(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: -)
الاتجاهات العامة للاجتهاد ومكانة الحديث الآحادي الصحيح فيها   (نور الدين عتر)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الاتجاهات العامة للاجتهاد ومكانة الحديث الآحادي الصحيح فيها

المؤلف: نور الدين محمد عتر الحلبي

الناشر: دار المكتبي للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 83

أعده للشاملة: توفيق بن محمد القريشي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 رجب 1433

ইজতিহাদের সাধারণ প্রবণতাসমূহ এবং এতে সহিহ (صحيح) একক (آحاد) হাদিসের অবস্থান   (নূরুদ্দীন ইতর)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: ইজতিহাদের সাধারণ প্রবণতাসমূহ এবং এতে সহিহ (صحيح) একক (آحاد) হাদিসের অবস্থান

লেখক: নূরুদ্দীন মুহাম্মদ ইতর আল-হালাবি

প্রকাশক: দারুল মাকতাবি প্রকাশনী ও বিতরণ, দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৩

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১)
الاتجاهات العامة للاجتهاد ومكانة الحديث الآحادي الصحيح فيها

 

بقلم الأستاذ الدكتور نور الدين عتر

رئيس قسم علوم القرآن والسنة

كلية الشريعة - جامعة دمشق.

 

- عدد الأجزاء: 1.

- عدد الصفحات: 86.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
ইজতিহাদের সাধারণ ধারা এবং এতে সহিহ (الصحيح) আহাদ (الآحاد) হাদিসের মর্যাদা

 

প্রফেসর ডক্টর নূরুদ্দীন ইতর-এর লেখনীতে

বিভাগীয় প্রধান, কুরআন ও সুন্নাহ বিজ্ঞান বিভাগ

শরীয়াহ অনুষদ - দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়।

 

- খণ্ড সংখ্যা: ১।

- পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬।

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / তাওফিক বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাইশি, - আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন -।

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২)
الاتجاهات العامة للاجتهاد ومكانة الحديث الآحادي الصحيح فيها

 

بقلم الأستاذ الدكتور نور الدين عتر

رئيس قسم علوم القرآن والسنة

كلية الشريعة - جامعة دمشق.

 

دار المكتبي - دمشق
ইজতিহাদের সাধারণ গতিধারা এবং এতে সহিহ (صحيح) একক বর্ণনার হাদিসের (آحاد) গুরুত্ব ও অবস্থান

 

অধ্যাপক ডক্টর নূরুদ্দীন ইতর এর কলমে

কুরআন ও সুন্নাহ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান

শরিয়াহ অনুষদ - দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়।

 

দার আল-মাকতাবি - দামেস্ক
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ৩)
الطبعة الأولى: 1420 هـ - 2000 م

 

دار المكتبي: سورية - دمشق - حلبوني - جادة ابن سينا.
প্রথম সংস্করণ: ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

 

দার আল-মাকতাবি: সিরিয়া - দামেস্ক - হালবুনি - ইবনে সিনা সড়ক।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌[المُقَدِّمَةُ]:

الحمد لله رب العالمين، وأفضل الصلاة وأتم التسليم علي نبينا وهادينا سيدنا محمد خاتم النبيين، وأمام الأنبياء والمرسلين وعلي آله وأصحابه ومن تبعهم باحسان إلي يوم الدين.

أما بعد:

 

فإن من أعظم ما تميزت به بعثة نبينا صلى الله عليه وسلم ذلك التشريع الكافل لتنظيم جوانب الحياة كلها، والذي نهض فيه أئمة العلم والدين ونصبوا أنفسهم لتأصيل أصوله وتفريع فروعه، كيف لا، والناحية العملية هي أعظم ركن بعد أركان الإيمان، بل هي ترجمان الإيمان الذي تصوغه في صورة سلوك فردي، وترابط اجتماعي، وحضارة متميزة بالفضل والكمال على كل حضارة. وقد كان الفقه الإسلامي هو القانون الذي عمل به المسلمون من فجر تاريخهم المجيد، وفي إبان ازدهار حضارتهم التي قدمت للعالم نموذجًا فريدًا. لا تزال الإنسانية تحلم بمثله وتتمني لو تعيش في ظل سعادته.

 

هذه الخصائص تجعل دراسة الاتجاهات العامة لأصول الاجتهاد في الإسلام مسألة علمية على غاية من الأهمية، وأنها لدراسة واسعة مترامية الأطراف لا يتسع المقام ههنا لاستيفائها، لذلك فإنا سنقدم دراسة وجيزة للخطوط العريضة لأصول الاجتهاد الإسلامي، نلمس
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌[ভূমিকা]:

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী ও পথপ্রদর্শক জনাব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর, যিনি নবীগণের মোহর এবং নবী ও রাসূলগণের ইমাম; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।

অতঃপর:

 

আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়তের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এমন এক বিধান (تشريع), যা জীবনের সকল দিক সুসংগঠিত করার নিশ্চয়তা প্রদান করে। জ্ঞান ও দীনের ইমামগণ এর জন্য সচেষ্ট হয়েছেন এবং এর মূলনীতিসমূহকে (أصول) সুদৃঢ় করতে ও তার শাখা-প্রশাখাগুলোকে (فروع) বিন্যস্ত করতে নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন। কেনই বা করবেন না, অথচ ঈমানের স্তম্ভগুলোর পরে আমলী বা ব্যবহারিক দিকটিই হলো সবচেয়ে বড় স্তম্ভ; বরং এটিই হলো ঈমানের বহিঃপ্রকাশ, যা ব্যক্তিগত আচরণ, সামাজিক বন্ধন এবং এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতাময় সভ্যতার রূপ দান করে, যা অন্য সকল সভ্যতার ঊর্ধ্বে। ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সূচনা লগ্ন থেকেই এবং মুসলিম সভ্যতার উৎকর্ষের যুগে ইসলামী ফিকহ (فقه) ছিল এমন এক আইন, যা মুসলমানরা অনুসরণ করত। এই সভ্যতা বিশ্বকে এমন এক অনন্য আদর্শ উপহার দিয়েছে, মানবজাতি আজও যার স্বপ্ন দেখে এবং যার সুখময় ছায়াতলে বসবাস করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।

 

এই বৈশিষ্ট্যগুলোই ইসলামে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের মূলনীতিসমূহের (أصول الاجتهاد) সাধারণ ধারা নিয়ে আলোচনা করাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিষয়ে পরিণত করেছে। এটি একটি অত্যন্ত বিস্তৃত ও ব্যাপক গবেষণা, যা এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই আমরা এখানে ইসলামী গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের মূলনীতিসমূহের (أصول الاجتهاد) রূপরেখা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করব।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ৬)
فيها بعض جوانب تميز بها بعض المذاهب على البعض الآخر في أصول اجتهاده.

 

وسوف نُعْنَى عناية خاصة بمسألة خبر الواحد الصحيح في هذا المبحث، لما دار حول حُجِّيَّتِهِ في العصر الأخير من تَقَوُّلٍ، بين مُقَصِّرٍ فيه يعطل جملة كبيرة جِدًّا من السنن بذريعة كونها خبر واحد، وَغَالٍ متشدد يحكم بالضلال بل يكاد أن يحكم بالكفر على من ترك خبرًا آحاديًا، مِمَّا يوقع الفتن بين المسلمين، عِيَاذًا بالله تعالى.

 

وقد عولنا في بحثنا هذا على المصادر الأمهات في أصول الفقه وأصول الحديث، ولما أن عبارتها قد تصعب في كثير من الأحيان على الفهم، بل قد تستغلق إلَاّ على ذوي الاختصاص المتمكن والمتعمق في هذا العلم، لذلك جهدنا في استخراج المعلومات منها أن نصيغ العبارات بأسلوبنا الخاص، لتسهيل سبيل البحث، وتقريبه إلى الإفهام.

 

وبالله تبارك وتعالى التوفيق، وهو المستعان وعليه التُّكْلَانُ.

 

نورالدين عتر

خادم القرآن وعلومه

والحديث وعلومه
এতে এমন কিছু দিক রয়েছে যার মাধ্যমে ইজতিহাদের মূলনীতির (أصول اجتهاد) ক্ষেত্রে কিছু মাজহাব অন্যগুলোর ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।

 

আমরা এই পরিচ্ছেদে সহিহ (صحيح) একক বর্ণনা (خبر الواحد) সংক্রান্ত মাসআলার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করব। কারণ বর্তমান যুগে এর প্রামাণিকতা (حجية) নিয়ে নানাবিধ নেতিবাচক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে; যেখানে একদল শৈথিল্য প্রদর্শনকারী নিছক একক বর্ণনা (خبر واحد) হওয়ার অজুহাতে সুন্নাহর এক বিশাল অংশকে অকার্যকর করে দিচ্ছে, আবার অন্যদল হচ্ছে এমন উগ্র চরমপন্থী যারা কোনো একটি একক বর্ণনা (خبر آحاد) বর্জনকারীর ওপর ভ্রষ্টতার ফতোয়া দেয়, এমনকি প্রায় কুফরের ফতোয়া দেওয়ার উপক্রম করে। যা মুসলমানদের মাঝে ফিতনার সৃষ্টি করে; মহান আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

 

আমরা আমাদের এই গবেষণায় উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) ও উসুলুল হাদিসের (أصول الحديث) মূল উৎসগ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি। যেহেতু সেগুলোর পরিভাষা ও বর্ণনাভঙ্গি অনেক সময় অনুধাবন করা কঠিন হয়ে পড়ে, এমনকি এই শাস্ত্রে সুনিপুণ ও গভীর জ্ঞানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ছাড়া অন্যদের নিকট তা দুর্বোধ্য হতে পারে, তাই আমরা তথ্য আহরণের ক্ষেত্রে নিজস্ব শৈলীতে বাক্য গঠনের চেষ্টা করেছি, যাতে গবেষণার পথ সহজ হয় এবং তা সাধারণের বোধগম্য হয়।

 

মহান আল্লাহর নিকটই তাওফিক কামনা করি, তিনি সর্বোত্তম সাহায্যকারী এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা।

 

নূরুদ্দীন ইতর

কুরআন ও কুরআন সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহের সেবক

হাদিস ও হাদিস সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহের সেবক
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المَبْحَثُ الأَوَّلُ: فِي المَصَادِرِ الأًًصْلِيَّةِ للاِجْتِهَادِ:

لا يختلف الاجتهاد في أي مذهب فقهي عن أمثاله من المذاهب الإسلامية المعتمدة والمعمول بها في الارتكاز الأساسي على المصادر الأصلية التي يعتمد عليها أئمة الإسلام وهي المصادر الأربعة المعروفة: الكتاب وَالسُنَّةِ، والإجماع، والقياس.

 

وهذا الاتفاق بين المسلمين على هذه الأصول ميزة امتاز بها الدين الإسلامي والفقه الإسلامي، حقق بها الإسلام توفير عوامل الوحدة بين المسلمين، بالتفاهم حول الأصول الاعتقادية المُسَلَّمِ بِهَا والمعلومة من الدين بالضرورة، وأخذهم بالأحكام القطعية الثابتة التي لا مجال للبحث فيها، فالمسلمون كلهم يؤمنون بالله وحده توحيدًا صافيًا نَقِيًّا، لا تشوبه شائبة من شوائب الشرك، ولا نزغة من نزغات الإلحاد. ويشهدون أن مُحَمَّدًا رسول الله بعثه الله بِالهُدَى ودين الحق ليظهره على الدين كله، ويؤمنون باليوم الآخر والجنة والنار، وبملائكة الله تعالى ورسله وكتبه والقدر. كما أن المسلمين كلهم يُقِرُّونَ بأركان الإسلام، الصلاة التي يتوجهون فيها إلى قبلة واحدة والزكاة والصوم والحج.

 

كما حقق الإسلام بإزاء ذلك المرونة والشمول اللذين يتسع بهما لكل متطلبات الحياة وتقدم الحضارة، ومواجهة كل جديد أو طارئ
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইজতিহাদের মৌলিক উৎসসমূহ প্রসঙ্গে:

যেকোনো ফিকহি মাযহাবের ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রক্রিয়া অন্যান্য স্বীকৃত ও প্রচলিত ইসলামি মাযহাবসমূহের মতোই মৌলিক ভিত্তির ক্ষেত্রে অভিন্ন, যা ইসলামের ইমামগণ কর্তৃক নির্ভরকৃত মৌলিক উৎসসমূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর সেগুলো হলো সুপরিচিত চারটি উৎস: কিতাব, সুন্নাহ, ঐক্যমত (إجماع) এবং কিয়াস (قياس)।

 

এই মূলনীতিগুলোর ওপর মুসলমানদের এই ঐক্য ইসলামি দ্বীন ও ইসলামি ফিকহের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। এর মাধ্যমে ইসলাম মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের উপাদানসমূহ নিশ্চিত করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে সর্বজনস্বীকৃত আকিদাগত মূলনীতিসমূহ এবং দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় (المعلوم من الدين بالضرورة) সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং এমন অকাট্য (قطعي) বিধানসমূহ গ্রহণের মাধ্যমে যেখানে গবেষণার কোনো অবকাশ নেই। ফলে সকল মুসলমান একনিষ্ঠভাবে মহান আল্লাহর এককত্ববাদে বিশ্বাস করে, যেখানে শিরকের কোনো নামনিশানা নেই এবং নাস্তিকতার কোনো প্রভাব নেই। তারা সাক্ষ্য দেয় যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; আল্লাহ তাকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। তারা পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম, আল্লাহর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ, কিতাবসমূহ এবং তাকদিরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে। একইভাবে সকল মুসলমান ইসলামের রুকনসমূহের স্বীকৃতি দেয়; যেমন সালাত—যার জন্য তারা একই কিবলার দিকে মুখ করে, এবং জাকাত, সিয়াম ও হজ।

 

এর পাশাপাশি ইসলাম এমন নমনীয়তা ও ব্যাপকতা নিশ্চিত করেছে, যার মাধ্যমে জীবনের সকল চাহিদা পূরণ, সভ্যতার অগ্রগতি এবং প্রতিটি নতুন বা আকস্মিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ৮)
بأمثل الحلول وأفضلها لمسايرة تقدم الحضارة، بل لدفع عجلة التقدم الحضاري، بما ذكرنا من الخصائص، بالاجتهاد الذي قدم ذخائر تشريعية ضخمة تعالج كل حادث، بل تضع العدد من الحلول للمشكلة الواحدة، من نتاج ما قدمته لنا المذاهب من آراء وعلاجات. فجمع الفقه الإسلامي بهذا بين التعدد والتوحد، والتعدد هنا تعدد تنوع ليس تعدد تضارب، كما جمع بذلك أيضًا بين التطور والثبات.

 

وقد كان هذا الاتفاق على الأصول الأربعة نَابِعًا من الإيمان بالأصل الأول وهو القرآن والائتمار بأوامره والسير على ضوء توجيهه.

 

فقد بين الله تعالى في صريح كتابه أن منزلة السُنَّةِ النَّبَوِيَّةِ من القرآن هي منزلة البيان من المُبَيَّنِ، والتفسير من المُفَسَّرِ.

قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44].

وقال عز وجل: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَاّ لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [النحل: 64].

 

وجعل الله طاعته مرهونة بطاعة رسوله، بل أعلن للعالم أن طاعة رسوله طاعته.

{وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا} [المائدة: 92].

{وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7].

{مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80].

{قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران: 31].

 

وهكذا كان كل من الكتاب والسنة أصلاً في الدين يلزم المسلمين أن
সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য, বরং সভ্যতার অগ্রগতির চাকা সচল রাখার জন্য আমরা যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছি, তার মাধ্যমে এটি সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ সমাধান প্রদান করে। এটি সম্ভব হয়েছে ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে, যা এমন এক বিশাল আইনি ভাণ্ডার পেশ করেছে যা প্রতিটি নতুন সমস্যার সমাধান দেয়; বরং বিভিন্ন মাযহাব থেকে আমাদের কাছে যে সকল মতামত ও প্রতিকার এসেছে, তার ফলস্বরূপ এটি একেকটি সমস্যার একাধিক সমাধান উপস্থাপন করে। এভাবে ইসলামী ফিকহ বৈচিত্র্য ও ঐক্যের মধ্যে এবং একই সাথে বিবর্তন ও স্থায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে। এখানকার এই বৈচিত্র্য হলো বৈচিত্র্যময়তার বহিঃপ্রকাশ, কোনো বিরোধপূর্ণ বিষয় নয়।

 

আর এই চার মূলনীতির (أصول) ওপর এই ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রথম মূলনীতি অর্থাৎ কুরআনের প্রতি বিশ্বাস এবং এর নির্দেশাবলি পালন ও দিকনির্দেশনার আলোকে চলার অনুপ্রেরণা থেকে।

 

মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, কুরআনের প্রেক্ষিতে নববী সুন্নাহর (سنة) মর্যাদা হলো বিশদ ব্যাখ্যাকারীর মর্যাদা এবং অস্পষ্ট বিষয় স্পষ্টকারীর মর্যাদা।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} [আন-নাহল: ৪৪]।

তিনি আরও বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি কেবল এজন্য যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি তা তাদের কাছে স্পষ্ট করে দেবেন এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত} [আন-নাহল: ৬৪]।

 

আল্লাহ তাঁর আনুগত্যকে তাঁর রাসূলের আনুগত্যের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন; বরং তিনি বিশ্ববাসীর কাছে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর রাসূলের আনুগত্যই হলো আল্লাহর আনুগত্য।

{আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো} [আল-মায়িদা: ৯২]।

{আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]।

{যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০]।

{বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} [আল-ইমরান: ৩১]।

 

এভাবে কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) উভয়ই দ্বীনের একেকটি মূল উৎস (أصل), যা মুসলিমদের জন্য অনুসরণ করা আবশ্যক...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ৯)
يأخذوا بأحكامها، ويجب على الفقيه أن يعول في استنباط الأحكام عليهما.

 

قال الحافظ ابن كثير في " تفسيره " (1) عند هذه الآية: «هَذِهِ الآيَةُ الكَرِيمَةُ حَاكِمَةٌ عَلَى كُلِّ مَنِ ادَّعَى مَحَبَّةَ اللَّهِ، وَلَيْسَ هُوَ عَلَى الطَّرِيقَةِ المُحَمَّدِيَّةِ فَإِنَّهُ كَاذِبٌ فِي دَعْوَاهُ فِي نَفْسِ الأَمْرِ، حَتَّى يَتَّبِعَ الشَّرْعَ المُحَمَّدِيَّ وَالدِّينَ النَّبَوِيَّ فِي جَمِيعِ أَقْوَالِهِ وَأَحْوَالِهِ».

 

ويقرر علماء أصول الفقه حُجِّيََّةَ السُنَّةِ استنادًا إلى أصل اعتقادي وعقلي مهم أَحْسَنَ التَّعْبِيرَ عنه الفقيه والأصولي الحنبلي الإمام ابن قدامة المقدسي، فقال (2):

«وَقَوْلُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حُجَّةٌ، لِدَلَالَةِ المُعْجِزَةِ عَلَى صِدْقِهِ، وَأَمَرَ اللهُ سُبْحَانَهُ بِطَاعَتِهِ، وِتْحَذِيْرِهِ مِنْ مُخَالَفَةِ أَمْرِهِ».

 

ويبني ابن النجار الحنبلي أيضًا حُجِّيََّةَ السُنَّةِ على أصل آخر هام وهو العصمة، فيقول (3):

«وَأَقْسَامُ السُّنَّةِ (4) كُلُّهَا حُجَّةٌ أَيْ تَصْلُحُ أَنْ يُحْتَجَّ بِهَا عَلَى ثُبُوتِ الأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ لِلْعِصْمَةِ أَيْ لِثُبُوتِ العِصْمَةِ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلِسَائِرِ الأَنْبِيَاءِ - صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلامُهُ عَلَيْهِمْ أجْمَعِينَ -».

--------------------------------------------

(1) جـ 2 ص 25.

(2) في كتابه " روضة الناظر وجنة المناظر ": جـ 1 ص 236.

(3) " شرح الكوكب المنير ": جـ 2 ص 167.

(4) أي الأقوال والأفعال والتقريرات. فلا يَتَوَهَّمَنَّ دخول الحديث الضعيف في كلامه.
...তাঁরা যেন এর বিধানগুলো গ্রহণ করেন এবং ফকিহর জন্য আবশ্যক হলো এই দুইটির (কুরআন ও সুন্নাহ) ওপর ভিত্তি করে বিধান আহরণ করা।

 

হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর "তাফসির"-এ (১) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: «এই সম্মানিত আয়াতটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যাপারে ফয়সালাকারী, যে আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে অথচ সে মুহাম্মাদি তরিকায় নেই; প্রকৃত প্রস্তাবে সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী (كاذب), যতক্ষণ না সে তার যাবতীয় কথা ও অবস্থায় মুহাম্মাদি শরিয়ত ও নববি দ্বীনের অনুসরণ করে।»

 

উসুলুল ফিকহের আলেমগণ সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) একটি গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত ও যৌক্তিক মূলনীতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছেন, যা হাম্বলি ফকিহ ও উসুলবিদ ইমাম ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি চমৎকারভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন (২):

«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হলো দলিল (حجة); কারণ তাঁর মুজিজা (অলৌকিকত্ব) তাঁর সত্যবাদিতার প্রমাণ দেয় এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আদেশের বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।»

 

ইবনে নাজ্জার আল-হাম্বলিও সুন্নাহর প্রামাণ্যতাকে (حجية) অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন, আর তা হলো মাসুম হওয়া বা নির্ভুলতা (العصمة)। তিনি বলেন (৩):

«সুন্নাহর সকল প্রকারই (৪) দলিল (حجة), অর্থাৎ শরিয়তের বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এগুলোর মাধ্যমে দলিল প্রদান করা সঠিক; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য সকল নবী—তাঁদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁদের মাসুম হওয়া বা নির্ভুলতা (العصمة) প্রমাণিত।»

--------------------------------------------

(১) খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) তাঁর কিতাব "রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির": খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৬।

(৩) "শারহুল কাওকাবিল মুনির": খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬৭।

(৪) অর্থাৎ কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতিসমূহ। সুতরাং কেউ যেন ভুলক্রমেও তাঁর কথার মধ্যে দুর্বল (ضعيف) হাদিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধারণা না করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد دَلَّتْ دلائل القرآن وَالسُنَّةِ على أن المجتهدين من هذه الأُمَّةِ إذا اتفقوا على حكم شرعي فإن اتفاقهم هذا مصون من الخطل ومعصوم من الخطأ، فثبتت بذلك حُجِيَّةُ الإجماع.

قال تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115] (1).

 

كذلك وجد أئمة الإسلام وفقهاء الشريعة بتتبع النصوص الشرعية أن الأحكام الشرعية ترد في كثير من الأحيان مرتبطة بِأَهْدَافٍ وَحِكَمٍ تتعلق بتحقيق مصالح الأنام، ورعاية شؤون الناس الدينية والدنيوية، فعرف من ذلك أن الأحكام غير التعبدية مُعَلَّلَةٌ بأوصاف منضبطة ترجع إلى مصالح الأُمَّةِ، فثبت بذلك حُجِّيَّةَ القِيَاسِ، وتضافرت الأدلة على حُجِّيَّتِهِ، مثل قوله تعالى: {فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الأَبْصَارِ} [الحشر: 2].

 

فإن الاعتبار في الآية هو رَدُّ الشيء إلى نظيره، بأن يحكم عليه بحكمه، وهو نص عام يشمل القياس الشرعي الذي يجري في الأحكام الشرعية والقياس. العقلي والاتعاظ. وقد جاء هذا النص مُرَتَّبًا على سبب خاص وهو ما حصل لبني النضير لما طَغَوْا ونقضوا عهدهم مع النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خذلهم اللهُ تعالى، وسلط عليهم المسلمين فخربوا بيوتهم، وأجلوهم عن بلادهم، فنزلت الآية تعلن للناس مصير هؤلاء القوم ليعلموا أن كل من سلك طريقهم كانت عاقبته عاقبتهم، وجاء النص

--------------------------------------------

(1) انظر الاستدلال بالآية وتقرير حُجِّيَّةَ الإجماع مفصلاً في " روضة الناظر ": جـ 2 ص 335 - 346، وفي غيره من المصادر.
কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ একথার প্রমাণ পেশ করে যে, এই উম্মতের মুজতাহিদগণ (المجتهدين) যখন কোনো শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) ব্যাপারে একমত হন, তখন তাদের এই ঐক্যমত বিচ্যুতি থেকে সংরক্ষিত এবং ভুল থেকে মুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে ইজমার (الإجماع) প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্ত হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর যে ব্যক্তি হেদায়াত সুস্পষ্ট হওয়ার পর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তাকে আমি সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব, আর তা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।" [আন-নিসা: ১১৫] (১)।

 

একইভাবে ইসলামের ইমামগণ এবং শরিয়তের ফকিহগণ শরয়ি নসসমূহ (النصوص الشرعية) অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছেন যে, শরয়ি বিধানগুলো (الأحكام الشرعية) অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন লক্ষ্য ও হিকমতের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে যা সৃষ্টির কল্যাণ সাধন এবং মানুষের দ্বীনি ও দুনিয়াবি বিষয়াদির রক্ষণাবেক্ষণের সাথে জড়িত। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, গায়র-তাআববুদি (غير التعبدية) [অ-ইবাদত সংক্রান্ত] বিধানসমূহ এমন সুশৃঙ্খল কারণ বা ‘ইল্লাত’ দ্বারা সাব্যস্ত (معللة) যা উম্মতের কল্যাণের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। ফলে এর দ্বারা কিয়াসের (القياس) প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্ত হয়েছে এবং এর প্রামাণ্যতার ওপর অসংখ্য দলিল বিদ্যমান, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।" [আল-হাশর: ২]।

 

কেননা আয়াতে 'ইতিবার' (الاعتبار) বলতে বোঝানো হয়েছে কোনো বস্তুকে তার সদৃশ বস্তুর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে তার ওপর অনুরূপ বিধান প্রয়োগ করা যায়। এটি একটি সাধারণ নস (نص عام) যা শরয়ি কিয়াস (القياس الشرعي) —যা শরয়ি আহকামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য— এবং আকলি কিয়াস (القياس العقلي) তথা যুক্তিভিত্তিক তুলনা ও শিক্ষা গ্রহণকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এই নসটি (النص) একটি বিশেষ কারণের প্রেক্ষাপটে এসেছে, আর তা হলো বনু নাজিরের সাথে যা ঘটেছিল; যখন তারা অবাধ্যতা করেছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল, তখন মহান আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করেন এবং তাদের ওপর মুসলিমদের বিজয়ী করেন। ফলে তারা নিজেদের হাতেই নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছিল এবং মুসলিমরা তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করেছিল। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ে মানুষের সামনে সেই জাতির পরিণাম ঘোষণা করে, যাতে তারা জানতে পারে যে, যারা তাদের পথ অবলম্বন করবে তাদের পরিণতিও তাদের মতোই হবে। আর এই নসটি এসেছে...

--------------------------------------------

(১) আয়াতে বর্ণিত দলিলের প্রয়োগ এবং ইজমার (الإجماع) প্রামাণ্যতার (حجية) বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন "রওদাতুন নাজির": ২য় খণ্ড, ৩৩৫-৩৪৬ পৃষ্ঠা এবং অন্যান্য উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১১)
عَامًّا غير خاص بقضية سبب النزول، فدل على عموم إلحاق الشيء بنظيره والمثل بمثيله، وذلك هو القياس (1).

 

ويقول ابن قدامة في دلالة الآية: (2)

«وَقَدْ اسْتَدَلَّ عَلَى إِثْبَاتِ القِيَاسِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الأَبْصَارِ} [الحشر: 2]. وَحَقِيْقَةُ الاِعْتِبَارِ مُقَايَسَةُ الشَّيْءِ بِغَيْرِهِ، كمَا يُقَالُ: اعْتُبِرَ الدِّيْنَارُ بِالصَّنْجَةِ، وَهَذَا هُوَ القِيَاسُ.

فَإِنْ قِيلَ: المُرَادُ بِهِ الاعْتِبَارُ بِحَالِ مَنْ عَصَى أَمْرَ اللهِ وَخَالَفَ رُسُلَهُ لِيَنْزَجِرَ، وَلِذَلِكَ لَا يُحْسِنُ أَنْ يُصَرِّحَ بِالقِيَاسِ هَا هُنَا، فَيَقُولُ: {يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُمْ بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِي الْمُؤْمِنِينَ} [الحشر: 2]، فَأَلْحَقُوا الفُرُوعَ بِالأُصُولِ لِتُعْرَفَ الأَحْكَامُ؟.

قُلْنَا اللَّفْظُ عَامٌّ، وَإِنَّمَا لَمْ يُحْسِنْ التَّصْرِيحَ بِالقِيَاسِ هَا هُنَا، لأَنَّهُ يَخْرُجُ عَنْ عُمُومِهِ المَذْكُورِ فِي الآية، إِذْ لَيْسَ حَالُنَا فَرْعًا لِحَالِهِمْ». انتهى.

 

وكذا وردت نصوص كثيرة من الشارح تُصَرِّحُ بربط الحكم بِعِلَّتِهِ، وذلك في السُنَّةِ كثير، جرى فيه التعليل على طريق الفقهاء أهل القياس، نذكر من ذلك:

حديث: «أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ اشْتِرَاءِ التَّمْرِ بِالرُّطَبِ؟ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) " نبراس العقول في تحقيق القياس عند علماء الأصول " لفضيلة الشيخ عيسى منون رحمه الله ص 75. والاستدلال بالآية معروف في مصادر الأصول من جميع المذاهب.

(2) " روضة الناظر ": جـ 2 ص 244، 245. وانظر " ميزان الأصول " للسمرقندي: ص 561.
এটি ব্যাপক (عام) যা শানে নুযূলের (نزول) ঘটনার সাথে সুনির্দিষ্ট নয়। সুতরাং এটি কোনো বিষয়কে তার সদৃশ বিষয়ের সাথে এবং একটি দৃষ্টান্তকে তার অনুরূপ দৃষ্টান্তের সাথে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপকতার ওপর দলিল প্রদান করে, আর এটিই হলো কিয়াস (القياس) (১)।

 

আর আয়াতের দালালাত বা নির্দেশকতার (دلالة) বিষয়ে ইবনে কুদামা বলেন: (২)

«আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো} [হাশর: ২]-এর মাধ্যমে কিয়াস (القياس) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে দলিল পেশ করা হয়েছে। আর 'ইতবার' বা শিক্ষা গ্রহণের (الاعتبار) প্রকৃত অর্থ হলো এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা করা, যেমন বলা হয়: দিনারকে নিক্তির ওজনের সাথে তুলনা করা হয়েছে; আর এটিই হলো কিয়াস (القياس)।

যদি বলা হয়: এখানে শিক্ষা গ্রহণ (الاعتبار) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যারা আল্লাহর আদেশের অবাধ্য হয়েছে এবং তাঁর রাসূলদের বিরোধিতা করেছে তাদের অবস্থা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করা যাতে মানুষ বিরত থাকে। এই কারণেই এখানে সরাসরি কিয়াসের (القياس) কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা সুন্দর হতো না; এভাবে বলা কি ঠিক হতো: {তারা নিজেদের হাতে এবং মুমিনদের হাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করছিল} [হাশর: ২], অতএব তোমরা বিধান জানার জন্য শাখাকে (الفروع) মূলের (الأصول) সাথে তুলনা করো?।

আমরা বলি, শব্দটির অর্থ ব্যাপক (عام); আর এখানে কিয়াসের (القياس) কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা শোভনীয় হয়নি কারণ এটি আয়াতে বর্ণিত ব্যাপকতা (عموم) থেকে বেরিয়ে যেত, যেহেতু আমাদের অবস্থা তাদের অবস্থার শাখা (فرع) নয়।» সমাপ্ত।

 

একইভাবে ব্যাখ্যাকারীর পক্ষ থেকে অনেক পাঠ বা নস (نصوص) বর্ণিত হয়েছে যা বিধানকে (الحكم) তার ইল্লত বা কারণের (علة) সাথে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি স্পষ্ট করে। সুন্নাহর (السنة) মধ্যে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে কিয়াসের পারদর্শী (أهل القياس) ফকিহদের পদ্ধতিতে ইল্লত বা কারণ বর্ণনা (التعليل) করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে আমরা উল্লেখ করছি:

হাদিস: «তাঁকে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে কাঁচা খেজুর ক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

--------------------------------------------

(১) শায়খ ঈসা মানুন (রহ.)-এর "নিবরাসুল উকুল ফি তাহকিকিল কিয়াস ইনদা উলামাইল উসুল", পৃষ্ঠা ৭৫। সকল মাযহাবের উসুলের উৎসগুলোতে এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়টি সুবিদিত।

(২) "রাওদাতুন নাযির": খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৪, ২৪৫। আরও দেখুন সমরকন্দির "মিযানুল উসুল": পৃষ্ঠা ৫৬১।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১২)
" أَيَنْقُصُ الرُّطَبُ إِذَا يَبِسَ؟ " فَقَالُوا: نَعَمْ. فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ». أخرجه مالك وأصحاب السنن والحاكم (1).

 

وقوله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ، فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ». متفق عليه (2).

وقوله لِعَدِيٍّ بْنِ حَاتِمٍ في بيان أحكام الصيد: «وَإِنْ وَجَدْتَ مَع كَلْبِكَ كَلْبًا غَيْرَهُ وَقَد قُتِل فَلَا تَأْكُلْ، فَإِنَّك لَا تَدْرِي أَيُّهُمَا قَتَلَهُ» متفق عليه (3).

 

وهذه النصوص وأمثالها كثير قد وقع فيها التعليل للحكم من النبي صلى الله عليه وسلم نفسه، والتعليل موجب لاتباع العلة أينما كانت، وذلك هو القياس. لأن الأصل في التعليل أن يكون لتعدية الحُكْمِ (أي نقله) إلى المواضع الأخرى التي توجد فيها العلة، وإثبات الحكم في تلك المواضع (4).

 

بل إنا نلحظ في هذه الأحاديث إرشاد النبي صلى الله عليه وسلم أُمَّتَهُ إلى كيفية ربط الأحكام بِعِلَلِهَا، ليستخرجوا حُكْمَ مَا لَمْ يَنُصَّ عَلَى عِلَّتِهِ من الأحكام بالطرق الاستنباطية العلمية التي تعرف بها علة الحكم في الأمر المنصوص، فيعرف بذلك حكم غير المنصوص.

--------------------------------------------

(1) " الموطأ ": جـ 2 ص 53، 54 وأبو داود: جـ 3 ص 251،والترمذي: جـ 3 ص 528 وقال: «[حَدِيثٌ] حَسَنٌ صَحِيحٌ»، والنسائي: جـ 7 ص 269، وابن ماجه: برقم 2264، والحاكم في " المستدرك ": جـ 3 ص 38، 39.

(2) " البخاري " في (الوضوء) ضمن حديث جـ 1 ص 39، 40، و " مسلم " في (الطهارة): جـ 1 ص 161 واللفظ لمسلم.

(3) " البخاري " في (الذبائح والصيد): جـ 7 ص 86 و 87 و 88، و " مسلم " في (الصيد والذبائح): جـ 6 ص 58 واللفظ لمسلم.

(4) " نبراس العقول ": ص 91.
"খেজুর শুকিয়ে গেলে কি এর ওজন কমে যায়?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি তা থেকে নিষেধ করলেন। এটি বর্ণনা করেছেন মালিক, আসহাবে সুনান এবং হাকেম (১)।

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন পাত্রের মধ্যে হাত না ডুবায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধৌত করে; কেননা সে জানে না তার হাতটি রাতে কোথায় ছিল।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) (২)।

শিকারের বিধান বর্ণনায় আদি ইবনে হাতিমকে তাঁর উক্তি: "যদি তুমি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কোনো কুকুর পাও এবং শিকারটি নিহত হয়, তবে তা ভক্ষণ করো না; কারণ তুমি জানো না তাদের মধ্যে কোনটি তাকে হত্যা করেছে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) (৩)।

 

এই সকল পাঠ্য এবং এ জাতীয় আরও অনেক বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই বিধানের কারণ বর্ণনা (التعليل) করেছেন। আর কারণ বর্ণনা করা (التعليل) যেখানেই সেই কারণ বিদ্যমান থাকবে সেখানেই তাকে অনুসরণ করা আবশ্যক করে তোলে, আর এটিই হলো কিয়াস (القياس)। কেননা কারণ বর্ণনার (التعليل) মূল উদ্দেশ্য হলো বিধানকে অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করা (অর্থাৎ স্থানান্তর করা) যেখানে সেই কারণ (العلة) বিদ্যমান রয়েছে এবং সেই সকল ক্ষেত্রে বিধানটি সাব্যস্ত করা (৪)।

 

বরং আমরা এই হাদিসগুলোতে লক্ষ্য করি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে বিধানগুলোকে সেগুলোর কারণের (العلة) সাথে সম্পৃক্ত করার পদ্ধতি শিখিয়েছেন। যাতে তারা জ্ঞানতাত্ত্বিক উদ্ঘাটনমূলক পদ্ধতির (الطرق الاستنباطية العلمية) মাধ্যমে সেই সকল বিধানের হুকুম বের করতে পারে যেগুলোর কারণ (العلة) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যার মাধ্যমে মূল পাঠে বর্ণিত (منصوص) বিষয়ের বিধানের কারণ (العلة) জানা যায় এবং এর ফলে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি (غير منصوص) তার বিধানও নির্ণয় করা যায়।

--------------------------------------------

(১) "মুয়াত্তা": ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৩, ৫৪; আবু দাউদ: ৩য় খণ্ড, পৃ. ২৫১; তিরমিজি: ৩য় খণ্ড, পৃ. ৫২৮ এবং তিনি বলেছেন: "[হাদিসটি] হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)"; নাসায়ি: ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৬৯; ইবনে মাজাহ: নং ২২৬৪ এবং হাকেম "আল-মুস্তাদরাক" গ্রন্থে: ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৮, ৩৯।

(২) "বুখারি" (অজু অধ্যায়) হাদিসের অংশ হিসেবে ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৯, ৪০; এবং "মুসলিম" (পবিত্রতা অধ্যায়): ১ম খণ্ড, পৃ. ১৬১; শব্দচয়ন মুসলিমের।

(৩) "বুখারি" (জবাই ও শিকার অধ্যায়): ৭ম খণ্ড, পৃ. ৮৬, ৮৭ ও ৮৮; এবং "মুসলিম" (শিকার ও জবাই অধ্যায়): ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৫৮; শব্দচয়ন মুসলিমের।

(৪) "নিবরাসুল উকুল": পৃ. ৯১।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المَبْحَثُ الثَّانِي: فِي العَامِّ وَقَطْعِيَّةِ دَلَالَتِهِ:

‌‌تَعْرِيفُ العَامِّ وَحُكْمِهِ:

العموم في اللغة معناه: الشمول.

وفي اصطلاح علم اصول الفقه: هو اللفظ الموضوع وضعًا واحدًا لكثير غير محصور المستغرق لجميع ما يصلح له (1).

مثاله قوله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} [المؤمنون: 1]. وقوله: {وَالْعَصْرِ، إِنَّ الإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ، إِلَاّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} [العصر: 1 - 3].

 

وقد اتفق الحنفية مع جماهير العلماء على أن اللفظ العام يفيد إثبات الحكم في جميع الأفراد الذين يصلح أن يدخلوا في مدلول النص العام ومعناه (2).

--------------------------------------------

(1) كما في " مسلم الثبوت " للإمام محب الله بن عبد الشكور وشرحه " فواتح الرحموت " للعلَاّمة عبد العلي محمد بن نظام الدين الأنصاري: جـ 1 ص 255، وانظر " التوضيح " لصدر الشريعة عبد الله بن مسعود المحبوبي البخاري الحنفي المُتَوَفَّى سَنَةَ 747 هـ و" حاشية التلويح " عليه لسعد الدين مسعود بن عمر التفتازاني الشافعي: جـ 1 ص 32.

(2) " أصول السرخسي " لشمس الأئمة محمد بن أحمد السرخسي: جـ 1 ص 135 - 137 وفيه استدلالات بديعة. و" التنقيح " وشرحه " التوضيح " و " حاشية التلويح ": جـ 1 ص 39، و" فواتح الرحموت ": جـ 1 ص 261 - 265 وثمة أقوال أخرى لم نعرض لها لشدة ضعفها.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ (عام) এবং এর নির্দেশনার সুনিশ্চিত হওয়া (قطعية دلالته) প্রসঙ্গে:

‌‌সাধারণের (عام) সংজ্ঞা ও এর বিধান (حكم):

আভিধানিক অর্থে ব্যাপকতা (عموم)-এর অর্থ হলো: পরিব্যাপ্তি (شمول)।

আর উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের পরিভাষায়: এটি এমন একটি শব্দ যা অনির্দিষ্ট সংখ্যক বহু ব্যক্তি বা বস্তুকে বুঝাতে একবারে গঠন করা হয়েছে, যা এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য সকলকে শামিল করে (১)।

এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে} [সূরা আল-মুমিনুন: ১]। এবং তাঁর বাণী: {সময়ের শপথ, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিমজ্জিত; তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে} [সূরা আল-আসর: ১-৩]।

 

হানাফী ফকীহগণ এবং জমহুর (جماهير) উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, সাধারণ (عام) শব্দ সেই সমস্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে বিধান (حكم) সাব্যস্ত হওয়াকে বুঝায়, যা সেই সাধারণ (عام) দলিলের (نص) শব্দার্থ ও মর্মার্থের অধীনে আসার উপযুক্ত (২)।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি ইমাম মুহিব্বুল্লাহ ইবনে আবদুশ শাকুরের "মুসলিমুস সুবুত" এবং আল্লামা আবদুল আলী মুহাম্মদ ইবনে নিজামুদ্দিন আনসারী রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "ফাওয়াতিহুর রাহমুত": ১ম খণ্ড, ২৫৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। আরও দেখুন সদরুশ শরীয়াহ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-মাহবুবী আল-বুখারী আল-হানাফী (ওফাত: ৭৪৭ হিজরি) রচিত "আত-তাওদীহ" এবং তার ওপর সাদউদ্দীন মাসউদ ইবনে উমর আত-তাফতাজানী আশ-শাফেয়ী রচিত "হাশিয়াতুত তালবীহ": ১ম খণ্ড, ৩২ পৃষ্ঠা।

(২) শামসুল আইম্মাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সারাকসী রচিত "উসুলুস সারাকসী": ১ম খণ্ড, ১৩৫-১৩৭ পৃষ্ঠা, এতে অত্যন্ত চমৎকার সব প্রমাণাদি রয়েছে। আরও দেখুন "আত-তানকীহ" ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আত-তাওদীহ" এবং "হাশিয়াতুত তালবীহ": ১ম খণ্ড, ৩৯ পৃষ্ঠা, এবং "ফাওয়াতিহুর রাহমুত": ১ম খণ্ড, ২৬১-২৬৫ পৃষ্ঠা। এছাড়া আরও কিছু অভিমত রয়েছে যা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف) হওয়ার কারণে আমরা এখানে উল্লেখ করিনি।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
وذلك هو مقتضي العمل بدلالة اللفظ، والمعنى الذي وضع له في اللغة، وهو إجماع الصحابة وأهل اللغة، فإنهم بأجمعهم قد أجروا الألفاظ العامة من نصوص الكتاب والسنة على عمومها وشملوا بها كل الأفراد التي تدخل فيها إلا ما ثبت الدليل على استثنائه من العموم أو تخصيصه بحكم خاص غير الحكم الثابت في النص العام.

 

فاتفقوا على العمل بالعموم في قوله تعالى: {وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا} [البقرة: 278].

وقوله: {لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ} [المائدة: 95]. وقوله: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة: 110].

وغير ذلك كثير من صيغ العموم في الكتاب والسنة. بل إن النبي صلى الله عليه وسلم دعا بعض الصحابة وهو في الصلاة فلم يجبه، قال صلى الله عليه وسلم: «أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ: {اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ [لِمَا يُحْيِيكُمْ]} [الأنفال: 24]» أخرجه البخاري من حديث أَبِي سَعِيدِ بْنِ المُعَلَّى والترمذي من حديث أُبَيٍّ بْنِ كَعْبٍ (1). وهذا استدلال بالعموم كما قال السرخسي (2).

 

‌‌قَطْعِيَّةُ دَلَالَةِ العَامِّ:

الا أن الحنفية اختلفوا بعد ذلك مع الجمهور في طبيعة هذه الدلالة التي أفادها النص العام على العموم، هل هي قطعية أو ظنية؟

والمراد بالدلالة القطعية هنا: أن النص العام لا يحتمل الخصوص احتمالاً ناشئًا عن دليل، أو أن دلالته لا شبهة فيها.

--------------------------------------------

(1) " البخاري " في (فضائل القرآن): جـ 6 ص 187، والترمذي: جـ 5 ص 155 و 156 وصححه.

(2) " أصول السرخسي ": جـ 1 ص 35.
এবং এটিই শব্দের নির্দেশনার (دلالة) দাবি এবং ভাষায় এটি যে অর্থের জন্য নির্ধারিত হয়েছে সেই অনুযায়ী আমল করার চাহিদা। এটি সাহাবীগণ এবং ভাষাবিদগণের ঐক্যমত (إجماع)। কেননা তারা সকলেই কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের সাধারণ (عام) শব্দগুলোকে তাদের ব্যাপকতার (عموم) ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি বা বস্তুকে শামিল করেছেন, যতক্ষণ না ব্যাপকতা (عموم) থেকে কোনো কিছুকে বাদ দেওয়ার দলিল প্রমাণিত হয়েছে অথবা সাধারণ নস (النص العام)-এ সাব্যস্ত বিধান ব্যতীত অন্য কোনো বিশেষ বিধানের মাধ্যমে তাকে নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।

 

মহান আল্লাহর এই বাণীতে তারা ব্যাপকতার (عموم) ওপর আমল করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন: "এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো" [আল-বাকারা: ২৭৮]।

এবং তাঁর বাণী: "তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারকে হত্যা করো না" [আল-মায়েদাহ: ৯৫]। এবং তাঁর বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো" [আল-বাকারা: ১১০]।

এ ছাড়াও কুরআন ও সুন্নাহতে ব্যাপকতার (عموم) আরও অনেক শব্দরূপ বা সিগাহ রয়েছে। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক সাহাবীকে ডাকলেন যখন তিনি সালাতে ছিলেন, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহ কি বলেননি: 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন তোমাদেরকে আহ্বান করেন, তখন তোমরা তাতে সাড়া দিও [যা তোমাদের জীবন দান করে]' [আল-আনফাল: ২৪]"? এটি সহিহ বুখারি আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা থেকে এবং তিরমিজি উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন (১)। আর এটি হলো ব্যাপকতা (عموم) দ্বারা দলিল গ্রহণ করা, যেমনটি সারখাসি বলেছেন (২)।

 

‌‌আম (عام) শব্দের নির্দেশনার নিশ্চিত হওয়া (قطعية):

তবে সাধারণ নস (النص العام) যে ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে, তার প্রকৃতির ব্যাপারে হানাফিগণ জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন—এটি কি সুনিশ্চিত (قطعية) নাকি ধারণাপ্রসূত (ظنية)?

এখানে নিশ্চিত নির্দেশনা (الدلالة القطعية) বলতে উদ্দেশ্য হলো: সাধারণ নসটি (النص العام) দলিলের ভিত্তিতে কোনো সুনির্দিষ্টকরণের (خصوص) সম্ভাবনা রাখে না, অথবা তার নির্দেশনায় কোনো সংশয় নেই।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি (ফাজাইলুল কুরআন অধ্যায়): খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৮৭, এবং তিরমিজি: খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৫৫ ও ১৫৬ এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(২) উসুলুস সারখাসি: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
والمراد بالدلالة الظنية أن النص العام يحتمل الخصوص احتمالاً ناشئًا عن دليل أو أن دلالته على العموم فيها شبهة.

 

فقال الحنفية وهو رواية عن الإمام أحمد وقال به بعض الحنابلة منهم ابن عقيل والفخر إسماعيل: إن النص العام يثبت الحكم في جميع ما يتناوله على سبيل القطع، وهو في ذلك عندهم كالخاص سواء بسواء.

وقال أكثر الفقهاء والمتكلمين وهو المعتمد عند الحنابلة: إنه يثبت الحكم فيما يتناوله على سبيل الظن، وهو في ذلك مخالف للنص الخاص، فإن الخاص عندهم قطعي الدلالة على مدلوله (1).

 

استدل الحنفية على مذهبهم فقالوا: إن اللفظ متى وضع لمعنى كان هذا المعنى لازمًا له وثابتًا به قطعًا، حتى يقوم الدليل على خلافه، والعموم قد وضع له اللفظ العام اتفاقًا بيننا وبينكم، فيكون ثابتًا به ولازمًا له قطعًا حتى يقوم الدليل على صرفه عنه إلى غيره.

 

واستدل الجمهور على أن العام ظني الدلالة فقالوا: كل عام يحتمل التخصيص، والتخصيص شائع فيه حتى صار قولهم: «مَا مِنْ عَامٍّ إِلَاّ وَقَدْ خُصِّصَ» بمنزلة المثل، ولهذا يؤكد العام بكل وأجمع، لإزالة هذا الاحتمال، والقطع لا يثبت مع الاحتمال، لأنه عبارة عن قطع الاحتمال.

 

وقد دارت بين الفريقين محاورات ومناقشات لا حاجة بنا هنا إلى

--------------------------------------------

(1) انظر المسألة وفروعها في " أصول السرخسي ": جـ 1 ص 137 - 143، و" التنقيح " وشرحه " التوضيح "، و" حاشية التفتازاني ": جـ 1 ص 39 - 41، و" فواتح الرحموت ": جـ 1 ص 265 - 267، و" شرح الكوكب المنير ": جـ 3 ص 114 مع الحاشية.
'ধারণামূলক নির্দেশিকা (دلالة ظنية)' এর অর্থ হলো সাধারণ পাঠ (النص العام) কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট হওয়ার (الخصوص) সম্ভাবনা রাখে অথবা এর ব্যাপক অর্থবোধকতার (العموم) ক্ষেত্রে সংশয় (شبهة) রয়েছে।

 

হানাফিগণ বলেছেন—আর এটি ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية)—এবং ইবনে আকীল ও ফখর ইসমাঈল সহ কিছু হাম্বলি আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে: সাধারণ পাঠ (النص العام) তার অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়ের বিধানকে নিশ্চিতভাবে (القطع) সাব্যস্ত করে। এ ক্ষেত্রে তাদের নিকট এটি ঠিক বিশেষ পাঠের (الخاص) মতোই সমান।

অধিকাংশ ফকিহ (الفقهاء) ও কালামশাস্ত্রবিদগণ (المتكلمين) বলেছেন—এবং এটিই হাম্বলিদের নিকট নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মত—যে: এটি (সাধারণ পাঠ) তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর বিধানকে ধারণার (الظن) ভিত্তিতে সাব্যস্ত করে। এ দিক থেকে এটি বিশেষ পাঠের (النص الخاص) বিপরীত; কারণ তাদের নিকট বিশেষ পাঠ (الخاص) তার উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর নিশ্চিত নির্দেশক (قطعي الدلالة)। (১)

 

হানাফিগণ তাঁদের মাযহাবের (مذهب) পক্ষে দলিল পেশ করে বলেছেন: কোনো শব্দ যখন কোনো নির্দিষ্ট অর্থের জন্য গঠিত হয়, তখন সেই অর্থটি শব্দটির জন্য অবিচ্ছেদ্য এবং এর মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে (القطع) সাব্যস্ত হয়, যতক্ষণ না এর বিপরীতে কোনো দলিল পাওয়া যায়। আর আমাদের ও আপনাদের মধ্যে ঐকমত্য অনুযায়ী ব্যাপক অর্থবোধক শব্দটিকে ব্যাপকতার (العموم) জন্যই গঠন করা হয়েছে। সুতরাং এটি এর মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে (القطع) সাব্যস্ত ও অবিচ্ছেদ্য হবে, যতক্ষণ না একে অন্য কোনো অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার দলিল পাওয়া যায়।

 

জমহুর (الجمهور) আলেমগণ সাধারণ পাঠটি ধারণামূলক নির্দেশক (ظني الدلالة) হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করে বলেছেন: প্রতিটি সাধারণ পাঠই (عام) নির্দিষ্টকরণের (التخصيص) সম্ভাবনা রাখে। আর এতে নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) এতই ব্যাপক যে তাঁদের এই কথাটি—'এমন কোনো সাধারণ পাঠ নেই যা নির্দিষ্ট করা হয়নি'—একটি প্রবাদে পরিণত হয়েছে। এই কারণেই সাধারণ শব্দকে 'কুল্লুন' এবং 'আজমাউ' শব্দ দ্বারা তাকিদ বা জোর দেওয়া হয় যাতে এই সম্ভাবনা দূর করা যায়। আর সম্ভাবনা থাকলে নিশ্চিততা (القطع) সাব্যস্ত হয় না, কারণ নিশ্চিততা (القطع) মানেই হলো সম্ভাবনার অবসান ঘটানো।

 

উভয় পক্ষের মধ্যে এমন অনেক আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে যা এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই...

--------------------------------------------

(১) মাসআলাটি ও এর শাখা-প্রশাখা দেখুন "উসুলুস সারাখসি": ১ম খণ্ড, ১৩৭-১৪৩ পৃষ্ঠা; "আত-তানকিহ" ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আত-তাওদিহ"; "হাশিয়াতুত তাফতাজানি": ১ম খণ্ড, ৩৯-৪১ পৃষ্ঠা; "ফাওয়াতিহুর রাহমুত": ১ম খণ্ড, ২৬৫-২৬৭ পৃষ্ঠা; এবং "শারহুল কাওকাবিল মুনির": ৩য় খণ্ড, ১১৪ পৃষ্ঠা, টীকা সহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
بسطها، غير أنا نستطع أن نجد ما يقوي مذهب الحنفية في هذه المسألة الهامة، وكذلك أن تجويز أن يراد بالنص العام بعض الأفراد دون البعض من غير قرينة أو دليل كما ذهب مخالفو الحنفية أمر مستبعد موقع في الارتباك أمام النصوص، وذلك لأنه يؤدي إلى ارتفاع الأمان عن اللغة وعن الشرع؛ وإلى التلبيس على السامع، لأن عن كل ما ورد في اللغة عَامًّا فإنه يحتمل الخصوص حينئذٍ، فلا يستقيم فهم العموم منه.

 

وكذلك في الشرع، لأن معظم خطابات الشرع عامة، فإذا جاز إرادة بعض من غير قرينة لما صح فهم الأحكام على وجه العموم، وأدى ذلك إلى التلبيس على المخاطبين، وتكليفهم بالمحال، وهو باطل.

 

كما يقوي مذهب الجمهور ما استدل به ابن النجار الحنبلي (1) «إن التخصيص بالمتراخي لا يكون نَسْخًا ولو كان العام نَصًّا على أفراده لكان نَسْخًا، وذلك أن صيغ العموم ترد تارة باقية على عمومها، وتارة يراد بها بعض الأفراد، وتارة يقع فيها التخصيص، ومع الاحتمال لا قطع، بل لما كان الأصل بقاء العموم فيها كان هو الظاهر المعتمد للظن».

 

وقد تضمنت كلمته هذه جواب استدلال الحنفية حين قال: «لما كان الأصل بقاء العموم فيها كان هو الظاهر المعتمد للظن».

--------------------------------------------

(1) " شرح الكوكب المنير ": جـ 3 ص 115.
বক্তব্যটির বিস্তারিত আলোচনা এখানে সম্ভব নয়, তবে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ মাসআলায় হানাফি মাজহাবকে শক্তিশালী করে এমন প্রমাণ খুঁজে পেতে পারি। একইভাবে, কোনো প্রকার সূত্র (قرينة) বা প্রমাণ ছাড়াই সাধারণ নস (النص العام) দ্বারা কেবল কিছু ব্যক্তি বা বিষয়কে উদ্দেশ্য করা বৈধ মনে করা—যা হানাফিদের বিরোধীরা মনে করেন—তা একটি দূরবর্তী বিষয় এবং নসসমূহের সম্মুখে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী। কারণ এটি ভাষা ও শরয়ি বিধানের ওপর থেকে নির্ভরতা দূর করে দেয় এবং শ্রোতার মনে সংশয় তৈরি করে; যেহেতু ভাষায় যা কিছু সাধারণ (عام) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তা যদি তখন বিশেষ হওয়ার (الخصوص) সম্ভাবনা রাখে, তবে তা থেকে ব্যাপকতা (العموم) অনুধাবন করা আর সংগত থাকে না।

 

অনুরূপভাবে শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, কারণ শরয়ি সম্বোধনসমূহের অধিকাংশই সাধারণ (عام)। সুতরাং যদি কোনো সূত্র (قرينة) ছাড়াই আংশিক অর্থ গ্রহণ করা বৈধ হতো, তবে বিধানসমূহকে ব্যাপকতার ভিত্তিতে বোঝা সঠিক হতো না। এটি সম্বোধিত ব্যক্তিদের বিভ্রান্তিতে ফেলত এবং তাদের জন্য অসম্ভব কোনো বিষয়ে দায়বদ্ধ করার (تكليف بالمحال) নামান্তর হতো, যা বাতিল।

 

সংখ্যাগুরু বা জুমহুর (الجمهور) আলিমদের মতকে ইবনে নাজ্জার আল-হাম্বলির সেই দলিলটিও শক্তিশালী করে যাতে তিনি বলেছেন: (১) "বিলম্বিত বিশেষীকরণ (التخصيص) কোনোভাবেই রহিতকরণ (نسخ) নয়। যদি সাধারণ (عام) বিষয়টি তার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সদস্যের ওপর দ্ব্যর্থহীন পাঠ (نص) হতো, তবেই তা রহিতকরণ (نسخ) বলে গণ্য হতো। বস্তুত, ব্যাপকতাবোধক শব্দাবলি কখনো তার স্বীয় ব্যাপকতার ওপর বহাল থাকে, কখনো তা দ্বারা আংশিক অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, আবার কখনো তাতে বিশেষীকরণ (التخصيص) ঘটে থাকে। আর যেখানে একাধিক সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে, সেখানে কোনো সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত (قطع) দেওয়া যায় না। বরং যেহেতু শব্দটির মূল নীতি হলো ব্যাপকতা বজায় থাকা, তাই এটিই প্রবল ধারণার (للظن) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য রূপ (الظاهر) হিসেবে গণ্য হবে।"

 

তাঁর এই বক্তব্যের মাঝেই হানাফিদের দলিলের উত্তর নিহিত রয়েছে, যখন তিনি বলেছেন: "যেহেতু শব্দটির মূল নীতি হলো ব্যাপকতা বজায় থাকা, তাই এটিই প্রবল ধারণার (للظن) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য রূপ (الظاهر) হিসেবে গণ্য হবে।"

--------------------------------------------

(১) "শারহুল কাওকাবিল মুনীর": ৩য় খণ্ড, ১১৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌نَتَائِجُ الخِلَافِ فِي قَطْعِيَّةِ العَامِّ:

بعد هذا فإن الباحث يتوقع أن ينتج عن هذا الخلاف في طبيعة دلالة العام اختلاف في أمور كثيرة بين الفقهاء، لكثرة النصوص العامة، ويمكن أن نلخص هذا الاختلاف في قاعدتين هامتين نوضحهما فيما يلي:

القاعدة الأولي: تخصيص النص العام بخبر الواحد أو القياس إذا لم يكن قد خص قبل ذلك بدليل قطعي:

فعند القائلين بظنية العام يجوز هذا التخصيص، وعند القائلين بقطعية العام لا يجوز، ولهذا حَرَّمَ الحنفية الأكل من ذبيحة المسلم إذا ترك التسمية عَمْدًا، لأخذهم بالعموم في قوله تعالى: {وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ} [الأنعام: 121]، ولم يخصوه بقول الرسول صلى الله عليه وسلم: «الْمُسْلِمَ يَذْبَحُ عَلَى اسْمِ اللَّهِ، سَمَّى أَوْ لَمْ يُسَمِّ»، ولا بقياس ترك التسمية عَمْدًا على تركها نِسْيَانًا بجامع وجود ذكر الله في القلب في كل منهما، وذلك لأن الحديث خبر واحد وهو لا يخصص العام من الكتاب الذي لم يخص قبل ذلك بدليل قطعي الثبوت، وهو قطعي الدلالة عندهم، وخبر الواحد ظني الثبوت، وكذلك القياس فإنه ظني، والظني لا يخصص القطعي.

 

وخصص الشافعية هذا العموم بالحديث وبالقياس، لأن العام الظني الدلالة عندهم فيجوز تخصيصه بالظني، كالقياس وخبر الواحد، ولهذا قالوا: يحل الأكل من ذبيحة المسلم إذا ترك التسمية عَمْدًا.

 

القاعدة الثانية: التوفيق بين العام والخاص إذا ختلفا.

 

قال الحنفية: إذا اختلف العام والخاص فإن التعارض يثبت في
সাধারণ (العام) শব্দের নিশ্চিত (قطعية) হওয়ার বিষয়ে মতবিরোধের ফলাফল:

এর পরিপ্রেক্ষিতে গবেষক ধারণা করেন যে, সাধারণ (العام) শব্দের নির্দেশিকার (دلالة) প্রকৃতি সংক্রান্ত এই মতভেদ ফকীহদের মধ্যে অনেক বিষয়ে পার্থক্যের সৃষ্টি করবে, কারণ সাধারণ নসসমূহ (মূল পাঠ্য) অত্যন্ত ব্যাপক। আমরা এই মতপার্থক্যকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করতে পারি, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

প্রথম মূলনীতি: সাধারণ (العام) নসকে একক বর্ণনা (خبر الواحد) বা সাদৃশ্য বিধানের (القياس) মাধ্যমে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص), যদি এর আগে কোনো নিশ্চিত দলীল (دليل قطعي) দ্বারা একে সুনির্দিষ্ট না করা হয়ে থাকে:

যারা সাধারণ (العام) শব্দকে ধারণাপ্রসূত (ظنية) মনে করেন, তাদের নিকট এই সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) বৈধ। আর যারা সাধারণ (العام) শব্দকে নিশ্চিত (قطعية) মনে করেন, তাদের নিকট এটি বৈধ নয়। এই কারণেই হানাফীগণ কোনো মুসলিমের জবাই করা পশু ভক্ষণ করা হারাম ঘোষণা করেছেন যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম (তাসমিয়াহ) পাঠ করা বর্জন করে। কারণ তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সাধারণ (العাম) অর্থ গ্রহণ করেছেন: "আর তোমরা তা থেকে আহার করো না যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি" [আল-আনআম: ১২১]। তারা এই আয়াতকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারা সুনির্দিষ্ট (خصص) করেননি যে: "মুসলিম আল্লাহর নামেই জবাই করে, সে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করুক বা না করুক।" এমনকি তারা ভুলে বিসমিল্লাহ ছেড়ে দেওয়ার ওপর ভিত্তি করে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য বিধান (القياس) করেননি—উভয় ক্ষেত্রে অন্তরে আল্লাহর স্মরণ বিদ্যমান থাকার সাধারণ কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে। কারণ উক্ত হাদিসটি হলো একক বর্ণনা (خبر الواحد), যা কুরআনের এমন সাধারণ (العام) নির্দেশকে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করতে পারে না যা ইতিপূর্বে কোনো প্রমাণিত হওয়ার দিক থেকে নিশ্চিত (قطعي الثبوت) দলীল দ্বারা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। কারণ তাদের মতে কুরআনের সেই আয়াতটি নির্দেশিকার দিক থেকে নিশ্চিত (قطعي الدلالة)। পক্ষান্তরে একক বর্ণনা (خبر الواحد) হলো প্রমাণিত হওয়ার দিক থেকে ধারণাপ্রসূত (ظني الثبوت), তেমনিভাবে সাদৃশ্য বিধানও (القياس) ধারণাপ্রসূত (ظني); আর ধারণাপ্রসূত (ظني) বিষয় নিশ্চিত (قطعي) বিষয়কে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করতে পারে না।

 

শাফিঈগণ এই সাধারণ (العموم) নির্দেশকে হাদিস এবং সাদৃশ্য বিধান (القياس) দ্বারা সুনির্দিষ্ট (خصص) করেছেন। কারণ তাদের নিকট সাধারণ (العام) নির্দেশটি হলো নির্দেশিকার দিক থেকে ধারণাপ্রসূত (ظني الدلالة), ফলে একে ধারণাপ্রসূত (ظني) প্রমাণাদি যেমন সাদৃশ্য বিধান (القياس) এবং একক বর্ণনা (خبر الواحد) দ্বারা সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) বৈধ। একারণেই তারা বলেছেন: কোনো মুসলিম আল্লাহর নাম পাঠ করা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলেও তার জবাই করা পশু ভক্ষণ করা হালাল।

 

দ্বিতীয় মূলনীতি: সাধারণ (العام) এবং বিশেষ (الخاص) নির্দেশের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিলে তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

 

হানাফীগণ বলেন: যখন সাধারণ (العام) এবং বিশেষ (الخاص) এর মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন বৈপরীত্য (التعارض) সাব্যস্ত হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
في القدر أو الموضوع الذي اختلف حكمهما فيه، لتساويهما في القطعية، فنأخذ حينئذ بتطبيق قواعد التوفيق المدروسة في موضعها من علم أصول الفقه.

أما غير الحنفية فإنهم يقولون: لا يقاوم العام الخاص، لأن الخاص قطعي والعام ظني، فلا بد أن يقدم الخاص على العام ويعمل به سواء كان الخاص متقدمًا على العام في الورود أو متأخرًا عنه أم مقارنًا له، ومعنى كون الخاص مقدمًا على العام أن يعمل به في المقدار الذي خالف فيه العام مطلقًا كما ذكرنا، ولا يخضع العمل به لقواعد التوفيق بين النصوص.

 

وقد أثر هذا الخلاف تأثيرًا بَيِّنًا في الفروع الفقهية، لكن مما يلفت النظر فيه أننا نجد أنصارًا لمذهب الحنفية في بعض الفروع من أهل المذاهب الأخرى، التي لا توافقهم في هذه القضية، أعني قطعية دلالة العام.

 

ومن أمثلة ذلك:

1ـ مسألة صلاة تحية المسجد لمن دخل يوم الجمعة والإمام يخطب:

فقد دل قوله تعالى: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الأعراف: 204] على عدم مشروعيتها، لأن الخطبة لا تخلو من قراءة قرآن، ودل حديث الرجل الذي دخل يوم الجمعة والنبي يخطب وأمره إياه أن يصلي ركعتين على مشروعيتها، وفي بعض ألفاظه قوله: «إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ أَوْ قَدْ خَرَجَ، فَلْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ» (1) دل

--------------------------------------------

(1) الحديث متفق عليه وهو ثابت في " الصحيحين " بالروايتين المشار إليهما: " البخاري " في (الجمعة): جـ 2 ص 10 وفي (التطوع): جـ 2 ص 56، و" مسلم " في (الجمعة): جـ 3 ص 14، 15.
যে পরিমাণ বা বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়ের বিধানের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয়, কারণ অকাট্য হওয়ার (القطعية) ক্ষেত্রে উভয়ই সমান। এমতাবস্থায় আমরা উসূল আল-ফিকহ শাস্ত্রে স্ব-স্ব স্থানে আলোচিত সমন্বয় সাধনের নীতিমালা প্রয়োগ করি।

পক্ষান্তরে হানাফী মাজহাব ব্যতীত অন্য উলামাগণ বলেন: সাধারণ (العام) কখনও বিশেষের (الخاص) মোকাবিলা করতে পারে না; কারণ বিশেষ (الخاص) হলো অকাট্য (قطعي) আর সাধারণ (العام) হলো ধারণামূলক (ظني)। সুতরাং অবশ্যই বিশেষকে (الخاص) সাধারণের (العام) ওপর অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে, চাই সেই বিশেষটি (الخاص) পৌঁছানোর দিক থেকে সাধারণের (العام) আগে হোক, পরে হোক কিংবা সমসাময়িক হোক। বিশেষকে (الخاص) সাধারণের (العام) ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ হলো—আমরা ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করেছি—তা যে পরিমাণে সাধারণের (العام) পরিপন্থী হবে, সেই পরিমাণে নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) তার ওপর আমল করতে হবে। আর এর ওপর আমল করার বিষয়টি দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নীতিমালার অধীন হবে না।

 

ফিকহী শাখা-প্রশাখায় (ফুরু) এই মতভেদের একটি সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, কিছু শাখাগত মাসআলায় আমরা অন্যান্য মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যেও হানাফী মাজহাবের সমর্থক দেখতে পাই, যদিও তারা সাধারণের নির্দেশ অকাট্য হওয়ার (قطعية دلالة العام) বিষয়ে তাদের সাথে একমত নন।

 

এর অন্যতম উদাহরণ হলো:

১. জুমার দিন ইমাম খুতবা প্রদানরত অবস্থায় কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায়ের মাসআলা:

আল্লাহ তাআলার বাণী: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [আরাফ: ২০৪]—এই আয়াতটি খুতবা চলাকালীন নামাজ বৈধ না হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে, কারণ খুতবা কুরআন তেলাওয়াত থেকে মুক্ত নয়। অন্যদিকে জুমার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দেওয়া অবস্থায় এক ব্যক্তির মসজিদে প্রবেশের হাদিস এবং তাকে দুই রাকাত নামাজ পড়ার আদেশ প্রদান করা—এটি এর বৈধতার ওপর প্রমাণ পেশ করে। এর কিছু শব্দে এসেছে: «তোমাদের কেউ যখন আসে আর ইমাম খুতবা দিচ্ছেন অথবা বের হয়েছেন, সে যেন দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেয়» (১)। এটি প্রমাণ করে...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং এটি উল্লিখিত দুটি বর্ণনার মাধ্যমে সহীহায়নে প্রমাণিত: বুখারি, (জুমা): ২য় খণ্ড, ১০ পৃষ্ঠা এবং (তাতাউ): ২য় খণ্ড, ৫৬ পৃষ্ঠা; মুসলিম, (জুমা): ৩য় খণ্ড, ১৪ ও ১৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
هذا الحديث على مشروعية تحية المسجد لمن دخل يوم الجمعة والإمام يخطب.

فقال الحنفية والمالكية: بعدم مشروعية تحية المسجد هذه عملاً بعموم الآية والأدلة التي تمنع من تحية المسجد والإمام يخطب، وتأولوا الحديث بأنه واقعة عين خاصة بهذا الرجل، أو أن النبي صلى الله عليه وسلم أراد ان يتصدق الناس عليه كما في بعض الروايات.

 

فَأَيَّدَ المالكية الحنفية في هذه المسألة، لاتفاق أهل المدينة على منع النافلة حال الخطبة، خَلَفًا عَنْ سَلَفٍ (1).

 

وذهب الشافعية والحنبلية إلى أنه يُسَنُّ أَدَاؤُهُمَا لمن دخل والإمام يخطب، وذلك عَمَلاً بالحديث المذكور بناء على قاعدتهم بتخصيص القرآن بأخبار الآحاد.

 

2ـ مسألة زكاة الزروع:

فقد دَلَّ القرآن على وجوب الزكاة في جميع المحاصيل الزراعية، بأي مقدار كانت ومن أي نوع، وذلك لعموم قوله تعالى: {كُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} [الأنعام: 141].

 

وعارض هذا العموم بعض الأحاديث في موضعين نوضحهما فيما يأتي:

--------------------------------------------

(1) انظر " شرح مسلم " للنووي: جـ 6 ص 164، و" نيل الأوطار " للشوكاني: جـ 3 ص 257، 258، وانظر شرحنا للحديث في كتابنا " دراسات تطبيقية للحديث النبوي - قسم العبادات ": ص 241 - 244.
এই হাদিসটি জুমার দিনে ইমামের খুতবা প্রদানকালীন মসজিদে প্রবেশকারীর জন্য তাহিয়্যাতুল মাসজিদ বৈধ হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণ নির্দেশ করে।

হানাফি এবং মালিকি মাযহাবের ফকিহগণ এই তাহিয়্যাতুল মাসজিদ বৈধ না হওয়ার কথা বলেছেন। তারা আয়াতের ব্যাপক অর্থ এবং ওই সকল দলিলের ওপর আমল করেছেন যা ইমামের খুতবা চলাকালীন তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করতে নিষেধ করে। তারা এই হাদিসের ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটি ছিল ওই ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট একটি বিশেষ ঘটনা (واقعة عين), অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চেয়েছিলেন যেন মানুষ তাকে দান-সদকা করে, যেমনটি কিছু বর্ণনায় (روايات) এসেছে।

 

সুতরাং এই মাসআলায় মালিকি মাযহাব হানাফিদের সমর্থন করেছে; কেননা মদিনাবাসীদের মাঝে খুতবা চলাকালীন নফল নামাজ নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে পূর্বসূরি থেকে উত্তরসূরি পর্যন্ত ঐক্যমত্য বিদ্যমান। (১)

 

অন্যদিকে শাফেয়ী এবং হাম্বলি মাযহাবের অভিমত হলো, ইমাম খুতবা দেওয়া অবস্থায় কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে তার জন্য উক্ত দুই রাকাত আদায় করা সুন্নাত। তারা উল্লিখিত হাদিসের ওপর আমল করেছেন এবং তাদের মূলনীতি হলো একক বর্ণনার (أخبار الآحاد) মাধ্যমে কুরআনের সাধারণ বিধানকে সুনির্দিষ্ট করা।

 

২- ফসলের জাকাত সংক্রান্ত মাসআলা:

কুরআন সমস্ত কৃষি পণ্যের ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, তা যে পরিমাণ বা যে ধরনেরই হোক না কেন। এর কারণ হলো মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: "যখন তা ফলবান হয় তখন তার ফল খাও এবং ফসল কাটার দিনে তার হক (জাকাত) প্রদান কর।" [সূরা আল-আন'আম: ১৪১]।

 

এই সাধারণ নির্দেশের বিপরীতে কিছু হাদিস দুটি ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে, যা আমরা নিচে স্পষ্ট করছি:

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: নববি রচিত শারহু মুসলিম, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৬৪; এবং শাওকানি রচিত নাইলুল আওতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫৭, ২৫৮। আরও দেখুন আমাদের রচিত গ্রন্থ দিরাসাত তাতবিকিয়্যাহ লিল হাদিসিন নববি - কিসমুল ইবাদাত, পৃষ্ঠা ২৪১ - ২৪৪-এ উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২০)
الموضع الأول: مقدار الحاصلات الزراعية:

فإن ظاهر الآية وجوب الزكاة في الزروع لأي مقدار كانت، ويؤيد ذلك حديث «فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ [وَالعُيُونُ] أَوْ كَانَ عَثَرِيًّا العُشْرُ، وَمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ العُشْرِ». البخاري جـ 2 ص 133، أخرجه البخاري من رواية الزهري عن سالم بن عبد الله بن عمر عن ابن عمر، وهي سلسلة جليلة قيل إنها أصح الأسانيد.

 

وعارض ذلك حديث «لَيْسَ [فِيمَا دُونَ] خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ» المتفق عليه (1).

 

فقال الحنفية بعدم اشتراط النصاب المذكور لوجوب الزكاة، أَخْذًا بالنصوص العامة، لأنها أقوى ثُبُوتًا من الخاص.

 

وقال غيرهم: بل يشترط النصاب المذكور عَمَلاً بحديث الأوسق، وهو نص خاص فيخصص به العام وإن كان العام أقوى منه ثُبُوتًا، لأن العام ظني الدلالة عندهم.

 

الموضع الثاني: أنواع الزروع:

 

فقد دلتا الآية والحديث السابقان على وجوب الزكاة في جميع أنواع الزروع، لعموم النص فيهما، وورد تخصيص وجوب الزكاة بأنواع معينة في حديث: «لَا تَأْخُذَا فِي الصَّدَقَةِ إِلَاّ مِنْ هَذِهِ الأَصْنَافِ الأَرْبَعَةِ: الشَّعِيرِ، وَالحِنْطَةِ، وَالزَّبِيبِ، وَالتَّمْرِ» (2).

--------------------------------------------

(1) " البخاري ": جـ 2 ص 126، و" مسلم ": جـ 3 ص 66، 67.

(2) أخرجه الطبراني والحاكم وتكلم فيه الترمذي: جـ 3 ص 30، 31، بما يدل على شدة ضعفه، وذكر الزيلعي في " نصب الراية ": جـ 2 ص 386 - 389 طرقه وضعفها كلها، =
প্রথম বিষয়: কৃষি ফসলের পরিমাণ:

নিশ্চয়ই আয়াতের বাহ্যিক (ظاهر) দিকটি যে কোনো পরিমাণ ফসলের ক্ষেত্রে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়। এই বিষয়টি সেই হাদিস দ্বারা সমর্থিত যাতে বলা হয়েছে: "যা আসমানি বৃষ্টি [ও ঝরনা] দ্বারা সিক্ত হয় অথবা যা প্রাকৃতিকভাবে পানি পায় তাতে এক-দশমাংশ (উশর), আর যা সেচের মাধ্যমে সিক্ত হয় তাতে অর্ধ-দশমাংশ।" বুখারি, ২য় খণ্ড, ১৩৩ পৃষ্ঠা; ইমাম বুখারি এটি জুহরি থেকে, তিনি সালেম বিন আব্দুল্লাহ বিন ওমর থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি একটি সুমহান সিলসিলা বা ধারা, যাকে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) সমূহের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে।

 

এর বিপরীতে একটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (১) হাদিস রয়েছে: "পাঁচ ওয়াসাক-এর কম পরিমাণে কোনো সদকা (জাকাত) নেই।"

 

হানাফিগণ সাধারণ বর্ণনা (النصوص العامة) গ্রহণ করে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য উক্ত নিসাব (نصاب) শর্তযুক্ত না হওয়ার মত দিয়েছেন। কারণ এটি বিশেষ বর্ণনা অপেক্ষা অকাট্যতার দিক থেকে অধিক শক্তিশালী (أقوى ثبوتا)।

 

অন্যগণ বলেছেন: বরং ওয়াসাক সংক্রান্ত হাদিসের ওপর ভিত্তি করে উক্ত নিসাব (نصاب) শর্তযুক্ত হবে। এটি একটি বিশেষ নস (نص خاص), যার মাধ্যমে সাধারণ (العام) হুকুমটিকে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করা হবে; যদিও সাধারণ (العام) বর্ণনার অকাট্যতা এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী, কারণ তাদের মতে সাধারণ (العام) বর্ণনাটি অর্থপ্রকাশের ক্ষেত্রে ধারণাপ্রসূত (ظني الدلالة)।

 

দ্বিতীয় বিষয়: ফসলের প্রকারভেদ:

 

পূর্বোক্ত আয়াত ও হাদিস উভয়ই সকল প্রকার ফসলে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ দাখিল করে, কারণ উভয়ের ভাষ্যের সাধারণত্ব (عموم النص)। তবে জাকাত ওয়াজিব হওয়াকে নির্দিষ্ট কিছু প্রকারের সাথে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করার বিষয়টি এই হাদিসে এসেছে: "তোমরা সদকা (জাকাত) হিসেবে কেবল এই চারটি প্রকার গ্রহণ করবে: যব, গম, কিশমিশ এবং খেজুর" (২)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি: ২য় খণ্ড, ১২৬ পৃষ্ঠা; এবং মুসলিম: ৩য় খণ্ড, ৬৬, ৬৭ পৃষ্ঠা।

(২) তাবারানি ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন (৩য় খণ্ড, ৩০, ৩১ পৃষ্ঠা), যা এর চরম দুর্বলতা (شدة ضعفه) নির্দেশ করে। আর জাইলায়ি ‘নাসবুর রায়াহ’ গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ৩৮৬-৩৮৯ পৃষ্ঠা) এর সকল সূত্র উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে দুর্বল (ضعفها) সাব্যস্ত করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২১)
فقال الحنفية بوجوب الزكاة في جميع أنواع الزروع، عَمَلاً بعموم القرآن والحديث، وتكلموا في حديث التخصيص هذا بالطعن في سنده، وأجابوا عن المتن بأن المراد به زكاة يأخذها الجابي لتوزع عن طريق بيت المال.

وقال غيرهم بتخصيص وجوب الزكاة بأنواع معينة، عَمَلاً بالحديث المذكور الذي وجدوه تَقَوَّى في نظرهم بتعدد طرقه، على تفاصيل في كيفية عملهم به ليس هذا محلها.

 

وقد أيد القاضي الإمام أبو بكر بن العربي المالكي مذهب الحنفية في هذه المسألة كلها فقال في كتابه " أحكام القرآن " (1): «وَأَمَّا أَبُو حَنِيفَةَ فَجَعَلَ [الآيَةَ] مِرْآتَهُ فَأَبْصَرَ الحَقَّ، وَقَالَ: إنَّ اللَّهَ أَوْجَبَ الزَّكَاةَ فِي المَأْكُولِ قُوتًا كَانَ أَوْ غَيْرَهُ وَبَيَّنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ فِي عُمُومِ قَوْلِهِ: " فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ العُشْرُ "».

 

وقال في " عارضة الأحوذي " (2): «وَأَقْوَى المَذَاهِبِ فِي المَسْأَلَةِ مَذْهَبُ أَبِي حَنِيفَةَ دَلِيلاً، وَأَحْوَطُهَا لِلْمَسَاكِينِ، وَأَوْلَاهَا قِيَامًا بِشُكْرِ النِّعْمَةِ، وَعَلَيْهِ يَدُلُّ عُمُومُ الآيَةِ وَالحَدِيثِ».

 

• • •

--------------------------------------------

= انظر شرح الحديث في كتابنا " دراسات تطبيقية للحديث النبوي - قسم العبادات ": ص 26 - 28.

 

(1) جـ 1 ص 313.

(2) وهو شرحه على " جامع الترمذي ": جـ 3 ص 135 - وقد استوفى فيه ذكر المذاهب فبلغت ثمانية، انظر ص 100 - 134.
হানাফিগণ কুরআনের ব্যাপকতা এবং হাদিসের ওপর ভিত্তি করে সকল প্রকার ফসলের ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেছেন। তারা এই নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) হাদিসটির সনদ (سند) নিয়ে আপত্তি তুলেছেন এবং এর মতন (متن) সম্পর্কে জবাব দিয়েছেন যে, এখানে সেই জাকাত উদ্দেশ্য যা আদায়কারী বায়তুল মালের মাধ্যমে বণ্টনের জন্য গ্রহণ করেন।

অন্যরা উল্লিখিত হাদিসের ভিত্তিতে জাকাত ওয়াজিব হওয়াকে নির্দিষ্ট কিছু প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেছেন, যা তাঁদের দৃষ্টিতে বর্ণনাসূত্রের (طرق) আধিক্যের কারণে শক্তিশালী (تقوى) বলে বিবেচিত হয়েছে। তাঁরা এই হাদিসটি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে যে বিস্তারিত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা আলোচনার স্থান এটি নয়।

 

বিচারক ইমাম আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি এই সম্পূর্ণ মাসআলায় হানাফি মাজহাবকে সমর্থন করেছেন। তিনি তাঁর ‘আহকামুল কুরআন’ (১) গ্রন্থে বলেছেন: «পক্ষান্তরে আবু হানিফা [আয়াতকে] তাঁর দর্পণ বানিয়েছেন এবং সত্য প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা খাদ্যের ওপর জাকাত আবশ্যক করেছেন, তা প্রধান খাদ্য হোক বা না হোক। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীর ব্যাপকতায় তা স্পষ্ট করেছেন: "যা আকাশ সেচ দেয় তাতে ওশর (দশমাংশ)"।»

 

তিনি ‘আরিদাতুল আহওয়াজি’ (২) গ্রন্থে বলেছেন: «দলিলের দিক থেকে এই মাসআলায় আবু হানিফার মাজহাবই সর্বাধিক শক্তিশালী, মিসকিনদের জন্য সর্বাধিক সতর্কতামূলক এবং নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রগণ্য। আর কুরআনের আয়াতের ব্যাপকতা এবং হাদিস এর দিকেই ইঙ্গিত করে।»

 

• • •

--------------------------------------------

= আমাদের ‘দিরাসাত তাতবিকিয়্যাহ লিল হাদিসিন নাবাবি - কিসমুল ইবাদাত’ কিতাবে হাদিসটির ব্যাখ্যা দেখুন: পৃষ্ঠা ২৬ - ২৮।

 

(১) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৩।

(২) এটি ‘জামে তিরমিজি’র ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩৫ - এতে তিনি বিভিন্ন মাজহাবের উল্লেখ পূর্ণাঙ্গভাবে করেছেন যার সংখ্যা আটটি পর্যন্ত পৌঁছেছে, দেখুন পৃষ্ঠা ১০০ - ১৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المَبْحَثُ الثَّالِثُ: فِي الاِسْتِحْسَانِ وَحُجِّيَّتِهِ:

الاستحسان في اللغة: عد الشيء حسنًا.

وفي اصطلاح علماء اصول الفقه الحنفي يطلق بمعنيين:

الأول: المعنى الأعم: وهو كل دليل في مقابلة القياس الظاهر من كتاب أو سنة أو إجماع أو ضرورة أو قياس خفي.

المعنى الثاني: الأخص: وهو القياس الخفي، وقد غلب في الأصول أن يأتي بهذا المعنى (1) حتى ليظن كثير من الناس أن الاستحسان عند الحنفية خاص به.

 

مثال استحسان الكتاب والسنة: الترخيص في بيع السلم، فإنه في أصل القياس باطل لأنه بيع معدوم، وبيع المعدوم باطل. لكن ثبت الترخيص به في النص وهو قوله تعالى: {إِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَاكْتُبُوهُ} [البقرة: 282] وَ [بِالسُنَّةِ] بحديث: «مَنْ أَسْلَفَ فِي تَمْرٍ، فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ

--------------------------------------------

(1) بتصرف يسير عن " التوضيح والتلويح ": جـ 2 ص 81، 82، و" فواتح الرحموت ": جـ 2 ص 320، 321 نحوه في " التحرير " للكمال بن الهُمام وشرحه " التقرير والتحبير " لتلميذه ابن أمير الحاج: جـ 3 ص 222.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসতিহসান (الاستحسان) এবং এর প্রামাণ্যতা (حجية) প্রসঙ্গে:

শাব্দিক অর্থে ইসতিহসান: কোনো কিছুকে উত্তম মনে করা।

হানাফি উসুলে ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের পরিভাষায় এটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথম: ব্যাপক অর্থ: তা হলো কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা (إجماع), বিশেষ প্রয়োজন (ضرورة) অথবা প্রচ্ছন্ন কিয়াস (قياس خفي)-এর এমন প্রতিটি দলিল যা প্রকাশ্য কিয়াস (القياس الظاهر)-এর বিপরীতে আসে।

দ্বিতীয়: সুনির্দিষ্ট অর্থ: আর তা হলো প্রচ্ছন্ন কিয়াস (قياس خفي)। উসুলে ফিকহ শাস্ত্রে এই অর্থটিই অধিক প্রচলিত (১), এমনকি অনেক মানুষ মনে করেন যে হানাফিদের নিকট ইসতিহসান কেবল এরই অন্তর্ভুক্ত।

 

কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইসতিহসানের উদাহরণ: অগ্রিম বিক্রয় (بيع السلم)-এর ক্ষেত্রে বৈধতা (الترخيص) প্রদান। কেননা মূল কিয়াস (قياس) অনুযায়ী এটি বাতিল (باطل); কারণ এটি অস্তিত্বহীন বস্তুর বিক্রয়, আর অস্তিত্বহীন বস্তুর বিক্রয় বাতিল (باطل)। কিন্তু দলিল বা মূল পাঠ (النص)-এর মাধ্যমে এর বৈধতা সাব্যস্ত হয়েছে। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তোমরা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো} [আল-বাকারা: ২৮২] এবং সুন্নাহর মাধ্যমে এই হাদিস দ্বারা: "যে ব্যক্তি খেজুরের ক্ষেত্রে অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করবে, সে যেন নির্ধারিত মাপে অগ্রিম পরিশোধ করে..."

--------------------------------------------

(১) আত-তাওদিহ ওয়াত-তালওয়িহ: ২য় খণ্ড, পৃ. ৮১, ৮২ এবং ফাওয়াতিহুর রাহমুত: ২য় খণ্ড, পৃ. ৩২০, ৩২১ থেকে আংশিক পরিমার্জনসহ (بتصرف يسير)। অনুরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে কামাল ইবনুল হুমামের আত-তাহরির এবং তাঁর ছাত্র ইবন আমির আল-হাজ্জের এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আত-তাকরির ওয়াত-তাহবির-এ: ৩য় খণ্ড, পৃ. ২২২।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
مَعْلُومٍ، وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ، إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ» متفق عليه (1).

 

ومثال استحسان السنة: عقوبة الزاني المحصن بحد الرجم، فإن القياس أن يحد مائة جلدة قياسًا على البكر، لكن ثبت الرجم للمحصن بأحاديث " الصحيحين " على خلاف القياس.

 

ومثال استحسان الإجماع: الاستصناع: كأن يتعاقد مع الخياط على قميص كذا من قماش كذا بقيمة كذا، وهذا عقد صحيح عند الحنفية، مع أن «القياس يأبي عنه» كما قالوا، «إلا أنه انعقد الإجماع على جوازه في الصدر الأول، لأنهم كانوا يتعاملون به من غير نكير (2).

 

ومثال استحسان الضرورة: طهارة الحياض والآبار بعد تنجسها، والقياس يقتضي أن الحياض والآبار إذا تنجست لا تطهر أَبَدًا، لبقاء الماء المنجس ولو قليلاً وكذلك أرضه نجسة. إلا أنه حكم بالطهارة للضرورة والوقوع في الحرج العظيم (3).

 

‌‌حُجِّيَّةُ الاِسْتِحْسَانِ:

دار بين المتقدمين من العلماء نقاش كثير حول حُجِّيَّةِ الاستحسان ومشروعية العمل به، وأول من نقل إلينا كلامه في نقد الاستحسان هو الإمام الشافعي رضي الله عنه، وذلك أنهم قالوا: إن الاستحسان إثبات للحكم الشرعي بالرأي المجرد، أو باتباع ما يستهوي النفس، وهو

--------------------------------------------

(1) " البخاري " في أول (السلم): جـ 3 ص 85، و" مسلم ": جـ 5 ص 55.

(2) " التوضيح والتلويح ": جـ 2 ص 82، و" التقرير والتحبير ": جـ 3 ص 222، و" فواتح الرحموت ": جـ 2 ص 321.

(3) انظر المراجع السابقة.
...নির্দিষ্ট পরিমাপ, নির্দিষ্ট ওজন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিত্তিতে।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (১)।

 

সুন্নাহ ভিত্তিক ইসতিহসানের (استحسان) উদাহরণ হলো: বিবাহিত ব্যভিচারীর দণ্ড হিসেবে পাথর নিক্ষেপ বা রজম করা। কারণ কিয়াস (قياس) অনুযায়ী তাকে কুমার ব্যক্তির সাথে তুলনা করে একশ দোররা মারার কথা ছিল। কিন্তু কিয়াসের (قياس) বিপরীতে সহীহাইন-এর হাদিসসমূহ দ্বারা বিবাহিত ব্যক্তির জন্য রজম প্রমাণিত হয়েছে।

 

ইজমা (إجماع) ভিত্তিক ইসতিহসানের (استحسان) উদাহরণ হলো: ইসতিসনা (পণ্য তৈরির অর্ডার প্রদান): যেমন কোনো দর্জির সাথে নির্দিষ্ট কাপড়ের নির্দিষ্ট একটি জামা এত মূল্যে তৈরি করার চুক্তি করা। হানাফী মাযহাব মতে এটি একটি বৈধ (صحيح) চুক্তি, যদিও তারা বলেন যে, «কিয়াস (قياس) এটি অস্বীকার করে», তবে «প্রথম যুগেই এর বৈধতার ওপর ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কেননা তারা কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই এর মাধ্যমে লেনদেন করতেন (২)।

 

জরুরত বা প্রয়োজনীয়তা ভিত্তিক ইসতিহসানের (استحسان) উদাহরণ হলো: জলাধার ও কূপ নাপাক হওয়ার পর তা পবিত্র হওয়া। কিয়াস (قياس) দাবি করে যে, জলাধার ও কূপ নাপাক হলে তা কখনোই পবিত্র হবে না, কারণ এতে নাপাক পানি সামান্য হলেও অবশিষ্ট থাকে এবং এর মাটিও নাপাক হয়ে যায়। তবে বিশেষ প্রয়োজনীয়তা (ضرورة) এবং চরম সংকটে পড়ার আশঙ্কায় একে পবিত্র বলে হুকুম দেওয়া হয়েছে (৩)।

 

‌‌ইসতিহসানের (استحسان) প্রামাণ্যতা:

পূর্ববর্তী আলেমদের মাঝে ইসতিহসানের (استحسان) প্রামাণ্যতা এবং এর ওপর আমল করার বৈধতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। আমাদের নিকট ইসতিহসানের (استحسان) সমালোচনায় প্রথম যার বক্তব্য পৌঁছেছে তিনি হলেন ইমাম শাফিয়ী (রা.)। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন: ইসতিহসান (استحسان) হলো নিছক নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে অথবা নফসের খেয়াল-খুশির অনুসরণে শরয়ি হুকুম সাব্যস্ত করা, আর এটি...

--------------------------------------------

(১) বুখারী, 'আস-সালাম' অধ্যায়ের শুরুতে: ৩য় খণ্ড, ৮৫ পৃষ্ঠা; এবং মুসলিম: ৫ নম্বর খণ্ড, ৫৫ পৃষ্ঠা।

(২) "আত-তাওদীহ ওয়াত-তালবীহ": ২য় খণ্ড, ৮২ পৃষ্ঠা; "আত-তাকরীর ওয়াত-তাহবীর": ৩য় খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা; এবং "ফাওয়াইহুর রাহমুত": ২য় খণ্ড, ৩২১ পৃষ্ঠা।

(৩) পূর্ববর্তী সূত্রসমূহ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
ترك للقياس الذي هو حجة إلى ما ليس بحجة، وكل ذلك حرام لا يجوز في شرع الله تعالى، حتى إن الإمام الشافعي رضي الله عنه قال: «مَنْ اِسْتَحْسَنَ فَقَدْ شَرَّعَ» أي أن من أثبت حُكْمًا بأنه مستحسن عنده من غير دليل من الشارع فهو المشرع لذلك الحكم، حيث لم يأخذه من الشارع (1).

 

والحقيقة أننا إذا تأملنا حقيقة الاستحسان التي لخصاناها في تعريفه كما هو عند الحنفية لا نجد تَرَدُّدًا في قبوله والالتزام بحجيته، وذلك هو ما آل إليه عمل المحققين من مختلف المذاهب، وأسوق في ذلك هذا النص من كلام العلامة التفتازاني الشافعي المذهب فإنه يعبر عن جوهر القضية ببيان شاف وكاف، قال التفتازاني - رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى -: (2)

«والحق أنه لا يوجد في الاستحسان ما يصلح محلاً للنزاع، إذ ليس النزاع في التسمية لأنه اصطلاح، وقد قال الله تعالى: {الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ} [الزمر: 18] وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «مَا رَآهُ المُؤْمِنُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ حَسَنٌ» (3).

 

ونقل عن الأئمة إطلاق الاستحسان في دخول الحمام، وشرب الماء من يد السقاء، ونحو ذلك وعن الشافعي رحمه الله أنه قال:

--------------------------------------------

(1) " حاشية التلويح " للتفتازاني: جـ 2 ص 21 بتصرف يسير، وانظر " أصول السرخسي ": جـ 2 ص 199، 200.

(2) " حاشية التلويح ": جـ 2 ص 81.

(3) الحديث موقوف على ابن مسعود من قوله.

رواه أحمد في " المسند ": 5/ 211 رقم 3600 ط. شاكر، ووهم السخاوي في " المقاصد ": ص 581 رقم 959 فقال: «وَوَهِمَ مَنْ عَزَاهُ إِلَى المُسْنِدِ»، وتبعه العجلوني: 2/ 245 ط. الرسالة، وعزاه في " مجمع الزوائد " لأحمد والطبراني في " الكبير " والبزار وقال: (1/ 177، 178) ط. بيروت: «رِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ».
প্রমাণ (حجة) হিসেবে স্বীকৃত কিয়াস (قياس)-কে বর্জন করে এমন কিছুর দিকে ধাবিত হওয়া যা প্রমাণ (حجة) নয়—এসবই হারাম এবং আল্লাহর শরিয়তে তা বৈধ নয়। এমনকি ইমাম শাফিঈ (রা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইসতিহসান (استحسان) করল, সে যেন নতুন শরিয়ত প্রণয়ন করল» অর্থাৎ, যে ব্যক্তি প্রবর্তক বা শারে' (শারিয়ত দাতা)-এর দলিল ছাড়াই নিজের কাছে কোনো বিষয়কে উত্তম মনে করে তার ভিত্তিতে কোনো বিধান সাব্যস্ত করে, সে-ই উক্ত বিধানের প্রণেতা হিসেবে গণ্য হবে; কারণ সে তা শারে'-এর নিকট থেকে গ্রহণ করেনি (১)।

 

বাস্তবতা হলো, হানাফিদের নিকট ইসতিহসানের যে সংজ্ঞা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে, তা যদি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে এর গ্রহণযোগ্যতা ও দলিল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিধা খুঁজে পাই না। আর বিভিন্ন মাজহাবের বিজ্ঞ গবেষকগণের (محققين) কর্মপন্থা শেষ পর্যন্ত এ অভিমতকেই সমর্থন করেছে। এই প্রসঙ্গে আমি শাফিঈ মাজহাবের অনুসারী আল্লামা তাফতাজানির একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করছি, যা এই বিষয়ের মূল সারমর্মকে অত্যন্ত চমৎকার ও পর্যাপ্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। তাফতাজানি (রহ.) বলেন: (২)

«সঠিক কথা এই যে, ইসতিহসানের (استحسان) মধ্যে বিবাদের কোনো অবকাশ নেই। কারণ বিবাদটি নামকরণের ক্ষেত্রে নয়, যেহেতু এটি একটি পরিভাষা (اصطلاح)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম (আহসান) তা অনুসরণ করে} [আজ-জুমার: ১৮]। আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুমিনগণ যাকে ভালো মনে করে, আল্লাহর কাছেও তা ভালো» (৩)।

 

আইম্মায়ে কেরাম থেকে গোসলখানায় প্রবেশ, পানিবিক্রেতার হাত থেকে পানি পান এবং এ জাতীয় বিষয়ে 'ইসতিহসান' শব্দের প্রয়োগ বর্ণিত হয়েছে। আর ইমাম শাফিঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) তাফতাজানি কৃত "হাশিয়াতুত তালউইহ": ২য় খণ্ড, ২১ পৃষ্ঠা, সামান্য পরিমার্জিত; এবং দেখুন "উসুলুস সারাকাসি": ২য় খণ্ড, ১৯৯, ২০০ পৃষ্ঠা।

(২) "হাশিয়াতুত তালউইহ": ২য় খণ্ড, ৮১ পৃষ্ঠা।

(৩) হাদিসটি ইবনে মাসউদের উক্তি হিসেবে মাওকুফ (موقوف)।

এটি ইমাম আহমদ "মুসনাদ"-এ বর্ণনা করেছেন: ৫/২১১, হাদিস নং ৩৬০০, শাকের সংস্করণ। সাখাভি "আল-মাকাসিদ"-এ (৫৮১ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ৯৫৯) ভুলবশত বলেছেন: «যে একে মুসনাদ-এর দিকে সম্পৃক্ত করেছে সে ভুল করেছে»। আজলুনি "কাশফুল খাফা"-তে (২/২৪৫, আর-রিসালাহ সংস্করণ) তাকে অনুসরণ করেছেন। হাইসামি "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ একে আহমদ, তাবারানি "আল-কবীর" এবং বাজজার-এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং বলেছেন (১/১৭৭, ১৭৮, বৈরুত সংস্করণ): «এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বিবেচিত (موثقون)»।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
«أستحسن في المتعة أن تكون ثلاثين درهما، واستحسن ترك شيء للمكاتب من نجوم الكتابة».

 

وأما من جهة المعنى: فيلاحظ التفتازاني ملاحظة مهمة في الموضوع تبين سَبَبًا من الخلاف فيه، وهو اختلاف تعاريفهم للاستحسان، ومن ثم يخلص إلى هذه النتيجة فيقول (1): «ولما اختلفت العبارات في تفسير الاستحسان ـ مع أنه قد يطلق لغة على ما يهواه الإنسان ويميل إليه وإن كان مُسْتَقْبَحًا عند الغير، وكثر استعماله في مقابلة القياس ـ على الإطلاق ـ كان إنكار العمل به عند الجهل بمعناه مُسْتَحْسَنًا حتى يتبين المراد منه، إذ لا وجه لقبول العمل بما لا يعرف معناه».

 

وهذا الذي قاله السعد التفتازاني الشافعي يقرره لنا بإيجاز دقيق وواضح الفقيه والأصولي الحنبلي ابن اللحام الذي انتهت إليه رئاسة الحنابلة في زمنه فيقول (2):

«الاستحسان: هو العدول بحكم المسألة عن نظائرها لدليل شرعي خاص. وقد أطلق أحمد والشافعي القول به في مواضع.

وقال به الحنفية، وأنكره غيرهم، وهو الأشهر عن الشافعي، حتى قال: "مَنْ اِسْتَحْسَنَ فَقَدْ شَرَّعَ ". ولا يتحقق استحسان مختلف فيه». انتهى.

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق: جـ 2 ص 82، وانظر " التقرير والتحبير ": جـ 3 ص 222، 223 فقد أشار عدم ارتضائه هذا التوجيه، وكأنه لتقارب تعاريف الاستحسان، فيكون إنكار الاستحسان بسبب التخوف من إرادة المعنى اللغوي.

(2) في كتابه " المختصر في أصول الفقه ": ص 65.
«আমি মুত'আর (তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর উপহার) ক্ষেত্রে এটি ত্রিশ দিরহাম হওয়াকে উত্তম (أستحسن) মনে করি এবং মুকাতাব দাসের কিতাবাতের (মুক্তির জন্য চুক্তিবদ্ধ অর্থ) কিস্তিগুলো থেকে কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়াকে উত্তম (استحسن) মনে করি।»

 

আর অর্থের দিক থেকে: আল্লামা তাফতাজানি এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন যা এই ক্ষেত্রে মতভেদের একটি কারণকে স্পষ্ট করে। আর তা হলো ইস্তিহসানের (الاستحسان) সংজ্ঞায় তাদের মধ্যকার ভিন্নতা। অতঃপর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে বলেন (১): «যেহেতু ইস্তিহসানের (الاستحسان) ব্যাখ্যায় বর্ণনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে—যদিও আভিধানিকভাবে এটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা মানুষ পছন্দ করে এবং যার প্রতি সে ঝুঁকে পড়ে, যদিও তা অন্যের কাছে মন্দ (مُسْتَقْبَحًا) হয়; এবং সাধারণত কিয়াসের (القياس) বিপরীতে এর ব্যবহার ব্যাপক—তাই এর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অবস্থায় এর ওপর আমল করাকে অস্বীকার করাই উত্তম (مُسْتَحْسَنًا), যতক্ষণ না এর দ্বারা উদ্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট হয়। কারণ যার অর্থ জানা নেই তার ওপর আমল গ্রহণ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।»

 

সাদ তাফতাজানি শাফেয়ি যা বলেছেন, তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্টভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন হাম্বলি ফকিহ ও উসুলবিদ (الأصولي) ইবনুল লাহহাম, যাঁর কাছে তাঁর সময়ের হাম্বলিদের নেতৃত্ব সমাপ্ত হয়েছিল। তিনি বলেন (২):

«ইস্তিহসান (الاستحسان): বিশেষ কোনো শরয়ি দলিলের (دليل شرعي) কারণে কোনো বিষয়ের বিধানকে তার সদৃশ বিষয়গুলোর বিধান থেকে সরিয়ে নেওয়া। ইমাম আহমাদ এবং ইমাম শাফেয়ি বিভিন্ন স্থানে এটি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন।

হানাফিগণ এর সপক্ষে মত দিয়েছেন এবং অন্যেরা এটি অস্বীকার করেছেন। ইমাম শাফেয়ি থেকে এটিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত, এমনকি তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইস্তিহসান (اِسْتَحْسَنَ) করল, সে যেন নতুন শরিয়ত প্রণয়ন করল।" আর যে ইস্তিহসান (استحسان) নিয়ে মতভেদ রয়েছে তা সাব্যস্ত হয় না।» সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮২; আরও দেখুন "আত-তাকরীর ওয়াত-তাহবীর": খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২২, ২২৩। সেখানে তিনি এই ব্যাখ্যার প্রতি তাঁর অসম্মতির ইঙ্গিত করেছেন, যেন এটি ইস্তিহসানের (الاستحسان) সংজ্ঞাগুলোর কাছাকাছি হওয়ার কারণে। ফলে ইস্তিহসান (الاستحسان) অস্বীকার করার কারণ হলো এর আভিধানিক অর্থ গ্রহণের আশঙ্কা।

(২) তাঁর "আল-মুখতাসার ফি উসুলিল ফিকহ" গ্রন্থে: পৃষ্ঠা ৬৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
فهذه العبارة الأخيرة في كلام ابن اللحام مع تعريفه للاستحسان هي الفصل في الموضوع، فإنه بعدما استقرت الآراء على أن الاستحسان اسم لدليل متفق عليه، نَصًّا كان، أو إجماعًا، أوقياسًا خَفِيًّا إذا وقع في مقابلة قياس تسبق إليه الأفهام حتى لا يطلق على نفس الدليل من غير مقابلة فهو حجة عند الجميع من غير تصور خلاف.

 

ثم إنه غلب في اصطلاح الأصول على القياس الخفي خاصة، كما غلب اسم القياس على القياس الجلي، تمييزًا بين القياسين».

 

‌‌أَقْسَامُ الاِسْتِحْسَانِ وَالقِيَاسِ:

ولما أن الاستحسان لا يكون إلا لدى معارضة القياس فقد ضبط الحنفية العلاقات بين القياس والاستحسان بتقسيم دقيق، وذلك تارة باعتبار القوة والضعف وتارة باعتبار الصحة والفساد، ويتحصل من تفاصيل ذلك أقسام كثيرة (1) لا يتسع المجال ههنا لذكرها. لذلك نكتفي بالتقسيم الرئيسي وهو أن نقول:

إن الاستحسان ينقسم إلى قسمين: الأول ما خفي تأثيره، والثاني ما خفي فساده وظهرت صحته.

 

وينقسم القياس كذلك إلى قسمين: الأول ما ضعف تأثيره، والثاني ما ظهر فساده وخفيت صحته.

 

فإذا قابلنا كُلاًّ من قسمي الاستحسان وعارضناه بقسمي القياس كانت الأنواع أربعة.

--------------------------------------------

(1) تبلغ بمقابلتها ببعضها ستة عشر قسمًا، كما في " مسلم الثبوت " وشرحه " فواتح الرحموت ": جـ 2 ص 324 وانظر تفاصيلها في " التوضيح " و" حاشية التلويح ": جـ 2 ص 82 - 84.
ইবনে আল-লাহহামের বক্তব্যে ইসতিহসানের (استحسان) সংজ্ঞার পাশাপাশি এই শেষ উক্তিটিই হলো এ বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা। কারণ, সিদ্ধান্তসমূহ এই বিষয়ে স্থির হয়েছে যে, ইসতিহসান (استحسان) হলো এমন একটি স্বীকৃত দলিলের (دليل) নাম—চাই তা স্পষ্ট পাঠ (نص), ঐক্যমত (إجماع), কিংবা প্রচ্ছন্ন সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس خفي) হোক—যা এমন একটি স্পষ্ট অনুমানের বিপরীতে আসে যা সাধারণ মেধায় দ্রুত চলে আসে; ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো বৈপরীত্য না থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত শুধু দলিলের ওপর একে প্রয়োগ করা হয় না। সুতরাং কোনো মতভেদ ছাড়াই এটি সকলের নিকট একটি দলিল বা প্রমাণ (حجة)।

 

অতঃপর উসুলের (أصول) পরিভাষায় এটি বিশেষভাবে প্রচ্ছন্ন সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (قياس خفي) ক্ষেত্রে প্রাধান্য লাভ করেছে, যেমনটি দুই ধরণের অনুমানের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য স্পষ্ট সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (قياس جلي) ক্ষেত্রে কিয়াস (قياس) শব্দটি প্রাধান্য পেয়েছে।

 

‌‌ইসতিহসান ও কিয়াসের প্রকারভেদ:

যেহেতু কিয়াসের (قياس) সাথে বৈপরীত্য ছাড়া ইসতিহসানের (استحسان) অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তাই হানাফী ফকীহগণ কিয়াস (قياس) ও ইসতিহসানের (استحسان) মধ্যকার সম্পর্ককে একটি সূক্ষ্ম বিভাজনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল করেছেন। এটি কখনো সবলতা ও দুর্বলতার বিবেচনায়, আবার কখনো সঠিকতা ও ভ্রান্তির বিবেচনায় করা হয়েছে। এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ থেকে অনেকগুলো প্রকার (১) পাওয়া যায় যা এখানে উল্লেখ করার অবকাশ নেই। তাই আমরা প্রধান বিভাজনটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি, আর তা হলো:

নিশ্চয়ই ইসতিহসান (استحسان) দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো যার প্রভাব প্রচ্ছন্ন, আর দ্বিতীয়টি হলো যার ত্রুটি প্রচ্ছন্ন কিন্তু সঠিকতা প্রকাশ্য।

 

অনুরূপভাবে কিয়াসও (قياس) দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো যার প্রভাব দুর্বল, আর দ্বিতীয়টি হলো যার ত্রুটি প্রকাশ্য কিন্তু সঠিকতা প্রচ্ছন্ন।

 

যখন আমরা ইসতিহসানের (استحسان) উভয় প্রকারকে কিয়াসের (قياس) উভয় প্রকারের সাথে তুলনা করি এবং একটির বিপরীতে অন্যটিকে দাঁড় করাই, তখন প্রকারগুলো চারটিতে দাঁড়ায়।

--------------------------------------------

(১) একে অপরের সাথে তুলনা করলে এর সংখ্যা ষোলটি প্রকারে পৌঁছায়, যেমনটি মুসলিম আল-সুবুত এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাওয়াতিহ আল-রাহমুত-এর ২য় খণ্ডের ৩২৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে। এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন আল-তাওদিহ এবং হাশিয়াতুত তালউইহ ২য় খণ্ড, ৮২-৮৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأقوى هذه الأنواع الأربعة: القسم الأول من الاستحسان، وهو الذي قوي أثره فإنه مقدم على القسم الأول من القياس وهو القياس الضعيف الأثر.

ثم القسم الثاني من القياس وهو القياس الخفي الصحة، وهو مقدم على القسم الثاني من الاستحسان، وهو الاستحسان الخفي الفساد (1).

 

مثال القسم الأول: وهو الاستحسان الذي قوي أثره فقدم على القياس الذي هو ضعيف الأثر: سؤر سباع الطيور، وهو الماء الذي يبقي في الإناء بعد أن يشرب منه طائر من الطيور المفترسة:

القياس أن يكون هذا السؤر نَجِسًا، قِيَاسًا على سؤر سباع البهائم، لأن السؤر تابع في حكمه للحم الحيوان، ولحم سباع الطير حرام نجس عند الحنفية.

 

لكن الاستحسان يقضي بطهارة سؤر سباع الطير كسؤر الآدمي، فإن القياس على سؤر الآدمي أقوى من القياس الأول، وإن كان الأول أظهر، وسبب ذلك ضعف علة القياس وهي مخالطة الرطوبة النجسة للسؤر، وهذه العلة لا توجد في سباع الطيور، إذ تشرب بمنقارها فيخالط منقارها الماء، أما لعابها فلا يخالط الماء، والمنقار عظم طاهر، وملاقاة الطاهر للماء لا تنجسه، فكان من هذا الوجه كسؤر الآدمي لكن قالوا فيه بالكراهة لأنها لا تتحرز عن النجاسة، كالدجاجة المخلاة (2).

--------------------------------------------

(1) " التقرير والتحبير ": ج 3 ص 223، و" فواتح الرحموت ": ج 2 ص 322، وقارن بالخضري في كتابه " أصول الفقه ": ص 367 الطبعة الرابعة، ففي بعض تفصيله نظر وهو اعتباره القسم الثاني من الاستحسان منزلة ثالثة في التقديم.

(2) " التحرير " وشرحه " التقرير والتحبير ": جـ 3 ص 222، و" التوضيح " و" حاشية التلويح ": جـ 2 ص 82، و" فواتح الرحموت ": جـ 2 ص 322، 323.
এই চার প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো: ইস্তিহসানের (الاستحسان) প্রথম প্রকার, যার প্রভাব শক্তিশালী; কেননা এটি কিয়াসের (القياس) প্রথম প্রকারের ওপর প্রধান্য পায়, আর তা হলো দুর্বল (الضعيف) প্রভাবসম্পন্ন কিয়াস (القياس)।

অতঃপর কিয়াসের (القياس) দ্বিতীয় প্রকার, যা হলো সূক্ষ্ম বিশুদ্ধতা (الصحة) সম্পন্ন কিয়াস (القياس), এটি ইস্তিহসানের (الاستحسان) দ্বিতীয় প্রকারের ওপর প্রাধান্য পায়, আর তা হলো সূক্ষ্ম ত্রুটিযুক্ত ইস্তিহসান (الاستحسان) (১)।

 

প্রথম প্রকারের উদাহরণ: আর তা হলো এমন ইস্তিহসান (الاستحسان) যার প্রভাব শক্তিশালী হওয়ায় তাকে দুর্বল (الضعيف) প্রভাবসম্পন্ন কিয়াসের (القياس) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: শিকারি পাখিদের উচ্ছিষ্ট, যা মূলত শিকারি পাখিদের পান করার পর পাত্রে অবশিষ্ট পানি:

কিয়াস (القياس) অনুযায়ী এই উচ্ছিষ্ট অপবিত্র (نجسا) হওয়া উচিত, হিংস্র চতুষ্পদ জন্তুর উচ্ছিষ্টের সাথে তুলনা বা কিয়াস (القياس) করে; কারণ উচ্ছিষ্টের হুকুম প্রাণীর গোশতের হুকুমের অনুগামী, আর হানাফিদের নিকট শিকারি পাখির গোশত হারাম ও অপবিত্র (نجس)।

 

কিন্তু ইস্তিহসান (الاستحسان) শিকারি পাখির উচ্ছিষ্টকে মানুষের উচ্ছিষ্টের ন্যায় পবিত্রতা (طهارة) হওয়ার ফয়সালা দেয়। কেননা মানুষের উচ্ছিষ্টের ওপর কিয়াস (القياس) করা প্রথম কিয়াসের (القياس) চেয়ে অধিক শক্তিশালী, যদিও প্রথমটি অধিক স্পষ্ট। এর কারণ হলো কিয়াসের (القياس) ইল্লত বা কারণের (علة) দুর্বলতা (ضعف), আর তা হলো উচ্ছিষ্টের সাথে অপবিত্র আর্দ্রতার সংমিশ্রণ। এই ইল্লত (علة) শিকারি পাখিদের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না, কারণ তারা চঞ্চু দিয়ে পান করে, ফলে পানিতে তাদের চঞ্চু স্পর্শ করে; কিন্তু তাদের লালা পানিতে মিশে না। আর চঞ্চু হলো একটি পবিত্র (طاهر) হাড়, এবং পবিত্র (طاهر) বস্তুর পানির সাথে মিলন তাকে অপবিত্র করে না। সুতরাং এই দিক থেকে এটি মানুষের উচ্ছিষ্টের মতো। তবে তারা একে মাকরূহ (الكراهة) বলেছেন, কারণ তারা অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে না, যেমনটি মুক্তভাবে বিচরণকারী মুরগির ক্ষেত্রে হয় (২)।

--------------------------------------------

(১) "আত-তাকরীর ওয়াত-তাহবীর": ৩য় খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, এবং "ফাওয়াতিহুর রাহমুত": ২য় খণ্ড, ৩২২ পৃষ্ঠা; আল-খুদরি রচিত তাঁর "উসুলুল ফিকহ" গ্রন্থের সাথে তুলনা করুন: ৩৬৭ পৃষ্ঠা, চতুর্থ সংস্করণ। তাঁর বিস্তারিত বর্ণনায় কিছুটা পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যা হলো তিনি ইস্তিহসানের (الاستحسان) দ্বিতীয় প্রকারকে অগ্রগণ্যতার ক্ষেত্রে তৃতীয় স্তরে বিবেচনা করেছেন।

(২) "আত-তাহরীর" এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আত-তাকরীর ওয়াত-তাহবীর": ৩য় খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা; "আত-তাওদীহ" ও "হাশিয়াতুত তালবীহ": ২য় খণ্ড, ৮২ পৃষ্ঠা; এবং "ফাওয়াতিহুর রাহমুত": ২য় খণ্ড, ৩২২, ৩২৩ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
مثال القسم الثاني: وهو القياس الذي هو خفي الصحة وتقديمه على الاستحسان الذي هو ظاهر الصحة خفي الفساد: سجدة التلاوة إذا قرئت آية السجدة في الصلاة هل تدخل في ركوع الصلاة؟

القياس أنها تؤدى بالركوع في الصلاة، لأن المقصود منها هو تعظيم الله تعالى مخالفة للمتكبرين من المشركين، ويدل على ذلك وقوع التداخل فيها، إذا قُرِئَتْ مِرَارًا في مجلس واحد، أو سُمِعَتْ مِرَارًا في مجلس واحد أجزأت سجدة واحدة. وهو قول الحنفية.

 

أما الاستحسان فيقضي أن لا يجوز كما هو قول الأئمة الثلاثة، قِيَاسًا على سجود الصلاة، لا ينوب عنه ركوعها، فكذا هذا أيضًا، لأن كُلاًّ منهما هو غير المأمور به.

 

لكن الحنفية رأوا هذا الاستحسان فاسدًا باطنًا، لأن كُلاًّ من الركوع والسجود مطلوب في الصلاة بطلب يخصه، فلا يتأدى أحدهما بالآخر، بخلاف سجدة التلاوة فإن السجود غير مقصود بالذات إنما المقصود هو التعظيم عند قراءة هذه الآيات وهو كما يحصل بالسجود يحصل بالركوع.

 

وقد يعترض على الحنفية بأن هذا يوجب أن تؤدى سجدة التلاوة بالركوع خارج الصلاة أيضًا؟

أجاب الحنفية عن هذا بأن الركوع لم يعرف قربة خارج الصلاة، والتعظيم إنما يكون بما هو قربة معتبرة شَرْعًا، فلا بد حينئذ من السجود (1).

--------------------------------------------

(1) " التحرير " و" شرحه ": جـ 3 ص 224 ، و" التوضيح والتلويح ": جـ 2 ص 82، 83، و" فواتح =
দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ: আর তা হলো এমন কিয়াস (قياس) যা প্রচ্ছন্নভাবে সঠিক (خفي الصحة), এবং একে এমন ইস্তিহসান (استحسان)-এর ওপর প্রাধান্য দেওয়া যার সঠিকতা প্রকাশ্য (ظاهر الصحة) কিন্তু ত্রুটি প্রচ্ছন্ন (خفي الفساد): তিলাওয়াতের সিজদাহ; নামাজের মধ্যে সিজদাহর আয়াত পাঠ করা হলে তা কি নামাজের রুকুর অন্তর্ভুক্ত হবে?

কিয়াস (قياس) অনুযায়ী তা নামাজের রুকুর মাধ্যমেই আদায় হয়ে যাবে, কারণ এর উদ্দেশ্য হলো মুশরিক অহংকারীদের বিপরীতে মহান আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করা। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো এতে একীভূতকরণ (تداخل) সংঘটিত হওয়া; যখন একই মজলিসে বারবার পাঠ করা হয় বা বারবার শোনা হয়, তখন একটি সিজদাহই যথেষ্ট হয়। আর এটিই হানাফিদের অভিমত।

 

পক্ষান্তরে ইস্তিহসান (استحسان) দাবি করে যে, এটি জায়েজ হবে না, যেমনটি তিন ইমামের অভিমত। নামাজের সিজদাহর ওপর কিয়াস (قياس) করে তাঁরা বলেন, রুকু যেমন সিজদাহর স্থলাভিষিক্ত হয় না, তদ্রূপ এখানেও হবে না। কারণ এদের প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্রভাবে আদিষ্ট বিষয়।

 

কিন্তু হানাফিগণ এই ইস্তিহসান (استحسان)-কে অভ্যন্তরীণভাবে ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) মনে করেন। কারণ নামাজের রুকু ও সিজদাহর প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্র নির্দেশনার মাধ্যমে কাম্য, তাই একটি দ্বারা অন্যটি আদায় হয় না। কিন্তু তিলাওয়াতের সিজদাহ এর ব্যতিক্রম; কেননা এতে সিজদাহ স্বয়ং মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং এই আয়াতগুলো তিলাওয়াতের সময় মহান আল্লাহর মহিমা ও সম্মান প্রদর্শনই উদ্দেশ্য। আর সিজদাহর মাধ্যমে যেমন সম্মান অর্জিত হয়, রুকুর মাধ্যমেও তা অর্জিত হয়।

 

হানাফিদের প্রতি এই আপত্তি উত্থাপন করা হতে পারে যে, এর দ্বারা কি তবে নামাজের বাইরেও তিলাওয়াতের সিজদাহ রুকুর মাধ্যমে আদায় করা আবশ্যক হয়ে পড়ে?

হানাফিগণ এর উত্তর দিয়েছেন যে, নামাজের বাইরে রুকু ইবাদত (قربة) হিসেবে স্বীকৃত নয়। আর সম্মান প্রদর্শন তো কেবল শরয়িভাবে স্বীকৃত ইবাদতের (قربة) মাধ্যমেই হতে পারে। সুতরাং তখন সিজদাহ করা অপরিহার্য। (১)।

--------------------------------------------

(১) "আত-তাহরির" ও এর "শারহ": ৩য় খণ্ড, ২২৪ পৃষ্ঠা; "আত-তাওদিহ ওয়াত-তালউইহ": ২য় খণ্ড, ৮২, ৮৩ পৃষ্ঠা এবং "ফাওয়ালিহ... =
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
و [يؤيد] (*) مذهب الحنفية في هذا ما ورد من الآثار عن بعض الصحابة.

فعن ابن عمر: أنه كان إذا قرأ «النجم» و «اقرأ باسم ربك» في صلاة وبلغ آخرها كَبَّرَ وَرَكَعَ، وإن قرأها في غير صلاة سجد.

 

وعن ابن مسعود أنه سئل عن سجدة تكون في آخر السورة أيسجد لها أم يركع؟ قال: «إِنْ شِئْتَ فَارْكَعْ، وَإِنْ شِئْتَ فَاسْجُدْ ثُمَّ اقْرَأْ بَعْدَهَا سُورَةً» (1).

 

قال المحقق ابن امير الحاج: «ولم يرو عن غيرهما خلافه، بل ذكره ابن أبي شيبة عن علقمة وإبراهيم والأسود وطاوس ومسروق والشعبي والربيع بن خُثيم وعمرو بن شرحبيل» (2).

 

وهكذا ضبط الحنفية هذا النوع من أدلة الأحكام الشرعية، والذي يأتي بمثابة استثناء من الإطراد في الأحكام، فجعلوا هذا الاستثناء مُقَعَّدًا بقواعد ينظر فيها إلى الطرفين المتقابلين: نص في مقابلة القياس، أو قياس خفي في مقابلة القياس الجلي.

 

ونختم هذه اللمحة الموجزة بهذه الملاحظة القيمة التي أتوا بها حيث قالوا:

--------------------------------------------

= الرحموت ": جـ 2 ص 323.

 

(1) قال في " فواتح الرحموت ": «وَإِنْ اسْتَدَلَّ بِهَذِهِ الآثَارِ فَحَسَنٌ».

(2) " التقرير والتحبير " لابن أمير الحاج: جـ 3 ص 225، لكن الكمال بن الهُمام يرى أن هذه المسألة من باب تقديم الاستحسان لا القياس. ويرى ابن أمير الحاج أنه حيث وردت هذه الآثار في المسألة فهي من قبيل الاستحسان بالأثر أيضًا، كما أنها من قبيل الاستحسان بالقياس الخفي. وهي ملاحظة دقيقة جديرة بالاعتبار في هذه المسألة.

_________

[تَعْلِيقُ مُعِدِّ الكِتَابِ لِلْمَكْتَبَةِ الشَّامِلَةِ]:

(يُؤَيِّدُ) وليس (يُؤَدِّي)، انظر أصل هذا الكتاب: مجلة مركز بحوث السنة والسيرة - دولة قطر: 8 - 1415 هـ، ص 142.
এবং [يؤيد] সমর্থন করে (*) হানাফি মাযহাবকে এই বিষয়ে যা কিছু সাহাবীদের থেকে বর্ণিত আছার (الآثار) হিসেবে এসেছে।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি যখন সালাতে ‘আন-নাজম’ এবং ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকা’ তিলাওয়াত করতেন এবং এর শেষ প্রান্তে পৌঁছাতেন, তখন তিনি তাকবীর দিতেন এবং রুকু করতেন। আর যদি সালাতের বাইরে তিলাওয়াত করতেন, তবে সিজদা করতেন।

 

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে সূরার শেষে অবস্থিত সিজদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—সেটির জন্য কি সিজদা করবেন নাকি রুকু করবেন? তিনি বললেন: “তুমি চাইলে রুকু করতে পারো, আর চাইলে সিজদা করতে পারো, অতঃপর এরপর অন্য একটি সূরা তিলাওয়াত করো” (১)।

 

গবেষক (المحقق) ইবনুল আমির আল-হাজ্জ বলেছেন: “তাদের উভয় ব্যতীত অন্য কারো থেকে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত হয়নি, বরং ইবনে আবি শায়বা এটি আলকামা, ইবরাহিম, আসওয়াদ, তাউস, মাসরুক, শাবি, রাবি ইবনে খুসাইম এবং আমর ইবনে শারহাবিল থেকে উল্লেখ করেছেন” (২)।

 

এভাবেই হানাফিগণ শরয়ি আহকামের দলিলের এই প্রকারটিকে সুসংবদ্ধ করেছেন, যা বিধানের ধারাবাহিকতায় একটি ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়। ফলে তারা এই ব্যতিক্রমটিকে এমন কিছু মূলনীতির (مقعَّدًا) অধীনে বিন্যস্ত করেছেন যেখানে দুটি বিপরীতমুখী পক্ষ বিবেচনা করা হয়: কিয়াসের (القياس) বিপরীতে নস বা সুস্পষ্ট পাঠ (النص), অথবা সুস্পষ্ট কিয়াসের (القياس الجلي) বিপরীতে সূক্ষ্ম কিয়াস (القياس الخفي)।

 

আমরা এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার ইতি টানছি তাদের প্রদত্ত এই মূল্যবান পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, যেখানে তারা বলেছেন:

--------------------------------------------

= ফাওয়াইহুর রাহমুত: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২৩।

 

(১) “ফাওয়াইহুর রাহমুত”-এ বলা হয়েছে: “আর যদি এই আছারগুলো (الآثار) দিয়ে দলিল পেশ করা হয় তবে তা উত্তম বা হাসান (حسن)”।

(২) ইবনুল আমির আল-হাজ্জ রচিত “আত-তাকরির ওয়াত-তাহবির”: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৫। তবে কামাল ইবনুল হুমাম মনে করেন যে, এই বিষয়টি কিয়াসের (القياس) পরিবর্তে ইস্তাহসানকে (الاستحسان) প্রাধান্য দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর ইবনুল আমির আল-হাজ্জ মনে করেন যে, যেহেতু এই বিষয়ে আছার (الآثار) বর্ণিত হয়েছে, তাই এটি ‘আছার-ভিত্তিক ইস্তাহসান’ (الاستحسان بالأثر) এরও অন্তর্ভুক্ত, ঠিক যেমনটি এটি ‘সূক্ষ্ম কিয়াস-ভিত্তিক ইস্তাহসান’ (الاستحসান بالقياس الخفي) এর অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ যা এই মাসআলায় গুরুত্বের সাথে বিবেচনার যোগ্য।

_________

[শামিলা লাইব্রেরির জন্য গ্রন্থ প্রস্তুতকারীর মন্তব্য]:

শব্দটি হবে ‘সমর্থন করে’ (يؤيد), ‘পৌঁছে দেয়’ (يؤدي) নয়। দেখুন এই গ্রন্থের মূল উৎস: মাজাল্লাতু মারকাযি বুহুছিস সুন্নাহ ওয়াস সিরাহ - কাতার রাষ্ট্র: ৮ - ১৪১৫ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৪২।
(খণ্ড: ১) আল-ইত্তিজাহাতুল আম্মাহ লিল ইজতিহাদ ওয়া মাকানাতুল হাদীসিল আহাদিস সহীহ ফীহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
إن الاستحسان إن كان قياسًا خَفِيًّا يقابل القياس الجلي فإنه يتعدى إلى الصور الأخرى وسائر المسائل التي توجد فيها علة الاستحسان، أما إذا كان دليلاً آخر غير ذلك فلا يتعدى إلى غيره.

 

وسبب ذلك في القسم الأول أنه قياس، ومن شأن القياس التعدية، أما في القسم الثاني فإنه معدول به عن سنن القياس، وما كان معدولاً به عن سنن القياس فغيره عليه لا يقاس (1).

 

• • •

--------------------------------------------

(1) " التنقيح " و" شرحه "، و" حاشية التلويح " عليه: جـ 2 ص 84، و" التحرير " و" شرحه ": جـ 3 ص 225، 226، و" مسلم الثبوت " و" شرحه ": جـ 2 ص 321، 322.
নিশ্চয়ই ইসতিহসান (الاستحسان) যদি এমন একটি প্রচ্ছন্ন অনুমান (قياس خفي) হয় যা সুস্পষ্ট অনুমানের (القياس الجلي) বিপরীতে আসে, তবে তা অন্যান্য দৃষ্টান্ত এবং ঐ সকল মাসআলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যেখানে ইসতিহসানের কারণ (علة) বিদ্যমান। কিন্তু এটি যদি এছাড়া অন্য কোনো দলিল হয়, তবে তা অন্য ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হবে না।

 

প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে এর কারণ হলো এটি একটি অনুমান (قياس), আর অনুমানের বৈশিষ্ট্যই হলো সম্প্রসারণ (التعدية)। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে এটি অনুমানের সাধারণ নিয়ম (سنن القياس) থেকে বিচ্যুত, আর যা অনুমানের সাধারণ নিয়ম থেকে বিচ্যুত, তার ওপর ভিত্তি করে অন্য কিছুকে অনুমান (قياس) করা যায় না (১)।

 

• • •

--------------------------------------------

(১) "আত-তানকীহ" ও এর "শারহ", এবং এর ওপর "হাশিয়াতুত তালবীহ": ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৪; "আত-তাহরীর" ও এর "শারহ": ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৫, ২২৬; এবং "মুসাল্লামুস সুবুত" ও এর "শারহ": ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২১, ৩২২।