0/0
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
أحكام الهجر والهجرة في الإسلام   (أبو فيصل البدراني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام الهجر والهجرة في الإسلام

المؤلف: أبو فيصل البدراني

عدد الصفحات: 44

[ترقيم الكتاب موافق لنسخة المؤلف]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1433

ইসলামে বয়কট ও হিজরতের বিধানসমূহ   (আবু ফয়সাল আল-বদরানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: ইসলামে বয়কট ও হিজরতের বিধানসমূহ

লেখক: আবু ফয়সাল আল-বদরানি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর লেখকের মূল কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১)
"بسم الله الرحمن الرحيم"

 

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين ، أما بعد:

فهذه رسالة حول أحكام الهجر والهجرة في الإسلام ، وقد جمعت فيها مسائل مهمة متفرقة عن هذا الموضوع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তার প্রতি। অতঃপর:

এটি ইসলামে সম্পর্কচ্ছেদ ও হিজরত সংক্রান্ত বিধানাবলি (أحكام) বিষয়ক একটি পুস্তিকা; এতে আমি এই বিষয় সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বিক্ষিপ্ত মাসআলাসমূহ একত্রিত করেছি।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২)
تنبيه: أعتذر لكل الأخوة القراء لعدم عزو المعلومات المسطرة في هذه الرسالة إلى مصادرها كما ينبغي ، والسبب في ذلك أن أصل هذه الرسالة كان ملخصاً شخصياً ولم أكن أنوي وقتها نشرها بين الناس وبالتالي لم أهتم بمصادر المعلومات ولكن لمَا كثرت المادة لدي ارتأيت نشرها لتعم الفائدة للجميع ، فجزى الله كل من ساهم في هذه الرسالة مساهمة مباشرة أو غير مباشرة كالذين نقلت عنهم ولم أذكر أسماءهم للسبب المذكور أعلاه وجعلها في موازين حسناتهم.

لإبداء الملاحظات والاقتراحات فيرجى التواصل على البريد الإليكتروني:

wBadrany@hotmail.com

أخوكم أبو فيصل البدراني.
সতর্কতা (تنبيه): আমি সকল পাঠক ভাইদের নিকট এই পুস্তিকায় লিপিবদ্ধ তথ্যাবলি যথাযথভাবে সেগুলোর মূল উৎসের (مصادر) দিকে সূত্রারোপ (عزو) না করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এর কারণ হলো, মূলত এই পুস্তিকাটি ছিল একটি ব্যক্তিগত সারসংক্ষেপ এবং তৎকালীন সময়ে এটি জনসাধারণের মাঝে প্রচার করার কোনো সংকল্প আমার ছিল না। ফলশ্রুতিতে আমি তথ্যের উৎসগুলোর প্রতি বিশেষ ভ্রূক্ষেপ করিনি। তবে যখন আমার নিকট তথ্য-উপাত্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পেল, তখন আমি এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম যাতে এর দ্বারা সকলে উপকৃত হতে পারে। সুতরাং যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই পুস্তিকায় অবদান রেখেছেন—যেমন যাদের নিকট থেকে আমি তথ্য গ্রহণ করেছি কিন্তু পূর্বোক্ত কারণে তাদের নাম উল্লেখ করতে পারিনি—আল্লাহ যেন তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং একে তাদের নেক আমলের পাল্লায় অন্তর্ভুক্ত করেন।

মতামত ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুগ্রহ করে নিচের ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করুন:

wBadrany@hotmail.com

আপনার ভাই আবু ফয়সাল আল-বদরানি।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أحكام الهجر في الإسلام:

‌‌تعريف الهجر والهجرة والهجران:

المعنى اللغوي للهجرة والهجر والهجران: هو ضد الوصل وهو مفارقة الإنسان غيره إما بالبدن أو باللسان أو بالقلب والأصل فيه الترك قولاً كان أو فعلاً وقوله تعالى (واهجرهم هجراً جميلاً) يحتمل المفارقة بالبدن واللسان والقلب ومدعو إلى أن يتحرى أي الثلاثة إن أمكنه مع تحري المجاملة وأما قوله تعالى (والرجز فاهجر) فحثٌ على المفارقة بالوجوه كلها. والهجر الجميل هو الاعتزال الحسن وهو الذي يقتصر على حقيقته ولا أذى منه ولا جزع فيه وقوله (واهجرني مليا) أي اعتزلني ما دمت حياً صحيحاً ولا تكلمني.

 

‌‌أقسام الهجر الظاهر:

1 - هجر إيجابي: وصورته هجر الكلام والسلام وحسن التعامل وإظهار البغض وهو الصادر ممن له حق الزجر والتأديب إما بسلطة مادية كالأب مع أبنائه والزوج مع زوجته أو سلطة معنوية كالشيخ مع تلاميذه ، علماً بأن هذا الهجر يجب فيه إشعار المهجور بالهجر وسببه ، وهو إما دواء وإما تعزير، فإن كان من أجل معصية مستمرة فهو دواء، وإن كان من أجل معصية مضت وانتهت فهو تعزير.

2 - هجر وقائي: وهو الذي يتقي الهاجر فيه شر المهجور دينياً أو دنيوياً أو الافتتان به ، وهذا الهجر يجب أن يكون جميلاً ولا يلزم منه إشعار المهجور بالهجر وسببه.

وهذا الهجر لا يلزم منه سوء المعاملة بل لا مانع من اجتماع الهجر الوقائي وحسن التعامل الظاهر والمداراة في حق المعين إذا كانت الجهة منفكة.

 

‌‌مقاصد الإسلام في الهجر الإيجابي:

مقاصد الإسلام في الهجر تختلف باختلاف المهجور والهاجر، فالمقصود من هجر المبتدع الداعية إنكار المنكر ومنع انتشار البدعة ولو كان صاحبها متأولاً معذوراً، وأما المقصود من هجر الفسَاق الهجر التأديبي فهو ردعهم وزجرهم عماهم فيه حتى يتوبوا وليس المقصود من هجرهم التشفَي منهم فالهجر التأديبي وسيلة وليس غاية مقصودة لذاته ، وأما الهجر الوقائي فهو مشروع دائماً وهو خاص بمن يخاف الفتنة على نفسه من المبتدع أو الفاسق ويتأكد الهجر الوقائي بمن ليس له حق في الرحامة ، وعلى هذا فالهجر الشرعي للمبتدع الداعية والفاسق المجاهر المراد منه تخفيف الشر أو إزالته أو حصر دائرته ويتوقف على مدى تحقيق المقاصد الشرعية من الزجر والتأديب ورجوع العامة وتحجيم المبتدع وبدعته وضمان السنة من شائبة البدعة ونحو ذلك.

 

‌‌حكم الهجر بين المسلمين:

الهجر بين المسلمين لحظِّ النفس، أو على أمرٍ دنيوي محرم ولا يجوز ،عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (لا تَبَاغَضُوا وَلا تَحَاسَدُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا وَلا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاثٍ).رواه البخاري ومسلم. وهذا الهجر لا يجوز أكثر من ثلاث ليال كما سبق في الحديث وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا يحل لمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاث فمن هجر فوق ثلاث فمات دخل النار). رواه أبو داود
ইসলামে সম্পর্কচ্ছেদের (الهجر) বিধানসমূহ:

সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر), হিজরত (الهجرة) এবং বিচ্ছিন্নতা (الهجران)-এর সংজ্ঞা:

হিজরত (الهجرة), হজর (الهجر) এবং হিজরান (الهجران)-এর আভিধানিক অর্থ: এটি মিলনের বিপরীত এবং এর অর্থ হলো অন্য কারো থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, চাই তা দৈহিক হোক, বাচনিক হোক বা আন্তরিক হোক। এর মূলে রয়েছে কোনো কথা বা কাজ পরিত্যাগ করা। মহান আল্লাহর বাণী "এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে পরিহার করুন (واهجرهم هجراً جميلاً)"-এর মধ্যে শারীরিক, বাচনিক ও আন্তরিক—এই তিন ধরনের বিচ্ছিন্নতারই সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সে যেন সৌজন্য বজায় রেখে এই তিনটির মধ্যে যেটি সম্ভব তা বেছে নেয়। আর আল্লাহর বাণী "এবং অপবিত্রতা বর্জন করো (والرجز فاهجر)"-এ সব দিক থেকেই বিচ্ছিন্ন হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তম সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر الجميل) হলো সুন্দরভাবে পৃথক হওয়া (الاعتزال الحسن), যা কেবল তার প্রকৃত অবস্থার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, যেখানে কোনো কষ্ট দেওয়া হয় না এবং কোনো অস্থিরতা থাকে না। আর আল্লাহর বাণী "এবং দীর্ঘকাল আমার থেকে দূরে থাকো (واهجرني مليا)"-এর অর্থ হলো যতক্ষণ আমি জীবিত ও সুস্থ থাকি ততক্ষণ আমার থেকে আলাদা থাকো এবং আমার সাথে কথা বলো না।

 

প্রকাশ্য সম্পর্কচ্ছেদের প্রকারভেদ:

১ - ইতিবাচক সম্পর্কচ্ছেদ (هجر إيجابي): এর রূপ হলো কথা বলা, সালাম আদান-প্রদান ও সুন্দর ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং ঘৃণা প্রকাশ করা। এটি এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পায় যার শাসন ও আদব প্রদানের অধিকার রয়েছে। যেমন—সন্তানদের প্রতি পিতার কর্তৃত্ব, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তৃত্ব অথবা ছাত্রদের প্রতি শিক্ষকের নৈতিক কর্তৃত্ব। উল্লেখ্য যে, এই সম্পর্কচ্ছেদের (الهجر) ক্ষেত্রে যাকে বর্জন করা হচ্ছে তাকে বিষয়টি এবং এর কারণ জানানো আবশ্যক। এটি হয় প্রতিকার (دواء), অথবা শাস্তি (تعزير)। যদি তা চলমান কোনো পাপাচারের কারণে হয় তবে তা প্রতিকার (دواء), আর যদি তা অতীত হয়ে যাওয়া কোনো পাপাচারের কারণে হয় তবে তা শাস্তি (تعزير)।

২ - নিরাপত্তামূলক সম্পর্কচ্ছেদ (هجر وقائي): এতে বর্জনকারী ব্যক্তি দ্বীনি বা দুনিয়াবি অনিষ্ট অথবা ফিতনা থেকে বাঁচতে অপর পক্ষকে পরিহার করে। এই সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر) অবশ্যই 'উত্তম' (جميلاً) হতে হবে এবং এতে যাকে বর্জন করা হচ্ছে তাকে কারণ জানানো জরুরি নয়। এই ধরনের সম্পর্কচ্ছেদে দুর্ব্যবহার আবশ্যক নয়, বরং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে নিরাপত্তামূলক সম্পর্কচ্ছেদ এবং বাহ্যিক সৌজন্য বা লোকরক্ষা (المداراة) বজায় রাখার মধ্যে কোনো বাধা নেই।

 

ইতিবাচক সম্পর্কচ্ছেদের ক্ষেত্রে ইসলামের উদ্দেশ্যসমূহ:

সম্পর্কচ্ছেদের (الهجر) ক্ষেত্রে ইসলামের উদ্দেশ্যসমূহ বর্জনকারী ও বর্জনকৃত ব্যক্তির অবস্থাভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। আহ্বানকারী বিদআতি (المبتدع الداعية)-এর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো মন্দ কাজকে অস্বীকার করা এবং বিদআতের প্রসার রোধ করা, যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে অপারগ বিবেচিত হন। আর পাপাচারীদের (الفساق) সাথে শাসনমূলক সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر التأديبي)-এর উদ্দেশ্য হলো তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে বিরত রাখা এবং তওবা করতে বাধ্য করা। তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের উদ্দেশ্য কোনো প্রতিশোধ নেওয়া নয়; বরং শাসনমূলক সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر التأديبي) একটি মাধ্যম মাত্র, তা নিজেই কোনো উদ্দেশ্য নয়। অন্যদিকে নিরাপত্তামূলক সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر الوقائي) সর্বদা অনুমোদিত এবং তা এমন ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট যে বিদআতি (المبتدع) বা পাপাচারীর (الفاسق) কারণে নিজের ওপর ফিতনার আশঙ্কা করে। আত্মীয়তার অধিকার নেই এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তামূলক সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر الوقائي) আরও জোরালো হয়। এ হিসেবে, আহ্বানকারী বিদআতি (المبتدع الداعية) এবং প্রকাশ্য পাপাচারীর (الفاسق المجاهر) সাথে শরয়ি সম্পর্কচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো অনিষ্ট কমানো বা দূর করা অথবা এর পরিধি সীমিত করা। এটি নির্ভর করে শাসন ও শিষ্টাচার শিক্ষাদান, সাধারণ মানুষের সঠিক পথে ফেরা, বিদআতি ও তার বিদআতকে সংকুচিত করা এবং সুন্নাহকে বিদআতের মিশ্রণ থেকে সুরক্ষিত রাখা ইত্যাদি শরয়ি উদ্দেশ্য কতটুকু অর্জিত হচ্ছে তার ওপর।

 

মুসলিমদের মাঝে সম্পর্কচ্ছেদের বিধান:

ব্যক্তিগত স্বার্থে বা দুনিয়াবি কারণে মুসলিমদের মাঝে সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر) করা হারাম এবং তা জায়েজ নয়। আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, হিংসা করো না এবং একে অপরের পেছনে পড়ো না। আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্কচ্ছেদ (يهجر) করে থাকা হালাল নয়।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এই সম্পর্কচ্ছেদ (الهجر) তিন দিনের বেশি হওয়া জায়েজ নয়, যেমনটি হাদিসে এসেছে। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্কচ্ছেদ (يهجر) করে থাকা হালাল নয়। যে ব্যক্তি তিন দিনের বেশি সম্পর্কচ্ছেদ অবস্থায় থাকল এবং সে অবস্থায় মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
وصححه الشيخ الألباني، فهذا الحديث يدل على خطورة التقاطع والتدابر وحرمته، إذا لم يكن له ما يسوغه شرعاً ولا شك في أنه في تلك الحال ينقص الأجر، بل قد ورد أنه لا يغفر لمن بينه وبين أخيه شحناء حتى يصطلحا ففي صحيح مسلم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (تفتح أبواب الجنة يوم الاثنين والخميس، فيغفر الله لكل امرئ لا يشرك بالله شيئا، إلا امرءاً بينه وبين أخيه شحناء، فيقال: أنظروا هذين حتى يصطلحا). وعلى هذا فلا يجوز الهجران بين المسلمين عند وجود زلة من أحدهما بل يجب عليهما صرف هذه الزلة إلى الإحسان والعطف على المُخطيء بالإشفاق وترك الهجران والإغضاء عند ورود الزلات وترك المناقشة على الهفوات، وليس كل ذنب يستحق الهجر ومن ذا الذي سلم من الخطأ غير أنبياء الله ورسله عليهم السلام وكم لبعض المشاهير من العلماء من زلات لكنها مُغتفرة بجانب ما هم عليه من الحق والهدى والخير الكثير ولو أُخذ كل إنسان بهذا لما بقي معنا أحد ، وما شُرع أدب الاستئذان وما تبعه من تحسيس أهل البيت بدخول الداخل إلا للبعد عن الوقوع على العثرات فكيف بتتبعها.

 

‌‌مُجمل مذاهب العلماء في التعامل مع زلات الإخوة في الله:

يقول أهل العلم أنه ينبغي العفو عن هفوة الأخ في الله والكف عن عثرته وهي لا تخلو إما أن تكون في دينه أو دنياه ، فإن كانت في دنيا فالأولى التغافل وإن كانت في الدين فهي على قسمين، أن تكون صغيرة فالأولى المناصحة بين الفينة والأخرى دون المهاجرة أو أن تكون كبيرة فهي على نوعين، أن تكون زلة فالواجب العفو والصفح ، أو أن يكون متلبساً بها مصراً عليها فالأولى التلطف معه ونُصحه في بداية الأمر فإن لم يستجيب فهناك مذهبين فالأول هجره والثاني التلطف معه واستمالته وتأليفه ، والراجح أن المسألة تندرج تحت السياسة الشرعية ، وذلك أن هجرة أهل المعاصي تختلف باختلاف الأشخاص والأحوال والأزمان والله تعالى أعلم.

 

‌‌آثار الهجر المحرم:

يُعطَل النصيحة والتعاون على البر والاجتماع على المصلحة ، ويُسبب العقوق وقطيعة الأرحام ومُحفَز على الغيبة والبهتان ولا تُرفع صلاتهما وعملهما موقوف حتى يصطلحا.

 

‌‌كيفية زوال الهجر المحرم:

الهجر المحرم يزول بالسلام وبإزالة الوحشة بين المتهاجرين ، ولو صالح أحدهما الآخر فلم يقبل منه غُفر للمُصالح وسقط عنه الإثم ففي مسند الإمام أحمد عن هِشَامَ بْنَ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: (لا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلاثِ لَيَالٍ فَإِنْ كَانَ تَصَارَمَا فَوْقَ ثَلاثٍ فَإِنَّهُمَا نَاكِبَانِ عَنْ الْحَقِّ مَا دَامَا عَلَى صُرَامِهِمَا وَأَوَّلُهُمَا فَيْئًا فَسَبْقُهُ بِالْفَيْءِ كَفَّارَتُهُ فَإِنْ سَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ وَرَدَّ عَلَيْهِ سَلَامَهُ رَدَّتْ عَلَيْهِ الْمَلائِكَةُ وَرَدَّ عَلَى الآخَرِ الشَّيْطَانُ فَإِنْ مَاتَا عَلَى صُرَامِهِمَا لَمْ يَجْتَمِعَا فِي الْجَنَّةِ أَبَدًا) صححه الألباني في الصحيحة.

قال ابن عبد البر التمهيد: واختلفوا في المتهاجرين يسلم أحدهما على صاحبه أيخرجه ذلك من الهجرة أم لا فروى ابن وهب عن مالك أنه قال إذا سلم عليه فقد
এবং শাইখ আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। এই হাদিসটি পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং একে অপরের থেকে বিমুখ হওয়ার ভয়াবহতা ও হারামের ওপর প্রমাণ দেয়, যদি এর পেছনে কোনো শারয়ি কারণ না থাকে। নিঃসন্দেহে এই অবস্থায় সওয়াব হ্রাস পায়; বরং এমন বর্ণনাও এসেছে যে, যে ব্যক্তি ও তার ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা থাকে, তারা সন্ধি না করা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা করা হয় না। সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (সোমবার এবং বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। অতঃপর আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করে না এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়; কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যার ও তার ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান। তখন বলা হয়: এই দুইজনকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা সন্ধি করে)। এর ওপর ভিত্তি করে, কোনো মুসলিমের কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ত্যাগ করা বৈধ নয়; বরং তাদের উচিত এই বিচ্যুতিকে অনুগ্রহ এবং ভুলকারীর প্রতি মমতার মাধ্যমে সংশোধন করা, আর স্খলনের সময় সম্পর্ক ত্যাগ ও ভ্রূকুটি পরিহার করা এবং ছোটখাটো ভুলের ক্ষেত্রে বিতর্ক এড়িয়ে চলা। প্রতিটি পাপাচারই সম্পর্ক ত্যাগের উপযুক্ত নয়। আল্লাহর নবি ও রাসুলগণ (আলাইহিমুস সালাম) ব্যতীত কে আছে যে ভুল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত? প্রথিতযশা আলেমদের কত বিচ্যুতি রয়েছে যা তাদের ওপর বিজয়ী সত্য, হেদায়েত এবং প্রচুর কল্যাণের ভিড়ে ক্ষমার যোগ্য। যদি প্রত্যেক মানুষকে তার ভুলের কারণে ধরা হতো, তবে আমাদের সাথে কেউ অবশিষ্ট থাকতো না। অনুমতি গ্রহণের শিষ্টাচার এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ ঘরে প্রবেশকারী সম্পর্কে বাড়ির লোকদের সচেতন করার বিধান তো দেওয়া হয়েছে কেবল ত্রুটি-বিচ্যুতির ওপর দৃষ্টি পড়া থেকে বেঁচে থাকার জন্য; তবে সেই বিচ্যুতি খুঁজে বেড়ানো কেমন হতে পারে?

 

‌‌আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা ভাইদের পদস্খলনের বিষয়ে আলেমদের মতামতের সারসংক্ষেপ:

আলেমগণ বলেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গড়ে ওঠা ভাইয়ের বিচ্যুতি ক্ষমা করা এবং তার স্খলন গোপন করা উচিত। এই বিচ্যুতি হয় তার দ্বীনি বিষয়ে অথবা দুনিয়াবি বিষয়ে হবে। যদি দুনিয়াবি বিষয়ে হয় তবে তা উপেক্ষা করাই শ্রেয়। আর যদি দ্বীনি বিষয়ে হয় তবে তা দুই প্রকার: প্রথমত, তা যদি ছোট গুনাহ হয় তবে মাঝে মাঝে তাকে উপদেশ দেওয়া উচিত, সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, তা যদি বড় গুনাহ হয় তবে তাও দুই ধরনের: যদি তা স্রেফ একটি স্খলন হয় তবে ক্ষমা ও মার্জনা করা ওয়াজিব। আর যদি সে উক্ত পাপাচারে লিপ্ত থাকে ও তাতে অটল থাকে, তবে প্রারম্ভিক পর্যায়ে তার প্রতি নম্রতা প্রদর্শন ও নসিহত করা উত্তম। যদি সে সাড়া না দেয় তবে এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো সম্পর্ক ত্যাগ করা এবং দ্বিতীয়টি হলো তার প্রতি নম্র হওয়া এবং সৌহার্দ্য ও হৃদ্যতার মাধ্যমে তাকে সত্যের দিকে টেনে আনা। এ ক্ষেত্রে সঠিক মত হলো, বিষয়টি শারয়ি নীতির অন্তর্ভুক্ত; কেননা পাপাচারীদের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের বিধান ব্যক্তি, অবস্থা ও সময়ের ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হয়। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

 

‌‌নিষিদ্ধ সম্পর্ক ত্যাগের কুপ্রভাব:

এটি নসিহত, কল্যাণকর কাজে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে ব্যাহত করে। এটি পিতামাতার অবাধ্যতা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ হয়। এটি গিবত এবং অপবাদের পথে প্ররোচিত করে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সন্ধি না করে, ততক্ষণ তাদের সালাত কবুল হয় না ও তাদের আমল স্থগিত রাখা হয়।

 

‌‌নিষিদ্ধ সম্পর্ক ত্যাগ অবসানের পদ্ধতি:

সালাম প্রদান এবং বিবাদমান ব্যক্তিদের মধ্যকার জড়তা দূর করার মাধ্যমে নিষিদ্ধ সম্পর্ক ত্যাগ দূরীভূত হয়। যদি তাদের একজন অপরজনের সাথে সন্ধি করতে চায় কিন্তু অপরজন তা গ্রহণ না করে, তবে সন্ধিপ্রস্তাবকারী ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে এবং তার গুনাহ মিটে যাবে। মুসনাদে ইমাম আহমদ-এ হিশাম বিন আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: (কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। যদি তারা তিন দিনের বেশি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রাখে, তবে তারা সত্য থেকে বিচ্যুত হবে যতক্ষণ তারা এই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবে। তাদের মধ্যে যে প্রথমে ফিরে আসবে, তার এই ফিরে আসাই হবে তার কাফফারা। যদি সে তাকে সালাম দেয় এবং অন্যজন উত্তর না দেয়, তবে ফেরেশতারা তার সালামের উত্তর দেন এবং অপরজনের উত্তর দেয় শয়তান। যদি তারা এই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মারা যায়, তবে তারা জান্নাতে একত্র হতে পারবে না)। আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

ইবনে আব্দুল বার আত-তামহিদ গ্রন্থে বলেন: আলেমগণ এমন দুই ব্যক্তি সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যারা একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, কিন্তু তাদের একজন অপরজনকে সালাম দিলে সে সম্পর্ক ত্যাগের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে কি না? ইবনে ওহাব মালেক (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন সে সালাম দেয় তখন সে...
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
قطع الهجرة وكأنه والله أعلم أخذ هذا من قوله صلى الله عليه وسلم وخيرهما الذي يبدأ بالسلام أو من قول من قال يجزىء من الصرم السلام وقال أبو بكر الأثرم قلت لأحمد بن حنبل إذا سلم عليه هل يجزيه ذلك من كلامه إياه فقال ينظر في ذلك إلى ما كان عليه قبل أن يهجره فإن كان قد علم منه مكالمته والإقبال عليه فلا يخرجه من الهجرة إلا سلام ليس معه إعراض ولا إدبار وقد روي هذا المعنى عن مالك قيل لمالك الرجل يهجر أخاه ثم يبدوا له فيسلم عليه من غير أن يكلمه فقال إن لم يكن مؤذيا له لم يخرج من الشحناء حتى يكلمه ويسقط ما كان من هجرانه إياه … انتهى.

هل هنالك تلازم بين الهجر الشرعي والبغض في الله؟

يقول أهل العلم أن الهجر الشرعي لا يستلزم البغض في الله كما أن الصلة

لا تستلزم المحبة والمودة في الله ، فالهجر الشرعي شيء، والبغض والكراهية شيءٌ آخر ولا تعارض ولا تلازم بينهما.

وعلى هذا فقد يصل المسلم من يُبغضه في الله كصلة الكافر القريب لأجل حقه في القرابة أو لوجود معاملة ومنفعة بينهما ، وقد يهجر المسلم من يُحبه في الله خوف هلاكه من الذنوب كهجره لأخيه المسلم الذي وقع في كبيرة من الذنوب دون أن يتوب منها.

 

‌‌حكم بدء فساق المسلمين بالسلام ورده عليهم:

ذهب الجمهور إلى أنه لا يُسلم على المبتدع الداعية ولا الفاسق المُجاهر إلا أن الصواب والله أعلم أن السلام على الفاسق المسلم والمبتدع المسلم جائز لأنه لم يقل أحد من السلف ولا من بعدهم من أهل العلم بحرمة بداءتهم بالسلام بل إن بداءتهم بالسلام مستحبة من حيث الأصل حكمهم كحكم غيرهم من المسلمين ولكن يُشرع ترك السلام عليهم لمصلحة شرعية راجحة ، وأما رد السلام على الفاسق فهو واجب ويجب الرد عليه إذا سلم ما لم تكن هناك مصلحة شرعية راجحة على ذلك الحق الذي أوجبه الإسلام له كأن تترك رد السلام عليه من باب الزجر والتأديب.

قال الحافظ ابن حجر رحمه الله في سياق ذِكر فوائد حديث كعب بن مالك رضي الله عنه: وفيها: ترك السلام على من أذنب، وجواز هجره أكثر من ثلاث، وأما النهي عن الهجر فوق الثلاث: فمحمول على من لم يكن هجرانه شرعيّاً … .

وفيها: سقوط رد السلام على المهجور عمَّن سلَّم عليه؛ إذ لو كان واجباً: لم يقل " كعب" هل حرَّك شفتيه - أي: النبي صلى الله عليه وسلم برد السلام … انتهى."فتح الباري ".

وقال الشيخ محمد بن صالح العثيمين رحمه الله:

الهجر إذا كان فيه مصلحة بالنسبة للفاسق: فاهجره، وإلا لا تهجره، لو مررت بشخصٍ يشرب الدخان - والدخان معصية وحرام، والإصرار عليه ينزل صاحبه من مرتبة العدالة إلى مرتبة الفسوق -: سلِّم عليه إذا رأيت أن هجره لا يفيد، سلِّم عليه ربما إذا سلمتَ عليه ووقفت معه وحدثته بأن هذا حرام، وأنه لا يليق بك: ربما يمتثل ويطفئ السيجارة ولا يعود، لكن لو أنك لم تسلِّم عليه، كبر ذلك في
কথা বন্ধ রাখা ছিন্ন করা প্রসঙ্গে; আল্লাহই ভালো জানেন, সম্ভবত এটি গ্রহণ করা হয়েছে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী থেকে: "তাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে সালামের মাধ্যমে শুরু করে।" অথবা ঐ ব্যক্তির উক্তি থেকে যিনি বলেছেন: "সালামের মাধ্যমেই সম্পর্ক ছিন্নের অবসান ঘটে।" আবু বকর আল-আছরাম বলেন, আমি আহমদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করলাম: যদি সে তাকে সালাম দেয়, তবে কি তা কথাবার্তা বলার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: এক্ষেত্রে লক্ষ্য করতে হবে তাদের মধ্যকার সম্পর্কের আগের অবস্থার দিকে। যদি তার সাথে কথাবার্তা এবং নিবিড় সম্পর্কের অভ্যাস থেকে থাকে, তবে বিমুখতা বা এড়িয়ে চলা ছাড়া কেবল সালাম তাকে হিজরতের (هجرة) তথা কথা বন্ধ রাখার পর্যায় থেকে বের করবে না। এই একই মর্ম ইমাম মালিক থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে কথা বন্ধ রেখেছে, অতঃপর সে তার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কথা না বলে কেবল সালাম দিল; তিনি বললেন: যদি সে তাকে কষ্ট দানকারী না হয়, তবে কথা না বলা পর্যন্ত সে শত্রুতা থেকে বের হতে পারবে না এবং তার কথা বন্ধ রাখার বিষয়টিও দূরীভূত হবে না … সমাপ্ত।

শরিয়তসম্মত বর্জন (هجر شرعي) এবং আল্লাহর জন্য বিদ্বেষের মধ্যে কি কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে?

আলেমগণ বলেন যে, শরিয়তসম্মত বর্জন (هجر شرعي) আল্লাহর জন্য বিদ্বেষ পোষণ করাকে আবশ্যক করে না, যেমনটি যোগাযোগ বজায় রাখা

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যকে আবশ্যক করে না। সুতরাং শরিয়তসম্মত বর্জন একটি বিষয়, আর বিদ্বেষ ও ঘৃণা অন্য আরেকটি বিষয়; এদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই এবং একে অপরের পরিপূরকও নয়।

সেই অনুযায়ী, একজন মুসলিম এমন ব্যক্তির সাথেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে যাকে সে আল্লাহর জন্য অপছন্দ করে; যেমন আত্মীয়তার হকের কারণে কোনো অমুসলিম আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ রাখা অথবা তাদের মধ্যে কোনো লেনদেন বা স্বার্থ বিদ্যমান থাকা। আবার একজন মুসলিম এমন ব্যক্তির সাথেও কথা বন্ধ রাখতে পারে যাকে সে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, তার পাপে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয়ে; যেমন তার সেই মুসলিম ভাইয়ের সাথে কথা বন্ধ রাখা যে কোনো কবিরা গুনাহে (كبيرة) লিপ্ত হয়েছে এবং তা থেকে তওবা (توبة) করেনি।

 

‌‌মুসলিম পাপাচারীদের সালাম প্রদান এবং তাদের সালামের উত্তর দেওয়ার বিধান:

জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে, বিদআত প্রচারকারী (مبتدع داعية) এবং প্রকাশ্যে পাপাচারীকে (فاسق مجاهر) সালাম দেওয়া যাবে না। তবে সঠিক অভিমত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—মুসলিম পাপাচারী (فاسق) এবং মুসলিম বিদআতকারীকে (مبتدع) সালাম দেওয়া জায়েজ। কারণ সলফ বা তাদের পরবর্তী কোনো আলেম তাদের সালাম দেওয়া হারাম (حرام) হওয়ার কথা বলেননি। বরং মূলগতভাবে তাদের সালাম দেওয়া মুস্তাহাব (مستحب); এক্ষেত্রে তাদের বিধান অন্য সাধারণ মুসলিমদের মতোই। তবে কোনো প্রাধান্যযোগ্য শরিয়তসম্মত কল্যাণের (مصلحة شرعية راجحة) কারণে তাদের সালাম দেওয়া বর্জন করা বিধিবদ্ধ। আর পাপাচারীকে (فاسق) সালামের উত্তর দেওয়া আবশ্যক (واجب); সে সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া আবশ্যক, যতক্ষণ না সেই হকের বিপরীতে কোনো প্রাধান্যযোগ্য শরিয়তসম্মত কল্যাণ বিদ্যমান থাকে। যেমন ধমক বা শাসনের উদ্দেশ্যে সালামের উত্তর না দেওয়া।

হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) কাব বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের শিক্ষা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "এতে গুনাহগারের সাথে সালাম বিনিময় বর্জন এবং তিন দিনের বেশি তার সাথে কথা বন্ধ রাখার বৈধতা প্রমাণিত হয়। আর তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখাতে যে নিষেধ এসেছে, তা ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার কথা বন্ধ রাখা শরিয়তসম্মত (شرعي) নয় … ।

এতে আরও প্রমাণিত হয় যে, যার সাথে কথা বন্ধ রাখা হয়েছে তার পক্ষ থেকে সালামের উত্তর দেওয়ার আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়; কারণ যদি তা আবশ্যক (واجب) হতো, তবে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন না যে—অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালামের উত্তরে তাঁর ঠোঁট নেড়েছেন কি না … সমাপ্ত। "ফাতহুল বারী" ।

শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

পাপাচারীর (فاسق) ক্ষেত্রে যদি কথা বন্ধ রাখায় কল্যাণ থাকে, তবে তার সাথে কথা বন্ধ রাখো, অন্যথায় নয়। তুমি যদি এমন কোনো ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাও যে ধূমপান করছে—আর ধূমপান একটি গুনাহ ও হারাম (حرام), এবং এতে অবিচল থাকা ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণতার স্তর থেকে পাপাচারের (فسوق) স্তরে নামিয়ে দেয়—তবে তাকে সালাম দাও যদি দেখ যে কথা বন্ধ রাখা কোনো কাজে আসবে না। তাকে সালাম দাও, হয়তো তুমি তাকে সালাম দিলে এবং তার সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলে তাকে এটি হারাম হওয়ার বিষয়ে বোঝালে সে তা মেনে নেবে এবং সিগারেট নিভিয়ে ফেলবে ও আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তুমি যদি তাকে সালাম না দিতে, তবে সেটি তার কাছে বড় মনে হতো...
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
نفسه وكرهك وكره ما تأتي به من نصيحة، حتى لو أصر على المعصية سلِّم عليه وانصحه." لقاءات الباب المفتوح " (165 / السؤال رقم 8).

 

‌‌كيفية التأليف المشروع:

التأليَف المشروع يكون بشيء من الدنيا مع لين الكلام.

 

‌‌المُراد بالهجر الإيجابي الوارد في كلام السلف:

الهجر الوارد في كلام السلف يشمل: ترك الكلام وترك السلام وترك المجالسة والمخاطبة والاستماع وترك المناظرة وترك الدخول عليهم وترك عيادة المبتدعة إذا مرضوا وشهود جنائزهم إذا ماتوا وترك الصلاة عليهم وترك توقيرهم وإجلالهم أو ما يؤدي إلى ذلك من بسط الوجه والانشراح برؤيتهم أو تسميتهم وتلقيبهم بأسماء وألقاب التوقير أو طلب المشورة منهم إلا أن المراد بهذا الهجر غالباً هو هجر الكلام معهم ، وهجر الكلام يستلزم مفردات الهجر الأخرى بطريق اللزوم، كما هجر المسلمون الثلاثة الذين تخلفوا عن الغزو، وفي صحيح مسلم: أن قريباً لعبد الله بن مغفل خذف فنهاه وقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الخذف وقال: إنها لا تصيد صيداً، أو لا تنكأ عدواً، ولكنها تكسر السن وتفقأ العين، قال: فعاد، فقال: أحدثك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عنه ثم تخذف، لا أكلمك أبداً.

وقال النووي في شرحه لحديث الثلاثة الذين خلفوا: فيه استحباب هجران أهل البدع والمعاصي الظاهرة وترك السلام عليهم ومقاطعتهم تحقيراً لهم وزجراً … انتهى.

حكم الصلاة على المبتدع الداعية المسلم والفاجر المجاهر:

الصلاة على المبتدع المسلم والفاجر مشروعة لكن إن كان المبتدع داعية والفاجر مجاهراً فيُشرع ترك الصلاة عليهم وذلك مقيد بثلاثة شروط:

1 - أن يكون القصد الزجر عن حالهم ، لئلا يغتر غيرهم بهم.2 - أن يغلب على الظن تحقق تلك المصلحة وإلا لم يكن ترك الصلاة عليهم مشروعاً. 3 - أن يوجد من المسلمين من يصلي عليهم.

وبهذا يتبين أنه يُشرع عدم الصلاة على المبتدع المسلم الداعية والفاجر المسلم الراجح شره على خيره المجاهر للإمام أو أهل العلم والدين زجراً للناس عما وقع فيه الميت مع مراعاة أن عموم المسلمين يصلون عليهم.

 

‌‌حكم هجر أهل المعاصي المستترين إيجابياً:

مُرْتَكِبَ الْمَعَاصِي الْمُسْتَتِرَ لَا يجوز هْجَرُه إلا إذا كان وراء هجره مصلحة شرعية راجحة قَالَ ابْنُ مَنْصُورٍ: قُلْت لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه -أي ابن حنبل-: إذَا عُلِمَ مِنْ الرَّجُلِ الْفُجُورُ أَيُخْبَرُ بِهِ النَّاسُ؟ قَالَ بَلْ يُسْتَرُ عَلَيْهِ إلَّا أَنْ يَكُونَ دَاعِيَةً.

قَالَ ابْنُ مُفْلِحٍ: وَيُتَوَجَّهُ أَنَّ فِي مَعْنَى الدَّاعِيَةِ مَنْ اُشْتُهِرَ وَعُرِفَ بِالشَّرِّ وَالْفَسَادِ يُنْكَرُ عَلَيْهِ وَإِنْ أَسَرَّ الْمَعْصِيَةَ.

وَهُوَ يُشْبِهُ قَوْلَ الْقَاضِي فِيمَنْ أَتَى مَا يُوجِبُ حَدًّا إنْ شَاعَ عَنْهُ اُسْتُحِبَّ أَنْ يَذْهَبَ إلَى وَلِيِّ الْأَمْرِ لِيَأْخُذَهُ بِهِ وَإِلَّا سَتَرَ نَفْسَهُ.

قَالَ الْقَاضِي: فَإِنْ كَانَ يَسْتَتِرُ بِالْمَعَاصِي فَظَاهِرُ كَلَامِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ رضي الله عنه أَنَّهُ لَا يُهْجَرُ. قَالَ فِي رِوَايَةِ حَنْبَلٍ: لَيْسَ لِمَنْ يَسْكَرُ وَيُقَارِفُ شَيْئًا مِنْ الْفَوَاحِشِ حُرْمَةٌ وَلَا وَصْلَةٌ إذَا كَانَ مُعْلِنًا بِذَلِكَ مُكَاشِفًا.
"...নিজের কুপ্রবৃত্তিকে এবং আপনাকেও সে অপছন্দ করবে এবং আপনি যে উপদেশ নিয়ে এসেছেন তাও সে অপছন্দ করবে; এমনকি সে যদি পাপাচারী হিসেবে অনড়ও থাকে, তবুও তাকে সালাম দিন এবং উপদেশ প্রদান করুন।" লিকাআতুল বাব আল-মাফতুহ (১৬৫ / প্রশ্ন নং ৮)।

 

‌‌বৈধ মনস্তুষ্টি বিধানের (التأليف) পদ্ধতি:

বৈধ মনস্তুষ্টি বিধান বা অন্তর জয় করা (التأليَف المشروع) পার্থিব কোনো মাধ্যম এবং কোমল বাক্যালাপের দ্বারা হয়ে থাকে।

 

‌‌সালাফদের (سلف) বক্তব্যে বর্ণিত ইতিবাচক বর্জনের (الهجر) উদ্দেশ্য:

সালাফদের (سلف) বক্তব্যে বর্ণিত বর্জন (الهجر) বলতে অন্তর্ভুক্ত করে: কথা বলা বর্জন করা, সালাম প্রদান বর্জন করা, একত্রে বসা, সম্বোধন ও শ্রবণ বর্জন করা, বিতর্ক (مناظرة) বর্জন করা, তাদের নিকট যাতায়াত বর্জন করা, বিদয়াতিরা (مبتدعة) অসুস্থ হলে তাদের দেখতে যাওয়া বর্জন করা, তারা মৃত্যুবরণ করলে জানাজায় অংশগ্রহণ বর্জন করা, তাদের জানাজার নামাজ (الصلاة عليهم) বর্জন করা, তাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা বর্জন করা অথবা এমন কিছু বর্জন করা যা এর দিকে ধাবিত করে—যেমন হাসিমুখে কথা বলা, তাদের দেখে আনন্দিত হওয়া, তাদের সম্মানসূচক নাম বা উপাধিতে ভূষিত করা কিংবা তাদের নিকট পরামর্শ চাওয়া। তবে এই বর্জন (الهجر) বলতে সাধারণত তাদের সাথে কথাবার্তা বর্জন করাকেই বোঝানো হয়। আর কথাবার্তা বর্জন করা আবশ্যকীয়ভাবে বর্জনের অন্যান্য অনুষঙ্গগুলোকেও অপরিহার্য করে তোলে, যেমনটি সেই তিন মুসলিমের ক্ষেত্রে বর্জন করা হয়েছিল যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন। সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত আছে: আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল-এর এক নিকটাত্মীয় পাথর ছুড়ে মারছিল (خذف), তখন তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) পাথর ছুড়তে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি কোনো শিকার ধরে না এবং শত্রুকে আঘাত করে না, বরং তা দাঁত ভেঙে ফেলে এবং চোখ উপড়ে ফেলে।" বর্ণনাকারী বলেন: লোকটি পুনরায় তা করল। তখন তিনি বললেন: "আমি তোমাকে হাদিস বর্ণনা করছি যে রাসুলুল্লাহ (সা.) তা করতে নিষেধ করেছেন, আর তুমি পুনরায় পাথর ছুড়ছ! আমি তোমার সাথে আর কখনোই কথা বলব না।"

ইমাম নববী সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা তিন ব্যক্তির হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "এতে বিদয়াতি (أهل البدع) এবং যারা প্রকাশ্য পাপাচারী (أهل المعاصي الظاهرة) তাদের বর্জন (هجران) করা, তাদের সালাম না দেওয়া এবং তাদের অবজ্ঞা ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার (مقاطعة) মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে...।" সমাপ্ত।

মুসলিম বিদয়াতি আহ্বানকারী (المبتدع الداعية) এবং প্রকাশ্য পাপাচারীর (الفاجر المجاهر) জানাজার নামাজের বিধান:

মুসলিম বিদয়াতি (مبتدع) এবং পাপাচারীর (فاجر) জানাজার নামাজ বৈধ, তবে যদি সেই বিদয়াতি (مبتدع) স্বীয় বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) হয় এবং পাপাচারী ব্যক্তি প্রকাশ্য পাপাচারী (مجاهر) হয়, তবে তাদের জানাজা বর্জন করা বিধিবদ্ধ। এটি তিনটি শর্তের সাথে সীমাবদ্ধ:

১ - উদ্দেশ্য হতে হবে তাদের অবস্থা থেকে লোকজনকে সতর্ক করা, যাতে অন্যরা তাদের দ্বারা প্রতারিত না হয়। ২ - এই কল্যাণ (مصلحة) অর্জিত হওয়ার প্রবল ধারণা থাকতে হবে, অন্যথায় তাদের জানাজা বর্জন করা বিধিবদ্ধ হবে না। ৩ - মুসলিমদের মধ্য থেকে অন্য কেউ থাকতে হবে যারা তাদের জানাজা সম্পন্ন করবে।

এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, মুসলিম বিদয়াতি আহ্বানকারী (المبتدع الداعية) এবং এমন প্রকাশ্য পাপাচারী মুসলিম—যার মন্দের দিকটি ভালোর চেয়ে বেশি এবং যে প্রকাশ্যে পাপাচার করে—মানুষকে তার কৃতকর্মে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক করার জন্য ইমাম বা আলেম ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের জন্য তার জানাজায় অংশগ্রহণ না করা বিধিবদ্ধ, তবে সাধারণ মুসলিমরা তাদের জানাজা পড়বে এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে।

 

‌‌গোপন পাপাচারীদের ইতিবাচক বর্জনের (هجر) বিধান:

যে ব্যক্তি গোপনে পাপাচার (المعاصي المستتر) করে তাকে বর্জন (هجر) করা জায়েজ নয়, যদি না তার এই বর্জনের পেছনে কোনো জোরালো শরয়ি কল্যাণ (مصلحة شرعية راجحة) থাকে। ইবনে মনসুর বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ (রা.)-কে—অর্থাৎ ইবনে হাম্বল—বললাম: যদি কোনো ব্যক্তির পাপাচার (فجور) সম্পর্কে জানা যায়, তবে কি মানুষকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে? তিনি বললেন: "বরং তার দোষ গোপন রাখা হবে, যদি না সে সেদিকে আহ্বানকারী (داعية) হয়।"

ইবনে মুফলিহ বলেন: এটি প্রতীয়মান হয় যে, আহ্বানকারীর (داعية) সংজ্ঞার মধ্যে ওই ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত যে মন্দ ও ফাসাদ সৃষ্টির জন্য প্রসিদ্ধ ও পরিচিত; তার ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানানো হবে যদিও সে গোপনে পাপাচার করে।

এটি কাজীর (কাজী আবু ইয়ালা) সেই বক্তব্যের অনুরূপ যেখানে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি এমন কাজ করে যা দণ্ডবিধি (حد) প্রয়োগের দাবি রাখে, যদি তার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় তবে শাসক বা অভিভাবকের নিকট যাওয়া পছন্দনীয় যাতে তার ওপর দণ্ড কার্যকর করা হয়, অন্যথায় সে নিজে তা গোপন রাখবে।

কাজী বলেন: যদি সে পাপাচার গোপন রাখে, তবে ইমাম আহমাদ (রা.)-এর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে তাকে বর্জন (هجر) করা হবে না। হানবালের বর্ণনায় তিনি (ইমাম আহমাদ) বলেন: "যে ব্যক্তি মদ্যপান করে এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়, যদি সে তা প্রকাশ্যে ও ধৃষ্টতার সাথে করে, তবে তার কোনো সম্মান নেই এবং তার সাথে কোনো সুসম্পর্কও থাকবে না।"
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
وَقَالَ الْخَلَّالُ فِي كِتَابِ الْمُجَانَبَةِ: أَبُو عَبْدِ اللَّهِ يُهْجَرُ أَهْلُ الْمَعَاصِي وَمَنْ قَارَفَ الْأَعْمَالَ الرَّدِيَّةَ أَوْ تَعَدَّى حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَعْنَى الْإِقَامَةِ عَلَيْهِ أَوْ الْإِضْرَارِ.

وَأَمَّا مَنْ سَكِرَ أَوْ شَرِبَ أَوْ فَعَلَ فِعْلًا مِنْ هَذِهِ الْأَشْيَاءِ الْمَحْظُورَةِ ثُمَّ لَمْ يُكَاشِفْ بِهَا وَلَمْ يَلْقَ فِيهَا جِلْبَابُ الْحَيَاءِ فَالْكَفُّ عَنْ أَعْرَاضِهِمْ وَعَنْ الْمُسْلِمِينَ وَالْإِمْسَاكُ عَنْ أَعْرَاضِهِمْ أَسْلَمُ.

وَقَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ: إنَّ الْمُسْتَتِرَ بِالْمُنْكَرِ يُنْكَرُ عَلَيْهِ وَيُسْتَرُ عَلَيْهِ ، فَإِنْ لَمْ يَنْتَهِ فُعِلَ مَا يَنْكَفُّ بِهِ إذَا كَانَ أَنْفَعَ بِهِ فِي الدِّينِ.

وقد سُئل الشيخ ابن عثيمين رحمه الله رحمه الله ما ضابط هجر العاصي الذي لم تظهر معصيته علانية للناس إذا كان في هجره مصلحة؟.

فأجاب: الضابط: أن هجر العاصي إن كان فيه مصلحة بحيث يرجع العاصي عن معصيته: فليهجر، وأما إذا لم يكن فيه مصلحة: فهجره حرام؛ لأن العاصي مسلم، ولو فعل ما فعل من الكبائر، إلا الكفر إذا كَفَر، هذا معلوم، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يحل لمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاث، يلتقيان، ويعرض هذا، ويعرض هذا، وخيرهما الذي يبدأ بالسلام)، فلا تهجره؛ ولأن بعض العصاة إذا هجرته: زاد في معصيته، وكرِهك أيضاً، ولم يقبل منك أي نصيحة، أما لو كان هجره ينفع، كما لو كان أحد الأبناء، أو أحد الإخوة وهو يقدِّرك، وإذا هجرته ارتدع: فهنا اهجره حتى يرتدع، فإن أخلف الظن - بمعنى: أنك هجرته ولكنه لم يرتدع -: فعُد، وسلِّم عليه، ولا تنس النصيحة.

" لقاءات الباب المفتوح " (231 / السؤال رقم 9).

 

‌‌حكم هجر أهل البدع الدعاة وأهل الكفر وأصحاب الكبائر والفواحش المجاهرين من المسلمين إيجابياً ووقائياً:

هجر أهل البدع والمعاصي والكبائر المجاهرين في الله -غير الوالدين - من شُعب الإيمان، ويُلحق بأهل المعاصي أهل الكفر من باب أولى ، والهجر الشرعي دل عليه الكتاب والسنة والإجماع ، والأدلة عليه أكثر من أن تُحصر وأشهر من أن تُذكر منها على سبيل المثال لا الحصر:

من الكتاب قوله تعالى على لسان إبراهيم عليه السلام حينما خاطب قومه قائلاً (وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَاّ أَكُونَ بِدُعَاء رَبِّي شَقِيًّا (48) فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَهَبْنَا لَهُ إِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَكُلاًّ جَعَلْنَا نَبِيًّا (49) وَوَهَبْنَا لَهُم مِّن رَّحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّا) وقوله تعالى لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم (وَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيلاً) وقوله كذلك (وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ) وقوله (وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ) وقوله كذلك (اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِين) وقوله عن المؤمنين (وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقَالُوا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلامٌ عَلَيْكُمْ لا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ) وغير ذلك من الآيات.
ইমাম আল-খাল্লাল তাঁর ‘কিতাবুল মুজানাবাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) মনে করেন, পাপাচারীদের এবং যারা মন্দ কাজে লিপ্ত অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস লঙ্ঘন করে, তাদের বর্জন (هجر) করা হবে; যদি তারা সেই কাজে অটল থাকে অথবা এর মাধ্যমে ক্ষতির কারণ হয়।

আর যে ব্যক্তি মাতাল হলো বা মদ্যপান করলো অথবা এই জাতীয় কোনো নিষিদ্ধ কাজ করলো, অতঃপর তা প্রকাশ করেনি এবং লজ্জার আবরণ ছিন্ন করেনি, তবে তাদের সম্মানহানি থেকে বিরত থাকা এবং মুসলিমদের মান-মর্যাদা রক্ষা করা অধিকতর নিরাপদ।

শায়খুল ইসলাম (আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন) বলেছেন: যে ব্যক্তি গোপনে অপছন্দনীয় (منكر) কাজ করে, তাকে ব্যক্তিগতভাবে নিষেধ করতে হবে এবং তার গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। অতঃপর সে যদি বিরত না হয়, তবে তাকে নিবৃত্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যদি তা দ্বীনের ক্ষেত্রে অধিকতর কল্যাণকর হয়।

শায়খ ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল: যে পাপাচারীর পাপ মানুষের কাছে প্রকাশ্য নয়, তাকে বর্জন (هجر) করার মাপকাঠি কী, যদি তাকে বর্জনের মধ্যে কোনো কল্যাণ থাকে?

তিনি উত্তর দিলেন: মাপকাঠি হলো—পাপাচারীকে বর্জন (هجر) করার মধ্যে যদি এমন কল্যাণ থাকে যার ফলে সে পাপাচার থেকে ফিরে আসে, তবে তাকে বর্জন করা উচিত। কিন্তু যদি তাতে কোনো কল্যাণ না থাকে, তবে তাকে বর্জন করা হারাম; কারণ পাপাচারী একজন মুসলিম, সে যত বড় পাপই (كبائر) করুক না কেন—কুফর (كفر) ব্যতীত। এটি সুনিশ্চিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করা বৈধ নয়; তাদের দেখা হলে একজন মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অন্যজনও মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের মধ্যে সেই উত্তম যে সালামের মাধ্যমে শুরু করে।" সুতরাং তাকে বর্জন করো না; কারণ কিছু পাপাচারীকে বর্জন করলে তাদের পাপাচার আরও বেড়ে যায় এবং সে আপনাকে ঘৃণা করতে শুরু করে এবং আপনার কোনো নসিহত গ্রহণ করে না। তবে যদি তাকে বর্জন (هجر) করা ফলপ্রসূ হয়, যেমন নিজের কোনো সন্তান বা ভাই যে আপনাকে সম্মান করে এবং তাকে বর্জন করলে সে ফিরে আসে, তবে সেক্ষেত্রে তাকে বিরত না হওয়া পর্যন্ত বর্জন করো। আর যদি তোমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়—অর্থাৎ তাকে বর্জন করার পরও সে বিরত না হয়—তবে পুনরায় তার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করো, তাকে সালাম দাও এবং নসিহত করা ছেড়ে দিও না।

"লিক্বাউল বাবিল মাফতুহ" (২৩১ / প্রশ্ন নং ৯)।

 

‌‌বিদআতপন্থী (أهل البدع) দায়ী, কাফির (أهل الكفر) এবং প্রকাশ্য কবীরা গুনাহ (الكبائر) ও অশ্লীলতায় লিপ্ত মুসলিমদের সংশোধনমূলক ও প্রতিরোধমূলক বর্জনের (هجر) বিধান:

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিদআতপন্থী (أهل البدع), পাপাচারী এবং প্রকাশ্য কবীরা গুনাহে (الكبائر) লিপ্ত ব্যক্তিদের বর্জন (هجر) করা—পিতা-মাতা ব্যতীত—ঈমানের অন্যতম শাখা। পাপাচারীদের মতো কাফিরদের (أهل الكفر) বর্জন করা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। শরয়ি বর্জনের বিষয়টি কুরআন, সুন্নাহ এবং সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত। এর স্বপক্ষে দলিলাদি অগণিত এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ কিছু দলিল নিচে দেওয়া হলো:

কুরআন থেকে দলিল হলো ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী, যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "আমি তোমাদের থেকে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করো তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন (اعتزال) হচ্ছি এবং আমি আমার রবের নিকট প্রার্থনা করছি; আশা করি আমার রবের নিকট প্রার্থনা করে আমি বঞ্চিত হবো না।" (সূরা মারইয়াম: ৪৮)। অতঃপর যখন তিনি তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন (اعتزال) হলেন, তখন আমরা তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করলাম এবং প্রত্যেককেই নবী করলাম। (সূরা মারইয়াম: ৪৯)। এবং আমরা তাদের আমাদের রহমত দান করলাম এবং তাদের সুউচ্চ সুখ্যাতি দান করলাম। এছাড়া মহান আল্লাহর বাণী আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি: "তারা যা বলে তাতে ধৈর্য ধারণ করুন এবং সৌজন্যের সাথে তাদের বর্জন (هجر) করুন।" (সূরা মুজ্জাম্মিল: ১০)। এবং আরও ইরশাদ হয়েছে: "অপবিত্রতা বর্জন (هجر) করুন।" (সূরা মুদ্দাসসির: ৫)। এবং আরও ইরশাদ হয়েছে: "যখন আপনি তাদের দেখেন যারা আমাদের আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাস করে, তখন আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়। আর শয়তান যদি আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবেন না।" (সূরা আনআম: ৬৮)। এবং আরও ইরশাদ হয়েছে: "আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা ওহি করা হয়েছে আপনি তার অনুসরণ করুন, তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।" (সূরা আনআম: ১০৬)। মুমিনদের সম্পর্কে আরও ইরশাদ হয়েছে: "তারা যখন অনর্থক কথা শোনে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য; তোমাদের প্রতি সালাম, আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়াতে চাই না।" (সূরা কাসাস: ৫৫)। এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
ومن السنة ما ذكره أبو داود بعد أن ذكر أحاديث فيها النهي عن هجر المسلم؛ قال: النَّبِيُّ – صلى الله عليه وسلم – هَجَرَ بَعْضَ نِسَائِهِ أربعينَ يَوْماً، وابنُ عُمَرَ هَجَر ابناً له إِلَى أنْ مَاتَ.

وفي صحيح مسلم أن قريباً لعبد الله بن مغفل خَذَف فنهاه فقال: إنَّ رسول الله – صلى الله عليه وسلم – نهى عن الْخَذْف وقال: إِنَّهَا لَا تَصِيدُ صَيْدًا وَلَا تَنْكَأُ عَدُوًّا وَلَكِنَّهَا تَكْسِرُ السِّنَّ وَتَفْقَأُ الْعَيْنَ، قال: فعاد، فقال: أحدثك أن رسول الله نهى عنه ثم عُدْتَ تخذف لا أكَلِّمك أبداً. قال النووي على حديث عبد الله بن مغفل: في هذا الحديث هجران أهل البدع والفسوق ومُنَابِذِي السنة مع العلم، وأنه يجوز هجرانه دائماً؛ والنهي عن الهجران فوق ثلاثة أيام إنما هو فيمن هجر لحظ نفسه ومعايش الدنيا، وأما أهل البدع ونحوهم فهجرانهم دائماً، وهذا الحديث مِمَّا يؤيده، مع نظائر له كحديثِ كعب بن مالك وغيره. انتهى.

وجاء في صحيح البخاري: ودعا ابن عمر أبا أيوب فرأى في البيت ستراً على الجدار فقال ابن عمر غلبنا عليه النساء فقال من كنت أخشى عليه فلم أكن أخشى عليك والله لا أطعم لكم طعاماً فرجع. انتهى.

وأما الإجماع: قال ابن عبد البر: أجمعوا على أنه يجوز الهجر فوق ثلاث لمن كانت مخالطته تجلب نقصاً على المخاطب في دينه، أو مضرة تحصل عليه في نفسه، أو دنياه، فرب هجر جميل خير من مخالطة مؤذية. انتهى.

ومن أقوال علماء الأمة في هذا الباب:

قال ابن مفلح في الآداب الشرعية: يسن هجر من جهر بالمعاصي الفعلية والقولية والاعتقادية، قال أحمد في رواية حنبل: إذا علم أنه مقيم على معصيته لم يأثم إن هو جفاه، حتى يرجع، وإلا كيف يتبين للرجل ما هو عليه إذا لم ير منكراً ولا جفوة من صديق؟. انتهى.

وقَالَ فِي الْآدَابِ الْكُبْرَى: يُسَنُّ هَجْرُ مَنْ جَهَرَ بِالْمَعَاصِي الْفِعْلِيَّةِ وَالْقَوْلِيَّةِ والاعتقادية ، وَقِيلَ: يَجِبُ إنْ ارْتَدَعَ بِهِ وَإِلَّا كَانَ مُسْتَحَبًّا.

وَقِيلَ: يَجِبُ هَجْرُهُ مُطْلَقًا إلَّا مِنْ السَّلَامِ بَعْدَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ.

وَقِيلَ تَرْكُ السَّلَامِ عَلَى مَنْ جَهَرَ بِالْمَعَاصِي حَتَّى يَتُوبَ فَرْضُ كِفَايَةٍ ، وَيُكْرَهُ لِبَقِيَّةِ النَّاسِ تَرْكُهُ … انتهى.

وقال شيخ الإسلام في الفتاوى الكبرى: وكل من أظهر الكبائر فإنه تسوغ عقوبته بالهجر وغيره ممن في هجره مصلحة له راجحة، فتحصل المصالح الشرعية في ذلك بحسب الإمكان. انتهى.

وقال– رحمه الله –في موضع آخر: ومَن عُرف منه التظاهر بترك الواجبات، أو فعل المحرمات: فانه يستحق أن يُهجر، ولا يسلَّم عليه تعزيراً له على ذلك حتى يتوب." مجموع الفتاوى ".

وقال ابن عبدالبر في الاستذكار: وأما قوله ولا يحل لمسلم أن يهجر أو يهاجر أخاه فهو عندي مخصوص أيضا بحديث كعب بن مالك إذ أمر النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه أن يهجروه ويقطعوا الكلام عنه والسلام عليه لما أحدثه في تخلفه عن غزوة تبوك وهو قادر على الغزو وقد جعل بعض أهل العلم حديث كعب هذا أصلا
সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত দলিলের মধ্যে রয়েছে যা আবু দাউদ জনৈক মুসলিমকে বর্জন করার নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদিসগুলো উল্লেখ করার পর বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: নবী – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – তাঁর জনৈক স্ত্রীকে চল্লিশ দিন বর্জন (هجر) করেছিলেন এবং ইবনে উমর তাঁর এক পুত্রকে মৃত্যু পর্যন্ত বর্জন (هجر) করেছিলেন।

সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত আছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফালের এক নিকটাত্মীয় কঙ্কর নিক্ষেপ করছিলেন, তখন তিনি তাকে নিষেধ করে বললেন: নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – কঙ্কর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: “এর দ্বারা কোনো শিকার করা যায় না এবং শত্রুকেও পরাস্ত করা যায় না, বরং এটি দাঁত ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে।” তিনি বলেন: এরপর সেই ব্যক্তি পুনরায় তা করলেন। তখন তিনি বললেন: “আমি তোমাকে বলছি যে রাসুলুল্লাহ এটি নিষেধ করেছেন, আর তুমি পুনরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করছ! আমি তোমার সাথে কখনো কথা বলব না।” আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফালের হাদিস সম্পর্কে ইমাম নববী বলেন: এই হাদিসে বিদআতপন্থী (أهل البدع), পাপাচারী (الفسوق) এবং সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের (منابذي السنة) সাথে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রমাণ রয়েছে এবং এটিও প্রমাণিত হয় যে তাদের স্থায়ীভাবে বর্জন (هجرانه) করা বৈধ (يجوز)। আর তিন দিনের বেশি বর্জন করার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে নিজের স্বার্থ বা দুনিয়াবী কারণে কাউকে বর্জন করেছে। কিন্তু বিদআতপন্থী এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাদের স্থায়ীভাবে বর্জন করা বিধেয়, আর এই হাদিসটি কাব ইবনে মালিক ও অন্যদের হাদিসের ন্যায় সেই মতকে সমর্থন করে। সমাপ্ত।

সহীহ বুখারী-তে এসেছে: ইবনে উমর আবু আইয়ুবকে দাওয়াত দিলেন। আবু আইয়ুব ঘরে দেয়ালের ওপর একটি পর্দা দেখতে পেয়ে বললেন: হে ইবনে উমর, নারীরা আমাদের ওপর জয়ী হয়ে গেছে (অর্থাৎ তারা এটি লাগিয়েছে)। তিনি বললেন: আমি অন্য কারো ব্যাপারে আশঙ্কা করলেও আপনার ব্যাপারে এমনটা আশঙ্কা করিনি। আল্লাহর কসম! আমি আপনাদের খাবার খাব না। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন। সমাপ্ত।

আর ইজমার (إجماع) ক্ষেত্রে: ইবনে আব্দুল বার বলেন: আলেমগণ ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, তিন দিনের বেশি বর্জন (الهجر) করা বৈধ (يجوز) তার জন্য, যার সাথে মেলামেশা করলে সম্বোধনকারীর দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, কিংবা তার জান বা দুনিয়াবী কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় সুন্দর বর্জন (هجر جميل) কষ্টদায়ক মেলামেশার চেয়ে উত্তম। সমাপ্ত।

এই বিষয়ে উম্মতের আলেমদের বক্তব্যসমূহ থেকে:

ইবনে মুফলিহ আদাব আশ-শারইয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন: যারা প্রকাশ্যে কাজে, কথায় ও বিশ্বাসে নাফরমানি করে তাদের বর্জন (هجر) করা সুন্নাত (يسن)। হাম্বলের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বলেছেন: যখন জানা যাবে যে ব্যক্তি তার পাপের ওপর অটল রয়েছে, তবে তার সাথে কঠোরতা অবলম্বন করলে গুনাহ হবে না যতক্ষণ না সে ফিরে আসে। অন্যথায়, একজন বন্ধু যদি কোনো মন্দ কাজ বা কঠোরতা না দেখে, তবে সে যা করছে তা তার কাছে কীভাবে স্পষ্ট হবে? সমাপ্ত।

আদাব আল-কুবরা গ্রন্থে বলা হয়েছে: যারা প্রকাশ্যে কাজে, কথায় ও বিশ্বাসে নাফরমানি করে তাদের বর্জন (هجر) করা সুন্নাত (يسن)। বলা হয়েছে: এটি ওয়াজিব (يجب), যদি এর মাধ্যমে সে ফিরে আসে, অন্যথায় তা মুস্তাহাব (مستحب)।

আরো বলা হয়েছে: তাকে ঢালাওভাবে বর্জন করা ওয়াজিব (يجب), তবে তিন দিন পর সালাম দেওয়া যাবে।

আরো বলা হয়েছে: যারা প্রকাশ্যে নাফরমানি করে তাদের তওবা না করা পর্যন্ত সালাম দেওয়া ত্যাগ করা ফরযে কেফায়া (فرض كفاية), আর সাধারণ মানুষের জন্য তা বর্জন করা মাকরূহ (يكره) … সমাপ্ত।

শাইখুল ইসলাম আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা গ্রন্থে বলেছেন: যে ব্যক্তিই প্রকাশ্যে কবীরা গুনাহ (الكبائر) করবে, তাকে বর্জন (هجر) এবং অন্যান্য উপায়ে শাস্তি প্রদান করা বৈধ (تسوغ), যদি তাকে বর্জন করার মধ্যে জোরালো কল্যাণ থাকে। ফলে এর মাধ্যমে সম্ভবপর শরয়ী কল্যাণসমূহ অর্জিত হয়। সমাপ্ত।

তিনি – রহিমাহুল্লাহ – অন্য এক স্থানে বলেছেন: যার ব্যাপারে প্রকাশ্যভাবে ওয়াজিবসমূহ ত্যাগ করা অথবা হারাম কাজ করার বিষয়টি জানা যাবে, সে বর্জন (يُهجر) করার উপযুক্ত এবং তাকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে সালাম দেওয়া হবে না যতক্ষণ না সে তওবা করে। "মাজমুউল ফাতাওয়া"।

ইবনে আব্দুল বার আল-ইসতিযকার গ্রন্থে বলেছেন: আর তাঁর (রাসুলুল্লাহর) বাণী "কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইকে বর্জন করা বৈধ নয়" আমার নিকট কাব ইবনে মালিকের হাদিসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট (مخصوص)। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে বর্জন (يهجروه) করতে এবং তার সাথে কথা বলা ও সালাম দেওয়া বন্ধ করতে; কারণ তিনি তাবুক যুদ্ধে যাওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন। কোনো কোনো আলেম কাব ইবনে মালিকের এই হাদিসটিকে মূলনীতি (أصلا) হিসেবে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
في هجران أهل البدع ومن أحدث في الدين ما لم يرض والذي عندي أن من خشي من مجالسته ومكالمته الضرر في الدين أو في الدنيا والزيادة في العداوة والبغضاء فهجرانه والبعد عنه خير من قربه لأنه يحفظ عليك زلاتك ويماريك في صوابك ولا تسلم من سوء عاقبة خلطته ورب صرم جميل خير من مخالطة مؤذية … انتهى.

وفي الفروع لابن مفلح: قال القاضي أبو الحسين في التمام: لا تختلف الرواية في وجوب هجران أهل البدع وفساق الملة، وقال في الآداب: أطلق كما ترى، وظاهره أنه لا فرق بين المجاهر وغيره في المبتدع والفاسق، وقال القاضي في الأمر بالمعروف: إلى أن قال ونقل حنبل: إذا علم من الرجل أنه مقيم على معصية لم يأثم إن هو جفاه حتى يرجع، وإلا كيف يبين للرجل ما هو عليه إذا لم ير منكراً عليه، ولا جفوة من صديق. انتهى.

قَالَ أَبُو دَاوُدَ رضي الله عنه: إذَا كَانَتْ الْهِجْرَةُ لِلَّهِ فَلَيْسَ مِنْ هَذَا يَعْنِي مِنْ أَحَادِيثِ الْوَعِيدِ بِالْهِجْرَانِ بِشَيْءٍ ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم هَجَرَ بَعْضَ نِسَائِهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا … انتهى.

قال النووي في شرحه لمسلم قوله: (أحدثك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الخذف ثم تخذف لا أكلمك أبداً) فيه هجران أهل البدع والفسوق ومنابذي السنة مع العلم وأنه يجوز هجرانه دائماً، والنهي عن الهجران فوق ثلاثة أيام إنما هو فيمن هجر لحظ نفسه ومعايش الدنيا، وأما أهل البدع ونحوهم فهجرانهم دائماً، وهذا الحديث مما يؤيده مع نظائر له كحديث كعب بن مالك وغيره … انتهى).

وقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ رضي الله عنه: وَيَجِبُ هَجْرُ مَنْ كُفِّرَ أَوْ فُسِّقَ بِبِدْعَةٍ أَوْ دَعَا إلَى بِدْعَةٍ مُضِلَّةٍ أَوْ مُفَسِّقَةٍ عَلَى مَنْ عَجَزَ عَنْ الرَّدِّ عَلَيْهِ أَوْ خَافَ الِاغْتِرَارَ بِهِ وَالتَّأَذِّي دُونَ غَيْرِهِ … انتهى.

وقَالَ الْخَلَّالُ: حَدَّثَنَا إسْمَاعِيلُ بْنُ إسْحَقَ الثَّقَفِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ إنَّ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ لَهُ جَارٌ رَافِضِيٌّ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ ، قَالَ لَا وَإِذَا سَلَّمَ عَلَيْهِ لَا يَرُدُّ عَلَيْهِ … انتهى.

وقال العراقي في أحاديث الأحكام: … وأما قوله: لا هجرة بين المسلمين فوق ثلاثة أيام. فمحله إذا كان الهجران لحظوظ النفس، وتعنتات أهل الدنيا … انتهى.

قال النووي في الروضة: قال أصحابنا وغيرهم هذا في الهجران لغير عذر شرعي، فإن كان عذر بأن كان المهجور مذموم الحال لبدعة أو فسق أو نحوهما، أو كان فيه صلاح لدين الهاجر أو المهجور فلا يحرم، وعلى هذا يُحمل ما ثبت من هجر النبي صلى الله عليه وسلم كعب بن مالك وصاحبيه ونهيه الصحابة عن كلامهم، وكذا ما جاء من هجران السلف بعضهم بعض. انتهى. وقال الشيخ ابن باز في أحد فتاويه (الحديث لا يهجر المسلم أخاه فوق ثلاث، أما الثلاث ففيها رخصة، لكن هذا الهجر فيما يتعلق بأمور الدنيا، إذا صار بينه وبين أخيه خصومة، نزاع، دعاوى، فله أن يهجره ثلاثاً فأقل، وليس له أن يهجره فوق ثلاث، وخيرهما الذي يبدأ بالسلام أما إذا كان الهجر لله، للمعاصي فهذا لا يتقيد بثلاث ولا بأربع ولا بأكثر، بل يجوز الهجر ويشرع الهجر لمن أظهر المعاصي ولو أكثر من ثلاثة أيام، ولو سنة، ولو سنتين، ولو أكثر منه، حتى يتوب العاصي، حتى يقلع عن ضلاله
বিদআতীদের (أهل البدع) এবং যারা দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করেছে যা পছন্দনীয় নয়, তাদের বর্জন করা প্রসঙ্গে। আমার মতে, যার সাথে উঠাবসা বা কথা বললে দ্বীন অথবা দুনিয়ার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে এবং শত্রুতা ও ঘৃণা বৃদ্ধি পায়, তার থেকে দূরে থাকা ও তাকে বর্জন করাই উত্তম। কারণ সে আপনার ভুলগুলো মনে রাখে, সত্য বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করে এবং তার সাথে মেলামেশার মন্দ পরিণতি থেকে আপনি নিরাপদ নন। অনেক সময় সুন্দর বিচ্ছেদ কষ্টদায়ক মেলামেশার চেয়ে উত্তম... সমাপ্ত।

ইবনে মুফলিহের আল-ফুরু গ্রন্থে রয়েছে: আল-কাদি আবুল হুসাইন আল-তামাম গ্রন্থে বলেছেন: বিদআতীদের (أهل البدع) এবং মিল্লাতের ফাসেকদের (فساق الملة) বর্জন করার আবশ্যকতা (وجوب) নিয়ে বর্ণনায় কোনো মতভেদ নেই। আল-আদাব গ্রন্থে তিনি একে সাধারণভাবেই উল্লেখ করেছেন; এর বাহ্যিক অর্থ হলো বিদআতী (المبتدع) এবং ফাসেক (الفاسق) ব্যক্তি প্রকাশ্যে পাপাচারী হোক বা না হোক, উভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আল-কাদি আমর বিল মা’রুফ অধ্যায়ে বলেছেন: ...হাম্বল বর্ণনা করেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জানা যায় যে সে পাপে (معصية) লিপ্ত রয়েছে, তখন তাকে বর্জন করলে গুনাহ হবে না যতক্ষণ না সে ফিরে আসে। অন্যথায়, যদি কোনো মন্দ কাজের প্রতিবাদ না করা হয় এবং বন্ধুর পক্ষ থেকে কঠোরতা না দেখানো হয়, তবে ওই ব্যক্তি তার ভুলগুলো কীভাবে বুঝতে পারবে? সমাপ্ত।

আবু দাউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: যদি বর্জন করা আল্লাহর জন্য হয়, তবে এটি বর্জনের ব্যাপারে বর্ণিত সতর্কবাণী সম্বলিত হাদিসগুলোর (أحاديث الوعيد) অন্তর্ভুক্ত হবে না। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কিছু স্ত্রীকে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বর্জন করেছিলেন... সমাপ্ত।

ইমাম নববী সহীহ মুসলিমের শারহ-এ তাঁর উক্তি: "আমি তোমাকে বলছি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কঙ্কর ছুড়তে নিষেধ করেছেন, আর তুমি কঙ্কর ছুড়ছো! আমি তোমার সাথে কখনো কথা বলব না"—এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: এতে বিদআতী (أهل البدع), ফাসেক (الفسوق) এবং ইলম থাকা সত্ত্বেও সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের (منابذي السنة) বর্জন করার প্রমাণ রয়েছে এবং তাদের স্থায়ীভাবে বর্জন করা জায়েজ। আর তিন দিনের বেশি বর্জন করার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা কেবল নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ (لحظ نفسه) বা দুনিয়াবী জীবন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে। কিন্তু বিদআতী (أهل البدع) ও তাদের সমপর্যায়ের লোকদের ক্ষেত্রে বর্জন স্থায়ীভাবে হবে। কাব বিন মালিকের হাদিস ও অনুরূপ অন্যান্য হাদিস একে সমর্থন করে... সমাপ্ত।

ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: যাকে বিদআতের (بدعة) কারণে কাফের (كُفِّرَ) বা ফাসেক (فُسِّقَ) সাব্যস্ত করা হয়েছে, অথবা যে পথভ্রষ্টকারী বিদআতের (بدعة مضلة) দিকে বা পাপাচারের (مفسقة) দিকে আহ্বান জানায়, তাকে বর্জন করা সেই ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব (يجب) যে তাকে উপযুক্ত জবাব দিতে অক্ষম অথবা তার দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়ার ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় পায়; তবে অন্যদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়... সমাপ্ত।

আল-খাল্লাল বলেছেন: ইসমাইল ইবনে ইসহাক আল-সাকাফী আল-নিশাপুরী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার একজন রাফেজি (رافضي) প্রতিবেশী আছে যে তাকে সালাম দেয়; তিনি বললেন: না, আর সে সালাম দিলে তার উত্তর দেবে না... সমাপ্ত।

আল-ইরাকি আহাদিসুল আহকাম গ্রন্থে বলেছেন: ...আর তাঁর বাণী: "মুসলমানদের মাঝে তিন দিনের বেশি বর্জন (হিজরত) বৈধ নয়"—এটি তখন প্রযোজ্য যখন বর্জন করা নিজের ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি (حظوظ النفس) এবং দুনিয়াদারদের হঠকারিতার কারণে হয়... সমাপ্ত।

ইমাম নববী আল-রাওদাহ গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের সাথীবৃন্দ এবং অন্যান্যগণ বলেছেন যে, এটি শরয়ি ওজর (عذر شرعي) ছাড়া বর্জনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু যদি কোনো ওজর থাকে যেমন—বর্জিত ব্যক্তি বিদআত (بدعة), ফাসেকী (فسق) বা অনুরূপ কোনো কারণে নিন্দনীয় হয়, অথবা বর্জন করার মধ্যে বর্জনকারী বা বর্জিত ব্যক্তির দ্বীনের সংশোধন নিহিত থাকে, তবে তা হারাম হবে না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক কাব বিন মালিক ও তাঁর দুই সাথীকে বর্জন এবং সাহাবীদের তাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করার বিষয়টি এর ওপরই কিয়াস করা হবে। একইভাবে সালাফদের একে অপরকে বর্জন করার বিষয়টিও। সমাপ্ত। শাইখ ইবনে বাজ তাঁর একটি ফতোয়ায় বলেছেন: হাদিসে রয়েছে, "কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের বেশি বর্জন করা জায়েজ নয়।" তবে তিন দিন পর্যন্ত অনুমতি রয়েছে, কিন্তু এই বর্জন হবে দুনিয়াবী বিষয়ে; যদি তার ও তার ভাইয়ের মধ্যে কোনো ঝগড়া, বিবাদ বা অভিযোগ থাকে, তবে সে তিন দিন বা তার কম সময় বর্জন করতে পারে, কিন্তু তিন দিনের বেশি নয়। আর তাদের মধ্যে সেই উত্তম যে আগে সালাম দেবে। কিন্তু বর্জন যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং পাপের (المعاصي) কারণে হয়, তবে তা তিন দিন বা চার দিন বা তার বেশি সময়ের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ নয়। বরং যারা প্রকাশ্যে পাপ (المعاصي) করে তাদের বর্জন করা জায়েজ ও বিধিবদ্ধ (يشرع), এমনকি তা তিন দিনের বেশি হলেও, চাই তা এক বছর, দুই বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য হোক, যতক্ষণ না সেই পাপী ব্যক্তি তাওবা করে এবং তার ভ্রষ্টতা থেকে ফিরে আসে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
ومعصيته). وقال الشيخ صالح الفوزان - حفظه الله -:

هجر المؤمن لا يجوز فوق ثلاثة أيام إذا كان على أمر من أمور الدنيا، بل عليه أن يصالح أخاه وأن يُسلِّم عليه إذا لقيه، ومع أنه لا ينبغي ابتداءاً أن يهجر على أمر من أمور الدنيا، ولكن لو حصل شيء من الهجر: فإنه لا يتجاوز ثلاثة أيام، وهذا هو المراد بالحديث: (لا يَحِلُّ لمؤمن أن يهجُرَ أخاه فوقَ ثلاث) يعني: إذا كان الهجر على أمر من أمور الدنيا … انتهى.

وقال ابنُ حَجَر في الفتح: ذَهَبَ الْجُمْهُورُ إلى أنه لا يُسَلَّم على الْمُبتَدِع ولَا الفاسق. انتهى. وقال أيضا: وقال الْمُهَلب: تَرْكُ السَّلَامِ على أهلِ الْمَعَاصِي سُنَّة مَاضية، وبه قال كَثير من أهلِ العِلْمِ في أهل البِدَع … انتهى.

وقال النووي في رياض الصالحين: بابُ تحريمِ الْهُجْرَان بينَ المسلمين إلَاّ لِبِدْعَةٍ في الْمَهْجُور أو تظاهر بِفِسْق أو نحو ذلك.

تنبيه مهم:

الفاسق المسلم أعم من الفاسق المشروع هجره إيجابياً فكل فاسق مشروع هجره إيجابياً فهو بالضرورة يكون فاسقاً وليس كل فاسق يُشرع هجره.

 

‌‌حكم هجر المؤمن الصالح المؤذي هجراً جميلاً وقائياً:

حكم هجر المؤمن الصالح المُضر دنيوياً هجراً جميلاً وقائياً جائز بالاتفاق ، وهذا من غير أن يقطع عنه السلام والكلام وحسن المعاملة إذا اجتمعا قسراً ، قال الحافظ أبو عمر بن عبد البر: أجمعوا على أنه يجوز الهجر فوق ثلاث، لمن كانت مكالمته تجلب نقصاً على المخاطب في دينه، أو مضرة تحصل عليه في نفسه، أو دنياه. فرب هجر جميل خير من مخالطة مؤذية. انتهى. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم "لا ضرر ولا ضرار".

وأما حكم هجر المؤمن الصالح المُؤذي دنيوياً هجراً جميلاً فجائز على مذهب بعض أهل العلم طبعاً باستثناء الوالدين ، والورع يا عبد الله يقتضي صلة المؤمن الصالح المؤذي والصبر على أذاه ما لم يصل أذاه إلى حد الضرر ، والفرق بين الضرر والأذى ـ والله أعلم ـ أن الأذى هو الضرر اليسير، قال ابن عطية: قوله تعالى: لَنْ يَضُرُّوكُمْ إِلَّا أَذىً ـ معناه: لن يصيبكم منهم ضرر في الأبدان ولا في الأموال، وإنما هو أذى بالألسنة. وقال القرطبي: وَالْمَعْنَى لَنْ يَضُرُّوكُمْ إِلَّا ضَرًّا يَسِيرًا. اهـ.

ولكن لا يلزم أن يكون هذا التفريق الثابت هنا ثابتا أيضا في لفظي المضرة والأذى المذكور في كلام ابن عبد البر.

 

‌‌هل كل بدعة يستحق صاحبها الهجر الإيجابي؟

بالطبع لا ، وذلك أن البدعة تختلف مرتبتها من جهة كونها مكفرة أو لا ، ومن جهة كونها إضافية أو حقيقية مستقلة ، ومن جهة كونها بينة أو مشكلة وجهة صاحبها كونه مجتهداً أو مقلداً، داعية أو مستتراً عليها أولا، وتختلف باختلاف حال المبتدع وما فيه من خير وشر إلا أن هجر المبتدع الهجر الإيجابي عموماً شُرع لمقاصد وأغراض شرعية فمتى ما حقق تلك الأغراض فهو مشروع وإلا لم يكن مشروعاً بل قد يكون التأليف هو المشروع ويتأكد ذلك مع المبتدع المسلم المقلد المستتر غير الداعية.
এবং তার অবাধ্যতা)। শায়খ সালেহ আল-ফাওজান - হাফিজাহুল্লাহ - বলেন:

পার্থিব কোনো বিষয়ের কারণে একজন মুমিনকে তিন দিনের বেশি বর্জন (هجر) করা বৈধ নয়; বরং তার উচিত তার ভাইয়ের সাথে আপস করা এবং দেখা হলে তাকে সালাম দেওয়া। যদিও পার্থিব কোনো কারণে প্রাথমিকভাবে বর্জন (هجر) করা সমীচীন নয়, তবে যদি এমন বর্জন (هجر) ঘটেও যায়, তবে তা যেন তিন দিনের বেশি না হয়। আর হাদিসে 'কোনো মুমিনের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের বেশি বর্জন (هجر) করা বৈধ নয়' বলতে এটাই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, যদি বর্জন (هجر) পার্থিব কোনো কারণে হয়ে থাকে … সমাপ্ত।

ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম (جمهور) এই মত পোষণ করেছেন যে, বিদআতি (مبتدع) এবং পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া যাবে না। সমাপ্ত। তিনি আরও বলেন: আল-মুহাল্লাব বলেছেন: পাপাচারীদের সালাম প্রদান বর্জন করা একটি প্রচলিত সুন্নাহ (سنة), আর অনেক বিদ্যান বিদআতিদের (أهل البدع) ক্ষেত্রেও একই কথা বলেছেন … সমাপ্ত।

ইমাম নববী রিয়াদুস সালিহীনে বলেন: মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক বর্জন (هجر) হারাম হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ; তবে বর্জিত ব্যক্তির বিদআত (بدعة) বা প্রকাশ্য পাপাচার (فسق) অথবা এই জাতীয় অন্য কোনো কারণ থাকলে ভিন্ন কথা।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

পাপাচারী (فاسق) মুসলিমের ক্ষেত্রটি সেই পাপাচারীর চেয়ে ব্যাপক, যাকে ইতিবাচকভাবে বর্জন (هجر إيجابي) করা শরয়িভাবে বিধিবদ্ধ। সুতরাং প্রত্যেক পাপাচারী, যাকে ইতিবাচকভাবে বর্জন করা বিধিবদ্ধ, সে অনিবার্যভাবেই একজন পাপাচারী (فاسق); কিন্তু প্রত্যেক পাপাচারীকে (فاسق) বর্জন করা শরয়িভাবে বিধিবদ্ধ নয়।

 

‌‌বিরক্তিকর নেককার মুমিনকে প্রতিরোধমূলক সৌজন্যমূলক বর্জন (هجر جميل) করার বিধান:

পার্থিব ক্ষতির কারণ হওয়া নেককার মুমিনকে প্রতিরোধমূলক সৌজন্যমূলক বর্জন (هجر جميل) করা সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ। এটি হবে সালাম, কথোপকথন এবং সুন্দর আচরণ বজায় রেখে—যদি তারা বাধ্য হয়ে একত্রিত হয়। হাফিজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার বলেন: আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তিন দিনের বেশি বর্জন (هجر) করা ওই ব্যক্তির জন্য বৈধ, যার সাথে কথোপকথন করলে বক্তার দ্বীনের ক্ষতি হয় অথবা তার জান-মাল বা দুনিয়াবি কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে কষ্টদায়ক মেলামেশার চেয়ে সৌজন্যমূলক বর্জন (هجر جميل) উত্তম। সমাপ্ত। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতিও করা যাবে না।"

আর পার্থিবভাবে কষ্টদায়ক নেককার মুমিনকে সৌজন্যমূলক বর্জন (هجر جميل) করার বিধান কোনো কোনো বিদ্ধানের মতে বৈধ, তবে অবশ্যই পিতামাতা এর অন্তর্ভুক্ত নন। হে আল্লাহর বান্দা, তাকওয়া ও পরহেজগারি (ورع) দাবি করে যে, কষ্টদায়ক নেককার মুমিনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তার কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করা, যতক্ষণ না সেই কষ্ট ক্ষতির (ضرر) পর্যায়ে পৌঁছায়। ক্ষতি (ضرر) এবং কষ্টের (أذى) মধ্যে পার্থক্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—কষ্ট (أذى) হলো সামান্য ক্ষতি। ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: মহান আল্লাহর বাণী 'তারা তোমাদের সামান্য কষ্ট (أذى) দেওয়া ছাড়া আর কোনো ক্ষতি (يضروكم) করতে পারবে না'—এর অর্থ হলো: তারা তোমাদের জান বা মালের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, বরং এটি হবে কেবল মুখ দিয়ে দেওয়া কষ্ট। আল-কুরতুবি বলেন: এর অর্থ হলো তারা সামান্য ক্ষতি ছাড়া তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সমাপ্ত।

তবে ইবনে আব্দুল বারের বক্তব্যে উল্লিখিত 'ক্ষতি' এবং 'কষ্ট' শব্দ দুটির ক্ষেত্রেও যে এই একই পার্থক্য সুনিশ্চিতভাবে প্রযোজ্য হবে, এমনটি জরুরি নয়।

 

‌‌প্রত্যেক বিদআতি কি ইতিবাচক বর্জনের (هجر إيجابي) যোগ্য?

অবশ্যই না; কারণ বিদআতের (بدعة) পর্যায় বিভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন—তা কুফরি পর্যায়ের (مكفرة) কি না; তা আপেক্ষিক (إضافية) নাকি স্বতন্ত্র ও প্রকৃত (حقيقية); তা সুস্পষ্ট (بينة) নাকি জটিল (مشكلة); এবং বিদআতি ব্যক্তির অবস্থা সে কি মুজতাহিদ (مجتهد) নাকি মুকাল্লিদ (مقلد), সে কি বিদআতের দিকে আহ্বানকারী (داعية) নাকি তা গোপনকারী। এছাড়া বিদআতি ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান ভালো-মন্দের পার্থক্যের কারণেও বিধানে ভিন্নতা আসে। তবে সাধারণভাবে বিদআতিকে ইতিবাচক বর্জন (هجر إيجابي) করার বিধান দেওয়া হয়েছে শরয়ি কিছু উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য। যখনই সেই লক্ষ্যগুলো অর্জিত হবে, তখনই তা বিধিবদ্ধ হবে; অন্যথায় তা বিধিবদ্ধ হবে না। বরং কখনো কখনো মন জয় করা (تأليف) বিধিবদ্ধ হতে পারে; বিশেষ করে সেই মুসলিম বিদআতির ক্ষেত্রে, যে কেবল অনুসারী (مقلد), বিদআত গোপনকারী এবং তার দিকে আহ্বানকারী নয়।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌هل هناك من أهل العلم من يرى حرمة هجر الكافر أو المرتد أو المنافق إيجابياً؟

لا ، لا يوجد أحد من أهل العلم يرى حرمة هجر الكافر أو المرتد بل للمسلم هجر الكافر من غير تقييد باستثناء الوالدين غير المحاربين وهذا على حد علمي والله أعلم.

 

‌‌هل المصلحة الشرعية معتبرة في الهجر الإيجابي أم أن الهجر يكون على إطلاقه؟

لاشك أن المصلحة الشرعية معتبرة في الهجر الإيجابي ، والذي يدلك على هذا أن الذين وقعوا في بعض المعاصي في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم ما كانوا يُهجرون بالكلية من جميع الناس، بل كان الناس منقسمين فيهم إلى ثلاثة أقسام:

1 - فقسم يغلظ القول عليهم ويظهر البغض لهم ويهجرهم إيجابياً.

2 - وقسم يعرض عنهم إعراضاً جميلاً، ولا يتعرض لهم إلا بالنصح والتذكير أحيانًا.

3 - وقسم ينظر إليهم بعين العطف والرحمة، ولا يؤثر المقاطعة والتباعد عنهم، إما طلبًا لإصلاحهم ونصحهم، أو خوفًا من زيادة انحرافهم وضلالهم، فهذه من دقائق الأحكام الشرعية التي تختلف فيها طرق السالكين، واجتهادات المجتهدين ويكون فيها عمل كل واحد بحسب ما تقتضيه حاله ووقته ونيته ، ومن هذا الباب ما رواه ابن أبي حاتم أن عمر رضي الله عنه، افتقد رجلاً من أهل الشام من أهل البأس، فقال: ما فعل فلان بن فلان، فقالوا: يا أمير المؤمنين تتابع في هذا الشراب يعني الخمر، قال: فدعا عمر كاتبه، فقال: اكتب من عمر بن الخطاب، إلى فلان بن فلان سلام عليك، فإني أحمد إليك الله الذي لا إله إلا هو غافر الذنب وقابل التوب شديد العقاب ذي الطول لا إله إلا هو إليه المصير، ثم قال: لأصحابه ادعوا الله لأخيكم أن يُقْبِل بقلبه ويتوب عليه، فلما بلغ الرجل الكتاب جعل يقرؤه ويردده ويقول: غافر الذنب وقابل التوب شديد العقاب، قد حذرني عقوبته ووعدني أن يغفر لي. زاد أبو نعيم: فلما بلغ عمر خبره، قال: هكذا اصنعوا إذا رأيتم أخاً لكم زل زلة فسددوه ووثقوه وادعوا الله له أن يتوب عليه، ولا تكونوا أعواناً للشيطان عليه.

وفي هذا الباب يقول شيخ الإسلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى (وهذا الهجر يختلف باختلاف الهاجرين في قوتهم، وضعفهم، وقلتهم، وكثرتهم؛: فإن المقصود به زجر المهجور وتأديبه ورجوع العامة عن مثل حاله، فإن كانت المصلحة في ذلك راجحة بحيث يفضي هجره إلى ضعف الشر وخفيته كان مشروعاً، وإن كان لا المهجور ولا غيره يرتدع بذلك، بل يزيد الشر والهاجر ضعيف بحيث يكون مفسدة راجحة على مصلحته لم يشرع الهجر، بل يكون التأليف لبعض الناس أنفع من الهجر، والهجر لبعض الناس أنفع من التأليف … انتهى).

وقال رحمه الله -في موضع آخر:

(وأما هجر التعزير فمثل هجر النبي صلى الله عليه وسلم أصحابَه الثلاثة الذين خُلِّفوا، وهجر عمر والمسلمين لصبيغ، فهذا من نوع العقوبات، فإذا كان يحصل بهذا الهجر حصول معروف أو اندفاع منكر: فهي [يعني: عقوبة الهجر] مشروعة، وإن كان يحصل بها من الفساد ما يزيد على فساد الذنب، فليست مشروعة.) " مجموع الفتاوى ".
আলেমগণের মধ্যে কি এমন কেউ আছেন যারা কাফের, মুরতাদ বা মুনাফিককে ইতিবাচকভাবে বর্জন (هجر) করা হারাম মনে করেন?

না, আলেমগণের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কাফের বা মুরতাদকে বর্জন (هجر) করা হারাম মনে করেন। বরং একজন মুসলিমের জন্য কাফেরকে বর্জন (هجر) করা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বৈধ, তবে যুদ্ধরত নয় এমন পিতামাতা এর ব্যতিক্রম। এটিই আমার জানামতে সঠিক এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

ইতিবাচক বর্জনের (هجر) ক্ষেত্রে কি শরয়ি কল্যাণ বিবেচনাযোগ্য নাকি বর্জন (هجر) সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে?

নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বর্জনের (هجر) ক্ষেত্রে শরয়ি কল্যাণ বিবেচনাযোগ্য। এর প্রমাণ হলো, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কিছু পাপে লিপ্ত হয়েছিলেন, সকল মানুষ তাদের সম্পূর্ণরূপে বর্জন (هجر) করেননি। বরং মানুষ তাদের ব্যাপারে তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিলেন:

১ - এক দল তাদের প্রতি কঠোর বাক্য প্রয়োগ করতেন, তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতেন এবং ইতিবাচকভাবে তাদের বর্জন (هجر) করতেন।

২ - এক দল সুন্দরভাবে তাদের উপেক্ষা করতেন এবং মাঝে মাঝে উপদেশ ও নসিহত প্রদান ছাড়া তাদের সাথে কোনো সংশ্রব রাখতেন না।

৩ - অন্য এক দল তাদের প্রতি সহানুভূতি ও দয়ার দৃষ্টিতে তাকাতেন এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা দূরে থাকাকে পছন্দ করতেন না। এর উদ্দেশ্য ছিল হয় তাদের সংশোধন ও নসিহত করা, অথবা তাদের বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা আরও বেড়ে যাওয়ার ভয়। এগুলো হলো শরয়ি বিধানের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি, যেখানে পথচারীদের কর্মপন্থা এবং মুজতাহিদদের ইজতিহাদ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। প্রত্যেকেই তার অবস্থা, সময় এবং নিয়ত অনুযায়ী আমল করবেন। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো ইবনে আবি হাতিম যা বর্ণনা (رواه) করেছেন যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু শামের একজন সাহসী ও শক্তিশালী ব্যক্তিকে অনুপস্থিত পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: অমুকের ছেলে অমুক কী করছে? তারা বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, সে ক্রমাগত এই পানীয় অর্থাৎ মদ পানে লিপ্ত রয়েছে। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার লেখককে ডাকলেন এবং বললেন: লিখো— "উমর ইবনুল খাত্তাবের পক্ষ থেকে অমুকের পুত্র অমুকের প্রতি, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি তোমার কাছে সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি পাপ ক্ষমাশীল, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা এবং মহান দাতা। তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।" এরপর তিনি তাঁর সাথীদের বললেন: তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেন তিনি তার অন্তরকে ফিরিয়ে দেন এবং তার তওবা কবুল করেন। যখন সেই ব্যক্তির কাছে পত্রটি পৌঁছাল, সে তা বারবার পড়তে লাগল এবং বলতে লাগল: "পাপ ক্ষমাশীল, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা।" তিনি আমাকে তাঁর শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন এবং আমাকে ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবু নুয়াইম আরও বর্ণনা (رواه) করেছেন: যখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে তার সংবাদ পৌঁছাল, তিনি বললেন: তোমরা যখন দেখবে তোমাদের কোনো ভাই পদস্খলিত হয়েছে, তখন এমনটিই করো; তাকে সুপথে আনো, তাকে শক্তিশালী করো এবং তার তওবার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো। তার বিরুদ্ধে শয়তানের সাহায্যকারী হয়ো না।

এই বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মাজমুউল ফাতাওয়া-তে বলেন: (এই বর্জন (هجر) বর্জনকারীদের শক্তি, দুর্বলতা, স্বল্পতা ও আধিক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কেননা এর উদ্দেশ্য হলো যাকে বর্জন (هجر) করা হয়েছে তাকে সতর্ক করা ও শিষ্টাচার শেখানো এবং সাধারণ মানুষকে তার মতো অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনা। যদি এতে শরয়ি কল্যাণ প্রবল হয় এবং এই বর্জনের (هجر) ফলে মন্দের দুর্বলতা ও গোপন হওয়া নিশ্চিত হয়, তবে তা শরীয়তসম্মত। আর যদি বর্জিত ব্যক্তি বা অন্য কেউ এর মাধ্যমে বিরত না হয়, বরং মন্দ আরও বেড়ে যায় এবং বর্জনকারী (الهاجر) দুর্বল হওয়ার কারণে কল্যাণের চেয়ে ক্ষতির দিকটিই প্রবল হয়, তবে বর্জন (هجر) শরীয়তসম্মত হবে না। বরং কিছু মানুষের জন্য অন্তর জয় করা বর্জনের (هجر) চেয়ে বেশি উপকারী হবে, আবার কিছু মানুষের জন্য বর্জন (هجر) অন্তর জয়ের চেয়ে বেশি উপকারী হবে... সমাপ্ত)।

তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি অন্য এক স্থানে বলেন:

(আর শাসনমূলক বর্জন (هجر) হলো যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই তিন সাহাবীকে বর্জন (هجر) করেছিলেন যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন, এবং উমর ও মুসলিমদের সবিগ-কে বর্জন (هجر) করা। এটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। যদি এই বর্জনের (هجر) মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জিত হয় বা কোনো মন্দ দূর হয়, তবে এটি অর্থাৎ বর্জনের (هجر) মাধ্যমে শাস্তি প্রদান শরীয়তসম্মত। আর যদি এর ফলে পাপের ক্ষতির চেয়ে বড় কোনো ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়, তবে তা শরীয়তসম্মত নয়।) "মাজমুউল ফাতাওয়া"।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
وفي الفروع لابن مفلح: (وأما هجر الفاسق فمشروع إذا كان في هجره مصلحة.)

وقال الشيخ ابن باز رحمه الله (ينبغي على المؤمن أن ينظر في هذه المقامات بنظر الإيمان والشرع والتجرد من الهوى، فإذا كان هجره للمبتدع وبعده عنه لا يترتب عليه شر أعظم فإن هجره حق، وأقل أحواله أن يكون سنة، وهكذا هجر من أعلن المعاصي وأظهرها أقل أحواله أنه سنة، أما إن كان عدم الهجر أصلح لأنه يرى أن دعوة هؤلاء المبتدعين وإرشادهم إلى السنة وتعليمهم ما أوجب الله عليهم يؤثر فيهم ويزيدهم هدى فلا يعجل في الهجر .... انتهى).

وبهذا تعلم أن الأمر يختلف بحسب الحال، وبحسب اجتهاد المرء في تحقيق المصلحة. والمتأمل لحال النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه-رضي الله عنهم -يجد بعض هذه الصور من المعاملة، فنجده يهجر بعض أصحابه ويعرض عن بعضهم أحياناً حتى يتوب لعلمه بتأثير ذلك فيهم وربما يستقبل بعض ضعفاء الإيمان ويهش في وجوههم لمصلحة يراها في ذلك تأليفاً لهم، ومن ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم: رأى على بعض أصحابه خاتماً من ذهب فأعرض عنه، فألقاه واتخذ خاتما من حديد فقال: (هذا شر، هذا حلية أهل النار)، فألقاه فاتخذ خاتما من ورق، فسكت عنه. رواه أحمد. وخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم: فرأى قبة مشرفة فقال: ما هذه؟ قال له أصحابه: هذه لفلان رجل من الأنصار قال: فسكت وحملها في نفسه حتى إذا جاء صاحبها رسول الله صلى الله عليه وسلم يسلم عليه في الناس أعرض عنه، صنع ذلك مراراً حتى عرف الرجل الغضب فيه والإعراض عنه، فشكا ذلك إلى أصحابه فقال: والله إني لأنكر رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قالوا: خرج فرأى قبتك، قال: فرجع الرجل إلى قبته فهدمها حتى سواها بالأرض. الحديث. رواه أبو داود، وصححه الألباني. وكما في هجره لكعب بن مالك وصاحبيه رضي الله عنهم وقصتهم في الصحيحين، وهنالك من أصحاب المعاصي من لم يهجرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما ثبت في صحيح البخاري عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن رجلاً كان على عهد النبي صلى الله عليه وسلم كان اسمه عبد الله، وكان يلقب حماراً، وكان يُضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان النبي صلى الله عليه وسلم قد جلده في الشراب، فأتي به يوماً فأمر به فجلد، فقال رجل من القوم: اللهم العنه، ما أكثر ما يؤتى به، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تلعنوه، فو الله ما علمت أنه يحب الله ورسوله".

ولذلك قال ابن مفلح نقلاً عن ابن تيمية رحمه الله: واعتبر الشيخ المصلحة في ذلك. انتهى.
ইবনে মুফলিহ রচিত আল-ফুরু গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "আর পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তিকে বর্জন করা শরীয়তসম্মত (مشروع) যখন তাকে বর্জনের মধ্যে কল্যাণ নিহিত থাকে।"

শায়খ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মুমিনের উচিত এই ক্ষেত্রগুলোতে ঈমান, শরীয়ত এবং প্রবৃত্তিমুক্ত মানসিকতা নিয়ে দৃষ্টিপাত করা। সুতরাং বিদআতি (مبتدع) ব্যক্তিকে বর্জন করা এবং তার থেকে দূরে থাকার ফলে যদি আরও বড় কোনো অনিষ্টের সৃষ্টি না হয়, তবে তাকে বর্জন করাই সঠিক, আর এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো এটি সুন্নাহ (سنة)। একইভাবে যারা প্রকাশ্যে পাপে লিপ্ত হয়, তাদের বর্জনের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো এটি সুন্নাহ (سنة)। তবে যদি বর্জন না করাই অধিক কল্যাণকর হয়—এই কারণে যে ব্যক্তিটি মনে করে এই বিদআতিদের (مبتدعين) দাওয়াত প্রদান করা, তাদের সুন্নাহর (سنة) দিকে পরিচালিত করা এবং আল্লাহ তাদের ওপর যা ফরজ করেছেন তা শিক্ষা দেওয়া তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং তাদের হিদায়েত বৃদ্ধি করবে—তবে বর্জনের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়... (সমাপ্ত)।"

এর দ্বারা আপনি জানতে পারলেন যে, বিষয়টি অবস্থাভেদে এবং কল্যাণ অর্জনে ব্যক্তির গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ওপর ভিত্তি করে ভিন্নতর হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) অবস্থার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে এই ধরণের আচরণের কিছু উদাহরণ পাওয়া যায়। আমরা দেখি যে, তিনি কখনো কখনো তাঁর কিছু সাহাবীকে বর্জন করেছেন এবং কারো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন যতক্ষণ না তারা তওবা করেন, কারণ তিনি জানতেন যে এটি তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। আবার কখনো কখনো ঈমানের দিক থেকে দুর্বল ব্যক্তিদের তিনি গ্রহণ করতেন এবং তাদের দেখে হাসিমুখে কথা বলতেন, যার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল তাদের অন্তর জয় করার কল্যাণ। এর একটি উদাহরণ হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জনৈক সাহাবীর হাতে একটি স্বর্ণের আংটি দেখে তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর সাহাবী সেটি ফেলে দিলেন এবং একটি লোহার আংটি গ্রহণ করলেন, তখন নবীজী বললেন: "এটি তো আরও নিকৃষ্ট, এটি জাহান্নামীদের অলঙ্কার।" ফলে তিনি সেটিও ফেলে দিলেন এবং একটি রুপার আংটি গ্রহণ করলেন, তখন তিনি নীরব থাকলেন। আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বাইরে বের হয়ে একটি উঁচু গম্বুজ দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: "এটি কী?" তাঁর সাহাবীগণ বললেন: "এটি অমুক আনসারী ব্যক্তির।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি নীরব থাকলেন এবং মনে ক্ষোভ চেপে রাখলেন। অবশেষে যখন সেই গম্বুজের মালিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে মানুষের উপস্থিতিতে সালাম দিলেন, তিনি তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনি কয়েকবার এমনটি করলেন, এমনকি লোকটি তাঁর মধ্যে ক্রোধ এবং বিমুখতা অনুভব করলেন। তিনি সাহাবীদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে বললেন: "আল্লাহর শপথ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করছি।" তাঁরা বললেন: "তিনি বের হয়েছিলেন এবং তোমার উঁচু গম্বুজটি দেখেছিলেন।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকটি তাঁর গম্বুজের কাছে ফিরে গিয়ে তা ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলেন। এটি একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। যেমনটি ছিল কা’ব ইবনে মালিক এবং তাঁর দুই সাথীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) বর্জনের ঘটনা এবং তাদের কাহিনী সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত আছে। আবার পাপে লিপ্ত এমন ব্যক্তিও ছিল যাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্জন করেননি। যেমন সহিহ বুখারি-তে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি ছিল, যার উপাধি ছিল 'হিমার'। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসাতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মদপানের অপরাধে ইতিপূর্বে দোররা মেরেছিলেন। একদিন তাকে পুনরায় আনা হলে তিনি তাকে চাবুক মারার নির্দেশ দিলেন। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: "হে আল্লাহ, এর ওপর লানত করুন, তাকে কত বেশিবার (মদপানের দায়ে) আনা হয়!" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাকে লানত করো না, আল্লাহর শপথ, আমি যতটুকু জানি সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে।"

সেজন্যই ইবনে মুফলিহ, ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: "শায়খ এক্ষেত্রে কল্যাণ (مصلحة)-কে বিবেচনায় নিয়েছেন।" (সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌حكم هجر الوالدين:

لا يجوز للمسلم أن يهجر والديه مهما بدر منهم إليه من الإساءة، والله تعالى يقول في شأن الوالدين الكافرين اللذين يدعوان إلى الكفر: (وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفاً) ويقول تعالى في الوالدين عموماً: (وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً)، وأي إساءة أعظم من الهجر، يقول الشيخ ابن باز رحمه الله في أحد فتاويه مُفرَقاً بين هجر الأقارب عموماً وبين هجر الوالدين (وهكذا الرجل إذا كان إخوانه يضرونه أو أعمامه أو أخواله في مجالسهم فلا حرج أن يترك الذهاب إليهم، بل يشرع له ترك الذهاب إليهم وهجرهم، إلا إذا كانت الزيارة يترتب عليها النصيحة والتوجيه وإنكار المنكر؛ هذا طيب، إذا زارهم ينكر عليهم ويعظهم ويخوفهم من الله لعل الله أن يهديهم بأسبابه فهذا مطلوب، مشروع له أن يذهب إليهم للنصيحة والتوجيه، إلا الوالدين، فالوالدان لهما شأن، الوالدان لا، لا يهجر والديه، بل يزور الوالدين ويعتني بالوالدين وينصح الوالدين ولا يهجرهما؛ لأن الله جل وعلا قال سبحانه وتعالى في كتابه العظيم في حق الوالدين: (أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ وَإِن جَاهَدَاكَ عَلى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا)، أُمر أن يصحبهما بالمعروف ، وإن جاهداه على الشرك، لعل الله أن يهديهما بأسبابه، لأن حقهما عظيم، وبرهما من أهم الواجبات فلا يهجرهما، ولكن يتلطف فيهما، وقد اجتهد إبراهيم عليه الصلاة والسلام مع أبيه مع أنه مشرك معلن بالشرك، ومع هذا اجتهد إبراهيم في دعوة أبيه عليه الصلاة والسلام، فالمقصود أن الوالدين لهما شأنٌ عظيم فلا يهجرهما الولد، بل يتلطف في نصيحتهما وتوجيههما إلى الخير … انتهى).

وعلى هذا يتبين لك أخي المسلم أنه يسن هجرة أهل المعاصي في الجملة، ويجب أحياناً ويُكره أحياناً، أما الوالدان، فلهما حق زائد عن بقية الناس، فيهجران في المعاصي التي يفعلانها ويستمر البر بهما في بقية الأوقات، ولا يجوز لك مقاطعة أحدهم بسبب معصيته، إلا أن بعض أهل العلم أجاز هجرهم في حدود ضيقة إذا تعين هجرهم طريقاً لاستصلاحهم فتجوز حينئذٍ، فقد سئل الشيخ ابن عثيمين رحمه الله: هل يجوز الهجر للوالدين المسلمين إذا كان في مصلحة شرعية؟

فأجاب: نعم، إذا كان في هجر الوالدين مصلحة شرعية لهما فلا بأس من هجرهما، لكن لا يقتضي ذلك منع صلتهما، صلهما بما يجب عليك أن تصلهما به، كالإنفاق عليهما، في الطعام والشراب والسكن وغير ذلك. لقاء الباب المفتوح.

 

‌‌حكم هجر الأقارب إيجابياً من أصحاب الكبائر والفواحش الذين لا يزالون مسلمين:

هجر أهل المعاصي والكبائر المجاهرين في الله - حتى ولو كانوا من الأرحام غير الوالدين - من شُعب الإيمان، وذلك أن القرابة لا تمنع من الهجران المشروع ، وأهل العلم قرروا أن جفاء المُقيم على معصية لا إثم فيه، وأن هجر الأرحام إذا تم على وجهه الشرعي لم يكن قطيعة للرحم ، وأن هجران أصحاب المعاصي والفسق جائز شرعاً، سواء كانوا أقارب أو أصدقاء أو غيرهم باستثناء الوالدين، والأدلة على ما ذهبنا إليه أكثر من أن تُحصر وأشهر من أن تُذكر منها على سبيل المثال لا الحصر: ما ذكره أبو داود بعد أن ذكر أحاديث فيها النهي عن هجر المسلم؛ قال: النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَجَرَ بَعْضَ نِسَائِهِ أربعينَ يَوْماً، وابنُ عُمَرَ هَجَر
পিতা-মাতাকে বর্জন করার বিধান:

একজন মুসলমানের জন্য তার পিতা-মাতাকে বর্জন করা বৈধ নয়, তারা তার প্রতি যতই দুর্ব্যবহার করুক না কেন। মহান আল্লাহ কুফরের দিকে আহ্বানকারী কাফের পিতা-মাতার বিষয়ে বলেন: (আর দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো)। তিনি সাধারণভাবে পিতা-মাতা সম্পর্কে বলেন: (আর পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করো)। বর্জন করার চেয়ে বড় দুর্ব্যবহার আর কী হতে পারে? শেখ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর একটি ফতোয়ায় সাধারণভাবে আত্মীয়-স্বজন বর্জন এবং পিতা-মাতাকে বর্জন করার মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে বলেন: (অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি যদি তার ভাই, চাচা বা মামারা তাদের মজলিসে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে তাদের কাছে যাওয়া পরিহার করতে কোনো দোষ নেই। বরং তাদের কাছে যাওয়া ত্যাগ করা এবং তাদের বর্জন করাই তার জন্য বিধেয়; যদি না সেই সাক্ষাতের ফলে উপদেশ প্রদান, পথনির্দেশনা এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা সম্ভব হয়। যদি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের ভুল সংশোধন করা যায়, তাদের উপদেশ দেওয়া যায় এবং আল্লাহর ভয় প্রদর্শন করা যায়—যাতে আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করেন—তবে তা কাম্য এবং নসিহত ও পথনির্দেশনার জন্য তাদের কাছে যাওয়া বিধেয়। তবে পিতা-মাতার বিষয়টি ভিন্ন। পিতা-মাতার মর্যাদা স্বতন্ত্র। না, পিতা-মাতাকে বর্জন করা যাবে না। বরং পিতা-মাতার সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে, তাদের যত্ন নিতে হবে এবং তাদের নসিহত করতে হবে, কিন্তু তাদের বর্জন করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান কিতাবে পিতা-মাতার হকের বিষয়ে বলেছেন: (আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও; প্রত্যাবর্তন তো আমারই কাছে। আর তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করতে বাধ্য করে যার জ্ঞান তোমার নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না, কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো)। তাদের সাথে সদ্ভাবে সাহচর্য বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও তারা শিরক করার জন্য বাধ্য করে। হয়তো আল্লাহ তার মাধ্যমে তাদের হেদায়েত দান করবেন। যেহেতু তাদের অধিকার অনেক মহান এবং তাদের সাথে সদাচরণ করা গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের বর্জন করা যাবে না; বরং তাদের সাথে কোমল আচরণ করতে হবে। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর পিতার ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তিনি প্রকাশ্য মুশরিক ছিলেন। তা সত্ত্বেও ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর পিতাকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেষ্ট ছিলেন। উদ্দেশ্য হলো, পিতা-মাতার মর্যাদা অত্যন্ত বেশি, তাই সন্তান তাদের বর্জন করবে না। বরং তাদের উপদেশ দিতে এবং কল্যাণের দিকে ডাকার ক্ষেত্রে কোমলতা অবলম্বন করবে … সমাপ্ত)।

এ থেকে আপনার কাছে স্পষ্ট হলো, হে মুসলিম ভাই! সাধারণভাবে পাপাচারীদের বর্জন করা সুন্নাহসম্মত, কখনো তা ওয়াজিব আবার কখনো মাকরূহ। কিন্তু পিতা-মাতার ক্ষেত্রে অন্যান্য মানুষের তুলনায় অতিরিক্ত অধিকার রয়েছে। তাদের কৃত পাপের ক্ষেত্রে তাদের বর্জন করা যেতে পারে, কিন্তু অন্য সব সময় তাদের সাথে সদাচরণ অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের পাপের কারণে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা আপনার জন্য বৈধ নয়। তবে কোনো কোনো আলেম সীমিত পরিসরে তাদের বর্জনের অনুমতি দিয়েছেন যদি তাদের সংশোধনের জন্য এটিই একমাত্র পথ হিসেবে সুনিশ্চিত হয়; সেক্ষেত্রে এটি জায়েজ হতে পারে। শেখ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মুসলিম পিতা-মাতার জন্য যদি কোনো শরয়ী কল্যাণ থাকে, তবে কি তাদের বর্জন করা জায়েজ?

তিনি উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, যদি পিতা-মাতাকে বর্জনের মধ্যে তাদের কোনো শরয়ী কল্যাণ নিহিত থাকে, তবে তাদের বর্জন করতে কোনো বাধা নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা বন্ধ করে দিতে হবে। আপনার ওপর তাদের যে হক রয়েছে যেমন খাদ্য, পানীয়, বাসস্থান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের ভরণপোষণ প্রদান—সেগুলোর মাধ্যমে তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন। উৎস: লিকাউল বাব আল-মাফতুহ।

 

‌‌কবীরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত আত্মীয়দের—যারা এখনও মুসলিম—ইতিবাচকভাবে বর্জন করার বিধান:

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে পাপাচারী (مجاهر) এবং কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের বর্জন করা—এমনকি তারা পিতা-মাতা ব্যতীত অন্য কোনো নিকটাত্মীয় হলেও—ঈমানের অন্যতম শাখা। কারণ নিকটাত্মীয় হওয়া শরয়ী বর্জনের পথে বাধা নয়। ওলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, পাপে অটল থাকা ব্যক্তির সাথে রূঢ় আচরণ করায় কোনো গুনাহ নেই এবং শরয়ী নীতিমালা অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজনদের বর্জন করা হলে তা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার অন্তর্ভুক্ত হয় না। পাপাচারী ও ফাসেক (فاسق) ব্যক্তিদের বর্জন করা শরীয়তসম্মতভাবে জায়েজ, তারা আত্মীয় হোক বা বন্ধু বা অন্য কেউ (পিতা-মাতা ব্যতীত)। আমরা যা বলেছি তার স্বপক্ষে দলিল এত বেশি যে তা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয় এবং এটি এতই প্রসিদ্ধ যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না। উদাহরণস্বরূপ: আবু দাউদ জনৈক মুসলিমকে বর্জন করতে নিষেধকারী হাদিসসমূহ উল্লেখ করার পর বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জনৈক স্ত্রীকে চল্লিশ দিন বর্জন করেছিলেন এবং ইবনে উমর বর্জন করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
ابناً له إِلَى أنْ مَاتَ. وفي صحيح مسلم أن قريباً لعبد الله بن مغفل خَذَف فنهاه فقال: إنَّ رسول الله – صلى الله عليه وسلم – نهى عن الْخَذْف وقال: إِنَّهَا لَا تَصِيدُ صَيْدًا وَلَا تَنْكَأُ عَدُوًّا وَلَكِنَّهَا تَكْسِرُ السِّنَّ وَتَفْقَأُ الْعَيْنَ، قال: فعاد، فقال: أحدثك أن رسول الله نهى عنه ثم عُدْتَ تخذف لا أكَلِّمك أبداً. قال النووي على حديث عبد الله بن مغفل: في هذا الحديث هجران أهل البدع والفسوق ومُنَابِذِي السنة مع العلم، وأنه يجوز هجرانهم دائماً؛ والنهي عن الهجران فوق ثلاثة أيام إنما هو فيمن هجر لحظ نفسه ومعايش الدنيا، وأما أهل البدع ونحوهم فهجرانهم دائماً، وهذا الحديث مِمَّا يؤيده، مع نظائر له كحديثِ كعب بن مالك وغيره … انتهى).

وقال الشيخ ابن باز في أحد فتاويه (من أبدى المعاصي وأظهر المعاصي يستحق الهجر، إما سنة وإما واجب، اختلف العلماء هل الهجر سنة أو واجب؟، قال بعضهم: يجب إذا كان يترتب عليه ترك المنكرات، أما إذا لم يترتب عليه ترك المنكرات فهو سنة مؤكدة، وقال بعضهم: بل يجب مطلقاً، قد هجر النبي صلى الله عليه وسلم ثلاثة من الصحابة تخلفوا عن الغزو بغير عذر هجرهم خمسين ليلة حتى تاب الله عليهم، وهجرهم الصحابة، فالذي يُبدي المعاصي ويُظهرها ولا يبالي يستحق الهجر، سواء كان أخاً أو عماً أو غير ذلك.). وقال أيضاً (وهكذا الرجل إذا كان إخوانه يضرونه أو أعمامه أو أخواله في مجالسهم فلا حرج أن يترك الذهاب إليهم، بل يشرع له ترك الذهاب إليهم وهجرهم، إلا إذا كانت الزيارة يترتب عليها النصيحة والتوجيه وإنكار المنكر؛ هذا طيب، إذا زارهم ينكر عليهم ويعظهم ويخوفهم من الله لعل الله أن يهديهم بأسبابه فهذا مطلوب، مشروع له أن يذهب إليهم للنصيحة والتوجيه … انتهى). وأما حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِي قَرَابَةً أَصِلُهُمْ وَيَقْطَعُونِي، وَأُحْسِنُ إِلَيْهِمْ وَيُسِيئُونَ إِلَيَّ، وَأَحْلُمُ عَنْهُمْ وَيَجْهَلُونَ عَلَيَّ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " فَإِنْ كَانَ هَذَا كَمَا تَقُولُ لَكَأَنَّمَا تُسِفِّهُمُ الْمَلُّ، وَلا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرٌ ". فالذي يظهر أن الحديث محمول على استحباب صلة الرحم الفاسقة والمؤذية لا وجوب ذلك، وقد قال الحافظ أبو عمر بن عبد البر: أجمعوا على أنه يجوز الهجر فوق ثلاث، لمن كانت مكالمته تجلب نقصاً على المخاطب في دينه، أو مضرة تحصل عليه في نفسه، أو دنياه. فرب هجر جميل خير من مخالطة مؤذية. انتهى. علما بأن الصلة تبدأ من السلام عند اللقاء، أو بمكالمة هاتفية أثناء الغيبة، ثم تمتد لتشمل كل أنواع البر الأخرى، فمن عجز عن درجة معينة من درجاتها فلا ينبغي أن يعجز عما تتحقق به الصلة في حدودها الدنيا.
(মৃত্যু পর্যন্ত) তার এক ছেলেকে (বর্জন করেছিলেন)। এবং সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল-এর এক নিকটাত্মীয় কঙ্কর নিক্ষেপ করেছিল, তখন তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) কঙ্কর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই এটি কোনো শিকার শিকার করে না এবং কোনো শত্রুকে আহত করে না, বরং এটি দাঁত ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে।’ বর্ণনাকারী বলেন: লোকটি পুনরায় তা করল। তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল) বললেন: ‘আমি তোমাকে হাদিস শোনাচ্ছি যে রাসূলুল্লাহ (সা.) এটি করতে নিষেধ করেছেন, আর তুমি পুনরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করছ! আমি তোমার সাথে কখনোই কথা বলব না।’ ইমাম নববী আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল-এর হাদিস প্রসঙ্গে বলেন: "এই হাদিসে বিদআতপন্থী, পাপাচারী এবং জেনে-বুঝে সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের বর্জন করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এবং এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে তাদের স্থায়ীভাবে বর্জন করা জায়েজ। আর তিন দিনের অধিক বর্জন করার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা কেবল ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে বা দুনিয়াবি কারণে বর্জন করে। তবে বিদআতপন্থী ও অনুরূপ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বর্জন হবে স্থায়ীভাবে। এই হাদিসটি সেই মতকে সমর্থন করে, যার সাথে কাব বিন মালিকের হাদিস ও অন্যান্য সমজাতীয় বর্ণনার সাদৃশ্য রয়েছে … সমাপ্ত)।"

শাইখ ইবনে বাজ তার একটি ফতোয়ায় বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে পাপাচার করে এবং তা প্রকাশ করে বেড়ায়, সে বর্জন করার যোগ্য; যা সুন্নাহ অথবা ওয়াজিব হতে পারে। আলেমরা মতভেদ করেছেন যে, বর্জন করা কি সুন্নাহ নাকি ওয়াজিব? তাদের কেউ কেউ বলেছেন: যদি এর ফলে মন্দ কাজগুলো ত্যাগ করা সম্ভব হয় তবে তা ওয়াজিব। আর যদি এর ফলে মন্দ কাজগুলো ত্যাগ করা সম্ভব না হয় তবে তা সুন্নাহে মুয়াক্কাদাহ। আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং এটি নিরঙ্কুশভাবে ওয়াজিব। নবী (সা.) তিনজন সাহাবীকে বর্জন করেছিলেন যারা কোনো ওজর ছাড়াই যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন। আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করা পর্যন্ত তিনি তাদের সাথে পঞ্চাশ রাত কথা বলা বন্ধ রেখেছিলেন এবং সাহাবীরাও তাদের বর্জন করেছিলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে পাপাচার করে এবং তার তোয়াক্কা করে না, সে বর্জনের যোগ্য; চাই সে ভাই হোক, চাচা হোক বা অন্য কেউ।" তিনি আরও বলেছেন: "অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি যদি তার ভাই, চাচা বা মামাদের মজলিসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তাদের কাছে যাওয়া বর্জন করাতে কোনো দোষ নেই। বরং তাদের কাছে যাওয়া ত্যাগ করা এবং তাদের বর্জন করাই বিধেয়। তবে যদি যিয়ারতের মাধ্যমে নসিহত, দিকনির্দেশনা ও অসৎ কাজে বাধা প্রদানের সুযোগ থাকে, তবে সেটি উত্তম। যদি তাদের কাছে গিয়ে মন্দ কাজের প্রতিবাদ করা যায়, তাদের উপদেশ দেওয়া যায় এবং আল্লাহর ভয় দেখানো যায় যাতে আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করেন, তবে এটিই কাম্য। নসিহত ও দিকনির্দেশনার উদ্দেশ্যে তাদের কাছে যাওয়া তার জন্য বিধেয় … সমাপ্ত)।" আর আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত সেই হাদিসের ব্যাপারে যেখানে এক ব্যক্তি বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার কিছু আত্মীয় আছে, আমি তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখি কিন্তু তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমি তাদের সাথে সদাচরণ করি কিন্তু তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। আমি তাদের সাথে সহনশীল আচরণ করি কিন্তু তারা আমার সাথে মূর্খের মতো আচরণ করে।" তখন নবী (সা.) বললেন: "যদি বিষয়টি এমনই হয় যেমনটি তুমি বললে, তবে তুমি যেন তাদের মুখে তপ্ত ছাই ঢুকিয়ে দিচ্ছ। আর যতক্ষণ তুমি এ অবস্থায় থাকবে ততক্ষণ আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার সাথে একজন সাহায্যকারী থাকবেন।" এখানে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, হাদিসটি পাপাচারী ও কষ্টদানকারী আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মুস্তাহাব হওয়ার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, ওয়াজিব হিসেবে নয়। হাফেজ (الحافظ) আবু ওমর ইবনে আবদিল বারর বলেছেন: "আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তিন দিনের অধিক বর্জন করা ঐ ব্যক্তির জন্য জায়েজ যার সাথে কথা বললে সম্বোধনকৃত ব্যক্তির দ্বীনের কোনো ক্ষতি হয় অথবা তার নিজের বা দুনিয়াবি স্বার্থে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সুন্দরভাবে বর্জন করা ক্ষতিকর মেলামেশার চেয়ে উত্তম।" সমাপ্ত। উল্লেখ্য যে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা শুরু হয় সাক্ষাতের সময় সালাম প্রদানের মাধ্যমে অথবা অনুপস্থিতিতে টেলিফোনে কথা বলার মাধ্যমে। এরপর এটি সব ধরনের সদাচরণের দিকে বিস্তৃত হয়। সুতরাং কেউ যদি এর কোনো নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছাতে অক্ষম হয়, তবে তার উচিত নয় নূন্যতম যে উপায়ে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা পায় তা পালনে অক্ষম হওয়া।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌حكم صلة القريب الفاجر:

قيل تجب صلة الرحم في جميع الأحوال ولو كان ذو الرحم المسلم فاسقاً وأن الصلة لا تتعلَّق بصلاح صاحِب الرَّحِم وفسقِه فلا يجوز قطعها لمجرد فسقه واستثنوا جواز هجره إذا ترتب عليه مصلحة ، وهذا القول ضعيف ، وقيل يجب هجر الرحم الفاجرة وهذا أيضاً ضعيف ، إلا أن الصحيح في هذه المسألة هو أن صلة القريب الفاجر مستحبة من حيث العموم والأصل لا واجبة ولا محرمة ، وأدلة استحباب صلة القريب الفاجر متضمنة لجواز صلته من باب أولى ، والذي يدل على استحبابها ما يلي:

عموم قوله تعالى (وأحسنوا إن الله يُحب المحسنين) ، ومن جملة الإحسان صلتهم والبر بهم.

وعن عبدالله بن عمرو: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: ((ليس الواصِل بالمكافِئ، ولكن الواصل الَّذي إذا قُطِعَتْ رحِمه وصلها))؛ رواه البخاري.

فأخبر النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: أنَّ الواصل الحقيقيَّ هو الَّذي يصل مَن يقطعه من أقاربه، والقاطع فاسق بقطْعِه رحِمَه، ومع ذلك أمر النَّبيُّ بصلتِه ولَم يجعل فِسْقَه بقطع الرَّحِم مانعًا من صلته.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رجلاً قال يا رسول الله إن لي قرابة أصلهم ويقطعوني وأحسن إليهم ويسيئون إلي وأحلم عنهم ويجهلون علي فقال لئن كنت كما قلت فكأنما تسفهم المل ولا يزال معك من الله ظهير عليهم ما دمت على ذلك رواه مسلم ، ولا شك أن من يقطعون من يصلهم ومن يسيئون على من يُحسن إليهم ومن يجهلون على من يحلم عنهم عندهم من الفسوق ما الله به عليم، ومع ذلك نجد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يُرشد هذا الصحابي الكريم إلى مقاطعتهم بل شجعه على ما هو عليه وهذا إن دل فإنه يدل على استحباب صلتهم والإحسان إليهم.

ولتعلم أخي القارىء أن أهل العلم المحققين يُفرقون بين الرحم الفاجرة التي لا تزال في دائرة الإسلام والرحم الكافرة فالأولى يتساهلون فيها وفي مواصلتها والثانية يقيدونها ببعض القيود، قال ابن حجر بعدما تكلم عن صلة الرحم الكافرة وضوابطها: "وأمّا من كان على الدين ولكنه مقصّر في الأعمال ـ مثلاً ـ فلا يشارك الكافر في ذلك"، أي: في القيد المذكور في صلة القريب الكافر.

وإليك أخيراً بعض أقو ال السلف في هذه المسألة ليطمئن قلبك:

قال ميمون بن مهران: "ثلاث تؤدَّى إلى البر والفاجر: الرحم توصَل برّةً كانت أو فاجرة، والأمانة تؤدَّى إلى البر والفاجر، والعهد يوفَّى للبر والفاجر".

قال الفضل للإمام أحمد: رجل له إخوة وأخوات بأرض غصب، ترى أن يزورهم؟ قال: "نعم، ويزورهم ويراودهم على الخروج منها، فإن أجابوا وإلا لم يقم معهم، ولا يدع زيارتهم".

أما دليل عدم وجوب صلة القريب الفاجر فهي كثيرة وجمهور أهل العلم قرروا أن جفاء المُقيم على معصية لا إثم فيه وأن القرابة لا تمنع من الهجران المشروع ، وأن الهجر إذا تم على وجهه الشرعي لا يُعد قطيعة بل قال الحافظ أبو عمر بن عبد
‌পাপী (فاجر) আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিধান:

বলা হয়ে থাকে যে, সকল অবস্থাতেই আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব (واجب), এমনকি যদি সেই মুসলিম আত্মীয় ফাসেক (فاسق) হয়। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা আত্মীয়ের সদাচার বা পাপাচারের ওপর নির্ভর করে না; সুতরাং কেবল তার পাপাচারের কারণে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ (جائز) নয়। তবে তারা ব্যতিক্রম হিসেবে তাকে বর্জন (هجر) করার বৈধতার কথা বলেছেন যদি তাতে কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে। কিন্তু এই মতটি দুর্বল (ضعيف)। আবার কেউ কেউ বলেছেন, পাপী (فاجرة) আত্মীয়কে বর্জন করা ওয়াজিব (واجب), তবে এই মতটিও দুর্বল (ضعيف)। বরং এই মাসআলায় সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, পাপী (فاجر) আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা সাধারণভাবে এবং মূলনীতির দিক থেকে মুস্তাহাব (مستحبة); এটি ওয়াজিব (واجبة) নয় আবার হারাম (محرمة)-ও নয়। পাপী (فاجر) আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা মুস্তাহাব (مستحبة) হওয়ার দলিলসমূহ প্রাথমিকভাবে তার সাথে সম্পর্ক রাখার বৈধতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এর মুস্তাহাব (مستحبة) হওয়ার প্রমাণগুলো নিম্নরূপ:

মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: "আর তোমরা অনুগ্রহ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন।" আর তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং সদাচরণ করাও ইহসানের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সেই ব্যক্তি প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী নয় যে কেবল বিনিময়ে আত্মীয়তা রক্ষা করে, বরং প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি যে তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হলেও সে তা বজায় রাখে।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী হলো সেই ব্যক্তি যে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী আত্মীয়দের সাথেও সুসম্পর্ক বজায় রাখে। আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে ওই ছিন্নকারী ব্যক্তি ফাসেক (فاسق)। এতদসত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সম্পর্ক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে তার ফাসেক (فاسق) হওয়াকে সম্পর্ক বজায় রাখার পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য করেননি।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার কিছু আত্মীয় আছে যাদের সাথে আমি সম্পর্ক বজায় রাখি কিন্তু তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করি কিন্তু তারা আমার সাথে মন্দ ব্যবহার করে, আমি তাদের প্রতি ধৈর্যশীল থাকি কিন্তু তারা আমার সাথে মূর্খের মতো আচরণ করে। তখন তিনি বললেন: "তুমি যদি সত্যিই তেমন হও যেমনটি বললে, তবে যেন তুমি তাদের মুখে গরম ছাই ঢেলে দিচ্ছ। আর যতক্ষণ তুমি এই অবস্থায় অটল থাকবে, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার সাথে একজন সাহায্যকারী থাকবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা তাদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনকারীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, যারা তাদের প্রতি ইহসানকারীর সাথে মন্দ আচরণ করে এবং যারা ধৈর্যশীল ব্যক্তির সাথে মূর্খের মতো আচরণ করে, তাদের মধ্যে সেই পর্যায়ের পাপাচার (فسوق) বিদ্যমান যা আল্লাহ ভালো জানেন। তা সত্ত্বেও আমরা দেখি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সম্মানিত সাহাবিকে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরামর্শ দেননি, বরং তিনি যা করছেন তাতে তাকে উৎসাহিত করেছেন। এটি যদি কিছু প্রমাণ করে তবে তা তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা এবং তাদের প্রতি সদাচরণ করা মুস্তাহাব (مستحبة) হওয়ার প্রতিই ইঙ্গিত করে।

হে পাঠক ভাই, আপনার জেনে রাখা উচিত যে, বিজ্ঞ গবেষক (المحققين) উলামায়ে কেরাম সেই পাপী (فاجرة) আত্মীয় যে ইসলামের গণ্ডির ভেতরেই আছে এবং সেই আত্মীয় যে কাফের (كافرة) - এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করেন। প্রথমটির ক্ষেত্রে তারা সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেন, আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তারা কিছু শর্তারোপ করেন। ইবনে হাজার (রহ.) কাফের আত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং এর শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার পর বলেন: "পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দ্বীনের ওপর আছে কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ - উদাহরণস্বরূপ - সে কাফেরের ওপর আরোপিত সেই শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হবে না।" অর্থাৎ, কাফের আত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে উল্লিখিত শর্তাবলি তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

পরিশেষে আপনার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য এই বিষয়ে সালাফদের কিছু বাণী উল্লেখ করা হলো:

মায়মুন ইবনে মেহরান বলেছেন: "তিনটি বিষয় নেককার ও পাপী (فاجر) উভয়ের ক্ষেত্রেই পালন করতে হয়: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, চাই সে নেককার হোক বা পাপী (فاجرة); আমানত আদায় করা, চাই সে নেককার হোক বা পাপী (فاجر); এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, চাই সে নেককার হোক বা পাপী (فاجر)।"

ফজল ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করলেন: এক ব্যক্তির ভাই ও বোনেরা জবরদখলকৃত জমিতে বসবাস করে, আপনি কি মনে করেন সে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, সে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তাদের সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করবে। যদি তারা রাজি হয় তবে ভালো, অন্যথায় সে তাদের সাথে সেখানে অবস্থান করবে না, তবে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা বর্জন করবে না।"

পাপী (فاجر) আত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক রাখা ওয়াজিব (وجوب) না হওয়ার দলিল অনেক। জুমহুর (جمهور) উলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, পাপে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে রুক্ষ আচরণ করায় কোনো গুনাহ নেই এবং আত্মীয়তা শরয়ি বর্জনের (الهجران المشروع) ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। আর বর্জন (الهجر) যদি শরয়ি পদ্ধতিতে হয় তবে তা সম্পর্ক ছিন্ন করা (قطيعة) বলে গণ্য হবে না। বরং হাফেজ আবু ওমর ইবনে আবদ...

(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
البر: أجمعوا على أنه يجوز الهجر فوق ثلاث، لمن كانت مكالمته تجلب نقصاً على المخاطب في دينه، أو مضرة تحصل عليه في نفسه، أو دنياه. فرب هجر جميل خير من مخالطة مؤذية. انتهى.

 

‌‌حكم صلة القريب الكافر:

حكم صلة القريب الكافر دون موالاته قيل أنها محرمة ويجب هجرهم وقيل جائزة وهي رخصة والصحيح أنها مستحبة والذي يدل على هذا ما يلي:

عموم قوله تعالى (وأحسنوا إن الله يحب المحسنين) ، والصلة من جملة الإحسان.

وقوله تعالى (لا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ (8) إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَى إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ).

يقول ابن سعدي رحمه الله في تفسير هذه الآيات (ولما نزلت هذه الآيات الكريمات-يقصد أول سورة الممتحنة-، المهيجة على عداوة الكافرين، وقعت من المؤمنين كل موقع، وقاموا بها أتم القيام، وتأثموا من صلة بعض أقاربهم المشركين، وظنوا أن ذلك داخل فيما نهى الله عنه.

فأخبرهم الله أن ذلك لا يدخل في المحرم فقال: {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} أي: لا ينهاكم الله عن البر والصلة، والمكافأة بالمعروف، والقسط للمشركين، من أقاربكم وغيرهم، حيث كانوا بحال لم ينتصبوا لقتالكم في الدين والإخراج من دياركم، فليس عليكم جناح أن تصلوهم، فإن صلتهم في هذه الحالة، لا محذور فيها ولا مفسدة كما قال تعالى عن الأبوين المشركين إذا كان ولدهما مسلماً: {وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا} ، [وقوله:] {إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ} أي: لأجل دينكم، عداوة لدين الله ولمن قام به، {وَأَخْرَجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا} أي: عاونوا غيرهم {عَلَى إِخْرَاجِكُمْ} نهاكم الله {أَنْ تَوَلَّوْهُمْ} بالمودة والنصرة، بالقول والفعل، وأما بركم وإحسانكم، الذي ليس بتول للمشركين، فلم ينهكم الله عنه، بل ذلك داخل في عموم الأمر بالإحسان إلى الأقارب وغيرهم من الآدميين، وغيرهم … انتهى).

وعن أسْماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قالتْ: قدمتْ علي أمِّي وهي مشركة في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستفتيتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قلت: وهي راغبة، أفأصِل أمي؟ قال: ((نعم، صِلِي أمَّك))؛ رواه البخاري ومسلم.

وعن عبدالله بن عمر رضي الله عنهما قال: رأى عمر بن الخطَّاب حلَّة سيراء - أي حرير - عند باب المسجِد، فقال: يا رسول الله، لو اشتريْتها فلبسْتَها يوم الجمعة وللوفد، قال: ((إنَّما يلبسها مَن لا خَلاق له في الآخِرة))، ثمَّ جاءت حلل فأعْطى رسولُ الله صلى الله عليه وسلم عُمَر - منها حُلَّة، وقال: أكسوْتَنيها وقلت في حلَّة
আল-বার্র বলেছেন: আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তিন দিনের অধিক সময় বর্জন (الهجر) করা ওই ব্যক্তির জন্য বৈধ, যার সাথে কথোপকথন সম্বোধনকারীর দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি বয়ে আনে অথবা তার জান বা দুনিয়ার ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতির কারণ হয়। কেননা অনেক ক্ষেত্রে সুন্দর বর্জন (الهجر) ক্ষতিকর মেলামেশার চেয়ে উত্তম। সমাপ্ত।

 

‌‌কাফির আত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার বিধান:

কাফির আত্মীয়ের সাথে তাদের প্রতি মিত্রতা (الموالاة) পোষণ না করে সুসম্পর্ক রক্ষা করার বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি হারাম এবং তাদের বর্জন (الهجر) করা ওয়াজিব। আবার কেউ বলেছেন এটি জায়েজ এবং এটি একটি বিশেষ ছাড়। তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি মুস্তাহাব। যা এর সপক্ষে দলিল পেশ করে তা হলো নিম্নরূপ:

আল্লাহ তাআলার বাণীর ব্যাপকতা: (তোমরা সদাচরণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সদাচরণকারীদের ভালোবাসেন), আর আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করাও সদাচরণেরই অন্তর্ভুক্ত।

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী (দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন। (৮) আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই মিত্রতা (الموالاة) করতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করে দেওয়ার কাজে একে অপরকে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে মিত্রতা (الموالاة) করে, তারাই তো জালেম)।

ইবনে সাদী রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতগুলোর তাফসিরে বলেন (যখন এই মহিমান্বিত আয়াতগুলো নাজিল হলো—অর্থাৎ সূরা আল-মুমতাহিনার শুরুর অংশ—যা কাফিরদের সাথে শত্রুতা পোষণে উদ্বুদ্ধ করে, তখন তা মুমিনদের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করল এবং তারা তা পূর্ণরূপে পালন করল। এমনকি তারা তাদের কিছু মুশরিক আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রেও গুনাহের আশঙ্কা করতে লাগল এবং ধারণা করল যে, এটিও আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর আল্লাহ তাদের অবহিত করলেন যে, তা হারামের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বললেন: {দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন} অর্থাৎ: তোমাদের মুশরিক আত্মীয় ও অন্যদের সাথে সদাচরণ, সুসম্পর্ক রক্ষা, উত্তম প্রতিদান প্রদান এবং ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না; যতক্ষণ না তারা তোমাদের বিরুদ্ধে দ্বীনের কারণে যুদ্ধ করার জন্য দণ্ডায়মান হয় এবং তোমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়। সুতরাং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। কারণ এই অবস্থায় তাদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করার মধ্যে কোনো আশঙ্কাজনক বিষয় বা অনিষ্ট নেই। যেমনটি আল্লাহ তাআলা মুশরিক পিতা-মাতা সম্পর্কে বলেছেন—যখন তাদের সন্তান মুসলিম হয়: {আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে যার কোনো জ্ঞান তোমার নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না; কিন্তু পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে}। এবং [আল্লাহর বাণী:] {আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই মিত্রতা (الموالاة) করতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে} অর্থাৎ: কেবল তোমাদের দ্বীনের কারণে, আল্লাহর দ্বীনের প্রতি শত্রুতা বশত এবং যারা দ্বীনের ওপর অটল তাদের প্রতি শত্রুতা বশত। {এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং সহায়তা করেছে} অর্থাৎ: তোমাদের বের করে দেওয়ার কাজে অন্যদের সাহায্য করেছে। আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেছেন {তাদের সাথে মিত্রতা (الموالاة) করতে} অর্থাৎ কথা ও কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা ও সাহায্য প্রদান করতে। পক্ষান্তরে তোমাদের সদাচরণ ও ইহসান, যা মুশরিকদের সাথে মিত্রতার (الموالاة) অন্তর্ভুক্ত নয়, তা থেকে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। বরং তা আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্য মানুষ এমনকি অন্যান্য প্রাণীদের প্রতিও ইহসান করার সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত … সমাপ্ত)।

আসমা বিনতে আবি বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর জীবদ্দশায় আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে আসলেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে ফতোয়া চেয়ে বললাম: তিনি (আমার সাথে সুসম্পর্ক রাখতে) আগ্রহী, আমি কি আমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব? তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, তোমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো)); এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনে আল-খাত্তাব মসজিদের দরজার কাছে এক জোড়া রেশমি পোশাক দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এটি ক্রয় করতেন এবং জুমার দিনে ও প্রতিনিধি দলের আগমনের সময় পরিধান করতেন! তিনি বললেন: ((এটি কেবল সেই ব্যক্তিই পরিধান করে যার আখিরাতে কোনো অংশ নেই))। অতঃপর কিছু রেশমি পোশাক আসলো, তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উমরকে তা থেকে একটি পোশাক দিলেন। তখন উমর বললেন: আপনি আমাকে এটি পরিধান করতে দিলেন, অথচ আপনি পোশাকটি সম্পর্কে বলেছিলেন...
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
عُطَارِد ما قُلْت؟! فقال: ((إنِّي لم أكسُكها لتلبسها))، فكساها عمر أخًا له بمكَّة مشركًا؛ رواه البخاري ومسلم.

وعن أبي ذر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إنكم ستفتحون أرضاً يذكر فيها القيراط وفي رواية ستفتحون مصر وهي أرض يسمى فيها القيراط فاستوصوا بأهلها خيراً فإن لهم ذمة ورحماً وفي رواية فإذا افتتحتموها فأحسنوا إلى أهلها فإن لهم ذمة ورحماً أو قال ذمة وصهراً) رواه مسلم. قال العلماء الرحم التي لهم كون هاجر أم إسماعيل صلى الله عليه وسلم منهم والصهر كون مارية أم إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم منهم.

وقال ابن عثيمين رحمه الله في شرحه لرياض الصالحين: وكذلك أيضاً من الأحاديث التي ساقها المؤلف رحمه الله أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إن آل بني فلان ليسوا بأوليائي)) وذلك لأنهم كفار.

والواجب على المؤمن أن يتبرأ من ولاية الكافرين، كما قال الله تعالى: (قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَداً حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ) [الممتحنة: 4]، فتبرأ منهم مع قرابتهم له.

قال: ((ولكن لهم رحم أبلها ببلها)) يعني سأعطيها حفها من الصلة، وإن كانوا كفاراً.

وهذا يدل على أن القريب له حق الصلة وإن كان كافراً، لكن ليس له الولاية، فلا يوالى ولا يناصر لما عليه من الباطل … انتهى.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال لما نزلت هذه الآية «وأنذر عشيرتك الأقربين» دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم قريشاً فاجتمعوا فعم وخص وقال (يا بني عبد شمس يا بني كعب بن لؤي أنقذوا أنفسكم من النار يا بني مرة بن كعب أنقذوا أنفسكم من النار يا بني عبد مناف أنقذوا أنفسكم من النار يا بني هاشم أنقذوا أنفسكم من النار يا بني عبد المطلب أنقذوا أنفسكم من النار يا فاطمة أنقذي نفسك من النار فإني لا أملك لكم من الله شيئا غير أن لكم رحماً سأبلها ببلالها) رواه مسلم ، والبلال الماء ومعنى الحديث سأصلها ، شبه قطيعتها بالحرارة تُطفأ بالماء وهذه تبرد بالصلة ، والشاهد قوله عليه الصلاة والسلام لعشيرته الكفار (غير أن لكم رحماً سأبلها ببلالها) ، والنبي عليه الصلاة والسلام وصل أقاربه الكفار، وصل عمه أبا طالب، وكان يأتيه ويدعوه إلى الإسلام، وغير ذلك، وإذا تقرر جواز صلة الرحم الكافرة فجواز صلة الرحم الفاجرة الفاسقة التي لا تزال مسلمة من باب أولى ، ولتعلم أن الصلة بالمعنى العام يدخل فيها الأرحام الكفار والفساق وإن كانت صلتهم عموماً تكون دون صلة الأرحام المسلمين الصالحين ، والذي ينبغي من جهة الكمال والاستحباب أن تكون صلة الرحم الكافرة -غير الوالدين -من أجل التأليف على الإسلام أو مراعاة وجود من تحت ولايته من الأبناء المسلمين كما قال ابن حجر: "إن صلةَ الرحم الكافر ينبغي تقييدها بما إذا آنس منه رجوعاً عن الكفر، أو رجا أن يخرج من صلبه مسلم كما في الصورة التي استدلّ بها وهي دعاء النبي صلى الله
উতারেদ! তুমি কী বললে?! তিনি বললেন: "আমি এটি তোমাকে পরিধান করার জন্য দিইনি।" তখন উমর (রা.) এটি মক্কায় অবস্থানরত তাঁর এক মুশরিক ভাইকে পরিধান করতে দিলেন; এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম।

আবু যর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা শীঘ্রই এমন একটি ভূমি জয় করবে যেখানে 'কিরাত' নামক মুদ্রার উল্লেখ করা হয়।" অন্য বর্ণনায় (رواية) আছে: "তোমরা শীঘ্রই মিশর জয় করবে, আর তা এমন এক ভূমি যেখানে 'কিরাত' শব্দটির প্রচলন রয়েছে। সুতরাং তোমরা সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অছিয়ত গ্রহণ করো। কেননা তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা এবং আত্মীয়তা।" অন্য বর্ণনায় (رواية) আছে: "যখন তোমরা তা জয় করবে, তখন সেখানকার অধিবাসীদের প্রতি সদাচরণ করো; কেননা তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা এবং আত্মীয়তা" অথবা তিনি বলেছেন, "নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা এবং বৈবাহিক সম্পর্ক।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম। উলামাগণ বলেন, তাদের সাথে যে আত্মীয়তা রয়েছে তার কারণ হলো ইসমাইল (আ.)-এর মাতা হাজেরা তাদের বংশোদ্ভূত ছিলেন। আর বৈবাহিক সম্পর্ক হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পুত্র ইব্রাহিমের মাতা মারিয়া তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে।

ইবনে উসাইমিন (রহ.) রিয়াদুস সালিহীন-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: লেখক (রহ.) যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে এটিও একটি যে, নবী (সা.) বলেছেন: "অমুক বংশের লোকজন আমার বন্ধু বা অভিভাবক নয়।" আর এর কারণ হলো তারা কাফির ছিল।

আর মুমিনের ওপর আবশ্যক হলো কাফিরদের মিত্রতা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের জন্য ইব্রাহিম ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে এক চমৎকার আদর্শ রয়েছে। যখন তাঁরা তাঁদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত করো তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের অস্বীকার করলাম। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হলো, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।" [মুমতাহিনা: ৪]। সুতরাং তিনি তাঁদের সাথে নিকটাত্মীয়তা থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।

তিনি বলেছেন: "তবে তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমি তার সিক্ততা দিয়ে সিক্ত রাখব।" অর্থাৎ আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করব, যদিও তারা কাফির হয়।

এটি প্রমাণ করে যে, নিকটাত্মীয় কাফির হলেও তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অধিকার রয়েছে। তবে তার কোনো অভিভাবকত্ব বা মিত্রতার অধিকার নেই। সুতরাং তার বাতিলের ওপর অটল থাকার কারণে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না এবং তাকে সাহায্যও করা যাবে না... (সমাপ্ত)।

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাজিল হলো— "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন," তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরাইশদের ডাকলেন এবং তারা সমবেত হলো। তিনি সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে সম্বোধন করে বললেন: "হে বনু আবদে শামস! হে বনু কাব বিন লুআই! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনু মুররাহ বিন কাব! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনু আবদে মানাফ! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনু হাশিম! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনু আবদিল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে ফাতিমা! তুমি নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। কেননা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো বিপদে তোমাদের জন্য আমার করার কিছু নেই। তবে তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যা আমি তার সিক্ততা দিয়ে সিক্ত রাখব।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম। 'বিলাল' অর্থ হলো পানি। আর হাদিসটির অর্থ হলো— আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখব। সম্পর্ক ছিন্ন করাকে আগুনের উত্তাপের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা পানি দ্বারা নিভিয়ে দেওয়া হয়, আর আত্মীয়তার সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে তা শীতল হয়। এখানে দলিল (الشاهد) হলো কুরাইশ কাফিরদের প্রতি নবী (সা.)-এর উক্তি— "তবে তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে যা আমি তার সিক্ততা দিয়ে সিক্ত রাখব।" নবী (সা.) তাঁর কাফির আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন; তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে সুসম্পর্ক রেখেছিলেন, তাঁর কাছে যেতেন এবং তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। যখন কাফির আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বৈধ হওয়া প্রমাণিত হলো, তখন পাপাচারী (فاجرة) ও ফাসিক (فاسقة) অথচ মুসলিম— এমন আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই বৈধ হবে। জেনে রাখা উচিত যে, সাধারণ অর্থে আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে কাফির ও ফাসিক (فاسق) আত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত, যদিও সাধারণভাবে তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা নেককার মুসলিম আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার সমপর্যায়ভুক্ত হবে না। পূর্ণতা ও মুস্তাহাব হওয়ার দিক থেকে কাম্য হলো— মাতা-পিতা ছাড়া অন্য কাফির আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের প্রতি তাদের মন আকৃষ্ট করার জন্য অথবা তাদের অভিভাবকত্বে থাকা মুসলিম সন্তানদের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। যেমন ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন: "কাফির আত্মীয়র সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি কেবল তখনই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত যখন তার কুফর থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখা যায়, অথবা আশা করা যায় যে তার বংশ থেকে কোনো মুসলিম জন্মগ্রহণ করবে— যেমনটি এই দৃষ্টান্তে প্রমাণিত হয়েছে যা দ্বারা নবী (সা.)-এর দোয়ার বিষয়টি দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে (استدلّ)..."
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
عليه وسلم لقريش بالخصب وعلّل بنحو ذلك، فيحتاج من يترخّص في صلة رحمه الكافر أن يقصد إلى شيء من ذلك" انتهى.

 

‌‌كيف يُمكن الجمع بين من يقول أن هجر الأرحام الكفار والفساق مستحب وفي ذات الوقت يقول أن صلة القريب الفاجر والكافر مستحبة؟

لا يوجد تعارض بين من يقول أن هجر الأرحام الكفار والفساق مستحب وفي ذات الوقت يقول أن صلة القريب الفاجر والكافر مستحبة وذلك أن الفرق بينهما هو النية أي بمعنى أدق أن هجر الأرحام الكفار والفساق يكون مستحباً بحسب نية الهاجر فإن كانت هجرته لهم بسبب غيرته على محارم الله من أن تُنتهك وبسبب تخلف أقاربه عن السنة والالتزام بالدين فهو بهذه النية مأجور وإن كان ما ذهب إليه من هجرهم مفضولاً عند من يصل رحمه الفساق والكفار على الوجه الذي أراده رسول الله صلى الله عليه وسلم ، وأما هجر الأقارب الكفار والفجار لغير الله أي بغير نية فجائز ماداموا على كفرهم وفسقهم ، وهجرهم لا يُعد من قطيعة الرحم كما قررنا إلا أن الهجر منوط بالمصلحة والفائدة، فإذا تحقق أو غلب على الظن أن الهجر أنفع للهاجر أو المهجور كان هو الأولى مع مراعاة بأن هجرهم لا يُسقط مشروعية صلتهم بالدعاء بظهر الغيب وكف الأذى عنهم والإحسان إليهم بالمال والنفقة ونحوه ، فإن لم يكن للهجران والمقاطعة هنا فائدة فليستمر المسلم استحباباً في مواصلة أقاربه الفساق وتذكيرهم بالله ومناصحتهم بين الفينة والأخرى وهذه الصلة يجب أن تقتصر على الواجب، دون الانبساط إليهم أو التوسع في إجابة دعوتهم، كما يجب الإعلان بكراهية ما هم عليه، وعدم مجالستهم أثناء غشيانهم المنكر، فإن ذلك كله محرم، والله أعلم.

 

‌‌كيفية مخالطة الفاسق الراجح شره على خيره:

الفاسق الراجح شره على خيره الذي ليس له حق عليك كوالدك أو قريبك فإن الخلطة به تكون محدودة وبقدر ما تُقدَم له من النصح حتى لا يسري داؤه إليك وقرناء السوء الذين تضر صحبتهم يُسن هجرهم وقيل يجب إلا لحاجة أو مصلحة راجحة.

 

‌‌هل صلة الفاسق الراجحة معاصيه على طاعته يعني اتخاذه صديقاً؟

الاتصال بالفاسق وصلته وإجابة دعوته وحسن التعامل معه وإكرامه يكون من غير اتخاذه صاحباً ولا خليلاً.

 

‌‌حكم صحبة الفاسق ومصادقته:

من المعلوم أن الإنسان ميال إلى الاجتماع والاختلاط مع بني جنسه ولا يستغني عن التعامل معهم أتقياء كانوا أو فجاراً ، وهذا أمر لا حرج فيه ولا إثم ، والله تعالى خلق الإنسان مدنياً بطبعه يميل لمُخالطة الناس ومجالستهم ويتأثر بهم ويؤثر فيهم ، فالطبع لص والصاحب ساحب والفاسق المسلم الراجح خيره على شره لا بأس بمصاحبته ، وذلك لأن ترك صحبة الفاسق بشكل عام تتفاوت بحسب حال الهاجر وبحسب مقدار الفسق عند المهجور وحاله فقد تكون كلية ، وذلك مثل من كان مبتدئاً تائباً فإنه يُشرع له هجر الفساق كلياً بل قد يجب عليه أما من تمكن من الدين نوعاً ما فلا بأس بصحبته للفاسق الراجح شره على خيره بشرط الدعوة إلى الله
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের জন্য সচ্ছলতার প্রার্থনা করেছিলেন এবং এর অনুরূপ কারণ দর্শিয়েছিলেন। সুতরাং, কাফির আত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে যারা শিথিলতা তালাশ করেন, তাদের এমন কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করা প্রয়োজন।" ইতি।

 

‌‌কাফির ও পাপাচারী (فاسق) আত্মীয়-স্বজনদের বর্জন করা মুস্তাহাব (مستحب) - এই মত এবং একই সাথে পাপাচারী ও কাফির নিকটাত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক রাখা মুস্তাহাব (مستحب) - এই মতের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা সম্ভব?

যারা বলেন যে কাফির ও পাপাচারী (فاسق) আত্মীয়দের বর্জন করা মুস্তাহাব (مستحب), এবং একই সময়ে যারা বলেন যে পাপাচারী ও কাফির নিকটাত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা মুস্তাহাব (مستحب) — তাদের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ, এই দুটির মধ্যে পার্থক্য মূলত নিয়তের (উদ্দেশ্যের) ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ আরও নির্ভুলভাবে বলতে গেলে, কাফির ও পাপাচারীদের (فاسق) বর্জন করা বর্জনকারীর নিয়তের ওপর ভিত্তি করে মুস্তাহাব (مستحب) হতে পারে। যদি তার এই বর্জন আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলো লঙ্ঘিত হওয়ার প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ থেকে হয় এবং তার আত্মীয়দের সুন্নাহ থেকে বিচ্যুতি ও দ্বীনের প্রতি আনুগত্যহীনতার কারণে হয়, তবে এই নিয়তের কারণে সে সওয়াব প্রাপ্ত হবে। যদিও তার এই বর্জনের সিদ্ধান্তটি সেই ব্যক্তির তুলনায় কম ফযিলতপূর্ণ হতে পারে, যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশিত পন্থায় পাপাচারী (فاسق) ও কাফির আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। আর কাফির ও পাপাচারী আত্মীয়দের আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে অর্থাৎ (সওয়াবের) নিয়ত ব্যতীত বর্জন করা জায়েয (جائز), যতক্ষণ তারা কুফরী ও পাপাচারের (فسق) ওপর অটল থাকে। আমরা যেমনটি সিদ্ধান্ত দিয়েছি, তাদের বর্জন করা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার অন্তর্ভুক্ত হবে না; তবে এই বর্জন জনকল্যাণ ও উপকারের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং যখন নিশ্চিত হওয়া যায় বা প্রবল ধারণা জন্মে যে, বর্জন করা বর্জনকারী বা যাকে বর্জন করা হচ্ছে তার জন্য অধিক উপকারী, তখন সেটিই উত্তম। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, তাদের বর্জন করার অর্থ তাদের জন্য অগোচরে দুআ করা, তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং অর্থ-সম্পদ বা ভরণপোষণের মাধ্যমে তাদের প্রতি ইহসান করার বৈধতাকে রহিত করে না। যদি এই বর্জন বা সম্পর্কচ্ছেদে কোনো ফায়দা না থাকে, তবে একজন মুসলিমের জন্য মুস্তাহাব (مستحب) হলো তার পাপাচারী (فاسق) আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং মাঝেমধ্যে তাদের উপদেশ প্রদান করা। আর এই সুসম্পর্ক কেবল ওয়াজিব (واجب) সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক; তাদের সাথে অতি ঘনিষ্ঠ হওয়া বা তাদের দাওয়াত কবুল করার ক্ষেত্রে প্রসারতা প্রদর্শন করা উচিত নয়। একইভাবে তারা যে অবস্থায় আছে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা এবং তারা যখন কোনো গর্হিত কাজে (منكر) লিপ্ত থাকে তখন তাদের মজলিসে বসা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কেননা এসব কাজ হারাম (حرام)। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌যার অকল্যাণ কল্যাণের চেয়ে বেশি এমন পাপাচারীর (فاسق) সাথে মেলামেশার পদ্ধতি:

যে পাপাচারীর (فاسق) অকল্যাণ তার কল্যাণের ওপর প্রবল এবং আপনার ওপর যার (বিশেষ কোনো) অধিকার নেই—যেমন পিতা বা নিকটাত্মীয়ের অধিকার—তার সাথে মেলামেশা হবে সীমিত এবং কেবল তাকে উপদেশ দেওয়ার পরিমাণ পর্যন্ত, যাতে তার ব্যাধি আপনার মধ্যে সংক্রমিত না হয়। অসৎ সঙ্গী যাদের সাহচর্য ক্ষতিকর, তাদের বর্জন করা সুন্নাত (مسنون); এবং বলা হয়েছে যে, প্রয়োজন বা প্রবল জনকল্যাণ ব্যতীত তাদের বর্জন করা ওয়াজিব (واجب)।

 

‌‌যার আনুগত্যের চেয়ে অবাধ্যতা বেশি এমন পাপাচারীর (فاسق) সাথে সুসম্পর্ক রাখার অর্থ কি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা?

পাপাচারীর (فاسق) সাথে যোগাযোগ রাখা, সুসম্পর্ক রক্ষা করা, তার দাওয়াত কবুল করা, তার সাথে সদাচরণ করা এবং তাকে সম্মান প্রদর্শন করা তাকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা ব্যতিরেকেই হতে হবে।

 

‌‌পাপাচারীর (فاسق) সাহচর্য ও বন্ধুত্বের বিধান:

এটি সর্বজনবিদিত যে, মানুষ তার স্বজাতির সাথে মেলামেশা ও সামাজিকতার প্রতি অনুরাগী এবং সে তাদের সাথে লেনদেন বা পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে বিমুখ হতে পারে না, তারা মুত্তাকী হোক বা পাপাচারী। এটি এমন এক বিষয় যাতে কোনো দোষ বা গুনাহ নেই। আল্লাহ তাআলা মানুষকে স্বভাবগতভাবেই সামাজিক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, যে মানুষের সাথে মেলামেশা ও একত্রে বসতে পছন্দ করে এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয় ও তাদের প্রভাবিত করে। প্রকৃতপক্ষে স্বভাব হলো চোর এবং সঙ্গী হলো আকর্ষণকারী। আর যে মুসলিম পাপাচারীর (فاسق) অকল্যাণের চেয়ে কল্যাণ বেশি, তার সাহচর্যে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, সাধারণভাবে পাপাচারীর (فاسق) সাহচর্য ত্যাগ করার বিষয়টি বর্জনকারীর অবস্থা এবং যাকে বর্জন করা হচ্ছে তার পাপাচারের (فسق) মাত্রা ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়। কখনও এই বর্জন হতে পারে পুরোপুরি। যেমন—যে ব্যক্তি নতুন তওবা করেছে, তার জন্য পাপাচারীদের (فاسق) পুরোপুরি বর্জন করা শরীয়তসম্মত, এমনকি কখনও এটি তার জন্য ওয়াজিব (واجب) হতে পারে। তবে যার দ্বীনী ভিত্তি মজবুত হয়েছে, তার জন্য এমন পাপাচারীর (فاسق) সাহচর্য গ্রহণে কোনো বাধা নেই যার কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণ বেশি, যদি তার উদ্দেশ্য হয় আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وعدم مشاركته في الإثم وذلك أن مخالطة الناس بشتى أجناسهم ومللهم لغرض الدعوة إلى الله والإصلاح مشروع إلا أن الفاسق الملي الراجح شره على خيره والمبتدع لا يُصاحب ولا يُجالس كما يُصاحب ويُجالس الأتقياء ولا ينبغي أن يكون لهم في القلب محبة الأتقياء، وينبغي عدم الإفراط في مخالطتهم لئلا يتأثر بهم المُخالط فيقلدهم أو يشاركهم في المعصية ، وعلى هذا فمن يُخالط العصاة وحتى الكفرة لنصحهم ووعظهم دون أن يتأثر بهم فمعاملته لهم خير من هجرانهم، فإذا غلب على الظن أنهم لا ينتصحون ولا يتعظون فالأفضل هو البعد عنهم، وينبغي التنبه إلى أنه لا يجوز مخالطة الفساق والمبتدعة حال فسقهم وبدعتهم وتصويب آراءهم تقية بل ينبغي الإنكار عليهم فإن لم ينتهوا فارقهم.

وهنا تنبيه المصاحبة الجبرية التي لا دخل للعبد فيها لا تدخل فيما قررناه كما قال تعالى في شأن الوالدين المشركين (وصاحبهما في الدنيا معروفا) وكذلك صحبة الزوجة الكتابية والجار الكافر بالحسنى وصحبة الصاحب المشرك بالحسنى في السفر والعمل. قال تعالى (وَاعْبُدُواْ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالجَنبِ).

وأما حكم مصادقة العصاة فلها تفصيل آخر ، والفرق بين المصاحبة والمصادقة أن المصادقة هي درجة أرفع من المصاحبة فالمصاحبة قد تشمل جميع الناس كافرهم ومؤمنهم بخلاف الصداقة كمصاحبة الولد المسلم التقي لوالده المشرك بالمعروف ونحو ذلك.

نعود إلى حكم مصادقة العصاة فالمعاصي على نوعين معاصي مكفرة كمن يشرك بالله أو يترك الصلاة تركاً كاملاً ونحو ذلك ، وهناك معاصي غير مكفرة وهي التي لا تُخرج الإنسان من الملة لكن يوصف فاعلها بأنه فاسق ومؤمن ناقص الإيمان كالزنا وشرب الخمر ونحو ذلك ما لم يستحلها فعقيدة أهل السنة والجماعة وإجماع السلف على عدم تكفير صاحب الكبيرة ما لم يستحلها.

إذا عُلم هذا فمصادقة الناس ينبغي حكمها على ما سبق فلا يجوز اتخاذ الكافرين أولياء أو مُخالطتهم مع الأنس بهم أو اتخاذهم أصدقاء وخلان أو تقديمهم على المؤمنين أو ومودتهم ومحبتهم أو نحو ذلك وهذا في حق عمومهم لكن يجب العدل معهم وعدم ظلمهم والاعتداء عليهم بغير وجه شرعي ويجوز التعامل معهم بالبيع والشراء والقرض ونحو ذلك.

أما عصاة المؤمنين فتجب محبتهم بقدر ما معهم من إيمان وينبغي بغضهم بقدر ما معهم من فسق ومعصية ويجب تغليب محبتهم على بغضهم إذا كان خيرهم راجحاً على شرهم ، أما اتخاذهم أصدقاء فهم على قسمين: القسم الأول: هم من كان خيرهم راجح على شرهم وهؤلاء لا بأس بصداقتهم حينئذ وإن كان خلاف الأولى. والقسم الثاني: وهم من كان شرهم راجح على خيرهم وهؤلاء صداقتهم مما يُخالف قول النبي صلى الله عليه وسلم (إِنَّمَا مَثَلُ الجليس الصالحُ والجليسُ السوءِ كحامِلِ المسك، ونافخِ الكِيْرِ، فحاملُ المسك إِما أن يُحْذِيَكَ، وإِما أن تبتاع منه، وإِمَّا أن تجِدَ منه ريحا طيِّبة، ونافخُ الكير إِما أن يَحرقَ ثِيَابَكَ، وإِما أن تجد منه ريحا خبيثَة). أخرجه البخاري ومسلم. وقال النووي في شرح صحيح مسلم عند كلامه على الحديث: (إنما
এবং পাপে অংশগ্রহণ না করা; কেননা আল্লাহ্‌র দিকে আহ্বান এবং সংশোধনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শ্রেণী ও মতাদর্শের মানুষের সাথে মেলামেশা করা বৈধ। তবে এমন পাপাচারী (الفاسق الملي), যার মন্দের দিক ভালোর চেয়ে প্রবল এবং বেদআতকারীকে (المبتدع) সেভাবে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না এবং তাদের সাথে সেভাবে ওঠা-বসা করা যাবে না যেভাবে আল্লাহভীরু (الأتقياء) ব্যক্তিদের সাথে করা হয়। হৃদয়ে তাদের প্রতি আল্লাহভীরুদের (الأتقياء) ন্যায় ভালোবাসা থাকাও অনুচিত। তাদের সাথে মেলামেশায় অতি বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়, পাছে মেলামেশাকারী ব্যক্তি তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের অনুকরণ করে অথবা তাদের পাপে শরিক হয়ে যায়। এর ভিত্তিতে, যারা অবাধ্যচারী (العصاة) এমনকি কাফিরদের (الكفرة) সাথেও মেলামেশা করে তাদের নসিহত ও উপদেশ দেওয়ার জন্য এবং নিজে প্রভাবিত না হওয়ার শর্তে, তবে তাদের সাথে এহেন আচরণ তাদের বর্জন করার চেয়ে উত্তম। কিন্তু যদি প্রবল ধারণা হয় যে তারা নসিহত গ্রহণ করবে না এবং শিক্ষা নেবে না, তবে তাদের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। সতর্ক থাকা উচিত যে, পাপাচারী (الفساق) ও বেদআতকারীগণ (المبتدعة) যখন তাদের পাপাচার ও বেদআতে লিপ্ত থাকে, তখন কৌশলগত সতর্কতা (تقية) হিসেবে তাদের মতামতকে সঠিক বলা বা তাদের সাথে মেলামেশা করা জায়েজ নয়। বরং তাদের কাজের প্রতিবাদ করা কর্তব্য; যদি তারা নিবৃত্ত না হয় তবে তাদের ত্যাগ করতে হবে।

এখানে একটি সতর্কতা রয়েছে: যে বাধ্যতামূলক সাহচর্য (المصاحبة) যাতে বান্দার কোনো হাত নেই, তা আমাদের নির্ধারিত নিয়মের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন মুশরিক (المشركين) পিতামাতার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "এবং পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো।" অনুরূপভাবে আহলে কিতাব (الكتابية) স্ত্রী, কাফির (الكافر) প্রতিবেশী এবং সফর বা কর্মক্ষেত্রে মুশরিক (المشرك) সঙ্গীর সাথে সুন্দর আচরণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত করো এবং কোনো কিছুকে তাঁর শরিক করো না। আর পিতামাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী এবং পার্শ্ববর্তী সঙ্গীর সাথে সদাচরণ করো।"

আর অবাধ্যচারীদের (العصاة) সাথে বন্ধুত্বের (المصادقة) বিধানের ক্ষেত্রে অন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। সাহচর্য (المصاحبة) এবং বন্ধুত্বের (المصادقة) মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, বন্ধুত্ব সাহচর্যের চেয়ে উচ্চতর স্তর। সাহচর্য সকল স্তরের মানুষের সাথে হতে পারে—চাই সে কাফির (كافر) হোক বা মুমিন (مؤمن); যা বন্ধুত্বের (الصداقة) ক্ষেত্রে নয়। যেমন একজন মুমিন পরহেযগার সন্তানের তার মুশরিক (مشرك) পিতার সাথে সদ্ভাবে বসবাস করা ইত্যাদি।

আমরা অবাধ্যচারীদের (العصاة) সাথে বন্ধুত্বের (مصادقة) বিধানে ফিরে আসি। অবাধ্যতা বা পাপ দুই প্রকার: কুফর পর্যায়ের পাপ, যেমন আল্লাহ্‌র সাথে শরিক করা বা পূর্ণাঙ্গভাবে সালাত ত্যাগ করা ইত্যাদি। আর কিছু পাপ আছে যা কুফর পর্যায়ের নয়, যা মানুষকে ধর্মাদর্শ থেকে বের করে দেয় না, তবে লিপ্ত ব্যক্তিকে পাপাচারী (فاسق) এবং ত্রুটিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী মুমিন হিসেবে অভিহিত করা হয়; যেমন জিনা, মদ্যপান ইত্যাদি—যতক্ষণ না সে সেটিকে হালাল মনে করে। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা এবং সালাফদের (السلف) ইজমা (إجماع) হলো, কবিরা গুনাহকারীকে (صاحب الكبيرة) কাফির বলা যাবে না যতক্ষণ না সে সেটিকে হালাল মনে করে।

বিষয়টি যখন স্পষ্ট হলো, তখন মানুষের সাথে বন্ধুত্বের (مصادقة) বিষয়টি পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে নির্ণয় করা উচিত। সুতরাং কাফিরদের (الكافرين) বন্ধু বা অভিভাবক (أولياء) হিসেবে গ্রহণ করা, তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া, তাদের বন্ধু বা অন্তরঙ্গ সঙ্গী বানানো, মুমিনদের ওপর তাদের প্রাধান্য দেওয়া অথবা তাদের প্রতি মমতা ও ভালোবাসা পোষণ করা জায়েজ নয়। এটি তাদের সাধারণ হুকুম। তবে তাদের সাথে ন্যায়বিচার করতে হবে, তাদের ওপর জুলুম করা যাবে না এবং শরিয়তসম্মত কারণ ব্যতীত তাদের ওপর আক্রমণ করা যাবে না। তাদের সাথে কেনাবেচা, ঋণ গ্রহণ ও প্রদান ইত্যাদি লেনদেন করা জায়েজ।

পক্ষান্তরে মুমিনদের মধ্যে যারা অবাধ্যচারী (عصاة), তাদের মধ্যে যতটুকু ঈমান আছে সেই পরিমাণ তাদের ভালোবাসা ওয়াজিব; আর তাদের মধ্যে যতটুকু পাপাচার (فسق) ও অবাধ্যতা (معصية) আছে সেই পরিমাণ তাদের ঘৃণা করা উচিত। তবে তাদের মন্দের চেয়ে যদি ভালোর পাল্লা ভারী হয় তবে ঘৃণার চেয়ে ভালোবাসাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। আর বন্ধু হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা দুই প্রকার: প্রথম প্রকার হলো যাদের ভালোর দিক মন্দের চেয়ে বেশি, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করাতে কোনো অসুবিধা নেই, যদিও তা অনুত্তম। দ্বিতীয় প্রকার হলো যাদের মন্দের দিক ভালোর চেয়ে বেশি, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর পরিপন্থী: "সৎ সঙ্গী (الجليس الصالح) এবং অসৎ সঙ্গীর (الجليس السوء) উদাহরণ হলো আতর বিক্রেতা এবং কামারের হাপরের ন্যায়। আতর বিক্রেতা হয় তোমাকে কিছু আতর দেবে, না হয় তুমি তার কাছ থেকে তা ক্রয় করবে, অন্যথায় অন্তত তার কাছ থেকে সুঘ্রাণ পাবে। আর কামারের হাপর হয় তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দেবে, না হয় তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী শারহু সহিহ মুসলিমে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
مثل الجليس الصالح والجليس السوء … الحديث) قال: وفيه فضيلة الصالحين وأهل الخير والمروءة ومكارم الأخلاق والورع والعلم والأدب، والنهي عن مجالسة أهل الشر وأهل البدع ومن يغتاب الناس، أو يكثر فجره وبطالته ونحو ذلك من الأنواع المذمومة. انتهى.

وقد حض أهل العلم على مصاحبة أهل الخير ومخالطتهم ومجالستهم، والبعد عن رفقاء السوء، واستدلوا لذلك بحديث مسلم في من قتل مائة نفس حيث أمره العالم بالانتقال من أرضه إلى أرض بها أناس صالحون ليعبد الله معهم، فقال له): انطلق إلى أرض كذا وكذا، فإن بها أناساً يعبدون الله فاعبد الله معهم، ولا ترجع إلى أرضك فإنها أرض سوء. (وبحديث أبي داود: (الرجل على دين خليله فلينظر أحدكم من يخالل) وبحديث أحمد: (لا تصاحب إلا مؤمناً. (

وقال سبحانه وتعالى} وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ {.

قال القرطبي: الصحيح في معنى الآية أنها دالة على هجران أهل الكفر والمعاصي من أهل البدع وغيرهم ، فإن صحبتهم كفر، أو معصية، إذ الصحبة –قلتُ يقصد الصداقة بالمصطلح الذي اصطلحته في هذه الرسالة-لا تكون إلا عن مودة. انتهى ويقول الشيخ عبد العزيز بن باز – رحمه الله – وقد سئل عن الموقف ممن يفعل بعض الكبائر -: (من يتهم بهذه المعاصي تجب نصيحته وتحذيره منها ومن عواقبها السيئة، وأنها من أسباب مرض القلوب وقسوتها وموتها، أما من أظهرها وجاهر بها: فالواجب أن يُقام عليه حدُّها، وأن يُرفع أمره إلى ولاة الأمور، ولا تجوز صحبتهم، ولا مجالستهم، بل يجب هجرهم لعل الله يهديهم ويمنُّ عليهم بالتوبة، إلا أن يكون الهجر يزيدهم شرّاً: فالواجب الإنكار عليهم دائماً بالأسلوب الحسن والنصائح المستمرة حتى يهديهم الله، ولا يجوز اتخاذهم أصحاباً–قلتُ أيضاً يقصد صداقتهم لا مطلق المصاحبة -، بل يجب أن يستمر في الإنكار عليهم وتحذيرهم من أعمالهم القبيحة.) " فتاوى إسلامية " (4/ 520).

وقد روى الدينوري فِي الْمُجَالَسَةِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: لَا تُوَاخِ الْفَاجِرَ فَإِنَّهُ يُزَيِّنُ لَك فِعْلَهُ وَيُحِبُّ لَوْ أَنَّك مِثْلُهُ ، وَمَدْخَلُهُ عَلَيْك وَمَخْرَجُك مِنْ عِنْدِهِ شَيْنٌ وَعَارٌ ، وَلَا الْأَحْمَقَ فَإِنَّهُ يُجْهِدُ نَفْسَهُ لَك وَلَا يَنْفَعُك ، وَرُبَّمَا أَرَادَ أَنْ يَنْفَعَك فَضَرَّك ، فَسُكُوتُهُ خَيْرٌ مِنْ نُطْقِهِ ، وَبُعْدُهُ خَيْرٌ مِنْ قُرْبِهِ ، وَمَوْتُهُ خَيْرٌ مِنْ حَيَاتِهِ ، وَلَا الْكَذَّابَ فَإِنَّهُ لَا يَنْفَعُك مَعَهُ عِشْرَةٌ ، يَنْقُلُ حَدِيثَك وَيَنْقُلُ الْحَدِيثَ إلَيْك ، وَإِنْ تَحَدَّثَ بِالصِّدْقِ لَا يُصَدَّقُ.

وَقِيلَ مَكْتُوبٌ فِي التَّوْرَاةِ مَنْ اصْطَنَعَ مَعْرُوفًا إلَى أَحْمَقَ فَهِيَ خَطِيئَةٌ مَكْتُوبَةٌ عَلَيْهِ.

وَقَالَ بَعْضُهُمْ: صَارِمْ الْأَحْمَقَ فَلَيْسَ لَهُ خَيْرٌ مِنْ الْهِجْرَانِ.

وَقَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ: هِجْرَانُ الْأَحْمَقِ قُرْبَةٌ إلَى اللَّهِ تَعَالَى.

وَقَالَ ابْنُ عَبْدِ الْقُدُّوسِ فِي قَافِيَتِهِ: وَلَأَنْ يُعَادِيَ عَاقِلًا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَهُ صَدِيقٌ أَحْمَقُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: اتَّقِ الْأَحْمَقَ لَا تَصْحَبْهُ إنَّمَا الْأَحْمَقُ كَالثَّوْبِ الْخَلَقِ فَهُوَ إنْ رَقَعْته مِنْ جَانِبٍ عَادَ مِنْ هَوْنٍ سَرِيعًا فَانْخَرَقَ … انتهى.

وبناءً على ما تقدم فصديق السوء يورد الإنسان المهالك ويضره أكثر مما ينفعه وفرق بين أن توالي ذلك الشخص وتحبه لأن معه وصف الإيمان وبين أن تصادقه
(সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উপমা... হাদিসটি)। তিনি বলেন: এতে নেককার লোক, কল্যাণকামী, উন্নত চরিত্রের অধিকারী, উচ্চ নৈতিকতা সম্পন্ন, পরহেজগার, জ্ঞানী ও শিষ্টাচারী ব্যক্তিদের সাহচর্যের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণিত হয়েছে। অন্যদিকে মন্দ লোক, বিদআতী (أهل البدع) সম্প্রদায় এবং যারা পরনিন্দা করে অথবা অধিক পাপাচার ও অনর্থক কাজে লিপ্ত—এরূপ নিন্দনীয় স্বভাবের ব্যক্তিদের সাহচর্য থেকে নিষেধ করা হয়েছে। সমাপ্ত।

আলেমগণ নেককার লোকদের সাহচর্যে থাকা, তাদের সাথে মেলামেশা ও উঠাবসা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন এবং মন্দ বন্ধুদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। এ বিষয়ে তারা মুসলিম-এর সেই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যাতে একশ ব্যক্তি হত্যাকারীর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে; যেখানে এক আলেম তাকে তার এলাকা ছেড়ে এমন এক এলাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন যেখানে নেককার মানুষ বাস করে, যাতে সে তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে। তিনি তাকে বলেছিলেন: 'তুমি অমুক অমুক এলাকায় চলে যাও, কারণ সেখানে এমন কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহর ইবাদত করে। অতএব তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদত করো এবং নিজের এলাকায় ফিরে যেও না, কারণ সেটি একটি মন্দ এলাকা।' এবং আবু দাউদ-এর হাদিস দ্বারা: 'মানুষ তার বন্ধুর আদর্শ বা দ্বীনের অনুসারী হয়, কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেরই দেখা উচিত সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।' এবং আহমদ-এর হাদিস দ্বারা: 'মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত কাউকে সঙ্গী করো না।'

মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা পাপাচারীদের দিকে ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথায় আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।"

কুরতুবী বলেন: এই আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে সঠিক (الصحيح) অভিমত হলো—এটি কুফরি ও নাফরমানিতে লিপ্ত ব্যক্তি এবং বিদআতী (أهل البدع) ও অন্যান্যদের সংসর্গ বর্জন করার নির্দেশ দেয়। কারণ তাদের সাহচর্য কুফরি অথবা গুনাহের শামিল। কেননা সাহচর্য—আমি (লেখক) বলছি, তিনি এখানে এই রিসালায় আমার সংজ্ঞায়িত পরিভাষা অনুযায়ী 'বন্ধুত্ব' বুঝিয়েছেন—ভালোবাসা ছাড়া হয় না। সমাপ্ত। আর শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেন যে বড় গুনাহ করে: "যাদের বিরুদ্ধে এসব নাফরমানির অভিযোগ আছে, তাদের নসিহত করা এবং এর ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করা ওয়াজিব। কেননা এগুলো অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হওয়া, কঠোর হওয়া এবং মৃত হওয়ার অন্যতম কারণ। আর যারা এগুলো প্রকাশ্য ও ঘটা করে করে, তাদের ওপর নির্ধারিত দণ্ডবিধি বা হদ্দ কার্যকর করা এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা আবশ্যক। তাদের সাথে চলাফেরা বা উঠাবসা করা জায়েজ নেই, বরং তাদের বর্জন করা ওয়াজিব যাতে আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করেন এবং তওবা নসিব করেন। তবে বর্জন করলে যদি তাদের অনিষ্ট বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে আল্লাহ হেদায়েত না দেয়া পর্যন্ত উত্তম পন্থায় তাদের অবিরত প্রতিবাদ ও উপদেশ দেয়া আবশ্যক। তাদের অন্তরঙ্গ বন্ধু বানানো জায়েজ নয়—আমি (লেখক) বলছি, এখানেও তিনি স্রেফ সাহচর্য নয় বরং গভীর বন্ধুত্ব বুঝিয়েছেন—বরং তাদের কাজের প্রতিবাদ এবং তাদের জঘন্য কাজগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা অব্যাহত রাখতে হবে।" "ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ" (৪/ ৫২০)।

আদ-দাইনুূরী 'আল-মুজালাসাত' গ্রন্থে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "পাপাচারীকে (الفاجر) ভাই হিসেবে গ্রহণ করো না, কারণ সে তার কাজকে তোমার সামনে সুশোভিত করে দেখাবে এবং সে চাইবে তুমিও যেন তার মতো হও। তার কাছে যাওয়া এবং তার কাছ থেকে ফিরে আসা তোমার জন্য অপমান ও লজ্জার কারণ হবে। আর নির্বোধকে (الأحمق) বন্ধু বানিও না, কারণ সে তোমার উপকারের জন্য নিজেকে কষ্ট দিলেও তোমার কোনো উপকার করতে পারবে না। অনেক সময় সে তোমার উপকার করতে গিয়ে বরং ক্ষতিই করে ফেলবে। তাই তার কথা বলার চেয়ে নীরব থাকা উত্তম, তার কাছে থাকার চেয়ে দূরে থাকা উত্তম এবং তার বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া উত্তম। আর মিথ্যুককে (الكذاب) সঙ্গী করো না, কারণ তার সাথে জীবন কাটানো তোমার কোনো উপকারে আসবে না; সে তোমার কথা অন্যের কাছে এবং অন্যের কথা তোমার কাছে নিয়ে আসবে। এমনকি সে যদি সত্য কথা বললেও তাকে বিশ্বাস করা হয় না।"

বলা হয়ে থাকে যে তাওরাতে লিখিত আছে: "যে ব্যক্তি কোনো নির্বোধের (الأحمق) প্রতি সদয় আচরণ করে, তার নামে একটি পাপ লিপিবদ্ধ হয়।"

কেউ কেউ বলেন: "নির্বোধের (الأحمق) সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো, কারণ তাকে বর্জন করার চেয়ে উত্তম আর কিছুই নেই।"

সুফিয়ান সাওরী বলেন: "নির্বোধকে (الأحمق) বর্জন করা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়।"

ইবনে আব্দুল কুদ্দুস তার কাসিদায় বলেন: "একজন বুদ্ধিমানের সাথে শত্রুতা করা নির্বোধকে (الأحمق) বন্ধু বানানোর চেয়ে উত্তম।" কেউ কেউ বলেছেন: "নির্বোধ (الأحمق) থেকে বেঁচে থাকো, তার সাহচর্য গ্রহণ করো না; কারণ নির্বোধ (الأحمق) হলো জীর্ণ বস্ত্রের মতো, যার একপাশ জোড়া দিলে অন্যপাশ সহজেই ছিঁড়ে যায়... সমাপ্ত।"

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, মন্দ বন্ধু মানুষকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় এবং উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। আর কোনো ব্যক্তিকে মুমিন হওয়ার কারণে ভালোবাসা বা তার প্রতি আনুগত্য রাখা এবং তাকে নিজের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
فتأخذ منه ويأخذ منك لكن إن كان القصد من الجلوس مع ذلك الشخص تأليف قلبه بغرض الدعوة إلى الله وإرشاده إلى طريق الهداية أو قضاء حق له في القرابة فهذا من الأعمال الفاضلة لكن بشرط ألا يؤثر ذلك على الداعية والواصل لرحمه فيضر نفسه من حيث يريد أن ينفعها ومصادقة الأخيار مما أوصى به ربنا جل وعلا ونبينا صلى الله عليه وسلم والصحبة التي يتخذها العبد لنفسه ويتأثر بها لا بد من حسن اختيارها بل يجب عليه.

 

‌‌مذهب شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في الهجر:

جاء في فتوى لشيخ الإسلام ابن تيمية- رحمه الله في مجموع الفتاوى جواباً عن السؤال التالي: سُئل رحمه الله عمن يجب أو يجوز بغضه أو هجره أو كلاهما لله تعالى؟ وماذا يشترط على الذي يبغضه أو يهجره لله تعالى من الشروط؟ وهل يدخل ترك السلام في الهجران أم لا؟ وإذا بدأ المهجور الهاجر بالسلام هل يجب الرد عليه أم لا؟ وهل يستمر البغض والهجران لله عز وجل حتى يتحقق زوال الصفة المذكورة التي أبغضه وهجره عليها؟ أم يكون لذلك مدة معلومة؟ فإن كان لها مدة معلومة فما حدها؟ أفتونا مأجورين.

فأجاب: الهجر الشرعي نوعان: أحدهما بمعنى الترك للمنكرات. والثاني بمعنى العقوبة عليها. فالأول: هو المذكور في قوله تعالى: {وإذا رأيت الذين يخوضون في آياتنا فأعرض عنهم حتى يخوضوا في حديث غيره وإما ينسينك الشيطان فلا تقعد بعد الذكرى مع القوم الظالمين}. وقوله تعالى: {وقد نزل عليكم في الكتاب أن إذا سمعتم آيات الله يكفر بها ويستهزأ بها فلا تقعدوا معهم حتى يخوضوا في حديث غيره إنكم إذا مثلهم}. فهذا يراد به أنه لا يشهد المنكرات لغير حاجة مثل قوم يشربون الخمر يجلس عندهم. وقوم دعوا إلى وليمة فيها خمر وزمر لا يجيب دعوتهم وأمثال ذلك. بخلاف من حضر عندهم للإنكار عليهم أو حضر بغير اختياره. ولهذا يُقال: حاضر المنكر كفاعله. وفي الحديث: {من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يجلس على مائدة يشرب عليها الخمر}. وهذا الهجر من جنس هجر الإنسان نفسه عن فعل المنكرات. كما قال صلى الله عليه وسلم: {المهاجر من هجر ما نهى الله عنه}. ومن هذا الباب الهجرة من دار الكفر والفسوق إلى دار الإسلام والإيمان. فإنه هجر للمقام بين الكافرين والمنافقين الذين لا يمكنونه من فعل ما أمر الله به ومن هذا قوله تعالى}: والرجز فاهجر}. النوع الثاني: الهجر على وجه التأديب وهو هجر من يظهر المنكرات يُهجر حتى يتوب منها كما هجر النبي صلى الله عليه وسلم والمسلمون: الثلاثة الذين خلفوا حتى أنزل الله توبتهم حين ظهر منهم ترك الجهاد المتعين عليهم بغير عذر ولم يهجر من أظهر الخير وإن كان منافقا فهنا الهجر هو بمنزلة التعزير. والتعزير يكون لمن ظهر منه ترك الواجبات وفعل المحرمات كتارك الصلاة والزكاة والتظاهر بالمظالم والفواحش والداعي إلى البدع المخالفة للكتاب والسنة وإجماع سلف الأمة التي ظهر أنها بدع. وهذا حقيقة قول من قال من السلف والأئمة: إن الدعاة إلى البدع لا تُقبل شهادتهم ولا يُصلى خلفهم ولا يُؤخذ عنهم العلم ولا يُناكحون. فهذه عقوبة لهم حتى ينتهوا ; ولهذا يفرقون بين الداعية وغير الداعية ; لأن الداعية أظهر المنكرات فاستحق
আপনি তার থেকে গ্রহণ করবেন এবং সে আপনার থেকে গ্রহণ করবে। তবে যদি সেই ব্যক্তির সাথে বসার উদ্দেশ্য হয় দাওয়াত ইলাল্লাহর উদ্দেশ্যে তার অন্তরকে দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করা এবং তাকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করা, অথবা আত্মীয়তার হক আদায় করা, তবে এটি উত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তবে শর্ত হলো, এটি যেন সেই দাঈ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারীর ওপর এমন নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে যাতে সে নিজের উপকার করতে গিয়ে নিজেরই ক্ষতি করে ফেলে। নেককারদের সাহচর্য গ্রহণ করা এমন একটি বিষয় যার নির্দেশ আমাদের মহান রব এবং আমাদের নবী (সা.) দিয়েছেন। বান্দা নিজের জন্য যে সঙ্গ গ্রহণ করে এবং যার দ্বারা সে প্রভাবিত হয়, তা উত্তমরূপে নির্বাচন করা অপরিহার্য, বরং এটি তার জন্য ওয়াজিব।

 

‌‌বর্জন (هجر) বা সম্পর্কচ্ছেদ প্রসঙ্গে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর মাযহাব:

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-তে নিম্নোক্ত প্রশ্নের জবাবে বর্ণিত হয়েছে: তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাকে ঘৃণা করা বা বর্জন (هجر) করা ওয়াজিব কিংবা জায়েজ? আর আল্লাহর জন্য কাউকে ঘৃণা বা বর্জনকারীর ওপর কী কী শর্ত রয়েছে? সালাম বর্জন করা কি বর্জনের (هجر) অন্তর্ভুক্ত হবে কি না? আর যাকে বর্জন করা হয়েছে সে যদি বর্জনকারীকে প্রথমে সালাম দেয়, তবে তার উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব? আল্লাহর জন্য ঘৃণা ও বর্জন কি সংশ্লিষ্ট সেই বৈশিষ্ট্যটি দূর না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যার কারণে তাকে ঘৃণা বা বর্জন করা হয়েছিল? নাকি এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে? যদি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, তবে তার সীমা কতটুকু? আমাদের ফতোয়া দিয়ে উপকৃত করুন।

তিনি উত্তর দিলেন: শরয়ী বর্জন (هجر) দুই প্রকার: প্রথমটি হলো মন্দ কাজ বা মুনকারসমূহ পরিত্যাগ করা। দ্বিতীয়টি হলো এর ওপর শাস্তি প্রদান। প্রথম প্রকার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: "আর যখন আপনি তাদেরকে দেখেন যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসে মত্ত হয়, তখন আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর আর জালেম সম্প্রদায়ের সাথে বসবেন না।" এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়; নতুবা তোমরাও তাদের মতোই হবে।" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, প্রয়োজন ছাড়া মন্দ কাজের বা মুনকারসমূহের উপস্থিতিতে না থাকা। যেমন একদল লোক যারা মদ পান করছে তাদের সাথে বসা, অথবা এমন ওলীমার দাওয়াত কবুল না করা যেখানে মদ ও বাদ্যযন্ত্র রয়েছে—অনুরূপ অন্যান্য বিষয়। তবে যে ব্যক্তি তাদের মন্দ কাজের প্রতিবাদ বা ইনকার করার জন্য সেখানে উপস্থিত হয় অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে উপস্থিত হয়, সে এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এ কারণেই বলা হয়: মন্দের উপস্থিত দর্শক তার সম্পাদনকারীর মতো। আর হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন এমন দস্তরখানে না বসে যেখানে মদ পান করানো হয়।" এই বর্জন (هجر) হলো কোনো ব্যক্তির নিজেকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার সমপর্যায়ভুক্ত। যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন: "প্রকৃত হিজরতকারী (المهاجر) সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন (هجر) করে।" এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হলো কুফর ও পাপাচারের দেশ থেকে ইসলাম ও ঈমানের দেশের দিকে হিজরত করা। কেননা এটি হলো কাফের ও মুনাফিকদের মাঝে বসবাস বর্জন (هجر) করা, যারা তাকে আল্লাহর আদেশ পালনে সক্ষম হতে দেয় না। আর এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং অপবিত্রতা বর্জন (هجر) করো।" দ্বিতীয় প্রকার: আদব বা শিষ্টাচার শেখানোর উদ্দেশ্যে বর্জন (هجر)। আর এটি হলো এমন ব্যক্তিকে বর্জন (هجر) করা যে প্রকাশ্যে পাপাচারে লিপ্ত হয়। তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত বর্জন করতে হবে যতক্ষণ না সে তওবা করে। যেমন নবী (সা.) এবং মুসলিমগণ সেই তিন ব্যক্তিকে বর্জন (هجر) করেছিলেন যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন (তাবুক যুদ্ধে), যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করার আয়াত নাযিল করেন; যখন তাদের পক্ষ থেকে বিনা ওজরে ওয়াজিব জিহাদ ত্যাগ করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছিল। তবে তিনি এমন ব্যক্তিকে বর্জন (هجر) করেননি যে বাহ্যিকভাবে কল্যাণ প্রকাশ করত, যদিও সে মুনাফিক ছিল। সুতরাং এখানে বর্জন (هجر) হলো তা'যীর (تعزير) বা শাসনমূলক শাস্তির সমতুল্য। আর তা'যীর (تعزير) হলো তার জন্য যার পক্ষ থেকে ওয়াজিবসমূহ বর্জন এবং হারাম কার্যাবলি সম্পাদনের বিষয়টি প্রকাশ পায়; যেমন নামাজ ও জাকাত ত্যাগকারী, জুলুম ও অশ্লীলতা প্রকাশকারী এবং কিতাব, সুন্নাহ ও উম্মতের সালাফদের ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী এমন বিদআতের (بدع) দিকে আহ্বানকারী যার বিদআত হওয়া স্পষ্ট। আর এটাই হলো সালাফ ও ইমামদের সেই উক্তির হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ যারা বলেছেন: বিদআতের (بدع) দিকে আহ্বানকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না, তাদের পেছনে নামাজ পড়া হবে না, তাদের থেকে জ্ঞান (ইলম) গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না। এটি তাদের জন্য একটি শাস্তি যতক্ষণ না তারা বিরত হয়। আর এ কারণেই তারা আহ্বানকারী (দাঈ) এবং সাধারণ বিদআতির মধ্যে পার্থক্য করেন; কারণ আহ্বানকারী মন্দ বিষয়গুলোকে প্রকাশ করেছে, ফলে সে প্রাপ্য হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
العقوبة بخلاف الكاتم فإنه ليس شراً من المنافقين الذين كان النبي صلى الله عليه وسلم يقبل علانيتهم ويكل سرائرهم إلى الله مع علمه بحال كثير منهم. ولهذا جاء في الحديث: {أن المعصية إذا خفيت لم تضر إلا صاحبها ولكن إذا أعلنت فلم تنكر ضرت العامة} وذلك لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: {إن الناس إذا رأوا المنكر فلم يغيروه أوشك أن يعمهم الله بعقاب منه}. فالمنكرات الظاهرة يجب إنكارها ; بخلاف الباطنة فإن عقوبتها على صاحبها خاصة. وهذا الهجر يختلف باختلاف الهاجرين في قوتهم وضعفهم وقلتهم وكثرتهم فإن المقصود به زجر المهجور وتأديبه ورجوع العامة عن مثل حاله. فإن كانت المصلحة في ذلك راجحة بحيث يفضي هجره إلى ضعف الشر وخفيته كان مشروعاً. وإن كان لا المهجور ولا غيره يرتدع بذلك بل يزيد الشر والهاجر ضعيف بحيث يكون مفسدة ذلك راجحة على مصلحته لم يُشرع الهجر ; بل يكون التأليف لبعض الناس أنفع من الهجر. والهجر لبعض الناس أنفع من التأليف ; ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يتألف قوماً ويهجر آخرين. كما أن الثلاثة الذين خلفوا كانوا خيراً من أكثر المؤلفة قلوبهم لما كان أولئك كانوا سادة مطاعين في عشائرهم فكانت المصلحة الدينية في تأليف قلوبهم وهؤلاء كانوا مؤمنين والمؤمنون سواهم كثير فكان في هجرهم عز الدين وتطهيرهم من ذنوبهم وهذا كما أن المشروع في العدو القتال تارة والمهادنة تارة وأخذ الجزية تارة كل ذلك بحسب الأحوال والمصالح. وجواب الأئمة كأحمد وغيره في هذا الباب مبني على هذا الأصل ولهذا كان يفرق بين الأماكن التي كثرت فيها البدع كما كثر القدر في البصرة والتنجيم بخراسان والتشيع بالكوفة وبين ما ليس كذلك ويفرق بين الأئمة المطاعين وغيرهم وإذا عرف مقصود الشريعة سلك في حصوله أوصل الطرق إليه. وإذا عرف هذا فالهجرة الشرعية هي من الأعمال التي أمر الله بها ورسوله. فالطاعة لا بد أن تكون خالصة لله وأن تكون موافقة لأمره فتكون خالصة لله صواباً. فمن هجر لهوى نفسه أو هجر هجراً غير مأمور به: كان خارجاً عن هذا. وما أكثر ما تفعل النفوس ما تهواه ظانة أنها تفعله طاعة لله. والهجر لأجل حظ الإنسان لا يجوز أكثر من ثلاث كما جاء في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: {لا يحل لمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاث ; يلتقيان فيصد هذا ويصد هذا وخيرهما الذي يبدأ بالسلام} فلم يرخص في هذا الهجر أكثر من ثلاث كما لم يرخص في إحداد غير الزوجة أكثر من ثلاث. وفي الصحيحين عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: {تفتح أبواب الجنة كل اثنين وخميس فيغفر لكل عبد لا يشرك بالله شيئا ; إلا رجلا كان بينه وبين أخيه شحناء فيقال: أنظروا هذين حتى يصطلحا} فهذا الهجر لحق الإنسان حرام وإنما رخص في بعضه كما رخص للزوج أن يهجر امرأته في المضجع إذا نشزت. وكما رخص في هجر الثلاث. فينبغي أن يفرق بين الهجر لحق الله وبين الهجر لحق نفسه. فالأول مأمور به والثاني منهي عنه ; لأن المؤمنين إخوة وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: {لا تقاطعوا ولا تدابروا

ولا تباغضوا ولا تحاسدوا وكونوا عباد الله إخوانا المسلم أخو المسلم {وقال صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي في السنن: {ألا أنبئكم بأفضل من درجة الصلاة

শাস্তির বিধান গোপনকারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন; কারণ সে মুনাফিকদের চেয়ে মন্দ নয়, যাদের বাহ্যিক বিষয় নবী (সা.) গ্রহণ করতেন এবং তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করতেন, যদিও তিনি তাদের অনেকের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতেন। এ কারণেই হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই পাপ যখন গোপনে করা হয়, তখন তা কেবল সম্পাদনকারীরই ক্ষতি করে; কিন্তু যখন তা প্রকাশ্য করা হয় এবং তার প্রতিবাদ করা না হয়, তখন তা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে।" এর কারণ হলো নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষ যখন কোনো মন্দ কাজ (منكر) দেখে এবং তা পরিবর্তন করে না, তখন অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর ব্যাপক শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন।" সুতরাং প্রকাশ্য মন্দ কর্মসমূহের প্রতিবাদ করা আবশ্যক; পক্ষান্তরে গোপন বিষয়ের শাস্তি কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে।

এই বর্জন বা সম্পর্কচ্ছেদ (هجر) বর্জনকারীদের শক্তি, দুর্বলতা, স্বল্পতা ও আধিক্যের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন হয়; কেননা এর উদ্দেশ্য হলো বর্জিত ব্যক্তিকে সতর্ক করা, সংশোধন করা এবং সাধারণ মানুষকে অনুরূপ অবস্থা থেকে ফিরিয়ে রাখা। যদি এক্ষেত্রে কল্যাণ (مصلحة) প্রবল হয়, যাতে বর্জনের ফলে মন্দ দূরীভূত বা স্তিমিত হয়, তবে তা শরিয়তসম্মত হবে। আর যদি বর্জিত ব্যক্তি বা অন্য কেউ এর দ্বারা নিবৃত্ত না হয়, বরং মন্দ আরও বৃদ্ধি পায় এবং বর্জনকারী ব্যক্তি দুর্বল হওয়ার কারণে বর্জনের কুফল কল্যাণের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেক্ষেত্রে বর্জন করা শরিয়তসম্মত হবে না; বরং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বর্জনের চেয়ে অন্তর জয় করা (تأليف) অধিক উপকারী হতে পারে। আবার কারো কারো জন্য অন্তর জয়ের চেয়ে বর্জন করা বেশি কার্যকর। এ কারণেই নবী (সা.) কোনো কোনো কওমের অন্তর জয় করতেন এবং অন্যদের বর্জন করতেন।

যেমন সেই তিনজন ব্যক্তি, যাদের তওবা কবুল হওয়া বিলম্বিত হয়েছিল, তারা অধিকাংশ 'মুয়াল্লাফাতুল কুলুব' (যাদের অন্তর জয় করা হচ্ছিল) থেকে উত্তম ছিলেন। কারণ সেই নেতারা তাদের গোত্রে প্রভাবশালী ও মান্যবর ছিলেন, ফলে তাদের অন্তর জয়ের মধ্যে দ্বীনি কল্যাণ নিহিত ছিল। পক্ষান্তরে সেই তিনজন ছিলেন মুমিন এবং তাদের মতো আরও অনেক মুমিন ছিলেন, তাই তাদের বর্জনের মাধ্যমে দ্বীনের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের পাপ থেকে পবিত্র করার উদ্দেশ্য ছিল। এটি ঠিক তেমনি, যেমন শত্রুর বিরুদ্ধে কখনো যুদ্ধ করা, কখনো সন্ধি করা, আবার কখনো জিজিয়া গ্রহণ করা শরিয়তসম্মত; যার সবই অবস্থা এবং কল্যাণের ওপর নির্ভরশীল।

ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামদের উত্তরসমূহ এই মূলনীতির ওপরই প্রতিষ্ঠিত। এ কারণেই তিনি সেই সব স্থানের মধ্যে পার্থক্য করতেন যেখানে বিদআত (بدعة) ব্যাপক ছিল—যেমন বসরায় কদর এবং খোরাসানে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কুফায় শিয়া মতবাদের আধিক্য—এবং যেসব স্থানে এমন ছিল না তার মধ্যে। তেমনিভাবে তিনি প্রভাবশালী ও মান্যবর ইমাম এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য করতেন। যখন শরিয়তের উদ্দেশ্য জানা যায়, তখন তা অর্জনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ অনুসরণ করা হয়। এটি জানা থাকলে স্পষ্ট হয় যে, শরিয়তসম্মত বর্জন (هجرة شرعية) হচ্ছে সেই সব আমলের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল নির্দেশ দিয়েছেন। আনুগত্য অবশ্যই আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ (خالصة) হতে হবে এবং তাঁর নির্দেশের অনুকূলে হতে হবে; সুতরাং তা হতে হবে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ এবং সঠিক। অতএব, যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কাউকে বর্জন করল অথবা এমন বর্জন করল যার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, সে এই মূলনীতির বাইরে চলে গেল। মানুষের প্রবৃত্তি কতই না এমন কাজ করে যা সে পছন্দ করে, অথচ সে মনে করে যে সে আল্লাহর আনুগত্যে তা করছে।

মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থে তিন দিনের বেশি বর্জন বা সম্পর্কচ্ছেদ জায়েজ নয়, যেমনটি সহীহাইন গ্রন্থে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়; তাদের দেখা হলে একজন একদিকে ফিরে যায় এবং অন্যজন অন্যদিকে ফিরে যায়, তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম যে সালামের মাধ্যমে শুরু করে।" ব্যক্তিগত কারণে এই বর্জনের ক্ষেত্রে তিন দিনের বেশি অনুমতি দেওয়া হয়নি, যেমনটি স্ত্রীর মৃত্যু ব্যতিরেকে অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালনের (إحداد) অনুমতি নেই। সহীহাইন গ্রন্থে নবী (সা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং আল্লাহর সাথে শিরক করে না এমন প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করা হয়; কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যার ও তার ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে। তখন বলা হয়: 'এই দুইজনকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা আপস-নিষ্পত্তি করে'।" সুতরাং মানুষের ব্যক্তিগত হকের কারণে এই বর্জন হারাম; তবে এর কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেমনটি অবাধ্য হলে স্ত্রীকে শয্যায় বর্জনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং যেমনটি তিন দিন পর্যন্ত বর্জনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অতএব, আল্লাহর হকের খাতিরে বর্জন এবং নিজের ব্যক্তিগত হকের খাতিরে বর্জনের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত। প্রথমটি নির্দেশিত এবং দ্বিতীয়টি নিষিদ্ধ; কারণ মুমিনরা পরস্পর ভাই। নবী (সা.) সহীহ (صحيح) হাদিসে বলেছেন: "তোমরা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের পেছনে পোড়ো না, একে অপরকে ঘৃণা করো না এবং একে অপরের প্রতি হিংসা করো না; বরং হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই।" তিনি সুনান গ্রন্থের একটি হাদিসে বলেছেন: "আমি কি তোমাদেরকে নামাজ ও রোজার মর্যাদার চেয়েও শ্রেষ্ঠ কিছু সম্পর্কে অবহিত করব না?"

(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
والصيام والصدقة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؟ قالوا: بلى يا رسول الله قال: إصلاح ذات البين فإن فساد ذات البين هي الحالقة لا أقول تحلق الشعر ولكن تحلق الدين}. وقال في الحديث الصحيح: {مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم كمثل الجسد الواحد إذ اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر. {

-وقال رحمه الله في موضع آخر-: فإن الهجرة نوع من أنواع التعزير والعقوبة نوع من أنواع الهجرة التي هي ترك السيئات. فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال {المهاجر من هجر السيئات} وقال: {من هجر ما نهى الله عنه} فهذا هجرة التقوى. وفي هجرة التعزير والجهاد: هجرة الثلاثة الذين خلفوا وأمر المسلمين بهجرهم حتى تيب عليهم. فالهجرة تارة تكون من نوع التقوى إذا كانت هجراً للسيئات. كما قال تعالى: {وإذا رأيت الذين يخوضون في آياتنا فأعرض عنهم حتى يخوضوا في حديث غيره وإما ينسينك الشيطان فلا تقعد بعد الذكرى مع القوم الظالمين} {وما على الذين يتقون من حسابهم من شيء ولكن ذكرى لعلهم يتقون} فبين سبحانه أن المتقين خلاف الظالمين وأن المأمورين بهجران مجالس الخوض في آيات الله هم المتقون. وتارة تكون من نوع الجهاد والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وإقامة الحدود وهو عقوبة من اعتدى وكان ظالماً. وعقوبة الظالم وتعزيره مشروط بالقدرة ; فلهذا اختلف حكم الشرع في نوعي الهجرتين: بين القادر والعاجز وبين قلة نوع الظالم المبتدع وكثرته وقوته وضعفه كما يختلف الحكم بذلك في سائر أنواع الظلم من الكفر والفسوق والعصيان. فإن كل ما حرمه الله فهو ظلم إما في حق الله فقط وإما في حق عباده وإما فيهما. وما أمر به من هجر الترك والانتهاء وهجر العقوبة والتعزير إنما هو إذا لم يكن فيه مصلحة دينية راجحة على فعله وإلا فإذا كان في السيئة حسنة راجحة لم تكن سيئة وإذا كان في العقوبة مفسدة راجحة على الجريمة لم تكن حسنة ; بل تكون سيئة ; وإن كانت مكافئة لم تكن حسنة ولا سيئة فالهجران قد يكون مقصوده ترك سيئة البدعة التي هي ظلم وذنب وإثم وفساد وقد يكون مقصوده فعل حسنة الجهاد والنهي عن المنكر وعقوبة الظالمين لينزجروا ويرتدعوا وليقوى الإيمان والعمل الصالح عند أهله فإن عقوبة الظالم تمنع النفوس عن ظلمه وتحضها على فعل ضد ظلمه من الإيمان والسنة ونحو ذلك. فإذا لم يكن في هجرانه انزجار أحد ولا انتهاء أحد ; بل بطلان كثير من الحسنات المأمور بها لم تكن هجرة مأموراً بها كما ذكره أحمد عن أهل خراسان إذ ذاك: أنهم لم يكونوا يقوون بالجهمية. فإذا عجزوا عن إظهار العداوة لهم سقط الأمر بفعل هذه الحسنة وكان مداراتهم فيه دفع الضرر عن المؤمن الضعيف ولعله أن يكون فيه تأليف الفاجر القوي. وكذلك لما كثر القدر في أهل البصرة فلو ترك رواية الحديث عنهم لا ندرس العلم والسنن والآثار المحفوظة فيهم. فإذا تعذر إقامة الواجبات من العلم والجهاد وغير ذلك إلا بمن فيه بدعة مضرتها دون مضرة ترك ذلك الواجب: كان تحصيل مصلحة الواجب مع مفسدة مرجوحة معه خيراً من العكس. ولهذا كان الكلام في هذه المسائل فيه تفصيل. وكثير من أجوبة الإمام أحمد وغيره من الأئمة خرج على سؤال سائل قد علم المسئول حاله أو خرج خطاباً لمعين قد علم حاله
...এবং রোজা, সদকা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ অপেক্ষা (উত্তম আমল)? তারা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: পারস্পরিক বিবাদ মিটিয়ে দেওয়া। কেননা পারস্পরিক বিবাদই হলো মুণ্ডনকারী; আমি বলছি না যে তা চুল মুণ্ডন করে, বরং তা দ্বীনকে মুণ্ডন (বিনাশ) করে। এবং তিনি সহিহ (صحيح) হাদিসে বলেছেন: {মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ হলো একটি দেহের মতো, যখন এর কোনো অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের বাকি অংশ জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়।}

-তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অন্য এক স্থানে বলেছেন-: হিজরত (বর্জন) হলো এক প্রকারের শাসন এবং শাস্তি যা সেই সব হিজরতের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে পাপাচার বর্জন করা হয়। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {সেই ব্যক্তিই প্রকৃত মুহাজির যে পাপাচার বর্জন করে} এবং বলেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয়সমূহ বর্জন করে}। এটি হলো তাকওয়ার হিজরত। আর শাসন ও জিহাদের হিজরত হলো: সেই তিন ব্যক্তির বর্জন যাদের পেছনে রাখা হয়েছিল এবং মুসলিমদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাদের বর্জন করার জন্য যতক্ষণ না তাদের তওবা কবুল করা হয়। সুতরাং হিজরত কখনো তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত হয় যদি তা পাপাচার বর্জনের উদ্দেশ্যে হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন তুমি তাদের দেখ যারা আমার নিদর্শনসমূহ নিয়ে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি তাদের থেকে বিমুখ থাক যতক্ষণ না তারা অন্য আলোচনায় প্রবৃত্ত হয়; আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণের পর জালেম সম্প্রদায়ের সাথে বসো না। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের ওপর জালেমদের হিসাবের কোনো দায়ভার নেই, তবে উপদেশ দেওয়া তাদের দায়িত্ব যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।} সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, মুত্তাকিরা জালেমদের বিপরীত এবং আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে উপহাসমূলক মজলিস বর্জন করার জন্য যাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন মুত্তাকি। আবার কখনো এটি জিহাদ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং দণ্ডবিধি প্রয়োগের অন্তর্ভুক্ত হয়; আর এটি হলো সেই ব্যক্তির জন্য শাস্তি যে সীমা লঙ্ঘনকারী ও জালেম ছিল। জালেমের শাস্তি ও শাসন সক্ষমতার ওপর শর্তযুক্ত; এ কারণেই শরয়ি বিধানে দুই প্রকার হিজরতের ক্ষেত্রে সক্ষম ও অক্ষম ব্যক্তির মধ্যে এবং জালেম বিদয়াতি (مبتدع) এর সংখ্যাধিক্য, স্বল্পতা, শক্তি ও দুর্বলতার বিচারে পার্থক্য হয়েছে, যেমনটি কুফর, ফাসিকি ও নাফরমানির মতো অন্যান্য সকল প্রকার জুলুমের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কেননা আল্লাহ যা কিছু হারাম করেছেন তা জুলুম, হয় কেবল আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে, অথবা তাঁর বান্দাদের হকের ক্ষেত্রে, অথবা উভয়ের ক্ষেত্রে। আর বর্জন ও বিরত থাকা এবং শাস্তি ও শাসনের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা তখনই প্রযোজ্য যখন এর মধ্যে তার আমল করার চেয়ে কোনো জোরালো দ্বীনি কল্যাণ (মাসলাহা) নিহিত থাকে। অন্যথায় যদি কোনো মন্দের মধ্যে অধিকতর কল্যাণ নিহিত থাকে তবে তা মন্দ হিসেবে গণ্য হবে না এবং যদি শাস্তির মধ্যে অপরাধের চেয়ে বড় কোনো অনিষ্ট নিহিত থাকে তবে তা উত্তম হবে না; বরং তা মন্দ হবে; আর যদি তা সমান হয় তবে তা উত্তম বা মন্দ কোনোটিই হবে না। সুতরাং বর্জনের উদ্দেশ্য কখনো বিদআতের (بدعة) মন্দকে পরিহার করা হতে পারে যা জুলুম, গুনাহ ও বিশৃঙ্খলা; আবার কখনো এর উদ্দেশ্য জিহাদ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং জালেমদের শাস্তির মতো নেক আমল হতে পারে যাতে তারা সংযত হয় ও ফিরে আসে এবং ঈমানদারদের মাঝে ঈমান ও নেক আমল শক্তিশালী হয়। কেননা জালেমকে শাস্তি প্রদান নফসকে জুলুম থেকে বিরত রাখে এবং ঈমান ও সুন্নাহর মতো বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করে যা জুলুমের বিপরীত। সুতরাং যদি কাউকে বর্জন করার মধ্যে কারো সংযত হওয়া বা ফিরে আসা নিহিত না থাকে, বরং এর ফলে নির্দেশিত অনেক নেক আমলই বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সেই হিজরত নির্দেশিত নয়। যেমনটি ইমাম আহমদ সেই সময়ের খোরাসানবাসীদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তারা জাহমিয়াদের ওপর শক্তিশালী ছিল না। সুতরাং যখন তারা তাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা প্রকাশে অক্ষম হলো, তখন এই নেক আমলটি করার নির্দেশ রহিত হয়ে গেল এবং তাদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করাই দুর্বল মুমিনের ক্ষতি ঠেকানোর এবং হয়তো শক্তিশালী পাপাচারীর মন জয় করার মাধ্যম ছিল। অনুরূপভাবে যখন বসরাবাসীদের মধ্যে কদরপন্থীদের আধিক্য দেখা দিল, তখন যদি তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা (رواية) বর্জন করা হতো, তবে তাদের কাছে সংরক্ষিত ইলম, সুন্নাহ ও আসার (آثار) সমূহ বিলুপ্ত হয়ে যেত। তাই যখন ইলম ও জিহাদ ইত্যাদি ওয়াজিব কাজগুলো আদায় করা সম্ভব না হয় এমন কোনো ব্যক্তি ব্যতীত যার মধ্যে বিদআত (بدعة) রয়েছে—যার ক্ষতি সেই ওয়াজিব বর্জনের ক্ষতির চেয়ে কম—তখন সেই ওয়াজিবের কল্যাণ অর্জন করা মন্দের উপস্থিতিতেও উত্তম বলে গণ্য হবে। এ কারণেই এই বিষয়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ রয়েছে। আর ইমাম আহমদ এবং অন্যান্য ইমামদের অনেক উত্তর কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এসেছে যার অবস্থা উত্তরদাতা জানতেন, অথবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সম্বোধন করে দেওয়া হয়েছে যার অবস্থা জানা ছিল।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
فيكون بمنزلة قضايا الأعيان الصادرة عن الرسول صلى الله عليه وسلم إنما يثبت حكمها في نظيرها. فإن أقواماً جعلوا ذلك عاماً فاستعملوا من الهجر والإنكار ما لم يُؤمروا به فلا يجب

ولا يستحب وربما تركوا به واجبات أو مستحبات وفعلوا به محرمات. وآخرون أعرضوا عن ذلك بالكلية فلم يهجروا ما أمروا بهجره من السيئات البدعية ; بل تركوها ترك المعرض ; لا ترك المنتهي الكاره أو وقعوا فيها وقد يتركونها ترك المنتهي الكاره ولا ينهون عنها غيرهم ولا يعاقبون بالهجرة ونحوها من يستحق العقوبة عليها فيكونون قد ضيعوا من النهي عن المنكر ما أمروا به إيجاباً أو استحباباً فهم بين فعل المنكر أو ترك النهي عنه وذلك فعل ما نهوا عنه وترك ما أمروا به فهذا هذا ودين الله وسط بين الغالي فيه والجافي عنه والله سبحانه أعلم.

 

‌‌مذهب الشيخ صالح الفوزان حفظه الله في الهجر:

قال الشيخ صالح الفوزان - حفظه الله -: (هجر المؤمن لا يجوز فوق ثلاثة أيام إذا كان على أمر من أمور الدنيا، بل عليه أن يصالح أخاه وأن يُسلِّم عليه إذا لقيه، ومع أنه لا ينبغي ابتداءاً أن يهجر على أمر من أمور الدنيا، ولكن لو حصل شيء من الهجر: فإنه لا يتجاوز ثلاثة أيام، وهذا هو المراد بالحديث: (لا يَحِلُّ لمؤمن أن يهجُرَ أخاه فوقَ ثلاث) يعني: إذا كان الهجر على أمر من أمور الدنيا.

أما إذا كان الهجر لأجل معصية ارتكبها ذلك المهجور، وكانت هذه المعصية من كبائر الذنوب، ولم يتركها: فإنه يجب مناصحته وتخويفه بالله عز وجل، وإذا لم يمتنع عن فعل المعصية ولم يتب: فإنه يُهجَر؛ لأن في الهجر تعزيراً له وردعًا له لعله يتوب؛ إلا إذا كان في هجره محذور؛ بأن يُخشى أن يزيدَ في المعصية وأن يترتب على الهجر مفسدة أكبر؛ فإنه لا يجوز هجره في هذه الحالة؛ فهجر العاصي إنما يجوز إذا كان من ورائه مصلحة ولا يترتب عليه مضرة أكبر.)

" المنتقى من فتاوى الشيخ الفوزان " (1/ 273، 274).

 

‌‌مذهب الشيخ ابن عثيمين رحمه الله في الهجر:

قال الشيخ محمد بن صالح العثيمين رحمه الله في الشرح الممتع على زاد المسقنع:<< تُسَنُّ بِشَاةٍ فَأَقَلَّ، وَتَجِبُ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ إِجَابَةُ مُسْلِمٍ يَحْرُمُ هَجْرُهُ إِلَيْهَا إِنْ عَيَّنَهُ، وَلَمْ يَكُنْ ثَمَّ مُنْكَرٌ، فَإِنْ دَعَاهُ الجَفَلَى، أَوْ فِي اليَوْمِ الثَّالِثِ، أَوْ دَعَاهُ ذِمِّيٌّ كُرِهَتِ الإِْجَابَةُ، .. >>

وقوله: «يحرم هجره»، أفادنا أن من المسلمين من لا يحرم هجره؛ وذلك أن الهجر ينقسم إلى أقسام:

القسم الأول: من يجب هجره، وذلك كصاحب البدعة الداعي إلى بدعته، إذا لم ينتهِ إلا بالهجر، فإنه يجب علينا أن نهجره وجوباً؛ لأن في الهجر فائدة، وهو ترك الدعوة إلى البدعة، فإذا وجدنا شخصاً يدعو الناس إلى القول بخلق القرآن، أو إلى أن الله ـ تعالى ـ في كل مكان وجب علينا أن نهجره، فلا نسلم عليه، ولا نرد عليه السلام، ولا نجيب دعوته، ولا نتحدث إليه حديث الصديق؛ لأن هجره هنا فيه مصلحة، وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أمر بهجر من فعل محرماً، كما في قصة كعب وصاحبيه رضي الله عنهم، وفاعل المحرم أهون ممن يدعو
এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে জারিকৃত সুনির্দিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের পর্যায়ভুক্ত, যার বিধান কেবল তার অনুরূপ ক্ষেত্রেই সাব্যস্ত হয়। কারণ, কিছু লোক একে সাধারণ নিয়মে পরিণত করেছে এবং বর্জন ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এমন সব পন্থা অবলম্বন করেছে যার আদেশ তাদের দেওয়া হয়নি; ফলে তা ওয়াজিব নয়

কিংবা মুস্তাহাব নয়। অনেক সময় তারা এর কারণে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব কাজগুলো ত্যাগ করে এবং হারামে লিপ্ত হয়। আবার অন্য একদল লোক এ থেকে পুরোপুরি বিমুখ হয়েছে; ফলে তারা যেসকল বিদআতি মন্দ কাজ বর্জনের আদেশ দেওয়া হয়েছিল তা বর্জন করেনি। বরং তারা তা ত্যাগ করেছে বিমুখতা প্রদর্শনকারীর মতো করে; হারামের পরিসমাপ্তি ঘটানো বা ঘৃণা পোষণকারীর মতো করে নয়। অথবা তারা নিজেরাই তাতে লিপ্ত হয়েছে। আবার কখনও তারা তা ঘৃণা করে ত্যাগ করলেও অন্যকে তা থেকে নিষেধ করে না এবং বর্জন ও অনুরূপ শাস্তির উপযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদান করে না। এর ফলে তারা মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করার যে আদেশ তাদের দেওয়া হয়েছিল—তা ওয়াজিব হিসেবে হোক বা মুস্তাহাব হিসেবে—তা নষ্ট করে ফেলেছে। ফলে তারা মন্দ কাজ (منكر) সংঘটন অথবা তা থেকে নিষেধ বর্জনের মধ্যে দোদুল্যমান থাকে। আর এটি হলো যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা করা এবং যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা বর্জনের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বিষয়টি এমনই, আর আল্লাহর দ্বীন হলো সীমালঙ্ঘনকারী এবং শিথিলতা প্রদর্শনকারীর মধ্যবর্তী এক মধ্যপন্থা। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অধিক অবগত।

 

‌‌বর্জন প্রসঙ্গে শায়খ সালিহ আল-ফাওজান (হাফিজাহুল্লাহ)-এর মাযহাব:

শায়খ সালিহ আল-ফাওজান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেছেন: (দুনিয়াবি কোনো বিষয়ে মুমিন ব্যক্তিকে তিন দিনের বেশি বর্জন করা জায়েজ নয়; বরং তার উচিত তার ভাইয়ের সাথে আপস করা এবং দেখা হলে তাকে সালাম দেওয়া। যদিও দুনিয়াবি কোনো বিষয় নিয়ে প্রাথমিকভাবেই বর্জন করা উচিত নয়, তবুও যদি বর্জনের মতো কোনো ঘটনা ঘটে যায়, তবে তা যেন তিন দিনের বেশি না হয়। আর হাদিসের উদ্দেশ্য এটাই: (কোনো মুমিনের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের বেশি বর্জন করা হালাল নয়) অর্থাৎ: যদি সেই বর্জন দুনিয়াবি কোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়।

কিন্তু বর্জন যদি সেই ব্যক্তির কৃত কোনো পাপের কারণে হয় এবং সেই পাপ যদি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হয় যা সে ত্যাগ করছে না, তবে তাকে নসিহত করা এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ভয় দেখানো ওয়াজিব। এরপরও যদি সে পাপাচার থেকে বিরত না হয় এবং তাওবা না করে, তবে তাকে বর্জন করা হবে। কারণ এই বর্জনের মধ্যে রয়েছে তার জন্য এক প্রকার শাস্তি ও শাসন, যাতে সম্ভবত সে তাওবা করে। তবে যদি তাকে বর্জন করার মধ্যে কোনো ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে—যেমন পাপাচার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় অথবা বর্জনের ফলে আরও বড় কোনো ফাসাদ সৃষ্টি হয়—তবে সেক্ষেত্রে তাকে বর্জন করা জায়েজ হবে না। অতএব, পাপাচারীকে বর্জন করা কেবল তখনই জায়েজ হবে যখন তার পেছনে কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে এবং এর ফলে বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে।)

"আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়াশ শায়খ আল-ফাওজান" (১/ ২৭৩, ২৭৪)।

 

‌‌বর্জন প্রসঙ্গে শায়খ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব:

শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) 'যাদুল মুস্তাকনি'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আশ-শারহুল মুমতি'-তে বলেছেন: << একটি ছাগল বা তার চেয়ে কম দিয়ে ওয়ালিমা করা সুন্নাত। আর যাকে বর্জন করা হারাম এমন কোনো মুসলিম যদি সুনির্দিষ্টভাবে দাওয়াত দেয় এবং সেখানে কোনো মন্দ কাজ (منكر) না থাকে, তবে প্রথমবার সেই দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি সে ব্যাপকভাবে দাওয়াত দেয়, অথবা দাওয়াতটি তৃতীয় দিনে হয়, অথবা দাওয়াতকারী যদি জিম্মি হয়, তবে তা কবুল করা মাকরূহ... >>

তাঁর উক্তি: "যাকে বর্জন করা হারাম", এর দ্বারা আমাদের বোঝাচ্ছেন যে মুসলিমদের মধ্যে এমনও কেউ আছে যাকে বর্জন করা হারাম নয়। আর তা এজন্য যে বর্জন কয়েক ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: যাকে বর্জন করা ওয়াজিব। যেমন সেই বিদআতি ব্যক্তি যে নিজের বিদআতের দিকে আহ্বান জানায়; তাকে বর্জন করা ছাড়া যদি সে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাকে বর্জন করা আমাদের ওপর অপরিহার্যভাবে ওয়াজিব। কারণ এই বর্জনের মধ্যে উপকারিতা রয়েছে, আর তা হলো বিদআতের দিকে আহ্বান জানানো বন্ধ হওয়া। অতএব, আমরা যদি এমন কাউকে পাই যে মানুষকে কুরআন মাখলুক হওয়ার মতবাদের দিকে অথবা আল্লাহ তাআলা সব জায়গায় বিদ্যমান—এমন আকিদার দিকে আহ্বান জানাচ্ছে, তবে তাকে বর্জন করা আমাদের ওপর ওয়াজিব হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় আমরা তাকে সালাম দেব না, তার সালামের উত্তর দেব না, তার দাওয়াতে সাড়া দেব না এবং তার সাথে বন্ধুর মতো আলাপচারিতা করব না; কারণ এখানে তাকে বর্জন করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি পাপে লিপ্ত ব্যক্তিকে বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেমনটি কাব ও তাঁর দুই সঙ্গীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ঘটনায় ঘটেছে। আর পাপাচারী ব্যক্তি ওই ব্যক্তির চেয়ে লঘু অপরাধী যে দাওয়াত দেয়...
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
إلى البدعة؛ لأن البدعة تستمر بالدعوة إليها، وفاعل المحرم فَعَلَه وانتهى.

القسم الثاني: من هجره سُنة، وهو هجر فاعل المعصية التي دون البدعة، إذا كان في هجره مصلحة، كهجر إنسان يحلق لحيته، فإذا رأينا شخصاً قد أصر على ذلك، وكان في هجره مصلحة، وهو الرجوع إلى حظيرة السنة، فالهجر هنا سنة حتى يرجع، وكذلك يقال في شارب الدخان، والموظف في جهات ربوية، ولا نقول: إنه واجب؛ لأننا لا نتحقق به ترك المحرم، فلو تحققنا به ترك المحرم لكان الهجر واجباً.

إذاً هنا الهجر سنة بشرط المصلحة، فإن لم يكن في هجره مصلحة فإنه لا يهجر؛ لأن الأصل أن هجر المؤمن حرام لقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يحل للمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاثة»، فإن لم يكن مصلحة صار الهجر حراماً، إذ لا يحصل منه إلا عكس ما نريد، وأما ما يفعله بعض الإخوة المستقيمين الغيورين على دينهم من هجر أهل المعاصي مطلقاً فغلط، ومخالف للسنة، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يحل للمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاثة»، وفاعل المعصية أخ لك مهما فعل من الكبائر، إلا إذا كفر، وعلى هذا فلا يجوز هجر أهل المعاصي إلا لوجود المصلحة.

القسم الثالث: هجر مباح، وهو ما يحصل بين الإنسان وأخيه بسبب سوء تفاهم، وهو مقيد بثلاثة أيام فأقل.

والقول الراجح أن الهجر لا يجب، ولا يسن، ولا يباح إلا حيث تحققت المصلحة، فإذا كان هناك مصلحة هجرنا وإلا فلا؛ لأن الهجر إما دواء وإما تعزير، فإن كان من أجل معصية مستمرة فهو دواء، وإن كان من أجل معصية مضت وانتهت فهو تعزير، فيحرم أن يهجر أخاه المؤمن ما لم يصل إلى الكفر، والدليل على ذلك عمومات الأدلة الدالة على حقوق المسلم على المسلم، والمؤمن لا يخرج من الإيمان بمجرد الفسوق والعصيان عند أهل السنة والجماعة، ولذلك الأصل تحريم هجر المؤمنين، ولو فعلوا المعصية وتجاهروا بها؛ لأنهم مؤمنون، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «وحق المسلم على المسلم ست، ومنها: إذا لقيته فسلم عليه»، فقال: حق المسلم، ولم يقل: حق المؤمن؛ لأن الإسلام أوسع من الإيمان،

لكن إذا كان في الهجر مصلحة فإنه إما أن يسن، وإما أن يجب، حسب ما تقتضيه المصلحة، وحسب عظم الذنب، فإذا كان هذا الرجل الحالق للحية إذا هجرناه ارتدع، وصار يمشي بين الناس غريباً، لا يُسلم عليه، ولا يرد سلامه، فيخجل ويعفي لحيته، كان هجره سنة أو واجباً؛ لأن هجره مفيد، أما إذا كان هذا الرجل إذا هجرناه ازداد شره، ونفر من أخيه المؤمن، وحصلت الوحشة بينهما، فلا يسن الهجر هنا، بل لا ينبغي، والمسبل لثيابه مجاهر بالمعصية، والذي يبدو لنا أنه أعظم من حلق اللحية؛ لأنه متوعد عليه، فهو من كبائر الذنوب، وأعظم من شرب الدخان، مع أن شرب الدخان الآن أكثر من حلق اللحية والإسبال.

المهم أن المذهب يقسمون الهجر إلى ثلاثة أقسام: واجب، وسنة، ومباح، ولكن الصحيح عندنا أنه لا ينقسم إلى هذه الأقسام، وأن الأصل في الهجر التحريم، إلا إذا كان فيه مصلحة.
বিদআতের (بدعة) প্রতি; কারণ বিদআতের (بدعة) ক্ষেত্রে এর দিকে দাওয়াত অব্যাহত থাকে, আর হারাম কাজ সম্পাদনকারী তো তা সম্পাদন করে শেষ করে ফেলেছে।

দ্বিতীয় প্রকার: যা বর্জন করা সুন্নাত; আর তা হলো বিদআতের (بدعة) চেয়ে নিম্নপর্যায়ের পাপাচারে (معصية) লিপ্ত ব্যক্তিকে বর্জন করা, যদি তাকে বর্জন করার মধ্যে কোনো কল্যাণ (مصلحة) থাকে। যেমন এমন ব্যক্তিকে বর্জন করা যে দাড়ি মুণ্ডন করে; সুতরাং আমরা যদি দেখি যে কোনো ব্যক্তি এই কাজে অবিচল রয়েছে এবং তাকে বর্জন করার মধ্যে সুন্নাহর প্রাসাদে ফিরে আসার মতো কোনো কল্যাণ (مصلحة) নিহিত থাকে, তবে সে ফিরে আসা পর্যন্ত তাকে বর্জন করা সুন্নাত। তদ্রূপ ধূমপায়ী এবং সুদী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আমরা একে ওয়াজিব (واجب) বলি না; কারণ আমরা এর মাধ্যমে হারাম বর্জন নিশ্চিত হতে পারি না। যদি আমরা নিশ্চিত হতাম যে তাকে বর্জনের মাধ্যমে হারাম বর্জন সম্ভব, তবে এই বর্জন ওয়াজিব (واجب) হতো।

অতএব, এখানে বর্জন সুন্নাত হওয়ার শর্ত হলো কল্যাণ (مصلحة) থাকা। যদি তাকে বর্জনের মধ্যে কোনো কল্যাণ (مصلحة) না থাকে, তবে তাকে বর্জন করা যাবে না; কারণ মূল বিধান হলো মুমিনকে বর্জন করা হারাম। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের বেশি বর্জন করে রাখা বৈধ নয়।" যদি কোনো কল্যাণ (مصلحة) না থাকে তবে বর্জন করা হারাম হয়ে যায়, যেহেতু এতে আমাদের উদ্দেশ্যের বিপরীত ফলই কেবল পাওয়া যাবে। আর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ ও আত্মমর্যাদাবান কিছু ভাইরা যে পাপাচারীদের (أهل المعاصي) ঢালাওভাবে বর্জন করেন তা ভুল এবং সুন্নাহর পরিপন্থী। কেননা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের বেশি বর্জন করে রাখা বৈধ নয়।" পাপাচারী (فاعل المعصية) ব্যক্তিও আপনার ভাই, সে যত বড় কবীরা গুনাহই (كبيرة) করুক না কেন, যতক্ষণ না সে কুফরি (كفر) করছে। সুতরাং এর ভিত্তিতে, কল্যাণ (مصلحة) থাকা ছাড়া পাপাচারীদের (أهل المعاصي) বর্জন করা জায়েজ নয়।

তৃতীয় প্রকার: মুবাহ (مباح) বা বৈধ বর্জন; যা মানুষ ও তার ভাইয়ের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির কারণে হয়ে থাকে এবং এটি সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

অগ্রগণ্য মত (القول الراجح) হলো, বর্জন করা ওয়াজিব (واجب) নয়, সুন্নাতও নয় এবং বৈধও (مباح) নয়, যতক্ষণ না কল্যাণ (مصلحة) নিশ্চিত হয়। যদি সেখানে কল্যাণ (مصلحة) থাকে তবে আমরা বর্জন করব, নতুবা নয়। কারণ বর্জন হয় ঔষধস্বরূপ নতুবা শাস্তি (تعزير) স্বরূপ। যদি বর্জন কোনো চলমান পাপাচারের (معصية) কারণে হয় তবে তা ঔষধস্বরূপ, আর যদি কোনো অতিবাহিত ও সমাপ্ত হওয়া পাপাচারের (معصية) কারণে হয় তবে তা শাস্তি (تعزير) স্বরূপ। সুতরাং তার মুমিন ভাইকে বর্জন করা হারাম যতক্ষণ না সে কুফরি (كفر) পর্যন্ত পৌঁছায়। এর দলিল হলো সেই সকল সাধারণ প্রমাণাদি যা একজন মুসলিমের প্রতি অন্য মুসলিমের অধিকারের কথা নির্দেশ করে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মতে, একজন মুমিন কেবল ফাসেকী (فسوق) ও পাপাচারের (عصيان) কারণে ঈমান থেকে বিচ্যুত হয় না। তাই মূল বিধান হলো মুমিনদের বর্জন করা হারাম, যদিও তারা পাপাচার করে এবং তা প্রকাশ্যেই করে; কারণ তারা মুমিন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুসলিমের প্রতি মুসলিমের অধিকার ছয়টি; তন্মধ্যে একটি হলো: যখন তার সাথে সাক্ষাৎ হবে, তাকে সালাম দিবে।" তিনি 'মুসলিমের অধিকার' বলেছেন, 'মুমিনের অধিকার' বলেননি; কারণ ইসলাম ঈমানের চেয়ে ব্যাপক।

কিন্তু যদি বর্জনের মধ্যে কল্যাণ (مصلحة) থাকে, তবে কল্যাণের (مصلحة) দাবি অনুযায়ী এবং অপরাধের গুরুত্বভেদে তা হয় সুন্নাত হবে নতুবা ওয়াজিব (واجب) হবে। যদি এই দাড়ি মুণ্ডনকারী ব্যক্তিকে আমরা বর্জন করলে সে বিরত হয় এবং মানুষের মধ্যে নিজেকে অপরিচিত অনুভব করে—তাকে কেউ সালাম দেয় না, তার সালামের উত্তর দেয় না—ফলে সে লজ্জিত হয়ে দাড়ি রাখে, তবে তাকে বর্জন করা সুন্নাত বা ওয়াজিব (واجب) হবে; কারণ তার ক্ষেত্রে এই বর্জন ফলপ্রসূ। কিন্তু যদি এমন হয় যে, এই ব্যক্তিকে বর্জন করলে তার মন্দ আরও বেড়ে যায় এবং তার মুমিন ভাই থেকে সে আরও দূরে সরে যায় ও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, তবে এখানে বর্জন সুন্নাত নয় বরং তা অনুচিত। আর যে ব্যক্তি কাপড় ঝুলিয়ে পরে (ইসবেলকারী), সে প্রকাশ্য পাপাচারী (مجاهر بالمعصية)। আমাদের নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এটি দাড়ি মুণ্ডনের চেয়েও গুরুতর অপরাধ; কারণ এর ওপর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটি কবীরা গুনাহসমূহের (كبائر الذنوب) অন্তর্ভুক্ত এবং ধূমপানের চেয়েও গুরুতর, যদিও বর্তমানে দাড়ি মুণ্ডন ও ইসবেলের চেয়ে ধূমপানের প্রকোপ বেশি।

মূল কথা হলো, মাযহাবের অনুসারীরা বর্জনকে তিন ভাগে ভাগ করেন: ওয়াজিব (واجب), সুন্নাত এবং মুবাহ (مباح)। তবে আমাদের নিকট সঠিক (صحيح) মত হলো, এটি এভাবে বিভক্ত নয়; বরং বর্জনের মূল বিধান হলো তা হারাম, যতক্ষণ না তাতে কোনো কল্যাণ (مصلحة) নিহিত থাকে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال الشيخ– رحمه الله –في موضع آخر:

فإن كان في الهجر مصلحة أو زوال مفسدة بحيث يكون رادعاً لغير العاصي عن المعصية، أو موجباً لإقلاع العاصي عن معصيته، كان الهجر حينئذٍ جائزاً، بل مطلوباً طلباً لازماً، أو مرغباً فيه، حسب عظم المعصية التي هجر من أجلها …

أما اليوم فإن كثيراً من أهل المعاصي لا يزيدهم الهجر إلاّ مكابرة وتمادياً في معصيتهم، ونفوراً وتنفيراً عن أهل العلم والإيمان؛ فلا يكون في هجرهم فائدة لهم ولا لغيرهم.

وعلى هذا فنقول:

الهجر دواء يستعمل حيث كان فيه الشفاء، وأما إذا لم يكن فيه شفاء، أو كان فيه إشفاء - وهو الهلاك -: فلا يستعمل.

فأحوال الهجر ثلاث:

إما أن تترجح مصلحته: فيكون مطلوباً.

وإما أن تترجح مفسدته: فينهى عنه بلا شك.

وإما أن لا يترجح هذا ولا هذا: فالأقرب النهي عنه؛ لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يحل للمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاثة).

أما الكفار المرتدون فيجب هجرهم والبعد عنهم، وأن لا يجالسوا ولا يواكلوا، إذا قام الإنسان بنصحهم ودعوتهم إلى الرجوع إلى الإسلام فأبوا، وذلك لأن المرتد لا يُقر على ردته، بل يُدعى إلى الرجوع إلى ما خرج منه، فإن أبى وجب قتله، وإذا قُتل على ردته، فإنه لا يغسل، ولا يكفن، ولا يصلى عليه، ولا يدفن مع المسلمين، وإنما يرمى بثيابه، ورجس دمه في حفرة بعيداً عن المقابر الإسلامية في مكان غير مملوك.

وأما الكفار غير المرتدين فلهم حق القرابة إن كانوا من ذوي القربى، كما قال تعالى: {وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ}، وقال في الأبوين الكافرين المشركين: {وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ}.

" مجموع فتاوى الشيخ ابن عثيمين " (3 / السؤال رقم 385).
শেখ—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—অন্য এক স্থানে বলেছেন:

যদি বর্জনের (هجر) মধ্যে কোনো কল্যাণ (مصلحة) নিহিত থাকে অথবা অকল্যাণ (مفسدة) দূরীভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যাতে তা পাপাচারী ছাড়া অন্য ব্যক্তিদের জন্য পাপাচার থেকে বিরত থাকার মাধ্যম হয়, অথবা পাপাচারীকে তার পাপাচার ত্যাগে বাধ্য করে, তবে সেক্ষেত্রে বর্জন (هجر) করা বৈধ (جائز), বরং তা অপরিহার্যভাবে কাম্য (مطلوب) অথবা এতে উৎসাহিত করা হয়, যে পাপাচারের কারণে বর্জন করা হচ্ছে তার গুরুত্ব অনুযায়ী …

কিন্তু বর্তমানে অনেক পাপাচারীর ক্ষেত্রে বর্জন (هجر) কেবল তাদের হঠকারিতা ও পাপাচারে লিপ্ত থাকাকেই বৃদ্ধি করে এবং ইলম ও ঈমানওয়ালাদের প্রতি তাদের ঘৃণা ও অনীহা সৃষ্টি করে; ফলে তাদের বর্জন করার মধ্যে তাদের নিজেদের বা অন্যদের জন্য কোনো কল্যাণ থাকে না।

এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি:

বর্জন (هجر) হলো একটি ওষুধের মতো, যা সেখানে ব্যবহার করা হয় যেখানে আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যেখানে এতে কোনো আরোগ্য নেই, অথবা যেখানে এটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো (إشفاء)—যা মূলত বিনাশ—সেখানে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

বর্জনের (هجر) অবস্থা তিনটি:

হয় এর কল্যাণকর (مصلحة) দিকটি প্রবল হবে: তখন এটি কাম্য (مطلوب) হবে।

অথবা এর অকল্যাণকর (مفسدة) দিকটি প্রবল হবে: তখন নিঃসন্দেহে তা থেকে নিষেধ করা হবে।

অথবা এর কোনোটিই প্রবল হবে না: সেক্ষেত্রে এটি থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: (কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের অধিক বর্জন (هجر) করা হালাল নয়)।

পক্ষান্তরে ধর্মত্যাগী (مرتد) কাফিরদের ক্ষেত্রে তাদের বর্জন (هجر) করা এবং তাদের থেকে দূরে থাকা আবশ্যক (واجب)। তাদের সাথে বসা যাবে না এবং আহার করা যাবে না, যখন কোনো ব্যক্তি তাদের নসিহত করবে এবং ইসলামে ফিরে আসার দাওয়াত দেবে কিন্তু তারা তা অস্বীকার করবে। কারণ ধর্মত্যাগী (مرتد) ব্যক্তিকে তার ধর্মত্যাগের ওপর বহাল রাখা হয় না, বরং তাকে যেখান থেকে সে বের হয়ে গিয়েছে সেখানে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়। যদি সে অস্বীকার করে তবে তাকে হত্যা করা আবশ্যক (واجب)। আর যদি সে তার ধর্মত্যাগের (ردة) কারণে নিহত হয়, তবে তাকে গোসল দেওয়া হবে না, কাফন পরানো হবে না, তার জানাজা পড়া হবে না এবং মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হবে না। বরং তাকে তার পোশাকসহ ও রক্তরঞ্জিত অবস্থায় মুসলিমদের কবরস্থান থেকে দূরে মালিকানাধীন নয় এমন কোনো স্থানের গর্তে নিক্ষেপ করা হবে।

আর যারা ধর্মত্যাগী (مرتد) নয় এমন কাফির, তাদের যদি নিকটাত্মীয়তা থাকে তবে তাদের আত্মীয়তার হক রয়েছে; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং আত্মীয়স্বজনকে তার প্রাপ্য দান কর}। আর কাফির মুশরিক পিতামাতার বিষয়ে তিনি বলেছেন: {আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না, কিন্তু পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে চলবে এবং যে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অনুসরণ করবে}।

"মাজমু ফাতাওয়া আশ-শেখ ইবনে উসাইমীন" (৩ / প্রশ্ন নং ৩৮৫)।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌خلاصة فقه الهجر على المذهب المختار:

الهجر هجران هجرٌ ظاهر ، وهجرٌ باطنٌ قلبي والهجر الباطن هو هجران بغض، بترك التودد إلى المهجور ، وهذا الهجر الباطن خاص بالكفار والمنافقين والمرتدين والفساق الفجار الراجح شرهم على خيرهم علماً بأنه لا تلازم بين الهجران الباطن والهجران الظاهر فقد يجتمعان وقد يفترقان ، والهجر الباطن لا يلزم منه سوء المعاملة بل تُشرع أحياناً حسن المعاملة مع من يجب هجره باطناً وذلك بحسب المصلحة الشرعية.

وأما الهجر الظاهر فهو على قسمين:

1 - هجر إيجابي: وهو الصادر ممن له حق الزجر والتأديب إما بسلطة مادية كالأب مع أبنائه والزوج مع زوجته أو سلطة معنوية كالشيخ مع تلاميذه ، علماً بأن هذا الهجر يجب فيه إشعار المهجور بالهجر وسببه ، وهو إما دواء وإما تعزير، فإن كان من أجل معصية مستمرة فهو دواء، وإن كان من أجل معصية مضت وانتهت فهو تعزير ، وهذا الهجر الإيجابي كهجر الكلام والسلام وحسن التعامل وإظهار البغض لا يُشرع في حق من لا يُرجى الفائدة منه كالمنافقين والكفار الميئوس من رجوعهم للإسلام والسادة المطاعين مثلاً إذا أذنبوا أما الوقائي فهو مشروع مع كل أحد.

2 - هجر وقائي: وهو الذي يتقي الهاجر فيه شر المهجور دينياً أو دنيوياً أو الافتتان به وهو مشروع مع كل أحد بلا استثناء.

وهذا الهجر يجب أن يكون جميلاً ولا يلزم منه إشعار المهجور بالهجر وسببه.

وعلى هذا فيجب هجر صداقة كل كافر ومنافق مرتد وفاسق فاجر شره راجح على خيره هجراً وقائياً باستثناء الزوجة الكتابية ، هذا وإن كان لا مانع من حسن التعامل معهم وصحبتهم بالمعروف وصلتهم إذا اقتضت المصلحة الشرعية وذلك كصحبة الوالدين المشركين بالمعروف وصحبة الكافر في العمل والسفر والجوار بالحسنى وأما المرتد فإذا كان في بلد لا تُقيم عليه حد الشريعة فالأولى معاملته بالحسنى إذا اقتضت المصلحة ذلك لا سيما إذا كان تحته أولاد يُرجى انتشالهم من ضلاله وغيه.

وأما الهجر الايجابي فهو على ثلاث أنواع:

الأول: الهجر الإيجابي الذي يكون بين متخاصمين من المسلمين كلهم عدول وهو هجر لحظِّ النفس، أو على أمرٍ دنيوي وهو لا خير فيه ولا ثمرة تُرجى منه فهذا غير مشروع، بل هو منهيٌ عنه ومحرم إذا كان أكثر من ثلاث ويُستثنى من هذا النهي الهجر الوقائي الجميل لمن يُدخل عليك مضرة محققة في دنياك فذلك جائز بإجماع أهل العلم وأما من يُخل عليك الأذى دون الضرر فيجوز على مذهب بعض أهل العلم والورع والكمال يقتضي الصبر عليهم وصلتهم بالحسنى.

الثاني: الهجر الإيجابي الذي يكون بين متخاصمين من المسلمين لحقِّ الله، بأن يكون من أجل وقوع المهجور في بدعة أو معصية.
মনোনীত মতানুসারে বর্জন বা হিজরতের ফিকহী বিধানের সারসংক্ষেপ:

বর্জন বা হিজরত দুই প্রকার: বাহ্যিক বর্জন এবং অভ্যন্তরীণ বা আত্মিক বর্জন। অভ্যন্তরীণ বর্জন হলো বিদ্বেষবশত সম্পর্ক ছিন্ন করা, বর্জিত ব্যক্তির সাথে সৌহার্দ্য ত্যাগ করার মাধ্যমে। এই অভ্যন্তরীণ বর্জন কাফির, কপটচারী (منافق), ধর্মত্যাগী (مرتد) এবং সেই সব পাপাচারী (فاسق) ও দুশ্চরিত্র (فاجر) ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট, যাদের অনিষ্ট তাদের কল্যাণের ওপর প্রবল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। উল্লেখ্য যে, অভ্যন্তরীণ বর্জন এবং বাহ্যিক বর্জনের মধ্যে কোনো আবশ্যিক যোগসূত্র নেই; কখনো এ দুটি একত্রিত হয়, আবার কখনো পৃথক থাকে। অভ্যন্তরীণ বর্জনের অর্থ এই নয় যে তার সাথে দুর্ব্যবহার করতে হবে; বরং শরয়ি কল্যাণের (মাসলাহাত) ভিত্তিতে অনেক সময় এমন ব্যক্তির সাথেও সদ্ব্যবহার করা বিধিবদ্ধ, যাকে অভ্যন্তরীণভাবে বর্জন করা ওয়াজিব।

আর বাহ্যিক বর্জন দুই প্রকার:

1 - ইতিবাচক বর্জন: এটি এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পায় যার শাসন ও আদব প্রদানের অধিকার আছে। তা জাগতিক বা বস্তুগত কর্তৃত্বের মাধ্যমে হতে পারে, যেমন সন্তানের প্রতি পিতার বর্জন বা স্ত্রীর প্রতি স্বামীর বর্জন; অথবা তা হতে পারে আত্মিক বা নৈতিক কর্তৃত্বের মাধ্যমে, যেমন ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের বর্জন। উল্লেখ্য যে, এই প্রকার বর্জনের ক্ষেত্রে বর্জিত ব্যক্তিকে সেই বর্জন এবং তার কারণ সম্পর্কে অবগত করা আবশ্যক। এটি হয় চিকিৎসার মতো অথবা শাস্তি (تعزير) স্বরূপ। যদি কোনো চলমান পাপাচারের কারণে হয় তবে তা চিকিৎসা, আর যদি কোনো অতীত ও সমাপ্ত পাপাচারের কারণে হয় তবে তা শাস্তি (تعزير)। এই ইতিবাচক বর্জন—যেমন কথা বলা, সালাম বিনিময় ও সুন্দর আচরণ বন্ধ করা এবং বিদ্বেষ প্রকাশ করা—এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ নয় যার থেকে কোনো উপকারের আশা নেই; যেমন কপটচারী (منافق) ও কাফির, যাদের ইসলামে ফিরে আসার ব্যাপারে নিরাশ হওয়া গেছে এবং ওই সমস্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি যাদের আনুগত্য করা হয় তারা যখন গুনাহ করেন। তবে সুরক্ষামূলক বর্জন সবার ক্ষেত্রেই বিধিবদ্ধ।

2 - সুরক্ষামূলক বর্জন: এটি এমন বর্জন যার মাধ্যমে বর্জনকারী ব্যক্তি বর্জিত ব্যক্তির ধর্মীয় বা পার্থিব অনিষ্ট অথবা ফিতনা থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। এটি কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সবার ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ।

এই বর্জন হতে হবে 'হাজরে জামিল' বা সুন্দর বর্জন এবং এতে বর্জিত ব্যক্তিকে বর্জন বা তার কারণ সম্পর্কে অবগত করা আবশ্যক নয়।

এর ওপর ভিত্তি করে, প্রত্যেক কাফির, কপটচারী (منافق), ধর্মত্যাগী (مرتد) এবং এমন পাপাচারী (فاسق) ও দুশ্চরিত্র (فاجر) ব্যক্তি যার অনিষ্ট কল্যাণের ওপর প্রবল, তাকে সুরক্ষামূলকভাবে বর্জন করা ওয়াজিব। তবে আহলে কিতাব স্ত্রী এর ব্যতিক্রম। উল্লেখ্য যে, যদি শরয়ি কল্যাণ দাবি করে তবে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার, উত্তম সাহচর্য এবং সম্পর্ক রক্ষায় কোনো বাধা নেই। যেমন মুশরিক পিতামাতার সাথে উত্তম সাহচর্য রাখা, কর্মক্ষেত্রে, সফরে বা প্রতিবেশী হিসেবে কাফিরের সাথে সদাচরণ করা। আর ধর্মত্যাগী (مرتد) ব্যক্তির ক্ষেত্রে কথা হলো, সে যদি এমন দেশে থাকে যেখানে তার ওপর শরয়ি দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা হয় না, তবে প্রয়োজন ও কল্যাণ সাপেক্ষে তার সাথে সদাচরণ করাই শ্রেয়। বিশেষ করে যদি তার অধীনে এমন সন্তান থাকে যাদের তার গোমরাহি ও ভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করার আশা থাকে।

ইতিবাচক বর্জন তিন প্রকার:

প্রথম: সেই ইতিবাচক বর্জন যা মুসলিমদের মধ্যে বিবাদমান এমন দুই পক্ষের মধ্যে হয় যারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)। এটি ব্যক্তিস্বার্থ বা জাগতিক কোনো বিষয়ের কারণে হয়ে থাকে। এতে কোনো কল্যাণ বা সুফলের আশা নেই, তাই এটি বিধিবদ্ধ নয়। বরং এটি নিষিদ্ধ এবং হারাম যদি তা তিন দিনের বেশি হয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে ওই সুরক্ষামূলক সুন্দর বর্জন যা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে করা হয় যে আপনার দুনিয়াবি বিষয়ে নিশ্চিত ক্ষতির কারণ হয়; আলেমদের ঐকমত্যে তা বৈধ। আর যে ব্যক্তি কেবল কষ্ট দেয় কিন্তু ক্ষতি করে না, তার ক্ষেত্রে বর্জন করা কোনো কোনো আলেমের মতে জায়েজ। তবে তাকওয়া ও পূর্ণতা দাবি করে যে তাদের ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং সদাচরণের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখা।

দ্বিতীয়: সেই ইতিবাচক বর্জন যা মুসলিমদের মধ্যে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে আল্লাহর হকের খাতিরে হয়ে থাকে; অর্থাৎ বর্জিত ব্যক্তি কোনো নবউদ্ভাবন (بدعة) বা পাপে লিপ্ত হওয়ার কারণে যা করা হয়।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا هجر جائز من حيث الأصل ويختلف حكمه باختلاف المصلحة فإن تحققنا وقوع المصلحة وجب الهجر وإن ظننا ظناً غالباً استُحب الهجر وإن شككنا فيحرم الهجر إن كان المهجور عدلاً أو عاصياً مستتراً غير فاجر ولا مجاهر أو ممن له حق واجب في الصلة كالزوجة الكتابية والوالدين المشركين.

الثالث: الهجر الإيجابي الذي يكون بين متخاصمين أحدهما مسلم والآخر كافر أو منافق أو فاسق فاجر شره راجح على خيره ، وهو لا خير فيه ولا ثمرة تُرجى منه

منه فهذا غير مشروع لكنه جائز مع الكراهة الشديدة.

وهنا مسألة وهي هل نفهم مما تقدم أن هجر الظالمين هجراً مطلقاً لا يكون على الإطلاق وأن في المسألة تفصيل ولها ضوابط؟

بالطبع هجر الظالمين ليس على الإطلاق فالظالمين أنواع لكل نوع منهم الفقه الذي يضبط كيفية التعامل معهم والقدر الذي يستحقون من الوصل أو الهجر وهم أقسام:

القسم الأول: الكفار وهم أصناف:

الصنف الأول: الكفار المحاربون والمرتدون: فهؤلاء يتعين ويجب هجرهم إيجابياً واعتزالهم عندما يأبون إلا العناد والإعراض عن الحق ويتعين اعتزال مجالسهم ولا حظ لهم في حسن التعامل والخلق معهم وزيارتهم بل الواجب في حقهم جهادهم ومدافعة شرورهم إلا أن هناك من أهل العلم من اعتبر المصلحة في اعتزال وهجر المرتد إذا كان يعسر التحرز من هجره لأي سبب كان وخاصة مع عدم وجود الحاكم المسلم الذي يُقيم الحد على هذا المرتد بعد استتابته فيكون تأليفه أولى في هذه الحال مع مناصحته.

الصنف الثاني: الكفار الأصليون المسالمون: فهؤلاء يتعين ويجب هجر صداقتهم وقائياً إلا أن هجر صداقتهم يكون دون هجر حسن التعامل معهم والتلطف لهم إلى حد ما ولكن يجوز هجرهم إيجابياً إذا اقتضت المصلحة ذلك.

وعلى هذا فالأصل في التعامل مع الكافرين المُعرضين الهجر الوقائي لهم والاعتزال وهذا الأصل هو حكم عام توجد له حالات خاصَة مُستثناة يشرع فيها الوصل بقدر، ومنها إحسان الولد المسلم لأبويه الكافرين ووصلهما بالمعروف على أن لا يطيعهما في الشرك أو في شيء فيه معصية الله ، ومنها صلة القريب الكافر بالمعروف ومنها عندما يستجير المشرك بالمسلمين ويطلب منهم الجوار ليسمع كلام الله ونحو ذلك ففي مثل هذه الحالة يحسن أن يستجار ويوصل بالقدر الذي يحقق الغرض من إجارته ومنها إذ قُدر للمسلم أن يجاور كافراً أو مشركاً فحينئذٍ ينبغي عليه أن يُحسن التعامل مع جاره ويصله بالمعروف لأن للجار حقاً ولو كان كافراً، ومنها إن كان الكافر من المؤلفة قلوبهم وظهرت عليه القرائن الدالة على ميوله ورغبته في الإسلام فيستحسن حينئذٍ وصله والإحسان إليه تثبيتاً له على الحق، ومنها الخلطة التي لابد منها للداعية إلى الله تعالى، ومنها أن يُقابل جميل أو معروف الكافر بمعروف آخر مشروع.

وعلى هذا يتبين لك أن هجر الكفار يتفاوت بحسب درجة عناد وعداوة كل كافر أو طائفة من طوائف الكفر فلا ينبغي أن يُعامل الكفار معاملة واحدة وعليه فكلما تغلظ كفر الكافر واشتد عناده وإعراضه عن الحق كلما تعيَن الهجر والاعتزال بحقه
এটি মূলত একটি বৈধ বর্জন এবং জনকল্যাণের (মাসলাহাত) ভিন্নতা অনুযায়ী এর বিধানও ভিন্ন হয়। যদি আমরা নিশ্চিত হই যে এতে জনকল্যাণ সাধিত হবে, তবে বর্জন করা ওয়াজিব হবে। আর যদি আমরা প্রবল ধারণা পোষণ করি তবে বর্জন করা মুস্তাহাব হবে। আর যদি আমরা সন্দিহান হই, তবে বর্জন করা হারাম হবে যদি যাকে বর্জন করা হচ্ছে সে ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হয় অথবা সে এমন অবাধ্য (عاصي) হয় যে গোপনে গুনাহ করে কিন্তু পাপাচারী (فاجر) নয় এবং প্রকাশ্যে পাপ করে না, অথবা সে এমন ব্যক্তি হয় যার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব, যেমন আহলে কিতাব স্ত্রী এবং মুশরিক পিতামাতা।

তৃতীয়ত: ইতিবাচক বর্জন যা এমন দুই বিবাদমান ব্যক্তির মধ্যে হয় যাদের একজন মুসলিম এবং অন্যজন কাফির অথবা মুনাফিক (منافق) অথবা পাপাচারী (فاسق) ও দুশ্চরিত্র (فاجر), যার অনিষ্ট তার কল্যাণের চেয়ে বেশি। এতে কোনো কল্যাণ নেই এবং কোনো ফলও আশা করা যায় না।

এটি শরিয়তসম্মত নয়, তবে চরম মাকরূহ হওয়া সত্ত্বেও এটি বৈধ।

এখানে একটি মাসআলা হলো, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা কি এটিই বুঝবো যে জালেমদের বর্জন করার বিষয়টি ঢালাও নয় এবং এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে?

অবশ্যই জালেমদের বর্জন করার বিষয়টি ঢালাও নয়। কেননা জালেমরা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। তাদের প্রত্যেক প্রকারের সাথে আচরণের পদ্ধতি এবং তাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা বা বর্জনের পরিধি নির্ধারণের জন্য সুনির্দিষ্ট ফিকহ রয়েছে। তারা কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত:

প্রথম বিভাগ: কাফির সম্প্রদায়, তারা কয়েক প্রকারের:

প্রথম প্রকার: যুদ্ধরত কাফির এবং মুরতাদ (مرتد): এদেরকে ইতিবাচকভাবে বর্জন করা এবং এদের থেকে পৃথক থাকা ওয়াজিব ও আবশ্যক হয়ে যায় যখন তারা সত্য বিমুখতা ও হঠকারিতা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের মজলিস বর্জন করা আবশ্যক এবং তাদের সাথে সদাচরণ, সদ্ব্যবহার ও তাদের পরিদর্শনের কোনো সুযোগ নেই; বরং তাদের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং তাদের অনিষ্ট প্রতিরোধ করা। তবে আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ মুরতাদ (مرتد) ব্যক্তিকে বর্জন ও তার থেকে পৃথক থাকার ক্ষেত্রে জনকল্যাণকে বিবেচনায় নিয়েছেন, যদি কোনো কারণে তাকে বর্জন করা কঠিন হয়। বিশেষ করে এমন কোনো মুসলিম শাসক যদি না থাকে যিনি তাওবা করানোর পর সেই মুরতাদ (مرتد) ব্যক্তির ওপর হদ কায়েম করবেন, তবে এই অবস্থায় নসিহত করার পাশাপাশি তার মন জয় করার চেষ্টা করাই উত্তম হবে।

দ্বিতীয় প্রকার: শান্তিপ্রিয় মূল কাফির সম্প্রদায়: এদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বর্জন করা সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াজিব ও আবশ্যক। তবে তাদের সাথে বন্ধুত্ব বর্জন করার অর্থ এই নয় যে তাদের সাথে সদাচরণ ও শিষ্টাচার বর্জন করতে হবে। তবে জনকল্যাণের দাবি অনুযায়ী তাদের ইতিবাচকভাবে বর্জন করা জায়েজ।

সুতরাং, সত্যবিমুখ কাফিরদের সাথে আচরণের মূলনীতি হলো সুরক্ষামূলক বর্জন এবং তাদের থেকে পৃথক থাকা। এটি একটি সাধারণ বিধান যার কিছু ব্যতিক্রমী অবস্থা রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট মাত্রায় সম্পর্ক বজায় রাখা বৈধ। এর মধ্যে রয়েছে: মুসলিম সন্তানের তার কাফির পিতামাতার সাথে সদাচরণ করা এবং ন্যায়সংগতভাবে সম্পর্ক রক্ষা করা, তবে শিরক বা আল্লাহর নাফরমানি হয় এমন কোনো কাজে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। কাফির আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহার করা। কোনো মুশরিক যখন মুসলিমদের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে যেন সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, তখন তাকে আশ্রয় দেওয়া এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল হওয়া পর্যন্ত সম্পর্ক বজায় রাখা উত্তম। এছাড়া যদি কোনো মুসলিমের প্রতিবেশী কাফির বা মুশরিক হয়, তবে তার প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করা এবং সদ্ব্যবহার বজায় রাখা উচিত, কারণ কাফির হলেও প্রতিবেশীর অধিকার রয়েছে। যদি কোনো কাফির ইসলামের প্রতি অনুরাগী (المؤلفة قلوبهم) হয় এবং তার মধ্যে ইসলামের প্রতি ঝোঁক বা আগ্রহের আলামত প্রকাশ পায়, তবে তাকে হকের ওপর অবিচল রাখার জন্য তার সাথে সুসম্পর্ক ও সদাচরণ করা উত্তম। আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী দাঈর জন্য অপরিহার্য মেলামেশাও এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া কোনো কাফিরের সুকর্ম বা উপকারের প্রতিদান বৈধভাবে উত্তম আচরণের মাধ্যমে দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।

এর দ্বারা আপনার কাছে স্পষ্ট হলো যে, কাফিরদের বর্জন করার বিষয়টি প্রত্যেক কাফির বা কাফির সম্প্রদায়ের হঠকারিতা ও শত্রুতার মাত্রা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই সকল কাফিরের সাথে একই ধরনের আচরণ করা উচিত নয়। সুতরাং কাফিরের কুফরি যত প্রকট হবে এবং সত্যের প্রতি তার হঠকারিতা ও বিমুখতা যত তীব্র হবে, তাকে বর্জন করা এবং তার থেকে পৃথক থাকা ততটাই জরুরি হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল হাজর ওয়াল হিজরাহ ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وكلما ظهر الكافر ميله إلى الحق وظهرت رغبته فيه كلما خفَت حدَة الهجر والاعتزال بحقه وكان للوصل مبرراته ومسوغاته الشرعية.

القسم الثاني: أهل البدع الداعون لبدعتهم سواءً كان مسلماً أو كان كافراً:

فهؤلاء يتعين ويجب هجرهم إيجابياً واعتزالهم والإنكار عليهم والتحذير منهم ولو كان المبتدع متأولاً معذوراً عند الله.

القسم الثالث: أهل البدع المسلمون العوام المقلدة الغير دعاة إلى بدعهم:

فهؤلاء لا يجوز هجرهم إيجابياً إلا لمصلحة راجحة ، وعليه فيجب التلطف معهم وكشف الشبهات عنهم ومناصحتهم بالتي هي أحسن ، فإذا أقيمت عليهم الحجة ولم يمتثلوا فيُلحقون بأهل المعاصي والذنوب من المسلمين.

القسم الرابع: الظالمين المجاهرين من ذوي الذنوب والمعاصي والكبائر التي دون الكفر:

فهؤلاء يتعين ويجب هجر صداقتهم وقائياً إلا أن هجر صداقتهم يكون دون هجر حسن التعامل معهم والتلطف لهم إلى حد ما ، وذلك لوجود عقد الإسلام الذي يوجب الموالاة والوصل إلا أنه يجب التباعد عنهم حال تلبسهم بالمعاصي والذنوب ، وأما هجرهم إيجابياً فيجوز إذا اقتضت المصلحة ذلك بل يجب أحياناً.

وعلى هذا يتبين لك أن إظهار البغض والهجر الإيجابي للفساق الراجح شرهم على خيرهم ليست له قاعدة مطردة بل الأمر يختلف باختلاف الأشخاص الواقعين في المعصية، وباختلاف المعاصي، وباختلاف الأشخاص المظهرين للبغض والهجر كذلك.

فهذه المسألة شبيهة بمسألة المريض والمرض والطبيب فالمرض شيء موجود، ولكن لكل مرض علاج وعلاج المرض الواحد يختلف باختلاف المرضى، وباختلاف الأطباء فتكون المسألة مسألة اجتهادية في حدود السياسة الشرعية، ولكن إذا اقتضى الأمر إظهار البغض والهجر الإيجابي فإن إظهاره تارة يكون بالقول، وتارة بالفعل، وتارة بهما جميعًا.

فأما إظهار البغض بالقول فيكون بكف اللسان عن مكالمته ومحادثته مدة، أو بالاستخفاف به والتغليظ له في القول تارة أخرى، وأما إظهار البغض بالفعل، فبقطع السعي في إعانته مرة، وبالسعي في إساءته وإفساد مآربه مرة أخرى، وإظهار العداوة والبغض والهجر الإيجابي فيما تقدم إنما يكون مع الأشخاص الذين أظهروا المعصية ولم يندموا عليها، أما من أظهر الندامة، وأقلع عن المعصية فالأولى أن نصفح عنه ونستره، ولا نُظهر له العداوة ولا نهجره تعزيرا.

القسم الرابع: الظالمين المستترين من ذوي الذنوب والمعاصي التي دون الكفر:

فهؤلاء لا يجوز هجرهم إلا لمصلحة راجحة على صلتهم.

وهنا أكثر من تنبيه على ما تقدم الأول هو أن الهجر الإيجابي لا يُشرع إذا كان الهاجر بحاجة المهجور في المهجور به كهجر الزوج لزوجته إذا كان بحاجة إلى جماعها مثلاً ووجد حرج من ذلك.

والتنبيه الثاني هو أن الاحترام المتبادل والمعاملة الظاهرة بالبيع والشراء ونحوه لمن يجب هجره وقائياً لا يدخل في المحظور وإنما المحظور هو المكالمة بالموادة
একজন কাফির (كافر) যখনই সত্যের প্রতি তার ঝোঁক এবং আগ্রহ প্রকাশ করে, তখনই তার প্রতি বর্জন (هجر) ও বিচ্ছিন্নতার (اعتزال) তীব্রতা হ্রাস পায় এবং তার সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার শরয়ি যৌক্তিকতা ও কারণসমূহ তৈরি হয়।

দ্বিতীয় প্রকার: সেই বিদআতপন্থীরা (أهل البدع) যারা তাদের বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বান করে, তারা মুসলিম হোক বা কাফির (كافر):

এদেরকে সংশোধনমূলক বর্জন (هجر إيجابي) করা, তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, তাদের কর্মের প্রতিবাদ করা এবং তাদের সম্পর্কে সতর্ক করা আবশ্যক ও ওয়াজিব; যদিও সেই বিদআতি (مبتدع) ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ওজরপ্রাপ্ত অপব্যাখ্যাকারী (متأول) হয়ে থাকেন।

তৃতীয় প্রকার: সাধারণ মুসলিম বিদআতপন্থী যারা অন্ধ অনুসারী (مقلدة) এবং নিজেদের বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বানকারী নয়:

প্রাধান্যযোগ্য কল্যাণ (مصلحة راجحة) ছাড়া এদেরকে সংশোধনমূলক বর্জন (هجر إيجابي) করা বৈধ নয়। বরং তাদের সাথে নম্র আচরণ করা, তাদের সংশয়গুলো নিরসন করা এবং সর্বোত্তম পন্থায় নসিহত করা আবশ্যক। এরপর যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তারা তা মেনে না নেয়, তবে তাদেরকে মুসলিমদের মধ্যে পাপাচারী ও গুনাহগারদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

চতুর্থ প্রকার: প্রকাশ্য জালেম, যারা এমন সব পাপ, নাফরমানি এবং কবিরা গুনাহে (كبائر) লিপ্ত যা কুফরের (كفر) পর্যায়ভুক্ত নয়:

সতর্কতামূলক বর্জন (هجر وقائي) হিসেবে এদের সাথে বন্ধুত্ব ত্যাগ করা আবশ্যক। তবে এদের সাথে বন্ধুত্ব বর্জন করার অর্থ এই নয় যে, তাদের সাথে সুন্দর আচরণ ও কিছুটা নম্রতা প্রদর্শনও ত্যাগ করতে হবে। কারণ, এখানে ইসলামের সেই বন্ধন বিদ্যমান যা হৃদ্যতা ও সম্পর্ক বজায় রাখাকে আবশ্যক করে। তবে তারা যখন পাপে লিপ্ত থাকে, তখন তাদের থেকে দূরে থাকা ওয়াজিব। আর তাদের সংশোধনমূলক বর্জন (هجر إيجابي) করার বিষয়টি যদি জনকল্যাণের পরিপন্থী না হয় তবে তা বৈধ, বরং কখনও কখনও ওয়াজিব।

এর মাধ্যমে আপনার নিকট স্পষ্ট হলো যে, সেই সব ফাসেকদের (فساق) প্রতি ঘৃণা প্রকাশ এবং সংশোধনমূলক বর্জন (هجر إيجابي) করা—যাদের মন্দের পাল্লা ভালোর চেয়ে ভারী—তার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। বরং এটি পাপে লিপ্ত ব্যক্তি, পাপের ধরন এবং ঘৃণা ও বর্জন প্রকাশকারী ব্যক্তির অবস্থাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়।

এই বিষয়টি রোগী, রোগ এবং চিকিৎসকের দৃষ্টান্তের মতো। রোগ একটি বিদ্যমান বিষয়, কিন্তু প্রতিটি রোগের চিকিৎসা রয়েছে। আবার একই রোগের চিকিৎসা ভিন্ন ভিন্ন রোগী ও ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসক ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং বিষয়টি সিয়াসাহ শারইয়্যাহ (سياسة شرعية)-এর কাঠামোর মধ্যে একটি ইজতিহাদি (اجتهادي) বিষয়। তবে যদি ঘৃণা প্রকাশ ও সংশোধনমূলক বর্জন (هجر إيجابي)-এর প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তা কখনো কথার মাধ্যমে হয়, কখনো কাজের মাধ্যমে হয়, আবার কখনো উভয়টির সমন্বয়ে হয়।

কথার মাধ্যমে ঘৃণা প্রকাশ হলো—একটানা কিছুকাল তার সাথে কথোপকথন ও আলাপচারিতা বন্ধ রাখা, অথবা কখনো তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং কঠোর ভাষায় কথা বলা। আর কাজের মাধ্যমে ঘৃণা প্রকাশ হলো—কখনো তাকে সাহায্য করা বন্ধ করে দেওয়া, আবার কখনো তার অসৎ উদ্দেশ্য নস্যাৎ করে দেওয়া। ইতিপূর্বে ঘৃণা, শত্রুতা ও সংশোধনমূলক বর্জন (هجر إيجابي) প্রকাশের যে কথা বলা হয়েছে, তা কেবল সেই সব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যারা প্রকাশ্য পাপে লিপ্ত এবং তজ্জন্য অনুতপ্ত নয়। কিন্তু যে ব্যক্তি অনুতপ্ত হয় এবং পাপ ত্যাগ করে, তাকে ক্ষমা করা এবং তার দোষ গোপন রাখাই উত্তম। তার প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করা যাবে না এবং শাস্তিমূলক বর্জন (تعزيرا) করা যাবে না।

চতুর্থ প্রকার (পুনশ্চ): গোপনে পাপাচারী জালেমগণ, যারা কুফরের (كفر) নিম্নপর্যায়ের পাপ ও নাফরমানিতে লিপ্ত:

তাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষার চেয়ে বর্জন করার মাঝে যদি প্রাধান্যযোগ্য কল্যাণ (مصلحة راجحة) না থাকে, তবে তাদেরকে বর্জন করা বৈধ নয়।

এখানে পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে কয়েকটি সতর্কতা রয়েছে। প্রথমটি হলো: সংশোধনমূলক বর্জন (هجر إيجابي) তখন শরয়িভাবে সিদ্ধ হবে না যখন বর্জনকারী (هاجر) ব্যক্তিটি যে বিষয়ে বর্জন করছে তাতে বর্জিত ব্যক্তির (مهجور) মুখাপেক্ষী হয়। যেমন—একজন স্বামী কর্তৃক তার স্ত্রীকে বর্জন করা, অথচ স্বামীর শারীরিক চাহিদা রয়েছে এবং এতে সে সমস্যার সম্মুখীন হয়।

দ্বিতীয় সতর্কতা হলো: যাকে সতর্কতামূলক বর্জন (هجر وقائي) করা ওয়াজিব, তার সাথে পারস্পরিক সৌজন্য বজায় রাখা এবং ক্রয়-বিক্রয় বা এই জাতীয় বাহ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং যা নিষিদ্ধ তা হলো ভালোবাসাপূর্ণ হৃদ্যতাপূর্ণ (موادة) আলাপচারিতা।