(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
رسائل الشيخ الحمد في العقيدة القسم: العقيدة
الكتاب: رسائل الشيخ محمد بن إبراهيم الحمد في العقيدة
المؤلف: محمد بن إبراهيم بن أحمد الحمد
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আকিদাহ বিষয়ে শায়খ আল-হামাদের পত্রাবলি বিভাগ: আকিদাহ
বই: আকিদাহ বিষয়ে শায়খ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হামাদের পত্রাবলি
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আহমাদ আল-হামাদ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
الإيمان بالله تأليف الشيخ: محمد بن إبراهيم الحمد
مقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله_صلى الله عليه وآله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان وسلم تسليماً كثيراً_.
أما بعد:
فإن علم العقيدة أشرف العلوم، وأجلها قدراً، وأهمها على الإطلاق.
وأشرف وأجل وأهم ما في هذا العلم مبحث الإيمان بالله_عز وجل_.
فالإيمان بالله أصل الأصول، وهو أول ركنٍ من أركان الإيمان الستة كما قال_تعالى_: [لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ] (البقرة: 177) .
وكما قال"عندما سأله جبريل_عليه السلام_عن الإيمان: =أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره+ (1) .
والإيمان بالله_عز وجل_رأس كل فلاح، وأسُّ كل نجاح، فما أنزلت الكتب، ولا أرسلت الرسل إلا لأجل تقريره وتثبيته في النفوس.
وفيما يلي من صفحات سيكون الحديث عن الإيمان بالله وذلك من خلال المباحث التالية:
_معنى الإيمان بالله.
_ماذا يتضمن الإيمان بالله؟
_الأدلة على وحدانية الله.
_ثمرات الإيمان بالله.
_ما ضد الإيمان بالله؟
_معنى الإلحاد.
_أسباب الإلحاد.
_كيف دخل الإلحاد بلاد المسلمين؟
_الآثار المترتبة على الإلحاد.
فما كان في ذلك من صواب فذلك من الله وحده، وما كان فيه من زلل فمن نفسي والشيطان.
وأخيراً أسأل الله بأسمائه الحسنى وصفاته العلى أن ينفع بهذه السطور كاتبها، وناشرها، وقرّاءها؛ إنه على ذلك قدير، وبالإجابة جدير.
محمد بن إبراهيم الحمد
الزلفي: ص. ب: 460
www.toislam.net
--------------------------------------------
আল্লাহর ওপর ঈমান শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-হামাদের রচনা
ভূমিকা নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর সালাত ও প্রচুর সালাম তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আকীদা শাস্ত্র বা বিশ্বাস সংক্রান্ত জ্ঞান হলো জ্ঞানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, মানে সবচেয়ে মহান এবং নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আর এই জ্ঞানের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান, মহান এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহান আল্লাহর ওপর ঈমান বা বিশ্বাসের আলোচনা।
আল্লাহর ওপর ঈমান হলো সকল মূলনীতির মূল। এটি ঈমানের ছয়টি রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে প্রথম স্তম্ভ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: [পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে কেবল পুণ্য নেই; বরং পুণ্যবান সে, যে ঈমান আনে আল্লাহর ওপর, পরকালের ওপর, ফেরেশতাগণের ওপর, কিতাবসমূহের ওপর এবং নবীগণের ওপর] (সূরা আল-বাকারাহ: ১৭৭)।
এবং যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, যখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তা হলো এই যে, তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, পরকালের ওপর এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনবে।" (১)
আর মহান আল্লাহর ওপর ঈমান হলো প্রতিটি সাফল্যের শীর্ষবিন্দু এবং সকল কামিয়াবীর ভিত্তি। কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়নি এবং রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়নি কেবল মানুষের অন্তরে এই ঈমানকে প্রতিষ্ঠা ও সুদৃঢ় করার জন্য।
পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর আলোকে আল্লাহর ওপর ঈমান সম্পর্কে আলোচনা করা হবে:
— আল্লাহর ওপর ঈমানের অর্থ।
— আল্লাহর ওপর ঈমান কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে?
— আল্লাহর একত্বের প্রমাণসমূহ।
— আল্লাহর ওপর ঈমানের ফলাফল।
— আল্লাহর ওপর ঈমানের পরিপন্থী বা বিপরীত বিষয় কী?
— নাস্তিকতার অর্থ।
— নাস্তিকতার কারণসমূহ।
— মুসলিম দেশগুলোতে নাস্তিকতা কীভাবে প্রবেশ করল?
— নাস্তিকতার ফলে সৃষ্ট প্রভাব বা পরিণাম।
এর মধ্যে যা কিছু সঠিক তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল বা বিচ্যুতি তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।
পরিশেষে আমি আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলীর মাধ্যমে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই লিখনি দ্বারা এর লেখক, প্রকাশক এবং পাঠকদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সে বিষয়ে সক্ষম এবং দুআ কবুলের যোগ্য।
মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-হামাদ
আল-জুলফি: ডাকবক্স: ৪৬০
www.toislam.net
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
معنى الإيمان بالله للإيمان بالله وتوحيده عدة تعريفات، تتفق في المعنى وربما اختلفت ألفاظها، فمن تلك التعريفات مايلي:
1_هو إفراد الله بما يستحق.
2_إفراد الله بحقوقه.
3_=التصديق الجازم من صميم القلب بوجود ذاته_تعالى_الذي لم يسبق بضد، ولم يعقب به، هو الأول فليس قبله شيء، والآخر فليس بعده شيء، والظاهر فليس فوقه شيء، والباطن فليس دونه شيء، حيٌّ قيوم، أحد صمد [لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ] (الإخلاص:3، 4) وتوحيده بألوهيته، وربوبيته، وأسمائه وصفاته+ (1) .
4_=الاعتقاد الجازم بأن الله رب كل شيء ومليكه، وأنه الخالق وحده، المدبر للكون كله، وأنه هو الذي يستحق العبادة وحده لا شريك له، وأن كل معبود سواه فهو باطل، وعبادته باطلة، قال_تعالى_: [ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ] (الحج: 62) .
وأنه_سبحانه_متصف بصفات الكمال ونعوت الجلال، منزه عن كل نقص وعيب.
* * *
ماذا يتضمن الإيمان بالله؟
من خلال ما مضى يتبين أن الإيمان بالله يتضمن أموراً أربعة:
1_الإيمان بوجود الله.
2_الإيمان بربوبيته.
3_الإيمان بأسمائه وصفاته.
4_الإيمان بألوهيته.
* * *
الأدلة على وحدانية الله سبحانه وتعالى ـ
الأدلة على وحدانية الله كثيرة جداً ويكفي منها شهادته_عز وجل_لنفسه حيث قال: [شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُوْلُوا الْعِلْمِ قَائِماً بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (18) ] (آل عمران: 18) .
وصدق من قال:
وفي كل شيء له آيةٌ **** تدل على أنه الواحد
--------------------------------------------
আল্লাহর প্রতি ঈমানের অর্থ আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর তাওহীদের বেশ কিছু সংজ্ঞা রয়েছে, যেগুলোর অর্থ অভিন্ন এবং হয়তো শব্দগতভাবে ভিন্ন, সেই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে নিম্নরূপ উল্লেখযোগ্য:
১_আল্লাহ যা কিছুর যোগ্য, সেগুলোতে তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করা।
২_আল্লাহর প্রাপ্য অধিকারসমূহে তাঁকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা।
৩_=অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে মহান আল্লাহর সত্তার অস্তিত্বের প্রতি এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, তাঁর কোনো আদি বা অন্ত নেই। তিনি আদি, তাই তাঁর পূর্বে কিছু নেই; তিনি অন্ত, তাই তাঁর পরে কিছু নেই; তিনি প্রকাশ্য, তাই তাঁর উপরে কিছু নেই; তিনি অতি নিকটবর্তী, তাই তাঁর চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, একক, অমুখাপেক্ষী [তিনি জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি (৩) আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই (৪)] (আল-ইখলাস: ৩, ৪)। এবং তাঁর উলুহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত এবং নাম ও গুণাবলিতে তাঁকে একক হিসেবে স্বীকার করা। (১)।
৪_=এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের রব এবং মালিক। তিনিই একমাত্র স্রষ্টা, সমগ্র মহাবিশ্বের পরিচালক এবং একমাত্র তিনিই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য, তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁকে ছাড়া অন্য যত উপাস্য রয়েছে সব বাতিল এবং তাদের ইবাদতও বাতিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: [এটি একারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সুউচ্চ, সুমহান] (আল-হাজ্জ: ৬২)।
আর তিনি—সুবহানাহু—পরিপূর্ণতার গুণাবলি এবং মহত্ত্বের বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত, সকল প্রকার ত্রুটি ও দোষ থেকে পবিত্র।
* * *
আল্লাহর প্রতি ঈমান কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে?
পূর্বের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহর প্রতি ঈমান চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
১_আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস।
২_আল্লাহর রুবুবিয়্যাতে (প্রভুত্বে) বিশ্বাস।
৩_আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে বিশ্বাস।
৪_আল্লাহর উলুহিয়্যাতে (ইবাদতে) বিশ্বাস।
* * *
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একত্বের প্রমাণাদি —
আল্লাহর একত্বের প্রমাণ অনেক এবং তন্মধ্যে মহান আল্লাহর নিজের সাক্ষ্যই যথেষ্ট যেখানে তিনি বলেছেন: [আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং ফেরেশতাগণ ও জ্ঞানীরাও; তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (১৮)] (আল-ইমরান: ১৮)।
আর কবি সত্যই বলেছেন:
প্রতিটি বস্তুর মাঝেই তাঁর নিদর্শন রয়েছে **** যা প্রমাণ করে যে তিনি এক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
فواعجباً كيف يعصى الإله **** أم كيف يجحده الجاحد
ولله في كل تحريكةٍ **** وتسكينه أبداً شاهد
ومن الأدلة على وحدانية الله، وعلى تفرده بالخلق والرزق، وأنه وحده المستحق للعبادة ما يلي:
1_الفطرة.
2_الشرع.
3_العقل.
4_الحس.
5_الاستدلال بأسماء الله وصفاته.
وهذه الأدلة بمجموعها تدل على وجود الله، وتدل على أنواع التوحيد الثلاثة؛ ذلك أن أنواع التوحيد الثلاثة متلازمة، ومن أشرك في واحد منها فهو مشرك في البقية.
مثال ذلك من دعا غير الله فيما لا يقدر عليه إلا الله، فدعاؤه عبادة صَرَفَهَا لغير الله، وهذا شرك في الألوهية.
وهذا الدعاء لغير الله متضمن لاعتقاد الداعي أن المدعو متصرف مع الله، وقادر على قضاء ذلك، وهذا شرك في الربوبية.
ثم إنه لم يدعه إلا لاعتقاده أنه يسمعه، وهذا شرك في الأسماء والصفات؛ لاعتقاده أن للمدعو سمعاً محيطاً بجميع المسموعات لا يحجبه قرب ولا بعد.
ومن هنا نجد أن الشرك في الألوهية مستلزم الشرك في الربوبية والأسماء والصفات (1) .
وفيما يلي تفصيل للأدلة السابقة.
* * *
1ـ دلالة الفطرة الفطرة في اللغة هي الخلقة، أما في الشرع فهي الإسلام على القول الراجح كما رجح ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم (2) _رحمهما الله تعالى_.
=وكل مخلوق قد فطر على الإيمان بخالقه من غير سبق تفكير أو تعليم ولا ينصرف عن مقتضى هذه الفطرة إلا من طرأ على قلبه ما يصرفه+ (3) .
قال النبي": =ما من مولود إلا يولد على الفطرة، فأبواه يهودانه، أو ينصرانه، أو يمجسانه+.
وفي رواية: =إلا على هذه الملة+ وفي رواية =إلا على الملة+ (4) .
--------------------------------------------
ওহে বিস্ময়! কীভাবে ইলাহের অবাধ্য হওয়া হয়? নাকি কীভাবে অস্বীকারকারী তাঁকে অস্বীকার করে?
আর আল্লাহর জন্য প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতায় সর্বদা সাক্ষী রয়েছে।
আল্লাহর একত্ববাদ, সৃষ্টি ও রিজিকে তাঁর একক হওয়া এবং একমাত্র তিনিই যে ইবাদতের যোগ্য—এর দলীলগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নরূপ:
১_ফিতরাত (সহজাত প্রবৃত্তি)।
২_শরীয়ত।
৩_বিবেক।
৪_অনুভূতি ও প্রত্যক্ষ উপলব্ধি।
৫_আল্লাহর নাম ও গুণাবলি দ্বারা দলীল গ্রহণ।
আর এই দলীলগুলো সামগ্রিকভাবে আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং তাওহীদের তিন প্রকারের ওপর দলীল প্রদান করে; কারণ তাওহীদের তিন প্রকার একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে ব্যক্তি এর কোনো একটিতে শিরক করবে, সে বাকিগুলোতেও শিরককারী হিসেবে গণ্য হবে।
এর উদাহরণ হলো—যে ব্যক্তি এমন বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকল যাতে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সক্ষম নয়, তবে তার এই ডাক বা দুআ হলো একটি ইবাদত যা সে আল্লাহ ছাড়া অন্যের প্রতি নিবেদন করল। আর এটি হলো উলুহিয়্যাতে শিরক।
আর আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে এই দুআ করার মাঝে এই বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে, যাকে ডাকা হচ্ছে সে আল্লাহর সাথে মহাবিশ্ব পরিচালনায় অংশীদার এবং সে চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। আর এটি হলো রুবুবিয়্যাতে শিরক।
অতঃপর সে তাকে ডাকেনি কেবল একারণেই যে সে বিশ্বাস করে যে সে (যাকে ডাকা হচ্ছে) তা শুনতে পায়। আর এটি হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে শিরক; কারণ তার বিশ্বাস যে, যাকে ডাকা হচ্ছে তার এমন শ্রবণশক্তি রয়েছে যা সমস্ত শ্রবণযোগ্য বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে, যা নিকট বা দূর কোনো কিছুর কারণেই বাধাগ্রস্ত হয় না।
এখান থেকেই আমরা দেখতে পাই যে, উলুহিয়্যাতের শিরক রুবুবিয়্যাত এবং আসমা ও সিফাতের (নাম ও গুণাবলির) শিরককে অনিবার্য করে তোলে (১)।
নিম্নে পূর্বোক্ত দলীলসমূহের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।
* * *
১ـ ফিতরাতের প্রমাণ আভিধানিক অর্থে ফিতরাত হলো সৃষ্টি। আর শরীআতের পরিভাষায় গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী এটি হলো ইসলাম, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম (২) —আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন— অগ্রগণ্য মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
=প্রত্যেক সৃষ্টিই তার স্রষ্টার প্রতি ঈমান আনার ওপর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হয়েছে, কোনো পূর্ব চিন্তা বা শিক্ষা ছাড়াই। আর এই ফিতরাতের দাবি থেকে কেবল সেই বিচ্যুত হয় যার অন্তরে এমন কিছু আপতিত হয় যা তাকে তা থেকে সরিয়ে দেয়+ (৩)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: =প্রতিটি নবজাতকই ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহূদী বানায়, অথবা খ্রিষ্টান বানায়, কিংবা অগ্নিপূজক বানায়+।
অন্য এক বর্ণনায় আছে: =কেবল এই মিল্লাতের (দ্বীনের) ওপর।+ এবং আরেক বর্ণনায় রয়েছে: =কেবল মিল্লাতের ওপর।+ (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وفي حديث عياض بن حمار÷يقول _تعالى_ في الحديث القدسي: =وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم+ (1) .
قال ابن القيم×=وذكروا عن عكرمة، ومجاهد، والحسن، وإبراهيم، والضحاك، وقتادة في قوله_عز وجل_: [فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا] (الروم: 30) قالوا: (فطرة الله) دين الإسلام (لا تبديل لخلق الله) قالوا: لدين الله+ (2) .
ثم إن الإنسان مفطور على اللجوء إلى ربه_تبارك وتعالى_عند الشدائد، فإذا ما وقع الإنسان_أي إنسان_حتى الكافر الملحد_في شدة، أو أحدق به خطر_فإن الخيالات والأوهام تتطاير من ذهنه، ويبقى ما فطر عليه ليصيح بأعلى صوته، ومن قرارة نفسه، وعميق قلبه، منادياً ربه؛ ليفرج كربته وهمه، ويلجأ إليه وحده دون سواه (3) .
وصدق الله_تعالى_إذ يقول: [فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوْا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ] (العنكبوت: 65) .
وليس المراد بأنه يولد على الفطرة أنه يولد عالماً بأمور الإسلام؛ فالله_سبحانه وتعالى_يقول: [وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لا تَعْلَمُونَ شَيْئاً] (النحل:78) .
وليس المراد_أيضاً_أنه يولد ساذجاً لا يعرف شركاً ولا توحيداً؛ لأن الرسول"قال: =إلا ويولد على الملة+ وفي رواية: =على هذه الملة+.
بل المراد أن كل مولود يولد على محبته لفاطره، وإقراره له بربوبيته، وادعائه له بالعبودية، فلو خُلِّي وعدمَ المعارض لم يعدل عن ذلك إلى غيره، كما أنه يولد على محبة ما يلائم بدنه من الأغذية، والأشربة، فيشتهي اللبن الذي يناسبه ويغذيه (4) .
--------------------------------------------
ইয়াদ বিন হিমার (রা.) বর্ণিত হাদিসে মহান আল্লাহ হাদিসে কুদসিতে বলেন: "আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে।" (১)।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: "তারা ইকরিমা, মুজাহিদ, হাসান, ইব্রাহিম, দাহহাক এবং কাতাদাহ থেকে মহান আল্লাহর বাণী: [আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন] (রুম: ৩০) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তারা বলেছেন: 'আল্লাহর ফিতরাত' হলো ইসলাম ধর্ম। আর 'আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই' সম্পর্কে তারা বলেছেন: আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে।" (২)।
অতঃপর মানুষ বিপদ-আপদের সময় তার মহান প্রতিপালকের কাছে আশ্রয় প্রার্থনার স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) ওপর সৃষ্ট। যখনই কোনো মানুষ—যেকোনো মানুষ, এমনকি কাফের নাস্তিকও—বিপদগ্রস্ত হয় বা কোনো বিপদে ঘেরাও হয়, তখন তার মন থেকে সকল কল্পনা ও ভ্রান্ত ধারণা উবে যায়। তার মধ্যে কেবল সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি অবশিষ্ট থাকে যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে সে উচ্চস্বরে, নিজের আত্মার অন্তঃস্থল থেকে এবং হৃদয়ের গভীর থেকে তার প্রতিপালককে ডাকতে থাকে; যেন তিনি তার দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তা দূর করেন। সে কেবল তাঁর কাছেই আশ্রয় চায়, অন্য কারো কাছে নয় (৩)।
মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: [যখন তারা নৌযানে আরোহণ করে, তখন তারা আল্লাহকে একনিষ্ঠভাবে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি তাদের উদ্ধার করে স্থলে নিয়ে আসেন, তখনই তারা শিরক করতে শুরু করে] (আনকাবুত: ৬৫)।
ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করার অর্থ এই নয় যে, সে ইসলামের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কারণ মহান আল্লাহ বলেন: [আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না] (নাহল: ৭৮)।
এর অর্থ ইহাও নয় যে, সে কোনো প্রকার জ্ঞানহীন অবস্থায় জন্মায় যে সে শিরকও চেনে না আবার তাওহীদও চেনে না। কারণ রাসূল (সা.) বলেছেন: "তবে সে মিল্লাত (দ্বীন)-এর ওপরই জন্মগ্রহণ করে।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "এই মিল্লাতের ওপর।"
বরং এর অর্থ হলো, প্রতিটি নবজাতক তার স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা, তাঁর রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের) স্বীকৃতি এবং তাঁর দাসত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যদি তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হতো এবং কোনো প্রতিবন্ধক না থাকত, তবে সে এই ফিতরাত থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য কিছুর দিকে যেত না। যেমন সে তার শরীরের উপযোগী খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি অনুরাগ নিয়ে জন্মায় এবং সেই দুধের আকাঙ্ক্ষা করে যা তার জন্য উপযোগী ও পুষ্টিকর (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ولذلك قال": =فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه+ ولم يقل يسلمانه؛ لأنه باقٍ على الأصل، فاعتناق غير الإسلام يعد خروجاً عن الأصل والقاعدةِ بأسباب خارجة.
* * *
2 ـ دلالة الشرع أما دلالة الشرع فواضحة معلومة؛ فما جاءت به الرسل ونزلت به الكتب يدل دلالة قاطعة على وحدانية الله، فالكتب السماوية كلها تنطق بذلك، وما جاءت به من الأحكام المتضمنة لمصالح العباد في دنياهم وأخراهم؛ كالصلاة، والزكاة، والحج، وغيرها، وما جاءت به من الأخبار الكونية، والمغيبات التي شهد الواقع بصدقها_كل ذلك يدل على أنها من ربٍّ حكيمٍ عليمٍ مستحقٍ للعبادة وحده لا شريك له (1) .
* * *
3 ـ دلالة العقل أما دلالة العقل على وحدانية الله فلأن المخلوقاتِ جميعَها لابد لها من مُوجِد وخالق؛ إذ لا يمكن أن توجِد نفسَها بنفسِها، ولا يمكن أن توجَدَ صدفة؛ فهذه المخلوقات لا يمكن أن تُوجِد نفسها بنفسها؛ لأن الشيء لا يخلق نفسه؛ لأنه قبل وجوده معدوم، فكيف يكون خالقاً؟
كذلك لا يمكن أن توجد صدفة؛ لأن كل حادث لابد له من مُحدِثٍ، ولأن وجودها على هذا النظام المتسق البديع المتآلف، والارتباط الملتحم بين الأسباب والمسببات وبين الكائنات بعضها مع بعض_يمنع منعاً باتاً أن يكون وجودُها صدفةً (2) .
أضف إلى ذلك ما تجده من افتقار المخلوق الشديد؛ فالافتقار وصف ذاتي للمخلوق ملازم له؛ مما يدل على أنه لابد من وجود خالق، كامل، غني عما سواه، وهو رب العالمين.
وقد ذكر الله _سبحانه وتعالى_ هذا الدليل العقلي والبرهان القاطع في سورة الطور، حيث قال: [أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمْ الْخَالِقُونَ] (الطور: 35) .
يعني أنهم لم يُخلقوا من غير خالقٍ، ولا هم الذين خلقوا أنفسهم، فتعين أن يكون خالقهم هو الله_تبارك وتعالى_ (3) .
--------------------------------------------
আর এ কারণেই তিনি বলেছেন: "তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায় বা খ্রিষ্টান বানায় বা অগ্নিউপাসক বানায়," কিন্তু তিনি "মুসলিম বানায়" বলেননি; কারণ সে মূল স্বভাবের (ফিতরাত) ওপরই বহাল থাকে। সুতরাং ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করা বাহ্যিক কারণসমূহের দরুন মূল ও নিয়ম থেকে বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য হয়।
* * *
২ ـ শরিয়তের প্রমাণ আর শরিয়তের প্রমাণ স্পষ্ট ও সুপরিচিত; কারণ রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন এবং কিতাবসমূহ যা নাজিল হয়েছে, তা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর অকাট্য দলিল প্রদান করে। সকল আসমানি কিতাবই এর ঘোষণা দেয়। আর এসকল কিতাব মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য যেসব বিধান নিয়ে এসেছে; যেমন: সালাত, জাকাত, হজ ও অন্যান্য বিষয় এবং বিশ্বজগত ও অদৃশ্য বিষয়াদি সম্পর্কিত যেসব সংবাদ নিয়ে এসেছে, যার সত্যতা বাস্তব জগৎ সাক্ষ্য দেয়—এসবই নির্দেশ করে যে এগুলো একজন প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী রবের পক্ষ থেকে, যিনি একাই ইবাদতের যোগ্য, যার কোনো শরিক নেই (১)।
* * *
৩ ـ বিবেকের প্রমাণ আর আল্লাহর একত্ববাদের ওপর বিবেকের প্রমাণ এই যে, সকল সৃষ্টির জন্য অবশ্যই একজন অস্তিত্বদানকারী ও স্রষ্টা থাকা আবশ্যক; কেননা তারা নিজেরা নিজেদের অস্তিত্ব দিতে পারে না এবং হঠাৎ বা দৈবক্রমেও অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। এসব সৃষ্টি নিজেরা নিজেদের সৃষ্টি করতে পারে না; কারণ কোনো বস্তু নিজেকে নিজে সৃষ্টি করতে পারে না, যেহেতু তার অস্তিত্বের পূর্বে সে ছিল অবিদ্যমান, সুতরাং সে স্রষ্টা হয় কীভাবে?
তদ্রূপ এগুলো দৈবক্রমে অস্তিত্ব লাভ করাও অসম্ভব; কারণ প্রতিটি ঘটনার জন্য অবশ্যই একজন ঘটক থাকা প্রয়োজন। আর যেহেতু এগুলোর অস্তিত্ব এমন এক সুশৃঙ্খল, চমৎকার ও সুসংগত নিয়মে এবং কারণ ও ফলাফলের মধ্যে এবং সৃষ্টিজগতের একে অপরের সাথে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত—তা এগুলো দৈবক্রমে অস্তিত্বশীল হওয়ার বিষয়টিকে চূড়ান্তভাবে অসম্ভব করে দেয় (২)।
এর সাথে আরও যোগ করুন সৃষ্টির চরম মুখাপেক্ষিতা যা আপনি দেখতে পান; কেননা মুখাপেক্ষিতা সৃষ্টির একটি সত্তাগত গুণ যা তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে লেগে থাকে; যা প্রমাণ করে যে অবশ্যই একজন স্রষ্টা থাকা আবশ্যক, যিনি পূর্ণাঙ্গ, অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী এবং তিনি হলেন বিশ্বজগতের রব।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা তূরে এই বুদ্ধিগত দলিল ও অকাট্য প্রমাণ উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: [তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?] (তূর: ৩৫)।
অর্থাৎ তারা কোনো স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়নি এবং তারা নিজেরাও নিজেদের সৃষ্টি করেনি, সুতরাং এটি সুনির্ধারিত যে তাদের স্রষ্টা হলেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولهذا لما سمع جبير بن مطعم÷رسول الله"يقرأ سورة الطور فبلغ قوله_تعالى_: [أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمْ الْخَالِقُونَ] الآية وكان يومئذٍ مشركاً_قال: =كاد قلبي أن يطير، وذلك أول ما وقر الإيمان في قلبي+.
رواه البخاري مُفَرَّقاً (1) .
ولهذا نجد أن الله_سبحانه وتعالى_يحث كثيراً في كتابه على التعقل والتبصر؛ ولا أدل على ذلك من كثرة الآيات التي تُخْتَمُ بمثل قوله: [أّّفّلا تّعًقٌلٍونّ] [لّعّلَّكٍمً تّعًقٌلٍون] ؛ لأن الإنسان إذا تفكر تذكر، وعرف الحق، وإذا تذكر خاف واتقى وانقاد.
ولهذا نجد أن العقلاء الجادين الباحثين عن الحق_يصلون إليه، ويوفقون له، وليس أدل على ذلك من حال العقلاء في الجاهلية أمثال قُس بن ساعدة الإيادي، وزيد بن عمرو بن نفيل والد سعيد بن زيد وعم عمر بن الخطاب÷فنحن نجد في ثنايا كلامهما الإقرار بوحدانية الله_عز وجل_مع أنهما يعيشان في مجتمع يعج بالجهل والشرك.
يقول قس في خطبته المشهورة التي ألقاها في سوق عكاظ: =أيها الناس اسمعوا وعوا، من عاش مات ومن مات فات، وكل ما هو آتٍ آتٍ، ليل داج، ونهار ساج، وسماء ذات أبراج، ونجوم تُزهر، وبحار تزْخَر، وجبال مرساة، وأرض مدحاة، وأنهار مجراة، إن في السماء لخبراً وإن في الأرض لعبراً، ما بال الناس يذهبون فلا يرجعون؟ أرضوا في المقام فأقاموا؟ أم تركوا فناموا؟
يقسم قُسٌّ بالله قسماً لا إثم فيه أن لله ديناً هو أرضى له وأفضل من دينكم الذي أنتم عليه، إنكم لتأتون من الأمر منكراً، ثم أنشأ يقول:
في الذاهبين الأوليـ **** ـن من القرون بصائر
لما رأيت موارداً **** للقوم ليس لها مصادر
ورأيت قومي نحوها **** يمضي الأكابر والأصاغر
لا يرجع الماضي إلـ **** ـي ولا من الباقين غابر
أيقنت أني لا محا **** له حيث صار القوم صائر
ويقول زيد بن عمرو في شعره المشهور:
وأسلمت وجهي لمن أسلمت **** له الأرض تحمل عذبا زلالا
--------------------------------------------
এজন্যই যখন জুবাইর ইবনে মুতয়িম আল্লাহর রাসূলকে সূরা আত-তুর তিলাওয়াত করতে শুনলেন এবং তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীতে পৌঁছালেন: [তারা কি স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা?] আয়াত পর্যন্ত, আর সেদিন তিনি মুশরিক ছিলেন—তিনি বললেন: "আমার অন্তর যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, আর এটাই ছিল প্রথমবার যখন আমার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছিল।"
ইমাম বুখারী এটি বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন (১)।
এ কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে বুদ্ধি খাটাতে এবং পর্যবেক্ষণ করতে অনেক উৎসাহিত করেছেন। এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ নেই যে বহু সংখ্যক আয়াত এমন কথার মাধ্যমে শেষ হয়েছে যেমন: [তোমরা কি বুদ্ধি খাটাও না?] [যাতে তোমরা বুঝতে পারো]; কারণ মানুষ যখন চিন্তা-গবেষণা করে তখন সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে এবং সত্যকে চিনতে পারে, আর যখন সে উপদেশ গ্রহণ করে তখন সে ভয় পায়, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং অনুগত হয়।
এই কারণেই আমরা দেখি যে, সত্যের সন্ধানে আগ্রহী বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সত্যে পৌঁছাতে পারেন এবং তার তাওফিক পান। এর চেয়ে বড় প্রমাণ জাহেলি যুগের সেই বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের অবস্থা হতে পারে না, যেমন কুস বিন সায়েদা আল-ইয়াদি এবং যায়েদ বিন আমর বিন নুফাইল—যিনি সাঈদ বিন যায়েদের পিতা এবং উমর বিন খাত্তাবের চাচা। আমরা তাঁদের কথার মাঝে মহান আল্লাহর তাওহীদের স্বীকৃতি পাই, যদিও তাঁরা এমন এক সমাজে বাস করতেন যা মূর্খতা ও শিরকে পূর্ণ ছিল।
কুস তাঁর সেই বিখ্যাত খুতবায় যা তিনি উকাজ বাজারে দিয়েছিলেন, বলেন: "হে লোকসকল! শোনো এবং অনুধাবন করো, যে বেঁচে আছে সে মারা যাবে, আর যে মারা গেছে সে অতীত হয়ে গেছে, আর যা আসার তা আসবেই। অন্ধকার রাত, স্থির দিন, বুুরুজবিশিষ্ট আকাশ, উজ্জ্বল নক্ষত্রমন্ডলী, উত্তাল সমুদ্ররাশি, সুদৃঢ় পর্বতমালা, বিস্তৃত ভূমি এবং প্রবহমান নদ-নদী। নিশ্চয়ই আকাশে রয়েছে সংবাদ এবং জমিনে রয়েছে শিক্ষা। মানুষের কী হলো যে তারা চলে যায় আর ফিরে আসে না? তারা কি সেখানে থাকা পছন্দ করেছে বলে অবস্থান করছে? নাকি তাদের সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাই তারা ঘুমিয়ে পড়েছে?"
কুস আল্লাহর নামে এমন এক শপথ করেন যাতে কোনো পাপ নেই যে, আল্লাহর নিকট এমন এক দ্বীন রয়েছে যা তাঁর কাছে অধিক পছন্দনীয় এবং তোমাদের বর্তমান দ্বীন অপেক্ষা উত্তম। তোমরা তো এক গর্হিত কাজ করছ। এরপর তিনি বলতে শুরু করেন:
অতীতের চলে যাওয়া সেই জাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে অনেক শিক্ষা
যখন আমি মানুষের জন্য এমন অবতরণস্থল দেখলাম যার কোনো প্রস্থানস্থল নেই
এবং দেখলাম আমার স্বগোত্রীয় বড় এবং ছোটরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে
অতীত ফিরে আসে না এবং অবশিষ্টদের মধ্য থেকে কেউ চিরকাল থাকে না
তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে, যেখানে সবাই চলে গেছে, আমাকেও অনিবার্যভাবে সেখানে যেতে হবে
আর যায়েদ বিন আমর তাঁর বিখ্যাত কবিতায় বলেন:
আমি আমার মুখমণ্ডলকে তাঁর নিকট সঁপে দিলাম যাঁর নিকট জমিন আত্মসমর্পণ করেছে এবং তা সুপেয় নির্মল পানি বহন করছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
دحاها فلما استوت شدَّها **** جميعا وأرسى عليها الجبالا
وأسلمت وجهي لمن أسلمت **** له المزن تحمل عذبا زلالا
إذا هي سيقت إلى بلدةٍ **** أطاعت فصبت عليها سجالا
ويقول:
أرباً واحداً أم ألف رب **** أدين إن تقسمت الأمور
هجرت اللات والعزى جميعاً **** كذلك يفعل الجلد الصبور
بل إن كثيراً من كبار المفكرين الغربيين اهتدوا إلى الحق بسبب إجالتِهم أفكارَهم وبحثهم عن الحق.
ومن نظر في كتاب (الله يتجلى في عصر العلم) _وقد كتبه ثلاثون من علماء الطبيعة والفلك ممن انتهت إليهم الرياسة في هذه الأمور_ومثله كتاب (كريسي موريسون) رئيس أكاديمية العلوم بنيويورك (الإنسان لا يقوم وحده) وترجم إلى العربية تحت عنوان (العلم يدعو إلى الإيمان) _يدرك أن العالِمَ الحقيقيَّ لا يكون إلا مؤمناً، وأن العاميَّ لا يكون إلا مؤمناً، وأن الإلحاد والكفر لا يكون إلا من أنصاف العلماء وأرباع العلماء؛ ممن تعلم قليلاً من العلم، وخسر بذلك الفطرة المؤمنة، ولم يصل إلى العلم الذي يدعو إلى الإيمان (1) .
وبهذا يتبين لنا أن العقل يدل على وحدانية الله_عز وجل_.
أما إذا أنكر العقل ذلك فإن الخلل في العقل نفسه، وصدق من قال:
إذا ادعى عقلك إنكاره **** فأنكر العقل ودعواه
ومن هنا يتبين لنا بطلان قول من قال: إن هذا الكون نشأ بالصدفة، أو أن الطبيعة هي الخالق.
--------------------------------------------
তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন, অতঃপর যখন তা সুসংহত হলো তখন তিনি তার সবকিছুকে সুদৃঢ় করলেন এবং তার ওপর পর্বতমালা স্থাপন করলেন।
আর আমি আমার মুখমণ্ডলকে তাঁরই সমীপে সমর্পণ করেছি, যাঁর সমীপে সমর্পণ করেছে মেঘমালা, যা বহন করে সুপেয় ও স্বচ্ছ পানি।
যখন একে কোনো জনপদের দিকে চালিত করা হয়, তখন তা আনুগত্য করে এবং সেই জনপদের ওপর প্রচুর পরিমাণে বর্ষণ করে।
এবং তিনি বলেন:
আমি কি এক রবের আনুগত্য করব নাকি হাজার রবের, যখন বিষয়গুলো বিভক্ত হয়ে পড়ে।
আমি লাত ও উজ্জা উভয়কেই বর্জন করেছি; এভাবেই দৃঢ় ও ধৈর্যশীল ব্যক্তি কাজ করে থাকে।
বরং বহু বড় বড় পশ্চিমা চিন্তাবিদ সত্যের সন্ধান লাভ করেছেন তাদের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে এবং সত্যের অন্বেষণের কারণে।
যে ব্যক্তি ‘বিজ্ঞান যুগে আল্লাহর প্রকাশ’ নামক গ্রন্থটি পাঠ করবে—যা এমন ত্রিশজন প্রাকৃতিক ও মহাকাশ বিজ্ঞানী লিখেছেন যাদের কাছে এই বিষয়গুলোর নেতৃত্ব ন্যস্ত ছিল—এবং একইভাবে নিউ ইয়র্ক একাডেমি অফ সায়েন্সের সভাপতি ক্রেসি মরিসনের বই ‘মানুষ একা চলতে পারে না’, যা আরবিতে ‘বিজ্ঞান ঈমানের দিকে আহ্বান করে’ শিরোনামে অনূদিত হয়েছে—সে উপলব্ধি করতে পারবে যে, একজন প্রকৃত বিজ্ঞানী কেবল মুমিনই হয়ে থাকেন এবং একজন সাধারণ মানুষও কেবল মুমিনই হয়; আর নাস্তিকতা ও কুফরি কেবল সেই সব আধা-বিজ্ঞানী ও চার আনা জ্ঞানীদের পক্ষ থেকে ঘটে যারা সামান্য বিদ্যা অর্জন করেছে এবং এর ফলে মুমিন ফিতরাত বা সহজাত প্রকৃতিকে হারিয়েছে, অথচ তারা সেই প্রকৃত জ্ঞানে পৌঁছাতে পারেনি যা ঈমানের দিকে আহ্বান করে (১)।
এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, বিবেক আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার একত্বের প্রমাণ দেয়।
তবে যদি বিবেক তা অস্বীকার করে, তবে সেই ত্রুটি বিবেকের মধ্যেই বিদ্যমান, আর যে বলেছে সে সত্যই বলেছে:
যদি তোমার বিবেক একে অস্বীকার করার দাবি করে, তবে তুমি সেই বিবেক এবং তার দাবিকেই অস্বীকার করো।
এখান থেকেই আমাদের কাছে সেই ব্যক্তির উক্তির অসারতা প্রতিভাত হয় যে বলে: এই মহাবিশ্ব দৈবক্রমে সৃষ্টি হয়েছে অথবা প্রকৃতিই হলো স্রষ্টা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
إن هذه الدعاوى ليست إلا مكابرةً وعناداً لما هو متقرر بالمعقول والمنقول، فمن قال: إن هذا الكون نشأ عن طريق الصدفة يقال له: كيف نشأ هذا الكون الفسيح العظيم المتسق المتناسق عن طريق الصدفة؟ !
وخذ هذا المثال الذي نقله وحيد الدين خان عن العالم الأمريكي (كريسي موريسون) يبين فيه استحالة القول بوجود الكون مصادفة قال: =لو تناولت عشرة دراهم وكتبت عليها الأعداد من واحد إلى عشرة، ثم رميتها في جيبك وخلطتها جيداً، ثم حاولت أن تخرج من الواحد إلى العشرة بالترتيب العددي، بحيث تلقي كل درهم في جيبك بعد تناوله مرة أخرى، فبإمكانك أن تتناول الدرهم المكتوب عليه واحد في المحاولة الأولى هي واحد في المائة وإمكان أن تخرج الدراهم (1_2_3_4) بالترتيب هو واحد في عشرة آلاف، حتى أن الإمكان في أن تنجح في تناول الدراهم من (1_10) بالترتيب واحدٌ في بلايين من المحاولات+ (1) .
وعلى ذلك فكم يستغرق بناء هذا الكون لو نشأ بالمصادفة والاتفاق؟ إن حساب ذلك بالطريقة نفسها يجعل هذا الاحتمال خيالاً يصعب حسابه فضلاً عن تصوره.
إن ما في هذا الكون يحكي أنه إيجاد موجد حكيم عليم خبير، لكن الإنسان ظلوم جهول [قُتِلَ الإِنْسَانُ مَا أَكْفَرَهُ (17) مِنْ أَيِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ (18) مِنْ نُطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ] (عبس: 17_19) (2) .
أما القول بأن الطبيعة هي الخالق فتلك فرية عظيمة لا دليل عليها، وتهافتها واضح بيِّن لا يحتاج إلى أي رد بل إن تصور ذلك كافٍ في الرد على أصحابه (3) .
--------------------------------------------
এই দাবিগুলো বুদ্ধি ও বর্ণনার মাধ্যমে যা প্রতিষ্ঠিত, তার বিরুদ্ধে অহংকার ও জেদ ছাড়া আর কিছুই নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে যে, এই মহাবিশ্ব আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তাকে বলা হবে: এই বিশাল, সুমহান, সুশৃঙ্খল ও সুসংগত মহাবিশ্ব কীভাবে আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হলো?!
ওয়াহিদউদ্দীন খান আমেরিকান বিজ্ঞানী (ক্রিসি মরিসন) থেকে একটি উদাহরণ বর্ণনা করেছেন, যাতে তিনি দৈবক্রমে মহাবিশ্ব অস্তিত্বে আসার অসম্ভবতা স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন: "যদি আপনি দশটি মুদ্রা নেন এবং তাতে এক থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যা লিখে আপনার পকেটে রাখেন ও সেগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে নেন, অতঃপর এক থেকে দশ পর্যন্ত গাণিতিক ক্রম অনুযায়ী বের করার চেষ্টা করেন এবং প্রতিবার একটি মুদ্রা বের করার পর তা পুনরায় পকেটে রেখে দেন, তবে প্রথম প্রচেষ্টায় এক লেখা মুদ্রাটি আসার সম্ভাবনা হলো এক শতাংশ। আর এক থেকে চার পর্যন্ত (১-৪) ক্রম অনুযায়ী মুদ্রাগুলো আসার সম্ভাবনা হলো দশ হাজারে একবার। এমনকি এক থেকে দশ (১-১০) পর্যন্ত ক্রম অনুযায়ী মুদ্রাগুলো বের করার ক্ষেত্রে সফল হওয়ার সম্ভাবনা হলো শত কোটি প্রচেষ্টার মধ্যে একবার।" (১)।
এমতাবস্থায়, এই মহাবিশ্ব যদি দৈবক্রম ও আকস্মিকতায় সৃষ্টি হতো, তবে এর গঠনে কত সময় লাগত? একই পদ্ধতিতে এর হিসাব করলে এই সম্ভাবনাটি এমন এক কল্পনায় পরিণত হয় যা গণনা করা তো দূরের কথা, কল্পনা করাও কঠিন।
এই মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তা জানান দেয় যে, এটি একজন প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবগত অস্তিত্বদাতার সৃষ্টি। কিন্তু মানুষ অত্যন্ত জালেম ও অজ্ঞ। [মানুষ ধ্বংস হোক! সে কতই না অকৃতজ্ঞ! তিনি তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন? তিনি তাকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে সুপরিমিত করেছেন।] (আবাসা: ১৭-১৯) (২)।
আর প্রকৃতিই সৃষ্টিকর্তা—এই কথাটি একটি মহা অপবাদ যার কোনো প্রমাণ নেই। এর অসারতা এতই স্পষ্ট ও প্রকাশ্য যে কোনো খণ্ডনের প্রয়োজন পড়ে না; বরং এটি কল্পনা করাই এর প্রবক্তাদের জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومن تلك الدعاوي نظرية (دارون) التي حاول أصحابها أن يعللوا بها وجود الأحياء، وتزعم هذه النظرية أن أصل الإنسان حيوان صغير نشأ من الماء، ثم أخذت البيئة تفرض عليه من التغييرات في تكوينه، مما أدى إلى نشوء صفات جديدة في هذا الكائن، وأخذت هذه الصفات المكتسبة تورَّث في الأبناء حتى تحولت مجموع هذه الصفات الصغيرة الناشئة من البيئة عبر ملايين السنين إلى نشوء صفات كثيرة راقية جعلت ذلك المخلوق البدائي مخلوقاً أرقى، واستمر ذلك النشوء للصفات بفعل البيئة والارتقاء في المخلوقات حتى وصل إلى هذه المخلوقات التي انتهت بالإنسان.
هذا هو ملخص تلك النظرية، وعوارها وزيفها واضح بيِّن (1) .
وقد ثبت بطلانها حتى عند أهلها، ومما يقال في ذلك، أنه على فرض صحتها فمن الذي أنشأ ذلك الحيوان الصغير؟ ومن الذي جعله يتطور حتى وصل إلى ما وصل إليه؟ !
* * *
4 ـ دلالة الحس فالحس يدل بوضوح على وجود الله ووحدانيته_سبحانه وتعالى_والأدلة الحسية على ذلك كثيرة جدَّاً، ومنها:
أ_إجابة الدعوات:
ويعني بها إجابة دعوات الملهوفين والمكروبين وغيرهم، ممن يدعون الله _سبحانه وتعالى_ فيستجاب لهم، ويحصل لهم مقصودهم.
والأمثلة على ذلك لا تحصى ولا تحصر، سواء كان ذلك في حق الأنبياء_عليهم السلام_أم في حق غيرهم.
ومن ذلك ما قاله الله_سبحانه وتعالى_عن نوح_عليه السلام_: [فَدَعَا رَبَّهُ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرْ (10) فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ (11) وَفَجَّرْنَا الأَرْضَ عُيُوناً فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ] (القمر: 10_12) .
--------------------------------------------
এবং সেই সব দাবির মধ্যে একটি হলো (ডারউইনের) বিবর্তনবাদ তত্ত্ব, যার মাধ্যমে এর প্রবক্তারা জীবজগতের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। এই তত্ত্বটি দাবি করে যে, মানুষের আদি উৎস হলো পানি থেকে সৃষ্ট একটি ক্ষুদ্র প্রাণী, অতঃপর পরিবেশ তার শারীরিক গঠনে নানা পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে, যার ফলে এই জীবের মধ্যে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে। এই অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো বংশপরম্পরায় সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে থাকে। এভাবে লাখ লাখ বছর ধরে পরিবেশের প্রভাবে সৃষ্ট এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৈশিষ্ট্যগুলোর সমষ্টি অনেকগুলো উন্নত বৈশিষ্ট্যের জন্ম দেয়, যা সেই আদিম সৃষ্টিকে একটি উন্নত সৃষ্টিতে পরিণত করে। পরিবেশের প্রভাবে বৈশিষ্ট্যের এই উদ্ভব এবং সৃষ্টির ক্রমোন্নতি অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না তা বর্তমানের এই সৃষ্টিরাজ্যে পৌঁছায় যার সমাপ্তি ঘটেছে মানুষে।
এটিই সেই তত্ত্বের সারসংক্ষেপ, আর এর ত্রুটি ও অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট (১)।
এমনকি এর অনুসারীদের কাছেও এর অসারতা প্রমাণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, যদি তর্কের খাতিরে একে সঠিক ধরেও নেওয়া হয়, তবে সেই ক্ষুদ্র প্রাণীটি কে সৃষ্টি করেছেন? আর কে তাকে বিবর্তিত করেছেন যাতে সে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে?!
* * *
৪ ـ ইন্দ্রিয়জাত প্রমাণের নির্দেশনা ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতি স্পষ্টভাবে আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্বের প্রমাণ দেয়—তিনি পবিত্র ও মহান—এবং এ বিষয়ে ইন্দ্রিয়জাত প্রমাণাদি অনেক বেশি, তার মধ্যে রয়েছে:
ক. দোয়া কবুল হওয়া:
এর অর্থ হলো বিপদগ্রস্ত, আর্তপীড়িত এবং অন্যদের দোয়ায় সাড়া দেওয়া, যারা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, ফলে তাদের দোয়া কবুল করা হয় এবং তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়।
এর উদাহরণ অগণিত ও অশেষ, চাই তা নবীদের—তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—ক্ষেত্রে হোক অথবা অন্যদের ক্ষেত্রে।
তার মধ্যে একটি হলো নূহ—আলাইহিস সালাম—সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: [অতঃপর সে তার রবকে ডাকল যে, ‘আমি তো পরাজিত, অতএব আপনি সাহায্য করুন।’ তখন আমি অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দিলাম। আর আমি ভূমি থেকে প্রস্রবণসমূহ উৎসারিত করলাম। ফলে সকল পানি একত্রিত হলো এক নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী।] (সূরা আল-কামার: ১০-১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وما قَصَّهُ الله_سبحانه_عن يونس_عليه السلام_: [فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنْ الظَّالِمِينَ] (الأنبياء: 87) فاستجاب دعاءه، ونجاه من بطن الحوت.
وقال عن أيوب_عليه السلام_: [وَاذْكُرْ عَبْدَنَا أَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِي الشَّيْطَانُ بِنُصْبٍ وَعَذَابٍ (41) ارْكُضْ بِرِجْلِكَ هَذَا مُغْتَسَلٌ بَارِدٌ وَشَرَابٌ (42) وَوَهَبْنَا لَهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُمْ مَعَهُمْ رَحْمَةً مِنَّا وَذِكْرَى لأُوْلِي الأَلْبَابِ] (ص:41_43) .
وفي صحيح البخاري عن أنس÷قال: =إن أعرابيَّاً دخل يوم الجمعة والنبي"يخطب فقال: يا رسول الله هلك المال، وجاع العيال، فادع لنا، فرفع النبي"يديه، فدعا، فثار السحاب كأمثال الجبال، فلم ينزل عن منبره_حتى رأيت المطر يتحادر على لحيته.
وفي الجمعة الثانية قام ذلك الأعرابي أو غيره فقال: يا رسول الله تهدم البناء، وغرق المال؛ فادع الله لنا، فرفع يديه وقال: اللهم حوالينا ولا علينا، فما يشير إلى ناحية إلا انفرجت+ (1) .
وما زالت إجابة الداعين أمراً مشهوداً إلى هذا اليوم لمن أتى بشرائط الإجابة، وكثيراً ما نسمع أن الناس ذهبوا للاستسقاء وقبل أن يخرجوا من المسجد إذا هم يمطرون.
فإجابة الدعاء دليل قاطع على وحدانية الله_عز وجل_.
ب_صدق الرسل_عليهم السلام_:
وهذا دليل حسي واضح، فالرسل_عليهم السلام_هم أكمل البشر، قد بلَّغوا عن الله رسالاته، وقد اصطفاهم الله، واختارهم من بين الخلق، وأيَّدهم بالآيات البينات، ونصرهم، وجعل الغلبة لهم، والدولة على أعدائهم.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইউনুস আলাইহিস সালাম সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন: [অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহ্বান করলেন যে, 'আপনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম'] (আল-আম্বিয়া: ৮৭)। অতঃপর তিনি তাঁর দুআ কবুল করলেন এবং তাঁকে মাছের পেট থেকে মুক্তি দিলেন।
এবং আইয়ুব আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তিনি বলেছেন: [স্মরণ করুন আমাদের বান্দা আইয়ুবের কথা, যখন তিনি তাঁর রবের নিকট ফরিয়াদ করেছিলেন যে, 'শয়তান আমাকে কষ্ট ও যন্ত্রণায় ফেলেছে' (৪১)। আপনার পা দিয়ে আঘাত করুন; এই তো গোসলের শীতল পানি ও পানীয় (৪২)। আর আমরা তাকে দান করলাম তার পরিবার-পরিজন এবং তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও, আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহস্বরূপ এবং বুদ্ধিমানদের জন্য উপদেশস্বরূপ] (সোয়াদ: ৪১-৪৩)।
সহীহ বুখারীতে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি জুমুআর দিনে প্রবেশ করল যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং পরিবার-পরিজন অনাহারে থাকল, তাই আমাদের জন্য দুআ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দুই হাত তুললেন এবং দুআ করলেন। ফলে পাহাড়ের ন্যায় মেঘমালা জমা হয়ে উঠল। তিনি তাঁর মিম্বর থেকে নামার আগেই আমি দেখলাম তাঁর দাড়ির ওপর দিয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে।
পরবর্তী জুমুআর দিনে সেই গ্রাম্য ব্যক্তি অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! ঘরবাড়ি ধসে পড়ছে এবং সম্পদ ডুবে যাচ্ছে; তাই আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তখন তিনি তাঁর দুই হাত তুললেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশ দিয়ে (বৃষ্টি বর্ষণ করুন), আমাদের ওপর নয়। তিনি যেদিকের প্রান্তেই ইশারা করছিলেন, সেদিকের মেঘই সরে যাচ্ছিল (১)।
আর যারা দুআ কবুলের শর্তাবলী পূরণ করে তাদের দুআ কবুল হওয়ার বিষয়টি আজ পর্যন্ত একটি প্রত্যক্ষ বিষয়। আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে, মানুষ বৃষ্টির প্রার্থনায় ইস্তিস্কার জন্য বের হয়েছে এবং মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই তারা বৃষ্টির সম্মুখীন হয়েছে।
সুতরাং দুআ কবুল হওয়া মহান আল্লাহর একত্বের একটি অকাট্য প্রমাণ।
খ. রাসূলগণের আলাইহিমুস সালাম সত্যতা:
এটি একটি স্পষ্ট ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ। কেননা রাসূলগণ আলাইহিমুস সালাম হলেন মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের মনোনীত করেছেন এবং সৃষ্টিজগতের মধ্য থেকে তাঁদের বাছাই করেছেন। তাঁদেরকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী দিয়ে শক্তিশালী করেছেন, সাহায্য করেছেন এবং তাঁদের বিজয় দান করেছেন ও শত্রুদের ওপর তাঁদের প্রাধান্য দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فالإنسان إزاء الأنبياء لا يملك إلا أن يقطع بصدقهم؛ إذ إن دعوى النبوة أعظم الدعاوى، ولا يدعيها إلا أصدق الناس أو أكذبهم، فالأنبياء هم أصدق الناس على الإطلاق؛ فظهور المعجزات على أيديهم، وتأييد الله لهم، وخذلانه لأعدائهم، وما جبلوا عليه من كريم الخلال، وحميد الخصال، كل ذلك يدل على صدقهم، وبالتالي نعلم أنهم مبعوثون من عند الله، وأنه_سبحانه_حق، وعبادته حق.
جـ_ دلالة الأنفس:
لقد صور الله الإنسان على أحسن صورة، وخَلَقَهُ في أحسن تقويم؛ كما قال_سبحانه وتعالى_[وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ] (التغابن: 3) .
وكما قال_عز وجل_[لَقَدْ خَلَقْنَا الإِنسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ] (التين: 4) .
ولو أن الإنسان أمعن النظر في نفسه وما فيها من عجائب صنع الله، ونظر ظاهره وما فيه من كمال خلقه، وأنه متميز عن سائر الحيوانات_لأدرك أن وراء ذلك رباً خالقاً حكيماً في خلقه، ولعلم أن هذا الخالق هو المنفرد بتدبير الإنسان وتصريفه.
يقول الشيخ عبد الرحمن بن سعدي×في تقرير هذا المعنى عند قوله_تعالى_: [وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا] (الشمس: 7) : =وعلى كلٍّ فالنفس آيةٌ كبيرة من آيات الله التي يحق الإقسام بها؛ فإنها في غاية اللطف، والخفة، سريعة التنقل، والحركة، والتغير، والتأثر، والانفعالات النفسية من الهمة، والإرادة، والقصد، والحب.
وهي التي لولاها لكان البدن مجرد تمثالٍ لا فائدة فيه، وتسويتُها على ما هي عليه آيةٌ من آيات الله العظيمة.
والمقصود أن نفس الإنسان من أعظم الأدلة على وجود الله وحده، ومن ثم تفرده بالعبادة+.
د_ هداية المخلوقات:
وهذا مشهد من مشاهد الحس الدالة على وحدانية الله_عز وجل_فلقد هدى الله الحيوان: ناطقه وبهيمه، وطيره ودوابه، وفصيحه وأعجمه إلى ما فيه صلاحُ معاشه وحاله.
ويدخل تحت قوله_تعالى_: [رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى] (طه:50) .
সুতরাং নবীদের মোকাবিলায় মানুষ তাঁদের সত্যবাদিতার বিষয়ে সুনিশ্চিত হতে বাধ্য হয়; কারণ নবুওয়াতের দাবি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দাবি, আর এটি কেবল মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সত্যবাদী অথবা সর্বাধিক মিথ্যাবাদী ব্যক্তিই দাবি করে থাকে। অতএব নবীরা হলেন নিরঙ্কুশভাবে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সত্যবাদী; তাঁদের হাতে মুজিজার প্রকাশ ঘটা, তাঁদের প্রতি আল্লাহর সাহায্য এবং তাঁদের শত্রুদের প্রতি তাঁর লাঞ্ছনা, আর তাঁদের স্বভাবে যে মহৎ ও প্রশংসনীয় গুণাবলি নিহিত রয়েছে—এই সবকিছুই তাঁদের সত্যবাদিতার প্রমাণ দেয়। ফলশ্রুতিতে আমরা জানতে পারি যে, তাঁরা আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা সত্য ও তাঁর ইবাদতও সত্য।
গ- আত্মিক নিদর্শন:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মানুষকে অতি সুন্দর আকৃতিতে চিত্রিত করেছেন এবং তাকে সর্বোত্তম কাঠামোতে সৃষ্টি করেছেন; যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেছেন: [আর তিনি তোমাদের আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতিসমূহকে অতি সুন্দর করেছেন] (আত-তাগাবুন: ৩)।
এবং যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: [নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামোতে] (আত-তীন: ৪)।
আর মানুষ যদি তার নিজের মধ্যে এবং তাতে আল্লাহর সৃষ্টির যে বিস্ময়কর নিপুণতা রয়েছে সে সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করে, এবং তার বাহ্যিক অবয়ব ও তার সৃষ্টির পূর্ণতার প্রতি লক্ষ্য করে যে, সে অন্যান্য সকল প্রাণী থেকে স্বতন্ত্র—তবে সে অবশ্যই উপলব্ধি করতে পারবে যে, এর পেছনে একজন স্রষ্টা প্রতিপালক রয়েছেন যিনি তাঁর সৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান; আর সে জানতে পারবে যে, এই স্রষ্টাই মানুষের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় অদ্বিতীয়।
শায়খ আবদুর রহমান বিন সাদী (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ তাআলার বাণী: [শপথ প্রাণের এবং যিনি তাকে সুঠাম করেছেন] (আশ-শামস: ৭)-এর ব্যাখ্যায় এই অর্থটি প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বলেন: "যাহোক, আত্মা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি বড় নিদর্শন যার শপথ করা যথার্থ; কেননা তা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও লঘু প্রকৃতির এবং তা দ্রুত রূপান্তরশীল, গতিশীল ও পরিবর্তনশীল। এটি দুশ্চিন্তা, ইচ্ছা, সংকল্প, ভালোবাসা এবং মানসিক প্রতিক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়।"
এটিই এমন বিষয় যা না থাকলে দেহটি কেবল একটি মূল্যহীন মূর্তিতে পরিণত হতো; আর একে এমন সুঠামভাবে গড়ে তোলা আল্লাহর মহান নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দেশ্য হলো, মানুষের আত্মা এক আল্লাহর অস্তিত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল এবং এর মাধ্যমেই ইবাদতে তাঁর একত্ব প্রমাণিত হয়।
ঘ- সৃষ্টিজগতের হিদায়াত:
এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার একত্বের প্রমাণবাহী ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দৃশ্যসমূহের একটি। আল্লাহ তাআলা প্রাণীকুলকে—তা কথা বলতে সক্ষম হোক বা অক্ষম হোক, পাখি হোক বা ভূচর প্রাণী হোক, স্পষ্টভাষী হোক বা অবলা হোক—তাদের জীবন ও অবস্থার সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের দিকে পথনির্দেশ করেছেন।
আর এটি আল্লাহ তাআলার বাণীর অন্তর্ভুক্ত: [আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি প্রতিটি বস্তুকে তার উপযোগী আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথনির্দেশ করেছেন] (ত্বহা: ৫০)।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
تلك الآية التي رد بها موسى_عليه السلام_على فرعون_يدخل تحتها من العجائب والغرائب ما لا يحصيه إلا الله_عز وجل_.
فَمَن الذي هدى الإنسان ساعة ولادته إلى التقام ثدي أمه؟ ومن الذي أودع فيه معرفة عملية الرضاع؟ تلك العملية الشاقة التي تتطلب انقباضات متوالية من عضلات الوجه، واللسان، والعنق، وحركات متواصلة للفك الأسفل، والتنفس مع الأنف، كل ذلك يتم بهداية تامة وبدون سبق علم أو تجربة، فمن الذي ألهمه ذلك؟ إنه [رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى (50) ] .
ثم إن هدايته بعد أن يكبر إلى السعي في مصالحه من الضرب في الأرض، والسير فيها، كل ذلك من الهداية التامة العامة للمخلوقات.
أما هداية الطير، والوحش، والدواب_فحدث ولا حرج، فلقد هداها الله إلى الأفعال العجيبة التي يعجز عنها الإنسان.
وقد ذكر العلامة ابن القيم×في كتابه (شفاء العليل) أموراً عجيبة من هذا القبيل، فقد تحدث عن هداية النحل بما يأخذ بالألباب، ويزيد إيماناً برب الأرباب (1) .
حيث تحدث عن اتخاذها اليعسوبَ أميراً، وعن طريقة ولادتها، ورعيها، ودقة تنظيمها، وتوزيعها المهام على فرق شتى، فمنها فرقة تلزم الملك ولا تفارقه، ومنها فرقة تهيِّيء الشمع وتصنعه، وفرقة تكنس الخلايا وتنظفها من الأوساخ والجيف والزبل.
وإذا رأت النحل بينها نحلةً مهينةً بطالةً قطَّعَتْها، وقتلتها؛ حتى لا تفسد عليهن بقيةَ العمال، وتُعْديهِنَّ ببطالتها ومهانتها.
--------------------------------------------
মূসা (আলাইহিস সালাম) ফিরআউনের কাছে যে আয়াতটি দিয়ে জবাব দিয়েছিলেন, তার অধীনে এমন সব বিস্ময়কর ও অদ্ভুত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারবে না।
সুতরাং কে মানুষকে তার জন্মের মুহূর্তে তার মায়ের স্তন মুখে নিতে পথপ্রদর্শন করেছেন? আর কে তার মধ্যে স্তন্যপান প্রক্রিয়ার জ্ঞান আমানত রেখেছেন? সেই কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া যা মুখমণ্ডল, জিহ্বা ও ঘাড়ের পেশিগুলোর ক্রমাগত সংকোচন, নিচের চোয়ালের নিরবচ্ছিন্ন নড়াচড়া এবং নাকের সাহায্যে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণের দাবি রাখে; এই সবকিছুই কোনো পূর্ব জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা ছাড়াই পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কে তাকে এই অনুপ্রেরণা দান করেছেন? তিনি হলেন [আমাদের প্রতিপালক, যিনি প্রতিটি বস্তুকে তার উপযুক্ত আকৃতি দান করেছেন, তারপর পথপ্রদর্শন করেছেন (৫০)]।
অতঃপর বড় হওয়ার পর জমিনে বিচরণ ও চলাফেরার মাধ্যমে নিজের স্বার্থ অন্বেষণের ক্ষেত্রে তাঁর যে নির্দেশনা, তা সৃষ্টিজগতের জন্য নির্ধারিত এক পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ হিদায়াতেরই অংশ।
আর পাখি, বন্যপ্রাণী এবং চতুষ্পদ জন্তুর হিদায়াতের ব্যাপারে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলা যায় যে, আল্লাহ সেগুলোকে এমন বিস্ময়কর কাজের প্রতি পথপ্রদর্শন করেছেন যা করতে মানুষও অক্ষম।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘শিফাউল আলীল’ গ্রন্থে এই জাতীয় কিছু বিস্ময়কর বিষয় উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি মৌমাছির হিদায়াত সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করেছেন যা জ্ঞানীদের বিমোহিত করে এবং সকল প্রতিপালকের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান বৃদ্ধি করে (১)।
সেখানে তিনি মৌমাছিদের রানী মৌমাছিকে আমীর হিসেবে গ্রহণ করা, তাদের জন্মের পদ্ধতি, চারণভূমি, তাদের নিখুঁত শৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে তাদের দায়িত্ব বন্টন করা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে একদল রানীর সাথে লেগে থাকে এবং তাকে ছেড়ে যায় না; অন্য একদল মোম তৈরি ও প্রস্তুত করে; আর একদল মৌচাক ঝাড়ু দেয় এবং তা ময়লা-আবর্জনা, মৃতদেহ ও মলমূত্র থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে।
আর মৌমাছিরা যদি তাদের মধ্যে কোনো তুচ্ছ ও অলস মৌমাছি দেখতে পায়, তবে তারা তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে এবং হত্যা করে; যাতে সে বাকি কর্মীদের নষ্ট করতে না পারে এবং তার অলসতা ও হীনতা অন্যদের মাঝে সংক্রমিত না হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم تحدث×عن طريقة بنائها البيوت، فقال: ثم يأخذن في ابتناء البيوت على خطوط متساوية، كأنها سككٌ ومحالٌّ، وتبني بيوتها مسدسةً متساويةَ الأضلاع، كأنها قرأت كتاب =إقليدس+ حتى عرفت أوفق الأشكال لبيوتها؛ لأن المطلوب من بناء الدُّور هو الوثاقة والسعة، والشكل المسدس دون سائر الأشكال إذا انضمت بعض أشكاله إلى بعض صار شكلاً مستديراً كاستدارة الرحى، ولا يبقى فيه فروج ولا خلل، ويشد بعضه بعضاً حتى يصير طبقاً واحداً محكماً، لا يدخل بين بيوته رؤوس الإبر، فتبارك الذي ألهمها أن تبني بيوتها هذا البناءَ المحكمَ+.
ثم تحدث عن طريقة خروجها للمرعى، وادخارها للكسب ثم قال: =وفي النحل كرامٌ لها سعيٌ وهمةٌ، واجتهادٌ، وفيها لئامٌ كسالى قليلةُ النفع مؤثرةٌ للبطالة؛ فالكرام دائماً تطردها وتنفيها عن الخلية+.
وفي ختام حديثه عنها قال: =ولما كانت النحل من أنفع الحيوانات وأبركها، قد خُصت من وحي الرب_تعالى_وهدايته بما لم يَشْرَكْها فيه غيرُها، وكان الخارج من بطونها مادة الشفاء من الأسقام والنور الذي يضيء في الظلام بمنزلة الهداة من الأنام_كان أكثر الحيوان أعداءها، وكان أعداؤها من أقل الحيوانات منفعة وبركة، وهذه سنة الله في خلقه وهو العزيز الحكيم+.
ثم تحدث_أيضاً_عن هداية النمل (1) قائلاً: =وهدايتها من أعجب شيءٍ؛ فإن النملةَ الصغيرةَ تخرج من بيتها وتطلب قُوْتَها، وإن بعدت عليها الطريق، فإذا ظفرت به حملته، وساقته في طرق معوجة بعيدةٍ ذاتِ صعودٍ وهبوطٍ في غاية التوعر، حتى تصلَ إلى بيوتها فتخزن فيها أقواتها وقت الإمكان، فإذا خزنتها عمدت إلى ما ينبت منها ففلقته فلقتين؛ لئلا ينبت، فإن كان ينبت مع فَلْقِهِ باثنتين فَلَقَتْه بأربع، فإذا أصابه بلل، وخافت عليه العفن والفساد انتظرت به يوماً ذا شمس، فخرجت به فنشرته على أبواب بيوتها، ثم أعادته إليها.
ولا تتغذى منه نملة مما جمعه غيرها.
--------------------------------------------
এরপর তিনি তাদের ঘর তৈরির পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: অতঃপর তারা সুষম রেখা বরাবর ঘর নির্মাণ শুরু করে, যা দেখে মনে হয় যেন তা রাস্তা ও মহল্লা। তারা তাদের ঘরগুলোকে ষষ্ঠভুজাকৃতির এবং সুষম বাহুবিশিষ্ট করে তৈরি করে; যেন তারা ইউক্লিডের বই পড়েছে, যার ফলে তারা তাদের ঘরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত আকৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কারণ ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো মজবুত হওয়া এবং প্রশস্ত হওয়া। ষষ্ঠভুজাকৃতি অন্যান্য আকৃতির তুলনায় এমন যে, যখন এর কিছু অংশ অপর অংশের সাথে যুক্ত হয়, তখন তা যাঁতার মতো বৃত্তাকার হয়ে যায়। সেখানে কোনো ফাঁক বা ত্রুটি থাকে না। এর একটি অংশ অপর অংশকে এমনভাবে মজবুত করে যে, তা একটি সুদৃঢ় স্তরে পরিণত হয়, যার ঘরগুলোর মাঝে সুঁইয়ের অগ্রভাগও প্রবেশ করতে পারে না। অতএব বরকতময় সেই সত্তা, যিনি তাকে (মৌমাছিকে) এই সুদৃঢ় পন্থায় ঘর নির্মাণ করতে অনুপ্রাণিত করেছেন।
অতঃপর তিনি তাদের চারণভূমির দিকে বের হওয়া এবং উপার্জিত বস্তু সঞ্চয় করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: মৌমাছিদের মধ্যে এমন কিছু অভিজাত রয়েছে যাদের চেষ্টা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও পরিশ্রম আছে। আবার তাদের মধ্যে কিছু নীচ ও অলস রয়েছে যাদের উপকারিতা নগণ্য এবং যারা কর্মহীন থাকাকে পছন্দ করে। তাই অভিজাত মৌমাছিরা সর্বদা তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং মৌচাক থেকে বের করে দেয়।
তাদের সম্পর্কে আলোচনার শেষে তিনি বলেছেন: যেহেতু মৌমাছি অত্যন্ত উপকারী ও বরকতময় প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত, তাই মহান রবের পক্ষ থেকে ওহি এবং হিদায়াতের মাধ্যমে তাদের এমনভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে যাতে অন্য কেউ তাদের অংশীদার নয়। আর তাদের পেট থেকে যা নির্গত হয় তা হলো রোগের আরোগ্য এবং অন্ধকারে আলো ছড়ানো জ্যোতির মতো, যা মানুষের মাঝে পথপ্রদর্শকদের মর্যাদাসম্পন্ন। ফলে প্রাণীকুলের মধ্যে তাদের শত্রুই সবচেয়ে বেশি এবং তাদের শত্রুরা হলো উপকার ও বরকতের দিক থেকে সবচেয়ে নগণ্য প্রাণী। আর এটিই সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
এরপর তিনি পিঁপড়ার হিদায়াত বা দিকনির্দেশনা সম্পর্কেও আলোচনা করে বলেছেন: তাদের পথচলার বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর। একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়া নিজ ঘর থেকে বের হয়ে তার খাদ্যের সন্ধান করে, যদিও পথ অনেক দীর্ঘ হয়। যখন সে তা পেয়ে যায়, তখন সে তা বহন করে নিয়ে যায় এবং দীর্ঘ আঁকাবাঁকা চড়াই-উতরাই ও অত্যন্ত দুর্গম পথ অতিক্রম করে নিয়ে চলে, যতক্ষণ না সে তার ঘরে পৌঁছায়। অতঃপর সুযোগমতো সে তার ঘরে খাদ্য সঞ্চয় করে। যখন সে তা সঞ্চয় করে, তখন যেগুলো থেকে চারা গজানোর সম্ভাবনা থাকে সেগুলো সে দুই খণ্ড করে ফেলে যাতে চারা না গজে। যদি দুই খণ্ড করার পরও চারা গজানোর সম্ভাবনা থাকে, তবে সে তাকে চার খণ্ড করে ফেলে। যদি তাতে আর্দ্রতা লাগে এবং সে তাতে পচন বা নষ্ট হওয়ার ভয় করে, তবে সে একটি রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের অপেক্ষা করে। অতঃপর সে তা বের করে তার ঘরের দরজায় ছড়িয়ে দেয় এবং পরে তা পুনরায় ভেতরে নিয়ে যায়।
আর কোনো পিঁপড়া অন্য কেউ যা সংগ্রহ করেছে তা থেকে খাদ্য গ্রহণ করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ويكفي في هداية النمل ما قاله الله_سبحانه_في القرآن عن النملة التي سمع سليمان كلامها وخطابها لأصحابها بقولها [يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ لا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لا يَشْعُرُونَ] (النمل: 18) .
فاستفتحت خطابها بالنداء الذي يسمعه مَنْ خاطبته، ثم بالاسم المبهم، ثم أتبعته بما يثبته من اسم الجنس؛ إرادة للعموم، ثم أمرتهم أن يدخلوا مساكنهم فيتحصنوا من العسكر، ثم أخبرت عن سبب الدخول؛ خشية أن تصيبهم معرةُ الجيش، فيحطمهم سليمان وجنوده، ثم اعتذرت عن نبي الله وجنوده بأنهم لا يشعرون بذلك.
والنمل من أحرص الحيوان، ويضرب بحرصه المثل، ولها صدق الشم، وبعد الهمة، وشدة الحرص، والجرأة على محاولة نقل ما هو أضعاف أضعاف وزنها.
وليس للنمل قائد ورئيس يدبرها كما يكون للنحل، إلا أن لها رائداً يطلب الرزق، فإذا أوقف عليه أخبر أصحابه، فيخرجن مجتمعاتٍ، وكل نملة تجتهد في صلاح العامة منها غير مختلسة من الحب شيئاً لنفسها دون صواحبها.
وهذا الهدهد من أهدى الحيوان، وأبصره بمواضع الماء تحت الأرض، ولا يراه غيره.
ومن هدايته ما قصه الله عنه في كتابه؛ مما قاله الهدهد لسليمان_عليه السلام_وقد فقده، وتوعده، فلما جاءه بادره بالعذر قبل أن ينذره سليمان بالعقوبة، وخاطبه خطاباً هَيَّجه به على الإصغاء إليه والقبول منه فقال: [أَحَطتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِ] وفي ضمن هذا أني أتيتك بأمر قد عرفْتُهُ بحيث أُحطتُ به، وهو خبر عظيم له شأن؛ فلذلك قال: [وَجِئْتُكَ مِنْ سَبَإٍ بِنَبَإٍ يَقِينٍ] (النمل: 22) .
والنبأ هو الخبر الذي شأن، والنفوس متطلعة إلى معرفته، ثم وصفه بأنه نبأ يقين لاشك فيه ولا ريب، فهذه مقدمة بين يدي إخباره لنبي الله بذلك النبأ اسْتَفْرَغَتْ قَلْبَ المُخبَر لتلقي الخبر، وأوْجَبَتْ له التشوقَ إلى سماعه ومعرفته، وهذا نوع من براعة الاستهلال، وخطاب التهييج.
পিঁপড়াদের সঠিক পথপ্রাপ্তি বা দিকনির্দেশনা লাভের বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু কুরআনে সেই পিঁপড়া সম্পর্কে যা বলেছেন তা-ই যথেষ্ট, যার কথা এবং তার সঙ্গীদের প্রতি তার সম্বোধন সুলায়মান শুনেছিলেন। সে বলেছিল: "হে পিঁপড়ারা, তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো, যাতে সুলায়মান ও তার বাহিনী তোমাদের পিষ্ট করে না ফেলে এবং তারা তা অনুভবও করতে পারবে না।" (আন-নামল: ১৮)।
সে (পিঁপড়াটি) তার সম্বোধন শুরু করেছিল এমন এক আহ্বানের মাধ্যমে যা যাদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তারা যেন শুনতে পায়, তারপর অস্পষ্ট বিশেষ্য (হে), এরপর একটি জাতিবাচক নাম (পিঁপড়া) যুক্ত করেছে; যা ব্যাপকতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে। এরপর সে তাদের নিজ নিজ বাসস্থানে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা সৈন্যবাহিনী থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। এরপর সে প্রবেশের কারণ বর্ণনা করেছে; যাতে সৈন্যবাহিনীর পায়ের তলায় পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দূর হয়, ফলে সুলায়মান ও তার বাহিনী যেন তাদের চূর্ণ করে না দেয়। অতঃপর সে আল্লাহর নবী ও তাঁর বাহিনীর পক্ষ থেকে ওজর পেশ করেছে যে, তারা বিষয়টি অনুভব করতে পারবে না।
পিঁপড়া প্রাণীকুলের মধ্যে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সংগ্রহপরায়ণ, এবং তার এই পরিশ্রমের প্রবাদ প্রচলিত আছে। তাদের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর, উচ্চাকাঙ্ক্ষা সুদূরপ্রসারী, কঠোর পরিশ্রমী এবং নিজ ওজনের চেয়েও বহুগুণ বেশি ভার বহনের চেষ্টা করার সাহস রাখে।
মৌমাছির মতো পিঁপড়াদের কোনো সুনির্দিষ্ট নেতা বা প্রধান নেই যারা তাদের পরিচালনা করে, তবে তাদের একজন অগ্রগামী থাকে যে খাদ্যের সন্ধান করে। যখন সে খাদ্যের সন্ধান পায়, তখন সে তার সঙ্গীদের জানায়, ফলে তারা দলবদ্ধভাবে বেরিয়ে পড়ে। প্রতিটি পিঁপড়া তার সাধারণ কল্যাণে পরিশ্রম করে, নিজের সঙ্গীদের বঞ্চিত করে নিজের জন্য কোনো দানা বা খাবার চুরি করে না।
আর এই হুদহুদ পাখি প্রাণীকুলের মধ্যে অত্যন্ত সঠিক পথ চেনার ক্ষমতাসম্পন্ন এবং মাটির নিচের পানির অবস্থান নির্ণয়ে অত্যন্ত পারদর্শী, যা অন্য কেউ দেখতে পায় না।
তার এই বিশেষ হেদায়েত বা জ্ঞানের একটি উদাহরণ হলো যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন; হুদহুদ সুলায়মান আলাইহিস সালাম-কে যা বলেছিল যখন তিনি তাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না এবং তাকে শাস্তির হুমকি দিয়েছিলেন। যখন সে তাঁর কাছে আসলো, সুলায়মান তাকে শাস্তির ভয় দেখানোর আগেই সে ওজর পেশ করল এবং তাঁর সাথে এমনভাবে কথা বলল যা তাঁকে তার কথা শুনতে ও গ্রহণ করতে আগ্রহী করে তুলল। সে বলল: "আমি এমন বিষয় অবগত হয়েছি যা আপনি অবগত নন।" এর মর্মার্থ হলো, আমি আপনার কাছে এমন এক বিষয় নিয়ে এসেছি যা আমি পূর্ণাঙ্গভাবে অবগত হয়েছি, এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ; এ কারণেই সে বলেছিল: "আমি আপনার কাছে সাবা থেকে এক সুনিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।" (আন-নামল: ২২)।
"নাবা" (সংবাদ) হলো এমন খবর যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং যা জানার জন্য মানুষের মন ব্যাকুল থাকে। এরপর সে এটিকে "সুনিশ্চিত সংবাদ" হিসেবে বর্ণনা করেছে যাতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই। আল্লাহর নবীর কাছে সংবাদটি পেশ করার পূর্বে এটি ছিল একটি ভূমিকা, যা সংবাদ গ্রহণকারীর অন্তরকে সংবাদটি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে তুলেছিল এবং তা শোনার ও জানার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল। এটি এক প্রকার সূচনার পাণ্ডিত্য এবং আগ্রহ উদ্দীপক সম্বোধন।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم أخبر بباقي القصة عن بلقيس وقومها، وبين بطلان ما هم عليه من عبادة الشمس.
وهذا الحمام من أعجب الحيوان هدايةً، قال الشافعي: أعقل الطير.
وبُرُدُ الحمامِ هي التي تحمل الرسائل والكتب، وربما زادت قيمة الطير منها على قيمة المملوك والعبد؛ فإن الغرض الذي يحصل به لا يحصل بمملوك ولا بحيوان غيره.
وهداية الحمام على قدر التعليم والتوطين، وهو موصوف باليمن والإلف للناس، ويحب الناس ويحبونه، ويألف المكان، ويثبت على العهد والوفاء لصاحبه، وإن أساء إليه، ويعود إليه مسافات بعيدة، وربما صُدَّ فترك وطنه عشرَ حججٍ وهو ثابت على الوفاء حتى إذا وجد فرصة واستطاعةً عاد إليه.
أما طريقة سِفاده وجمعه عِشَّه، واعتنائه ببيضه وصغاره_فهي من أعجب العجب، وقد ذكر ابن القيم في كتابه (شفاء العليل) أوجه شبه كثيرة بين الإنسان والحمام.
ومن عجيب هداية الديك الشاب أنه إذا أُلْقِيَ له حبٌّ لم يأكلْه، حتى إذا هرم وشاخ أكله من غير تفريق، كما قال المدائني: إن إياس بن معاوية مر بديك ينقر حبَّاً ولا يفرقه فقال ينبغي أن يكون هرماً؛ فإن الديك الشاب يفرق الحب؛ ليجتمع الدجاج فتصيب منه، والهرم قد فنيت رغبته فليس له همة إلا نفسه.
ومن عجيب أمر الثعلب أن ذئباً أكل أولاده وكان للذئب أولاد، وهناك زبية، فعمد الثعلب وألقى نفسه فيها، وحفر فيها سرداباً يخرج منه، ثم عمد إلى أولاد الذئب، فقتلهم وجلس ناحية ينتظر الذئب، فلما أقبل وعرف أنها فِعْلَتُه هرب قُدَّامه وهو يتبعه فألقى نفسه في الزبية، ثم خرج من السرداب، فألقى الذئب نفسه وراءه، فلم يجده ولم يطق الخروج، فقتله أهل الناحية.
ومن عجيب أمره أنه رأى رجلاً ومعه دجاجتان، فاختفى له، وخطف إحداهما، وفَرَّ ثم أعمل فكره في أخذ الثانية، فتراءى لصاحبها من بعيد، وفي فمه ما يشبه الطائر، وأطمعه في استعادتها بأن تركه وفر، فظن الرجل أنها الدجاجة، فأسرع نحوها، فخالفه الثعلب إلى أختها فأخذها وذهب.
এরপর তিনি বিলকিস এবং তাঁর কওম সম্পর্কে কাহিনীর অবশিষ্টাংশ সংবাদ দিলেন এবং তাঁরা যে সূর্য উপাসনায় লিপ্ত ছিল তার অসারতা স্পষ্ট করলেন।
আর এই কবুতর প্রাণীকুলের মধ্যে স্বভাবজাত দিকনির্দেশনা লাভের দিক থেকে অত্যন্ত বিস্ময়কর। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: এটি পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান।
আর বার্তাবাহক কবুতরই হলো সেই সব পাখি যারা চিঠিপত্র এবং কিতাব বহন করে। কখনো কখনো একটি পাখির মূল্য একজন ক্রীতদাস বা গোলামের মূল্যের চেয়েও বেশি হয়ে থাকে; কারণ এর মাধ্যমে যে উদ্দেশ্য হাসিল হয় তা কোনো ক্রীতদাস বা অন্য কোনো প্রাণীর মাধ্যমে সম্ভব হয় না।
কবুতরের দিকনির্দেশনা লাভের ক্ষমতা তার প্রশিক্ষণ এবং আবাসের অভ্যস্ততার ওপর নির্ভরশীল। এটি কল্যাণময় এবং মানুষের প্রতি অনুরাগী হিসেবে পরিচিত; এটি মানুষকে ভালোবাসে এবং মানুষও একে ভালোবাসে। এটি স্থানের প্রতি টান অনুভব করে এবং মালিকের প্রতি অঙ্গীকার ও আনুগত্যে অবিচল থাকে, এমনকি মালিক তার সাথে মন্দ ব্যবহার করলেও। এটি দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে মালিকের কাছে ফিরে আসে। কখনো কখনো তাকে বাধা দেওয়া হয়, ফলে সে দশ বছর পর্যন্ত তার স্বদেশ থেকে দূরে থাকে, তবুও সে আনুগত্যে অবিচল থাকে; এমনকি যখনই সে সুযোগ ও সামর্থ্য পায়, তখনই সেখানে ফিরে আসে।
তার প্রজনন প্রক্রিয়া, বাসা বাঁধার পদ্ধতি এবং তার ডিম ও ছানাদের প্রতি যত্ন নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়কর। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'শিফাউল আলীল' গ্রন্থে মানুষ এবং কবুতরের মধ্যে অনেকগুলো সদৃশ দিক উল্লেখ করেছেন।
তরুণ মোরগের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের একটি বিস্ময়কর দিক হলো, যখন তার সামনে দানা নিক্ষেপ করা হয়, তখন সে তা (একা) খায় না। কিন্তু যখন সে অতি বৃদ্ধ ও জরাগ্রস্ত হয়, তখন সে কোনো বাছবিচার ছাড়াই তা খেয়ে ফেলে। যেমন আল-মাদায়িনী বলেছেন: ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া একটি মোরগের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেটি দানা খুঁটে খাচ্ছিল কিন্তু তা ছড়াচ্ছিল না। তিনি বললেন: এটি অবশ্যই বৃদ্ধ হবে; কারণ তরুণ মোরগ দানা ছিটিয়ে দেয় যাতে মুরগিগুলো একত্রিত হয় এবং তা থেকে খেতে পারে। আর বৃদ্ধের কামনার শক্তি শেষ হয়ে গেছে, তাই নিজের উদরপূর্তি ছাড়া তার আর কোনো চিন্তা নেই।
শিয়ালের একটি বিস্ময়কর ঘটনা হলো, একবার একটি নেকড়ে তার বাচ্চাদের খেয়ে ফেলেছিল। সেই নেকড়েটিরও বাচ্চা ছিল। সেখানে একটি গভীর গর্ত ছিল। শিয়ালটি কৌশলে সেখানে নিজেকে নিক্ষেপ করল এবং সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য একটি সুড়ঙ্গ খনন করল। এরপর সে নেকড়ের বাচ্চাদের কাছে গিয়ে তাদের মেরে ফেলল এবং একপাশে বসে নেকড়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। যখন নেকড়েটি ফিরে এল এবং বুঝতে পারল যে এটি শিয়ালের কাজ, তখন শিয়ালটি তার সামনে দিয়ে দৌড় দিল এবং নেকড়েটি তাকে তাড়া করল। শিয়ালটি নিজেকে সেই গর্তে নিক্ষেপ করল এবং সুড়ঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে গেল। নেকড়েটি তার পিছে পিছে গর্তে ঝাঁপ দিল, কিন্তু তাকে খুঁজে পেল না এবং গর্ত থেকে বের হতেও পারল না। অবশেষে এলাকার লোকেরা তাকে মেরে ফেলল।
তার আরেকটি বিস্ময়কর ঘটনা হলো, সে এক ব্যক্তিকে দেখল যার কাছে দুটি মুরগি ছিল। সে লোকটির আড়ালে ওত পেতে থাকল এবং একটি মুরগি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেল। এরপর সে দ্বিতীয়টি নেওয়ার ফন্দি আঁটল। সে দূর থেকে মালিকের সামনে এমনভাবে হাজির হলো যে তার মুখে একটি পাখির মতো কিছু ছিল। সে লোকটিকে সেটি উদ্ধারের লোভ দেখানোর জন্য সেটি ফেলে রেখে পালিয়ে গেল। লোকটি ভাবল যে এটিই তার মুরগি, তাই সে দ্রুত সেটির দিকে ধাবিত হলো। তখন শিয়ালটি লোকটির অগোচরে তার অপর মুরগিটির কাছে গিয়ে সেটি নিয়ে চলে গেল।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن هداية الحمار_وهو من أبلد الحيوان_أن الرجل يسير به، ويأتي به إلى منزله في البعد في ليلة مظلمة، فيعرف المنزل، فإذا خُلِّي جاء إليه.
ثم إنه يُفرِّق بين الصوت الذي يُسْتَوْقَفُ به، وبين الصوت الذي يُحث به على السير.
ومن عجيب أمر الفأرة أنها إذا شربت من الزيت الذي في أعلى الجرة فَنَقَصَ، وعَزَّ عليها الوصولُ إليه_ذهبت وحملت في أفواهها ماءً وَصَبَّتْهُ في الجرة؛ حتى يرتفع الزيت فتشربه.
وكثير من العقلاء يتعلم من الحيوانات البهم أموراً تنفعه في معاشه وأخلاقه، وصناعته، وحربه، وحزمه، وصبره.
وهداية الحيوان فوق هداية أكثر الناس، قال_تعالى_: [أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَاّ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلاً] (الفرقان: 44) .
قال أبو جعفر الباقر: =والله ما اقتصر على تشبيههم بالأنعام حتى جعلهم أضل سبيلاً منها+.
قيل لرجل: مَنْ علمك البكور في حوائجك أول النهار لا تخل به؟.
قال: مَنْ علم الطير تغدو خماصاً كل بكرة في طلب أقواتها على قربها وبعدها لا تسأم ذلك، ولا تخاف ما يعرض لها في الجو والأرض.
وقيل لآخر: مَنْ عَلَّمك السكونَ، والتحفظ، والتماوت حتى تظفر بإربك، فإذا ظفرت به وثبت وثوب الأسد على فريسته؟.
فقال: الذي علم الهرة أن ترصد جحر الفأرة فلا تتحرك، ولا تتلوى، ولا تختلج، حتى كأنها ميتة، حتى إذا برزت الفأرة وَثَبَتْ عليها كالأسد.
وقيل لآخر: مَنْ عَلَّمك حسن الإيثار والبذل والسماحة؟.
قال: مَنْ علم الديك يصادف الحبة في الأرض وهو يحتاج إليها ولا يأكلها، بل يستدعي الدجاج، ويطلبهن طلباً حثيثاً حتى تجيء الواحدةُ منهن، فتلقطها وهو مسرور بذلك طيب النفس به، وإذا وضع له الحب الكثير فَرَّقه ها هنا وها هنا وإن لم يكن له دجاج؛ لأن طبعه قد ألف البذل والجود؛ فهو يرى أنه من اللؤم أن يستبد وحده بالطعام.
গাধার সহজাত দিকনির্দেশনা—যেটি প্রাণিকুলের মধ্যে অন্যতম স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী—এর মধ্যে একটি হলো এই যে, কোনো ব্যক্তি সেটিকে সাথে নিয়ে চলতে চলতে দূরবর্তী কোনো এক অন্ধকার রাতে নিজের বাড়িতে নিয়ে এলে সেটি বাড়িটি চিনে ফেলে, এবং যখনই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, সে সেখানে চলে আসে।
অতঃপর সে সেই আওয়াজের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে যার মাধ্যমে তাকে থামানো হয় এবং সেই আওয়াজের মধ্যে যার মাধ্যমে তাকে চলতে উৎসাহিত করা হয়।
ইঁদুরের একটি বিস্ময়কর বিষয় হলো, যখন সে জারের উপরের স্তরের তেল পান করে এবং তাতে তেলের পরিমাণ কমে যায়, ফলে তেল পর্যন্ত পৌঁছানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে—তখন সে যায় এবং মুখে করে পানি বহন করে আনে এবং তা জারের মধ্যে ঢালতে থাকে; যাতে তেলের স্তর উপরে উঠে আসে এবং সে তা পান করতে পারে।
অনেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি এই নির্বাক প্রাণীদের থেকে এমন সব বিষয় শিক্ষা লাভ করেন যা তাদের জীবনোপজীবিকা, চারিত্রিক গুণাবলি, শিল্পকর্ম, যুদ্ধবিদ্যা, দৃঢ়তা এবং ধৈর্যের ক্ষেত্রে উপকারে আসে।
আর প্রাণিকুলের সহজাত নির্দেশনা অধিকাংশ মানুষের দিকনির্দেশনার ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নাকি আপনি মনে করেন যে তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো কেবল চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট।" (আল-ফুরকান: ৪৪)।
আবু জাফর আল-বাকির বলেন: "আল্লাহর কসম, তিনি তাদের কেবল চতুষ্পদ জন্তুর সাথে তুলনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তাদের সেসবের চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করেছেন।"
এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "আপনার প্রয়োজনে দিনের শুরুতে ভোরে বের হওয়ার বিষয়টি আপনাকে কে শিখিয়েছে, যা আপনি কখনো পরিহার করেন না?"
তিনি বললেন: "যিনি পাখিকে শিখিয়েছেন যে তারা প্রতিদিন সকালে ক্ষুধার্ত পেটে খাবারের সন্ধানে বের হবে, তা কাছে হোক বা দূরে, তারা তাতে ক্লান্ত হয় না এবং আকাশ ও জমিনে তাদের সামনে যা আসে তাকে ভয় পায় না।"
অন্য একজনকে বলা হলো: "কে আপনাকে শিখিয়েছে শান্ত থাকা, সতর্কতা অবলম্বন করা এবং উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত মটকা মেরে পড়ে থাকা, আর যখনই সুযোগ পাওয়া যায় তখন শিকারের উপর সিংহের মতো ঝাঁপিয়ে পড়া?"
তিনি বললেন: "যিনি বিড়ালকে শিখিয়েছেন ইঁদুরের গর্তের দিকে নজর রাখতে এবং নড়াচড়া না করে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ না নাড়িয়ে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে যেন সে মৃত, এরপর যখনই ইঁদুরটি বের হয় তখন সে সিংহের মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।"
অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "কে আপনাকে উত্তম পরার্থপরতা, দানশীলতা এবং মহানুভবতা শিখিয়েছে?"
তিনি বললেন: "যিনি মোরগকে শিখিয়েছেন যে, সে জমিনে শস্যদানা দেখতে পেয়েও নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তা খায় না; বরং সে মুরগিদের ডাকে এবং তাদের খুব গুরুত্বের সাথে আহ্বান জানায় যতক্ষণ না তাদের কেউ আসে এবং তা খুঁটে খায়। এতে মোরগ আনন্দিত হয় এবং তার মন তৃপ্ত থাকে। আর যখন তার সামনে অনেক দানা রাখা হয়, তখন সে মুরগি না থাকলেও দানাগুলো এদিক-ওদিক ছড়িয়ে দেয়; কারণ তার প্রকৃতি দান ও মহানুভবতায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সে একাকী খাবার গ্রহণ করাকে হীনতা বলে মনে করে।"
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومَنْ علَّم الأسد إذا مشى وخاف أن يُقْتَفَى أثره ويُطلب؟ عَفَّى مِشْيَته بذنبه؟!.
ومن ألهم كرام الأسود وأشرافها أن لا تأكل إلا من فريستها، وإذا مر بفريسة غيره لم يدن منها ولو جهده الجوع؟ !.
ومن علم الأنثى من الفيلة إذا دنا وَقْتُ ولادتها أن تأتي إلى الماء، فتلدَ فيه؛ لأنها دون الحيوانات لا تلد إلا قائمة؛ لأن أوصالها على خلاف أوصال الحيوان، وهي عالية، فتخاف أن تسقطه على الأرض فينصدع، أو ينشق، فتأتي ماء وسطاً تضعه فيه يكون كالفراش اللين والوطاء الناعم؟ !.
ومَنْ علم الذباب إذا سقط في مائع أن يتقي بالجناح الذي فيه الداء دون الآخر؟!.
ومَنْ علم الذئب إذا نام أن يجعل النوم نُوَباً بين عينيه، فينام بإحداهما حتى إذا نعست الأخرى نام بها، وفتح النائمة حتى قيل فيه:
ينام بإحدى مقلتيه ويتقي **** بأخرى المنايا فهو يقظان نائم
وهذا باب واسع جدَّاً، ويكفي فيه قوله_سبحانه وتعالى_: [وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَاّ أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ] (الأنعام: 38) .
قال مجاهد: =أمم أمثالكم+ أصناف مصنفة تُعْرف بأسمائها. وقال الزجاج: =أمم أمثالكم+ في أنها تبعث، وقال ابن قتيبة: =أمم أمثالكم+ في طلب الغذاء وابتغاء الرزق وتَوَقِّي المهالك، وقال سفيان بن عيينة: ما في الأرض آدمي إلا وفيه شبه من البهائم؛ فمنهم من يهتصر اهتصار الأسد، ومنهم يعدو كعدو الذئب، ومنهم من ينبح نباح الكلب، ومنهم من يتطوس كفعل الطاووس، ومنهم من يشبه الخنازير التي لو ألقي إليها الطعام الطيب لعافته، فإذا قام الرجل من رجيعه ولغت فيه؛ فلذلك تجد من الآدميين من لو سمع خمسين حكمةً لم يحفظ منها واحدة وإن أخطأ رجلٌ تروّاه وحفظه.
আর কে সিংহকে শিখিয়েছে যে, যখন সে পথ চলে এবং তার পিছু নেওয়া হবে বা তাকে অনুসন্ধান করা হবে বলে ভয় পায়, তখন সে তার লেজ দিয়ে নিজের পায়ের চিহ্ন মুছে ফেলে?!
আর কে উচ্চবংশীয় ও অভিজাত সিংহদের অন্তরে এই ইলহাম করেছেন যে, তারা কেবল নিজেদের শিকার করা প্রাণী ছাড়া অন্য কিছু খাবে না? এমনকি যখন সে অন্য কারো শিকার করা প্রাণীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন ক্ষুধার তীব্রতা থাকা সত্ত্বেও সে তার নিকটবর্তী হয় না?!
আর কে মাদী হাতিকে শিখিয়েছে যে, যখন তার প্রসবকাল ঘনিয়ে আসে, তখন সে পানির নিকট চলে আসে এবং সেখানেই প্রসব করে? কারণ অন্যান্য পশুর বিপরীতে সে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা ছাড়া প্রসব করে না; যেহেতু তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্যান্য পশুর গঠনের বিপরীত এবং সে দীর্ঘকায়। তাই সে ভয় পায় যে, বাচ্চাটি মাটিতে পড়লে হয়তো আঘাতপ্রাপ্ত হবে অথবা ফেটে যাবে। ফলে সে পরিমিত গভীরতার পানির নিকট আসে এবং সেখানে বাচ্চা প্রসব করে, যা একটি কোমল বিছানা ও মসৃণ শয্যার মতো হয়ে থাকে?!
আর কে মাছিকে শিখিয়েছে যে, যখন সে কোনো তরল পদার্থে পড়ে, তখন সে সেই ডানা দিয়ে আত্মরক্ষা করে যাতে রোগ রয়েছে, অন্যটি বাদ দিয়ে?!
আর কে নেকড়েকে শিখিয়েছে যে, যখন সে ঘুমায়, তখন সে তার দুই চোখের মাঝে পর্যায়ক্রমে নিদ্রাকে ভাগ করে দেয়? সে এক চোখ দিয়ে ঘুমায়, অতঃপর যখন অন্যটি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয় তখন সেটি দিয়ে ঘুমায় এবং পূর্বের ঘুমন্ত চোখটি খুলে রাখে। এমনকি তার সম্পর্কে বলা হয়েছে:
সে তার একটি চক্ষুপল্লব দিয়ে ঘুমায় এবং অন্যটি দিয়ে মৃত্যু থেকে সতর্ক থাকে; ফলে সে ঘুমন্ত অবস্থায়ও জাগ্রত থাকে।
এটি অত্যন্ত বিশাল একটি অধ্যায়। আর এ বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীই যথেষ্ট: [আর জমিনে বিচরণকারী কোনো প্রাণী এবং নিজ দুই ডানায় ভর করে উড়ন্ত কোনো পাখি এমন নেই যারা তোমাদের মতোই একেকটি জাতি নয়। আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি] (সূরা আল-আন’আম: ৩৮)।
মুজাহিদ বলেন: ‘তোমাদের মতোই জাতিসমূহ’ অর্থ হলো বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত সৃষ্টি যারা নিজ নিজ নামে পরিচিত। যাজ্জাজ বলেন: ‘তোমাদের মতোই জাতিসমূহ’ পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে। ইবনে কুতাইবাহ বলেন: ‘তোমাদের মতোই জাতিসমূহ’ খাদ্য অনুসন্ধান, রিযিক অন্বেষণ এবং বিপদ থেকে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেন: পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যার মাঝে চতুষ্পদ প্রাণীর কোনো না কোনো সাদৃশ্য নেই। তাদের মধ্যে কেউ সিংহের মতো আক্রমণাত্মক, কেউ নেকড়ের মতো দৌড়ায়, কেউ কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে, কেউ ময়ূরের মতো চালচলন দেখায়, আবার কেউ শূকরের মতো যাদের সামনে উত্তম খাবার নিক্ষেপ করা হলেও তারা তা অপছন্দ করে, কিন্তু মানুষ যখন তার মলত্যাগ করে উঠে যায় তখন সে তাতে মুখ দেয়। এ কারণেই আপনি মানুষের মধ্যে এমন কাউকে পাবেন, যে যদি পঞ্চাশটি প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা শুনে তবে তার একটিও মনে রাখে না, কিন্তু যদি কোনো মানুষ একটি ভুল করে তবে সে তা গুরুত্ব দিয়ে স্মরণে রাখে এবং মুখস্থ করে ফেলে।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهذا كله من أدل الدلائل على الخالق لها_سبحانه وتعالى_وعلى إتقان صنعه، وعجيب تدبيره، ولطيف حكمته؛ فإن فيما أودعها من غرائب المعارف، وغوامض الحيل، وحسن التدبير، والتَّأتي لما تريده_ما يستنطق الأفواه بالتسبيح، ويملأ القلوب من معرفته، ومعرفة حكمته، وقدرته، وما يعلم به كل عاقل أنه لم يخلق عبثاً، ولم يترك سدىً، وأن له حكمةً باهرةً، وآيةً ظاهرة، وبرهاناً قاطعاً، يدل على أنه رب كلِّ شيءٍ ومليكُه، وأنه المنفرد بكل كمالٍ دون خلقهِ، وأنه على كل شيء قدير، وبكل شيء عليم (1) .
هـ _ دلالة الآفاق:
ومن آياته الدالة على وحدانيتة دلالة الآفاق التي يراها كل أحدٍ؛ العالم والجاهل، المؤمن والكافر، فلو تأمل الإنسان بعين البصيرة والتدبر والتفكر_لأدرك عظمة مَنْ أنشأها، ولَدَعاه ذلك إلى عبادته وحده لا شريك له.
قال الشيخ عبد الرحمن بن سعدي×عند قوله تعالى: [سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ] (فصلت:53) : =وقد فعل_تعالى_فإنه أرى عباده من الآيات ما به تبين أنه الحق، ولكن الله هو الموفق للإيمان من شاء، الخاذل لمن يشاء+ (2) .
وقال×في موطن آخر_أيضاً_: =كلما تدبر العاقل في هذه المخلوقات، وتغلغل فكره في بدائع الكائنات_علم أنها خلقت للحق بالحق، وأنها صحائف آيات، وكتب براهين، ودلالات على جميع ما أخبر به عن نفسه ووحدانيته، وما أخبرت به الرسل عن اليوم الآخر، وأنها مدبرات، مسخرات، ليس لها تدبير ولا استعصاء على مدبرها ومصرفها، فتعرف أن العالَم العلويَّ والسفلي كلَّهم إليه مفتقرون، وإليه صامدون، وأنه الغني بالذات عن جميع المخلوقات، فلا إله إلا هو ولا رب سواه+ (3) .
--------------------------------------------
আর এ সবই হচ্ছে এগুলোর স্রষ্টার (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) অস্তিত্বের, তাঁর নিপুণ সৃষ্টিশৈলীর, তাঁর বিস্ময়কর পরিচালনা এবং তাঁর সূক্ষ্ম হিকমতের অকাট্যতম দলীলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, তিনি এগুলোর মাঝে যে সকল অদ্ভুত জ্ঞান, নিগূঢ় কৌশল, সুন্দর ব্যবস্থাপনা এবং উদ্দিষ্ট বিষয় অর্জনের সক্ষমতা গচ্ছিত রেখেছেন—তা মুখসমূহকে তাসবিহ পাঠে উদ্বুদ্ধ করে এবং অন্তরসমূহকে তাঁর পরিচয়, তাঁর হিকমত ও তাঁর ক্ষমতার পরিচয়ে ভরিয়ে দেয়। আর এর মাধ্যমে প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তি জানতে পারে যে, তাকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি এবং তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং তাঁর রয়েছে এক উজ্জ্বল হিকমত, এক প্রকাশ্য নিদর্শন এবং এক চূড়ান্ত প্রমাণ, যা নির্দেশ করে যে তিনি হচ্ছেন সবকিছুর পালনকর্তা ও মালিক। আর তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত ব্যতিরেকে একাই সকল পূর্ণতার অধিকারী, এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান ও সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত (১)।
ঙ — দিগন্তের নিদর্শনসমূহ:
আর তাঁর একত্ববাদের ওপর নির্দেশকারী নিদর্শনসমূহের অন্যতম হচ্ছে দিগন্তের নিদর্শনসমূহ যা সবাই দেখতে পায়—চাই সে আলেম হোক বা জাহেল, মুমিন হোক বা কাফের। অতএব, মানুষ যদি অন্তর্দৃষ্টি, অনুধ্যান এবং চিন্তাশীল নয়নে গভীর পর্যবেক্ষণ করত, তবে সে এগুলোর উদ্ভাবকের মহানুভবতা উপলব্ধি করতে পারত এবং তা তাকে তাঁরই ইবাদতের দিকে আহ্বান করত যার কোনো অংশীদার নেই।
শায়খ আবদুর রহমান বিন সাদী মহান আল্লাহর বাণী: [শীঘ্রই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দিগন্তরেখায় এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব] (ফুসসিলাত: ৫৩) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: =নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে এমন সব নিদর্শন দেখিয়েছেন যার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তিনি সত্য। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ঈমানের তাওফিক দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপদস্থ (তাওফিকহীন) করেন+ (২)।
তিনি অন্য এক স্থানে আরও বলেছেন: =বিবেকবান ব্যক্তি যখনই এই সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করে এবং তার ভাবনা সৃষ্টিরাজ্যের অভিনবত্বের গভীরে প্রবেশ করে, তখনই সে জানতে পারে যে এগুলোকে সত্যের জন্য এবং সত্য সহকারেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এগুলো হচ্ছে নিদর্শনের পত্রলিপি এবং দলীল ও প্রমাণের গ্রন্থাবলি, যা তিনি নিজের সম্পর্কে ও নিজের একত্ববাদ সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন এবং রাসূলগণ পরকাল সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন—সেসবের ওপর প্রমাণস্বরূপ। আরও স্পষ্ট হয় যে এগুলো নিয়ন্ত্রিত ও বশীভূত, এগুলোর পরিচালক ও নিয়ন্ত্রকের ওপর এদের কোনো পরিচালনা করার ক্ষমতা নেই এবং অবাধ্য হওয়ার সুযোগও নেই। ফলে আপনি জানতে পারবেন যে, উচ্চজগত ও নিম্নজগত—সবই তাঁর মুখাপেক্ষী এবং তাঁর অভিমুখী। আর তিনি সত্তাগতভাবেই সমস্ত মাখলুকাত থেকে অভাবমুক্ত। অতএব তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো রব নেই+ (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال رحمه في موطن آخر: =فهذا خبره_تعالى_عن أمور مُسْتَقْبَلَةٍ أنه يُري عباده من الآيات والبراهين في الآفاق وفي الأنفس ما يدلهم على أن القرآن حق، والرسول حق، وما جاء به هو الحق+ (1) .
وفي كل عصر من العصور يُطلع الله عباده على أمور عظيمة في هذا الكون الفسيح.
وفي العصور المتأخرة ظهر العديد من الاكتشافات والمخترعات والحقائق العلمية، ولا يزال الباحثون يكتشفون في كل يوم سراً من أسرار هذا الكون العظيم، مما جعلهم يقفون حائرين واجمين معترفين بالتقصير والعجز، وأن هناك عوالمَ أخرى مجهولةً، وأخرى لم تكتشف بعد.
وخلاصة القول في هذا أن كل ما في الآفاق يدل دلالة قاطعة على وجود مدبر حكيم، رب عليم، مستحق للعبادة، ولكن:
إذا لم يكن للمرء عينٌ صحيحةٌ **** فلا غرو أن يرتاب والصبح مسفر
و_عبودية الكائنات (2) :
فالله_سبحانه_قد خلق جميع الكائنات؛ إنسها، وجنها، وملائكها، وحيوانها، وجمادها، ونباتها، وغيرها من الكائنات_لعبادته_سبحانه_وفطرها على توحيده، والاعتراف بألوهيته، والإقرار بفقرها وحاجتها وخضوعها وصمودِها له_جل وعلا_.
فكل هذه الكائنات تقوم بعبادة الله_عز وجل_ولا يُخِلُّ بذلك إلا الإنسان المعاند الزائغ عن شرع الله_سبحانه وتعالى_المخالف لنظام هذا الكون المحكم البديع؛ الذي ما قام إلا على عبودية الله.
هذا وتختلف العبوديات من مخلوق إلى مخلوق.
فمن تلك العبوديات: عبودية الإنس، فهي أشرفها وأفضلها.
وأشرف ما فيها عبوديةُ الأنبياء لربهم، وقيامهم بالدعوة والجهاد وغير ذلك، ثم عبودية أتباعهم وأتباع أتباعهم.
ومن ذلك: عبودية الملائكة، والجن وهذا ليس بمستغرب.
أما الغريب حقَّاً فهو عبودية الجمادات والحيوانات، التي يعتقد كثير من الناس أنها لا تعقل ولا تدرك، وليس لها أيُّ عبودية لله.
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অন্য এক স্থানে বলেছেন: "এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ বিষয়সমূহ সম্পর্কে সংবাদ যে, তিনি তাঁর বান্দাদের দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে এমন সব নিদর্শন ও প্রমাণ দেখাবেন যা তাদের নির্দেশ করবে যে কুরআন সত্য, রাসূল সত্য এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য।" (১)।
আর প্রতিটি যুগেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের এই বিশাল মহাবিশ্বের মহান বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবহিত করেন।
আধুনিক যুগে অনেক আবিষ্কার, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। গবেষকরা আজও প্রতিদিন এই বিশাল মহাবিশ্বের রহস্যসমূহের মধ্য থেকে কোনো না কোনো রহস্য উন্মোচন করে চলেছেন, যা তাদের হতবাক ও নিথর করে দিয়েছে এবং তারা নিজেদের ত্রুটি ও অক্ষমতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, আরও অনেক অজানা জগত রয়েছে এবং এমন অনেক কিছু আছে যা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি।
এর সারকথা হলো, দিগন্তসমূহের সবকিছুই একজন প্রজ্ঞাময় পরিকল্পনাকারী, সর্বজ্ঞাত রব এবং ইবাদতের যোগ্য সত্তার অস্তিত্বের ওপর চূড়ান্ত প্রমাণ বহন করে। কিন্তু:
যদি মানুষের চোখ সঠিক না থাকে **** তবে সুপ্রভাত বিকশিত হওয়া সত্ত্বেও তার সন্দেহ পোষণ করাতে কোনো বিস্ময় নেই
সৃষ্টিজগতের দাসত্ব (২):
মহান আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন; মানুষ, জিন, ফেরেশতা, পশু-পাখি, জড় পদার্থ, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য সৃষ্টিকে তাঁরই ইবাদতের জন্য। তিনি এদেরকে তাঁর তাওহীদের ওপর, তাঁর উলুহিয়্যাত (উপাস্যতা) স্বীকার করার ওপর এবং তাঁর সমীপে নিজেদের অভাব, মুখাপেক্ষিতা, বিনয় ও অটলতা প্রকাশের স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন।
সুতরাং এই সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র ইবাদত সম্পন্ন করে। অবাধ্য ও পথভ্রষ্ট মানুষ ছাড়া আর কেউ এতে ব্যাঘাত ঘটায় না, যে আল্লাহর শরীয়ত থেকে বিচ্যুত এবং এই মহাবিশ্বের সুদৃঢ় ও চমৎকার নিয়মের বিরোধী; যা আল্লাহর দাসত্ব ছাড়া আর কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
আর সৃষ্টিভেদে এই দাসত্বের ধরণ ভিন্ন ভিন্ন হয়।
সেই দাসত্বসমূহের মধ্যে রয়েছে: মানুষের দাসত্ব, যা সবচেয়ে সম্মানিত ও উত্তম।
আর এর মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত হলো তাঁদের রবের প্রতি নবীদের দাসত্ব এবং তাঁদের দাওয়াত, জিহাদ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা। এরপর তাঁদের অনুসারীদের এবং তাঁদের অনুসারীদের অনুসারীদের দাসত্ব।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: ফেরেশতা ও জিনদের দাসত্ব, আর এটি বিস্ময়কর কিছু নয়।
তবে যা প্রকৃতপক্ষেই বিস্ময়কর তা হলো জড় পদার্থ এবং পশু-পাখিদের দাসত্ব, যাদের সম্পর্কে অনেক মানুষ মনে করে যে তাদের জ্ঞান বা উপলব্ধি নেই এবং আল্লাহর প্রতি তাদের কোনো দাসত্ব নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إن هذا الكون الواسع بما فيه من الكائنات كلّه يخضع لخالقه وبارئه، ويؤدي عبودية له_سبحانه وتعالى_فلقد ثبت لهذه الكائنات في الكتاب والسنة طاعاتٌ كثيرةٌ كالسجود، والتسبيح، والصلاة، والاستغفار، والإسلام، والإشفاق، وغيرها.
فعن سجود هذه الكائنات يقول الله_عز وجل_: [أَلَمْ تَرَى أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ] (الحج: 18) .
وليس بالضرورة أن يكون هذا السجود مثل سجود الآدميين من المسلمين؛ فسجود كلِّ أحدٍ بحسبه.
وأما عن تسبيح الكائنات فذلك كما في قوله_تعالى_: [تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَاّ يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيماً غَفُوراً] (الإسراء: 44) . فالكائنات كلها تسبح خالقها تسبيحاً لا نفقهه نحن البشر، وعدم معرفتنا به ليس دليلاً على نفيه؛ فلقد خص الله بعض خلقه بالاطلاع على تسبيح بعض الكائنات، وأفهمه تسبيحها كداود_عليه السلام_.
أما صلاتُها فقد قال الله_تعالى_: [أَلَمْ تَرَى أَنَّ اللَّهَ يُسَبِّحُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَالطَّيْرُ صَافَّاتٍ كُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلاتَهُ وَتَسْبِيحَهُ] (النور: 41) .
فكلها يصلي، ويسبح لله، وليس بالضرورة أن نفهم ذلك.
أما عن استغفارها ففي حديث أبي الدرداء÷قال: سمعت رسول الله"يقول: =وإن طالب العلم يستغفر له من في السماء والأرض حتى الحيتان في الماء+ (1) .
--------------------------------------------
এই বিশাল মহাবিশ্ব তার সমস্ত সৃষ্টিজগতসহ তার স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের অনুগত এবং তারা তাঁর—তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ—দাসত্ব পালন করে। কুরআন ও সুন্নাহতে এই সৃষ্টিজগতের জন্য সিজদা, তাসবিহ (মহিমা ঘোষণা), সালাত, ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা), ইসলাম (আত্মসমর্পণ), ইশফাক (ভীতি) ইত্যাদির মতো অনেক আনুগত্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই সৃষ্টিজগতের সিজদা সম্পর্কে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: "তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহকে সিজদা করে যারা আসমানসমূহে আছে এবং যারা জমিনে আছে, আর সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমণ্ডলী, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং মানুষের মধ্যে অনেকে? আবার অনেকের ওপর আজাব অবধারিত হয়েছে।" (হজ্জ: ১৮)।
আর এই সিজদা মুসলিম মানুষের সিজদার মতোই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই; বরং প্রত্যেকের সিজদা তার নিজ নিজ ধরন অনুযায়ী হয়ে থাকে।
আর সৃষ্টিজগতের তাসবিহ বা মহিমা ঘোষণার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: "সপ্ত আসমান, জমিন এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে সবাই তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করে। এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে না; কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি অতি সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।" (ইসরা: ৪৪)। সুতরাং সমস্ত সৃষ্টিই তাদের স্রষ্টার তাসবিহ পাঠ করে যা আমরা মানুষেরা বুঝি না। আমাদের তা না জানা সেটা না হওয়ার প্রমাণ নয়; কেননা আল্লাহ তাঁর কিছু সৃষ্টিকে কোনো কোনো সৃষ্টির তাসবিহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং তাদের তাসবিহ তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যেমন দাউদ (আলাইহিস সালাম)।
আর তাদের সালাত সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: "তুমি কি দেখনি যে, আসমানসমূহ ও জমিনে যারা আছে তারা এবং ডানা বিস্তারকারী পাখিরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই তার সালাত ও তাসবিহ জানে।" (নূর: ৪১)।
অতএব তারা সবাই আল্লাহর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করে এবং তাসবিহ পাঠ করে, আর আমাদের তা বুঝতে পারা আবশ্যক নয়।
আর তাদের ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির মাছও।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أما عن إسلامها لله_تعالى_فقد قال_عز وجل_: [أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعاً وَكَرْهاً وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ] (آل عمران:83) .
إلى غير ذلك من العبوديات المتنوعة التي لا يتسع المقام لذكرها (1) .
وهناك كتاب صدر مؤخراً بعنوان (عبودية الكائنات لرب العالمين) (2) حيث تكلم مؤلفه على عبودية الكائنات بالتفصيل، ومن ضمن ما تلكم عليه: سجود الدواب، وإشفاقها من يوم القيامة، وراحتها من موت الفاجر، وعن كلام الدواب، كالبقرة، والجمل، والحيتانِ، والديك، والذئب، والفرس، والنمل، والهدهد.
كما تحدث عن عبودية الشجر، وسجودها، وسماعها لأذان المؤذن، وتلبيتها في الحج أو العمرة، وعن ولاء الشجر وبرائه، وعن موقف الشجرة من النبي"وسلامها عليه، وانقيادها له، وحنينها إليه، وشهادتها له بالتوحيد، ومواقفها مع المسلمين، كما تحدث عن عبودية الجبال، وسجودها لله، وتسبيحها له، وعن تلبية الحجر، وسماعه للأذان، وعن خشية الجبال، وخوفها، وعرض الأمانة عليها، وسرورها، وفرحها بمن يذكر الله عليها، وعن مواقف الجبال مع بعض الأنبياء_عليهم السلام_.
كما تحدث عن عبودية السموات والأرض وتسبيحها لله، وإنكارها قول النصارى: إن المسيح ابن الله، وبكائها على فراق المؤمنين الصالحين.
وتحدث أيضاً عن عبودية الملائكة والإنس والجن، كل ذلك مقرون بالأدلة من الكتاب والسنة.
ومن هنا يتبين لنا أن المخلوقاتِ مفتقرةٌ إلى الله_سبحانه وتعالى_=وأن فقرَها وحاجَتها إليه وصفٌ ذاتيٌ لهذه الموجودات المخلوقة، كما أن الغنى وصف ذاتي للرب الخالق+ (3) .
فصمود الكائنات كلها وفقرها إلى الله يدل دلالة واضحة على وحدانيته_سبحانه وتعالى_.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার প্রতি তাদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন: [তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুই স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই কাছে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে] (আল ইমরান: ৮৩)।
এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের দাসত্ব ও আনুগত্য রয়েছে যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই (১)।
সম্প্রতি 'বিশ্ব জাহানের রবের প্রতি সৃষ্টিজগতের দাসত্ব' (২) শিরোনামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে এর লেখক সৃষ্টিজগতের দাসত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: চতুষ্পদ জন্তুর সিজদা, কিয়ামত দিবসের প্রতি তাদের ভীতি, পাপাচারীর মৃত্যুতে তাদের স্বস্তি এবং পশুপাখির কথা বলা; যেমন গাভী, উট, মাছ, মোরগ, নেকড়ে, ঘোড়া, পিপীলিকা ও হুদহুদ পাখি।
তিনি আরও আলোচনা করেছেন বৃক্ষলতার দাসত্ব, তাদের সিজদা, মুয়াজ্জিনের আজান শোনা, হজ বা উমরায় তাদের তালবিয়া পাঠ, বৃক্ষলতার বন্ধুত্ব ও শত্রুতা (ওয়ালা ও বারা), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি গাছের অবস্থান ও তাকে সালাম প্রদান, তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর প্রতি ব্যাকুলতা এবং তাঁর তাওহিদের সাক্ষ্য প্রদান ও মুসলমানদের সাথে তাদের অবস্থানের বিষয়ে। একইভাবে তিনি পাহাড়-পর্বতের দাসত্ব, আল্লাহর প্রতি তাদের সিজদা ও তাসবিহ পাঠ, পাথরের তালবিয়া পাঠ ও আজান শোনা, পাহাড়ের আল্লাহভীতি ও ভয়, তাদের নিকট আমানত পেশ করা এবং যারা আল্লাহর জিকির করে তাদের নিয়ে পাহাড়ের আনন্দ ও উল্লাস এবং কতিপয় নবী (আলাইহিমুস সালাম)-গণের সাথে পাহাড়ের অবস্থানের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি আরও আলোচনা করেছেন আসমান ও জমিনের দাসত্ব এবং আল্লাহর প্রতি তাদের তাসবিহ পাঠ সম্পর্কে, খ্রিস্টানদের এই উক্তির অস্বীকৃতি যে: ঈসা আল্লাহর পুত্র, এবং নেককার মুমিনদের বিদায়ে তাদের ক্রন্দন সম্পর্কে।
তিনি ফেরেশতা, মানুষ ও জিনের দাসত্ব সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন, যার সবই কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ভিত্তিতে পেশ করা হয়েছে।
এখান থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, সকল সৃষ্টি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার মুখাপেক্ষী এবং তাঁর প্রতি এই মুখাপেক্ষীতা ও অভাব এই সৃষ্টিসমূহের একটি সত্তাগত বৈশিষ্ট্য, যেমনটি অভাবহীনতা বা অমুখাপেক্ষীতা সৃষ্টিকর্তা রবের একটি সত্তাগত বৈশিষ্ট্য (৩)।
অতএব, সকল সৃষ্টির অটল নির্ভরতা ও আল্লাহর প্রতি তাদের মুখাপেক্ষীতা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একত্বের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ز_اختلاف الطعوم والألوان والروائح في النبات:
وهذا دليل حسي على وحدانية الله؛ فالماء ينزل من السماء عديم اللون والطعم والرائحة، ينزل على الأرض الجرداء، ثم يخرج_بإذن الله_من جَرَّاء ذلك نباتاتٌ مختلفة في اللون، والطعم، والرائحة، فبعضها حلو، وبعضها حامض، وبعضها مُزٌّ، وبعضها أخضرُ، وبعضها أصفرُ، وبعضها أسود.
بل إن النوع الواحد من بعض الثمار متنوع تنوعاً عجيباً؛ ومن ذلك على سبيل المثال (العنب) فمنه جنات معروشات وغير معروشات، ومنه الحلو، ومنه الحامض، ومنه الحامض الحلو، ومنه الأخضر، ومنه الأحمر، ومنه الأسود، ومنه الطويل، ومنه المدور إلى غير ذلك.
وقل مثل ذلك في النخل؛ فمنها ما تكون حلاوته بسراً أكثرَ من حلاوته رطباً والعكس بالعكس، ومنه الأسود، ومنه الأصفر، ومنه الطويل، ومنه المدور، كل ذلك وهو يسقى بماء واحد.
فمن الذي فضَّل بعضها على بعض في الأكل؟ ومن الذي أودعها هذه المزايا من الألوان والأطعمة؟.
إنه الله [وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَى (3) وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَى (4) فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى] (الأعلى: 3_5) .
ح_ اختلاف الألسن:
فنحن نرى اختلاف الألسن واللغات من شعب إلى شعب، ومن إنسان إلى إنسان، فمن الذي علم الإنسان البيان؟ ومن الذي يعلم تلك اللغات جميعاً، ويحصي ما يقولون فلا تختلط عليه؟.
إنه الله الواحد الأحد.
فاختلاف الألسن آية عظيمة تدل على وحدانيته_سبحانه وتعالى_ (1) .
* * *
5 ـ دلالة أسمائه وصفاته (2)
وهذه هي طريقة الخواص يستدلون بالله على أفعاله، فإن قيل: كيف يُسْتَدل بأسمائه وصفاته على استحقاقه للوحدانية، فإن ذلك لا يعهد في الاصطلاح؟
--------------------------------------------
ছ- উদ্ভিদে স্বাদ, রং ও সুগন্ধের ভিন্নতা:
এটি আল্লাহর একত্বের একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ; আকাশ থেকে যে পানি বর্ষিত হয় তা বর্ণহীন, স্বাদহীন ও গন্ধহীন। তা ঊষর ভূমির ওপর পতিত হয়, তারপর আল্লাহর নির্দেশে এর ফলে এমন সব উদ্ভিদ উৎপন্ন হয় যা রঙে, স্বাদে ও সুগন্ধে ভিন্ন ভিন্ন। ফলে কোনটি মিষ্টি, কোনটি টক, কোনটি কষায়, কোনটি সবুজ, কোনটি হলুদ আবার কোনটি কালো হয়ে থাকে।
এমনকি কোনো কোনো ফলের একটি নির্দিষ্ট প্রজাতিও আশ্চর্যজনকভাবে বৈচিত্র্যময়; উদাহরণস্বরূপ (আঙ্গুর)-এর কথা বলা যায়, যার মধ্যে রয়েছে মাচায় তোলা বাগান এবং মাচা ছাড়া বাগান। এর মধ্যে কোনটি মিষ্টি, কোনটি টক, কোনটি টক-মিষ্টি মিশ্রিত, কোনটি সবুজ, কোনটি লাল, কোনটি কালো, কোনটি লম্বাটে এবং কোনটি গোলাকার ইত্যাদি।
খেজুরের ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা বলা যায়; কোনো কোনোটির মিষ্টতা পূর্ণ পাকার চেয়ে কাঁচা অবস্থায় বেশি থাকে, আবার কোনোটির ক্ষেত্রে এর উল্টো হয়। কোনটি কালো, কোনটি হলুদ, কোনটি লম্বা এবং কোনটি গোলাকার। এই সব কিছুই একই পানি দ্বারা সিক্ত হয়।
তাহলে ভক্ষণের ক্ষেত্রে কে এগুলোর একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন? কে এগুলোর মধ্যে রং ও স্বাদের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ গচ্ছিত রেখেছেন?
তিনিই আল্লাহ: [যিনি নির্ধারণ করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন। (৩) আর যিনি চারণভূমি উৎপন্ন করেছেন। (৪) অতঃপর তিনি তাকে কালচে আবর্জনায় পরিণত করেছেন।] (আল-আলা: ৩-৫)।
জ- ভাষার ভিন্নতা:
আমরা জাতিতে জাতিতে এবং মানুষে মানুষে ভাষা ও বাচনভঙ্গির ভিন্নতা দেখতে পাই; তাহলে কে মানুষকে ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা শিখিয়েছেন? আর কে সেই সমস্ত ভাষা জানেন এবং তারা যা বলে তা গণনা করে রাখেন অথচ তাতে তাঁর নিকট কোনো সংশয় বা বিভ্রান্তি ঘটে না?
তিনিই হলেন এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ।
সুতরাং ভাষার ভিন্নতা একটি মহান নিদর্শন যা মহান আল্লাহর একত্বকে প্রমাণ করে (১)।
* * *
৫ — তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রমাণ (২)
এটি হলো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পদ্ধতি, তারা আল্লাহর সত্তার মাধ্যমে তাঁর কার্যাবলির প্রমাণ পেশ করেন। যদি বলা হয়: তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে কীভাবে তাঁর একত্বের অধিকারের প্রমাণ দেওয়া সম্ভব, যখন পরিভাষাগতভাবে তা (সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক তর্কে) পরিচিত নয়?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فالجواب: إن الله قد أودع الفطرة التي لم تتنجس بالجحود والتعطيل، ولا بالتشبيه والتمثيل أنه_سبحانه_الكامل في أسمائه وصفاته، وأنه الموصوف بما وصف به نفسه، ووصفه به رسلُه، وما خفي عن الخلق من كماله أعظمُ مما عرفوه منه.
ومَنْ كماله المقدس شهادتُه على كل شيء، واطِّلاعه عليه؛ بحيث لا يغيب عنه ذرة في السموات ولا في الأرض باطناً وظاهراً.
ومن هذا شأنُه كيف يليق بالعباد أن يشركوا به، وأن يعبدوا غيره، ويجعلوا معه إلهاً آخر؟!.
وكيف يليق بكماله أن يقر من يكذب عليه أعظم الكذب، ويخبر عنه بخلاف ما الأمر عليه، ثم ينصره على ذلك، ويؤيده، ويعلي شأنه، ويجيب دعوته، ويهلك عدوه، ويظهر على يديه من الآيات والبراهين ما يعجز عن مثله قوى البشر، وهو مع ذلك كاذب عليه مفترٍ؟ !.
فأنت ترى من خلال ما مضى أن الاستدلال جرى باسم الله (الشهيد) لتقرير الوحدانية وصدق الرسل.
أما تقرير الوحدانية فإن الإيمان باسم الشهيد يقتضي المراقبة الدائمة لله_عز وجل_فكيف يليق بالعبد أن يعصي الله وهو يعلم أن الله مطلع عليه في كل أحواله؟.
وهذه المراقبة هي أعلى مراتب الدين؛ لأنها مرتبة الإحسان.
أما صدق الرسل من خلال الإيمان بهذا الاسم (الشهيد) ؟ فوجهه أنَّ مَنْ كمال الله_سبحانه_أنه لا يعزب عنه شيءٌ، فكيف يليق بمن هذا شأنه أن يقر من يكذب عليه؟ بل ويؤيده وينصره ويهلك عدوه، بل ويعلي ذكره ودعوته؟ !.
هذا لا يليق، فلو كان الرسل كاذبين لأخذهم الله كما أخذ الدجالين في الماضي والحاضر كمسيلمة والقادياني وغيرهما.
ومن هنا نعلم صدق الرسل من خلال الإيمان باسم (الشهيد) . ولهذا قال بعض أهل العلم إن إنكار رسالة الرسول"جحد للرب بالكلية.
وهذا باب من أبواب الاستدلال على وحدانية الله.
والقرآن مملوء من هذه الطريق، ومن الأمثلة على ذلك قوله
এর উত্তর হলো: নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতি আমানত রেখেছেন যা অস্বীকার ও নিষ্ক্রিয়করণ (তা‘তীল), এবং সাদৃশ্য প্রদান (তাশবীহ) ও উদাহরণ পেশ (তামসীল) দ্বারা কলুষিত হয়নি; যে তিনি—সুবহানাহু—তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীতে পরিপূর্ণ, এবং তিনি সেই গুণেই গুণান্বিত যার মাধ্যমে তিনি নিজে নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূলগণ তাঁর গুণ বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর পূর্ণতা সম্পর্কে মাখলূকের কাছে যা অগোচরে রয়েছে তা তাদের জানার চেয়েও মহান।
তাঁর পবিত্র পূর্ণতার অংশ হলো সবকিছুর ওপর তাঁর সাক্ষ্য প্রদান এবং সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা; যাতে আসমান ও জমিনের কোনো অণু পরিমাণ বস্তুও গোপনে বা প্রকাশ্যে তাঁর অগোচরে থাকে না।
যাঁঁর মহিমা এরূপ, তাঁর সাথে বান্দাদের জন্য শিরক করা, অন্য কারো ইবাদত করা এবং তাঁর সাথে অন্য ইলাহ নির্ধারণ করা কীভাবে সমীচীন হতে পারে?!
আর তাঁর পূর্ণতার সাথে কীভাবে মানানসই হতে পারে যে, তিনি এমন ব্যক্তিকে অনুমোদন দেবেন যে তাঁর প্রতি চরম মিথ্যা আরোপ করে এবং বাস্তবতা বহির্ভূত সংবাদ প্রদান করে; অতঃপর তিনি তাকে এ কাজে সাহায্য করেন, তাকে সমর্থন দান করেন, তার মর্যাদা সমুন্নত করেন, তার দোয়া কবুল করেন, তার শত্রুকে ধ্বংস করেন এবং তার হাতের মাধ্যমে এমন সব নিদর্শন ও প্রমাণ প্রকাশ করেন যার সমকক্ষ হতে মানবশক্তি অক্ষম, অথচ সে তা সত্ত্বেও তাঁর প্রতি মিথ্যাচারী ও অপবাদদাতা হবে?!
সুতরাং আপনি পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছেন যে, আল্লাহর নাম 'আশ-শাহীদ' এর মাধ্যমে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং রাসূলগণের সত্যতা প্রমাণের দলীল পেশ করা হয়েছে।
তাওহীদ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি হলো, 'শাহীদ' নামের ওপর ঈমান মহান আল্লাহ—আযযা ওয়া জাল্লা—এর নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে। সুতরাং বান্দার জন্য আল্লাহর অবাধ্য হওয়া কীভাবে সাজে, অথচ সে জানে যে আল্লাহ তার সকল অবস্থায় তাকে পর্যবেক্ষণ করছেন?
আর এই পর্যবেক্ষণই হলো দ্বীনের সর্বোচ্চ স্তর; কারণ এটি হলো ইহসানের স্তর।
আর এই নামের (শাহীদ) ওপর ঈমানের মাধ্যমে রাসূলগণের সত্যতা কীভাবে প্রমাণিত হয়? এর দিক হলো, আল্লাহ—সুবহানাহু—এর পূর্ণতার অংশ হলো তাঁর অগোচরে কিছুই থাকে না। সুতরাং যাঁর মহিমা এরূপ, তাঁর জন্য কীভাবে সাজে এমন ব্যক্তিকে অনুমোদন দেওয়া যে তাঁর নামে মিথ্যা বলে? বরং তিনি তাকে সমর্থন ও সাহায্য করেন, তার শত্রুকে ধ্বংস করেন, এমনকি তার নাম ও দাওয়াতকে উচ্চকিত করেন?!
এটি সমীচীন নয়। রাসূলগণ যদি মিথ্যাবাদী হতেন তবে আল্লাহ তাদের অবশ্যই পাকড়াও করতেন, যেমন তিনি অতীত ও বর্তমানে মুসাইলিমা, কাদিয়ানী এবং অন্যদের মতো দাজ্জালদের পাকড়াও করেছেন।
এখান থেকেই আমরা 'শাহীদ' নামের ওপর ঈমানের মাধ্যমে রাসূলগণের সত্যতা জানতে পারি। এজন্যই কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে, রাসূলের রিসালাত অস্বীকার করা মূলত রব্বকেই সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করার নামান্তর।
আর এটি আল্লাহর একত্ববাদের দলীলের অন্যতম একটি অধ্যায়।
কুরআন এ জাতীয় পদ্ধতিতে ভরপুর এবং এর উদাহরণস্বরূপ তাঁর বাণী হলো-
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
_تعالى_: [هُوَ اللَّهُ الَّذِي لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ] (الحشر: 23) .
* * *
ثمرات الإيمان بالله للإيمان بالله ثمرات جليلة، وفوائدة جمة، وفضائل كثيرة، منها:
1_الأمن التام والاهتداء التام: فبحسب الإيمان يحصل الأمن والاهتداء في الدنيا والبرزخ والآخرة قال_عز وجل_: [الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُوْلَئِكَ لَهُمْ الأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ] (الأنعام: 82) .
2_الإيمان بالله طاعة لله_عز وجل_: فالله أمرنا بالإيمان به، وطاعتُه واجبةٌ، وهي أصل كل خير، قال_تعالى_: [قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطِ] (البقرة: 136) .
3_الاستخلاف في الأرض والتمكين والعزة: قال_عز وجل_: [وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمْ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً] (النور: 55) .
4_دخول الجنان والنجاة من النيران: قال_تعالى_: [إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ] (محمد: 12) .
5_الحياة الطيبة: فالحياة الطيبة الحافلة بكل ما هو طيب_إنما هي ثمرة من ثمرات الإيمان بالله_عز وجل_[مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً] (النحل: 97) .
_মহান আল্লাহ বলেন_: [তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি অধিপতি, তিনি অতি পবিত্র, তিনি শান্তিদাতা, তিনি নিরাপত্তা দানকারী, তিনি রক্ষক, তিনি পরাক্রমশালী, তিনি প্রবল প্রতাপশালী, তিনি অতি মহিমান্বিত। তারা যা শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।] (আল-হাশর: ২৩)।
* * *
আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার সুফলসমূহ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার মহান সুফল, প্রচুর উপকারিতা এবং অনেক ফজিলত রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:
১_পূর্ণ নিরাপত্তা ও পূর্ণ হেদায়াত: ঈমান অনুযায়ী দুনিয়া, বরজখ এবং আখিরাতে নিরাপত্তা ও হেদায়াত অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: [যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম (শির্ক) দ্বারা কলুষিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।] (আল-আনআম: ৮২)।
২_আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা মহান আল্লাহর এক প্রকার আনুগত্য: আল্লাহ আমাদের তাঁর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব বা আবশ্যিক, আর এটিই সকল কল্যাণের মূল। মহান আল্লাহ বলেন: [তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে।] (আল-বাকারা: ১৩৬)।
৩_পৃথিবীতে খেলাফত লাভ, ক্ষমতা ও মর্যাদা অর্জন: মহান আল্লাহ বলেন: [তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব (খেলাফত) দান করবেন, যেমন তিনি দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন।] (আন-নূর: ৫৫)।
৪_জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি: মহান আল্লাহ বলেন: [নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, যার পাদদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়।] (মুহাম্মদ: ১২)।
৫_পবিত্র জীবন: যাবতীয় উত্তম ও কল্যাণকর বিষয়ে সমৃদ্ধ এক পবিত্র জীবন মূলত মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনারই অন্যতম সুফল। [যে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি অবশ্যই তাকে পবিত্র জীবন দান করব।] (আন-নাহল: ৯৭)।
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال ابن كثير×في شرح هذه الآية: =وهذا وعد من الله_تعالى_لمن عمل صالحاً وهو العمل المتابع لكتاب الله_تعالى_وسنة نبيه"من ذكر أو أنثى من بني آدم، وقلبه مؤمن بالله ورسوله، وأن هذا المأمور به مشروع من عند الله_بأن يحييه الله حياة طيبة في الدنيا، وأن يجزيه بأحسن ما عمله في الآخرة.
والحياة الطيبة تشتمل على وجوه الراحة من أي جهة كانت+ (1) .
6_حلول الخيرات ونزول البركات: قال_تعالى_: [وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنْ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنْ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ] (الأعراف: 96) .
7_الهداية لكل خير: قال _تعالى_: [وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ] (التغابن:11) .
وقال: [إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ بِإِيمَانِهِمْ] (يونس:9) .
8_زيادة الإيمان والثبات عليه: فالمؤمنون يتقلبون من نعمة إلى نعمة، وأعظم نعمة يجدونها من الإيمان بالله هي أن يثبتهم الله على الحق، ويزيد إيمانهم، فالثبات على الإيمان سبب لزيادته قال_تعالى_: [وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْواهُمْ] (محمد: 17) .
9_الفوز بولاية الله_عز وجل_: وأكرم بها من ولاية، قال_تعالى_: [ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ مَوْلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَأَنَّ الْكَافِرِينَ لا مَوْلَى لَهُمْ (11) ] (محمد: 11) .
10_السلامة من الخسارة: قال_تعالى_: [وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2) إِلَاّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (3) ] (العصر: 1_3) .
11_الإيمان بالله سبب لدفاع الله عن أهله: قال_عز وجل_[إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنْ الَّذِينَ آمَنُوا] (الحج: 38) .
--------------------------------------------
ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: "এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির জন্য একটি ওয়াদা যে নেক আমল করবে—আর নেক আমল হলো তা যা মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী হয়—চাই সে আদম সন্তানের মধ্যে পুরুষ হোক বা নারী, এবং তার অন্তর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাসী হয়। আর এই নির্দেশিত বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিধিবদ্ধ, যাতে আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে এক পবিত্র জীবন দান করেন এবং আখিরাতে তাকে তার কৃতকর্মের উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।"
আর পবিত্র জীবন সব ধরণের আরাম-আয়েশের দিকগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা যেদিক থেকেই হোক না কেন (১)।
৬_কল্যাণ লাভ এবং বরকত নাজিল হওয়া: মহান আল্লাহ বলেন: "আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি অবশ্যই তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা অস্বীকার করেছিল, তাই আমি তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের পাকড়াও করেছি।" (আল-আরাফ: ৯৬)।
৭_সকল কল্যাণের দিকে হিদায়াত লাভ: মহান আল্লাহ বলেন: "আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হিদায়াত দান করেন।" (আত-তাগাবুন: ১১)।
এবং তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের প্রতিপালক তাদের ঈমানের কারণে তাদের পথপ্রদর্শন করবেন।" (ইউনুস: ৯)।
৮_ঈমান বৃদ্ধি এবং তার ওপর অটল থাকা: মুমিনগণ এক নিয়ামত থেকে অন্য নিয়ামতের দিকে ধাবিত হয়। আর আল্লাহর প্রতি ঈমান থেকে তারা যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত লাভ করে তা হলো, আল্লাহ তাদের হকের ওপর অটল রাখেন এবং তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেন। সুতরাং ঈমানের ওপর অটল থাকাই তা বৃদ্ধির কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যারা হিদায়াত লাভ করেছে, তিনি তাদের হিদায়াত আরও বাড়িয়ে দেন এবং তাদের তাকওয়া দান করেন।" (মুহাম্মদ: ১৭)।
৯_মহান আল্লাহর অভিভাবকত্ব লাভ: আর এটি কতই না সম্মানজনক অভিভাবকত্ব! মহান আল্লাহ বলেন: "তা এই কারণে যে, আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক, আর কাফিরদের কোনো অভিভাবক নেই।" (মুহাম্মদ: ১১)।
১০_ক্ষতি থেকে নিরাপত্তা লাভ: মহান আল্লাহ বলেন: "সময়ের শপথ। নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং একে অপরকে হকের উপদেশ দিয়েছে ও একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।" (আল-আসর: ১-৩)।
১১_আল্লাহর প্রতি ঈমান তাঁর পক্ষ থেকে মুমিনদের প্রতিরক্ষার কারণ: মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেন।" (আল-হাজ্জ: ৩৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
12_تكفير السيئات: قال_تعالى_: [وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ كَفَّرَ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ] (محمد:2) .
13_الرفعة والعلو: قال_تعالى_[يَرْفَعْ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ] (المجادلة: 11) .
14_إخلاص العمل: فلا يمكن للعبد أن يقوم بالإخلاص لله، ولعباد الله، ونصيحتهم على وجه الكمال إلا بالإيمان.
15_قوة التوكل: فالإيمان بالله يوجب للعبد قوة التوكل على الله، [وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ] (الطلاق: 3) .
16_الشجاعة: فالإيمان بالله يبعث على الشجاعة والإقدام؛ لأنه يملأ قلب المؤمن بالخوف من الله، والخشية له، وتعظيمه، وإجلاله.
وإذا كان كذلك ذهب خوف الخلق من قلبه كليةً؛ فالجزاء من جنس العمل؛ فمن خاف الله آمنه من كل شيء، وجعل مخاوفه أمناً والعكس بالعكس.
17_حسن الخلق: فالإيمان يدعو إلى حسن الخلق مع جميع طبقات الناس، وإذا ضعف الإيمان أو نقص أو انحرف أثَّر ذلك في أخلاق العبد انحرافاً بحسب بُعْده عن الإيمان.
18_الإعانة على تحمل المشاق: فالإيمان أكبر عون على تحمل المشاق، والقيام بالطاعات، وترك الفواحش والمنكرات.
19_الذكر الحسن: فالإيمان يوجب لصاحبه أن يكون معتبراً عند الخلق أميناً.
20_عزة النفس: فالإيمان يوجب للعبد العفة، وعزة النفس، والترفع عن إراقة ماء الوجه؛ تذللاً للمخلوقين.
21_أن الإيمان هو السبب الوحيد للقيام بذروة سنام الإسلام وهو الجهاد البدني والمالي والقولي في سبيل الله.
هذا شيء من ثمرات الإيمان، وبالجملة فخير الدنيا والآخرة كله فرع عن الإيمان، ومترتب عليه، والهلاك والنقصان إنما يكون بفقد، الإيمان، أو نقصه (1) .
* * *
--------------------------------------------
১২_পাপমোচন: মহান আল্লাহ বলেন: [আর যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং মুহাম্মাদের ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে—আর তা-ই তাদের রবের পক্ষ থেকে আসা সত্য—তিনি তাদের পাপসমূহ মোচন করে দিয়েছেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন] (মুহাম্মাদ: ২)।
১৩_মর্যাদা ও উচ্চতা: মহান আল্লাহ বলেন: [তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন] (আল-মুজাদালাহ: ১১)।
১৪_আমলের একনিষ্ঠতা: আল্লাহর প্রতি ও তাঁর বান্দাদের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া এবং পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়া কোনো বান্দার পক্ষে ঈমান ব্যতীত সম্ভব নয়।
১৫_তাওয়াক্কুলের শক্তি: আল্লাহর প্রতি ঈমান বান্দার জন্য আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার শক্তি অপরিহার্য করে দেয়, [আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট] (আত-তালাক: ৩)।
১৬_বীরত্ব: আল্লাহর প্রতি ঈমান সাহস ও বীরত্ব জাগ্রত করে; কারণ তা মুমিনের অন্তরকে আল্লাহর ভয়, তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, তাঁর মহিমা এবং মর্যাদাবোধ দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়।
আর যখন এমনটি হয়, তখন তার অন্তর থেকে সৃষ্টির ভয় সম্পূর্ণরূপে চলে যায়; কেননা কর্মফল কর্মের ধরন অনুযায়ীই হয়ে থাকে। সুতরাং যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাকে সব কিছু থেকে নিরাপত্তা দান করেন এবং তার সকল ভয়কে শান্তিতে রূপান্তর করেন; আর এর বিপরীতকারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো ঘটে।
১৭_সচ্চরিত্রতা: ঈমান সর্বস্তরের মানুষের সাথে উত্তম আচরণের আহ্বান জানায়। যখন ঈমান দুর্বল হয়, কমে যায় বা বিচ্যুত হয়, তখন তা বান্দার চরিত্রের ওপর ঈমান থেকে তার দূরত্বের অনুপাতে বিচ্যুতি ঘটিয়ে প্রভাব ফেলে।
১৮_কষ্ট সহ্য করতে সহায়তা: কষ্ট সহ্য করা, ইবাদত পালন করা এবং অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ বর্জন করার ক্ষেত্রে ঈমানই হলো সবচেয়ে বড় সহায়ক।
১৯_সুখ্যাতি: ঈমান তার অধিকারীকে মানুষের নিকট সম্মানিত ও বিশ্বস্ত হওয়াকে অপরিহার্য করে দেয়।
২০_আত্মমর্যাদা: ঈমান বান্দার জন্য পবিত্রতা, আত্মসম্মান এবং সৃষ্টির সামনে হীনতা প্রকাশের মাধ্যমে নিজের মান-সম্মান বিসর্জন দেওয়া থেকে বিরত থাকাকে অপরিহার্য করে।
২১_ইসলামের সর্বোচ্চ শিখর—অর্থাৎ আল্লাহর পথে শারীরিক, আর্থিক ও বাচনিক জিহাদ করার একমাত্র মাধ্যম হলো ঈমান।
এগুলো ঈমানের কিছু সুফল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ হলো ঈমানেরই শাখা এবং এরই ওপর নির্ভরশীল। আর ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতি কেবল ঈমানের অনুপস্থিতি বা তার ঘাটতির কারণেই হয়ে থাকে (১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ما ضد الإيمان؟
يضاد الإيمان بالله_سبحانه وتعالى_الكفر بالله، أو بأي نوع من أنواع التوحيد، أو أن يأتي الإنسان بأي ناقض من نواقض الإسلام.
وفي هذا الموضع سيكون الحديث عن ظاهرة خطيرة تنافي الإيمان بالله، وتعارضه معارضة كلية، ألا وهي ظاهرة الإلحاد، تلك الظاهرة القديمة الجديدة، فما معنى الإلحاد؟ وما أسبابه؟ وكيف دخل بلاد المسلمين؟ وما آثاره؟.
=معنى الإلحاد+ (1) :
الإلحاد في لغة العرب: هو الميل.
وفي الشرع: هو الميل عما يجب اعتقاده أو عمله.
المقصود بالإلحاد هنا الكفر بالله، والميل عن طريق أهل الإيمان والرشد، والتكذيب بالبعث، والجنة، والنار، وتكريس الحياة كلها للدنيا فقط، وتكذيب الرسل، وإنكار وجود الرب_تبارك وتعالى_.
=انتشاره+:
الإلحاد اليوم أصبح ظاهرة عالمية، فالعالم الغربي في أوربا وأمريكا_وإن كان وارثاً في الظاهرة للعقيدة النصرانية التي تؤمن بالبعث والجنة والنار_إلا أنه_في الأغلب_ترك هذه العقيدة الآن وأصبح إيمان الناس هناك بالحياة الدنيا فحسب، وأصبحت الكنيسة مجرد تراثٍ تافهٍ جداً؛ وقد أصبح الإلحاد هو الدين الرسمي المنصوص عليه في كل دساتير البلدان الأوروبية والأمريكية، ويعبر عن ذلك بالعلمانية تارة، وباللادينية أخرى.
أما في الشرق فقد قامت أكبر دولة على الإلحاد، وهي الدولة الروسية، التي تحمل العقيدة الشيوعية، التي تحمل في بنودها رفض الغيب، والنظر إلى الحياة كلها وفي جميع الجوانب من منظور مادي بحت.
--------------------------------------------
ঈমানের বিপরীত কী? মহান ও পবিত্র আল্লাহর প্রতি ঈমানের পরিপন্থী হলো আল্লাহর সাথে কুফরি করা, অথবা তাওহিদের যেকোনো প্রকারের সাথে কুফরি করা, অথবা মানুষের ইসলামের কোনো একটি ভঙ্গকারী (নাওয়াকিদ) কাজে লিপ্ত হওয়া।
আর এই স্থানে এমন এক ভয়াবহ প্রবণতা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যা আল্লাহর প্রতি ঈমানের পরিপন্থী এবং যা ঈমানকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দেয়; আর তা হলো নাস্তিকতা (ইলহাদ)। এটি একটি প্রাচীন অথচ নতুন প্রবণতা। সুতরাং নাস্তিকতার অর্থ কী? এর কারণগুলো কী কী? কীভাবে এটি মুসলিম দেশগুলোতে প্রবেশ করল? এবং এর প্রভাবগুলো কী কী?
=নাস্তিকতার অর্থ+ (১) :
আরবি ভাষায় ইলহাদ অর্থ হলো: বিচ্যুতি বা ঝুঁকে পড়া।
আর শরিয়তের পরিভাষায়: যা বিশ্বাস করা বা আমল করা ওয়াজিব, তা থেকে বিচ্যুত হওয়া।
এখানে নাস্তিকতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সাথে কুফরি করা, ঈমানদার ও সঠিক পথপ্রাপ্তদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া, পুনরুত্থান, জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করা, সমগ্র জীবনকে কেবল দুনিয়ার জন্য উৎসর্গ করা, রাসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং বরকতময় ও মহান রবের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা।
=এর বিস্তার+:
বর্তমানে নাস্তিকতা একটি বৈশ্বিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার পশ্চিমা বিশ্ব—যদিও বাহ্যত তারা পুনরুত্থান, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাসী খ্রিস্টীয় আকিদার উত্তরাধিকারী ছিল—তথাপি বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা এই আকিদা ত্যাগ করেছে এবং সেখানকার মানুষের বিশ্বাস এখন কেবল পার্থিব জীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। গির্জা এখন কেবল একটি অতি তুচ্ছ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। নাস্তিকতাই এখন ইউরোপ ও আমেরিকার সকল দেশের সংবিধানে উল্লিখিত রাষ্ট্রীয় ধর্মে পরিণত হয়েছে, যা কখনও ধর্মনিরপেক্ষতা (সেকুলারিজম) আবার কখনও অধর্মীয়তা হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে প্রাচ্যে নাস্তিকতার ওপর ভিত্তি করে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আর সেটি হলো রুশ রাষ্ট্র, যা সাম্যবাদী (কমিউনিজম) আকিদা লালন করে। তাদের মূলনীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে অদৃশ্য জগতকে (গায়েব) অস্বীকার করা এবং জীবনের সকল দিক ও বিভাগকে নিছক বস্তুবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
=أسبابه+ (1) :
لقد انتشر الإلحاد ومد رواقه في كثير من بلدان العالم، ومنذ مائتي عام لم تكن مشكلة الإلحاد بهذه الحدة والانتشار، ولكن في القرنين الأخيرين ظهرت عوامل عديدةٌ جعلت من الإلحاد والكفر ديناً عامَّاً منتشراً.
وتلك العوامل منها ما يعود إلى المجتمع الذي عاشت فيه منها ما يعود إلى شخصيات مؤسسيها المنحرفة.
وفيما يلي ذكرٌ لشيء من تلك الأسباب بإجمال؛ إذ المقام ليس مقامَ بَسْطِها، فمن ذلك:
1_أنها كانت ردة فعل للطغيان الكنسي، الذي حارب العلم، وحارب العقل، وأعان الحكام الظلمة، ومَكَّنَ للخرافة، وفرض على الناس الضرائب والعشور، وما إلى ذلك مما قامت به الكنيسة الأوروبية.
2_مظالم العالم الرأسمالي، فكان أن قامت الحركة الإلحادية الشيوعية كردة فعل_أيضاً_للرأسمالية.
3_كثرة المشكلات في المجتمع الأوروبي، وفقدان التوازن فيه اجتماعياً واقتصادياً خصوصاً في القرنين السابعَ عشرَ والثامنَ عشرَ.
4_غياب المنهج الصحيح؛ وهو دين الإسلام عن الساحة التي نشأ فيها الإلحاد، وتقصير المسلمين في أداء رسالتهم في قوامة المجتمع البشري، وانتشاله من الهاوية.
5_كثرة الاتجاهات، والنظريات، والمباديء التي وجدت في المجتمع الأوروبي.
6_الخواء الروحي لدى أوروبا؛ إذ الكنيسة لا تقدم منهجاً يزكي النفس، ويجلب السعادة والطمأنينة للأفراد والمجتمعات؛ مما جعل النفوس تتعلق بخيط العنكبوت، وتتشبث بعود الثمام؛ لتنجو مما هي فيه من الحيرة، والاضطراب، والقلق.
--------------------------------------------
এর কারণসমূহ (১) :
নাস্তিকতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশে এর বিস্তার লাভ করেছে। দুইশ বছর আগেও নাস্তিকতার সমস্যা এতটা তীব্র ও ব্যাপক ছিল না, কিন্তু গত দুই শতাব্দীতে এমন অনেক অনুষঙ্গ প্রকাশ পেয়েছে যা নাস্তিকতা ও কুফরকে একটি সাধারণ ও বিস্তৃত মতবাদে পরিণত করেছে।
সেই কারণগুলোর কিছু সেই সমাজের সাথে সংশ্লিষ্ট যে সমাজে এটি লালিত হয়েছে, আর কিছু এর প্রতিষ্ঠাতাদের বিচ্যুত ব্যক্তিত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট।
নিচে সেই কারণগুলোর কিছু সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো; কারণ এটি বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়। যেমন:
১_এটি ছিল গির্জার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া, যা বিজ্ঞানের বিরোধিতা করত, যুক্তির বিরোধিতা করত, জালেম শাসকদের সাহায্য করত, কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দিত এবং মানুষের ওপর করারোপ ও দশমাংশ কর বাধ্যতামূলক করত। ইউরোপীয় গির্জা এই জাতীয় কর্মকাণ্ডই পরিচালনা করত।
২_পুঁজিবাদী বিশ্বের জুলুম-নির্যাতন। ফলে পুঁজিবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই নাস্তিক্যবাদী সাম্যবাদী (কমিউনিস্ট) আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে।
৩_ইউরোপীয় সমাজে সমস্যার আধিক্য এবং বিশেষ করে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে সেখানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা।
৪_সঠিক জীবনব্যবস্থা তথা ইসলাম ধর্মের অনুপস্থিতি সেই প্রেক্ষাপটে যেখানে নাস্তিকতার উদ্ভব হয়েছে। এছাড়া মানব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা এবং ধ্বংসের গহ্বর থেকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে মুসলিমদের নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা।
৫_ইউরোপীয় সমাজে বিদ্যমান অসংখ্য মতবাদ, তত্ত্ব ও আদর্শের প্রাচুর্য।
৬_ইউরোপের আধ্যাত্মিক শূন্যতা; কারণ গির্জা এমন কোনো জীবনব্যবস্থা উপস্থাপন করতে পারেনি যা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সুখ ও প্রশান্তি বয়ে আনে। এর ফলে মানুষ তাদের বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও উদ্বেগ থেকে বাঁচার জন্য মরীচিকার পেছনে অথবা খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাসায়িলুশ শাইখ আল-হামাদ ফিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
7_الاستعمار وما خلَّفه من دمار؛ فله أثره الواضح في انحطاط الشعوب المستعمرة، وذلك عن طريق الكتب، وقفل باب الحرية، الأمر الذي أفسح المجال للإلحاد.
8_المكر اليهودي على العالم كله، وتآمره عليه لإفساده؛ تميهداً للسيطرة عليه، حيث استغلوا هذه المذاهب ومكنوا لها.
9_الانقلاب الصناعي، وما يقوم به الشيوعيون من بحثٍ علميٍّ جادٍّ مستندٍ على أدلةٍ مغريةٍ تقول: بأن الدين خرافة.
10_ملذات الحياة، ومباهج الحضارة، ونسيان الخالق؛ فلقد فتح العلمُ الماديُّ أبواباً عظيمةً من أبواب الرفاهية والترف، فالمراكب الفارهة الفخمة؛ من سيارات، وقطارات، وبواخرَ وطائراتٍ، كذلك الملابس، والمطاعم، ووسائل التسلية، كل ذلك جعل الغفلة تستحكم على النفوس ولا تشعر بالعاقبة، مما فتح المجال لترويج أي مبدأ.
11_انحراف مؤسسي الشيوعية، وشذوذهم؛ فهذا ماركس اليهودي_على سبيل المثال_كان حبراً يهودياً، وكان مُخففاً في شؤون حياته الخاصة، وكان ذا طبيعة ميالة للهدم والفساد.
أضف إلى ذلك ما كان عليه من فسادٍ خلقي وسلوكي، كذلك موت ابنتيه منتحرتين، كل هذه العوامل تحركت في نفس هذا المجرم، فأخرجت أكلَها النتنَ القبيحَ.
وقل مثل ذلك أو أشد في شأن زعماء الشيوعية كلينين، وستالين، وخرتشوف، وغيرهم.
وبالجملة فأقل ما يقال عن الإلحاد أنه عقوبةٌ إلهيةٌ للبشرية بسبب تماديها في الغواية والضلال.
=كيف دخل الإلحاد بلاد المسلمين+؟ (1) :
لقد دخل الإلحاد في كثير من بلاد المسلمين وما كان له أن يدخل، إلا أن هناك أسباباً عديدة مكنت لدخوله في بلاد المسلمين منها:
--------------------------------------------
7_সাম্রাজ্যবাদ এবং এর রেখে যাওয়া ধ্বংসলীলা; বিজিত জাতিসমূহের অধঃপতনের পেছনে এর স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। আর এটি ঘটেছে বিভিন্ন বইপুস্তকের মাধ্যমে এবং স্বাধীনতার দ্বার রুদ্ধ করার মাধ্যমে, যা নাস্তিক্যবাদের পথ প্রশস্ত করেছে।
8_সমগ্র বিশ্বের বিরুদ্ধে ইহুদি চক্রান্ত এবং একে কলুষিত করার ষড়যন্ত্র; যাতে করে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার পথ সুগম হয়, যেখানে তারা এই মতবাদগুলোকে কাজে লাগিয়েছে এবং সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
9_শিল্প বিপ্লব এবং কমিউনিস্টদের পরিচালিত সেইসব গভীর বৈজ্ঞানিক গবেষণা যা এমন কিছু প্রলোভনমূলক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে যা বলে: ধর্ম একটি কুসংস্কার।
10_জীবনের ভোগবিলাস, সভ্যতার চাকচিক্য এবং স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়া; কেননা বস্তুবাদী বিজ্ঞান বিলাসিতা ও আভিজাত্যের বিশাল সব দ্বার উন্মোচন করেছে। যেমন বিলাসবহুল যানবাহন; গাড়ি, ট্রেন, জাহাজ ও উড়োজাহাজ, তেমনি পোশাক-আশাক, খাদ্যাভ্যাস ও বিনোদনের মাধ্যমসমূহ—এই সব কিছু মানুষের অন্তরে গাফিলতি বা উদাসীনতাকে বদ্ধমূল করে দিয়েছে এবং তারা পরিণাম সম্পর্কে বেখবর হয়ে পড়েছে, যা যেকোনো মতবাদ প্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে।
11_কমিউনিজমের প্রতিষ্ঠাতাদের বিচ্যুতি ও অস্বাভাবিকতা; উদাহরণস্বরূপ, এই ইহুদি মার্ক্স ছিল একজন ইহুদি পণ্ডিত, সে তার ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ে ছিল বিশৃঙ্খল এবং তার স্বভাব ছিল ধ্বংস ও ফাসাদের দিকে ঝুঁকে থাকা।
এর সাথে যুক্ত করুন তার নৈতিক ও চারিত্রিক স্খলন, তদুপরি তার দুই কন্যার আত্মহত্যা। এই সমস্ত প্রভাবক এই অপরাধীর অন্তরে ক্রিয়াশীল ছিল, যার ফলে তার ভেতর থেকে পচা ও কুৎসিত ফল বেরিয়ে এসেছে।
কমিউনিস্ট নেতাদের ব্যাপারেও অনুরূপ বা এর চেয়েও ভয়াবহ কথা বলা যায়, যেমন লেনিন, স্টালিন, ক্রুশ্চেভ এবং অন্যান্যরা।
মোদ্দাকথা হলো, নাস্তিক্যবাদ সম্পর্কে অন্তত এটুকু বলা যায় যে, এটি ভ্রষ্টতা ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত থাকার কারণে মানবজাতির জন্য একটি ঐশী শাস্তি।
=মুসলিম দেশগুলোতে নাস্তিক্যবাদ কীভাবে প্রবেশ করল? (১) :
অনেক মুসলিম দেশে নাস্তিক্যবাদ প্রবেশ করেছে, অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। তবে কিছু কারণ রয়েছে যা মুসলিম দেশগুলোতে এর প্রবেশের পথ সুগম করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------