(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإيضاح في مناسك الحج والعمرة القسم: الفقه العام
الكتاب: الإيضاح في مناسك الحج والعمرة
المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676هـ)
وعليه: الإفصاح على مسائل الإيضاح على مذاهب الأئمة الأربعة وغيرهم لـ عبد الفتاح حسين
الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت - المكتبة الأمدادية، مكة المكرمة
الطبعة: الثانية، 1414 هـ - 1994 م
عدد الصفحات: 522
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1433
আল-ইজাহ ফি মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: আল-ইজাহ ফি মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
লেখক: আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.)
এবং এর সাথে সংযোজিত: চার ইমাম ও অন্যদের মাযহাবের আলোকে আল-ইজাহ-এর মাসয়ালাসমূহের ব্যাখ্যা গ্রন্থ 'আল-ইফসাহ', আব্দুল ফাত্তাহ হুসাইন কর্তৃক
প্রকাশক: দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত - আল-মাকতাবাতুল ইমদাদিয়্যাহ, মক্কা মুকাররমা
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৪ হি. - ১৯৯৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب الإيضاح في مناسك الحج والعمرة
للإمام الرباني يحيى بن شرف النووي رحمه الله تعالى
وعليه
الإفصاح على مسائل الإيضاح على مذاهب الأئمة الأربعة وغيرهم
تأليف
عبد الفتاح حسين رواه المكي
دار البشائر الإسلامية - المكتبة الأمدادية، مكة المكرمة
হজ ও ওমরার বিধানাবলী বিষয়ক ‘আল-ইদাহ’ গ্রন্থ
রাব্বানি ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর রচনা
এবং এর ওপর লিখিত
চার ইমাম ও অন্যদের মাজহাব অনুযায়ী ‘আল-ইদাহ’-এর মাসয়ালাসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-ইফসাহ’
রচনায়
আবদুল ফাত্তাহ হুসাইন রাওয়াহ আল-মাক্কী
দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - আল-মাকতাবা আল-ইমদাদিয়্যাহ, মক্কা মুকাররমা
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
كتاب الإيضاح
في مناسك الحج والعمرة
কিতাবুল ইযাহ
হজ ও উমরার বিধি-বিধান প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوُق هَذِه الطّبعَة مَحفُوظَة
لدَار البشَائر الإسلاميَّة
والمكتبة الإمدَاديَّة
حقُوُق الطَّبع مَحفُوظَة
الطبعَة الثانيَة
1414 هـ - 1994 م
دار البشائر الإسلامية
للطبَاعَة وَالنشرَ والتوَزيع بَيروت - لبنان - ص. ب: 5955 - 14
المكتبة الإمدادية
السعُودية - مكة المكرمة - تجاه بَاب العمرة - هَاتف: 5458084
এই সংস্করণের সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ-এর জন্য
এবং আল-মাকতাবাতুল ইমদাদিয়্যাহ-এর জন্য
মুদ্রণস্বত্ব সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য, বৈরুত - লেবানন - পোস্ট বক্স: ৫৯৫৫ - ১৪
আল-মাকতাবাতুল ইমদাদিয়্যাহ
সৌদি আরব - মক্কা আল-মুকাররামা - বাবু উমরার সম্মুখে - টেলিফোন: ৫৪৫৮০৮৪
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
التعريف بصاحب الإِيضاحرحمه الله تعالىهو الإِمام العلامة شيخ الإِسلام أستاذ المتأخرين وحجة الله على اللاحقين والداعي إلى سبيل السالفين محرر مذهب الشافعي ومهذبه ومنقحه ومرتبه، فقيه المحدثين، ومحدِّث الفقهاء الحافظ أبو زكريا يحيى بن شرف بن موسى بن حسن بن حسين بن حزام بن محمد بن جمعة النووي الشافعي.
مولده رحمه الله تعالى:
ولد في العشر الأول من المحرم عام 631 أحد وثلاثين وستمائة ببلدة نوى (قرية من قرى دمشق بمرتفعات الجولان) وبها نشأ، وحفظ القرآن العظيم.
رحلته إلى دمشق لطلب العلم:
قال رحمه الله تعالى: فلما كان عمري تسع عشرة سنة قدم بي والدي في سنة تسع وأربعين وستمائة إلى دمشق فسكنت المدرسة الرواحية وبقيت نحو سنتين لا أضع جنبي بالأرض وأتقوَّت بجراية المدرسة لا غير، وحفظت التنبيه في نحو أربعة أشهر ونصف ثم حفظت ربع العبادات من المهذب في
‘আল-ইজাহ’ প্রণেতার পরিচিতিতাঁর প্রতি মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোকতিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম, পরবর্তী যুগের আলেমদের শিক্ষক এবং উত্তরসূরিদের নিকট আল্লাহর প্রমাণ, পূর্বসূরিদের পথের দিকে আহ্বানকারী; শাফেয়ী মাযহাবের সংকলক, সংস্কারক, গবেষক ও বিন্যাসকারী; ফকিহদের মধ্যে মুহাদ্দিস এবং মুহাদ্দিসদের মধ্যে ফকিহ; হাফেজ (الحافظ) আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুসা ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে হিজাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুমআ আন-নববী আশ-শাফেয়ী।
তাঁর জন্ম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন):
তিনি ৬৩১ হিজরি সনের মুহাররম মাসের প্রথম দশকে নওয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন (এটি গোলান মালভূমি অঞ্চলের দামেস্কের একটি গ্রাম)। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হিফজ করেন।
জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর দামেস্ক সফর:
তিনি (রহ.) বলেন: যখন আমার বয়স উনিশ বছর, তখন ৬৪৯ হিজরি সনে আমার পিতা আমাকে দামেস্কে নিয়ে আসেন। আমি মাদরাসা আর-রাওয়াহিয়্যাহ-তে অবস্থান করি এবং প্রায় দুই বছর পর্যন্ত আমি বিছানায় পিঠ ঠেকাইনি। আমি মাদরাসার বরাদ্দকৃত খাবার ছাড়া অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করতাম না। আমি প্রায় সাড়ে চার মাসে ‘আত-তানবিহ’ মুখস্থ করি এবং এরপর ‘আল-মুহাজ্জাব’ গ্রন্থের ইবাদত অধ্যায়ের এক-চতুর্থাংশ মুখস্থ করি...
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
باقي السنة، وجعلت أشرح وأصحح على شيخنا الكمال إسحاق المغربي ولازمته فأعجب بي لما رأى من ملازمتي للاشتغال، وعدم اختلاطي بالناس وأحبني محبة شديدة، وجعلني معيد الدرس بحلقته لأكثر الجماعة. قال ابن العطار رحمه الله تعالى: ذكر الشيخ لي أنه كان يقرأ كل يوم اثني عشر درساً على المشايخ شرحاً يعني في الدين وأصوله، والفقه وفصوله، والحديث ومصطلحه، واللغة والمنطق. قال: وكنت أعلق جميع ما يتعلق بها من شرح مشكل وإيضاح عبارة، وضبط لغة، وبارك الله لي في وقتي واشتغالي وأعانني عليه.
مشايخه رحمه الله تعالى:
أخذ عن إسحاق بن أحمد المغربي وعبد الرحمن بن نوح المقدسي، وعمر بن أسعد الإربلي، وخالد بن يوسف النابلسي، والضياء بن تمام الحنفي وأحمد بن سالم المصري، ومحمد بن عبد الله بن مالك الجَيّاني صاحب الألفية وعمر بن بندر التفليسي، وإبراهيم بن علي الواسطي، وأحمد بن عبد الدائم المقدسي، وإسماعيل بن أبي اليسر التنوخي، وعبد الرحمن بن سالم الأنباري، وعبد الرحمن بن محمد قُدامة المقدسي، وعبد العزيز بن محمد الأنصاري وغيرهم رحمهم الله تعالى.
تفننه في العلوم:
تفنن رحمه الله في أصناف من العلوم فقهاً، فكان المرجع والمعوَّل عليه في فقه الشافعي رحمه الله تعالى، ومتون أحاديث، وأسماء رجال، فجمع بين الرواية والدراية، فكان أول أهل زمانه معرفة، وحفظاً وإتقاناً وضبطاً لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعلماً بعِلله وصحيحه وأسانيده، فالنووي فقيه المحدِّثين،
বছরের বাকি অংশ, আমি আমাদের শায়খ আল-কামাল ইসহাক আল-মাগরিবির নিকট পাঠের ব্যাখ্যা গ্রহণ করতাম ও সংশোধন (تصحيح) করতাম এবং তাঁর সান্নিধ্যে থাকতাম। তিনি আমার পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতা এবং মানুষের সাথে মেলামেশা না করা দেখে আমার প্রতি মুগ্ধ হলেন। তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তাঁর পাঠচক্রের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আমাকে পুনরাবৃত্তিকারী (معيد) হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। ইবনে আল-আত্তার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: শায়খ আমাকে বলেছিলেন যে তিনি প্রতিদিন শায়খদের নিকট বারোটি পাঠ গ্রহণ করতেন, যা ছিল দ্বীন ও তার মূলনীতি (أصول), ফিকহ ও তার শাখাসমূহ, হাদিস ও তার পরিভাষা (مصطلح), ভাষা এবং যুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত। তিনি বলেন: আমি এই পাঠগুলো সম্পর্কিত জটিল ব্যাখ্যা, বাক্যের স্পষ্টীকরণ এবং ভাষাগত নির্ভুলতা (ضبط) বিষয়ক সমস্ত কিছু টীকা আকারে লিখে রাখতাম। আল্লাহ আমার সময় ও ব্যস্ততায় বরকত দান করেছিলেন এবং আমাকে এ কাজে সাহায্য করেছিলেন।
তাঁর শায়খগণ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি):
তিনি ইসহাক ইবনে আহমদ আল-মাগরিবি, আবদুর রহমান ইবনে নূহ আল-মাকদিসি, ওমর ইবনে আসআদ আল-ইরবিলি, খালিদ ইবনে ইউসুফ আন-নাবুলুসি, আদ-দিয়া ইবনে তাম্মাম আল-হানাফি, আহমদ ইবনে সালিম আল-মিসরি, আলফিয়া-র রচয়িতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আল-জায়ইয়ানি, ওমর ইবনে বান্দার আত-তিফলিসি, ইব্রাহিম ইবনে আলি আল-ওয়াসিতি, আহমদ ইবনে আবদুদ দায়িম আল-মাকদিসি, ইসমাইল ইবনে আবিল ইয়াসার আত-তানুখি, আবদুর রহমান ইবনে সালিম আল-আনবারি, আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ কুদামা আল-মাকদিসি, আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি এবং আরও অনেকের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম)।
বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য:
তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। ফিকহ শাস্ত্রে তিনি শাফেয়ী মাজহাবের প্রধান নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়া হাদিসের মূল পাঠ (متون) এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী ও নাম (أسماء الرجال) বিষয়েও তিনি অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞান (رواية) এবং বিশ্লেষণধর্মী জ্ঞান (دراية)-এর সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি তাঁর যুগের মানুষের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান, মুখস্থ শক্তি (حفظ), নিখুঁত বর্ণনা (إتقان) এবং নির্ভুলতা (ضبط)-এর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। তিনি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل), সহিহ (صحيح) হাদিস এবং এর সনদ (أسانيد) সম্পর্কে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। বস্তুত আন-নববী ছিলেন মুহাদ্দিসদের ফকিহ (فقيه المحدثين)।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومحدِّث الفقهاء. بل صار علماً يشار إليه بالبنان في زمانه، ومرجعاً يعتمد عليه، غير منازَع ولا مدافَع رحمه الله تعالى.
توليته التدريس:
بعد أن اكتملت للنووي رحمه الله أدوات الحديث والفقه قام بتدريسهما في المدرسة الإِقبالية التي أنشاها جمال الدين إقبال سنة 603 هـ ثم قام بالتدريس في المدرسة الركنية التي أسسها ركن الدين منكورس، والمدرسة الخَلَفية التي أقامها خلف الدين سليمان، ثم ولي دار الحديث سنة 665 هـ فلم يأخذ من معلومها شيئاً حتى توفي رحمه الله تعالى.
تلاميذه رحمه الله تعالى:
أخذ عنه علاء الدين بن العطار، وأحمد بن إبراهيم بن مُصعَب، وأحمد بن محمد الجعفري، وأحمد بن فرح الإِشبيلي، والرشيد إسماعيل بن المعلِّم الحنفي، ومحمد بن أبي الفتح الحنبلي، وأحمد الضرير الواسطي، وسليمان بن عمر الدِّرعي، وعبد الرحمن بن محمد المقدسي، والبدر بن جماعة، ومحمد بن النقيب، ومحمد بن عبد الخالق الأنصاري، وهبة الله بن عبد الرحيم البارزي، ويوسف بن عبد الرحمن المِزِّيّ، وغيرهم رحمهم الله تعالى.
مناقبه رحمه الله تعالى:
ذكر والده أنه كان نائماً إلى جنبه وهو ابن سبع سنين، ليلة سبع وعشرين من رمضان، فانتبه نحو نصف الليل، وقال: يا أبت ما هذا الضوء الذي ملأ الدار، قال: فاستيقظنا، ولم نرَ كلنا شيئاً، فعرفت أنها ليلة القدر.
وقال العارف الأستاذ ياسين بن يوسف الزركشي: رأيت الشيخ وهو ابن عشر
এবং ফকিহগণের মুহাদ্দিস। বরং তিনি তাঁর সময়ে এমন এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন যাঁর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হতো এবং এমন এক নির্ভরযোগ্য সূত্র (مرجع) হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন যাঁর ওপর নির্ভর করা হতো, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত বা প্রতিবাদ ছিল না। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
তাঁর শিক্ষকতা জীবন:
ইমাম নববী (রহ.) যখন হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও পাণ্ডিত্য অর্জন করলেন, তখন তিনি 'মাদরাসা আল-ইকবালিয়া'তে এই দুই শাস্ত্রের পাঠদান শুরু করেন, যা ৬০৩ হিজরিতে জামাল উদ্দিন ইকবাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর তিনি রুকন উদ্দিন মানকুরাস প্রতিষ্ঠিত 'মাদরাসা আর-রুকনিয়া' এবং খালাফ উদ্দিন সুলায়মান প্রতিষ্ঠিত 'মাদরাসা আল-খালাফিয়া'তে শিক্ষকতা করেন। অতঃপর ৬৬৫ হিজরিতে তিনি 'দারুল হাদিস' এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ (রহ.):
তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন আলাউদ্দিন ইবনুল আত্তার, আহমদ বিন ইবরাহিম বিন মুসআব, আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-জাফারি, আহমদ বিন ফারাহ আল-ইশবিলি, রশিদ ইসমাইল বিন আল-মুআল্লিম আল-হানাফি, মুহাম্মদ বিন আবিল ফাতহ আল-হাম্বলি, আহমদ আদ-দারির আল-ওয়াসিতি, সুলায়মান বিন উমর আদ-দিরয়ি, আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, বদর বিন জামাআহ, মুহাম্মদ বিন আন-নাকিব, মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক আল-আনসারি, হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুর রহিম আল-বারযি, ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান আল-মিযযি এবং অন্যান্যরা। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
তাঁর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ (রহ.):
তাঁর পিতা উল্লেখ করেছেন যে, নববীর যখন সাত বছর বয়স, তখন রমজানের সাতাশতম রাতে তিনি তাঁর পাশেই ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতের দিকে তিনি জেগে উঠলেন এবং বললেন: "হে আব্বাজান! এই আলোটি কী যা পুরো ঘরকে আলোকিত করে ফেলেছে?" পিতা বলেন: "আমরা সবাই জেগে উঠলাম কিন্তু আমরা কেউই কিছুই দেখতে পেলাম না। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটি ছিল লাইলাতুল কদর।"
আরিফ বিল্লাহ উস্তাদ ইয়াসিন বিন ইউসুফ আল-যাররাকাশি বলেন: "আমি শায়খকে দেখেছিলাম যখন তাঁর বয়স ছিল দশ বছর..."
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
سنين بنوى والصبيان يُكرهونه على اللعب معهم وهو يهرب منهم ويبكي لإكراههم، ويقرأ القرآن في تلك الحال، فوقع في قلبي حبه، ووضعه أبوه في مكان فكان لا يشتغل بالبيع والشراء عن القرآن، قال: فأتيت الذي يقرئه القرآن فوصيته به خيراً، وقلت: هذا الصبي يرجى أن يكون أعلم أهل زمانه وأزهدهم، وينتفع الناس به، فقال لي: منجم أنت؟! قلت: لا وإنما أنطقني الله بذلك، فذكر ذلك لوالده فحرص عليه إلى أن ختم القرآن، وقد ناهز الاحتلام.
كراماته رحِمه الله تعالى:
منها أنها أضاءت أصبعه له بإذن الله تعالى لما فقد وقت التصنيف ما يُسرِجه عليه.
شمائله رحمه الله تعالى:
كان على جانب عظيم من الورع والزهد، قال الذهبي رحمه الله تعالى: كان عديم الميرة والرفاهية والتنعم مع التقوى والقناعة والورع والمراقبة لله تعالى في السر والعلانية، وترك رعونات النفس من ثياب حسنة ومأكل طيب، وتجمل في هيئة، بل طعامه جِلْف (1) الخبز بأيسر إدام، ولباسه ثوب خام، وسختِيانية (2) لطيفة. وكان لا يأكل من فاكهة دمشق لما في ضياعها (3) من الحيلة والشبهة، وكان يتقوت مما يأتي من بلده من عند والديه، ولا يأكل إلا
--------------------------------------------
নওয়ায় কাটানো বছরগুলো; বালকরা তাঁকে তাদের সাথে খেলার জন্য বাধ্য করত, অথচ তিনি তাদের জবরদস্তির কারণে কাঁদতে কাঁদতে পালিয়ে যেতেন এবং সেই অবস্থাতেও কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ফলে আমার অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা জন্মে গেল। তাঁর পিতা তাঁকে একটি দোকানে বসিয়েছিলেন, কিন্তু ক্রয়-বিক্রয় তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিমুখ করতে পারত না। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি তাঁর কুরআন শিক্ষকের নিকট গিয়ে তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে অসিয়ত করলাম এবং বললাম: "আশা করা যায় এই বালকটি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম এবং সবচেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ (أزهد) ব্যক্তি হবে এবং মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হবে।" তিনি আমাকে বললেন: "আপনি কি একজন জ্যোতিষী?" আমি বললাম: "না, বরং আল্লাহ আমাকে দিয়ে এটি বলিয়েছেন।" অতঃপর তিনি বিষয়টি তাঁর পিতাকে জানালেন। তখন থেকে তাঁর পিতা তাঁর প্রতি অতিশয় যত্নবান হলেন, এমনকি তিনি সাবালক হওয়ার কাছাকাছি সময়ে কুরআন খতম করলেন।
তাঁর অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (كرامات) (رحمه الله تعالى):
তার মধ্যে একটি হলো, আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আঙুল থেকে আলো বিচ্ছুরিত হয়েছিল যখন তিনি গ্রন্থ রচনার সময় প্রদীপ জ্বালানোর উপকরণ পাননি।
তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি (رحمه الله تعالى):
তিনি ছিলেন পরহেজগারি (ورع) ও দুনিয়াবিমুখতার (زهد) এক সুউচ্চ শিখরে। ইমাম যাহাবি (رحمه الله تعالى) বলেন: তিনি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও ভোগ-বিলাস বর্জিত জীবন যাপন করতেন; সেই সাথে তাঁর মাঝে ছিল তাকওয়া (تقوى), অল্পেতুষ্টি (قناعة), পরহেজগারি (ورع) এবং নির্জন ও প্রকাশ্য উভয় অবস্থায় আল্লাহ তাআলার বিশেষ পর্যবেক্ষণ (مراقبة)। তিনি সুন্দর পোশাক, সুস্বাদু খাদ্য এবং বাহ্যিক সাজসজ্জার ন্যায় নফসের কামনা-বাসনা বিসর্জন দিয়েছিলেন। বরং তাঁর খাদ্য ছিল সামান্য তরকারিসহ শুষ্ক (جلف) রুটি এবং তাঁর পোশাক ছিল মোটা কাপড়ের একটি জুব্বা। তিনি দামেস্কের ফলমূল ভক্ষণ করতেন না; কারণ সেখানকার বাগানগুলোর স্বত্বাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতারণা ও সন্দেহের (شبهة) অবকাশ ছিল। তিনি তাঁর নিজ গ্রাম থেকে পিতা-মাতার পাঠানো খাদ্য দিয়ে জীবন ধারণ করতেন এবং তিনি কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أكلة واحدة في اليوم والليلة بعد العشاء الآخرة، ولا يشرب إلا شربة واحدة عند السحر، ولم يتزوج، وكان كثير السهر في العبادة والتصنيف، ولذا قال ابن السبكي رحمهما الله تعالى: إنه كان سيداً حصوراً وزهداً، لم يبال بخراب الدنيا، إذا صير دينه ربعاً معموراً له الزهد والقناعة، ومتابعة السالفين من أهل السنّة والجماعة، والمصابرة على أنواع الخير، لا يصرف ساعة في غير طاعة.
كانت عليه سكينة ووقار في البحث مع العلماء وفي غيره، وكان آمراً بالمعروف، ناهياً عن المنكر، يواجه بهما المملوك والأمراء، ويكتب إليهم الرسائل ناصحاً بالعدل فى الرعية، وإبطال المكوس (1)، وردّ الحقوق إلى أربابها. قال أبو العباس بن فرج رحمه الله تعالى: كان الشيخ قد صارت إليه ثلاث مراتب، كل مرتبة منها لو كانت لشخص شُدت إليه الرحال. المرتبة الأولى: العلم، الثانية: الزهد، الثالثة: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
وقال ابن كثير رحمه الله تعالى: إنه قام على الظاهر في دار العدل في قضية الغوطة لما أراد وضع الأملاك على بساتينها فردّ عليهم ذلك، ووقى الله شرها بعد أن غضب السلطان، وأراد البطش به، ثم بعد ذلك أحبه وعظمه، حتى كان يقول: أنا أفزع منه.
وفاته رحمه الله تعالى:
سافر في آخر عمره إلى بلده نوى بعدما حج وزار القدس ووصل الخليل فمرض بها عند والديه وتوفي ليلة الأربعاء لست بقين من رجب سنة 676 هـ ست وسبعين وستمائة، ولما بلغ نعيه إلى دمشق أسف عليه
--------------------------------------------
দিন ও রাতে এশার নামাজের পর তিনি কেবল একবার আহার করতেন এবং সাহরির সময় কেবল একবার পান করতেন। তিনি বিবাহ করেননি। ইবাদত বন্দেগি ও গ্রন্থ রচনায় তিনি অধিক রাত জাগরণ করতেন। এজন্য ইবনুল সুবকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন সর্দার, নারীবিমুখ (حصور) এবং সংসারবিরাগী (زاهد)। তিনি দুনিয়ার ধ্বংসের পরোয়া করতেন না, যদি তিনি তার দ্বীনকে সমৃদ্ধ রাখতে পারতেন। তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল বৈরাগ্য (الزهد) ও অল্পে তুষ্টি এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর পূর্বসূরিদের অনুসরণ এবং সকল প্রকার কল্যাণের কাজে ধৈর্যশীলতা। আনুগত্যের কাজ ছাড়া তিনি একটি মুহূর্তও ব্যয় করতেন না।
আলেমদের সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁর মাঝে এক বিশেষ প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বিরাজ করত। তিনি ছিলেন সৎ কাজের আদেশকারী (آمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধকারী (ناهي عن المنكر)। তিনি মামলুক ও আমিরদের সামনে এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান নিতেন। তিনি প্রজাদের প্রতি ইনসাফ কায়েম করা, অবৈধ কর (المكوس) বাতিল করা এবং হকদারদের কাছে তাদের পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার নসিহত করে তাঁদের নিকট পত্র লিখতেন। আবু আব্বাস ইবনে ফারাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: শাইখ তিনটি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন, যার প্রতিটি অর্জনের জন্যই দেশ-বিদেশে সফর করা যেত। প্রথম মর্যাদাটি হলো: ইলম বা জ্ঞান, দ্বিতীয়টি হলো: বৈরাগ্য (الزهد), এবং তৃতীয়টি হলো: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)।
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি ঘৌটার বাগানসমূহের ওপর ট্যাক্স ধার্যের ইস্যুতে বিচারালয়ে সুলতান মালিকুজ জাহিরের সামনে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সুলতান রাগান্বিত হওয়া এবং তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার ইচ্ছা করার পর আল্লাহ তাআলা এই অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। পরবর্তীকালে সুলতান তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং সম্মান করতেন, এমনকি সুলতান বলতেন, "আমি তাঁকে ভয় পাই।"
তাঁর মৃত্যু (রহিমাহুল্লাহ):
জীবনের শেষ সময়ে তিনি হজ পালন এবং বায়তুল মুকাদ্দাস ও খলীল (হেব্রন) জিয়ারত শেষে নিজ শহর নাওয়াতে সফর করেন। সেখানে নিজ পিতা-মাতার সান্নিধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৬৭৬ হিজরির রজব মাসের ছয় দিন অবশিষ্ট থাকতে বুধবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন। যখন দামেস্কে তাঁর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাল, তখন সেখানকার মানুষ গভীরভাবে শোকাহত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المسلمون أسفاً شديداً، وتوجه قاضي القضاة عز الدين محمد بن الصائغ وجماعة من أصحابه إلى نوى للصلاة عليه ورثاه جماعة كثيرون، فرحمه الله تعالى رحمة واسعة آمين.
مصنفاته رحمه الله تعالى:
شرح مسلم، ورياض الصالحين، والأذكار، والأربعون النووية وشرحها، وتهذيب الأسماء واللغات، وطبقات الفقهاء، والتبيان، والمناسك الصغرى، والكبرى، والمنهاج، ودقائقه، والفتاوى، وتصنيف في الاستسقاء، وتصنيف في استحباب القيام لأهل الفضل ونحوهم، وتصنيف في قسمة الغنائم، وتصحيح التنبيه، والنكت عليه، والإيجاز، والإرشاد، والتقريب، والمبهمات، ومناقب الشافعي، وخلاصة الإِحكام في مهمات الأحكام، وبستان العارفين، وجامع السنة، وروضة الطالبين التي عليها المعوّل في الترجيح وبقولها المقول في التصحيح. هذه مؤلفاته التي أتمها رحمه الله تعالى.
ومن مؤلفاته التي لم يتمها المجموع شرح المهذب، وصل فيه إلى أثناء الربا وهو أجل مؤلفاته لو كان تمامه على يديه، التحقيق شرح مطول على التنبيه، التنقيح شرح الوسيط، الإِشارات وهو كتاب على الروضة كالدقائق على المنهاج، وشرح قطعة من صحيح البخاري وقطعة من سنن أبي داود وغير ذلك.
مما ينسب إلى الإِمام النووي رحمه الله تعالى:
بادر إلى حفظ الحديث وكَتبه
… واجهد على تصحيحه في كُتبه
واسمعه من أشياخه نقلاً كما
… سمعوه من أشياخهم تسعد به
মুসলমানরা অত্যন্ত গভীরভাবে শোকাহত হলেন এবং প্রধান বিচারপতি (কাযিউল কুদাত) ইযযুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে সায়েগ ও তাঁর একদল সাথী তাঁর জানাযার সালাতের উদ্দেশ্যে নাওয়ায় গমন করেন। বহু লোক তাঁর বিয়োগে শোকগাথা রচনা করেন। মহান আল্লাহ তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন, আমিন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
শারহু মুসলিম, রিয়াদুস সালিহীন, আল-আযকার, আল-আরবাউন আন-নাওয়াওয়িয়্যাহ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, তাবাকাতুল ফুকাহা, আত-তিবইয়ান, আল-মানাসিক আস-সুগরা ও আল-কুবরা, আল-মিনহাজ ও এর দাকায়িক, আল-ফাতাওয়া, ইস্তিসকা বিষয়ক একটি রচনা, ফযিলতপূর্ণ ব্যক্তি ও তাঁদের সমপর্যায়ের লোকদের সম্মানে দাঁড়ানোর মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে একটি রচনা, গনিমতের মাল বণ্টন বিষয়ক একটি রচনা, তাসহিহুত তানবিহ, এর ওপর আন-নুওয়াত, আল-ইজায, আল-ইরশাদ, আত-তাকরিব, আল-মুবহামাত, মানাকিবুশ শাফিঈ, খুলাসাতুল আহকাম ফি মুহিম্মাতি আহকাম, বুসতানুল আরিফিন, জামিউস সুন্নাহ এবং রওজাতুত তালিবিন—যার ওপর প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয় এবং বিশুদ্ধকরণের (تصحيح) ক্ষেত্রে যার বক্তব্য গৃহীত হয়। এগুলো তাঁর ঐসব রচনা যা তিনি সম্পন্ন করেছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
তাঁর ঐসব রচনার মধ্যে যেগুলো তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি: আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব—এতে তিনি সুদ সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠতম রচনা হতো যদি তাঁর হাতে তা সম্পন্ন হতো; আত-তাহকিক—যা আত-তানবিহ-এর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ; আত-তানকিহ—যা আল-ওয়াসিত-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; আল-ইশারাত—যা রওজাহ-এর ওপর রচিত একটি গ্রন্থ যেমন মিনহাজ-এর ওপর দাকায়িক; এবং সহীহ বুখারী-এর একটি অংশের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও সুনানে আবু দাউদ-এর একটি অংশের ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ আরও অন্যান্য।
ইমাম নববী রহ.-এর প্রতি যা নিসবত করা হয়:
হাদিস মুখস্থকরণ ও তা লিপিবদ্ধকরণে ত্বরান্বিত হও
… এবং তোমার কিতাবসমূহে তা শুদ্ধকরণের (تصحيح) ব্যাপারে সচেষ্ট হও
তোমার শায়খদের নিকট থেকে বর্ণনাসূত্রে তা শ্রবণ করো যেমন
… তাঁরা তাঁদের শায়খদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, তবেই তুমি এর মাধ্যমে সৌভাগ্যবান হবে
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وتجنب التصحيف فيه فربما
… أدى إلى تغييره عن لفظه
وتتبع العالي الصحيح فإنه
… نطق النبي لنا به عن ربه
فكفى المحدث رتبة أن يرتضى
… ويعد من أهل الحديث وحزبه
وفي الختام أسال الله الكريم أن يرحمني ويرحم المؤلف ووالدينا والمسلمين والمسلمات ويحشرنا في زمرة سيد المرسلين سيدنا محمد وآله صلى الله وسلم عليه وعليهم بقدر حبه فيه وفيهم إلى يوم الدين وعلينا وعلى المسلمين والمسلمات بمنّه وكرمه آمين.
التعريف بصاحب الحاشية على الإيضاح رحمه الله آمين
هو شهاب الدين أبو العباس أحمد بن محمد بن محمد بن على بن حجر الهيتمي السعدي الأنصاري المكي. والهيتمي: بالتاء المثناة لا بالثاء المثلثة كما هو شائع كما أفاده غير واحد من الفضلاء. ترجمة العيدروس في وفيات الأكابر فقال: وفي رجب سنة أربع وسبعين وتسعمائة توفي الشيخ الإمام شيخ الإسلام شهاب الدين. ثم قال: وكان بحراً في علم الفقه وتحقيق لا تكدره الدلاء، وإمام الحرمين كما أجمع على ذلك العارفون، وانعقدت عليه خناصر الملأ، ولد في رجب سنه تسع وتسعمائة، ومات أبوه وهو صغير فكفله الإمامان الكاملان علماً وعملاً، العارف شمس الدين بن أبي الخمائل، وشمس الدين الشناوي، وكان قد حفظ القرآن العظيم في صغره، ومن مشايخه الذين أخذ عنهم شيخ الإسلام القاضي زكريا [الأنصاري] الشافعي.
والشيخ الإِمام المعمَّر الزينى السنباطي، والشهاب الرملي الشافعي وغيرهم، وأذن له بعضهم بالإفتاء والتدريس، وعمره دون العشرين، وبرع في علوم
এতে ভুল পাঠ (تصحيف) পরিহার করো, কারণ সম্ভবত
… এটি একে মূল শব্দ থেকে পরিবর্তন করে দিতে পারে
আর উচ্চসনদবিশিষ্ট (عالي) বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের অন্বেষণ করো, কেননা এটিই
… নবী আমাদের নিকট তাঁর রবের পক্ষ থেকে ব্যক্ত করেছেন
একজন মুহাদ্দিসের (محدث) মর্যাদার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি মনোনীত হবেন
… এবং তাঁকে আহলে হাদিস ও তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে
পরিশেষে, আমি দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার প্রতি, লেখকের প্রতি, আমাদের পিতামাতার প্রতি এবং সকল মুসলিম নর-নারীর প্রতি রহম করেন। তিনি যেন আমাদের কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর প্রতি এবং তাঁদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার মর্যাদা অনুযায়ী রাসুলকুলের শিরোমণি আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের দলে হাশর করেন; আর তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের ওপর এবং সকল মুসলিম নর-নারীর ওপর রহমত নাযিল করেন। আমিন।
আল-ইজাহ গ্রন্থের হাশিয়া প্রণেতার পরিচিতি আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, আমিন
তিনি হলেন শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-হাইতামি আস-সা'দি আল-আনসারি আল-মাক্কি। আল-হাইতামি শব্দটি: দুই নকতা বিশিষ্ট ‘তা’ (ت) দিয়ে, প্রচলিত ভুল অনুযায়ী তিন নকতা বিশিষ্ট ‘ছা’ (ث) দিয়ে নয়, যেমনটি একাধিক পণ্ডিত ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন। আল-আইদারুস ‘ওয়াফায়াতুল আকাবির’-এ তাঁর জীবনী বর্ণনা করে বলেছেন: ৯৭৪ হিজরি সনের রজব মাসে ইমাম, শাইখুল ইসলাম শিহাবুদ্দিন ইন্তেকাল করেন। অতঃপর তিনি বলেন: তিনি ফিকহ শাস্ত্র ও গবেষণার ক্ষেত্রে এমন এক সমুদ্র ছিলেন যাকে কোনো বালতিই ঘোলা করতে পারত না; তিনি ছিলেন হারামাইন শরিফাইনের ইমাম, যেমনটি আরিফগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যা স্বীকার করেছেন। তিনি ৯০৯ হিজরি সনের রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করলে ইলম ও আমলে পূর্ণতাপ্রাপ্ত দুই ইমাম—আরিফ শামসুদ্দিন ইবনে আবু খামাইল এবং শামসুদ্দিন আশ-শিন্নাউয়ি তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি শৈশবেই মহাগ্রন্থ কুরআন মুখস্থ করেছিলেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাইখুল ইসলাম কাজি জাকারিয়া [আল-আনসারি] আশ-শাফিয়ি।
এবং দীর্ঘজীবী শাইখ ইমাম আজ-জাইনি আস-সুনবাতি, শিহাব আল-রামলি আশ-শাফিয়ি এবং অন্যান্যগণ। তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে বিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
كثيرة منها: التفسير، والحديث، وعلم الكلام، وأصول الفقه، وفروعه، والفرائض، والحساب، والنجوم، والصرف، والمعاني، والبيان، والمنطق، والتصوف. ومن محفوظاته في الفقه: المنهاج للنووي، ومقروءاته كثيرة لا يمكن تعدادها. وأما إجازات المشايخ له فكثيرة جداً وقد استوعبها رحمه الله في معجم مشايخه. وقَدِم مكة في آخر سنة ثلاث وثلاثين وتسعمائة فحج وجاور بها في السنة التي تليها، ثم عاد إلى مصر ثم حج بعياله في آخر سنة سبع وثلاثين ثم حج سنة أربعين وجاور من ذلك الوقت بمكة المشرّفة وأقام بها يؤلف ويفتي ويدرس إلى أن توفي، فكانت مدة إقامته بها ثلاثاً وثلاثين سنة.
ومن مؤلفاته: شرح المشكاة نحو الربع، وشرح المنهاج للنووي في مجلدين ضخمين، وشرحان على الإِرشاد للمقري: كبير وهو المسمى بالإِمداد، وصغير وهو المسمى فتح الجواد، وشرح همزية البوصيري، وشرح الأربعين النووية، والصواعق المحرقة على أهل البدع والضلال والزندقة، وكف الرعاع عن محرمات اللهو والسماع، والزواجر عن اقتراف الكبائر، ونصيحة الملوك، وشرح مختصر الفقيه عبد الله بافضل المسمى المنهج القويم في مسائل التعليم، والإعلام بقواطع الإسلام، وشرح العباب المسمى بالإِيعاب، وشرح قطعة من ألفية ابن مالك، وشرح مختصر أبي الحسن البكري في الفقه، وشرح مختصر الروض لكن لم يتم، وله حاشية على الإيضاح، وحاشية غير تامة على شرح المنهاج وحاشية على العباب، واختصر الإيضاح والإرشاد والروض والأخير لم يتم، ومناقب أبي حنيفة الجواهر الحسان في مناقب النعمان، والتعرف في الأصلين والتصوف، ومنظومة في أصول الدين وشرح عين الدين في التصوف ولم يتم.
তার জ্ঞান বহুবিদ ছিল, যার মধ্যে রয়েছে: তাফসির, হাদিস, ইলমুল কালাম (علم الكلام), উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) ও এর শাখাসমূহ (فروعه), উত্তরাধিকার শাস্ত্র (الفرائض), গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সরফ (الصرف), ইলমুল মাআনি ও ইলমুল বয়ান, যুক্তিবিদ্যা (المنطق) এবং তাসাউফ (التصوف)। ফিকহশাস্ত্রে তার মুখস্থ করা গ্রন্থের মধ্যে অন্যতম হলো ইমাম নববী রচিত 'আল-মিনহাজ'। এছাড়া তার পঠিত গ্রন্থের সংখ্যা এত বেশি যে তা গণনা করা অসম্ভব। আর উস্তাদদের থেকে প্রাপ্ত তার অনুমতিপত্র (إجازات) অনেক বেশি, যা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তার 'মুজামু মাশায়েখিহি' গ্রন্থে সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। তিনি ৯৩৩ হিজরি সনের শেষভাগে মক্কায় আগমন করেন এবং হজ সম্পাদন করে পরবর্তী বছর সেখানে অবস্থান (جاور) করেন। এরপর তিনি মিশরে ফিরে যান এবং ৯৩৭ হিজরি সনের শেষদিকে সপরিবারে পুনরায় হজ করতে আসেন। অতঃপর ৯৪০ হিজরি সনে হজ সম্পাদন করে সেই সময় থেকে মক্কা মুকাররমায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে গ্রন্থ রচনা, ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সেখানে তার অবস্থানের মোট সময়কাল ছিল ৩৩ বছর।
তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: মিশকাত-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) প্রায় এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত, ইমাম নববীর 'আল-মিনহাজ'-এর দুই বিশাল খণ্ডে শারহ, আল-মুকরি রচিত 'আল-ইরশাদ'-এর দুইটি শারহ—একটি বৃহৎ যার নাম 'আল-ইমদাদ' এবং অন্যটি সংক্ষিপ্ত যার নাম 'ফাতহুল জাওয়াদ', বুসিরি-র 'হামজিয়্যাহ'-এর শারহ, 'আরবাঈন নববী'-র শারহ, বিদআতি ও পথভ্রষ্টদের খণ্ডনে 'আস-সাওয়ািকুল মুহরিকা', নিষিদ্ধ আমোদ-প্রমোদ থেকে বিরত রাখার বিষয়ে 'কাফফুর রাআআ', কবিরা গুনাহ থেকে সতর্ক করার বিষয়ে 'আয-যাওয়াজির', রাজন্যবর্গের জন্য উপদেশমূলক 'নাসিহাতুল মুলুক', ফকিহ (فقيه) আবদুল্লাহ বাফাদ্বল রচিত সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের শারহ যার নাম 'আল-মানহাজুল কাওয়িম ফি মাসাইলিত তালীম', 'আল-ইলাম বি কাওয়াতিইল ইসলাম', 'আল-উবাব'-এর শারহ যার নাম 'আল-ইয়াব', ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ'-এর একটি অংশের শারহ, ফিকহশাস্ত্রে আবু হাসান আল-বকরির সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের শারহ, 'আর-রওদ'-এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণের একটি শারহ যা সমাপ্ত হয়নি। এছাড়াও 'আল-ইদাহ'-এর উপর তার একটি হাশিয়া (حاشية) রয়েছে, 'শারহুল মিনহাজ'-এর উপর একটি অসম্পূর্ণ হাশিয়া (حاشية) এবং 'আল-উবাব'-এর উপরও একটি হাশিয়া (حاشية) রয়েছে। তিনি 'আল-ইদাহ', 'আল-ইরশাদ' ও 'আর-রওদ' সংক্ষেপ করেছেন, তবে শেষোক্তটি সমাপ্ত হয়নি। এছাড়া ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা নিয়ে তার রচিত 'আল-জাওয়াহিরুল হিসান ফি মানাকিবিন নুমান', উসুল ও তাসাউফ (التصوف) বিষয়ক 'আত-তাআররুফ ফিল আসলাইন ওয়াত তাসাউফ', দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) বিষয়ক একটি কাব্যগ্রন্থ এবং তাসাউফ (التصوف) বিষয়ে 'আইনুদ্দীন'-এর শারহ যা সমাপ্ত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والهيتمي نسبة إلى محلة أبي الهيتم من إقليم الغربية بمصر. والسعدي نسبة إلى بني سعد بإقليم الشرقية من أقاليم مصر أيضاً ومسكنه الشرقية لكنه انتقل إلى محلة أبي الهيتم في الغربية، وأمّا شهرته بابن حجر فقيل: إن أحد أجداده كان ملازماً للصمت لا يتكلم إلا عند ضرورة أو حاجة فشبهوه بحجر ملقى لا ينطق، فقالوا: حجر، ثم اشتهر بذلك. وقد اشتهر بهذا اللقب أيضاً شيخ الإسلام ابن حجر العسقلاني رحمه الله، فكان صاحب الترجمة يشبهه في فنه الذي اشتهر به وهو الحديث مع ما منحه الله به من الزيادة عليه من علم الفقه الذي لم يشتهر به الحافظ العسقلاني هذا الاشتهار كيف لا وهو سَميّه فأشبهه اسماً ووصفاً وزادته نسبته إلى جوار الحرم الشريف شرفاً. قلت: من مؤلفاته فتاوى في الفقه كبرى وصغرى، والفتاوى الحديثية، انتهى من مختصر كتاب نشر النور والزهر للشيخ عبد الله مرداد رحمه الله تعالى، أقول: ولصاحب الترجمة رحمه الله تعالى أيضاً من المؤلفات: تحفة المحتاج بشرح المنهاج "عشرة أجزاء" والإِفادة فيما جاء في المرضى والعيادة، وتحرير المقال فيما يحتاجه مؤدب الأطفال، وتلخيص الأحراء في تعليق الطلاق بالإِبراء، وتكفير الكبائر وشرح بانت سعاد ومبلغ القرب في فخر العرب، والإفصاح عن أحاديث النكاح، وأشرف المداخل إلى معرفة الشمائل، والأربعين العدلية وتنبيه الأخيار، وتطهير العيبة من دنس الغيبة، وثبت شيوخه ودر الغمامة في در الطيلسان والعامة، وقرة العين في أن التبرؤ لا يبطله الدين، والمناهل العذبة في إصلاح الكعبة، وإتحاف أهل الإِسلام بخصوصيات الصيام، انتهى من مقدمة الأستاذ محمود النواوي على إتحاف أهل الإسلام بخصوصيات الصيام قمت باختصاره والتعليق عليه ولله الحمد والمنهة وسميتة (مختصر إتحاف أهل الإِسلام بخصوصيات الصيام) وذكرت في التعليق عليه أقوال الأئمة الأربعة رحم الله الجميع آمين، وهو مطبوع نفع الله به
আল-হাইতামি (নামটি) মিশরের আল-গারবিয়্যাহ প্রদেশের মাহাল্লাত আবি আল-হাইতামের সাথে সম্পৃক্ত। আর আস-সাদি (নামটি) মিশরের আশ-শারকিয়্যাহ প্রদেশের বনু সা'দ এর সাথে সম্পৃক্ত। তার আবাসস্থল ছিল আশ-শারকিয়্যাহ, তবে তিনি আল-গারবিয়্যাহর মাহাল্লাত আবি আল-হাইতামে স্থানান্তরিত হন। আর ইবনে হাজার হিসেবে তার প্রসিদ্ধির ব্যাপারে বলা হয় যে, তার একজন পূর্বপুরুষ সর্বদাই নীরব থাকতেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না। ফলে তারা তাকে একটি পড়ে থাকা পাথরের সাথে তুলনা করত যা কথা বলে না। তাই তারা তাকে 'হাজার' (পাথর) বলত এবং পরবর্তীতে তিনি এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রহিমাহুল্লাহ)-ও এই উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাই এই জীবনীতে বর্ণিত ব্যক্তি তার সেই শাস্ত্রে সদৃশ ছিলেন যাতে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, আর তা হলো হাদিস; এর সাথে আল্লাহ তাআলা তাকে ফিকহ শাস্ত্রে অতিরিক্ত জ্ঞান দান করেছিলেন, যে শাস্ত্রে হাফিজ (الحافظ) আল-আসকালানি এতটা প্রসিদ্ধ ছিলেন না। কেনই বা হবে না? কারণ তিনি তার সমনামী ছিলেন, ফলে নামে ও গুণাবলীতে তিনি তার সাথে সাদৃশ্য রাখতেন এবং হারাম শরীফের সান্নিধ্যে তার অবস্থান তার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছে। আমি বলি: তার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে ফিকহ শাস্ত্রের ফাতাওয়া কুবরা এবং সুগরা এবং আল-ফাতাওয়াল হাদিসিয়্যাহ। এটি শাইখ আব্দুল্লাহ মিরদাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নাসরুস নুর ওয়াজ জাহর কিতাবের সংক্ষিপ্তসার থেকে সমাপ্ত। আমি বলছি: এই জীবনীতে উল্লিখিত ব্যক্তির (রহিমাহুল্লাহ) আরও কিছু রচনা হলো: তোহফাতুল মুহতাজ বিশারহিল মিনহাজ (দশ খণ্ড), আল-ইফাদাহ ফিমা জাআ ফিল মারদা ওয়াল ইয়াদাহ, তাহরিরুল মাকাল ফিমা ইয়াহতাহুহু মুয়াদ্দিবুল আতফাল, তালখিসুল আহরা ফি তালিকেত তালাক বিল ইবরা, তাকফিরুল কাবায়ের, শারহু বানাত সুয়াদ, মাবলাগুল কুরব ফি ফাখরিল আরব, আল-ইফসাহ আন আহাদিসিন নিকাহ, আশরাফুল মাদখিল ইলা মা'রিফাতিশ শামায়েল, আল-আরবাউন আল-আদলিয়্যাহ, তানবিহুল আখইয়ার, তাতহিরুল আইবাহ মিন দানাসিল গিবাহ, সাবাতু শুয়ুখিহি, দুররুল গামামাহ ফি দুররিত তাইলাসান ওয়াল আম্মাহ, কুররাতুল আইন ফি আন্নাত তাবাররুআ লা ইয়ুবতিলুহুদ দাইন, আল-মানাহিলুল আজবাহ ফি ইসলাহিল কাবাহ এবং ইত্তিহাফু আহলিল ইসলাম বি খুসুসিয়্যাতিস সিয়াম। ইত্তিহাফু আহলিল ইসলাম বি খুসুসিয়্যাতিস সিয়াম গ্রন্থের উস্তাদ মাহমুদ আন-নাওয়াবির ভূমিকা থেকে সমাপ্ত। আমি এটি সংক্ষেপ করেছি এবং এর ওপর টীকা প্রদান করেছি, সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর জন্য। আমি এর নামকরণ করেছি 'মুখতাসারু ইত্তিহাফি আহলিল ইসলাম বি খুসুসিয়্যাতিস সিয়াম' এবং এর টীকায় আমি চার ইমামের (আল্লাহ তাদের সবার প্রতি রহম করুন, আমিন) উক্তি উল্লেখ করেছি। এটি মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহ এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وبجميع كتبي كما نفع بأصولها آمين، وللمترجم له وقف عقار بمكة في محلتي سوق الليل والقشاشية يدخل فيه آل المرحومي وآل سنبل وبعض من قال المفتي الأحناف لأنهم أسباطه فإنه لم يعقب ذكوراً والله أعلم. أقول: ذكر الأستاذ محمود النواوي في مقدمته السالفة الذكر في ترجمة المحقق ابن حجر المكي أن وفاته كانت سنة 995 هـ ثم قال: ومن الناس من يقول إنها كانت سنة 975 هـ وهذا تفاوت بعيد وإنما العلم عند الله وحده. اهـ. أقول: جاء في حاشية المترجم له على إيضاح الإِمام النووي أنه فرغ من تحريرها غروب شمس ثامن ذي الحجة سنة 979 هـ، فهذا مما يدل على أن المترجم له عاش بعد ما قاله بعض الناس والمترجم له ومَنْ شاكله سلفاً وخلفاً من أهل العلم قد خلّدَ الله ذكرهم بالعلم بسبب إخلاصهم فهم أحياء على مدى الأزمان والدهور ورحم الله القائل:
أخو العلم حيٌّ خالد بعد موته
… وأوصاله بين التراب رميم
وذو الجهل مَيْت وهو يمشي على الثرى
… يُعَدُ من الأحياء وهو عديم
التعريف بمؤلف الإِفصاحكان الله له آمين
هو عبد الفتاح بن حسين بن إسماعيل بن محمد طيب راوه المكي. ولد بمكة المكرمة عام 1334 هـ تقريباً، ذكر له والده رحمه الله تعالى أن جدهم نزل أرض راوه كوت راجا بأندونيسيا، وأصله عمودي من حضرموت والعلم عند الله {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] نسأله تعالى أن يتغمدنا بعفوه آمين.
تلقى مبادئ القراءة والكتابة في بعض كتاتيب مكة المكرمة على بعض
এবং আমার সকল কিতাব দ্বারা (তিনি যেন উপকৃত করেন), যেমনিভাবে তিনি এগুলোর মূল পাণ্ডুলিপি দ্বারা উপকৃত করেছেন, আমিন। যাঁর জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে (المترجم له), মক্কায় সুক আল-লাইল এবং আল-কাশাশিয়া মহল্লায় তাঁর একটি স্থাবর সম্পত্তির ওয়াকফ রয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত আল-মারহুমি ও আল-সুনবুল পরিবার এবং তাদের মধ্য হতে যারা হানাফি মুফতি হিসেবে পরিচিত; কারণ তারা তাঁর দৌহিত্র (أسباط), কেননা তিনি কোনো পুত্রসন্তান রেখে যাননি। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আমি বলছি: উস্তাদ মাহমুদ আল-নাওয়াবি তাঁর পূর্বে উল্লেখিত মুকাদ্দিমায় (উপস্থাপনায়) মুহাক্কিক (محقق) ইবনে হাজার আল-মাক্কির জীবনীতে (ترجمة) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৯৯৫ হিজরি সনে। অতঃপর তিনি বলেন: আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, তাঁর মৃত্যু ৯৭৫ হিজরি সনে হয়েছিল। আর এটি একটি বড় ব্যবধান। প্রকৃত জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটেই। (সমাপ্ত)। আমি বলছি: যাঁর জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে (المترجم له) ইমাম নববির ‘ইজাহ’ কিতাবের ওপর তাঁর হাসিয়া (حاشية)-তে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ৯৭৯ হিজরি সনের ৮ই জিলহজ সূর্যাস্তের সময় এটি সম্পাদনা সম্পন্ন করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, যাঁর জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে (المترجم له), কিছু লোক যা বলেছে, তিনি তার পরেও জীবিত ছিলেন। যাঁর জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে (المترجم له) এবং তাঁর সমপর্যায়ের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী (سلفاً وخلفاً) আলেমগণের (أهل العلم) স্মৃতিকে আল্লাহ তাআলা তাঁদের ইখলাসের কারণে ইলমের মাধ্যমে অমর করে রেখেছেন। ফলে তাঁরা সর্বকালে জীবিত। আর আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত পঙক্তি উচ্চারণকারীর ওপর রহম করুন:
জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি মৃত্যুর পরেও অমর হয়ে জীবিত থাকেন
… যদিও তাঁর হাড়গোড় মাটির ধূলিকণায় জরাজীর্ণ।
আর মূর্খ ব্যক্তি মৃত, যদিও সে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করে
… সে জীবিতদের মাঝে গণ্য হলেও প্রকৃতপক্ষে অস্তিত্বহীন।
আল-ইফসাহ গ্রন্থের লেখকের পরিচিতিআল্লাহ তাঁর সহায় হোন, আমিন
তিনি হলেন আবদুল ফাত্তাহ বিন হুসাইন বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ তাইয়্যিব রাওয়াহ আল-মাক্কি। তিনি আনুমানিক ১৩৩৪ হিজরি সনে মক্কাতুল মুকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিকট উল্লেখ করেছেন যে, তাঁদের পূর্বপুরুষ ইন্দোনেশিয়ার ‘রাওয়াহ কুত রাজা’ নামক স্থানে অবতরণ করেছিলেন। তাঁর বংশমূল হাদরামাউতের আমূদী গোত্রীয়, আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট। {নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াসম্পন্ন} [হুজুরাত: ১৩]। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁর ক্ষমার চাদরে আবৃত করে নেন, আমিন।
তিনি মক্কাতুল মুকাররমার কিছু মক্তবসমূহে (كتاتيب) প্রাথমিক পঠন ও লিখন শিক্ষা লাভ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المشايخ. منهم الشيخ الورع الصالح عبد الحميد المليباري وكان يدرس بالموضع المعروف بمولد السيد فاطمة الزهراء بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم بزقاق الحجر شارع الصاغة، يقوم عليه الآن بناء مدرسة تحفيظ القرآن، ثم أدخل مدرسة المسعى في ذلك الحين بمدرسة الخياط رحمه الله تعالى ثم تلقى علومه بمدرستي الفلاح والصولتية وبالمسجد الحرام على عدة مشايخ.
منهم مسند الحرمين ومحدثهما شيخه وشيخ مشايخه العلامة الشيخ عمر حمدان المحروسي المتوفي بالمدينة المنورة عام 1368 هـ وقد أجازه بجميع مروياته وكتب له بذلك بخط يده على ثبت الشيخ محفوظ الترمسي رحمه الله وهي موجودة بثبت المؤلف المسمى بالمصاعد الراويَّة إلى الأسانيد والكتب والمتون المرضية وهو مطبوع نفع الله به وبجميع كتبي آمين.
ومنهم العلامة الورع شيخة وشيخ مشايخه الشيخ عيسى بن محمد رواس المتوفى بمكة عام 1365 هـ.
ومنهم العلامة المتفنن الشيخ محمد علي بن حسين المالكي المتوفى بالطائف عام 1367 هـ.
ومنهم العلامة الورع الزاهد الشيخ إبراهيم الخزامي المكي المقرئ والد الأستاذ صالح الخزامي المفتش سابقاً بوزارة المعارف السعودية المتوفى بمكة المكرمة.
ومنهم العلامة الشريف العلوي الحبيب عيدروس بن سالم البار المتوفى بمكة عام 1367 هـ وقد أجازه بجميع مروياته وكتب له بذلك إجازة وهي مذكرة في ثبت المؤلف المسمى بالمصاعد الراويّة إلى الأسانيد والكتب والمتون المرضية وهو مطبوع نفع الله به آمين.
মাশায়েখগণের মাঝে রয়েছেন পরহেজগার (ورع) ও পুণ্যবান (صالح) শায়খ আব্দুল হামিদ আল-মালিবারী। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা সাইয়্যিদা ফাতিমা আজ-জাহরা-এর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত স্থানে পাঠদান করতেন, যা সাকা রোডের জুকাকুল হাজার নামক গলিতে অবস্থিত। বর্তমানে সেখানে একটি কুরআন হিফজ মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। অতঃপর তিনি সেই সময় আল-খাইয়াত (রহ.) মাদরাসার সাথে মাদরাসাতুল মাসআ-তে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর তিনি মাদরাসা আল-ফালাহ, মাদরাসা আস-সাওলাতিয়্যাহ এবং মসজিদে হারামে বহু শায়খের নিকট ইলম অর্জন করেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন হারামাইনের মুসনিদ (مسند) এবং মুহাদ্দিস (محدث), তাঁর শায়খ এবং তাঁর শায়খদেরও শায়খ আল্লামা শায়খ উমর হামদান আল-মাহরূসী, যিনি ১৩৬৮ হিজরি সালে মদীনাতুল মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁকে তাঁর সকল বর্ণিত বর্ণনার (مرويات) ইজাজত (إجازة) প্রদান করেছিলেন এবং শায়খ মাহফুজ তিরমিসী (রহ.)-এর সাবাত (ثبت)-এর ওপর নিজ হাতে তা লিখে দিয়েছিলেন। এটি লেখকের 'আল-মাসায়িদুর রাবিয়্যাহ ইলাল আসানিদি ওয়াল কুতুবি ওয়াল মাতুনিল মারদিয়্যাহ' নামক সাবাত-এ (ثبت) বিদ্যমান রয়েছে। এটি মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহ এর দ্বারা এবং আমার সকল কিতাব দ্বারা উপকৃত করুন, আমিন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন পরহেজগার (ورع) আল্লামা, তাঁর শায়খ এবং তাঁর শায়খদের শায়খ শায়খ ঈসা ইবনে মুহাম্মদ রাওয়াস, যিনি ১৩৬৫ হিজরি সালে মক্কায় ইন্তেকাল করেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী (متفنن) আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আলী ইবনে হুসাইন আল-মালিকী, যিনি ১৩৬৭ হিজরি সালে তায়েফে ইন্তেকাল করেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন পরহেজগার (ورع) ও দুনিয়াবিমুখ (زاهد) আল্লামা শায়খ ইব্রাহিম আল-খুজামী আল-মাক্কী আল-মুকরি। তিনি সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন পরিদর্শক উস্তাদ সালিহ আল-খুজামীর পিতা, যিনি মক্কা মোকাররমায় ইন্তেকাল করেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা শরীফ আল-আলভী আল-হাবিব আইদারুস ইবনে সালিম আল-বার, যিনি ১৩৬৭ হিজরি সালে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁকে তাঁর সকল বর্ণিত বর্ণনার (مرويات) ইজাজত (إجازة) প্রদান করেন এবং সেই মর্মে একটি ইজাজতনামা (إجازة) লিখে দেন। এটি লেখকের 'আল-মাসায়িদুর রাবিয়্যাহ ইলাল আসানিদি ওয়াল কুতুবি ওয়াল মাতুনিল মারদিয়্যাহ' নামক সাবাত-এ (ثبت) উল্লেখিত আছে। এটি মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহ এর দ্বারা উপকৃত করুন, আমিন।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومنهم السيد العلوي العلامة بكر بن سالم البار المتوفى بمكة.
ومنهم الشيخ العلامة حسن بن محمد المشاط المتوفى بمكة صبح الأربعاء بتاريخ 7/ 10/ 1399 هـ.
ومنهم العلامة الشيخ يحيى أمان المتوفى بمكة عام 1389 هـ.
ومنهم الشيخ العلامة محمد العربي التباني الجزائري المتوفى بمكة عام 1390 هـ.
ومنهم المحدث الشيخ عبد الله بخاري النمنقداني المدرس بالمدرسة الصولتية سابقاً المتوفى بمكة عام 1362 هـ وله بها عقب منهم الكاتب الشهير عبد الكريم عبد الله نيازي.
ومنهم السيد العلامة بكر حبشي والسيد طاهر حبشي المتوفيان بمكة والسيد العلامة محمد أمين كتبي المتوفى بمكة يوم الاثنين 4/ 1/ 1404 هـ والسيد العلامة علوي بن عباس المالكي المتوفى بمكة بتاريخ 25/ 2/ 1391 هـ وأجازه بجميع مروياته وكتب له إجازة بخطه على ثبته المسمى إتحاف ذوي الهمم العلية وهي موجودة بالمصاعد الراوية، والعلامة الشيخ محمد نور سيف والعلامة الشيخ زكريا عبد الله بيلا، والشيخ أحمد آل منصور الفقيه. والشيخ زبير فلفلان والشيخ عبد الرحمن أسعد اليمني والسيد محمد سليمان نوري، والشيخ عبد السلام عمر الداغستاني والشيخ حامد كعكي والشيخ العلامة السيد حسن سعيد اليماني والشيغ العلامة سعيد الخليدي اليمني رحمه الله تعالى والشيخ العلامة أحمد ناضرين والسيد العلامة إسحق عزوز.
তাদের মধ্যে রয়েছেন আস-সাইয়্যিদ আল-আলাভি সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) বকর বিন সালিম আল-বার, যিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাশশাত, যিনি ৭/১০/১৩৯৯ হিজরি বুধবার সকালে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) শায়খ ইয়াহইয়া আমান, যিনি ১৩৮৯ হিজরি সালে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) মুহাম্মদ আল-আরাবি আল-তাব্বানি আল-জাজাইরি, যিনি ১৩৯০ হিজরি সালে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন হাদিস বিশারদ (محدث) শায়খ আবদুল্লাহ বুখারি আন-নামানগানি, যিনি পূর্বে মাদরাসা সওলতিয়ায় শিক্ষকতা করতেন এবং ১৩৬২ হিজরি সালে মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন; সেখানে তাঁর বংশধর রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ লেখক আব্দুল করিম আব্দুল্লাহ নিয়াজি অন্যতম।
তাদের মধ্যে রয়েছেন আস-সাইয়্যিদ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) বকর হাবশি এবং আস-সাইয়্যিদ তাহির হাবশি, যারা উভয়েই মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন; এবং আস-সাইয়্যিদ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) মুহাম্মদ আমিন কুতবি, যিনি সোমবার ০৪/০১/১৪০৪ হিজরি তারিখে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন; এবং আস-সাইয়্যিদ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) আলাভি বিন আব্বাস আল-মালিকি, যিনি ২৫/০২/১৩Messages হিজরি তারিখে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তাঁকে তাঁর সকল বর্ণিত বিষয়সমূহ (مرويات) এর অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন এবং তাঁর বর্ণনাপুঞ্জ (ثبت) যার নাম ‘ইতহাফু যাউইল হিমাম আল-আলিয়াহ’, তাতে স্বহস্তে তাঁর জন্য একটি অনুমতিলিপি (إجازة) লিখে দিয়েছেন, যা ‘আল-মাসায়িদ আল-রাবিয়াহ’ গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে। আরও রয়েছেন সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) শায়খ মুহাম্মদ নূর সাইফ, সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) শায়খ জাকারিয়া আব্দুল্লাহ বিলা এবং শায়খ আহমদ আল মনসুর ফকিহ (فقيه)। এছাড়া শায়খ জুবাইর ফালফালান, শায়খ আব্দুর রহমান আসআদ আল-ইয়ামানি, আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ সুলাইমান নূরি, শায়খ আব্দুস সালাম উমর আদ-দাগিস্তানি, শায়খ হামিদ কাকি, শায়খ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) আস-সাইয়্যিদ হাসান সাঈদ আল-ইয়ামানি, শায়খ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) সাঈদ আল-খালিদি আল-ইয়ামানি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), শায়খ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) আহমদ নাদরিন এবং আস-সাইয়্যিদ সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত (علامة) ইসহাক আজুজ।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومنهم العلامة الشيخ عبد الله بن محمد بن حميد رئيس مجلس القضاء والرئيس العام للإشراف الديني على المسجد الحرام، حضر بعض مجالسه العلمية، المتوفى بمكة المكرمة ليلة الخميس 21/ 11/ 1402 هـ ودفن بالعدل بمكة.
وأجازه بعض من شاركه في الأخذ عن بعض مشايخه (منهم) العلامة الفقية الشيخ عبد الله بن سعيد محمد عبادي اللحجي الحضرمي وكتب له بذلك إجازة عامة على ثبته المسمى بكتاب المرقاة إلى الرواية والرواة وهي موجودة بالمصاعد الراوية، ومنهم العلامة المسند المتفنن الشيخ محمد ياسين بن عيسى الفاداني المكي المتوفى 28/ 12/ 1410 وكتب له بذلك إجازة خاصة بأسانيد الصحيحين والسنن الأربعة والموطأ وعامة بسائر مروياته. وأجازه أيضا بمجموعة المسلسلات والأوائل والأسانيد العالية وهي موجودة بالمصاعد الراوية. ومنهم العلامة المحدث الفقيه الأصولي عبد الله الصديق الحسني الطنجي المغربي وكتب له بذلك إجازة على ثبت العلامة عبد الله الشبراوي الذي يليه ارتشاف الرحيق من أسانيد عبد الله الصديق بجميع ما حواه هذا الثبت وبجميع مروياته ومؤلفاته وهي موجودة بالمصاعد الراوية وغير هؤلاء العلماء الفضلاء ممن لم تذكر أسماؤهم جزاه الله وجزاهم خير الجزاء ورحمه ورحمهم والمسلمين والمسلمات آمين.
ثم أجيز بالتدريس بالمسجد الحرام عام 1357 هـ. وعيّن مدرساً بدار الأيتام بمكة إلى غاية 29/ 9/ 1359 هـ. وكان من الأساتذة الذين تخرج على أيديهم الفوج الأول من دار الأيتام؛ كالسيد العقيد محسن عنقاوي، والسيد عبد العزيز أولياء رحمه الله تعالى رئيس إدارة الجوازات والجنسية بجدة سابقا، والعقيد هاشم عبد المولى، والعقيد يوسف نجار رحمه الله تعالى،
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা শায়খ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হুমাইদ, যিনি বিচার বিভাগীয় পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মসজিদুল হারামের ধর্মীয় তত্ত্বাবধানের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি তাঁর কিছু ইলমি মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি ১৪০২ হিজরির ১১ জিলকদ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মক্কাতুল মোকাররমায় ইন্তেকাল করেন এবং মক্কার আদল কবরস্থানে সমাহিত হন।
এবং তাঁর কিছু সহপাঠী, যাঁরা তাঁর সাথে তাঁর কতিপয় উস্তাদের নিকট থেকে ইলম অর্জনে শরিক ছিলেন, তাঁরা তাঁকে অনুমতিপত্র (إجازة) প্রদান করেছেন। (তাঁদের মধ্যে) অন্যতম হলেন আল্লামা ফকিহ (الفقيه) শায়খ আবদুল্লাহ বিন সাঈদ মুহাম্মদ আব্বাদি আল-লাহজি আল-হাদরামি। তিনি তাঁর 'আল-মিরকাত ইলা আর-রিওয়ায়াতি ওয়ার-রুওয়াত' নামক বর্ণনা সংকলন (ثبت)-এর ওপর তাঁকে একটি সাধারণ অনুমতিপত্র (إجازة عامة) লিখে দিয়েছেন, যা 'আল-মাসায়িদ আর-রাবিয়াহ' গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী (المتفنن) ও হাদিস বর্ণনাকারী (المسند) আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ ইয়াসিন বিন ঈসা আল-ফাদানি আল-মাক্কি (মৃত্যু ২৮/১২/১৪১০ হিজরি)। তিনি তাঁকে সহিহাইন, সুনান চতুষ্টয়, মুয়াত্তা এবং তাঁর বর্ণিত সমস্ত হাদিসসমূহ (مروياته) সম্পর্কে একটি বিশেষ অনুমতিপত্র (إجازة خاصة) লিখে দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি তাঁকে মুসালসাল হাদিসসমূহ (المسلسلات), আউয়াইল (الأوائل) এবং উচ্চ স্তরের সনদসমূহ (الأسانيد العالية)-এর সংকলনেরও অনুমতিপত্র (إجازة) প্রদান করেছেন, যা 'আল-মাসায়িদ আর-রাবিয়াহ' গ্রন্থে সংগৃহীত আছে। তাঁদের মধ্যে আরও আছেন আল্লামা হাদিস বিশারদ (المحدث), ফকিহ (الفقيه) ও উসুলবিদ (الأصولي) আবদুল্লাহ আল-সিদ্দিক আল-হাসানি আত-তাঞ্জি আল-মাগরিবি। তিনি আল্লামা আবদুল্লাহ আশ-শাবরাউয়ির বর্ণনা সংকলন (ثبت)-এর ওপর তাঁকে অনুমতিপত্র (إجازة) প্রদান করেছেন, যার পরবর্তী অংশ হলো আবদুল্লাহ আল-সিদ্দিকের সনদসমূহ (أسانيد) থেকে নির্যাসিত 'আরতিশাফুর রাহিক'। এই বর্ণনা সংকলন (ثبت)-এ যা কিছু অন্তর্ভুক্ত আছে এবং তাঁর সকল বর্ণিত হাদিসসমূহ (مروياته) ও রচনাবলির অনুমতি (إجازة) তিনি দিয়েছেন, যা 'আল-মাসায়িদ আর-রাবিয়াহ' গ্রন্থে বিদ্যমান। এই সকল বরেণ্য আলেম ছাড়াও আরও অনেকেই রয়েছেন যাঁদের নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ও তাঁদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর ওপর ও তাঁদের ওপর এবং সকল মুসলিম নর-নারীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আমিন।
অতঃপর ১৩5৭ হিজরিতে তাঁকে মসজিদুল হারামে পাঠদানের অনুমতি (إجازة) প্রদান করা হয়। তিনি ১৩৫৯ হিজরির ২৯ রমজান পর্যন্ত মক্কার দারুল আইতামে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি সেই সকল শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁদের তত্ত্বাবধানে দারুল আইতামের প্রথম ব্যাচ উত্তীর্ণ হয়েছিল; যেমন—কর্নেল সাইয়্যিদ মহসিন আনকাউয়ি, জেদ্দার পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব অধিদপ্তরের প্রাক্তন প্রধান সাইয়্যিদ আব্দুল আজিজ আউলিয়া (রহিমাহুল্লাহ), কর্নেল হাশেম আব্দুল মাওলা এবং কর্নেল ইউসুফ নাজ্জার (রহিমাহুল্লাহ)।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والعقيد سعيد الكردي، والعقيد محمد الغرابي العسيري، وجميع زملائهم.
ثم في آخر عام 1359 هـ. انتقل إلى مديرية المعارف في عهد مديرها السيد طاهر الدباغ رحمه الله تعالى، فعين مديراً لمدرسة خميس مشيط بجنوب المملكة العربية السعودية وكان أول مدير لها، فتخرج على يديه بمدرسة خميس مشيط جمع ممن يشغلون الآن وظائف حكومية؛ منهم الأستاذ فهد بن عليط كاتب إمارة بيشة، والأستاذ محمد سعد أبو كف، والأستاذ سعد بن محمسة، وأولاد ابن برقان، وأولاد سعيد عوض، وجماعة من آل عبد الوهاب أبي ملحة، وآل عطرس، وآل بن باحص، وآل ابن قرعة، وسليمان بن محمد المطوع، وآل ابن نابت ناصر وأخوه، وسعيد بن ظافر بن حمدان، وكثير غيرهم نفع الله بهم تلك الجهة بالتدريس وبث العلم ثم طلب النقل للقرب من مكة المكرمة فعين مدرساً من الدرجة الأولى بالمدرسة السعودية بجدة حيث لم توجد إدارة مدرسة شاغرة حينذاك ثم طلب النقل إلى مدارس مكة عام 1365 هـ فعين مدرساً بالمدرسة الفيصلية ثم مساعد مدير المدرسة الرحمانية الأستاذ عبد الله الساسي رحمه الله عام 1373 هـ ثم في عام 1379 هـ عين مدرساً ثانوياً بالمدرسة العزيزية الثانوية ثم في عام 1394 هـ أحيل إلى التقاعد حسب النظام، ثم في عام 1395 هـ طلب مدرساً بمعهد المسجد الحرام تبع الشؤون الدينية، فدرس به، وفي أيام العطلة الصيفية يدرس بمسجد ابن عباس رضي الله تعالى عنهما بالطائف، وبمسجد الهادي بالطائف أيضاً.
مؤلفاته:
التعليق الأسنى شرح منظومة أسماء الله الحسنى، نظمت في اثني عشر بيتاً سهلة للحفظ، وسيد ولد آدم صلى الله عليه وسلم في السيرة النبوية، ومختصر إتحاف أهل
কর্নেল সাঈদ আল-কুর্দি, কর্নেল মুহাম্মদ আল-গুরাবি আল-আসারি এবং তাঁদের সকল সহকর্মী।
অতঃপর ১৩৫৯ হিজরি সালের শেষের দিকে, তিনি তৎকালীন শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক সাইয়্যেদ তাহের আদ-দাব্বাগ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর আমলে সেখানে স্থানান্তরিত হন। তাঁকে সৌদি আরব রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত খামিস মুশায়াত মাদ্রাসার পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি ছিলেন সেই মাদ্রাসার প্রথম পরিচালক। তাঁর হাত ধরে খামিস মুশায়াত মাদ্রাসায় একদল শিক্ষার্থী শিক্ষালাভ করেন যারা বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োজিত আছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশা প্রদেশের লেখক উস্তাদ ফাহাদ বিন আলায়িত, উস্তাদ মুহাম্মদ সাদ আবু কাফ, উস্তাদ সাদ বিন মুহমাসাহ, ইবনে বুরকানের সন্তানাদি, সাঈদ আওয়াদ-এর সন্তানাদি, আল আবদ আল-ওয়াহহাব আবি মুলহা-এর একদল ব্যক্তি, আল আতরাস পরিবার, আল বিন বাহিস পরিবার, আল ইবনে কুরাহ পরিবার, সুলাইমান বিন মুহাম্মদ আল-মুতাওয়া, আল ইবনে নাবিত নাসের ও তাঁর ভাই, সাঈদ বিন জাফির বিন হামদান এবং আরও অনেকে। আল্লাহ তাআলা তাঁদের মাধ্যমে শিক্ষাদান ও জ্ঞান বিস্তারের দ্বারা সেই অঞ্চলের প্রভূত কল্যাণ সাধন করেছেন। অতঃপর তিনি মক্কা মুকাররমার সন্নিকটে আসার জন্য বদলির আবেদন করেন, তখন জেদ্দার মাদ্রাসা সৌদিয়াতে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন, কারণ তখন কোনো মাদ্রাসার প্রশাসনিক পদ খালি ছিল না। এরপর তিনি ১৩৬৫ হিজরি সালে মক্কার মাদ্রাসাগুলোতে বদলির আবেদন করেন এবং ফয়সালীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। অতঃপর ১৩৭৩ হিজরি সালে উস্তাদ আব্দুল্লাহ আস-সাসি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর আমলে রাহমানিয়া মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক হন। এরপর ১৩৭৯ হিজরি সালে আজিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৩৯৪ হিজরি সালে নিয়মানুযায়ী তাঁকে অবসরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১৩৯৫ হিজরি সালে ধর্মীয় বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে মসজিদে হারাম ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে আহুত হন এবং সেখানে তিনি পাঠদান করেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটির দিনগুলোতে তিনি তায়েফের মসজিদ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং তায়েফের আল-হাদি মসজিদেও পাঠদান করতেন।
তাঁর রচনাবলি:
আত-তালিকুল আসনা শারহু মানযূমাতি আসমাইল্লাহিল হুসনা (এটি মুখস্থ করার জন্য সহজ বারোটি পঙ্ক্তিতে রচিত), রাসুলের জীবনী (السيرة النبوية) বিষয়ক গ্রন্থ সাইয়্যেদু ওয়ালদি আদম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এবং সংক্ষিপ্তসার (مختصر) ইতহাফি আহল...
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الإسلام بخصوصيات الصيام، اختصر فيه كتاب العلامة أحمد بن حجر الهيتمي المكي رحمه الله تعالى، وإتحاف الصديق بمناقب الصديق أبي بكر رضي الله عنه، والكوكب الأغر على قطف الثمر في موافقات عمر رضي الله عنه للقرآن والتوراة والأثر، والاتزان في مناقب عثمان رضي الله تعالى عنه، وملتقى الأصفياء في مناقب الإِمام علي والسبطين والزهراء رضوان الله تعالى عليهم جميعاً، والدرر اللؤلؤية على النفحة الحسنية شرح التحفة السنية في علم الفرائض، والمجموعة الراويّة شرح المنظومة الرحبية وهي شرح مبسط بالجدول والشبابيك أيضاً يكتفي طالب علم الفرائض في هذه العصور بهما عن غيرهما إن شاء الله تعالى، ومرشد الحاج والمعتمر والزائر إلى أعمال الحج والعمرة والزيارة، والسيدة الكبرى خديجة بنت خويلد رضي الله تعالى عنها، وهي رسالة في مناقبها، وزيادة تعليق على رياض الصالحين، والإفصاح عن مسائل الإيضاح للإمام النووي على مذاهب الأئمة الأعلام في المناسك وهو هذا الكتاب، والدعاء المقبول الوارد عن الرسول صلى الله عليه وسلم وسؤال وجواب في الأحوال الأربعينية في علم الميراث، والمصاعد الرواية ثبت ذكر فيه المؤلف مشايخه ومجيزيه، وتاريخ أمراء مكة البلد الحرام عبر عصور سلام والجميع مطبوع نفع الله به آمين.
أولاده: خمسة عشر ولداً، من الذكور ثمانية: عثمان، ومعتوق، ومحمد علي، وعبد العزيز، وخالد، ومصطفى، وأحمد، وإبراهيم. ومن الإناث سبع، كان الله له ولهم وللمسلمين والمسلمات ورحم الله الجميع أحياءً وأمواتاً آمين.
'ইসলাম বি-খুসাসিয়্যাতিস সিয়াম' (রোজার বৈশিষ্ট্যসমূহ), এতে তিনি আল্লামা আহমদ বিন হাজার আল-হাইতামী আল-মাক্কী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবকে সংক্ষেপ করেছেন; 'ইতহাফুস সিদ্দিক বি-মানাকিবিস সিদ্দিক' (আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা বর্ণনায়); 'আল-কাওকাবুল আগার আলা কাতফিস সামার' যা কুরআন, তাওরাত ও আসার (أثر)-এর আলোকে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনুকূল বিষয়াদি সংক্রান্ত; 'আল-ইতিজান ফী মানাকিবি উসমান' (উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা বর্ণনায়); 'মুলতাকাল আসফিয়া ফী মানাকিবিল ইমাম আলী ওয়াস সিবতাইন ওয়াজ জাহরা' (ইমাম আলী, হাসান-হুসাইন এবং ফাতিমা আজ-জাহরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মর্যাদা বর্ণনায়); 'আদ-দুরারুল লু’লুইয়্যাহ আলা আন-নাফহাতিল হাসানিয়্যাহ', যা উত্তরাধিকার বিজ্ঞানের 'আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এবং 'আল-মাজমুআতুর রাউইয়্যাহ শারহুল মানজুমাতুর রাহবিয়্যাহ', যা ছক ও তালিকা সম্বলিত একটি সহজবোধ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ—বর্তমান যুগের উত্তরাধিকার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য ইনশাআল্লাহ এই দুটি কিতাবই অন্য সবকিছুর বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে। আরও রয়েছে 'মুরশিদুল হাজ্জ ওয়াল মুতামির ওয়াজ জায়ির' (হজ, উমরা ও যিয়ারতের আমল সংক্রান্ত নির্দেশিকা); 'আস-সাইয়্যিদাতুল কুবরা খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ' (রাদিয়াল্লাহু আনহা) যা তাঁর মর্যাদা বিষয়ক একটি পুস্তিকা; রিয়াদুস সলিহীন-এর ওপর অতিরিক্ত টীকা; এবং ইমাম নববীর 'আল-ইদাহ' কিতাবের মাসায়েল বিষয়ক ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ইফসাহ', যা প্রখ্যাত ইমামগণের মাযহাব অনুযায়ী হজের বিধিবিধান সংক্রান্ত এবং এটিই সেই বর্তমান কিতাব। এছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত 'আদ-দুআউল মাকবুল'; উত্তরাধিকার বিজ্ঞানের চল্লিশ অবস্থার ওপর প্রশ্নোত্তর সম্বলিত কিতাব; 'আল-মাসায়িদুর রাউইয়্যাহ' নামক একটি সাবাত (ثبت) বা সনদ সংকলন যেখানে লেখক তাঁর মাশায়েখ ও ইজাজত প্রদানকারীদের কথা উল্লেখ করেছেন; এবং 'তারিখু উমরায়ি মক্কাতুল বালাদিল হারাম আবরা উসুরিস সালাম' (বিভিন্ন যুগে পবিত্র নগরী মক্কার আমিরদের ইতিহাস)। এই সবগুলিই মুদ্রিত হয়েছে। আল্লাহ এর মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করুন। আমিন।
তাঁর সন্তানসন্ততি: পনেরোজন সন্তান, তাঁদের মধ্যে আটজন পুত্র: উসমান, মাতুক, মুহাম্মদ আলী, আব্দুল আজিজ, খালিদ, মুস্তফা, আহমদ এবং ইব্রাহিম। এবং সাতজন কন্যা। আল্লাহ তাঁর জন্য, তাঁদের জন্য এবং সকল মুসলিম নর-নারীর জন্য সহায় হোন এবং জীবিত ও মৃত সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমিন।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة صاحب الإِفصاحالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله، والصلاة والسلام على الرحمة المهداة من رب العالمين للخلق أجمعين سيدنا ونبينا محمد القائل: "أفضل الجهاد حج مبرور" والقائل: "من حج هذا البيت فلم يَرْفُثْ ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه" والقائل: "خذوا عني مناسككم" وعلى آله وصحبه شموس الهداية والدين وعلى من اقتفى آثارهم واهتدى بهديهم ودعا بدعوتهم آمين.
أما بعد: فقد وفقني الله بحوله وقوته فقمت بتلخيص كتيب في المناسك لخصته من كتاب الإِيضاح للإمام النووي وحاشيته للمحقق العلامة ابن حجر الهيتمي المكي رحمني الله ورحمهما وإخواني المسلمين والمسلمات رحمة الأبرار آمين.
وسميته "مرشد الحاج والمعتمر والزائر إلى أعمال الحج والعمرة والزيارة" وهو مطبوع نفع الله به وبجميع كتبي آمين. وبقي في نفسي أنْ أقوم بتعليق على كتاب الإيضاح أُبيِّنُ فيه مسائله على أقوال الأئمة، الذين اصطفاهم الله واختارهم من العباد، وألهمهم رشدهم وسلك بهم منهج
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল-ইফসাহ গ্রন্থের লেখকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আমরা কখনোই সঠিক পথ পেতাম না যদি না আল্লাহ আমাদের পথ প্রদর্শন করতেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক জগতসমূহের প্রতি রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমত, আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি বলেছেন: "সর্বোত্তম জিহাদ হলো মকবুল (مبرور) হজ।" এবং যিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই ঘরের (কাবা শরিফ) হজ পালন করল এবং কোনো প্রকার অশ্লীলতা ও পাপাচার করল না, সে তার গুনাহসমূহ থেকে সেই দিনের ন্যায় (নিষ্পাপ হয়ে) ফিরে আসবে যেদিন তার জননী তাকে প্রসব করেছিলেন।" এবং যিনি আরও বলেছেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি (مناسك) শিখে নাও।" আরও সালাম ও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবিদের ওপর, যাঁরা হেদায়াত ও দ্বীনের উজ্জ্বল নক্ষত্রস্বরূপ এবং তাঁদের ওপর যাঁরা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, তাঁদের প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয়েছেন এবং তাঁদের দাওয়াতের দিকে আহ্বান করেছেন। আমিন।
অতঃপর: আল্লাহ তাআলা তাঁর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে আমাকে তাওফিক দান করেছেন, ফলে আমি হজের নিয়মাবলি সংক্রান্ত একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা সারসংক্ষেপ করেছি। এটি আমি ইমাম নববির 'আল-ইজাহ' এবং এর ওপর মুহাক্কিক আল্লামা ইবনে হাজার আল-হাইতামি আল-মক্কির রচিত 'হাশিয়া' থেকে সংক্ষিপ্ত করেছি। আল্লাহ আমার প্রতি, তাঁদের উভয়ের প্রতি এবং আমার সকল মুসলিম ভাই-বোনের প্রতি পুণ্যবানদের ন্যায় রহমত বর্ষণ করুন। আমিন।
আমি এর নামকরণ করেছি "মুরশিদ আল-হাজ্জ ওয়াল-মুতামির ওয়াজ-জাইর ইলা আমালিল হাজ্জ ওয়াল-উমরা ওয়াজ-জিয়ারা"। এটি বর্তমানে মুদ্রিত; আল্লাহ এর দ্বারা এবং আমার সকল কিতাবের দ্বারা সকলের উপকার করুন। আমিন। আমার অন্তরে এই সুপ্ত বাসনা ছিল যে, আমি 'আল-ইজাহ' কিতাবের ওপর একটি টীকা (تعليق) প্রস্তুত করব যেখানে আমি এর মাসআলাসমূহকে ঐ সকল ইমামগণের মতামতের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট করব, যাঁদেরকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন, যাঁদের অন্তরে সঠিক পথের ইলহাম করেছেন এবং যাঁদেরকে এমন এক কর্মপন্থা বা মানহাজ (منهج) এর পথে পরিচালিত করেছেন অনুসরণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الرشاد، وفتح عليهم في العلوم منطوقها والمفهوم، بعد أن توجهوا إلى ذلك بهمم عليّة وعزائم قوية ونفوس أبيّة، وبرزوا في حلبات الجد والاجتهاد حتى تأهلوا لتفهم معاني وأسرار كلام الرحمن، وسنة خير مبعوث من بني الإنسان، وَقَدرُوا على استنباط الأحكام والمسائل منها دينية ودنيوية بحق وجدارة، لا بثرثرة وفتح أشداق، كما يدّعي بعض الجهلة القدرة عليه وأنه مِنَ الّذين قال الله فيهم: {لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: 83] وذاته خاوية من العلم وصالح العمل ورحم الله القائل:
وكلٌّ يَدَّعِي وصلاً بليلى
… وليلى لا تقر لهم بذاكا
وهذا البعض الثرثار الجاهل المدعي الاجتهاد والقدرة على الاستنباط مع خلوه من الشروط المطلوبة له يصدق عليه قول القائل رحمه الله تعالى:
تصدر للتدريس كل مهوس
… جهول يسمى بالفقيه المدرس
وحُقّ لأهل العلم أن يتمثلوا
… ببيت قديم شاع في كل مجلس
لقد هَزُلت حتى بدا من هُزالها
… كُلاها وحتى آسْتامَهَا كلُّ مفلس
فلما عزمتُ على ذلك طلبت منه سبحانه وتعالى العونَ فأجابَ بدليلِ نشاطي على المطالعة في كتاب المجموع وفي شرح مسلم وفي كتاب تهذيب الأسماء واللغات، والجميع للمصنف، وفي كتاب المغني للعلامة ابن قدامة الحنبلي، وفي الجزء الخامس من أضواء البيان للعلامة محمد الأمين الجكني الشنقيطي المالكي، وفي كتاب رحمة الأمة للعلامة محمد بن عبد الرحمن الدمشقي العثماني الشافعي، وفي كتاب بداية المجتهد ونهاية المقتصد للعلامة ابن رشد المالكي، وفي حاشية الإيضاح للعلامة المحقق ابن حجر المكي الشافعي وفي بعض التقييدات، وفي عمدة الأبرار للعلامة علي بن عبد البر
সুপথের দিশা দান করেছেন এবং তাদের জন্য জ্ঞানের শব্দার্থ (منطوق) ও অন্তর্নিহিত মর্ম (مفهوم) উন্মুক্ত করেছেন, যখন তারা সুউচ্চ হিম্মত, শক্তিশালী সংকল্প ও মর্যাদাশীল প্রাণের সাথে সেদিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। তারা কঠোর পরিশ্রম ও ইজতিহাদের (اجتهاد) ময়দানে এমনভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত তারা করুণাময় আল্লাহর কালাম এবং মানবজাতির শ্রেষ্ঠ রাসূলের সুন্নাহর অর্থ ও রহস্য অনুধাবনের যোগ্য হয়ে উঠেছিলেন। তারা অত্যন্ত যোগ্যতা ও যথার্থতার সাথে তা থেকে দ্বীনি ও দুনিয়াবী বিধিবিধান ও মাসয়ালাসমূহ উদ্ভাবনের (استنباط) ক্ষমতা লাভ করেছিলেন; বাচালতা কিংবা মুখ বড় করে কথা বলার মাধ্যমে নয়, যেমনটি বর্তমানের কিছু মূর্খ দাবি করে থাকে যে তারা এর যোগ্য। তারা নিজেদের এমন এক স্তরের বলে দাবি করে যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {যাতে তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন (يستنبطونه) করে তারা তা জানতে পারে} [নিসা: ৮৩], অথচ তাদের সত্তা ইলম ও নেক আমল থেকে শূন্য। আল্লাহ সেই কবির প্রতি রহম করুন যিনি বলেছিলেন:
প্রত্যেকেই লায়লার সাথে সম্পর্কের দাবি করে
… অথচ লায়লা তাদের কারো দাবি স্বীকার করে না।
এই বাচাল ও মূর্খ ব্যক্তি, যে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি ছাড়াই ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং বিধিবিধান উদ্ভাবনের (استنباط) ক্ষমতার দাবিদার, তার ক্ষেত্রে সেই কবির কথাটিই প্রযোজ্য— আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহম করুন:
প্রত্যেক উন্মাদ আজ দরসদানের আসনে বসেছে
… এই মূর্খ ব্যক্তি নিজেকে ফকিহ (فقيه) ও মুদাররিস বলে দাবি করছে।
আহলে ইলমদের জন্য যথার্থ হয় এই প্রাচীন কবিতাটির উদাহরণ দেওয়া
… যা প্রতিটি মজলিসে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে:
বিষয়টি এতটাই রুগ্ণ হয়ে পড়েছে যে তার হাড়গোড় বেরিয়ে এসেছে
… এমনকি নিঃস্ব ব্যক্তিরাও এর মূল্য হাঁকতে শুরু করেছে।
যখন আমি এই কাজে সংকল্পবদ্ধ হলাম, তখন মহান সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে সাহায্য কামনা করলাম। তিনি আমার পাঠের আগ্রহ ও উদ্দীপনা বাড়িয়ে দিয়ে সেই দুআ কবুল করলেন। আমি আল-মাজমু, শরহে মুসলিম এবং তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (সবগুলোই মূল লেখকের রচিত), আল্লামা ইবনে কুদামা হাম্বলী রহ.-এর কিতাব আল-মুগনি, আল্লামা মুহাম্মদ আল-আমিন আল-জাকানি আশ-শানকিতি মালেকী রহ.-এর আদওয়াউল বায়ান-এর পঞ্চম খণ্ড, আল্লামা মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আদ-দিমাশকি আল-উসমানি শাফেয়ি রহ.-এর কিতাব রাহমাতুল উম্মাহ, আল্লামা ইবনে রুশদ মালেকী রহ.-এর বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাসিদ, গবেষক (محقق) আল্লামা ইবনে হাজার মাক্কি শাফেয়ি রহ.-এর হাশিয়াতুল ইদাহ, কিছু টীকা এবং আল্লামা আলী বিন আবদিল বার-এর উমদাতুল আবরার গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عبد الفتاح الونائي الشافعي، وفي إرشاد العلامة البطاح المكي الشافعي، وفي إعانة الطالبين للعلامة أبي بكر شطا الشافعي، وفي كتاب مفيد الأنام للشيخ عبد الله عبد الرحمن آل جاسر الحنبلي، وفي غيرها من الكتب جزى الله مؤلفيها خيراء ورحمني ورحمهم رحمة المقربين، فأخرجت بحول الله وقوته هذا التعليق، وسميته "الإِفصاح عن مسائل الإِيضاح" على مذاهب الأئمة الأعلام مصابيح السنّة مستنبطي الأحكام. فما وجدتَ يا أخيَّ من صواب فمن الله وما توفيقي إلاّ بالله، وما وجدتَ من خَطَأ فمنّي، وهذا نعتُ البشر، فإذا أُعْجبْتَ بشيء من ذلك فادع الله لي بحسن الخاتمة، وإنْ سَاءَكَ شيءٌ فاستغفر الله لي فإنه لا يغفر الذنوب إلاّ هو، وفي الختام أسأله تعالى أنْ يجعل عملي مقبولاً، وأن ينفع بكتبي جميعها كما نفع بأصولها وأن يحسن الخاتمة لي وللمسلمين والمسلمات آمين.
11/ 12/ 1400 هـ
مؤلف الإفصاح
عبد الفتاح حسين راوه المكي
আব্দুল ফাত্তাহ আল-ওয়ান্নাই আল-শাফিঈ-এর কিতাবে, আল্লামা আল-বাত্তাহ আল-মাক্কি আল-শাফিঈ-এর ইরশাদ গ্রন্থে, আল্লামা আবু বকর শাতা আল-শাফিঈ-এর ই’আনাতুত তালিবীন গ্রন্থে, এবং শেখ আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান আল-জাসির আল-হানবালি-এর মুফিদ আল-আনাম গ্রন্থে, এবং এর বাইরেও অন্যান্য কিতাবসমূহে [এসব বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে]; আল্লাহ এই কিতাবগুলোর লেখকদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমার ও তাঁদের প্রতি তাঁর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত বান্দাদের মতো রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রস্তুত করেছি এবং এর নামকরণ করেছি "আল-ইফসাহ আন মাসাইলিল ইদাহ", যা মহান ইমামগণের মাযহাবসমূহের আলোকে রচিত, যাঁরা ছিলেন সুন্নাহর প্রদীপ ও শরয়ী বিধানাবলির উদ্ভাবক। হে আমার ভাই! এতে যা কিছু সঠিক পাবেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর আমার তৌফিক কেবল আল্লাহর মাধ্যমেই। আর যা কিছু ভুল পাবেন তা আমার পক্ষ থেকে, কারণ এটিই মানুষের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং যদি আপনি এর কোনো কিছুতে মুগ্ধ হন, তবে আমার জন্য আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতির প্রার্থনা করবেন। আর যদি কোনো কিছু আপনাকে ব্যথিত করে, তবে আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, কারণ তিনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন না। পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজকে কবুল করেন, এবং আমার সকল কিতাব দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন যেভাবে তিনি সেগুলোর মূল কিতাবগুলো দ্বারা উপকৃত করেছেন, এবং আমার ও সকল মুসলিম নর-নারীর জন্য সুন্দর পরিসমাপ্তি দান করেন। আমিন।
১১/ ১২/ ১৪০০ হিজরি
আল-ইফসাহ-এর লেখক
আব্দুল ফাত্তাহ হুসাইন রাওয়াহ আল-মাক্কি
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الإِيضاحالحمد لله ذي الجلال (1) والإِكرام، والفضل والطول والمنن العظام (2)، الذي هدانا للإسلام (3)، وأسبغ علينا جزيل نِعَمِهِ (4) وألْطَافِهِ (5) الجسام، وكرّم الآدميين (6) وفضّلهم على غيرهم من الأنام (7)، ودعاهم برأفته ورحمته إلى دار
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইদাহ-এর ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মহানুভবতা (১) ও সম্মানের অধিকারী এবং যিনি অনুগ্রহ, বদান্যতা ও সুমহান নিআমতসমূহের (২) মালিক; যিনি আমাদের ইসলামের (৩) দিকে পরিচালিত করেছেন এবং আমাদের ওপর তাঁর প্রচুর নিআমত (৪) ও সুমহান অনুগ্রহরাজি (৫) পূর্ণতা দান করেছেন; আর তিনি আদম সন্তানকে (৬) সম্মানিত করেছেন এবং সৃষ্টিজগতের (৭) অন্য সবার ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং স্বীয় মমতা ও করুণায় তাদের (শান্তির) আবাসের দিকে আহ্বান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
السلام (1)، وأكرمهم بما شَرَعَه لهم من حَج بيته الحرام (2)، ويَسرَ ذلك على تكرر الدهور (3) والأعوام، وفرض حَجه على من استطاع إليه سبيلاً من الناس حتى الأغبياء والطغام (4).
أحمده أبلغ الحمد وأكمله وأعظمه وأتمّه وأشْمَلَه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إقراراً بوحدانيته وإذْعاناً لجلاله وعظمته وصمدانيته، وأشهد أنّ سيدنا محمداً عبده ورسوله المصطفى من خليقته والمختار من بريته صلى الله عليه وسلم وزاده شرفاً وفضلاً لديه.
أما بعد: فإن الحج أحد أركان الدين وَمِنْ أعظم الطاعات لرب العالمين وهو شِعَارُ أنبياءِ الله (5) وسائر عباد الله الصالحين صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين. فمِنْ أهَم الأمور بيان أحكامه (6)، وإيضاح مناسكه (7) وأقسامه (8)،
--------------------------------------------
সালাম (১), এবং তিনি তাদেরকে সম্মানিত করেছেন তাঁর পবিত্র ঘর হজের (২) বিধান দেওয়ার মাধ্যমে, যা তিনি যুগ (৩) ও বছরের আবর্তনে সহজ করে দিয়েছেন এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর হজ ফরজ করেছেন, এমনকি স্বল্পবুদ্ধি ও সাধারণ মানুষের (৪) জন্যেও।
আমি তাঁর প্রশংসা করি—সর্বোত্তম, পূর্ণাঙ্গ, মহান, সুনিপুণ এবং ব্যাপক প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এটি তাঁর একত্বের স্বীকৃতি এবং তাঁর মহিমা, মাহাত্ম্য ও অমুখাপেক্ষিতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশস্বরূপ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত ও নির্বাচিত; তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং তাঁর নিকট তাঁর সম্মান ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাক।
অতঃপর: নিশ্চয়ই হজ ইসলামের অন্যতম রুকন এবং রাব্বুল আলামিনের আনুগত্যের মহান মাধ্যমসমূহের একটি। এটি আল্লাহর নবীগণ (৫) এবং তাঁর অন্যান্য নেককার বান্দাদের নিদর্শন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। তাই হজের বিধানাবলী (৬) বর্ণনা করা এবং এর নিয়মাবলি (৭) ও প্রকারভেদ (৮) স্পষ্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وذكر مصححاته (1) ومفسداته (2) وواجباته (3) وآدابه ومسنوناته (4) وسوابقه (5) ولواحقه (6) وظواهره (7) ودقائقه (8)، وبيان الحَرَم ومكة والمسجد والكعبة وما يتعلق بها من الأحكام وما تميزت به (9) عن سائر بلاد الإسلام. وقد جمعتُ هذا الكتاب مستوعباً لجميع مقاصدها (10) مستوفياً لكل ما يحتاج إليه من أصولها وفروعها ومعاقدها (11) وضمنته من النفائس (12) ما لا ينبغي لطالب الحج (13) أن تفوته معرفته (14) ولا تعزب عنه خبرته (15)، ولم أقتصر فيه على ما
--------------------------------------------
এবং এতে এর বিশুদ্ধকারী (مصححات) (১), নষ্টকারী (مفسدات) (২), ওয়াজিবসমূহ (واجبات) (৩), আদব (آداب) ও সুন্নতসমূহ (مسنونات) (৪), পূর্ববর্তী কার্যাবলি (سوابق) (৫), পরবর্তী কার্যাবলি (لواحق) (৬), বাহ্যিক বিষয় (ظواهر) (৭) এবং সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ (دقائق) (৮) উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হারাম শরিফ, মক্কা, মসজিদ ও কাবার বর্ণনা এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি ও ইসলামের অন্যান্য শহর থেকে এগুলো যে বৈশিষ্ট্যে অনন্য (تميز) (৯) তাও বিবৃত হয়েছে। আমি এই কিতাবটি এর সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে (مقاصد) (১০) অন্তর্ভুক্ত করে সংকলন করেছি; যেখানে এর মৌলিক বিষয় (أصول), শাখা-প্রশাখা (فروع) ও জটিল বিষয়াবলির (معاقد) (১১) যা কিছু প্রয়োজন তার সবটুকুই পূর্ণাঙ্গভাবে দেওয়া হয়েছে। এতে আমি এমন কিছু মূল্যবান বিষয় (نفائس) (১২) অন্তর্ভুক্ত করেছি যা কোনো হজ পালনকারীর (طالب الحج) (১৩) জন্য অজানা থাকা (১৪) বা তার প্রজ্ঞা (خبرة) (১৫) থেকে দূরে থাকা সমীচীন নয়। আর আমি এতে কেবল সেই বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকিনি যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يحتاج إليه في الغالب بل ذكرت فيه أيضاً (1) كل ما قد تدعو إليه حاجة الطالب بحيث لا يخفى عليه شيء من أمر المناسك في معظم الأوقات ولا يحتاج إلى السؤال لأحد عن شيء من ذلك في أكثر الحادثات وقصدت فيه أنْ يستغني به صاحبه (2) عن استفتاء غيره عما يحتاج إليه (3).
وأرجو أن لا يقع له شيء من المسائل إلا وَجَدَه فيه منصوصاً عليه وأحذف الأدلة في معظمه إيثاراً للاختصار (4) وخوفاً من الإِملال بالإِكثار وأحرص (5) على إيضاح العبارة (6) وإيجازها بحيث يفهمها العامي ولا يستتبعها الفقيه (7) لتعم فائدته وينتفع به القاصر (8) والنبيه. وقد صنف الشيخ الإِمام أبو عمرو بن الصلاح رحمه الله تعالى في المناسك كتاباً نفيساً وقد ذكرت مقاصده (9) في هذا الكتاب وزدت فيه مثله أو أكثر من النفائس التي لا يستغني عن معرفتها من له رغبة من الطلاب وعلى الله اعتمادي وإليه تفويضي (10)
--------------------------------------------
অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন হয়, বরং আমি এতে আরও (১) এমন সব বিষয় উল্লেখ করেছি যা একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হতে পারে, যাতে অধিকাংশ সময়েই হজ ও ওমরার নিয়মাবলি সংক্রান্ত কোনো বিষয় তার কাছে অস্পষ্ট না থাকে এবং অধিকাংশ উদ্ভূত ঘটনায় তাকে এ বিষয়ে অন্য কারো কাছে প্রশ্ন করার প্রয়োজন না হয়। আর এতে আমার উদ্দেশ্য হলো, এর নিয়মিত পাঠক (২) যেন তার প্রয়োজনীয় মাসআলা সম্পর্কে অন্যের কাছে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে (৩)।
আমি আশা করি যে, তার সামনে এমন কোনো মাসআলা আসবে না যার সমাধান এতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত নেই। আমি এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষেপণের (৪) উদ্দেশ্যে এবং অতিরিক্ত কথার মাধ্যমে বিরক্তি সৃষ্টির আশঙ্কায় দলীলসমূহ বর্জন করেছি। আমি বর্ণনাভঙ্গি স্পষ্ট (৫) ও সংক্ষিপ্ত (৬) করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি যাতে সাধারণ মানুষও তা বুঝতে পারে এবং ফকিহ (৭) ব্যক্তির কাছেও তা দুর্বোধ্য না হয়; যেন এর উপকারিতা সর্বজনীন হয় এবং স্বল্প বোধসম্পন্ন (৮) ও তীক্ষ্ণধী—উভয়ই এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। শেখ ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হজ ও ওমরার নিয়মাবলি বিষয়ে একটি অতি মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। আমি এই কিতাবে তার মূল বিষয়বস্তুসমূহ (৯) উল্লেখ করেছি এবং তাতে সেই সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি এমন কিছু মূল্যবান বিষয় সংযোজন করেছি, যা জানার প্রতি আগ্রহী কোনো শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য। আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁর কাছেই আমার সকল বিষয়ের সমর্পণ (১০)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
واستنادي (1) وهذا كتاب يشتمل (2) على ثمانية أبواب:
الباب الأول: في آداب السفر (3) وفي آخره فصل فيما يتعلق بوجوب الحج (4).
الباب الثاني: في الإحرام (5) ومحرماته وواجباته ومسنوناته.
الباب الثالث: في دخول مكة زادها الله شرفاً وما يتعلق به (6) وفيه ثمانية فصول (7).
--------------------------------------------
এবং আমার নির্ভরতা (১) আর এটি এমন একটি কিতাব যা (২) আটটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অধ্যায়: সফরের আদব প্রসঙ্গে (৩) এবং এর শেষাংশে হজের আবশ্যকতা (৪) সংক্রান্ত একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইহরাম (৫) এবং এর নিষিদ্ধ কার্যাবলি, ওয়াজিব ও সুন্নাতসমূহ প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অধ্যায়: মক্কায় প্রবেশ—আল্লাহ এর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি (৬) প্রসঙ্গে; এতে আটটি পরিচ্ছেদ (৭) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أسرار الحج وذكرياتهفي كل مظهر من مظاهر الحج وفي كل مجال من مجالاته، تتجلى فيه العبودية لله ويظهر أثرها بارزاً ملحوظاً، ففي أداء الشعائر والتلبس بالطاعات من تجرد عن الثياب وحسر عن الرؤوس وفي الطواف بالبيت واستلام أركانه وفي موقف عرفات ومزدلفة ومنى في ذل وخضوع وتضرع وخشوع، وفي رمي الجمار والذبح أو النحر وما إليه في جميع ذلك مظهر العبودية لرب العباد وبارئهم، وإفراد له بالعبادة وحده دون سواه، تلك العبودية هي سر علة الوجود وهدفه الأسمى. قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56) مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ (57) إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ (58)} [الذاريات: 56 - 58].
وقال صلى الله عليه وسلم: "لَبَّيْكَ بِحِجّةٍ تَعَبداً ورِقَّاً". ثم إن الرحلة إلى بيت الله الحرام وبقية المشاعر تعطي صورة رمزية لعالم آخر وحياة أخرى، والغرض من إعطاء هذه الصورة هو دوام التذكر أبداً والبعد عن الغفلة وعدم الركون إلى الدنيا، وأخذ العبرة للاستعداد والتشمير عن ساعد الجد للتزود من الأعمال الصالحة، وادخارها لحياة باقية سعيدة وعيش رغيد لا يفنى ولا يبيد طول الأمد.
فالحاج إذ يسلك في طريقه إلى الحج المفاوز ويجتاز المخاوف والصعاب لا يكون له ما يسليه ويروِّح عنه ويربط جأشه في رحلته، حتى يبلغ
হজ্জের রহস্য ও এর স্মৃতিসমূহহজ্জের প্রতিটি রূপ ও প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি দাসত্ব ফুটে ওঠে এবং এর প্রভাব স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। হজ্জের বিধিবিধান পালন এবং আনুগত্যে মগ্ন হওয়ার ক্ষেত্রে পোশাক বর্জন করা, মস্তক উন্মুক্ত রাখা, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা ও এর রুকনসমূহ স্পর্শ করা; এবং আরাফাত, মুজদালিফা ও মিনায় হীনতা, বশ্যতা, বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সাথে অবস্থান করার মাঝে এটি প্রকাশ পায়। কঙ্কর নিক্ষেপ, যবেহ বা কুরবানি এবং এই জাতীয় সকল কার্যের মধ্যে বান্দাদের প্রতিপালক ও তাঁদের স্রষ্টার প্রতি দাসত্বের বহিঃপ্রকাশ এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদতের একনিষ্ঠতা নিহিত রয়েছে। এই দাসত্বই হলো সৃষ্টির গূঢ় রহস্য ও এর মহান লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি (৫৬) আমি তাদের কাছে কোনো রিজিক চাই না এবং তারা আমাকে আহার করাবে তাও চাই না (৫৭) নিশ্চয়ই আল্লাহই রিজিকদাতা এবং অটল শক্তির অধিকারী (৫৮)} [আয-যারিয়াত: ৫৬ - ৫৮]।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি হজ্জের জন্য উপস্থিত হয়েছি দাসত্ব ও আনুগত্য হিসেবে।" অতঃপর আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানসমূহের দিকে যাত্রা পরকাল ও অন্য এক জীবনের এক প্রতীকী চিত্র তুলে ধরে। এই চিত্র প্রদর্শনের উদ্দেশ্য হলো সর্বদা পরকালকে স্মরণ রাখা, উদাসীনতা থেকে দূরে থাকা, দুনিয়ার প্রতি আসক্ত না হওয়া এবং নেক আমলের পাথেয় সংগ্রহের মাধ্যমে পাথেয় সঞ্চয় ও প্রস্তুতি গ্রহণের শিক্ষা নেওয়া; এবং এমন এক চিরস্থায়ী সুখী জীবন ও অফুরন্ত নেয়ামতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যা কখনও শেষ হবে না।
হজ্জযাত্রী যখন হজ্জের পথে মরুপ্রান্তর পাড়ি দেন এবং বিভিন্ন ভয় ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করেন, তখন তাঁর এই যাত্রায় এমন কিছুই থাকে না যা তাঁকে সান্ত্বনা দেয়, প্রবোধ দেয় এবং তাঁর মনোবলকে দৃঢ় রাখে, যতক্ষণ না তিনি পৌঁছান...
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مأمنه إلا ما أعده من مال ومركوب، وإلا ما ادَّخره من زاد ومزاد فهو يشبه من يفارق دنياه وحيداً فريداً لا أهل ولا مال، ولا زاد أو مزاد يؤانس في وحشته، إلا ما ادَّخره من عمل صالح وإلا ما سعى إليه من كل مناحي البر وأوجه الخير، ومثل ذلك تجرده عن المخيط كتجرده عن ثيابه للغسل عند الموت، وفيه إشارة إلى الإِعراض عن الترفه والزينة (1)، وكون الحاج أشعث أغبر يشبه خروجه من القبر إلى المحشر حيران لهفان مندهشاً ينفض عنه غباره، وفي تلبيته إجابته لنداء ربه الذي استدعاه على لسان أبيه إبراهيم عليه السلام، وامتثال أمر نبيه صلى الله عليه وسلم الذي أجاب حينما سئل أي الحج أفضل؟ فقال:"العج والثج" (2) ووقوف الحجيج في عرفات كوقوفهم في عرصات القيامة آملين راغبين راجين وهم بين شقي وسعيد ومقبول ومخذول، وتعرضهم للهاجرة وحَمارّة القيظ في عرفات كتعرضهم للفح الشمس وغمرة العرق في المحشر، وإفاضتهم من عرفات كانفضاضهم من الموقف في القيامة بعد الفصل والقضاء، ولبثهم في مزدلفة ومنى كلبث المذنبين وانتظارهم لشفاعة الشافعين (3)، ورميهم الجمار تذكرهم لقصة أبيهم إبراهيم عليه السلام مع الشيطان الرجيم والتشبه به (4)، والاقتداء بنيهم محمد صلى الله عليه وسلم وذبحهم الأضاحي
--------------------------------------------
একজন মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলতে কেবল তা-ই যা সে সম্পদ এবং বাহন হিসেবে প্রস্তুত রেখেছে। অন্যথা সে যা পাথেয় এবং পানপাত্র সঞ্চয় করেছে, তার অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যে তার দুনিয়া ত্যাগ করে একাকী ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় চলে যাচ্ছে—যার কোনো পরিবার নেই, সম্পদ নেই এবং কোনো পাথেয় বা পানপাত্র নেই যা তার এই নিঃসঙ্গতায় সঙ্গ দেবে। তবে সে যা নেক আমল সঞ্চয় করেছে এবং কল্যাণের সকল দিক ও মঙ্গলের পথে যা কিছু প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কেবল তা-ই তার সাথী হবে। একইভাবে তার সেলাই করা কাপড় বর্জন করা যেন মৃত্যুর সময় গোসলের জন্য কাপড় ত্যাগ করার সদৃশ। এতে বিলাসিতা ও সাজসজ্জা ত্যাগ করার ইঙ্গিত রয়েছে (১); আর হাজীর উস্কোখুস্কো চুল ও ধূলিধূসরিত হওয়া যেন তার কবর থেকে হাশরের ময়দানের দিকে অত্যন্ত উৎকণ্ঠা, আফসোস ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় বের হওয়ার মতো, যখন সে নিজের দেহ থেকে ধুলো ঝাড়তে থাকবে। তার তালবিয়া পাঠ হলো তার রবের আহ্বানে সাড়া দেওয়া, যিনি তাকে তার পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জবানিতে আহ্বান করেছিলেন এবং এটি তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশের আনুগত্য, যিনি উত্তর দিয়েছিলেন যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন হজটি সর্বোত্তম? তিনি বলেছিলেন: "উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ (العج) এবং কুরবানির রক্ত প্রবাহিত করা (الثج)" (২)। আরাফাতের ময়দানে হাজীদের অবস্থান যেন কিয়ামতের ময়দানে তাদের অবস্থানের মতো, যেখানে তারা অত্যন্ত আশান্বিত ও ব্যাকুল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে; এমতাবস্থায় তারা কেউ দুর্ভাগা (شقي), কেউ সৌভাগ্যবান (سعيد), কেউ কবুলকৃত (مقبول) আবার কেউ বঞ্চিত (مخذول) হিসেবে গণ্য হয়। আরাফাতের প্রখর রোদ ও গ্রীষ্মের উত্তাপ যেন হাশরের ময়দানে সূর্যের প্রখর তাপ ও ঘামের সাগরে নিমজ্জিত হওয়ার মতো। আরাফাত থেকে তাদের প্রস্থান যেন কিয়ামতের বিচার ও ফয়সালা শেষে হাশরের ময়দান ত্যাগ করার মতো। মুজদালিফা ও মিনায় তাদের অবস্থান যেন পাপীদের অবস্থানের মতো এবং সুপারিশকারীদের সুপারিশের (شفاعة) জন্য তাদের প্রতীক্ষা করার মতো (৩)। তাদের কঙ্কর নিক্ষেপ হলো অভিশপ্ত শয়তানের সাথে তাদের পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সেই কাহিনীর স্মৃতিচারণ এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ (৪), আর তাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইত্তিবা এবং পশু কুরবানি করা।
--------------------------------------------