القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المسلم وحقوق الآخرين
المؤلف: أبو فيصل البدراني
عدد الصفحات: 70
[ترقيم الكتاب موافق لنسخة المؤلف]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1433
বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
বই: মুসলিম ও অন্যের অধিকার
লেখক: আবু ফয়সাল আল-বদরানি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর লেখকের মূল কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৩ হিজরি
বিভ্রান্তি ও মূর্খতা পরিহার করা উচিত। একটি বড় ভুল হলো স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা না করে কথা বলা। প্রত্যেকের সাথে তার অবস্থা ও মর্যাদা অনুযায়ী কথা বলা উচিত। যেমন—বাদশাহ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক এবং তাদের মর্যাদার উপযোগী নম্র ও মিষ্ট ভাষায় কথা বলা প্রয়োজন। অনিচ্ছুক ব্যক্তির কাছে কথা বলা একটি ভুল; তাই অন্যকে আপনার কথা শুনতে বাধ্য করবেন না। মানুষের মধ্যে যখন উদাসীনতা বা বিমুখতা দেখবেন, তখন কথা বলা বন্ধ করুন। তবে সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে আহ্বানের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। কথার পুনরাবৃত্তি করাও একটি ভুল। তবে উপযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হলে এবং তা বিরক্তির পর্যায়ে না পৌঁছালে তাতে কোনো দোষ নেই। শ্রোতাদের ওপর অহমিকা প্রদর্শন করা, বক্তার কথায় কর্ণপাত না করা এবং বক্তার কথাকে তুচ্ছজ্ঞান করাও ভুলের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি বক্তা ভুল করলেও মহানুভব ব্যক্তিরা তা এড়িয়ে যান এবং তার পদস্খলনকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। ভুল বড় হলে তারা সুন্দরতম ভাষায় ও সূক্ষ্ম ইঙ্গিতে ভুল ধরিয়ে দেন এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। বক্তার কথা শেষ হওয়ার আগেই তা শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা, কথা শেষ হওয়ার আগেই উঠে যাওয়া, বক্তাকে মিথ্যা (تكذيب) প্রতিপন্ন করতে তাড়াহুড়ো করা, ছোটদের সাথে কথা বলায় অবহেলা করা এবং মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করাও ভুল। যাচাই-বাছাই (تثبت) এবং প্রচারের কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়ার পূর্বেই সংবাদ (خبر) প্রচারে ত্বরান্বিত হওয়া, মিথ্যা (كذب) বলা, যাচাই-বাছাই বা নিশ্চিত হওয়া ছাড়াই একে অপরের সমালোচনা শোনা এবং তা গ্রহণ করা, প্রয়োজন ছাড়া উচ্চস্বরে কথা বলা এবং কর্কশ ভাষায় সম্বোধন করা একটি বড় ত্রুটি। কারণ মুমিন ও কাফির সকলের সাথেই মূলত নম্রভাবে কথা বলা উচিত। মিষ্টভাষিতা সবার সাথেই সুন্দর দেখায়, তবে যার হক, মর্যাদা বা নেতৃত্ব রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে তা অধিক প্রযোজ্য। তাদের সাথে নম্র ভাষায় কথা বলা শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি, যুক্তি এবং স্বভাবজাতভাবেই কাম্য। তবে কখনো কখনো পরিস্থিতি ও প্রজ্ঞার প্রয়োজনে মুসলিম ব্যক্তি এই পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারে। অশালীন কথা বলা একটি ভুল, যা কাফিরদের ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ—কেবল অত্যন্ত সংকীর্ণ পরিসর ব্যতীত। কড়াভাবে তিরস্কার করাও একটি ত্রুটি। প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি সামান্য বিষয়ে তার ভাইদের তিরস্কার করেন না, বরং তাদের ওজর তালাশ করেন এবং বিষয়গুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিরস্কারের প্রয়োজন হলে তা অত্যন্ত কোমল ও মার্জিতভাবে করা উচিত। বন্ধুর অপরাধ মার্জনা করা কতোই না উত্তম! তবে বন্ধুত্বের প্রতি অনীহার কারণে ভুল হলে আপনিও অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। অকারণে বিরোধিতা ও দ্বিমত পোষণ করাও একটি ভুল। কারণ সচ্চরিত্রের (المروءة) দাবি হলো—ভাইয়েরা সঠিক হলে তাদের সমর্থন করা এবং ভুল করলে নম্রতার সাথে সংশোধন করা। আর সঠিক-ভুলের পার্থক্য স্পষ্ট না হলে বিরত থাকা। সঙ্গীদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা উচিত, যতক্ষণ না তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়। তাদের কষ্ট দেয় এমন বিষয় পরিহার করা উচিত, তবে হকের কারণে তারা ব্যথিত হলে ভিন্ন কথা।
মুখের অশ্লীলতা ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলাও একটি ভুল। এ ক্ষেত্রে রূপক বা পরোক্ষ প্রকাশভঙ্গি ব্যবহার করা উচিত এবং সুন্দর শব্দে মনের ভাব ব্যক্ত করা উচিত, যতক্ষণ না সরাসরি নাম উল্লেখের প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজন দেখা দিলে স্পষ্ট ভাষাই কাম্য, বরং সেটিই তখন অপরিহার্য হয়ে যায়। কথায় অতিরিক্ত কৃত্রিমতা বা পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করাও একটি ভুল; এখানে উদ্দেশ্য হলো রুচিবোধের সীমা অতিক্রম না করা। তবে বাগ্মিতা, সুন্দর বর্ণনাভঙ্গি ও প্রাঞ্জল শব্দচয়ন প্রশংসনীয় ও কাম্য—বিশেষ করে সত্য বর্ণনার ক্ষেত্রে। মোটের ওপর, একজন মানুষের উচিত নিম্নমানের ভাষা ও অতি দূর্বোধ্য শব্দ উভয়ই পরিহার করা, যেন তার কথা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে। কর্মসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, তাই সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলার সময় অতিরিক্ত কৃত্রিমতা এবং অতি দূর্বোধ্য শব্দ চয়ন করা অনুচিত। অসার বিষয়ে লিপ্ত হওয়া, অধিক তিরস্কার করা, মানুষের কাছে বেশি অভিযোগ করা এবং নারী সম্পর্কে অধিক আলোচনা করাও ভুল। এখানে অশ্লীলতা, পাপাচার বা মন্দ উদ্দেশ্যে কোনো নারীর বর্ণনা দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং তাদের নিয়ে সাধারণ কথাবার্তা—যেমন একাধিক বিবাহের গর্ব করা বা তাদের রূপ-গুণের বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। এর অর্থ এই নয় যে নারী সম্পর্কে আলোচনা একেবারেই নিষিদ্ধ, বরং এর আধিক্য পরিহার করা উচিত। অতিরিক্ত কৌতুক করাও একটি ভুল, বরং এ ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উচিত। কারণ মানুষের থেকে একদম গুটিয়ে থাকলে শত্রুতা সৃষ্টি হয়, আবার অত্যধিক মেলামেশা মন্দ বন্ধুর সঙ্গ নিয়ে আসে। কৌতুক হওয়া উচিত খাবারে লবণের মতো। অধিক শপথ করাও একটি ত্রুটি, তবে প্রয়োজনের খাতিরে হলে দোষ নেই। মজলিসের সঙ্গীদের ভুলত্রুটি খুঁজে বেড়ানোও একটি বড় ভুল। কেননা সচ্চরিত্রের (المروءة) দাবি হলো—সঙ্গীর দোষত্রুটি এড়িয়ে যাওয়া এবং তার ভুল বা পদস্খলনকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা, যাতে তার মর্যাদা রক্ষিত হয়।
হাসান (বসরী) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "সে ইফতার করবে এবং ইফতার করলে সে সদাচরণের সওয়াব ও রোজার সওয়াব উভয়ই লাভ করবে।" আর ইউসুফ ইবনে মূসার বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "যখন তার পিতামাতা তাকে নির্ধারিত (مكتوبة) নামাজ ব্যতীত অন্য নামাজ না পড়তে আদেশ করেন, তখন তিনি বলেন: সে তাদের সাথে নম্রতা অবলম্বন করবে এবং নামাজ পড়বে।" শায়খ তাকিউদ্দীন বলেন: "রোজার ক্ষেত্রে, পিতামাতা নিষেধ করলে তা শুরু করা অপছন্দনীয় (مكروه) এবং শুরু করে থাকলে তা থেকে বেরিয়ে আসা (ভেঙে ফেলা) মুস্তাহাব (مستحب)। আর নামাজের ব্যাপারে তিনি বলেছেন যে, সে তাদের সাথে নম্র আচরণ করবে এবং নামাজ পড়বে।" তাঁর কথা সমাপ্ত। অতঃপর তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে হাম্মাদ আল-মুকরির বর্ণনায় জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যার পিতা তাকে নামাজ বিলম্বিত করতে আদেশ করেন যাতে তিনি তার সাথে নামাজ পড়তে পারেন; তিনি বলেন: "সে নামাজ বিলম্বিত করবে।" আল-কাজী 'আল-জামি আল-কাবীর'-এ বলেছেন: "যদি নামাজ বিলম্বিত করা জায়েজ না হতো, তবে পিতার আনুগত্য করা ওয়াজিব হতো না। কারণ আবু তালিবের বর্ণনায় তিনি জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যার পিতা তাকে জামাতে নামাজ পড়তে নিষেধ করেন, তখন তিনি বলেছেন: ফরজের ক্ষেত্রে পিতার আনুগত্য নয়।" আর আল-কাজী 'আত-তালিক'-এ পুণ্যকর্মের প্রকারভেদ সংক্রান্ত মাসআলার আলোচনায় আবু বকর ইবনে হাম্মাদ-এর বর্ণনার প্রেক্ষিতে বলেছেন: "এখানে নামাজ বিলম্বিত করা এবং ওয়াক্তের শুরুর দিকের ফজিলত বর্জন করার ক্ষেত্রে পিতার আনুগত্যের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, নফল (نفل) রোজা ও নফল (نفل) নামাজ বর্জন করার ক্ষেত্রে পিতার আনুগত্য করা পছন্দনীয়, যদিও সেগুলো পুণ্য ও ইবাদতের কাজ।" অতঃপর তিনি হারুনের উল্লিখিত বর্ণনাটি উল্লেখ করেন।
সমাপ্ত।ইবনে মুফলিহ 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ'-তে অন্য এক স্থানে বলেছেন: "আর সন্তান আবাসে অবস্থানকালে (সফর ব্যতীত) যে সকল আমল করে, যেমন নফল (نفل) নামাজ ইত্যাদি, তাতে পিতার অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয় না কেউ একে শর্ত মনে করেন এবং এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তিও নেই, আর আমলও এর পরিপন্থী। আল্লাহ ভালো জানেন।" সমাপ্ত।ইবনে মুফলিহ 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ'-তে অন্য এক স্থানে বলেছেন: "আবু আল-বারাকাত উল্লেখ করেছেন যে, পিতার জন্য তার সন্তানকে সুন্নতে রাতেবা (سنة راتبة) পালনে বাধা দেওয়া জায়েজ নেই। অনুরূপ বিধান শিক্ষক, স্বামী ও মুনিবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ইমাম আহমদের বক্তব্য পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তবে প্রথম মতটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের লেখকের বক্তব্যের দাবি হলো, শরিয়তে যা কিছুই তাকিদপূর্ণ বা সুনিশ্চিত, তাতে সন্তানকে বাধা দেওয়া পিতার জন্য জায়েজ নয় এবং সন্তান এক্ষেত্রে তার আনুগত্য করবে না। অনুরূপভাবে 'আন-নাজম' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তাকিদপূর্ণ নফল (نفل مؤكد) বর্জনের ক্ষেত্রে সন্তান পিতামাতার আনুগত্য করবে না; যেমন এমন জ্ঞান অর্জন করা যা তাদের কোনো ক্ষতির কারণ হয় না।" সমাপ্ত।আর সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলোতে (مشتبهات) পিতামাতার আনুগত্য করা ওয়াজিব, যতক্ষণ না তাতে চরম কষ্ট হয়; এমতাবস্থায় তা আবশ্যক থাকে না এবং তাদের সাথে নম্র আচরণ করতে হবে। তবে নিঃসন্দেহে তাদের আনুগত্য করাই উত্তম এবং মুমিনের উচিত তা-ই করা যা তার অন্তরের জন্য অধিক সংশোধনমূলক। ইমাম নববী 'সহিহ মুসলিম'-এর শারহে বলেছেন: "অনেক আলেম সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলোতে (شبهات) পিতামাতার আনুগত্য করা ওয়াজিব বলেছেন।"আর ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) ত্যাগের ক্ষেত্রে পিতামাতার প্রয়োজন মেটাতে তাদের আনুগত্যের বিধান সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই যে, নির্দিষ্টভাবে ওয়াজিব হওয়া তাদের আনুগত্য ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-এর ওপর প্রাধান্য পাবে। এটি মুসলিম-এ বর্ণিত সেই হাদিসের কারণে যেখানে জনৈক ব্যক্তি বায়আত গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন অথচ তার পিতামাতা জীবিত ছিলেন; এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যের চেয়ে পিতামাতার সান্নিধ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার দলিল রয়েছে।আর তাদের খিদমত করা—যা সন্তানের ওপর ফরজে আইন (فرض عين)—তা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-এর ওপর প্রাধান্য পাবে। কারণ পিতামাতার আনুগত্য ও তাদের প্রতি সদাচরণ হলো ফরজে আইন (فرض عين), আর জিহাদ হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية); আর ফরজে আইন (فرض عين) অধিক শক্তিশালী।ইবনে মুফলিহ 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ'-তে বলেছেন: "শায়খ মুওয়াফফাকুদ্দীন নফল হজের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, পিতার অধিকার আছে সন্তানকে তাতে বের হতে বাধা দেওয়ার; কারণ তিনি তাকে যুদ্ধে যেতে বাধা দিতে পারেন যা ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)-এর অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং নফল কাজের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। তিনি আরও বলেছেন (যার সারমর্ম হলো: যার পিতামাতা মুসলিম, তাদের অনুমতি ব্যতীত সে জিহাদ করবে না অর্থাৎ নফল জিহাদ), এটি উমর ও উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত এবং এটিই ইমাম মালিক, শাফিঈ ও অন্যান্য সকল আলেমের মত। তিনি এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: কারণ পিতামাতার প্রতি সদাচরণ করা ফরজে আইন (فرض عين) এবং জিহাদ হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), আর ফরজে আইন (فرض عين) অগ্রাধিকারযোগ্য। তবে যদি জিহাদ তার ওপর ফরজে আইন (فرض عين) হয়ে যায়, তবে তাদের অনুমতির আবশ্যকতা থাকে না। অনুরূপভাবে সকল ফরজে আইন (فرض عين) ইবাদতসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত। ঠিক তেমনি হজ, জামাতে নামাজ, জুমা এবং জরুরি ইলম অর্জনের সফরের মতো ওয়াজিব বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ এগুলো ফরজে আইন (فرض عين), তাই নামাজের মতোই এগুলোতে পিতামাতার অনুমতির প্রয়োজন নেই।" সমাপ্ত।এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হলো, পিতামাতা সন্তানকে কোনো ভালো কাজের আদেশ দিলে সন্তানের জন্য তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি আদেশের উদ্দেশ্য কেবল সন্তানকে সম্মান বা আপ্যায়ন করা হয়, তবে সন্তানের ওপর তা ওয়াজিব নয়, যদি না সে এটি অমান্য করার ফলে কোনো ফেতনা বা মফাসাদাতের আশঙ্কা করে।কষ্ট (مشقة), যাতনা (أذى) এবং ক্ষতির (ضرر) মধ্যে পার্থক্য:শুরুতেই আমাদের জানা উচিত যে, কষ্ট (مشقة) হলো যাতনা (أذى)-এর সমার্থক, আমার জানামতে এ দুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই। তবে কষ্ট (مشقة) ও ক্ষতির (ضرر) মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে হে মুসলিম ভাই জেনে রাখুন, যেকোনো আদেশ পালন করার মধ্যেই এক প্রকার কষ্ট (مشقة) নিহিত থাকে; কারণ মানুষের প্রবৃত্তি আরাম ও আয়েশ পছন্দ করে এবং যা তার প্রতিকূল তা থেকে দূরে থাকতে চায়। এটি তখন স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যখন আদেশটি মানুষের প্রবৃত্তির বিপরীত হয়।