(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: -)
أحكام الألفاظ وأحكام الطلاق والأيمان والنذور   (أبو فيصل البدراني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام الألفاظ وأحكام الطلاق والأيمان والنذور

المؤلف: أبو فيصل البدراني

عدد الصفحات: 14

[ترقيم الكتاب موافق لنسخة المؤلف]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1433

শব্দের বিধান এবং তালাক, শপথ ও মানতের বিধান   (আবু ফয়সাল আল-বদরানী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: শব্দের বিধান এবং তালাক, শপথ ও মানতের বিধান

লেখক: আবু ফয়সাল আল-বদরানী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা লেখকের মূল কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ১)
"بسم الله الرحمن الرحيم"

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين ، أما بعد:

فهذه رسالة تُعالج مسائل ألفاظ المكلفين من حيث اعتبارها في الشرع من عدمه ، وأحكام الطلاق والأيمان والنذور ، وقد جمعت في هذه الرسالة مسائل مهمة متفرقة عن هذه المواضيع وجعلتها على هيأة نقاط ، علماً بأن هذه المسائل مُستفادة من استقراء الكتاب والسنة، لكنها مجرَدة عن الأدلة بُغية الاختصار والاختزال إذ المقام ليس مقام إطالة وإسهاب.

 

‌‌(أحكام الألفاظ)

- تغيير الاسم لا يغير المسمَى.

- مقاصد اللفظ على نية اللافظ ولا عبرة بقول لم يقصده قائله.

- مقاصد اللفظ على نية اللافظ إلا في موضوع واحد وهو الحلف في الدعاوى فهو على نية المستحلف.

- هناك أمور تنعقد باللفظ ولو قيلت على سبيل المزاح وهي (التلفظ بالنذر والطلاق والعتق) ولكنها تنعقد إذا كان اللفظ صريحاً وقصد التكلم بهذا اللفظ (أي لم يكن سبق لسان) ، لكن لو تلفظ بالنذر أو الطلاق أو العتق بلفظ غير صريح أي كناية فإنه لا يقع إذا كان على سبيل المزاح أو لم يقصد حقيقته.

- العبرة عند الله عز وجل في الأقوال والأفعال هي المقاصد.

- الألفاظ قوالب المعاني فلا عبرة باللفظ بلا معناه.

- الأذكار والتحصينات الشرعية والرقية وجميع الأوراد لها شروط ولها موانع فمن حقق شرطها واجتنب موانعها حصل على ثمرتها تامة والأوراد والأذكار والاستعاذة تكون بحسب ما يقوم بالقلب والسيف بضاربه.

- كلما كان المؤمن حسن الصلة بالله كان لذكره ودعائه وتعوذه وورده أثر أقوى.

- القول اللساني للأذكار والدعاء والاستعاذة بدون المعارف القلبية قيل أنه عديم الفائدة والأثر، والراجح أن الله يُثيب الذاكر وإن كان قلبه غافلاً ولكن ثواب دون ثواب.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলদের প্রতি। অতপর:

এটি একটি পুস্তিকা যা শরিয়তে মুকাল্লাফ বা বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের উচ্চারণসমূহ গ্রহণযোগ্য হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি এবং তালাক, কসম ও মানতের বিধানাবলি নিয়ে আলোচনা করে। আমি এই পুস্তিকাটিতে এসব বিষয় সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বিক্ষিপ্ত মাসআলা একত্রিত করেছি এবং সেগুলোকে পয়েন্ট আকারে সাজিয়েছি। উল্লেখ্য যে, এই মাসআলাসমূহ কুরআন ও সুন্নাহর অনুসন্ধান (استقراء) থেকে সংগৃহীত, তবে সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে এগুলোকে দলিলবিহীন রাখা হয়েছে; কারণ এটি বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়।

 

‌‌(শব্দাবলির বিধানাবলি)

- নামের পরিবর্তন নামধারী বস্তুর পরিবর্তন ঘটায় না।

- শব্দের উদ্দেশ্য বক্তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং বক্তা যা উদ্দেশ্য করেনি এমন কথার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

- শব্দের উদ্দেশ্য বক্তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, কেবল একটি বিষয় ব্যতিরেকে; আর তা হলো মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে কসম, কারণ তা কসম গ্রহণকারীর নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।

- এমন কিছু বিষয় আছে যা উচ্চারণের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়ে যায়, যদিও তা ঠাট্টাচ্ছলে বলা হয়; আর সেগুলো হলো (মানত, তালাক ও দাসমুক্তির উচ্চারণ)। তবে এগুলো তখনই কার্যকর হয় যখন শব্দগুলো স্পষ্ট (صريح) হয় এবং তা উচ্চারণের সংকল্প থাকে (অর্থাৎ জিহ্বার স্খলন না হয়)। কিন্তু যদি মানত, তালাক বা দাসমুক্তির ক্ষেত্রে অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতবহ (كناية) শব্দ ব্যবহার করা হয়, তবে ঠাট্টাচ্ছলে বলা হলে বা এর প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য না থাকলে তা কার্যকর হবে না।

- মহান আল্লাহর নিকট কথা ও কাজের ক্ষেত্রে নিয়ত বা উদ্দেশ্যই হলো মূল বিবেচ্য।

- শব্দ হলো অর্থের কাঠামো, তাই অর্থহীন শব্দের কোনো গুরুত্ব নেই।

- জিকিরসমূহ, শরয়ি সুরক্ষা, ঝাড়ফুঁক (রুকইয়াহ) এবং সকল প্রকার ওজিফার নির্দিষ্ট শর্তাবলি ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এর শর্তসমূহ পূরণ করবে এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো বর্জন করবে, সে এর পূর্ণ ফল লাভ করবে। আর ওজিফা, জিকির ও আশ্রয় প্রার্থনা অন্তরের অবস্থার ওপর নির্ভর করে; যেমন তলোয়ারের কার্যকারিতা নির্ভর করে তার চালনাকারীর ওপর।

- মুমিনের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, তার জিকির, দোয়া, আশ্রয় প্রার্থনা ও ওজিফার প্রভাব তত শক্তিশালী হবে।

- অন্তরের একাগ্রতা ছাড়া কেবল মুখে জিকির, দোয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করাকে কেউ কেউ নিস্ফল ও প্রভাবহীন বলেছেন। তবে বিশুদ্ধতর (الراجح) মত হলো, আল্লাহ জিকিরকারীকে সওয়াব দান করবেন যদিও তার অন্তর অন্যমনস্ক থাকে, তবে এই সওয়াব এবং একাগ্রতাপূর্ণ জিকিরের সওয়াব এক নয়।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ২)
- الكلام الذي يُقصد به التعليم والتفهيم والحكاية وضرب المثل لا يؤاخذ به الإنسان شرعاً مثل الطلاق والنكاح والنذر والعتق والأيمان ونحوهما وكذلك كلام الكفر بشرط ألا يكون على وجه الرضى والاستحسان.

- كثرة اعتياد اللسان على بعض الألفاظ سبب للرخصة وعدم مؤاخذته بها.

- الألفاظ ما هي إلا قوالب للمعاني، والألفاظ لا تُقصد لذواتها وإنما هي أدلة يُستدل بها على مراد المتكلم فإذا أظهر مراده عمل مقتضاه قضاءً سواء كان بإشارة أو كتابة ، وجمهور الفقهاء متفقون على أن الكناية لا تلزم قضاءً ومن باب أولى ديانة إلا بالنية.

- لا ينبغي اعتبار الألفاظ وإلغاء النيات والمقاصد فإذا ما ألغيت المقاصد واعتبرت الألفاظ كان هذا إلغاء لما يجب اعتباره واعتباراً لما يسوغ إلغاؤه والشارع ألغى الألفاظ التي لم يقصد المتكلم بها معانيها بل جرت على لسانه من غير قصد كالنائم والناسي والسكران والجاهل والمكره والمخطيء لشدة الفرح أو الغضب ونحوه.

- كل لفظ بغير قصد من المتكلم لسهو أو سبق لسان فإنه لا يترتب عليه حكم، فالقصد والنية إذا عارضت اللفظ كانت هي المعتبرة لا اللفظ.

- من تلفظ بلفظ بسبب ضغط الوسواس عليه فإنه لا يؤاخذ به وهو لغو.

- الغلط والنسيان والسهو وسبق اللسان بما لا يريده العبد بل يريد خلافه به مكرهاً أو غير عارف لمقتضاه من لوازم البشرية لا يكاد ينفك الإنسان من شيء منه فلو رتب عليه الحكم لحرجت الأمة وأصابها غاية التعب والمشقة فرفع عنها المؤاخذة بذلك كله حتى الخطأ في اللفظ من شدة الفرح والغضب والسكر وكذلك الخطأ والنسيان والإكراه والجهل بالمعنى وسبق اللسان بما لم يرده والتكلم في الإغلاق ولغو اليمين فهذه عشرة أشياء لا يؤاخذ الله بها عبده بالتكلم في حال منها لعدم قصده وعقد قلبه الذي يؤاخذ به ، قال ابن القيم في إغاثة اللهفان: قاعدة الشريعة أن العوارض النفسية لها تأثير في القول إهدارا واعتبارا، وإعمالا وإلغاء، وهذا كعارض النسيان والخطأ والإكراه والسكر والجنون والخوف والحزن والغفلة والذهول، ولهذا يحتمل من الواحد من هؤلاء من القول ما لا يحتمل من غيره، ويعذر بما لا يعذر به غيره، لعدم تجرد القصد والإرادة ووجود الحامل على القول وجعل النبي صلى الله عليه وسلم الغضب مانعا من تكفير من قال له ولأصحابه: هل أنتم إلا عبيد لأبي. وجعل الله سبحانه الغضب مانعا من إجابة الداعي على نفسه وأهله، وجعل سبحانه
শিক্ষা দান, অনুধাবন করানো, বর্ণনা করা এবং উদাহরণ পেশ করার উদ্দেশ্যে বলা কথাগুলোর জন্য শরয়ীভাবে কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করা হয় না; যেমন—তালাক, বিবাহ, মানত, দাসমুক্তি, শপথ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। একইভাবে কুফরি বাক্যও (এর অন্তর্ভুক্ত), যদি তা সন্তুষ্টি ও পছন্দের ভিত্তিতে না হয়।

কিছু শব্দের প্রতি জিহ্বার অত্যধিক অভ্যস্ত হওয়া সেগুলোর ক্ষেত্রে শিথিলতা (رخصة) এবং পাকড়াও না হওয়ার কারণ।

শব্দসমূহ কেবল অর্থের কাঠামো মাত্র। শব্দগুলো স্বয়ং নিজে উদ্দেশ্য নয়, বরং সেগুলো বক্তার উদ্দেশ্য বোঝার প্রমাণ (دليل) যার মাধ্যমে তার লক্ষ্য অনুমিত হয়। সুতরাং যখন সে তার উদ্দেশ্য প্রকাশ করে দেয়, তখন বিচার বিভাগীয়ভাবে (قضاءً) তার দাবি অনুযায়ী আমল করা হয়, তা ইঙ্গিতের মাধ্যমে হোক বা লেখার মাধ্যমে। অধিকাংশ ফকিহ (আইনবিদ) একমত যে, পরোক্ষ উক্তি (كناية) বিচার বিভাগীয়ভাবে (قضاءً) এবং আরও জোরালোভাবে ধর্মীয়ভাবে (ديانةً) আবশ্যক হয় না, যতক্ষণ না তাতে নিয়ত থাকে।

শব্দকে গণ্য করা এবং নিয়ত ও উদ্দেশ্যকে বর্জন করা অনুচিত। যখন উদ্দেশ্যসমূহ বাতিল করে কেবল শব্দাবলীকে বিবেচনা করা হয়, তখন যা বিবেচনা করা ওয়াজিব (واجب) তা বর্জন করা হবে এবং যা বর্জন করা বৈধ তা বিবেচনা করা হবে। শরীয়ত প্রণেতা এমন শব্দাবলী বাতিল করেছেন যেগুলোর অর্থ বক্তা উদ্দেশ্য করেনি, বরং তা অনিচ্ছাকৃতভাবে তার মুখে চলে এসেছে; যেমন—নিদ্রিত (نائم), বিস্মৃত (ناسي), মত্ত (سكران), অজ্ঞ (جاهل), বাধ্য হওয়া ব্যক্তি (مكره) এবং অত্যধিক আনন্দ বা রাগের কারণে ভুলকারী (مخطئ) ইত্যাদি।

ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত অনিচ্ছাকৃত প্রতিটি শব্দ যা বক্তার মুখ থেকে বের হয়, তার ওপর কোনো বিধান (حكم) বর্তায় না। সুতরাং সংকল্প ও নিয়ত যদি শব্দের পরিপন্থী হয়, তবে নিয়তই গ্রহণযোগ্য হবে, শব্দ নয়।

কুমন্ত্রণার (وسواس) চাপে পড়ে কেউ কোনো কথা উচ্চারণ করলে তাকে তার জন্য দায়ী করা হবে না এবং তা অনর্থক (لغو) হিসেবে গণ্য হবে।

ভুল, বিস্মৃতি, অসাবধানতা এবং অনিচ্ছাকৃত জিহ্বার স্খলন যা বান্দা চায় না—বরং তার বিপরীতে কিছু চায়—এমনকি জবরদস্তি (مكره) বা পরিণাম না বুঝে করা কাজগুলো মানুষের সহজাত প্রকৃতির অংশ (لوازم البشرية), যা থেকে মানুষ প্রায়ই মুক্ত থাকতে পারে না। যদি এর ওপর বিধান (حكم) আরোপ করা হতো, তবে উম্মত সংকটে পড়ত এবং চরম ক্লান্তি ও কষ্টের সম্মুখীন হতো। তাই এই সমস্ত বিষয় থেকে জবাবদিহিতা তুলে নেওয়া হয়েছে; এমনকি অত্যধিক আনন্দ, রাগ ও মত্ততার (سكر) কারণে শব্দের ভুল, তেমনিভাবে ভুল, বিস্মৃতি, জবরদস্তি (إكراه), অর্থের অজ্ঞতা (جهل), অনিচ্ছাকৃত মুখ ফসকে যাওয়া, চরম উত্তেজনায় বা বদ্ধাবস্থায় (إغلاق) কথা বলা এবং অনর্থক শপথ (لغو اليمين)। এই দশটি বিষয় এমন যেগুলোর ক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে পাকড়াও করবেন না, কারণ এতে কোনো উদ্দেশ্য বা অন্তরের সংকল্প (عقد القلب) নেই যার কারণে পাকড়াও করা হয়। ইবনুল কাইয়্যিম 'ইগাছাতুল লাহফান' গ্রন্থে বলেছেন: শরীয়তের মূলনীতি (قاعدة) হলো—মানসিক অবস্থাগুলোর কথার ওপর প্রভাব রয়েছে, তা বর্জন বা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এবং কার্যকর বা বাতিল করার ক্ষেত্রে। আর এটি বিস্মৃতি, ভুল, জবরদস্তি, মত্ততা, উন্মাদনা, ভয়, দুঃখ, গাফিলতি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মতো আপদসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই কারণে তাদের মধ্য থেকে একজনের ক্ষেত্রে এমন কথা সহ্য করা হয় যা অন্য কারও ক্ষেত্রে সহ্য করা হয় না, এবং তাকে এমন বিষয়ে ওজর দেওয়া হয় যা অন্য কাউকে দেওয়া হয় না; কারণ সেখানে বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য ও ইচ্ছার অভাব এবং কথা বলার পেছনে একটি প্রভাবক উপস্থিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগকে ওই ব্যক্তিকে কাফির বলা (تكفير) থেকে বিরত রাখার কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন যে তাঁকে ও তাঁর সাহাবীদের বলেছিল: "তোমরা কি আমার বাবার গোলাম ছাড়া আর কিছু?" এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাগকে নিজের বা পরিবারের বিরুদ্ধে প্রার্থনাকারীর দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক করেছেন এবং তিনি সুবহানাহু...
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ৩)
الإكراه مانعا من كفر المتكلم بكلمة الكفر، وجعل الخطأ والنسيان مانعا من المؤاخذة بالقول والفعل. انتهى.

وجاء في الموسوعة الفقهية: اللفظ هو الصورة التي تحمل مراد المتكلم إلى السامع، فإذا كان صاحب اللفظ جاهلا بمعناه كالأعجمي لم يعد اللفظ صالحا لتأدية هذا المعنى، فيسقط اعتباره. جاء في قواعد الأحكام: إذا نطق الأعجمي بكلمة كفر أو إيمان أو طلاق أو بيع أو شراء أو صلح أو إبراء لم يؤاخذ بشيء من ذلك؛ لأنه لم يلتزم مقتضاه ولم يقصد إليه، وكذلك إذا نطق العربي بما يدل على هذه المعاني بلفظ أعجمي لا يعرف معناه فإنه لا يؤاخذ بشيء من ذلك؛ لأنه لم يرده، فإن الإرادة لا تتوجه إلا إلى معلوم أو مظنون. انتهى.

- من موانع التأثيم بالألفاظ الدهشة والذهول وغلبة الحال.

- العبرة بالمقاصد والمعاني لا بالألفاظ والمباني ومن ذلك الألفاظِ التي تَجْري على ألسِنةِ العربِ ولا يُرادُ بها حقيقتها كقولهم: تَرِبَتْ يدَاك وقاتَلك الله و"ثكلتك أمك" وكذلك قولهم "هَوَتْ أمّه" قال كعب بن سعد يرثي أخاه:

هوت أمّه ما يبعث الصبح غاديًا … وماذا يؤدي الليل حين يؤوبُ

قالَ ابنُ الأثيرِ في النِّهايةِ في غريبِ الحديثِ والأثرِ: … وهيَ كلمةٌ لا يرادُ بها وقوعُ الأمرِ، كما يُقالُ: تَرِبَتْ يداك وقاتلكَ الله وإنما تُذْكَرُ في معرضِ التَّعَجُّب ولقد أحسنَ بعضُهم في قوله: قد يوحش اللفظ وكله وُدّ، ويكره الشيء وما من فعله بُدّ، هذه العرب تقول: لا أبا لك للشيء إذا أهمَّ، وقاتلك اللهَ لا يريدون به الذمَّ، وويل أمه، للأمر إذا تمَّ! ولعلَّ قريباً من هذا ما استشكل على البعض من الجمع بين قوله صلى الله عليه وسلم " من حلف بغير الله فقد كفر " وقوله في حديث آخر " أفلح وأبيه إن صدق "

فكان الجمع بين ذلك وجهان الثاني منهما: أن أفلح وأبيه هو من الكلام الذي درج على لسان العرب نحو تربت يداه.

قال النووي في شرحه لمسلم (قوله صلى الله عليه وسلم (نعم وأبيك لتنبأن) قد سبق الجواب مرات عن مثل هذا وأنه لا تراد به حقيقة القسم بل هي كلمة تجري على اللسان دعامة للكلام وقيل غير ذلك … انتهى).

- من المعروف أن الألفاظ قوالب المعاني، وتحديد المعنى يُعرف من خلال السياق وفعل الأمر يأتي في اللغة العربية للإباحة كما يأتي للتهديد، كقوله تعالى: اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ {فصلت: 40}. ومن ذلك إضافة الفعل إلى الزمان، إنما هو من باب التجوز والتوسع في الكلام، ولا يراد به أن
বাধ্যবাধকতা (إكراه) কুফরি বাক্য উচ্চারণকারীর কুফরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে, এবং ভুল (خطأ) ও বিস্মৃতিকে (نسيان) কথা ও কাজের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সমাপ্ত।

আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ-তে এসেছে: শব্দ (اللفظ) হলো এমন একটি রূপ যা বক্তার উদ্দেশ্যকে শ্রোতার কাছে বহন করে নিয়ে যায়। সুতরাং শব্দের উচ্চারণকারী যদি তার অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ হন—যেমন কোনো অনারব—তবে সেই শব্দ আর উক্ত অর্থ প্রকাশের উপযুক্ত থাকে না, ফলে এর গ্রহণযোগ্যতা লোপ পায়। কাওয়ায়িদুল আহকাম-এ এসেছে: যদি কোনো অনারব কুফর, ইমান, তালাক, ক্রয়-বিক্রয়, সন্ধি বা দায়মুক্তির কোনো শব্দ উচ্চারণ করে, তবে এর কোনো কিছুর জন্যই তাকে দায়ী করা হবে না; কারণ সে এর দাবি পরিপালন করেনি এবং এর উদ্দেশ্যও করেনি। অনুরূপভাবে, যদি কোনো আরব এই অর্থগুলো বুঝাতে এমন কোনো অনারব শব্দ উচ্চারণ করে যার অর্থ সে জানে না, তবে তাকে এর কোনো কিছুর জন্য দায়ী করা হবে না; কারণ সে এটি ইচ্ছা করেনি। কেননা ইচ্ছা কেবল জ্ঞাত বা অনুমিত বিষয়ের ক্ষেত্রেই ধাবিত হয়। সমাপ্ত।

- শব্দের মাধ্যমে গুনাহগার হওয়ার প্রতিবন্ধকসমূহের মধ্যে রয়েছে কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা (دهشة), বিহ্বলতা (ذهول) এবং অবস্থার প্রাবল্য (غلبة الحال)।

- মূল বিবেচ্য বিষয় হলো উদ্দেশ্য (المقاصد) ও অর্থ (المعاني), শব্দ (الألفاظ) বা গঠন (المباني) নয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল শব্দ যা আরবদের মুখে মুখে প্রচলিত কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ (حقيقة) উদ্দেশ্য থাকে না। যেমন তাদের উক্তি: "তোমার হাত ধুলিমলিন হোক" (تربت يداك), "আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন" (قاتلك الله) এবং "তোমার মা তোমাকে হারাক" (ثكلتك أمক)। অনুরূপভাবে তাদের উক্তি "তার মা নিপতিত হোক" (هوت أمه)। কাব বিন সাদ তার ভাইয়ের শোকগাঁথায় বলেছেন:

তার মা শোকাতুর হোক, প্রভাত যাকে পাঠায় সে কি আর ফিরে আসবে? … আর রাতই বা কী ফিরিয়ে দেয় যখন তা পুনরায় ফিরে আসে!

ইবনুল আসির আন-নিহায়াহ ফী গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার-এ বলেছেন: … এটি এমন একটি শব্দ যা দ্বারা কোনো ঘটনা ঘটা উদ্দেশ্য নয়, যেমনটি বলা হয়: "তোমার হাত ধুলিমলিন হোক" এবং "আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন"। বরং এগুলো বিস্ময় প্রকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়। জনৈক ব্যক্তি চমৎকার বলেছেন: "শব্দ কখনো রূঢ় হতে পারে অথচ তার পুরোটাই ভালোবাসা, কোনো কিছুকে অপছন্দ করা হতে পারে অথচ তা করা ছাড়া উপায় নেই।" আরবরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বলে থাকে: "তোমার পিতা নেই" (لا أبا لك), তারা এর মাধ্যমে নিন্দা বুঝাতে চায় না; আবার কোনো কাজ পূর্ণতা পেলে বলে: "তার মায়ের দুর্ভোগ" (ويل أمه)! সম্ভবত এর কাছাকাছি সেই বিষয়টি যা অনেকের কাছে অস্পষ্ট মনে হয়, অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর মাঝে সমন্বয় করা: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করল সে কুফরি করল" এবং অন্য একটি হাদিসে তাঁর এই বাণী: "সে সফল হয়েছে, তার পিতার কসম (وأبيه), যদি সে সত্য বলে থাকে।"

এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয়ের দুটি দিক রয়েছে, যার দ্বিতীয়টি হলো: "তার পিতার কসম" (وأبيه) বাক্যটি আরবদের মুখে প্রচলিত সাধারণ কথার অন্তর্ভুক্ত, যেমন "তোমার হাত ধুলিমলিন হোক" (تربت يداه)।

ইমাম নববী শারহু মুসলিম-এ বলেছেন: (রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী "হ্যাঁ, তোমার পিতার কসম (وأبيك), তোমাকে অবশ্যই সংবাদ দেওয়া হবে" এর উত্তর ইতিপূর্বে কয়েকবার দেওয়া হয়েছে যে, এর দ্বারা প্রকৃত শপথ (قسم) উদ্দেশ্য নয়; বরং এটি এমন এক শব্দ যা কথার অলংকার হিসেবে জিহ্বায় চলে আসে। আর এ ব্যাপারে অন্য মতও বর্ণিত হয়েছে … সমাপ্ত)।

- এটি সুপরিচিত যে, শব্দ (الألفاظ) হলো অর্থের ছাঁচ, আর অর্থের নির্ধারণ প্রেক্ষিতের (السياق) মাধ্যমে জানা যায়। আরবি ভাষায় আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر) যেমন বৈধতা (الإباحة) প্রকাশের জন্য আসে, তেমনি এটি হুমকির (التهديد) জন্যও ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যা ইচ্ছা করো, নিশ্চয় তিনি তোমাদের আমলসমূহ প্রত্যক্ষ করেন।" {সূরা ফুসসিলাত: ৪০}। অনুরূপভাবে সময়ের দিকে কোনো কাজকে সম্পৃক্ত করা মূলত রূপক (التجوز) ও ভাষার প্রশস্ততার (التوسع) অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বারা উদ্দেশ্য এই নয় যে...
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ৪)
الزمان يدبر ويتصرف بنفسه، بل هو خلق مسخر بأمر الله تعالى، وقد أوضح ذلك العلامة محمد بن إبراهيم آل الشيخ عندما سئُل عن عبارة: لم تسمح لي الظروف.

فقال: ما جرى على أَلسنة بعض الناس من إضافة السماح إلى الدهر ونحو ذلك، فهو كإضافة المجيء والذهاب إلى الدهر ونحو ذلك، لا فرق بينهما، وهو شيء شائع وموجود في الكتاب والسنة، كقوله سبحانه: هَلْ أَتَى عَلَى الإِنسَانِ حِينٌ مِّنَ الدَّهْرِ. وكقوله صلى الله عليه وسلم: لا يأتي عليكم زمان إلا والذي بعده شر منه.

ومعلوم أَن المتكلم بهذه الكلمة لا يقصد أَن الدهر يتصرف بنفسه، بل يعتقد أَن الدهر خلق مسخر لا يجيء ولا يذهب إلا بمشيئة الله سبحانه، وإنما هذا من باب التجوز والتوسع في الكلام، كقوله سبحانه: جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنقَضَّ.

على أَن الأَدب تركها وأَمثالها.

أَما لو قصد أَن الدهر يفعل حقيقة، فهذا لا شك أنه إشراك مع الله سبحانه.

وأَما وصف الدهر بالشدة والرخاء والخير والشر: فلا بأس بذلك، كقوله سبحانه: سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا. وقوله: سَبْعٌ شِدَادٌ. وقوله صلى الله عليه وسلم: لا يأتي زمان إلا الذي بعده شر منه. والأَدلة على ذلك كثيرة جدًا.

وأما سب الدهر: فهو الذي وردت الأَدلة بالنهي عنه والتحذير منه وتحريمه، كما في الصحيح عن أَبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال الله: يؤذيني ابن آدم، يسب الدهر وأنا الدهر أقلب الليل والنهار.

وفي رواية: لا تسبوا الدهر، فإن الله هو الدهر.

- لا حرج أن يتبنى المسلم وجهة نظر المُخالف إظهاراً لعواره.

- إذا اجتمع القصد والدلالة القولية أو الفعلية ترتب الحكم هذه قاعدة الشريعة.

- في الأحكام الأخروية هي العبرة بالمقاصد والمعاني لا بالألفاظ والمباني أما في القضاء فيختلف.

- الأصل أن العبرة في الأحكام هو بالمقاصد والنيات سواء كان ذلك في صحة العمل أو في انتقاضه هذا فيما يتعلق بحقوق الله المحضة أما حقوق الخلق فالأصل أن المعتبر هو الظواهر دون البواطن سداً لباب إبطال العقود وقد يخرج عند القاضي شيء عن ذلك بأدلة وقرائن ظاهرة.
সময় নিজে নিজে পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত হয় না, বরং এটি মহান আল্লাহর নির্দেশে পরিচালিত একটি অনুগত সৃষ্টি। আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল শেখ যখন "পরিস্থিতি আমাকে অনুমতি দেয়নি" এই উক্তিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, তখন তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

তিনি বললেন: কিছু মানুষের মুখে প্রচলিত সময়ের প্রতি 'অনুমতি' প্রদানের সম্পর্ক জুড়ে দেওয়া, সময়ের প্রতি আসা-যাওয়ার সম্পর্ক জুড়ে দেওয়ার মতোই; এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি কুরআন ও সুন্নাহতে বিদ্যমান একটি সাধারণ বিষয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "মানুষের ওপর কালের এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে..." এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তোমাদের ওপর এমন কোনো যুগ আসবে না যার পরবর্তী যুগটি তার চেয়ে মন্দ হবে না।"

এটি জানা কথা যে, এই শব্দ ব্যবহারকারী ব্যক্তিটি এমন উদ্দেশ্য করেন না যে সময় নিজে নিজে পরিচালিত হয়, বরং তিনি বিশ্বাস করেন যে সময় একটি অনুগত সৃষ্টি যা মহান আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত আসে না বা যায় না। এটি কেবল রূপক ব্যবহারের ভাষার সম্প্রসারণ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "একটি প্রাচীর যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল (পড়তে চেয়েছিল)।"

তবে শিষ্টাচার হলো এই ধরণের শব্দ ও এর অনুরূপ শব্দসমূহ পরিহার করা।

কিন্তু যদি কেউ এমন উদ্দেশ্য করে যে সময় প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজ সম্পাদন করে, তবে এটি নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর সাথে শিরক করা।

আর সময়কে কঠোরতা, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালো এবং মন্দের মাধ্যমে গুণান্বিত করাতে কোনো দোষ নেই। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "সাত রাত ও আট দিন অবিরাম।" এবং তাঁর বাণী: "সাতটি কঠিন (বছর)।" এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "এমন কোনো যুগ আসবে না যার পরবর্তী যুগটি তার চেয়ে মন্দ হবে না।" এর সপক্ষে দলিল অনেক।

তবে সময়কে গালি দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার দলিল এসেছে এবং এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে ও একে হারাম করা হয়েছে। যেমন সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন, "আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়, সে কালকে গালি দেয় অথচ আমিই কাল, আমি রাত ও দিনকে আবর্তিত করি।"

অন্য একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: "তোমরা কালকে গালি দিও না, কেননা আল্লাহই কাল।"

- বিরোধীদের ত্রুটি উন্মোচনের উদ্দেশ্যে একজন মুসলমানের জন্য তাদের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাতে কোনো বাধা নেই।

- যখন উদ্দেশ্য এবং মৌখিক বা কর্মগত প্রমাণ একত্রিত হয়, তখন বিধান কার্যকর হয়; এটি শরীয়তের একটি নীতি।

- পরকালীন বিধানসমূহের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থই বিবেচ্য, শব্দ ও বাহ্যিক কাঠামোর ওপর নয়; তবে বিচারিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।

- মূলনীতি হলো বিধানসমূহের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় উদ্দেশ্য ও নিয়তের ওপর, চাই তা আমল সঠিক (صحيح) হওয়ার ক্ষেত্রে হোক কিংবা তা বাতিল হওয়ার ক্ষেত্রে; এটি কেবল আল্লাহর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর সৃষ্টির হকের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বাহ্যিক বিষয়কে গ্রহণ করা, অভ্যন্তরীণ বিষয়কে নয়; যাতে চুক্তি বাতিলের পথ রুদ্ধ করা যায়। তবে বিচারকের নিকট স্পষ্ট দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে এর ব্যতিক্রম হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ৫)
- العبرة في العقود بالمقاصد والمعاني لا بالألفاظ والمباني.

- العقود تصح بكل لفظ دل عليها سواءً كانت بيعاً أو هبة أو إجارة أو نكاحاً أو غيره.

- يُترك المعنى اللغوي لألفاظ الناس من أجل كون الناس يريدون بألفاظهم ما تعارفوا عليه دون الأصل اللغوي لذلك اللفظ.

- المراد بألفاظ الناس في غير العقود مرجعها العرف إذا لم توجد معها نية كالحلف ونحوه وإلا فالنية مُخصصة للمُراد.

- الألفاظ المطلقة من كلام الناس في العقود مرجعه إلى العرف.

- يجوز قول الباطل على وجه التنزَل والمناظرة لبيان بطلان القول في النهاية ، وكان المقام مقام مناظرة لبيان وكشف عوار مذهب المخالف.

- يجوز النطق بما يُستبشع من الألفاظ لإرادة زجر من بدا منه ما يستحق ذلك.

- يجوز إطلاق الكفر على ما لا يُخرج من الملة من الأعمال السيئة لإرادة زجر الفاسق عن فسقه.

- لا بأس بإضافة الشيء إلى سببه المعلوم شرعاً أو حساً وإن لم يذكر معه الله ، كقول بفضل فلان أو بجهود فلان إذا كان للإنسان في هذا الأمر أثر حقيقي ، وقول لولا فلان ما ذهبت وإضافته إلى الله وإلى سببه المعلوم شرعاً أو حساً بحرف يقتضي التعقيب كـ (ثم) مستحب أما بحرف يقتضي التسوية كـ (الواو) فلا يجوز ، وإضافة الشيء إلى سبب موهوم غير معلوم حرام ولا يجوز.

- لا بأس بالكلام الذي لا يُراد به حقيقته بشرط أن لا يخدع الطرف المقابل.

- لا بأس بقول الكلام الذي لا يراد به حقيقته لإيصال معنى مطلوب وإن كان هذا الكلام هو كذب في الظاهر.

- من أساليب اللغة العربية: قد يأتي التخيير ويراد به التهديد.

العرب ربما أخرجت الأمر (دعاء/ التماس/ طلب) على لفظ الخبر.

قد يأتي الأمر بالشيء والمراد به التهديد والوعيد عن الوقوع فيه.

قد يأتي الأمر على سبيل التهديد والوعيد الشديد وقد يأتي على سبيل الاستخفاف.

قد يزول معنى الدعاء ويكون المعنى التقريع والإغاظة وكذلك الطلب أيضاً قد يزول معناه ويكون مقصوده التقريع.
- চুক্তির (العقود) ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য (المقاصد) এবং অর্থই (المعاني) মূল বিবেচ্য, শব্দ (الألفاظ) বা বাহ্যিক কাঠামো (المباني) নয়।

- চুক্তি (العقود) এমন প্রত্যেক শব্দের মাধ্যমে সঠিক (تصح) হয় যা তার অর্থ নির্দেশ করে, চাই তা ক্রয়-বিক্রয় (بيع), দান (هبة), ইজারা (إجارة), বিবাহ (نكاح) বা অন্য যা-ই হোক না কেন।

- মানুষের কথাবার্তায় আভিধানিক অর্থ (المعنى اللغوي) বর্জন করা হয়, কারণ মানুষ তাদের শব্দের মাধ্যমে সেই অর্থই উদ্দেশ্য করে যা সামাজিকভাবে প্রচলিত (تعارفوا عليه), শব্দের ভাষাগত মূল (الأصل اللغوي) নয়।

- চুক্তি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষের কথাবার্তার অর্থ লোকজ প্রথার (العرف) দিকে ধাবিত হয় যদি সেখানে কোনো নিয়ত (نية) না থাকে—যেমন শপথ (الحلف) ও এই জাতীয় বিষয়—অন্যথায় নিয়ত (النية) প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সুনির্দিষ্ট করে (مخصصة للمراد)।

- চুক্তির ক্ষেত্রে মানুষের কথায় ব্যবহৃত নিঃশর্ত শব্দাবলি (الألفاظ المطلقة) লোকজ প্রথার (العرف) ওপর নির্ভরশীল।

- বিতর্কের খাতিরে এবং আলোচনার (المناظرة) সময় কোনো অসার বা বাতিল (الباطل) কথা উল্লেখ করা বৈধ (يجوز), যাতে পরিশেষে সেই কথার অসারতা প্রমাণ করা যায়। আর উক্ত ক্ষেত্রটি যেন বিরোধীদের মতবাদের ত্রুটি (عوار مذهب المخالف) প্রকাশ ও উন্মোচনের জন্য হয়।

- যার থেকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ আচরণ প্রকাশ পায় তাকে সতর্ক করার (زجر) উদ্দেশ্যে কঠোর বা অপ্রীতিকর শব্দ উচ্চারণ করা জায়েজ (يجوز)।

- কোনো পাপাচারীকে (الفاسق) তার পাপাচার থেকে বিরত রাখার (زجر) উদ্দেশ্যে এমন মন্দ আমলের ওপর কুফর (الكفر) শব্দ প্রয়োগ করা বৈধ (يجوز) যা তাকে ইসলামি মিল্লাত (الملة) থেকে বহিষ্কার করে না।

- কোনো কিছুকে তার শরয়ি (شرعاً) বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (حساً) সুপরিচিত কারণের দিকে সম্বন্ধ করায় কোনো দোষ নেই, যদিও তার সাথে আল্লাহর কথা উল্লেখ না করা হয়। যেমন: ‘অমুকের অনুগ্রহে’ বা ‘অমুকের প্রচেষ্টায়’ বলা—যদি ওই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো বাস্তব প্রভাব থাকে। আর ‘অমুক না থাকলে আমি যেতাম না’ বলা এবং কোনো বিষয়কে আল্লাহর দিকে এবং তার শরয়ি বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কারণের দিকে এমন বর্ণ দ্বারা সম্বন্ধ করা যা ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে—যেমন: (ثم)—তা মুস্তাহাব (مستحب)। তবে যা সমতা নির্দেশ করে—যেমন: (الواو)—তা ব্যবহার করা জায়েজ (يجوز) নয়। আর কোনো বিষয়কে কাল্পনিক বা অজ্ঞাত কারণের দিকে সম্বন্ধ করা হারাম (حرام) এবং তা বৈধ নয়।

- এমন কথা বলায় কোনো বাধা নেই যার দ্বারা তার প্রকৃত অর্থ (حقيقته) উদ্দেশ্য নয়, যদি তা অপর পক্ষকে প্রতারিত (يخدع) না করে।

- কাঙ্ক্ষিত কোনো অর্থ পৌঁছানোর জন্য এমন কথা বলায় কোনো দোষ নেই যার দ্বারা তার প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য নয়, যদিও আপাতদৃষ্টিতে সেই কথাটি মিথ্যা (كذب)।

- আরবি ভাষার (اللغة العربية) একটি রীতি হলো: কখনো ইখতিয়ার বা পছন্দ (التخيير) প্রদান করা হয় কিন্তু তার দ্বারা মূলত ধমক (التهديد) উদ্দেশ্য থাকে।

আরবরা কখনো আদেশসূচক বিষয়কে (الأمر)—যেমন দোয়া (دعاء), অনুরোধ (التماس) বা প্রার্থনা (طلب)—বর্ণনামূলক বাক্যের (الخبر) আকারে প্রকাশ করে থাকে।

কখনো কোনো বিষয়ে আদেশ (الأمر) প্রদান করা হয় কিন্তু তার দ্বারা সেই কাজে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ধমক (التهديد) এবং সতর্কবার্তা (الوعيد) দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে।

আদেশ (الأمر) কখনো কঠোর ধমক (التهديد) ও সতর্কবার্তা (الوعيد الشديد) হিসেবে আসে, আবার কখনো তা তুচ্ছজ্ঞান (الاستخفاف) করার জন্য আসে।

কখনো দোয়ার (الدعاء) অর্থ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তার পরিবর্তে তিরস্কার (التقريع) ও ক্ষুব্ধ করার (الإغاظة) অর্থ প্রকাশ পায়। একইভাবে প্রার্থনা বা চাহিদাও (الطلب) কখনো তার মূল অর্থ হারিয়ে তিরস্কারের (التقريع) উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌(أحكام الطلاق)

- الألفاظ المستعملة في الطلاق على مذهب الجمهور ثلاثة أضرب:

الأول: الطلاق الصريح المُوجه إلى الزوجة أو الأمة، كقوله: أنت طالق، فهذا يقع به الطلاق قضاءً ، ولو لم ينوه.

ملاحظة: إذا وقع الطلاق قضاءً فإنه يقع ديانة على سبيل التبع.

الثاني: الطلاق بالكناية، كقوله: الحقي بأهلك ونحوه، فهذا يقع به الطلاق إذا نواه.

الثالث: الطلاق بلفظ أجنبي لا صريح ولا كناية، كقوله: اسقني الماء ونحوه، فهذا لا يقع به الطلاق ولو نواه.

- حكم القاضي يرفع الخلاف في مسائل الطلاق.

- لا يقع طلاق المخطيء إن ثبت سبق لسانه وإن لم يثبت قُبل في الفتوى دون القضاء.

- طلاق الملقَن وهو من لقن عبارة الطلاق وهو لا يفهمها كالأعجمي فالطلاق لا يقع لعدم قصده إيقاع الطلاق.

- صريح الطلاق المُوجه إلى المُطلقة يلزم المكلف نواه أو لم ينوه فصريح الطلاق لا يحتاج إلى نية.

- لا يقع الطلاق الصريح إذا لم يُعيَن المتلفظ به ويقصد به زوجته أو يضيفه إلى زوجته كمن يردد شعراً فيه طلاق ونحوه أو يحكيه عن واحد آخر.

- الطلاق يقع بكل لفظ دل عليه هذا بالنسبة للقضاء أما ديانة فيما بين العبد وربه فلا يقع الطلاق ولو كان صريحاً إلا إذا نواه والأعمال بالنيات لكن لو حكم القاضي بالطلاق ففي هذه الحال يقع ديانةً وقضاءً.

- اللفظ الصريح في الطلاق هو اللفظ الذي لا يستعمل إلا في حل عقدة النكاح في عُرف من نطق به والسامع له والموجَه إليه بناءً على الوضع اللغوي لهذا اللفظ أو بناء على العُرف العام عند الناس في استعمال هذا اللفظ في هذا المعنى.

- حكم اللفظ الصريح في الطلاق: الطلاق يقع به ما دام الناطق يعرف مدلوله ولا يشترط لوقوع الطلاق به نية إيقاع الطلاق لأن اللفظ صريح في دلالته على إرادة الطلاق بالتلفظ به والنية إنما تعمل في تعيين المُبهم لا الصريح وعلى هذا أجمع الفقهاء فلو قال لم أنو به الطلاق لم يُقبل ولو قال أردت أنها طالق من وثاق لم يصدَق في القضاء وكذا لا يسع المرأة أن تصدقه لأنه
(তালাকের বিধানাবলি)

- জুমহুর (جمهور) ফকিহগণের মাযহাব অনুযায়ী তালাকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দাবলি তিন প্রকার:

প্রথমত: স্পষ্ট (صريح) তালাক যা স্ত্রী বা দাসীর প্রতি নির্দেশিত হয়। যেমন তার উক্তি: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা"। এর মাধ্যমে বিচারিক (قضاءً) প্রেক্ষাপটে তালাক কার্যকর হবে, যদিও সে নিয়ত (نواه) না করে।

দ্রষ্টব্য: যদি বিচারিকভাবে (قضاءً) তালাক কার্যকর হয়, তবে তা অনুগামী হিসেবে ধর্মীয়ভাবেও (ديانة) কার্যকর হবে।

দ্বিতীয়ত: রূপক (كناية) তালাক। যেমন তার উক্তি: "তুমি তোমার পরিবারের সাথে মিলিত হও" বা এই জাতীয় কিছু। এক্ষেত্রে যদি সে তালাকের নিয়ত (نواه) করে তবেই তালাক কার্যকর হবে।

তৃতীয়ত: এমন পরোক্ষ শব্দের মাধ্যমে তালাক যা স্পষ্ট (صريح) নয় এবং রূপকও (كناية) নয়। যেমন তার উক্তি: "আমাকে পানি পান করাও" বা অনুরূপ শব্দ। এক্ষেত্রে তালাক কার্যকর হবে না, যদিও সে নিয়ত (نواه) করে থাকে।

- বিচারকের (قاضي) ফয়সালা তালাক সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে মতপার্থক্য নিরসন করে।

- ভুলকারী বা মুখ ফসকে কথা বলে ফেলা ব্যক্তির (مخطئ) তালাক কার্যকর হবে না যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে জিহ্বা থেকে কথা বেরিয়ে আসা প্রমাণিত হয়; আর যদি তা প্রমাণিত না হয়, তবে ফতোয়ার (فتوى) ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য হবে কিন্তু বিচারের (قضاء) ক্ষেত্রে নয়।

- শিখিয়ে দেওয়া কথা উচ্চারণকারীর (ملقن) তালাক—অর্থাৎ যাকে তালাকের বাক্য শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে অথচ সে তার অর্থ বোঝে না (যেমন অনারব ব্যক্তি)—এক্ষেত্রে তালাক কার্যকর হবে না। কারণ তার তালাক প্রদানের কোনো উদ্দেশ্য (قصد) ছিল না।

- তালাকপ্রাপ্তার প্রতি নির্দেশিত স্পষ্ট (صريح) তালাক মুকাল্লাফ (مكلف) ব্যক্তির ওপর অবধারিত হয়, চাই সে নিয়ত (نواه) করুক বা না করুক। কারণ স্পষ্ট (صريح) তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত করার প্রয়োজন হয় না।

- স্পষ্ট (صريح) তালাক কার্যকর হবে না যদি উচ্চারণকারী নির্দিষ্টভাবে তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য (قصد) না করে অথবা তালাককে তার স্ত্রীর সাথে সম্পৃক্ত না করে। যেমন এমন ব্যক্তি যে এমন কবিতা আবৃত্তি করছে যাতে তালাকের শব্দ আছে, অথবা অন্য কারোর কথা বর্ণনা করছে।

- বিচারের (قضاء) ক্ষেত্রে তালাক এমন সব শব্দের মাধ্যমে কার্যকর হয় যা তালাকের অর্থ প্রকাশ করে। তবে ধর্মীয়ভাবে (ديانة) তথা বান্দা ও তার রবের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্পষ্ট (صريح) শব্দ হলেও তালাক কার্যকর হবে না যতক্ষণ না সে নিয়ত (نواه) করে। কারণ 'সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'। কিন্তু যদি বিচারক (قاضي) তালাকের ফয়সালা দেন, তবে সেক্ষেত্রে ধর্মীয় (ديانة) এবং বিচারিক (قضاء) উভয় দিক থেকেই তালাক কার্যকর হবে।

- তালাকের ক্ষেত্রে স্পষ্ট (صريح) শব্দ হলো সেই শব্দ যা উচ্চারণকারী, শ্রবণকারী এবং যার প্রতি এটি নির্দেশিত হয়েছে—তাদের প্রথা (عرف) অনুযায়ী কেবল বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়; চাই তা ওই শব্দের ভাষাগত গঠনের (وضع لغوي) ওপর ভিত্তি করে হোক অথবা এই অর্থে শব্দটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে প্রচলিত সাধারণ প্রথার (عرف عام) ওপর ভিত্তি করে হোক।

- তালাকের ক্ষেত্রে স্পষ্ট (صريح) শব্দের বিধান (حكم): যতক্ষণ পর্যন্ত উচ্চারণকারী এর অর্থ জানবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর মাধ্যমে তালাক কার্যকর হবে। এর দ্বারা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য তালাক দেওয়ার নিয়ত (نية) শর্ত নয়। কারণ শব্দটি উচ্চারণের মাধ্যমে তালাকের ইচ্ছা প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট (صريح)। আর নিয়ত কেবল অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়কে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়, স্পষ্ট (صريح) বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়। এ বিষয়ে ফকিহগণ (فقهاء) ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন। সুতরাং যদি সে বলে যে আমি এর দ্বারা তালাকের নিয়ত করিনি, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যদি সে বলে যে আমি 'বাঁধন থেকে মুক্ত' হওয়া বুঝিয়েছি, তবে বিচারিক (قضاء) ক্ষেত্রে তাকে সত্য বলে গণ্য করা হবে না। অনুরূপভাবে স্ত্রীর পক্ষেও তাকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ সে...
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ৭)
خلاف الظاهر ويصدق فيما بينه وبين الله تعالى، ويقوم مقام اللفظ الصريح إشارة الأخرس الدالة على إرادته إيقاع الطلاق وكذلك الكتابة عند جمهور الفقهاء، والكتابة نوعين غير مستبينة كالتي تُكتب على الهواء أو على الماء وهذه لا يقع بها طلاق وإن نواه والكتابة المستبينة الواضحة وهي التي لها بقاء بعد كتابتها كالتي تكتب على الورق فهي نوعان مرسومة وغير مرسومة أما المرسومة فهي المكتوبة عن طريق الخطاب والرسالة ومعنونة إلى الزوجة كأن يكتب إليها زوجها أما بعد يا فلانة فأنت طالق فيقع الطلاق وأما غير المرسومة فهي غير المعنونة إلى الزوجة كأن يكتب على ورقة فلانة زوجتي طالق فإن نوى الطلاق وقع وإلا لم يقع لأن الكتابة على هذا الوجه قد تكون بقصد تجويد الخط وتجربة القلم فلا يُحمل ما كتبه على إرادة الطلاق إلا بالنية. وأما طلاق الأخرس فيقع بالإشارة المفهومة لأنها صارت معهودة فأقيمت مقام العبارة دفعاً للحاجة ويُعتد بإشارته ولو قدر على الكتابة ولكن لا يقع الطلاق بإشارة القادر على النطق.

- إذا جرى صريح لفظ الطلاق على لسان العاقل البالغ لا ينفعه أن يقول كنت فيه لاعباً أو هازلاً فإن طلاق الهازل يقع.

- الطلاق المعلق إذا كان المقصود به الطلاق فإنه يقع بلا خلاف وأما المقصود به التهديد فيخرج مخرج اليمين.

- صيغة الطلاق غير الصريحة "الكناية": وألفاظ الكناية في الطلاق هو كل لفظ يستعمل في الطلاق وغيره استتر المراد منه عند السامع فافتقرت إلى النية لتعيين المراد ، والكناية يقع بها الطلاق بالنية.

- طلاق الكناية يقع إذا نواه صاحبه طلقة واحدة على الراجح.

- يشترط لوقوع الطلاق أمران:

الأول: أن يقصد لفظ الطلاق، فلو قصد لفظاً آخر فسبق لسانه إلى لفظ الطلاق لم يقع الطلاق إن قامت قرينة تدل على ذلك، فسبق اللسان إلى لفظ الطلاق لغو لأنه لم يقصد اللفظ لكن يؤاخذ به ولا يُصدَق في دعواه السبق ظاهراً إن لم يكن قرينة لتعلق حق الغير به بخلاف ما إذا كانت قرينة، كأن دعاها بعد طُهرها من الحيض إلى فراشه، وأراد أن يقول: أنت الآن طاهرة، فسبق لسانه وقال: أنت الآن طالقة ولو ظنَت صدقه في دعواه السبق بأمارة فلها مصادقته أي قبول قوله وكذا للشهود الذين سمعوا الطلاق منه وعرفوا صدق دعواه السبق بأمارة أن لا يشهدوا عليه بالطلاق، وكذلك لو سمع لفظ رجل بالطلاق وتحقق أنه سبق لسانه إليه لم يكن له أن يشهد عليه بمطلق الطلاق فإن كان اسمها طالقاً أو طارقاً أو طالباً أو نحوها
প্রকাশ্য অবস্থার বিপরীত হলেও তার এবং মহান আল্লাহর মধ্যবর্তী বিষয়ের ক্ষেত্রে তাকে সত্যবাদী বলে গণ্য করা হবে। বোবা ব্যক্তির এমন ইশারা যা তালাক দেওয়ার ইচ্ছাকে নির্দেশ করে, তা স্পষ্ট শব্দের (اللفظ الصريح) স্থলাভিষিক্ত হবে। জমহুর ফকিহদের নিকট লিখিত বার্তার বিষয়টিও তদ্রূপ। লিখনী দুই প্রকার: অস্পষ্ট (غير مستبينة), যেমন যা বাতাসে বা পানিতে লেখা হয়; এর দ্বারা তালাক পতিত হবে না যদিও সে নিয়ত (النية) করে। আর সুস্পষ্ট বা স্থায়িত্বসম্পন্ন লিখনী (المستبينة الواضحة) হলো যা লেখার পর অবশিষ্ট থাকে, যেমন যা কাগজের ওপর লেখা হয়। এটি আবার দুই প্রকার: প্রথাগত (مرسومة) এবং অপ্রথাগত (غير مرسومة)। প্রথাগত হলো যা সম্বোধন বা চিঠিপত্র আকারে স্ত্রীর প্রতি শিরোনামযুক্ত করে লেখা হয়, যেমন স্বামী তাকে লিখল: "হে অমুক, এরপর কথা এই যে, তোমাকে তালাক দেওয়া হলো।" এমতাবস্থায় তালাক পতিত হবে। আর অপ্রথাগত হলো যা স্ত্রীর প্রতি শিরোনামযুক্ত নয়, যেমন সে কাগজে লিখল: "আমার স্ত্রী অমুক তালাকপ্রাপ্তা।" এমতাবস্থায় যদি সে তালাকের নিয়ত (النية) করে তবে তালাক হবে, অন্যথায় হবে না। কারণ এভাবে লেখা অনেক সময় হাতের লেখা সুন্দর করা বা কলম পরীক্ষার উদ্দেশ্যেও হতে পারে, তাই নিয়ত (النية) ছাড়া তার লেখাকে তালাকের ইচ্ছার ওপর প্রয়োগ করা হবে না। অন্যদিকে বোবা ব্যক্তির তালাক বোধগম্য ইশারার মাধ্যমে পতিত হবে, কারণ তা তার ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতিতে পরিণত হয়েছে; ফলে প্রয়োজনের তাগিদে একে মৌখিক বর্ণনার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। তার ইশারা গ্রহণযোগ্য হবে যদিও সে লিখতে সক্ষম হয়। তবে কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তির ইশারার মাধ্যমে তালাক পতিত হবে না।

- যদি কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মুখ দিয়ে তালাকের স্পষ্ট শব্দ (اللفظ الصريح) বের হয়, তবে তার এই কথা কোনো কাজে আসবে না যে "আমি কৌতুক করছিলাম বা বিদ্রূপ করছিলাম"; কারণ বিদ্রূপকারীর (الهازل) তালাক পতিত হয়ে যায়।

- ঝুলন্ত বা শর্তযুক্ত তালাক (الطلاق المعلق) যদি তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হয়, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে পতিত হবে। আর যদি এর উদ্দেশ্য ভয় দেখানো বা ধমক দেওয়া হয়, তবে তা শপথের পর্যায়ে গণ্য হবে।

- তালাকের অস্পষ্ট শব্দ বা "পরোক্ষ শব্দ (الكناية)": তালাকের ক্ষেত্রে পরোক্ষ শব্দ (الكناية) বলতে এমন প্রতিটি শব্দকে বোঝায় যা তালাক এবং অন্য উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, ফলে শ্রোতার নিকট এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা অস্পষ্ট থাকে; তাই উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য নিয়ত (النية) করার প্রয়োজন পড়ে। পরোক্ষ শব্দের (الكناية) মাধ্যমে নিয়ত (النية) সাপেক্ষে তালাক পতিত হয়।

- পরোক্ষ শব্দের (الكناية) মাধ্যমে তালাক, অগ্রগণ্য মত (الراجح) অনুযায়ী নিয়ত (النية) সাপেক্ষে এক তালাক হিসেবে পতিত হয়।

- তালাক পতিত হওয়ার জন্য দুটি শর্ত প্রযোজ্য:

প্রথমত: তালাকের শব্দের ইচ্ছা করা। যদি সে অন্য কোনো শব্দের ইচ্ছা করে কিন্তু তার মুখ দিয়ে অসাবধানতাবশত তালাকের শব্দ বের হয়ে যায় (سبق اللسان), তবে তালাক পতিত হবে না যদি এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ থাকে। কেননা মুখ ফসকে তালাকের শব্দ বের হওয়া বৃথা, কারণ সে ওই শব্দের ইচ্ছা করেনি। কিন্তু প্রকাশ্য বিচারে তাকে পাকড়াও করা হবে এবং প্রমাণ ছাড়া তার দাবীকে সত্য বলে গ্রহণ করা হবে না, কারণ এতে অন্যের অধিকার জড়িত। তবে যদি কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ থাকে তবে ভিন্ন কথা। যেমন- ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পর সে স্ত্রীকে তার শয্যায় ডাকল এবং বলতে চাইল: "তুমি এখন পবিত্র (طاهرة)", কিন্তু মুখ ফসকে বলে ফেলল: "তুমি এখন তালাকপ্রাপ্তা (طالقة)"। এমতাবস্থায় স্ত্রী যদি কোনো আলামত দেখে তার মুখ ফসকানোর দাবীকে সত্য মনে করে, তবে তার জন্য তা সমর্থন করা অর্থাৎ তার কথা গ্রহণ করার অবকাশ রয়েছে। একইভাবে সাক্ষীগণ যারা তার মুখ থেকে তালাকের শব্দ শুনেছে এবং কোনো আলামতের মাধ্যমে তার মুখ ফসকানোর সত্যতা অনুধাবন করেছে, তাদের জন্য তালাকের সাক্ষ্য না দেওয়ার অবকাশ রয়েছে। অনুরূপভাবে যদি কেউ কোনো ব্যক্তির মুখ থেকে তালাকের শব্দ শুনে এবং নিশ্চিত হয় যে তা তার মুখ ফসকে বের হয়েছে (سبق اللسان), তবে তার জন্য সাধারণ তালাক হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া সমীচীন নয়। তবে যদি তার স্ত্রীর নামই হয় 'তালেক' বা 'তারেক' বা 'তালেব' বা এই জাতীয় কিছু...
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ৮)
من الأسماء التي تقارب حروف طالق فناداها يا طالق طلقت ولكن إن ادعى سبق اللسان إليه من تلك الألفاظ قُبل منه ظاهراً لظهور القرينة.

الثاني: أن يقصد معناه، ومعنى لفظ الطلاق هو حلُّ عقد النكاح والعصمة الزوجية.

وانعدام هذا الشرط إنما يمنع وقوع الطلاق في حالة وجود القرينة الدالة على أن المتلفظ بلفظ الطلاق لم يُرد إيقاع الطلاق، أما إذا لم توجد القرينة فإن الطلاق الصريح واقع ولو ادعى عدم إرادته حلّ عقد النكاح، ولذا فإن من قال لزوجته: أنت طالق، وقال بعد ذلك: إنما كنت مازحاً هازلاً لم يُلتفت إلى قوله، ويكون الطلاق واقعاً.

وقد ذكر العلماء أمثلة على القرينة التي تدعو إلى تصديق الزوج في عدم إرادته للطلاق، من ذلك:

1 - أن يحكي قول غيره كأن يقول: قال فلان لزوجته أنت طالق، فلا يعتبر الحاكي مطلقاً لزوجته.

2 - أن يقول الفقيه لطلابه وهو يُعلمهم لفظ الطلاق فيقول: طالق طالق طالق، فلا تطلق زوجة الفقيه لأن القرينة على عدم إرادته معنى الطلاق موجودة.

3 - أن يكون اسم الزوجة طالق فيقول لها: يا طالق، فإنها لا تطلق؛ إلا إذا أراد بهذا اللفظ حلَّ العصمة الزوجية.

4 - قول مُعلم التجويد أنت طالق وتكرارها ليُعلَم طلابه بعض أحكام التجويد.

وحاصله أن المطلق إذا ادعى أنه أراد شيئاً في الطلاق، فإن كان هناك قرينة تساعده على دعواه صُدَق في الظاهر وإلا فلا.

- حديث النفس بالطلاق لا يُعتبر طلاقاً.

- من نوى الطلاق ولم يتلفظ به فإنه لا يقع ولو أشار بإصبعه وهذا في حق القادر على الكلام بخلاف الأخرس.

- الطلاق لا يقع ولو نواه بقلبه وأشار بإصبعه حتى يتلفظ به ويتحرك لسانه به ، إلا في إشارة الأخرس بالطلاق إذا كانت مفهومة.

- الوعد بالطلاق لا يقع به الطلاق إلا إذا أنجزه.
এমন নামগুলোর মধ্য থেকে যা 'তালিক' শব্দের অক্ষরের কাছাকাছি, ফলে তাকে 'হে তালিকে' বলে ডাকল, তবে তালাক পতিত হবে। কিন্তু যদি সে দাবি করে যে ওই শব্দগুলো বলার ক্ষেত্রে তার জিহ্বার পদস্খলন (سبق اللسان) ঘটেছে, তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থার (قرينة) স্পষ্টতার কারণে বাহ্যিকভাবে (ظاهراً) তা গ্রহণ করা হবে।

দ্বিতীয়ত: এর অর্থের ইচ্ছা পোষণ করা। আর তালাক শব্দের অর্থ হলো বিবাহের বন্ধন ও দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করা।

আর এই শর্তের অনুপস্থিতি কেবল সেই ক্ষেত্রে তালাক সংঘটিত হওয়াকে বাধা দেয়, যখন এমন কোনো পারিপার্শ্বিক অবস্থা (قرينة) বিদ্যমান থাকে যা প্রমাণ করে যে, তালাক উচ্চারণকারী ব্যক্তি তালাক কার্যকর করার ইচ্ছা করেনি। কিন্তু যদি কোনো পারিপার্শ্বিক অবস্থা (قرينة) না পাওয়া যায়, তবে স্পষ্ট (صريح) তালাক পতিত হবে, যদিও সে দাবি করে যে সে বিবাহের বন্ধন ছিন্ন করার ইচ্ছা করেনি। এই কারণেই যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা (طالق)", এবং এরপর বলল: "আমি কেবল কৌতুক ও উপহাস করছিলাম", তার কথা গ্রাহ্য হবে না এবং তালাক পতিত হবে।

আলেমগণ এমন কিছু পারিপার্শ্বিক অবস্থার (قرينة) উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা তালাকের ইচ্ছা না থাকার বিষয়ে স্বামীকে সত্যবাদী সাব্যস্ত করার দাবি রাখে। তার মধ্যে রয়েছে:

1 - অন্যের কথা বর্ণনা করা; যেমন সে বলল: "অমুক তার স্ত্রীকে বলেছে তুমি তালাকপ্রাপ্তা (طالق)"। এমতাবস্থায় বর্ণনাকারীকে তার নিজ স্ত্রীর তালাকদাতা হিসেবে গণ্য করা হবে না।

2 - কোনো ফকিহ (فقيه) তার ছাত্রদের তালাকের শব্দ শিক্ষা দেওয়ার সময় বলেন: "তালাকপ্রাপ্তা (طالق), তালাকপ্রাপ্তা (طالق), তালাকপ্রাপ্তা (طالق)"। এতে ফকিহ (فقيه)-এর স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবেন না; কারণ তালাকের অর্থের ইচ্ছা না থাকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা (قرينة) এখানে বিদ্যমান।

3 - স্ত্রীর নাম যদি 'তালিক' হয় এবং সে তাকে বলল: "হে তালিকে", তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে না; যদি না সে এই শব্দের দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ইচ্ছা করে।

4 - তাজবিদ (تجويد) শিক্ষকের "তুমি তালাকপ্রাপ্তা (طالق)" বলা এবং ছাত্রদের তাজবিদের (تجويد) কিছু নিয়ম শিক্ষা দেওয়ার জন্য তার পুনরাবৃত্তি করা।

এর সারকথা হলো, তালাক প্রদানকারী যদি দাবি করে যে সে তালাকের ক্ষেত্রে অন্য কিছু বুঝাতে চেয়েছে, তবে যদি সেখানে এমন কোনো পারিপার্শ্বিক অবস্থা (قرينة) থাকে যা তার দাবিকে সমর্থন করে, তবে বাহ্যিকভাবে (ظاهراً) তাকে সত্যবাদী মনে করা হবে, অন্যথায় নয়।

- মনে মনে তালাকের কথা কল্পনা করা (حديث النفس) তালাক হিসেবে গণ্য হয় না।

- যে ব্যক্তি তালাকের নিয়ত (نية) করল কিন্তু তা মুখে উচ্চারণ করল না, তবে তার তালাক পতিত হবে না, এমনকি যদি সে আঙুল দিয়ে ইশারাও করে। এটি কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে বোবার বিষয়টি ভিন্ন।

- তালাক পতিত হবে না এমনকি যদি সে মনে মনে তার নিয়ত (نية) করে এবং আঙুল দিয়ে ইশারা করে, যতক্ষণ না সে তা মুখে উচ্চারণ করে এবং তার জিহ্বা নড়ে। তবে বোবা ব্যক্তির তালাকের ইশারা যদি বোধগম্য হয়, তবে তা স্বতন্ত্র।

- তালাকের ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতির দ্বারা তালাক পতিত হয় না, যতক্ষণ না সে তা কার্যকর করে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ৯)
- تعليق الطلاق أو الظهار على أمر مستقبل يقصد من ورائه الزجر والمنع أو الحث لا يقع به الطلاق أو الظهار إلا إذا قصدهما ، وذلك كقوله علي الطلاق إن لم تسافري معي وقصده حثها على أن تسافر معه لا طلاقها إذا لم تسافر معه فإنها تسمى يمين طلاق وكفارتها كفارة يمين أو يقول أنت علي كظهر أمي إن لم تسافري معي وقصده أن تسافر معه لا ظهارها إذا لم تسافر معه فإنها تسمى يمين ظهار وكفارتها كفارة يمين.

- من شك في الطلاق أو عدده لم يلزمه ما شك فيه واستصحب العصمة.

- إذا قال الرجل لزوجته أنت طالق ويقصد طلاقها من الوثاق فطلاقه لا يقع ديانةً ولا يقع قضاءً إذا كانت هناك قرينة تدل على صدق ما نوى ، ولكن لو وقع قضاءً فإنه يقع ديانة تبعاً للقضاء.

- من قال لزوجته أنت علي حرام فبحسب النية فقد يكون يميناً وقد يكون ظهاراً وقد يكون طلاقاً ومن قال لزوجته إن فعلت كذا فأنت علي كظهر أمي هذا حكمه حكم اليمين ما لم ينو الظهار.

- من قال لزوجته أنت علي كظهر أمي وأراد بذلك الطلاق لا يقع الطلاق لأنه لفظ صريح في الظهار.

- طلاق الهازل الصريح يقع ديانة وقضاء ، لورود النص الشرعي في ذلك ، ولكن مما يُستأنس به في ذلك ما قاله أحد العلماء (بتصرف يسير مني): المكلَف إذا هزل بالطلاق أو النكاح أو الرجعة لزمه ماهزل به فدل ذلك أن كلام الهازل مُعتبر وإن لم يعتبر كلام النائم والناسي وزائل العقل والمكره والفرق بينهما أن الهازل قاصد للفظ غير مريد لحكمه وذلك ليس إليه فإنما إلى المكلف الأسباب وأما ترتب مسبباتها وأحكامها فهو إلى الشارع قصده المكلف أو لم يقصده والعبرة بقصده السبب اختياراً في حال عقله وتكليفه فإذا قصده رتب الشارع عليه حكمه جدَ بهِ أو هزل وهذا بخلاف النائم والمبرسم (وهو الذي يهذي لعلة في عقله) والمجنون وزائل العقل فإنهم ليس لهم قصد صحيح وليسوا مكلفين فألفاظهم لغو بمنزلة الطفل الذي لا يعقل معناها ولا يقصده.

وسر المسألة: الفرق بين من قصد اللفظ وهو عالم به ولم يرد حكمه وبين من لم يقصد اللفظ ولم يعلم معناه فالمراتب التي اعتبرها الشارع أربعة:

1 - أن يقصد الحكم ولا يتلفظ به.

2 - أن لا يقصد اللفظ ولا حكمه.

3 - أن يقصد اللفظ دون حكمه.
- ভবিষ্যৎ কোনো বিষয়ের ওপর তালাক বা যিহারকে (ظهار) ঝুলন্ত করা, যার উদ্দেশ্য কেবল ভর্ৎসনা করা, বিরত রাখা বা উৎসাহিত করা—এমন ক্ষেত্রে তালাক বা যিহার (ظهار) কার্যকর হবে না, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সেগুলোরই ইচ্ছা করে। যেমন কারও উক্তি: 'যদি তুমি আমার সাথে সফরে না যাও, তবে তোমার ওপর তালাক', অথচ তার উদ্দেশ্য ছিল তাকে সফরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা, সফর না করলে তালাক দেওয়া তার উদ্দেশ্য ছিল না। এমতাবস্থায় একে তালাকের শপথ (يمين طلاق) বলা হয় এবং এর কাফফারা হবে শপথের কাফফারা (كفارة يمين)। অথবা বলল: 'যদি তুমি আমার সাথে সফরে না যাও, তবে তুমি আমার নিকট আমার মায়ের পিঠের মতো', অথচ তার উদ্দেশ্য ছিল সফরে নেওয়া, যিহার করা নয়; তবে একে যিহারের শপথ (يمين ظهار) বলা হয় এবং এর কাফফারা হবে শপথের কাফফারা (كفارة يمين)।

- যে ব্যক্তি তালাক হওয়া বা তার সংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হয়, সে ক্ষেত্রে যতটুকু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তা তার ওপর কার্যকর হবে না এবং বৈবাহিক সম্পর্কের মূল অবস্থাকেই বহাল (استصحاب العصمة) ধরা হবে।

- যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে 'তুমি মুক্ত (طالق)' এবং এর দ্বারা সে তাকে বন্ধন থেকে মুক্তির ইচ্ছা করে, তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে (ديانة) তার তালাক কার্যকর হবে না এবং আইনিভাবেও (قضاء) কার্যকর হবে না যদি তার নিয়তের সত্যতার স্বপক্ষে কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرينة) থাকে। তবে যদি আদালত আইনিভাবে (قضاء) তালাকের ফয়সালা দেয়, তবে ধর্মীয়ভাবেও (ديانة) আদালতের রায় অনুসরণ করতে হবে।

- যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল 'তুমি আমার জন্য হারাম', তবে এটি তার নিয়তের ওপর নির্ভর করবে; এটি শপথ (يمين), যিহার (ظهار) অথবা তালাক হতে পারে। আর যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল 'যদি তুমি এমন কাজ করো, তবে তুমি আমার নিকট আমার মায়ের পিঠের মতো', এর বিধান হবে শপথের (يمين) বিধান, যতক্ষণ না সে যিহারের নিয়ত করে।

- যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল 'তুমি আমার নিকট আমার মায়ের পিঠের মতো' এবং এর দ্বারা তালাকের ইচ্ছা করল, তবে তালাক কার্যকর হবে না। কারণ এটি যিহারের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট (صريح) শব্দ।

- পরিহাসকারীর স্পষ্ট (صريح) শব্দের মাধ্যমে দেওয়া তালাক ধর্মীয়ভাবে (ديانة) এবং আইনিভাবে (قضاء) কার্যকর হয়ে যায়, কারণ এ বিষয়ে শরিয়তের অকাট্য দলিল (نص) বিদ্যমান রয়েছে। তবে এ বিষয়ে একজন আলেম যা বলেছেন তা থেকে ধারণা নেওয়া যেতে পারে (সামান্য পরিমার্জিত): শরয়ি বিধানের অধীন ব্যক্তি (مكلف) যখন তালাক, নিকাহ বা রাজআ (رجعة) নিয়ে পরিহাস করে, তখন সে যা নিয়ে পরিহাস করেছে তা-ই তার ওপর কার্যকর হয়। এটি প্রমাণ করে যে, পরিহাসকারীর কথা গ্রহণযোগ্য, যদিও ঘুমন্ত ব্যক্তি, বিস্মৃত ব্যক্তি, জ্ঞান হারানো ব্যক্তি এবং বাধ্য করা (مكره) ব্যক্তির কথা গ্রহণযোগ্য নয়। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, পরিহাসকারী শব্দটি উচ্চারণ করার ইচ্ছা করে কিন্তু এর হুকুম বা বিধান (حكم) কার্যকর হোক তা চায় না; অথচ বিষয়টি তার এখতিয়ারে নয়। কেননা বান্দার কাজ হলো কেবল কারণ বা মাধ্যম (سبب) সৃষ্টি করা, আর তার ফলাফল বা বিধান (أحكام) নির্ধারিত হওয়া শরিয়ত প্রণেতার কাজ, বান্দা সেটা ইচ্ছা করুক বা না করুক। মূল বিবেচ্য বিষয় হলো সুস্থ মস্তিস্কে ও স্বেচ্ছায় কোনো বিষয়ের কারণ বা মাধ্যম (السبب) ঘটানোর ইচ্ছা করা। সুতরাং সে যখন এর ইচ্ছা করে, তখন শরিয়ত প্রণেতা তার ওপর বিধানটি প্রয়োগ করেন, চাই সে গুরুত্বের সাথে বলুক বা পরিহাস করে। পক্ষান্তরে ঘুমন্ত ব্যক্তি, বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি, পাগল এবং হিতাহিত জ্ঞান হারানো ব্যক্তির অবস্থা ভিন্ন। কারণ তাদের কোনো সঠিক ইচ্ছা নেই এবং তারা শরয়ি বিধানের অধীন (مكلف) নয়। ফলে তাদের শব্দগুলো হবে নিরর্থক (لغو), যেমন অবুঝ শিশুর মতো যে শব্দের অর্থ বোঝে না এবং কোনো ইচ্ছাও করে না।

পুরো মাসআলার সারকথা: পার্থক্য হলো ওই ব্যক্তির মাঝে যে অর্থ জানা থাকা সত্ত্বেও শব্দ উচ্চারণ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তার বিধান বা ফলাফল (حكم) চায় না, এবং ওই ব্যক্তির মাঝে যে শব্দ উচ্চারণের ইচ্ছাই করেনি এবং এর অর্থও জানে না। শরিয়ত প্রণেতা এ ক্ষেত্রে চারটি স্তর বিবেচনা করেছেন:

1 - বিধানের (حكم) ইচ্ছা করা কিন্তু মুখে তা উচ্চারণ না করা।

2 - শব্দ উচ্চারণ বা তার বিধান (حكم)—কোনোটিরই ইচ্ছা না করা।

3 - বিধানের ইচ্ছা ছাড়া কেবল শব্দ উচ্চারণের ইচ্ছা করা।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ১০)
4 - أن يقصد اللفظ والحكم.

فالأوليان لغو والآخرتان معتبرتان .... انتهى) قلتُ المراتب التي اعتبرها الشارع خمسة أربعة قد تقدم ذكرها والخامسة أن يقصد اللفظ دون حكمه ويكون هذا القصد مُعتبر شرعاً فهنا يكون اللفظ لغواً كمن يتلفظ بالطلاق الصريح للتعليم وكذلك نقل الكفر على سبيل التحذير منه ونحو ذلك.

- كنايات الطلاق لا يقع بها الطلاق إذا لم ينوه مزاحاً كانت أو جداً.

- الزواج والطلاق في التمثيل لا يترتب عليهما الآثار الشرعية ، فتمثيل دور الزوج لا يعد طلاقه طلاقاً لأنه حكاية فعل كحكاية القول وليس بكذب لأنه تقريب والمتلقي يعلم أنه كذلك كأمثلة النحاة والفقهاء ونحو ذلك والله أعلم.

 

‌‌(أحكام الأيمان)

- لا تنعقد اليمين إلا بالله أو اسم من أسمائه أو صفة من صفاته. والحلف بغير الله شرك لا تنعقد به اليمين ولا بد أن تكون اليمين الموجبة للكفارة على أمر مستقبل، فإن كانت على ماضي وهو كاذب عالماً فهي اليمين الغموس وإن كان يظن صدق نفسه فهي من لغو اليمين ، وإذا حنث في يمينه بأن فعل ما حلف على تركه أو ترك ما حلف على فعله وجبت عليه الكفارة.

- يمين الأعجمي تصح بلغته.

- الأيمان على نية الحالف ، إلا في الدعاوى فهي على نية المُستحلف.

- العبرة في اليمين فيما بين العبد وربه (ديانة): نية الحالف وقضاءً إذا لم يذكر النية حال عقد اليمين فإنها إلى السبب الذي هيج اليمين ثم إلى اللفظ الدال على النية والإرادة أما الدعاوى فاليمين على نية المُستحلف وهو صاحب الحق ديانة وقضاءً.

- اليمين على ثلاثة أقسام:

النوع الأول: يمين اللغو: وهي كل يمين لا ينعقد عليها القلب (أي لا يعزم عليها) أوهي ما لم تنعقد عليها النية، أو بعبارة أخرى: هي التي يسبق اللسان إلى لفظها بلا قصد معناها، أو يريد اليمين على شيء فيسبق لسانه إلى غيره. أو كقول الرجل: لا والله، وبلى والله، في عرض حديثه، ويدخل فيها أيضاً الحلف على شيء يعتقد أنه كما حلف، ثم يتبين له أن الأمر على خلافه، وكذلك يمين الهازل التي تجري على لسانه ولا يقصدها أو يعقد قلبه عليها لا تنعقد ولا كفارة فيها ولا مؤاخذة عليها لأنها من لغو اليمين وأيمان اللغو هو ما كان في المراء والمزاحة
৪ - শব্দ এবং বিধান (উভয়ই) উদ্দেশ্য করা।

(প্রথম দুটি অসার (لغو) এবং শেষ দুটি গ্রহণযোগ্য বা বিবেচ্য (معتبرتان) .... সমাপ্ত) আমি বলছি: শরীয়তপ্রণেতা (الشارع) যে স্তরগুলো বিবেচনা করেছেন তা পাঁচটি; চারটির কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে এবং পঞ্চমটি হলো শুধু শব্দের উদ্দেশ্য করা কিন্তু তার বিধান উদ্দেশ্য না করা। আর এই উদ্দেশ্যটি শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য (معتبر)। এমতাবস্থায় শব্দটি অসার (لغو) বলে গণ্য হবে, যেমন কেউ শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তালাকের সুস্পষ্ট (صريح) শব্দ উচ্চারণ করল। একইভাবে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কুফরী (الكفر) কথা বর্ণনা করা এবং অনুরূপ বিষয়গুলো।

- তালাকের রূপক শব্দসমূহের (كنايات) মাধ্যমে তালাক কার্যকর হবে না যদি তা নিয়ত (ينوه) না করা হয়, চাই তা ঠাট্টাচ্ছলে হোক বা গুরুত্বের সাথে।

- অভিনয় বা নাটকের ক্ষেত্রে বিবাহ ও তালাকের ওপর শরয়ী প্রভাব বর্তায় না। সুতরাং স্বামীর চরিত্রে অভিনয়কারীর তালাক প্রদান তালাক হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ এটি কোনো কাজের অনুকরণ মাত্র যেমন কথার অনুকরণ হয়। আর এটি মিথ্যা নয় কারণ এটি বিষয়টি বোঝানোর জন্য এবং দর্শক জানেন যে বিষয়টি এমনই, যেমন নাহুবিদ বা ব্যাকরণবিদ এবং ফকিহগণের (فقهاء) উদাহরণের মতো। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌(শপথের বিধানসমূহ)

- আল্লাহর নাম বা তাঁর কোনো নাম বা তাঁর কোনো গুণাবলী ছাড়া শপথ (اليمين) সংঘটিত হয় না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম করা শিরক (شرك), যার মাধ্যমে শপথ (اليمين) সংঘটিত হয় না। আর যে শপথের জন্য কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব হয়, তা অবশ্যই ভবিষ্যৎ বিষয়ের ওপর হতে হবে। যদি শপথটি অতীত বিষয়ের ওপর হয় এবং সে জেনেশুনে মিথ্যা বলে, তবে তা হলো 'গামুস শপথ' (اليمين الغموس) (যা ডুবিয়ে দেয়)। আর যদি সে নিজেকে সত্যবাদী মনে করে শপথ করে, তবে তা অসার শপথের (لغو اليمين) অন্তর্ভুক্ত। আর যদি সে তার শপথে শপথ ভঙ্গ (حنث) করে—অর্থাৎ যে কাজ না করার শপথ করেছিল তা করে ফেলে অথবা যা করার শপথ করেছিল তা ছেড়ে দেয়—তবে তার ওপর কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব হবে।

- অনারব ব্যক্তির শপথ তার নিজ ভাষায় শুদ্ধ হবে।

- শপথসমূহ শপথকারীর নিয়ত (نية) বা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল, তবে মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে তা শপথ গ্রহণকারীর নিয়ত (نية) বা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল।

- বান্দা ও তার রবের মাঝে শপথের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় (ধর্মীয় বা পারলৌকিক দিক থেকে (ديانة)): শপথকারীর নিয়ত (نية)। আর বিচারিক দিক থেকে (قضاءً) যদি শপথ করার সময় নিয়ত (النية) উল্লেখ না করা হয়, তবে তা শপথের উদ্দীপক কারণের দিকে ধাবিত হবে, এরপর নিয়ত ও ইচ্ছার নির্দেশক শব্দের দিকে। আর মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে শপথ হবে শপথ গ্রহণকারীর নিয়ত (نية) অনুযায়ী, যিনি ধর্মীয় ও বিচারিক উভয় দিক থেকেই হকের মালিক।

- শপথ তিন প্রকার:

প্রথম প্রকার: অসার শপথ (يمين اللغو): আর এটি এমন শপথ যার ওপর অন্তর সায় দেয় না (অর্থাৎ সেটির দৃঢ় সংকল্প করে না) অথবা যার ওপর নিয়ত (النية) সাব্যস্ত হয় না। অন্য কথায়: এটি হলো এমন শব্দ যা অর্থের উদ্দেশ্য ছাড়াই জিহ্বায় চলে আসে, অথবা কোনো বিষয়ে শপথ করার ইচ্ছা করল কিন্তু মুখ দিয়ে অন্য কথা বেরিয়ে এল। যেমন মানুষের কথার মাঝখানে 'না, আল্লাহর কসম' (لا والله) বা 'হ্যাঁ, আল্লাহর কসম' (بلى والله) বলা। এর মধ্যে সেই শপথও অন্তর্ভুক্ত যেখানে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শপথ করে যা সে সত্য মনে করে, কিন্তু পরে প্রকাশ পায় যে বিষয়টি তার বিপরীত ছিল। একইভাবে বিদ্রূপকারীর শপথ যা তার জিহ্বায় উচ্চারিত হয় কিন্তু সে উদ্দেশ্য করে না বা অন্তরে দৃঢ় সংকল্প করে না, তা সংঘটিত হবে না এবং তাতে কোনো কাফফারা (كفارة) নেই এবং এর জন্য কোনো জবাবদিহিতা নেই; কারণ এটি অসার শপথের (لغو اليمين) অন্তর্ভুক্ত। আর অসার শপথ (أيمان اللغو) সাধারণত ঝগড়া-বিবাদ বা ঠাট্টা-তামাশার সময় হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ১১)
والهزل والحديث الذي لا يعقد عليه القلب ، ومن لغو اليمين كلام الاثنين فيما بينهما: لا والله وبلى والله لا والله لا تذهب بلى والله تذهب لا والله تجلس وما يجري على الألسن كثيراً في عرض الحديث ، وكذلك من حلف على أمر مستقبلي مستحيل لا تنعقد يمينه وأيمان اللغو ليست عليها كفارة، أما من حلف على صديقه ولم يستجب له فإن كان القصد من اليمين الإكرام دون إلزامه فالراجح عدم وجوب الكفارة ، وإن كان قصده الإلزام ولم يستجب فإنه يحنث.

النوع الثاني: اليمين المنعقدة، أو المؤكدة وهي: الحلف على أمر في المستقبل أن يفعله، أو الحلف على أن لا يفعله ويقصد بحلفه التأكيد والتوثيق عليه، وهو المراد بقوله: عقدتم الأيمان أي نويتم عقدها بقلوبكم والعزم على الفعل، أو الترك، وهذه اليمين حكمها وجوب الكفارة عند الحنث.

النوع الثالث: اليمين الغموس، وهي: الحلف كذباً على أمر ماض أو في الحال، نافياً لعدم وقوعه، أو مثبتاً له، مثل قول الحالف: والله لقد ذهبت إلى عمرو وهو يعلم أنه لم يذهب إليه، أو قوله: والله ما حضر عمرو اليوم. وهو يعلم أنه حضر، والراجح أن اليمين الغموس هي اليمين الكاذبة التي تُهضم بها الحقوق، أو التي يُقصد بها الفسق والخيانة. فهذه اليمين يأثم صاحبها ، وهذه اليمين لا كفارة فيها على الراجح وهو مذهب الجمهور وإنما تجب فيها التوبة النصوح.

- نذر اللجاج والغضب وهو ما يخرج من الإنسان حال غضبه بقصد المنع من شيء أو الحمل عليه أو تصديقه أو تكذيبه ، فهذا يجري مجرى اليمين.

- قيل أن لغو اليمين هو دعاء الرجل على نفسه أعمى الله بصره لكنه ربما يؤاخذ به أو أذهب الله ماله إن لم يفعل كذا أو هو يهودي أو مشرك إن فعل كذا وقيل هو يمين المعصية ، ومنهم من يقول أنه في الرجلان يتبايعان والله لا أشتريه بكذا والله لا أبيعك بكذا ، وقيل هي ما كانت في اللجاج والغضب والعجلة ، وقيل هي من حلف على غيره يظن أنه يطيعه فلم يفعل وقيل هي كقول الرجل لا والله وبلى والله في حديث كلامه غير معتقد لليمين ولا مُريد لها.

- الاستثناء في اليمين ينفع وإن لم يرده إلا بعد الفراغ من اليمين حتى لو قال له بعض الحاضرين قل إن شاء الله فقالها نفعه.

- من حلف على يمين فقال إن شاء الله فلا حنث عليه بشروط ثلاثة:

1 - أن يقصد تعليق المحلوف عليه على مشيئة الله تعالى لا إن جاء بها للتبرك أو كانت سبق لسان بلا قصد.
কৌতুক এবং সেই কথা (হাদিস) যার ওপর মন দৃঢ় সংকল্প করে না, আর অসার শপথের অন্তর্ভুক্ত হলো দুই ব্যক্তির কথোপকথনের সময় সাধারণ কথাবার্তা: "না আল্লাহর কসম", "হ্যাঁ আল্লাহর কসম", "না আল্লাহর কসম, আপনি যাবেন না", "হ্যাঁ আল্লাহর কসম, আপনি অবশ্যই যাবেন", "না আল্লাহর কসম, আপনি বসুন"। এবং যা কথাবার্তার (হাদিস) মাঝে মুখে অনেক বেশি উচ্চারিত হয়। একইভাবে যদি কেউ ভবিষ্যৎ কোনো অসম্ভব বিষয়ে শপথ করে, তবে তার সেই শপথ কার্যকর হবে না। অসার শপথে কোনো কাফফারা নেই। তবে যে ব্যক্তি তার বন্ধুর জন্য শপথ করল এবং বন্ধুটি তার কথা রাখল না—যদি সেই শপথের উদ্দেশ্য বাধ্য করা ছাড়াই কেবল সম্মান প্রদর্শন হয়, তবে প্রাধান্যযোগ্য (الراجح) মতানুসারে এতে কোনো কাফফারা ওয়াজিব হবে না। কিন্তু যদি তার উদ্দেশ্য বাধ্য করা হয় এবং বন্ধুটি তা না মানে, তবে শপথ ভঙ্গ হবে।

দ্বিতীয় প্রকার: সুনিশ্চিত শপথ (اليمين المنعقدة) বা দৃঢ় শপথ (المؤكدة), আর তা হলো: ভবিষ্যতের কোনো কাজের ব্যাপারে তা করার জন্য শপথ করা অথবা না করার জন্য শপথ করা এবং শপথের মাধ্যমে সেই বিষয়ের ওপর জোরালো তাগিদ ও নিশ্চয়তা প্রদান করা। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যে শপথ মজবুত করেছ" এর মর্মার্থ; অর্থাৎ তোমরা তোমাদের অন্তরের সংকল্প এবং কাজটি করা বা বর্জন করার দৃঢ় ইচ্ছা করেছ। এই শপথ ভঙ্গের ক্ষেত্রে বিধান হলো কাফফারা ওয়াজিব হওয়া।

তৃতীয় প্রকার: নিমজ্জিত শপথ (اليمين الغموس), আর তা হলো: অতীত বা বর্তমানের কোনো বিষয়ে জেনেশুনে মিথ্যা শপথ করা—তা কোনো ঘটনা অস্বীকার করার জন্যই হোক বা সাব্যস্ত করার জন্য হোক। যেমন শপথকারীর উক্তি: "আল্লাহর কসম, আমি আমরের কাছে গিয়েছিলাম", অথচ সে জানে যে সে তার কাছে যায়নি। অথবা তার উক্তি: "আল্লাহর কসম, অমর আজ উপস্থিত হয়নি", অথচ সে জানে যে সে উপস্থিত ছিল। প্রাধান্যযোগ্য (الراجح) মত হলো, নিমজ্জিত শপথ (اليمين الغموس) হলো সেই মিথ্যা শপথ যার মাধ্যমে অন্যের অধিকার হরণ করা হয় অথবা যার দ্বারা পাপাচার ও বিশ্বাসঘাতকতার উদ্দেশ্য থাকে। এই শপথে শপথকারী গুনাহগার হবে। প্রাধান্যযোগ্য (الراجح) মত অনুযায়ী এই শপথে কোনো কাফফারা নেই এবং এটি সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতবাদ (مذهب الجمهور); বরং এতে নিষ্ঠাপূর্ণ তওবা (التوبة النصوح) করা ওয়াজিব।

- বিবাদ ও রাগের মানত: যা মানুষের রাগাম্বিত অবস্থায় কোনো কিছু থেকে বিরত রাখার জন্য, বা কোনো কাজে প্ররোচিত করার জন্য, অথবা কোনো কিছু সত্য সাব্যস্ত করা বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে উচ্চারিত হয়; এটি শপথের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

- বলা হয়েছে যে, অসার শপথ হলো কোনো ব্যক্তির নিজের বিরুদ্ধে বদদোয়া করা যে—"আল্লাহ তার দৃষ্টি কেড়ে নিন", তবে সম্ভবত এর জন্য পাকড়াও করা হতে পারে, অথবা "আল্লাহ তার সম্পদ বিনাশ করুন যদি সে এমনটি না করে", অথবা "যদি সে এমনটি করে তবে সে ইহুদি বা মুশরিক হিসেবে গণ্য হবে"। আবার কেউ বলেছেন এটি হলো পাপের শপথ (يمين المعصية)। তাদের মধ্যে কেউ বলেন, এটি হলো দুই ব্যক্তির কেনা-বেচার সময়ের উক্তি—"আল্লাহর কসম, আমি এত দামে এটি কিনব না" এবং "আল্লাহর কসম, আমি আপনার কাছে এত দামে এটি বিক্রি করব না"। আবার বলা হয়েছে এটি হলো বিবাদ, রাগ এবং তাড়াহুড়ার সময় করা শপথ। কেউ বলেন এটি হলো অন্যের ওপর এমন বিশ্বাস রেখে শপথ করা যে সে তার কথা শুনবে, কিন্তু সে তা পালন করল না। আবার বলা হয়েছে এটি হলো মানুষের স্বাভাবিক কথাবার্তার মধ্যে "না আল্লাহর কসম" বা "হ্যাঁ আল্লাহর কসম" বলা, যেখানে সে শপথের কোনো সংকল্প বা ইচ্ছা পোষণ করে না।

- শপথে ব্যতিক্রম (الاستثناء) বা ইনশাআল্লাহ বলা কার্যকর হয়, যদিও সে শপথ শেষ করার পর এটি বলার ইচ্ছা করে। এমনকি উপস্থিত কেউ যদি তাকে বলে—'ইনশাআল্লাহ বলুন', আর সে তা বলে, তবে তা কার্যকর হবে।

- যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শপথ করার পর 'ইনশাআল্লাহ' বলল, তবে তিনটি শর্তসাপেক্ষে তার শপথ ভঙ্গ হবে না:

1 - শপথকৃত বিষয়টি মহান আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ঝুলিয়ে দেওয়ার সংকল্প করতে হবে; কেবল বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এটি বলা যাবে না অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখের কথায় চলে আসলে হবে না।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ১২)
2 - أن يستثني لفظاً ونطقا فلا ينفعه أن يستثني بقلبه.

3 - أن يتصل الاستثناء بيمينه لفظاً أو حكماً.

- نقض اليمين تارة يكون واجباً كما لو حلف على فعل محرم أو ترك واجب ويكون محرماً كما لو حلف على ترك محرم أو فعل واجب ويكون مباح كما لو حلف على فعل مباح أو تركه.

- من حلف على يمين فرأى غيرها خيراً منها فليكفر عن يمينه وليأتي الذي هو خير.

- إذا حنثت في عدة أيمان ولا تدري كم هي فحاول أن تميَز عددها ولو فيما يغلب على ظنك، ثم كفَر عنها بما يغلب على الظن أنه احتياط في قدرها. واعلم أن الأيمان المتكررة على شيء واحد تجب فيها كفارة واحدة عند الحنث فيها أما الحلف على أشياء متعددة فتجب فيه الكفارة لكل يمين حصل فيها الحنث إلا أن يكون لم يكفر عن شيء منها ففي هذه الحال إنما تلزمه كفارة واحدة.

- شروط وجوب الكفارة إذا حلف بالله ثم نقضها ثلاثة:

1 - أن تكون اليمين منعقدة بأن يقصد الحالف عقدها على أمر مستقبل مُمكن.

2 - أن يحلف مختاراً فإن حلف مُكرهاً لم تنعقد يمينه.

3 - أن يحنث فيها غير ناسٍ ولا مُكره.

- كفارة اليمين هي إطعام عشرة مساكين أو كسوتهم أو تحرير رقبة مسلمة فمن لم يجد فصيام ثلاثة أيام متتابعة.

- قول لعمري جائز لكن لا يقصد به اليمين.

- ينبغي حفظ الأيمان.

- الاستكثار من اليمين مذموم ولا ينبغي لغير حاجة.

- الحلف بغير الله إذا كانت تجري على اللسان دون قصد تعظيم المحلوف به فهي محرمة وليست كفراً أكبر.

- إبرار يمين المُقسم مستحب ومندوب إليه ما لم يكن على إثم أو يترتب عليه ضرر.

- من حرَم على نفسه شيئاً مباحاً سوى زوجته فهو يجري مجرى اليمين أما تحريم الزوجة فإنه يُعتبر ظهاراً تجب فيه كفارة الظهار ولا تكفي فيه كفارة اليمين.
2 - মৌখিকভাবে এবং উচ্চারণের মাধ্যমে ব্যতিক্রম করতে হবে; কেবল মনে মনে ব্যতিক্রমের নিয়ত করলে তা কোনো কাজে আসবে না।

3 - ব্যতিক্রমটি শাব্দিক বা বিধানগতভাবে শপথের সাথে সংযুক্ত হতে হবে।

- শপথ ভঙ্গ করা কখনো ওয়াজিব হয়, যেমন যদি কেউ কোনো হারাম কাজ করার ওপর বা কোনো ওয়াজিব কাজ বর্জন করার ওপর শপথ করে। আবার কখনো তা হারাম হয়, যেমন যদি কেউ কোনো হারাম কাজ বর্জন করার ওপর বা ওয়াজিব কাজ করার ওপর শপথ করে। আর কখনো তা মুবাহ হয়, যেমন যদি কেউ কোনো মুবাহ কাজ করা বা বর্জন করার ওপর শপথ করে।

- যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শপথ করল, অতঃপর সেটির চেয়ে উত্তম কোনো কিছু দেখল, তবে সে যেন তার শপথের কাফফারা আদায় করে এবং সেই উত্তম কাজটি সম্পাদন করে।

- আপনি যদি বেশ কিছু শপথ ভঙ্গ করেন এবং সেগুলোর সংখ্যা আপনার জানা না থাকে, তবে তার সংখ্যা নিরূপণ করার চেষ্টা করুন, এমনকি তা যদি কেবল প্রবল ধারণার ভিত্তিতেও হয়। অতঃপর সেই প্রবল ধারণার ভিত্তিতেই সতর্কতামূলকভাবে কাফফারা আদায় করুন। জেনে রাখুন যে, একই বিষয়ের ওপর বারবার শপথ করলে এবং তা ভঙ্গ করলে একটি মাত্র কাফফারা প্রদান করা ওয়াজিব হয়। তবে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর শপথ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি শপথ ভঙ্গের জন্য আলাদা আলাদা কাফফারা ওয়াজিব হবে; যদি না ইতিপূর্বে কোনোটির জন্যই কাফফারা প্রদান করা হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় কেবল একটি কাফফারা প্রদান করাই তার জন্য যথেষ্ট হবে।

- আল্লাহর নামে শপথ করার পর তা ভঙ্গ করলে কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত তিনটি:

1 - শপথটি সংগঠিত হতে হবে, অর্থাৎ শপথকারী ভবিষ্যতে সম্ভব এমন কোনো কাজের ওপর শপথ করার সংকল্প করবে।

2 - স্বেচ্ছায় শপথ করতে হবে; যদি কেউ বাধ্য হয়ে শপথ করে, তবে তার শপথ সংগঠিত হবে না।

3 - বিস্মৃত না হয়ে এবং বাধ্য না হয়ে স্বেচ্ছায় শপথ ভঙ্গ করতে হবে।

- শপথের কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে আহার করানো অথবা তাদের পোশাক দান করা অথবা একজন মুসলিম দাস মুক্ত করা। যে ব্যক্তি এতে সমর্থ হবে না, তাকে ধারাবাহিকভাবে তিন দিন রোজা রাখতে হবে।

- ‘লা আমরি’ (আমার জীবনের কসম) বলা জায়েজ, তবে এর দ্বারা শপথের উদ্দেশ্য করা যাবে না।

- শপথ রক্ষা করা উচিত।

- অধিক পরিমাণে শপথ করা নিন্দনীয় এবং প্রয়োজন ছাড়া তা করা সমীচীন নয়।

- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা যদি কেবল মুখে মুখে চলে আসে এবং যার নামে শপথ করা হচ্ছে তাকে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তা হারাম, কিন্তু বড় কুফর নয়।

- শপথকারীর শপথ পূর্ণ করতে সহায়তা করা মুস্তাহাব ও প্রশংসনীয়, যতক্ষণ না তা কোনো পাপের কাজ হয় অথবা এর ফলে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

- যে ব্যক্তি স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো মুবাহ বস্তুকে নিজের জন্য হারাম করে নেয়, তবে তা শপথ হিসেবে গণ্য হবে। আর স্ত্রীকে হারাম করা ‘জিহার’ হিসেবে গণ্য হবে, যার জন্য জিহারের কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব, সেখানে শপথের কাফফারা যথেষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ১৩)
- من قال لزوجته أنت علي حرام فبحسب النية فقد يكون يميناً وقد يكون ظهاراً وقد يكون طلاقاً ومن قال لزوجته إن فعلت كذا فأنت علي كظهر أمي هذا حكمه حكم اليمين ما لم ينو الظهار.

- من قال لزوجته أنت علي كظهر أمي وأراد بذلك الطلاق لا يقع الطلاق لأنه لفظ صريح في الظهار.

- الإيلاء ينعقد باليمين بالله وبالطلاق وغير ذلك مما يعد حلفاً ، والإيلاء هو حلف زوج بالله أو بصفة من صفاته على ترك وطء زوجته التي يُمكن وطؤها في قُبُلها أبداً أو أكثر من أربعة أشهر بشرط أن يكون الزوج ممن يُمكنه الوطء.

- من الفروق الصحيحة بين اليمين والنذر أن اليمين مقصوده الحث أو المنع أو التصديق أو التكذيب وتحله الكفارة باستثناء اليمين الغموس، والنذر هو إلزام العبد نفسه طاعته مطلقاً أو معلقاً لها على شرط حصول نعمة أو دفع نقمة ويتعيَن فيه الوفاء فلا تُفيد فيه الكفارة وهو نذر التبرر وأما باقي أقسام النذر فيجري مجرى اليمين.

 

‌‌(أحكام النذور)

- عقد النذر ابتداءً مكروه فإذا عقده على بر وجب عليه الوفاء.

- إن كان النذر مباحاً أو جارياً مجرى اليمين كنذر الللجاج والغضب ونذر الطاعة المُبالغ فيه أو كان نذره معصية لم يجب الوفاء به وفيه كفارة يمين إذا لم يوف به ويحرم الوفاء بنذر المعصية.

- نذر الطاعة المُبالغ فيه، مثل من قال إني نذرت إن كلمت فلاناً فإن كل مملوك لي عتيق وكل مال لي ستر للبيت فليكفر عن يمينه ولا يعتق مملوكيه ولا يجعل ماله ستراً للبيت.

- نذر المرء مالا يقدر عليه تجب عليه الكفارة ، أما نذر المرء ما لا يملك له حالتان: 1 - أن ينذر ما ليس في ملكه ولكن في ملك غيره فالوفاء به لا يجوز. 2 - أن ينذر فيما لا يملكه ابتداءً (أي ما ليس في ملكه الآن) ففي هذه الحالة يثبت في حقه الوفاء به متى ما ملك ذلك.

- نذر اللجاج والغضب وهو ما يخرج من الإنسان حال غضبه بقصد المنع من شيء أو الحمل عليه أو تصديقه أو تكذيبه ، فهذا يجري مجرى اليمين.
- যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, "তুমি আমার জন্য হারাম," তবে তা নিয়তের ওপর নির্ভর করবে; কারণ তা শপথ (يمين), হতে পারে যিহার (ظهار), অথবা তালাক (طلاق)। আর যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, "যদি তুমি অমুক কাজ করো তবে তুমি আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের মতো," তবে এর বিধান হলো শপথের (يمين) বিধান, যতক্ষণ না সে যিহারের (ظهار) নিয়ত করে।

- যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, "তুমি আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের মতো" এবং এর মাধ্যমে সে তালাক (طلاق) প্রদানের ইচ্ছা করল, তবে তালাক (طلاق) পতিত হবে না; কারণ এটি যিহারের (ظهار) ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট শব্দ (لفظ صريح)।

- ঈলা (إيلاء) আল্লাহর নামে শপথ (يمين), তালাক (طلاق) এবং এ জাতীয় অন্য যা কিছু শপথ হিসেবে গণ্য হয় তার মাধ্যমে কার্যকর হয়। ঈলা (إيلاء) হলো কোনো স্বামীর আল্লাহর নামে বা তাঁর কোনো গুণবাচক নামের মাধ্যমে শপথ করা যে, সে তার স্ত্রীর সাথে—যার সাথে সহবাস (وطء) করা সম্ভব—কখনো বা চার মাসের অধিক সময় সহবাস (وطء) করবে না; শর্ত হলো স্বামীকে সহবাসে (وطء) সক্ষম হতে হবে।

- শপথ (يمين) এবং মানতের (نذر) মধ্যে সঠিক পার্থক্যগুলোর একটি হলো, শপথের (يمين) উদ্দেশ্য হলো কোনো কাজের প্রতি উৎসাহিত করা, বাধা দেওয়া, কোনো কিছুকে সত্য সাব্যস্ত করা অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং 'ইয়ামিনে গামুস' (اليمين الغموس) ব্যতীত অন্য সব শপথে কাফফারা (كفارة) তা বৈধ করে দেয়। আর মানত (نذر) হলো বান্দার পক্ষ থেকে নিজের ওপর কোনো আনুগত্যকে (طاعة) আবশ্যক করে নেওয়া—চাই তা নিঃশর্ত হোক কিংবা কোনো নেয়ামত লাভ অথবা বিপদ দূর হওয়ার শর্তযুক্ত হোক—এবং এতে মানত পূরণ করা অপরিহার্য, ফলে এখানে কাফফারা (كفارة) কোনো কাজে আসে না; একে আনুগত্যমূলক মানত (نذر التبرر) বলা হয়। আর মানতের (نذر) বাকি প্রকারগুলো শপথের (يمين) বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

‌‌(মানতের বিধানসমূহ)

- প্রাথমিকভাবে মানতের (نذر) চুক্তি করা মাকরুহ (مكروه); কিন্তু যদি কেউ কোনো নেক কাজের ওপর মানত করে তবে তা পূরণ করা তার জন্য ওয়াজিব (واجب)।

- যদি মানতটি (نذر) মুবাহ (مباح) হয় অথবা শপথের (يمين) সমপর্যায়ের হয়—যেমন ঝগড়া বা রাগের মাথার মানত (نذر اللجاج والغضب) অথবা আনুগত্যের (طاعة) ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত মানত—কিংবা মানতটি যদি কোনো গুনাহের (معصية) কাজের জন্য হয়, তবে তা পূরণ করা ওয়াজিব (واجب) নয়। আর যদি তা পূরণ না করা হয় তবে তাতে শপথের কাফফারা (كفارة يمين) প্রদান করতে হবে। গুনাহের (معصية) মানত পূরণ করা হারাম (حرام)।

- আনুগত্যের (طاعة) ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত মানত (نذر), যেমন কেউ বলল: "আমি মানত (نذر) করলাম যে, যদি আমি অমুকের সাথে কথা বলি তবে আমার সকল দাস মুক্ত হয়ে যাবে এবং আমার সকল সম্পদ কাবার গিলাফ হয়ে যাবে।" এমতাবস্থায় সে যেন তার শপথের কাফফারা (كفارة) আদায় করে; সে তার দাসদের মুক্ত করবে না এবং তার সম্পদকেও কাবার গিলাফ বানাবে না।

- মানুষ এমন কিছুর মানত (نذر) করলে যা সে করতে সক্ষম নয়, তবে তার ওপর কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব (واجب) হয়। আর মানুষের মালিকানাধীন (ملك) নয় এমন বিষয়ের মানতের (نذر) দুটি অবস্থা রয়েছে: ১. এমন বিষয়ের মানত (نذر) করা যা তার মালিকানায় (ملك) নেই বরং অন্যের মালিকানায় (ملك) রয়েছে, তবে তা পূরণ করা জায়েজ (جائز) নয়। ২. প্রাথমিকভাবে যা তার মালিকানায় (ملك) নেই (অর্থাৎ বর্তমানে মালিকানায় নেই) এমন বিষয়ের মানত (نذر) করা; এই অবস্থায় যখনই সে সেই জিনিসের মালিক (ملك) হবে, তখনই তা পূরণ করা তার জন্য আবশ্যক হবে।

- ঝগড়া বা রাগের মাথার মানত (نذر اللجاج والغضب) হলো যা মানুষের রাগান্বিত অবস্থায় কোনো কিছু থেকে বাধা দেওয়া, কোনো কিছু করতে বাধ্য করা অথবা কোনো বিষয়কে সত্য বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মুখ থেকে বের হয়। এটি শপথের (يمين) স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আহকামুল আলফাজ ওয়া আহকামুত তালাক ওয়াল আইমান ওয়ান নুজুর (পৃষ্ঠা: ১৪)
- النذر الصحيح خمسة أقسام:

1 - النذر المطلق وهو الذي لم يسميه سواءً كان مطلقاً أو معلقاً فهذا تجب فيه كفارة يمين.

2 - نذر اللجاج والغضب وهو تعليق نذره بشرط يقصد المنع منه أو الحمل عليه أو التصديق أو التكذيب فهذا مخير بين فعل ما نذره أو كفارة يمين.

3 - نذر مباح وهذا يُخيَر بين فعله وبين كفارة يمين إن لم يفعله.

4 - نذر المعصية وهذا لا يجوز الوفاء به ويكفر عن هذا النذر كفارة يمين وهناك مذهب آخر يرى أنه ليس عليه كفارة حتى.

5 - نذر التبرر وهو نذر الطاعة سواء كان معلقاً على شرط أو مطلقاً فإنه يجب الوفاء به.

 

وختاماً نسأل الله عز وجل أن ينفع بهذه الرسالة قارئها ومؤلفها وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

تنبيه: أعتذر لكل الأخوة القراء لعدم عزو المعلومات المسطرة في هذه الرسالة إلى مصادرها والسبب في ذلك أن أصل هذه الرسالة كان ملخصاً شخصياً ولم أكن أنوي وقتها نشرها بين الناس وبالتالي لم أهتم بمصادر المعلومات ولكن لمَا كثرت المادة لدي ارتأيت نشرها لتعم الفائدة للجميع ، فجزى الله كل من ساهم في هذه الرسالة مساهمة مباشرة أو غير مباشرة كالذين نقلت عنهم ولم أذكر أسماءهم للسبب المذكور أعلاه وجعلها في موازين حسناتهم.

لإبداء الملاحظات والاقتراحات فيرجى التواصل على البريد الإليكتروني:

wBadrany@hotmail.com

أخوكم أبو فيصل البدراني.
বিশুদ্ধ (صحيح) মানত পাঁচ প্রকার:

1 - শর্তহীন মানত (النذر المطلق): এটি হলো এমন মানত যেখানে কোনো কিছুর নাম নির্দিষ্ট করা হয়নি, চাই তা সাধারণ (المطلق) হোক কিংবা শর্তযুক্ত (معلق); এক্ষেত্রে কসমের কাফফারা ওয়াজিব হয়।

2 - বিতর্ক ও ক্রোধের মানত (نذر اللجاج والغضب): এটি হলো মানতকে এমন কোনো শর্তের (معلق) সাথে যুক্ত করা যার মাধ্যমে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখা, কোনো কাজে প্ররোচিত করা অথবা কোনো কিছুকে সত্য বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য থাকে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি তার মানত পূরণ করা অথবা কসমের কাফফারা দেওয়ার মধ্যে ইখতিয়ার রাখে।

3 - বৈধ (مباح) মানত: এটি পালন করা বা না করলে কসমের কাফফারা দেওয়ার মধ্যে ইখতিয়ার থাকে।

4 - পাপের (معصية) মানত: এটি পূরণ করা জায়েজ নয়। এই মানতের পরিবর্তে কসমের কাফফারা দিতে হয়। তবে অন্য একটি মাযহাবের মতে এতে কোনো কাফফারাও নেই।

5 - পুণ্য অর্জনের মানত (نذر التبرر): এটি হলো আনুগত্যের (الطاعة) মানত, চাই তা শর্তযুক্ত (معلق) হোক বা সাধারণ (المطلق); এটি পূরণ করা ওয়াজিব।

 

পরিশেষে, আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই পুস্তিকা দ্বারা এর পাঠক ও লেখক উভয়কে উপকৃত করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপরও। আমাদের শেষ নিবেদন হলো—সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

সতর্কবার্তা: আমি সকল পাঠক ভাইয়ের নিকট এই পুস্তিকায় লিপিবদ্ধ তথ্যাবলির উৎস নির্দেশ না করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এর কারণ হলো, এই পুস্তিকাটি মূলত ব্যক্তিগত একটি সারসংক্ষেপ ছিল এবং তখন এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না। ফলে আমি তথ্যের উৎসের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করিনি। কিন্তু যখন আমার নিকট তথ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেল, তখন আমি এটি প্রকাশ করা সমীচীন মনে করলাম যাতে এর দ্বারা সকলে উপকৃত হতে পারে। সুতরাং যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই পুস্তিকাটি তৈরিতে অবদান রেখেছেন, যেমন—যাদের থেকে আমি তথ্য গ্রহণ করেছি অথচ উপরোক্ত কারণে নাম উল্লেখ করতে পারিনি, আল্লাহ তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এটিকে তাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।

মতামত ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুগ্রহ করে নিচের ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করুন:

wBadrany@hotmail.com

আপনার ভাই আবু ফয়সাল আল-বদরানী।