(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: -)
الإسعاف فى أحكام الأوقاف القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإسعاف فى أحكام الأوقاف
المؤلف: إبراهيم بن موسى بن أبي بكر ابن الشيخ علي الطرابلسي، الحنفي (ت 922هـ)
الناشر: طبع بمطبعة هندية بشارع المهدى بالأزبكية بمصر المحمية
الطبعة: الثانية، 1320 هـ - 1902 م
عدد الصفحات: 146
أعده للشاملة: مصطفى معروف
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1433
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
কিতাব: আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
লেখক: ইব্রাহিম বিন মুসা বিন আবি বকর ইবনুল শায়খ আলী আত-তারাবুলুসি, আল-হানাফি (মৃত্যু: ৯২২ হিজরি)
প্রকাশক: মিশরের আজবাকিয়ার আল-মাহদি রোডে অবস্থিত মাতবাআ হিন্দিয়্যাহ কর্তৃক মুদ্রিত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩২০ হিজরি - ১৯০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুস্তাফা মারুফ
[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কিতাবের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ শা'বান ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب
الإسعاف فى أحكام الأوقاف
تأليف
الشيخ الإمام العلامة حسام المعاني النعمان الثاني
برهان الدين إبراهيم بن موسى بن أبى بكر
ابن الشيخ على الطرابلسي الحنفي
على نفقة
أمين هندية
الطبعة الثانية
طبع بمطبعة هندية بشارع المهدي بالأزبكية بمصر المحمية
سنة 1902 ـ 1320
গ্রন্থ
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
রচনা
শাইখ ইমাম আল্লামা হুসামুল মাআনি আন-নুমান আস-সানি
বুরহানুদ্দিন ইবরাহিম বিন মুসা বিন আবি বকর
ইবনে শাইখ আলি আত-তারাবুলুসি আল-হানাফি
অর্থায়নে
আমিন হিন্দিয়া
দ্বিতীয় সংস্করণ
সুরক্ষিত মিশরের আজবাকিয়ার মাহদি রোডে অবস্থিত হিন্দিয়া প্রেসে মুদ্রিত
১৯০২ — ১৩২০ সন
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي خلق الإنسان فى أحسن تقويم، وهدى من شاء منه إلى الصراط المستقيم، وأمره بالصلاة والصدقة والصيام، والحج إلى بيته الحرام، ليفوز بالنعيم المقيم، وجاد على من وقف فى سبيل الخيرات نفسه وماله، لما علم أن إليه مآله، بالفضل الجسيم، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له البر الجواد الكريم، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله الموصوف بالخلق العظيم، الواقف نفسه الزكية للشفاعة العظمى، يوم يفر الحميم من الحميم، والمرء من أخيه وأمه وأبيه، وصاحبته وبنيه، لكل امرئ منهم يومئذ شأن يغنيه، ذلك تقدير العزيز العليم (وبعد)
فإن العلماء الأولين، قد جعلهم الله رحمة للآخرين، لبذل مهجهم فى ضبط أحكام دين الإسلام، من كل واجب مندوب ومباح وحرام، وألهم الخلفاء الماهرين، ترتيبه على أبواب وفصول نعمة للآخرين، وان كتاب أحكام الأوقاف للإمام الهمام أبى بكر أحمد بن عمرو الخصاف بوأه الله دار السلام، لمَّا كان العمدة فى هذا الفن من تأليف الأوائل، وكان مكرر الصور والمسائل، مشحونا بجعل أحكام الوصايا له دلائل، وكان كثير الأبواب، غير خال عن الأطناب، اختصرته إلى كتاب احتوى على ما فيه من المقاصد، وعلى ما فى كتاب هلال بن يحيى من الزوائد، وضممت إليه كثيراً من المسائل والأصول ورتبته على أبواب وفصول، ليسهل بها الوصول إلى ما فيه منقول، وسميته الإسعاف، فى أحكام الأوقاف، وبالغت فى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দিয়েছেন। তিনি তাকে সালাত, সদকা, সিয়াম এবং তাঁর পবিত্র ঘরে হজের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সে চিরস্থায়ী নেয়ামত লাভে ধন্য হতে পারে। তিনি সেই ব্যক্তির ওপর মহা অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন, যে কল্যাণের পথে নিজের জান ও মাল বিলিয়ে দিয়েছে; যেহেতু সে জানে যে, আল্লাহর কাছেই তার প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহিমান্বিত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি পরম দাতা ও অতি দয়ালু। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি মহান চরিত্রের অধিকারী। তিনি সেই মহান সুপারিশের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সেই দিনের জন্য, যেদিন বন্ধু বন্ধুর থেকে পলায়ন করবে, আর মানুষ তার ভাই, মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের ছেড়ে পালাবে; সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন অবস্থা হবে যা তাকে অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ করে রাখবে। এটি মহা পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্ধারিত। (অতঃপর)
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী আলেমগণকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন; কারণ তাঁরা দ্বীন ইসলামের বিধানসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন—তা হোক ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মুবাহ কিংবা হারাম। তিনি পরবর্তী যুগের বিজ্ঞ উত্তরসূরিদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এই বিধানগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করার জন্য, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত। ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনে আমর আল-খাসসাফ (আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে স্থান দান করুন) রচিত 'আহকাম আল-আওকাফ' গ্রন্থটি যেহেতু এই শাস্ত্রের প্রাচীন কিতাবগুলোর মধ্যে একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে গণ্য, কিন্তু এতে মাসআলা ও বর্ণনার পুনরাবৃত্তি ছিল এবং ওসিয়ত সংক্রান্ত বিধানগুলোকে দলীল হিসেবে পেশ করার আধিক্য ছিল। তদুপরি এটি অনেক অধ্যায় সম্বলিত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্ত ছিল না। তাই আমি এই গ্রন্থটিকে এমনভাবে সংক্ষিপ্ত করেছি যা মূল উদ্দেশ্যসমূহকে ধারণ করে এবং হিলাল ইবনে ইয়াহইয়ার কিতাবের অতিরিক্ত মাসআলাগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেই সঙ্গে আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও মূলনীতি (الأصول) এতে সন্নিবেশিত করেছি এবং অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি যাতে কিতাবটিতে বর্ণিত (منقول) বিষয়সমূহ সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। আমি এর নাম দিয়েছি 'আল-ইসআফ ফী আহকাম আল-আওকাফ' এবং এই কাজে আমি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تصريح الكلام، حتى صارت مسائله على طرف التمام، والحمد لله على المبدا والتمام، والصلاة والسلام على سيدنا محمد سيد الأنام، وعلى آله وأصحابه الغر الكرام، الأئمة البررة العظام، عدد قطر الغمام.
كتاب الوقفهو فى اللغة الحبس، يقال وقفت الدابة إذا حبستها على مكانها ومنه الموقف لأن الناس يوقفون أي يحبسون للحساب وفى الشرع هو حبس العين على حكم ملك الواقف أو عن التمليك والتصدق بالمنفعة على اختلاف الرأيين وسنبينه وهو جائز عند علمائنا أبى حنيفة وأصحابه رحمهم الله وذكر فى الأصل كان أبو حنيفة رحمه الله لا يجيز الوقف فأخذ بعض الناس بظاهر هذا اللفظ وقال لا يجوز الوقف عنده وقال الخصاف أخبرني أبى الحسن بن زياد قال قال أبو حنيفة رحمه الله لا يجوز الوقف إلا ما كان منه على طريق الوصايا وعن أبى يوسف رحمه الله كان يقول يقول أبى حنيفة حتى قيل له أنه كان لعمر بن الخطاب رضي الله عنه أرض تدعى ثمغ فوقفها وسيأتي مسندا فرجع عنه وقال لو بلغ هذا الحديث أبا حنيفة لرجع والصحيح أنه جائز عند الكل وإنما الخلاف بينهم فى اللزوم وعدمه فعند أبى حنيفة رحمه الله يجوز جواز الإعارة فتصرف بينهم فى اللزوم وعدمه فعند أبى حنيفة رحمه الله يجوز جواز الإعارة فتصرف منفعته إلى جهة الوقف مع بقاء العين على حكم ملك الواقف ولو رجع عنه حال حياته جاز مع الكراهة ويورث عنه ولا يلزم إلا بأحد أمرين إما أن يحكم به القاضي بدعوى صحيحة وبينة بعد إنكار المدعى عليه فحينئذ يلزم لكونه مجتهدا فيه واختلفوا فى قضاء المحكم والصحيح انه لا يرفع الخلاف ولو كان الواقف مجتهدا يرى لزوم الوقف فأمضى رأيه فيه وعزم على زوال ملكه عنه أو مقلدا فسأل فأفتى بالجواز وعزم على ذلك لزم الوقف ولا يصح الرجوع فيه وأن تبدل رأى
বক্তব্যের সুস্পষ্ট বর্ণনা, এমনকি এর মাসআলাসমূহ পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। শুরু এবং শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি মানবজাতির শ্রেষ্ঠ, এবং তাঁর পরিবার ও উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য মর্যাদাবান সাথীদের ওপর, যাঁরা পুণ্যবান ও মহান ইমাম ছিলেন—তাঁদের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক আকাশের মেঘমালার বারিবিন্দুর সমপরিমাণ।
ওয়াকফ অধ্যায়অভিধানে এর অর্থ হলো আবদ্ধ করা। বলা হয়ে থাকে— ‘আমি চতুষ্পদ জন্তুটিকে ওয়াকফ করেছি’, যখন আমি একে তার নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রেখেছি। এখান থেকেই ‘মাওকিফ’ (অবস্থানস্থল) শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে, কারণ হিসাব-নিকাশের জন্য মানুষকে সেখানে আটকে রাখা হবে। আর শরীয়তের পরিভাষায় এটি হলো মূল সম্পদকে ওয়াকফকারীর মালিকানাধীন রেখে অথবা মালিকানা থেকে মুক্ত করে তার উপকারিতা সদকা করার উদ্দেশ্যে আবদ্ধ রাখা—এ ব্যাপারে দুটি ভিন্ন মত রয়েছে যা আমরা অচিরেই বর্ণনা করব। আমাদের আলেমগণ— ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবর্গের (রহ.) নিকট এটি বৈধ। ‘আল-আসল’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ওয়াকফকে বৈধ মনে করতেন না। ফলে কিছু মানুষ এই শব্দের বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে বলেছেন যে, তাঁর নিকট ওয়াকফ বৈধ নয়। ইমাম খাসসাফ (রহ.) বলেন, আমাকে আমার পিতা হাসান ইবনে যিয়াদ সংবাদ দিয়েছেন যে, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: অসিয়তের পদ্ধতি ছাড়া ওয়াকফ বৈধ নয়। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি ইমাম আবু হানিফার মতই পোষণ করতেন; পরিশেষে তাঁকে যখন জানানো হলো যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর ‘সামগ’ নামক একখণ্ড জমি ছিল যা তিনি ওয়াকফ করেছিলেন—যা অচিরেই বর্ণিত (مسندا) হবে—তখন তিনি তাঁর মত থেকে ফিরে আসেন এবং বলেন: ‘এই হাদিস যদি ইমাম আবু হানিফার নিকট পৌঁছাত, তবে তিনিও অবশ্যই ফিরে আসতেন।’ বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুযায়ী এটি সকলের নিকট বৈধ। মূলত তাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্য হলো ওয়াকফের স্থায়িত্ব বা বাধ্যবাধকতা এবং তা না হওয়া নিয়ে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নিকট এটি ব্যবহারের জন্য ধার দেওয়ার মতো বৈধ; অর্থাৎ মূল সম্পদ ওয়াকফকারীর মালিকানাধীন থাকাবস্থায় এর উপকারিতা ওয়াকফকৃত খাতে ব্যয় হবে। যদি তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এর থেকে ফিরে আসেন তবে তা অপছন্দনীয় হওয়া সত্ত্বেও বৈধ হবে এবং এটি তাঁর উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টিত হবে। দুটি বিষয়ের কোনো একটি ছাড়া এটি স্থায়ী বা বাধ্যতামূলক হবে না: হয় বিবাদীর অস্বীকারের পর কোনো বিচারক সঠিক দাবি ও প্রমাণের ভিত্তিতে এর ওপর রায় দেবেন; সে ক্ষেত্রে এটি ইজতিহাদযোগ্য বিষয় হওয়ার কারণে বাধ্যতামূলক হবে। সালিসকারীর রায়ের ব্যাপারে ফকিহগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো এটি মতপার্থক্য নিরসন করে না। আর যদি ওয়াকফকারী নিজেই মুজতাহিদ হন এবং ওয়াকফের বাধ্যবাধকতায় বিশ্বাসী হয়ে নিজ মতানুযায়ী তা কার্যকর করেন ও মালিকানা ত্যাগের সংকল্প করেন, অথবা তিনি যদি মুকাল্লিদ হন এবং জিজ্ঞাসা করার পর তাঁকে বৈধতার ফতোয়া দেওয়া হয় এবং তিনি সেই সংকল্প করেন, তবে ওয়াকফ স্থায়ী হয়ে যাবে এবং এরপর আর তা থেকে ফিরে আসা বৈধ হবে না, যদিও পরবর্তীতে মত পরিবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
المجتهد أو أفتى المقلد بعدم اللزوم بعد ذلك أو يخرجه مخرج الوصية فيقول أوصيت بغَّلة أرضى أو دارى أو يقول جعلتها وقفا بعد موتى فتصدقوا بها على المساكين أو يوصى بأن توقف فإنه يلزم فى رواية عنه والصحيح أنه يصح من الثلث غير لازم اتفاقا لكونه وصية محضة واللزوم إنما هو فى حق ورثته حتى لو مات من غير رجوع يلزمهم التصدق بمنافعه مؤبدا ولا يمكنهم أن يتملكوه بعده لتأبد الوصية فيه بعدم إمكان انقطاع الفقراء بخلاف الوصية بخدمة عبده لإنسان بعينه فإنه إذا مات الموصى له يرجع العبد إلى ورثة الموصى لانتهائها بموت المستحق للخدمة وعند أبى يوسف ومحمد رحمهما الله يلزم الوقف بدون هذين الشرطين وهو قول عامة العلماء وهو الصحيح لأن النبى صلى الله عليه وسلم تصدق بسبع حوائط فى المدينة وإبراهيم الخليل عليه السلام وقف أوقافاً وهى باقية إلى يومنا هذا وقد وقف الخلفاء الراشدون وغيرهم من الصحابة رضي الله عنهم وسيأتي مصرحا به ثم أن أبا يوسف رحمه الله قال يصير وقفا بمجرد القول لأنه بمنزلة الإعتاق عنده وعليه الفتوى وقال محمد رحمه الله لا يصير وقفا إلا بأربعة شروط وستأتي فى أول الفصول ولأبى حنيفة رحمه الله ما روى عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال لما نزلت سورة النساء سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا حبس بعد سورة النساء وما روى لا حبس عن فرائض الله، وعن شريح رحمه الله جاء محمد ببيع الحبس ولأنه عقد على منفعة معدومة فيكون جائزاً غير لازم كما هو الصحيح عنه أو غير جائز كما تقدم والدليل على أنه باق على حكم ملكه بعد الوقف أنه لو قال تصدقوا على فلان فإذا مات فعلى أولاد فلان يفعل كما قال وأنه يجوز الإنتفاع به زراعة وسكنى وأن ولاية التصرف فيه إليه ولهذا عرَّف على قوله بأنه حبس العين على حكم ملك إلى آخره ولأنه لا يمكن أن يزول ملكه عنه لا إلى مالكه مع بقائه لأنه غير مشروع إذ حينئذ يصير
মুজতাহিদ (المجتهد) বা মুকাল্লিদ (المقلد) যদি পরবর্তীতে এটি আবশ্যক (اللزوم) নয় বলে ফতোয়া প্রদান করেন, অথবা তিনি একে অসিয়ত (الوصية) হিসেবে গণ্য করেন এবং বলেন: 'আমি আমার জমির ফসল বা আমার ঘরের ফসল অসিয়ত করলাম', অথবা বলেন: 'আমি আমার মৃত্যুর পর এটিকে ওয়াকফ (وقفا) হিসেবে নির্ধারণ করলাম, সুতরাং তোমরা এটি মিসকিনদের (المساكين) মাঝে সদকা করে দিও'—অথবা অসিয়ত করেন যে একে ওয়াকফ করা হোক, তবে তাঁর একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এটি আবশ্যক (يلزم) হয়ে যাবে। কিন্তু বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো, এটি সর্বসম্মতিক্রমে এক-তৃতীয়াংশ (الثلث) থেকে কার্যকর হবে এবং এটি আবশ্যক (غير لازم) হবে না, কারণ এটি নিছক একটি অসিয়ত (وصية)। আর এর আবশ্যকতা (اللزوم) কেবল তাঁর ওয়ারিশদের (ورثته) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, এমনকি তিনি যদি তা প্রত্যাহার করা ছাড়াই মারা যান, তবে এর উপযোগগুলো স্থায়ীভাবে সদকা করা তাদের জন্য আবশ্যক (يلزمهم) হয়ে যাবে। الفقراء (দরিদ্রদের) প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় অসিয়তটি স্থায়ী রূপ নেয় বলে তারা তাঁর মৃত্যুর পর এর মালিকানা গ্রহণ করতে পারে না। এটি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য নিজের দাসের খেদমত করার যে অসিয়ত (الوصية), তার থেকে ভিন্ন; কারণ সেক্ষেত্রে যার অনুকূলে অসিয়ত (الموصى له) করা হয়েছে সে মারা গেলে দাসটি অসিয়তকারীর (الموصى) ওয়ারিশদের (ورثة) কাছে ফিরে আসে, কেননা খেদমতের অধিকারীর মৃত্যুর মাধ্যমে সেই সেবার সমাপ্তি ঘটে। ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে এই দুই শর্ত ছাড়াই ওয়াকফ (الوقف) আবশ্যক (يلزم) হয়ে যায়; এটিই সাধারণ উলামায়ে কেরামের (العلماء) অভিমত এবং এটিই বিশুদ্ধ (الصحيح)। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার সাতটি বাগান সদকা করেছিলেন এবং ইব্রাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম) বিভিন্ন ওয়াকফ (أوقافاً) করেছিলেন যা আজও বিদ্যমান রয়েছে। খুলাফায়ে রাশেদিন এবং অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম (الصحابة) (রাযি.) ওয়াকফ করেছেন এবং এ বিষয়টি সামনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হবে। এরপর ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেছেন, কেবল মৌখিক উচ্চারণের মাধ্যমেই তা ওয়াকফ (وقفا) হয়ে যায়, কারণ এটি তাঁর নিকট দাসমুক্ত করার (الإعتاق) সমতুল্য এবং এর উপরেই ফতোয়া (الفتوى) প্রদান করা হয়। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেছেন, চারটি শর্ত পূরণ ছাড়া তা ওয়াকফ (وقفا) হবে না, যা অধ্যায়গুলোর (الفصول) শুরুতে বিস্তারিত আসবে। আর ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর স্বপক্ষে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে যে, তিনি বলেন, যখন সূরা আন-নিসা নাজিল হলো, তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'সূরা নিসা নাজিলের পর আর কোনো সম্পত্তি আটকে রাখা (حبس) নেই'। আরও বর্ণিত (روى) হয়েছে যে, 'আল্লাহর নির্ধারিত ফরজের (فرائض) বিপরীতে কোনো সম্পত্তি আটকে রাখা (حبس) নেই'। আর কাজী শুরাইহ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, 'মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আটকে রাখা বা ওয়াকফকৃত (الحبس) সম্পত্তি বিক্রয় করার অনুমতি নিয়ে এসেছেন'। এছাড়া এটি যেহেতু এমন এক উপযোগের ওপর চুক্তি (عقد) যা বর্তমানে অবিদ্যমান, তাই এটি বৈধ (جائزاً) হলেও আবশ্যক (غير لازم) নয়—যেমনটি তাঁর থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (الصحيح) মত, অথবা এটি অবৈধ (غير جائز) যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াকফ করার পরও যে এটি তাঁর মালিকানার হুকুমেই বহাল থাকে তার প্রমাণ হলো, তিনি যদি বলেন, 'অমুকের ওপর সদকা করো এবং তার মৃত্যুর পর অমুকের সন্তানদের ওপর', তবে তিনি যেমন বলেছেন তেমনই করা হবে। এছাড়া এর মাধ্যমে চাষাবাদ এবং বসবাসের দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ (يجوز), এবং এটি পরিচালনার কর্তৃত্ব (ولاية التصرف) তাঁর হাতেই থাকে। একারণেই তিনি তাঁর মতানুসারে ওয়াকফের সংজ্ঞায় বলেছেন—মালিকানা বজায় রেখে মূল সম্পদ আটকে রাখা (حبس العين) ইত্যাদি। তদুপরি, মূল বস্তু বিদ্যমান থাকা অবস্থায় মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে অন্য কোনো মালিকের কাছে চলে যাওয়া অসম্ভব, কারণ এটি শরয়িভাবে অনুমোদিত (غير مشروع) নয়, কেননা সেক্ষেত্রে এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
كالسائبة بخلاف الإعتاق لأنه إتلاف لمالية المعتق وبخلاف المسجد لأنه جعله لله تعالى خالصا ولهذا لا يجوز الإنتفاع به وهذا لم ينقطع حق العبد عنه فلم يصر خالصا لله تعالى ولما كان الوقف عندهما إسقاط الملك لا إلى مالك كالمسجد عرفوه بأنه حبس العين عن التمليك والتصدق بالمنفعة وأصل قولهما ما رواه أبو بكر أحمد بن عمرو الخصاف فى كتابه قال حدثنا محمد بن عمر الواقدي قال أنبأنا صالح بن جعفر عن المسور بن رفاعة قال قتل مخيريق على رأس اثنين وثلاثين شهراً من مهاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم وأوصى أن أصبت فأموالي لرسول الله صلى الله عليه وسلم يتصدق بها قال وحدثنا عن عبد الحميد بن جعفر عن محمد بن إبراهيم قال حدثني عبد الله بن كعب بن مالك قال مخيريق يوم أحد فأوصى إن أصبت فأموالي لرسول الله صلى الله عليه وسلم يضعها حيث أراه الله تعالى فهي عامة صدقات رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحدثني محمد بن بشر بن حميد عن أبيه قال سمعت عمر بن عبد العزيز رحمة الله عليه يقول فى خلافته بخناصرة سمعت بالمدينة والناس بها يومئذ كثير من مشيخة من المهاجرين والأنصار أن حوائط رسول الله صلى الله عليه وسلم السبعة التي وقف من أموال مخيريق وقال إن أُصبت فأموالي لمحمد يضعها حيث أراه الله تعالى وقتل يوم أُحد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم مخيريق خير يهود، قال وحدثني ابن أبى سبره عن إسماعيل بن أبى حكيم قال شهدت عمر بن عبد العزيز ورجل يخاصم إليه فى عقار حبس لا يباع ولا يوهب ولا يورث فقال يا أمير المؤمنين كيف تجوز الصدقة لمن لا يأتي ولم يدر أيكون أم لا فقال عمر رضي الله عنه أردت أمرا عظيما فقال يا أمير المؤمنين إن أبا بكر وعمر كانا يقولان لا تجوز الصدقة ولا تحل حتى تقبض قال عمر بن عبد العزيز رحمه الله الذين قضوا بما تقول هم الذين حبسوا العقار والأرضين على أولادهم وأولاد أولادهم عمر وعثمان وزيد ابن ثابت
এটি 'সাইবা' (মুক্ত উট) সদৃশ, যা দাসমুক্ত করার (إعتاق) বিপরীত; কারণ দাসমুক্তি হলো মুক্তকারীর মালিকানাধীন সম্পদের বিলোপ ঘটানো। আবার এটি মসজিদেরও বিপরীত; কারণ মসজিদকে মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে উৎসর্গ করা হয় এবং একারণে তা থেকে (ব্যক্তিগত) উপকার গ্রহণ করা বৈধ নয়। পক্ষান্তরে, এতে (ওয়াকফে) বান্দার হক বিচ্ছিন্ন হয় না, তাই তা মহান আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশ হয়ে যায় না। যেহেতু তাঁদের (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ) মতে ওয়াকফ (وقف) হলো মালিকানা ত্যাগ করা যা কোনো (সুনির্দিষ্ট) মালিকের দিকে বর্তায় না—যেমন মসজিদ—সেহেতু তাঁরা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো মূল সত্তাকে মালিকানাভুক্ত হওয়া থেকে আটকে রাখা (حبس) এবং এর মুনাফা সদকা করে দেওয়া।
তাঁদের মতের ভিত্তি হলো সেই বর্ণনা যা আবু বকর আহমদ ইবনে আমর আল-খাসসাফ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সালেহ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিসওয়ার ইবনে রিফাআ থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের বত্রিশ মাস পূর্ণ হওয়ার সময় মুখাইরিক নিহত হন। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যে, "আমি যদি আক্রান্ত হই (নিহত হই), তবে আমার সম্পদসমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য; তিনি তা সদকা করবেন।" তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিমের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: উহুদের যুদ্ধের দিন মুখাইরিক অসিয়ত করেছিলেন যে, "আমি যদি আক্রান্ত হই, তবে আমার সম্পদসমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য; আল্লাহ তাআলা তাঁকে যেখানে নির্দেশ দেবেন, তিনি সেখানে তা ব্যয় করবেন।" অতঃপর সেগুলোই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ সদকা।
মুহাম্মাদ ইবনে বিশর ইবনে হুমাইদ তাঁর পিতার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ.-কে তাঁর খিলাফতকালে খুনাসিরা নামক স্থানে বলতে শুনেছি: আমি মদিনায় থাকা অবস্থায়—তখন সেখানে মুহাজির ও আনসারদের বহু প্রবীণ ব্যক্তিত্ব (مشيخة) উপস্থিত ছিলেন—শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাতটি বাগান মুখাইরিকের সম্পদ থেকে ওয়াকফ (وقف) করা হয়েছিল। তিনি (মুখাইরিক) বলেছিলেন, "আমি যদি আক্রান্ত হই, তবে আমার সম্পদসমূহ মুহাম্মদের জন্য; আল্লাহ তাআলা তাঁকে যেখানে নির্দেশ দেবেন, তিনি সেখানে তা ব্যয় করবেন।" তিনি উহুদের যুদ্ধে নিহত হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "মুখাইরিক ইয়াহুদিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।"
তিনি বলেন, ইবন আবি সাবরা ইসমাঈল ইবনে আবি হাকিমের সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট উপস্থিত ছিলাম যখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এমন এক স্থাবর সম্পত্তি (عقار) নিয়ে বিবাদ করছিল যা আটকে রাখা (حبس) হয়েছে; যা বিক্রি করা যায় না, দান করা যায় না এবং উত্তরাধিকার হিসেবেও রাখা যায় না। সে বলল, "হে আমিরুল মুমিনিন! এমন ব্যক্তির অনুকূলে সদকা কীভাবে বৈধ হতে পারে যে এখনও আসেনি এবং সে আসবে কি না তাও জানা নেই?" উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, "তুমি একটি গুরুতর কথা বলেছ।" সে বলল, "হে আমিরুল মুমিনিন! আবু বকর ও উমর বলতেন, সদকা হস্তগত না করা পর্যন্ত তা বৈধ ও হালাল হয় না।" উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ. বললেন, "তুমি যা বলছ, তার ভিত্তিতে যারা ফয়সালা দিয়েছেন তারাই সেই সকল ব্যক্তি যারা তাদের স্থাবর সম্পত্তি (عقار) ও ভূমিগুলো তাদের সন্তান এবং সন্তানদের সন্তানদের জন্য আটকে রেখেছেন (حبس); আর তারা হলেন উমর, উসমান ও যায়েদ ইবনে সাবিত।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فإياك والطعن على من سلفك والله ما أحب أني قلت ما قلت وأن لي جميع ما تطلع عليه الشمس أو تغرب فقال يا أمير المؤمنين إنه لم يكن لي به علم فقال عمر استغفر ربك وإياك والرأي فيما مضى من سلفك أو لم تسمع قول عمر رضي الله عنه للنبي صلى الله عليه وسلم ان لي مالا أحبه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبس أصله وسبل ثمره ففعل فلقد رأيت عبد الله بن عبيد الله يلي صدقة عمر وأنا بالمدينة وال عليها فيرسل إلينا من ثمرته، قال وحدثني أبى سبرة عن المسور بن رفاعة عن ابن كعب القرظي قال كانت الحبس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم سبعة حوائط بالمدينة الأعواف والصافية والدلال والمثيب والبرقة وحسنا والمشربة أم إبراهيم وإنما سميت مشربة أم إبراهيم لأن أم إبراهيم ماريه كانت تنزلها قال ابن كعب وقد حبس المسلمون بعده على أولادهم وأولاد أولادهم وقد حبس أبو بكر رضي الله عنه رباعا له بمكة وتركها فلا نعلم أنها ورثت عنه ولكن يسكنها من حضر من ولد ولده نسله بمكة ولم يتوارثوها فإما ان تكون صدقة موقوفة أو تركوها على ما تركها أبو بكر رضي الله عنه وكرهوا مخالفة فعله فيها وهذا عندنا شبيه بالوقف وهى مشهورة بمكة، وحبس عمر رضي الله عنه قال حدثنا يزيد بن هرون قال حدثنا عبيد الله بن عون عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنه قال أصاب عمر رضي الله عنه مرة أرضا بخيبر فقال يا رسول الله إني أصبت أرضا بخيبر لم أصب مالا قط أنفس عندي منه فما تأمرني فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن شئت حبست أصلها وتصدقت بثمرتها فجعلها عمر رضي الله عنه لا تباع ولا توهب ولا تورث تصدق بها على الفقراء والمساكين وابن السبيل وفى الرقاب والغزاة فى سبيل الله والضيف لا جناح على من وليها أن يأكل منها بالمعروف وأن يطعم صديقا غير متموّل منه وأوصى به إلى حفصة أم المؤمنين ثم إلى الأكابر من آل عمر، وقال وحدثنا
অতএব আপনার পূর্বসূরিদের (سلف) সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। আল্লাহর কসম! সূর্য যার ওপর উদিত হয় বা অস্ত যায়, সেই সবকিছুর বিনিময়েও আমি যা বলেছি তা বলতে পছন্দ করতাম না। তিনি বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন, এ বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না। ওমর (রা.) বললেন, তোমার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তোমার পূর্বসূরিদের (سلف) বিগত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিজস্ব মতামত (رأي) প্রদান থেকে সাবধান থাকো। তুমি কি নবী (সা.)-এর প্রতি ওমর (রা.)-এর সেই উক্তি শোননি যে, "আমার কাছে এমন এক সম্পদ আছে যা আমি পছন্দ করি"? তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, "এর মূল অংশকে আটকে রাখো (حبس) এবং এর উৎপাদিত ফসল আল্লাহর পথে উৎসর্গ করো।" অতঃপর তিনি তাই করলেন। আমি মদিনায় থাকাকালীন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহকে ওমরের সদকা (صدقة) বা ওয়াকফ পরিচালনা করতে দেখেছি এবং আমি মদিনার শাসক থাকাকালীন তিনি সেই ফল থেকে আমাদের কাছে পাঠাতেন।
তিনি বলেন, আমার পিতা সাবরা আমাকে আল-মিসওয়ার ইবনে রিফায়া থেকে, তিনি ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মদিনায় সাতটি বাগান ওয়াকফ (حبس) করা হয়েছিল: আল-আওয়াফ, আস-সাফিয়া, আদ-দালাল, আল-মুসাইব, আল-বারকা, হুসনা এবং মাশরাবা উম্মে ইব্রাহিম। মাশরাবা উম্মে ইব্রাহিম নাম হওয়ার কারণ হলো ইব্রাহিমের মা মারিয়া সেখানে অবস্থান করতেন। ইবনে কাব বলেন, তাঁর পরবর্তী সময়ে মুসলমানরা তাদের সন্তানদের এবং সন্তানদের সন্তানদের জন্য সম্পদ ওয়াকফ (حبس) করেছেন। আবু বকর (রা.) মক্কায় তাঁর কিছু স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ (حبس) করেছিলেন এবং তা রেখে গিয়েছিলেন; আমাদের জানামতে সেটি উত্তরাধিকার (ورثت) সূত্রে বণ্টিত হয়নি, বরং মক্কায় তাঁর বংশধরদের মধ্যে যারা উপস্থিত থাকে তারা সেখানে বসবাস করে এবং তারা তা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেনি। এটি হয়তো ওয়াকফকৃত সদকা (صدقة موقوفة) ছিল অথবা আবু বকর (রা.) যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন সেভাবেই তারা তা বজায় রেখেছে এবং তাঁর কাজের বিরোধিতা করা অপছন্দ করেছে। আমাদের নিকট এটি ওয়াকফের (وقف) সদৃশ এবং এটি মক্কায় সুপরিচিত।
এবং ওমর (রা.)-এর ওয়াকফ (حبس) সম্পর্কে বর্ণিত আছে—ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আওন থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ওমর (রা.) খায়বারে একখণ্ড জমি লাভ করেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি খায়বারে এমন এক জমি পেয়েছি যা আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান, এ বিষয়ে আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, "তুমি চাইলে এর মূল অংশকে আটকে রাখতে (حبست) পারো এবং এর উৎপাদিত ফসল সদকা (تصدقت) করে দিতে পারো।" তখন ওমর (রা.) তা এমনভাবে নির্ধারণ করলেন যে তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং উত্তরাধিকার সূত্রে (تورث) হস্তান্তর করা যাবে না। তিনি তা দরিদ্র, মিসকিন, মুসাফির, দাসমুক্তি, আল্লাহর পথের যোদ্ধা এবং মেহমানদের জন্য সদকা (تصدق) করে দিলেন। যে ব্যক্তি এর দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে তার জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে (معروف) তা থেকে আহার করা এবং বন্ধুকে খাওয়ানোতে কোনো গুনাহ নেই, তবে এর মাধ্যমে সে সম্পদশালী (متمول) হতে পারবে না। তিনি এর দায়িত্ব উম্মুল মুমিনিন হাফসার ওপর এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে ওমরের পরিবারের বড়দের ওপর অসিয়ত (أوصى) করে যান। তিনি বলেন এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
محمد بن عمر الواقدي قال حدثنا قدامه بن موسى الجمحى عن بشر مولى المازنيين قال سمعت جابر بن عبد الله يقول لم كتب عمر بن الخطاب رضي الله عنه صدقته فى خلافته دعا نفرا من المهاجرين والأنصار فأحضرهم ذلك وأشهدهم عليه فانتشر خبرها قال جابر رضي الله عنه فلم أعلم أحدا كان له مال من المهاجرين والأنصار إلا حبس مالا من ماله صدقة مؤبدة لا تشترى ولا توهب ولا تورث، قال حدثنا الواقدي قال لي أبو يوسف رحمه الله ما عندك فى وقف عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقلت أنبأنا أبو بكر بن عبد الله عن عاصم بن عبد الله عن عبد الله بن عامر ابن ربيعة قال شهدت كتاب عمر رضي الله عنه حين وقف وقفه انه فى يده فإذا توفى فهو إلى حفصة بنت عمر فلم يزل عمر يلي وقفه إلى أن توفى ولقد رأيته هو بنفسه يقسم تمر ثمغ فى السنة التي توفى فيها ثم صار إلى حفصة رضي الله عنها فقال أبو يوسف رحمه الله هذا الذي أخذنا به إذا اشترط الذي وقف أنه فى يده فى حياته ثم إذا توفى فهو إلى فلان بن فلان فهو جائز وهذا فعل عمر رضي الله عنه كما ترى، وحبس عثمان بن عفان رضي الله عنه قال حدثنا محمد بن عمر الواقدي الأسلمي قال حدثنا عمر بن عبد الله عن عنبسة قال تصدق عثمان فى أمواله على صدقة عمر بن الخطاب، قال وحدثنا فروة بن اذينة قال رأيت كتابا عند عبد الرحمن ابن ابان بن عثمان فيه بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما تصدق به عثمان بن عفان فى حياته تصدق بماله الذي بخيبر يدعى مال ابن أبى الحقيق على ابنه ابان بن عثمان صدقة بتله لا يشترى أصله أبدا ولا يوهب ولا يورث شهد على بن أبى طالب رضي الله عنه وأسامة بن زيد وكتب، وحبس على بن أبى طالب رضي الله عنه قال حدثنا محمد بن عمر الواقدي قال حدثنا سليمان بن بلال وعبد العزيز بن محمد عن أبيه عن على بن أبى طالب رضي الله عنه أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قطع لعلىّ
মুহাম্মদ ইবন উমর আল-ওয়াকিদি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) কুদামাহ ইবন মুসা আল-জুমাহি, বিশর মাওলা আল-মাজিনিয়্যিন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে (রা.) বলতে শুনেছি যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যখন তাঁর খিলাফতকালে তাঁর সদকার (ওয়াকফ) দলিল লিখেছিলেন, তখন তিনি মুহাজির ও আনসারদের একটি দলকে ডাকলেন এবং তাঁদেরকে সেখানে উপস্থিত করে সাক্ষী রাখলেন। ফলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল। জাবির (রা.) বলেন, আমি মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে এমন কাউকে জানতাম না যাঁর সম্পদ ছিল, অথচ তিনি তাঁর সম্পদ থেকে কিছু অংশ স্থায়ী সদকা হিসেবে আবদ্ধ (حبس) করেননি; যা বিক্রয় করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং উত্তরাধিকার হিসেবেও বণ্টন করা যাবে না। তিনি বলেন, আল-ওয়াকিদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু ইউসুফ (রহ.) আমাকে বলেছিলেন, "উমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) ওয়াকফ সম্পর্কে আপনার কাছে কী তথ্য আছে?" তখন আমি বললাম: আবু বকর ইবন আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আসিম ইবন আবদুল্লাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন রাবিআহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমরের (রা.) সেই দলিলটি প্রত্যক্ষ করেছি যখন তিনি তাঁর ওয়াকফটি করেছিলেন যে, সেটি তাঁর নিজের হাতেই থাকবে, অতঃপর যখন তিনি মৃত্যুবরণ করবেন তখন তা হাফসা বিনতে উমরের (রা.) নিকট হস্তান্তরিত হবে। উমর (রা.) আমৃত্যু তাঁর ওয়াকফের তত্ত্বাবধান করেন। আমি তাঁকে নিজে তাঁর মৃত্যুর বছরে 'সামাগ' নামক বাগানের খেজুর বণ্টন করতে দেখেছি। অতঃপর সেটি হাফসার (রা.) নিকট চলে যায়। অতঃপর আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন, "আমরা এই মতটিই গ্রহণ করেছি যে, যদি ওয়াকফকারী শর্তারোপ করেন যে এটি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নিজের অধীনেই থাকবে, অতঃপর তাঁর মৃত্যুর পর অমুকের পুত্র অমুকের কাছে যাবে, তবে তা বৈধ (جائز)। এটি উমরের (রা.) আমল, যেমনটি আপনি দেখছেন।" এবং উসমান ইবন আফফানের (রা.) ওয়াকফ; তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন উমর আল-ওয়াকিদি আল-আসলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) উমর ইবন আবদুল্লাহ, আনবাসাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: উসমান (রা.) উমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) সদকার পদ্ধতির অনুরূপভাবে তাঁর সম্পদসমূহ সদকা করেছিলেন। তিনি বলেন, এবং আমাদের নিকট ফারওয়া ইবন উজাইনা বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবন আবান ইবন উসমানের নিকট একটি লিখিত দলিল দেখেছি যাতে লেখা ছিল— "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, এটি সেই বস্তু যা উসমান ইবন আফফান তাঁর জীবদ্দশায় সদকা করেছিলেন; তিনি খায়বারে অবস্থিত তাঁর সেই সম্পদ যা ইবনুল হাকিকের সম্পদ নামে পরিচিত, তা তাঁর পুত্র আবান ইবন উসমানের অনুকূলে চিরস্থায়ী সদকা (صدقة بتلة) হিসেবে দান করেছেন; এর মূল অংশ কখনো বিক্রয় করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হওয়া যাবে না।" এতে আলী ইবন আবি তালিব (রা.) ও উসামা ইবন যায়িদ (রা.) সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং এটি লেখা হয়েছে। এবং আলী ইবন আবি তালিবের (রা.) ওয়াকফ; তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন উমর আল-ওয়াকিদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সুলাইমান ইবন বিলাল এবং আবদুল আজিজ ইবন মুহাম্মদ তাঁদের পিতা হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আলী ইবন আবি তালিব (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আলীর (রা.) জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
رضي الله عنه بنبع ثم اشترى على رضي الله عنه إلى قطيعته التي قطع له عمر أشياء فحفر فيها عينا فبينما هم يعملون إذ تفجر عليهم مثل عنق الجزور من الماء فأتى عليا فبشره بذلك فقال رضي الله عنه فبشره الوارث ثم تصدق بها على الفقراء والمساكين فى سبيل الله وابن السبيل القريب والبعيد فى السلم والحرب يوم تبيض وجوه وتسود وجوه ليصرف الله النار عن وجهه بها وبلغ جدادها فى زمن على رضي الله عنه ألف وسق، قال وروى موسى بن داود قال حدثنا القاسم بن الفضل قال حدثنا محمد بن على بن أبى طالب رضي الله عنه تصدق بأرض له بتا بتلا ليقي بها وجهه عن جهنم على مثل صدقة عمر غير أنه لم يستثن منها للوالي شيئا كما استثناه عمر رضي الله عنه قال حدثنا على عن عيينة عن عمرو بن دينار قال فى صدقة على ابن أبى طالب رضي الله عنه أن جبيرا ورباحا وأبا نيزر موالي يعملون فى المال خمس حجج منه نفقاتهم ونفقات أهليهم ثم هم أحرار لوجه الله تعالى، قال وحدثني ابن أبى سبرة عن يحيى بن شبل قال رأيت على بن الحسين يبيع من رقيق صدقة على ويبتاع، قال حدثنا بشر بن الوليد قال أنبانا أبو يوسف قال حدثنا عبد الرحمن بن عمر بن على بن أبى طالب عن أبيه عن جده أنه تصدق بينبع فقال أبتغى بها مرضاة الله تعالى ليدخلني بها الله الجنة ويصرفني عن النار ويصرف النار عنى فى سبيل الله ووجهه وذي الرحم والبعيد والقريب لا تباع ولا توهب ولا تورث كل مال لي ينبع غير أن رباحا وأبا نيزر وجبيرا أن حدث بي حدث فليس عليهم سبيل وهم محررون موال يعملون فى المال خمس حجج وفيه نفقتهم ورزقهم ورزق ما كان لي ينبع حياً أنا أو ميتا ومع ذلك ما كان لي بوادي القرى من مال ورقيق حيا أنا أو ميتا ومع ذلك الأدينة وأهلها حيا أنا أو ميتا ومع ذلك عبد أهلها وان زريعا له مثل ما كتبت لأبى نيزر ورباح وجبير، وحبس الزبير رضي الله قال حدثنا محمد بن عمر الواقدي
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, ইয়ানবুতে অবস্থানকালে আলী (রা.) তাঁর জন্য উমর (রা.)-এর বরাদ্দকৃত জমির পাশে আরও কিছু সম্পদ ক্রয় করেন। অতঃপর তিনি সেখানে একটি পানির প্রস্রবণ খনন করেন। তারা যখন কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ উটের ঘাড়ের মতো মোটা ধারায় পানি উথলে উঠল। তখন এক ব্যক্তি আলীর (রা.) কাছে এসে তাঁকে এই সুসংবাদ দিলেন। তিনি (রা.) বললেন: "উত্তরাধিকারীকে সুসংবাদ দাও।" এরপর তিনি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দরিদ্র, মিসকিন, আল্লাহর পথে মুসাফির, নিকটাত্মীয় এবং দূরবর্তী আত্মীয়দের জন্য শান্তি ও যুদ্ধের উভয় অবস্থায় দান (সাদাকা) করে দিলেন। যেদিন কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং কিছু চেহারা কালো হবে, সেদিন যেন আল্লাহ এর বিনিময়ে তাঁর চেহারাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেন। আলী (রা.)-এর সময়কালে এর বাগান কাটার মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ এক হাজার ওয়াসাক পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তিনি বলেন: মুসা ইবনে দাউদ বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন: কাসিম ইবনে ফজল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রা.) তাঁর একটি ভূমি চূড়ান্ত ও অলঙ্ঘনীয়ভাবে দান করেছিলেন যাতে এর মাধ্যমে তিনি তাঁর চেহারাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করতে পারেন। এটি উমর (রা.)-এর দানকৃত সদকার অনুরূপ ছিল, তবে তিনি সেখানে মুতাওয়াল্লির (তত্ত্বাবধায়ক) জন্য বিশেষ কোনো অংশ রাখেননি যেমনটি উমর (রা.) রেখেছিলেন। তিনি বলেন: আলী আমাদের কাছে উয়াইনা থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর সদকার ব্যাপারে নিয়ম ছিল যে— জুবায়ের, রাবাহ এবং আবু নাইজার নামক মুক্তদাসগণ (موالي) পাঁচ বছর পর্যন্ত সেই সম্পদে কাজ করবেন এবং সেখান থেকে তাদের ও তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করবেন; এরপর তারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মুক্ত হয়ে যাবেন। তিনি বলেন: ইবনে আবি সাবরা ইয়াহইয়া ইবনে শিবল থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে হুসাইনকে আলীর (রা.) সদকা করা দাসদের বিক্রয় করতে ও পুনরায় ক্রয় করতে দেখেছি। তিনি বলেন: বিশর ইবনে ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবু ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে, তিনি ইয়ানবুতে সদকা করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করছি যাতে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে নেন এবং জাহান্নামের আগুনকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেন। এটি আল্লাহর পথে, তাঁর সন্তুষ্টির জন্য এবং নিকটাত্মীয় ও দূরবর্তী সকলের জন্য উৎসর্গীকৃত। এটি বিক্রয় করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টন করা যাবে না।" ইয়ানবুর আমার সকল সম্পদই এর অন্তর্ভুক্ত। তবে রাবাহ, আবু নাইজার এবং জুবায়েরের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হলো—যদি আমার মৃত্যু ঘটে তবে তাদের ওপর কারো কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না এবং তারা মুক্ত। তারা এই সম্পদে পাঁচ বছর শ্রম দেবে এবং সেখান থেকেই তাদের ভরণপোষণ ও ইয়ানবুর সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ হবে, আমি জীবিত থাকি বা মৃত। এর সাথে ওয়াদিউল কুরা-র আমার যাবতীয় সম্পদ ও দাসদাসীও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, আমি জীবিত থাকি বা মৃত। তদ্রূপ আদিনা ও এর অধিবাসী এবং এর দাসদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আর জুরাই-এর জন্য ঠিক তেমনই অধিকার থাকবে যা আমি আবু নাইজার, রাবাহ ও জুবায়েরের জন্য লিখেছি। যুবায়ের (রা.) তাঁর সম্পদ ওয়াকফ করেছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا)...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال حدثنا ابن أبى الزناد عن هشام بن عروة عن أبيه عن الزبير بن العوام رضي الله عنه أنه جعل دوره على بنيه لا تباع ولا تورث ولا توهب وان للمردودة من بناته أن تسكن غير مضرة ولا مضى بها فإذا استغنت بزوج فليس لها حق، وحبس معاذ بن جبل رضي الله عنه قال حدثنا محمد بن عمر الواقدي قال حدثنا النعمان بن معن عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك قال وحدثنا يحيى بن عبد الله بن أبىّ عن أبيه قالا كان معاذ بن جبل رضي الله عنه أوسع أنصارى بالمدينة ربعا فتصدق بداره التي يقال لها دار الأنصار اليوم وكتب صدقته قالا ثم ان ابن أبى اليسر خاصم عبد الله بن أبى قتادة فى الدار وقال ينبع هي صدقته على من لا ندرى أيكون أولا يكون وقد قضى أبو بكر وعمر رضي الله عنهما لا صدقة حتى يقبض فاختصموا إلى مروان ابن الحكم فجمع لهم مروان بن الحكم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فرأوا أن تنفذ الصدقة على ما سبل ورأوا حبس بن أبى اليسر فيكون له أدبا فحبسه أياما هم كلم فيه فخلاه فلقد كان الصبيان يضحكون به، وقد حبست عائشة رضي الله عنها وأختها أسماء وأم سلمه وأم حبيبة وصفية أزواج النبى صلى الله عليه وسلم، وحبس سعد بن أبى وقاص وخالد بن الوليد وجابر بن عبد الله وعقبة ابن عامر وعبد الله ابن الزبير وغيرهم رضي الله عنهم أجمعين وهذا إجماع منهم على جواز الوقف ولزومه ولان الحاجة ماسة إلى جوازه لقول زيد بن ثابت رضي الله عنه لم نرى خيرا للميت ولا للحى من هذه الحبس الموقوفة أما الميت فيجرى أجرها عليه وأما الحي فتحبس عليه ولا توهب ولا تورث ولا يقدر على استهلاكها فان زيد بن ثابت رضي الله عنه جعل صدقته التي أوقفها على سنة صدقة عمر بن الخطاب رضي الله وكتب كتابا على كتابه هذا وأما الجواب عن قوله صلى الله عليه وسلم لا حبس عن فرائض الله فنقول أنه محمول على أنه لا يمنع أصحاب الفرائض
তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনে আবি আল-যিনাদ, তিনি হিশাম বিন উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি যুবাইর বিন আল-আওয়াম (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর ঘরগুলোকে তাঁর সন্তানদের জন্য এমনভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন যে, সেগুলো বিক্রি করা যাবে না, উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টন করা যাবে না এবং দানও করা যাবে না। তবে তাঁর কন্যাদের মধ্যে যারা (তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা হয়ে) ফিরে আসবে, তারা সেখানে কোনো ক্ষতি না করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে বসবাস করতে পারবে। অতঃপর যখন সে স্বামীর মাধ্যমে সচ্ছল হবে, তখন সেখানে তার আর কোনো অধিকার থাকবে না।
মুআয বিন জাবাল (রা.) সম্পদ ওয়াকফ করেছিলেন। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি, তিনি নুমান বিন মা’ন থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন কাব বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন। এছাড়া ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন উবাই তাঁর পিতা থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তাঁরা উভয়ে বলেন যে, মুআয বিন জাবাল (রা.) মদিনার আনসারদের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির দিক থেকে সবচেয়ে সচ্ছল ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাঁর সেই ঘরটি দান করেছিলেন যা আজ ‘দার আল-আনসার’ নামে পরিচিত এবং তিনি তাঁর এই দানপত্রটি লিখে রেখেছিলেন।
তাঁরা উভয়ে আরও বলেন, অতঃপর ইবনে আবি আল-ইয়াসার ঘরের মালিকানা নিয়ে আব্দুল্লাহ বিন আবি কাতাদার সাথে বিবাদে লিপ্ত হন এবং বলেন, "তিনি এটি এমন সব ব্যক্তির জন্য দান করেছেন যাদের আমরা চিনি না, সুতরাং এটি কার্যকর হবে কি হবে না? অথচ আবু বকর ও উমর (রা.) ফয়সালা দিয়েছেন যে, দখল বুঝিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো দান পূর্ণ হয় না।" তারা বিষয়টি মারওয়ান ইবনুল হাকামের নিকট পেশ করলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের একত্রিত করেন। তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, দান যে উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে সেই পথেই তা কার্যকর হবে। তাঁরা ইবনে আবি আল-ইয়াসারকে আটকে রাখার নির্দেশ দেন যাতে এটি তাঁর জন্য একটি সংশোধনমূলক শিক্ষা হয়। ফলে মারওয়ান তাঁকে কয়েক দিন আটকে রাখেন, অতঃপর তাঁর ব্যাপারে সুপারিশ করা হলে তাঁকে মুক্তি দেন। তখন ছোট ছেলেরা তাঁকে দেখে উপহাস করত।
আয়িশা (রা.), তাঁর বোন আসমা, উম্মে সালামাহ, উম্মে হাবিবা এবং সাফিয়্যা (রা.)—যাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী ছিলেন—তাঁরা সকলে ওয়াকফ করেছিলেন। এছাড়াও সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, খালিদ বিন ওয়ালিদ, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, উকবাহ বিন আমির, আব্দুল্লাহ ইবনুল যুবাইর (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবীগণও ওয়াকফ করেছিলেন। ওয়াকফের বৈধতা ও এটি আবশ্যক হওয়ার ওপর এটি তাঁদের একটি ঐকমত্য (إجماع)।
তাছাড়া এর প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য, কারণ যায়েদ বিন সাবিত (রা.) বলেছেন: "আমরা মৃত বা জীবিত ব্যক্তির জন্য এই ওয়াকফকৃত সম্পদের চেয়ে উত্তম আর কিছু দেখিনি। মৃতের জন্য এর সওয়াব জারি থাকে, আর জীবিতের জন্য তা সংরক্ষিত থাকে; যা দান করা যায় না, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যায় না এবং কেউ তা বিনাশও করতে পারে না।" যায়েদ বিন সাবিত (রা.) তাঁর ওয়াকফকৃত দানকে উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর দানের রীতির (سنة) অনুসরণে সম্পন্ন করেছিলেন এবং তাঁর দলিল অনুসারেই নিজের দলিলটি লিখেছিলেন।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—"আল্লাহর নির্ধারিত ফরায়েজের (উত্তরাধিকার অংশ) ক্ষেত্রে কোনো আটক রাখা বা ওয়াকফ নেই"—এর উত্তর হলো, এটি এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে তা উত্তরাধিকারীদের তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
عن فروضهم التي قدرها الله لهم فى سورة النساء بعد الموت بدليل نسخها لما كانوا عليه من حرمانهم الإناث قبل نزولها وتوريثهم بالمؤاخاة والموالاة مع وجودهن وقول شريح جاء محمد ببيع الحبس محمول على حبس العفرة مثل البحيرة والوصيلة والسائبة والحام عملا بما هو صريح اللفظ متواتر المعنى وحملا للمحتمل عليه توفيقا بين الأدلة والله اعلم.
[باب فى ألفاظ الوقف وأهله ومحله وحكمه]يتوقف انعقاد الوقف على صدور ركنه من أهله مضافا إلى محل قابل لحكمه لما علم أن قيام ذات التصرف بالأهل وقيام حكمه بالمحل (فركنه) لفظ الوقف وما فى معناه كقوله صدقة محرمة أو صدقة محبسه أو صدقة مؤبدة أو صدقة لا تباع ولا توهب ولا تورث أو صدقة موقوفة (وأهله) أهل التبرع وهو الحر العاقل البالغ غير مرتد ولا مديون محجور عليه فيصح منه لازما عندهما ولو فى مرض الموت إلا أن للورثة إبطال ما زاد على الثلث كالتدبير ولا يصح من العبد إلا إذا أذن له مولاه وكان غير مستغرق بالدين ولو استغرقه لا يصح وقفه وإن أذن له سيده مع الغرماء بناء على قول أبى حنيفة رحمه الله ولا من الصبي والمجنون الذي لا يعقل لعجزهما عن التصرف ولا من المرتد وسيأتي بيانه فى آخر الأبواب ولا من المديون (1) المحجور على قول من يرى به وإن لم يكن محجورا عليه يصح وقفه وإن قصد به ضرر غرمائه لثبوت حقهم فى ذمته دون القي (ومحله) المال المتقوم بشرط كونه عقارا أو منقولا أو متعارفا وقفه وسيأتي بيانه فى فصله (وحكمه) ما ذكر فى تعريفه من أنه حبس العين عن التمليك والتصدق بالمنفعة فلو قال أرضى هذه صدقة موقوفة مؤبدة جاز لازما عند عامة
--------------------------------------------
তাদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অংশ সম্পর্কে, যা আল্লাহ তাআলা সূরা নিসায় মৃত্যুর পর তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এটি ওই রীতির রহিতকরণ (نسخ)-এর দলিল যা পূর্বে বিদ্যমান ছিল, যেখানে নারীদের বঞ্চিত করা হতো এবং তাদের উপস্থিতিতেও ভ্রাতৃত্ব (المؤاخاة) ও মিত্রতার (الموالاة) ভিত্তিতে উত্তরাধিকার প্রদান করা হতো। আর শুরাইহ-এর উক্তি—'মুহাম্মাদ (সা.) দানকৃত পশু বিক্রির বিধান নিয়ে এসেছেন'—এটি মূলত বাহিরাহ, ওয়াসিলাহ, সাইবাহ এবং হাম-এর মতো উৎসর্গকৃত পশুদের আটকে রাখার বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। এটি শব্দের সুস্পষ্ট (صريح) বর্ণনা এবং অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়ার ওপর ভিত্তি করে আমল করার জন্য এবং দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য (المحتمل) বিষয়কে এর ওপর প্রয়োগ করার মাধ্যমে করা হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
[ওয়াকফের শব্দাবলি, এর যোগ্য ব্যক্তি, এর ক্ষেত্র এবং এর হুকুম সংক্রান্ত অধ্যায়]ওয়াকফ সংঘটিত হওয়া নির্ভর করে যোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে এর রুকন (ركن) তথা মূল উপাদানের উপস্থিতির ওপর, সাথে এর হুকুম (حكم) বা বিধান গ্রহণের উপযুক্ত ক্ষেত্র বা মহাল (محل) থাকতে হবে। কেননা এটি সুবিদিত যে, কোনো কর্মের সম্পাদন ব্যক্তির যোগ্যতার ওপর এবং এর হুকুমের কার্যকারিতা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। (ওয়াকফের রুকন) হলো ওয়াকফের শব্দ বা এর সমার্থবোধক শব্দ; যেমন কারো উক্তি—'হারামকৃত সদকা' বা 'আটকে রাখা সদকা' বা 'শাশ্বত সদকা' বা 'এমন সদকা যা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হওয়া যাবে না' অথবা 'ওয়াকফকৃত সদকা'। (ওয়াকফের যোগ্য ব্যক্তি) হলেন দান করার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি; অর্থাৎ যিনি স্বাধীন, বিবেকবান, প্রাপ্তবয়স্ক, ধর্মত্যাগী (مرتد) নন এবং এমন ঋণগ্রস্ত (مديون) নন যার ওপর লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা (محجور عليه) রয়েছে। সাহেবাইন-এর মতে এটি আবশ্যিক (لازم) হিসেবে সহিহ (صحيح) হবে, এমনকি মৃত্যুশয্যাকালীন রোগে (مرض الموت) আক্রান্ত অবস্থায় হলেও। তবে ওয়ারিশদের অধিকার রয়েছে এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অংশ বাতিল করার, যেমনটি দাসের মুক্তির অসিয়ত (তদবীর)-এর ক্ষেত্রে হয়। দাসের ওয়াকফ সহিহ (صحيح) হবে না যতক্ষণ না তার মনিব তাকে অনুমতি প্রদান করেন এবং সে ঋণে ডুবে না থাকে। যদি সে ঋণে নিমজ্জিত থাকে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতানুযায়ী পাওনাদারদের (الغرماء) উপস্থিতিতে তার মনিব অনুমতি দিলেও ওয়াকফ সহিহ (صحيح) হবে না। একইভাবে শিশু এবং বোধশক্তিহীন পাগলের ওয়াকফও তাদের লেনদেনের অক্ষমতার কারণে সহিহ (صحيح) হবে না। ধর্মত্যাগী (المرتد) ব্যক্তির ওয়াকফও হবে না, যার বিবরণ অধ্যায়গুলোর শেষে আসবে। আর সেই ঋণগ্রস্ত (المديون) (১) ব্যক্তির ওয়াকফও হবে না যার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এটি তাদের বক্তব্য যারা এই মত পোষণ করেন। আর যার ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই, তার ওয়াকফ সহিহ (صحيح) হবে যদিও এর দ্বারা পাওনাদারদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থাকে; কারণ পাওনাদারদের অধিকার ব্যক্তির জিম্মায় সাব্যস্ত থাকে, সরাসরি সম্পদের ওপর নয়। (ওয়াকফের ক্ষেত্র) হলো মূল্যবান সম্পদ (المال المتقوم), শর্ত হলো তা স্থাবর সম্পত্তি (عقار) বা অস্থাবর সম্পত্তি (منقول) অথবা সামাজিকভাবে প্রচলিত ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এর বিস্তারিত বিবরণ সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে আসবে। (এর হুকুম) হলো যা এর সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে; অর্থাৎ মূল সত্তাকে মালিকানা হস্তান্তর থেকে আটকে রাখা (حبس العين) এবং এর উপকারিতা (المنفعة) সদকা করে দেওয়া। অতএব, কেউ যদি বলে 'আমার এই জমিটি শাশ্বত ওয়াকফকৃত সদকা', তবে সাধারণ ফকিহদের মতে তা আবশ্যিক (لازم) হিসেবে বৈধ হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
العلماء إلا أن محمدا رحمه الله اشترط التسليم إلى المتولي واختاره جماعة وعند أبى حنيفة رحمه الله يكون نذرا بالصدقة بغلة الأرض وبيقى ملكه على حاله فإذا مات تورث عنه ولو قال صدقة موقوفة مؤبدة فى حياتي وبعد وفاتي جاز عندهم إلا أن أبا حنيفة رحمه الله قال ما دام الواقف حيا كان ذلك نذرا منه بالتصدق بالغلة وكان عليه الوفاء بما نذر ولو رجع عنه جاز ولو لم يرجع حتى مات جاز من الثلث ويكون سبيله سبيل من أوصى بخدمة عبده لإنسان فإن الخدمة تكون للموصى له والرقبة على ملك مالكها حتى لو مات الموصى له بها يصير العبد ميراثا لورثة المالك إلا أن فى الوقف لا يتوهم انقطاع الموصى لهم وهم الفقراء فتتأبد هذه الوصية ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة أو قال وقف ولم يزد على هذا لا يجوز عند عامة مجيزي الوقف قال هلال رحمه الله لأن الوقف يكون للغنى والفقير ولم يسم لأيهما هو فلذلك أبطلته وصار كما لو قال أرضى محبوسة ولم يزد على ذلك فإنها لا تكون وقفا ولأن الأرض توقف للدين والوصايا ولحبس الأصل فهذا وقف لم يسم سبيله ووجوهه فلم يتصدق بغلته فقد خرج من أن يكون على ما أمر به النبى صلى الله عليه وسلم عمر بن الخطاب رضي الله عنه لأنه إنما ذكر حبس الأصل ولم يذكر الصدقة على ما أمر به عمر بن الخطاب فلذلك أبطلته حتى يجتمع الكلامان الصدقة والحبس فإذا اجتمعا كان الوقف جائزا وقال أبو يوسف رحمه الله يجوز ويكون وقفا على المساكين لأن مطلقه ينصرف إلى المساكين عرفا (1) ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة أو موقوفة صدقة ولم يزد على هذا جاز فى قول أبى يوسف ومحمد وهلال الرأي رحمهم الله ويكون وقفا على الفقراء وقال يوسف بن خالد السهتي رحمه الله لا يجوز ما لم يزد قوله وآخرها للفقراء أبدا والصحيح قول أصحابنا لأن محل الصدقة فى الأصل الفقراء فلا يحتاج إلى ذكرهم ولا انقطاع
--------------------------------------------
আলেমগণ একমত, তবে ইমাম মুহাম্মদ (রাহিমাহুল্লাহ) তত্ত্বাবধায়কের (متولي) নিকট সমর্পণ (تسليم) করার শর্তারোপ করেছেন এবং একদল আলেম এটিই গ্রহণ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, এটি জমির ফসল সদকা করার মানত (نذر) হিসেবে গণ্য হবে এবং জমির মালিকানা তার অবস্থাতেই বহাল থাকবে; ফলে তিনি মৃত্যুবরণ করলে তা উত্তরাধিকারীদের মিরাসে (ميراث) পরিণত হবে। আর যদি তিনি বলেন, "আমার জীবনে এবং মৃত্যুর পরে এটি শাশ্বত সদকায়ে মাওকুফাহ (দানকৃত ওয়াকফ)", তবে তাদের নিকট তা জায়েজ (جائز) হবে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যতক্ষণ ওয়াকফকারী (واقف) জীবিত থাকবেন, ততক্ষণ এটি তার পক্ষ থেকে ফসল সদকা করার মানত (نذر) হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ওপর কৃত মানত পূর্ণ করা আবশ্যক হবে। যদি তিনি তা থেকে ফিরে আসেন তবে তা জায়েজ (جائز) হবে; আর যদি ফিরে না এসে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তা এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) সম্পদ থেকে কার্যকর হবে। এর পদ্ধতি হবে সেই ব্যক্তির মতো, যে তার দাসের খেদমত কোনো ব্যক্তির জন্য অসিয়ত (وصية) করেছে; ফলে খেদমত সেই অসিয়তগ্রহীতার জন্য সাব্যস্ত হবে এবং দাসের মূল সত্তার মালিকানা মালিকের ওপরই বহাল থাকবে, এমনকি যদি অসিয়তগ্রহীতা মৃত্যুবরণ করে তবে দাসটি মূল মালিকের উত্তরাধিকারীদের মিরাসে (ميراث) পরিণত হবে। তবে ওয়াকফের ক্ষেত্রে যাদের অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে (অর্থাৎ দরিদ্ররা), তাদের ধারা বিচ্ছিন্ন (انقطاع) হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই এই অসিয়তটি শাশ্বত হবে। আর যদি তিনি বলেন "আমার এই জমি সদকা হিসেবে ওয়াকফকৃত" অথবা বলেন "ওয়াকফ" এবং এর বেশি কিছু না বলেন, তবে ওয়াকফ বৈধ মনে করেন এমন অধিকাংশ আলেমের নিকট এটি জায়েজ (جائز) হবে না। ইমাম হিলাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কারণ ওয়াকফ ধনী ও দরিদ্র উভয়ের জন্য হতে পারে অথচ তিনি নির্দিষ্ট করেননি এটি কার জন্য; তাই আমি একে বাতিল (باطل) ঘোষণা করেছি। এটি এমন হবে যেন তিনি বললেন "আমার জমিটি অবরুদ্ধ (محبوية)" এবং এর অতিরিক্ত কিছু বললেন না, এমতাবস্থায় তা ওয়াকফ হবে না। আর কারণ হলো জমি ঋণ পরিশোধ, অসিয়ত (وصايا) এবং মূল সম্পদ আটকে রাখার জন্য ওয়াকফ করা হয়; অথচ এটি এমন এক ওয়াকফ যার খাত ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হয়নি এবং এর ফসলও সদকা করা হয়নি। ফলে এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে যা নির্দেশ দিয়েছিলেন তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। কারণ তিনি শুধুমাত্র মূল সম্পদ আটকে রাখার কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু সদকার কথা উল্লেখ করেননি যা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একারণে আমি এটি বাতিল (باطل) ঘোষণা করেছি যতক্ষণ না 'সদকা' ও 'আটকে রাখা' (হাবস) উভয় কথা একত্রে পাওয়া যায়; যখন এ দুটি বিষয় একত্রিত হবে তখন ওয়াকফ জায়েজ (جائز) হবে। ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি জায়েজ (جائز) এবং তা মিসকিনদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে; কারণ এর সাধারণ (مطلق) বক্তব্য প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মিসকিনদের উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয় (১)। আর যদি তিনি বলেন "আমার এই জমি সদকা হিসেবে ওয়াকফকৃত" অথবা "ওয়াকফকৃত সদকা" এবং এর অতিরিক্ত কিছু না বলেন, তবে ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ এবং হিলালুর রায় (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে তা জায়েজ (جائز) হবে এবং তা দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি ততক্ষণ জায়েজ (جائز) হবে না যতক্ষণ না তিনি অতিরিক্ত হিসেবে বলেন "এবং এর পরিসমাপ্তি সর্বদা দরিদ্রদের জন্য"। তবে আমাদের ইমামগণের বক্তব্যই সঠিক (صحيح), কারণ সদকার মূল ক্ষেত্র হলো দরিদ্র সমাজ; তাই আলাদাভাবে তাদের উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই এবং এতে নিরবচ্ছিন্নতার ধারা বিচ্ছিন্ন (انقطاع) হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
لهم فلا يحتاج إلى ذكر الأبد أيضا ولو قال أرضى هذه محرمة صدقة جاز ويكون هذا بمنزلة قوله موقوفة صدقة لأن المحرمة بمنزلة قوله موقوفة فى لغة أهل المدينة ولو قال حبست أرضى هذه أو قال أرضى هذه حبس لا تكون وقفا فى قولهم ولو قال حرمت أرضى هذه أو قال أرضى هذه أو قال هي محرمة (قال الفقيه) أبو جعفر هذا على أبى يوسف كقوله موقوفة ولو قال حبيس موقوف أو حبيس وقف فهو باطل قال هلال فى قلنا وقول أبى حنيفة لأن معنى قوله وقف ومعنى قوله حبيس سواء فكأنه قال أرضى وقف وهذا باطل لا يجوز فى قولنا وقال وكذلك لو قال هي محرمة حبيس أو حبيس محرمة لا يجوز لأنه ذكر حبس الأصل ولم يسم لمن الغلة فلذلك أبطلته ولو قال موقوفة حبيس محرمة لا تباع ولا توهب ولا تورث ولم يزد على ذلك لا يجوز إلا أن يجعل فيها معنى الصدقة أو المساكين مع حبس الأصل فيجوز ذلك عندنا ولو قال حبيس صدقة أو صدقة حبيس قال هلال هذا جائز (وقال الفقيه أبو جعفر) هذا ينبغي أن يكون بمنزلة قوله صدقة موقوفة ولو قال هي موقوفة لله تعالى أبدا جاز وإن لم يذكر الصدقة ويكون وقفا على الفقراء لأن فى قوله موقوفة لله تعالى أبدا دليلا على أنه أراد بها المساكين لأن فيه قربة إلى الله تعالى بقوله لله تعالى وخرجت من أن تكون موقوفة للدين بقوله لله تعالى أبدا وكذا لو قال صدقة موقوفة على المساكين ولم يقل أبدا أو قال موقوفة لوجه الله تعالى أو موقوفة لطلب ثواب الله تعالى ولو أوصى بأن يوقف ثلث أرضه بعد وفاته لله تعالى أبدا تكون وصية بالوقف على الفقراء ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة على فلان صح ويصير تقديره صدقة موقوفة على الفقراء لأن محل الصدقة الفقراء إلا أن غلتها تكون لفلان ما دام حيا ومثله لو قال صدقة موقوفة على زيد أبدا أو قال على ولدى أبدا لأنه يصح من غير ذكر الأبد فمع ذكره أولى ولا يصح على قول يوسف بن خالد السهتى وإن ذكر الأبد لأن ذكر لفظ
তাদের জন্য, তাই 'চিরকাল' (أبدا) শব্দটির উল্লেখ করারও প্রয়োজন নেই। আর যদি সে বলে, "আমার এই জমিটি উৎসর্গকৃত (محرمة) দান (صدقة)", তবে তা বৈধ হবে এবং এটি তার "ওয়াকফকৃত (موقوفة) দান (صدقة)" বলার সমপর্যায়ভুক্ত হবে। কারণ মদিনাবাসীদের পরিভাষায় 'উৎসর্গকৃত' (محرمة) শব্দটি 'ওয়াকফকৃত' (موقوفة) শব্দের সমতুল্য। আর যদি সে বলে, "আমি আমার এই জমিটি আটকে (حبست) রাখলাম" অথবা বলল, "আমার এই জমিটি আবদ্ধ (حبس)", তবে তাদের মতে এটি ওয়াকফ হবে না। আর যদি সে বলে, "আমি আমার এই জমিটিকে উৎসর্গ (حرمت) করলাম" অথবা বলল, "এটি উৎসর্গকৃত (محرمة)"; (ফকিহ) আবু জাফর বলেন: ইমাম আবু ইউসুফের নিকট এটি তার "ওয়াকফকৃত (موقوفة)" বলার মতোই গণ্য হবে। আর যদি কেউ বলে, "আটকে রাখা ওয়াকফকৃত (حبيس موقوف)" অথবা "আটকে রাখা ওয়াকফ (حبيس وقف)", তবে তা বাতিল (باطل) গণ্য হবে। হিলাল বলেন, আমাদের এবং ইমাম আবু হানিফার অভিমত অনুযায়ী এটি বাতিল; কারণ 'ওয়াকফ' এবং 'আটকে রাখা' (حبيس) শব্দের অর্থ একই। ফলে সে যেন বলল, "আমার জমি ওয়াকফ ওয়াকফ", আর আমাদের মতে এটি বাতিল (باطل) এবং অনুমোদিত নয়। অনুরূপভাবে যদি সে বলে, "এটি উৎসর্গকৃত আটকে রাখা (محرمة حبيس)" অথবা "আটকে রাখা উৎসর্গকৃত (حبيس محرمة)", তবে তাও অনুমোদিত নয়। কারণ সে মূল সম্পদ আটকে রাখার কথা উল্লেখ করেছে কিন্তু এর লভ্যাংশ বা আয় কার জন্য হবে তা নির্দিষ্ট করেনি, ফলে আমি একে বাতিল গণ্য করেছি। আর যদি সে বলে, "ওয়াকফকৃত, আটকে রাখা, উৎসর্গকৃত (موقوفة حبيس محرمة); এটি বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং উত্তরাধিকার সূত্রেও বণ্টন হবে না" এবং এর অতিরিক্ত আর কিছু না বলে, তবে তাও অনুমোদিত হবে না। যতক্ষণ না সে মূল সম্পদ আটকে রাখার সাথে সাথে এতে দান (الصدقة) বা মিসকিনদের (المساكين) অর্থ সম্পৃক্ত করে; তবেই আমাদের নিকট তা অনুমোদিত হবে। আর যদি সে বলে, "আটকে রাখা দান (حبيس صدقة)" অথবা "দান হিসেবে আটকে রাখা (صدقة حبيس)", তবে হিলাল বলেন, এটি বৈধ (جائز)। (ফকিহ আবু জাফর বলেন) এটি "ওয়াকফকৃত দান (صدقة موقوفة)" বলার সমপর্যায়ভুক্ত হওয়া উচিত। আর যদি সে বলে, "এটি মহান আল্লাহর জন্য চিরকাল (أبدا) ওয়াকফকৃত (موقوفة)", তবে তা বৈধ হবে যদিও সে দানের (الصدقة) কথা উল্লেখ না করে। এমতাবস্থায় এটি দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ "মহান আল্লাহর জন্য চিরকাল ওয়াকফকৃত" বলার মাঝে এই প্রমাণ (دليلا) পাওয়া যায় যে, সে এর দ্বারা মিসকিনদের উদ্দেশ্য করেছে; যেহেতু "আল্লাহর জন্য" বলার মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্য নিহিত এবং "আল্লাহর জন্য চিরকাল" বলার মাধ্যমে এটি ঋণ সংক্রান্ত কোনো দায়বদ্ধতা হওয়া থেকে মুক্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে যদি সে বলে, "মিসকিনদের জন্য ওয়াকফকৃত দান (صدقة موقوفة)", অথচ "চিরকাল" (أبدا) কথাটি না বলে, অথবা যদি বলে, "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ওয়াকফকৃত (موقوفة)" কিংবা "আল্লাহর নিকট সওয়াব কামনায় ওয়াকফকৃত (موقوفة)"। আর যদি কেউ ওসিয়ত (وصية) করে যে, তার মৃত্যুর পর তার জমির এক-তৃতীয়াংশ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য চিরকাল (أبدا) ওয়াকফ (يوقف) করা হবে, তবে তা দরিদ্রদের অনুকূলে ওয়াকফের ওসিয়ত (وصية) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে বলে, "আমার এই জমিটি অমুকের জন্য ওয়াকফকৃত দান (صدقة موقوفة)", তবে তা শুদ্ধ (صح) হবে এবং এর ব্যাখ্যা এই দাঁড়াবে যে, এটি মূলত দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফকৃত দান (صدقة موقوفة), কারণ দানের (الصدقة) মূল পাত্র হলো দরিদ্ররা; তবে এর লভ্যাংশ বা আয় সেই ব্যক্তি জীবিত থাকা পর্যন্ত সে-ই ভোগ করবে। অনুরূপ যদি সে বলে, "জায়েদের জন্য চিরকাল (أبدا) ওয়াকফকৃত দান (صدقة موقوفة)" অথবা বলে, "আমার সন্তানের জন্য চিরকাল (أبدا)", তবে তাও শুদ্ধ হবে। কারণ যেহেতু 'চিরকাল' উল্লেখ না করলেও তা শুদ্ধ হয়, সেহেতু এটি উল্লেখ করা অধিকতর শ্রেয় (أولى)। তবে ইউসুফ ইবনে খালিদ আল-সাহতির মতে তা শুদ্ধ হবে না, যদিও 'চিরকাল' শব্দটি উল্লেখ করা হয়, কারণ এই শব্দের উল্লেখ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأبد مضاف إلى الصدقة على زيد أو ولده وهو لا يتأبد فيلغو هذا اللفظ وكذا لو قال أرضى هذه صدقة موقوفة على وجه الخير والبر أو قال على وجه الخير أو قال على وجه البر يكون وقفا على الفقراء لأن البر عبارة عن صدقة ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة فى الحج عنى أو العمرة عنى يصح الوقف ولو لم يقل عنى لا يصح لأنهما ليسا بصدقة ولو قال أرضى هذه موقوفة على الجهاد أو فى الجهاد أو فى الغزو أو قال فى أكفان الموتى أو فى حفر القبور أو قال فى بناء المساجد أو الحصون أو قال على مرمتها أو قال على عمل السقيات فى الأماكن المحتاج إليها أو غير ذلك مما يتأبد فإنه يصح ويكون وقفا على ذلك السبيل (قال الفقيه) أبو جعفر رحمه الله متى ذكر موضع الحاجة على وجه يتأبد فذاك يكفى عن ذكر الصدقة وكذا لو قال موقوفة على أبناء السبيل لأنهم لا ينقطعون ويكون لفقرائهم دون أغنيائهم كخمس الغنيمة وكذا لو قال على الزمني أو على المنقطع بهم لأنهم يتأبدون ويكون لفقرائهم فقط وهذا قول هلال رحمه الله وما سيأتي من بطلانه على الزمني قول الخصاف رحمه الله قال شمس الأئمة رحمه الله إذا ذكر مصرفا فيهم تنصيص على الحاجة فهو صحيح سواء كانوا يحصون أو لا يحصون لأن المطلوب وجه الله تعالى ومتى ذكر مصرفا يستوي فيه الأغنياء والفقراء فإن كانوا يحصون فذلك صحيح لهم باعتبار أعيانهم وإن كانوا لا يحصون فهو باطل إلا أن كان فى لفظه ما يدل على الحاجة استعمالا بين الناس لا باعتبار حقيقة اللفظ كاليتامى فالوقف عليهم صحيح ويصرف للفقراء منهم دون أغنيائهم فهذا الضابط يقتضى (1) صحة الوقف على الزمني والعميان وقرَّاء القرآن والفقهاء وأهل الحديث ويصرف للفقراء منهم كاليتامى لإشعار الأسماء بالحاجة استعمالا لأن العمى والاشتغال بالعلم يقطع عن الكسب فيغلب فيهم الفقر وهو أصح مما سيأتي فى باب الوقف الباطل أنه باطل على
--------------------------------------------
'চিরস্থায়ী' (الأبد) বিষয়টি যদি যায়েদ বা তার সন্তানের জন্য করা সাদাকার (الصدقة) সাথে যুক্ত করা হয়, অথচ তা চিরস্থায়ী (يتأبد) হওয়ার যোগ্য নয়, তবে এই শব্দটির প্রয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। অনুরূপভাবে কেউ যদি বলে, "আমার এই জমিটি কল্যাণ ও পুণ্যের পথে ওয়াকফকৃত সাদাকা (صدقة موقوفة)", অথবা বলে "কল্যাণের পথে" কিংবা "পুণ্যের পথে", তবে তা দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ পুণ্য (البر) বলতে সাদাকাই (الصدقة) বোঝায়। আর যদি কেউ বলে, "আমার এই জমিটি আমার পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরার জন্য ওয়াকফকৃত সাদাকা (صدقة موقوفة)", তবে সেই ওয়াকফ সঠিক (يصح) হবে। কিন্তু যদি "আমার পক্ষ থেকে" কথাটি না বলে, তবে তা সঠিক নয় (لا يصح); কারণ এই দুটি বিষয় (সরাসরি) সাদাকা (الصدقة) নয়। আর যদি কেউ বলে, "আমার এই জমিটি জিহাদের জন্য বা জিহাদের পথে অথবা যুদ্ধে ওয়াকফকৃত", কিংবা বলে "মৃতের কাফনের জন্য" অথবা "কবর খননের জন্য" অথবা "মসজিদ বা দুর্গ নির্মাণের জন্য" অথবা "সেগুলোর সংস্কারের জন্য" অথবা "প্রয়োজনীয় স্থানে পানি পানের ব্যবস্থা করার জন্য" অথবা এ জাতীয় চিরস্থায়ী (يتأبد) হয় এমন কোনো বিষয়ের জন্য বলে, তবে তা সঠিক (يصح) হবে এবং তা সেই খাতেই ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে।
(ফকিহ) আবু জাফর (রহ.) বলেন: যখন কোনো অভাবী খাতের কথা এমনভাবে উল্লেখ করা হয় যা চিরস্থায়ী (يتأبد), তখন তা সাদাকা (الصدقة) শব্দ উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দেয়। তেমনিভাবে যদি কেউ বলে, "মুসাফিরদের (أبناء السبيل) জন্য ওয়াকফকৃত", তবে তাও সঠিক হবে; কারণ মুসাফিরদের ধারা কখনো শেষ হয় না। আর এটি তাদের মধ্যে ধনীদের পরিবর্তে দরিদ্রদের জন্য হবে, যেমনটি গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশের (খুমুস) বিধানের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে যদি কেউ দীর্ঘস্থায়ী রুগ্ন (الزمني) বা নিঃস্ব-বিচ্ছিন্ন (المنقطع بهم) ব্যক্তিদের জন্য ওয়াকফের কথা বলে; কারণ তারা চিরস্থায়ী (يتأبد)। এটি কেবল তাদের দরিদ্রদের জন্য নির্দিষ্ট হবে। এটি ইমাম হিলাল (রহ.)-এর অভিমত। তবে দীর্ঘস্থায়ী রুগ্ন ব্যক্তিদের জন্য ওয়াকফ বাতিল (بطلان) হওয়া সম্পর্কে সামনে যা আসবে, তা ইমাম খাসসাফ (রহ.)-এর অভিমত।
শামসুল আইম্মাহ (রহ.) বলেন: যদি এমন কোনো ব্যয়ের খাতের কথা উল্লেখ করা হয় যাতে অভাবী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত থাকে, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে; তারা সংখ্যায় সীমিত হোক বা অগণিত। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। আর যখন এমন কোনো খাত উল্লেখ করা হয় যাতে ধনী ও দরিদ্র উভয়ই সমান, সেক্ষেত্রে যদি তারা সংখ্যায় সীমিত হয়, তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিবেচনায় তা সঠিক (صحيح) হবে। কিন্তু যদি তারা অগণিত হয়, তবে তা বাতিল (باطل) বলে গণ্য হবে। তবে যদি শব্দটির প্রচলিত ব্যবহারে এমন কিছু থাকে যা অভাবী হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে, শাব্দিক অর্থের দিক থেকে না হলেও—যেমন এতিম (اليتامى)—তবে তাদের জন্য ওয়াকফ করা সঠিক (صحيح) হবে এবং এটি তাদের মধ্য থেকে কেবল দরিদ্রদের পেছনে ব্যয় করা হবে, ধনীদের পেছনে নয়। সুতরাং এই নীতিমালাটি দীর্ঘস্থায়ী রুগ্ন (الزمني), অন্ধ (العميان), কুরআন তেলাওয়াতকারী (قراء القرآن), ফকিহগণ (الفقهاء) এবং আহলে হাদিস ব্যক্তিদের ওপর ওয়াকফ সঠিক (صحة) হওয়ার দাবি রাখে। এতিমদের (اليتامى) মতোই তাদের মধ্য থেকেও দরিদ্রদের জন্যই এটি ব্যয় করা হবে; কারণ প্রচলিত ব্যবহারে এই নামগুলো অভাবী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কারণ অন্ধত্ব এবং ইলম অর্জনে ব্যস্ততা উপার্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, ফলে তাদের মধ্যে দারিদ্র্যের আধিক্য দেখা যায়। আর এটি 'বাতিল ওয়াকফ' পরিচ্ছেদে সামনে যা আসবে—যে এদের ওপর ওয়াকফ করা বাতিল (باطل)—তার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هؤلاء ولو قال أرضى هذه موقوفة (1) على فقراء قرابتي أو قال على أولادي لا يصح لأنهم ينقطعون فلا يتأبد وبدونه لا يصح إلا أن يجعل آخره للفقراء ولو قال أرضى هذه موقوفة على فقراء بني زيد أو قال على يتامى بني عمرو فإن كانوا يحصون وكان الوقف فى الصحة لا يصح لأنه لا يتأبد وإن كانوا لا يحصون يصح ويصير بمنزلة الوقف على اليتامى الفقراء روى عن محمد رحمه الله أن (2) ما لا يحصى عشرة وعن أبى يوسف رحمه الله أنه مائة وهو المأخوذ عنه البعض وقيل أربعون وقيل ثمانون والفتوى أنه مفوّض إلى رأى الحاكم ولو قال أرضى صدقة لا تباع تكون نذرا بالصدقة ولا تكون وقفا لان قوله صدقة عبارة عن النذر فيتصدق بها ولا يجبره القاضي عليها ولو زاد ولا توهب ولا تورث صارت وقفا على المساكين ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة لله عز وجل أبدا على زيد أيام حياته جاز لحصول التأبيد بسبب كونها للفقراء بعده لأن ما لله تعالى يكون للفقراء إلا أن زيدا يقدم عليهم ولو قال هي صدقة موقوفة على زيد ما دام حيا وكان فى صحته فإنه يكون باطلا لكونه غير مؤبد ومن شرط صحة الوقف التأبيد كما نقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنهم جعلوا أوقافهم مؤبدة فما كان مثل ذلك يصح ومالا فلا ولو قال جعلت غلة دارى هذه للمساكين يكون نذرا بالتصدق بالغلة ولو قال جعلت هذه الدار للمساكين كان نذرا بالتصدق بعين الدار للمساكين للحال ولو قال ضيعتي سبيل أو للسبيل إن كان من ناحية تعارفوا هذا الكلام للوقف صارت وقفا وإلا فيسأل عن نيته فإن نوى وقفا فهو كما نوى وإن نوى صدقة تصدق بعينها أو قيمتها وإن لم يكن له نية تورث عنه إذا مات والله أعلم.
[فصل فى بيان ما يتوقف جواز الوقف عليه]اتفق أبو يوسف ومحمد رحمهما الله
--------------------------------------------
তারা; যদি কেউ বলে, "আমার এই ভূমিটি আমার দরিদ্র আত্মীয়স্বজনের জন্য ওয়াকফকৃত (موقوفة) (১)", অথবা বলে "আমার সন্তানদের জন্য", তবে তা সহিহ (يصح) হবে না। কারণ তারা একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে, ফলে তা চিরস্থায়ী (يتأبد) হবে না। আর চিরস্থায়িত্ব (التأبيد) ব্যতীত ওয়াকফ সহিহ (يصح) হয় না; তবে যদি এর শেষ অংশকে দরিদ্রদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয় (তবে তা সহিহ হবে)। আর যদি কেউ বলে, "আমার এই ভূমি বনু যায়েদের দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফকৃত (موقوفة)", অথবা বলে "বনু আমরের এতিমদের জন্য", এমতাবস্থায় তারা যদি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ (يحصون) হয় এবং সুস্থ অবস্থায় ওয়াকফ করা হয়, তবে তা সহিহ (يصح) হবে না; কারণ এটি চিরস্থায়ী (يتأبد) নয়। কিন্তু যদি তারা অগণিত (لا يحصون) হয়, তবে তা সহিহ (يصح) হবে এবং তা দরিদ্র এতিমদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে যে, (২) 'অগণিত' (ما لا يحصى) বলতে দশের অধিককে বোঝায়। আর ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি হলো একশ; কেউ কেউ তাঁর থেকে এটিই গ্রহণ করেছেন। আবার বলা হয়েছে চল্লিশ, আবার বলা হয়েছে আশি। তবে ফতোয়া (الفتوى) হলো যে, বিষয়টি বিচারকের (الحاكم) বিবেচনার ওপর ন্যস্ত। যদি কেউ বলে, "আমার ভূমিটি সদকা (صدقة), যা বিক্রি করা যাবে না", তবে এটি সদকা করার মান্নত (نذرا) হিসেবে গণ্য হবে কিন্তু ওয়াকফ (وقفا) হবে না। কারণ তার "সদকা" কথাটি মান্নতের (النذر) পরিভাষা, সুতরাং তা সদকা করে দিতে হবে এবং বিচারক (القاضি) তাকে এর জন্য বাধ্য করবেন না। আর যদি সে আরও যোগ করে, "এটি দান করা যাবে না এবং উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা প্রাপ্ত হওয়া যাবে না", তবে তা মিসকিনদের জন্য ওয়াকফ (وقفا) হয়ে যাবে। আর যদি সে বলে, "আমার এই ভূমিটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যায়েদের জীবনদ্দশায় চিরস্থায়ীভাবে (أبدا) সদকা হিসেবে ওয়াকফকৃত (صدقة موقوفة)", তবে তা জায়েজ (جاز) হবে। কারণ যায়েদের পরে এটি দরিদ্রদের জন্য হওয়ার কারণে এখানে চিরস্থায়িত্ব (التأبيد) অর্জিত হয়েছে; কেননা যা আল্লাহর জন্য নিবেদিত, তা দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত হয়; তবে এক্ষেত্রে যায়েদ তাদের ওপর অগ্রাধিকার পাবে। আর যদি সে বলে, "এটি যায়েদের জন্য ওয়াকফকৃত সদকা (صدقة موقوفة) যতক্ষণ সে জীবিত থাকে" এবং তা তার সুস্থ অবস্থায় হয়ে থাকে, তবে তা বাতিল (باطلا) হবে; কারণ তা চিরস্থায়ী (مؤبد) নয়। আর ওয়াকফ সহিহ (صحة) হওয়ার শর্ত (شرط) হলো চিরস্থায়িত্ব (التأبيد), যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত (نقل) হয়েছে যে, সাহাবায়ে কিরাম তাঁদের ওয়াকফসমূহকে চিরস্থায়ী (مؤبدة) করেছিলেন। সুতরাং যা এর অনুরূপ হবে তা সহিহ (يصح) হবে, অন্যথায় নয়। যদি কেউ বলে, "আমি আমার এই বাড়ির আয় (غلة) মিসকিনদের জন্য নির্ধারণ করলাম", তবে তা আয়ের সদকার মান্নত (نذرا) হবে। আর যদি বলে, "আমি এই বাড়িটি মিসকিনদের জন্য দান করলাম", তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির মূল সম্পদ (عين الدار) মিসকিনদের জন্য সদকা করার মান্নত (نذরা) হিসেবে গণ্য হবে। যদি কেউ বলে, "আমার ভূ-সম্পত্তি আল্লাহর পথে (سبيل) অথবা আল্লাহর পথের (للسبيل) জন্য", তবে যদি সেই অঞ্চলের প্রথা অনুযায়ী এই শব্দগুলো ওয়াকফের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে তা ওয়াকফ (وقفا) হয়ে যাবে। অন্যথায় তার নিয়ত (نيته) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। যদি সে ওয়াকফের নিয়ত (نوى) করে থাকে তবে তা তার নিয়ত অনুযায়ীই হবে। আর যদি সদকার নিয়ত (نوى) করে থাকে তবে তার মূল সম্পদ বা তার মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর যদি তার কোনো নিয়ত না থাকে, তবে মৃত্যুর পর তা উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টন হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
[ওয়াকফ জায়েজ হওয়ার শর্তাবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) একমত হয়েছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
على أن الوقف يتوقف جوازه على شروط بعضها فى المتصرف كالملك فإن الولاية على المحل شرط الجواز والولاية يستفاد بالملك أو هي نفس الملك حتى لو وقف ملك الغير بغير إذنه توقف على إجازته وبعضها يرجع إلى نفس التصرف وهو كونه قربة فى ذاته وعند المتصرف حتى لو وقف المسلم أرضه أو داره على البيعة أو الكنيسة أو على دار دعوة للمبتدعة أو على فقراء أهل الحرب لا يجوز لعدم كونه قربة فى نفس الأمر وعند المتصرف وكذا لو كان الواقف ذميا لعدم كونه قربة فى نفس الأمر وسيأتي بيانه فى قف أهل الذمة إن شاء الله تعالى وبعضها يرجع إلى المحل وهو كونه عقارا أو منقولا تبعا للعقار واختلفنا فى كون أربعة أشياء شرطا للجواز (1) الأول التسليم للموقوف ليس بشرط عند أبى يوسف رحمه الله لأن الوقف ليس بتمليك وإنما هو إخراج له عن ملكه إلى الوقف فأشبه الإعتاق بخلاف الصدقة المنقدة فإنها إخراج من ملك إلى ملك فتحتاج إلى قبض العين لتملك ولما تقدم من رواية الواقدي فى وقف عمر بن الخطاب أنه فى يده فإذا توفى فهو إلى حفصة ولأن يد المخرج إليه يده حكما لاستفادته الولاية منه فيصير كأنه أخرجه منه إليه فلا تزيد يد الفرع على يد الأصل فى الحكم وشرط عند محمد رحمه الله لأنه تقرب إلى الله تعالى بعين من ماله فيتوقف جوازه على التسليم كالصدقة بالعين وقد علم جوابه ثم تسليم كل شئ عنده بما يليق به ففي المقبرة يحصل بدفن واحد فصاعدا بإذنه وفى السقاية بشرب واحد وفى الخان بنزول واحد من المارة هذا فى المقبرة والخان الذي تنزل فيه المارة كل يوم وأما السقاية التي تحتاج إلى صب الماء فيها والخان الذي ينزله الحاج بمكة والقرارة بالثغر فلا بد فيها من التسليم إلى المتولي لأن نزولهم مكون فى السنة مرة فيحتاج إلى من يقوم بمصالحه وإلى من يصب الماء فيها والغنى والفقير فى الخان والسقاية والبئر والحوض سواء
--------------------------------------------
ওয়াকফের (الوقف) বৈধতা কতিপয় শর্তের ওপর নির্ভরশীল। তার মধ্যে কিছু শর্ত দাতার (المتصرف) সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মালিকানা (الملك); কেননা নির্দিষ্ট বিষয়ের (المحل) ওপর কর্তৃত্ব (الولاية) থাকা বৈধতার একটি শর্ত। আর এই কর্তৃত্ব (الولاية) মালিকানার (الملك) মাধ্যমেই অর্জিত হয় অথবা এটি স্বয়ং মালিকানা। এমনকি যদি কেউ অন্যের মালিকানাধীন সম্পত্তি তার অনুমতি ব্যতিরেকে ওয়াকফ (الوقف) করে, তবে তা মালিকের সম্মতির ওপর স্থগিত থাকবে। আর কিছু শর্ত স্বয়ং উক্ত কাজের (التصرف) সাথে সম্পৃক্ত, আর তা হলো কাজটি মূলত এবং দাতার (المتصرف) নিকট ইবাদত বা নৈকট্য লাভের কাজ (قربة) হওয়া। এমনকি যদি কোনো মুসলিম তার জমি বা ঘর কোনো সিনাগগ বা গির্জার জন্য, কিংবা বিদআতিদের দাওয়াত কেন্দ্রের জন্য, অথবা হারবি কাফিরদের দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ (الوقف) করে, তবে তা বৈধ হবে না; কারণ এটি প্রকৃত বিচারে এবং দাতার (المتصرف) দৃষ্টিতে কোনো পুণ্য বা নৈকট্য লাভের কাজ (قربة) নয়। অনুরূপভাবে দাতা জিম্মি (ذميا) হলেও বৈধ হবে না, কারণ এটি প্রকৃত বিচারে পুণ্য (قربة) নয়। জিম্মিদের ওয়াকফ (الوقف) সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। আর কিছু শর্ত সম্পত্তির (المحل) সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো সেটি স্থাবর সম্পত্তি (عقارا) হওয়া অথবা স্থাবর সম্পত্তির অনুগামী হিসেবে অস্থাবর সম্পত্তি (منقولا) হওয়া। আমরা চারটি বিষয়ে মতভেদ করেছি যা বৈধতার শর্ত: (১) প্রথমটি হলো: ওয়াকফকৃত (الموقوف) সম্পত্তি অর্পণ (التسليم) করা। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে এটি শর্ত নয়; কারণ ওয়াকফ (الوقف) মালিকানা প্রদান নয়, বরং এটি নিজের মালিকানা থেকে বের করে ওয়াকফের (الوقف) অন্তর্ভুক্ত করা। ফলে এটি দাসমুক্ত করার (الإعتاق) সদৃশ। পক্ষান্তরে নগদ সদকা (الصدقة) এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি এক মালিকানা থেকে অন্য মালিকানায় হস্তান্তর; ফলে মালিকানা অর্জনের জন্য মূল বস্তুটি হস্তগত (قبض) করা প্রয়োজন। এছাড়া ইতিপূর্বে বর্ণিত ওয়াকিদির রেওয়ায়েত অনুযায়ী ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ওয়াকফ (الوقف) সম্পর্কে জানা যায় যে, সেটি তার জীবদ্দশায় তার নিজ হাতেই ছিল, অতঃপর তার মৃত্যুর পর তা হাফসা (রা.)-এর নিকট হস্তান্তরের অসিয়ত ছিল। এছাড়া যার নিকট সম্পদ হস্তান্তর করা হচ্ছে, বিধানগতভাবে দাতার হাতই তার হাত হিসেবে গণ্য হবে, কারণ সে দাতার পক্ষ থেকেই কর্তৃত্ব (الولاية) প্রাপ্ত হয়। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে দাতা যেন নিজের সম্পদ নিজের কাছেই হস্তান্তর করলেন। সুতরাং বিধানের ক্ষেত্রে মূলের হাতের চেয়ে শাখার হাতের গুরুত্ব বেশি হতে পারে না। অন্যদিকে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে অর্পণ করা শর্ত; কারণ এটি নিজের সম্পদ দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ (تقرب) করা, তাই সদকার (الصدقة) মতো এর বৈধতাও অর্পণের (التسليم) ওপর নির্ভরশীল। এর উত্তর আগেই জানা গেছে। অতঃপর তার (ইমাম মুহাম্মদ) মতে প্রত্যেকটি বস্তু তার উপযোগী পন্থায় অর্পণ (التسليم) করতে হবে। যেমন কবরস্থানের (المقبرة) ক্ষেত্রে ওয়াকফকারীর অনুমতিতে সেখানে একজন বা ততোধিক ব্যক্তিকে দাফন করার দ্বারা তা সম্পন্ন হয়। পানি পানের স্থানের (السقاية) ক্ষেত্রে একজনের পানি পান করার দ্বারা এবং সরাইখানার (الخان) ক্ষেত্রে পথচারীদের একজনের অবস্থানের মাধ্যমে তা সম্পন্ন হয়। এটি ঐ সকল কবরস্থান (المقبرة) ও সরাইখানার (الخان) ক্ষেত্রে যেখানে প্রতিদিন পথচারীরা যাতায়াত করে। কিন্তু যে পানশালায় পানি ঢালতে হয়, মক্কায় হাজীদের অবস্থানের সরাইখানা এবং সীমান্ত প্রহরীদের অবস্থানের জায়গার ক্ষেত্রে অবশ্যই তা মুতাওয়াল্লি বা তত্ত্বাবধায়কের (المتولي) নিকট অর্পণ (التسليم) করতে হবে। কারণ সেখানে বছরে একবার মানুষ আসে, ফলে এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পানি ঢালার জন্য একজন দায়িত্বশীলের প্রয়োজন। আর সরাইখানা, পানি পানের স্থান, কূপ ও হাউজের ক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্র সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لاستوائهما فى الحاجة وفى المسجد بالصلاة فيه بجماعة بإذن بانيه وسيأتي ما فيه من الاختلاف فى باب بناء المساجد إن شاء الله تعالى وعلى هذا الخلاف ينبني ما إذا استغنى الناس عن الصلاة فى المسجد لخراب ما حواليه فأعاده محمد إلى ملكه وارثه إن كان ميتا لأن التسليم بالصلاة شرط عنده ابتداء فكذا انتهاء وأبقاه أبو يوسف رحمه الله مسجدا لعدم اشتراطه التسليم والثاني كونه مفرزا شرط عند محمد رحمه الله لتوقف التسليم عليه وليس بشرط عند أبى يوسف رحمه الله لما بينا أنه ألحقه بالعتق فلو وقف نصف أرضه يصح عنده ولا يصح عند محمد رحمه الله وسيأتي تمامه فى فصل وقف المشاع والثالث ذكر التأبيد أو ما يقوم مقامه كالصدقة ونحوها شرط عند محمد رحمه الله وليس بشرط عند أبى يوسف رحمه الله فلو قال وقفت أرضى هذه أو قال جعلتها موقوفة ولم يزد عليه جاز عنده وصارت وقفا على الفقراء وبه أفتى مشايخ بلخ وعليه الفتوى لأن قوله وقفت يقتضى إزالته إلى الله تعالى ثم إلى نائبه وهو الفقير وذا يقتضى التأبيد فلا حاجة إلى ذكره كالإعتاق وعند محمد لا يجوز لأن موجبه زوال الملك بدون التمليك وذلك بالتأبيد كالعتق وإذا لم يتأبد لم يتوفر عليه موجبه ولهذا يبطله التأقيت كما يبطل البيع ولو قال وقفت أرضى هذه على عمارة المسجد الفلاني يجوز عنده لأنه لو لم يزد على قوله وقفت يجوز عنده فبالأولى إذا عين جهة ولا يجوز عند محمد لاحتمال خراب ما حوله فلا يكون مؤبدا وعن أبى بكر الأعمش ينبغي أن يجوز على الاتفاق لأن الوقف على عمارة المسجد بمنزلة جعل الأرض مسجدا أو بمنزلة زيادة فى المسجد قال الفقيه أبو جعفر هذا القول أصح إلىّ وقال أبو بكر الإسكاف ينبغي أن لا يصح هذا عند الكل لأن الوقف على المسجد وقف على عمارته والمسجد يكون مسجدا بدون البناء فلا تكون عمارة البناء مما يتأبد فلا يصح الوقف والأول أوجه ولو قال وقفت أرضى هذه على ولدى وولد ولدى ونسلهم أبدا يصح عند أبى يوسف
নির্মাতার অনুমতি নিয়ে জামাতের সাথে সেখানে সালাত আদায়ের মাধ্যমে তা মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে এবং প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে উভয়টি সমান হওয়ার কারণে এবং ইনশাআল্লাহ মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত অধ্যায়ে এ বিষয়ে মতপার্থক্য আলোচনা করা হবে। এই মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করেই মাসআলা তৈরি হয় যে, যখন আশেপাশের এলাকা জনশূন্য হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ মসজিদে সালাত আদায় করা থেকে বিমুখ হয়ে যায়, তখন ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, সেটি ওয়াকফকারীর মালিকানায় বা তিনি মৃত হলে তাঁর ওয়ারিশদের মালিকানায় ফিরে আসবে; কারণ তাঁর নিকট সালাতের মাধ্যমে অর্পণ (تسليم) করা যেমন শুরুতে শর্ত, তেমনি শেষেও তা শর্ত। তবে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এটিকে মসজিদ হিসেবেই বহাল রেখেছেন, কারণ তিনি হস্তান্তর বা অর্পণ (تسليم) শর্ত করেননি। দ্বিতীয়ত, ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে ওয়াকফকৃত সম্পদটি পৃথক ও সুনির্দিষ্ট (مفرزا) হওয়া শর্ত, যেহেতু হস্তান্তর বা অর্পণ (تسليم) এর ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর নিকট এটি শর্ত নয়, কারণ আমরা বর্ণনা করেছি যে তিনি এটিকে গোলাম আযাদ করার সদৃশ গণ্য করেছেন। সুতরাং যদি কেউ তার ভূমির অর্ধেক ওয়াকফ করে, তবে তাঁর মতে তা সহিহ (صحيح) হবে, কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর নিকট তা সহিহ (صحيح) হবে না। এর পূর্ণ বিবরণ যৌথ মালিকানাধীন সম্পদ ওয়াকফ করার পরিচ্ছেদে আসবে। তৃতীয়ত, চিরস্থায়ী হওয়ার (تأبيد) উল্লেখ থাকা বা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো শব্দ যেমন সদকা (صدقة) ইত্যাদি থাকা ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর নিকট শর্ত। কিন্তু ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর নিকট এটি শর্ত নয়। অতএব, কেউ যদি বলে "আমি আমার এই জমি ওয়াকফ করলাম" অথবা বলে "আমি এটিকে ওয়াকফ হিসেবে নির্ধারণ করলাম" এবং এর অতিরিক্ত কিছু না বলে, তবে তাঁর নিকট এটি বৈধ (جائز) হবে এবং তা দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। বালখের মাশায়েখগণ এই মতেই ফতোয়া (فتوى) দিয়েছেন এবং এর ওপরই ফতোয়া (فتوى) কার্যকর। কেননা "আমি ওয়াকফ করলাম" কথাটি মালিকানা আল্লাহ তায়ালার দিকে এবং অতঃপর তাঁর প্রতিনিধি অর্থাৎ দরিদ্রদের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার দাবি রাখে। আর এটি চিরস্থায়ী হওয়ার (تأبيد) দাবি রাখে, তাই গোলাম আযাদ করার মতোই এখানে আলাদাভাবে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। ইমাম মুহাম্মদের মতে এটি বৈধ (جائز) নয়। কারণ এর দাবি হলো কাউকে মালিক না বানিয়েই মালিকানা বিলুপ্ত করা, যা গোলাম আযাদ করার মতো চিরস্থায়ী হওয়ার (تأبيد) মাধ্যমেই সম্ভব। আর যদি এটি চিরস্থায়ী (تأبيد) না হয়, তবে এর দাবি পূর্ণ হবে না। এই কারণেই সময় নির্ধারণ করা এটিকে বাতিল (باطل) করে দেয়, যেমনটি তা ক্রয়-বিক্রয়কে বাতিল (باطل) করে। যদি কেউ বলে "আমি আমার এই জমি অমুক মসজিদের সংস্কারের জন্য ওয়াকফ করলাম", তবে তাঁর (ইমাম আবু ইউসুফ) মতে এটি বৈধ (جائز); কারণ যদি তিনি শুধু "ওয়াকফ করলাম" বলাতেই এটিকে বৈধ (جائز) মনে করেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট খাতের উল্লেখ করলে তা তো আরও উত্তমভাবে বৈধ (جائز) হবে। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদের নিকট এটি বৈধ (جائز) নয়, কারণ এর আশেপাশের এলাকা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে এটি চিরস্থায়ী (مؤبد) থাকবে না। আবু বকর আল-আমাশ থেকে বর্ণিত আছে যে, এটি সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ (جائز) হওয়া উচিত; কারণ মসজিদের সংস্কারের জন্য ওয়াকফ করা মানে জমিকে মসজিদে রূপান্তর করা অথবা মসজিদের পরিধি বৃদ্ধির সমতুল্য। ফকিহ আবু জাফর বলেন, "এই মতটিই আমার কাছে অধিকতর সহিহ (أصح)"। আবু বকর আল-ইস্কাফ বলেন, এটি কারো মতেই সহিহ (صحيح) হওয়া উচিত নয়; কারণ মসজিদের ওপর ওয়াকফ মানে হলো তার সংস্কারের ওপর ওয়াকফ। আর মসজিদ কোনো স্থাপনা ছাড়াই মসজিদ হিসেবে গণ্য হতে পারে, তাই স্থাপনার সংস্কার এমন কিছু নয় যা চিরস্থায়ী (تأبيد) হতে পারে; ফলে ওয়াকফ সহিহ (صحيহ) হবে না। তবে প্রথম মতটিই অধিক যুক্তিযুক্ত। আর যদি কেউ বলে, "আমি আমার এই জমি আমার সন্তান, তাদের সন্তান এবং তাদের বংশধরদের জন্য চিরস্থায়ীভাবে ওয়াকফ করলাম", তবে ইমাম আবু ইউসুফের মতে এটি সহিহ (صحيح) হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فإذا انقرضوا تكون الغلة للفقراء ولا يصح عند محمد لاحتمال الانقطاع ولو قال وقفت أرضى هذه على ولد زيد أو ذكر جماعة بأعيانهم لم يصح عند أبى يوسف أيضا لأن تعيين الموقوف عليه يمنع إرادة غيره بخلاف ما إذا لم يعين لجعله إياه وقفا على الفقراء ألا ترى فرق بين قوله أرضى هذه موقوفة وبين قوله موقوفة على ولدى فصحح الأول دون الثاني لأن مطلق قوله موقوفة ينصرف إلى الفقراء عرفا فإذا ذكر الولد صار مقيدا فلا يبقى العرف فظهر بهذا أن الخلاف بينهما فى اشتراط ذكر التأبيد وعدمه إنما هو فى التنصيص عليه أو على ما يقوم مقامه كالفقراء ونحوهم وأما التأبيد معنى فشرط اتفاقا على الصحيح وقد نص عليه محققو المشايخ رحمهم الله تعالى والرابع اشتراط الواقف الإنتفاع بالوقف لا يمنع من صحته عند أبى يوسف رحمه الله ويمنع عند محمد رحمه الله وسيأتي فى باب الوقف على النفس أن الفتوى قول أبى يوسف وأن معه جماعة والله أعلم.
[فصل فى بيان اشتراط قبول الوقف وعدمه]قبول الموقوف عليه الوقف ليس بشرط إن وقع لِأقوام غير معينين كالفقراء والمساكين وإن وقع لشخص بعينه وجعل آخره للفقراء يشترط قبوله فى حقه فإن قبله كانت الغلة له وإن رده تكون للفقراء ويصير كأنه مات ومن قبل ما وقف عليه ليس له الرد بعده ومن رده أول مرة ليس له القبول بعده فلو قال وقفت أرضى هذه على أولاد زيد ونسله وعقبه ومن بعدهم على المساكين فقبله بعضهم ورده بعضهم تكون الغلة كلها لمن قبل منهم وإن رده كلهم تكون للمساكين وإن قبل كل واحد منهم بعضه ورد الباقي يكون ما ردوه للمساكين فإن حدث لزيد ولد أو نسل وقبله كلهم أو بعضهم رجع لمن قبله منهم وإن رده كلهم كان للمساكين وهكذا إلى أن ينقرضوا بخلاف ما لو أوصى بثلث ماله لجماعة بأعيانهم فردها بعضهم فأن حصتهم تكون لورثة الموصى وكذلك لو ردها
সুতরাং যখন তারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তখন এর আয় দরিদ্রদের জন্য হবে। ইমাম মুহাম্মদ-এর মতে এটি বৈধ (صحيح) হবে না, কারণ এতে ধারাটি বিচ্ছিন্ন (انقطاع) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তিনি বলেন, ‘আমি আমার এই জমি জায়েদের সন্তানদের জন্য অথবা নির্দিষ্ট একদল ব্যক্তির জন্য ওয়াকফ করলাম’, তবে ইমাম আবু ইউসুফের নিকটেও তা বৈধ (صحيح) হবে না। কারণ, যাদের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে তাদের নির্দিষ্ট করে দেওয়া অন্যদের জন্য ব্যবহারের ইচ্ছাকে বাধাগ্রস্ত করে। বিপরীত পরিস্থিতি হবে যখন তিনি নির্দিষ্ট করবেন না; সেক্ষেত্রে দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ করার বিষয়টি সাব্যস্ত হবে। আপনি কি ‘আমার এই জমিটি ওয়াকফকৃত (موقوفة)’ এবং ‘এটি আমার সন্তানদের জন্য ওয়াকফকৃত (موقوفة)’—এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখছেন না? প্রথমটিকে তিনি বৈধ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন কিন্তু দ্বিতীয়টিকে নয়। কারণ ‘ওয়াকফকৃত (موقوفة)’ শব্দটি সাধারণভাবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দরিদ্রদের দিকেই ধাবিত হয়। কিন্তু যখন সন্তানদের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন তা সীমাবদ্ধ হয়ে যায় এবং সেই সাধারণ রীতি আর অবশিষ্ট থাকে না। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, উভয়ের মধ্যে চিরস্থায়ী হওয়ার (تأبيد) শর্ত করা বা না করার বিষয়ে যে মতভেদ রয়েছে, তা মূলত স্পষ্ট শব্দে তা উল্লেখ করা অথবা দরিদ্রদের মতো এর স্থলাভিষিক্ত কোনো বিষয় উল্লেখ করার ক্ষেত্রে। আর অর্থের দিক থেকে চিরস্থায়ী হওয়া (تأبيد معنى) সঠিক (صحيح) মতানুসারে সর্বসম্মতিক্রমে একটি শর্ত; এটি বিজ্ঞ মাশায়েখগণ (রহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহিম) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। চতুর্থ বিষয়টি হলো, ওয়াকফকারী (واقف) নিজের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়ার শর্ত করা ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর নিকট ওয়াকফ বৈধ (صحة) হওয়ার অন্তরায় নয়, তবে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর নিকট তা অন্তরায়। ‘নিজের ওপর ওয়াকফ’ সংক্রান্ত অধ্যায়ে সামনে আলোচনা আসবে যে, ফতোয়া ইমাম আবু ইউসুফের মতের ওপর এবং তাঁর সাথে একটি জামাত রয়েছেন। আল্লাহু আলাম।
[ওয়াকফ কবুল বা গ্রহণ করার শর্ত হওয়া না হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]যাদের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে তাদের কবুল করা বা গ্রহণ করা শর্ত নয়, যদি তা অনির্দিষ্ট একদল লোকের জন্য হয়, যেমন দরিদ্র বা মিসকিনদের ক্ষেত্রে। কিন্তু যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য করা হয় এবং এর শেষ অংশটি দরিদ্রদের জন্য রাখা হয়, তবে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে কবুল করা শর্ত। যদি সে কবুল করে, তবে আয় তার হবে; আর যদি প্রত্যাখ্যান করে, তবে তা দরিদ্রদের জন্য হবে এবং বিষয়টি এমন হবে যেন সে মারা গিয়েছে। যে ব্যক্তি একবার ওয়াকফ গ্রহণ করেছে, পরবর্তীতে তার প্রত্যাখ্যান করার অধিকার নেই; আর যে প্রথমবার প্রত্যাখ্যান করেছে, পরবর্তীতে তার গ্রহণ করার অধিকার নেই। সুতরাং যদি কেউ বলে, ‘আমি আমার এই জমি জায়েদের সন্তানদের, তাদের বংশধরদের এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ওয়াকফ করলাম এবং তাদের পর দরিদ্রদের জন্য’, এমতাবস্থায় যদি তাদের কেউ কেউ কবুল করে এবং কেউ প্রত্যাখ্যান করে, তবে সমুদয় আয় তাদের জন্য হবে যারা কবুল করেছে। আর যদি তারা সবাই প্রত্যাখ্যান করে, তবে তা দরিদ্রদের জন্য হবে। আর যদি তারা প্রত্যেকেই আংশিক কবুল করে এবং বাকি অংশ প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের প্রত্যাখ্যাত অংশ দরিদ্রদের জন্য হবে। অতঃপর যদি জায়েদের কোনো সন্তান বা বংশধর জন্ম নেয় এবং তারা সবাই বা তাদের কেউ কবুল করে, তবে তা তাদের কাছে ফিরে যাবে যারা কবুল করেছে। আর যদি তারা সবাই প্রত্যাখ্যান করে, তবে তা দরিদ্রদের জন্য হবে। এভাবে তাদের বিলুপ্তি ঘটা পর্যন্ত চলতে থাকবে। এটি সেই পরিস্থিতির বিপরীত, যেখানে কেউ একদল নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ অসিয়ত (وصية) করে এবং তাদের কেউ কেউ তা প্রত্যাখ্যান করে; সেক্ষেত্রে তাদের অংশটি অসিয়তকারীর ওয়ারিশদের (ورثة) প্রাপ্য হবে। একইভাবে যদি সে তা প্রত্যাখ্যান করে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الكل والفرق بينهما أن الموصى إنما أوصى لهم فقط فما بطل منها يكون لورثته وأما الواقف فإنه قد جعله بعدهم للمساكين فإذا بطل كونه لهم يصير للمساكين ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة لله عز وجل أبداً على زيد وعمر وما عاشا ومن بعدهما على المساكين ثم مات أحدهما أو رَدّ تكون حصته للمساكين ولا يستحقها الآخر لأنه جعل الوقف لله عز وجل ابتداء ثم أوجبه لهما وما كان لله تعالى فهو للمساكين فمن قبل منهما وبقى حيا تقدم عليهم بحصته فقط بخلاف المسألة الأولى فإنه أوجبه لهم أولا ثم جعله من بعدهم للمساكين فلا يكون لهم شئ ما لم يردّ الكل أو ينقرضوا ولو قال وقفت أرضى هذه على زيد وأولاده ومن بعدهم على المساكين فقال زيد لا أقبل لنفسي ولا لأولادي يصح رده فى حصته فقط وأما أولاده فإن كانوا كبارا فالرد والقبول إليهم وإن كانوا صغارا تكون حصتهم لهم ولو قال وقفت أرضى هذه على زيد ومن بعده على المساكين فقال زيد قبلت غلة هذه السنة ورددت ما بعدها أو قال قبلت ثلثها أو نصفها ورددت الباقي استحق ما قبله وكان الباقي للمساكين ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة لله عز وجل أبدا على زيد وعمرو ما عاشا إن قبلا ومن بعدهما على المساكين فقبل أحدهما ورد الآخر استحق القابل حصته وتكون حصة الراد للمساكين وقد روى عن زفر رحمه الله أنه قال إذا أوصى أن يجرى على زيد وعمرو من ثلثه فى كل شهر دراهم لكل منهما ما عاشا إنه إذا مات أحدهما تبطل وصية الآخر لكونه قال ما عاشا والمراد من هذا عنده حياتهما معا وقال سائر أصحابنا رحمهم الله وصية الباقي منهما على حالها ولا تبطل بموت الآخر ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة لله عز وجل أبدا على زيد وعمرو ومن بعدهما على المساكين وكان أحدهما ميتا تكون الغلة كلها للحى منهما لعدم جواز الوقف على الميت فإذا مات الحي تصير الغلة للمساكين
উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, অসিয়তকারী কেবল তাদের জন্যই অসিয়ত করেছেন, ফলে সেই অসিয়তের যতটুকু অংশ বাতিল (باطل) হবে তা তার ওয়ারিশদের প্রাপ্য হবে। কিন্তু ওয়াকফকারী একে তাদের পরে দরিদ্রদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে এটি বাতিল (باطل) সাব্যস্ত হলে তা দরিদ্রদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যদি কেউ বলে, "আমার এই জমিটি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সর্বদা যায়িদ ও উমরের জন্য সদকা-ই-মাওকুফা হিসেবে নিবেদিত থাকবে যতদিন তারা জীবিত থাকে এবং তাদের পরে দরিদ্রদের জন্য," অতঃপর তাদের একজন মারা যায় অথবা তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে তার অংশটি দরিদ্রদের প্রাপ্য হবে এবং অপরজন তা লাভের অধিকারী হবে না। কেননা সে শুরুতেই ওয়াকফটি আল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত করেছে, অতঃপর তা তাদের উভয়ের জন্য নির্ধারিত করেছে। আর যা আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত, তা দরিদ্রদের প্রাপ্য। সুতরাং তাদের মধ্যে যে কবুল করেছে এবং জীবিত আছে, সে কেবল তার অংশের ক্ষেত্রে তাদের ওপর অগ্রগণ্য হবে। এটি প্রথম মাসআলার বিপরীত; কারণ সেখানে সে ওয়াকফটি প্রথমে তাদের জন্য আবশ্যক করেছিল, তারপর তাদের পরে দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত করেছিল। এমতাবস্থায় সকলে প্রত্যাখ্যান না করা পর্যন্ত বা সকলে মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত দরিদ্ররা কিছুই পাবে না। যদি কেউ বলে, "আমি আমার এই জমি যায়িদ ও তার সন্তানদের জন্য এবং তাদের পরে দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ করলাম," অতঃপর যায়িদ বলে, "আমি নিজের জন্য এবং আমার সন্তানদের জন্য এটি গ্রহণ করব না," তবে কেবল তার নিজ অংশের ক্ষেত্রে তার এই প্রত্যাখ্যান সঠিক (صحيح) হবে। আর তার সন্তানদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—তারা যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয় তবে গ্রহণ বা বর্জনের সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ন্যস্ত; কিন্তু তারা যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয় তবে তাদের অংশ তাদের জন্যই বহাল থাকবে। যদি কেউ বলে, "আমি আমার এই জমি যায়িদের জন্য এবং তার পরে দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ করলাম," অতঃপর যায়িদ বলে, "আমি এই বছরের মুনাফা গ্রহণ করলাম কিন্তু পরবর্তী সময়ের জন্য প্রত্যাখ্যান করলাম," অথবা সে বলল, "আমি এর এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক গ্রহণ করলাম এবং বাকিটা প্রত্যাখ্যান করলাম," তবে সে যা গ্রহণ করেছে কেবল তারই হকদার হবে এবং অবশিষ্ট অংশ দরিদ্রদের প্রাপ্য হবে। আর যদি কেউ বলে, "আমার এই জমিটি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সর্বদা যায়িদ ও উমরের জন্য সদকা-ই-মাওকুফা হিসেবে নিবেদিত যতদিন তারা জীবিত থাকে—যদি তারা কবুল করে—এবং তাদের পরে দরিদ্রদের জন্য," অতঃপর তাদের একজন কবুল করল এবং অপরজন প্রত্যাখ্যান করল, তবে কবুলকারী তার অংশের মালিক হবে এবং প্রত্যাখ্যানকারীর অংশ দরিদ্রদের প্রাপ্য হবে। ইমাম যুফার (রহ.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন—যদি কেউ এই মর্মে অসিয়ত করে যে, তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে যায়িদ ও উমর যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন তাদের প্রত্যেককে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ দিরহাম প্রদান করা হবে, তবে তাদের একজন মারা গেলে অপরজনের অসিয়তও বাতিল (باطل) হয়ে যাবে। কারণ সে বলেছিল "যতদিন তারা বেঁচে থাকে", আর তার নিকট এর অর্থ হলো তাদের উভয়ের একত্রে বেঁচে থাকা। কিন্তু আমাদের অন্যান্য ফকিহগণ (রহ.) বলেছেন যে, তাদের মধ্যে অবশিষ্ট ব্যক্তির অসিয়ত বহাল থাকবে এবং অপরজনের মৃত্যুতে তা বাতিল (باطل) হবে না। যদি কেউ বলে, "আমার এই জমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সর্বদা যায়িদ ও উমরের জন্য এবং তাদের পরে দরিদ্রদের জন্য সদকা-ই-মাওকুফা," অথচ তাদের একজন ইতিপূর্বেই মৃত ছিল, তবে লব্ধ সমস্ত মুনাফা জীবিত ব্যক্তির প্রাপ্য হবে। কারণ মৃত ব্যক্তির অনুকূলে ওয়াকফ করা বৈধ (جائز) নয়। অতঃপর যখন জীবিত ব্যক্তিও মারা যাবে, তখন সমস্ত মুনাফা দরিদ্রদের জন্য হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[باب بيان ما يجوز وقفه وما لا يجوز وما يدخل تبعا وما لا يدخل وإنكار دخول بعض الموقوف فيه ووقف ما يقطعه الإمام]إذا وقف الحر العاقل البالغ أرضه أو داره أو ما جرى التعارف بوقفه من المنقولات وهو غير محجور عليه ولا مرتد يصح لازما عند عامة العلماء وقال أبو حنيفة يجوز جواز الإعارة أو لا يجوز على ما بينا فى أول الكتاب فلو قال أرضى هذه صدقة موقوفة لله عز وجل أبدا ولم يزد تصير وقفا (1) ويدخل فيه ما فيها من الشجر والبناء دون الزرع والثمرة كما فى البيع ويدخل فيه أيضا الشرب والطريق استحسانا لأنها إنما توقف للاستغلال وهو لا يوجد إلا بالماء والطريق فكان كالإجارة بخلاف ما لو جعل أرضه أو داره مقبرة وفيهما أشجار عظام وأبنية فإنها لا تدخل فى الوقف فتكون له ولورثته من بعده ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة بحقوقها وجميع ما فيها ومنها وعلى الشجر ثمرة قائمة يوم الوقف قال هلال فى القياس تكون الثمرة له ولا تدخل فى الوقف وفى الاستحسان يلزمه التصدق بها على الفقراء على وجه النذر لا على وجه الوقف لأنه لما قال بجميع ما فيها ومنها فقد تكلم بما يوجب التصدق فيلزمه التصدق بالثمرة التي كانت متصلة به يوم الوقف وما يحدث بعده يصرف فى الوجوه التي سماها لكونه غلة الوقف وذكر الناطفي رجل قال جعلت أرضى هذه وقفا على الفقراء ولم يقل بحقوقها يدخل البناء والشجر الذي فيها تبعا ولا يدخل الزرع النابت فيها حنطة كان أو شعيرا أو غيره وكذلك البقل والآس والرياحين والخلاف والطرفاء وما فى الأجمة من حطب يقطع فى كل سنة والورد والياسمين وورق الحناء والقطن والباذنجان وزهر بصل النرجس والرطاب فإنها لا تدخل وأما الأصول التي تبقى والشجر الذي لا يقطع إلا بعد عامين أو أكثر فإنها تدخل تبعا ولو زاد بحقوقها تدخل
--------------------------------------------
[অধ্যায়: যা ওয়াকফ করা বৈধ এবং যা বৈধ নয়, যা আনুষঙ্গিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং যা হয় না, ওয়াকফকৃত বিষয়ের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অস্বীকৃতি এবং ইমাম যা কর্তন করেন তা ওয়াকফ করার বিবরণ]যখন একজন স্বাধীন, সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তার জমি বা ঘর অথবা চলনক্ষম সম্পদ (منقولات) যা ওয়াকফ করার প্রচলন রয়েছে তা ওয়াকফ করেন এবং তিনি যদি আইনত সীমাবদ্ধ (محجور عليه) না হন কিংবা ধর্মত্যাগী (مرتد) না হন, তবে সাধারণ আলেমদের মতে এই ওয়াকফ অপরিহার্য (لازم) হিসেবে সহিহ (صحيح) হবে। ইমাম আবু হানিফা বলেন, এটি ধার স্বরূপ (إعارة) প্রদানের ন্যায় বৈধ অথবা এটি মোটেই বৈধ নয়, যেমনটি আমরা কিতাবের শুরুতে বর্ণনা করেছি। সুতরাং তিনি যদি বলেন: "আমার এই জমিটি মহান আল্লাহর জন্য চিরস্থায়ী ওয়াকফকৃত সদকা," এবং এর বেশি কিছু না বলেন, তবে তা ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে (১)। এর মধ্যে জমিতে থাকা গাছপালা এবং স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে ফসল ও ফল অন্তর্ভুক্ত হবে না, যেমনটি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এতে সেচ দেওয়ার অধিকার ও যাতায়াতের পথও সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি (استحسان) অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ এটি উপযোগিতা অর্জনের জন্যই ওয়াকফ করা হয় এবং পানি ও পথ ছাড়া তা সম্ভব নয়, ফলে এটি ভাড়া (إجارة) চুক্তির ন্যায়। তবে বিষয়টি ভিন্ন হবে যদি তিনি তার জমি বা ঘরকে কবরস্থানের জন্য নির্ধারণ করেন এবং সেখানে বড় বড় গাছ ও দালানকোঠা থাকে; সেক্ষেত্রে সেগুলো ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হবে না বরং তা তাঁর এবং তাঁর পরবর্তী ওয়ারিশদের মালিকানাধীন থাকবে। যদি তিনি বলেন, "আমার এই জমিটি এর সকল অধিকার এবং এতে যা কিছু আছে ও যা কিছু এর থেকে উৎপন্ন হয় সবসহ ওয়াকফকৃত সদকা," এবং ওয়াকফ করার দিন গাছে ফল বিদ্যমান থাকে, তবে হেলাল বলেন, পদ্ধতিগত অনুমান (قياس) অনুযায়ী ফল তাঁরই থাকবে এবং তা ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি (استحسان) অনুযায়ী তাঁর জন্য ঐ ফলগুলো দরিদ্রদের মাঝে সদকা করা আবশ্যক হবে মানত (نذر) হিসেবে, ওয়াকফ হিসেবে নয়। কারণ যখন তিনি বলেছিলেন "এতে যা কিছু আছে এবং যা কিছু এর থেকে উৎপন্ন হয় সবসহ", তখন তিনি এমন বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন যা সদকা করা ওয়াজিব করে দেয়; ফলে ওয়াকফ করার দিন জমির সাথে লেগে থাকা ফল সদকা করা তাঁর জন্য আবশ্যক হবে। আর এরপর যা উৎপন্ন হবে তা ওয়াকফের আয় হওয়ার কারণে তাঁর নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা হবে। নাতফি উল্লেখ করেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি বলে: "আমি আমার এই জমিটি দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ করলাম" এবং "এর সকল অধিকারসহ" কথাটি না বলে, তবে জমিতে থাকা স্থাপনা ও গাছপালা আনুষঙ্গিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে সেখানে উৎপন্ন ফসল যেমন গম, যব বা অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত হবে না। একইভাবে শাকসবজি, সুগন্ধি লতা (آس), সুগন্ধি ফুল (رياحين), উইলো গাছ (خلاف), ঝাউ গাছ (طرفاء), ঝোপঝাড়ের কাঠ যা প্রতি বছর কাটা হয়, গোলাপ, জেসমিন (ياسمين), মেহেদি পাতা, তুলা, বেগুন, নার্গিস ফুলের বাল্ব এবং ঘাস বা পশুখাদ্য (رطاب) এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে যেসব মূল স্থায়ী থাকে এবং যেসব গাছ দুই বছর বা তার বেশি সময় ছাড়া কাটা হয় না, সেগুলো আনুষঙ্গিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি তিনি "সকল অধিকারসহ" কথাটি বৃদ্ধি করেন, তবে তা অন্তর্ভুক্ত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الثمرة القائمة فى الوقف وهذا أولى خصوصا إذا زاد بجميع ما فيها منها ولو وقف دارا بجميع ما فيها وفيها حمامات يطرن أو بيتا وفيه كوَّارات عسل يدخل الحمام والنحل تبعا للدار والعسل كما لو وقف ضيعة وذكر ما فيها من العبيد والدواليب وآلات الحراثة فإنها تصير وقفا تبعا لها وإن لم يجز إيصاله كالماء والهواء والأطراف فى بيع الأراضي والعبيد ونفقتهم من غلة الوقف وإن لم يذكرها الواقف ولو زوج الحاكم جارية الوقف يجوز وعبده لا يجوز ولو من أمة الوقف لأنه يلزمه المهر والنفقة ولو ضعف بعضهم عن العمل يجوز للقيم بيعه وشراء غلام بدله وكذلك الدواليب والآلات يبيعها ويشترى بثمنها ما هو أصلح للوقف وليس للقيم قطع الأشجار المثمرة ولا بيعها وله بيع غيرها بعد القطع لا قبله لأنها ما دامت متصلة بالأرض تكون تبعا لها وإذا نبت الفسيل فى أصول النخل إن كان فى تركه ضرر بالنخل يقطع ويباع وثمنه غله للوقف كثمن السعف وإلا يتركه على حاله وإذا صار نخلا خرج من أن يكون غلة وصار وقفا وهكذا حكم سائر ما ينبت من أصول أشجار الوقف ولو كان فى الكرم الوقف شجر يضر ظلها بثمارها إن كان ثمرها يزيد على ما ينقص من ثمره لا يقطع ولا تقطع وهكذا الحكم لو أضرت بالأرض ولو وقف ضيعة له وقال شهرتها تغنى عن تحديدها جاز الوقف ثم لو قال عن بعض قطع من الأرض إنها غير داخلة فى الوقف ينظر إلى حدودها فإن كانت مشهورة وكانت تلك القطع داخلها كانت وقفا وإلا كان القول فيها قوله وهكذا الحكم لو وقف دارا وقال إن هذه الحجرة لم تدخل فى الوقف فإنه ينظر إلى حدودها وتسأل الجيران عنها فإن شهدوا أنها من الدار كانت وقفا وإلا كان القول قوله فيما أشكل كونه وقفا ولو وقف أرضا أقطعه إياها السلطان فإن كانت ملكا له أو مواتا صح وإن كانت من بيت المال لا يصح ولا يصح وقف أرض الحوز وهى ما حازاها السلطان عند عجز أصحابها عن زراعتها
ওয়াকফকৃত (وقف) সম্পদে বিদ্যমান ফলসমূহ; এটিই অধিকতর সমীচীন, বিশেষত যখন তিনি (ওয়াকফকারী) এতে বিদ্যমান সবকিছুর কথা উল্লেখ করেন। যদি কেউ একটি বাড়ি তার সকল আসবাবপত্রসহ ওয়াকফ (وقف) করে এবং তাতে উড়ন্ত কবুতর থাকে, অথবা এমন একটি ঘর ওয়াকফ করে যাতে মধুর মৌচাক রয়েছে, তবে কবুতর এবং মৌমাছি বাড়ির অনুগামী হিসেবে ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর মধুও অনুরূপ, যেমনটি হয় যদি কেউ কোনো ভূসম্পত্তি ওয়াকফ (وقف) করে এবং তাতে থাকা দাস, সেচযন্ত্র ও চাষাবাদের সরঞ্জামের কথা উল্লেখ করে, তবে সেগুলো মূল সম্পদের অনুগামী হিসেবে ওয়াকফ (وقف) বলে গণ্য হবে। যদিও তা পৃথকভাবে হস্তান্তরযোগ্য না হয়, যেমন জমি বিক্রির ক্ষেত্রে পানি, বাতাস এবং সীমানা। আর দাসদের ভরণপোষণ ওয়াকফকৃত (وقف) সম্পত্তির আয় থেকে নির্বাহ করা হবে, যদিও ওয়াকফকারী (واقف) তা উল্লেখ না করেন। যদি বিচারক ওয়াকফকৃত (وقف) কোনো দাসীকে বিয়ে দেন, তবে তা জায়েজ (جائز); কিন্তু ওয়াকফকৃত দাসের ক্ষেত্রে তা জায়েজ (جائز) নয়—এমনকি ওয়াকফকৃত কোনো দাসীর সাথেও নয়—কারণ এতে মোহর ও ভরণপোষণ আবশ্যক হয়ে পড়ে। যদি তাদের মধ্যে কেউ কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে তত্ত্বাবধায়কের (قيم) জন্য তাকে বিক্রি করে তার পরিবর্তে নতুন দাস ক্রয় করা জায়েজ (جائز)। একইভাবে সেচযন্ত্র ও সরঞ্জামাদিও তিনি বিক্রি করতে পারেন এবং সেই মূল্য দিয়ে ওয়াকফের (وقف) জন্য যা অধিকতর কল্যাণকর তা ক্রয় করতে পারেন। তত্ত্বাবধায়কের (قيم) জন্য ফলদ বৃক্ষ কাটা বা বিক্রি করা বৈধ নয়। তবে ফলহীন গাছ কাটার পর তিনি তা বিক্রি করতে পারেন, কাটার আগে নয়। কারণ যতক্ষণ তা মাটির সাথে লেগে থাকে, ততক্ষণ তা ভূমির অনুগামী হিসেবে গণ্য হয়। খেজুর গাছের গোড়ায় যদি চারা গজায় এবং তা রেখে দিলে যদি মূল গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা কেটে বিক্রি করতে হবে এবং তার মূল্য খেজুর পাতার মূল্যের মতো ওয়াকফের (وقف) আয় হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায় তা তার অবস্থায় ছেড়ে দিতে হবে। আর যখন সেই চারা পূর্ণাঙ্গ খেজুর গাছে পরিণত হবে, তখন তা আয়ের পর্যায় থেকে বেরিয়ে নিজে একটি ওয়াকফ (وقف) সম্পদে পরিণত হবে। ওয়াকফকৃত (وقف) গাছের গোড়া থেকে জন্মানো অন্য সকল উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও একই বিধান (حكم)। ওয়াকফকৃত (وقف) আঙুর বাগানে যদি এমন কোনো গাছ থাকে যার ছায়া ফলের ক্ষতি করে, তবে দেখতে হবে যদি ওই গাছের ফল আঙুরের যে পরিমাণ ক্ষতি হয় তার চেয়ে বেশি মূল্যবান হয়, তবে তা কাটা যাবে না। ভূমির ক্ষতি করার ক্ষেত্রেও একই বিধান (حكم)। যদি কেউ তার কোনো ভূসম্পত্তি ওয়াকফ (وقف) করে এবং বলে যে, এর প্রসিদ্ধিই এর সীমানা নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট, তবে সেই ওয়াকফ (وقف) সহিহ (صحيح) হবে। এরপর যদি তিনি জমির কোনো অংশ সম্পর্কে দাবি করেন যে তা ওয়াকফের (وقف) অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তার সীমানার দিকে লক্ষ করতে হবে। যদি তা প্রসিদ্ধ সীমানার ভেতরে হয়, তবে তা ওয়াকফ (وقف) হিসেবে গণ্য হবে; অন্যথায় এ বিষয়ে ওয়াকফকারীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। যদি কেউ একটি বাড়ি ওয়াকফ (وقف) করে এবং বলে যে, এই কামরাটি ওয়াকফের (وقف) অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তার বিধানও (حكم) অনুরূপ। এক্ষেত্রে এর সীমানা দেখা হবে এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসা করা হবে। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় যে এটি বাড়িরই অংশ, তবে তা ওয়াকফ (وقف) হবে। অন্যথায়, যে বিষয়টি ওয়াকফ (وقف) হওয়ার ব্যাপারে অস্পষ্ট, সে ক্ষেত্রে ওয়াকফকারীর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। যদি কেউ সুলতান কর্তৃক প্রদত্ত জমি ওয়াকফ (وقف) করে, তবে তা যদি তার নিজস্ব মালিকানাধীন হয় বা পতিত (موات) জমি হয় তবে তা সহিহ (صحيح) হবে। কিন্তু যদি তা বায়তুল মাল (بيت المال) থেকে হয়, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে না। আর 'হাওয' (حوز) জমি ওয়াকফ (وقف) করা সহিহ (صحيح) নয়; আর এটি হলো এমন জমি যা সুলতান তার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন যখন এর মালিকরা তা চাষাবাদ করতে অক্ষম হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأداء مؤنها بدفعهم إياها إليه لتكون منفعتها للمسلمين مقام الخراج ورقبة الأرض على ملك أربابها فلو وقفها من أدخله السلطان فيها لعمارتها لا يصح لكونه مزارعا ولو وقف أرضا اشتراها بعقد فاسد يصح إن كان بعد القبض لأنه استهلكها بإخراجه إياها عن ملكه بالوقف وعليه قيمتها وإن كان قبله أو كان البيع باطلا كان الوقف باطلا ولو وهبت له أرض هبة فاسدة فقبضها ثم وقفها صح وعليه قيمتها ولو استحق ما وقفه لا يلزمه أن يشترى بثمنه الذي يرجع به على البائع أرضا ليقفها بدلا لأنه وقف ما لا يملك ولو استحق بعضه مشاعا وأخذه المستحق لا يبطل الوقف فى الباقي عند أبى يوسف لأنه يجيزه مشاعا ابتداء فبالأولى بقاه ولو اشترى أرضا بالخيار وقبضها ثم وقفها قبل مضى مدته يصح ويكون ذلك إبطالا لخياره وهكذا الحكم فى البائع إذا كان الخيار له ووقف ما باع ولو بعد التسليم ولو وقفها المشترى بعد القبض فى مدة خيار البائع فأمضى البيع لزم وبطل الوقف لأن البات إذا طرأ على موقوف أبطله ولو استحقت بعد الوقف فضمن قيمتها جاز شراؤه ووقفه ومثله العتق لاستناد الملك إلى زمن الاستيلاء ولو اشترى أرضا فوقفها ثم أطلع فيها على عيب رجع بالنقصان ولا يلزمه أن يشترى به بدلا لعدم دخول نقصان العيب فى الوقف ولو وقف ما اشتراه قبل قبضه أو ما رهنه بعد تسليمه صح ويجبره القاضي على دفع ما عليه إن كان موسرا وإن كان معسرا أبطل الوقف وباعه فيما عليه بخلاف عتق المرهون لعدم إمكان رفعه بعد نزوله وبخلاف الوقف بعد الإجارة والتسليم إلى المستأجر لعدم تعلق حقه بماليتها وذكر البقالي فى فتاويه اختلافا فى جواز وقف البناء بدون الأرض وذكر عن محمد رحمه الله أنه قال إذا وقف بناءه فى أرض الوقف على الجهة التي وقفت الأرض عليها جاز وذكر فى أوقاف الخصاف أن وقف حوانيت الأسواق يجوز إن كانت الأرض بإجارة فى أيدي الذين بنوها لا يخرجهم السلطان عنها من قبل انا رأيناها فى أيدي
এবং তাদের পক্ষ থেকে তা সুলতানের কাছে প্রদানের মাধ্যমে এর ব্যয়ভার বহন করা, যাতে এর উপকারিতা মুসলমানদের জন্য ভূমির কর (خراج) হিসেবে গণ্য হয় এবং জমির মূল মালিকানা তার স্বত্বাধিকারীদের নিকটই বহাল থাকে। অতএব, যাকে সুলতান জমি আবাদের জন্য সেখানে নিয়োজিত করেছেন, তিনি যদি তা ওয়াকফ (وقف) করেন, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে না; কারণ তিনি একজন বর্গা চাষী (مزارع) মাত্র। যদি কেউ ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করা জমি ওয়াকফ (وقف) করে, তবে তা কব্জা বা হস্তান্তরের পরে হলে সঠিক (صحيح) হবে। কারণ ওয়াকফ করার মাধ্যমে সে তা নিজের মালিকানা থেকে বের করে দিয়ে তা নিঃশেষ করেছে, আর তাকে এর মূল্য পরিশোধ করতে হবে। আর যদি তা কব্জা করার আগে হয় অথবা বিক্রয়টি বাতিল (باطل) হয়, তবে ওয়াকফ (وقف) বাতিল (باطل) হবে। যদি কাউকে কোনো জমি ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) হেবার মাধ্যমে প্রদান করা হয় এবং সে তা গ্রহণ করার পর ওয়াকফ (وقف) করে, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে এবং তাকে এর মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
যদি তার ওয়াকফকৃত সম্পদ অন্য কারো মালিকানা হিসেবে সাব্যস্ত হয় (استحقاق), তবে বিক্রেতার কাছ থেকে ফেরত পাওয়া মূল্য দিয়ে তার পরিবর্তে অন্য জমি ক্রয় করে ওয়াকফ (وقف) করা তার জন্য আবশ্যক নয়; কারণ সে এমন কিছু ওয়াকফ (وقف) করেছিল যার সে মালিক ছিল না। যদি ওয়াকফকৃত সম্পদের কোনো অংশ অবিভক্ত (مشاع) অবস্থায় অন্য কারো মালিকানা সাব্যস্ত হয় এবং হকদার তা গ্রহণ করে, তবে ইমাম আবু ইউসুফের মতে অবশিষ্ট অংশের ওয়াকফ (وقف) বাতিল (باطل) হবে না। কারণ তিনি শুরু থেকেই অবিভক্ত (مشاع) সম্পদের ওয়াকফ (وقف) বৈধ মনে করেন, সুতরাং তা বহাল থাকা আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত। যদি কেউ নির্বাচনের অধিকার (خيار) সহ কোনো জমি ক্রয় করে এবং তা কব্জা করার পর মেয়াদের আগেই ওয়াকফ (وقف) করে দেয়, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে এবং এটি তার নির্বাচনের অধিকারকে (خيار) বাতিল করা বলে গণ্য হবে। অনুরূপ বিধান বিক্রেতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যদি নির্বাচনের অধিকার (خيار) তার থাকে এবং সে বিক্রয়কৃত বস্তু ওয়াকফ (وقف) করে, এমনকি তা হস্তান্তরের পরেও হয়।
যদি ক্রেতা কব্জা করার পর বিক্রেতার নির্বাচনের অধিকারের (خيار) মেয়াদে জমিটি ওয়াকফ (وقف) করে এবং বিক্রেতা বিক্রয়টি কার্যকর করে দেয়, তবে বিক্রয়টিই চূড়ান্ত হবে এবং ওয়াকফ (وقف) বাতিল (باطل) হয়ে যাবে। কারণ কোনো চূড়ান্ত চুক্তি যখন ওয়াকফকৃত বিষয়ের ওপর আপতিত হয়, তখন তা ওয়াকফকে বাতিল (باطل) করে দেয়। যদি ওয়াকফের (وقف) পর তা অন্যের হক সাব্যস্ত হয় এবং ওয়াকফকারী এর মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয়, তবে তার ক্রয় ও ওয়াকফ (وقف) করা বৈধ। দাসমুক্ত করার বিষয়টিও এর অনুরূপ, কারণ মালিকানা দখলের সময় থেকেই সাব্যস্ত হয়। যদি কেউ জমি ক্রয় করে তা ওয়াকফ (وقف) করে এবং পরবর্তীতে তাতে কোনো ত্রুটি দেখতে পায়, তবে সে মূল্যের ঘাটতি বা ক্ষতিপূরণ ফেরত পাবে। তবে এই অর্থ দিয়ে অন্য কিছু ক্রয় করা তার জন্য আবশ্যক নয়, কারণ ত্রুটিজনিত ঘাটতি ওয়াকফের (وقف) অন্তর্ভুক্ত নয়।
যদি কেউ ক্রয়কৃত বস্তু কব্জা করার আগে ওয়াকফ (وقف) করে অথবা বন্ধক (رهن) রাখা বস্তু হস্তান্তরের পর ওয়াকফ (وقف) করে, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে। ওয়াকফকারী যদি সচ্ছল (موسر) হয়, তবে বিচারক তাকে তার দায় পরিশোধ করতে বাধ্য করবেন। আর যদি সে অসচ্ছল (معسر) হয়, তবে বিচারক ওয়াকফ (وقف) বাতিল (باطل) করে দেবেন এবং তার ঋণের দায়ে তা বিক্রয় করবেন। তবে বন্ধককৃত (رهن) দাসকে মুক্ত করার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম, কারণ একবার মুক্ত হয়ে গেলে তা পুনরায় বাতিল করা সম্ভব নয়। এবং ভাড়ায় প্রদান ও ভাড়াটিয়ার কাছে হস্তান্তরের পর ওয়াকফ (وقف) করার বিষয়টিও ভিন্ন, কারণ সম্পদের মূল্যের ওপর ভাড়াটিয়ার কোনো অধিকার সংশ্লিষ্ট থাকে না।
ইমাম আল-বাক্কালি তার ফতোয়া গ্রন্থে জমি ব্যতীত কেবল ভবন ওয়াকফ (وقف) করার বৈধতার ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করেছেন। তিনি ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যদি কেউ ওয়াকফকৃত জমিতে অবস্থিত তার ভবনটি সেই উদ্দেশ্যেই ওয়াকফ (وقف) করে যে উদ্দেশ্যে জমিটি ওয়াকফ (وقف) করা হয়েছে, তবে তা বৈধ হবে। খাসসাফ-এর আওকাফ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাজারের দোকানসমূহ ওয়াকফ (وقف) করা বৈধ, যদি জমিটি যারা তা নির্মাণ করেছে তাদের হাতে ইজারার মাধ্যমে থাকে এবং সুলতান তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ না করেন; কারণ আমরা সেগুলো তাদের হাতেই দেখতে পাই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أصحاب البناء يتوارثونها وتقسم بينهم لا يتعرض لهم السلطان فيها ولا يزعجهم وإنما له غلة يأخذها منهم وتداولها خلف عن سلف ومضى عليها الدهور وهى فى أيديهم يتبايعونها ويؤاجرونها وتجوز فيها وصاياهم ويهدمون بناءها ويعيدونه ويبنون غيره فكذلك الوقف فيها جائز اه وفى فتاوى الناطفى عن محمد بن عبد الله الأنصاري من أصحاب زفر رحمه الله أنه يجوز (1) وقف الدراهم والطعام والمكيل والموزون فقيل له وكيف يصنع بالدراهم قال يدفعها مضاربة ويتصدع بالفضل وكذا يباع المكيل والموزون بالدراهم أو الدنانير ويدفع مضاربة ويتصدق بالفضل وقيل على هذا ينبغي أن يجوز إذا قال وقفت هذا الكر على أن يقرض لمن لا بذر له من الفقراء فيدفع إليهم ويبذرونه فإذا حصدوا يؤخذ ويقرض لغيرهم وهكذا دائما ولو وقف رب المال ضيعة من مال المضاربة يصح عند أبى يوسف مطلقا وعند محمد لا يصح إن كان فى المال ربح بناء على جواز وقف المشاع وعدمه والله أعلم.
[فصل فى غرس الواقف أو غيره الأشجار أو بنائه فى الوقف]رجل غرس فيما وقف أشجارا أو بني بناء أو نصب بابا قالوا إن غرس من غلة الوقف أو من ماله وذكر أنه غرسها للوقف تكون وقفا ولو لم يذكر شيئا وغرس من ماله تكون ملكا له ولو غرس فى المسجد تكون للمسجد لأنه لا بغرس فيه ليكون ملكا ثم إن كان لها ثمرة كالتفاح مثلا أباح بعضهم للقوم الأكل منها والصحيح انه لا يباح لأنها صارت للمسجد فتصرف فى عمارته بخلاف مشجرة على طريق العامة جعلت وقفا عليهم ويستوي فيها الغنى والفقير كالماء الموضوع فى الفلوات وماء السقاية وسرير الجنازة والمصحف الوقف ولو كانت الثمار على أشجار رباط المارة قال أبو القاسم أرجو أن يكون النزال فى سعة من نناولها إلا أن يعلم أن غارسها جعلها للفقراء وقال
--------------------------------------------
স্থাপনার মালিকগণ এটি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেন এবং তা তাদের মধ্যে বণ্টিত হয়; সুলতান (শাসক) তাদের এতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করেন না এবং তাদের উত্যক্তও করেন না। বরং সুলতানের জন্য এতে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ বা আয় রয়েছে যা তিনি তাদের থেকে গ্রহণ করেন। এটি উত্তরসূরিগণ পূর্বসূরিদের থেকে পর্যায়ক্রমে লাভ করে আসছেন এবং যুগ যুগ ধরে এটি তাদের হাতেই রয়েছে; তারা এটি কেনাবেচা করেন এবং ভাড়া দেন। এতে তাদের অসিয়ত (وصايا) করা বৈধ এবং তারা এর স্থাপনা ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করেন অথবা অন্য কিছু নির্মাণ করেন। সুতরাং একইভাবে এর ওয়াকফ (وقف) করাও বৈধ। ইন্তাহা (সমাপ্ত)। ফাতাওয়া আন-নাতিফি-তে ইমাম যুফার (রহ.)-এর অনুসারী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, দিরহাম, খাদ্যদ্রব্য এবং পরিমাপযোগ্য (مكيل) ও ওজনযোগ্য (موزون) বস্তুর ওয়াকফ (وقف) করা বৈধ (১)। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, দিরহামের ক্ষেত্রে কী করা হবে? তিনি বললেন, তা মুদারাবা (مضاربة) ভিত্তিতে প্রদান করা হবে এবং এর থেকে অর্জিত অতিরিক্ত লভ্যাংশ সদকা করা হবে। একইভাবে পরিমাপযোগ্য (مكيل) ও ওজনযোগ্য (موزون) বস্তু দিরহাম বা দিনারের বিনিময়ে বিক্রয় করা হবে এবং তা মুদারাবা (مضاربة) ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে অতিরিক্ত লভ্যাংশ সদকা করা হবে। আরও বলা হয়েছে যে, এর ওপর ভিত্তি করে এটি বৈধ হওয়া উচিত যখন কেউ বলবে—আমি এই এক 'কুর' (পরিমাপ বিশেষ) শস্য ওয়াকফ (وقف) করলাম এই শর্তে যে, তা এমন দরিদ্রদের ঋণ (قرض) হিসেবে দেওয়া হবে যাদের কাছে বীজ নেই; অতঃপর তাদের তা প্রদান করা হবে এবং তারা তা বপন করবে। যখন তারা ফসল কাটবে, তখন তা পুনরায় গ্রহণ করা হবে এবং অন্যদের ঋণ (قرض) হিসেবে দেওয়া হবে; এভাবেই তা সর্বদা চলতে থাকবে। যদি পুঁজির মালিক মুদারাবা (مضاربة) এর সম্পদ থেকে কোনো ভূ-সম্পত্তি ওয়াকফ (وقف) করেন, তবে ইমাম আবু ইউসুফের নিকট তা নিরঙ্কুশভাবে (مطلقا) সঠিক (صح) হবে। আর ইমাম মুহাম্মদের নিকট যদি সম্পদে মুনাফা বিদ্যমান থাকে তবে তা সঠিক (صح) হবে না; এটি অবিভক্ত সম্পত্তির ওয়াকফ (وقف المشاع) করা বৈধ হওয়া বা না হওয়ার ওপর ভিত্তি করে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
[পরিচ্ছেদ: ওয়াকফকারী (الواقف) বা অন্য কেউ ওয়াকফকৃত জমিতে গাছ রোপণ করা বা স্থাপনা নির্মাণ করা প্রসঙ্গে]যদি কোনো ব্যক্তি ওয়াকফকৃত জমিতে গাছ রোপণ করেন বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করেন অথবা কোনো দরজা স্থাপন করেন—ফকিহগণ বলেন, যদি তিনি ওয়াকফের লভ্যাংশ থেকে তা রোপণ করেন অথবা নিজের সম্পদ থেকে রোপণ করে উল্লেখ করেন যে তিনি তা ওয়াকফের (وقف) জন্য রোপণ করেছেন, তবে তা ওয়াকফ (وقف) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তিনি কিছুই উল্লেখ না করেন এবং নিজের সম্পদ থেকে রোপণ করেন, তবে তা তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানা (ملك) হিসেবে গণ্য হবে। যদি তিনি মসজিদে গাছ রোপণ করেন, তবে তা মসজিদের জন্য হবে; কারণ মসজিদে ব্যক্তিগত মালিকানা (ملك) লাভের উদ্দেশ্যে গাছ রোপণ করা হয় না। এরপর যদি তাতে ফল ধরে, যেমন আপেল, তবে ফকিহদের কেউ কেউ সাধারণ মানুষের জন্য তা ভক্ষণ করা বৈধ (أباح) বলেছেন। তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো তা ভক্ষণ করা বৈধ নয়; কারণ তা মসজিদের সম্পদ হয়ে গেছে, ফলে তা মসজিদের সংস্কার কাজে ব্যয় করা হবে। তবে জনসাধারণের চলাচলের পথের ধারে রোপণকৃত গাছের বিষয়টি ভিন্ন, যা সাধারণ মানুষের জন্য ওয়াকফ (وقف) করা হয়েছে। সেখানে ধনী ও দরিদ্র সমানভাবে ভোগ করতে পারবে; যেমন মরুভূমিতে রাখা পানি, পানি পানের স্থান, জানাজার খাট এবং ওয়াকফকৃত (وقف) পবিত্র কুরআন (مصحف)। যদি পথিকদের সরাইখানায় (রিবাত) থাকা গাছে ফল থাকে, তবে আবু কাসিম বলেন, "আমি আশা করি সেখানে অবস্থানকারীদের জন্য তা গ্রহণ করার অবকাশ থাকবে, যদি না এটি জানা যায় যে রোপণকারী তা শুধুমাত্র দরিদ্রদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।" এবং তিনি বললেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أبو الليث الأحوط أن يحترز عن نناولها من لم يكن ساكنا فيه إلا أن تكون ثمرة لا قيمة لها كالتوت مثلا ولو غرس رباطي شجرة فى وقف الرباط وتعداها حتى كبرت ولم يذكر وقت الغرس أنها للرباط قال الفقيه أبو جعفر إن كان إليه ولاية الأرض الموقوفة فالشجرة وقف وإلا فهي له وله رفعها ولو طرح سرقينا فى وقف استأجره وغرس فيه شجرا ثم مات يكون لورثته ويؤمرون بقلعه وليس لهم الرجوع فيما زاد السرقين فى الأرض عندنا ولو وقف شجرة بأصلها على مسجد معين أو على الفقراء فإن كان لها ثمرة أو ورق ينتفع به كشجر الفرصاد لا تقطع إلا إذا يبست أو يبس بعضها فإنه يقطع اليابس ويترك غيره لأنه لا ينتفع باليابس وينتفع بالأخضر وإن لم يكن لها ثمرة تقطع ويصرف ثمنها فى عمارة المسجد أو يتصدق به، مقبرة فيها أشجار عظام وكانت فيها قبل اتخاذ الأرض مقبرة إن علم مالك الأرض تكون الأشجار له بأصولها يصنع بها ما يشاء وإن كانت مواتا واتخذها أهل القرية مقبرة فالأشجار بأصولها على ما كانت عليه قبل جعلها مقبرة ولو نبتت بعد ذلك فهي للغارس إن علم وإلا فالرأي فيها للقاضي أن رأى بيعها وصرف ثمنها فى عمارة المقبرة جاز له ذلك وهى فى الحكم كأنها وقف ولو جعل أرضه أو داره مقبرة وفيها أشجارا وبناء فهي ومقرها له ولورثته من بعده لأن مواضع الأشجار أو البناء كانت مشغولة فلا تدخل فى الوقف ولو غرس أشجارا فى ضفة حوض قرية أو فى جانبي طريق العامة أو على شاطئ نهر العامة كانت له فإن قطعها ثم نبت من عروقها أشجار تكون له أيضا لوجودها من ملكه، أشجار على حافتي نهر فى الشارع اختصم فيها الشربة ولم يعرف الغارس وهو يجرى أمام باب رجل فى الشارع قالوا إن كان موضع الأشجار ملكا للشربة فما نبت فيه ولم يعرف غارسه يكون لهم وإن لم تكن الأرض لهم بل للعامة وللشربة حق التسبيل فقط فإن علم أن الأشجار كانت موجودة فى ذلك المكان
আবু লাইস বলেন, সতর্কতা (الأحوط) হলো যে ব্যক্তি সেখানে (মুসাফিরখানায়) অবস্থানকারী নয়, তার জন্য সেখানকার ফল গ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিত, যদি না তা তুঁত ফলের মতো এমন কোনো ফল হয় যার বিশেষ কোনো আর্থিক মূল্য নেই। যদি কোনো রিবাত-নিবাসী সেই রিবাতের ওয়াকফ (وقف) জমিতে একটি গাছ রোপণ করে এবং গাছটি বড় হওয়া পর্যন্ত তার সীমা অতিক্রম করে (অর্থাৎ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়), কিন্তু রোপণের সময় সে এটি রিবাতের জন্য বলে উল্লেখ না করে থাকে; তবে ফকিহ আবু জাফর বলেন, যদি সেই ওয়াকফকৃত জমির ওপর তার অভিভাবকত্ব (ولاية) থাকে তবে গাছটি ওয়াকফ (وقف) হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায় সেটি তার নিজস্ব সম্পদ এবং সে তা উপড়ে ফেলার অধিকার রাখে। যদি কেউ ইজারাকৃত (ভাড়াকৃত) ওয়াকফ (وقف) জমিতে সার প্রয়োগ করে এবং সেখানে গাছ রোপণ করে, এরপর সে মারা যায়, তবে গাছটি তার উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য হবে এবং তাদেরকে তা উপড়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হবে। আমাদের মাযহাব অনুযায়ী, সার প্রয়োগের কারণে জমির মূল্য যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তারা তা ফেরত পাওয়ার দাবিদার হবে না। যদি কেউ কোনো নির্দিষ্ট মসজিদ বা দরিদ্রদের জন্য মূলসহ গাছ ওয়াকফ (وقف) করে, আর যদি সেই গাছের ফল বা পাতা থাকে যা থেকে উপকৃত হওয়া যায় (যেমন তুঁত গাছ), তবে তা শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত বা তার কোনো অংশ শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কাটা যাবে না। এমতাবস্থায় কেবল শুকনো অংশটি কেটে ফেলা হবে এবং সজীব অংশটি রেখে দেওয়া হবে; কারণ শুকনো অংশ থেকে কোনো উপকার পাওয়া যায় না, কিন্তু সজীব অংশ উপকারী। আর যদি গাছটি ফলহীন হয়, তবে তা কেটে সেটির মূল্য মসজিদের সংস্কারে ব্যয় করা হবে অথবা তা দান (صدقة) করে দেওয়া হবে। এমন একটি কবরস্থান যেখানে বড় বড় গাছ রয়েছে এবং সেই জমি কবরস্থান হিসেবে গ্রহণের পূর্বেই সেগুলো সেখানে বিদ্যমান ছিল; এমতাবস্থায় যদি জমির মূল মালিক জানা থাকে, তবে গাছগুলো মূলসহ তার মালিকানাধীন থাকবে এবং সে তা নিয়ে যা ইচ্ছা করতে পারবে। আর যদি জমিটি অনাবাদী (مووات) হয় এবং গ্রামের লোকেরা তা কবরস্থান হিসেবে গ্রহণ করে থাকে, তবে গাছগুলো তাদের মূলসহ পূর্বের অবস্থায় বহাল থাকবে। যদি এরপর কোনো গাছ জন্মায় এবং রোপণকারী জানা থাকে, তবে তা রোপণকারীর প্রাপ্য। অন্যথায় এ ব্যাপারে ফয়সালা বিচারকের (قاضي) ওপর ন্যস্ত থাকবে; তিনি যদি তা বিক্রি করে সেটির মূল্য কবরস্থানের সংস্কারে ব্যয় করা সমীচীন মনে করেন, তবে তা জায়েজ হবে এবং বিধানের ক্ষেত্রে এটি ওয়াকফ (وقف) হিসেবে গণ্য হবে। যদি কেউ তার জমি বা ঘরকে কবরস্থান হিসেবে নির্ধারণ করে এবং সেখানে গাছ ও দালান থাকে, তবে সেই গাছ, দালান ও এর ভিত্তি তার এবং তার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের হবে; কেননা গাছ বা দালানের স্থানগুলো পূর্ব থেকেই অধিকৃত ছিল, তাই সেগুলো ওয়াকফ (وقف) এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদি কেউ গ্রামের কোনো জলাশয়ের পাড়ে বা সাধারণ রাস্তার দুই পাশে অথবা সাধারণ নদীর তীরে গাছ রোপণ করে, তবে সেগুলো তারই মালিকানাধীন হবে। যদি সে গাছগুলো কেটে ফেলে এবং পরবর্তীতে সেগুলোর শিকড় থেকে পুনরায় গাছ জন্মায়, তবে সেগুলোও তার হবে যেহেতু তা তার নিজস্ব মালিকানা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। রাস্তার ধারের কোনো নদীর দুই তীরের গাছ নিয়ে যদি সেচকারীরা বিবাদে লিপ্ত হয় এবং রোপণকারী কে তা জানা না যায়, আর সেটি যদি সাধারণ রাস্তার কোনো ব্যক্তির দরজার সামনে দিয়ে বয়ে যায়; তবে ফকিহগণ বলেন: যদি গাছের স্থানটি সেচকারীদের মালিকানাধীন হয় এবং সেখানে কিছু জন্মায় যার রোপণকারী অজ্ঞাত, তবে তা তাদেরই হবে। আর যদি জমিটি তাদের না হয়ে জনসাধারণের হয় এবং সেচকারীদের কেবল পানি চলাচলের (تسبيل) অধিকার থাকে, এমতাবস্থায় যদি জানা যায় যে গাছগুলো সেই স্থানে আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
حين اشترى الدار صاحبها فإنها لا تكون له والا تكون له لأن ما نبت فى فناء داره يكون له ظاهرا والله أعلم.
[فصل فى وقف المنقول إصالة]اختلف أبو يوسف ومحمد رحمهما الله فى وقف المنقول مستقلا فعن أبى يوسف فى النوادر لا يجوز الوقف فى الحيوان والرقيق والمتاع والثياب ما خلا الكراع والسلاح إلا بطريق كما تقدم والصحيح ما روى عن محمد رحمه الله من أنه يجوز وقف ما جرى فيه التعارف كالمصاحف والكتب والفاس والقدوم والمنشار والقدر والجنازة لوجود التعارف فى وقف هذه الأشياء وبه يترك القياس كما فى الاستصناع بخلاف ما لا تعارف فيه كالثياب والأمتعة لأن من شرطه التأبيد كما بينا ولكن تركنا فيما ذكرنا للتعارف وفى السلاح والكراع للجهاد بالنص فإن خالد بن الوليد رضي الله عنه وقف دروعا له فى سبيل الله فأجازه النبى صلى الله عليه وسلم وجعل ناقة فى سبيل الله فأرادت امرأته أن تحج عليها فأخبر بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال الحج من سبيل الله وطلحة رضي الله تعالى عنه حبس سلاحه وكراعه فى سبيل الله أي خيله والإبل كالخيل لأن العرب تقاتل عليها وتحمل عليها السلاح فبقى فيما وراءه على الأصل ولو وقف بقرة على رباط بأن يعطى ما يخرج من لبنها وشيرازها (1) وسمنها لأبناء السبيل ان كان فى موضع تعارفوا ذلك يصح كما فى ماء السقاية وإلا فلا ولو وقف ثورا على أهل قرية لينزى على بقرهم لا يصح لأنه ليس فيه عرف ظاهر ولا هو قرية مقصودة ولو وضع حبا فى مسجدا وعلق فيه قنديلا له أن يرجع به لأنه لا يترك فيه دائما ولو كثرت الدواب المربوطة للمرابطين وعظمت مؤنها يجوز للمتولي بيع ما كبرت سنها وخرجت عن صلاحية ما ربطت له ويمسك الصالح منها ولو باع أهل المسجد نقضه أو غلة وقفه يجوز إن لم
--------------------------------------------
যখন বাড়ির মালিক বাড়িটি ক্রয় করেছিলেন, তখন তা তার মালিকানাধীন হবে কি হবে না [তা নিয়ে সংশয় থাকে], কারণ তার বাড়ির আঙিনায় যা জন্মায় তা বাহ্যিকভাবে (ظاهرا) তারই হয়ে থাকে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
[মূলগতভাবে অস্থাবর (منقول) সম্পদের ওয়াকফ (وقف) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) স্বতন্ত্রভাবে অস্থাবর (منقول) সম্পদের ওয়াকফ (وقف) করার বিষয়ে মতভেদ করেছেন। 'নাওয়াদির' গ্রন্থে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, পশু, দাস, আসবাবপত্র এবং পোশাকের ওয়াকফ (وقف) বৈধ নয়; তবে ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, যুদ্ধের ঘোড়া (الكراع) ও যুদ্ধাস্ত্র এর ব্যতিক্রম। আর বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; অর্থাৎ যেসব জিনিসের ওয়াকফ করার লোকপ্রথা (تعارف) বিদ্যমান, যেমন—মুصحফ, কিতাবাদি, কুঠার, তক্ষক, করাত, পাতিল এবং জানাজা বহনের খাটিয়া—সেগুলোর ওয়াকফ (وقف) বৈধ। এই বিষয়গুলোতে লোকপ্রথা (تعارف) বিদ্যমান থাকার কারণে এখানে কিয়াস (قياس) পরিত্যাগ করা হবে, যেমনটি ইসতিসনা (الاستصناع) বা ফরমায়েসি চুক্তির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে যেসব জিনিসের ক্ষেত্রে লোকপ্রথা (تعارف) নেই, যেমন—পোশাক ও আসবাবপত্র, সেগুলোর বিধান ভিন্ন; কারণ আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, ওয়াকফ (وقف) বৈধ হওয়ার শর্ত হলো তা চিরস্থায়ী (التأبيد) হওয়া। কিন্তু লোকপ্রথা (تعارف) থাকার কারণে আমরা উল্লিখিত বিষয়গুলোতে এই শর্ত শিথিল করেছি। আর যুদ্ধাস্ত্র ও যুদ্ধের ঘোড়ার (الكراع) ক্ষেত্রে জিহাদের উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা অকাট্য দলিল (نص) দ্বারা প্রমাণিত। কেননা খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) তাঁর বর্মসমূহ আল্লাহর পথে (سبيل الله) ওয়াকফ (وقف) করেছিলেন এবং নবী (সা.) তা অনুমোদন করেছিলেন। তিনি একটি উষ্ট্রীও আল্লাহর পথে (سبিল الله) দান করেছিলেন, পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী সেটির ওপর আরোহণ করে হজে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তা জানানো হয়; তখন তিনি বললেন: "হজও আল্লাহর পথের (سبيل الله) অন্তর্ভুক্ত।" তালহা (রা.) তাঁর যুদ্ধাস্ত্র ও যুদ্ধের ঘোড়া (الكراع) তথা ঘোড়াসমূহ আল্লাহর পথে (سبيل الله) উৎসর্গ করেছিলেন। উটও ঘোড়ার মতোই গণ্য, কারণ আরবরা এগুলোর ওপর চড়ে যুদ্ধ করে এবং এর ওপর অস্ত্র বহন করে। সুতরাং এর বাইরে অবশিষ্ট বিষয়গুলো মূলনীতির (الأصل) ওপর বহাল থাকবে। যদি কেউ কোনো সীমান্ত পাহারা কেন্দ্রের (رباط) জন্য গাভী ওয়াকফ (وقف) করে এই মর্মে যে, এর দুধ, দই (الشيراز) এবং ঘি মুসাফিরদের দেওয়া হবে; তবে যেখানে এ ধরনের লোকপ্রথা (تعارف) রয়েছে সেখানে এটি সঠিক (يصح) হবে, যেমনটি পানি পান করানোর পানপাত্রের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; অন্যথায় তা সঠিক (يصح) হবে না। যদি কেউ কোনো গ্রামের অধিবাসীদের জন্য একটি ষাঁড় ওয়াকফ (وقف) করে যাতে সেটি তাদের গাভীদের প্রজননে ব্যবহৃত হয়, তবে তা সঠিক (يصح) হবে না; কারণ এক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট লোকপ্রথা (عرف) নেই এবং এটি কোনো সুনির্দিষ্ট জনপদ নয়। যদি কেউ মসজিদে শস্যদানা রাখে এবং সেখানে চেরাগ ঝুলিয়ে দেয়, তবে তার সেটি ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার রয়েছে, কারণ এটি সেখানে স্থায়ীভাবে রাখা হয় না। যদি সীমান্ত প্রহরীদের জন্য রাখা পশুর সংখ্যা বেড়ে যায় এবং সেগুলোর ভরণপোষণের খরচ অনেক বৃদ্ধি পায়, তবে তত্ত্বাবধায়ক (متولي) সেগুলোর মধ্যে যেগুলো বয়স্ক হয়ে গেছে এবং নির্ধারিত কাজের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, তা বিক্রি করতে পারবেন এবং কর্মক্ষম পশুগুলো রেখে দেবেন। যদি মসজিদের অধিবাসী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মসজিদের ভাঙা অংশ বা ওয়াকফকৃত সম্পদের লভ্যাংশ (غلة) বিক্রি করেন, তবে তা বৈধ (يجوز) হবে যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يكن ثمة قاض وإن كان فالصحيح أنه لا يصح إلا بإذنه وقد تقدم أن محمد بن عبد الله الأنصاري من أصحاب زفر رحمه الله تعالى قال بجواز وقف الدراهم والطعام والله أعلم.
[فصل فى وقف المشاع وقسمته والمهايأة فيه]اتفق أبو يوسف ومحمد رحمهما الله على جواز وقف مشاع لا يمكن قسمته كالحمام والبئر والرحى واختلفا فى الممكن فأجازه أبو يوسف وبه أخذ مشايخ بلخ وأبطله محمد بناء على اختلافهما المتقدم فنقول تفريعا على قول أبى يوسف رحمه الله إذا وقف أحد الشريكين حصته من أرض جاز وإذا اقتسماها بعد ذلك فما وقع فى نصيب الواقف كان وقفا ولا يحتاج إلى إعادة الوقف فيه وإن وقفه ثانيا كان أحوط لارتفاع الخلاف حينئذ ولو وقف نصف أرضه مثلا ينبغي أن يبيع نصفها ثم يقاسم المشترى ولو رفع الأمر إلى القاضي فأمر رجلا بالمقاسمة معه جاز وليس له أن يقاسم نفسه لأنه مأخوذة من المفاعلة فتقتضى المشاركة بين اثنين فما فوقهما ولو قضى بجواز الوقف المشاع ارتفع الخلاف ثم أذا طلبا من القاضي القسمة قال أبو حنيفة لا تقسم ويأمرهما بالمهايأة وقالا يقسم إذا كان البعض ملكا والبعض وقفا ولو كان الكل وقفا فأراد أربابه قسمته لا يقسم حتى لو وقف ضيعة على ولدية مثلا فأراد أحدهما قسمتها ليدفع نصيبه مزارعة لا يجوز بل يدفع القيم كلها مزارعة وليس ذلك إلى أربابه وإنما هو للقيم ولو قسمه الواقف بين أربابه ليزرع كل واحد منهم نصيبه وليكون المزروع له دون شركائه توقف على رضاهم ولو فعل أهل الوقف ذلك فيما بينهم جاز ولمن أبى منهم بعد ذلك إبطاله ومن (1) وقف دورا للاستغلال ليس له أن يسكنها أحدا بغير أجر ولو وقف داره لسكنى ولديه فطلب أحدهما المهايأة وأبى الآخر يسكن كل نصفا بلا مهايأة، حانوت بين اثنين فوقف أحدهما نصيبه وأراد نصب لوح الوقف على بابه فمنعه الآخر له
--------------------------------------------
সেখানে যদি কোনো বিচারক না থাকেন, আর থাকলেও সঠিক (الصحيح) মত হলো যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত এটি শুদ্ধ হবে না। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম যুফার (রহ.)-এর অনুসারী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আনসারী দিরহাম এবং খাদ্যদ্রব্য ওয়াকফ করার বৈধতার কথা বলেছেন। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
[অবিভক্ত সম্পত্তির ওয়াকফ, এর বণ্টন এবং এতে পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এমন অবিভক্ত সম্পত্তি ওয়াকফ করার বৈধতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন যা বণ্টন করা সম্ভব নয়, যেমন: হাম্মামখানা, কূপ ও যাঁতাকল। তবে যা বণ্টন করা সম্ভব এমন সম্পত্তির ক্ষেত্রে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ একে বৈধ বলেছেন এবং বালখের মাশায়েখগণ এটিই গ্রহণ করেছেন। ইমাম মুহাম্মদ একে বাতিল গণ্য করেছেন তাদের পূর্বোক্ত মতভেদের ভিত্তিতে। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতের ভিত্তিতে আমরা বলি যে, যদি দুই অংশীদারের কেউ জমির নিজের অংশ ওয়াকফ করে, তবে তা বৈধ হবে। অতঃপর তারা যদি তা বণ্টন করে নেয়, তবে ওয়াকফকারীর অংশে যা পড়বে তা ওয়াকফ হিসেবেই গণ্য হবে এবং পুনরায় ওয়াকফ করার প্রয়োজন হবে না। তবে বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে যদি দ্বিতীয়বার ওয়াকফ করা হয়, তবে তা হবে অধিকতর সতর্কতা। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি তার জমির অর্ধেক ওয়াকফ করে, তবে উচিত হলো তার অর্ধেক বিক্রি করে দেওয়া এবং অতঃপর ক্রেতার সাথে তা বণ্টন করা। যদি বিষয়টি বিচারকের নিকট উত্থাপন করা হয় এবং তিনি কোনো ব্যক্তিকে তার সাথে বণ্টন করার আদেশ দেন, তবে তা বৈধ হবে। কিন্তু সে নিজে নিজের সাথে বণ্টন করতে পারবে না, কারণ এটি 'মুফায়ালাহ' রূপমূল থেকে গৃহীত যা দুই বা ততোধিক পক্ষের অংশগ্রহণ দাবি করে। আর যদি অবিভক্ত সম্পত্তি ওয়াকফ করা বৈধ হওয়ার রায় প্রদান করা হয়, তবে মতভেদ দূর হয়ে যাবে। এরপর যদি তারা বিচারকের কাছে বণ্টনের আবেদন করে, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, তা বণ্টন করা যাবে না, বরং তিনি তাদের পর্যায়ক্রমিক ব্যবহারের নির্দেশ দেবেন। সাহেবাইন (রহ.) বলেন, যখন কিছু অংশ মালিকানাধীন এবং কিছু অংশ ওয়াকফ হয়, তখন তা বণ্টন করা হবে। আর যদি সবটুকুই ওয়াকফ হয় এবং এর সুবিধাভোগীরা তা বণ্টন করতে চায়, তবে তা বণ্টন করা হবে না। এমনকি যদি কেউ একটি ভূসম্পত্তি তার দুই সন্তানের নামে ওয়াকফ করে এবং তাদের একজন তার অংশ বর্গা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বণ্টন করতে চায়, তবে তা বৈধ হবে না। বরং তত্ত্বাবধায়ক পুরো জমিটি বর্গা দেবেন। এটি সুবিধাভোগীদের ইখতিয়ারে নয়, বরং তা কেবল তত্ত্বাবধায়কের ইখতিয়ারে। যদি ওয়াকফকারী তা সুবিধাভোগীদের মাঝে বণ্টন করে দেন যাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশে চাষাবাদ করতে পারে এবং উৎপাদিত ফসল অংশীদারদের বাদ দিয়ে কেবল চাষাবাদকারীর হয়, তবে তা তাদের সম্মতির ওপর নির্ভর করবে। যদি ওয়াকফের সুবিধাভোগীরা নিজেদের মধ্যে এমনটা করে তবে তা বৈধ হবে, তবে পরবর্তীতে তাদের কেউ অসম্মতি জানালে তা বাতিল করার অধিকার থাকবে। আর যে ব্যক্তি আয় উপার্জনের উদ্দেশ্যে ঘরবাড়ি ওয়াকফ করে, তার জন্য ভাড়া ছাড়া কাউকে সেখানে থাকতে দেওয়া বৈধ নয়। আর যদি কেউ নিজের বাড়ি তার দুই সন্তানের বসবাসের জন্য ওয়াকফ করে এবং তাদের একজন পর্যায়ক্রমিক ব্যবহারের দাবি জানায় আর অপরজন তা অস্বীকার করে, তবে তারা পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার ছাড়াই প্রত্যেকে অর্ধেক অংশে বসবাস করবে। দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি দোকানের একজন তার অংশ ওয়াকফ করল এবং দরজায় ওয়াকফনামার ফলক লাগাতে চাইল, কিন্তু অপরজন তাকে বাধা দিল, তবে তার সেই অধিকার থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ذلك لأنه تصرف فى محل مشترك ولو رفع الأمر إلى القاضي فأذن له به جاز صيانة للوقف عن البطلان ولعموم ولايته، امرأة وقفت دارا فى مرضها على ثلاث بنات لها وجعلتها بعدهن للمساكين وليس لها ملك غيرها ولا وارث لها غيرهن قالوا ثلث الدار وقف والثلثان ميراث لهن يفعلن به ما شئن من الإجارة والتملك وهذا عند أبى يوسف خلافا لمحمد ولو كانت الأرض بين رجلين فتصدقا بها جملة صدقة موقوفة على المساكين ودفعاها معا إلى قيم واحد جاز اتفاقا لأن المانع من الجواز عند محمد هو الشيوع وقت القبض لا وقت العقد ولم يوجد هاهنا لوجودهما معا منهما ولو وقف كل منهما نصيبه على جهة وجعلا القيم واحدا وسلماه معا جاز اتفاقا لعدم الشيوع وقت القبض ولو اختلفا فى وقفيهما جهة وقيما واتحد زمان تسليمهما لهما أو قال كل منهما لقيمه اقبض نصيبي مع نصيب صاحبي جاز أيضا اتفاقا لأنهما صارا كمتول واحد بخلاف ما لو وقف كل واحد وحده وسلم لقيمه وحده فإنه لا يصح الوقف عند محمد لوجود الشيوع وقت العقد وتمكنه وقت القبض ولو قال وقفت نصيبي من هذه الأرض وهو ثلثها فوجد أكثر من ذلك كان نصيبه كله وقفا كالوصية بخلاف البيع فإن الزائد يكون للبائع، أراض أو دور بين اثنين فوقف أحدهما نصيبه على الفقراء وحكم بصحته ثم أراد القسمة فقسم القاضي وجمع الوقف فى أرض دار واحدة جاز عند أبى يوسف ومحمد واختاره هلال كما لو كان لهما داران وطلبا القسمة فجمع القاضي نصيب أحدهما فى دار ونصيب الآخر فى دار جاز ذلك فكذلك هاهنا إلا أن ثمة يجوز سواء كانا فى مصر واحد أو مصرين وهاهنا يجمع إذا كانا فى مصر واحد لا فى مصرين وعلى قول أبى حنيفة يقسم القاضي كل واحدة على حدة إلا أن يرى الصلاح فى الجمع فحينئذ يجمع الوقف كله فى أرض أو دار واحدة فيصير عند جمع القاضي فى الحكم كأن الشريكين اقتسما بأنفسهما وذلك جائز ولو اقتسم الشريكان وأدخلا فى القسمة
এর কারণ হলো, তিনি একটি যৌথ (مشترك) সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করেছেন। বিষয়টি যদি বিচারকের (قاضي) নিকট উত্থাপন করা হয় এবং তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করেন, তবে ওয়াকফ (وقف) অকার্যকর হওয়া (بطلান) থেকে সুরক্ষা এবং বিচারকের সাধারণ কর্তৃত্বের কারণে তা বৈধ হবে। জনৈক নারী তার মৃত্যুকালীন অসুস্থতাবস্থায় তার তিনটি কন্যার অনুকূলে একটি ঘর ওয়াকফ (وقف) করেন এবং তাদের পরবর্তী সময়ের জন্য তা দরিদ্রদের (مساكين) তরে নির্ধারণ করেন; অথচ সেই ঘর ব্যতীত তার আর কোনো মালিকানা ছিল না এবং ওই কন্যারা ব্যতীত তার আর কোনো উত্তরাধিকারী (وارث) ছিল না। ফকিহগণ বলেন, ঘরের এক-তৃতীয়াংশ ওয়াকফ (وقف) হিসেবে গণ্য হবে এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ তাদের জন্য উত্তরাধিকার (ميراث) হিসেবে গণ্য হবে; তারা তা ইজারা (إجارة) প্রদান বা মালিকানা লাভ (تملك) করার ক্ষেত্রে যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। এটি ইমাম আবু ইউসুফের অভিমত, যা ইমাম মুহাম্মদের ভিন্নমতের পরিপন্থী। যদি কোনো জমি দুই ব্যক্তির মাঝে যৌথ থাকে এবং তারা একত্রে তা দরিদ্রদের তরে ওয়াকফকৃত দান হিসেবে প্রদান করে এবং উভয়ে মিলে তা একজন তত্ত্বাবধায়কের (قيم) নিকট সমর্পণ করে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقا) তা বৈধ হবে। কারণ ইমাম মুহাম্মদের মতে বৈধতার প্রতিবন্ধক হলো দখলের (قبض) সময়ের অবিভক্ততা (شيوع), চুক্তির (عقد) সময়ের নয়; আর এখানে যেহেতু উভয়ে একসাথে তা সম্পাদন করেছে, তাই সেই প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান নেই। যদি তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশ নির্দিষ্ট কোনো খাতে ওয়াকফ (وقف) করে কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক (قيم) একজনকে রাখে এবং তা একসাথে হস্তান্তর করে, তবে দখলের (قبض) সময় অবিভক্ততা (شيوع) না থাকায় তা সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقا) বৈধ হবে। যদি তাদের ওয়াকফের খাত এবং তত্ত্বাবধায়ক (قيم) ভিন্ন হয় কিন্তু তাদের হস্তান্তরের সময় একই হয়, অথবা তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ তত্ত্বাবধায়ককে বলে— 'আমার অংশটি আমার অংশীদারের অংশের সাথেই গ্রহণ করো', তবে সেটিও সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقا) বৈধ হবে; কারণ তারা তখন একক মতওয়াল্লির (متول) ন্যায় গণ্য হবে। এর বিপরীতে যদি প্রত্যেকে পৃথকভাবে ওয়াকফ (وقف) করে এবং পৃথকভাবে নিজ নিজ তত্ত্বাবধায়কের নিকট হস্তান্তর করে, তবে ইমাম মুহাম্মদের মতে সেই ওয়াকফ (وقف) সঠিক (صحيح) হবে না; কারণ চুক্তির (عقد) সময় অবিভক্ততা (شيوع) বিদ্যমান ছিল এবং দখলের (قبض) সময়ও তা বহাল ছিল। যদি কেউ বলে, 'আমি এই জমির আমার অংশটি ওয়াকফ (وقف) করলাম যা এর এক-তৃতীয়াংশ', অতঃপর দেখা গেল তার অংশ এর চেয়ে বেশি, তবে ওসিয়তের (وصية) বিধানের ন্যায় তার পুরো অংশই ওয়াকফ (وقف) হিসেবে গণ্য হবে। এটি বিক্রয় (بيع) চুক্তির বিপরীত, কারণ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশ বিক্রেতার মালিকানায় থেকে যায়। কিছু জমি বা ঘর দুই ব্যক্তির মধ্যে যৌথ মালিকানায় ছিল, অতঃপর তাদের একজন তার অংশটি দরিদ্রদের জন্য ওয়াকফ (وقف) করল এবং এর বৈধতার (صحة) পক্ষে রায় প্রদান করা হলো; পরবর্তীতে সে বন্টন (قسمة) করতে চাইল এবং বিচারক (قاضي) তা বন্টন করে ওয়াকফকৃত অংশ একটি জমি বা ঘরে একত্রিত করে দিলেন, তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে তা বৈধ হবে এবং হিলালও এই মতটি গ্রহণ করেছেন। যেমন যদি তাদের দুটি ঘর থাকে এবং তারা বন্টন (قسمة) করতে চায়, আর বিচারক (قاضي) তাদের একজনের অংশ এক ঘরে এবং অন্যজনের অংশ অন্য ঘরে একত্রিত করে দেন তবে তা যেমন বৈধ হয়, এখানেও বিষয়টি তেমনই। তবে পার্থক্য হলো, প্রথম ক্ষেত্রে তা বৈধ হবে চাই ঘর দুটি একই শহরে (مصر) হোক বা ভিন্ন দুটি শহরে; কিন্তু এক্ষেত্রে কেবল তখনই একত্রিত করা যাবে যখন তা একই শহরে (مصر) হবে, ভিন্ন শহরে নয়। ইমাম আবু হানিফার মত অনুযায়ী, বিচারক (قاضي) প্রত্যেকটি অংশ পৃথকভাবে বন্টন (قسمة) করবেন, যদি না তিনি একত্রীকরণের মাঝে কোনো কল্যাণ (صلاح) দেখতে পান। সে ক্ষেত্রে তিনি পুরো ওয়াকফ (وقف) একটি জমি বা ঘরে একত্রিত করে দেবেন। ফলে বিচারকের (قاضي) সেই একত্রীকরণ আইনিভাবে এমন গণ্য হবে যেন অংশীদারগণ নিজেরাই তা বন্টন (قسمة) করে নিয়েছেন, যা বৈধ। আর যদি অংশীদারগণ নিজেরা বন্টন (قسمة) করে নেয় এবং বন্টনের অন্তর্ভুক্ত করে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
دراهم معلومة فإن المعطى هو الواقف جاز ويصير كأنه أخذ الوقف واشترى بعض ما ليس بوقف من نصيب شريكه بدراهمه وانه جائز وان كان بالعكس لا يجوز لأنه يلزم منه نقض بعض الوقف وحصة الوقف وقف وما اشتراه ملك له ولا يصير وقفا ثم إذا أراد تمييز الوقف عن الملك يرفع الأمر إلى القاضي كما تقدم ولو وقف عشرة أذرع شائعا من أرض فقاسم فوقع نصيب الوقف أقل من ذلك لجودة الأرض التي وقعت للوقف أو أكثر لكونها دون القطعة الأخرى جاز لأن مثل هذه القسمة تجوز فى الملك فكذا فى الوقف إذا كان فيه صلاح للوقف لتحقيق المعادلة ولو أراد أن يصرف الأرض الوقف إلى أرض أخرى مكانها ويجعل الوقف ملكا لنفسه لا يجوز لأنه مناقلة للوقف إلى غيره إلا أن يكون قد شرط لنفسه الاستبدال فى أصل الوقف فحينئذ يجوز ولو قال وقفت من أرضى هذه شيئا ولم يسمه كان باطلا لأن الشيء يتناول القليل والكثير ولو بين بعد ذلك ربما يبين شيئا قليلا لا يوقف عادة ولو قال وقفت جميع حصتي من هذه الدار والأرض ولم يسم السهام يجوز استحسانا إذا ثبت الواقف على إقراره وإن جحد فجاءت بينة فشهدت بالوقف ومقدار حصته وسموه حكم القاضي بالوقف وإن شهدوا على إقراره بالوقف ولم يعرفوا مقدار حصته ألزمه القاضي ببيان مقدار حصته والقول قوله فيه وإن مات قام وارثه مقامه فما أقر به لزمه وحكم به القاضي ثم إن ثبت عنده أزيد من ذلك حكم به أيضا ولو وقف نصف أرض له ثم مات وقد أوصى إلى رجل وفى الورثة كبار وصغار فأراد الوصي أن يقاسم الكبار ويفرز حصة الوقف جاز أن ضم حصة الصغار إلى الوقف وإلا فلا لأنه وصى الصغار ووال على الوقف فلا يمكنه أن يفرز حصة الوقف عن حصة الصغار كما لو كان وصيا على صغار فإنه ليس اه أن يقسم بينهم ويفرز نصيب كل واحد منهم عن نصيب الآخر لأنه يلزم أن يكون مقاسما لنفسه
নির্দিষ্ট পরিমাণ দিরহাম, তবে দাতা যদি ওয়াকফকারী (الواقف) হন তবে তা বৈধ (جاز) এবং বিষয়টি এমন হবে যেন তিনি ওয়াকফ (الوقف) গ্রহণ করেছেন এবং নিজ দিরহামের বিনিময়ে তাঁর অংশীদারের অংশ থেকে যা ওয়াকফ নয় এমন কিছু ক্রয় করেছেন। এটি বৈধ (جائز)। পক্ষান্তরে বিষয়টি এর বিপরীত হলে তা বৈধ (لا يجوز) হবে না; কারণ এর ফলে ওয়াকফের কিছু অংশ বাতিল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, অথচ ওয়াকফের অংশ ওয়াকফ (وقف) হিসেবেই বহাল থাকে এবং যা তিনি ক্রয় করেছেন তা তাঁর মালিকানা (ملك) হিসেবে গণ্য হয় এবং তা ওয়াকফ (وقفا) হিসেবে পরিগণিত হয় না। অতঃপর যদি তিনি ওয়াকফকে মালিকানা থেকে পৃথক করতে চান, তবে বিষয়টি বিচারকের (القاضي) নিকট উত্থাপন করবেন যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আর যদি তিনি কোনো জমির অবিভক্ত (شائعا) দশ হাত ওয়াকফ করেন এবং পরবর্তীতে তা বণ্টন করা হয়, ফলে ওয়াকফের অংশটি উন্নতমানের হওয়ার কারণে পরিমাণে দশ হাতের চেয়ে কম হয় অথবা অন্য খণ্ডের তুলনায় অনুন্নত হওয়ার কারণে পরিমাণে বেশি হয়, তবে তা বৈধ (جاز)। কেননা মালিকানার ক্ষেত্রে এ ধরনের বণ্টন বৈধ (تجوز), তাই সমতা বিধানের লক্ষ্যে যদি এতে ওয়াকফের কল্যাণ (صلاح) নিহিত থাকে তবে ওয়াকফের ক্ষেত্রেও তা বৈধ।
আর যদি তিনি ওয়াকফকৃত জমিকে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর করতে চান এবং ওয়াকফকে নিজের মালিকানায় ফিরিয়ে নিতে চান, তবে তা বৈধ (لا يجوز) নয়; কারণ এটি ওয়াকফকে অন্যের নিকট বিনিময় (مناقلة) করা। তবে যদি তিনি মূল ওয়াকফনামায় নিজের জন্য পরিবর্তনের (الاستبدال) শর্ত করে থাকেন, তবে সেই ক্ষেত্রে তা বৈধ (يجوز)। যদি কেউ বলে, ‘আমি আমার এই জমি থেকে কোনো কিছু (شيئا) ওয়াকফ করলাম’ কিন্তু তিনি তা নির্দিষ্ট না করেন, তবে তা বাতিল (باطلا) বলে গণ্য হবে। কারণ ‘কিছু’ শব্দটি অল্প ও অধিক উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর যদি তিনি পরবর্তীতে তা ব্যাখ্যাও করেন, তবে সম্ভবত তিনি এমন সামান্য কিছু নির্দিষ্ট করবেন যা সাধারণত ওয়াকফ করা হয় না।
আর যদি তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘর ও জমির আমার সকল অংশ ওয়াকফ করলাম’ কিন্তু সেই অংশের পরিমাণ উল্লেখ না করেন, তবে তা ইস্তিহসান (استحسانا) তথা তাত্ত্বিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বৈধ (يجوز) হবে—যদি ওয়াকফকারী তাঁর স্বীকৃতির (إقراره) ওপর অটল থাকেন। আর যদি তিনি অস্বীকার (جحد) করেন এবং সাক্ষ্য (بينة) উপস্থিত হয় যা ওয়াকফ ও তাঁর অংশের পরিমাণ সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করে এবং তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে, তবে বিচারক (القاضي) তা ওয়াকফ হিসেবে ফয়সালা দেবেন। আর যদি সাক্ষীরা তাঁর ওয়াকফ করার স্বীকৃতির ওপর সাক্ষ্য দেয় কিন্তু তাঁর অংশের পরিমাণ না জানে, তবে বিচারক (القاضي) তাঁকে তাঁর অংশের পরিমাণ বর্ণনা করতে বাধ্য করবেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর উত্তরাধিকারী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে; সুতরাং সে যা স্বীকার করবে তা-ই অবধারিত (لزمه) হবে এবং বিচারক (القاضي) সেই অনুযায়ী ফয়সালা দেবেন। অতঃপর যদি বিচারকের নিকট এর চেয়েও বেশি প্রমাণিত হয়, তবে তিনি সেই অনুযায়ীও ফয়সালা প্রদান করবেন।
যদি কেউ তাঁর মালিকানাধীন জমির অর্ধেক ওয়াকফ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন এমতাবস্থায় যে, তিনি কোনো ব্যক্তিকে অসি বা তত্ত্বাবধায়ক (أوصى) নিযুক্ত করেছেন এবং ওয়ারিশদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই রয়েছে, এমতাবস্থায় অসি (الوصي) যদি প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে বণ্টন করে ওয়াকফের অংশ পৃথক করতে চান, তবে তা বৈধ (جاز) হবে—যদি তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের অংশও ওয়াকফের সাথে যুক্ত করেন। অন্যথায় তা বৈধ নয়; কারণ তিনি নাবালকদের অসি (وصي) এবং ওয়াকফেরও অভিভাবক (وال)। তাই তাঁর পক্ষে নাবালকদের অংশ থেকে ওয়াকফের অংশ পৃথক করা সম্ভব নয়। যেমনটি তিনি যদি নাবালকদের অসি (وصيا) হন, তবে তাদের মাঝে বণ্টন করা এবং প্রত্যেকের অংশ একে অপরের থেকে পৃথক করা তাঁর জন্য সংগত নয়; কারণ এর ফলে তিনি নিজেই নিজের সাথে বণ্টনকারী হয়ে পড়বেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأنه لا يجوز ولو أراد الواقفان أن يقتسما ما وقفاه ليتولى كل واحد منهما على ما وقفه ويصرف غلته فيما سمى من الوجوه جاز ولو استحق نصف ما وقفه وقضى به للمستحق يستمر الباقي وقفا عند أبى يوسف خلافا لمحمد وتجوز المقاسمة مع وكيل الواقف ووصيه ولو وقف نصف أرضه وأوصى إلى ابنه وإلى رجل أجنبي لا يجوز له أن يقاسم الابن ويفرد حصة الوقف لكون الابن وصيا أيضا ولو وقف نصف أرضه على جهة معينة وجعل الولاية عليه لزيد فى حياته وبعد مماته ثم وقف النصف الآخر على تلك الجهة أو غيرها وجعل الولاية عليه لعمرو فى حياته وبعد وفاته يجوز لهما أن يقتسماها ويأخذ كل واحد منهما النصف فيكون فى يده لأنه لما وقف كل نصف على حدة صارا وقفين وإن اتحدت الجهة كما لو كانت لشريكين فوقفاها كذلك والله أعلم.
[باب فى الوقف الباطل وفيما يبطله]اختلفت أئمتنا فيما لو وقف أرضه أو داره وشرط الخيار لنفسه فقال أبو يوسف إن بين وقتا معلوما يجوز الوقف والشرط كالبيع وإن كان الوقت مجهولا يكون الوقف باطلا وقال محمد لا يصح الوقف معلوما كان الوقت أو مجهولا واختاره هلال وقال يوسف بن خالد السمتي الوقف جائز والشرط باطل على كل حال كما لو أعتق بشرط الخيار وكما لو جعل داره مسجدا على انه بالخيار ثلاثة أيام فإنه يصح الجعل ويبطل الشرط اتفاقا ولو ذكر الواقف جهة لا تنقطع وعى تشمل الفقراء والأغنياء بأن قال أرضى هذه صدقة موقوفة لله عز وجل على بني آدم أو قال على الناس أو بني هاشم أو على العرب أو على العجم أو قال على الرجال أو النساء أو قال على الصبيان أو قال على الموالى أو قال على العميان أو الزمني أو قال على قرّاء القرآن أو الفقهاء أو المحدثين وما أشبه ذلك مما يشمل الفقراء والأغنياء وهم لا يحصون كان الوقف باطلا وهذا على
এবং এটি বৈধ নয়; তবে দুই ওয়াকফকারী যদি তাদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বণ্টন করতে চায় যাতে তাদের প্রত্যেকে নিজের ওয়াকফকৃত অংশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে এবং এর আয় তার নির্ধারিত খাতে ব্যয় করতে পারে, তবে তা বৈধ হবে। যদি ওয়াকফকৃত সম্পদের অর্ধেক কোনো হকদারের সাব্যস্ত হয় এবং বিচারক সেই হকদারের পক্ষে রায় প্রদান করেন, তবে ইমাম আবু ইউসুফের মতে অবশিষ্ট অংশ ওয়াকফ হিসেবেই বহাল থাকবে, যদিও ইমাম মুহাম্মদ এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ওয়াকফকারীর প্রতিনিধি (وكيل) এবং অছি (وصي)-এর সাথে বণ্টন করা বৈধ। যদি কেউ তার জমির অর্ধেক ওয়াকফ করে এবং তার পুত্র ও একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে অছি (وصي) নিযুক্ত করে, তবে সেই ব্যক্তির পক্ষে পুত্রের সাথে বণ্টন করা এবং ওয়াকফের অংশ পৃথক করা বৈধ হবে না, কারণ পুত্র নিজেও একজন অছি (وصي)। যদি কেউ তার জমির অর্ধেক কোনো নির্দিষ্ট খাতে ওয়াকফ করে এবং তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে জায়েদকে এর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করে, অতঃপর অবশিষ্ট অর্ধেক সেই একই খাতে বা অন্য কোনো খাতে ওয়াকফ করে এবং এর জন্য আমরকে তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করে, তবে তাদের উভয়ের জন্য তা বণ্টন করা এবং প্রত্যেকের অর্ধেক অংশ বুঝে নেওয়া বৈধ হবে। সুতরাং সেটি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কারণ, যখন প্রতিটি অর্ধেক পৃথকভাবে ওয়াকফ করা হয়েছে, তখন সেগুলো দুটি ভিন্ন ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে; যদিও খাত অভিন্ন হয়, যেমনটি যদি দুই অংশীদারের মালিকানাধীন সম্পদ থাকে এবং তারা তা একইভাবে ওয়াকফ করে। আল্লাহই ভালো জানেন।
[বাতিল (باطل) ওয়াকফ এবং যা ওয়াকফকে বাতিল করে সেই সম্পর্কিত অধ্যায়]আমাদের ইমামগণ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন যে, যদি কেউ তার জমি বা ঘর ওয়াকফ করে এবং নিজের জন্য পছন্দের শর্ত (شرط الخيار) আরোপ করে। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন, যদি সময়কাল সুনির্দিষ্ট থাকে তবে ক্রয়-বিক্রয়ের ন্যায় ওয়াকফ এবং শর্ত উভয়ই বৈধ হবে। আর যদি সময়কাল অজ্ঞাত থাকে তবে ওয়াকফ বাতিল (باطل) হবে। ইমাম মুহাম্মদ বলেন, সময়কাল জ্ঞাত হোক বা অজ্ঞাত, ওয়াকফ সঠিক (صحيح) হবে না; হিলাল এই মতটিই পছন্দ করেছেন। ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতি বলেন, ওয়াকফ বৈধ (جائز) এবং শর্তটি সর্বাবস্থায় বাতিল (باطل); যেমনটি পছন্দের শর্তে (شرط الخيار) দাস মুক্ত করলে হয়, কিংবা কেউ যদি তার ঘরকে এই শর্তে মসজিদ বানায় যে তার তিন দিন পছন্দের ইখতিয়ার থাকবে—সেক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদ হওয়া সঠিক (صحيح) হবে এবং শর্তটি বাতিল (باطل) হয়ে যাবে। যদি ওয়াকফকারী এমন কোনো খাতের কথা উল্লেখ করে যা নিরবচ্ছিন্ন এবং তা দরিদ্র ও ধনী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন সে বলল: 'আমার এই জমিটি বনী আদমের জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত সদকায়ে ওয়াকফ', অথবা বলল 'মানুষের জন্য', অথবা 'বনী হাশিমের জন্য', অথবা 'আরবদের জন্য', অথবা 'অনারবদের জন্য', অথবা 'পুরুষদের জন্য', অথবা 'নারীদের জন্য', অথবা 'শিশুদের জন্য', অথবা 'মুক্ত দাসদের (موالى) জন্য', অথবা 'অন্ধদের জন্য', অথবা 'দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের (الزمني) জন্য', অথবা 'কুরআন পাঠকারীদের জন্য', অথবা 'ফকিহগণের (فقهاء) জন্য', অথবা 'মুহাদ্দিসগণের (محدثين) জন্য' কিংবা এই জাতীয় এমন কোনো খাতের কথা বলে যা ধনী-দরিদ্র উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তাদের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়, তবে ওয়াকফটি বাতিল (باطل) হবে। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إطلاقه قول الخصاف وقد تقدم الضابط المقتضى للصحة والبطلان فى أول الأبواب وهذا لأنه لم يقصد به المساكين ليكون قربة بخلاف ما لو قال صدقة موقوفة لله عز وجل أبدا على ولد زيد لأن زيدا معين فيكون لوقف على ولده جائزا وأما الناس وما أشبههم فلا يحصون ويدخل فيهم الفقير والغنى فلا يدرى لمن تعطى الغلة للأغنياء أو الفقراء ولا يمكن صرفها إلى الجهتين لاستلزام اختلاف الجهة غنى وفقرا اختلاف المصروف هبة وصدقة وهما مختلفان وصار كأنه قال وقفت على زيد أو على عمرو ومات بلا بيان فإنه لا يصح لأن أوفى موضع الحظر لأحد الأمرين فلا يكون عليهما ولا على أحدهما بعينه لئلا يلزم الترجيح بلا مرجح (1) ولو قال على أن لي إبطاله أورده من سبيل الوقف أو بيعه أو رهنه أو قال على أن لفلان أو لورثتي أن يبطلوه أو يبيعوه وما أشبهه كان الوقف باطلا على قول الخصاف وهلال وجائزا على قول يوسف بن خالد السمتى لإبطاله الشرط بإلحاقه إياه بالعتق ولو قال أرضى هذه صدقة موقوفة يوما أو شهرا أو ذكر وقتا معلوما ولم يزد على ذلك صح وتكون وقفا أبدا ولو قال فإذا مضى ذلك الشهر فهي مطلقة كان الوقف باطلا لأنه لما قال موقوفة شهرا لم يشترط بعد الشهر منها شيئا فلما لم يشترط ذلك كانت موقوفة أبدا وهذا بمنزلة قوله صدقة موقوفة على فلان ولم يزد على ذلك فإذا مات فلان كانت للمساكين وهى موقوفة أبدا وأما إذا قال صدقة موقوفة شهرا فإذا مضى ذلك الشهر كانت مطلقة فالوقف باطل لأنه شرط الرجعة فيه ولم يشترط فى الباب الأول رجعة بعد مضى الوقت فإذا لم يشترط الرجعة فكأنه قال صدقة موقوفة وسكت هكذا فرق بينهما هلال رحمه الله ثم قال أرأيت رجلا قال أرضى بعد وفاتي صدقة موقوفة سنة قال الوقف صحيح جائز وهى موقوفة أبدا قلت فإن قال إذا مضت السنة فالوقف باطل
--------------------------------------------
ইরাদা বা প্রয়োগের দিক থেকে এটি আল-খাসসাফের বক্তব্য। অধ্যায়গুলোর শুরুতে বৈধতা (صحة) ও বাতিলের (بطلان) কারণ সংক্রান্ত মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এটি এ কারণে যে, এর দ্বারা অভাবীদের উদ্দেশ্য করা হয়নি যাতে তা নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়। এর বিপরীতে যদি কেউ বলে, "আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা-র সন্তুষ্টির জন্য জায়েদের সন্তানদের ওপর চিরস্থায়ী দান হিসেবে ওয়াকফকৃত (موقوفة)", তবে এটি জায়েজ (جائز) হবে; কারণ জায়েদ একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং তার সন্তানদের ওপর ওয়াকফ করা বৈধ। কিন্তু 'সাধারণ মানুষ' বা এই জাতীয় শব্দগুলো অগণিত, যার মধ্যে ধনী ও দরিদ্র উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে উৎপন্ন আয় কাকে দেওয়া হবে—ধনীদের নাকি দরিদ্রদের—তা স্পষ্ট হয় না। আর উভয় খাতে এটি ব্যয় করাও সম্ভব নয়, কারণ ধনী ও দরিদ্রের খাতের ভিন্নতার কারণে ব্যয়ের ধরণও উপহার ও দানের মতো ভিন্ন হয়ে যায়, আর এই দুটি ভিন্ন বিষয়। এটি এমন হয়ে গেল যেন সে বলল, "আমি জায়েদ অথবা আমরের জন্য ওয়াকফ করলাম", অতঃপর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সে মারা গেল। এমতাবস্থায় তা সহিহ (صحيح) হবে না। কারণ 'অথবা' শব্দটি কোনো একটি বিষয়কে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে, ফলে তা উভয়ের জন্য হবে না এবং নির্দিষ্টভাবে কোনো একজনের জন্যও হবে না, যাতে কোনো অগ্রাধিকারযোগ্য কারণ ছাড়াই কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আবশ্যকতা না ঘটে। (১) আর যদি সে বলে, "আমি এটি বাতিল করার বা ওয়াকফ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার অথবা বিক্রি বা বন্ধক রাখার অধিকার রাখা সাপেক্ষে ওয়াকফ করলাম", কিংবা বলে, "অমুকের বা আমার উত্তরাধিকারীদের এটি বাতিল করার বা বিক্রি করার অধিকার থাকবে" বা এই জাতীয় কিছু, তবে আল-খাসসাফ ও হিলালের মতে এই ওয়াকফ বাতিল (باطل) হবে। কিন্তু ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতির মতে এটি জায়েজ (جائز) হবে; কারণ তিনি এই শর্তটিকে দাসমুক্তির সাথে তুলনা করে বাতিল গণ্য করেন। আর যদি কেউ বলে, "আমার এই জমি একদিন বা এক মাস বা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দান হিসেবে ওয়াকফকৃত (موقوفة)" এবং এর বেশি কিছু না বলে, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে এবং তা চিরস্থায়ী ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি সে বলে, "যখন সেই মাস অতিবাহিত হবে তখন তা নিঃশর্ত (مطلقة)", তবে ওয়াকফ বাতিল (باطل) হবে। কারণ সে যখন বলল "এক মাসের জন্য ওয়াকফকৃত", তখন সে মাসের পরের কোনো শর্ত উল্লেখ করেনি। আর যখন সে শর্ত উল্লেখ করেনি, তখন তা চিরস্থায়ী ওয়াকফ হওয়ার কথা ছিল। এটি তার সেই কথার মতো— "অমুকের ওপর দান হিসেবে ওয়াকফকৃত (موقوفة)" এবং এর বেশি কিছু বলল না; এমতাবস্থায় অমুক মারা গেলে তা অভাবীদের জন্য হয়ে যাবে এবং তা চিরস্থায়ী ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে যখন সে বলে, "এক মাসের জন্য দান হিসেবে ওয়াকফকৃত (موقوفة), অতঃপর মাস শেষ হলে তা নিঃশর্ত (مطلقة)", তখন ওয়াকফ বাতিল (باطل) হবে; কারণ সে এতে মালিকানায় ফিরে আসার শর্তারোপ করেছে। অথচ প্রথম ক্ষেত্রে সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ফিরে আসার শর্ত করেনি। যেহেতু সে ফিরে আসার শর্ত করেনি, তাই তা এমন হলো যেন সে "দান হিসেবে ওয়াকফকৃত" বলে চুপ থাকল। হিলাল (রহ.) এভাবেই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, "আপনার কী অভিমত এমন ব্যক্তি সম্পর্কে যে বলল, 'আমার মৃত্যুর পর আমার জমি এক বছরের জন্য দান হিসেবে ওয়াকফকৃত (موقوفة)'?" তিনি বললেন, "ওয়াকফ সহিহ (صحيح) ও জায়েজ (جائز) হবে এবং তা চিরস্থায়ী হবে।" আমি বললাম, "যদি সে বলে, 'যখন বছর শেষ হবে [তখন তা শেষ]', তবে ওয়াকফ বাতিল (باطل) হবে।"
--------------------------------------------