(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التوحيد من صحيح البخاري - الغنيمان القسم: شروح الحديث
الكتاب: شرح كتاب التوحيد من صحيح البخاري
المؤلف: عبد الله بن محمد الغنيمان
الناشر: مكتبة الدار، المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1405 هـ
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সহীহ বুখারীর কিতাবুত তাওহীদের শারহ - আল-গুনাইমান বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাসমূহ
গ্রন্থ: সহীহ বুখারীর কিতাবুত তাওহীদের শারহ
লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-গুনাইমান
প্রকাশক: মাকতাবাতুদ দার, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরী
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: -)
شرح
كتاب التوحيد
من صحيح البخاري
تأليف
الشيخ عبد الله بن محمد الغنيمان
رئيس قسم الدراسات العليا
بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الجزء الأول
ব্যাখ্যা
কিতাবুত তাওহীদ
সহীহ আল-বুখারী থেকে
গ্রন্থনা
শাইখ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-গুনাইমান
উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের প্রধান
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٣)
المقدمةالحمد الله الأحد الصمد، الذي لم يلد ولم يولد، ولم يكن له كفواً أحد، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له في ألوهيته وربوبيته، ولا ند له في أسمائه وصفاته.
وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله بالهدى، ودين الحق، فدعا إلى توحيد الله الخالص من كل شائبة شرك، في حقه، أو فعله، أو أسمائه وصفاته، وجاهد في هذا السبيل حتى وضح الحق، واستبان وكمل به الدين، وتمت النعمة، فترك الأمة على البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك.
وسار على نهجه صحابته، فلم يغيروا، أو يبدلوا، بل بذلوا جهدهم في دعوة الخلق إلى عبادة الله وحده، حتى مضوا لسبيلهم.
فصلاة الله وسلامه على عبده ورسوله محمد بن عبد الله، إمام الحنفاء وسيد الأصفياء، ورضي الله عن صحابته أجمعين، وعمن سلك نهجهم إلى يوم الدين.
كمال الهداية وتمام النعمة على هذه الأمة
أما بعد، فقد علم أن الله - تعالى - بعث رسوله محمداً صلى الله عليه وسلم على حين فترة من الرسل " وفي جاهلية لا تعرف من الحق رسماً، ولا تقيم به في مقاطع الحقوق حكماً " (1) ، وإنما ينتحلون ما تهواه نفوسهم، وما تزينه لهم شياطينهم، وما
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক ও অমুখাপেক্ষী। যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাকে জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর উপাসনা ও প্রভুত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলিতে তাঁর কোনো সদৃশ নেই।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি শিরকের যাবতীয় কালিমা থেকে মুক্ত আল্লাহর খাঁটি তাওহিদের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন—চাই তা আল্লাহর প্রাপ্য অধিকারে হোক, তাঁর কর্মে হোক কিংবা তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলিতে হোক। তিনি এই পথে জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না সত্য স্পষ্ট ও উন্মোচিত হয়েছে, এবং তাঁর মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে ও নেয়ামত সম্পূর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি উম্মতকে এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
আর তাঁর সাহাবীগণ তাঁরই আদর্শের ওপর চলেছেন; তাঁরা কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন করেননি। বরং তাঁরা সৃষ্টিজগতকে কেবল আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকার ক্ষেত্রে তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, যতক্ষণ না তাঁরা তাঁদের পথে চলে গেছেন।
সুতরাং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর, যিনি একনিষ্ঠ তাওহিদপন্থীদের ইমাম এবং মনোনীত বান্দাদের সরদার। আর আল্লাহ তাঁর সকল সাহাবীর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবে তাদের ওপরও।
এই উম্মতের ওপর হিদায়াতের পূর্ণতা ও নেয়ামতের সম্পূর্ণতা
অতঃপর, এটি সুবিদিত যে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূলগণের আগমনের এক দীর্ঘ বিরতিকালে প্রেরণ করেছেন, "যখন এমন এক জাহেলিয়াত বিরাজ করছিল যা সত্যের কোনো চিহ্ন চিনত না এবং অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সত্যের ভিত্তিতে কোনো ফয়সালা করত না।" (১) তারা কেবল তা-ই গ্রহণ করত যা তাদের প্রবৃত্তি কামনা করত এবং যা তাদের শয়তানরা তাদের জন্য সুশোভিত করত এবং যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٤)
وجدوا عليه آباءهم، فجاهدهم وجادلهم باللين والحكمة، وقارعهم بالسنان والحجة، لمن كابر وعاند، وكان نصر الله حليفه، فاستقام أمره، وانتصر على عدو الله، وظهر دينه، فجاء نصر الله ودخل الناس في دين الله أفواجاً، وبعد تمام نعمة الله - تعالى - عليه وعلى أمته، وظهور ما جاء به من الحق، ووضوح الطريق، توفاه الله إليه، فقام بعده صحابته بأمره خير قيام، فجاهدوا في الله القريب والبعيد، حتى تحقق ما أخبر به رسولهم صلى الله عليه وسلم فيما رواه مسلم في "صحيحه" عن ثوبان، قال: قال رسول الله -
صلى الله عليه وسلم: " إن الله زوى (1) لي الأرض فرأيت مشارقها، ومغاربها، وإن أمتي سيبلغ ملكها ما زوى لي منها، وأعطيت الكنزين، الأحمر، والأبيض (2) ، وأني سألت ربي لأمتي أن لا يهلكها بسنة عامة، وأن لا يسلط عليهم عدواً من سوى أنفسهم، فيستبيح بيضتهم (3) ، وإن ربي قال: يا محمد، إني إذا قضيت قضاء فإنه لا يرد، وإني أعطيتك لأمتك أن لا أهلكهم بسنة عامة (4) ، وأن لا أسلط عليهم عدواً من سوى أنفسهم، يستبيح بيضتهم، ولو اجتمع عليهم من بأقطارها، حتى يكون بعضهم يهلك بعضاً، ويسبي بعضهم بعضاً" (5) .
ففتحت بلاد الروم وفارس في عهد الخليفة الثاني، وأنفقت كنوزها في سبيل الله - تعالى- وواصلت جحافل التوحيد إلى مشارق الأرض ومغاربها، تفتح القلوب إلى معرفة الله وتوحيده قبل البلاد، حتى تمت نعمة الله على أكثر أهل
--------------------------------------------
তারা তাদের পিতৃপুরুষদের এই অবস্থায় পেয়েছিল, অতঃপর তিনি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করলেন এবং কোমলতা ও প্রজ্ঞার সাথে তাদের সাথে বিতর্ক করলেন, আর যারা অহংকার ও হঠকারিতা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে তিনি শক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে লড়াই করলেন। আল্লাহর সাহায্য ছিল তাঁর সঙ্গী, ফলে তাঁর মিশন সুপ্রতিষ্ঠিত হলো এবং তিনি আল্লাহর শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করলেন। তাঁর দীন বিজয়ী হলো, ফলে আল্লাহর সাহায্য আসলো এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে লাগলো। অতঃপর তাঁর এবং তাঁর উম্মতের ওপর মহান আল্লাহর নিআমত পূর্ণ হওয়ার পর, এবং তিনি যে সত্য নিয়ে এসেছিলেন তা প্রকাশিত হওয়ার পর ও পথ সুস্পষ্ট হওয়ার পর, আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে নিলেন। তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণ সর্বোত্তমভাবে তাঁর নির্দেশ পালন করলেন। তাঁরা আল্লাহর পথে নিকটবর্তী ও দূরবর্তী শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করলেন, এমনকি তাঁদের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত হলো, যা মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য জমিনকে গুটিয়ে দিলেন, ফলে আমি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দেখলাম। আর আমার উম্মতের শাসন অচিরেই সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে যা আমার জন্য গুটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকে দুটি ধনভাণ্ডার দান করা হয়েছে: লাল ও সাদা। আমি আমার রবের কাছে আমার উম্মতের জন্য আবেদন করেছি যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস না করেন এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য কোনো শত্রু যেন তাদের ওপর চাপিয়ে না দেন যারা তাদের সামগ্রিক অস্তিত্বকে সমূলে বিনাশ করবে। আমার রব বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তা আর ফেরানো হয় না। আমি তোমাকে তোমার উম্মতের জন্য এই প্রতিশ্রুতি দিলাম যে, আমি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করব না এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য কোনো শত্রু তাদের ওপর চাপিয়ে দেব না যারা তাদের সামগ্রিক অস্তিত্ব সমূলে বিনাশ করবে, যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শত্রুরা তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়; যতক্ষণ না তারা একে অপরকে ধ্বংস করবে এবং একে অপরকে বন্দি করবে।"
অতঃপর দ্বিতীয় খলীফার যুগে রোম ও পারস্যের দেশসমূহ বিজিত হলো এবং তাদের ধনভাণ্ডার মহান আল্লাহর পথে ব্যয় করা হলো। তাওহীদের সেনাবাহিনী পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত যাত্রা অব্যাহত রাখল, যা দেশ বিজয়ের আগেই মানুষের অন্তরসমূহকে আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর একত্বের দিকে উন্মুক্ত করে দিল। এভাবে অধিকাংশ মানুষের ওপর আল্লাহর নিআমত পূর্ণ হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٥)
الأرض، فاتجهوا إلى عبادة الله وحده، بعدما كانوا يعبدون كل شيء، وكانت تستعبدهم شياطين الجن والإنس.
ولكن كثيراً من الناس لا يعجبهم ذلك، بل يسوؤهم ويحزنهم.
ومن حكمة الله -تعالى - أن جعل للباطل جنوداً يناصرونه، ويدافعون الحق ويردونه، كما جعل للحق أنصاراً يتفانون في الذياد عنه، والدعوة إليه.
وقد كان ذلك منذ باء إبليس اللعين بالطرد عن رحمة الله، والبعد عن كل خير، فأقسم بعزة الله ليغوين بنى آدم أجمعين، إلا عباد الله المخلصين، كما قال الله تعالى عنه: {قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لأغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ {82} إِلَاّ عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ} (1) .
ومن المعلوم أن الله - تعالى - لم يقبض نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم حتى أكمل له دينه، وأظهره على من عاداه بالحجج والبراهين، وبقوة القتال لمن وقف في وجهه وعاند الحق، كما قال - تعالى - في آخر ما أنزله الله عليه: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي
وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا} (2) ، فإذا كان الله قد أكمل لهم دينهم، فلا بد من أنه وضحه لهم بحيث لا يبقى فيه أي التباس أو اشتباه، ولا بد من أنهم فهموه واعتقدوه على ما أريد منهم وعملوا به، ولا بد من الاستغناء به عن كل ما سواه، فلا يحتاجون معه إلى غيره، وأعظم ما يحتاجونه وأشرفه هو معرفتهم ربهم بأسمائه وصفاته، وما يجب له ويستحقه، ويحمد ويمجد به، ويثنى به عليه؛ لأن هذا من أفضل العبادة التي أوجبها الله عليهم، كما قال تعالى: {وَلِلّهِ الأَسْمَاء الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُواْ الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَآئِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} (3) .
--------------------------------------------
জমিন, ফলে তারা এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে মনোনিবেশ করল, অথচ এর আগে তারা সব কিছুর ইবাদত করত এবং জিন ও মানুষের মধ্য থেকে শয়তানরা তাদের দাস বানিয়ে রেখেছিল।
কিন্তু অনেক মানুষই তা পছন্দ করে না, বরং এটি তাদের ব্যথিত ও দুঃখিত করে।
আর মহান আল্লাহর হিকমতের অংশ হলো যে, তিনি বাতিলের জন্য এমন সৈন্যবাহিনী নিযুক্ত করেছেন যারা তাকে সাহায্য করে এবং সত্যকে প্রতিহত ও প্রত্যাখ্যান করে; ঠিক তেমনিভাবে তিনি সত্যের জন্য এমন সাহায্যকারী তৈরি করেছেন যারা তা রক্ষা করতে এবং তার দিকে দাওয়াত দিতে নিজেদের উৎসর্গ করে।
আর এটি তখন থেকেই চলে আসছে যখন অভিশপ্ত ইবলিস আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হওয়ার এবং সকল কল্যাণ থেকে দূরে সরে যাওয়ার গ্লানি বহন করল; তখন সে আল্লাহর সম্মানের শপথ করে বলল যে, সে বনী আদমের সকলকেই পথভ্রষ্ট করবে, আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের ব্যতীত। যেমনটি আল্লাহ তাআলা তার সম্পর্কে বলেছেন: "সে বলল: আপনার ইজ্জতের শপথ! আমি তাদের সকলকেই অবশ্যই পথভ্রষ্ট করব, তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া।" (১)।
এটি সর্বজনবিদিত যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জান কবজ করেননি যতক্ষণ না তিনি তাঁর জন্য তাঁর দীনকে পূর্ণ করেছেন এবং যারা তাঁর বিরোধিতা করেছিল তাদের ওপর দলিল-প্রমাণ এবং তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ানো ও সত্যের সাথে শত্রুতা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শক্তির মাধ্যমে তাঁকে বিজয়ী করেছেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অবতীর্ণ সর্বশেষ বাণীর মধ্যে বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম
এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" (২)। সুতরাং আল্লাহ যখন তাদের জন্য তাদের দীনকে পূর্ণ করেছেন, তখন অবশ্যই তিনি তা তাদের কাছে এমনভাবে স্পষ্ট করেছেন যাতে সেখানে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা বা সংশয় অবশিষ্ট না থাকে। আর এটিও অনিবার্য যে, তারা তা বুঝেছিলেন এবং তাদের কাছে যা চাওয়া হয়েছিল সেই অনুযায়ী তা বিশ্বাস করেছিলেন ও তদানুযায়ী আমল করেছিলেন। আর এর মাধ্যমে অন্য সকল কিছু থেকে বিমুখ হওয়াও অনিবার্য, ফলে এর উপস্থিতিতে তারা অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হবে না। আর তাদের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রয়োজন হলো তাদের রবকে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে চেনা, এবং তাঁর জন্য যা আবশ্যক ও তিনি যার হকদার এবং যার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করা হয় এবং তাঁর স্তুতি গাওয়া হয় তা জানা; কারণ এটি হলো সর্বোত্তম ইবাদত যা আল্লাহ তাদের ওপর ফরজ করেছেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেই নামেই ডাকো। আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়; তারা যা করত অচিরেই তাদের তার প্রতিফল দেওয়া হবে।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٦)
قد أوضح الله ورسوله العقيدة وضوحاً جلياً
فلا بد من إيضاح الواجب لله - تعالى - والممتنع عليه، والجائز عليه، حتى يكونوا على بينة من دينهم، ومعبودهم، لأنه لا سبيل إلى معرفة ذلك إلا من الوحي، إذ هو من الغيب، الذي لا يعلم بالقياس، ولا بالعقل.
وقد بين الله لنا طريقة الأنبياء التي كانوا يدعون بها أممهم، كما قص الله تعالى عنهم في القرآن، فقد اتفقت طريقتهم في الدعوة إلى توحيد الله وعبادته وحده، وخاتمهم جاء مقتفياً أثرهم في ذلك، فدعا أمته إلى ما دعت إليه الرسل قبله، من توحيد الله ومعرفته، فلم يفارقهم حتى وضح لهم الطريق، واستبان الحق من الباطل.
روى ابن ماجه عن أبي الدرداء، قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نذكر الفقر ونتخوفه، فقال: " آلفقر تخافون؟ والذي نفسي بيده لتصبن عليكم الدنيا حتى لا يزيغ قلب أحدكم إلا هيه، وايم الله لقد تركتكم على مثل البيضاء، ليلها ونهارها سواء".
قال أبو الدرداء: صدق والله رسول الله صلى الله عليه وسلم: " تركنا على مثل البيضاء، ليلها ونهارها سواء" (1) .
وقال الله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} (2) ، وقال تعالى: {وَمَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَاّ لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُواْ فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (3) ، وقال تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (4) .
--------------------------------------------
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আকীদাহকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং আল্লাহর জন্য যা ওয়াজিব (আবশ্যক), যা মুমতেনি' (অসম্ভব) এবং যা জায়েয—তা স্পষ্ট করা অপরিহার্য, যাতে মানুষ তাদের দ্বীন ও তাদের মা'বুদ (উপাস্য) সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর থাকতে পারে। কারণ ওহী ব্যতীত এটি জানার কোনো পথ নেই; যেহেতু এটি গায়েবের (অদৃশ্যের) অন্তর্ভুক্ত, যা কিয়াস (অনুমান) বা আকল (বিবেক) দ্বারা জানা যায় না।
আল্লাহ আমাদের নিকট নবীদের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, যে পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের উম্মতদের দাওয়াত দিতেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাঁদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর তাওহীদ এবং একমাত্র তাঁর ইবাদতের দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি এক ও অভিন্ন ছিল। আর তাঁদের শেষজন (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ক্ষেত্রে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এসেছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে সেই তাওহীদ ও আল্লাহকে চেনার দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, যেদিকে তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদেরকে ছেড়ে যাননি যতক্ষণ না তাঁদের জন্য পথ স্পষ্ট করেছেন এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়েছে।
ইবনে মাজাহ আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন যখন আমরা দারিদ্র্যের আলোচনা করছিলাম এবং তা নিয়ে আশঙ্কাবোধ করছিলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমরা কি দারিদ্র্যকে ভয় পাচ্ছ? সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের ওপর দুনিয়া অঝোরে ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তোমাদের কারো অন্তর কেবল দুনিয়ার মোহে পথভ্রষ্ট হবে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাত ও দিন সমান (পরিষ্কার)।"
আবু দারদা (রা.) বলেন: আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন: "তিনি আমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে গেছেন, যার রাত ও দিন সমান।" (১)।
আর আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনার ওপর এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং এটি মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদ।} (২), আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি আপনার ওপর এই কিতাব কেবল এ জন্যই অবতীর্ণ করেছি যেন তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি তা তাদের নিকট স্পষ্ট করে দেন এবং এটি মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত।} (৩), আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আমি আপনার নিকট যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٧)
فالإيمان بالله وأسمائه وصفاته أعظم الأشياء، وكذلك عبادته، فلا بد أن يبين الكتاب - الذي هو تبيان لكل شيء - ذلك أوضح البيان.
ولا بد أن يدل على أعظم الهدى الذي هو معرفة الله - تعالى - بأسمائه وصفاته، كما أن من أعظم ما وقع فيه الخلاف في الأمة هو في هذا الباب، فلا بد أن يكون قد بينه، لأنه تعالى أخبرنا أنه نزله ليبين لنا ما اختلفنا فيه، ولا بد أن نجد فيه ما يزيل كل شك ولبس؛ لأنه هدى ورحمة، لكن ليس لكل أحد بل للمؤمنين فقط.
وأعظم ما أنزل إلينا هو الإيمان بالله، ومعرفته، وقد أخبرنا تعالى أنه أنزل الكتاب ليبين للناس ما نزل إليهم، فكيف يترك أعظم الأشياء المنزلة إلينا بدون بيان؟
فعلم بهذا ونحوه أن الله - تعالى - بين على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم للأمة كل ما تحتاج إليه في دينها، ومعرفة ربها، ولم يكل ذلك إلى عقولهم، أو قياساتهم.
قال ابن عباس في قوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا} (1) : " أخبر الله نبيه والمؤمنين، أنه أكمل لهم الإيمان، فلا يحتاجون إلى زيادة أبداً، وقد أتمه الله فلا ينقصه أبداً، وقد رضيه الله فلا يسخطه أبداً" (2) .
فإذا كان الله - تعالى - قد أكمل لهم الإيمان، فكل ما لم يقله رسول الله صلى الله عليه وسلم في باب الإيمان ولم يأمر به ويبينه للأمة فهو باطل، وليس من الدين الكامل الذي جاء به.
وأصل الدين وأساسه: معرفة الله تعالى بأسمائه وصفاته، ومعرفة ما يجب له على عباده.
--------------------------------------------
আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয়, আর তেমনই তাঁর ইবাদতও। তাই কিতাব (কুরআন) - যা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা - তাতে অবশ্যই এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হতে হবে।
আর অবশ্যই তা সর্বোত্তম হিদায়াতের দিকে পথপ্রদর্শন করবে, যা হলো আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় লাভ করা। যেহেতু উম্মতের মাঝে যে বিষয়গুলোতে সবচেয়ে বেশি মতভেদ ঘটেছে তার মধ্যে এটি অন্যতম, তাই অবশ্যই এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি এটি নাযিল করেছেন যাতে আমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছি তা স্পষ্ট করে দেন। আর অবশ্যই এতে এমন কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে যা সকল সংশয় ও অস্পষ্টতা দূর করে দেয়; কারণ এটি হিদায়াত ও রহমত, তবে সবার জন্য নয় বরং কেবল মুমিনদের জন্য।
আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর পরিচয় লাভ। আল্লাহ তাআলা আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি কিতাব নাযিল করেছেন মানুষের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য; তবে কীভাবে আমাদের প্রতি নাযিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয়টি কোনো স্পষ্ট বর্ণনা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হবে?
এর দ্বারা এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলোর মাধ্যমে জানা গেল যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে উম্মতের জন্য তাদের দীনের ক্ষেত্রে এবং তাদের রবের পরিচয়ের ক্ষেত্রে যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই বর্ণনা করে দিয়েছেন। তিনি এই বিষয়টি তাদের বুদ্ধি বা অনুমানের ওপর ছেড়ে দেননি।
আল্লাহ তাআলার বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (১) -এর ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস বলেন: "আল্লাহ তাঁর নবী ও মুমিনদের জানিয়েছেন যে, তিনি তাদের জন্য ঈমানকে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন, ফলে তাদের কখনোই অতিরিক্ত কোনো কিছুর প্রয়োজন হবে না। আল্লাহ একে সম্পূর্ণ করেছেন, তাই এটি কখনোই অপূর্ণ হবে না। আর আল্লাহ এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন, তাই তিনি কখনোই এর ওপর অসন্তুষ্ট হবেন না" (২)।
সুতরাং আল্লাহ তাআলা যখন তাদের জন্য ঈমানকে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন, তখন ঈমানের অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি এবং যা করার নির্দেশ দেননি কিংবা যা উম্মতের কাছে স্পষ্ট করেননি, তা বাতিল এবং তা তাঁর আনীত সেই পূর্ণাঙ্গ দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
দীনের মূল এবং এর ভিত্তি হলো: আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় লাভ করা এবং তাঁর বান্দাদের ওপর আল্লাহর যে অধিকার ওয়াজিব তা জানা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٨)
ولا يجوز لمسلم يؤمن بالله ورسوله واليوم الآخر أن يظن برسول الله صلى الله عليه وسلم أنه لم يبين ما يعتقده العبد في ربه؛ لأن هذا هو الذي أمر بتبليغه.
قال شيخ الإسلام: " من المحال في العقل والدين أن يكون الرسول الذي أخرج الله به الناس من الظلمات إلى النور، وأنزل عليه الكتاب ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه، أن يكون قد ترك باب الإيمان بالله والعلم به ملتبساً مشتبهاً، ولم يميز بين ما يجب لله، من الأسماء الحسنى والصفات العليا، وما يجوز عليه، وما يمتنع عليه، فإن معرفة هذا أصل الدين، وأفضل الأعمال، فكيف يكون القرآن والرسول والصحابة - وهم أفضل الخلق بعد النبيين - لم يحكموا هذا الباب اعتقاداً وقولاً؟ ".
ومحال أن يعلم النبي صلى الله عليه وسلم أمته أدب الأكل والشرب، وقضاء الحاجة، ونحو ذلك، ويترك تعليمهم ما يقولونه بألسنتهم، وما يعتقدونه في قلوبهم، في ربهم ومعبودهم، مع كون ذلك غاية المعارف، وأشرف المقاصد، والوصول إليه غاية المطالب، مع قوله صلى الله عليه وسلم: "ما بعث الله من نبي إلا كان حقاً عليه أن يدل أمته على خير ما يعلمه لهم، وينهاهم عن شر ما يعلمه لهم" (1) .
ومحال أن يكون الذين كان فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم والذين يلونهم غير عالمين للحق في باب معرفة الله، وغير قائلين به.
ومعلوم أن من في قلبه حياة ومحبة للعبادة، أنه يحرص أشد الحرص على معرفة ذلك.
وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: (2) " خير الناس قرني، ثم الذين
--------------------------------------------
আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকালের ওপর বিশ্বাসী কোনো মুসলিমের জন্য এটা ভাবা বৈধ নয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক সম্পর্কে একজন বান্দার কী বিশ্বাস রাখা উচিত, তা বর্ণনা করেননি; কারণ এটিই ছিল তাঁকে প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাইখুল ইসলাম বলেন: "বুদ্ধিবৃত্তি এবং দ্বীনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অসম্ভব যে, যে রাসূলের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং যাঁর ওপর কিতাব নাযিল করেছেন মানুষের মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিচার করার জন্য, সেই রাসূল আল্লাহর ওপর ঈমান ও তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি অস্পষ্ট ও সন্দেহযুক্ত রেখে যাবেন; এবং আল্লাহর জন্য যেসব সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলি আবশ্যক, যা তাঁর জন্য জায়েয এবং যা তাঁর জন্য অসম্ভব—এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করবেন না। কারণ এই জ্ঞানই হলো দ্বীনের মূল এবং সর্বোত্তম আমল। সুতরাং কীভাবে সম্ভব যে, কুরআন, রাসূল এবং সাহাবীগণ—যাঁরা নবীদের পর সৃষ্টির সেরা—এই বিষয়টি আকিদা ও বক্তব্যের দিক থেকে সুদৃঢ় করেননি?"
এটা অসম্ভব যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে পানাহারের আদব, শৌচাগার ব্যবহারের নিয়ম ও এজাতীয় বিষয় শিক্ষা দেবেন, আর তাদের প্রতিপালক ও উপাস্য সম্পর্কে মুখে কী বলতে হবে এবং অন্তরে কী বিশ্বাস পোষণ করতে হবে তা শিক্ষা দেওয়া বাদ দেবেন। অথচ এটিই হলো জ্ঞানের চূড়ান্ত শিখর, মহত্তম লক্ষ্য এবং সকল চাহিদার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে তাঁর এই বাণীর পর: "আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যাঁর ওপর এ দায়িত্ব ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতের জন্য যা কল্যাণকর জানেন তা তাদের দেখিয়ে দেবেন এবং তাদের জন্য যা অকল্যাণকর জানেন তা থেকে তাদের সতর্ক করবেন।" (১)।
আর এটা অসম্ভব যে, যাঁদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদ্যমান ছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তী অনুসারীগণ আল্লাহকে জানার বিষয়ে সত্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং সে বিষয়ে সত্য কথা বলেননি।
এটা সুপরিচিত যে, যার অন্তরে জীবন ও ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, সে এই বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হবে।
তাঁর থেকে সহীহ বর্ণনায় প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: (২) "মানুষদের মাঝে সর্বোত্তম হচ্ছে আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٩)
يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم يجيء أقوام تسبق شهادة أحدهم يمينه، ويمينه شهادته" (1) .
بدء الانحراف
لما سيطر حكم الإسلام على أكثر البلاد، في آسيا، وأفريقيا، وغيرهما، دخل تحت حكمه أمم كثيرة، رغبة ورهبة، وكان لها أديان مختلفة، من يهودية، ومجوسية، ونصرانية، ووثنية، وغير ذلك، وقد كان لكثير من هذه الأمم سلطان كبير، مثل المجوس، والرومان، فسلبهم المسلمون ذلك، وكان عند هؤلاء من الكبر والاستعلاء ما يجعلهم يأنفون من كونهم تحت سلطان المسلمين، ولا سيما وقد كانوا يرون العرب من أحقر الأمم، وأقلها شأناً، كما أن اليهود واجهوا الإسلام ورسوله من أول أمره بالعداء، وحاولوا القضاء عليه بأنواع من المكائد، والمؤامرات، ولما يئس هؤلاء جميعاً من قدرتهم في مجابهة الإسلام بالقوة وجهاً لوجه انصرف جهدهم وكيدهم إلى الدسائس، والمؤامرات، والاغتيالات لرجاله العظام.
ودخل في الإسلام ظاهراً من هؤلاء من قصده إفساده، وتمزيق وحدة أهله، ولا بد أن يكون ذلك عن دراسة، وإعمال فكر وتخطيط. وربما يكون هناك جمعيات متعاونة، من المجوس واليهود، والنصارى والهنود، وغيرهم، وقد تكون لكل طائفة مؤسسات تعمل لإفساد عقائد المسلمين؛ لتيقنهم أنه لا يمكن هزيمة المسلمين، إلا بإفساد عقيدتهم، فبدأت آثار تلك المؤامرات تظهر، شيئاً فشيئاً، فقتل الخليفة الراشد عمر بن الخطاب بأيد مجوسية، وربما بمؤامرة مجوسية يهودية.
ثم قتل الخليفة بعده، بأيد مشبوهة، من غوغاء، يدفعهم بعض دهاة اليهود والمجوس.
--------------------------------------------
...তাদের পরবর্তী প্রজন্ম, এরপর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম; এরপর এমন একদল লোকের আগমন ঘটবে যাদের সাক্ষ্য তাদের শপথের অগ্রগামী হবে এবং শপথ তাদের সাক্ষ্যের অগ্রগামী হবে।" (১)।
বিচ্যুতির সূচনা
যখন এশিয়ার অধিকাংশ দেশ, আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন অনেক জাতি সদিচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এর শাসনের অধীনে চলে এল। তাদের মধ্যে ইহুদি, অগ্নিপূজক, খ্রিস্টান, মূর্তিপূজক এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ছিল। এদের অনেকেরই ইতিপূর্বে বিশাল সাম্রাজ্য ছিল, যেমন অগ্নিপূজক ও রোমানরা, যা মুসলিমরা তাদের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। এদের মধ্যে এমন অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ ছিল যা তাদের মুসলিমদের কর্তৃত্বের অধীনে থাকাকে অত্যন্ত অসম্মানজনক মনে করতে বাধ্য করত; বিশেষ করে তারা আরবদের নিকৃষ্টতম এবং অত্যন্ত নগণ্য জাতি মনে করত। ঠিক যেমন ইহুদিরা ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই ইসলাম ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছিল এবং বিভিন্ন ধরণের কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একে নির্মূল করার চেষ্টা করেছিল। যখন তারা সকলে সরাসরি শক্তির লড়াইয়ে ইসলামের মোকাবিলা করার সক্ষমতার ব্যাপারে নিরাশ হলো, তখন তাদের প্রচেষ্টা ও চক্রান্ত গুপ্ত ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত এবং ইসলামের মহান ব্যক্তিত্বদের গুপ্তহত্যার দিকে মোড় নিল।
এবং তাদের মধ্যে এমন অনেকে বাহ্যিকভাবে ইসলামে প্রবেশ করল যাদের উদ্দেশ্য ছিল একে কলুষিত করা এবং মুসলিমদের ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করা। আর এটি অবশ্যই সুগভীর পর্যবেক্ষণ, চিন্তা এবং সুশৃঙ্খল পরিকল্পনার ফসল ছিল। সম্ভবত সেখানে অগ্নিপূজক, ইহুদি, খ্রিস্টান, ভারতীয় এবং অন্যদের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক সঙ্ঘ ছিল। প্রতিটি গোষ্ঠীর হয়তো এমন প্রতিষ্ঠান ছিল যারা মুসলিমদের আকিদা বিনষ্ট করার জন্য কাজ করত; কারণ তারা নিশ্চিত ছিল যে, মুসলিমদের আকিদা বিনষ্ট করা ব্যতীত তাদের পরাজিত করা সম্ভব নয়। ফলে সেই ষড়যন্ত্রের চিহ্নগুলো একে একে প্রকাশ পেতে শুরু করল। অতঃপর খলিফায়ে রাশেদ ওমর ইবনুল খাত্তাব একজন অগ্নিপূজকের হাতে এবং সম্ভবত অগ্নিপূজক-ইহুদি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিহত হলেন।
এরপর পরবর্তী খলিফা একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতার সন্দেহভাজন হাতে নিহত হলেন, যাদের প্ররোচনা দিয়েছিল কিছু চতুর ইহুদি ও অগ্নিপূজক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ثم ظهر القول بنفي القدر، وأول من عرف بذلك رجل مجوسي يقال له: سيسويه، من الأساورة، وإن كان قد اشتهر أن أول من قال به
معبد الجهني (1) .
ثم أوقدت نار الفتنة بين المسلمين، وقتال بعضهم بعضاً.
ثم خرجت الخوارج بجهلهم، وعتوهم، وتكفيرهم المسلمين، وقتلهم إياهم.
ثم نجم التشيع الشنيع، من قبل يهود ومجوس يوقدون ناره، وأظهروا القول بأن للرسول –صلى الله عليه وسلم وصياً، هو علي بن أبي طالب، ولكن الصحابة تمالؤوا على ظلمه، وكتمان الوصية على حد زعمهم الكاذب.
ولم يزل التشيع يتطور بتطرفه، وتشعبه، حتى صار ملجأ لكل من يريد أن يحارب الإسلام والمسلمين، وظهر فيه القول بأن القرآن مبدل ومحرف، ومزيد فيه، ومنقوص منه، وأن أعظم الصحابة ارتدوا بعد إسلامهم إن لم يكونوا كلهم، ما عدا علي بن أبي طالب ونفراً قليلاً معه.
وقد يصل الضلال ببعضهم والجرأة على الله – تعالى – إلى أن يقول بخيانة جبريل للرسالة، وأنه أرسل إلى علي فعدل بها إلى محمد.
ولم يزل الرفض يبتعد أهله عن الدين والعقل والفطرة إلى يومنا هذا.
ثم ظهر القول بإنكار الصفات لله – تعالى -، وأنه لا يحب أحداً من عباده ولا يحبه أحد، ولا يتكلم، وليس له يد، ولا وجه، ولا شيء مما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله.
--------------------------------------------
এরপর তাকদির অস্বীকারের মতবাদ প্রকাশ পায়। আর যার মাধ্যমে এটি প্রথম পরিচিতি পায়, সে হলো সিসাউয়াইহ নামক এক মাজুসি ব্যক্তি, যে আসাবিরাহদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও এটি প্রসিদ্ধ যে, মা'বাদ আল-জুহানিই (১) প্রথম ব্যক্তি যিনি এটি বলেছিলেন।
এরপর মুসলিমদের মাঝে ফিতনার আগুন জ্বলে ওঠে এবং তাদের একে অপরের সাথে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
এরপর তাদের অজ্ঞতা, ঔদ্ধত্য, মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করা এবং তাদের হত্যার মাধ্যমে খারেজিদের উদ্ভব ঘটে।
এরপর ইহুদি ও মাজুসিদের পক্ষ থেকে জঘন্য শিয়া মতবাদের প্রাদুর্ভাব ঘটে যারা এর আগুন প্রজ্জ্বলিত করেছিল। তারা এই মত প্রচার করল যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন অসি (উত্তরাধিকারী) ছিলেন, তিনি হলেন আলী ইবনে আবি তালিব। কিন্তু সাহাবিরা—তাদের মিথ্যা দাবি অনুযায়ী—তার প্রতি জুলুম করতে এবং এই অসিয়ত গোপন করতে একমত হয়েছিলেন।
শিয়া মতবাদ এর চরমপন্থা ও শাখা-প্রশাখা বিস্তারের মাধ্যমে ক্রমাগত বিকশিত হতে থাকে, শেষ পর্যন্ত এটি ইসলাম ও মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক সকলের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। এতে এই দাবির উদ্ভব হয় যে, কুরআন পরিবর্তিত ও বিকৃত এবং এতে কাটছাঁট করা হয়েছে। আরও দাবি করা হয় যে, মহান সাহাবিরা ইসলাম গ্রহণের পর মুরতাদ হয়ে গিয়েছেন—বরং তাদের প্রায় সবাই—ব্যতিক্রম শুধু আলী ইবনে আবি তালিব এবং তার সাথে থাকা স্বল্প সংখ্যক কয়েকজন।
তাদের কারো কারো গোমরাহি এবং মহান আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা জিবরাইলের রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে খিয়ানত করার কথা বলে। তাদের মতে, তাকে আলীর নিকট পাঠানো হয়েছিল কিন্তু তিনি তা মুহাম্মদের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
এই রাফেজি মতবাদের অনুসারীরা আজ অবধি দ্বীন, বিবেক ও সুস্থ প্রকৃতি থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।
এরপর মহান আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) অস্বীকার করার মতবাদ প্রকাশ পায়। তারা বলে যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাউকে ভালোবাসেন না এবং তাকেও কেউ ভালোবাসে না, তিনি কথা বলেন না, তাঁর কোনো হাত নেই, তাঁর কোনো মুখমণ্ডল নেই এবং এমন কিছুই নেই যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন কিংবা তাঁর রাসুল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١١)
وكان أول من عرف بذلك، رجل يقال له: الجعد بن درهم (1) .
قال شيخ الإسلام: " أصل مقالة تعطيل الصفات، مأخوذ عن تلامذة اليهود والمشركين، وضلال الصابئين، فإن أول من حفظ عنه أنه قال هذه المقالة في
الإسلام – أعني أن الله ليس على العرش حقيقة، وأن الاستواء بمعنى الاستيلاء، ونحو ذلك – هو الجعد بن درهم، وأخذها عنه الجهم بن صفوان، وأظهرها فنسبت مقالة الجهمية إليه.
وقد قيل: إن الجعد أخذ مقالته عن أبان بن سمعان، وأخذها عن طالوت ابن أخت لبيد بن الأعصم، وأخذها طالوت عن لبيد بن الأعصم اليهودي الساحر، الذي سحر النبي –صلى الله عليه وسلم –" (2) .
وهذه سلسلة يهودية لها سوابق في محاربة الإسلام.
وقال البخاري: " حدثنا قتيبة، حدثني القاسم بن محمد، حدثنا عبد الرحمن بن محمد بن حبيبة، عن أبيه، عن جده، قال: شهدت خالد بن عبد الله القسري بواسط في يوم أضحى
… وقال: ارجعوا فضحوا تقبل الله منكم، فإني مضح بالجعد بن درهم، زعم أن الله لم يتخذ إبراهيم خليلاً، ولم يكلم موسى تكليماً، تعالى الله علواً كبيراً عما يقول ابن درهم، ثم نزل فذبحه".
قال أبو عبد الله: قال قتيبة: " بلغني أن جهماً كان يأخذ الكلام من الجعد بن درهم" (3) .
فتبين أن هذا الإلحاد جاء من قبل اليهود الذين أرادوا إفساد دين الإسلام،
--------------------------------------------
এবং এটি দিয়ে প্রথম যাকে চেনা যায়, তিনি হলেন এমন এক ব্যক্তি যাকে বলা হয়: জাদ বিন দিরহাম (১)।
শায়খুল ইসলাম বলেন: "গুণাবলি অস্বীকারের (তাতিল) মূল কথাটি ইয়াহুদি ও মুশরিকদের শিষ্যদের থেকে এবং পথভ্রষ্ট সাবেয়ীদের থেকে নেওয়া হয়েছে। কেননা ইসলামের মধ্যে যার কাছ থেকে প্রথম এই কথাটি সংরক্ষিত হয়েছে—অর্থাৎ আল্লাহ প্রকৃতপক্ষে আরশের উপরে নেই, এবং 'উঠা' (ইস্তিওয়া) এর অর্থ হলো 'কর্তৃত্ব গ্রহণ' (ইসতিলা), এবং এই জাতীয় কথাবার্তা—তিনি হলেন জাদ বিন দিরহাম। আর তার থেকে এটি গ্রহণ করেন জাহম বিন সাফওয়ান এবং তিনি তা প্রকাশ করেন, ফলে জাহমিয়াদের মতবাদটি তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।
আর বলা হয়ে থাকে যে: জাদ তার এই মতবাদটি আবান বিন সামআন থেকে গ্রহণ করেছিলেন, তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন লাবিদ বিন আসমের ভাগ্নে তালুত থেকে, আর তালুত তা গ্রহণ করেছিলেন ইয়াহুদি জাদুকর লাবিদ বিন আসম থেকে, যে নবী—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—কে জাদু করেছিল" (২)।
এটি একটি ইয়াহুদি পরম্পরা যার ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পূর্ব ইতিহাস রয়েছে।
বুখারি বলেন: "কুতাইবা আমাদের বর্ণনা করেছেন, কাসিম বিন মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন হাবিবা তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ঈদুল আজহার দিনে ওয়াসিত নামক স্থানে খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাসরিকে দেখেছি
… এবং তিনি বললেন: আপনারা ফিরে যান এবং কুরবানি করুন, আল্লাহ আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। আর আমি জাদ বিন দিরহামকে কুরবানি দিচ্ছি। সে দাবি করেছে যে, আল্লাহ ইবরাহিমকে খলিল (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেননি এবং মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেননি। ইবন দিরহাম যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি মহান ও উচ্চ। এরপর তিনি মিম্বর থেকে নামলেন এবং তাকে জবাই করলেন।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: কুতাইবা বলেছেন: "আমার কাছে পৌঁছেছে যে, জাহম জাদ বিন দিরহামের কাছ থেকে এই কথাগুলো গ্রহণ করতেন" (৩)।
সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, এই ধর্মবিচ্যুতি বা ইলহাদ সেই ইয়াহুদিদের পক্ষ থেকে এসেছে যারা ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করতে চেয়েছিল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
كما أن الرفض أول من عرف من دعاته يهودي ماكر حاقد، وهو ابن سبأ، يقال له: ابن السوداء، واسمه: عبد الله بن وهب بن سبأ، من يهود صنعاء، ولا بد أن هؤلاء الأفراد الذين شهروا بدعواتهم المنحرفة، وراءهم من يدعمهم، ويخطط لهم، وهذا الموضوع بحاجة إلى دراسة فاحصة، تبين الأمر بوضوح، وهذا الذي أشرت إليه تدل عليه كثير من الوقائع، والآثار عن السلف، وغيرهم.
فكان هذا هو سبب التفرق الحقيقي، إذ هو تفرق في الاعتقاد، وهو منشأ الخلافات، والحروب الكلامية الممزقة، التي لم تزل تنخر في كيان المسلمين إلى يومنا هذا.
وقد ينضم إلى ذلك عوامل جديدة في كل فترة زمنية، من أنواع الإلحاد ومحاربة الإسلام بأساليب شتى وأسلحة مختلفة، مقروءة ومرئية ومسموعة، ولولا أن الله - تعالى - تكفل ببقاء هذا الدين إلى آخر وقت من الدنيا، لقضي عليه منذ زمن بعيد، وهذا بالإضافة إلى ما هو كامن في طباع البشر مما يبعدهم عن الحق، مثل التقليد، واتباع المألوفات، وما يكون عليه رؤساء القوم وعظماؤهم، كما ذكر الله تعالى عن الأمم السابقة مع أنبيائهم، قال تعالى:
{أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا مِّن قَبْلِهِ فَهُم بِهِ مُسْتَمْسِكُونَ {21} بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِم مُّهْتَدُونَ {22} وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِّن نَّذِيرٍ إِلَاّ قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِم مُّقْتَدُونَ {23} قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُم بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدتُّمْ عَلَيْهِ آبَاءكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ} (1) .
فهذا يدل على أن الإنسان يصعب عليه ترك المألوف له، كما أن شيخه ومن يعظمه قد يسيطر على توجيهه إلى ما يعتقده، كما هي طريقة المتكلمين حيث يأخذون بآراء شيوخهم ومعظميهم، مع مخالفتها لكتاب الله وسنة رسوله.
ومن ذلك الجهل، واتباع الهوى، كما هو حال أكثر الخوارج، فإنهم
--------------------------------------------
যেমন রাফেযী মতবাদের দাওয়াত দানকারীদের মধ্যে প্রথম পরিচিত ব্যক্তি ছিল এক ধূর্ত ও বিদ্বেষপরায়ণ ইয়াহুদী, সে হলো ইবনে সাবা, যাকে ইবনুস সাওদা বলা হয়। তার নাম হলো আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব বিন সাবা, সানা’র ইয়াহুদীদের মধ্য হতে। আর এটি নিশ্চিত যে, এই ব্যক্তিবর্গ যারা তাদের ভ্রান্ত দাওয়াতের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেছিল, তাদের পেছনে এমন কেউ ছিল যারা তাদের সমর্থন জোগাত এবং তাদের জন্য পরিকল্পনা করত। এই বিষয়টি একটি সূক্ষ্ম গবেষণার দাবি রাখে, যা বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে। আর আমি যে বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছি, অনেক ঘটনা এবং সালাফে সালেহীন ও অন্যদের থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো তার প্রমাণ দেয়।
এটিই ছিল প্রকৃত বিভক্তির কারণ, যেহেতু এটি ছিল আকিদাগত বিভক্তি। আর এটিই হলো বিরোধ এবং ধ্বংসাত্মক বাকযুদ্ধের উৎস, যা আজ অবধি মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্বকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
এর সাথে প্রতিটি যুগে নতুন নতুন উপাদান যুক্ত হতে পারে, যেমন বিভিন্ন প্রকারের নাস্তিকতা এবং বৈচিত্র্যময় পদ্ধতি ও বিভিন্ন অস্ত্রের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা; যা পঠিত, দৃশ্যমান এবং শ্রবণযোগ্য উপায়ে হয়ে থাকে। যদি মহান আল্লাহ দুনিয়ার শেষ সময় পর্যন্ত এই দ্বীন টিকে থাকার দায়িত্ব গ্রহণ না করতেন, তবে অনেক আগেই এটি মিটিয়ে দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বিষয়টিও রয়েছে যা তাদেরকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়; যেমন অন্ধ অনুকরণ, অভ্যস্ত বিষয়ের অনুসরণ এবং কওমের নেতা ও বড়দের আদর্শের উপর অটল থাকা। যেমনটি মহান আল্লাহ পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ব্যাপারে তাদের নবীদের সাথে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন:
{নাকি আমি তাদের এর পূর্বে কোনো কিতাব দিয়েছি যা তারা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে আছে? {২১} বরং তারা বলে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের উপর পেয়েছি এবং আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সুপথপ্রাপ্ত। {২২} আর এভাবেই আপনার পূর্বে আমি যখনই কোনো জনপদে কোনো সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের উপর পেয়েছি এবং আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। {২৩} তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট পথনির্দেশ নিয়ে আসি যার উপর তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছ, তবুও কি তোমরা তা-ই বলবে? তারা বলল, তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ তা আমরা অস্বীকার করি। {২৪}} (১)।
এটি প্রমাণ করে যে, মানুষের পক্ষে অভ্যস্ত বিষয় পরিত্যাগ করা কঠিন। তদ্রূপ তার শাইখ বা যাকে সে সম্মান করে, তিনি তাকে নিজ আকিদার দিকে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন; যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদদের পদ্ধতি, যেখানে তারা তাদের শাইখ ও বড়দের মতবাদ গ্রহণ করে, যদিও তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর বিরোধী হয়।
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মূর্খতা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ, যেমনটি অধিকাংশ খাওয়ারিজদের অবস্থা ছিল। তারা মূলত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
جهلوا معاني الكتاب، وأرادوا من عموم الأمة أن لا يكون لهم ذنوب، وإلا أصبح عندهم كافراً مخلداً في النار.
وأما الهوى فبابه واسع، وقد قال الله تعالى: {أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ} (1) .
وقال تعالى: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ} (2)
إلى غير ذلك من الدوافع نحو الانحراف، وسأذكر شيئا مما ذكره أهل العلم يؤيد ما ذكر هنا:
قال شيخ الإسلام – رحمه الله تعالى -: " وقد روي أن أول من ابتدع {القول بنفي القدر} بالعراق رجل من أهل البصرة يقال له: سيسويه، من أبناء المجوس، وتلقاه عنه معبد الجهني" (3) .
وقال الإمام ابن حزم: " الأصل في أكثر خروج هذه الطوائف عن ديانة الإسلام: أن الفرس كانوا من سعة الملك وعلو اليد على جميع الأمم، وجلالة الخطر في أنفسهم، حتى إنهم يسمون أنفسهم: الأحرار، والأبناء، وكانوا يعدون سائر الناس عبيداً لهم، فلما امتحنوا بزوال الدولة عنهم، على أيدي العرب، وكانت العرب أقل الأمم عند الفرس خطراً، تعاظمهم الأمر، وتضاعفت لديهم المصيبة، وراموا كيد الإسلام بالمحاربة، في أوقات شتى، ففي كل ذلك يظهر الله – سبحانه وتعالى – الحق، وكان من قائمتهم "منقاذ" و"المقنع" و"استابين"،
--------------------------------------------
তারা কিতাবের অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল এবং তারা সাধারণ উম্মতের কাছ থেকে এমনটা চেয়েছিল যেন তাদের কোনো গুনাহ না থাকে, অন্যথায় সে ব্যক্তি তাদের নিকট চিরস্থায়ী জাহান্নামী কাফের হয়ে যাবে।
আর প্রবৃত্তির বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক, মহান আল্লাহ বলেছেন: "আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে?" (১)।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হেদায়েত ছাড়াই যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে?" (২)
বিচ্যুতি বা ভ্রষ্টতার দিকে পরিচালিত অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম। এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সমর্থনে আলেমগণ যা বলেছেন আমি তা থেকে কিছুটা উল্লেখ করব:
শাইখুল ইসলাম -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- বলেছেন: "বর্ণিত আছে যে, ইরাকে প্রথম যে ব্যক্তি 'তাকদীর অস্বীকার করার মতবাদ' উদ্ভাবন করেছিল সে বসরার অধিবাসী সিসওয়াইহ নামক এক ব্যক্তি, যে ছিল মজুসীদের বংশোদ্ভূত। আর তার কাছ থেকেই মা'বাদ আল-জুহানি এটি গ্রহণ করেছিল" (৩)।
ইমাম ইবনে হাজম বলেছেন: "ইসলাম ধর্ম থেকে এই দলগুলোর অধিকাংশের বেরিয়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল: পারসিকরা বিশাল সাম্রাজ্য এবং সকল জাতির ওপর কর্তৃত্বের অধিকারী ছিল এবং নিজেদের মর্যাদাকে তারা এত উচ্চ মনে করত যে, তারা নিজেদেরকে 'আহরার' (স্বাধীন) ও 'আবনা' (অভিজাত) বলে ডাকত এবং অবশিষ্ট সকল মানুষকে নিজেদের দাস মনে করত। অতঃপর যখন তারা আরবদের হাতে তাদের সাম্রাজ্য হারানোর পরীক্ষার সম্মুখীন হলো—আর আরবরা পারসিকদের নিকট ছিল তুচ্ছ জাতি—তখন এই বিষয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠল এবং তাদের বিপদ বহুগুণ বেড়ে গেল। ফলে তারা বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধের মাধ্যমে ইসলামের অনিষ্ট করার সংকল্প করল। কিন্তু এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সত্যকে প্রকাশ ও বিজয়ী করলেন। তাদের প্রধানদের মধ্যে ছিল 'মানকায', 'আল-মুকান্না' এবং 'আস্তাবীন',
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
و"دبابك" (1) وغيرهم، وقبل هؤلاء رام ذلك عمار الملقب "خداشا"، و"أبو مسلم السراج".
فرأوا أن كيده على الحيلة أنجع، فأظهر قوم منهم الإسلام، واستمالوا أهل التشيع بإظهار محبة أهل بيت رسول الله –صلى الله عليه وسلم واستشناع ظلم (2) علي- رضي الله عنه ثم سلكوا بهم مسالك شتى، حتى أخرجوهم عن الإسلام، فقوم منهم أدخلوهم إلى القول بأن رجلاً ينتظر يدعى المهدي، عنده حقيقة الدين، إذ لا يجوز أن يؤخذ من هؤلاء الكفار.
وقوم خرجوا إلى نبوة من ادعوا له النبوة.
وقوم سلكوا بهم المسلك الذي ذكرنا، من القول بالحلول، وسقوط الشرائع. وآخرون تلاعبوا بهم، فأوجبوا عليهم خمسين صلاة في كل يوم وليلة.
وآخرون قالوا: بل هي سبع عشرة صلاة، في كل صلاة خمس عشرة ركعة.
وهذا قول عبد الله بن عمرو بن الحارث الكندي: قبل أن يصير خارجياً صفرياً (3) .
--------------------------------------------
এবং "দাবাবিক" (১) ও অন্যান্যরা, আর তাদের পূর্বে "খদাশ" উপাধিধারী আম্মার এবং "আবু মুসলিম আস-সাররাজ" এই লক্ষ্য পোষণ করেছিলেন।
তারা মনে করেছিল যে চাতুর্যের আশ্রয় নিয়ে ষড়যন্ত্র করা অধিক কার্যকর, ফলে তাদের একদল বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর উপর (কথিত) জুলুমের (২) নিন্দা জানিয়ে শিয়া মতাবলম্বীদের আকৃষ্ট করল। অতঃপর তারা তাদের বিভিন্ন পথে পরিচালিত করল, এমনকি পরিশেষে তাদের ইসলাম থেকে বের করে দিল। তাদের মধ্যে একদল তাদেরকে এই মতবাদের দিকে নিয়ে গেল যে, মাহদী নামে একজন প্রতীক্ষিত ব্যক্তির আগমন ঘটবে, যার কাছে দীনের প্রকৃত রূপ রয়েছে; কারণ এই কাফিরদের কাছ থেকে দীন গ্রহণ করা বৈধ নয়।
আরেক দল এমন ব্যক্তির নবুওয়াতের দিকে ধাবিত হলো যার জন্য তারা নবুওয়াতের দাবি করেছিল।
আবার একদল তাদের সেই পথে নিয়ে গেল যা আমরা উল্লেখ করেছি, যেমন হুলুল (সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিতে লীন হওয়া) এবং শরীয়তের বিধান রহিত হওয়ার কথা বলা। অন্যরা তাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলল এবং তাদের ওপর দিন-রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করে দিল।
অন্যরা বলল: বরং তা সতেরো ওয়াক্ত সালাত, প্রতি সালাতে পনেরো রাকাত।
এটি ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল হারিস আল-কিন্দির বক্তব্য, তিনি খারিজি সুফরি (৩) হওয়ার পূর্বের কথা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وقد سلك هذا المسلك أيضاً عبد الله بن سبأ الحميري اليهودي (1) ، فإنه لعنه الله، أظهر الإسلام ليكيد أهله، فهو كان أصل إثارة الناس على عثمان – رضي الله عنه وحرق علي بن أبي طالب طوائف أعلنوا بإلهيته.
ومن هذه الأصول الملعونة، حدثت الإسماعيلية، والقرامطة، وهما طائفتان مجاهرتان بترك الإسلام جملة، قائلتان بالمجوسية المحضة، ثم مذهب مزدك الموبذ، الذي كان على عهد أنو شروان بن قباذ، ملك الفرس، وكان يقول بوجوب تساوي الناس في النساء، والأموال.
قال أبو محمد: " فإذا بلغ الناس إلى هذين الشعبين أخرجوهم عن الإسلام كيف شاؤوا إذ هذا هو غرضهم فقط" (2) .
وهذا الذي ذكره أبو محمد ابن حزم – رحمه الله – ظاهر في أنه كان هناك جمعيات تنظيمية تخطط لهدم عقيدة المسلمين، بشتى الوسائل.
قال البخاري – رحمه الله تعالى -: " حدثنا محمد بن عبد الله – أبو جعفر البغدادي- قال: سمعت أبا زكريا، يحيى بن يوسف الزمي، قال: كنا عند عبد الله ابن إدريس، فجاءه رجل، فقال: يا أبا محمد، ما تقول في قوم يقولون: القرآن مخلوق؟ فقال: أمن اليهود؟ قال: لا، قال: فمن النصارى؟ قال: لا، قال: فمن المجوس؟ قال: لا، من أهل التوحيد، قال: ليس هؤلاء من أهل التوحيد، هؤلاء
الزنادقة من زعم أن القرآن مخلوق، فقد زعم أن الله مخلوق، يقول الله – تعالى-: بسم الله الرحمن الرحيم، فالله لا يكون مخلوقاً، والرحمن لا يكون مخلوقاً، والرحيم لا يكون مخلوقاً.
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা আল-হিময়ারি ইহুদিও (১) এই পথ অবলম্বন করেছিল; সে—আল্লাহর লানত তার ওপর বর্ষিত হোক—ইসলাম প্রকাশ করেছিল এর অনুসারীদের ক্ষতি করার জন্য। সেই ছিল উসমান—রাদিয়াল্লাহু আনহু—এর বিরুদ্ধে মানুষকে উস্কে দেওয়ার মূল হোতা, এবং আলী ইবনে আবি তালিব এমন কিছু গোষ্ঠীকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন যারা তার উপাস্য হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
আর এই অভিশপ্ত মূলনীতিগুলো থেকেই ইসমাইলিয়া এবং কারামাতিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে; এই দুটি দল প্রকাশ্যে ইসলামকে পুরোপুরি ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিল এবং তারা নিছক অগ্নিপূজারী মতবাদের প্রবক্তা ছিল। এরপর মুযদাক আল-মুবায-এর মতবাদ আসে, যা পারস্য সম্রাট আনু শিরওয়ান ইবনে কুবাদ-এর আমলে ছিল; সে নারী ও সম্পদের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে সমতা বজায় রাখা আবশ্যক বলে দাবি করত।
আবু মুহাম্মাদ বলেন: "যখন তারা মানুষকে এই দুটি উপদলে নিয়ে পৌঁছাতে পারে, তখন তারা তাদের যেভাবে ইচ্ছা ইসলাম থেকে বের করে দেয়; কারণ এটাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।" (২)
আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজম—রাহিমাহুল্লাহ—যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সেখানে এমন কিছু সাংগঠনিক গোষ্ঠী ছিল যারা বিভিন্ন উপায়ে মুসলিমদের আকীদা ধ্বংস করার পরিকল্পনা করত।
ইমাম বুখারী—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—বলেন: "আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ—আবু জাফর আল-বাগদাদী—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে ইউসুফ আয-যাম্মীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরিসের নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আবু মুহাম্মাদ, আপনি ঐ সম্প্রদায় সম্পর্কে কী বলেন যারা বলে যে কুরআন সৃষ্ট? তিনি বললেন: তারা কি ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে কি খ্রিস্টানদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে কি অগ্নিপূজারীদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না, তারা তাওহীদপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন: তারা তাওহীদপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা হলো যিন্দীক (ধর্মদ্রোহী); যে ব্যক্তি দাবি করল যে কুরআন সৃষ্ট, সে মূলত দাবি করল যে আল্লাহ সৃষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে; সুতরাং আল্লাহ সৃষ্ট হতে পারেন না, আর রহমান সৃষ্ট হতে পারেন না এবং রহীমও সৃষ্ট হতে পারেন না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وهذا أصل الزندقة، من قال هذا فعليه لعنة الله، لا تجالسوهم، ولا تناكحوهم" (1) .
وقال أبو سعيد الدارمي – رحمه الله تعالى -: " لم يزل {أهل الباطل} مقموعين أذلة، مدحورين، حتى كان الآن بآخرة، حيث قلت الفقهاء، وقبض العلماء، ودعا إلى البدع دعاة الضلال، فشد ذلك طمع كل متعوذ في الإسلام من أبناء اليهود، والنصارى، وأنباط العراق، ووجدوا فرصة للكلام، فجدوا في هدم الإسلام، وتعطيل ذي الجلال والإكرام، وإنكار صفاته وتكذيب رسله، وإبطال وحيه، إذ وجدوا فرصتهم، وأحسوا من الرعاع جهلاً، ومن العلماء قلة، فنصبوا عندها الكفر للناس إماماً، بدعوتهم إليه، وأظهروا لهم أغلوطات من المسائل، وعمايات من الكلام، يغالطون بها أهل الإسلام، ليوقعوا في قلوبهم الشك، ويلبسوا عليهم أمرهم ويشككوهم في خالقهم، مقتدين بأئمتهم الأقدمين" (2) .
وقال البخاري: " حدثني أبو جعفر، حدثن يحيى بن أيوب، قال: سمعت أبا نعيم البلخي، قال: كان رجل من أهل "مرو" صديقاً للجهم، ثم قطعه وجفاه، فقيل له: لم جفوته؟ فقال: جاء منه ما لا يحتمل، قرأت يوماً آية كذا وكذا – نسيها يحيى- فقال: ما كان أظرف محمداً، فاحتملتها، ثم قرأ سورة طه، فلما قال: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (3) ، قال: أما والله لو وجدت سبيلاً إلى حكها لحككتها من المصحف، فاحتملتها، ثم قرأ سورة القصص فلما انتهى إلى ذكر موسى، قال: ما هذا؟ ذكر قصته في موضع فلم يتمها، ثم ذكرها هاهنا فلم يتمها، ثم رمى المصحف من حجره برجليه، فوثبت عليه" (4) .
--------------------------------------------
"আর এটিই হলো জিন্দিকি বা ধর্মদ্রোহিতার মূল ভিত্তি। যে ব্যক্তি এটি বলবে তার ওপর আল্লাহর লানত। তোমরা তাদের সাথে বসো না এবং তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করো না।" (১) .
আবু সাঈদ আদ-দারিমি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বলেছেন: "বাতিলের অনুসারীরা সর্বদা দমিত, লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত ছিল, যতক্ষণ না বর্তমানের এই শেষ সময়টি এসেছে, যেখানে ফকিহদের সংখ্যা কমে গেছে এবং আলেমদের উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বানকারীরা বিদআতের দিকে ডাকছে। এটি ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইরাকি অনার্যদের সন্তানদের লোভকে তীব্র করেছে। তারা কথা বলার সুযোগ পেয়েছে, তাই তারা ইসলামকে ধ্বংস করতে, মহিমাময় ও মহান আল্লাহর গুণাবলিকে নিষ্ক্রীয় করতে, তাঁর গুণাবলি অস্বীকার করতে, তাঁর রসূলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এবং তাঁর ওহিকে বাতিল করতে সচেষ্ট হয়েছে। যখন তারা তাদের সুযোগ পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মূর্খতা ও আলেমদের স্বল্পতা অনুভব করেছে, তখন তারা কুফরকে মানুষের সামনে ইমাম হিসেবে দাঁড় করিয়েছে এবং তার দিকে মানুষকে আহ্বান করেছে। তারা মানুষের সামনে অস্পষ্ট মাসআলা ও বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা প্রকাশ করেছে, যার মাধ্যমে তারা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে, যাতে তাদের অন্তরে সন্দেহ সৃষ্টি করা যায়, তাদের দ্বীনি বিষয়কে গোলমেলে করে দেওয়া যায় এবং তাদের স্রষ্টা সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় তৈরি করা যায়—এ ক্ষেত্রে তারা তাদের পূর্ববর্তী নেতাদের অনুসরণ করেছে।" (২) .
ইমাম বুখারি বলেছেন: "আবু জাফর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু নুয়াইম আল-বালখিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: 'মার্ভ' শহরের এক ব্যক্তি জহমের বন্ধু ছিল। অতঃপর সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল এবং তার সাথে রূঢ় আচরণ করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: কেন আপনি তার সাথে রূঢ় আচরণ করলেন? তিনি বললেন: তার কাছ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা সহ্য করার মতো নয়। একদিন আমি অমুক আয়াতটি পাঠ করলাম—ইয়াহইয়া আয়াতটি ভুলে গেছেন—তখন সে বলল: মুহাম্মদ কতই না চমৎকার ছিলেন! আমি এটি সহ্য করলাম। তারপর সে সূরা ত্বহা পাঠ করল। যখন সে এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছল: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} (৩), সে বলল: আল্লাহর কসম! যদি আমি এটি মুছে ফেলার কোনো পথ পেতাম, তবে অবশ্যই মুসহাফ থেকে এটি মুছে দিতাম। আমি এটিও সহ্য করলাম। তারপর সে সূরা আল-কাসাস পাঠ করল। যখন সে মুসার বর্ণনার কাছে পৌঁছল, তখন সে বলল: এটি কী? এক জায়গায় তার কাহিনী উল্লেখ করেছে কিন্তু তা শেষ করেনি, আবার এখানেও উল্লেখ করেছে কিন্তু তা শেষ করেনি। তারপর সে তার কোল থেকে মুসহাফটি তার পা দিয়ে ফেলে দিল। তখন আমি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম।" (৪) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
فهذه الوقائع - ومثلها كثير جداً - تدل على حقد دفين على هذا الدين، وأنه دخل في المسلمين الدخيل ذو القلب الموتور، والصدر الموغور، والنفس التي تأكلها نار عداوة الإسلام، ونبي الإسلام، وأن هؤلاء يحاولون اجتثاث الإسلام من قلوب الناس، بالتشكيك في أصوله، وأن كثيراً من علماء السلف علموهم، وعرفوا أن مرادهم صد الناس عن الإسلام، وإفساد عقائدهم: وأن تعاوناً يهودياً، ومجوسياً، ونصرانياً، وإلحادياً لم يزل ينتهز الفرص، جاهداً في إطفاء نور الله، ويأبى الله إلا أن يتم نوره.
ولا شك أن الصراع بين الحق والباطل قديم، وأنه لا يخلو زمان ولا مجتمع من ذلك، وأن الله - تعالى - جعل للباطل هواة ومحبين، ينفقون أموالهم ويبذلون نفوسهم في الدفاع عنه، كما جعل للحق أنصاراً، وهذا أمر ظاهر، كما قال تعالى: {الَّذِينَ آمَنُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُواْ أَوْلِيَاء الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا} (1) .
وإذا كان الإنسان متظاهراً بمساندة الباطل ونصرته، فأمره أسهل ممن يخفي ذلك، ويتظاهر بالخير والإيمان، وهو من أبعد الناس عنه، وأشدهم عداوة له، وإنما مقصده معرفة مواطن الضعف من الإسلام وأهله، والمداخل التي تنفذ سمومه منها فيهم، ثم يرميهم بكل ما يستطيع.
وربما يكون هناك تنظيمات تلبس لباس العلم والمعرفة، والإصلاح، والتجديد، والمقصود منها القضاء على الدين، وهم ينوعون أساليبهم في كل وقت بما يناسبه، وإن مصائب الإسلام بهؤلاء وأمثالهم، من فجره إلى يومنا هذا تتوالى، وقد وصف ذلك المقريزي- رحمه الله وصفاً مفيداً ألخصه فيما يلي:
قال:
--------------------------------------------
এই ঘটনাগুলো—এবং এর মতো আরও অনেক—এই দ্বীনের প্রতি এক প্রোথিত বিদ্বেষের প্রমাণ দেয়। আর এটিও নির্দেশ করে যে, মুসলিমদের মাঝে এমন অনুপ্রবেশকারীর প্রবেশ ঘটেছে যার অন্তর প্রতিহিংসাপরায়ণ, বক্ষ দ্বেষপূর্ণ এবং যার সত্তা ইসলাম ও ইসলামের নবীর প্রতি শত্রুতার আগুনে দগ্ধ। তারা ইসলামের মূলনীতিসমূহে সন্দেহ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের অন্তর থেকে ইসলামকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছে। পূর্ববর্তী আলেমদের (সালাফ) অনেকেই তাদের সম্পর্কে জানতেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ইসলাম থেকে বিমুখ করা এবং তাদের আকিদা নষ্ট করা। ইহুদি, অগ্নিপূজক, খ্রিস্টান এবং নাস্তিকদের একটি জোট সর্বদা সুযোগের সন্ধানে ছিল, আল্লাহর নূর নেভানোর চেষ্টায় সচেষ্ট ছিল, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সত্য ও মিথ্যার এই দ্বন্দ্ব অতি প্রাচীন এবং কোনো যুগ বা সমাজই এর থেকে মুক্ত নয়। মহান আল্লাহ বাতিলের জন্য কিছু অনুরাগী ও প্রেমিক তৈরি করেছেন, যারা একে রক্ষায় তাদের সম্পদ ব্যয় করে এবং প্রাণ বিসর্জন দেয়, যেমনটি তিনি হকের জন্য সাহায্যকারী রেখেছেন। এটি একটি স্পষ্ট বিষয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, আর যারা কুফরি করেছে তারা তাগুতের পথে লড়াই করে। সুতরাং তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। নিশ্চয়ই শয়তানের কৌশল অত্যন্ত দুর্বল।} (১)।
যদি কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে বাতিলের সমর্থন ও সহায়তা করে, তবে তার বিষয়টি সেই ব্যক্তির চেয়ে সহজ যে তা গোপন রাখে এবং বাহ্যিকভাবে কল্যাণ ও ঈমানের প্রকাশ ঘটায়, অথচ সে এই পথ থেকে সবচাইতে দূরে এবং এর প্রতি চরম শত্রুতাপন্ন। তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ও তার অনুসারীদের দুর্বল জায়গাগুলো এবং সেই পথগুলো চিনে নেওয়া যার মাধ্যমে সে তাদের মাঝে বিষ ছড়িয়ে দিতে পারে এবং তারপর তার সর্বশক্তি দিয়ে তাদের আঘাত করতে পারে।
সম্ভবত এমন কিছু সংগঠন রয়েছে যারা জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সংস্কার ও আধুনিকায়নের পোশাক পরিধান করে, অথচ তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো দ্বীনকে নির্মূল করা। তারা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত এদের এবং এদের মতো লোকদের মাধ্যমে ইসলামের ওপর একের পর এক মুসিবত নেমে এসেছে। আল-মাকরিজি (রহিমাহুল্লাহ) এর একটি অত্যন্ত উপকারী বর্ণনা দিয়েছেন যা আমি নিচে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:
তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
" لما بعث الله محمداً –صلى الله عليه وسلم إلى الناس، وصف لهم ربهم بما وصف به نفسه، فلم يسأله أحد من العرب بأسرهم، قرويهم وبدويهم، عن معنى شيء من ذلك، كما كانوا يسألونه عن أمر الصلاة، وشرائع الإسلام، إذ لو سأله أحد منهم عن شيء من الصفات لنقل، كما نقلت أحاديث الأحكام وغيرها.
ومن أمعن النظر في دواوين الحديث والآثار عن السلف، علم أنه لم يرد قط لا من طريق صحيح ولا سقيم عن أحد من الصحابة على اختلاف طبقاتهم، وكثرة عددهم، أنه سأل النبي-صلى الله عليه وسلم عن معنى شيء (1) ، مما وصف الرب- سبحانه- به نفسه في القرآن وعلى لسان نبيه، بل كلهم فهموا معنى ذلك وسكتوا سكوت فاهم مقتنع، ولم يفرقوا بين صفة وأخرى، ولم يتعرض أحد منهم إلى تأويل شيء منها، بل أجروا الصفات كما ودرت بأجمعهم، ولم يكن عند أحد منهم ما يستدل به سوى كتاب الله وسنة رسوله.
ومضى عصرهم – رضي الله عنهم على هذا، وحدث القول بنفي القدر في عهد آخرهم.
وكان أول من فاه بذلك معبد الجهني، أخذه عن رجل من الأساورة، يقال له: أبو يونس سيسويه، ويعرف بالأسواري، وتبرأ من هذه المقالة الصحابة. ثم خرجت الخوارج، وكفروا بالذنوب، فقاتلهم أمير المؤمنين علي بن أبي طالب.
وحدث التشيع لعلي، وغلا فيه طائفة بدعوة ابن سبأ اليهودي، فحرقهم في النار، كما أحدث ابن سبأ القول بالوصية لعلي بالإمامة من بعد الرسول –صلى الله عليه وسلم والقول بالرجعية، أي رجعة علي بعد موته، وأن فيه جزءاً من الإلهية.
ومن دعوة هذا اليهودي تشعبت الغلاة من الرافضة، كالإمامية الاثنى عشرية، والإسماعيلية، والقرامطة، والنصيرية، وغيرهم، وهو الذي أثار الفتنة على أمير المؤمنين عثمان حتى قتل، ولم يزل مذهب الرفض يستفحل حتى ملأ الدنيا فساداً.
--------------------------------------------
আল্লাহ যখন মুহাম্মাদ –সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–কে মানুষের নিকট পাঠালেন, তিনি তাদের কাছে তাদের রবের বর্ণনা দিলেন সেই সব গুণের মাধ্যমে যার মাধ্যমে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। সমগ্র আরবের কেউই—শহুরে হোক বা বেদুঈন—এর কোনোটির অর্থ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেননি, যেমনটি তারা সালাতের নির্দেশ বা ইসলামের শরিয়ত সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন। কারণ, যদি তাদের কেউ গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করতেন তবে তা অবশ্যই বর্ণিত হতো, যেমনটি আহকাম ও অন্যান্য বিষয়ের হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে।
আর যারা হাদিসের সংকলন এবং সালাফদের থেকে বর্ণিত আসারগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, তারা জানেন যে, সাহাবীদের বিভিন্ন স্তর এবং তাদের বিশাল সংখ্যা হওয়া সত্ত্বেও তাদের কারো কাছ থেকে—সহিহ বা দুর্বল কোনো সূত্রেই—এমন কোনো বর্ণনা আসেনি যে, তিনি নবী –সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–কে এমন কোনো কিছুর অর্থ (১) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন, যার মাধ্যমে রব—সুবহানাহু—কুরআনে এবং তাঁর নবীর মুখে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। বরং তারা সকলেই এর অর্থ বুঝেছেন এবং একজন সমঝদার ও সন্তুষ্ট ব্যক্তির ন্যায় নীরব থেকেছেন। তারা এক গুণের সাথে অন্য গুণের পার্থক্য করেননি এবং তাদের কেউ এগুলোর কোনোটির রূপক ব্যাখ্যা (তাবিল) করতে প্রবৃত্ত হননি। বরং তারা সকল গুণাবলিকে সেভাবেই জারি রেখেছেন যেভাবে সেগুলো এসেছে। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ ব্যতীত তাদের কারো কাছে অন্য কোনো দলিল ছিল না।
তাদের—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—যুগ এভাবেই অতিবাহিত হলো। অতঃপর তাদের শেষ যুগে তাকদির অস্বীকার করার মতবাদের উদ্ভব ঘটল।
সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি এটি মুখে আনেন তিনি হলেন মা’বাদ আল-জুহানি, যিনি এটি আসওয়ারিদের একজন লোক থেকে গ্রহণ করেছিলেন যাকে আবু ইউনুস সিসাওয়াইহ বলা হয় এবং তিনি আসওয়ারি নামে পরিচিত ছিলেন। সাহাবীগণ এই মতবাদ থেকে দায়মুক্ত হলেন। এরপর খারেজিরা আত্মপ্রকাশ করল এবং তারা পাপের কারণে কাফির সাব্যস্ত করল, অতঃপর আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন।
এরপর আলীর প্রতি শিয়া মতবাদের সৃষ্টি হলো এবং ইবনে সাবা ইহুদির আহ্বানে একদল লোক তার ব্যাপারে অতিরঞ্জন করল, ফলে তিনি তাদের আগুনে পুড়িয়ে দিলেন। যেমনটি ইবনে সাবা রাসূল –সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর পর আলীর জন্য ইমামতের অসিয়তের কথা এবং ‘রাজআত’ অর্থাৎ মৃত্যুর পর আলীর পুনরায় ফিরে আসা এবং তার মধ্যে খোদায়িত্বের অংশ থাকার কথা উদ্ভাবন করেছিল।
এই ইহুদির দাওয়াত থেকেই রাফেজিদের চরমপন্থী দলগুলো উপদলে বিভক্ত হয়েছে, যেমন ইসনা আশারিয়া ইমামীয়া, ইসমাইলীয়া, কারামাতিয়া, নুসাইরিয়া ও অন্যান্য। সেই ব্যক্তিই আমিরুল মুমিনীন উসমানের বিরুদ্ধে ফিতনা উস্কে দিয়েছিল এমনকি তাকে হত্যা করা হয়েছিল। রাফেজি মতবাদ ক্রমেই বাড়তে থাকল এমনকি তা পৃথিবীকে ফাসাদে পূর্ণ করে দিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ثم حدث مذهب الجهمية، وتعطيل الرب- تعالى – عن صفاته، والقول بخلق القرآن، وغير ذلك من العظائم، وعربت كتب الفلاسفة في عهد المأمون، فعظمت الفتنة والضلال.
ثم ظهر الأشعري، وكان أخذ عن الجبائي الاعتزال، ولازمه دهراً طويلاً، ثم سلك طريق ابن كلاب في الصفات، والقدر، وغير ذلك.
وسلك طريقه جماعة من العلماء، مثل الباقلاني، وابن فورك، والاسفراييني، والشيرازي، والغزالي، والشهرستاني، والرازي وغيرهم، ملأوا الدنيا بتصانيفهم، يحتجون، ويدعون أن طريقتهم هي طريقة أهل السنة والجماعة، فانتشر هذا المذهب في البلاد الإسلامية، وجاءت دولة بني أيوب، وكانوا على هذا المذهب، ثم مواليهم الأتراك، وأخذه ابن تومرت إلى المغرب، ونشره هناك، فصار هذا المذهب هو المعروف في الأمصار، بحيث نسى ما عداه من المذاهب، أو جهل، حتى لم يبق اليوم مذهب يخالفه، إلا أن يكون مذهب الحنابلة.
حتى جاء تقي الدين –أبو العباس ابن تيمية-، فتصدى للانتصار لمذهب السلف، ورد على الأشاعرة، والرافضة، والصوفية، فافترق الناس فيه فريقان: فريق يقتدي به، ويعول على أقواله، ويرى أنه شيخ الإسلام حقاً، ومن أجل حفاظ أهل الملة الإسلامية.
وآخر يبدعه، ويضلله، ويزري عليه إثبات الصفات وغيرها".
ثم قال المقريزي:
"فهذا- أعزك الله- بيان ما كانت عليه عقائد الأمة من ابتداء الأمر إلى وقتنا، قد فصلت فيه ما أجمله أهل الأخبار، وأجملت ما فصلوا، فدونك طالب العلم تناول ما قد بذلت فيه جهدي، وأطلت بسببه سهري وكدي، في تصفح دواوين الإسلام، وكتب الأخبار فقد وصل إليك صفواً". (1)
--------------------------------------------
অতঃপর জাহমিয়্যাহ মতবাদের উদ্ভব ঘটল, মহান রব্বকে তাঁর গুণাবলি থেকে মুক্ত করা (তাতিল), কুরআনকে মাখলুক বা সৃষ্টি বলা এবং এ জাতীয় অন্যান্য গুরুতর বিষয়াবলি দেখা দিল। মামুনের যুগে দার্শনিকদের কিতাবসমূহ আরবিতে অনুবাদ করা হল, যার ফলে ফিতনা ও গোমরাহি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেল।
অতঃপর আশআরির আবির্ভাব ঘটল। তিনি জুব্বায়ির নিকট থেকে ইতিজালের শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সাথে যুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি গুণাবলি (সিফাত), তাকদির এবং অন্যান্য বিষয়ে ইবনুল কুল্লাবের পথ অনুসরণ করেন।
একদল আলেম তাঁর পথ অনুসরণ করলেন, যেমন বাকিল্লানি, ইবনে ফুরাক, ইসফিরায়িনি, শিরাজি, গাজালি, শাহরাস্তানি, রাজি এবং অন্যান্যরা। তাঁরা তাঁদের রচনাবলি দিয়ে পৃথিবী পূর্ণ করে দিলেন। তাঁরা দলিল পেশ করতেন এবং দাবি করতেন যে তাঁদের পথই হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পথ। ফলে ইসলামি দেশগুলোতে এই মতবাদ ছড়িয়ে পড়ল। এরপর আইয়ুবি রাজবংশের শাসনকাল আসল এবং তাঁরা এই মতবাদের ওপর ছিলেন। এরপর তাঁদের অনুগত তুর্কিরা এটি গ্রহণ করল। ইবনে তুমার্ত একে মাগরিবের দিকে নিয়ে গেলেন এবং সেখানে তা প্রচার করলেন। ফলে বড় বড় শহরগুলোতে এই মতবাদই সুপরিচিত হয়ে উঠল, যার ফলে অন্যান্য মাযহাবগুলো মানুষ ভুলে গেল অথবা তা অজ্ঞাত রয়ে গেল। এমনকি বর্তমানে এমন কোন মাযহাব অবশিষ্ট নেই যা এর বিরোধিতা করে, তবে হাম্বলি মাযহাব ব্যতীত।
অবশেষে তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ আসলেন। তিনি সালাফদের মাযহাবকে বিজয়ী করার জন্য সচেষ্ট হলেন এবং আশআরি, রাফেযি ও সুফিদের খণ্ডন করলেন। ফলে মানুষ তাঁর ব্যাপারে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল: একদল তাঁর অনুসরণ করে এবং তাঁর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে, তারা মনে করে যে তিনি প্রকৃতই শাইখুল ইসলাম এবং ইসলামি মিল্লাতের শ্রেষ্ঠতম হাফেজদের অন্যতম।
অন্য দলটি তাঁকে বিদয়াতি বলে আখ্যা দেয়, তাঁকে পথভ্রষ্ট বলে এবং আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্ত করা ও অন্যান্য বিষয়ের কারণে তাঁর নিন্দা করে।
অতঃপর মাকরিজি বলেন:
"হে জ্ঞান পিপাসু (আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন), সূচনালগ্ন থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত উম্মাহর আকিদা ও বিশ্বাসসমূহ যা ছিল, তার বর্ণনা এটিই। ইতিহাসবিদগণ যা সংক্ষেপে বলেছিলেন আমি তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি এবং তাঁরা যা বিস্তারিত বলেছিলেন আমি তা সংক্ষেপে এনেছি। সুতরাং হে ইলম অন্বেষণকারী, আমি এতে যা প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি তা গ্রহণ করুন। ইসলামি গ্রন্থসমূহ ও ইতিহাসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নের জন্য আমি দীর্ঘ সময় বিনিদ্র রাত কাটিয়েছি এবং কঠোর পরিশ্রম করেছি, ফলে এটি আপনার কাছে স্বচ্ছ রূপে পৌঁছেছে।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقال أحمد أمين في كلامه على ابن سبأ: "والذي يؤخذ من تاريخه، أنه وضع تعاليم لهدم الإسلام، وألف جمعية سرية لبث تعاليمه، واتخذ الإسلام ستاراً يستر به نياته". (1)
وذكر الطبري: "أن ابن السوداء لما وصل إلى الشام لقي أبا ذر رضي الله عنه فقال له: يا أبا ذر، ألا تعجب لمعاوية، يقول: المال مال الله، ألا إن كل شئ لله، يريد أن يحتجبه دون المسلمين، فذهب أبو ذر إلى معاوية وقال له: ما يدعوك إلى أن تسمي مال المسلمين مال الله؟ ". ثم أتى ابن السوداء أبا الدرداء، فقال له أبو
الدرداء: من أنت؟ أظنك - والله - يهودياً. وأتى عبادة بن الصامت فأخذه عبادة، وذهب به إلى معاوية، وقال له: هذا والله الذي بعث عليك أبا ذر". (2)
فإذا كان هذا اليهودي قد طمع بالصحابة، فكيف بغيرهم؟
ومن استقرأ التاريخ يرى أن أعداء الإسلام لم يدخروا وسعاً في محاولة القضاء عليه، إلى يومنا هذا.
كبريات الفرق الإسلامية
كان من نتائج التآمر على عقيدة المسلمين من جهات متعددة، كما سبقت الإشارة إليه، أن انشطر من الأمة الإسلامية عدة فرق، انحرفت عن الطريق الصحيح، الذي رسمه لها نبيها-صلى الله عليه وسلم وأخذت بنيات الطريق، كما سبق في حكم الله القدري الكوني، قال تعالى: {وَلَوْ شَاء رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ {118} إِلَاّ مَن رَّحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لأَمْلأنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} . (3)
--------------------------------------------
এবং আহমদ আমিন ইবনে সাবা সম্পর্কে তার আলোচনায় বলেন: "তার ইতিহাস থেকে যা পাওয়া যায় তা হলো, সে ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য কিছু মতবাদ তৈরি করেছিল, তার সেই মতবাদগুলো প্রচারের জন্য একটি গোপন সংগঠন গড়ে তুলেছিল এবং ইসলামকে তার উদ্দেশ্যগুলো ঢাকার একটি আবরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিল।" (১)
এবং তাবারী উল্লেখ করেছেন: "ইবনুস সাওদা যখন সিরিয়ায় পৌঁছাল, সে আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করল এবং তাকে বলল: হে আবু যার, আপনি কি মুয়াবিয়াকে নিয়ে বিস্মিত নন? সে বলে: সম্পদ আল্লাহর সম্পদ। প্রকৃতপক্ষে সবকিছুই আল্লাহর। সে এটি বলে মুসলমানদের বাদ দিয়ে তা নিজের কাছে কুক্ষিগত করতে চায়। তখন আবু যার মুয়াবিয়ার কাছে গেলেন এবং তাকে বললেন: মুসলিমদের সম্পদকে আল্লাহর সম্পদ বলতে আপনাকে কিসে প্ররোচিত করল?" এরপর ইবনুস সাওদা আবু দারদার কাছে আসলেন, তখন আবু
দারদা তাকে বললেন: তুমি কে? আল্লাহর কসম, আমি মনে করি তুমি একজন ইহুদি। এরপর সে উবাদাহ বিন সামিতের কাছে আসলে উবাদাহ তাকে পাকড়াও করলেন এবং তাকে মুয়াবিয়ার কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন: আল্লাহর কসম, এই সেই ব্যক্তি যে আপনার বিরুদ্ধে আবু যারকে খেপিয়ে তুলেছে।" (২)
সুতরাং এই ইহুদি যদি সাহাবীগণকে প্ররোচিত করার লোভ করে থাকে, তবে অন্যদের ক্ষেত্রে কী অবস্থা হতে পারে?
এবং যে ব্যক্তি ইতিহাস অধ্যয়ন করবে সে দেখতে পাবে যে, ইসলামের শত্রুরা একে নির্মূল করার প্রচেষ্টায় কোনো কসুর করেনি, যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান ইসলামী দলসমূহ
যেমনটি পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে, বিভিন্ন দিক থেকে মুসলমানদের আকিদার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অন্যতম ফলাফল ছিল এই যে, মুসলিম উম্মাহ থেকে বেশ কিছু দল বিভক্ত হয়ে পড়ে, যারা সেই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায় যা তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন এবং তারা ভুল পথ অবলম্বন করে, যেমনটি আল্লাহর মহাজাগতিক তাকদিরি ফায়সালায় পূর্বনির্ধারিত ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন তবে সমস্ত মানুষকে এক জাতিতে পরিণত করতেন, কিন্তু তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে। তবে তারা নয় যাদের ওপর তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন; এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার প্রতিপালকের এই কথাটি পূর্ণ হয়েছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
روى ابن جرير عن الحسن"قال: الناس مختلفون على أديان شتى، إلا من رحم ربك، فمن رحم غير مختلفين".
وروي عن مجاهد: قال: "ولا يزالون مختلفين" أهل الباطل، "إلا من رحم ربك"أهل الحق". (1)
وقال: "معنى ذلك: ولا يزال الناس مختلفين في أديانهم، وأهوائهم، على أديان وملل، وأهواء شتى، إلا من رحم ربك، فآمن وصدق رسله، فإنهم لا يختلفون في توحيد الله، وتصديق رسله، وما جاءهم من عند الله". (2)
وقال ابن كثير: "يخبر تعالى أنه قادر على جعل الناس كلهم أمة واحدة، من إيمان أو كفران، كما قال تعالى: {وَلَوْ شَاء رَبُّكَ لآمَنَ مَن فِي الأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا} . (3)
وقوله: " ولا يزالون مختلفين إلا من رحم ربك" أي: ولا يزال الخلف بين الناس في أديانهم، واعتقاداتهم في مللهم ونحلهم، ومذاهبهم، وآرائهم، إلا المرحومين من أتباع الرسل، الذين تمسكوا بما أمروا به من الدين الذي جاءت به رسل الله إليهم، ففازوا بسعادة الدنيا والآخرة، لأنهم الفرقة الناجية". (4)
وقد أخبر النبي-صلى الله عليه وسلم بوقوع هذا الاختلاف، محذراً منه، فروى أبو داود، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله-صلى الله عليه وسلم: "افترقت اليهود على إحدى أو اثنتين وسبعين فرقة، وتفرقت النصارى على إحدى أو اثنتين وسبعين فرقة، وتفرقت أمتي على ثلاث وسبعين فرقة". (5)
--------------------------------------------
ইবনে জারীর হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "মানুষ বিভিন্ন ধর্মে বিভক্ত, কেবল তারা ব্যতীত যাদের ওপর আপনার রব দয়া করেছেন। সুতরাং যাদের ওপর তিনি দয়া করেছেন তারা মতভেদকারী নয়।"
মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে"—এরা হলো বাতিলপন্থী, "কেবল তারা ব্যতীত যাদের ওপর আপনার রব দয়া করেছেন"—এরা হলো সত্যপন্থী। (১)
তিনি বলেছেন: "এর অর্থ হলো: মানুষ তাদের দ্বীন ও প্রবৃত্তির ক্ষেত্রে সর্বদা বিভিন্ন ধর্ম, আদর্শ ও নানা খেয়াল-খুশির ওপর ভিত্তি করে মতভেদ করতে থাকবে। তবে তারা ব্যতীত যাদের ওপর আপনার রব দয়া করেছেন, ফলে তারা ঈমান এনেছে এবং তাঁর রাসুলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর রাসুলদের সত্যয়ন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের নিকট যা কিছু এসেছে সে বিষয়ে মতভেদ করে না।" (২)
ইবনে কাসীর বলেন: "আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি সকল মানুষকে ঈমান অথবা কুফরির ভিত্তিতে এক উম্মাহ বা জাতিভুক্ত করতে সক্ষম। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আপনার রব যদি চাইতেন, তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই একত্রে ঈমান আনত}। (৩)
এবং তাঁর বাণী: "তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে কেবল তারা ব্যতীত যাদের ওপর আপনার রব দয়া করেছেন" অর্থাৎ: মানুষের ধর্ম, বিশ্বাস, আদর্শ, দল, মাযহাব ও মতামতের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে বিরোধ লেগেই থাকবে, কেবল রাসুলগণের অনুসারী সেই রহমতপ্রাপ্তগণ ব্যতীত যারা আল্লাহর রাসুলগণের আনীত দ্বীনের নির্দেশনাসমূহ মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরেছে। ফলে তারা দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য লাভ করেছে, কারণ তারাই হলো মুক্তিপ্রাপ্ত দল।" (৪)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই মতভেদ ঘটার সংবাদ দিয়েছেন এবং এ থেকে সতর্ক করেছেন। আবু দাউদ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইয়াহুদিরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর খ্রিস্টানরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মত তেয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে।" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ورواه أيضاً من حديث معاوية بن أبي سفيان- رضي الله عنهما قال: قال رسول الله- صلى الله عليه وسلم: "ألا إن من قبلكم من أهل الكتاب، افترقوا على اثنتين وسبعين ملة، وإن هذه الملة ستفترق على ثلاث وسبعين، اثنتان وسبعون في النار وواحدة في الجنة، وهي الجماعة". (1)
قال ابن كثير: "روي هذا الحديث في "السنن" و"المسانيد" من طرق يشد بعضها بعضاً". (2)
وأصل الفرق الذي ترجع إليه أربع كما قال طائفة من السلف، وهم الروافض، والخوارج، والقدرية {المعتزلة} ، والمرجئة، وبعض العلماء يجعلها خمساً ويدخل أهل السنة، كما قال أبو محمد بن حزم: "فرق المقرين بملة الإسلام
خمس، وهم: أهل السنة، والمعتزلة، والشيعة، والخوارج، والمرجئة، ثم افترقت كل فرقة من هذه على فرق". (3)
ومراده: غير أهل السنة، فإنهم فرقة واحدة، وهم الذين تمسكوا بكتاب الله واتبعوا سنة رسوله-صلى الله عليه وسلم.
وقال الطرطوشي: "اعلم أن علماءنا قالوا: أصول البدع أربعة، وسائر الأصناف الاثنتين والسبعين فرقة عن هؤلاء تفرقوا، وتشعبوا. وهم: الخوارج: وهي أول فرقة خرجت على علي بن أبي طالب، والروافض، والقدرية، والمرجئة". (4)
--------------------------------------------
এবং এটি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) এর বর্ণিত হাদিস থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর এই মিল্লাত অচিরেই তেয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। বাহাত্তরটি দল জাহান্নামে যাবে এবং একটি দল জান্নাতে যাবে, আর সেটি হলো আল-জামাআত।" (১)
ইবনে কাসীর বলেন: "এই হাদিসটি 'সুনান' এবং 'মুসনাদ' গ্রন্থসমূহে এমন অনেক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে।" (২)
দলসমূহের মূল ভিত্তি যার দিকে তারা ফিরে যায় তা চারটি, যেমনটি সালফদের একটি দল বলেছেন; আর তারা হলো: রাফেযি, খারেজি, কাদারিয়া {মুতাযিলা} এবং মুরজিয়া। আর কোনো কোনো আলেম একে পাঁচটি করেন এবং এতে আহলে সুন্নাতকে অন্তর্ভুক্ত করেন, যেমনটি আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেছেন: "ইসলামের মিল্লাত স্বীকারকারীদের দলসমূহ
পাঁচটি, আর তারা হলো: আহলে সুন্নাত, মুতাযিলা, শিয়া, খারেজি এবং মুরজিয়া; অতঃপর এদের প্রতিটি দল আবার বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়েছে।" (৩)
এবং তার উদ্দেশ্য হলো: আহলে সুন্নাত ব্যতীত অন্য দলসমূহ। কারণ তারা (আহলে সুন্নাত) একটিই দল, আর তারা হলো সেই সব লোক যারা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন।
এবং তর্তুশি বলেন: "জেনে রেখো, আমাদের ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: বিদআতের মূল ভিত্তি চারটি এবং বাকি বাহাত্তরটি দল মূলত এদের থেকেই বিচ্ছিন্ন ও শাখায়িত হয়েছে। আর তারা হলো: খারেজি—যারা প্রথম আলী ইবনে আবি তালিবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল—রাফেযি, কাদারিয়া এবং মুরজিয়া।" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ومن هذه الفرق تشعبت سائر الفرق، وقد ألف فيها وفي بيان نحلها مؤلفات قديماً وحديثاً.
وكان من أول هذه الفرق الشيعة، فإنها حدثت في آخر عصر الصحابة، ثم تطور التشنيع إلى الرفض، ومبدأه من ابن سبأ اليهودي، وغيره من المجوس ممن دخل في الإسلام ظاهراً وفي الباطن هم إما يهود ماكرون، أو مجوس موتورون، قصدهم إفساد الدين الإسلامي، كما تقدم.
فكان الرفض في أوله يسمى التشيع، فاشتهروا بالشيعة-أي شيعة علي بن أبي طالب- وكانوا في زمنه ثلاث فرق:
فرقة تقول: إنه إله، وقد صرحوا له بذلك، فحرق الذين تمكن منهم بالنار.
والثانية: الذين يسبون أبا بكر وعمر- رضي الله عنهما وقد توعد علي رضي الله عنه من فعل ذلك بأن يقيم عليه الحد- قيل: إنه القتل.
والثالثة: المفضلة، الذين يفضلون علياً على أبي بكر وعمر، وبقية الصحابة، وقد روي عنه أنه قال: "لا أوتي برجل يفضلني على أبي بكر وعمر إلا جلدته الحد". (1)
ولما خرج زيد بن علي بن الحسين في أوائل المائة الثانية، سأله الشيعة عن أبي بكر وعمر، فترضى عنهما، وبين أنه يتولاهما، تبرأ منه عند ذلك أكثرهم، فقال: رفضتموني. فسموا: الرافضة، والذين اتبعوه سموا زيدية.
وأما القدرية: فأصلهم-فيما يبدو، والله أعلم- من المجوسية المتعاونة مع اليهودية والنصرانية على حرب الإسلام.
--------------------------------------------
এই দলগুলো থেকেই অন্যান্য সকল উপদলের উৎপত্তি হয়েছে এবং প্রাচীন ও আধুনিককালে তাদের সম্পর্কে এবং তাদের মতাদর্শ বর্ণনায় অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে।
এই দলগুলোর মধ্যে প্রথম সারির দল ছিল শিয়া। তারা সাহাবায়ে কেরামের যুগের শেষভাগে আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে এই দলীয় গোঁড়ামি 'রাফয' বা প্রত্যাখ্যানের দিকে মোড় নেয়। এর শুরু হয়েছিল ইহুদি ইবনে সাবা এবং অন্যান্য অগ্নিপূজকদের (মাজুস) মাধ্যমে, যারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করলেও অভ্যন্তরীণভাবে ছিল হয় ধূর্ত ইহুদি অথবা প্রতিহিংসাপরায়ণ অগ্নিপূজক। পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মকে ধ্বংস করা।
সূচনালগ্নে এই 'রাফয' মতবাদটি শিয়া মতবাদ হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা 'শিয়া' নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে—অর্থাৎ আলী ইবনে আবি তালিবের অনুসারী। তাঁর সময়ে তারা তিনটি উপদলে বিভক্ত ছিল:
এক দল বলত: তিনি ইলাহ বা উপাস্য। তারা তাঁর কাছে স্পষ্টভাবে এটি প্রকাশ করেছিল। তাই আলী যাদের পাকড়াও করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদের আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় দল: যারা আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে গালি দিত। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ঘোষণা করেছিলেন যে, যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে তিনি তার ওপর হদ বা দণ্ডবিধি কার্যকর করবেন। বলা হয়েছে যে, সেই দণ্ড ছিল মৃত্যুদণ্ড।
তৃতীয় দল: মুফাদদিলাহ বা অগ্রাধিকার দানকারী। তারা আলীকে আবু বকর, উমর এবং অন্যান্য সাহাবীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করত। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: "এমন কোনো ব্যক্তিকে যদি আমার কাছে আনা হয় যে আমাকে আবু বকর ও উমরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়, তবে আমি তাকে হদ বা দণ্ডস্বরূপ বেত্রাঘাত করব।" (১)
যখন দ্বিতীয় হিজরি শতকের শুরুর দিকে যায়েদ বিন আলী বিন হুসাইন বিদ্রোহ করেন, তখন শিয়ারা তাঁকে আবু বকর ও উমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তিনি তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং তাঁদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ঘোষণা করেন। তখন তাদের অধিকাংশ তাঁর সংস্পর্শ ত্যাগ করে চলে যায়। তখন তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করলে।" ফলে তাদের নাম হয়ে গেল 'রাফিযা', আর যারা তাঁর আনুগত্যে অটল থাকল তাদের 'যাইদিয়া' বলা হয়।
আর কাদারিয়াদের ব্যাপারে কথা হলো—যতদূর প্রতীয়মান হয় এবং আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের মূল উৎস হলো অগ্নিপূজক মতবাদ (মাজুসিয়া), যা ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের সাথে যোগসাজশ করে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وحدثت هذه الضلالة أيضاً في آخر عهد الصحابة- رضي الله عنهم ثم تطورت إلى الاعتزال.
وقد أغتر بهذا المبدأ كثير من الناس، الذين عجزت عقولهم عن استيعاب الإيمان بقدر الله، وأمره ونهيه، ووعده ووعيده، وظنوا امتناع الجمع بين ذلك، فنفوا علم الله بالمستقبل، لظنهم أنه لا يحسن أن يأمر من يعلم أنه يعصي أمره ثم يعذبه على ذلك، حيث جعلوا هذا ظلماً لا يجوز، فقابلتهم الجبرية، الذين هم صنو منهم، ثم تطورت إلى التجهم، والتعطيل، بتغذية اليهودية المفسدة في الأرض.
وأما الخوارج: فهم الذين خرجوا عن الحق من جيش أمير المؤمنين علي بن أبي طالب، وهم كذلك كان ظهورهم في آخر عهد الصحابة رضي الله عنهم. وهم إنما أتوا من سوء فهمهم للنصوص، ولم يقصدوا مخالفة القرآن، ولكن فهمهم أداهم إلى ما لم يدل عليه القرآن، وهو تكفير أهل الذنوب، والقول بخلودهم في النار، ولابد أنه اندس في صفوفهم من يضللهم من منظمات الموتورين، والحاقدين على دين الله وعباده المؤمنين.
وأما الإرجاء: فإنه وإن كان أخف هذه البدع، ومعتنقوه من أقربهم إلى أهل السنة، ففيه من الضلال والمخالفة لشرع الله تعالى ما هو معروف في مواطنه.
الأشعرية
من نتائج الافتراق والتشتت، برزت الأشعرية، وهي عبارة عن خليط من مذاهب عدة فرق، كالمعتزلة، والكلابية، والجهمية، وقد كان إمام هذه النحلة-أبو الحسن الأشعري- تلميذاً لأبي علي الجبائي، قرأ عليه أصول المعتزلة، ولازمه ما يقرب من أربعين عاماً، ولهذا كان خبيراً بمذاهب المعتزلة، ثم انتقل إلى طريقة
عبد الله بن سعيد بن كلاب، وهي أقرب إلى مذهب أهل السنة من طريقة
এই বিভ্রান্তি সাহাবায়ে কিরামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যুগের শেষভাগেও সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মু'তাযিলাবাদে রূপ নেয়।
বহু মানুষ এই নীতি দ্বারা প্রতারিত হয়েছিল, যাদের বুদ্ধি আল্লাহর তাকদির, তাঁর আদেশ-নিষেধ এবং পুরস্কার ও শাস্তির প্রতিশ্রুতির ওপর ঈমান আনয়নকে অনুধাবন করতে অক্ষম ছিল। তারা মনে করেছিল এগুলোর মধ্যে সমন্বয় সম্ভব নয়; ফলে তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞানকে অস্বীকার করল। তাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহ যাকে অবাধ্য হতে দেখবেন তাকে আদেশ করা এবং পরে তার জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া সমীচীন নয়, কেননা তারা একে অবৈধ যুলুম হিসেবে গণ্য করেছিল। এর বিপরীতে জাবরিয়া মতবাদের উদ্ভব ঘটে, যারা মূলত তাদেরই অনুরূপ। পরবর্তীতে এই মতবাদ জাহমিয়াহ ও বাতিলকরণে (তাতিল) রূপ নেয়, যা পৃথিবীতে ফিতনা সৃষ্টিকারী ইয়াহুদিদের প্ররোচনায় পুষ্ট হয়েছিল।
আর খাওয়ারিজদের বিষয়ে বক্তব্য হলো: তারা আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিবের সেনাবাহিনী থেকে সত্যচ্যুত হয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল এবং সাহাবায়ে কিরামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যুগের শেষ দিকেই তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। মূলত নصوص (নস বা পাঠ্যপ্রমাণ) সম্পর্কে ভুল বুঝার কারণেই তাদের এই পরিণতি হয়েছিল। তারা কুরআন বিরোধী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেনি, কিন্তু তাদের উপলব্ধি তাদের এমন পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যা কুরআন নির্দেশ করে না; আর তা হলো পাপীদের কাফির বলা এবং তাদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার দাবি করা। নিশ্চিতভাবেই তাদের কাতারে এমন কিছু প্রতিহিংসাপরায়ণ ব্যক্তি ও আল্লাহর দ্বীন ও মুমিন বান্দাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী সংগঠনের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল যারা তাদের বিভ্রান্ত করেছিল।
আর ইরজা (মুরজিয়া মতবাদ) সম্পর্কে কথা হলো: যদিও এটি এসব বিদআতের মধ্যে সবচেয়ে হালকা এবং এর অনুসারীরা আহলুস সুন্নাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী, তবুও এতে এমন বিভ্রান্তি এবং আল্লাহর শরীয়তের বিরোধিতা রয়েছে যা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সুপরিচিত।
আশআরিয়া মতবাদ
বিভাজন ও বিচ্ছিন্নতার অন্যতম ফলাফল হিসেবে আশআরিয়া মতবাদের উদ্ভব ঘটে। এটি ছিল মু'তাযিলা, কুল্লাবিয়া এবং জাহমিয়াহর মতো বেশ কিছু ফিরকার মতাদর্শের এক সংমিশ্রণ। এই উপদলের ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরি আবু আলী আল-জুব্বাইয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি তাঁর কাছে মু'তাযিলাদের মূলনীতিগুলো পাঠ করেন এবং প্রায় চল্লিশ বছর তাঁর সাহচর্যে ছিলেন। এ কারণেই তিনি মু'তাযিলাদের মাযহাব বা মতাদর্শ সম্পর্কে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। অতঃপর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে কুল্লাবের পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হন, যা অধিকতর নিকটবর্তী আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের সেই পদ্ধতি অপেক্ষা।
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
المعتزلة، وجعل يبين فساد مذهب الاعتزال ويرد عليهم، ويوضح فساد أصولهم، وتناقضهم، وبعدهم عن الحق، ومثلهم الرافضة والفلاسفة، ولهذا صار له ذكر حسن وقدر عند المسلمين.
والذين ينتسبون إليه من المتأخرين ليسوا على طريقته، مع أنه لم يكن من أهل السنة المحضة، إذ لم يستطيع أن يتخلص من بعض مسائل أهل الكلام.
قال شيخ الإسلام: "لا ريب أن الأشعرية إنما تعلموا الكتاب والسنة من أتباع الإمام أحمد، ونحوه، ولهذا يوجد أكثر ألفاظه التي يذكرها عن أهل السنة والحديث، إما ألفاظ زكريا بن يحيي الساجي، التي وصف بها مذهب أهل السنة، أو ألفاظ أصحاب الإمام أحمد، وما ينقل عن أحمد في رسائله الجامعة في السنة، وإلا فالأشعري لم يكن له خبرة بمذهب أهل السنة، وأصحاب الحديث، وإنما يعرف أقوالهم من حيث الجملة، لا يعرف تفاصيل أقوالهم، وأقوال أئمتهم، وقد تصرف فيما نقله عنهم باجتهاده في مواضع يعرفها البصير.
وأما خبرته بمقالات أهل الكلام فكانت تامة على سبيل التفصيل.
ولهذا لم يذكر عن أهل السنة في كتاب "مقالات الإسلاميين" إلا جملة مقالاتهم، مع أن لهم في تفاصيل تلك ما ليس لأهل الكلام.
ولا ريب أن للآشعري في الرد على أهل البدع كلاماً حسناً، هو من الكلام المقبول، الذي يحمد قائله إذا أخلص فيه النية.
وله أيضاً كلام خالف به بعض السنة هو من الكلام المردود، الذي يذم قائله إذا أصر عليه بعد قيام الحجة" (1) والله يغفر لنا وله.
وقد انتسب إلى الأشعري أكثر العالم الإسلامي اليوم من أتباع المذاهب الأربعة، وهم يعتمدون على تأويل نصوص الصفات تأويلاً يصل أحياناً إلى
--------------------------------------------
মুতাজিলাগণ; এবং তিনি মুতাজিলা মতবাদের অসারতা বর্ণনা করতে এবং তাদের প্রত্যুত্তর দিতে শুরু করেন। তিনি তাদের মূলনীতিসমূহের অসারতা, তাদের স্ববিরোধিতা এবং সত্য থেকে তাদের দূরবর্তী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। একইভাবে রাফেযি এবং দার্শনিকদের ক্ষেত্রেও তিনি এমনটা করেন। এ কারণেই মুসলমানদের নিকট তার সুখ্যাতি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আর পরবর্তীদের মধ্যে যারা তার দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করেন, তারা তার পদ্ধতিতে নেই। যদিও তিনি খাঁটি আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, কারণ তিনি ইলমুল কালামের কিছু বিষয় থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেননি।
শাইখুল ইসলাম বলেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আশআরিগণ মূলত ইমাম আহমাদ এবং তাঁর অনুসারীদের নিকট থেকেই কিতাব ও সুন্নাহ শিখেছেন। এ কারণেই আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদিস সম্পর্কে তিনি যে সব শব্দ ব্যবহার করেছেন, তার অধিকাংশই হয় জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজির শব্দাবলি—যা দ্বারা তিনি আহলুস সুন্নাহর মাযহাব বর্ণনা করেছেন—অথবা ইমাম আহমাদের অনুসারীদের শব্দাবলি এবং ইমাম আহমাদের সেই সকল বর্ণনা যা সুন্নাহ বিষয়ক তাঁর সংকলিত রিসালাসমূহে বর্ণিত হয়েছে। অন্যথায়, আশআরির আহলুস সুন্নাহ ও আসহাবুল হাদিসের মাযহাব সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি তাদের বক্তব্যসমূহ কেবল সাধারণভাবে জানতেন, তাদের বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ এবং তাদের ইমামগণের বক্তব্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আর তিনি তাদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তাতে তিনি নিজের ইজতিহাদ প্রয়োগ করেছেন এমন কিছু স্থানে যা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা চিনতে পারেন।
পক্ষান্তরে, আহলুল কালামের মতবাদ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল বিস্তারিতভাবে এবং পূর্ণাঙ্গ।
এ কারণেই তিনি "মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন" কিতাবে আহলুস সুন্নাহর পক্ষ থেকে কেবল তাদের সংক্ষিপ্ত মতবাদগুলোই উল্লেখ করেছেন, অথচ সেই সব বিস্তারিত বিষয়ে তাদের কাছে এমন অনেক কিছু ছিল যা আহলুল কালামের কাছে নেই।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিদআতিদের খণ্ডনে আশআরির কিছু সুন্দর বক্তব্য রয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। যদি বক্তার নিয়ত বিশুদ্ধ হয় তবে তার জন্য তিনি প্রশংসার যোগ্য।
আবার তাঁর এমন কিছু বক্তব্যও রয়েছে যাতে তিনি সুন্নাহর কিছু বিষয়ের বিরোধিতা করেছেন। এগুলো প্রত্যাখ্যানযোগ্য বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত, যার প্রবক্তা হুজ্জত (প্রমাণ) কায়েম হওয়ার পরও যদি তাতে অটল থাকে তবে সে নিন্দনীয় হবে।" (১) আল্লাহ আমাদের এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।
বর্তমানে চার মাযহাবের অনুসারীদের মধ্য থেকে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ আশআরির দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে থাকে। তারা সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত দলীলগুলোর এমন ব্যাখ্যার (তাউবিল) ওপর নির্ভর করে যা কখনো কখনো পৌঁছায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
التحريف، وأحياناً يكون تأويلاً بعيداً جداً، وقد أمتلأت الدنيا بكتب هذا المذهب، وادعى أصحابها أنهم أهل السنة، ونسبوا من آمن بالنصوص على ظاهرها إلى التشبيه والتجسيم.
هذا ولابد لعلماء الإسلام-ورثة رسول الله صلى الله عليه وسلم من مقاومة هذه التيارات الجارفة، على حسب ما تقتضيه الحال، من مناظرات، أو بالتأليف، وبيان الحق بالبراهين العقلية والنقلية، وقد يصل الأمر أحياناً إلى شهر السلاح.
وقد أكثر علماء السنة من التأليف في الرد على أهل الأهواء والانحراف، كما ظهر بعض الطوائف المقابلة لتلك البدع كالسالمية والكلابية، الذين تولوا أيضاً الرد على أهل تلك الانحرافات، غير أنهم كثيراً ما يردون البدع ببدع مماثلة لما يرد أو قريباً منها، يزداد من أجل ذلك التباس الحق على كثير من الناس، بخلاف ما إذا كان الرد بما دل عليه كتاب الله- تعالى- وسنة رسوله-صلى الله عليه وسلم كما هو نهج أهل السنة، بالإضافة إلى المعقول الصريح.
ومن كبار علماء السنة الذين ردوا على أهل البدع، الإمام البخاري-رحمه الله تعالى - في كتاب أفرد لذلك سماه "خلق أفعال العباد"، ولم يقتصر فيه على ما يفهم من الاسم، بل رد فيه على الجهمية والقدرية وغيرهم، كما رد على المرجئة في كتاب الإيمان من "الجامع الصحيح"، ورد على الجهمية والمعتزلة ومن سلك طريقهم في كتاب "التوحيد"، الذي ختم به كتابه "الجامع الصحيح"، وسلك فيه طريقاً واضحاً في الرد، إذ اقتصر على ذكر النصوص، من الكتاب والسنة، التي فيها بيان بطلان مذاهب هؤلاء المشار إليهم، فكأنه يقول: هذا كتاب ربنا الذي أنزله علينا وأمرنا باتباعه، وحضنا على تدبره وفهمه، وجعله هدى ونوراً وشفاءً للمؤمنين به، وهذه سنة نبينا الذي كلفنا بطاعته، ومتابعته، وفيهما العصمة عن الخطأ، وهما صريحان في بيان الحق، الذي ضل عنه هؤلاء المبتدعة، ففيهما تكفلا برد ما جاؤوا به، فلا يسع المسلم إلا الأخذ بهما، ورد ما خالفهما، ففيهما الهدى والنور، وفي تركهما الضلال والهلاك، والله-تعالى- لم يكلنا إلى
বিকৃতি, এবং কখনও কখনও এটি অত্যন্ত দূরবর্তী ব্যাখ্যা হয়। এই মতবাদের কিতাবসমূহে পৃথিবী পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এর অনুসারীরা দাবি করে যে তারা আহলে সুন্নাত, আর যারা দলিলসমূহের প্রকাশ্য অর্থের ওপর ঈমান আনে, তাদের তারা সাদৃশ্য প্রদান ও অঙ্গবিশিষ্টতা প্রদানের দিকে সম্বন্ধ করে।
এমতাবস্থায়, ইসলামের আলেমগণ—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরাধিকারীগণ—তাদের জন্য পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী এই বিধ্বংসী স্রোতধারাকে প্রতিহত করা আবশ্যক। তা হতে পারে বাহাস-মুনাজারা বা গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে, এবং যৌক্তিক ও বর্ণিত প্রমাণের মাধ্যমে সত্যকে স্পষ্ট করার মাধ্যমে। এমনকি কখনও কখনও বিষয়টি অস্ত্র ধারণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আহলে সুন্নাতের আলেমগণ খেয়াল-খুশি ও বিচ্যুতির অনুসারীদের খণ্ডনে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। একইভাবে ঐসব বিদআতের বিপরীতে কিছু দল আবির্ভূত হয়েছে, যেমন সালেমিয়া ও কুল্লাবিয়া, যারা ঐ সকল বিচ্যুতির অনুসারীদের খণ্ডনের দায়িত্ব নিয়েছিল। তবে তারা প্রায়শই বিদআতের খণ্ডন করত অনুরূপ কোনো বিদআত বা তার কাছাকাছি কোনো কিছুর মাধ্যমে। ফলে অনেক মানুষের কাছে সত্য আরও বেশি অস্পষ্ট হয়ে যেত। এর বিপরীতে যদি খণ্ডনটি মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর নির্দেশিত বিষয়ের মাধ্যমে হতো, যেমনটি আহলে সুন্নাতের পথ, পাশাপাশি স্পষ্ট যুক্তির মাধ্যমে, তবে এমনটি হতো না।
আহলে সুন্নাতের বরেণ্য আলেমদের মধ্যে যারা বিদআতিদের খণ্ডন করেছেন, তাদের অন্যতম হলেন ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি এ বিষয়ে 'খালকু আফআলিল ইবাদ' নামক একটি স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছেন। তিনি এতে কেবল নামের মাধ্যমে যা বোঝা যায় তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এতে জাহমিয়া, কাদরিয়া ও অন্যদেরও খণ্ডন করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি 'আল-জামি আস-সহীহ'-এর ঈমান অধ্যায়ে মুরজিয়াদের খণ্ডন করেছেন। আর 'কিতাবুত তাওহীদ'-এ জাহমিয়া, মুতাজিলা ও তাদের পথ অনুসরণকারীদের খণ্ডন করেছেন, যা দিয়ে তিনি তাঁর 'জামি আস-সহীহ' কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন। এতে তিনি খণ্ডনের একটি স্পষ্ট পথ অনুসরণ করেছেন। কেননা তিনি এতে কেবল কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যাতে উল্লিখিত ঐ সকল দলের মতবাদের অসারতা বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি যেন বলছেন: এটি আমাদের রবের কিতাব যা তিনি আমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন, এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন, এবং এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও অনুধাবন করতে উৎসাহিত করেছেন। আর একে মুমিনদের জন্য হিদায়াত, নূর ও শেফা বানিয়েছেন। আর এটি আমাদের নবীর সুন্নাত, যাঁর আনুগত্য ও অনুসরণের দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়েছে। এই দুইটির মধ্যেই ভুল থেকে সুরক্ষা রয়েছে। আর এই দুইটিই সত্য বর্ণনায় স্পষ্ট, যে সত্য থেকে এই বিদআতিরা বিচ্যুত হয়েছে। এই দুইটির মধ্যেই তাদের আনীত বিষয়সমূহের খণ্ডনের নিশ্চয়তা রয়েছে। সুতরাং একজন মুসলমানের জন্য এই দুইটিকে গ্রহণ করা এবং এর বিপরীত বিষয়কে বর্জন করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। কেননা এই দুইটির মধ্যেই হিদায়াত ও আলো রয়েছে, আর এই দুইটি ত্যাগ করার মাঝে রয়েছে গোমরাহি ও ধ্বংস। আর আল্লাহ তাআলা আমাদের সোপর্দ করেননি...
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
عقولنا، بل أرسل إلينا رسولاً بين لنا كل ما نحتاج إليه من أمور ديننا، وأنزل عليه كتابه، فيه تبيان لكل شيء فرق فيه بين الحق والباطل، فلسنا نحتاج معه إلى غيره، فإن تمسكنا به أوصلنا إلى الله من أقرب طريق وأهداه، وإن أعرضنا عنه تخطفتنا الشياطين من كل
جانب، كما قال الله -تعالى-: {وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ {36} وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُّهْتَدُونَ {37} حَتَّى إِذَا جَاءنَا قَالَ يَا لَيْتَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِينُ} . (1)
الإمام البخاري
هو أبو عبد الله، محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه. (2)
قال النووي: "اتفق العلماء على أنه ولد بعد صلاة الجمعة، لثلاث عشرة ليلة خلت من شوال، سنة أربع وتسعين ومائة، وتوفي ليلة السبت، عند صلاة العشاء ليلة الفطر، سنة ست وخمسين ومائتين، ودفن يوم الفطر بعد الظهر". (3)
طلب العلم من صغره، وتبينت نجابته، وذكاؤه، وفطنته، وحفظه، ونبله من صغره، وقد طوف البلاد مراراً لطلب الحديث، وأخباره مشهورة، واتفق العلماء على جلالته، وإمامته في الحديث، وفقهه، وتميز بذلك عن غيره، وقد كتب في ترجمته كثيراً، في كتب الرجال، والشروح، وأفرد لذكر فضائله وشمائله كتب خاصة، فلا نطيل في ذلك.
وأما كتابه "الجامع الصحيح"فقال النووي-رحمه الله: "اتفق
--------------------------------------------
...আমাদের বুদ্ধি (বা বিবেক), বরং তিনি আমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যিনি আমাদের দ্বীনি বিষয়াবলির মধ্যে যা কিছু আমাদের প্রয়োজন তার সবকিছু সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তাঁর প্রতি তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন, যাতে রয়েছে সবকিছুর বিশদ বিবরণ এবং যার মাধ্যমে তিনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছেন। সুতরাং তাঁর (রাসূল ও কিতাবের) উপস্থিতিতে আমাদের অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই। অতএব আমরা যদি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরি, তবে তা আমাদের সবচেয়ে নিকটতম ও সঠিক পথে আল্লাহর নিকট পৌঁছে দেবে। আর যদি আমরা তা থেকে বিমুখ হই, তবে শয়তানরা আমাদের সবদিক থেকে ছিনিয়ে নেবে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি পরম করুণাময়ের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিযুক্ত করে দিই, অতঃপর সে হয় তার সহচর। আর নিশ্চয়ই তারা (শয়তানরা) তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বাধা প্রদান করে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথেই আছে। অবশেষে যখন সে আমাদের কাছে আসবে, তখন সে (শয়তানকে) বলবে, 'হায়, যদি আমার ও তোমার মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের দূরত্ব থাকত! কতই না নিকৃষ্ট সহচর তুমি!'} (১)
ইমাম বুখারি
তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুগিরা ইবনে বারদিজবাহ। (২)
ইমাম নববী বলেন: "উলামাগণ একমত হয়েছেন যে, তিনি ১৯৪ হিজরি সনের তেরো শাওয়াল জুমুআর সালাতের পর জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের রাতে এশার সালাতের সময় ইন্তেকাল করেন। আর ঈদুল ফিতরের দিন যোহরের সালাতের পর তাঁকে দাফন করা হয়।" (৩)
তিনি শৈশব থেকেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেধা, প্রখর বুদ্ধি, বিচক্ষণতা, মুখস্থ শক্তি ও আভিজাত্য প্রকাশ পায়। তিনি হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে বারবার দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেছেন এবং তাঁর ঘটনাবলি সুপ্রসিদ্ধ। উলামাগণ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, হাদিস শাস্ত্রে তাঁর ইমামত এবং তাঁর ফিকহী প্রজ্ঞা সম্পর্কে একমত হয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। আসমাউর রিজাল ও ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে তাঁর জীবনী সম্পর্কে প্রচুর লেখা হয়েছে এবং তাঁর ফজিলত ও গুণাবলি বর্ণনায় স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে, তাই আমরা এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করছি না।
আর তাঁর কিতাব "আল-জামে আস-সহিহ" সম্পর্কে ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "একমত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
العلماء على أن أصح الكتب المصنفة: صحيحا البخاري ومسلم، واتفق الجمهور على أن "صحيح البخاري" أصحهما صحيحاً، وأكثرهم فوائد". (1)
قلت: هو كتاب عظيم ونافع جداً لمن قرأه، وتدبره، وقد أودعه من التراجم التي تعين على الفهم الشيء الكثير، وهي تدل على عظيم فقهه في الحديث، ودقة استنباطه، وقد بلغت ثلاثة آلاف وثمانمائة واثنتين وثمانين ترجمة، وتزيد على ذلك في بعض النسخ.
هذا، وقد اعتنى به العلماء عناية فائقة، قراءة، وحفظاً، وتدريساً، وشرحاً.
فحظي بشروح كثيرة جداً، فذكر في "كشف الظنون" ما يقرب من ثمانين شرحاً للبخاري (2) ، وله أكثر من ذلك بكثير.
ومع هذا، فإن كتاب التوحيد منه بحاجة إلى شرح يبين مقاصد البخاري-رحمه الله تعالى - ووجه الرد منه على أهل البدع، لأن غالب من قام بشرحه، على المذهب الأشعري، ولا سيما الشروح المتداولة اليوم، ولهذا تجد أحدهم يوجه الكلام من النصوص، ليتفق مع ما يعتقده، ولو بالتعسف.
وكثير من الصفات التي يثبتها البخاري، مستدلاً عليها بنص من كتاب الله، أو عن رسوله، يحاولون ردها، إما بالتحريف الذي يسمونه تأويلاً، أو بدعوى الإجماع على خلافها، كما ذكر الحافظ-رحمه الله تعالى- عن ابن بطال، في قوله-صلى الله عليه وسلم: "لا شخص أغير من الله".
قال: "أجمعت الأمة على أن الله-تعالى- لا يجوز أن يوصف بأنه شخص". (3)
--------------------------------------------
আলেমগণ এই বিষয়ে একমত যে, সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ওলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, 'সহীহ বুখারী' এই দুইটির মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ এবং অধিক ফায়দাবহুল। (১)
আমি (লেখক) বলছি: এটি একটি মহান কিতাব এবং যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে ও নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে তার জন্য অত্যন্ত উপকারী। ইমাম বুখারী এতে এমন অনেক 'তরাজুম' (অধ্যায়ের শিরোনাম) সন্নিবেশিত করেছেন যা হাদীস বুঝতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে। এগুলো হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর সুগভীর ফিকহ (প্রজ্ঞা) এবং সূক্ষ্ম ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) ক্ষমতার প্রমাণ দেয়। এর শিরোনামের সংখ্যা তিন হাজার আটশত বিরাশিটি পর্যন্ত পৌঁছেছে, আর কিছু পাণ্ডুলিপিতে এর চেয়েও বেশি রয়েছে।
বস্তুত, আলেমগণ এর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন—পঠন, মুখস্থকরণ, পাঠদান এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে।
এটি অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) লাভে ধন্য হয়েছে। 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে বুখারীর প্রায় আশিটি ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (২), যদিও এর ব্যাখ্যার সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি।
এর পরেও, এর 'কিতাবুত তাওহীদ' অংশটি এমন একটি ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী যা ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর উদ্দেশ্য এবং বিদআতিদের প্রতি তাঁর খণ্ডনের দিকগুলো সুস্পষ্ট করবে। কারণ যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন তাদের অধিকাংশ ছিলেন আশআরি মাযহাব অনুসারী, বিশেষ করে বর্তমানে প্রচলিত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রযোজ্য। একারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, তাদের কেউ কেউ নস (দলিল)-এর বক্তব্যকে ঘুরিয়ে নিজের আকিদার সাথে মিলাতে চেষ্টা করেন, এমনকি তা যদি কষ্টকল্পিত হয় তবুও।
অনেক সিফাত (গুণাবলি) যা ইমাম বুখারী আল্লাহর কিতাব অথবা তাঁর রাসূলের নস দ্বারা সাব্যস্ত করেছেন, তারা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করেন—হয়তো সেই তাহরীফ (বিকৃতি)-এর মাধ্যমে যাকে তারা 'তাবীল' (ব্যাখ্যা) নাম দিয়েছেন, অথবা তার বিপরীতে ইজমার (ঐক্যমত) দাবি তোলার মাধ্যমে। যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) রাহিমাহুল্লাহু তাআলা ইবনে বাত্তাল থেকে বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর ক্ষেত্রে: "আল্লাহর চেয়ে আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন কোনো ব্যক্তি নেই।"
তিনি বলেছেন: "উম্মত এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলাকে 'ব্যক্তি' হিসেবে গুণান্বিত করা জায়েজ নয়।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وذكر عن الخطابي: أنه رد وصف الرب تبارك وتعالى بالأصابع، كما في حديث عبد الله بن مسعود في ذكر الحبر الذي سأل رسول الله-صلى الله عليه وسلم ونسب ذلك إلى تخليط اليهود، وتشبيههم، وقال في قوله في الحديث: "فضحك رسول الله-صلى الله عليه وسلم تصديقاً لقوله" إنه ظن من ابن مسعود، وحسبان، وحاول عكس الأمر، وأن الضحك من جرأة اليهود على التشبيه (1) ، وأمثال ذلك كثير، مما هو خلاف ما أراد إثباته مؤلف الكتاب.
ولذلك أرى من الواجب أن يتولى شرح هذا الكتاب العظيم، الذي ألفه ذلك الرجل السلفي الفاهم للحق تمام الفهم، من هو على نهج المؤلف في العقيدة، ويفهم مقصده، وماذا يريد من إيراده للنصوص.
ولما أعوزني وجود شرح على هذا الوصف، ولم يسعفني من طلبت منه القيام بذلك من مشائخنا، تطفلت على كتب العلماء، وقمت بجمع ما أراه مناسباً لشرح
ما أورده البخاري-رحمه الله تعالى- وأرجو من الله الإمداد بالعون والسداد، فإنه لا يخيب سائله، ولا يحرم آمله، ولست أزعم أنني أفهم من كتاب البخاري-رحمه الله ما لا يفهمه شارحوه، أمثال ابن حجر والعيني والخطابي وابن بطال والقسطلاني وغيرهم، ولكن لكل منهم نهجه الخاص، وعقيدته التي تملي عليه مسلكاً معيناً.
وطريقتي فيه أني:
1- أذكر نص الحديث بسنده، ثم أتبعه بترجمه لراويه من الصحابة موجزة جداً.
2- أحاول بيان مراد البخاري-رحمه الله من إيراده النص، وبيان وجه استدلاله بذلك، حسب المستطاع.
--------------------------------------------
আল-খাত্তাবি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মহান রবের জন্য 'আঙুল' (الأصابع) এর গুণ সাব্যস্ত করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিসে এসেছে—সেই ইহুদি পণ্ডিতের বর্ণনায় যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তিনি একে ইহুদিদের বিভ্রান্তি ও সাদৃশ্যপ্রদানের (তাশবিহ) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন। আর হাদিসে বর্ণিত এই কথাটি সম্পর্কে—"রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কথার সমর্থনে হাসলেন"—তিনি বলেছেন যে, এটি ইবনে মাসউদের একটি ধারণা বা অনুমান ছিল। তিনি বিষয়টিকে উল্টোভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, রাসুলুল্লাহর হাসি ছিল সাদৃশ্যপ্রদানের ব্যাপারে ইহুদিদের ধৃষ্টতার কারণে। এজাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যা এই কিতাবের লেখকের সাব্যস্ত করতে চাওয়া বিষয়গুলোর পরিপন্থী।
তাই আমি মনে করি যে, এই মহান কিতাবটি—যা সত্যের সঠিক অনুধাবনকারী এক সালাফি মনীষী রচনা করেছেন—এর ব্যাখ্যা এমন একজনের করা উচিত যিনি আকিদাহর ক্ষেত্রে লেখকের পথ অনুসরণ করেন এবং লেখকের উদ্দেশ্য ও হাদিসগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন তা উপলব্ধি করেন।
আর যেহেতু আমি এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্বলিত কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাইনি এবং আমাদের যে সকল শায়খদের কাছে আমি এই কাজটি করার অনুরোধ করেছিলাম তাদের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি, তাই আমি আলেমদের কিতাবগুলোর দ্বারস্থ হয়েছি। ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) যা উল্লেখ করেছেন তার ব্যাখ্যায় যা উপযুক্ত বলে মনে করেছি, তা আমি সংগ্রহ করেছি।
আর আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি; কারণ তিনি তাঁর কাছে প্রার্থনাকারীকে নিরাশ করেন না এবং প্রত্যাশাকারীকে বঞ্চিত করেন না। আমি এমন দাবি করছি না যে, ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব থেকে আমি এমন কিছু বুঝেছি যা ইবনে হাজার, আইনি, খাত্তাবি, ইবনে বাত্তাল, কাসতালানি এবং অন্যান্য ব্যাখ্যাকারগণ বোঝেননি। তবে তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব পদ্ধতি এবং আকিদাহ ছিল, যা তাদের একটি বিশেষ পথে পরিচালিত করেছে।
এতে আমার পদ্ধতি হলো যে:
১- আমি হাদিসের মূল পাঠ সনদসহ উল্লেখ করব, এরপর হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবির অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরব।
২- ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) কেন এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তার উদ্দেশ্য এবং এর মাধ্যমে তিনি কী দলিল পেশ করতে চেয়েছেন, তা সাধ্যমতো স্পষ্ট করার চেষ্টা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - আল-গুনাইমান
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
3- أعزو الكلام إلى قائله، مبيناً مكانه من المصدر، بالجزء والصفحة، واذكر رقم الآية واسم السورة، ومكان الحديث في المصدر، وأما"صحيح البخاري" فغالباً أعزو ما فيه إلى "الفتح".
4- لا أتطرق إلى الكلام على رجال السند، إذ هو أمر مفروغ منه، فكل ما في البخاري ثابت، عن المصطفى-صلى الله عليه وسلم، وقد تلقته الأمة بالقبول، فلا يطعن فيه إلا من كان له غرض، أو في قلبه مرض، خلا بعض المعلقات، وقد تولى الحافظ رحمه الله وصل أسانيده، والإجابة عما قيل فيها في كتابه: "تغليق التعليق".
5- أحاول جهدي بيان مذهب السلف، في أسامي الله -تعالى-، وأوصافه، ومدى تمسكهم بالكتاب والسنة، مستعيناً على ذلك بنقل ما تيسر لي من كلامهم على سبيل الإيجاز.
6- أحاول رد القول الباطل، أو الضعيف، الذي لا تؤيده النصوص، إذ إن مبنى أوصاف الله -تعالى- على ثبوت النص في ذلك، ولا دخل لقياس وعقل في ذلك، وكل ذلك حسب المستطاع.
3- আমি বক্তব্যসমূহকে তার বক্তার দিকে সম্বন্ধিত করি এবং মূল উৎসের খণ্ড ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করে তার উদ্ধৃতি প্রদান করি। আমি আয়াতের নম্বর, সূরার নাম এবং মূল গ্রন্থে হাদিসের স্থান উল্লেখ করি। আর "সহিহ বুখারি"র ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর উদ্ধৃতি "ফাতহুল বারি"র দিকে প্রদান করি।
4- আমি সনদের রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) বিষয়ে আলোচনায় লিপ্ত হই না, কারণ এটি একটি সুনিশ্চিত ও মীমাংসিত বিষয়। কেননা সহিহ বুখারিতে যা কিছু আছে তার সবই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত এবং মুসলিম উম্মাহ একে গ্রহণ করে নিয়েছে। সুতরাং যার কোনো কুমতলব আছে অথবা যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, সে ছাড়া কেউ এতে ছিদ্রান্বেষণ করে না। তবে কিছু 'মুআল্লাক' (ঝুলন্ত সনদ) বর্ণনার বিষয়টি ভিন্ন, আর হাফিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর "তাগলিকুত তায়লিক" গ্রন্থে সেগুলোর সনদ প্রদান করেছেন এবং সেগুলোর বিষয়ে উত্থাপিত আপত্তির জবাব দিয়েছেন।
5- আমি মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাব এবং কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি তাঁদের অবিচল অনুগত্যের বিষয়টি বর্ণনা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করি। এ ক্ষেত্রে আমি সংক্ষেপে তাঁদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করার মাধ্যমে সহায়তা গ্রহণ করি।
6- আমি সেই সমস্ত বাতিল বা দুর্বল মত খণ্ডন করার চেষ্টা করি যা দলীল দ্বারা সমর্থিত নয়। কারণ মহান আল্লাহর গুণাবলির ভিত্তি হলো এ বিষয়ে দলীল প্রমাণিত হওয়া। এক্ষেত্রে অনুমান বা বিবেকের কোনো সুযোগ নেই। এ সবকিছুই আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী করার চেষ্টা করেছি।