(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: -)
صور الإعلام الإسلامي في القرآن الكريم - دراسة في التفسير الموضوعي   (عاطف إبراهيم المتولي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: صور الإعلام الإسلامي في القرآن الكريم - دراسة في التفسير الموضوعي

المؤلف: عاطف إبراهيم المتولي رفاعي

رسالة: ماجستير، قسم التفسير وعلوم القرآن،كلية العلوم الإسلامية، جامعة المدينة العالمية (ماليزيا)إشراف فضيلة الدكتور: حاتم محمد منصور مزروعة

عام النشر: 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 350

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1433

পবিত্র কুরআনে ইসলামি প্রচারণার রূপসমূহ - বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের আলোকে একটি গবেষণা   (আতিফ ইব্রাহিম আল-মুতাওয়াল্লি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: পবিত্র কুরআনে ইসলামি প্রচারণার রূপসমূহ - বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের আলোকে একটি গবেষণা

লেখক: আতিফ ইব্রাহিম আল-মুতাওয়াল্লি রিফাই

গবেষণাপত্র: মাস্টার্স, তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ,ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ, আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (মালয়েশিয়া)সম্মানিত ডক্টর: হাতিম মুহাম্মদ মনসুর মাজরূআহ-এর তত্ত্বাবধানে

প্রকাশের বছর: ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫০

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: -)
صور الإعلام الإسلامي في القرآن الكريم

دراسة في التفسير الموضوعي

بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير في التفسير

إعداد الطالب / عاطف إبراهيم المتولي رفاعي

إشراف فضيلة الدكتور / حاتم محمد منصور مزروعة

 

كلية العلوم الإسلامية

قسم التفسير وعلوم القرآن

عمادة الدراسات العليا

جامعة المدينة العالمية

ماليزيا

1432 هـ - 2011 م
পবিত্র কুরআনে ইসলামি প্রচারের রূপসমূহ

বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের আলোকে একটি গবেষণা

তাফসিরে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে একটি পরিপূরক গবেষণাপত্র

প্রস্তুতকারী ছাত্র / আতিফ ইবরাহিম আল-মুতাওয়াল্লি রিফাই

তত্ত্বাবধানে সম্মানিত ডক্টর / হাতেম মুহাম্মাদ মানসুর মাজরুআ

 

ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ

তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞান বিভাগ

স্নাতকোত্তর শিক্ষা বিভাগ

আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

মালয়েশিয়া

১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৩)
قرار توصية اللجنة
কমিটির সুপারিশের সিদ্ধান্ত
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌ملخص البحث

هذا البحث دراسة في التفسير الموضوعي، حاول فيه الباحث إبراز صور الإعلام الإسلامي في القرآن الكريم، ومن أجل تحقيق هذا المقصد تناول الباحث الإعلام ونشأته ومراحل تطوره، ووسائله المتعددة، ومكوناته المختلفة، كما عرض للاتجاهات الحاكمة للمؤسسات الإعلامية، ومذاهبها، ونظرياتها المتعددة، وأهدافها.

ثم كان الحديث عن الإعلام الإسلامي وتناوله الباحث، تعريفاً، وإبانةً عن دواعي ظهوره، ومنطلقاته، وأهدافه التي يسعى إلى تحقيقها، وخصائصه المميزة، ووسائله العديدة التي تمكنه من توصيل رسالته وتحقيق الأهداف المحددة من منظومة الإعلام الإسلامي.

وبعد ذلك تكلم الباحث عن الإعلام في القرآن الكريم، عن طريق بيان أن القرآن هو أعظم وسيلة إعلامية عرفها تاريخ الإنسانية، وبيَّن الباحث المفاصل الإعلامية الرئيسة في القرآن الكريم، والتي تمثلت في تحديد مهمة الرسل جميعاً، وهي القيام بالبيان والبلاغ، والتزام الرسل بأداء الرسالة الإعلامية الربانية كما هي بدون زيادة أو نقصان، كما اتضح أن الإعلام القرآني إعلام شامل يحرك ويؤثر في جميع المجالات.

واشتمل البحث على بيان أن الإعلام القرآني له خصائص تفرد بها عن غيره من سائر اتجاهات الإعلام الأخرى، منها أنه رباني، وأنه يعتمد الحقائق مصدراً وحيداً، والمصداقية، والبرهنة العقلية للإقناع، والانحياز التام لمكارم الأخلاق، والتفاعلية الإيجابية مع الأحداث، وكامل العدالة والإنصاف، وهي ما يعبر عنها الآن بالشفافية الكاملة والموضوعية التامة.

كما أظهر البحث وسائل الإعلام في القرآن الكريم ومنها: تنوع الخطاب، والقصص، وضرب الأمثال، والتكرار، والجدال، والحوار مع المخالفين، والترغيب والترهيب.

ثم استعرض الباحث صور الإعلام في القرآن الكريم، واستخرج ستة أنواع هي: الإعلام العقدي، والسياسي، والعسكري، والاقتصادي، والاجتماعي، والثقافي، مع تعريف كل نوع من أنواع الإعلام التعريف المبين، الكاشف عن حقيقته، موضحاً أهداف كل نوع منه، وخصائصه، والصور المتنوعة له، والأساليب الإعلامية التي جاء بها القرآن الكريم.

وقد كُتِبَ هذا البحث رجاء أن تكون كلماته لبنة في صرح إعلامنا القرآني، وطمعاً في الدلالة على معين صافي، ومداد لا ينقطع، لوسائل إعلامنا الإسلامي، والله ولي المؤمنين.
গবেষণার সারসংক্ষেপ

এই গবেষণাটি বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের একটি অধ্যয়ন, যেখানে গবেষক পবিত্র কুরআনে ইসলামি প্রচারমাধ্যমের (মিডিয়া) চিত্রসমূহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এই উদ্দেশ্য অর্জনে গবেষক প্রচারমাধ্যম, এর উদ্ভব, বিবর্তনের পর্যায়সমূহ, এর বহুমুখী মাধ্যম ও বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রচারমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রক প্রবণতা, মতাদর্শ, বিভিন্ন তত্ত্ব ও উদ্দেশ্যসমূহ উপস্থাপন করেছেন।

এরপর ইসলামি প্রচারমাধ্যম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষক এর সংজ্ঞা প্রদান, এর আবির্ভাবের কারণসমূহ স্পষ্টকরণ, এর ভিত্তি ও লক্ষ্যসমূহ যা তা অর্জনে সচেষ্ট, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর বিভিন্ন মাধ্যম যা এটিকে তার বার্তা পৌঁছাতে এবং ইসলামি প্রচারমাধ্যম ব্যবস্থার নির্দিষ্ট লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সক্ষম করে তোলে—তা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন।

তৎপরবর্তী অংশে গবেষক পবিত্র কুরআনে প্রচারমাধ্যম সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন যে, কুরআন হলো মানব ইতিহাসের পরিচিত সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচারমাধ্যম। গবেষক পবিত্র কুরআনের প্রধান প্রচারমূলক ভিত্তিগুলো চিহ্নিত করেছেন, যা সকল রাসূলের দায়িত্ব নির্ধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে; আর তা হলো সুস্পষ্ট বর্ণনা ও বার্তা পৌঁছানো। এছাড়া কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই মহান রবের পক্ষ থেকে আসা ঐশী প্রচারবার্তা যথাযথভাবে আদায়ের ক্ষেত্রে রাসূলগণের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন। এছাড়া এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, কুরআনিক প্রচারমাধ্যম হলো একটি সর্বজনীন মাধ্যম, যা সকল ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে।

এই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুরআনিক প্রচারমাধ্যমের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য সকল প্রচারমাধ্যম থেকে স্বতন্ত্র। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: এটি রব্বানি বা ঐশী, এটি একমাত্র উৎস হিসেবে বাস্তব তথ্যের ওপর নির্ভর করে, এর রয়েছে নির্ভরযোগ্যতা, প্রমাণের জন্য যৌক্তিক উপস্থাপনা, সচ্চরিত্রের প্রতি পূর্ণ পক্ষপাত, ঘটনার সাথে ইতিবাচক মিথস্ক্রিয়া এবং পূর্ণ ন্যায় ও ইনসাফ; যাকে বর্তমানে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতা হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এছাড়া গবেষণায় পবিত্র কুরআনের প্রচার মাধ্যমসমূহ তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: বক্তব্যের বৈচিত্র্য, কাহিনীসমূহ, উদাহরণ প্রদান, পুনরাবৃত্তি, যুক্তি-তর্ক, বিরোধীদের সাথে সংলাপ এবং উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন।

এরপর গবেষক পবিত্র কুরআনে প্রচারমাধ্যমের বিভিন্ন চিত্র পর্যালোচনা করেছেন এবং এর ছয়টি প্রকার বের করেছেন, যথা: আকিদাগত, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রচারমাধ্যম। প্রতিটি প্রকারের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে সেটির প্রকৃত রূপ উন্মোচন করা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রকারের লক্ষ্য, বৈশিষ্ট্য, এর বৈচিত্র্যময় রূপ ও পবিত্র কুরআনে বর্ণিত প্রচারশৈলীসমূহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এই গবেষণাটি এই আশায় লেখা হয়েছে যেন এর শব্দগুলো আমাদের কুরআনিক প্রচারমাধ্যমের প্রাসাদে একটি ইটের ন্যায় ভূমিকা রাখে এবং আমাদের ইসলামি প্রচারমাধ্যমগুলোর জন্য একটি স্বচ্ছ উৎস ও অবিরাম দিকনির্দেশক হয়। আর আল্লাহই মুমিনদের অভিভাবক।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৫)
This research study in the objective interpretation، try the researcher to highlight the images of Islamic Information in the Koran، and in order to achieve this objective researcher dealt with the media and its origins and stages of development، and means of multiple، and its various components، also presented the trends of the ruling of the media institutions، creeds، and doctrines، multiple objectives.

Then there was talk of Islamic Information and dealt with the researcher، by definition، and indicate the reasons for his appearance، and the origins and goals، which seek to achieve، and characteristics، and the many means which enables it to deliver his message and to achieve specific objectives of the system of Islamic media.

And then speak a researcher from the media in the Koran، through the statement that the Koran is the greatest information tool known in the history of humanity، and the researcher joints media key in the Holy Quran، which was to define the task of the apostles all، is to do the statement and author، and the commitment of the Apostles performance of the message Lord's media as it is without an increase or decrease، as it turns out that the media Quranic comprehensive information drives and affects all areas.

The research involved a statement that the media Quranic has the characteristics of the uniqueness of it from other all other trends in other media، including that it brought me، and that he supports finding a single source، credibility، and to demonstrate mental persuasion، and aligned the full morals، and interactive positive with events، and full justice and equity، What passes now for full transparency and objectivity full.

Research has also shown the media in the Quran، including: the diversity of speech، stories، proverbs، repetition، and debate، and dialogue with the offenders، and the carrot and the stick.

Then reviewed the researcher Photos Media in the Koran، and extracted six types: information lumpy، political، military، economic، social and cultural development، with the definition of each type of media profile shown، Reagent for the truth، explaining the objectives of each type of it، and its properties، and images His diverse، and methods of information brought by the Holy Quran.

He has written this research in the hope that his words be brick in the edifice of Quranic let us know، and hope، as the evidence on a particular net، and the ink، not broken، let us know of the means of the Islamic، and God is faithful.
বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের এই গবেষণা প্রবন্ধে গবেষক কুরআনে বর্ণিত ইসলামী তথ্য ব্যবস্থা বা প্রচার মাধ্যমের চিত্রসমূহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে গবেষক গণমাধ্যম, এর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশের স্তরসমূহ, এর বহুমুখী মাধ্যম এবং বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও তিনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহের নীতি-আদর্শ, আকিদাহ, মতবাদ এবং বহুমুখী লক্ষ্যসমূহ উপস্থাপন করেছেন।

এরপর ইসলামী তথ্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে গবেষক এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন এবং এর আত্মপ্রকাশের কারণ, মূলভিত্তি, লক্ষ্যসমূহ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্দেশ করেছেন। পাশাপাশি সেই সব বহুমুখী মাধ্যমগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা এই ব্যবস্থাকে তার বার্তা পৌঁছে দিতে এবং ইসলামী প্রচার ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সক্ষম করে তোলে।

অতঃপর গবেষক কুরআনের প্রচার মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুরআন হলো মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম তথ্য মাধ্যম। গবেষক পবিত্র কুরআনের প্রচারের মূল সংযোগস্থলগুলো চিহ্নিত করেছেন, যেখানে সকল রাসূলের মূল দায়িত্ব ছিল দ্বীনের বাণী স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা এবং গ্রন্থনা করা। এছাড়াও রাসূলগণ তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রচার বার্তা কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার পালন করেছেন, তা বর্ণিত হয়েছে। এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কুরআনিক প্রচার মাধ্যম একটি ব্যাপক তথ্য ব্যবস্থা যা সকল ক্ষেত্রকে পরিচালিত ও প্রভাবিত করে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুরআনিক প্রচার মাধ্যমের এমন কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে অন্য সকল প্রচার মাধ্যম থেকে আলাদা করে। এর মধ্যে রয়েছে— এটি একক উৎস থেকে আগত হওয়ার সমর্থন পুষ্ট, এর বিশ্বস্ততা, যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করার ক্ষমতা, পূর্ণ নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্যতা, ঘটনাবলীর সাথে ইতিবাচক মিথস্ক্রিয়া এবং পূর্ণ ন্যায়বিচার ও ইনসাফ; যাকে বর্তমান পরিভাষায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠতা বলা হয়।

গবেষণায় কুরআনের প্রচার পদ্ধতিসমূহও দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: বক্তব্যের বৈচিত্র্য, কাহিনী, প্রবাদ-প্রবচন, পুনরাবৃত্তি, বিতর্ক, বিরোধীদের সাথে সংলাপ এবং উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন।

এরপর গবেষক কুরআনে বর্ণিত প্রচারের চিত্রসমূহ পর্যালোচনা করেছেন এবং ছয়টি ধরন বের করেছেন: সাধারণ তথ্যচিত্র, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। প্রতিটি প্রকারের সংজ্ঞার পাশাপাশি এর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে, প্রতিটি প্রকারের উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং পবিত্র কুরআনের উপস্থাপিত বিভিন্ন চিত্র ও তথ্য প্রদানের পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করা হয়েছে।

এই গবেষণাটি এই আশায় লেখা হয়েছে যে এর শব্দগুলো কুরআনিক জ্ঞানের প্রাসাদের একটি ইটে পরিণত হবে। আশা করা যায় যে এটি একটি স্বচ্ছ দলিল এবং অবিচ্ছিন্ন কালি হিসেবে ইসলামী প্রচার মাধ্যম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করবে; আর আল্লাহই পরম বিশ্বস্ত।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌شكر وتقدير

الحمد لله أولاً وآخراً، لا أحصي ثناءً عليه، أحمده كما ينبغي لجلال وجهه ولعظيم سلطانه.

ثم شكري وامتناني لجامعة المدينة العالمية المباركة، التي أتاحت لنا هذه الفرصة العلمية العظيمة الجادة لمواصلة الطريق في التحصيل العلمي، فلكل القائمين عليها أساتذة وإداريين التقدير والثناء على هذه الجهود المشهودة النافعة.

وأتقدم بالشكر الجزيل لفضيلة الدكتور / حاتم مزروعة - حفظه الله - المشرف على الرسالة، والذي خصني بتوجيهاته السديدة، وونصائحه الرشيدة، حتى انتهيت من هذا البحث على هذا النحو من الترتيب، وأرجو الله تعالى أن يديم عليه التوفيق وأن يبارك له، وينفع به طلاب العلم.

ولإخواني الأفاضل - وهم كثيرون - الذين دعموني وشجعوني لمواصلة البحث، والدراسة، فلهم جزيل الشكر، وعظيم الامتنان، ويدهم البيضاء لا أجزيها ولكن يجزيها رب العالمين سبحانه فضلاً منه وتكرماً.
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে; আমি তাঁর প্রশংসার ইয়ত্তা করতে পারি না। আমি তাঁর প্রশংসা করছি যেমনটি তাঁর চেহারার মহিমা ও তাঁর কর্তৃত্বের বিশালতার জন্য উপযুক্ত।

অতঃপর আমার শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা বরকতময় আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতি, যা আমাদের জ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই মহান ও ঐকান্তিক জ্ঞানতাত্ত্বিক সুযোগ প্রদান করেছে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও প্রশংসা তাঁদের এই সুপরিচিত ও উপকারী প্রচেষ্টার জন্য।

আমি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি শ্রদ্ধেয় ডক্টর হাতেম মাজরুআ -আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন- এর প্রতি, যিনি এই গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি আমাকে তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা ও বিজ্ঞ পরামর্শের মাধ্যমে ধন্য করেছেন, যার ফলে আমি এই গবেষণাটিকে বর্তমান বিন্যাসে সমাপ্ত করতে পেরেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে সর্বদা তাওফিক দান করেন, তাঁর ওপর বরকত নাযিল করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারীদের উপকৃত করেন।

আর আমার সেই সকল সম্মানিত ভাইদের প্রতি -যাঁদের সংখ্যা অনেক- যাঁরা আমাকে এই গবেষণা ও পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান করেছেন; তাঁদের প্রতি রইল আন্তরিক ধন্যবাদ ও অসীম কৃতজ্ঞতা। তাঁদের সুমহান অবদানের প্রতিদান দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই, বরং বিশ্বজগতের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বীয় অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যে এর প্রতিদান প্রদান করবেন।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة

الحمد لله الذي علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك، خلق الإنسان، علمه البيان، وجمله بالبنان والجنان، وزينه بمنطق اللسان، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أوتي جوامع الكلم والتبيان، أدى الأمانة، وبلغ الرسالة، صلى الله وسلم وبارك عليه وعلى آله وصحبه الذين قاموا بنشر دينه، وسلكوا سبيله في التبليغ والإعلام أما بعد

فأمتنا الإسلامية تواجه صراعاً معلناً وخفياً لم يسبق له مثيل، مخططات تستهدف أصولها ومبادئها، ومكر بالليل والنهار لتذويبها وسلخها من دينها، عمل دؤوب لقلب الحقائق، وتمييع المفاهيم، وإغراق المجتمعات المسلمة بشتى صنوف الشهوات والشبهات، حتى غدا أمر الأمة ملتبساً، وحالها في التيه والغواية مرتكساً، ونشأ جيل بل أجيال لا تعرف سوى اسم الإسلام ورسم القرآن، ولا علاقة لهم بشعائره وشرائعه.

وقد مرت قرون اعتمدت فيها قوى الظلام الكافرة والأمم المستكبرة على قوتها العسكرية في إخضاع الشعوب وتليين قناتها، وربط مقدراتها بمصالحها رباط العبد الذليل على باب سيده، غير أن كل هذه القوة والجبروت كانت غالباً ما تعود خائبة مهما مر من سنين وأيام؛ هذا غير ما كانت تحدثه من يقظة هائلة في وجدان المسلمين تزيدهم قوة في المواجهة وقدرة على تحقيق الانتصار والتحرر.

ومن هنا تغيرت مخططات أعداء الأمة فعمدوا إلى تمزيق وحدتها، ببث روح الفرقة، وإثارة النزاعات العرقية والمذهبية، سلاحهم الأكبر الذي يستخدم في هذا الصراع المحموم هو وسائل الإعلام المختلفة مرئية ومسموعة ومقروءةً وتكنولوجية.

وعبر هذه الوسائل ينهال على المسلمين كم رهيب من صور الفساد العقدي والانحراف الخلقي، الذي باتت تضج منه أمة الإسلام، وتصطلي بناره، خاصة وأن كثيراً من القائمين على هذه الوسائل من أبناء الأمة الذين تنكبوا الطريق وتنكروا لأمتهم ودينهم، ورضوا بأن يكونوا أداة طيعة، بل ورؤوس حربة لأعداء الأمة ومخططاتهم الخبيثة.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তাকে ভাব প্রকাশের ভাষা শিখিয়েছেন, তাকে অঙ্গুলি ও অন্তর দ্বারা সুশোভিত করেছেন এবং জিহ্বার বাকশক্তির দ্বারা তাকে অলংকৃত করেছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী এবং সুস্পষ্ট বর্ণনা শক্তি প্রদান করা হয়েছে। তিনি আমানত আদায় করেছেন এবং রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন, যারা তাঁর দ্বীন প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং দাওয়াত ও প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন। অতঃপর—

আমাদের ইসলামি উম্মাহ আজ এমন এক নজিরবিহীন প্রকাশ্য ও গোপন সংঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে, যার পরিকল্পনা করা হয়েছে এর মূলনীতি ও আদর্শসমূহকে লক্ষ্য করে। একে নিজের দ্বীন থেকে বিচ্যুত ও বিলীন করার জন্য দিনরাত ষড়যন্ত্র চলছে। সত্যকে উল্টে দেওয়ার, সঠিক ধারণাকে বিকৃত করার এবং মুসলিম সমাজকে বিভিন্ন প্রকার প্রবৃত্তি ও সংশয়ের মাঝে ডুবিয়ে দেওয়ার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চলছে। ফলে উম্মাহর অবস্থা আজ বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পথভ্রষ্টতা ও গোলকধাঁধায় তারা নিমজ্জিত হয়েছে। এমন একটি প্রজন্ম বরং একাধিক প্রজন্মের সৃষ্টি হয়েছে যারা ইসলামের নাম এবং কুরআনের অক্ষর ছাড়া আর কিছুই চিনে না, এবং ইসলামের নিদর্শন ও বিধানের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

কয়েক শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে যাতে কুফরি অন্ধকারের শক্তি এবং অহংকারী জাতিসমূহ জনগণকে বশীভূত করতে, তাদের শক্তি খর্ব করতে এবং তাদের ভাগ্যকে নিজেদের স্বার্থের সাথে বেঁধে ফেলতে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করেছে—ঠিক যেমন একজন লাঞ্ছিত দাস তার প্রভুর দরজায় আবদ্ধ থাকে। তবে এই সমস্ত শক্তি ও দাপট অধিকাংশ সময়ই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে, তা যত বছর বা দিনই অক্রন্ত হোক না কেন। তদুপরি, এটি মুসলমানদের চেতনায় এক বিশাল জাগরণ সৃষ্টি করত, যা তাদের প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী করত এবং বিজয় ও মুক্তি অর্জনে সক্ষম করে তুলত।

এ কারণেই উম্মাহর শত্রুরা তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে। তারা বিভেদের বীজ বপন করে এবং জাতিগত ও মাযহাবী দ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে উম্মাহর ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উন্মত্ত লড়াইয়ে তাদের ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম—দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য, লিখিত এবং প্রযুক্তিগত মাধ্যমসমূহ।

এই মাধ্যমগুলোর সাহায্যে মুসলমানদের ওপর আকিদাগত বিপর্যয় ও নৈতিক বিচ্যুতি এমন ভয়াবহ মাত্রায় বর্ষিত হচ্ছে যে, ইসলামি উম্মাহ আজ তাতে আর্তনাদ করছে এবং এর আগুনে দগ্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে, এই মাধ্যমগুলোর পরিচালক ও কর্মীদের অনেকেই এই উম্মাহরই সন্তান, যারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং নিজেদের উম্মাহ ও দ্বীনকে অস্বীকার করেছে। তারা শত্রুদের অনুগত হাতিয়ার, এমনকি উম্মাহর শত্রুদের ও তাদের ঘৃণ্য পরিকল্পনার অগ্রবর্তী বাহিনী হতে সন্তুষ্ট হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৩)
وقد مر دهر طويل وساحة الإعلام لا تجد صوتاً مسلماً يدافع أو ينافح عن دين الأمة وسبب عزتها وصمام أمانها، وخلت الساحة لكل ناعق ومارق، يفسدون ولا يصلحون، يصرفون الناس عن دين ربهم، أوهنوا الهمم، وأسقطوا القيم، يستهزئون ويسخرون بالخير والدعاة إليه، ويقدمون ويمجدون سبل المعاصي والآثام وسائلهم في ذلك المال الحرام واللحم الحرام، واشتد ظلام الفتن، ويأس الكثيرون من الصلاح، وفرط الكثيرون في الإصلاح.

وتصديقاً لقول الحق تعالى {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ (40)} (1).

ظهرت مؤسسات إعلامية تتخذ الإسلام مرجعاً لها، تعمل وفق ضوابطه، وتلتزم بأحكامه، ففرح المسلمون الصادقون بها، وتأملوا فيها الخير، وانتظروا منها بيان حقائق الإسلام وصفاء عقيدته ونقاء شعائره ومتانة شريعته وصلاحيتها لكل زمان ومكان.

ولقد تنادى المخلصون من أبناء الأمة بضرورة دعم هذا الكيان الإعلامي الإسلامي، إيماناً منهم بخطورة وسائل الإعلام، ومسيس الحاجة إليها، حفاظاً على الهوية، وصيانة للمجتمعات المسلمة من الأفكار المنحرفة والهجمات الحاقدة على دين الأمة عقيدة وشريعة.

ومن هنا تعددت المؤلفات والدراسات حول الإعلام الإسلامي فأفرزت جهوداً مشكورة، وأفكاراً بديعة، تتحدث عن الأصول، والمقومات، والمبادئ، والخصائص، والوسائل.

ويبقى المجال خصباً رحيباً، للطامحين لخدمة دينهم وأمتهم ليبدعوا في مجال الإعلام الإسلامي، ويفتحوا الآفاق واسعة أمامه من خلال ما يستخرجون كل يوم من فنون جديدة في الوسائل الإعلامية التي تتسق وأحكام الدين، وترتكن للكتاب والسنة، وهما المنهل العذب المورود، والمعين الصافي المقصود.

--------------------------------------------

(1) - سورة الحج. آية: 40
সুদীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়েছে অথচ গণমাধ্যম অঙ্গনে এমন কোনো মুসলিম কণ্ঠস্বর পাওয়া যায়নি যা এই উম্মাহর দ্বীন, তাদের মর্যাদার মূল উৎস এবং তাদের নিরাপত্তার রক্ষাকবচকে রক্ষা বা সমর্থন করবে। এই অঙ্গনটি এমন প্রত্যেক বিভ্রান্ত ও বিচ্যুত ব্যক্তির জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল, যারা কেবল ফাসাদ সৃষ্টি করত এবং কোনো সংশোধন করত না। তারা মানুষকে তাদের রবের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রাখত, মানুষের সংকল্পকে দুর্বল করে দিয়েছিল এবং মূল্যবোধের পতন ঘটিয়েছিল। তারা কল্যাণ এবং কল্যাণের দিকে আহ্বানকারীদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, আর গুনাহ ও পাপাচারের পথগুলোকে উপস্থাপন ও মহিমান্বিত করত; এর জন্য তাদের মাধ্যম ছিল হারাম সম্পদ ও হারাম মাংস। ফিতনার অন্ধকার ঘনীভূত হয়েছিল, অনেক মানুষ সংশোধনের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েছিল এবং অনেকে সংশোধনের কাজ ত্যাগ করেছিল।

আর মহান সত্যের এই বাণীর সত্যতা স্বরূপ: {আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হয়ে যেত সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, ইবাদতখানা এবং মসজিদসমূহ, যেখানে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন, যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী (৪০)} (১)।

অতঃপর এমন কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব ঘটে যা ইসলামকে তাদের আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে, এর মূলনীতির আলোকে কাজ করে এবং এর বিধানসমূহ মেনে চলে। সত্যনিষ্ঠ মুসলিমগণ এতে আনন্দিত হন এবং এর মধ্যে কল্যাণের আশা পোষণ করেন। তারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ইসলামের প্রকৃত সত্য, এর আকিদার স্বচ্ছতা, এর ইবাদত-বন্দেগির বিশুদ্ধতা এবং এর শরীয়তের সুদৃঢ় ভিত্তি ও সর্বকালে এবং সর্বস্থানে এর কার্যকারিতার ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন।

উম্মাহর একনিষ্ঠ সন্তানরা এই ইসলামী গণমাধ্যম কাঠামোকে সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ডাক দিয়েছিলেন। এটি ছিল গণমাধ্যমের গুরুত্ব এবং এর তীব্র প্রয়োজনীয়তার প্রতি তাঁদের বিশ্বাসের প্রতিফলন, যাতে মুসলিম স্বকীয়তা রক্ষা করা যায় এবং মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্তিকর চিন্তা ও এই উম্মাহর দ্বীন—আকিদা ও শরীয়ত—উভয়ের ওপর বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করা সম্ভব হয়।

এ প্রেক্ষিতে ইসলামী গণমাধ্যম বিষয়ক বহু গ্রন্থ ও গবেষণা রচিত হয়েছে, যা প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা এবং চমৎকার সব চিন্তাভাবনার জন্ম দিয়েছে; যেখানে এর মূল উৎস, উপাদান, মূলনীতি, বৈশিষ্ট্য এবং মাধ্যমসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

যারা নিজেদের দ্বীন ও উম্মাহর সেবা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য ইসলামী গণমাধ্যমের এই ক্ষেত্রটি উর্বর ও প্রশস্ত হয়েই আছে, যাতে তারা এই অঙ্গনে সৃজনশীলতা প্রদর্শন করতে পারে এবং প্রতিদিন গণমাধ্যমের এমন নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে এর দিগন্তকে প্রসারিত করতে পারে যা দ্বীনের বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর তারা যেন কিতাব ও সুন্নাহর ওপর নির্ভর করে, যা হলো সুপেয় ও শীতল ঝরনাধারা এবং বিশুদ্ধ ও অভীষ্ট উৎস।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-হজ্জ। আয়াত: ৪০
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌أهمية الموضوع

تبوأ الإعلام مكانة خطيرة في عصرنا الحاضر، وتنافست في مجالاته الدول، فسارعوا إلى تشييد صروحه، وتوفير كوادره المدربة، وتسخير قدراتهم المادية لدعم المؤسسات الإعلامية التي تخدم أهدافهم المعلنة منها والخفية، ذلك أنهم بوسائل الإعلام يغزون الأمم، يذوبون هوياتها، يسيطرون على العقول ويتلاعبون بالقيم، يوجهون ويؤيدون السياسات التي توافق مخططاتهم وتحقق مصالحهم، وتمادوا في هذا تماديا عظيماً، حتى غلب على الإعلام صبغة كئيبة، ومناهج منحرفة، وأساليب ملتوية، تروج للشرور والآثام، تنكر المعروف، وتحتفي بالمنكر، وتنشر الإباحية والفساد.

وعلى هذا الطريق المُسْتَغْرِبِ سارت وسائل الإعلام، ففرخت فراخاً من أبواق الضلالة وأعلام الغواية؛ التي حصدت شعوبنا الإسلامية من جرائها الضعف والهوان بسبب التعلق بالشهوات ونشر الشبهات، فكم من شعوب خلعت تعاليم الإسلام، وتحولت إلى مسخ بين الخلق فلا دنيا أقاموا ولا دينا أبقوا.

ومن بين هذه الظلمات المدلهمة، وبعد مخاض عسير، بزغ نجم إعلام جديد، إعلام رضي بالله سبحانه رباً، وبالإسلام ديناً، وبمحمد عليه الصلاة والسلام نبياً، وبشريعته دستوراً، يروم إصلاح الخلل، وسد النقص، وترشيد مسيرة الأمة، وإعادة الوعي لأفرادها، من خلال إظهار محاسن دين الإسلام، ورد المجتمعات إلى الصراط المستقيم، والخلق القويم، ويعتمد في هذا السبيل على كتاب رب العالمين، وهو الحجة والدليل، وسنة سيد المرسلين عليه أتم الصلاة والتسليم، ورغم كل الجهود العظيمة المبذولة؛ يبقى هذا المجال الجسيم ميداناً مفتوحاً، محتاجاً إلى تكاتف جهود الأمة، لدعمه وعونه، مع السعي لتأصيله وربطه الرباط القوي بالعروة الوثقى وحبل الله المتين، وفيه الهدى والنور والبيان لمنطلقاته وغاياته وصوره وأساليبه.

أسباب اختيار الموضوع

 

أ) التأثير الهائل للإعلام في عصرنا الحاضر

ب) الانحراف الكبير في بوصلة كثير من وسائل الإعلام.
বিষয়ের গুরুত্ব

বর্তমান যুগে গণমাধ্যম এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থান দখল করে নিয়েছে এবং রাষ্ট্রসমূহ এর বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। ফলে তারা এর সুউচ্চ ভিত্তি নির্মাণে, প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিতকরণে এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার জন্য তাদের বৈষয়িক সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে; যা তাদের প্রকাশ্য ও গোপন লক্ষ্যসমূহ চরিতার্থ করতে সহায়তা করে। কারণ তারা এই গণমাধ্যমের সাহায্যেই অন্য জাতিগুলোর ওপর আদর্শিক আক্রমণ চালায়, তাদের আত্মপরিচয় বিলীন করে দেয়, মানুষের মেধা ও চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং মূল্যবোধ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। তারা এমন সব নীতি ও আদর্শকে নির্দেশনা ও সমর্থন প্রদান করে যা তাদের পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের স্বার্থ হাসিল করে। তারা এই পথে চরম বাড়াবাড়ি করেছে, এমনকি গণমাধ্যমের ওপর এক অন্ধকারাচ্ছন্ন রূপ, বিচ্যুত কর্মপন্থা এবং কুটিল কৌশল প্রাধান্য পেয়েছে; যা মন্দ ও পাপাচারের প্রচার চালায়, সৎ কাজকে অস্বীকার করে, অসৎ কাজকে উদযাপন করে এবং অশ্লীলতা ও ফাসাদ ছড়িয়ে দেয়।

আর এই পাশ্চাত্যঘেঁষা পথেই গণমাধ্যমগুলো পরিচালিত হয়েছে, ফলে তা গোমরাহীর বাদ্যযন্ত্র এবং বিভ্রান্তির ধ্বজাধারীদের জন্ম দিয়েছে; যার ফলে আমাদের মুসলিম জাতিসমূহ প্রবৃত্তি ও লালসার প্রতি আসক্তি এবং সংশয় বিস্তারের কারণে দুর্বলতা ও লাঞ্ছনা কুড়িয়েছে। কত জাতি ইসলামের শিক্ষা বিসর্জন দিয়েছে এবং সৃষ্টির মাঝে এক বিকৃত সত্তায় পরিণত হয়েছে; তারা না দুনিয়া প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, না দ্বীনকে রক্ষা করতে পেরেছে।

এই ঘনীভূত অন্ধকারের মধ্য থেকে এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পর একটি নতুন গণমাধ্যমের উদয় হয়েছে; এমন এক গণমাধ্যম যা মহান আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে এবং তাঁর শরীয়তকে সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছে। এই গণমাধ্যম ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন, অভাব পূরণ, উম্মাহর পথচলাকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং এর সদস্যদের মাঝে সচেতনতা ফিরিয়ে আনতে চায়। আর এটি সম্পন্ন করতে চায় ইসলামের সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো এবং সমাজকে সিরাতুল মুস্তাকিম ও উন্নত চরিত্রের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। এই পথে তা রাব্বুল আলামীনের কিতাবের ওপর নির্ভর করে, যা হলো অকাট্য প্রমাণ ও দলিল, এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ওপর—যাঁর প্রতি বর্ষিত হোক পূর্ণাঙ্গ দরুদ ও সালাম। এই ক্ষেত্রে বিশাল প্রচেষ্টা ব্যয় হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি উন্মুক্ত ময়দান হিসেবে রয়ে গেছে, যাকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদানের জন্য উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজন। সেই সাথে একে মৌলিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা এবং আল্লাহর মজবুত রশি ও সুদৃঢ় হাতলের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা আবশ্যক; যার মধ্যে এর প্রারম্ভিক বিন্দু, লক্ষ্যসমূহ, স্বরূপ ও পদ্ধতির জন্য সঠিক পথনির্দেশ, আলো এবং সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।

বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ

 

ক) বর্তমান যুগে গণমাধ্যমের বিশাল প্রভাব

খ) বহু গণমাধ্যমের দিকনির্দেশনায় বিশাল বিচ্যুতি।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৫)
ت) ظهور العديد من وسائل الإعلام الإسلامي وانتشارها.

ث) التنافس الشديد بين وسائل الإعلام الإسلامي وغيره على كسب جمهور المتلقين.

ج) الحاجة الماسة لوضع الأطر الشرعية لعمل وسائل الإعلام الإسلامي وتأصيلها وربطها بإحكام بمقاصد الشريعة من الكتاب والسنة.

بيان عطاء القرآن الواسع، وقيامه في كل زمان ومكان بمتطلبات الإصلاح، والنهوض بالأمة، وأنه معين لا ينضب لكل ملتمس هدى ورشاد.

 

‌‌مشكلة البحث

ولما كانت وسائل الإعلام تحكمها توجهات مالكيها ومذاهبهم السياسية والاقتصادية والأخلاقية وغيرها؛ كان الواجب علينا تأصيل العمل بوسائل إعلامنا الإسلامي وتأسيسه على دستور الأمة المحفوظ من التبديل والنقصان {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42)} (1).

فتبادر إلى ذهن الباحث أسئلة منها:

- هل يمكن لنا ربط وسائل إعلامنا بكتاب ربنا سبحانه؟.

- وهل نستطيع تلمس أصول البلاغ والإخبار في آياته؟.وكيف نستلهم منه أسس التوجيه والبيان الإعلامي؟.

- وهل نتوصل من خلال دراستنا لآيات الكتاب العزيز لاستخراج صور الإعلام الإسلامي بمختلف أنواعه واتجاهاته، بحيث يمكن التأسيس والبناء عليها؟

ويأتي هذا البحث - إن شاء الله تعالى - إجابة على هذه الأسئلة.

 

‌‌أهداف البحث

كتاب ربنا كفيل لمن تدبره وتأمله بالظفر والنوال، وقد قال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} (2). ومن هنا يرجو الباحث أن يحقق الأهداف التالية:

--------------------------------------------

(1) - سورة فصلت. آية42

(2) - سورة الأنعام. آية: 38
ত) অনেকগুলো ইসলামী গণমাধ্যম মাধ্যমের আবির্ভাব এবং তাদের প্রসার।

থ) দর্শক-শ্রোতা বা গ্রহীতাদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে ইসলামী গণমাধ্যম এবং অন্যান্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা।

জ) ইসলামী গণমাধ্যমের কার্যক্রমের জন্য শরয়ী কাঠামো নির্ধারণ, এর মৌলিক ভিত্তি স্থাপন এবং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে শরীয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহের সাথে একে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করার একান্ত প্রয়োজন।

কুরআনের বিশাল অবদানের বর্ণনা এবং এটি যে প্রতিটি যুগ ও স্থানে সংস্কারের চাহিদা পূরণ ও উম্মাহর জাগরণে সক্ষম, এবং এটি যে হেদায়েত ও সঠিক পথ অন্বেষণকারীদের জন্য এক অফুরন্ত উৎস, তা তুলে ধরা।

 

‌‌গবেষণার সমস্যা

যেহেতু গণমাধ্যমসমূহ তাদের মালিকদের ঝোঁক এবং তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক ও অন্যান্য মতাদর্শের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়; সেহেতু আমাদের ওপর আবশ্যিক দায়িত্ব হলো আমাদের ইসলামী গণমাধ্যমের কাজকে মৌলিক রূপ দান করা এবং একে উম্মাহর সেই সংরক্ষিত সংবিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করা যা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন থেকে মুক্ত। {মিথ্যা এর সামনে বা পেছন—কোনো দিক থেকেই আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (৪২)} (১)।

ফলে গবেষকের মনে কিছু প্রশ্ন উদিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

- আমরা কি আমাদের গণমাধ্যমকে আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাবের সাথে সংযুক্ত করতে পারি?

- এবং আমরা কি এর আয়াতসমূহের মাঝে প্রচার ও সংবাদ পরিবেশনের মূলনীতিগুলো খুঁজে পেতে পারি? এবং কীভাবে আমরা তা থেকে দিকনির্দেশনা ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত বর্ণনার ভিত্তিগুলো গ্রহণ করতে পারি?

- এবং আমরা কি এই মহাগ্রন্থের আয়াতসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে ইসলামী গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রকার ও ধারার চিত্রগুলো বের করে আনতে পারি, যাতে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে এর কাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হয়?

ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই গবেষণাটি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হিসেবে পেশ করা হচ্ছে।

 

‌‌গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ

আমাদের প্রতিপালকের কিতাব সেই ব্যক্তির সফলতা ও প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় যে এটি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমরা এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি} (২)। এই প্রেক্ষাপটে গবেষক নিম্নলিখিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনের আশা রাখছেন:

--------------------------------------------

(১) - সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪২।

(২) - সূরা আল-আন'আম, আয়াত ৩৮।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৬)
1 - استخراج وبيان صور الإعلام الإسلامي في القرآن الكريم.

2 - دعم إخواننا الإعلاميين الطامحين لخدمة الإسلام والمسلمين.

3 - تأسيس منهج قرآني لمؤسساتنا الإعلامية تنبني عليه خطواتها وتحدد على أساسه خططها.

4 - تصويب ورعاية المسيرة الإعلامية الإسلامية التي نتمنى لها التقدم والترقي حتى يعم بها النفع وينتشر بها الخير.

5 - بيان وجه من وجوه عظمة كتاب ربنا - سبحانه - ووفائه بمتطلبات البشرية على مر الأزمنة وفي شتى الأمكنة.

6 - إضاءة جانب من جوانب البحث حول الإعلام الإسلامي لم يتم تناوله من قبل - من وجهة نظر الباحث -.

 

‌‌الدراسات السابقة

الدراسات في الإعلام الإسلامي كثيرة متنوعة، وكما سبق بيانه فإنها تتحدث عن الأصول، والمقومات، والمبادئ، والخصائص، والوسائل، والجوانب التشريعية الفقهية، والجوانب التربوية، ورغم ذلك - وعلى شدة تحري الباحث وتعقبه واطلاعه على عناوين ومضامين رسائل وفهارس جامعات كبيرة كجامعة القاهرة وجامعة الإمام محمد بن سعود ومكتبة الملك فهد الوطنية ومكتبة المصطفى الإليكترونية ومنتدى الكتب المصورة وغيرها - فلم يجد الباحث فيها ما يشبه موضوع دراسته في التفسير الموضوعي لمحاولة استخراج صور الإعلام الإسلامي من القرآن الكريم.

وقد وجدتُ دراسة قامت بها الأخت الباحثة /آلاء أحمد - في الجامعة الإسلامية في غزة الصامدة، بفلسطين المجاهدة، وهي رسالة ماجستير، في كلية أصول الدين، قسم التفسير وعلوم القرآن 2009 م. وكانت بعنوان ((الإعلام .. مقوماته .. ضوابطه .. أساليبه .. في ضوء القرآن الكريم .. دراسة موضوعية)).

تكلمت فيها الأخت الباحثة - بعد مقدمة عامة عن الإعلام ونشأته وتطوره - تكلمت عن مقومات العملية الإعلامية ومعوقاتها، والضوابط التي يجب مراعاتها بين الإرسال
১ - পবিত্র কুরআনে ইসলামি প্রচারমাধ্যমের স্বরূপ উদ্ঘাটন ও বর্ণনা করা।

২ - ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় আগ্রহী আমাদের প্রচারমাধ্যমকর্মী ভাইদের সহযোগিতা করা।

৩ - আমাদের প্রচার সংস্থাগুলোর জন্য একটি কুরআন-ভিত্তিক কর্মপদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা, যার ওপর ভিত্তি করে তাদের পদক্ষেপসমূহ পরিচালিত হবে এবং যার আলোকে তাদের পরিকল্পনাগুলো নির্ধারিত হবে।

৪ - ইসলামি প্রচারমাধ্যমের পথচলাকে সংশোধন ও পরিচালনা করা, যার অগ্রগতি ও উন্নতি আমরা কামনা করি, যাতে এর মাধ্যমে উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং কল্যাণ ছড়িয়ে পড়ে।

৫ - আমাদের রব্ব—সুবহানাহু—এর কিতাবের মাহাত্ম্যের একটি দিক এবং সর্বকালে ও সর্বস্থানে মানবতার প্রয়োজনসমূহ পূরণে এর সক্ষমতা বর্ণনা করা।

৬ - ইসলামি প্রচারমাধ্যম সংক্রান্ত গবেষণার এমন একটি দিকের ওপর আলোকপাত করা যা আগে আলোচিত হয়নি—গবেষকের দৃষ্টিতে—।

 

‌‌পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ

ইসলামি প্রচারমাধ্যম সংক্রান্ত গবেষণা অনেক ও বৈচিত্র্যময়। ইতিপূর্বে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, এগুলো মূলত মূলনীতি, উপাদান, আদর্শ, বৈশিষ্ট্য, মাধ্যম, শরয়ি-ফقهি (আইনগত) দিক এবং শিক্ষামূলক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে। তা সত্ত্বেও—গবেষকের নিবিড় অনুসন্ধান, অনুসরণ এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি, আল-মুস্তফা ইলেকট্রনিক লাইব্রেরি, মুসাওয়ারাত বুক ফোরাম এবং অন্যান্য বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিসের শিরোনাম ও বিষয়বস্তু এবং সূচিপত্র পর্যালোচনার পর—গবেষক এমন কোনো কাজ পাননি যা পবিত্র কুরআন থেকে ইসলামি প্রচারমাধ্যমের রূপসমূহ উদ্ঘাটনের প্রচেষ্টায় এই 'বিষয়ভিত্তিক তাফসির' (আত-তাফসিরুল মাওদুয়ি) সংক্রান্ত গবেষণার বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তবে আমি বোন গবেষিকা আ'লা আহমদ কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণা পেয়েছি—অবিচল গাজা, সংগ্রামী ফিলিস্তিনের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি ২০০৯ সালে উসুলুদ দীন অনুষদের তাফসির ও কুরআন বিজ্ঞান বিভাগের একটি মাস্টার্স থিসিস ছিল। এর শিরোনাম ছিল: ((প্রচারমাধ্যম: এর উপাদানসমূহ, নীতিমালা ও পদ্ধতিসমূহ—পবিত্র কুরআনের আলোকে: একটি বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়ন))।

গবেষিকা বোন তাতে—প্রচারমাধ্যম এবং এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে সাধারণ আলোচনার পর—প্রচার প্রক্রিয়ার উপাদানসমূহ ও এর প্রতিবন্ধকতা এবং প্রেরণের ক্ষেত্রে যে সকল নীতিমালা অনুসরণ করা আবশ্যক, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৭)
والتلقي، ثم تكلمت عن الإعلام في زمني السلم والحرب وضوابط كل حالة منهما، كما تكلمت عن أساليب الإعلام القرآني وإعلام الأعداء، وبينت آثار الإعلام القرآني على الأمة في شتى النواحي كترسيخ العقيدة ونشر الأخلاق، وضبط المعاملات. ثم ختمت بحثها بجملة من التوصيات النافعة منها:

1 - أن الإعلام بحاجة للضوابط التي تحكم وترشد العملية الإعلامية

2 - أن محاكاة أساليب القرآن المختلفة والمتنوعة لها أعمق الأثر في الجمهور المتلقي للرسالة الإعلامية.

3 - أن الواجب يفرض على وسائل الإعلام الإسلامي مواجهة أساليب الأعداء في التضليل والتشويه، ومنعه من تحقيق أهدافه.

كما وجدت ثلاث رسائل ماجستير بجامعة الإمام محمد بن سعود بكلية الإعلام وهي وإن كانت دراسات في التفسير الموضوعي إلا أنها موضوعات جزئية ومختلفة عن موضوع دراسة الباحث كالتالي:

1 - أسلوب الإعلام الإسلامي في مواجهة الشائعات في ضوء سورة التوبة للباحث عبد الله محمد المجلي إشراف د سيد محمد ساداتي الشنقيطي.

2 - الأسلوب الإعلامي في القرآن الكريم للباحث محمد محمود سيد أبات إشراف د أحمد حسن فرحات.

3 - عوامل تأثير الرسالة الإعلامية في ضوء سورة (ق (للباحث محمد عبد الله الخرعان إشراف د سيد محمد ساداتي الشنقيطي.

 

‌‌منهج الدراسة

هذه دراسة في التفسير الموضوعي، تقوم على المنهج الاستقرائي الوصفي، وسوف يلتزم الباحث فيها بالخطوات الآتية:

1 - جمع الآيات القرآنية التي تتحدث عن الموضوع أو تشير لجانب من جوانبه.

2 - ترتيب الآيات حسب زمن نزولها لما هو معروف من الفروق بين آيات العهد المكي والآيات التي نزلت بالمدينة وما يترتب على ذلك من المعاني والأحكام.
এবং গ্রহণ প্রক্রিয়া; অতঃপর আমি শান্তি ও যুদ্ধের সময়ে প্রচারমাধ্যম এবং উভয় পরিস্থিতির নিয়মাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আমি কুরআনী প্রচার পদ্ধতি এবং শত্রুদের প্রচার পদ্ধতি সম্পর্কেও আলোচনা করেছি এবং উম্মাহর ওপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কুরআনী প্রচারের প্রভাব বর্ণনা করেছি, যেমন—আকিদা সুদৃঢ়করণ, নৈতিকতা প্রচার এবং লেনদেন নিয়ন্ত্রণ। এরপর তিনি (গবেষক) তাঁর গবেষণাকে কিছু উপকারী সুপারিশের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - প্রচারমাধ্যমের জন্য এমন নিয়মাবলি প্রয়োজন যা প্রচার প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করবে।

২ - কুরআনের বিভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় পদ্ধতির অনুকরণ প্রচার বার্তার লক্ষ্যবস্তু দর্শকদের ওপর গভীরতম প্রভাব ফেলে।

৩ - ইসলামি প্রচারমাধ্যমগুলোর ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও বিকৃতির ক্ষেত্রে শত্রুদের পদ্ধতির মোকাবিলা করা এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা প্রদান করা।

অনুরূপভাবে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারমাধ্যম অনুষদে তিনটি মাস্টার্স থিসিস পাওয়া গেছে। যদিও সেগুলো বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত গবেষণা, তবুও সেগুলো গবেষকের আলোচ্য বিষয় থেকে আংশিক ও ভিন্নতর, যা নিম্নরূপ:

১ - সূরা আত-তাওবার আলোকে গুজব মোকাবিলায় ইসলামি প্রচার পদ্ধতি; গবেষক: আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-মাজালি, তত্ত্বাবধায়ক: ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ সাদাতী আশ-শানকিতী।

২ - আল-কুরআনুল কারীমে প্রচার পদ্ধতি; গবেষক: মুহাম্মদ মাহমুদ সাইয়্যেদ আবাত, তত্ত্বাবধায়ক: ড. আহমদ হাসান ফারহাত।

৩ - সূরা ক্বাফ-এর আলোকে প্রচার বার্তার প্রভাব বিস্তারের নিয়ামকসমূহ; গবেষক: মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-খারআন, তত্ত্বাবধায়ক: ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ সাদাতী আশ-শানকিতী।

 

‌‌গবেষণার পদ্ধতি

এটি বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের একটি গবেষণা, যা আরোহী ও বর্ণনামূলক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে প্রণীত। গবেষক এতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করবেন:

১ - আলোচ্য বিষয় সম্পর্কিত অথবা এর কোনো দিক নির্দেশ করে এমন কুরআনী আয়াতসমূহ সংগ্রহ করা।

২ - আয়াতসমূহ নাযিলের সময়ানুসারে বিন্যস্ত করা; কেননা মক্কী যুগের আয়াত ও মদীনায় নাযিল হওয়া আয়াতসমূহের মধ্যে যে পার্থক্য এবং এর ফলে অর্থ ও হুকুমের যে পরিবর্তন ঘটে তা সর্বজনবিদিত।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৮)
3 - التفسير الإجمالي للآيات مع الشرح والتوجيه، وذلك بالاستعانة بأمهات كتب التفسير قديماً وحديثاً.

4 - استنباط العناصر الأساسية للموضوع، ووضع العناوين الكاشفة.

5 - الاستدلال بالسنة الصحيحة والآثار الثابتة عن الصحابة والتابعين.

6 - نقل آراء العلماء المختصين وتوثيق النقول عنهم من مصادرهم الأصلية.

7 - الالتزام بتوثيق مادة البحث وشواهده.

8 - إبراز حقائق القرآن الكريم في أسلوب مشرق متسلسل – إن شاء الله تعالى -، وبيان واضح بلا تكلف أو غموض.

9 - تدوين خلاصة ونتائج ما توصلت إليه الدراسة في الخاتمة.

10 - وضع الفهارس العلمية المتنوعة.
3 - প্রাচীন ও আধুনিক নির্ভরযোগ্য প্রধান তাফসির গ্রন্থসমূহের সহায়তায় ব্যাখ্যা ও নির্দেশনাসহ আয়াতসমূহের সামগ্রিক তাফসির।

4 - বিষয়ের মৌলিক উপাদানসমূহ আহরণ করা এবং বিষয়বস্তু উন্মোচনকারী শিরোনাম প্রদান করা।

5 - সহিহ সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে প্রমাণিত আসার (বর্ণনা) দ্বারা দলিল পেশ করা।

6 - বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতামত উদ্ধৃত করা এবং তাঁদের মূল উৎসসমূহ থেকে উদ্ধৃতিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

7 - গবেষণার বিষয়বস্তু ও তার প্রমাণসমূহের তথ্যসূত্র সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা।

8 - কুরআনুল কারিমের প্রকৃত সত্যসমূহকে একটি উজ্জ্বল ও ধারাবাহিক শৈলীতে ফুটিয়ে তোলা - ইনশাআল্লাহ তায়ালা - এবং কোনো কৃত্রিমতা বা অস্পষ্টতা ছাড়াই স্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করা।

9 - উপসংহারে গবেষণালব্ধ সারাংশ এবং ফলাফলসমূহ লিপিবদ্ধ করা।

10 - বিভিন্ন ধরনের ইলমি নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র যুক্ত করা।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌هيكل البحث

وقد اقتضت طبيعة البحث تقسيمه إلى مقدمة، وتمهيد، وبابين، وخاتمة، على النحو التالي:

مقدمة

وتشتمل على:

1 - أهمية الموضوع.

2 - سبب اختيار الموضوع.

3 - مشكلة البحث.

4 - أهداف البحث.

5 - الدراسات السابقة.

6 - منهج الدراسة.

 

تمهيد

ويشتمل على:

1 - تعريف التفسير الموضوعي، وأنواعه وأهميته.

 

الباب الأول

الإعلام، تعريفه ونشأته وتطوره.

وفيه فصول:

الفصل الأول: تعريفات ومقاصد

المبحث الأول: تعريف الإعلام

المبحث الثاني: نشأة الإعلام وتطوره

المبحث الثالث: وسائل الإعلام

المبحث الرابع: التوجهات الحاكمة للإعلام المعاصر

 

الفصل الثاني: الإعلام الإسلامي
গবেষণার কাঠামো

গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী একে একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিকা, দুটি খণ্ড এবং একটি উপসংহারে নিম্নোক্তভাবে বিভক্ত করা হয়েছে:

ভূমিকা

যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - বিষয়ের গুরুত্ব।

২ - বিষয়টি নির্বাচনের কারণ।

৩ - গবেষণা সমস্যা।

৪ - গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ।

৫ - পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ।

৬ - গবেষণা পদ্ধতি।

 

প্রারম্ভিকা

যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ ও গুরুত্ব।

 

প্রথম খণ্ড

গণমাধ্যম: এর সংজ্ঞা, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ।

এতে কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: সংজ্ঞা ও উদ্দেশ্যসমূহ

প্রথম পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যমের সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যমের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গণমাধ্যমের উপকরণসমূহ

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সমকালীন গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক প্রবণতাসমূহ

 

দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামি গণমাধ্যম
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الأول: تعريفه

المبحث الثاني: دواعي ظهوره

المبحث الثالث: المنطلقات

المبحث الرابع: الأهداف

المبحث الخامس: الوسائل

 

الفصل الثالث: الإعلام في القرآن

المبحث الأول: القرآن أعظم الوسائل الإعلامية

المبحث الثاني: الدور الإعلامي للرسل الكرام

المبحث الثالث: خصائص الإعلام القرآني

المبحث الرابع: وسائل الإعلام في القرآن

المبحث الخامس: ألفاظ القرآن ذات الدلالات الإعلامية

 

الباب الثاني

صور الإعلام الإسلامي في القرآن الكريم

وفيه فصول:

 

الفصل الأول: الإعلام العقدي في القرآن

المبحث الأول: تعريف الإعلام العقدي

المبحث الثاني: أهداف الإعلام العقدي في القرآن

المبحث الثالث: صور الإعلام العقدي في القرآن وتطبيقاته

 

الفصل الثاني: الإعلام السياسي في القرآن

المبحث الأول: تعريف الإعلام السياسي في القرآن

المبحث الثاني: أهداف الإعلام السياسي في القرآن

المبحث الثالث: صور الإعلام السياسي في القرآن وتطبيقاته
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর আত্মপ্রকাশের কারণসমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রস্থানবিন্দুসমূহ

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: লক্ষ্যসমূহ

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মাধ্যমসমূহ

 

তৃতীয় অধ্যায়: কুরআনে প্রচারমাধ্যম

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচারমাধ্যম

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্মানিত রাসূলগণের প্রচারমূলক ভূমিকা

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনিক প্রচারমাধ্যমের বৈশিষ্ট্যসমূহ

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআনে প্রচারমাধ্যমের উপকরণসমূহ

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: প্রচারমূলক তাৎপর্যপূর্ণ কুরআনের শব্দাবলি

 

দ্বিতীয় খণ্ড

পবিত্র কুরআনে ইসলামি প্রচারমাধ্যমের স্বরূপসমূহ

এতে কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে:

 

প্রথম অধ্যায়: কুরআনে আকিদাগত প্রচারমাধ্যম

প্রথম পরিচ্ছেদ: আকিদাগত প্রচারমাধ্যমের সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে আকিদাগত প্রচারমাধ্যমের লক্ষ্যসমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে আকিদাগত প্রচারমাধ্যমের স্বরূপ ও এর প্রয়োগ

 

দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআনে রাজনৈতিক প্রচারমাধ্যম

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনে রাজনৈতিক প্রচারমাধ্যমের সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে রাজনৈতিক প্রচারমাধ্যমের লক্ষ্যসমূহ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে রাজনৈতিক প্রচারমাধ্যমের স্বরূপ ও এর প্রয়োগ
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الثالث: الإعلام العسكري في القرآن

المبحث الأول: تعريف الإعلام العسكري في القرآن

المبحث الثاني: أهداف الإعلام العسكري في القرآن

المبحث الثالث: صور الإعلام العسكري في القرآن وتطبيقاته

 

الفصل الرابع: الإعلام الاجتماعي في القرآن

المبحث الأول: تعريف الإعلام الاجتماعي في القرآن

المبحث الثاني: أهداف الإعلام الاجتماعي في القرآن

المبحث الثالث: صور الإعلام الاجتماعي في القرآن وتطبيقاته

 

الفصل الخامس: الإعلام الاقتصادي في القرآن

المبحث الأول: تعريف الإعلام الاقتصادي في القرآن

المبحث الثاني: أهداف الإعلام الاقتصادي في القرآن

المبحث الثالث: صور الإعلام الاقتصادي في القرآن وتطبيقاته

 

الفصل السادس: الإعلام الثقافي في القرآن

المبحث الأول: تعريف الإعلام الثقافي في القرآن

المبحث الثاني: أهداف الإعلام الثقافي في القرآن

المبحث الثالث: صور الإعلام الثقافي في القرآن وتطبيقاته

 

الخاتمة:

وتشتمل على أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال البحث

التوصيات

الفهارس العلمية

 

والله من وراء القصد، لا رب سواه ......... كتبه عاطف إبراهيم المتولي رفاعي
তৃতীয় অধ্যায়: কুরআনে সামরিক প্রচার মাধ্যম

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনে সামরিক প্রচার মাধ্যমের সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে সামরিক প্রচার মাধ্যমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে সামরিক প্রচার মাধ্যমের বিভিন্ন রূপ ও এর প্রয়োগ

 

চতুর্থ অধ্যায়: কুরআনে সামাজিক প্রচার মাধ্যম

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনে সামাজিক প্রচার মাধ্যমের সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে সামাজিক প্রচার মাধ্যমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে সামাজিক প্রচার মাধ্যমের বিভিন্ন রূপ ও এর প্রয়োগ

 

পঞ্চম অধ্যায়: কুরআনে অর্থনৈতিক প্রচার মাধ্যম

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনে অর্থনৈতিক প্রচার মাধ্যমের সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে অর্থনৈতিক প্রচার মাধ্যমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে অর্থনৈতিক প্রচার মাধ্যমের বিভিন্ন রূপ ও এর প্রয়োগ

 

ষষ্ঠ অধ্যায়: কুরআনে সাংস্কৃতিক প্রচার মাধ্যম

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনে সাংস্কৃতিক প্রচার মাধ্যমের সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে সাংস্কৃতিক প্রচার মাধ্যমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনে সাংস্কৃতিক প্রচার মাধ্যমের বিভিন্ন রূপ ও এর প্রয়োগ

 

উপসংহার:

এতে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

সুপারিশমালা

জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্টসমূহ

 

আল্লাহই মূল লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত, তিনি ব্যতীত কোনো রব নেই ......... লিখেছেন আতিফ ইবরাহিম আল-মুতাওয়াল্লি রিফাই
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌تمهيد
ভূমিকা
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تعريف التفسير الموضوعي، وأنواعه وأهميته:

قبل الكلام عن التفسير الموضوعي، وأنواعه، وأهميته، لابد لنا أولاً من التعريف بهذا النوع من التفسير.

وكما هو واضح فهذا المصطلح التفسيري مركب من جزأين، نُعَرِّفُهُما أولاً، كلاً على حدة، ومن ثم نعرف بهما مجتمعين كمصطلح على نوع بعينه من أنواع التفسير.

التفسير لغة: من الفَسْرِ وهو الإبانة، وكشف المُغَطَّى (1). ويقولون فَسَر الشيء فَسْراَ: وضحه، ومثله فسَّر الشيءَ: وضحه، وفسَّر آيات القرآن: شرحها ووضَّح ما تنطوي عليه من معانٍ وأسرار (2).

التفسير اصطلاحاً: تعددت في معناه أقوال العلماء (3) وأقربها وأجمعها اختيار العلامة الزرقاني رحمه الله أنه:"علم يبحث فيه عن القرآن الكريم من حيث دلالته على مراد الله تعالى بقدر الطاقة البشرية" (4).

والموضوع لغةً: من الوضع؛ وهو جعل الشيء في مكان ما، سواء أكان ذلك بمعنى الحط والخفض، أو بمعنى الإلقاء والتثبيت في المكان، تقول العرب: ناقة واضعة: إذا رعت الحمض حول الماء ولم تبرح (5)، وهذا المعنى ملحوظ في التفسير الموضوعي، لأن المفسر يرتبط بمعنى معين لا يتجاوزه إلى غيره حتى يفرغ من تفسير الموضوع الذي أراده (6).

--------------------------------------------

(1) - القاموس المحيط: باب الراء فصل الفاء مع السين / 587. الطبعة الثانية 1987م - مؤسسة الرسالة - بيروت - لبنان

(2) - المعجم الوسيط: باب الفاء مع السين والراء. 2/ 688. الطبعة الثانية 1989م - مؤسسة دار الدعوة - إستنبول - تركيا

(3) - الإتقان: 6/ 2265. النوع السابع والسبعون في معرفة تفسيره وتأويله- طبعة مجمع الملك فهد - المملكة العربية السعودية.

(4) - مناهل العرفان: 2/ 6. المبحث الثاني عشر في التفسير والمفسرين- طبعة دار الكتاب العربي.

(5) - المعجم الوسيط: باب الواو مع الضاد والعين. 2/ 1039و1040.

(6) - مباحث في التفسير الموضوعي: 15. د مصطفى مسلم - الطبعة السادسة 2009م - دار القلم -دمشق - سوريا.
বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ ও গুরুত্ব:

বিষয়ভিত্তিক তাফসীর, এর প্রকারভেদ ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে সর্বপ্রথম আমাদের এই প্রকারের তাফসীর সম্পর্কে সংজ্ঞায়ন করা প্রয়োজন।

যেমনটি স্পষ্ট যে, তাফসীর শাস্ত্রের এই পরিভাষাটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। প্রথমে আমরা সেগুলোকে পৃথকভাবে সংজ্ঞায়িত করব, অতঃপর তাফসীরের একটি নির্দিষ্ট প্রকারের পরিভাষা হিসেবে সেগুলোকে একত্রে সংজ্ঞায়িত করব।

আভিধানিক অর্থে তাফসীর: এটি ‘ফাসর’ ধাতু থেকে আগত, যার অর্থ হচ্ছে স্পষ্ট করা এবং আবৃত বিষয়কে উন্মোচন করা (১)। তারা বলে থাকে: ‘ফাসারা আশ-শাইয়া ফাসরান’ অর্থাৎ সে বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছে। অনুরূপভাবে: ‘ফাসসারা আশ-শাইয়া’ অর্থাৎ সে বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছে। আর কুরআনের আয়াতের তাফসীর করার অর্থ হলো: এর ব্যাখ্যা করা এবং এর ভেতরে নিহিত অর্থ ও রহস্যসমূহ স্পষ্ট করা (২)।

পারিভাষিক অর্থে তাফসীর: এর অর্থ নিয়ে আলেমগণের বিভিন্ন মত রয়েছে (৩)। আল্লামা যারকানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর পছন্দকৃত সবচেয়ে নিকটবর্তী ও সংকলিত সংজ্ঞাটি হলো: "এটি এমন একটি বিজ্ঞান যেখানে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আলোচনা করা হয় মানবীয় সাধ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য নির্দেশনার দিক থেকে" (৪)।

আভিধানিক অর্থে ‘মাওদু’ (বিষয়): এটি ‘ওয়াদ’ থেকে গৃহীত; যার অর্থ কোনো স্থানে কোনো কিছু রাখা, চাই তা নিচে রাখা বা নামানোর অর্থে হোক, অথবা কোনো স্থানে নিক্ষেপ ও স্থির করার অর্থে হোক। আরবরা বলে: ‘নাকাতুন ওয়াদিআহ’ যখন উট পানির আশেপাশে ঘাস খায় এবং সেখান থেকে প্রস্থান করে না (৫)। এই অর্থটি বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়, কারণ মুফাসসির একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন এবং যে বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করতে চান তা সম্পন্ন না করা পর্যন্ত অন্য বিষয়ের দিকে অগ্রসর হন না (৬)।

--------------------------------------------

(১) - আল-কামুস আল-মুহিত: বাব আর-রা, ফাসল আল-ফা মাআস সিন / ৫৮৭। দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৮৭ইং - মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত - লেবানন।

(২) - আল-মুজামুল ওয়াসীত: বাব আল-ফা মাআস সিন ওয়ার রা। ২/ ৬৮৮। দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৮৯ইং - মুয়াসসাসাতু দারুদ দাওয়াহ - ইস্তাম্বুল - তুরস্ক।

(৩) - আল-ইতকান: ৬/ ২২৬৫। সাতাত্তরতম অধ্যায়: এর তাফসীর ও তাওয়ীল জানার ক্ষেত্রে - মাজমা আল-মালিক ফাহদ সংস্করণ - সৌদি আরব।

(৪) - মানাহিলুল ইরফান: ২/ ৬। দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: তাফসীর ও মুফাসসিরদের বিষয়ে - দারুল কিতাব আল-আরাবী সংস্করণ।

(৫) - আল-মুজামুল ওয়াসীত: বাব আল-ওয়াও মাআদ দাদ ওয়াল আইন। ২/ ১০৩৯ ও ১০৪০।

(৬) - মাবাহিস ফিত তাফসীরিল মাওদুয়ি: ১৫। ড. মুস্তফা মুসলিম - ষষ্ঠ সংস্করণ ২০০৯ইং - দারুল কালাম - দামেস্ক - সিরিয়া।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১৪)
تعريف التفسير الموضوعي: تعددت تعاريف الباحثين المعاصرين له، ولعل أجمعها وأرجحها قولهم: "هو علم يتناول القضايا حسب المقاصد القرآنية من خلال سورة أو أكثر .. " (1)

 

‌‌أنواع التفسير الموضوعي:

ويمكن حصر أنواع هذا التفسير في ثلاثة أنواع:

الأول: التفسير الموضوعي للمصطلح القرآني: بحيث يختار الباحث لفظة أو مصطلحاً، تتكرر في القرآن كثيراً، فيتتبعها من خلال القرآن، ويأتي بمشتقاتها، ويستخرج منها الدلالات واللطائف.

الثاني: التفسير الموضوعي لموضوع قرآني: بحيث يختار الباحث موضوعاً من القرآن، له أبعاده الواقعية في الحياة، أو العلم، أو السلوك ..... ، مما يفيد المسلمين منه ويشكّل منه موضوعا معينا، يخرج بخلاصة تساعد على حل مشاكل المسلمين ومعالجة أمورهم _ ومن هذا النوع البحث الذي بين أيدينا _ وهذا النوع من التفسير الموضوعي هو المشهور في عرف أهل الاختصاص وإذا أطلق اسم (التفسير الموضوعي) فلا يكاد ينصرف الذهن إلا إليه.

الثالث: التفسير الموضوعي للسور القرآنية: حيث يبحث في هذا النوع عن الهدف الأساسي في السورة الواحدة، ويكون هذا الهدف هو محور التفسير الموضوعي في السورة (2).

--------------------------------------------

(1) - المرجع السابق: 16.

(2) - مباحث في التفسير الموضوعي: 23: 28 بتصرف.
বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের সংজ্ঞা: সমসাময়িক গবেষকগণ এর বহুবিধ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, সম্ভবত এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও অগ্রগণ্য হলো তাদের এই বক্তব্য: "এটি এমন এক জ্ঞান যা এক বা একাধিক সূরার মাধ্যমে কুরআনিক উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে..." (১)

 

‌‌বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের প্রকারভেদ:

এই প্রকারের তাফসীরকে তিনটি প্রকারে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব:

প্রথম: কুরআনিক পরিভাষার বিষয়ভিত্তিক তাফসীর: যেখানে গবেষক এমন একটি শব্দ বা পরিভাষা বেছে নেন যা কুরআনে বারবার ব্যবহৃত হয়েছে, অতঃপর তিনি পুরো কুরআন জুড়ে তা অনুসন্ধান করেন, এর শব্দমূল থেকে উৎপন্ন রূপগুলো নিয়ে আসেন এবং তা থেকে অর্থগত নির্দেশিকা ও সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ বের করে আনেন।

দ্বিতীয়: কুরআনিক বিষয়ের বিষয়ভিত্তিক তাফসীর: যেখানে গবেষক কুরআন থেকে এমন একটি বিষয় নির্বাচন করেন যার বাস্তব প্রয়োগ জীবন, জ্ঞান অথবা আচরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান... যা থেকে মুসলিমরা উপকৃত হতে পারে এবং এটি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের রূপ দান করে। এটি এমন এক নির্যাস বের করে আনে যা মুসলিমদের সমস্যা সমাধানে এবং তাদের বিষয়াবলি সংশোধনে সহায়তা করে - আমাদের হাতে থাকা এই গবেষণাটিও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত - আর বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের এই প্রকারটিই বিশেষজ্ঞদের নিকট সুপরিচিত এবং যখন 'বিষয়ভিত্তিক তাফসীর' নামটি উচ্চারণ করা হয়, তখন সাধারণত এটিই মানুষের মনে আসে।

তৃতীয়: কুরআনিক সূরাসমূহের বিষয়ভিত্তিক তাফসীর: এই প্রকারে একটি নির্দিষ্ট সূরার মূল লক্ষ্য নিয়ে গবেষণা করা হয় এবং এই লক্ষ্যটিই হয় ওই সূরার বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের কেন্দ্রবিন্দু (২)।

--------------------------------------------

(১) - পূর্বোক্ত উৎস: ১৬।

(২) - মাবাহিস ফি আত-তাফসীর আল-মাউদুঈ: ২৩: ২৮ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌أهمية التفسير الموضوعي: (1)

التفسير الموضوعي هو تفسير العصر والمستقبل معاً، وهذا التفسير يحقق للمسلمين فوائد عديدة من حيث صلتهم بالقرآن وتعرفهم على مبادئه وحقائقه، وتشكيل تصوراتهم وتكوين ثقافتهم، ومن حيث عملهم على إصلاح أخطائهم وتكوين مجتمعاتهم، والوقوف أمام أعداء الإسلام. وتبرز أهمية التفسير الموضوعي في:

1 - حل مشكلات المسلمين المعاصرة، وتقديم الحلول لها، على أسس حث عليها القرآن الكريم.

2 - تقديم القرآن الكريم، تقديماً علمياً منهجياً لإنسان هذا العصر، وإبراز عظمة هذا القرآن، وحسن عرض مبادئه وموضوعاته.

3 - بيان مدى حاجة الإنسان المعاصر إلى الدين عموماً، وإلى الإسلام خصوصاً، وإقناعه بأن القرآن هو الذي يحقق له حاجاته.

4 - الوقوف أمام أعداء الله وتفنيد آرائهم وأفكار الجاهلية.

5 - عرض أبعاد ومجالات آفاق جديدة لموضوعات القرآن، وهذه الأبعاد تزيد إقبال المسلمين على القرآن.

6 - إظهار حيوية وواقعية القرآن الكريم، حيث إنه مُصْلِح لكل زمان ومكان فلا ينظر الباحثون إلى موضوعات القرآن على أنها موضوعات قديمة، نزلت قبل خمسة عشر قرنا، وإنما يعرضونها في صورة علمية واقعية، تناقش قضايا ومشكلات حية.

--------------------------------------------

(1) - المدخل إلى التفسير الموضوعي: 40: 50 بتصرف. د عبد الستار فتح الله سعيد. الطبعة الثانية 1991. دار التوزيع والنشر الإسلامية / مباحث في التفسير الموضوعي: 30: 33 بتصرف. / التفسير الموضوعي بين النظرية والتطبيق: 56: 58 بتصرف. د صلاح عبد الفتاح الخالدي. الطبعة الثانية 2008. دار النفائس للنشر والتوزيع.
বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের গুরুত্ব: (১)

বিষয়ভিত্তিক তাফসির হলো বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ উভয় সময়েরই তাফসির। এই তাফসির কুরআনের সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক স্থাপন, এর মূলনীতি ও প্রকৃত সত্যগুলো অনুধাবন, তাদের চিন্তাধারা গঠন ও সংস্কৃতি নির্মাণের ক্ষেত্রে এবং তাদের ভুলত্রুটি সংশোধন, সমাজ গঠন ও ইসলামের শত্রুদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বহুবিধ উপকার সাধন করে। বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ফুটে ওঠে:

১ - মুসলমানদের সমসাময়িক সমস্যাবলির সমাধান করা এবং কুরআনুল কারিম যে সকল ভিত্তির ওপর উৎসাহিত করেছে, তার আলোকে সেসবের সমাধান পেশ করা।

২ - বর্তমান যুগের মানুষের কাছে কুরআনুল কারিমকে বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগতভাবে উপস্থাপন করা এবং এই কুরআনের মহত্ত্ব প্রকাশ করা ও এর মূলনীতি ও বিষয়াবলি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা।

৩ - সাধারণভাবে ধর্মের প্রতি এবং বিশেষভাবে ইসলামের প্রতি আধুনিক মানুষের প্রয়োজনীয়তার সীমা স্পষ্ট করা এবং তাকে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করা যে, কুরআনই তার প্রয়োজনসমূহ পূরণ করে।

৪ - আল্লাহর শত্রুদের মোকাবিলা করা এবং তাদের মতামত ও জাহেলি ধ্যান-ধারণা খণ্ডন করা।

৫ - কুরআনের বিষয়াবলির নতুন দিক ও দিগন্ত উন্মোচন করা, যা মুসলমানদের কুরআনের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

৬ - কুরআনুল কারিমের প্রাণবন্ততা ও বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা। যেহেতু এটি সকল কাল ও স্থানের জন্য সংস্কারক, তাই গবেষকগণ কুরআনের বিষয়গুলোকে এমন কোনো প্রাচীন বিষয় হিসেবে দেখবেন না যা পনেরো শতাব্দী আগে অবতীর্ণ হয়েছে; বরং তারা এগুলোকে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত রূপে উপস্থাপন করবেন, যা জীবন্ত ইস্যু ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে।

--------------------------------------------

(১) - আল-মাদখাল ইলাত তাফসিরিল মাওদুই: ৪০: ৫০ (পরিমার্জিত)। ড. আবদুস সাত্তার ফাতহুল্লাহ সাঈদ। দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৯১। দারুত তাওজি ওয়ান নাশর আল-ইসলামিয়্যাহ / মাবাহিস ফিত তাফসিরিল মাওদুই: ৩০: ৩৩ (পরিমার্জিত)। / আত-তাফসিরুল মাওদুই বাইনান নাযারিয়া ওয়াত তাতবিক: ৫৬: ৫৮ (পরিমার্জিত)। ড. সালাহ আবদাল ফাত্তাহ আল-খলিদি। দ্বিতীয় সংস্করণ ২০০৮। দারুন নাফাইস লিন নাশর ওয়াত তাওজি।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১৬)
7 - التفسير الموضوعي يتفق مع المقاصد الأساسية للقرآن الكريم، ويحقق هذه المقاصد في حياة المسلمين.

8 - التفسير الموضوعي أساس تأصيل الدراسات القرآنية، وعرضها أمام الباحثين عرضاً قرآنياً منهجياً، وتصويب هذه الدراسات، وتخليصها مما طرأ عليها من الأفكار غير القرآنية.

9 - عن طريق التفسير الموضوعي يستطيع الباحث أن يبرز جوانب جديدة من وجوه إعجاز القرآن الذي لا تنقضي عجائبه.

10 - تأهيل الدراسات القرآنية وتصحيح مسارها مثل (الإعجاز العلمي)، وذلك بضبطها بقواعد علمية مستمدة من هدايات القرآن الكريم، لتجنب التفريط والإفراط في نسبة المسائل والموضوعات للقرآن، ومثل ذلك (أصول التربية القرآنية)، و (أصول علم الاقتصاد الإسلامي)، و (أصول الإعلام الإسلامي)، فالحاجة ماسة لتأصيل هذه العلوم، ووضع الأسس والضوابط لها، ولا يتم ذلك إلا من خلال دراسة آيات القرآن الكريم وفق منهج التفسير الموضوعي (1).

11 - بالتفسير الموضوعي ينفذ الباحثون أمر الله سبحانه وتعالى بتدبر القرآن الكريم وإمعان النظر فيه وإحسان فقهه وفهم نصوصه.

--------------------------------------------

(1) - مباحث في التفسير الموضوعي: 32: 33 بتصرف. (مرجع سابق)
7 - বিষয়ভিত্তিক তাফসীর পবিত্র কুরআনের মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এটি মুসলিমদের জীবনে এই উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করে।

8 - বিষয়ভিত্তিক তাফসীর কুরআন সংক্রান্ত গবেষণার ভিত্তি স্থাপনের উৎস, গবেষকদের সামনে তা কুরআন ভিত্তিক পদ্ধতিগতভাবে উপস্থাপন করা, এসব গবেষণাকে সংশোধন করা এবং কুরআন বহির্ভূত যেসকল চিন্তাধারা এতে অনুপ্রবেশ করেছে তা থেকে একে মুক্ত করার মাধ্যম।

9 - বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের মাধ্যমে গবেষক কুরআনের অলৌকিকত্বের এমন সব নতুন নতুন দিক উন্মোচন করতে পারেন, যার বিস্ময়কর বিষয়সমূহ কখনো শেষ হওয়ার নয়।

10 - কুরআনী গবেষণাসমূহকে যোগ্য করে তোলা এবং সেগুলোর গতিপথ সংশোধন করা, যেমন (বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব); আর তা পবিত্র কুরআনের হিদায়াত থেকে গৃহীত বৈজ্ঞানিক নিয়মাবলির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে করা হয়, যাতে কুরআনের সাথে বিভিন্ন বিষয় ও প্রসঙ্গের সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও শিথিলতা পরিহার করা যায়। অনুরূপভাবে (কুরআনী শিক্ষা ও দীক্ষার মূলনীতি), (ইসলামী অর্থনীতি বিজ্ঞানের মূলনীতি) এবং (ইসলামী গণমাধ্যমের মূলনীতি)—এই বিজ্ঞানসমূহের মৌলিক ভিত্তি স্থাপন এবং এগুলোর জন্য নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণবিধি প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি, আর এটি বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের পদ্ধতি অনুযায়ী পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ অধ্যয়ন করা ছাড়া সম্ভব নয় (১)।

11 - বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের মাধ্যমে গবেষকগণ পবিত্র কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, তাতে গভীর দৃষ্টিপাত করা এবং এর সঠিক বুঝ ও ভাষ্যসমূহ উত্তমরূপে অনুধাবন করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নির্দেশ পালন করেন।

--------------------------------------------

(১) - মাবাহিস ফিত তাফসিরিল মাওদুঈ: ৩২-৩৩, পরিমার্জিত। (পূর্বোক্ত উৎস)
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهكذا برز التفسير الموضوعي في عصرنا الحاضركملجأ للأمة تجد فيه حلولاً لمشكلات واقعها، من خلال رؤية واضحة مستمدة من كتاب ربنا، تنطلق من آياته، لتحقق توجيهاته، ملتزمة بضوابطه، تقتبس وسائلها من أنواره، ويهتدي العاملون فيه بآدابه حتى يؤدوا مهمتهم على الوجه الأكمل المرضيِّ.

هذا البروز وهذه المكانة لهذا النوع من التفسير كان دافعاً – للباحث – لاستقراء آيات القرآن، وتتبع أساليبه، وهداياته، كي أستخرج منه صور الإعلام الإسلامي وتطبيقاته التي تبقى كنزاً لا ينفد، ومعيناً لا ينضب، لكل ملتمسٍ وباحث عن الحق والهدى.
এভাবেই বর্তমান যুগে বিষয়ভিত্তিক তাফসির উম্মাহর জন্য একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে, যেখানে উম্মাহ তার বাস্তব জীবনের সমস্যাবলির সমাধান খুঁজে পায়। এটি আমাদের রবের কিতাব থেকে প্রাপ্ত এক সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে কাজ করে, যা এর আয়াতসমূহ থেকে উৎসারিত হয়, এর নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকে, এর মূলনীতিসমূহের প্রতি অনুগত থাকে এবং এর জ্যোতি থেকে নিজ কর্মপন্থা গ্রহণ করে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এর শিষ্টাচারের মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা লাভ করেন, যাতে তারা তাদের অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও সন্তোষজনকভাবে সম্পাদন করতে পারেন।

তাফসিরের এই পদ্ধতির এই বিশেষ প্রকাশ এবং মর্যাদা গবেষককে কুরআনের আয়াতসমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং এর শৈলী ও হিদায়াতসমূহ অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে আমি তা থেকে ইসলামি প্রচার মাধ্যম ও এর প্রয়োগের স্বরূপসমূহ উন্মোচন করতে পারি; যা সত্য ও হিদায়াত অন্বেষণকারী প্রত্যেক গবেষক ও প্রার্থীর জন্য এক অক্ষয় ভাণ্ডার এবং অফুরন্ত উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الباب الأول

الإعلام

تعريفه، ونشأته، وتطوره
.
প্রথম অধ্যায়

গণমাধ্যম

এর সংজ্ঞা, উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول

تعريفات ومقاصد
প্রথম পরিচ্ছেদ

সংজ্ঞাসমূহ ও উদ্দেশ্যসমূহ
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الأول

تعريف الإعلام

أولاً: لغةً

- أصل الإعلام من مادة عِلْم، قال في اللسان: والعِلْمُ نقيضُ الجهل عَلِم عِلْماً وعَلُمَ هو نَفْسُه ورجل عالمٌ وعَلِيمٌ من قومٍ عُلماءَ.

- ....... وعَلاّمٌ وعَلاّمةٌ إذا بالغت في وصفه بالعِلْم أي عالم جِداً والهاء للمبالغة.

- ...... وعَلِمْتُ الشيءَ أَعْلَمُه عِلْماً عَرَفْتُه قال ابن بري: وتقول: عَلِمَ وفَقِهَ أَي تَعَلَّم وتَفَقَّه وعَلُم وفَقُه أي سادَ العلماءَ والفُقَهاءَ.

- ...... وعَلِمَ بالشيء شَعَرَ يقال: ما عَلِمْتُ بخبر قدومه أي ما شَعَرْت ويقال: اسْتَعْلِمْ لي خَبَر فلان وأَعْلِمْنِيه حتى أَعْلَمَه واسْتَعْلَمَني الخبرَ فأعْلَمْتُه إياه وعَلِمَ الأمرَ وتَعَلَّمَه أَتقنه.

- ....... ويجوز أن تقول: عَلِمْتُ الشيء بمعنى عَرَفْته وخَبَرْته وعَلِمَ الرَّجُلَ خَبَرَه وأَحبّ أن يَعْلَمَه أي يَخْبُرَه وفي التنزيل {وآخَرِين مِنْ دونهم لا تَعْلَمُونَهم الله يَعْلَمُهم} (1).

- وأعلم فلاناً الخبر: أخبره به ....... (العلم) إدراك الشيء على ما هو به ....... وقيل: العلم يقال لإدراك الكلي والمركب، والمعرفة تقال لإدراك الجزئي أو البسيط (2)

ومن هنا يقال: عرفت الله سبحانه دون علمته ويطلق العلم على مجموع مسائل وأصول كلية تجمعها جهة واحدة كعلم الكلام وعلم النحو (3).

--------------------------------------------

(1) - لسان العرب. باب العين مع اللام والميم: 4/ 3083. طبعة دار المعارف

(2) - قال العلامة الأخضري في شرح سلمه على المنطق ص 11، مباحث الألفاظ:" اعلم أن اللفظ قسمان: مهمل كأسماء حروف الهجاء، ومستعمل وهو قسمان: مركب وهو ما دل جزؤه على جزؤه معناه. ومفرد وهو عكس المركب أي ما لا يدل جزؤه على جزء معناه كزيد وقام وهل. ثم المفرد إما كلي أو جزئي: فالكلي هو الذي لا يمنع نفس تصور معناه من وقوع الشركة فيه. والجزئي ما يمنع نفس تصور معناه من وقوع الشركة فيه ويسمى الحقيقي كزيد فإن ذاته يستحيل جعلها لغيره" بتصرف.

(3) - المعجم الوسيط: باب العين مع اللام والميم. 2/ 624.
প্রথম পরিচ্ছেদ

তথ্যের সংজ্ঞা

প্রথমত: ভাষাগত দিক থেকে

- তথ্যের (ই’লাম) মূল উৎস হলো জ্ঞান (ইলম) ধাতু। লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: জ্ঞান হলো অজ্ঞতার বিপরীত। সে জেনেছে, সে বিদগ্ধ হয়েছে এবং সে একজন জ্ঞানী ও বিজ্ঞ ব্যক্তি, যারা জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত।

- ....... এবং অতিশয় জ্ঞানী ও মহাপণ্ডিত শব্দগুলো ব্যবহৃত হয় যখন কারো জ্ঞানের গুণ বর্ণনায় অতিশয়োক্তি করা হয়, অর্থাৎ তিনি অনেক বড় জ্ঞানী। এখানে ‘হা’ বর্ণটি অতিশয়োক্তি প্রকাশের জন্য যুক্ত হয়েছে।

- ...... এবং ‘আমি বিষয়টি জেনেছি’ এর অর্থ হলো ‘আমি তা চিনেছি’। ইবন বাররী বলেছেন: যখন বলা হয় সে জেনেছে ও অনুধাবন করেছে, তার অর্থ হলো সে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জন করেছে। আর যখন বিশেষ্য রূপে বলা হয় যে সে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় ভূষিত হয়েছে, তখন তার অর্থ হলো সে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবানদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।

- ...... এবং কোনো বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়া অর্থ হলো তা অনুভব করা। বলা হয়ে থাকে: আমি তার আগমনের খবর অনুভব করিনি, অর্থাৎ আমি তা টের পাইনি। আরও বলা হয়: অমুকের খবর আমার জন্য অনুসন্ধান করো এবং আমাকে তা জানাও যাতে আমি তা জানতে পারি। সে আমার কাছে সংবাদ জানতে চেয়েছে এবং আমি তাকে তা জানিয়েছি। কোনো বিষয় জানা এবং তা শিক্ষা করা অর্থ হলো তা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করা।

- ....... এবং ‘আমি বিষয়টি জেনেছি’ বলা বৈধ যখন তা চেনা এবং অভিজ্ঞতা লাভ করার অর্থে হয়। কোনো ব্যক্তির অবস্থা জানার অর্থ হলো তার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করা। ঐশী বাণীতে রয়েছে: {আর তারা ছাড়া অন্যদেরকেও তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন} (১)।

- আর কাউকে সংবাদ জানানো অর্থ তাকে সেই সংবাদ প্রদান করা। ....... (জ্ঞান) হলো কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থায় উপলব্ধি করা। ....... আরও বলা হয়েছে: ‘জ্ঞান’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় সামগ্রিক ও যৌগিক বিষয় উপলব্ধির ক্ষেত্রে, আর ‘পরিচয়’ (মা’রিফাত) ব্যবহৃত হয় আংশিক বা সরল বিষয় উপলব্ধির ক্ষেত্রে (২)।

এই কারণেই বলা হয়: আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে চিনেছি, কিন্তু আমি আল্লাহকে জেনেছি বলা হয় না। এছাড়া জ্ঞান শব্দটি সেই সকল মাসআলা ও মৌলিক নীতিমালার সমষ্টির ওপরও প্রয়োগ করা হয় যা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের অধীনে একত্রিত হয়, যেমন কালাম শাস্ত্র এবং ব্যাকরণ শাস্ত্র (৩)।

--------------------------------------------

(১) - লিসানুল আরব। আইন, লাম ও মিম পরিচ্ছেদ: ৪/৩০৮৩। দারুল মাআরিফ সংস্করণ।

(২) - আল্লামাহ আখধারী তার যুক্তিশাস্ত্রের গ্রন্থ শারহুস সুল্লাম-এর ১১ পৃষ্ঠায় শব্দ সংক্রান্ত আলোচনায় বলেছেন: “জেনে রেখো যে, শব্দ দুই প্রকার: এক. অর্থহীন, যেমন বর্ণমালার নামসমূহ। দুই. অর্থবোধক, যা আবার দুই প্রকার: ক. যৌগিক, যার অংশ তার অর্থের অংশের ওপর নির্দেশ করে। খ. একক, যা যৌগিক শব্দের বিপরীত, অর্থাৎ যার অংশ তার অর্থের অংশের ওপর নির্দেশ করে না, যেমন যায়দ, দাঁড়ালো এবং কি। অতঃপর একক শব্দ হয় সার্বিক অথবা বিশেষ। সার্বিক হলো সেটি যার অর্থ কল্পনা করলে তাতে একাধিক বিষয়ের অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয় না। আর বিশেষ হলো সেটি যার অর্থ কল্পনা করলে তাতে অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয় এবং একে প্রকৃত বিশেষ্য বলা হয়, যেমন যায়দ; কারণ তার সত্তা অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত হওয়া অসম্ভব।” সংক্ষেপিত।

(৩) - আল-মু’জামুল ওয়াসীত: আইন, লাম ও মিম পরিচ্ছেদ। ২/৬২৪।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ২১)
- فخلاصة المعنى اللغوي أن الإعلام دائر حول الإخبار والتعريف ونقل المعلومات إلى الآخرين عن طريق الكلمة أو غيرها.

ثانيا: الإعلام اصطلاحاً

للإعلام تعريفات عديدة، مختلفة باختلاف التصورات والأفكار، منها الدقيق القريب، ومنها غير الدقيق البعيد، ونستعرض بعضا من هذه التعريفات في النقاط التالية:

- فمنها ما قاله د إبراهيم إمام: "تزويد الناس بالأخبار الصحيحة، والمعلومات السليمة، والحقائق الثابتة التي تساعدهم على تكوين رأي صائب في واقعة من الوقائع أو مشكلة من المشكلات، بحيث يعبر هذا الرأي تعبيراً موضوعياً عن عقلية الجماهير واتجاهاتهم وميولهم" (1). فهو تعريف بقضايا العصر وبمشاكله، وكيفية معالجة هذه القضايا في ضوء النظريات والمبادئ التي اعتمدت لدى كل نظام أو دولة من خلال وسائل الإعلام المتاحة داخليا وخارجيا، وبالأساليب المشروعة أيضا لدى كل نظام وكل دولة.

- ومن أشهر التعريفات وأقربها تعريف العالم الألماني "أوتوجروت" للإعلام بأنه: هو التعبير الموضوعي لعقلية الجماهير ولروحها وميولها واتجاهاتها في الوقت نفسه (2) ".

ويقال عن هذا التعريف إنه بيان لما ينبغي أن يكون عليه الإعلام، ولكن واقع الإعلام قد يقوم على تزويد الناس بأكبر قدر من المعلومات الصحيحة، أو الحقائق الواضحة، (3) فيعتمد على التنوير والتثقيف ونشر الأخبار والمعلومات الصادقة التي تنساب إلى عقول الناس، وترفع من مستواهم، وتنشر تعاونهم من أجل المصلحة العامة، وحينئذ يخاطب العقول لا الغرائز أو هكذا يجب أن يكون.

- أو هو – كما ذهب إليه د سيد الشنقيطي -: كل قول أو فعل قصد به حمل حقائق أو مشاعر أو عواطف أو أفكار أو تجارب قولية أو سلوكية شخصية أو

--------------------------------------------

(1) - الإعلام الإسلامي د إبراهيم الإمام ط1 القاهرة، مكتبة الأنجلو المصرية 1980، ص 27./ الإعلام والدعاية، د. عبد اللطيف حمزة، ص75، ط،2، 1978م، دار الفكر العربي.

(2) - الإعلام والدعاية، د. عبد اللطيف حمزة، ص76. مرجع سابق.

(3) - السابق: ص75
শাব্দিক অর্থের সারসংক্ষেপ হলো যে, 'ইলাম' (তথ্য আদান-প্রদান) সংবাদ প্রদান, পরিচয় করানো এবং শব্দ বা অন্য কোনো মাধ্যমে অন্যের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।

দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে ইলাম

ইলামের অনেকগুলো সংজ্ঞা রয়েছে, যা চিন্তা ও ধারণার ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে কোনটি নির্ভুল ও বাস্তবসম্মত, আবার কোনটি কম নির্ভুল ও দূরবর্তী। আমরা নিচের পয়েন্টগুলোতে এই সংজ্ঞাগুলোর কিছু পর্যালোচনা করব:

- তার মধ্যে একটি হলো ড. ইবরাহীম ইমামের বক্তব্য: "মানুষকে সঠিক সংবাদ, নির্ভুল তথ্য এবং প্রতিষ্ঠিত সত্য প্রদান করা, যা তাদের কোনো ঘটনা বা সমস্যার বিষয়ে সঠিক মতামত গঠনে সহায়তা করে; যাতে করে এই মতামত জনমানসের চিন্তাধারা, প্রবণতা ও ঝোঁকের একটি বস্তুনিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ ঘটায়" (১)। সুতরাং এটি সমকালীন বিষয় ও সমস্যাবলি এবং প্রতিটি ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রের গৃহীত তত্ত্ব ও মূলনীতির আলোকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে লভ্য গণমাধ্যমগুলোর সাহায্যে এবং প্রতিটি ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের বৈধ পদ্ধতির মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো সমাধানের উপায় সংক্রান্ত একটি সংজ্ঞা।

- অন্যতম প্রসিদ্ধ এবং বাস্তবসম্মত সংজ্ঞা হলো জার্মান পণ্ডিত "অটো গ্রোথ"-এর সংজ্ঞা, তিনি ইলামকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "এটি একই সাথে জনমানসের চিন্তাধারা, আত্মা, ঝোঁক ও প্রবণতার একটি বস্তুনিষ্ঠ প্রকাশ (২)"।

এই সংজ্ঞা সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি ইলাম (গণমাধ্যম) কেমন হওয়া উচিত তার একটি বর্ণনা। তবে গণমাধ্যমের বাস্তবতা হলো এটি মানুষকে সর্বোচ্চ পরিমাণ সঠিক তথ্য বা স্পষ্ট সত্য প্রদানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতে পারে (৩)। ফলে এটি জ্ঞানদীপ্তি, শিক্ষা এবং সত্য সংবাদ ও তথ্য প্রচারের ওপর নির্ভর করে যা মানুষের মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয়, তাদের মান উন্নয়ন করে এবং জনস্বার্থে তাদের মাঝে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। তখন এটি কুপ্রবৃত্তি নয় বরং বুদ্ধিবৃত্তিকে সম্বোধন করে, অথবা অন্তত এমনই হওয়া উচিত।

- অথবা এটি হলো—যেমনটি ড. সাইয়্যিদ আল-শিনকিতী অভিমত ব্যক্ত করেছেন—: এমন প্রতিটি কথা বা কাজ যার মাধ্যমে সত্য, অনুভূতি, আবেগ, চিন্তা অথবা ব্যক্তিগত মৌখিক বা আচরণগত অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে অথবা...

--------------------------------------------

(১) - আল-ইলাম আল-ইসলামি, ড. ইবরাহীম আল-ইমাম, ১ম সংস্করণ, কায়রো, মাকতাবাতুল আনজলো আল-মিসরিয়্যাহ ১৯৮০, পৃ. ২৭। / আল-ইলাম ওয়াদ দিআয়াহ, ড. আব্দুল লতিফ হামজাহ, পৃ. ৭৫, ২য় সংস্করণ, ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ, দারুল ফিকর আল-আরাবি।

(২) - আল-ইলাম ওয়াদ দিআয়াহ, ড. আব্দুল লতিফ হামজাহ, পৃ. ৭৬। পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) - প্রাগুক্ত: পৃ. ৭৫
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ২২)
جماعية إلى فرد أو جماعة أو جمهور بغية التأثير، سواء أكان الحمل مباشراً بواسطة وسيلة اصطلح على أنها وسيلة إعلام قديماً أو حديثاً (1).

والخلاصة أن الإعلام عملية اتصال يراد من ورائها بناء معارف المتلقين، أو الميل بهم نحو أهداف محددة، وتتوقف عملية الاتصال صلاحاً وفساداً، حقاً وباطلاً، هدىً وضلالاً، بحسب نوعية ما يتم إرساله من المعلومات، والقالب الذي تصاغ فيه الرسالة، وعلى هذا النحو يستطيع المرء الحكم على وسائل الإعلام والتمييز بينها.

 

وقبل الولوج لعالم وسائل الإعلام، والتعرض لأنواعها، وأهميتها، ووظائفها، وتوجهاتها، نتمهل قليلاً مع مسيرة الإعلام وملامح تطوره، وذلك في المبحث التالي بمشيئة الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) 1 - مفاهيم إعلامية من القرآن الكريم: دراسة تحليلية لنصوص من كتاب الله. د سيد محمد ساداتي الشنقيطي. ص17 و18. الرياض: دار عالم الكتب 1986.
সামষ্টিকভাবে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা জনসাধারণের কাছে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে, প্রচারটি সরাসরি হোক বা প্রাচীন বা আধুনিক কোনো মাধ্যম দ্বারা হোক যা গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত (১)।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, গণমাধ্যম হলো একটি যোগাযোগ প্রক্রিয়া যার উদ্দেশ্য হলো প্রাপকদের জ্ঞান গঠন করা অথবা নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যের দিকে তাদের ধাবিত করা। এই যোগাযোগ প্রক্রিয়ার ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা এবং হেদায়েত-গোমরাহি নির্ভর করে প্রেরিত তথ্যের গুণাগুণ এবং যে ছাঁচে বার্তাটি তৈরি করা হয়েছে তার ওপর। আর এভাবেই একজন ব্যক্তি গণমাধ্যমের বিচার করতে পারে এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়।

 

গণমাধ্যমের জগতে প্রবেশের পূর্বে এবং এর ধরণ, গুরুত্ব, কার্যাবলি ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনার আগে, আমরা গণমাধ্যমের পরিক্রমা এবং এর বিবর্তনের বৈশিষ্ট্যাবলি নিয়ে কিছুটা সময় দেব; আর তা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হবে।

--------------------------------------------

(১) ১ - পবিত্র কুরআন থেকে গণমাধ্যম সংক্রান্ত ধারণা: আল্লাহর কিতাবের পাঠসমূহের একটি বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন। ড. সায়্যিদ মুহাম্মদ সাদাতী আশ-শানকিতী। পৃষ্ঠা ১৭ ও ১৮। রিয়াদ: দার আলম আল-কুতুব ১৯৮৬।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الثاني:

نشأة الإعلام وتطوره

المطلب الأول:

البداية

نشأ الإعلام منذ ظهرت الحاجة إلى نقل المعلومات وتبادلها، أي مع بدء الحياة الاجتماعية للإنسان (1)، فالإعلام حاجة بشرية لاغنى عنها، ويمكن لنا أن نتلمس بداياته مع البدايات الأولى للخلق حين خلق الله سبحانه آدم عليه السلام وعلمه الأسماء كلها وأمره أن ينبيء الملائكة بأسمائهم قال الله تعالى {وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (31) قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ (32) قَالَ يَاآدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ (33)} (2).فهذه الآيات يستفاد منها أن الإنسان عرف الإعلام من أول وهلة في الحياة، وكان يمارسه بطرق فطرية ألهمه الله تعالى بها وعلمه إياها.

ومنذ بدايات وجود الانسان، ظهرت طرق التعبير متتابعة عن التصورات والأفكار، وكيفية الإخبار عن كل ما يحيط بالإنسان من أحوال ومتغيرات، فحين لا تسعف الإنسان اللغة في التعبير عن مراده يستخدم الحركات والأصوات مثل: الإشارة، وإشعال النار، ودق الطبول وغير ذلك من الأمور البدائية التي لا يزال بعضها مستخدماً إلى عصرنا هذا (3).

كما يسهل علينا ملاحظة البعد الاجتماعي في حياة الإنسان، الذي خلق ليتعارف ويتعاطى مع البشر من حوله، ويأنس بهم ويتشوق إلى معرفة أخبارهم، والاطلاع على أحوالهم وقد أشار الله تعالى إلى ذلك بقوله سبحانه {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا

--------------------------------------------

(1) 1 - مدخل إلى علم الصحافة، د فاروق أبو زيد، ص 14. الناشر: عالم الكتب - مصر - 1986

(2) 2 - سورة البقرة / الآية: 31 و 32 و33

(3) 3 - الإعلام الإسلامي في مواجهة الإعلام المعاصر: 16، أستاذ عبد الله قاسم الوشلي. بتصرف
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

গণমাধ্যমের উৎপত্তি ও বিকাশ

প্রথম অনুচ্ছেদ:

সূচনা

তথ্যের আদান-প্রদান ও বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ার পর থেকেই গণমাধ্যমের উৎপত্তি হয়েছে, অর্থাৎ মানুষের সামাজিক জীবন শুরু হওয়ার সাথে সাথে (১)। সুতরাং গণমাধ্যম হলো একটি অপরিহার্য মানবীয় প্রয়োজন। আমরা এর সূচনা সৃষ্টির আদি লগ্নেই অনুভব করতে পারি, যখন মহান আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেন এবং তাঁকে সমস্ত নাম শিক্ষা দেন এবং ফেরেশতাদের সেই নামগুলো সম্পর্কে অবহিত করার নির্দেশ দেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি আদমকে সকল জিনিসের নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। এরপর বললেন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে আমাকে এগুলোর নাম বলো’ (৩১) তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’ (৩২) তিনি বললেন, ‘হে আদম, তুমি তাদের এগুলোর নাম বলে দাও।’ অতঃপর যখন সে তাদের সেগুলোর নাম বলে দিল, তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদের বলিনি যে, নিশ্চয় আমি আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয় জানি এবং তোমরা যা প্রকাশ করো ও যা গোপন করতে, তা-ও আমি জানি?’ (৩৩)} (২)। এই আয়াতগুলো থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, মানুষ জীবনের প্রথম মুহূর্ত থেকেই গণমাধ্যমের সাথে পরিচিত ছিল এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যে স্বভাবজাত পদ্ধতি অনুপ্রাণিত করেছিলেন ও শিখিয়েছিলেন, সেই পদ্ধতিতেই সে তা চর্চা করত।

মানুষের অস্তিত্বের শুরু থেকেই ধারণা ও চিন্তা প্রকাশের পদ্ধতিগুলো একের পর এক আবির্ভূত হয়েছে। মানুষের চারপাশের পরিস্থিতি ও পরিবর্তন সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের নানা পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। যখন ভাষা মানুষের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যথেষ্ট হয় না, তখন সে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও আওয়াজ ব্যবহার করে, যেমন: সংকেত প্রদান, আগুন জ্বালানো, ঢোল বাজানো এবং এ জাতীয় অন্যান্য আদিম পদ্ধতি, যার কিছু কিছু বর্তমান যুগ পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে (৩)।

একইভাবে আমাদের জন্য মানুষের জীবনের সামাজিক দিকটি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়, যাকে সৃষ্টিই করা হয়েছে একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য এবং তার চারপাশের মানুষের সাথে লেনদেন করার জন্য। সে তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে এবং তাদের সংবাদ জানতে ও তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে আগ্রহী হয়। মহান আল্লাহ এই দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: {হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, আর তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে...

--------------------------------------------

(১) ১ - সাংবাদিকতা বিজ্ঞানের প্রবেশিকা, ড. ফারুক আবু যায়েদ, পৃ. ১৪। প্রকাশক: আলমুল কুতুব - মিসর - ১৯৮৬।

(২) ২ - সূরা আল-বাকারা / আয়াত: ৩১, ৩২ ও ৩৩।

(৩) ৩ - সমকালীন গণমাধ্যমের মোকাবিলায় ইসলামী গণমাধ্যম: ১৬, অধ্যাপক আবদুল্লাহ কাসিম আল-ওয়াশলি। পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) সুওয়ারুল ইলামিল ইসলামী ফিল কুরআনিল কারীম - দিরাসা ফিত তাফসীরিল মাওযূয়ী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} (1). فخلقهم سبحانه وتعالى ليتعارفوا ويتواصلوا لا ليتفاخروا ويتقاطعوا.

المطلب الثاني:

ملامح التطور

لقد تنوعت سبل الاتصال بالآخرين وإبلاغ الأخبار بتنوع الثقافات والحضارات وتوقفت طرق الإعلام على مدى الرقي الحضاري والازدهار المعرفي.

ولو عدنا إلى الحضارات الإنسانية القديمة، وماوصل إلينا من آثارهم الباقية، سنجد أنهم استخدموا الإعلام في علاقاتهم وفي تسيير شؤونهم وفي توثيق مناحي حياتهم، فقد تبادل الناس المعلومات في البداية مشافهة. ونقل العداؤون الرسائل الشفهية لمسافات بعيدة. واستخدم الناس قرع الطبول وإشارات الدخان وإشعال النار للاتصال بالآخرين. ثم استحدث السومريون الكتابة بالصور في نحو عام 3500ق. م. ثم اخترعت الكتابة لتصبح وسيلة الاتصال، وتضع حدًا لعصر ما قبل التاريخ؛ إذ بالكتابة بدأت حقبة التاريخ المكتوب. واتقن البابليون وقدماء المصريين فنون الإعلام فكتبوا على أوراق البردي، ونقشوا على جدران معابدهم. وفي العصر الروماني تمثل الإعلام في الخطابة والملاحم والمناقشات، وفي الجزيرة العربية اتخذ الإعلام مظاهر عديدة مثل المنتديات والأسواق وحلبات السباق. وكانت دار الندوة في مكة المكرمة المقر الإعلامي لقريش. وأبقى الإسلام على القصيدة الشعرية وفن الخطابة إلا أن القرآن الكريم والأحاديث النبوية كانت وسيلته الإعلامية الأولى. وازدهرت مهنة الناسخين والمترجمين في العصر العباسي الأول. وفرضت الحروب، في العصور الوسطى الأوروبية، على الحكام استخدام وسائل الإعلام المتاحة كالخطابة وتبادل المعلومات لتحقيق النصر (2).

--------------------------------------------

(1) 1 - سورة الحجرات / الآية: 13

(2) - الأسس العلمية لنظريات الإعلام. د جيهان رشتي ص 13
এবং গোত্রসমূহ যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (১)। অতঃপর তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) তাদেরকে একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার এবং পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য সৃষ্টি করেছেন, একে অপরের ওপর অহংকার করার কিংবা সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য নয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

বিবর্তনের রূপরেখা

অন্যদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম এবং সংবাদ আদান-প্রদানের পদ্ধতিসমূহ বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সভ্যতার বৈচিত্র্যের সাথে সাথে বৈচিত্র্যময় হয়েছে। আর তথ্য প্রচারের পদ্ধতিসমূহ সভ্যতার উন্নতি এবং জ্ঞানগত সমৃদ্ধির স্তরের ওপর নির্ভর করেছে।

যদি আমরা প্রাচীন মানব সভ্যতাসমূহ এবং তাদের অবশিষ্ট নিদর্শনসমূহের দিকে ফিরে তাকাই, তবে দেখতে পাব যে, তারা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, কার্যাদি পরিচালনা এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে তথ্য প্রচারের মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করেছে। মানুষ শুরুতে মৌখিকভাবে তথ্য বিনিময় করত। বার্তাবাহক দৌড়বিদরা দূর-দূরান্তে মৌখিক বার্তা পৌঁছে দিত। মানুষ অন্যদের সাথে যোগাযোগের জন্য ঢাক বাজানো, ধোঁয়ার সংকেত এবং আগুন জ্বালানোর পদ্ধতি ব্যবহার করত। পরবর্তীতে সুমেরীয়রা প্রায় ৩ ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চিত্রলিপির মাধ্যমে লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। এরপর লিখন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে তা যোগাযোগের প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয় এবং প্রাক-ইতিহাস যুগের অবসান ঘটায়; কারণ লিখন পদ্ধতির মাধ্যমেই লিখিত ইতিহাসের যুগের সূচনা হয়েছিল। ব্যাবিলনীয় এবং প্রাচীন মিশরীয়রা প্রচার বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিল; তারা প্যাপিরাস পাতায় লিখত এবং তাদের উপাসনালয়ের দেয়ালে খোদাই করত। রোমান যুগে প্রচার মাধ্যম বলতে বক্তৃতা, বীরত্বগাথা এবং বিতর্ককে বোঝাত। আর আরব উপদ্বীপে প্রচার মাধ্যমের বিভিন্ন রূপ ছিল যেমন সভা-সমিতি, বাজার এবং ঘোড়দৌড়ের ময়দান। মক্কাতুল মোকাররমায় 'দারুন নদওয়া' ছিল কুরাইশদের প্রচার কেন্দ্র। ইসলাম কবিতা এবং বক্তৃতা শিল্পকে বহাল রাখে, তবে পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে নববী ছিল এর প্রথম ও প্রধান প্রচার মাধ্যম। প্রথম আব্বাসীয় যুগে অনুলিপিকারক এবং অনুবাদকদের পেশা সমৃদ্ধি লাভ করে। ইউরোপীয় মধ্যযুগে যুদ্ধসমূহ শাসকদের বাধ্য করেছিল তৎকালীন উপলব্ধ প্রচার মাধ্যমসমূহ যেমন ভাষণ এবং তথ্য বিনিময়কে বিজয়ের লক্ষ্যে ব্যবহার করতে (২)।

--------------------------------------------

(১) ১ - সূরা আল-হুজুরাত / আয়াত: ১৩

(২) - আল-উসুসুল ইলমিয়্যাহ লি-নাজরিয়্যাতিল ইলাম (গণমাধ্যম তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি)। ড. জিহান রশতি, পৃষ্ঠা ১৩