(খণ্ড: ১) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: -)
أخبار مكة - الأزرقي - ت ملحس   (الأزرقي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أخبار مكة وما جاء فيها من الأثار

المؤلف: أبو الوليد محمد بن عبد الله بن أحمد الأزرقي [ت نحو 250 هـ]

المحقق: رشدي الصالح ملحس

الناشر: دار الأندلس، بيروت - لبنان

الطبعة: الثالثة، 1403 هـ - 1983 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মক্কার সংবাদ - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস   (আল-আযরাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মক্কার সংবাদ এবং এ সংক্রান্ত বর্ণনা ও নিদর্শনাবলি

লেখক: আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-আযরাকী [মৃত্যু আনুমানিক ২৫০ হিজরী]

সম্পাদক: রুশদী আস-সালিহ মালহাস

প্রকাশক: দার আল-আন্দালুস, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৩ হিজরী - ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مكة المكرمة

{رَبِّ اِجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِناً، وَاُجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنامَ} {إِنَّما أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَها} {لا أُقْسِمُ بِهذَا الْبَلَدِ، * وَأَنْتَ حِلٌّ بِهذَا الْبَلَدِ * وَوالِدٍ وَما وَلَدَ} قال المفسرون: إن البلد الوارد ذكره بهذه الآيات هو مكة. وقال صلى الله عليه وسلم: «من مات بمكة فكأنما مات في السماء الدنيا» وقال عليه الصلاة والسلام: «والله انك لا حب البقاع الى الله، ولولا اني اخرجت منك ما خرجت».

واجمع العلماء على ان «مكة المكرمة» و «المدينة المنورة» افضل بقاع الارض ويليها بيت المقدس، ولمكة اسماء كثيرة منها مكة وبكة، وام القرى، وهي مدينة في جزيرة العرب ترتفع عن سطح البحر بنحو
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌মক্কা মুকাররমা

{হে আমার রব, এই শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন} {আমি তো কেবল এই শহরের রবের ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন} {আমি এই শহরের শপথ করছি, আর আপনি এই শহরের অধিবাসী, এবং শপথ জন্মদাতার ও তার সন্তানের} মুফাসসিরগণ বলেছেন: এই আয়াতগুলোতে যে শহরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো মক্কা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মক্কায় মৃত্যুবরণ করল, সে যেন দুনিয়ার আসমানে মৃত্যুবরণ করল» এবং তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: «আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড, আর যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি বের হতাম না»।

আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, «মক্কা মুকাররমা» এবং «মদিনা মুনাওয়ারা» পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভূখণ্ড এবং এর পরেই বায়তুল মুকাদ্দাসের স্থান। মক্কার অনেক নাম রয়েছে, যার মধ্যে মক্কা, বাক্কা এবং উম্মুল কুরা অন্যতম। এটি আরব উপদ্বীপের একটি শহর যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায়
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٦)
330 مترا ويرجع تاريخ عمارتها الى عهد ابراهيم الخليل وابنه اسماعيل عليهما السلام سنة 1892 قبل الميلاد، وفيها ولد نبي الاسلام محمد بن عبد الله عليه الصلاة والسلام وفيها بعث ومنها شع نور الاسلام وخرجت دعوته حتى عمت ارجاء الارض.

وبها المسجد الحرام وهو اول مسجد وضع في الارض، وتعتبر الصلاة فيه بمائة الف صلاة، ويرجع مبدأ عمارته ابان سنة 17 من الهجرة في عهد الخليفة عمر بن الخطاب رضي الله عنه وظلت عمارته تتجدد وتتوسع عبر العصور.

وتقع «الكعبة» وهي قبلة المسلمين في مشارق الارض ومغاربها وسط المسجد الحرام تقريبا ويبلغ ارتفاعها خمسة عشر مترا وهي على شكل حجرة كبيرة مربعة البناء على وجه التقريب واول من بناها الملائكة ثم آدم عليه السلام ثم شيث ثم ابراهيم ثم العمالقة ثم جرهم ثم قصي بن كلاب الجد الرابع للنبي ثم قريش ثم عبد الله بن الزبير ثم الحجاج بن يوسف في عصر مروان بن الحكم سنة 73 هجرية وهو البناء الموجود الآن.

وفي مكه من الآثار الدينية والاسلامية عدد كبير نذكر منها على سبيل المثال:

 

‌‌(1) مقام ابراهيم

وهو «الحجر» الذي كان يقف عليه ابراهيم الخليل عليه السلام اثناء بناء الكعبة.

 

‌‌(2) بئر زمزم

وهي نبع من الماء نبع في عصر ابراهيم الخليل وابنه اسماعيل.

وماء زمزم ماء قلوي تكثر فيه الصودا والكلور والجير وحامض الكبريتيك وحامض الازوتيك والبوتاس مما يجعله اشبه شيء بالمياء المعدنية.
৩৩০ মিটার এবং এর নির্মাণের ইতিহাস খ্রিস্টপূর্ব ১৮৯২ অব্দে ইব্রাহিম খলিল এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিমাস সালামের যুগে ফিরে যায়। সেখানেই ইসলামের নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম জন্মগ্রহণ করেন, সেখানেই তিনি নবুওয়াত লাভ করেন এবং সেখান থেকেই ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত হয় এবং তাঁর দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে এমনকি তা পৃথিবীর সকল প্রান্তে পৌঁছে যায়।

এবং এতে রয়েছে মসজিদুল হারাম, যা পৃথিবীতে স্থাপিত প্রথম মসজিদ। সেখানে এক ওয়াক্ত সালাত এক লক্ষ সালাতের সমান গণ্য করা হয়। এর নির্মাণ কাজের সূচনা হয় হিজরি ১৭ সনের দিকে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমলে এবং যুগ যুগ ধরে এর নির্মাণ কাজ সংস্কার ও সম্প্রসারিত হতে থাকে।

এবং 'কাবা' অবস্থিত, যা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলমানদের কিবলা, এটি প্রায় মসজিদুল হারামের মাঝখানে অবস্থিত। এর উচ্চতা পনেরো মিটার এবং এটি মোটামুটিভাবে একটি বড় বর্গাকার কক্ষের আকৃতির। এটি প্রথম নির্মাণ করেন ফেরেশতাগণ, এরপর আদম আলাইহিস সালাম, এরপর শীষ, এরপর ইব্রাহিম, এরপর আমালিকা সম্প্রদায়, এরপর জুরহুম সম্প্রদায়, এরপর নবীর চতুর্থ পিতামহ কুসাই বিন কিলাব, এরপর কুরাইশ বংশ, এরপর আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের, এরপর মারওয়ান বিন হাকামের যুগে ৭৩ হিজরিতে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ—যা বর্তমানে বিদ্যমান কাঠামো।

মক্কায় বিপুল সংখ্যক ধর্মীয় ও ইসলামি নিদর্শন রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ আমরা তার কয়েকটি উল্লেখ করছি:

 

‌‌(১) মাকামে ইব্রাহিম

এটি সেই 'পাথর' যার উপর ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম কাবা নির্মাণের সময় দাঁড়িয়েছিলেন।

 

‌‌(২) জমজম কূপ

এটি পানির একটি ঝরনা যা ইব্রাহিম খলিল এবং তাঁর পুত্র ইসমাইলের যুগে উৎসারিত হয়েছিল।

জমজমের পানি একটি ক্ষারীয় পানি যাতে প্রচুর পরিমাণে সোডা, ক্লোরিন, চুন, সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং পটাশ রয়েছে, যা এটিকে খনিজ পানির সমতুল্য করে তুলেছে।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٧)
وقد جاء عنه في الحديث الشريف «ماء زمزم لما شرب له» و «خير ماء على وجه الارض ماء زمزم»

 

‌‌(3) دار الأرقم بن الأرقم

وتقع في الصفا وهي الدار التي كان يصلي فيها المسلمون سرا في صدر بعثة النبي حتى اسلم عمر فخرجوا الى المسجد للصلاة جهرا.

 

‌‌(4) غار حراء

وهو الغار الذي كان يتعبد فيه النبي عليه الصلاة والسلام لياليه الطوال قبل البعثة وفيه نزل عليه جبريل يحمل الوحي وبه نزلت سورة اقرأ.

ويقع على قمة جبل يسمى جبل النور في اعلى مكة

 

‌‌(5) غار ثور

وهو الغار الذي لجأ اليه صلى الله عليه وسلم وصاحبه ابو بكر الصديق يوم هاجرا من مكة واختبا فيه حتى توقف طلب قريش لهما واقتفاؤهم لاثرهما فغادراه الى المدينة المنورة ويقع في جبل باسفل مكة يسمى جبل ثور ايضا.

وكتاب «اخبار مكة وما جاء فيها من الآثار» لابي الوليد الازرقي يعد من اوثق المصادر التاريخية عن مكة واقدمها وكان المرحوم الشيخ رشدي ملحس قد قام بتحقيق هذا الكتاب تحقيقا دقيقا وراجعه على عديد من النسخ المخطوطة والنسخة الوحيدة المطبوعة في المانيا واضاف عليه ملاحق ذات صلة قوية واهمية بالغة في تاريخ مكة ونظم له فهارس للاعلام والاماكن والقبائل وغيرها، كل ذلك بصورة تشهد بخلوص النية، وصدق العزيمة. وضخامة الجهد فجزاه الله خيرا واثابه على جهده افضل الثواب.

ولما نفدت تلك الطبعة واحسسنا بحاجة الناس الى هذا الكتاب القيم
হাদিস শরিফে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "যমযমের পানি যে নিয়তে পান করা হয় তা সে উদ্দেশ্যেই কার্যকর" এবং "ভূপৃষ্ঠের সর্বোত্তম পানি হলো যমযমের পানি"।

 

‌‌(৩) দারুল আরকাম বিন আবিল আরকাম

এটি সাফা পাহাড়ে অবস্থিত। এই সেই ঘর যেখানে নবিজির নবুওয়াতের প্রাথমিক যুগে মুসলমানগণ গোপনে সালাত আদায় করতেন। পরবর্তীতে উমর ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁরা প্রকাশ্যে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে বের হয়ে আসেন।

 

‌‌(৪) হেরা গুহা

এটি সেই গুহা যেখানে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত লাভের পূর্বে দীর্ঘ রাতসমূহ ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। এই গুহাতেই জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) ওহি নিয়ে তাঁর নিকট অবতীর্ণ হন এবং এই গুহাতেই সুরা ইকরা নাজিল হয়েছিল।

এটি মক্কার উচ্চভাগে জাবালে নূর নামক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।

 

‌‌(৫) সওর গুহা

এটি সেই গুহা যেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাথী আবু বকর সিদ্দিক মক্কা থেকে হিজরত করার দিন আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। কুরাইশদের অনুসন্ধান এবং পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাঁদের খোঁজা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেখানে লুকিয়ে ছিলেন। এরপর তাঁরা মদিনা মুনাওয়ারার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এটি মক্কার নিম্নভাগে অবস্থিত একটি পাহাড়ে অবস্থিত যাকে জাবালে সওরও বলা হয়।

আবু ওয়ালিদ আল-আযরকি রচিত "আখবারু মক্কা ওয়ামা জাআ ফিহা মিনাল আসার" (মক্কার সংবাদ ও তথায় বিদ্যমান নিদর্শনাবলি) গ্রন্থটি মক্কা বিষয়ক সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ও প্রাচীনতম ঐতিহাসিক উৎস হিসেবে বিবেচিত। মরহুম শেখ রুশদি মালহাস অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এই গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন। তিনি এটি অসংখ্য পাণ্ডুলিপি এবং জার্মানিতে মুদ্রিত একমাত্র কপিটির সাথে মিলিয়ে যাচাই করেছেন। তিনি এতে মক্কার ইতিহাসের সাথে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন এবং ব্যক্তি, স্থান, গোত্র প্রভৃতির সূচি তৈরি করেছেন। এসবই তাঁর নিয়তের একনিষ্ঠতা, দৃঢ় সংকল্প এবং বিশাল প্রচেষ্টার সাক্ষ্য বহন করে। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর এই পরিশ্রমের জন্য তাঁকে সর্বোত্তম পুরস্কারে ভূষিত করুন।

যখন সেই সংস্করণটি শেষ হয়ে যায় এবং আমরা এই মূল্যবান গ্রন্থের প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি...
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٨)
والتراث النفيس الذي يجب الا تخلو منه مكتبة وطدنا العزم على طبعه واضفنا اليه ذيلا عن التوسعة الجديدة والعمارة الرائعة للمسجد الحرام في العهد السعودي الزاهر خلال الأعوام «1375 - 1385» استكمالا لتاريخ هذا المسجد الى الوقت الحاضر.

ونسأل الله ان يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه اجمعين.

مكة المكرمة 12 ربيع الاول سنة 1385 صالح محمد جمال
এই অমূল্য ঐতিহ্য, যা থেকে কোনো পাঠাগারই বঞ্চিত থাকা উচিত নয়, আমরা তা মুদ্রণের দৃঢ় সংকল্প করেছি। বর্তমান সময় পর্যন্ত এই মসজিদের ইতিহাসকে পূর্ণতা দান করার লক্ষ্যে আমরা এতে ১৩৭৫ - ১৩৮৫ হিজরি সালের মধ্যকার উজ্জ্বল সৌদি শাসনামলে মসজিদে হারামের নতুন সম্প্রসারণ ও চমৎকার স্থাপত্যশৈলী সম্পর্কিত একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে শুধুমাত্র তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

মক্কা মুকাররমা, ১২ রবিউল আউয়াল, ১৩৮৫ হিজরি। সালেহ মুহাম্মদ জামাল।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرّحمن الرّحيم {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبارَكاً وَهُدىً لِلْعالَمِينَ * فِيهِ آياتٌ بَيِّناتٌ مَقامُ إِبْراهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كانَ آمِناً، وَلِلّهِ عَلَى النّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اِسْتَطاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعالَمِينَ}. (سورة آل عمران)

 

‌‌التدوين في الإسلام

الحجاز من اقدم البلدان التي ردد البشر اسمها في مختلف العصور، مقرونا بالتوقير والتعظيم، وتاريخها حافل بالحوادث بما يجب ان تكون موضع درس وتدقيق، ولما ظهر الاسلام في مكة المكرمة، وسطعت انواره من بطحائها، وصارت الكعبة المعظمة قبلة المسلمين، اتجهت الانظار اليها وازدادت العناية بأمرها.

ولما بلغ المسلمون قمة المجد والسيادة في منتصف القرن الثاني، فشت العناية بأكثر العلوم الاسلامية، وتنبه رواة الحديث والمغازي الى وجوب التصنيف والتدوين فيهما، بحيث صار لكل منهما رجال قصروا عليهما ابحاثهم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। {নিশ্চয় মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছিল, তা মক্কায় অবস্থিত; এটি বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক। এতে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, মাকামে ইবরাহীম। আর যে সেখানে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক। আর যে কুফরি করবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।} (সূরা আলে ইমরান)

 

‌ইসলামে ইতিহাস ও জ্ঞান সংকলন

হিজাজ হলো প্রাচীনতম দেশগুলোর একটি, যার নাম মানুষ বিভিন্ন যুগে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে উচ্চারণ করে আসছে। এর ইতিহাস এমন সব ঘটনায় ভরপুর যা অধ্যয়ন ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের দাবি রাখে। যখন পবিত্র মক্কায় ইসলামের আবির্ভাব ঘটল এবং এর উপত্যকা থেকে এর নূর উদ্ভাসিত হলো, আর সম্মানিত কাবা মুসলিমদের কিবলায় পরিণত হলো, তখন সকলের দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ হলো এবং এর প্রতি গুরুত্ব ও মনোযোগ বৃদ্ধি পেল।

আর দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যখন মুসলিমরা মর্যাদা ও নেতৃত্বের শিখরে পৌঁছাল, তখন অধিকাংশ ইসলামি বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ ছড়িয়ে পড়ল। হাদিস ও মাগাজির (যুদ্ধাভিযান) বর্ণনাকারীরা এ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিন্যস্ত করা ও লিপিবদ্ধ করার আবশ্যকতা অনুভব করলেন, ফলে এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য এমন সব ব্যক্তিত্ব তৈরি হলেন যারা তাদের গবেষণাকে কেবল এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌خطط مكة

وكان طبيعيا ان يعنى خلال ذلك بتاريخ الحجاز ومدته لما لهذا البحث من علاقة وثيقة بتفسير القرآن الكريم، وشرح الاحاديث النبوية وسيرة الرسول عليه الصلاة والسلام، وكان طبيعيا ان تكون مكة المكرمة - مهبط الوحي، ومهوى افئدة المسلمين - في الطليعة فيهب رجال منهم لتدوين تاريخها وخططها. لأن تاريخ مكة المكرمة هو في الحقيقة يشغل قسما كبيرا من تاريخ الاسلام، وتاريخ الحضارة الاسلامية، فلا بدع اذا عني علماء التاريخ منذ هذا الوقت بتدوين المؤلفات القيمة التي تصف أماكنها، وتشرح تطوراتها.

 

‌‌قدم المؤلفات

واقدم ما ذكرته المعاجم في هذا الشأن هي: مؤلفات محمد بن عمر الواقدي (130 - 207) وعلي بن محمد المدائني (135 - 225) وابي الوليد الازرقي ( … - نحو 250) والزبير ابن بكار (172 - 256) وعمر بن شبه (172 - 262) ومحمد بن اسحاق الفاكهي ( … - نحو 280)، ويمكن القول بأن هذه المؤلفات سلسلة آخذة بعضها برقاب بعض من حلقة واحدة، دونت في وزمن واحد. وقد فقد أكثر هذه الكتب القيمة(1) ولم يبق منها الا تراث نفيس هو (اخبار مكة المكرمة وما جاء فيها من الآثار) تأليف ابي الوليد محمد الازرقي، وتبدو اهمية هذا الاثر الخالد بوجه خاص متى ذكرنا ان مكة المكرمة هي البلدة الوحيدة بين الأمصار الاسلامية التي لا تزال تحتفظ بمواقعها وآثارها.

--------------------------------------------

(1) توجد نسخة من كتاب الفاكهي في احدى خزائن اوربا، وقد طبع وستنفيلد المستشرق الالماني الزيادات التي اضافها الفاكهي الى كتاب الازرقي ضمن المجموعة التاريخية نقلا عن هذه النسخة واعلمنا من نثق بروايته بأنه توجد نسخة منه في نجد.

মক্কার নগর-পরিকল্পনা

স্বাভাবিকভাবেই এর মাঝে হিজাজের ইতিহাস ও তার সময়কাল নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, কারণ এই গবেষণার সাথে পবিত্র কুরআনের তাফসির, হাদিসের ব্যাখ্যা এবং রাসুল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর সিরাতের সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে। আর এটা স্বাভাবিকই ছিল যে, ওহী নাযিলের স্থান এবং মুসলমানদের হৃদয়ের স্পন্দন মক্কা মুকাররমা এই ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হবে। তাই একদল মনীষী এর ইতিহাস ও নগর-কাঠামো লিপিবদ্ধ করার জন্য এগিয়ে এসেছেন। কেননা মক্কা মুকাররমার ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে ইসলামের ইতিহাস ও ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসের এক বিশাল অংশ জুড়ে আছে। সুতরাং ঐতিহাসিকগণ যদি সে সময় থেকে এর স্থানসমূহের বর্ণনা এবং এর বিবর্তনের ধারাসমূহ ব্যাখ্যা করে মূল্যবান গ্রন্থসমূহ রচনায় মনোনিবেশ করেন, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

 

‌প্রাচীনতম গ্রন্থসমূহ

এই বিষয়ে অভিধান ও গ্রন্থতালিকায় উল্লেখিত প্রাচীনতম রচনাগুলো হলো: মুহাম্মদ ইবন উমর আল-ওয়াকিদি (১৩০ - ২০৭ হিজরি), আলী ইবন মুহাম্মদ আল-মাদায়িনি (১৩৫ - ২২৫ হিজরি), আবু আল-ওয়ালিদ আল-আযরাকি (... - প্রায় ২৫০ হিজরি), যুবায়ের ইবন বাক্কার (১৭২ - ২৫৬ হিজরি), উমর ইবন শাব্বাহ (১৭২ - ২৬২ হিজরি) এবং মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আল-ফাকিহি (... - প্রায় ২৮০ হিজরি)-এর গ্রন্থসমূহ। বলা যেতে পারে যে, এই গ্রন্থগুলো একই সুতোয় গাঁথা একটি শিকলের মতো, যা একই সময়ে সংকলিত হয়েছে। এই মূল্যবান গ্রন্থগুলোর অধিকাংশ আজ হারিয়ে গেছে (১), কেবল একটি অতি মূল্যবান উত্তরাধিকারই অবশিষ্ট রয়েছে, যা হলো আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ আল-আযরাকি রচিত ‘আখবারু মাক্কাতা আল-মুকাররমা ওয়া মা জাআ ফিহা মিনাল আসার’। এই অমর রচনার গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রতীয়মান হয় যখন আমরা স্মরণ করি যে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র মক্কা মুকাররমাই এমন শহর যা আজও তার সুপ্রাচীন অবস্থান ও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো টিকিয়ে রেখেছে।

--------------------------------------------

(১) ফাকিহির কিতাবের একটি অনুলিপি ইউরোপের একটি গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। জার্মান প্রাচ্যবিদ ভুস্টেনফেল্ড এই পাণ্ডুলিপি থেকে ফাকিহি কর্তৃক আযরাকির কিতাবে যে অতিরিক্ত অংশগুলো যোগ করা হয়েছে, তা ঐতিহাসিক সংকলনের অংশ হিসেবে ছেপেছেন। আমাদের বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানতে পেরেছি যে, নজদেও এর একটি অনুলিপি বিদ্যমান আছে।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌ترجمة المؤلف وروايات المؤرخين عنه

قال ابن النديم صاحب الفهرست:

«الازرقي واسمه محمد بن عبد الله بن احمد بن محمد بن الوليد بن عقبة ابن الازرق واسمه عثمان بن عمرو بن الحارث بن ابي شمر بن عمرو بن عوف ابن الحارث بن ربيعة بن حارثة بن الحارث بن ثعلبة العنقا بن جفنة بن عمرو ابن عامر مزيقيا هذا من خط ابن الكوفي واحد الاخباريين واصحاب السير وله من الكتب كتاب مكة واخبارها وجبالها وأوديتها كتاب كبير.» وقال الفاسي في كتابه (العقد الثمين في تاريخ البلد الامين)(1) «محمد بن عبد الله بن احمد بن محمد بن الوليد بن عقبة الغساني ابو الوليد الازرقي المكي مؤلف اخبار مكة حدث فيه عن جماعة منهم جده ابو الوليد احمد بن محمد الازرقي، وابراهيم بن محمد الشافعي ومحمد بن يحيى بن ابي عمر بن الازرق بن عمرو بن الحارث بن ابي شمر العدني، روى عنه اسحاق بن احمد الخزاعي وابراهيم بن عبد الله الهاشمي ووقع لنا حديثه من طريقه عاليا. وما علمت متى مات الا انه كان حيا في خلافة المنتصر محمد بن جعفر المتوكل العباسي وقد تقدم ذكرهما في ترجمته، لانه ذكر في الخطط أن القصر المسمى سقر والستار في الجاهلية صار للمنتصر بالله(2) وترجمه بأمير المؤمنين ولم ار من ترجمه واني لاعجب من ذلك؛ ووهم النووي رحمه الله في قوله في شرح المهذب بعد ان ذكر في حدود الحرم نقلا عن ابي الوليد الازرقي هذا انه اخذ عن الشافعي وصحبه وروى عنه، وانما كان ذلك وهما لامرين، احدهما: ان الذين صنفوا في طبقات الفقهاء الشافعية لم يذكروا في اصحاب الشافعي الا احمد بن محمد بن الوليد جد ابي الوليد هذا. والامر الثاني: لو ان ابا الوليد هذا روى عن الامام الشافعي

--------------------------------------------

(1) من مخطوطات المكتبة الماجدية بمكة وقد طبع مؤخرا.

(2) اخبار مكة. طبع اوربا. ص 492.

লেখকের জীবনী এবং তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের বর্ণনা

আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থের প্রণেতা ইবনে নাদিম বলেন:

«আজরাকী, তাঁর নাম হলো মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন উকবাহ ইবনুল আজরাক, আর তাঁর (আজরাকের) নাম হলো উসমান বিন আমর বিন আল-হারিস বিন আবি শিমর বিন আমর বিন আউফ ইবনুল হারিস বিন রাবিয়াহ বিন হারিসাহ বিন আল-হারিস বিন সা’লাবাহ আল-আনকা বিন জাফনাহ বিন আমর ইবনে আমির মুজাইকিয়া। এটি ইবনুল কুফীর হস্তলিপি থেকে প্রাপ্ত। তিনি ছিলেন সংবাদ সংগ্রাহক ও জীবনীকারদের (আসহাবুস সিয়ার) একজন। তাঁর গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে মক্কা, এর সংবাদ, পাহাড় ও উপত্যকা বিষয়ক একটি বিশাল গ্রন্থ।’ আল-ফাসি তাঁর ‘আল-ইকদুত সামীন ফি তারিখিল বালাদিল আমীন’ গ্রন্থে বলেন(১) «মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন উকবাহ আল-গাসসানী আবু আল-ওয়ালিদ আল-আজরাকী আল-মাক্কী, ‘আখবারু মক্কা’ গ্রন্থের লেখক। তিনি এতে একদল ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর দাদা আবু আল-ওয়ালিদ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আজরাকী, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবি উমর বিন আল-আজরাক বিন আমর বিন আল-হারিস বিন আবি শিমর আল-আদানী। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আহমদ আল-খুজায়ী এবং ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-হাশিমী এবং আমরা তাঁর হাদিসটি উচ্চ সনদে তাঁর মাধ্যমেই পেয়েছি। আমি জানি না তিনি কবে মারা গেছেন, তবে তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মুনতাসির মুহাম্মদ বিন জাফর আল-মুতাওয়াক্কিলের খেলাফতকালে জীবিত ছিলেন। তাঁর জীবনীর বর্ণনায় তাঁদের কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ তিনি ভূমি-পরিকল্পনা (খুতাত) বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, জাহেলিয়াত যুগে ‘সাকার’ ও ‘আস-সিত্তার’ নামে পরিচিত প্রাসাদটি আল-মুনতাসির বিল্লাহর(২) মালিকানাধীন হয়েছিল এবং তিনি তাঁকে ‘আমীরুল মুমিনীন’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। আমি আর কাউকে তাঁর জীবনী লিখতে দেখিনি এবং আমি এতে আশ্চর্য বোধ করছি। আন-নববী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘শারহুল মুহাযযাব’ গ্রন্থে হারামের সীমানা বর্ণনায় এই আবু আল-ওয়ালিদ আল-আজরাকী থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে যে কথাটি বলেছেন তা ভুল ছিল যে, তিনি (আজরাকী) ইমাম শাফিঈর নিকট থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, তাঁর সাহচর্য পেয়েছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি দুটি কারণে ভুল ছিল। প্রথমত: যারা শাফিঈ ফুকাহাদের জীবনী (তাবাকাত) গ্রন্থসমূহ সংকলন করেছেন, তারা শাফিঈর ছাত্রদের মধ্যে কেবল এই আবু আল-ওয়ালিদের দাদা আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদকেই উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত: যদি এই আবু আল-ওয়ালিদ ইমাম শাফিঈর থেকে বর্ণনা করতেন—

--------------------------------------------

(১) মক্কার মাকতাবাহ আল-মাজদিয়্যাহর পাণ্ডুলিপি থেকে, যা সম্প্রতি মুদ্রিত হয়েছে।

(২) আখবারু মক্কা। ইউরোপীয় মুদ্রণ। পৃষ্ঠা ৪৯২।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٢)
لاخرج عنه في تاريخه لما له من الجلالة والعظمة كما اخرج عن جده وابن ابي عمر العدني، وابراهيم ابن محمد الشافعي ابن عم الامام الشافعي، والسبب الذي اوقع النووي في هذا الوهم ان احمد الازرقي جد ابي الوليد هذا يكنى بابي الوليد فظنه النووي هو والله اعلم وانما نبهت على ذلك لئلا يعثر بكلام النووي».

وقال الحاج خليفة في كتابه كشف الظنون:

«الامام ابو الوليد محمد بن عبد الكريم الازرقي المتوفى سنة 223.

وهو اول من صنف في تاريخ مكة، ومختصره زبدة الاعمال».

وجاء في كتاب دستور الاعلام(1) بمعارف الاعلام لمؤلفه شمس الدين محمد بن عمر بن عزم المغربي التونسي:

«الازرقي الى جده الازرق صاحب تاريخ مكة محمد بن عبد الله بن احمد سنة 204 وجده احمد بن الوليد بن عقبة بن الازرق بن عمرو بن الحارث بن ابي شمر الغساني المكي روى عن سفيان بن عيينة وداود بن عبد الرحمن العطار وروى عنه حفيده سنة 212».

 

‌‌هل كان غسانيا؟

فمن أقوال المؤرخين هذه يتضح ان مؤلف اخبار مكة هو ابو الوليد محمد بن عبد الله بن احمد بن محمد بن الوليد بن عقبة بن الازرق الغساني يمت بنسبه الى اسرة ابي شمر الغساني.

وقد اتفق في ذلك الازرقي نفسه(2) والفاسي(3)، وابن النديم(4)

--------------------------------------------

(1) من مخطوطات مكتبة الحرم المكي (قسم التاريخ رقم 225/ 46).

(2) انظر ص 1 (طبعة جديدة) وص 3، 458 (طبعة أوربا).

(3) العقد الثمين ج 2.

(4) الفهرست.

তিনি তাঁর ইতিহাসে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর দাদা এবং ইবন আবি উমর আল-আদানি ও ইমাম শাফিয়ীর চাচাতো ভাই ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাফিয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী যে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন তার কারণ হলো, এই আবু আল-ওয়ালিদের দাদা আহমদ আল-আজরকির ডাকনামও ছিল আবু আল-ওয়ালিদ। তাই ইমাম নববী তাকেই তিনি মনে করেছিলেন; আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞাত। আমি বিষয়টি কেবল এ জন্য স্পষ্ট করলাম যাতে কেউ ইমাম নববীর কথায় বিভ্রান্ত না হয়।

হাজজি খলিফা তাঁর ‘কাশফুয যুনুন’ গ্রন্থে বলেছেন:

“ইমাম আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আল-আজরকি, মৃত্যু ২২৩ হিজরি।

তিনি মক্কার ইতিহাসের ওপর প্রথম গ্রন্থ সংকলনকারী এবং তাঁর কিতাবটির সারসংক্ষেপ হলো ‘যুদবাতুল আমাল’।”

শামসউদ্দীন মুহাম্মদ বিন উমর বিন আযম আল-মাগরিবি আত-তিউনিসি রচিত ‘দুস্তুরুল আ’লাম(১) বি মা’আরিফিল আ’লাম’ গ্রন্থে এসেছে:

“আজরকি বলতে তাঁর দাদা আজরাকের প্রতি সম্বন্ধিত করা হয়েছে, যিনি মক্কার ইতিহাসের রচয়িতা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ (২০৪ হিজরি)। তাঁর দাদা হলেন আহমদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন উকবা bin আল-আজরাক বিন আমর বিন আল-হারিস বিন আবি শিমর আল-গাসসানি আল-মাক্কি। তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং দাউদ বিন আব্দুর রহমান আল-আত্তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নাতি ২১২ হিজরিতে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।”

 

‌‌তিনি কি গাসসানি ছিলেন?

ইতিহাসবিদদের এই বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, ‘আখবারু মক্কা’র রচয়িতা হলেন আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন উকবা বিন আল-আজরাক আল-গাসসানি, যাঁর বংশসূত্র আবু শিমর আল-গাসসানির পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত।

এ বিষয়ে স্বয়ং আজরকি,(২) আল-ফাসি(৩) এবং ইবনুন নাদিম(৪) একমত পোষণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মক্কার হারাম লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি থেকে (ইতিহাস বিভাগ নং ২২৫/ ৪৬)।

(২) দেখুন পৃষ্ঠা ১ (নতুন সংস্করণ) এবং পৃষ্ঠা ৩, ৪৫৮ (ইউরোপীয় সংস্করণ)।

(৩) আল-ইকদুস সামিন, ২য় খণ্ড।

(৪) আল-ফিহরিস্ট।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٣)
معا ولكن صاحب الفهرست يختلف واياهما في نسبه الاعلى. على ان الذي لا شك فيه ان ابا الوليد هو من اسرة عثمان بن عمرو الغساني الملقب بالازرق الذي عاصر صاحب الرسالة صلى الله عليه وسلم وقد جاء هذا من سورية الى مكة وصار حليفا للمغيرة بن ابي العاص بن امية(1) ويقول ناشر الطبعة الاوربية في مقدمته: «ولكن اذا كان ابو شمر المذكور هو نفس ابو شمر الذي ذكره ابن دريد فان اسرة الازرقي تمت بقرابه الى آل جفنة» ودخل النبي صلى الله عليه وسلم على الازرق بن عمرو عام الفتح وجاءه في حاجة فقضاها له وكتب له كتابا ان يتزوج الازرق في أي قبائل قريش شاء وولده.

وذلك الكتاب مكتوب في اديم أحمر فلم يزل ذلك الكتاب عندهم حتى دخل عليهم السيل في دارهم في سنة 80 فذهب بمتاعهم وذهب ذلك الكتاب في السيل وقد كان للازرق ثلاثة اولاد وهم: عمرو، ونافع مؤسس فرق الازارقة، وعقبة. وعقبة هذا هو أول من استصبح لاهل الطواف في المسجد الحرام وكانت داره لاصقة بالمسجد الحرام(2).

وقد ولد المؤلف في مكة المكرمة في القرن الثاني للهجرة ولم يعرف بالضبط تاريخ ولادته، ولا اشار اليه أحد من المؤرخين، لان الاقدمين اهملوا ذكره بتاتا. وترجمته التي وصلت الينا هي من رواية المتأخرين.

اما وفاته، فهي غير مضبوطة على التحقيق ايضا، فقد ذكر الحاج خليفة صاحب كشف الظنون انها عام 223، وقال ابن عزم التونسي:

انها عام 212(3) والحقيقة ان كلاهما اخطأ السبيل. فان الازرقي توفي بعد هذا التاريخ بعشرات السنين. فقد ذكر الفاسي في كتابه العقد الثمين ان الازرقي كان في عهد المنتصر على قيد الحياة.

--------------------------------------------

(1) ذكر ابن سعد رواية بأن الازرق جد المؤلف كان روميا وأن ولده سلمة ادعى فيما بعد أنهم من غسان الى آخر ما ذكر فمن اراد الايضاح فليراجع الطبقات الكبير (ج 3 ص 176).

(2) ص 200 طج.

(3) نرجح أن هذا تاريخ وفاة جده.

একই সাথে, তবে 'আল-ফিহরিস্ট'-এর রচয়িতা তাঁর উচ্চতর বংশপরম্পরার ব্যাপারে তাঁদের উভয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আবু আল-ওয়ালিদ হলেন উসমান বিন আমর আল-গাসসানির বংশোদ্ভূত, যাঁর উপাধি ছিল আল-আযরাক এবং তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমসাময়িক ছিলেন। তিনি সিরিয়া থেকে মক্কায় এসেছিলেন এবং আল-মুগিরা বিন আবি আল-আস বিন উমাইয়ার মিত্র হয়েছিলেন(১)। ইউরোপীয় সংস্করণের প্রকাশক তাঁর ভূমিকায় বলেন: «কিন্তু যদি উল্লিখিত আবু শামির সেই একই আবু শামির হন যাঁর কথা ইবনে দুরাইদ উল্লেখ করেছেন, তবে আযরাকি পরিবার জাফনা পরিবারের সাথে আত্মীয়তার সূত্রে আবদ্ধ ছিল»। মক্কা বিজয়ের বছর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আযরাক বিন আমরের নিকট গমন করেন এবং তাঁর নিকট একটি প্রয়োজন নিয়ে আসেন, যা তিনি পূরণ করে দেন। তিনি তাঁর জন্য একটি লিপি লিখে দেন যে, আল-আযরাক এবং তাঁর সন্তানরা কুরাইশের যে কোনো গোত্রে ইচ্ছা বিবাহ করতে পারবে।

সেই লিপিটি লাল চামড়ার ওপর লিখিত ছিল এবং তা তাদের কাছেই রক্ষিত ছিল, যতক্ষণ না হিজরি ৮০ সনে তাদের ঘরে প্লাবন প্রবেশ করে। সেই প্লাবন তাদের আসবাবপত্রের সাথে সেই লিপিটিও ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আল-আযরাকের তিন পুত্র ছিল: আমর, নাফে'—যিনি আযারিিকা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা—এবং উকবা। এই উকবা ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি মসজিদে হারামে তাওয়াফকারীদের জন্য প্রদীপের আলোর ব্যবস্থা করেছিলেন এবং তাঁর ঘরটি মসজিদে হারামের সাথে একদম লাগোয়া ছিল(২)।

লেখক হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে মক্কা মুকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের সঠিক তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি এবং ইতিহাসবিদদের কেউই তা উল্লেখ করেননি, কারণ প্রাচীনরা তাঁর জীবনকথা উল্লেখ করার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছেন। তাঁর যে জীবনী আমাদের কাছে পৌঁছেছে তা মূলত পরবর্তী যুগের বর্ণনাকারীদের বর্ণনা থেকে পাওয়া।

তাঁর মৃত্যুর বিষয়টিও একইভাবে সুনিশ্চিতভাবে সংরক্ষিত নয়। 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন যে, তা ছিল ২২৩ হিজরি। ইবনে আযম আল-তিউনিসি বলেন:

তা ছিল ২১২ হিজরি(৩)। বাস্তবতা হলো, তাঁরা উভয়েই ভুল পথে পরিচালিত হয়েছেন। কেননা আল-আযরাকি এই তারিখের কয়েক দশক পরে মৃত্যুবরণ করেন। আল-ফাসি তাঁর 'আল-ইকদ আল-সামিন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আল-আযরাকি আল-মুনতাসিরের যুগে জীবিত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে সাদ একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, লেখকের দাদা আল-আযরাক রোমীয় ছিলেন এবং তাঁর পুত্র সালামা পরবর্তীতে দাবি করেন যে তাঁরা গাসসান গোত্রের—বর্ণনার শেষ পর্যন্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে স্পষ্টিকরণ চায় সে যেন 'আল-তাবাকাত আল-কাবির' (৩য় খণ্ড, ১৭৬ পৃষ্ঠা) দেখে নেয়।

(২) পৃষ্ঠা ২০০, তাজ সংস্করণ।

(৩) আমরা ধারণা করছি যে এটি তাঁর দাদার মৃত্যুর তারিখ।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٤)
اما ناشر الكتاب وستنفيلد الالماني فهو يقول في مقدمته: «بينما نرى أخبارا نقلها عن جده تقع في عام 219 (انظر ص 201)(1) نرى للمؤلف نفسه مذكرات تعود الى تاريخ سنة 126 (انظر ص 162)(2) وكذلك يخبرنا في صفحة 333 عن أشياء شاهدها ورآها بعينه عام 219، وعن حوادث 220 - 225 (انظر ص 300). واما كلامه عن صالح ابن العباس الذي ولي مكة للمرة الثانية على عهد المعتصم من سنة (219 - 232) وقوله عنه انه يملك اليوم قصر سقر (انظر ص 492) فالمفهوم من سياق كلامه أنه يروي ذلك بعد عزله، اذ هو يحدث عن سنة 227 (انظر ص 453) وعن سنة 229 (ص 329) فيما يتعلق بالمباني الحديثة ونقشها بمكة لا سيما في عهد الخليفة المتوكل من سنة 236 حتى سنة 243.

وفي صفحات (206)(3) - 278، 398، 209(4)، 211(5)، 332، 179(6) يروي إخبارا يرجع تاريخها الى سنة 239، ثم يحدثنا في (صفحة 183)(7) ان كسوة الكعبة من سنة 200 - 244 بلغت 170 ثوبا ويقول أنه ختم اخباره في سنة 244».

«وأما اشارة الفاسي في مذكرته (ص 492) الى أنه كان على قيد الحياة في عهد الخليفة المنتصر فاني لا اشاطره الرأي في ذلك فان المنتصر حكم الثلاثة الاشهر الأخيرة من سنة 247. والثلاثة الأشهر الاولى من سنة 348 وإني اعد هذه الفقرة من الزيادات التي وضعها الراوية لما ورد

--------------------------------------------

(1) ص 193 طج.

(2) ص 147 طج.

(3) ص 198 طج.

(4) ص 201 طج.

(5) ص 203 طج.

(6) ص 171 طج.

(7) ص 177 طج.

বইটির প্রকাশক জার্মান নাগরিক উস্টেনফেল্ড তার ভূমিকায় বলেন: «যদিও আমরা দেখি যে তিনি তার দাদা থেকে এমন কিছু সংবাদ বর্ণনা করেছেন যা ২১৯ হিজরি সালের (দেখুন পৃষ্ঠা ২০১)(১), আমরা খোদ লেখকের কিছু নোট দেখতে পাই যা ১২৬ হিজরি সালের (দেখুন পৃষ্ঠা ১৬২)(২)। একইভাবে তিনি পৃষ্ঠা ৩৩৩-এ আমাদের এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেন যা তিনি ২১৯ হিজরি সালে নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ২২০ - ২২৫ হিজরি সালের ঘটনাবলি সম্পর্কে (দেখুন পৃষ্ঠা ৩০০)। আর সালিহ ইবনে আব্বাস সম্পর্কে তার কথা—যিনি মুতাসিমের আমলে ২১৯ - ২৩২ হিজরি পর্যন্ত দ্বিতীয়বারের মতো মক্কার দায়িত্ব পালন করেছিলেন—এবং তার সম্পর্কে লেখকের উক্তি যে তিনি আজ সাকর প্রাসাদের মালিক (দেখুন পৃষ্ঠা ৪৯২), তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে এটিই বোঝা যায় যে তিনি এটি তাকে অপসারণ করার পর বর্ণনা করছেন। কারণ তিনি ২২৭ হিজরি (দেখুন পৃষ্ঠা ৪৫৩) এবং ২২৯ হিজরি (পৃষ্ঠা ৩২৯) সম্পর্কে আলোচনা করছেন মক্কার আধুনিক ভবনসমূহ ও সেগুলোর কারুকার্য প্রসঙ্গে, বিশেষ করে ২৩৬ হিজরি থেকে ২৪৩ হিজরি পর্যন্ত খলিফা মুতাওয়াক্কিলের শাসনামলে।

এবং (২০৬)(৩) - ২৭৮, ৩৯৮, ২০৯(৪), ২১১(৫), ৩৩২, ১৭৯(৬) পৃষ্ঠাগুলোতে তিনি এমন সব খবর বর্ণনা করেছেন যার তারিখ ২৩৯ হিজরি পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর তিনি (পৃষ্ঠা ১৮৩)(৭) আমাদের জানান যে, ২০০ - ২৪৪ হিজরি পর্যন্ত কাবার গিলাফের সংখ্যা ১৭০টিতে পৌঁছেছিল এবং তিনি বলেন যে তিনি ২৪৪ হিজরি সালে তার বর্ণনাসমূহ সমাপ্ত করেছেন»।

«আর আল-ফাসি তার নোটে (পৃষ্ঠা ৪৯২) যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি খলিফা মুনতাসিরের আমলে জীবিত ছিলেন, সে বিষয়ে আমি তার মতের সাথে একমত নই। কারণ মুনতাসির ২৪৭ হিজরির শেষ তিন মাস এবং ৩৪৮ হিজরির প্রথম তিন মাস শাসন করেছিলেন। আমি এই অনুচ্ছেদটিকে বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সংযোজিত অতিরিক্ত অংশ হিসেবে গণ্য করি যা বর্ণিত...

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৯৩ তজ।

(২) পৃষ্ঠা ১৪৭ তজ।

(৩) পৃষ্ঠা ১৯৮ তজ।

(৪) পৃষ্ঠা ২০১ তজ।

(৫) পৃষ্ঠা ২০৩ তজ।

(৬) পৃষ্ঠা ১৭১ তজ।

(৭) পৃষ্ঠা ১৭৭ তজ।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٥)
فيها من كلمة (اليوم) ومما يؤيد ذلك في (صفحة 226)(1) ورود ذكر.

لوقوع تغيير في عهد المتوكل أي قبل سنة 247 او فيها مما لم يمكن الازرقي نفسه يهمل الاشارة اليها لو كان قد شهدها. ومن هذا استنتج انه ختم كتابه في عام 244 ثم مات عقيب ذلك»(2) اما نحن فاننا نوافق الفاسي في روايته ونخالف وستنفيلد في استنتاجاته لانه اذا كان الأزرقي اهمل ذكر حوادث وقعت في سنة 247، فليس هذا بينة على موته، واذا نحن اجلنا النظر في كتابه وجدنا ان الخزاعي يروي حوادث عن سنة 230 ونيف (انظر ص 202)(3) وكذلك أخبارا عن عام 241 (انظر ص 221)(4) في حين ان الازرقي نفسه يذكر اشياء وقعت في عام 241 (انظر ص 214 و 217)(5) ولم يشر الى الحوادث التي ذكرها الخزاعي عن تلك السنة.

وكلمة (اليوم) الواردة في (صفحة 492) عن انتقال قصر سقر الى المنتصر التي اعترض على ذكرها وستنفيلد هي صريحة واضحة، لا تقبل التأويل. فلا يبعد والحالة هذه ان يكون الازرقي حيا في عهد المنتصر كما روى الفاسي وأنه توفي عقيب ذلك.

 

‌‌أخبار مكة

«ان هذا الكتاب يشبه من بعض الوجوه كتاب ابن هشام في السيرة النبوية، وذلك باشتراك اشخاص عديدين في تأليفه. بيد انه لا يشبهه من جهة كونه مختصرا من مجموعات كبيرة، بل بالعكس فقد كان صغير

--------------------------------------------

(1) ص 217 طج.

(2) مقدمة وستنفيلد ص 8.

(3) ص 194 طج.

(4) ص 213 طج.

(5) ص 206 و 208 طج.

এতে 'আজ' শব্দটি রয়েছে এবং এর সমর্থনে (২২৬ নং পৃষ্ঠায়)(১) একটি উল্লেখ পাওয়া যায়।

মুতাওয়াক্কিলের যুগে কোনো পরিবর্তন ঘটার কারণে, অর্থাৎ ২৪৭ হিজরি সালের পূর্বে বা সেই সময়ে, যা আল-আযরাকী নিজে প্রত্যক্ষ করলে তার প্রতি ইঙ্গিত করা বর্জন করতেন না। এর থেকে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, তিনি ২৪৪ হিজরি সালে তাঁর কিতাবটি সমাপ্ত করেন এবং এরপরই ইন্তেকাল করেন।»(২) পক্ষান্তরে আমরা বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-ফাসীর সাথে একমত এবং উইস্টেনফেল্ডের সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করি। কারণ, আল-আযরাকী যদি ২৪৭ হিজরিতে ঘটা ঘটনাবলি উল্লেখ করতে বাদ দিয়ে থাকেন, তবে এটি তাঁর মৃত্যুর কোনো প্রমাণ নয়। আর আমরা যদি তাঁর কিতাবটির দিকে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখতে পাই যে আল-খুযায়ী ২৩০ হিজরি ও তার কিছু পরের ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন (দেখুন পৃষ্ঠা ২০২)(৩) এবং একইভাবে ২৪১ হিজরি সালের সংবাদসমূহও (দেখুন পৃষ্ঠা ২২১)(৪); অথচ আল-আযরাকী নিজেই ২৪১ হিজরিতে সংঘটিত বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন (দেখুন পৃষ্ঠা ২১৪ ও ২১৭)(৫) এবং আল-খুযায়ী উক্ত বছরের যে ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন তিনি সেগুলোর প্রতি কোনো ইঙ্গিত করেননি।

(৪৯২ নং পৃষ্ঠায়) আল-মুনতাসিরের নিকট সাকার প্রাসাদ হস্তান্তরের বর্ণনায় যে 'আজ' শব্দটি এসেছে, যার উল্লেখ নিয়ে উইস্টেনফেল্ড আপত্তি তুলেছেন, তা অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল, যা কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। এমতাবস্থায় এটি অসম্ভব নয় যে আল-আযরাকী আল-মুনতাসিরের যুগে জীবিত ছিলেন যেমনটি আল-ফাসী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর অব্যবহিত পরেই ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌আখবার মক্কা

«নিশ্চয়ই এই কিতাবটি সিরাতে নববীর ক্ষেত্রে ইবনে হিশামের কিতাবের সাথে কিছু দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ, আর তা হলো এর সংকলনে একাধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণ। তবে এটি কোনো বিশাল সংকলনের সংক্ষিপ্ত রূপ হওয়ার দিক থেকে তার সদৃশ নয়, বরং এর বিপরীত; এটি ছোট ছিল...

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ২১৭, জেদ্দা সংস্করণ।

(২) উইস্টেনফেল্ডের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৮।

(৩) পৃষ্ঠা ১৯৪, জেদ্দা সংস্করণ।

(৪) পৃষ্ঠা ২১৩, জেদ্দা সংস্করণ।

(৫) পৃষ্ঠা ২০৬ এবং ২০৮, জেদ্দা সংস্করণ।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٦)
الحجم ثم زيد عليه علاوات كثيرة وضم اليه مواد عديدة ادت الى اتساعه»(1).

والحقيقة التي لا ريب فيها ان واضع كتاب اخبار مكة أو بعبارة صريحة جامعه ومرتبه ومؤلفه هو محمد بن عبد الله الازرقي رواية عن جده احمد بن محمد الأزرقي وغيره من الرجال المعروفين، وكانت روايته عن جده اكثر من روايته عن غيره مما يدعونا للقول بأن المؤلف الأصلي للكتاب هو جده احمد.

 

‌‌جد المؤلف

وجد المؤلف هو احمد بن محمد بن الوليد بن عقبة بن الأزرق بن عمرو ابن الحارث بن أبي شمر الغساني ابو الوليد وابو محمد الازرقي المكي. روى عنه جماعة منهم البخاري في صحيحه، وحفيده محمد بن عبد الله بن احمد الازرقي مؤلف تاريخ مكة وغيرهما قال: مات سنة اثنتي عشرة ومائتين.

وقال الحاكم: مات سنة اثنتين وعشرين ومائتين. وقال صاحب الكمال:

مات بعد سنة سبع عشرة ومائتين او فيها(2).

 

‌‌الرواة

وكذلك نرى بين تضاعيف الكتاب ان اشخاصا آخرين يروون عن المؤلف - اي محمد بن عبد الله، - وهما: اسحاق بن احمد بن اسحاق ابن نافع الخزاعي ابو محمد، ومحمد بن نافع بن احمد بن اسحاق بن نافع الخزاعي، فالاول يروي عن محمد الازرقي والثاني يحدث عن عم ابيه اسحاق.

وقد كان اسحاق مقري مكة حيث قال الفاسي عنه: «انه من كبار اهل القرآن وأحد فصحاء مكة، وقال الذهبي: كان ثقة حجة، رفيع الذكاء،

--------------------------------------------

(1) مقدمة وستنفيلد ص 1.

(2) الفاسي: العقد الثمين (باختصار).

আকার, এরপর এতে অনেক সংযুক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এতে অসংখ্য বিষয়বস্তু যুক্ত করা হয়েছে যা এর বিস্তৃতি ঘটিয়েছে।(১).

এবং যে ধ্রুব সত্যে কোনো সন্দেহ নেই তা হলো, 'আখবারু মক্কা' কিতাবটির প্রণেতা বা আরও স্পষ্ট করে বললে এর সংকলক, বিন্যাসকারী এবং লেখক হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আজরাকি। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন তাঁর দাদা আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আজরাকি এবং অন্যান্য সুপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে। তাঁর দাদার নিকট থেকে তাঁর বর্ণিত অংশ অন্যান্যদের তুলনায় অধিক, যা আমাদের এই কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করে যে, কিতাবটির মূল লেখক হলেন তাঁর দাদা আহমদ।

 

‌‌লেখকের দাদা

লেখকের দাদা হলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে উকবা ইবনুল আজরাক ইবনে আমর ইবনুল হারিস ইবনে আবি শিমর আল-গাসসানি আবুল ওয়ালিদ এবং আবু মুহাম্মাদ আল-আজরাকি আল-মাক্কি। তাঁর থেকে একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং তাঁর নাতি তারিখু মক্কার লেখক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-আজরাকি ও অন্যান্যরা। বলা হয়েছে: তিনি দুই শত বারো হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

ইমাম হাকেম বলেন: তিনি দুই শত বাইশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আর আল-কামাল গ্রন্থের লেখক বলেন:

তিনি দুই শত সতেরো হিজরি সনের পরে অথবা সেই বছরেই মৃত্যুবরণ করেন(২)।

 

‌‌বর্ণনাকারীগণ

একইভাবে আমরা কিতাবটির বিভিন্ন অংশে দেখতে পাই যে, অন্যান্য ব্যক্তিরাও লেখক—অর্থাৎ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ—থেকে বর্ণনা করছেন। তাঁরা হলেন: ইসহাক ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে নাফি আল-খুজায়ি আবু মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদ ইবনে নাফি ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে নাফি আল-খুজায়ি। প্রথমজন মুহাম্মাদ আল-আজরাকি থেকে বর্ণনা করেন এবং দ্বিতীয়জন তাঁর বাবার চাচা ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন।

ইসহাক ছিলেন মক্কার ক্বারি (কুরআন শিক্ষক), যার সম্পর্কে আল-ফাসি বলেছেন: «তিনি ছিলেন আহলে কুরআনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত এবং মক্কার অন্যতম বাগ্মী ব্যক্তি। ইমাম যাহাবি বলেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও দলিলস্বরূপ এবং অত্যন্ত মেধাবী।

--------------------------------------------

(১) উস্টেনফেল্ড-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১।

(২) আল-ফাসি: আল-ইকদুত সামিন (সংক্ষেপে)।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٧)
توفي يوم الجمعة ثامن شهر رمضان سنة 308 بمكة(1).» والاخبار التي شاهدها بنفسه رواها في الكتاب بدون اسناد الى الازرق وقعت ما بين عام 231 - 284.

اما محمد بن نافع الخزاعي الراوية الاخير فله على كتاب الازرقي حاشيتان تتعلقان بزيادة دار الندوة(2) وزيادة باب ابراهيم(3). هذه رواية الفاسي والحقيقة ان لابي الحسن محمد الخزاعي تعاليق اخرى منها الباس معاليق الكعبة ذهبا في عام 310(4).

ويقول الفاسي: نقلا عن المسبحي انه كان في سنة 340 حيا ثم يذكر ايضا ان احد الاندلسيين جاء عام 351 الى الحج ولقي ابا الحسن الخزاعي وقرأ عليه فضائل الكعبة من تواليفه(5).

 

‌‌اختصار أخبار مكة

لقد كان كتاب (اخبار مكة المكرمة وما فيها من الآثار) مجموعة صغيرة كما قلنا ثم اضيفت اليه مواد وزيادات جمة. بحيث اصبح تاريخا ضخما ومن ثم اختصره اثنان. ونظمه ثالث في ارجوزة. والى القارئ خلاصة تاريخية عن ترجمة هؤلاء:

 

‌‌الأسفرائني

أ) هو سعد الدين بن عمر بن محمد بن علي الاسفرائني المكي من علماء

--------------------------------------------

(1) العقد الثمين.

(2) اخبار مكة ص 344 (طبعة اوربية).

(3) اخبار مكة ص 327 (طبعة اوربية).

(4) اخبار مكة ص 205 (أوربية)، 197 طج.

(5) معجم البلدان لياقوت ج 2 ص 268. ج 1 - تاريخ مكة (2)

তিনি ৩০৮ হিজরি সনের ৮ই রমজান জুমাবার মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন(১)। আর যে সংবাদগুলো তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন, সেগুলো তিনি আযরক্বীর প্রতি সনদ উল্লেখ করা ছাড়াই কিতাবে বর্ণনা করেছেন, যা ২৩১ - ২৮৪ হিজরি সালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।

আর সর্বশেষ বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন নাফে আল-খুযাঈর আযরক্বীর কিতাবের ওপর দুটি টীকা রয়েছে, যা দারুন নদওয়াহর বর্ধিত অংশ(২) এবং বাবু ইব্রাহিমের বর্ধিত অংশের(৩) সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি আল-ফাসীর বর্ণনা, তবে প্রকৃত সত্য হলো আবুল হাসান মুহাম্মদ আল-খুযাঈর আরও কিছু টীকা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো ৩১০ হিজরিতে কাবার ঝুলন্ত বস্তুসমূহকে স্বর্ণমণ্ডিত করা সংক্রান্ত(৪)।

আল-ফাসী আল-মুসাব্বিহীর বরাতে বলেন যে, তিনি ৩৪০ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনৈক আন্দালুসীয় ৩৫১ হিজরিতে হজে এসে আবুল হাসান আল-খুযাঈর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর নিকট তাঁরই রচিত কিতাব হতে কাবার ফজিলতসমূহ পাঠ করেন(৫)।

 

‌‌আখবারু মক্কার সংক্ষেপণ

(আখবারু মক্কাতিল মুকাররামা ওয়া মা ফিহা মিনাল আসার) কিতাবটি আমরা যেমন বলেছি শুরুতে একটি ছোট সংকলন ছিল, অতঃপর এতে প্রচুর উপকরণ ও পরিবর্ধন যোগ করা হয়। ফলে এটি একটি বিশাল ইতিহাসে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে দুইজন একে সংক্ষেপ করেন। আর তৃতীয় একজন একে আরজুযাহ (কবিতা) আকারে বিন্যস্ত করেন। পাঠকদের জন্য তাদের জীবনী সম্পর্কে ঐতিহাসিক সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

 

‌‌আল-ইসফারাইনী

ক) তিনি হলেন সা'দউদ্দীন বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ইসফারাইনী আল-মাক্কী, যিনি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত...

--------------------------------------------

(১) আল-ইকদুজ সামীন।

(২) আখবারু মক্কা, পৃষ্ঠা ৩৪৪ (ইউরোপীয় সংস্করণ)।

(৩) আখবারু মক্কা, পৃষ্ঠা ৩২৭ (ইউরোপীয় সংস্করণ)।

(৪) আখবারু মক্কা, পৃষ্ঠা ২০৫ (ইউরোপীয়), ১৯৭ তা'জ সংস্করণ।

(৫) ইয়াকুতের মুজামুল বুলদান, ২য় খণ্ড, ২৬৮ পৃষ্ঠা। ১ম খণ্ড - মক্কার ইতিহাস (২)

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٨)
القرن الثامن للهجرة اختصر تاريخ الازرقي في كتاب سماه (زبدة الاعمال وخلاصة الافعال): قال في مقدمة كتابه: «اما بعد فهذه رسالة مشتملة على فضيلة مكة شرفها الله تعالى وكيفية بناء الكعبة و … اختصرتها من تاريخ مكة شرفها الله تعالى وبناء الكعبة وعظم قدرها من جمع الحافظ ابي الوليد محمد بن عبد الله بن أبي الوليد احمد بن محمد بن الوليد الغساني(1) الازرقي الشافعي المكي رحمة الله عليه بعد فراغي من سماعها على

الشريف ابي اليمن محمد بن احمد بن قاسم بن عبد الرحمن بن ابي بكر العمري القرشي الشافعي المكي الحوازي وذلك بالحرم الشريف تجاه الميزاب في ثالث عشر صفر ختم بالخير والظفر سنة 762 تذكرة لنفسي وترغيبا للطالبين

وسميتها زبدة الاعمال وخلاصة الافعال وجعلتها على بابين في ذكر فضيلة الكعبة وفيه اربعة وخمسون فصلا وباب في ذكر فضيلة المدينة وفيه خمسة وعشرون فصلا … » فمن هذه المقدمة يستبان أن هذا الكتاب ينقسم الى قسمين: الاول في البحث عن مكة وهو الذي اختصره من خطط الازرقي، والثاني في البحث عن المدينة، وهو من زيادة المختصر. لأن الازرقي اختص كتابه بمكة المكرمة فقط: ومن مطالعة النسخة الخطية التي بين ايدينا نعلم ان الاسفرائني اهمل البحث التاريخي من مختصره جدا، واكتفى بالبحث في فضائل الحج والعمرة وما لها علاقة بذلك.

وقد كان المظنون انه لا يوجد من هذا المختصر سوى نسخة في باريس واخرى في المتحف البريطاني بلندن، بيد اننا حين البحث في مكتبة الحرم المكي وقفنا على نسخة من هذا الكتاب (تاريخ رقم 64 - 234) تقع (في 196) ورقة او (392) صفحة بخط واضح انتهى الناسخ من كتابتها في 17 ربيع الاول سنة 1009. وقد كانت هذه النسخة في ملك

--------------------------------------------

(1) في الاصل الغياثي وهو خطأ.

হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে আল-আজরাকির ইতিহাসকে একটি গ্রন্থে সংক্ষেপ করা হয়েছে যার নাম দেওয়া হয়েছে (জুবদাতুল আমাল ওয়া খুলাসাতুল আফ'আল): তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: «অতঃপর, এটি একটি পুস্তিকা যা মক্কার মর্যাদা—আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন—এবং কাবা নির্মাণের পদ্ধতি এবং … সম্পর্কে আলোচনা করে। আমি এটি হাফেজ আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি আল-ওয়ালিদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-গাসসানি(১) আল-আজরাকি আশ-শাফিঈ আল-মাক্কি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কর্তৃক সংকলিত মক্কার ইতিহাস—আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন—এবং কাবা নির্মাণ ও এর সুমহান মর্যাদা বিষয়ক গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপ করেছি, যা আমি শ্রবণ করেছি

আশ-শরিফ আবু আল-ইয়ামান মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন কাসেম বিন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর আল-উমরি আল-কুরাশি আশ-শাফিঈ আল-মাক্কি আল-হাওয়াজির নিকট। এটি সম্পন্ন হয়েছে হারাম শরিফে মিজাবের (স্বর্ণের পরনালী) সম্মুখে ৭৬২ হিজরি সনের ১৩ই সফর মাসে, যা কল্যাণ ও বিজয়ের সাথে সমাপ্ত হয়েছে; এটি নিজের স্মৃতির জন্য এবং জ্ঞানান্বেষীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে রচিত।

আমি এর নাম রেখেছি জুবদাতুল আমাল ওয়া খুলাসাতুল আফ'আল এবং একে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি; একটি পরিচ্ছেদ কাবার মর্যাদা বর্ণনায় যাতে চুয়ান্নটি অধ্যায় রয়েছে, এবং অন্য পরিচ্ছেদটি মদিনার মর্যাদা বর্ণনায় যাতে পঁচিশটি অধ্যায় রয়েছে … » এই ভূমিকা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এই গ্রন্থটি দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগ মক্কা বিষয়ক আলোচনা, যা তিনি আল-আজরাকির খিতাত থেকে সংক্ষেপ করেছেন, এবং দ্বিতীয় ভাগ মদিনা বিষয়ক আলোচনা, যা সংক্ষেপকারীর নিজস্ব সংযোজন। কারণ আল-আজরাকি তাঁর গ্রন্থটি কেবল মক্কায়ে মুকাররমার জন্যই নির্দিষ্ট করেছিলেন: আমাদের কাছে থাকা পাণ্ডুলিপিটি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, আল-ইসফারায়িনি তাঁর সংক্ষেপে ঐতিহাসিক আলোচনাকে অত্যন্ত উপেক্ষা করেছেন এবং হজ ও উমরার ফজিলত এবং এ সম্পর্কিত বিষয়সমূহের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

ধারণা করা হয়েছিল যে এই সংক্ষেপটির কেবল একটি পাণ্ডুলিপি প্যারিসে এবং অন্যটি লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। তবে মক্কার হারাম লাইব্রেরিতে অনুসন্ধানের সময় আমরা এই গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপির (ইতিহাস নং ৬৪ - ২৩৪) সন্ধান পাই যা (১৯৬টি) পত্র বা (৩৯২) পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত। অনুলিপিকার ১০০৯ হিজরির ১৭ই রবিউল আউয়াল তারিখে এর অনুলিপি সম্পন্ন করেছেন। এই কপিটি একজনের মালিকানাধীন ছিল

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে আল-গিয়াছি রয়েছে, যা ভুল।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ١٩)
شخص يسمى «عبد الرحيم بن محمد القاضي» ثم انتقلت الى شخص آخر اسمه «عبد الله الحنفي العباسي».

 

‌‌الكرماني

ب) يحيى بن محمد الكرماني المصري من علماء القرن التاسع؛ اختصر تاريخ الازرقي عام 821 وسماه كما في الصفحة الاولى من النسخة الخطية:

(مختصر تاريخ مكة المشرفة شرفها الله تعالى للامام ابي الوليد محمد بن عبد الله بن احمد بن الوليد الازرقي رحمه الله تعالى اختصار الفقير الكرماني) قال في مقدمته: (وبعد فهذا مختصر لخصته من كتاب الامام العلامة ابي الوليد محمد بن عبد الله بن أحمد بن الوليد الازرقي وحذفت الاسانيد وبعض الزوائد، واضفت اليه بعض فوائد) وقال في آخر الكتاب: «هذا آخر ما انتخبه الفقير يحيى بن محمد الكرماني من تاريخ مكة للازرقي رحمه الله تعالى في شعبان سنة احدى وعشرين رثمانماية بمصر المحروسة .. » ويوجد من هذا الكتاب نسخة في برلين.

 

‌‌الأرمانتي

ح) اما ناظم كتاب (اخبار مكة المكرمة) الارمانتي، فقد ذكره صاحب (الدرر الكامنة) لابن حجر. و (الطالع السعيد في تاريخ الادب ورجاله العاملين) للادفوي. وهو: عبد الملك بن احمد بن عبد الملك الانصاري الارمانتي المنعوت تقي الدين ولد بأرمنت سنة 632، وتوفي بمدينة قوص سنة 722.

وكان من الفقهاء الشافعية. وله ارجوزة في الحلي، ونظم تاريخ مكة للأزرقي أرجوزة: سماها «نظم تاريخ مكة للازرقي في ارجوزة».

قال الادفوي: كان شاعرا، اديبا، خفيف الروح، كبير المروءة؛ كثير الفتوة، محسنا للناس.
জনৈক ব্যক্তি যাকে 'আবদুর রহিম বিন মুহাম্মদ আল-কাদি' বলা হয়, এরপর তা 'আবদুল্লাহ আল-হানাফি আল-আব্বাসি' নামক অন্য এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরিত হয়।

 

‌‌আল-কিরমানি

খ) ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-কিরমানি আল-মিসরি নবম শতাব্দীর অন্যতম আলেম; তিনি ৮২১ হিজরিতে আল-আযরকির ইতিহাস সংক্ষেপ করেন এবং পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠায় উল্লিখিত নামানুসারে এর নামকরণ করেন:

(ইমাম আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-আযরকি রহমাতুল্লাহি তা'আলা প্রণীত মক্কাতুল মোশাররফা —আল্লাহ তা'আলা একে সম্মানিত করুন— এর ইতিহাসের সংক্ষিপ্তসার, যা দরিদ্র আল-কিরমানি কর্তৃক সংক্ষেপিত) তিনি তার ভূমিকায় বলেন: (অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্তসার যা আমি ইমাম আল্লামা আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-আযরকির কিতাব থেকে সারসংক্ষেপ করেছি এবং আমি সনদসমূহ ও কিছু অতিরিক্ত অংশ বাদ দিয়েছি এবং এতে কিছু ফায়দা বা উপকারী বিষয় যোগ করেছি) এবং তিনি কিতাবের শেষে বলেন: "এটিই দরিদ্র ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-কিরমানি কর্তৃক আল-আযরকি রহমাতুল্লাহি তা'আলার তারিখ-ই মক্কা থেকে নির্বাচিত শেষ অংশ, যা ৮২১ হিজরির শাবান মাসে সুরক্ষিত মিসরে সম্পন্ন হয়েছে..." এবং এই কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপি বার্লিনে বিদ্যমান রয়েছে।

 

‌‌আল-আরমানতি

গ) আর 'আখবারু মক্কাতিল মুকাররমা' কিতাবের কাব্যরূপদানকারী আল-আরমানতি সম্পর্কে ইবনে হাজারের 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' এর লেখক এবং আল-আদফুয়ির 'আত-তালি' আস-সাঈদ ফি তারিখিল আদবি ওয়া রিজালিহিল আমিলিন' এর লেখক উল্লেখ করেছেন। তিনি হলেন: আবদুল মালিক বিন আহমদ বিন আবদুল মালিক আল-আনসারি আল-আরমানতি, যাকে তাকিউদ্দিন উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে; তিনি ৬৩২ হিজরিতে আরমানতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২২ হিজরিতে কুস শহরে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি শাফেয়ি ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অলঙ্কারশাস্ত্রে তার একটি 'উরজুযাহ' (কাব্যগ্রন্থ) রয়েছে এবং তিনি আল-আযরকির তারিখ-ই মক্কাকে কাব্যে রূপান্তর করেছেন: যার নাম দিয়েছেন "নাযমু তারিখি মক্কা লিল-আযরকি ফি উরজুযাতিন"।

আল-আদফুয়ি বলেন: তিনি ছিলেন একজন কবি, সাহিত্যিক, প্রফুল্ল চিত্তের অধিকারী, মহানুভব; অত্যন্ত উদার এবং মানুষের প্রতি পরোপকারী।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
أما أرجوزته لتاريخ مكة فهي مفقودة.

 

‌‌الخطط

اذا كان التاريخ جغرافية الماضي، والجغرافية تاريخ الحاضر، فإن الخطط هي همزة الوصل بينهما، وفرع منهما، لأن الخطط مزيج من التاريخ والجغرافية تبخث في تاريخ البلدان، وتطورها خلال العصور المختلفة، وقد كان ولا يزال التأليف في هذا العلم فاشيا بين الامم والشعوب منذ اقدم العصور.

وقد سار المسلمون على غرار من تقدمهم في هذا النوع من التدوين فكان لهم القدح المعلى في تأليف كثير من خطط البلدان الإسلامية التي ما برحت من اوثق المصادر التي يرجع اليها في التاريخ والجغرافية فكان لها ولا ريب الفضل الاكبر في حفظ تاريخها وتتبع معالمها وآثارها.

 

‌‌خطط الأزرقي

وكتاب (أخبار مكة المكرمة وما جاء فيها من الآثار) هو كتاب خطط اكثر منه كتاب تاريخ، فقد تتبع الأزرقي انشاء الكعبة المعظمة، ومعاهد مكة المكرمة وما فيها من آثار واماكن، وألم بمجمل تاريخها وجغرافيتها منذ نشأتها وأتى على صورة موضحة مما سلف لها من مجد طارف وتليد بحيث تجمعت في الكتاب ميزات خاصة قلما تجدها في كتاب غيره، وصار ما وضع بعد ذلك من الكتب التي تبحث في خطط مكة عالة على خطط الازرقي.

وقد درسنا كتاب (اخبار مكة وما جاء فيها من الآثار) درسا وافيا واستقصينا بحوثه استقصاء تاما فألفيناه كتابا مهما، غزير المادة، كثير الفائدة رغم خلوه من الابحاث السياسية والاجتماعية.
মক্কার ইতিহাসের ওপর তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বর্তমানে বিলুপ্ত।

 

‌‌আল-খুতাত (নগর বিবরণী)

ইতিহাস যদি হয় অতীতের ভূগোল, আর ভূগোল যদি হয় বর্তমানের ইতিহাস, তবে 'খুতাত' হলো উভয়ের মধ্যবর্তী সংযোগসূত্র এবং উভয়েরই একটি শাখা। কারণ খুতাত হলো ইতিহাস ও ভূগোলের এমন এক সংমিশ্রণ যা বিভিন্ন দেশ ও জনপদের ইতিহাস এবং বিভিন্ন যুগে সেগুলোর বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে এই শাস্ত্রের ওপর গ্রন্থ রচনার প্রচলন ছিল এবং আজও তা অব্যাহত রয়েছে।

এই ধরণের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে মুসলিমরা তাঁদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। ফলে ইসলামি দেশগুলোর বহু 'খুতাত' রচনায় তাঁদের ভূমিকা ছিল অনন্য ও শ্রেষ্ঠ। এসব গ্রন্থ ইতিহাস ও ভূগোলের ক্ষেত্রে আজও অন্যতম নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। নিসন্দেহে, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং তাদের নিদর্শন ও প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্নসমূহ অনুসন্ধানে এই গ্রন্থগুলোর অবদান অপরিসীম।

 

‌‌আজরাকির খুতাত

'আখবারে মক্কা আল-মুকাররামা ওয়া মা জা'আ ফিহা মিনাল আসার' গ্রন্থটি ইতিহাসের চেয়ে একটি খুতাত বা নগর বিবরণীর গ্রন্থ হিসেবেই বেশি পরিচিত। আজরাকি এতে মহিমান্বিত কাবার নির্মাণ, মক্কা মুকাররামার ঐতিহাসিক স্থানসমূহ এবং সেখানকার নিদর্শন ও জায়গাগুলোর বিবরণ ধারাবাহিকভাবে প্রদান করেছেন। তিনি মক্কার সূচনালগ্ন থেকে এর সামগ্রিক ইতিহাস ও ভূগোলের ওপর আলোকপাত করেছেন এবং এর সুপ্রাচীন ও অর্বাচীন ঐতিহ্যের একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। ফলে এই গ্রন্থে এমন কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য একত্রিত হয়েছে যা অন্য কোনো গ্রন্থে সচরাচর পাওয়া যায় না। পরবর্তীতে মক্কার নগর বিবরণী বিষয়ে যত গ্রন্থ রচিত হয়েছে, সেগুলো আজরাকির এই গ্রন্থের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

আমরা 'আখবারে মক্কা ওয়া মা জা'আ ফিহা মিনাল আসার' গ্রন্থটি গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছি এবং এর গবেষণামূলক বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসন্ধান করেছি। আমরা এটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যা অত্যন্ত উপকারী; যদিও এতে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অভাব রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌طريقته في التأليف

وقد اختط الازرقي لنفسه خطة سهلة سلسة في تدوين كتابه هذا وقسمه الى بحوث وفصول مبوبة مستوفاة عن طريق الرواية المعنعنة التي رآها الغربيون انها أقوم طريق فاتبعوها في مؤلفاتهم مع تبديل طفيف. وتوخى الافاضة في ما يهم طلاب التاريخ والجغرافية والأدب. واننا نعتقد ان الازرقي من جهابذة المؤلفين الذين يعتز بهم العرب والمسلمون في تقييد كثير من الشوارد والاوابد، وفي تدوين طائفة كبيرة من المعلومات التي يندر ان يجدها المتتبع في كتاب آخر لذلك فان كتابه يعد في طليعة المصادر القيمة التي لا يستغني عنها طالب العلم.

 

‌‌الطبعة الأوربية

لقد كان كتاب الازرقي مفقودا، الى ان اتيح لفردينان وستنفيلد(1) المستشرق الألماني الوقوف على ثلاث نسخ منه في بعض مكاتب اوربا، فانكب على دراسة هذه النسخ ومقابلتها وتصحيحها، ثم باشر طبع الكتاب في ليبسك بالمانيا وانتهى من ذلك في عام 1858 ميلادية (1275 هجرية)، فجاءت الطبعة في 518 صفحة منها 14 صفحة للتصحيحات، وعلاوة على ذلك فان الناشر صدر هذه الطبعة بمقدمة تاريخية عن المؤلف بلغ عدد صفحاتها 25، بحث فيها بحثا مستفيضا عن الازرقي وخططه ووصف النسخ الخطية التي اطلع عليها وغير ذلك من المعلومات القيمة، استفدنا منها اثناء البحث عن ترجمة الازرقي كثيرا. وقد اصبحت النسخ المطبوعة من خطط

--------------------------------------------

(1) فردينان وستنفيلد من المستشرقين الألمان المعروفين، مات عام 1899 م، وكان من أساتذة جامعة غوطة، وهو من أكثر المستشرقين عملا في نشر الكتب العربية، فقد زاد عدد منشوراته ومؤلفاته على مئتي كتاب منها مجموعة تواريخ مكة، استغرق طبعها ثلاث سنوات؛ ومجموعة تواريخ مكة هذه تقع في أربعة مجلدات: الأول كتاب الأزرقي، والثاني خلاصات من تواريخ الفاسي وابن فهد وابن ظهيرة مع الفهارس للمجموعة، والثالث تاريخ الأعلام للقطبسي، والرابع خلاصة تاريخية عن هذه الكتب باللغة الألمانية مع خارطة لمكة المكرمة.

তাঁর রচনা পদ্ধতি

আল-আজরাকী তাঁর এই কিতাবটি সংকলনের ক্ষেত্রে একটি সহজ ও সাবলীল পথ অনুসরণ করেছেন এবং একে সুবিন্যস্ত ও পূর্ণাঙ্গ বিভিন্ন গবেষণা ও পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন। তিনি এটি করেছেন ‘আন’আনাহ’ (এক বর্ণনাকারী থেকে অন্য বর্ণনাকারীর ধারাবাহিক বর্ণনা) বর্ণনা পদ্ধতির মাধ্যমে, যা পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের নিকট সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং তাঁরা সামান্য পরিবর্তনসহ তাঁদের রচনাশৈলীতে এটি অনুসরণ করেছেন। ইতিহাস, ভূগোল ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ, তিনি সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়াস পেয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি যে, আল-আজরাকী সেই সকল প্রাজ্ঞ লেখকদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের নিয়ে আরবরা ও মুসলিমরা গর্ব করে। তিনি অনেক বিরল ও দুর্লভ বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তথ্যের এমন এক বিশাল ভাণ্ডার সংকলন করেছেন যা একজন গবেষক অন্য কোনো কিতাবে খুব কমই পাবেন। তাই তাঁর এই কিতাবটি সেই সকল মূল্যবান উৎসের অগ্রভাগে গণ্য হয় যা একজন জ্ঞানপিপাসুর জন্য অপরিহার্য।

 

ইউরোপীয় সংস্করণ

আল-আজরাকীর কিতাবটি হারিয়ে গিয়েছিল, যতক্ষণ না জার্মান প্রাচ্যবিদ ফার্ডিনান্ড ভুস্টেনফেল্ড ইউরোপের কিছু লাইব্রেরিতে এর তিনটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পান। তিনি এই পাণ্ডুলিপিগুলো অধ্যয়ন, তুলনা এবং সংশোধনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এরপর তিনি জার্মানির লিপজিগে কিতাবটি মুদ্রণের কাজ শুরু করেন এবং ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে (১২৭৫ হিজরি) তা সম্পন্ন করেন। এই সংস্করণটি ৫১৮ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ১৪ পৃষ্ঠা ছিল সংশোধনী। এছাড়াও প্রকাশক এই সংস্করণের শুরুতে লেখকের জীবনী সম্পর্কে ২৫ পৃষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা যুক্ত করেন। সেখানে তিনি আল-আজরাকী, তাঁর কর্মপরিকল্পনা, তাঁর দেখা পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং অন্যান্য মূল্যবান তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আল-আজরাকীর জীবনী অনুসন্ধানের সময় আমরা এ থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। মুদ্রিত সংস্করণগুলো...

--------------------------------------------

(১) ফার্ডিনান্ড ভুস্টেনফেল্ড হলেন প্রখ্যাত জার্মান প্রাচ্যবিদদের অন্যতম, তিনি ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি গটিঞ্জেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। আরবি কিতাব প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম কর্মঠ প্রাচ্যবিদ। তাঁর প্রকাশিত ও রচিত গ্রন্থের সংখ্যা দুইশ’রও বেশি, যার মধ্যে ‘মক্কার ইতিহাসের সংকলন’ অন্যতম, যা মুদ্রণ করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। মক্কার ইতিহাসের এই সংকলনটি চার খণ্ডে বিভক্ত: প্রথমটি আল-আজরাকীর কিতাব; দ্বিতীয়টি আল-ফাসী, ইবনে ফাহদ এবং ইবনে জাহিরার ইতিহাসের সারসংক্ষেপ ও পুরো সংকলনের সূচিপত্র; তৃতীয়টি আল-কুতুবীর ‘তারিখুল আলাম’; এবং চতুর্থটি মক্কা মুকাররমার মানচিত্রসহ এই কিতাবগুলোর একটি ঐতিহাসিক সারসংক্ষেপ যা জার্মান ভাষায় রচিত।

(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الازرقي نادرة جدا حيث مضى على طبعها 75 سنة.

 

‌‌طبعتنا الجديدة

وقد تصفحنا الطبعة الاوربية مرارا، حين دراستنا لخطط الازرقي فألفيناها مشحونة بالتحريف، مملوءة بالتصحيف، ونحن مع احترامنا للناشر الفاضل لعنايته بطبع العشرات من الكتب العربية، فلا يسعنا الا اظهار الاسف لاقتصاره في الطبع على بعض النسخ الخطية منها دون ان يحمل نفسه مشاق مراجعة المصادر الاخرى لتصحيح هذا التشويه، وذاك التحريف.

وقد كان هذا التحريف والتشويه في مقدمة العوامل التي حملتنا على طبع خطط الازرقي طبعة مصححة، اعتمادا على ثلاث نسخ خطية وقد جعلنا حين الطبع نسخة الطبعة الاوربية أما، بحيث كنا نجعلها الاساس في التصحيح، وتبويب الابحاث والفصول الى غير ذلك من المسائل.

 

‌‌وصف النسخ التي اعتمدنا عليها

أ) الطبعة الأوربية: وهذه الطبعة، كان وستنفيلد اخرجها للناس عام 1275 اي منذ 77 سنة وهي في 518 صفحة من القطع الوسط وبحرف دقيق يضاف اليها مقدمة للناشر باللغة الالمانية تقع في 25 صفحة.

ومن الفصول المهمة التي وضعها الناشر هو المجلد الرابع من المجموعة التاريخية لمكة المكرمة، فقد ذكر فيه المستشرق خلاصة تاريخية عما ورد في المجموعة التاريخية، مع اضافة خارطة لمكة المكرمة وضعها وفق التعريفات التي ذكرها الازرقي في كتابه، مع فهارس أبجدية لأسماء الاعلام والقبائل والاماكن.

 

‌‌النسخ الخطبة:

اما النسخ الخطية التي اعتمدنا عليها في تصحيح طبعتنا هذه فهي ثلاثة:
আল-আযরাক্বীর (সংস্করণটি) অত্যন্ত বিরল, কারণ এর মুদ্রণের পর ৭৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে।

 

‌‌আমাদের নতুন সংস্করণ

আমরা আল-আযরাক্বীর 'খিতাত' (বর্ণনা ও মানচিত্র) অধ্যয়ন করার সময় ইউরোপীয় সংস্করণটি বারবার পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সেটিকে বিকৃতিতে (তাহরিফ) পরিপূর্ণ ও শব্দগত ভুলে (তাসহিফ) ভরপুর পেয়েছি। আমরা সম্মানিত প্রকাশকের প্রতি শ্রদ্ধা রাখি যে তিনি অসংখ্য আরবি বই ছাপানোর যত্ন নিয়েছেন, তবুও আমাদের পক্ষে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া উপায় নেই যে তিনি মুদ্রণের ক্ষেত্রে কেবল কিছু পাণ্ডুলিপির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, অথচ এই বিকৃতি ও ত্রুটি সংশোধনের জন্য অন্যান্য উৎসসমূহ পর্যালোচনার কষ্ট স্বীকার করেননি।

আর এই বিকৃতি ও ত্রুটিগুলোই ছিল সেই প্রধান কারণসমূহের অন্যতম যা আমাদের আল-আযরাক্বীর 'খিতাত'-এর একটি সংশোধিত সংস্করণ তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে মুদ্রণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুদ্রণের সময় আমরা ইউরোপীয় সংস্করণটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, যেন আমরা এটিকে সংশোধন, বিষয়বস্তু ও পরিচ্ছেদ বিন্যাস এবং অন্যান্য বিষয়ের ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করতে পারি।

 

‌‌আমরা যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি সেগুলোর বিবরণ

ক) ইউরোপীয় সংস্করণ: এই সংস্করণটি উস্টেনফেল্ড (Wüstenfeld) ১২৭৫ হিজরিতে তথা ৭৭ বছর আগে প্রকাশ করেছিলেন। এটি মাঝারি আকারের ৫১৮ পৃষ্ঠার এবং এতে সূক্ষ্ম অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এর সাথে প্রকাশকের জার্মান ভাষায় লেখা ২৫ পৃষ্ঠার একটি ভূমিকা যুক্ত রয়েছে।

প্রকাশক যে গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদগুলো স্থাপন করেছেন তার মধ্যে একটি হলো মক্কা মুকাররমার ঐতিহাসিক সংকলনের চতুর্থ খণ্ড। এতে সেই প্রাচ্যবিদ (অরিয়েন্টালিস্ট) ঐতিহাসিক সংকলনে যা বর্ণিত হয়েছে তার একটি ঐতিহাসিক সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন এবং আল-আযরাক্বী তার বইতে যেসব বিবরণ দিয়েছেন সেই অনুযায়ী মক্কা মুকাররমার একটি মানচিত্র যুক্ত করেছেন। এছাড়াও এতে ব্যক্তিবর্গ, গোত্র এবং স্থানসমূহের নামের বর্ণানুক্রমিক সূচি রয়েছে।

 

‌‌হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিসমূহ:

আমাদের এই সংস্করণ সংশোধনের জন্য আমরা যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি তা সংখ্যায় তিনটি:
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌نسخة المدينة الأولى:

ب) النسخة الخطية الاولى، وهي من مخطوطات المكتبة المحمودية بالمدينة المنورة (قسم التاريخ رقم 53)، ناقصة الأخير نقصا كبيرا بحيث يحتوي الموجود أكثر من النصف، وعدد صفحاتها الخطية (278) وكل صفحة تحتوي على 23 سطرا، وطولها 24 سانتيما وعرضها 17 سانتيما.

وقد جاء في غلافها ما يأتي:

(كتاب تاريخ مكة حرسها الله تعالى. كامل ولله الحمد)؟ واخبارها وما جاء في ذلك تأليف ابي الوليد محمد بن عبد الله بن احمد بن الوليد بن عقبة بن الازرق بن عمرو بن الحارث بن ابي شمر الغساني الازرقي رحمه الله تعالى آمين».

وجاء في آخر النسخة (ما كان عليه حوض زمزم في عهد ابن عباس رضوان الله عليه ومجلسه) ولم يذكر تاريخ الكتابة ولا اسم الناسخ وانما الارضة اكلت بعض هذه الصفحة.

وهذا القسم الموجود من النسخة المذكورة فيه بياض في بعض الاماكن منها وكانت قريبة من النسخة (د) الآتي وصفها، وهي صنوتها.

ولكن هذه النسخة تمتاز عن اخواتها بأن مقدمتها تحتوي على اسماء رواة تدل على شيء من تاريخ كتابتها، والى القارئ ما ورد فيها:

ذكر ما كانت الكعبة عليه فوق الماء قبل ان يخلق الله تعالى السماوات والارض وما جاء في ذلك:

نبأ الشيخ الامام السند الاوحد امام مقام ابراهيم صلوات الله عليه ابو عبد الله محمد بن الشيخ الامام السيد الاوحد الامام بالمقام الشريف ابي بكر ابن الحسن الطوسي، قال: حدثنا الشيخ الاجل ابو القاسم عبد الرحمن ابن ديلم الشيبي فاتح بيت الله الحرام، والشيخ الاجل ابو موسى عيسى
মদিনার প্রথম পাণ্ডুলিপি:

খ) প্রথম হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিটি মদিনা মুনাওয়ারার মাহমুদীয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত (ইতিহাস বিভাগ, নম্বর ৫৩)। এর শেষাংশ অনেকাংশে অসম্পূর্ণ, ফলে বিদ্যমান অংশটি অর্ধেকের কিছু বেশি। এর হস্তলিখিত পৃষ্ঠার সংখ্যা (২৭৮) এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন রয়েছে; এর দৈর্ঘ্য ২৪ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ১৭ সেন্টিমিটার।

এর প্রচ্ছদে নিম্নোক্ত কথাগুলো উল্লেখ আছে:

“(মক্কা নগরীর ইতিহাসের গ্রন্থ, আল্লাহ তায়ালা একে রক্ষা করুন। আল্লাহর প্রশংসায় এটি পূর্ণাঙ্গ)। এবং এর ঘটনাবলী ও এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। এটি আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন উকবা বিন আল-আযরাক বিন আমর বিন আল-হারিস বিন আবি শামার আল-গাসসানি আল-আযরাকির রচনা, আল্লাহ তায়ালা তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন, আমিন।”

পাণ্ডুলিপিটির শেষে বর্ণিত হয়েছে: (ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে যমযমের কূপের অবস্থা এবং তাঁর মজলিস)। এতে পাণ্ডুলিপিটি রচনার তারিখ বা অনুলিপিকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি, বরং উইপোকায় এই পৃষ্ঠার কিছু অংশ নষ্ট করে ফেলেছে।

উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিটির এই বিদ্যমান অংশে কিছু জায়গায় শূন্যস্থান রয়েছে এবং এটি পরবর্তীতে বর্ণনা করা হবে এমন (দাল) পাণ্ডুলিপির অনুরূপ, যেন এটি সেটিরই যমজ।

তবে এই পাণ্ডুলিপিটি তার অন্যান্য অনুলিপি থেকে স্বতন্ত্র এই কারণে যে, এর ভূমিকায় বর্ণনাকারীদের নাম রয়েছে যা এটি রচনার ইতিহাসের প্রতি কিছুটা ইঙ্গিত দেয়। এতে যা বর্ণিত হয়েছে তা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:

আল্লাহ তায়ালা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করার পূর্বে পানির ওপর কাবার অবস্থা এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার আলোচনা:

শায়খ, ইমাম, অনন্য নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, মকামে ইব্রাহিমের ইমাম—তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শায়খ ইমাম সাইয়্যেদ অনন্য ইমাম, মকামে শরিফের ইমাম আবু বকর ইবনুল হাসান আত-তুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: মহান শায়খ আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে দাইলাম আশ-শাইবি, যিনি বাইতুল্লাহিল হারামের দ্বার উন্মোচনকারী এবং মহান শায়খ আবু মুসা ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ابن محمد البستي، قالا نبأ الشيخ العدل ابو علي الحسن بن خلف بن هبة الشامي، قال: حدثني ابي ابو القاسم خلف بن هبة الله بن قاسم الشامي في المسجد الحرام سنة سبع وخمسين وأربعمائة قال: نبأ ابو محمد الحسن بن احمد بن نافع الخزاعي، وابو بكر احمد بن عبد المؤمن قالا: نبأ ابو محمد اسحاق بن احمد بن اسحاق الخزاعي وهو عم ابي الحسن الخزاعي قال:

نبأ ابو الوليد … الخ

 

‌‌ج) والنسخة الخطية الثانية

هي من مخطوطات المكتبة المحمودية بالمدينة المنورة ايضا (تاريخ رقم 96)، وهذه النسخة كاملة غير ان فيها بياض اكثر من الاولى وتتفق والاولى نصا في كثير من الاحايين ويكاد تاريخ روايتها ان يقارب زمن رواية النسخة الأولى، ولكنها تختلف واياها بأن فيها تحريف، اشرنا اليه في اماكنه.

وهذه النسخة تقع في 407 صفحات، وفي عدد اسطر صفحاتها اختلاف.

وقد ذكر على غلافها ما يلي:

احمد حمالي سنة 1141.

كتاب اخبار مكة حرسها الله تعالى تأليف ابي الوليد الازرقي رحمة الله عليه واول سيدنا الفقيه الامام العالم العامل الصدر الكبير الر .... وحد المحترم.

جمال العلما سيد الفضلا مفتي المسلمين بقية السلف جمال الدين ابي القاسم عبد الرحمن بن عبد المجيد بن حفص الصقراوي ابقاه الله تعالى ونفع به، تأليف ابي الوليد الازرقي في اخبار مكة والكعبة للطواشي الاجل الكبير المحترم الرئيس الاخص الاوح .... تقي الدين جوم المسعودي ادام الله سعادته وتوفيقه وأجاز له ان يرويه عنه مناولة بروايته عن الفقيه الامام الحافظ ابي الطاهر احمد بن محمد السلفي الاصبهاني رضي الله عنه عن ابي الحسن علي بن المشرف الانماطي قال: اخبرنا أبو علي الحسين بن محمد بن
ইবনে মুহাম্মদ আল-বুস্তি, তারা উভয়ই বলেছেন, ন্যায়পরায়ণ শাইখ আবু আলি আল-হাসান ইবনে খালাফ ইবনে হিবাতুশ শামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবুল কাসিম খালাফ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে কাসিম আশ-শামি চারশ সাতান্ন হিজরি সালে মসজিদুল হারামে আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে নাফে আল-খুজায়ি এবং আবু বকর আহমদ ইবনে আব্দুল মুমিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেন: আবু মুহাম্মদ ইসহাক ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আল-খুজায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর তিনি আবু হাসান আল-খুজায়ি-এর চাচা, তিনি বলেন:

আবু আল-ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন … ইত্যাদি

 

‌‌গ) দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি

এটিও মদীনা মুনাওয়ারার মাহমুদিয়্যাহ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিসম্মূহের অন্তর্ভুক্ত (তারিখ নম্বর ৯৬), এবং এই পাণ্ডুলিপিটি পূর্ণাঙ্গ, তবে এতে প্রথমটির তুলনায় শূন্যস্থান বেশি রয়েছে। এটি পাঠের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় প্রথমটির সাথে মিল রাখে এবং এর বর্ণনার তারিখ প্রায় প্রথম পাণ্ডুলিপির বর্ণনার সময়ের কাছাকাছি। তবে এর সাথে প্রথমটির পার্থক্য হলো এতে কিছু বিকৃতি রয়েছে, যা আমরা যথাস্থানে উল্লেখ করেছি।

এই পাণ্ডুলিপিটি ৪০৭ পৃষ্ঠায় বিস্তৃত, এবং এর পৃষ্ঠাসমূহের লাইনের সংখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে।

এর মলাটে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ উল্লেখ করা হয়েছে:

আহমদ হাম্মালি, ১১৪১ সাল।

আবু আল-ওয়ালিদ আল-আজরাকি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) রচিত 'আখবারু মক্কা' (আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন) কিতাব এবং আমাদের নেতা ফকীহ ইমাম আলেম আমলকারী বড় বক্ষধারী (প্রভাবশালী) আর... ওয়াহেদ সম্মানিত ব্যক্তির শুরু।

উলামাদের সৌন্দর্য, ফজিলতপূর্ণ ব্যক্তিদের সরদার, মুসলিমদের মুফতি, সালাফদের উত্তরসূরি জামালুদ্দিন আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল মাজিদ ইবনে হাফস আস-সাকরাবি (আল্লাহ তাআলা তাকে দীর্ঘজীবী করুন এবং তার দ্বারা উপকৃত করুন); আবু আল-ওয়ালিদ আল-আজরাকি রচিত মক্কা ও কাবার সংবাদ বিষয়ক কিতাব; সুমহান ও সম্মানিত প্রধান বিশেষ অনন্য... তাকিউদ্দীন জুম আল-মাসউদি (আল্লাহ তার সৌভাগ্য ও তাওফিক অব্যাহত রাখুন) এর জন্য। তিনি তাকে তার নিকট থেকে হস্তান্তরের মাধ্যমে বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেছেন, ফকীহ ইমাম হাফেজ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সিলাফি আল-ইসফাহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বর্ণনাসূত্রে, যিনি আবুল হাসান আলী ইবনুল মুশাররাফ আল-আনমাতি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
عيسى القيسي قراءة عليه في شهور سنة سبع وخمسين واربع مائة عن ابي جهضم الصمداني عن أبي اسحاق احمد الخزاعي عن ابي الوليد محمد بن عبد الله الازرقي المصنف، ورواه ايضا سيدنا الفقيه الامام العالم جمال الدين ابقاه الله عن الشريف أبي محمد عبد الله بن يحيى بن اسماعيل العثماني الديباجي عن ابي مشرف المذكور وذلك بتاريخ السادس عشر من ذي القعدة سنة احدى وثلثين وستماية بثغر الاسكندرية المحروس».

وتنتهي النسخة بما يلي:

«آخر كتاب مكة حرسها الله تعالى نسخه جمعه الفقير الى ربه نصر بن عبد المنعم بن ابي الوقار السرخي عفى الله عنه وغفر له ولوا .. » اه.

اما الصفحة الاولى من هذه النسخة فهي تبدأ:

«بسم الله الرحمن الرحيم وبه نستعين ذكر ما كانت الكعبة عليه فوق الماء قبل ان يخلق الله السماوات والارض وما جاء في ذلك حدّثنا ابو محمد اسحاق بن احمد بن اسحاق بن نافع الخزاعي قال:

حدثنا ابو الوليد محمد بن عبد الله بن احمد بن محمد بن الوليد بن احمد الازرقي الخ.»

 

‌‌النسخة الثالثة:

د) ووقعنا على نسخة خطية ثالثة في مكتبة الاستاذ الشيخ عبد الستار الدهلوي من علماء مكة المكرمة، يقول صاحبها انه نسخها بقلمه عن النسخة الخطية الموجودة في دار الكتب بمصر القاهرة.

وهذه النسخة كاملة وهي في جزئين وتمتاز عن النسخ الاخرى انه مضاف اليها فهرسا للمواضيع العمومية.
ঈসা আল-কায়সির নিকট চারশত সাতান্ন হিজরি সনের মাসসমূহে পাঠ করা হয়েছে; তিনি আবু জাহদাম আস-সামদানি থেকে, তিনি আবু ইসহাক আহমদ আল-খুজায়ি থেকে, তিনি গ্রন্থকার আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আজরাকি থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আমাদের নেতা ফকিহ ইমাম আলেম জামাল উদ্দিন (আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করুন) এটি শরিফ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল আল-উসমানি আদ-দিবাজি থেকে, তিনি উল্লিখিত আবু মাশরাফ থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এটি ছিল সংরক্ষিত আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে ৬৩১ হিজরি সনের ১৬ই জিলকদ তারিখে।

আর পাণ্ডুলিপিটি নিম্নোক্ত কথার মাধ্যমে শেষ হয়েছে:

«মক্কার কিতাবের শেষাংশ (আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন), এটি অনুলিপি করেছেন এবং সংগ্রহ করেছেন তার রবের মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা নাসর বিন আব্দুল মুনইম বিন আবিল ওয়াকার আস-সারখি; আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তাকে ও তার পিতা-মাতাকে...» সমাপ্ত।

আর এই পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠাটি এভাবে শুরু হয়েছে:

«পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করার পূর্বে পানির ওপর কাবার অবস্থা কী ছিল এবং সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার বর্ণনা। আবু মুহাম্মদ ইসহাক বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন নাফে আল-খুজায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন আহমদ আল-আজরাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন... ইত্যাদি।»

 

‌‌তৃতীয় পাণ্ডুলিপি:

ঘ) আমরা মক্কা মুকাররমার ওলামাদের মধ্য হতে উস্তাদ শেখ আব্দুল সাত্তার দেহলভির লাইব্রেরিতে একটি তৃতীয় হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি পেয়েছি। এর মালিক বলেছেন যে, তিনি মিশরের কায়রোর দারুল কুতুবে রক্ষিত পাণ্ডুলিপি থেকে এটি নিজ হাতে অনুলিপি করেছেন।

এবং এই পাণ্ডুলিপিটি পূর্ণাঙ্গ ও দুই খণ্ডে বিভক্ত; অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে এর বিশেষত্ব হলো এতে সাধারণ বিষয়াবলির একটি সূচিপত্র যুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
والجزء الاول يحتوي على 285 صفحة من القطع الكبير؛ في كل صفحة 23 سطرا، وينتهي بفصل (ذرع المقام).

والجزء الثاني يحتوي على 233 صفحة من القطع الكبير، في كل صفحة منه 23 سطرا ايضا: وقد كتبت عناوين هذه النسخة بالحبر الاحمر.

وهذه النسخة قريبة الشبه من المطبوعة في ليبسك، حتى يكاد الانسان ان يقول بأنها منسوخة عنها، وفي بعض الاماكن منها بياض قليل.

وقد جاء في غلاف الجزئين:

«كتاب اخبار مكة المشرفة وما جاء فيها من الآثار تأليف العلامة المؤرخ ابي الوليد محمد بن عبد الله بن احمد الازرقي المكي رواية ابي محمد اسحاق بن احمد بن اسحاق بن نافع الخزاعي المكي.

الوقف لله عز وجل بالمكتبة الفيضية المباركشاهوية البكرية المكية حرسها رب البرية عن كل آفة وبلية آمين».

وجاء في الصفحة الأخيرة من الجزء الاول:

«الى هنا انتهى النصف الاول من تاريخ مكة للامام المؤرخ ابي الوليد محمد بن عبد الله بن احمد الأزرقي من رواية أبي محمد اسحاق بن احمد بن اسحاق ابن نافع الخزاعي.

ويتلوه النصف الثاني أوله باب ما جاء في اخراج جبريل زمزم لام اسماعيل عليهما السلام».

وجاء في الصفحة الأخيرة من الجزء الثاني:

«الى هنا تم كتاب تاريخ مكة للازرقي برواية ابي محمد الخزاعي المكي والحمد لله كما هو أهله وصلواته على نبيه محمد سيد الاولين والآخرين وآله وصحبه وسلامه وحسبنا الله ونعم الوكيل.
প্রথম খণ্ডটি বড় আকারের ২৮৫ পৃষ্ঠা সম্বলিত; প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি সারি রয়েছে এবং এটি ‘মাকামের দৈর্ঘ্য’ অধ্যায়ে শেষ হয়েছে।

দ্বিতীয় খণ্ডটি বড় আকারের ২৩৩ পৃষ্ঠা সম্বলিত, এতেও প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি সারি রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপির শিরোনামগুলো লাল কালিতে লেখা হয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপিটি লিপজিগে মুদ্রিত সংস্করণের অত্যন্ত সদৃশ, এমনকি একজন মানুষ এটি বলতে বাধ্য হতে পারে যে এটি সেখান থেকেই নকল করা হয়েছে। এর কিছু স্থানে সামান্য ফাঁকা জায়গা রয়েছে।

উভয় খণ্ডের মলাটে উল্লেখ করা হয়েছে:

«সম্মানিত মক্কার সংবাদ এবং এতে বর্ণিত নিদর্শনসমূহ সম্পর্কিত কিতাব; রচনা করেছেন আল্লামা ঐতিহাসিক আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-আযরাকী আল-মাক্কী, আবু মুহাম্মাদ ইসহাক বিন আহমাদ বিন ইসহাক বিন নাফে আল-খুযায়ী আল-মাক্কীর বর্ণনা সূত্রে।

এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল-মাকতাবাতুল ফায়জিয়্যাহ আল-মুবারকশাহউইয়্যাহ আল-বাকরিয়্যাহ আল-মাক্কিয়্যাহ-তে ওয়াকফকৃত, সৃষ্টিজগতের রব একে সকল প্রকার আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা করুন, আমীন।»

প্রথম খণ্ডের শেষ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে:

«এখান পর্যন্ত ইমাম ঐতিহাসিক আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-আযরাকীর রচিত 'মক্কার ইতিহাস'-এর প্রথম অর্ধাংশ সমাপ্ত হলো, যা আবু মুহাম্মাদ ইসহাক বিন আহমাদ বিন ইসহাক বিন নাফে আল-খুযায়ীর বর্ণনা সূত্রে প্রাপ্ত।

এর পরবর্তী দ্বিতীয় অর্ধাংশের শুরুতে রয়েছে 'জিবরীল কর্তৃক ইসমাইলের মাতা আলাইহিমাস সালামের জন্য যমযম বের করার বিবরণ' অধ্যায়।»

দ্বিতীয় খণ্ডের শেষ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে:

«এখান পর্যন্ত আবু মুহাম্মাদ আল-খুযায়ী আল-মাক্কীর বর্ণনা সূত্রে আযরাকীর 'মক্কার ইতিহাস' কিতাবটি সম্পন্ন হলো। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেভাবে তিনি প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য। তাঁর নবী মুহাম্মাদের প্রতি দরুদ বর্ষিত হোক, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।»
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وكان الفراغ من النسخ بحمد الله وعونه وحسن توفيقه على يد كاتبه لنفسه ولمن شاء الله من بعده ابي الفيض عبد الستار بمكة المشرفة والحمد لله وحده.

ونقلت من نسخة نقلت خلف المقام في المسجد الحرام تجاه الكعبة المعظمة في شعبان سنة تسع وثمانين وسبعماية من الهجرة».

وقد أغفل الاستاذ تاريخ النسخ فلم يرد ذكر لذلك في هذه النسخة.

وقد اضاف الاستاذ الناسخ في آخر الجزء الثاني ترجمة للازرقي الجد والحفيد والخزاعي الراوية نقلا عن العقد الثمين وغيره، وأشار الى مختصري الأزرقي وانتهى بحثه في ذكر بعض تواريخ مكة التي وضعت بعد الازرقي.

 

‌‌رموز النسخ:

وقد رمزنا لهذه النسخ في هوامش الكتاب بالاشارات التالية:

ا - الطبعة الاوربية ب - نسخة المدينة الاولى ج - نسخة مكة د - نسخة المدينة الثانية طج - طبعتنا الجديدة هذه

 

‌‌طريقتنا في التصحيح:

وكنا نرجع الى النسخ الخطية الثلاثة، لتصحيح المتن في الطبعة الاوربية، وقد كانت هذه الاصول كثيرة التحريف والتشويه، لذلك كنا نرجع في المسائل التي لا نطمئن الى صحتها، الى مصادر أخرى من دينية وتاريخية وبوجه خاص خطط مكة المكرمة، فجاءت طبعتنا الجديدة كما يراها
আল্লাহর প্রশংসা, সাহায্য এবং তাঁর উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে এর লেখক আবুল ফায়েজ আবদুস সাত্তার কর্তৃক মক্কা মুশাররাফাতে নিজের জন্য এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর পরবর্তী অন্যদের জন্য এই প্রতিলিপি তৈরির কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।

এটি এমন একটি প্রতিলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যা হিজরি সাতশ উননব্বই সালের শাবান মাসে মাসজিদুল হারামের মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে এবং সম্মানিত কাবার সম্মুখভাগে বসে অনুলিপি করা হয়েছিল।

উস্তাদ অনুলিপির তারিখটি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন, তাই এই প্রতিলিপিতে তার কোনো উল্লেখ নেই।

অনুলিপিকার উস্তাদ দ্বিতীয় খণ্ডের শেষে 'আল-ইকদ আল-সামিন' এবং অন্যান্য গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আজরুকি (দাদা), আজরুকি (নাতি) এবং বর্ণনাকারী খুজায়ির জীবনী যোগ করেছেন। তিনি আজরুকির কিতাবের সংক্ষিপ্তসার দুটির প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন এবং আজরুকির পরবর্তী সময়ে লিখিত মক্কার ইতিহাসের কিছু বর্ণনা প্রদানের মাধ্যমে তাঁর আলোচনা শেষ করেছেন।

 

‌‌পাণ্ডুলিপির সংকেতসমূহ:

আমরা কিতাবের টীকায় এই পাণ্ডুলিপিগুলোকে নিম্নোক্ত চিহ্নের মাধ্যমে নির্দেশ করেছি:

আলিফ - ইউরোপীয় সংস্করণ, বা - মদিনার প্রথম পাণ্ডুলিপি, জিম - মক্কার পাণ্ডুলিপি, দাল - মদিনার দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি, তজ - আমাদের এই নতুন সংস্করণ

 

‌‌আমাদের সম্পাদনা পদ্ধতি:

ইউরোপীয় সংস্করণের মূল পাঠ্য সংশোধনের জন্য আমরা তিনটি পাণ্ডুলিপির সাহায্য নিতাম। এই মূল উৎসগুলোতে প্রচুর বিকৃতি ও ভুলভ্রান্তি ছিল, তাই যেসব বিষয়ের বিশুদ্ধতা নিয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারতাম না, সেক্ষেত্রে আমরা অন্যান্য ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক উৎসের শরণাপন্ন হতাম, বিশেষ করে মক্কা মুকাররমার ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বর্ণনা (খিতাত) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলীর। ফলে আমাদের এই নতুন সংস্করণটি এমনভাবে সম্পন্ন হয়েছে যা পাঠক এখন দেখতে পাচ্ছেন।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
القارئ خلوة من التحريف الا ما ندر.

وقد أردنا ان نضيف الى كل بحث من بحوث الازرقي تعليقات تتضمن ما وقع بعد المؤلف على التفصيل والتقصي. ولكننا أحجمنا فيما بعد فاكتفينا بالتعليقات المختصرة، اللهم الا في الابحاث التي لا غنى عن ذكرها، فعلقنا عليها تعليقات مطولة. ومن الابحاث المهمة التي اضفناها الى هذه الطبعة بحث (في بناية الكعبة الاخيرة) وآخر في (تاريخ كسوتها) ثم بحث تحليلي عن (دي الخلصة) يراه القارئ في الصفحة 256 من هذه الطبعة، وهذا البحث كان مجهولا فأجلينا غامضه، وبينا حقيقته. ويقيننا ان هذا الفصل يسر رجال العلم والتحقيق.

اما الأعلام من الاماكن فقد علقنا على بعضها واشرنا الى جهاتها وتحديداتها، واغفلنا ذلك في القسم الآخر نظرا لورود ذكرها في القسم الجغرافي من خطط الازرقي - وهو يقع في الجزء الثاني من طبعتنا هذه - وسنحلي هذا القسم بالشروح الوافية ان شاء الله تعالى.

 

‌‌خاتمة البحث

وقد قسمنا الكتاب الى جزئين تسهيلا للمراجعة، وعنينا باخراج الطبعة نظيفة، ووضعنا لها فهارس ليسهل على القارئ مراجعة الابحاث التي يريدها بدون عناء ولا مشقة.

ولا نحب الاطالة في بيان محاسن هذه الطبعة، فهي تدل على نفسها بنفسها، وجل ما نبتغيه ان يكون طبع خطط الازرقي مقدمة لطبع خطط البلاد العربية السعودية وتواريخها التي حفظتها لنا المكاتب العامة والخاصة وهي كثيرة ولله الحمد لا سيما في هذا العهد الزاهر الذي يمكن ان نسميه عهد (النهضة العلمية) الحقة، نظرا لما نراه من عناية:
পাঠক একে বিকৃতি থেকে মুক্ত পাবেন, তবে অত্যন্ত বিরল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত।

আমরা আল-আজরকীর প্রতিটি গবেষণার সাথে এমন কিছু টীকা যুক্ত করতে চেয়েছিলাম যাতে লেখকের পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলি বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের সাথে অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা সে চিন্তা পরিহার করে কেবল সংক্ষিপ্ত টীকাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; তবে ঐসব গবেষণার ক্ষেত্র ব্যতীত যেগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ অপরিহার্য ছিল, সেগুলোতে আমরা দীর্ঘ টীকা প্রদান করেছি। এই সংস্করণে আমরা যেসব গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা যুক্ত করেছি তার মধ্যে একটি হলো (কাবা গৃহের সর্বশেষ নির্মাণ সংক্রান্ত) এবং অন্যটি (কাবার গিলাফের ইতিহাস) সম্পর্কে। এরপর (যুল-খালাসা) বিষয়ক একটি বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা রয়েছে যা পাঠক এই সংস্করণের ২৫৬ পৃষ্ঠায় দেখতে পাবেন। এই বিষয়টি আগে অজানা ছিল, তাই আমরা এর অস্পষ্টতা দূর করেছি এবং এর প্রকৃত রূপ স্পষ্ট করেছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই অধ্যায়টি বিজ্ঞ ও গবেষক ব্যক্তিদের আনন্দিত করবে।

আর স্থানের নামসমূহের ক্ষেত্রে আমরা সেগুলোর কয়েকটির ওপর টীকা প্রদান করেছি এবং সেগুলোর দিক ও সীমানা নির্দেশ করেছি। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে আমরা তা বর্জন করেছি, কারণ আল-আজরকীর 'খিতাত'-এর ভৌগোলিক অংশে সেগুলোর উল্লেখ রয়েছে—যা আমাদের এই সংস্করণের দ্বিতীয় খণ্ডে অবস্থিত—এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা সেই অংশটিকে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দ্বারা সুশোভিত করব।

 

‌‌গবেষণার সমাপ্তি

অধ্যয়নের সুবিধার্থে আমরা কিতাবটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করেছি এবং সংস্করণটিকে পরিচ্ছন্নভাবে প্রকাশ করার ব্যাপারে যত্ন নিয়েছি। আমরা এতে নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি যাতে পাঠকের পক্ষে কোনো প্রকার ক্লান্তি বা কষ্ট ছাড়াই তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো খুঁজে বের করা সহজ হয়।

আমরা এই সংস্করণের বিশেষত্বসমূহ বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রতা করতে চাই না, কেননা এটি নিজেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। আমাদের মূল প্রত্যাশা হলো, আল-আজরকীর 'খিতাত' মুদ্রণ যেন সৌদি আরব অঞ্চলের 'খিতাত' ও ইতিহাসসমূহ মুদ্রণের একটি সূচনা হিসেবে গণ্য হয়, যা সরকারি ও বেসরকারি পাঠাগারসমূহ আমাদের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছে। আল্লাহর শোকর যে সেগুলো সংখ্যায় অনেক, বিশেষ করে বর্তমানের এই স্বর্ণালি যুগে—যাকে আমরা প্রকৃত 'জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ'-এর যুগ হিসেবে অভিহিত করতে পারি, যেহেতু আমরা এর প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ দেখতে পাচ্ছি:
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
حضرة صاحب الجلالة الملك عبد العزيز آل سعود المعظم بنشر العلم والثقافة بمختلف الوسائل وشتى الاساليب، خلد الله ملكه وأطال عمر جلالته ذخرا للمسلمين والعرب وركنا للعلم والأدب آمين.

 

مكة المكرمة في غرة شوال سنة 1352.

رشدي ملحس
মহামান্য মহামতি রাজা আব্দুল আজিজ আল সৌদ বিভিন্ন মাধ্যম ও বিবিধ পন্থায় জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রসারে ব্রতী হয়েছেন; আল্লাহ তাঁর রাজত্বকে চিরস্থায়ী করুন এবং মহামান্যের আয়ু বৃদ্ধি করুন মুসলিম ও আরবদের জন্য এক সম্পদ হিসেবে এবং জ্ঞান ও সাহিত্যের এক স্তম্ভ হিসেবে। আমীন।

 

মক্কা আল-মুকাররামা, পহেলা শাওয়াল, ১৩৫২ হিজরি।

রুশদি মালহাস
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌ذِكْرُ مَا كَانَتِ الْكَعْبَةُ الشَّرِيفَةُ عَلَيْهِ فَوْقَ الْمَاءِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ اللَّهُ السماوات والْأَرْضَ ومَا جَاءَ فِي ذَلِكَ

بسم الله الرحمن الرحيم

وصَلَّى اللَّهُ عَلَى سيد الامة محمد نبي الرحمة وآلِهِ وصَحْبِهِ

 

• أَخْبَرَنِي وَالِدِي الْفَقِيهُ الْإِمَامُ الْمُحَدِّثُ صَدْرُ الدِّينِ بَقِيَّةُ الْمَشَايِخِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ عُمَرَ الْقُرَشِيُّ الْمَيَانِشِيُّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ قَالَ حَدَّثَنَا الْقَاضِي الْإِمَامُ أَبُو الْمُظَفَّرِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ الشَّيْبَانِيُّ الطَّبَرِيُّ عَنْ جَدِّهِ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْحُسَيْنُ عَنِ الشَّيْخِ أَبْي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ الشَّامِيِّ عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ خَلَفِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ الشَّامِيِّ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فِرَاسٍ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ مُحَمَّدِ بْنِ نَافِعٍ الْخُزَاعِيِّ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ إِسْحَاقَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ نَافِعٍ الْخُزَاعِيِّ عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ ابن الْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ بْنِ الْأَزْرَقِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي شِمْرٍ الْغَسَّانِيِّ الْأَزْرَقِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا جَدِّي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ الْأَزْرَقِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ بِشْرِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ قَالَ كَعْبُ الْأَحْبَارِ: كَانَتِ الْكَعْبَةُ غُثَاءً عَلَى الْمَاءِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ(1) اللَّهُ عز وجل السماوات والارض بأربعين سَنَةً ومِنْهَا دُحِيَتِ الْأَرْضُ، قَالَ حَدَّثنَا أَبُو الْوَلِيدِ قَالَ حَدَّثَنِي مَهْدِيُّ بْنُ

--------------------------------------------

(1) كذا فِي نسخة ا وج. وفِي نسخة ب «خلق».
আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে পানির ওপর সম্মানিত কাবা যে অবস্থায় ছিল তার বর্ণনা এবং এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

উম্মতের নেতা, রহমতের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

 

• আমার পিতা, ফকিহ, ইমাম, মুহাদ্দিস সদরুদ্দীন, মাশায়েখদের অবশিষ্টাংশ আবু হাফস উমর বিন আব্দুল মাজীদ বিন উমর আল-কুরাশি আল-মায়ানিশি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কাযী ইমাম আবু আল-মুজাফফর মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হুসাইন আশ-শায়বানি আত-তাবারী আমাদের নিকট তাঁর দাদা শায়খ ইমাম হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি শায়খ আবুল হাসান আলী বিন খালাফ আশ-শামি থেকে, তিনি আবু আল-কাসিম খালাফ বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শামি থেকে, তিনি আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন ফিরাসা থেকে, তিনি আবু আল-হাসান মুহাম্মাদ বিন নাফে আল-খুযায়ি থেকে, তিনি আবু মুহাম্মাদ ইসহাক বিন আহমাদ বিন ইসহাক বিন নাফে আল-খুযায়ি থেকে, তিনি আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ বিন উকবা বিন আল-আযরাক বিন আমর বিন আল-হারিস বিন আবু শিমর আল-গাসসানি আল-আযরাকি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবু আল-ওয়ালিদ) বলেন: আমার দাদা আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-আযরাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ আমাদের নিকট বিশর বিন আসিম থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাব আল-আহবার বলেছেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির(১) চল্লিশ বছর পূর্বে কাবা পানির ওপর ফেনা সদৃশ ছিল এবং সেখান থেকেই পৃথিবী বিস্তৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আবু আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মাহদী বিন...

--------------------------------------------

(১) পান্ডুলিপি 'আ' এবং 'জিম'-এ এভাবেই আছে। আর পান্ডুলিপি 'বা'-তে আছে 'সৃষ্টি করেছেন'।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٣٢)
أَبِي الْمَهْدِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أَيُّوبَ الْبَصْرِيُّ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا يَقُولُ: خَلَقَ اللَّهُ عز وجل هَذَا الْبَيْتَ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ شَيْئًا مِنَ الْأَرَضِينَ.

 

• قَالَ حَدَّثنَا أَبُو الْوَلِيدِ قَالَ حَدَّثَنَا جَدِّي عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَّامٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: لَمَّا كَانَ الْعَرْشُ عَلَى الْمَاءِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ الله السماوات والْأَرْضَ بَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى رِيحًا هَفَّافَةً فَصَفَقَتِ الْمَاءَ فَأَبْرَزَتْ عَنْ خَشْفَةٍ(1) فِي مَوْضِعِ هَذَا(2) الْبَيْتِ كَأَنَّهَا قُبَّةٌ فَدَحَا اللَّهُ الْأَرَضِينَ مِنْ تَحْتِهَا فَمَادَتْ ثُمَّ مَادَتْ فَأَوْتَدَهَا اللَّهُ تَعَالَى بِالْجِبَالِ فَكَانَ أَوَّلُ جَبَلٍ وُضِعَ فِيهَا أَبُو قُبَيْسٍ فَلِذَلِكَ سُمِّيَتْ مَكَّةُ أُمَّ الْقُرَى(3)،.

 

• قَالَ وحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ(4) بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْجُبَيْرِيِّ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: لَقَدْ خَلَقَ اللَّهُ عز وجل مَوْضِعَ هَذَا الْبَيْتِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ بِأَلْفَيْ سَنَةٍ وإِنَّ قَوَاعِدَهُ لَفِي الْأَرْضِ السَّابِعَةِ(5) السُّفْلَى.

 

‌‌ذِكْرُ بِنَاءِ الْمَلَائِكَةِ الْكَعْبَةَ قَبْلَ خَلْقِ آدَمَ ومُبْتَدَأِ الطَّوَافِ كَيْفَ كَانَ (6)

• حَدَّثنَا أَبُو الْوَلِيدِ قَالَ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ هَارُونَ بْنِ مُسْلِمٍ الْعِجْلِيُّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ

--------------------------------------------

(1) كذا فِي جميع الأصول والأعلام. ورواها ابن ظهيرة عن عمر بن شبة «خشعة» بالعين المهملة عوضا عن الفاء وقال الحشفة واحدة الخشف وهي حجارة تنبت فِي الأرض نباتا، أما الحشعة فهي أكمة لاطية بالأرض. وقيل هو ما غلب عليه السهولة وليس بحجر ولا طين.

(2) الزيادة فِي ب، ج.

(3) بياض فِي ب.

(4) كذا فِي ا، ج. وفِي ب «عمرة».

(5) محروسة فِي ب.

(6) بياض فِي ب من أول هذا الفصل إلى نهاية فصل ذكر زيارة الملائكة البيت الحرام.
আবু মাহদী বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আইয়ুব আল-বসরী, তিনি হিশাম থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি বলেন, আমি মুজাহিদকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তাআলা এই ঘরটি সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীর অন্য কোনো কিছু সৃষ্টি করার আগে।

 

• তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ালীদ, তিনি বলেন, আমার দাদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সাল্লাম থেকে, তিনি তালহা ইবনে আমর থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির আগে আল্লাহর আরশ পানির উপরে ছিল, তখন আল্লাহ তাআলা একটি মৃদু বাতাস পাঠালেন। সেই বাতাস পানির ওপর আলোড়ন সৃষ্টি করল এবং এই ঘরের(১) স্থানে(২) একটি শক্ত উপরিভাগ প্রকাশ করল, যা দেখতে গম্বুজের মতো ছিল। অতঃপর আল্লাহ এর নিচ থেকে ভূমিকে বিস্তৃত করলেন। ফলে পৃথিবী দুলতে শুরু করল, বারবার দুলল। তখন আল্লাহ তাআলা পাহাড়গুলোর মাধ্যমে একে স্থির করলেন। এতে প্রথম যে পাহাড়টি স্থাপন করা হয় তা ছিল আবু কুবাইস। আর এই কারণেই মক্কাকে 'উম্মুল কুরা' (জনপদসমূহের মূল) নামকরণ করা হয়েছে(৩)।

 

• তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে উমর(৪) ইবনে ইবরাহীম আল-জুবাইরী থেকে, তিনি উসমান ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে এই ঘরের স্থানটি সৃষ্টি করেছেন এবং এর ভিত্তিগুলো সপ্তম নিম্নতম(৫) জমিন পর্যন্ত পৌঁছেছে।

 

‌‌আদম সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাগণের কাবা নির্মাণ এবং তাওয়াফের সূচনা কীভাবে হয়েছিল তার বর্ণনা (৬)

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ালীদ, তিনি বলেন, আলী ইবনে হারুন ইবনে মুসলিম আল-ইজলি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন, কাসেম ইবনে আবদুর রহমান আল-আনসারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে...

--------------------------------------------

(১) সকল মূল পান্ডুলিপি ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। ইবনে জাহীরা এটি উমর ইবনে শাব্বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন 'খাশআহ' (عين বর্ণ দিয়ে), 'ফা' (ف) অক্ষরের পরিবর্তে। তিনি বলেছেন, 'খাশফাহ' হলো 'খাশফ'-এর একবচন, যা হলো জমিনে জন্মানো পাথর সদৃশ বস্তু। আর 'খাশআহ' হলো মাটির সাথে মিশে থাকা ছোট টিলা। কেউ কেউ বলেছেন, এটি এমন বস্তু যা খুব নরম এবং পাথর বা কাদা নয়।

(২) অতিরিক্ত অংশটি 'বা' এবং 'জিম' পান্ডুলিপিতে রয়েছে।

(৩) 'বা' পান্ডুলিপিতে শূন্যস্থান রয়েছে।

(৪) 'আলিফ' এবং 'জিম' পান্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে 'বা' পান্ডুলিপিতে রয়েছে 'উমরাহ'।

(৫) 'বা' পান্ডুলিপিতে 'মাহরুসাহ' (সংরক্ষিত) শব্দ রয়েছে।

(৬) এই পরিচ্ছেদের শুরু থেকে ফেরেশতাগণের বাইতুল্লাহ যিয়ারতের পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত 'বা' পান্ডুলিপিতে শূন্যস্থান রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٣٣)
الْحُسَيْنِ(1) قَالَ: كُنْتُ مَعَ أَبِي عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بِمَكَّةَ فَبَيْنَمَا هُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ وأَنَا وَرَاءَهُ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ شَرْجَعٌ مِنَ الرِّجَالِ يَقُولُ طَوِيلٌ(2) فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى ظَهْرِ أَبِي فَالْتَفَتَ أَبِي إِلَيْهِ فَقَالَ الرَّجُلُ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا ابْنَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكَ فَسَكَتَ(3) أَبِي وأَنَا والرَّجُلُ خَلْفَهُ حَتَّى فَرَغَ مِنْ أُسْبُوعِهِ فَدَخَلَ الْحِجْرَ فَقَامَ تَحْتَ الْمِيزَابِ فَقُمْتُ أَنَا والرَّجُلُ خَلْفَهُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْ أُسْبُوعِهِ ثُمَّ اسْتَوَى قَاعِدًا فَالْتَفَتَ إِلَيَّ فَقُمْتُ فَجَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ فَأَيْنَ هَذَا السَّائِلُ؟ فَأَوْمَأْتُ إِلَى الرَّجُلِ فَجَاءَ فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ أَبِي فَقَالَ لَهُ أَبِي عَمَّا تَسْأَلُ؟ قَالَ أَسْأَلُكَ عَنْ بَدْءِ هَذَا الطَّوَافِ بِهَذَا الْبَيْتِ لِمَ كَانَ وأَنَّى كَانَ وحَيْثُ كَانَ وكَيْفَ كَانَ؟ فَقَالَ لَهُ أَبِي نَعَمْ مِنْ أَيْنَ أَنْتَ؟ قَالَ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ قَالَ أَيْنَ مَسْكَنُكَ؟ قَالَ: فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَالَ: فَهَلْ قَرَأْتَ الْكِتَابَيْنِ؟ - يَعْنِي التَّوْرَاةَ والْإِنْجِيلَ - قَالَ الرَّجُلُ نَعَمْ قَالَ أَبِي يَا أَخَا أَهْلِ الشَّامِ احْفَظْ ولَا تَرْوِيَنَّ عَنِّي إِلَّا حَقًّا(4) أَمَّا بدو هَذَا الطَّوَافِ بِهَذَا الْبَيْتِ فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى قَالَ لِلْمَلَائِكَةِ {إِنِّي جاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً} فَقَالَتِ الْمَلَائِكَةُ أَيْ رَبِّ أخَلِيفَةٌ مِنْ غَيْرِنَا(5) مِمَّنْ {يُفْسِدُ فِيها ويَسْفِكُ الدِّماءَ} وَيَتَحَاسَدُونَ، وَيَتَبَاغَضُونَ ويَتَبَاغَوْنَ؟ أَيْ رَبِّ(6) اجْعَلْ ذَلِكَ الْخَلِيفَةَ مِنَّا فَنَحْنُ لَا نُفْسِدُ فِيهَا، ولَا نَسْفِكُ الدِّمَاءَ، ولَا نَتَبَاغَضُ، ولَا نَتَحَاسَدُ، ولَا نَتَبَاغَى، {ونَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ، ونُقَدِّسُ لَكَ}، ونُطِيعُكَ، ولَا نَعْصِيكَ فَقَالَ(7) اللَّهُ تَعَالَى {إِنِّي أَعْلَمُ}

--------------------------------------------

(1) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام نقلا عن الأزرقي «حدثنا الإمام محمد الباقر بن الإمام علي زين العابدين بن الحسين بن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه».

(2) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «إذ جاءه رجل طويل».

(3) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «فرد عَلَيْهِ السَّلَامُ وسكت».

(4) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «احفظ عني ولا ترو عني إلا حقا».

(5) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «اي رب أتخلق غيرنا».

(6) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «أي رب» محذوفة.

(7) كذا رواية الاعلام وفِي جميع الأصول «قال».
আল-হুসাইন(১) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মক্কায় আমার পিতা আলী বিন আল-হুসাইনের সাথে ছিলাম। যখন তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন এবং আমি তাঁর পিছনে ছিলাম, তখন জনৈক দীর্ঘদেহী ব্যক্তি তাঁর কাছে এল, যাকে দীর্ঘকায় বলা হয়।(২) সে আমার পিতার পিঠের ওপর হাত রাখল, তখন আমার পিতা তার দিকে ফিরে তাকালেন। লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূলের কন্যার সন্তান, আপনার ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চাই। তখন আমার পিতা চুপ থাকলেন(৩) এবং আমি ও লোকটি তাঁর পিছনে থাকলাম যতক্ষণ না তিনি তাঁর সাত চক্কর তাওয়াফ শেষ করলেন। এরপর তিনি হিজরে (হাতিমে কাবা) প্রবেশ করলেন এবং মিজাবের নিচে দাঁড়ালেন। আমি ও লোকটি তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর তাওয়াফের দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, এরপর সোজা হয়ে বসলেন। অতঃপর তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং আমি উঠে তাঁর পাশে বসলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ, সেই প্রশ্নকারী কোথায়? আমি লোকটির দিকে ইশারা করলাম। সে এসে আমার পিতার সামনে বসল। আমার পিতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাও? সে বলল, আমি আপনাকে এই ঘরের এই তাওয়াফের সূচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি—তা কেন হয়েছিল, কীভাবে হয়েছিল, কোথায় হয়েছিল এবং কোন পদ্ধতিতে হয়েছিল? আমার পিতা তাকে বললেন, ঠিক আছে, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল, সিরিয়াবাসীদের মধ্য হতে। তিনি বললেন, তোমার বাসস্থান কোথায়? সে বলল, বায়তুল মাকদিসে। তিনি বললেন, তবে কি তুমি কিতাব দুটি—অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিল—পড়েছ? লোকটি বলল, হ্যাঁ। আমার পিতা বললেন, হে সিরিয়াবাসী ভাই, এটি স্মরণ রেখো এবং আমার পক্ষ থেকে সত্য ছাড়া কিছু বর্ণনা করো না।(৪) এই ঘরের এই তাওয়াফের সূচনার বিষয়টি হলো—নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের বলেছিলেন, {নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে যাচ্ছি}। তখন ফেরেশতারা বলল, হে আমাদের রব, আমাদের ছাড়া কি অন্য কাউকে প্রতিনিধি করবেন(৫) যারা {সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে} এবং একে অপরের প্রতি হিংসা করবে, বিদ্বেষ পোষণ করবে ও বিদ্রোহ করবে? হে আমাদের রব,(৬) সেই প্রতিনিধি আমাদের মধ্য থেকেই করুন। কারণ আমরা সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করব না, রক্তপাত ঘটাব না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করব না, হিংসা করব না এবং বিদ্রোহও করব না। {আর আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা কীর্তন করি}, আমরা আপনার আনুগত্য করি এবং আপনার অবাধ্য হই না। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন(৭) {নিশ্চয়ই আমি জানি (যা তোমরা জান না)}।

--------------------------------------------

(১) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। আর 'আল-আলাম' গ্রন্থে আল-আজরুকীর বরাতে বর্ণিত হয়েছে: "ইমাম মুহাম্মাদ আল-বাকির বিন ইমাম আলী যয়নুল আবিদীন বিন আল-হুসাইন বিন আমিরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।"

(২) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। 'আল-আলাম' গ্রন্থে আছে: "তখন একজন দীর্ঘদেহী লোক তাঁর কাছে এল।"

(৩) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। 'আল-আলাম' গ্রন্থে আছে: "তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং চুপ থাকলেন।"

(৪) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। 'আল-আলাম' গ্রন্থে আছে: "আমার থেকে মুখস্থ করে নাও এবং আমার পক্ষ থেকে সত্য ছাড়া কিছু বর্ণনা করো না।"

(৫) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। 'আল-আলাম' গ্রন্থে আছে: "হে আমাদের রব, আপনি কি আমাদের ছাড়া অন্য কাউকে সৃষ্টি করবেন?"

(৬) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে। 'আল-আলাম' গ্রন্থে "হে আমাদের রব" কথাটি বাদ পড়েছে।

(৭) এটি 'আল-আলাম' গ্রন্থের বর্ণনা। সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে শুধু "তিনি বললেন" রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আখবারু মক্কা - আল-আযরাকী - তাহকীক মালহাস (পৃষ্ঠা: ٣٤)
{ما لا تَعْلَمُونَ} قَالَ فَظَنَّتِ الْمَلَائِكَةُ أَنَّ مَا قَالُوا رَدًّا(1) عَلَى رَبِّهِمْ عز وجل وأَنَّهُ قَدْ غَضِبَ مِنْ قَوْلِهِمْ فَلَا ذُوا بِالْعَرْشِ. ورَفَعُوا رُءُوسَهُمْ، وَأَشَارُوا بالاصابع(2) يَتَضَرَّعُونَ، ويَبْكُونَ إِشْفَاقًا لِغَضَبِهِ(3) وطَافُوا بِالْعَرْشِ ثَلَاثَ سَاعَاتٍ فَنَظَرَ اللَّهُ(4) إِلَيْهِمْ فَنَزَلَتِ الرَّحْمَةُ عَلَيْهِمْ فَوَضَعَ(5) اللَّهُ تَعَالَى تَحْتَ الْعَرْشِ بَيْتًا(6) عَلَى أَرْبَعِ أَسَاطِينَ مِنْ زَبَرْجَدٍ وغَشَاهُنَّ بِيَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ(7) وسُمِّيَ ذَلِكَ الْبَيْتُ الضُّرَاحَ(8) ثُمَّ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِلْمَلَائِكَةَ طُوفُوا بِهَذَا الْبَيْتِ ودَعُوا الْعَرْشَ قَالَ(9) فَطَافَتِ الْمَلَائِكَةُ بِالْبَيْتِ(10) وتَرَكُوا الْعَرْشَ وصَارَ أَهْوَنَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْعَرْشِ(11) وهُوَ الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ عز وجل يَدْخُلُهُ فِي كُلِّ يَوْمٍ ولَيْلَةٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ لَا يَعُودُونَ فِيهِ أَبَدًا(12) ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى بَعَثَ ملائكة فَقَالَ لَهُمْ(13) ابْنُوا لِي بَيْتًا فِي الْأَرْضِ بِمِثَالِهِ وقَدْرِهِ فَأَمَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ مَنْ فِي الْأَرْضِ مِنْ خَلْقِهِ أَنْ يَطُوفُوا بِهَذَا الْبَيْتِ كَمَا يَطُوفُ أَهْلُ السَّمَاءِ بِالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ، فَقَالَ الرَّجُلُ صَدَقْتَ يَا بْنَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هكذا كان.

--------------------------------------------

(1) كذا فِي الاعلام. وفِي جميع الأصول «رد».

(2) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «وأشاروا بالأصابع» محذوفة.

(3) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «من غضبه».

(4) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «الله تعالى».

(5) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «ووضع».

(6) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «بيتا وهو البيت المعمور».

(7) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «يغشاهن ياقوتة».

(8) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «رسمي ذلك البيت الضراح» ساقطة وقال ياقوت: الضراح بيت فِي السماء حيال الكعبة وهو البيت المعمور، وقيل هي الكعبة رفعها الله وقت الطوفان الى السماء الدنيا فسميت بذلك لضرحها عن الأرض أي بعدها (معجم البلدان).

(9) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «فقال».

(10) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «بهذا البيت».

(11) كذا فِي الاعلام والروض الأنف. وفِي جميع الأصول «من العرش» ساقطة.

(12) كذا فِي جميع الأصول. وفِي الاعلام «وهو البيت … أبدا» ساقطة.

(13) كذا فِي الاعلام والجامع اللطيف. وفِي جميع الأصول «لهم» ساقطة.
{যা তোমরা জানো না} তিনি বললেন: ফলে ফেরেশতারা ধারণা করল যে তারা তাদের মহান রবের প্রতি যা বলেছে তা ছিল এক প্রকারের প্রতিবাদ(১) এবং তিনি তাদের কথায় রাগান্বিত হয়েছেন। ফলে তারা আরশের আশ্রয় নিল। এবং তারা তাদের মাথা উত্তোলন করল এবং আঙ্গুল দিয়ে(২) ইশারা করে কাকুতি-মিনতি করতে লাগল, আর তাঁর ক্রোধের ভয়ে(৩) ক্রন্দন করতে লাগল। এবং তারা তিন ঘণ্টা যাবত আরশ তাওয়াফ করল। অতঃপর আল্লাহ(৪) তাদের দিকে তাকালেন এবং তাদের ওপর রহমত নাযিল হলো। অতঃপর মহান আল্লাহ(৫) আরশের নিচে যবর্জদের চারটি স্তম্ভের ওপর একটি ঘর(৬) স্থাপন করলেন এবং সেগুলোকে লাল ইয়াকূত পাথর দিয়ে আবৃত করে দিলেন।(৭) আর সেই ঘরটির নাম রাখা হলো 'যুরাহ'।(৮) এরপর মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের বললেন, "তোমরা এই ঘরটি তাওয়াফ করো এবং আরশ ছেড়ে দাও।" তিনি বললেন:(৯) ফলে ফেরেশতারা ঘরটি(১০) তাওয়াফ করল এবং আরশ ছেড়ে দিল। আর এটি তাদের কাছে আরশের চেয়েও সহজ হয়ে গেল।(১১) আর এটিই সেই বাইতুল মামুর যার কথা মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। এতে প্রতিদিন ও রাতে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে, যারা সেখানে আর কখনোই ফিরে আসে না।(১২) অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের পাঠালেন এবং তাদের(১৩) বললেন, "তোমরা পৃথিবীতে আমার জন্য এর অনুরূপ আকৃতি ও পরিমাপে একটি ঘর নির্মাণ করো।" অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু জমিনের তাঁর সৃষ্টিজগতকে নির্দেশ দিলেন এই ঘরটি তাওয়াফ করার জন্য, যেভাবে আসমানবাসীরা বাইতুল মামুর তাওয়াফ করে। তখন লোকটি বলল, "আপনি সত্য বলেছেন হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যার সন্তান। এভাবেই হয়েছিল।"

--------------------------------------------

(১) 'আল-আলাম'-এ এরূপই রয়েছে। আর সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'রাদ্দ'।

(২) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। তবে 'আল-আলাম'-এ 'এবং তারা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করল' অংশটি বাদ পড়েছে।

(৩) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। আর 'আল-আলাম'-এ রয়েছে 'তাঁর ক্রোধ থেকে'।

(৪) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। আর 'আল-আলাম'-এ রয়েছে 'আল্লাহ তাআলা'।

(৫) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। আর 'আল-আলাম'-এ রয়েছে 'এবং তিনি স্থাপন করলেন'।

(৬) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। আর 'আল-আলাম'-এ রয়েছে 'একটি ঘর এবং তা হলো বাইতুল মামুর'।

(৭) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। আর 'আল-আলাম'-এ রয়েছে 'সেগুলোকে একটি ইয়াকূত আবৃত করে রাখে'।

(৮) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। 'আল-আলাম'-এ 'সেই ঘরটির নাম রাখা হলো যুরাহ' অংশটি বাদ পড়েছে। ইয়াকূত বলেন: 'যুরাহ' হলো আসমানের একটি ঘর যা কাবার বরাবর অবস্থিত, আর সেটিই হলো বাইতুল মামুর। বলা হয়ে থাকে যে, এটিই হলো কাবা, মহাপ্লাবনের সময় আল্লাহ একে দুনিয়ার আসমানে উঠিয়ে নিয়েছিলেন। আর যমীন থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার কারণে একে 'যুরাহ' বলা হয়, অর্থাৎ পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব। (মুজামুল বুলদান)।

(৯) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। আর 'আল-আলাম'-এ রয়েছে 'অতঃপর তিনি বললেন'।

(১০) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। আর 'আল-আলাম'-এ রয়েছে 'এই ঘরটি'।

(১১) 'আল-আলাম' এবং 'আর-রাওদুল উনুফ'-এ এরূপই রয়েছে। আর সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে 'আরশ থেকে' অংশটি বাদ পড়েছে।

(১২) সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে। আর 'আল-আলাম'-এ 'এবং এটি সেই ঘর... কখনোই না' অংশটি বাদ পড়েছে।

(১৩) 'আল-আলাম' এবং 'আল-জামি উল লতিফ'-এ এরূপই রয়েছে। আর সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে 'তাদের' শব্দটি বাদ পড়েছে।