(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: -)
الغصن الداني في ترجمة وحياة الشيخ عبد الرحمن التنلاني القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الغصن الداني في ترجمة وحياة الشيخ عبد الرحمن التنلاني
المؤلف: أبو عبد الله محمد عبد القادر بن محمد بن المختار بن أحمد العالم القبلوي الجزائري المالكي الشهير بالشيخ باي بلعالم (ت 1430هـ)
الناشر: مطبعة دار هومه
عام النشر: 2004 م
عدد الصفحات: 90
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1433
আল-গুসুন আদ-দানী ফী তারজামতি ওয়া হায়াতি আল-শায়খ আবদুর রহমান আত-তানলানী বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: আল-গুসুন আদ-দানী ফী তারজামতি ওয়া হায়াতি আল-শায়খ আবদুর রহমান আত-তানলানী
লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ আবদুল কাদির বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুখতার বিন আহমাদ আল-আলিম আল-কিবলাবী আল-জাযায়েরী আল-মালিকী, যিনি শায়খ বাই বেলালাম নামে পরিচিত (মৃত্যু ১৪৩০ হিজরি)
প্রকাশক: দার হুমা প্রেস
প্রকাশকাল: ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯০
শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক: আবু ইয়াসির আল-জাযায়েরী
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: -)
الغصن الداني
في ترجمة وحياة الشيخ
عبد الرحمن التنلاني
تأليف
فضيلة: الشيخ محمد باي بلعالم
(حفظه الله)
إمام أستاذ ومدرس بأولف
ولاية أدرار
নিকটবর্তী শাখা
শায়খের জীবনী ও জীবনবৃত্তান্ত প্রসঙ্গে
আবদুর রহমান আত-তানলানি
রচনায়
ফযীলাতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বায় বিলালাম
(আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)
আউলিফের ইমাম, উস্তাদ ও শিক্ষক
আদরার প্রদেশ
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: -)
الايداع القانوني: 2004/ 998:
আইনগত জমাদান: ২০০৪/ ৯৯৮:
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد سيد الأولين والآخرين وعلى آله وصحابته والتابعين ورضي الله عن العلماء العاملين ومن اهتدى بهداهم إلى يوم الدين.
أما بعد فيقول كويتبه: محمد باي بن محمد عبد القادر بلعالم القبلوى الساهلي التواتي الجزائري: لما كانت معرفة تراجم العلماء الأعلام من أجل المهمات ومن أنبل الغآيات وكانت الأمة التي تجهل تاريخ أمجادها وعلمائها وأعلامها أمة متأخرة علما وفكرا وثقافة وعليه فإنني نعرج في هذا البحث الوجيز على التعرف على ترجمة أحد علماء توات الذي عاش في القرن الحادي عشر للهجرة وهو الشيخ العالم الرباني عبد الرحمن بن عمر التنلاني كان من أعلامها ولد فيها ونشأ بين جنابتها وتلقى العلوم من أعلامها وعلى أديمها وقام برحلات علمية خارجها، وحيث أن هذا الشيخ بحر عميق لا يكال بمكيال ولا يوزن بميزان ولا يمكن استقصاء ما اشتملت عليه حياته وكان ما لا يدرك كله لا يترك جله غرفنا غرفة من هذا البحر في هذه النبذة المختصرة واخترنا لها اسم:
ـ[الغصن الداني في ترجمة وحياة
الشيخ عبد الرحمن بن عمر التنلاني]ـ
يتلخص ذلك في اللمحات التالية:
* اللمحة الأولى: التعريف بالشيخ عبد الرحمن بن عمر التنلاني من خلال نسبه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও অধিক সালাম বর্ষিত হোক।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি পূর্বাপর সকলের নেতা, এবং তাঁর পরিবার, তাঁর সহচরগণ ও তাবেয়ীনদের ওপর। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন আমলকারী আলেমগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর, এর লেখক মুহাম্মাদ বাই বিন মুহাম্মাদ আব্দুল কাদির বিলআলিম আল-কিবলাওয়ী আস-সাহিলি আত-তুয়াতি আল-জাযায়িরি বলছেন: যেহেতু প্রখ্যাত আলেমদের জীবনী জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং মহত্তম লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর যে জাতি তাদের গৌরবময় ইতিহাস এবং আলেম ও মনীষীদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, সে জাতি জ্ঞান, চিন্তা ও সংস্কৃতির দিক থেকে পিছিয়ে পড়া জাতি। সেই প্রেক্ষিতে, আমরা এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় তুয়াতের অন্যতম আলেমের জীবনী পর্যালোচনার দিকে অগ্রসর হব, যিনি হিজরি একাদশ শতাব্দীতে বসবাস করতেন। তিনি হলেন শায়খ, আলিমে রাব্বানী আব্দুর রহমান বিন উমর আত-তানলানি। তিনি এখানকার অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন, এখানেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং প্রতিপালিত হয়েছেন। তিনি এখানকার মনীষীদের নিকট এবং এই জনপদেই ইলম অর্জন করেছেন এবং এর বাইরেও জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে সফর করেছেন। যেহেতু এই শায়খ হলেন এক অতল সমুদ্র, যাকে কোনো পাত্র দিয়ে মাপা যায় না বা পাল্লা দিয়ে ওজন করা যায় না, এবং তাঁর জীবন যা কিছু ধারণ করে আছে তা পুরোপুরি অনুসন্ধান করা সম্ভব নয়; আর যে জিনিসের সম্পূর্ণটা অর্জন করা যায় না তার অধিকাংশটুকুও বর্জন করা উচিত নয়—তাই আমরা এই সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে সেই সমুদ্র থেকে এক অঞ্জলি গ্রহণ করেছি এবং এর জন্য এই নাম নির্বাচন করেছি:
ـ[আল-গুসনু আদ-দানি ফি তারজামতি ওয়া হায়াতি
আশ-শায়খ আব্দুর রহমান বিন উমর আত-তানলানি]ـ
এটি নিম্নোক্ত আলোকপাতসমূহে সংক্ষেপিত করা হয়েছে:
* প্রথম আলোকপাত: বংশপরম্পরার মাধ্যমে শায়খ আব্দুর রহমান বিন উমর আত-তানলানির পরিচয়।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২)
* اللمحة الثانية: في مسقط رأسه تنلان والتعريف بها موقعا وتأسيسا.
* اللمحة الثالثة: ذكر بعض الأعلام الذين كانوا متواجدين في مسقط رأسه على سبيل المثال لا على سبيل الحصر.
* اللمحة الرابعة: ذكر أولاده.
* اللمحة الخامسة: ذكر العلماء الذين أخذ عنهم العلم والكتب التي درسها أو حضر دروسها عندهم.
* اللمحة السادسة: ذكر تلامذته الذين تخرجوا من مدرسته على سبيل المثال لا على سبيل الحصر.
* اللمحة السابعة: نص الإجازات التي تلقاها من شيوخه.
* اللمحة الثامنة: محاورات دارت بينه وبين العلماء الذين تزامن معهم.
* اللمحة التاسعة: ذكر مؤلفاته الموجودة لدينا.
* اللمحة العاشرة: في رحلاته العلمية خارج الوطن ومن خلالها ذكر وفاته.
* اللمحة الحادية عشر: في المرثيات.
ثم خاتمة نذكر فيها ارتباطه ببعض علماء أفريقيا وعلماء المدينة المنورة من خلال كتابه مختصر الدر المصون، ومقتطفات من القواعد النفيسة المعروف بنظم المشكل في قواعد المعرب نظم القاضي محمد الأمين الأنصاري الخزرجي التادمكي، وشرح الدكتور علي بن سلطان الحكمي المتوج بتقريظ العلامة الشيخ حماد بن محمد الأنصارى.
* দ্বিতীয় আলোকপাত: তাঁর জন্মস্থান তিনলান এবং এর অবস্থান ও প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত পরিচিতি।
* তৃতীয় আলোকপাত: তাঁর জন্মস্থানে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির বর্ণনা, যা উদাহরণস্বরূপ এবং সীমাবদ্ধ নয়।
* চতুর্থ আলোকপাত: তাঁর সন্তানদের বর্ণনা।
* পঞ্চম আলোকপাত: যে সকল আলিম থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন এবং যে সকল কিতাব তিনি পাঠ করেছেন বা তাঁদের নিকট পাঠে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের বর্ণনা।
* ষষ্ঠ আলোকপাত: তাঁর মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা সমাপনকারী ছাত্রদের বর্ণনা, যা উদাহরণস্বরূপ এবং সীমাবদ্ধ নয়।
* সপ্তম আলোকপাত: তাঁর শায়খদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ইজাজতসমূহের মূল পাঠ।
* অষ্টম আলোকপাত: তাঁর এবং তাঁর সমসাময়িক আলিমদের মধ্যে অনুষ্ঠিত কথোপকথনসমূহ।
* নবম আলোকপাত: আমাদের নিকট বিদ্যমান তাঁর রচনাবলির বর্ণনা।
* দশম আলোকপাত: স্বদেশের বাইরে তাঁর ইলমি সফরসমূহ এবং এর মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর বর্ণনা।
* একাদশ আলোকপাত: শোকগাথাসমূহ।
এরপর উপসংহার, যেখানে আমরা তাঁর 'মুখতাসার আদ-দুররুল মাসুন' কিতাবের মাধ্যমে আফ্রিকার কিছু আলিম ও মদিনা মুনাওয়ারার আলিমদের সাথে তাঁর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করব। এছাড়াও 'আল-কাওয়ায়িদুন নাফিসাহ' (যা কাজি মুহাম্মদ আল-আমিন আল-আনসারি আল-খাজরাজি আত-তাদমাকি কর্তৃক রচিত 'নাযমুল মুশকিল ফি কাওয়ায়িদিল মু'রাব' নামে পরিচিত) এর উদ্ধৃতি এবং ডক্টর আলী বিন সুলতান আল-হুকমির ব্যাখ্যা, যা আল্লামা শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারির প্রশংসা ও অভিমত দ্বারা সুশোভিত।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ৩)
اللمحة الأولى: في التعريف بالشيخ عبد الرحمن بن عمر التنلانى من خلال نسبه.
نسبه: هو الشيخ عبد الرحمن بن عمر بن محمد بن معروف بن يوسف بن أحمد بن يوسف بن محمد بن علي بن الحسين بن الحسن بن الحسن بن يوسف بن أحمد بن داود بن محمد بن سلطان بن تميم بن عمر بن ملوك بن موسى بن مدان بن دان بن سكناس بن مغرور بن قيس بن محمد بن محمد بن محمد بن أبان بن عثمان بن عفان بن أبي العاص بن أمية بن عبد شمس بن عبد مناف يلتقي مع النبي صلى الله عليه وسلم في عبد مناف. اهـ.
ولعل أن يكون تكرار في هذا العمود النسبي وهذه السلسلة منقولة من مكتبة حفدة السيد أحمد بن يوسف مؤسس تنلان هذا هو المحقق والمضبوط في وثائقهم وفي مؤلفاتهم وقد عثر على وثيقة بخط بعض من العلماء منهم الشيخ محمد عبد الكريم بن محمد التواتي بأن نسبهم يرجع إلى السيد الحسن بن علي وصحح ذلك الشيخ محمد عبد الحق بن القاضي محمد عبد الكريم والسيد محمد عبد العزيز بن محمد بن عبد الرحمن البلبالي ومحمد عبد الكريم بن محمد بن عبد المالك البلبالي والسيد محمد بن أحمد الحبيب البلبالي وغيرهم.
اللمحة الثانية: في مسقط رأسه تنلان والتعريف بها موقعا وتأسيسا كان مسقط رأس الشيخ عبد الرحمن بتنلان وهي إحدى قصور تيمي في الشمال الشرقى لمدينة أدرار لها تاريخ مجيد في نشر العلم والثقافة بل هي مزرعة المعرفة في الصحراء الجزائرية في العصور الماضية ولقد كان رجالها من بين رجال توات يتصفون بالجد والاجتهاد والنشاط ونشر العلم والارتحال من أجل تعليمه وتعلمه حتى أصبحت في القرن الحادي عشر للهجرة مركز إشعاع انعكست أنواره على الصحراء الكبرى والبلاد الشرقية والغربية بل في جميع نواحي أفريقيا.
প্রথম ঝলক: বংশপরম্পরার মাধ্যমে শেখ আব্দুর রহমান বিন ওমর আত-তানলানির পরিচিতি প্রসঙ্গে।
তাঁর বংশপরিচয়: তিনি হলেন শেখ আব্দুর রহমান বিন ওমর বিন মুহাম্মাদ বিন মারুফ বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন হাসান বিন হাসান বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন দাউদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলতান বিন তামিম বিন ওমর বিন মুলুক বিন মুসা বিন মাদান বিন দান বিন সাকনাস বিন মাগরুর বিন কায়েস বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবান বিন উসমান বিন আফফান বিন আবিল আস বিন উমাইয়া বিন আব্দু শামস বিন আব্দু মানাফ। তাঁর বংশধারা আব্দু মানাফের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মিলিত হয়েছে। সমাপ্ত।
সম্ভবত এই বংশতালিকায় কিছুটা পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এই সিলসিলাটি তানলানের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আহমদ বিন ইউসুফের বংশধরদের পাঠাগার থেকে সংগৃহীত। এটিই তাঁদের দলিলাদি ও রচনাবলীতে যাচাইকৃত এবং সুনির্দিষ্ট। কোনো কোনো আলেমের হস্তাক্ষরে একটি নথি পাওয়া গেছে, যাঁদের মধ্যে শেখ মুহাম্মাদ আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মাদ আত-তুয়াতি রয়েছেন, যেখানে উল্লেখ আছে যে তাঁদের বংশধারা সাইয়্যেদ হাসান বিন আলীর দিকে ফিরে যায়। শেখ মুহাম্মাদ আব্দুল হক বিন কাজি মুহাম্মাদ আব্দুল কারিম, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-বিলবালি, মুহাম্মাদ আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক আল-বিলবালি, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ বিন আহমদ আল-হাবিব আল-বিলবালি এবং অন্যান্যরা এটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
দ্বিতীয় ঝলক: তাঁর জন্মস্থান তানলান এবং এর অবস্থান ও প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে পরিচিতি। শেখ আব্দুর রহমানের জন্মস্থান ছিল তানলান, যা আদ্রার শহরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত তিমির অন্যতম একটি প্রাসাদ এলাকা। জ্ঞান ও সংস্কৃতি প্রসারে এর একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে; বরং এটি ছিল অতীতে আলজেরীয় মরুভূমির জ্ঞানের চারণভূমি। এর অধিবাসীরা তুয়াতের সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা নিষ্ঠা, পরিশ্রম, কর্মতৎপরতা, জ্ঞান প্রচার এবং তা অর্জন ও বিতরণের জন্য সফরের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। এমনকি একাদশ হিজরি শতাব্দীতে এটি একটি আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছিল, যার আলো সাহারা মরুভূমি, পূর্ব ও পশ্চিমের দেশসমূহ এবং এমনকি আফ্রিকার সকল প্রান্তে প্রতিফলিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ৪)
تأسست تنلان الجديدة والتي تعرف الآن بتنلان في الخمسينات أواسط القرن الحادي عشر للهجرة أما تنلان القديمة التي كان يسكنها الشيخ مولاي سليمان بن علي كما ذكر الشيخ البكراوى في تاريخه من أنه حل بها مولاي سليمان في مستهل جمادى الأخيرة سنة إحدى وسبعين وخمسمائة للهجرة فأضافه أهلها وأكرموه- إلى أن قال- وكان بتنلان قبائل شتى فلا يسمع لهم إلا الشيخ فلان وفلان، وبها أيضا القراء والولاة وأهل الشوكة .. الخ فهذه القرية المذكورة ليست هي المقصودة ولكن أطلق هذا الإسم على تنلان الموجودة الآن والتي أسسها الشيخ المحترم السيد أحمد بن يوسف على تقوى من الله ورضوان فكانت رزق الله الواسع والنور الساطع.
اللمحة الثالثة: في ذكر بعض الأعلام التي كانت متواجدة في مسقط رأسه تنلان على سبيل المثال لا على سبيل الحصر.
لقد كانت قرية تنلان مركز إشعاع علمي انبثقت منها العلماء الأعلام والفقهاء والقضاة والأدباء وحفظة القرءان وحملة الشريعه للبلدان والرحالة فاشتدت لها الرحال واشتدت منها وارتبطت بغيرها من قصور توات أخذا وعطاء وإيرادا وتصديرا، ولقد نوه الكثير من المؤرخين والعلماء برجال تنلان في الوثائق والتراجم والإجازات والكتب وحفظ لهم التاريخ ثروات علمية هامة في الثقافة وعلم الشريعة وفنون كثيرة ومميزات رائعة.
ومن أعلام هذه البلدة الشيخ سيد احمد بن يوسف مؤسسها المولود بأولاد ونقال سنة (1002) والمتوفى سنة (1058) وأخوه الشيخ معروف جد المعرف به.
নতুন তানলান, যা বর্তমানে তানলান নামে পরিচিত, হিজরি একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে পঞ্চাশের দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর প্রাচীন তানলান, যেখানে শেখ মৌলায় সুলায়মান বিন আলী বসবাস করতেন—যেমনটি শেখ আল-বাকরাভী তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, মৌলায় সুলায়মান হিজরি পাঁচশত একাত্তর সালের জমাদিউল আখিরা মাসের শুরুতে সেখানে পদার্পণ করেছিলেন এবং সেখানকার অধিবাসীরা তাঁকে মেহমানদারি ও সম্মান প্রদর্শন করেছিল—তিনি আরও বলেছেন—তানলানে বিভিন্ন গোত্র ছিল, যেখানে অমুক শেখ বা অমুক ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও কথা শোনা যেত না। সেখানে ক্বারীগণ, শাসকগণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গও ছিলেন... ইত্যাদি। এই উল্লিখিত গ্রামটি বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত গ্রাম নয়, বরং বর্তমান তানলানকে এই নাম দেওয়া হয়েছে, যা সম্মানিত শেখ সাইয়্যেদ আহমদ বিন ইউসুফ আল্লাহর তাকওয়া ও সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি ছিল আল্লাহর প্রশস্ত রিজিক ও এক উজ্জ্বল আলো।
তৃতীয় ঝলক: তাঁর জন্মভূমি তানলানে বিদ্যমান থাকা কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির আলোচনায়, যা একটি উদাহরণ মাত্র, পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়।
তানলান গ্রামটি ছিল একটি ইলমি আলো বিকিরণকারী কেন্দ্র, যেখান থেকে প্রথিতযশা আলেম, ফকীহ, বিচারক, সাহিত্যিক, কুরআনের হাফেজ, শরীয়তের ধারক-বাহক এবং পর্যটকগণ আবির্ভূত হয়েছেন। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ইলম অর্জনে আসত এবং এখান থেকেও দেশ-দেশান্তরে সফর করত। এটি আদান-প্রদান এবং আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে তুয়াতের অন্যান্য প্রাসাদের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। অনেক ইতিহাসবিদ ও আলেম দলিল-দস্তাবেজ, জীবনীগ্রন্থ, ইজাজতনামা ও কিতাবসমূহে তানলানের ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন। ইতিহাস তাঁদের জন্য সংস্কৃতি, শরীয়ত ও বিবিধ শিল্পকলায় গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সম্পদ এবং চমৎকার বৈশিষ্ট্যসমূহ সংরক্ষণ করেছে।
এই জনপদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ সাইয়্যেদ আহমদ বিন ইউসুফ, যিনি ১০০২ হিজরিতে আওলাদ ওয়ানকালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এবং তাঁর ভাই শেখ মারুফ, যিনি যার সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হচ্ছে তার দাদা।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
ولنذكر بعض الأعيان من علماء تنلان على سبيل المثال لا على سبيل الحصر: فمنهم العلامة الكبير
الشيخ عمر الأكبر المزداد سنة 1098 هـ المتوفى سنة 1152 هـ بتنلان والعلامة الجليل الشيخ أبو الأنوار بن عبد الكريم المزداد سنة 1077 هـ بتنلان والمتوفى بأولف سنة 168 أهـ والسيد الشاذلى بن الشيخ عمر المتوفى بفاس في المغرب الأقصى سنة 1173 والشيخ عمر بن عبد الرحمن الأصغر المزداد بتنلان سنة 1152 هـ دفين المهدية المتوفى سنة 1221 هـ، الشيخ بوزيان بن عبد الرحمن، السيد عبد القادر بن عمر بن عبد الرحمن المتوفى بتنلان سنة 1265 هـ مؤلف الدرة الفاخرة في ذكر المشائخ التواتية، السيد عبد الرحمن بن إدريس مؤلف الرحلة إلى الجزائر التي ذكر فيها بعض الأحداث والوقائع التي شاهدها في العاصمة الجزائرية في عصر الاحتلال، السيد إدريس بن عمر بن عبد القادر المتوفى سنة 1182 هـ، السيد عبد الله بن عمر بن عبد الرحمن المتوفى سنة 1240 السيد عبد القادر بن التقي بن عبد الرحمن، أخوه الشيخ عبد الكريم بن التقي المنتقل لأقبلي، السيد عبد الله بن محمد البركة المتوفى سنة 1260 بأولاد ونقال، عمر الشيخ بن عبد القادر بن محمد الشافعي المتوفى سنة 1322، محمد بن عبد الله بن عبد الرحمن. ومع شهرة الشيخ عبد الرحمن بن عمر فإن تاريخ ميلاده لم يكن مضبوطا ويظهر أنه كان في العقد الثالث من القرن الثاني عشر للهجرة، وقد ذكر في القواعد النفيسة أن مولده خلال 1121 ولا أدري المرجع الذي أخذ منه هذا التاريخ بالضبط.
كان رحمه الله علما من الأعلام وداعية من الدعاة للإسلام فصيح اللسان رحب الجنان مع عفة وصيانه. ووقار وديانة. ذا فهم ثاقب. ورأي صائب.
আমরা উদাহরণের জন্য তেনলানের আলেমদের মধ্য থেকে কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করব, যা কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ নয়: তাদের মধ্যে রয়েছেন বড় আল্লামা
শায়খ ওমর আল-আকবার, যিনি ১০৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১১৫২ হিজরিতে তেনলানে মৃত্যুবরণ করেন; এবং মহান আল্লামা শায়খ আবু আল-আনোয়ার বিন আব্দুল করিম, যিনি ১০৭৭ হিজরিতে তেনলানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১১৬৮ হিজরিতে আউলাফে মৃত্যুবরণ করেন; এবং সাইয়্যেদ আশ-শাজিলী বিন শায়খ ওমর, যিনি ১১৭৩ হিজরিতে সুদূর মরক্কোর ফেজ শহরে মৃত্যুবরণ করেন; এবং শায়খ ওমর বিন আব্দুর রহমান আল-আসগর, যিনি ১১৫২ হিজরিতে তেনলানে জন্মগ্রহণ করেন, মাহদিয়ায় সমাহিত হন এবং ১২২১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; শায়খ বুজয়ান বিন আব্দুর রহমান; সাইয়্যেদ আব্দুল কাদির বিন ওমর বিন আব্দুর রহমান, যিনি ১২৬৫ হিজরিতে তেনলানে মৃত্যুবরণ করেন এবং 'আদ-দুররাতুল ফাখিরা ফি জিকরিল মাশাইখিত তুয়াতিয়্যাহ' গ্রন্থের লেখক; সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান বিন ইদ্রিস, যিনি 'আর-রিহলা ইলাল জাজায়ের' গ্রন্থের লেখক, যেখানে তিনি দখলদারিত্বের যুগে আলজেরিয়ার রাজধানীতে প্রত্যক্ষ করা কিছু ঘটনা ও পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন; সাইয়্যেদ ইদ্রিস বিন ওমর বিন আব্দুল কাদির, যিনি ১১৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বিন ওমর বিন আব্দুর রহমান, যিনি ১২৪০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; সাইয়্যেদ আব্দুল কাদির বিন আত-তকি বিন আব্দুর রহমান; তার ভাই শায়খ আব্দুল করিম বিন আত-তকি, যিনি আকবলিতে স্থানান্তরিত হন; সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-বারাকাহ, যিনি ১২৬০ হিজরিতে আওলাদ ওয়া নাকালে মৃত্যুবরণ করেন; ওমর আশ-শায়খ বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মাদ আশ-শাফেয়ি, যিনি ১৩২২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান। শায়খ আব্দুর রহমান বিন ওমরের প্রসিদ্ধি সত্ত্বেও তার জন্মের সঠিক তারিখটি সুনিশ্চিত নয়। তবে প্রতীয়মান হয় যে, সেটি ছিল হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে। 'আল-কাওয়াইদুন নাফিসাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার জন্ম ১১২১ হিজরির দিকে; তবে আমি জানি না ঠিক কোন সূত্র থেকে এই তারিখটি সুনিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন বরণীয় ব্যক্তিত্বদের একজন এবং ইসলামের অন্যতম দাঈ। তিনি ছিলেন সুবক্তা, প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী এবং অত্যন্ত পবিত্র ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। তিনি ছিলেন গাম্ভীর্যপূর্ণ ও ধার্মিক। তিনি তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও সঠিক মতামতের অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
اللمحة الرابعة: أولاده.
المعروف من أولاد العلامة الشيخ سيدى محمد الذى كان خليفة لوالده والمزداد بتنلان سنة 1151 هـ والمتوفى سنة 1233 هـ بأولاد علي من قصور تيمى كانت له اليد الطولى في العلم والإفتاء، وقد أخذ الإجازة عن الشيخ سيدى احمد بن عبد العزيز الهلالي وكانت بينهما مراسلات من بينها هذه الرسالة التى بعث بها إليه الشيخ الهلالي وهي مذكورة في غنية المقتصد السائل فيما حل بتوات من النوازل نصها: الفقيه النجيب الحبيب بن الحبيب الأغر الأبر، سيدي محمد بن عبد الرحمن بن عمر، عمر الله قلبه بأنوار المعارف، وأيده بأنواء العواوف، سلام على مقامكم الأغر، ورحمة الله تعالى وبركاته، أما بعد: فإن تأخر جوابكم ليس لعدم الاهتبال، ولا لغروب حقوقكم على البال، لكن لأعذار تعذر الآن تفصيلها، يعز معها تحرير المسائل وتحصيلها، وقد مرت ملاقاتي لحامله على عجل، فزبرت هذه الحريفات على خجل، وقد فرحت وحمدت الله على حسن فهمك واعتنائك، وحرصك على اقتطافك ثمار التحقيق واجتنائك، وتفرست فيك أن ستكون إن شاء الله إماما، للواء العلم حاملا، وتمثلت بقول القائل:
إن الهلال إذا رأيت نموه
… أيقنت أن سيكون بدرا كاملا
حقق الله فيك الأمل، وأبلغك الدراجة العليا من العلم والعمل، وها أنا ذا كاتب للسيد الوالد في أمرك، بارك الله في عمره أو عمرك، والموكد به عليك أن تجد كل الجد في اقتباس العلم والعمل به، فإن من طلب وجد، وجد ما قد جد في طلبه، وأن تخلص لي من دعائك بتنوير أعماق قلوبنا القاتمة، وسر وارد الآثام بالمغفرة العامة، وحسن الخاتمة.
চতুর্থ ঝলক: তাঁর সন্তানগণ।
আল্লামা শাইখ সিদি মুহাম্মাদ তাঁর সন্তানদের মধ্যে সুপরিচিত ছিলেন, যিনি তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১১৫১ হিজরিতে তিনলানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৩৩ হিজরিতে তিমির প্রাসাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত আওলাদ আলীতে মৃত্যুবরণ করেন। ইলম এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্য ও দক্ষতা ছিল। তিনি শাইখ সিদি আহমাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হিলালির নিকট থেকে ইজাজত লাভ করেন। তাঁদের উভয়ের মাঝে পত্রালাপ চলত, যার মধ্যে এই পত্রটিও রয়েছে যা শাইখ হিলালি তাঁর নিকট প্রেরণ করেছিলেন। এটি ‘গুনিয়াতুল মুকতাসিদ আস-সায়িল ফি-মা হাল্লা বি-তুয়াত মিনান নাওয়াযিল’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। পত্রের ভাষ্য নিম্নরূপ: বুদ্ধিমান ফকিহ, প্রিয়তমের প্রিয়তম পুত্র, গৌরবময় ও পুণ্যবান ব্যক্তিত্ব, সিদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন উমর। আল্লাহ তাঁর অন্তরকে মারেফাতের নূরে সজীব রাখুন এবং তাঁকে তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা সাহায্য করুন। আপনার মহান মর্যাদার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর: আপনার পত্রের উত্তর দিতে বিলম্ব হওয়াটা গুরুত্বহীনতার কারণে নয়, আর আপনার অধিকারের কথা আমার মন থেকে মুছে যাওয়ার কারণেও নয়; বরং এমন কিছু ওজরের কারণে যা বর্তমানে বিস্তারিত বর্ণনা করা কঠিন। এর ফলে মাসয়ালাসমূহ লিপিবদ্ধ করা এবং তা সংগ্রহ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এই পত্রবাহকের সাথে আমার সাক্ষাৎ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে হয়েছে, তাই আমি অত্যন্ত সংকোচের সাথে এই সংক্ষিপ্ত কথাগুলো লিখেছি। আমি আপনার চমৎকার প্রজ্ঞা ও মনোযোগ দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি এবং আল্লাহর প্রশংসা করেছি। সেই সাথে তাহকিকের ফল আহরণে আপনার আগ্রহ দেখেও আমি খুশি। আমি আপনার মধ্যে এই শুভলক্ষণ দেখতে পাচ্ছি যে, ইনশাআল্লাহ আপনি একজন ইমাম এবং ইলমের পতাকাবাহী হবেন। এক্ষেত্রে আমি কবির এই পঙ্ক্তিটি পেশ করছি:
নিশ্চয়ই যখন তুমি নতুন চাঁদের বৃদ্ধি দেখতে পাবে
… তখন তুমি নিশ্চিত হবে যে এটি পূর্ণিমার চাঁদে পরিণত হবে।
আল্লাহ আপনার ব্যাপারে আমার প্রত্যাশা পূরণ করুন এবং আপনাকে ইলম ও আমলের উচ্চতর মর্যাদায় আসীন করুন। আমি আপনার বিষয়ে আপনার শ্রদ্ধেয় পিতার নিকট লিখছি; আল্লাহ তাঁর অথবা আপনার হায়াতে বরকত দান করুন। আপনার প্রতি আমার বিশেষ তাকিদ হলো, আপনি ইলম অর্জন এবং সেই অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। কেননা যে ব্যক্তি অন্বেষণ করে সে প্রাপ্ত হয়, সে তা-ই পায় যার জন্য সে কঠোর সাধনা করে। পরিশেষে, আপনার দোয়ায় আমাকে বিশেষভাবে স্মরণ রাখবেন—যাতে আল্লাহ আমাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন অন্তরের গভীর তলদেশকে আলোকিত করেন, গুনাহের বোঝা সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে দূর করে দেন এবং উত্তম পরিসমাপ্তি দান করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
هذا ولم يحضر الآن معي كتابك المتضمن للأسئلة فأجيب عنها لكي ألمع لك على مقتضى العجلة بجواب ما تذكرت منها فأما تقييد قول المتن وسمى الشهود وإلا نقض بغير العدل فالصواب ما رأيتم من عدم اعتباره لأن العلة وهي إرجاء الحجة للغائب قائمة في حكم العدل لغيره، نعم التفصيل يبين المشهور بالعدالة وغيره جار في الحكم على الحاضر لأن تسمية الشهود في غير المشهور بها أسلم لعرضه وأبعد له عن الاتهام بكونه حكم بلا بينة والمشهور بها لا تعلق بجانبه ظنة فلا حاجة به إلى التسمية.
وأما مسألة من تيمم جنبا لدخول المسجد فله المكث فيه بتيممه ذلك ما لم ينقض لأن التلبس في المسجد بالدخول والمكث عبادة مفتقرة إلى الطهارة الكبرى وقد حصلت بالتيمم فما دام متلبسا بتلك العبادة غير منتقض تيممه لا يحتاج إلى تيمم آخر فمن يقول لا ينتقض التيمم إلا بناقض الوضوء أو زوال العذر الذي أباح التيمم يقول يمكث في المسجد بتيمم الدخول ما شاء ومن يقول ينتقض أيضا بالطول ولو وقع اتصال اشتغاله بالعبادة يقول هنا تجدد التيمم عند الطول وكان بعض شيوخنا يصوب ظاهر المذهب من عدم الاحتياج إلى التجديد عند الطول وقد كانت كتبكم وصلتني وبي رجع البصر ولكم العافيه وبقيت في سجلماسة وهي الآن عني نائية فإذا قضى الله تعالى بوصولها أجبت السيد والدي وإياك إن شاء الله. وكتب لإحدى عشرة خلت من صفر بالزاوية الحمرية أحاطها الله أحمد بن عبد العزيز غفر الله له آمين.
বর্তমানে আপনার প্রশ্নের সংবলিত পত্রটি আমার নিকট উপস্থিত নেই যে সেগুলোর উত্তর প্রদান করি, তাই তাড়াহুড়োর কারণে যা কিছু স্মরণ করতে পারছি তার ভিত্তিতে আপনাকে সংক্ষেপে উত্তর দিচ্ছি। মূল পাঠের (মতন) বক্তব্য 'সাক্ষীদের নাম উল্লেখ করবে, অন্যথায় ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে রায় বাতিল হবে'—এই শর্তারোপের ক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি হলো যা আপনারা মনে করেছেন অর্থাৎ এটি বিবেচনায় না নেওয়া। কারণ এর পেছনে যে কারণ (ইল্লত) রয়েছে—অর্থাৎ অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দলিল উপস্থাপন বিলম্বিত করা—তা ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির ন্যায় অন্যের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। হ্যাঁ, ন্যায়পরায়ণ হিসেবে প্রসিদ্ধ এবং অপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে যে বিস্তারিত পার্থক্য, তা উপস্থিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রায়ের বিষয়ে প্রযোজ্য। কেননা যারা ন্যায়পরায়ণ হিসেবে প্রসিদ্ধ নয়, তাদের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের নাম উল্লেখ করা তাদের সম্মানের জন্য অধিকতর নিরাপদ এবং প্রমাণ ছাড়া ফয়সালা দেওয়ার অভিযোগ থেকে দূরে থাকার মাধ্যম। আর যারা প্রসিদ্ধ, তাদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার কুধারণার অবকাশ থাকে না, তাই নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
আর যে ব্যক্তি জানাবাত অবস্থায় মসজিদে প্রবেশের জন্য তায়াম্মুম করেছে, সে তার সেই তায়াম্মুমের মাধ্যমে যতক্ষণ তা ভঙ্গ না হয় ততক্ষণ মসজিদে অবস্থান করতে পারবে। কারণ মসজিদে প্রবেশ ও অবস্থান এমন এক ইবাদত যার জন্য বড় পবিত্রতা প্রয়োজন, যা তায়াম্মুমের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। সুতরাং যতক্ষণ সে সেই ইবাদতে রত থাকবে এবং তার তায়াম্মুম ভঙ্গ হবে না, ততক্ষণ তার অন্য কোনো তায়াম্মুমের প্রয়োজন নেই। অতএব যারা বলেন যে ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ অথবা যে ওজরের কারণে তায়াম্মুম বৈধ হয়েছিল তা দূর হওয়া ব্যতীত তায়াম্মুম ভঙ্গ হয় না, তাদের মতে সে মসজিদে প্রবেশের তায়াম্মুম দিয়ে ইচ্ছামতো অবস্থান করতে পারবে। আর যারা বলেন যে সময় দীর্ঘ হওয়ার ফলেও তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যায়, এমনকি ইবাদতে অবিচ্ছিন্নভাবে রত থাকলেও, তাদের মতে সময় দীর্ঘ হলে তায়াম্মুম নবায়ন করতে হবে। আমাদের কোনো কোনো শায়খ মাযহাবের প্রকাশ্য মতটিকেই সঠিক মনে করতেন যে, সময় দীর্ঘ হওয়ার কারণে নবায়নের প্রয়োজন নেই। আপনাদের পত্রগুলো আমার নিকট এসেছিল যখন আমি চোখের ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলাম, আল্লাহ আপনাদের সুস্থতা দান করুন। সেগুলো সিজিলমাসায় রয়ে গিয়েছে এবং স্থানটি এখন আমার নিকট হতে দূরবর্তী। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যখন সেগুলো পৌঁছানোর ফয়সালা করবেন, তখন ইনশাআল্লাহ আমি শ্রদ্ধেয় পিতা এবং আপনাকে উত্তর প্রদান করব। এটি যাবিয়া আল-হামরিয়ায়—আল্লাহ একে হিফাযত করুন—সফর মাসের এগারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর লেখা হয়েছে। লেখক: আহমদ বিন আব্দুল আজিজ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, আমিন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
الابن الثاني: السيد عبد الله المتوفى سنة 1221 هـ مع سيدي عومر المهداوي توفي في الشبكة طريق أولف له قصيدة تسمى الحلة الفاخرة في فتح مصر والقاهره. مطلعها:
الله أكبر جل الخصب عيانا ..... مقبور بقصر با عبد الله بجانب سيدي عبد الله بن سيدي سليمان بن علي.
اللمحة الخامسة: ذكر العلماء الذين أخذ عنهم العلم والكتب التي درسها أو حضر دروسها عندهم.
أخذ الشيخ عن علماء عديدة داخل الوطن وخارجه منهم شيخه العلامة أبو حفص عمر بن عبد القادر المتقدم الذكر في لمحة ذكر أعلام تنلان وهكذا الشيخ غالب علماء توات أخذوا عنه ولا يرى له مثيل في العلم.
ومن فهرسة الشيخ عبد الرحمن التنلاني يقول عن الشيخ الجنتوري قال لي لما رجع من حجته وقد سألته عن حال من لقي من العلماء فقال لي اختبرت علماء القاهرة والحرمين فلم ألق فيهم من يصل إصبع رجل شيخنا أبي حفص إلا واحدا في علم الحديث لقيه بمكة، ولا بأس أن نذكر مقتطفات من رحلة هذا الشيخ أي الشيخ أبي حفص عمر بن عبد القادر شيخ ومربي السيد عبد الرحمن بن عمر التنلاني صاحب الترجمة والرحلة مشلتملة على أربع وعشرين صفحه بالكتابة الرقيقة بقلم الشيخ عبد الرحمن بن عمر وهي من جملة المخطوطات الموجودة عندنا فمن صفحه: 01 إلى 06 فما كان قبل الحمدلة هو من كلام الشيخ عبد الرحمن وهي قوله: قال الشيخ الإمام العلامة وحيد دهره وفريد عصره الجامع بين الحقيقة والشريعة شيخنا أبو حفص سيدي عمر بن سيد الحاج عبد القادر التواتي برد الله ضريحه وأسكنه من الفردرس الأعلى فسيحه بمنه وفضله آمين. اهـ.
দ্বিতীয় পুত্র: সায়্যিদ আবদুল্লাহ, যিনি ১২২১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি সিদি উমর আল-মাহদাউয়ির সাথে শাবাকাহ নামক স্থানে আওলাফ পথে ইন্তেকাল করেন। মিসর ও কায়রো বিজয়ের বিষয়ে তাঁর 'আল-হুল্লা আল-ফাখিরা' নামক একটি কাসিদা (কবিতা) রয়েছে। এর সূচনাংশ:
আল্লাহু আকবার, প্রাচুর্য দৃশ্যত সুমহান হয়েছে... তিনি কাসর বা আবদুল্লাহতে সিদি আবদুল্লাহ বিন সিদি সুলাইমান বিন আলির পাশে সমাহিত।
পঞ্চম ঝলক: সেইসব আলেমদের আলোচনা যাদের নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন এবং যেসব কিতাব তিনি অধ্যয়ন করেছেন বা যে দরসগুলোতে তিনি উপস্থিত হয়েছেন।
শাইখ নিজ দেশের ভেতরে ও বাইরে বহু আলেমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাঁর উস্তাদ আল্লামা আবু হাফস উমর বিন আবদুল কাদির, যাঁকে ইতিপূর্বে তানলানের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে তুওয়াত অঞ্চলের অধিকাংশ আলেম তাঁর কাছে ইলম হাসিল করেছেন এবং ইলমের ময়দানে তাঁর কোনো নজির দেখা যায় না।
শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানির ক্যাটালগ (ফিহরিস্ত) থেকে জানা যায়, তিনি শাইখ আল-জান্তুরি সম্পর্কে বলেন: তিনি যখন হজ থেকে ফিরলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি যেসব আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তাঁদের অবস্থা কেমন? তিনি আমাকে বললেন, আমি কায়রো এবং হারামাইন শরিফাইনের আলেমদের পরীক্ষা করে দেখেছি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে ইলমে হাদিসের ক্ষেত্রে মক্কায় সাক্ষাৎ হওয়া একজন ব্যক্তি ব্যতীত এমন কাউকে পাইনি যিনি আমাদের শাইখ আবু হাফসের পায়ের আঙুল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন। এই শাইখ অর্থাৎ শাইখ আবু হাফস উমর বিন আবদুল কাদিরের সফরনামার কিছু অংশ উল্লেখ করাতে কোনো দোষ নেই, যিনি সায়্যিদ আবদুর রহমান বিন উমর আত-তানলানির (যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে) শাইখ এবং মুরব্বি ছিলেন। সফরনামাটি শাইখ আবদুর রহমান বিন উমরের সূক্ষ্ম হস্তাক্ষরে চব্বিশ পৃষ্ঠায় লিখিত। এটি আমাদের নিকট রক্ষিত পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এর পৃষ্ঠা নং ০১ থেকে ০৬ পর্যন্ত 'হামদ' এর পূর্বের কথাগুলো শাইখ আবদুর রহমানের। তিনি বলেন: শাইখ, ইমাম, আল্লামা, স্বীয় সময়ের অদ্বিতীয় ও যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষী, হাকিকত ও শরিয়তের সমন্বয়কারী, আমাদের শাইখ আবু হাফস সিদি উমর বিন সাইয়িদ আল-হাজ আবদুল কাদির আত-তুয়াতি—আল্লাহ তাঁর কবরকে শীতল করুন এবং নিজ অনুগ্রহ ও দয়ায় তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রশস্ত উদ্যানে স্থান দান করুন। আমিন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
الحمد لله الذي شرف العلم وجعل له أهلا، والصلاة والسلام على من طاب فرعا وأصلا، وعلى آله الأطهار، وصحابته الأخيار، وبعد فقد كنت في حال صغري مشغوفا بالعلم مولعا بطلبه ومشتغلا بقراءة الشيخ خليل وألفيه ابن مالك مقبلا على ذلك متشوفا إلى شيخ يحل لي ألفاظهما ويوقفني على معانيهما فلم ينقق لي ذلك لكون البلد شاغرة من العلماء إلى أن شرح الله صدري وتوجهت همتي للسفر لسجلماسة أو لمدينة فاس قصدا لذلك فثنيت عنان عزمتي وصرفت لذلك وجهتي وقد ورد في فضل طلب العلم أحاديث كثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم ففي صحيح البخاري عنه (ص): "من سلك طريقا يطلب به علما سهل الله له طريقا إلى الجنة" وقال (ص) "أفضل الأعمال طلب العلم" وقال عليه السلام: إن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم رضى بما يطلب إلى غير ذلك من الأحاديث فسافرت لطلب العلم من توات لمدينة فاس سنة سبع عشرة ومائة وألف وأقمت فيها مشتغلا بالقراءة والإقراء إلى آخر سنة تسع وعشرين ومائة وألف نحو ثلاث عشرة سنة وحين وصلت إليها اشتغلت فيها بالقراءة فقرأت القرءان على الأستاذ الشهير الولي الصالح المتبرك به أبي عبد الله سيدي محمد السالم بن سيدي محمد البرباعي وكان رحمه الله بالمدرسة المصباحية من مدينة فاس مواظبا على تجويد القرءان للطلبة بجامع القرويين من الضحى إلى العصر لا يلهيه شيء عن ذلك إلى أن توفي بعد العشرين ومائة وألف ودفن داخل باب الفتوح من المدينة المذكورة ثم توجهت للعربية فقرأت مقدمة ابن آجروم على الأديب سيدي محمد العربي بن الأستاذ أبي عبد الله محمد بن مقلب الفاسي وقرأتها أيضا
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জ্ঞানকে সম্মানিত করেছেন এবং এর জন্য উপযুক্ত লোক তৈরি করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার বংশ এবং মূল অত্যন্ত পবিত্র, এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও উত্তম সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর, আমি আমার শৈশবকাল থেকেই জ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ও তা অন্বেষণে নিবেদিত ছিলাম এবং শায়খ খলীল ও ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ পাঠে মগ্ন ছিলাম। আমি সেগুলোর প্রতি নিবিষ্ট ছিলাম এবং এমন একজন শায়খের সন্ধান করছিলাম যিনি আমার নিকট এগুলোর শব্দমালা ব্যাখ্যা করবেন এবং আমাকে এর অর্থসমূহ অনুধাবন করাবেন। কিন্তু শহরটি আলেমশূন্য হওয়ার কারণে তা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। অবশেষে আল্লাহ আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিলেন এবং আমার সংকল্প সিজিলমাসাহ অথবা ফাস শহরের দিকে ভ্রমণের জন্য ধাবিত হলো। আমি আমার দৃঢ় সংকল্পের লাগাম সেদিকেই ঘুরালাম এবং আমার গন্তব্য সেদিকেই নিবদ্ধ করলাম। জ্ঞান অন্বেষণের ফযীলত সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারীতে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "সর্বোত্তম আমল হলো জ্ঞান অন্বেষণ করা।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়।" এই ধরনের আরও অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এরপর আমি ১১১৭ হিজরী সনে তোয়াত থেকে ফাস শহরে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সফর করি। সেখানে আমি পাঠ গ্রহণ এবং পাঠ দানে ১১২৯ হিজরীর শেষ পর্যন্ত প্রায় তেরো বছর অবস্থান করি। সেখানে পৌঁছে আমি পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করি এবং প্রসিদ্ধ উস্তাদ, পুণ্যবান ও বরকতময় ওলী আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ আস-সালিম বিন সিদি মুহাম্মদ আল-বারবাঈ-এর নিকট কুরআন পাঠ করি। তিনি রাহিমাহুল্লাহ ফাস শহরের মিসবাহিয়্যা মাদরাসায় অবস্থান করতেন এবং কারাওয়িয়্যীন জামে মসজিদে চাশতের সময় থেকে আসর পর্যন্ত ছাত্রদের কুরআন তাজভীদ সহকারে পড়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকতেন। কোনো কিছুই তাঁকে এই কাজ থেকে বিচ্যুত করতে পারতো না। অবশেষে ১১২০ হিজরীর পর তিনি ইন্তেকাল করেন এবং উল্লেখিত শহরের বাবুল ফুতুহের অভ্যন্তরে তাঁকে দাফন করা হয়। এরপর আমি আরবী ব্যাকরণের দিকে মনোনিবেশ করলাম এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক সিদি মুহাম্মদ আল-আরাবী বিন উস্তাদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাকলাব আল-ফাসীর নিকট ইবনে আজুররুমের মুকাদ্দিমা পাঠ করলাম এবং আমি এটি আরও পাঠ করেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
قراءة بحث وتحقيق على الأستاذ النحوى سيدي أحمد السقاط بشرحها الشيخ خالد الأزهري مع حاشية أبي بكر الشنواني عليه وسردت عليه كثيرا منها مما أشكل علي فهمه وكان رحمه الله مولعا بها وكنت أباحثه كثيرا في مواضع منها قرأتها عليه مرارا وقرأت ألفية ابن مالك على جماعة من الأئمة كالعلامة النحوي أبي عبد الله سيدي مهدى بن عبد السلام الحلو الفاسي وكالعالم المتفنن أبى عبد الله سيدي محمد بن عبد الله السجلماسي المجاور في الحرمين، وكالأستاذ النحوي سيدي أحمد السقاط المذكور أولا وكالعالم النحوي سيدى عبد السلام الهروشي وكالفقيه المشارك سيدي إدريس المشاط الفاسي وقر شيئا من توضيح ابن هشام على ألفية ابن مالك على الإمام العلامة المتفنن النحوي سيدى محمد بن عبد السلام بناني الفاسي قرأت عليه إلى قريب من الاستثناء وقرأت لامية الأفعال على الأستاذ سيدي أحمد السقاط المذكور وقرأت جمل المجراد عليه وقرأت شيئا من مغني اللبيب لابن هشام على الإمام العالم العلامة المحقق النحوي بإجماع أهل وقته المتفنن الصوفي أبي عبد الله سيدي محمد بن زكري وحضرت بعضا من التسهيل على الفقيه المشارك سيدي محمد بن حمدون بناني وقرأت الخزرجية في علم العروض على الفقيه الزاهد العامل سيدي محمد الطيب بن سيدي عبد الرحمن بن القاضي الفاسي وعلى الفقيه المشارك سيدى إدريس المشاط السابق ذكره وأخذت علم المعاني والبيان عن العلامة المتفنن سيدي محمد بن عبد السلام بناني السابق ذكره قرأت عليه تلخيص المفتاح مرتين قراءة بحث وتحقيق وأخذت علم الأصول عن جماعة من الأئمة كالفقيه المحقق المشارك
ব্যাকরণবিদ উস্তাদ সিদি আহমাদ আস-সাক্কাত-এর নিকট শেখ খালিদ আল-আযহারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং তার ওপর আবু বকর আশ-শানুওয়ানীর টীকা সহ গভীর অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের সাথে পাঠ সম্পন্ন করেছি। এর মধ্যে যা কিছু বুঝতে আমার সমস্যা হচ্ছিল, তা আমি তাঁর নিকট বিশদভাবে উপস্থাপন করেছি। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই গ্রন্থের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। আমি তাঁর সাথে এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনেক আলোচনা করতাম এবং তাঁর নিকট এটি বারবার পাঠ করেছি। আমি একদল ইমামের নিকট ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ পাঠ করেছি, যেমন: বিশিষ্ট ব্যাকরণবিদ আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ সিদি মাহদী বিন আব্দুস সালাম আল-হুলু আল-ফাসি, বহুমুখী প্রতিভাধর আলেম আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সিজিলমাসি—যিনি হারামাইন শরিফাইনে অবস্থান করতেন, পূর্বে উল্লেখিত ব্যাকরণবিদ উস্তাদ সিদি আহমাদ আস-সাক্কাত, ব্যাকরণবিদ আলেম সিদি আব্দুস সালাম আল-হারুশি এবং ফকিহ ও গবেষক সিদি ইদ্রিস আল-মাশশাত আল-ফাসি। আমি ইমাম, আল্লামা, বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যাকরণবিদ সিদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুস সালাম বান্নানি আল-ফাসির নিকট ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর ইবনে হিশামের 'তাওদিহ'-এর কিছু অংশ পাঠ করেছি; তাঁর নিকট 'ইস্তিসনা' (ব্যতিক্রম) অধ্যায়ের কাছাকাছি পর্যন্ত পড়েছি। আমি পূর্বে উল্লেখিত উস্তাদ সিদি আহমাদ আস-সাক্কাতের নিকট 'লামিয়াতুল আফআল' পাঠ করেছি এবং তাঁর নিকট 'জুমালুল মাজরাদ' পড়েছি। এছাড়া তৎকালীন সময়ের আলেমদের ঐকমত্যে ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, গবেষক, ব্যাকরণবিদ, বহুমুখী প্রতিভাধর ও সুফি আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মাদ বিন যাকরির নিকট ইবনে হিশামের 'মুগনী আল-লাবিব'-এর কিছু অংশ পাঠ করেছি। আমি ফকিহ ও গবেষক সিদি মুহাম্মাদ বিন হামদুন বান্নানির নিকট 'আত-তাসহিল'-এর কিছু মজলিসে উপস্থিত হয়েছি। আর ছন্দবিজ্ঞানের ওপর রচিত 'আল-খাযরাজিয়্যাহ' পাঠ করেছি ফকিহ, যাহিদ ও আমলদার আলেম সিদি মুহাম্মাদ আত-তাইয়িব বিন সিদি আব্দুর রহমান বিন আল-কাদি আল-ফাসি এবং পূর্বে উল্লেখিত ফকিহ ও গবেষক সিদি ইদ্রিস আল-মাশশাতের নিকট। আমি পূর্বে উল্লেখিত আল্লামা ও বহুমুখী প্রতিভাধর সিদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুস সালাম বান্নানির নিকট ইলমুল মা'আনি ও ইলমুল বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) অর্জন করেছি; তাঁর নিকট গভীর অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের সাথে দুইবার 'তালখিস আল-মিফতাহ' পাঠ করেছি। আর একদল ইমামের নিকট উসুল (মূলনীতি শাস্ত্র) শিক্ষা করেছি, যেমন ফকিহ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ...
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الأستاذ المتفنن أبي العباس سيدى أحمد بن مبارك السجلماسي قرأت عليه جمع الجوامع لابن السبكي وكالفقيه العدل المحقق الأصولي سيدى محمد بن محمد ميارة الفاسي فقرأت عليه جمع الجوامع أيضا لابن السبكي مع شرحه المحلى قراءة بحث وتحقيق وكان رحمه الله يكثر من النقول حال قراءته للكتاب المذكور ويعتني بشرحه المذكور ويفكك ما انعلق من عبارته وينقل كلام أرباب الحواشى عليه كابن أبي شريف وشيخ الإسلام زكرياء واللقاني والعبادى في الآيات البينات وكالإمام الأجل الفقيه البارع المحقق المتفنن المشارك في العلوم شيخ الشيوخ أبي عبد الله سيدي محمد بن أحمد المسناوي الدلائي برد الله ضريحه قرأت عليه كثيرا من لب الأصول للشيخ زكرياء وأخذت علم المنطق عن جماعة كالإمام العلامة شيخ الشيوخ أبي عبد الله سيدي محمد بن أحمد المسناوي المتقدم ذكره قرأت عليه مختصر الشيخ السنوسي في المنطق قراءة بحث وتحقيق وعليه حصلت كثيرا من مسائله وتحقيقاته وكالفقيه أبى عبد الله. سيدى محمد بن عبد الله السجلماسي قرأت عليه مختصر الشيخ السنوسي في المنطق أيضا وقرأت عليه أيضا أرجوزة السلم في المنطق مرارا وكالفقيه المشارك سيدي إدريس المشاط الفاسي المتقدم ذكره قرأت عليه أرجوزة السلم وقرأت علم الكلام على الفقيه الأجل أبي عبد الله سيدي محمد بن عبد الله السجلماسي قرأت عليه المقدمة الصغرى للشيخ السنوسي مرارا وقرأت عليه أيضا العقيدة الكبرى للشيخ السنوسي وعلى الفقيه المحقق المشارك المتفنن أبي العباس سيدي أحمد بن مبارك السجلماسي السابق ذكره قرأت عليه الصغرى للشيخ السنوسي قراءة بحث وتدقيق وقرأتها
বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী ওস্তাদ আবুল আব্বাস সিদি আহমদ বিন মুবারক আস-সিজিলমাসি; আমি তাঁর নিকট ইবনে সুবকির 'জামউল জাওয়ামি' পড়েছি। এবং ন্যায়নিষ্ঠ ফকিহ, গবেষক ও উসুলবিদ সিদি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ মাইয়ারা আল-ফাসি; তাঁর নিকটও আমি ইবনে সুবকির 'জামউল জাওয়ামি' আল-মাহাল্লির শারহসহ গভীর অনুসন্ধান ও তাহকিকের সাথে পড়েছি। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উল্লিখিত কিতাবটি পাঠদানের সময় প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করতেন এবং এর ব্যাখ্যার প্রতি যত্নবান হতেন, কিতাবের ইবারতের জটিলতাগুলো নিরসন করতেন এবং এর ওপর লিখিত টীকাকারদের বক্তব্য বর্ণনা করতেন, যেমন ইবনে আবি শরিফ, শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া, লাক্কানি এবং 'আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত'-এ বর্ণিত আব্বাদি। এবং সুমহান ইমাম, দক্ষ ফকিহ, গবেষক, বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী ও বিভিন্ন শাস্ত্রে অভিজ্ঞ শাইখুশ শুয়ুখ আবু আবদুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাসনাওয়ি আদ-দালাই (আল্লাহ তাঁর কবরকে শীতল করুন); তাঁর নিকট আমি শাইখ জাকারিয়ার 'লুব্বুল উসুল'-এর বিরাট অংশ পড়েছি। এবং আমি একদল উলামার নিকট মানতিক শাস্ত্র অর্জন করেছি, যেমন ইতিপূর্বে উল্লিখিত ইমাম আল্লামা শাইখুশ শুয়ুখ আবু আবদুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাসনাওয়ি; তাঁর নিকট আমি মানতিকের ওপর শাইখ সেনুসির 'মুখতাসার' গভীর অনুসন্ধান ও তাহকিকের সাথে পড়েছি এবং তাঁর নিকটই আমি এর বহু মাসআলা ও তাহকিক অর্জন করেছি। এবং ফকিহ আবু আবদুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আস-সিজিলমাসি; তাঁর নিকটও আমি মানতিকের ওপর শাইখ সেনুসির 'মুখতাসার' পড়েছি এবং মানতিকে 'উরজুযাতুস সুল্লাম' বহুবার পড়েছি। এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত অভিজ্ঞ ফকিহ সিদি ইদরিস আল-মাশাত আল-ফাসি; তাঁর নিকটও আমি 'উরজুযাতুস সুল্লাম' পড়েছি। এবং আমি সুমহান ফকিহ আবু আবদুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আস-সিজিলমাসির নিকট ইলমুল কালাম পড়েছি; তাঁর নিকট আমি শাইখ সেনুসির 'আল-মুকাদ্দিমাতুস সুগরা' বহুবার পড়েছি এবং তাঁর নিকট শাইখ সেনুসির 'আল-আকিদাতুল কুবরা'-ও পড়েছি। এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত গবেষক ফকিহ ও বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী আবুল আব্বাস সিদি আহমদ বিন মুবারক আস-সিজিলমাসির নিকট আমি শাইখ সেনুসির 'সুগরা' গভীর অনুসন্ধান ও সূক্ষ্ম তাহকিকের সাথে পড়েছি এবং তা পাঠ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
أيضا على العالم العلامة الدراك الفهامة النحوي أبى عبد الله سيدي محمد بن زكري الفاسي المتقدم ذكره وأخذت الفقه عن جماعة من الأئمة الذين أدركتهم بمدينة فاس من الفاسيين وغيرهم فقرأت الرسالة على شيخ الشيوخ الإمام أبي عبد الله سيدي محمد بن أحمد المسناوى الدلائي أسكنه الله بحبوح جنته وقرأتها أيضا على العلامة النحوي المتفنن الصوفي أبي عبد الله سيدي محمد زكري وقرأت مختصر الشيخ خليل على الإمام الأجل الفقيه العلامة المشارك المتفنن حافظ مذهب مالك في زمانه بالمغرب أبي عبد الله سيدي الحسن بن رحال المعداني برد الله ضريحه وأسكنه من الجنة فسيحه قرأته عليه مرارا قراءة بحث وتحقيق وقرأته أيضا على شيخ الشيوخ الإمام الفقيه أبي عبد الله سيدي محمد بن أحمد المسناوي الدلائي المتقدم ذكره وحصلت على هذين الشيخين من المسائل الفقهية والفوائد العلمية والتحقيقات البديعية في الفقه وغيره ما لم أحصله على غيرهما لكوني لازمتهما أكثر من غيرهما رحمة الله على جميعهم بل أكثر المسائل التي حصلتها منهما وقرأت أرجوزة ابن عاصم تحفة الحكام على هذين الشيخين قرأته كله على الأول منهما أبي على سيدى الحسن وقرأت أكثره على الثاني شيخ الشيوخ أبي عبد الله وقرأت لامية الزقاق على الأول منهما أبي علي وقرأت شيئا من مختصر ابن الحاجب الفقهي على الثاني وقرأت أيضا النصف الثاني من مختصر الشيخ خليل على العالم المتفنن المشارك أبي العباس سيدي أحمد بن مبارك السجلماسي إلا أياما مرضت فيها فتخلفت عن حضور مجلسه فيه وقرأت أيضا بعضا من المختصر على العلامة المحقق الفقيه المسن القاضي الأعدل أبى عبد الله
আরও সেই বিদ্বান, মহাপণ্ডিত, অতি প্রজ্ঞাবান, সুবোধ ও ব্যাকরণবিদ আবু আবদুল্লাহ সাইয়িদি মুহাম্মদ ইবনে জাকরি আল-ফাসির নিকট, যার আলোচনা পূর্বে গত হয়েছে। আমি ফাস শহরের অধিবাসী ও অন্যান্যদের মধ্য হতে এমন একদল ইমামের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছি যাদের সান্নিধ্য আমি পেয়েছি। আমি শায়খুশ শুয়ুখ ইমাম আবু আবদুল্লাহ সাইয়িদি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মাসনাউয়ি আদ-দালায়ির নিকট 'আর-রিসালা' পাঠ করেছি—আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ততম স্থানে স্থান দান করুন। আমি এটি মহাপণ্ডিত, ব্যাকরণবিদ, বহুবিদ্যায় পারদর্শী ও সুফি আবু আবদুল্লাহ সাইয়িদি মুহাম্মদ জাকরির নিকটও পাঠ করেছি। আমি শায়খ খলিলের 'মুখতাসার' পাঠ করেছি মহান ইমাম, ফকিহ, মহাপণ্ডিত, বহু শাস্ত্রজ্ঞ, বহুবিদ্যায় পারদর্শী ও স্বীয় সময়ে মাগরিব অঞ্চলে মালিকি মাযহাবের সংরক্ষক আবু আবদুল্লাহ সাইয়িদি আল-হাসান ইবনে রাহহাল আল-মা'দানির নিকট—আল্লাহ তাঁর কবরকে শীতল করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে বসবাস করতে দিন। আমি এটি তাঁর নিকট অনুসন্ধান ও যাচাইমূলক পাঠ হিসেবে বারবার পাঠ করেছি। আর এটি আমি শায়খুশ শুয়ুখ, ইমাম ফকিহ আবু আবদুল্লাহ সাইয়িদি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মাসনাউয়ি আদ-দালায়ির নিকটও পাঠ করেছি যার আলোচনা ইতিপূর্বে গত হয়েছে। আমি এই দুই শায়খের নিকট হতে ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে এমন সব ফিকহি মাসআলা, ইলমি ফায়দা ও চমৎকার বিশ্লেষণ অর্জন করেছি যা আমি অন্য কারো নিকট করতে পারিনি; কেননা আমি অন্যদের তুলনায় তাঁদের উভয়ের সান্নিধ্যে অধিককাল অতিবাহিত করেছি—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। বরং আমি যে সকল মাসআলা আয়ত্ত করেছি তার অধিকাংশই তাঁদের নিকট হতে প্রাপ্ত। আমি ইবনে আসিমের আরজুযা 'তুহফাতুল হুক্কাম' এই দুই শায়খের নিকট পাঠ করেছি; এর সম্পূর্ণ অংশ পাঠ করেছি তাঁদের প্রথমজন আবু আলি সাইয়িদি আল-হাসানের নিকট এবং এর অধিকাংশ পাঠ করেছি দ্বিতীয়জন শায়খুশ শুয়ুখ আবু আবদুল্লাহর নিকট। আর আমি 'লামিয়াতুল জুক্কাক' পাঠ করেছি তাঁদের প্রথমজন আবু আলির নিকট এবং ইবনে হাজিবের ফিকহ বিষয়ক 'মুখতাসার'-এর কিছু অংশ পাঠ করেছি দ্বিতীয়জনের নিকট। এছাড়া আমি বহুবিদ্যায় পারদর্শী ও বিজ্ঞ আলেম আবু আল-আব্বাস সাইয়িদি আহমদ ইবনে মুবারক আস-সিজিলমাসির নিকট শায়খ খলিলের 'মুখতাসার'-এর দ্বিতীয় অর্ধাংশ পাঠ করেছি, কেবল সেই কয়েকদিন ব্যতীত যেগুলোতে আমি অসুস্থ ছিলাম এবং তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতে পারিনি। আমি এই 'মুখতাসার'-এর কিছু অংশ মহাপণ্ডিত, গবেষক, ফকিহ, বয়োজ্যেষ্ঠ ও পরম ন্যায়পরায়ণ বিচারক আবু আবদুল্লাহর নিকটও পাঠ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
سيدي محمد العربي بن أحمد بردلة وقرأت أيضا بعضه على الفقيه سيدي محمد المشاط الفاسي وقرأت المرشد المعين منظومة ابن عاشر على شيخ الشيوخ أبى عبد الله سيدي محمد بن أحمد المسناوي وأخذت الحديث عن جماعة كالإمام العلامة شيخ الشيوخ أبى عبد الله سيدي محمد بن أحمد المسناوي قرأت عليه صحيح البخاري إلا شيئا منه وقرأت عليه بعضا من الأربعين النووية وقرأت عليه كثيرا من ألفية العراقي في اصطلاح المحدثين وأخذت أيضا صحيح البخاري عن الفقيه العلامة أبي علي سيد الحسن بن رحال كثيرا منه قراءة والباقي إجازة وأخذت عنه صحيح مسلم بعضه قراءة وبعضه إجازة وسمعت أيضا بعضا من البخاري على العلامة سيدي محمد بن زكري وعلى أبي العباس سيدي احمد بن مبارك السجلماسي وعلى الفقيه المحدث سيدي علي الحريشي الفاسي وقرأت شمائل الترمذى على الفقيه الأجل سيدي محمد بن عبد السلام بناني وعلى الفقيه الحافظ سيدي محمد بن عبد الله السجلماسي وأخذت كثيرا من التفسير عن شيخ الشيوخ العلامة أبي عبد الله سيدي محمد بن احمد المسناوي وسمعت مواضع منه على الشيخ العلامة الفقيه المتفنن أبي علي سيدي الحسن بن رحال المعداني والباقي إجازة وسمعت بعضا من حكم ابن عطاء على العلامة الصوفي سيدي محمد بن زكري وقرأت المقنع مختصر أبي مقرع في علم التوقيت على الفقيه الأستاذ سيدي محمد بن عيسى وعلى الفقيه سيدى مسعود جموع الفاسي وقرأت روضة الأزهار في علم وقت الليل والنهار على سيدي أحمد بن شنتوف المنجم ولكن لم أتحصل عليه منها على طائل وقرات القلصادي في علم الحساب على
সায়্যিদি মুহাম্মাদ আল-আরাবি বিন আহমাদ বারদালা এবং আমি এর কিছু অংশ ফকিহ সায়্যিদি মুহাম্মাদ আল-মাশহাত আল-ফাসির নিকট পাঠ করেছি। আমি ইবনে আশিরের কাব্যগ্রন্থ 'আল-মুরশিদ আল-মুইন' শাইখুশ শুয়ুখ আবু আব্দুল্লাহ সায়্যিদি মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাসনাওয়ির নিকট পাঠ করেছি। এবং আমি একদল উলামার নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছি, যেমন ইমাম আল্লামা শাইখুশ শুয়ুখ আবু আব্দুল্লাহ সায়্যিদি মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাসনাওয়ি; আমি তাঁর নিকট সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত পূর্ণ সহিহ বুখারি পাঠ করেছি, তাঁর নিকট আরবাঈনুন নববিয়্যার কিছু অংশ পাঠ করেছি এবং তাঁর নিকট মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা বিষয়ক ইরাকির আলফিয়্যাহর অধিকাংশ পাঠ করেছি। আমি ফকিহ আল্লামা আবু আলি সায়্যিদ আল-হাসান বিন রাহহালের নিকট থেকেও সহিহ বুখারি গ্রহণ করেছি, যার অধিকাংশ পাঠের মাধ্যমে এবং অবশিষ্টাংশ ইজাজতের মাধ্যমে; এবং আমি তাঁর নিকট থেকে সহিহ মুসলিম গ্রহণ করেছি, যার কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে এবং কিছু অংশ ইজাজতের মাধ্যমে। আমি আল্লামা সায়্যিদি মুহাম্মাদ বিন যাকারি, আবু আব্বাস সায়্যিদি আহমাদ বিন মুবারক আস-সিজিলমাসি এবং ফকিহ মুহাদ্দিস সায়্যিদি আলি আল-হুরাইশি আল-ফাসির নিকট বুখারির কিছু অংশ শ্রবণ করেছি। আমি ফকিহ আজাল সায়্যিদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুস সালাম বান্নানি এবং ফকিহ হাফেজ সায়্যিদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সিজিলমাসির নিকট শামায়েলে তিরমিজি পাঠ করেছি। আমি শাইখুশ শুয়ুখ আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ সায়্যিদি মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাসনাওয়ির নিকট থেকে তাফসিরের বড় একটি অংশ গ্রহণ করেছি এবং শাইখ আল্লামা ফকিহ মুতাফানন আবু আলি সায়্যিদি আল-হাসান বিন রাহহাল আল-মা'দানির নিকট এর বিভিন্ন অংশ শ্রবণ করেছি এবং অবশিষ্টাংশ ইজাজতের মাধ্যমে। আমি আল্লামা সুফি সায়্যিদি মুহাম্মাদ বিন যাকারির নিকট ইবনে আতাউল্লাহর হিকাম-এর কিছু অংশ শ্রবণ করেছি। আমি ইলমুত তাওয়াক্কিত (সময় নির্ধারণ বিদ্যা) বিষয়ক আবু মিকরার সংক্ষিপ্ত সার 'আল-মুকনি' ফকিহ উস্তাদ সায়্যিদি মুহাম্মাদ বিন ঈসা এবং ফকিহ সায়্যিদি মাসউদ জামু' আল-ফাসির নিকট পাঠ করেছি। এবং আমি দিন ও রাতের সময় নির্ধারণ বিষয়ক 'রাওদাতুল আজহার' সায়্যিদি আহমাদ বিন শানতুফ আল-মুনাজ্জিমের নিকট পাঠ করেছি, তবে আমি তা থেকে বিশেষ কোনো ফলদায়ক জ্ঞান অর্জন করতে পারিনি। এবং আমি ইলমুল হিসাব (গণিত শাস্ত্র)-এ আল-কালাসাদির কিতাবটি পাঠ করেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
غير واحد كالفقيه الأستاذ سيدي محمد بن عيسى المتقدم وسمعت بعضا من الشفاء للقاضي عياض على الفقيه العلامة سيدي سعيد العميري لقيته بمدينة مكناسة الزيتون وسمعت عليه أيضا هناك بعضا من التفسير، وأما العلامة المحقق الإمام القاضي الأعدل بمدينة مكناسة الزيتون أبو مدين سيدي محمد بن الحسين السوسي والفقيه الأجل العلامة ذو التآليف الشهيرة سيدى احمد بن يعقوب فلم يتفق لي الأخذ عنهما مع أني لقيتهما بالمدينة المذكورة فهؤلاء الشيوخ من الفاسيين وغيرهم هم الذين لقيتهم وأخذت عنهم، أما الفقيه العلامة شيخ الشيوخ أبو عبد الله سيدي محمد بن أحمد المسناوي فكان رحمه الله فاضلا عالما زاهدا محققا مشاركا في الفنون حسن العبارة والبيان عند الإقراء فصيح اللسان يحقق المسائل فإذا شرع في تدريس كتاب وإقرائه فإنه يعتني بتفكيك عبارته وبسطها ويتكلم مع شروحه ويبحث معهم كمختصر الشيخ خليل وغيره وكان يعتني رحمه الله عند تدريسه لمختصر الشيخ خليل بشروحه كالشيخ بهرام والحطاب والمواق والتئتائي والشيخ علي الأجهوري والزرقاني وغيرهم ويضيف إليهم توضيح الشيخ خليل لمختصر ابن الحاجب ويكثر اعتناؤه بالزرقاني فكان يبين مقفله ويوضح مجمله ويقيد مطلقه وينبه على ما فيه من خطاء وغفلة ويبحث معه كثيرا وهذه سيرته رحمه الله في جميع الكتب التي يقرئها للطلبة فتحصل لهم بسبب ذلك فوائد كثيرة وأبحاث نفيسة جليلة غير أنه رحمه الله كان يكره التطويل معه في المباحثة ولا يثبت لها وحين كنا نقرأ مختصر الشيخ خليل على شيخنا الإمام أبي علي سيدي الحسن بن رحال وكان رحمه الله يكثر المباحثة مع الشروح وغيرهم وربما عارض
অনেকের থেকেই (জ্ঞান অর্জন করেছি), যেমন ইতিপূর্বে উল্লেখিত ফকিহ উস্তাদ সাইয়্যেদি মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা। আর আমি ফকিহ আল্লামা সাইয়্যেদি সাঈদ আল-উমাইরির কাছে কাজি আইয়াজের 'আশ-শিফা' কিতাবের কিছু অংশ শুনেছি। তাঁর সাথে আমার মিকনাসাতুজ জাইতুন শহরে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং সেখানে তাঁর কাছে আমি তাফসিরের কিছু অংশও শুনেছি। আর মিকনাসাতুজ জাইতুন শহরের মুহাক্কিক আল্লামা ও ন্যায়পরায়ণ ইমাম কাজি আবু মাদইয়ান সাইয়্যেদি মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন আস-সুসি এবং প্রসিদ্ধ বহু কিতাবের রচয়িতা মহান ফকিহ আল্লামা সাইয়্যেদি আহমাদ ইবনে ইয়াকুবের নিকট থেকে (জ্ঞান) গ্রহণের সুযোগ আমার হয়নি, যদিও আমি উল্লিখিত শহরে তাঁদের উভয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। ফাস শহর ও অন্যান্য স্থানের এই শাইখদের সাথেই আমার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তাঁদের নিকট থেকেই আমি শিক্ষা লাভ করেছি। আর ফকিহ আল্লামা, শাইখুশ শুয়ুখ আবু আবদুল্লাহ সাইয়্যেদি মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-মাসনাওয়ি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন ফজিলতপূর্ণ আলেম, জাহেদ, মুহাক্কিক এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে দক্ষ ব্যক্তি। পাঠদানের সময় তিনি চমৎকার অভিব্যক্তি ও সাবলীল বর্ণনার অধিকারী ছিলেন; তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী এবং মাসআলাসমূহ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করতেন। তিনি যখন কোনো কিতাব পড়ানো ও পাঠদান শুরু করতেন, তখন সেটির ইবারত বা বাক্যগুলো বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার প্রতি মনোনিবেশ করতেন। তিনি মূল কিতাবের ভাষ্যগুলোর (শারহ) সাথে মিলিয়ে আলোচনা করতেন এবং সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতেন, যেমন শাইখ খলিলের 'মুখতাসার' এবং অন্যান্য কিতাব। শাইখ খলিলের 'মুখতাসার' পড়ানোর সময় তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এর ভাষ্যসমূহ যেমন—শাইখ বাহরাম, হাত্তাব, মাওয়াক, তিতায়ি, শাইখ আলি আল-আজহুরি, জুরকানি এবং অন্যদের ব্যাখ্যার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। তিনি এগুলোর সাথে ইবনে হাজিবের মুখতাসারের ওপর শাইখ খলিলের কৃত ব্যাখ্যা 'আত-তাওদিহ' যুক্ত করতেন এবং জুরকানির ব্যাখ্যার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি এর অস্পষ্ট বিষয়গুলো বর্ণনা করতেন, সারসংক্ষেপগুলো স্পষ্ট করতেন, সাধারণ বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট করতেন এবং এর মধ্যে থাকা ভুল ও অসতর্কতা সম্পর্কে সতর্ক করতেন এবং সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতেন। ছাত্রদের যেসব কিতাব তিনি পড়াতেন, সবগুলোর ক্ষেত্রেই এটি ছিল তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) অনুসৃত পদ্ধতি। এর ফলে ছাত্ররা অনেক ফায়দা এবং অত্যন্ত মূল্যবান ও মহান জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা লাভ করত। তবে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সাথে দীর্ঘ আলোচনা বা বিতণ্ডা করা অপছন্দ করতেন এবং তাতে স্থির থাকতেন না। আর যখন আমরা আমাদের শাইখ ইমাম আবু আলি সাইয়্যেদি হাসান ইবনে রাহহালের কাছে শাইখ খলিলের 'মুখতাসার' পড়তাম, তখন তিনি বিভিন্ন ভাষ্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রচুর আলোচনা করতেন এবং কখনো কখনো দ্বিমত পোষণ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بعض الفروق التي يذكرونها دفعا لما عساه أن يتوهم من المعارضة بين المسائل كان من ذلك أنه إذا مر على قوله في باب الذكاة وذبح لصنم الخ يبحث في الفرق بينه وبين ما ذبح لعيسى ولأي شيء كان، الأول وهو ما ذبح لصنم يحرم أكله والثاني وهو ما ذبح لصليب أو عيسى يكره فقط مع أن كل واحد منهما ذكر عليه اسم غير الله ويستشكل الفرق الذي ذكره الشيخ علي الأجهوري وغيره وأطال في ذلك فتكلمت في ذلك مع شيخنا أبي عبد الله سيدي محمد المسناوي وفاوضته في المسألة بعد أيام فلم يجبني بمقنع فحملني ذلك على أن قيدت في المسألة كلاما أكثره من مفادات شيخنا الإمام أبي علي سيدي الحسن المذكور ونص ذلك الكلام ينتهي ذلك الكلام في الصفحة: رقم 19 من الرحلة.
ومن نفس الصفحة: 19 يقول الشيخ أبو حفص: وأما الفقيه العالم الأستاذ أبو العباس سيدي أحمد بن مبارك السجلماسي فكان علامة حافظا نظارا يطيل في المناظرة لا يكاد ينقطع متفننا جامعا بين المعقول والمنقول والدراية أغلب عليه من الرواية وأكثر دروسه في العلم المعقول يكثر من الحكايات في مجلسه وكان حفظه الله متواضعا صاحب طريقة واسع الصدر مع الطلبة يباحثونه في مجلسه ويثبت لمباحثهم ولا يضجر منها يطيل النفس معهم في ذلك وربما مضى وقت الدرس وهو مع الباحث في مسألة.
وأما الفقيه الحافظ أبو عبد الله سيدي محمد بن عبد الله السجلماسي فكان رحمه الله حافظا متفننا مشاركا في العلوم أصله من سجلماسة واستوطن هو وأبوه مدينة فاس وبها نشأ ثم بعد أن حصل العلوم رحل إلى
মাসআলাসমূহের মাঝে যে বিরোধের ধারণা হতে পারে তা নিরসনের জন্য তারা যেসব পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেন তার মধ্য থেকে এটিও একটি যে, যখন যবেহ অধ্যায়ে মূর্তির নামে যবেহ করার প্রসঙ্গের ওপর দিয়ে অতিক্রম করা হয়, তখন মূর্তির নামে যবেহ এবং যা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর নামে যবেহ করা হয় তার মধ্যে পার্থক্য ও তার কারণ অনুসন্ধান করা হয়। প্রথমটি অর্থাৎ মূর্তির নামে যবেহকৃত পশুর মাংস খাওয়া হারাম, আর দ্বিতীয়টি অর্থাৎ যা ক্রুশ বা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর নামে যবেহ করা হয় তা কেবল মকরুহ; অথচ উভয়ের ওপরই আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নাম নেওয়া হয়েছে। শাইখ আলী আল-উজহুরী ও অন্যান্যরা যে পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় এবং তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। ফলে আমি এ বিষয়ে আমাদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ আল-মাসনাউয়ীর সাথে আলোচনা করি এবং কয়েক দিন পর তাঁর সাথে এ মাসআলা নিয়ে কথোপকথন করি, কিন্তু তিনি আমাকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেননি। এর ফলে আমি এই মাসআলাটি সম্পর্কে কিছু কথা লিপিবদ্ধ করি যার অধিকাংশ আমাদের শাইখ ইমাম আবু আলী সিদি আল-হাসান-এর নিকট থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান। সেই কথাগুলো রিহলা গ্রন্থের ১৯ নং পৃষ্ঠায় সমাপ্ত হয়েছে।
একই ১৯ নং পৃষ্ঠা থেকে শাইখ আবু হাফস বলেন: আর ফকীহ, আলিম ও উস্তাদ আবুল আব্বাস সিদি আহমদ বিন মুবারক আল-সিজিলমাসীর কথা বলতে গেলে, তিনি ছিলেন একাধারে আল্লামা, হাফেজ ও গবেষক; তিনি বিতর্কে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন এবং কখনও ক্ষান্ত হতেন না। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন এবং আকলি ও নাকলি ইলমের সমন্বয়ক ছিলেন। তাঁর মাঝে বর্ণনার চেয়ে সূক্ষ্ম গবেষণার প্রাধান্য ছিল এবং তাঁর অধিকাংশ পাঠদান আকলি ইলমকেন্দ্রিক ছিল। তিনি তাঁর মজলিসে প্রচুর কাহিনী বর্ণনা করতেন। আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন, তিনি বিনয়ী ও আধ্যাত্মিক পথের অনুসারী ছিলেন এবং ছাত্রদের প্রতি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন। ছাত্ররা তাঁর মজলিসে তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হতো এবং তিনি তাদের বিতর্কের সামনে অটল থাকতেন ও এতে কখনও বিরক্ত হতেন না। তিনি তাদের সাথে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতেন এবং কখনও কখনও ছাত্রদের সাথে কোনো একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করতে করতেই ক্লাসের সময় অতিক্রান্ত হয়ে যেত।
আর ফকীহ ও হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-সিজিলমাসীর কথা বলতে গেলে, তিনি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ছিলেন একজন হাফেজ এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী। তাঁর আদি নিবাস ছিল সিজিলমাসা, তবে তিনি ও তাঁর পিতা ফাস শহরে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন। এরপর ইলম অর্জন করার পর তিনি সফর করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المشرق فأخذ فيه الحديث عن جماعة ودرس بمصر ثم رجع لمدينة فاس وبقي فيها مدة ثم ارتحل بأهله إلى المشرق واستوطن المدينة الشريفة وبها توفي سنة أربع أو خمس وأربعين ومائة وألف.
وأما الفقيه المشارك سيدي محمد بن حمدون بناني الفاسي فكان رحمه الله عالما علامة متفننا للمسائل محققا لها بارعا في الفنون مشاركا فيها يحسن الكلام على المسائل غير أنه رحمه الله كان قليل الإقراء والتدريس وله تآليف مفيدة وتقاييد عجيبة منها شرح خطبة الألفية شرحها شرحا عجيبا حافلا أبدع فيه ما شاء الله ومنها شرح البسملة والحمدلة سماه الفوائد المسجلة في شرح البسملة والحمدلة ومنها شرح الأنصارية في علم الكلام وله تقاييد كثيرة وأسئله وأجوبه دلت على تحقيقه وبراعه فهمه توفي رحمه الله سنة إحدى وأربعين ومائة وألف.
وأما الفقيه الاجل سيدي محمد بن محمد ميارة الفاسي فكان رحمه الله عالما متفننا مشاركا في الفنون عالما بصناعة التوثيق ذا فهم ويقظة في العلوم غير أنه رحمه الله كان قليل الإقراء وأكثر إقرائه وتدريسه في العلوم العقلية وهو حفيد مياره شارح العاصمية والزقاقيه وغيرها توفي والله أعلم سنة ثلاث وأربعين ومائة وألف.
وأما الفقيه المحدث سيدي علي الحريشي فكان رحمه الله عالما متواضعا محدثا يغلب عليه علم الحديث وأكثر إقرائه فيه وله تآليف عديدة منها شرح الشمائل، ومنها شرح الشفاء، توفي رحمه الله والله أعلم سنة
প্রাচ্যের দিকে যাত্রা করে তিনি সেখানে একদল আলেমের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন এবং মিশরে অধ্যয়ন করেন। অতঃপর তিনি ফেজ শহরে প্রত্যাবর্তন করে সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। এরপর তিনি পরিবারসহ প্রাচ্যের দিকে হিজরত করেন এবং মদিনা শরিফে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই এক হাজার একশত পঁয়তাল্লিশ বা ছেচল্লিশ হিজরি সনে তাঁর মৃত্যু হয়।
আর বহু বিদ্যায় পারদর্শী ফকিহ সায়্যিদি মুহাম্মদ ইবনে হামদুন বানানি আল-ফাসি সম্পর্কে বলা যায়, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেম, মহাপণ্ডিত এবং বিভিন্ন মাসআলার চুলচেরা বিশ্লেষণকারী ও দক্ষ গবেষক। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন এবং মাসআলা বর্ণনায় অত্যন্ত পটু ছিলেন। তবে তিনি পাঠদান ও শিক্ষকতা কম করতেন। তাঁর অনেক উপকারী রচনা ও চমৎকার টীকা রয়েছে, যার মধ্যে আলফিয়ার খুতবার ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অন্যতম; তিনি এটি অত্যন্ত চমৎকার ও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এতে অসাধারণ পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়াও তাঁর রচনার মধ্যে রয়েছে বিসমিল্লাহ ও হামদালার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম তিনি রেখেছেন 'আল-ফাওয়ায়িদ আল-মুসাজ্জালা ফি শারহিল বিসমিল্লাতি ওয়াল হামদালা'। ইলমে কালাম শাস্ত্রে 'আনসারিয়া' গ্রন্থের ব্যাখ্যাও তাঁর অন্যতম একটি কাজ। তাঁর অসংখ্য টীকা এবং প্রশ্ন ও উত্তর রয়েছে যা তাঁর প্রখর মেধা ও গবেষণার প্রমাণ দেয়। তিনি এক হাজার একশত একচল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (রহিমাহুল্লাহ)।
আর মহান ফকিহ সায়্যিদি মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ মিয়ারা আল-ফাসি সম্পর্কে বলা যায়, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন বহুবিদ্যাবিশারদ আলেম এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী। তিনি দলিল লিখন পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে গভীর প্রজ্ঞা ও সচেতনতার অধিকারী ছিলেন। তবে তিনি পাঠদান কম করতেন এবং তাঁর অধিকাংশ পাঠদান ও শিক্ষকতা ছিল যুক্তিনির্ভর শাস্ত্রসমূহে। তিনি ছিলেন আসিমিয়া, যুক্বাক্বিয়া ও অন্যান্য গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার মিয়ারা-এর পৌত্র। আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি এক হাজার একশত তেতাল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
আর ফকিহ ও মুহাদ্দিস সায়্যিদি আলী আল-হারিশি সম্পর্কে বলা যায়, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন বিনয়ী আলেম ও মুহাদ্দিস। তাঁর মধ্যে হাদিস শাস্ত্রের প্রাধান্য ছিল বেশি এবং তাঁর অধিকাংশ পাঠদানও ছিল হাদিসের ওপর। তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে শামায়েলের ব্যাখ্যা এবং শিফার ব্যাখ্যা অন্যতম। আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি ইন্তেকাল করেন (রহিমাহুল্লাহ) সনে...
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أربع وأربعين ومائة وألف. وكنت مع ذلك في أثناء هذه المدة التي أقمت فيها بمدينة فاس أقرأ الطلبة وأدرس لهم في الفقه وغيره فكنت أقرئهم ألفية ابن مالك مرارا مرة بالمدرسة المصباحية لأني كنت ساكنا فيها في أكثر المدة التي أقمتها بمدينة فاس ومرة في جامع القرويين قراءة بحث وتحقيق وأقرأتهم الأجرومية مرارا وأقرأتهم أيضا أرجوزة في السلم في المنطق مرارا قراءة بحث وتحقيق مع التعرض لكثير مما وقع لشارحه سيدي سعيد قدورة حتى قيدوا على تقييدات نفيسة في ذلك وأقرأتهم أيضا مختصر الشيخ السنوسي في المنطق مرارا وأقرأتهم تلخيص المفتاح في علم المعاني والبيان وأقرأتهم جمع الجوامع في علم الأصول لابن السبكي وأقرأتهم أيضا رسالة الشيخ أبي عبد الله محمد بن أبى زيد مرة في المدرسة المصباحية ومرة أخرى في جامع القرويين ولما كثر علي الطلبة جدا وعجزت أن أسمع آخرهم ومن كان في الطرف منهم لكثرتهم اتخذوا لي كرسيا أجلس عليه لأسمع الجميع وكان ذلك الكرسي في الموضع المرتفع من جامع القرويين وراء الخصة الموالية لدرب ابن حيون وبقيت في تدريس خطبة الرسالة في هذه المرة الثانية أكثر من شهرين لأني كنت أطول في نقل كلام الأئمة وشروحها وما يرد عليه من الأبحاث لكون الطلبة طلبوا مني ذلك وكان الطلبة يزدحمون على مجلسي في التدريس ويرغبون فيه لا لكوني أفقه من غيري بل غيري أفقه مني وأحسن ولكن لكوني كنت أوضح لهم المسائل وأفهمها وأبينها لهم جهدي بعبارة سهلة وأختار الفهم والبيان لهم على تحسين العبارة والتأنق فيها بنية خالصة فانتفعوا بسبب ذلك علي انتفاعا كثيرا فالله يحسن نيتنا ويتقبل سعينا،
এক হাজার একশত চুয়াল্লিশ হিজরি। ফাস শহরে আমার অবস্থানের এই পুরো সময়টিতে আমি ছাত্রদেরকে ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে পাঠদান করতাম এবং পড়াতাম। আমি তাদেরকে ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ' বহুবার পড়িয়েছি; একবার আল-মিসবাহিয়্যাহ মাদরাসায়, কারণ ফাস শহরে আমার অবস্থানের অধিকাংশ সময় আমি সেখানেই বসবাস করতাম; এবং আরেকবার জামে আল-কারাওয়িয়্যিনে গভীর পর্যালোচনা ও তাহকিকসহ পাঠ দান করেছি। আমি তাদেরকে বহুবার 'আল-আজরুমিয়্যাহ' পড়িয়েছি। আর মানতিক (তর্কবিদ্যা) শাস্ত্রে 'আস-সুল্লাম' নামক কাব্যগ্রন্থটিও আমি কয়েকবার গভীর পর্যালোচনা ও তাহকিকসহ পড়িয়েছি; সাথে এর ব্যাখ্যাকার সিদি সাঈদ কাদ্দুরার ভাষ্যে যা কিছু এসেছে সেগুলোর অধিকাংশ নিয়ে আলোচনা করেছি, এমনকি তারা এই বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান টীকাও লিখে নিয়েছিল। আমি তাদেরকে মানতিক শাস্ত্রে শায়খ সেনুসীর 'মুখতাসার' বহুবার পড়িয়েছি এবং ইলমে মাআনি ও বয়ানে 'তালখিসুল মিফতাহ' এবং ইবনে সুবকির উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের 'জামউল জাওয়ামে' গ্রন্থটিও পড়িয়েছি। এছাড়া শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু যায়িদের 'রিসালাহ' গ্রন্থটিও একবার মিসবাহিয়্যাহ মাদরাসায় এবং আরেকবার জামে আল-কারাওয়িয়্যিনে পড়িয়েছি। যখন আমার নিকট ছাত্র সংখ্যা অনেক বেড়ে গেল এবং তাদের আধিক্যের কারণে যারা একেবারে শেষ প্রান্তে বসত তাদের পর্যন্ত আওয়াজ পৌঁছানো আমার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ল, তখন তারা আমার বসার জন্য একটি উচ্চাসনের (চেয়ার) ব্যবস্থা করল যাতে আমি সকলকে শোনাতে পারি। সেই উচ্চাসনটি ছিল জামে আল-কারাওয়িয়্যিনের একটি উঁচু স্থানে, যা 'দারব ইবনে হাইয়ুন' সংলগ্ন পানির হাউজের পেছনে অবস্থিত ছিল। এই দ্বিতীয়বার 'রিসালাহ' গ্রন্থের ভূমিকা (খুতবা) পড়াতেই আমি দুই মাসের বেশি সময় ব্যয় করেছিলাম; কারণ ছাত্রদের অনুরোধে আমি ইমামদের বক্তব্য, তার ব্যাখ্যা এবং সে সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণাধর্মী আলোচনা সবিস্তারে তুলে ধরতাম। ছাত্ররা আমার পাঠদানে প্রচুর ভিড় করত এবং এর প্রতি আগ্রহী ছিল; এটা এই জন্য নয় যে আমি অন্যদের চেয়ে বেশি বিজ্ঞ বা ফকিহ ছিলাম, বরং অন্যরাই আমার চেয়ে অধিক বিজ্ঞ ও শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তবে আমি সাধ্যমতো সহজ সাবলীল ভাষায় তাদের নিকট মাসআলাগুলো স্পষ্ট ও বোধগম্য করে তুলে ধরতাম। আমি কেবল সুন্দর শব্দশৈলী বা অলংকারের চেয়ে তাদের বুঝানো এবং বিষয়টিকে প্রাঞ্জল করাকেই বিশুদ্ধ নিয়তে প্রাধান্য দিতাম। ফলে আমার মাধ্যমে তারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে। আল্লাহ আমাদের নিয়তকে সুন্দর করুন এবং আমাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأقرأتهم أيضا مختصر الشيخ خليل مرارا مرة بالمدرسة المصباحية التي كنت ساكنا فيها ومرة بجامع القرويين على الكرسي المذكور حين كثر علي الطلبة، وأقرأتهم أيضا صغرى الشيخ السنوسي مرارا وأقرأتهم العقيدة الكبرى له وأقرأتهم شمائل الترمذي وغير ذلك من الكتب التي أخذتها عن المشايخ والله الموفق للصواب وإليه المرجع والمآب.
ولنذكر سلسلتي في الفقه إلى الإمام مالك بن أنس رحمه الله تعالى ورضي عنه ثم إلى ورسول الله صلى الله عليه وسلم وقد ذكر النووي وغير واحد أن هذا من المطلوبات المهمات والنفائس الجليات التي ينبغي للفقيه والمتفقه معرفتها ويقبح به جهالتها فإن شيوخه في العلم آباء في الدين ووصلة بينه وبين رب العالمين وكيف لا يقبح جهل الأنساب والوصلة بينه وبين الكريم الوهاب مع أنه مأمور بالدعاء لهم وبرهم وذكر مآثرهم والثناء عليهم والشكر لهم انتهى نقله الحطاب. فأقول: أخذت الفقه عن الجماعة المتقدم ذكرهم وهم أخذوا الفقه عن جماعة منهم العلامة المحقق الحافظ سيدي محمد القسمطيني والعارف بالله تعالى أبو علي سيدى الحسن بن مسعود اليوسي والفقيه الأجل العلامة العارف بالله تعالى أبو محمد سيدى عبد القادر بن علي بن يوسف الفاسي وولده العلامة أبو عبد الله سيدي محمد بن سيدى عبد القادر والفقيه السيد أحمد بن الحاج وأخذ أبو محمد سيدي عبد القادر بن علي الفاسي عن جماعة منهم العالم العلامة سيدي العربي الفاسي وأبو زيد سيدى عبد الرحمن بن محمد الفاسي وأخذ أبو زيد سيدي عبد الرحمن الفاسي عن جماعة منهم الإمام العالم العلامة المتفنن مفتي فاس وخطيب حضرتها أبو عبد الله محمد بن قاسم القصار القيسي والإمام الحافظ العلامة أبو العباس سيدي أحمد بن علي المنجور وأخذ الشيخ أبو
আমি তাদেরকে শায়খ খলিলের 'মুখতাসার'ও বহুবার পড়িয়েছি; একবার মাদরাসাতুল মিসবাহিয়্যাহতে যেখানে আমি বসবাস করতাম, আর একবার কারাওয়িয়্যিন জামে মসজিদে উল্লিখিত আসনে, যখন আমার নিকট ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। আমি তাদেরকে শায়খ সানুসির 'সুগরা'ও বহুবার পড়িয়েছি, এবং তাঁর 'আকিদাতুল কুবরা' ও তিরমিযীর 'শামায়িল' এবং অন্যান্য কিতাবাদিও পড়িয়েছি যা আমি শায়খদের থেকে গ্রহণ করেছি। আল্লাহই সঠিক কাজের তাওফীকদাতা এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন ও ফিরে যাওয়া।
এবং ইমাম মালিক ইবনে আনাস (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পর্যন্ত এবং অতপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত ফিকহ শাস্ত্রে আমার সিলসিলা উল্লেখ করছি। ইমাম নববী এবং আরও অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, এটি গুরুত্বপূর্ণ কাম্য বিষয় এবং সুস্পষ্ট মূল্যবান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা একজন ফকীহ ও ইলম অন্বেষণকারীর জানা থাকা উচিত এবং এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকা তার জন্য অশোভন। কেননা ইলমের ক্ষেত্রে তার উস্তাদগণ হলেন দ্বীনের পিতা এবং তার ও রব্বুল আলামীনের মাঝে মাধ্যম। আর মহান দাতা আল্লাহর সাথে তার সম্পর্কের মাধ্যম ও বংশীয় ধারা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কেন অশোভন হবে না, অথচ সে তাদের জন্য দোয়া করতে, তাদের সাথে সদাচরণ করতে, তাদের কীর্তিসমূহ উল্লেখ করতে, তাদের প্রশংসা করতে এবং তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আদিষ্ট। হাত্তাব এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: আমি ফিকহ গ্রহণ করেছি পূর্বে উল্লিখিত একদল মনীষীর নিকট থেকে, আর তাঁরা ফিকহ গ্রহণ করেছেন একদল উলামার নিকট থেকে যাদের মধ্যে রয়েছেন: বিজ্ঞ গবেষক ও হাফেজ সিদি মুহাম্মদ আল-কাসামতীনি, আল্লাহ তাআলার আরিফ আবু আলী সিদি আল-হাসান ইবনে মাসউদ আল-ইউসী, অতি মর্যাদাবান ফকীহ, আল্লামা ও আল্লাহ তাআলার আরিফ আবু মুহাম্মদ সিদি আব্দুল কাদির ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আল-ফাসি এবং তাঁর পুত্র আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ ইবনে সিদি আব্দুল কাদির, এবং ফকীহ সাইয়্যেদ আহমাদ ইবনুল হাজ্জ। আর আবু মুহাম্মদ সিদি আব্দুল কাদির ইবনে আলী আল-ফাসি ইলম গ্রহণ করেছেন একদল মনীষীর নিকট থেকে যাদের মধ্যে রয়েছেন: বিজ্ঞ আল্লামা সিদি আল-আরাবি আল-ফাসি এবং আবু যায়িদ সিদি আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-ফাসি। আর আবু যায়িদ সিদি আব্দুর রহমান আল-ফাসি ইলম গ্রহণ করেছেন একদল মনীষীর নিকট থেকে যাদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম, প্রাজ্ঞ আল্লামা, বহু শাস্ত্রে পণ্ডিত, ফাস নগরের মুফতি ও খতিব আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-কাসসার আল-কাইসি এবং ইমাম হাফেজ আল্লামা আবু আব্বাস সিদি আহমাদ ইবনে আলী আল-মানজুর। আর শায়খ আবু...
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
العباس المنجور عن أصحاب الشيخ ابن غازي كالشيخ الفقيه الإمام العلامة الجامع بين المعقول والمنقول الحاج الخطيب المفتي أبي عبد الله محمد بن ......... بن عبد الرحمن اليسيتني وكالشيخ الفقيه أبي الحسن علي بن موسى المطغري مطغرة تلمسان وكالشيخ الأستاذ الفقيه المحدث أبي محمد عبد الرحمن بن علي القمري ثم الفاسي العاصمي عرف بسقين وكالشيخ أبي محمد الوانشريسي وهم أخذوا عن شيخ الجماعة بالمغرب الإمام ابن غازي وهو أخذ عن الإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن قاسم الثوري اللخمي المكناسي ثم الفاسي المفتي بها وبها توفي والثوري أخذ عن الشيخ الفقيه الصالح ابن عمران موسى الجنائي والشيخ أبو عمران أخذ عن الشيخ أبي عمران موسى العبدرسي والشيخ أبو عمران العبدرسي أخذ عن الشيخ الفقيه العبدرسي والعبدرسي أخذ عن الشيخ الفقيه المحقق أبي فارس عبد العزيز القروي قيل وتقييده عن أبي الحسن أصبح التقييدات وأبو فارس أخذ عن الشيخ الفقيه الكبير الإمام أبي الحسن علي بن عبد الحق شارح التهذيب المعروف بأبي الحسن الصغير والشيخ أبو الحسن الصغير أخذ عن الفقيهين الإمامين أبي الوليد راشد الوليدي وأبي إبراهيم الأعرج الورياغلي صاحب الطرر على المدونة وهما أخذا عن شيخهما الفقيه الكبير الإمام الصالح أبي محمد الصالح الهسكوري وأبو محمد الصالح أخذ عن شيوخه الفقيه أبي القاسم والفقيه أبي موسى الماموني والفقيه أبي القاسم بن البقال وهم أخذوا عن الفقيه المحدث الكبير أبي القاسم بن بشكوال وأبو القاسم أخذ عن أبي محمد بن عتاب وأبو محمد بن عتاب أخذ عن أبيه أبي عبد الله بن عتاب وأبو عبد الله بن عتاب أخذ عن أبي محمد مكي وتفقه أبو محمد مكي بابي طالب مكي بن محمد بن مختار القيسي وتفقه مكي بجماعة منهم الشيخ الإمام
আল-আব্বাস আল-মানজুর শায়খ ইবনে গাজীর ছাত্রদের থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন ফকিহ, ইমাম, আল্লামা, আকলী ও নাকলী উভয় শাস্ত্রের সমন্বয়কারী, হাজি, খতিব ও মুফতি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ......... বিন আবদুর রহমান আল-ইয়াসিতিনী; এবং ফকিহ আবু আল-হাসান আলী বিন মুসা আল-মাতঘারি (তিলিমসানের মাতঘারা গোত্রের); এবং উস্তাদ শায়খ, ফকিহ ও মুহাদ্দিস আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান বিন আলী আল-কুমারি, অতঃপর আল-ফাসি আল-আসিমী, যিনি সাক্কীন নামে পরিচিত; এবং শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-ওয়ানশারিশী। তারা সকলে মরক্কোর শায়খুল জামাআত ইমাম ইবনে গাজীর নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন। তিনি (ইবনে গাজী) ইমাম হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন কাসিম আস-সাওরি আল-লাখমি আল-মিকনাসি, অতঃপর আল-ফাসি—যিনি সেখানকার মুফতি ছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন—তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আস-সাওরি শায়খ ফকিহ ও সালেহ ইবনে ইমরান মুসা আল-জানায়ীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। শায়খ আবু ইমরান শায়খ আবু ইমরান মুসা আল-আবদারাণীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। শায়খ আবু ইমরান আল-আবদারাণী শায়খ ফকিহ আল-আবদারাণীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আল-আবদারাণী বিজ্ঞ ফকিহ ও গবেষক (মুহাক্কিক) আবু ফারিস আবদুল আজিজ আল-কারাউয়ীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, আবু আল-হাসান থেকে প্রাপ্ত তার টীকাটিই ছিল সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য টীকা। আবু ফারিস বিজ্ঞ ফকিহ ও মহান ইমাম আবু আল-হাসান আলী বিন আবদুল হক—যিনি আত-তাহজীবের ভাষ্যকার এবং আবু আল-হাসান আস-সাগীর নামে সমধিক পরিচিত—তার নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। শায়খ আবু আল-হাসান আস-সাগীর দুই ইমাম ও ফকিহ আবু আল-ওয়ালিদ রাশিদ আল-ওয়ালিদি এবং আল-মুদাওয়ানা গ্রন্থের টীকাকার আবু ইব্রাহিম আল-আরাজ আল-ওয়ারিয়াগিলির নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তারা উভয়েই তাদের উস্তাদ বিজ্ঞ ফকিহ ও পুণ্যবান ইমাম আবু মুহাম্মাদ আস-সালেহ আল-হাসকুরীর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আবু মুহাম্মাদ আস-সালেহ তার উস্তাদদের থেকে গ্রহণ করেছেন, যারা হলেন: ফকিহ আবু আল-কাসিম, ফকিহ আবু মুসা আল-মামুনি এবং ফকিহ আবু আল-কাসিম বিন আল-বাক্কাল। তারা সকলে বিজ্ঞ ফকিহ ও মুহাদ্দিস আবু আল-কাসিম বিন বাশকুয়ালের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আবু আল-কাসিম আবু মুহাম্মাদ বিন আত্তাবের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আবু মুহাম্মাদ বিন আত্তাব তার পিতা আবু আবদুল্লাহ বিন আত্তাবের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আবু আবদুল্লাহ বিন আত্তাব আবু মুহাম্মাদ মাক্কীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আবু মুহাম্মাদ মাক্কী আবু তালিব মাক্কী বিন মুহাম্মাদ বিন মুখতার আল-কায়সীর নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন। মাক্কী একদল আলেমের নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ ইমাম...
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
القدوة الورع جامع مذهب مالك وشارح أقواله أبو عبد الله محمد بن أبي زيد القيرواني وتفقه ابن أبي زيد بجماعة منهم الإمام الزاهد أبو بكر بن اللباد وتفقه ابن اللباد بجماعة منهم الإمام القدوة الزاهد مجاب الدعوة أبو زكرياء يحيى بن عمر بن يوسف البلوي الأفريقي صاحب كتاب اختلاف ابن القاسم وأشهب وتفقه أبو زكرياء يحيى بن عمر بجماعة منهم الإمامان الحجة الزاهد أبو سعيد عبد السلام المدعو سحنون والعلامة القدوة أبو مروان عبد الملك بن حبيب وهما تفقها بجماعة منهم الإمامان القدوة أبو عبد الله عبد الرحمن بن القاسم بن خالد العتقي والعلامة الزاهد أبو عمر أشهب بن عبد العزيز واسمه مسكين وهما تفقها بالإمام المجتهد إمام دار الهجرة أبي عبد الله مالك بن أنس بن مالك بن أبي عامر بن الحارث المدني وهو تفقه بجماعة من علماء التابعين منهم ربيعة بن أبي عبد الرحمن ونافع وتفقه ربيعة على أنس وتفقه نافع على ابن عمر وكلاهما ممن أخذ عن سيد المرسلين وإمام المتقين أبي القاسم محمد صلى الله عليه وسلم وعلى سائر النبيئين ويتصل سندنا بالشيخ خليل من طريق الإمام الشهير أبي العباس المنجور أنا أخذنا الفقه عن من سبق ذكرهم من الشيوخ إلى الشيخ المنجور والشيخ المنجور أخذ عن الشيخ الإمام أبي عبد الله اليسيتني وهو أخذ عن الإمامين شمس الدين محمد وأخيه ناصر الدين اللقانيين وهما أخذا عن الشيخ نور الدين أبي الحسن علي السنهوري وهو أخذ عن الشيخ عبادة والشيخ عبادة أخذ عن الشيخ جمال الدين عبد الله الأقفهسي وهو أخذ عن تاج الدين بهرام وتاج الدين بهرام أخذ عن الشيخ خليل رحم الله الجميع بمنه وفضله.
وأما سلسلتا في الطريق وهي
سلسلة الأنوار فأقول: أخذنا طريقتنا هذه عن الشيخ الصالح العارف بالله تعالى سيدي محمد بن عبد الرحمن
আদর্শ ব্যক্তিত্ব, আল্লাহভীরু, মালিকি মাযহাবের সংকলক এবং তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যাকারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু যায়িদ আল-কাইরাওয়ানী। ইবনে আবু যায়িদ একদল আলিমের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম, যাহিদ আবু বকর ইবনে আল-লাব্বাদ। ইবনে আল-লাব্বাদ একদল আলিমের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আদর্শ ইমাম, যাহিদ ও কবুলযোগ্য দুআর অধিকারী আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে ইউসুফ আল-বালাওয়ী আল-আফ্রিকি, যিনি ‘ইখতিলাফু ইবনে আল-কাসিম ওয়া আশহাব’ গ্রন্থের রচয়িতা। আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে উমর একদল আলিমের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুজন প্রামাণ্য ইমাম ও যাহিদ—আবু সাঈদ আব্দুল সালাম (যিনি সাহনুন নামে পরিচিত) এবং আল্লামা ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব। তাঁরা দুজনা একদল আলিমের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুজন আদর্শ ইমাম—আবু আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান ইবনে আল-কাসিম ইবনে খালিদ আল-উতাকি এবং আল্লামা ও যাহিদ আবু উমর আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ, যাঁর নাম ছিল মিসকিন। তাঁরা দুজনা ফিকহ শিক্ষা করেন ইমাম মুজতাহিদ, দারুল হিজরতের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবু আমির ইবনে আল-হারিস আল-মাদানির নিকট। তিনি একদল তাবিঈ আলিমের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাবিআ ইবনে আবু আব্দুর রহমান এবং নাফি। রাবিআ হযরত আনাস-এর নিকট এবং নাফি ইবনে উমর-এর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। তাঁরা উভয়েই রাসূলগণের সরদার এবং মুত্তাকীদের ইমাম আবু কাসিম মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও অন্যান্য সকল নবীদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর শাইখ খলিলের সাথে আমাদের সনদ যুক্ত হয়েছে বিখ্যাত ইমাম আবু আব্বাস আল-মানজূরের মাধ্যমে। আমরা শাইখ মানজূর পর্যন্ত পূর্বোল্লিখিত শাইখগণের নিকট থেকে ফিকহ শিক্ষা করেছি। শাইখ মানজূর শিক্ষা গ্রহণ করেছেন শাইখ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-ইয়াসিতিনি থেকে। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন দুই ইমাম—শামসুদ্দিন মুহাম্মদ এবং তাঁর ভাই নাসিরুদ্দিন আল-লাক্কানি থেকে। তাঁরা দুজন শিক্ষা গ্রহণ করেছেন শাইখ নুরুদ্দিন আবু হাসান আলী আস-সানহুরি থেকে। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন শাইখ উবাদা থেকে। শাইখ উবাদা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন শাইখ জামালুদ্দিন আব্দুল্লাহ আল-আকফাহাসি থেকে। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাজুদ্দিন বাহরাম থেকে। আর তাজুদ্দিন বাহরাম শিক্ষা গ্রহণ করেছেন শাইখ খলিল থেকে। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
আর তরীকার ক্ষেত্রে আমাদের সিলসিলা, যা
সিলসিলাতুল আনোয়ার নামে পরিচিত, সে সম্পর্কে আমি বলছি: আমরা আমাদের এই তরীকা গ্রহণ করেছি সৎকর্মশীল, আরিফ বিল্লাহ সিদি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমানের নিকট থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
بن أبي زيان القندسي عن سيدي مبارك العزي دفين سجلماسة عن قطب المغرب سيدي محمد بن ناصر الدرعي عن سيدي أبي محمد عبد الله بن حسين الدرعي عن أبي العباس سيدي أحمد بن علي الدرعي الحاجي عن أبي القاسم سيدي الغازي السجلماسي عن أبي الحسن علي بن عبد الله السجلماسي عن أبي العباس سيدي أحمد بن يوسف الملياني عن أبي العباس سيدي أحمد زروق الفاسي عن أبي العباس سيدي أحمد بن عقبة الحضرمي عن أبي الحسن علي عن العراقي عن أبي العباس سيدي أحمد بن عطاء الله الاسكندراني عن أبي العباس المرسي عن أبي الحسن الشاذلي عن سيدي عبد السلام بن مشيش عن سيدي عبد الرحمن جار المصطفى عن سيدي أبي مدين الغوث عن سيدي علي بن حرزهم عن سيدي أبي يعزي عن سيدي ومولاي عبد القادر الجيلاني عن سيدي علي الهواري القرشي عن سيدي أبي الفرج الطرطوشي عن سيدي عبد الرحمن بن تميم عن سيدي أبي بكر الشبلي عن سيدي أبي القاسم الجنيد عن سيدي سري السقطي عن سيدي معروف الكرخي عن سيدي داود الطائي عن سيدي حبيب العجمي عن سيدي الحسن البصري عن مولانا علي بن أبي طالب كرم الله وجهه عن قطب الوجود والهادي إلى حضرة الملك المعبود سيدنا ومولانا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى جميعهم وحشرنا في زمرتهم ونفعنا بجميعهم أمين يا رب العالمين. انتهى بخط الشيخ عبد الرحمن التنلاني ثم أردف قائلا توفي مؤلف هذه الرحلة شيخنا الإمام العلامة أحيد دهره وفريد عمره أبو حفص سيدي عمر بن سيدي الحاج عبد القادر التواتي برد الله ضريحه وأسكنه من الفردرس الأعلى فسيحه عشية يوم الأربعاء لثلاث خلون من ربيع الأول سنة ثنتين وخمسين ومائة وألف عبيد ربه تعالى عبد الرحمن بن عمر لطف الله به آمين.
বিন আবি যাইয়ান আল-কান্দুসি, সিদি মুবারক আল-আজ্জি হতে (যিনি সিজিলমাসায় সমাহিত), তিনি মাগরিবের কুতুব সিদি মুহাম্মাদ বিন নাসির আদ-দিরঈ হতে, তিনি সিদি আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন হুসাইন আদ-দিরঈ হতে, তিনি আবুল আব্বাস সিদি আহমাদ বিন আলি আদ-দিরঈ আল-হাজ্জি হতে, তিনি আবুল কাসিম সিদি আল-গাজি আস-সিজিলমাসি হতে, তিনি আবুল হাসান আলি বিন আবদুল্লাহ আস-সিজিলমাসি হতে, তিনি আবুল আব্বাস সিদি আহমাদ বিন ইউসুফ আল-মিলইয়ানি হতে, তিনি আবুল আব্বাস সিদি আহমাদ জাররুক আল-ফাসি হতে, তিনি আবুল আব্বাস সিদি আহমাদ বিন উকবা আল-হাদরামি হতে, তিনি আবুল হাসান আলি হতে, তিনি আল-ইরাকি হতে, তিনি আবুল আব্বাস সিদি আহমাদ বিন আতাউল্লাহ আল-ইসকান্দারি হতে, তিনি আবুল আব্বাস আল-মুরসি হতে, তিনি আবুল হাসান আশ-শাজলি হতে, তিনি সিদি আবদুস সালাম বিন মাশেশ হতে, তিনি সিদি আবদুর রহমান জারুল মুস্তাফা হতে, তিনি সিদি আবু মাদিয়ান আল-গাউস হতে, তিনি সিদি আলি বিন হিরজিহিম হতে, তিনি সিদি আবু ইয়া'যা হতে, তিনি আমার সিদি ও মাওলাই আব্দুল কাদির জিলানি হতে, তিনি সিদি আলি আল-হাওয়ারি আল-কুরাশি হতে, তিনি সিদি আবুল ফারাজ আত-তারতুশি হতে, তিনি সিদি আবদুর রহমান বিন তামিমি হতে, তিনি সিদি আবু বকর শিবলি হতে, তিনি সিদি আবুল কাসিম জুনাইদ হতে, তিনি সিদি সাররি আস-সাকতি হতে, তিনি সিদি মারুফ আল-কারখি হতে, তিনি সিদি দাউদ আত-তায়ি হতে, তিনি সিদি হাবিব আল-আজমি হতে, তিনি সিদি হাসান বসরি হতে, তিনি আমাদের মাওলা আলি বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) হতে, তিনি অস্তিত্বের কুতুব এবং মাবুদ মালিকের দরবারে পথপ্রদর্শক আমাদের সর্দার ও অভিভাবক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন। তাঁদের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; আল্লাহ আমাদের তাঁদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করুন এবং তাঁদের সবার বরকতে আমাদের উপকৃত করুন। আমিন, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক। শায়খ আবদুর রহমান আত-তানলানির হস্তাক্ষরে এটি সমাপ্ত হলো। অতঃপর তিনি যোগ করে বলেন: এই ভ্রমণকাহিনীর লেখক, আমাদের শায়খ, ইমাম, আল্লামা, নিজ যুগের অদ্বিতীয় এবং কালের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব আবু হাফস সিদি উমর বিন সিদি আল-হাজ্জ আব্দুল কাদির আত-তুওয়াতি—আল্লাহ তাঁর কবরকে শীতল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ ও প্রশস্ত স্থানে আসীন করুন—১১৫২ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেছেন। মহান রবের নগণ্য বান্দা আবদুর রহমান বিন উমর, আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন, আমিন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
ـ[ومنهم]ـ العالم العلامة والمحقق الفهامة الشيخ سيدى عبد الرحمن بن الفقيه سيدي إبراهيم بن سيدى عبد الرحمن المعروف بالجنتوري أصل أسلافه من بلدة تيطاف من توات ثم انتقلوا إلى عين صالح ثم انتقل جده لجنتور من بلاد تجورارين وقد ذكر الشيخ في فهرسته في ترجمة شيخه الجنتوري قرابة عشرين صفحة ذكر فيها رحلته إلى الحجاز ومصر وغيرهما وذكر العلماء الذين اجتمع بهم هذا الشيخ وأخذ عنهم وأخذوا عنه وتعرض لوفاته وأنه توفي اصفرار يوم الأحد الثالث من جمادى الأولى سنة ستين ومائة وألف وكان رحمه الله ملازما للتدريس مدة عمره إلا ما عرض له من السفر والمرض وأنه درس في الحديث والتفسير والموطأ وعمدة الأحكام وغيرهما.
أما المؤلفات التى قرأها عليه فهي: الصغرى، والمرشد المعين، والقرطبية، والدرر اللوامع، والأجرومية، وبعض من الألفية. هذا في أول لقاء تم لهما. ثم إن الشيخ الجنتوري رجع لبلده فلما عاد إلى تنلان فرح به الشيخ عبد الرحمن فرحا شديدا ورجع للقراءة عليه فابتدأ ألفية بن مالك من أولها فلما وصل فيها إلى إعراب الفعل ظهر للشيخ الجنتوري أن يعود لبلده فازداد تأسف الشيخ سيدي عبد الرحمن على فراقه وطفق يلتمس الطريق لمواصلة قراءته على هذا الشيخ الذي كان يلاطفه ويحبه ويرشده فاستأذن والديه وشيخه سيدى عمر بن عبد القادر في الرحلة مع الشيخ الجنتوري للقراءة عليه فأذنوا له فرحل معه وقرأ عليه بعضا من المختصر وما بقي من ألفية ابن مالك والحديثين الأولين من الأربعين النووية والجزأين الأولين من مختصر القلصادي في علم الحساب وحضر
[তাদের মধ্যে অন্যতম] হলেন বিশ্ববিশ্রুত আলেম, গভীর ধীসম্পন্ন গবেষক শায়খ সিদি আব্দুর রহমান ইবনে ফকিহ সিদি ইব্রাহিম ইবনে সিদি আব্দুর রহমান, যিনি আল-জান্তুরি নামে পরিচিত। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল তুওয়াতের তিতাফ শহরে, এরপর তাঁরা আইন সালেহে স্থানান্তরিত হন। পরবর্তীতে তাঁর দাদা তাজওয়ারারিন অঞ্চলের জান্তুর নামক স্থানে চলে আসেন। শায়খ তাঁর 'ফিহরিস' গ্রন্থে তাঁর উস্তাদ আল-জান্তুরির জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে প্রায় বিশ পৃষ্ঠা ব্যয় করেছেন। সেখানে তিনি হিজাজ, মিসর এবং অন্যান্য স্থানে তাঁর সফরের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সেই সব আলেমদের কথাও উল্লেখ করেছেন যাদের সাথে এই শায়খ সাক্ষাৎ করেছিলেন, যাদের কাছ থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছিলেন এবং যারা তাঁর কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর ইন্তেকালের প্রসঙ্গও টেনেছেন যে, তিনি ১১৬০ হিজরি সনের ৩রা জুমাদাল উলা, রবিবার সূর্যাস্তের প্রাক্কালে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি সারা জীবন অধ্যাপনায় মগ্ন ছিলেন, কেবল সফর বা অসুস্থতাজনিত কারণ ছাড়া। তিনি হাদিস, তাফসির, মুয়াত্তা, উমদাতুল আহকাম এবং অন্যান্য কিতাব পাঠ দান করতেন।
যেসব কিতাব তিনি তাঁর কাছে পড়েছিলেন সেগুলো হলো: আস-সুগরা, আল-মুরশিদ আল-মুইন, আল-কুরতুবিয়্যাহ, আদ-দুরার আল-লাওয়ামি, আল-আজুরুমিয়্যাহ এবং আলফিয়ার কিছু অংশ। এটি ছিল তাঁদের প্রথম সাক্ষাতের সময়ের ঘটনা। এরপর শায়খ আল-জান্তুরি তাঁর নিজ দেশে ফিরে যান। পরবর্তীতে তিনি যখন তনলানে ফিরে আসেন, তখন শায়খ আব্দুর রহমান অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং পুনরায় তাঁর কাছে পড়া শুরু করেন। তিনি ইবনে মালিকের আলফিয়া শুরু থেকে পড়া আরম্ভ করেন। যখন তিনি ক্রিয়ার রূপান্তরের (ই'রাবুল ফিল) আলোচনায় পৌঁছালেন, তখন শায়খ আল-জান্তুরির পুনরায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। এতে শায়খ সিদি আব্দুর রহমান তাঁর বিচ্ছেদে অত্যন্ত ব্যথিত হলেন এবং এই শায়খের কাছে পড়া অব্যাহত রাখার পথ খুঁজতে লাগলেন, যিনি তাঁর প্রতি সদয় ছিলেন, তাঁকে ভালোবাসতেন এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করতেন। অতঃপর তিনি তাঁর পিতামাতা এবং তাঁর উস্তাদ সিদি ওমর ইবনে আব্দুল কাদিরের কাছে শায়খ আল-জান্তুরির সাথে তাঁর কাছে গিয়ে পড়ার জন্য সফরের অনুমতি চাইলেন। তাঁরা তাঁকে অনুমতি প্রদান করলেন। ফলে তিনি তাঁর সাথে সফরে রওয়ানা হলেন এবং তাঁর কাছে মুখতাসারের কিছু অংশ, আলফিয়া ইবনে মালিকের অবশিষ্টাংশ, আরবাঈন নববি-র প্রথম দুটি হাদিস এবং গণিতশাস্ত্রের কিতাব মুখতাসার আল-কালাসাদির প্রথম দুই খণ্ড পাঠ করেন এবং উপস্থিত হন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
دروسه في الرسالة القيرونية وغيرها. دامت هاته الرحلة نحو سنة وأربعة أشهر ثم رجع السيد عبد الرحمن إلى مسقط رأسه تنلان فأقام بها خمسة أشهر ثم أعاد الرحلة لجنتور ثانيا فقرأ على شيخه ما بقي من مختصر خليل إلى آخره وسمع منه صحيح البخاري إلا بعض مواضع وسمع منه الشفاء للقاضي عياض ثم رجع لتنلان بعد مضى سنة كاملة عند الجنتوري كانت حافلة بالنشاط والمثابرة على المطالعة والدراسة.
ومن مشائخه الشيخ العلامة الأديب الحليم النزيه الأريب السيد عمر بن الشيخ سيدي محمد بن المصطفى الرقادي الكنتي وقد كان رحمه الله على جانب عظيم من التواضع وحسن الخلق وفصاحة اللسان والتكمين في العلم فقها ولغة وكان أول لقاء له بالشيخ عبد الرحمن تم في زاوية تنلان: قال الشيخ التنلاني في فهرسة لقيته في زاوية عم والدي تنلان قدمها على شيخنا أبي حفص لخصومة بينه وبين رجل وكنت قد رأيته قبل ذلك إلا أني لم أجالسه ولم آخذ عنه فجالسته وكنت مشتاقا لعلم اللغة وقد كنت نسخت نسخة من مقصورة ابن دريد وطررتها من شرح ابن هشام اللخمي عليها وكنت أكررها فدخل على المدرسة وهي في يدى فأخذها وجعل يقرئها وكان فصيحا ذا رنة حسنة فرادها لي بفصاحته واستفزني بحسن بصوته وفي أثناء ذلك يستشهد على لغتها بكلام الحريرى في مقاماته لأنه كان يحفظ أكثرها فزادني تعجبا فأقام عندنا يومين لا أفارقه إلا في وقت الضرووة فرجع لبلده فأحزنني فراقه وكاد لقطع نياط قلبي اشتياقه ثم بقيت أياما فاستأذنت شيخنا أبا حفص في زيارة الشيخ ابن عبد الكريم وإنما أريد زيارة سيدى عمر المذكور واستأنس به ما أمكنني فقدمت عليه
আল-রিসালা আল-কায়রাওয়ানিয়্যা এবং অন্যান্য কিতাবে তাঁর পাঠদান। এই সফরটি প্রায় এক বছর চার মাস স্থায়ী হয়েছিল, অতঃপর সাইয়্যেদ আবদুর রহমান তাঁর জন্মভূমি তিনলানে ফিরে আসেন এবং সেখানে পাঁচ মাস অবস্থান করেন। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার জানতুরে সফর করেন এবং তাঁর শাইখের নিকট মুখতাসার খালিল-এর অবশিষ্টাংশ শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে কিছু অংশ ব্যতীত সহীহ আল-বুখারী এবং কাজী ইয়াজের আশ-শিফা শ্রবণ করেন। অতঃপর জানতুরে শাইখের নিকট একটি পূর্ণ বছর অতিবাহিত করে তিনি তিনলানে ফিরে আসেন; সেই বছরটি অধ্যয়ন ও জ্ঞানচর্চায় অত্যন্ত কর্মতৎপরতা ও নিষ্ঠায় পরিপূর্ণ ছিল।
তাঁর শাইখদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল্লামা, সাহিত্যিক, সহনশীল, পবিত্ৰচেতা ও প্রাজ্ঞ শাইখ সাইয়্যেদ উমর বিন আল-শাইখ সিদি মুহাম্মদ বিন আল-মুস্তফা আল-রাক্কাদি আল-কুন্তি। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত বিনয়ী, সচ্চরিত্রবান, প্রাঞ্জলভাষী এবং ফিকহ ও ভাষা উভয় শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। শাইখ আবদুর রহমানের সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ তিনলানের জাভিয়াতে হয়েছিল: শাইখ তিনলানী তাঁর 'ফাহরাসা' গ্রন্থে বলেন: আমি তাঁর সাথে তিনলানে আমার পিতার চাচার জাভিয়াতে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাদের শাইখ আবু হাফসের নিকট এসেছিলেন তাঁর এবং অন্য এক ব্যক্তির মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার জন্য। আমি ইতিপূর্বে তাঁকে দেখেছি, তবে তাঁর মজলিসে বসা বা তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয়নি। অতঃপর আমি তাঁর সাথে বসলাম; আমি ভাষাতত্ত্বের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলাম। আমি ইবনে দুরাইদের 'মাকসুরা'র একটি পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছিলাম এবং ইবনে হিশাম আল-লাখমির ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে তাতে টীকা যুক্ত করেছিলাম। আমি সেটি বারবার পাঠ করছিলাম, এমন সময় তিনি মাদরাসায় প্রবেশ করলেন। কিতাবটি আমার হাতে দেখে তিনি তা নিলেন এবং পাঠ করতে শুরু করলেন। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও সুমধুর কণ্ঠস্বরের অধিকারী ছিলেন। তাঁর প্রাঞ্জল পাঠ আমাকে বিমোহিত করল। পাঠের ফাঁকে ফাঁকে তিনি ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণের জন্য হারিরীর 'মাকামাত' থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছিলেন, কারণ তাঁর এর অধিকাংশ মুখস্থ ছিল, যা আমার বিস্ময় আরও বাড়িয়ে দিল। তিনি আমাদের নিকট দুই দিন অবস্থান করেন এবং অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত আমি তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করিনি। এরপর তিনি নিজ শহরে ফিরে গেলেন এবং তাঁর বিদায় আমাকে ব্যথিত করল, তাঁর বিরহ-বেদনা যেন আমার হৃদপিণ্ডের তন্ত্রী ছিঁড়ে দিচ্ছিল। এরপর আমি কিছুদিন অবস্থান করে শাইখ ইবনে আব্দুল করীমের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আমাদের শাইখ আবু হাফসের নিকট অনুমতি চাইলাম, তবে আমার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল উল্লিখিত সিদি উমরের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং সাধ্যমতো তাঁর সাহচর্য উপভোগ করা। অতঃপর আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ففرح بي فأقمث عنده سبعة أيام فألفيته مع طلبة بلده في غاية الاجتهاد بالتحصيل والمذاكرة يدرس من الضحى إلى قرب الظهر ويسمع صحيح البخاري مع شرحه القسطلاني يقرأ بابا من المتن ويتبعه بالشرح إلى العصر ويدرس بعد صلاة العصر إلى قرب المغرب وبعد المغرب يقرأ التصريح لشيخ خالد الأزهري فأعجبني ذلك وأنساني أهلي ومالي الخ ما ذكره من أنه أسند إليه مهمة التدريس بمدرسته وما ذكره من أخلاقه الطيبة.
ـ[ومنهم]ـ العلامة الحافظ والأستاذ الناصح أبو العباس سيدى أحمد بن صالح السوقي التكروري
التقى به الشيخ في مدينة أروان أثناء رحلته مع الشيخ سيدى عمر الرقادي فقرأ عليه الخزرجية في علم العروض لكنه لم يكملها وصل فيها إلى البحور ثم رجع لتنلان وعندما أعاد الرحلة لأروان أتم الخزرجية على الشيخ سيدى أحمد وابتدأ ألفية العراقي فقرأ عليه نصفها وحضر دروسه في غير ما ذكر وحصل له به انتفاع كثير وكان سيدي أحمد المذكور رجلا حسن الخلق حليما صبورا كريما يداعب طلبته ويصبر على جفاء الجفاة وكان يجل الشيخ سيدى عبد الرحمن ويبجله ويكرمه وعندما رأى نشاطه في تحصيل العلم وحرصه عليه جعل له وقتا خاصا به للإقراء وذلك لأن وقت التكريس ضيق جدا عند هذا الشيخ لكثرة طلبته.
ومن مشائخه الفقيه النزيه والحبر النبيه الشيخ طالبن بن القاضي السيد الوافي بن طالبن لقيه سيدي عبد الرحمن التنلاني في أرواق وجالسه واستفاد منه واستجازه في العلوم فاجازه.
ـ[ومنهم]ـ الشيخ السيد الحاج عبد الرحمن بن محمد التواتي التماوى الذي كان آية في حفظ القرءان الكريم الحفظ المتقن وكان يحفظ قراءة السبعة
তিনি আমাকে দেখে আনন্দিত হলেন, তাই আমি তাঁর কাছে সাত দিন অবস্থান করলাম। আমি তাঁকে তাঁর অঞ্চলের ছাত্রদের সাথে শিক্ষা অর্জন ও মুজাকারার (আলোচনা) ক্ষেত্রে চরম প্রচেষ্টায় লিপ্ত পেলাম। তিনি চাশতের (দোহা) সময় থেকে জোহরের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত পাঠদান করতেন এবং আল-কাসতালানি কৃত শরহসহ সহীহ আল-বুখারী পাঠ শুনতেন; তিনি মূল পাঠের (মতন) একটি অধ্যায় পড়তেন এবং আসর পর্যন্ত এর ব্যাখ্যা অনুসরণ করতেন। আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত তিনি পাঠদান করতেন এবং মাগরিবের পর শেখ খালিদ আল-আযহারীর 'আত-তাসরিহ' পাঠ করতেন। এটি আমাকে মুগ্ধ করল এবং আমাকে আমার পরিবার ও সম্পদের কথা ভুলিয়ে দিল... ইত্যাদি। তিনি যা উল্লেখ করেছেন যে, তাঁকে তাঁর মাদ্রাসায় পাঠদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং তাঁর উত্তম চরিত্রের যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।
ـ[তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন]ـ আল্লামা, হাফেজ এবং হিতাকাঙ্ক্ষী উস্তাদ আবুল আব্বাস সিদি আহমদ বিন সালেহ আস-সুকি আত-তাকরুরি।
শেখ তাঁর সাথে আরওয়ান শহরে সাক্ষাৎ করেন শেখ সিদি ওমর আর-রক্বাদির সাথে তাঁর সফরের সময়। তিনি তাঁর কাছে ইলমে আরূযের (ছন্দতত্ত্ব) উপর 'আল-খাযরাজিয়া' পাঠ করেন, কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি; তিনি 'বুহুর' (ছন্দবিন্যাস) পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, অতঃপর তানলানে ফিরে আসেন। যখন তিনি পুনরায় আরওয়ান সফর করেন, তখন শেখ সিদি আহমদের কাছে আল-খাযরাজিয়া সম্পন্ন করেন এবং আলফিয়াতুল ইরাকি শুরু করেন। তিনি এর অর্ধেক তাঁর কাছে পাঠ করেন এবং উল্লেখিত বিষয় ছাড়াও অন্যান্য দরসে উপস্থিত হন এবং তাঁর মাধ্যমে অনেক উপকৃত হন। উক্ত সিদি আহমদ ছিলেন অত্যন্ত সচ্চরিত্রবান, ধৈর্যশীল, সহনশীল এবং দয়ালু একজন মানুষ; তিনি তাঁর ছাত্রদের সাথে কৌতুক করতেন এবং রূঢ় ব্যক্তিদের রূঢ় আচরণে ধৈর্য ধারণ করতেন। তিনি শেখ সিদি আব্দুর রহমানকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন। যখন তিনি ইলম অর্জনে তাঁর সক্রিয়তা ও একাগ্রতা দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পড়ার জন্য একটি বিশেষ সময় নির্ধারণ করে দিলেন, কারণ অধিক ছাত্র থাকার কারণে এই শেখের পাঠদানের সময় অত্যন্ত সংকীর্ণ ছিল।
এবং তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিজ্ঞ ফকিহ ও মেধাবী পণ্ডিত শেখ তালিবুন বিন আল-কাদি আস-সাইয়িদ আল-ওয়াফি বিন তালিবুন। সিদি আব্দুর রহমান আত-তানলানি আরওয়াকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর মজলিসে বসেন, তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর কাছে ইজাজত প্রার্থনা করেন, ফলে তিনি তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন।
ـ[তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন]ـ শেখ আস-সাইয়িদ আল-হাজ্জ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আত-তুয়াতি আত-তামাওয়ি, যিনি পবিত্র কুরআন নিখুঁতভাবে মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর নিদর্শন ছিলেন এবং তিনি সাবআ কিরাত (সাত কিরাত) আয়ত্ত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القراء على طريق الشاطبية متقنا للرسم والضبط وصنعة الأداء لا يتوقف فيها ولا يتلعثم التقى به الشيخ المعرف به في بلدته بتوات فأخذ عنه مقرأ الإمام نافع على طريق الشاطبية وقرأ عليه الدرر اللوامع وصدرا من حرز الأماني وحضر إقراءه لمورد الظمئان واستفاد منه فوائد جمة.
ـ[ومنهم]ـ أبو عبد الله سيدي محمد بن علي بن محمد بن إبراهيم الدرعي ذكره الشيخ في فهرسته وترجم له بقوله: شيخنا العلامة الرحلة. الراوية الفقيه المحدث والأديب أبو عبد الله سيدي محمد بن علي بن محمد بن إبراهيم الدرعي ثم الأكتاوي نم الأمساني من ذرية القاضي كان حفظه الله عالما منصفا متواضعا حليما لقيته ببلاد زجل لما قفل من الحج فجالسته فاستفدت منه وحضرت إقراءه في السلم وورقات إمام الحرمين وقرأت عليه أوائل الصحيحين والشفا والجامع الصغير والشمائل وغيرها واستجزته فأجازني.
ـ[ومنهم]ـ سيدي محمد المكي بن السيد صالح السجلماسي ثم اللمطي كان أستاذا حافظا لكتاب الله يقرأه بالسبع وله مشاركة في الفقه وغيره استفاد الشيخ منه في علم الأداء فقط.
ـ[ومنهم]ـ العلامة الأريب والفاضل النجيب الشيخ سيدي صالح بن محمد الغماري السجلماسي ثم اللمطي وكان شقيقا للإمام الشيخ سيدي أحمد الحبيب السجلماسي وقد شخص إليه الشيخ سيدي عبد الرحمن التنلاني من تنلان إلى سجلماسة للتبرك به والاستفادة منه هو والشيخ سيدي أحمد بن عبد العزيز الهلالي فقرأ على السيد صالح القرءان الكريم كله وطلب منه الأجازة فيه.
শাত্বিবিয়্যাহ পদ্ধতিতে কিরাআত পাঠে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ এবং অঙ্কনরীতি, স্বরচিহ্ন বিন্যাস ও তিলাওয়াত কৌশলে পারদর্শী; এসবে তিনি কোনো দ্বিধা বা জড়তা বোধ করতেন না। তার সাথে তার নিজ শহর তাওয়াতে পরিচিত শায়খ সাক্ষাৎ করেন এবং তার কাছ থেকে শাত্বিবিয়্যাহ পদ্ধতিতে ইমাম নাফিরের কিরাআত গ্রহণ করেন। তিনি তার কাছে 'আদ-দুরার আল-লাওয়ামি' এবং 'হিরযুল আমানি'র প্রথমাংশ পাঠ করেন এবং 'মাওরিদ আল-যামআন'-এর তিলাওয়াত মজলিসে উপস্থিত হন এবং তার থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন।
—[তাদের মধ্যে রয়েছেন]— আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আদ-দারয়ী। শায়খ তার 'ফাহরাসাত'-এ তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার জীবনী এভাবে বর্ণনা করেছেন: আমাদের শায়খ, মহান আল্লামাহ, পর্যটক পণ্ডিত, বর্ণনাকারী, ফকিহ, মুহাদ্দিস এবং সাহিত্যিক আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আদ-দারয়ী, পরবর্তীতে আল-আকতায়ী ও আল-আমসানি, যিনি কাজীর বংশধর ছিলেন। আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন, তিনি ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ, বিনয়ী ও সহনশীল আলেম। হজ্জ থেকে ফেরার পথে 'জাজাল' নামক অঞ্চলে আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তার সান্নিধ্যে বসি। তার থেকে আমি উপকৃত হয়েছি এবং তার 'আস-সুল্লাম' ও ইমামুল হারামাইনের 'আল-ওয়ারাকাত' পাঠের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। আমি তার কাছে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম), আশ-শিফা, আল-জামিউস সাগির, আশ-শামায়িল এবং অন্যান্য কিতাবের শুরুর অংশ পাঠ করেছি এবং তার নিকট ইজাযত প্রার্থনা করলে তিনি আমাকে ইজাযত প্রদান করেন।
—[তাদের মধ্যে রয়েছেন]— সিদি মুহাম্মদ আল-মাক্কি বিন আস-সাইয়্যিদ সালিহ আস-সিজিলমাসি, অতঃপর আল-লামতি। তিনি ছিলেন আল্লাহর কিতাবের একজন হাফিজ উস্তাদ, যিনি সাত কিরাআতে তা পাঠ করতেন। ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়েও তার পাণ্ডিত্য ছিল। শায়খ তার থেকে কেবল 'ইলমে আদা' (তিলাওয়াত পদ্ধতি) বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
—[তাদের মধ্যে রয়েছেন]— প্রাজ্ঞ আল্লামাহ ও শ্রেষ্ঠ গুণী শায়খ সিদি সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-গুমারি আস-সিজিলমাসি, অতঃপর আল-লামতি। তিনি ছিলেন ইমাম শায়খ সিদি আহমদ আল-হাবিব আস-সিজিলমাসির সহোদর ভাই। শায়খ সিদি আব্দুর রহমান আত-তানলানি বরকত লাভ ও জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তানলান থেকে সিজিলমাসায় তার নিকট গমন করেছিলেন। শায়খ সিদি আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হিলালিও সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি সাইয়্যিদ সালিহর নিকট পূর্ণ কুরআন মাজিদ পাঠ করেন এবং তার নিকট এ বিষয়ে ইজাযত প্রার্থনা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ـ[ومنهم]ـ النجم الأزهر والإمام الأشهر علامة زمانه ونادرة أوانه الشيخ سيدى أحمد بن عبد العزيز الهلالي صاحب التآليف العديدة والنصائح المفيدة حضر الشيخ الصرف به مجلسه واستفاد منه استجازة فأجازه إجازة شاملة جامعة لما تفرق في غيرها من الإجازات.
ومن مشايخ الإمام سيدي عبد الرحمن بن عمر الشيخ سيدي محمد بن أب المزمري الذي كان من العلماء الأعلام والعباقرة العظام، ولد بأولف في قرية تسمى أولاد الحاج بدائرة أولف ولاية أدرار في العقد الأخير من القرن الحادي عشر للهجرة قضى حياته في العلم طلبا وتعليما وهو العالم الوحيد الذي ربط ما بين مناطق توات الثلاث فكان مولده بأولف من تيدكلت وتلقى العلم وقام بالإمامة والتعليم بتوات الوسطى وكانت وفاته بقرارة حيثما توفي بمدينة تيميمون كان رحمه الله شاعرا بليغا لغويا تصريفيا عروضيا رائق الخط وكان يعرف بصاحب الجولان فلقد جال في المغرب الأقصى وفي مالي مثل تنبكتوا وأروان إلى غير ذلك من البلدان التي كان يجوبها طلبا للاستفادة والإفادة ألف عدة مؤلفات في فنون متنوعة من العلم وخلف أشعارا كثيرة لو جمعت لكانت ديوانا ضخما وله مميزات في الشعر لم يظفر بها غيره من الشعراء نذكر منها الأبيات العشرة التى تقرأ من اليمين إلى اليسار وبالعكس مطلعها:
أدر كلام كابر
… رباك مالك ردا
أدب وكف أرسنا
… إن سر إفك وبدا
أخذ عنه الشيخ عبد الرحمن وقرأ عليه من مؤلفاته شرح صغرى الصغرى وأجازه في جميع مؤلفاته كما سيأتي ذلك في لمحة نص الإجازات توفي الشيخ ابن أب رحمه الله في العاشر من جمادى الثانية 1160 هجرية رحمه الله آمين.
[তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন] উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ইমাম, নিজ যুগের অনন্য পণ্ডিত ও সময়ের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা শেখ সায়্যিদি আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হিলালি, যিনি বহু কিতাব ও উপকারি উপদেশের রচয়িতা। শেখ আস-সারফ তাঁর মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইজাজত প্রার্থনা করে উপকৃত হয়েছেন; অতঃপর তিনি তাঁকে এমন একটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ ইজাজত প্রদান করেন, যা অন্যান্য ইজাজতসমূহে ছড়িয়ে থাকা বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছে।
ইমাম সায়্যিদি আব্দুর রহমান বিন উমরের উস্তাদগণের অন্তর্ভুক্ত হলেন শেখ সায়্যিদি মুহাম্মদ বিন আব আল-মাজমারি, যিনি প্রথিতযশা আলেম ও মহান প্রতিভাধর ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি হিজরি একাদশ শতাব্দীর শেষ দশকে আদরার প্রদেশের আউলেফ জেলার আওলাদ আল-হজ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলম অর্জন ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে স্বীয় জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি ছিলেন একমাত্র আলেম যিনি তুয়াতের তিনটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করেছিলেন। তাঁর জন্ম ছিল তিদিকিলতের আউলেফে, তিনি মধ্য তুয়াতে ইলম অর্জন করেন এবং ইমামতি ও শিক্ষাদানের দায়িত্ব পালন করেন, আর তাঁর মৃত্যু হয়েছিল কারারাহ নামক স্থানে যখন তিনি তিমিমুন শহরে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ছিলেন একজন প্রাঞ্জল কবি, ভাষাবিদ, ইলমে সরফ (রূপতত্ত্ব) ও ইলমে আরুয (ছন্দতত্ত্ব) বিশেষজ্ঞ এবং চমৎকার হস্তলিপির অধিকারী। তিনি 'সাহিবুল জাওলান' (ভ্রমণকারী) হিসেবে পরিচিত ছিলেন; কেননা তিনি সুদূর মরক্কো এবং মালির তিম্বাকতু ও আরওয়ানের মতো শহরসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছিলেন, যেখানে তিনি ইলম অর্জন ও বিতরণের উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখায় বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন এবং প্রচুর কবিতা রেখে গেছেন যা একত্রিত করলে একটি বিশাল কাব্যগ্রন্থ হতো। কবিতায় তাঁর এমন কিছু বিশেষত্ব ছিল যা অন্য কবিরা অর্জন করতে পারেননি; তার মধ্যে আমরা সেই দশটি চরণের কথা উল্লেখ করতে পারি যা ডান থেকে বামে এবং বাম থেকে ডানে—উভয় দিক থেকেই পড়া যায়। যার সূচনা হলো:
বড়দের কথা আবর্তন করো
… তোমার পালনকর্তা মালিক ফিরিয়ে দিয়েছেন
শিষ্টাচার ও আমাদের নেতৃত্বের হাত
… যদি মিথ্যা গোপন থাকে ও প্রকাশ পায়
শেখ আব্দুর রহমান তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন এবং তাঁর নিকট তাঁর রচিত 'শারহু সুগরাস সুগরা' পাঠ করেন। তিনি তাঁকে তাঁর সকল রচনার ইজাজত প্রদান করেন, যেমনটি সামনে ইজাজতনামা সমূহের পাঠের বর্ণনায় আসবে। শেখ ইবনে আব রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১১৬০ হিজরির ১০ই জুমাদাস সানি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, আমিন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুসনুদ দানী ফী তারজামাতিন ওয়া হায়াতিশ শাইখ আবদুর রহমান আত-তানলানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
اللمحة السادسة: ذكر تلامذته الذين تخرجوا من مدرسته على سبيل المثال لا الحصر.
لقد تخرج على الشيخ سيدى عبد الرحمن عدد كبير من العلماء حملوا مشعل الهداية والنور وقاموا بواجب الدعوة إلى الله فكان منهم الإمام والمدرس والقاضى والمؤلف نذكر بعضا منها فنقول:
ـ[منهم]ـ العلامة الشيخ سيدى محمد بن سيدى عبد الرحمن وأخوه السيد عبد الله تتلمذا على والدهما وورثا سره وقد أسلفنا أن الشيخ سيدى محمد كان خليفة والده.
ـ[ومنهم]ـ العلامة سيدى محمد بن سيدى عبد الرحمن البلبالي مؤلف غنيه الشورى والذي كانت له في العلم والعرفان اليد الطولى درس وأفتى وألف وتولى قضاء الجماعة بتوات ولد سنة 1166هـ وتوفي سنة 1244 هـ. ومنهم الشيخ سيدي عمر التنلاني المعروف بعمر الأصغر.
ومن بين الفطاحل الذين تخرجوا على يد الشيخ التنلاني الامام الشهير والقدوة المنير الشيخ السيد محمد بن الشيخ سيدى محمد العالم الزجلاوي الذي كان آية في العلم والحفظ والذكاء وكان يعتمد فتوى شيخه أبي زيد في المعضلات وقد أشار إليه الشيخ بجعل شرح المختصر كما ذكر ذلك في وجيزه حيث قال في افتتاحه: وبعد فهذا شرح لطيف المنزع وجيز المشرع قصدت به إن شاء الله إلى حل ألفاظ المختصر- إلى أن قال- علي أن شيخنا العلامة الصالح الأستاذ أبا زيد بن عمر رحمه الله تعالى قال لي يوما مستفهما هل كنت تقيد على المختصر شيئا؟ فاستعظمت ذلك له فقال لي إن كنث فاعلا فضع الحاشية عليه لا الشرح اهـ من الوجيز
ষষ্ঠ আলোকপাত: তাঁর মাদরাসা থেকে উত্তীর্ণ ছাত্রদের বর্ণনা, যা নিছক উদাহরণস্বরূপ, সীমাবদ্ধ নয়।
শায়খ সিদি আবদুর রহমানের নিকট বিপুল সংখ্যক আলেম শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন যারা হেদায়েত ও নূরের মশাল বহন করেছেন এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইমাম, শিক্ষক, বিচারক (কাজী) এবং লেখক। আমরা তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনের কথা উল্লেখ করছি:
—[তাঁদের মধ্যে]— আল্লামা শায়খ সিদি মুহাম্মদ বিন সিদি আবদুর রহমান এবং তাঁর ভাই সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ। তাঁরা উভয়েই তাঁদের পিতার নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁর আধ্যাত্মিক রহস্যের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, শায়খ সিদি মুহাম্মদ ছিলেন তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত।
—[এবং তাঁদের মধ্যে]— আল্লামা সিদি মুহাম্মদ বিন সিদি আবদুর রহমান আল-বালবালি, যিনি 'গুনিয়াতুশ শূরা' গ্রন্থের লেখক এবং ইলম ও আধ্যাত্মিকতায় যাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি পাঠদান করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তুয়াত অঞ্চলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১১৬৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৪৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন শায়খ সিদি উমর আত-তানলানি, যিনি 'উমর আল-আসগার' নামে পরিচিত।
শায়খ তানলানির নিকট শিক্ষা সম্পন্নকারী প্রথিতযশা পণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন বিখ্যাত ইমাম এবং আলোকিত আদর্শ শায়খ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন শায়খ সিদি মুহাম্মদ আল-আলিম আজ-জাজলাউই, যিনি জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন। তিনি জটিল মাসআলাসমূহে তাঁর শায়খ আবু জাইদের ফতোয়ার ওপর নির্ভর করতেন। শায়খ তাঁকে 'মুখতাসার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর 'ওয়াজিজ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: অতঃপর এটি একটি সূক্ষ্ম ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার মাধ্যমে আমি ইনশাআল্লাহ 'মুখতাসার'-এর শব্দাবলির জট খোলার ইচ্ছা করেছি—পরবর্তীতে তিনি বলেন—আমাদের শায়খ আল্লামা নেককার উস্তাদ আবু জাইদ বিন উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) একদিন আমাকে প্রশ্নচ্ছলে বলেছিলেন: তুমি কি মুখতাসার-এর ওপর কিছু লিখেছ? আমি তাঁর সামনে বিষয়টিকে অনেক বড় মনে করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: যদি তুমি কিছু লিখতেই চাও, তবে এর ওপর একটি টীকা লেখো, পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়। —ওয়াজিজ থেকে সমাপ্ত।