(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: -)
فقه الابتلاء وأقدار الله المؤلمة   (أبو فيصل البدراني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: فقه الابتلاء, وأقدار الله المؤلمة

المؤلف: أبو فيصل البدراني

عدد الصفحات: 61

[ترقيم الكتاب موافق لنسخة المؤلف]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1433

পরীক্ষার (ابتلاء) ফিকহ (فقه) এবং আল্লাহর যন্ত্রণাদায়ক তাকদির (أقدار) সমূহ   (আবু ফয়সাল আল-বদরানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)


গ্রন্থ: পরীক্ষার (ابتلاء) ফিকহ (فقه) এবং আল্লাহর যন্ত্রণাদায়ক তাকদির (أقدار) সমূহ

লেখক: আবু ফয়সাল আল-বদরানি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন লেখকের মূল কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১)
"بسم الله الرحمن الرحيم"

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين ، أما بعد:

فهذه رسالة تتحدث عن فقه أقدار الله المؤلمة أصالة وأقداره السارة على وجه التبع وموقف المسلم منها ، وحقيقة الحياة الطيبة.

 

•‌‌ القضاء والقدر:

•‌‌ تعريف القضاء والقدر: هو تقدير الله للكائنات حسبما سبق به علمه واقتضته

حكمته أو هو علم الله وكتابته للأشياء ومشيئته وخلقه لها.

والإيمان بالقدر يقوم على أربعة أركان تسمى مراتب القدر وهي العلم والكتابة والمشيئة والخلق ، وأفعال العباد داخلة في عموم خلقه عز وجل ولا يُخرجها عن ذلك العموم شيء.

ومفهوم هذه المراتب ما يلي:

1 - العلم: فنؤمن بأن الله تعالى بكل شيء عليم ، علم ما كان وما يكون وكيف يكون بعلمه الأزلي الأبدي فلا يتجدد له علم بعد جهل ولا يلحقه نسيان بعد علم.

2 - الكتابة فنؤمن بأن الله تعالى كتب في اللوح المحفوظ ما هو كائن إلى يوم القيامة.

3 - المشيئة فنؤمن بأن الله تعالى قد شاء كل ما في السموات والأرض فلا يكون شيء إلا بمشيئته ، فما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن.

4 - الخلق فنؤمن بأن الله تعالى خالق كل شيء وهو على كل شيء وكيل.

وهذه المراتب الأربع شاملة لما يكون من الله تعالى نفسه ولما يكون من العباد فكل ما يقوم به العباد من أقوال أو أفعال أو تروك فهي معلومة لله تعالى مكتوبة عنده والله تعالى قد شاءها وخلقها ولكننا مع ذلك نؤمن بأن الله تعالى جعل للعبد اختياراً وقدرة بهما يكون الفعل ونرى أنه لا حجة للعاصي على معصيته بقدر الله تعالى لأن العاصي يُقدم على المعصية باختياره من غير أن يعلم أن الله تعالى قدَرها عليه ، إذ لا يعلم أحد قدر الله تعالى إلا بعد وقوع مقدوره ونؤمن بأن الشر لا يُنسب إلى الله تعالى لكمال رحمته وحكمته فنفس قضاء الله تعالى ليس فيه شر أبداًَ لأنه صادر عن رحمة وحكمة وإنما يكون الشر في مقضياته ومع هذا فإن الشر في المقضيات ليس شراً خالصاً محضاً بل هو شر في محله من وجه ، خيرٌ من وجه أو شر في محله خيرٌ في محل آخر.
"পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।"

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুলগণের ওপর। অতঃপর:

এটি এমন একটি পুস্তিকা যা মূলত আল্লাহর বেদনাদায়ক ফয়সালাসমূহ এবং আনুষঙ্গিকভাবে তাঁর আনন্দদায়ক ফয়সালাসমূহের গূঢ়তত্ত্ব (ফিকহ), এ বিষয়ে একজন মুসলিমের অবস্থান এবং পবিত্র জীবনের স্বরূপ সম্পর্কে আলোচনা করে।

 

•‌‌ ফয়সালা (القضاء) ও ভাগ্য (القدر):

•‌‌ ফয়সালা (القضاء) ও ভাগ্য (القدر)-এর সংজ্ঞা: এটি হলো মাখলুকাতের বিষয়ে আল্লাহর সেই নির্ধারণ (تقدير) যা তাঁর পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী এবং তাঁর

প্রজ্ঞা (حكمة) অনুযায়ী সাব্যস্ত। অথবা এটি হলো বিষয়াদি সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান (علم), তাঁর লিখন (كتابة), তাঁর ইচ্ছা (مشيئة) এবং সেগুলোকে তাঁর সৃষ্টি (خلق) করা।

ভাগ্যের (القدر) প্রতি ঈমান চারটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত যেগুলোকে ভাগ্যের স্তর (مراتب القدر) বলা হয়। সেগুলো হলো: জ্ঞান (العلم), লিখন (الكتابة), ইচ্ছা (المشيئة) এবং সৃষ্টি (الخلق)। বান্দাদের সকল কাজ মহান আল্লাহর সাধারণ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত এবং কোনো কিছুই এই ব্যাপকতাকে অতিক্রম করে না।

এই স্তরগুলোর মর্মার্থ নিম্নরূপ:

১ - জ্ঞান (العلم): আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বিষয়ে সর্বজ্ঞাত (عليم)। যা হয়েছে, যা হবে এবং তা কীভাবে হবে—তা তিনি তাঁর অনাদি ও অনন্ত জ্ঞান দ্বারা জানেন। অজ্ঞতার পর তাঁর কোনো নতুন জ্ঞান অর্জিত হয় না এবং জ্ঞান লাভের পর তাঁর কোনো বিস্মৃতি ঘটে না।

২ - লিখন (الكتابة): আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন।

৩ - ইচ্ছা (المشيئة): আমরা বিশ্বাস করি যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তাআলা তার সবকিছুরই ইচ্ছা করেছেন। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুই ঘটে না। আল্লাহ যা চান তা হয়, আর যা তিনি চান না তা হয় না।

৪ - সৃষ্টি (الخلق): আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর স্রষ্টা (خالق) এবং তিনি সবকিছুর ওপর তত্ত্বাবধায়ক (وكيل)।

এই চারটি স্তর স্বয়ং আল্লাহ তাআলার কাজ এবং বান্দাদের পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পায়—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং বান্দারা যেসব কথা বলে, কাজ করে বা যা বর্জন করে, সে সবই আল্লাহ তাআলার নিকট পরিজ্ঞাত ও লিখিত। আল্লাহ তাআলা সেগুলোর ইচ্ছা করেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন। তবে এর পাশাপাশি আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ইচ্ছাশক্তি (اختيار) ও সামর্থ্য (قدرة) দান করেছেন যার মাধ্যমে কাজ সম্পাদিত হয়। আমরা মনে করি যে, পাপিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য আল্লাহর ভাগ্যের (القدر) দোহাই দিয়ে পাপ করার কোনো অজুহাত নেই। কারণ পাপিষ্ঠ ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় পাপে লিপ্ত হয়, সে এটা জানে না যে আল্লাহ তাআলা তা তার ভাগ্যে নির্ধারণ করে রেখেছেন। কেননা আল্লাহর নির্ধারণ (قدر) সম্পর্কে কোনো ব্যক্তিই তা ঘটার আগে জানতে পারে না। আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তাআলার পূর্ণ দয়া ও প্রজ্ঞার কারণে মন্দ বা অকল্যাণকে (الشر) তাঁর দিকে সম্পর্কিত করা যায় না। স্বয়ং আল্লাহর ফয়সালার (القضاء) মধ্যে কোনো মন্দ নেই, কারণ তা দয়া ও প্রজ্ঞা থেকে উৎসারিত। মূলত অকল্যাণ নিহিত থাকে তাঁর ফয়সালাকৃত বিষয়সমূহের (المقضيات) মধ্যে। এতদসত্ত্বেও ফয়সালাকৃত বিষয়সমূহের এই মন্দ নিরবচ্ছিন্ন মন্দ নয়; বরং তা একদিক থেকে মন্দ হলেও অন্যদিক থেকে কল্যাণকর হতে পারে, অথবা এক স্থানে মন্দ হলেও অন্য স্থানে কল্যাণকর হতে পারে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২)
والتقدير ينقسم إلى خمسة أقسام وهي:

1 - التقدير العام لجميع الكائنات.

2 - التقدير البشري: وهو التقدير الذي أخذ الله فيه الميثاق على بني آدم في عالم الذر.

3 - التقدير العمري: وهو تقدير كل ما يجري على العبد من لدن نفخ الروح فيه إلى نهاية أجله.

4 - التقدير السنوي: وهو تقدير ما يجري كل سنة وذلك ليلة القدر من كل سنة.

5 - التقدير اليومي: وهو تقدير ما يجري كل يوم.

والتقدير البشري يدخل في التقدير العام على مذهب بعض أهل العلم فلا حاجة لذكره والله أعلم.

- ما شاء العبد إن لم يشأ الله لم يكن ، وما شاء الله وإن لم يشأ العبد كان.

- ما لم يشأ الله كونه فإنه لا يكون لعدم مشيئته له لا لعدم قدرته عليه.

- ينبغي للمؤمن استشعار واستحضار أنه لا يتحرك متحرك ولا يسكن ساكن إلا

بإذن الله وأما الإيمان بمراتب القدر فيكفي فيها الإيمان المجمل من غير استشعاره كل حين ، بل ينبغي عدم التعمق والوسوسة في مراتب القدر فهو ذريعة الخذلان وسلم الحرمان.

- أفعال العباد الاختيارية هي من الله خلقاً وإيجاداً وتقديراً وهي من العباد فعلاً

وكسباً فالله هو الخالق لأفعالهم وهم الفاعلون لها.

- القدر قدران أحدهما المُثبت أو المُبرم وهو ما في أم الكتاب فهذا لا يتغير ولا

يتبدَل ، والثاني: القدر المعلَق أو المقيَد وهو ما في كتب الملائكة فهذا الذي يقع فيه المحو والإثبات.

- أفعال العبد قسمان أفعال هو مُجبر عليها مُسيَر عليها كحركة القلب والهرم

ونحوها وأفعال هو مُخيَر فيها وهي مناط التكليف.

- الفرق بين فعل العبد اللاإرادي والفعل الإرادي المُختار:

أن ما وقع باختيار العبد هو مناط التكليف وفعل العبد الاختياري وغير الاختياري هما من جُملة القضاء والقدر.
নির্ধারণ (التقدير) পাঁচ প্রকারে বিভক্ত, সেগুলো হলো:

১ - সমস্ত সৃষ্টির জন্য সাধারণ নির্ধারণ (التقدير العام)।

২ - মানবীয় নির্ধারণ (التقدير البشري): এটি সেই নির্ধারণ যাতে আল্লাহ তাআলা রুহের জগতে (عالم الذر) বনী আদমের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন।

৩ - জীবনকালীন নির্ধারণ (التقدير العمري): এটি বান্দার দেহে রুহ ফুঁকে দেওয়ার সময় থেকে তার আয়ুর শেষ পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার নির্ধারণ।

৪ - বার্ষিক নির্ধারণ (التقدير السنوي): এটি প্রতি বছর যা ঘটবে তার নির্ধারণ, যা প্রতি বছরের লাইলাতুল কদরে করা হয়।

৫ - দৈনিক নির্ধারণ (التقدير اليومي): এটি প্রতিদিন যা ঘটে তার নির্ধারণ।

কিছু বিজ্ঞ আলেমদের মতে মানবীয় নির্ধারণ (التقدير البشري) সাধারণ নির্ধারণের (التقدير العام) অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

- বান্দা যা চায় তা যদি আল্লাহ না চান তবে তা হয় না; আর আল্লাহ যা চান তা যদি বান্দা নাও চায় তবে তা সংঘটিত হয়।

- আল্লাহ যা হওয়া ইচ্ছা করেন না তা সংঘটিত হয় না তাঁর ইচ্ছার অভাবে (لعدم مشيئته), তাঁর অক্ষমতার কারণে নয়।

- মুমিনের উচিত এটি উপলব্ধি ও অন্তরে জাগ্রত রাখা যে, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো গতিশীল বস্তু গতিপ্রাপ্ত হয় না এবং কোনো স্থির বস্তু স্থির হয় না। আর তাকদিরের স্তরসমূহের (مراتب القدر) প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রে সারসংক্ষেপ ঈমানই যথেষ্ট, যা সবসময় বিস্তারিত অনুধাবনের প্রয়োজন নেই। বরং তাকদিরের স্তরসমূহ (مراتب القدر) নিয়ে অতি গভীরে প্রবেশ করা এবং সংশয়ে ভোগা অনুচিত; কারণ এটি লাঞ্ছনার উপায় এবং বঞ্চিত হওয়ার সোপান।

- বান্দার ঐচ্ছিক কর্মসমূহ (أفعال العباد الاختيارية) সৃষ্টি (خلقاً), অস্তিত্ব দান (إيجاداً) ও নির্ধারণের (تقديراً) দিক থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর সম্পাদন (فعلاً) ও অর্জনের (كسباً) দিক থেকে তা বান্দার পক্ষ থেকে। সুতরাং আল্লাহ তাদের কর্মের স্রষ্টা আর তারা হলো তা সম্পাদনকারী।

- তাকদির দুই প্রকার: প্রথমটি হলো সুনিশ্চিত বা অকাট্য নির্ধারণ (المبرم), যা মূল কিতাবে (أم الكتاب) সংরক্ষিত; এটি পরিবর্তিত বা রদবদল হয় না। দ্বিতীয়টি হলো ঝুলন্ত (المعلق) বা শর্তযুক্ত নির্ধারণ (المقيد), যা ফেরেশতাদের নথিতে থাকে; আর এতেই সংযোজন ও বিয়োজন (المحو والإثبات) ঘটে থাকে।

- বান্দার কর্ম দুই প্রকার: এক প্রকার কর্ম যাতে সে বাধ্য ও নিয়ন্ত্রিত (مسير), যেমন হৃদস্পন্দন, বার্ধক্য ইত্যাদি; আর অন্য প্রকার কর্ম যাতে সে স্বেচ্ছাধীন (مخير), যা শরয়ি দায়বদ্ধতার ভিত্তি (مناط التكليف)।

- বান্দার অনৈচ্ছিক কর্ম (فعل العبد اللاإرادي) এবং ঐচ্ছিক ও পছন্দকৃত কর্মের (الفعل الإرادي المختار) মধ্যে পার্থক্য হলো:

যা বান্দার ইচ্ছায় ঘটে তা-ই শরয়ি দায়বদ্ধতার ভিত্তি (مناط التكليف); আর বান্দার ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক উভয় প্রকার কর্মই আল্লাহর ফয়সালা ও নির্ধারণের (القضاء والقدر) অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ৩)
•‌‌ هل للإنسان قدرة ومشيئة أم لا؟

نعم له مشيئة وقدرة ، ومشيئته وقدرته واقعتان بمشيئة الله عز وجل تابعتان لها.

فللعبد قدرة واختيار ومشيئة لا يجبره على فعله الاختياري أحد حتى خالقه بل يفعل ما يفعله بمحض إرادته وحسب مشيئته، لكن فعله هذا وإرادته هذه داخله في خلق الله تعالى له كما أنها مسبوقة بعلم الله الأزلي فلا يعمل عملاً إلا وقد سبق تقديره وإرادته في علم الله الأزلي وكتبه عنده في كتابه الذي جرى بما كان ويكون إلى قيام الساعة وعلم الله كاشف لا مُكره ولا تأثير لما سبق في علم الله وكتابته وتقديره على محض اختيار العبد وإرادته فكتابة الله المقادير في اللوح المحفوظ هي كتابة علم وليست كتابة إجبار والله عز وجل يعلم ما كان ، ويعلم ما يكون ، ويعلم ما سيكون ، ويعلم ما لم يكن لو كان كيف سيكون فعلمه مطلق وقد أحاط بكل شيءٍ علماً ولا يخفى عليه شيء في الأرض ولا في السماء ، وكتابة أفعال العباد الاختيارية في اللوح المحفوظ فرع عن علمه عن الخلق وما سيعملون وعلى هذا فالمكتوب من أعمال العباد الاختيارية واقع لا محالة ، لا، لأن المكتوب جبر للعبد بل لأن المكتوب فرع عن علم الله المُطلق المُحيط بخلقه.

 

•‌‌ حكمة الله عز وجل:

- الله عز وجل له الحكمة البالغة في كل فعل من أفعاله وقد تظهر لنا الحكمة وقد

تخفى ولا يلزم أن ندرك حكمته عز وجل في كل شيء أو أن يدرك ذلك كل أحد.

- على المسلم أن يعلم أن لله تعالى في جميع أفعاله حكماً جليلة ظهرت لنا أو

خفيت فالله عز وجل لم يُطلع خلقه على جميع حكمه بل أعلمهم بما شاء وما خفي عليهم أكثر مما يعلموه فأفعال الله وأوامره لا تخلو من الحكم الباهرة العظيمة التي تُحيَر العقول وإن كُنا لا نعلمها على وجه التفصيل لأن عدم العلم بالشيء لا يلزم منه عدمه.

- من حِكم خلق إبليس أن يظهر للعباد قدرة الرب تعالى على خلق المتضادات

والمتقابلات وأن يكمل الله لأوليائه مراتب العبودية وحصول الابتلاء ليكون محكاً يمتحن به الخلق ليتبين به الخبيث من الطيب وظهور آثار أسماء الله تعالى ومقتضياتها ومتعلقاتها واستخراج ما في طبائع البشر من الخير بإرسال الرسل ومن الشر بخلق إبليس ، وغيرها من الحكم.
•‌মানুষের কি সক্ষমতা ও ইচ্ছা আছে কি নেই?‌

হ্যাঁ, তার ইচ্ছা ও সক্ষমতা রয়েছে, আর তার ইচ্ছা ও সক্ষমতা মহান আল্লাহর ইচ্ছার মাধ্যমেই সংঘটিত হয় এবং তা আল্লাহর ইচ্ছার অনুগামী।

সুতরাং বান্দার সক্ষমতা, বাছাই করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা রয়েছে। তার ইচ্ছাধীন কাজের ক্ষেত্রে স্বয়ং স্রষ্টাসহ কেউ তাকে বাধ্য করেন না; বরং সে যা কিছু করে তা তার নিজস্ব সংকল্প ও ইচ্ছানুসারেই করে থাকে। তবে তার এই কাজ এবং এই সংকল্প মহান আল্লাহর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি তা মহান আল্লাহর অনাদি জ্ঞানেরও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সে এমন কোনো কাজ করে না যার নির্ধারণ এবং ইচ্ছা মহান আল্লাহর অনাদি জ্ঞানে আগে থেকেই ছিল না এবং তিনি তা তাঁর সেই কিতাবে (লওহে মাহফুজে) লিখে রাখেননি, যাতে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে ও হবে তা লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর আল্লাহর জ্ঞান কেবল উন্মোচনকারী, কোনো কিছুতে বাধ্যকারী নয়। আল্লাহর পূর্বজ্ঞান, লিখন ও নির্ধারণের কোনো প্রভাব বান্দার নিরঙ্কুশ বাছাই ও ইচ্ছার ওপর নেই। লওহে মাহফুজে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকদিরের লিখন হলো জ্ঞানগত লিখন, বাধ্যবাধকতামূলক লিখন নয়। আল্লাহ তাআলা জানেন যা হয়েছে, যা হচ্ছে এবং যা হবে। এমনকি যা ঘটেনি তা যদি ঘটত তবে কেমন হতো তাও তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞান নিরঙ্কুশ এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত। আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়। লওহে মাহফুজে বান্দার ইচ্ছাধীন কাজগুলোর লিখন হলো মাখলুক ও তারা ভবিষ্যতে যা করবে সে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানেরই একটি শাখা। এর ভিত্তিতে, বান্দার ইচ্ছাধীন কাজগুলোর মধ্যে যা লিখিত তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে; তা এইজন্য নয় যে লিখিত বিষয়টি বান্দাকে বাধ্য করছে, বরং এইজন্য যে লিখিত বিষয়টি মাখলুকাত সম্পর্কে আল্লাহর নিরঙ্কুশ ও পরিবেষ্টনকারী জ্ঞানের অংশ।

 

•‌‌মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা:

- আল্লাহ তাআলার প্রতিটি কাজের পেছনে সুগভীর প্রজ্ঞা রয়েছে। সেই প্রজ্ঞা কখনো আমাদের কাছে প্রকাশ পায় আবার কখনো গোপন থাকে। প্রতিটি বিষয়ে তাঁর প্রজ্ঞা উপলব্ধি করা আমাদের জন্য বা সবার জন্য আবশ্যক নয়।

- একজন মুসলিমের জানা উচিত যে, আল্লাহর সকল কাজের পেছনে মহিমান্বিত প্রজ্ঞা রয়েছে, চাই তা আমাদের কাছে প্রকাশ পাক বা না পাক। আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে তাঁর সমস্ত প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবহিত করেননি; বরং তিনি যতটুকু চেয়েছেন ততটুকুই জানিয়েছেন। আর যা তাদের কাছে অপ্রকাশিত রয়েছে তা তাদের জানা বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি। আল্লাহর কাজ ও আদেশসমূহ এমন মহান ও বিস্ময়কর প্রজ্ঞাময় যা মানুষের বুদ্ধিকে স্তম্ভিত করে দেয়, যদিও আমরা বিস্তারিতভাবে তা জানি না। কেননা কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা সেই বিষয়ের অস্তিত্বহীনতা প্রমাণ করে না।

- ইবলিস সৃষ্টির অন্যতম প্রজ্ঞা হলো, যেন বান্দাদের কাছে বিপরীতধর্মী ও পরস্পরবিরোধী বস্তু সৃষ্টির ক্ষেত্রে রবের সক্ষমতা প্রকাশ পায় এবং আল্লাহ যেন তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য দাসত্বের স্তরসমূহ পূর্ণ করেন। এছাড়া ইবলিসের মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে সৃষ্টির ভেতর থেকে মন্দ ও ভালোকে পৃথক করা যায় এবং আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহের প্রভাব, সেগুলোর দাবি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রকাশিত হয়। সেই সাথে রাসুল প্রেরণের মাধ্যমে মানুষের স্বভাবজাত কল্যাণ এবং ইবলিস সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের ভেতরের অকল্যাণের দিকগুলো উন্মোচিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এছাড়া আরও বহুবিধ প্রজ্ঞা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ৪)
ومن حِكم خلق المصائب والآلام الدنيوية استخراج عبودية الضراء وهي الصبر كما تُستخرج عبودية السراء وهي الشكر وطهارة القلب والخلاص من الخصال القبيحة كآفات القلوب المعلومة من كبر وعجب وفرعنة وقسوة قلب ونحوها والنظر إلى قهر الربوبية وذل العبودية وإيقاظ المبتلى من غفلته ومعرفة قدر العافية وحصول رحمة أهل البلاء والصلاة من الله والرحمة والهداية وحصول الأجر وكتابة الحسنات وحط الخطيئات والعلم بحقارة الدنيا وهوانها والدخول في زمرة المحبوبين وغير ذلك من الحكم.

 

•‌‌ الاحتجاج بالقدر:

- لا يُحتج بالقدر على الشرع.

- محل جواز الاحتجاج بالقدر:

الاحتجاج بالقدر على وجه الإيمان به والتوحيد والتوكل على الله والنظر إلى سبق قضائه وقدره محمود مأمورٌ به وكذلك الاحتجاج به على نعم الله الدينية والدنيوية ، وكذلك إذا فعل ما يقدر عليه من الأسباب النافعة في دينه ودنياه ثم لم يحصل له مُراده بعد اجتهاده فإنه إذا اطمأن في هذه الحال إلى قضاء الله وقدره كان محموداً وكذلك إذا احتج بعد التوبة من الذنب ومغفرة الله ، وأيضاً يجوز الاحتجاج بالقدر والعذر به في أخطاء الخلق في حق العبد الخاص.

 

•‌‌ القضاء والقدر يُعالج بالقضاء والقدر:

القضاء والقدر يُعالج بالقضاء والقدر فالمعتدي على النفس أو المال أو البضع (العرض) يسميه العلماء صائلاً، ودفع الصائل بما يندفع به مشروع، ويُدفع بالأخف فما فوقه والأخف كالزجر والتهديد، وعلى هذا فالواجب دفع الصائل بالأخف فما فوقه، فلا يجوز قتله إن كان يندفع بما دون ذلك فإن لم يمكن دفعه إلا بالقتل جاز قتله، ولا إثم على القاتل.

فإذا صال عليك إنسان يريد قتلك أو أخذ مالك أو انتهاك عرضك أو قتل معصوم أو أخذ ماله أو انتهاك عرضه فإنك تدفعه بالأسهل فالأسهل فإن لم يندفع إلا بالقتل فلك قتله والله عز وجل هو الذي سلَط الصائل على العبد بسبب ذنوبه ولا يظلمُ ربَك أحداً وإن كان هذا الصائل أحياناً ظالماً مُستحقاً للعقوبة ، فحق الله سبحانه الاستغفار وحق الصائل المُدافعة.

- الله عز وجل قد شرع دفع الصائل ومدافعة الشر.

- الله عز وجل قد شرع مكافأة المُحسن إلينا بالمعروف.
পার্থিব বিপদাপদ এবং দুঃখ-কষ্ট সৃষ্টির অন্যতম হিকমত হলো বিপদের সময়ের ইবাদত অর্থাৎ ধৈর্য (الصبر) বের করে আনা, যেমনটি সুখের সময়ের ইবাদত অর্থাৎ কৃতজ্ঞতা (الشكر) বের করে আনা হয়। এছাড়া এর মাধ্যমে অন্তরের পবিত্রতা অর্জন এবং মন্দ স্বভাব যেমন—অহংকার, আত্মম্ভরিতা, উদ্ধতভাব, অন্তরের কঠোরতা ও এই জাতীয় পরিচিত ব্যাধিগুলো থেকে মুক্তি লাভ হয়। এর পাশাপাশি রুবুবিয়তের প্রতাপ ও দাসত্বের হীনতা প্রত্যক্ষ করা, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার গাফলত বা উদাসীনতা থেকে জাগ্রত করা, সুস্থতার গুরুত্ব অনুধাবন করা, বিপদগ্রস্তদের প্রতি দয়া ও করুণার উদ্রেক হওয়া এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, করুণা ও হিদায়াত লাভ করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে সওয়াব অর্জন, নেকি লিপিবদ্ধ হওয়া, গুনাহ মাফ হওয়া এবং দুনিয়ার তুচ্ছতা ও হীনতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয় এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়। এগুলো ছাড়াও আরও অনেক হিকমত রয়েছে।

 

•‌‌ তাকদির (القدر) দিয়ে দলিল পেশ করা:

- শরিয়তের (الشرع) বিপরীতে তাকদিরকে (القدر) দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না।

- তাকদির (القدر) দিয়ে দলিল পেশ করার বৈধ ক্ষেত্রসমূহ:

ঈমান, তাওহিদ (التوحيد), আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (التوكل) এবং আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালা ও তাকদিরের (القدر) প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করার মাধ্যমে তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করা প্রশংসনীয় ও নির্দেশিত। একইভাবে আল্লাহর দ্বীনি ও পার্থিব নেয়ামতরাজির ক্ষেত্রে তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করা যায়। এছাড়া যখন কোনো ব্যক্তি তার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য উপকারী উপায়-উপকরণ অবলম্বনের ক্ষেত্রে যথাসাধ্য চেষ্টা করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পায়, তখন যদি সে আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের (القدر) ওপর সন্তুষ্ট থেকে একে দলিল হিসেবে পেশ করে, তবে তা প্রশংসনীয়। গুনাহ থেকে তওবা (توبة) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের পর তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করা বৈধ। আবার কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত হকের ক্ষেত্রে অন্যের ভুল-ত্রুটির অজুহাত হিসেবেও তাকদিরকে (القدر) পেশ করা জায়েজ।

 

•‌‌ তাকদিরকে তাকদির (القدر) দিয়েই মোকাবিলা করা হয়:

তাকদিরকে তাকদির (القدر) দিয়েই মোকাবিলা করা হয়। জান, মাল বা ইজ্জত-আব্রুর ওপর আক্রমণকারীকে ওলামায়ে কেরাম 'সায়িল' (আক্রমণকারী) হিসেবে অভিহিত করেন। যে উপায়ে এই আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব, তার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা শরিয়তসম্মত (مشروع)। এক্ষেত্রে সহজ থেকে কঠিন—এই ধারাক্রমে প্রতিরোধ করতে হয়। সহজ উপায় হলো ধমক বা ভয় দেখানো। সুতরাং, সহজ উপায়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হলে তাকে হত্যা করা জায়েজ নয়। তবে যদি হত্যা করা ছাড়া তাকে প্রতিহত করা সম্ভব না হয়, তবে তাকে হত্যা করা জায়েজ এবং এতে হত্যাকারীর কোনো গুনাহ হবে না।

যদি কোনো ব্যক্তি আপনাকে হত্যা করতে চায়, আপনার সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায়, আপনার ইজ্জতহানি করতে চায় কিংবা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা, তার সম্পদ লুণ্ঠন বা শ্লীলতাহানি করতে উদ্যত হয়, তবে তাকে আপনি সহজতম পন্থায় প্রতিহত করবেন। যদি হত্যা ছাড়া অন্য কোনোভাবে তাকে থামানো না যায়, তবে আপনি তাকে হত্যা করতে পারেন। মহান আল্লাহ মূলত বান্দার গুনাহের কারণেই তার ওপর কোনো আক্রমণকারীকে চাপিয়ে দেন, আর আপনার রব কারও ওপর জুলুম করেন না; যদিও আক্রমণকারী অনেক সময় জালিম এবং শাস্তির যোগ্য হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় আল্লাহর হক হলো ইস্তিগফার (استغفار) করা আর আক্রমণকারীর ক্ষেত্রে হক হলো তাকে প্রতিহত করা।

- মহান আল্লাহ আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা এবং অনিষ্ট দূর করার বিধান দিয়েছেন।

- মহান আল্লাহ আমাদের প্রতি ইহসানকারী বা উপকারীর উপকারের প্রতিদান দেওয়ার বিধানও রেখেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ৫)
•‌‌ وجوب تنزيه الله سبحانه عن الشر والظلم:

- الله سبحانه منزهٌ عن الشر والشر هو الظلم والظلم هو وضع الشيء في غير

محله فإذا وُضع في محله لم يكن شراً، فعُلم أن الشر ليس إليه وأسماءه الحسنى تشهد بذلك والله تبارك وتعالى منزهٌ عن نسبة الشر إليه بل كل ما نسب إليه فهو خير والشر إنما صار شراً لانقطاع نسبته وإضافته إليه، وإيجاد الله للعقوبة على ذنب لا يُعد شراً له بل ذلك عدل منه تعالى وتمكين الله بعض خلقه لفعل الشر وإذنه الكوني به ومشيئته لها هو خير باعتبار حكمة الله ومآلات هذا الإذن الكوني والله له الحكمة البالغة التي يُحمد عليها فهو خير وحكمة ومصلحة علمها من علمها وجهلها من جهلها وإن كان وقوع هذا الفعل السيء والظلم من العبد يُعد عيباً ونقصاً وشراً في حقه.

- ليس في القدر شر وإنما الشر في المقدور والشر ليس في فعل الله وتقديره

وإنما الشر في مفعولات الله لا في فعله والله تعالى لم يقدر هذا الشر إلا لخير وهذه المفعولات والمخلوقات هي شر من وجه وخير من وجه آخر فتكون شراً بالنظر إلى ما يحصل منها من الأذية ولكنها خير بما يحصل فيها من العاقبة الحميدة.

- الشر لا يُنسب إلى الله تعالى فهو منزه عن الشر ولا يفعل إلا الخير والقدر من

حيث نسبته إلى الله لا شر فيه بوجه من الوجوه فإنه علم الله وكتابته ومشيئته وخلقه وذلك خير محض فالشر إنما هو في المقضي لا في القضاء وفي مفعولات الله لا في أفعاله عز وجل.

- مخلوقات الله باعتبار الخير والشر تنقسم إلى ثلاثة أقسام هي:

1 - شر محض كالنار وإبليس باعتبار ذاتيهما، أما باعتبار الحكمة التي خلقهما الله من أجلها، فهي خير.

2 - خير محض، كالجنة والرسل والملائكة.

3 - فيه شر وخير، كالإنس والجن والحيوان.

- وجه عدم إضافة الشر مفردا إلى الله تعالى:

من المعلوم المقطوع به أن الله تعالى هو خالق كل شيء، وأنه لا تكون حركة ولا سكنة إلا بإذنه ومشيئته، ولا يوجد في الكون إلا ما قدره وقضاه، فالشر مخلوق لله تعالى كما قال تعالى: اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ {الزمر:62}. لكن الشر ليس إلى الله
•আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে মন্দ ও অবিচার থেকে পবিত্র রাখার আবশ্যকতা:

- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মন্দ থেকে পবিত্র; আর মন্দ হলো অবিচার, আর অবিচার হলো কোনো কিছুকে তার অনুপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা। সুতরাং যখন কোনো কিছুকে তার উপযুক্ত স্থানে রাখা হয়, তখন তা মন্দ হিসেবে গণ্য হয় না। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, মন্দের সম্পর্ক তাঁর প্রতি নয় এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহ এর সাক্ষ্য দেয়। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর প্রতি মন্দের নিসবত করা থেকে পবিত্র; বরং যা কিছু তাঁর প্রতি নিসবত করা হয় তা কল্যাণ। মন্দের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা ও নিসবত বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই মূলত তা মন্দে পরিণত হয়েছে। কোনো পাপের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি প্রদান করাকে তাঁর ক্ষেত্রে মন্দ হিসেবে গণ্য করা হয় না, বরং তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইনসাফ। কিছু সৃষ্টিকে মন্দ কাজ করার সামর্থ্য প্রদান করা, সে ব্যাপারে তাঁর মহাজাগতিক অনুমতি এবং তাঁর ইচ্ছা আল্লাহর হিকমত এবং এই মহাজাগতিক অনুমতির পরিণতির বিবেচনায় কল্যাণকর। আল্লাহর সুগভীর হিকমত রয়েছে যার জন্য তিনি প্রশংসিত হন। সুতরাং এটি হচ্ছে কল্যাণ, হিকমত এবং জনকল্যাণ—যা জ্ঞানীগণ জানেন এবং অজ্ঞরা তা জানে না। যদিও বান্দার পক্ষ থেকে এই মন্দ কাজ ও অবিচার সংঘটিত হওয়া তার নিজের ক্ষেত্রে দোষ, ত্রুটি ও মন্দ হিসেবে গণ্য হয়।

- তকদিরের মধ্যে কোনো মন্দ নেই, বরং মন্দ রয়েছে কেবল তকদিরভুক্ত বিষয়ের মধ্যে। মন্দ আল্লাহর কর্ম ও নির্ধারণের মধ্যে নেই; বরং মন্দ আল্লাহর মাফলুলাত বা সৃষ্ট কার্যাদির মধ্যে বিদ্যমান, তাঁর কর্মের মধ্যে নয়। আল্লাহ তাআলা এই মন্দ কেবল কল্যাণের উদ্দেশ্যেই নির্ধারণ করেছেন। এই সৃষ্ট বস্তু ও মাফলুলাতগুলো এক দিক থেকে মন্দ হলেও অন্য দিক থেকে কল্যাণকর। এগুলোর মাধ্যমে যে কষ্ট ও ক্ষতির সৃষ্টি হয় সেই দিক থেকে তা মন্দ, কিন্তু এগুলোর প্রশংসনীয় পরিণতির দিক থেকে তা কল্যাণকর।

- মন্দকে আল্লাহ তাআলার দিকে নিসবত করা যায় না। তিনি মন্দ থেকে পবিত্র এবং তিনি কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই করেন না। আল্লাহর দিকে নিসবত করার বিবেচনায় তকদিরে কোনো দিক থেকেই কোনো মন্দ নেই। কারণ তা আল্লাহর জ্ঞান, তাঁর লিখন, তাঁর ইচ্ছা ও তাঁর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত; আর তা নিছক কল্যাণ। সুতরাং মন্দ কেবল ফয়সালাকৃত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে, ফয়সালার মধ্যে নয়; এবং আল্লাহর মাফলুলাত বা সৃষ্ট বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে, মহান আল্লাহর আফআল বা কার্যাবলির মধ্যে নয়।

- কল্যাণ ও মন্দের বিবেচনায় আল্লাহর মাখলুকাত বা সৃষ্টিসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত:

১ - নিরবচ্ছিন্ন মন্দ: যেমন জাহান্নাম ও ইবলিস তাদের সত্তাগত বিবেচনায়; তবে যে হিকমতের কারণে আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন, সেই বিবেচনায় তা কল্যাণকর।

২ - নিরবচ্ছিন্ন কল্যাণ: যেমন জান্নাত, রাসূলগণ এবং ফেরেশতাকুল।

৩ - যাতে মন্দ ও কল্যাণ উভয়ই বিদ্যমান: যেমন মানুষ, জিন ও জীবজন্তু।

- এককভাবে মন্দের নিসবত আল্লাহ তাআলার দিকে না করার কারণ:

এটি একটি সুনিশ্চিত ও অকাট্য বিষয় যে, আল্লাহ তাআলাই সবকিছুর স্রষ্টা। তাঁর অনুমতি ও ইচ্ছা ব্যতীত কোনো নড়াচড়া বা স্থিরতা সম্ভব নয়। মহাবিশ্বে কেবল তা-ই ঘটে যা তিনি নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন। সুতরাং মন্দও আল্লাহর সৃষ্টি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা {সূরা যুমার: ৬২}। কিন্তু মন্দের নিসবত আল্লাহর দিকে নয়।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ৬)
تعالى فهو ليس من أفعاله وإن كان من مفعولاته، وذلك أن الله إنما خلق الشر لحكم بالغة تترتب على وجوده، فخلقه وإيجاده له ليس شرا وإن كان هو في نفسه شرا. ولذا لا يضاف الشر إلى الله تعالى، بل إما أن يدخل في العموم كقوله: اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ {الزمر:62}. أو يضاف إلى سببه كقوله: مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ {الفلق:2}. أو يحذف فاعله كقول مؤمني الجن: وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَنْ فِي الْأَرْضِ {الجن:10}. ومن الثاني قول الخليل: وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ. {سُورَةُ الشُّعَرَاءِ:80}

قال شيخ الإسلام: وَاللَّهُ تَعَالَى وَإِنْ كَانَ خَالِقًا لِكُلِّ شَيْءٍ فَإِنَّهُ خَلَقَ الْخَيْرَ وَالشَّرَّ لِمَا لَهُ فِي ذَلِكَ مِنَ الْحِكْمَةِ الَّتِي بِاعْتِبَارِهَا كَانَ فِعْلُهُ حَسَنًا مُتْقَنًا، كَمَا قَالَ: {الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ} [سُورَةُ السَّجْدَةِ: 7] وَقَالَ: {صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ} [سُورَةُ النَّمْلِ: 88] فَلِهَذَا لَا يُضَافُ إِلَيْهِ الشَّرُّ مُفْرَدًا، بَلْ إِمَّا أَنْ يَدْخُلَ فِي الْعُمُومِ، وَإِمَّا أَنْ يُضَافَ إِلَى السَّبَبِ، وَإِمَّا أَنْ يُحْذَفَ فَاعِلُهُ. فَالْأَوَّلُ: كَقَوْلِ [اللَّهِ تَعَالَى]: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [سُورَةُ الزُّمَرِ: 62] وَالثَّانِي: كَقَوْلِهِ: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ - مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ} [سُورَةُ الْفَلَقِ: 1، 2] وَالثَّالِثُ كَقَوْلِهِ فِيمَا حَكَاهُ عَنِ الْجِنِّ: {وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا} [سُورَةُ الْجِنِّ: 10] وَقَدْ قَالَ فِي أُمِّ الْقُرْآنِ: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ - صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [سُورَةُ الْفَاتِحَةِ: 6، 7] فَذَكَرَ أَنَّهُ فَاعِلُ النِّعْمَةِ، وَحَذَفَ فَاعِلَ الْغَضَبِ، وَأَضَافَ الضَّلَالَ إِلَيْهِمْ. وَقَالَ الْخَلِيلُ [عليه السلام] {وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ} [سُورَةُ الشُّعَرَاءِ: 80]، وَلِهَذَا كَانَ لِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى، فَسَمَّى نَفْسَهُ بِالْأَسْمَاءِ الْحُسْنَى الْمُقْتَضِيَةِ لِلْخَيْرِ. وَإِنَّمَا يُذْكَرُ الشَّرُّ فِي الْمَفْعُولَاتِ، كَقَوْلِهِ: {اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ وَأَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [سُورَةُ الْمَائِدَةِ: 98]. انتهى. وهذا من تمام الأدب مع الله تعالى في الخطاب بحيث لا يضاف إليه مفردا إلا أشرف قسمي أفعاله سبحانه.

قال ابن القيم رحمه الله: وأما المسألة الخامسة وهي أنه قال: {الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} ولم يقل المنعم عليهم كما قال المغضوب عليهم فجوابها وجواب المسألة السادسة واحد، وفيه فوائد عديدة: إحداها أن هذا جاء على الطريقة المعهودة في القرآن الكريم وهي أن أفعال الإحسان والرحمة والجود تضاف إلى الله سبحانه وتعالى فيذكر فاعلها منسوبة إليه ولا يبني الفعل معها للمفعول، فإذا جيء بأفعال العدل والجزاء والعقوبة حذف وبني الفعل معها للمفعول أدبا في الخطاب، وإضافته إلى الله تعالى أشرف قسمي أفعاله فمنه هذه الآية فإنه ذكر النعمة فأضافها إليه ولم يحذف فاعلها، ولما ذكر الغضب حذف الفاعل وبنى الفعل للمفعول فقال: {الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ} وقال في الإحسان الذين أنعمت عليهم. ونظيره قول إبراهيم الخليل صلوات الله وسلامه عليه: {الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي
মহান আল্লাহ তাআলা; মন্দ তাঁর কর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও তা তাঁর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। এর কারণ হলো, আল্লাহ তাআলা মন্দকে এমন সুগভীর প্রজ্ঞার কারণে সৃষ্টি করেছেন যা এর অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল; সুতরাং মন্দকে সৃষ্টি করা বা অস্তিত্ব দান করা আল্লাহর পক্ষ থেকে মন্দ নয়, যদিও তা সত্তাগতভাবে মন্দ। এই কারণেই এককভাবে মন্দকে মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয় না। বরং হয় তা সাধারণ বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন তাঁর বাণী: "আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা" (সূরা আয-জুমার: ৬২); অথবা তা এর কারণের দিকে সম্বন্ধ করা হয়, যেমন তাঁর বাণী: "তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে" (সূরা আল-ফালাক: ২); অথবা এর কর্তাকে উহ্য রাখা হয়, যেমন মুমিন জিনদের উক্তি: "আমরা জানি না যে, যারা জমিনে রয়েছে তাদের কি মন্দের ইচ্ছা করা হয়েছে" (সূরা আল-জিন: ১০)। দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো খলিল আলাইহিস সালামের উক্তি: "এবং যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন" (সূরা আশ-শুআরা: ৮০)।

শায়খুল ইসলাম বলেন: মহান আল্লাহ যদিও সবকিছুর স্রষ্টা, তবুও তিনি কল্যাণ ও অকল্যাণ সৃষ্টি করেছেন এমন প্রজ্ঞার কারণে যার প্রেক্ষিতে তাঁর কর্ম উত্তম ও সুনিপুণ হয়েছে। যেমন তিনি বলেছেন: "যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে উত্তম করেছেন এবং কাদা থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন" (সূরা আস-সাজদাহ: ৭)। তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন" (সূরা আন-নামল: ৮৮)। এই কারণেই তাঁর প্রতি এককভাবে মন্দকে সম্বন্ধ করা হয় না; বরং হয় তা সাধারণের অন্তর্ভুক্ত হয়, অথবা কারণের দিকে সম্বন্ধ করা হয়, অথবা তার কর্তাকে উহ্য রাখা হয়। প্রথমটি যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা" (সূরা আয-জুমার: ৬২)। দ্বিতীয়টি যেমন তাঁর বাণী: "বলুন, আমি আশ্রয় চাই উষার রবের—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে" (সূরা আল-ফালাক: ১-২)। তৃতীয়টি যেমন জিনদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত তাঁর বাণী: "আর আমরা জানি না যে, জমিনে যারা আছে তাদের কি মন্দের ইচ্ছা করা হয়েছে নাকি তাদের রব তাদের জন্য কল্যাণ কামনা করেছেন" (সূরা আল-জিন: ১০)। তিনি উম্মুল কুরআনে (সূরা ফাতিহা) বলেছেন: "আমাদের সরল পথ দেখান—তাদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের পথ নয় যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট" (সূরা আল-ফাতিহা: ৬-৭)। এখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি অনুগ্রহকারী, কিন্তু ক্রোধের ক্ষেত্রে কর্তাকে উহ্য রেখেছেন এবং পথভ্রষ্টতাকে তাদের দিকেই সম্বন্ধ করেছেন। আর খলিল আলাইহিস সালাম বলেছেন: "এবং যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন" (সূরা আশ-শুআরা: ৮০)। এই কারণেই আল্লাহর জন্য সুন্দরতম নামসমূহ রয়েছে এবং তিনি নিজের জন্য এমন সুন্দর নামগুলো গ্রহণ করেছেন যা কল্যাণের দাবি রাখে। আর মন্দ কেবল সৃষ্টির ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়, যেমন তাঁর বাণী: "জেনে রেখো যে আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৯৮)। (সমাপ্ত)। এটি মহান আল্লাহর সাথে সম্বোধনের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ শিষ্টাচারের বহিঃপ্রকাশ, যাতে তাঁর প্রতি এককভাবে কেবল তাঁর মহান কর্মসমূহকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: পঞ্চম মাসআলাটি হলো আল্লাহর বাণী—"যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন", এখানে তিনি "যাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে" বলেননি যেমনটি তিনি "যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে" এর ক্ষেত্রে বলেছেন। এই মাসআলা ও ষষ্ঠ মাসআলার উত্তর একই এবং এতে অনেক উপকারিতা রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো এটি কুরআনে কারিমের সুপরিচিত রীতি অনুযায়ী এসেছে, আর তা হলো—অনুগ্রহ, দয়া ও দানের কাজগুলোকে মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয় এবং তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করে কর্তার উল্লেখ করা হয়, এক্ষেত্রে কর্মকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করা হয় না। কিন্তু যখন ইনসাফ, প্রতিদান ও শাস্তির প্রসঙ্গ আসে, তখন সম্বোধনে শিষ্টাচার রক্ষার খাতিরে কর্তাকে উহ্য রাখা হয় এবং ক্রিয়াটিকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করা হয়। মহান আল্লাহর দিকে তাঁর কর্মের শ্রেষ্ঠতম অংশকে সম্বন্ধ করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এই আয়াতটি সেই রীতিরই অন্তর্ভুক্ত, কেননা তিনি এখানে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে তা নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং কর্তাকে উহ্য রাখেননি। কিন্তু যখন ক্রোধের কথা এসেছে, তখন কর্তাকে উহ্য রেখেছেন এবং ক্রিয়াটিকে কর্মবাচ্যে ব্যবহার করে বলেছেন: "যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে", অথচ অনুগ্রহের ক্ষেত্রে বলেছেন "যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন"। এর অনুরূপ উদাহরণ হলো ইবরাহিম খলিল (সালাতু ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এর উক্তি: "যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন। আর যিনি তিনি আমাকে আহার দান করেন..."
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ৭)
وَيَسْقِينِ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ} فنسب الخلق والهداية والإحسان بالطعام والسقي إلى الله تعالى ولما جاء إلى ذكر المرض قال وإذا مرضت ولم يقل أمرضني، وقال فهو يشفين ومنه قوله تعالى حكاية عن مؤمني الجن: {وَأَنَّا لا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَنْ فِي الأرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَداً} فنسبوا إرادة الرشد إلى الرب وحذفوا فاعل إرادة الشر وبنوا الفعل للمفعول. ومنه قول الخضر عليه الصلاة والسلام في السفينة: {فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا} فأضاف العيب إلى نفسه وقال في الغلامين: {فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا} ومنه قوله تعالى: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ}. فحذف الفاعل وبناه للمفعول وقال: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا}. لأن في ذكر الرفث ما يحسن منه أن لا يقترن بالتصريح بالفاعل. انتهى.

- حكم وصف الله عز وجل بأفعال خلقه السيئة باعتبار أنه خالقها:

لا يجوز وصف الله عز وجل بأفعال خلقه السيئة وإن كان خالقها. قال ابن رجب في جامع العلوم والحكم "وكونُه خَلَقَ أفعالَ العباد وفيها الظلم لا يقتضي وصفه بالظلم سبحانه وتعالى، كما أنَّه لا يُوصف بسائر القبائح التي يفعلها العباد، وهي خَلْقُهُ وتقدِيرُه، فإنَّه لا يُوصَف إلَاّ بأفعاله، لا يوصف بأفعال عباده، فإنَّ أفعالَ عباده مخلوقاته ومفعولاته، وهو لا يوصف بشيء منها، إنَّما يوصف بما قام به مِن صفاته وأفعاله، والله أعلم" … انتهى.

ثم إن الله عز وجل قد تبرأ من الشرك والظلم والكفر وأهله فلذلك توعد الكفار والمشركين والظالمين بالعذاب يوم القيامة ، ولكنه قد شاء الكفر والظلم في الحياة الدنيا لحكم ومصالح من وراء ذلك ، وفرق بين فعل الله سبحانه وبين ما هو مفعول مخلوق له، وليس في خلقه ما هو ظلم منه وإن كان بالنسبة إلى فاعله الذي هو المخلوق هو ظلم، كما أن أفعال الإنسان هي بالنسبة إليه تكون سرقة وزنا وصلاة وصوماً، والله تعالى خالقها بمشيئته، وليست بالنسبة إليه كذلك؛ إذ هذه الأحكام هي للفاعل الذي قام به هذا الفعل، كما أن الصفات هي صفات للموصوف الذي قامت به لا للخالق الذي خلقها وجعلها صفات، والله - تعالى - خلق كل صانع وصنعته كما جاء ذلك في الحديث، وهو خالق كل موصوف وصفته.

ثم صفات المخلوقات ليست صفات له؛ كالألوان والطعوم والروائح لعدم قيام ذلك به ، وكذلك حركات المخلوقات ليست حركات له ولا أفعالاً له بهذا الاعتبار؛ لكونها مفعولات هو خلقها ، وبهذا الفرق تزول شبه كثيرة.

ولهذا ألزم السلف بعض أهل البدع في القدر أن يكون ما أحدثه من الكلام في الجمادات كلامه، وكذلك أيضاً ما خلقه في الحيوانات، ولا يفرق حينئذ بين نطق
{...এবং তিনিই আমাকে পান করান; আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।} এখানে সৃষ্টি করা, হিদায়াত দান করা এবং খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে অনুগ্রহ করার বিষয়টিকে মহান আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যখন অসুস্থতার প্রসঙ্গ এসেছে, তখন তিনি বলেছেন: "আর যখন আমি অসুস্থ হই", তিনি "তিনি আমাকে অসুস্থ করেন" বলেননি। আবার বলেছেন: "তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন"। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী, যা তিনি মুমিন জিনদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: {আর আমরা জানি না যে, জমিনে যারা আছে তাদের কোনো অকল্যাণের ইচ্ছা করা হয়েছে, নাকি তাদের রব তাদের জন্য কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন।} এখানে তারা কল্যাণের ইচ্ছাকে রবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে এবং অকল্যাণের ইচ্ছার ক্ষেত্রে কর্তার উল্লেখ পরিহার করে ক্রিয়াটিকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করেছে। অনুরূপভাবে নৌকা প্রসঙ্গে খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি: {সুতরাং আমি সেটাকে ত্রুটিযুক্ত করতে চাইলাম}। এখানে তিনি ত্রুটির বিষয়টি নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আবার দুই বালকের ক্ষেত্রে বলেছেন: {সুতরাং তোমার রব চাইলেন যে, তারা তাদের পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করুক}। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে}। এখানে কর্তার উল্লেখ পরিহার করে কর্মবাচ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আবার অন্য আয়াতে বলেছেন: {আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন}। কারণ স্ত্রী-সহবাসের আলোচনায় এমন ভাষা ব্যবহার করা উত্তম যাতে কর্তার সরাসরি উল্লেখ না থাকে। সমাপ্ত।

- আল্লাহ তাআলাকে তাঁর সৃষ্টির মন্দ কাজের মাধ্যমে গুণান্বিত করার বিধান—এই বিবেচনায় যে তিনি সেগুলোর স্রষ্টা:

সৃষ্টির মন্দ কাজের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে গুণান্বিত করা জায়েজ নেই, যদিও তিনি সেগুলোর স্রষ্টা। ইবনে রাজাব জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম গ্রন্থে বলেছেন, "বান্দার কার্যাবলি সৃষ্টি করা এবং তাতে জুলুম থাকা সত্ত্বেও তা মহান আল্লাহকে জুলুমের বিশেষণে বিশেষিত হওয়াকে অপরিহার্য করে না। যেমনভাবে বান্দারা যেসব মন্দ কাজ করে, সেগুলোর কোনোটি দ্বারাই তাঁকে গুণান্বিত করা যায় না, যদিও সেগুলো তাঁরই সৃষ্টি এবং তাঁরই নির্ধারণ। কারণ তাঁকে কেবল তাঁর নিজস্ব কার্যাবলির মাধ্যমেই বিশেষিত করা যায়, বান্দাদের কার্যাবলির মাধ্যমে নয়। কেননা বান্দাদের কার্যাবলি হলো তাঁর সৃষ্টি ও কৃতকর্ম, আর তিনি এর কোনোটির মাধ্যমেই গুণান্বিত হন না। বরং তিনি তাঁর সেসব গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে গুণান্বিত হন যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।" … সমাপ্ত।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা শিরক, জুলুম, কুফর এবং কুফরি পোষণকারীদের থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন। এই কারণেই তিনি কিয়ামতের দিন কাফির, মুশরিক ও জালেমদের আজাবের ধমকি দিয়েছেন। তবে তিনি দুনিয়ার জীবনে বিশেষ হিকমত ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে কুফর ও জুলুমের অবকাশ দিয়েছেন। আল্লাহর নিজস্ব কাজ এবং তাঁর সৃষ্টি করা কাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছু তাঁর পক্ষ থেকে জুলুম নয়, যদিও সেই কাজের সম্পাদনকারী অর্থাৎ সৃষ্টি বা মাখলুকের সাপেক্ষে সেটি জুলুম। যেমন মানুষের কাজগুলো তার সাপেক্ষে চুরি, জিনা, নামাজ কিংবা রোজা; আল্লাহ তাআলা স্বীয় ইচ্ছায় এগুলোর স্রষ্টা, কিন্তু আল্লাহর সাপেক্ষে সেগুলো তেমন নয়। কারণ এই বিধানগুলো সেই কর্তার জন্য যার দ্বারা কাজটি সম্পাদিত হয়েছে। ঠিক যেমন গুণাবলি হলো সেই গুণান্বিত সত্তার গুণ যার সাথে তা বিদ্যমান, সেই স্রষ্টার গুণ নয় যিনি তা সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে গুণে পরিণত করেছেন। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক কারিগর এবং তার কারিগরিকে সৃষ্টি করেছেন যেমনটি হাদিসে এসেছে, এবং তিনি প্রত্যেক গুণান্বিত বস্তু ও তার গুণকে সৃষ্টি করেছেন।

অধিকন্তু মাখলুকের গুণাবলি তাঁর গুণ নয়; যেমন রঙ, স্বাদ এবং ঘ্রাণ—যেহেতু এগুলো তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান নয়। একইভাবে মাখলুকের গতিবিধিও এই বিচারে তাঁর গতিবিধি বা কাজ নয়; কারণ সেগুলো তাঁর সৃষ্ট বিষয়। আর এই পার্থক্যের মাধ্যমেই অনেক সংশয় দূর হয়ে যায়।

এই কারণেই সালাফগণ তাকদির বিষয়ে বিদআতিদের কাউকে কাউকে এই যুক্তিতে নিরুত্তর করেছেন যে, জড়পদার্থের মধ্যে তিনি যে কথার সৃষ্টি করেন তা যেন (তাদের মতানুসারে) তাঁরই কথা হয়। একইভাবে প্রাণীদের মধ্যে যা তিনি সৃষ্টি করেন। তখন তারা বাকশক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ৮)
وأنطق وإنما قالت الجلود: {أَنطَقَنَا اللهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ}، ولم تقل: نطق الله بذلك؛ بل يلزم أن يكون متكلماً بكل كلام خلقه في غيره ، زوراً كان أو كذباً أو كفراً أو هذياناً تعالى الله عن ذلك؛ ولهذا قال من قال من السلف كسليمان بن داود الهاشمي وغيره ما معناه: إنه على هذا يكون الكلام الذي خلق في فرعون حتى قال: {أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى}، كالكلام الذي خلق في الشجرة حتى قالت: {إِنَّنِي أَنَا اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا}، فإما أن يكون فرعون محقًا، أو تكون الشجرة كفرعون وهذا يستوعب أنواع الكفر؛ ولهذا كان من الأمر البين للخاصة والعامة أن مَنْ قال: المتكلم لا يقوم به كلام أصلا - فإن حقيقة قوله أنه ليس بمتكلم؛ إذ ليس المتكلم إلا هذا؛ ولهذا كان أولوهم يقولون: ليس بمتكلم. ثم قالوا: هو متكلم بطريق المجاز، وذلك لما استقر في الفطر أن المتكلم لابد أن يقوم به كلام وإن كان مع ذلك فاعلا له، كما يقوم بالإنسان كلامه وهو كاسب له. أما أن يجعل مجرد أحداث الكلام في غيره كلاما له - فهذا هو الباطل.

وهكذا القول في الظلم، فَهَبْ أن الظالم من فعل الظلم فليس هو من فعله في غيره، ولم يقم به فعل أصلا، بل لابد أن يكون قد قام به فعل، وإن كان متعدياً إلى غيره، فهذا جواب. ثم يقال لهم: الظلم فيه نسبة وإضافة، فهو ظلم من الظالم، بمعنى أنه عدوان وبغي منه، وهو ظلم للمظلوم، بمعنى أنه بغي واعتداء عليه. وأما من لم يكن معتدي عليه به ولا هو منه عدوان على غيره فهو في حقه ليس بظلم، لا منه ولا له.

ثم إن الله سبحانه إذا خلق أفعال العباد فذلك من جنس خلقه لصفاتهم فهم الموصوفون بذلك، فهو سبحانه إذا جعل بعض الأشياء أسود، وبعضها أبيض، أو طويلا، أو قصيرًا، أو متحركاً، أو ساكنًا أو عالمًا، أو جاهلا، أو قادرًا، أو عاجزًا، أو حيًا، أو ميتًا. أو مؤمنًا أو كافرًا، أو سعيدًا، أو شقيًا، أو ظالمًا ، أو مظلومًا كان ذلك المخلوق هو الموصوف بأنه الأبيض والأسود، والطويل والقصير، والحي والميت، والظالم والمظلوم، ونحو ذلك، والله سبحانه لا يوصف بشيء من ذلك، وإنما إحداثه للفعل الذي هو ظلم من شخص وظلم لآخر بمنزلة إحداثه الأكل والشرب الذي هو أكل من شخص وأكل لآخر، وليس هو بذلك آكلاً ولا مأكولاً.

ونظائر هذا كثيرة، وإن كان في خلق أفعال العباد لازمها ومتعديها حكم بالغة، كما له حكمة بالغة في خلق صفاتهم وسائر المخلوقات، لكن ليس هذا موضع تفصيل ذلك ، والله تعالى أعلم.

- لا يُعصى الله قسراً بل بإذنه وهو لا يرضى ذلك ولكنه يأذن به لحكمة.

- الشر في المقضي لا في القضاء.

- السيئة ذات شطرين: سبب ، وعقوبة جزاءً وفاقاً، فالسبب فهو من العبد لكفره
এবং আল্লাহ কথা বলিয়েছেন। চামড়া তো কেবল বলেছে: "আল্লাহ আমাদের কথা বলিয়েছেন, যিনি প্রতিটি জিনিসকে কথা বলিয়েছেন"; চামড়া একথা বলেনি যে: "আল্লাহ এর মাধ্যমে কথা বলেছেন"। বরং (বিপথগামীদের দাবি অনুযায়ী) এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট প্রতিটি বাণীর মাধ্যমে 'বক্তা' (متكلم) হিসেবে সাব্যস্ত হবেন যা তিনি অন্যের মাঝে সৃষ্টি করেছেন, চাই তা মিথ্যাচার (زور), অসত্য (كذب), কুফর (كفر) বা প্রলাপই (هذيان) হোক না কেন—আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। এই কারণেই সুলাইমান ইবন দাউদ আল-হাশিমী এবং অন্যান্য 'পূর্বসূরিগণ' (سلف) যা বলেছেন তার মর্মার্থ হলো: এই মতানুসারে ফেরাউনের মধ্যে যে কথাটি সৃষ্টি করা হয়েছিল যার ফলে সে বলেছিল: "আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক", তা সেই কথার মতোই যা গাছের মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছিল যার ফলে সেটি বলেছিল: "নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই"। এমতাবস্থায় হয় ফেরাউন সত্যবাদী হবে, না হয় গাছটি ফেরাউনের মতো কাফের হবে—আর এটি কুফরের (كفر) সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই এটি বিশিষ্ট এবং সাধারণ সকলের নিকট অত্যন্ত স্পষ্ট বিষয় যে, যে ব্যক্তি বলে: 'বক্তার সত্তায় কথা বা কালাম মোটেই বিদ্যমান থাকে না'—তার কথার প্রকৃত অর্থ হলো আল্লাহ 'বক্তা' (متكلم) নন। কারণ 'বক্তা' (متكلم) হওয়ার অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হলো এটি। একারণেই তাদের আদি পুরুষরা বলত: "তিনি বক্তা নন।" পরবর্তীতে তারা বলল: "তিনি 'রূপক' (مجاز) অর্থে বক্তা।" এটি একারণে যে, মানুষের 'স্বভাবজাত প্রকৃতিতে' (فطرة) এটি প্রতিষ্ঠিত যে, বক্তার মধ্যে অবশ্যই কালাম বিদ্যমান থাকতে হবে, যদিও তিনি সেই কালামের 'কর্তা' (فاعل) হন, যেমন মানুষের মধ্যে তার কথা বিদ্যমান থাকে অথচ সে তার 'অর্জনকারী' (كاسب)। পক্ষান্তরে, কেবল অন্যের মধ্যে কথা সৃষ্টি করাকে নিজের কালাম বা কথা হিসেবে গণ্য করা—এটি একটি 'অসার' (باطل) ধারণা।

অনুরূপভাবে 'জুলুম' (ظلم) বা অবিচারের বিষয়টিও। ধরে নেওয়া যাক, যে ব্যক্তি অবিচার করল সে-ই 'অত্যাচারী' (ظالم); তবে সে অন্যের মধ্যে অবিচার সৃষ্টি করার কারণে অত্যাচারী হবে না যতক্ষণ না সেই কাজ তার নিজের দ্বারা সম্পাদিত হয়। বরং অবশ্যই তার মধ্যে একটি কাজ সংঘটিত হতে হবে, যদিও তা অন্যের ওপর আপতিত হয়। এটি হলো একটি উত্তর। অতঃপর তাদের বলা হবে: জুলুমের (ظلم) মধ্যে একটি সম্বন্ধ ও সম্পর্ক বিদ্যমান। এটি 'জালেমের' (ظالم) পক্ষ থেকে 'জুলুম' (ظلم), এই অর্থে যে এটি তার পক্ষ থেকে সীমালঙ্ঘন ও অন্যায়। আবার এটি 'মাজলুম' বা অত্যাচারিতের (مظلوم) প্রতিও 'জুলুম' (ظلم), এই অর্থে যে এটি তার ওপর করা অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন। কিন্তু যার ওপর কোনো সীমালঙ্ঘন করা হয়নি এবং যার পক্ষ থেকেও অন্যের ওপর কোনো অন্যায় করা হয়নি, তার ক্ষেত্রে একে 'জুলুম' (ظلم) বলা হবে না—না তার পক্ষ থেকে, না তার প্রতি।

এর দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে। যদিও 'বান্দার কাজসমূহ' (أفعال العباد) সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে—তা তার সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট হোক বা অন্যের ওপর আপতিত হোক—তাতে মহান হিকমত বা প্রজ্ঞা রয়েছে, যেমন তাদের গুণাবলি ও অন্যান্য মাখলুকাত সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর মহান প্রজ্ঞা রয়েছে। তবে এটি তার বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়। আর আল্লাহ তায়ালাই সর্বাধিক অবগত।

- আল্লাহর প্রতি 'অবাধ্যতা' (معصية) তাঁকে বাধ্য করে করা হয় না, বরং তাঁর অনুমতিতেই হয়; তিনি তাতে সন্তুষ্ট নন, তবে কোনো প্রজ্ঞার কারণে তার অনুমতি দেন।

- মন্দ বা অকল্যাণ থাকে 'নির্ধারিত বিষয়ের' (مقضي) মধ্যে, 'ফয়সালা বা তাকদির নির্ধারণের' (قضاء) মধ্যে নয়।

- 'পাপাচার বা মন্দ কাজের' (سيئة) দুটি অংশ রয়েছে: কারণ ও শাস্তি যা কর্মের যথাযথ প্রতিফল। এর কারণটি হলো বান্দার পক্ষ থেকে তার 'কুফরের' (كفر) দরুন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ৯)
وظلمه وإعراضه والجزاء والعقوبة من الله.

- ليس كل ما يريد الله كوناً يرضاه ويحبه شرعاً وديانة.

فالإرادة الربانية تنقسم إلى قسمين:

1 - كونية قدرية: وهي مرادفة للمشيئة ولا يخرج عن مرادها شيء أبداً ولا بد أن تقع.

2 - شرعية دينية: وتتضمن محبة الرب ورضاه ولا يلزم وقوعها فقد تقع وقد لا تقع لأنها تتعلق بفعل العبد الاختياري.

- قد يُريد الله أمراً ويشاؤه وفي الوقت نفسه لا يحبه إذ أن المراد نوعان:

1 - مراد لنفسه إرادة الغايات ومنه خلق جبريل عليه السلام.

2 - مراد لغيره فهو وسيلة إلى غيره مثل خلق إبليس فهو مكروه لله من حيث نفسه وذاته ومُراد له عز وجل من حيث قضاؤه وإيصاله إلى مُراده فهو سبب لحصول محاب كثيرة فيجتمع الأمران بغضه له وإرادته له ولا يتنافيان فيُبغض من وجه ويُحب من وجه آخر.

 

•‌‌ حقيقة الظلم المنفي عن الله عز وجل وحدَُه:

أهل السنة والجماعة لا يقصرون معنى الظلم في حق الله على: (التصرف في ملك الغير، أو مخالفة من تجب طاعته) كما تقوله بعض المذاهب. فيكون الظلم ممتنعاً لذاته على الله ، بل الظلم عندهم أعم من هذا، فالظلم في حق الله سبحانه هو: وضع الشيء في غير موضعه. فالله سبحانه قادر على الظلم، لكنه منزه عنه، وقد حرمه على نفسه. وقد جمع شيخ الإسلام بين المعنيين فقال في (الرسالة الأكملية): الظلم من الله إما أن يقال: هو ممتنع لذاته؛ لأن الظلم تصرف المتصرف في غير ملكه، والله له كل شاء، أو الظلم مخالفة الأمر الذي تجب طاعته، والله تعالى يمتنع منه التصرف في ملك غيره، أو مخالفة أمر من يجب عليه طاعته، فإذا كان الظلم ليس إلا هذا أو هذا، امتنع الظلم منه. وإما أن يقال: هو ممكن لكنه سبحانه لا يفعله لغناه وعلمه بقبحه، ولإخباره أنه لا يفعله، ولكمال نفسه يمتنع وقوع الظلم منه، إذ كان العدل والرحمة من لوازم ذاته، فيمتنع اتصافه بنقيض صفات الكمال التي هي من لوازمه على هذا القول، فالذي يفعله لحكمة اقتضت ذلك، كما أن الذي يمتنع من فعله لحكمة تقتضي تنزيهه عنه. اهـ.

وقال ابن القيم في (الفوائد): زعمت طائفة أن العدل هو المقدور والظلم ممتنع لذاته، قالوا: لأن الظلم هو التصرف في ملك الغير، والله له كل شيء فلا يكون تصرفه في خلقه إلا عدلا .... وأما أهل السنة فالظلم عندهم هو وضع الشيء في غير موضعه
এবং তার জুলুম, বিমুখতা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিনিময় ও শাস্তি।

- আল্লাহ মহাবিশ্বগতভাবে (كوناً) যা কিছু চান, তার সবকিছুই শরিয়ত ও দ্বীনগতভাবে তাঁর পছন্দনীয় বা সন্তোষজনক নয়।

সুতরাং রব্বানি ইচ্ছা (إرادة) দুই ভাগে বিভক্ত:

১ - মহাজাগতিক বা প্রাকৃতিক ইচ্ছা (كونية قدرية): এটি আল্লাহর নিরঙ্কুশ ইচ্ছার (مشيئة) সমার্থক। এর উদ্দেশ্য থেকে কোনো কিছুই কখনো বের হতে পারে না এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়িত হয়।

২ - শরয়ী বা দ্বীনি ইচ্ছা (شرعية دينية): এতে রবের মহব্বত ও সন্তুষ্টি অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এর বাস্তবায়ন অপরিহার্য নয়; এটি বাস্তবায়িত হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। কারণ এটি বান্দার স্বেচ্ছাধীন কাজের সাথে সম্পৃক্ত।

- আল্লাহ কখনো কখনো কোনো বিষয় চান এবং ইচ্ছা (مشيئة) করেন, কিন্তু একই সময়ে তিনি তা পছন্দ করেন না। কেননা কাঙ্ক্ষিত বিষয় (مراد) দুই প্রকার:

১ - যা নিজস্ব সত্তার কারণে কাঙ্ক্ষিত (مراد لنفسه), যা লক্ষ্য বা গন্তব্য হিসেবে অভিপ্রেত। যেমন জিবরাঈল আলাইহিস সালামের সৃষ্টি।

২ - যা অন্য কোনো উদ্দেশ্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত (مراد لغيره), ফলে তা অন্যের জন্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। যেমন ইবলিসের সৃষ্টি; যা সত্তাগতভাবে আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়, কিন্তু তাঁর ফয়সালা এবং তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে তিনি তা ইচ্ছা করেছেন। ফলে এটি অনেক পছন্দনীয় বিষয় অর্জনের কারণ হয়। সুতরাং এখানে দুটি বিষয় একত্রিত হয়—তার প্রতি ঘৃণা এবং তাকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা। এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; বরং এক দিক থেকে তাকে ঘৃণা করা হয় এবং অন্য দিক থেকে পছন্দ করা হয়।

 

•‌‌ আল্লাহর সত্তা থেকে নেতিবাচক সাব্যস্ত জুলুমের প্রকৃত অর্থ:

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আল্লাহর ক্ষেত্রে জুলুমের (ظلم) অর্থকে কেবল: (অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা, অথবা যার আনুগত্য করা আবশ্যক তার বিরোধিতা করা)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন না, যেমনটি কিছু মাযহাব বা গোষ্ঠী বলে থাকে। যার ফলে জুলুম আল্লাহর জন্য সত্তাগতভাবে অসম্ভব (ممتنع لذاته) হয়ে পড়ে। বরং তাদের নিকট জুলুমের অর্থ এর চেয়েও ব্যাপক। আল্লাহর ক্ষেত্রে জুলুম হলো: কোনো কিছুকে তার সঠিক স্থানের পরিবর্তে অন্য স্থানে রাখা। সুতরাং মহান আল্লাহ জুলুম করতে সক্ষম, কিন্তু তিনি তা থেকে পবিত্র এবং তিনি তা নিজের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ করেছেন। শাইখুল ইসলাম উভয় অর্থের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে 'আর-রিসালাতুল আকমালিয়্যাহ'-তে বলেছেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে জুলুম সম্পর্কে হয় তো বলা হবে যে, এটি তাঁর জন্য সত্তাগতভাবে অসম্ভব (ممتنع لذاته); কারণ জুলুম হলো অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা, অথচ সবকিছুর মালিকানা আল্লাহরই। অথবা জুলুম হলো এমন নির্দেশের বিরোধিতা করা যা পালন করা আবশ্যক। আল্লাহর ক্ষেত্রে অন্যের মালিকানায় হস্তক্ষেপ করা বা যার আনুগত্য ওয়াজিব এমন কারো অবাধ্য হওয়া অসম্ভব। যদি জুলুম কেবল এই দুই প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়, তবে তাঁর পক্ষ থেকে জুলুম হওয়া অসম্ভব। অথবা বলা যায়: এটি সম্ভব, কিন্তু তিনি তাঁর অমুখাপেক্ষিতা এবং এর কদর্যতা সম্পর্কে জ্ঞানের কারণে তা করেন না। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তা করবেন না এবং তাঁর সত্তার পূর্ণতার কারণে তাঁর থেকে জুলুম সংঘটিত হওয়া অসম্ভব। যেহেতু ন্যায়বিচার (عدل) এবং রহমত (رحمة) তাঁর সত্তার অবিচ্ছেদ্য গুণ, তাই তাঁর পক্ষ থেকে এর বিপরীত গুণের—যা পূর্ণতার পরিপন্থী—সমাবেশ ঘটা অসম্ভব। এই মতানুযায়ী, তিনি যা করেন তা প্রজ্ঞা বা হিকমতের (حكمة) কারণেই করেন, ঠিক তেমনি যা করা থেকে তিনি বিরত থাকেন, তাও তাঁর পবিত্রতা বজায় রাখার হিকমতের দাবি অনুযায়ী করে থাকেন। সমাপ্ত।

এবং ইবনুল কাইয়্যিম 'আল-ফাওয়ায়েদ'-এ বলেছেন: একদল ধারণা করেছে যে, ন্যায়বিচার (عدل) হলো যা কুদরতের আওতাধীন (مقدور), আর জুলুম (ظلم) তাঁর জন্য সত্তাগতভাবে অসম্ভব (ممتنع لذاته)। তারা বলে: কারণ জুলুম হলো অন্যের মালিকানায় হস্তক্ষেপ করা, অথচ সবকিছুই আল্লাহর। সুতরাং তাঁর সৃষ্টিতে তাঁর কোনো হস্তক্ষেপই ন্যায়বিচার ব্যতীত অন্য কিছু হতে পারে না...। কিন্তু আহলে সুন্নাতের নিকট জুলুম (ظلم) হলো: কোনো কিছুকে তার সঠিক স্থানে না রাখা।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১০)
كتعذيب المطيع ومن لا ذنب له، وهذا قد نزه الله نفسه عنه في غير موضع من كتابه. اهـ. بتصرف يسير.

فالظلم لغة هو وضع الشيء في غير موضعه كما ذكرنا، وقد تمدح الله بنفي الظلم عن نفسه ونزه نفسه عنه لكمال عدله وحكمته تبارك وتعالى، وأما التأويل المذكور القائل بأن معنى الظلم مقصور على: (التصرف في ملك الغير، أو مخالفة من تجب طاعته) كما تقوله بعض المذاهب فيكون الظلم ممتنعاً لذاته على الله. فغير صحيح في اللغة ولا في المعنى، قال شيخ الإسلام رحمه الله: وَأَمَّا مَنْ قَالَ: هُوَ ـ أي الظلم ـ التَّصَرُّفُ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ، فَهَذَا لَيْسَ بِمُطَّرِدٍ وَلَا مُنْعَكِسٍ، فَقَدْ يَتَصَرَّفُ الْإِنْسَانُ فِي مِلْكِ غَيْرِهِ بِحَقٍّ وَلَا يَكُونُ ظَالِمًا، وقد يتصرف في ملكه بغير حق فيكون ظالما. انتهى.

وفي الحديث " ياعبادي إِنِّي حَرَّمتُ الظُّلمَ عَلَى نَفسِي" أي منعته مع قدرتي عليه، وإنما قلنا: مع قدرتي عليه لأنه لو كان ممتنعاً على الله لم يكن ذلك مدحاً ولا ثناءً، إذ لايُثنى على الفاعل إلا إذا كان يمكنه أن يفعل أو لا يفعل.

فلو سألنا سائل مثلاً وقال: هل يقدر الله أن يظلم الخلق؟

فالجواب: نعم، لكن نعلم أن ذلك مستحيل بخبره، حيث قال: (وَلا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَداً) … [الكهف:49] وأيضاً مستحيل لكمال عدله.

وقال ابن القيم رحمه الله مبينا وجه نفي الظلم عن الله تعالى: قد اتفق أهل الأرض والسماوات على أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى عَدْلٌ لَا يَظْلِمُ أَحَدًا، حَتَّى أَعْدَاءَهُ الْمُشْرِكِينَ الْجَاحِدِينَ لِصِفَاتِ كَمَالِهِ، فَإِنَّهُمْ مُقِرُّونَ لَهُ بِالْعَدْلِ وَمُنَزِّهُونَ لَهُ عَنِ الظُّلْمِ، حَتَّى إِنَّهُمْ لَيَدْخُلُونَ النَّارَ وَهُمْ مُعْتَرِفُونَ بِعَدْلِهِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ {الملك: 11} وَقَالَ تَعَالَى: يَامَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنْفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ {الأنعام: 130} فَهُوَ سُبْحَانَهُ قَدْ حَرَّمَ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِهِ، وَأَخْبَرَ أَنَّهُ لَا يُهْلِكُ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا غَافِلُونَ، وقد اختلفت طرق الناس في حقيقة الظلم الذي ينزه عنه الرب سبحانه وتعالى، فَقَالَتِ الْجَبْرِيَّةُ: هُوَ الْمُحَالُ الْمُمْتَنِعُ لِذَاتِهِ كَالْجَمْعِ بَيْنَ الضِّدَّيْنِ، وَكَوْنُ الشَّيْءِ مَوْجُودًا مَعْدُومًا، قَالُوا: لِأَنَّ الظُّلْمَ إِمَّا التَّصَرُّفُ فِي مِلْكِ الْغَيْرِ بِغَيْرِ إِذْنِهِ، وَإِمَّا مُخَالَفَةُ الْأَمْرِ، وَكِلَاهُمَا فِي حَقِّ اللَّهِ تَعَالَى مُحَالٌ، فَإِنَّ اللَّهَ مَالِكُ كُلِّ شَيْءٍ، وَلَيْسَ فَوْقَهُ أَمْرٌ تَجِبُ طَاعَتُهُ، قَالُوا: وهو قول كثير من الفقهاء أَصْحَابِ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْمُتَكَلِّمِينَ، ثم ذكر قول القدرية المتضمن لنفي خلق أفعال العباد ثم قال: وَقَالَ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْحَدِيثِ وَمَنْ وَافَقَهُمْ: الظُّلْمُ وَضْعُ الشَّيْءِ
যেমন অনুগত ব্যক্তি এবং যার কোনো গুনাহ নেই তাকে শাস্তি প্রদান করা; আল্লাহ তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে নিজেকে এ থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। সমাপ্ত। সামান্য পরিমার্জিত।

শাব্দিক অর্থে জুলুম হলো কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আল্লাহ তাআলা নিজের সত্তা থেকে জুলুমের অস্তিত্ব নাকচ করার মাধ্যমে নিজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ন্যায়বিচার ও হিকমতের পূর্ণতার কারণে নিজেকে এ থেকে পবিত্র রেখেছেন। আর যে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, জুলুমের অর্থ কেবল: (অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা অথবা যার আনুগত্য করা ওয়াজিব তার অবাধ্য হওয়া)—যেমনটি কোনো কোনো মাজহাব বলে থাকে এবং যার ফলে আল্লাহর ক্ষেত্রে জুলুম হওয়া স্বীয় সত্তাগতভাবেই অসম্ভব হয়ে পড়ে—তা ভাষাগত বা অর্থগত কোনো দিক থেকেই সঠিক নয়। শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর যারা বলে যে—অর্থাৎ জুলুম হলো—অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা, তবে এই সংজ্ঞাটি যথাযথ বা সার্বজনীন নয়। কারণ মানুষ কখনো অন্যের মালিকানায় ন্যায়সঙ্গতভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং তখন সে জালেম হয় না, আবার কখনো নিজের মালিকানাধীন বিষয়ে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং তখন সে জালেম হিসেবে গণ্য হয়।" সমাপ্ত।

আর হাদিসে এসেছে: "হে আমার বান্দারা! আমি নিজের ওপর জুলুমকে হারাম করে নিয়েছি।" অর্থাৎ এর ওপর সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও আমি তা নিজের জন্য নিষিদ্ধ করেছি। আমরা একারণেই বলেছি যে, 'সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও'; কারণ যদি আল্লাহর জন্য জুলুম করা অসম্ভব হতো, তবে এটি কোনো প্রশংসা বা স্তুতি হতো না। কেননা, কোনো কর্তার স্তুতি কেবল তখনই করা যায় যখন তাঁর কোনো কাজ করার বা না করার সামর্থ্য থাকে।

উদাহরণস্বরূপ যদি কেউ আমাদের জিজ্ঞাসা করে: আল্লাহ কি সৃষ্টির প্রতি জুলুম করতে সক্ষম?

উত্তর হলো: হ্যাঁ, কিন্তু আমরা জানি যে তাঁর বাণীর মাধ্যমে এটি অসম্ভব সাব্যস্ত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: (আর আপনার প্রতিপালক কারও প্রতি জুলুম করেন না) … [সূরা কাহাফ: ৪৯]। এছাড়া তাঁর ন্যায়বিচারের পূর্ণতার কারণেও তা অসম্ভব।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ তাআলার সত্তা থেকে জুলুম নাকচ করার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন: আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা ন্যায়পরায়ণ, তিনি কারো প্রতি জুলুম করেন না। এমনকি তাঁর শত্রু মুশরিকরা যারা তাঁর পূর্ণতার গুণাবলিকে অস্বীকার করে, তারাও আল্লাহর ন্যায়বিচারের স্বীকৃতি দেয় এবং তাঁকে জুলুম থেকে পবিত্র মনে করে। এমনকি তারা যখন জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখনও তারা তাঁর ন্যায়বিচারের স্বীকৃতি দিয়েই প্রবেশ করবে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে।" [সূরা মুলক: ১১]। আল্লাহ আরও বলেছেন: "হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করত এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে সতর্ক করত? তারা বলবে: আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি। আর পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছিল এবং তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে তারা কাফের ছিল।" [সূরা আন-আম: ১৩০]। সুতরাং তিনি পবিত্র সত্তা, তিনি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, কোনো জনপদ গাফেল থাকা অবস্থায় তিনি জুলুমের সাথে তাদের ধ্বংস করেন না। মহান প্রতিপালককে যে জুলুম থেকে পবিত্র রাখা হয়, তার প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে মানুষের বিভিন্ন পথ বা মত রয়েছে। জাবরিয়াহ সম্প্রদায় বলেছে: জুলুম হলো এমন বিষয় যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অসম্ভব বা অবাস্তব, যেমন বিপরীতমুখী দুটি বিষয়ের একত্র হওয়া কিংবা একই বস্তু একই সাথে বিদ্যমান ও অনুপস্থিত হওয়া। তারা বলে: কারণ জুলুম হয় অনুমতি ব্যতীত অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা অথবা আদেশের বিরোধিতা করা। আর আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এই উভয়টিই অসম্ভব। কারণ আল্লাহ সবকিছুর মালিক এবং তাঁর উপরে এমন কোনো আদেশদাতা নেই যার আনুগত্য করা ওয়াজিব। তারা বলেন: এটিই আইম্মায়ে আরবাআ (চার ইমাম)-এর অনুসারী অনেক ফকিহ এবং অন্যান্য কালামশাস্ত্রবিদদের মত। এরপর তিনি কাদরিয়াহদের মত উল্লেখ করেন যা বান্দার কর্ম সৃষ্টির অস্বীকৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতঃপর তিনি বলেন: আর আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদিস এবং তাদের অনুসারীগণ বলেছেন: জুলুম হলো কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা...
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১১)
فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ، وَهُوَ سُبْحَانَهُ حَكَمٌ عَدْلٌ، لَا يَضَعُ الشَّيْءَ إِلَّا فِي مَوْضِعِهِ الَّذِي يُنَاسِبُهُ وَيَقْتَضِيهِ الْعَدْلُ وَالْحِكْمَةُ وَالْمَصْلَحَةُ، وَهُوَ سُبْحَانَهُ لَا يُفَرِّقُ بَيْنَ مُتَمَاثِلَيْنِ وَلَا يُسَاوِي بَيْنَ مُخْتَلِفَيْنِ، وَلَا يُعَاقِبُ إِلَّا مَنْ يَسْتَحِقُّ الْعُقُوبَةَ، وَيَضَعُهَا مَوْضِعَهَا لِمَا فِي ذَلِكَ مِنَ الْحِكْمَةِ، وَلَا يُعَاقِبُ أَهْلَ الْبِرِّ وَالتَّقْوَى، وَهَذَا قَوْلُ أَهْلِ اللُّغَةِ قَاطِبَةً، وَتَفْسِيرُ الظُّلْمِ بِذَيْنِكَ التَّفْسِيرَيْنِ اصْطِلَاحٌ حَادِثٌ وَوَضْعٌ جَدِيدٌ، قَالَ ابْنُ الْأَنْبَارِيِّ: الظُّلْمُ وَضْعُ الشَّيْءِ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ، يُقَالُ: ظَلَمَ الرَّجُلُ سِقَاءَهُ إِذَا سَقَى مِنْهُ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ مِنْهُ زُبَدُهُ، قَالَ: وَالْعَرَبُ تَقُولُ: هُوَ أَظْلَمُ مِنْ حَيَّةٍ، لِأَنَّهَا تَأْتِي الْحُفَرَ الَّذِي لَمْ تَحْفُرْهُ فَتَسْكُنُهُ وَيُقَالُ: قَدْ ظَلَمَ الْمَاءُ الْوَادِي إِذَا وَصَلَ مِنْهُ إِلَى مَكَانٍ لَمْ يَكُنْ يَصِلُ إِلَيْهِ فِيمَا مَضَى، وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ مَسْعُودٍ وَالْفَرَّاءُ: أَصْلُ الظُّلْمِ وَضْعُ الشَّيْءِ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ، وهذا القول هو الصواب المعروف في لغة الْعَرَبِ وَالْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ، وَإِنَّمَا تُحْمَلُ أَلْفَاظُهُمَا عَلَى لُغَةِ الْقَوْمِ لَا عَلَى الِاصْطِلَاحَاتِ الْحَادِثَةِ، فَإِنَّ هَذَا أَصْلُ كُلِّ فَسَادٍ وَتَحْرِيفٍ وَبِدْعَةٍ، وَهَذَا شَأْنُ أَهْلِ الْبِدَعِ دَائِمًا، يَصْطَلِحُونَ عَلَى مَعَانٍ يَضَعُونَ لَهَا أَلْفَاظًا مِنْ أَلْفَاظِ الْعَرَبِ ثُمَّ يَحْمِلُونَ أَلْفَاظَ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ عَلَى تِلْكَ الِاصْطِلَاحَاتِ الْحَادِثَةِ. انتهى بتصرف.

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية عن حديث:"لو أن الله عذب أهل سماواته وأهل أرضه لعذبهم وهو غير ظالم لهم، ولو رحمهم لكانت رحمته لهم خيرا لهم من أعمالهم".قال: يبين أن العذاب لو وقع لكان لاستحقاقهم ذلك؛ لا لكونه بغير ذنب، وهذا يبين أن من الظلم المنفي عقوبة من لم يذنب. وكذلك قوله تعالى: {وقال الذي آمن يا قوم إني أخاف عليكم مثل يوم الأحزاب. مثل دأب قوم نوح وعاد وثمود والذين من بعدهم وما الله يريد ظلما للعباد}. يبين أن هذا العقاب لم يكن ظلما؛ لاستحقاقهم ذلك وإن الله لا يريد الظلم. اهـ.

وقال ابن تيمية أيضاً معلقاً على ذات الحديث في موضع آخر: والتحقيق أنه إذا قدر أن الله فعل ذلك فلا يفعله إلا بحق لا يفعله وهو ظالم، لكن إذا لم يفعله فقد يكون ظلما يتعالى الله عنه. اهـ.

وقال بعض أهل العلم بأن تعذيب المطيع ومن لا ذنب له يعتبر من هذه الحيثية هو من الظلم الذي تنزه الله تعالى عنه وإلا لو عذبه في الدنيا لمقتضى آخر كالابتلاء والاختبار ونحوه فلا يكون ظلماً.

قال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله في أحد دروسه:} والمستحيل ما لا يمكن وجوده، والجائز ما يمكن وجوده وعدمه، والواجب ما لا يمكن عدمه، والموجودات إما من قبيل الجائز أو من قبيل الواجب أو من قبيل المستحيل.

ونرجع في استحالة الشيء وعدمه قطعاً إلى الشرع؛ أي إلى الكتاب والسنة، فيما يتعلق بالشرعيات، وإلى الواقع وأهل الخبر فيما سوى ذلك، وإلا لأمكن كل واحد
অনুপযুক্ত স্থানে (কোন কিছু স্থাপন করা), আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন ন্যায়পরায়ণ বিচারক (حكم), তিনি কোনো কিছুকে তার উপযুক্ত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও স্থাপন করেন না, যা ইনসাফ, হিকমত এবং জনকল্যাণের দাবি ও পরিপন্থী। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা দুটি সদৃশ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেন না এবং দুটি ভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সমতা বিধান করেন না। তিনি কেবল তাকেই শাস্তি দেন যে শাস্তির যোগ্য, এবং হিকমতের দাবি অনুযায়ী তিনি শাস্তিকে তার যথাস্থানেই প্রদান করেন। তিনি পুণ্যবান ও মুত্তাকিদের শাস্তি দেন না। এটিই সকল ভাষাবিদদের অভিমত। আর 'জুলুম' বা অবিচারকে অন্য দুটি সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা একটি আধুনিক পরিভাষা (اصطلاح) এবং নতুন উদ্ভাবন। ইবনুল আনবারি বলেন: জুলুম হলো কোনো বস্তুকে তার অনুপযুক্ত স্থানে রাখা। বলা হয়ে থাকে: ব্যক্তিটি তার মশকটির প্রতি জুলুম করেছে, যখন সে তা থেকে মাখন বের হওয়ার আগেই তা পান করে। তিনি বলেন: আরবরা বলে থাকে: ‘সে সাপের চেয়েও বড় জালেম’, কারণ সাপ এমন গর্তে এসে বসবাস করে যা সে নিজে খনন করেনি। আরও বলা হয়: ‘পানি উপত্যকার প্রতি জুলুম করেছে’ যখন পানি এমন স্থানে পৌঁছায় যেখানে অতীতে কখনো পৌঁছাত না। হাসান ইবনে মাসউদ এবং আল-ফাররা বলেন: জুলুমের মূল অর্থ হলো কোনো বস্তুকে তার অনুপযুক্ত স্থানে রাখা। আর এই মতটিই আরব ভাষা, কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে সঠিক ও সুবিদিত। প্রকৃতপক্ষে এই দুইয়ের শব্দাবলিকে আরবদের ভাষার আলোকেই বুঝতে হবে, আধুনিক পরিভাষা (اصطلاح) দিয়ে নয়। কারণ এটিই সকল বিপর্যয়, বিকৃতি (تحريف) এবং বিদআত (بدعة) বা নতুন উদ্ভাবনের মূল উৎস। আর এটিই সর্বদা বিদআতিদের (أهل البدع) বৈশিষ্ট্য; তারা নির্দিষ্ট কিছু অর্থের জন্য পরিভাষা (اصطلاح) তৈরি করে এবং সেগুলোকে আরবী শব্দ দ্বারা নামকরণ করে, অতঃপর কুরআন ও সুন্নাহর শব্দাবলিকে সেই সকল আধুনিক পরিভাষার (اصطلاح) আলোকে ব্যাখ্যা করে। সংক্ষেপিত।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একটি হাদিস সম্পর্কে বলেন: "আল্লাহ যদি তাঁর আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি প্রদান করতেন, তবে তিনি তাদের ওপর জুলুম না করেই শাস্তি দিতে পারতেন। আর যদি তিনি তাদের প্রতি দয়া করেন, তবে তাঁর দয়া তাদের আমলের চেয়েও উত্তম হবে।" তিনি বলেন: এটি স্পষ্ট করে যে, শাস্তি যদি প্রদান করা হয় তবে তা হবে তাদের উপযুক্ততার কারণে; কোনো গুনাহ ব্যতীত নয়। এটি আরও স্পষ্ট করে যে, যে জুলুমকে অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করা। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল সে বলল, হে আমার কওম! আমি তোমাদের ওপর পূর্ববর্তী দলগুলোর দিনের মতো বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি। যেমনটি ঘটেছিল নূহের কওম, আদ, সামুদ এবং তাদের পরবর্তী লোকদের ক্ষেত্রে। আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম করার ইচ্ছা পোষণ করেন না।} এটি স্পষ্ট করে যে, এই শাস্তি জুলুম ছিল না; বরং তাদের যোগ্যতার কারণেই ছিল এবং আল্লাহ জুলুমের ইচ্ছা করেন না। সমাপ্ত।

ইবনে তাইমিয়্যাহ অন্য স্থানে একই হাদিসের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে আরও বলেন: প্রকৃত সত্য হলো, যদি ধরে নেওয়া হয় যে আল্লাহ তা করেছেন, তবে তিনি তা হকের সাথেই করবেন, জালেম হিসেবে নয়। কিন্তু তিনি যখন তা করেন না, তখন সেটি এমন একটি জুলুম হতে পারত যা থেকে আল্লাহ পবিত্র। সমাপ্ত।

জনৈক আলেম বলেন যে, আনুগত্যকারী এবং নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করা এই দৃষ্টিকোণ থেকে সেই জুলুমের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে আল্লাহ তাআলা নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। অন্যথায়, যদি তিনি দুনিয়াতে অন্য কোনো কারণে যেমন পরীক্ষা (ابتلاء) বা যাচাই করার জন্য কষ্ট দেন, তবে তা জুলুম হবে না।

শাইখ ইবনে উসাইমিন রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর একটি দরসে বলেন: "অসম্ভব (مستحيل) হলো তা যার অস্তিত্ব সম্ভব নয়, সম্ভব বা বৈধ (جائز) হলো তা যার অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব উভয়ই সম্ভব, এবং আবশ্যক (واجب) হলো তা যার অনস্তিত্ব অসম্ভব। বিদ্যমান বস্তুসমূহ হয় সম্ভব (جائز) শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, না হয় আবশ্যক (واجب) অথবা অসম্ভব (مستحيل) শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।"

কোনো জিনিসের অসম্ভব (مستحيل) হওয়া বা না হওয়া নিশ্চিতভাবে জানার জন্য শরয়ি বিষয়াদির ক্ষেত্রে আমাদের শরয়ি দলিলের অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর অন্যান্য ক্ষেত্রে বাস্তবতা এবং অভিজ্ঞ মহলের দিকে ফিরে যেতে হবে। অন্যথায় প্রত্যেকের পক্ষেই সম্ভব হতো...
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১২)
أن يقول: هذا مستحيل، كما قال أهل التعطيل: إن الله مستحيل أن يكون له وجه، ومستحيل أن يكون له يد، ومستحيل أن يكون له عين، وما أشبه ذلك.

لكن الكلام على الواقع، فالمستحيل غير ممكن، والواجب غير ممكن عدمه، والجائز ما أمكن وجوده وعدمه.

ولنضرب لهذا أمثلة: فوجود إله مع الله مستحيل ولا شك، وعدم الله مستحيل، ووجود الله واجب، ووجود الآدمي جائز؛ لأن الله تعالى جائز أن يخلق الآدميين وجائز ألا يخلق، وتعذيب الله سبحانه وتعالى للطائع ممتنع وإن كان يمكن أن يقع، لكنه ممتنع شرعاً، وممتنع عقلاً من وجه آخر، ممتنع شرعاً لأن الله تعالى أخبر أنه لا يظلم أحداً، وتعذيب الطائع ظلم، قال الله تعالى: (وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلا يَخَافُ ظُلْماً وَلا هَضْماً) (طه: الآية112) إذاً فهو مستحيل شرعاً، وهو مستحيل عقلاً بالنسبة لله عز وجل؛ لأن الله منزه عن الظلم لذاته. فإن قال قائل: إنه جاء في الحديث: ((إن الله لو عذب أهل سماواته وأرضه لعذبهم وهو غير ظالم لهم))، وجاء في الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((لن يدخل أحد الجنة بعمله)) قالوا: ولا أنت؟ قال: ((ولا أنا إلا أن يتغمدني الله برحمته)).قلنا لا إشكال، أما الأول: فمعناه أن الله لو عذب أهل سمواته وأرضه لعذبهم وهم مستحقون للعذاب، وهو غير ظالم، وهم إنما يستحقون متى خالفوا؛ بترك الطاعة أو بفعل المعصية.

وأما الثاني: فالباء في قوله: ((بعمله)) للمعاوضة، يعني لو رجعنا إلى التعويض لم يدخل أحد الجنة؛ لأن الإنسان لو حُوسب على أدنى نعمة من الله لهلك، لكن برحمة الله سبحانه وتعالى … انتهى.

ويقول أحد أهل العلم عن ذات الحديث: الإشكال أننا تصورنا أن العذاب كائن قبل العمل والنص لا يدل عليه بل يدل أن العذاب لو كان لكان بعد العمل بدليل قوله لو رحمهم كانت رحمته خيراً لهم من أعمالهم، فالنبي عليه الصلاة والسلام يريد أن يطمئننا ويثبت قلوبنا بأنه لو فُرض أن الله سيعذب خلقه فلن يكون ذلك إلا بذنوب تستحق ذلك، فليطمئن كل إنسان إلى عدل الله وقدره وحكمته، وأنه لا يعذب أحداً إلا مستحقاً للعذاب، والدليل على دقة هذا الفهم أنه رد على ما حاك في صدر ابن الديلمي من القدر، وأنه ربما فهم من بعض الآيات أن الله يعذب من يشاء أو أن الله قدر كل شيء، وعليه فلا مهرب من قدر الله، فكيف يعذب الله الناس ولا مهرب لهم من القدر؟!!! فجاء الحديث يرسخ عنده وعندنا أنه لو فرض أن الله عذب جميع الخلق فلن يكون ذلك إلا بعد استحقاقهم ذلك بالذنوب ، وهو معنى قوله " لعذبهم وهو غير ظالم لهم " ولا يعذب الله من لا يرتكب الذنب … انتهى).
বলা যে: এটি অসম্ভব (مستحيل), যেমন গুণাবলি অস্বীকারকারী গোষ্ঠী (أهل التعطيل) বলেছেন: আল্লাহর মুখমণ্ডল থাকা অসম্ভব (مستحيل), তাঁর হাত থাকা অসম্ভব (مستحيل), তাঁর চোখ থাকা অসম্ভব (مستحيل) এবং অনুরূপ বিষয়াবলি।

কিন্তু বিষয়টি বাস্তবতার নিরিখে; যা অসম্ভব (مستحيل) তা ঘটা সম্ভব নয়, আর যা আবশ্যক (واجب) তার অস্তিত্বহীনতা অসম্ভব, এবং যা সম্ভব (جائز) তা হওয়া এবং না হওয়া উভয়ই সম্ভব।

আমরা এর জন্য কিছু উদাহরণ পেশ করি: আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ থাকা নিঃসন্দেহে অসম্ভব (مستحيل), আল্লাহর অনস্তিত্ব অসম্ভব (مستحيل), আল্লাহর অস্তিত্ব আবশ্যক (واجب), আর মানুষের অস্তিত্ব সম্ভব (جائز); কারণ মহান আল্লাহ চাইলে মানুষ সৃষ্টি করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কর্তৃক অনুগত ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান অসম্ভবপর (ممتنع), যদিও তা ঘটা সম্ভব, তবে শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে তা অসম্ভবপর (ممتنع شرعاً), এবং অন্য দিক থেকে বিবেকগতভাবেও অসম্ভবপর (ممتنع عقلاً)। শরয়ীভাবে অসম্ভবপর (ممتنع شرعاً) কারণ মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি কারও প্রতি জুলুম করেন না, আর অনুগতকে শাস্তি দেওয়া হলো জুলুম। মহান আল্লাহ বলেন: (আর যে ব্যক্তি মুমিন হয়ে সৎকর্ম করবে, সে কোনো জুলুম বা অধিকার হানির আশঙ্কা করবে না) (ত্বহা: ১১২)। অতএব এটি শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে অসম্ভব (مستحيل شرعاً), আর মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে তা বিবেকগতভাবেও অসম্ভব (مستحيل عقلاً); কারণ আল্লাহ তাঁর সত্তাগতভাবেই জুলুম থেকে পবিত্র। যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, হাদিসে এসেছে: "আল্লাহ যদি তাঁর আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি প্রদান করেন, তবে তিনি তাদের শাস্তি দেবেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাদের প্রতি জুলুমকারী নন", এবং হাদিসে এসেছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ তার আমলের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।" তারা বললেন: আপনিও কি নন? তিনি বললেন: "আমিও নই, যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে আবৃত করে নেন।" আমরা বলি, এতে কোনো অসংগতি নেই। প্রথম হাদিসের অর্থ হলো: আল্লাহ যদি তাঁর আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি দেন, তবে তিনি তাদের শাস্তি দেবেন এমতাবস্থায় যে তারা শাস্তির উপযুক্ত (مستحقون), আর তিনি জালেম নন। আর তারা কেবল তখনই শাস্তির উপযুক্ত হয় যখন তারা বিরুদ্ধাচরণ করে; অর্থাৎ আনুগত্য বর্জন করে বা পাপে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে।

আর দ্বিতীয় হাদিসটির ক্ষেত্রে: তাঁর বাণী "তার আমলের মাধ্যমে" (بعمله) এর মধ্যে 'বা' অক্ষরটি বিনিময় (معاوضة) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ আমরা যদি বিনিময়ের (التعويض) দিকে ফিরে যাই, তবে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; কারণ মানুষকে যদি আল্লাহর সামান্যতম নিআমতের বিপরীতেও হিসাব দিতে হয় তবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু মহান আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে … সমাপ্ত।

উক্ত হাদিস সম্পর্কে জনৈক আলেম বলেন: সমস্যাটি হলো আমরা ধারণা করে নিয়েছি যে শাস্তি আমলের আগে হবে, অথচ নস (نص) তা নির্দেশ করে না। বরং এটি নির্দেশ করে যে শাস্তি যদি হতোই, তবে তা আমলের পরেই হতো; যার প্রমাণ হলো তাঁর বাণী: "তিনি যদি তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন তবে তাঁর রহমত তাদের আমলের চেয়ে উত্তম হবে।" সুতরাং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম) আমাদের আশ্বস্ত করতে এবং আমাদের অন্তরকে সুদৃঢ় করতে চেয়েছেন যে, যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় যে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে শাস্তি দেবেন, তবে তা হবে কেবল সেই সব গুনাহের কারণে যার ফলে তারা শাস্তির উপযুক্ত। অতএব প্রত্যেক মানুষের উচিত আল্লাহর ন্যায়বিচার, তাকদির (القدر) এবং হিকমতের প্রতি আশ্বস্ত থাকা যে, তিনি কাউকেই শাস্তির উপযুক্ত হওয়া ছাড়া শাস্তি দেন না। এই বুঝের সূক্ষ্মতার প্রমাণ হলো, এটি ইবনে আদ-দাইলামির মনে তাকদির (القدر) সম্পর্কে যে খটকা জেগেছিল তার নিরসন করে। তিনি সম্ভবত কিছু আয়াত থেকে বুঝেছিলেন যে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন অথবা আল্লাহ সবকিছু নির্ধারণ (قدر) করে রেখেছেন, এমতাবস্থায় আল্লাহর তাকদির (القدر) থেকে পালানোর কোনো পথ নেই; সুতরাং আল্লাহ কীভাবে মানুষকে শাস্তি দেবেন অথচ তাদের তো তাকদির (القدر) থেকে পালানোর কোনো পথ নেই?!!! অতঃপর হাদিসটি তাঁর এবং আমাদের হৃদয়ে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে এসেছে যে, যদি ধরে নেওয়া হয় আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকে শাস্তি দেবেন, তবে তা হবে কেবল তাদের গুনাহের কারণে উপযুক্ত হওয়ার পর। আর এটাই হলো তাঁর বাণী "তিনি তাদের শাস্তি দেবেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাদের প্রতি জুলুমকারী নন" এর অর্থ। আল্লাহ এমন কাউকে শাস্তি দেবেন না যে গুনাহ করেনি … সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقيل بأن معنى الحديث أنه لا ينجو أحد من الخلق بعمله معاوضةً لعظيم فضل الله عليه وفي ذلك يقول ابن القيم في (شفاء العليل): هذا الحديث حديث صحيح، رواه الحاكم في صحيحه، وله شأن عظيم، وهو دال على أن من تكلم به أعرف الخلق بالله وأعظمهم له توحيدا وأكثرهم له تعظيما، وفيه الشفاء التام في باب العدل والتوحيد؛ فإنه لا يزال يجول في نفوس كثير من الناس كيف يجتمع القضاء والقدر والأمر والنهي؟ وكيف يجتمع العدل والعقاب على المقضي المقدر الذي لا بد للعبد من فعله؟ ثم سلك كل طائفة في هذا المقام واديا وطريقا. اهـ.

وذكر كلاما طويلا ومفيدا، ثم أطال النفس في تقرير عظيم إحسان الله إلى خلقه وإنعامه عليهم بما لا يقدرون عن إحصائه فضلا عن شكره وأداء حق عبوديته، وأنه لا ينجو أحد منهم بعمله، ثم قال رحمه الله: فعلم أنه سبحانه لو عذب أهل سماواته وأرضه لعذبهم ببعض حقه عليهم. اهـ.

وقال في آخر الباب: وسر المسألة أنه لما كان شكر المنعم على قدره وعلى قدر نعمه ولا يقوم بذلك أحد، كان حقه سبحانه على كل أحد وله المطالبة به، وإن لم يغفر له ويرحمه وإلا عذبه، فحاجتهم إلى مغفرته ورحمته وعفوه كحاجتهم إلى حفظه وكلاءته ورزقه، فإن لم يحفظهم هلكوا، وإن لم يرزقهم هلكوا، وإن لم يغفر لهم ويرحمهم هلكوا وخسروا. اهـ.

وقد أجاب الشيخ ابن عثيمين في موضع آخر من (شرح العقيدة السفارينية) عن هذا الحديث فقال: الجواب عنه يكون من أوجه: أولاً: ينظر في صحة الحديث. ثانياً: فإذا صح كان المعنى أن الله لو عذب أهل سماواته وأرضه لكان تعذيبه إياهم في غير ظلم، أي لكان تعذيبه إياهم بسبب منهم وهو المعصية. ثالثاً: لو عذبهم لعذبهم وهو غير ظالم لهم، وذلك بأن يقابل إحسانه بإحسانهم، فإنه إذا قابل إحسانه بإحسانهم صار إحسانهم ليس بشيء، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لن يدخل أحد الجنة بعمله" أي من باب المقابلة، لأن الله لو حاسبنا على وجه المناقشة لكان فعلنا للخيرات دَيناً علينا، لأنه هو الذي منَّ علينا بذلك، وحينئذٍ لو عذبنا في هذه الحال أو من هذا الوجه لعذبنا وهو غير ظالم، هذا إذا صح الحديث، وعلى ذلك فلا يكون في هذا إشكال. اهـ.

وقال ابن القيم أيضاً مقرراً هذا المعنى: الصراط المستقيم الذي فطر الله عليه عباده وجاءت به الرسل ونزلت به الكتب وهو أن الأعمال أسباب موصلة إلى الثواب والعقاب مقتضية لهما كاقتضاء سائر الأسباب لمسبباتها، وأن الأعمال الصالحة من توفيق الله وفضله ومنه وصدقته على عبده إن أعانه عليها ووفقه لها وخلق فيه إرادتها والقدرة عليها وحببها إليه وزينها في قلبه وكره إليه أضداها، ومع هذا فليست ثمنا لجزائه وثوابه ولا هي على قدره بل غايتها إذا بذل العبد فيها نصحه
বলা হয়েছে যে, হাদিসের অর্থ হলো—সৃষ্টির কেউই তার আমলের বিনিময়ে আল্লাহর মহান অনুগ্রহের সমকক্ষ হয়ে নাজাত পাবে না। এই প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যিম 'শিফাউল আলিল' গ্রন্থে বলেন: এই হাদিসটি একটি সঠিক (صحيح) হাদিস, যা হাকেম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি প্রমাণ করে যে, যিনি এটি বলেছেন তিনি সৃষ্টিজীবের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত এবং তাঁর একত্ববাদ ও মহিমা বর্ণনায় শ্রেষ্ঠতম। এতে ন্যায়বিচার ও তাওহিদের অধ্যায়ে পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য নিহিত রয়েছে; কারণ অনেক মানুষের মনেই এ প্রশ্ন জাগে যে, কীভাবে কাজা ও কদর এবং আদেশ ও নিষেধের মধ্যে সমন্বয় ঘটে? এবং কীভাবে সেই নির্ধারিত ও অবধারিত বিষয়ের ওপর ন্যায়বিচার ও শাস্তি একত্রিত হয়, যা বান্দার পক্ষে করা অবধারিত ছিল? অতঃপর প্রতিটি দল এই ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পথ ও মত অবলম্বন করেছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

তিনি দীর্ঘ ও উপকারী আলোচনা করেছেন, অতঃপর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর সুমহান অনুগ্রহ ও নিয়ামতের বর্ণনায় বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন—যা তারা গণনা করতেও সক্ষম নয়, তাঁর শুকরিয়া আদায় এবং দাসত্বের হক আদায় তো দূরের কথা। আর তাদের কেউই নিজ আমল দ্বারা মুক্তি পাবে না। অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সুতরাং জানা গেল যে, মহান আল্লাহ যদি তাঁর আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি প্রদান করেন, তবে তাদের ওপর তাঁর প্রাপ্য হকের সামান্য অংশের কারণেই শাস্তি দেবেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

তিনি পরিচ্ছেদের শেষে বলেন: এই প্রসঙ্গের রহস্য হলো—নিয়ামতদাতার শুকরিয়া আদায় যেহেতু তাঁর মর্যাদা ও তাঁর নিয়ামতের পরিমাণ অনুযায়ী হওয়া উচিত, অথচ কেউ তা পালন করতে সক্ষম নয়, সেহেতু প্রত্যেকের ওপর মহান আল্লাহর হক রয়েছে এবং তিনি তা দাবি করার অধিকার রাখেন। যদি তিনি ক্ষমা ও দয়া না করেন তবে শাস্তি দেবেন। সুতরাং তাঁর ক্ষমা, দয়া ও মার্জনার প্রতি বান্দার মুখাপেক্ষীতা ঠিক তেমনই, যেমন তারা তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা ও রিজিকের প্রতি মুখাপেক্ষী। তিনি যদি তাদের রক্ষা না করেন তবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে, তিনি যদি তাদের রিজিক না দেন তবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে, আর তিনি যদি তাদের ক্ষমা ও দয়া না করেন তবে তারা ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

শায়খ ইবনে উসাইমিন 'শারহুল আকিদাহ আস-সাফারিনিইয়াহ'-এর অন্য এক স্থানে এই হাদিসটি সম্পর্কে উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন: এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে: প্রথমত, হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই করা। দ্বিতীয়ত, যদি তা সঠিক (صح) প্রমাণিত হয়, তবে অর্থ হবে—আল্লাহ যদি আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি দেন, তবে সেই শাস্তি জুলুম বা অন্যায় হবে না; অর্থাৎ তাদের কোনো অপরাধের বা অবাধ্যতার কারণেই তিনি শাস্তি দেবেন। তৃতীয়ত, তিনি যদি তাদের শাস্তি দেন তবে তিনি তাদের প্রতি অবিচারকারী হবেন না; আর তা এভাবে যে, তাঁর ইহসানের বিপরীতে তাদের আমলকে তুলনা করা হবে। যখন তাঁর দয়ার বিপরীতে তাদের আমলকে আনা হবে, তখন তাদের আমল অতি তুচ্ছ হয়ে যাবে। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কেউই তার আমল দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না" অর্থাৎ বিনিময়ের দিক থেকে। কারণ আল্লাহ যদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের হিসাব নেন, তবে আমাদের নেক আমলগুলো তাঁর দেওয়া নিয়ামতের ঋণের বিপরীতে পর্যবসিত হবে; কারণ তিনিই আমাদের তা করার তৌফিক দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন। এমতাবস্থায় বা এই দিক থেকে তিনি যদি আমাদের শাস্তি দেন, তবে তিনি অবিচারকারী হবেন না। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন হাদিসটি সঠিক (صح) হবে। এমতাবস্থায় এতে আর কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

ইবনুল কাইয়্যিম এই অর্থটি সুদৃঢ় করতে আরও বলেন: সিরাতুল মুস্তাকিম—যার ওপর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন এবং যা নিয়ে রাসুলগণ এসেছেন ও কিতাবসমূহ নাজিল হয়েছে—তা হলো এই যে, আমলসমূহ হলো সওয়াব ও শাস্তির মাধ্যম, যা এই দুইয়ের দাবি রাখে; যেমন অন্যান্য কারণগুলো তাদের ফলাফলের দাবি রাখে। আর নেক আমলসমূহ হলো আল্লাহর তৌফিক, অনুগ্রহ, করুণা এবং তাঁর বান্দার প্রতি সদকা স্বরূপ; তিনি যদি তাকে সাহায্য করেন, তৌফিক দেন, তার মধ্যে সেই কাজের ইচ্ছা ও ক্ষমতা সৃষ্টি করেন, তাকে তা প্রিয় করে দেন, তার অন্তরে তা সুশোভিত করেন এবং এর বিপরীত বিষয়গুলোর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করেন তবেই তা সম্ভব হয়। এরপরেও, এই আমলগুলো তাঁর প্রতিদান বা সওয়াবের মূল্য নয় এবং তা তাঁর মর্যাদার সমকক্ষও নয়; বরং এর সর্বোচ্চ সীমা হলো বান্দা এতে তার আন্তরিকতা ব্যয় করবে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১৪)
وجهده وأوقعها على أكمل الوجوه أن تقع شكرا له على بعض نعمه عليه، فلو طالبه بحقه لبقي عليه من الشكر على تلك النعمة بقية لم يقم بشكرها، فلذلك لو عذب أهل سماواته وأهل أرضه لعذبهم وهو غير ظالم لهم، ولو رحمهم لكانت رحمته خيرا لهم من أعمالهم كما ثبت ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم. اهـ.

وقال ابن القيم كذلك في (مفتاح دار السعادة): لو عذب أهل سماواته وأرضه لكان ذلك تعذيبا لحقه عليهم وكانوا إذ ذاك مستحقين للعذاب؛ لأن أعمالهم لا تفي بنجاتهم. اهـ.

وأما ابن رجب فنحا نحوا آخر في (جامع العلوم والحكم) حيث قال: في هذا الحديث نظر، ووهب بن خالد ليس بذلك المشهور بالعلم. وقد يحمل على أنه لو أراد تعذيبهم، لقدر لهم ما يعذبهم عليه، فيكون غير ظالم لهم حينئذ. اهـ.

وعلى هذا يتبين لنا بأن الظلم المنفي عن الله عز وجل والذي حرمه الله على نفسه هو وضع الشيء في غير موضعه، ومنع ذي الحق حقه، كأن ينقص أحداً من ثواب حسناته، أو يحمل أحداً أوزار غيره ، وليثق المسلم أن كل مخلوق له حق عند الله عز وجل فسيأخذه لا محالة وهذا متفق عليه بين جميع المسلمين وإن اختلفت مذاهبهم في معرفة وبيان تفصيل هذه الحقوق ، ولهذا صدق القائل حين قال:

ما للعباد عليه حق واجب * كلا ولا سعي لديه ضائع.

إن عذبوا فبعدله أو نعموا * فبفضله وهو الكريم الواسع.

ثم اعلم أخي المسلم بأنه ليس للناس على الله حق إلا ما أحقه الله على نفسه، وقد أحق الله على نفسه لعباده حقوقا كثيرة، منها: حق النصرة للمؤمنين، كما قال تعالى [وكان حقا علينا نصر المؤمنين] ومنها أن لا يعذب من لم يشرك به شيئا، فقد ثبت في ((الصحيحين)) من قوله صلى الله عليه وسلم لمعاذ رضي الله عنه، وهو رديفه: يا معاذ، أتدري ما حق الله على عباده؟ قلت: الله ورسوله أعلم، قال صلى الله عليه وسلم: حقه عليهم أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا، أتدري ما حق العباد على الله إذا فعلوا ذلك؟ قلت: الله ورسوله أعلم، قال: حقهم عليه أن لا يعذبهم. فهذا حق وجب بكلماته التامة ووعده الصادق، لا أن العبد نفسه مستحق على الله شيئا كما يكون للمخلوق على المخلوق، فإن الله هو المنعم على العباد بكل خير، ومنها أن من حفظ الله منهم حفظه ووجده تجاهه.

وهنا مسألة مهمة وهو أنه لا يجب العدل في الفضل إنما العدل يكون في الحقوق علماً بأن الله عز وجل لا يتفضل على أحد من خلقه إلا بسبب وموجب من العبد علمه من علمه وجهله من جهله والله أعلم بمن يصلح لفضله فعن عبد الله بن عمر
তাঁর প্রচেষ্টা এবং তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদন করা হলো তাঁর কতিপয় নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ। সুতরাং তিনি যদি তাঁর কাছে তাঁর প্রাপ্য অধিকার দাবি করতেন, তবে সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার মতো আরও অনেক কিছু বাকি থেকে যেত। এই কারণেই, তিনি যদি তাঁর আসমান ও জমিনবাসীকে শাস্তি দিতেন, তবে তিনি তাদের প্রতি কোনো জুলুম না করেই তাদের শাস্তি দিতেন। আর যদি তিনি তাদের প্রতি দয়া করেন, তবে তাঁর দয়া তাদের জন্য তাদের আমলের চেয়েও উত্তম হবে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে। সমাপ্ত।

ইবনুল কাইয়্যিম একইভাবে 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি যদি তাঁর আসমান ও জমিনবাসীকে শাস্তি দিতেন, তবে তা হতো তাদের ওপর তাঁর প্রাপ্য অধিকারের কারণে শাস্তি প্রদান এবং তারা তখন শাস্তির যোগ্য হতো; কারণ তাদের আমল তাদের নাজাতের জন্য যথেষ্ট নয়। সমাপ্ত।

আর ইবনে রজব 'জামি উল উলুম ওয়াল হিকাম' গ্রন্থে ভিন্ন এক পথ অবলম্বন করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: এই হাদিসটির ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ (نظر) রয়েছে, আর ওয়াহাব ইবনে খালিদ ইলমের ক্ষেত্রে ততটা প্রসিদ্ধ (مشهور) নন। একে এভাবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে, যদি তিনি তাদের শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা করতেন, তবে তিনি তাদের জন্য এমন কিছুর ফয়সালা করতেন যার কারণে তিনি তাদের শাস্তি দিতেন, ফলে তখন তিনি তাদের প্রতি জুলুমকারী হতেন না। সমাপ্ত।

এর ওপর ভিত্তি করে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, মহান আল্লাহর সত্তা থেকে যে জুলুমকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং যা তিনি নিজের ওপর হারাম করেছেন, তা হলো কোনো জিনিসকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা এবং পাওনাদারকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। যেমন কারোর নেক আমলের সওয়াব কমিয়ে দেওয়া অথবা একজনের পাপের বোঝা অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। একজন মুসলিমের এই বিশ্বাস রাখা উচিত যে, আল্লাহর কাছে প্রতিটি সৃষ্টির অধিকার রয়েছে যা সে অবশ্যই লাভ করবে। এ বিষয়ে সকল মুসলিম একমত, যদিও এই অধিকারগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও পরিচয়ের ক্ষেত্রে তাদের মাজহাব বা মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে। এ কারণেই কবি সত্যই বলেছেন:

বান্দার কোনো পাওনা নেই আল্লাহর কাছে যা আবশ্যিক * না, আর তাঁর কাছে কোনো পরিশ্রমও বৃথা যায় না।

যদি তারা শাস্তি পায় তবে তা তাঁর ইনসাফ, আর যদি নেয়ামত পায় * তবে তা তাঁর অনুগ্রহ, আর তিনি পরম দয়ালু ও অসীম।

অতঃপর হে মুসলিম ভাই, জেনে রাখুন যে, আল্লাহ নিজের ওপর যা অবধারিত করেছেন তা ব্যতীত তাঁর ওপর মানুষের কোনো অধিকার নেই। আল্লাহ নিজের ওপর তাঁর বান্দাদের জন্য অনেক অধিকার অবধারিত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: মুমিনদের সাহায্য করার অধিকার, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: [আর মুমিনদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব]। এর মধ্যে আরও রয়েছে যে, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করেনি। যেমনটি সহীহাইন-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, যখন তিনি তাঁর বাহনের পেছনে বসা ছিলেন: হে মুয়াজ, তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাদের ওপর তাঁর হক হলো তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না। তুমি কি জানো বান্দারা যখন এটি করবে তখন আল্লাহর ওপর তাদের হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: তাঁর ওপর তাদের হক হলো তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না। এটি এমন এক অধিকার যা তাঁর পরিপূর্ণ বাণী এবং সত্য প্রতিশ্রুতির কারণে অবধারিত হয়েছে; এমন নয় যে বান্দা নিজেই আল্লাহর ওপর কোনো কিছুর দাবিদার, যেমনটি এক সৃষ্টি অন্য সৃষ্টির ওপর অধিকার রাখে। কারণ আল্লাহই বান্দাদের ওপর সকল কল্যাণের দাতা। এর মধ্যে এটিও রয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে রক্ষা করবেন এবং তাকে নিজের সম্মুখে পাবেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই যে, অনুগ্রহের ক্ষেত্রে ইনসাফ বা সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব নয়, বরং ইনসাফ কেবল হকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। এটি জেনে রাখা দরকার যে, মহান আল্লাহ তাঁর কোনো সৃষ্টির ওপর অনুগ্রহ করেন না বান্দার কোনো কারণ বা আবশ্যকতা ব্যতীত, যা কেউ জানে আবার কেউ জানে না। আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর অনুগ্রহের যোগ্য। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১৫)
بن الخطاب رضي الله عنهما: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إنما مثلكم واليهود والنصارى كرجل استعمل عمالا، فقال: من يعمل لي إلى نصف النهار على قيراط قيراط؟ فعملت اليهود على قيراط قيراط، ثم عملت النصارى على قيراط قيراط، ثم أنتم الذين تعملون من صلاة العصر إلى مغارب الشمس على قيراطين قيراطين "، فغضبت اليهود والنصارى، وقالوا: نحن أكثر عملا وأقل عطاء، قال: " هل ظلمتكم من حقكم شيئا؟ " قالوا: لا، فقال: " فذلك فضلي أوتيه من أشاء " رواه البخاري.

- من أسباب امتناع الله عز وجل عن الظلم:

سبب الظلم الرئيسي هو الفقر والحاجة والله هو الغني الحميد ولا يحتاج إلى أحد من خلقه فقد كان ولم يكن قبله شيء قال تعالى (لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ (.

السبب الثاني للظلم: الجهل والجهل هو معرفة الأشياء على غير حقيقتها أو عدم معرفتها أصالةً والله عز وجل هو العليم الذي لم يُسبق علمه بجهل وقد أحاط بكل شاء علماً وهو علام الغيوب يعلم خائنة الأعين وما تخفى الصدور قال تعالى (أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَأَنَّ اللَّهَ عَلَاّمُ الْغُيُوبِ) وبالتالي جميع أسباب الظلم ممتنعة على الله سبحانه قال تعالى {إنَّ اللهَ لا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْئاً وَلَكِنَّ النَّاسَ أنْفُسَهُم يَظْلِمُونَ).

- معنى قوله تعالى (لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ):

قال شيخ الإسلام رحمه الله: وَهُوَ سُبْحَانَهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَرَبُّهُ وَمَلِيكُهُ، وَلَهُ فِيمَا خَلَقَهُ حِكْمَةٌ بَالِغَةٌ وَنِعْمَةٌ سَابِغَةٌ، وَرَحْمَةٌ عَامَّةٌ وَخَاصَّةٌ، وَهُوَ لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ، لَا لِمُجَرَّدِ قُدْرَتِهِ وَقَهْرِهِ، بَلْ لِكَمَالِ عِلْمِهِ وَقُدْرَتِهِ وَرَحْمَتِهِ وَحِكْمَتِهِ، فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ، وَأَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ، وَهُوَ أَرْحَمُ بِعِبَادِهِ مِنْ الْوَالِدَةِ بِوَلَدِهَا، وَقَدْ أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ، وَقَالَ تَعَالَى: صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ. انتهى.

 

•‌‌ كيفية التوفيق بين اعتقاد أن القدر خيره وشره من الله وبين محبة الله:

لا تلازم بين اعتقاد أن القدر خيره وشره من الله وبين محبة الله سبحانه وتعالى وذلك مثل المريض والطبيب والمرض فالمريض هو العبد والمرض هو الشر المقدور والطبيب هو الله عز وجل وله المثل الأعلى فهذا المريض يحب الطبيب ويبغض المرض والعلاج المر لكن لعلمه بنصح الطبيب فهو يحب الطبيب وإن كان يكره ويبغض المرض وعلاجه المر.
ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: "তোমাদের এবং ইহুদি ও নাসারাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে কিছু শ্রমিক নিয়োগ করল এবং বলল: ‘কে আমার জন্য দুপুর পর্যন্ত এক কিরাত এক কিরাত বিনিময়ে কাজ করবে?’ তখন ইহুদিরা এক কিরাত এক কিরাত বিনিময়ে কাজ করল। এরপর নাসারারা এক কিরাত এক কিরাত বিনিময়ে কাজ করল। অতঃপর তোমরা আসরের নামাজ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাত দুই কিরাত বিনিময়ে কাজ করলে।" এতে ইহুদি ও নাসারারা রাগান্বিত হলো এবং বলল: "আমরা কাজ করলাম বেশি কিন্তু পারিশ্রমিক পেলাম কম।" তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের হকের কোনো কিছু কম দিয়ে তোমাদের প্রতি জুলুম করেছি?" তারা বলল: "না।" তখন তিনি বললেন: "এটি আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করি।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

- মহান আল্লাহ তাআলার জুলুম থেকে বিরত থাকার কারণসমূহ:

জুলুমের প্রধান কারণ হলো অভাব ও প্রয়োজন, অথচ আল্লাহ হলেন অভাবমুক্ত ও চির প্রশংসিত। তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো একজনেরও মুখাপেক্ষী নন। তিনি বিদ্যমান ছিলেন যখন তাঁর পূর্বে আর কিছুই ছিল না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত ও চির প্রশংসিত।"

জুলুমের দ্বিতীয় কারণ: অজ্ঞতা। আর অজ্ঞতা হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত রূপের বিপরীতে জানা অথবা সে সম্পর্কে একেবারেই জ্ঞান না থাকা। অথচ মহান আল্লাহ হলেন সর্বজ্ঞ, যাঁর জ্ঞান কোনো অজ্ঞতা দ্বারা পূর্বগামী নয়। তিনি সকল বিষয়কে তাঁর জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি চোখের খেয়ানত এবং অন্তরের লুকায়িত বিষয় সম্পর্কেও অবগত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা কি জানে না যে, আল্লাহ তাদের গোপন বিষয় ও শলাপরামর্শ সম্পর্কে অবগত এবং আল্লাহ অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা?" অতএব, জুলুমের সকল কারণ মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি সামান্যতম জুলুম করেন না, বরং মানুষ নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে।"

- আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অর্থ: "তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে":

শাইখুল ইসলাম (রহ.) বলেন: তিনি মহান ও পবিত্র, সবকিছুর স্রষ্টা, রব ও মালিক। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে সুগভীর প্রজ্ঞা, অফুরন্ত নেয়ামত এবং সাধারণ ও বিশেষ রহমত। "তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে"—এটি কেবল তাঁর ক্ষমতা ও আধিপত্যের কারণে নয়, বরং তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা, রহমত ও প্রজ্ঞার পূর্ণতার কারণে। কেননা তিনি মহান ও পবিত্র, সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক এবং পরম দয়ালু। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি মায়ের সন্তানের প্রতি দয়ার চেয়েও অধিক দয়ালু। তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা সর্বোত্তমরূপে করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এটি আল্লাহর কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন।" সমাপ্ত।

 

•‌‌ তকদিরের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার বিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার মধ্যে সমন্বয় করার পদ্ধতি:

তকদিরের ভালো ও মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে—এই বিশ্বাস এবং মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য বিরোধ নেই। এর উদাহরণ হলো রোগী, চিকিৎসক ও রোগ। এখানে রোগী হলো বান্দা, রোগ হলো তকদিরভুক্ত মন্দ এবং চিকিৎসক হলেন মহান আল্লাহ (যাঁর উদাহরণ সর্বোচ্চ)। এই রোগী চিকিৎসককে ভালোবাসে কিন্তু রোগ ও তিক্ত ওষুধকে অপছন্দ করে। তবে চিকিৎসকের সদুপদেশ ও হিতাকাঙ্ক্ষার কথা জানার কারণে সে চিকিৎসককে ভালোবাসে, যদিও সে রোগ ও তিক্ত ওষুধকে ঘৃণা ও অপছন্দ করে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১৬)
•‌‌ حكم الرضا بالقضاء:

الرضا بقضاء الله عز وجل فيه تفصيل نرضى بالقضاء الذي هو فعل

الله عز وجل وأما المقضي الذي هو فعل العبد ففيه تفصيل فإن كان مرضياً لله رضينا به كالطاعات والإيمان وإن كان غير مرضي لله لم نرض به كالمعاصي.

يقول القرافيّ: اعلم أنّ السخط بالقضاء حرام إجماعاً والرّضا بالقضاء واجب إجماعاً بخلاف المقضيّ به، فعلى هذا إذا ابتلي الإنسان بمرض فتألم من المرض بمقتضى طبعه فهذا ليس عدم رضا بالقضاء بل عدم رضا بالمقضيّ ونحن لم نؤمر بأن تطيب لنا البلايا والرزايا ومؤلمات الحوادث، ولم ترد الشريعة بتكليف أحد بما ليس في طبعه، ولم يؤمر الأرمد باستطابة الرمد المؤلم ولا غيره من المرض، بل ذم الله قوماً لا يتألمون ولا يجدون للبأساء وقعاً فذمهم بقوله تعالى: «وَلَقَدْ أَخَذْنَاهُم بِالْعَذَابِ فَمَا اسْتَكَانُوا لِرَبِّهِمْ وَمَا يَتَضَرَّعُونَ»، فمن لم يستكن ولم يذل للمؤلمات ويظهر الجزع منها ويسأل ربه إقالة العثرة منها فهو جبار عنيد بعيد عن طرق الخير، فالمقضيّ والمقدور أثر القضاء والقدر، فالواجب هو الرّضا بالقضاء فقط، أما المقضيّ فقد يكون الرّضا به واجباً كالإيمان بالله تعالى والواجبات إذا قدرها الله تعالى للإنسان، وقد يكون مندوباً في المندوبات وحراماً في المحرمات، ومباحاً في المباحات، وأما الرّضا بالقضاء فواجب على الإطلاق، وقد «حزن رسول الله صلى الله عليه وسلم لموت ولده إبراهيم ورمي السيّدة عائشة بما رميت به» إلى غير ذلك ; لأنّ هذا كله من المقضيّ، والأنبياء عليهم السلام طباعهم تتألم وتتوجع من المؤلمات وتسرّ بالمسرات، وإذا كان الرّضا بالمقضيّ به غير حاصل في طبائع الأنبياء فغيرهم بطريق الأولى … انتهى.

 

•‌‌ فقه الابتلاء بالضراء:

•‌‌ تعريف البلاء والابتلاء والمصيبة والعقوبة:

البلاء والابتلاء كلاهما امتحان واختبار، ويكونان بالسراء والضراء، ويقعان شرعا وقدرا، فالتكاليف الشرعية فعلا كانت أو تركاً، وكذلك مقادير الخير والشر، كل ذلك مما يُمتحن به العبد، وإن كان استعمال الابتلاء في الشر والضر والأمور الشاقة أغلب. قال العسكري في (الفروق اللغوية) في الفرق بين الابلاء والابتلاء: هما بمعنى الامتحان والاختبار اهـ. قال الخازن: الابتلاء يكون في الخير وفي الشر، وإذا أطلق كان في الشر غالباً، فإذا أريد به الخير قيد به. اهـ.

وقال ابن عاشور في (التحرير والتنوير): لما كان الاختبار يوجب الضجر والتعب سمي بلاء، كأنه يُخلِق النفس، ثم شاع في اختبار الشر لأنه أكثر إعناتا للنفس،
•‌‌ ফয়সালার (قضاء) প্রতি সন্তুষ্ট থাকার বিধান:

মহান আল্লাহর ফয়সালার (قضاء) প্রতি সন্তুষ্ট থাকার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। আমরা সেই ফয়সালার (قضاء) প্রতি সন্তুষ্ট থাকি যা মহান আল্লাহর কাজ; কিন্তু যা ফয়সালা করা হয়েছে (المقضي) এবং যা বান্দার কাজ, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। যদি তা আল্লাহর পছন্দনীয় কাজ হয়—যেমন আনুগত্য এবং ইমান—তবে আমরা তাতে সন্তুষ্ট হই। আর যদি তা আল্লাহর পছন্দনীয় না হয়—যেমন পাপাচার—তবে আমরা তাতে সন্তুষ্ট হই না।

কারাফি বলেন: জেনে রাখুন, ফয়সালার (قضاء) প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) হারাম (حرام) এবং ফয়সালার (قضاء) প্রতি সন্তুষ্ট থাকা সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) ওয়াজিব (واجب); তবে 'যা ফয়সালা করা হয়েছে' (المقضي) তার বিষয়টি ভিন্ন। অতএব, কোনো ব্যক্তি যদি রোগে আক্রান্ত হয় এবং স্বভাবজাত কারণেই সেই রোগের কারণে কষ্ট পায়, তবে এটি ফয়সালার (قضاء) প্রতি অসন্তুষ্টি নয়, বরং এটি 'যা ফয়সালা করা হয়েছে' (المقضي) তার প্রতি অসন্তুষ্টি। আমাদের এমন নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে আমরা বিপদ-আপদ, দুর্যোগ এবং কষ্টদায়ক ঘটনায় আনন্দিত বোধ করব। শরিয়ত কাউকে তার স্বভাববিরুদ্ধ কোনো বিষয়ে বাধ্য করেনি। চোখের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেই কষ্টদায়ক রোগ বা অন্য কোনো অসুস্থতাকে ভালো মনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়ের নিন্দা করেছেন যারা দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত হয় না এবং বিপদের প্রভাব অনুভব করে না। তাদের নিন্দা করে মহান আল্লাহ বলেন: «وَلَقَدْ أَخَذْنَاهُم بِالْعَذَابِ فَمَا اسْتَكَانُوا لِرَبِّهِمْ وَمَا يَتَضَرَّعُونَ» (আমি তাদেরকে আযাব দিয়ে পাকড়াও করলাম, তবুও তারা তাদের রবের প্রতি বিনীত হলো না এবং তারা অনুনয়-বিনয়ও করে না)। সুতরাং যে ব্যক্তি বিনীত হয় না, কষ্টদায়ক বিষয়ে নিজেকে হীন মনে করে না, অস্থিরতা প্রকাশ করে না এবং তার রবের কাছে তা থেকে মুক্তি প্রার্থনা করে না, সে তো উদ্ধত ও অবাধ্য এবং কল্যাণের পথ থেকে দূরে। যা ফয়সালা করা হয়েছে (المقضي) এবং যা নির্ধারিত করা হয়েছে (المقدور) তা হলো ফয়সালা (قضاء) ও তাকদিরের (قدر) ফলাফল। সুতরাং কেবল ফয়সালার (قضاء) প্রতি সন্তুষ্ট থাকা ওয়াজিব (واجب)। আর 'যা ফয়সালা করা হয়েছে' (المقضي) তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা কখনো ওয়াজিব (واجب) হতে পারে, যেমন আল্লাহর প্রতি ইমান আনা এবং সেই ওয়াজিব (واجب) বিধানসমূহ যা আল্লাহ মানুষের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আবার পছন্দনীয় (مندوب) কাজের ক্ষেত্রে তা পছন্দনীয় (مندوب), হারামের (حرام) ক্ষেত্রে তা হারাম (حرام) এবং বৈধ (مباح) কাজের ক্ষেত্রে তা বৈধ (مباح) হতে পারে। পক্ষান্তরে, ফয়সালার (قضاء) প্রতি সন্তুষ্ট থাকা সাধারণভাবে ওয়াজিব (واجب)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুতে এবং মা আয়েশার প্রতি যে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল তাতে ব্যথিত হয়েছিলেন; কারণ এসবই ছিল 'যা ফয়সালা করা হয়েছে' (المقضي) এর অন্তর্ভুক্ত। নবিগণের (আলাইহিমুস সালাম) স্বভাবও কষ্টদায়ক বিষয়ে ব্যথিত হয় এবং আনন্দের বিষয়ে আনন্দিত হয়। যদি 'যা ফয়সালা করা হয়েছে' (المقضي) তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা নবিগণের স্বভাবের মধ্যেই না থাকে, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে তা না থাকা অধিক যুক্তিসঙ্গত... সমাপ্ত।

 

•‌‌ বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষার (ابتلاء) ফিকহ:

•‌‌ বালা (بلاء), ইবতিলা (ابتلاء), মুসিবত এবং শাস্তির সংজ্ঞা:

বালা (بلاء) এবং ইবতিলা (ابتلاء) উভয়ই হলো পরীক্ষা (امتحان) ও যাচাই (اختبار)। এগুলো সুখ এবং দুঃখ—উভয় মাধ্যমেই হতে পারে এবং শরিয়ত ও তাকদির উভয়ভাবেই সংঘটিত হয়। শরিয়তের বিধিবিধান পালন করা বা বর্জন করা, তেমনিভাবে ভালো বা মন্দের তাকদির—এ সবই এমন বিষয় যার মাধ্যমে বান্দাকে পরীক্ষা (امتحان) করা হয়। যদিও 'ইবতিলা' (ابتلاء) শব্দটি মন্দ, ক্ষতিকর এবং কষ্টদায়ক বিষয়ের ক্ষেত্রেই অধিক ব্যবহৃত হয়। আসকারি আল-ফুরুক আল-লুগাভিয়্যাহ গ্রন্থে ইবলা এবং ইবতিলার মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে বলেন: এ দুটি পরীক্ষা (امتحان) ও যাচাই (اختبار) অর্থেই ব্যবহৃত হয়। খাজিন বলেন: ইবতিলা (ابتلاء) ভালো এবং মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই হয়; তবে সাধারণত এটি মন্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যদি এর দ্বারা ভালো কিছু বোঝানো হয়, তবে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়। সমাপ্ত।

ইবনে আশুর আত-তাহরির ওয়াত-তানভির গ্রন্থে বলেন: যেহেতু পরীক্ষা (اختبار) বিরক্তি ও ক্লান্তি সৃষ্টি করে, তাই একে বালা (بلاء) বলা হয়; যেন এটি প্রাণকে জীর্ণ করে ফেলে। পরবর্তীতে এটি মন্দের পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রচলিত হয়ে যায়, কারণ তা প্রাণের জন্য অধিক কষ্টদায়ক।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأشهر استعماله إذا أطلق أن يكون للشر، فإذا أرادوا به الخير احتاجوا إلى قرينة أو تصريح .. فيطلق غالبا على المصيبة التي تحل بالعبد لأن بها يختبر مقدار الصبر والأناة اهـ.

ويقول الإمام البخاري في صحيحه: الابتلاء والتمحيص من بلوته ومحصته أي استخرجت ما عنده، يبلو يختبر، (مبتليكم) مختبركم، وأما قوله بلاء عظيم (فهو) النعم، وهي من أبليته، وتلك من ابتليته. انتهى.

قال الحافظ في الفتح: والمراد به الاختبار، ولهذا قال: هو من بلوته إذا استخرجت ما عنده، واستشهد بقوله نبلو أي نختبر، ومبتليكم أي مختبركم، ثم استطرد فقال: وأما قوله: بلاء من ربكم عظيم أي نعيم، وهو من ابتليته إذا أنعمت عليه، والأول من ابتليته إذا امتحنته .. إلى أن قال: وتحرير ذلك أن لفظ البلاء من الأضداد، يطلق ويراد به النعمة، ويطلق ويراد به النقمة، ويطلق أيضاً على الاختبار، ووقع ذلك كله في القرآن، كقوله تعالى: بلاء حسناً فهذا من النعمة والعطية، وقوله بلاء عظيم فهذا من النقمة، ويحتمل أن يكون من الاختبار، وكذلك قوله ولنبلونكم حتى نعلم المجاهدين منكم، والابتلاء بلفظ الافتعال يراد به النقمة والاختبار أيضاً. انتهى كلام الحافظ، ومنه يعلم المراد.

فالبلاء والابتلاء معناهما الاختبار والامتحان كما ذكرنا، قال في النهاية: والمعروف أن الابتلاء يكون في الخير والشر معا من غير فرق بين فعليهما، ومنه قوله تعالى: وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً … {الأنبياء:35}، ومنه الحديث: من أبتلي فذكر فقد شكر … والابتلاء في الأصل الاختبار والامتحان، يقال بلوته وأبليته وابتليته. ومنه حديث كعب بن مالك: ما علمت أحداً أبلآه الله أحسن مما أبلاني. ومنه الحديث: اللهم لا تبلنا إلا بالتي هي أحسن أي لا تمتحنا ....

وفي فتح القدير للشوكاني، عند تفسير قول الله تعالى: إن هذا لهو البلاء المبين قال: البلاء والابتلاء: الاختبار والمعنى: إن هذا هو الاختبار الظاهر حيث اختبره الله في طاعته بذبح ولده …

وأما المصيبة فهي تُقال لكل ما أصاب الإنسان من نوائب الدهر، قال في لسان العرب: والصابة والمصيبة: ما أصابك من الدهر.

وأما العقوبة فهي الجزاء على الذنب ، وقد تكون معنوية كظلمة القلب وعدم انتفاعه بالمواعظ ونحو ذلك وقد تكون العقوبة حسية كالأقدار المؤلمة التي تصيب العبد الظالم لنفسه.
এই শব্দের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যবহার যখন সাধারণভাবে হয়, তখন তা অকল্যাণের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। যদি এর দ্বারা কল্যাণ বোঝানো উদ্দেশ্য হয়, তবে প্রেক্ষাপট বা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে। তাই এটি সাধারণত বান্দার ওপর আপতিত বিপদ-আপদ (مصيبة) এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কারণ এর মাধ্যমে ধৈর্য ও স্থৈর্যের পরীক্ষা (اختبار) নেওয়া হয়।

ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে বলেন: 'আল-ইবতিলা' ও 'আত-তামহিস' এসেছে 'বালাউতুহু' ও 'মাহহাসতুহু' থেকে, যার অর্থ হলো—আমি তার কাছে যা আছে তা বের করে এনেছি। 'ইয়াবলু' অর্থ পরীক্ষা (اختبار) করা। 'মুবতালিকুম' (مبتليكم) অর্থ তোমাদের পরীক্ষাকারী। আর আল্লাহর বাণী 'বলাউন আজিম' (بلاء عظيم) দ্বারা নেয়ামত বা অনুগ্রহ বোঝানো হয়েছে, যা 'আবলাইতুহু' থেকে উদ্গত; আর পূর্বেরটি 'িবতালাইতুহু' থেকে। সমাপ্ত।

হাফিজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারিতে বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা (اختبار)। এজন্যই তিনি (ইমাম বুখারি) বলেছেন: এটি 'বালাউতুহু' থেকে এসেছে, যখন তার নিকট যা আছে তা বের করে আনা হয়। তিনি প্রমাণ হিসেবে আল্লাহর বাণী 'নাবলু' অর্থাৎ আমরা পরীক্ষা (نختبر) করি এবং 'মুবতালিকুম' অর্থাৎ তোমাদের পরীক্ষাকারী (مختبركم) উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বিশদভাবে বলেন: আর আল্লাহর বাণী 'বলাউন মির রব্বিকুম আজিম' এর অর্থ হলো নেয়ামত, যা 'িবতালাইতুহু' থেকে এসেছে যার অর্থ আমি তাকে নেয়ামত দান করেছি। আর প্রথমটি এসেছে 'িবতালাইতুহু' থেকে যার অর্থ আমি তাকে পরীক্ষা (امتحنته) করেছি... পরিশেষে তিনি বলেন: এর সারকথা হলো, 'বালা' শব্দটি বিপরীতার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত; এটি ব্যবহৃত হয়ে নেয়ামত বা অনুগ্রহ বোঝাতে পারে, আবার আযাব বা শাস্তি (نقمة) বোঝাতেও ব্যবহৃত হতে পারে। এটি পরীক্ষা (اختبار) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। কুরআনে এর সবকটি প্রয়োগই দেখা যায়, যেমন আল্লাহর বাণী: 'বলাআন হাসানা'—এখানে এটি নেয়ামত ও দান অর্থে এসেছে। আবার 'বলাউন আজিম'—এখানে এটি শাস্তি (نقمة) অর্থে এসেছে, আবার পরীক্ষা (اختبار) হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে। একইভাবে আল্লাহর বাণী: 'অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব যাতে আমি তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদকারীদের জেনে নিতে পারি'। 'ইবতিলা' শব্দটি 'ইফতি'আল' ওজনে শাস্তি (نقمة) ও পরীক্ষা (اختبار) উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। হাফিজের বক্তব্য এখানেই শেষ এবং এখান থেকেই প্রকৃত উদ্দেশ্য জানা যায়।

সুতরাং 'বালা' ও 'ইবতিলা' এই দুটির অর্থ হলো পরীক্ষা (اختبار) ও যাচাই (امتحان), যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি সুবিদিত যে, 'ইবতিলা' ভালো ও মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই সমভাবে ব্যবহৃত হয়, এদের ক্রিয়াপদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা (فتنة) করে থাকি...' {আল-আম্বিয়া: ৩৫}। হাদিস থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়: 'যাকে পরীক্ষা (أبتلي) করা হলো এবং সে তা স্মরণ রাখল, তবে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল...'। মূলত 'ইবতিলা' অর্থ হলো পরীক্ষা (اختبار) ও যাচাই (امتحان)। এটি 'বালাউতুহু', 'আবলাইতুহু' ও 'িবতালাইতুহু' সবভাবেই বলা হয়। কাব বিন মালিকের হাদিসেও এর উল্লেখ আছে: 'আল্লাহ আমাকে যে উত্তম নেয়ামত দান করেছেন (أبلآه), তেমন আর কাউকে দান করতে আমি দেখিনি।' আরেকটি হাদিসে এসেছে: 'হে আল্লাহ! আপনি আমাদের কেবল উত্তম বিষয়ের মাধ্যমেই পরীক্ষা (لا تبلنا) করবেন', অর্থাৎ আমাদের কঠিন পরীক্ষায় (امتحان) ফেলবেন না...

শওকানির ফাতহুল কাদির গ্রন্থে আল্লাহর বাণী: 'নিশ্চয় এটি একটি স্পষ্ট পরীক্ষা'—এর তাফসির প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: 'বালা' ও 'ইবতিলা' অর্থ হলো পরীক্ষা (اختبار)। এর অর্থ: এটি একটি প্রকাশ্য পরীক্ষা (اختبار) যেখানে আল্লাহ তাকে স্বীয় পুত্রের জবেহ করার মাধ্যমে স্বীয় আনুগত্যের পরীক্ষা (اختبار) নিয়েছেন...

আর মুসিবত (مصيبة) বলা হয় মানুষের ওপর আপতিত মহাকালের প্রতিটি বিপর্যয় বা বিপদ-আপদকে। 'লিসানুল আরব' অভিধানে বলা হয়েছে: 'আস-সাবাহ' ও 'আল-মুসিবাহ' (مصيبة) হলো সময়ের পরিক্রমায় তোমার ওপর যা কিছু আপতিত হয়।

অন্যদিকে শাস্তি (عقوبة) হলো পাপের প্রতিফল। এটি আত্মিক বা পরোক্ষ হতে পারে, যেমন অন্তরের অন্ধকারাচ্ছন্নতা এবং উপদেশ দ্বারা উপকৃত না হওয়া ইত্যাদি। আবার শাস্তি (عقوبة) প্রত্যক্ষ বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যও হতে পারে, যেমন নিজের প্রতি জুলুমকারী বান্দার ওপর আপতিত বেদনাদায়ক তাকদিরের ফয়সালাসমূহ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد تبين من هذه التعريفات أن البلاء والابتلاء أعم من المصيبة من وجه وأخص من وجه آخر، فالبلاء والابتلاء أعم من المصيبة من وجه لأنهما يكونان في السراء والضراء، وأما المصيبة فلا تكون إلا في الضراء، ولكن في ذات الوقت البلاء والابتلاء أخص من المصيبة من وجه آخر لأن المصيبة تصيب المكلفين وغيرهم كالأطفال بينما البلاء والابتلاء لا يكون إلا في حق المكلفين.

وعلى هذا فالمرء إذا اختبر بنعمة أنعم الله عليه بها لتبين ما سيكون حاله من شكر لتلك النعمة أو كفران لها، فهذا إنما يوصف بأنه بلاء وابتلاء، ولا يمكن وصفه بأنه مصيبة، وأما إذا اختبر ببعض الفواجع والدواهي لتبين ما سيكون عليه حاله من الصبر أو الجزع، فهذا يمكن أن يوصف بأنه مصيبة وبلاء واختبار.

 

•‌‌ معالم العقوبة:

المعلم الأول: لا عقوبة من الله عز وجل إلا بذنب والأدلة على ذلك أكثر من أن تُحصر وأشهر من أن تُذكر.

المعلم الثاني: العقوبة تنقسم إلى قسمين من حيث الصورة:

القسم الأول: عقوبة ظاهرة حسية وهي ما كانت في قالب ضراء.

القسم الثاني: عقوبة خفية معنوية وهي ما كانت في قالب سراء في الحال وإن كان مآلها الضراء لا محالة باعتبار العاقبة ، فكما أن العقوبة الظاهرة تكون بالضراء فقد تكون بقالب سراء ومن ذلك عقوبة المُعرض عن ربه بإقبال الدنيا عليه استدراجاً له وعقوبته بوحشة في قلبه حين يذنب وعقوبته بإتباع السيئة بسيئة أخرى.

المعلم الثالث: العقوبة تنقسم إلى قسمين من حيث المقاصد:

القسم الأول: عقوبة مخففة وتسمى الكفارة وهي العقوبة الناتجة عن محبة الله للعبد وإحسانه إليه من حيث العاقبة وذلك كالعقوبات التي تكون كفارة للمؤمن كقوله تعالى (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ) وقوله (وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ) والمقصود بالمصيبة هنا هي المصائب الجارية مجرى العقوبة والجزاء على الذنب لا مُطلق المصيبة وقول الرسول عليه الصلاة والسلام "ما يصيب المسلم من هم، ولا حزن، ولا وصب، ولا نصب، ولا أذى حتى الشوكة يشاكها إلا كفر الله بها من خطاياه" رواه مسلم. وقول الرسول الله صلى الله عليه وسلم (لا يزال البلاء بالمؤمن والمؤمنة في جسده أو في ماله أو في ولده حتى يلقى الله سبحانه وما عليه خطيئة) رواه أحمد في مسنده عن أبي هريرة ، ومن العقوبة المخففة العقوبة التي يُراد منها التنبيه والتذكير لعل المسيء يتوب وهذه عامة للمسلم بإطلاق ولغير

এই সংজ্ঞাগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, পরীক্ষা (بلاء) এবং আজমায়েশ (ابتلاء) একদিক থেকে বিপদ (مصيبة) অপেক্ষা ব্যাপকতর এবং অন্য দিক থেকে আরও সংকীর্ণ। পরীক্ষা (بلاء) ও আজমায়েশ (ابتلاء) একদিক থেকে বিপদ (مصيبة) অপেক্ষা ব্যাপক হওয়ার কারণ হলো, এ দুটি সুখ এবং দুঃখ উভয় অবস্থাতেই হয়ে থাকে; পক্ষান্তরে বিপদ (مصيبة) কেবল দুঃখের সময়েই আপতিত হয়। কিন্তু একই সঙ্গে পরীক্ষা (بلاء) ও আজমায়েশ (ابتلاء) অন্য দিক থেকে বিপদ (مصيبة) অপেক্ষা সংকীর্ণ, কারণ বিপদ (مصيبة) শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) ব্যক্তি এবং অন্যদেরকেও (যেমন শিশু) স্পর্শ করে, অথচ পরীক্ষা (بلاء) ও আজমায়েশ (ابتلاء) কেবল দায়বদ্ধ (مكلف) ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

এর প্রেক্ষিতে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নেয়ামতের মাধ্যমে পরীক্ষিত হন যা আল্লাহ তাকে দান করেছেন—যাতে স্পষ্ট হয় যে সেই নেয়ামতের বিনিময়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন নাকি অকৃতজ্ঞ হবেন—তবে একে কেবল পরীক্ষা (بلاء) ও আজমায়েশ (ابتلاء) হিসেবেই অভিহিত করা হবে, একে বিপদ (مصيبة) বলা সম্ভব নয়। কিন্তু যদি তাকে কোনো শোকাবহ ঘটনা বা দুর্যোগের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় যাতে তার ধৈর্য বা অস্থিরতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়, তবে তাকে বিপদ (مصيبة), পরীক্ষা (بلاء) ও আজমায়েশ (ابتلاء) হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে।

 

•‌‌ শাস্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ:

প্রথম বৈশিষ্ট্য: আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো শাস্তিই পাপাচার ব্যতীত আসে না এবং এর প্রমাণসমূহ গণনার অতীত এবং সুপরিচিত।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: রূপ বা প্রকৃতির দিক থেকে শাস্তিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

প্রথম ভাগ: প্রকাশ্য বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য শাস্তি, যা দুঃখ-কষ্টের আদলে হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় ভাগ: গোপন বা আত্মিক শাস্তি, যা তাৎক্ষণিকভাবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের আদলে আসে, যদিও পরিণামের দিক থেকে তা অনিবার্যভাবে দুঃখজনক হয়ে থাকে। যেমন প্রকাশ্য শাস্তি দুঃখের মাধ্যমে হয়, তেমনি তা সুখের আবরণেও হতে পারে; যার উদাহরণ হলো বিমুখ ব্যক্তির প্রতি অবকাশ প্রদানের (استدراج) মাধ্যমে দুনিয়া অবারিত করে দেওয়া, গুনাহ করার পর হৃদয়ে একাকিত্ব ও অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া এবং এক পাপের ধারাবাহিকতায় অন্য পাপে লিপ্ত হওয়া।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: উদ্দেশ্যের দিক থেকে শাস্তি দুই প্রকার:

প্রথম ভাগ: লঘু শাস্তি, যাকে কাফফারা (كفارة) বলা হয়। এটি এমন শাস্তি যা বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা এবং পরিণাম বিবেচনা করে তাঁর অনুগ্রহের ফলস্বরূপ হয়ে থাকে। যেমন মুমিনের পাপমোচনকারী বা কাফফারা (كفارة) স্বরূপ শাস্তিগুলো। আল্লাহ তাআলা বলেন, "যে কেউ মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে" এবং তাঁর বাণী: "তোমাদের ওপর যেসব বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদেরই হাতের কামাই; আর তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।" এখানে বিপদ (مصيبة) বলতে কেবল সেই সব বিপদকে বোঝানো হয়েছে যা গুনাহের শাস্তি ও প্রতিফল হিসেবে আসে, ঢালাওভাবে সকল বিপদকে নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "মুসলিম ব্যক্তি যে কোনো দুশ্চিন্তা, শোক, রোগ-ব্যাধি, ক্লান্তি এমনকি যে সামান্য কাঁটার আঘাত পায়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন: "মুমিন নর-নারীর জীবন, সম্পদ ও সন্তানের ওপর পরীক্ষা (بلاء) চলতেই থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে তার কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না।" এটি আহমদ তার মুসনাদ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। লঘু শাস্তির অন্তর্ভুক্ত হলো সেই শাস্তি যার উদ্দেশ্য হলো সতর্ক করা এবং স্মরণ করিয়ে দেওয়া, যাতে অপরাধী তওবা করে; এটি সাধারণভাবে সকল মুসলিম এবং অন্যদের জন্য...

(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ১৯)
المسلم في الحياة الدنيا ومنها قوله تعالى "ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ".

القسم الثاني: العقوبة المغلظة وهذه تكون ناتجة عن غضب الرب عز وجل على عبده ومقته وبغضه له أعاذنا الله من ذلك ، وهذه تكون لإتلاف العبد ومحقه وقطع دابره وهذه للكفار والمنافقين والمشركين.

 

•‌‌ الفرق بين المصيبة والعقوبة:

الفرق الأول: كل عقوبة بذنب وليس كل مصيبة بذنب فقد تكون المصيبة بذنب فتصبح عقوبة وقد لا تكون ، وبالتالي العقوبة يُشترط لها أن تكون جزاءً على ما مضى أي بذنب ماضي بخلاف المصيبة فلا يُشترط لها ذلك.

الفرق الثاني: العقوبة خاصة بالمكلفين أما المصيبة فقد يُصاب غير المكلف كالأطفال والبهائم ونحو ذلك.

قال الشيخ مرعي الكرمي رحمه الله، في كتابه " دفع الشبهة والغرر عمن يحتج على فعل المعاصي بالقدَر " قال: أنا نراه تعالى يؤلم الأطفال إلى الغاية، وكذلك بقية الحيوانات التي لا تكليف لها أصلاً. ولعل الجواب: أن هذا ليس من باب العقاب؛ لأن العقاب أن تقع تلك العقوبة في مقابلة الذنب بخصوصه، وأما هذا فلعله من باب الابتلاء والاعتبار: " فاعتبروا يا أولي الأبصار "، ومما يدل على أن هذا ليس من باب العقوبة أن الله سبحانه وتعالى لا يُعاقب أنبياءه ورسله الكرام، مع أنا نجدهم من أشد الناس بلاءً، وفيهم من قُتل ونُشر بالمنشار، فظهر أن جهة البلاء غير جهة العقوبة؛ لأن العقوبة هي التي تقع في مقابلة الذنب لما مر، لقوله تعالى: (ذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْسِبُونَ)، وقوله تعالى: (هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ)، وقوله تعالى: (ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ يَدَاكَ)، وأما ما يقع لا في مقابلة ذنب؛ فهو بلاء وابتلاء من الله تعالى لعباده، لكن يبقى الكلام في نفس هذه الحكمة الكلية في هذه الحوادث، فهذه ليس على الناس معرفة أسرارها الحقيقية، ويكفيهم التسليم لمن قد علموا أنه بكل شئ عليم، وأنه أرحم الراحمين ". … انتهى.

الفرق الثالث: المصائب تختلف عن العقوبات من حيث الدفع والرفع؛ فالمصيبة إذا لم تكن عقوبة تحتاج إلى الاستعانة بالله ودفعها بالسنن الطبيعية، والصبر والتقوى، والرضا وما إلى ذلك من أمور، أما العقوبة فتحتاج بالإضافة إلى ما سبق إلى التوبة والاستغفار والاستقامة.

الفرق الرابع: المصيبة لا تكون إلا ضراء وأما العقوبة فهي لا تقتصر على العقوبات الظاهرة الحسية المادية والتي تكون في قالب ضراء بل قد تكون في قالب
পার্থিব জীবনে একজন মুসলিমের ওপর আপতিত বিষয়াবলি, যার অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর এই বাণী: "মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।"

দ্বিতীয় অংশ: কঠোর শাস্তি (عقوبة مغلظة), যা তার বান্দার প্রতি মহিমান্বিত রবের ক্রোধ, ঘৃণা ও অসন্তুষ্টির ফলে হয়ে থাকে—আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন। এটি মূলত বান্দাকে ধ্বংস করা, নিশ্চিহ্ন করা এবং সমূলে উৎপাটিত করার জন্য হয়ে থাকে, আর তা মূলত কাফির, মুনাফিক এবং মুশরিকদের জন্য।

 

•‌‌ বিপদ (مصيبة) এবং শাস্তির (عقوبة) মধ্যে পার্থক্য:

প্রথম পার্থক্য: প্রতিটি শাস্তি (عقوبة) পাপের কারণে হয়ে থাকে, কিন্তু প্রতিটি বিপদ (مصيبة) পাপের কারণে হয় না। কখনো বিপদ (مصيبة) পাপের কারণে হতে পারে এবং তখন তা শাস্তিতে (عقوبة) পরিণত হয়, আবার কখনো তা হয় না। ফলস্বরূপ, শাস্তির (عقوبة) জন্য শর্ত হলো তা বিগত কোনো পাপের প্রতিদান বা বিনিময় হিসেবে হতে হবে, পক্ষান্তরে বিপদের (مصيبة) জন্য এই শর্ত প্রযোজ্য নয়।

দ্বিতীয় পার্থক্য: শাস্তি (عقوبة) কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত (مكلف) ব্যক্তিদের সাথে নির্দিষ্ট, কিন্তু বিপদের (مصيبة) সম্মুখীন দায়িত্বহীনরাও (غير مكلف) হতে পারে, যেমন শিশু, চতুষ্পদ জন্তু এবং অনুরূপ অন্যরা।

শায়খ মারয়ী আল-কারমী (রহিমাহুল্লাহ) তার 'দাফউশ শুবহাতি ওয়াল গারার আম্মান ইয়াহতাযজু আলা ফয়লিল মাআসি বিল কাদার' গ্রন্থে বলেছেন: "আমরা দেখি যে মহান আল্লাহ শিশুদের চরমভাবে ব্যথিত করেন, তেমনি অন্যান্য পশুদেরও, যাদের আসলে কোনো শরীয়াহগত দায়িত্ব (تكليف) নেই। এর সম্ভাব্য উত্তর হলো: এটি শাস্তির (عقاب) অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ শাস্তি (عقاب) হলো যা নির্দিষ্ট কোনো পাপের বিনিময়ে সংঘটিত হয়। আর এটি সম্ভবত পরীক্ষা (ابتلاء) এবং শিক্ষা গ্রহণের (اعتبار) অন্তর্ভুক্ত: 'অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো'। এটি যে শাস্তির (عقوبة) অন্তর্ভুক্ত নয় তার অন্যতম প্রমাণ হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সম্মানিত নবী ও রাসূলদের শাস্তি (يعاقب) দেন না, অথচ আমরা দেখি যে তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার (بلاء) সম্মুখীন হয়েছিলেন; তাঁদের মধ্যে কাউকে হত্যা করা হয়েছে আবার কাউকে করাত দিয়ে চিরে ফেলা হয়েছে। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, পরীক্ষার (بلاء) দিক এবং শাস্তির (عقوبة) দিক এক নয়। কারণ শাস্তি (عقوبة) হলো তা যা পাপের বিনিময়ে ঘটে থাকে যেমনটি আগে আলোচিত হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: 'তোমরা যা অর্জন করছিলে তা আস্বাদন করো', এবং তাঁর বাণী: 'তোমরা যা করতে কেবল তারই প্রতিফল কি তোমাদের দেওয়া হবে না?', এবং তাঁর বাণী: 'এটা তোমার কৃতকর্মের ফল'। আর যা কোনো পাপের বিনিময়ে ঘটে না, তা হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য পরীক্ষা (بلاء) ও আজমাইশ (ابتلاء)। তবে এই ঘটনাসমূহের প্রকৃত হিকমত বা প্রজ্ঞা নিয়ে যে কথা থেকে যায়, তার প্রকৃত রহস্য জানা মানুষের জন্য আবশ্যক নয়। তাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তারা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করবে যাকে তারা জানে যে তিনি প্রতিটি বিষয়ে সর্বজ্ঞ এবং তিনি পরম দয়ালু।" … সমাপ্ত।

তৃতীয় পার্থক্য: প্রতিরোধ করা এবং দূর করার দিক থেকে বিপদসমূহ (مصائب) শাস্তিসমূহ (عقوبات) থেকে ভিন্ন। বিপদ (مصيبة) যদি শাস্তি (عقوبة) না হয়ে থাকে তবে তা দূর করার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা, প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন, ধৈর্য, তাকওয়া, সন্তুষ্টি এবং এই জাতীয় বিষয়ের প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে শাস্তির (عقوبة) ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি তাওবা (توبة), ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) এবং ইস্তিকামাতের (استقامة) প্রয়োজন হয়।

第四 পার্থক্য: বিপদ (مصيبة) কেবল ক্ষতিকর বা দুঃখজনকই হয়ে থাকে, কিন্তু শাস্তি (عقوبة) কেবল প্রকাশ্য, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং বস্তুগত শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় যা দুঃখ বা কষ্টের রূপ ধরে আসে, বরং তা হতে পারে...
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২০)
سراء كبعض العقوبات المعنوية الخفية ومن ذلك استدراج العبد الفاجر بالنعم واتباع السيئة بسيئة أخرى وهذه أعظم العقوبات لمن نور الله قلبه بالحكمة ، وقد روي أن رجلاً من بني إسرائيل قال: يارب ما أكثر ما أعصيك ولا تعاقبني فأوحى الله لنبي ذلك الزمان أن قل لذلك العبد: ما أكثر ما أعاقبك ولا تشعر بهذا.

 

•‌‌ الفرق بين الابتلاء والعقوبة:

الفرق الأول: من حيث زمن الوقوع، فإن الابتلاء يكون في الدنيا، وأما العقاب فإنه يكون في الدنيا والبرزخ والآخرة.

الفرق الثاني: من حيث السبب والباعث ، فإن الابتلاء يكون لاختبار حال الإنسان، كما في قوله سبحانه "لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً" [الملك:2]. أو يكون، أو رفعة في الدرجات، أما العقاب فلا يكون إلا جزاءً على الذنب.

الفرق الثالث: الابتلاء عام للمكلفين من الجن والإنس فهو يقع على الأنبياء والصالحين، كما في الحديث "أشد الناس بلاءً الأنبياء ثم الأمثل فالأمثل … ". أما العقاب فإنه خاص إذ يقع على أهل الذنوب والمعاصي فقط.

 

•‌‌ الفرق بين المصيبة والابتلاء:

الفرق الأول: المصيبة لا تكون إلا ضراء أما الابتلاء فقد يكون بالضراء وقد يكون بالسراء.

الفرق الثاني: المصيبة تكون في الدنيا والبرزخ والآخرة وأما الابتلاء فلا يكون إلا في الدنيا.

الفرق الثالث: الابتلاء خاص بالمكلفين أما المصيبة فهي عامة تشمل المكلفين وغيرهم كالبهائم والأطفال.

 

•‌‌ الفرق بين المصائب العامة والخاصة:

الغالب أن المصائب العامة هي عقوبات أما المصائب الخاصة التي تصيب الأفراد وآحاد الناس، فهذه قد تكون فعلاً عقوبة، وقد تكون ابتلاء من الله-عز وجل لرفعة العبد.
সুখ-সাচ্ছন্দ্য অনেক সময় কিছু প্রচ্ছন্ন আত্মিক শাস্তির ন্যায় হয়ে থাকে। এর একটি উদাহরণ হলো পাপাচারী বান্দাকে নেয়ামত প্রদানের মাধ্যমে ক্রমশ ঢিলে দেওয়া (استدراج) এবং এক পাপের অনুগামী হিসেবে অন্য পাপে লিপ্ত করা। যাদের অন্তরকে আল্লাহ প্রজ্ঞা দ্বারা আলোকিত করেছেন, তাদের জন্য এটিই সর্বাপেক্ষা বড় শাস্তি। বর্ণিত আছে যে, বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি বলেছিল: "হে রব! আমি কতই না আপনার অবাধ্যতা করি, অথচ আপনি আমাকে শাস্তি দেন না।" তখন আল্লাহ সেই জামানার নবীর প্রতি ওহী পাঠালেন যে, সেই বান্দাকে বলো: "আমি তোমাকে কত বেশি শাস্তি দিই, অথচ তুমি তা অনুভব করো না।"

 

•‌‌ পরীক্ষা (ابتلاء) এবং শাস্তির (عقوبة) মধ্যে পার্থক্য:

প্রথম পার্থক্য: সংঘটিত হওয়ার সময়ের দিক থেকে। পরীক্ষা (ابتلاء) কেবল দুনিয়াতে হয়, পক্ষান্তরে শাস্তি (عقوبة) দুনিয়া, বারজাখ এবং পরকালেও হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় পার্থক্য: কারণ ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে। পরীক্ষা (ابتلاء) হয় মানুষের অবস্থা যাচাই করার জন্য, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ" [আল-মুলক: ২]। অথবা এটি মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম হতে পারে। পক্ষান্তরে শাস্তি (عقوبة) কেবল পাপের প্রতিফল হিসেবেই হয়ে থাকে।

তৃতীয় পার্থক্য: পরীক্ষা (ابتلاء) জিন ও ইনসানের অন্তর্ভুক্ত সকল দায়বদ্ধ ব্যক্তির (مکلف) জন্য সাধারণ। এটি নবী ও নেককার ব্যক্তিদের ওপরও আপতিত হয়, যেমন হাদিসে এসেছে: "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার (بلاء) সম্মুখীন হন নবীগণ, তারপর যারা তাঁদের নিকটতর, এরপর যারা তাঁদের নিকটতর … "। পক্ষান্তরে শাস্তি (عقوبة) হলো বিশেষ; কারণ তা কেবল পাপাচারী ও অবাধ্যদের ওপরই আপতিত হয়।

 

•‌‌ বিপদ এবং পরীক্ষার (ابتلاء) মধ্যে পার্থক্য:

প্রথম পার্থক্য: বিপদ কেবল দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমেই হয়, কিন্তু পরীক্ষা (ابتلاء) কখনো দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে, আবার কখনো সুখ-সাচ্ছন্দ্যের মাধ্যমেও হতে পারে।

দ্বিতীয় পার্থক্য: বিপদ দুনিয়া, বারজাখ এবং পরকালে হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষা (ابتلاء) কেবল দুনিয়াতেই হয়ে থাকে।

তৃতীয় পার্থক্য: পরীক্ষা (ابتلاء) কেবল দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (مکلف) জন্য নির্দিষ্ট, কিন্তু বিপদ সবার জন্য ব্যাপক; যা চতুষ্পদ জন্তু এবং শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে।

 

•‌‌ সাধারণ ও বিশেষ বিপদের মধ্যে পার্থক্য:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামষ্টিক বা সাধারণ বিপদগুলো শাস্তি (عقوبة) হিসেবে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে ব্যক্তিবিশেষের ওপর যেসব ব্যক্তিগত বিপদ আপতিত হয়, তা কখনো প্রকৃত অর্থেই শাস্তি হতে পারে, আবার কখনো তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য পরীক্ষাও (ابتلاء) হতে পারে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২১)
•‌‌ أحوال المصيبة في الدنيا:

المصيبة في الدنيا على ثلاث أحوال:

الحال الأولى: أن تكون عقوبة كعقوبة بعض المكلفين المذنبين بالعقوبات.

الحال الثانية: أن تكون ابتلاء كابتلاء الأنبياء عليهم السلام.

الحال الثالثة: أن تكون مصيبة محضة وإن كانت لا تخلو من حكم كالمصائب الواقعة على البهائم والأطفال.

وأما المصيبة في الآخرة والبرزخ فلا تكون إلا عقوبة ، والله أعلم.

 

•‌‌ علاقة المصائب بالذنوب:

لا شك أن الذنوب من أسباب المصائب، ولكن ليس في نصوص الشرع ما يدل على أن المصائب لا تكون إلا بالذنوب، فقد يُصاب بعض الناس لحكم أخرى ، فالمصيبة أعم من العقوبة فقد تكون بذنب وقد تكون بلا ذنب وذلك لسبب مقتض مصلحته أعظم من مراعاة المصلحة العاجلة والخاصة للعبد ويدلك على ما قررناه قوله تعالى عن الموت (فَأَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةُ الْمَوْتِ) فسماه مصيبة وهو يصيب كل إنسان، من أشرف الأنبياء إلى أكفر الخلق، فكل عقوبة بذنب وليست كل مصيبة بذنب، وكذا الابتلاء والبلاء ، قال تعالى (وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً) وقال تعالى (وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ)، وهو كما ترى مما لا تعلق له بالذنب وإنما المصائب أحياناً تكون لمجرد الزيادة في اليقين والرفعة والاختبار، قال تعالى (نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ).

ولا نُنكر أنه قد جاء لفظ "المصيبة" يُراد به العقوبة كما قال تعالى: ((وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ)). كما هي العادة بمجيء العام على معنى بعض أفراده، وقد تقدم أن المصيبة أعم من العقوبة ، وبهذا يتبين لك أن من أسباب المصائب الذنوب، ولكنها ليست السبب الوحيد، فقد يبتلي الله تعالى بعض عباده الصالحين الذين لم يستوجبوا العقاب بذنوبهم، لينالوا أجر الصابرين، وترتفع بذلك درجاتهم، كما قد يصيب الله بعض الأطفال بالمصائب، وهم لا ذنب لهم.

وهنالك مذهب آخر يقول:

أن كل ما أصاب العبد المكلف من المصائب لا يكون إلا بسبب من العبد إما من أصل الشر الذي في نفسه لأنه خلق ظلوماً جهولاً، وإما من الذنب الذي قد اقترفه ، واستدلوا بالحديث الوارد في خطبة الحاجة: (ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا). ومن الأدعية النبوية الصديقية: (أعوذ بك من شر نفسي وشر الشيطان وشركه وأن أقترف على نفسي سوءاً أو أجره إلى مسلم).فالاستعاذة بالله من شرور النفس من جنس الابتلاء والامتحان، وهو تمحيص للشرور الموجودة
•‌‌ দুনিয়ায় মুসিবত (مصيبة)-এর অবস্থাসমূহ:

দুনিয়াতে মুসিবত (مصيبة) তিনটি অবস্থায় হয়ে থাকে:

প্রথম অবস্থা: এটি শাস্তি (عقوبة) হিসেবে হতে পারে, যেমন কিছু গুনাহগার মুকাল্লাফ (مكلف)-এর ওপর আপতিত বিভিন্ন ধরনের শাস্তি (عقوبة)।

দ্বিতীয় অবস্থা: এটি পরীক্ষা (ابتلاء) হিসেবে হতে পারে, যেমন নবী (الأنبياء) আলাইহিমুস সালাম-দের পরীক্ষা (ابتلاء)।

তৃতীয় অবস্থা: এটি নিছক মুসিবত (مصيبة) হতে পারে, যদিও তা হিকমত (حكم) বা প্রজ্ঞা বর্জিত নয়, যেমন চতুষ্পদ জন্তু ও শিশুদের ওপর আপতিত মুসিবত (مصيبة)।

আর আখেরাত ও বারযাখ (البرزخ)-এর মুসিবত (مصيبة) কেবল শাস্তি (عقوبة) হিসেবেই হয়ে থাকে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

 

•‌‌ গুনাহ (الذنوب)-এর সাথে মুসিবত (مصيبة)-এর সম্পর্ক:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে গুনাহ (الذنوب) মুসিবত (مصيبة)-এর অন্যতম কারণ। তবে শরিয়াহ (الشرع)-এর নুসুস (নصوص) বা পাঠ্যপ্রমাণে এমন কিছু নেই যা নির্দেশ করে যে মুসিবত (مصيبة) কেবল গুনাহ (الذنوب)-এর কারণেই হয়ে থাকে। বরং কখনো কখনো অন্য কোনো হিকমত (حكم)-এর কারণেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। সুতরাং মুসিবত (مصيبة) শব্দটি শাস্তি (عقوبة)-এর চেয়ে ব্যাপক (أعم)। কখনো এটি গুনাহ (الذنوب)-এর কারণে হয়, আবার কখনো গুনাহ (الذنوب) ছাড়াই হতে পারে। আর এটি এমন এক অনিবার্য কারণ ও কল্যাণের জন্য হয় যা বান্দার তাৎক্ষণিক ও ব্যক্তিগত কল্যাণের চেয়েও মহান। আমরা যা নির্ধারণ করেছি তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী যা তিনি মৃত্যু সম্পর্কে বলেছেন: "অতঃপর তোমাদের ওপর মৃত্যুর মুসিবত (مصيبة) আপতিত হয়।" এখানে তিনি মৃত্যুকে মুসিবত (مصيبة) হিসেবে নামকরণ করেছেন, অথচ মৃত্যু প্রতিটি মানুষের ওপরই আপতিত হয়—সবচেয়ে সম্মানিত নবী (الأنبياء) থেকে শুরু করে চরম কাফের পর্যন্ত। সুতরাং প্রত্যেক শাস্তি (عقوبة)-ই গুনাহ (الذنوب)-এর কারণে হয়, কিন্তু প্রত্যেক মুসিবত (مصيبة) গুনাহ (الذنوب)-এর কারণে হয় না। একইভাবে ইবতিলা (ابتلاء) এবং বালা (بلاء)-এর বিষয়টিও। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা (فتنة) করি।" তিনি আরও বলেন: "এবং যখন ইব্রাহিমকে তাঁর রব পরীক্ষা (ابتلى) করলেন।" আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, এগুলো গুনাহ (الذنوب)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। বরং কখনো কখনো মুসিবত (مصيبة) কেবল একিন (يقين) বৃদ্ধি, উচ্চমর্যাদা (الرفعة) এবং পরীক্ষার (الاختبار) জন্য হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত (نرفع درجات) করি।"

আমরা এটি অস্বীকার করি না যে "মুসিবত" (مصيبة) শব্দটি কখনো শাস্তি (عقوبة) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের ওপর যেসব মুসিবত (مصيبة) আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তিনি অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন।" এটি মূলত কোনো ব্যাপক (عام) শব্দকে তার বিশেষ কোনো একক বা অর্থের ক্ষেত্রে ব্যবহারের রীতি অনুযায়ী হয়েছে। এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুসিবত (مصيبة) শব্দটি শাস্তি (عقوبة)-এর চেয়ে ব্যাপক (أعم)। এর মাধ্যমে আপনার কাছে স্পষ্ট হলো যে, মুসিবত (مصيبة)-এর অন্যতম কারণ হলো গুনাহ (الذنوب), কিন্তু এটিই একমাত্র কারণ নয়। কখনো মহান আল্লাহ তাঁর এমন সব নেক বান্দাদের পরীক্ষা (يبتلي) করেন যারা তাদের গুনাহের কারণে শাস্তির (العقاب) যোগ্য নন, যেন তারা ধৈর্যশীলদের সওয়াব লাভ করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। যেমন আল্লাহ শিশুদের ওপর মুসিবত (مصيبة) দেন, অথচ তাদের কোনো গুনাহ (ذنب) নেই।

এখানে অন্য একটি মাযহাব বা মতাদর্শ রয়েছে যা বলে:

মুকাল্লাফ (مكلف) বান্দার ওপর যেসব মুসিবত (مصيبة) আপতিত হয়, তার পেছনে বান্দার নিজস্ব কোনো কারণ থাকে। হয় তার নফসের (نفس) ভেতরের মজ্জাগত মন্দ স্বভাবের কারণে—কেননা মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই অতিশয় জালেম ও অজ্ঞ—অথবা তার কৃত কোনো গুনাহ (الذنب)-এর কারণে। তারা খুৎবাতুল হাজাহ-তে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন: "আমরা আমাদের নফসের (أنفسنا) অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এছাড়া নবী (الأنبياء) ও সিদ্দিকগণের দোয়াসমূহেও রয়েছে: "আমি আপনার কাছে আমার নফসের (نفسي) অনিষ্টতা, শয়তানের অনিষ্টতা ও তার শিরক (شركه) থেকে আশ্রয় চাচ্ছি এবং নিজের ওপর কোনো মন্দ কাজ করা বা অন্য কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে আনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।" সুতরাং নফসের (النفس) অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এক প্রকার পরীক্ষা (ابتلاء) ও ইমতিহান (امتحان)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা মূলত বিদ্যমান অনিষ্টতাসমূহের পরিশুদ্ধকরণ (تمحيص)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২২)
في النفوس نفس كل واحد من بنى آدم بلا استثناء وقد لا يسمى هذا النوع عقوبة، لكن السبب بلا شك من العبد، كما قال تعالى: "وَمَا أَصَابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِكَ". ومن الملاحظ هنا، أن سبب الامتحان ليس هو الإيمان والصلاح والتقوى! بل سببه ما يتبقى في النفوس من الشرور ، ولذلك كان لا يزال البلاء بالمؤمن والمؤمنة في جسده وأهله وماله حتى يلقى الله وما عليه خطيئة ، فالأنبياء أشد الناس بلاءً، ليصبح شر النفس عندهم أقل القليل أو عدماً ، هذا والله تعالى أعلم.

 

•‌‌ بيان بأن طاعة الله عز وجل ليست سبب للشؤم والمصائب:

طاعة الله عز وجل ليست سبب للشؤم والمصائب بل السبب هي المعاصي والذنوب قال شيخ الإسلام في الفتاوى: (والمقصود أن ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم ليس سبباً لشيء من المصائب ولا تكون طاعة الله ورسوله قط سبباً لمصيبة بل طاعة الله والرسول لا تقتضى إلا جزاء أصحابها بخيري الدنيا والآخرة. ولكن قد تصيب المؤمنين بالله ورسوله مصائب بسبب ذنوبهم لا بما أطاعوا فيه الله والرسول كما لحقهم يوم أحد بسبب ذنوبهم لا بسبب طاعتهم الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.

وكذلك ما ابتلوا به في السراء والضراء والزلزال ليس هو بسبب نفس إيمانهم وطاعتهم لكن امتحنوا به ليتخلصوا مما فيهم من الشر وفُتنوا به كما يُفتن الذهب بالنار ليتميز طيبه من خبيثه والنفوس فيها شر والامتحان يمحص المؤمن من ذلك الشر الذي في نفسه قال تعالى (وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ (140) وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ) وقال تعالى (وَلِيَبْتَلِيَ اللَّهُ مَا فِي صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِي قُلُوبِكُمْ) ولهذا قال صالح عليه السلام لقومه (طَائِرُكُمْ عِنْدَ اللَّهِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ).

ولهذا كانت المصائب تكفر سيئات المؤمنين وبالصبر عليها ترتفع درجاتهم وما أصابهم فى الجهاد من مصائب بأيدي العدو فانه يعظم أجرهم بالصبر عليها. وفي الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم قال (ما من غازية يغزون في سبيل الله فيسلمون ويغنمون إلا تعجلوا ثلثي أجرهم وإن أصيبوا وأخفقوا تم لهم أجرهم. وأما ما يلحقهم من الجوع والعطش والتعب فذاك يكتب لهم به عمل صالح كما قال تعالى (ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَا نَصَبٌ وَلَا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَطَئُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَيْلًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ) وشواهد هذا كثيرة … انتهى).

وأما حديث عبد الله بن مغفل فإنه قال: قال رجل: يا رسول الله، إني لأحبك، فقال صلى الله عليه وسلم: "انظر ما تقول" قال: والله إني لأحبك، ثلاث مرات، فقال عليه
প্রত্যেক আদম সন্তানের অন্তরেই কিছু বিষয় বিদ্যমান থাকে, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই। একে হয়তো শাস্তি বলা যাবে না, তবে এর কারণ নিঃসন্দেহে বান্দার নিজের পক্ষ থেকেই। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তোমার যে অকল্যাণ হয় তা তোমার নিজের পক্ষ থেকেই।" এখানে লক্ষণীয় যে, পরীক্ষার কারণ ঈমান, নেকি বা তাকওয়া নয়; বরং এর কারণ হলো অন্তরে অবশিষ্ট থাকা মন্দ স্বভাব। এজন্যই মুমিন নর-নারীর ওপর তাদের শরীর, পরিবার ও সম্পদের ক্ষেত্রে ক্রমাগত বিপদ আপতিত হতে থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার ওপর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না। নবীরা সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হন, যাতে তাদের ক্ষেত্রে নফসের মন্দ ভাব যৎসামান্য বা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

•‌‌ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার আনুগত্য অশুভ লক্ষণ বা বিপদের কারণ নয়—এর বর্ণনা:

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার আনুগত্য অশুভ লক্ষণ বা বিপদের কারণ নয়, বরং এর কারণ হলো পাপাচার ও গুনাহ। শাইখুল ইসলাম ফাতাওয়া গ্রন্থে বলেছেন: (উদ্দেশ্য হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা কোনো বিপদের কারণ নয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কখনোই কোনো বিপদের কারণ হতে পারে না। বরং আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কেবল এর অধিকারীদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের প্রতিদান নিশ্চিত করে। কিন্তু মুমিনদের ওপর তাদের পাপের কারণে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান থাকা সত্ত্বেও বিপদ আপতিত হতে পারে, যা তাদের আনুগত্যের কারণে নয়; যেমনটি উহুদের যুদ্ধের দিন তাদের ওপর তাদের পাপের কারণে বিপদ এসেছিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যের কারণে নয়।

তেমনিভাবে সচ্ছলতা, অসচ্ছলতা এবং ভূমিকম্পের মাধ্যমে তাদের যে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা তাদের ঈমান বা আনুগত্যের কারণে নয়, বরং তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে যাতে তাদের ভেতরকার মন্দ থেকে তারা মুক্ত হতে পারেন। তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে যেমনভাবে আগুনের মাধ্যমে স্বর্ণ পরীক্ষা করা হয়, যাতে এর খাঁটি ও ভেজাল অংশ পৃথক হয়ে যায়। মানুষের নফসে মন্দ বিদ্যমান থাকে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনকে সেই মন্দ থেকে পরিশুদ্ধ করেন যা তার নফসে ছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর এই দিনগুলো আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করি এবং যাতে আল্লাহ মুমিনদের চিনে নিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদের গ্রহণ করতে পারেন; আর আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না। (১৪০) আর যাতে আল্লাহ মুমিনদের পরিশুদ্ধ করেন এবং কাফিরদের নিশ্চিহ্ন করেন।" আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর যাতে আল্লাহ তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের হৃদয়ে যা আছে তা পরিশুদ্ধ করেন।" এজন্যই সালেহ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলেছিলেন: "তোমাদের অশুভ ভাগ্য তো আল্লাহর কাছে রয়েছে, বরং তোমরা এমন এক কওম যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।"

এ কারণেই বিপদ-আপদ মুমিনদের পাপের কাফফারা হয়ে থাকে এবং সবরের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা উন্নত হয়। জিহাদের ময়দানে শত্রুর হাতে তাদের ওপর যে বিপদ আসে, তাতে সবর করার কারণে তাদের প্রতিদান মহান হয়। সহিহ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "যে কোনো সেনাদল আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং নিরাপদে গনিমত নিয়ে ফিরে আসে, তারা তাদের প্রতিদানের দুই-তৃতীয়াংশ দুনিয়াতেই অগ্রিম পেয়ে গেল। আর যদি তারা বিপদে পড়ে এবং বিফল হয়, তবে তাদের প্রতিদান পূর্ণ হবে।" আর তাদের যে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও ক্লান্তি স্পর্শ করে, তার বিনিময়ে তাদের জন্য নেক আমল লেখা হয়; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তা এই কারণে যে, আল্লাহর পথে তাদের যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা স্পর্শ করে এবং তারা এমন কোনো স্থানে পদক্ষেপ করে না যা কাফিরদের ক্ষোভের কারণ হয় এবং তারা শত্রুর কাছ থেকে যা কিছু লাভ করে, তার বিনিময়ে তাদের জন্য অবশ্যই একটি নেক আমল লিপিবদ্ধ করা হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।" এর স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে ... সমাপ্ত)।

আর আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল বর্ণিত হাদিসটির ব্যাপারে বলা যায়, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অবশ্যই আপনাকে ভালোবাসি। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তুমি কী বলছ তা ভেবে দেখো।" সে তিনবার বলল: আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই আপনাকে ভালোবাসি। তখন তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২৩)
الصلاة والسلام: "إن كنت تحبني، فأعد للفقر تجفافاً، فإن الفقر أسرع إلى من يحبني من السيل إلى منتهاه" رواه الترمذي، وقال حديث حسن صحيح.

لكن أهل العلم بالحديث قالوا: إن هذا الحديث لا يصح. قال الألباني عنه: حديث منكر.

وقال الشيخ محمد بن صالح بن عثيمين رحمه الله: هذا الحديث لا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم، لأنه لا ارتباط بين الغنى ومحبة النبي صلى الله عليه وسلم، فكم من إنسانٍ غني يحب النبي صلى الله عليه وسلم، وكم من فقير أبغض ما يكون إليه الرسول صلى الله عليه وسلم.

ملاحظة مهمة: المصائب والابتلاءات والعقوبات قد تتقاطع أحياناً فتجتمع في المقدور الواحد وقد تفترق أحيان أخرى.

مثال اجتماع المصيبة والعقوبة والابتلاء كالزاني المُصاب بمرض مميت بسبب معصيته فهي مصيبة من حيث كونها ضراء وفي ذات الوقت عقوبة على ذنبه وأيضاً ابتلاء وامتحان له فإن صبر كانت عاقبته حميدة وإن جزع وسخط على ربه كانت عاقبته غير محمودة.

مثال افتراق المصيبة عن الابتلاء والعقوبة كالمصائب التي تصيب البهائم والأطفال.

مثال افتراق العقوبة عن المصيبة والابتلاء كالعقوبات الخفية الواقعة على الكافر باستدراجه بالنعم والسراء.

مثال افتراق الابتلاء عن المصيبة والعقوبة كابتلاء المؤمن بالسراء ليشكر ربه.

 

‌‌أحوال المسلم مع أقدار الله المؤلمة عموماً:

1 - الصبر وهو واجب وهو أن يرى هذا المقدور ثقيل عليه لكنه يتحمله وهو يكره وقوعه ولكن يحميه إيمانه من السخط.

2 - الرضا وهو مستحب وذلك بأن يرضى الإنسان بالمصيبة بحيث يكون وجودها وعدمها سواء فلا يشق عليه وجودها ولا يتحمل لها حملاً ثقيلاً.

3 - الشكر وهو أعلى المراتب وذلك بأن يشكر الله عز وجل على ما أصابه من مصيبة حيث عرف أن هذه المصيبة سبب لتكفير السيئات وربما لزيادة الحسنات.
নবী (সা.)-এর ওপর সালাত ও সালাম: "যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো, তবে দারিদ্র্যের জন্য বর্ম প্রস্তুত করো; কারণ যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে, তার নিকট দারিদ্র্য স্রোত যে গতিতে তার গন্তব্যে পৌঁছায় তার চেয়েও দ্রুতগতিতে আসে।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস।

কিন্তু হাদিস বিশারদগণ বলেছেন: এই হাদিসটি সঠিক নয়। আলবানি এটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি মুনকার (منكر) হাদিস।

শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই হাদিসটি নবী (সা.) থেকে প্রমাণিত নয়, কারণ সচ্ছলতা ও নবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। কত ধনী মানুষ রয়েছেন যারা নবী (সা.)-কে ভালোবাসেন, আবার কত দরিদ্র ব্যক্তি রয়েছে যাদের নিকট রাসূল (সা.) সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি।

গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যণীয় বিষয়: বিপদ-আপদ, পরীক্ষা ও শাস্তি অনেক সময় একে অপরের সাথে মিশে যায় এবং একটিমাত্র তাকদিরে একত্রিত হয়, আবার কখনো কখনো এগুলো পৃথকও থাকে।

বিপদ, শাস্তি ও পরীক্ষার একত্রিত হওয়ার উদাহরণ হলো সেই ব্যভিচারী, যে তার পাপের কারণে কোনো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। এটি কষ্টের দিক থেকে একটি বিপদ, আবার একই সাথে তার পাপের জন্য শাস্তি এবং তার জন্য একটি পরীক্ষা। যদি সে ধৈর্য ধারণ করে তবে তার পরিণাম প্রশংসনীয় হবে, আর যদি সে অস্থির হয়ে তার রবের প্রতি অসন্তুষ্ট হয় তবে তার পরিণাম শুভ হবে না।

পরীক্ষা ও শাস্তি ছাড়া কেবল বিপদের উদাহরণ হলো সেই বিপদগুলো যা গবাদিপশু বা শিশুদের ওপর আসে।

বিপদ ও পরীক্ষা ছাড়া কেবল শাস্তির উদাহরণ হলো কাফিরের ওপর আপতিত অদৃশ্য শাস্তি, যেখানে তাকে নেয়ামত ও সচ্ছলতা দিয়ে ঢিল দেওয়া হয়।

বিপদ ও শাস্তি ছাড়া কেবল পরীক্ষার উদাহরণ হলো মুমিন ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দিয়ে পরীক্ষা করা যাতে সে তার রবের শুকরিয়া আদায় করে।

 

‌‌আল্লাহর বেদনাদায়ক তাকদিরে একজন মুসলিমের সাধারণ অবস্থাগুলো হলো:

1 - ধৈর্য (সবর): এটি ওয়াজিব। এর অর্থ হলো নির্ধারিত তাকদিরকে নিজের ওপর ভারী মনে করা সত্ত্বেও তা সহ্য করা। সে এটি অপছন্দ করে ঠিকই, কিন্তু তার ঈমান তাকে অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা করে।

2 - সন্তুষ্টি (রিদা): এটি মুস্তাহাব। অর্থাৎ মানুষ বিপদের প্রতি এমনভাবে সন্তুষ্ট থাকবে যাতে তার কাছে তা ঘটা বা না ঘটা সমান হয়। এর অস্তিত্ব তার কাছে কষ্টকর হবে না এবং সে এটিকে বড় কোনো বোঝা মনে করবে না।

3 - শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা): এটি সর্বোচ্চ স্তর। আর তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিপদের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, কারণ সে জানে যে এই বিপদ গুনাহ মোচনের কারণ এবং হয়তো নেকি বৃদ্ধির মাধ্যম।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২৪)
•‌‌ فقه الابتلاء بالضراء:

تمهيد: قال الشيخ ناصر العمر حفظه الله في كتابه آيات للسائلين "بتصرف":

الدنيا دار بلاء، فالناس كل الناس مبتلون فيها بالضراء أو السراء، قال تعالى "وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ" [محمد:31]، وقال في مواضع أُخر "كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ" [الأنبياء:35]، "إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً" [الكهف:7]، "وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ" [البقرة:155]، وقال عن السابقين: "وَقَطَّعْنَاهُمْ فِي الْأَرْضِ أُمَماً مِنْهُمُ الصَّالِحُونَ وَمِنْهُمْ دُونَ ذَلِكَ وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ" [لأعراف:168]، والآيات في هذا المعنى كثيرة.

وكلما نظر صاحب المصيبة إلى حال غيره من المصابين هان عليه ما هو فيه، ورأى لطف الله - تعالى- به ، ومن الحكمة المنقولة ما يروى من أن الإسكندر بن فيلبس المعروف بالمقدوني لما حضرته الوفاة بعث لأمه رسالة يقول فيها: إذا بلغك نبأ وفاتي فأقيمي مأدبة، وادعي كل الناس إلاّ من أصابته مصيبة، ففعلت، فلم يحضر أحد، فعلمت أنه أراد أن يعزيها، فإن المصائب إذا عُلم بأن جنسها يطرق الناس كل الناس، لم يبغت العاقل ثابت الجنان راجح اللب بها، ومهما كان المُصاب فالمؤمن على غُنم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "عجباً لأمر المؤمن! إن أمره كله خير، وليس ذاك لأحد إلا للمؤمن، إن أصابته سراء شكر فكان خيراً له، وإن أصابته ضراء صبر فكان خيراً له" رواه مسلم، بل مع الصبر على الضراء تراه يحمد الله أن جعل مصيبته في دنياه لا في دينه، بل ترى بعضهم يشهد في ذلك المقام المنة، فيعلم أنه وإن أُعسر شهراً فقد أيسر دهراً، وإن مارس الشدة أياماً، فقد لابس النعمة أعواماً، على ثقة من أن ساعة الضراء تزول، كما أن مدة السراء قد تحول، وكما لم تثبت نوبة المنحة، فلن تلبث نوبة المحنة، فما أعظم طمأنينة قلب من كان هذه حاله، وهنيئاً له الفوز بالدرجات العلى يوم القيامة.

ومما ينبغي التنبه له هو أن الصبر والفرار إلى الله لا يُنافي بذل الأسباب بل يقتضيها، فهذا يعقوب عليه السلام، صاحب الصبر الجميل، قال وهو الصادق فيما يقول: "إنما أشكو بثي وحزني إلى الله"، ومع ذلك لم يُغفل قانون الأسباب، "يَا بَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللهِ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللهِ إِلَاّ الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ"، فأنت تراه يوجه بنيه كل بنيه: يا بَنيَّ، لا تيأسوا من روح الله، فكل عسير إذا يسره الله يهون، وإنما أمره إذا أراد شيئاً أن يقول له كن فيكون، لا يقعدنكم اليأس، تحركوا وامضوا، فباحثوا عن أخبار من تلوموني في ذكره، وعن أخيه، وفي هذا بيان لقوة نفسه عليه السلام وثبات جنانه، ولك أن تقدر ما يقوله الناس له، وعظيم إنكارهم عليه، وما يتحدثون به في مجتمعه، وخذ مقياساً لذلك كلمة بنيه: " قَالُوا تَاللَّهِ تَفْتَأُ تَذْكُرُ يُوسُفَ حَتَّى تَكُونَ حَرَضًا أَوْ تَكُونَ مِنَ الْهَالِكِينَ " فإذا كان هذا قول الأبناء المقربين فكيف بالغرباء الأبعدين، بل كيف بمن لم يعرف له مقام نبوة؟ إن يعقوب عليه السلام لقي من الإنكار ما لقي حتى من الأبناء، وربما رأى من لا يبصر بنور الوحي أن رأيهم هو الرأي، إلاّ أن يقين
•‌‌ বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রজ্ঞা:

ভূমিকা: শায়খ নাসের আল-উমর (আল্লাহ তাকে হিফজ করুন) তার ‘আয়াতুস সায়িলিন’ গ্রন্থে (পরিমার্জিত রূপে) বলেছেন:

পৃথিবী হলো পরীক্ষার ক্ষেত্র। এখানে প্রতিটি মানুষই বিপদ কিংবা সুখের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্য থেকে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদের জেনে নিই এবং তোমাদের অবস্থাসমূহ যাচাই করি।" [মুহাম্মদ: ৩১]। তিনি অন্যান্য স্থানে আরও বলেছেন, "প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে; আর আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোর মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকি এবং তোমরা আমারই কাছে ফিরে আসবে।" [আল-আম্বিয়া: ৩৫]। "নিশ্চয়ই জমিনের উপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার শোভা করেছি, যাতে আমি তাদের পরীক্ষা করতে পারি যে, তাদের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে কে উত্তম।" [আল-কাহফ: ৭]। "আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে; আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।" [আল-বাকারাহ: ১৫৫]। তিনি পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলেছেন: "আর আমি তাদেরকে পৃথিবীতে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছি; তাদের মধ্যে কেউ পুণ্যবান এবং কেউ এর ব্যতিক্রম। আর আমি তাদেরকে সুখ ও দুঃখের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছি যাতে তারা ফিরে আসে।" [আল-আ'রাফ: ১৬৮]। এই মর্মে পবিত্র কুরআনে আরও বহু আয়াত রয়েছে।

বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি যখন অন্যদের বিপদের অবস্থার দিকে তাকায়, তখন তার নিজের বিপদ হালকা মনে হয় এবং সে নিজের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ দেখতে পায়। বর্ণিত আছে যে, আলেকজান্ডার যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন, তখন তিনি তার মায়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। তাতে লিখলেন: যখন আমার মৃত্যুর খবর তোমার কাছে পৌঁছাবে, তখন তুমি একটি ভোজসভার আয়োজন করবে এবং সেখানে সমস্ত মানুষকে দাওয়াত দেবে—তবে এমন কাউকে দাওয়াত দেবে না যে কোনো বিপদে আক্রান্ত হয়েছে। মা তা-ই করলেন, কিন্তু কেউ সেই দাওয়াতে উপস্থিত হলো না। তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, তার ছেলে তাকে সান্ত্বনা দিতে চেয়েছেন। কেননা মানুষ যখন জানতে পারে যে বিপদ এমন এক বিষয় যা প্রতিটি মানুষের দরজায় কড়া নাড়ে, তখন বুদ্ধিমান ও স্থিরচিত্ত ব্যক্তি তাতে হতবিহ্বল হয় না। বিপদ যাই হোক না কেন, মুমিন ব্যক্তি সর্বদা লাভবান হয়। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের বিষয়টি আশ্চর্যজনক! তার সকল বিষয়ই কল্যাণকর, আর এটি মুমিন ছাড়া আর কারো জন্য নয়। যদি সে সচ্ছলতা লাভ করে তবে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে বিপদে পড়ে তবে সবর করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।" (মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)। বরং বিপদে ধৈর্যের পাশাপাশি সে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, আল্লাহ তার বিপদকে দ্বীনের ক্ষেত্রে না দিয়ে দুনিয়ার ক্ষেত্রে দিয়েছেন। এমনকি তাদের কাউকে কাউকে সেই মুহূর্তে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহপ্রাপ্ত হতে দেখা যায়। সে উপলব্ধি করে যে, সে যদি এক মাস কষ্টে থাকে তবে জীবনভর স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল; যদি কয়েক দিন কঠোরতার সম্মুখীন হয় তবে কয়েক বছর তো নেয়ামতের মধ্যেই ছিল। তার এই দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, বিপদের মুহূর্ত যেমন চলে যায়, তেমনি সুখের সময়ও পরিবর্তিত হতে পারে। আর যেহেতু সুখের সময় চিরস্থায়ী ছিল না, তাই দুঃখের সময়ও দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যার অবস্থা এমন, তার হৃদয়ের প্রশান্তি কতই না মহান! কেয়ামতের দিন উচ্চ মর্যাদা লাভের জন্য তাকে অভিনন্দন!

এখানে একটি বিষয় লক্ষ রাখা প্রয়োজন যে, ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার অর্থ উপকরণ (আসবাব) ত্যাগ করা নয়, বরং এটি উপকরণ গ্রহণেরই দাবি রাখে। এই যে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর পিতা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম), যিনি ‘সবরে জামিল’ বা সুন্দর ধৈর্যের অধিকারী ছিলেন, তিনি সত্যনিষ্ঠ হয়েই বলেছিলেন: "আমি তো আমার অসহনীয় বেদনা ও দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি।" তা সত্ত্বেও তিনি উপকরণের নিয়মকে উপেক্ষা করেননি; তিনি বলেছিলেন: "হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো এবং আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই কাফির সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর রহমত হতে কেউ নিরাশ হয় না।" আপনি দেখছেন যে তিনি তার সকল পুত্রকে নির্দেশ দিচ্ছেন: হে আমার সন্তানগণ, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ যখন সহজ করেন, তখন সকল কঠিন কাজই সহজ হয়ে যায়। তিনি কোনো কিছু করার ইচ্ছা করলে কেবল বলেন ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়। নিরাশা যেন তোমাদের বসিয়ে না রাখে; তোমরা সচল হও এবং অগ্রসর হও। তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নাও যাদের কথা স্মরণ করার জন্য তোমরা আমাকে তিরস্কার করছ। এর মাধ্যমে ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর মানসিক শক্তি এবং দৃঢ়তার প্রকাশ ঘটে। মানুষ তাকে নিয়ে কী বলত, কতটা কঠোরভাবে তাকে অস্বীকার করত এবং সমাজে তাকে নিয়ে কী আলোচনা হতো তা আপনি অনুমান করতে পারেন। এর পরিমাপ হিসেবে তার সন্তানদের সেই উক্তিটিই যথেষ্ট: "তারা বলল, আল্লাহর শপথ! আপনি তো ইউসুফকে স্মরণ করতেই থাকবেন যতক্ষণ না আপনি মুমূর্ষু হবেন অথবা ধ্বংস হয়ে যাবেন।" নিকটাত্মীয় সন্তানদের মন্তব্য যদি এমন হয়, তবে অন্যদের বা অপরিচিতদের মন্তব্য কেমন হতে পারত? বিশেষ করে যারা তার নবুওয়াতের মর্যাদা সম্পর্কে জানত না? ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) তার সন্তানদের কাছ থেকেও চরম অবজ্ঞার শিকার হয়েছিলেন। সম্ভবত যারা ওহীর আলোতে দেখে না, তারা তাদের মতামতকেই সঠিক মনে করত; কিন্তু ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর একিন বা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এর চেয়েও বড়।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২৫)
يعقوب وصبره عكسا القضية، فإذا بالمُنْكِرِ المخالفِ منذ قليل يتوجه إلى البحث عما أنكر، لما رأى الصبر واليقين ماثلين أمامه!!!.

فاللهم ارزقنا يقين الأنبياء وحسن صبرهم وارزقنا حسن التأسي بهم يا أرحم الراحمين.

تنبيه مهم: على المسلم أن يسأل ربه العفو والعافية في الدنيا والآخرة وأن لا يتمنى الابتلاء ولكن إذا ابتُلي وكان الابتلاء أمراً واقعاً فعليه بالصبر والرضا والاستعانة بربه.

 

•‌‌ أركان فقه الابتلاء بالضراء:

فقه الابتلاء بالضراء للمُكلفين يتكون من سبع أركان:

الركن الأول: سبب الابتلاء الرئيسي والغالب هو الذنوب والخطايا وقيل أن سبب الابتلاء الرئيسي للمكلفين هو الاختبار من الله جل جلاله واستدلوا بقوله تعالى (كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ) ولا منافاة بين كون الابتلاء بسبب الذنوب وفي ذات الوقت يكون اختباراً من الله سبحانه لا سيما وأن أكثر بني آدم مسرفين على أنفسهم بالذنوب والخطايا ، وقد قال الله تعالى في شأن الذنوب وآثارها {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ} [الشورى: 30].

وهذه القاعدة القرآنية المحكمة تكررت بلفظ قريب في عدد من المواضع، كما تكرر معناها في مواضع أخرى.

فمن نظائرها اللفظية المقاربة قول الله عز وجل: {أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُمْ مِثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّى هَذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [آل عمران: 165]، وقال سبحانه: {مَا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِكَ} [النساء: 79]، ويقول عز وجل: {وَلَوْلَا أَنْ تُصِيبَهُمْ مُصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ … } [القصص: 47].

وأما الآيات التي وردت في تقرير هذا المعنى فكثيرة جداً، ومن ذلك قوله سبحانه: {وَمَا كَانَ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى حَتَّى يَبْعَثَ فِي أُمِّهَا رَسُولًا يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَمَا كُنَّا مُهْلِكِي الْقُرَى إِلَّا وَأَهْلُهَا ظَالِمُونَ} [القصص: 59]، وكقوله عز وجل: {ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الروم: 41]، وقال جل وعلا: {وَنَقُولُ ذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ (181) ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ} [آل عمران: 181، 182] في ثلاث مواضع من كتاب الله عز وجل.
ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর ধৈর্য বিষয়টি পরিবর্তন করে দিয়েছিল; ফলে দেখা গেল, যে অস্বীকারকারী (المنكر) ও বিরোধিতাকারী কিছুক্ষণ আগেই যা অস্বীকার করেছিল তা-ই অনুসন্ধান করতে শুরু করল, যখন সে তার সামনে ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসকে মূর্তমান হতে দেখল!!!.

হে আল্লাহ! আমাদের নবীদের মতো দৃঢ় বিশ্বাস এবং উত্তম ধৈর্য নসিব করুন এবং তাঁদের উত্তমভাবে অনুসরণ করার তাওফিক দিন, হে পরম দয়ালু।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: একজন মুসলিমের উচিত তার রবের কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা এবং বিপদের আকাঙ্ক্ষা না করা। কিন্তু যদি সে বিপদে আক্রান্ত হয় এবং তা বাস্তবে ঘটে যায়, তবে তার উচিত ধৈর্য ধারণ করা, সন্তুষ্ট থাকা এবং তার রবের সাহায্য প্রার্থনা করা।

 

•‌‌ বিপদ-আপদের মাধ্যমে পরীক্ষার ফিকহের রুকনসমূহ:

মুকাল্লাফদের (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) জন্য বিপদ-আপদের মাধ্যমে পরীক্ষার ফিকহ সাতটি রুকন বা স্তম্ভ নিয়ে গঠিত:

প্রথম রুকন: পরীক্ষার প্রধান ও অধিকাংশ কারণ হলো গুনাহ ও পাপাচার। আবার বলা হয়েছে যে, মুকাল্লাফদের পরীক্ষার প্রধান কারণ হলো আল্লাহ জাল্লা জালালুহুর পক্ষ থেকে পরীক্ষা বা যাচাই। তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: (প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করি এবং আমারই কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে)। পরীক্ষার কারণ গুনাহ হওয়া এবং একই সাথে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, বিশেষ করে যেখানে অধিকাংশ বনী আদম গুনাহ ও পাপাচারের মাধ্যমে নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘনকারী। গুনাহ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের ওপর যে বিপদই আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন} [সূরা আশ-শুরা: ৩০]।

আর এই সুদৃঢ় (محكمة) কুরআনিক মূলনীতিটি কাছাকাছি শব্দে অনেক স্থানেই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, তেমনিভাবে এর অর্থও অন্যান্য স্থানে পুনরায় এসেছে।

শাব্দিক সাদৃশ্যযুক্ত আয়াতগুলোর মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {যখন তোমাদের ওপর এক মুসিবত এল—অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ আঘাত হেনেছিলে—তখন তোমরা বললে, ‘এ কোথা থেকে এল?’ বলো, ‘তা তোমাদের নিজেদেরই পক্ষ থেকে’। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান} [সূরা আলে ইমরান: ১৬৫]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {তোমার কাছে যে কল্যাণই আসুক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার কাছে যে বিপদই আসুক তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে} [সূরা আন-নিসা: ৭৯]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যদি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর কোনো বিপদ না আসত … } [সূরা আল-কাসাস: ৪৭]।

আর এই অর্থের সমর্থনে বর্ণিত আয়াতসমূহ অনেক। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আপনার রব জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না, যে পর্যন্ত না তার কেন্দ্রস্থলে রাসুল পাঠান যিনি তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন; আর আমি জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করি যখন তার অধিবাসীরা জালিম হয়} [সূরা আল-কাসাস: ৫৯]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে} [সূরা আর-রূম: ৪১]। তিনি আরও বলেন: {এবং আমি বলব, তোমরা দহন-যন্ত্রণা আস্বাদন করো (১৮১)। এটা তোমাদের কৃতকর্মের ফল এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম করেন না} [সূরা আলে ইমরান: ১৮১, ১৮২]—মহান আল্লাহর কিতাবের তিনটি স্থানে এই বিষয়টি এসেছে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২৬)
ويقول سبحانه: {وَإِذَا أَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً فَرِحُوا بِهَا وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ} [الروم: 36]، يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: ملخصاً ما دلت عليه هذه الآيات الكريمة بتلخيص العالم المتتبع المستقرئ لنصوص القرآن الكريم، يقول رحمه الله: "والقرآن يبين في غير موضع: أن الله لم يهلك أحداً ولم يعذبه إلا بذنب". وهذا المعنى الذي دلت عليه هذه الآيات الكريمة دلت عليه أيضاً نصوص من الوحي الآخر، ألا وهو السنة النبوية على صاحبها أفضل الصلاة والسلام، ومن ذلك ما رواه مسلم في صحيحه من حديث أبى ذر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحديث القدسي العظيم ـ الذي يرويه عن ربه تعالى قال الله عز وجل: "إنما هي أعمالكم أحصيها لكم ثم أوفيكم إياها فمن وجد خيراً فليحمد الله ومن وجد غير ذلك فلا يلوم إلا نفسه" وفى صحيح البخاري من حديث شداد بن أوس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "سيد الاستغفار أن تقول اللهم أنت ربي لا إله إلا أنت خلقتني وأنا عبدك وأنا على عهدك ووعدك ما استطعت أعوذ بك من شر ما صنعت أبوء لك بنعمتك علي وأبوء لك بذنبي فاغفر لي فإنه لا يغفر الذنوب إلا أنت … الحديث" وفى الصحيحين لما سأل أبو بكر رضي الله عنه النبيَّ صلى الله عليه وسلم أن يعلمه دعاء يدعو به في صلاته، قال له عليه الصلاة والسلام: "قل اللهم إني ظلمت نفسي ظلما كثيراً ولا يغفر الذنوب إلا أنت فاغفر لي مغفرة من عندك وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم" فتأمل ـ أيها القاراء الكريم ـ تأمل في هذه الأحاديث جيداً! فَمَنْ هو السائل؟ ومَنْ هو المجيب؟ أما السائل فهو أبو بكر الصديق الأكبر الذي شهد له النبي صلى الله عليه وسلم بالجنة في مواضع متعددة، وأما المجيب فهو الرسول الناصح المشفق صلوات الله وسلامه عليه! ومع هذا يطلب منه عليه الصلاة والسلام أن يعترف بذنوبه، وظلمه الكبير والكثير، ويسأل ربه مغفرة ذلك والعفو عنه، والسؤال هنا ـ أيها القاراء الكريم ـ مَنْ الناس بعد أبي بكر رضي الله عنه؟ بل ويقول تعالى لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم (فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالإِبْكَارِ) ، ويقول جل ذكره في موضع آخر (فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ) ، فمن نحن بعد رسول الله عليه الصلاة والسلام وهذا على مذهب من يفسر الآية على ظاهرها وأن الأنبياء غير معصومين من صغائر الذنوب ولكن لا يُقرون عليها.

إذا تقررت هذه الحقيقة الشرعية ـ وهي أن الذنوب سببٌ للعقوبات العامة والخاصة ـ فحري بالعاقل أن يبدأ بنفسه، فيفتش عن مناطق الزلل فيه، وأن يسأل ربه أن يهديه لمعرفة ذلك.
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আমি মানুষকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন তারা তাতে আনন্দিত হয়; আর যদি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোনো বিপদ পৌঁছে, তবে তারা হতাশ হয়ে পড়ে} [সূরা আর-রুম: ৩৬]। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া কুরআনের বর্ণনাগুলোর (نصوص) ওপর একজন গভীর গবেষক ও পর্যবেক্ষক আলেমের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই আয়াতগুলোর মূল বক্তব্য সংক্ষেপ করতে গিয়ে বলেন (রহিমাহুল্লাহ): "কুরআন বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট করেছে যে: আল্লাহ কোনো পাপ ব্যতীত কাউকে ধ্বংস করেন না এবং শাস্তি দেন না"। এই আয়াতগুলো যে অর্থের দিকে নির্দেশ করে, তা অন্য ওহী অর্থাৎ সুন্নাতে নববী থেকেও প্রমাণিত—যার প্রবর্তকের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম। এর মধ্যে একটি হলো যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি মহান হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي)-তে বলেছেন—যা তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "এগুলো তো কেবল তোমাদেরই আমল যা আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করি, অতঃপর আমি তোমাদের তা পূর্ণরূপে বুঝিয়ে দেব। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে এর ব্যতিক্রম কিছু পায় সে যেন কেবল নিজেকেই তিরস্কার করে"। সহীহ বুখারিতে শাদ্দাদ বিন আউস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সাইয়িদুল ইস্তিগফার হলো তোমার এই বলা: হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমতো আপনার দেওয়া অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর অটল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার ওপর আপনার দেওয়া নিয়ামতের কথা স্বীকার করছি এবং আমি আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া গুনাহসমূহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই … হাদিসটি"। সহীহাইনে বর্ণিত আছে যখন আবু বকর (রা.) নবী (সা.)-এর কাছে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দেওয়ার আবেদন করলেন যা তিনি সালাতে পাঠ করবেন, তখন নবী (সা.) তাঁকে বললেন: "বলো: হে আল্লাহ! আমি নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া গুনাহসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই। অতএব আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু"। হে প্রিয় পাঠক! এই হাদিসগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন! প্রশ্নকারী কে? আর উত্তরদাতাই বা কে? প্রশ্নকারী হলেন আবু বকর সিদ্দিক আল-আকবর, যার জান্নাতী হওয়ার ব্যাপারে নবী (সা.) বহু স্থানে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর উত্তরদাতা হলেন পরম হিতাকাঙ্ক্ষী ও মমতাময়ী রাসুল (সা.)! এতৎসত্ত্বেও নবী (সা.) তাঁর কাছে প্রত্যাশা করছেন যে তিনি যেন নিজ গুনাহ এবং অধিক ও গুরুতর জুলুমের কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর রবের কাছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করেন। হে প্রিয় পাঠক! এখানে প্রশ্ন হলো—আবু বকর (রা.)-এর পর সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হতে পারে? বরং মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন}, এবং তিনি অন্য স্থানে বলেন {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আপনি আপনার গুনাহের জন্য ও মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তোমাদের বিচরণস্থল এবং অবস্থানস্থল সম্পর্কে অবগত আছেন}। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর তুলনায় আমরা তবে কে? আর এটি তো সেই মতাদর্শের (মাযহাবের) ভিত্তিতে যারা এই আয়াতকে এর বাহ্যিক অর্থের ওপর ব্যাখ্যা করেন যে আম্বিয়া কেরাম সগীরা গুনাহ (صغائر الذنوب) থেকে নিষ্পাপ (معصوم) নন, তবে তাঁরা সেটির ওপর অটল থাকেন না।

যখন এই শরয়ী সত্যটি সাব্যস্ত হলো যে—গুনাহই হলো সাধারণ ও বিশেষ শাস্তির কারণ—তখন একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য কর্তব্য হলো নিজেকে দিয়ে শুরু করা, নিজের স্খলনের জায়গাগুলো খুঁজে বের করা এবং সে সম্পর্কে জানার জন্য আল্লাহর কাছে হেদায়াত প্রার্থনা করা।
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২৭)
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: ـ وهو يتحدث عن الأمور التي تورث العبد الصبر وتعينه عليه ليبلغ مرتبة الإمامة في الدين ـ قال رحمه الله: "أن يشهد ذنوبه، وأن الله إنما سلط الناس عليه بسبب ذنبه، كما قال تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ}، فإذا شهد العبد أن جميع ما يناله من المكروه فسببه ذنوبه، اشتغل بالتوبة والاستغفار من الذنوب التي سلطهم عليه بسببها عن ذنبهم ولومهم، والوقيعة فيه، وإذا رأيت العبد يقع في الناس إذا آذوه ولا يرجع إلى نفسه باللوم والاستغفار، فاعلم أن مصيبته مصيبة حقيقية، وإذا تاب واستغفر، وقال: هذا بذنوبي، صارت في حقه نعمة، قال علي رضي الله عنه كلمة من جواهر الكلام: "لا يرجونّ عبدٌ إلا ربه ولا يخافن عبد إلا ذنبه"، وروي عنه وعن غيره: "ما نزل بلاء إلا بذنب ولا رفع إلا بتوبة" انتهى كلام شيخ الإسلام رحمه الله.

وهنا ننبه إلى أن للمظلوم حق في القصاص ممن ظلمه ولكن مراد ابن تيمية والله أعلم هو الاستغراق في لوم الآخرين دون الرجوع إلى النفس ومحاسبتها على التقصير في جنب الله.

يقول ابن القيم رحمة الله عليه ـ وهو يوضح شيئاً من دلالات هذه القاعدة القرآنية المحكمة {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ} قال رحمه الله: وهل فى الدنيا والآخرة شرور وداء إلا سببه الذنوب والمعاصي؟!

فما الذي أخرج الأبوين من الجنة دار اللذة والنعيم، والبهجة والسرور إلى دار الآلام والأحزان والمصائب؟

وما الذي أخرج إبليس من ملكوت السماء؟ وطرده ولعنه، ومسخ ظاهره وباطنه؟ فجعلت صورته أقبح صورة وأشنعها، وباطنه أقبح من صورته وأشنع، وبُدِّلَ بالقرب بعداً، وبالرحمة لعنةً، وبالجمال قبحاً، وبالجنة ناراً تلظى، وبالإيمان كفراً، وبموالات الولي الحميد أعظم عداوة ومشاقة، وبزجل التسبيح والتقديس والتهليل زجلَ الكفر والشرك والكذب والزور والفحش، وبلباس الإيمان لباس الكفر والفسوق والعصيان؟ فهان على الله غاية الهوان، وسقط من عينه غاية السقوط، وحلّ عليه غضب الرب تعالى، فأهواه ومقته أكبر المقت!

وما الذي أغرق أهل الأرض كلهم؟ حتى علا الماء فوق رأس الجبال، وما الذي سلط الريح العقيم على قوم عاد حتى ألقتهم موتى على وجه الأرض، كأنهم أعجاز نخل خاوية؟ ودمرت ما مرَّ عليه من ديارهم وحروثهم وزروعهم ودوابهم؟ حتى صاروا عبرة للأمم إلى يوم القيامة؟
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন — তিনি এমন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছিলেন যা বান্দার মাঝে ধৈর্য সৃষ্টি করে এবং তাকে ধৈর্যের ওপর অটল থাকতে সাহায্য করে, যাতে সে দ্বীনের মাঝে ইমামতের স্তরে পৌঁছাতে পারে — তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সে যেন তার নিজের পাপসমূহ প্রত্যক্ষ করে এবং এ কথা উপলব্ধি করে যে, আল্লাহ তাআলা তার পাপের কারণেই মানুষের পক্ষ থেকে আসা কষ্টকে তার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদেরই হাতের কামাই; আর তিনি অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন}, সুতরাং বান্দা যখন প্রত্যক্ষ করে যে, সে যেসব অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে তার মূল কারণ তার নিজের গুনাহসমূহ, তখন সে অন্যদের দোষারোপ করা, তাদের নিন্দা করা বা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার পরিবর্তে সেই গুনাহগুলোর তাওবা ও ইস্তিগফারে লিপ্ত হয় যার কারণে আল্লাহ তাদের (লোকদের) তার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। আর তুমি যখন কোনো বান্দাকে দেখবে যে সে তাকে কষ্টদানকারী মানুষের দোষ ধরছে কিন্তু নিজের নফসের দিকে ফিরে তাকাচ্ছে না এবং নিজের নিন্দা ও ইস্তিগফার করছে না, তখন জেনে রেখো তার এই বিপদই হলো প্রকৃত বিপদ। কিন্তু সে যদি তাওবা ও ইস্তিগফার করে এবং বলে: 'এটি আমার গুনাহের ফল', তবে তা তার জন্য নেয়ামতে পরিণত হয়। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুক্তার ন্যায় মূল্যবান একটি কথা বলেছেন: 'কোনো বান্দা যেন তার প্রতিপালক ছাড়া অন্য কারো আশা না করে এবং তার নিজ গুনাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় না পায়।' তাঁর থেকে এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: 'কোনো বিপদই গুনাহ ব্যতীত অবতীর্ণ হয় না এবং তাওবা ব্যতীত তা দূরীভূত হয় না।' শায়খুল ইসলামের বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।"

এখানে আমরা সতর্ক করছি যে, অত্যাচারিত ব্যক্তির অধিকার রয়েছে তার ওপর অত্যাচারকারীর থেকে কিসাস গ্রহণ করার। তবে ইবনে তাইমিয়ার উদ্দেশ্য — আল্লাহই ভালো জানেন — হলো আল্লাহর হকের ব্যাপারে নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও আত্ম-সমালোচনার দিকে ফিরে না এসে কেবল অন্যদের দোষারোপে মগ্ন থাকার বিষয়টি বোঝানো।

ইবনুল কাইয়িম (রহিমাহুল্লাহ) এই সুদৃঢ় কুরআনিক মূলনীতির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন — {তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদেরই হাতের কামাই; আর তিনি অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন} — তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: দুনিয়া ও আখেরাতে এমন কোনো অনিষ্ট ও ব্যাধি কি আছে যার মূল কারণ গুনাহ ও পাপাচার নয়?

কোন জিনিসটি আদি পিতা-মাতাকে তৃপ্তি ও নেয়ামত এবং আনন্দ ও উল্লাসের ঘর জান্নাত থেকে বের করে বেদনা, দুঃখ ও বিপদের ঘরে নিয়ে এসেছিল?

আর কোন জিনিসটি ইবলিসকে আসমানের রাজত্ব থেকে বের করে দিয়েছিল? তাকে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত করেছিল এবং তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ রূপকে বিকৃত করেছিল? ফলে তার রূপকে করে দেওয়া হলো সর্বনিকৃষ্ট ও জঘন্যতম, আর তার অন্তর তার বাহ্যিক রূপের চেয়েও নিকৃষ্ট ও বীভৎস হয়ে গেল। নৈকট্যের বদলে তাকে দেওয়া হলো দূরত্ব, রহমতের বদলে অভিশাপ, সৌন্দর্যের স্থলে কুশ্রীতা, জান্নাতের বদলে প্রজ্বলিত আগুন এবং ঈমানের বদলে কুফর। পরম প্রশংসিত মহান বন্ধুর (আল্লাহর) সাথে বন্ধুত্বের পরিবর্তে তার চরম শত্রুতা ও বিরোধ সৃষ্টি হলো। তাসবিহ, তাকদিস ও তাহলিলের সুমধুর ধ্বনির পরিবর্তে কুফর, শিরক, মিথ্যা, অপবাদ ও অশ্লীলতার আওয়াজ তাকে দেওয়া হলো। আর ঈমানের পোশাকের বদলে তাকে কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতার পোশাক পরিয়ে দেওয়া হলো। ফলে সে আল্লাহর কাছে চরম অপমানিত ও লাঞ্ছিত হলো এবং তাঁর দৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণরূপে পতিত হলো; এবং তার ওপর মহিয়ান প্রতিপালকের ক্রোধ অবতীর্ণ হলো, ফলে তিনি তাকে ধ্বংস করলেন এবং তাকে চরম ঘৃণার পাত্রে পরিণত করলেন!

আর কোন কারণে সারা পৃথিবীর মানুষ নিমজ্জিত হয়েছিল? এমনকি পানি পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আর কোন কারণে আদ জাতির ওপর বন্ধ্যা বাতাসকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তাদেরকে জমিনে মৃত অবস্থায় লুটিয়ে দিয়েছিল, যেন তারা উপড়ানো শূন্যগর্ভ খেজুর গাছের কাণ্ড? এবং তা তাদের ঘরবাড়ি, শস্যক্ষেত্র, ফসল ও গবাদি পশু—যার ওপর দিয়েই বয়ে গিয়েছিল—সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল? যার ফলে তারা কিয়ামত পর্যন্ত আসা জাতিসমূহের জন্য এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে?
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২৮)
وما الذي أرسل على قوم ثمود الصيحة، حتى قطعت قلوبهم في أجوافهم، وماتوا عن آخرهم؟

وما الذي رفع قرى اللوطية حتى سمعت الملائكة نبيح كلابهم، ثم قلبها عليهم فجعل عاليها سافلها؟ فأهلكهم جميعاً ثم أتبعهم حجارة من سجيل السماء، أمطرها عليهم فجمع عليهم من العقوبة ما لم يجمعه على أمة غيرهم، ولإخوانهم أمثالها، وما هي من الظالمين ببعيد.

وما الذي أرسل على قوم شعيب سحاب العذاب كالظلل؟ فلما صار فوق رؤوسهم أمطر عليهم ناراً تلظى؟

وما الذي أغرق فرعون وقومه في البحر، ثم نقلت أرواحهم إلى جهنم، فالأجساد للغرق والأرواح للحرق؟

وما الذي خسف بقارون وداره وماله وأهله؟

وما الذي أهلك القرون من بعد نوح بأنواع العقوبات، ودمرها تدميراً؟ … إلى أن قال رحمه الله:

قال الإمام أحمد: حدثنا الوليد بن مسلم، ثنا صفوان بن عمر، حدثني عبد الرحمن بن جبير بن نفير، عن أبيه قال: لما فتحت قبرص، فُرِّقَ بين أهلها، فبكى بعضهم إلى بعض، فرأيت أبا الدرداء جالساً وحده يبكي! فقلت: يا أبا الدرداء! ما يبكيك في يوم أعز الله فيه الإسلام وأهله؟ فقال: ويحك يا جبير! ما أهون الخلق على الله عز وجل إذا أضاعوا أمره؟! بينما هي أمة قاهرة ظاهرة، لهم الملك تركوا أمر الله فصاروا إلى ما ترى! انتهى كلام بن القيم.

وهنا تنبيه مهم وهو أنه ينبغي أن ندرك أن العقوبات حينما تُذكر، فلا يصح حصرها في العقوبات الحسية أو العقوبات الجماعية ـ التي أشار ابن القيم إلى شيء منها ـ كالهدم والغرق والصيحة، أو السجن والعذاب الحسي، ونحو ذلك، فهذه لا شك أنها أنواع من العقوبات، ولكن ثمة أنواع من العقوبات قد تكون أشد وأعظم، وهى تلك العقوبات التي تتسلط على القلب، فيُضرب بالغفلة وقسوته، حتى إن جبال الدنيا لو تناطحت أمامه ما اعتبر ولا اتعظ ـ عياذاً بالله ـ بل يظن المسكين، أو تظن أمة من الأمم ـ وهى ترى النعم تتابع وتزداد مع استمرارها في البعد عن شرع الله ـ تظن أن ذلك علامةً على رضى الله عز وجل عنها، وهذه لعمر الله من أعظم العقوبات التي يُبتلى بها العبد وتُبتلى بها أمة من الأمم.

استمع جيداً إلى قول الله عز وجل: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُمْ بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ (42) فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا} فما الذي حصل؟ هل تابوا أم رجعوا؟ اقرأ تتمة الآية: {وَلَكِنْ قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مَا كَانُوا
وما الذي أرسল على قوم ثمود الصيحة، حتى قطعت قلوبهم في أجوافهم، وماتوا عن آخرهم؟

আর কিসের কারণে সামুদ জাতির ওপর সেই মহানাদ পাঠানো হয়েছিল, যা তাদের দেহের অভ্যন্তরে তাদের কলিজা বিদীর্ণ করে দিয়েছিল এবং তাদের শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত সবাইকে মৃত্যুপুরীতে পাঠাল?

وما الذي رفع قرى اللوطية حتى سمعت الملائكة نبيح كلابهم، ثم قلبها عليهم فجعل عاليها سافلها؟ فأهلكهم جميعاً ثم أتبعهم حجارة من سجيل السماء، أمطرها عليهم فجمع عليهم من العقوبة ما لم يجمعه على أمة غيرهم، ولإخوانهم أمثالها، وما هي من الظالمين ببعيد.

আর কিসের কারণে লূত জাতির জনপদকে উপরে উঠানো হয়েছিল যে ফেরেশতারা তাদের কুকুরের ডাক শুনতে পেয়েছিলেন, অতঃপর সেটিকে তাদের ওপর উল্টিয়ে দেওয়া হলো এবং তার উপরিভাগকে নিম্নভাগে পরিণত করা হলো? অতঃপর তিনি তাদের সবাইকে ধ্বংস করলেন এবং আকাশ থেকে কঙ্করময় পাথর বর্ষণ করলেন। তিনি তাদের ওপর এমন শাস্তি একত্র করেছেন যা অন্য কোনো উম্মতের ওপর একত্র করেননি। আর তাদের অনুরূপ পাপীদের জন্যও অনুরূপ শাস্তি রয়েছে এবং এটি যালিমদের থেকে খুব দূরে নয়।

وما الذي أرسل على قوم شعيب سحاب العذاب كالظلل؟ فلما صار فوق رؤوسهم أمطر عليهم ناراً تلظى؟

আর কিসের কারণে শোয়াইব (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ওপর ছায়ার মতো আযাবের মেঘ প্রেরণ করা হয়েছিল? যখন তা তাদের মাথার ওপর এলো তখন তাদের ওপর প্রজ্বলিত অগ্নি বর্ষণ করল?

وما الذي أغرق فرعون وقومه في البحر، ثم نقلت أرواحهم إلى جهنم، فالأجسাদ للغرق والأرواح للحرق؟

আর কিসের কারণে ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারা হলো, অতঃপর তাদের রূহগুলোকে জাহান্নামে স্থানান্তরিত করা হলো; ফলে দেহগুলো নিমজ্জিত হওয়ার জন্য এবং রূহগুলো দহন হওয়ার জন্য নির্ধারিত হলো?

وما الذي خسف بقارون وداره وماله وأهله؟

আর কিসের কারণে কারূন, তার ঘরবাড়ি, সম্পদ ও পরিবারসহ তাকে মাটির নিচে ধসিয়ে দেওয়া হলো?

وما الذي أهلك القرون من بعد نوح بأنواع العقوبات، ودمرها تدميراً؟ … إلى أن قال رحمه الله:

আর কিসের কারণে নূহ (আ.)-এর পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে বিভিন্ন ধরণের শাস্তির মাধ্যমে ধ্বংস করা হলো এবং সমূলে বিনাশ করা হলো? ... ইবনুল কাইয়্যেম (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন:

قال الإمام أحمد: حدثنا الوليد بن مسلم، ثنا صفوان بن عمر، حدثني عبد الرحمن بن جبير بن نفير، عن أبيه قال: لما فتحت قبرص، فُرِّقَ بين أهلها، فبكى بعضهم إلى بعض، فرأيت أبا الدرداء جالساً وحده يبكي! فقلت: يا أبا الدرداء! ما يبكيك في يوم أعز الله فيه الإسلام وأهله؟ فقال: ويحك يا جبير! ما أهون الخلق على الله عز وجل إذا أضاعوا أمره؟! بينما هي أمة قاهرة ظاهرة، لهم الملك تركوا أمر الله فصاروا إلى ما ترى! انتهى كلام بن القيم.

ইমাম আহমদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ওয়ালিদ বিন মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) সাফওয়ান বিন উমর, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আবদুর রহমান বিন জুবায়ের বিন নুফাইর, তিনি তার পিতা থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন সাইপ্রাস বিজিত হলো এবং সেখানকার অধিবাসীদের পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো, তখন তারা একে অপরের শোকে কাঁদতে লাগল। আমি আবু দারদাকে একাকী বসে কাঁদতে দেখলাম! আমি বললাম: হে আবু দারদা! আপনি এমন দিনে কেন কাঁদছেন যেদিন আল্লাহ ইসলাম ও মুসলিমদের সম্মানিত করেছেন? তিনি বললেন: আফসোস হে জুবায়ের! আল্লাহর নিকট মাখলুক কতই না তুচ্ছ হয়ে যায় যখন তারা তাঁর আদেশ অমান্য করে! একদা তারা একটি প্রভাবশালী ও বিজয়ী জাতি ছিল, তাদের রাজত্ব ছিল, কিন্তু তারা আল্লাহর নির্দেশ পরিত্যাগ করল ফলে তাদের অবস্থা আজ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যা তুমি দেখছ। ইবনুল কাইয়্যেমের বক্তব্য সমাপ্ত।

وهنا تنبيه مهم وهو أنه ينبغي أن ندرك أن العقوبات حينما تُذكر، فلا يصح حصرها في العقوبات الحسية أو العقوبات الجماعية ـ التي أشار ابن القيم إلى شيء منها ـ كالهدم والغرق والصيحة، أو السجن والعذاب الحسي، ونحو ذلك، فهذه لا شك أنها أنواع من العقوبات، ولكن ثمة أنواع من العقوبات قد تكون أشد وأعظم، وهى تلك العقوبات التي تتسلط على القلب، فيُضرب بالغفلة وقسوته، حتى إن جبال الدنيا لو تناطحت أمامه ما اعتبر ولا اتعظ ـ عياذاً بالله ـ بل يظন المسكين، أو تظن أمة من الأمم ـ وهى ترى النعم تتابع وتزداد مع استمرارها في البعد عن شرع الله ـ تظن أن ذلك علامةً على رضى الله عز وجل عنها، وهذه لعمر الله من أعظم العقوبات التي يُبتلى بها العبد وتُبتلى بها أمة من الأمم.

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে, তা হলো আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে যখন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়, তখন একে কেবল বাহ্যিক শাস্তি বা সামষ্টিক শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়—যার কিছু ইঙ্গিত ইবনুল কাইয়্যেম দিয়েছেন—যেমন ধ্বংসযজ্ঞ, নিমজ্জন, মহানাদ, অথবা কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন ইত্যাদি। নি:সন্দেহে এগুলো শাস্তির প্রকারভেদ, কিন্তু এমন কিছু শাস্তির প্রকার আছে যা আরও বেশি কঠোর ও ভয়াবহ হতে পারে; আর তা হলো সেই শাস্তি যা অন্তরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। ফলে অন্তর গাফিলতি ও কঠোরতার দ্বারা আক্রান্ত হয়। এমনকি দুনিয়ার পাহাড়গুলোও যদি তার সামনে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়, তবুও সে শিক্ষা গ্রহণ করে না এবং উপদেশ নেয় না—আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই। বরং সেই অভাগা ব্যক্তি অথবা কোনো জাতি মনে করে—যখন সে দেখে যে আল্লাহর শরীয়ত থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও নেয়ামত একের পর এক বৃদ্ধি পাচ্ছে—তখন সে মনে করে যে এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহর শপথ, এটি অন্যতম বড় আজাব যাতে একজন বান্দা বা কোনো জাতি লিপ্ত হতে পারে।

استمع جيداً إلى قول الله عز وجل: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُمْ بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ (42) فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا} فما الذي حصل؟ هل تابوا أم رجعوا؟ اقرأ تتمة الآية: {وَلَكِنْ قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مَا كَانُوا

মহান আল্লাহর বাণীর প্রতি মনোযোগ দিন: "আর আমি তো আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের কাছেও রাসূল পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর আমি তাদেরকে অর্থকষ্ট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম যাতে তারা বিনীত হয়। অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার শাস্তি পৌঁছল তখন তারা কেন বিনীত হলো না?" তাহলে কী ঘটেছিল? তারা কি তাওবা করেছিল নাকি ফিরে এসেছিল? আয়াতের অবশিষ্টাংশ পড়ুন: "বরং তাদের অন্তরগুলো কঠোর হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের জন্য সুশোভিত করেছিল..."
(খণ্ড: ১) ফিকহুল ইবতিলা ওয়া আকদারিল্লাহিল মুয়লিমা (পৃষ্ঠা: ২৯)
يَعْمَلُونَ (43) فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ [الأنعام: 42 - 44] فنعوذ بالله أن نكون من أهل هذه الآية، ونسأله بمنه وكرمه أن يتوب علينا وأن يبصرنا بمواطن الزلل منا، وأن لا يضربنا بقسوة القلب، وأن لا يؤاخذنا بما فعل السفهاء منا.

ملاحظة هامة: قيل أن سبب الابتلاء بالضراء الرئيسي للمكلفين هو الاختبار من الله جل جلاله للمكلفين وأما الذنوب فلا شك أنها من أسباب المصائب، ولكن ليس في نصوص الشرع ما يدل على أن المصائب لا تكون إلا بالذنوب، فقد يُصاب بعض الناس لحكم أخرى ، فالمصيبة أعم من العقوبة فقد تكون بذنب وقد تكون بلا ذنب وذلك لسبب مقتض مصلحته أعظم من مراعاة المصلحة العاجلة والخاصة للعبد ويدلك على هذا قوله تعالى عن الموت (فَأَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةُ الْمَوْتِ) فسماه مصيبة وهو يصيب كل إنسان، من أشرف الأنبياء إلى أكفر الخلق، فكل عقوبة بذنب وليست كل مصيبة وابتلاء بضراء تكون بذنب، وكذا الابتلاء والبلاء ، قال تعالى (وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً) وقال تعالى (وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ)، وهو كما ترى مما لا تعلق له بالذنب وإنما المصائب أحياناً تكون لمجرد الزيادة في اليقين والرفعة والاختبار، قال تعالى (نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ).

ولا نُنكر أنه قد جاء لفظ "المصيبة" يُراد به العقوبة كما قال تعالى: ((وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ)). كما هي العادة بمجيء العام على معنى بعض أفراده، وقد تقدم أن المصيبة أعم من العقوبة ، وبهذا يتبين لك أن من أسباب المصائب الذنوب، ولكنها ليست السبب الوحيد، فقد يبتلي الله تعالى بعض عباده الصالحين الذين لم يستوجبوا العقاب بذنوبهم، لينالوا أجر الصابرين، وترتفع بذلك درجاتهم.

وهنالك مذهب آخر يقول:

أن كل ما أصاب العبد المكلف من المصائب لا يكون إلا بسبب من العبد إما من أصل الشر الذي في نفسه لأنه خلق ظلوماً جهولاً، وإما من الذنب الذي قد اقترفه ، واستدلوا بالحديث الوارد في خطبة الحاجة: (ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا). ومن الأدعية النبوية الصديقية: (أعوذ بك من شر نفسي وشر الشيطان وشركه وأن أقترف على نفسي سوءاً أو أجره إلى مسلم).فالاستعاذة بالله من شرور النفس من جنس الابتلاء والامتحان، وهو تمحيص للشرور الموجودة في النفوس نفس كل واحد من بنى آدم بلا استثناء وقد لا يسمى هذا النوع عقوبة، لكن السبب بلا شك من العبد، كما قال تعالى: "وَمَا أَصَابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِكَ". ومن الملاحظ هنا، أن سبب الامتحان ليس هو الإيمان والصلاح والتقوى! بل سببه ما يتبقى في النفوس من الشرور ، ولذلك كان لا يزال البلاء بالمؤمن والمؤمنة في جسده وأهله وماله حتى يلقى الله وما عليه خطيئة ، فالأنبياء أشد الناس بلاءً، ليصبح شر النفس عندهم أقل القليل أو عدماً ، هذا والله تعالى أعلم.
তারা যা করছিল (৪৩) অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম; অবশেষে যখন তারা তাদের যা দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে উল্লসিত হলো, তখন আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম, ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়ল [আল-আন’আম: ৪২ - ৪৪]। অতএব আমরা আল্লাহর কাছে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমরা তাঁর কাছে তাঁর করুণা ও উদারতায় তাওবা করার তাওফিক এবং আমাদের ভুলত্রুটিগুলোর বিষয়ে সচেতন করার আবেদন জানাচ্ছি; আর তিনি যেন আমাদের অন্তর কঠোর করে না দেন এবং আমাদের মধ্য থেকে নির্বোধেরা যা করে তার জন্য যেন আমাদের পাকড়াও না করেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: বলা হয়েছে যে, মুকাল্লাফ (المكلفين) বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষা (الابتلاء) করার মূল কারণ হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের যাচাই করা। আর পাপাচারের ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই যে, তা বিপদ-আপদের (المصائب) অন্যতম কারণ। তবে শরয়ি নসসমূহে (نصوص الشرع) এমন কোনো নির্দিষ্ট দলিল নেই যা নির্দেশ করে যে, বিপদ-আপদ কেবল পাপের কারণেই হয়ে থাকে। বরং কখনো কখনো অন্য কোনো হিকমতের কারণেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। সুতরাং বিপদ (المصيبة) শব্দটির অর্থ শাস্তি (العقوبة) অপেক্ষা ব্যাপকতর; এটি পাপের কারণেও হতে পারে আবার পাপ ছাড়াও হতে পারে। এর কারণ হলো এমন কোনো হিকমত যার উপযোগিতা বান্দার তাৎক্ষণিক ও বিশেষ কল্যাণের চেয়েও মহত্তর। এর প্রমাণ হিসেবে মৃত্যুর বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী উল্লেখযোগ্য: (অতঃপর তোমাদের নিকট মৃত্যুরূপী বিপদ—مصيبة—আসে)। এখানে মৃত্যুকে বিপদ (مصيبة) বলা হয়েছে, অথচ তা শ্রেষ্ঠ নবী থেকে শুরু করে চরম কাফের পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। সুতরাং প্রতিটি শাস্তিই (عقوبة) পাপের কারণে হয়, কিন্তু প্রতিটি বিপদ (مصيبة) ও দুঃখের পরীক্ষা (الابتلاء) পাপের কারণে হয় না। তদ্রূপ পরীক্ষা (الابتلاء) ও বালা-মুসিবতের (البلاء) বিষয়টিও একই রকম। মহান আল্লাহ বলেন: (আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করি—فتنة—) এবং আল্লাহ আরও বলেন: (স্মরণ করো, যখন ইবরাহিমকে তাঁর রব পরীক্ষা করেছিলেন—ابتلى—)। আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, এর সাথে পাপের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং বিপদ-আপদ কখনো কখনো কেবল ইয়াকিন বৃদ্ধি, মর্যাদা দান এবং পরীক্ষার জন্য হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: (আমি যাকে ইচ্ছা উচ্চ মর্যাদায়—درجات—উন্নীত করি)।

আমরা এটি অস্বীকার করি না যে 'মুসিবত' (المصيبة) শব্দটি দ্বারা কখনো কখনো শাস্তি (العقوبة) উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন)। যেমনটি সাধারণত কোনো ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ (العام) তার বিশেষ কোনো প্রকারের অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিপদ শব্দটি শাস্তির চেয়ে ব্যাপকতর। এর দ্বারা আপনার নিকট স্পষ্ট হলো যে, বিপদের অন্যতম কারণ হলো পাপাচার, কিন্তু এটিই একমাত্র কারণ নয়। মহান আল্লাহ কখনো কখনো তাঁর নেককার বান্দাদের পরীক্ষা (يبتلي) করেন যারা তাদের পাপের কারণে শাস্তির যোগ্য নন, যেন তারা ধৈর্যশীলদের প্রতিদান লাভ করেন এবং এর মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

সেখানে আরেকটি মাযহাব (مذهب) বা মত রয়েছে যা বলে:

দায়িত্বশীল বান্দার ওপর যে বিপদই আপতিত হোক না কেন, তা কেবল বান্দার কারণেই হয়ে থাকে। হয় তার নিজের ভেতরের মন্দের (الشر) কারণে—কেননা সে অতিশয় জালেম ও অজ্ঞ হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে—নতুবা তার কৃত কোনো পাপের কারণে। তারা 'খুতবাতুল হাজাহ'-এ বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন: (আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই)। এছাড়া আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) জন্য শেখানো নববী দোয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে: (আমি আপনার কাছে আমার নফসের অনিষ্টতা এবং শয়তানের অনিষ্টতা ও তার শিরক থেকে আশ্রয় চাই, আর যেন আমি নিজের ওপর কোনো মন্দ কাজ না করি অথবা তা কোনো মুসলিমের দিকে টেনে না আনি)। সুতরাং নফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া পরীক্ষা (الابتلاء) ও যাচাইয়ের (الامتحان) অন্তর্ভুক্ত; আর এটি আদম সন্তানের প্রত্যেকের নফসে বিদ্যমান মন্দের পরিশোধন (تمحيص)। এ ধরনের বিষয়কে হয়তো শাস্তি (عقوبة) বলা যাবে না, তবে এর কারণ নিঃসন্দেহে বান্দার পক্ষ থেকেই হয়। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (তোমার যে মন্দ ঘটে তা তোমার নিজেরই পক্ষ থেকে)। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, পরীক্ষার কারণ ঈমান, নেক আমল বা তাকওয়া নয়! বরং এর কারণ হলো নফসে অবশিষ্ট থাকা মন্দসমূহ। আর এ কারণেই মুমিন নর-নারীর শরীর, পরিবার ও সম্পদের ওপর বিপদ (البلاء) আসতেই থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে তার ওপর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না। নবীরা হলেন সর্বাধিক বিপদের (بلاءً) সম্মুখীন ব্যক্তি, যাতে তাদের নফসের অনিষ্টতা একেবারেই নগণ্য বা বিলীন হয়ে যায়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।