(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: -)
الشناعة على من رد أحاديث الشفاعة   (الكريم بن صالح الحميد)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الشناعة على من رد أحاديث الشفاعة (ردٌّ على مصطفى محمود)

المؤلف: أبو محمد عبد الكريم بن صالح بن عبد الكريم الحميد

الناشر: طُبع على نفقة بعض المحسنين، جزاهم الله خيرا

الطبعة: الأولى، 1421 هـ

عدد الصفحات: 67

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1433

শাফাআত বিষয়ক হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি ধিক্কার   (আব্দুল কারীম বিন সালিহ আল-হুমাইদ)

বিভাগ: ফিরকা ও রুদুদ (দল-উপদল ও খণ্ডন)


বই: শাফাআত সংক্রান্ত হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি ধিক্কার (মুস্তফা মাহমুদের খণ্ডন)

লেখক: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল কারীম বিন সালিহ বিন আব্দুল কারীম আল-হুমাইদ

প্রকাশক: কতিপয় হিতৈষীর অর্থায়নে মুদ্রিত, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين. إطلعت على كتاب غير مَبْدوء ببسم الله ولا بالحمد لله لمصطفى محمود وهو كاتب مصري تكلم في كتابه عن مسألة هي من أعظم مسائل التوحيد وهي (الشفاعة) وقد أساء بليغ الإساءة وأخطأ فاحش الخطأ حيث تكلم فيما لايُحسن الكلام فيه.

وقد تعوّدنا في هذا الزمان السوء على أجناس هذا الكاتب وأمثاله ممن يخوضون في مسائل الدين بلا معرفة ويقولون على الله وعلى رسوله بلا علم وهو من عظائم الذنوب.

والحقيقة أن الشيء إذا جاء في أوَانه وَحينه أنه لايُسْتغرب. وكذلك ما ابْتليتْ بهم الأمة في آخر عمرها ونهاية أجلها ممن أخبرهم بهم النبي صلى الله عليه وسلم من الرؤوس الجهال الذين يقيسون الأمور بآرائهم.

إن شؤم هذا الكتاب متوفر فكما أنه لم يُبدأ بذكر الله فكذلك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি মোস্তফা মাহমুদের একটি বই দেখেছি যা 'বিসমিল্লাহ' কিংবা 'আলহামদুলিল্লাহ' দ্বারা শুরু করা হয়নি। তিনি একজন মিশরীয় লেখক, যিনি তাঁর বইতে তাওহীদের অন্যতম মহান বিষয়—অর্থাৎ শাফায়াত (সুপারিশ)—সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত গর্হিত আচরণ করেছেন এবং জঘন্য ভুল করেছেন, কারণ তিনি এমন এক বিষয়ে কথা বলেছেন যাতে কথা বলার মতো কোনো পারদর্শিতা বা যোগ্যতা তাঁর নেই।

বর্তমান এই কলুষিত যুগে আমরা এই লেখক এবং তাঁর মতো একদল লোকের বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, যারা কোনো গভীর জ্ঞান ছাড়াই দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ব্যাপারে না জেনেই মন্তব্য করে; অথচ এটি মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত।

প্রকৃতপক্ষে কোনো বিষয় যখন তার উপযুক্ত সময়ে ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রকাশিত হয়, তখন তা আর আশ্চর্যের থাকে না। ঠিক তেমনি, উম্মত তার শেষ সময়ে এবং ক্রান্তিলগ্নে এমন সব ব্যক্তিদের দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছে, যাদের সম্পর্কে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সেইসব মূর্খ নেতাদের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছিলেন যারা নিজেদের মনগড়া মতামতের ভিত্তিতে যাবতীয় বিষয়ের বিচার-বিশ্লেষণ করে।

এই বইটির অশুভ প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট; যেহেতু এটি আল্লাহর যিকির বা স্মরণ দ্বারা শুরু করা হয়নি, তাই একইভাবে...
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
فهو مُقَبَّحٌ أيضاً بصورة مؤلفة في الغلاف. وفي ثنايا الكتاب ثماني صور له وصور أخرى لنساء في الغلاف الثاني من الداخل.

يقول في تقديمه: وأرى أن من حق كل قاريء أن يختلف معي وأن يفهم القضية على طريقته فقد أرادنا الله أحراراً وأرادنا أن نتدبر آياته ونتفهم قرآنه كل على قدر طاقته. (1)

الجواب: هذا كلام جاهل ضال حيث يرى أن من حق كل قاريء أن يختلف معه وأن يفهم القضية على طريقته. ولو كان عالماً مهتدياً مُسْتيْقناً أن مايقوله حقاً لقال: وأرى أن مِنْ حق كل قاريء ألا يختلف معي بهذا الحق وأن يفهم القضايا الدينية كما أراد الله وأراد رسوله .. قال تعالى: {ولايزالون مختلفين إلا من رحم ربك} فهذا ذم للإختلاف في شأن الحق ومدح لأهل الرحمة وهم المتفقون في الحق بلا خلاف ولا اختلاف.

وقال تعالى: {واعتصموا بحبل الله جميعاً ولا تفرقوا}.

والإجتماع سببه الإتفاق كما أن التفرق سببه الإختلاف لكن المراد بالإجتماع الذي سببه الإعتصام بالكتاب والسنة.

أما قوله: فقد أردنا الله أحراراً بعد جعله الإختلاف معه من حق كل قارئ فهذا جهل أيضاً فإن هذه الحرية منوطة بالعبودية

--------------------------------------------

(1) ص 7.
তিনি প্রচ্ছদে একটি সংযোজিত চিত্রের মাধ্যমেও কদর্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছেন। বইয়ের অভ্যন্তরে তাঁর আটটি ছবি এবং পেছনের প্রচ্ছদের ভেতরের অংশে নারীদের আরও কিছু ছবি রয়েছে।

তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেন: আমি মনে করি যে প্রতিটি পাঠকের অধিকার রয়েছে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করার এবং বিষয়টি নিজ নিজ পদ্ধতিতে অনুধাবন করার। কেননা আল্লাহ আমাদের স্বাধীন হিসেবে চেয়েছেন এবং চেয়েছেন আমরা যেন তাঁর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা করি এবং তাঁর কুরআন অনুধাবন করি, প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী। (১)

উত্তর: এটি এক অজ্ঞ ও পথভ্রষ্ট ব্যক্তির কথা, যেহেতু সে মনে করে যে প্রতিটি পাঠকের অধিকার রয়েছে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করার এবং বিষয়টি নিজ নিজ পদ্ধতিতে অনুধাবন করার। যদি সে এমন একজন হিদায়াতপ্রাপ্ত আলেম হতো যে তার বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত, তবে সে বলত: "আমি মনে করি প্রতিটি পাঠকের কর্তব্য এই সত্যের বিষয়ে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ না করা এবং ধর্মীয় বিষয়গুলো সেভাবে অনুধাবন করা যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল চেয়েছেন।" মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে, তবে তারা ব্যতীত যাদের প্রতি তোমার রব দয়া করেছেন।" এটি সত্যের ব্যাপারে মতভেদের নিন্দা এবং রহমতপ্রাপ্তদের প্রশংসা, যারা কোনো বিবাদ ও মতভেদ ছাড়াই সত্যের ওপর একমত।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।"

ঐক্যের কারণ হলো ঐক্যমত্য, যেমনটি বিভক্তির কারণ হলো মতভেদ। তবে এখানে ঐক্য বলতে সেই ঐক্যকে বোঝানো হয়েছে যা কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে অর্জিত হয়।

আর তার বক্তব্য: "আল্লাহ আমাদের স্বাধীন হিসেবে চেয়েছেন"—যা সে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করাকে প্রতিটি পাঠকের অধিকার সাব্যস্ত করার পর বলেছে—তাও চরম অজ্ঞতা। কেননা এই স্বাধীনতা আল্লাহর দাসত্ব বা আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ৭।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
للرب عز وجل مُقَيّدة باتباع رسوله صلى الله عليه وسلم. وكلما كان الناس أقْوَم بهذين الأصلين كلما عظم اتفاقهم وقلّ اختلافهم. وأصْدق مثال لهذا حال الصحابة رضوان الله عليهم فإنهم لما كانوا في الغاية من تحقيق ذلك كانوا أبْعد الأمة عن الإختلاف في الحق. وهم خير القرون.

والخلاصة أن مسألة الشفاعة الحق فيها واحد وليست من المسائل القابلة للإختلاف. كما أن وظيفة العالم أن يقرر الحق ويبطل الباطل ليست وظيفته أن يفتح باب الإختلاف. وأيضاً ليست مسألة الشفاعة من المسائل الإجتهادية وليس هذا الكاتب وأمثاله أهل للتصدر والكلام في المسائل الإجتهادية.

والسلف الصالح من أهل السنة والجماعة قَدْ أرَاحونا من العناء في مسألة الشفاعة وغيرها. وأكثر ضلال المتأخرين وتخبيطهم في مسائل الدين إنما جاء من اغترارهم بعقولهم وفهومهم واحتقارهم للسلف وظنهم أنهم سوف يأتون بمالم تستطعه الأوائل فاستقلوا بعقول سخيفة وفهوم قاصرة نتاجها البضائع الخاسرة.
মহান প্রতিপালকের ভালোবাসা ও আনুগত্য তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণের সাথে শর্তযুক্ত। মানুষ যখনই এই দুটি মূলনীতির ওপর অধিকতর সুদৃঢ় থাকে, ততই তাদের মধ্যে ঐক্য বৃদ্ধি পায় এবং মতভেদ হ্রাস পায়। এর সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অবস্থা; কেননা তাঁরা যখন এই নীতিসমূহ বাস্তবায়নে চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন, তখন তাঁরা সত্যের ব্যাপারে উম্মতের মধ্যে মতভেদ থেকে সবচেয়ে দূরে ছিলেন। আর তাঁরাই হলেন শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম।

সারসংক্ষেপ এই যে, শাফায়াতের মাসআলায় সত্য একটিই এবং এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা মতভেদের অবকাশ রাখে। তদ্রূপ একজন আলেমের দায়িত্ব হলো সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং মিথ্যাকে বাতিল করা; মতভেদের দ্বার উন্মোচন করা তাঁর কাজ নয়। অধিকন্তু, শাফায়াতের বিষয়টি ইজতিহাদী মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এই লেখক ও তাঁর সমমনা ব্যক্তিরা ইজতিহাদী বিষয়ে কথা বলার বা নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নন।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সালাফে সালেহীন শাফায়াত ও অন্যান্য মাসআলায় আমাদের পরিশ্রম লাঘব করেছেন। পরবর্তী প্রজন্মের অধিকাংশ পথভ্রষ্টতা ও দ্বীনি বিষয়ে তাদের বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো নিজেদের বুদ্ধি ও উপলব্ধির প্রতি অতিমাত্রায় আত্মতুষ্টি, সালাফদের প্রতি অবজ্ঞা এবং এই ধারণা পোষণ করা যে, তারা এমন কিছু উদ্ভাবন করবে যা পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হননি। ফলে তারা তাদের তুচ্ছ বিচারবুদ্ধি ও অপূর্ণাঙ্গ উপলব্ধির ওপর নির্ভর করেছে, যার পরিণাম হয়েছে কেবলই নিষ্ফল ও দেউলিয়া জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
يقول هذا الكاتب: وما ترويه الأحاديث عن أن محمداً عليه الصلاة والسلام سوف يُخرج من النار كل من قال لا إله إلا الله ولوْ زنا ولو سرق ولو زنا ولو سرق رغم أنف أبي ذر .. هكذا يقول الحديث وهو مايخالف صريح القرآن فالقرآن يقول في محكم آياته.

{إن المنافقين في الدرك الأسفل من النار ولن تجد لهم نصيراً} والمنافقون هم الذين يقولون لا إله إلا الله في كل مناسبة وتنطق ألسنتهم بما يخالف سرائرهم وهم في الدرك الأسفل من النار ولن يجدوا لهم نصيراً بصريح القرآن. (1)

الجواب: الأحاديث الصحيحة الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل هذا الحديث يستحيل أن تكون مُخالفة لصريح القرآن لكن أُتِييَ هذا الكاتب من سوء فهمه وقلّة علمه .. نعم يأتي في الحديث ماليس في القرآن بلا مخالفة ولاتعارض. وهذا كثير. وقد وردتْ أحاديث صحيحة في أنه يخرج من النار من قال: لا إله إلا

--------------------------------------------

(1) ص 16،17.
এই লেখক বলেন: হাদীসসমূহ যা বর্ণনা করে যে, মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন প্রত্যেক ঐ ব্যক্তিকে যে বলেছে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই', যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে, আবু যর-এর অনিচ্ছা সত্ত্বেও... হাদীসটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, যা পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট বাণীর পরিপন্থী; কারণ কুরআন তার অকাট্য আয়াতে বলে:

{নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং আপনি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবেন না} আর মুনাফিকরা তো তারাই যারা প্রতিটি উপলক্ষেই 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই' বলে এবং তাদের জিহ্বা এমন কথা উচ্চারণ করে যা তাদের অন্তরের বিপরীত; অথচ কুরআনের স্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং তারা নিজেদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না। (১)

উত্তর: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত এই হাদীসের ন্যায় সহীহ ও সুপ্রমাণিত হাদীসসমূহ পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট বাণীর বিরোধী হওয়া অসম্ভব। তবে এই লেখক বিভ্রান্ত হয়েছেন তার ভুল উপলব্ধি এবং জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে... হ্যাঁ, হাদীসে এমন অনেক বিষয় বর্ণিত হয় যা কুরআনে নেই, কিন্তু তা কোনো বিরোধিতা বা বৈপরীত্য ছাড়াই। আর এমনটি প্রচুর রয়েছে। সহীহ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, জাহান্নাম থেকে তাকে বের করা হবে যে বলেছে: আল্লাহ ছাড়া কোনো

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৬, ১৭।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الله خلاف مايعتقده الخوارج والمعتزلة. وقد قال صلى الله عليه وسلم: (شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي) (1).

وأهل الكبائر يقولون: لا إله إلا الله وكثير منهم يدخلون النار فيخرجون بشفاعته صلى الله عليه وسلم ليسوا كالكفار الذين قال الله عنهم: {فما تنفعهم شفاعة الشافعين}.

فأهل السنة يُقرون بهذه الشفاعة والخوارج والمعتزلة ينكرونها فقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أنه (يخرج من النار من كان في قلبه مثقال ذرة من إيمان). (2)

وتواترت الأحاديث بأنه يخرج من النار من قال: لا إله إلا الله وكان في قلبه من الخير مايزن شعيرة ومايزن خردلة ومايزن ذرة. وتواترت بأن كثيراً ممن يقول: لا إله إلا الله يدخل النار ثم يخرج منها وأن الله حرم على النار أن تأكل أثر السجود من ابن آدم. فهؤلاء يدخلون النار ويخرجون منها.

وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لكل نبي دعوة مستجابة فتعجل كل نبي دعوته

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح رواه أبو داود والترمذي وأحمد وغيرهم.

(2) جزء من حديث أنس المتفق عليه.
আল্লাহ (সম্পর্কিত আকিদা) খাওয়ারিজ ও মুতাজিলাদের বিশ্বাসের বিপরীত। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমার উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য আমার সুপারিশ নির্ধারিত।) (১)।

আর কবিরা গুনাহগার ব্যক্তিরা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করে; তাদের মধ্যে অনেকে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুপারিশে তারা সেখান থেকে বের হবে। তারা কাফেরদের মতো নয়, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না}।

সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এই সুপারিশকে স্বীকার করে, আর খাওয়ারিজ ও মুতাজিলারা তা অস্বীকার করে। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, (যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে)। (২)

এ মর্মে অকাট্য সূত্রে (মুতাওয়াতির) বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার অন্তরে যব পরিমাণ, সরিষার দানা পরিমাণ বা অণু পরিমাণ কল্যাণ অবশিষ্ট আছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। আরও মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠকারীদের মধ্যে অনেকে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বের হবে। আর আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের আগুনের জন্য আদম সন্তানের সেজদার চিহ্নসমূহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। সুতরাং তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং পুনরায় বের হয়ে আসবে।

সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: (প্রত্যেক নবীর একটি কবুলযোগ্য বিশেষ দোয়া রয়েছে, তাই প্রত্যেক নবীই দুনিয়াতে স্বীয় দোয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করেছেন—

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি সহিহ; এটি আবু দাউদ, তিরমিজি, আহমদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

(২) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিসের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وإني اختبأت دعوتي شفاعة لأمتي يوم القيامة فهي نائلة إن شاء الله من مات لايشرك بالله شيئاً).

أما المنافقون فكَوْنهم في الدرك الأسفل من النار وهم يقولون: لا إله إلا الله فليس مخالف للأحاديث الصحيحة. فهؤلاء يقولون بألسنتهم ماليس في قلوبهم فهم كاذبون بقولها. قال تعالى عنهم: {ومن الناس من يقول آمنا بالله وباليوم الآخر وماهم بمؤمنين. يخادعون الله والذين آمنوا ومايخدعون إلا أنفسهم وما يشعرون} والقرآن مملوء من ذكر المنافقين وكذبهم بخلاف الموحدين الذين يقولون: لا إله إلا الله ويردون القيامة بذنوب لم يتوبوا منها فهؤلاء لو دخلوا النار بذنوبهم لابكفرهم فإنهم يعذبون فيها بقدر مااقترفوه من الذنوب ثم يخرجون.

فَفَرْقٌ بين مُوَحّد يقول لا إله إلا الله وهو صاحب كبائر وبين من يقول الله عنهم: {إذا جاءك المنافقون قالوا نشهد إنك لرسول الله والله يعلم إنك لرسوله والله يشهد إن المنافقين لكاذبون} فكذبهم في قولهم لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله وجعلهم في زمرة الكفار بل أخبثهم كفراً.

فالموحّد في قلبه إيمان هو يعمل على مقتضاه بخلاف المنافق الكاذب الذي يقول بلسانه ماليس في قلبه.
আমি আমার দোয়াকে কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফায়াতের (সুপারিশের) জন্য গোপন করে রেখেছি; আল্লাহ চাইলে তা সেই ব্যক্তি লাভ করবে, যে আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করেছে।

আর মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে অথচ তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে থাকে—এ বিষয়টি সহিহ হাদিসসমূহের পরিপন্থী নয়। কেননা তারা মুখে এমন কিছু বলে যা তাদের অন্তরে নেই, ফলে এ কথা বলার ক্ষেত্রে তারা মিথ্যাবাদী। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান এনেছি, অথচ তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, কিন্তু তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে অথচ তারা তা অনুভব করতে পারছে না।" কুরআন মুনাফিকদের আলোচনা এবং তাদের মিথ্যার বিবরণে পরিপূর্ণ। এর বিপরীতে রয়েছেন সেইসব একত্ববাদী (মুওয়াহহিদ), যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে এবং কিয়ামতের দিন এমন সব গুনাহ নিয়ে উপস্থিত হবে যা থেকে তারা তওবা করেনি; তারা যদি কুফরির কারণে নয় বরং তাদের পাপের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করে, তবে তারা সেখানে কৃত গুনাহর পরিমাণ শাস্তি ভোগ করবে এবং এরপর সেখান থেকে বের হবে।

সুতরাং সেই একত্ববাদীর মধ্যে—যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে অথচ কবীরা গুনাহর অধিকারী—এবং সেইসব ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: "যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে, তখন তারা বলে—আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসুল। আল্লাহ জানেন যে অবশ্যই তুমি তাঁর রাসুল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।" ফলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' বলার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন এবং তাদের কাফেরদের দলভুক্ত করেছেন, বরং তারা কুফরির দিক থেকে জঘন্যতম।

অতএব, মুওয়াহহিদ বা একত্ববাদীর অন্তরে ঈমান বিদ্যমান এবং সে তার দাবি অনুযায়ী আমল করে; যা সেই মিথ্যাবাদী মুনাফিকের বিপরীত, যে তার মুখে তা বলে যা তার অন্তরে নেই।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ثم قال مصطفى محمود: والمعنى المستخلص هو أن قول لا إله إلا الله باللسان مرة أوْمرات أوطول العمر لن يغني شيئاً ولن يحقق لصاحبه نجاة ولا فلاحاً إلا إذا صادق القلب وصادقت الجوارح وأكّدت الأفعال على هذا القول وهو مالم يرد له ذكر في الحديث. (1)

الجواب: هذه الكلمة العظيمة جاءت مقيّدة بالقيود الثقال وأكثر من يقولها لا يعرف الصدق والإخلاص المراد منها. وأكثر من يقولها تقليداً وعادة ولم يخالط الإيمان بشاشة قلبه. وغالب من يُفتن عند الموت وفي القبور أمثال هؤلاء كما في الحديث (سمعت الناس يقولون شيئاً فقلته) لكن لايعني هذا إنكار ماصَحّ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. فالذي في حديث أبي ذر رضي الله عنه ذكر الزنا والسرقة وهذه كبائر لاتُحبط الإيمان بالكلية لكنها تضعفه وليس معنى الحديث أن الإنسان يقول لا إله إلا الله ولا يصادق قلبه

--------------------------------------------

(1) ص 17.
অতঃপর মোস্তফা মাহমুদ বলেন: "এর নির্যাসিত অর্থ হলো, রসনা দ্বারা একবার বা বারবার কিংবা জীবনভর 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' বলা কোনো কাজে আসবে না এবং তা তার প্রবক্তার জন্য মুক্তি বা কামিয়াবি বয়ে আনবে না, যদি না অন্তর তার সত্যায়ন করে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তার সাক্ষ্য দেয় এবং কর্মসমূহ এই বাণীর সমর্থন করে। অথচ হাদিসে এ প্রসঙ্গের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।" (১)

উত্তর: এই সুমহান বাণীটি অত্যন্ত গুরুভার ও কঠিন শর্তাবলির সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ। যারা এটি উচ্চারণ করে, তাদের অধিকাংশই এর অন্তর্নিহিত সত্যনিষ্ঠা ও ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা সম্পর্কে অবগত নয়। অধিকাংশ মানুষ এটি অন্ধ অনুকরণ ও অভ্যাসগতভাবে পাঠ করে থাকে; তাদের হৃদয়ের গভীরে ঈমানের সুনিবিড় পরশ পৌঁছেনি। মৃত্যুকালে এবং কবরে মূলত এরাই ফিতনার সম্মুখীন হবে, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "আমি মানুষকে কিছু একটা বলতে শুনেছি, তাই আমিও তা-ই বলেছি।" কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে তা অস্বীকার করা হবে। আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে ব্যভিচার ও চুরির ন্যায় পাপের কথা এসেছে; আর এগুলো হলো কবীরা গুনাহ, যা ঈমানকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেয় না বরং তাকে দুর্বল করে দেয়। এই হাদিসের মর্মার্থ কদাপি এমন নয় যে, এক ব্যক্তি ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’ বলবে অথচ তার অন্তরে এর কোনো সত্যতা থাকবে না।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وجوارحه وتؤكد أفعاله فهذا المنافق. أما الذي ذُكر في الحديث فمسلم مصدق قلبه وجوارحه ومؤكدة أفعاله يعني التوحيد لكنه يأتي بعض الكبائر فليس كالمنافق الكاذب في قول لا إله إلا الله.

فقد تبيّن أن النطق بالشهادة من غير معرفة لمعناها ولايقين ولاعمل بما تقتضيه من البراءة من الشرك وإخلاص القول والعمل قول القلب واللسان وعمل القلب والجوارح فغير نافع بالإجماع. وهذا لا يوجب التكذيب بأحاديث الشفاعة الثابتة لأنها للموحدين الذين يعرفون معناها ويعملون بمقتضاها ولكن لهم ذنوب أوْجبت لهم دخول النار.

ومما جاء في بيان كلمة لا إله إلا الله في (قرّة عيون الموحدين) قوله: وأنت تجد أكثر من يقول لا إله إلا الله ويَدَّعي الإسلام يفعل الشرك بالله في عبادته بدعوة من لايضر ولاينفع من الأموات والغائبين والطواغيت والجن وغيرهم ويحبهم ويُوَاليهم ويخافهم ويرجوهم ويُنكر على من دعا إلى عبادة الله وحده وتَرْك عبادة ماسِواه ويزعم أن ذلك بدعة وضلالة ويُعادي من عمل به وأحَبّه وأنكر الشرك وأبغضه. وبعضهم لا يَعدّ التوحيد علماً ولا يلتفت إليه لجهله به وعدم محبته والله المستعان ..
...এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ এবং তার কর্মসমূহ তা সুনিশ্চিত করে, তবে সে ব্যক্তি মুনাফিক। আর হাদীসে যার কথা বর্ণিত হয়েছে, সে এমন একজন মুসলিম যার অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সত্যায়ন করে এবং তার কর্মসমূহও তাওহীদকে সুনিশ্চিত করে; কিন্তু সে কিছু কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। সুতরাং সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী মুনাফিকের মতো নয়।

সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, অর্থ পরিজ্ঞাত না হয়ে, দৃঢ় বিশ্বাস ব্যতিরেকে এবং এর দাবি অনুযায়ী শিরক থেকে বিমুক্ত হওয়া ও কথা ও কাজের একনিষ্ঠতা—যা অন্তর ও জিহ্বার কথা এবং অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ—অবলম্বন করা ছাড়া কেবল শাহাদাত পাঠ করা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো উপকারে আসবে না। আর এটি শাফায়াত সংক্রান্ত প্রমাণিত হাদীসসমূহকে অস্বীকার করার কারণ হতে পারে না, কারণ সেই শাফায়াত ঐসব একত্ববাদীদের জন্য যারা এর অর্থ জানে এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করে, কিন্তু তাদের এমন কিছু পাপ ছিল যা তাদের জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হয়েছিল।

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালিমার বর্ণনায় ‘কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহহিদীন’ গ্রন্থে যা এসেছে তা হলো: আপনি এমন অধিকাংশ লোককেই পাবেন যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে এবং ইসলামের দাবি করে, অথচ তারা মৃত ব্যক্তি, অনুপস্থিত সত্তা, তাগুত, জ্বিন এবং অন্যদের ডাকার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতে শিরক করে থাকে—যারা না কোনো ক্ষতি করতে পারে, না কোনো উপকার। তারা তাদের ভালোবাসে, তাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের ভয় করে এবং তাদের নিকট আশা পোষণ করে। অথচ তারা ঐ ব্যক্তির বিরোধিতা করে যে কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করার এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর ইবাদত বর্জনের দাওয়াত দেয়; তারা দাবি করে যে এটি বিদআত ও ভ্রষ্টতা। যারা তাওহীদের ওপর আমল করে ও একে ভালোবাসে এবং শিরককে অস্বীকার ও ঘৃণা করে, তারা তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। তাদের কেউ কেউ মূর্খতা ও ভালোবাসার অভাবের কারণে তাওহীদকে কোনো জ্ঞান হিসেবে গণ্য করে না এবং এর দিকে ভ্রুক্ষেপও করে না। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وشهادة أن لا إله إلا الله ذكر العلماء لها شروط لابد من وجودها فلابد من (العلم) بحقيقة معناها علماً ينافي الجهل بخلاف من يقولها وهو لايعرف معناها.

ولابد من (اليقين) المنافي للشك فيما دَلّت عليه من التوحيد. ولابد من (الإخلاص) المنافي للشرك. فإن كثيراً من الناس يقولها وهو يشرك في العبادة ويُنكر معناها ويُعادي مَن اعْتقده وعمل به.

ولابد من (الصدق) المنافي للكذب بخلاف حال المنافق الذي يقولها من غير صدق كما قال تعالى: {يقولون بألسنتهم ماليس في قلوبهم}.

ولابد من (القبول) المنافي للرّد بخلاف من يقولها ولايعمل بها. ولابد من (المحبة) لِما دَلّت عليه من التوحيد والإخلاص وغير ذلك والفرح بذلك المنافي لخلاف هذين الأمرين، ولابد من (الإنقياد) بالعمل بها ومادلّت عليه مطابقة وتضمناً والْتزاماً. وهذا هو دين الإسلام الذي لايقبل الله ديناً سواه.

وكثير ممن يدّعي العلم قد عكس مدلولها.
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন যা বিদ্যমান থাকা অপরিহার্য। তাই এর প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে এমন (জ্ঞান) অর্জন করা জরুরি যা অজ্ঞতাকে দূরীভূত করে; সেই ব্যক্তির বিপরীতে যে এর অর্থ না জেনে এটি পাঠ করে।

তদ্রূপ এটি তাওহীদের যে অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, সে বিষয়ে এমন (দৃঢ় বিশ্বাস) থাকা আবশ্যক যা সন্দেহের অবকাশ রাখে না। আর প্রয়োজন এমন (নিষ্ঠা) যা শিরককে নাকচ করে দেয়। কেননা অনেক মানুষ এটি মুখে উচ্চারণ করলেও ইবাদতে শিরক করে, এর অর্থকে অস্বীকার করে এবং যারা এতে বিশ্বাস রাখে ও সে অনুযায়ী আমল করে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে।

এছাড়া এতে এমন (সত্যবাদিতা) থাকা প্রয়োজন যা মিথ্যাচারের বিপরীত; মুনাফিকের অবস্থার পরিপন্থী—যে সত্যনিষ্ঠা ছাড়াই এটি বলে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তারা তাদের মুখে তা-ই বলে যা তাদের অন্তরে নেই।"

তদ্রূপ এমন (কবুল করা বা গ্রহণ) থাকা অপরিহার্য যা প্রত্যাখ্যানের পরিপন্থী; সেই ব্যক্তির বিপরীতে যে এটি বলে কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করে না। আর এর দ্বারা নির্দেশিত তাওহীদ ও ইখলাস ইত্যাদির প্রতি (ভালোবাসা) থাকতে হবে এবং এর মাধ্যমে আনন্দিত হতে হবে, যা এই দুটির বিপরীত বিষয়ের পরিপন্থী। আরও আবশ্যক হলো এর দাবি ও এর দ্বারা নির্দেশিত বিষয়ের প্রতি পূর্ণ অনুগত্য ও আমলের মাধ্যমে (আনুগত্য বা আত্মসমর্পণ) করা। আর এটিই হলো ইসলাম ধর্ম, যা ব্যতীত আল্লাহ অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করবেন না।

অথচ জ্ঞান অর্জনের দাবিদারদের মধ্যে অনেকেই এর মর্মার্থকে বিকৃত বা উল্টে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
من عَلِمَ ماتقدم وفهمه تبين له ضلال من يقول لا إله إلا الله وهو يعتقد في البدوي أوالدسوقي أوزينب أوغيرهم من أهل القبور ينذرون لهم النذور ويذبحون لهم ويدعونهم ويغترون بقولهم لا إله إلا الله.

أما علموا أن (لا إله) تنفي كل مايعتقدونه بأهل القبور. وهذا الإعتقاد الذي اعتقدوه بهم لا حقيقة له وإنما هو موجود في خيالاتهم فقط وبمقتضى هذا الخيال اعتقدوا الشرك والضلال. وظنوا أن الشرك اعتقاد الخلق أو الرزق أو التدبير فقط. أما مايفعلونه فأوْهمهم الشيطان أن هذا محبة للأولياء وتعلّقاً بجاهِهم وطمعاً في أن يقربوهم لربهم فأوْقعهم في الشرك حيث مالَت قلوبهم لهذه الأوثان وخافوهم ورجوْهم وأحبوهم فبهذا عكسوا مدلول (لا إله) إذْ أثبتوا مَأْلُوهَات تَأْلَهَهَا قلوبهم تعبّداً لأن أركان العبادة هي هذه الثلاث الخوف والرجاء والمحبة.

ومَبْنى كلمة التوحيد على نفي كل معتقداتهم التي نشأ عنها تَأَلّه قلوبهم عن الرسل والملائكة فضلاً عن غيرهم وإثبات ذلك لله
যিনি পূর্বোক্ত বিষয়সমূহ অবগত হয়েছেন এবং তা অনুধাবন করেছেন, তাঁর নিকট ঐ সকল ব্যক্তির পথভ্রষ্টতা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যারা ‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই’ বলে, অথচ তারা আল-বাদাউয়ি, আদ-দাসুকি, যয়নব অথবা কবরবাসীদের মধ্য হতে অন্য কারো প্রতি অলৌকিক ক্ষমতার বিশ্বাস পোষণ করে। তারা তাদের নামে মানত করে, তাদের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করে এবং তাদের নিকট প্রার্থনা করে; আর তারা কেবল ‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই’ এ কথা বলার দ্বারাই প্রবঞ্চিত হয়।

তারা কি জানে না যে, ‘কোনো সত্য উপাস্য নেই’ এই অংশটি কবরবাসীদের সম্পর্কে তাদের পোষণকৃত সকল বিশ্বাসকে নাকচ করে দেয়? তাদের প্রতি তাদের এই বিশ্বাসের কোনো বাস্তবতা নেই, বরং তা কেবল তাদের কল্পনাপ্রসূত। আর এই কল্পনার বশবর্তী হয়েই তারা শিরক ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়েছে। তারা ধারণা করে নিয়েছে যে, শিরক কেবল সৃষ্টি করা, রিযিক দান অথবা মহাবিশ্ব পরিচালনার বিশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে তারা যা করে, সে সম্পর্কে শয়তান তাদের এই ধারণায় আচ্ছন্ন করেছে যে, এটি আউলিয়াদের প্রতি ভালোবাসা, তাঁদের মর্যাদার উসিলা গ্রহণ এবং তাঁদের মাধ্যমে রবের নৈকট্য লাভের প্রত্যাশা মাত্র। এভাবে শয়তান তাদের শিরকে নিপতিত করেছে; যেহেতু তাদের অন্তরসমূহ এই মূর্তিবৎ সত্তাগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং তারা তাদের ভয় করে, তাদের নিকট আশা পোষণ করে এবং তাদের ভালোবাসে। এর মাধ্যমে তারা ‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই’-এর মর্মার্থকে উল্টে দিয়েছে; যেহেতু তারা এমন কিছু উপাস্য সাব্যস্ত করেছে যাদের প্রতি তাদের অন্তর ইবাদতের উদ্দেশ্যে অনুগত হয়। কেননা ইবাদতের মূল স্তম্ভ হলো এই তিনটি: ভয়, আশা ও ভালোবাসা।

আর তাওহীদের কালিমার ভিত্তি হলো তাদের সেই সকল বিশ্বাসকে নাকচ করে দেওয়া, যার ফলে রাসূল ও ফেরেশতাগণের প্রতি—অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য—তাদের অন্তরে উপাস্যের স্থান তৈরি হয়েছে; এবং সেই একক উপাসত্ব কেবল আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وحده وهو المراد من (إلا الله) في كلمة التوحيد. إن هذا التّوَجّه بالقلوب والإعتقاد هو مراد الرب من خلقه ولايقبله إلا خالصاً بلا شركة مخلوق لانبي ولاغيره. إن مدلول كلمة لا إله إلا الله عظيم وكبير. وكم ممن يغرّه الشيطان بهذه الكلمة دون تحقيق.
তিনি একক এবং তাওহীদের কালিমায় ‘আল্লাহ ব্যতীত’ (ইল্লাল্লাহ) বাক্যাংশ দ্বারা তাঁকেই বোঝানো হয়েছে। অন্তর ও বিশ্বাসের এই যে ঐকান্তিকতা—এটাই সৃষ্টির নিকট থেকে রবের প্রত্যাশিত মূল লক্ষ্য; আর তিনি একে কেবল তখনই কবুল করেন, যখন তা কোনো সৃষ্টির অংশীদারিত্ব—চাই তিনি নবী হোন বা অন্য কেউ—থেকে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিখাদ হয়। নিশ্চয়ই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালিমার তাৎপর্য অত্যন্ত মহান ও সুগভীর। আর কতই না এমন লোক রয়েছে যাদের শয়তান এই কালিমার দ্বারা প্রবঞ্চিত করে রাখে, অথচ তারা এর প্রকৃত হাকীকত ও দাবি বাস্তবায়ন করে না।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم قال مصطفى: والنبي يشكو أمته في القرآن ولا يتوسط لمذنبيها فيقول لربه: (يارب إن قومي أتخذوا هذا القرآن مهجوراً) وهي شكوى صريحة وكلام مناقض لأيّ شفاعة. ولن ينجو من المذنبين إلا من تكرم عليه رب العزة وفتح له باباً للتوبة قبل الممات. (1)

الجواب: هذه نزلت في المشركين كانوا لايُصغون للقرآن حين يتلى عليهم ولايستمعونه. ولا تُناقض الشفاعة لأهل الذنوب من الموحدين ولاتدل على نفي الشفاعة لهم بأيّ وجه. أما أنه لاينجو من المذنبين إلا من تاب قبل الممات فباطل مخالف لعقيدة أهل السنة والجماعة وهو إنكار لأحاديث الشفاعة الصحيحة بل وإنكار لما ثبت من أن الله يخرج من النار من شاء برحمته دون شفاعة شافع.

--------------------------------------------

(1) ص 17،18.
এরপর মোস্তফা বলেন: নবী কুরআনে তাঁর উম্মতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং এর পাপিষ্ঠদের জন্য মধ্যস্থতা (সুপারিশ) করেন না; বরং তিনি তাঁর প্রতিপালককে বলেন: (হে আমার পালনকর্তা! আমার জাতি তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য সাব্যস্ত করেছে)। এটি একটি সুস্পষ্ট অভিযোগ এবং যেকোনো প্রকার সুপারিশের পরিপন্থী বক্তব্য। আর পাপিষ্ঠদের মধ্য হতে কেবল তারাই মুক্তি পাবে যাদের প্রতি মহান রব অনুগ্রহ করেছেন এবং মৃত্যুর পূর্বে তাদের জন্য তওবার দ্বার উন্মোচন করেছেন। (১)

উত্তর: এই আয়াতটি মুশরিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; তারা তাদের সামনে কুরআন তেলাওয়াতকালে কর্ণপাত করত না এবং তা শ্রবণ করত না। এটি গুনাহগার মুওয়াহহিদদের (একত্ববাদী) জন্য সুপারিশের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং কোনোভাবেই তাদের জন্য সুপারিশ নাকচ হওয়াকে নির্দেশ করে না। আর এই দাবি যে—মৃত্যুর পূর্বে তওবা করা ব্যতীত কোনো পাপিষ্ঠই মুক্তি পাবে না—তা অলীক ও বাতিল এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহর পরিপন্থী। এটি সুপারিশ সংক্রান্ত সহীহ হাদীসসমূহের অস্বীকৃতি, বরং এটি সেই প্রমাণিত সত্যেরও বিরুদ্ধাচরণ যে, আল্লাহ তাআলা কোনো সুপারিশকারীর সুপারিশ ব্যতিরেকেই কেবল তাঁর নিজ রহমতে যাকে ইচ্ছা জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৭, ১৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم قال: والملائكة في طَوَافهم حول العرش يسبحون لربهم ويستغفرون للمؤمنين ويدعون لهم قائلين: {ربنا وسعت كل شيء رحمة وعلماً فاغفر للذين تابوا واتبعوا سبيلك وقهم عذاب الجحيم} الآيات.

إذن الوسيلة الوحيدة للنجاة من العقاب هي أن يقي ربنا عباده من الوقوع في السيئات أصلاً أويفتح لهم باب التوبة في حياتهم إذا تَوَرّطوا فيها.

وهذه أبواب الشفاعة الممكنة وهي دعاء النبي لِمسلمي هذه الأمة بأن يختم حياتهم بتوبة ونرجو أن نكون من الفائزين بهذا الدعاء. وهذا الدعاء المحمدي هو الشفاعة التي نفهمها بالمعنى القرآني. (1)

الجواب: من أنكر ماصح عن النبي صلى الله عليه وسلم فهو على شفا هلكة وقدْ صَحّ عنه صلى الله عليه وسلم أنه يشفع يوم القيامة بمن يأذن له الله بالشفاعة لهم من الموحدين. أما استغفار الملائكة للمؤمنين ودعاؤهم لهم. كذلك دعاء النبي صلى الله عليه وسلم لأمته فلا يمنع ولايعارض ماثبت من أمر الشفاعة في القيامة

--------------------------------------------

(1) ص 18.
এরপর তিনি বললেন: আর ফেরেশতারা আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণরত অবস্থায় তাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেন এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন ও তাঁদের জন্য এই বলে দোয়া করেন: "হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে, অতএব যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে তাদের আপনি ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন" - (এরূপ) আয়াতসমূহ।

সুতরাং, শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি লাভের একমাত্র উপায় হলো আমাদের প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের মূলত পাপকাজে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবেন অথবা যদি তারা তাতে জড়িয়ে পড়ে তবে তাদের পার্থিব জীবনেই তওবার পথ উন্মুক্ত করে দেবেন।

আর এগুলোই হলো শাফায়াতের সম্ভাব্য পথসমূহ, যা হলো এই উম্মতের মুসলিমদের জন্য নবীজির এই দোয়া করা যে, আল্লাহ যেন তওবার মাধ্যমে তাদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটান। আমরা আশা রাখি যে আমরা এই দোয়ার মাধ্যমে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হব। এই মুহাম্মাদী দোয়াই হলো সেই শাফায়াত যা আমরা কুরআনিক অর্থে বুঝে থাকি। (১)

উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তা যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। অথচ তাঁর থেকে এটি সহীহভাবে প্রমাণিত যে, কিয়ামতের দিন তিনি তাওহীদপন্থীদের মধ্যে আল্লাহ যাদের জন্য অনুমতি দেবেন তাঁদের জন্য শাফায়াত করবেন। আর মুমিনদের জন্য ফেরেশতাদের ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া, এবং একইভাবে স্বীয় উম্মতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দোয়া—কিয়ামতের শাফায়াত সংক্রান্ত প্রমাণিত বিষয়াবলির পরিপন্থী নয় এবং তা অস্বীকারও করে না।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فأيّ فهم هذا؟.

ثم قال: أما الشفاعة بمعنى هدم الناموس وإخراج المذنبين من النار وإدخالهم الجنة. فهي فَوْضى الوسايط التي نعرفها في الدنيا ولا وجود لها في الآخرة. وكل ماجاء بهذا المعنى في الأحاديث النبوية مشكوك في سنده ومصدره لأنه يخالف صريح القرآن.

ولايعقل من نبي القرآن أن يطالب بهدم القرآن. (1)

الجواب: يقال لهذا: ماهو الناموس الذي ينهدم إذا حصلت الشفاعة للمذنبين من الموحدين وأدخلوا الجنةبعد تعذيبهم بقدر ذنوبهم في النار؟

إن الله لايُساوي بين مختلفَيْن ولايفرّق بين متساوِيَيْن ولا يظلم مثقال ذرة. فالذي يأتي يوم القيامة بالتوحيد وله ذنوب فإما أن يغفرها الله أويعذب بقدر ذنوبه ثم يُؤذن بالشفاعة له فكيف يُساوَى هذا بالكافر؟

وانهدام الدين إنما هو بردّ ماثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وكوْن أحاديث الشفاعة مشكوك في سندها ومصدرها هذه داهية. ولِكل أحد أن يقول مثل هذا فيما يخالف هواه فهل يستقيم أمر الدين مع هذا التلاعب.

--------------------------------------------

(1) ص 19.
এটি কেমন বুঝ?

অতঃপর তিনি বললেন: শাফাআত (সুপারিশ) যদি নিয়ম ভঙ্গ করা এবং অপরাধীদের জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অর্থে হয়, তবে তা হবে দুনিয়াবি সেই বিশৃঙ্খল মধ্যস্থতার ন্যায় যা আমরা চিনি, পরকালে যার কোনো অস্তিত্ব নেই। আর এই অর্থে হাদীসে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার সনদ ও উৎস সন্দেহজনক; কেননা তা কুরআনের স্পষ্ট বাণীর পরিপন্থী।

আর কুরআনের নবীর পক্ষে কুরআনের বিধান লঙ্ঘনের দাবি করা অসম্ভব। (১)

উত্তর: এর জবাবে বলা হবে: সেই নিয়মটি কী যা ভেঙে পড়বে যদি তাওহীদপন্থী অপরাধীদের জন্য শাফাআত করা হয় এবং তাদের পাপের পরিমাণ অনুযায়ী জাহান্নামে শাস্তির পর তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়?

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দুই বিসদৃশ বিষয়ের মধ্যে সমতা করেন না এবং দুই সদৃশ বিষয়ের মাঝে পার্থক্য করেন না, আর তিনি অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তাওহীদ নিয়ে উপস্থিত হবে অথচ তার আমলনামায় পাপ থাকবে, আল্লাহ তাকে হয় ক্ষমা করবেন নতুবা তার পাপের পরিমাণ অনুযায়ী শাস্তি দেবেন এবং অতঃপর তার জন্য শাফাআতের অনুমতি দেবেন; এমতাবস্থায় তাকে কাফিরের সমান কীভাবে গণ্য করা যাবে?

বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত, তা প্রত্যাখ্যান করাই হলো দ্বীনের বিনাশ।

আর শাফাআত বিষয়ক হাদীসসমূহের সনদ ও উৎসকে সন্দেহজনক আখ্যা দেওয়া একটি মহা বিপর্যয়। যে কেউ তার প্রবৃত্তির বিরোধী বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন দাবি করতে পারে, তবে এই প্রকার চাতুর্যের দ্বারা কি দ্বীনের শৃঙ্খলা বজায় থাকা সম্ভব?

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৯।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أمّا أن أحاديث الشفاعة تخالف صريح القرآن فمن أبطل الباطل ويستحيل أن يصحّ عن النبي صلى الله عليه وسلم مايخالف القرآن. ثم إن الله يقول: {ولا يشفعون إلا لمن ارتضى} فلوْلا أن الشفاعة كائنة في القيامة لَمَا ذكر الله هذا الإسْتثناء. وقال تعالى: {من ذا الذي يشفع عنده إلا بإذنه} فلوْلا أن الشفاعة كائنة في القيامة لما ذكر سبحانه هذا الإستثناء. فهذه الآيات ونحوها في أهل التوحيد. أما الكفار فقد قال تعالى: {فما تنفعهم شفاعة الشافعين} مما يبين أن الشفاعة حاصلة لغيرهم. ويقول تعالى عن الكفار أيضاً: {فما لنا من شافعين} فأين المخالفة لصريح القرآن لوْلا سوء الفهم.؟
সুপারিশ (শাফায়াত) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট বাণীর বিরোধী—এ কথাটি চরম মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কুরআনের পরিপন্থী কোনো কিছু সহিহভাবে বর্ণিত হওয়া অসম্ভব। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।" কিয়ামতের ময়দানে যদি সুপারিশের কোনো অস্তিত্ব না-ই থাকত, তবে আল্লাহ তাআলা এই ব্যতিক্রমের উল্লেখ করতেন না। তিনি আরও ইরশাদ করেন: "কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?" কিয়ামত দিবসে সুপারিশের বিষয়টি সাব্যস্ত না থাকলে মহান আল্লাহ এই ব্যতিক্রমের অবতারণা করতেন না। সুতরাং এই আয়াতসমূহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতগুলো মূলত তাওহিদপন্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে কাফিরদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন: "সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না;" যা একথাই প্রমাণ করে যে, অন্যদের জন্য সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে। তিনি কাফিরদের সম্পর্কে আরও বলেন: "আমাদের তো কোনো সুপারিশকারী নেই।" অতএব, সঠিক বুঝের অভাব না থাকলে পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট বাণীর সাথে এর বিরোধ কোথায়?
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أما فَوْضى الوسائط المعروفة في الدنيا فهذا مبني على أصل فاسد وفهم فاسد حيث أن الشفاعة المثبتة في الآخرة تختلف اختلافاً كلياً عن وسائط الدنيا. فالواسطة في الدنيا يتوسط ولوْ لم يأذن له المشفوع عنده كما أن المشفوع عنده في الدنيا يجيب شفاعة الواسطة لأنه يخافه ويرجوه ويستعين به ويستظهر وإن كان في صورة ملك ونحوه فهو يحتاج إلى الأعوان والأنصار ويتضرر بعدم إجابته شفاعتهم.

والرب سبحانه وتعالى بخلاف هذا كله. وإنما هو يُكْرم الشافع بأن يجعله يشفع. ولا يشفع الشافع إلا بمن يريد الرب أن يرحمه فليست الشفاعة مُلكاً لأحد بل (لله الشفاعة جميعاً) وهو الذي يُعَيِّن المشفوع فيه للشافع.

ليس الشافع يتقدم بين يدي الجليل سبحانه مهما كانت منزلته فَسَيّد الشفعاء وأكرمهم عند ربه وأعظمهم جاهاً وأقربهم منزلة محمد صلى الله عليه وسلم يُحَدّ له حداً يشفع فيهم. وهذه كلها فروق بين شفاعة الدنيا وشفاعة الآخرة.
দুনিয়াতে প্রচলিত মধ্যস্থতার যে বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়, তা একটি ভ্রান্ত মূলনীতি এবং ত্রুটিপূর্ণ উপলব্ধির ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা পরকালে সাব্যস্ত সুপারিশ দুনিয়ার মধ্যস্থতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুনিয়াবি মধ্যস্থতাকারী এমন অবস্থায়ও মধ্যস্থতা করে যখন যার কাছে সুপারিশ করা হচ্ছে তিনি তাকে অনুমতি দেননি। তেমনিভাবে দুনিয়ার সুপারিশকৃত ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারীর সুপারিশ গ্রহণ করেন, কারণ তিনি তাকে ভয় পান অথবা তার প্রতি প্রত্যাশা রাখেন কিংবা তার সাহায্য ও সমর্থনের মুখাপেক্ষী হন। এমনকি তিনি যদি কোনো রাজা বা অনুরূপ পদমর্যাদার অধিকারীও হন, তবুও তার সহকারী ও সাহায্যকারীদের প্রয়োজন পড়ে এবং তাদের সুপারিশ গ্রহণ না করলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন।

কিন্তু মহান প্রতিপালক এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি বরং সুপারিশকারীকে সুপারিশ করার সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেন। আর সুপারিশকারী কেবল তার পক্ষেই সুপারিশ করতে পারেন যার প্রতি মহান প্রতিপালক দয়া করতে চান। সুতরাং সুপারিশ করার একক ইখতিয়ার বা মালিকানা কারো নেই, বরং "সমস্ত সুপারিশ একমাত্র আল্লাহরই।" আর তিনিই সুপারিশকারীর জন্য সেই ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে দেন যার জন্য সুপারিশ করা হবে।

সুপারিশকারী মহান প্রতাপশালী আল্লাহর সামনে নিজ থেকে অগ্রবর্তী হন না, তাঁর মর্যাদা যত সুউচ্চই হোক না কেন। এমনকি সুপারিশকারীদের নেতা, তাঁর রবের নিকট সর্বাধিক সম্মানিত, মহান মর্যাদার অধিকারী এবং নিকটতম অবস্থানের অধিকারী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্যও একটি সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে যে, তিনি কাদের জন্য সুপারিশ করবেন। পরকালের সুপারিশ এবং দুনিয়াবি সুপারিশের মধ্যে এগুলোই হলো মৌলিক পার্থক্য।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولذلك من تعلّق بغير الله طالباً منه الشفاعة حُرِمها لأنها ملك لله سبحانه ولأن هذا شرك.

ومِنْ عدم التفريق بين الشفاعة عند المخلوقين من الملوك ونحوهم وبين الشفاعة عند الخالق سبحانه حصل الضلال والشرك حيث تعلقت القلوب بغير الإله الحق سبحانه.

ومما يُهوّن معرفة ماتقدم أن الرب سبحانه هو الخالق لأفعال العباد فلا أحد يملك أن يتحرك قلبه بإرادة شفاعة لأحد إلا أن يكون الله يخلق ذلك فيه. وكذلك جوارحه. فالأمر كله له سبحانه. إن تأمل هذا ومعرفته بالقلب يعطي العبد فرقاناً عظيماً بين الشرك والتوحيد بِقِسْمَيْه ويعرّفه معنى الكلمة العظيمة (لاحول ولاقوة إلا بالله) فهو المحرك للمتحرك والمسكّن للساكن في السموات والأرض. فهذا من توحيد الربوبية الذي يسْتلزم توحيد الإلهية.

وتأمل ماورد في حديث الشفاعة وهو في الصحيحين (آتي تحت العرش فأخِرّ ساجداً فيدعني ماشاء الله أن يدعني ثم يقال: إرفع رأسك وقل تسمع واشْفع تشفّع قال: فيحدّ لي حَدّاً فأدْخلهم الجنة؟)

 

إذا كان يُحَدّ له صلى الله عليه وسلم فرجع الأمر كله لله
এজন্যই যে ব্যক্তি সুপারিশ লাভের আশায় আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সাথে সম্পৃক্ত হয়, সে তা থেকে বঞ্চিত হবে; কারণ সুপারিশ একমাত্র মহান আল্লাহর মালিকানাধীন এবং এটি শিরক।

সৃষ্টিজগতের রাজা-বাদশাহ ও সমপর্যায়ের অন্যদের নিকট সুপারিশ এবং মহান স্রষ্টার নিকট সুপারিশের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই পথভ্রষ্টতা ও শিরকের উৎপত্তি হয়েছে, যেখানে মানুষের অন্তরসমূহ সত্য ইলাহ ব্যতীত অন্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে।

উপরে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুধাবন করা সহজতর হবে যদি জানা থাকে যে, মহান প্রতিপালকই বান্দার সকল কর্মের স্রষ্টা। সুতরাং আল্লাহ কারো অন্তরে কারো জন্য সুপারিশের ইচ্ছা সৃষ্টি না করলে কারো পক্ষেই সুপারিশের ইচ্ছা পোষণ করা সম্ভব নয়। তেমনিভাবে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অতএব, সকল কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত একমাত্র তাঁরই। অন্তরের মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ও উপলদ্ধি করা বান্দাকে শিরক এবং তাওহীদের উভয় প্রকারের মাঝে এক মহান পার্থক্যকারী জ্ঞান দান করে এবং তাকে সেই মহান কালিমার (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো পরিবর্তন বা শক্তি নেই) গূঢ় অর্থ বুঝিয়ে দেয়। আসমান ও জমিনের যাবতীয় সচল বস্তুর গতিদাতা এবং স্থবির বস্তুর স্থিরতা দানকারী একমাত্র তিনিই। এটি রুবুবিয়্যাতের তাওহীদের অংশ, যা উলুহিয়্যাতের তাওহীদকেও অপরিহার্য করে তোলে।

সুপারিশ সংক্রান্ত সেই হাদীসটির প্রতি লক্ষ্য করুন যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে: (আমি আরশের নিচে আসব এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন আমাকে সেভাবেই থাকতে দেবেন। এরপর বলা হবে: আপনার মাথা উত্তোলন করুন; কথা বলুন, আপনার কথা শোনা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তিনি বলেন: তখন আমার জন্য একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।)

 

যদি স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যও সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, তবে যাবতীয় বিষয়াদি চূড়ান্তভাবে আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন করে।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وطلب الشفاعة من غيره شرك وضلال. والأحاديث متواترة في شفاعته صلى الله عليه وسلم في العصاة من أهل التوحيد الذين يدخلون النار بذنوبهم وقد أجمع عليها الصحابة وأهل السنة قاطبة وبَدَّعُوا من أنكرها وصاحوا به من كل جانب ونادَوْا عليه بالضلال.

আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করা শিরক ও পথভ্রষ্টতা। আর তাওহীদপন্থী সেই সকল পাপাচারী যারা স্বীয় গুনাহের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশের বিষয়টি মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সাহাবায়ে কেরাম এবং আহলুস সুন্নাহর সকল ইমাম এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। যারা এই সুপারিশ অস্বীকার করে, তারা তাদেরকে বিদআতী বলে আখ্যায়িত করেছেন, চারদিক থেকে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং তাদের গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم قال: ولكن المسلمين الذين عُرفوا بالإتِّكاليه قدْ باتوا يفعلون كل منكر ويرتكبون عظائم الذنوب أتكالاً على نبيهم الذي سوف يخرجهم في حفْنة واحدة من النار ويلقي بهم في الجنة بفضله وكرمهِ وهم الذين شكاهم إلى ربه في صريح قرآنه وجَأَرَ بشكواه قائلاً:

{يارب إن قومي اتخذوا هذا القرآن مهجوراً} (1).

الجواب: أما أن يرتكب العبد عظائم الذنوب اتكالاً على الشفاعة فهذا إنما يفعله من هو مِن أجهل الناس لكن لايُرَدّ الباطل بباطل فشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم ثابته للمذنبين من أهل التوحيد من أمته وإنكار ذلك رَدّ على الله أمره وعلى رسوله مابلّغه.

إن هذا هو مَشْرب الخوراج حيث عظّموا الرب سبحانه بما اخترعوه من عند نفوسهم ليس لهم فيه برهان حيث ضاقت

--------------------------------------------

(1) ص 19.
এরপর তিনি বললেন: কিন্তু সেই সব মুসলিম যারা পরনির্ভরশীলতার জন্য পরিচিত, তারা তাদের নবীর ওপর ভরসা করে যাবতীয় অপকর্ম ও কবীরা গুনাহে লিপ্ত হচ্ছে—এই বিশ্বাসে যে, তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যে তাদের এক গণ্ডুষে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন এবং জান্নাতে পৌঁছে দেবেন। অথচ এরাই সেই লোক যাদের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর রবের কাছে পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন এবং আর্তনাদ করে বলেছেন:

{হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে} (১)।

উত্তর: কোনো বান্দার শাফায়াতের ওপর ভরসা করে কবীরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া চরম মূর্খদেরই কাজ। তবে কোনো বাতিলের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অপর কোনো বাতিলের আশ্রয় নেওয়া সমীচীন নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফায়াত তাঁর উম্মতের তাওহীদপন্থী গোনাহগারদের জন্য সুসাব্যস্ত এবং তা অস্বীকার করা মূলত আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূল যা পৌঁছে দিয়েছেন তার প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা।

মূলত এটি খাওয়ারিজদের মতাদর্শ, যেখানে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবিত বিষয়ের মাধ্যমে মহান প্রতিপালকের মহিমা বর্ণনা করে অথচ এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই; যেখানে তারা সঙ্কীর্ণ করে ফেলেছে...

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৯।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
صدورهم ولم تَتّسع لأن يرحم الله أهل التوحيد الذين اسْتَوْجبوا النار بذنوبهم فيخرجهم منها بالشفاعة. وقد وقعوا بأعظم مما فرّوا منه ولذلك ورد في ذمهم ماهو معلوم. والدين ليس بالرأي. وحَسْبُ العقل من الكمال أن يلْتزم ماورد به الكتاب والسنة وبفهم الصحابة.

وآية: {يارب إن قومي اتخذوا هذا القرآن مهجوراً}. تقدم أنها في المشركين لكن هجران القرآن أنواع متفاوته فأعظم هجرانه عدم الإيمان به ثم لمن هجره بالتقصير في حقه نصيب من الذم ولو كان مُوَحِّداً ولا يُلْحقه ذلك بالكفار ولاتدل الآية على نفي الشفاعة بأي وجه.
তাদের অন্তরসমূহ প্রশস্ত ছিল না যাতে তারা এ বিষয়টি ধারণ করতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা সেই সকল একত্ববাদী ব্যক্তিদের প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন যারা নিজেদের পাপের কারণে জাহান্নামের উপযুক্ত হয়েছিল, অতঃপর সুপারিশের মাধ্যমে তিনি তাদেরকে সেখান থেকে বের করে আনবেন। তারা যা থেকে পলায়ন করতে চেয়েছিল, তার চেয়েও গুরুতর বিষয়ে তারা নিপতিত হয়েছে; আর একারণেই তাদের নিন্দায় যা বর্ণিত হয়েছে তা সুবিদিত। দ্বীন ব্যক্তিগত মতামতের ওপর নির্ভরশীল নয়। বুদ্ধিবৃত্তির জন্য এটাই যথেষ্ট পূর্ণতা যে, তা কিতাব ও সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের উপলব্ধির আলোকে বর্ণিত বিষয়ের প্রতি অনুগত থাকবে।

আর এই আয়াত: {হে আমার পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে}—এ বিষয়ে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে এটি মুশরিকদের প্রসঙ্গে। তবে কুরআন পরিত্যাগ বা বর্জনের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে; এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বর্জন হলো এর ওপর ঈমান না আনা। অতঃপর যে ব্যক্তি এর হকের ক্ষেত্রে অবহেলার মাধ্যমে একে বর্জন করবে, তার জন্য নিন্দার একটি অংশ থাকবে যদিও সে একত্ববাদী হয়ে থাকে; তবে এটি তাকে কাফিরদের পর্যায়ভুক্ত করে না। আর এই আয়াতটি কোনোভাবেই সুপারিশ বা শাফাআত অস্বীকারের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করে না।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثم قال: والقرآن يقول: {لله الشفاعة جميعاً} وهو بذلك يجمع سلطة الشفاعة جمعيّة واحدة ويجعلها لله وحده ويقول: {مامن شفيع إلا من بعد إذنه} والسبب طبيعي فهو وحده الذي يعلم استحقاقات كل فرد ومافعل في دنياه من خير وشر وماهي أعْذاره إن كانت له أعذار. وهو الوحيد الذي يعلم قلبه وضميره ويعلم سّره ويعلم ماهو أخفى من ذلك السرّ. فماذا تضيف شفاعة أيّ شفيع لعلم الله؟ {أتنبئون الله بمالا يعلم في السموات ولافي الأرض} (1).

الجواب: شفاعة الشافعين لاتُعارض مُلْكيته سبحانه للشفاعة فإنه يُكرمهم بالشفاعة ولايشفعون إلا بعد أن يأذن لهم ولايشفعون أيضاً إلا لمن ارْتضى. فعاد الأمر كله له سبحانه بخلاف المخلوق الذي يُشفع عنده بغير إذنه ويستجيب لشفاعة الشافع ولوْ لم يرض

--------------------------------------------

(1) ص 20.
এরপর তিনি বললেন: আর কুরআন বলছে: {সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই জন্য}। এর মাধ্যমে তিনি সুপারিশের পূর্ণ কর্তৃত্বকে এককভাবে সমন্বিত করেছেন এবং তা কেবল আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করেছেন। তিনি আরও বলেন: {তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো সুপারিশকারী নেই}। এর কারণ অত্যন্ত স্বাভাবিক, কেননা একমাত্র তিনিই প্রতিটি ব্যক্তির যোগ্যতা এবং সে তার পার্থিব জীবনে কী কল্যাণ বা অকল্যাণকর কাজ করেছে এবং তার যদি কোনো ওজর থাকে তবে তাও জানেন। একমাত্র তিনিই মানুষের অন্তর ও বিবেক সম্পর্কে অবগত, তিনি তাদের গোপন রহস্য জানেন এবং সেই রহস্যের চেয়েও নিগূঢ় বিষয় সম্পর্কেও তিনি পরিজ্ঞাত। সুতরাং কোনো সুপারিশকারীর সুপারিশ আল্লাহর জ্ঞানে নতুন কী যোগ করবে? {তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না?} (১)।

উত্তর: সুপারিশকারীদের সুপারিশের বিষয়টি সুপারিশের ওপর মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ তিনি তাঁদেরকে সুপারিশের সুযোগ দিয়ে সম্মানিত করেন এবং তাঁরা তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে সুপারিশ করেন না, আর তাঁরা কেবল তাঁদের জন্যই সুপারিশ করেন যাঁদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। সুতরাং সমগ্র বিষয়টি মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণেই পর্যবসিত হয়; যা সৃষ্টজীবের অবস্থার বিপরীত, যার নিকট তার অনুমতি ব্যতিরেকেই সুপারিশ পেশ করা হয় এবং সে সুপারিশকারীর সুপারিশ গ্রহণ করে নেয় যদিও সে তাতে সন্তুষ্ট না থাকে।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ২০।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
عن المشفوع له وتقدم بيان ذلك. ويلاحظ ركاكة عبارات هذا الكاتب في كلامه عن الله وعن الدين. مثل وصْفه الله بالوحيد.

كذلك فإن إثبات الشفاعة لاينافي علم الله سبحانه المحيط بكل شيء فالشفاعة تكريم للشافع ورحمة للمشفوع له وهي سبب من جملة الأسباب كما أن أعمال العبد المؤمن سبب لدخول الجنة ليست قيمة وثمناً لها.
যাঁর জন্য সুপারিশ করা হয় তাঁর সম্পর্কে পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, আল্লাহ এবং দীন সম্পর্কে এই লেখকের বক্তব্যসমূহে শব্দের যথেষ্ট দুর্বলতা ও অসারতা রয়েছে। যেমন, আল্লাহ তাআলাকে ‘একাকী’ হিসেবে বিশেষায়িত করা।

তদ্রূপ, শাফাআতের (সুপারিশের) বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেওয়া মহান আল্লাহর সর্বব্যাপ্ত জ্ঞানের পরিপন্থী নয়। মূলত শাফাআত হলো সুপারিশকারীর জন্য একটি সম্মান এবং যাঁর জন্য সুপারিশ করা হয় তাঁর প্রতি একটি অনুগ্রহ মাত্র; আর এটি কর্মফল লাভের নানাবিধ উপকরণের মধ্য থেকে একটি উপকরণ। যেমন একজন মুমিন বান্দার আমল জান্নাতে প্রবেশের উসিলা বা মাধ্যম মাত্র, জান্নাতের প্রকৃত মূল্য বা বিনিময় নয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم قال: القرآن يقول في قطعية واضحة: أن الله لايشرك في حكمه أحداً. ويقول في قرآنه: {وأنذر به الذين يخافون أن يحشروا إلى ربهم ليس لهم من دونه ولي ولا شفيع}.

وكل هذا نفي صريح للشفاعة يوم الحساب. ثم يتكرر نفس المعنى في آية أخرى في سورة السجدة: {الله الذي خلق السموات والأرض ومابينهما في ستة أيام ثم استوى على العرش مالكم من دونه من ولي ولاشفيع أفلا تتذكرون} فأضاف في هذه الآية حرف (من) {مالكم من دونه من ولي ولاشفيع}. وهو نفي قطعي لأي نوع من ولي أوْ شفيع هذه الآيات المحكمات في نفي الشفاعة تجعلنا نعيد النظر بتفهّم لأي آية تتكلم عن الشفاعة ونفهمها في حدود (المتشابه) فلا ننساق وراء هذه الأحاديث التي تملأ كتب السيرة وتدّعي بأن النبي عليه الصلاة والسلام سوف يُخرج من النار كل من قال لا إله إلا الله.
অতঃপর তিনি বললেন: কুরআন সুনিশ্চিত সুস্পষ্টতায় বলছে: আল্লাহ তাঁর কর্তৃত্বে কাউকে শরিক করেন না। এবং তিনি তাঁর কুরআনে বলেন: {আর এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করো যারা ভয় পায় যে তাদেরকে তাদের রবের নিকট সমবেত করা হবে, তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারী নেই}।

আর এই সবই বিচার দিবসে সুপারিশের (শাফাআতের) সরাসরি অস্বীকৃতি। এরপর সূরা আস-সাজদাহর অন্য একটি আয়াতে একই অর্থের পুনরাবৃত্তি হয়েছে: {আল্লাহই আসমানসমূহ, জমিন ও এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারী নেই; তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} অতঃপর তিনি এই আয়াতে 'মিন' (কোনো) অব্যয়টি যোগ করেছেন {তোমাদের জন্য তিনি ছাড়া 'কোনো প্রকার' অভিভাবক বা সুপারিশকারী নেই}। এটি যেকোনো ধরনের অভিভাবক বা সুপারিশকারীর অস্তিত্বের এক চূড়ান্ত ও অকাট্য অস্বীকৃতি। সুপারিশ নাকচকারী এই সুষ্পষ্ট (মুহকাম) আয়াতগুলো আমাদেরকে সুপারিশ সংক্রান্ত যেকোনো আয়াত সম্পর্কে সমঝদারির সাথে পুনর্বিবেচনা করতে এবং সেগুলোকে ‘মুতাশাবিহ’ (রূপক বা অস্পষ্ট) এর সীমারেখার মধ্যে বুঝতে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং আমরা যেন সেই সব হাদিসের পেছনে না ছুটি যা সিরাত গ্রন্থগুলোতে সয়লাব হয়ে আছে এবং দাবি করে যে, নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) জাহান্নাম থেকে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে বের করে আনবেন যে বলেছে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وما أسهل أن نقول وما أهْون أن ننطق بالكلام ونحن أكثر الأمم كلاماً وأقلها التزاماً. (1)

الجواب: تقدم أن الشافع غير شريك لله سبحانه وإنما هو مُكْرم بالشفاعة. وقوله تعالى: {وأنذر به الذي يخافون أن يحشروا إلى ربهم ليس لهم من دونه ولي ولا شفيع}.

لاتدل على نفي الشفاعة مطلقاً. وإنما دلالتها القطعية على نفي الشفاعة من دونه وهي التي لم يأذن بها ولم يرض عن صاحبها. فهذه لا وجود لها في القيامة. أما في الدنيا فقد اتّخِذَتْ الشفعاء وتولاّهم المشركون ولن يُغنوا عنهم شيئاً حيث طلبوها ممن لايملكها. ولذلك يقول الموحّد: اللهم شفّع فيِّ نبيي لايقول: يارسول الله إشفع لي: فالرسول لايملكها ولايقدر عليها اسْتقلالاً.

أما جعل الأحاديث الثابتة عن الصادق المصدوق الذي لاينطق عن الهوى صلى الله عليه وسلم في حدود المتشابه فهذا زيغ وضلال ورَدّ على الرسول أمره.

قال ابن تيمية رحمه الله: ومقصود القرآن بنفي الشفاعة نفي الشرك وهو أن أحداً لايعبد إلا الله ولايدعو غيره ولايسأل غيره ولايتوكل على أحد في أن يرزقه وإن كان الله يأتيه برزقه بأسباب.

--------------------------------------------

(1) ص 21، 22.
বলা কতই না সহজ এবং মুখে কথা আনা কতই না মামুলি বিষয়, অথচ আমরা জাতি হিসেবে কথার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী এবং আমল ও প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে পশ্চাৎপদ। (১)

উত্তর: ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, সুপারিশকারী মহান আল্লাহর কোনো অংশীদার নন, বরং তিনি সুপারিশের অধিকার প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত। আর মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি এর (কুরআনের) মাধ্যমে তাদের সতর্ক করুন যারা ভয় পায় যে তাদের প্রতিপালকের নিকট সমবেত করা হবে, তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই।"

এই আয়াতটি ঢালাওভাবে সুপারিশ অস্বীকার করার ওপর প্রমাণ পেশ করে না। বরং এর অকাট্য প্রমাণ হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের পক্ষ হতে সুপারিশের অস্বীকৃতি—যার অনুমতি তিনি দেননি এবং যার যাচনাকারীর ওপর তিনি সন্তুষ্ট নন। কিয়ামতের দিনে এ জাতীয় সুপারিশের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। পক্ষান্তরে দুনিয়াতে মুশরিকরা অনেক সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে এবং তাদের অভিভাবক হিসেবে মেনে নিয়েছে, কিন্তু তারা তাদের কোনোই উপকারে আসবে না, কারণ তারা এমন সত্তার কাছে সুপারিশ চেয়েছে যার কোনো মালিকানা নেই। এজন্যই একজন একত্ববাদী বা মুওয়াহহিদ বলেন: হে আল্লাহ! আমার অনুকূলে আপনার নবীর সুপারিশ কবুল করুন। তিনি এটি বলেন না যে: হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য সুপারিশ করুন। কারণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বতন্ত্রভাবে সুপারিশের মালিক নন এবং তিনি এককভাবে এর ক্ষমতা রাখেন না।

আর সাদিকুল মাসদুক (সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ), যিনি নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর থেকে প্রমাণিত হাদীসগুলোকে 'মুতাশাবিহাত' বা অস্পষ্ট ও রূপক বিষয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ করা হলো সত্যচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতা এবং এটি সরাসরি রাসূলের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার নামান্তর।

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: কুরআন মাজীদে সুপারিশ নাকচ করার উদ্দেশ্য হলো শিরক বা অংশীদারিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা। এর মূল তাৎপর্য হলো এই যে, মানুষ যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করে, অন্য কাউকে না ডাকে, অন্য কারো কাছে প্রার্থনা না করে এবং কারো ওপর এই ভরসা না করে যে সে তাকে রিযিক দেবে—যদিও আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন মাধ্যম ও উপকরণের সাহায্যে তার নিকট রিযিক পৌঁছে দিয়ে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ২১, ২২।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
كذلك ليس له أن يتوكل على غير الله في أن يغفر له ويرحمه في الآخرة وإن كان الله يغفر له ويرحمه بأسباب من شفاعة وغيرها. فالشفاعة التي نفاها القرآن مطلقاً ماكان فيها شرك وتلك مُنْتفية مطلقاً. ولهذا أثبت الشفاعة بإذنه في مَوَاضع. وتلك قدْ بيّن الرسول صلى الله عليه وسلم أنها لاتكون إلا لأهل التوحيد والإخلاص. فهي في التوحيد ومُسْتحقيها أهل التوحيد. إنتهى. (1)

تأمله فإنه فرقان في هذه المسئلة وأعلم أن نفي الشفاعة المراد منه. أن الشفاعة بغير إذنه غير حاصلة في القيامة. فنفاها سبحانه باعتبار أنها غير موجودة وكالشيء المعدوم في الآخرة.

--------------------------------------------

(1) الفتاوى 7/ 78.
একইভাবে, পরকালে ক্ষমা ও দয়া লাভের ক্ষেত্রে আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কারো ওপর ভরসা করা কারো জন্য বৈধ নয়, যদিও আল্লাহ তাআলা সুপারিশ ও অন্যান্য উসিলায় ব্যক্তিকে ক্ষমা ও দয়া করে থাকেন। কুরআন যে সুপারিশকে নিরঙ্কুশভাবে নাকচ করেছে, তা হলো এমন সুপারিশ যাতে শিরক মিশ্রিত থাকে; আর সেই প্রকার সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব। একারণেই আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন স্থানে তাঁর অনুমতিক্রমে সুপারিশের বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট করেছেন যে, তা কেবল তাওহীদ ও ইখলাসপন্থীদের জন্যই হবে। সুতরাং সুপারিশ তাওহীদের অনুসারীদের জন্য এবং এর প্রকৃত হকদার হলো তাওহীদপন্থীগণ। সমাপ্ত। (১)

বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন, কেননা এটি এই মাসআলার ক্ষেত্রে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। জেনে রাখুন, সুপারিশ নাকচ করার উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কিয়ামতের দিন কোনো সুপারিশ সংঘটিত হবে না। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে এই বিবেচনায় নাকচ করেছেন যে, এটি পরকালে অবাস্তব ও অনস্তিত্বশীল বিষয়ের মতো।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া ৭/৭৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم قال: وللأسف الشديد نحن نقرأ كتب السيرة والأحاديث بتسليم مطلق وكأنها قرآن منزل ومحفوظ. والله لم يقل لنا أنه تولى حفظ هذه الكتب. وهو لم يحفظ إلا القرآن وكل ماعدا القرآن من كتب يجب أن تخضع للنقد والفحص مهما عظم شأن أصحابها. (1)

الجواب: كتب السيرة والأحاديث لايقرؤها بتسليم مطلق وكأنها قرآن منزل محفوظ إلا من لايعرف كلام أهل العلم في ذلك وأنه لابد من تمييز الصحيح من غيره كما أن هذه الكتب يختلف بعضها عن بعض فليس الصحيحان كغيرهما. وأنت بكلامك هذا لاتقصد ماقصده الأئمة والعلماء من النصح لله ولرسوله بتمييز ماصَحّ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من غيره فقد شكّكت في أحاديث الشفاعة الصحيحة ونفيتها. وسيأتي إن شاء الله طعنه حتى على الصحيحين.

--------------------------------------------

(1) ص 22، 23.
অতঃপর তিনি বললেন: অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমরা সীরাত ও হাদীসের গ্রন্থসমূহকে এমন নিরঙ্কুশ আত্মসমর্পণের সাথে পাঠ করি যেন সেগুলো অবতীর্ণ ও সংরক্ষিত কুরআন। আল্লাহ আমাদের বলেননি যে, তিনি এই গ্রন্থগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি কেবল কুরআনই সংরক্ষণ করেছেন; আর কুরআন ব্যতীত অন্যান্য সকল গ্রন্থই পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের অধীন হওয়া আবশ্যক, তাদের রচয়িতাদের মর্যাদা যত মহানই হোক না কেন। (১)

উত্তর: সীরাত ও হাদীসের গ্রন্থসমূহকে অবতীর্ণ ও সংরক্ষিত কুরআনের ন্যায় নিরঙ্কুশ আত্মসমর্পণের সাথে কেবল তারাই পাঠ করে, যারা এ বিষয়ে বিদগ্ধ আলিমদের মূলনীতি সম্পর্কে অবগত নয় যে, অবশ্যই বিশুদ্ধ (সহীহ) বর্ণনাকে অন্যগুলো থেকে পৃথক করতে হবে। তদুপরি এই গ্রন্থগুলো একটি অপরটি থেকে ভিন্ন; যেমন 'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম) অন্য গ্রন্থগুলোর মতো নয়। আর আপনি আপনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্য পোষণ করছেন না যা ইমাম ও আলিমগণ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি কল্যাণ কামনার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোকে অন্যান্য বর্ণনা থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে করেছেন। বরং আপনি শাফায়াত (সুপারিশ) সংক্রান্ত সহীহ হাদীসসমূহকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং তা অস্বীকার করেছেন। আর ইনশাআল্লাহ অচিরেই সহীহাইন-এর ওপরও তাঁর করা কটাক্ষের বিষয়টি সামনে আসবে।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ২২, ২৩।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
أما النقد والتمحيص فليس لك ولا لأمثالك. فجهلك طافح به كتابك وردّك أحاديث الرسول الثابتة لمخالفتها لبدعتك يوجب نقدك وتمحيصك أولاً ليظهر ضلالك وأنك غير ثقة ولا مؤتمن على هذه البضاعة.

وإنما تكلمتَ في زمان قُبِضَ فيه العلم فأنت من رؤوس أهله الجهال.

ثم قال: والإسرائيليات تملأ كتب السيرة وقدْ دَسّوا علينا أن الرسول سُحِرَ وأن جبريل استخرج لفافة السحر من البئر وهو كذب صراح بشهادة القرآن نفسه بما روى على لسان الكفار أتّهاماً للنبي عليه الصلاة والسلام: {إذ يقول الظالمون إن تتبعون إلا رجلاً مسحوراً} فالقرآن ينسب أمثال هذا الإتهام للظالمين من الكفار الذين يُريدون تشويه صورة النبي بمالا يليق وبماليس فيه. والآية تكذيب ضمني لهذه الحكايات التي ذكرها كتاب السيرة والتي رَوَتْ أن النبي عليه الصلاة والسلام بِفِعْل هذا السحر كان يأتي بأفعال ولايُدرك بأنه فعلها ويأتي بأقوال ولايدري بأنه قالها حتى أخرج له جبريل السحر وتمّ شفاؤه. وهو كلام خطير يطعن في دَوْر النبي عليه الصلاة والسلام كمبلّغ عن الله وكرسول. والقرآن
আর সমালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণের কথা যদি বলি, তবে তা আপনার বা আপনার মতো ব্যক্তিদের কাজ নয়। আপনার অজ্ঞতা আপনার কিতাব থেকেই সুস্পষ্ট। আপনার বিদআতের পরিপন্থী হওয়ার কারণে রাসুলের সাব্যস্ত হাদিসসমূহকে আপনার প্রত্যাখ্যান করাই মূলত আপনাকে সমালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো আবশ্যক করে তোলে; যাতে আপনার পথভ্রষ্টতা প্রকাশ পায় এবং এটি স্পষ্ট হয় যে, আপনি এই ইলমি বিষয়ের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নন এবং আমানতদারও নন।

আপনি কেবল এমন এক যুগে কথা বলছেন যখন ইলম বা জ্ঞান তুলে নেওয়া হয়েছে, তাই আপনি অজ্ঞদের প্রধানদের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর তিনি বলেন: সীরাত গ্রন্থসমূহ ইসরাঈলি বর্ণনায় ভরপুর। তারা আমাদের মাঝে এই ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর জাদু করা হয়েছিল এবং জিবরাঈল (আ.) কূপ থেকে জাদুর পুটলি বের করেছিলেন। অথচ স্বয়ং কুরআনের সাক্ষ্য অনুযায়ী এটি এক স্পষ্ট মিথ্যা। কাফেরদের মুখে নবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উচ্চারিত হয়েছে, কুরআন তা বর্ণনা করেছে: "যখন জালিমরা বলে, তোমরা তো কেবল এক জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করছ।" সুতরাং কুরআন এই জাতীয় অভিযোগকে সেইসব জালিম কাফেরদের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে, যারা নবীর ভাবমূর্তিকে এমন বিষয় দ্বারা কলঙ্কিত করতে চায় যা তাঁর মর্যাদার সাথে অসংগতিপূর্ণ এবং যা তাঁর মাঝে বিদ্যমান নেই। আর এই আয়াতটি সীরাত গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত সেইসব কাহিনীর এক পরোক্ষ খণ্ডন, যেগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, নবী (সা.) জাদুর প্রভাবে এমন সব কাজ করতেন যা তিনি বুঝতে পারতেন না এবং এমন সব কথা বলতেন যা তিনি যে বলেছেন তা জানতেন না—যতক্ষণ না জিবরাঈল (আ.) তাঁর জাদুর উপকরণ বের করলেন এবং তিনি আরোগ্য লাভ করলেন। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কথা, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহক ও রাসুল হিসেবে নবী (সা.)-এর সুমহান দায়িত্বের ওপর আঘাত হানে। আর কুরআন...
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
صريح في التأكيد على عصمة النبي عليه الصلاة والسلام (والله يعصمك من الناس). فهذه المرويات كلها أكاذيب. (1)

الجواب: حديث سحر النبي صلى الله عليه وسلم ثابت في صحيح البخاري رحمه الله وتكذيبك به دليل على زَيْغك وضلالك. ولا معارضة ولا منافاة في ذلك للقرآن.

فالله سبحانه ذكر عن الكفار قولهم: {إن تتبعون إلا رجلاً مسحوراً} إنكاراً عليهم نسبة رسوله للسحر فيما أتاهم به من ربه تَبْرئة لرسوله أن يأتي بالسحر وينسبه إلى الله.

أما ما حصل للنبي صلى الله عليه وسلم من سحر لبيد بن الأعصم اليهودي فهذا شيء آخر لم يؤثّر فيه أي أثر من جهة تبليغه رسالة ربه فهو في عصمة من هذا الوجه لكن صارت له آثاراً خفيفة في بعض أحواله الطبيعية. وقدْ وَضَحَتْ له ولم تَخْفَ عليه حيث أخبر أنه يُخَيّل إليه أنه يفعل الشيء وما يفعله. فهذا التخييل لم يخف عليه صلى الله عليه وسلم ولم يلتبس وقد شفاه الله منه. فهو عارض تتبيّن منه بشريّته صلى الله عليه وسلم كما يُصاب بالأمراض والأوجاع ونحو ذلك ولايُنافي هذا عصمته في تبليغ رسالة ربه والعمل بذلك فهذا التخييل في أشياء طبيعية ثم هو قدْ علم به حيث

--------------------------------------------

(1) ص 23، 24.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইসামাত বা সুরক্ষার ওপর এটি সুস্পষ্ট তাকিদ: (আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন)। সুতরাং এই বর্ণনাগুলো সবই ডাহা মিথ্যা। (১)

উত্তর: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জাদুগ্ৰস্ত হওয়া সংক্রান্ত হাদিসটি সহীহ বুখারিতে প্রমাণিত এবং আপনার পক্ষ থেকে এটিকে অস্বীকার করা আপনার বিচ্যুতি ও গোমরাহীর প্রমাণ। আর এর সাথে কুরআনের কোনো বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি নেই।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কাফিরদের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: {তোমরা তো কেবল এক জাদুগ্ৰস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ}। এটি তাদের সেই দাবির খণ্ডন হিসেবে এসেছে যেখানে তারা আল্লাহর প্রেরিত রাসুলের আনীত বিধানকে জাদুর সাথে নিসবত করত। এর মাধ্যমে রাসুলকে এই দায়মুক্ত করা হয়েছে যে, তিনি কোনো জাদুমন্ত্র নিয়ে এসেছেন এবং তা আল্লাহর নামে চালিয়ে দিচ্ছেন।

পক্ষান্তরে লাবিদ ইবনুল আসম ইহুদি কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর জাদুর যে প্রভাব পড়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাবই পড়েনি; এই দিক থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বা মাসুম ছিলেন। তবে এর ফলে তাঁর মানবিক বা স্বাভাবিক অবস্থার ওপর কিছু সামান্য প্রভাব পড়েছিল। আর বিষয়টি তাঁর কাছে স্পষ্ট ছিল এবং তাঁর অজানা ছিল না; যেহেতু তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, তাঁর কাছে এমন মনে হতো যেন তিনি কোনো কাজ করছেন অথচ তিনি তা করেননি। এই কল্পনাপ্রসূত অবস্থাটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে অস্পষ্ট ছিল না এবং এতে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হয়নি। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এ থেকে আরোগ্য দান করেন। এটি ছিল একটি সাময়িক উপসর্গ যার মাধ্যমে তাঁর মানবিক বৈশিষ্ট্যই প্রকাশ পায়, ঠিক যেমনটি রোগব্যাধি ও ব্যথাবেদনার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এটি তাঁর রবের রিসালাত প্রচার ও তদানুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে তাঁর নিষ্পাপত্বের পরিপন্থী নয়। কেননা এই কল্পিত ধারণা ছিল কেবল জাগতিক ও স্বাভাবিক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে এবং তিনি এ সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন...

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ২৩, ২৪।
(খণ্ড: ১) আশ-শানাআতু আলা মান রাদ্দা আহাদীসাশ শাফাআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
أخبر أنه يُخّيل إليه. وهذا خلاف السحر المؤثر بتغيّر حالة الشخص بحيث يعرف ذلك الناس منه. والنبي صلى الله عليه وسلم لم يسْتنكر منه أصحابه ولا زوجاته شيئاً غَيّره إطلاقاً. وإنما هو أحَسّ بذلك التخييل.

وقد أنكر هذا الحديث الصحيح غير مصطفى محمود لشبهاتهم التي يُوردونها عليه يتقوّوْن بذلك بزعمهم على رَدّ غيره من الأحاديث المخالفة لِنحلهم. والحقائق لاتبطلها الشقاشق. فيجعلون إنكار مثل هذا الحديث سلماً لأغراضهم. ولذلك قال بعد الكلام السابق:

وليس غريباً أن تمتلئ هذه الكتب بالمدسوس من أحاديث الشفاعة فنقرأ في أحدها أن النبي عليه الصلاة والسلام يُدخل بشفاعته إلى الجنة رجلاً لم يفعل في حياته خيراً قط ويكون هذا الرجل هو آخر الداخلين إلى الجنة. وما الهدف من أمثال هذه الأحاديث المدسوسة سوى إفساد الدين والتحريض على التسيّب والإنحلال وفتح باب الجنة سَبَهْلَلَة للكل لأن الشفيع سجد عند قدم العرش وقال متوسّلاً: لا أبرح حتى تدخل كل أمتي الجنة يارب. (1)

--------------------------------------------

(1) ص 24.
তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর নিকট এমন বিভ্রম হতো। এটি এমন প্রভাব বিস্তারকারী জাদু নয় যা কোনো ব্যক্তির অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয় এবং মানুষ তা বুঝতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ বা তাঁর পত্নীগণ তাঁর মাঝে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন লক্ষ্য করেননি। বরং তিনি কেবল নিজেই সেই বিভ্রম অনুভব করেছিলেন।

মুস্তফা মাহমুদ ছাড়াও আরও অনেকেই তাদের উত্থাপিত নানা সংশয়ের কারণে এই সহীহ হাদীসটিকে অস্বীকার করেছেন। তারা মনে করে, এর মাধ্যমে তারা তাদের মতাদর্শের পরিপন্থী অন্যান্য হাদীস প্রত্যাখ্যান করার শক্তি অর্জন করবে। বস্তুত বাগাড়ম্বর দ্বারা সত্যকে নস্যাৎ করা যায় না। তারা এ জাতীয় হাদীস অস্বীকার করাকে তাদের হীন উদ্দেশ্য সাধনের সোপান হিসেবে গ্রহণ করে। তাই পূর্বোক্ত বক্তব্যের পর তিনি বলেছেন:

এটা আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, এই কিতাবগুলো শাফাআত সংক্রান্ত জাল বর্ণনায় পরিপূর্ণ হবে। আমরা এগুলোর কোনো একটিতে পড়ি যে, নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাঁর শাফাআতের মাধ্যমে এমন এক ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে জীবনে কখনো কোনো ভালো কাজ করেনি এবং এই ব্যক্তিটিই হবে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। এই জাতীয় জাল হাদীসগুলোর লক্ষ্য ধর্মকে কলুষিত করা, শিথিলতা ও নৈতিক অবক্ষয়ে প্ররোচিত করা এবং জান্নাতের দরজাকে লক্ষ্যহীনভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়; কেননা শাফাআতকারী আরশের পাদদেশে সিজদাবনত হয়ে প্রার্থনা করবেন: 'হে প্রতিপালক! যতক্ষণ না আমার পূর্ণ উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, ততক্ষণ আমি এখান থেকে সরব না।' (১)

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ২৪।