(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
نحو ثقافة إسلامية أصيلة القسم: كتب عامة
الكتاب: نحو ثقافة إسلامية أصيلة
المؤلف: عمر سليمان الأشقر
الناشر: دار النفائس للنشر والتوزيع، عمان - الأردن
الطبعة: الرابعة، 1414 هـ - 1994 م
عدد الصفحات: 345
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 ذو القعدة 1438
একটি বিশুদ্ধ ইসলামী সংস্কৃতির পথে বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: একটি বিশুদ্ধ ইসলামী সংস্কৃতির পথে
লেখক: উমর সুলাইমান আল-আশকার
প্রকাশক: দারুন নাফাইস প্রকাশনী ও বিতরণ، আম্মান - জর্ডান
সংস্করণ: চতুর্থ، ১৪১৪ হিজরী - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৫
শামিলা-র জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতা আন-নুসসাখ দল, (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৪ যিলকদ ১৪৩৮
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
نحو ثقافة إسلامية أصيلة
تأليف
الدكتور عمر سليمان الأشقر
একটি খাঁটি ইসলামি সংস্কৃতির সন্ধানে
গ্রন্থনায়
ডক্টর উমর সুলায়মান আল-আশকার
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الرابعة
1414 هـ - 1994 م
حقوق الطبع محفوظة
دار النفائس للنشر والتوزيع
الأردن - عمان - العبدلي - مقابل جوهرة القدس
هاتف: 693940 - فاكس: 693941 - ص. ب: 211511
إن دار النفائس للنشر والتوزيع - الأردن هي صاحبة الحق وحدها في طباعة مؤلفات الدكتور عمر سليمان الأشقر ولا صحة لما تزعمه بعض دور النشر من حصولها على إذن من المؤلف بطباعة مؤلفاته، وعليه فلا يجوز لأي جهة أن تطبع أو تترجم أو تصور كتب المؤلف المذكور أو جزءًا منها، وسوف نقوم بالإجراءات القانونية المتبعة للحفاظ على حقوقنا
চতুর্থ সংস্করণ
১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দারুন নাফাইস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
জর্ডান - আম্মান - আল-আবদালি - জওহারাতুল কুদস-এর বিপরীতে
টেলিফোন: ৬৯৩৯৪০ - ফ্যাক্স: ৬৯৩৯৪১ - পি.ও. বক্স: ২১১৫১১
জর্ডানস্থ দারুন নাফাইস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ডক্টর উমর সুলাইমান আল-আশকার-এর রচনাবলি মুদ্রণের একক স্বত্বাধিকারী। কিছু প্রকাশনী সংস্থা লেখকের নিকট থেকে তাঁর রচনাবলি মুদ্রণের অনুমতি পাওয়ার যে দাবি করছে তা সত্য নয়। অতএব, কোনো পক্ষের জন্যই উল্লিখিত লেখকের বইসমূহ বা এর কোনো অংশ মুদ্রণ, অনুবাদ বা প্রতিলিপি করা বৈধ নয়। আমাদের অধিকার সংরক্ষণে আমরা প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
{يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ (1) هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (2) وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (3) ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (4)}
[الجمعة: 1 - 4]
«لقد وجدت في الإسلام نظامًا اجتماعيًّا واقتصاديًّا وأخلاقيًّا يصلح لإخراج البشرية من ورطتها الحاضرة»
روجيه جارودي
{আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে, যিনি সার্বভৌম মালিক, অতি পবিত্র, মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় (১) তিনিই উম্মীদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও ইতিপূর্বে তারা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল (২) আর তাদের মধ্যকার ওই সকল লোকদের জন্যও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৩) এটি আল্লাহরই অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আর আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী (৪)}
[আল-জুমুআহ: ১ - ৪]
«আমি ইসলামে এমন এক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক ব্যবস্থা খুঁজে পেয়েছি যা বর্তমান সংকট থেকে মানবজাতিকে উদ্ধারের জন্য উপযোগী»
রজার গারোদি
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بين يدي الكتابالحمد لله واهب النعم، رافع النقم، العزيز الوهاب، الذي لا يَعِزُّ من عصاه، ولا يضل من اتبع هداه، الذي جعل الرفعة والكرامة لمن سلك سبيله، والتزم شريعته، واقتدى برسوله المصطفى المختار، وصلى الله وسلم على المبعوث رحمة للعالمين، الذي جاءنا بالهدى والنور، فما زال بالبشرية حتى أقامها على المحجة البيضاء، وخلصها من سبل الغواية، وطرق الضلالة، وأوصلها إلى الشاطئ الآمن، والرياض الفيحاء، وعلى آله وصحبه الأخيار الأبرار الذين رضوا بالله ربا، وبالإسلام دينا، وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولا، وجاهدوا في الله حق جهاده، وعلى تابعيهم بإحسان إلى يوم الدين وبعد:
فالدين الإسلامي المنزل من عند الله منهج حياة كامل واف، وهذا الدين يمثل الأصالة في حياة الأمة المسلمة، بل في حياة البشرية جميعًا، والانحراف عن هذا المنهج ونبذه يعدُّ جمودًا وتأخرًا ورجعية، وقد خسر العالم كثيرًا عندما انحط المسلمون حملة هذا الدين، خسر العَالم الروح الدافقة، والنور الهادي، والقيم والموازين، وقد حاول الغرب جاهدًا أن يذيب المسلمين في بوتقة ثقافته وحضارته، وأن يبعد المسلمين عن دينهم وشريعتهم، وأن يبث فيهم عقائده وأفكاره ونظرياته، وأن يحول قبلتهم إلى لندن وباريس وواشنطن وموسكو، وأن يرفع من شأن الذين تأثروا بفكره ومبادئه، حتى يكونوا رجال الفكر والأدب،
গ্রন্থের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিআমত দানকারী, বিপদ দূরকারী, মহা পরাক্রমশালী ও অবারিত দানকারী। যিনি তাকে অবমানিত করেন না যে তাঁর অবাধ্য হয় এবং তাকে পথভ্রষ্ট করেন না যে তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করে। যিনি তাঁর পথে বিচরণকারী, তাঁর শরীয়তকে আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত রাসূলের অনুসরণকারী ব্যক্তিদের জন্য মর্যাদা ও সম্মান নির্ধারণ করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত সেই সত্তার ওপর, যিনি আমাদের নিকট হেদায়েত ও নূর নিয়ে এসেছেন; আর মানবজাতিকে সত্যের উজ্জ্বল শুভ্র পথে সুপ্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত নিরলস কাজ করে গেছেন এবং তাদেরকে বিভ্রান্তির পথ ও গোমরাহির গলি থেকে মুক্ত করে নিরাপদ উপকূল ও প্রশান্ত উদ্যানে পৌঁছে দিয়েছেন। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান সাহাবী (صحابة)-দের ওপর—যারা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সা.)-কে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন; আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী (تابعين) হবেন, তাদের সকলের ওপর। অতঃপর:
আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ইসলামি জীবনব্যবস্থা হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত জীবন বিধান। এই দ্বীন মুসলিম উম্মাহর জীবনে, বরং সমগ্র মানবজাতির জীবনেই মৌলিকত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। এই আদর্শ থেকে বিচ্যুতি এবং তা বর্জন করা স্থবিরতা, পশ্চাৎপদতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা হিসেবে গণ্য। এই দ্বীনের পতাকাবাহী মুসলিমদের যখন পতন ঘটল, তখন বিশ্ব অনেক কিছু হারাল। বিশ্ব হারিয়েছে প্রবহমান প্রাণশক্তি, পথপ্রদর্শক নূর এবং সুমহান মূল্যবোধ ও মানদণ্ড। পাশ্চাত্য জানপ্রাণ চেষ্টা করেছে মুসলিমদেরকে তাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার আবর্তে বিলীন করে দিতে, মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীন ও শরীয়ত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে এবং তাদের মাঝে নিজেদের আকিদা, চিন্তা ও মতবাদ ছড়িয়ে দিতে। তারা চেয়েছে মুসলিমদের কিবলা (লক্ষ্যবিন্দু)-কে লন্ডন, প্যারিস, ওয়াশিংটন ও মস্কোর দিকে ঘুরিয়ে দিতে এবং যারা তাদের চিন্তা ও আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, তাদের মর্যাদা এমনভাবে বৃদ্ধি করতে যাতে তারাই চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে সমাদৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وعلماء الاقتصاد والسياسة، والمنظِّرون والمفكرون، وصبغ مناهج التعليم عندنا بالنظرة المادية، وسلب من مناهجنا ومحعبنا محتواها الإسلامي، وجاء بالمسرح والتلفاز والسيما وصبغها بالصبغة المعادية للإسلام، فأقام في ديارنا صروحًا تهزأ بالإسلام، وتسخر منه، وتغرضه بصورة منفرة، وجاء بأقوام سلمهم قيادنا" جعلوا كل همهم فصل الدين عن الحياة، وتطبيق القوانين التي تضاد الإسلام وتنابذه العداء، لقد اهتزت ثقافتنا الإسلامية بعنف ورياح الغرب العاتية تحاول أن تجتث أصولها، وتعرضت الشخصية الإسلامية للمسخ والذوبان بسبب الموثرات الهائلة التي صبت عليها من الغرب صبًا، ولقد صدق المفكر المسلم روجيه جارودي الذي اعتنق الإسلام بعد عمر طويل من الضياع عندما قال: "إن الحضارة الغربية ارتكبت أعظم جرم عرفه التاريخ بحق ثقافات العالم وشعوبه، لتبني لنفسها حضارة سلطوية شرسة تتجه اتجاهًا كارثيًا مخيفًا ربما يؤدي في النهاية إلى الدمار".
ولقد شاهدنا في فترة من هذا القرن ردة عنيفة عن الإسلام، وقد هالت تلك الردة المفكر المسلم أبا الحسن الندوي فإذا به يصرخ من أعماق قلبه: ردة ولا أبا بكر لها، لقد وُجِدَ لتلك الردة التي حاولت أن تجتث الإسلام في عصره الأول رجال في طليعتهم الصديق، ولكنها لم تجد في وقتنا حاكمًا من حكام المسلمين يواجه تلك الردة.
وضرب المسلمون في بيداء الفكر الإنساني، فجاؤوا بأفكار الشرق والغرب، وأصبح العالم الإسلامي بحرًا لجيًّا هادرًا يموج بالأفكار والنظريات. وانقسم عالمنا الإسلامي إلى فرق وأحزاب ودول وتكتلات فيها كل شيء إلا الإسلام، ونُبذ دعاة الإسلام نبذ النواة، وأقيمت لدعاة الإسلام في ديار الإسلام أعراس حمر
অর্থনীতি ও রাজনীতি বিশারদগণ, তাত্ত্বিক ও চিন্তাবিদগণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে রঞ্জিত করেছেন এবং আমাদের শিক্ষাক্রম ও পরিবেশ থেকে এর ইসলামি সারবস্তু কেড়ে নিয়েছেন। তিনি থিয়েটার, টেলিভিশন ও সিনেমা নিয়ে এসেছেন এবং এগুলোকে ইসলাম-বিদ্বেষী রঙে রাঙিয়েছেন। ফলে আমাদের জনপদে এমন সব বিশাল সৌধ গড়ে তুলেছেন যা ইসলামকে উপহাস করে, বিদ্রূপ করে এবং একে এক বিকর্ষণীয় রূপে উপস্থাপন করে। তিনি এমন কিছু গোষ্ঠীকে নিয়ে এসেছেন যাদের হাতে আমাদের নেতৃত্বের লাগাম তুলে দিয়েছেন; তারা তাদের সমস্ত চিন্তা-ভাবনাকে জীবন থেকে দ্বীনকে বিচ্ছিন্ন করার পেছনে এবং ইসলামের বিরোধী ও শত্রুতা পোষণকারী আইনসমূহ বাস্তবায়নের পেছনে ব্যয় করেছে। আমাদের ইসলামি সংস্কৃতি প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়েছে এবং পাশ্চাত্যের প্রবল ঝড় এর শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছে। পাশ্চাত্যের পক্ষ থেকে অনবরত ঢেলে দেওয়া বিশাল প্রভাবের কারণে ইসলামি ব্যক্তিত্ব বিকৃতি ও বিলীন হওয়ার সম্মুখীন হয়েছে। দীর্ঘ পথভ্রষ্ট জীবনের পর ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিম চিন্তাবিদ রজার গারোদি সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "পাশ্চাত্য সভ্যতা বিশ্বের সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধটি করেছে, যাতে সে নিজের জন্য এমন এক হিংস্র আধিপত্যবাদী সভ্যতা গড়ে তুলতে পারে যা এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং হয়তো শেষ পর্যন্ত তা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।"
আমরা এই শতাব্দীর একটি সময়ে ইসলাম থেকে বিমুখ হওয়ার এক প্রচণ্ড ধর্মত্যাগ (ردة) প্রত্যক্ষ করেছি। এই গণ-ধর্মত্যাগ (ردة) মুসলিম চিন্তাবিদ আবুল হাসান আলী নদভীকে এতটাই আতঙ্কিত করেছিল যে, তিনি তাঁর হৃদয়ের গভীর থেকে আর্তনাদ করে বলেছিলেন: "এটি এমন এক ধর্মত্যাগ (ردة) যার মোকাবিলায় কোনো আবু বকর নেই।" ইসলামের প্রথম যুগে ইসলামকে সমূলে উৎপাটন করতে চাওয়া সেই ধর্মত্যাগের (ردة) মোকাবিলায় সিদ্দীকের নেতৃত্বে অগ্রগামী একদল মহান ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু বর্তমান সময়ে মুসলিম শাসকদের মধ্যে এমন কোনো শাসক পাওয়া যায়নি যিনি এই ধর্মত্যাগের (ردة) মোকাবিলা করবেন।
মুসলিমরা মানবীয় চিন্তাধারার মরুভূমিতে পথ হারিয়ে পূর্ব ও পশ্চিমের নানা মতবাদ নিয়ে এসেছে এবং মুসলিম বিশ্ব আজ এক উত্তাল গভীর সমুদ্রে পরিণত হয়েছে যেখানে নানা ধ্যান-ধারণা ও মতবাদ ঢেউ খেলছে। আমাদের মুসলিম বিশ্ব এমন সব দল, উপদল, রাষ্ট্র ও জোটে বিভক্ত হয়ে পড়েছে যেখানে ইসলাম ছাড়া আর সবকিছুই বিদ্যমান। ইসলামের দাঈদের খেজুরের আঁটির মতো তুচ্ছ জ্ঞান করে ছুড়ে ফেলা হয়েছে এবং ইসলামের ভূখণ্ডে ইসলামের দাঈদের জন্য রক্তিম উৎসব (নির্যাতনের মঞ্চ) সাজানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قطعت فيها رؤوسهم، وانتهكت حرماتهم، وصودرت أموالهم، وألصقت بهم كل تهم الخيانة والفساد، وتكشّف ليل الأمة الإسلامية عن بلاء رهيب ضاعت فيه المقدسات، وأقيمت فيه لأعداء الإسلام في مسرى الرسول صلى الله عليه وسلم دولة، وصال أعداؤنا وجالوا في ديارنا وقهروا دولنا وجيوشنا وأذاقونا البلاء أشكالًا وألوانًا، وأفاقت الأمة على واقع مرير، ونظرت إلى الزعامات والرئاسات والنظريات والفلسفات التي كانت تمنيها بالعزة والكرامة والحياة الطيبة
… ، فإذا بذلك كله سراب بقيعة يحسبه الظمآن ماءً حتى إذا جاءه لم يجده شيئًا ووجد الله عنده، وبلغت المأساة قمتها عندما أثارها الصليبيون واليهود في لبنان فتنة راح ضحيتها رجالنا ونساؤنا وأطفالنا ونحن ساكتون سكوت الموت، وأثارها الشيوعيون علينا حربًا شعواء في أفغانستان، وما أخبار ما يفعله الصليبيون في الحبشة والفلبين بسر.
لقد أفاقت الأمة الإسلامية وخيول الصليبيين واليهود والشيوعيين تدق معاقل الإسلام في شرقه وغربه، وتلفتت إلى الدول المتمدنة والمتحضرة التي أقامت هيئة الأمم ومجلس الأمن تطلب نصرًا، وتريد عدلًا، وتطمع في الخلاص، فكان حالها كحال المستجير من الرمضاء بالنار.
لقد اقتنع كثير من المسلمين اليوم أن الإسلام هو الملاذ الوحيد لهذه الأمة التي اجتمع عليها أعداؤها وأحاطوا بها إحاطة السوار بالمعصم، والأكلة بالقصعة، فعادت الأصوات ترتفع من هنا وهناك معلنة التوبة عن ماض شائن، وأفكار عفنة، وعمالة منتنة، عادت الوجهة إلى الإسلام وكعبة الإسلام ورب الإسلام، وأسلمت الجموع قيادها لربها، ورضيت به إلها وبدينه منهجًا، وبرسوله مرشدًا وموجهًا، وأخذت الأصوات تتعالى هنا وهناك، مطالبة برفع راية الجهاد، وتحكيم شرع الله، والالتزام بأخلاق الإسلام، ومنابذة الكفرة العداء، ومن جملة
সেখানে তাদের শিরশ্বেদ করা হয়েছিল, তাদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছিল, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল এবং তাদের ওপর বিশ্বাসঘাতকতা ও দুর্নীতির সমস্ত অভিযোগ লেপন করা হয়েছিল। এবং মুসলিম উম্মাহর রাত এক ভয়াবহ বিপদের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়েছিল, যাতে পবিত্র স্থানগুলো হারিয়ে গিয়েছিল এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মিরাজের স্থানে ইসলামের শত্রুদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের শত্রুরা আমাদের ভূখণ্ডে বিচরণ করেছে এবং দাপিয়ে বেড়িয়েছে, আমাদের রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীগুলোকে পরাজিত করেছে এবং আমাদের নানা প্রকার ও বর্ণের কষ্টের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। উম্মাহ এক তিক্ত বাস্তবতায় জেগে উঠেছিল এবং সেই নেতৃত্ব, সভাপতিত্ব, মতবাদ ও দর্শনের দিকে তাকিয়েছিল যা তাদের মর্যাদা, সম্মান এবং সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখাত
… , কিন্তু দেখা গেল সে সবই এক ধু ধু মরুভূমির মরিচিকা, যাকে তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে, কিন্তু যখন সে তার কাছে আসে তখন সে কিছুই পায় না এবং সেখানে আল্লাহর ফয়সালা উপস্থিত পায়। এই বিয়োগান্তক ঘটনা তার শিখরে পৌঁছেছিল যখন ক্রুসেডার এবং ইহুদিরা লেবাননে এমন এক ফিতনা (فتنة) উসকে দিয়েছিল যাতে আমাদের পুরুষ, নারী ও শিশুরা প্রাণ হারিয়েছিল, আর আমরা মৃতবৎ নীরব ছিলাম। কমিউনিস্টরা আমাদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে এক সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছিল এবং আবিসিনিয়া ও ফিলিপাইনে ক্রুসেডাররা যা করছে তার খবর কোনো গোপন বিষয় নয়।
মুসলিম উম্মাহ তখন জেগে উঠল যখন ক্রুসেডার, ইহুদি এবং কমিউনিস্টদের অশ্ববাহিনী ইসলামের পূর্ব ও পশ্চিমের দুর্গগুলোতে আঘাত হানছিল। তারা সেই সব তথাকথিত সুসভ্য ও উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকাল যারা জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করেছে—সাহায্য প্রার্থনায়, ন্যায়বিচারের আশায় এবং মুক্তির লালসায়। কিন্তু তাদের অবস্থা ছিল তপ্ত মরুভূমির বালু থেকে বাঁচতে আগুনের কাছে আশ্রয়প্রার্থীর মতো।
আজ অনেক মুসলিমই এ বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন যে, ইসলামই এই উম্মাহর একমাত্র আশ্রয়স্থল, যার ওপর তার শত্রুরা এমনভাবে চড়াও হয়েছে এবং তাকে চারপাশ থেকে এমনভাবে ঘিরে ফেলেছে যেমনটা কবজিতে কঙ্কণ বা খাবারের পাত্রের চারদিকে ভোজনরসিকরা ভিড় করে। ফলে এখান থেকে এবং ওখান থেকে আওয়াজ উঠতে শুরু করল, যা এক কলঙ্কিত অতীত, পচা চিন্তাধারা এবং দুর্গন্ধযুক্ত দাসত্ব থেকে তাওবা করার ঘোষণা দিচ্ছিল। অভিমুখ আবার ইসলামের দিকে, ইসলামের কাবার দিকে এবং ইসলামের রবের দিকে ফিরে এল। জনতা তাদের নেতৃত্বের ভার তাদের রবের হাতে সপে দিল এবং তাঁকে ইলাহ হিসেবে, তাঁর দ্বীনকে জীবনবিধান হিসেবে এবং তাঁর রাসুলকে পথপ্রদর্শক ও নির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হলো। সর্বত্র কণ্ঠস্বর উচ্চ হতে লাগল, জিহাদ (جهاد)-এর ঝাণ্ডা উত্তোলনের দাবি জানাল, আল্লাহর শরিয়ত (شريعة) প্রতিষ্ঠার এবং ইসলামি আখলাকের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার এবং কাফেরদের সাথে শত্রুতা পোষণের ডাক দিল। এবং এর মধ্য থেকে...
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ذلك العودة إلى العلوم الصافية الأصيلة، وإصلاح الفاسد من مناهج التعليم، ونبذ الدخن الذي خالط العلوم والكتب والمناهج.
لقد طالب رجال الفكر بأسلمة مناهج التعليم، وجعل الإسلام محور المناهج والدراسات، وعَرْض الإسلام لأبناء الإسلام عرضًا غضًا طريًّا، وطالب الأخيار بأن يزود الطلبة في الجامعات بقسط من الثقافة الإسلامية يمثل الحدَّ الأدنى من المعرفة التي ينبغي أن يحيط بها كل طالب. وقد وجدنا الطلبة في جميع الجامعات يقبلون على دراسة الثقافة الإسلامية إقبالًا منقطع النظير، وألفت في الثقافة مؤلفات كثيرة بين مطول ومختصر، ويأتي هذا الكتاب في الثقافة الإسلامية ليضم إلى الجهود التي سبقت في هذا المجال، ولم يأت هذا الكتاب من فراغ، فهو حصيلة لمطالعات كثيرة، ودراسات متواصلة في علوم مختلفة، انتهت إلى هذه الخلاصة في مجال الثقافة الإسلامية، وقد قمت بتدريس الثقافة في المعاهد التابعة لوزارة التربية وفي جامعة الكويت عده سنوات، وكانت مباحث هذا الكتاب محور المحاضرات والدروس.
وهذا الكتاب يقع في مقدمة وسبعة أبواب، وقد حاولت أن أضع في المقدمة تصورًا وافيًا للثقافة الإسلامية، فقد حددَّت مفهومها وأصولها وموضوعها وأهم معالمها ومراجعها وبينت خصائصها، وألقيت الضوء على الثقافة الغربية التي تزاحم الثقافة الإسلامية في ديار الإسلام، ورصدت الانحراف الذي طرأ على الثقافة الإسلامية الأصيلة.
وختمت هذه المقدمة ببيان عناوين الدين الإسلامي ومراتبة وعلومه، والعلوم الرئيسة التي تدور في فلك الشريعة الإسلامية ثلاثة، هي العقيدة والأخلاق والفقه، وقد تعرضت لبيان كل علم من هذه العلوم وأعطيت فكرة واضحة عنه
এটি হলো স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ (أصيلة) জ্ঞানসমূহের (العلوم) দিকে প্রত্যাবর্তন, শিক্ষাক্রমের ত্রুটিপূর্ণ বিষয়সমূহের সংস্কার এবং সেই কালিমা বর্জন যা বিভিন্ন শাস্ত্র (العلوم), গ্রন্থ ও শিক্ষাক্রমের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।
বুদ্ধিজীবীগণ শিক্ষাক্রমের ইসলামীকরণের দাবি জানিয়েছেন এবং ইসলামকে শিক্ষাক্রম ও গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার এবং মুসলিম সন্তানদের কাছে ইসলামকে সজীব ও প্রাণবন্ত রূপে উপস্থাপনের দাবি করেছেন। নেককার ব্যক্তিবর্গ দাবি জানিয়েছেন যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে ইসলামি সংস্কৃতির এমন এক অংশ প্রদান করা হয়, যা সেই ন্যূনতম জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে যা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আয়ত্ত করা উচিত। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইসলামি সংস্কৃতি অধ্যয়নের প্রতি অভূতপূর্ব আগ্রহ দেখাচ্ছে। ইসলামি সংস্কৃতি বিষয়ে বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত আকারে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। ইসলামি সংস্কৃতি বিষয়ক এই গ্রন্থটি এই ক্ষেত্রে পূর্বের প্রচেষ্টাসমূহের সাথে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে। এই বইটি শূন্য থেকে আসেনি; বরং এটি বিভিন্ন শাস্ত্রের (العلوم) ওপর প্রচুর অধ্যয়ন ও নিরন্তর গবেষণার ফসল, যা ইসলামি সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এই সারসংক্ষেপে পর্যবসিত হয়েছে। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন ইনস্টিটিউট এবং কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক বছর সংস্কৃতি বিষয়টি পড়িয়েছি, আর এই বইয়ের বিষয়বস্তুগুলোই ছিল লেকচার ও পাঠদানের মূল ভিত্তি।
এই বইটি একটি ভূমিকা এবং সাতটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত। আমি ভূমিকায় ইসলামি সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানে আমি এর সংজ্ঞা, মূলনীতি (أصول), বিষয়বস্তু, প্রধান বৈশিষ্ট্য ও উৎসসমূহ (مراجع) নির্ধারণ করেছি এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছি। সেই সাথে আমি পশ্চিমা সংস্কৃতির ওপর আলোকপাত করেছি যা ইসলামি ভূখণ্ডে ইসলামি সংস্কৃতির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বিশুদ্ধ (أصيلة) ইসলামি সংস্কৃতিতে যে বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করেছি।
আমি এই ভূমিকাটি শেষ করেছি ইসলামি দ্বীনের শিরোনাম, এর স্তরসমূহ ও এর শাস্ত্রসমূহের (علوم) বর্ণনার মাধ্যমে। ইসলামি শরীয়তের পরিমণ্ডলে আবর্তিত প্রধান শাস্ত্রসমূহ (العلوم) তিনটি: আকিদাহ, আখলাক ও ফিকহ। আমি এই প্রতিটি শাস্ত্রের (علوم) বর্ণনার অবতারণা করেছি এবং এ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وعرضت لأهم مباحثه، وحددت أهم المراجع التي يرجع إليها في كل علم من هذه العلوم.
ففي الباب الأول الخاص بالعقيدة بينت أهمية العقيدة، كما أوضحت المناهج التي سلكها العلماء من قبل في إثبات العقائد، وأشدت بالمنهج القرآني النبوي، وحذرت من المنهج الذي يزاحمه ويعارضه وهو المنهج الفلسفي الكلامي، وبينت أمورا في غاية الأهمية في باب العقائد، ثم تناولت كل أصل من أصول الاعتقاد بشيء من التفصيل، وركزت على الأصل الأول، وهو العقيدة في الله، لأنه أصل الأصول، والركيزة التي يقوم عليها الإيمان والإسلام، وتعرضت تعرضًا سريعًا لنفي بعض الشبه التي يوردها الملحدون، بعد أن ذكرت براهين وجود الله، وفي ختام هذا الباب تحدثت عن أثر الإيمان في الأفراد والجماعات.
وعقدت الباب الثاني للآداب الشرعية ومكارم الأخلاق، فعرفت كلًّا منهما، وعرضت لجملة من الآداب الشرعية والأخلاق الإسلامية.
وعرفت في الباب الثالث الفقه الإسلامي، وألقيت نظرة عجلى على أقسام موضوعاته، وفرقت بينه وبين الشريعة الإسلامية، وألمحت إلى مساره عبر القرون، ثم تحدثت عن الأسس التي قامت عليها الشريعة الإسلامية، وختمت بحثي في هذا الموضوع بتعريف موجز لكل أصل من الأصول التي قام عليها الفقه الإسلامي.
والأبواب الأربعة التالية عرضت فيها لعلوم انفصلت عن الفقه الإسلامي ولا غنى للمسلم عن أخذ فكرة وافية عنها.
ففي الباب الرابع عرضت للأسرة في الإسلام مبينًا أهميها ومنهج الإسلام في تكوين الأسرة معرجًا على نظام الطلاق في الإسلام رادًّا للشبهات التي أثيرت حول
আমি এর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলো উপস্থাপন করেছি এবং এই বিজ্ঞানগুলোর প্রতিটিতে যে প্রধান উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় তা নির্ধারণ করেছি।
প্রথম অধ্যায়ে, যা আকিদাহ (العقيدة) সংক্রান্ত, আমি আকিদাহর গুরুত্ব বর্ণনা করেছি। এছাড়া আকিদাহ প্রমাণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আলেমগণ যে সকল পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন তাও স্পষ্ট করেছি। আমি কুরআন ও সুন্নাহর পদ্ধতির প্রশংসা করেছি এবং সেই পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক করেছি যা এর সাথে দ্বন্দ্ব ও বিরোধিতা করে, আর তা হলো দর্শন ও ইলমুল কালামভিত্তিক পদ্ধতি। আকিদাহর ক্ষেত্রে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বর্ণনা করেছি, এরপর বিশ্বাসের প্রতিটি মূলনীতি (أصل) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আমি প্রথম মূলনীতির ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছি, আর তা হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস; কারণ এটিই সকল মূলনীতির উৎস এবং ঈমান ও ইসলামের ভিত্তি। আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণাদি উল্লেখ করার পর নাস্তিকদের উত্থাপিত কিছু সংশয় খণ্ডন করার ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেছি। এই অধ্যায়ের শেষে আমি ব্যক্তি ও সমাজের ওপর ঈমানের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়টি শরয়ি আদব (الآداب الشرعية) ও সচ্চরিত্রের জন্য নির্ধারণ করেছি। এখানে আমি উভয়ের সংজ্ঞা প্রদান করেছি এবং শরয়ি আদব ও ইসলামি আখলাকের একটি বড় অংশ উপস্থাপন করেছি।
তৃতীয় অধ্যায়ে আমি ইসলামি ফিকহ (الفقه) এর পরিচয় প্রদান করেছি এবং এর আলোচ্য বিষয়গুলোর প্রকারভেদের ওপর এক পলক দৃষ্টিপাত করেছি। ফিকহ এবং ইসলামি শরিয়াহর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেছি এবং যুগ যুগ ধরে এর বিবর্তনের প্রতি ইঙ্গিত করেছি। এরপর আমি যে ভিত্তিগুলোর ওপর ইসলামি শরিয়াহ প্রতিষ্ঠিত তা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং ইসলামি ফিকহ যে সকল মূলনীতির (الأصول) ওপর প্রতিষ্ঠিত তার সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞার মাধ্যমে এই প্রসঙ্গের আলোচনা শেষ করেছি।
পরবর্তী চারটি অধ্যায়ে আমি এমন কিছু বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছি যা ইসলামি ফিকহ থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে এবং এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা রাখা একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।
চতুর্থ অধ্যায়ে আমি ইসলামে পরিবার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। এতে আমি পরিবারের গুরুত্ব এবং পরিবার গঠনে ইসলামের পদ্ধতি বর্ণনা করেছি। পাশাপাশি ইসলামে তালাক (الطلاق) ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করেছি এবং এ সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়গুলোর জবাব দিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
تعدد الزوجات، وعقدت فصلًا طويلًا لبيان وضع المرأة في التشريع الإسلامي، كاشفًا اللثام عن أدعياء التقدم الذين يزعمون مناصرة المرأة وواقع الأمر أنهم يدمرونها ويدمرون الأسرة، وبينت كثيرًا من الشبهات التي أثارها المستغربون في دعواهم أن الإسلام ظلم المرأة.
وفي الباب الخامس تعرضت لنظام العقوبات في الإسلام، وبينت أنواع الجرائم والعقوبة التي أوقعتها الشريعة على كل منها، ورددت بعض الشبهات التي تثار حول العقوبات في الإسلام، وأعطيت صورة عجلي لوضع الجريمة في العالم الغربي، تبين الدمار الذي تنحدر إليه تلك المجتمعات عاجلًا أم آجلًا.
وفي الباب السادس، تعرضت للنظام الاقتصادي الإسلامي، مبينًا أهم المبادئ التي يقوم عليها هذا النظام، معرفًا بالمجالات الإقتصادية الإسلامية، وفي ثلاثة فصول عرضت عرضا سريعًا، لأنواع الملكية والربا والمصارف الإسلامية.
وفي الباب السابع والأخير عرضت للنظام السياسي الإسلامي، وقد افتتحته بالتدليل على وجود هذا النظام في الإسلام، مبينا أن الذين نفوا ذلك مغرضون، ثم تحدثت في فصلين متتاليين عن مميزات الدولة الإسلامية ووظيفها، وفي الفصل الرابع تحدثت عن رئيس الدولة الإسلامية: ألقابه والشروط الواجب توافرها فيه، وطريقة اختياره، وحقه على الرعية، وحق الرعية في الدولة الإسلامية، وختمت هذا الباب كما ختمت كل باب قبله يذكر بعض المؤلفات في النظام السياسي.
وأحب أن أقرر في خاتمة هذا التمهيد أن هذا الكتاب جاء ليعطي فكرة عن الإسلام وعن العلوم الدائرة في فلكه، ولم يأت ليبلغ الغاية في كل علم من العلوم التي تعرضت لها فيه، لأن هذا ليس شأن الثقافة، بل شأن الدراسات المتخصصة، وأحب أن أصرح أيضًا بأنني لم أبلغ الغاية في بحثي، فالكمال لله
বহুবিবাহ এবং ইসলামি বিধিব্যবস্থায় (التشريع الإسلامي) নারীর অবস্থান বর্ণনার জন্য আমি একটি দীর্ঘ পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছি। এতে তথাকথিত প্রগতিশীলদের মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে, যারা নারী অধিকারের সমর্থক বলে দাবি করে, অথচ বাস্তব চিত্র হলো তারা নারী ও পরিবার ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করছে। ইসলাম নারীর প্রতি অবিচার করেছে বলে পাশ্চাত্যপন্থীরা তাদের দাবিতে যে অসংখ্য সংশয় (الشبهات) উত্থাপন করেছে, আমি তা নিরসন করেছি।
পঞ্চম অধ্যায়ে আমি ইসলামের দণ্ডবিধি (نظام العقوبات) নিয়ে আলোচনা করেছি এবং বিভিন্ন অপরাধের ধরন ও তাদের বিপরীতে শরিয়ত (الشريعة) নির্ধারিত শাস্তি (العقوبة) বর্ণনা করেছি। ইসলামের শাস্তিব্যবস্থা নিয়ে উত্থাপিত কিছু সংশয় (الشبهات) খণ্ডন করেছি এবং পাশ্চাত্য বিশ্বের অপরাধ পরিস্থিতির একটি দ্রুত চিত্র তুলে ধরেছি, যা আজ হোক বা কাল ওই সমাজগুলো যে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে তা স্পষ্ট করে।
ষষ্ঠ অধ্যায়ে আমি ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা (النظام الاقتصادي الإسلامي) নিয়ে আলোচনা করেছি, যেখানে এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ও মূলনীতিসমূহ (المبادئ) স্পষ্ট করেছি এবং ইসলামি অর্থনীতির ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। তিনটি পরিচ্ছেদে মালিকানার ধরন, সুদ (الربا) এবং ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করেছি।
সপ্তম তথা সর্বশেষ অধ্যায়ে আমি ইসলামি রাজনৈতিক ব্যবস্থা (النظام السياسي الإسلامي) উপস্থাপন করেছি। ইসলামে এই ব্যবস্থার অস্তিত্বের প্রমাণ প্রদানের মাধ্যমে আমি এর সূচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, যারা এটি অস্বীকার করে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরপর পরবর্তী দুটি পরিচ্ছেদে ইসলামি রাষ্ট্রের (الدولة الإسلامية) বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলি আলোচনা করেছি। চতুর্থ পরিচ্ছেদে ইসলামি রাষ্ট্রের প্রধান: তাঁর উপাধি, তাঁর মধ্যে বিদ্যমান থাকা আবশ্যকীয় শর্তাবলি (الشروط), তাঁর নির্বাচনের পদ্ধতি, প্রজাসাধারণের (الرعية) ওপর তাঁর অধিকার এবং ইসলামি রাষ্ট্রে প্রজাসাধারণের (الرعية) অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছি। পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলোর মতো এই অধ্যায়টিও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর রচিত কিছু গ্রন্থের বর্ণনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি।
এই ভূমিকার (التمهيد) শেষে আমি এটি ব্যক্ত করতে চাই যে, এই বইটি ইসলাম এবং একে কেন্দ্র করে আবর্তিত বিজ্ঞানসমূহ (العلوم) সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা প্রদানের জন্য রচিত হয়েছে। এখানে আলোচিত প্রতিটি বিজ্ঞানে (العلوم) চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছানো আমার লক্ষ্য নয়; কারণ এটি সাধারণ সংস্কৃতির কাজ নয়, বরং বিশেষায়িত গবেষণার (الدراسات المتخصصة) কাজ। আমি আরও স্পষ্ট করতে চাই যে, আমি আমার গবেষণায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি, কেননা পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وحده، ولكنني بذلت في ذلك جهدًا ليس بالقليل، وأسأل الله تعالى أن أكون قد وفقت، وأسأله تعالى إن كان هذا الكتاب صالحًا نافعًا - أن يهيئ انتشاره في بقاع الأرض لينتفع به عباد الله الذين يريدون معرفة دين الله، وأن يسخر الصالحين من القائمين على شأن التعليم في بقاع الأرض لتسهيل الانتفاع به في مجال الثقافة الإسلامية في المعاهد والجامعات، وأسأل الله تعالى أن ينفعني به ويثيبني عليه، ويجعله حجة لي لا علي في يوم لقياه، إنه نعم المولى ونعم المجيب.
د. عمر سليمان الأشقر
كلية الشريعة - جامعة الكويت
একা, তবে আমি এতে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তাওফিক দান করেন। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি, যদি এই বইটি যোগ্য (صالح) ও উপকারী (نافع) হয়ে থাকে, তবে তিনি যেন বিশ্বের প্রান্তরে প্রান্তরে এর বিস্তৃতির পথ সহজ করে দেন, যাতে আল্লাহর ঐ সকল বান্দারা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে যারা আল্লাহর দীন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আর তিনি যেন বিশ্বজুড়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সৎ ব্যক্তিদের এর প্রসারে নিয়োজিত করেন, যাতে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামি সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এর থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং আমাকে এর প্রতিদান দান করেন; আর তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনে একে আমার সপক্ষে প্রমাণ (حجة) হিসেবে কবুল করেন, আমার বিপক্ষে নয়। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং সর্বোত্তম সাড়াদানকারী।
ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার
শরীআহ অনুষদ - কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المقدمةمفهوم الثقافة وخصائصها
وتشتمل على ستة (*) فصول:
الفصل الأول: مفهوم الثقافة وموضوعاتها.
الفصل الثاني: أصول الثقافة الإسلامية.
الفصل الثالث: الثقافة الإسلامية بين الأصالة والانحراف.
الفصل الرابع: خصائص الثقافة الإسلامية.
الفصل الخامس: الصراع بين الثقافة الإسلامية والثقافات الجاهلية.
الفصل السادس: عناوين الدين الإسلامي ومراتبه.
--------------------------------------------
ভূমিকাসংস্কৃতির ধারণা ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ
এবং এটি ছয়টি (*) পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সংস্কৃতির ধারণা ও এর আলোচ্য বিষয়সমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি সংস্কৃতির মূলনীতিসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মৌলিকতা ও বিচ্যুতির মাঝে ইসলামি সংস্কৃতি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসলামি সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইসলামি সংস্কৃতি ও জাহেলি সংস্কৃতিসমূহের মধ্যকার সংঘাত।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইসলামি দ্বীনের শিরোনামসমূহ ও এর স্তরসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأول مفهوم الثقافة
المبحث الأول: تعريف الثقافة عند إطلاقها وعند إضافتها.
شاع استعمال لفظ "الثقافة" في عصرنا في مجال الحديث والتأليف والمحاضرات والندوات، فيقال: فلان مثقف، وفلان غير مثقف، وفلان ثقافته واسعة، وفلان ثقافته ضحلة، ويقال: الثقافة الغربية، والثقافة الإسلامية، والثقافة الفرنسية، فما المراد بالثقافة؟
ليس الجواب عن ذلك سهلًا، فالثقافة لم تعرف تعريفًا واضحًا لا يختلف عليه، على الرغم من كثرة المؤتمرات والمؤلفات والمحاضرات التي تبحث في الثقافة وميادينها، وقد ناقشت إحدى لجان المؤتمر العالمي الثاني الذي دعت إليه اليونسكو للبحث في السياسات الثقافية، والمنعقد في دولة المكسيك في الفترة من 26 يوليو - تموز إلى 6 أغسطس - آب من عام 1982، وحضره ممثلون عن (129) دولة - ناقشت تعريف الثقافة، وقد أجمع أعضاء اللجنة على أن هذه الكلمة لا تزال غامضة، وغير محددة، على الرغم من أن مفهومها أصابه توسع ملموس في المناقشات التي جرت منذ انعقاد المؤتمر العالمي الأوّل للثقافة في البندقية في عام 1970.
وقد استخدمت أثناء المناقشة بعض التعريفات التي تتخذ مكانها بين مفهومين متعارضين:
أحدهما: عام مستمد من (الانثربولوجيا) الثقافية، ويشمل كل ما أضافه الإنسان إلى الطبيعة، ومجموع طرائق التفكير والممارسة والفن وأسلوب الحياة،
প্রথম অধ্যায়: সংস্কৃতির ধারণা
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণ ও সম্বন্ধযুক্ত ক্ষেত্রে সংস্কৃতির সংজ্ঞা.
আমাদের বর্তমান যুগে আলোচনা, গ্রন্থ রচনা, বক্তৃতা ও সেমিনারসমূহে "সংস্কৃতি" শব্দের ব্যবহার ব্যাপকতা লাভ করেছে। যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি সংস্কৃতিবান, অমুক ব্যক্তি সংস্কৃতিহীন, অমুকের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ, আবার অমুকের সংস্কৃতি অগভীর। আরও বলা হয়: পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, ইসলামি সংস্কৃতি এবং ফরাসি সংস্কৃতি। প্রকৃতপক্ষে সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?
এর উত্তর প্রদান করা সহজ নয়। সংস্কৃতি ও এর বিচরণক্ষেত্রসমূহ নিয়ে অসংখ্য সম্মেলন, গ্রন্থ এবং বক্তৃতা হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত এর এমন কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়নি যা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সাংস্কৃতিক নীতিমালা পর্যালোচনার লক্ষ্যে ইউনেস্কো কর্তৃক আহ্বানকৃত এবং ১৯৮২ সালের ২৬শে জুলাই থেকে ৬ই আগস্ট পর্যন্ত মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব সম্মেলনের একটি কমিটি সংস্কৃতির সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেছিল। উক্ত সম্মেলনে ১২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কমিটির সদস্যগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, এই শব্দটি এখনও অস্পষ্ট এবং অনির্ধারিত রয়ে গেছে; যদিও ১৯৭০ সালে ভেনিসে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব সাংস্কৃতিক সম্মেলনের পর থেকে হওয়া আলোচনাগুলোতে এই ধারণার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলোচনার সময় এমন কিছু সংজ্ঞা ব্যবহার করা হয়েছে যা দুটি পরস্পরবিরোধী ধারণার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে:
তার মধ্যে একটি হলো: সাধারণ সংজ্ঞা যা সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান (Anthropology) থেকে গৃহীত। এটি মানুষের মাধ্যমে প্রকৃতিতে যা কিছু নতুন যুক্ত হয়েছে তার সবকিছু এবং চিন্তা-পদ্ধতি, চর্চা, শিল্পকলা ও জীবনযাত্রার সকল পদ্ধতির সমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والتعبير عن الكرامة الإنسانية، والمفهوم الثاني: ضيق إلى درجة أن بعضهم وصفه بأنّه ثقافة الثقافة، ولذا فقد طالبت اللجنة بأن يتجه الجهد إلى البحوث، وتعميق المفاهيم حتى يمكن التأمل في مفهوم الثقافة (1).
وعدم وضوح التعريف يجعل الباحثين والكتاب في الثقافة غير محددي الاتجاه، وغير واضحي المباحث والأفكار، ولذلك يجدر بنا أن نقف مع تعريف الثقافة وقفة تحدد التعريف وتبين مفهومه.
والذي يظهر لي أن هناك فرقًا بين اللفظ المفرد: (ثقافة)، واللفظ المركب: (ثقافة الأمة).
المبحث الأول
تعريف الثقافة عند إطلاقهافالثقافة كلفظ مفرد يراد بها في الاستعمال الأخذ من كل علم بطرف، ولا يراد بها التعمق في دراسة علم من العلوم، ولذلك يقولون: "تعلم شيئًا عن شيء لتكون مثقفًا، وتعلم كل شيء عن شيء لتكون عالمًا" (2).
وإذا رجعت إلى معاجم اللغة العربية، فإنك تجد بين معنى الثقافة هذا والمعنى اللغوي صلة ونسبًا، فالإنسان لا يكون واسع الاطلاع، ملمًا بمختلف العلوم إلا إذا كان حاذقا جيد الفهم، والحذق وجودة الفهم هما المحور الذي تدور عليه مادة: "ثقف" في لغة العرب، فهم يقولون: "ثقف الشيء ثقفًا: حذقه، ورجل ثقف - وثَقْفٌ: حاذق فَهِم، ويقولون: رجل ثقف لقف، إذا كان
--------------------------------------------
এবং মানবিক মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ; আর দ্বিতীয় ধারণাটি এতটাই সংকীর্ণ যে কেউ কেউ একে 'সংস্কৃতির সংস্কৃতি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাই কমিটি সুপারিশ করেছে যেন প্রচেষ্টাগুলো গবেষণার দিকে পরিচালিত হয় এবং ধারণাগুলোকে আরও গভীর করা হয় যাতে সংস্কৃতির ধারণাটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা যায় (১)।
সংজ্ঞার অস্পষ্টতা সংস্কৃতির গবেষক ও লেখকদের লক্ষ্যহীন করে তোলে এবং তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারাকে অস্পষ্ট করে দেয়। তাই সংস্কৃতির এমন একটি সংজ্ঞার দিকে আমাদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত যা এর সীমানা নির্ধারণ করবে এবং এর স্বরূপ ব্যাখ্যা করবে।
আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, একক শব্দ: (সংস্কৃতি) এবং যৌগিক শব্দ: (উম্মাহর সংস্কৃতি)-র মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ
সাধারণভাবে সংস্কৃতির সংজ্ঞাএকক শব্দ হিসেবে 'সংস্কৃতি' বলতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিটি শাস্ত্র থেকে কিছু অংশ গ্রহণ করাকে বোঝানো হয়; এর দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করা উদ্দেশ্য নয়। এ কারণেই বলা হয়: "সংস্কৃতিবান হওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে কিছু কিছু শেখো, আর আলেম হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি বিষয় সম্পর্কে সবকিছু শেখো" (২)।
আপনি যদি আরবি অভিধানগুলোর দিকে লক্ষ্য করেন, তবে সংস্কৃতির এই অর্থের সাথে এর আভিধানিক অর্থের একটি গভীর যোগসূত্র খুঁজে পাবেন। কেননা কোনো মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী হতে পারে না যতক্ষণ না সে তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও প্রখর বোধশক্তির অধিকারী হয়। আর আরবি ভাষায় 'সাকাফা' ধাতুর মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো তীক্ষ্ণতা এবং উত্তম বোধশক্তি। তারা বলে থাকে: "সে কোনো কিছু সুচারুভাবে আয়ত্ত করেছে"; আর 'সাকুফ' ও 'সাকাফ' শব্দ দুটি তারা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করে যে প্রখর মেধাবী ও বোধসম্পন্ন। তারা 'সাকাফুন লাকাফুন' বলে থাকে যখন কোনো ব্যক্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ضابطا لما يحويه، قائمًا به، ويقولون:
هو غلام ثقف: أي ذو فطنة وذكاء، والمراد أنه ثابت المعرفة بما يحتاج إليه، وجاء في حديث أم حكيم بنت عبد المطلب: "إنّي حصان فما أكلم، وثقاف فما أعلم" (1).
وتقول العرب: ثقفه أدركه ببصره، لحذق في النظر، ثم أطلق على مجرد الإدراك، وتحصيل الشخص للعلوم المختلفة - يدخل في هذا الباب، لأنّه إدراك لتلك العلوم.
وقد أدرك العلماء المسلمون أهمية وضع علم يعطى قارئه اطلاعًا جيدًا في العلوم المختلفة، والعلم الذي وضعوه لهذا الغرض هو "علم الأدب"، وإذا أنت رجعت إلى كتاب من كتب الأدب كصبح الأعشى للقلقشندي، ونهاية الأرب للنويري، وتصفحت الموضوعات التي تناولتها هذه الكتب - فإنك تجدها تطلع قارئها على جملة جيدة في كل علم من العلوم التي لا بدَّ منها لمن نعده - اليوم - شخصًا مثقفًا.
وهذه الكتب وضعت في الأصل لتثقيف الذين يقومون على ديوان الإنشاء، وهو الجهاز الذي يخاطب الحاكم من خلاله الشعب والولاة وحكام الدول الأخرى، وما لم يكن موظفو هذا الديوان ملمين بالعلوم التي توسع آفاقهم، وتقوم ألسنتهم، وتزيد معارفهم، وتكشف لهم عن طبائع الذين يخاطبونهم، فإنهم لن يستطعوا القيام بالمهمة المناطة بهم.
يقول القلقشندي في صبح الأعشى: "اعلم أن كاتب الإنشاء، وإن كان يحتاج
--------------------------------------------
যা তিনি ধারণ করেন সে বিষয়ে যথাযথ পারদর্শী (ضابطا) এবং তা পূর্ণরূপে আয়ত্তকারী। তারা বলে থাকেন:
তিনি একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সচেতন (ثقف) তরুণ; অর্থাৎ তিনি প্রখর ধীশক্তি ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তাঁর যা কিছু প্রয়োজন সে বিষয়ে তাঁর জ্ঞান সুপ্রতিষ্ঠিত। উম্মে হাকিম বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি সতী-সাধ্বী, তাই আমার সাথে (অশালীন) কথা বলা হয় না; আর আমি বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমতী (ثقاف), তাই আমাকে নতুন করে কিছু শেখানোর প্রয়োজন পড়ে না" (১)।
আরবরা বলে থাকে: "সে তাকে তার দৃষ্টি দিয়ে অনুধাবন করেছে", যা মূলত দৃষ্টির প্রখরতার কারণে হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এটি কেবল কোনো কিছু অনুধাবন করা এবং কোনো ব্যক্তির বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জন করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে শুরু করে—যা এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটিও সেই সকল জ্ঞান অনুধাবন করারই নামান্তর।
মুসলিম বিদ্বানগণ এমন একটি শাস্ত্র প্রবর্তনের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন যা তার পাঠকদের বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখাগুলোতে একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করবে। এই উদ্দেশ্যে তারা যে শাস্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন তা হলো "ইলমে আদব" (সাহিত্য ও সংস্কৃতি শাস্ত্র)। আপনি যদি আল-কালকাশান্দি রচিত সুবহুল আশা অথবা আন-নুওয়াইরি রচিত নিহায়াতুল আরাব-এর মতো কোনো সাহিত্যগ্রন্থের সাহায্য নেন এবং এই বইগুলোতে আলোচিত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেন, তবে আপনি দেখতে পাবেন যে তারা তাদের পাঠকদের সেই সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় প্রয়োজনীয় ধারণা প্রদান করে, যা বর্তমান সময়ে একজন "সুশিক্ষিত" ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য।
এই গ্রন্থগুলো মূলত "দিওয়ানুল ইনশা" (রচনা ও পत्राলাপ বিভাগ) এর দায়িত্বশীলদের সুশিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল। এটি এমন একটি বিভাগ যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর প্রজাসাধারণ, প্রাদেশিক গভর্নর এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের শাসকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। যতক্ষণ না এই বিভাগের কর্মচারীরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিতকারী, ভাষাকে মার্জিতকারী, জ্ঞান বৃদ্ধি করে এমন শাস্ত্রসমূহে পারদর্শী হতেন এবং যাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে তাদের স্বভাব-প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতেন, ততক্ষণ তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতেন না।
আল-কালকাশান্দি সুবহুল আশা গ্রন্থে বলেন: "জেনে রাখুন যে, ইনশা বা রচনা বিভাগের লেখকের যদিও প্রয়োজন হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إلى التعلق بجميع العلوم، والخوض في سائر الفنون، فليس احتياجه إلى ذلك على حدّ سواء" (1).
وهو هنا يقرر أمرين:
الأول: أن كاتب الإنشاء ينبغي أن يكون آخذًا من كل علم بطرف.
الثاني: أن حاجته إلى هذه العلوم متفاوتة، وأهم هذة العلوم لكاتب الإنشاء علم اللغة.
وقد أصبحت كنب الأدب - في تلك العصور - محل عناية الفئة المثقفة من أبناء المسلمين خاصة أولئك الذين يطمعون في الوصول إلى ديوان الإنشاء، ولا يستننى عنه طالب علم يبغي تهذيب نفسه وتقويمها، وتوسيع آفاق فكره، يقول ابن قتيبة في مقدمة كتابه: "عيون الأخبار": "جمعت لك منها (أي الأخبار) ما جمعت في هذا الكتاب، لتأخذ تفسك بأحسنها، وتقومها بثقافها، وتخلصها من مساوئ الأخلاق، كما تخلص الفضة البيضاء من خبثها، وتروضها على الأخذ بما فيها من سنّة حسنة، وسيرة قويمة، وأدب كريم، وخلق عظيم، وتصل بها كلامك إذا حاورت، وبلاغتك إذا كتبت" (2).
وقد شبه الكتاب في فنون الأدب كتبهم التي صنفوها في هذا العلم بالمائدة التي حفلت بكل ما لذَّ وطاب: "وإنما مثل هذا الكتاب مثل المائدة تختلف فيها مذاقات الطعوم لاختلاف شهوات الآكلين" (3).
وفي لسان العرب: "الأدب الذي يتأدب به الأديب من الناس، سمي أدبًا، لأنه يؤدي بالناس إلى المحامد، وينهاهم عن القبائح" (4).
--------------------------------------------
...সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানে সম্পৃক্ত হওয়া এবং সর্বপ্রকার শিল্পকলায় নিমগ্ন হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োজনীয়তা সমান পর্যায়ে নয়" (১)।
তিনি এখানে দুটি বিষয় নির্ধারণ করেছেন:
প্রথম: প্রশাসনিক পত্র লেখক বা ইনশা রচয়িতার উচিত প্রতিটি জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে কিঞ্চিৎ জ্ঞান আহরণ করা।
দ্বিতীয়: এই সকল বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর প্রয়োজনীয়তা তারতম্যপূর্ণ; আর ইনশা রচয়িতার জন্য এই বিজ্ঞানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভাষাতত্ত্ব।
তৎকালীন যুগগুলোতে আদব বা সাহিত্যের কিতাবসমূহ মুসলিমদের শিক্ষিত সমাজের বিশেষ আকর্ষণের বস্তুতে পরিণত হয়েছিল, বিশেষত যারা দিওয়ানুল ইনশায় (প্রশাসনিক দফতর) পদপ্রত্যাশী ছিলেন। এছাড়া এমন কোনো ইলম অন্বেষী নেই যে নিজের আত্মশুদ্ধি ও সংস্কার এবং চিন্তার দিগন্তকে প্রসারিত করতে চায় অথচ এই কিতাবগুলো থেকে বিমুখ থাকতে পারে। ইবনে কুতায়বাহ তাঁর 'উয়ুনুল আখবার' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "আমি তোমার জন্য এতে সংবাদ (أخبار) থেকে যা সংকলন করার তা এই কিতাবে জমা করেছি, যাতে তুমি তোমার নফসকে এর সর্বোত্তম বিষয়গুলো দ্বারা গ্রহণ করো, একে এর শৃঙ্খলা দ্বারা সুসংগঠিত করো এবং একে মন্দ স্বভাব থেকে মুক্ত করো, যেমনটি শ্বেত রূপাকে তার অপদ্রব্য থেকে মুক্ত করা হয়। আর একে অভ্যস্ত করো এতে বিদ্যমান উত্তম তরীকা বা সুন্নাহ (سنة), সঠিক জীবনধারা, মহৎ শিষ্টাচার এবং মহান চরিত্রের ওপর। এর মাধ্যমে তুমি তোমার কথোপকথনের সময় কথাকে অলঙ্কৃত করতে পারবে এবং লিখলে তোমার বাগ্মিতাকে সমৃদ্ধ করতে পারবে" (২)।
সাহিত্য শিল্পের লেখকরা এই শাস্ত্রে তাঁদের রচিত গ্রন্থগুলোকে এমন এক দস্তরখানের সাথে তুলনা করেছেন, যা সুস্বাদু ও উপাদেয় সব খাবারে পরিপূর্ণ: "নিশ্চয়ই এই কিতাবের দৃষ্টান্ত হলো সেই দস্তরখানের মতো, যেখানে ভোজনকারীদের রুচির ভিন্নতার কারণে খাবারের স্বাদেও ভিন্নতা থাকে" (৩)।
লিসানুল আরবে রয়েছে: "আদব হলো তা, যার মাধ্যমে একজন সুশীল ব্যক্তি শিষ্টাচার অর্জন করেন; একে 'আদব' বলা হয় কারণ এটি মানুষকে প্রশংসনীয় কর্মের দিকে পরিচালিত করে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
تعريف الثقافة عند إضافتها للأمّة:وضح لنا المراد بكلمة "ثقافة" عند إطلاقها، أما إذا أضيفت إلى الأمّة، فالمراد بها تراث تلك الأمّة الحضاري والفكري في جميع جوانبه النظرية والعملية الذي تمتاز به الأمّة، وهذا التراث الذي يشكل ثقافة الأمّة متداخل مترابط يشكل إطارًا ومحيطًا يحكم الأفراد والأسر والمجتمع في كل أمّة.
وثقافة الأمّة في جوانبها المختلفة تشكل أسلوبها في الحياة، فعقيدة الأمّة وتاريخها ونظرتها إلى الحياة، والأفكار والنظريات التي تدور في عقول أبنائها ومفكريها، وتدون في كتبها ودراساتها - تشترك جميعًا في تحديد الأسلوب الذي يحكم حياة الأمّة، ويضبط مسارها، ولذلك عرف بعض الباحثين الثقافة بقوله: "هي أسلوب الحياة السائد في مجتمع من المجتمعات" (1).
والأفراد في كل مجتمع من المجتمعات يتشربون -منذ أن تتفتح عيونهم على الحياة- ثقافة الأمّة التي يعيشون فيها، وتأثر هذه الثقافة في تكوينهم الفكري والعقائدي والخلقي، ويندمج الفرد بذلك في مجتمعه، وتتكون عاداته وتقاليده شيئًا فشيئًا، يقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "ما من مولود يولد إلا على الفطرة فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه" (2)، فالوليد خامة نظيفة طاهرة ليس فيها دنس الشرك والمعاصي، ولكن الوالدين يغرسان في ولدهما فكرهما وعقيدتهما وأسلوب حياتهما، وإذا خرج بعض الأفراد في مجتمع ما عن الطريقة التي ينهجها ذلك المجتمع- فإنَّ أبناء جلدته لا ينظرون إلى هذا الخارج عن طريقتم نظرة الرضا،
--------------------------------------------
উম্মাহর সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে সংস্কৃতির সংজ্ঞা:"সংস্কৃতি" শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তার অর্থ আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তবে যখন এটি কোনো উম্মাহর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই উম্মাহর সভ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য (تراث), যা তার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যার মাধ্যমে সেই উম্মাহ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করে। উম্মাহর এই ঐতিহ্য (تراث)—যা উম্মাহর সংস্কৃতি গঠন করে—পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং এটি এমন একটি কাঠামো ও পরিবেশ তৈরি করে যা প্রতিটি উম্মাহর ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে।
উম্মাহর সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তার জীবনপদ্ধতি নির্ধারণ করে। উম্মাহর আকিদা (عقيدة), ইতিহাস ও জীবনদর্শন এবং তার সন্তান ও চিন্তাবিদদের মানসপটে বিরাজমান চিন্তা ও তত্ত্বসমূহ—যা তাদের কিতাব ও গবেষণাপত্রে লিপিবদ্ধ থাকে—সবই সম্মিলিতভাবে উম্মাহর জীবন পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণে এবং এর গতিপথ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এজন্য কিছু গবেষক সংস্কৃতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি হলো কোনো একটি সমাজে প্রচলিত জীবনপদ্ধতি" (১)।
প্রতিটি সমাজের ব্যক্তিরা—শৈশব থেকে যখন তাদের চোখ জীবনের পথে উন্মোচিত হয় তখন থেকেই—তারা যে উম্মাহর মধ্যে বাস করে তার সংস্কৃতি আত্মস্থ করতে থাকে। এই সংস্কৃতি তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, বিশ্বাসগত ও নৈতিক গঠনে প্রভাব ফেলে। এর মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি তার সমাজে একীভূত হয় এবং ধীরে ধীরে তার আচার-আচরণ ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাত বা স্বভাবধর্মের (الفطرة) ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে" (২)। সুতরাং, নবজাতক হলো একটি পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র সত্তা যাতে শিরক বা পাপাচারের কোনো কালিমা থাকে না। কিন্তু পিতামাতা তাদের সন্তানের মধ্যে তাদের নিজস্ব চিন্তা, বিশ্বাস ও জীবনপদ্ধতি গেঁথে দেন। আর যদি কোনো সমাজের কোনো ব্যক্তি সেই সমাজের অনুসৃত পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তবে তার স্বজাতীয়রা সেই বিচ্যুত ব্যক্তিকে সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে দেখে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويعتبرهم خارجين على تعاليم الآباء والأجداد، ومتمردين على قيم وآداب مجتمعهم، وقد يعاقب المجتمع هؤلاء الخارجين عن نمط حياته عقوبات رادعة.
واعتبر في هذا بحال الأنبياء مع أقوامهم، فقد اعتبروهم خارجين عن طريقهم، وناصبوهم العداء، {وَقَال الَّذِينَ كَفَرُوا لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ أَرْضِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا} [إبراهيم: 13].
وتهددوهم بالقتل على خلافهم لهم {قَالُوا لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ يَانُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمَرْجُومِينَ} [الشعراء: 116].
واستمسك الضالون بتراث الآباء والأجداد {بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ (22) وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إلا قَال مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ (23) قَال أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيهِ آبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ (24) فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانْظُرْ كَيفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ (25)} [سورة: الزخرف 22 - 25].
إن هذا الذي وجدوا عليه آباءهم وصدّهم عن اتباع الرسل هو تراث الآباء العقائدي والفكري والحضاري، ذلك التراث الذي تربوا عليه ونشؤوا عليه، وهو الذي نطلق عليه اليوم اسم الثقافة، فالأمم جميعًا ثقافتها تحيط بها وتشكل حياتها، وتأسر الذين يعيشون في إطار مجتمعاتها.
الثقافة الصالحة والثقافات الجاهلية:من العرض السابق يمكن أن نستنتج أن الثقافة قد تكون سويّة صالحة، وقد تكون ضالة جاهليَّة، فإذا كانت الثقافة مبنية على الإيمان بالله، والتوجه إليه،
আর তিনি তাদেরকে পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের শিক্ষার বিচ্যুত এবং তাদের সমাজের মূল্যবোধ ও শিষ্টাচারের প্রতি বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য করেন; আর সমাজ তার জীবনধারা থেকে বিচ্যুত এসব ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দণ্ডিত করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নবিগণের সঙ্গে তাঁদের কওমের অবস্থার কথা বিবেচনা করা যায়; তারা তাঁদেরকে নিজেদের পথ থেকে বিচ্যুত বলে গণ্য করেছিল এবং তাঁদের প্রতি চরম শত্রুতা পোষণ করেছিল, {আর কাফিররা তাদের রাসুলদের বলেছিল, "আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমাদেরকে অবশ্যই আমাদের ধর্মে ফিরে আসতে হবে।" [ইব্রাহিম: ১৩]}।
এবং তারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে তাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল {তারা বলেছিল, "হে নূহ! তুমি যদি বিরত না হও, তবে তুমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" [আশ-শুআরা: ১১৬]}।
আর পথভ্রষ্টরা তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের ওপর অবিচল ছিল {বরং তারা বলেছিল, "আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে সুপথপ্রাপ্ত (২২) এবং এভাবেই আপনার পূর্বে আমি যখনই কোনো জনপদে কোনো সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, 'আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি' (২৩) তিনি বললেন, 'আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ পথনির্দেশ নিয়ে আসি, যার ওপর তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছ, তবুও কি তোমরা তা-ই করবে?' তারা বলল, 'তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ, আমরা তা অস্বীকারকারী' (২৪) অতঃপর আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম; সুতরাং দেখুন মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল (২৫)" [সুরা আয-যুখরুফ: ২২-২৫]}।
পিতৃপুরুষদের যে আদর্শের ওপর তারা নিজেদের পেয়েছিল এবং যা তাদেরকে রাসুলদের অনুসরণে বাধা প্রদান করেছিল, তা মূলত পিতৃপুরুষদের আকিদাগত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্য; এটি সেই ঐতিহ্য যার মধ্যে তারা প্রতিপালিত ও বেড়ে উঠেছে। একেই আমরা বর্তমান সময়ে 'সংস্কৃতি' বলে অভিহিত করি। সকল জাতির সংস্কৃতিই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখে এবং তাদের জীবনকে রূপদান করে, আর যারা তাদের সমাজের কাঠামোর মধ্যে বসবাস করে, তাদেরকে তা আচ্ছন্ন করে রাখে।
সঠিক সংস্কৃতি এবং জাহেলি সংস্কৃতি:পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, সংস্কৃতি কখনো সঠিক ও কল্যাণকর হতে পারে, আবার কখনো পথভ্রষ্ট ও জাহেলি হতে পারে। সুতরাং সংস্কৃতি যদি আল্লাহর প্রতি ইমান এবং তাঁর অভিমুখী হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে,
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والتحاكم إلى شريعته، والتصديق بما جاء من عنده - فإنها ثقافة سويّة صالحة، وإلَّا فإنها ثقافة جاهلية ضالة، وكلّ الأمم التي رفضت دعوة الرسل على اختلاف مناهجها ثقافها ضالة منحرفة {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} [المائدة: 50].
وقد جاءت الرسل لإصلاح الحياة الإنسانية وتقويمها وتطهيرها، ولا يجوز لأحد أنه يدعي أن ثقافات الأمم متساوية، وهي بذلك غير قابلة للنقد والتقويم، وقد خلط الإعلان النهائي للمؤتمر العالمي الثاني للثقافة الذي نظمته اليونسكو عام 1982 م في المكسيك حقًّا بباطل عندما قال: "إن لكل ثقافة قيمها، وإن تأكيد الذاتية الثقافية يسهم في تحرير الشعوب، ويزيد من ازدهار الجنس البشري، وإن جميع الثقافات جزء لا يتجزأ من التواث المشترك للإنسانية، وإن كل الثقافات متساوية في إطار الكرامة، وإنه لا بدَّ من الاعتراف لكل شعب، ولكل مجتمع ثقافي بحقه في تأكيد ذاتيته الثقافية، وفي صونها، وفي كفالة الاحترام الواجب لها" (1).
والباطل الذي ورد في هذا الإعلان أن الثقافات متساوية، ووجوب الاعتراف لكل مجتمع ثقافي بحقه في تأكيد ذاتيته الثقافية .. ، وهذا القول قد يكون صوابًا في ثقافات الأمم النابعة من عاداتها وتقاليدها .. ، ، فليس من حق أمّة أن تفرض على أمة أخرى ثقافتها، لأن ثقافات الأمم في هذه الحال متساوية، ولكن الحال يختلف إذا كانت ثقافة الأمّة نابعة من دين إلهي سماوي منزل من عند العليم الحكيم، فيكون التسوية بين هذه الثقافة الصالحة، والثقافات الجاهلية تسوية ظالمة {أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ (35) مَا لَكُمْ كَيفَ تَحْكُمُونَ (36)} [سورة: القلم 35 - 36].
--------------------------------------------
এবং তাঁর শরীয়তের নিকট বিচারপ্রার্থী হওয়া এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা সত্য বলে বিশ্বাস করা—তবে তা হবে এক সুষম ও সঠিক সংস্কৃতি; নতুবা তা হবে এক ভ্রষ্ট জাহেলি সংস্কৃতি। আর যে সকল জাতি রাসূলগণের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের কর্মপন্থা ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের সংস্কৃতি ভ্রষ্ট ও বিচ্যুত। {তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কে হতে পারে?} [মায়িদাহ: ৫০]।
রাসূলগণ এসেছিলেন মানবজীবনকে সংশোধন, সুসংগঠিত এবং পবিত্র করার জন্য। আর কারো জন্য এটি দাবি করা বৈধ নয় যে, জাতিসমূহের সংস্কৃতি সমান এবং সে কারণে তা সমালোচনা ও সংশোধনের ঊর্ধ্বে। ১৯৮২ সালে মেক্সিকোতে ইউনেস্কো আয়োজিত দ্বিতীয় বিশ্ব সংস্কৃতি সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে যখন সেখানে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই প্রতিটি সংস্কৃতির নিজস্ব মূল্যবোধ রয়েছে, এবং সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার স্বীকৃতি জাতিসমূহের মুক্তিতে অবদান রাখে এবং মানবজাতির সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে। সকল সংস্কৃতিই মানবতার অভিন্ন ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং মর্যাদার দিক থেকে সকল সংস্কৃতি সমান। প্রতিটি জাতি ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখার, তা সংরক্ষণ করার এবং এর প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া অপরিহার্য" (১)।
আর এই ঘোষণায় যে বাতিল বিষয়টি এসেছে তা হলো—সংস্কৃতিসমূহ সমান হওয়া এবং প্রতিটি সাংস্কৃতিক সমাজের জন্য তার সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা প্রমাণের অধিকারের স্বীকৃতি আবশ্যক হওয়া...। এই কথাটি সেই সকল জাতির সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সঠিক হতে পারে যা তাদের আচার-আচরণ ও রীতিনীতি থেকে উদ্ভূত...। ফলে কোনো জাতির অধিকার নেই অন্য কোনো জাতির ওপর নিজের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার, কারণ এ অবস্থায় জাতিসমূহের সংস্কৃতি সমান। কিন্তু বিষয়টি ভিন্ন হয় যখন কোনো জাতির সংস্কৃতি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ আসমানি ঐশী ধর্ম থেকে উৎসারিত হয়। এমতাবস্থায় এই সঠিক সংস্কৃতির সাথে জাহেলি সংস্কৃতির সমতা বিধান করা হবে একটি অন্যায় সমতা। {তবে কি আমি মুসলিমদেরকে অপরাধীদের মতো গণ্য করব? (৩৫) তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ? (৩৬)} [সূরা আল-কলম: ৩৫-৩৬]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الثاني الفرق بين العلم والثقافة وأثر هذا الفرق" العلم هو مجموعة الحقائق التي توصل إليها العقل الإنساني في مراحل تفكيره وتجاربه وملاحظاته المتسلسلة بتسلسل الزمن، والمحررة بالامتحانات المتكررة، فلا تختلف بتفاوت الأذواق، ولا تتغير بتغير المصالح" (1).
وهذا النوع من العلم تراث إنساني عالمي، لا تختص به أمّة دون أمّة، ولا تحتكره قارة من قارات الأرض، فيكون غيرها عالة عليها فيه، إنه مشاع كالهواء الذي نتنفسه، والبحار التي تحيط باليابسة، وتمخر فيها ألوف السفن حاملة مئات الأعلام، ولا زالت الدول تتبارى وتتنافس في تحصيل هذه العلوم، بل إن الدول الكبرى تبذل الأموال النفيسة لمن يعرفها الأسرار العلمية التي توصلت إليها الدول التي تخالفها في عقيدتها ومبدئها، ولكن رجال الإصلاح ورجال القيادة في تلك الدول نفسها يقضون الليالي الطوال باحثين عن الطريقة التي يحمون بها أبناء أمتهم من العقائد الدخيلة الوافدة.
وقد أقام الغرب الرأسمالي بناءه العلمي الشامخ على النتائج التي توصل إليها علماؤنا المسلمون من قبل في مجال الطب والهندسة والحساب والجبر والفلك وغيرها من العلوم. وإذا كان العلم تراثًا إنسانيًا عالميًا، تتوقف نهضة آية أمة من الأمم على الأخذ به - فإن واجبنا أن نستفيد من علوم الشرق والغرب، والأوائل والأواخر، ونبني الصروح العلمية التي تجعلنا أمّة قويّة مرهوبة الجانب، وقد أمرنا القرآن ببناء القوة الحربية {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} [الأنفال: 60].
وإعداد القوة اليوم المتمثلة في الطائرة والدبابة والبارجة والغواصة والبندقية والمدفع
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির মধ্যবর্তী পার্থক্য এবং এই পার্থক্যের প্রভাব"বিজ্ঞান (علم) হলো সেই সকল সত্যের সমষ্টি, যা মানুষের বিবেক তার চিন্তা-ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও সময়ের পরিক্রমায় ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে লাভ করেছে এবং যা বারবার পরীক্ষার মাধ্যমে সুসংহত হয়েছে। ফলে রুচির ভিন্নতায় এতে কোনো পার্থক্য ঘটে না এবং স্বার্থের পরিবর্তনেও তা পরিবর্তিত হয় না" (১)।
বিজ্ঞানের এই প্রকারটি একটি বিশ্বজনীন মানবীয় ঐতিহ্য, যা কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয় এবং পৃথিবীর কোনো মহাদেশ একে একচেটিয়াভাবে কুক্ষিগত করে রাখেনি যে, অন্যেরা এর জন্য তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে। এটি আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই তার মতোই উন্মুক্ত এবং স্থলভাগকে পরিবেষ্টনকারী সমুদ্রের মতো, যাতে শত শত পতাকা বহনকারী হাজারো জাহাজ চলাচল করে। রাষ্ট্রসমূহ এই সকল বিজ্ঞান অর্জনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ সেই সকল বৈজ্ঞানিক রহস্য জানার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে, যা তাদের বিপরীত আদর্শ ও আকিদা (عقيدة) পোষণকারী রাষ্ট্রসমূহ উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু একই সাথে ঐ সকল রাষ্ট্রের সংস্কারক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বিনিদ্র রজনী যাপন করেন এমন পথ অন্বেষণে, যার মাধ্যমে তারা তাদের জাতির সন্তানদের বহিরাগত ও অনুপ্রবেশকারী আকিদা (عقيدة) থেকে রক্ষা করতে পারেন।
পুঁজিবাদী পাশ্চাত্য তাদের সুউচ্চ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সেই ফলাফলের ওপর নির্মাণ করেছে, যা ইতিপূর্বে আমাদের মুসলিম মনীষীগণ চিকিৎসাশাস্ত্র, প্রকৌশল, গণিত, বীজগণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও অন্যান্য বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অর্জন করেছিলেন। যেহেতু বিজ্ঞান একটি বিশ্বজনীন মানবীয় ঐতিহ্য এবং যেকোনো জাতির পুনর্জাগরণ এটি গ্রহণের ওপর নির্ভরশীল, তাই আমাদের ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়া এবং এমন বৈজ্ঞানিক বনিয়াদ গড়ে তোলা যা আমাদের এক অপরাজেয় ও শক্তিশালী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। পবিত্র কুরআন আমাদের যুদ্ধশক্তি অর্জনের নির্দেশ দিয়েছে: {আর তাদের মোকাবেলার জন্য তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি প্রস্তুত করো} [আল-আনফাল: ৬০]।
আর বর্তমান যুগে শক্তি প্রস্তুতির রূপ হলো বিমান, ট্যাংক, রণতরী, সাবমেরিন, রাইফেল এবং কামান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والصاروخ والقنبلة الذريّة والهيدروجينية - لا يتم إلا بإتقان علوم كثيرة. هذا في العلم المادي.
أمّا الثقافة فالأمّة الإسلامية لها ثقافها التي تشكل شخصية الفرد والأمّة، وتميزها عمن عداها، ومتى انسلخت الأمّة الإسلامية من ثقافتها التي تتمثل في قيمها وأخلاقها وتشريعها وآدابها فإن ذلك مؤذن بزوالها ودمارها، وبذلك ترتد إلى الجاهلية التي جاء الإسلام لينقذها منها.
وإذا عرفنا هذا علمنا ما نأخذ وما ندع من حضارة الغرب.
المبحث الثالث الفرق بين الثقافة والحضارةكلمة "حضارة" ككلمة ثقافة، يكثر دورانها اليوم في المحاضرات والندوات والتأليف، فيقولون: فلان متحضر، وفلان غير متحضر، والأمّة الإسلامية أمّة متحضرة، وكما يوصف الأفراد والجماعات بالتحضر توصف بها الأعمال، فالمعاملة المهذبة توصف بأنها حضارة، والغلظة والجفاء توصف بعكس ذلك.
والعرب تريد بالحضارة ما يقابل البداوة، والحاضرة تقابل البادية، وخلاصة ما في المعاجم اللغوية عن مادة حضارة تنتهي بنا إلى أن الحضارة هي حياة المدينة، والبداوة هي حياة البادية، والحضر سكان المدن، والبدو سكان الصحراء.
ولم تعد كلمة حضارة في العرف المعاصر مقصورة على مدلولها القديم المقابل لمدلول كلمة "بداوة"، وإنما جاوزته إلى مدلول آخر هو التعبير عن ارتقاء المجتمع وارتفاعه عن المستويات البدائية، ويقصدون عادة بالمجتمع المتحضر ذلك المجتمع الذي له قيمه الروحية الرفيعة، وأساليبه المادية المتطورة في مواجهة الحياة الطبيعية.
রকেট, আণবিক এবং হাইড্রোজেন বোমা—এসবের উদ্ভাবন বহুবিধ বিজ্ঞানের নিখুঁত আয়ত্তাধীন হওয়া ছাড়া সম্ভব নয়। এটি হলো বস্তুগত বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে, ইসলামি উম্মাহর নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে যা ব্যক্তি ও জাতির ব্যক্তিত্ব গঠন করে এবং একে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে। যখনই ইসলামি উম্মাহ তার সংস্কৃতি—যা তার মূল্যবোধ, নৈতিকতা, আইন এবং শিষ্টাচারের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়—তা থেকে বিচ্যুত হবে, তখন তা তার বিলুপ্তি ও ধ্বংসের পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে তারা সেই জাহিলিয়াত বা অজ্ঞতার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে, যা থেকে তাদের উদ্ধার করার জন্য ইসলামের আগমন ঘটেছে।
যখন আমরা এটি অনুধাবন করব, তখন আমরা বুঝতে পারব যে পশ্চিমা সভ্যতা থেকে আমরা কী গ্রহণ করব এবং কী বর্জন করব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য"সভ্যতা" শব্দটি "সংস্কৃতি" শব্দের মতোই বর্তমানে বক্তৃতা, সেমিনার এবং রচনায় বহুল ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: অমুক সভ্য, অমুক অসভ্য এবং ইসলামি উম্মাহ একটি সভ্য জাতি। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ন্যায় কাজকেও সভ্য বা অসভ্য হিসেবে অভিহিত করা হয়; যেমন পরিশীলিত আচরণকে সভ্যতা এবং রুক্ষতা ও রূঢ়তাকে এর বিপরীত হিসেবে গণ্য করা হয়।
আরবরা সভ্যতা বলতে যাযাবর জীবনের বিপরীত অবস্থাকে বোঝায় এবং নগরকে মরুপ্রান্তরের বিপরীত গণ্য করে। ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানগুলোতে "সভ্যতা" শব্দটির মূল অর্থ সম্পর্কে যা পাওয়া যায় তার সারসংক্ষেপ হলো—সভ্যতা হলো নগরজীবন এবং যাযাবরবৃত্তি হলো মরুচারী জীবন; আর নগরবাসী হলো স্থায়ী বাসিন্দা এবং যাযাবর হলো মরুভূমির বাসিন্দা।
সমকালীন পরিভাষায় সভ্যতা শব্দটি কেবল "যাযাবরবৃত্তি"-র বিপরীত প্রাচীন অর্থেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি অন্য এক অর্থে সম্প্রসারিত হয়েছে, যা হলো সমাজের উন্নতি এবং আদিম স্তর থেকে উত্তরণের বহিঃপ্রকাশ। সাধারণত তারা সভ্য সমাজ বলতে এমন সমাজকে বোঝায় যার রয়েছে উচ্চতর আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং জাগতিক জীবনের মোকাবিলায় উন্নত বস্তুগত পদ্ধতিসমূহ।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وبناءً على هذا التعريف لكلمة "حضارة يكون مصطلح الحضارة أوسع وأشمل من كلمة ثقافة، فالثقافة كما عرفنا هي أسلوب الحياة السائد في مجتمع ما، وهذا الأسلوب إنما هو ثمرة الصفات الخلقية، والقيم الإجتماعية، والمبادئ الروحية، والأصول العقائدية، فالثقافة على ذلك هي المحيط الذي يشكل طباع الفرد وشخصيته، أمّا الحضارة فإنها تضم إلى جانب هذا الرقي المادي الذي بلغه الفرد، وبلغته الأمّة.
ويرى بعض الباحثين أن مدلول الثقافة مساوٍ لمدلول الحضارة، فيشمل كل منهما الجانب المعنوي والجانب المادي.
ويرى فريق ثالث أن الحضارة تعني ما توصل إليه مجتمع ما من تقدم مادي في الصناعات والابتكارات والمخترعات والبناء والزراعة وغير ذلك، ولا يُعدُّونها إلى الجانب المعنوى في حياة الأمة (1).
وينبغي أن نلاحظ هنا أمرين، الأول: أن علاقة الثقافة بالحضارة مبنية على تحديد المعنى الاصطلاحي لكل منهما، فقد يكون الاصطلاحان متساويين، وقد يكون مدلول الحضارة أوسع، وقد يكون مدلول كل منهما مختلفًا عن الآخر، وقد قال العلماء قديمًا: لا مشاحَّة في الاصطلاح.
الثاني: أن العلاقة بين الثقافة والحضارة علاقة وثيقة، فإمّا أن تكون الحضارة والثقافة شيئًا واحدًا، فثقافة الأمّة وحضارتها بناء على ذلك تعني المستوى الرفيع الذي بلغته الأمّة في فكرها وتصوراتها وعقائدها وأخلاقها، وإمّا أن تكون الثقافة
--------------------------------------------
এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘সভ্যতা (حضارة)’ শব্দটি ‘সংস্কৃতি (ثقافة)’ শব্দের চেয়ে অধিকতর ব্যাপক ও অর্থবহ। সংস্কৃতি—যেমনটি আমরা জেনেছি—হলো কোনো নির্দিষ্ট সমাজে প্রচলিত জীবনপদ্ধতি। এই পদ্ধতি মূলত নৈতিক গুণাবলি, সামাজিক মূল্যবোধ, আধ্যাত্মিক মূলনীতি এবং আকিদাগত (عقيدة) ভিত্তিগুলোরই ফসল। সেই হিসেবে সংস্কৃতি হলো এমন এক পরিবেশ যা ব্যক্তির স্বভাব ও ব্যক্তিত্ব গঠন করে। অপরদিকে সভ্যতা হলো সেই বস্তুগত উৎকর্ষ, যা ব্যক্তি ও জাতি অর্জন করে এবং যা সংস্কৃতির পাশাপাশি অবস্থান করে।
কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, সংস্কৃতির মর্মার্থ ও সভ্যতার মর্মার্থ অভিন্ন; তাই এই দুটি শব্দের প্রত্যেকটিই আত্মিক ও বস্তুগত—উভয় দিককেই অন্তর্ভুক্ত করে।
তৃতীয় এক দলের মতে, সভ্যতা হলো শিল্পায়ন, উদ্ভাবন, আবিষ্কার, স্থাপত্য, কৃষি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো সমাজের অর্জিত বস্তুগত উন্নতি; তাঁরা জাতির জীবনের আত্মিক দিকটিকে সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত করেন না (১)।
এখানে আমাদের দুটি বিষয় লক্ষ রাখা উচিত। প্রথমত: সংস্কৃতি ও সভ্যতার পারস্পরিক সম্পর্ক মূলত এদের প্রত্যেকের পারিভাষিক অর্থের (اصطلاح) নির্ধারণের ওপর নির্ভরশীল। কখনও পরিভাষা (اصطلاح) দুটি সমার্থক হতে পারে, আবার কখনও সভ্যতার পরিধি অধিক বিস্তৃত হতে পারে, কিংবা কখনও এদের প্রত্যেকের অর্থ পরস্পর ভিন্ন হতে পারে। প্রাচীন উলামায়ে কেরাম বলেছেন: পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই (لا مشاحة في الاصطلاح)।
দ্বিতীয়ত: সংস্কৃতি ও সভ্যতার মাঝে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। হয় সভ্যতা ও সংস্কৃতি একই জিনিস হবে—যে ক্ষেত্রে কোনো জাতির সংস্কৃতি ও সভ্যতা বলতে সেই জাতির চিন্তা-চেতনা, ধারণা, আকিদা (عقيدة) ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে অর্জিত উচ্চতর পর্যায়কে বোঝাবে; অথবা সংস্কৃতি হবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هي الركيزة التي تقوم الحضارة عليها - إذا عنينا بالثقافة الجانب المعنوي، وبالحضارة الجانب المادي.
المبحث الرابع موضوع الثقافة الإسلاميةبعد أن عرَّفنا الثقافة بمعناها المفرد ومعناها المركب يحسن بنا أن نحدد موضوع الثقافة الإسلامية، وهنا ينبغي أن نتذكر تعريف الثقافة بمعناها المركب، وقد قلنا إن الثقافة بهذا المعنى تعني: "أسلوب حياة الأمة" وهذا الأسلوب يحدده عند الأمم الأخرى تراثها الفكري والحضاري، وأمّا عند المسلمين فيحدده الإسلام، بل إن الإسلام في حقيقته "منهج حياة متكامل"، ومحور ثقافة الأمة بناء على ذلك الإسلام في عقائده وأخلاقه وطرائقه وفي السلوك والاقتصاد والسياسة والاجتماع والتشريع.
এটিই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর সভ্যতা দণ্ডায়মান—যদি আমরা সংস্কৃতি বলতে তাত্ত্বিক দিক এবং সভ্যতা বলতে বস্তুগত দিককে বুঝিয়ে থাকি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসলামি সংস্কৃতির বিষয়বস্তুসংস্কৃতির একক ও যৌগিক অর্থের সংজ্ঞা প্রদানের পর আমাদের জন্য ইসলামি সংস্কৃতির বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা সমীচীন হবে। এখানে আমাদের সংস্কৃতির যৌগিক অর্থের সংজ্ঞাটি স্মরণ করা উচিত; আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে, এই অর্থে সংস্কৃতি বলতে বোঝায়: "জাতির জীবনধারা"। অন্যান্য জাতির নিকট এই ধারাটি তাদের বুদ্ধিভিত্তিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, কিন্তু মুসলিমদের ক্ষেত্রে তা ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত। বরং ইসলাম তার প্রকৃত সত্তায় একটি "পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান"। এর ভিত্তিতেই জাতির সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ইসলাম—তার আকিদা, নৈতিকতা ও কর্মপন্থা এবং আচরণ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني أصول الثقافة الإسلاميةكل ثقافة لها منابعها وأصولها، فأصول الثقافة الغربية يمكن إعادتها إلى الكتابين السماويين المحرفين: التوراة والإنجيل، وإلى القانون الروماني، وجهود العلماء الأوربيين، والتاريخ الأوربي.
أما أصول الثقافة الإملامية فهي الوحي الإلهي الذي يتمثل في الكتاب والسنة، فالوحي الإلهي هو الذي بنى التصور العقائدي الواضح السليم عند الأمّة الإسلامية، وهو الذي حدد الوجهة والطريق، كما حدد معالم الطريق، وبين النطم والتشريعات التي تحكم الأمّة.
وقد كان الوحي يعيد صياغة الفرد في معتقداته وأفكاره ويزكيه ويطهره، وينشئ العلائق والروابط، ويؤسس الصرح الذي يقوم عليه بناء الأمّة.
وكان الرسول صلى الله عليه وسلم هو الأنموذج الذي يمثل هذا الدين، وكان المعلم والمربي والقائد والحاكم الذي اختاره الله ليرفع صرح الإسلام عاليا.
ولا تزال نصوص الوحي السماوي وسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم هي التي تحكم ثقافة الأمّة وتقومها.
وتاريخنا الإسلامي يمثل نماذج للثقافات التي تفاعلت مع الإسلام عبر القرون.
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামি সংস্কৃতির মূলনীতিসমূহপ্রতিটি সংস্কৃতিরই নিজস্ব উৎস ও মূলভিত্তি থাকে। পশ্চিমা সংস্কৃতির মূলভিত্তিগুলোকে দুটি বিকৃত আসমানি কিতাব: তাওরাত ও ইঞ্জিল, রোমান আইন, ইউরোপীয় পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা এবং ইউরোপীয় ইতিহাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
পক্ষান্তরে ইসলামি সংস্কৃতির মূলভিত্তি হলো খোদায়ি ওহি (وحي), যা কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) মাঝে রূপায়িত। এই খোদায়ি ওহি (وحي)-ই মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও সঠিক আকিদাগত (عقائدي) ধারণা গড়ে তুলেছে। এটিই উম্মাহর লক্ষ্য ও পথ নির্ধারণ করেছে, যেমনটি এটি পথের বৈশিষ্ট্যসমূহ চিহ্নিত করেছে এবং উম্মাহকে পরিচালনাকারী নিয়ম ও শরয়ি বিধান (تشريعات) বর্ণনা করেছে।
ওহি (وحي) ব্যক্তির বিশ্বাস ও চিন্তাচেতনাকে পুনর্গঠন করত এবং তাকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করত। এটি পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও বন্ধন তৈরি করত এবং সেই সুউচ্চ সৌধ নির্মাণ করত যার ওপর উম্মাহর কাঠামো দণ্ডায়মান।
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন এই দ্বীনের বাস্তব নমুনা। তিনি ছিলেন সেই শিক্ষক, মুরুব্বি, নেতা ও শাসক যাকে আল্লাহ মনোনীত করেছিলেন ইসলামের মর্যাদাকে সমুন্নত করতে।
আসমানি ওহির (وحي) পাঠ্যসমূহ (نصوص) এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সিরাত (سيرة) আজও উম্মাহর সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন করে থাকে।
আমাদের ইসলামি ইতিহাস এমন সব সংস্কৃতির নিদর্শন পেশ করে যা শতাব্দীকাল ধরে ইসলামের সাথে মিথস্ক্রিয়া করেছে।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الفصل الثالث الثقافة الإسلامية بين الأصالة والانحراف
المبحث الأول أهم معالم الثقافة الإسلامية الأصيلةكلما انضبطت ثقافة الأمة الإسلامية بالاسلام كلما صعدت في مدارج الرقي، وقد تحقق هذا الكمال في عصر الصحابة والتابعين، ثمَّ دخل في ثقافة الأمة، ليس منها، وعند ذلك خالطها الدخن الذي أخبرنا الرسول صلى الله عليه وسلم به، وقد يشتد هذا الدخن حتى لا تكاد تظهر معه معالم الثقافة الإسلاية الأصيلة، وقد يخف نتيجة جهود الدعاة والمصلحين فتعود الأصالة إلى البروز.
والباحث في هذا الجانب لا بدَّ أن يعود إلى أمرين:
الأول: الإسلام، لأنه هو الذي شكل ثقافة الأمة، ووضع لها القواعد والضوابط.
والثاني: المجتمع الإسلامي، الذي تفاعل مع الإسلام وكوّن تلك الثقافة في واقع مشهود، بحيث أصبحت إطارًا تؤثر في حياة الأفراد وتوجهاتهم.
وسنحاول أن نبرز في هذا المبحث أهم معالم الثقافة الإسلامية الأصيلة:
1 - بناء العقل الإنساني بناء سويّا:
لقد كان العقل الإنساني نتيجة المبادئ الضالة والانحرافات العقائدية -
তৃতীয় অধ্যায়: মৌলিকতা ও বিচ্যুতির মাঝে ইসলামি সংস্কৃতিপ্রথম পরিচ্ছেদ: মৌলিক ইসলামি সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহমুসলিম উম্মাহর সংস্কৃতি যখনই ইসলামের অনুশাসনে পরিচালিত হয়েছে, তখনই তা উন্নতির সোপানে আরোহণ করেছে। আর এই পূর্ণতা সাহাবী এবং তাবিঈদের যুগে অর্জিত হয়েছিল। পরবর্তীতে উম্মাহর সংস্কৃতির মধ্যে এমন কিছু বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটে যা তার অংশ নয়; আর তখনই এতে কলুষতা (دخن) মিশ্রিত হয়, যে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। কখনো কখনো এই কলুষতা (دخن) এতটাই তীব্র হয় যে, এর ফলে মৌলিক ইসলামি সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রায় বিলীন হয়ে যায়। আবার দাওয়াত প্রদানকারী ও সংস্কারকদের প্রচেষ্টায় তা হ্রাস পায় এবং মৌলিকতা পুনরায় প্রকাশ পেতে শুরু করে।
এই বিষয়ের গবেষককে অবশ্যই দুটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে হবে:
প্রথমত: ইসলাম; কেননা ইসলামই উম্মাহর সংস্কৃতি গঠন করেছে এবং এর জন্য মূলনীতি (قواعد) ও নীতিমালা (ضوابط) নির্ধারণ করে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত: মুসলিম সমাজ; যারা ইসলামের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একটি দৃশ্যমান বাস্তবতায় সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে, যা ব্যক্তিজীবন ও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করার মতো একটি কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
আমরা এই পরিচ্ছেদে মৌলিক ইসলামি সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব:
1 - মানব বুদ্ধিবৃত্তিকে সঠিকভাবে গঠন করা:
বিভ্রান্তিকর আদর্শসমূহ ও আকিদাগত বিচ্যুতির ফলে মানব বুদ্ধিবৃত্তি ছিল -
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مشوها في بعض جوانبه، مظلمًا في جوانب أخرى، يفكر تفكيرًا معوجًا، ويحكم حكما مشربًا بالهوى، لقد ارتضى العقل الإنساني الخضوع للأشجار والأحجار، وعبد الشمس والقمر، والإنسان والحيوان، وسيطرت عليه الخرافة، فاعتقد أن الملائكة بنات الله، وظن أن أرواح الملائكة حَلت في النجوم، وقامت الحروب انتصارًا لعقيدة فاسدة يكذبها الواقع الصادق، فجاء الإسلام ليعيد ترتيب العقل الإنساني، ويكشف عنه الزيف والخرافة، ويفك عنه إساره، ثم يطلقه ليعرف ربّه من خلال آياته المسطورة والمنظورة، ثمَّ يأمره أن يفكر في نفسه وفي الكون بقصد البناء والإعمار.
2 - وضوح الهدف والغاية:
أصدق ما يطلق على البشر الذين لم يهتدوا بهدي الله أنهم ضالون، والضال هو الضائع التائه الذي لا يعرف طريقه ووجهته، والبشر قبل إشراق نور النبوة كانوا كذلك، الأنعام أهدى سبيلًا منهم، لا يعرفون لماذا خلقوا، ولا يعلمون الوجهة التي ينبغي أن تتجه أعمالهم وأقوالهم إليها، فجاء الإسلام فعرفهم بالهدف والطريق الموصل إليه، وقال لهم أنتم مخلوقون لعبادة الله وحده، وهذا الدين أنزله الله إليكم ليدلكم كيف تعبدونه، وعرفهم بالجزاء الذي يستحقونه في حال استقامتهم، وفي حال اعوجاجهم.
وعندما وضح السبيل والغاية وتحركت الأمّة الإسلامية في المسار الصحيح صلح أمر الناس، وإنجابت عنهم الظلمات.
3 - الإيمان الصادق العميق:
الذي ينظر في المجتمع الإسلامي يجد أن أفراده كانوا شديدي الصلة بالله،
তার কিছু দিক ছিল বিকৃত, আর কিছু দিক ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন; সে ছিল বক্র চিন্তার অধিকারী এবং প্রবৃত্তি দ্বারা কলুষিত বিচার সম্পন্ন। মানব বিবেক গাছপালা ও পাথরের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করাকে গ্রহণ করে নিয়েছিল এবং তারা সূর্য, চন্দ্র, মানুষ ও পশুর পূজা করত। কুসংস্কার তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল, ফলে সে বিশ্বাস করত যে ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা এবং সে ধারণা করত যে ফেরেশতাদের আত্মা নক্ষত্রপুঞ্জে আশ্রয় নিয়েছে। বাস্তব সত্য যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, এমন ভ্রান্ত আকিদার বিজয়ে যুদ্ধ বিগ্রহ পরিচালিত হতো। অতঃপর ইসলাম এলো মানব চিন্তাধারাকে সুসংগঠিত করতে, তার থেকে মিথ্যা ও কুসংস্কারের মায়া জাল ছিন্ন করতে এবং তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিতে। এরপর তাকে উন্মুক্ত করে দিল যেন সে তার প্রভুকে তাঁর লিখিত ও দৃশ্যমান নিদর্শনাবলির মাধ্যমে জানতে পারে। অতঃপর তাকে নির্দেশ দিল নিজের সম্পর্কে এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে নির্মাণ ও আবাদ করার লক্ষ্যে চিন্তা-গবেষণা করতে।
2 - লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতা:
আল্লাহর হেদায়াত লাভ করেনি এমন মানুষের জন্য সবচেয়ে সত্য শব্দ যা প্রয়োগ করা যায় তা হলো তারা পথভ্রষ্ট। আর পথভ্রষ্ট হলো সেই বিভ্রান্ত ব্যক্তি, যে তার পথ ও গন্তব্য সম্পর্কে অবগত নয়। নবুয়তের নূর উদ্ভাসিত হওয়ার পূর্বে মানবজাতি এমনই ছিল; তারা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও অধিক পথহারা ছিল। তারা জানত না কেন তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, আর তাদের কথা ও কাজ কোন অভিমুখে হওয়া উচিত সে সম্পর্কেও তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। অতঃপর ইসলাম এসে তাদেরকে তাদের লক্ষ্য এবং সেখানে পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে অবগত করল। তাদের বলল যে, তোমরা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করার জন্যই সৃষ্ট হয়েছ, আর এই দ্বীন আল্লাহ তোমাদের কাছে অবতীর্ণ করেছেন তোমাদেরকে এটা শেখানোর জন্য যে কীভাবে তোমরা তাঁর ইবাদত করবে। এছাড়া তাদের সঠিক পথে চলার ক্ষেত্রে এবং বিপথগামী হওয়ার ক্ষেত্রে তারা যে প্রতিদানের যোগ্য হবে, সে সম্পর্কেও তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
যখন পথ ও লক্ষ্য স্পষ্ট হলো এবং মুসলিম উম্মাহ সঠিক পথে অগ্রসর হলো, তখন মানুষের অবস্থার সংশোধন হলো এবং তাদের থেকে অন্ধকারের কালো মেঘ অপসারিত হলো।
3 - গভীর ও সত্য ঈমান:
যে ব্যক্তি ইসলামি সমাজের দিকে দৃষ্টিপাত করবে, সে দেখতে পাবে যে তার সদস্যরা আল্লাহর সাথে অত্যন্ত সুগভীর বন্ধনে আবদ্ধ ছিল,
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكان ارتقاء الفرد في مجتمعه محكوما بارتقافه بصلته بربّه، وإذا خبا هذا الاتصال فإن الفرد يضعف، وتبدو عليه علامات المرض، والإيمان الصادق معرفة قويّة قويمة بالله، وتوجه إليه بالقلوب والمشاعر توكلًا واعتمادًا وحبًا ورجاءً وخوفًا، وتوجه إليه بالعمل، {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالمِينَ (162) لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (163)} [سورة الأنعام: 162 - 163].
4 - الانتماء لأمة الفكرة والعقيدة:
أصبح الانتماء في المجتمع الإسلامي للأمة الإسلامية، والأمّة في الإسلام هي الفئة التي ارتضت أن تجتمع على أساس من عقيدة الإسلام بغض النظر عن اختلاف أجناسها ولغاتها وألوانها وديارها.
وكانت العصبيات القبلية والجنسية ولا زالت تمزق الشعوب وترفع بينها لواء العداوة والبغضاء، وتقوم الحروب ليؤكد كل فريق أنه الأعز.
جاء الإسلام ليقول للناس: أصلكم واحد، وأبوكم واحد، وربكم واحد، ودينكم واحد، فالتفاضل بينكم بالتقوى، لا باللون أو الجنس.
وارتقى المسلمون في تصورهم للعلاقة التي تربط بين البشر إلى مستوى القمة، فالرابطة التي تجمعهم رابطة العقيدة، والأمة التي ينتسبون إليها هي أمّة الإسلام.
5 - مجاهدة الباطل:
التقوى والفجور خطَّان يتعاوران النفس الإنسانية والمجتمعات الإنسانية، وقد مرنت المجتمعات الإسلامية بتوجيهات الإسلام على محاربة الباطل، فالإنسان
সমাজে একজন ব্যক্তির উৎকর্ষ তার রবের সাথে সম্পর্কের গভীরতার দ্বারা নির্ধারিত হতো। যখন এই সম্পর্ক শিথিল হয়ে যায়, তখন ব্যক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার মধ্যে আধ্যাত্মিক ব্যাধির লক্ষণসমূহ ফুটে ওঠে। প্রকৃত ঈমান হলো আল্লাহর বিষয়ে এক সুদৃঢ় ও সঠিক জ্ঞান এবং তাওয়াক্কুল (توكل), নির্ভরতা, ভালোবাসা, আশা ও ভীতি সহকারে অন্তরের আকুতি ও অনুভূতি নিয়ে তাঁর প্রতি ধাবিত হওয়া এবং আমলের মাধ্যমে তাঁর অভিমুখী হওয়া। {বলুন: ‘নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজাহানের রব আল্লাহরই জন্য। (১৬২) তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।’ (১৬৩)} [সূরা আল-আন’আম: ১৬২-১৬৩]।
৪ - আদর্শিক ও আকিদাগত (عقيدة) উম্মাহর প্রতি আনুগত্য:
ইসলামি সমাজে ব্যক্তির আনুগত্য ও পরিচয় নির্ধারিত হয় ইসলামি উম্মাহর মাধ্যমে। ইসলামে ‘উম্মাহ’ হলো সেই জনসমষ্টি যারা বর্ণ, ভাষা, রং এবং ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে ইসলামের আকিদার (عقيدة) ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে সানন্দে গ্রহণ করেছে।
গোত্রীয় ও জাতীয় আভিজাত্যবোধ বা সংকীর্ণতা (عصبية) মানবজাতিকে সর্বদা ছিন্নভিন্ন করেছে এবং তাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষের ঝাণ্ডা সমুন্নত করেছে; যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের সর্বাধিক শক্তিশালী প্রমাণের জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
ইসলাম মানুষের কাছে এসে ঘোষণা করেছে: তোমাদের উৎস এক, তোমাদের পিতা এক, তোমাদের রব এক এবং তোমাদের দীন এক। সুতরাং তোমাদের মাঝে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হলো তাকওয়া (تقوى), গায়ের রং বা বংশমর্যাদা নয়।
মানবীয় সম্পর্কের এই ধারণাকে মুসলিমরা এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে; তাদের এই ঐক্যের মূলসূত্র হলো আকিদার (عقيدة) বন্ধন এবং তারা যে উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত তা হলো ইসলামি উম্মাহ।
৫ - বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম:
তাকওয়া (تقوى) ও পাপাচার (فجور) হলো এমন দুটি পথ যা পর্যায়ক্রমে মানবাত্মা ও মানবসমাজে প্রভাব বিস্তার করে। ইসলামি সমাজসমূহ ইসলামের নির্দেশনার আলোকে বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াই করার বিষয়ে দীক্ষিত হয়েছে। ফলে মানুষ
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
يحارب النفس الأمارة بالسوء، ووساوس الشيطان، وهو يأمر غيره بالعدل والحق، ويحارب الباطل الذي يتلبس به، والأمّة في مجموعها تدعو إلى الحق وتحارب الباطل الذي يطل بعنقه هنا وهناك، وتجرد الجيوش لمحاربة أهل الكفر والضلال.
وإذا نظرت إلى هذا المعلم من خلال المجتمع الإسلامي تجد الأمثلة لديك وفيرة، والنصوص الآمرة بذلك كثيرة، فلقد دعا الرسول صلى الله عليه وسلم الناس إلى الحق، وبعد قيام المجتمع المسلم حارب الباطل الذي كان يخالط النفوس، وحارب المسلمون الكفار، وحارب الصحابة المرتدين، ووقف العلماء في وجه الحكام الظلمة، ووقف الإمام أحمد في وجه الزيغ العقائدي، وكانت العقوبات توقع على العصاة والمتمردين
…6 - السعي لاستعمار الأرض:
لم يكن المسلمون فئة من الكسالى القاعدين، بل كانوا دائمًا وأبدًا ذوي همّة عالية، يجوبون البلاد، يبحثون ويثمِّرون ويعمِّرون، استجابة لأمر الله {فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ} [الجمعة: 10].
{هُوَ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا} [هود: 61].
وآثار المسلمين شاهدة في كل قطر نزلوه أنهم لم يكونوا مخربين، بل معمرين، هذه آثار حضارتهم في بلادنا، وتلك آثارهم في الهند والأندلس وتركيا وكثير من دول أوربا.
وهذا الاستعمار لا بدَّ له من العلم، فالعلم خارطة العمل، واستعمار الأرض لا يمكن أن يتحقق للجهلاء، فالأرض لا تخرج كنوزها، ولا تنقاد لمن يستعمرها
তিনি মন্দকাজে প্ররোচনাকারী আত্মা (النفس الأمارة بالسوء) এবং শয়তানের কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তিনি অন্যকে ইনসাফ ও হকের (الحق) আদেশ দেন এবং সেই বাতিলের (الباطل) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন যা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। উম্মাহ সামগ্রিকভাবে হকের (الحق) দিকে আহ্বান করে এবং এখানে-সেখানে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বাতিলের (الباطل) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, আর কুফর (الكفر) ও পথভ্রষ্টতার (الضلال) অনুসারীদের মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত করে।
আর আপনি যদি ইসলামি সমাজের প্রেক্ষাপটে এই বৈশিষ্ট্যটির দিকে লক্ষ্য করেন, তবে আপনার কাছে প্রচুর উদাহরণ ধরা পড়বে এবং এ সংক্রান্ত আদেশমূলক দলীলসমূহ (النصوص) অনেক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে হকের (الحق) দিকে আহ্বান করেছেন। মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি সেই বাতিলের (الباطل) বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন যা মানুষের অন্তরে মিশে ছিল। মুসলমানরা কাফিরদের (الكفار) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, সাহাবীগণ ধর্মত্যাগীদের (المرتدين) বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, আলেমগণ জালেম শাসকদের সামনে দাঁড়িয়েছেন, ইমাম আহমদ আকিদাগত বিচ্যুতির (الزيغ العقائدي) বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং অবাধ্য ও বিদ্রোহীদের ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করা হতো
…৬ - পৃথিবী আবাদ করার প্রচেষ্টা:
মুসলিমরা অলস ও ঘরে বসে থাকা কোনো গোষ্ঠী ছিল না; বরং তারা সর্বদা উচ্চ হিম্মতসম্পন্ন ছিল। তারা দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়াত, অনুসন্ধান করত, উৎপাদন করত এবং আবাদ করত; আল্লাহর এই আদেশের জবাবে: "অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো" [জুমুআ: ১০]।
"তিনিই তোমাদেরকে জমিন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে তোমাদের আবাদকারী বানিয়েছেন" [হূদ: ৬১]।
মুসলিমরা যেখানেই অবতরণ করেছে, প্রতিটি জনপদেই তাদের রেখে যাওয়া নিদর্শনসমূহ সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, তারা ধ্বংসকারী ছিল না, বরং আবাদকারী ছিল। আমাদের দেশে তাদের সভ্যতার এই নিদর্শনগুলো এবং ভারত, আন্দালুস, তুরস্ক ও ইউরোপের অনেক দেশে তাদের ঐ সব স্মৃতিচিহ্ন বিদ্যমান।
আর এই আবাদ বা বিনির্মাণের জন্য ইলম বা জ্ঞান অপরিহার্য। কারণ জ্ঞান হলো কর্মের মানচিত্র। পৃথিবী আবাদ করা মূর্খদের দ্বারা সম্ভব নয়। কেননা পৃথিবী তার ধনভাণ্ডার বের করে দেয় না এবং যে একে আবাদ করতে চায় তার অনুগত হয় না।
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ما لم يكن معه المفتاح، ومفتاح ذلك العلم الذي يعرفنا بالسبيل الذي يسخر لنا فيه الكون.
7 - تحقيق المبادئ في عالم الواقع:
إن الدول التي ترفع الشعارات الجملة كالحرية والعدل والمساواة والإخاء اليوم هي أشدُّ الدول انتهاكا لهذه المبادئ واعتبر بأمريكا وبريطانيا وفرنسا وروسيا وما فعلته هذه الدول بأمّة الإسلام في عصرنا الحاضر، بل إن الذين يستظلون بظل هذه الدول من أبنائها ليعانون من الظلم والعبودية والتفرقة في الحقوق والواجبات، وما أمر المتشدقين بالشيوعية في روسيا بسر، فأفراد الحزب الشيوعي يملكون كل شيء، بينما الأمّة مغلوبة على أمرها، تعيش كالقطيع لا تملك من أمرها شيئًا.
لقد حقق المسلمون العدل في أرقى صوره، لقد كان القاضي المسلم يحاكم الخليفة، ويقضي عليه، وقد كان القاضي لا يفرق في قضائه بين حاكم ومحكوم، وكانت روح الإخاء هي التي تسيطر على أبناء المجتمع الإسلامي.
8 - وضع الضوابط والتنظيمات والتشريعات:
الفرد المسلم والأمة المسلمة كلهم محكومون في تصرفاتهم وأعمالهم بالشريعة الإسلامية، ولذلك فإنهم يعلمون ما يأخذون وما يدعون، وكيف يتصرفون فيما بينهم، وكيف يعاملون خصومهم، وهذا يوحد مسارهم، ويضبط حركتهم، ويؤلف قلوبهم، ويعلي كلمتهم، وهذه الضوابط والتنظمات والتشريعات كلها
যতক্ষণ না তার কাছে চাবিকাঠি থাকে; আর সেই জ্ঞানের চাবিকাঠি যা আমাদের এমন পথ চিনিয়ে দেয় যার মাধ্যমে মহাবিশ্ব আমাদের জন্য অনুগত হয়।
৭ - বাস্তব জগতে মূলনীতিসমূহের বাস্তবায়ন:
আজ যে রাষ্ট্রগুলো স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের মতো চটকদার স্লোগান দেয়, তারাই এই মূলনীতিগুলো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর রাষ্ট্র। এর উদাহরণ হিসেবে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার কথা এবং বর্তমান যুগে মুসলিম উম্মাহর সাথে এই রাষ্ট্রগুলো যা করেছে তা বিবেচনা করুন। এমনকি এই রাষ্ট্রগুলোর ছায়াতলে বসবাসকারী তাদের নিজ নাগরিকরাও জুলুম, দাসত্ব এবং অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। রাশিয়ায় কমিউনিজমের বুলি আওড়ানো ব্যক্তিদের বিষয়টি কোনো গোপন রহস্য নয়; কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা সবকিছুর মালিক, অথচ জাতি সেখানে পরাভূত অবস্থায় রয়েছে; তারা পালের পশুর মতো জীবনযাপন করছে, যাদের নিজেদের বিষয়ে কোনো ক্ষমতা নেই।
মুসলিমরা ন্যায়বিচারকে তার সর্বোচ্চ রূপে বাস্তবায়ন করেছিল। একজন মুসলিম বিচারক খলিফার বিচার করতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে রায় প্রদান করতেন। বিচারক তাঁর ফয়সালায় শাসক ও শাসিতের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। আর ভ্রাতৃত্বের চেতনাই ছিল মুসলিম সমাজের সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি।
৮ - নীতিমালা, ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রণয়ন:
প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তি এবং মুসলিম উম্মাহ তাদের সকল আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডে ইসলামি শরিয়ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ফলে তারা জানে তারা কী গ্রহণ করবে এবং কী বর্জন করবে, নিজেদের মধ্যে কীভাবে আচরণ করবে এবং শত্রুদের সাথে কীরূপ ব্যবহার করবে। এটি তাদের পথকে ঐক্যবদ্ধ করে, তাদের গতিবিধিকে সুশৃঙ্খল করে, তাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করে এবং তাদের অবস্থানকে সমুন্নত করে। আর এই সকল নীতিমালা, ব্যবস্থাপনা ও আইনসমূহ...
(খণ্ড: ১)
নাহওয়া সাকাফাতিন ইসলামিয়্যাতিন আসীলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
كاملة وافية، ولذلك جاءت صورة المجتمع المسلم في غاية الضبط والتنظيم والتماسك.
9 - الصبغة الأخلاقية الطاهرة:
والأخلاق هي الضابط الأعظم في حياة الفرد وحياة الأمة، والمسلمون يحرصون على العمل بمقتضاها مهما كان الثمن باهظًا، لقد أوقف المشركون جماعة من المسلمين المستخفين في إسلامهم، كانوا ذاهبين إلى المدينة أثناء حصار المشركين للمدينة في موقعة الخندق، ولم يسمحوا لهم بالمرور إلا بعدما أخذوا عليهم العهود والمواثيق بأن لا يحاربوهم مع المسلمين، فلما أخبروا الرسول صلى الله عليه وسلم قال: "نفي بعهدهم ونستعين الله عليهم" (1)، ولم يأذن لهم بالمقاتلة معه، وعندما أخرج الذين كفروا رسول الله صلى الله عليه وسلم من مكة لم يسمح لنفسه بالاستيلاء على أمانات الكفار، بل أمر عليًّا بردها إلى أهلها، والقصة معروفة مشهورة.
ولقد تحدثت بأخلاق المسلمين الركبان في المشارق والمغارب، ولقد كانت هذه الأخلاق من أعظم ما حبب الكفار بدين الإسلام، فدخلت الأمم المغلوبة في دين الله أفواجًا، لمّا رأوا عدل المسلمين، وصدقهم ووفاءهم بالعهود، وما كان للمسلمين إلا أن يكونوا كذلك والإسلام يأمرهم بذلك {وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا} [الإسراء: 34].
{إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} [النساء: 58].
{وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ} [المؤمنون: 8].
--------------------------------------------
পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত, আর এ কারণেই মুসলিম সমাজের চিত্রটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত এবং সুসংহত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
৯ - পবিত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
চরিত্রই হলো ব্যক্তি ও জাতির জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ন্ত্রক। মূল্য যত চড়া হোক না কেন, মুসলমানরা এর দাবি অনুযায়ী আমল করতে সচেষ্ট থাকে। মুশরিকরা একদল মুসলমানকে আটকে দিয়েছিল যারা তাদের ইসলাম গ্রহণ গোপন রেখেছিলেন; খন্দকের যুদ্ধের সময় মদিনা অবরোধ চলাকালে তারা মদিনায় যাচ্ছিলেন। মুশরিকরা তাদের যাওয়ার অনুমতি দেয়নি যতক্ষণ না তারা তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে যে, তারা মুসলমানদের সাথে মিলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না। যখন তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই সংবাদ দিলেন, তখন তিনি বললেন: "আমরা তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করব এবং তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করব" (১)। তিনি তাদের তাঁর সাথে যুদ্ধে লড়ার অনুমতি দেননি। আর যখন কাফেররা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা থেকে বের করে দিয়েছিল, তখন তিনি কাফেরদের আমানতসমূহ আত্মসাৎ করা নিজের জন্য বৈধ মনে করেননি, বরং তিনি আলী (রা.)-কে তা তাদের মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ (مشهورة)।
মুসলমানদের উন্নত চরিত্রের কথা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের কাফেলাসমূহ সর্বত্র আলোচনা করত। এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ যা কাফেরদের অন্তরে ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করেছিল। ফলে বিজিত জাতিসমূহ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছিল, যখন তারা মুসলমানদের ইনসাফ, সত্যবাদিতা এবং অঙ্গীকার পূর্ণ করার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছিল। মুসলমানদের এভাবেই হওয়া উচিত ছিল, কারণ ইসলাম তাদের এই নির্দেশই দেয়: {তোমরা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে} [আল-ইসরা: ৩৪]।
{নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৫৮]।
{এবং যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে} [আল-মুমিনুন: ৮]।
--------------------------------------------