(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
التحفة الوسيمة شرح على الدرة اليتيمة القسم: النحو والصرف
الكتاب: التحفة الوسيمة شرح على الدرة اليتيمة
المؤلف: أبو عبد الله محمد عبد القادر بن محمد بن المختار بن أحمد العالم القبلوي الجزائري المالكي الشهير بالشيخ باي بلعالم (ت 1430 هـ)
عدد الصفحات: 53
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1433
আত-তুহফাতুল ওয়াসিমা শরহে আদ-দুররাতুল ইয়াতীমা বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: আত-তুহফাতুল ওয়াসিমা শরহে আদ-দুররাতুল ইয়াতীমা
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুখতার বিন আহমদ আল-আলিম আল-কিবলাওয়ি আল-জাজাইরি আল-মালিকি, যিনি শেখ বায় বেলালাম নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ১৪৩০ হি.)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজাইরি
[বইটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
التحفة الوسيمة
شرح على الدرة اليتيمة
تآليف
الشيخ محمد باي بلعام
إمام ومدرس بآولف ولاية أدرار
الجزائر
আতুহফাতুল ওয়াসীমাহ
আদ-দুররাতুল ইয়াতীমাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)
রচনায়
শায়খ মুহাম্মদ বায় বিলআম
আউলেফ, আদ্রার প্রদেশের ইমাম ও শিক্ষক
আলজেরিয়া
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم. صلى الله على سيدنا محمد وءاله وصحبه وسلم.
حمدا لمن فتح السن العرب بالإعراب. وشرح صدورهم للإعراب والصلاة والسلام على من بعثه الله رسولا لأهل الحاضرة والأعراب. وعلى ءاله والأصحاب. ومن تبعهم بإحسان إلى يوم العتاب.
وبعد فيقول العبد الضعيف القاصر، محمد باي بن محمد عبد القادر قد طلب مني بعض الإخوان أن نضع شرحا على الدرة اليتيمة في النحو لظنه أني أهل لذلك والله أعلم بما هنالك فاستخرت الله واستعنت به وتوكلت عليه وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب. وكنت عند رغبة الطالب نازلا، وإن كنت لست لذلك أهلا ولقد حاولت أن نتعرف على ناظمها فلم نعثر عليه وعلى كل فإننا نرجو لعملنا ولعمله القبول، والرضا من الله العلي القدير إنه على ما يشاء قدير وبالإجابة جدير. وسميته ـ[التحفة الوسيمة على الدرة اليتيمة]ـ. وبالله التوفيق وهو الهادي إلى أقوم طريق قال الناظم رحمه الله وأكرم مثواه وجعل الجنة منزله ومأواه.
"حمدا لمن شرفنا بالمصطفى
…وباللسان العربي أسعفا"
"ثم على أفصح خلق الله
…وآله أزكى صلاة الله"
"يا طالبا فتح رتاج العلم
…وقاصدا سهل طريق الفهم"
"إجنح إلى النحو تجده علما
…تجلو به المعنى العويص المبهما "
"وهاك فيه درة يتيمة
…أرجو لها حسن القبول قيمة "
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও সালাম বর্ষণ করুন।
সকল প্রশংসা তাঁর জন্য, যিনি ব্যাকরণ (إعراب) দ্বারা আরবদের জিহ্বা উন্মুক্ত করেছেন এবং বর্ণনার জন্য তাদের অন্তর প্রশস্ত করেছেন। আর দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে আল্লাহ নগর ও মরুভূমির অধিবাসীদের নিকট রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে।
অতঃপর, অক্ষম ও দুর্বল (ضعيف) বান্দা মুহাম্মদ বাই ইবনে মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বলছে: আমার কতিপয় দ্বীনি ভাই আমার নিকট প্রার্থনা করেছেন যেন আমি 'আদ-দুররাতুল ইয়াতিমাহ' নামক নাহু গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি; কারণ তাদের ধারণা আমি এর যোগ্য, অথচ আল্লাহই প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করেছি, তাঁর সাহায্য চেয়েছি এবং তাঁর ওপর ভরসা করেছি। আল্লাহর তাওফিক ব্যতীত আমার কোনো সামর্থ্য নেই, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি। আমি শিক্ষার্থীর ইচ্ছা পূরণার্থে এই কাজে প্রবৃত্ত হয়েছি, যদিও আমি এর যোগ্য নই। আমি এর মূল রচয়িতার পরিচয় জানার চেষ্টা করেছি কিন্তু তাঁর সন্ধান পাইনি। তবে আমরা আমাদের এবং তাঁর কর্মের কবুলিয়াত ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি; নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম এবং দুআ কবুলের উপযুক্ত। আমি এর নাম দিয়েছি 'আত-তুহফাতুল ওয়াসিমাহ আলাদ দুররাতিল ইয়াতিমাহ'। আল্লাহই তাওফিক দানকারী এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী। নাযিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর অবস্থানকে মর্যাদাপূর্ণ করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন) বলেছেন:
"সকল প্রশংসা তাঁর জন্য, যিনি আমাদের মুস্তফার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন
…এবং আরবি ভাষার মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন।"
"অতঃপর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষীর ওপর
…এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর পবিত্রতম দুরুদ বর্ষিত হোক।"
"হে ইলমের রুদ্ধদ্বার উন্মোচনকারী
…এবং বোধগম্যতার সহজ পথ অন্বেষণকারী।"
"নাহু শাস্ত্রের প্রতি মনোযোগী হও, তুমি একে এমন এক ইলম হিসেবে পাবে
…যার মাধ্যমে তুমি জটিল ও অস্পষ্ট অর্থসমূহকে উন্মোচন করতে পারবে।"
"তোমার নিকট এটি এক অতুলনীয় মুক্তা
…আমি এর উত্তম কবুলিয়াত ও মূল্য প্রত্যাশা করি।"
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قوله "حمدا" مصدر حمد الله تبارك وتعالى الذي "شرفنا" والشرف العلو يقال شرفه الله تشريفا و"المصطفى"، اسم من أسمائه صلى الله عليه وسلم. وقد شرف الله هاته الأمة المحمدية به وزادها شرفا "باللسان العربي" الذي هو لغة القرآن المنزل على سيدنا محمد قوله "اسعفا" المساعفة المواتاة والمساعدة وبعد أن حمد الله والحمد هو الثناء بالجميل على الجليل وابتدأ به عملا بقوله صلى الله عليه وسلم: كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه باسم الله فهو ابتر الخ. ثني الصلاة على سيدنا محمد الذي هو أفصح المخلوقات كما قال صلى الله عليه وسلم:
"أنا أفصح من نطق بالضاد" وقوله "وءاله" في مقام الدعاء يدخل كل مؤمن وزكى نما وأزكى أفعل تفضيل والصلاة من الله الرحمة ومن الملائكة الاستغفار ومن الآدميين دعاء وتضرع و"رتاج" بالكسر ومنه رتاج الكعبة الباب المغلق وعليه باب صغير والمعنى يا من طلب فتح باب العلم وقصد الطريق السهلة إلى الفهم أي الإدراك "اجنح" أي مل "إلى" علم "النحو" والنحو في اللغة بمعنى القصد تقول نحوت كذا نحوا أي قصدته قصدا وبمعنى المثل يقال هذا نحوه أي مثله وبمعنى القسم يقال هذه على أربعة أنحاء أي أقسام وقد أشار بعضهم إلي نظم معاني النحو في اللغة فقال:
للنحو سبع معان قد أتت لغة
…جمعتها ضمن بيت مفرد كملا
قصد ومثله ومقدار وناحية
…نوع وبعض وحرف فاحفظ المثلا
وفي الاصطلاح: هو علم استخرجه المقدمون من استقراء كلام
তাঁর উক্তি "হামদান" (حمدا) হলো বরকতময় ও মহিমান্বিত আল্লাহর প্রশংসাসূচক (حمد) মাসদার বা ক্রিয়ামূল, যিনি "আমাদের সম্মানিত করেছেন"। শরাফত (الشرف) বলতে উচ্চতাকে বোঝায়; বলা হয় 'আল্লাহ তাকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন' (تشريفا)। আর "আল-মুস্তাফা" (المصطفى) হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামসমূহের একটি। আল্লাহ তাআলা এই মুহাম্মাদী উম্মতকে তাঁর মাধ্যমে শরাফত দান করেছেন এবং "আরবি ভাষার" মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, যা আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর অবতীর্ণ কুরআনের ভাষা। তাঁর উক্তি "আসআফা" (اسعفا); আল-মুসাআফাহ (المساعفة) বলতে আনুকূল্য ও সহায়তা করাকে বোঝায়। আল্লাহর প্রশংসা করার পর—আর প্রশংসা (الحمد) হলো মহান সত্তার সুন্দর গুণাবলি বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর স্তুতি জ্ঞাপন করা—তিনি (লেখক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর ওপর আমল করে এর দ্বারা শুরু করেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ (أبتر)" ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত তিনি সালাত বা দরুদ পাঠ করেছেন আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর, যিনি সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী; যেমনটি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"আমি দাদ (ض) উচ্চারণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী।" আর তাঁর উক্তি "তাঁর পরিবার" (وءاله) বলতে দোয়ার ক্ষেত্রে সকল মুমিন অন্তর্ভুক্ত। 'যাক্কা' (زكى) মানে বৃদ্ধি পাওয়া, আর 'আযকা' (أزكى) হলো আধিক্যসূচক শব্দ (আফআলুত তাফদিল)। আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত মানে রহমত, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং মানুষদের পক্ষ থেকে দোয়া ও আকুতি। আর "রিতাজ" (رتاج) শব্দটি কাসরা বিশিষ্ট; এর থেকে 'রিতাজুল কাবা' অর্থ কাবার বন্ধ দরজা, যার ওপর একটি ছোট দরজা থাকে। এর মর্মার্থ হলো: হে ইলমের দরজা উন্মোচনকারী এবং অনুধাবন অর্থাৎ উপলব্ধির সহজ পথের অভিযাত্রী, "ঝুঁকে পড়ো" (اجنح) অর্থাৎ মনোনিবেশ করো "নাহু" (النحو) শাস্ত্রের "প্রতি"। আভিধানিক অর্থে 'নাহু' মানে ইচ্ছা বা সংকল্প; যেমন আপনি বলেন 'আমি অমুক জিনিসের ইচ্ছা করেছি' (نحوت كذا نحوا)। এটি সদৃশ অর্থও প্রকাশ করে; যেমন বলা হয় 'এটি তার মতো' (نحوه)। আবার এটি প্রকার অর্থও প্রকাশ করে; যেমন বলা হয় 'এটি চার প্রকার (أنحاء) বিশিষ্ট'। কেউ কেউ অভিধানে 'নাহু' শব্দের অর্থগুলোকে কবিতার ছন্দে এভাবে ইঙ্গিত করেছেন:
নাহু শব্দের সাতটি অর্থ অভিধানে এসেছে;
…আমি একটি পূর্ণাঙ্গ একক পঙক্তিতে সেগুলো একত্র করেছি।
সংকল্প, সদৃশ, পরিমাণ, দিক;
…প্রকার, অংশ ও অক্ষর—এই উদাহরণগুলো মুখস্থ রেখো।
আর পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন এক ইলম যা পূর্বসূরিগণ আরবদের কালাম বা কথাবার্তা পর্যালোচনার মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
العرب وفايدته الاحتراز عن الخطأ في اللسان والفهم على معاني كتاب الله والسنة ومسايل الفقه ومخاطبة العرب بعضهم بعضا وقوله "تجلو به المعنى العويص المبهما" تجلو أي توضح والمعنى العويص هو ما يصعب استخراج معناه قال ابن ساعد التونسي منفعة النحو تبين أحوال الألفاظ المركبة في دلالته على المقصود ورفع اللبس عن سائلها فإن قول القايل ما أحسن زيد بالسكون يحتمل أحد أمور ثلاثة التعجب في حسنة والاستفهام عن أي شيء أحسن وسلب الإحسان عنه حتى يعرب فيميز فإذا قلت ما أحسن زيدا بنصب أحسن زيدا فـ "ما" اسم تعجب نكرة "أحسن" فعل ماضي "زيدا" مفعول به وفاعل "أحسن" مستتر فيه يعود على ما التعجب و "ما" التعجب نكرة بمعنى شيء وإذا قلت ما أحسن زيد برفع أحسن وجر زيد فـ "ما" استفهامية مبتدأ أحسن، خبره "زيد" مضاف إليه والمعنى أي أجزائه أحسن وجهه أو رأسه أو يده وإذا قلت ما أحسن زيد بنصب أحسن ورفع زيد فـ "ما" نافية و "أحسن" فعل ماض "وزيد" فاعل فسلبت الحسن عن زيد وهذا معنى قول الناظم "تجلو به المعنى العويص المبهما" وقوله "فهاك فيه" هاك اسم فعل أمر بمعنى خذ و "الدرة" اللؤلؤة والجمع درورات ودرر "يتيمة" أي عديمة النظير قال في مختار الصحاح وكل شيء مفرد يعز نظيره فهو يتيم يقال درة يتيمة و "قيمة" واحدة القيم من قولك قوم السلعة تقويما والناظم طلب أن تكون قيمة هذه الدرة حسن القبول أي أن يتقبلها الله وتكون خالصة لوجهه ويقبلها الناس فينتفعون بها وهذا الدعاء مشابه لقوله في آخر بيت منها
আরবি ভাষা এবং এর উপকারিতা হলো জিহ্বার ভুল-ত্রুটি থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ ও ফিকহের মাসয়ালাসমূহ সঠিকভাবে অনুধাবন করা এবং আরবদের পারস্পরিক কথোপকথন বুঝতে পারা। কাব্যকারের উক্তি— "এর মাধ্যমে আপনি জটিল ও অস্পষ্ট অর্থসমূহ উন্মোচিত করবেন"—এখানে 'উন্মোচিত করা' অর্থ হলো স্পষ্ট করা। আর 'জটিল অর্থ' বলতে সেই বিষয়কে বোঝায় যার মর্ম উদ্ধার করা কঠিন। ইবনে সায়েদ আত-তিউনিসি বলেছেন: ব্যাকরণ শাস্ত্রের উপকারিতা হলো বাক্যস্থিত যৌগিক শব্দাবলির অবস্থা বর্ণনা করা, যাতে তা উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর সঠিকভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে এবং জিজ্ঞাসুর সংশয় দূর করতে পারে। কেননা কোনো বক্তার উক্তি "মা আহসান যাইদ" (সুকুন সহকারে) তিনটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে: তার সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করা, তার কোন বিষয়টি সুন্দর তা নিয়ে প্রশ্ন করা অথবা তার থেকে সৌন্দর্যকে অস্বীকার করা; যতক্ষণ না শব্দটিকে বিভক্তি প্রদান করে পার্থক্য করা হয়।
যদি আপনি বলেন "মা আহসান যাইদান" (আহসান ও যাইদকে নসব দিয়ে), তবে এখানে "মা" হলো বিস্ময়সূচক অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, "আহসান" হলো অতীতকালীন ক্রিয়া, "যাইদান" হলো কর্ম এবং "আহসান"-এর কর্তা তার মধ্যে উহ্য রয়েছে যা বিস্ময়সূচক "মা"-এর দিকে ফিরে যায়। আর এই বিস্ময়সূচক "মা" হলো কোনো একটি 'বস্তু' বা 'বিষয়' অর্থে ব্যবহৃত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য। আর যখন আপনি বলবেন "মা আহসান যাইদিন" (আহসানকে রফ্ এবং যাইদকে জর দিয়ে), তখন "মা" হবে প্রশ্নবোধক মুবতাদা, "আহসান" হবে তার খবর এবং "যাইদ" হবে মুদাফ ইলাইহি। এর অর্থ হবে—তার কোন অঙ্গটি সবচেয়ে সুন্দর? তার মুখমণ্ডল, মাথা নাকি হাত? আবার যদি বলেন "মা আহসান যাইদুন" (আহসানকে নসব এবং যাইদকে রফ্ দিয়ে), তবে এখানে "মা" হলো না-বোধক, "আহসান" হলো অতীতকালীন ক্রিয়া এবং "যাইদ" হলো কর্তা। এর মাধ্যমে যাইদ থেকে সৌন্দর্যকে অস্বীকার করা হয়েছে। আর এটিই কাব্যকারের এই বাণীর উদ্দেশ্য— "এর মাধ্যমে আপনি জটিল ও অস্পষ্ট অর্থসমূহ উন্মোচিত করবেন।"
তাঁর উক্তি— "ফাহাকা ফীহি"—এখানে 'হাকা' হলো একটি নির্দেশবাচক বিশেষ্য ক্রিয়া, যার অর্থ 'গ্রহণ করুন'। আর "দুররাহ" অর্থ হলো মুক্তা, যার বহুবচন হলো 'দুররাত' ও 'দুরার'। "ইয়াতীমা" অর্থ হলো অতুলনীয় বা যার কোনো নজির নেই। মুখতারুস সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: প্রতিটি একক বস্তু যার নজির মেলা ভার, তাকেই 'ইয়াতীম' বলা হয়; যেমন বলা হয় 'অতুলনীয় মুক্তা'। আর "কীমাহ" হলো 'ক্বিয়াম' শব্দের একবচন, যা কোনো পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা থেকে এসেছে। কাব্যকার কামনা করেছেন যেন এই মুক্তার মূল্য হয় 'উত্তম কবুলিয়ত'; অর্থাৎ আল্লাহ যেন একে কবুল করেন এবং এটি যেন কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই হয়, আর মানুষও যেন একে গ্রহণ করে এর মাধ্যমে উপকৃত হয়। এই দোয়াটি তাঁর কবিতার শেষ চরণের অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
"أبياتها قاف القبول المرتجى" ثم قال:
"
باب حد الكلام والكلمة وأقسامها".
"حد الكلام لفظنا المفيد نحو أتى زيد وذا يزيد"
"وحد كلمة فقول مفرد وهي اسم وفعل وحرف يقصد"
قوله "حد الكلام" في اصطلاح أهل النحو "لفظنا" أي اللفظ وهو الصوت المشتمل على بعض الحروف الهجائية التي أولها الألف وآخرها الياء وأما عند أهل اللغة فقد يطلق الكلام على خمسة معان يسمونها محترزات اللفظ كما قال القائل:
واحترزوا باللفظ في الكلام من خمسة تدرى لدى الأفهام
الخط والإشارة المفهوم ثم حديث النفس والتكليم
"الخط" تقول العرب القلم أحد اللسانين ومن ذلك قول عائشة ما بين دفتي المصحف كلام "والإشارة" كقول الشاعر:
حواجبنا تقضى الحوائج بيننا
…ونحن سكوت والهوى يتكلم
"والمفهوم" كقول الراجز:
امتلأ الحوض وقال قطني مهلا
…رويدا قد ملأت بطني.
"حديث النفس" كقول الشاعر:
إن الكلام لفي الفؤاد
…وإنما جعل اللسان على الفؤاد دليلا
"والتكليم" ومنه قول الشاعر:
قالوا كلامك هندا وهي مصغية
…يشفيك قلت صحيح ذاك إن كان
وقوله "المفيد" فائدة يحسن سكوت المتكلم عليها "نحو أتى زيد" وهذا مثال صالح للفظ وللفائدة وهذه الجملة فعلية وكذلك قولك
"তার পঙক্তিগুলোর সমাপনী বর্ণ হলো ক্বফ, যা কবুলিয়্যাতের আশায় করা হয়েছে" অতঃপর তিনি বলেন:
"
কালাম (বাক্য), কালিমাহ (শব্দ) এবং এর প্রকারভেদের সংজ্ঞার পরিচ্ছেদ".
"কালামের সংজ্ঞা হলো আমাদের অর্থবোধক উচ্চারণ; যেমন ‘যায়েদ এসেছে’ এবং ‘এ হলো ইয়াযিদ’"
"আর কালিমাহর সংজ্ঞা হলো একক শব্দ; যা ইসিম, ফে’ল এবং হরফ হিসেবে সংকল্পিত"
তার উক্তি "কালামের সংজ্ঞা" নাহুবিদদের পরিভাষায় "আমাদের উচ্চারণ" তথা উচ্চারণ হলো এমন ধ্বনি যা হিজায়ী কিছু বর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার শুরু আলিফ এবং শেষ ইয়া। আর ভাষাবিদদের নিকট কালাম শব্দটি পাঁচটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে, যা তারা উচ্চারণের বহির্ভূত বিষয় বলে গণ্য করেন; যেমনটি কবি বলেছেন:
আর তারা কালামের ক্ষেত্রে উচ্চারণের মাধ্যমে পাঁচটি বিষয়কে বাদ দিয়েছেন, যা প্রজ্ঞাবানদের নিকট পরিচিত
লিখনী, ইঙ্গিত, বোধগম্য বিষয়, এরপর মনের কথা (হাদিসুন নাফস) এবং সম্বোধন
"লিখনী" সম্পর্কে আরবরা বলে থাকে—কলম হলো দুই রসনার একটি। এ থেকেই আয়েশা (রা.)-এর উক্তি—মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী সবকিছুই আল্লাহর কালাম। "ইঙ্গিত" যেমন কবির উক্তি:
আমাদের ভ্রূসমূহ আমাদের মাঝে প্রয়োজনগুলো মিটিয়ে দেয়
…অথচ আমরা নীরব থাকি আর অনুরাগ কথা বলে
"বোধগম্য বিষয়" যেমন রাজেয কবির উক্তি:
হাউজটি পূর্ণ হয়ে গেল এবং বলল—থামো, আমার জন্য যথেষ্ট
…ধীরে, তুমি তো আমার পেট পূর্ণ করে দিয়েছ।
"মনের কথা (হাদিসুন নাফস)" যেমন কবির উক্তি:
নিশ্চয়ই কথা তো হৃদয়ে বিদ্যমান
…জিহ্বাকে তো হৃদয়ের ওপর প্রমাণস্বরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে
"সম্বোধন" আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো কবির উক্তি:
তারা বলল—হিন্দের সাথে তোমার কথা বলা—সে যখন মনোযোগী হয়—তোমাকে আরোগ্য দেবে; আমি বললাম—তা সঠিক (صحيح) যদি তেমনটি হয়
আর তার উক্তি "অর্থবোধক" বলতে এমন উপকারিতা বোঝায় যার ওপর বক্তার নীরব থাকা সংগত। "যেমন—যায়েদ এসেছে" এটি উচ্চারণের এবং অর্থবোধকতার জন্য একটি উপযুক্ত উদাহরণ। আর এই বাক্যটি হলো ক্রিয়াবাচক বাক্য, অনুরূপভাবে আপনার কথা
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
"وذا يزيد" في الجملة الاسمية احترازا مما هو معلوم كالسماء فوقنا والأرض تحتنا وما أشبه ذلك فإنه لا يسمى كلاما فهذان المثالان اجتمعت فيها شروط الكلام من لفظ وتركيب وفائدة ووضع قوله "وحد كلمة فقول مفرد" فالقول هو اللفظ الدال على معنى كرجل فرس والقول يعم الكلام والكلمة والكلم وقد يقصد كلام بكلمة ككلمة الشهادة وهي أكثر من كلمة، قال تعالى: {كلا إنها كلمة} وهي الحديث "كلمتان حبيبتان إلى الرحمان خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم"، وهي أكثر من كلمتين قوله "وهي اسم أو فعل أو حرف يقصد" يعنى أن أقسام الكلام ثلاثة لا رابع لها فالكلمة إن دلت على معنى في نفسها ولم تقترن بصيغتها للزمان فهي الاسم كزيد وهند وإنسان وإن دلت على معنى في نفسها واقترنت بصيغتها للزمان فهي الفعل نحو خرج ويخرج واخرج وإن دلت على معنى في غيرها فهي الحرف نحو من وعن ولم وهل ثم شرع يبين العلامات التي يعرف بها الاسم من قسميه الفعل والحرف فقال:
"فاسم بتنوين وجر وندا
…وأل بلا قيد وإسناد بدا"
قوله "بتنوين" وهو نون زائدة ساكنة تلحق آخر الاسم في اللفظ وتفارقه في الخط استغناء عنها بتكرار اللفظ. والتنوين على خمسة أقسام: تنوين تمكين ويسمى تنوين صرف أيضا ويلحق الاسم المتمكن الأمكن كزيد ورجل: وتنوين تنكير وهو ما فرق بين نكرة بعض الأسماء المبنية ومعرفتها وهي أسماء الأفعال كمه وصه فما نون منها كان نكرة
"এবং 'এটি ইয়াজিদ' নামবাচক বাক্যের ক্ষেত্রে ওইসব বিষয় থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য যা সাধারণভাবে জ্ঞাত, যেমন আকাশ আমাদের উপরে এবং পৃথিবী আমাদের নিচে কিংবা এ জাতীয় বিষয়াদি; কেননা এগুলোকে কালাম (كلام) বলা হয় না। সুতরাং এই দুটি উদাহরণে কালাম (كلام) হওয়ার শর্তাবলি বিদ্যমান রয়েছে, যা হলো শব্দ (لفظ), গঠন (تركيب), সার্থকতা (فائدة) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রয়োগ (وضع)। তাঁর কথা 'কালিমা (كلمة) হলো একটি একক (مفرد) কাউল (قول)'। কাউল (قول) হলো এমন শব্দ (لفظ) যা কোনো অর্থ নির্দেশ করে, যেমন মানুষ বা ঘোড়া। কাউল (قول) শব্দটি কালাম (كلام), কালিমা (كلمة) এবং কালিম (كلم)-কে ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। আবার কখনো কালিমা (كلمة) শব্দ দ্বারা পূর্ণ কালাম (كلام) উদ্দেশ্য হতে পারে, যেমন কালিমায়ে শাহাদাত, যা একটি শব্দের চেয়েও বেশি। মহান আল্লাহ বলেন: 'কখনোই নয়, এটি তো একটি কালিমা (كلمة) মাত্র'। এবং এটি সেই হাদিস: 'দুটি কালিমা (كلمة) রয়েছে যা দয়াময় আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়, জিহ্বায় উচ্চারণে অতি সহজ এবং মিজানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী; আর তা হলো—সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম', অথচ এটি দুটি শব্দের চেয়ে বেশি। তাঁর কথা 'আর তা হলো ইসম (اسم), ফিল (فعل) কিংবা এমন হরফ (حرف) যা অর্থ নির্দেশ করে'। অর্থাৎ কালামের (كلام) প্রকারভেদ তিনটি, যার চতুর্থ কোনো প্রকার নেই। কালিমা (كلمة) যদি স্বীয় সত্তায় কোনো অর্থ নির্দেশ করে এবং তার গঠনের সাথে কাল বা সময় সম্পৃক্ত না হয়, তবে তা ইসম (اسم), যেমন যায়িদ, হিন্দ ও মানুষ। আর যদি তা স্বীয় সত্তায় অর্থ নির্দেশ করার পাশাপাশি গঠনের সাথে কাল বা সময় সম্পৃক্ত হয়, তবে তা ফিল (فعل), যেমন বের হয়েছে, বের হচ্ছে ও বের হও। আর যদি তা অন্য শব্দ ব্যতিরেকে অর্থ প্রকাশ করতে না পারে, তবে তা হরফ (حرف), যেমন 'মিন', 'আন', 'লাম' ও 'হাল'। এরপর তিনি বিশেষ্য বা ইসমকে (اسم) তার অপর দুটি প্রকার ফিল (فعل) ও হরফ (حرف) থেকে পৃথক করার আলামতসমূহ বর্ণনা করতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন:
"ইসম (اسم) চেনা যায় তানউইন (تنوين), জের (جر), সম্বোধন (ندا)
…এবং 'আল' (أل) ও নিঃশর্ত অন্বয় (إسناد) দ্বারা।"
তাঁর কথা "তানউইন (تنوين) দ্বারা", আর তা হলো একটি অতিরিক্ত সাকিনযুক্ত নুন যা উচ্চারণের সময় বিশেষ্যের (اسم) শেষে যুক্ত হয় কিন্তু লেখার সময় তা পৃথক থাকে, শব্দের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তার প্রয়োজনীয়তা দূর হওয়ার কারণে। তানউইন (تنوিন) পাঁচ প্রকার: স্থিতিজ্ঞাপক তানউইন (تنوين تمكين), একে পরিবর্তনযোগ্য তানউইনও (تنوين صرف) বলা হয়। এটি এমন ইসম বা বিশেষ্যের (اسم) শেষে যুক্ত হয় যা পূর্ণরূপে পরিবর্তনশীল ও স্থিতিশীল, যেমন যায়িদ ও মানুষ। আর অনির্দিষ্টকারী তানউইন (تنوين تنكير), যা কিছু অব্যয়জাত বিশেষ্যের (أسماء مبنية) অনির্দিষ্ট রূপ (نكرة) ও নির্দিষ্ট রূপের (معرفة) মধ্যে পার্থক্য করে। এগুলো হলো ক্রিয়ামূলক বিশেষ্য (أسماء الأفعال) যেমন 'মাহ' এবং 'সাহ'। যার সাথে তানউইন (تنوين) যুক্ত হয় তা অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وما لم ينون كان معرفة. الثالث: تنوين العوض وهو اللاحق من حينئذ ويومئذ فإنه عوض عن جملة نحو قوله تعالى: {وأنتم حينئذ تنظرون} الرابع: تنوين المقابلة نحو مسلمات فإنه في مقابلة النون في جمع المذكر السالم الخامس: تنوين الترنم وهو اللاحق للقوافي نحو قول الشاعر: "أقل اللوم عاذل والعتابن".
وقسم بعضهم التنوين إلى ستة أقسام وبعضهم إلى عشرة أقسام.
"وجر" أي ويوجود الجر في آخره سواء كان بالحرف أو الإضافة أو التبعية مثل بسم الله الرحمن الرحيم. فإنها قد جمعت المجرور بالحرف نحو بسم وبالإضافة نحو: الله والنعت نحو: الرحمن أو بالعطف نحو: مررت بزيد أو عمرو أو التوكيد نحو: مررت بزيد نفسه أو البدل نحو مررت بزيد أخيك أو بمجاورة نحو هذا جحر ضب خرب.
وكذلك يعرف الاسم بدخول حرف الجر عليه وسنتكلم على حروف الجر في الباب الأخير من هذا الرجز إن شاء الله.
"وندا" ومما يعرف به الاسم دخول حرف النداء أو كون الكلمة مناداة نحو يا إيها الرجل ويا أيتها المرأة "و" مما يعرف به الاسم دخول "ال" عليه أي الألف واللام الزائدتان على أصل الكلمة وقد جمعها بعضهم بقوله:
الخيل والليل والبيداء تعرفني
…والرمح والسيف والقرطاس والقلم
واحترزنا بالزائدتين من "ال" التي من الكلمة نحو ألواح وألغاف وألهاكم فإن هذه من الكلمة فليست علامة للاسم وكذلك الموصولية التي بمعنى الذي فإنها تدخل على الاسم وعلى الفعل فأدراك في قول الشاعر:
এবং যা তানউইন (تنوين) গ্রহণ করে না তা হলো নির্দিষ্ট (معرفة)। তৃতীয় প্রকার: বিনিময় তানউইন (تنوين العوض), যা 'হিনাইযিন' এবং 'ইয়াওমাইযিন' শব্দগুলোর শেষে যুক্ত হয়; কেননা এটি একটি বাক্যের বিনিময় হিসেবে আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমরা সে সময়ে তাকিয়ে থাকো}। চতুর্থ প্রকার: সমতাবিধানকারী তানউইন (تنوين المقابلة), যেমন 'মুসলিমাত' শব্দে থাকে, কারণ এটি পুরুষবাচক বহুবচনের (جمع المذكر السالم) 'নুন' অক্ষরের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়। পঞ্চম প্রকার: সংগীতময় তানউইন (تنوين الترنم), যা পদ্যের অন্ত্যমিলের সাথে যুক্ত হয়, যেমন কবির উক্তি: "হে ভর্ৎসনাকারিণী! নিন্দা ও তিরস্কার কমিয়ে দাও" ।
কেউ কেউ তানউইন (تنوين)-কে ছয় ভাগে এবং অন্য কেউ দশ ভাগে বিভক্ত করেছেন।
"জের (جر)" তথা শব্দের শেষে জের বা কাসরাহ হওয়া, চাই তা হরফের মাধ্যমে হোক অথবা সম্বন্ধের (إضافة) কারণে হোক কিংবা অনুবর্তিতার (تبعية) কারণে হোক। যেমন: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। এতে হরফ দ্বারা জেরপ্রাপ্ত (مجرور) হওয়ার উদাহরণ হলো 'বিসমি', সম্বন্ধের কারণে উদাহরণ হলো 'আল্লাহ', এবং বিশেষণের (نعت) কারণে উদাহরণ হলো 'আর-রহমান'; অথবা সংযোজনের (عطف) কারণে, যেমন: 'আমি জায়েদ ও আমরের পাশ দিয়ে গেলাম'; কিংবা নিশ্চয়তার (توكيد) কারণে, যেমন: 'আমি স্বয়ং জায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম'; অথবা বিকল্পের (بدل) কারণে, যেমন: 'আমি তোমার ভাই জায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম'; কিংবা নৈকট্যের (مجاورة) কারণে, যেমন: 'এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত গুঁই সাপের গর্ত'।
অনুরূপভাবে, বিশেষ্য (اسم) চেনা যায় তার শুরুতে হারফে জার (حرف الجر) আসার মাধ্যমে। ইনশাআল্লাহ, আমরা এই রাজায কাব্যের শেষ অধ্যায়ে হারফে জারসমূহ (حروف الجر) নিয়ে আলোচনা করব।
"সম্বোধন (ندا)" এবং যেসব নিদর্শনের মাধ্যমে বিশেষ্য (اسم) চেনা যায় তার মধ্যে অন্যতম হলো সম্বোধনসূচক অব্যয় (حرف النداء) যুক্ত হওয়া অথবা শব্দটির সম্বোধিত (منادى) হওয়া। যেমন: 'হে পুরুষ' এবং 'হে নারী'। এবং বিশেষ্য (اسم) চেনার আরেকটি মাধ্যম হলো শব্দের শুরুতে "আল" (ال) তথা অতিরিক্ত আলিফ এবং লাম যুক্ত হওয়া যা মূল শব্দের অংশ নয়। কেউ কেউ এগুলোকে একত্রিত করে তার কবিতায় বলেছেন:
ঘোড়া, রাত এবং মরুভূমি আমাকে চেনে
…আর বর্শা, তলোয়ার, কাগজ ও কলম
আমরা 'অতিরিক্ত' শব্দটি দিয়ে সেই 'আল' (ال) থেকে বিরত থেকেছি যা শব্দের মূল অংশভুক্ত। যেমন: আলওয়াহ, আলগাফ এবং আলহাকুম; কারণ এগুলো শব্দের মূল অংশ এবং বিশেষ্য (اسم) হওয়ার নিদর্শন নয়। অনুরূপভাবে সম্বন্ধবাচক (موصولية) 'আল', যা 'আল্লাযী' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা বিশেষ্য (اسم) এবং ক্রিয়া (فعل) উভয়ের পূর্বে আসতে পারে। কবির কবিতায় 'আদরাকা' এর ক্ষেত্রে এটি...
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ما أنت بالحكم الترضى حكومته
…ولا الأصيل ولا ذوي الرأي والجدل.
"وإسناد بدا" أي الاسم المضاف ومعنى الإسناد إلى الاسم هو أن تنسب إليه ما يحصل به الفائدة وذلك كما في قمت وكذلك في نسبة الإيمان لنا في قولك أنا مؤمن ثم شرع يتكلم على علامات الفعل فقال:
واعرف لما ضارع من فعل بلم
…والتاء من قامت لماضيه علم
والباء من خافي بها الأمر انجلا
…والحرف عن كل العلامات خلا
"واعرف لما ضارع" أي للفعل المضارع وسمي مضارعا لأنه شابه الاسم في الإعراب "من فعل بلم" نحو لم يضرب ولم يقم، قال في الألفية:
"فعل مضارع يلي لم كيشم"
"والتاء" أي تاء التأنيث التي توجد في آخر الفعل "من" قولك "قامت" هند "لماضيه" أي للفعل الماضي "علم" أي أمارة والمعنى أن الفعل الماضي يمتاز عن الفعل المضارع والأمر بصلاحيته للتاء الساكنة وكذلك تاء الضمير من قولك ضربت وضربت وترك الناظم رحمه الله تعالى باقي الأمارات التي يمتاز بها الفعل وقد ذكرتها في نظمنا اللؤلؤ المنظوم فقلت:
"والسين سوف قد بها الفعل وسم
…والحرف من كل العلامات خصم"
ثم أشار إلى ما يمتاز به فعل الأمر من قسميه الماضي والمضارع فقال "والياء من خافي بها" فعل "الأمر انجلا" وبقى له من علامات فعل الأمر وجود نون التوكيد الخفيفة والثقيلة والى هذا أشار ابن مالك بقوله:
তুমি এমন বিচারক নও যার ফয়সালা সন্তোষজনক
…না তুমি সম্ভ্রান্ত বংশীয়, না তুমি বিজ্ঞ ও যুক্তিবাদী।
"এবং সম্বন্ধ (إسناد) প্রকাশ পেলো" অর্থাৎ এখানে সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্য উদ্দেশ্য। বিশেষ্যের (اسم) প্রতি সম্বন্ধ (إسناد) করার অর্থ হলো, তার দিকে এমন বিষয়কে সম্পৃক্ত করা যার দ্বারা পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায়। যেমন 'ক্বুমতু' (আমি দাঁড়িয়েছি) বাক্যে 'তা' সর্বনামের সম্বন্ধ এবং 'আমি মুমিন' বাক্যে আমাদের প্রতি ইমানের সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে। এরপর তিনি ক্রিয়ার আলামতসমূহ নিয়ে আলোচনা শুরু করে বললেন:
বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক (مضارع) ক্রিয়াকে 'লাম' (لم) দ্বারা চিনে নাও
…আর 'ক্ব-মাত' শব্দের 'তা' বর্ণটি অতীতকালসূচক (ماضي) ক্রিয়ার চিহ্ন হিসেবে পরিগণিত।
আর 'খ-ফী' শব্দের 'ইয়া' দ্বারা আদেশসূচক (أمر) ক্রিয়াটি সুস্পষ্ট হয়
…এবং হরফ (حرف) বা অব্যয় সকল আলামত থেকে মুক্ত থাকে।
"বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক (مضارع) ক্রিয়াকে চিনে নাও" অর্থাৎ মুজারে ক্রিয়াকে। একে মুজারে (مضارع) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি শব্দরূপের পরিবর্তনের (إعراب) ক্ষেত্রে বিশেষ্যের (اسم) সদৃশ। "লাম (لم) যোগে ক্রিয়া থেকে" যেমন: 'লাম ইয়াদরিব' এবং 'লাম ইয়াক্বুম', আলফিয়্যাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে:
"বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক (مضارع) ক্রিয়া তাই যা 'লাম' এর অনুগামী হয়, যেমন 'ইয়াশাম্মু'"
"এবং তা" অর্থাৎ স্ত্রীলিঙ্গবাচক (تأنيث) 'তা' যা ক্রিয়ার শেষে পাওয়া যায়। "তোমার উক্তি - ক্ব-মাত হিন্দুন - এর মধ্যে", "তার অতীতকালসূচকের (ماضي) জন্য" অর্থাৎ অতীতকালসূচক ক্রিয়ার জন্য এটি একটি "চিহ্ন (علم)" বা নিদর্শন। এর অর্থ হলো, অতীতকালসূচক (ماضي) ক্রিয়া বর্তমান ও আদেশসূচক ক্রিয়া থেকে পৃথক হয় সুকুনযুক্ত 'তা' গ্রহণ করার যোগ্যতার মাধ্যমে। অনুরূপভাবে সর্বনামযুক্ত 'তা' (تاء الضমير) যেমন তোমার উক্তি: 'দারাবতু' ও 'দারাবতি'। গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) ক্রিয়ার অন্যান্য আলামতগুলো ছেড়ে দিয়েছেন যা দ্বারা ক্রিয়া বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়। আমি সেগুলো আমার আল-লু'লুউল মানজুম কাব্যে উল্লেখ করেছি এবং বলেছি:
"সীন (س), সাওফা (سوف) ও ক্বাদ (قد) দ্বারা ক্রিয়াকে চিহ্নিত করা হয়
…আর হরফ (حرف) সকল আলামত থেকে বিযুক্ত।"
এরপর তিনি আদেশসূচক (أمر) ক্রিয়া তার বাকি দুই প্রকার অর্থাৎ অতীত ও বর্তমান থেকে যে আলামত দ্বারা পৃথক হয় সেদিকে ইঙ্গিত করে বললেন, "আর 'খ-ফী' শব্দের 'ইয়া' দ্বারা" আদেশসূচক (أمر) "ক্রিয়াটি সুস্পষ্ট হয়"। তাঁর নিকট আদেশসূচক (أمر) ক্রিয়ার আলামত হিসেবে হালকা ও ভারী তাকিদসূচক নুন (نون التوكيد) অবশিষ্ট ছিল, যেদিকে ইবনে মালিক ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে:
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وماضي الأفعال بالتا مز وسم
…بالنون فعل الأمر أن أمر فهم.
"والحرف من كل العلامات" التي تقدمت في قسميه الاسم والفعل "خلا" مثل حروف الجر وهي من وما ذكر معها من حروف الجر ونواصب المضارع وجوازمه وحروف الجواب نحو بلى ونعم وقد أطلت الكلام في هذا الموضوع في شرحنا كفاية المنهوم على اللؤلؤ المنظوم قال في الملحة:
والحرف ما ليست له علامة
…فقس على قولي تكن علامة
مثاله حتى ولا وثما
…وهل وبل ولو ولم ولما
ثم شرع يتكلم على أقسام الإعراب فقال:
"
باب أقسام الإعراب"
"أقسامه رفع ونصب وهما
…في اسم وفعل ثم جر لزما"
"تخصيصه باسم وجزم ينفرد
…به مضارع وإعراب يرد"
"مقدرا في نحو عبدي والفتى
…وغير نصب كل منقوص أتى"
"كاسمع أخي داعي موليك الغنا
…واحكم على اسم شبه حرف بالبنا"
"وفي كيدعو وكيرمي ويرى
…فالرفع مع نصب الأخير قدرا"
"واظهر لنصب الأولين واحذف
…آخر كل جازما كالتقتف"
"باب" والباب هو المدخل وهو على قسمين حسي ومعنوي فالحسي كباب الدار والمعنوي كباب أقسام الإعراب والإعراب ينقسم إلى قسمين لغة: واصطلاحا: ففي اللغة يطلق على خمس معان جمعها بعضهم بقوله:
بيان وحسن وانتقال تغير
…وعرفان أي الإعراب في اللغة اعقلا
অতীতকালীন ক্রিয়াকে (فعل ماض) ‘তা’ বর্ণ দ্বারা পৃথক করো এবং চিহ্নিত করো
…আর ‘নুন’ বর্ণ দ্বারা অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়াকে (فعل أمر) চিহ্নিত করো যদি তা দ্বারা আদেশ বুঝায়।
“এবং অব্যয় (الحرف) ইতিপূর্বে বিশেষ্য (اسم) এবং ক্রিয়া (فعل) এই দুই প্রকারের ক্ষেত্রে বর্ণিত সকল চিহ্ন হতে ‘মুক্ত (خلا)’,” যেমন সম্বন্ধসূচক অব্যয়সমূহ (حروف الجر); আর তা হলো ‘মিন’ এবং এর সাথে উল্লিখিত অন্যান্য সম্বন্ধসূচক অব্যয়সমূহ (حروف الجر), বর্তমানকালীন ক্রিয়ার নসবদানকারী (نواصب المضارع) ও জজমদানকারী (جوازمه) অব্যয়সমূহ এবং উত্তরসূচক অব্যয়সমূহ (حروف الجواب) যেমন ‘বালা’ ও ‘না’আম’। আমি লুলুউল মানজুম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ কিফায়াতুল মানহুম-এ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আল-মিলহা গ্রন্থে বলা হয়েছে:
অব্যয় (الحرف) হলো তা যার কোনো চিহ্ন নেই
…সুতরাং আমার কথার ওপর অনুমান করো, তবেই তুমি বিজ্ঞ (علامة) হবে।
এর উদাহরণ হলো হাত্তা, লা এবং থুম্মা
…হাল, বাল, লাউ, লাম এবং লাম্মা।
এরপর তিনি শব্দরূপের (إعراب) প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা শুরু করে বললেন:
“
শব্দরূপের প্রকারভেদ পরিচ্ছেদ (باب أقسام الإعراب)”
“এর প্রকারগুলো হলো রফ’ (رفع) ও নসব (نصب), আর এ দুটি
…বিশেষ্য (اسم) ও ক্রিয়া (فعل) উভয় ক্ষেত্রে থাকে, এরপর জর (جر) অবধারিতভাবে”
“বিশেষ্যের (اسم) জন্য নির্দিষ্ট এবং জজম (جزم) এককভাবে
…বর্তমানকালীন ক্রিয়ার (مضارع) জন্য নির্দিষ্ট; আর শব্দরূপ (إعراب) প্রতীয়মান হয়”
“উহ্যভাবে (مقدرا) যেমন ‘আবদি’ ও ‘আল-ফাতা’ শব্দের ন্যায়
…এবং নসব (نصب) ব্যতীত সকল অপূর্ণ বিশেষ্যের (منقوص) ক্ষেত্রেও তা ঘটে”
“যেমন ‘হে আমার ভাই, তোমার দাতার আহ্বানকারীর কথা শোনো’;
…আর অব্যয়ের (حرف) সাদৃশ্যপূর্ণ বিশেষ্যের ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয়তার (بناء) হুকুম দাও”
“এবং ‘ইয়াদউ’, ‘ইয়ারমি’ ও ‘ইয়ারা’ শব্দের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হয়,
…সেক্ষেত্রে রফ’ (رفع) এবং শেষের শব্দটির নসব (نصب) উহ্য (قدرا) ধরা হয়”
“প্রথম দুটির নসব (نصب) প্রকাশ করো এবং বিলুপ্ত (احذف)
…করো প্রত্যেকের শেষাক্ষর জজম (جازم) প্রদানকারী অবস্থায়, যেমন ‘তাক্তাফি’ শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছে।”
“পরিচ্ছেদ (باب)”; আর পরিচ্ছেদ বা অধ্যায় (البাব) হলো প্রবেশপথ, যা দুই প্রকার: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (حسي) এবং অর্থগত (معنوي)। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হলো যেমন ঘরের দরজা এবং অর্থগত হলো যেমন শব্দরূপের (إعراب) প্রকারভেদের পরিচ্ছেদ। শব্দরূপ (الإعراب) শাব্দিক ও পারিভাষিক এই দুই অর্থে বিভক্ত। শাব্দিক অর্থে এটি পাঁচটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা কেউ কেউ নিম্নোক্ত পঙক্তিতে একত্রিত করেছেন:
প্রকাশ (بيান), সৌন্দর্য (حسن), স্থানান্তর (انتقال), পরিবর্তন (تغير)
…এবং পরিচিতি (عرفان); অর্থাৎ শাব্দিক অর্থে শব্দরূপকে (الإعراب) অনুধাবন করো।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فمن البيان قوله صلى الله عليه وسلم: "والثيب تعرب عن نفسها" أي تبين "وحسن" ومنه قوله تعالى: {عرب أترابا} أي حسانا والانتقال نحو أعربت الإبل عن مرعاها أي انتقلت من موضع إلى موضع "تغير" من قولهم أعربت معدة الرجل أي تغيرت "وعرفان" أعرب الرجل إذا كان عارفا بالخيل وأما في الاصطلاح فهو تغيير أواخر الكلمة بسبب تغيير العامل الداخلة عليها وقوله "رفع" ومعناه لغة العلو واصطلاحا تغير مخصوص علامته الضمة وما ناب عنها وقوله "ونصب" معناه لغة الاستقامة واصطلاحا تغير مخصوص علامته الفتحة وما ناب عنها وقوله "وهما" أي الرفع والنصب في الاسم والفعل نحو يضرب زيد ولن أضرب زيدا و "وجر" ومعناه لغة ضد الرفع وهو التسفل واصطلاحا تغير مخصوص علامته الكسرة وما ناب عنها ولا يكون إلا في الاسم وهذا معنى قوله "لزما تخصيصه باسم" نحو مررت بزيد فزيد مجرور بالباء "وجزم" ومعناه لغة القطع واصطلاحا تغير مخصوص علامته السكون وما ناب عنها "وينفرد به مضارع" نحو لم يضرب زيد فيضرب فعل مضارع مجزوم بلم وعلامة جزمه السكون الظاهر في آخره وقوله "وإعراب يرد" فإعراب مبتدأ ويرد خبره و "مقدرا" حال يعني أن الإعراب قد يكون لفظا وهو ما يظهر فيه الإعراب بجميع حركاته فتقول جاء زيد بالرفع ورأيت زيدا بالنصب ومررت بزيد بالجر فهنا ظهرت الحركات كلها وقد يأتي مقدرا فلا يمكن ظهور عمل العامل نحو هذا عبدي ورأيت عبدي ومررت بعبدي فالحركات الثلاث مقدرة على ياء المتكلم وجاء الفتى ورأيت الفتى
বর্ণনার (بيان) ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হলো: "পূর্ব-বিবাহিতা নারী নিজের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে নিজের কথা ব্যক্ত করবে" অর্থাৎ সে স্পষ্টভাবে বর্ণনা (تبين) করবে। এটি 'সৌন্দর্য' (حسن) অর্থও প্রদান করে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সোহাগিনী ও সমবয়সী} অর্থাৎ সুন্দরী (حسانا)। এছাড়া 'স্থানান্তর' (الانتقال) অর্থেও এর ব্যবহার রয়েছে, যেমন বলা হয়: উট তার চারণভূমি পরিবর্তন করেছে, অর্থাৎ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে গেছে। 'পরিবর্তন' (تغير); যেমন তাদের উক্তি: লোকটির পাকস্থলী পরিবর্তিত হয়েছে অর্থাৎ বিকৃত (تغيرت) হয়েছে। 'পরিচয়' বা 'জ্ঞান' (عرفان); যেমন বলা হয় যখন ব্যক্তিটি ঘোড়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ বা জ্ঞানী হয়। আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে এটি হলো শব্দের শেষে প্রবেশকারী আমিল (عامل)-এর পরিবর্তনের কারণে শব্দের শেষভাগের রূপান্তর। তাঁর উক্তি পেশ (رفع); এর আভিধানিক অর্থ উচ্চতা এবং পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে এটি একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন যার চিহ্ন হলো পেশ (ضمة) অথবা এর স্থলাভিষিক্ত কোনো চিহ্ন। তাঁর উক্তি জবর (نصب); এর আভিধানিক অর্থ ঋজুতা এবং পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে এটি একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন যার চিহ্ন হলো জবর (فتحة) অথবা এর স্থলাভিষিক্ত কোনো চিহ্ন। তাঁর উক্তি 'উভয়টি' অর্থাৎ পেশ (رفع) ও জবর (نصب) বিশেষ্য (اسم) এবং ক্রিয়া (فعل) উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে, যেমন: "যায়দ প্রহার করছে" এবং "আমি যায়দকে কখনোই প্রহার করব না"। জের (جر); এর আভিধানিক অর্থ হলো পেশ (رفع)-এর বিপরীত তথা নিম্নগমন এবং পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে এটি একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন যার চিহ্ন হলো জের (كسرة) অথবা এর স্থলাভিষিক্ত কোনো চিহ্ন। এটি শুধুমাত্র বিশেষ্যের (اسم) মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর এটিই তাঁর এই উক্তির মর্মার্থ যে: "এটি আবশ্যিকভাবে বিশেষ্যের (اسم) জন্য নির্দিষ্ট", যেমন: "আমি যায়দ-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম", এখানে 'যায়দ' শব্দটি 'বা' অক্ষরের কারণে জেরযুক্ত (مجرور)। জযম (جزم); এর আভিধানিক অর্থ হলো কর্তন করা এবং পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে এটি একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন যার চিহ্ন হলো সুকুন (سكون) অথবা এর স্থলাভিষিক্ত কোনো চিহ্ন। বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع) এর সাথে এটি এককভাবে যুক্ত হয়, যেমন: "যায়দ প্রহার করেনি", এখানে 'প্রহার করেনি' ক্রিয়াটি 'লাম' দ্বারা জযমপ্রাপ্ত (مجزوم) হয়েছে এবং এর জযমের চিহ্ন হলো এর শেষে দৃশ্যমান সুকুন (سكون)। তাঁর উক্তি "ইরাব আসে"; এখানে 'ইরাব' হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং 'আসে' হলো তার বিধেয় (خبر), আর 'উহ্য' (مقدرا) শব্দটি অবস্থা (حال) হিসেবে এসেছে। এর অর্থ হলো ইরাব কখনো শাব্দিক (لفظا) হয়, যা ইরাবের সকল হরকতের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। যেমন আপনি বলবেন: "যায়দ এসেছে" পেশ (رفع) যোগে, "আমি যায়দকে দেখেছি" জবর (نصب) যোগে এবং "আমি যায়দ-এর পাশ দিয়ে গেলাম" জের (جر) যোগে। এখানে সকল হরকতই প্রকাশিত হয়েছে। আবার কখনো এটি উহ্য (مقدرا) হিসেবে আসে, যেখানে আমিলের (عامل) প্রভাব প্রকাশ পাওয়া সম্ভব হয় না। যেমন: "এটি আমার দাস", "আমি আমার দাসকে দেখেছি" এবং "আমি আমার দাসের পাশ দিয়ে গেলাম"। এখানে তিনটি হরকতই 'ইয়া মুতাকাল্লিম'-এর উপস্থিতির কারণে উহ্য (مقدرة) রয়েছে। অনুরূপভাবে: "যুবকটি এসেছে" এবং "আমি যুবকটিকে দেখেছি"।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومررت بالفتى فالحركات الثلاث مقدرة على الألف والمانع من ظهورها التعذر فجاء الفتى جاء فعل ماضي والفتى فاعل مرفوع وعلامة رفعة الضمة المقدرة على الألف منع من ظهورها التعذر ورأيت الفتى رأيت فعل وفاعل والفتى مفعول به منصوب وعلامة نصبه فتحة مقدرة على الألف منع من ظهورها التعذر ومررت بالفتى مررت فعل وفاعل وبالفتى جار ومجرور وعلامة جره الكسرة المقدرة على الألف منع من ظهورها التعذر وقوله "وغير نصب كل منقوص أتى" يعنى أن المنقوص يقدر فيه الرفع والجر نحو قام القاضي ومررت بالقاضي قام فعل ماضي والقاضي فاعل مرفوع وعلامة رفعه الضمة المقدرة على الياء منع من ظهورها الثقل ومررت بالقاضي فعل وفاعل وبالقاضي جار ومجرور وعلامة جره كسرة مقدرة على الياء منع من ظهورها الثقل قال في الألفية:
والثاني منقوص ونصبه ظهر
…ورفعه ينوى كذا أيضا يجر
وتظهر فيه الفتحة لخفتها في الياء نحو رأيت القاضي قوله "كاسمع أخي داعي موليك الغنا" تقدم المثال "واحكم على اسم شبه حرف بالبنا" يعنى أن الاسم إذا شابه الحرف في البناء فإنه يمنع من الصرف سواء شابهه في الوضع أو في المعنى، ومثال الوضع: ضربتنا؛ فالتاء مبينة، لشبهها بالحرف في وضعها على حرف واحد، ونا أيضا لشبهها بالحرف في وضعها على حرفين، ومثال المعنى في متى فإنها أشبهت همزة الاستفهام إذا كانت استفهاما وأن الشرطية إذا كانت شرطا قال ابن مالك:
এবং আমি ফাতা (যুবক)-এর পাশ দিয়ে গেলাম। এখানে তিনটি স্বরচিহ্নই আলিফের ওপর উহ্য (مقدرة) থাকে এবং তা প্রকাশ পাওয়ার ক্ষেত্রে অক্ষমতা (التعذر) বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন: 'ফাতা আসলো'; এখানে 'জায়া' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماضي) এবং 'ফাতা' হলো মারফু (مرفوع) ফায়েল (فاعل), আর এর রাফা (رفع)-এর আলামত হলো আলিফের ওপর উহ্য (مقدرة) পেশ (ضمة), যা প্রকাশ পেতে অক্ষমতা (التعذر) বাধা প্রদান করেছে। 'আমি ফাতাকে দেখলাম'; এখানে 'রাইতু' হলো ক্রিয়া ও কর্তা, এবং 'ফাতা' হলো মানসুব (منصوب) মাফউলে বিহি (مفعول به), আর এর নাসব (نصب)-এর আলামত হলো আলিফের ওপর উহ্য (مقدرة) জবর (فتحة), যা প্রকাশ পেতে অক্ষমতা (التعذر) বাধা প্রদান করেছে। 'আমি ফাতার পাশ দিয়ে গেলাম'; এখানে 'মারারতু' হলো ক্রিয়া ও কর্তা, এবং 'ফাতা' হলো জার ও মাজরুর (جار ومجرور), আর এর জার (جر)-এর আলামত হলো আলিফের ওপর উহ্য (مقدرة) জের (كسرة), যা প্রকাশ পেতে অক্ষমতা (التعذر) বাধা প্রদান করেছে। আর তাঁর উক্তি "নাসব (نصب) ব্যতীত প্রতিটি মানকুস (منقوص) এসেছে" এর অর্থ হলো মানকুস শব্দে রাফা (رفع) এবং জার (جر) উহ্য (مقدرة) থাকে; যেমন- 'কাজি দাঁড়ালেন' এবং 'আমি কাজির পাশ দিয়ে গেলাম'। 'কামা' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماضي) এবং 'কাজি' হলো মারফু (مرفوع) ফায়েল (فاعل), আর এর রাফা (رفع)-এর আলামত হলো ইয়া-এর ওপর উহ্য (مقدرة) পেশ (ضمة), যা প্রকাশ পেতে গুরুভার হওয়া (الثقل) বাধা প্রদান করেছে। 'আমি কাজির পাশ দিয়ে গেলাম' বাক্যে ক্রিয়া ও কর্তা রয়েছে, আর 'কাজি' হলো জার ও মাজরুর (جار ومجرور), এবং এর জার (جر)-এর আলামত হলো ইয়া-এর ওপর উহ্য (مقدرة) জের (كسرة), যা প্রকাশ পেতে গুরুভার হওয়া (الثقل) বাধা প্রদান করেছে। তিনি আলফিয়্যাহ-তে বলেছেন:
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো মানকুস (منقوص) এবং তার নাসব (نصب) প্রকাশ পায়
…আর তার রাফা (رفع) উহ্য রাখা হয়, অনুরূপভাবে জার (جر)-ও।
এবং ইয়া-এর ওপর হালকা হওয়ার কারণে এতে জবর (فتحة) প্রকাশ পায়, যেমন- 'আমি কাজিকে দেখলাম'। তাঁর উক্তি "হে আমার ভাই, তোমার দাতার ধনাঢ্যতার প্রতি আহ্বানকারীর কথা শোনো" এর উদাহরণ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। "আর অব্যয়ের সদৃশ বিশেষ্যের ওপর মাবনি (البناء) হওয়ার বিধান দাও" অর্থাৎ বিশেষ্য যখন মাবনি হওয়ার ক্ষেত্রে অব্যয়ের সদৃশ হয়, তখন তা পরিবর্তনশীলতা থেকে বাধাগ্রস্ত হয় (يمنع من الصرف); চাই তা গঠনগত দিক থেকে সদৃশ হোক কিংবা অর্থগত দিক থেকে। গঠনগত সাদৃশ্যের উদাহরণ: 'দরাবাতনা'; এখানে 'তা' বর্ণটি মাবনি (مبنية), কারণ এটি একটি মাত্র বর্ণের ওপর গঠিত হওয়ায় অব্যয়ের সদৃশ। আর 'না' শব্দটিও অব্যয়ের সদৃশ, কারণ এটি দুটি বর্ণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। আর অর্থগত সাদৃশ্যের উদাহরণ হলো 'মাতা' (متى), কারণ এটি যখন প্রশ্নবোধক হয় তখন তা প্রশ্নবোধক হামজা (همزة الاستفهام)-এর সদৃশ হয় এবং যখন শর্তবোধক হয় তখন তা শর্তবোধক 'ইন' (أن الشرطية)-এর সদৃশ হয়। ইবনে মালিক বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كالشبه الوضعي في اسمي جئتنا
…والمعنوي في متى وفي هنا
"وفي كيدعو" من قولك يدعو زيد يدعو فعل مضارع مرفوع وعلامة رفعة الضمة المقدرة على الواو منع من ظهورها الثقل وزيد فاعل مرفوع بالضمة الظاهرة "كيرمي" نحو يرمي زيد يرمي فعل مضارع مرفوع بالضمة المقدرة على الياء منع من ظهورها الثقل وزيد فاعل "يرى" زيد يرى فعل مضارع مرفوع بضمة مقدرة منع من ظهرها التعذر وكذلك لن يرى زيد لن حرف نفي ونصب واستقبال يرى فعل مضارع منصوب بلن وعلامة نصبه الفتحة المقدرة على الألف منع من ظهورها التعذر فالرفع في الثلاثة مقدر وكذلك النصب في يرى مقدر وهذا معنى قوله "مع نصب الأخير قدرا واظهر لنصب الأولين" فتقول لن يدعو ولن يرمي لن حرف نفي ونصب واستقبال يدعو فعل مضارع منصوب وعلامة نصبه الفتحة الظاهرة والفاعل مستتر وجوبا تقديره أنا وزيدا مفعول به منصوب ومثله لن أرميه فأرمي منصوب بالفتحة الظاهرة في آخره وقوله "واحذف آخر كل جازم كالتقتف" يعني هذه الأحرف الثلاثة الألف والواو والياء تحذف في الجزم فتقول لم يدع ولم يرم ولم ير "وجازما" حال من الفاعل المستتر في احذف لم يدع لم حرف نفي وجزم وقلب يدع فعل مضارع مجزوم بلم وعلامة جزمه حذف الواو من آخره والضمة قبله دليل عليه لم يرم لم حرف نفي وجزم وقلب، يرم فعل مضارع مجزوم بلم وعلامة جزمه حذف حرف الياء من آخره والكسرة قبله دليل عليه ولم ير لم حرف نفي وجزم وقلب ير فعل مضارع
যেমন ‘জিতানা’ (جئتنا) এর দুটি বিশেষ্যের মধ্যে থাকা গঠনগত সাদৃশ্য (الشبه الوضعي)
…এবং ‘মাতা’ (متى) ও ‘হুনা’ (هنا) এর মধ্যে থাকা অর্থগত সাদৃশ্য (الشبه المعنوي)।
এবং আপনার কথা "যেমন- ইয়াদউ" (كيدعو) এর ক্ষেত্রে; ‘যাইদ ডাকছে’ (يدعو زيد) বাক্যে ‘ইয়াদউ’ (يدعو) হলো মারফু (مرفوع) মুদারি ক্রিয়া (فعل مضارع) এবং এর রাফা (رفع) হওয়ার আলামত হলো ‘ওয়াও’-এর ওপর উহ্য যম্মাহ (الضمة المقدرة), যা উচ্চারণের গুরুভার (الثقل) হওয়ার কারণে প্রকাশ পায়নি। আর ‘যাইদ’ হলো প্রকাশ্য যম্মাহ (الضمة الظاهرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) হওয়া ফায়েল (فاعل)। "যেমন- ইয়ারমি" (كيرمي) এর উদাহরণ; যেমন ‘যাইদ নিক্ষেপ করছে’ (يرمي زيد), এখানে ‘ইয়ারমি’ (يرمي) হলো ‘ইয়া’-এর ওপর উহ্য যম্মাহ দ্বারা মারফু (مرفوع) মুদারি ক্রিয়া (فعل مضارع), যা উচ্চারণের গুরুভার (الثقل) হওয়ার কারণে প্রকাশ পেতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ‘যাইদ’ হলো ফায়েল (فاعل)। "ইয়ারা" (يرى); ‘যাইদ দেখছে’ (زيد يرى) বাক্যে ‘ইয়ারা’ (يرى) হলো উহ্য যম্মাহ দ্বারা মারফু (مرفوع) মুদারি ক্রিয়া (فعل مضارع), যা অসম্ভবতার (التعذر) কারণে প্রকাশ পায়নি। একইভাবে ‘লান ইয়ারা যাইদুন’ (لن يرى زيد); এখানে ‘লান’ (لن) হলো না-বোধক, নাসাব প্রদানকারী ও ভবিষ্যৎ অর্থবোধক অব্যয় (حرف نفي ونصب واستقبال)। ‘ইয়ারা’ (يرى) হলো ‘লান’ দ্বারা মানসুব (منصوب) মুদারি ক্রিয়া (فعل مضارع) এবং এর নাসাব (نصب) হওয়ার আলামত হলো ‘আলিফ’-এর ওপর উহ্য ফাতহাহ, যা অসম্ভবতার (التعذر) কারণে প্রকাশ পেতে বাধা পেয়েছে। সুতরাং এই তিনটির ক্ষেত্রেই রাফা (رفع) উহ্য এবং একইভাবে ‘ইয়ারা’ (يرى)-এর ক্ষেত্রে নাসাব (نصب) উহ্য। আর এটাই তার উক্তির অর্থ: "শেষেরটির নাসাব (نصب) উহ্য ধরো এবং প্রথম দুইটির নাসাব (نصب) প্রকাশ করো।" ফলে আপনি বলবেন ‘লান ইয়াদউআ’ (لن يدعو) এবং ‘লান ইয়ারমিয়া’ (لن يرمي); এখানে ‘লান’ (لن) হলো না-বোধক, নাসাব প্রদানকারী ও ভবিষ্যৎ অর্থবোধক অব্যয় (حرف نفي ونصب واستقبال)। ‘ইয়াদউ’ (يدعو) হলো একটি মানসুব (منصوب) মুদারি ক্রিয়া (فعل مضارع) এবং এর নাসাব (نصب) হওয়ার আলামত হলো প্রকাশ্য ফাতহাহ। এর ফায়েল (فاعل) আবশ্যিকভাবে উহ্য (مستتر وجوبا), যার উদ্দেশ্য হলো ‘আনা’ (أنا) এবং ‘যাইদান’ (زيدا) হলো মানসুব (منصوب) মাফউলে বিহি (مفعول به)। এর অনুরূপ হলো ‘লান আরমিয়াহু’ (لن أرميه), এখানে ‘আরমি’ (أرمي) এর শেষে প্রকাশ্য ফাতহাহ দ্বারা মানসুব (منصوب) হয়েছে। এবং তার উক্তি "প্রত্যেক জাযম প্রদানকারীর শেষ বর্ণ বিলুপ্ত করো যেমন- আল-তাকতাফ (التقتف)" অর্থাৎ: এই তিনটি বর্ণ— আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া— জাযম (جزم) অবস্থায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে আপনি বলবেন ‘লাম ইয়াদউ’ (لم يدع), ‘লাম ইয়ারমি’ (لم يرم) এবং ‘লাম ইয়ারা’ (لم ير)। এখানে "জাযিমান" (جازما) শব্দটি ‘উহযিফ’ (احذف) ক্রিয়ার মধ্যকার উহ্য ফায়েল (فاعل) থেকে হাল (حال) হিসেবে এসেছে। ‘লাম ইয়াদউ’ (لم يدع) বাক্যে: ‘লাম’ (لم) হলো না-বোধক, জাযম প্রদানকারী ও অর্থ পরিবর্তনকারী অব্যয় (حرف نفي وجزم وقلب)। ‘ইয়াদউ’ (يدع) হলো ‘লাম’ দ্বারা মাজযুম (مجزوم) মুদারি ক্রিয়া (فعل مضارع) এবং এর জাযম (جزم) হওয়ার আলামত হলো এর শেষ থেকে ‘ওয়াও’ বিলুপ্ত হওয়া, আর পূর্বের যম্মাহটি তার প্রমাণ। ‘লাম ইয়ারমি’ (لم يرم) বাক্যে: ‘লাম’ (لم) হলো না-বোধক, জাযম প্রদানকারী ও অর্থ পরিবর্তনকারী অব্যয় (حرف نفي وجزم وقلب)। ‘ইয়ারমি’ (يرم) হলো ‘লাম’ দ্বারা মাজযুম (مجزوم) মুদারি ক্রিয়া (فعل مضارع) এবং এর জাযম (جزم) হওয়ার আলামত হলো এর শেষ থেকে ‘ইয়া’ বর্ণটি বিলুপ্ত হওয়া, আর পূর্বের কাসরাহটি তার প্রমাণ। ‘লাম ইয়ারা’ (لم ير) বাক্যে: ‘লাম’ (لم) হলো না-বোধক, জাযম প্রদানকারী ও অর্থ পরিবর্তনকারী অব্যয় (حرف نفي وجزم وقلب), আর ‘ইয়ারা’ (ير) হলো মুদারি ক্রিয়া (فعل مضارع)...
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مجزوم بلم وعلامة جزمه حذف حرف الألف من آخره والفتحة قبله دليل عليه ثم شرع يتكلم على إعراب الاسم المفرد وجمع التكسير فقال:
"
باب إعراب الاسم المفرد وجمع التكسير"
"وجمع تكسير كفرد يعرب بالحركات وبفتح يجب"
"خفضهما في كل ما لا ينصرف المشبه الفعل بأن ذا يتصف"
"بعلتين أو بعلة تكن أغنت عن اثنتين من تسع وهن"
"جمع وعدل زاد وزن وصفه ركب وأنث عجمة ومعرفة"
"فاجعل مع الوصف الثلاث السابقة عليه ثم افعل بها كاللاحقة"
"فتجعل الست مع المعرفة والجمع يستغني بفرد العلة"
"ومثله مؤنث بالألف ومع إضافة وأل فلتصرف"
"باب أعراب الاسم المفرد" وحقيقته هو ما ليس مثنى ولا مجموعا ولا ملحقا بهما ولا واحدا من الأسماء الخمسة وجمع التكسير هو الاسم المتغير بناء مفرده في الجمع بزيادة أو نقصان أو تغيير حركة إذا اجتمعا فيه كقولك زيد إذا جمعته قل فيه الزيود فأما الزيادة فزيادة الواو وأما التغيير فالزاي الذي كان مفتوحا صار مضموما والياء التي كانت ساكنة صارت مضمومة والثاني اجتماع النقصان مع تغير الحركة نحو كتاب إذا جمعته تقول فيه كتب فاجتمع فيه نقصان الألف وتغيير الحركة.
الثالث تغيير الحركات فقط من غير زيادة ولا نقصان نحو سقف وسقف وأسد وأسد وقوله "وجمع تكسير كفرد" يعني أن جمع التكسير والاسم المفرد "يعرب" كل منهما بالحركة فتقول جاء زيد ورأيت زيدا ومررت بزيد
'লাম' দ্বারা জজমযুক্ত (مجزوم) এবং এর জজম-এর চিহ্ন (علامة جزمه) হলো এর শেষ থেকে আলিফ অক্ষরটি বিলুপ্ত হওয়া, আর তার পূর্বের জবর (فتحة) এর প্রমাণ। অতঃপর তিনি একবচন বিশেষ্য (الاسم المفرد) এবং ভগ্ন বহুবচনের (جمع التكسير) এরব (إعراب) সম্পর্কে আলোচনা শুরু করে বললেন:
"
একবচন বিশেষ্য এবং ভগ্ন বহুবচনের এরব বিষয়ক অধ্যায়"
"ভগ্ন বহুবচন একবচনের ন্যায় হরকতসমূহ (حركات) দ্বারা এরব (إعراب) গ্রহণ করে এবং সেই সব রূপান্তরহীন (لا ينصرف) শব্দের ক্ষেত্রে জবর (فتحة) দ্বারা যের প্রদান করা আবশ্যক,"
"যা ক্রিয়ার সদৃশ হওয়ার কারণে এমন দুটি কারণ (علتين) অথবা এমন একটি কারণ (علة) দ্বারা গুণান্বিত হয় যা নয়টি কারণের মধ্যে দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়।"
"আর সেগুলো হলো: জমা (جمع), আদল (عدل), যিয়াদাহ (زيادة), ওজন (وزن), সিফাত (وصف), তারকিব (تركيب), তানিছ (تأنيث), উজমাহ (عجمة) এবং মারেফাহ (معرفة)।"
"পূর্বোক্ত তিনটি কারণের সাথে সিফাতকে (وصف) যুক্ত করুন এবং পরবর্তী কারণগুলোর সাথেও অনুরূপ করুন।"
"অতঃপর মারেফাহ-র (معرفة) সাথে বাকি ছয়টি কারণকে যুক্ত করুন; আর জমা (جمع) একটি কারণ হিসেবেই যথেষ্ট।"
"অনুরূপভাবে আলিফ দ্বারা মউয়ান্নাস (مؤنث) শব্দটিও; তবে ইদাফাত (إضافة) এবং আলিফ-লাম যুক্ত হলে তা রূপান্তরযোগ্য (تصرف) হবে।"
"একবচন বিশেষ্যের এরব বিষয়ক অধ্যায়" এর প্রকৃত অর্থ হলো যা দ্বিবচন (مثنى) নয়, বহুবচন (مجموع) নয়, এদের সাথে সংশ্লিষ্ট বা সদৃশ (ملحق بهما) নয় এবং আসমায়ে খামসা (الأسماء الخمسة)-র অন্তর্ভুক্ত নয়। আর ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير) হলো সেই বিশেষ্য যা বহুবচন গঠনের সময় এর একবচন কাঠামো (بناء مفرده) পরিবর্তিত হয়ে যায়—হয় কোনো অক্ষর বৃদ্ধির (زيادة) মাধ্যমে, অথবা হ্রাসের (نقصان) মাধ্যমে, অথবা হরকতের (حركة) পরিবর্তনের মাধ্যমে যখন তারা একত্রে ঘটে। যেমন আপনার কথা ‘জায়েদ’ (زيد), যখন আপনি একে বহুবচন করবেন তখন বলবেন ‘জুইউদ’ (الزيود)। এখানে বৃদ্ধির বিষয়টি হলো ‘ওয়াও’ বর্ণের আধিক্য; আর পরিবর্তনের বিষয়টি হলো ‘যা’ বর্ণটি জবরযুক্ত ছিল যা এখন পেশযুক্ত হয়েছে এবং ‘ইয়া’ বর্ণটি সাকিন ছিল যা এখন পেশযুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো হরকতের পরিবর্তনের সাথে অক্ষরের হ্রাসের সমন্বয়; যেমন ‘কিতাব’ (كتاب), যখন আপনি একে বহুবচন করবেন তখন বলবেন ‘কুতুব’ (كتب); ফলে এখানে আলিফ-এর বিলুপ্তি (نقصان) এবং হরকতের পরিবর্তন একত্রে ঘটেছে।
তৃতীয় প্রকারটি হলো কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস ছাড়াই শুধুমাত্র হরকতের পরিবর্তন; যেমন: ‘সাকফ’ (سقف) ও ‘সুকুফ’ (سقف) এবং ‘আসাদ’ (أسد) ও ‘উসুদ’ (أسد)। আর তার উক্তি "ভগ্ন বহুবচন একবচনের ন্যায়" এর অর্থ হলো ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير) এবং একবচন বিশেষ্য (الاسم المفرد) উভয়েই হরকত (حركة) দ্বারা এরব (إعراب) গ্রহণ করে। আপনি বলবেন: জায়েদ এসেছে, আমি জায়েদকে দেখেছি এবং আমি জায়েদ-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وجاءت الرجال ورأيت الرجال ومررت بالرجال وهذا إذا كانا منصرفين وأما إذا كانا غير منصرفين فإنهما يرفعان بالضمة وينصبان بالفتحة ويخفضان بالفتحة وإلى هذا أشار بقوله "وبفتح يجب خفضهما من كل مالا ينصرف" وقوله "المشبه الفعل" لأن الاسم إذا شابه الفعل يمنع من الصرف وحقيقة الاسم الذي لا ينصرف هو الذي لا يخفض ولا ينون ولا يدخل عليه الألف واللام وقد اجتمع فيه علتان فرعيتان أو علة تقوم مقام علتين وإلى هذا أشار بقوله "بعلتين أو بعلة تكن أغنت عن اثنتين من تسع وهن جمع" أجمع نحو مررت بمساجد ومصابيح وصليت في محاريب وإعرابه مررت فعل وفاعل بمساجد جار ومجرور مخفوض وعلامة خفضه الفتحة نيابة عن الكسرة والمانع له من الصرف صيغة منتهى الجموع. وقوله: "وعدل" نحو مررت بعمر وإعرابه مررت فعل وفاعل بعمر جار ومجرور وعلامة جره الفتحة نيابة عن الكسرة والمانع له من الصرف العلمية والعدل لأن عمر معدول عن عامر "زد" نحو مررت بعثمان مررت فعل وفاعل بعثمان جار ومجرور مخفوض وعلامة خفضه الفتحة نيابة عن الكسرة لأنه ممنوع من الصرف والمانع له العلمية وزيادة الألف والنون "ووزن" الوزن مررت بأحمد مررت فعل وفاعل بأحمد جار ومجرور مخفوض وعلامة خفضه الفتحة نيابة عن الكسرة لأنه اسم لا ينصرف والمانع له من الصرف العلمية ووزن الفعل "الوصف" نحو مررت بأحمر مررت فعل وفاعل بأحمر جار ومجرور علامة جره الفتحة نيابة عن الكسرة والمانع له من الصرف الوصف ووزن الفعل "ركب" مررت بمعد كرب
পুরুষেরা এসেছে, আমি পুরুষদের দেখেছি এবং আমি পুরুষদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। আর এটি তখনই প্রযোজ্য যখন শব্দগুলো পূর্ণ রূপান্তরশীল (منصرف) হয়। পক্ষান্তরে যখন শব্দগুলো অ-রূপান্তরশীল (غير منصرف) হয়, তখন সেগুলো পেশ (ضمة)-এর মাধ্যমে মারফু (رفع) হয়, জবর (فتحة)-এর মাধ্যমে মানসুব (نصب) হয় এবং জবর (فتحة)-এর মাধ্যমে মাজরুর (خفض) হয়। আর এই বিষয়ের দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "এবং জবর (فتحة)-এর মাধ্যমে সেগুলোর মাজরুর (خفض) হওয়া আবশ্যক এমন সব শব্দ থেকে যা রূপান্তরহীন (لا ينصرف)"। এবং তাঁর বাণী: "ক্রিয়ার সাদৃশ্যপূর্ণ (المشبه الفعل)"; কারণ বিশেষ্য যখন ক্রিয়ার সাদৃশ্য গ্রহণ করে তখন তা রূপান্তরহীন (منع من الصرف) হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে যে বিশেষ্য রূপান্তরহীন (لا ينصرف), সেটি হলো এমন যা মাজরুর (خفض) হয় না, তানউইন (تنوين) গ্রহণ করে না এবং যাতে আলিফ ও লাম (الألف واللام) যুক্ত হয় না। এতে দুটি অপ্রধান কারণ (علتان فرعيتان) অথবা একটি কারণ যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত (علة تقوم مقام علتين) তা একত্রিত হয়। আর এই বিষয়ের প্রতি তিনি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "নয়টি কারণের মধ্য হতে দুটি কারণ অথবা এমন একটি কারণের মাধ্যমে যা দুটির অভাব পূরণ করে, আর সেগুলো হলো বহুবচন (جمع)"। যেমন- আমি মসজিদসমূহ ও প্রদীপসমূহের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি এবং আমি মেহরাবসমূহে নামাজ পড়েছি। এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) হলো: 'মারারতু' ক্রিয়া ও কর্তা, 'বি-মাসাজিদা' জার ও মাজরুর হিসেবে মাজরুর (مخفوض) এবং এর মাজরুর হওয়ার আলামত হলো যের (كسرة)-এর পরিবর্তে জবর (الفتحة); আর একে রূপান্তরহীন (الصرف) হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হলো বহুবচনের চূড়ান্ত রূপ (صيغة منتهى الجموع)। এবং তাঁর বাণী: "রূপান্তর (عدل)", যেমন- আমি উমরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ হলো: 'মারারতু' ক্রিয়া ও কর্তা, 'বি-উমারা' জার ও মাজরুর এবং এর জার হওয়ার আলামত হলো যের (كسرة)-এর পরিবর্তে জবর (الفتحة)। আর একে রূপান্তরহীন (الصرف) করার প্রতিবন্ধক হলো নামবাচকতা (العلمية) ও রূপান্তর (عدل); কারণ উমর শব্দটি আমির হতে রূপান্তরিত (معدول)। "বৃদ্ধি", যেমন- আমি উসমানের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। 'মারারতু' ক্রিয়া ও কর্তা, 'বি-উসমানা' জার ও মাজরুর হিসেবে মাজরুর (مخفوض) এবং এর মাজরুর হওয়ার আলামত হলো যের (كسرة)-এর পরিবর্তে জবর (الفتحة); কারণ এটি রূপান্তরহীন (ممنوع من الصرف)। এর প্রতিবন্ধক হলো নামবাচকতা (العلمية) এবং আলিফ ও নুন-এর বৃদ্ধি (زيادة الألف والنون)। "কাঠামো (وزن)", যেমন- আমি আহমদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। 'মারারতু' ক্রিয়া ও কর্তা, 'বি-আহমাদা' জার ও মাজরুর হিসেবে মাজরুর (مخفوض) এবং এর মাজরুর হওয়ার আলামত হলো যের (كسرة)-এর পরিবর্তে জবর (الفتحة); কারণ এটি একটি রূপান্তরহীন (لا ينصرف) বিশেষ্য। এর প্রতিবন্ধক হলো নামবাচকতা (العلمية) এবং ক্রিয়ার কাঠামো (وزن الفعل)। "গুণবাচকতা (الوصف)", যেমন- আমি লাল বর্ণের কারো নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। 'মারারতু' ক্রিয়া ও কর্তা, 'বি-আহমারা' জার ও মাজরুর এবং এর জার হওয়ার আলামত হলো যের (كسرة)-এর পরিবর্তে জবর (الفتحة)। এর প্রতিবন্ধক হলো গুণবাচকতা (الوصف) ও ক্রিয়ার কাঠামো (وزن الفعل)। "যৌগিকতা (ركب)", আমি মা'দি কারিব-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مررت فعل وفاعل بمعد كرب جار ومجرور مخفوض وعلامة خفضه الفتحة نيابة عن الكسرة لأنه ممنوع من الصرف بالمعرفة والتركيب المزجي "وأنث" مررت بزينب مررت فعل وفاعل بزينب جار ومجرور مخفوض وعلامة خفضه الفتحة نيابة عن الكسرة والمانع له من الصرف العلمية والتأنيث المعنوي كذلك مررت بفاطمة والمانع لها من الصرف المعرفة والتأنيث اللفظي "عجمة" مررت بميكائيل الحاصل أن الممنوع من الصرف ما فيه علتان من علل تسع أو علة واحدة تقوم مقام علتين فالعلة التي تقوم مقام علتين ما فيها ألف التأنيث مقصورة كانت ككسرى أو ممدودة كحسناء. والجمع الذي على وزن مفاعيل كدنانير فما فيه ألف التأنيث نوعان والجمع نوع ثالث وكلها من القسم الأول الذي لا ينصرف معرفا أو منكرا أو بقي منه ثلاثة أنواع وزن أفعل في الصفات وعلته وزن الفعل مع الوصف ووزن فعلان الذي مؤنثه فعلى وعلته زيادة الألف والنون مع الوصف ووزن مثنى وثلاث وعلته العدل مع الوصف فصار مدار هذه الأنواع الثلاثة على الوصفية إذا قارنتها أخرى وهذا معنى قول الناظم "فاجعل مع الوصف الثلاث السابقة عليه" وقوله "ثم افعل بها كالاحقة فتجعل الست مع المعرفة" أي مدارها على العلمية إذا قارنتها علة أخرى فصار مدار منع الصرف في غير ألف التأنيث والجمع على علتين وهما الوصف والعلمية إذا اقترن بهما علة أخرى، فالعلمية تقارنها ست علل والوصف يقارنه ثلاث علل من الست التي تقارن العلمية وقول الناظم والجمع يستغني بفرد العلة ومثله مؤنث بالألف أشار بعضهم إلى
'মারারতু' (مررت) হলো ক্রিয়া (فعل) এবং কর্তা (فاعل); 'বি-মা'দিকারিবা' (بمعد كرب) হলো অব্যয় (جار) ও অব্যয়-পরবর্তী বিশেষ্য (مجرور) এবং এটি নিম্নমুখী স্বরযুক্ত (مخفوض), আর এর নিম্নমুখী হওয়ার চিহ্ন (علامة خفضه) হলো কাসরার পরিবর্তে ফাতহা। কারণ এটি নির্দিষ্টতা (معرفة) এবং সংমিশ্রিত গঠন (التركيب المزجي) হওয়ার কারণে রূপান্তর-নিষিদ্ধ (ممنوع من الصرف)। "এবং স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার ক্ষেত্রে" (وأنث), যেমন: 'আমি যায়নাবের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম' (مررت بزينب)। এখানে 'মারারতু' (مررت) ক্রিয়া এবং কর্তা; 'বি-যায়নাবা' (بزينب) অব্যয় ও অব্যয়-পরবর্তী বিশেষ্য এবং এটি নিম্নমুখী স্বরযুক্ত (مخفوض), আর এর নিম্নমুখী হওয়ার চিহ্ন হলো কাসরার পরিবর্তে ফাতহা। এটি রূপান্তর-নিষিদ্ধ (الصرف) হওয়ার অন্তরায় হলো নামবাচকতা (العلمية) এবং অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث المعنوي)। একইভাবে 'আমি ফাতিমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম' (مررت بفاطمة); আর এর রূপান্তর-নিষিদ্ধ (الصرف) হওয়ার অন্তরায় হলো নির্দিষ্টতা (المعرفة) এবং শব্দগত স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث اللفظي)। "অনারব শব্দ" (عجمة), যেমন: 'আমি মিকাইলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম' (مررت بميكائيل)। সারকথা হলো, যা রূপান্তর-নিষিদ্ধ (الممنوع من الصرف) তাতে নয়টি কারণের (علل) মধ্যে দুটি কারণ (علتان) বিদ্যমান থাকে অথবা একটি কারণ (علة واحدة) বিদ্যমান থাকে যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়। যে কারণটি দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত হয় তা হলো যাতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফ (ألف التأنيث) থাকে, চাই তা সংক্ষিপ্ত (مقصورة) হোক যেমন 'কিসরা' (كسرى), অথবা দীর্ঘায়িত (ممدودة) হোক যেমন 'হাসনা' (حسناء)। এবং সেই বহুবচন (الجمع) যা 'মাফাইয়িল' (مفاعيل) ছন্দে গঠিত হয় যেমন 'দানানির' (دنانير)। সুতরাং যাতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফ (ألف التأنيث) থাকে তা দুই প্রকার এবং বহুবচন (الجمع) হলো তৃতীয় প্রকার। এর সবগুলোই প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত যা নির্দিষ্ট (معرفا) বা অনির্দিষ্ট (منكرا) উভয় অবস্থাতেই রূপান্তরহীন (لا ينصرف) থাকে। অথবা এ থেকে আরও তিনটি প্রকার অবশিষ্ট থাকে: গুণবাচক বিশেষণের ক্ষেত্রে 'আফআলু' (أفعل) ছন্দ (وزن), যার কারণ হলো গুণবাচকতার (الوصف) সাথে ক্রিয়ার ছন্দ (وزن الفعل) হওয়া; এবং 'ফালানু' (فعلان) ছন্দ যার স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'ফালা' (فعلى), আর এর কারণ হলো গুণবাচকতার (الوصف) সাথে অতিরিক্ত আলিফ ও নুন (زيادة الألف والنون) থাকা; এবং 'মাসনা' (مثنى) ও 'সুলাস' (ثلاث) ছন্দ, যার কারণ হলো গুণবাচকতার (الوصف) সাথে রূপান্তর (العدل)। ফলে এই তিন প্রকারের মূল ভিত্তি হলো গুণবাচকতা (الوصفية) যখন তার সাথে অন্য কোনো কারণ যুক্ত হয়। নাযিম (কবিতা রচয়িতা)-এর একথার অর্থ এটাই: "সুতরাং গুণবাচকতার (الوصف) সাথে পূর্বোক্ত তিনটি কারণ যুক্ত করো।" আর তার কথা: "অতঃপর তার সাথে পরবর্তীগুলোর মতো আচরণ করো এবং নির্দিষ্টতার (المعرفة) সাথে ছয়টি কারণ যুক্ত করো" অর্থাৎ এর মূল ভিত্তি হলো নামবাচকতা (العلمية) যখন তার সাথে অন্য কোনো কারণ (علة) যুক্ত হয়। সুতরাং স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফ (ألف التأنيث) এবং বহুবচন (الجمع) ব্যতীত রূপান্তর-নিষিদ্ধ (منع الصرف) হওয়ার মূল ভিত্তি হলো দুটি কারণ (علتين), আর তা হলো গুণবাচকতা (الوصف) এবং নামবাচকতা (العلمية) যখন এগুলোর সাথে অন্য কোনো কারণ (علة) যুক্ত হয়। সুতরাং নামবাচকতার (العلمية) সাথে ছয়টি কারণ (علل) যুক্ত হয় এবং গুণবাচকতার (الوصف) সাথে ওই ছয়টি কারণের মধ্য থেকে তিনটি কারণ যুক্ত হয় যা নামবাচকতার সাথেও যুক্ত হয়। নাযিম-এর কথা: "এবং বহুবচন (الجمع) একটি কারণের (فرد العلة) মাধ্যমেই অমুখাপেক্ষী হয়ে যায় এবং একইভাবে আলিফ দ্বারা গঠিত স্ত্রীলিঙ্গও (مؤنث بالألف)," এর দ্বারা কেউ কেউ ইঙ্গিত করেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ذلك بقوله
والجمع مع تأنيثهم بألف
…قام مقام علتين فاعرف
"ومع إضافة وأل فلتصرف" هذا كقول ابن مالك:
وجر بالفتحة ما لا ينصرف
…ما لم يضف أو يك بعد أل ردف
وإلا فإنه يخفض بالكسرة نحو مررت بإبراهيم القوم ودخلت في المساجد لأن الألف واللام والإضافة يبعد أنه من شبه الفعل ويقربانه من شبه الاسم فيدخل فيه ما يدخل في الاسم وهذا معنى قوله "ومع إضافة وأل فالتصرف"
"
باب الأسماء الخمسة"
"ورفع خمسة من الأسماء
…بالواو ثم جرها بالباء"
"وناب عن نصب الجميع الألف
…وهي أب أخ حم وذو وفو"
"والشرط في إعرابها بما سبق
…إضافة لغير ياء من نطق"
"وكونها مفردة مكبرة
…كجا أخو أبيهم ذا ميسرة"
"ورفع خمسة من الأسماء" يعنى أن الأسماء الخمسة ترفع "بالواو" وتخفض بالياء كما قال "ثم جرها بالياء" وتنصب بالألف وإلى هذا أشار بقوله "وناب عن نصب الجميع الألف وهي أب" نحو جاء أبوك ورأيت أباك ومررت بأبيك جاء فعل ماض أبوك فاعل مرفوع وعلامة رفعه الواو نيابة عن الضمة والكاف مضاف مخفوض وعلامة خفضه الكسرة المقدرة لأنه مبني على الفتح، ورأيت أباك، رأيت فعل وفاعل أباك مفعول به منصوب بالألف نيابة عن الفتحة لأنه من الأسماء الخمسة وأبا مضاف والكاف مضاف إليه
এটি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে:
এবং আলিফ (ألف) যোগে স্ত্রীলিঙ্গসহ বহুবচন (الجمع)... দুটি কারণের (علتين) স্থলাভিষিক্ত হয়, বিষয়টি জেনে নিন।
"এবং ইদাফাত (إضافة) ও আলিফ-লামের সাথে তা রূপান্তরযোগ্য (تصرف) হবে" এটি ইবনে মালিকের বক্তব্যের ন্যায়:
আর যা রূপান্তরযোগ্য নয় (ما لا ينصرف) তাকে ফাতহা (فتحة) দিয়ে জার (جر) প্রদান করুন... যতক্ষণ না তা ইদাফাত (إضافة) করা হয় অথবা আলিফ-লামের পরে আসে।
অন্যথায় তা কাসরা (كسرة) দিয়ে মাজরুর (يخفض) হবে; যেমন: আমি কওমের ইবরাহিমের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম (مررت بإبراهيم القوم) এবং আমি মাসজিদসমূহে প্রবেশ করলাম (دخلت في المساجد)। কারণ আলিফ-লাম এবং ইদাফাত (إضافة) একে ক্রিয়া সদৃশ (شبه الفعل) হওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং বিশেষ্য সদৃশ (شبه الاسم) হওয়ার নিকটবর্তী করে। ফলে বিশেষ্যে যা প্রবেশ করে এতেও তা প্রবেশ করে। আর এটিই তাঁর বক্তব্যের অর্থ: "এবং ইদাফাত (إضافة) ও আলিফ-লামের সাথে তা রূপান্তরযোগ্য (التصرف) হবে।"
"
পাঁচটি বিশেষ্যের (الأسماء الخمسة) অধ্যায়"
"পাঁচটি বিশেষ্যের রফ' (رفع) হয়... ওয়াও (واو) দিয়ে, অতঃপর তার জার (جر) হয় বা (باء) দিয়ে।"
"আর সবগুলোর নসবের (نصب) স্থলাভিষিক্ত হয় আলিফ (ألف)... সেগুলো হলো: পিতা (أب), ভাই (أخ), শ্বশুর (حم), অধিকারী (ذو) এবং মুখ (فو)।"
"পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী এগুলোর ইরাব (إعراب) হওয়ার শর্ত হলো... বক্তার নিজের ইয়া (ياء) ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ইদাফাত (إضافة) হওয়া।"
"এবং সেগুলো একবচন (مفردة) ও মূলরূপে (مكبرة) থাকা... যেমন: 'তাদের পিতার ভাই সচ্ছল অবস্থায় এসেছে'।"
"পাঁচটি বিশেষ্যের রফ' (رفع)" অর্থাৎ পাঁচটি বিশেষ্য (الأسماء الخمسة) ওয়াও (واو) দিয়ে রফ' (رفع) প্রাপ্ত হয় এবং ইয়া (ياء) দিয়ে মাজরুর (يخفض) হয়, যেমন তিনি বলেছেন "অতঃপর ইয়া (ياء) দিয়ে তা জার (جر) প্রদান করা"। এবং আলিফ (ألف) দিয়ে মানসুব (تنصب) হয়। আর এ বিষয়ের দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে: "আর সবগুলোর নসবের (نصب) স্থলাভিষিক্ত হয় আলিফ (ألف), আর তা হলো পিতা (أب)" যেমন: তোমার পিতা এসেছে (جاء أبوك), আমি তোমার পিতাকে দেখেছি (رأيت أباك) এবং আমি তোমার পিতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (مررت بأبيك)। 'এসেছে' (جاء) হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض), 'তোমার পিতা' (أبوك) হলো মারফু (مرفوع) ফায়েল (فاعل), এবং তার রফ' (رفع) হওয়ার আলামত (علامة رفعه) হলো পেশের (ضمة) পরিবর্তে ওয়াও (الواو)। আর 'কাফ' (الكاف) হলো মাজরুর (مخفوض) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه), এবং এর জারের (خفض) আলামত হলো উহ্য কাসরা (كسرة مقدرة); কারণ এটি ফাতহার (فتح) ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني)। আর 'আমি তোমার পিতাকে দেখেছি' (رأيت أباك) বাক্যে, 'রাআইতু' (رأيت) হলো ক্রিয়া (فعل) ও ফায়েল (فاعل), 'তোমার পিতাকে' (أباك) হলো ফাতহার (فتحة) পরিবর্তে আলিফ (الألف) যোগে মানসুব (منصوب) মাফউলে বিহি (مفعول به), কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ্যের (الأسماء الخمسة) অন্তর্ভুক্ত। আর 'আবা' (أبا) হলো মুদাফ (مضاف) এবং 'কাফ' (الكاف) হলো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في محل جر، ومررت بأبيك مررت فعل وفاعل بأبيك جار ومجرور مخفوض وعلامة خفضه الياء نيابة عن الكسرة والكاف مضاف إليه في محل جر والجار والمجرور متعلق بمررت ومن الأمثلة في القرآن في الرفع {قال أبوهم} من أمثلة النصب "سقط يبحث عنه" وجاء أخوك ورأيت أخاك ومررت بأخيك وجاء حموك ورأيت حماك ومررت بحميك وجاء ذو مال ورأيت ذا مال ومررت بذي مال وهذا فوك ورأيت فاك ونظرت إلى فيك فكلها ترفع بالواو وتنصب بالألف وتخفض بالياء، "والشرط في إعرابها" أي الأسماء الخمسة "بما سبق" من الحروف أن تكون مضافة "لغير ياء من نطق" أي المتكلم فإن كانت غير مضافة أو أضيفت لياء المتكلم فإنها تعرب بالحركات "وكونها مفردة مكبرة" فإن ثنيت أو جمعت فإنها تعرب بالحروف أو الحركات فإن كانت مثناة نحو جاء أبوان رفعت بالألف أو كانت مجموعة جمع تكسير رفعت بالضمة الظاهرة نحو أبآؤك فجاء أبوان جاء فعل ماض أبوان فاعل مرفوع بالألف نيابة عن الضمة وجاء أبآؤك فأبآؤك مرفوع بالضمة الظاهرة والكاف مضاف إليه في محل جر "مكبرة" فإن صغرت أعربت بالحركات فتقول جاء أبيك فأبي بالتصغير فاعل فجاء مرفوع بالضمة الظاهرة وأبي مضاف والكاف مضاف إليه مبني على الفتح في محل جر ولقد قلت في نظمنا اللؤلؤ المنظوم:
وشرطها أن لا تصغر وأن
…تضاف لد للياء وأن تنفردن
মাজরুর (في محل جر) অবস্থায়; এবং 'মারারতু বি-আবীকা' (مررت بأبيك) বাক্যে 'মারারতু' হলো ক্রিয়া (فعل) ও কর্তা (فاعل), 'বি-আবীকা' হলো জার ও মাজরুর (جار ومجرور) তথা মাজরুর (مخفوض), এবং এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো ইয়া (الياء) যা কাসরা (الكسرة) এর স্থলাভিষিক্ত (نيابة عن), আর 'কাফ' হলো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) যা মাজরুর (في محل جر) অবস্থায় আছে। জার ও মাজরুর এখানে 'মারারতু' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق)। কুরআনে রফ (الرفع) বা পেশের অবস্থার উদাহরণ হলো: {তাদের পিতা বললেন (قال أبوهم)}। নাসব (النصب) বা জবরের অবস্থার উদাহরণ হলো: "সেটি খুঁজতে গিয়ে পড়ে গেল"। এছাড়া 'জায়আ আখুকা' (তোমার ভাই এসেছে), 'রাআইতু আখাকা' (আমি তোমার ভাইকে দেখেছি) এবং 'মারারতু বি-আখিকা' (আমি তোমার ভাইয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি)। অনুরূপভাবে 'জায়আ হামুকা', 'রাআইতু হামাকা', 'মারারতু বি-হামিকা', এবং 'জায়আ যূ মালিন', 'রাআইতু যা মালিন', 'মারারতু বি-যী মালিন', এবং 'হাযা ফুকা', 'রাআইতু ফাকা', 'নাযারতু ইলা ফীকা'। এগুলোর সবকটিই ওয়াও (الواو) দ্বারা রফ (الرفع), আলিফ (الألف) দ্বারা নাসব (النصب) এবং ইয়া (الياء) দ্বারা জার (الخفض) প্রাপ্ত হয়। "এবং এগুলোর ইরাব বা ব্যাকরণিক পরিবর্তনের শর্ত হলো" অর্থাৎ আসমায়ে খামসা বা পাঁচটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে "পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে" অর্থাৎ হরফের মাধ্যমে ইরাব হওয়ার শর্ত হলো সেগুলোকে "মুদাফ বা সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হতে হবে", "উচ্চারণকারীর ইয়া ব্যতীত অন্যের দিকে (لغير ياء من نطق)" অর্থাৎ উত্তম পুরুষের ইয়া-র দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া যাবে না। যদি সেগুলো মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) না হয় অথবা উত্তম পুরুষের ইয়া-র (ياء المتكلم) দিকে মুদাফ হয়, তবে সেগুলো হরকত বা স্বরচিহ্নের (الحركات) মাধ্যমে ইরাব গ্রহণ করবে। "এবং সেগুলোকে একবচন (مفردة) ও মূল রূপে (مكبرة) হতে হবে"। যদি সেগুলো দ্বিবচন বা বহুবচন হয়, তবে সেগুলো হরফ (الحروف) অথবা হরকতের (الحركات) মাধ্যমে ইরাব গ্রহণ করবে। যদি দ্বিবচন হয় যেমন: 'জায়আ আবওয়ানি', তবে তা আলিফ (الألف) দ্বারা রফ (الرفع) প্রাপ্ত হবে যা যম্মাহ বা পেশের স্থলাভিষিক্ত। অথবা যদি অনিয়মিত বহুবচন (جمع تكسير) হয়, তবে তা প্রকাশ্য পেশ (الضمة الظاهرة) দ্বারা রফ (الرفع) প্রাপ্ত হবে যেমন: 'আবা-উকা'। এখানে 'জায়আ আবওয়ানি' বাক্যে 'জায়আ' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض), 'আবওয়ানি' হলো কর্তা (فاعل) যা যম্মাহ-র স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আলিফ (الألف) দ্বারা মারফু (مرفوع)। আর 'জায়আ আবা-উকা' বাক্যে 'আবা-উকা' প্রকাশ্য পেশ (الضمة الظاهرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) এবং 'কাফ' হলো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) যা মাজরুর (في محل جر) অবস্থায় আছে। "মূল রূপে (مكبرة)" হতে হবে; যদি তা ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপে (تصغير) থাকে তবে হরকতের (الحركات) মাধ্যমে ইরাব হবে। যেমন আপনি বলবেন: 'জায়আ উবাইয়ুকা'। এখানে তাসগির বা ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ (تصغير) হিসেবে 'উবাইয়ু' হলো কর্তা (فاعل) যা প্রকাশ্য পেশ (الضمة الظاهرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) হয়েছে এবং 'উবাইয়ু' হলো মুদাফ, আর 'কাফ' হলো জবরযুক্ত অবস্থায় অপরিবর্তনীয় (مبني على الفتح) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) যা মাজরুর (في محل جر) অবস্থায় আছে। আমি আমার 'আল-লুলু আল-মানযুম' নামক পদ্যগ্রন্থে বলেছি:
এর শর্ত হলো এটিকে ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ (تصغير) করা যাবে না এবং এটি... উত্তম পুরুষের ইয়া ব্যতীত অন্যের দিকে মুদাফ হতে হবে এবং এটিকে একবচন হতে হবে।
…
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ثم أتى بمثال مستوف للشروط وهو قوله "كجا أخو أبيهم ذا ميسرة" فأخو مرفوع بالواو نيابة عن الضمة لأنه فاعل وأبيهم مجرور بالياء نيابة عن الكسرة لأنه مضاف إليه وذا ميسرة حال منصوب بالألف نيابة عن الفتحة وميسرة مضاف إليه فهذا مثال جمع التكبير والإضافة والإفراد بقية المباحث ذكرتها في شرحنا الرحيق المحتوم.
"
باب المثنى"
"والرفع في كل مثنى بالألف
…والنصب والجر بياء وأضف"
"لاثنين واثنتين هذا العملا
…كذا مع المضمر كلتا وكلا"
"نحو اشترى الزيدان حلتين
…كلتهما لاثنين واثنتين"
"باب المثنى" والمثنى هو الاسم الدال على اثنين بزيادة في آخره صالحا للتجريد وعطف مثله عليه دون اختلاف المعنى والتثنية في اللغة هو التشفيع وفي الاصطلاح ضم اسم إلى مثله بشرط اتفاق اللفظين وأصل التثنية العطف وإنما عدلوا عنه للإيجاز والاختصار ويدل على أن أصلها العطف أن الشاعر إذا اضطر إلى الوزن رجع إليه مثل قول الشاعر:
ليث وليث في محل ضنك.
ولولا الوزن لقال ليثان فلما كان قولهم الزيدان أخصر من قولهم زيد وزيد زادوا على الواحد ألفا ونونا في حالة الرفع وياء ونونا في حالتي النصب والجر فقالوا جاء الزيدان ورأيت الزيدين ومررت بالزيدين وبقية بحث المسألة في المطولات قوله "والرفع في كل مثنى بالألف" نحو جاء الزيدان والعمران فجاء فعل ماض والزيدان فاعل مرفوع وعلامة رفعه
এরপর তিনি শর্তসমূহ পূরণ করে এমন একটি উদাহরণ নিয়ে এসেছেন, যা হলো তাঁর উক্তি "যেমন তাদের পিতার ভাই স্বচ্ছল অবস্থায় আসলেন"। এখানে 'ভাই' শব্দটি পেশের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'ওয়াও' যোগে মারফু (مرفوع) হয়েছে, কারণ এটি কর্তা (فاعل)। আর 'তাদের পিতা' শব্দটি যেরের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'ইয়া' যোগে মাজরুর (مجرور) হয়েছে, কারণ এটি মুদাফ ইলাইহি। 'স্বচ্ছল অবস্থায়' অংশটি জবরের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'আলিফ' যোগে হাল হিসেবে মানসুব (منصوب) হয়েছে এবং 'স্বচ্ছলতা' শব্দটি মুদাফ ইলাইহি। সুতরাং এটি এমন একটি উদাহরণ যাতে বড়ত্ব প্রকাশ (তাকবির), সম্বন্ধকরণ (ইদাফাত) এবং একবচন হওয়ার (ইফরাদ) বৈশিষ্ট্যগুলো একত্রিত হয়েছে। এই বিষয়ের অবশিষ্ট আলোচনা আমি আমার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আর-রাহিকুল মাখতুম-এ উল্লেখ করেছি।
"
দ্বিবচন (المثنى) অধ্যায়"
"এবং প্রতিটি দ্বিবচন (المثنى) এর ক্ষেত্রে রফ’ (الرفع) হয় আলিফ দ্বারা
…এবং নসব (النصب) ও জর (الجر) হয় ইয়া দ্বারা; এবং মিলিয়ে দাও"
"দুইজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার জন্য এই আমল (العمل)
…তদ্রূপ সর্বনামের (المضمر) সাথে 'কিলতা' ও 'কিলা' শব্দের ক্ষেত্রেও।"
"যেমন: দুই জায়েদ দুটি পোশাক ক্রয় করেছে
…তাদের উভয়টি দুইজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার জন্য।"
"দ্বিবচন (المثنى) অধ্যায়": দ্বিবচন (المثنى) হলো এমন বিশেষ্য যা তার শেষে অতিরিক্ত বর্ণ যোগে দুইজনকে নির্দেশ করে, যা একক শব্দে রূপান্তরযোগ্য এবং অর্থের পরিবর্তন ছাড়াই তার অনুরূপ অন্য শব্দের সাথে সংযুক্ত করার উপযোগী। আভিধানিক অর্থে দ্বিবচন (تثنية) হলো দ্বিগুণ করা বা জোড়া লাগানো। আর পরিভাষায় (اصطلاح) এর অর্থ হলো—দুইটি শব্দের মাঝে মিল থাকার শর্তে একটি বিশেষ্যকে তার অনুরূপ অন্য একটি বিশেষ্যের সাথে যুক্ত করা। দ্বিবচনের মূল ভিত্তি হলো সংযুক্তি (عطف), তবে সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে তারা এটি পরিহার করেছে। দ্বিবচনের মূল যে সংযুক্তি (عطف) ছিল, তার প্রমাণ হলো—কবি যখন ছন্দের প্রয়োজনে বাধ্য হন, তখন তিনি সেই মূলের দিকেই ফিরে যান। যেমন কবির উক্তি:
এক সিংহ এবং অন্য সিংহ সংকীর্ণ স্থানে।
ছন্দের প্রয়োজন না থাকলে তিনি 'দুই সিংহ' (লিছানি) বলতেন। যেহেতু 'দুই জায়েদ' (যাইদানি) বলা 'জায়েদ এবং জায়েদ' বলার চেয়ে সংক্ষিপ্ত, তাই তারা একবচনের সাথে রফ’ (الرفع) এর অবস্থায় আলিফ ও নুন এবং নসব (النصب) ও জর (الجر) এর অবস্থায় ইয়া ও নুন যুক্ত করেছেন। ফলে তারা বলেন: "দুই জায়েদ আসলেন", "আমি দুই জায়েদকে দেখলাম" এবং "আমি দুই জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"। এই বিষয়ের অবশিষ্ট আলোচনা বিস্তারিত গ্রন্থসমূহে রয়েছে। তাঁর উক্তি "এবং প্রতিটি দ্বিবচন (المثنى) এর রফ’ (الرفع) হয় আলিফ দ্বারা"—যেমন: "দুই জায়েদ ও দুই উমর আসলেন"। এখানে 'আসলেন' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) এবং 'দুই জায়েদ' হলো মারফু (مرفوع) কর্তা (فاعل) এবং এর রফ’ (الرفع) এর আলামত হলো...
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الألف نيابة عن الضمة والنون عوض عن الحركة، والعمران معطوف عليه والمعطوف على المرفوع مرفوع وعلامة رفعه الألف نيابة عن الضمة "والنصب والجر بياء" نحو رأيت الزيدين ومررت بالزيدين؛ رأيت فعل وفاعل والزيدين مفعول به منصوب وعلامة نصبه الياء المفتوح ما قبلها المكسور ما بعدها نيابة عن الفتحة والنون عوض عن التنوين في الاسم المفرد. ومررت بالزيدين مررت فعل وفاعل بالزيدين جار ومجرور مخفوض وعلامة جره الياء المفتوح ماقبلها المكسور ما بعدها نيابة عن الكسرة "واضف لاثنين واثنتين" يعني أن اثنين واثنتين يرفعان بالألف كالمثنى في الإعراب "كذا مع المضمر كلتا وكلا" إلا أن هذه الأسماء ليست مثناة حقيقة لأنها لا تصلح للتجريد وعطف مثلها عليها. ثم أتى بالمثال فقال "نحو اشترى الزيدان" اشترى فعل ماض والزيدان فاعل مرفوع بالألف نيابة عن الضمة و "حلتين" مفعول به منصوب بالياء نيابة عن الفتحة "كلتاهما" مبتدأ مرفوع بالألف نيابة عن الضمة "لاثنين" جار ومجرور مخفوض بالياء نيابة عن الكسرة "واثنتين" معطوف عليها قال في الألفية:
بالألف ارفع المثنى وكلا
…إذا يضمر مضاف وصلا
كلتا كذاك اثنان واثنتان
…كابنتين وابنتين يجريان
وكان الأولى في كلتا المذكورة في النظم كلتيهما نعت للحلتين ولكن رفعها طلبا لتشخيص المثال وعلى هذه فيكون الخبر لاثنتين جار ومجرور المتعلق بمحذوف والله أعلم.
আলিফ দম্মাহর স্থলাভিষিক্ত এবং নুন হরকতের পরিবর্তে বসেছে। আর ‘আল-উমরান’ শব্দটি এর ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে; আর মারফু (পেশযুক্ত) শব্দের ওপর আতফকৃত শব্দও মারফু হয়, যার মারফু হওয়ার আলামত হলো দম্মাহর স্থলাভিষিক্ত আলিফ। নাসাব (জবর) এবং জার (জের) ইয়্যা-এর মাধ্যমে হয়; যেমন: ‘রাআইতুয যাইদাইনি’ (আমি দুই জায়েদকে দেখেছি) এবং ‘মারারতু বিয-যাইদাইনি’ (আমি দুই জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি)। ‘রাআইতু’ হলো ক্রিয়া ও কর্তা এবং ‘আয-যাইদাইনি’ হলো কর্ম (মাফউল বিহি) যা নাসাবপ্রাপ্ত (মানসুব); এর নাসাব হওয়ার আলামত হলো ফাতহাহর স্থলাভিষিক্ত ইয়্যা—যার পূর্ববর্ণ ফাতহাহযুক্ত এবং পরবর্তী বর্ণ কাসরাহযুক্ত; আর নুনটি হলো একবচন বিশেষ্যের তানভীনের পরিবর্তে। ‘মারারতু বিয-যাইদাইনি’ বাক্যে ‘মারারতু’ হলো ক্রিয়া ও কর্তা; ‘বিয-যাইদাইনি’ হলো জার ও মাজরুর তথা খাফদপ্রাপ্ত (জেরযুক্ত), আর এর জার হওয়ার আলামত হলো কাসরাহর স্থলাভিষিক্ত ইয়্যা—যার পূর্ববর্ণ ফাতহাহযুক্ত এবং পরবর্তী বর্ণ কাসরাহযুক্ত। এরপর ‘ইছনানি’ এবং ‘ইছনাতানি’-কে এর সাথে যুক্ত করুন; অর্থাৎ ‘ইছনানি’ ও ‘ইছনাতানি’ শব্দ দুটি ইরাবের ক্ষেত্রে দ্বিবচনের ন্যায় আলিফ দ্বারা মারফু হয়। একইভাবে সর্বনামের (দমীর) সাথে যুক্ত ‘কিলতা’ এবং ‘কিলা’ শব্দ দুটিও; তবে এই শব্দগুলো প্রকৃত দ্বিবচন নয়, কারণ এগুলোকে একক রূপ দান করা এবং সমজাতীয় শব্দের ওপর আতফ করা সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি উদাহরণ পেশ করে বললেন: যেমন ‘ইশতারায যাইদানি’ (দুই জায়েদ ক্রয় করেছে); এখানে ‘ইশতারা’ হলো অতীতকালীন ক্রিয়া এবং ‘আয-যাইদানি’ হলো কর্তা (ফায়েল), যা দম্মাহর স্থলাভিষিক্ত আলিফ দ্বারা মারফু। আর ‘হুল্লাতাইনি’ হলো কর্ম (মাফউল বিহি), যা ফাতহাহর স্থলাভিষিক্ত ইয়্যা দ্বারা নাসাবপ্রাপ্ত। ‘কিলতাহুমা’ হলো উদ্দেশ্য (মুবতাদা), যা দম্মাহর স্থলাভিষিক্ত আলিফ দ্বারা মারফু। ‘লি-ইছনাইনি’ হলো জার ও মাজরুর, যা কাসরাহর স্থলাভিষিক্ত ইয়্যা দ্বারা খাফদপ্রাপ্ত এবং ‘ইছনাতাইনি’ তার ওপর আতফকৃত। তিনি আলফিয়্যাহ-তে বলেছেন:
আলিফ দ্বারা দ্বিবচন এবং ‘কিলা’ শব্দকে রাফা প্রদান করো
…যখন তা সর্বনামের সাথে মুদাফ হিসেবে যুক্ত হবে।
‘কিলতা’ শব্দটিও তদ্রূপ; আর ‘ইছনানি’ ও ‘ইছনাতানি’ শব্দ দুটি
…‘ইবনাতাইনি’ ও ‘ইবনাতাইনি’ এর মতো একইভাবে প্রয়োগ করা হয়।
কবিতায় উল্লিখিত ‘কিলতা’ শব্দটি ‘হুল্লাতাইনি’ এর বিশেষণ (নাত) হিসেবে ‘কিলতাইহিমা’ হওয়া অধিক সংগত ছিল; তবে উদাহরণটিকে নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপনের জন্য একে মারফু অবস্থায় রাখা হয়েছে। আর এই গঠন অনুযায়ী, ‘লি-ইছনাইনি’ জার-মাজরুর অংশটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে খবর (বিধেয়) হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
"
باب جمع المذكر السالم"
"وارفع بواو جمع تذكير سلم
…ونصبه كالجر بالياء علم"
"كذاك ملحق بهذا الباب
…كالمتقون هم أولو الألباب"
"وارحم ذوي القربى من الأهلينا
…تسكن بدار الخلد عليينا"
باب جمع المذكر السالم سمى سالما لأنه سلم فيه بناء الواحد بزيادة أو نقصان نحو قولك جاء الزيدون وخرج العمرون. قوله "وارفع بواو جمع تذكير سلم" يعني أن الواو تكون علامة للرفع في جمع المذكر السالم وهو كل جمع المذكر بعقل أوصفة من يعقل نحو الزيدون والمسلمون تقول جاء الزيدون جاء فعل ماض والزيدون فاعل مرفوع بالواو نيابة عن الضمة والنون عوض عن التنوين في الاسم المفرد "ونصبه كالجر بالياء لزم" تقول رأيت الزيدين ومررت بالزيدين وإعرابه رأيت فعل وفاعل والزيدين مفعول به منصوب وعلامة نصبه الياء المكسور ما قبلها المفتوح ما بعدها نيابة عن الفتحة ومررت بالزيدين مررت فعل وفاعل بالزيدين جار ومجرور وعلامة جره الياء المكسور ما قبلها المفتوح ما بعدها نيابة عن الكسرة والنون عوض عن التنوين في الاسم المفرد "كذاك ملحق" أي كذلك ما الحق "بهذا الباب كالمتقون هم أولو الألباب" فأولوا مرفوع بالواو نيابة عن الضمة قال تعالى {وأولو الأرحام بعضهم أولى ببعض} وهو اسم جمع بمعنى أصحاب قال ابن مالك:
أولو وعالمون عليونا
…وأرضون شذ السنونا
জমউ মুজাক্কার সালিম (সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচন) পরিচ্ছেদ"সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচনকে 'ওয়াও' দ্বারা রাফা প্রদান করো
…আর এর নাসাব (জবর) যার (জের)-এর মতো 'ইয়া' দ্বারা হওয়া সুপরিচিত।"
"অনুরূপভাবে যা এই পরিচ্ছেদের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে
…যেমন মুত্তাকীরাই হলো বোধশক্তিসম্পন্ন (উলুল আলবাব)।"
"আর পরিবারভুক্ত নিকটাত্মীয়দের প্রতি দয়া করো
…যাতে তুমি চিরস্থায়ী জান্নাতের উচ্চস্তরে (ইল্লিয়্যিন) বসবাস করতে পারো।"
জমউ মুজাক্কার সালিম পরিচ্ছেদ: একে 'সালিম' (সুস্থ/অক্ষত) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে একবচনের রূপটি কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস ছাড়াই নিরাপদ থাকে; যেমন আপনার উক্তি— 'যায়দগণ এসেছে' এবং 'আমরগণ বের হয়েছে'। তাঁর উক্তি "সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচনকে 'ওয়াও' দ্বারা রাফা প্রদান করো" এর অর্থ হলো— 'ওয়াও' জমউ মুজাক্কার সালিমের ক্ষেত্রে রাফা-এর আলামত বা চিহ্ন হবে। আর এটি হলো বুদ্ধিমান সত্তার প্রত্যেকটি পুরুষবাচক বহুবচন অথবা বুদ্ধিমান সত্তার গুণবাচক শব্দ, যেমন: যায়দুন এবং মুসলিমুন। আপনি বলবেন: 'জায়দুন এসেছে'; এখানে 'জায়' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া এবং 'যায়দুন' হলো কর্তা যা পেশ (যাম্মা)-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'ওয়াও' দ্বারা মারফু হয়েছে, আর 'নুন' হলো একবচন বিশেষ্যের তানভীনের পরিবর্তে। "এবং এর নাসাব যার-এর ন্যায় 'ইয়া' দ্বারা হওয়া আবশ্যক"—আপনি বলবেন: 'আমি যায়দদের দেখেছি' এবং 'আমি যায়দদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি'। এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ হলো: 'রায়াইতু' হলো ক্রিয়া ও কর্তা এবং 'যায়দীনা' হলো কর্ম যা মানসুব; এর নাসাবের আলামত হলো 'ইয়া' যার পূর্বের বর্ণটি কাসরাযুক্ত এবং পরের বর্ণটি ফাতহাযুক্ত, যা ফাতহার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর 'আমি যায়দদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি' বাক্যে 'বিযায়দীনা' হলো যার ও মাজরুর; এর জারের আলামত হলো 'ইয়া' যার পূর্বের বর্ণটি কাসরাযুক্ত এবং পরের বর্ণটি ফাতহাযুক্ত, যা কাসরার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর 'নুন' হলো একবচন বিশেষ্যের তানভীনের পরিবর্তে। "অনুরূপভাবে মুলহাক" অর্থাৎ যা এই পরিচ্ছেদের নিয়মের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে, যেমন: "মুত্তাকীরাই হলো বোধশক্তিসম্পন্ন"। এখানে 'উলু' শব্দটি যাম্মার স্থলাভিষিক্ত হয়ে 'ওয়াও' দ্বারা মারফু হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ একে অপরের অধিক হকদার}। এটি একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য যা 'আসহাব' (অধিকারী/সাথী) অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইবনে মালিক রহ. বলেন:
উলু, আলামুন, ইল্লিয়্যুন
…এবং আরদুন; আর বিচ্যুত (شاذ) হিসেবে সিনুন শব্দগুলো (এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত)।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وكذلك عشرون وما بعدها إلى التسعين وقد ذكر الناظم من الملحقات أولوا والأهلون وعليون وهذه الألفاظ غير مستوفاة للشروط لأنها ليست علما ولا صفة وقوله "وارحم ذوي القربى من الأهلينا" قال تعالى: {شغلتنا أموالنا وأهلونا} فأهلونا مرفوع بالواو نيابة عن الضمة لأنها معطوف على أموالنا. وتنصب وتجر بالياء ومثال الرفع قوله تعالى: {وما أدراك ما عليون} فما استفهامية مبتدأ أول مبني أدراك خبر الأول ما عليون ما مبتدأ ثاني عليون خبره مرفوع بالواو نيابة عن الضمة وعليه فجمع المذكر السالم وما لحق به يرفع بالواو وينصب ويخفض بالياء.
"
باب جمع المؤنث السالم"
"وكل مجموع بتاء وألف
…فرفعه بضمة لا يختلف"
"والنصب مثل الجر بالكسر جعل
…كذاك ما سمى به وما حمل"
"كوافت الهندات أذرعات
…واعرف أولات الفضل بالصلات"
"باب جمع المؤنث السالم" وهو الجمع الذي علامته ألف وتاء زائدتان على مفرده وكل مجموع بتاء وألف فرفعه أي جمع المؤنث السالم "بضمة لا يختلف" تقول جاءت الهندات وخرجت الزينبات جاءت الهندات جاء فعل ماض الهندات فاعل مرفوع بالضمة الظاهرة في آخره "والنصب مثل الجر بالكسر جعل" تقول رأيت الهندات ومررت بالهندات رأيت فعل وفاعل والهندات مفعول به منصوب وعلامة نصبه الكسرة نيابة عن الفتحة ومررت بالهندات مررت فعل وفاعل بالهندات جار ومجرور
অনুরূপভাবে বিশ এবং এর পরবর্তী সংখ্যাগুলো নব্বই পর্যন্ত। রচয়িতা এর সাথে সংযুক্ত শব্দ হিসেবে ‘উলু’, ‘আহলুন’ এবং ‘ইল্লিয়্যুন’ উল্লেখ করেছেন। এই শব্দগুলো পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি পূরণ করে না, কারণ এগুলো কোনো নির্দিষ্ট নাম বা গুণবাচক শব্দ নয়। তার উক্তি: "এবং আপনজনদের মধ্য হতে নিকটাত্মীয়দের প্রতি দয়া করো"; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদের ব্যস্ত রেখেছিল}। এখানে ‘আহলুনা’ শব্দটি পেশের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ‘ওয়াও’ দ্বারা রফা-যুক্ত হয়েছে, যেহেতু এটি ‘আমওয়ালুনা’ শব্দের ওপর আত্বফ হয়েছে। আর এটি নসব ও জর অবস্থায় ‘ইয়া’ গ্রহণ করে। রফা-যুক্ত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আপনি কি জানেন ইল্লিয়্যুন কি?}। এখানে ‘মা’ প্রশ্নবোধক অব্যয় যা প্রথম মুবতাদা হিসেবে বিন্যস্ত, ‘আদরাকা’ হলো প্রথম মুবতাদার খবর, ‘মা ইল্লিয়্যুন’-এর ‘মা’ দ্বিতীয় মুবতাদা এবং ‘ইল্লিয়্যুন’ তার খবর যা ‘ওয়াও’ দ্বারা রফা-যুক্ত এবং এটি পেশের স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং, পরিপক্ক পুরুষবাচক বহুবচন এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ ‘ওয়াও’ দ্বারা রফা-যুক্ত হয় এবং ‘ইয়া’ দ্বারা নসব ও জর-যুক্ত হয়।
"
পরিপক্ক স্ত্রীবাচক বহুবচন পরিচ্ছেদ"
"আর আলিফ ও তা যোগে গঠিত প্রত্যেক বহুবচন... তার রফা হবে পেশ দ্বারা যাতে কোনো মতভেদ নেই"
"নসবকে জরের ন্যায় জের দ্বারা গঠন করা হয়েছে... তদ্রূপ যার নামকরণ এর দ্বারা হয়েছে এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে"
"যেমন হিন্দাতগণ আযরি’আতে উপস্থিত হয়েছে... এবং অনুগ্রহের মাধ্যমে মর্যাদাবান নারীদের চিনে নাও"
"পরিপক্ক স্ত্রীবাচক বহুবচন পরিচ্ছেদ": এটি এমন বহুবচন যার চিহ্ন হলো একবচনের শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও তা যুক্ত হওয়া। আর আলিফ ও তা যোগে গঠিত সকল বহুবচনের রফা অর্থাৎ পরিপক্ক স্ত্রীবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে "পেশ দ্বারা হবে যাতে কোনো মতভেদ নেই"। আপনি বলবেন: ‘হিন্দাতগণ এসেছে’ এবং ‘যায়নাবগণ বের হয়েছে’। ‘হিন্দাতগণ এসেছে’ বাক্যে ‘জাআ’ হলো অতীতকালীন ক্রিয়া এবং ‘হিন্দাত’ হলো কর্তা যা এর শেষে স্পষ্ট পেশ দ্বারা রফা-যুক্ত। "আর নসবকে জরের মতো জের দ্বারা নির্ধারণ করা হয়েছে"। যেমন আপনি বলবেন: ‘আমি হিন্দাতদের দেখেছি’ এবং ‘আমি হিন্দাতদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। ‘আমি দেখেছি’ হলো ক্রিয়া ও কর্তা এবং ‘হিন্দাত’ হলো কর্ম যা নসব-যুক্ত এবং এর নসবের চিহ্ন হলো জের যা জবরের স্থলাভিষিক্ত। আর ‘আমি হিন্দাতদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছি’ বাক্যে ‘মারারতু’ ক্রিয়া ও কর্তা এবং ‘বিল-হিন্দাত’ হলো যার-মাজরুর।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مخفوض وعلامة خفضه الكسرة الظاهرة في آخرة "كذاك ما سمى به" فتقول في رجل اسمه هندات هذا هندات ورأيت هندات ومررت بهندات ثم أتى بالمثال فقال: "كوافت الهندات أذرعات" برفع الهندات بالضمة "أذرعات" بنصبها بالكسرة نيابة عن الفتحة وأذرعات اسم موضع بالشام "واعرف" فعل أمر "أولات" مفعول به منصوب بالكسرة نيابة عن الفتحة فأذرعات وأولات ملحق بجمع المؤنث السالم قال في الخلاصة:
كذا أولات والذي اسما قد جعل
…كأذرعات فيه ذا أيضا قبل
فجمع المؤنث السالم يرفع بالضمة وينصب ويخفض بالكسرة
"
باب الأفعال الخمسة"
"والرفع بالنون لأفعال تكون كيفعلان تفعلين تفعلون"
"والنصب والجزم بحذف النون كالتقنعا لترضيا بالدون"
"باب الأفعال الخمسة" والأفعال الخمسة هو كل مضارع اتصل به ضمير تثنية أو ضمير جمع أو ضمير المؤنثة المخاطبة يعني أن الأفعال الخمسة تعرب حالة الرفع بالنون نحو يفعلان وتفعلان ويفعلون وتفعلون وتفعلين وإعراب يفعلان فعل مضارع مرفوع وعلامة رفعه ثبوت النون في آخره نيابة عن الضمة قال ابن مالك:
واجعل لنحو يفعلان النونا
…وقعا وتدعين وتسألونا
وحذفها للجزم والنصب سمه
…كلم تكوني لترومي مظلمه
وقوله "والنصب والجزم بحذف النون كلتقنعا" مثال مجزوم فاللام لام الأمر وتقنعا فعل مضارع مجزوم بلام الأمر وعلامة جزمه حذف النون
এটি মাজরুর (مخفوض) এবং এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো এর শেষে সুস্পষ্ট কাসরা (الكسرة الظاهرة)। অনুরূপভাবে "যার মাধ্যমে নামকরণ করা হয়েছে" (كذاك ما سمى به), আপনি এমন একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলবেন যার নাম 'হিন্দাত': এটি হিন্দাত (هندات), আমি হিন্দাতকে দেখেছি এবং আমি হিন্দাতের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। এরপর তিনি একটি উদাহরণ পেশ করে বলেন: "কুওয়াফাতুল হিন্দাতু আযরিআতিন", এখানে 'হিন্দাত' শব্দটি পেশ (رفع) অবস্থায় যম্মা (الضمة) দ্বারা মারফু হয়েছে এবং 'আযরিআত' শব্দটি যবর (نصب) অবস্থায় ফাতহার পরিবর্তে কাসরা (الكسرة) দ্বারা মানসুব হয়েছে। 'আযরিআত' হলো সিরিয়ার (শাম) একটি স্থানের নাম। "ওয়া’রিফ" (واعرف) হলো একটি আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل أمر)। "উলাতু" (أولات) হলো কর্মপদ (مفعول به), যা ফাতহার পরিবর্তে কাসরা (الكسرة) দ্বারা মানসুব (منصوب) হয়েছে। সুতরাং 'আযরিআত' এবং 'উলাতু' শব্দ দুটি জমা মুয়ান্নাস সালেম-এর সাথে সংযুক্ত বা সদৃশ (ملحق) হিসেবে গণ্য। তিনি আল-খুলাসায় (আলফিয়্যাহ) বলেছেন:
অনুরূপভাবে ‘উলাতু’ (أولات) এবং যাকে এই প্রকারে (জমা মুয়ান্নাস সালেম) নামকরণ করা হয়েছে… যেমন ‘আযরিআত’ (أذرعات); এতেও এই নিয়মটি গৃহীত হয়েছে।
অতএব জমা মুয়ান্নাস সালেম যম্মা (الضمة) দ্বারা মারফু হয় এবং কাসরা (الكسرة) দ্বারা মানসুব ও মাজরুর হয়।
"
পাঁচটি ক্রিয়ার অধ্যায় (باب الأفعال الخمسة)"
"আর রফা বা পেশ (الرفع) হবে 'নূন' (النون) দ্বারা এমন ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে যা 'ইয়াফআলাানি', 'তাফআলীনা' ও 'ইয়াফআলূনা' এর মতো হয়ে থাকে।"
"আর নসব (النصب) ও জজম (الجزم) হবে 'নূন' বিলুপ্ত করার (حذف النون) মাধ্যমে, যেমন 'লিতাকনাআ' (যাতে তুমি তুষ্ট থাকো) অল্পে সন্তুষ্ট থাকার জন্য।"
"পাঁচটি ক্রিয়ার অধ্যায়" (باب الأفعال الخمسة): পাঁচটি ক্রিয়া (الأفعال الخمسة) বলতে এমন প্রতিটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াকে (فعل مضارع) বোঝায় যার সাথে দ্বিবচনের সর্বনাম (ضمير تثنية), বহুবচনের সর্বনাম (ضمير جمع) অথবা স্ত্রীলিঙ্গ একবচনের সম্বোধনসূচক সর্বনাম (ضمير المؤنثة المخاطبة) যুক্ত থাকে। অর্থাৎ পাঁচটি ক্রিয়া যখন রফা (الرفع) অবস্থায় থাকে, তখন তার ইরাব (إعراب) বা রূপান্তর নূন (النون) এর উপস্থিতির মাধ্যমে হয়; যেমন: 'ইয়াফআলাানি', 'তাফআলাানি', 'ইয়াফআলূনা', 'তাফআলূনা' এবং 'তাফআলীনা'। 'ইয়াফআলাানি' এর ইরাব হলো- এটি একটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা মারফু (مرفوع) এবং এর মারফু হওয়ার চিহ্ন হলো এর শেষে যম্মা-র পরিবর্তে নূন বহাল থাকা (ثبوت النون)। ইবনে মালিক বলেছেন:
'ইয়াফআলাানি' এর মতো শব্দগুলোর জন্য নূন-কে (النون) চিহ্ন নির্ধারণ করো… যেমন তারা দু’জন অবস্থান করছে, তুমি ডাকছো এবং তোমরা জিজ্ঞাসা করছো।
আর জজম ও নসবের জন্য নূন বিলুপ্ত করাকে (حذفها) চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করো… যেমন 'লাম তাকূনী' (তুমি হওনি) যাতে তুমি কোনো অবিচারের সংকল্প না করো।
তার উক্তি "আর নসব ও জজম নূন বিলুপ্ত করার মাধ্যমে, যেমন লিতাকনাআ" (والنصب والجزم بحذف النون كلتقنعا) হলো জজম বা প্রশান্ত অবস্থার (مجزوم) একটি উদাহরণ। এখানে 'লাম' (اللام) হলো আদেশসূচক লাম (لام الأمر) এবং 'তাকনাআ' হলো একটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা আদেশসূচক লাম-এর কারণে মাজযূম (مجزوم) হয়েছে, আর এর জজম-এর চিহ্ন হলো নূন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون)।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عن السكون "لترضيا" اللام لام كي وترضيا فعل مضارع منصوب بلام
كي وعلامة نصبه حذف النون من آخره نيابة عن الفتحة قال ابن آجروم وأما الأفعال الخمسة فترفع بالنون وتنصب وتجزم بحذفها. ويقاس على بقية الأمثال فيقاس على يفعلان ما بعدها وعلى لتقنعا نحو لم يفعلا ولم تفعلا ولم يفعلوا ولم تفعلوا ولم تفعلي فكلها مجزومة وعلامة جزمها حذف النون ويقاس على لترضيا لن يفعلوا لن تفعلوا ولن تفعلي فكلها منصوبة وعلامة نصبها حذف النون والألف والواو والياء فاعل.
"
باب قسمة الأفعال"
"والفعل ماض ثم أمر ثم ما
…ضارع والكل بحد علما"
"فاقض لماض بالبنا حتما على
…فتح ولو مقدرا نحو انجلى"
"وابن على الحذف أو السكون
…أمرا كقم وادع وقل صلوني"
"وابن على الفتح مضارعا ترى
…تاكيده جاء نون باشرا"
"وإن يكن متصلا بنون
…لنسوة فابن على السكون"
"وفي سوى ذين وجوبا يعرب
…بالرفع مثل نرتجي ونرهب"
"حيث خلا عن ناصب وما جزم
…وحرفه من الرباعي يضم"
"نقول من أفلح زيد يفلح
…وافتح لنحو يشتري ويفرح
"باب قسمة الأفعال": الأفعال بالنسبة للدلالة على الزمان تنقسم إلي ثلاثة أقسام ماض ومضارع وأمر وإلى هذا أشار بقوله "والفعل ماض ثم أمر ثم ما ضارع" ومعنى ضارع أي شابه لأنه يشبه الاسم ويسمى مبهما لأنه يصلح للحال والاستقبال حتى يدخل عليه ما يخصصه لأحدهما وقوله
সুকুন সম্পর্কে "যাতে তোমরা দুজনে সন্তুষ্ট হও (لترضيا)" বাক্যাংশটি: এখানে 'লাম' হলো 'লামে কায়' (উদ্দেশ্যবাচক লাম) এবং 'তারদয়া' হলো 'ফেলে মুদারে' যা 'লামে কায়' এর কারণে 'মানসুব' হয়েছে। আর এর 'নসব' এর আলামত হলো এর শেষ থেকে 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া, যা 'ফাতহা'র স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। ইবনে আজুররুম (রহ.) বলেন: "আর 'আফয়ালে খামসাহ' (পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়া) 'নুন' এর মাধ্যমে 'রাফা' প্রাপ্ত হয় এবং 'নুন' বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে 'নসব' ও 'জাযম' প্রাপ্ত হয়।" অনুরুপ অন্যান্য উদাহরণগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সুতরাং 'ইয়াফআলানি' (يفعلان) এর পরবর্তী শব্দগুলোর ওপর এবং 'লিতাকনাআ' (لتقنعا) এর ওপর 'লাম ইয়াফআলা' (لم يفعلا), 'লাম তাফআলা' (لم تفعلا), 'লাম ইয়াফআলু' (لم يفعلوا), 'লাম তাফআলু' (لم تفعلوا) এবং 'লাম তাফআলি' (لم تفعلي) কে কিয়াস করা হবে। এগুলোর প্রত্যেকটিই 'মাজযুম' এবং এদের 'জাযম' এর আলামত হলো 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া। একইভাবে 'লিতরদয়া' (لترضيا) এর ওপর 'লান ইয়াফআলু' (لن يفعلوا), 'লান তাফআলু' (لن تفعلوا) এবং 'লান তাফআলি' (لن تفعلي) কে কিয়াস করা হবে; এগুলোর সবকটিই 'মানসুব' এবং এদের 'নসব' এর আলামত হলো 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া। আর আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া হলো 'ফায়েল' (কর্তা)।
"
ক্রিয়ার প্রকারভেদ অধ্যায়"
"ক্রিয়া হলো মাজি (অতীত), অতঃপর আমর (আদেশ), অতঃপর যা
…মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎ) এবং প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র চিহ্নের মাধ্যমে পরিচিত।"
"মাজিকে সর্বদা 'ফাতহা'র ওপর 'মাবনি' হওয়ার ফয়সালা দিন
…যদিও তা 'মুকদ্দার' (উহ্য) হয়, যেমন: 'আনজালা'।"
"আর আমরকে 'হযফ' (বিলুপ্তি) অথবা 'সুকুন' এর ওপর 'মাবনি' করুন
…যেমন: 'কুম', 'উদউ' এবং 'কুল সুলুনি'।"
"আর মুদারে ক্রিয়াকে 'ফাতহা'র ওপর 'মাবনি' দেখবেন
…যখন তার সাথে তাকিদ বা গুরুত্বের 'নুন' সরাসরি যুক্ত হয়।"
"আর যদি তা 'নুনুন নিসওয়াহ' (স্ত্রীবাচক বহুবচন নুন) এর সাথে যুক্ত হয়
…তবে তাকে 'সুকুন' এর ওপর 'মাবনি' করুন।"
"এই দুটি অবস্থা ব্যতীত অন্যথায় আবশ্যিকভাবে এটি 'মুর'আব' হবে
…'রাফা' যোগে, যেমন: 'নারতাজি' এবং 'নারহাবু'।"
"যখন এটি 'নাসিব' (নসব দানকারী) এবং 'জাযিম' (জাযম দানকারী) থেকে মুক্ত থাকবে
…আর চার অক্ষরবিশিষ্ট (রুবায়ি) ক্রিয়ার শুরুর হরফে 'যম্মাহ' হবে।"
"আমরা বলি 'আফলাহা যায়দুন ইউফলিহু'
…আর 'ইয়াশতারি' এবং 'ইয়াফরাহু' এর মতো শব্দের শুরুতে 'ফাতহা' দিন।"
"ক্রিয়ার প্রকারভেদ অধ্যায়": কাল বা সময়ের ওপর নির্দেশনার বিচারে ক্রিয়া তিন ভাগে বিভক্ত—মাজি, মুদারে এবং আমর। এই দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন এই কথার মাধ্যমে যে, "ক্রিয়া হলো মাজি, এরপর আমর, এরপর মুদারে"। আর 'মুদারে' শব্দের অর্থ হলো 'সদৃশ হওয়া', কারণ এটি 'ইসম' বা বিশেষ্যের সদৃশ হয়ে থাকে। একে 'মুবহাম' (অস্পষ্ট) বলা হয় কারণ এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ উভয় কালের অর্থ প্রদানের যোগ্যতা রাখে, যতক্ষণ না এর ওপর এমন কিছু প্রবেশ করে যা একে কোনো একটি কালের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। আর লেখকের উক্তি—
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
"فاقض لماض" أي للفعل الماضي مثل قام وقعد وضرب "بالبنا حتما على فتح" ما لم يتصل به ضمير مخاطب أو متكلم فيسكن مثل قمت وقعدت وضمير جمع فيضم مثل قاموا وضربوا ولقد قلت في نظمنا اللؤلؤ المنظوم:
فالماضي مبني بفتح في الأخير
…إلا إذا كان في عجزه ضمير
وفي ضربت ابن على السكون
…وضربوا بالضم للتبيين
وهذا يرد قول الناظم "بالبنا حتم على فتح" لكنه خرج مخرج الغالب وأصل الأفعال البناء فلا يقال لم بني الفعل الماضي لأنه بني على أصل الأفعال وما جاء على أصله فلا سؤال عليه وإنما يقال لم بني الماضي على حركة ولم يبن على السكون إذ هو أصل البناء ويقال أيضا لم خص بتلك الحركة ويقال إنما بني على حركة ولم يبن على السكون لتكون له مزية على فعل الأمر لأنه يقع موقع الاسم وبيان ذلك أنك تقول مررت برجل كتب كما تقول مررت برجل كاتب وهو قد وقع موقع كاتب ولا تقول مررت برجل اكتب وإنما خص بالبناء على الفتح طلبا للتخفيف لأن الفتح أخف الحركات والفعل ثقيل فخففوه بالبناء على الفتح الذي هو أخف الحركات أو قوله "ولو مقدرا نحو انجلى" أي ولو كان الفتح مقدرا نحو انجلى فإن الفتح مقدر على الألف والمانع من ظهوره التعذر "وابن على الحذف أو السكون أمرا" يعني أن فعل الأمر وهو استدعاء طاعة المأمور بفعل المأمور به مبني على ما يجزم به مضارعه من حذف نحو ادع وارم واخش وصلوني واضربوا أو سكون نحو قم وقل ولهذا قال بعضهم:
والأمر مبني على ما يجزم
…به مضارعه يا من يفهم
"অতীতকাল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিন" অর্থাৎ অতীতকালীন ক্রিয়া যেমন 'ক্বামা', 'ক্বাআদা' এবং 'দারাবা'-এর ক্ষেত্রে— "আবশ্যিকভাবে ফাতহার ওপর ভিত্তি হওয়া" যতক্ষণ না তার সাথে কোনো মধ্যম পুরুষ বা উত্তম পুরুষের সর্বনাম যুক্ত হয়, ফলে তা সুকুনযুক্ত হয় যেমন 'ক্বুমতু' ও 'ক্বাআদাতু', এবং বহুবচনের সর্বনাম যুক্ত হলে দম্মাযুক্ত হয় যেমন 'ক্বামু' ও 'দারাবু'। আর আমি আমার কাব্যগ্রন্থ 'লু'লু আল-মানজুম'-এ বলেছি:
অতীতকাল শেষে ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়
…যদি না তার শেষে সর্বনাম থাকে
এবং 'দারাবতু' এর ক্ষেত্রে সুকুনের ওপর ভিত্তি করুন
…আর 'দারাবু' এর ক্ষেত্রে স্পষ্টতার জন্য দম্মার ওপর ভিত্তি করুন
এটি মূল লেখকের "আবশ্যিকভাবে ফাতহার ওপর ভিত্তি হওয়া" উক্তিটির বিরোধিতা করে, তবে তিনি এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা ঘটে সেই প্রেক্ষাপটেই ব্যক্ত করেছেন। আর ক্রিয়ার মূল প্রকৃতি হলো অপরিবর্তনীয় (ভিত্তি) থাকা, তাই বলা যাবে না যে অতীতকাল কেন ভিত্তি হিসেবে গঠিত হলো, কারণ এটি ক্রিয়ার মূল প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করেই গঠিত হয়েছে; আর যা তার মূল প্রকৃতি অনুযায়ী আসে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। বরং প্রশ্ন করা হয়, অতীতকাল কেন হরকতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হলো এবং কেন সুকুনের ওপর গঠিত হলো না, অথচ সুকুনই হলো ভিত্তি বা অপরিবর্তনীয় অবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য? আরও প্রশ্ন করা হয়, কেন তাকে বিশেষ এই হরকত (ফাতহা) দিয়েই নির্দিষ্ট করা হলো? উত্তরে বলা হয়, এটি সুকুনের পরিবর্তে হরকতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে যেন তা আদেশবাচক ক্রিয়ার ওপর এক প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব বা বিশেষ মর্যাদা লাভ করতে পারে, কারণ এটি বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর ব্যাখ্যা হলো—আপনি বলেন: "আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলাম যে লিখেছে (কাতাবা)", যেমনটি আপনি বলেন: "আমি একজন লেখকের (কাতিব) নিকট দিয়ে গেলাম"। এখানে 'লিখেছে' শব্দটি 'লেখক' এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। অথচ আপনি বলেন না: "আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলাম যে 'লেখ' (আদেশবাচক ক্রিয়া)"। আর ফাতহার ওপর ভিত্তি হওয়াকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে লঘুতা বা সহজ করার উদ্দেশ্যে, কারণ ফাতহা হলো হরকতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা, আর ক্রিয়া শব্দগতভাবে ভারী, তাই তারা একে সবচেয়ে হালকা হরকত ফাতহার মাধ্যমে লঘু করেছে। অথবা তাঁর উক্তি: "যদিও তা উহ্য হয় যেমন 'আনজালা'", অর্থাৎ ফাতহা যদি উহ্যও থাকে যেমন 'আনজালা', তবে সেক্ষেত্রে আলিফের ওপর ফাতহা উহ্য থাকে এবং তা প্রকাশিত হওয়ার ক্ষেত্রে অপারগতা প্রতিবন্ধক হয়। "আর আদেশবাচক ক্রিয়াকে বিলোপ অথবা সুকুনের ওপর ভিত্তি করুন" অর্থাৎ আদেশবাচক ক্রিয়া—যা মূলত কোনো কাজের আদেশের মাধ্যমে আদিষ্ট ব্যক্তির আনুগত্যের দাবি করা—তা গঠিত হয় তার বর্তমানকালীন ক্রিয়া যে বিষয়ের মাধ্যমে জজম হয় তার ওপর ভিত্তি করে; তা হতে পারে বিলোপের মাধ্যমে যেমন 'উদু', 'ইরমী', 'ইখশা', 'সিলূনী' ও 'ইদরিবূ', অথবা সুকুনের মাধ্যমে যেমন 'ক্বুম' ও 'ক্বুল'। এই কারণেই কেউ কেউ বলেছেন:
আদেশবাচক ক্রিয়া তার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়
…যার মাধ্যমে তার বর্তমানকালীন রূপ জজম হয়, হে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি!
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
كقم وصل وادع واخش وارهب
…وكا رغبا وكارغبي يا زينب
"وابن على الفتح" فعلا مضارعا "ترا تاكيده جاء بنون باشرا" والمعنى أن الفعل المضارع يبنى على الفتح إذا اتصلت به نونا التوكيد الثقيلة والخفيفة نحو هل تقومن يا زيدون وعلامة رفع الفعل غير المباشر نون محذوفة لاجتماع الأمثال "وإن يكن" الفعل المضارع "متصلا بنون النسوة" ولا يكون إلا مباشرا للفعل ولهذا لم يقيده بما قيد به نون التوكيد فإنه يبنى على السكون نحو يقمن أو الهندات يضربن "وفي سوي ذين" المعنى أن المضارع إذا لم تتصل به نون التوكيد أو نون النسوة وجوبا يعرب بالرفع سواء كان معتلا في الأخير "مثل نرتجي" والضمة المقدرة على الياء المانع من ظهورها الثقل أو كان آخره صحيحا مثل "نرهب" ومحل كونه يعرب بالرفع "حيث خلا عن ناصب" ينصبه مثل لروما يعدها كما سيأتي في الباب الذي بعد هذا "وما جزم" أي الجوازم مثل لم قال في الآجرومية وهو مرفوع أبدا حتى يدخل عليه ناصب أو جازم "وحرفه" الأول أي حرف المضارعة يضم إذا كان أصل الفعل رباعي "من الرباعي يضم تقول من أفلح زيد يفلح" يضم المضارعة ومن أكرم يكرم قال في الملحة:
وضمها من أصلها الرباعي
…مثل يجيب من اجاب الداعي
"وافتح لنحو يشتري" من اشترى الخماسي ويفرح من فرح الثلاثي.
যেমন ‘কুম’ (দাঁড়াও), ‘সিল’ (যুক্ত করো), ‘উদউ’ (ডাকো), ‘ইখশা’ (ভয় করো) ও ‘ইরহাব’ (ভীত হও)
…এবং হে যয়নাব, তুমি ‘কা রাগিবান’ (অনুরাগী হও) ও ‘কা রাগিবি’ (অনুরাগী হও) এর ন্যায় হও।
“এবং বর্তমান কালবাচক ক্রিয়াকে ফাতহ বা জবর এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الفتح) করো”, যখন তুমি দেখবে যে এর সাথে গুরুত্বপ্রদানকারী নুন (نون التوكيد) সরাসরি যুক্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো, বর্তমান কালবাচক ক্রিয়া (فعل مضارع) ফাতহ এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني) হবে যদি এর সাথে গুরুত্বপ্রদানকারী শক্তিশালী নুন (نون التوكيد الثقيلة) অথবা হালকা নুন (نون التوكيد الخفيفة) সরাসরি যুক্ত হয়। যেমন: ‘হাল তাকুমুন্না ইয়া যায়দুন’ (হে যায়দগণ, তোমরা কি অবশ্যই দাঁড়াবে?)। আর এখানে পরোক্ষ ক্রিয়ার রাফ’ বা পেশ এর চিহ্ন হলো একটি উহ্য নুন, যা সমজাতীয় হরফের সমাবেশ ঘটার কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে। “আর যদি” বর্তমান কালবাচক ক্রিয়াটি (فعل مضارع) “নারীবাচক নুন (نون النسوة) এর সাথে যুক্ত হয়”—আর এটি ক্রিয়ার সাথে সরাসরিই যুক্ত হয়ে থাকে, এই কারণেই লেখক এখানে গুরুত্বপ্রদানকারী নুনের মতো আলাদা কোনো শর্তারোপ করেননি—তবে তা সুকুন এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على السكون) হবে। যেমন: ‘ইয়াকুমনা’ (তারা মহিলারা দাঁড়াচ্ছে) অথবা ‘আল-হিন্দাতু ইয়াদরিবনা’ (হিন্দগণ প্রহার করছে)। “এবং এই দুই অবস্থা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে” এর অর্থ হলো, বর্তমান কালবাচক ক্রিয়া (فعل مضارع) যখন গুরুত্বপ্রদানকারী নুন অথবা নারীবাচক নুন থেকে মুক্ত থাকে, তখন তা আবশ্যিকভাবে রাফ’ (رفع) এর এরাব গ্রহণ করবে। চাই তার শেষ বর্ণটি ইল্লত বর্ণযুক্ত (معتل) হোক, “যেমন: নাতাজি” (আমরা আশা করি); এখানে ‘ইয়া’ বর্ণের ওপর পেশ বা দম্মা উহ্য রয়েছে যা উচ্চারণের গুরুভার হওয়ার কারণে প্রকাশ পায়নি। অথবা তার শেষ বর্ণটি যদি সহীহ বা রোগমুক্ত (صحيح) হয়, যেমন: “নারহাব” (আমরা ভয় করি)। আর এটি রাফ’ হওয়ার স্থান তখনই, “যখন তা নসব প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত থাকে (حيث خلا عن ناصب)” যা একে নসব প্রদান করে, যেমন ‘লি রুমা’ এর উদাহরণ পরবর্তী পরিচ্ছেদে আসবে। “এবং জযম প্রদানকারী আমেল (وما جزم)” যেমন ‘লাম’ থেকেও মুক্ত হতে হবে। আল-আজরুমিয়্যাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি সর্বদা রাফ’ বা পেশ বিশিষ্ট (مرفوع) থাকে যতক্ষণ না এর ওপর কোনো নসব প্রদানকারী (ناصب) বা জযম প্রদানকারী (جازم) আমেল প্রবেশ করে। “এবং এর প্রথম হরফটি” অর্থাৎ বর্তমান কালবাচক ক্রিয়ার শুরুতে যুক্ত আলামতটি দম্মা বা পেশ বিশিষ্ট হবে যদি মূল ক্রিয়াটি চার অক্ষরবিশিষ্ট (رباعي) হয়। “চার অক্ষরবিশিষ্ট (من الرباعي) ক্রিয়া থেকে তা দম্মা বিশিষ্ট হবে; আপনি বলবেন ‘আফলাহা যায়দুন’ থেকে ‘ইউফলিহু’”; এখানে আলামতে মুদারে’ দম্মা বিশিষ্ট হয়েছে। তদ্রূপ ‘আকরামা’ থেকে ‘ইউকরিমু’। মুলহাতুল ইরাব গ্রন্থে বলা হয়েছে:
এবং মূল চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার ক্ষেত্রে শুরুতে দম্মা প্রদান করো
…যেমন আহ্বানকারীর ডাকে সে সাড়া দেয় (ইউজিবু) যা ‘আজাবা’ থেকে এসেছে।
“এবং ফাতহ বা জবর প্রদান করো ‘ইউশতারি’ এর ন্যায়” যা পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট (خماسي) ‘ইশতারা’ থেকে এসেছে এবং ‘ইয়াফরাহু’ এর ন্যায় যা তিন অক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي) ‘ফারিহা’ থেকে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
"
باب النواصب"
"وانصب لما ضارع من فعل بلن
…وكي مع اللام وحذف وأذن"
"إن صدرت فانصب بها المستقبلا
…متصلا او بيمين فصلا"
"وانصب بأن ما لم تلي علما وصح
…وجهان بعد الظن والنصب رجح"
"وبعد لام الجر فانصب واضمرا
…لأن جوازا كارتقى لينظرا"
"كبعد عاطف على اسم خالص
…واضمر لها على الوجوب واخصص"
"خمسا عقيب لام جحد مثل ما
…كان ذوو التقى ليغشوا ظالما"
"وبعد حتى حيث معناها إلى
…كاعمل لدار الخلد حتى تنقلا"
"واو إذا المعنى بنحو إلا أتى
…كلا تقر العين أو يعطى الفتى"
"وبعد واو ثم فاء وقعا
…صدر جوابا قرروه كالدعاء"
"كاحرص على التقوى فتختار ولا
…ترج النجاة وتسيء العملا"
"ثم متى دل على الشرط الطلب
…فاجزم جوابا لم يكن فاء صحب"
"إن قصد الجزا به للطلب
…كعامل الله بصدق تقرب"
{وانصب لماضارع} انصب فعل مضارع {من فعل} وتقدم لنا أن الفعل المضارع هو المشابه للاسم "بلن" وهي حر ذف نصب للمضارع وينفي معناه ويصيره خالصا للاستقبال نحو لن يقوم زيد وإعرابه لن حرف نفي ونصب واستقبال يقوم فعل مضارع منصوب بلن وعلامة نصبه الفتحة الظاهرة زيد فاعل مرفوع وعلامة رفعه الضمة الظاهرة في آخره وقوله "وكي مع اللام وحذف" ويشترط في النصب بها من غير تقدير أن بعدها أن تكون مصدرية وهي التي تتقدم عليها اللام إما لفظا نحو {لكي
নসব দানকারী অব্যয়সমূহের (نواصب) অধ্যায়মুদারে (مضارع) ক্রিয়াকে 'লান' (لن) এর মাধ্যমে নসব (نصب) প্রদান করো
…এবং 'কাই' (كي) এর সাথে 'লাম' (لام) থাকা বা তা উহ্য থাকার অবস্থায় এবং 'ইদান' (أذن) এর মাধ্যমে।
যদি 'ইদান' বাক্যের শুরুতে আসে তবে তার মাধ্যমে ভবিষ্যৎকাল জ্ঞাপক ক্রিয়াকে নসব (نصب) প্রদান করো
…তা সরাসরি ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হোক অথবা শপথের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হোক।
এবং 'আন' (أن) এর মাধ্যমে নসব (نصب) প্রদান করো যতক্ষণ না এটি নিশ্চিত জ্ঞান (علم) বাচক শব্দের পরে আসে; আর প্রবল ধারণা (ظن) বাচক শব্দের পরে উভয় পদ্ধতিই শুদ্ধ
…তবে নসব (نصب) হওয়াটাই অগ্রগণ্য।
এবং জারের লামের (لام الجر) পরে 'আন' (أن) কে উহ্য রেখে নসব (نصب) প্রদান করো
…এটি বৈধ (جوازا) যেমন: সে আরোহণ করল যাতে সে দেখতে পায় (لينظرا)।
যেমন বিশুদ্ধ বিশেষ্যের (اسم خالص) ওপর সংযোজক অব্যয় (عاطف) হওয়ার পরে
…এবং তার জন্য (আন-এর জন্য) আবশ্যিকভাবে (وجوبا) উহ্য থাকাকে নির্দিষ্ট করো।
পাঁচটি ক্ষেত্রে, যা অস্বীকারজ্ঞাপক লামের (لام جحد) পরে আসে যেমন
…'মুত্তাকিগণ জালেমকে পরিবেষ্টন করার ছিল না'।
এবং 'হাত্তা' (حتى) এর পরে যখন তার অর্থ 'পর্যন্ত' (إلى) বুঝাবে
…যেমন: 'স্থায়ী আবাসের জন্য আমল করো যতক্ষণ না তুমি স্থানান্তরিত হও'।
'আও' (أو) এর পরে যখন অর্থ 'ব্যতীত' (إلا) এর ন্যায় হবে
…যেমন: 'চক্ষু শীতল হবে না যতক্ষণ না যুবককে তার প্রাপ্য দেওয়া হয়'।
এবং 'ওয়াও' (واو) ও 'ফা' (فاء) এর পরে যা উত্তরের শুরুতে পতিত হয়
…যা ব্যাকরণবিদগণ নির্ধারণ করেছেন যেমন দুআর (دعاء) ক্ষেত্রে।
যেমন: 'তাকওয়ার প্রতি লালায়িত হও তবে তুমি মনোনীত হবে' এবং
…'মুক্তির আশা করো না অথচ তুমি মন্দ আমল করছ'।
অতঃপর যখন কোনো অনুরোধ (طلب) শর্তের অর্থ প্রকাশ করে
…তখন উত্তরটিকে জজম (جزم) প্রদান করো যাতে 'ফা' (فاء) যুক্ত নেই।
যদি তার মাধ্যমে অনুরোধের প্রতিদান উদ্দেশ্য হয়
…যেমন: 'আল্লাহর সাথে সত্যতার সাথে মুআমালা করো, তুমি নৈকট্য লাভ করবে'।
{এবং তুমি নসব প্রদান করো মুদারে ক্রিয়াকে} 'ইনসিব' (انصب) হলো একটি বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) [ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী] {ক্রিয়া থেকে} এবং আমরা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে মুদারে (مضارع) ক্রিয়া হলো ইসমের সদৃশ। "বিলান" (بلن) যা মুদারে (مضارع) ক্রিয়াকে নসব (نصب) প্রদানকারী একটি অব্যয়, যা তার অর্থকে নেতিবাচক করে এবং তাকে ভবিষ্যতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দেয়। যেমন: 'যাইদ কখনোই দাঁড়াবে না' (لن يقوم زيد)। এর তারকিব (إعرابه) হলো: 'লান' (لن) হলো নফি (নফি), নসব (نصب) এবং ইস্তেকবাল বা ভবিষ্যৎ (استقبال) জ্ঞাপক হরফ। 'ইয়াকুমা' (يقوم) হলো 'লান' দ্বারা নসব প্রাপ্ত (منصوب) মুদারে (مضارع) ক্রিয়া এবং তার নসবের আলামত হলো তার শেষে থাকা প্রকাশ্য ফাতহা (الفتحة الظاهرة)। 'যাইদুন' (زيد) হলো রফা প্রাপ্ত (مرفوع) কর্তা (فاعل) এবং তার রফার আলামত হলো তার শেষে থাকা প্রকাশ্য দম্মাহ (الضمة الظاهرة)। এবং তাঁর উক্তি "এবং 'কাই' লামের সাথে বা উহ্য অবস্থায়"; এর মাধ্যমে নসব প্রদানের শর্ত হলো এর পরবর্তী 'আন' (أن) টি মাসদারিয়্যাহ (مصدرية) হওয়া, আর এটি সেই অব্যয় যার পূর্বে শাব্দিকভাবে 'লাম' (لام) যুক্ত থাকে, যেমন: {লেকাই (لكي)
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لا تأسوا} وإعرابه: اللام لام كي وكي حرف مصدر ونصب ولا النافية تأسوا فعل مضارع منصوب بكي وعلامة نصبه حذف النون والواو فاعل مبني على السكون في محل رفع وإما تقديرا نحو قوله تعالى: {كي تقر عينها} إذا قدرت اللام قبل كي وإعرابه كي حرف مصدر ونصب وتقر فعل مضارع منصوب بكي وعلامة نصبة فتحة ظاهرة في آخره عينها فاعل وسميت حينئذ مصدرية لتا ولها مع ما بعدها بمصدر أي لعدم إساءتكم ولقرة عينها فإن لم يتقدم عليها اللام لا لفظا ولا تقديرا وهو معنى قول الناظم "وحذف" أي للام فهي حرف تعليل بمعنى اللام وتكون ناصبة للفعل بعدها بأن مضمرة وجوبا بعد كي نحو جئت كي أقرأ العلم وإعرابه جئت فعل وفاعل وكي حرف تعليل وجر وأقرأ فعل مضارع منصوب بأن مضمرة وجوبا بعد كي نحو جيئت كي أقرأ العلم وإعرابه جئت فعل وفاعل وكي حرف تعليل وجر وأقرأ فعل مضارع منصوب بأن مضمرة وجوبا بعد كي وقوله "وإذن" أي من النواصب إذن وهي حرف جواب وجزاء ويشترط في النصب بها ثلاث شروط:
الأول: أن تكون في صدر الجواب كما قال "إن صدرت"
الثاني: أن يكون الفعل بعدها مستقبلا كما قال "وانصب بها المستقبلا"
الثالث: أن لا يفصل بينها وبين الفعل فاصل غير القسم كما قال: "متصلا أو بيمين فصلا" وكما يجوز الفصل بينها وبين معمولها باليمين يجوز الفصل بالنداء والنفى قال بعضهم:
عمل إذن إذا أتتك أولا
…وسقت فعلا بعدها مستقبلا
واحذر إذا بعملتها إن تفصلا
…إلا بحلف إن نداء أو بلا
وافصل بظرف أو بمجرور على
…رأي ابن عصفور ريس النبلا
فمثال الفصل بالنداء إذن يازيد أكرمك، والقسم إذن والله أكرمك
{যাতে তোমরা আক্ষেপ না করো (لا تأسوا)} এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب): এখানে লাম (لام) হলো ‘লামে কায়’ (لام كي) এবং কায় (كي) হলো মাসদারী (مصدرية) ও নসব দানকারী (نصب) হরফ। ‘তাসাউ’ (تأسوا) হলো কায় (كي) দ্বারা মনসূব (منصوب) হওয়া মুজারে ফেল (فعل مضارع), আর এর নসবের আলামত হলো নূন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون)। আর ওয়াও (واو) হলো সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে মাবনী (مبني) ফায়িল (فاعل), যা রাফা (رفع)-এর স্থলাভিষিক্ত। আর কখনো কখনো এটি উহ্য (تقديرا) হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তার চক্ষু জুড়ায় (كي تقر عينها)}; যখন কায় (كي)-এর পূর্বে লাম (لام) উহ্য ধরা হয়। এমতাবস্থায় এর বিশ্লেষণ হলো: কায় (كي) হলো মাসদারী (مصدرية) ও নসব দানকারী (نصب) হরফ, আর ‘তাক্বররা’ (تقر) হলো কায় (كي) দ্বারা মনসূব (منصوب) হওয়া মুজারে ফেল (فعل مضارع) যার শেষে প্রকাশ্য ফাতহা (فتحة ظاهرة) রয়েছে। ‘আইনুহা’ (عينها) হলো ফায়িল (فاعل)। তখন একে মাসদারী (مصدرية) বলা হয় কারণ এটি তার পরবর্তী শব্দের সাথে মিলে একটি মাসদারের (مصدر) অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ: ‘তোমাদের আক্ষেপ না করার জন্য’ (لعدم إساءتكم) এবং ‘তার চক্ষু জুড়ানোর জন্য’ (لقرة عينها)। যদি এর পূর্বে শাব্দিকভাবে কিংবা উহ্যভাবে লাম (লাম) না থাকে—যা গ্রন্থকারের ‘বিলোপ’ (حذف) কথাটির উদ্দেশ্য—তবে এটি লাম (لام)-এর অর্থবোধক তায়লীল বা কারণবাচক (تعليل) হরফ হবে। এমতাবস্থায় এটি কায় (كي)-এর পরে ওয়াজিবভাবে (وجوبا) উহ্য থাকা ‘আন’ (أن مضمرة)-এর মাধ্যমে পরবর্তী ফেলকে নসব প্রদান করবে। যেমন: ‘আমি ইলম পড়ার জন্য এসেছি’ (جئت كي أقرأ العلم)। এর বিশ্লেষণ হলো: ‘জিউতু’ (جئت) হলো ফেল (فعل) ও ফায়িল (فاعل), কায় (كي) হলো তায়লীল (تعليل) ও জরের (جر) হরফ, এবং ‘আকরাআ’ (أقرأ) হলো কায় (كي)-এর পরে ওয়াজিবভাবে (وجوبا) উহ্য থাকা ‘আন’ (أن مضمرة)-এর কারণে মনসূব (منصوب) হওয়া মুজারে ফেল (فعل مضارع)। যেমন: ‘আমি ইলম পড়ার জন্য এসেছি’ (جئت كي أقرأ العلم)। এর বিশ্লেষণ হলো: ‘জিউতু’ (جئت) হলো ফেল (فعل) ও ফায়িল (فاعل), কায় (كي) হলো তায়লীল (تعليل) ও জরের (جر) হরফ, আর ‘আকরাআ’ (أقرأ) হলো কায় (كي)-এর পরে ওয়াজিবভাবে (وجوبا) উহ্য থাকা ‘আন’ (أن مضمرة)-এর কারণে মনসূব (منصوب) হওয়া মুজারে ফেল (فعل مضارع)। আর তাঁর উক্তি "ইযন" (وإذن): অর্থাৎ নসব দানকারীগুলোর (النواصب) মধ্যে একটি হলো ইযন (إذن)। এটি উত্তর প্রদানকারী (جواب) ও প্রতিদানমূলক (جزاء) হরফ। এর মাধ্যমে নসব প্রদানের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে:
প্রথম: এটি উত্তরের শুরুতে থাকতে হবে, যেমন তিনি বলেছেন: "যদি শুরুতে আসে (إن صدرت)"
দ্বিতীয়: এর পরবর্তী ফেলটি ভবিষ্যৎকালবোধক (مستقبلا) হতে হবে, যেমন তিনি বলেছেন: "এবং এর দ্বারা ভবিষ্যৎকালকে নসব দাও (وانصب بها المستقبلا)"
তৃতীয়: এটি এবং ফেলের মাঝে শপথ (قسم) ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবধানকারী (فاصل) না থাকা, যেমন তিনি বলেছেন: "সংযুক্ত অবস্থায় অথবা শপথ দ্বারা বিচ্ছিন্ন (فصلا) হলে"। আর যেমন শপথ দ্বারা এটি এবং এর মামুল (معمول)-এর মাঝে বিচ্ছিন্ন করা জায়েজ, তেমনি আহ্বান (النداء) এবং না-বোধক (النفي) অব্যয় দ্বারাও বিচ্ছিন্ন করা জায়েজ। কেউ কেউ বলেছেন:
ইযন (إذن) আমল (عمل) করবে যখন তা তোমার নিকট শুরুতে আসবে
…এবং তার পরে ভবিষ্যৎকালবোধক (مستقبلا) ফেল নিয়ে আসবে।
সাবধান থেকো এটি আমল করানোর সময় যেন বিচ্ছিন্ন (تفصلا) না করো
…শপথ, আহ্বান কিংবা 'লা' (لا) ব্যতীত।
আর জরফ (ظرف) বা মাজরুর (مجرور) দ্বারা বিচ্ছিন্ন করো
…শ্রেষ্ঠজনদের প্রধান ইবনে আসফুরের মতানুসারে।
আহ্বান (النداء) দ্বারা বিচ্ছিন্ন করার উদাহরণ: ‘তবে হে যায়েদ, আমি তোমাকে সম্মান করব’ (إذن يا زيد أكرمك)। আর শপথের (القسم) উদাহরণ: ‘তবে আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে সম্মান করব’ (إذن والله أكرمك)।
(খণ্ড: ১)
আত-তুহফাতুল ওয়াসীমাহ শারহুন আলাদ দুররাতিল ইয়াতীমাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والنفي أذن لا أكرمك "وافصل بأن" نحو يعجبني أن تقوم والإعراب يعجبني فعل مضارع أن حرف نصب ومصدر تقوم فعل مضارع منصوب بأن "ما لم تلي علما" وتنصب بشرط أن لا يقع بعدها فعل علم لأنها إذ ذاك تكون مخففة من الثقيلة ومثاله قوله تعالى: {أفلا يرون ألا يرجع إليهم قولهم} أفلا: الهمزة للاستفهام والفاء عاطفة ولا نافية يرون فعل مضارع مرفوع بثبوت النون وأن مخففة واسمها محذوف تقدره أنه ولا نافية يرجع فعل مضارع في محل رفع خبر أن المخففة من الثقيلة وقوله "وجهان" أي الرفع والنصب بعد الظن ومنه قوله تعالى: {وحسبوا أن تكون فتنة} بالنصب والرفع أما النصب فعلى أنها ناصبة وبالرفع على أنها مخففة من الثقيلة قال ابن مالك:
وبلن انصبه وكي كذابان
…لا بعد علم والتي من بعد ظن
فانصب بها والرفع صحح واعتقه
…تخفيفها من أن فهو مطرد
"وبعد لام الجر" وتسمى لام كي لأنها مثل لام كي "كارتقى لينظرا" أي لكي ينظر فاللام لام كي لينظر فعل مضارع منصوب بأن مضمرة جوازا بعد لام كي "كبعد عاطف على اسم خالص" يعني أن الفعل المضارع إذا عطف على اسم خالص انتصب بأن ويجوز حينئذ إظهارها وإضمارها وفهم من قوله خالص أنه إذا عطف على اسم غير خالص كاسم الفاعل والمفعول لم ينتصب نحو الطائر فيغضب زيد الذباب وشبيه الخالص الاسم الصريح كقولك لولا زيد ويحسن إلى بالنصب لهلكت ويجوز إظهار أن فتقول لولا زيد وأن يحسن إلي لهلكت والمصدر كقوله:
এবং নেতিবাচকতা যেমন: 'কাজেই (أذن) আমি তোমাকে সম্মানিত করব না'। 'এবং আন দ্বারা পৃথক করো' যেমন: 'তোমার দাঁড়ানো আমাকে আনন্দিত করে'। এর বাক্য বিশ্লেষণ হলো: 'আমাকে আনন্দিত করে' হলো বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع), 'আন' হলো নসবদানকারী ও মাসদার গঠনকারী হরফ (حرف نصب ومصدر), 'দাঁড়ানো' হলো 'আন' দ্বারা নসবযুক্ত বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع منصوب)। "যতক্ষণ না এটি নিশ্চিত জ্ঞানবাচক শব্দের অনুগামী হয়"। এটি নসব প্রদান করার শর্ত হলো যে এর পরে নিশ্চিত জ্ঞানবাচক (علم) ক্রিয়া থাকবে না। কারণ তখন এটি লঘু হওয়া ভারী হরফ (مخففة من الثقيلة) হিসেবে গণ্য হবে। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তারা কি তবে দেখছে না যে, এটি তাদের কোনো কথার উত্তর দিচ্ছে না?" 'আ-ফা-লা': এখানে হামযা প্রশ্নবোধক (للاستفهام), 'ফা' অব্যয় (عاطفة) এবং 'লা' না-বোধক (نافية)। 'তারা দেখছে' এটি নুন অক্ষরের স্থায়িত্বের মাধ্যমে মারফু বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع مرفوع بثبوت النون)। আর 'আন' হলো লঘু হওয়া (مخففة) হরফ এবং এর বিশেষ্যটি উহ্য রয়েছে যা হবে 'আন্নাহু' (أنه)। 'লা' হলো না-বোধক (نافية)। 'ফিরে আসা' বর্তমানকালীন ক্রিয়াটি লঘু হওয়া ভারী হরফের সংবাদ (خبر أن المخففة من الثقيلة) হওয়ার কারণে রাফা-এর স্থলে (في محل رفع) রয়েছে। এবং তাঁর বক্তব্য "দুইটি পদ্ধতি" (وجهان) অর্থাৎ সন্দেহ বা ধারণা (الظن) বুঝায় এমন শব্দের পরে রাফা (الرفع) ও নসব (النصب) উভয়ই বৈধ। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তারা ধারণা করেছিল যে কোনো ফিতনা সৃষ্টি হবে না"। এখানে নসব ও রাফা উভয় পাঠ রয়েছে। নসবের ক্ষেত্রে এটি নসবদানকারী (ناصبة) হিসেবে গণ্য এবং রাফার ক্ষেত্রে এটি লঘু হওয়া ভারী হরফ (مخففة من الثقيلة) হিসেবে গণ্য। ইবনে মালিক বলেন:
এবং 'লান' এর মাধ্যমে নসব প্রদান করো, 'কাই' এর মাধ্যমেও এবং তেমনিভাবে 'আন' এর মাধ্যমেও। তবে নিশ্চিত জ্ঞানের (علم) পরের ক্ষেত্রে নয়। আর যা ধারণার (ظن) পরে আসবে—
…তবে তার মাধ্যমে নসব দাও এবং রাফা করাকেও সঠিক গণ্য করো। সেটিকে 'আন্না' এর লঘু রূপ (تخفيفها من أن) হিসেবে বিশ্বাস করো, যা একটি নিয়মিত বিষয়।
"এবং যের দানকারী লাম (لام الجر) এর পরে"। একে 'লামে কাই' বলা হয় কারণ এটি 'কাই' এর মতো অর্থ প্রদান করে। যেমন: "সে উপরে আরোহণ করল যেন সে দেখতে পায়"। অর্থাৎ যাতে দেখতে পায়। এখানে 'লাম' টি হলো 'লামে কাই'। 'যাতে দেখে' বর্তমানকালীন ক্রিয়াটি 'লামে কাই' এর পরে উহ্য থাকা জায়েয (مضمرة جوازا) এমন 'আন' দ্বারা নসবযুক্ত বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع منصوب)। "যেমন বিশুদ্ধ বিশেষ্যের (اسم خالص) ওপর সংশ্লিষ্ট অব্যয়ের পরে"। এর অর্থ হলো বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যদি কোনো বিশুদ্ধ বিশেষ্যের (اسم خالص) সাথে যুক্ত হয়, তবে তা 'আন' দ্বারা নসব প্রাপ্ত হয়। তখন 'আন' প্রকাশ করা বা উহ্য রাখা উভয়ই জায়েয। তাঁর 'বিশুদ্ধ' শব্দটি থেকে বোঝা যায় যে, যদি এটি অবিশুদ্ধ বিশেষ্য যেমন কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) বা কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) এর সাথে যুক্ত হয়, তবে তা নসব প্রাপ্ত হবে না। যেমন: 'পাখিটি উড়ে গেল ফলে যায়দ মাছিদের ওপর রাগ করল'। বিশুদ্ধ বিশেষ্যের সদৃশ হলো স্পষ্ট বিশেষ্য (الاسم الصريح), যেমন তোমার কথা: "যদি যায়দ না থাকত এবং সে আমার প্রতি অনুগ্রহ (بالنصب) না করত, তবে আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম"। এখানে 'আন' প্রকাশ করাও জায়েয, তাই তুমি বলতে পারো: "যদি যায়দ না থাকত এবং সে আমার প্রতি অনুগ্রহ করত তবে আমি ধ্বংস হতাম"। আর মাসদার (المصدر) হলো যেমন তাঁর উক্তি: