(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: -)
الإصابة في الذب عن الصحابة - رضي الله عنهم -   (عبد الهادي العمري)

القسم: العقيدة


الكتاب: الإصابة في الذب عن الصحابة - رضي الله عنهم -

المؤلف: الشيخ الدكتور مازن بن محمد بن عيسى

عدد الصفحات: 440

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1433

আল-ইসাবাহ ফিয যাব্বি আনিল সাহাবা - আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন -   (আবদুল হাদি আল-ওমারি)

বিভাগ: আকীদা


কিতাব: আল-ইসাবাহ ফিয যাব্বি আনিল সাহাবা - আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন -

লেখক: শায়খ ডক্টর মাযেন বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪০

[কিতাবটি মুদ্রিত নয়]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: -)
الإصابة في الذب عن الصحابة

رضي الله عنهم

 

[إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آَمَنُوا]

 

تأليف الدكتور

مازن بن محمد بن عيسى
সাহাবীদের প্রতিরক্ষায় সঠিক সমাধান

আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন

 

[নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন]

 

ডক্টর কর্তৃক রচিত

মাজেন বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، إله الأولين والآخرين، الملك الحق المبين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، من بعثه الله رحمة للعالمين، وهداية للخلق أجمعين، عليه وعلى آله الطيبين، وصحابته الأكرمين، أنوار الهدى، ومصابيح الدجى، واحشرنا تحت لواء سيد المرسلين، وأدخلنا الجنة معهم أجمعين.

أما بعد:

فإن سنة الاصطفاء والاختيار، سنة جارية، ومنّة باقية، يقول جل شأنه:

[اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلائِكَةِ رُسُلاً وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ]

الحج 75.

[وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ] القصص 68، والاختيار هنا: الاجتباء والاصطفاء (1).

--------------------------------------------

(1) ابن القيم: محمد: الإمام: زاد المعاد في هدي خير العباد: ط 13 1406هـ، مؤسسة الرسالة، بيروت. (1/ 39)
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের উপাস্য, সত্য ও সুস্পষ্ট রাজাধিরাজ। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির ওপর, যাকে আল্লাহ বিশ্ববাসীর জন্য রহমত এবং সকল সৃষ্টির হেদায়েত স্বরূপ পাঠিয়েছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন ও অত্যন্ত সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর, যারা হেদায়েতের আলোকবর্তিকা এবং অন্ধকারের প্রদীপ। আর হে আল্লাহ, আমাদের হাশর করুন রাসূলগণের সরদারের পতাকাতলে এবং আমাদের সকলকে তাঁদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করান।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার চয়ন ও নির্বাচনের নীতি এক চলমান বিধান এবং চিরস্থায়ী অনুগ্রহ। মহান সত্তা বলেন:

[আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকেও রাসূল মনোনীত করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা]

আল-হজ্জ ৭৫।

[আর আপনার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং চয়ন করেন] আল-কাসাস ৬৮; আর এখানে 'নির্বাচন' বলতে মনোনীত করা ও চয়ন করাকে বোঝানো হয়েছে (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কায়্যিম: মুহাম্মদ: আল-ইমাম: যাদুল মা’আদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ: ১৩তম সংস্করণ, ১৪০৬ হিজরী, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত। (১/ ৩৯)
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৮)
[إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحاً وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى

الْعَالَمِينَ] آل عمران33.

[وَاذْكُرْ عِبَادَنَا إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ أُولِي الْأَيْدِي وَالْأَبْصَارِ إِنَّا أَخْلَصْنَاهُمْ بِخَالِصَةٍ ذِكْرَى الدَّارِ وَإِنَّهُمْ عِنْدَنَا لَمِنَ الْمُصْطَفَيْنَ الْأَخْيَارِ]

ص 45 - 47.

يقول الإمام ابن القيم: وإذا تأملت أحوال هذا الخلق، رأيت هذا الاختيار والتخصيص فيه، دالا على ربوبيته تعالى ووحدانيته، وكمال حكمته وعلمه وقدرته، وأنه الذي لا إله إلا هو، فلا شريك له يخلق كخلقه، ويختار كاختياره، ويدبر كتدبيره، فهذا الاختيار والتدبير، والتخصيص المشهود أثره في هذا العالم، من أعظم آيات ربوبيته، وأكبر شواهد وحدانيته، وصفات كماله، وصدق رسله (1).

فاصطفى الله جل وعلا من البشر: الأنبياء والرسل، واختار منهم صفوتهم، وهم: أولوا العزم منهم (2) قال سبحانه وتعالى [فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ

--------------------------------------------

(1) ابن القيم: زاد المعاد: 1/ 42

(2) أولو العزم: أي أولو الجد من الرسل، وهم من حفظ له شدة مع قومه ومجاهدة. قال ابن الأثير: واختلف العلماء في تعيينهم على أقوال أشهرها:

أ- أنهم أصحاب الشرائع وهم: نوح وإبراهيم وموسى وعيسى ومحمد عليهم الصلاة والسلام، وهو قول مجاهد، وعليه فإن (من) في الآية تكون للتبعيض، وهو قول عطاء الخراساني.

ب- أنهم جميع الرسل، ويكون الرسل كلهم أولو العزم، وهو قول ابن عباس، وعليه، فإن (من) في الآية تكون لبيان الجنس، وهو قول علي بن مهدي الطبري وابن زيد، والقول الأول أشهر.

ابن الأثير: المبارك: الإمام: النهاية في غريب الحديث والأثر، بيت الأفكار الدولية، دون ذكر رقم الطبعة وتاريخها (600).

أبو حيان: محمد: الإمام، البحر المحيط في التفسير، دار الفكر، بيروت 1421هـ: 9/ 451.

القرطبي: محمد: الإمام: الجامع لأحكام القرآن: دار الكتاب العربي بيروت 1427هـ: 16/ 188

ابن كثير: إسماعيل: الإمام: تفسير القرآن العظيم: دار المعرفة، بيروت ط 5، 1412: 4/ 185
[নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহীমের পরিবার এবং ইমরানের পরিবারকে বিশ্বজগতের উপর

মনোনীত করেছেন] আলে ইমরান ৩৩।

[এবং স্মরণ করুন আমাদের বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবকে, যারা ছিল শক্তিশালী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে এক বিশেষ গুণের মাধ্যমে একনিষ্ঠ করেছিলাম, যা হলো পরকালের স্মরণ। আর নিশ্চয়ই তারা আমাদের নিকট মনোনীত ও শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত]

সোয়াদ ৪৫ - ৪৭।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: আর আপনি যদি এই সৃষ্টির অবস্থা নিয়ে চিন্তা করেন, তবে এতে এই নির্বাচন ও বিশেষায়িতকরণ দেখতে পাবেন, যা মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও একত্ববাদের প্রমাণ দেয় এবং তাঁর হিকমত (প্রজ্ঞা), জ্ঞান ও ক্ষমতার পূর্ণতা প্রকাশ করে। আর তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই যিনি তাঁর মতো সৃষ্টি করেন, তাঁর মতো নির্বাচন করেন এবং তাঁর মতো পরিচালনা করেন। সুতরাং এই নির্বাচন, পরিচালনা এবং বিশেষায়িতকরণ—যার প্রভাব এই জগতে পরিলক্ষিত হয়—তা তাঁর রুবুবিয়্যাতের অন্যতম মহান নিদর্শন এবং তাঁর একত্ববাদ ও পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির এবং তাঁর রাসুলদের সত্যতার অন্যতম বড় প্রমাণ (১)।

সুতরাং আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা মানুষের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন: নবী ও রাসুলদের, এবং তাদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠদের বেছে নিয়েছেন, আর তারা হলেন: উলুল আজম (দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ) রাসুলগণ (২)। মহান আল্লাহ বলেন [সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম: জাদুল মাআদ: ১/ ৪২

(২) উলুল আজম: অর্থাৎ রাসুলদের মধ্যে যারা অধিক পরিশ্রমী ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, যারা তাদের কওমের পক্ষ থেকে আসা কঠোরতা ও জিহাদে অটল ছিলেন। ইবনুল আসির বলেন: তাদের নির্ধারণের ব্যাপারে ওলামাদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো:

ক- তারা হলেন শরীয়তপ্রাপ্ত রাসুলগণ, আর তারা হলেন: নূহ, ইবরাহীম, মুসা, ঈসা এবং মুহাম্মাদ আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম। এটি মুজাহিদের উক্তি, এবং এই মতানুসারে আয়াতের 'মিন' শব্দটি আংশিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি আতা আল-খুরাসানির উক্তি।

খ- তারা হলেন সকল রাসুল, অর্থাৎ সকল রাসুলই উলুল আজম। এটি ইবনে আব্বাসের উক্তি, এবং এই মতানুসারে আয়াতের 'মিন' শব্দটি প্রকার স্পষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এটি আলী ইবনে মাহদী আত-তাবারী এবং ইবনে যায়দের উক্তি। তবে প্রথম উক্তিটিই অধিক প্রসিদ্ধ।

ইবনুল আসির: আল-মুবারক: ইমাম: আন-নিহায়া ফী গারিবিল হাদীস ওয়াল আসার, বায়তুল আফকার আদ-দুওয়ালিইয়া, সংস্করণ নম্বর ও তারিখ বিহীন (৬০০)।

আবু হাইয়ান: মুহাম্মাদ: ইমাম, আল-বাহরুল মুহীত ফীত তাফসির, দারুল ফিকর, বৈরুত ১৪২১ হিজরি: ৯/ ৪৫১।

কুরতুবি: মুহাম্মাদ: ইমাম: আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন: দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত ১৪২৭ হিজরি: ১৬/ ১৮৮

ইবনে কাসীর: ইসমাঈল: ইমাম: তাফসিরুল কুরআনিল আজিম: দারুল মা’রিফা, বৈরুত ৫ম সংস্করণ, ১৪১২: ৪/ ১৮৫
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৯)
أُولُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلا تَسْتَعْجِلْ لَهُمْ] الأحقاف 35 واصطفى منهم الرسول الأكرم، والنبي الأعظم، فعن واثلة بن الأسقع، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم) (1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه (باب فضل نسب النبي صلى الله عليه وسلم، وتسليم الحجر عليه قبل النبوة (2276). وأخرجه الترمذي في جامعه (باب فضل النبي صلى الله عليه وسلم (3615).وأخرجه أحمد في مسنده، انظر: البنا، أحمد، الشيخ: الفتح الرباني، لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني، دار إحياء التراث العربي، بيروت، دون ذكر رقم الطبعة وتاريخها 20/ 175.

 

*قوله " اصطفى " أي اختار، " كنانة ": بكسر الكاف، وهي عدة قبائل أبوهم، كنانة بن خزيمة من ولد إسماعيل، و "قريش" وهم أولاد نضر بن كنانة كانوا تفرقوا في البلاد، فجمعهم قصي بن كلاب في مكة، فسموا: قريشا، لأنه قرشهم، أي جمعهم، " بني هاشم ": هاشم بن عبد مناف. " واصطفاني من بني هاشم ": أي النبي الكريم، وهو: محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.

قال النووي: وإلى هنا إجماع الأمة، وأما ما بعده إلى آدم فيختلف الناس فيه أشد اختلاف، قال العلماء: ولا يصح فيه شيء يعتمد. البنا: الفتح الرباني 20/ 176، المباركفوري، محمد: العلامة، تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي: دار إحياء التراث العربي، بيروت ط 3/ 1422هـ (10/ 75).

النووي: يحيى: الإمام: تهذيب الأسماء واللغات: دار الكتب العلمية، بيروت، ط، 1/ 1418هـ (1/ 29).
[রাসূলগণের মধ্যে যারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাদের ধৈর্য ধারণের মতো ধৈর্য ধারণ করুন এবং তাদের জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না] আল-আহকাফ ৩৫ এবং তিনি তাদের মধ্য থেকে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত রাসূল ও মহান নবীকে মনোনীত করেছেন। ওয়াসিলা বিন আল-আসকা‘ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন) (১)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশমর্যাদা এবং নবুওয়তের পূর্বে তাঁর প্রতি পাথরের সালাম প্রদান (২২৭৬))। তিরমিজি তাঁর জামি গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা (৩৬১৫))। আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন, দেখুন: আল-বান্না, আহমদ, আশ-শায়খ: আল-ফাতহুর রব্বানি, লি-তারতিবি মুসনাদ আল-ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, সংস্করণ ও তারিখের উল্লেখ ব্যতীত ২০/ ১৭৫।

 

*তাঁর উক্তি "মনোনীত করেছেন" অর্থাৎ নির্বাচন করেছেন। "কিনানাহ": কাফ বর্ণে কাসরা (জের) সহ, এটি বেশ কিছু গোত্র যাদের পিতা হলেন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ, যিনি ইসমাঈলের বংশধর। "কুরাইশ" হলেন নযর বিন কিনানাহর বংশধর, তাঁরা বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, অতঃপর কুসাই বিন কিলাব তাঁদেরকে মক্কায় একত্রিত করেন, ফলে তাঁদের নাম রাখা হয় কুরাইশ; কারণ তিনি তাঁদেরকে 'কুরাশ' অর্থাৎ একত্রিত করেছিলেন। "বনু হাশিম": হাশিম বিন আবদে মানাফ। "এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন": অর্থাৎ সম্মানিত নবী, তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নযর বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মুদরিকা বিন ইলিয়াস বিন মুযার বিন নিযার বিন মা'দ বিন আদনান।

আন-নওয়াবী বলেন: এই পর্যন্ত উম্মতের ঐকমত্য রয়েছে, আর এর পর থেকে আদম পর্যন্ত বংশপরম্পরার ব্যাপারে মানুষের মাঝে চরম মতভেদ বিদ্যমান। উলামায়ে কেরাম বলেন: এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য সহীহ কিছু প্রমাণিত নয়। আল-বান্না: আল-ফাতহুর রব্বানি ২০/ ১৭৬; আল-মুবারকপুরী, মুহাম্মদ: আল-আল্লামাহ, তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামি'আত তিরমিজি: দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ৩য় সংস্করণ/ ১৪২২ হিজরি (১০/ ৭৫)।

আন-নওয়াবী: ইয়াহইয়া: আল-ইমাম: তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ/ ১৪১৮ হিজরি (১/ ২৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১০)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أنا سيد ولد آدم يوم القيامة، وأول من ينشق عنه القبر، وأول شافع وأول مشفع) (1).

واصطفى الله جل وعلا من جملة الأمم، أمة المصطفى عليه أفضل الصلاة وأتم التسليم، فجعلها خاتمة الأمم وخيرها، قال سبحانه [كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ] آل عمران 110.

وعن حكيم بن معاوية بن حيدة عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أنتم

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه (في باب تفضيل نبينا صلى الله عليه وسلم على جميع الخلائق (2278)
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমি কিয়ামতের দিন আদম-সন্তানদের নেতা হব, এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর বিদীর্ণ করা হবে, আর আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে) (১)।

আর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা সকল উম্মতের মধ্য থেকে মুস্তফা—যাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর উম্মতকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর একে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: [তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে] আল-ইমরান: ১১০।

আর হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে হায়দাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান সম্পর্কিত অধ্যায়ে, হাদিস নং ২২৭৮) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১১)
توفون سبعين أمة أنتم خيرها وأكرمها على الله عز وجل (1).

قال الإمام ابن كثير: وإنما حازت هذه الأمة قصب السبق إلى الخيرات بنبيها محمد صلى الله عليه وسلم فإنه أشرف خلق الله وأكرم الرسل على الله، وبعثه الله بشرع كامل عظيم، لم يعطه نبي قبله ولا رسول من الرسل، فالعمل على منهاجه وسبيله يقوم القليل منه ما لا يقوم العمل الكثير من أعمال غيرهم مقامه (2).

ومن فضل الله تعالى على هذه الأمة، أن جعلها نصف أهل الجنة، أخرج البخاري في صحيحه عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في قبة، فقال: أترضون أن تكونوا ربع أهل الجنة؟ قلنا: نعم، قال: أترضون أن تكونوا ثلث أهل الجنة؟ قلنا: نعم، قال: أترضون أن تكونوا شطر أهل الجنة؟ قلنا: نعم، قال: والذي نفسي محمد بيده، إني لأرجو أن تكونوا شطر أهل الجنة، وذلك أن الجنة لا يدخلها إلا نفس مسلمة، وما في أنتم في أهل الشرك إلا كالشعرة البيضاء في جلد الثور الأسود أو كالشعرة السوداء في جلد الثور الأحمر (3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في كتاب تفسير القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، باب: ومن سورة آل عمران (3001)، وقال الإمام الترمذي: هذا حديث حسن

(2) ابن كثير، تفسير القرآن العظيم 1/ 399

(3) البخاري: محمد: الإمام: صحيح البخاري، دار الفكر ط 1/ 1411هـ، باب كيف الحشر 6528، (7/ 249).
তোমরা সত্তরটি উম্মত পূর্ণ করবে, তোমরা তাদের মধ্যে মহান আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধিক সম্মানিত (১)।

ইমাম ইবনে কাসীর বলেন: এই উম্মত কেবলমাত্র তাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসিলায় কল্যাণকর কাজে শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতা অর্জন করেছে। কেননা তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে মহৎ এবং আল্লাহর নিকট রাসূলগণের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত। আল্লাহ তাঁকে এমন এক পূর্ণাঙ্গ ও মহান শরীয়ত দিয়ে পাঠিয়েছেন, যা তাঁর পূর্ববর্তী কোনো নবী বা রাসূলকে দেওয়া হয়নি। সুতরাং তাঁর মানহাজ ও পন্থায় অল্প আমলও অন্যদের অনেক আমলের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ হয় (২)।

এই উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো যে, তিনি তাদের জান্নাতবাসীদের অর্ধেক করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি তাঁবুতে ছিলাম। তিনি বললেন: তোমরা কি জান্নাতবাসীদের এক-চতুর্থাংশ হতে সন্তুষ্ট? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা কি জান্নাতবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ হতে সন্তুষ্ট? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা কি জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হতে সন্তুষ্ট? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর শপথ, নিশ্চয়ই আমি আশা করি তোমরা জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে। আর তা এ কারণে যে, কোনো মুসলিম সত্তা ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর মুশরিকদের মধ্যে তোমাদের তুলনা হলো কালো ষাঁড়ের চামড়ায় একটি সাদা লোমের মতো অথবা লাল ষাঁড়ের চামড়ায় একটি কালো লোমের মতো (৩)।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কুরআন তাফসীর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: সূরা আল-ইমরান থেকে (৩০০১), এবং ইমাম তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি হাসান।

(২) ইবনে কাসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ১/ ৩৯৯

(৩) বুখারী: মুহাম্মদ: ইমাম: সহীহ বুখারী, দারুল ফিকর সংস্করণ ১/ ১৪১১ হিজরী, পরিচ্ছেদ: হাশর কীভাবে হবে ৬৫২৮, (৭/ ২৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১২)
قال الحافظ ابن حجر: ولمسلم من طريق أبي الأحوص عن أبي إسحاق " فكبرنا في الموضعين " ومثله في حديث أبي سعيد، وزاد " فحمدنا " وفي حديث ابن عباس " ففرحوا " وفي ذلك كله دلالة على أنهم استبشروا بما بشرهم به، فحمدوا الله على نعمته العظمى، وكبروه استعظاما لنعمته بعد استعظامهم لنقمته (1).

وقال العلامة ابن عماد الأقفهسي: وفي رواية، ثم قال: (إن الجنة عشرون ومائة صف منها ثمانون من هذه الأمة) وحينئذ فيكونون ثلثي أهل الجنة، وقد وقع التصريح به في الرواية الأخرى " إني لأرجو أن تكونوا ثلثي أهل الجنة".

ثم قال: قال بعض أهل المعاني: وإلى ذلك الإشارة بقوله تعالى [أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ] فإن الوارث له الثلثان، لأن المريض ممنوع من التصرف فيما زاد على الثلث إلا برضى الوارث (2).

قلت: ولكن الحافظ ابن حجر، ضعف رواية الكلبي: " إني لأرجو أن

--------------------------------------------

(1) ابن حجر: أحمد: الحافظ: فتح الباري بشرح صحيح البخاري: دار الريان للتراث، القاهرة، ط 2/ 1409هـ (11/ 395)

(2) الأقفهسي: محمد: العلامة: الإرشاد إلى ما وقع في الفقه وغيره من الأعداد، دار الكتب العلمية، بيروت، ط 1/ 1412هـ (1/ 40)
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: মুসলিমের বর্ণনায় আবুল আহওয়াসের সূত্রে আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে, "আমরা উভয় স্থানে তাকবির ধ্বনি দিলাম।" আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, এবং তাতে অতিরিক্ত রয়েছে, "আমরা আল্লাহর প্রশংসা করলাম।" আর ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে, "তারা আনন্দিত হলেন।" এই সবকিছুর মধ্যেই এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি তাঁদের যে সুসংবাদ দিয়েছিলেন তাতে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। ফলে তাঁরা আল্লাহর মহান নিয়ামতের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং আল্লাহর শাস্তির ভয়াবহতা উপলব্ধির পর তাঁর নিয়ামতের বিশালত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর তাকবির পাঠ করলেন (১)।

আল্লামা ইবনে ইমাদ আল-আকফাহাসি বলেন: একটি বর্ণনায় এসেছে, এরপর তিনি বললেন: (জান্নাতের একশ বিশটি সারি হবে, যার মধ্যে আশিটি সারি হবে এই উম্মতের)। এমতাবস্থায় তাঁরা জান্নাতবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশ হবেন। অন্য একটি বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: "আমি আশা করি যে তোমরা জান্নাতবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশ হবে।"

অতঃপর তিনি বলেন: অর্থবিশারদগণের (আহলুল মাআনি) কেউ কেউ বলেছেন, মহান আল্লাহর বাণী [তারাই হলো উত্তরাধিকারী]-তে এই বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা উত্তরাধিকারীর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ থাকে, কারণ অসুস্থ ব্যক্তি উত্তরাধিকারীর সন্তুষ্টি ব্যতীত এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তিতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা থেকে নিষিদ্ধ থাকেন (২)।

আমি বলছি: তবে হাফেজ ইবনে হাজার আল-কালবির বর্ণনাটিকে দুর্বল বলেছেন: "আমি অবশ্যই আশা করি যে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার: আহমাদ: আল-হাফেজ: ফাতহুল বারি বিশারহি সহিহিল বুখারি: দারুর রাইয়ান লিত-তুরাহ, কায়রো, ২য় সংস্করণ/ ১৪০৯ হিজরি (১১/ ৩৯৫)

(২) আল-আকফাহাসি: মুহাম্মদ: আল-আল্লামা: আল-ইরশাদ ইলা মা ওয়াকা'আ ফিল ফিকহি ওয়া গাইরিহি মিনাল আ'দাদ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ/ ১৪১২ হিজরি (১/ ৪০)
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১৩)
تكونوا ثلثي أهل الجنة" وقال: لا تصح هذه الزيادة، لأن الكلبي واه (1).

ثم ذكر رحمه الله حديث بريدة السابق، وقال: وأخرج أحمد والترمذي وصححه من حديث بريدة رفعه: أهل الجنة عشرون ومائة صف، أمتي منها ثمانون صفا، وله شاهد من حديث ابن مسعود بنحوه، وأتم منه أخر الطبراني، وهذا يوافق رواية الكلبي، فكأنه صلى الله عليه وسلم لما رجا رحمة ربه أن تكون أمته نصف أهل الجنة، أعطاه ما ارتجاه وزاده (2).

واصطفى سبحانه وتعالى لنبيه عليه الصلاة والسلام: خير الصحب، وأفضل الركب، قال جل شأنه: [مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْأِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً] الفتح 29.

--------------------------------------------

(1) ابن حجر: أحمد: الحافظ: فتح الباري بشرح صحيح البخاري، دار الريان للتراث، القاهرة ط2/ 1409هـ (11/ 395)

(2) مرجع سابق، وانظر: العيني: محمود: العلامة: عمدة القاري شرح صحيح البخاري: دار الفكر 1425هـ (15/ 602)
তোমরা জান্নাতবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশ হবে।" এবং তিনি বলেছেন: "এই অতিরিক্ত অংশটি সহীহ নয়, কারণ কালবী অত্যন্ত দুর্বল (১)।

অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বুরাইদার পূর্বোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আহমদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন বুরাইদার হাদীস হতে যা মারফু হিসেবে বর্ণিত: "জান্নাতবাসীরা একশত বিশ কাতার হবে, তার মধ্যে আমার উম্মত হবে আশি কাতার।" ইবনে মাসউদের হাদীস হতেও এর অনুরূপ একটি শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে এবং তাবারানী এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গ একটি বর্ণনা এনেছেন। আর এটি কালবীর বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মনে হচ্ছে যেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর রবের রহমত আশা করেছিলেন যে তাঁর উম্মত জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে, তখন আল্লাহ তাঁকে তাঁর আশানুরূপ দান করেছেন এবং তা আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছেন (২)।

এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জন্য সর্বোত্তম সঙ্গী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ কাফেলা মনোনীত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: [মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াময়। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাহরত অবস্থায় দেখতে পাবেন। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ; যেমন একটি চারাগাছ যা তার অঙ্কুর বের করল, অতঃপর তাকে শক্ত করল, অতঃপর তা মোটা হলো এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠল, যা কৃষকদের আনন্দিত করে—যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন] (আল-ফাতহ: ২৯)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার: আহমদ: আল-হাফিয: ফাতহুল বারী বিশারহি সহীহিল বুখারী, দারুর রাইয়ান লিত-তুরাস, কায়রো ২য় সংস্করণ/ ১৪০৯ হিজরী (১১/ ৩৯৫)

(২) পূর্বোক্ত উৎস, এবং দেখুন: আল-আইনী: মাহমুদ: আল-আল্লামাহ: উমদাতুল ক্বারী শারহু সহীহিল বুখারী: দারুল ফিকর ১৪২৫ হিজরী (১৫/ ৬০২)
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم مثنيا عليهم ومبينا فضلهم ومكانتهم ومنزلتهم (خير أمتي قرني، ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم … ) (1).

وهذه الخيرية تقتضي رفعة مكانتهم، وجلالة قدرهم، وعظيم منزلتهم، وكذا تقتضي اتصافهم بأكمل الأخلاق، وأزكى الآداب، وأعلى المكارم.

إن بحثت عن أصدق الناس حديثا، وأوفاهم وعداً وعهداً، وأتقاهم لله تعالى، وأطوعهم لرسول صلى الله عليه وسلم، فهم، ولن تجد خيرا منهم.

فهم أعرف الناس - بعد الأنبياء - بالله تعالى وأشدهم خشية منه، وأعظهم امتثالاً لأمره، واجتناباً لنهيه.

ويصدق عليهم قوله سبحانه وتعالى [إِنَّ الَّذِينَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُونَ، وَالَّذِينَ هُمْ بِآياتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ، وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لا يُشْرِكُونَ، وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ، أُولَئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ] المؤمنون 57 - 60

قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: " إن الله نظر إلى قلوب العباد فوجد قلب محمد صلى الله عليه وسلم خير القلوب فاصطفاه لنفسه، فابتعثه الله برسالته، ثم نظر في قلوب العباد بعد قلب محمد صلى الله عليه وسلم فوجد قلوب أصحابه خير قلوب العباد، فجعلهم وزراء نبيه، يقاتلون على دينه، فما رأى المسلمون حسناً فهو عند الله

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه (باب فضائل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم. (3650)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রশংসা করে এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা ও উচ্চ অবস্থান বর্ণনা করে বলেছেন (আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে আমার যুগ, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী ... ) (১)।

আর এই শ্রেষ্ঠত্ব তাদের মর্যাদার উচ্চতা, সম্মানের মাহাত্ম্য এবং অবস্থানের মহানুভবতাকে আবশ্যক করে; তেমনিভাবে এটি তাদের সর্বোত্তম চরিত্র, পবিত্রতম শিষ্টাচার এবং সর্বোচ্চ মহানুভবতায় ভূষিত হওয়াকেও অপরিহার্য করে।

আপনি যদি কথার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সত্যবাদী, ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষায় সবচেয়ে বিশ্বস্ত, আল্লাহ তাআলার প্রতি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সবচেয়ে বেশি অনুগত মানুষ খোঁজেন, তবে তারা হলেন তারাই, এবং আপনি তাদের চেয়ে উত্তম কাউকেই পাবেন না।

নবীদের পর আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে তারাই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত এবং তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয়কারী; আর তাঁর আদেশ পালনে ও নিষেধ বর্জনে তারাই সবচেয়ে অগ্রগামী।

তাদের ক্ষেত্রেই মহান আল্লাহ তাআলার এই বাণী সত্য হয়: [নিশ্চয়ই যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত, আর যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে, আর যারা তাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করে না, আর যারা যা দান করার তা দান করে এমতাবস্থায় যে তাদের অন্তর ভীত থাকে যে তারা তাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী, তারাই কল্যাণকর কাজে দ্রুত ধাবিত হয় এবং তারাই তাতে অগ্রগামী।] (আল-মুমিনুন: ৫৭-৬০)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের দিকে লক্ষ্য করেছেন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরকে সর্বোত্তম অন্তর হিসেবে পেয়েছেন, তাই তিনি তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে তাঁর রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন। অতঃপর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরের পর তিনি বান্দাদের অন্তরের দিকে লক্ষ্য করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের অন্তরসমূহকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম অন্তর হিসেবে পেয়েছেন। তাই তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর সহযোগী নিযুক্ত করেছেন, যারা তাঁর দ্বীনের জন্য লড়াই করেন। সুতরাং মুসলমানরা যা কিছু উত্তম হিসেবে দেখে, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম..."

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মর্যাদা, ৩৬৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১৫)
حسن، وما رأوا سيئاً فهو عند الله سيء.

وقال: من كان منكم متأسيا فليتأس بأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنهم أبر هذه الأمة قلوبا، وأعمقها علما، وأقلها تكلفا، وأقومها هديا، وأحسنها حالا. اختارهم الله تعالى لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم وإقامة دينه. فاعرفوا لهم فضلهم، واتبعوهم في آثارهم فإنهم كانوا على الهدى المستقيم.

وقال غيره: عليكم بآثار من سلف، فإنهم جاؤوا بما يكفي ويشفي، ولم يحدث بعدهم خير كامن لم يعلموه (1).

ولذا قال حبر الأمة وترجمان القرآن في قوله تعالى:

[قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى] قال: هم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم.

قال الإمام ابن كثير: الصحابة كانوا خير الخلق بعد الأنبياء وهم خير قرون هذه الأمة التي هي أشرف الأمم بنص القرآن وإجماع السلف والخلف في الدنيا والآخرة (2).

واختار الله تعالى لنبيه خيرة النساء طهرة وعفافا، وكمالا وجمالا، يكن

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في المسند، انظر: الفتح الرباني: 22/ 170، أبواب مناقب الصحابة، القرطبي: الجامع لأحكام القرآن، 1/ 96، ابن تيمية: مجموع الفتاوى 4/ 158.

(2) ابن كثير: تفسير القرآن العظيم: 3/ 381، ابن كثير: البداية والنهاية: 7/ 213
উত্তম, আর তারা যা মন্দ হিসেবে দেখেন তা আল্লাহর নিকট মন্দ।

এবং তিনি বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কারো আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, তবে সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের আদর্শ অনুসরণ করে। কেননা তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে হৃদয়ের দিক থেকে সবচেয়ে পুণ্যবান, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর, কৃত্রিমতার দিক থেকে সবচেয়ে মুক্ত, হিদায়াতের দিক থেকে সবচেয়ে সঠিক এবং অবস্থার দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য এবং তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব তোমরা তাঁদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো, কারণ তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

অন্য একজন বলেছেন: তোমরা পূর্বসূরিদের (সালাফ) পদাঙ্ক আঁকড়ে ধরো, কারণ তাঁরা যা নিয়ে এসেছেন তা যথেষ্ট ও নিরাময়স্বরূপ। তাঁদের পরে এমন কোনো গোপন কল্যাণ আবিষ্কৃত হয়নি যা তাঁরা জানতেন না (১)।

এই কারণেই উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত ও কুরআনের ভাষ্যকার আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেছেন:

[বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং সালাম তাঁর সেই বান্দাদের ওপর যাদের তিনি মনোনীত করেছেন] তিনি বলেন: তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ।

ইমাম ইবনে কাসীর বলেছেন: নবীদের পরে সাহাবীগণ ছিলেন সৃষ্টির সেরা এবং তাঁরা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম; যে উম্মত কুরআনের বর্ণনা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল আলিমের ঐক্যমত্য অনুযায়ী সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত (২)।

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর জন্য পবিত্রতা, সতীত্ব, পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের দিক থেকে সর্বোত্তম নারীদের মনোনীত করেছেন, যারা ছিলেন

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, দেখুন: আল-ফাতহুর রব্বানি: ২২/১৭০, আবওয়াবু মানাকিবিস সাহাবা; কুরতুবী: আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, ১/৯৬; ইবনে তাইমিয়্যাহ: মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/১৫৮।

(২) ইবনে কাসীর: তাফসীরুল কুরআনিল আযীম: ৩/৩৮১; ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/২১৩
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১৬)
أنيسات نبيه، مقتبسات جميل وكريم خلقه، ملتمسات أنوار شرعته، شاهدات مكنون سره.

قال الإمام ابن القيم: وكذلك اختار أصحابه من جملة العالمين، واختار منهم السابقين الأولين واختار منهم أهل بدر وأهل بيعة الرضوان، واختار لهم من الدين أكمله، ومن الشرائع أفضلها، ومن الأخلاق أزكاها وأطهرها (1).

--------------------------------------------

(1) ابن القيم: زاد المعاد: 1/ 44
তাঁর নবীর সহচারীগণ, তাঁর সুন্দর ও মহান চরিত্রের জ্যোতি আহরণকারীগণ, তাঁর শরীয়তের নূর অন্বেষণকারীগণ, তাঁর লুক্কায়িত রহস্যের সাক্ষীগণ।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেছেন: এবং একইভাবে তিনি সমগ্র জগতবাসীর মধ্য থেকে তাঁর সাহাবীগণকে নির্বাচন করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন অগ্রগামী প্রথম দলটিকে, এবং তাঁদের মধ্য থেকে নির্বাচন করেছেন বদর যুদ্ধের সাথী ও বায়আতে রিদওয়ানকারীদের; আর তিনি তাঁদের জন্য দ্বীনের মধ্যে যা পূর্ণাঙ্গতম তা পছন্দ করেছেন, শরীয়তসমূহের মধ্যে যা শ্রেষ্ঠতম তা এবং চরিত্রের মধ্যে যা পবিত্রতম ও নির্মলতম তা মনোনীত করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কায়্যিম: যাদুল মাআদ: ১/ ৪৪
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌أهمية الموضوع

تظهر أهمية الكتابة في موضوع الصحابة في نظري القاصر من جهتين:

الأولى: حاجة الناس الملحة - وهم أحفاد الصحابة رضي الله عنهم إلى بيان هدي قويم يسيرون عليه، ومنهج حكيم سليم يتجهون إليه، ولا هدي أقوم، ولا منهج أحكم وأسلم من هدي الصحابة رضي الله عنهم إذ هم خير من مشى على البسيطة بعد الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام - فقد صاحبوا النبي صلي الله عليه وسلم ونهلوا من علمه، واقتبسوا من حكمته وحلمه، وتخلقوا بأخلاقه، وساروا على منهجه وطريقته.

فحاجة الناس ماسة - خاصة في مثل هذه الأزمان التي ضاعت فيها كثير من القيم والأخلاق - إلى الرجوع لعلم وأخلاق وجهاد السلف الصالح، لالتماس جليل علومهم واقتباس كريم أخلاقهم.

الثانية: يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: فكما أن بيان السنة وفضائل الصحابة، وتقديمهم الصديق والفاروق من أعظم أمور الدين عند ظهور بدع الرافضة ونحوهم، فكذلك بيان السنة ومذاهب أهل المدينة، وترجيح ذلك على غيرها من مذاهب أهل الأمصار أعظم أمور الدين عند ظهور بدع الجهال المتبعين للظن وما تهوى الأنفس (1). فإذا لم يكن هذا الزمن الذي نعيشه هو أولى الأزمان ببيان فضائل الصحابة، وبثها ونشرها، ودحض

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية: أحمد: شيخ الإسلام: مجموع الفتاوى: مكتبة العبيكان ط 1/ 1419هـ (20/ 396)
বিষয়ের গুরুত্ব

আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে সাহাবীগণের বিষয়ে লেখার গুরুত্ব দুটি দিক থেকে প্রকাশ পায়:

প্রথমত: মানুষের—যারা সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উত্তরসূরি—একটি সঠিক পথনির্দেশনার তীব্র প্রয়োজন যার ওপর তারা পরিচালিত হবে, এবং একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত কর্মপদ্ধতির প্রয়োজন যার দিকে তারা অগ্রসর হবে। আর আম্বিয়ায়ে কেরামের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) পর পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী সর্বোত্তম মানুষ হিসেবে সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পথনির্দেশনার চেয়ে অধিক সঠিক কোনো পথ নেই, এবং তাদের কর্মপদ্ধতির চেয়ে অধিক প্রজ্ঞাপূর্ণ ও নিরাপদ কোনো পদ্ধতি নেই। কেননা তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন, তাঁর ইলম থেকে জ্ঞান আহরণ করেছিলেন, তাঁর হিকমত ও ধৈর্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হয়েছিলেন এবং তাঁর কর্মপদ্ধতি ও আদর্শের ওপর পরিচালিত হয়েছিলেন।

সুতরাং মানুষের জন্য—বিশেষ করে বর্তমান সময়ের মতো যুগে যখন অনেক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হারিয়ে গেছে—সালাফে সালেহীনের জ্ঞান, চরিত্র ও জিহাদের দিকে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে তাঁদের সুমহান জ্ঞান অনুসন্ধান করা যায় এবং তাঁদের মহৎ চরিত্র থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা যায়।

দ্বিতীয়ত: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: রাফেযি এবং তাদের মতো বিদআতিদের আবির্ভাবের সময় যেমন সুন্নাহর বর্ণনা, সাহাবীগণের ফজিলত এবং সিদ্দীক ও ফারুককে অগ্রাধিকার দেওয়া দ্বীনের মহান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল, ঠিক তেমনি ধারণা ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারী মূর্খদের বিদআতের আবির্ভাবের সময় সুন্নাহ ও মদিনাবাসীদের মাযহাব বর্ণনা করা এবং অন্য অঞ্চলের মাযহাবের ওপর তাকে প্রাধান্য দেওয়াও দ্বীনের মহান কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত (১)। সুতরাং আমরা যে যুগে বাস করছি, তা যদি সাহাবীগণের ফজিলত বর্ণনা করা, তা প্রচার ও প্রসার করা এবং বাতিলকে খণ্ডন করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় না হয়, তবে কোনটি হবে?

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ: আহমাদ: শাইখুল ইসলাম: মাজমুউল ফাতাওয়া: মাকতাবাতুল ওবাইকান ১ম সংস্করণ/ ১৪১৯ হিজরি (২০/ ৩৯৬)
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১৮)
كذب المفترين، فمتى يكون.

ومع انتشار وسائل التقنية، سهل الحصول على المعلومة، صدقا كانت أم كذبا، ولما انتشر القول في الصحابة في هذه الوسائل، تارة بالطعن فيهم وازدرائهم، وتارة بسبهم وانتقاصهم وتشويه صورتهم خاصة فيما وقع بينهم من الحروب والفتن، كان حريا على كل صاحب علم وفكر أن ينهض جادا ويأخذ بحبل من القضية ينافح عنها، ويجادل لأجلها، ليبين وجه الصواب فيها، ويذب عن أصحابها. ولست هنا محققا لما جرى من الفتن بين الصحابة رضي الله عنهم فهذه لها أهلها، ولكن أبادر مبادرة متواضعة، لصنع صفاء ذاك التاريخ، وتلك الحقبة، وبيان جمال أيامهم، وكمال أعوامهم، فأشدت بفضائلهم وميزت خصائصهم، وأفضت في ذكر مناقبهم، وأزحت بعض الشبه التي ألزقت بهم، خاصة أن القوم - الرافضة - معروفون بالكذب، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: أما أهل الكوفة، فلم يكن الكذب في أهل بلد أكثر منه فيهم، ففي زمن التابعين كان بها خلق كثيرون منهم معروفون بالكذب، لاسيما الشيعة، فإنهم أكثر الطوائف كذباً باتفاق أهل العلم (1).

وبيّن رحمه الله أن هذه الطائفة هي أكثر الطوائف قدحاً في سلف الأمة وأئمتها، فقال: فالمقصود هنا أن المشهورين من الطوائف - بين أهل السنة والجماعة - العامة بالبدعة ليسوا منتحلين للسلف، بل أشهر الطوائف بالبدعة: الرافضة، حتى إن العامة لا تعرف من شعار البدع إلا الرفض،

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية: مجموع الفتاوى: 20/ 316
মিথ্যুকদের মিথ্যাচার, তবে তা কখন হবে?

প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে তথ্য প্রাপ্তি সহজ হয়ে গেছে, তা সত্য হোক বা মিথ্যা। আর যখন এই মাধ্যমগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে—কখনও তাঁদের প্রতি কটাক্ষ ও অবজ্ঞার মাধ্যমে, আবার কখনও তাঁদের গালি দেওয়া, মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মাধ্যমে; বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ ও ফিতনাসমূহের ক্ষেত্রে—তখন প্রত্যেক জ্ঞান ও চিন্তার অধিকারীর জন্য এটি সমীচীন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তিনি গুরুত্বের সাথে সজাগ হবেন এবং এই বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে এর প্রতিরক্ষা করবেন, এর সপক্ষে দলিল পেশ করবেন; যাতে এ বিষয়ে সঠিক দিকটি স্পষ্ট করা যায় এবং সাহাবীদের মর্যাদা রক্ষা করা যায়। আমি এখানে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে সংঘটিত ফিতনাসমূহের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছি না, কারণ এর জন্য বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। তবে আমি সেই ইতিহাসের স্বচ্ছতা ও সেই যুগের নির্মলতা বজায় রাখতে এবং তাঁদের দিনগুলোর সৌন্দর্য ও তাঁদের সময়কালের পূর্ণতা বর্ণনা করার জন্য একটি বিনম্র উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ফলে আমি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছি, তাঁদের বৈশিষ্ট্যসমূহকে স্বতন্ত্র করেছি, তাঁদের গুণাবলি বিশদভাবে আলোচনা করেছি এবং তাঁদের ওপর লেপন করা কিছু সংশয় দূর করেছি; বিশেষ করে এই কারণে যে, সেই সম্প্রদায়—রাফেজিরা—মিথ্যাচারের জন্য সুপরিচিত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "কুফাবাসীদের ব্যাপারে বলতে গেলে, কোনো জনপদের অধিবাসীদের মধ্যে তাঁদের চেয়ে বেশি মিথ্যাচার ছিল না। তাবেয়ীদের যুগে সেখানে এমন বহু লোক ছিল যারা মিথ্যুক হিসেবে পরিচিত ছিল, বিশেষ করে শিয়ারা; কেননা আলেমদের ঐকমত্যে তারা সকল দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিথ্যাবাদী।" (১)

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই দলটি উম্মাহর সালাফ এবং ইমামদের প্রতি সবচেয়ে বেশি অপবাদকারী। তিনি বলেন: "এখানে উদ্দেশ্য হলো, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট বিদআতের জন্য প্রসিদ্ধ দলগুলো সালাফদের আদর্শ ধারণকারী নয়। বরং বিদআতের জন্য সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দল হলো রাফেজি; এমনকি সাধারণ মানুষ বিদআতের নিদর্শন বলতে কেবল 'রাফয' বা শিয়াতত্ত্বকেই চেনে।"

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ: মাজমুউল ফাতাওয়া: ২০/৩১৬
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ১৯)
والسني في اصطلاحهم: من لا يكون رافضيا، وذلك لأنهم أكثر مخالفة للأحاديث النبوية ولمعاني القرآن، وأكثر قدحاً في سلف الأمة وأئمتها، وطعناً في جمهور الأمة من جميع الطوائف، فلما كانوا أبعد عن متابعة السلف كانوا أشهر بالبدعة (1).

وقال عنهم أيضا: وهؤلاء لا يرجعون إلى شيء بل إلى معدوم لا حقيقة له، ثم إنما يتمسكون بما ينقل لهم عن بعض الموتى فيتمسكون بنقل غير مصدق عن قائل غير معصوم، ولهذا كانوا أكذب الطوائف … وحديث الشيعة من أكذب الحديث (2).

ويضاف لما ذكر من أهمية الحديث في هذا الموضوع، أن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر الافتراق فقال: (تفرقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة أو اثنتين وسبعين فرقة، والنصارى مثل ذلك، وتفرقت أمتي على ثلاث وسبعين فرقة). قال الترمذي: حديث أبي هريرة حديث حسن صحيح (3).

وجاء في رواية (وتفرقت أمتي على ثلاث وسبعين فرقة، كلهم في

--------------------------------------------

(1) مرجع سابق: 4/ 155

(2) مرجع سابق: 13/ 209

(3) أخرجه الترمذي في باب ما جاء في افتراق هذه الأمة (2640)
আর তাদের পরিভাষায় সুন্নি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি রাফেজি নন। আর তা এই কারণে যে, তারা নববী হাদিসসমূহ এবং কুরআনের মর্মার্থের সবচেয়ে বেশি বিরোধী, এবং উম্মতের সালাফ ও তাদের ইমামগণের প্রতি সবচেয়ে বেশি কুৎসা রটনাকারী এবং সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের প্রতি সবচেয়ে বেশি অপবাদ প্রদানকারী। সুতরাং যখন তারা সালাফদের অনুসরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করল, তখন তারা বিদআতের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করল (১)।

তিনি তাদের সম্পর্কে আরও বলেছেন: এরা মূলত কোনো কিছুর ওপর ভিত্তি করে চলে না, বরং এমন এক অস্তিত্বহীন বিষয়ের দিকে ফিরে যায় যার কোনো বাস্তবতা নেই। তদুপরি তারা কেবল মৃত ব্যক্তিদের থেকে তাদের কাছে যা বর্ণিত হয় তা-ই আঁকড়ে ধরে; ফলে তারা এমন এক বক্তার পক্ষ থেকে অসমর্থিত বর্ণনা আঁকড়ে ধরে যে নিষ্পাপ নয়। এই কারণেই তারা সকল উপদলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিথ্যাবাদী … আর শিয়াদের বর্ণিত হাদিস সবচেয়ে বেশি মিথ্যা হাদিসের অন্তর্ভুক্ত (২)।

এই বিষয়ে হাদিসের গুরুত্ব সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে আরও যুক্ত হবে যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বিভক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেছেন: (ইহুদিরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং খ্রিস্টানরাও তদ্রূপ, আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে)। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহিহ (৩)।

একটি বর্ণনায় এসেছে (আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, তারা সবাই

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র: ৪/ ১৫৫

(২) পূর্বোক্ত সূত্র: ১৩/ ২০৯

(৩) ইমাম তিরমিজি এটি ‘এই উম্মতের বিভক্তি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে’ অধ্যায়ে (২৬৪০) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২০)
النار إلا واحدة، فقالوا: ومن هي يا رسول الله قال: ما أنا عليه وأصحابي). قال الترمذي: حديث حسن غريب مفسر لا نعرفه مثل هذا إلا من هذا الوجه (1).

فوصف النبي صلى الله عليه وسلم هذه الفرقة الناجية بأنها على ما كان عليه هو عليه الصلاة والسلام وأصحابه الكرام، فكان لزاما معرفة منهجهم وفقههم وسيرة حياتهم، لأنهم كما يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم خيار المؤمنين (2).

وقال في موضع آخر: ومن المعلوم بالضرورة لمن تدبر الكتاب والسنة، وما اتفق عليه أهل السنة والجماعة من جميع الطوائف أن خير قرون

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في باب ما جاء في افتراق هذه الأمة (2641)، انظر: المباركفوري: تحفة الأحوذي، 7/ 434: العظيم آبادي: محمد: العلامة: عون المعبود شرح سنن أبي داود: دار الحديث 1423هـ (8/ 5) وجاء في التحفة: قوله: هذا حديث حسن غريب في سنده عبد الرحمن بن زياد الإفريقي، وهو ضعيف، فتحسين الترمذي له لاعتضاده بأحاديث الباب. المباركفوري: تحفة الأحوذي: 7/ 436 وقد صححه الإمام ابن تيمية فقال: الحديث صحيح مشهور في السنن والمسانيد كسنن أبي داود والترمذي والنسائي وغيرهم. ابن تيمية: مجموع الفتاوى: 3/ 345 وقال رحمه الله: مع أن حديث الثنتين والسبعين فرقة ليس في الصحيحين، وقد ضعفه ابن حزم وغيره، لكن حسنه غيره أو صححه، كما صححه الحاكم وغيره، وقد رواه أهل السنن وروي من طرق. ابن تيمية: منهاج السنة: 5/ 48، انظر: عواجي: غالب: دكتور: فرق معاصرة: مكتبة لينة للنشر والتوزيع ط 1/ 1414هـ (1/ 30).

(2) ابن تيمية: مجموع الفتاوى: 35/ 59
জাহান্নাম ব্যতীত একটি (দল), তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব এবং ব্যাখ্যামূলক হাদীস, এই সূত্র ব্যতীত অন্য কোনোভাবে আমাদের নিকট এটি পরিচিত নয় (১)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মুক্তিপ্রাপ্ত দলকে সেই আদর্শের অনুসারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার ওপর তিনি এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। ফলে তাদের মানহাজ (মূলনীতি), ফিকহ এবং জীবনচরিত সম্পর্কে জানা আবশ্যক হয়ে পড়েছে; কেননা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ মুমিনদের মধ্যে সর্বোত্তম" (২)।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করবে এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সকল উপদল যে বিষয়ে একমত হয়েছে তা লক্ষ্য করবে, তার নিকট এটি অকাট্যভাবে স্পষ্ট হবে যে, সর্বোত্তম প্রজন্ম হলো

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন 'এই উম্মতের বিভক্তি' সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে নামক অনুচ্ছেদে (২৬৪১)। দেখুন: মুবারকপুরী: তুহফাতুল আহওয়াযী, ৭/ ৪৩৪; আজিমাবাদী: মুহাম্মদ: আল্লামা: আওনুল মাবুদ শারহু সুনানি আবি দাউদ: দারুল হাদীস ১৪২৩ হিজরী (৮/ ৫)। তুহফাতুল আহওয়াযীতে এসেছে: তাঁর উক্তি— এটি হাসান গরীব হাদীস; এর সনদে আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ আল-ইফরিকী রয়েছেন, যিনি দুর্বল; তবে তিরমিযী কর্তৃক একে হাসান বলা হয়েছে এই অধ্যায়ের অন্যান্য হাদীসের সমর্থনের কারণে। মুবারকপুরী: তুহফাতুল আহওয়াযী: ৭/ ৪৩৬। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একে সহীহ বলেছেন। তিনি বলেছেন: হাদীসটি সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ যেমন সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও অন্যান্যদের গ্রন্থে সহীহ ও প্রসিদ্ধ। ইবনে তাইমিয়্যাহ: মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩/ ৩৪৫। তিনি (রহ.) আরও বলেছেন: বাহাত্তর ফিরকা বিষয়ক হাদীসটি যদিও সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নেই এবং ইবনে হাজম ও অন্যরা একে দুর্বল বলেছেন, তবে অন্যগণ একে হাসান বা সহীহ বলেছেন, যেমন হাকিম ও অন্যরা একে সহীহ বলেছেন। এটি সুনান গ্রন্থসমূহে এবং বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে তাইমিয়্যাহ: মিনহাজুস সুন্নাহ: ৫/ ৪৮। দেখুন: আওয়াযী: গালিব: ডক্টর: ফিরাক মুআসিরাহ: মাকতাবাতু লিনা পাবলিকেশন্স, ১ম সংস্করণ/ ১৪১৪ হিজরী (১/ ৩০)।

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহ: মাজমুউল ফাতাওয়া: ৩৫/ ৫৯
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২১)
هذه الأمة في الأعمال والأقوال والاعتقاد وغيرها من كل فضيلة، أن خيرها - القرن الأول - ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم، وأنهم أفضل من الخلف في كل فضيلة، من علم، وعمل، وإيمان، وعقل، ودين، وبيان وعبادة، وأنّهم أولى بالبيان لكل مشكل، وهذا لا يدفعه إلا من كابر المعلوم بالضرورة من دين الإسلام وأضله الله على علم، ثم قال: وما أحسن ما قال الشافعي في رسالته: " هم فوقنا في كل علم وعقل ودين وفضل، وكل سبب ينال به علم أو يدرك به هدى، ورأيهم لنا خير من رأينا لأنفسنا " (1).

دوافع كتابة الموضوع:

ومما دفعني لكتابة مثل هذا الموضوع المهم عدة أمور:

1 - الغيرة على أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، واللحاق بركب المنافحين والمدافعين عن جنابهم الطاهر.

فمجريات الأحداث الحاضرة، وسوالف الأخبار الماضية، تؤكد استهداف المنافقين، النيل من رموز هذه الأمة المباركة المرحومة، والحط من أقدارهم وغايتهم هدم معالم الدين الحنيف، وليس أمامهم إلا الثقات العدول النقلة، فإذا سقطت عدالتهم، واهتزت مكانتهم، فلا وثوق بما يحملونه وينقلونه، وحسبي في الرد عليهم وعلى أمثالهم، قول الحبيب المصطفى والنبي المجتبى عليه أفضل الصلاة والسلام: (نضر الله امرأً سمع

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية: مجموع الفتاوى: 4/ 157
এই উম্মত আমল, কথা, আকিদা এবং অন্যান্য সকল শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে (এমন যে), তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো প্রথম প্রজন্ম, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী। এবং তারা পরবর্তী প্রজন্মের চেয়ে সকল শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে উত্তম—যেমন জ্ঞান, আমল, ঈমান, বিবেক, দ্বীন, স্পষ্ট বর্ণনা ও ইবাদত। আর প্রতিটি জটিল বিষয়ের বর্ণনার ক্ষেত্রে তারাই অধিক যোগ্য। এটি কেবল সেই ব্যক্তিই অস্বীকার করে যে ইসলামের দ্বীন থেকে স্বতঃসিদ্ধভাবে জ্ঞাত বিষয়কে হঠকারিতাবশত প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহ তাকে জেনে-বুঝে পথভ্রষ্ট করেছেন। তারপর তিনি বলেন: ইমাম শাফেঈ তার 'রিসালাহ' গ্রন্থে কতই না চমৎকার বলেছেন: "তারা আমাদের উপরে অবস্থান করেন প্রতিটি জ্ঞান, বিবেক, দ্বীন এবং মর্যাদার ক্ষেত্রে; আর প্রতিটি সেই উপায়ের ক্ষেত্রে যার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয় বা হেদায়াত লাভ করা যায়। আমাদের জন্য তাদের অভিমত আমাদের নিজেদের জন্য আমাদের নিজেদের অভিমতের চেয়েও উত্তম।" (১)

বিষয়বস্তু লেখার কারণসমূহ:

আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি লেখার পেছনে আমাকে বেশ কিছু বিষয় উদ্বুদ্ধ করেছে:

১ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ এবং তাঁদের পবিত্র সম্মানের হেফজতকারী ও প্রতিরক্ষাকারীদের কাফেলায় শামিল হওয়া।

কেননা বর্তমান ঘটনাবলি এবং অতীতের সংবাদসমূহ নিশ্চিত করে যে, মুনাফিকরা এই বরকতময় ও রহমতপ্রাপ্ত উম্মতের আদর্শ ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে এবং তাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের নিদর্শনসমূহ ধ্বংস করা। আর তাদের সামনে এই নির্ভরযোগ্য, ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারীরা ব্যতীত আর কেউ নেই। সুতরাং যদি তাদের ন্যায়নিষ্ঠতা বিলুপ্ত হয় এবং তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, তবে তারা যা বহন করেন এবং বর্ণনা করেন তার প্রতি আর কোনো বিশ্বাস থাকবে না। তাদের এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের জবাব দেওয়ার জন্য আমার কাছে প্রিয়তম মুস্তফা এবং মনোনীত নবী (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বাণীই যথেষ্ট: (আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল করুন যে শুনেছে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ: মাজমুউল ফাতাওয়া: ৪/১৫৭
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২২)
مقالتي فوعاها ثم أداها كما سمعها، فرب حامل فقه وليس بفقيه، ورب حامل فقه إلى من هو أفقه منه) (1).

يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: وفي هذا دعاء منه لمن بلغ حديثه وإن لم يكن فقيهاً، ودعاء لمن بلغه وإن كان المستمع أفقه من المبلغ، لما أعطي المبلغون من النضرة، ولهذا قال سفيان بن عيينة: لا تجد أحدا من أهل الحديث إلا وفي وجهه نضرة، لدعوة النبي صلى الله عليه وسلم، يقال: نَضُر، ونَضَر، والفتح أفصح، ولم يزل أهل العلم في القديم والحديث يعظمون نقلة الحديث، حتى قال الشافعي رضي الله عنه: " إذا رأيت رجلاً من أهل الحديث فكأني رأيت رجلاً من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ".

وإنما قال الشافعي هذا، لأنه في مقام الصحابة من تبليغ حديث النبي صلى الله عليه وسلم.

وقال الشافعي أيضاً: أهل الحديث حفظوا، فلهم الفضل علينا لأنهم حفظوا لنا (2).

ويقول رحمه الله في موضع آخر: وبكل حال، فهم أعلم الأمة بحديث الرسول صلى الله عليه وسلم وسيرته ومقاصده وأحواله (3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في كتاب العلم باب ما جاء في الحث على تبليغ السماع (2656)، وأخرجه أبو داود في كتاب العلم باب فضل نشر العلم (3657)

(2) ابن تيمية: مجموع الفتاوى 1/ 11

(3) ابن تيمية: مجموع الفتاوى 4/ 95
(আমার বাণী) যে তা শ্রবণ করল এবং সংরক্ষণ করল, অতঃপর যেভাবে শুনেছে সেভাবেই তা পৌঁছে দিল। কারণ অনেক ফিকহ (তত্ত্বজ্ঞান) বহনকারী ব্যক্তি নিজে ফকীহ নয়, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকীহ (১)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: এর মধ্যে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির জন্য দুআ রয়েছে যে তাঁর হাদীস পৌঁছে দেয় যদিও সে ফকীহ না হয়, এবং সেই ব্যক্তির জন্য দুআ রয়েছে যার কাছে তা পৌঁছেছে যদিও শ্রবণকারী ব্যক্তি বর্ণনাকারীর চেয়ে অধিক ফকীহ হন। এর কারণ প্রচারকারীদের চেহারায় যে সজীবতা ও উজ্জ্বলতা দান করা হয়েছে। এজন্যই সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বলেছেন: আপনি আহলুল হাদীসের এমন কাউকে পাবেন না যার চেহারায় উজ্জ্বলতা নেই, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআর কারণে হয়েছে। বলা হয়: নাদুরু এবং নাদারা, তবে ফাতহা সহযোগে (নাদারা) বলা অধিক বিশুদ্ধ। প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলিমগণ হাদীস বর্ণনাকারীদের সর্বদা মহিমান্বিত করেছেন, এমনকি ইমাম শাফেয়ী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "আমি যখন আহলুল হাদীসের কোনো ব্যক্তিকে দেখি, তখন যেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীকে দেখি।"

ইমাম শাফেয়ী একারণেই এটি বলেছেন যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবীদের স্থলাভিষিক্ত।

ইমাম শাফেয়ী আরও বলেছেন: "আহলুল হাদীসগণ (হাদীস) মুখস্থ করেছেন, তাই আমাদের ওপর তাদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে কারণ তারা আমাদের জন্য তা সংরক্ষণ করেছেন (২)।"

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) অন্য এক স্থানে বলেন: "সর্বাবস্থায়, তারাই উম্মতের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস, তাঁর সীরাত (জীবনী), তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত (৩)।"

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিযী কিতাবুল ইলম-এর ‘শ্রুত সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার উৎসাহ প্রদান’ অনুচ্ছেদে (২৬৫৬) এবং আবু দাউদ কিতাবুল ইলম-এর ‘ইলম প্রচারের ফযীলত’ অনুচ্ছেদে (৩৬৫৭) বর্ণনা করেছেন।

(২) ইবনে তাইমিয়া: মাজমুউল ফাতাওয়া ১/ ১১

(৩) ইবনে তাইমিয়া: মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/ ৯৫
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي هذا يقول المولى جل وعلا: {يوم ندعو كل أناس بإمامهم} الإسراء: (71)، قال بعض السلف: هذا أكبر شرف لأصحاب الحديث؛ لأن إمامهم النبي صلى الله عليه وسلم. (1)

ويقول الإمام ابن القيم: التلقي نوعان: بوساطة وبغير وساطة، وكان التلقي بلا وساطة حظ أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الذين حازوا قصبات السباق، واستولوا على الأمر، فلا طمع لأحد من الأمة بعدهم في اللحاق، ولكن المبرز، من اتبع صراطهم المستقيم، واقتفى منهاجهم القويم، والمتخاذل من عدل عن طريقهم ذات اليمين وذات الشمال، فذلك المنقطع التائه في بيداء المهالك والضلال، فأي خصلة خير من لم يسبقوا إليها، وأي خطة رشد لم يستولوا عليها، تالله لقد رووا رأس الماء من عين الحياة عذبًا صافياً زلالاً وأيدوا قواعد الإسلام (2).

2 - إثبات عدالتهم المطلقة، وبيان أن ما جرى بينهم رضي الله عنهم وأرضاهم من أحداث وفتن لا تسقط عدالتهم ولا تنقص مكانتهم، بل كانوا أئمة مجتهدين متأولين، فهم بين الأجر والأجرين كما نص عليه علماء وفضلاء الأمة.

ونقل الإمام النووي في شرحه صحيح الإمام مسلم كلام بعض الأئمة، فيما جرى بين الصحابة وذكر عنهم قولهم: فكلهم معذورون رضي الله عنهم،

--------------------------------------------

(1) ابن كثير: تفسير القرآن العظيم: 3/ 56

(2) ابن القيم: إعلام الموقعين: 1/ 5
এই বিষয়ে মহান রব বলেন: {যেদিন আমি প্রত্যেক মানুষকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করব} (আল-ইসরা: ৭১), পূর্বসূরিদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান; কারণ তাদের ইমাম হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। (১)

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: জ্ঞান অর্জন দুই প্রকার: মধ্যস্থতার মাধ্যমে এবং মধ্যস্থতা ছাড়া। আর মধ্যস্থতা ছাড়া জ্ঞান অর্জন ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের অংশ, যারা প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হয়েছেন এবং বিষয়ের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছেন। সুতরাং তাদের পরবর্তী উম্মতের কারোরই তাদের সমকক্ষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নেই। তবে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে তাদের সরল পথ অনুসরণ করল এবং তাদের সুদৃঢ় পদ্ধতির অনুকরণ করল। আর ব্যর্থ সেই ব্যক্তি, যে তাদের পথ থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত হলো; সে হলো ধ্বংস ও গোমরাহির মরুভূমিতে পথহারা এক বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি। এমন কোন উত্তম স্বভাব আছে যাতে তারা অগ্রগামী হননি? অথবা হিদায়াতের এমন কোন পরিকল্পনা আছে যা তারা আয়ত্ত করেননি? আল্লাহর কসম! তারা জীবন-উৎস থেকে মিষ্ট, স্বচ্ছ ও নির্মল পানি পান করেছেন এবং ইসলামের ভিত্তিগুলোকে শক্তিশালী করেছেন (২)।

২ - তাদের নিরঙ্কুশ ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্ত করা এবং এটি স্পষ্ট করা যে, তাদের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মধ্যে যেসব ঘটনা ও ফেতনা সংঘটিত হয়েছে, তা তাদের ন্যায়পরায়ণতাকে নষ্ট করে না এবং তাদের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করে না; বরং তারা ছিলেন ইজতিহাদকারী ও ব্যাখ্যা প্রদানকারী ইমাম। তাই উম্মতের আলেম ও মহৎ ব্যক্তিগণের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা একটি বা দুটি সওয়াবের অধিকারী।

ইমাম নববী সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে সাহাবীদের মাঝে যা সংঘটিত হয়েছে সে বিষয়ে কয়েকজন ইমামের কথা উদ্ধৃত করেছেন এবং তাদের থেকে এই বক্তব্য উল্লেখ করেছেন: "তাদের প্রত্যেকেই ওজরসম্পন্ন (ক্ষমাপ্রাপ্ত), আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন,"

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর: তাফসীরুল কুরআনিল আজিম: ৩/ ৫৬

(২) ইবনুল কাইয়্যিম: ইলামুল মুয়াক্কিইন: ১/ ৫
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولهذا اتفق أهل الحق ومن يعتد به في الإجماع على قبول شهادتهم ورواياتهم وكمال عدالتهم رضي الله عنهم أجمعين (1).

3 - رد بعض الأكاذيب المختلقة من وجود انفصام بين آل البيت الطاهرين والصحابة المكرمين رضي الله عنهم أجمعين.

4 - بيان المعتقد الصحيح، والمنهج القويم في الصحابة رضي الله عنهم.

5 - وضع الأمور في نصابها الصحيح، والتحاكم إلى نصوص الوحيين حين الاختلاف.

6 - إشهار وإظهار مواقف أهل السنة والجماعة في غيرتهم على الصحابة رضي الله عنهم، وبيان وجوه دفاعهم وذبهم عن أعراض الصحابة الأجلاء المكرمين رضي الله عنهم.

7 - بيان إجماع أهل السنة والجماعة القولي والفعلي على وجوب احترام الصحابة وتوقيرهم وإجلالهم وإنزالهم منازلهم التي أنزلهم الله إياها رضي الله عنهم أجمعين.

8 - بيان خطورة وجريمة التعدي على جناب الصحابة الأطهار، وأن سبهم والطعن فيهم، جناية عظيمة، ومصيبة كبيرة، موجبة للكفر والقتل حيناً، والتعزير والحبس والجلد حيناً آخر.

9 - محاولة دفع ورفع اللبس الذي ربما اشتبه على البعض من الآيات والأحاديث التي ظاهرها الطعن في الصحابة رضي الله عنهم وهي مبثوثة في ثنايا هذا

--------------------------------------------

(1) النووي: يحي: الإمام: شرح صحيح الإمام مسلم: دار القلم، بيروت ط 1 (15/ 159)
এজন্যই সত্যের অনুসারীগণ এবং ইজমার ক্ষেত্রে যাদের মতামতের গুরুত্ব রয়েছে, তাঁরা তাঁদের সাক্ষ্য ও বর্ণনা গ্রহণ করার বিষয়ে এবং তাঁদের পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে একমত হয়েছেন, আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন (১)।

৩ - পবিত্র আহলে বাইত এবং সম্মানিত সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মধ্যে বিচ্ছেদ বিদ্যমান থাকার ন্যায় কিছু উদ্ভাবিত মিথ্যাচার খণ্ডন করা।

৪ - সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ব্যাপারে সঠিক আকিদা এবং সুদৃঢ় মূলনীতি বর্ণনা করা।

৫ - বিষয়সমূহকে তাদের সঠিক অবস্থানে রাখা এবং মতপার্থক্যের সময় কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলের দিকে প্রত্যাবর্তন করা।

৬ - সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মর্যাদার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সংবেদনশীলতা ও দৃঢ় অবস্থানগুলো প্রচার ও প্রকাশ করা এবং সম্মানিত মহান সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সম্মান রক্ষায় তাঁদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধের দিকগুলো বর্ণনা করা।

৭ - সাহাবীদের সম্মান করা, শ্রদ্ধা করা, মহিমান্বিত করা এবং আল্লাহ তাঁদেরকে যে সুউচ্চ আসনে আসীন করেছেন সেই মর্যাদায় তাঁদের রাখার আবশ্যকতা সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বাচনিক ও ব্যবহারিক ঐকমত্য বর্ণনা করা, আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

৮ - পবিত্র সাহাবীদের মর্যাদার ওপর সীমালঙ্ঘনের ভয়াবহতা ও অপরাধ বর্ণনা করা; এবং এটি স্পষ্ট করা যে, তাঁদের গালি দেওয়া ও তাঁদের সমালোচনা করা একটি জঘন্য অপরাধ ও মহাবিপদ, যা কখনো কুফর ও মৃত্যুদণ্ডকে অনিবার্য করে তোলে, আবার কখনো তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের কারণ হয়।

৯ - এমন কিছু আয়াত ও হাদিস থেকে উদ্ভূত সংশয় দূর করার ও নিরসন করার চেষ্টা করা যা কারো কারো কাছে অস্পষ্ট মনে হতে পারে, যেগুলোর বাহ্যিক রূপ সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি কটাক্ষের সদৃশ মনে হয় এবং যা এর পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) নববী: ইয়াহইয়া: ইমাম: শারহু সহীহিল ইমাম মুসলিম: দারুল কলাম, বৈরুত ১ম সংস্করণ (১৫/ ১৫৯)
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২৫)
البحث.

10 - بيان منهجنا وعقيدتنا في الصحابة رضي الله عنهم والتي لا يمكن أن نتنازل عنها بحال من الأحوال، لا بدعوى تقارب ولا غيرها.

11 - بيان أن بشرية الصحابة وعدم عصمتهم، ليست سببا للوقوع في أعراضهم، وتتبع زلاتهم، بل هم أشرف الخلق وأكرمهم، فالوحي يقر صوابهم - وهم أتباع للشرع - ويصحح خطأهم رضي الله عنهم وأرضاهم.
গবেষণা।

১০ - সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সম্পর্কে আমাদের মানহাজ ও আকিদার বর্ণনা, যা কোনো অবস্থাতেই ত্যাগ করা সম্ভব নয়—না ঐক্যের দোহাই দিয়ে, না অন্য কোনো কারণে।

১১ - এটি স্পষ্ট করা যে, সাহাবীগণের মানবীয় প্রকৃতি এবং তাঁদের নিষ্পাপ না হওয়া তাঁদের মান-সম্মানে আঘাত করার কিংবা তাঁদের ভুল-ত্রুটি খুঁজে বেড়ানোর কোনো কারণ হতে পারে না। বরং তাঁরা সৃষ্টির সবচেয়ে সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ। ওহী তাঁদের সঠিক কাজকে সমর্থন করে—আর তাঁরা শরীয়তের অনুসারী—এবং তাঁদের ভুল সংশোধন করে দেয়; আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২৬)
خطة البحث:

قسمت البحث إلى مقدمة وبابين وخاتمة.

المقدمة اشتملت على:

- أهمية الموضوع.

- ودوافع الكتابة فيه.

- وخطة البحث ومنهج الكتابة فيه.

الباب الأول: في فضائل الصحابة وخطورة سبهم: اشتمل على ثلاثة فصول:

الفصل الأول: الحديث عن فضائل الصحابة من الكتاب والسنة.

الفصل الثاني: حكم سب الصحابة رضي الله عنهم.

الفصل الثالث: مسائل متممة (شبهات وردود)

والباب الثاني: في الدفاع عن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم: اشتمل على أربعة فصول:

الفصل الأول: دفاع الله تعالى عن الصحابة وأمهات المؤمنين رضي الله عنهم.

الفصل الثاني: دفاع النبي صلى الله عليه وسلم عن الصحابة رضي الله عنهم.

الفصل الثالث: دفاع الصحابة رضي الله عنهم عن أعراض بعضهم بعضاً.

الفصل الرابع: دفاع بعض المخلوقات المسخرة عن الصحابة رضي الله عنهم.

ثم الختام والتوصيات.
গবেষণার রূপরেখা:

আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা, দুইটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।

ভূমিকাটি যা অন্তর্ভুক্ত করেছে:

- বিষয়টির গুরুত্ব।

- এতে লেখার প্রেরণা ও কারণসমূহ।

- গবেষণার রূপরেখা এবং এতে লিখন পদ্ধতি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণের ফযীলত এবং তাঁদের গালি দেওয়ার ভয়াবহতা প্রসঙ্গে: এটি তিনটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম অধ্যায়: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সাহাবীগণের ফযীলত সংক্রান্ত আলোচনা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) গালি দেওয়ার বিধান।

তৃতীয় অধ্যায়: পরিপূরক মাসআলাসমূহ (সংশয় ও নিরসন)

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের পক্ষ সমর্থনে: এটি চারটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম অধ্যায়: সাহাবীগণ এবং মুমিন জননীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) পক্ষ সমর্থনে মহান আল্লাহর প্রতিরক্ষা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) পক্ষ সমর্থনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতিরক্ষা।

তৃতীয় অধ্যায়: সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) একে অপরের সম্মানের প্রতিরক্ষা।

চতুর্থ অধ্যায়: সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) পক্ষ সমর্থনে কতিপয় অনুগত সৃষ্টির প্রতিরক্ষা।

অতঃপর উপসংহার ও সুপারিশমালা।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২৭)
منهج البحث:

اعتمدت في البحث على منهج أحسب أنه منهج وسط معتدل،

يقوم على:

1 - إحسان الظن في الصحابة رضي الله عنهم، ودفع ما يناقض الأصول العامة التي تبنى عليها عقيدتنا في الصحابة رضي الله عنهم، مع عدم الغلو فيهم، فإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الغلو فيه وإطرائه، وهو خير البشرية فمن هو دونه من باب أولى، ولكن هم أقوام أحبهم الله تعالى ورسوله عليه الصلاة والسلام، أفلا نحبهم ونجلهم ونكرمهم ونذب عن أعراضهم، بلى والله.

2 - ابتعدت قد المستطاع عن الروايات الموضوعة والضعيفة التي لا ينجبر ضعفها، واكتفيت بما صح من الروايات أو كان مقبولاً عن العلماء الموثوقين من أهل الحديث والتاريخ، وذكرت بعض الآثار عن السلف المتعلقة بالباب، وبعض الأخبار والرؤى استئناساً لا اعتمادا.

3 - اقتضى المقام مزج الكلام بالأسلوب الإنشائي، راجيا من الله تعالى أن يكون مستحسنا غير ممجوج.

4 - رجعت إلى المراجع الأصلية في الباب.

5 - خرجت الآيات، وعزوت الأحاديث لمصادرها.

6 - نسبت النقول لقائلها، كما قيل: من بركة العلم أن يضاف القول
গবেষণার পদ্ধতি:

আমি এই গবেষণায় এমন একটি পদ্ধতির উপর নির্ভর করেছি যা আমি একটি মধ্যমপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি বলে মনে করি,

যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর প্রতিষ্ঠিত:

১ - সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা এবং তাদের ব্যাপারে আমাদের আকিদা যে সকল সাধারণ মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, তার পরিপন্থী বিষয়গুলো প্রতিহত করা; তবে তাদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন না করা। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি তাঁর নিজের ব্যাপারে অতিরঞ্জন ও অতিশয়োক্তি করতে নিষেধ করে থাকেন—অথচ তিনি মানবজাতির শ্রেষ্ঠ—তবে তাঁর চেয়ে নিচে যারা আছেন তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। কিন্তু তারা এমন এক জাতি যাদেরকে আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম) ভালোবেসেছেন; সুতরাং আমরা কি তাদের ভালোবাসব না, শ্রদ্ধা করব না, সম্মান করব না এবং তাদের সম্মান রক্ষা করব না? অবশ্যই আল্লাহর কসম, আমরা তা করব।

২ - আমি বানোয়াট এবং এমন দুর্বল বর্ণনা যা সংশোধনযোগ্য নয়, তা থেকে যথাসম্ভব দূরে থেকেছি। আর যেসকল বর্ণনা সহিহ অথবা নির্ভরযোগ্য হাদিস বিশারদ ও ইতিহাসবিদগণের নিকট গ্রহণযোগ্য, তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। আমি এই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট সালাফদের কিছু আসার (বাণী) এবং কিছু সংবাদ ও স্বপ্ন বর্ণনা করেছি কেবল মানসিক প্রশান্তির জন্য, সেগুলোর উপর নির্ভর করার জন্য নয়।

৩ - প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনে আলোচনার সাথে বর্ণনামূলক শৈলীর মিশ্রণ ঘটাতে হয়েছে, আল্লাহ তাআলার কাছে আশা করি এটি যেন পছন্দনীয় হয় এবং বিরক্তিকর না হয়।

৪ - আমি এই বিষয়ের মূল উৎসগ্রন্থসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি।

৫ - আমি আয়াতসমূহের রেফারেন্স প্রদান করেছি এবং হাদিসসমূহকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধিত করেছি।

৬ - উদ্ধৃতিসমূহকে তাদের বক্তার দিকে নিসবত করেছি; যেমনটি বলা হয়েছে: জ্ঞানের বরকত হলো বক্তব্যকে তার বক্তার দিকে সম্বন্ধ করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ২৮)
إلى قائله (1).وأنبه إلى أن الإحالة إلى كلام شيخ الإسلام ابن تيمية، هو بالنسبة لما هو مشهور من طبعة الشيخ: ابن قاسم، مع أني ذكرت في المراجع طبعة العبيكان، وهي المتواجدة لدي، وميزتها: فهرسة الصفحات على طبعة الشيخ ابن قاسم.

هذا وأشكر المولى جل وعلا على ما من به علي من نعم كثيرة لا تعد ولا تحصى، ومنها: تيسيره لي إخراج هذا البحث المتواضع، ذابا فيه ومنافحاً ومبينا فضل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم. وأشكر بعد شكر الله تعالى، كل من أعانني بقول أو فعل، ولهم مني خالص الدعاء. وهذا جهد بشري يعتريه النقص والخطأ والسهو والنسيان ولا بدّ، ويأبي الله تعالى إلا أن يكون الكمال لكتابه ولكن حسبي أني بذلت وسعي وجهدت طاقتي لإبراز البحث في أحسن وأكمل صورة فما كان فيه من صواب فمن الله وحده، فله الحمد والمنة، وأسأله سبحانه وتعالى أن يحشرني وكل منافح عن الصحابة مع هذه الزمرة المباركة الطاهرة، وما كان فيه من خطأ أو تقصير فمني والشيطان، والخطأ من طبيعة البشر " وخير الخطائين التوابون " ورحم الله امرأ أهدى إلي عيوبي.

مازن محمد بن عيسى

mazenbineisa@hotmail.com

--------------------------------------------

(1) القرطبي: الجامع لأحكام القرآن: 1/ 29
এর প্রবক্তার প্রতি (১)। আমি সতর্ক করতে চাই যে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার বক্তব্যের উদ্ধৃতিগুলো শাইখ ইবনে কাসিমের প্রসিদ্ধ মুদ্রণ অনুযায়ী দেয়া হয়েছে, যদিও আমি তথ্যসূত্রে ওবাইকান প্রকাশনীর কথা উল্লেখ করেছি যা আমার কাছে বিদ্যমান। এর বৈশিষ্ট্য হলো এতে শাইখ ইবনে কাসিমের মুদ্রণ অনুযায়ী পৃষ্ঠা নম্বর সূচীবদ্ধ করা হয়েছে।

এর সাথে আমি মহান রব জাল্লা ওয়া আলার শুকরিয়া আদায় করছি তাঁর সেই অগণিত ও অসংখ্য নেয়ামতের জন্য যা তিনি আমাকে দান করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো: আমার জন্য এই বিনম্র গবেষণাটি সম্পন্ন করা সহজ করে দেয়া, যেখানে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের মর্যাদা রক্ষা ও বর্ণনা করেছি এবং তাঁদের পক্ষ সমর্থন করেছি। আল্লাহ তাআলার শুকরিয়ার পর আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা আমাকে কথা বা কাজের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন, তাঁদের সবার জন্য আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক দোয়া রইল। এটি একটি মানবীয় প্রচেষ্টা, যাতে ত্রুটি, ভুল, বিচ্যুতি ও বিস্মৃতি থাকা অনিবার্য। আল্লাহ তাআলা কেবল তাঁর কিতাবকেই পরিপূর্ণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তবে আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আমি এই গবেষণাকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ রূপে উপস্থাপনের জন্য আমার সাধ্যমতো চেষ্টা ও শ্রম ব্যয় করেছি। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, সুতরাং প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল তাঁরই প্রাপ্য। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এবং সাহাবীগণের পক্ষ অবলম্বনকারী প্রত্যেককে এই বরকতময় ও পবিত্র দলের সাথে হাশর করান। আর এতে যা কিছু ভুল বা ত্রুটি রয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর ভুল করা মানুষের স্বভাবজাত বিষয় - "আর সর্বোত্তম ভুলকারী হলো তওবাকারীগণ" এবং আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি আমার ভুলগুলো আমার কাছে উপহার হিসেবে পেশ করেন।

মাজেন মুহাম্মদ বিন ঈসা

mazenbineisa@hotmail.com

--------------------------------------------

(১) আল-কুরতুবী: আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন: ১/২৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الباب الأول

فضائل الصحابة، وخطورة سبهم رضي الله عنهم
প্রথম অধ্যায়

সাহাবীগণের মর্যাদা এবং তাঁদেরকে গালি দেওয়ার ভয়াবহতা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌الفصل الأول

فضل الصحابة رضي الله عنهم
.

تمهيد:

ليس بدعا ًمن القول، أنه منذ أربعة عشر قرنا، والألسنة تلهج بذكر فضائل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، وبيان منزلتهم ومكانتهم، وبيان مكانة أمهات المؤمنين رضي الله عنهم أجمعين.

وليس جيل يخلو، ولا عمر يصفو، دون بيان وتذكير، فهذه الكراريس مليء، والدواوين جمعى والصحاح والسنن والمسانيد تبعى، تصب كلها في معين واحد يشهد لها الإله الواحد: [وَالَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقّاً لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ] الأنفال 74.

إن الحديث في فضائل أولئك القوم حديث ذو شجون، فلا تملك العين دمعها ولا الأذن سمعها ولا النفس شوقها، حين تذكر كمالات تلك الأرواح، وصفاء تلك النفوس، إنها القلوب المؤمنة الموقنة الصادقة المصدقة، بذلت الغالي والنفيس، بذلت كل ما تملك حبا وكرامة ونصرة، ارخصت المهج الغالية لقاء الجنة الغالية، (ألا إن سلعة الله غالية، ألا إن
প্রথম অধ্যায়

সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ফযিলত
.

উপক্রমণিকা:

এটি কোনো অভিনব কথা নয় যে, চৌদ্দশ বছর ধরে রসনাগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ফযিলত বর্ণনা, তাঁদের মর্যাদা ও অবস্থানের বিবরণ এবং উম্মাহাতুল মুমিনীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর সুউচ্চ অবস্থানের আলোচনায় মুখরিত হয়ে আছে।

এমন কোনো প্রজন্ম অতিবাহিত হয়নি এবং এমন কোনো যুগ অতিবাহিত হয়নি যা তাঁদের আলোচনা ও স্মরণ থেকে মুক্ত ছিল। এই পুস্তিকাগুলো পরিপূর্ণ, সংকলনসমূহ বিন্যস্ত এবং সহীহ, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ অনুগামী; যা সবই এক সুউচ্চ প্রস্রবণে প্রবাহিত হচ্ছে, যার সাক্ষ্য স্বয়ং একক ইলাহ প্রদান করেছেন: [আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দান করেছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক] আল-আনফাল ৭৪।

সেই মহান ব্যক্তিদের ফযিলত সম্পর্কে আলোচনা অত্যন্ত আবেগঘন ও বহুবিস্তৃত; যখন সেই আত্মাসমূহের পূর্ণতা এবং সেই নফসগুলোর স্বচ্ছতার কথা স্মরণ করা হয়, তখন চোখ তার অশ্রু সংবরণ করতে পারে না, কান তার শ্রবণকে স্থির রাখতে পারে না এবং আত্মা তার ব্যাকুলতাকে সংবরণ করতে পারে না। তাঁরা ছিলেন ঈমানদীপ্ত, সুনিশ্চিত বিশ্বাসী, সত্যবাদী ও সত্যায়নকারী অন্তরের অধিকারী। তাঁরা ভালোবাসা, সম্মান ও দ্বীনের সাহায্যের জন্য তাঁদের মহামূল্যবান ও প্রিয় সম্পদসমূহ উৎসর্গ করেছেন। বহুমূল্য জান্নাত লাভের বিনিময়ে তাঁরা তাঁদের অতি প্রিয় জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন, (জেনে রেখো, আল্লাহর পণ্য অতি মূল্যবান; জেনে রেখো...
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৩৩)
سلعة الله الجنة) (1).

هانت عليها دنياها ففازت بأخراها " والله إني لأجد ريح الجنة دون أحد (2) " نعم:

وإذا كانت النفوس كباراً … تعبت في مرادها الأجسام.

يتسابقون لمرضاة الله، ويتسارعون إلى جنة الله تعالى، تهفوا نفوسهم للمعالي، ويقفون صموداً لنصرة دين الله ورسوله كالجبال، " والله لئن خصت بنا برك الغماد لخضناه معك، والله لئن استعرضت بنا هذا البحر خضناه معك، ولا نقول كما قالت بنو إسرائيل لموسى، اذهب أنت وربك فقاتلا إنا هاهنا قاعدون، ولكنا نقاتل عن يمينك وعن شمالك ومن بين يديك ومن خلفك (3).

أي نفوس هذه، تجردت من حظوظها، وانقادت لشرع ربها، ففازت بموعود خالقها [قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى، وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى] الأعلى 15، 16 [قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا] الليل 9.

حينما تضع قلمك، وتجول بفكرك، تريد صنع تاريخ من تاريخ، ومجد

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في كتاب صفة القيامة والرقائق والورع، (2450)، وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب، لا نعرفه إلا من حديث أبي النضر.

(2) ابن القيم: زاد المعاد: 3/ 198، ابن كثير: إسماعيل، الإمام: البداية والنهاية: دار الحديث، القاهرة، ط 5/ 1418هـ (4/ 33). ابن حجر: فتح الباري: 7/ 411

(3) ابن القيم: زاد المعاد: 3/ 173، ابن كثير، البداية والنهاية: 3/ 298
আল্লাহর পণ্য হলো জান্নাত (১)।

তাদের নিকট তাদের দুনিয়া তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল, ফলে তারা আখেরাতে সফলকাম হয়েছে। "আল্লাহর কসম! আমি ওহুদ পাহাড়ের এপাশ থেকেই জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি (২)।" হ্যাঁ:

আর যখন আত্মাগুলো মহান হয় … তখন শরীরগুলো তাদের সংকল্প বাস্তবায়নে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে এবং মহান আল্লাহর জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়। তাদের আত্মা উচ্চ মর্যাদার পানে ব্যাকুল হয় এবং তারা আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর রাসূলের সাহায্যের জন্য পাহাড়ের মতো অটলভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। "আল্লাহর কসম! আপনি যদি আমাদের নিয়ে বারকুল গিমাদ পর্যন্তও যাত্রা করেন, তবে আমরা অবশ্যই আপনার সাথে সেখানে যাব। আল্লাহর কসম! আপনি যদি আমাদের নিয়ে এই সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে চান, তবে আমরাও আপনার সাথে তাতে ঝাঁপ দেব। আমরা বনী ইসরাঈলদের মতো বলব না যা তারা মূসাকে বলেছিল— 'তুমি ও তোমার রব গিয়ে যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে থাকলাম'; বরং আমরা আপনার ডানে, বামে, সামনে এবং পেছন থেকে যুদ্ধ করব (৩)।

এগুলো কেমন আত্মা, যা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে এবং তাদের রবের শরীয়তের অনুগত হয়েছে, ফলে তারা তাদের স্রষ্টার দেওয়া প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সফল হয়েছে। [নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সে, যে আত্মশুদ্ধি করেছে। এবং তার রবের নাম স্মরণ করেছে ও সালাত আদায় করেছে] আল-আলা ১৫, ১৬। [নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে] আল-লাইল ৯।

যখন আপনি আপনার কলম ধরেন এবং আপনার চিন্তাচেতনাকে প্রসারিত করেন, তখন আপনি ইতিহাস থেকে এক নতুন ইতিহাস এবং মর্যাদা নির্মাণ করতে চান।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী এটি কিয়ামতের বিবরণ, কোমলতা এবং পরহেযগারী অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, (২৪৫০)। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান গরীব, আমরা এটি কেবল আবু নাযরের হাদীস থেকেই জানি।

(২) ইবনুল কাইয়্যিম: যাদুল মা'আদ: ৩/ ১৯৮; ইবনে কাসীর: ইসমাঈল, ইমাম: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: দারুল হাদীস, কায়রো, ৫ম সংস্করণ/ ১৪১৮ হিজরী (৪/ ৩৩); ইবনে হাজার: ফাতহুল বারী: ৭/ ৪১১।

(৩) ইবনুল কাইয়্যিম: যাদুল মা'আদ: ৩/ ১৭৩; ইবনে কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৩/ ২৯৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৩৪)
من أمجاد، وعز من أجداد فإنك تقف مشدوهاً أمام تلك الحقبة، وذاك القرن، إذ فيه صنع التاريخ وبدا، وشيد المجد وارتقى.

يا قلم عن أي تاريخ تكتب، وعن أي أمة عظيمة تسطر، يقيني لينتهين مدادك ولن تبلغ ودادك.

أولئك آبائي فجئني بمثلهم … إذا جمعتنا يا جرير المجامع.

هي أمة عاشت الماضي بالحاضر، ومزجت الحاضر بالمستقبل، امتدت رقاعها، وزادت شموسها، ونهل الناس من خيرها وبركتها وبرها.

ألا شاهدت الوجوه، وخرست الألسن، وشلت الأركان، التي تطال تلك النفوس الزكية بالبهتان وتقع في أعراضها بغير حق ولا برهان، كيف سيقف اللسان، أو ينطق البنان حين يسأله الرحيم الرحمن الملك العلام [يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ اللَّهُ دِينَهُمُ الْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ] النور24 - 25

فرحمة الله على أمة قالت وفعلت ووعدت وأوفت وتحدثت فصدقت: [مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً] الأحزاب23

فهم رضي الله عنهم أهل السابقة والفضل، أثنى الله تعالى عليهم فقال: {هو الذي بعث في الأميين رسولا منهم يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة وإن كانوا من قبل لفي ضلال مبين * وآخرين منهم لما يلحقوا بهم وهو العزيز الحكيم} الجمعة 2 - 3. قال الإمام
ঐতিহ্যের গৌরবে এবং পূর্বপুরুষদের সম্মানে আপনি সেই যুগ ও সেই শতাব্দীর সামনে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন, কারণ তখনই ইতিহাস রচিত হয়েছিল ও প্রকাশ পেয়েছিল, এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ও উচ্চতায় আরোহণ করেছিল।

হে কলম, তুমি কোন ইতিহাস নিয়ে লিখছ এবং কোন মহান জাতি সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করছ? আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, তোমার কালি ফুরিয়ে যাবে কিন্তু তুমি তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।

তাঁরাই আমার পূর্বপুরুষ, তাই তাঁদের মতো কাউকে আমার সামনে নিয়ে এসো … যখন কোনো সমাবেশে আমাদের একত্র করা হবে, হে জারির।

এটি এমন এক জাতি যারা বর্তমানের মাধ্যমে অতীতকে অতিবাহিত করেছে এবং ভবিষ্যতের সাথে বর্তমানকে মিশ্রিত করেছে; তাদের ভূখণ্ড বিস্তৃত হয়েছিল, তাদের সূর্যগুলো বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং মানুষ তাদের কল্যাণ, বরকত ও পুণ্য থেকে সুধা পান করেছিল।

সেই চেহারাগুলো কি দেখা যায় না, আর সেই জিহ্বাগুলো কি স্তব্ধ হয়ে যায় না এবং সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো কি অসাড় হয়ে যায় না—যা সেই পবিত্র আত্মাগুলোর বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করে এবং কোনো অধিকার বা প্রমাণ ছাড়াই তাদের সম্মানহানি করে? জিহ্বা কীভাবে স্থির থাকবে অথবা আঙ্গুলগুলো কীভাবে কথা বলবে যখন পরম দয়ালু, অসীম দাতা, সর্বজ্ঞ রাজাধিরাজ তাদের জিজ্ঞাসা করবেন: [যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত এবং তাদের পা, যা তারা করত সে সম্পর্কে। সেদিন আল্লাহ তাদের প্রাপ্য প্রতিদান পূর্ণরূপে দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই স্পষ্ট সত্য।] আন-নূর ২৪ - ২৫

অতএব আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সেই জাতির ওপর যারা বলেছে ও তা পালন করেছে, ওয়াদা করেছে ও তা পূর্ণ করেছে এবং কথা বলেছে ও সত্য বলেছে: [মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার শপথ পূর্ণ করেছে, আবার কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। আর তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেনি।] আল-আহযাব ২৩

তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) অগ্রগামী ও মর্যাদাবান। আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পবিত্র করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল। আর তাদের অন্তর্ভুক্ত অন্যদের জন্যও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} আল-জুমুআহ ২ - ৩। ইমাম বলেছেন
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৩৫)
السيوطي: قوله (وآخرين) عطف على الأميين، أي: الموجودين (منهم) والآتين منهم بعدهم (لما) لم (يلحقوا بهم) في السابقة والفضل (وهو العزيز الحكيم) في ملكه وصنعه، وهم التابعون، والاقتصار عليهم كاف في بيان فضل الصحابة المبعوث فيهم النبي صلى الله عليه وسلم على من عداهم ممن بعث إليهم وآمنوا به من جميع الإنس والجن إلى يوم القيامة؛ لأن كل قرن خير ممن يليه. (1)

وبعد هذه المشاعر المنبثقة من قلب محب، نضع موازين الكتاب والسنة حاكمة على كل هوى مقومة لكل اعوجاج [وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلاً] النساء 122. [وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثاً] النساء 87، وقال تعالى عن نبيه [وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى] النجم 3 - 4

ففضائل الصحابة، وبيان مكانتهم ومنزلتهم بُينت في نصوص الوحيين خير بيان.

--------------------------------------------

(1) السيوطي: تفسير الجلالين: 741
আস-সুয়ূতী: তাঁর বাণী (এবং অন্যদেরকে) শব্দটি ‘নিরক্ষরদের’ ওপর সমম্বিত হয়েছে, অর্থাৎ: তাদের মধ্যে বিদ্যমান ব্যক্তিবর্গ এবং যারা তাদের পরে আসবে (এখনও) তারা অগ্রগণ্যতা ও মর্যাদায় (তাদের সাথে মিলিত হতে পারেনি)। (আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) তাঁর রাজত্বে ও সৃষ্টিশৈলীতে। আর তাঁরা হলেন তাবিঈগণ। কেবল তাঁদের উল্লেখ করাই সাহাবায়ে কিরামের—যাদের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন—শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট, তাঁদের পরবর্তী কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল জিন ও ইনসান যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছে তাদের সবার তুলনায়; কারণ প্রতিটি যুগ বা প্রজন্ম তার পরবর্তী প্রজন্ম অপেক্ষা উত্তম। (১)

এক প্রেমময় হৃদয় থেকে উৎসারিত এই অনুভূতির পর, আমরা কিতাব ও সুন্নাহর মানদণ্ডকে সকল খেয়াল-খুশির ওপর বিচারক এবং সকল বক্রতার সংশোধক হিসেবে উপস্থাপন করছি। [আর কথায় আল্লাহর চেয়ে বেশি সত্যবাদী আর কে?] আন-নিসা ১২২। [আর বর্ণনায় আল্লাহর চেয়ে বেশি সত্যবাদী আর কে?] আন-নিসা ৮৭। মহান আল্লাহ তাঁর নবী সম্পর্কে বলেছেন: [তিনি খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়] আন-নাজম ৩-৪।

সাহাবীগণের ফযীলত এবং তাঁদের মর্যাদা ও অবস্থানের বর্ণনা উভয় ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহ) দলিলাদিতে সর্বোত্তমভাবে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আস-সুয়ূতী: তাফসীরুল জালালাইন: ৭৪১
(খণ্ড: ১) আল-ইসাবাহ ফীয যাববি আনিস সাহাবাহ - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌المبحث الأول: فضائل الصحابة في القرآن الكريم:

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: ولو ذكرنا ما روى في حقوق القرآبة وحقوق الصحابة لطال الخطاب، فإن دلائل هذا كثير من الكتاب والسنة.

قال العلامة محمد بن عمر بحرق: وقد ورد في فضلهم رضي الله عنهم من الآيات القرآنية، والأحاديث النبوية ما لا يحصى.

وقال الإمام الغزالي: وقد ورد في الثناء على جميعهم آيات وأخبار كثيرة، وإنما يدرك دقائق الفضل والترتيب فيه، المشاهدون للوحي والتنزيل بقرائن الأحوال ودقائق التفصيل، فلولا فهمهم ذلك لما رتبوا الأمر كذلك، إذ كانوا لا تأخذهم في الله لومة لائم، ولا يصرفهم عن الحق صارف (1).

1) إثبات الخيرية في أمة المصطفى عليه الصلاة والسلام، وخير من يدخل تحت لوائها أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم. قال الله تعالى: [كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ] آل عمران 110.

واختلف أهل العلم بالقرآن الكريم في توجه الخطاب في هذه الآية

--------------------------------------------

(1) بحرق: محمد: العلامة: حدائق الأنوار ومطالع الأٍسرار في سيرة النبي المختار: دار المنهاج ط 3/ 1424هـ (417)، ابن تيمية: مجموع الفتاوى 28/ 492، الغزالي: إحياء علوم الدين: 1/ 115
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত:

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: যদি আমরা আত্মীয়তার অধিকার এবং সাহাবায়ে কেরামের অধিকার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করি, তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। কেননা কুরআন ও সুন্নাহতে এর অনেক দলিল বিদ্যমান।

আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে উমর বাহরাক বলেন: তাদের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং নবীজির হাদিসে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে।

ইমাম গাজালী বলেন: তাদের সবার প্রশংসায় অনেক আয়াত ও বর্ণনা এসেছে। তাদের ফজিলতের সূক্ষ্মতা এবং এর বিন্যাস তো কেবল তারাই অনুধাবন করতে সক্ষম, যারা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ও খুঁটিনাটি বিবরণের মাধ্যমে ওহি এবং কিতাব অবতীর্ণ হতে দেখেছেন। তারা যদি এটি না বুঝতেন, তবে তারা বিষয়টি এভাবে বিন্যস্ত করতেন না। কারণ আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাদের স্পর্শ করত না এবং কোনো বিচ্যুতকারী তাদের সত্য থেকে বিচ্যুত করতে পারত না (১)।

১) মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হওয়া; আর এই শ্রেষ্ঠত্বের পতাকাতলে যারা অন্তর্ভুক্ত তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আল্লাহর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবায়ে কেরাম। আল্লাহ তাআলা বলেন: [তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো] আলে ইমরান: ১১০।

পবিত্র কুরআনের জ্ঞান বিশারদগণ এই আয়াতে সম্বোধন কার প্রতি করা হয়েছে সে বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন।

--------------------------------------------

(১) বাহরাক: মুহাম্মাদ: আল্লামা: হাদায়েকুল আনোয়ার ওয়া মাতালিউল আসরার ফি সিরাতিন নাবিয়্যিল মুখতার: দারুল মিনহাজ ৩য় সংস্করণ/ ১৪২৪ হিজরি (৪১৭), ইবনে তাইমিয়া: মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/ ৪৯২, গাজালী: ইহয়াউ উলুমিদ্দিন: ১/ ১১৫