(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: -)
العواصم من القواصم ت الطالبي القسم: العقيدة
الكتاب: النص الكامل لكتاب العواصم من القواصم
المؤلف: القاضي محمد بن عبد الله أبو بكر بن العربي المعافري الاشبيلي المالكي (ت 543 هـ)
المحقق: الدكتور عمار طالبي
الناشر: مكتبة دار التراث، مصر
عدد الصفحات: 385
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1433
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম, তালিবি সংস্করণ বিভাগ: আকিদা
কিতাব: আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ পাঠ
লেখক: আল-কাজী মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মাআফিরি আল-ইশবিলি আল-মালিকি (মৃত্যু ৫৪৩ হিজরি)
গবেষক/সম্পাদনা: ডক্টর আম্মার তালিবি
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিত তুরাস, মিশর
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৫
শামিলা’র জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা’তে প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: -)
النص الكامل لكتاب
العواصم من القواصم
للقاضي أبي بكر بن العربي
تحقيق
الدكتور عمار طالبي
গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ পাঠ
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম
কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবীর লিখিত
সম্পাদনা
ডক্টর আম্মার তালিবী
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ৫)
تصديريعتبر كتاب "العواصم من القواصم" لأبي بكر بن العربي (468 - 543 هـ) من التراث الفلسفي النادر الذي اتسم بنزعة نقدية للفلسفة اليونانية وروحها الوثنية النظرية المجردة، ويمكن القول بأن هذا الكتاب الأصيل في روحه وأسلوبه، في مضمونه، وفي شكله يرى النور في صورته الكاملة المحققة لأول مرة، إذ سبق أن نشره (1) شيخ النهضة الجزائرية عبد الحميد بن باديس (1889 - 1940 م) في جزئين معتمدا في ذلك على نسخة يتيمة مخطوطة بجامع الزيتونة، ثم جاء الشيخ الأديب الصدر محب الدين الخطيب (1970 م) فنشر (2) جزءا صغيرا منه، وهو مبحث الصحابة، وحسب الناس أن ذلك هو كتاب "العواصم من القواصم" وبهذا الاعتبار يمكن أن نقول إن هذه الرسالة الهامة مظلومة ظلمين: الظلم الأول: بترها والاقتصار منها على بحث واحد واعتباره هو الكل، والظلم الثاني: أن الشيخ محب الدين الخطيب لم يعتمد على أي مخطوط، وإنما رجع إلى طبعة الشيخ الجليل عبد الحميد بن باديس، وقدم وأخر بعض النصوص تبعا لما رآه، وتذوقه، وإن لم يصب في ذلك المرمى، والعجيب أن بعض المتخصصين حسبوا أن ذلك هو "العواصم من القواصم" مع أن محب الدين ذكر في مقدمته (3) أنه مبحث واحد من مباحث الكتاب المذكور، أما هذه النشرة فقد اعتمدنا فيها على أربع مخطوطات، التي فصلنا القول فيها في القسم الأول من هذا الكتاب، وهو دراستنا لآراء أبي بكر بن العربي.
--------------------------------------------
ভূমিকাআবু বকর ইবনুল আরাবীর (৪৬৮ - ৫৪৩ হিজরী) 'আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম' গ্রন্থটি বিরল দার্শনিক ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত, যা গ্রিক দর্শন এবং এর তাত্ত্বিক বিমূর্ত পৌত্তলিক চেতনার প্রতি এক সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বলা যেতে পারে যে, এই মূল গ্রন্থটি তার চেতনা, শৈলী, বিষয়বস্তু এবং অবয়বের দিক থেকে প্রথমবারের মতো তার পূর্ণাঙ্গ ও সম্পাদিত রূপে আলোর মুখ দেখছে। কেননা ইতিপূর্বে আলজেরীয় জাগরণের অগ্রদূত শায়খ আব্দুল হামিদ বিন বাদিস (১৮৮৯ - ১৯৪০ খ্রি.) জামেউয যাইতুনায় সংরক্ষিত একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এটি দুই খণ্ডে প্রকাশ করেছিলেন (১)। অতঃপর বিশিষ্ট সাহিত্যিক শায়খ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব (১৯৭০ খ্রি.) এর একটি ছোট অংশ প্রকাশ করেন (২), যা ছিল সাহাবীগণের মর্যাদা সংক্রান্ত আলোচনা। সাধারণ মানুষ মনে করেছিল যে সেটিই পূর্ণাঙ্গ 'আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম' গ্রন্থ। এই বিবেচনায় আমরা বলতে পারি যে, এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটি দুই ধরনের অবিচারের শিকার হয়েছে: প্রথম অবিচার হলো, একে খণ্ডিত করা হয়েছে এবং কেবল একটি আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে তাকেই পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবিচার হলো, শায়খ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব কোনো পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেননি, বরং তিনি সম্মানিত শায়খ আব্দুল হামিদ বিন বাদিসের সংস্করণের সাহায্য নিয়েছেন এবং নিজের রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী কিছু পাঠ্যকে আগে-পিছে করেছেন, যদিও তিনি সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বদা সফল হননি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেছিলেন যে সেটিই 'আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম', অথচ মুহিব্বুদ্দীন তার ভূমিকায় (৩) উল্লেখ করেছিলেন যে এটি উল্লিখিত গ্রন্থের অসংখ্য আলোচনার মধ্যে কেবল একটি আলোচনা মাত্র। বর্তমান সংস্করণের ক্ষেত্রে আমরা চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ আমরা এই গ্রন্থের প্রথম অংশে প্রদান করেছি, যা আবু বকর ইবনুল আরাবীর মতামতের ওপর আমাদের একটি গবেষণা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ৬)
إن هذا الكتاب قطعة حية من الذكاء، وصفحة ناصعة من صفحات حضارتنا في مجال الفكر، وجمال الأسلوب العربي، والبيان الأدبي والنظر العقلي الناقد الذي هو روح كل حضارة، يكتب لها البقاء والحياة أبد الدهر.
عمار طالبي الأستاذ بكلية الآداب
جامعة الجزائر ورئيس قسم الفلسفة
ابن عكنون الجزائر في
5/ محرم/ 1314هـ
29/ جانفي/ 1974م
এই কিতাবটি মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তির এক জীবন্ত নিদর্শন এবং চিন্তার জগতে আমাদের সভ্যতার উজ্জ্বল পৃষ্ঠাগুলোর মাঝে একটি সমুজ্জ্বল পৃষ্ঠা। এটি আরবি রচনাশৈলীর সৌন্দর্য, সাহিত্যিক প্রাঞ্জলতা এবং সমালোচনামূলক যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য প্রকাশ, যা প্রতিটি সভ্যতার প্রাণস্বরূপ এবং যা তার স্থায়িত্ব ও অনন্ত জীবন নিশ্চিত করে।
আম্মার তালবি, কলা অনুষদের অধ্যাপক
আলজিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং দর্শন বিভাগের প্রধান
বিন আকনুন, আলজিয়ার্স, তারিখ:
৫/ মুহররম/ ১৩১৪ হিজরি
২৯/ জানুয়ারি/ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ৭)
خطبة الكتاببسم الله الرحمن الرحيم (1) وصلى الله على سيدنا
محمد وآله وصحبه وسلم (2)
قال الشيخ الفقيه الإمام الأوحد، الحافظ، العلامة الأمجد (3)، أبو بكر بن العربي (4)، رضى الله عنه (5)، ورحمه (6): الحمد لله رب العالمين، الله م صل على محمد، وعلى آل محمد (7)، كما صليت على إبراهيم، وبارك على محمد، وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم، وآل إبراهيم، إنك حميد مجيد، الله م إنا نستدعي (8) من رضاك (9) المنحة، كما نستدفع بك المحنة، ونسألك العصمة، كما نستوهب منك الرحمة، ربنا لا تزغ قلوبنا بعد إذ هديتنا، ويسر لنا العمل (10) بما علمتنا، وأوزعنا شكر ما آتيتنا، وانهج لنا سبيلا تهدي (11) إليك، وافتح بيننا وبينك بابا (12) نفد منه عليك، فلك (13) مقاليد السموات والأرض، وأنت على كل شيء قدير.
أما بعد، فإن الله ببالغ حكمته، وغالب قدرته، وإن كان واحدا في ذاته، واحدا في صفاته، واحدا في مخلوقاته، فإنه خلق الخلق نوعين، وأبدع من كل زوجين اثنين، لأن الوحدة له خالصة، حقيقة وبيانا، فتكون
--------------------------------------------
গ্রন্থের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক (২)।
অনন্য ইমাম, ফকিহ, হাফেজ, মহিমান্বিত আল্লামা (৩) আবু বকর ইবনুল আরাবি (৪) - আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন (৫) এবং তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন (৬) - বলেছেন: সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদের ওপর এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন (৭), যেমন আপনি দরুদ বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিমের ওপর। আর আপনি বরকত দান করুন মুহাম্মদের ওপর এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর, যেমন আপনি বরকত দান করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, আমরা আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে (৯) অনুগ্রহ প্রার্থনা করি (৮), যেমন আমরা আপনার মাধ্যমে বিপদ দূর করতে চাই। আমরা আপনার কাছে পাপাচার থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি, যেমন আমরা আপনার কাছে রহমত ভিক্ষা করি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের হিদায়াত প্রদানের পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দেবেন না। আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তদনুযায়ী আমল (১০) করা আমাদের জন্য সহজ করে দিন। আপনি আমাদের যা দান করেছেন তার শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দিন। আমাদের জন্য এমন পথ উন্মুক্ত করে দিন যা আপনার দিকে পরিচালিত করে (১১) এবং আমাদের ও আপনার মাঝে এমন এক দ্বার উন্মোচন করুন (১২) যার মাধ্যমে আমরা আপনার সান্নিধ্যে পৌঁছাতে পারি। কেননা আসমানসমূহ ও জমিনের চাবিকাঠি আপনারই নিকট (১৩) এবং আপনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
অতঃপর, আল্লাহ তাআলা তাঁর সুনিপুণ প্রজ্ঞা ও পরাক্রান্ত ক্ষমতার দ্বারা যদিও স্বীয় সত্তায় এক, স্বীয় গুণাবলিতে এক এবং তাঁর সৃষ্টিসমূহের ক্ষেত্রে এক; তবুও তিনি সৃষ্টিজগতকে দুই শ্রেণিতে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক জোড়া থেকে দুটি করে উদ্ভাবন করেছেন। কারণ একত্ব কেবল তাঁর জন্যই নির্ধারিত, যা হাকিকত ও বর্ণনায় সুস্পষ্ট। ফলে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ৮)
الأثنينية (1) عليه دليلا وبرهانا، وفطر الآدمي، فركب عليه وفيه، الازدواج ابتلاء، يختلف به الحال استفالا، واعتلاء، إشكالا (2)، وجلاء، نعمة، وبلاء، قبولا، وإباء (3)، ليرفعه (4) في عليين، أو يقذفه في سجين، قال سبحانه: {لقد خلقنا الإنسان في أحسن تقويم ثم رددناه أسفل سافلين} [التين: 5] علمه البيان، بين منزلتي الدليل والعيان، وجعل فيه حقائق [و2 أ] تشترك مع صفاته العلى، وأسمائه الحسنى، في الحد، وينفرد (5) عنها بالتعالي والجد: ذلك ليستدل بها عليه، ويرجع في تحصيل العرفان (6) إليه.
وخلق له الملك، والشيطان، وأخبر الصادق واسطته (7) وسطته، أن العبد بين لمتين (8) منهما يجتذبه (9)، كل (10) واحد (11) إلى جهته، ويحاول (12) وضعه في حصته، وتحصيله في زمرته.
والرب قد أحكم العاقبة بحكمته، وأظهر هذا التدبر بقدرته، وأنشأ فيه العقل والهوى، وخلق له الضلالة والهدى، وشرح (13) له النجدين استدراجا ليرد، وشرع له الدين منهاجا ليقارب ويسدد، وجعل (14) على كل واحد من الطريقين علما، ونصب عليه مناديا، فمنهم من تعرف فأجاب وعرف، ومنهم من صدف فأبى وحرف، والخير والشر مقرونان في قرن (15)، والعقل والهوى معقودان في شطن (16)، والدليل والشبهة يتجاذبان (17) في
--------------------------------------------
দ্বৈতবাদ (১) তাঁর অস্তিত্বের প্রতি একটি দলিল ও প্রমাণ স্বরূপ। তিনি আদমসন্তানকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার ওপর ও তার মধ্যে জোড় গঠন করে দিয়েছেন পরীক্ষা হিসেবে। এর মাধ্যমে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে—কখনো অবনতি, কখনো উন্নতি; কখনো জটিলতা (২), কখনো স্বচ্ছতা; কখনো নেয়ামত, কখনো পরীক্ষা; কখনো গ্রহণ, আবার কখনো বর্জন (৩); যাতে তিনি তাকে ইল্লিয়্যীনে উন্নীত করেন (৪) অথবা সিজ্জীনে নিক্ষেপ করেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে, অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে" [আত-তীন: ৫]। তিনি তাকে বর্ণনা করার ক্ষমতা শিখিয়েছেন প্রমাণ ও চাক্ষুষ দর্শনের মাঝখানে। তিনি তার মধ্যে এমন কিছু হাকীকত বা বাস্তবতা [২ ক] গচ্ছিত রেখেছেন যা সংজ্ঞার দিক থেকে আল্লাহর সুউচ্চ গুণাবলি ও সুন্দর নামসমূহের সাথে সাদৃশ্য রাখে, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা সুউচ্চতা ও মহিমায় সেসব থেকে একক ও ভিন্ন (৫)। এটি এজন্য যে, মানুষ যেন এগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রতি পথ খুঁজে পায় এবং মারিফাত (৬) অর্জনে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
তিনি তার জন্য ফেরেশতা ও শয়তান সৃষ্টি করেছেন। সত্যবাদী রাসুল, যিনি তাঁর মাধ্যম (৭), সংবাদ দিয়েছেন যে, বান্দা তাদের উভয়ের পক্ষ থেকে দুটি প্ররোচনার (৮) মাঝে রয়েছে যা তাকে আকর্ষণ করে (৯)। তাদের প্রত্যেক (১০, ১১) জন তাকে নিজের দিকে টানছে এবং চেষ্টা করছে (১২) তাকে নিজ অংশে রাখতে ও নিজ দলের অন্তর্ভুক্ত করতে।
আর রব তাঁর প্রজ্ঞা দ্বারা পরিণাম সুনির্ধারিত করেছেন এবং তাঁর কুদরত দ্বারা এই ব্যবস্থাপনা প্রকাশ করেছেন। তিনি মানুষের মধ্যে বিবেক ও প্রবৃত্তি সৃষ্টি করেছেন এবং তার জন্য পথভ্রষ্টতা ও হেদায়েত সৃষ্টি করেছেন। তাকে পরীক্ষার জন্য দুটি পথ (১৩) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন এবং তার জন্য দ্বীনকে জীবনপদ্ধতি হিসেবে প্রবর্তন করেছেন যাতে সে সত্যের নিকটবর্তী হতে পারে এবং সঠিক পথে চলতে পারে। তিনি উভয় পথের (১৪) প্রত্যেকটিতে আলামত বা চিহ্ন রেখেছেন এবং তাতে একজন আহ্বানকারী নিযুক্ত করেছেন। ফলে তাদের মধ্যে কেউ সত্যকে চিনেছে, সাড়া দিয়েছে এবং চিনে নিয়েছে; আবার কেউ বিমুখ হয়েছে, অস্বীকার করেছে এবং সত্যকে বিকৃত করেছে। কল্যাণ ও অকল্যাণ একই রশিতে (১৫) বাঁধা, আর বিবেক ও প্রবৃত্তি দীর্ঘ রশিতে (১৬) আবদ্ধ। দলিল ও সংশয় একে অপরকে আকর্ষণ (১৭) করছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ৯)
ميدان واحد، ويتسابقان إلى عطن (1)، والتويق والخذلان يتباريان على سنن.
والعلم السابق، والكلام الأول (2)، والكتاب الثاني، يبرم أعلاقها، ويفتح أغلاقها، {ليهلك من هلك عن بينة ويحيي من حيي عن بينة وإن الله لسميع عليم} [الأنفال: 42]، يفعل ما يشاء ويحكم ما يريد، وهو العزيز الحكيم، ومن أجل هذا ومن جراه، جرى كل أحد (3) من الخلق مجراه، وتباينت المدارك، في المناجي والمهالك، فلئن أضاء نهار الأدلة، لقد أغطش ليل الشبهات، ولئن اتضحت (4) جادة التحقيق، لقد حفت (5) بها بينات، حتى خفيت واضحة الطريق، فاهتدى فريق، وضل فريق وفريق (6).
و (7) أعلام الحق وإن كانت قد خفقت، فقد انتشرت ألوية الباطل واستشرفت، والناس أتباع كل ناعق، [و3 أ]، لا يفرقون بين السابق واللاحق، وأبناء ساعتهم، لا آباء (8) عاقبتهم، أشفت عليهم القواصم السابقة، وحلقت فوقهم العواصم المتلاحقة، فإن أكبوا على ما هم فيه هلكوا، وإن لمحوا علوا، اعتلقوا النجاة وأدركوا، ولكل سابقة من القواصم لاحقة من العواصم.
ونحن بتأييد الله ومعونته، نرتقي في هذا المعراج، إلى التمييز بين هذا الازدواج، وتبين (9) ما فيه من قواصم المكر والاستدراج، وعواصم الإنفاذ والإخراج، بفضل الله ورحمته، وهدايته وعصمته، لا رب غيره (10).
ولو شاء الله سبحانه لجرد الدلالات عن الشبهات، ولم يقسم المعارف إلى الضرروريات والنظريات، ولا خلق العبد مشحونا بالشهوات، متقاعدا عن العبادات، مائلا إلى الراحات، والكل (11) شاهد ودليل، بفعل أو قيل، كما
--------------------------------------------
একটিই ময়দান, এবং তারা উভয়েই একটি বিশ্রামের জায়গার (১) দিকে প্রতিযোগিতা করছে, আর তাওফীক (সাফল্য) ও খুজলান (সহায়তা না করা) একই পথে পাল্লা দিচ্ছে।
এবং পূর্ববর্তী জ্ঞান, প্রথম কালাম (২), এবং দ্বিতীয় কিতাব এর বন্ধনগুলোকে মজবুত করে এবং এর তালাগুলো খুলে দেয়, {যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আনফাল: ৪২]। তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন এবং যা চান তা-ই ফয়সালা করেন, আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়। আর এই কারণে এবং এর ফলেই সৃষ্টির প্রত্যেকেই (৩) তার নিজ নিজ পথে চলেছে, এবং নাজাত ও ধ্বংসের ক্ষেত্রে উপলব্ধিসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। প্রমাণের দিন যদি আলোকিত হয়ে থাকে, তবে সংশয়ের রাত অন্ধকার করে দিয়েছে। আর যদি সত্যানুসন্ধানের রাজপথ স্পষ্ট হয়ে থাকে (৪), তবে তাকে এমন সব বিষয় ঘিরে রেখেছে (৫) যার ফলে পরিষ্কার পথটি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে একদল সঠিক পথ পেয়েছে এবং অন্য দল ও উপদল পথভ্রষ্ট হয়েছে (৬)।
এবং (৭) সত্যের ঝাণ্ডাগুলো উড্ডীন থাকলেও বাতিলের পতাকাগুলোও ছড়িয়ে পড়েছে এবং মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। আর মানুষ প্রতিটি চিৎকারকারীর অনুসরণকারী [৩ ক], তারা পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্যে পার্থক্য করে না। তারা বর্তমান সময়ের সন্তান, তাদের পরিণামের জনক (৮) নয়। পূর্ববর্তী ধ্বংসাত্মক বিপদসমূহ তাদের গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে এবং ধারাবাহিক রক্ষাকবচসমূহ তাদের মাথার ওপর ঘুরপাক খাচ্ছে। তারা যদি তাদের বর্তমান অবস্থায় ডুবে থাকে তবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে, আর যদি তারা ঊর্ধ্বলোকের সন্ধান করে তবে তারা নাজাতের পথ আঁকড়ে ধরবে এবং তা লাভ করবে। প্রতিটি পূর্ববর্তী ধ্বংসাত্মক বিপদের বিপরীতে রয়েছে পরবর্তী এক রক্ষাকবচ।
আমরা আল্লাহর সমর্থন ও সাহায্যে এই সোপানে আরোহণ করছি এই দ্বৈত অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এবং এতে (৯) ষড়যন্ত্র ও ইস্তিদরাজের (ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া) যেসব ধ্বংসাত্মক দিক রয়েছে এবং তা থেকে উদ্ধার ও নিষ্কৃতির যেসব রক্ষাকবচ রয়েছে তা স্পষ্ট করার জন্য; যা আল্লাহর অনুগ্রহ, রহমত, হিদায়াত ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সম্ভব। তিনি ছাড়া আর কোনো রব নেই (১০)।
আর মহান আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তিনি প্রমাণগুলোকে সংশয়মুক্ত করে দিতেন এবং জ্ঞানকে আবশ্যিক ও তাত্ত্বিক—এই দুই ভাগে বিভক্ত করতেন না। আর তিনি বান্দাকে কামনাবাসনায় পূর্ণ করে, ইবাদতে অলস এবং আরামপ্রিয় করে সৃষ্টি করতেন না। আর যা কিছু আছে সবই (১১) কাজ বা কথার মাধ্যমে সাক্ষী ও প্রমাণ, যেমনটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال تعالى: {وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون} [الذاريات: 56]، وقال تعالى: {ولكن حق القول مني لأملأن جهنم من الجنة والناس أجمعين} [السجدة: 13]، فتعارضت أسباب المقادير عليه، مع توجه الوظائف إليه، وصار لا يدري على أي صدغيه (1) يقع، ولا من أي جهة يستضر (2) أو ينتفع، إن أقامه الشرع إلى العبادة أقعدته الراحة، أو أراد العف (3) بالكف، جذبته (4) الاستباحة.
قاصمة:وصار بهذا الارتباك جملة عظيمة، في يد الاشتباك، هاوين في دركات الهلاك، وتقطعت بهم الأسباب أيادي سبأ في الضلالات، وسلكوا من (5) الباطل في متاهات، تعطيل من غير تحصيل، وكيد سابق (6) في تضليل، التقى الكل في حيرة (7) النظر في أربعة مواقف.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তবে আমার পক্ষ থেকে এই কথাটি সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব} [আস-সাজদাহ: ১৩]। ফলে তার ওপর তাকদীরের কারণসমূহ এবং অর্পিত দায়িত্বসমূহের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দিল। সে বুঝতে পারছে না সে কোন পার্শ্বের (১) ওপর আছড়ে পড়বে, আর কোন দিক থেকে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে (২) নাকি উপকৃত হবে। যদি শরীয়ত তাকে ইবাদতের জন্য দাঁড় করায়, তবে আয়েশ তাকে বসিয়ে দেয়; আর সে যদি বিরত থাকার (৩) মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করতে চায়, তবে প্রবৃত্তির অবাধ বিচরণ (৪) তাকে টেনে নেয়।
মেরুদণ্ড চূর্ণকারী বিপদ:আর এই বিভ্রান্তির ফলে একটি বিশাল গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলার জালে আটকা পড়ে ধ্বংসের অতল গহ্বরে পতিত হয়েছে। এবং ভ্রান্তির অতলে তাদের সকল উপায়-উপকরণ সাবা জাতির ন্যায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, আর তারা বাতিলের (৫) গোলকধাঁধায় বিচরণ করেছে। কোনো কিছু অর্জন ছাড়াই কেবল অস্বীকার (তাতীল), এবং পথভ্রষ্টতার মাঝে এক সুদূরপ্রসারী (৬) ষড়যন্ত্র। তারা সকলে চারটি প্রেক্ষাপটে চিন্তার (৭) বিভ্রান্তিতে একত্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১১)
الموقف الأولقالت طائفة: لا معلوم ولا مفهوم، وإنما المرء بوهة أو بوم (1) وما تشبثوا (2) به خيالات لا تحقيق لها، أي شيء يوثق به، له ثبات (3)، [و3 ب] وأنت ترى الظل يتحرك، وهو ساكن، والنبات ينمى وهو واقف، وتعاين الشمس في مساحة درقة، والقمر في قدر (4) المجن، والكواكب كهيئة الدنانير المنثورة؟ وتقولون: إن خلق السموات والأرض أكبر من خلق الناس، وإنه معلوم بالخبر والأدلة، ويقولون (5) إن الدنيا خيالات، والحقائق في الآخرة، وإن الناس نيام، فإذا ماتوا انتبهوا، وإذا كنت في نومك ترى أمورا، لا تشك (6) أنك (7) على رأس الحقائق فيها، فإذا جاءت اليقظة (8) ذهبت من يديك (9)، وأفلت عنك ما كنت تظن أنك آخذ بناصيته، قابض له بيد العرفان، تقوده بغاية البيان، فما يؤمنك أن تكون يقظتك كذلك، وأنك الآن على ما أنت عليه، من حقيقة في غير حقيقة، وعلى عدم من البيان في البيان (10).
--------------------------------------------
প্রথম অবস্থানএকদল বলেছে: কোনো কিছুই জ্ঞাত নয় এবং কোনো কিছুই বোধগম্য নয়, বরং মানুষ হলো অসার বা পেঁচার মতো। (১) আর তারা যা আঁকড়ে ধরেছে (২) তা নিছক কল্পনা যার কোনো বাস্তবতা নেই। এমন কী বিষয় আছে যার ওপর ভরসা করা যায় এবং যার স্থায়িত্ব আছে (৩)? [৩ বি] অথচ তুমি দেখছো ছায়া নড়াচড়া করছে যখন তা স্থির; উদ্ভিদ বৃদ্ধি পাচ্ছে যখন তা দাঁড়িয়ে আছে; এবং সূর্যকে একটি ঢালের আয়তনে আর চাঁদকে একটি ছোট ঢালের পরিমাপে (৪) প্রত্যক্ষ করছো, আর নক্ষত্রপুঞ্জকে দেখছো ছড়ানো দিনারের মতো? আর তোমরা বলো: নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা মানুষের সৃষ্টির চেয়ে বড় বিষয়, এবং তা সংবাদ ও দলিলের মাধ্যমে জ্ঞাত। আর তারা বলে (৫) যে দুনিয়া হলো কল্পনা মাত্র, আর প্রকৃত সত্য হলো আখিরাতে; এবং মানুষ ঘুমন্ত, যখন তারা মারা যাবে তখন জাগ্রত হবে। আর তুমি যখন তোমার ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় দেখো, তখন তুমি সন্দেহ করো না (৬) যে তুমি (৭) সেগুলোর ক্ষেত্রে ধ্রুব সত্যের ওপর আছো। অতঃপর যখন জাগরণ (৮) আসে তখন তা তোমার হাত (৯) থেকে চলে যায় এবং তোমার থেকে এমন কিছু হারিয়ে যায় যা তুমি মনে করছিলে যে তুমি তার চুলের মুঠি ধরে আছো এবং জ্ঞানের হাত দিয়ে তা আঁকড়ে ধরে আছো ও চূড়ান্ত বিবরণের মাধ্যমে তাকে পরিচালিত করছো। তবে কিসে তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে তোমার জাগরণও তেমনই হবে না এবং তুমি বর্তমানে যে অবস্থায় আছো, তা অবাস্তবতার মাঝে এক বাস্তবতা মাত্র এবং বিবরণের মাঝে বিবরণের অনুপস্থিতি নয় (১০)?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১২)
عاصمة:قال ابن (1) العربي رضي الله عنه (2) وهذا (3) موقف أول لا تدخله (4) ليت، ولا أختها لعل، بل هو أحقر وأذل (5)، قال لي أبو علي الحضرمي (6)، بالثغر (7)، حرسه الله، وكتبه لي بخطه، ليس هذا مذهبا لأحد، ولا مقالة لبشر، وإنما قصدت الملحدة بذكر هذا التلاعب (8)، بالعالم، لتسترسل العامة، وهو محال في محال، يسمى (9) بالعربية هوسا وهذيانا، ويسمى (10) باليونانية سفسطة، يعنون خذلانا، وقال أبو حامد الغزالي: إن هذا الإشكال لا يتضح بالدليل، وإنما (11) يروى منه الغليل، ويشفي العليل، ما يفيض من نفحات رحمة الله على القلوب، ويشرق عليها من نوره، حتى إذا انشرحت الصدور، وصقلت القلوب، تجلت فيها (12) الحقائق، مبادي وغآيات، وسوابق ولواحق، قام الإمام الحافظ (13): وهذه
قاصمة أعظم من الأولى، فإنها صدرت عمن اشتهر في العلم، وهذا (14) يحط عن المرتبة العليا (15) إلى السفلى، ويخرج عن جملة (16) العقلاء، [و4 أ] ولا ينجى منها (17) إلا أن تفهموا (18).
قاصمة:
إن هذه كلمات صدرت (19) على مناحي صوفية، لأنها تعتقد أن المعقول فوق المحسوس، وأنا وإن كنا، في عالم الحس أبدانا، فنحن في عالم العقل
--------------------------------------------
সুরক্ষা:ইবনুল আরাবী (১) আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন (২) বলেন: এবং এটি (৩) এমন এক প্রাথমিক অবস্থান যেখানে 'হায়' (৪) কিংবা তার সমগোত্রীয় 'বোধহয়' এর কোনো স্থান নেই। বরং এটি আরও বেশি তুচ্ছ ও লাঞ্ছনাকর (৫)। সীমান্তে (৭) -আল্লাহ তা রক্ষা করুন- আবু আলী আল-হাদরামী (৬) আমাকে বলেছিলেন এবং তিনি নিজ হাতে আমার জন্য এটি লিখেছিলেন: এটি কারো মাযহাব (মতাদর্শ) নয় এবং কোনো মানুষের বক্তব্যও নয়। নাস্তিকরা বিশ্বজগত নিয়ে এই খেল-তামাশার (৮) কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে কেবল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে। অথচ এটি অসম্ভব ও অবান্তর বিষয়, যাকে আরবিতে প্রলাপ ও উন্মাদনা বলা হয় (৯), এবং গ্রীক ভাষায় বলা হয় সফসত (১০), যার অর্থ হলো লাঞ্ছনা। এবং আবু হামিদ আল-গাজালী বলেন: নিশ্চয়ই এই জটিলতা দলিলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় না; বরং এর তৃষ্ণা মেটায় (১১) এবং অসুস্থকে সুস্থ করে সেই সব বিষয়, যা আল্লাহর রহমতের প্রবাহ হিসেবে অন্তরে বর্ষিত হয় এবং তাঁর নূর থেকে সেখানে আলো বিকিরণ করে। যখন বক্ষসমূহ প্রশস্ত হয় এবং অন্তরসমূহ নির্মল হয়, তখন সেখানে মূলনীতি ও উদ্দেশ্যসমূহ এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বাস্তব সত্যগুলো (১২) প্রস্ফুটিত হয়। ইমাম হাফিজ (১৩) দাঁড়িয়ে বললেন: এটি প্রথমটির চেয়েও বড় এক
বিপর্যয় , কারণ এটি এমন একজনের পক্ষ থেকে প্রকাশ পেয়েছে যিনি ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ। এটি (১৪) উচ্চ মর্যাদা (১৫) থেকে নিম্ন স্তরে নামিয়ে দেয় এবং তাকে বুদ্ধিমানদের (১৬) তালিকা থেকে বের করে দেয়। [৪/ক] আর এটি (১৭) থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই যতক্ষণ না আপনারা তা বুঝতে পারছেন (১৮)।
বিপর্যয়:
নিশ্চয়ই এই কথাগুলো সুফি দর্শনের আলোকে প্রকাশিত হয়েছে (১৯), কারণ তারা বিশ্বাস করে যে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের ঊর্ধ্বে। আর আমরা যদিও আমাদের দেহের দিক থেকে ইন্দ্রিয়ের জগতের অন্তর্ভুক্ত হই, তবুও আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক জগতেরই অংশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قلوب (1) والقلوب لا تزال تقطع بينها وببن الأبدان العلائق، وتحسم القواطع (2) حتى لا يبقى (3) بينها وبين البدن علاقة، ولا نزال (4) الروح كدرة (5) تترقى (6) من درجة إلى درجة في المعارف، وتتطلع من برج إلى برج حتى تنتهي إلى حيث خرجت، وترجع من حيث جاءت.
وهذا الكلام كله بناء منهم في الباطن (7) على عقائد اختيارية، ركبوها بزعمهم على قواعد عقلية، وأسكتوا (8) عنهم المعترضين، وسكتوا قلوب الشادين بما رووه عن النبي (ص) أنه قال: "الناس نيام فإذا ماتوا انتبهوا"، وهذا الحديث ليس له أصل في الدين، ولا يدخل في منزلة من منازل السقيم، فكيف الصحيح من المسلمين، ولكنه جزء من خطبة عظم بها الخطب، وصار بها الناس (9) ألبأ على ألب (10)، وقد كنت فاوضته في أمثالها، وأشرت بلمحة من لإمساك عن الحديث إلا ما صح على قدر منزلتي منه، ويقول (11) لي: بضاعتي في الحديث مزجاة، ولقد اخذ معي في الحديث (12) أبو بكر الفهري عند انكفائي من العراق، فأعلمته بذلك من قوله، فلم يعذره كما لم أعذره، وليس يخفى على ذي لب، يتوقف (13) هامنا قليلا بنفسه، ولا يعجل بالحوقلة، فقد امتلأت من هذا الكلام كل حوصلة، وليتعرض للدليل (14)، و (15) إن كان كان ليس بموضع دليل، ولكن هاهنا نكتة بديعة استفدناها في "نزهة المناظر وتحفة (16) الخواطر" وهي أن الحقائق تارة تنكشف
--------------------------------------------
অন্তরসমূহ (১) আর অন্তরসমূহ ক্রমাগত তাদের এবং শরীরের মধ্যকার সম্পর্কগুলো ছিন্ন করতে থাকে এবং প্রতিবন্ধকতাগুলোকে (২) দূর করতে থাকে, যতক্ষণ না তাদের এবং শরীরের মাঝে কোনো সম্পর্ক অবশিষ্ট না থাকে (৩), আর রুহ (৪) নির্মলভাবে (৫) মারেফাতের এক সোপান থেকে অন্য সোপানে উন্নীত হতে থাকে (৬) এবং এক কক্ষপথ থেকে অন্য কক্ষপথে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে থাকে, যতক্ষণ না সেটি যেখান থেকে নির্গত হয়েছিল সেখানে গিয়ে শেষ হয় এবং যেখান থেকে এসেছিল সেখানে ফিরে যায়।
আর তাদের এই সমস্ত কথা মূলত বাতেনি বা অভ্যন্তরীণভাবে (৭) কিছু স্বনির্বাচিত আকিদার ওপর ভিত্তি করে রচিত, যা তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী যৌক্তিক নিয়মাবলির ওপর সাজিয়েছে; এবং তারা তাদের প্রতি আপত্তি জানানো ব্যক্তিদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে (৮) এবং সত্য সন্ধানীদের অন্তরকে শান্ত করেছে নবী (সা.)-এর নামে বর্ণনা করা একটি বাণীর মাধ্যমে যে, তিনি বলেছেন: "মানুষ ঘুমিয়ে আছে, যখন তারা মারা যাবে তখন জাগ্রত হবে"। অথচ দ্বীনের মধ্যে এই হাদিসের কোনো ভিত্তি নেই, এমনকি এটি কোনো দুর্বল বর্ণনার স্তরেও পড়ে না, তাহলে মুসলিমদের নিকট সহিহ হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বরং এটি একটি খুতবার অংশ ছিল যার মাধ্যমে বাগ্মী ব্যক্তিরা বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করেন এবং যার ফলে মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে চরম শত্রুভাবাপন্ন হয়ে ওঠে (৯) (১০)। আমি এই ধরণের বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করেছিলাম এবং ইশারা-ইঙ্গিতে বুঝিয়েছিলাম যে, সহিহ হাদিস ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা উচিত, যা আমার অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তিনি (১১) আমাকে বলতেন: "হাদিসশাস্ত্রে আমার পুঁজি অত্যন্ত নগণ্য।" ইরাক থেকে আমার প্রত্যাবর্তনের সময় আবু বকর আল-ফিহরি হাদিসের (১২) বিষয়ে আমার সাথে আলোচনা করেছিলেন, তখন আমি তাঁকে তাঁর সেই উক্তির কথা জানিয়েছিলাম। তিনি তাঁকে ছাড় দেননি যেভাবে আমিও তাঁকে ছাড় দিইনি। আর এটি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে গোপন নয়, যে ব্যক্তি এখানে (১৩) নিজে থেকে সামান্য থামবে এবং 'হাউকালা' (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) পাঠে তাড়াহুড়ো করবে না। প্রতিটি চিত্তই এই ধরণের কথায় পূর্ণ হয়ে গেছে। আর তার উচিত দলিলের মুখোমুখি হওয়া (১৪), যদিও এটি দলিলের জায়গা নয় (১৫)। তবে এখানে একটি চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে যা আমরা "নুজহাতুল মানাজির ওয়া তুহফাতুল (১৬) খাওয়াতির" গ্রন্থ থেকে অর্জন করেছি, আর তা হলো—সত্যসমূহ কখনো উন্মোচিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بالدليل، إذا كانت (1) في (2) معرض (3) الإشكال، وتارة تنكشف بالتفسير (4)، إذا كان الإشكال في (5) وجه دلالة (6) الألفاظ، على المعاني، فإن الشيء قد [و 4 ب] يكسى غير حليته (7)، فليبادر بكشف غريبه، واتخذ هذا دستورا في الجدال (8)، إذا ناظرت، وفي الاسترشاد، إذا استرشدت (9).
وبعد هذه المقدمة نقول: إن غلاة الصوفية، ودعاة الباطية، يتشبهون بالمبتدعة في تعلقهم بمشتبهات الآيات والآثار على محكماتها، فيخترعون أحاديث (10) أو (11) تخترع لهم على قالب أغراضهم، ينسبونها إلى النبي، ويتعلقون (12) بها علينا، فمنها حديث الناس نيام، وليس بخبر، وإنما هو مثل ضربه بعض الحكماء (13) ليظهروا بذلك (14) فضل الآخرة على الدنيا، فأما أولاء (15) فإنما انتحوا (16) به إلى (17) أن ما في الآخرة ليس على حقائق ما في الدنيا، وأن ما في الدنيا من أمر (18) الآخرة، أسماء لا معاني حتى نسبوا ذلك إلى ابن عباس، والصدر (19) الأول، ليرتبوا عليه أن أمور الآخرة إنما هي أسماء محضة (20)، لا اشتراك بينها وبين معاني الدنيا في الوجود نسبتها إلى ما (21) في الدنيا، نسبة البحر في المنام، والأسد والحمار (22)، والدواني الذي (23) يختم كتاب الملك، إلى الملك، والشجاع وملك الموت، والمؤذن قبل الفجر (24) في رمضان
--------------------------------------------
প্রমাণের মাধ্যমে, যখন এটি (১) সংশয়ের (২) সম্মুখীন (৩) হয়, এবং কখনো ব্যাখ্যার (৪) মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যদি সংশয়টি অর্থের ওপর শব্দের (৬) নির্দেশনার (৫) ধরনে হয়। কেননা কোনো বস্তুকে কখনও [৪ ব] তার আসল রূপের বাইরে অন্য পোশাক পরানো হয় (৭), তাই তার মধ্যকার অপরিচিত বিষয়টি উন্মোচনে সচেষ্ট হওয়া উচিত। বিতর্কের (৮) ক্ষেত্রে একে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করো যখন তুমি বিতর্ক করবে, এবং নির্দেশনা প্রার্থনার ক্ষেত্রে যখন তুমি নির্দেশনা চাইবে (৯)।
এই ভূমিকার পর আমরা বলছি: চরমপন্থী সুফি এবং বাতিনিয়াদের আহ্বানকারীরা বিদআতিদের সদৃশ হয়ে থাকে মুহকাম আয়াতের বিপরীতে মুতাশাবিহ আয়াত ও আসারসমূহের (বর্ণনা) আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে। তারা এমন সব হাদিস উদ্ভাবন করে (১০) অথবা তাদের জন্য তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী (১১) তা উদ্ভাবন করা হয়, যা তারা নবীর প্রতি সম্বন্ধ করে এবং আমাদের বিপক্ষে তা নিয়ে দলিল পেশ করে (১২)। এর মধ্যে একটি হলো 'মানুষ ঘুমন্ত' হাদিসটি, অথচ এটি কোনো হাদিস নয়, বরং এটি কোনো কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির (১৩) দেয়া একটি উদাহরণ মাত্র, যার মাধ্যমে তারা দুনিয়ার ওপর আখেরাতের শ্রেষ্ঠত্ব (১৪) প্রকাশ করতে চেয়েছেন। কিন্তু এরা (১৫) একে সেদিকে (১৬) নিয়ে গেছে (১৭) যে, আখেরাতে যা আছে তা দুনিয়ার হাকিকত বা বাস্তবতার মতো নয়। এমনকি দুনিয়াতে আখেরাতের (১৮) যা কিছু আছে তা কেবল নাম মাত্র, কোনো অর্থ নেই। এমনকি তারা এই মতবাদকে ইবনে আব্বাস ও প্রথম যুগের (১৯) সালফে সালেহীনদের দিকে সম্বন্ধ করেছে, যাতে তারা এর ওপর ভিত্তি করে বলতে পারে যে আখেরাতের বিষয়গুলো কেবল নিছক নাম (২০), অস্তিত্বের দিক থেকে দুনিয়ার অর্থগুলোর সাথে সেগুলোর কোনো অংশীদারিত্ব নেই। দুনিয়ার সাথে সেগুলোর সম্পর্ক (২১) ঠিক তেমনই, যেমন স্বপ্নে দেখা সমুদ্র, সিংহ বা গাধার (২২) সাথে এবং রাজার সিলমোহর অঙ্কনকারী কালির দোয়াতের (২৩) সাথে রাজা, বীর এবং মালাকুল মাউত কিংবা রমজানে ফজরের আগের মুয়াজ্জিনের (২৪) সম্পর্ক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
في الدنيا، بل هذان (1) أقرب من ذينك، ولهذه الأمثال والأخبار، معاني صائبة، وفي (2) منهج (3) التحقيق سائرة.
صفة الجنة:وذلك أن البنية في الدنيا مبتدأة بترتيب وتوليد، وهي (4) في الآخرة منشأة دفعة في كرة، وهي في الدنيا تستحيل، وفي الآخرة تثبت، وفي الدنيا تفنى وفي الآخرة تدوم، وفي الدنيا منحصرة، وفي الآخرة لا تنحصر، وفي الدنيا نافعة من وجه، ضارة من آخر، محمودة من نوع، مذمومة من غيره، محبوبة في حال، مكروهة في (5) أخرى، وفي (6) الآخرة متحدة (7) كل صفة عن (8) مقابلتها، وهكذا أبدا (9) حتى يكون الكل كاملا، صدر عن كامل، لا نقص فيه (10) إلا عن [و5 أ] كمال وجب للإله الحق (11) من الأولية، والتقدس عن الحدث، وجواز تطرق الآفات والنقص، لا سيما وقد علم بالدليل كل عاقل، أن الدنيا حقيقة على ما هي عليه، والآخرة حقيقة على ما هي عليه، وليس ما يستغرب بينهما من التباين، وهما مخلوقتان (12) بأغرب من التفاوت الذي بين الخالق والمخلوق في الذات والصفات، ولكل واحد من هذين القسمين الأعلى الأشرف، والأسفل الأدنى، حقائق، وما (13) بينهما من التفاوت، ولم (14) تبطل حقيقة الأكمل حقيقة الأنقص، بل وجبت لكل واحد صفاته (15).
تمثيل من دليل:وقد أرسل الله الرسل إلى الخلق على اختلاف أطوارهم في أزمانهم، فما
--------------------------------------------
দুনিয়াতে, বরং এই দুটি (১) ওই দুটির চেয়ে নিকটবর্তী, আর এই সকল দৃষ্টান্ত ও সংবাদের সঠিক অর্থ রয়েছে এবং তা (২) গবেষণার (৩) পদ্ধতিতে প্রচলিত।
জান্নাতের বৈশিষ্ট্য:আর তা হলো এই যে, দুনিয়ার গঠন বিন্যাস ও উৎপাদনের মাধ্যমে শুরু হয়, আর তা (৪) আখেরাতে একবারে আকস্মিকভাবে সৃষ্টি করা হবে। দুনিয়াতে তা পরিবর্তিত হয়, আর আখেরাতে তা স্থির থাকে। দুনিয়াতে তা ধ্বংসশীল এবং আখেরাতে তা চিরস্থায়ী। দুনিয়াতে তা সীমাবদ্ধ এবং আখেরাতে তা অসীম। দুনিয়াতে তা একদিক থেকে উপকারী এবং অন্যদিক থেকে ক্ষতিকর, একদিক থেকে প্রশংসনীয় এবং অন্যদিক থেকে নিন্দনীয়, এক অবস্থায় প্রিয় এবং অন্য (৫) অবস্থায় অপ্রিয়। আর (৬) আখেরাতে প্রতিটি বৈশিষ্ট্য তার বিপরীতটি থেকে (৮) মুক্ত ও একক (৭)। এভাবে সর্বদা (৯) চলতে থাকবে যতক্ষণ না সবকিছু পূর্ণাঙ্গ হবে, যা একজন পূর্ণাঙ্গ সত্তা থেকে নির্গত হয়েছে, যাতে কোনো খুঁত নেই (১০), কেবল সেই [৫ক] পূর্ণতা ব্যতীত যা সত্য ইলাহের (১১) জন্য অনাদিত্ব, নশ্বরতা থেকে পবিত্রতা এবং আপদ ও ত্রুটি স্পর্শ করার সম্ভাবনা থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে অবধারিত। বিশেষ করে যেহেতু প্রতিটি বুদ্ধিমান ব্যক্তি দলিলের মাধ্যমে জেনেছে যে, দুনিয়া বাস্তবে তেমনই যেমনটি তা বিদ্যমান, এবং আখেরাত বাস্তবে তেমনই যেমনটি তা বিদ্যমান। তাদের উভয়ের মধ্যকার বৈসাদৃশ্য কোনো আশ্চর্যজনক বিষয় নয়, আর তাদের উভয়কেই সৃষ্টি করা হয়েছে (১২) স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে সত্তা ও গুণাবলির ক্ষেত্রে যে পার্থক্য বিদ্যমান তার চেয়েও বেশি বিস্ময়করভাবে। এই দুই প্রকারের উচ্চতর ও সম্মানিত এবং নিম্নতর ও সাধারণ—উভয়টিরই বাস্তবতা রয়েছে এবং তাদের (১৩) মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে তা অনস্বীকার্য। আর পূর্ণতর সত্তার বাস্তবতা অপূর্ণতর সত্তার বাস্তবতাকে (১৪) বাতিল করে দেয় না, বরং প্রত্যেকের জন্য তার নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য (১৫) অবধারিত।
দলিল থেকে দৃষ্টান্ত:আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির নিকট তাদের যুগের বিভিন্ন পর্যায় অনুসারে রাসুলগণকে প্রেরণ করেছেন, ফলে যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال أحد منهم: أنا في غير حقيقة، وإنما (1) كانوا ينفون الحقائق عن أقوال (2) الرسل (3) في دعاويها التوسط، وهم متفقون على إقرار الحقائق (4) في نصابها، وإتيانها من بابها، وإنما قابلوا أدلة الرسل بالشبهات، وجروا في ميدان النظر والدلالات، فعاند من عاندة وسدد من سدد.
توجيه:ويحتمل أن يكون أبو حامد، قد بنى هذا على مذهب الصوفية، في أن العلم من ثمرات العمل، وهو وإن صح كان قلبا للقوس (5) ركوة (6)، فليس في أول رتوة (7)، وإنما يكون ذلك دعوى في النظريات، أو في الزيادة على مقتضى الأدلة، وربما شبهوا (8) في ذلك بقوله تعالى (9): {واتقوا الله ويعلمكم الله} [البقرة: 282]. فأفاد هذا الظاهر أن العلم ثمرة التقوى التي هي أصل الأعمال، وترجمة (10) جميعها أو كلها، وأثروا (11) ذلك عن مالك رضي الله عنه (12)، إسكاتا (13) لنا، واعتضادا بإمامته (14) علينا، من قوله: ليس العلم بكثرة الرواية، وإنما هو نور يضعه الله في قلب من يشاء، قال القاضي أبو بكر (15): وهذا مقطع شريف ليس من غرضهم في شيء [و5 ب] وإنما له
--------------------------------------------
তাদের মধ্য থেকে একজন বলেছেন: "আমি হাকিকত (প্রকৃত সত্য) ছাড়া অন্য কিছুর মাঝে আছি।" প্রকৃতপক্ষে তারা রসূলগণের বাণীর হাকিকত বা বাস্তবতা অস্বীকার করত যখন সেগুলোতে মধ্যস্থতার দাবি করা হতো। অথচ তারা হাকিকতকে তার যথাস্থানে প্রতিষ্ঠিত রাখতে এবং তার সঠিক দ্বার দিয়ে প্রবেশ করার ব্যাপারে একমত ছিল। তারা কেবল রসূলগণের দলিলসমূহকে সংশয় দিয়ে মোকাবিলা করেছে এবং যুক্তি ও প্রমাণের ময়দানে বিচরণ করেছে। ফলে যে হঠকারিতা করার সে হঠকারিতা করেছে, আর যাকে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে সে সঠিক পথ পেয়েছে।
ব্যাখ্যা:এবং এটি সম্ভব যে আবু হামিদ এটিকে সুফিদের মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন, যা হলো ইলম (জ্ঞান) আমলের (কর্ম) অন্যতম ফল। যদিও এটি সঠিক হয়, তবুও এটি ধনুককে পানপাত্রে (তথা উল্টো দিকে) পরিণত করার মতো হবে, কারণ এটি প্রথম পদক্ষেপেই সম্ভব নয়। বরং এটি কেবল তাত্ত্বিক বিষয়ে অথবা দলিলের দাবির চেয়ে অতিরিক্ত কোনো বিষয়ে নিছক একটি দাবি হতে পারে। সম্ভবত তারা এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সাদৃশ্য খুঁজেছেন: {তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দেবেন} [আল-বাকারা: ২৮২]। এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থ প্রকাশ করে যে, ইলম হলো তাকওয়ার ফল, যা সকল আমলের মূল এবং সেগুলোর সমষ্টি বা সারসংক্ষেপ। আর তারা ইমাম মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এটি বর্ণনা করেছেন আমাদের চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্য এবং আমাদের ওপর তাঁর ইমামতকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য। তাঁর উক্তিটি হলো: "অধিক বর্ণনার নাম ইলম নয়; বরং এটি একটি নূর (আলো) যা আল্লাহ যার অন্তরে ইচ্ছা দান করেন।" কাযী আবু বকর বলেছেন: এটি একটি অনন্য অংশ যা তাদের উদ্দেশ্যের সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়, বরং এটি কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حقيقة معلومة، وهي أن العبد إذا واظب الطاعات، ونبذ المعاصي، لم يكن ذلك إلا باستمرار علمه، واستدامه نيته، فإن العمل بالقصد، والقصد يرتبط بالعلم فإنهما أخوان، فإذا دام العمل الصالح، دل على دوام العمل، وإذا علم ولم يعمل، أوشك أن يذهب العلم، ويكون نقصان العمل، علامة على نقصان العلم أو ذهابه.
فإن قيل: وكيف يذهب العلم بذهاب العمل، والعلم أصل، والعمل فرع عليه، والفرع هو الذى يذهب بذهاب الأصل؟ قلت (1): عنه (2) جوابان، أحدهما: أنا نمثل (3) لكم ما يحققه، فنقول: إنك ترى الغصن في الشجرة الناضرة ذابلا، فتستدل به على نقصان مادة الأصل، التي كانت تمده (4) بالري، ولولا نضوب المادة، وهي الأصل من الأصل لما ذوي الغصن (5)، في الشجرة الناضرة، فكان ذهاب الفرع لذهاب الأصل، وعلامة عليه.
الثاني: وهو التحقيق، أن التقوى والعلم جميعا، من جملة الأعمال، وكلاهما من الأعمال القلبية، وتنفرد التقوى بقسم منها، و (6) هو من عمل الجوارح، وهي مأخوذة من الوقاية، وهي الحجاب الموضوع، دون المكروه، فإذا اتقيت الله بقلبك أولا كما يجب، كان ذلك تعليما منه لك، بوضع الحجب التي تقيك عذابه، ووقاية العلم به للعذاب، قبل وقاية العمل له للعذاب، فإذا نقص العمل، كان لنقصان العلم ضرورة، ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: "لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن" (7) أخبر به، أنه لا يقدم على الزنا إلا بعد فوات جزء من العلم وقد بيناه في "قانون التأويل"، و"شرح الصحيحين" (8)، وورد في (9) الحديث الصحيح: "تعرض (10) الفتن على القلوب، كالحصير (11)
--------------------------------------------
এটি একটি বিদিত সত্য যে, বান্দা যখন ইবাদতে অবিচল থাকে এবং পাপ বর্জন করে, তখন তা কেবল তার ইলমের ধারাবাহিকতা এবং নিয়তের স্থায়িত্বের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। কারণ আমল নির্ভর করে সংকল্পের ওপর, আর সংকল্প যুক্ত থাকে ইলমের সাথে; কেননা তারা উভয়েই সহোদর। সুতরাং নেক আমল যখন স্থায়ী হয়, তখন তা ইলমের স্থায়িত্বেরই প্রমাণ দেয়। আর যদি সে জানে কিন্তু আমল না করে, তবে শীঘ্রই ইলম চলে যাবে। আমলের ঘাটতি ইলমের ঘাটতি বা তা চলে যাওয়ারই লক্ষণ।
যদি প্রশ্ন করা হয়: আমল চলে যাওয়ার মাধ্যমে ইলম কীভাবে চলে যায়? অথচ ইলম হলো মূল আর আমল হলো তার শাখা; আর মূল বিলীন হওয়ার মাধ্যমেই তো শাখা বিলীন হয়? আমি (১) এর (২) উত্তরে দুটি কথা বলব। প্রথমত: আমরা আপনাদের সামনে এর একটি দৃষ্টান্ত (৩) তুলে ধরছি। আমরা বলি: আপনি একটি সজীব গাছের ডালকে শুকিয়ে যেতে দেখেন, যা থেকে আপনি মূলের সেই উপাদানের ঘাটতি বুঝতে পারেন যা তাকে সিক্ত রাখত (৪)। যদি সেই মূল উপাদান শুকিয়ে না যেত—যা মূল থেকে উৎসারিত মূল বিষয়—তবে সজীব গাছের সেই ডালটি (৫) শুকাত না। সুতরাং শাখার বিনাশ মূলের বিনাশের কারণেই ঘটে এবং তা তারই একটি লক্ষণ।
দ্বিতীয়ত: প্রকৃত সত্য এই যে, তাকওয়া এবং ইলম উভয়ই আমলের অন্তর্ভুক্ত এবং উভয়েই অন্তরের আমল। তাকওয়ার একটি বিশেষ অংশ আছে (৬) যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাকওয়া শব্দটি 'উইকায়া' (সুরক্ষা) থেকে আগত, আর তা হলো অপছন্দনীয় বিষয় থেকে বাঁচতে কোনো পর্দা বা আড়াল রাখা। সুতরাং আপনি যখন যথাযথভাবে প্রথমে আপনার অন্তর দিয়ে আল্লাহকে ভয় করবেন, তখন এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি একটি শিক্ষা হবে এমন পর্দা স্থাপনের মাধ্যমে যা আপনাকে তাঁর আজাব থেকে রক্ষা করবে। আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে ইলমের সুরক্ষা আমলের সুরক্ষার পূর্ববর্তী। সুতরাং আমল যখন কমে যায়, তখন তা অনিবার্যভাবে ইলমের ঘাটতির কারণেই হয়। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কোনো ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না" (৭)। এর মাধ্যমে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, ইলমের একটি অংশ হারিয়ে ফেলা ছাড়া কেউ ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। আমরা এটি 'কানুনুত তাবীল' এবং 'শারহুস সহিহাইন' (৮)-এ বর্ণনা করেছি। আর সহিহ হাদিসে (৯) বর্ণিত হয়েছে: "অন্তরের ওপর ফেতনাগুলো উপস্থাপিত (১০) করা হয় চাটাইয়ের (১১) মতো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عودا عودا، فأي قلب أشربها، نكتت فيه نكتة سوداء فيصير أسود [و 6 أ] مربادا (1) كالكوز، مجخبا (2)، لا يعرف معروفا، ولا ينكر إلا ما أشرب من هواه" (3)، وهذا تنبيه بالغ، ونص فيما أردناه للخصم دافع.
مزيد تحقيق:ولا ينكر أحد (4) من الإسلاميين، لا من الفقهاء، ولا من المتكلمين، أن صفاء القلب وطهارته، مقصود شرعي، إنما (5) المستنكر (6) أن (7) صفاءه (8) يوجب تجلي العلوم فيه بذاته، إذ هو مقابل له في أصل الخلقة، وإنما الحق أن القلب بمداومة الطاعات، والفكرة (9) في ملكوت الأرض والسموات، يكون ذلك من إدامة المعرفة علما على النجاة، ويكون عمارة للبدن بالطاعات، وقد قام الدليل العقلي على أن العلم هو (10) من العمل قبل العمل، وكذلك (11) قام الدليل الشرعي، وشهدت له التجربة، على أنه {إنما يخشى الله من عباده العلماء} [فاطر: 28]، وكل من علم أن ملكوت الله في أرضه وسمائه الذي فيها بدنه، وجملة، من مخلوقاته، لم يصرفه إلا في طاعته، فإن قصر فبفوات علمهم (12) بما قصر فيه، وعما قصر عنه، وعما قصر به، وهذا كاف في الغرض.
تكملة:فنرجع إلى المراجعة مع القول الأول، للقوم الأول، فنقول لهم هذا
--------------------------------------------
বার বার প্রত্যাবর্তনের ফলে, যে অন্তরের ভেতরেই তা (ফিতনা) প্রবেশ করে, তাতে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। ফলে তা [ওয়াকফ ৬-ক] ধূসর বর্ণের (১) ন্যায় কালো হয়ে যায় উল্টানো কলসির (২) মতো; সে কোনো ভালোকে ভালো বলে চিনে না এবং মন্দকে মন্দ বলে প্রত্যাখ্যান করে না, কেবল তার প্রবৃত্তির যা কিছু তাতে প্রবেশ করেছে তা ব্যতীত (৩)। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা এবং আমরা যা চেয়েছি তার সপক্ষে এটি এমন এক অকাট্য দলিল যা বিরোধীকে নিরস্ত করে।
অধিকতর তাহকিক:ইসলামপন্থীদের মধ্যে ফকিহগণ কিংবা কালামশাস্ত্রবিদগণের কেউই অস্বীকার করেন না যে, অন্তরের স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা একটি শরিয়তসম্মত উদ্দেশ্য। তবে যে বিষয়টি (৫) আপত্তিকর (৬) তা হলো (৭) এই ধারণা পোষণ করা যে, অন্তরের স্বচ্ছতা (৮) তার নিজস্ব সত্তার মাধ্যমেই তাতে জ্ঞান উদ্ভাসিত হওয়াকে অপরিহার্য করে তোলে; কেননা সৃষ্টির মূল প্রকৃতিতে তা এর বিপরীতে অবস্থিত। বরং সত্য হলো এই যে, একনিষ্ঠ আনুগত্য এবং আসমান ও জমিনের রাজত্ব নিয়ে চিন্তার (৯) মাধ্যমে অন্তর সেই অর্জিত জ্ঞানকে নাজাত বা মুক্তির আলামত হিসেবে গ্রহণ করে এবং ইবাদতের মাধ্যমে শরীরকে আবাদ করে। জ্ঞান যে আমলের পূর্ববর্তী একটি বিষয় (১০) তা যুক্তিনির্ভর দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। একইভাবে (১১) শরিয়তের দলিলও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাও এর সাক্ষ্য দেয় যে, "নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে" [ফাতির: ২৮]। যে ব্যক্তিই অবগত হয়েছে যে, আল্লাহর জমিন ও আসমান জুড়ে তাঁর যে রাজত্ব রয়েছে—যার অন্তর্ভুক্ত তার শরীর ও অন্যান্য সমস্ত সৃষ্টি—সে তার প্রতিটি বিষয় কেবল আল্লাহর আনুগত্যেই ব্যয় করবে। যদি সে অবহেলা করে, তবে তা মূলত সেই বিষয়ে তাদের জ্ঞানের অভাবের (১২) কারণেই ঘটে, যাতে সে অবহেলা করেছে, যে বিষয় থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং যার দ্বারা সে অবহেলা করেছে। উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
পরিশিষ্ট:আমরা প্রথম দলের প্রথম উক্তির পর্যালোচনায় ফিরে আসছি এবং তাদেরকে বলছি এই যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التشكيك والخيلان (1) ألا تردونه إلى الشهوات في البطن، والفرج، والمعاش، في قوام آلات الحياة، فتدخلون فيها التشكيك، وتردون إليها الخيال والاختبال، ولا يكون عندكم فيها فرق بين النظر والإهمال، ولا بين الحلو والمر، والمستقذر والمستحب (2)، فإن لم ينقادوا إليه نبذناهم في يم الاعتراض (3)، إن لم يكن بنا قدرة على القيام فيهم بالواجب والانتهاض.
فإن قيل: قد روي أن النبي صلى الله عليه وسلم لما (4) سئل عن شرح الصدر، قال: "هو نور يقذفه الله في القلوب، قيل له: وما علامته؟ قال: التجافي عن دار الغرور، والإنابة إلى دار [و 6 ب] الخلود، والاستعداد للموت" (5)، وقد قال صلى الله عليه وسلم: "إن الله خلق الخلق من ظلمة، ثم رش عليهم من نوره"، فليركب عليهما قلنا: هذان حديثان موضوعان لا أصل لهما، يا ليتك لم تصل عليه، ولم (6) تنسب الكذب إليه (7)، وما أنت في ذلك إلا كمن يحلف ب الله الذي لا إله إلا هو لقد كان كذا وهو كاذب، فيا ليته لم يعظمه ولم يكذب فيما يقرن تعظيمه من حديث.
أما أن الحديث الأول له معنى صحيح في الدين، فإن هجر الدنيا يدل على خلو القلب من حبها، وأما الحديث الثاني ففاسد المعنى (8) لا أثر له في الشريعة، ولا مبنى، ونعوذ ب الله من الغرور، والغرور، إنما خلق الإنسان من طين ثم نفخ (9) فيه من روحه، والذي يعقل هو الطين بإقران الروح، فإن قيل: فقد قال الله سبحانه (10): {وغرتهم الحياة الدنيا} [الأنعام: 70] فإن كان لها حقيقة، فليس فيها غزور، قلنا: وليس عندكم قول ولا رب ولا دليل، ولا اعتراض، فما لكم تدخلون دارا لستم مقرين بأنكم فيها، ثم
--------------------------------------------
সন্দেহ ও কল্পনা (১) তোমরা কি একে পেট, যৌনাঙ্গ এবং জীবন ধারণের সরঞ্জামের লালসার দিকে ফিরিয়ে নেবে না? ফলে তোমরা এতে সন্দেহ প্রবেশ করাবে এবং এর দিকে কল্পনা ও বিভ্রান্তি ফিরিয়ে আনবে। আর তোমাদের কাছে পর্যবেক্ষণ ও অবহেলার মাঝে কোনো পার্থক্য থাকবে না, এমনকি মিষ্টি ও তিতো এবং অপবিত্র ও পছন্দের (২) মাঝেও কোনো পার্থক্য থাকবে না। যদি তারা এর প্রতি অনুগত না হয়, তবে আমরা তাদের আপত্তির (৩) সমুদ্রে নিক্ষেপ করব, যদি আমাদের মাঝে তাদের প্রতি আবশ্যকীয় দায়িত্ব পালন ও পদক্ষেপ নেওয়ার সামর্থ্য না থাকে।
যদি বলা হয়: বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন (৪) বক্ষ প্রশস্তকরণ (শারহুস সাদর) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "এটি একটি নূর যা আল্লাহ অন্তরে নিক্ষেপ করেন।" তাঁকে বলা হলো: এর চিহ্ন কী? তিনি বললেন: "প্রতারণার ঘর থেকে দূরে থাকা, অনন্তকালের ঘরের [পৃষ্ঠা ৬ খ] দিকে ধাবিত হওয়া এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।" (৫)। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে অন্ধকার থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাদের ওপর তাঁর নূরের ছিটা দিয়েছেন।" অতএব এই দুটির ওপর ভিত্তি করা হোক। আমরা বলি: এই দুটি হাদিসই জাল, এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। হায়! তুমি যদি তাঁর ওপর দরুদ না পড়তে এবং তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপ (৬) না করতে (৭)। এক্ষেত্রে তুমি সেই ব্যক্তির মতো যে আল্লাহর নামে শপথ করে বলছে—যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—যে এমনটা ঘটেছে, অথচ সে মিথ্যাবাদী। হায়! সে যদি তাঁকে সম্মান না করত এবং তাঁর সম্মানের সাথে যুক্ত হাদিসে মিথ্যা না বলত।
প্রথম হাদিসটির দ্বীনের মধ্যে একটি সঠিক অর্থ রয়েছে, কেননা দুনিয়া ত্যাগ করা অন্তর থেকে এর ভালোবাসা শূন্য হওয়ার প্রমাণ দেয়। কিন্তু দ্বিতীয় হাদিসটির অর্থ ভ্রান্ত (৮), শরীয়তে এর কোনো প্রভাব বা ভিত্তি নেই। আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রতারণা ও বিভ্রান্তি থেকে আশ্রয় চাই। মানুষকে মূলত মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, অতঃপর তাতে তাঁর পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়েছে (৯)। আর যা অনুধাবন করে তা হলো রূহ যুক্ত মাটি। যদি বলা হয়: আল্লাহ সুবহানাহু (১০) বলেছেন: {পার্থিব জীবন তাদের প্রতারিত করেছে} [সূরা আনআম: ৭০]। যদি এর কোনো বাস্তবতা থেকে থাকে, তবে এতে কোনো প্রতারণা নেই। আমরা বলি: তোমাদের কাছে কোনো বক্তব্য নেই, কোনো রব নেই, কোনো দলিল নেই এবং কোনো আপত্তিও নেই। তোমাদের কী হলো যে তোমরা এমন এক ঘরে প্রবেশ করছো যেটিতে আছো বলে তোমরা স্বীকারই করো না? অতঃপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২০)
تطمعون أن تتصرفوا في منافعها، لا تمكنون من ذلك انصرفوا صاغرين وانقلبوا (1) خاسئين (2).
فإن قيل: أيها المرشد إن قال المسترشد هذا (3): أخرجت من الدار من
ليس منها، فما الجواب عن هذا السؤال (4) لمن هم من أهلها؟ قلنا له (5): الدنيا حقيقة بذاتها، غرارة بمآلها، فإنها موجودة (6) حقيقة، فانية حقيقة، منقضية حقيقة، فهي إذا نظرها القاصر (7)، المغلوب بالشهوات، المنهمك في اللذات، ركن (8) إليها غرورا، وإذا نظرها العالم بفنائها، وأنها طريق لا مأوى اتخذها لذلك مسلكا، فنال من بغيته دركا على ما بيناه آنفا.
فإن قيل: أنكرتم الحديث المنور (9)، والشريعة مملوءة منه؟ قلنا [و 7 أ]: نحن لم ننكر إلا على تركيب ألفاظ عربية أو شرعية، على معان صابئة (10)، ونسبتها إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهذا هو الكذب متعمدا (11)، ولا سيما إذا أفرغت على قالب، تبنى عليه أغراض مقصودة في نحل (12) معروفة، فأما تنوير القلوب فهذا أمر شرعي.
قد كان من دعاء النبي صلى الله عليه وسلم، في مظان الإجابة، من آخر الليل، وعند الخلوة على ما روي في الصحيح، أنه صلى الله عليه وسلم كان يقول في دعائه حينئذ:، " الله م اجعل (13) في قلبي نورا، وفي نفسي نورا، وفي لساني نورا، وفي سمعي نورا، وفي بصري نورا، وفي شعري نورا، وفي بشري نورا، وفي مخي نورا، وفي عظمي نورا، وفي لحمي نورا، وفي (14) يميني نورا، وفي (15) يساري نورا، وفوقي نورا، وتحتي نورا، وأمامي نورا، وخلفي نورا، وفي قبري نورا، وعند لقائك
--------------------------------------------
তোমরা এর সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করার লালসা করো, কিন্তু তোমাদেরকে তা করতে দেওয়া হবে না। তোমরা লাঞ্ছিত হয়ে প্রস্থান করো এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে যাও (১) (২)।
যদি বলা হয়: হে পথপ্রদর্শক, যদি সত্যসন্ধানী ব্যক্তি এই কথাটি (৩) বলে: "আপনি ঘর থেকে তাকে বের করে দিয়েছেন যে তার অন্তর্ভুক্ত নয়," তবে যারা এই ঘরের অধিবাসী তাদের পক্ষ থেকে এই প্রশ্নের (৪) উত্তর কী হবে? আমরা তাকে (৫) বলি: পৃথিবী আপন সত্তায় একটি বাস্তবতা, কিন্তু পরিণতির বিচারে অত্যন্ত প্রতারণামূলক। নিশ্চয় এটি বাস্তবে বিদ্যমান (৬), বাস্তবে নশ্বর এবং বাস্তবে সমাপ্তিযোগ্য। সুতরাং যখন কোনো হীনদৃষ্টির (৭) অধিকারী ব্যক্তি, যে প্রবৃত্তির বশবর্তী এবং ভোগবিলাসে নিমগ্ন, একে দেখে, তখন সে প্রতারিত হয়ে এর প্রতি ঝুঁকে পড়ে (৮)। আর যখন কোনো ব্যক্তি এর নশ্বরতা সম্পর্কে অবগত হয়ে একে দেখে এবং জানে যে এটি একটি পথ মাত্র, কোনো আবাসস্থল নয়, তখন সে একে কেবল পথ হিসেবেই গ্রহণ করে। ফলে সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।
যদি বলা হয়: আপনারা কি নূরানি হাদীসকে (৯) অস্বীকার করেছেন, অথচ শরীয়ত তো এতে পরিপূর্ণ? আমরা বলি [পৃষ্ঠা ৭-ক]: আমরা কেবল সাবী (নক্ষত্রপূজারি) মতাদর্শের (১০) অর্থ অনুযায়ী আরবি বা শরীয়তের শব্দাবলি সাজানো এবং তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে নিসবত করার বিরোধিতা করেছি। আর এটিই হলো ইচ্ছাকৃত (১১) মিথ্যাচার, বিশেষ করে যখন একে এমন এক ছাঁচে ঢালা হয় যার ওপর ভিত্তি করে সুপরিচিত দলগুলোর (১২) নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। পক্ষান্তরে অন্তরের নূরানিয়ত বা আলোকিতকরণ একটি শরীয়তসম্মত বিষয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল, কবুল হওয়ার সম্ভাব্য সময়ে, শেষ রাতে এবং নির্জনে—যেমনটি সহীহ বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি তখন তাঁর দুআয় বলতেন: "হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দিন (১৩), আমার নফসে নূর দিন, আমার জিহ্বায় নূর দিন, আমার শ্রবণে নূর দিন, আমার দৃষ্টিতে নূর দিন, আমার চুলে নূর দিন, আমার চামড়ায় নূর দিন, আমার মগজে নূর দিন, আমার হাড়ে নূর দিন, আমার মাংসে নূর দিন, আমার (১৪) ডানে নূর দিন, আমার (১৫) বামে নূর দিন, আমার উপরে নূর দিন, আমার নিচে নূর দিন, আমার সামনে নূর দিন, আমার পেছনে নূর দিন, আমার কবরে নূর দিন এবং আপনার সাথে সাক্ষাতের সময়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২১)
نورا، وعلى الصراط نورا، واجعلني نورا، واجعل لي نورا، وأعطني نورا، وأعظم لي نورا".
فهذه ثلاثة وعشرون منها في صحيح مسلم سبع عشرة دعوة، والباقي صحت من طرق سواه (1)، والخير كله نور، والشر كله ظلمة، حقيقة لا مجازا، وأخصه (2) أن العلم نور، والجهل ظلمة، والسرور نور، والغم ظلمة، والحديث الذي ذكرتم (3) رواه الترمذي (4) عن عبد الله بن عمرو (5) أن الله خلق الخلق في ظلمة فألقى عليهم من نوره فمن أصابه من ذلك النور اهتدى، ومن أخطأه ضل، فلذلك (6) أقول: جف القلم عن علم الله.
وهذا الحديث حسن الإسناد، لم يبلغ درجة الصحة ولكن يشهد له
ظاهر القرآن، لقوله تعالى: {والله أخرجكم من بطون أمهاتكم لا تعلمون شيئا} [النحل: 78]، فالمراد بالحديث أنه خلقهم في ظلمة، لا من ظلمة، المعنى خلقهم جهالا، وضرب للجهل مثلا الظلمة، ثم ألقى عليهم من نوره، فاستنار به من هداه، وهو عبارة عن العلم الذي يخلقه الله لمن يشاء [و 7 ب] والقبول الذي يهبه (7) لمن يريد (8).
تخبيل:قالوا: ليس عندنا معنى يوثق به، إذ الحس خائن، ألا ترى أنك لو أخذت قبسا من نار، ثم حركته بسرعة، حركة مستقيمة على وضع الخط المستقيم، لرأيته خطا مستقيما، ولو حركته دورية لصار كرة، وقد تأتي (9)
--------------------------------------------
"...আলো, আর সিরাতের ওপর আলো, আর আমাকে আলো বানিয়ে দিন, আর আমার জন্য আলো করে দিন, আর আমাকে আলো দান করুন এবং আমার জন্য আলোকে মহান করে দিন।"
এই হলো তেইশটি (দুয়া), যার মধ্যে সতেরোটি দুয়া সহীহ মুসলিমে রয়েছে এবং বাকিগুলো অন্যান্য সূত্রে (১) সহীহ হিসেবে প্রমাণিত। সকল কল্যাণ হলো আলো এবং সকল অকল্যাণ হলো অন্ধকার, এটি রূপক নয় বরং বাস্তব। আর বিশেষভাবে (২) জ্ঞান হলো আলো এবং মূর্খতা হলো অন্ধকার, আনন্দ হলো আলো এবং দুঃখ হলো অন্ধকার। আপনারা যে হাদীসটি (৩) উল্লেখ করেছেন তা ইমাম তিরমিযী (৪) আব্দুল্লাহ বিন আমর (৫) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তাদের ওপর তাঁর নূর (আলো) নিক্ষেপ করেছেন। ফলে যার ওপর সেই আলো পড়েছে সে হিদায়াত পেয়েছে, আর যার ওপর পড়েনি সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এজন্যই (৬) আমি বলি: আল্লাহর জ্ঞান অনুযায়ী কলম শুকিয়ে গেছে।
এই হাদীসটির সনদ হাসান, এটি সহীহ হওয়ার স্তরে পৌঁছেনি তবে কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের পেট থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না} [আন-নাহল: ৭৮]। হাদীসের উদ্দেশ্য হলো যে, তিনি তাদের অন্ধকারের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন, অন্ধকার থেকে নয়। এর অর্থ হলো তিনি তাদের মূর্খ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং মূর্খতার উদাহরণ হিসেবে অন্ধকারকে পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের ওপর তাঁর আলো নিক্ষেপ করেছেন, ফলে যাকে তিনি হিদায়াত দিয়েছেন সে তার মাধ্যমে আলোকিত হয়েছে। এটি মূলত সেই জ্ঞান যা আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন [পৃষ্ঠা ৭-বি] এবং সেই কবুলিয়াত (কবুল করা) যা তিনি যাকে চান (৭) দান করেন (৮)।
বিভ্রান্তি:তারা বলে: আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো অর্থ নেই, কারণ ইন্দ্রিয় হচ্ছে প্রতারক। তুমি কি দেখ না যে, তুমি যদি আগুনের একটি মশাল নাও, অতঃপর তা সরলরেখা বরাবর দ্রুতবেগে নাড়াও, তবে তুমি তাকে একটি সরলরেখা হিসেবেই দেখবে। আর যদি তাকে বৃত্তাকারে ঘোরাও তবে তা একটি গোলক হয়ে যাবে। আর কখনো আসতে পারে (৯)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২২)
بالحركة على صفة، تكون قوسا من دائرة، فتراه (1) تختلف عليه المرائي، وهو (2) نقطة واحدة، ولو كانت له حقيقة ثابتة، لما اختلف (3) باختلاف الطوارئ، على الذات من خارج. قلنا: هذا إيراد للحقائق (4) بأنها خيالات، وبيانه أن القبس الذي ذكروه، له حقيقة مشاهدة، وله إذا سكن صورة، وإذا تحرك صورة، فتختلف عليه الصور بالحركات، والسكون، وحقيقته واحدة، وهذه حقيقة الحقيقة، ألا ترى أن الإنسان له حقيقة، وتختلف (5) عليه الصور، فتارة يكون ناطقا، وساكتا، وقائما، وقاعدا، إلى غير ذلك من حالاته، وتصرفاته، ولا تتغير (6) له حقيقة، باختلافها عليه، بل له حقيقة دائمة أبدا (7)، لا تتغير (8) ولهذه الصفات حقائق في ذواتها (9)، على تغيرها (10)، معلومة محققة، وكل بذاته متحيز، وفي سبيل العرفان سائر، وكذلك الأجسام كلها (11)، والعالم بأسره.
--------------------------------------------
একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর গতির কারণে সেটি বৃত্তের একটি চাপে পরিণত হয়, ফলে আপনি তাকে (১) দেখেন যে তার ওপর আপতিত দৃশ্যগুলো ভিন্ন ভিন্ন হচ্ছে, অথচ সেটি (২) একটি একক বিন্দু। যদি এর কোনো স্থির হাকিকত থাকত, তবে বহিরাগত আপতিত অবস্থার পরিবর্তনের কারণে সেটি ভিন্ন ভিন্ন (৩) হতো না। আমরা বললাম: এটি বাস্তবতাকে (৪) কল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করার একটি প্রয়াস মাত্র। এর ব্যাখ্যা হলো, তারা যে অগ্নিকণার কথা উল্লেখ করেছেন, তার একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা রয়েছে; সেটি যখন স্থির থাকে তখন তার এক রূপ, আর যখন সেটি গতিশীল হয় তখন তার অন্য রূপ দেখা যায়। ফলে গতি ও স্থিরতার কারণে তার রূপগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়, কিন্তু তার হাকিকত এক। আর এটিই হলো প্রকৃত বাস্তবতা। আপনি কি দেখেন না যে মানুষের একটি হাকিকত রয়েছে, কিন্তু তার ওপর আপতিত রূপগুলো ভিন্ন ভিন্ন (৫) হয়? ফলে কখনো সে বাকপটু, কখনো নীরব, কখনো দণ্ডায়মান, আবার কখনো উপবিষ্ট থাকে—এভাবে তার আরও অনেক অবস্থা ও কর্মকাণ্ডের পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু তার ওপর এসবের ভিন্নতা সত্ত্বেও তার হাকিকত পরিবর্তিত (৬) হয় না; বরং তার একটি চিরস্থায়ী (৭) হাকিকত রয়েছে যা পরিবর্তিত (৮) হয় না। এই গুণাবলিগুলোরও তাদের নিজস্ব সত্তায় (৯) হাকিকত বা বাস্তবতা রয়েছে তাদের পরিবর্তনশীলতা (১০) সত্ত্বেও, যা সুপরিজ্ঞাত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রত্যেকেই নিজ সত্তায় সীমাবদ্ধ এবং মারেফতের পথে চলমান। একইভাবে সমস্ত দেহ (১১) এবং সমগ্র জগতও এমন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الموقف الثانيذهبت طائفة إلى تحقيق العلوم في مواقعها، واعترفت بتعلقها بمعلوماتها، ولكنها ذهبت إلى أن الأدلة، وإن كان تفيدها، وتقتضيها، ولكن رحمة الله ولطفه، إذا فاض على العبد جاءه به من العرفان ما يستغرق مقتضى الأدلة، من البيان، وهذا نحو مما تقدم، ولكن تعلقت به طائفة جليلة، كالحارث بن أسد المحاسبي (1) أولا، وأبي القاسم عبد الكريم بن هوازن (2) القشيري (3) ثانيا، وبن الرجلين [و 8 أ] طوائف (4) لا يحصون كثرة، من مشهور ومذكور، وهذان العالمان سلكا، طريقا متوسطة (5) بإين الغلو والتقصير، ونجمت في آثارهما (6) أمم، انتسبت إلى الصوفية (7)، وكان منها من غلا وطفف، وكاد الشريعة وحرف، وقالوا كما تقدم لا ينال العلم إلا بطهارة النفس، وتزكية القلب، وقطع العلائق بينه وبين البدن (8)، وحسم مواد أسباب الدنيا، من الجاه والمال، والخلطة بالجنس، والإقبال على الله بالكلية، علما دائما، وعملا مستمرا، حتى تنكشف له الغيوب، فيرى الملائكة، ويسمع أقوالها (9)، ويطلع
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অবস্থানএকটি দল জ্ঞানসমূহকে তাদের স্ব স্ব স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত করার অভিমত ব্যক্ত করেছে এবং এই জ্ঞানগুলো যে তাদের সংশ্লিষ্ট জ্ঞাত বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত, তা স্বীকার করেছে। তবে তারা এই মত পোষণ করেছে যে, দলিল-প্রমাণাদি যদিও সেই জ্ঞান প্রদান করে এবং তার দাবি রাখে, কিন্তু আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ যখন কোনো বান্দার ওপর বর্ষিত হয়, তখন তার নিকট এমন আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞা (ইরফান) আসে যা দলিল-প্রমাণের বর্ণনার দাবিকেও পরিবেষ্টিত করে ফেলে। এটি পূর্বে আলোচিত বিষয়েরই অনুরূপ একটি ধারা। তবে একটি মহান দল এই মতের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে; যেমন—প্রথমত হারিস ইবনে আসাদ আল-মুহাসিবী (১) এবং দ্বিতীয়ত আবুল কাসিম আব্দুল কারিম ইবনে তাওয়াযুন (২) আল-কুশাইরী (৩)। এই দুই ব্যক্তির অনুসারী হিসেবে অসংখ্য দল (৪) রয়েছে যারা প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত। এই দুই আলিম চরমপন্থা ও শিথিলতার মাঝে একটি মধ্যপন্থা (৫) অবলম্বন করেছিলেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে (৬) এমন বহু জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে যারা নিজেদেরকে সুফিবাদের (৭) সাথে সম্পৃক্ত করে। তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা অতিরঞ্জন ও সীমালঙ্ঘন করেছে এবং শরিয়তের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিকৃতি সাধন করেছে। তারা বলেছে—যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে—নফসের পবিত্রতা, অন্তরের পরিশুদ্ধি এবং শরীরের (৮) সাথে আত্মার সম্পর্ক ছিন্ন করা ব্যতীত প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। সেই সাথে দুনিয়াবি উপায়-উপকরণের মূল উৎস তথা পদমর্যাদা, সম্পদ ও মানুষের সাথে মেলামেশা বর্জন করে সার্বক্ষণিক জ্ঞানচর্চা ও নিরবচ্ছিন্ন আমলের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে; যতক্ষণ না তার নিকট অদৃশ্যের রহস্যসমূহ উন্মোচিত হয়, ফলে সে ফেরেশতাদের দেখতে পায়, তাদের কথা শুনতে পায় (৯) এবং অবগত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
على أرواح الأنبياء، ويسمع كلامهم وهذا (1) ووراء هذا غلو ينتهي إلى القول بمشاهدة الله (2)، يدخلونه في باب الكرامات إذ (3) كان من الجوزات. قاصمة:
ولقد فاوضت فيها أبا حامد الغزالي، حلا! ن لقائي له بمدينة (4) السلام، في جمادى الآخرة سنة تسعين وأربعمائة، وقد كان راض نفسه بالطريقة الصوفية، من سنة ست وثمان!! ن، إلى ذلك الوقت نحوا من خمسة أعوام، وتجرد لها، واصطحب مع العزلة، ونبذكل فرقة، فتفرغ لي بسبب بيناه في! تاب ترتيب الرحلة، فقرأت عليه جملة من كتبه، وسمعت كتابه الذي سماه بالإحياء (5) لعلوم الدين، فسألته سؤال المسترشد عن عقيدته، المستكشف عن طريقته، لأقف من سر (6) تلك الرموز، التي أومأ إليها في كتبه، على موقف تام المعرفة، وطفق يجاوبني، مجاوبة الناهج لطريق التسديد، للمريد، لعظيم مرتبته، وسمو منزلته، وما ثبت له في النفوس من تكرمته، فقال لي من لفظه، وكتبه لي بخطه: إن القلب إذا تطهر عن علاقة البدن الحسوس، وتجرد للمعقول انشكفت له الحقائق، وهذ! أمور لا تدرك إلا بالتجربة لها عند! و 8 ب، أربابها، بالكون معهم والصحبة لهم، ويرشد إليه طريق من النظر وهو أن القلب جوهر صقيل، مستعد لتجلي المعلومات فيه، عند مقابلتها عريا عن الحجب كالمرآة في ترائي المحسوسات، عند زوال الحجب، من صدا لائط، أو ستر من ثوب أو حائط، لكنه بتراكم الافات عليه (7)، يصدأ حتى لا يتجلى (8) فيه شيء، أو يتجلى (9) معلوم دون معلوم، بحسب مواراة الحجاب له، من ازورار، أو كثاقة، أو شفف، فيتخيل (10) فيها مخيلة، غير متجلية،
...নবীদের রূহের ওপর এবং তাদের কথা শোনেন, আর এটি (১) এবং এর পেছনে এমন চরমপন্থা রয়েছে যা আল্লাহকে চাক্ষুষ দেখার (২) দাবি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারা একে অলৌকিক ঘটনার (কারামাত) অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করেন যেহেতু (৩) এটি সম্ভবপর বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। পিঠ ভেঙে দেওয়ার মতো বিষয়:
নিশ্চয় আমি এই বিষয়ে আবু হামিদ আল-গাজালির সাথে আলোচনা করেছি, যখন আমার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল শান্তির শহর (৪) (বাগদাদে), চারশ নব্বই হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসে। তখন তিনি সূফী তরিকায় নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলেছিলেন চারশ ছিয়াশি হিজরি থেকে সেই সময় পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর ধরে। তিনি এর জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন, নির্জনতা বেছে নিয়েছিলেন এবং সমস্ত দল-উপদল ত্যাগ করেছিলেন। তিনি আমার জন্য সময় বের করেছিলেন এমন এক কারণে যা আমরা 'তারতিবুর রিহলা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। আমি তার কাছে তার বেশ কিছু কিতাব পড়েছি এবং তার 'এহয়াউ উলুমিদ্দীন' (৫) নামক কিতাবটি শুনেছি। আমি তাকে তার আকিদা সম্পর্কে একজন পথপ্রার্থীর মতো এবং তার তরিকা সম্পর্কে একজন রহস্য উদঘাটনকারীর মতো প্রশ্ন করেছিলাম, যাতে তার কিতাবসমূহে তিনি যে সংকেতগুলোর (৬) প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তার রহস্য সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে পারি। তিনি আমাকে এমনভাবে উত্তর দিতে শুরু করলেন যেমন একজন সঠিক পথের পথিক তার মুরিদকে দিয়ে থাকেন, তার সুউচ্চ মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং মানুষের অন্তরে তার প্রতি যে সম্মান প্রোথিত ছিল সেই কারণে। তিনি আমাকে নিজ মুখে বললেন এবং নিজ হাতে আমার জন্য লিখে দিলেন: নিশ্চয় অন্তর যখন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য শরীরের সম্পর্ক থেকে পবিত্র হয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের জন্য একনিষ্ঠ হয়, তখন তার কাছে প্রকৃত সত্যসমূহ উন্মোচিত হয়। আর এগুলো এমন বিষয় যা এর অধিকারীদের সান্নিধ্যে থেকে এবং তাদের সাথে সহবতে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়া অনুধাবন করা সম্ভব নয়। তাত্ত্বিক আলোচনার একটি পথও এদিকে দিকনির্দেশনা দেয়, আর তা হলো অন্তর একটি স্বচ্ছ নির্যাস, যা তথ্যাবলি তার মাঝে প্রতিফলিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে, যখন তা পর্দা বা অন্তরায় মুক্ত হয়ে তথ্যের মুখোমুখি হয়; যেমন দৃশ্যমান বস্তু দেখার ক্ষেত্রে আয়না কাজ করে যখন জং পড়া, কাপড়ের পর্দা বা দেয়ালের মতো অন্তরায়গুলো দূর হয়ে যায়। কিন্তু তার ওপর আপদসমূহের (৭) স্তূপ জমার কারণে তাতে জং ধরে যায়, ফলে তাতে কোনো কিছুই প্রতিফলিত (৮) হয় না, অথবা পর্দার আড়ালের ধরন অনুযায়ী—তা বাঁকা হওয়া, ঘন হওয়া বা স্বচ্ছ হওয়ার কারণে—কোনো তথ্য প্রতিফলিত (৯) হয় আবার কোনোটি হয় না, তখন সেখানে একটি অস্পষ্ট কল্পনা তৈরি হয় যা সুষ্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় না (১০),
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كأنه ينظر من وراء شف (1)، ألا ترى إلى (2) النائم إذا أفلت (3) قلبه من يد الحواس، وانفك من أسرها، كيف تتجلى (4) له الحقائق، تارة بعينها، وأخرى بمثالها. قال لي: وقد تقوى النفس، ويصفو القلب حتى يؤثر في العوالم، فإن للنفس قوة تأثيرية موجدة (5)، ولكن كما قلنا، ما يتوارد عليها من شعوب البدن، وعلائق الشهوات، يحول بينها وبين تأثيرها، حتى لا يبقى لها تأثير إلا في محلها، وهو البدن خاصة (6)، كالرجل يمشي في الأرض، على عرض شبر، ولو علا جدارا مرتفعا، عرضه ذراع، ما استطاع أن يبسط خطاه عليه فإنه (7) يتوهم سقوطه عنه، فإذا استشعرت ذلك النفس (8) واستقرت عليه، انفعل (9) البدن لها، وسقط مسرعا، وقد تقوى على أكثر من ذلك، فيكون تأثيرها في غير محلها من جنسها، كما ينظر الرائي إلى جسم حسن، فيقع في قلبه استحسانه، فإذا نطق بذلك عليه، تأثر بذلك الجسم فليط (10) به، أو هلك في ذاته، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "إن العين لتدخل الرجل القبر، والجمل القدر" (11) وقد
--------------------------------------------
যেন সে একটি স্বচ্ছ আবরণের আড়াল থেকে দেখছে (১), তুমি কি ঘুমন্ত ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করোনি (২) যখন তার অন্তর ইন্দ্রিয়ের হাত (৩) থেকে বিমুক্ত হয় এবং তাদের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়, কীভাবে তার সামনে প্রকৃত সত্যসমূহ উদ্ভাসিত হয় (৪), কখনও তা স্বরূপে এবং কখনও প্রতীকি রূপে। তিনি আমাকে বললেন: নফস শক্তিশালী হতে পারে এবং অন্তর স্বচ্ছ হতে পারে এমনকি তা জগতসমূহের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, কেননা নফসের একটি প্রভাব বিস্তারকারী ও অস্তিত্বদানকারী শক্তি (৫) রয়েছে; কিন্তু যেমনটি আমরা বলেছি, শরীরের নানাবিধ ব্যস্ততা এবং কুপ্রবৃত্তির সম্পর্কসমূহ যা তার ওপর আপতিত হয়, তা তার এবং তার প্রভাবের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, ফলে তার নিজস্ব স্থান ব্যতীত আর কোথাও তার প্রভাব অবশিষ্ট থাকে না, আর সেই স্থানটি হলো খোদ শরীর (৬)। যেমন কোনো ব্যক্তি এক বিঘত প্রশস্ত জমিনের ওপর দিয়ে হাঁটছে, কিন্তু সে যদি এক হাত প্রশস্ত কোনো উঁচু দেয়ালের ওপর ওঠে, তবে সে তার ওপর পা বাড়িয়ে চলতে সক্ষম হবে না; কারণ সে (৭) সেখান থেকে পড়ে যাওয়ার কল্পনা করে। অতঃপর যখন নফস তা অনুভব করে (৮) এবং তার ওপর তা স্থির হয়ে যায়, তখন শরীর তার অনুগত হয় (৯) এবং দ্রুত পড়ে যায়। কখনও কখনও নফস এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়, তখন তার প্রভাব তার স্বগোত্রীয় অন্য স্থানেও পড়ে, যেমন কোনো দর্শক একটি সুন্দর দেহের দিকে তাকাল এবং তার অন্তরে তার সৌন্দর্য গেঁথে গেল। অতঃপর যখন সে সে বিষয়ে কথা বলে, তখন সেই দেহটি তার দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তাতে কুপ্রভাব লেগে যায় (১০), অথবা সে সত্তাগতভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। এ থেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এসেছে: "নিশ্চয়ই বদনজর মানুষকে কবরে এবং উটকে হাঁড়িতে প্রবেশ করায়" (১১) এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تزيد (1) قوتها بصفائها (2) واستعدادها، فتعتقد إنزال الغيث، وإنبان النبات، ونحو ذلك من معجزات خارقات للعادات، فإذا نطقت به كان على نحوه، وهذه نفوس الأنبياء، وهي الآيات التي تأيدت بها أحوالهم.
[و 9 أ]
عاصمة:قال القاضي أبو بكر (3) رضي الله عنه (4): فلما وعيت هذا سماعا، وكتابة عنه، وقراءة، رجعت إليه متأملا بصادق البصيرة، وعرضته على قواعد النظر، في المعقول والمنقول، ونظرت في أفراده، ثم جمعه (5)، فرأيت أنه لا يخفى على ناظر، أن النفس موجودة، والبدن موجود، والروح والنفس (6) والقلب والحياة، ألفاظ واردة في الشرع، منطلقة في لسان العرب، على معان قد عرفوها، إذ لا يصح أن يخاطبوا بما لم يفهموا ولا (7) أن يعبروا بما (8) لم يعلموا، وهي بينة عند الطوائف كلها، عاقلوها ومتشرعوها.
فأما البدن فمحسوس، وأما القلب فمشاهد في بعض الأحوال ولكن عند التعطل من عمله، وعند الانفصال عن محله، وأما الروح فمعقولة، وأما النفس فاختلفوا، فمنهم من جعلها الدم، فتكون جسما محسوسا، ومنهم من جعلها معقولة بمنزلة الروح، وحين دارت هذه الألفاظ على ألسنة الأنبياء والحكماء المتلقين (9) عنهم، دارت على رسم التوارد، فقد يعبر بالروح عن القلب، والنفس، وعن القلب بهما وعن النفس بالروح، وعن الروح والحياة بهما، وقد يتعدى بهذه الألفاظ إلى غير العقلاء، بل إلى غير الأحياء، فتجعل في كل شيء، فيقال لكل شيء قلب، ونفس، وروح، وحياة، استعارة، فمن لم يعقل وجه الاستعمال تاه (10) في مجاهل لا عمارة بعدها، ومن أراد أن يلبس (11)
--------------------------------------------
এর শক্তি এর স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়, ফলে তা বৃষ্টি বর্ষণ, উদ্ভিদ জন্মানো এবং এই জাতীয় অলৌকিক ও অস্বাভাবিক ঘটনাবলির সংকল্প করে। যখন সে এটি মুখে উচ্চারণ করে, তখন তা সেভাবেই ঘটে। এগুলো হলো নবীদের আত্মা, আর এগুলোই হলো সেই সব নিদর্শন যার মাধ্যমে তাদের অবস্থাসমূহ সমর্থিত হয়েছে।
[৯ ক]
সুরক্ষা:কাজী আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: আমি যখন শ্রবণ, লিখন এবং পঠনের মাধ্যমে এটি অনুধাবন করলাম, তখন আমি গভীর অন্তর্দৃষ্টির সাথে এবং চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে এর দিকে ফিরে এলাম। আমি একে বুদ্ধিভিত্তিক এবং শরয়ি মূলনীতির মাপকাঠিতে যাচাই করলাম এবং এর প্রতিটি বিষয় ও সামগ্রিক রূপটি পর্যবেক্ষণ করলাম। তখন আমি দেখলাম যে, কোনো পর্যবেক্ষকের কাছে এটি গোপন নয় যে, শরীর বিদ্যমান এবং দেহ বিদ্যমান। আর রুহ, নফস, কলব ও হায়াত হলো শরিয়তে আগত শব্দাবলি, যা আরবদের ভাষায় এমন সব অর্থে ব্যবহৃত হয় যা তারা জানত। কারণ, তারা যা বোঝে না তা দিয়ে তাদের সম্বোধন করা যেমন সঠিক নয়, তেমনি যা তারা জানে না তা প্রকাশ করাও তাদের জন্য সংগত নয়। আর এগুলো সকল দলের কাছেই সুস্পষ্ট—হোক তারা বুদ্ধিদীপ্ত বা শরিয়ত অনুসরণকারী।
শরীরের বিষয়টি তো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। আর অন্তরের বিষয়টি কিছু অবস্থায় দৃশ্যমান, তবে তা এর কর্মক্ষমতা বন্ধ হওয়ার সময় এবং এর নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময়। রুহের বিষয়টি বুদ্ধিগ্রাহ্য। আর নফসের বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন; তাদের কেউ কেউ একে রক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, সেক্ষেত্রে এটি একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দেহে পরিণত হয়। আবার কেউ কেউ একে রুহের মতো বুদ্ধিগ্রাহ্য হিসেবে গণ্য করেছেন। যখন এই শব্দগুলো নবীদের এবং তাদের কাছ থেকে জ্ঞান লাভকারী প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের মুখে প্রচলিত হলো, তখন তা অর্থের অভিন্নতার ভিত্তিতেই প্রচলিত হয়েছে। ফলে কখনো রুহ বলতে অন্তর ও নফসকে বোঝানো হয়, আবার অন্তর বলতে এই দুটিকেই বোঝানো হয়, নফস বলতে রুহকে এবং রুহ ও হায়াত বলতে এই উভয়কে বোঝানো হয়। কখনো কখনো এই শব্দগুলো বিবেকহীন প্রাণীর ক্ষেত্রে, এমনকি প্রাণহীন বস্তুর ক্ষেত্রেও রূপক অর্থে প্রয়োগ করা হয়; ফলে প্রত্যেক বস্তুর জন্যই অন্তর, নফস, রুহ ও জীবন সাব্যস্ত করা হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি ব্যবহারের এই দিকটি বুঝবে না, সে এমন এক বিজন প্রান্তরে পথ হারাবে যার পর আর কোনো আবাদি লোকালয় নেই। আর যে ব্যক্তি বিভ্রান্ত করতে চাইবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بها وجد مجالا مشكلا للتلبيس، لكثرة الاستعمال.
والمعلوم في الجملة أنه (1) خلق آخر غير البدن، كما قال تعالى: {ولقد خلقنا الإنسان من سلالة من طين (2) ثم جعلناه نطفة في قرار مكين ثم خلقنا النطفة علقة فخلقنا العلقة مضغة، فخلقنا المضغة عظاما، فكسونا العظام لحما ثم أنشأناه خلقا آخر فتبارك الله أحسن [و 9 ب] الخالقين [المؤمنون: 14]. فبين أن الجسم خلق، والذي وراءه (3) خلق آخر، مجاور له، مغاير، وأنت ترى في الجملة أن للبدن صفات، هي القدرة، والعلم، والكلام، والإرادة، والحياة، والسمع والبصر، فهذه الصفات السبع، هي عماد التقدير، والتفكير (4)، والإيجاد والتصرف، وليس يمكن أن يقال في الحياة، أكثر من أنها صفة بها يستعد المحل لقبول الصفات الست (5) وهي الروح، وهي النفس، وأرادت طائفة التشغيب، أن تفرد الروح ببيان، وتخصه بنوع من البرهان، حتى انتهى بهم القول، إلى أن يقولوا: وما الإنسان؟.
لقد أخبرني أبو سعيد الزنجاني بالمسجد الأقصى طهره الله، عن الأستاذ أبي المظفر شاهفور (6)، أن أعرابيا دخل البصرة، فرأى حلقة المتكلمين، فقصد إليها فظن أنها حلقة ذكر، فوجدهم يتكلمون في حقيقة الإنسان، وقد كان عند نفسه معلوما، فلما رأى أهل تلك الحلقة، قد أدخلوه (7) في مبادأة (8) من يريد (9)، وأكثروا فيه من المراجعة والترديد، قام وهو ينشد:
إن كنت أدري فعلي بدنه
…من كثرة التخليط في من أنه
واحتاج شيخ السنة، وصاحبه (10) لسان الأمة، ومن دارت عليه من
--------------------------------------------
به এর মাধ্যমে তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টির এক সমস্যামূলক ক্ষেত্র পেয়েছেন, এর অধিক ব্যবহারের কারণে।
সাধারণভাবে এটি জানা যে, সেটি (১) শরীর ব্যতীত অন্য এক সৃষ্টি, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি (২); তারপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু হিসেবে এক সুরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তপিণ্ডে পরিণত করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি, এরপর মাংসপিণ্ড থেকে হাড় সৃষ্টি করেছি, তারপর হাড়কে মাংস দিয়ে আবৃত করেছি; এরপর তাকে অন্য এক সৃষ্টি হিসেবে পূর্ণতা দিয়েছি। সুতরাং সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়। [ওয়াও ৯ খ] [আল-মুমিনুন: ১৪]}। সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে শরীর একটি সৃষ্টি, আর তার পেছনে যা আছে (৩) তা ভিন্ন এক সৃষ্টি, যা তার সাথে যুক্ত কিন্তু তা থেকে পৃথক। আপনি সাধারণভাবে দেখছেন যে শরীরের কিছু গুণাবলি রয়েছে, আর সেগুলো হলো: ক্ষমতা, জ্ঞান, কথা, ইচ্ছা, জীবন, শ্রবণ ও দর্শন। এই সাতটি গুণ হলো নির্ধারণ, চিন্তাভাবনা (৪), অস্তিত্ব প্রদান ও পরিচালনার মূল ভিত্তি। জীবন সম্পর্কে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয় যে, এটি এমন একটি গুণ যার মাধ্যমে আধারটি অন্য ছয়টি গুণ (৫) গ্রহণের যোগ্য হয়। আর এটিই হলো রুহ, এটিই হলো নফস। একদল বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী চেয়েছিল রুহকে পৃথক বর্ণনায় তুলে ধরতে এবং একে বিশেষ ধরনের প্রমাণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করতে, এমনকি তাদের আলোচনা এই পর্যায়ে পৌঁছাল যে তারা বলতে শুরু করল: মানুষ আসলে কী?
আবু সাঈদ আজ-জানজানী মসজিদুল আকসাতে (আল্লাহ একে পবিত্র করুন) উস্তাদ আবু মুজাফফর শাহফুর (৬) থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এক বেদুইন বসরায় প্রবেশ করে কালামশাস্ত্রবিদদের একটি মজলিস দেখতে পেল। সে তাদের নিকটবর্তী হলো এই ভেবে যে এটি জিকিরের মজলিস। কিন্তু সে তাদের মানুষের হাকিকত নিয়ে বিতর্ক করতে দেখল, অথচ এটি তার নিজের কাছে স্বতঃসিদ্ধ ছিল। যখন সে দেখল মজলিসের লোকেরা তাকে (৭) ইচ্ছাকারীর (৯) সূচনায় (৮) অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এ নিয়ে অনেক বাদ-প্রতিবাদ ও পুনরাবৃত্তি করছে, তখন সে দাঁড়িয়ে এই পঙ্ক্তি আবৃত্তি করল:
আমি যদি জানতাম তবে তার শরীরের উপর দণ্ডায়মান হতাম
…সে কে—এ নিয়ে অধিক বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণে
আর সুন্নাহর শায়খ এবং তাঁর সঙ্গী (১০) উম্মাহর মুখপাত্র, এবং যাঁর ওপর আবর্তিত হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
طبقاتهم الملة، وأعيان السنة الجلة إلى (1) أن يعقدوا (2) في ذلك أبوابا، ويجمعوه (3) كتابا، فأحسنوا عن الحق منابا (4)، فإن الملحدة أدخلت هذه الألفاظ في باب الإشكال، تشغيبا وتلبيسا، والأمر فيها بشهادة الله قريب سجدا.
فإن قيل: كيف تقرب البعيد، الذي شهد الله ببعده، ولم يجعل لأحد فيه سبيلا من بعده، فقال: {ويسألونك عن الروح قل الروح من أمر ربي، وما أوتيتم من العلم إلا قليلا} [الإسراء: 85]؟ قلنا: قد [و10 أ] تكلمنا على هذه الآية في "أنوار الفجر"، و"شرح الصحيحين"، بما لبابه، أن أحدا من المسلمين لم يسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الروح (5) لعلمهم بها، وذكرهم لها، في كتابه الذي جاء به إليهم، وما كان ليأتيهم بمجهول، ولو جاء به، ما قبله الأعراب (6) منه، وقد كانوا يترصدون وجها من الطعن (7)، فكيف إذا وجدوه يأتي بما لا يعلم، ويتكلم بما لا يفهم، وإنما جاءت اليهود بعنادها، إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسألته عنها بطنه (8) وعادة، لم تزل تتظاهر بفسادها، مقصدها أن يقول لهم النبي صلى الله عليه وسلم (9): "هي كذا"، فيراجعونه فيه، ويجادلونه عليها، فأمره الله أن يردعهم (10) عنها صيانة له عن تشغيبهم، بما لا يعلمونه، ولا يفتقرون إليه، ولا يحتاجونه (11) حتى قالت (12) جماعة (13): إنه كان من وصفه في التوراة، أنه لا يجيب عن هذا السئال، وهذا وإن لم يرد في الصحيح لم
--------------------------------------------
মিল্লাতের স্তরের আলেমগণ এবং সুন্নাহর মহান ব্যক্তিবর্গ (১) এ বিষয়ে বিভিন্ন অধ্যায় রচনা করেছেন (২) এবং কিতাব আকারে তা সংকলন করেছেন (৩); ফলে তারা সত্যের পক্ষে সর্বোত্তম প্রতিনিধিত্ব করেছেন (৪)। কারণ নাস্তিক ও ধর্মত্যাগীরা বিভ্রান্তি ও প্রতারণা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই শব্দগুলোকে অস্পষ্টতার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল, অথচ আল্লাহর সাক্ষ্য অনুযায়ী এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট ও নিকটবর্তী।
যদি বলা হয়: আপনি কীভাবে সেই দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করছেন, যার দূরত্বের ব্যাপারে আল্লাহ স্বয়ং সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং যার রহস্য উদ্ঘাটনের কোনো পথ তিনি কারো জন্য রাখেননি? তিনি বলেছেন: "তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, রূহ আমার রবের আদেশঘটিত। আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।" [আল-ইসরা: ৮৫]। আমরা বলি: আমরা [১০ক] এই আয়াতের বিষয়ে "আনোয়ারুল ফাজর" এবং "শারহুস সহীহাইন"-এ বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যার সারকথা হলো— মুসলিমদের কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেননি (৫), কারণ তাঁরা এ বিষয়ে জানতেন এবং তাঁর আনীত কিতাবে এর উল্লেখ ছিল। তিনি এমন কোনো বিষয় নিয়ে আসতেন না যা অজ্ঞাত ছিল; আর যদি তিনি তা আনতেন তবে মরুবাসী আরবরা (৬) তা গ্রহণ করত না। তারা তো সর্বদা খুঁত ধরার (৭) অপেক্ষায় থাকত; তাহলে তারা যখন দেখত তিনি এমন কিছু নিয়ে এসেছেন যা জানা যায় না এবং এমন কথা বলছেন যা বোঝা যায় না, তখন তাদের প্রতিক্রিয়া কী হতো? মূলত ইহুদিরা তাদের হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসেছিল এবং ঔদ্ধত্য (৮) ও অভ্যাসগতভাবে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল—যা সর্বদা তাদের বিপর্যয় হিসেবেই প্রকাশ পেত। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (৯) যেন তাদের বলেন: "এটি এমন", আর তখন তারা এ নিয়ে তাঁর সাথে বিতর্ক ও ঝগড়া করতে পারে। তাই আল্লাহ তাঁদের বাধা দেওয়ার (১০) নির্দেশ দিলেন যেন তাদের সেই বিভ্রান্তি থেকে তাঁকে হেফাযত করা যায়—যে বিষয়ে তারা জানত না, যার মুখাপেক্ষী তারা ছিল না এবং যা তাদের প্রয়োজনও ছিল না (১১)। এমনকি একদল (১৩) লোক বলেছেন (১২): তাওরাতে তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য এমন ছিল যে, তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন না। যদিও এটি সহীহ বর্ণনায় আসেনি, তবুও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يبعد (1)، لأنه من صفات العقلاء، فكيف بالأنبياء، أن لا يتكلموا في فضول (2)، ولا يخوضوا في غير تحصيل، ولا يجوز هذا مع من يقصد التشغيب، والتضليل، وأنت ترى، ما انتهى الفضول بعلمائنا في تعرضهم لحد العلم، أن بلغ (3) القول فيه مع الخصوم، إلى عشرين عبارة ليس منها حرف يصح، وإنما هي خيالات، والعلم لا يقتنص بشبكة الحد، وإذا لم يعلم العلم، فماذا يطلب، أو إلى أي شيء وراءه يتطلع؟ (4) وإنما أنشأ هذا حثالة المعتزلة، وكلهم حثالة، لإضمارهم الإلحاد، قصد إيقاع التشكيك والإلباس على الخلق في الحقائق، ليتذرعوا (5) بهذه الطريقة إلى مقصدهم الفاسد، وجعلوا يفيضون في الاعتقاد والعلم حتى أنشأوا كلاما يملأ الفضاء، حقه (6) أن يقابل بالإعراض وقد أشرنا إليه في التمحيص (7) وغيره.
قال القاضي أبو بكر (8): وإذا انتهى النظر إلى هذا المقام، فنقول إنك أيها المرء، بعد، لم [و 10 ب] تثبت لك معرفة النفس والروح، والقلب، على ما تزعم، ولا استقرت عندك (9) حقيقة لذلك، كله (10) فكيف (11) تريد أن تركب عليه، أنه يعلم المخلوقات، ويؤثر في الأرضين والسموات، لقد أبعدت مرماك، حققه على ما يجب، وبعد فركب (12) عليه ما تركب.
وأما (13) الإشارة بتجرد النفس: أو القلب، عن علائق المحسوسات ليترقى (14) إلى المعقولات، فعسى أن يكون ذلك إذا مات، فأما مع الحياة فيبعد ذلك، أو يستحيل (15) عادة، وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم، يقول في الحديث
--------------------------------------------
এটি সুদূরপরাহত (১), কারণ এটি বুদ্ধিমানদের বৈশিষ্ট্য, তাহলে নবীদের ক্ষেত্রে কেমন হবে—যে তাঁরা অসার বিষয়ে (২) কথা বলবেন না, এবং কোনো অর্জন ছাড়াই কোনো বিষয়ে লিপ্ত হবেন না। আর এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এটি সমীচীন নয় যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা পোষণ করে। আপনি দেখছেন যে, আমাদের আলিমগণ ‘জ্ঞানের সংজ্ঞা’ (হদ্দ) নিরূপণ করতে গিয়ে অসারতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে যে, প্রতিপক্ষের সাথে এ বিষয়ে বিতর্কে (৩) বিশটি মত পর্যন্ত পৌঁছেছে যার একটি অক্ষরও সঠিক নয়। বরং এগুলো নিছক কল্পনা মাত্র; আর জ্ঞানকে সংজ্ঞার জালে বন্দি করা যায় না। যদি জ্ঞানই না জানা যায়, তবে কিসের সন্ধান করা হবে, বা এর বাইরে কিসেরই বা প্রত্যাশা করা হবে? (৪) মূলত মুতাজিলাদের অধম অংশই—আর তারা সবাই অধম—এটি উদ্ভাবন করেছে তাদের অন্তরে নাস্তিকতা লুকিয়ে রাখার কারণে; তাদের উদ্দেশ্য হলো সত্যের ব্যাপারে সৃষ্টির মাঝে সংশয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, যাতে তারা এই পদ্ধতির মাধ্যমে (৫) তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল করতে পারে। তারা বিশ্বাস ও জ্ঞান নিয়ে এমনভাবে আলোচনা শুরু করল যে শেষ পর্যন্ত এমন সব কথা তৈরি করল যা আকাশ-বাতাস পূর্ণ করে ফেলে; যেগুলোর প্রকৃত পাওনা (৬) হলো উপেক্ষা করা। আমরা ‘আত-তামহীস’ (৭) ও অন্যান্য কিতাবে এ দিকে ইঙ্গিত করেছি।
কাযী আবু বকর (৮) বলেছেন: যখন বিচার-বিশ্লেষণ এই পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন আমরা বলি—হে মানুষ! আপনি যে দাবি করেন, সেই অনুযায়ী নফস (আত্মা), রূহ এবং কলবের (হৃদয়) পরিচয়ও আপনার কাছে এখনো [ও ১০ বি] প্রমাণিত হয়নি, এবং আপনার নিকট এগুলোর (১০) প্রকৃত স্বরূপ স্থির হয়নি (৯)। তবে (১১) আপনি কীভাবে এর ওপর ভিত্তি করে এটি দাঁড় করাতে চান যে, সে সৃষ্টিজগত সম্পর্কে জানে এবং আসমান ও জমিনসমূহে প্রভাব বিস্তার করে? আপনি আপনার লক্ষ্যকে অনেক দূরে নিয়ে গেছেন; যথাযথভাবে এটি আগে প্রমাণিত করুন, তারপর এর ওপর যা খুশি তা ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করান (১২)।
আর (১৩) ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সম্পর্ক থেকে নফস বা কলবের বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রতি যে ইঙ্গিত করা হয়—যাতে তা বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়ের দিকে আরোহণ করতে পারে (১৪)—তবে তা সম্ভবত মৃত্যুর পরই সম্ভব। কিন্তু জীবনদ্দশায় তা সুদূরপরাহত বা স্বাভাবিকভাবে অসম্ভব (১৫)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদীসে বলতেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الصحيح (1): "إنه ليغان على قلبي فأتوب مائة مرة"، فكيف يصح أن يدعي عاقل، فكيف عالم، قلبا لا يدركه غين، ولا تتطرق (2) إليه غفلة، حتى يترقى إلى حالة الفناء، حتى يفنى عن نفسه، فلا يرى أهلا ولا حالا (3)؟ وقد حف بالنبي الأزواج، وخالطهن بالوطء، وكيف يدعي أحد قطع علائق ربطها الله قبل، ولم يأذن (4) بحلها، وكان النبي (5) يشدها، ويحت على النكاح، وعلى انتقاء الأبكار، لا على انتفاء (6) الأفكار (7)، وأي نفس تكون ذلك أو أي قلب؟ و (8) النبي عليه السلام، لم يرد الصحابة إلى ما زعموا من الطريقة، وإنما ردهم إلى ألفاظ القرآن، وما كان معهم عليه، حتى استأثر الله به.
وأما قوله: إن ذلك ينال بالتجربة معهم، والصحبة لهم، فإن التعرض للتجربة إنما يكون في الممكن، فيحك ما يمكن في مدق (9) التجربة، فأما (10) الذي لم يثبت بدليل، ولا سبقت به عادة، فكيف يتعرض له بتجربة، والصحابة لم يسلكوا طريقه، ولا نظروا تحقيقه، والذي يدل على بعده الحديث الصحيح، واللفظ لمسلم، أن حنظلة الأسدي (11) وكان من كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: (كنا عند رسول الله صلى الله عليه [و 10 ب] وسلم فوعظنا فذكرنا بالنار، قال: فجئت إلى البيت فضاحكت الصبيان، ولاعبت المرأة، قال: فخرجت فلقينى أبو بكر (12)، فقال: كيف أنت يا حنظلة؟ قال: قلت: نافق حنظلة، قال: سبحان الله! ما تقول؟ قال: نكون عند
--------------------------------------------
সহিহ হাদিসে এসেছে (১): "নিশ্চয়ই আমার অন্তরে আবরণ পড়ে, তাই আমি দিনে একশত বার তওবা করি।" এমতাবস্থায় কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কীভাবে এমন দাবি করতে পারে, আর একজন আলেমই বা কীভাবে এমন এক হৃদয়ের দাবি করতে পারেন যাকে কোনো আবরণ স্পর্শ করে না এবং যাতে কোনো উদাসীনতা (২) প্রবেশ করে না? এমনকি সে ব্যক্তি 'ফানা' (বিলয়) এর স্তরে উন্নীত হওয়ার দাবি করে, যাতে সে নিজের অস্তিত্ব থেকে বিলীন হয়ে যায় এবং তার কাছে পরিবার বা নিজের অবস্থার (৩) কোনো অস্তিত্ব থাকে না। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলেন এবং তাদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখতেন। কেউ কীভাবে এমন সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি করতে পারে যা আল্লাহ আগে জুড়ে দিয়েছেন এবং যা ছিন্ন করার অনুমতি (৪) দেননি? বরং নবী (৫) সেই বন্ধনগুলোকে সুদৃঢ় করতেন এবং বিবাহের প্রতি ও কুমারী নারী নির্বাচনের প্রতি উৎসাহিত করতেন; চিন্তা-চেতনা বিলুপ্ত (৬) করার (৭) প্রতি নয়। কোন্ সত্তা বা কোন্ হৃদয় এমন হতে পারে? আর (৮) নবী আলাইহিস সালাম সাহাবীদেরকে তাদের দাবিকৃত সেই 'তরীকা' বা পথের দিকে ফিরিয়ে দেননি, বরং তিনি তাদেরকে কুরআনের শব্দাবলীর দিকে এবং তিনি তাদের মাঝে যে আদর্শের ওপর ছিলেন তার দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে তুলে নিলেন।
আর তাঁর এই কথা: "এটি তাদের সাথে অভিজ্ঞতা ও সাহচর্যের মাধ্যমে অর্জিত হয়"—নিশ্চয়ই অভিজ্ঞতার বিষয়টি কেবল সম্ভবপর বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। সুতরাং যা সম্ভবপর, তাকেই অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে (৯) যাচাই করা যায়। কিন্তু (১০) যা কোনো দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয় এবং যা কোনো প্রচলিত রীতি হিসেবেও আগে ছিল না, তাকে কীভাবে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব? সাহাবীগণ তো এই পথে চলেননি এবং এর স্বরূপ সন্ধানেও লিপ্ত হননি। এই বিষয়টি দূরবর্তী হওয়ার প্রমাণ হলো সেই সহিহ হাদিস, যার শব্দাবলী মুসলিমের; যেখানে হানজালা আল-আসাদী (১১)—যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন ওহী লেখক ছিলেন—বলেন: (আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম, তিনি আমাদের উপদেশ দিলেন এবং জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন: এরপর আমি বাড়ি ফিরলাম, শিশুদের সাথে হাসাহাসি করলাম এবং স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ করলাম। তিনি বলেন: এরপর আমি বের হলাম এবং আবু বকর (১২) এর সাথে আমার দেখা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে হানজালা, তোমার কী খবর? আমি বললাম: হানজালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে! তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! তুমি কী বলছ? তিনি বললেন: আমরা যখন রাসূলুল্লাহর কাছে থাকি...)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম তাহকীক আত-তালিবি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رسول الله (1)، يذكرنا بالنار، والجنة، كأنا رأي عين، فإذا خرجنا (2)، من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم (3)، عافسنا الأزواج، والأولاد، والضيعات، فنسينا (4) كثيراً قال أبو بكر: فوالله إنا لنلقى مثل هذا، فانطلقت أنا وأبو بكر، فدخلنا على رسول الله (5)، قلت: نافق حنظلة يا رسول الله (6)، فقال رسول الله (7): "وما ذاك؟ " قلت: يا رسول الله (8) نكون عندك تذكرنا بالنار والجنة، كأنا رأي عين فإذا خرجنا من عندك عافسنا (9) الأزواج والأولاد والضيعات، فنسينا كثيرا، فقال رسول الله (10): "والذي نفسي بيده، لو تدومون (11) على ما تكونون عندي" (12) وفي الذكر، لصافحتكم الملائكة على فرشكم، وفي طرقكم، ولكن يا حنظلة ساعة وساعة) فتفطن الصحابة لتغير القلب، عند مفارقة النبى صلى الله عليه وسلم عن الحالة التي يكون (13) معه عليها، وسألوا النبي عن ذلك، فأخبرهم أن تلك الحالة، لو دامت لصافحتهم الملائكة معاينة، وذلك ممنوع من الله للخلق فما يفضي إليه ممنوع، وإلا فلم لم (14) يحضهم عليه، وهل كان فوق منزلة (15) الخلفاء منزلة، يرتقى إليها، وما كلمهم ملك، ولا صافحهم؟.
وأما قوله: إنه (16) يتقدمه (17) نوع من النظر، وهو النظر في حقيقة القلب، فليس له حقيقة، إلا التي لليد، وكلاهما وتيرة (18) وهل هما إلا جسم مركب (19) من لحم، أو من لحم وعظم، وعصب فإن قال: اكشف لي (20) عن
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (১), তিনি আমাদের জাহান্নাম ও জান্নাত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেন, যেন আমরা তা চাক্ষুষ দেখছি। অতঃপর যখন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (৩) এর নিকট থেকে বের হই (২), তখন আমরা স্ত্রী, সন্তান এবং সহায়-সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, ফলে আমরা অনেক কিছু ভুলে যাই (৪)। আবু বকর বললেন: আল্লাহর শপথ! আমরাও তো একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। এরপর আমি ও আবু বকর রওয়ানা হলাম এবং আল্লাহর রাসূলের (৫) নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (৬)! হানজালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। আল্লাহর রাসূল (৭) বললেন: "সেটি কী?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (৮)! আমরা যখন আপনার কাছে থাকি, আপনি আমাদের জাহান্নাম ও জান্নাত সম্পর্কে স্মরণ করান, যেন আমরা তা চাক্ষুষ দেখছি। কিন্তু যখন আপনার নিকট থেকে বের হয়ে যাই, তখন স্ত্রী, সন্তান ও সহায়-সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি (৯), ফলে আমরা অনেক কিছু ভুলে যাই। তখন আল্লাহর রাসূল (১০) বললেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা যদি আমার কাছে যে অবস্থায় থাকো এবং যিকিরের ওপর সর্বদা সেই অবস্থায় থাকতে (১১) (১২), তবে ফেরেশতারা তোমাদের বিছানায় এবং তোমাদের পথে তোমাদের সাথে করমর্দন করত। কিন্তু হে হানজালা! সময় সময় (অর্থাৎ সব সময় এক রকম থাকে না)।" সুতরাং সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গ ত্যাগের সময় অন্তরের পরিবর্তনের বিষয়টি অনুধাবন করলেন, যে অবস্থার ওপর তারা তাঁর সাথে থাকতেন (১৩) তার থেকে (পরিবর্তন)। তারা নবীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাদের সংবাদ দিলেন যে, সেই অবস্থা যদি স্থায়ী হতো তবে ফেরেশতারা চাক্ষুষ তাদের সাথে করমর্দন করত। আর সৃষ্টিজগতের জন্য আল্লাহ কর্তৃক এটি নিষিদ্ধ। সুতরাং যা সেই দিকে নিয়ে যায় তাও নিষিদ্ধ। অন্যথায় কেন তিনি তাদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করেননি? আর খলিফাদের মর্যাদার উপরে কি এমন কোনো মর্যাদা ছিল যেখানে আরোহণ করা যায় অথচ কোনো ফেরেশতা তাদের সাথে কথা বলেনি বা করমর্দন করেনি?
আর তার এই কথা যে: নিশ্চয়ই (১৬) এর পূর্বে (১৭) এক প্রকারের দৃষ্টি রয়েছে, আর তা হলো অন্তরের হাকিকত বা প্রকৃত স্বরূপের দিকে দৃষ্টিপাত করা। তবে এর কোনো হাকিকত বা বাস্তবতা নেই, হাতের যে বাস্তবতা রয়েছে তা ছাড়া। আর উভয়ই একই প্রকৃতির (১৮)। এই উভয় কি গোশত দ্বারা গঠিত কোনো দেহ (১৯), অথবা গোশত, হাড় ও স্নায়ু দ্বারা গঠিত দেহ নয়? যদি সে বলে: আমার কাছে উন্মোচন করুন (২০) সম্পর্কে...
--------------------------------------------