(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإسلام وأوضاعنا القانونية   (عبد القادر عودة)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: الإسلام وأوضاعنا القانونية

المؤلف: عبد القادر عودة (ت 1373هـ)

الناشر: المختار الإسلامي للطباعة والنشر والتوزيع، القاهرة

الطبعة: الخامسة، 1397 هـ - 1977 م

عدد الصفحات: 157

أعده للشاملة: توفيق بن محمد القريشي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1433

ইসলাম ও আমাদের আইনি অবস্থা   (আবদুল কাদির আউদাহ)

বিভাগ: শরয়ী রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা


বই: ইসলাম ও আমাদের আইনি অবস্থা

লেখক: আবদুল কাদির আউদাহ (মৃত্যু ১৩৭৩ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মুখতার আল-ইসলামি মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, কায়রো

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৩৯৭ হিজরি - ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৭

শামেলা’র জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الشهيد عبد القادر عودة

 

الإسلام وأوضاعنا القانونية

 

المختار الإسلامي للطباعة والنشر والتوزيع

 

- عدد الأجزاء: 1.

- عدد الصفحات: 158.

أعده للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، - غفر الله له ولوالديه -.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
শহিদ আব্দুল কাদের আওদাহ

 

ইসলাম ও আমাদের আইনি পরিস্থিতি

 

আল-মুখতার আল-ইসলামি মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ

 

- খণ্ড সংখ্যা: ১।

- পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৮।

আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / তৌফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী, - আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন -।

[গ্রন্থটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الخامسة

1397 هـ - 1977 م.
পঞ্চম সংস্করণ

১৩৯৭ হিজরি - ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

{وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104].

 

{قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

{তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।} [আল ইমরান: ১০৪]।

 

{বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা সুস্পষ্ট প্রজ্ঞা ও জাগ্রত জ্ঞানসহকারে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি; আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌من نور كتاب الله:

• {وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ} [الشعراء: 227].

 

• {وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ} [آل عمران: 169].

 

• {وَمَنْ أَرَادَ الآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا} [الإسراء: 19].

 

• {وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي القَتْلِ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا} [الإسراء: 33].

 

• {يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ، ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً، فَادْخُلِي فِي عِبَادِي، وَادْخُلِي جَنَّتِي} [الفجر: 27 - 29].

 

• {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً} [الأحزاب: 23].
আল্লাহর কিতাবের নূর থেকে:

• {আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে তারা কোন গন্তব্যস্থলে প্রত্যাবর্তন করবে} [আশ-শুআরা: ২২৭]।

 

• {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের কখনোই মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত, তাদের রবের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত} [আল ইমরান: ১৬৯]।

 

• {আর যারা পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে এমতাবস্থায় যে তারা মুমিন, তাদের প্রচেষ্টা হবে স্বীকৃত} [আল-ইসরা: ১৯]।

 

• {আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করো না; আর যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়, আমি তার অভিভাবককে প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার দিয়েছি, তবে হত্যার ক্ষেত্রে সে যেন সীমালঙ্ঘন না করে। নিশ্চয়ই সে সাহায্যপ্রাপ্ত} [আল-ইসরা: ৩৩]।

 

• {হে প্রশান্ত আত্মা! তোমার রবের নিকট ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার (নেক) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো} [আল-ফজর: ২৭ - ২৯]।

 

• {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু পুরুষ রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে; তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেনি} [আল-আহযাব: ২৩]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌دعاء

الحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله، والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسول الله.

 

اللهم إنا نعوذ بك من أن نشرك بك شَيْئًا نعلمه، ونستغفرك لما لا نعلمه.

 

أستغفر الله الذي لا إله إلا هو عالم الغيب والشهادة الرحمن الرحيم.

 

اللهم اغفر لنا ما سلف، ووفقنا إلى مرضاتك فيما يقبل.

 

اللهم إنا نستعينك ونستهديك، فأعنا بفضلك، ووفقنا بهديك الكريم إلى صراطك المستقيم، واجعلنا على بصيرة من أمور دنيانا وديننا، ولا تكلنا طرفة عين إلى أنفسنا، ولا تجعلنا فتنة للظالمين.

 

اللهم اغفر لنا ذنوبنا، وإسرافنا في أمرنا، وثبت أقدامنا، واربط على قلوبنا، وآتنا نصرك الذي وعدتنا
দোয়া

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আর আমরা হিদায়াত পেতাম না যদি আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিতেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর ওপর।

 

হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার সাথে জেনে-শুনে কোনো কিছু শরীক করা থেকে, আর আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি সেই পাপের জন্য যা আমাদের অজানা।

 

আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু।

 

হে আল্লাহ, আমাদের বিগত দিনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং ভবিষ্যতে আপনার সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফিক দান করুন।

 

হে আল্লাহ, আমরা আপনার নিকট সাহায্য ও হিদায়াত প্রার্থনা করছি; সুতরাং আপনার অনুগ্রহে আমাদের সাহায্য করুন এবং আপনার সুমহান হিদায়াতের মাধ্যমে আমাদের আপনার সহজ-সরল পথে পরিচালিত করুন। আমাদের দুনিয়া ও দ্বীনের সকল বিষয়ে আমাদের অন্তর্দৃষ্টি দান করুন এবং চোখের পলকের জন্যও আমাদের নিজেদের নফসের ওপর ছেড়ে দেবেন না, আর জালিমদের জন্য আমাদের পরীক্ষার কারণ বানাবেন না।

 

হে আল্লাহ, আমাদের গুনাহসমূহ এবং আমাদের কাজে আমাদের সীমালঙ্ঘনগুলো ক্ষমা করে দিন, আমাদের পদযুগল সুদৃঢ় করুন, আমাদের অন্তরকে শক্তিশালী করুন এবং আপনি আমাদের যে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদের প্রদান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مَعْذِرَةً إِلَى القَانُونِ:

وعليَّ بعد ذلك واجب أرجو أن أوَفَّق فيه، واجب الاعتذار إلى القانون، ومَن أوْلى مني بالاعتذار للقانون؟ ووظيفتي أن أقوم بتفسيره وتطبيقه والتمكين له وحياطته من العدوان والامتهان.

 

إني أعتذر للقانون لأهاجم القوانين. أعتذر للقانون باعتباره معنى، وأهاجم من القانون النص والمبنى.

معذرة إلى القانون إذا ما هاجمته وأنا من سدنته، أو كشفت للناس ما يخفى عليهم من حقيقته، أو فسرته تفسيرا يذهب بجلاله، ويهون على الناس من شأنه، ويغريهم بمناوأته.

 

القانون يحرم علينا الكلام

 

إن القانون يحرم على الموظفين وعلى الأخص القضاة أن يبدو رأيهم في المسائل العامة، ويعد ذلك منهم اشتغالا بالسياسة، والسياسة عند صانعي القانون هي كل ما يمس
আইনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা:

অতঃপর আমার ওপর একটি কর্তব্য রয়েছে যাতে আমি সফল হওয়ার আশা রাখি, আর তা হলো আইনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনার কর্তব্য। আইনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনার জন্য আমার চেয়ে অধিক যোগ্য আর কে হতে পারে? অথচ আমার দায়িত্বই হলো এর ব্যাখ্যা প্রদান, প্রয়োগ, একে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং আক্রমণ ও অবমাননা থেকে একে সুরক্ষা প্রদান করা।

 

আমি আইনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি প্রচলিত আইনসমূহের ওপর আক্রমণ করার জন্য। আমি আইনকে একটি ‘তাৎপর্য’ হিসেবে বিবেচনা করে ক্ষমা চাচ্ছি, আর আক্রমণ করছি আইনের শব্দবিন্যাস ও কাঠামোর ওপর।

আইনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি যদি আমি এর একজন সেবক হয়েও একে আক্রমণ করে বসি, অথবা মানুষের কাছে এর এমন কোনো বাস্তবতা উন্মোচন করি যা তাদের নিকট অস্পষ্ট ছিল, অথবা এর এমন কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করি যা এর গাম্ভীর্যকে ক্ষুণ্ণ করে, মানুষের নিকট এর মর্যাদাকে তুচ্ছ করে এবং তাদের এর বিরোধিতা করতে প্ররোচিত করে।

 

আইন আমাদের কথা বলা নিষিদ্ধ করে

 

নিশ্চয়ই আইন সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর, বিশেষ করে বিচারকদের ওপর জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রকাশ করা নিষিদ্ধ করে এবং একে তাদের রাজনীতিতে লিপ্ত হওয়া হিসেবে গণ্য করে। আর আইন প্রণেতাদের নিকট রাজনীতি হলো সেই সব বিষয় যা স্পর্শ করে...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
المسائل الاجتماعية والاقتصادية والمالية، وكل ما تعلق بتنظيم الدولة وصلتها بالأفراد والجماعات والدول، وكل ما اتصل بنظام الحكم، بل كل ما اتصل باستقلال الدول وحريتها وكرامتها.

 

إن صانعي القانون يريدون أن يجعلوا من الإنسان آلة، يريدون من القاضي أن يغمض عينيه فلا ينظر، وأن يصم أذنيه فلا يسمع، وأن يمسك لسانه فلا يتكلم، وأن يتجرد من إنسانيته فلا يحس ولا يشعر ولا يفكر.

 

كيف يتجرد القاضي؟

 

وهل يستطيع القاضي أن يتجرد من الإحساس والشعور، ويتخلص من نعمة العقل والتفكير، وهو يعيش في وسط مشاكل الحكم والإدارة، وبين نضال الأحزاب والجماعات، وفي دوامة الاجتماع والسياسة، تطالعه في كل يوم مناظر الكادحين المحرومين، وتملأ سمعه أنات العاملين المظلومين، وتعرض عليه في كل صباح ألوان وضروب من الرِّق الاجتماعي، والإجحاف السياسي، والاستغلال المحرم!

 

القاضي لا يتجرد في أمة محتلة

 

وهل يستطيع القاضي أن يتجرد كما يشاء القانون في أمة محتلة، وُلد شيوخها وشبابها في ظل احتلال أجنبي لا يزال جاثمًا على صدرها، يحتل أرضها، ويسيطر على أرزاقها، وينهب أقواتها، ويضغط حريتها، ويتدخل في سياستها،
সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয়াবলি এবং রাষ্ট্রের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে এর সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু, বরং শাসন ব্যবস্থার সাথে জড়িত প্রতিটি বিষয়, এমনকি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, মুক্তি ও মর্যাদার সাথে সম্পৃক্ত সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত।

 

নিশ্চয়ই আইন প্রণেতারা মানুষকে একটি যন্ত্রে পরিণত করতে চান; তারা বিচারকের নিকট থেকে প্রত্যাশা করেন যে, তিনি যেন তাঁর চক্ষুদ্বয় বন্ধ রাখেন যাতে তিনি দেখতে না পান, কর্ণদ্বয় রুদ্ধ রাখেন যাতে তিনি শুনতে না পান, স্বীয় জিহ্বাকে সংবরণ করেন যাতে তিনি কথা বলতে না পারেন এবং স্বীয় মানবিকতা থেকে এমনভাবে বিমুক্ত হন যেন তিনি কিছুই অনুভব না করেন, উপলব্ধি না করেন এবং চিন্তা না করেন।

 

বিচারক কীভাবে বিমুক্ত হতে পারেন?

 

বিচারক কি সংবেদনশীলতা ও অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারেন? তিনি কি বিবেক ও চিন্তাশক্তির নেয়ামত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেন, যখন তিনি শাসন ও প্রশাসনের সমস্যার আবর্তে, রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীসমূহের সংগ্রামের মাঝে এবং সামাজিক ও রাজনীতির ঘূর্ণিপাকে বসবাস করেন? প্রতিদিন তাঁর চোখের সামনে বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষের করুণ দৃশ্য ভেসে ওঠে, তাঁর কর্ণকুহরে মজলুম কর্মীদের আর্তনাদ প্রতিধ্বনিত হয় এবং প্রতি সকালে তাঁর সামনে উন্মোচিত হয় সামাজিক দাসত্ব, রাজনৈতিক অবিচার ও অবৈধ শোষণের নানাবিধ রূপ!

 

অধিকৃত জাতির প্রেক্ষাপটে বিচারক বিমুক্ত হতে পারেন না

 

একটি অধিকৃত জাতির ক্ষেত্রে বিচারক কি আইনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নির্লিপ্ত হতে পারেন? যেখানে সেই জাতির বৃদ্ধ ও যুবকগণ এমন এক বিদেশি দখলদারিত্বের ছায়ায় জন্মগ্রহণ করেছে যা আজও তাদের বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে, তাদের ভূমি দখল করে রেখেছে, তাদের জীবিকা নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করছে, তাদের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে এবং তাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ويستعين على أبنائها الأحرار الأبرار بإخوان لهم باعوا نفوسهم للشيطان، وفتنهم عن دينهم ووطنهم الحكم والسلطان؟!

 

هل يستطيع القاضي أن يتجرد في أمة أذلها الاحتلال، وأرهقتها الأغلال، وأفقرها المحتلون في مالها وأخلاقها، وبثوا الفساد في ربوعها، وأغروا العداوة والبغضاء بين أبنائها، وجعلوهم أحزابا متعددة كل حزب بما لديهم فرحون، تحسب كل حزب جَمِيعًا وقلوبهم شتى، بأسهم بينهم شديد، بدأوا حياتهم مجاهدين يكافحون الاحتلال، ويطالبون بالاستقلال التام أو الموت الزؤام، فلما ألقى إليهم المحتلون بكراسي الحكم ومغانمه تحلق هؤلاء المكافحون الأفذاذ حولها، وسالموا المحتلين على كل شيء غيرها، وانقلبوا بفضل هذه الكراسي أعداء يكافح بعضهم بعضا، ويأخذ بعضهم برقاب بعض، يسفكون دماءهم، وينهشون أعراضهم، ويقطعون أرحامهم.

 

القاضي لا يتجرد في أمة كلها فوضى

 

هل يستطيع القاضي أن يتجرد في بلد يسمح فيه بتعذيب المتهمين أشد العذاب ليعترفوا بما فعلوه أو بما لم يفعلوه، فتخلع أظافرهم، ويضربون مرة بعد مرة حتى يغمى عليهم، وتكوى أجسامهم بالنار، وتوشى بآثار السياط، ويمنع عنهم الدواء والطعام والماء، وتهتك أعراضهم فيوضع الحديد والخشب في أدبارهم، ويهَدَّدون بأن يفعل مثل هذا في أمهاتهم وزوجاتهم وبناتهم، ويحتل الجنود بيوتهم أياما وأسابيع
এবং সে কি তার স্বাধীন ও পুণ্যবান সন্তানদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদেরই এমন কিছু ভাইদের সাহায্য নেবে যারা শয়তানের কাছে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছে এবং শাসনক্ষমতা ও কর্তৃত্ব তাদের দ্বীন ও স্বদেশ থেকে বিচ্যুত করেছে?!

 

একজন বিচারক কি এমন এক জাতির মধ্যে নিরপেক্ষ হতে পারেন যাকে দখলদারিত্ব লাঞ্ছিত করেছে, শৃঙ্খল যাকে ক্লান্ত করেছে, এবং দখলদাররা যাদের সম্পদ ও নৈতিকতায় দরিদ্র করে ফেলেছে? তারা সর্বত্র ফাসাদ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা উসকে দিয়েছে। তারা তাদের বহু দলে বিভক্ত করেছে, যেখানে প্রতিটি দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত; আপনি প্রতিটি দলকে ঐক্যবদ্ধ মনে করবেন অথচ তাদের অন্তরগুলো ভিন্ন ভিন্ন, তাদের পারস্পরিক লড়াই অত্যন্ত তীব্র। তারা তাদের জীবন শুরু করেছিল মুজাহিদ হিসেবে যারা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিল এবং পূর্ণ স্বাধীনতা অথবা নিশ্চিত মৃত্যু দাবি করছিল। কিন্তু দখলদাররা যখন তাদের দিকে ক্ষমতার মসনদ ও তার সুযোগ-সুবিধা ছুড়ে দিল, তখন এই অনন্যসংগ্রামীরা সেটিকে ঘিরে জড়ো হলো এবং সেই ক্ষমতার গদি ছাড়া অন্য সব বিষয়ে দখলদারদের সাথে আপস করল। এই গদির মোহে তারা একে অপরের শত্রুতে পরিণত হলো, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে, একে অপরের টুঁটি চেপে ধরছে, রক্তপাত ঘটাচ্ছে, একে অপরের সম্মানহানি করছে এবং রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছে।

 

বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত জাতির মধ্যে বিচারক নিরপেক্ষ হতে পারেন না

 

একজন বিচারক কি এমন এক দেশে নিরপেক্ষ হতে পারেন যেখানে অভিযুক্তদের চরম নির্যাতন করার অনুমতি দেওয়া হয় যাতে তারা যা করেছে বা যা করেনি তা স্বীকার করে নেয়? ফলে তাদের নখ উপড়ে ফেলা হয়, বারবার প্রহার করা হয় যতক্ষণ না তারা জ্ঞান হারায়, তাদের শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়, চাবুকের আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়, তাদের ঔষধ, খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাদের সম্ভ্রম হানি করা হয়, তাদের মলদ্বারে লোহা ও কাঠ ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের এই বলে হুমকি দেওয়া হয় যে তাদের মা, স্ত্রী ও কন্যাদের সাথেও এমনটি করা হবে; আর যেখানে সৈন্যরা দিনের পর দিন এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ তাদের বাড়ি দখল করে রাখে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وليس فيها إلا النساء، ثم يبلغ هذا كله أو بعضه للقائمين على القانون فلا يفعلون شَيْئًا، ثم تثار هذه الاتهامات أمام المحاكم ويرددها أكثر من متهم، وتؤيدها الأوراق الرسمية والكشوف الطبية فلا تحاول النيابة العامة أن تحقق في هذه الاتهامات الفظيعة لتحمي على الأقل سُمعة القانون وسمعة القائمين عليه.

 

هل يستطيع القاضي أن يتجرد في بلد يعلم كل من فيه أنهم يعيشون في فوضى، وأن الحق للأقوى، وأن القانون المسكين إنما هو أداة لجر المغانم والترخيص بالمظالم، وأن وظائف الدولة وخيراتها مقصورة على الأنصار والمحسوبين والمنسوبين، وأن النفاق هو وسيلة النجاح في الحياة، وأن التحلل من الأخلاق والإباحية هو أول ما يقرب إلى ذوي النفوذ والجاه؟

 

هل يستطيع القاضي أن يتجرد في بلد يعيش في عهد الإقطاع، تقوم الحياة فيه على استغلال الأقوياء القاعدين للضعفاء العاملين، فالضعيف يشقى لينال اللقمة الجافة، ويكدح ليحصل على اللباس الخشن، بينما يتحول كدح الضعيف وشقاؤه ذهبا نضارا يصب في جيوب القاعدين المترفين، فيستحلونه لأنفسهم ويحبسونه عمن هو أحق به منهم، فإذا شكا الضعيف الكادح هذا الوضع، استُعينَ عليه بالحاجة طورا، واستُعينَ عليه بالقانون طورًا آخر، حتى برم الضعيف بضعفه وبالقانون، وبدأ يتمرد على الوضع الذي هو فيه وعلى القانون الذي يحميه.
এবং এতে মহিলারা ছাড়া আর কেউ নেই। অতঃপর এর সবটুকু বা কিয়দাংশ আইন প্রয়োগকারীদের নিকট পৌঁছালেও তারা কিছুই করেন না। এরপর আদালতের সম্মুখে এসব অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং একাধিক অভিযুক্ত ব্যক্তি এর পুনরাবৃত্তি করেন। এমনকি দাপ্তরিক নথিপত্র এবং চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনগুলোও এর সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে। তাসত্ত্বেও পাবলিক প্রসিকিউশন এই ভয়াবহ অভিযোগগুলো তদন্ত করার কোনো প্রচেষ্টা চালায় না, যাতে অন্তত আইনের সম্মান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি রক্ষা পায়।

 

কোনো বিচারক কি এমন এক দেশে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে পারেন, যেখানে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষ জানে যে তারা চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে বাস করছে? যেখানে অধিকার কেবল শক্তিশালীর কুক্ষিগত, এবং এই অভাগা আইন কেবল বৈষয়িক সুবিধা লাভের উপায় ও জুলুম-নিপীড়নের বৈধতা প্রদানের হাতিয়ার মাত্র। যেখানে রাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও সম্পদ কেবল অনুসারী এবং অনুগ্রহভাজনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেখানে কপটতাই হলো জীবনে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি এবং নৈতিক স্খলন ও স্বেচ্ছাচারিতাই হলো প্রভাবশালীদের নৈকট্য লাভের প্রথম উপায়।

 

কোনো বিচারক কি এমন এক দেশে নিরপেক্ষ থাকতে পারেন যা আজও সামন্তবাদী ব্যবস্থায় নিমজ্জিত? যেখানে অলস শক্তিশালীরা কর্মঠ দুর্বলদের শোষণের ওপর ভিত্তি করে জীবন অতিবাহিত করে। সেখানে একজন দুর্বল ব্যক্তি সামান্য শুষ্ক খাবারের জন্য কায়ক্লেশ করে এবং সাধারণ বস্ত্রের জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি দেয়, অথচ সেই মেহনতি মানুষের পরিশ্রম ও দুঃখ উজ্জ্বল স্বর্ণে রূপান্তরিত হয়ে বিলাসী ও কর্মহীনদের পকেটে জমা হয়। তারা একে নিজেদের জন্য বৈধ জ্ঞান করে এবং যারা এর প্রকৃত হকদার, তাদের তা থেকে বঞ্চিত রাখে। অতঃপর যখন সেই পরিশ্রান্ত দুর্বল ব্যক্তি এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, তখন কখনো তার অভাব-অনটনকে তার বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আবার কখনো আইনকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়। এভাবে সেই দুর্বল ব্যক্তি একসময় নিজের দুর্বলতা এবং আইনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সে নিজের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও তাকে নিয়ন্ত্রণকারী সেই আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে শুরু করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
القاضي لا يتجرد في أمة تنحرف عن الدين والخُلُق:

 

هل يستطيع القاضي أن يتجرد في بلد إسلامي ينص دستوره على أن دين الدولة الرسمي هو الإسلام بينما يتنكر حكامه وحكوماته للإسلام، ويتنمرون لكل من يخدم الإسلام، ويطاردون من يتعاونون على البر والتقوى، ويحمون من يتعاونون على الإثم والعدوان؟

 

هل يستطيع القاضي أن يتجرد في بلد ينسلخ من الأخلاق وينحرف عن الفضائل، وينكر البر والتراحم، وينأى عن مُثُلِه العليا تشبها بسادته وكبرائه واقتداءً بمترفيه؟

 

متى يستطيع القاضي أن يتجرد؟

 

إن القاضي قد يستطيع أن يتجرد في أمة تحترم شرائعها، وتنفذ نصوص قوانينها، ويتواصى بالحق والعدل أفرادها، أما في أمة لا منطق لها، تتدين ولا تحترم دينها، وتقنن ولا تنفذ قوانينها، وتعلن أن شعارها الحق والعدل والحرية وما ذلك من شعارها، أما في أمة لا يتواصى أفرادها بالحق، ولا يدعون إلى الخير ولا يأمرون بمعروف ولا يتناهون عن منكر، أما في أمة هذا شأنها فإن القاضي لا يمكنه أن يتجرد ولو حرص على التجرد، لسبب واحد بسيط هو أنه لا يستطيع.

 

فليغضب من شاء:

 

إن أناسا ستحمر أنوفهم عندما يقرؤون هذا الكلام غضبا
দ্বীন ও নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত কোনো জাতির মাঝে বিচারক নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না:

 

একজন বিচারক কি এমন কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে নিরপেক্ষ (تجرد) থাকতে পারেন, যার সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম স্বীকৃত, অথচ সে দেশের শাসক ও সরকারসমূহ ইসলামকে উপেক্ষা করে, ইসলামের সেবকদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করে, যারা পুণ্য ও তাকওয়া (البر والتقوى) অর্জনে পরস্পরকে সহযোগিতা করে তাদের হেনস্তা করে, আর যারা পাপ ও সীমালঙ্ঘন (الإثم والعدوان) করতে একে অপরকে সহায়তা করে তাদের সুরক্ষা প্রদান করে?

 

একজন বিচারক কি এমন এক দেশে নিরপেক্ষ (تجرد) থাকতে পারেন, যেটি নৈতিকতা বিসর্জন দেয় এবং সচ্চরিত্রতা থেকে বিচ্যুত হয়, পুণ্য ও দয়াকে অস্বীকার করে এবং নিজের শাসক ও প্রভাবশালীদের অন্ধ অনুকরণে ও বিলাসীদের পদাঙ্ক অনুসরণে নিজের উচ্চতর আদর্শ থেকে দূরে সরে যায়?

 

বিচারক কখন নিরপেক্ষ (تجرد) থাকতে সক্ষম হন?

 

একজন বিচারক কেবল তখনই নিরপেক্ষ (تجرد) থাকতে পারেন, যখন কোনো জাতি তার শরিয়তসমূহকে শ্রদ্ধা করে, আইনের ধারাগুলো বাস্তবায়ন করে এবং যার সদস্যরা পরস্পরকে সত্য ও ন্যায়ের উপদেশ দেয়। কিন্তু এমন একটি জাতি যাদের কোনো যুক্তি-তর্ক নেই, যারা ধার্মিকতা প্রকাশ করলেও নিজের ধর্মকে শ্রদ্ধা করে না, আইন প্রণয়ন করলেও তা কার্যকর করে না, এবং ঘোষণা করে যে তাদের মূলমন্ত্র হলো সত্য, ন্যায় ও স্বাধীনতা—অথচ বাস্তবে তা তাদের নীতি নয়; যে জাতির সদস্যরা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় না, কল্যাণের দিকে আহ্বান করে না এবং সৎ কাজের আদেশ (معروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (منكر) করে না—এমন জাতির ক্ষেত্রে একজন বিচারক নিরপেক্ষ (تجرد) হওয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছা পোষণ করলেও তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এর একটি সাধারণ ও সহজ কারণ হলো, তিনি তা করার সক্ষমতাই রাখেন না।

 

যার ইচ্ছা সে রাগান্বিত হোক:

 

নিশ্চয়ই কিছু মানুষ এই কথাগুলো পড়ার পর রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وحِمية لأصنام العصر الحاضر، وما الأصنام إلا هذه القوانين التي هم عليها عاكفون، هذه القوانين التي يطيعها المسلمون فيما يغضب الله، وتُحرِّم بها الحكومات الإسلامية ما أحل الله، وتُحِل بها ما حرم الله.

 

إنهم سيغضبون لأن كاهنا من كهنة هذه الأصنام قد عقها وكفر بها، وسيعجبون كيف أن قاضيا من خدام القانون يهاجم القانون ويكفر بالقانون، وسيتنادون من كل مكان أن خذوا على يد هذا الرجل قبل أن يحطم أصنامكم ويهدم نظامكم، ولكن هيهات. إنها ليست فكرة فرد ولكنه وعي أمة، إنه ليس نداء اللسان ولكنه نداء الإيمان، إنه الكفاح في سبيل الإسلام، إنه جهاد .. جهاد نتقرب به إلى الله.
বর্তমান যুগের মূর্তিগুলোর সংরক্ষণার্থে; আর এই মূর্তিগুলো তো সেই সকল আইন বৈ অন্য কিছু নয় যার ওপর তারা অবিচল হয়ে আছে। এই সেই আইন, যা মুসলমানরা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কাজে পালন করছে; যার মাধ্যমে ইসলামি সরকারগুলো আল্লাহর হালালকৃত বিষয়কে হারাম এবং হারামকৃত বিষয়কে হালাল সাব্যস্ত করছে।

 

তারা ক্রুদ্ধ হবে, কেননা এই মূর্তিগুলোরই জনৈক পুরোহিত আজ এদের অবাধ্য হয়েছে এবং এদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বিস্মিত হবে যে, আইনের সেবকদের মধ্য থেকে একজন বিচারক কীভাবে আইনের ওপর আক্রমণ করেন এবং আইনকে অস্বীকার করেন। তারা চারদিক থেকে একে অপরকে ডাক দিয়ে বলবে—'তোমরা এই লোকটির হাত রুখে দাও, সে তোমাদের এই মূর্তিগুলোকে চূর্ণবিচূর্ণ করার এবং তোমাদের শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করার আগেই'। কিন্তু তা অসম্ভব! এটি কোনো একক ব্যক্তির নিছক চিন্তা নয়, বরং এটি একটি উম্মাহর সচেতনতা; এটি কেবল জিহ্বার ডাক নয়, বরং এটি ঈমানের আহ্বান। এটি ইসলামের পথে সংগ্রাম; এটি জিহাদ... এমন এক জিহাদ যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করি।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌أَنَا قَاضٍ وَلَكِنِّي مُسْلِمٌ:

ولو كنت قاضيًا غير مسلم لسبَّح لساني بحمد القانون كما يفعل الغربيون، ولو كنت قاضيا مسلما يجهل الإسلام لقلدت الأوروبيين وأظهرت الإيمان بالقانون، ولكني قاضٍ مسلم تهيأ له بفضل الله أن يعرف من الإسلام ما لا يعرفه قضاة كثيرون، وعلم من مخالفة القوانين الوضعية للإسلام ما لا يعلمه إلا القليلون.

 

تجرد القاضي المسلم كُفر:

 

إن القاضي المسلم يستطيع أن يتجرد كما يوجب عليه القانون في كل ما يمس المصالح الفردية، وكل ما يتصل بالمناورات الحزبية، أما ما يمس الإسلام ونظمه في التشريع والاجتماع والحكم، وما يمس العدالة الاجتماعية والقضائية، وما يمس الحقوق والواجبات، وما يمس الأخلاق والفضائل والمُثُل الإنسانية، وما يمس أمن الدولة في حاضرها ومستقبلها، أما هذا كله فلا يستطيع القاضي المسلم أن يتجرد فيه إلا إذا
আমি একজন বিচারক, তবে আমি একজন মুসলিম:

আমি যদি একজন অমুসলিম বিচারক হতাম, তবে পশ্চিমাদের মতো আমার জিহ্বাও আইনের গুণগানে পঞ্চমুখ হতো। আর আমি যদি এমন একজন মুসলিম বিচারক হতাম যে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ, তবে আমি ইউরোপীয়দের অন্ধভাবে অনুকরণ করতাম এবং আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতাম। কিন্তু আমি এমন একজন মুসলিম বিচারক, যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে ইসলাম সম্পর্কে এমন জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দান করেছেন যা অনেক বিচারকই জানেন না; এবং ইসলামের সাথে মানবরচিত আইনের যে বৈপরীত্য রয়েছে, সে সম্পর্কেও এমন জ্ঞান দান করেছেন যা খুব অল্প সংখ্যক লোকই অবগত আছেন।

 

মুসলিম বিচারকের নিরপেক্ষতা (আদর্শ বিসর্জন দেওয়া) হলো কুফর (كفر):

 

নিশ্চয়ই একজন মুসলিম বিচারক ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে এবং দলীয় রাজনৈতিক কৌশলের সাথে সম্পৃক্ত সবকিছুতে আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে পারেন। কিন্তু যা কিছু ইসলাম এবং তার আইন প্রণয়ন, সমাজ ব্যবস্থা ও শাসন পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট; যা সামাজিক ও বিচারিক ন্যায়বিচারের সাথে সংশ্লিষ্ট; যা অধিকার ও কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট; যা নৈতিকতা, সচ্চরিত্র ও মানবিক আদর্শের সাথে সংশ্লিষ্ট; এবং যা রাষ্ট্রের বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট—এই সবকিছুর ক্ষেত্রে একজন মুসলিম বিচারক ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে পারেন না যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
كفر بالإسلام، وإلا إذا كان حيوانا يفكر كما يفكر الحيوان، ويأكل كما تأكل الأنعام.

 

إن الدستور الأساسي للمسلم هو الشريعة الإسلامية، فكل قانون وضعي جاء متفقا مع نصوصها أو مسايرًا لمبادئها العامة أو روحها التشريعية فهو على العين والرأس يطيعه المسلم بأمر الله، وكل قانون جاء على خلاف ذلك فهو في الرغام وتحت الأقدام، ولا كرامة لما يخالف الإسلام، ولا طاعة لمخلوق في معصية الله.

 

وأي مسلم يأتي ما يعلم أنه مخالف للإسلام فهو فاسق، فإن أتاه مستحِلا إتيانه فهو مرتد عن الإسلام كافر بالله، ولا شك أن كل مسلم يكره لنفسه أن يتصف بإحدى هاتين الصفتين فيما بينه وبين الله، وفيما بينه وبين الناس.

 

لا طاعة على مسلم في معصية الله:

 

والإسلام يوجب على المسلم أن يطيع الله ورسوله أولاً، وأن يطيع أُولِي الأَمْرِ ثَانِيًا، ولكن الإسلام يوجب على المسلم أن لا يطيع أحدًا في معصية الله فطاعة أولي الأمر لا تجب فيما يُخْرِجُ المسلم عن طاعة الله، وذلك قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: 59].

 

فهذا النص يعطي الحكام حق الأمر، ويرتب على الأفراد
ইসলামের প্রতি কুফরি করল, নতুবা সে যদি এমন কোনো পশু হয় যা পশুর মতোই চিন্তা করে এবং গবাদি পশুর মতোই আহার করে।

 

নিশ্চয়ই মুসলিমের মূল সংবিধান হলো ইসলামি শরিয়াহ। সুতরাং যে কোনো মানবঘটিত আইন যা এর সুস্পষ্ট বিধানসমূহের (نصوص) সাথে সংগতিপূর্ণ হয় অথবা এর সাধারণ নীতিমালা ও আইনি চেতনার অনুগামী হয়, তা শিরোধার্য এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে মুসলিম তা মেনে চলবে। আর যে আইন এর বিপরীত হবে, তা ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার যোগ্য ও পদতলে পিষ্ট হওয়ার উপযুক্ত। ইসলামের পরিপন্থী কোনো বিষয়ের কোনো সম্মান নেই এবং আল্লাহর নাফরমানি করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।

 

কোনো মুসলিম যদি এমন কোনো কাজ করে যা সে জানে যে তা ইসলামের পরিপন্থী, তবে সে পাপাচারী (فاسق)। আর যদি সে একে বৈধ মনে করে সম্পাদন করে, তবে সে ইসলাম থেকে বিচ্যুত ধর্মত্যাগী (مرتد) এবং আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী (كافر) হিসেবে গণ্য হবে। নিঃসন্দেহে প্রত্যেক মুসলিমই আল্লাহ এবং মানুষের সামনে নিজেকে এই দুটি গুণের কোনো একটির দ্বারা বিশেষায়িত হওয়াকে অপছন্দ করে।

 

আল্লাহর নাফরমানিতে কোনো মুসলিমের জন্য আনুগত্যের আবশ্যকতা নেই:

 

ইসলাম মুসলিমের ওপর সর্বপ্রথম আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করা এবং দ্বিতীয়ত উলিল আমর বা শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য করা অপরিহার্য করেছে। তবে ইসলাম মুসলিমকে এ নির্দেশও দিয়েছে যে, আল্লাহর অবাধ্য হয়ে সে যেন কারও আনুগত্য না করে। সুতরাং শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য এমন বিষয়ে ওয়াজিব নয় যা মুসলিমকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত করে। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে উলিল আমরের (নেতৃত্বদানকারী)। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটিই উত্তম এবং পরিণতির দিক দিয়ে উৎকৃষ্টতর।" [আন-নিসা: ৫৯]।

 

সুতরাং এই সুস্পষ্ট পাঠটি (نص) শাসকদের আদেশ দেওয়ার অধিকার প্রদান করে এবং ব্যক্তিদের ওপর ন্যস্ত করে...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
واجب الطاعة ولكنه يقيد الحق والواجب معًا ولا يطلقهما، فليس لآمر أن يأمر بما يخالف الإسلام، سواء كان المأمور موظفًا أو غير موظف، وذلك ظاهر من قوله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59]، ومن قول الرسول صلى الله عليه وسلم: «لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الخَالِقِ»، وقوله: «مَنْ أَمَرَكُمْ مِنَ الوُلَاّةِ بِغَيْرِ طَاعَةِ اللَّهِ فَلَا تُطِيعُوهُ».

 

على المسلم أن يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر:

 

والإسلام يوجب على المسلم أن يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر وذلك قوله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104]. وقوله: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} [آل عمران: 110]. وقوله: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} [التوبة: 71]. وقوله: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ} [الحج: 41]. وقوله: {كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} [المائدة: 79].

 

وقد جاءت أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم مبينة لهذه المعاني ومؤكدة لها، من ذلك ما روي عن أبي بكر رضي الله عنه أنه قال في خطبة خطبها: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَأُونَ هَذِهِ الآيَةِ وَتُؤَوِّلُونَ على خلاف تأويلها {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ
আনুগত্য করা অপরিহার্য (واجب), তবে এটি অধিকার ও কর্তব্য উভয়কেই সীমাবদ্ধ করে এবং সেগুলোকে নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দেয় না। সুতরাং কোনো আদেশদাতার জন্য ইসলামের পরিপন্থী কোনো বিষয়ের আদেশ করার অবকাশ নেই, চাই আদিষ্ট ব্যক্তি কোনো কর্মচারী হোক বা না হোক। এটি আল্লাহ তাআলার বাণী থেকে সুস্পষ্ট: {অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৫৯], এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে: «সৃষ্টিকর্তার নাফরমানিতে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না», এবং তাঁর এই বাণী থেকে: «শাসকদের মধ্য থেকে যে তোমাদের আল্লাহর আনুগত্য বহির্ভূত কোনো বিষয়ের নির্দেশ দেয়, তোমরা তার আনুগত্য করো না»।

 

সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ করা মুসলমানের জন্য আবশ্যক:

 

ইসলাম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজের নিষেধ করাকে অপরিহার্য (واجب) করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম} [আল ইমরান: ১০৪]। এবং তাঁর বাণী: {তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজে নিষেধ করো} [আল ইমরান: ১১০]। এবং তাঁর বাণী: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজে নিষেধ করে} [আত-তাওবাহ: ৭১]। এবং তাঁর বাণী: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে} [আল-হাজ্জ: ৪১]। এবং তাঁর বাণী: {তারা যেসব মন্দ কাজ করত তা থেকে একে অপরকে নিষেধ করত না; তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট!} [আল-মায়িদাহ: ৭৯]।

 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ এই অর্থগুলোর বিশদ বর্ণনাকারী (مبين) এবং সুদৃঢ়কারী (مؤكد) হিসেবে এসেছে। এ প্রসঙ্গে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি এক খুতবায় বলেছিলেন: «হে লোকসকল! তোমরা এই আয়াতটি পাঠ করো এবং এর ভুল ব্যাখ্যা (تأويل) করো: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর...}
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ قَوْمٍ عَمِلُوا بِالمَعَاصِي وَفِيهِمْ مَنْ يَقْدِرُ أَنْ يُنْكِرَ عَلَيْهِمْ فَلَمْ يَفْعَلْ إِلَاّ يُوشِكُ أَنْ يَعُمَّهُمْ اللهُ بِعَذَابٍ مِنْ عِنْدِهِ"».

 

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «[لَتَأْمُرُنَّ] بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيُسَلَّطَنَّ عَلَيْكُمْ شِرَارُكُمْ، ثُمَّ يَدْعُو خِيَارُكُمْ فَلَا يُسْتَجَابُ لَهُمْ».

 

وَقَالَ: «مَا أَعْمَالُ البِرِّ عِنْدَ الجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللهِ إِلَاّ كَنَفْثَةٍ فِي بَحْرٍ لُجِّيٍّ، وَمَا جَمِيعُ أَعْمَالِ البِرِّ وَالجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللهِ عِنْدَ الأَمْرِ بِالمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنْ المُنْكَرِ إِلَاّ كَنَفْثَةٍ فِي بَحْرٍ لُجِّيٍّ».

 

وَقَالَ: «أَفْضَلُ شُهَدَاءِ أُمَّتِي رَجُلٌ قَامَ إِلَى إِمَامٍ جَائِرٍ فَأَمَرَهُ بِالمَعْرُوفِ وَنَهَاهُ عَنْ المُنْكِرِ فَقَتَلَهُ عَلَى ذَلِكَ فَذَلِكَ الشَّهِيدُ، مَنْزِلَتُهُ ' فِي الجَنَّةِ بَيْنَ حَمْزَةَ وَجَعْفَرَ».

 

وَقَالَ: «بِئْسَ القَوْمُ قَوْمٌ لَا يَأْمُرُونَ بِالقِسْطِ وَبِئْسَ القَوْمُ قَوْمٌ لَا يَأْمُرُونَ بِالمَعْرُوفِ وَلَا يَنْهَوْنَ عَنْ المُنْكِرِ».

 

وقال: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ».

 

والأمر بالمعروف هو الترغيب في كل ما ينبغي قوله أو فعله طبقًا لنصوص الشريعة الإسلامية.

 

والنهي عن المنكر هو الترغيب في ترك ما ينبغي تركه أو
«{তোমরা নিজেদের চিন্তা করো, তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫]। আর আমি নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "যদি কোনো সম্প্রদায় পাপাচারমূলক কাজে লিপ্ত হয় এবং তাদের মাঝে এমন কেউ থাকে যে তা প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও তা করে না, তবে অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর পক্ষ থেকে আজাব দিয়ে পরিবেষ্টন করবেন"»।

 

এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «[তোমরা অবশ্যই] সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং মন্দ বা বর্জনীয় (المنكر) কাজ থেকে নিষেধ করবে, অন্যথায় তোমাদের ওপর তোমাদের নিকৃষ্টদের আধিপত্য দান করা হবে, অতঃপর তোমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা দোয়া করবে কিন্তু তাদের দোয়া কবুল করা হবে না»।

 

এবং তিনি বলেছেন: «আল্লাহর পথে জিহাদের তুলনায় সকল নেক আমল গভীর সমুদ্রে এক ফোঁটা জলরাশির মতো; আর সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ বা বর্জনীয় (المنكر) কাজ থেকে নিষেধের তুলনায় আল্লাহর পথে জিহাদসহ সকল নেক আমল গভীর সমুদ্রে এক ফোঁটা জলরাশির মতো»।

 

এবং তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ শহীদ সেই ব্যক্তি, যে কোনো অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে সৎ কাজের আদেশ দিয়েছে এবং মন্দ বা বর্জনীয় (المنكر) কাজ থেকে নিষেধ করেছে, আর সেই কারণে শাসক তাকে হত্যা করেছে; জান্নাতে ঐ শহীদের মর্যাদা হামজা ও জাফরের মাঝে»।

 

এবং তিনি বলেছেন: «সেই জাতি অত্যন্ত নিকৃষ্ট যারা ন্যায়ের আদেশ দেয় না এবং সেই জাতি অত্যন্ত নিকৃষ্ট যারা সৎ কাজের আদেশ দেয় না এবং মন্দ বা বর্জনীয় (المنكر) কাজ থেকে নিষেধ করে না»।

 

এবং তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যদি কোনো মন্দ বা বর্জনীয় (منكرًا) কাজ দেখে তবে সে যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়, যদি তাতে সক্ষম না হয় তবে নিজ জিহ্বা দিয়ে, আর যদি তাতেও সক্ষম না হয় তবে নিজ অন্তর দিয়ে; আর এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর»।

 

আর সৎ কাজের আদেশ হলো ইসলামি শরিয়তের ভাষ্য অনুযায়ী যা কিছু বলা বা করা উচিত, সেগুলোর প্রতি উৎসাহিত করা।

 

আর মন্দ বা বর্জনীয় (المنكر) কাজ থেকে নিষেধ করা হলো যা কিছু বর্জন করা উচিত তা বর্জনে উৎসাহিত করা...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
تغيير ما ينبغي تركه طِبْقًا للشريعة الإسلامية.

 

ومن المتفق عليه أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ليس حَقًّا للأفراد يأتونه إن شاءوا، ويتركونه إن شاءوا، وليس مندوبًا إليه يحسن بالأفراد إتيانه وعدم تركه، وإنما هو واجب على الأفراد وليس لهم أن يتخلوا عن أدائه، وفرض لا محيص لهم من القيام بأعبائه.

 

وقد أوجب الإسلام الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لتقوم الجماعة على الخير، وينشأ الأفراد على الفضائل، وتقل المعاصي والجرائم، فالحكومات تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر، والجماعات تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر، والأفراد يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر، وبذلك يستقر أمر الخير والمعروف بين الجماعة، وَيُقْضَى على الفساد والمنكر بتعاون الجميع على البر والتقوى، ومكافحتهم الإثم والعدوان.

 

‌‌ذَلِكُمْ هُوَ حُكْمُ الإِسْلَامِ:

وهكذا يوجب الإسلام على كل مسلم عصيان الحكومات والحكام فيما يؤمر به من معصية الخالق، ويحرم الإسلام على كل مسلم أن يطيع قانونًا أو أمرًا يخالف شريعة الإسلام ويخرج على حدود ما أمر به الله ورسوله.

 

وهكذا يوجب الإسلام على كل مسلم أن يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر، فيأمر بما أمر به الله، وينهى عما نهى عنه الله، ويوجب الإسلام على كل مسلم رأى منكرًا أن يغيره بيده
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী যা বর্জন করা উচিত তা পরিবর্তন করা।

 

আর এটি সর্বসম্মত যে, সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) করা কোনো ব্যক্তির নিছক এমন কোনো অধিকার নয় যে তারা চাইলে তা পালন করবে আর চাইলে বর্জন করবে; এটি এমন কোনো পছন্দনীয় (مندوب) বিষয়ও নয় যা পালন করা উত্তম এবং বর্জন করা অনুমোদনযোগ্য। বরং এটি প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আবশ্যক (واجب) এবং তাদের জন্য এটি পালন করা থেকে বিরত থাকা সমীচীন নয়; এটি একটি বাধ্যতামূলক (فرض) দায়িত্ব যা পালন করা ছাড়া তাদের কোনো গত্যন্তর নেই।

 

ইসলাম সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (نهي عن المنكر)-কে আবশ্যক করেছে যাতে সমাজ কল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, ব্যক্তিরা সচ্চরিত্রের ওপর গড়ে ওঠে এবং পাপ ও অপরাধের মাত্রা হ্রাস পায়। সুতরাং সরকার সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) করবে, সমাজ সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) করবে এবং ব্যক্তিরাও সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) করবে। এর ফলে সমাজের মধ্যে কল্যাণ ও ন্যায়ের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং পুণ্য ও আল্লাহভীতির পথে সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে এবং পাপ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফাসাদ ও মন্দ কাজ (منكر) দূরীভূত হবে।

 

‌‌এটাই ইসলামের বিধান:

এভাবেই ইসলাম প্রত্যেক মুসলিমের ওপর সরকার ও শাসকদের অবাধ্য হওয়া অপরিহার্য করে দিয়েছে যখন তাকে স্রষ্টার অবাধ্য হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসলাম প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এমন কোনো আইন বা আদেশ মেনে চলা হারাম করে দিয়েছে যা ইসলামি শরিয়াহর পরিপন্থী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত সীমা লঙ্ঘন করে।

 

এভাবেই ইসলাম প্রত্যেক মুসলিমের ওপর সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (نهي عن المنكر) করাকে আবশ্যক করেছে। ফলে সে সেই কাজের আদেশ দেবে যার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন এবং সেই কাজ থেকে নিষেধ করবে যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। ইসলাম প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এটি আবশ্যক করেছে যে, সে যখন কোনো মন্দ কাজ (منكر) দেখবে, তখন যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
كلما استطاع إلى ذلك سبيلاً، وإلا فبلسانه وقلمه، فإن لم يستطع فبقلبه، {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا} [البقرة: 286].

 

‌‌عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ أَنْ يُؤَدِّيَ وَاجِبَهُ:

هذا هو حكم الإسلام، وتلك هي سبيل المؤمنين، وقد أظلنا زمن فشا فيه المنكر وفسد أكثر الناس، فالأفراد لا يتناهون عن منكر فعلوه، ولا يأمرون بمعروف افتقدوه، والحكام والأفراد يعصون الله ويحلون ما حرم الله، والحكومات تسن للمسلمين قوانين تلزمهم الكفر وتردهم عن الإسلام، فعلى كل مسلم أن يؤدي واجبه في هذه الفترة العصيبة.

 

ومن واجب كل مسلم سواء كان موظفًا أو غير موظف، قاضيًا أو غير قاض، أن يهاجم القوانين والأوضاع المخالفة للإسلام، وأن يهاجم الحكومات والحكام الذين يضعون هذه القوانين أو يتولون حمايتها وحماية الأوضاع المخالفة للإسلام، وعلى المسلمين في أنحاء الأرض أن يتعاونوا على تغيير القوانين والأوضاع المخالفة للإسلام وتحطيمها بأيديهم، فإن عجز أحدهم أو بعضهم عن الاشتراك في تحطيمها بيديه فعليه أن يسل عليها لسانه ويهاجمها بقلمه متعاونًا مع إخوانه الذين يستطيعون التغيير بأيديهم، فإن عجز أحد المسلمين أو بعضهم عن العمل أو القول الذي يهدم به القوانين والأوضاع المخالفة للإسلام،
যতক্ষণ সে সেদিকে যাওয়ার পথ পাবে, অন্যথায় তার জিহ্বা ও কলম দ্বারা, আর যদি সে তাতে সক্ষম না হয় তবে তার অন্তর দ্বারা; {আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত ভার অর্পণ করেন না} [আল-বাকারা: ২৮৬]।

 

‌‌প্রত্যেক মুসলমানের ওপর তার কর্তব্য পালন করা আবশ্যক (واجب):

এটাই ইসলামের বিধান এবং এটিই মুমিনদের পথ। বর্তমানে আমাদের ওপর এমন এক সময় ছায়া ফেলেছে যাতে প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয় ছড়িয়ে পড়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ কলুষিত হয়েছে। ফলে ব্যক্তিরা তাদের কৃত কোনো প্রত্যাখ্যাত (منكر) কাজ থেকে একে অপরকে বিরত রাখছে না এবং তারা কোনো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া স্বীকৃত ন্যায়কর্মের (معروف) নির্দেশও দিচ্ছে না। শাসক ও শাসিত উভয়ই আল্লাহর নাফরমানি করছে এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল করছে। সরকারগুলো মুসলমানদের জন্য এমন সব আইন প্রণয়ন করছে যা তাদের কুফর পালনে বাধ্য করে এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত করে। সুতরাং এই সংকটময় মুহূর্তে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর স্বীয় দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক (واجب)।

 

আর প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য—চাই সে সরকারি কর্মচারী হোক বা না হোক, বিচারক হোক বা না হোক—ইসলামবিরোধী আইন ও পরিস্থিতির প্রতিবাদ করা এবং সেই সব সরকার ও শাসকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া যারা এই আইনগুলো প্রণয়ন করে অথবা এগুলোর এবং ইসলামবিরোধী পরিস্থিতির সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের উচিত ইসলামবিরোধী আইন ও পরিস্থিতি পরিবর্তনে এবং তা নিজ হাতে চূর্ণ করতে একে অপরকে সহযোগিতা করা। যদি তাদের কেউ বা কোনো অংশ নিজ হাতে তা ধ্বংস করতে অক্ষম হয়, তবে তার উচিত জিহ্বা দ্বারা এর প্রতিবাদ করা এবং কলম দ্বারা এর ওপর আঘাত হানা; সেই সব ভাইদের সহযোগিতা করা যারা নিজ হাতে পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে। আর যদি কোনো মুসলমান বা তাদের কোনো অংশ এমন কোনো কাজ বা কথা বলতে অক্ষম হয় যার মাধ্যমে ইসলামবিরোধী আইন ও পরিস্থিতি বিলোপ করা যায়,
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فعليه أن يهدمها في نفسه، وأن يلعنها ويلعن القائمين عليها في قلبه.

 

وكفى المسلمين أداءً لواجبهم ونجاحًا فيه أن يتعاون أقصاهم وأدناهم دَارًا، وأقواهم وأضعفهم إيمانًا، على تغيير المنكر وهدم هذه الأصنام والطواغيت.

 

إن أول ما يجب على المسلم أن يتعاون فيه مع أخيه المسلم هو الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والله - جَلَّ شَأْنُهُ - يقول: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} [المائدة: 2]. فليتعاون المسلمون على هدم هذه المنكرات الفاشية يُعِنْهُم اللهُ وَيَمُدَّهُمْ بِنَصْرِهِ، ويد الله مع الجماعة، والله في عون العبد ما دام العبد في عون أخيه.

 

لِيُؤَدِّ كل مسلم واجبه في محاربة القوانين والأوضاع المخالفة للإسلام، وما على المسلم وهو يؤدي واجبه بأس مما يقوله أو يفعله الجاهلون، ما دام على بَيِّنَةٍ من دينه، وعلى يقين من أمر ربه {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105].
অতএব তার উচিত সেটিকে নিজের ভেতর থেকে ধ্বংস করা এবং অন্তরে সেটিকে ও এর ধারক-বাহকদের অভিশাপ দেওয়া।

 

আর মুসলমানদের জন্য তাদের দায়িত্ব পালন এবং তাতে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই যথেষ্ট যে, দূর বা নিকটবর্তী অবস্থান নির্বিশেষে এবং ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী বা দুর্বল নির্বিশেষে সকলে মিলে গর্হিত (منكر) বিষয় পরিবর্তন করতে এবং এই প্রতিমা ও তাগুতদের ধ্বংস করতে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

 

নিশ্চয়ই একজন মুসলিমের তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টি আবশ্যক, তা হলো সৎকাজের আদেশ ও গর্হিত (منكر) কাজের নিষেধ করা। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না} [আল-মায়িদাহ: ২]। সুতরাং মুসলিমগণ যেন এই ছড়িয়ে পড়া গর্হিত (منكرات) বিষয়গুলো নির্মূল করতে একে অপরকে সহযোগিতা করে; আল্লাহ তাদের সাহায্য করবেন এবং স্বীয় বিজয় দ্বারা তাদের মদদ দেবেন। জামাআতের ওপর আল্লাহর হাত থাকে এবং আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে।

 

ইসলামবিরোধী আইন ও পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রত্যেক মুসলিম যেন তার দায়িত্ব পালন করে। একজন মুসলিম যখন তার দায়িত্ব পালন করে, তখন মূর্খরা কী বলল বা করল তাতে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, যতক্ষণ সে তার দ্বীনের সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং তার রবের নির্দেশের বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়। {হে মুমিনগণ, তোমাদের দায়িত্ব তোমাদের ওপরই। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫]।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌وَظِيفَةُ القَانُونِ:

إني أعتذر للقانون وأهاجم القوانين، أعتذر للقانون باعتباره معنى، وأهاجم من القوانين النص والمبنى.

 

إن القانون كمعنى ضرورة لا مفر منها للجماعة، وحاجة لا غنى عنها للبشر في هذه الحياة الدنيا، فبالقانون تنظم الجماعات، وتمنع المظالم، وتحفظ الحقوق، وتوزع العدالة وتوجه الشعوب.

 

وحاجات البشر وضروراتهم هي التي خلقت القانون، وسوغت وجوده وشرعيته، وبررت احترامه وطاعته، فالجماعة تقتضيها الضرورة أن تنظم نفسها لتستفيد من مجهودات أفرادها، والجماعة تقتضيها الضرورة أن تمنع المظالم عن أفرادها وتحفظ حقوقهم وتوزع العدالة بينهم ليعيشوا في وئام وسلام متعاونين على ما يسعد الجماعة ويوجهها إلى الخير والكمال، والجماعة تقتضيها الضرورة أن توجه أفرادها توجيهًا مُعَيَّنًا ليأخذوا أنفسهم بعمل شيء لصالح الجماعة أو ليمتنعوا عن عمل ما لصالح الجماعة. وهكذا تسن القوانين سَدًّا لحاجات الجماعة وتلبية لضروراتها وحماية لصوالحها.
‌আইনের ভূমিকা:

আমি আইনের পক্ষাবলম্বন করছি এবং প্রচলিত আইনসমূহের সমালোচনা করছি; আমি আইনের পক্ষাবলম্বন করছি একে একটি আদর্শিক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করে, আর প্রচলিত আইনসমূহের সমালোচনা করছি সেগুলোর শব্দবিন্যাস ও কাঠামোগত রূপের কারণে।

 

একটি আদর্শিক সত্তা হিসেবে আইন সমাজের জন্য এক অনস্বীকার্য অপরিহার্যতা এবং এই পার্থিব জীবনে মানুষের জন্য এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কেননা আইনের মাধ্যমেই সমাজ সুসংগঠিত হয়, জুলুম প্রতিহত হয়, অধিকারসমূহ সংরক্ষিত হয়, ন্যায়বিচার বণ্টিত হয় এবং জাতিসমূহ পরিচালিত হয়।

 

মূলত মানুষের প্রয়োজন ও অপরিহার্য চাহিদাই আইন সৃষ্টি করেছে, এর অস্তিত্ব ও বৈধতাকে বিধিসম্মত করেছে এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রদর্শনকে যুক্তিসঙ্গত করেছে। কেননা সমাজের জন্য এটি অপরিহার্য যে, সে নিজেকে সুসংগঠিত করবে যাতে নিজ সদস্যদের প্রচেষ্টাসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া যায়। সমাজের জন্য এটিও অপরিহার্য যে, সে নিজ সদস্যদের ওপর থেকে জুলুম প্রতিহত করবে, তাদের অধিকারসমূহ সংরক্ষণ করবে এবং তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার বণ্টন করবে; যাতে তারা সম্প্রীতি ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং এমন সব বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে যা সমাজকে সুখী করে এবং তাকে কল্যাণ ও পূর্ণতার দিকে ধাবিত করে। তদ্রূপ সমাজের জন্য এটিও জরুরি যে, সে তার সদস্যদের একটি সুনির্দিষ্ট পথে পরিচালিত করবে, যাতে তারা সামাজিক স্বার্থে কোনো কর্ম সম্পাদন করতে উদ্বুদ্ধ হয় অথবা সামাজিক কল্যাণের পরিপন্থী কোনো কাজ থেকে বিরত থাকে। এভাবেই সমাজের প্রয়োজন মেটাতে, অপরিহার্য চাহিদা পূরণ করতে এবং সামাজিক স্বার্থ রক্ষায় আইন প্রণয়ন করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فالقانون إذن ليس شَيْئًا خارجا عن الجماعة أو مستقلا عنها، كما أنه ليس كما يتوهم البعض شَيْئًا أرفع منها، وما القانون في حقيقته إلا أداة أوجدتها الجماعة لخدمتها، ووسيلة تدفع بها الضرر عن أفرادها.

 

ووظيفة القانون عامةً هي خدمة الجماعة وسد حاجتها، ولكل قانون على حدة، وظيفة يؤديها هي السبب في إيجادها، والدافع إلى تقنينه، ومهما اختلفت أنواع القوانين فإنها تهدف جَمِيعًا لخدمة الجماعة وإسعادها، فالقانون الذي يفرض التعليم الإجباري وظيفته خدمة الجماعة عن طريق نشر التعليم ومحاربة الأمية، والقانون الذي يعاقب على الجرائم وظيفته خدمة الجماعة عن طريق حفظ الأمن فيها ومحاربة الإجرام، والقانون الذي يمنع التظالم بين الناس وظيفته خدمة الجماعة عن طريق حفظ الحقوق الفردية وتوزيع العدالة وبث الطمأنينة بين الأفراد، وهكذا.

 

وإذا كان كل قانون يستمد وجوده وشرعيته من حاجة الجماعة إليه، فإن كل قانون يستمد أهليته لخدمة الجماعة من قيام نصوصه على إسعاد الجماعة وسد حاجتها التي دعت إلى سَنِّ هذا القانون.

 

وإذا كانت وظيفة القانون هي خدمة الجماعة وسد حاجتها، فإن كل قانون لا تحقق نصوصه هذه الوظيفة أو تخرج عليها يفقد مبررات وجوده ومسوغات مشروعيته، وإذا
সুতরাং আইন সমাজ (الجماعة) থেকে বিচ্ছিন্ন বা তার থেকে স্বতন্ত্র কোনো বিষয় নয়, যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন যে এটি সমাজের চেয়ে উচ্চতর কিছু। প্রকৃতপক্ষে আইন হলো সমাজ (الجماعة) কর্তৃক তার সেবার উদ্দেশ্যে উদ্ভাবিত একটি হাতিয়ার এবং এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা সে তার সদস্যদের থেকে ক্ষতি প্রতিহত করে।

 

সাধারণভাবে আইনের কাজ হলো সমাজ (الجماعة)-এর সেবা করা এবং তার প্রয়োজন (حاجة) মেটানো। প্রতিটি আইনের পৃথকভাবে একটি নির্দিষ্ট কাজ থাকে যা এর উদ্ভাবনের কারণ এবং তা বিধিবদ্ধকরণের (تقنين) মূল প্রেরণা। আইনের প্রকারভেদ যাই হোক না কেন, সেগুলো সবই সমাজ (الجماعة)-এর সেবা ও কল্যাণের লক্ষ্য রাখে। সুতরাং যে আইন বাধ্যতামূলক শিক্ষা আরোপ করে, তার কাজ হলো শিক্ষা বিস্তার ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের মাধ্যমে সমাজ (الجماعة)-এর সেবা করা; যে আইন অপরাধের দণ্ড বিধান করে, তার কাজ হলো নিরাপত্তা রক্ষা ও অপরাধ দমনের মাধ্যমে সমাজ (الجماعة)-এর সেবা করা; আর যে আইন মানুষের পারস্পরিক জুলুম (تظالم) প্রতিরোধ করে, তার কাজ হলো ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার (عدالة) বণ্টন এবং ব্যক্তিদের মধ্যে প্রশান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ (الجماعة)-এর সেবা করা, এবং এভাবেই সবকিছু আবর্তিত হয়।

 

যদি প্রতিটি আইন তার অস্তিত্ব ও বৈধতা (شرعية) সমাজ (الجماعة)-এর প্রয়োজনের ভিত্তিতে লাভ করে, তবে প্রতিটি আইন সমাজ (الجماعة)-এর সেবা করার যোগ্যতাও অর্জন করে তার নস (نصوص) বা মূল পাঠসমূহ সমাজকে সুখী করা এবং ঐ প্রয়োজন (حاجة) মেটানোর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে, যা এই আইনটি প্রবর্তনের (سنّ) দাবি জানিয়েছিল।

 

যদি আইনের কাজ হয় সমাজ (الجماعة)-এর সেবা করা ও তার প্রয়োজন (حاجة) মেটানো, তবে যে আইনের নস (نصوص) বা মূল পাঠসমূহ এই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয় বা এর থেকে বিচ্যুত হয়, তা তার অস্তিত্বের যৌক্তিকতা ও বৈধতার (شرعية) ভিত্তি হারিয়ে ফেলে। এবং যদি
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فقد القانون مبررات وجوده ومسوغات مشروعيته فهو باطل لا يصح أن يطاع ولا يستحق أن يحترم.

 

ولقد علمنا أن القانون في حقيقته ليس إلا أداة أوجدتها الجماعة لخدمتها ووسيلة تدفع بها الضرر عن أفرادها، فإذا تبين أن هذه الأداة لا تخدم الجماعة أو أنها تجلب الضرر على أفرادها، فالمنطق أن تنبذ هذه الأداة الفاسدة، وأن لا يحاول أحد استعمالها، لأن استعمالها معناه الخروج على الجماعة والإساءة إليها والتضحية بمنافعها ومصالح أفرادها.
আইনটি তার অস্তিত্বের যৌক্তিকতা এবং বৈধতার ভিত্তি হারিয়েছে, তাই তা বাতিল (باطل); এটি অনুসরণ করা সঠিক নয় এবং সম্মানের যোগ্যও নয়।

 

আমরা জেনেছি যে, আইন মূলত একটি উপকরণ ছাড়া আর কিছুই নয় যা সমাজ তার সেবার জন্য তৈরি করেছে এবং এটি এমন এক মাধ্যম যার দ্বারা সমাজ তার সদস্যদের অনিষ্ট প্রতিহত করে। সুতরাং যদি প্রতীয়মান হয় যে, এই উপকরণটি সমাজের সেবায় আসছে না অথবা এটি তার সদস্যদের জন্য ক্ষতি বয়ে আনছে, তবে যুক্তি এটাই বলে যে, এই ত্রুটিপূর্ণ (فاسدة) উপকরণটি বর্জন করা উচিত এবং কেউ যেন এটি ব্যবহারের চেষ্টা না করে; কারণ এর ব্যবহারের অর্থ হলো সমাজের বিরুদ্ধাচরণ করা, এর অবমাননা করা এবং এর কল্যাণ ও সদস্যদের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌أُصُولُ القَانُونِ:

قلنا فيما سبق إن القانون باعتباره معنى ضرورة لا مفر منها للجماعة، وحاجة لا غنى عنها للبشر، فبالقانون تنظم الجماعات، وتمنع المظالم، وتحفظ الحقوق، وتوزع العدالة، وتوجه الشعوب.

 

ولكن نصوص القانون ومواد بنائه لا تمثل غالبًا هذه المعاني الرفيعة التي يختص بها القانون كمعنى، وإنما تمثل نصوص القوانين آراء الحكام وَالمُقَنِّنِينَ وَتَصَوُّرِ عقلياتهم، وَتُتَرْجِمُ عن أنانيتهم وشرههم، وتسجل عليهم سوء النية وسوء التفكير وتضحية المعاني الرفيعة إرضاء للأطماع وإشباعا للغرور.

 

وللقانون - كمعنى - أصول متعارف عليها مُسَلَّمٌ بها توضع على أساسها نصوصه، وتدور عليها أغراضه، ولكن الحكام وصنائعهم من المقننين أفسدوا هذه الأصول وَشَوَّهُوهَا، واستبدلوا أخبث ما في نفوسهم بأكثر هذه الأصول وبأطيب ما فيها.
‌আইনের মূলনীতিসমূহ (أصول القانون):

আমরা পূর্বে বলেছি যে, আইন একটি আদর্শিক ধারণা হিসেবে সমাজের জন্য এক অনিবার্য অপরিহার্যতা এবং মানবজাতির জন্য একটি অপরিহার্য প্রয়োজন। আইনের মাধ্যমেই জনসমষ্টি সুসংগঠিত হয়, জুলুম প্রতিরোধ করা হয়, অধিকারসমূহ সংরক্ষিত হয়, ন্যায়বিচার বণ্টিত হয় এবং জাতিসমূহকে সঠিক দিশা প্রদান করা হয়।

 

কিন্তু আইনের ভাষ্য ও এর গঠনমূলক উপাদানসমূহ প্রায়শই আইনের সেই মহৎ আদর্শগুলোকে প্রতিফলিত করে না যা আদর্শ হিসেবে আইনের বিশেষত্ব। বরং আইনের ভাষ্যসমূহ মূলত শাসক ও আইনপ্রণেতাদের মতামত এবং তাদের মানসিক চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটায়। এগুলো তাদের স্বার্থপরতা ও লোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং তাদের কু-অভিপ্রায়, মন্দ চিন্তাভাবনা এবং লালসা চরিতার্থ ও অহমিকা নিবারণের জন্য মহৎ আদর্শসমূহের বিসর্জন দেওয়ার বিষয়টিকে তাদের বিপক্ষে নথিবদ্ধ করে।

 

আইনের জন্য—একটি আদর্শিক ধারণা হিসেবে—কিছু সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত মূলনীতি (أصول) রয়েছে, যার ভিত্তিতে এর ভাষ্যসমূহ রচিত হয় এবং যার চারপাশেই এর উদ্দেশ্যসমূহ আবর্তিত হয়। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের অনুগত আইনপ্রণেতারা এই মূলনীতিগুলোকে (أصول) কলুষিত ও বিকৃত করেছে এবং এই মূলনীতিগুলোর (أصول) অধিকাংশ ও সেগুলোর মধ্যকার সর্বোত্তম বিষয়গুলোকে তাদের অন্তরের নিকৃষ্টতম চিন্তা দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأصول القانون متعددة ولكنها على تعددها يقصد منها أن تحقق الأغراض التي وُجِدَ القانون من أجلها، وأن يؤدي القانون وظيفته على أفضل الوجوه وأقربها إلى الكمال.

 

وبين أصول القانون ووظيفته علاقة وثيقة، فإذا كانت وظيفة القانون هي خدمة الجماعة وَسَدِّ حاجتها فإن أصول القانون هي الأسس التي تقوم عليها خدمة الجماعة والمبادئ التي يرجع إليها في سَدِّ هذه الحاجات.

 

‌‌قَانُونُ كُلِّ أُمَّةٍ قِطْعَةٍ مِنْهَا:

والأصل الأول للقانون هو أن قانون كل أمة إنما يشتق منها، ويرجع إليها، إنه قطعة من ماضيها الطويل وحاضرها الماثل. إنه يمثل نشأتها وتطورها ويمثل أخلاقها وتقاليدها، ويمثل آدابها ونظمها، ويمثل دينها ومعتقداتها.

 

وعلى هذا الأصل تختلف القوانين باختلاف الشعوب، فالقانون الياباني يختلف عن القانون الهندي بقدر ما يختلف الشعب الياباني عن الشعب الهندي في النشأة والتطور والأخلاق والتقاليد والآداب والنظم والدين والمعتقدات، والقانون الإنجليزي يختلف عن القانونين الياباني والهندي بقدر ما يختلف الشعب الإنجليزي عن الشعبين الياباني والهندي في كل ما سبق، والقانون الروسي يخالف كل ما سبق من القوانين بقدر ما بين الشعب الروسي والشعوب الأخرى من خلاف فيما ذكرنا من أوجه الخلاف، ومثل هذا يقال عن القانون الفرنسي والقانون الألماني وغيرهما من القوانين.
আইনের মূলনীতিসমূহ (أصول) বহুবিধ, তবে এই বহুমুখিতা সত্ত্বেও এগুলোর উদ্দেশ্য হলো সেই লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা যার জন্য আইনের অস্তিত্ব তৈরি হয়েছে এবং আইন যেন তার কার্যাবলি সর্বোত্তম উপায়ে এবং পূর্ণতার নিকটতম অবস্থায় সম্পাদন করতে পারে।

 

আইনের মূলনীতিসমূহ (أصول) এবং এর কার্যাবলির মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। যদি আইনের কাজ হয় সমাজের সেবা করা এবং তাদের প্রয়োজন মেটানো, তবে আইনের মূলনীতিসমূহ (أصول) হলো সেই ভিত্তি যার ওপর সমাজের সেবা প্রতিষ্ঠিত এবং সেই নীতিসমূহ যার দিকে এই প্রয়োজনগুলো মেটানোর ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন করা হয়।

 

‌‌প্রতিটি জাতির আইন তাদেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ:

আইনের প্রথম মূলনীতি (الأصل) হলো, প্রতিটি জাতির আইন মূলত সেই জাতি থেকেই উদ্ভূত হয় এবং তাদের কাছেই ফিরে যায়। এটি তাদের দীর্ঘ অতীত এবং বর্তমান বাস্তবতার একটি অংশ। এটি তাদের উৎপত্তি ও বিবর্তনকে উপস্থাপন করে এবং তাদের চরিত্র ও ঐতিহ্য, তাদের আদব ও ব্যবস্থা এবং তাদের ধর্ম ও বিশ্বাসকে ফুটিয়ে তোলে।

 

আর এই মূলনীতির (الأصل) ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন জাতির পার্থক্যের কারণে আইনগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়। জাপানি আইন ভারতীয় আইন থেকে ততটুকুই ভিন্ন যতটুকু জাপানি জাতি ভারতীয় জাতি থেকে তাদের উৎপত্তি, বিবর্তন, চরিত্র, ঐতিহ্য, আদব, ব্যবস্থা, ধর্ম এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ভিন্ন। ব্রিটিশ আইন জাপানি ও ভারতীয় উভয় আইন থেকে ততটুকুই ভিন্ন যতটুকু ব্রিটিশ জাতি জাপানি ও ভারতীয় জাতি থেকে পূর্বোক্ত বিষয়গুলোতে ভিন্ন। রুশ আইন পূর্বোল্লিখিত সকল আইনের বিরোধিতা করে ঠিক ততটুকুই যতটুকু রুশ জাতি ও অন্যান্য জাতির মধ্যে আমাদের উল্লেখিত পার্থক্যের দিকগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে। ফরাসি আইন, জার্মান আইন এবং অন্যান্য আইনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وعلى هذا الأصل ينسب القانون للأمم والشعوب فيقال القانون الإنجليزي والألماني والياباني … إلخ، ويثبت نسب القانون للأمة كلما ثبت ميلاده فيها أو اتصاله بتاريخها وتأثره بعاداتها وتقاليدها، ومسايرته لحالتها الاجتماعية والسياسية والدينية، وإذا ثبت انتساب القانون للأمة فقد ثبتت شرعيته وأهليته لحكمها، ولم تجد الأمة غضاضة في احترام القانون وطاعته، لأن الأمة في هذه الحالة إنما تحكم نفسها بنفسها، وتخضع لما تدين به من عاداتها وتقاليدها وآدابها ونظمها وعقائدها.

 

ولهذا كله حرص المُقَنِّنُونَ في كل بلاد العالم إذا ما أخذوا لأمة من قوانين أمة أخرى على أن يُعَدِّلُوا ما يأخذونه حتى يأتلف مع قوانين الأمة الآخذة ويتفق مع أنظمتها؛ لأنهم يعلمون حق العلم أن إلزام أمة قانون أمة أخرى دون مراعاة لما بين الأمتين من تخالف معناه إلزام إحدى الأمتين التخلي عن عاداتها وتقاليدها وآدابها ومميزاتها ونظمها وشرائعها، بل قد يكون معناه إلزام إحدى الأمتين التخلي عن نظامها الاجتماعي والتفريط في دينها والتنكر لمعتقداتها.

 

‌‌قَوَانِينُنَا غَرِيبَةٌ عَنَّا:

ولكن هذا الأصل الأول للقانون أُهْمِلَ إلى حد كبير في القوانين الوضعية السارية في مصر وفي كثير من البلاد الإسلامية، فقد نُقِلَتْ القوانين الأوروبية بحذافيرها ودون تعديل يذكر إلى
এবং এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই আইনকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। ফলে বলা হয় ইংরেজ আইন, জার্মান আইন, জাপানি আইন … ইত্যাদি। কোনো জাতির সাথে আইনের সম্পৃক্ততা তখনই প্রমাণিত হয়, যখন সেই জাতির মধ্যে তার জন্ম হয় অথবা তার ইতিহাসের সাথে তার যোগসূত্র থাকে এবং তার রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের দ্বারা তা প্রভাবিত হয়, আর তার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। যখন কোনো জাতির সাথে আইনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তখন তার বৈধতা এবং সেই জাতিকে শাসন করার যোগ্যতাও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এমতাবস্থায় সেই জাতি আইনকে সম্মান করতে এবং তার আনুগত্য করতে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব করে না; কারণ এক্ষেত্রে জাতি মূলত নিজেই নিজেকে শাসন করে এবং এমন সব রীতিনীতি, ঐতিহ্য, আদব, ব্যবস্থা ও বিশ্বাসের অনুগত থাকে যার প্রতি সে দায়বদ্ধ।

 

আর এই কারণেই বিশ্বের প্রতিটি দেশের আইনপ্রণেতারা যখন এক জাতির আইন অন্য জাতির জন্য গ্রহণ করেন, তখন তারা গৃহীত বিষয়গুলো সংশোধন করতে সচেষ্ট থাকেন যেন তা গ্রহণকারী জাতির আইনের সাথে খাপ খায় এবং তাদের ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কারণ তারা খুব ভালো করেই জানেন যে, দুই জাতির মধ্যকার বৈসাদৃশ্য বিবেচনা না করে এক জাতির আইন অন্য জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো—এক জাতিকে তার রীতিনীতি, ঐতিহ্য, আদব, বৈশিষ্ট্য, ব্যবস্থা ও শরয়ি বিধানসমূহ ত্যাগ করতে বাধ্য করা। বরং এর অর্থ হতে পারে কোনো এক জাতিকে তার সামাজিক ব্যবস্থা ত্যাগ করতে, তার দ্বীনের বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করতে এবং তার বিশ্বাসকে অস্বীকার করতে বাধ্য করা।

 

‌‌আমাদের আইন আমাদের কাছে অপরিচিত (غريبة):

কিন্তু আইনের এই প্রথম মূলনীতিটি মিশরে এবং অনেকগুলো ইসলামি দেশে প্রচলিত মানবরচিত আইনের ক্ষেত্রে বহুলাংশে উপেক্ষিত হয়েছে। কেননা ইউরোপীয় আইনগুলো কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু পর্যন্ত স্থানান্তরিত করা হয়েছে
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
هذه البلاد، وجُعلت قوانين ملزمة في بلاد يسودها الإسلام ويحكمها منذ ثلاثة عشر قرنًا، وهي بلاد تتدين الغالبية الساحقة من سكانها بالإسلام، ويتعبدون بإقامة شعائره وأحكامه وعصيان ما خالفه من الأوامر والأحكام، وكان المعقول أن يفقه هذه المعاني ناقلو القوانين الأوروبية إلى البلاد الإسلامية، ولكنهم كانوا أناسًا لا فقه لهم ولا خير فيهم، فجاءت قوانينهم غريبة على البلاد الإسلامية لا تتصل بماضيها ولا بحاضرها ولا تمثل نشأتها ولا تطورها، ولا صلة لها بعادات أهل البلاد وتقاليدهم، ولا ينعكس عليها شيء من آدابهم وأخلاقهم، ولا مكان فيها لأديانهم وعقائدهم.

 

إن قوانيننا - معشر المسلمين - غريبة عنا، نقلت إلى تربة غير تربتها، وجو غير جوها، وأناس لا صلة لهم بها، يرتابون فيها ويتجهمون لها، بل ينكرونها ويتقربون إلى الله بهدمها، إنها قوانين تبعث على الكفر، وأوضاع تحرض على الإلحاد، وأنظمة تؤدي إلى الإباحية والتحلل، وإنها لا تنتسب للإسلام بنسب، ولا تمت للبلاد الإسلامية بسبب، إنها قوانين لا تقوم على أصولها، ولا يرجع إلينا نسبها، إنها كأبناء السِّفَاحِ يولدون لغير أب وعلى غير فراش.

 

‌‌القَانُونُ يُوضَعُ لِحِمَايَةِ العَقَائِدِ:

والأصل الثاني للقانون أنه يوضع لصالح الجماعة، وسد حاجاتها، ونشر السلام والطمأنينة بين أفرادها، ومن أهم
এই দেশগুলোতে, এবং এমন এক ভূখণ্ডে বাধ্যতামূলক আইন করা হয়েছে যেখানে তেরো শতাব্দী ধরে ইসলাম বিরাজমান ও শাসনরত। এই দেশগুলোর বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী ইসলাম ধর্মাবলম্বী; তারা এর নিদর্শন ও বিধানসমূহ পালনের মাধ্যমে এবং এর পরিপন্থী আদেশ ও নির্দেশ অমান্য করার মাধ্যমে ইবাদত করে। যৌক্তিক বিষয় ছিল যে, যারা ইউরোপীয় আইনসমূহ মুসলিম দেশগুলোতে স্থানান্তর করেছে তারা এই বিষয়গুলো অনুধাবন করবে; কিন্তু তারা ছিল এমন এক গোষ্ঠী যাদের কোনো প্রজ্ঞা ছিল না এবং যাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ ছিল না। ফলে তাদের আইনগুলো মুসলিম দেশগুলোর জন্য বিজাতীয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা এই দেশগুলোর অতীত বা বর্তমানের সাথে সম্পর্কিত নয়, এর উৎপত্তি বা বিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে না, এবং এ দেশের মানুষের রীতি-নীতি ও ঐতিহ্যের সাথে এর কোনো সংযোগ নেই। এমনকি তাদের শিষ্টাচার ও নৈতিকতার কোনো প্রতিফলন সেখানে নেই এবং সেখানে তাদের ধর্ম ও বিশ্বাস (عقائد)-এরও কোনো স্থান নেই।

 

হে মুসলিম সম্প্রদায়—আমাদের আইনগুলো আমাদের কাছেই অপরিচিত। এগুলোকে এমন এক মাটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে যা তার নিজস্ব মাটি নয়, এমন এক পরিবেশে যা তার নিজস্ব পরিবেশ নয় এবং এমন এক জনগোষ্ঠীর কাছে যাদের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং এগুলোর প্রতি বিমুখতা প্রকাশ করে, বরং তারা এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে এবং এগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়। এগুলো এমন আইন যা কুফরের দিকে ধাবিত করে, এমন পরিস্থিতি যা নাস্তিকতাকে উস্কে দেয় এবং এমন এক ব্যবস্থা যা চারিত্রিক স্খলন ও লাগামহীনতার দিকে নিয়ে যায়। ইসলামের সাথে এর কোনো বংশীয় সম্পর্ক নেই এবং মুসলিম দেশগুলোর সাথেও এর কোনো যোগসূত্র নেই। এগুলো এমন আইন যা তার মূলনীতি (أصول)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং এগুলোর উৎস আমাদের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এগুলো যেন অবৈধ সম্পর্কের সন্তান (أبناء السفاح), যারা পিতা ব্যতিরেকে এবং শরিয়াহসম্মত শয্যা ছাড়া জন্মগ্রহণ করে।

 

‌‌বিশ্বাস (عقائد) সুরক্ষার জন্য আইন প্রণীত হয়:

আইনের দ্বিতীয় মূলনীতি (الأصل) হলো—এটি সমাজের কল্যাণে, তাদের প্রয়োজন মেটাতে এবং সদস্যদের মধ্যে শান্তি ও প্রশান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রণীত হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ...
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
حاجات الجماعة حماية عقائدها ونظامها واحترام تقاليدها وآدابها، وفي البلاد الإسلامية تتعبد الجماعة بالإسلام، ويقوم نظامها الاجتماعي على الإسلام، وترجع عقائد الكثرة الساحقة إلى الإسلام، وتصطبغ أخلاقهم وآدابهم وتقاليدهم بصبغة الإسلام، فكان المعقول (لو عقل الحكام والمقننون) أن تجيء القوانين في البلاد الإسلامية متفقة مع تعاليم الإسلام، مسايرة لعقائد المسلمين، محافظة على مشاعرهم، ولكن هذه القوانين جاءت مخالفة للإسلام متحدية للمسلمين، تسخر من عقائدهم، وتمتهن مشاعرهم، وتعبث بمقدساتهم، وتسلبهم حقوقهم وتحول بينهم وبين واجباتهم، وبذلك خرجت هذه القوانين الممقوتة على وظيفتها، وفقدت أهليتها وشرعيتها ومبررات وجودها بما فقدت من مقوماتها وبقيامها على غير أصولها واستهدافها غير غايتها.

 

والعيب ليس عيب القانون المسكين، ولكنه عيب الناقلين الغافلين الذين غلبت عليهم الغفلة، ولم تسعفهم الفطنة، فنقلوا قوانين البلاد الأوروبية إلى البلاد الإسلامية دون أن يحسبوا حساب الفوارق الدينية والاجتماعية والتاريخية، ودون أن يدركوا أنهم بعملهم هذا قد حولوا القوانين عن طبيعتها، وصرفوها عن غايتها، وأنهم جعلوا من القوانين التي تُتخذ لإسعاد الجماعة ونشر الطمأنينة بين أفرادها قوانين تعمل على إيلام المشاعر، وإيغار الصدور، وتهدف إلى نشر الفوضى والاضطراب، وتجلب على الجماعة البؤس والشقاء.
সমাজের প্রয়োজনীয়তা হলো তার বিশ্বাস (عقائد) ও ব্যবস্থার সুরক্ষা এবং তার ঐতিহ্য ও শিষ্টাচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। মুসলিম দেশগুলোতে সমাজ ইসলামের মাধ্যমে ইবাদত সম্পন্ন করে, তাদের সামাজিক ব্যবস্থা ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের বিশ্বাস (عقائد) ইসলামের দিকেই নিহিত। তাদের চরিত্র, শিষ্টাচার ও ঐতিহ্য ইসলামের রঙে রঞ্জিত। ফলে যুক্তিযুক্ত ছিল (যদি শাসক ও আইনপ্রণেতারা অনুধাবন করতেন) যে, মুসলিম দেশগুলোর আইনসমূহ ইসলামের শিক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ হবে, মুসলমানদের বিশ্বাসের (عقائد) অনুগামী হবে এবং তাদের অনুভূতির সুরক্ষা দেবে। কিন্তু এই আইনগুলো ইসলামের পরিপন্থী হয়ে এসেছে এবং মুসলমানদের জন্য চ্যালেঞ্জ স্বরূপ আবির্ভূত হয়েছে; এগুলো তাদের বিশ্বাস (عقائد) নিয়ে উপহাস করে, তাদের অনুভূতিকে লাঞ্ছিত করে, তাদের পবিত্র বিষয়সমূহ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তাদের অধিকার হরণ করে এবং তাদের ও তাদের কর্তব্যের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে এই ঘৃণ্য আইনগুলো তাদের মূল দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তাদের যোগ্যতা (أهلية), বৈধতা (شرعية) ও অস্তিত্বের যৌক্তিকতা হারিয়েছে; যেহেতু এগুলো তাদের মৌলিক উপাদানসমূহ হারিয়েছে এবং নিজস্ব মূলনীতির (أصول) পরিবর্তে ভিন্ন ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান হয়েছে ও লক্ষ্যচ্যুত উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছে।

 

আর এই ত্রুটি বেচারা আইনের নয়, বরং এটি সেই অসচেতন (غافلين) অনুকরণকারীদের ত্রুটি যাদের ওপর উদাসীনতা জয়ী হয়েছে এবং যাদের তীক্ষ্ণবুদ্ধি সহায় হয়নি। ফলে তারা ধর্মীয়, সামাজিক ও ঐতিহাসিক পার্থক্য বিবেচনা না করেই ইউরোপীয় দেশগুলোর আইন মুসলিম দেশগুলোতে স্থানান্তর করেছে। তারা এটি উপলব্ধি করতে পারেনি যে, তাদের এই কর্মের মাধ্যমে তারা আইনের প্রকৃতি বদলে দিয়েছে এবং এর উদ্দেশ্যকে বিচ্যুত করেছে। যে আইনগুলো সমাজের কল্যাণ এবং ব্যক্তিদের মাঝে প্রশান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে তারা এমন আইনে পরিণত করেছে যা অনুভূতিকে আঘাত দেয়, অন্তরে ক্ষোভের সঞ্চার করে, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রাখে এবং সমাজের জন্য দুর্দশা ও দুর্ভোগ বয়ে আনে।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
القَانُونُ يُوضَعُ لِتَوْجِيهِ الشُّعُوبِ إِلَى الخَيْرِ:

 

ومن أصول القانون أنه يوضع لتوجيه الشعوب إلى الخير والكمال، ولكن القوانين الأوروبية التي نقلت للبلاد الإسلامية توجه الناس إلى الشر والعدوان، وتدفع الشعوب إلى الفساد والدمار، وليس أدل على ذلك وأصدق من الواقع، فلقد كنا قبل هذه القوانين أحرص الناس على الخير وأقربهم إلى البر وأسرعهم إلى التعاون والتراحم، حتى جاءتنا هذه القوانين فدعتنا إلى التحرر من عاداتنا الكريمة وتقاليدنا المجيدة، وأغرتنا بالانطلاق من حكم الأخلاق الرفيعة والفضائل الإنسانية العالية، وحسنت إلينا الأنانية الممقوتة، وبثت فينا النزعة المادية الطاغية، وأقامت مجتمعنا على المنفعة والمصلحة، ودفعت الكثيرين منا إلى التحلل والإباحية، وأحالتهم من أناس يعيشون في مُثُلِهِمْ الرفيعة وأخلاقهم القرآنية، إلى حيوانات تخضع لغرائزها ووحوش تبحث عن فرائسها.

 

القَانُونُ يَحْمِي الشُّعُوبَ مِنَ الاِسْتِغَلَالِ:

 

والأصل في القانون أنه يوضع لحماية الشعوب من الاستغلال ومن الاستعلاء ومن الإذلال، ولكن القوانين الوضعية القائمة في البلاد الإسلامية إنما وضعت لحماية المستعمرين، وتمكينهم من استغلال الشعوب الإسلامية، والاستعلاء على أبناء البلاد، وترويضهم على الذلة والمسكنة.

 

ولنأخذ مصر مثلاً، ويندر في بلاد الإسلام ما لا ينطبق عليه هذا المثال …
আইন প্রণয়ন করা হয় জাতিসমূহকে কল্যাণের দিকে পরিচালিত করার জন্য:

 

আইনের অন্যতম মূলনীতি (أصول) হলো এটি জাতিসমূহকে কল্যাণ ও পূর্ণতার দিকে পরিচালিত করার জন্য প্রণীত হয়, কিন্তু মুসলিম দেশগুলোতে স্থানান্তরিত ইউরোপীয় আইনসমূহ মানুষকে মন্দ ও অন্যায়ের দিকে পরিচালিত করে এবং জাতিসমূহকে ফাসাদ ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এর চেয়ে স্পষ্টতর কোনো প্রমাণ (دليل) এবং বাস্তবতর কোনো সত্য আর নেই। এই আইনগুলোর আগমনের পূর্বে আমরা ছিলাম কল্যাণের প্রতি সর্বাধিক আগ্রহী, পুণ্যকর্মের সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও দয়ার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে। অবশেষে যখন এই আইনগুলো আমাদের নিকট এলো, তখন তা আমাদের মহান অভ্যাস এবং মহিমান্বিত ঐতিহ্য থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানালো এবং আমাদের উন্নত নৈতিক বিধান ও উচ্চতর মানবিক গুণাবলি থেকে বিচ্যুত হতে প্রলুব্ধ করলো। এটি আমাদের নিকট নিন্দনীয় স্বার্থপরতাকে সুশোভিত করলো, আমাদের মাঝে উগ্র বস্তুবাদী মানসিকতা ছড়িয়ে দিল এবং আমাদের সমাজকে নিছক ব্যক্তিস্বার্থ ও লাভের ওপর প্রতিষ্ঠিত করলো। আর আমাদের অনেককেই নৈতিক অবক্ষয় ও স্বেচ্ছাচারিতার দিকে ঠেলে দিল এবং তাদের এমন এক সত্তায় রূপান্তরিত করল যারা আগে তাদের উচ্চতর আদর্শ ও কোরআনী নৈতিকতা নিয়ে বেঁচে থাকত, কিন্তু এখন তারা নিজ কুপ্রবৃত্তির বশীভূত পশুপাখি এবং শিকারের সন্ধানী হিংস্র জন্তুতে পরিণত হয়েছে।

 

আইন জাতিসমূহকে শোষণ থেকে রক্ষা করে:

 

আইনের মূলনীতি (أصل) হলো এটি জাতিসমূহকে শোষণ, আধিপত্য বিস্তার এবং লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করার জন্য প্রণীত হয়, কিন্তু মুসলিম দেশগুলোতে বিদ্যমান মানবরচিত (وضعية) আইনসমূহ মূলত উপনিবেশবাদীদের রক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছে, যাতে তারা মুসলিম জাতিসমূহকে শোষণ করতে পারে, এ দেশের সন্তানদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে এবং তাদের লাঞ্ছনা ও দীনতার অনুগত করতে পারে।

 

উদাহরণস্বরূপ আমরা মিশরের কথা বলতে পারি, আর মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে এমনটি খুব কমই আছে যেখানে এই উদাহরণ প্রযোজ্য নয় …
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু ওয়া আওদাউনা আল-কানূনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
أَرْصِدَةُ مِصْرَ الاِسْتِرْلِينِيَّةُ:

 

لقد خرجت إنجلترا من الحرب في سنة 1945م مدينة لمصر وحدها بحوالي خمسمائة مليون من الجنيهات، ذلك الدََّيْنُ الذي يسمى بالأرصدة الاسترلينية، أَفَتَرَى مصر كانت في غِنى عن هذا المبلغ الضخم حتى أقرضته إنجلترا؟ وهل استقرضت إنجلترا مصر فأقرضتها هذا المبلغ؟ لا هذا ولا ذاك والله! وإنما هو الاستغلال والغصب والسرقة على عين القانون وفي حمايته.

 

إن القانون المصري يبيح للانجليز أن يستغلوا المصريين، وأن يغصبوهم أموالهم ويسرقوا اللقمة من أفواههم وبمعاونة القانون استطاع الإنجليز الحصول على الأرصدة الاسترلينية، ويستطيعون إذا شاءوا أن يحصلوا على أكثر منها.

 

إن القانون المصري يبيح للبنك الأهلي (وهو في أصله مؤسسة انجليزية) إصدار النقود الورقية المصرية في مقابل رصيد من سندات الخزانة الانجليزية بدلا من الرصيد الذهبي، فليس على الإنجليز إذا ما أرادوا أن يسلبونا أموالنا إلا أن يستعينوا بقانوننا الذِي وُضِعَ لمصلحتهم فيعطوا البنك الأهلي سندات على الخزانة الانجليزية ليأخذوا ما شاءوا من الأموال المصرية، وما على القانون والقائمين عليه أن يجوع المصريون إذا شبع الإنجليز، وأن تفتقر مصر وتتأخر إذا ما أثرت إنجلترا وسادت.
মিসরের স্টার্লিং তহবিল:

 

১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ড যখন যুদ্ধ থেকে নিষ্কৃতি লাভ করল, তখন তারা এককভাবে মিসরের নিকট প্রায় পাঁচশ মিলিয়ন পাউন্ডের ঋণী ছিল। এই ঋণটিই 'স্টার্লিং তহবিল' নামে পরিচিত। আপনি কি মনে করেন যে, মিসর এই বিশাল অংকের অর্থের প্রয়োজন থেকে মুক্ত ছিল যার ফলে সে ইংল্যান্ডকে তা ঋণ হিসেবে দিয়েছিল? আর ইংল্যান্ড কি মিসরের নিকট ঋণ প্রার্থনা করেছিল এবং মিসর তাকে এই অর্থ ধার দিয়েছিল? আল্লাহর কসম, এর কোনোটিই নয়! বরং এটি ছিল স্রেফ শোষণ, জবরদখল এবং আইনের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও তার ছত্রছায়ায় পরিচালিত লুণ্ঠন।

 

মিসরীয় আইন ইংরেজদেরকে মিসরীয়দের শোষণ করার, তাদের অর্থ-সম্পদ জবরদখল করার এবং তাদের মুখ থেকে অন্ন কেড়ে নেওয়ার বৈধতা প্রদান করে। আইনের সহায়তায় ইংরেজরা স্টার্লিং তহবিল হস্তগত করতে সক্ষম হয়েছিল এবং তারা চাইলে এর চেয়েও বেশি লাভ করতে পারত।

 

মিসরীয় আইন ন্যাশনাল ব্যাংককে (যা মূলে একটি ইংরেজ প্রতিষ্ঠান ছিল) স্বর্ণের মজুদের পরিবর্তে ইংরেজ ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে মিসরীয় কাগুজে মুদ্রা ইস্যু করার অনুমতি প্রদান করে। ফলে ইংরেজরা যখনই আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করার ইচ্ছা করত, তখন তারা কেবল তাদেরই স্বার্থে প্রণীত আমাদের আইনের সাহায্য গ্রহণ করত; তারা ন্যাশনাল ব্যাংককে ইংরেজ ট্রেজারি বন্ড প্রদান করত এবং বিনিময়ে ইচ্ছামতো মিসরীয় অর্থ হাতিয়ে নিত। আইন এবং তার প্রয়োগকারীদের এতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ ছিল না যে, ইংরেজদের উদরপূর্তির বিপরীতে মিসরীয়রা ক্ষুধার্ত থাকছে কি না, কিংবা ইংল্যান্ডের ঐশ্বর্য ও আধিপত্যের বিনিময়ে মিসর দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ছে কি না।