নবীদের উদ্দেশ্যে জবেহ করা বৈধ নয়; না, বরং এটি একমাত্র আল্লাহর জন্যই হতে হবে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - خلق القرآن عند الإباضية:وهذه المسألة من أهم المسائل وليست فتنة القول بخلق القرآن التي قام بها بعض خلفاء بني العباس ونصرهم فيها قضاة المعتزلة بخافية على أحد فكم أريق فيها من دماء وكم امتحن بسببها وكم جلد وأوذي أهل السنة فيها من الإمام احمد بن حنبل فمن دونه.
وقد ورث هذه المقولة الخبيثة المخرجة عن الملة ورثها عن المعتزلة اتباعهم الإباضية وانتصروا لها وقرروها.
جاء في مقالات الإسلاميين لأبي الحسن الأشعري: والخوارج جميعاً يقولون بخلق القرآن (1).
ويؤكد ما ذهب إليه أبو الحسن الأشعري ما أورده ابن جميع الإباضي في مقدمة التوحيد: "وليس منا من قال إن القرآن غير مخلوق" (2).
وجاء في كتاب الدليل لأهل العقول للورجلاني: "والدليل على خلق القرآن أن لأهل الحق عليهم أدلة كثيرة، وأعظمها استدلالهم على
--------------------------------------------
২ - ইবাদিদের নিকট কুরআন সৃষ্টির আকিদা:এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন সৃষ্টির (খালেকুল কুরআন) প্রবক্তাদের সৃষ্ট সেই ফিতনা কারো অজানা নয়, যা আব্বাসীয় বংশের কিছু খলিফা পরিচালনা করেছিলেন এবং মুতাজিলা বিচারকগণ তাতে তাঁদের সহায়তা প্রদান করেছিলেন। এই ফিতনায় কত রক্ত প্রবাহিত হয়েছে, কত মানুষ এর ফলে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী স্তরের আহলে সুন্নাতের অনুসারীদের কতজনকে চাবুকপেটা ও নির্যাতন সইতে হয়েছে।
দ্বীন বা মিল্লাত থেকে বহিষ্কারকারী এই নিকৃষ্ট মতবাদটি মুতাজিলাদের থেকে তাদের অনুসারী ইবাদিরা উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করেছে, এর সমর্থনে কাজ করেছে এবং একে সুসংহত করেছে।
আবুল হাসান আল-আশআরী রচিত ‘মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: “খারেজীদের সকলেই কুরআন সৃষ্টির মতবাদে বিশ্বাসী” (১)।
ইবাদি পন্ডিত ইবনে জামী‘ তাঁর ‘মুকাদ্দিমাতুত তাওহীদ’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তা আবুল হাসান আল-আশআরীর বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে: “যে ব্যক্তি বলে যে কুরআন সৃষ্টি নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়” (২)।
ওয়ারজালানীর ‘আদ-দালীল লি আহলিল উকুল’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: “কুরআন সৃষ্টির স্বপক্ষে সত্যপন্থীদের নিকট অনেক প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো তাদের সেই প্রমাণ যা...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
خلقه بالأدلة الدالة على خلقهم هم فإن أبوا من خلق القرآن أبينا لهم من خلقهم، وقد وصفه الله عز وجل في كتابه وجعله قرآناً عربياً مجعولاً " (1).
ومن آخر من قرر ذلك الخليلي في كتابه "الحق الدامغ".
وهذه المسألة من المسلمات عند أهل السنة فقد دل القرآن والسنة وأقوال السلف -الصحابة فمن دونهم- وإجماع أهل السنة على أن القرآن كلام الله منزل غير مخلوق ومن قال بخلقه كفر.
قال ابن القيم رحمه الله في النونية:
ولقد تقلد كفرهم خمسون في
… عشر من العلماء في البلدان
واللالكائي الإمام حكاه عنهم
… بل حكاه قبله الطبراني
--------------------------------------------
তাঁর সৃষ্টিকে তাঁদের সৃষ্টির পরিচায়ক দলীলসমূহের মাধ্যমেই সাব্যস্ত করেছেন; ফলে তারা যদি কুরআনের সৃষ্টিতত্ত্বকে অস্বীকার করে তবে আমরাও তাদের সৃষ্টির বিষয়টি অস্বীকার করব। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে একে বর্ণনা করেছেন এবং একে একটি আরবী 'মাজউল' (সৃষ্ট) কুরআন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন (১)।
আধুনিককালে এটি চূড়ান্তভাবে ব্যক্তকারীদের অন্যতম হলেন আল-খালীলী তাঁর ‘আল-হক্কুল দামিগ’ গ্রন্থে।
এই বিষয়টি আহলুস সুন্নাহর নিকট অকাট্য ধ্রুব সত্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন, সুন্নাহ, সালাফ—সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের পরবর্তীগণ—এর বক্তব্য এবং আহলুস সুন্নাহর ইজমা (ঐকমত্য) একযোগে এ কথা প্রমাণ করে যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, যা অবতীর্ণ—সৃষ্ট নয়। আর যে ব্যক্তি একে ‘সৃষ্ট’ বলবে, সে কুফরী করল।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘নুনিয়াহ’ কাসিদায় বলেছেন:
নিশ্চয়ই বিভিন্ন ভূখণ্ডের পাঁচশত আলেম তাঁদের কুফরির (সিদ্ধান্তের) হার পরিধান করেছেন
… অর্থাৎ তাঁদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন
ইমাম আল-লালকাঈ তাঁদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন
… বরং তাঁর পূর্বে ইমাম তাবারানীও তা বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
3 - إنكار رؤية المؤمنين ربهم يوم القيامة:ذهب الإباضية تبعا لأئمتهم المعتزلة إلى نفي رؤية المؤمنين لله تعالى بشبه باطلة واهية وقرروا ذلك في كتبهم ومن آخر ذلك ما ذكره مفتيهم الخليلي في كتابه الحق الدامغ وبعد أن سرد ثلاثة عشر حديثا كلها تثبت الرؤية قال: "وأنت أيها القاريء الكريم تدرك ببصيرتك أن الأخذ بظواهر هذه النصوص يفضي إلى ما يرده العقل ويكذبه البرهان"!
فإذا كان هذا موقف إمامهم ومفتيهم -وهو تابع لأسلافه- وهو رد حديث رسول الله عليه الصلاة والسلام وتقديم عقله الناقص عليه فذكر ذلك يغني عن رده، وإلا فإن رؤية المؤمنين لله عز وجل ثابتة في القرآن والسنة وأقوال سلف الأمة قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "والذي عليه جمهور السلف أن من جحد رؤية الله في الدار الآخرة فهو كافر".
৩ - কিয়ামত দিবসে মুমিনদের তাদের প্রতিপালককে দেখার বিষয়টি অস্বীকার করা:ইবাদি সম্প্রদায় তাদের ইমাম মুতাজিলাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কতিপয় বাতিল ও অসার সংশয়ের ভিত্তিতে মুমিনদের মহান আল্লাহকে দেখার বিষয়টি অস্বীকার করার মত পোষণ করেছে এবং তারা তাদের কিতাবসমূহে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হলো তাদের মুফতি আল-খলিলি তার 'আল-হাক্কুল দামিগ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন। তিনি আল্লাহকে দেখার স্বপক্ষে তেরোটি হাদিস বর্ণনা করার পর বলেন: "হে সম্মানিত পাঠক, আপনি আপনার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করতে পারবেন যে, এই নসসমূহের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করা এমন বিষয়ের দিকে ধাবিত করে যা বুদ্ধি প্রত্যাখ্যান করে এবং যুক্তি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে!"
তাদের ইমাম ও মুফতির অবস্থান যখন এই—যিনি এ ক্ষেত্রে তার পূর্বসূরিদের অনুসারী—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করা এবং এর ওপর নিজের অপূর্ণ বুদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়া, তখন কেবল এটি উল্লেখ করাই তার বক্তব্য খণ্ডন করার জন্য যথেষ্ট। অন্যথায়, মুমিনদের মহান আল্লাহকে দেখার বিষয়টি কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের ঐকমত্য দ্বারা সুসাব্যস্ত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: "সালাফদের সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত হলো, যে ব্যক্তি পরকালে আল্লাহর দর্শনকে অস্বীকার করবে, সে কাফির।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
4 - إنكار الشفاعة والقول بتخليد العصاة في النار:وهذه المسألة أيضا مما تابع فيه الإباضية أئمتهم المعتزلة وحجتهم في ذلك داحضة وقد رد عليهم أهل السنة باطلهم هذا بما جاء في القرآن والسنة.
قال الإمام الآجري رحمه الله: "اعلموا رحمكم الله أن المنكر للشفاعة يزعم أن من دخل النار فليس بخارج منها وهذا مذهب المعتزلة يكذبون بها" إلى أن قال: "وليس هذا طريق المسلمين إنما هذا طريق من قد زاغ عن طريق الحق وقد لعب به الشيطان".
قال أنس بن مالك رضي الله عنه: "من كذب بالشفاعة فليس له فيها نصيب".
৪ - শাফায়াত (সুপারিশ) অস্বীকার করা এবং পাপাচারীদের চিরকাল জাহান্নামে অবস্থানের অভিমত:এই বিষয়টিও সেসকল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যাতে ইবাদিয়াহ সম্প্রদায় তাদের ইমাম মুতাজিলাদের অনুকরণ করেছে এবং এ বিষয়ে তাদের দলিল অসার। আহলুস সুন্নাহ কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনা দ্বারা তাদের এই ভ্রান্ত মতবাদকে খণ্ডন করেছেন।
ইমাম আজুররি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তোমরা জেনে রাখো—আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করুন—নিশ্চয়ই শাফায়াত অস্বীকারকারী দাবি করে যে, যে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে সে আর সেখান থেকে বের হবে না। এটি মুতাজিলাদের মাযহাব, তারা শাফায়াতকে অস্বীকার করে।" তিনি আরও বলেন: "এটি মুসলিমদের পথ নয়, বরং এটি তাদের পথ যারা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং শয়তান যাদের নিয়ে খেলা করেছে।"
আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যে ব্যক্তি শাফায়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, শাফায়াতে তার কোনো অংশ থাকবে না।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
5 - الإيمان عند الإباضية:قال الإباضية في تعريفهم للإيمان: "الإيمان هو التصديق بالقلب حيث صرح القرآن بإضافة الإيمان إلى القلب. . . . فإذا حقق العبد الإيمان في قلبه وأرساه في نفسه انتقل إلى درجة أعلى مما كان فيه وهي درجة الظن بمعنى اليقين" (1).
وهذا هو قول الجهمية وأتباعهم الأشعرية.
أما أهل السنة فالإيمان عندهم: اعتقاد بالقلب وقول باللسان وعمل بالجوارح يزيد وينقص.
--------------------------------------------
৫ - ইবাদি মতবাদে ঈমান:ইবাদিরা ঈমানের সংজ্ঞায় বলেছে: "ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন, যেহেতু কুরআন স্পষ্টভাবে অন্তরের সাথেই ঈমানকে সম্পৃক্ত করার কথা ব্যক্ত করেছে। . . . সুতরাং বান্দা যখন তার অন্তরে ঈমানকে বাস্তবায়িত ও সুদৃঢ় করে, তখন সে তার পূর্ববর্তী স্তর থেকে আরও উচ্চতর একটি স্তরে উন্নীত হয়, আর তা হলো ইয়াকিন বা ধ্রুব বিশ্বাসের অর্থবোধক 'যন' (ধারণা)-এর স্তর" (১)।
আর এটি হলো জাহমিয়া ও তাদের অনুসারী আশআরিদের অভিমত।
পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহর নিকট ঈমান হলো: অন্তরের বিশ্বাস, জিহ্বার স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের সমষ্টি, যা নেক আমলের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহের কারণে হ্রাস পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
6 - الأسماء والصفات:أ- يقول الإباضية في توحيد الأسماء والصفات:
أثناء الحديث عن اشتقاق الاسم قالوا: "الاسم مشتق من السمة وهو العلامة: يقول المرء: كان الله تعالى في الأزل بلا اسم ولا صفة. فلما خلق الخلق جعلوا له أسماء وصفات، فلما أفناهم بقي بلا اسم وصفة
… والاسم أيضا ما دل على الذات من غير اعتبار معنى يوصف به الذات" (1).
وهذا من أعظم الضلال وأقبح الكفر أن يكون الله تعالى بلا اسم ولا صفة!
وقد كفر جمعٌ من الأئمة من قال إن أسماء الباري سبحانه مخلوقة، ومنهم: الإمام الشافعي، والإمام أحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، عثمان بن سعيد الدارمي، ونعيم بن حماد، ومحمد بن اسلم الطوسي، ومحمد بن جرير الطبري وابن خزيمة، وغيرهم.
--------------------------------------------
৬ - আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলি):ক- আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলি) তাওহীদের বিষয়ে ইবাদি সম্প্রদায় বলে:
নামের ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করার সময় তারা বলেছে: "নাম (ইসম) শব্দটি ‘সিমা’ হতে উদ্ভূত, যার অর্থ চিহ্ন। তারা বলে: মহান আল্লাহ অনাদিকাল থেকে কোনো নাম ও গুণাবলি ব্যতীতই ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন, তখন তারা তাঁর জন্য নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করল। আবার যখন তিনি তাদের ধ্বংস করে দেবেন, তখন তিনি নাম ও গুণাবলি ছাড়াই অবশিষ্ট থাকবেন
… আর নাম হলো তা-ই যা সত্তার গুণ প্রকাশকারী কোনো অর্থ বিবেচনা করা ছাড়াই কেবল সত্তাকে নির্দেশ করে" (১)।
মহান আল্লাহ নাম ও গুণাবলিহীন অবস্থায় থাকা—এটি চরম ভ্রষ্টতা ও নিকৃষ্টতম কুফরির অন্তর্ভুক্ত!
আইম্মায়ে কেরামের একটি জামাত ঐ ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করেছেন যে বলে যে, মহান স্রষ্টার নামসমূহ সৃষ্টি (মাখলুক)। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি, নুআইম বিন হাম্মাদ, মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তুসি, মুহাম্মাদ বিন জারির আত-তাবারী, ইবনে খুযায়মাহ এবং আরও অনেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ب - يقول الإباضية في أقسام الصفات وأحكامها: "صفة الذات التعريف: صفات الذات أمور اعتبارية أي معان لا حقيقة لها في الخارج. . . " (1).
ج - الواجب في حق الله تعالى هو ما ترتب على ثبوته له كمال وعلى عدمه نقص ومحال كجميع صفات الذات (2).
يقول الإباضية: "الصفات المستحيلة: كل صفة من صفات المخلوق مستحيلة على الله تعالى والله تعالى لا يشبه شيئا من خلقه. . . وسنكتفي بذكر بعض منها على سبيل المثال: استحالة الموت. . . . . . . . . " (3) إلخ.
وقد ضل الإباضية عن الصراط المستقيم في طريقة نفي الصفات، فالنفي عند أهل السنة يشترط فيه أن يتضمن إثبات كمال لا نقص فيه.
وأما نفي الإباضية فهو متضمن للنقص بل وتعريفهم غير مانع لنفي النقائص.
--------------------------------------------
খ - সিফাতের (গুণাবলি) প্রকারভেদ ও বিধান প্রসঙ্গে ইবাদি সম্প্রদায় বলে: "সত্তাগত গুণের (সিফাতে জাত) সংজ্ঞা: সত্তাগত গুণাবলি হলো কিছু তাত্ত্বিক বিষয়, অর্থাৎ এমন অর্থ যার বাহ্যিক কোনো বাস্তবতা নেই...।" (১)।
গ - আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে যা ওয়াজিব বা অপরিহার্য তা হলো এমন বিষয়, যার সাব্যস্ত হওয়া তাঁর জন্য পূর্ণতা নিশ্চিত করে এবং যার অনুপস্থিতি তাঁর জন্য ত্রুটি ও অসম্ভব বিষয় হিসেবে গণ্য হয়, যেমন সকল সত্তাগত গুণাবলি (২)।
ইবাদি সম্প্রদায় বলে: "অসম্ভব গুণাবলি: সৃষ্টির প্রতিটি গুণই আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব, আর আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথেই সদৃশ নন... উদাহরণস্বরূপ আমরা এর মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করছি: মৃত্যুর অসম্ভবতা...।" (৩) ইত্যাদি।
আর গুণাবলি অস্বীকারের (নাফি) পদ্ধতিতে ইবাদিরা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে; কারণ আহলুস সুন্নাহর নিকট গুণাবলি অস্বীকারের শর্ত হলো, তাতে এমন পূর্ণতা সাব্যস্ত হতে হবে যাতে কোনো ত্রুটি নেই।
পক্ষান্তরে ইবাদিদের অস্বীকার ত্রুটিযুক্ত, এমনকি তাদের সংজ্ঞাও ত্রুটিসমূহ নিরসনে যথেষ্ট নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فهم يقولون: "كل صفة من صفات المخلوق مستحيلة على الله تعالى" فلو كان هذا التعريف صحيحا، فالمخلوق موصوف بعدة صفات يلزم الإباضية نفيها عن الله، فالمخلوق الإنسان يوصف بأنه حي، وقادر، ومريد، وبأن له وجود، فعلى قاعدة الإباضية في النفي يلزمهم نفي أن يكون الله حي أو قادر أو مريد أو موجود أو عالم أو غير ذلك مما ثبت وصف المخلوق به، وأيضا نفي الإباضية للصفات جعلهم يشبهون الله بالمخلوقات الناقصات، فهناك مخلوقات لا تتحرك ولا سمع لها ولا بصر ولا تتكلم وتنتقل من مكان إلى مكان، فقاعدتهم مخروقة وغير صحيحة ومتناقضة قامت على غير أساس من تقوى الله بل قامت على حثالة أفهام الفلاسفة الألفاظ التي يستحيل أن يسأل بها عن الله عز وجل ثم ذكر عدة ألفاظ ومنها ـ متى، كم، أين. . . " (1).
وقد ثبت في صحيح الإمام مسلم من حديث معاوية بن الحكم السلمي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم سأل الجارية أين الله؟ (2).
--------------------------------------------
অতএব তারা বলে: "সৃষ্টির প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই মহান আল্লাহর জন্য অসম্ভব।" যদি এই সংজ্ঞাটি সঠিক হতো, তবে সৃষ্টির এমন বহু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ইবাদিদের নিকট আল্লাহর ক্ষেত্রে অস্বীকার করা অনিবার্য হয়ে পড়ত। যেমন—সৃষ্টি হিসেবে মানুষকে জীবিত, সক্ষম, ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন এবং বিদ্যমান হিসেবে অভিহিত করা হয়। এমতাবস্থায় ইবাদিদের অস্বীকৃতিমূলক মূলনীতি অনুযায়ী, তাদের জন্য এটি অস্বীকার করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে—আল্লাহ জীবিত, সক্ষম, ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন, বিদ্যমান, সর্বজ্ঞ কিংবা এমন কোনো বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যা সৃষ্টির জন্য সাব্যস্ত। এছাড়া ইবাদিদের এই গুণাবলি অস্বীকার করার বিষয়টি তাদেরকে আল্লাহ তা'আলাকে ত্রুটিপূর্ণ সৃষ্টিরাজির সাথে সাদৃশ্য প্রদানের দিকে ধাবিত করেছে। কেননা এমন কিছু সৃষ্টি রয়েছে যাদের কোনো নড়াচড়া নেই, শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি নেই, কথা বলতে পারে না এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারে না। সুতরাং তাদের এই মূলনীতিটি ত্রুটিযুক্ত, অশুদ্ধ এবং স্ববিরোধী, যা আল্লাহর ভীতির (তাকওয়া) ওপর ভিত্তি করে নয় বরং দার্শনিকদের অসার ধ্যান-ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা এমন কিছু শব্দ নিয়ে এসেছে যা দ্বারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে প্রশ্ন করা অসম্ভব মনে করা হয়, অতঃপর তারা কয়েকটি শব্দ উল্লেখ করেছে যার মধ্যে রয়েছে— কখন, কতটুকু, কোথায়... (১)।
আর ইমাম মুসলিমের সহীহ গ্রন্থে মুআবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আল্লাহ কোথায়? (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
7 - الصراط:يرى جمهور الإباضية أن الصراط المستقيم إنما قصد به طريق الإسلام ودين الله القيم. . . كما لا يرون غرابة في تعريف الصراط بالجسر. . . وقد ذكر الجيطالي أنه من الممكن عقلا أن يكون الصراط جسرا ممدودا فوق جهنم لأنه ليس فيه ما يحيله ولا في الشرع ما يبطله فإن القادر على أن يطير الطير في الهواء قادر على أن يسير الإنسان على الصراط والله أعلم بكيفيه (1).
وقد دلت السنة على ثبوت الصراط وعن أبي سعيد الخدري –رضي الله عنه– عن النبي – صلى الله عليه وسلم– قال في ذكر مشاهد يوم القيامة: «ثم يضرب الجسر على جهنم، وتحل الشفاعة، ويقولون: اللهم سلم سلم، قيل: يا رسول الله وما الجسر؟ قال: دحض مزلة، فيه خطاطيف وكلاليب وحسك - شوكة صلبة -، تكون بنجد، فيها شويكة، يقال لها: السعدان، فيمر المؤمنون كطرف العين، وكالبرق، وكالريح، وكالطير، وكأجاويد الخيل والركاب، فناج مسلّم، ومخدوش مرسل، ومكدوس في نار جهنم» رواه مسلم.
--------------------------------------------
৭ - সিরাত (পুলসিরাত):অধিকাংশ ইবাদি মতাবলম্বী মনে করেন যে, 'সিরাতে মুস্তাকিম' বা সরল পথ বলতে মূলত ইসলামের পথ এবং আল্লাহর সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনকেই বোঝানো হয়েছে। . . অনুরূপভাবে, সিরাতকে 'জিসর' বা সেতু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার মধ্যেও তারা কোনো অস্বাভাবিকতা দেখেন না। . . আল-জাইতালি উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তিগতভাবে এটি সম্ভব যে সিরাত হবে জাহান্নামের ওপর প্রসারিত একটি সেতু; কেননা এতে এমন কিছু নেই যা একে অসম্ভব করে তোলে এবং শরিয়তেও এর পরিপন্থী কোনো বিধান নেই। কারণ, যিনি শূন্যে পাখি ওড়াতে সক্ষম, তিনি মানুষকে সিরাতের ওপর দিয়ে পরিচালিত করতেও সক্ষম। আর আল্লাহই এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে সম্যক অবগত (১)।
সুন্নাহর প্রমাণাদি সিরাতের অস্তিত্বকে সুনিশ্চিত করে। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়ামত দিবসের ঘটনাবলি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন: «অতঃপর জাহান্নামের ওপর সেতু স্থাপন করা হবে এবং শাফায়াতের (সুপারিশের) অনুমতি দেওয়া হবে। তারা বলবে: হে আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এই সেতুটি কী? তিনি বললেন: এটি একটি পিচ্ছিল ও পদস্খলনপ্রবণ স্থান, যাতে থাকবে বাঁকানো লোহার কাঁটা, আংটা এবং শক্ত কাঁটা—যেমন নজদ অঞ্চলে 'সা’দান' নামক এক প্রকার কণ্টকযুক্ত উদ্ভিদ জন্মে। মুমিনগণ তা অতিক্রম করবে চোখের পলকের মতো, বিদ্যুতের মতো, বাতাসের মতো, পাখির মতো এবং দ্রুতগামী ঘোড়া ও সওয়ারির গতিতে। অতঃপর কেউ সহিহ-সালামতে নাজাত পাবে, কেউ ক্ষতবিক্ষত হয়ে মুক্তি পাবে, আর কাউকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে» (মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال البخاري رحمه الله: باب الصراط جسر جهنم، وأسند حديث أبي هريرة رضي الله عنه وفيه: ويضرب جسر جهنم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فأكون أول من يجيز ودعاء الرسل يومئذ اللهم سلم سلم» (1).
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: পরিচ্ছেদ: সিরাত হলো জাহান্নামের ওপর নির্মিত সেতু। তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: "আর জাহান্নামের ওপর সেতু স্থাপন করা হবে।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «অতঃপর আমিই হবো প্রথম ব্যক্তি যে এটি অতিক্রম করবে; আর সেদিন রাসূলগণের দোয়া হবে— হে আল্লাহ, নিরাপদ রাখুন, নিরাপদ রাখুন» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
8 - موقفهم من الصحابة:قال السالمي في تحفة الأعيان (1): "وأهل عمان هم أهل الطريق القويم، وأهل الصراط المستقيم، الذي جاء به محمد صلى الله عليه وسلم، ودعا العرب والعجم إليه، وجاهدهم عليه، حتى دخلوا فيه رغبا ورهبا، وعليه لقي ربه صلى الله عليه وسلم، وعليه مضى الخليفتان الراضيان المرضيان حتى لقيا ربهما.
وعليه مضى عثمان بن عفان في صدر خلافته حتى غير وبدل فقاموا عليه وعاتبوه فتوبوه، فرجع إلى تغييره، ثم عاتبوه فتوبوه، ثم عاد إلى تغييره وأعذروا إلى الله فيه حتى عذروا بين الخاص والعام، وطلبوا الاعتزال عن أمرهم فأبى فاجتمعوا عليه وحاصروه حتى قتل في داره، ثم اجتمعوا على علي بن أبي طالب فقدموه وبايعوه على القيام بأمر الله ومضى على ذلك ما شاء الله من الزمان، وقاتل أهل الفتنة القائمين لقتاله المتسترين عند العوام بطلب دم عثمان، حتى قتل منهم ألوفا وهزم صفوفا، ثم رجع القهقرى، وحكم الرجال على حكم أمضاه الله ليس لأحد أن يحكم فيه برأيه فعاتبوه فلم يعتبهم وخاصموه فخصموه فكانت
--------------------------------------------
৮ - সাহাবীগণের প্রতি তাঁদের অবস্থান:সালেমী তাঁর 'তুহফাতুল আ'ইয়ান' (১) গ্রন্থে বলেন: "ওমানবাসীরা সুদৃঢ় পথের অনুসারী এবং সেই সরল পথের পথিক যা নিয়ে মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন এবং যার দিকে তিনি আরব ও অনারবদের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন যতক্ষণ না তারা স্বেচ্ছায় ও ভয়ে এতে দাখিল হয়। এই পথেই তিনি তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং এই পথেই সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন দুই খলিফা তাঁদের রবের সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত অতিবাহিত হয়েছেন।
উসমান ইবনে আফফানও তাঁর খিলাফতের প্রারম্ভিক সময়ে এই পথেই ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি পরিবর্তন ও পরিমার্জন করেন। তখন লোকেরা তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হয় এবং তাঁকে তিরস্কার করে তওবা করায়। ফলে তিনি সেই পরিবর্তন থেকে নিবৃত্ত হন। অতঃপর তারা পুনরায় তাঁকে তিরস্কার করে তওবা করায়, কিন্তু তিনি আবারও সেই পরিবর্তনে ফিরে যান। তারা আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে নিজেদের দায়মুক্ত করেন এমনকি বিশিষ্ট ও সাধারণ সকল পর্যায়েই তা স্পষ্ট করেন। তারা তাঁকে ক্ষমতা থেকে অপসৃত হওয়ার দাবি জানায় কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন। ফলে তারা তাঁর বিরুদ্ধে একত্রিত হয় এবং তাঁকে অবরোধ করে, শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর নিজ গৃহেই নিহত হন। অতঃপর তারা আলী ইবনে আবি তালিবের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তাঁকে সামনে নিয়ে আসে। তারা আল্লাহর বিধান কায়েমের শর্তে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করে। আল্লাহ যতদিন চেয়েছিলেন ততদিন তিনি এর ওপর কায়েম ছিলেন। তিনি সেই ফিতনাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন যারা উসমানের রক্তের বদলা নেওয়ার আবরণে সাধারণ মানুষের নিকট নিজেদের আড়াল করে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দাঁড়িয়েছিল। তিনি তাদের হাজার হাজার লোককে হত্যা করেন এবং তাদের বাহিনীকে পরাজিত করেন। অতঃপর তিনি পশ্চাদপসরণ করেন এবং আল্লাহর ফয়সালাকৃত বিষয়ে মানুষের ফয়সালা গ্রহণ করেন, যেখানে কারো ব্যক্তিগত রায় দেওয়ার অবকাশ ছিল না। তখন তারা তাঁকে তিরস্কার করে কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেননি, তারা তাঁর সাথে বিতর্ক করে তাঁকে পরাজিত করে, ফলে তা ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لهم الحجة عليه فهم أن يرجع إليهم ويترك ما صالح عليه البغاة من التحكيم في حكم الله، فقامت عليه رؤساء قومه فأطاعهم، وعصى المسلمين فاعتزلوه بعد أن خلع نفسه بتحكيم الرجال في إمامته وهو يظن أن الأمر باق في يده وهيهات. . . فقد أعطى العهود والمواثيق على قبول حكم الرجلين فصارت الإمامة يلعب بها الحكمان إن قدموه أو عزلوه فاعتزله المسلمون عند ذلك وقدموا على أنفسهم إماما وهو عبد الله بن وهب الراسبي فسار إليهم علي فقاتلهم بالنهروان حتى قتل جامعتهم الذين هنالك، وهم قدر أربعة آلاف رجل لم ينج منهم إلا اليسير وهم يرون أن الموت هو النجاة، وهو الرواح إلى الجنة، فبقي من بقي منهم في الأمصار والنواحي، وهم خلق كثير فبقوا متمسكين بما وجدوا عليه أسلافهم، عاضين على وصية النبي صلى الله عليه وسلم في اتباع سنته وسنة الخلفاء الراشدين من بعده، فنصبوا على ذلك الأئمة وأذهبوا في رضا الله الأنفس. . . " ا. هـ المراد نقله منه.
وقال السالمي في تحفة الأعيان (1): في ذكر قدوم ابن بطوطة على عمان وما شاهده من أحوال الإباضية فيها: " أما رضاهم عن ابن ملجم فالله أعلم به، وهو قاتل علي ومن صح معه خبره واستحق معه الولاية فهو حقيق بالرضا، ومن لم يبلغه خبره ولا شهر عنه بما يستحق به الولاية
--------------------------------------------
তাদের নিকট তাঁর বিরুদ্ধে অকাট্য যুক্তি ছিল, ফলে তিনি তাদের নিকট ফিরে আসার এবং আল্লাহর বিধানের ক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের সাথে যে সালিশি মীমাংসার বিষয়ে আপস করেছিলেন তা বর্জন করার সংকল্প করেছিলেন। তখন তাঁর গোত্রের প্রধানরা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিল এবং তিনি তাদের কথা মেনে নিলেন; আর মুসলিমদের অবাধ্য হলেন। ফলে তাঁর ইমামতের বিষয়ে মানুষের সালিশি মেনে নিয়ে তিনি নিজেকে পদচ্যুত করার পর মুসলিমরা তাঁকে বর্জন করল, অথচ তিনি মনে করেছিলেন যে নেতৃত্ব তাঁর হাতেই রয়ে গেছে, কিন্তু তা ছিল সুদূরপরাহত... তিনি দুই ব্যক্তির ফয়সালা মেনে নেওয়ার ব্যাপারে কঠিন অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ফলে ইমামত সেই দুই সালিশকারকের ক্রীড়নকে পরিণত হলো; তারা চাইলে তাঁকে বহাল রাখতে পারত অথবা অপসারিত করতে পারত। তখন মুসলিমরা তাঁর থেকে পৃথক হয়ে গেল এবং নিজেদের জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করল, তিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব আল-রাসিবী। অতঃপর আলী তাদের দিকে অগ্রসর হলেন এবং নাহরাওয়ানে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন, এমনকি সেখানে উপস্থিত তাদের মূল দলটিকে হত্যা করলেন। তারা সংখ্যায় ছিল প্রায় চার হাজার জন, যাদের মধ্যে অতি সামান্য কিছু লোক ব্যতীত কেউ রক্ষা পায়নি। তারা বিশ্বাস করত যে মৃত্যুতেই মুক্তি এবং এটাই জান্নাতে যাওয়ার প্রশান্তি। এরপর বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে যারা অবশিষ্ট ছিল, তারা ছিল এক বিশাল জনসংখ্যা। তারা তাদের পূর্বসূরিদের আদর্শে অবিচল থাকল এবং নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এর সুন্নাহ ও তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণের অসিয়তকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরল। এই আদর্শের ভিত্তিতেই তারা ইমামদের নিযুক্ত করল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবন উৎসর্গ করল..." উদ্ধৃতির উদ্দেশ্য এখানে সমাপ্ত।
আস-সালিমী ‘তুহফাতুল আয়ান’ (১)-এ ইবনে বতুতার ওমানে আগমন এবং সেখানকার ইবাদিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে বলেন: "ইবনে মুলজামের প্রতি তাদের সন্তুষ্টির বিষয়টি আল্লাহই সম্যক অবগত। সে আলীর হত্যাকারী; যার নিকট তার সংবাদ সঠিকভাবে পৌঁছেছে এবং যার নিকট তার প্রতি আনুগত্য বা মিত্রতা সাব্যস্ত হয়েছে, সে-ই সন্তুষ্টি প্রকাশের দাবিদার। আর যার নিকট তার সংবাদ পৌঁছেনি কিংবা যার নিকট সে এমন কোনো বৈশিষ্ট্যে পরিচিত হয়নি যার ভিত্তিতে তার প্রতি মিত্রতা পোষণ করা যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فمذهبهم الوقوف على المجهول، وعلي قتل أهل النهروان فقيل: إن ابن ملجم قتله ببعض من قتل، ويوجد في آثارنا عن مشايخنا أنه لم يقتله إلا بعد أن أقام عليه الحجة وأظهر له خطأه في قتلهم وطلبه الرجوع فلم يرجع، وابن ملجم إنما قتل نفسا واحدة وعلي قد قتل بمن معه أربعة آلاف نفس مؤمنة في موقف واحد إلا قليلا منهم ممن نجا منهم، فلا شك أن جرمه أعظم من جرم ابن ملجم، فعلام يلام الأقل جرما ويترك الأكثر جرما، ليس هذا من الإنصاف في شيء".
كتاب (بيان الشرع) للشيخ العلامة القاضي محمد بن إبراهيم الكندي:
وهو من علماء النصف الثاني من القرن الخامس وعاش إلى أوائل القرن السادس قال عنه المؤرخ سيف بن حمود البطاشي (1): " كان من أشهر علماء زمانه، ومن كبار المؤلفين في عصره، ولو لم يكن له من المؤلفات إلا كتاب بيان الشرع لكفى، وهو عند أصحابنا المشارقة أشهر من نار على علم وتبلغ أجزاؤه اثنان وسبعون جزءا، وكان مرجعًا لمن جاء بعده من الفقهاء والمؤلفين، ولا يزد عليه في عدد الأجزاء إلا قاموس الشريعة، إلا أن المؤلفين من العلماء الذين جاؤوا بعد تأليف بيان الشرع كلهم عيال عليه، يستمدون منه، ويعترفون.
--------------------------------------------
তাদের মাযহাব হলো অজ্ঞাত বিষয়ে মৌন থাকা (তাওয়াককুফ)। আর আলী নাহরাওয়ানবাসীদের হত্যা করেছেন; ফলে বলা হয়েছে যে, ইবনে মুলজাম তাকে হত্যা করেছেন তাদেরই কারো বিনিময়ে যাদের তিনি হত্যা করেছিলেন। আমাদের মাশায়েখদের সূত্রে বর্ণিত আমাদের কিতাবসমূহে পাওয়া যায় যে, ইবনে মুলজাম তাকে তখনই হত্যা করেছিলেন যখন তিনি তার বিরুদ্ধে দলিল পেশ করেছিলেন এবং তাদের (নাহরাওয়ানবাসীদের) হত্যার ব্যাপারে তার ভুল স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন এবং তাকে সত্যের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ফিরে আসেননি। আর ইবনে মুলজাম মাত্র একজনকে হত্যা করেছিলেন, যেখানে আলী তার সঙ্গীদের নিয়ে একই স্থানে প্রায় চার হাজার মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন—তাদের মধ্য থেকে অল্প কয়েকজন যারা রক্ষা পেয়েছিলেন তারা ব্যতীত। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তার (আলীর) অপরাধ ইবনে মুলজামের অপরাধের চেয়ে বৃহত্তর। এমতাবস্থায় কেন কম অপরাধীকে তিরস্কার করা হবে আর অধিক অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হবে? এটি কোনোভাবেই ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের সংজ্ঞায় পড়ে না।
শায়খ আল্লামা আল-কাজী মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-কিন্দি রচিত (বায়ানুশ শর) গ্রন্থ:
তিনি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের আলেম ছিলেন এবং ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। ইতিহাসবিদ সাইফ বিন হামুদ আল-বাত্তাশি (১) তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি তার সময়ের অন্যতম প্রসিদ্ধ আলেম এবং তার যুগের শ্রেষ্ঠ লেখকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যদি তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে কেবল 'বায়ানুশ শর' গ্রন্থটিও থাকত, তবে তাই যথেষ্ট হতো। আমাদের মাশারিফা (পূর্বাঞ্চলীয়) আলেমদের নিকট এটি সুপ্রসিদ্ধ এবং এর খণ্ড সংখ্যা বাহাত্তরটি। তিনি তার পরবর্তী ফকিহ ও লেখকদের জন্য এক নির্ভরযোগ্য উৎস ছিলেন। খণ্ড সংখ্যার দিক থেকে 'কামুসুল শরীয়াহ' ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব একে অতিক্রম করতে পারেনি। উপরন্তু, 'বায়ানুশ শর' রচনার পর যে সমস্ত আলেম ও লেখক এসেছেন, তারা সকলেই এই গ্রন্থের ওপর নির্ভরশীল; তারা এখান থেকেই জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং তা স্বীকার করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال في اللمعة المرضية: "وإنه لكتاب ظاهر البركة، عم نفعه الآفاق، ومنه استمد أهل الوفاق. . . " أ. هـ (1).
وفي هذا الكتاب (2) سيرة لبعض الخوارج يدعى أبو الفضل عيسى بن نوري الخارجي، معروضة على اثنين من كبار علماء الإباضية وهما أبو عبد الله محمد بن محبوب وأبو سعيد محمد بن سعيد الكدمي.
قال الخارجي في سيرته: "ونبرأ من عدو الله إبليس – لعنه الله – وأتباعه من الفراعنة وغيرهم من أئمة الكفر، وأتباع أهل الطاغوت من لدن آدم إلى يوما هذا
… وبرئنا بعد النبي – صلى الله عليه وسلم – من أهل القبلة الذين هم من أهل القبلة، عثمان بن عفان، وعلي بن أبي طالب، وطلحة، والزبير، ومعاوية بن أبي سفيان، وعمرو بن العاص، وأبو موسى الأشعري، وجميع من رضي بحكومة الحكمين، وترك حكم الله إلى حكومة عبد الملك بن مروان وعبيد الله بن زياد والحجاج بن يوسف وأبي جعفر والمهدي وهارون وعبد الله بن هارون، وأتباعهم وأشياعهم، ومن تولاهم على كفرهم وجورهم من أهل البدع
--------------------------------------------
"আল-লুমআতুল মারদিয়্যাহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই এটি একটি সুপ্রকাশিত বরকতময় কিতাব, যার কল্যাণ দিগন্তব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং ঐক্যবদ্ধ ব্যক্তিগণ তা থেকে পাথেয় গ্রহণ করেছেন..." (সমাপ্ত)। (১)
এবং এই কিতাবে (২) জনৈক খারেজীর জীবন-বৃত্তান্ত রয়েছে যাকে আবুল ফজল ঈসা বিন নূরী আল-খারেজী বলা হয়; যা ইবাদি সম্প্রদায়ের দুইজন শ্রেষ্ঠ আলেমের নিকট পেশ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাহবুব এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-কাদামী।
উক্ত খারেজী তার জীবন-বৃত্তান্তের বিবরণে বলেছে: "আমরা আল্লাহর শত্রু ইবলিস—তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ—এবং ফেরাউনদের অন্তর্ভুক্ত তার অনুসারী ও কুফরের অন্যান্য ইমামদের থেকে এবং আদম (আ.) থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাগুতের অনুসারীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিচ্ছি
… এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর আমরা কিবলামুখী মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত সেই সকল লোক থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছি যারা হলেন: উসমান বিন আফফান, আলী বিন আবি তালিব, তালহা, জুবায়ের, মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান, আমর বিন আল-আস, আবু মুসা আল-আশআরী এবং এমন প্রতিটি ব্যক্তি যারা দুই সালিশের মীমাংসায় সন্তুষ্ট হয়েছিল, এবং আল্লাহর বিধান বর্জন করে আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান, উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, আবু জাফর, আল-মাহদী, হারুন ও আব্দুল্লাহ বিন হারুনের শাসনের আনুগত্য করেছে, এবং তাদের অনুসারী ও দলভুক্তদের থেকে, আর যারা তাদের কুফরী ও জুলুম সত্ত্বেও তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে এমন বিদআতিদের থেকে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবাদিয়্যাহ ফী মীযানি আহলিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأصحاب الهوى، لقول الله تعالى: {ومن أضل ممن اتبع هواه بغير هدى من الله، إن الله لا يهدي القوم الظالمين} [سورة القصص الآية 50].
قال أبو عبد الله محمد بن محبوب – رحمهم الله: "نوافقهم على هذا والبراءة ممن سماه".
قال أبو سعيد محمد بن سعيد – رضي الله عنه: "نوافقهم على البراءة ممن سمى على الشريطة بما سماهم من الكفر"أ. هـ (1).
ثم قال الخارجي: "وبرئنا من المعتزلة بما وقفوا -أي لم يبرئوا ولم يتولوا- عن عثمان بن عفان، وعلي بن أبي طالب، وطلحة، والزبير، وغيره من أهل القبلة وأهل الكفر
… قال أبو عبد الله -أي محمد بن محبوب-: "أما البراءة فنوافقهم. . " (2).
ثم قال الخارجي في آخر السيرة: "هذا دين الله، ودين ملائكته، وأنبيائه، ودين أوليائه، إليه ندعو، وبه نرضى، وعليه نحيا، وعليه نموت، ولا حكم إلا لله يقص الحق وهو خير الفاصلين. . . " أ. هـ (3)
هذا موقفهم من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضي عنهم فانظر كيف تبرءوا من أربعة من المبشرين بالجنة (عثمان وعلي
--------------------------------------------
এবং প্রবৃত্তি পূজারীরা, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর নির্দেশিত হেদায়েত ব্যতিরেকে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না} [সূরা আল-কাসাস, আয়াত ৫০]।
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব – রাহিমাহুমুল্লাহ – বলেছেন: "আমরা এই বিষয়ে তাদের সাথে একমত এবং তারা যাদের নাম উল্লেখ করেছে তাদের সাথে সম্পর্কছিন্ন করার বিষয়েও।"
আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ – রাযিয়াল্লাহু আনহু – বলেছেন: "নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তারা যাদের নাম উল্লেখ করেছে, তাদের কুফরির কারণে তাদের সাথে সম্পর্কছিন্ন করার বিষয়ে আমরা তাদের সাথে একমত।" সমাপ্ত (১)।
অতঃপর সেই খারিজি ব্যক্তি বলল: "আমরা মুতাজিলাদের সাথেও সম্পর্কছিন্ন করেছি; কারণ তারা উসমান ইবনে আফফান, আলী ইবনে আবি তালিব, তালহা, যুবায়ের এবং অন্যান্য কিবলাপন্থী ও কুফর অবলম্বনকারীদের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছে—অর্থাৎ তারা তাদের থেকে বিমুখতাও প্রকাশ করেনি, আবার তাদের প্রতি আনুগত্যও প্রকাশ করেনি
… আবু আবদুল্লাহ —অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব— বলেন: "সম্পর্কছিন্ন করার বিষয়ে আমরা তাদের সাথে একমত..." (২)।
অতঃপর সেই খারিজি তার সীরাতের শেষে বলল: "এটিই আল্লাহর দ্বীন, তাঁর ফেরেশতাদের দ্বীন, তাঁর নবীদের দ্বীন এবং তাঁর বন্ধুদের (আউলিয়া) দ্বীন; আমরা এর দিকেই আহ্বান জানাই, এতেই সন্তুষ্ট থাকি, এর ওপরই জীবন অতিবাহিত করি এবং এর ওপরই মৃত্যুবরণ করি। আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোনো বিধান নেই, তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ বিচারক..." সমাপ্ত (৩)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রতি এটিই ছিল তাদের অবস্থান। লক্ষ্য করুন, তারা কীভাবে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত চারজন সাহাবীর (উসমান এবং আলী...) সাথে সম্পর্কছিন্ন করেছে।
--------------------------------------------