(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
السنة قبل التدوين   (محمد عجاج الخطيب)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة قبل التدوين

المؤلف: محمد عجاج بن محمد تميم بن صالح بن عبد الله الخطيب

الناشر: دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الثالثة، 1400 هـ - 1980 م

عدد الصفحات: 600

أصل هذا الكتاب: رسالة ماجستير من كلية دار العلوم بجامعة القاهرة

أعده للشاملة: توفيق بن محمد القريشي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1433

লিপিবদ্ধকরণের পূর্বে সুন্নাহ   (মুহাম্মদ আজজাজ আল-খতিব)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: লিপিবদ্ধকরণের পূর্বে সুন্নাহ

লেখক: মুহাম্মদ আজজাজ বিন মুহাম্মদ তামিম বিন সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-খতিব

প্রকাশক: দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০০

গ্রন্থটির উৎস: কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের একটি মাস্টার্স থিসিস

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তৌফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
السنة قبل التدوين

 

الدكتور محمد عجاج الخطيب

 

- عدد الأجزاء: 1.

- عدد الصفحات: 652.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
সংকলনপূর্ব সুন্নাহ

 

ডক্টর মুহাম্মাদ আজজাজ আল-খাতিব

 

- খণ্ড সংখ্যা: ১।

- পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫২।

এটি মাকতাবা শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন তৌফিক বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকাসম্বলিত]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
السنة قبل التدوين

 

الدكتور محمد عجاج الخطيب

رئيس قسم علوم القرآن والسنة بجامعة دمشق

أستاذ الحديث وعلومه في كلية الشريعة

 

الطبعة الثانية: رمضان 1408 - أبريل 1988 م

 

نشر مكتبة وهبة - مصر
লিপিবদ্ধকরণের পূর্বে সুন্নাহ

 

ড. মুহাম্মাদ আজজাজ আল-খতীব

দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও সুন্নাহ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান

শরীয়াহ অনুষদের হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রের অধ্যাপক

 

দ্বিতীয় সংস্করণ: রমাদান ১৪০৮ - এপ্রিল ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ

 

মাকতাবাতু ওয়াহবা - মিশর কর্তৃক প্রকাশিত
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
السُنَّةُ قَبْلَ التَدْوِينِ:

 

تَقْدِيمٌ:

 

بِقَلَمِ فَضِيلَةِ الأُسْتَاذِ عَلِي حَسَبَ الله

أستاذ الشريعة الإسلامية بكلية دار العلوم - جامعة القاهرة.

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليُظهره على الدين كله، وأنزل عليه كتابه الكريم تبياناً للحق وهدى إلى الصراط المستقيم، وأمره ببيانه وتنفيذ أحكامه بأقواله وأعماله ليكون للأمَّة من ذلك دستور كامل، لا يغادر من أمور معاشهم ومعادهم صغيرة ولا كبيرة إلَاّ وضع قواعدها، وقرَّر أصولها، وأضاء الوصول إلى الحق فيها.

 

فله الحمد والشكر على ما منح عباده من أسباب الهداية، وما ضمن لهم من حفظ كتابه، وما وَفَّقَهُم إليه من العناية به، والاستشهاد في تفسيره وتطبيقه بقول رسوله صلى الله عليه وسلم وعمله.

 

أما بعد فقد اصطنع الله محمداً صلى الله عليه وسلم لنفسه، ورباه فأحسن تربيته، وكمل خُلُقه حتى قال فيه - وهو أصدق القائلين -: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} (1)، ثم بعثه إلى الناس بشيراً ونذيراً: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} (2).

 

[أ]

--------------------------------------------

(1) [سورة القلم، الآية: 4].

(2) [سورة الأحزاب، الآيتان: 45، 46].
সংকলনের পূর্বে সুন্নাহ:

 

ভূমিকা:

 

মান্যবর উস্তাদ আলী হাসাবাল্লাহ-এর কলমে

ইসলামী শরীয়াহ্-এর অধ্যাপক, দারুল উলুম অনুষদ - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়।

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। তিনি তাঁর ওপর তাঁর সম্মানিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সত্যের সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং সরল পথের দিশারী হিসেবে। তিনি তাঁকে তাঁর বাণী ও কর্মের মাধ্যমে তা বর্ণনা ও এর বিধানসমূহ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে উম্মাহর জন্য তা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে সাব্যস্ত হয়। যা তাদের পার্থিব ও পরকালীন জীবনের ছোট-বড় কোনো বিষয়ই বাদ দেয়নি, বরং সেগুলোর মূলনীতি নির্ধারণ করেছে, এর ভিত্তিগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং তাতে সত্যে পৌঁছানোর পথকে জ্যোতির্ময় করেছে।

 

কাজেই তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা, বান্দাদেরকে হিদায়াতের উপকরণসমূহ দান করার জন্য, তাঁর কিতাব সংরক্ষণের যে নিশ্চয়তা তিনি দিয়েছেন তার জন্য এবং কিতাবটির প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্মকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার তাওফীক দান করার জন্য।

 

অতঃপর, আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে এমনভাবে লালন-পালন করেছেন যে তাঁর লালন-পালনকে সর্বোত্তম করেছেন। তাঁর চরিত্রকে পূর্ণতা দান করেছেন, এমনকি তাঁর সম্পর্কে তিনি বলেছেন—আর তিনি সত্যবাদীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী—: "আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত" (১)। অতঃপর তিনি তাঁকে মানবজাতির নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন: "হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে" (২)।

 

[ক]

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-কলম, আয়াত: ৪]।

(২) [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৫, ৪৬]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
[ب]

 

ولقد افترض عليه ما افترض على الناس من طاعته والعمل بكتابه، فقال سبحانه: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا، وَاتَّبِعْ مَا يُوحَى إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} (1)، وقال تعالى: {اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} (2)، وقال: {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (3).

 

وأمره أن يُبلِّغَ ما أنزل إليه فقال: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} (4)، فبلَّغَ صلى الله عليه وسلم ما أمره الله بتبليغه، وشهد الله تعالى له بذلك في قوله: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى، مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى، عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى} (5)، وقوله: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ} (6)، ولو أنه قصَّر في تبليغ رسالته، أو بلَّغ ما لم يؤمر بتبليغه - لحَلَّتْ به عقوبة ربه: {وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ، لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ، ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ، فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ} (7).

 

كما أمره أن يبيِّن للناس ما خفي عليهم من مقاصده، ويشرح لهم طرق تنفيذه فقال: {بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (8)، وقال سبحانه: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (9).

--------------------------------------------

(1) [سورة الأحزاب، الآيتان: 1 - 2].

(2) [سورة الأنعام، الآية: 106].

(3) [سورة الجاثية، الآية: 18].

(4) [سورة المائدة، الآية: 67].

(5) [سورة النجم، الآيات: 1 - 5].

(6) [سورة الشورى، الآيتان: 52، 53].

(7) [سورة الحاقة، الآيات: 44 - 47].

(8) [سورة النحل، الآية: 44].

(9) [سورة النحل، الآية: 64].
[খ]

 

আর মানুষের ওপর আল্লাহ তাআলার আনুগত্য এবং তাঁর কিতাব অনুযায়ী আমল করার যে আবশ্যকতা অর্পিত হয়েছে, তা তাঁর (রাসূলের) ওপরও অর্পণ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {হে নবী, আপনি আল্লাহকে ভয় করুন এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। আর আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা ওহী করা হয় তার অনুসরণ করুন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।} (১)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা ওহী করা হয়েছে আপনি তারই অনুসরণ করুন। তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই এবং আপনি মুশরিকদের থেকে বিমুখ থাকুন।} (২)। তিনি বলেন: {এরপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং আপনি তারই অনুসরণ করুন এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না।} (৩)।

 

আর তিনি তাঁকে তাঁর প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত (বার্তা) পৌঁছে দিলেন না।} (৪)। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে যা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পৌঁছে দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর এ কাজের সাক্ষ্য দিয়ে বলেন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন শক্তিশালী এক সত্তা।} (৫)। তাঁর বাণী: {আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করছেন। আল্লাহর পথের দিকে, যাঁর মালিকানায় আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই।} (৬)। আর যদি তিনি তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিতে অবহেলা করতেন অথবা এমন কিছু পৌঁছে দিতেন যার নির্দেশ তাঁকে দেওয়া হয়নি—তবে তাঁর রবের শাস্তি তাঁকে পাকড়াও করত: {আর যদি তিনি (নবী) আমার নামে কোনো কথা বানিয়ে বলতেন, তবে অবশ্যই আমি (আমার) ডান হাত দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করতাম। এরপর আমি অবশ্যই তাঁর হৃৎপিণ্ডের ধমনী কেটে ফেলতাম। তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না যে তাঁকে তা থেকে রক্ষা করত।} (৭)।

 

তেমনিভাবে তিনি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি মানুষের জন্য সেই সব বিষয়ের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেন যা তাদের কাছে অস্পষ্ট ছিল এবং তাদের জন্য তা বাস্তবায়নের পদ্ধতিসমূহ ব্যাখ্যা করে দেন। আল্লাহ বলেন: {স্পষ্ট প্রমাণ ও কিতাবসমূহসহ। আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি যেন আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যেন তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} (৮)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি শুধুমাত্র এজন্য যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি তা তাদের কাছে স্পষ্ট করে দেবেন এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত।} (৯)।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ১ - ২]।

(২) [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১০৬]।

(৩) [সূরা আল-জাছিয়াহ, আয়াত: ১৮]।

(৪) [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৭]।

(৫) [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ১ - ৫]।

(৬) [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৫২, ৫৩]।

(৭) [সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ৪৪ - ৪৭]।

(৮) [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]।

(৯) [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৬৪]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
[جـ]

 

هكذا أعد الله رسوله للقيام بأعباد رسالته، ثم أمر الناس بطاعته:

أمرهم بطاعته مقترنة بطاعته سبحانه فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ} (1)، وقال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} (2)، وقال سبحانه: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} (3).

 

وأمرهم بطاعته استقلالاً فقال سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} (4). وقال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (5)، وقال سبحانه: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (6).

 

ثم قرَّر سبحانه أنَّ طاعة رسوله طاعة له، فقال: {إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا} (7)، وقال سبحانه: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} (8).

 

ولا خفاء بعد هذا في أنَّ كتاب الله هو أصل دينه، وأنَّ سُنَّة نبيِّهِ -

--------------------------------------------

(1) [سورة الأنفال، الآية: 20].

(2) [سورة الأحزاب، الآية: 36].

(3) [سورة النساء، الآية: 69].

(4) [سورة الحشر، الآية: 7].

(5) [سورة النساء، الآية: 65].

(6) [سورة النور، الآية: 63].

(7) [سورة الفتح، الآية: 10].

(8) [سورة النساء، الآية: 80].
[গ]

 

এভাবেই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাঁর রিসালাতের গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করেছেন, অতঃপর মানুষকে তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন:

তিনি তাদের তাঁর (রাসূলের) আনুগত্যকে মহান আল্লাহর আনুগত্যের সাথে যুক্ত করে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, অথচ তোমরা (তাঁর নির্দেশ) শুনছ} (১), এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হলো} (২), এবং তিনি (পবিত্র মহান) বলেন: {আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাঁদের সঙ্গী হবে যাদের ওপর আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ (সিদ্দীক), শহীদগণ ও সৎকর্মপরায়ণগণ (সালেহীন); আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম!} (৩)।

 

এবং তিনি তাদের স্বতন্ত্রভাবেও তাঁর (রাসূলের) আনুগত্যের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো; আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর} (৪)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব তোমার রবের কসম, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক মান্য করে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা প্রদান করো সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে তা মেনে নেয়} (৫), এবং তিনি (পবিত্র মহান) বলেন: {তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরকে ডাকার মতো গণ্য করো না। তোমাদের মধ্যে যারা একে অপরের আড়ালে লুকিয়ে সটকে পড়ে, আল্লাহ তাদের অবশ্যই জানেন। অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর কোনো যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসতে পারে} (৬)।

 

অতঃপর তিনি (পবিত্র মহান) সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা মূলত তাঁরই আনুগত্য করা। তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই যারা তোমার কাছে বায়আত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়আত গ্রহণ করে; আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর। অতঃপর যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, সে নিজের ক্ষতির জন্যই তা ভঙ্গ করে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তিনি অচিরেই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন} (৭), এবং তিনি (পবিত্র মহান) বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যারা মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি তো তোমাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি} (৮)।

 

এর পর আর কোনো অস্পষ্টতা থাকে না যে, আল্লাহর কিতাবই হলো তাঁর দ্বীনের মূল উৎস এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ—

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২০]।

(২) [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৬]।

(৩) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৯]।

(৪) [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]।

(৫) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫]।

(৬) [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩]।

(৭) [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ১০]।

(৮) [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
[د]

 

قولية كانت أو فعلية - هي الموضحة لأحكامه، والمفصِّلة لإجماله، والهادية إلى طرق تطبيقه، فهما صنوان لا يفترقان، ومنبعان للتشريع متعاضدان، ولا شبهة في أنَّ طاعة الرسول طاعة لله، ومخالفة أمره معصية لله تعالى، ومن عمل بالقرآن على غير المنهج الذي انتهجه الرسول صلى الله عليه وسلم لا يكون عاملاً بالقرآن.

 

وقد جرت سُنَّة الله تعالى في خلقه أنْ يختلف الناس في تقبُّل دعوات الرسل، والأخذ بأسباب الهداية والصلاح مهما قامت الدلائل ووضحت البينات؛ {وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ، إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} (1)، فمنهم من يستجيب لداعي الخير مسرعاً مطمئناً، ويتجنَّب مزالق الجهل والخسران، ومنهم من يركب رأسه ويتبع هواه ويضل عن سواء السبيل: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ} (2). {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ} (3)، {يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ} (4).

 

وقد ابتلي المسلمون في كل العصور بمن يحاول صرفهم عن الإسلام، تارة بالطعن في كتابه، وأخرى بمحاولة انتقاصه من أطرافه، بالطعن في السُنَّة التي تُفَصِّلُ ما أجمل منه، وتُوضِّحُ ما خفي، وكأنهم حين وقفوا من القرآن أمام جبل شامخ لا يلين، ورجعوا بعد العناء بخُفي حُنين - ظنوا أنهم قادرون على

--------------------------------------------

(1) [سورة هود، الآيتان: 118، 119].

(2) [سورة هود، الآية: 36].

(3) [سورة الأنعام، الآية: 112].

(4) [سورة يس، الآية: 30].
[ঘ]

 

সেগুলো মৌখিক হোক বা ব্যবহারিক—তা আল্লাহর বিধানাবলি ব্যাখ্যা করে, এর সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে এবং সেগুলো প্রয়োগের পদ্ধতির দিশা দেয়। সুতরাং এই দুটি (কুরআন ও সুন্নাহ) একে অপরের পরিপূরক যা কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না এবং তারা শরয়ি বিধানের দুটি পরস্পর সহযোগী উৎস। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলের আনুগত্য করা মানেই আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর আদেশ অমান্য করা মানেই মহান আল্লাহর অবাধ্য হওয়া। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত পদ্ধতির বাইরে কুরআনের ওপর আমল করে, সে মূলত কুরআনের ওপর আমলকারী হতে পারবে না।

 

মাখলুকের ব্যাপারে মহান আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম এই যে, প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও রাসূলগণের দাওয়াত গ্রহণ এবং হিদায়াত ও সংশোধনের পথ অবলম্বনের ক্ষেত্রে মানুষেরা মতভেদ করবেই; "তবে তোমার রব যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ছাড়া, আর তিনি তাদের এ জন্যই সৃষ্টি করেছেন" (১)। সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ দ্রুত ও প্রশান্তচিত্তে কল্যাণের আহ্বানে সাড়া দেয় এবং অজ্ঞতা ও ক্ষতির পিচ্ছিল পথ পরিহার করে। আবার তাদের মধ্যে কেউ একগুঁয়েমি করে, নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে: "আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কারও ওপর গোমরাহি সাব্যস্ত হয়েছে" (২)। "আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, তারা প্রতারণার ছলে একে অপরকে চাকচিক্যময় কথার কুমন্ত্রণা দেয়; তোমার রব চাইলে তারা তা করত না। সুতরাং তুমি তাদের এবং তাদের মিথ্যা অপবাদগুলোকে ছেড়ে দাও" (৩), "আফসোস বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে এমন কোনো রাসূলই আসেননি, যাঁকে নিয়ে তারা উপহাস করেনি" (৪)।

 

সকল যুগেই মুসলমানরা এমন লোকদের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছে যারা তাদেরকে ইসলাম থেকে ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। কখনও তাঁর কিতাবের প্রতি কটাক্ষ করে, আবার কখনও এর শাখা-প্রশাখাগুলোকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে; অর্থাৎ সুন্নাহর প্রতি কটাক্ষ করার মাধ্যমে, যা কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেয় এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করে। মনে হয় যেন যখন তারা কুরআনের সামনে একটি অটল সুউচ্চ পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিল এবং অনেক কষ্টের পর ব্যর্থ মনোরথে ফিরে এল—তখন তারা ভেবেছিল যে তারা সক্ষম হবে

--------------------------------------------

(১) [সূরা হূদ, আয়াত: ১১৮, ১১৯]।

(২) [সূরা হূদ, আয়াত: ৩৬]।

(৩) [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১১২]।

(৪) [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৩০]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
[هـ]

 

النيل منه بتوهين السُنَّة التي هي عماد بيانه، فسلكوا لذلك طرقاً، وتكلفوا شططاً، فمنهم من تجنَّى على الرُواة وطعن في عدالتهم وصدقهم، ومنهم من طعن في متن الحديث فأنكر منه ما لم يوافق هوه، ومنهم من ادعى انقطاع الصلة بين الرسول وما يُروى عنه وتعذَّر تمييز الصحيح منه من السقيم، لإهمال تدوينه نحو قرنين من الزمان، وانتشار وضع الحديث انتصاراً لرأي أو إبطالاً لمذهب، فدعا إلى إهمال الحديث جملة والاكتفاء بالقرآن الكريم، ومن المؤسف حقاً أنْ يقول بهذا الرأي من يزعم أنه من المسلمين.

 

ولكن العلي القدير الذي تكفَّلَ بحفظ كتابه وأصول دينه بقوله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (1) كان يمنح معونته وتوفيقه دائماً للمتقين المخلصين، ويخذل أعداءه المعاندين: {وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ} (2)، {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَاّ إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنْسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} (3)، {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ، إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ، وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} (4).

 

فلهذا هيأ لدينه في كل العصور من يَرُدُّ كيد الطاعنين في نحورهم، وهيَّأ لسُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم من السلف الصالح ومن تبعهم بإحسان مَنْ عُنِيَ بالدفاع عنها بعد البحث في سندها ومتنها، يتعرف أحوال رُواتها، وتمييز صحيحها من سقيمها، ثم حفظها تارة في الصدور، وأخرى في السطور.

 

لقد كان المسلمون بين أنْ يدفعهم الحرص على سُنَّة نبيِّّهم إلى تَقَبُّل كل

--------------------------------------------

(1) [سورة الحجر، الآية: 9].

(2) [سورة الأنعام، الآية: 10].

(3) [سورة الحج، الآية: 52].

(4) [الصافات: 171 - 173].
[হে]

 

সুন্নাহকে দুর্বল করার মাধ্যমে ইসলামকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ইসলামের বর্ণনার মূল ভিত্তি। এজন্য তারা বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে এবং চরম বাড়াবাড়ি করেছে। তাদের মধ্যে কেউ বর্ণনাকারীদের ওপর অপবাদ দিয়েছে এবং তাদের ন্যায়নিষ্ঠা ও সত্যবাদিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে; কেউ হাদিসের মূল পাঠ (মতন) নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা থেকে এমন কিছু অস্বীকার করেছে যা তাদের খেয়ালখুশির সাথে খাপ খায় না। আবার কেউ কেউ দাবি করেছে যে রাসুল এবং তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে কোনো যোগসূত্র অবশিষ্ট নেই, আর প্রায় দুই শতাব্দী ধরে হাদিস সংকলনে অবহেলার কারণে এবং কোনো মতের সপক্ষে কিংবা কোনো মাজহাব বাতিলের উদ্দেশ্যে জাল হাদিসের প্রসারের ফলে সহিহ ও জয়িফ (সুস্থ ও রুগ্ন) হাদিসের পার্থক্য করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে তারা হাদিসকে পুরোপুরি বর্জন করার এবং কেবল পবিত্র কুরআনের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, তারাও এ ধরনের মত পোষণ করছে।

 

কিন্তু মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ, যিনি তাঁর কিতাব এবং তাঁর দ্বীনের মূলনীতিসমূহ সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন এই বলে: "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী" (১); তিনি সর্বদা নিষ্ঠাবান মুত্তাকিদের তাঁর সাহায্য ও তাওফিক দান করেন এবং তাঁর হঠকারী শত্রুদের লাঞ্ছিত করেন: "তোমার পূর্বেও অনেক রাসুলকে নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা উপহাস করেছিল, তারা যা নিয়ে উপহাস করত তাই তাদের পরিবেষ্টন করল" (২), "তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসুল বা নবী পাঠাইনি, যার মনে কোনো আকাঙ্ক্ষা জাগলে শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু নিক্ষেপ করেনি। অতঃপর শয়তান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা মিটিয়ে দেন, এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়" (৩), "আর আমার প্রেরিত বান্দাদের বিষয়ে আমার এই বাণী পূর্বেই নির্ধারিত হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী" (৪)।

 

এ কারণে তিনি প্রত্যেক যুগে তাঁর দ্বীনের জন্য এমন সব লোক তৈরি করেছেন যারা আক্রমণকারীদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দেন। তিনি তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর জন্য সালাফে সালেহিন এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিদের ব্যবস্থা করেছেন, যারা সনদ ও মতনের গবেষণার পর তা রক্ষায় আত্মনিয়োগ করেছেন; তারা বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করেন এবং সহিহ ও জয়িফ হাদিসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেন। এরপর তাঁরা তা কখনো হৃদয়ে এবং কখনো লেখনীর মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছেন।

 

মুসলিমদের তাদের নবীর সুন্নাহর প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা এমন পর্যায়ে ছিল যে তারা সবকিছু গ্রহণ করতে...

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯]।

(২) [সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১০]।

(৩) [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৫২]।

(৪) [আস-সাফফাত: ১৭১ - ১৭৩]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
[و]

 

ما يروى حتى لا يفوتهم ما صح منها، وأنْ يتأثَّروا بشُبَه المُضَلِّلِينَ فيرفضوه كله حذراً من الأخذ بالموضوع والوقوع في الباطل، ولكن الله جنَّبهم الخطتين وعصمهم من الوقوع في الورطتين، ووفَّقهُم إلى الطريقة الوسطى، طريقة الاعتدال البعيدة عن التعصب الأعمى والتحامل الذميم، طريقة الفحص والتمحيص للسند والمتن، ووضع القواعد العلمية الصحيحة لمعرفة من يقبل ومن لا يقبل من الرُواة، وما يقبل وما يُرَدُّ من الأحاديث، وبهذا ميَّزُوا الخبيث من الطيب، ونالت السُنَّة بجهودهم ما لم يعهد في شريعة من الشرائع، ولا في نص من النصوص غير الكتاب الكريم.

 

وكان مما أثلج صدورنا، وفتح باب الأمل في شباب عصرنا - أنَّ الطالب المؤمن بربه، والغيور على دينه، والمُحبّ لسُنَّة الرسول صلى الله عليه وسلم السيد «محمد عجاج الخطيب» - سار على توفيق من الله، وهُدى من السلف الصالح، فاختار لنيل درجة الماجستير في العلوم الإسلامية من كلية دار العلوم بجامعة القاهرة - موضوع «السنة قبل التدوين»، ليدفع ببحثه ما أثاره المُضَلِّلُونَ من انقطاع الصلة بين الرسول وما بين أيدينا من سُنَّته في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، وبعضها في عهد الصحابة والتابعين، قبل أنْ تُدوَّنَ التدوين الرسمي المعروف.

 

وقد رَجَّحَ أنَّ التدوين الرسمي بدأ في منتصف العقد الهجري الثامن من القرن الأول حين طلب أمير مصر: عبد العزيز بن مروان بن الحكم من كثير بن مُرَّة الحضرمي - الذي أدرك سبعين بدرياً من الصحابة في حمص - أنْ يكتب إليه بما سمع من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلَاّ حديث أبي هريرة فإنه كان عنده. ولا يظن بكثير إلَاّ أنْ يستجيب لطلب الأمير، فيجتمع له بهذا ما كان عنده من حديث أبي هريرة وما كان عند كثير، وحسبك هذا تدوينًا
[ও]

 

যা বর্ণিত হয়েছে, যাতে তাঁদের থেকে সহিহ কোনো কিছু বাদ না যায়; এবং তাঁরা যাতে বিভ্রান্তিকারীদের সংশয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বানোয়াট বিষয় গ্রহণ এবং বাতিলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় সবকিছুকেই প্রত্যাখ্যান না করেন। কিন্তু আল্লাহ তাঁদেরকে এই উভয় পথ থেকে দূরে রেখেছেন এবং এই দুই সংকটে নিপতিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি তাঁদেরকে মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাওফিক দিয়েছেন; যা অন্ধ গোঁড়ামি ও নিন্দনীয় পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত এক ভারসাম্যপূর্ণ পথ। এটি হলো সনদ (সূত্র) ও মতন (মূল পাঠ) যাচাই ও বিশ্লেষণের পদ্ধতি। তাঁরা বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে এবং কার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না, তা জানার জন্য এবং কোন হাদিসগুলো কবুল হবে আর কোনগুলো প্রত্যাখ্যাত হবে, তা নির্ধারণের জন্য সঠিক বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। এর মাধ্যমেই তাঁরা অপবিত্র থেকে পবিত্রকে পৃথক করেছেন। তাঁদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্নাহ এমন এক মর্যাদা লাভ করেছে যা মহান কিতাব আল-কুরআন ব্যতীত অন্য কোনো শরিয়ত বা অন্য কোনো দলিলাদির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

 

আমাদের অন্তরকে যা শীতল করেছে এবং আমাদের বর্তমান যুগের যুবকদের মধ্যে আশার দ্বার উন্মোচিত করেছে, তা হলো—স্বীয় রবের প্রতি ঈমানদার, স্বধর্মের প্রতি একনিষ্ঠ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর প্রতি অনুরক্ত ছাত্র জনাব ‘মুহাম্মাদ আজজাজ আল-খতিব’—তিনি আল্লাহর তাওফিক ও সালাফে সালেহীনের নির্দেশিত পথে অগ্রসর হয়েছেন। তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদ থেকে ইসলামি বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের জন্য ‘আস-সুন্নাহ ক্ববলাত তাদউইন’ (সংকলনের পূর্বে সুন্নাহ) বিষয়টি নির্বাচন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর গবেষণায় সেই সব বিভ্রান্তিকারীদের উত্থাপিত সংশয় খণ্ডন করেছেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং বর্তমানে আমাদের হাতে বিদ্যমান সুন্নাহর মাঝে সম্পর্কবিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি তুলেছিল—অথচ এই সুন্নাহর অনেক অংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এবং কিছু অংশ সাহাবী ও তাবেঈদের যুগে প্রচলিত আনুষ্ঠানিক সংকলনের পূর্বেই বিদ্যমান ছিল।

 

তিনি এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যে, আনুষ্ঠানিক সংকলন প্রথম হিজরি শতাব্দীর অষ্টম দশকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল, যখন মিসরের আমির আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ান ইবনে হাকাম কাসীর ইবনে মুররা আল-হাযরামী—যিনি হিমসে সত্তরজন বদরী সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন—তাঁর নিকট অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের থেকে যা কিছু শুনেছেন তা লিখে পাঠান, তবে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস ব্যতীত, কারণ তা ইতিপূর্বেই আমিরের কাছে সংরক্ষিত ছিল। কাসীর সম্পর্কে এমনটিই ধারণা করা হয় যে, তিনি আমিরের এই অনুরোধে সাড়া দিয়েছিলেন। ফলে এর মাধ্যমে আমিরের নিকট আবু হুরায়রা (রা.)-এর যে হাদিসগুলো ছিল এবং কাসীরের নিকট যা ছিল, উভয়ই একত্রিত হয়ে গিয়েছিল। সংকলন হিসেবে আপনার জন্য এটিই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
[ز]

 

رسميًا لقسط كبير من سُنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك العصر، ويكون ما فعله عمر بن عبد العزيز بعد هذا - من العناية بالحديث ومطالبة العلماء في الأقطار المختلفة بكتابته والجلوس لمدارسته - ليس إلَاّ امتداداً لما شرع فيه أبوه من قبل. وهو رأي يُرَجِّحُهُ ما عرف عن السلف من الحرص على حفظ السُنَّة والعمل بها.

 

وقد اقتضاه البحث أن يتكلم عن الوضع وأسبابه، وجهود الصحابة والتابعين ومن بعدهم في مقاومته وتطهير السُنّة من أوضاره، وأن يتحدَّث عن آراء بعض المستشرقين ومن انخدع بهم من المسلمين، فَفَنَّدَ مزاعمهم، ورَدَّ الحق إلى نصابه في مفترياتهم، وبيَّنَ فضل الصحابة وعدالتهم، وحرصهم على العمل بالسُنَّة وحفظها، وتثبُّتهم في روايتها، واقتداء من جاء بعدهم بهم في ذلك، كما تعرَّض لما أثر حول بعضهم من شبهات فنفاها عنهم.

 

ولا نعدو الحقيقة إذا قلنا: إنَّ الطالب كان أصيلاً في بحثه، لم يُعْوِزْهُ توجيه وإرشاد؛ بل جمع بجده كل ما استطاع الوصول إليه من مراجع، وتناول منها كل ما يلائم بحثه، ثم عرض ذلك على مقاييس صحيحة في نزاهة وصدق وإيمان، وبهذا نَطَمَ نفسه في سلك المُحبِّين للسُنَّة، الذين بشَّرهم الرسول صلى الله عليه وسلم بالجنة فيما روى الترمذي عن أنس رضي الله عنه: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ أحبَّ سُنَّتي فقد أحبَّني، ومَنْ أحبَّني كان معي في الجنة».

 

والله المسؤول أنْ ينفع الإسلام والمسلمين برسالته، وأنْ يجعل من شبابنا شباباً صالحاً لا تخدعه مظاهر المدنية الكاذبة، فيعكف على دراسة الدين القويم، والتراث المجيد، ويدفع عنهما تُهَمَ المبطلين، وضلال المُضِلِّين، وهو الهادي إلى الصراط المستقيم.

 

المحرم 1383 هـ - يونية 1963 م

 

علي حسب الله
[য]

 

সেই যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর একটি বড় অংশের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে; আর এর পরে উমর ইবনে আবদুল আজিজ যা করেছিলেন—হাদিসের প্রতি যত্ন নেওয়া এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের তা লিখে রাখার ও অধ্যয়নের জন্য বসার আহ্বান জানানো—তা তাঁর পিতার পূর্বেই শুরু করা কাজের একটি ধারাবাহিকতা মাত্র। এটি এমন একটি অভিমত যা সুন্নাহর সংরক্ষণ ও তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (সালাফ) পরিচিত একাগ্রতার দ্বারা শক্তিশালী হয়।

 

গবেষণার প্রয়োজনেই জালিয়াতি (ওয়াদ') ও এর কারণসমূহ এবং এটি প্রতিরোধে ও এর আবর্জনা থেকে সুন্নাহকে পবিত্র করতে সাহাবী, তাবেয়ী ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রচেষ্টাসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করতে হয়েছে। আরও আলোচনা করতে হয়েছে কিছু প্রাচ্যবিদ এবং তাদের দ্বারা প্রতারিত কিছু মুসলিমের মতামত সম্পর্কে; তিনি তাদের দাবিগুলোকে খণ্ডন করেছেন, তাদের মিথ্যা অপবাদের বিপরীতে সত্যকে তার সঠিক স্থানে ফিরিয়ে এনেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্ব ও ন্যায়পরায়ণতা, সুন্নাহর ওপর আমল ও তা সংরক্ষণের প্রতি তাঁদের আগ্রহ, হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের সতর্কতা এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের তাঁদের অনুসরণ করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তেমনিভাবে তিনি তাঁদের কারও কারও ব্যাপারে উত্থাপিত সংশয়গুলো আলোচনা করেছেন এবং সেগুলো তাঁদের থেকে অপনোদন করেছেন।

 

আমরা সত্যের অপলাপ করব না যদি বলি যে: ছাত্র তার গবেষণায় মৌলিক ছিলেন, তার জন্য দিকনির্দেশনা ও উপদেশের কোনো অভাব ছিল না; বরং তিনি তার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমস্ত সম্ভাব্য উৎস সংগ্রহ করেছেন এবং সেখান থেকে তার গবেষণার জন্য উপযোগী সবকিছু গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তিনি তা সততা, সত্যবাদিতা ও ঈমানের সাথে সঠিক মানদণ্ডে উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে সুন্নাহর প্রেমিকদের কাতারে শামিল করেছেন, যাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন—যেমনটি তিরমিযী আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহকে ভালোবাসল, সে আমাকেই ভালোবাসল; আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে»।

 

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন তাঁর এই গবেষণাপত্র দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং আমাদের যুবকদের এমন সৎ যুবক হিসেবে গড়ে তোলেন যারা মিথ্যে সভ্যতার চাকচিক্যে বিভ্রান্ত হবে না, বরং তারা সঠিক দ্বীন ও গৌরবময় ঐতিহ্যের গবেষণায় নিবিষ্ট হবে এবং এ দুটির বিরুদ্ধে বাতিলপন্থীদের অপবাদ ও বিভ্রান্তকারীদের গোমরাহিকে প্রতিহত করবে। আর তিনিই সরল পথের দিশারী।

 

মহররম ১৩৮৩ হিজরি - জুন ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দ

 

আলী হাসাবাল্লাহ
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: -)
السنة قبل التدوين   (محمد عجاج الخطيب)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة قبل التدوين

المؤلف: محمد عجاج بن محمد تميم بن صالح بن عبد الله الخطيب

الناشر: دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الثالثة، 1400 هـ - 1980 م

عدد الصفحات: 600

أصل هذا الكتاب: رسالة ماجستير من كلية دار العلوم بجامعة القاهرة

أعده للشاملة: توفيق بن محمد القريشي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1433

লিপিবদ্ধকরণের পূর্বে সুন্নাহ   (মুহাম্মদ আজজাজ আল-খতিব)

বিভাগ: উলূমুল হাদীস


গ্রন্থ: লিপিবদ্ধকরণের পূর্বে সুন্নাহ

লেখক: মুহাম্মদ আজজাজ বিন মুহাম্মদ তামীম বিন সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-খতিব

প্রকাশক: দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০০

এই গ্রন্থের মূল উৎস: কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলূম অনুষদ থেকে প্রাপ্ত একটি মাস্টার্স থিসিস

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১)
الكِتَابُ:

 

‌‌المُقَدِّمَةُ:

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين وسيد المرسلين وعلى آله وصحبه، ومن تبعه بإحسان إلى يوم الدين.

 

وبعد، فإن القرآن الكريم هو المصدر التشريعي الأول في الإسلام، والسُنَّة هي المصدر الثاني، لأنها مبيِّنة له، مُفَصِّلةٌ لأحكامه، مفرِّعة لأصوله، وهي التطبيق العملي للإسلام على يد رسول الإنسانية محمد صلى الله عليه وسلم، دان المسلمون لأحكامها من لدُن الرسول الكريم إلى يومنا هذا، وستبقى إلى جانب القرآن مصدر الأحكام، ومعين الآداب والأخلاق، حتى يرث الله الأرض ومن عليها، فقد كان التمسك بهما سرَّ نجاج الأُمَّة الإسلامية، وتقدمها، مصداقاً لقوله صلى الله عليه وسلم «تَرَكْتُ فِيكُمْ شَيْئَيْنِ، لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُمَا: كِتَابَ اللهِ ، وَسُنَّتِي».

 

ولكنه لم يرق لأعداء الإسلام قديماً وحديثاً، أنْ يروا ازدهار الأُمَّة الإسلامية وتقدمها، فعملوا على هدم أسس الإسلام، وتشكيك المسلمين في دينهم، وكان من الصعب أنْ ينالوا من القرآن الكريم، فوجَّهُوا سهامهم إلى السُنَّة، وحاولوا تشويهها، فوضعوا الأحاديث، وطعنوا في بعض الصحيح منها، واتَّهمُوا بعض الرُواة الثقات، ولكن هذا لم ينل من السُنَّة أمام يقظة الأُمَّة وعلمائها الذين ذبُّوا عنها وحافظوا عليها.

 

وسلك أعداء الإسلام سُبُلاً مختلفة لإنكار السُنَّة جملة بعد التشكيك فيها ،
গ্রন্থ:

 

‌‌ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি নবীদের মোহর এবং রাসূলদের সরদার, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাথী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁর অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

 

অতঃপর, আল-কুরআনুল কারীম হলো ইসলামের প্রথম শরীয়তি উৎস এবং সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় উৎস; কারণ সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী, এর বিধানসমূহ বিস্তারিত বর্ণনাকারী এবং এর মূলনীতিসমূহের শাখা-প্রশাখা নিরূপণকারী। সুন্নাহ হলো মানবতার রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে ইসলামের বাস্তব প্রয়োগ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত মুসলমানরা এর বিধানসমূহের প্রতি অনুগত রয়েছে এবং যতদিন আল্লাহ পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার মালিক থাকবেন, ততদিন সুন্নাহ কুরআনের পাশাপাশি বিধানের উৎস এবং আদব ও আখলাকের ঝর্ণাধারা হিসেবে বিদ্যমান থাকবে। এই দুইটিকে আঁকড়ে ধরাই ছিল মুসলিম উম্মাহর সাফল্য ও অগ্রগতির মূল রহস্য, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, এ দুটিকে আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।"

 

কিন্তু অতীত ও বর্তমানের ইসলাম শত্রুরা মুসলিম উম্মাহর সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি দেখে সহ্য করতে পারেনি। তাই তারা ইসলামের ভিত্তিগুলো ভেঙে ফেলতে এবং মুসলমানদের তাদের দ্বীন সম্পর্কে সংশয়ে ফেলতে কাজ করেছে। যেহেতু কুরআনুল কারীমের কোনো ক্ষতি করা তাদের পক্ষে কঠিন ছিল, তাই তারা সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়েছে এবং একে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে। তারা জাল হাদিস তৈরি করেছে, কিছু সহীহ হাদিসের ওপর অপবাদ দিয়েছে এবং কিছু নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর প্রতি অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু উম্মাহ এবং উলামায়ে কেরামের জাগ্রত সচেতনতার সামনে এটি সুন্নাহর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, যাঁরা সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেছেন এবং একে সংরক্ষণ করেছেন।

 

ইসলামের শত্রুরা সুন্নাহর ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টির পর তা পুরোপুরি অস্বীকার করার জন্য বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে,
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ২)
فادَّعى بعضهم أن السُنّة أهملت بعد الرسول صلى الله عليه وسلم أكثر من قرنين إلى أنْ جمعها بعض المُصَنِّفين في كتب السُنن في القرن الثالث الهجري، فلم تحفظ كالقرآن الكريم منذ ظهور الإسلام، ولهذا تسرَّبَ إليها الوضع، وأصبح من الصعب تمييز الحديث الصحيح من الموضوع … !! وادَّعَى بعض المستشرقين أنَّ جانباً من الحديث قد وضعه الفقهاء ليدعموا مذاهبهم الفقهية!!! وادَّعَى آخرون أنَّ السُنَّة كانت أحكاماَ مؤقتة لعصر النبي صلى الله عليه وسلم، وأصبحت الآن عديمة الجدوى، وتسرَّبت هذه الفكرة إلى بعض البلاد الإسلامية، وأخذت شكلاً منظماً، فظهر في الهند جماعة تنادي بعدم الاحتجاج بالسُنَّة، سَمَّتْ نفسها (أهل القرآن)، وألَّفَتْ كُتُباً ورسائل كثيرة لنشر أفكارها (1).

 

هذه بعض دعاوى أعداء الإسلام، الذين أرادوا من ورائها إبعاد المسلمين عن دينهم، وخلخلة العقيدة في نفوسهم، ليتمكَّنُوا من نشر مبادئهم في بلادنا الإسلامية الطيبة، والسيطرة عليها مادياً بعد السيطرة عليها فكرياً، ومما يؤسف له أنَّ بعض شبابنا الذين لم يُتَحْ لهم أن يتثقَّفُوا بثقافة الإسلام قد اعتنقوا هذه الأفكار التي تخدم أعداءنا، وتفرق صفوفنا، في وقت نحن أحوج ما نكون فيه إلى التمسك بما جاء في السُنَّة من أحكام وأخلاق وآداب وتوجيه وإرشاد، كما تعتز الأمم بتراثها وتفخر به، ويشهد المنصفون من علماء الأمم الأخرى

--------------------------------------------

(1) انظر مقالة «تحقيق معنى السُنَّة وبيان الحاجة إليها» للعلامة السيد سليمان الندوي رحمه الله.
তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সুন্নাহকে অবহেলা করা হয়েছে, যতক্ষণ না হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে কিছু সংকলক সুনান গ্রন্থসমূহে তা একত্রিত করেছেন। ফলে ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে এটি পবিত্র কুরআনের মতো সংরক্ষিত হয়নি। এই কারণেই এতে জালিয়াতি অনুপ্রবেশ করেছে এবং সহীহ হাদিসকে জাল হাদিস থেকে পৃথক করা কঠিন হয়ে পড়েছে … !! আর কিছু প্রাচ্যবিদ দাবি করেছেন যে, হাদিসের একটি অংশ ফকিহগণ তাদের ফিকহি মাযহাবগুলোকে সমর্থন করার জন্য জাল করেছেন!!! অন্যরা দাবি করেছেন যে, সুন্নাহ ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের জন্য কিছু সাময়িক বিধান এবং তা এখন অকেজো হয়ে পড়েছে। এই ধারণাটি কিছু মুসলিম দেশে অনুপ্রবেশ করেছে এবং একটি সুসংগঠিত রূপ ধারণ করেছে। ফলে ভারতে এমন একটি দলের আবির্ভাব ঘটেছে যারা সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ না করার আহ্বান জানায়; তারা নিজেদেরকে (আহলুল কুরআন) নামে অভিহিত করে এবং তাদের চিন্তাধারা প্রচারের জন্য অনেক বই ও পুস্তিকা রচনা করেছে (১)।

 

এগুলো ইসলামবিদ্বেষীদের কিছু দাবি, যার মাধ্যমে তারা মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে এবং তাদের অন্তরে আকিদাহকে টলিয়ে দিতে চেয়েছিল; যাতে তারা আমাদের পবিত্র মুসলিম দেশগুলোতে তাদের মতাদর্শ প্রচার করতে পারে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্যের পর বস্তুগতভাবেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের কিছু যুবক যারা ইসলামের সংস্কৃতিতে শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়নি, তারা এই চিন্তাগুলোকে গ্রহণ করেছে যা আমাদের শত্রুদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করে। অথচ এমন এক সময়ে আমরা সুন্নাহর বিধান, চরিত্র, আদব ও দিকনির্দেশনা আঁকড়ে ধরার জন্য সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী, ঠিক যেভাবে জাতিসমূহ তাদের ঐতিহ্যের জন্য গর্ব ও অহংকার করে থাকে এবং অন্যান্য জাতির ন্যায়পরায়ণ পণ্ডিতরাও এর সাক্ষ্য দেন...

--------------------------------------------

(১) আল্লামা সাইয়্যিদ সুলায়মান নদভী (রহিমাহুল্লাহ)-এর "সুন্নাহর অর্থের বিশ্লেষণ এবং এর প্রয়োজনীয়তার বর্ণনা" শীর্ষক প্রবন্ধটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৩)
بعظمة تراثنا التشريعي، فكيف يتنكر له بعض المسلمين، ونحن أحوج ما نكون إلى التمسك به، بعد أن عانى المسلمون وطأة الإستعمار فترة طويلة، وذاقوا مرارة التفرقة والهوان، بعد أن كانوا سادة العالم.

 

نحن - في نهضتنا - بحاجة إلى الرجوع إلى شريعتنا، إلى قرآننا وسُنَّة رسولنا، بعد أن حطمنا القيود، ونقضنا غبار الجهالة، ومزَّقنا عصابة العماية عن العيون، فلا بد لإتمام تحرُّرنا من أنْ نتخلَّص من هذه الأفكار التي تسرَّبت إلى صفوفنا، وحملها بعض إخواننا وأبنائنا، سواء أكان هذا عن حسن نية منهم أم عن سوء نية، لأنها تخدم أعداءنا الذين لا يسرهم اجتماع كلمتنا وسعادتنا.

 

ولما كانت السنة مُبيِّنة للقرآن الكريم، ولا يمكن الاستغناء عنها، ولما كان الواقع في حفظ السُنَّة يخالف ما ادعاه المغرضون، كان لا بد من تناول السُنَّة بدراستها وبحث تاريخها، وقد بيَّن الأصوليون وبعض المُحدِّثين مكانة السُنَّة من التشريع الإسلامي، وبقي أن تُبيِّن الحقيقة التاريخية للسُنَّة وكيف اعتنى السلف الصالح بها وحفظها ونقلها قبل أن تصلنا في كتبها المشهورة.

 

وقد رأيت أن أتناول هذا الجانب من البحث في فترة ما قبل التدوين، وأقصد بالتدوين هنا التدوين والتصنيف المشهور، الذي كان في مطلع القرن الهجري الثاني تمشياً مع عرف علماء الحديث، والذي يعود الفضل فيه إلى الخليفة عمر بن عبد العزيز، فليكن هذا هو التدوين الرسمي، ذلك لأنه قد ثبت تدوين جانب من السُنَّة في عهده صلى الله عليه وسلم وعهد الصحابة.

 

تلك أسباب لاختيار هذا الموضوع، وسبب آخر هو أنه لم يسبق لأحد أنْ بَحَثَ كيف اجتازت السُنَّة تلك الحقبة بحثاً دقيقاً وافياً، إنما كان بحث السلف في هذه الناحية لا يعدو ذكر لمحات عن تلك الحقبة، لاقتناعهم واقتناع المسلمين بأنَّ
আমাদের বিধানিক ঐতিহ্যের এই মহত্ত্বের মুখে কিছু মুসলিম কীভাবে একে অস্বীকার করতে পারে, অথচ আমরা এর সাথে আঁকড়ে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী, বিশেষ করে যখন মুসলিমরা দীর্ঘকাল ধরে উপনিবেশবাদের দমন-পীড়নে ভুগেছে এবং বিভাজন ও অপমানের তিক্ততা আস্বাদন করেছে, যখন তারা একসময় ছিল বিশ্বের নেতা।

 

আমাদের এই নবজাগরণে আমরা আমাদের শরীয়তের দিকে, আমাদের কুরআন এবং আমাদের রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। আমরা আমাদের শিকল ভেঙেছি, অজ্ঞতার ধূলি ঝেড়ে ফেলেছি এবং চোখ থেকে অন্ধত্বের পট্টি ছিঁড়ে ফেলেছি; তাই আমাদের মুক্তি পূর্ণ করতে হলে অবশ্যই আমাদের কাতারগুলোতে অনুপ্রবেশ করা সেই সব চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে হবে যা আমাদের কিছু ভাই ও সন্তান বহন করছে—তা তাদের সদিচ্ছায় হোক বা অসদিচ্ছায়, কারণ তা আমাদের শত্রুদেরই সেবা করে যারা আমাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও সুখে আনন্দিত নয়।

 

যেহেতু সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যাকারী এবং তা থেকে বিমুখ হওয়া অসম্ভব, আর যেহেতু সুন্নাহ সংরক্ষণের বাস্তবতা বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিদের দাবির বিপরীত, তাই সুন্নাহর অধ্যয়ন ও এর ইতিহাস গবেষণার বিষয়টি গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিল। উসূলবিদ ও কিছু মুহাদ্দিসগণ ইসলামী বিধানে সুন্নাহর মর্যাদা বর্ণনা করেছেন, এবং এখন সুন্নাহর ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং সালাফে সালেহীন কীভাবে একে বিখ্যাত গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ হওয়ার আগে যত্ন করেছেন, সংরক্ষণ করেছেন ও বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্ট করা অবশিষ্ট রয়েছে।

 

আমি গবেষণার এই দিকটি সংকলন-পূর্ব যুগ বা ‘তাদউইন’-পূর্ব সময়ের আলোকে আলোচনা করা সমীচীন মনে করেছি। এখানে ‘তাদউইন’ বলতে আমি মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা অনুযায়ী সেই বিখ্যাত সংকলন ও বিন্যাসকে বুঝিয়েছি যা দ্বিতীয় হিজরী শতকের শুরুতে হয়েছিল এবং যার কৃতিত্ব খলীফা উমর ইবনে আবদুল আজিজের প্রাপ্য। একে আমরা রাষ্ট্রীয় বা আনুষ্ঠানিক সংকলন বলতে পারি, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এবং সাহাবীগণের যুগে সুন্নাহর কিছু অংশ সংকলিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত।

 

এই বিষয় নির্বাচনের পেছনে এগুলোই ছিল কারণ, আর অন্য একটি কারণ হলো—এর আগে কেউ সুন্নাহ কীভাবে সেই যুগটি অতিবাহিত করেছে তা নিয়ে নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ গবেষণা করেনি। এই ক্ষেত্রে পূর্বসূরীদের গবেষণা কেবল সেই যুগের কিছু খণ্ডচিত্র উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কারণ তারা এবং সাধারণ মুসলিমরা এই ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন যে...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৪)
السُنَّة قد حفظت على أحسن وجه، بفضل حُفَّاظها وعلمائها، لهذا توزعت مادة البحث في مراجع كثيرة، في كتب الحديث وشروحها، وكتب مصطلحه وعلومه، وفي تراجم الرُواة، وكتب التاريخ والأصول وغيرها، وإذا كانت هذه النتف تشكل معظم مادة الموضوع، فإنها لا تعطي - كما هي - صورة كاملة عن حقيقة السُنَّة وحفظها آنذاك.

 

هكذا أقدمت على دراسة السُنَّة في تلك الفترة، من خلال أمهات المصادر، المخطوط منها والمطبوع، قديماً وحديثاً، ويممت شطر أمهات دور الكتب العامة والخاصة، في دمشق وحلب والقاهرة .. ورجعت إلى مخطوطات نادرة، كما صَوَّرْتُ بعض المخطوطات من البلاد التي لم تتيسَّرْ لي زيارتها، فكان البحث شاقاً من جهة، ويتطلَّب الدقة من جهة أخرى، واضحاً حيناً، ومُعَقَّداً أحياناً، ومع هذا تابعت البحث بروح علمية، يحدوني الصبر، وتعللني ومضات الأمل. وكان لإشراف فضيلة الأستاذ علي حسب الله وتشجيعه، أثر طيب في إخراج هذا الموضوع بثوب جديد، يصوِّرُ السُنَّة في تلك الفترة تصويراً دقيقاً، من حيث عناية الأمَّة بها وحفظها، والاهتمام بنقلها، والتثبت في روايتها على أسلم القواعد العلمية، وكتابتها ونشاط العلماء في تبليغها، وحرصهم على صيانتها، وعوامل انتشارها، ودراسة الأسباب التي كادت تسيء إليها، وجهود العلماء في سبيل حفظها.

 

وقد تعرضتُ لكثير من الشبهات والآراء، وناقشتها، ورددت عليها، وبيَّنت وجه الحق مدعماً بالأدلة والبراهين، فكان الموضوع في تمهيد وخمسة أبواب وخاتمة.
সুন্নাহ সর্বোত্তম উপায়ে সংরক্ষিত হয়েছে এর হাফেজ এবং আলিমগণের কল্যাণে। একারণেই গবেষণার উপাদানগুলো বহু তথ্যসূত্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে—হাদীসের গ্রন্থসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা ও জ্ঞান সংক্রান্ত কিতাবসমূহ, বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত এবং ইতিহাস ও মূলনীতিবিদ্যার কিতাবসমূহ সহ আরও অন্যান্য গ্রন্থে। যদিও এই বিক্ষিপ্ত অংশগুলোই আলোচ্য বিষয়ের অধিকাংশ উপাদান গঠন করে, তবে বর্তমান অবস্থায় সেগুলো তৎকালীন সুন্নাহর স্বরূপ এবং এর সংরক্ষণের ব্যাপারে কোনো পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপন করে না।

 

এভাবেই আমি উক্ত সময়ের সুন্নাহ নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ গ্রহণ করি—প্রাচীন ও আধুনিক পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত মৌলিক উৎসগ্রন্থগুলোর মাধ্যমে। আমি দামেস্ক, আলেপ্পো ও কায়রোর প্রধান সরকারি ও বেসরকারি পাঠাগারসমূহের অভিমুখী হই। আমি বিরল কিছু পাণ্ডুলিপির দ্বারস্থ হয়েছি, এমনকি যেসব দেশ সফর করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি সেখান থেকে কিছু পাণ্ডুলিপির অনুলিপি সংগ্রহ করেছি। একদিকে গবেষণাটি ছিল অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং অন্যদিকে তাতে চরম সূক্ষ্মতার প্রয়োজন ছিল; কখনো তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট, আবার কখনো জটিল। তা সত্ত্বেও আমি তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গবেষণাটি চালিয়ে গেছি, যেখানে ধৈর্য ছিল আমার সঙ্গী আর আশার ঝিলিক ছিল আমার সান্ত্বনা। এই বিষয়টিকে একটি নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আলী হাসাবাল্লাহ-এর তত্ত্বাবধান ও উৎসাহের এক চমৎকার প্রভাব ছিল, যা সেই যুগের সুন্নাহর একটি সূক্ষ্ম চিত্র ফুটিয়ে তোলে—এর প্রতি উম্মাহর যত্ন ও সংরক্ষণ, এর বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক মূলনীতির ভিত্তিতে এর বর্ণনার সত্যতা যাচাই, এর লিপিবদ্ধকরণ ও প্রচারে আলিমগণের তৎপরতা, এর সুরক্ষায় তাদের গভীর আগ্রহ, এর প্রসারের কারণসমূহ এবং যেসব কারণ এর ক্ষতির উপক্রম করেছিল সেগুলোর পর্যালোচনা ও তা সংরক্ষণে আলিমগণের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে।

 

আমি অনেক সংশয় ও মতামতের মুখোমুখি হয়েছি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করেছি এবং দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্যের দিকটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছি। এই গবেষণাপত্রটি একটি ভূমিকা, পাঁচটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৫)
التمهيد، وفيه:

أولاً: التعريف بالسُنَّة لغة وشرعاً.

ثانياً: موضوع السُنَّة ومكانتها من القرآن الكريم.

 

الباب الأول: السُنَّة في العهد النبوي.

وفيه تحدَّثتُ عن الرسول صلى الله عليه وسلم من حيث هو معلم ومربّ، وبيَّنتُ موقفه عليه الصلاة والسلام من العلم، ومنهجه في التبليغ، وتعليم أصحابه رضي الله عنهم، وكيف كان الصحابة يتلقون السُنَّة عنه عليه الصلاة والسلام.

 

الباب الثاني: السُنَّة في عصر الصحابة والتابعين، وفيه فصلان:

 

الفصل الأول، وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: تأسِّي الصحابة والتابعين بالرسول صلى الله عليه وسلم وتمسُّكهم بسُنَّته.

المبحث الثاني: احتياط الصحابة والتابعين وورعهم في رواية الحديث.

المبحث الثالث: ثتبُّت الصحابة والتابعين في قبول الحديث.

المبحث الرابع: كيف رُوِيَ الحديث في ذلك العصر باللفظ أم بالمعنى؟

 

الفصل الثاني، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: النشاط العلمي في عصر الصحابة والتابعين.

المبحث الثاني: انتشار الحديث في عصر الصحابة والتابعين.

المبحث الثالث: الرحلة في طلب الحديث.
উপক্রমণিকা, এতে রয়েছে:

প্রথমত: শাব্দিক ও শরয়ী পরিভাষায় সুন্নাহর পরিচিতি।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহর বিষয়বস্তু এবং পবিত্র কুরআনের আলোকে এর মর্যাদা।

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: নববী যুগে সুন্নাহ।

এতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন শিক্ষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে বর্ণনা করেছি। আমি ইলম বা জ্ঞানের বিষয়ে তাঁর অবস্থান, তাঁর প্রচারের পদ্ধতি এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করেছি। এছাড়া সাহাবায়ে কেরাম কীভাবে তাঁর থেকে সুন্নাহ গ্রহণ করতেন তাও উল্লেখ করেছি।

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবিঈদের যুগে সুন্নাহ, এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে:

 

প্রথম অধ্যায়, এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবিঈদের আদর্শ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবিঈদের সতর্কতা এবং তাকওয়া।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবিঈদের সত্যতা যাচাই।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সেই যুগে হাদিস কীভাবে বর্ণিত হতো—শব্দে শব্দে নাকি মর্মার্থে?

 

দ্বিতীয় অধ্যায়, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবিঈদের যুগে ইলমি তৎপরতা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবিঈদের যুগে হাদিসের প্রসার।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিস অন্বেষণে সফর।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৬)
الباب الثالث: الوضع في الحديث، وفيه أربعة فصول:

 

الفصل الأول: ابتداء الوضع وأسبابه.

الفصل الثاني: جهود الصحابة والتابعين ومن تبعهم في مقاومة الوضع وحفظ الحديث.

الفصل الثالث: آراء بعض المستشرقين وأشياعهم في السُنَّة ونقدها.

الفصل الرابع: أشهر ما أُلِّف في الرجال والموضوعات، وهو ثمار جهود العلماء في المحافظة على الحديث.

 

الباب الرابع: متى دُوِّن الحديث؟ وفيه ثلاثة فصول:

 

الفصل الأول: حول تدوين الحديث، وفيه أخبار حول كتابة السُنَّة، وأخرى حول كراهية كتابتها، ومناقشة الأخبار وخلاصة هذه المناقشة.

الفصل الثاني: ما دُوِّنَ في عصر الرسول صلى الله عليه وسلم وفي صدر الإسلام.

الفصل الثالث: آراء في التدوين.

 

الباب الخامس: بعض أعلام رُواة الحديث من الصحابة والتابعين، وفيه فصلاة:

 

الفصل الأول: بعض أعلام الرُواة من الصحابة.

وفيه تعريف الصحابي، وعدالة الصحابة، ثم ترجمة المكثرين من الحديث منهم وهم:

1 - أبو هريرة.

2 - عبد الله بن عمر.

3 - أنس بن مالك.

4 - عائشة أم المؤمنين.

5 - عبد الله بن عباس.

6 - جابر بن عبد الله.

7 - أبو سعيد الخدري.
তৃতীয় অধ্যায়: হাদিস জালকরণ, এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস জালকরণের সূচনা ও এর কারণসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস জালকরণ প্রতিরোধে এবং হাদিস সংরক্ষণে সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের অনুসারীদের প্রচেষ্টা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ সম্পর্কে কতিপয় প্রাচ্যবিদ ও তাঁদের অনুসারীদের অভিমত এবং সেগুলোর সমালোচনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রিজাল (বর্ণনাকারী) এবং জাল হাদিস বিষয়ক প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ, যা মূলত হাদিস সংরক্ষণে উলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টার ফসল।

 

চতুর্থ অধ্যায়: কখন হাদিস সংকলিত হয়েছে? এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস সংকলন প্রসঙ্গে; এতে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার সপক্ষের বর্ণনা এবং এর অপছন্দনীয়তা বিষয়ক বর্ণনা, বর্ণনাসমূহের পর্যালোচনা ও পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ রয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এবং ইসলামের প্রথম যুগে যা সংকলিত হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংকলন প্রসঙ্গে কতিপয় অভিমত।

 

পঞ্চম অধ্যায়: সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্য থেকে হাদিসের প্রসিদ্ধ কতিপয় বর্ণনাকারী, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবীদের মধ্য থেকে কতিপয় প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী।

এতে রয়েছে সাহাবীর সংজ্ঞা, সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা, অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের জীবনী, তাঁরা হলেন:

১ - আবু হুরায়রা।

২ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর।

৩ - আনাস ইবনে মালিক।

৪ - উম্মুল মুমিনীন আয়েশা।

৫ - আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস।

৬ - জাবির ইবনে আবদুল্লাহ।

৭ - আবু সাঈদ আল-খুদরী।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الثاني: بعض أعلام الرُواة من التابعين:

1 - سعيد بن المسيب.

2 - عروة بن الزبير.

3 - محمد بن مسلم بن شهاب الزهري.

4 - نافع مولى ابن عمر.

5 - عبيد الله بن عبد الله.

6 - سالم بن عبد الله بن عمر.

7 - إبراهيم النخعي.

8 - عامر الشعبي.

9 - علقمة النخعي.

10 - محمد بن سيرين.

 

وقد يتبادر للوهلة الأولى أنه يمكننا الاستغناء عن الباب الخامس، بما جاء في كتب التراجم، ولكني رأيت من الأهمية بمكان أن أدرس بعض رجال الحديث من الصحابة والتابعين، لأُقَدِّم نموذجاً عظيماً عن القلوب الواعية التي حفظت السُنَّة، والأيدي الطاهرية التي نقلتها بأمانة وإخلاص، على أسلم قواعد التثبت العلمي، وبخاصة أنَّ بعض أهل الأهواء والمستشرقين، كانوا قد طعنوا في مشاهير الرُواة منهم، فرأيت إتماماً للبحث أنْ أُفَنِّدَ طعونهم وافتراءاتهم حين أترجم لهم، وأبيِّنُ الحق من الباطل، بعد أنْ أصحبت أمهات كتب تراجم رجال الحديث في عصرنا نادرة جِدًّا، وقد يعْسر على طلاب العلم الرجوع إليها، فرجح عندي الإقدام على ضم هذا الباب إلى الموضوع، وبهذا أكونُ قد بيَّنْتُ حياة السُنَّة في هذه الحقبة، ودرست مشاهير حُفَّاظها ونَقَلَتِهَا.

 

وكانت الخاتمة خلاصة عامة للبحث.

 

وإني لأرجو الله الكريم أنْ أكون قد وُفِّقْتُ لعرض الموضوع بشكل يحقق الغاية منه، فإني لم آلًُ جهداً، ولم أدَّخِرْ وُسعاً للوصول إلى الحقيقة، وأنا مع هذا لا أدَّعي الكمال في بحثي، وكل ما قُمتُ به لا يعدو محاولة علمية لدراسة السُنَّة وتاريخها في فترة معينة على منهج علمي يسهل الرجوع إليه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাবিঈগণের মধ্য থেকে কতিপয় প্রখ্যাত বর্ণনাকারী:

১ - সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব।

২ - উরওয়া ইবনুয যুবাইর।

৩ - মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু শিহাব আয-যুহরী।

৪ - নাফি মাওলা ইবনু উমর।

৫ - উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ।

৬ - সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমর।

৭ - ইবরাহীম আন-নাখায়ী।

৮ - আমির আশ-শা’বী।

৯ - আলকামা আন-নাখায়ী।

১০ - মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন।

 

প্রথম দৃষ্টিতে হয়তো মনে হতে পারে যে, জীবনী গ্রন্থসমূহে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে আমরা পঞ্চম অধ্যায়টি বাদ দিতে পারি, কিন্তু আমি সাহাবী ও তাবিঈগণের মধ্য থেকে কতিপয় হাদীস বর্ণনাকারীদের নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি। যাতে আমি সেই সচেতন হৃদয়গুলোর একটি মহান দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারি যারা সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছেন, এবং সেই পবিত্র হাতগুলোর বর্ণনা দিতে পারি যারা আমানতদারি ও ইখলাসের সাথে সঠিক বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ের নিয়মানুযায়ী তা বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে যেহেতু প্রবৃত্তি পূজারী ও প্রাচ্যবিদদের কেউ কেউ তাদের মধ্যকার প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের ওপর কটাক্ষ করেছিলেন, তাই আমি গবেষণার পূর্ণতার স্বার্থে তাদের জীবনী আলোচনার সময় তাদের সমালোচনা ও অপবাদসমূহ খণ্ডন করা এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করেছি। বিশেষত বর্তমান সময়ে রিজাল শাস্ত্রের মৌলিক গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়েছে এবং জ্ঞানান্বেষীদের পক্ষে সেগুলোর সাহায্য নেওয়া কঠিন হতে পারে। একারণে এই অধ্যায়টিকে মূল বিষয়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত করাকেই আমি প্রাধান্য দিয়েছি। এর মাধ্যমে আমি এই যুগে সুন্নাহর অবস্থা পরিষ্কার করেছি এবং এর প্রসিদ্ধ হাফিয ও বর্ণনাকারীদের নিয়ে গবেষণা করেছি।

 

আর উপসংহারটি ছিল গবেষণার একটি সাধারণ সারসংক্ষেপ।

 

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করার তাওফিক দান করেন যা এর উদ্দেশ্য পূরণ করে। সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য আমি কোনো শ্রম দিতে কার্পণ্য করিনি এবং কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি। এতদসত্ত্বেও আমি আমার গবেষণায় পূর্ণতার দাবি করি না। আমি যা করেছি তা একটি নির্দিষ্ট সময়ে সুন্নাহ ও তার ইতিহাস নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণার প্রচেষ্টামাত্র, যাতে এর সাহায্য নেওয়া সহজ হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৮)
وأسأل الله عز وجل أنْ يوفق الأجيال إلى دراسة الشريعة الإسلامية الخالدة، وفهمها وتطبيقها، وأنْ يجمع العرب والمسلمين جَمِيعًا على كتاب الله وسُنَّة رسوله، ليهتدي بهديه، وتعيد للعالم نضارته، وتُحَقِّقَ سعادته، كما حقَّقَها أسلافنا العظام.

 

وأخيراً أشكر فضيلة أستاذي المشرف، الذي شملني بعطفه وتوجيهاته، مع كثرة واجباته وتبعاته، وضيق وقته، كما أشكر كل مَنْ ساعدني مِنْ أساتذتي وإخواني، وسهَّل مُهمَّتي.

 

وختاماً أرجو كل من يطَّلع على هذ البحث فيجد ما يحتاج إلى تعديل أو تبديل، أن يفيدني بما عنده، والله أسأله الرشاد والسداد.

 

…

29 جمادى الأولى 1382 هـ

28 أكتوبر (تشرين الأول) 1962 م

 

محمد عجاج الخطيب
আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে শাশ্বত ইসলামী শরীয়াহ অধ্যয়ন, তা অনুধাবন এবং তা বাস্তবায়নের তাওফীক দান করেন। আর তিনি যেন সকল আরব ও মুসলিমকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন, যাতে তারা তাঁর হেদায়েত লাভ করতে পারে এবং বিশ্বের নিকট এর সজীবতা ফিরিয়ে দিতে পারে ও এর সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে, যেভাবে আমাদের মহান পূর্বসূরিগণ তা নিশ্চিত করেছিলেন।

 

সবশেষে আমি আমার শ্রদ্ধেয় সুপারভাইজার (তত্ত্বাবধায়ক) উস্তাদকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি তাঁর অগাধ দায়িত্ব, ব্যস্ততা এবং সময়ের স্বল্পতা সত্ত্বেও আমাকে তাঁর স্নেহ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। একইভাবে আমি আমার সেই সকল শিক্ষক ও ভাইদের ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে সাহায্য করেছেন এবং আমার কাজকে সহজ করে দিয়েছেন।

 

পরিশেষে, যারা এই গবেষণাটি পাঠ করবেন তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ—যদি কোনো সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করেন, তবে যেন আমাকে তা অবহিত করেন। আমি আল্লাহর নিকট সঠিক পথ ও নির্ভুলতার প্রার্থনা করি।

 

…

২৯ জুমাদাল উলা ১৩৮২ হিজরি

২৮ অক্টোবর ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ

 

মুহাম্মদ আজজাজ আল-খতিব
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تَمْهِيدٌ:

- التعريف بالسُنَّة لغة وشرعاً …

- موضوع السُنَّة ومكانتها من القرآن الكريم.

 

ختم الله عز وجل رسالات السماوات العلا إلى الأرض، برسالة الإسلام، فبعث محمداً صلى الله عليه وسلم رسولاً هادياً، مُبشراً ونذيراً، {وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} (1).

 

ونبأه بذلك عام 610 من ميلاد عيسى عليه السلام بعد أربعين سَنَة من مولده صلى الله عليه وسلم، فشرَّفه الله عز وجل بحمل الرسالة السامية الخالدة، إلى الناس كافة {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} (2).

 

وأمره أنْ يبلِّغ أحكام الإسلام وتعاليمه فقال: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ} (3).

 

وأمره أن يدعو أهله وعشيرته إلى الإسلام فقال: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ، وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} (4). ليهدي قومه إلى سبيل الرشاد، فيحملوا عبء تبليغ الرسالة إلى الأمم الأخرى،

--------------------------------------------

(1) [سورة الأحزاب، الآية: 46].

(2) [سورة الأعراف، الآية: 158].

(3) [سورة المائدة، الآية: 67].

(4) [سورة الشعراء، الآية: 214 - 215].
ভূমিকা:

- শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহর পরিচিতি …

- সুন্নাহর আলোচ্য বিষয় এবং পবিত্র কুরআনে এর মর্যাদা।

 

মহান আল্লাহ ইসলামের বার্তার মাধ্যমে সুউচ্চ আসমান থেকে জমিনের দিকে প্রেরিত সকল আসমানি বার্তার সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। অতঃপর তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে রাসুলরূপে প্রেরণ করেছেন, {এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} (১)।

 

এবং ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মের চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তাঁকে নবুওয়তের সংবাদ দান করেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে সমস্ত মানুষের কাছে এই মহান ও শাশ্বত রিসালাতের দায়িত্ব অর্পণ করে সম্মানিত করেছেন, {বলুন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রাসুল; যাঁর হাতে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা আল্লাহর ওপর এবং তাঁর উম্মি নবি রাসুলের ওপর ঈমান আনো, যিনি আল্লাহ ও তাঁর কালামের ওপর ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত হও} (২)।

 

এবং তিনি তাঁকে ইসলামের বিধান ও শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {হে রাসুল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে তো আপনি তাঁর রিসালাত (বার্তা) পৌঁছে দিলেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না} (৩)।

 

এবং তিনি তাঁকে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন, আর যারা আপনার অনুসরণ করে সেই মুমিনদের প্রতি আপনি আপনার ডানা নিচু করুন (বিনয়ী হোন)} (৪)। যাতে তিনি তাঁর জাতিকে সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করতে পারেন, ফলে তারা অন্য জাতিগুলোর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বহন করতে পারে,

--------------------------------------------

(১) [সুরা আল-আহজাব, আয়াত: ৪৬]।

(২) [সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৮]।

(৩) [সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৭]।

(৪) [সুরা আশ-শুয়ারা, আয়াত: ২১৪ - ২১৫]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১০)
فيكون لهم شرف المُبَلِّغ الهادي، ويخلد اسمهم أبد الدهر كما أراد الله للرسول الكريم عليه الصلاة والسلام، وللأمَّة العربية التي انطلقت تحرِّرُ العالم من الظلم والطغيان، وتوجه مركب الإنسانية إلى شاطئ السلام، وتخرجه من الظلمات إلى النور سالكة سبيل الهداية والحق بعد أن تنكب الناس الصراط المستقيم، وتخبطوا في غياهب الجهالة والضلال. تتقاذفهم أمواج الأهواء كما تشاء، وتحملهم أعاصير الجبابرة كالهباء.

 

إلَاّ أنَّ هداية العرب لم تكن سهلة، بل تحمَّلَ السلو الكريم عليه الصلاة والسلام في سبيلها المشاق الكثيرة، وأُوذِيَ في جسمه وماله وأهله وأصحابه ووطنه، وكان يدعو ليلا ًونهاراً وسرّاً وإعلاناً، ويسأل الله السداد والرشاد، متطلِّعاً إلى هداية قومه ليتحمَّلوا الرسالة ويؤدوا الأمانة.

 

لقد أحِيَ إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، وقومه على دين آبائهم، وثنية وأصنام، يسودهم النظام القبلي، وتربط بينهم صلة القرابة والدم، لا يحكمهم نظام عام، بل يخضعون للعادات والأعراف، يدفعهم الشرف والمفاخرة بالأنساب إلى المنافسة في المكارم والمروءات، يعيشون في حلقة القبيلة والأسرة، في إطار الجزيرة العربية.

 

وكان لهذا أثر بعيد في صفاء نفوسهم ومحافظتهم على أمجادهم وعاداتهم، وتفانيهم في سبيل مثلهم الأعلى، حتى كانوا يسرفون في ذلك، فهم كرام يبذلون ما يستطيعون للضيف، فيبلغون في ذلك حدَّ الإسراف.

 

ويأبون العار ولو أدى بأعز ما لديهم إلى الردى، ولهذا وَأَدُوا بناتهم خشية الفقر والزلل. ويحبُّون تحقيق الأمجاد والبطولات، ولكنهم ضلوا الطريق وحرموا العقيدة الموصلة إلى ذلك، ترى العفة والكرامة من أخلاقهم،
ফলে তারা পথপ্রদর্শক প্রচারকের মর্যাদা লাভ করবেন এবং তাদের নাম চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকবে যেমনটি আল্লাহ মহিমান্বিত রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) এবং সেই আরব জাতির জন্য চেয়েছিলেন যারা বিশ্বকে জুলুম ও স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করতে এবং মানবতার তরীকে শান্তির কূলে ভিড়াতে এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে হেদায়েত ও সত্যের পথ ধরে যাত্রা শুরু করেছিল; যখন মানুষ সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মূর্খতা ও গোমরাহির অতল গহ্বরে হাবুডুবু খাচ্ছিল। প্রবৃত্তির তাড়না তাদের খেয়ালখুশিমতো আছড়ে ফেলছিল এবং জালিমদের ঘূর্ণিঝড় তাদের তুচ্ছ ধূলিকণার মতো উড়িয়ে নিচ্ছিল।

 

তবে আরবদের হেদায়েত সহজ ছিল না, বরং মহিমান্বিত রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) এর পথে অগণিত কষ্ট সহ্য করেছিলেন। তিনি তাঁর শারীরিক সুস্থতা, ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং স্বদেশের বিষয়ে নির্যাতিত ও দুঃখপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি দিবারাত্রি গোপনে ও প্রকাশ্যে দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতেন এবং আল্লাহর কাছে সঠিক পথ ও হেদায়েত প্রার্থনা করতেন; এই আশায় যে তাঁর জাতি যেন হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়ে এই রিসালাতের গুরুভার বহন করে এবং আমানত যথাযথভাবে আদায় করে।

 

রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর প্রতি তখন ওহী অবতীর্ণ হয়েছিল যখন তাঁর জাতি তাদের পিতৃপুরুষদের ধর্ম অর্থাৎ পৌত্তলিকতা ও মূর্তিপূজায় নিমজ্জিত ছিল। তাদের ওপর গোত্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রাধান্য বিস্তার করেছিল এবং রক্ত ও আত্মীয়তার বন্ধনই ছিল তাদের মূল যোগসূত্র। কোনো সাধারণ আইন ব্যবস্থা তাদের নিয়ন্ত্রণ করত না, বরং তারা প্রথা ও ঐতিহ্যের অনুগত ছিল। বংশীয় মর্যাদা ও আভিজাত্যের গৌরব তাদের মহানুভবতা ও বীরত্বের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রাখত। তারা আরব উপদ্বীপের প্রেক্ষাপটে কেবল পরিবার ও গোত্রের গণ্ডিতেই জীবন অতিবাহিত করত।

 

তাদের অন্তরের স্বচ্ছতা, ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং নিজেদের আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠতার পেছনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল; এমনকি তারা এ ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করত। তারা অত্যন্ত মেহমানদার ছিল, মেহমানের জন্য সাধ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিত এবং এ ক্ষেত্রে তারা অপচয়ের সীমায় পৌঁছে যেত।

 

তারা অপমান ও কলঙ্ক সইতে পারত না, এমনকি তা যদি তাদের সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে ধ্বংসের মুখেও ঠেলে দিত তবুও। একারণেই তারা দারিদ্র্য ও মর্যাদাহানির ভয়ে নিজেদের কন্যাদের জীবন্ত কবর দিত। তারা মহিমা ও বীরত্বগাথা রচনা করতে পছন্দ করত, কিন্তু তারা পথ হারিয়ে ফেলেছিল এবং সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো সঠিক আকিদা ও বিশ্বাস থেকে বঞ্চিত ছিল। পবিত্রতা ও আত্মমর্যাদা ছিল তাদের সহজাত চারিত্রিক গুণাবলি,
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১১)
والكرم والشجاعة من سجاياهم، والحمية والثأر تسير في عروقهم، فلا ينامون على ضيم، وويل لمن غضب عليه العرب، إذْ كانوا يثورون لأتفه الأسباب، يكفي أنْ يستفز القبيلة فردٌ أهينت كرامته، فتنطلق جميعها كباراً وصغاراً تدفع عنه ما أصابه، لأنَّ كرامة الفرد من كرامة القبيلة، وإلى هذا يمكننا أنْ نَرُدَّ أكثر الغزوات والغارات التي كانت بين القبائل قبل الإسلام.

 

وقد حفظت ذاكرتهم القوية أشعارهم وأنسابهم التي كانت بمثابة سجل تاريخي لهم، وكان كل ذلك من المؤهلات التي أعدَّتْهُم لحمل الرسالة الإسلامية فيما بعد.

 

وإذا كانوا قد عبدوا الأوثان فإنهم لم يروها خالقة مدبِّرة لأمور الكون وشؤونه، بل عبدوها زُلْفَى إلى الله {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَاّ لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} (1).

ولم تكن عقائدهم معقدة مركبة كما كانت عليه عقائد سكان البلاد المجاورة من الفرس والهند، بل كانوا أصفياء النفوس، ويمكننا أنْ نقول: إنَّ عندهم فراغا عقدياً تستره تلك العبادات والمعتقدات الأولية، التي لم تقف على قدميها أمام عقيدة الإسلام المتماسكة الكاملة. ولهذا كان العرب يمتازون عن غيرهم من الأمم بتلك الصفات التي أهَّلَتْهُم فيما بعد لأنْ يكونوا جنود الإسلام وحملة لوائه إلى العالم.

 

ومع هذا لم يكن من السهل أنْ يستجيب العرب جَمِيعًا إلى دعوة الرسول الكريم بادئ ذي بدء، إذْ كان من الصعب أنْ يتركوا دين آبائهم وأجِدًّادهم، فإذا ما دعاهم إلى الله قال له أقرب الناس إليه: تبّاً لك!! ألهذا دعوتنا؟ وأوذي صلى الله عليه وسلم في سبيل دعوته كثيراً، ولم يؤمن به إلَاّ نفر قليل: زوجه،

--------------------------------------------

(1) [سورة الزمر، الآية: 3].
উদারতা এবং বীরত্ব ছিল তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য, আর আত্মমর্যাদাবোধ ও প্রতিশোধপরায়ণতা তাদের ধমনীতে প্রবাহিত হতো। তারা অবিচার মুখ বুজে সহ্য করত না। ধ্বংস তার জন্য যার ওপর আরবরা ক্রুদ্ধ হতো, কেননা তারা অতি সামান্য কারণেই উত্তেজিত হয়ে উঠত। গোত্রের কোনো একজনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়াই পুরো গোত্রকে খেপিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। তখন আবালবৃদ্ধবনিতা সকলে মিলে তার ওপর আসা অপমানের প্রতিশোধ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ত। কারণ, ব্যক্তির মর্যাদা ছিল গোত্রেরই মর্যাদা। আর প্রাক-ইসলামী যুগে গোত্রগুলোর মধ্যে সংঘটিত অধিকাংশ যুদ্ধ ও হামলার মূল কারণ হিসেবে আমরা একেই চিহ্নিত করতে পারি।

 

তাদের প্রখর স্মৃতিশক্তি তাদের কবিতা এবং বংশপরম্পরাকে সংরক্ষণ করেছিল, যা তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিলের মতো ছিল। এই গুণাবলির সবই ছিল এমন যোগ্যতা যা পরবর্তীকালে তাদেরকে ইসলামের বার্তা বহনের জন্য প্রস্তুত করেছিল।

 

যদিও তারা মূর্তিপূজা করত, তবে তারা সেগুলোকে মহাবিশ্বের স্রষ্টা বা সবকিছুর নিয়ন্ত্রক মনে করত না। বরং তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে সেগুলোর পূজা করত: "আমরা তো তাদের পূজা করি না, তবে এই জন্য যে তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে" (১)।

তাদের বিশ্বাস বা আকিদা পার্শ্ববর্তী পারস্য ও ভারতের বাসিন্দাদের মতো জটিল ও মিশ্র ছিল না; বরং তারা ছিল স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী। আমরা বলতে পারি যে, তাদের মাঝে একটি বিশ্বাসগত শূন্যতা ছিল, যা এই প্রাথমিক ইবাদত এবং বিশ্বাসগুলো দিয়ে ঢাকা ছিল, যেগুলো ইসলামের সুসংহত ও পূর্ণাঙ্গ আকিদার সামনে টিকতে পারেনি। এ কারণেই আরবরা অন্যান্য জাতির তুলনায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল, যা পরবর্তীকালে তাদেরকে ইসলামের সৈনিক এবং বিশ্বজুড়ে ইসলামের ঝাণ্ডাবাহী হওয়ার যোগ্য করে তুলেছিল।

 

তা সত্ত্বেও, সূচনালগ্নে সকল আরবের পক্ষে মহান রাসূলের দাওয়াতে সাড়া দেওয়া সহজ ছিল না। কেননা তাদের পক্ষে নিজেদের বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। যখনই তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠতম লোকেরাই তাঁকে বলত: "তোমার ধ্বংস হোক! এই জন্য কি তুমি আমাদেরকে ডেকেছ?" দাওয়াতের পথে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনেক নির্যাতিত হয়েছিলেন এবং মাত্র অল্প কয়েকজন মানুষ তাঁর ওপর ঈমান এনেছিলেন: তাঁর স্ত্রী,

--------------------------------------------

(১) [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৩]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১২)
وبعض ذويه، وقليل من أهله. وكان لا يفتر عن دعوتهم، ويسخرون منه فيزداد نشاطًا وحيوية وراء أمله، ويصوِّرُهم الله تعالى في قوله: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} (1) {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} (2). إلَاّ أنَّ الباطل لا يقوى أمام الحق، فسرعان ما يتقوَّض، ويظهر ضعفه، كما يتلاشى الظلام حين يكون وراءه النور الساطع.

 

وهكذا بدأ الإسلام يستولي على القلوب في مكة رُويداً رُويداً، ثم انتشر بين بعض سكان يثرب (المدينة المنورة)، وازداد إيذاء المشركين للمسلمين واضطروهم إلى هجر وطنهم فرارًا بدينهم.

 

وفي المدينة بدأت الدولة الإسلامية منظمة برياسة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وانتشر خبر الإسلام في أطراف الجزيرة، ولم تمنع أضاليل المشركين العرب من الدخول في دين الله، دين المساواة والعدالة، عقيدة سهلة سامية، إيمان بالله وطاعة لرسول الله، وعبادات تدخل السعادة والطمأنينة إلى النفوس، نظام يضبط الجماعة ويُؤَمِّنُ حقوق الأفراد … كل هذا جعل القبائل العربية تتهافت إلى المدينة من كل حَدَبٍ وصوبٍ، يعلنون إسلامهم، وعمَّ الإسلام الجزيرة العربية بعد الفتح الأكبر، ودخل الناس في دين الله أفواجاً، وانقلبت مكة والمدينة بل الجزيرة العربية إلى موطن إسلامي متماسك تنبع منه إشعاعات الهداية لتنير العالم.

 

وقد تم ذلك للرسول الكريم خلال اثنتين وعشرين سَنَةً وبضعة أشهر.

--------------------------------------------

(1) [سورة البقرة، الآية: 170].

(2) [سورة المائدة، الآية: 104].
এবং তাঁর কিছু নিকটাত্মীয় ও তাঁর পরিবারের অল্পসংখ্যক লোক। তিনি তাদেরকে দাওয়াত দিতে ক্ষান্ত হতেন না, আর তারা তাঁকে উপহাস করত, ফলে তাঁর আশার পেছনে তাঁর উদ্যম ও প্রাণচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পেত। মহান আল্লাহ তাদের অবস্থা তাঁর এই বাণীতে চিত্রায়িত করেছেন: {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা অনুসরণ করো’, তারা বলে, ‘বরং আমরা তা-ই অনুসরণ করব যার ওপর আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি।’ যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং তারা সৎপথে পরিচালিত ছিল না?} (১) {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে এসো’, তারা বলে, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যার ওপর পেয়েছি তা-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং তারা সৎপথে পরিচালিত ছিল না?} (২)। তবে সত্যের সামনে মিথ্যা শক্তিশালী হতে পারে না, তাই অচিরেই তা ধসে পড়ে এবং তার দুর্বলতা প্রকাশ পায়, যেমন উজ্জ্বল আলোর উপস্থিতিতে অন্ধকার বিলীন হয়ে যায়।

 

এভাবেই মক্কায় ইসলাম ধীরে ধীরে হৃদয়ে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে, তারপর তা ইয়াসরিবের (মদিনা মুনাওয়ারা) কিছু বাসিন্দার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মুসলিমদের ওপর মুশরিকদের নির্যাতন বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাদের দ্বীন রক্ষার জন্য স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

 

মদিনায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নেতৃত্বে সুসংগঠিতভাবে ইসলামি রাষ্ট্র যাত্রা শুরু করে এবং আরব উপদ্বীপের প্রান্তে প্রান্তে ইসলামের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। মুশরিকদের বিভ্রান্তিগুলো আরবদের আল্লাহর দ্বীনে—সাম্য ও ন্যায়ের ধর্ম, এক সহজ ও সুমহান আকিদা, আল্লাহর ওপর ঈমান ও আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য এবং এমন ইবাদত যা আত্মার মধ্যে সুখ ও প্রশান্তি দান করে—প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। এটি এমন এক ব্যবস্থা যা সমাজকে সুশৃঙ্খল করে এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করে … এই সবকিছুই আরব গোত্রগুলোকে চারদিক থেকে মদিনার দিকে ছুটে আসতে উদ্বুদ্ধ করে, তারা তাদের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয় এবং মহা বিজয়ের পর সমগ্র আরব উপদ্বীপে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে থাকে এবং মক্কা, মদিনা তথা সমগ্র আরব উপদ্বীপ এক সুসংহত ইসলামি ভূখণ্ডে পরিণত হয়, যেখান থেকে বিশ্বকে আলোকিত করার জন্য হিদায়াতের আলো বিচ্ছুরিত হতে থাকে।

 

আর সম্মানিত রাসূলের জন্য এটি বাইশ বছর কয়েক মাসে সম্পন্ন হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৭০]।

(২) [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১০৪]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وخرج العرب باعتناقهم هذا الدين الحنيف من نطاق القبيلة المغلق إلى صعيد الإنسانية الواسع، ومن إطار الصحراء إلى العالم الشاسع، وانقلبت رابطة الدم والقرابة إلى الأُخُوَّة في الدين، وانتهى نظام القبيلة وحلَّ مكانه نظام الدولة الإسلامية في مختلف مرافق الحياة وانتقلت حميَّتُهُم للقبيلة إلى نُصرة الحق، وأصبح اعتزازهم بالإسلام وبما يقدمونه من تضحيات وخدمات بدلاً من اعتزازهم بالأنساب، واتجه حُبُّهُم للأمجاد والبطولات صعداً إلى تحقيق ما يُرضِي الله ورسوله، وتحوَّلَتْ شجاعتهم وجُرأتهم المحصورة في النطاق القبلي إلى شجاعة وجرأة في سبيل نشر الدين الجديد، وتحوَّل كرمهم الذي بلغ حَدَّ السرف إلى إعانة الفقراء وإغاثة الملهوفين، وتزويد الجيوش للدفاع عن معتقداتهم وعن إخوانهم في الدين، وتحرير الأمم من نير العبودية إلى الحرية وعبادة إله واحد … فكان الإسلام شرفاً عظيماً لهم كما قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْأَلُونَ} (1) وكان العرب بحقٍّ كما قال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (2).

 

يتبيَّنُ لنا مما ذكرت أنَّ هؤلاء العرب الذين انطوت نفوسهم على صفات كريمة، وخصال طيبة، وراءها دوافع قوية وحيويَّة فائقة، كان ينقصهم العقيدة الصالحة، والنظام الحسن، فما إنْ وجدوهما في الإسلام دين الحنيفية السمحة، حتى كانوا خير حافظ لها، وأول داع إليها، ومن ثمَّ فتحوا قلوبهم للرسول الكريم عليه الصلاة والسلام، وأصغوا إليه، والتفوا حوله

--------------------------------------------

(1) [سورة الزخرف، الآية: 44] وإنه لذكر: أي لشرف عظيم. انظر " تفسير أبي السعود ": ص 45 جـ 5.

(2) [سورة آل عمران، الآية: 110].
এই একনিষ্ঠ দ্বীন গ্রহণের মাধ্যমে আরবরা গোত্রীয় সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে মানবতার প্রশস্ত আঙ্গিনায় এবং মরুভূমির সীমাবদ্ধতা থেকে বিশাল বিশ্বের দিগন্তে বেরিয়ে আসে। রক্ত ও আত্মীয়তার বন্ধন দ্বীনি ভ্রাতৃত্বে রূপান্তরিত হয়, গোত্রীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তার স্থলে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। গোত্রের প্রতি তাদের অন্ধ আনুগত্য সত্যের সাহায্যের দিকে ধাবিত হয় এবং বংশমর্যাদার অহংকারের পরিবর্তে ইসলাম এবং তাদের দেওয়া ত্যাগ ও খিদমতের জন্য তারা গর্ববোধ করতে শুরু করে। মর্যাদা ও বীরত্বের প্রতি তাদের ভালোবাসা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের পথে পরিচালিত হয়। গোত্রীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ তাদের সাহস ও তেজ নতুন দ্বীন প্রচারের পথে বীরত্ব ও সাহসিকতায় রূপান্তরিত হয়। অপচয়ের সীমায় পৌঁছানো তাদের দানশীলতা দরিদ্রদের সহায়তা, বিপদগ্রস্তদের উদ্ধার, তাদের আকিদা ও দ্বীনি ভাইদের প্রতিরক্ষায় সেনাবাহিনী সজ্জিতকরণ এবং জাতিসমূহকে দাসত্বের জোয়াল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতা ও এক ইলাহের ইবাদতের দিকে নিয়ে যাওয়ায় পরিবর্তিত হয় ... ফলে ইসলাম তাদের জন্য এক মহান সম্মানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর এটি অবশ্যই আপনার জন্য ও আপনার কওমের জন্য এক মহাসম্মান (যিকর); এবং অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে} (১)। আর আরবরা যথার্থই তা-ই ছিল যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদেরকে মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ করো, অসৎকাজে বাধা দাও এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো} (২)।

 

উল্লিখিত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এই আরবরা—যাদের অন্তরে মহৎ গুণাবলি ও সুন্দর বৈশিষ্ট্য নিহিত ছিল এবং যার পেছনে ছিল শক্তিশালী প্রেরণা ও অদম্য প্রাণশক্তি—তাদের মধ্যে কেবল সঠিক আকিদা ও উত্তম ব্যবস্থার অভাব ছিল। যখনই তারা সহজ-সরল একনিষ্ঠ দ্বীন ইসলামে তার সন্ধান পেল, তারা এর শ্রেষ্ঠ সংরক্ষক ও প্রথম আহ্বায়কে পরিণত হলো। ফলে তারা সম্মানিত রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি তাদের হৃদয় উন্মোচন করল, তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং তাঁর চারপাশ ঘিরে সমবেত হলো।

--------------------------------------------

(১) [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৪৪] "আর এটি অবশ্যই এক যিকর (স্মরণিকা/সম্মান)": অর্থাৎ এক মহান সম্মান। দেখুন "তাফসীরে আবিস সাউদ": খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৫।

(২) [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ينهلون من المعين الذي لا ينضب، ويتلقون تعاليم الإسلام من رائده ليقوموا بدورهم في هداية الناس جَمِيعًا، وهكذا تضافر العامل الفطري الذي تميَّز به العرب مع العامل المكتسب الجديد (الروحي)، فظهر الرعيل الأول الذي حمل مشعل النور والحق إلى العالم، ونقل القرآن الكريم والسُنَّة المطهَّرة بكل أمانة وإخلاص. ولما كان موضوعنا متعلِّقاً بالسُنَّة، فلننتقل إلى التعريف بها.

 

‌‌أَوَّلاً - التَّعْرِيفُ بِالسُنَّةِ:

1 - السُنَّة فِي اللُّغَةِ:

 

السُنَّة: السيرة حسنة كانت أو قبيحة. قال خالد بن عتبة الهذلي:

فَلَا تَجْزَعَنْ مِنْ سِيرةٍ أَنتَ سِرْتَهَا * … * … * فأَوَّلُ راضٍ سُنَّةً مَنْ يَسِيرُهَا

 

وسننتها سناً واستننتها سرتها، وسننت لكم سنة فاتبعوها.

وفي الحديث: «مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَمَنْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً» (1)، يريد من عملها ليقتدى به فيها.

وكل من ابتدأ أمراً عمل به قوم بعده، قيل هو الذي سنَّهُ.

قال نُصَيْبٌ:

كأَنِّي سَنَنتُ الحُبَّ، أَوَّلَ عاشِقٍ * … * … * مِنَ النَّاسِ، إِذْ أَحْبَبْتُ مِنْ بَيْنِهم وَحْدِي

--------------------------------------------

(1) روى الإمام مسلم بسنده عن المنذر بن جرير عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «مَنْ سَنَّ فِي الإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ فِي الإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ». " صحيح مسلم ": ص 705 جـ 2 وص 2059 جـ 4.
তারা এমন এক অক্ষয় ঝর্ণাধারা থেকে অবগাহন করছিল এবং ইসলামের অগ্রপথিকের কাছ থেকে ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করছিল যাতে তারা সমস্ত মানুষের হেদায়েতের ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে পারে। এভাবেই আরবদের সেই অনন্য সহজাত বৈশিষ্ট্যের সাথে নতুন অর্জিত (আধ্যাত্মিক) শক্তির সমন্বয় ঘটল। ফলে সেই প্রথম প্রজন্মের উদ্ভব হলো যারা বিশ্বের বুকে আলো ও সত্যের মশাল বহন করেছিলেন এবং পূর্ণ আমানত ও নিষ্ঠার সাথে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। যেহেতু আমাদের আলোচ্য বিষয় সুন্নাহ সংশ্লিষ্ট, তাই আমরা এর সংজ্ঞার দিকে অগ্রসর হই।

 

‌‌প্রথমত - সুন্নাহর পরিচয়:

১ - আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ:

 

সুন্নাহ: কোনো পদ্ধতি বা জীবনধারা, তা ভালো হোক বা মন্দ। খালিদ বিন উতবাহ আল-হুযালী বলেন:

তুমি যে পথে চলেছ তা নিয়ে বিচলিত হয়ো না * … * … * কারণ কোনো পদ্ধতির প্রবর্তকই তাতে প্রথম সন্তুষ্ট থাকে

 

আমি কোনো নিয়ম প্রবর্তন করেছি এবং তা অনুসরণ করেছি। আমি তোমাদের জন্য একটি আদর্শ প্রবর্তন করেছি, সুতরাং তোমরা তা অনুসরণ করো।

হাদিসে এসেছে: «যে ব্যক্তি কোনো ভালো রীতির প্রবর্তন করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদেরও সওয়াব পাবে, আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির প্রবর্তন করবে...» (১), এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি কোনো আমল করে যাতে অন্যরা তাকে অনুসরণ করে।

যে ব্যক্তিই এমন কোনো বিষয় শুরু করে যা পরবর্তীতে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী অনুসরণ করে, বলা হয় যে সে-ই এর প্রবর্তন করেছে।

নুসাইব বলেন:

মনে হচ্ছে মানুষের মধ্যে প্রথম প্রেমিক হিসেবে আমিই যেন ভালোবাসার রীতি প্রবর্তন করেছি * … * … * কেননা মানুষের মাঝে আমি একাই ভালোবেসেছি

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম তাঁর সনদে মুনজির ইবনে জারীর হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির প্রবর্তন করবে, তার জন্য এর সওয়াব রয়েছে এবং যারা তাঁর পরে তা অনুযায়ী আমল করবে তাদেরও সওয়াব রয়েছে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রবর্তন করবে, তার ওপর সেই মন্দ রীতির গুনাহ বর্তাবে এবং যারা তাঁর পরে তা অনুযায়ী আমল করবে তাদেরও গুনাহ তার ওপর বর্তাবে, এতে তাদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।» "সহীহ মুসলিম": পৃষ্ঠা ৭০৫, ২য় খণ্ড এবং পৃষ্ঠা ২০৫৯, ৪র্থ খণ্ড।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد تكرَّرَ في الحديث ذكر السُنَّة وما تصرف منها. والأصل فيه الطريقة والسيرة.

 

وإذا أطلقت في الشرع فإنما يراد بها ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم، ونهى عنه، وندب إليه قولاً وفعلاً، ولهذا يقال في أدلة الشرع الكتاب والسُنَّة، أي القرآن والحديث.

ويجوز أن يكون لفظ (سُنَّة) من سننت الإبل إذا أحسنت رعيتها والقيام عليها (1).

 

2 - السُنَّةُ فِي الشَّرْعِ:

 

يختلف معنى السُنَّةِ في اصطلاح المتشرعين حسب اختلاف فنونهم وأغراضهم، فهي عند الأصوليين غيرها عند المُحَدِّثين والفقهاء، ولذلك نرى مدلول معناها من خلال أبحاثهم.

(أ) فعلماء الحديث إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الإمام الهادي، الذي أخبر الله عنه أنه أسوة لنا وقدوة، فنقلوا كل ما يتَّصل به من سيرة، وخُلُقٍ، وشمائل، وأخبار، وأقوال، وأفعال، سواء أثْبَتَ ذلك حُكماً شرعياً أم لا.

(ب) وعلماء الأصول إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم المُشرِّع الذي يضع القواعد للمجتهدين من بعده، ويُبيِّنُ للناس دستور الحياة، ولذلك عنوا بأقواله، وأفعاله، وتقريراته التي تثبت الأحكام وتقررها.

(جـ) وعلماء الفقه إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، الذي تدُلُّ

--------------------------------------------

(1) " لسان العرب ": في مادة (سنن).
হাদিসে 'সুন্নাহ' শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত রূপগুলোর ব্যবহার বারবার এসেছে। এর মূল আভিধানিক অর্থ হলো পদ্ধতি ও জীবনচরিত।

 

যখন শরীয়তের পরিভাষায় এটি সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আদেশ করেছেন, যা থেকে নিষেধ করেছেন এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে যার প্রতি উৎসাহিত করেছেন তাকেই বোঝানো হয়। এই কারণেই শরীয়তের দলীলসমূহের ক্ষেত্রে 'কিতাব ও সুন্নাহ' বলা হয়, অর্থাৎ কুরআন ও হাদিস।

এটিও সম্ভব যে 'সুন্নাহ' শব্দটি উটের উত্তমরূপে লালন-পালন ও দেখাশোনা করা (সানানতুল ইবিল) থেকে উদ্ভূত হয়েছে (১)।

 

২ - শরীয়তের পরিভাষায় সুন্নাহ:

 

ইসলামী শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় তাদের শাস্ত্র ও উদ্দেশ্যভেদে সুন্নাহর সংজ্ঞায় ভিন্নতা দেখা যায়। উসুলবিদদের নিকট সুন্নাহর যে অর্থ, মুহাদ্দিস ও ফকীহদের নিকট তা ভিন্ন। তাই আমরা তাদের গবেষণার আলোকে এর অর্থের প্রয়োগ দেখতে পাই।

(ক) হাদিস বিশারদগণ মূলত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন পথপ্রদর্শক ইমাম হিসেবে আলোচনা করেছেন, যার সম্পর্কে আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আমাদের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয়। তাই তাঁরা তাঁর সীরাত (জীবনচরিত), চরিত্র, গুণাবলী, সংবাদ, কথা ও কাজ সংশ্লিষ্ট যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সবই সংকলন করেছেন, চাই তা দ্বারা কোনো শরয়ী বিধান সাব্যস্ত হোক বা না হোক।

(খ) উসুলবিদগণ (মূলনীতি বিশারদগণ) মূলত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন বিধানদাতা হিসেবে আলোচনা করেছেন, যিনি পরবর্তী মুজতাহিদদের জন্য মূলনীতি প্রণয়ন করেন এবং মানুষের জন্য জীবনবিধান বর্ণনা করেন। এ কারণেই তাঁরা তাঁর ঐ সকল কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি নিয়ে আলোচনা করেছেন যা বিধান সাব্যস্ত করে ও সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

(গ) ফিকহবিদগণ মূলত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা নির্দেশ করে...

--------------------------------------------

(১) "লিসানুল আরব": 'সিন-নুন-নুন' (سنن) মূলশব্দের অধীনে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
أفعاله على حكم شرعي، وهم يبحثون عن حكم الشرع في أفعال العباد وجوباً أو حرمة، أو إباحة، أو غير ذلك (1).

 

مما تقدم يتلخَّص لدينا ما يلي:

 

السُنَّة في اصطلاح المُحَدِّثِينَ هي: كل ما أُثِرَ عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صِفة خَلقية أو خُلُقيَّة، أو سيرة سواء أكان ذلك قبل البعثة كتحَنُّثِهِ في غار حراء، أو بعدها.

والسُنَّة بهذا المعنى مرادفة للحديث النبوي.

 

السُنَّة في اصطلاح علماء أصول الفقه: هي كل ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم غير القرآن الكريم، من قول، أو فعل، أو تقرير، مما يصلح أنْْ يكون دليلاً لحكم شرعي.

 

أما القول فهو أحاديثه صلى الله عليه وسلم التي قالها في مختلف الأغراض والمناسبات، فترتَّب على ذلك حكم شرعي، كقوله صلى الله عليه وسلم «لَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ» وقوله: «لَا ضَرَر وَلَا ضِرَارَ» (2) وقوله في زكاة الزروع: «فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ أَوْ كَانَ عَثَرِيًّا العُشْرَ، وَمَا سُقِىَ بِالنَّضْحِ نِصْفَ الْعُشْرِ» (3) وقوله في البحر: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ» (4).

--------------------------------------------

(1) انظر " فتح الغفار بشرح المنار ": ص 75 جـ 2 و" المدخل إلى السُنَّة وعلومها ": ص 7 و" السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي ": ص 61.

(2) انظر " سُبُل السلام ": ص 84 جـ 3 ورواه الإمام أحمد وابن ماجه.

(3) " فتح الباري": ص 90 جـ 4، والعثري: ما امتدَّت عروقه فضرب من نهر أو مستنقع من غير سقي.

(4) انظر " سُبُل السلام ": ص 14 جـ 1 وأخرجه الأربعة وأبو بكر بن أبي شيبة.
তাঁর কার্যাবলি একটি শরয়ী বিধানের ওপর ভিত্তি করে, এবং তাঁরা বান্দার কার্যাবলিতে ওয়াজিব, হারাম, মুবাহ অথবা অন্য কোনো শরয়ী বিধান অনুসন্ধান করেন (১)।

 

পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমাদের কাছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সংক্ষেপে প্রতীয়মান হয়:

 

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রতিটি কথা, কাজ, মৌন সম্মতি, শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং সীরাত (জীবনচরিত); চাই তা নবুয়ত-পূর্ববর্তী সময়ের হোক (যেমন হেরা গুহায় তাঁর ইবাদত) অথবা নবুয়ত-পরবর্তী সময়ের।

আর এই অর্থে সুন্নাহ হলো হাদিসে নববীর সমার্থক।

 

উসূলে ফিকহবিদগণের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: কুরআন মাজীদ ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রকাশিত প্রতিটি কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি, যা কোনো শরয়ী বিধানের দলিল হওয়ার যোগ্য।

 

আর 'কথা' হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সকল হাদিস যা তিনি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এবং প্রেক্ষাপটে বলেছিলেন এবং যার ভিত্তিতে শরয়ী বিধান সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ওয়ারিশের জন্য কোনো অসিয়ত নেই"; এবং তাঁর বাণী: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না" (২); ফসলের যাকাত সম্পর্কে তাঁর বাণী: "আকাশের বৃষ্টি ও ঝরনার পানিতে অথবা মাটির নিচের আর্দ্রতায় সিক্ত জমিতে উৎপাদিত ফসলের জন্য উশর (দশ শতাংশ), আর সেচ দেওয়া জমিতে নিসফে উশর (পাঁচ শতাংশ)" (৩); এবং সমুদ্র সম্পর্কে তাঁর বাণী: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল" (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন "ফাতহুল গাফফার বি-শারহিল মানার": পৃষ্ঠা ৭৫, খণ্ড ২; "আল-মাদখাল ইলাস সুন্নাহ ওয়া উলুমিহা": পৃষ্ঠা ৭; এবং "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরীয়িল ইসলামী": পৃষ্ঠা ৬১।

(২) দেখুন "সুবুলুস সালাম": পৃষ্ঠা ৮৪, খণ্ড ৩; এটি ইমাম আহমদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

(৩) "ফাতহুল বারী": পৃষ্ঠা ৯০, খণ্ড ৪; 'আসারি' হলো যার মূল বিস্তৃত হয়ে নদী বা জলাশয় থেকে পানি পান করে, কোনো সেচ ছাড়াই।

(৪) দেখুন "সুবুলুস সালাম": পৃষ্ঠা ১৪, খণ্ড ১; এটি সুনান চতুষ্টয়ের সংকলকগণ এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما الفعل فهو أفعاله التي نقلها إلينا الصحابة، مثل أدائه الصلوات الخمس بهيئاتها وأركانها، وأدائه صلى الله عليه وسلم مناسك الحج، وقضائه بالشاهد واليمين (1)، وما إلى ذلك.

 

وأما التقرير فكل ما أقرَّهُ الرسول صلى الله عليه وسلم مما صدر عن بعض أصحابه من أقوال وأفعال، بسكوت منه وعدم إنكار، أو بموافقته وإظهر استحسانه وتأييده، فيُعْتبَرُ ما صدر عنهم بهذا الإقرار والموافقه عليه صادراً عن الرسول صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك ما رواه أبو سعيد الخُدري رضي الله عنه أنه خرج رجلان في سفر وليس معهما ماء فحضرت الصلاة فتيمَّما صعيداً طيِّباً، فصلَّيا ثم وجِدًّا الماء في الوقت، فأعاد أحدهما الصلاة والوضوء ولم يعد الآخر، ثم أتيا النبي صلى الله عليه وسلم، فذكرا ذلك له، فقال الذي لم يعد: «أَصَبْتَ السُنَّةَ» وقال للآخر: «لَكَ الأَجْرَ مَرَّتَيْنِ» (2).

 

ومنه أَيْضًا إقراره الاجتهاد للصحابة في أمر صلاة العصر في غزوة بين قريظة، حين قال لهم: «لَا يُصَلِّيَنَّ أَحَدكُمْ الْعَصْرَ إِلَاّ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ»، ففهم بعضهم هذا النهي على حقيقته، فأخَّرها إلى ما بعد المغرب، وفهمه بعضهم على أنَّ المقصود حث الصحابة على الإسراع فصلَاّها في وقتها، وبلغ النبي عليه الصلاة والسلام ما فعل الفريقان، فأقرَّهُما ولم ينكر على أحدهما (3). ومنه إقرارُهُ لطريقة معاذ بن جبل في القضاء حينما بعثه إلى اليمن. إذْ قال له: «كَيْفَ تَصْنَعُ إِنْ عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ؟ قَالَ: أَقْضِي بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ، قَالَ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ

--------------------------------------------

(1) ثبت قضاء الرسول صلى الله عليه وسلم بشاهد ويمين، راجع " مسند الإمام أحمد ": الأحاديث رقم 2224 و 2888 و 2969 و 2970 جـ 4 و " سبل السلام ": ص 131 جـ 4.

(2) " سبل السلام ": ص 97 جـ 1 رواه أبو داود والنسائي.

(3) " المدخل إلى السنة وعلومها ": ص 10، و" السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي ": ص 60.
আর কর্ম বলতে তাঁর সেই কাজগুলোকে বোঝায় যা সাহাবীগণ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এর নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও রুকনসমূহ সহ আদায় করা, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজ্জের আমলসমূহ পালন করা, একজন সাক্ষী ও শপথের ভিত্তিতে তাঁর বিচার ফয়সালা করা (১), এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

 

আর মৌনসম্মতি হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের কোনো কোনো কথা বা কাজকে সমর্থন করেছেন—যা তাঁর নীরবতা ও আপত্তি না করার মাধ্যমে হতে পারে, অথবা তাঁর সম্মতি প্রদান এবং সেটিকে উত্তম মনে করা ও সমর্থনের মাধ্যমে হতে পারে। সুতরাং এই মৌনসম্মতি ও অনুমোদনের কারণে সাহাবীদের থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে নিঃসৃত হিসেবেই গণ্য করা হবে। এর উদাহরণ হলো যা আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, দুইজন লোক সফরে বের হয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের সাথে কোনো পানি ছিল না। সালাতের সময় উপস্থিত হলে তাঁরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর সালাতের ওয়াক্ত থাকাকালীনই তাঁরা পানি পেয়ে গেলেন। ফলে তাঁদের একজন ওযু করে পুনরায় সালাত আদায় করলেন আর অন্যজন সালাত পুনরায় আদায় করলেন না। এরপর তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি সেই ব্যক্তিকে বললেন যিনি সালাত পুনরায় আদায় করেননি: "তুমি সুন্নাত অনুযায়ী কাজ করেছ"। আর অপরজনকে বললেন: "তোমার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে" (২)।

 

এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি উদাহরণ হলো বনু কুরাইজার যুদ্ধে আসরের সালাতের ব্যাপারে সাহাবীদের ইজতিহাদের প্রতি তাঁর সমর্থন। যখন তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় পৌঁছানো ছাড়া আসরের সালাত আদায় না করে।" ফলে তাঁদের কেউ কেউ এই নিষেধকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করেছিলেন এবং সালাতকে মাগরিবের পর পর্যন্ত বিলম্বিত করেছিলেন। আবার কেউ কেউ বুঝেছিলেন যে এর উদ্দেশ্য হলো সাহাবীদের দ্রুত চলতে উৎসাহিত করা, তাই তাঁরা সময়মতই সালাত আদায় করে নিয়েছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উভয় পক্ষের কাজের সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাঁদের উভয়কেই সমর্থন করলেন এবং কারোর উপরেই আপত্তি করলেন না (৩)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুয়ায ইবন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে যখন তিনি ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন তখন তাঁর বিচারপদ্ধতিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুমোদন প্রদান করা। তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "যদি তোমার কাছে কোনো বিচার আসে তবে তুমি কীভাবে ফয়সালা করবে?" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব।" তিনি বললেন: "যদি আল্লাহর কিতাবে না পাওয়া যায়..."

--------------------------------------------

(১) একজন সাক্ষী ও শপথের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিচার করা প্রমাণিত। দেখুন: "মুসনাদে ইমাম আহমাদ": হাদীস নম্বর ২২২৪, ২৮৮৮, ২৯৬৯ এবং ২৯৭০, খণ্ড ৪; এবং "সুবুলুস সালাম": পৃষ্ঠা ১৩১, খণ্ড ৪।

(২) "সুবুলুস সালাম": পৃষ্ঠা ৯৭, খণ্ড ১; এটি আবু দাউদ ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।

(৩) "আল-মাদখাল ইলাস সুন্নাহ ওয়া উলুমিহা": পৃষ্ঠা ১০; এবং "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরীইল ইসলামী": পৃষ্ঠা ৬০।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদবীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
اللَّهِ؟ قَالَ: فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ؟ قَالَ: أَجْتَهِدُ رَأْيِي لَا آلُو، قَالَ: فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدْرِي ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللَّهِ» (1).

 

وأما السُنَّة في اصطلاح الفقهاء: فهي كل ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يكن من باب الفرض ولا الواجب، فهي الطريقة المتبعة في الدين من غير افتراض ولا وجوب.

 

وقد تطلق السُنَّة عند الفقهاء في مقابلة البدعة (2). والبدعة لغة: الأمر المستحدث، ثم أطلقت في الشرع على كل ما أحدثه الناس من قول وعمل في الدين وشعائره مما لم يؤثر عنه صلى الله عليه وسلم وعن أصحابه. وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ» (3).

 

ومن ذلك قولهم «فُلَانٌ عَلَى سُنَّةٍ» إذا عمل على وفق ما عمل النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، سواء أكان ذلك مما نص عليه في الكتاب أم لم يكن، وقولهم: «فُلَانٌ عَلَى بِدْعَةٍ» إذا عمل على خلاف ما عملوه أو أحدث في الدين ما لم يكن عليه السلف.

 

وتُطلَقُ السُنَّةُ أحيانًا عند المُحَدِّثِينَ وعلماء أصول الفقه على ما عمل به أصحابُ رسول الله صلى الله عليه وسلم، سواء أكان ذلك في الكتاب الكريم أم في المأثور عن النبي

--------------------------------------------

(1) " إعلام الموقعين ": ص 202 جـ 1.

(2) انظر " المدخل إلى السنة وعلومها ": ص 10 و " السُنَّة ومكانتها في التشريع الإسلامي ": ص 61 عن " إرشاد الفحول ": ص 31، و " تحقيق معنى السنة وبيان الحاجة إليها ": ص 22 و " تاريخ التشريع الإسلامي ": ص 64.

(3) " صحيح مسلم ": ص 1343 جـ 3.
আল্লাহর [কিতাবে]? তিনি বললেন: তবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর মাধ্যমে। তিনি বললেন: যদি আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহতে তা না থাকে? তিনি বললেন: আমি আমার বুদ্ধি খাটিয়ে ইজতিহাদ করব এবং কোনো ত্রুটি করব না। তিনি বললেন: তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার বুকে হাত চাপড়ালেন এবং বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফীক দিয়েছেন যা আল্লাহর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে।" (১)।

 

আর ফকিহগণের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হয়েছে এবং যা ফরজ বা ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত নয়; সুতরাং তা হলো দ্বীনের অনুসৃত পদ্ধতি যা ফরজ বা ওয়াজিব হওয়া ছাড়াই পালন করা হয়।

 

কখনও কখনও ফকিহগণের নিকট বিদআতের বিপরীতে সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহৃত হয় (২)। আর বিদআত আভিধানিক অর্থে: নব-আবিষ্কৃত বিষয়; অতঃপর শরিয়তে একে এমন প্রতিটি কথা ও কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যা মানুষ দ্বীন ও এর নিদর্শনাবলির মধ্যে নতুন করে উদ্ভাবন করেছে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়নি। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" (৩)।

 

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের এই উক্তি "অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর আছে", যখন সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের আমল অনুযায়ী কাজ করে, চাই তা কিতাবে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হোক বা না হোক। আর তাদের এই উক্তি: "অমুক ব্যক্তি বিদআতের ওপর আছে", যখন সে তাদের আমলের বিপরীতে কাজ করে অথবা দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করে যার ওপর সলফগণ ছিলেন না।

 

কখনও কখনও মুহাদ্দিস ও উসূলে ফিকহবিদগণের নিকট সুন্নাহ শব্দটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যা আমল করেছেন তার ওপর প্রয়োগ করা হয়, চাই তা পবিত্র কিতাবে থাকুক অথবা নবী থেকে বর্ণিত ঐতিহ্যের মধ্যে থাকুক।

--------------------------------------------

(১) "ইলামুল মুওয়াক্কিঈন": পৃষ্ঠা ২০২, খণ্ড ১।

(২) দেখুন "আল-মাদখাল ইলাস সুন্নাহ ওয়া উলুমিহা": পৃষ্ঠা ১০ এবং "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিইল ইসলামি": পৃষ্ঠা ৬১ (ইরশাদুল ফুহুল: পৃষ্ঠা ৩১ থেকে গৃহীত), এবং "তাহকিকু মানাস সুন্নাহ ওয়া বায়ানুল হাজাতি ইলাইহা": পৃষ্ঠা ২২ এবং "তারিখুত তাশরিইল ইসলামি": পৃষ্ঠা ৬৪।

(৩) "সহিহ মুসলিম": পৃষ্ঠা ১৩৪৩, খণ্ড ৩।