(খণ্ড: ১) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: -)
مسند الشافعي - ترتيب سنجر   (الشافعي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند الإمام الشافعي (ترتيب سنجر)

المؤلف: الشافعي أبو عبد الله محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن عبد المطلب بن عبد مناف المطلبي القرشي المكي (ت 204هـ)

رتبه: سنجر بن عبد الله الجاولي، أبو سعيد، علم الدين (ت 745هـ)

حقق نصوصه وخرج أحاديثه وعلق عليه: ماهر ياسين فحل

الناشر: شركة غراس للنشر والتوزيع، الكويت

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদ আশ-শাফিঈ - তারতীব সানজার   (আশ-শাফিঈ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মুসনাদ আল-ইমাম আশ-শাফিঈ (তারতীব সানজার)

লেখক: আশ-শাফিঈ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস বিন আল-আব্বাস বিন উসমান বিন শাফি’ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন আব্দ মানাফ আল-মুত্তালিবী আল-কুরাশী আল-মাক্কী (মৃত্যু ২০৪ হিজরি)

বিন্যাস করেছেন: সানজার বিন আব্দুল্লাহ আল-জাওলী، আবু সাঈদ، আলামুদ্দীন (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি)

মূল পাঠের তাহকীক, হাদীসের তাখরীজ ও টীকা প্রদান করেছেন: মাহের ইয়াসীন ফাহল

প্রকাশক: গাস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি، কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ডের সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٣٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

رَبِّ يَسِّرْ يَا كَرِيمُ

 

قَالَ الْعَبْدُ الْفَقِيرُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى أَبُو سَعِيدٍ سَنْجَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النَّاصِرِيُّ، عُرِفَ بِالْجَاوَلِيِّ، عَفَا اللَّهُ عَنْهُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِدِينِهِ، وَوَفَّقَنَا لِلأَخْذِ بِمَا جَاءَ عَنْ مُحَمَّدٍ نَبِيِّهِ وَرَسُولِهِ وَأَمِينِهِ، مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُرْشِدًا، وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، شَهَادَةً تُشْعِرُنِي أَمْنًا، وَتُقِيمُ لِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، أَرْسَلَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ، صَلاةً تُرَقِّيهِمْ أَعْلَى الدَّرَجَاتِ، وَتُبَوِّئُهُمْ أَسْنَى مَرَاتِبِ الْكَرَامَاتِ.

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ هَذَا مُسْنَدُ الإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيِّ الْمُطَّلِبِيِّ، رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، رِوَايَةُ الشَّيْخِ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيِّ الْمِصْرِيِّ الْمُؤَذِّنِ، الَّذِي خَرَّجَهُ أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ الأُمَوِيُّ الأَصَمُّ وَجَمَعَهُ، فَإِنَّهُ لَمَّا سُمِعَ عَلَيَّ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে মহান রব, সহজ করে দিন।

 

আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা আবু সাঈদ সানজার বিন আব্দুল্লাহ আন-নাসিরি, যিনি আল-জাওয়ালি নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন), বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর দ্বীনের পথে পরিচালিত করেছেন এবং তাঁর নবী, রসূল ও আমানতদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনীত বিধানগুলো গ্রহণ করার তাওফিক দান করেছেন। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন সেই হিদায়াতপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন আপনি তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পথপ্রদর্শক পাবেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন এক সাক্ষ্য যা আমার হৃদয়ে নিরাপত্তা দান করে এবং কিয়ামতের দিন আমার পাল্লাকে ভারী করবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল; আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, এমন দরুদ যা তাঁদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবে এবং তাঁদেরকে মহাসম্মানিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবে।

অতঃপর: এটি হলো ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইদরিস আশ-শাফিয়ী আল-মুত্তালিবী (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর মুসনাদ, যা বর্ণনা করেছেন শায়খ আর-রাবি বিন সুলাইমান আল-মুরাদি আল-মিসরি আল-মুয়াজ্জিন। যা আবু আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-উমাবী আল-আসাম্ম চয়ন ও সংকলন করেছেন; এটি যখন আমার নিকট পাঠ করা হলো...
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٠)
بِالْقُدْسِ الشَّرِيفِ بِالْجَامِعِ الأَقْصَى، وَرَأَى مِنْ سَمْعِهِ مِنَ الْجَمَاعَةِ أَنَّ كَثِيرًا مِنَ الأَحَادِيثِ قَدْ تَكَرَّرَتْ فِي الْمُسْنَدِ فِي عِدَّةِ مَوَاضِعَ فِي غَيْرِ مَوَاضِعِهَا، وَهِيَ مَسْرُودَةٌ فِيهِ عَلَى غَيْرِ تَرْتِيبٍ وَلا نَسَقٍ، إِنَّمَا هِيَ مُخَرَّجَةٌ مِنْ أَمَاكِنِهَا مِنْ كُتُبِ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه عَلَى مَا شَرَحَهُ فِي الْمُسْنَدِ، وَلا تَكَادُ أَحَادِيثُهَا تَنْتَظِمُ، وَلا يَتْبَعُ بَعْضُهَا بَعْضًا، وَيَحْتَاجُ الطَّالِبُ لِلْحَدِيثِ أَنْ يَتَجَشَّمَ كُلْفَةَ التَّطَلُّبِ وَالاعْتِبَارِ لِذَلِكَ الْحَدِيثِ فِي أَيِّ مَوْضِعٍ قَدْ جَاءَ مِنَ الْمُسْنَدِ.

سَأَلَنِي مِنَ الْجَمَاعَةِ مَنْ لا يُرَدُّ سُؤَالُهُ، أَنْ نَنْقُلَ الأَحَادِيثَ الَّتِي فِي الْمُسْنَدِ إِلَى الْمَوَاضِعِ اللائِقَةِ بِهَا، وَنُرَتِّبَهَا كُتُبًا وَأَبْوَابًا، وَنَذْكُرَ كُلَّ حَدِيثٍ فِي كِتَابِهِ وَبَابِهِ؛ لِتَكُونَ الْهِمَمُ لَهَا أَطْلَبَ، وَفِيهَا أَرْغَبَ، وَكَانَ يَمْنَعُنَا مِنْ ذَلِكَ كَثْرَةُ الأَشْغَالِ، فَلَمَّا مَنَّ اللَّهُ سبحانه وتعالى عَلَيْنَا، وَذَهَبَ عَنَّا مَا كُنَّا فِيهِ مِنَ الاشْتِغَالِ، لِمَا قَدَّرَهُ مِنْ تَرْتِيبِ هَذَا الْكِتَابِ، فَاللَّهُ تَعَالَى يَجْعَلُ الْخِيرَةَ لَنَا فِيمَا اخْتَارَ.

وَلَمَّا كَانَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ اسْتَخَرْنَا اللَّهَ تَعَالَى وَسَأَلْنَاهُ التَّوْفِيقَ وَالْهُدَى، وَمُجَانَبَةَ الرِّيَاءِ وَاتِّبَاعَ الْهَوَى.

فَأَمَّا بَيَانُ مَا قَصَدْنَاهُ مِنْ هَذَا التَّرْتِيبِ، فَإِنَّا نَبْدَأُ فِي أَوَّلِ حَدِيثٍ مِنْ كُلِّ بَابٍ، وَنَقُولُ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ، وَنَذْكُرُ الإِسْنَادَ ثُمَّ نَذْكُرُ مَتْنَ الْحَدِيثِ، وَلَمْ نَذْكُرْ فِيمَا بَعْدَهُ مِنَ الأَحَادِيثِ الَّتِي فِي الْبَابِ الشَّافِعِيَّ إِلا مَا قَدْ جَاءَ فِي الْمُسْنَدِ، فَإِنَّا نَذْكُرُهُ عَلَى مَا جَاءَ فِي الْمُسْنَدِ، وَإِنْ كَانَ قَدْ جَاءَ الْحَدِيثُ مِنْ طَرِيقٍ أَوِ اثْنَيْنِ أَوْ ثَلاثَةٍ ذَكَرْنَاهَا فِي مَوْضِعٍ وَاحِدٍ، وَإِنْ كَانَ قَدْ تَكَرَّرَ الْحَدِيثُ وَفِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنَ الْمُسْنَدِ نَقَلْنَاهُ إِلَى هَذَا الْمَوْضِعِ، وَنَذْكُرُ فِي أَيِّ كِتَابٍ جَاءَ فِي الْمُسْنَدِ، وَمِنْ ذَلِكَ أَرْبَعَةُ أَحَادِيثَ لَمْ يَسْمَعْهَا الرَّبِيعُ مِنَ الشَّافِعِيِّ، سَمِعَهَا مِنَ الْبُوَيْطِيِّ عَنِ الشَّافِعِيِّ تَرِدُ فِي أَبْوَابِهَا مُقَدَّمٌ بِذِكْرِ الْبُوَيْطِيِّ فِي سَنَدِ الْحَدِيثِ
পবিত্র কুদস তথা মাসজিদুল আকসায় জামাতের নিকট হতে জানা গেল যে, আল-মুসনাদের বিভিন্ন স্থানে অনেক হাদীস পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং সেগুলো অপ্রাসঙ্গিক স্থানে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসগুলো কোনো সুশৃঙ্খল বিন্যাস বা পদ্ধতি ছাড়াই তাতে বিবৃত করা হয়েছে; বরং এগুলো ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কিতাবসমূহের মূল স্থান হতে উদ্ধৃত করে মুসনাদে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, সেভাবেই রাখা হয়েছে। এ হাদীসগুলো সুবিন্যস্ত নয় এবং একটির সাথে অন্যটির ধারাবাহিকতাও খুব একটা রক্ষা করা হয়নি। ফলে হাদীস অন্বেষণকারীকে মুসনাদের যে কোনো স্থানে আসা একটি হাদীস খুঁজে বের করতে এবং তা বিবেচনায় নিতে বেশ কষ্ট ও পরিশ্রম করতে হয়।

উক্ত জামাতের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তি আমাকে অনুরোধ করলেন—যাঁর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার মতো নয়—যেন আমরা মুসনাদে থাকা হাদীসগুলোকে তাদের উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করি এবং সেগুলোকে কিতাব ও অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করি। প্রতিটি হাদীসকে তার সংশ্লিষ্ট কিতাব ও অধ্যায়ে উল্লেখ করি; যাতে সেগুলোর প্রতি অন্বেষণকারীদের আগ্রহ বাড়ে এবং সেগুলোর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। নানাবিধ কর্মব্যস্ততা আমাদের এ কাজ থেকে বিরত রেখেছিল। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করলেন এবং আমরা যে ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম তা দূর করে দিলেন, যাতে তিনি এই কিতাবটির বিন্যাসকে নির্ধারিত করতে পারেন; সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর পছন্দনীয় বিষয়ে আমাদের জন্য কল্যাণ দান করুন।

বিষয়টি যখন এরূপ হলো, তখন আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং তাঁর কাছে তাওফিক ও হেদায়েত প্রার্থনা করলাম, যেন তিনি আমাদের রিয়া এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে রাখেন।

এই বিন্যাসে আমাদের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলছি যে, আমরা প্রতিটি অধ্যায়ের প্রথম হাদীসটি শুরু করব এই বলে: "শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন", অতঃপর আমরা সনদ উল্লেখ করব এবং তারপর হাদীসের মতন উল্লেখ করব। উক্ত অধ্যায়ের পরবর্তী হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে আমরা শাফিঈ-এর নাম উল্লেখ করব না, কেবল মুসনাদে যতটুকু এসেছে ততটুকুই উল্লেখ করব; আমরা তা মুসনাদে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই উল্লেখ করব। যদি হাদীসটি এক, দুই বা তিনটি তরীকে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমরা তা এক স্থানেই উল্লেখ করেছি। আর যদি কোনো হাদীস মুসনাদের অন্য কোনো স্থানে পুনরাবৃত্ত হয়ে থাকে, তবে আমরা তা এই স্থানে স্থানান্তর করেছি এবং মুসনাদের কোন কিতাবে তা এসেছিল তাও উল্লেখ করেছি। এর মধ্যে এমন চারটি হাদীস রয়েছে যা রবী' ইমাম শাফিঈ থেকে সরাসরি শোনেননি, বরং তিনি সেগুলো বুওয়াইতী থেকে, তিনি শাফিঈ থেকে শুনেছেন; সেগুলো তাদের নিজ নিজ অধ্যায়ে সনদের মধ্যে বুওয়াইতীর নাম উল্লেখপূর্বক বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤١)
عَنِ الشَّافِعِيِّ.

وَقَالَ فِي آخِرِ كِتَابِ الْمُسْنَدِ مِنْ كِتَابِ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَعِمَارَةِ الأَرْضِينَ، مِمَّا لَمْ يَسْمَعِ الرَّبِيعُ مِنَ الشَّافِعِيِّ، وَقَالَ: أَعْلَمُ أَنَّ ذَا مِنْ قَوْلِهِ وَبَعْضِ كَلامِهِ، هَذَا سَمِعْتُهُ فِي الْكِتَابِ الْكَبِيرِ الْمَبْسُوطِ، وَمِنْ كِتَابِ اخْتِلافِ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ مِمَّا لَمْ يَسْمَعِ الرَّبِيعُ مِنَ الشَّافِعِيِّ، هَذَا نَصٌّ لَفْظُهُ فِي الْمُسْنَدِ، أَوْرَدْتُ كُلَّ حَدِيثٍ مِنْهُ فِي بَابِهِ، وَقُلْتُ فِي أَوَّلِ كُلِّ حَدِيثٍ مِنْهُ: قَالَ الشَّافِعِيُّ فِي كِتَابِهِ، أَوْ أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ فِي كِتَابِهِ عَلَى حُكْمِ مَا جَاءَ فِي الْمُسْنَدِ مِنْ: قَالَ أَوْ أَخْبَرَنَا تَنْبِيهًا عَلَيْهِ، وَمَا لَمْ نَذْكُرْ فِيهِ كِتَابَهُ لَمْ يَكُنْ مِنْهُ.

وَنَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ التَّوْفِيقَ لِمَا فِيهِ رِضَاهُ، وَالإِعَانَةَ عَلَى مَا قَصَدْنَاهُ، وَأَنْ يَعْصِمَنَا مِنَ الزَّيْغِ وَالزَّلَلِ، وَيَهْدِيَنَا إِلَى أَوْضَحِ السُّبُلِ، وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.

وَأَنَا أَسْأَلُ كُلَّ مَنْ وَقَفَ عَلَيْهِ مِنْ أُولِي الْفَهْمِ وَالدِّرَايَةِ، وَأَرْبَابِ النَّقْلِ وَالرِّوَايَةِ، وَرَأَى فِيهِ خَلَلا، أَوْ لَمَحَ مِنْهُ زَلَلا أَنْ يُصْلِحَهُ، فَإِنِّي مُقِرٌّ بِالتَّقْصِيرِ فِي هَذَا الْمَقَامِ الْكَبِيرِ، مُعْتَرِفٌ بِالْعَجْزِ عَنِ الإِحَاطَةِ بِهَذَا الْبَحْرِ الْغَزِيرِ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ لِلصَّوَابِ فِي الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ بِمَنِّهِ وَكَرَمِهِ.

وَلْنَذْكُرِ الآنَ طَرِيقَ رِوَايَتِنَا مُسْنَدَ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه، فَنَقُولُ: أَخْبَرَنَا بِجَمِيعِهِ الْقَاضِي الإِمَامُ الْعَالِمُ ضِيَاءُ الدِّينِ دَانْيَالُ بْنُ مَنْكِلي بْنِ صرفا التُّرْكُمَانِيُّ الْكَرْكِيُّ الشَّافِعِيُّ قَاضِي الشَّوْبَكِ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَمَانِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ بِقَلْعَةِ الشَّوْبَكِ بِالْمَنْظَرَةِ مَنْزِلِ النِّيَابَةِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكَ الشَّيْخُ الإِمَامُ الصَّالِحُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ مُوَفَّقِ بْنِ عَلِيٍّ الْخَازِنُ شَيْخُ الصُّوفِيَّةِ،
ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত।

এবং তিনি মুসনাদ গ্রন্থের শেষে খাদ্য, পানীয় ও ভূমি আবাদ সংক্রান্ত অধ্যায়ে বলেছেন, যা রাবি' ইমাম শাফিঈর নিকট থেকে শ্রবণ করেননি; এবং তিনি বলেছেন: আমি জানি যে এটি তাঁর বক্তব্য ও তাঁর কিছু কথা, যা আমি কিতাবুল কাবীর আল-মাবসুত এবং ইমাম আলী ও আব্দুল্লাহর মতভেদ সংক্রান্ত কিতাব থেকে পেয়েছি, যা রাবি' ইমাম শাফিঈর নিকট থেকে শ্রবণ করেননি। এটি মুসনাদ গ্রন্থে থাকা তাঁর শব্দের সুস্পষ্ট বর্ণনা। আমি এর প্রতিটি হাদিস তার নিজ নিজ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি এবং প্রতিটি হাদিসের শুরুতে বলেছি: 'ইমাম শাফিঈ তাঁর কিতাবে বলেছেন', অথবা 'ইমাম শাফিঈ তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন'; মুসনাদে যেভাবে 'বলেছেন' বা 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' শব্দগুলো এসেছে তার প্রতি সতর্ক করার লক্ষ্যে। আর যার সাথে আমি তাঁর কিতাবের নাম উল্লেখ করিনি, তা তাঁর কিতাব থেকে নয়।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করার তাওফীক এবং যা আমরা সংকল্প করেছি তার ওপর সহযোগিতার প্রার্থনা করছি। আর তিনি যেন আমাদের বিচ্যুতি ও পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন এবং আমাদের সবচেয়ে সুস্পষ্ট পথের দিকে পরিচালিত করেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আর আমি সমঝদার ও প্রজ্ঞাবান এবং বর্ণনা ও রেওয়ায়েতের অধিকারী প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট অনুরোধ করছি যারা এটি পাঠ করবেন, যদি তারা এতে কোনো ত্রুটি দেখেন বা কোনো পদস্খলন লক্ষ্য করেন তবে যেন তা সংশোধন করে দেন। কেননা আমি এই মহান ক্ষেত্রে নিজের অপূর্ণতার কথা স্বীকার করছি এবং এই বিশাল জ্ঞান-সমুদ্রকে আয়ত্ত করার ব্যাপারে নিজের অক্ষমতার কথা মেনে নিচ্ছি। আল্লাহই তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় কথা ও কাজে সঠিক পথ প্রাপ্তির তাওফীক দাতা।

এখন আমরা মুসনাদে শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর আমাদের বর্ণনাসূত্র উল্লেখ করছি, সুতরাং আমরা বলছি: আল-ক্বাজী আল-ইমাম আল-আলিম জিয়াউদ্দীন দানিয়াল বিন মানকালি বিন সরফা আত-তুর্কমানি আল-কারকি আশ-শাফিঈ, যিনি শাওবাকের ক্বাজী ছিলেন, তিনি ৬৮৮ হিজরীর শাওয়াল মাসে ক্বালআত আশ-শাওবাকে অবস্থিত নায়েবের বাসভবনে আমাদের নিকট এর পূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন; এটি তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তাঁকে বলা হয়েছিল: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন মুওয়াফফাক বিন আলী আল-খাজিন, যিনি সুফিদের শায়খ ছিলেন,
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٢)
بِبَغْدَادَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ؟ ، فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو زُرْعَةَ طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَاهِرٍ الْمَقْدِسِيُّ فِي جُمَادَى الأُولَى سَنَةَ إِحْدَى وَسِتِّينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مَكِّيُّ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلانَ، سَنَةَ سَبْعٍ وَثَمَانِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَرَشِيُّ الْحِيرِيُّ، بِنَيْسَابُورَ، سَنَةَ ثَمَانِ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ الأَصَمُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيُّ الْمُؤَذِّنُ الْمِصْرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الإِمَامُ الشَّافِعِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ شَافِعِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عَبْدِ يَزِيدَ بْنِ هَاشِمِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرَكَةَ بْنِ إِلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعْدِ بْنِ عَدْنَانَ، ابْنُ عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

هَذِهِ النِّسْبَةُ جَاءَتْ فِي الْمُسْنَدِ فِي أَوَّلِ كِتَابِ النِّكَاحِ مِنَ الإِمْلاءِ فِي سَنَدِ حَدِيثِ النَّهْيِ عَنِ الشِّغَارِ، وَاخْتَرْنَا أَنْ نَذْكُرَهَا فِي أَوَّلِ الْكِتَابِ تَيَمُّنًا بِهَا.
বাগদাদে ৬৪২ হিজরি সনে? তিনি এটি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: শায়খ আবু জুরআ তাহির বিন মুহাম্মাদ বিন তাহির আল-মাকদিসি ৫৬১ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান মাক্কি বিন মানসুর বিন মুহাম্মাদ বিন আল্লান ৪৮৭ হিজরি সনে আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: আল-কাদি আবু বকর আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ আল-হারাশি আল-হিরি ৪১৮ হিজরি সনে নিশাপুরে আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-আসাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: মিসরীয় মুয়াজ্জিন আর-রাবি বিন সুলাইমান আল-মুরাদি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: ইমাম শাফেয়ি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস বিন আল-আব্বাস বিন উসমান বিন শাফে বিন আস-সাইব বিন উবাইদ বিন আবদ ইয়াজিদ বিন হাশিম বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদ মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাদ বিন আদনান, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই, আমাদের অবহিত করেছেন।

এই বংশপরম্পরাটি 'আল-ইমলা'র নিকাহ (বিবাহ) অধ্যায়ের শুরুতে 'শিগার' বিবাহ নিষিদ্ধ সংক্রান্ত হাদিসের সনদে মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আমরা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে কিতাবের শুরুতে এটি উল্লেখ করা বেছে নিয়েছি।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌كِتَابُ الطَّهَارَةِ

‌‌بَابٌ: فِي مَاءِ الْبَحْرِ

1 - أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ رَجُلٍ مِنْ آلِ ابْنِ الأَزْرَقِ، أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، يَقُولُ: سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ، فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا، أَفَنَتَوَضَّأُ بِمَاءِ الْبَحْرِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ، الْحِلُّ مَيْتَتُهُ» .

أَخْرَجَهُ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ، وَهُو أَوَّلُ حَدِيثٍ فِي الْمُسْنَدِ.
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌পবিত্রতা অধ্যায়

‌‌পরিচ্ছেদ: সমুদ্রের পানি প্রসঙ্গে

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইদরিস আশ-শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, সাফওয়ান ইবন সুলাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবন সালামাহ থেকে—যিনি ইবনুল আযরাক পরিবারের জনৈক ব্যক্তি—যে মুগীরাহ ইবন আবু বুরদাহ (যিনি বনু আবদুদ দারের লোক) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্রে ভ্রমণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি। যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি তবে আমরা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব। আমরা কি তবে সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এর পানি পবিত্রকারী এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল।"

এটি তিনি ওযু অধ্যায় থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই মুসনাদ-এর প্রথম হাদীস।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٤)
‌‌بَابٌ: فِي مَاءِ الْبِئْرِ

2 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا الثِّقَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الثِّقَةِ عِنْدَهُ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ، أَوْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَدَوِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ
পরিচ্ছেদ: কূয়ার পানি প্রসঙ্গে

২ - ইমাম শাফিঈ (রা.) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জনৈক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ইবনে আবি যিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর নিকটস্থ একজন নির্ভরযোগ্য রাবী থেকে, যিনি তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁর থেকে অথবা উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আদাবী থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে:
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٥)
رَجُلا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: إِنَّ بِئْرَ بُضَاعَةَ يُطْرَحُ فِيهَا الْكِلابُ وَالْحِيَضُ، فَقَالَ النَّبِيُّ. . . صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمَاءَ لا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ» .

أَخْرَجَهُ مِنْ كِتَابِ اخْتِلافِ الْحَدِيثِ.
একজন ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই বুদা'আহ কূপে কুকুর এবং ঋতুবতী নারীদের ব্যবহৃত ন্যাকড়া নিক্ষেপ করা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করতে পারে না»।

তিনি এটি ‘ইখতিলাফুল হাদিস’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٦)
‌‌بَابٌ: فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ

3 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ، ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ» .
পরিচ্ছেদ: আবদ্ধ পানি সম্পর্কে

৩ - শাফিঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের ইবনে উয়াইনাহ সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি মূসা বিন আবি উসমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে, অতঃপর তা থেকে গোসল করে।»
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٧)
أَخْرَجَهُ مِنْ كِتَابِ اخْتِلافِ الْحَدِيثِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي الْقُلَّتَيْنِ

4 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا الثِّقَةُ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنهما: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ نَجَسًا، أَوْ خَبَثًا» .

5 - أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، بِإِسْنَادٍ لا يَحْضُرُنِي ذِكْرُهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ نَجَسًا» .

وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ: «بِقِلالِ هَجَرَ» ،
তিনি এটি ‘ইখতিলাফুল হাদিস’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: দুই কুল্লা প্রসঙ্গে

৪ - শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট এক নির্ভরযোগ্য রাবী সংবাদ দিয়েছেন ওয়ালিদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা কোনো অপবিত্রতা বা নোংরামি বহন করে না (অর্থাৎ তা নাপাক হয় না)»।

৫ - মুসলিম ইবনে খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, এমন এক সনদে যা এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না»।

এবং এই হাদিসে রয়েছে: «হজর অঞ্চলের মটকা অনুযায়ী»,
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٨)
قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ: وَقَدْ رَأَيْتُ قِلالَ هَجَرَ؛ فَالْقُلَّةُ: تَسَعُ قِرْبَتَيْنِ، أَوْ قِرْبَتَيْنِ وَشَيْئًا.

أَخْرَجَ الأَوَّلَ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ، وَالثَّانِيَ مِنْ كِتَابِ اخْتِلافِ الْحَدِيثِ، وَهُوَ آخِرُ مَا فِيهِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي سُؤْرِ الْحُمُرِ وَالسِّبَاعِ

6 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي حَبِيبَةَ، أَوِ ابْنِ حَبِيبَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ
ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি হাজারের মটকাগুলো দেখেছি; একেকটি মটকা দুই মশক অথবা দুই মশক ও কিছুটা পরিমাণ পানি ধারণ করে।

প্রথমটি তিনি ওজু অধ্যায় থেকে এবং দ্বিতীয়টি ইখতিলাফুল হাদিস অধ্যায় থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যা সেখানে সর্বশেষ হাদিস হিসেবে রয়েছে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: গাধা ও হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্ট প্রসঙ্গে

৬ - ইমাম শাফিঈ (রাদিআল্লাহু আনহু) আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সাঈদ ইবনে সালিম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে আবি হাবিবা অথবা ইবনে হাবিবা থেকে, তিনি দাউদ ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিআল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি...
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٤٩)
سُئِلَ: أَنَتَوَضَّأُ بِمَا أَفْضَلَتِ الْحُمُرُ؟ قَالَ صلى الله عليه وسلم: «نَعَمْ، وَبِمَا أَفْضَلَتِ السِّبَاعُ كُلُّهَا» .

أَخْرَجَهُ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي سُؤْرِ الْهِرَّةِ

7 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَكَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ، أَوْ أَبِي قَتَادَةَ، الشَّكُّ مِنَ الرَّبِيعِ، أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ دَخَلَ، فَسَكَبَتْ لَهُ وَضُوءًا، فَجَاءَتْ هِرَّةٌ، فَشَرِبَتْ مِنْهُ، فَقَالَتْ: فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَتَعْجَبِينَ يَا بِنْتَ أَخِي؟ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ، إِنَّهَا مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوِ الطَّوَّافَاتِ» .
জিজ্ঞেস করা হলো: আমরা কি গাধার উচ্ছিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হ্যাঁ, এবং সমস্ত হিংস্র পশুর উচ্ছিষ্ট পানি দিয়েও»।

তিনি এটি ওযু অধ্যায় থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: বিড়ালের উচ্ছিষ্ট প্রসঙ্গে

৭ - ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি হুমাইদাহ বিনতে উবাইদ ইবনে রিফাআহ থেকে, তিনি কাবশাহ বিনতে কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন — এবং তিনি ইবনে আবু কাতাদাহর অথবা আবু কাতাদাহর স্ত্রী ছিলেন (সন্দেহটি রবী’র পক্ষ থেকে) — যে, আবু কাতাদাহ প্রবেশ করলেন, অতঃপর কাবশাহ তাঁর জন্য ওযুর পানি ঢাললেন। তখন একটি বিড়াল এল এবং তা থেকে পান করল। কাবশাহ বলেন: তিনি আমাকে সেদিকে তাকাতে দেখে বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্রী! তুমি কি আশ্চর্য হচ্ছো? নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এটি অপবিত্র নয়; এটি তোমাদের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী বা বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত»।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٠)
أَخْرَجَهُ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي سُؤْرِ الْكَلْبِ

8 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ» .

9 - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ» .

10 - أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولاهُنَّ أَوْ أُخْرَاهُنَّ بِالتُّرَابِ» .
এটি ‘কিতাবুল অজু’ থেকে উদ্ধৃত।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: কুকুরের উচ্ছিষ্ট প্রসঙ্গে

৮ - শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর পান করে, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।"

৯ - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দেয়, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।"

১০ - ইবনে উইয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আইয়ুব ইবনে আবু তামীমা থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দেয়, তখন সে যেন তা সাতবার ধৌত করে, যার প্রথমবার অথবা শেষবার হবে মাটি দিয়ে।"
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥١)
أَخْرَجَ الثَّلاثَةَ الأَحَادِيثَ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي فَضْلَةِ الْغُسْلِ وَالْوُضُوءِ

11 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ مِنَ الْقَدَحِ، وَهُوَ الْفَرَقُ، فَكُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَهُوَ مِنْ مَاءٍ وَاحِدٍ.
তিনি এই তিনটি হাদিস ওজু অধ্যায় থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: গোসল ও ওজুর অবশিষ্ট পানি প্রসঙ্গে

১১ - শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফইয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে যে: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বড় পাত্র থেকে গোসল করতেন, আর তা ছিল ফারাক; আমি এবং তিনি একই পাত্রের পানি থেকে গোসল করতাম।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٢)
12 - أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ.

13 - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، فَرُبَّمَا قُلْتُ لَهُ: أَبْقِ لِي، أَبْقِ لِي.

14 - أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ
১২ - মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম।

১৩ - সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আসেম থেকে, তিনি মুআযাহ আল-আদাবিয়্যাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। কখনো কখনো আমি তাঁকে বলতাম: "আমার জন্য বাকি রাখুন, আমার জন্য বাকি রাখুন।"

১৪ - ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আবুশ শা’সা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٣)
مَيْمُونَةَ: أَنَّهَا كَانَتْ تَغْتَسِلُ هِيَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ.

15 - أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إِنَّ الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ كَانُوا يَتَوَضَّئُونَ فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جَمِيعًا.

أَخْرَجَ الْخَمْسَةَ الأَحَادِيثَ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.

 

‌‌بَابٌ مِنْهُ: فِي نَبْعِ الْمَاءِ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ صلى الله عليه وسلم

16 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَحَانَتْ صَلاةُ الْعَصْرِ، وَالْتَمَسَ النَّاسُ الْوَضُوءَ، فَلَمْ يَجِدُوهُ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوءٍ، فَوَضَعَ فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ يَدَهُ، وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَتَوَضَّئُوا مِنْهُ، قَالَ: فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ
মায়মুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: তিনি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতেন।

১৫ - মালেক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে পুরুষ ও মহিলারা সকলে একত্রে অজু করতেন।

এই পাঁচটি হাদিস 'কিতাবুল অজু' (অজুর অধ্যায়) থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

 

‌‌এরই একটি পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আঙ্গুলসমূহের নিচ থেকে পানি প্রবাহিত হওয়া সম্পর্কে

১৬ - শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মালেক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস বিন মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি এমতাবস্থায় যে আসরের নামাজের সময় হয়ে গিয়েছিল। মানুষ তখন অজুর পানি খুঁজছিল কিন্তু তা পাচ্ছিল না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অজুর পানি আনা হলো, তখন তিনি সেই পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং মানুষকে তা থেকে অজু করার নির্দেশ দিলেন। তিনি (আনাস) বলেন: আমি দেখলাম তাঁর আঙ্গুলসমূহের নিচ থেকে পানি উথলে উঠছে।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٤)
فَتَوَضَّأَ النَّاسُ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ.

أَخْرَجَهُ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي جُلُودِ الْمَيْتَةِ

17 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، أَنَّهُ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ مَيْتَةٍ قَدْ كَانَ أَعْطَاهَا مَوْلاةً لِمَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «فَهَلا انْتَفَعْتُمْ بِجِلْدِهَا» .

قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهَا مَيْتَةٌ قَالَ: «إِنَّمَا حُرِّمَ أَكْلُهَا» .
মানুষ ওযু করল, এমনকি তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত ওযু সম্পন্ন করল।

তিনি এটি ওযুর অধ্যায় থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মৃত পশুর চামড়া প্রসঙ্গে

১৭ - ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মৃত বকরির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী মায়মুনার জনৈকা মুক্তদাসীকে প্রদান করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "তোমরা কেন এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হলে না?"

তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো মৃত। তিনি বললেন: "কেবলমাত্র এটি ভক্ষণ করাই হারাম করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٥)
18 - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ وَعْلَةَ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ» .

19 - أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ
১৮ - সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহলা থেকে শুনেছেন, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে শুনেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «যেকোনো চামড়া যখন দাবাগাত (পরিশোধন) করা হয়, তা পবিত্র হয়ে যায়।»।

১৯ - মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে কুসাইত থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাওবান থেকে, থেকে...
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٦)
أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَنْ يُسْتَمْتَعَ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ إِذَا دُبِغَتْ.

أَخْرَجَ الثَّلاثَةَ الأَحَادِيثَ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ

20 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ، إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ» .

أَخْرَجَهُ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.
তাঁর মা হতে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন যে, মৃত পশুর চামড়া যখন পাকা (দাবাগাত) করা হয়, তখন যেন তা ব্যবহার করা হয়।

তিনি অজু অধ্যায় থেকে এই তিনটি হাদিস উদ্ধৃত করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: রুপার পাত্র প্রসঙ্গে

২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাফেঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, তিনি নাফে' হতে, তিনি জায়েদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে, তিনি উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি রুপার পাত্রে পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুনই গড়গড় শব্দে টেনে নেয়»।

তিনি এটি অজু অধ্যায় থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٧)
‌‌بَابُ غَسْلِ الْبَوْلِ مِنَ الْمَسْجِدِ

21 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: بَالَ أَعْرَابِيٌّ فِي الْمَسْجِدِ، فَعَجِلَ النَّاسُ إِلَيْهِ، فَنَهَاهُمْ عَنْهُ، وَقَالَ: «صُبُّوا عَلَيْهِ دَلْوًا مِنْ مَاءٍ» .

22 - أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: دَخَلَ أَعْرَابِيٌّ الْمَسْجِدَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا، وَلا تَرْحَمْ مَعَنَا أَحَدًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ تَحَجَّرَتْ وَاسِعًا» ، قَالَ: فَمَا لَبِثَ أَنْ بَالَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَكَأَنَّهُمْ عَجِلُوا عَلَيْهِ، فَنَهَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ أَمَرَ بِذَنُوبٍ مِنْ مَاءٍ، أَوْ سَجْلٍ مِنْ
মসজিদ থেকে প্রস্রাব ধৌত করার পরিচ্ছেদ

২১ - ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবন উয়ায়নাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি মসজিদে প্রস্রাব করল, তখন লোকেরা তার দিকে দ্রুত ধাবিত হলো, কিন্তু তিনি তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করলেন এবং বললেন: "এর ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও।"

২২ - ইবন উয়ায়নাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল, অতপর বলল: হে আল্লাহ! আমার ওপর এবং মুহাম্মাদের ওপর দয়া করুন এবং আমাদের সাথে অন্য আর কারো ওপর দয়া করবেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তুমি একটি প্রশস্ত বিষয়কে সংকীর্ণ করে দিলে।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর সে মসজিদের এক প্রান্তে প্রস্রাব করে দিল, তখন তারা যেন তার দিকে তেড়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে নিষেধ করলেন এবং অতপর তিনি এক বড় বালতি বা এক পাত্র...
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٨)
مَاءٍ فَأُهْرِيقَ عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «عَلِّمُوا وَيَسِّرُوا وَلا تُعَسِّرُوا» .

أَخْرَجَ الْحَدِيثَيْنِ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي الْمَنِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ

23 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَي بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: وَكُنْتُ أَفْرُكُ الْمَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

24 - أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: كُنْتُ أَفْرُكُ الْمَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
পানি, অতঃপর তা তার ওপর ঢেলে দেওয়া হলো। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তোমরা শিক্ষা দাও এবং সহজ করো, কঠিন করো না»।

তিনি অজু অধ্যায় থেকে হাদিস দুটি উদ্ধৃত করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: কাপড়ে বীর্য লাগা প্রসঙ্গে

২৩ - শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে আবি সালামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আওযায়ি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় থেকে বীর্য খুঁটে পরিষ্কার করতাম।

২৪ - ইবনুল উয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় থেকে বীর্য খুঁটে পরিষ্কার করতাম।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٥٩)
25 - أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: كُنْتُ أَفْرُكُ الْمَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يُصَلِّي فِيهِ.

26 - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، وَابْنِ جُرَيْجٍ كِلاهُمَا، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: فِي الْمَنِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ، قَالَ: أَمِطْهُ عَنْكَ، قَالَ أَحَدُهُمَا: بِعُودٍ أَوْ إِذْخِرٍ، فَإِنَّمَا هُوَ بِمَنْزِلَةِ الْبُصَاقِ أَوِ الْمُخَاطِ.
২৫ - ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি ইব্রাহীম থেকে, তিনি আলক্বামাহ ও আসওয়াদ থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাপড় থেকে বীর্য ঘষে পরিষ্কার করে দিতাম, অতঃপর তিনি তাতে সালাত আদায় করতেন।

২৬ - সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর ইবনে দীনার ও ইবনে জুরাইজ উভয় থেকে, তারা আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, কাপড়ে বীর্য লেগে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এটি তোমার থেকে সরিয়ে দাও। তাদের একজন বলেছেন: কোনো কাঠি বা ইযখির ঘাস দিয়ে। কারণ এটি কেবল থুতু বা শ্লেষ্মার সমপর্যায়ভুক্ত।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٦٠)
27 - أَخْبَرَنَا الثِّقَةُ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُصْعَبُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَصَابَ ثَوْبَهُ الْمَنِيُّ، إِنْ كَانَ رَطْبًا مَسَحَهُ، وَإِنْ كَانَ يَابِسًا حَتَّهُ، ثُمَّ صَلَّى فِيهِ.

أَخْرَجَ الأَوَّلَ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ، وَهُوَ آخِرُ حَدِيثٍ فِيهِ، وَإِلَى آخِرِ الْخَامِسِ مِنْ كِتَابِ الدِّيَاتِ وَالْقِصَاصِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي دَمِ الْحَيْضِ

28 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ فَاطِمَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يُصِيبُ الثَّوْبَ، فَقَالَ: «حُتِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ بِالْمَاءِ ثُمَّ رُشِّيهِ وَصَلِّي فِيهِ» .
২৭ - আমাদেরকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুসআব ইবনে সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাঁর পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর কাপড়ে যখন বীর্য লাগত, যদি তা ভেজা হতো তবে তিনি তা মুছে ফেলতেন, আর যদি তা শুকনো হতো তবে তা খুঁটিয়ে ফেলে দিতেন, এরপর তাতে সালাত আদায় করতেন।

তিনি ওযু অধ্যায় থেকে প্রথম হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এটি সেই অধ্যায়ের শেষ হাদিস, আর রক্তপণ ও কিসাস অধ্যায়ের পঞ্চম হাদিসের শেষ পর্যন্ত।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: ঋতুস্রাবের রক্ত প্রসঙ্গে

২৮ - ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদেরকে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা হিশাম থেকে, তিনি ফাতিমা থেকে, তিনি আসমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাপড়ে লাগা ঋতুস্রাবের রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বললেন: «তা খুঁটিয়ে ফেলবে, অতঃপর তা পানি দিয়ে কচলে ধুয়ে ফেলবে, এরপর তাতে পানি ছিটিয়ে দেবে এবং তাতে সালাত আদায় করবে»।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٦١)
29 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ فِي أَوَّلِ الْكِتَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ: أَنَّهُ سَمِعَ امْرَأَتَهُ فَاطِمَةَ بِنْتَ الْمُنْذِرِ، تَقُولُ: سَمِعْتُ جَدَّتِي أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه تَقُولُ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ دَمِ الْحَيْضَةِ، فَذَكَرَ مِثْلَهُ.

30 - أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: سَأَلَتِ امْرَأَةٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِحْدَانَا إِذَا أَصَابَ ثَوْبَهَا الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ كَيْفَ تَصْنَعُ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَصَابَ ثَوْبَ إِحْدَاكُنَّ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ فَلْتَقْرُصْهُ ثُمَّ لِتَنْضَحْهُ بِالْمَاءِ، ثُمَّ تُصَلِّي فِيهِ» .
২৯ - আশ-শাফিঈ কিতাবের শুরুতে আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাদের অবহিত করেছেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রী ফাতিমা বিনতে মুনযিরকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার দাদী আসমা বিনতে আবি বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ঋতুকালীন রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন।

৩০ - মালিক আমাদের অবহিত করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে মুনযির থেকে, তিনি আসমা বিনতে আবি বকর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো কাপড়ে যদি ঋতুকালীন রক্ত লাগে তবে সে কী করবে বলে আপনি মনে করেন? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমাদের কারো কাপড়ে যদি ঋতুকালীন রক্ত লাগে, তবে সে যেন তা খুঁটিয়ে ঘষে ফেলে, এরপর তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে, অতঃপর তাতে সালাত আদায় করে।"
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٦٢)
31 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الثَّوْبِ يُصِيبُهُ دَمُ الْحَيْضِ، فَقَالَ: «تَحُتُّهُ، ثُمَّ تَقْرُصُهُ بِالْمَاءِ، ثُمَّ تُصَلِّي فِيهِ» .

أَخْرَجَ الثَّلاثَةَ الأَحَادِيثَ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ، وَالرَّابِعَ مِنْ كِتَابٍ ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ، وَهُوَ آخِرُ حَدِيثٍ فِيهِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي الشَّوَارِعِ

32 - حَدَّثَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّمِيمِيِّ، عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحَمْنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ: أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ: إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي، وَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ.

فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ» .
৩১ - ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে আজলান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে রাফে থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন কাপড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাতে মাসিকের রক্ত লেগেছে। তখন তিনি বললেন: «তা খুঁটে ফেলবে, এরপর পানি দিয়ে রগড়াবে, তারপর তাতে সালাত আদায় করবে»।

তিনি (ইমাম শাফিঈ) এই তিনটি হাদিস ‘কিতাবুল অজু’ (অজুর অধ্যায়) থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং চতুর্থটি ‘অজু ছাড়া মহান আল্লাহর জিকির’ অধ্যায় থেকে, যা উক্ত অধ্যায়ের শেষ হাদিস।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: রাস্তাঘাট প্রসঙ্গে

৩২ - শাফিঈ (রা.) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে উমারা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে হারিস আত-তামিমী থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ-এর এক উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানের জননী দাসী) থেকে, তিনি উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: এক মহিলা উম্মে সালামা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করে বললেন: আমি এমন এক নারী যে নিজের কাপড়ের আঁচল দীর্ঘ রাখি এবং অপবিত্র স্থানের উপর দিয়ে চলাচল করি। তখন উম্মে সালামা (রা.) বললেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এর পরবর্তী (পবিত্র) স্থান তাকে পবিত্র করে দেয়»।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٦٣)
أَخْرَجَهُ مِنْ كِتَابِ الأَمَالِي.

 

‌‌بَابٌ: فِي الاسْتِطَابَةِ وَالنَّهْيِ عَنِ اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ وَاسْتِدْبَارِهَا وَمَا يُسْتَنْجَى بِهِ

33 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ، فَإِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلا يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ، وَلا يَسْتَدْبِرْهَا بِغَائِطٍ وَلا بَوْلٍ، وَلْيَسْتَنْجِ بِثَلاثَةِ أَحْجَارٍ» ، وَنَهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالرِّمَّةِ وَأَنْ يَسْتَنْجِيَ الرَّجُلُ بِيَمِينِهِ.

34 - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو وَجْزَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الاسْتِنْجَاءِ: «بِثَلاثَةِ أَحْجَارٍ لَيْسَ فِيهَا رَجِيعٌ» .
তিনি এটি কিতাবুল আমালি থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

 

‌‌অধ্যায়: শৌচকার্য এবং কিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ দিয়ে মল-মূত্র ত্যাগ করার নিষেধাজ্ঞা এবং যা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা হয় তার বর্ণনা

৩৩ - শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে উয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আজলান থেকে, তিনি কা'কা ইবনে হাকিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের জন্য একজন পিতার মতো। যখন তোমাদের কেউ মলত্যাগের জন্য যায়, তখন সে যেন কিবলার দিকে মুখ না করে এবং কিবলার দিকে পিঠও না দেয়—মলত্যাগের সময়ও না এবং প্রস্রাবের সময়ও না। আর সে যেন তিনটি পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করে।" এবং তিনি গোবর ও হাড় দিয়ে এবং ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন।

৩৪ - সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ওয়াজজাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উমারা ইবনে খুজায়মা ইবনে সাবিত থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইস্তিঞ্জা সম্পর্কে বলেছেন: "তিনটি পাথর দিয়ে (ইস্তিঞ্জা করবে), যার মধ্যে কোনো গোবর থাকবে না।"
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٦٤)
35 - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نُهِيَ أَنْ تُسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةُ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ، وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا.

قَالَ: فَقَدِمْنَا الشَّامَ، فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ قِبَلَ الْقِبْلَةِ فَنَنْحَرِفُ وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ تَعَالَى.
৩৫ - সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াজীদ আল-লাইসী থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করা হয়েছে; বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো।

তিনি বলেন: অতঃপর আমরা শাম দেশে আসলাম এবং কিবলার দিকে মুখ করে নির্মিত কিছু শৌচাগার পেলাম। ফলে আমরা (সেখানে বসার সময়) কিবলা থেকে ঘুরে বসতাম এবং মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٦٥)
أَخْرَجَ الْحَدِيثَيْنِ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ، وَالثَّالِثَ مِنَ الْجُزْءِ الثَّانِي مِنَ اخْتِلافِ الْحَدِيثِ.

 

‌‌بَابُ جَوَازِهِ فِي الْبِنَاءِ

36 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَي بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ وَاسِعِ بْنِ حِبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إِنَّ نَاسًا يَقُولُونَ: إِذَا قَعَدْتَ عَلَى حَاجَتِكَ فَلا تَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ، وَلا بَيْتَ الْمَقْدِسِ.

قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ رضي الله عنهما: لَقَدِ ارْتَقَيْتُ عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ لَنَا، فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلا بَيْتَ الْمَقْدِسِ لِحَاجَتِهِ.

أَخْرَجَهُ مِنَ الْجُزْءِ الثَّانِي مِنَ اخْتِلافِ الْحَدِيثِ.
তিনি প্রথম দুটি হাদীস 'কিতাবুল ওযু' থেকে এবং তৃতীয়টি 'ইখতিলাফুল হাদীস'-এর দ্বিতীয় খণ্ড থেকে বের করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: দালান বা গৃহের অভ্যন্তরে এর বৈধতা

৩৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাফি'ঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, ইয়াহইয়া ইবনে সা'ঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হিব্বান থেকে, তিনি তাঁর চাচা ওয়াসি' ইবনে হিব্বান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই কিছু মানুষ বলে—যখন তোমরা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বসবে, তখন কিবলার দিকে মুখ করবে না এবং বাইতুল মাকদিসের দিকেও না।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: আমি আমাদের একটি ঘরের ছাদের ওপর উঠেছিলাম, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দুটি ইটের ওপর বসে বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দেখেছি।

তিনি এটি 'ইখতিলাফুল হাদীস'-এর দ্বিতীয় খণ্ড থেকে বের করেছেন।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٦٦)
‌‌بَابُ النَّهْيِ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى عِنْدَ قَضَاءِ الْحَاجَةِ

37 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما: أَنَّ رَجُلا مَرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَرَدَّ عليه السلام، فَلَمَّا جَاوَزَهُ نَادَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " إِنَّمَا حَمَلَنِي عَلَى الرَّدِّ عَلَيْكَ خَشْيَةَ أَنْ تَذْهَبَ، فَتَقُولَ: إِنِّي سَلَّمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ، فَإِذَا رَأَيْتَنِي عَلَى هَذِهِ الْحَالِ فَلا تُسَلِّمْ عَلَيَّ، فَإِنَّكَ إِنْ تَفْعَلْ لا أَرُدَّ عَلَيْكَ ".

38 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي الْحُوَيْرِثِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنِ ابْنِ الصِّمَّةِ، قَالَ: مَرَرْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ، حَتَّى قَامَ إِلَى جِدَارٍ فَحَتَّهُ بِعَصًا كَانَتْ مَعَهُ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى الْجِدَارِ، فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ، ثُمَّ رَدَّ عَلَيَّ السَّلامَ.

قَالَ الأَصَمُّ: هَذَانِ الْحَدِيثَانِ لَيْسَا فِي كِتَابِ الْوُضُوءِ، وَلَكِنْ أَخْرَجْتُهُ، لأَنَّهُ مَوْضِعُهُ
হাজত পূরণকালে মহান আল্লাহর যিকির করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ

৩৭ - ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের ইব্রাহীম ইবনে মুহাম্মদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে উমর ইবনে আব্দুর রহমান আমাকে নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করে সংবাদ দিয়েছেন যে: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন তিনি পেশাব করছিলেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে সালাম দিলেন, তখন তিনি সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর যখন ওই ব্যক্তি তাঁকে অতিক্রম করে চলে গেলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং বললেন: "আমি তোমার সালামের উত্তর দিতে কেবল এই আশঙ্কায় বাধ্য হয়েছি যে, পাছে তুমি চলে গিয়ে বলো: 'আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সালাম দিয়েছি কিন্তু তিনি আমাকে উত্তর দেননি'। সুতরাং যখন তুমি আমাকে এই অবস্থায় দেখবে, তখন আমাকে সালাম দিও না; কারণ তুমি যদি তেমনটা করো, তবে আমি তোমার উত্তর দেব না।"

৩৮ - ইব্রাহীম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের আবু হুওয়াইরিস থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি ইবনে সিম্মাহ থেকে বর্ণনা করে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম যখন তিনি পেশাব করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে উত্তর দিলেন না। যতক্ষণ না তিনি একটি দেয়ালের নিকট আসলেন এবং তাঁর সাথে থাকা একটি লাঠি দিয়ে তা ঘষলেন, এরপর তিনি দেয়ালের ওপর নিজের হাত রাখলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত মাসাহ করলেন। এরপর তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন।

আল-আসাম্ম বলেন: এই দুটি হাদীস 'কিতাবুল উযূ' (অজুর অধ্যায়)-তে ছিল না, তবে আমি এখানে তা উদ্ধৃত করেছি, কারণ এটাই এর উপযুক্ত স্থান।
(খণ্ড: ١) মুসনাদুশ শাফেয়ী - তারতীবু সানজার (পৃষ্ঠা: ١٦٧)
فِي هَذَا الْمَوْضِعِ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ.

39 - قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَرَوَى أَبُو الْحُوَيْرِثِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي الصِّمَّةِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَالَ فَتَيَمَّمَ.

فَأَخْرَجْتُ الْحَدِيثَ بِتَمَامِهِ لِهَذِهِ الْعِلَّةِ.

40 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ إِلَى بِئْرِ جَمَلٍ لِحَاجَتِهِ، ثُمَّ أَقْبَلَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، حَتَّى مَسَحَ يَدَهُ بِجِدَارٍ، ثُمَّ رَدَّ عليه السلام.

أَخْرَجَ الْحَدِيثَيْنِ وَقَوْلَ الأَصَمِّ وَالثَّالِثَ مِنْ كِتَابِ الْوُضُوءِ وَالرَّابِعَ مِنْ كِتَابِ الدِّيَاتِ وَالْقِصَاصِ، وَهُوَ آخِرُ حَدِيثٍ فِيهِ.

 

‌‌بَابٌ: فِي غَسْلِ الْيَدِ قَبْلَ إِدْخَالِهَا الإِنَاءِ

41 - أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلاثًا، فَإِنَّهُ لا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ؟» .
উযূর অধ্যায়ের এই স্থানে।

৩৯ - শাফিঈ বলেন: আবুল হুওয়াইরিস আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু সিম্মাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব করলেন এবং তায়াম্মুম করলেন।

আমি এই কারণে হাদিসটি পূর্ণরূপে বর্ণনা করেছি।

৪০ - ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রয়োজনে (প্রাকৃতিক ডাকে) বির-ই-জামাল নামক স্থানের দিকে গেলেন। অতঃপর তিনি ফিরে আসলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে সালাম দিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর সালামের উত্তর দেননি যতক্ষণ না তিনি একটি দেয়ালে নিজের হাত মুছলেন, এরপর তিনি সালামের উত্তর দিলেন।

তিনি উযূর অধ্যায় থেকে দুটি হাদিস এবং আল-আসামের উক্তি ও তৃতীয়টি এবং দিয়াত ও কিসাসের অধ্যায় থেকে চতুর্থ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যা সেই অধ্যায়ের সর্বশেষ হাদিস।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে হাত ধোয়া প্রসঙ্গে

৪১ - শাফিঈ (রাযিআল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে উয়ায়নাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, তখন সে যেন পাত্রে হাত না ডোবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধৌত করে। কারণ সে জানে না যে, তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে?» ।