(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: -)
مجلس في حديث جابر القسم: كتب السنة
الكتاب: مجلس في حديث جابر (مطبوع ضمن مجموع رسائل لابن ناصر الدين)
المؤلف: محمد بن عبد الله (أبي بكر) بن محمد ابن أحمد بن مجاهد القيسي الدمشقي الشافعي، شمس الدين، الشهير بابن ناصر الدين (ت 842هـ)
تحقيق وتعليق: أبي عبد الله مشعل بن باني الجبرين المطيري
الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 225
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাবিরের হাদিসের ওপর একটি মজলিস বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: জাবিরের হাদিসের ওপর একটি মজলিস (ইবনে নাসিরুদ্দিনের পত্রসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (আবু বকর) বিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বিন মুজাহিদ আল-কায়সি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, শামসুদ্দিন, যিনি ইবনে নাসিরুদ্দিন নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৮৪২ হিজরি)
তাহকিক ও টীকা: আবু আব্দুল্লাহ মিশআল বিন বানি আল-জাবরিন আল-মুতাইরি
প্রকাশক: দার ইবনে হাজম, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২০৩)
أَخْبَرَتْنَا الشَّيْخَةُ الصَّالِحَةُ الأَصِيلَةُ شَمْسُ الْمُلُوكِ بِنْتُ النَّاصِرِ مُحَمَّدِ بْنِ الْعِمَادِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْمُجِيرِ يَعْقُوبَ بْنِ الْمَلِكِ الْعَادِلِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ شَاذِيِّ، بِقَرَاءَتِي عَلَيْهَا، أَخْبَرَكَ التَّاجُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّنُوخِيُّ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُنِيرٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا، وَأَنْتِ شَاهِدَةٌ فَأَقَرَّتْ بِهِ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّنُوخِيُّ، سَمَاعًا، أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ بَرَكَاتُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْفُرْشِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِئُ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ:
পুণ্যবতী ও সম্ভ্রান্ত শাইখা শামসুল মুলুক বিনতে আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন আল-ইমাদ ইবরাহিম বিন আবি বকর বিন আল-মুজির ইয়াকুব বিন আল-মালিক আল-আদিল আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন শাজি আমাদিগকে সংবাদ প্রদান করেছেন—তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। (তিনি বলেন:) তোমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আত-তাজ আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহিম বিন ইবরাহিম আত-তানুখি এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুনির, তাঁদের নিকট পাঠের মাধ্যমে, আর আপনি সাক্ষী ছিলেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবু মুহাম্মাদ ইসমাইল বিন ইবরাহিম আত-তানুখি, শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবু তাহির বারাকাত বিন ইবরাহিম আল-ফুরশি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবু মুহাম্মাদ হিবাতুল্লাহ বিন আহমাদ। তিনি বলেন: হাফিজ আবু বকর আহমাদ বিন আলি বিন সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদিগকে তা সংবাদ প্রদান করেছেন আলি বিন আহমাদ বিন উমর আল-মুকরি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম আশ-শাফিয়ি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াজ বিন আল-মুসান্না। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়ারিস, আল-কাসিম বিন আবদুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকিল থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২০৪)
بَلَغَنِي حَدِيثٌ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَاشْتَرَيْتُ بَعِيرًا، فَشَدَدْتُ عَلَيْهِ رَحْلا، ثُمَّ سِرْتُ إِلَيْهِ شَهْرَا حَتَّى قَدِمْتُ مِصْرَ، قَالَ: فَخَرَجَ إِلَيَّ غُلامٌ أَسْوَدُ، فَقُلْتُ: اسْتَأْذِنْ لِي عَلَى فُلانٍ، قَالَ: فَدَخَلَ، فَقَالَ: إِنَّ أَعْرَابِيًّا بِالْبَابِ يَسْتَأْذِنُ، قَالَ: فَاخْرِجُ إِلَيْهِ، فَقُلْ لَهُ: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: فَقَالَ لَهُ: أَخْبِرْهُ أَنِّي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: فَخَرَجَ إِلَيْهِ، فَالْتَزَمَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ، قَالَ: فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكَ؟ قُلْتُ: حَدِيثٌ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُ بِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِي الْقِصَاصِ، وَمَا أَعْلَمُ أَحَدًا يَحْفَظُهُ غَيْرُكَ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ تُذَاكِرَنِيهِ، فَقَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ حَشَرَ اللَّهُ تَعَالَى عِبَادَهُ عُرَاةً، غُرْلا بُهْمًا، فَيُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ مِنْهُمْ، كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ: أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الدَّيَّانُ، لا تَظَالَمُوا الْيَوْمَ، لا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةِ، وَلأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ قِبَلَهُ مَظْلَمَةٌ، وَلا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَنْ يَدْخُلَ النَّارَ، وَلأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ قِبَلَهُ مَظْلَمَةٌ، حَتَّى اللَّطْمَةُ بِالْيَدِ "، قَالُوا: يَا رَسُول اللَّهِ، وَكَيْفَ وَإِنَّمَا نَأَتْي اللَّهَ عُرَاةً، غُرْلا، بُهْمًا؟ ، قَالَ: «مِنَ الْحَسَنَاتِ وَالسِّيِّئَاتِ» ، هَذَا الرجل الَّذِي رحل إِلَيْهِ جَابِر رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي الحَدِيث، هُوَ عَبْد اللَّهِ بْن أنيس بْن أسعد بْن حرام أَبُو يَحْيَى الجهني، ويقال: الأَنْصَارِي، لأنه حليفهم يعد فِي أهل الْمَدِينَة، وَهُوَ عقبي وأحد الأبطال المعدودين رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবীর নিকট থেকে আমার কাছে একটি হাদীস পৌঁছাল। তখন আমি একটি উট ক্রয় করলাম এবং তার ওপর পালান কষলাম। এরপর আমি তাঁর উদ্দেশ্যে এক মাস পথ চললাম, অবশেষে আমি মিশরে পৌঁছালাম। তিনি বললেন: তখন আমার নিকট একজন কৃষ্ণাঙ্গ গোলাম বেরিয়ে এল। আমি বললাম: অমুক ব্যক্তির নিকট আমার জন্য সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করো। তিনি বললেন: সে ভেতরে প্রবেশ করল এবং বলল: দরজায় একজন মরুবাসী ব্যক্তি সাক্ষাতের অনুমতি চাচ্ছে। তিনি বললেন: তার কাছে বেরিয়ে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করো: আপনি কে? তিনি বললেন: আমি তাকে বললাম: তাঁকে সংবাদ দাও যে আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং তাঁরা উভয়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করলেন। তিনি বললেন: আপনার আগমনের কারণ কী? আমি বললাম: কিাসাস (প্রতিবিধান) প্রসঙ্গে আপনার বর্ণিত একটি হাদীস আমার নিকট পৌঁছেছে যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। আমার জানামতে আপনি ব্যতীত আর কেউ সেটি সংরক্ষণ করেনি। তাই আমি চেয়েছি যে আপনি সেটি আমাকে শুনিয়ে দিন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "যখন কিয়ামত দিবস হবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উলঙ্গ, খাতনাবিহীন ও নিঃস্ব অবস্থায় সমবেত করবেন। অতঃপর তিনি এমন এক আওয়াযে তাঁদের ডাকবেন যা দূরের ব্যক্তিও শুনতে পাবে যেমনভাবে কাছের ব্যক্তিরা শুনতে পায়: আমিই রাজাধিরাজ, আমিই বিচারক। আজ তোমরা একে অপরের প্রতি কোনো জুলুম করো না। জান্নাতবাসীদের কারো পক্ষে জান্নাতে প্রবেশ করা সংগত হবে না যদি কোনো জাহান্নামবাসীর পক্ষ থেকে তার নিকট কোনো জুলুমের পাওনা থাকে। আবার জাহান্নামবাসীদের কারো পক্ষে জাহান্নামে প্রবেশ করা সংগত হবে না যদি কোনো জান্নাতবাসীর পক্ষ থেকে তার নিকট কোনো জুলুমের পাওনা থাকে; এমনকি তা হাতের একটি চড় হলেও।" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে সম্ভব যখন আমরা আল্লাহর নিকট উলঙ্গ, খাতনাবিহীন ও নিঃস্ব অবস্থায় উপস্থিত হব? তিনি বললেন: "নেক আমল ও গুনাহের বিনিময়ে।" জাবির রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এই হাদীসটির জন্য যাঁর কাছে সফর করেছিলেন, তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আনিস ইবনে আসাদ ইবনে হারাম আবু ইয়াহইয়া আল-জুহানি। তাঁকে আনসারীও বলা হয়, কারণ তিনি তাঁদের মিত্র ছিলেন এবং মদীনাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হতেন। তিনি আকাবায় বায়আত গ্রহণকারীদের একজন এবং অন্যতম প্রখ্যাত বীর ছিলেন, রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২০৫)
وَقَدْ جاءت الرواية بتسميته فِي الحَدِيث
وَذَلِكَ فِيمَا أَخْبَرَنَاهُ الإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ السِّنْجَارِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ التَّقِيِّ أَحْمَدُ الْحَنْبَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ السَّعْدِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، وَزَيْنَبُ بِنْتُ مَكِّيٍّ الْحَرَّانِيَّةُ، إِجَازَةً، قَالا: أَخْبَرَنَا حَنْبَلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، سَمَاعًا، أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَكِّيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، يَقُولُ: بَلَغَنِي حَدِيثٌ عَنْ رَجُلٍ سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاشْتَرَيْتُ بَعِيرًا، ثُمَّ شَدَدْتُ عَلَيْهِ رَحْلِي، فَسِرْتُ إِلَيْهِ شَهْرًا حَتَّى قَدِمْتُ عَلَيْهِ الشَّامَ، فَإِذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ، فَقُلْتُ لِلْبَوَّابِ: قُلْ لَهُ: جَابِرٌ عَلَى الْبَابِ.
فَقَالَ: ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قُلْتُ: نَعَمْ، فَخَرَجَ يَطَأُ ثَوْبَهَ، فَاعْتَنَقَنِي وَاعْتَنَقْتُهُ، فَقُلْتُ: حَدِيثًا بَلَغَنِي عَنْكَ أَنَّكَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْقِصَاصِ، فَخَشَيْتُ أَنْ تَمُوتَ أَوْ أَمُوتَ قَبْلَ أَنْ أَسْمَعَهُ، فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: "
يَحْشُرُ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، أَوْ قَالَ: الْعِبَادَ عُرَاةً، غُرْلا، بُهْمًا، قَالَ: قُلْنَا: وَمَا «بُهْمًا» ؟ قَالَ: لَيْسَ مَعَهُمْ شَيْءٌ، ثُمَّ يُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ، كَمَا
হাদিসের মধ্যে তাঁর নাম উল্লেখপূর্বক বর্ণনাটি এসেছে।
আর তা হলো যা ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম আস-সিনজারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আত-তাকি আহমদ আল-হাম্বলি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন আহমদ আস-সায়দি—তাঁকে পড়ে শুনানোর মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম, এবং জয়নব বিনতে মাক্কি আল-হাররানিয়াহ—অনুমতি সূত্রে, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্বল বিন আবদুল্লাহ—শ্রবণ সূত্রে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আলি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাসিম বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাক্কি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকিল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন: জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে আমার কাছে একটি হাদিস পৌঁছেছে যা তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি শুনেছেন। তখন আমি একটি উট ক্রয় করলাম এবং তার পিঠে জিন কষলাম। এরপর আমি এক মাস পথ চলে সিরিয়ায় তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। দেখা গেল তিনি আবদুল্লাহ বিন উনাইস। আমি দারোয়ানকে বললাম: তাঁকে বলো যে, জাবির দরজায় দাঁড়িয়ে।
তিনি বললেন: ইবনে আবদুল্লাহ? আমি বললাম: হ্যাঁ। এরপর তিনি পরিধেয় বস্ত্র মাড়িয়ে (দ্রুতপদে) বেরিয়ে আসলেন এবং আমাকে আলিঙ্গন করলেন, আমিও তাঁকে আলিঙ্গন করলাম। আমি বললাম: আপনার নিকট থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) সংক্রান্ত একটি হাদিস আমার কাছে পৌঁছেছে যা আপনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন। আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, আপনার নিকট থেকে তা শোনার পূর্বেই আপনি অথবা আমি মৃত্যুবরণ করি কি না। তখন তিনি বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “
আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন মানুষকে—অথবা তিনি বলেছেন: বান্দাদেরকে—উলঙ্গ, খতনাবিহীন এবং ‘বুহমান’ অবস্থায় একত্রিত করবেন।” বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম: ‘বুহমান’ কী? তিনি বললেন: “তাদের সাথে কোনো কিছুই থাকবে না। এরপর তিনি তাদের এমন এক আওয়ায বা কণ্ঠস্বরে আহ্বান করবেন যা দূর থেকে শ্রবণকারীও শুনতে পাবে যেমনটি...”
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২০৬)
يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ: أنا الْمَلِكُ، أنا الدَّيَّانُ، لا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، أَنْ يَدْخُلَ النَّارَ وَلَهُ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَقٌّ، حَتَّى أَقُصَّهُ مِنْهُ، وَلا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَلأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ عِنْدَهُ حَقٌّ، حَتَّى أَقُصَّهُ مِنْهُ حَتَّى اللَّطْمَةُ، قُلْنَا: كَيْفَ وَإِنَّمَا نَأْتِي اللَّهَ عُرَاةً، غُرْلا، بُهْمًا؟ قَالَ: بِالْحَسَنَاتِ وَالسِّيِّئَاتِ "، هَكَذَا حَدَّثَ بِهِ الإِمَامُ أَحْمَدَ فِي الْمُسْنَدِ مُطَوَّلا
وَحَدَّثَ بِهِ فِي كِفَايَةِ الرِّوَايَةِ وَالْفُنُونِ، فَقَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ " أَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُنَيْسٍ رضي الله عنه، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: "
يَحْشُرُ اللَّهُ الْعِبَادَ، أَوْ قَالَ: النَّاسَ عُرَاةً، غُرْلا، بُهْمًا ".
قَالَ: قُلْنَا: مَا «بُهْمًا» ؟ قَالَ: «لَيْسَ مَعَهُمْ شَيْءٌ، ثُمَّ يُنَادِيهمْ بِصَوْتِ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ، أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الدَّيَّانُ، لا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَلأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ حَتَّى أَقُصَّهُ»
وَأَنْبَأنَا الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السَّعْدِيُّ، أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو الْحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكَلْبِيُّ، سَمَاعًا، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ
যা কাছের ব্যক্তি শুনতে পায় (তেমনি দূরের ব্যক্তিও শুনতে পাবে): "আমিই রাজা, আমিই প্রতিফলদানকারী। জাহান্নামীদের কারো পক্ষে জাহান্নামে প্রবেশ করা সমীচীন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতীদের কারো কাছে তার কোনো অধিকার বা পাওনা থাকে এবং আমি তার থেকে তার প্রতিশোধ গ্রহণ না করি। আবার জান্নাতীদের কারো পক্ষে জান্নাতে প্রবেশ করা সমীচীন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত জাহান্নামীদের কারো কোনো পাওনা তার কাছে থাকে এবং আমি তার থেকে তার প্রতিশোধ গ্রহণ না করি, এমনকি তা যদি একটি চড়ও হয়।" আমরা বললাম: "কীভাবে তা সম্ভব যখন আমরা আল্লাহর কাছে আসব উলঙ্গ, খতনাবিহীন এবং নিঃস্ব অবস্থায়?" তিনি বললেন: "নেকি এবং বদির মাধ্যমে।" ইমাম আহমদ এভাবেই মুসনাদে দীর্ঘভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি এটি 'কিফায়াতুর রিওয়ায়াহ ওয়াল ফুনুন' গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া, কাসিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এলাম। তখন আব্দুল্লাহ বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: '
আল্লাহ বান্দাদের—অথবা তিনি বলেছেন: মানুষদের—একত্রিত করবেন উলঙ্গ, খতনাবিহীন এবং নিঃস্ব অবস্থায়।'"
তিনি বলেন: আমরা বললাম: 'নিঃস্ব' (বুহমান) কী? তিনি বললেন: 'যাদের সাথে কিছুই থাকবে না। এরপর তিনি তাদের এমন এক উচ্চস্বরে আহ্বান করবেন যা দূরের ব্যক্তি ঠিক তেমনই শুনতে পাবে যেমন কাছের ব্যক্তি শুনতে পায়: আমিই রাজা, আমিই প্রতিফলদানকারী। জান্নাতীদের কারো পক্ষে জান্নাতে প্রবেশ করা সমীচীন হবে না যদি জাহান্নামীদের কারো কোনো পাওনা বা জুলুম তার কাছে থাকে, যতক্ষণ না আমি তার প্রতিশোধ গ্রহণ করি।'
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কালবি সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে ইসমাইল।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২০৭)
أَبُو إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ، إِجَازَةً، أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا حَاضِرٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَعْرَجِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ فَوْرَكٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرَّوُخَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما حَدَّثَهُ، قَالَ: خَرَجْتُ إِلَى الشَّامِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ الأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«يَحْشُرُ اللَّهُ عز وجل الْعِبَادَ» ، أَوْ قَالَ: «يَحْشُرُ اللَّهُ النَّاسَ» ، قَالَ: وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الشَّامِ، " عُرَاةً، غُرْلا، بُهْمًا، قَالَ: قَالَ: قُلْتُ: مَا «بُهْمًا» ؟ قَالَ: " لَيْسَ مَعَهُمْ شَيْءٌ، فَيُنَادِي بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ: أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الدَّيَّانُ، لا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَأَحَدٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَطْلُبُهُ بِمَظْلَمَةٍ، وَلا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَنْ يَدْخُلَ النَّارَ، وَأَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَطْلُبُهُ بِمَظْلَمَةٍ "، قَالُوا: وَكَيْفَ وَإِنَّا نَأَتْي اللَّهَ عز وجل عُرَاةً غُرْلا بُهْمًا؟ قَالَ: «بِالْحَسَنَاتِ وَالسِّيِّئَاتِ» ، خَرَّجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي مُعْجَمِهِ الْكَبِيرِ، مِنْ حَدِيثِ شَيْبَانَ، وَهُدْبَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ هَمَّام
وَأَنْبَأَنَا الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَيْضًا، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الأَزْدِيُّ، سَمَاعًا، أَخْبَرَنَا النَّاصِرُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَنِيِّ الدَّوْلَةِ، أَخْبَرَنَا بَرَكَاتُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ الْخُشُوعِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الأَكْفَانِيُّ، أَخْبَرَنَا
আবু ইসহাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর ইজাজাত হিসেবে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাহমুদ বিন ইসমাইল তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এমতাবস্থায় যে আমি উপস্থিত ছিলাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আরাজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ফাওরাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আবি আসিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়বান বিন ফাররুখ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম বিন আবদুল ওয়াহিদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকীল বিন আবি তালিব যে, জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শামের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ বিন উনাইস আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর নিকট বের হলাম। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন:
«আল্লাহ তাআলা বান্দাদের হাশরের ময়দানে একত্রিত করবেন», অথবা তিনি বলেছেন: «আল্লাহ মানুষকে একত্রিত করবেন», বর্ণনাকারী বলেন: আর তিনি তাঁর হাত দিয়ে শামের দিকে ইশারা করলেন, "উলঙ্গ অবস্থায়, খতনাবিহীন অবস্থায়, রিক্তহস্ত অবস্থায়"। তিনি (জাবির) বললেন: আমি বললাম: 'রিক্তহস্ত' কী? তিনি বললেন: "তাদের সাথে কিছুই থাকবে না। অতঃপর তিনি এমন এক আওয়াযে ডাকবেন যা দূরের ব্যক্তিও তেমনই শুনতে পাবে যেমনটি নিকটের ব্যক্তি শুনতে পায়: আমিই বাদশাহ, আমিই বিচারকারী। জান্নাতবাসীদের কারো জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা সংগত হবে না যদি জাহান্নামবাসীদের কারো তার ওপর কোনো যুলুমের পাওনা থাকে। আর জাহান্নামবাসীদের কারো জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করা সংগত হবে না যদি জান্নাতবাসীদের কারো তার ওপর কোনো যুলুমের পাওনা থাকে।" তাঁরা বললেন: তা কীভাবে হবে অথচ আমরা আল্লাহর নিকট আসব উলঙ্গ, খতনাবিহীন ও রিক্তহস্ত অবস্থায়? তিনি বললেন: "নেক আমল এবং বদ আমলের মাধ্যমে"। তাবারানী তাঁর মু'জামুল কাবীরে শায়বান ও হুদবা বিন খালিদ সূত্রে হাম্মাম থেকে এটি সংকলন করেছেন।
এবং হাফেজ আবু বকরও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-আযদি শ্রবণের মাধ্যমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আন-নাসির আবু আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন সানিউদ্দাওলাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বারাকাত বিন আবি ইসহাক আল-খুশুয়ী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-আকফানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ الصَّيَّادُ، وَالْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلادٍ الْعَطَّارُ.
وَقَالَ الْحَافِظُ أَيْضًا، وَأَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَالِكٍ الإِسْكَافِيُّ، قَالا: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ.
وَقَالَ أَيْضًا، وَأَخْبَرَتْنَا أُمُّ الْفَرَجِ فَاطِمَةُ بِنْتُ هِلالِ بْنِ أَحْمَدَ الْكَرَجِيُّ، قَالَتْ: أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَّقَّاقُ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ التَّمِيمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أنا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَكِّيِّ.
وَقَالَ أَيْضًا: وَحَدَّثَنِي أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ السُّوذَرْجَانِيُّ، لَفْظًا بِأَصْبَهَانَ، وَسِيَاقُ الْحَدِيثِ لَهُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا الْقَاسِم بْن عَبْد الْوَاحِد، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا حَدَّثَهُ، قَالَ: بَلَغَنِي عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، حَدِيثٌ، سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْهُ.
قَالَ: فَابْتَعْتُ بَعِيرًا، فَشَدَدْتُ عَلَيْهِ رَحْلِي، فَسِرْتُ إِلَيْهِ شَهْرًا حَتَّى أَتَيْتُ الشَّامَ، فَإِذَا هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ الأَنْصَارِيُّ.
قَالَ: فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ أَنَّ جَابِرًا عَلَى الْبَابِ، قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيَّ الرَّسُولُ، فَقَالَ: جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ؟ فَقُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَرَجَعَ الرَّسُولُ إِلَيْهِ فَخَرَجَ إِلَيَّ، فَاعْتَنَقَنِي وَاعْتَنَقْتُهُ.
قَالَ: مَا لَكَ، قُلْتُ: حَدِيثٌ بَلَغَنِي أَنَّكَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَظَالِمِ لَمْ أَسْمَعْهُ، فَخَشِيتُ أَنْ أَمُوتَ أَوْ تَمُوتَ قَبْلَ أَنْ أَسْمَعَهُ، فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
হাফেজ আহমদ ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইউসুফ আস-সাইয়াদ এবং হাসান ইবনে আবু বকর। তাঁরা উভয়েই বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে খাল্লাদ আল-আত্তার।
হাফেজ আরও বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আবু বকর, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মালিক আল-ইস্কাফী। তাঁরা বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু উসামা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মুল ফারাজ ফাতিমা বিনতে হিলাল ইবনে আহমদ আল-কারাজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হারিস ইবনে আবু উসামা আত-তামিমি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াযিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া, কাসিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্কি থেকে বর্ণিত।
তিনি আরও বলেন: আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আলী আস-সুদারজানি আমাকে আসফাহানে মৌখিকভাবে শুনিয়েছেন, আর হাদিসের এই বর্ণনাপদ্ধতিটি তাঁরই। তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন শাইবান, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাম্মাম, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাসিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ, তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল ইবনে আবি তালিব যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে হাদিসটি শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন সাহাবীর পক্ষ থেকে আমার নিকট একটি হাদিস পৌঁছেছে, যা তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন কিন্তু আমি তা তাঁর থেকে শুনিনি।
তিনি বললেন: এরপর আমি একটি উট কিনলাম এবং তার ওপর হাওদা বাঁধলাম। অতঃপর আমি এক মাস পথ চলে সিরিয়ায় পৌঁছালাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস আল-আনসারী।
তিনি বললেন: আমি তাঁর কাছে এই মর্মে খবর পাঠালাম যে, জাবির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন: তখন বার্তাবাহক ফিরে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বলেন: এরপর বার্তাবাহক তাঁর কাছে ফিরে গেল এবং তিনি আমার কাছে বেরিয়ে এলেন। অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং আমিও তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম।
তিনি বললেন: তোমার কী বিষয়? আমি বললাম: জুলুম (অবিচার) সংক্রান্ত একটি হাদিস আমার কাছে পৌঁছেছে যে, আপনি তা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন যা আমি শুনিনি। আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, শোনার আগেই হয়তো আমি মারা যাব অথবা আপনি মারা যাবেন। তখন তিনি বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২০৯)
"
يَحْشُرُ اللَّهُ تَعَالَى الْعِبَادَ، أَوْ يَحْشُرُ اللَّهُ تَعَالَى النَّاسَ، قَالَ: وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الشَّامِ، عُرَاةً، غُرْلا، بُهْمًا ".
قُلْتُ: مَا «بُهْمًا» ؟ قَالَ: " لَيْسَ مَعَهُمْ شَيْءٌ، قَالَ: فَيُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ، كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ: أَنَا الْمَلِكُ، أنا الدَّيَّانُ، لا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةِ، وَأَحَدٌ مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَطْلُبُهُ بِمَظْلَمَةٍ، وَلا يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَنْ يَدْخُلَ النَّارَ، وَأَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَطْلُبُهُ بِمَظْلَمَةٍ حَتَّى اللَّطْمَةُ "، قَالَ: قُلْنَا: كَيْفَ هُوَ وَإِنَّمَا نَأْتِي اللَّهُ عز وجل عُرَاةً، غُرْلا بُهْمًا؟ قَالَ: «بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ»
وَأَخْبَرَنَا الشِّهَابُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَارِقِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَنْبَأنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ الْحَاكِمُ، وَيَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَقْدِسِيَّانِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ يَحْيَى الْمَخْزُومِيِّ، وَقَالَ الْحَاكِمُ: وَأَنْبَأنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رِفَاعَةَ، سَمَاعًا، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الْقَاضِي، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ بْنِ يَحْيَى الشَّاهِدُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ الرَّمَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ يُونُسَ الأَسْفَاطِيُّ بِمَكَّةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، أَخْبَرَنِي ابْنُ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: " بَلَغَنِي عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ، فَابْتَعْتُ بَعِيرًا وَشَدَدْتُ عَلَيْهِ رَحْلِي، فَدَخَلْتُ الشَّامَ، فَإِذَا هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقُلْتُ لِلرَّسُولِ: قُلْ لَهُ: جَابِرٌ عَلَى الْبَابِ فَاخْرُجْ ".
فَرَجَعَ الرَّسُولُ، فَقَالَ: جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ؟ ،
"মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের একত্রিত করবেন, অথবা তিনি বলেছেন: মহান আল্লাহ মানুষকে একত্রিত করবেন—বর্ণনাকারী তাঁর হাত দিয়ে সিরিয়ার দিকে ইশারা করলেন—উলঙ্গ, খাতনাবিহীন এবং ‘বুহম’ অবস্থায়।"আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘বুহম’ কী? তিনি বললেন: "তাদের সাথে কিছুই থাকবে না। তিনি বললেন: অতঃপর আল্লাহ তাদের এমন এক আওয়াযে ডাকবেন যা দূরের ব্যক্তিও ঠিক তেমনই শুনতে পাবে যেমন কাছের ব্যক্তি শুনতে পায়: আমিই রাজাধিরাজ, আমিই প্রতিদানদাতা। জান্নাতবাসীদের কারোরই জান্নাতে প্রবেশ করা উচিত হবে না যদি কোনো জাহান্নামী ব্যক্তির তার নিকট কোনো পাওনা থাকে। আবার জাহান্নামীদের কারোরই জাহান্নামে প্রবেশ করা উচিত হবে না যদি কোনো জান্নাতী ব্যক্তির তার নিকট কোনো পাওনা থাকে, এমনকি তা একটি চড় মারার বিষয় হলেও।" তিনি বলেন: আমরা জিজ্ঞেস করলাম: সেটা কীভাবে সম্ভব যখন আমরা মহান আল্লাহর নিকট উলঙ্গ, খাতনাবিহীন ও রিক্তহস্তে (বুহম) উপস্থিত হব? তিনি বললেন: "নেক আমল এবং গুনাহের বিনিময়ে।"
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শিহাব আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-ফারিকী, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন হামজা আল-হাকিম এবং ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসীদ্বয়, হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-মাখযুমী থেকে; এবং হাকিম বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী আল-হাররানী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন রিফায়া, শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন হাসান আল-কাজী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাজ্জ বিন ইয়াহইয়া আশ-শাহিদ, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে যখন আমি শুনছিলাম; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন হারিস আল-রামালি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল ফজল আব্বাস বিন ফজল বিন ইউনুস আল-আসফাতি মক্কায়; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল ওয়ালিদ হিশাম বিন আবদুল মালিক আল-তায়ালিসি; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাম; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাসিম বিন আবদুল ওয়াহিদ; আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আকীল, জাবির (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে। তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের একজনের পক্ষ থেকে আমার নিকট একটি হাদীসের খবর পৌঁছাল। তখন আমি একটি উট ক্রয় করলাম এবং তার ওপর জিন কষলাম। এরপর আমি সিরিয়ায় পৌঁছালাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন উনাইস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)। আমি বার্তাবাহককে বললাম: তাকে গিয়ে বলো, জাবির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, আপনি বাইরে আসুন।"
অতঃপর বার্তাবাহক ফিরে এসে জিজ্ঞেস করল: জাবির বিন আবদুল্লাহ?
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২১০)
قُلْتُ: نَعَمْ.
فَخَرَجَ إِلَيَّ فَعَانَقَنِي، فَقُلْتُ: حَدِيثٌ بَلَغَنِي عَنْكَ أَنَّكَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَظَالِمِ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَخَشِيتُ أَنْ تَمُوتَ أَوْ أَمُوتَ وَلَمْ أَسْمَعْهُ.
قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: "
يَحْشُرُ اللَّهُ الْعِبَادَ، وَأَوْمَأَ إِلَى الشَّامِ، حُفَاةً عُرَاةً بُهْمًا، قُلْتُ: مَا بُهْمًا؟ ، قَالَ: " لَيْسَ مَعَهُمْ شَيْءٌ، فَيُنَادِي بِصَوْتِ يُسْمِعُ مَنْ بَعُدَ، كَمَا يُسْمِعُ مَنْ قَرُبَ: أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الدَّيَّانُ، حَرَامٌ عَلَى نَفْسٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَلِنَفْسٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ قِبَلَهَا مَظْلَمَةٌ، حَرَامٌ عَلَى نَفْسٍ تَدْخُلُ النَّارُ وَلِنَفْسٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ قِبِلَهَا مَظْلَمَةٌ ".
قُلْتُ: وَكَيْفَ ذَلِكَ، وَهُمْ حُفَاةٌ عُرَاةٌ؟ قَالَ: «الْحَسَنَاتُ وَالسِّيَّئَاتُ» ،
আমি বললাম: হ্যাঁ।
তখন তিনি আমার কাছে বেরিয়ে আসলেন এবং আমাকে আলিঙ্গন করলেন। এরপর আমি বললাম: আপনার পক্ষ থেকে যুলুম সম্পর্কিত একটি হাদীস আমার নিকট পৌঁছেছে যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, কিন্তু আমি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শুনিনি। ফলে আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, তা শোনার আগেই হয়তো আপনার মৃত্যু হবে অথবা আমার মৃত্যু হয়ে যাবে।
তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "
আল্লাহ বান্দাদেরকে সমবেত করবেন —এবং তিনি শামের দিকে ইশারা করলেন— খালিপায়ে, উলঙ্গ অবস্থায় এবং 'বুহমান' হিসেবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: 'বুহমান' কী? তিনি বললেন: "তাদের সাথে পার্থিব কোনো কিছুই থাকবে না"। অতঃপর তিনি এমন এক স্বরে আহ্বান করবেন যা দূরের ব্যক্তিও শুনতে পাবে যেমনটি কাছের ব্যক্তি শুনতে পায়: "আমিই রাজাধিরাজ, আমিই বিচারক (আদ-দাইয়ান)। জান্নাতে প্রবেশকারী কোনো ব্যক্তির জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না তার নিকট কোনো জাহান্নামবাসীর যুলুমের পাওনা পরিশোধ করা হয়। আবার জাহান্নামে প্রবেশকারী কোনো ব্যক্তির জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করা সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না তার নিকট কোনো জান্নাতবাসীর যুলুমের পাওনা পরিশোধ করা হয়।"
আমি বললাম: তা কীভাবে সম্ভব, অথচ তারা তো খালিপায়ে ও উলঙ্গ অবস্থায় থাকবে? তিনি বললেন: "তা হবে নেকী ও গুনাহের বিনিময়ে।" ,
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২১৩)
وَرَوَاهُ الْحَسَنُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ، يُقَالُ لَهُ: الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، فَذَكَرَهُ مُطَوَّلا بِزِيَادَةِ حَدِيثَيْنِ فِي أَوَّلِهِ مِنْ رِوَايَةِ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ.
وَحَدَّثَ بِهِ الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ النَّسَوِيُّ، عَنْ هُدْبَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ دُونَ الزِّيَادَةِ.
وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، مَدَارُهُ عَلَى الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَيْمَنَ الْمَخْزُومِيِّ، مَوْلاهُمْ، وَقَدْ وَثَقَ فِيمَا ذَكَرَهُ الذَّهَبِيُّ.
وَشَيْخُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ الْهَاشِمِيُّ، أُمُّهُ زَيْنَبُ الصُّغْرَى بِنْتُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.
قَالَ التِّرْمِذِيُّ: صَدُوقٌ، تَكَلَّمَ فِيهِ بَعْضُهُمْ مِنْ قَبْلِ حَفْظِهِ، وَحَدَّثَ. . .،
এবং এটি বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনুল মুসান্না, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আফফান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, আমাদের নিকট মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যাঁকে আল-কাসিম ইবনে আবদুল ওয়াহিদ বলা হয়। অতঃপর তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)-এর বর্ণনা থেকে এর শুরুতে দুটি অতিরিক্ত হাদীসসহ এটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
এবং এটি হাসান ইবনে সুফিয়ান আন-নাসাওয়ী হুদবাহ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে এবং তিনি আল-কাসিম ইবনে আবদুল ওয়াহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি অতিরিক্ত অংশ ব্যতিরেকে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
আর এটি একটি হাসান হাদীস, যার মূল ভিত্তি হলো আল-কাসিম ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আয়মান আল-মাখযুমী (তাঁদের আযাদকৃত দাস), এবং ইমাম যাহাবী যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী তিনি নির্ভরযোগ্য।
আর তাঁর শাইখ হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল ইবনে আবি তালিব আল-হাশিমী, যাঁর মাতা হলেন যয়নাব আস-সুগরা বিনতে আলী ইবনে আবি তালিব।
ইমাম তিরমিযী বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (সাদুক), তবে কেউ কেউ তাঁর হেফয বা মুখস্থ শক্তির দিক থেকে তাঁর সমালোচনা করেছেন, এবং তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২১৪)
عَنِ الْبُخَارِي، أَنَّهُ قَالَ: كَانَ أَحْمَدُ، وَإِسْحَاقُ، وَالْحُمَيْدِيُّ يَحْتَجُّونَ بِحَدِيثِهِ.
وَحَدِيثُهُ هَذَا عَلَّقَهُ أَبُو عَبْد اللَّهِ الْبُخَارِي فِي صَحِيحِهِ، فَقَالَ: وَيَذْكُرُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، سَمِعْتُ النَّبِي صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " يَحْشُرُ اللَّهُ الْعِبَادَ، فَيُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مِنْ بُعْدِ، كَمَا يَسْمَعُهُ مِنْ قُرْبٍ: أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الدَّيَّانُ ".
هكذا خرجه فِي كتاب التوحيد من الصحيح، وأشار إِلَيْهِ فِي كتاب العلم من الصحيح معلقا بصيغة الجزم، فَقَالَ: ورحل جَابِر بْن عَبْد اللَّهِ رضي الله عنهما، مسيرة شَهْر إِلَى عَبْد اللَّهِ بْن أنيس رضي الله عنه فِي حَدِيث واحد.
وَأَمَّا مَا قَالَ الْوَلِيد بْن مُسْلِم: حَدَّثَنَا دَاوُد بْن عَبْد الرحمن الْمَكِّي، عَنِ الْقَاسِم بْن عَبْد الْوَاحِد الْمَكِّي، عَنْ عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بْن عقيل، عَنْ جَابِر رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سمعت حَدِيثا فِي القصاص، لَمْ يبق أحد يحفظه إلا رجل بمصر، يقال لَهُ: عَبْد اللَّهِ بْن أَبِي أنيسة،
ইমাম বুখারী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আহমাদ, ইসহাক এবং হুমাইদী তাঁর হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করতেন।
আর তাঁর এই হাদীসটি আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেছেন: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ বান্দাদেরকে সমবেত করবেন, অতঃপর তাদেরকে এমন এক আওয়াযে ডাকবেন যা দূর থেকে যেমন শোনা যাবে, তেমনি নিকট থেকেও শোনা যাবে: 'আমিই বাদশাহ, আমিই প্রতিদানদাতা'।"
এভাবেই তিনি একে সহীহ গ্রন্থের তাওহীদ অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন এবং সহীহ গ্রন্থের ইলম অধ্যায়ে দৃঢ়তার সাথে মুআল্লাক হিসেবে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন: আর জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) মাত্র একটি হাদীসের জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইসের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অভিমুখে এক মাসের পথ সফর করেছিলেন।
আর ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম যা বলেছেন: দাউদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাক্কী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, কাসেম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্কী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি কিসাস সংক্রান্ত একটি হাদীস শুনেছিলাম, যা মিশরের একজন ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ মুখস্থ রাখেনি, যাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু উনাইসা বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
وذكر الحَدِيث بِنَحْوِهِ.
فهذا غَيْر محفوظ، والمشهور الأَوَّل
قَرَأْتُ عَلَى أُمِّ مُحَمَّدٍ بِنْتُ الْقَاضِي الأَيُّوبِيَّةِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ التَّنُوخِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مُنِيرٍ الْقَوَّاسِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا، وَأَنَا حَاضِرَةٌ، قَالا: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا بَرَكَاتُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنِيهِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَلِيٍّ الأَزَجِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَرْبِيُّ، حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ بِلالٍ الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ الْبُخَارِيُ، حَدَّثَنَا بُحَيْرُ بْنُ النَّضْرِ، حَدَّثَنَا عِيسَى غُنْجَارٌ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الصُّبْحِ، عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ أَبِي جَارُودٍ الْعَبْسِيِّ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: بَلَغَنِي حَدِيثٌ فِي الْقِصَاصِ، وَكَانَ صَاحِبُ الْحَدِيثِ بِمِصْرَ، فَاشْتَرَيْتُ بَعِيرًا، وَشَدَدْتُ عَلَيْهِ رَحْلا، ثُمَّ سِرْتُ شَهْرًا، حَتَّى وَرَدْتُ مِصْرَ، فَسَأَلْتُ عَنْ صَاحِبِ الحَدِيثِ، فَدُلِلْتُ عَلَيْهِ، فَإِذَا هُوَ بَابٌ لاطٌّ، فَقَرَعْتُ الْبَابَ، فَخَرَجَ إِلَيَّ مَمْلُوكٌ لَهُ أَسْوَدُ، فَقُلْتُ هَاهُنَا أَبُو فُلانٍ؟ فَسَكَتَ عَنِّي، فَدَخَلَ، فَقَالَ لِمَوْلاهُ: بِالْبَابِ أَعْرَابِيٌّ يَطْلُبُكَ ".
এবং তিনি হাদীসটি একইভাবে উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং এটি সংরক্ষিত (মাহফুজ) নয়, এবং প্রথমটিই প্রসিদ্ধ।
আমি উম্মু মুহাম্মদ বিনতে আল-কাদী আল-আইয়ুবীয়ার নিকট পাঠ করেছি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহীম আত-তানূখী এবং মুহাম্মদ বিন মুনীর আল-কাওয়াস—আমি উপস্থিত থাকাকালীন তাঁদের নিকট পাঠের মাধ্যমে—তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বারাকাত বিন ইবরাহীম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আলী আল-হাফিয, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আযীয বিন আলী আল-আযাজী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন উমার বিন মুহাম্মদ আল-হারবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামিদ বিন বিলাল আল-বুখারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুকরী আল-বুখারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বুহায়র বিন আন-নাদর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা গুনজার, তিনি উমার বিন আস-সুবহ থেকে, তিনি মুকাতিল বিন হাইয়ান থেকে, তিনি আবু জারূদ আল-আবিসী থেকে বর্ণনা করেন যে, জাবির বিন আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: কিসাস (প্রতিশোধ) সংক্রান্ত একটি হাদীস আমার নিকট পৌঁছেছিল, আর সেই হাদীসের বর্ণনাকারী মিসরে অবস্থান করছিলেন। তাই আমি একটি উট কিনলাম এবং তার পিঠে হাওদা বাঁধলাম, অতঃপর এক মাস পথ চলে আমি মিসরে পৌঁছলাম। আমি হাদীসটির বর্ণনাকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমাকে তাঁর সন্ধান দেওয়া হলো। সেখানে গিয়ে দেখলাম একটি সংলগ্ন দরজা, তাই আমি দরজায় করাঘাত করলাম। তখন তাঁর এক কৃষ্ণাঙ্গ দাস আমার কাছে বেরিয়ে এল। আমি বললাম, “এখানে কি আবু অমুক আছেন?” সে আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে ভিতরে চলে গেল এবং তার মনিবকে বলল, “দরজায় একজন গ্রাম্য আরব আপনাকে খুঁজছে।”
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২১৬)
فَقَالَ: اذْهَبْ فَقُلْ لَهُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَقُلْتُ: أَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَخَرَجَ إِلَيَّ فَرَحَّبَ بِي، وَأَخَذَ بِيَدِي، قُلْتُ: حَدِيثٌ فِي الْقِصَاصِ لا أَعْلَمُ أَحَدًا مِمَّن بَقِيَ أَحْفَظَ لَهُ مِنْكَ.
فَقَالَ: أَجَلْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " إِنَّ
اللَّهَ تَعَالَى يَبْعَثَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلا، وَهُوَ تَعَالَى عَلَى عَرْشِهِ يُنَادِي بِصَوْتٍ لَهُ رَفِيعٍ غَيْرِ فَظِيعٍ، يُسْمِعُ الْبَعِيدَ، كَمَا يُسْمِعُ الْقَرِيبَ، يَقُولُ: أَنَا الدَّيَّانُ لا ظُلْمَ عِنْدِي، وَعِزَّتِي لا يَتَجَاوَزُنِي الْيَوْمَ ظُلْمُ ظَالِمٍ، وَلَوْ لَطْمَةٌ، وَلَوْ ضَرْبَةُ يَدٍ عَلَى يَدٍ، وَلأَقْتَصَّنَّ لِلْجَمَّاءِ مِنَ الْقَرْنَاءِ، وَلأَسْأَلَنَّ الْحَجَرَ لِمَ نَكِبَ الْحَجَرَ، وَلأَسْأَلَنَّ الْعُودَ لِمَ خَدَشَ صَاحِبَهُ، فِي ذَلِكَ أَنْزَلَ عَلَيَّ فِي كِتَابِهِ: {وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا} [الأنبياء: 47] "
ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ
أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي مِنْ بَعْدِي عَمَلُ قَوْمِ لُوطٍ، أَلا فَلْتَرْتَقِبْ أُمتِي الْعَذَابَ إِذَا تَكَافَئَ الرَّجُلُ بِالرَّجُلِ وَالنِّسَاءُ بِالنِّسَاءِ» ، هَذَا أوهى طرق هَذَا الحَدِيث، وآفته من عُمَر بْن صبح بْن عمران التميمي الخراساني، ذاك الكذاب أحد الوضاعين، وإن كَانَ عِيسَى بْن موسى غنجار، ومقاتل بْن حيان تكلم فيهما، فحالهما لا تحتمل هَذَا، والله تَعَالَى أعلم.
তিনি বললেন: যাও, তাকে জিজ্ঞাসা করো: তুমি কে? আমি বললাম: আমি জাবির বিন আবদুল্লাহ, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথী। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আমার কাছে বেরিয়ে এলেন এবং আমাকে স্বাগত জানালেন ও আমার হাত ধরলেন। আমি বললাম: কিসাস (প্রতিশোধ) সংক্রান্ত একটি হাদিস রয়েছে, যা অবশিষ্টদের মধ্যে আপনার চেয়ে বেশি মুখস্থ রাখেন এমন কাউকে আমি জানি না।
অতঃপর তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই
মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে খালি পায়ে, উলঙ্গ ও খাতনাবিহীন অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন এবং তিনি তাঁর আরশের উপর থেকে উচ্চস্বরে কিন্তু ভীতিপ্রদ নয় এমন স্বরে আহ্বান করবেন, যা দূরের ব্যক্তি যেমন শুনবে কাছের ব্যক্তিও তেমন শুনবে। তিনি বলবেন: আমিই বিচারক (আদ-দাইয়ান), আমার নিকট কোনো জুলুম নেই। আমার সম্মানের শপথ! আজ কোনো জালিমের জুলুমই আমার নিকট থেকে পার পাবে না, এমনকি যদি তা একটি চপেটাঘাতও হয়, কিংবা হাতের ওপর হাতের একটি আঘাতও হয়। আর আমি অবশ্যই শিংহীন পশুকে শিংযুক্ত পশু থেকে প্রতিশোধ পাইয়ে দেব, এমনকি পাথরকে জিজ্ঞাসা করব কেন সে অন্য পাথরকে আহত করল এবং ডালকে জিজ্ঞাসা করব কেন সে তার সঙ্গীকে আঁচড় কাটল। সেই বিষয়ে আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমার নিকট অবতীর্ণ করেছেন: {আর আমি কিয়ামতের দিন ইনসাফের পাল্লা স্থাপন করব, সুতরাং কারও প্রতি সামান্যতমও জুলুম করা হবে না} [আল-আম্বিয়া: ৪৭]।"
অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই
আমার পরে আমার উম্মতের ওপর যা আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই তা হলো লূত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের কাজ। সাবধান! আমার উম্মত যেন আজাবের অপেক্ষা করে যখন পুরুষ পুরুষের জন্য এবং নারী নারীর জন্য যথেষ্ট মনে করবে (অর্থাৎ সমকামিতায় লিপ্ত হবে)।" এটি এই হাদিসের সবচেয়ে দুর্বলতম সূত্র, এর ত্রুটি হলো উমর বিন সুবহ বিন ইমরান আত-তামিমি আল-خুরাসানি, সে একজন চরম মিথ্যাবাদী এবং হাদিস জালকারীদের অন্যতম। যদিও ঈসা বিন মুসা গুঞ্জার এবং মুকাতিল বিন হাইয়ান সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে, তবে তাদের অবস্থা এমন নয় (যে তারা এমনটি করবেন)। আর আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২১৭)
وجاء أَن الرجل الَّذِي رحل إِلَيْهِ جَابِر هُوَ عقبة بْن عامر الجهني رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: وَذَلِكَ فيما أنبأني بِهِ أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْن عَبْد اللَّهِ الْحَافِظ، أَخْبَرَنَا الْقَاسِم بْن المظفر الدمشقي، سَمَاعًا، فِي سنة اثنتين وعشرين وسبع مائة، أَن محمود بْن إِبْرَاهِيم العبدي أنبأه، أَخْبَرَنَا مَسْعُود بْن الْحَسَن، سَمَاعًا، أَخْبَرَنَا أَحْمَد بْن عَلِي السلامي، إجازة، أخبرني أَبُو عَلِي عَبْد الرحمن بْن مُحَمَّد بْن أَحْمَد بْن فضالة الْحَافِظ النيسابوري بالري، أَخْبَرَنَا عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد السمذي النيسابوري، حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بْن مُسْلِم الجوربذي، حَدَّثَنَا نصر بْن مرزوق أَبُو الفتح الْمِصْرِي، سمعت عَمْرو بْن أَبِي سلمة، يَقُول: قُلْت للأوزاعي، أنا ألزمك منذ أربعة أَيَّام، وَلَمْ أسمع منك إلا ثلاثين حَدِيثا.
قَالَ: وتستقل ثلاثين حَدِيثا فِي أربعة أَيَّام، لَقَدْ سار جَابِر بْن عَبْد اللَّه رضي الله عنهما إِلَى مصر، واشترى راحلة وركبها حَتَّى سأل عقبة بْن عامر، عَنْ حَدِيث واحد وانصرف، وأنت تستقل ثلاثين حَدِيثا فِي أربعة أَيَّام.
وَرَوَى هَذَا أَبُو عُثْمَان إِسْمَاعِيل بْن عَبْد الرحمن بْن أَحْمَد الصابوني
এটি বর্ণিত হয়েছে যে, জাবির যার কাছে সফর করেছিলেন তিনি ছিলেন উকবা বিন আমির আল-জুহানি (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)। এটি সেই তথ্যের অন্তর্ভুক্ত যা আমাকে আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয সংবাদ দিয়েছেন, আল-কাসিম বিন আল-মুযাফফর আদ-দিমাশকি আমাদের সাতশ বাইশ হিজরি সালে শ্রবণ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যে, মাহমুদ বিন ইবরাহিম আল-আবদি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, মাসউদ বিন আল-হাসান আমাদের শ্রবণ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন আলি আস-সালামি অনুমতির মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলি আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ফাযালা আল-হাফিয আন-নাইসাবুরি রায় শহরে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস-সামযি আন-নাইসাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুসলিম আল-জাওরাবাযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাসর বিন মারযুক আবু আল-ফাতহ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আমর বিন আবু সালামাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি ইমাম আওযায়িকে বললাম, 'আমি চার দিন যাবৎ আপনার সাথে রয়েছি, অথচ আপনার নিকট থেকে মাত্র ত্রিশটি হাদিস শ্রবণ করেছি'।"
তিনি বললেন: "তুমি চার দিনে ত্রিশটি হাদিসকে সামান্য মনে করছো? জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি মাত্র হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য একটি সাওয়ারি ক্রয় করেছিলেন এবং তাতে আরোহণ করে মিসর পর্যন্ত সফর করেছিলেন, অতঃপর তিনি ফিরে এসেছিলেন। আর তুমি চার দিনে ত্রিশটি হাদিসকে সামান্য মনে করছো!"
এটি আবু উসমান ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ আস-সাবূনী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২১৮)
النيسابوري، عَنْ أَبِي طاهر مُحَمَّد بْن الفضل بْن مُحَمَّد بْن إِسْحَاق بْن خزيمة السلمي، حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بْن مُسْلِم، فذكره.
والمعروف أَن الَّذِي رحل إِلَى عقبة بْن عامر أَبُو أيوب الأَنْصَارِي رضي الله عنهما
أَخْبَرَتْنَا بِذَلِكَ أُمُّ مُحَمَّدِ بِنْتُ الْمُلُوكِ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهَا، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ أَبِي الْيُسْرِ الدِّمَشْقِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْقَوَّاسِ، قِرَاءَةً عَلَيْهُمَا، وَأَنَا حَاضِرَةٌ، قَالا: أَخْبَرَنَا التَّقِيُّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْيُسْرِ، أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَاهِرٍ، أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ الأَكْفَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْبَغْدَادِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، سَمِعْتُ أَبَا سَعْدٍ الأَعْمَى يُحَدِّثُ، عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ، قَالَ: خَرَجَ أَبُو أَيُّوبَ إِلَى عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَهُوَ بِمِصْرَ، فَسَأَلَهُ عَنْ حَدِيثٍ سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا قَدِمَ أَتَى مَنْزِلَ مَسْلَمَةُ بْنُ مَخْلَدٍ الأَنْصَارِيُّ وَهُوَ أَمِيرُ مِصْرَ، فَأُخْبِرَ بِهِ فَعَجَلَ فَخَرَجَ إِلَيْهِ فَعَانَقَهُ، فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكَ يَا أَبَا أَيُّوبَ؟ قَالَ: حَدِيثٌ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَبْقَ أَحَدٌ سَمِعَهُ غَيْرِي، وَغَيْركَ فِي سَتْرِ الْمُؤْمِنِ.
قَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَنْ سَتَرَ مُؤْمِنًا فِي الدُّنْيَا عَلَى خِزْيِهِ، سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ، فَقَالَ لَهُ أَبُو أيوب: صدقت،
নিসাবুরি, আবু তাহির মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমা আস-সুলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুসলিম, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
আর এটি সুপরিচিত যে, যিনি উকবা বিন আমিরের কাছে সফর করেছিলেন তিনি হলেন আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রাদিআল্লাহু আনহুমা)।
উম্মু মুহাম্মদ বিনতুল মুলুক আমাদের এ সম্পর্কে অবহিত করেছেন, তাঁর সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে; আবু মুহাম্মদ ইবন আবিল ইউসর আদ-দিমাশকি এবং মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবনুল কাওয়াস আমাদের অবহিত করেছেন, তাঁদের সামনে পাঠের মাধ্যমে, যখন আমি উপস্থিত ছিলাম; তাঁরা উভয়ে বলেন: তাকি ইসমাঈল ইবন আবিল ইউসর আমাদের অবহিত করেছেন, আবু তাহির বিন ইব্রাহিম বিন তাহির আমাদের অবহিত করেছেন, হাফেজ আবু মুহাম্মদ ইবনুল আকফানি আমাদের অবহিত করেছেন, আবু বকর আহমাদ বিন আলী আল-বাগদাদি আমাদের অবহিত করেছেন, আবু নুআইম আল-হাফেজ আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আমাদের বর্ণনা করেছেন, বিশর বিন মুসা আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-হুমাইদি আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইবন জুরাইজ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমি আবু সাদ আল-আমা-কে আতা বিন আবি রাবাহ-র নিকট বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু আইয়ুব (রাদিআল্লাহু আনহু) উকবা বিন আমিরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন যখন তিনি মিসরে ছিলেন। তিনি তাঁকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য গিয়েছিলেন যা তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছিলেন। যখন তিনি পৌঁছালেন, তখন তিনি মাসলামা বিন মাখলাদ আল-আনসারীর বাসভবনে এলেন, যিনি তখন মিসরের আমির ছিলেন। তাঁর (আবু আইয়ুবের) আগমন সংবাদ তাঁকে দেওয়া হলে তিনি দ্রুত বেরিয়ে এসে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন। তিনি বললেন: হে আবু আইয়ুব, আপনাকে কিসে নিয়ে এল? তিনি বললেন: একটি হাদিস যা আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি এবং মুমিনের দোষ গোপন রাখা প্রসঙ্গে আমি ও আপনি ছাড়া তা শ্রবণকারী আর কেউ অবশিষ্ট নেই।
তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুমিনের লজ্জাজনক কাজ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন», তখন আবু আইয়ুব তাঁকে বললেন: আপনি সত্য বলেছেন,
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২১৯)
ثُمَّ انصرف أَبُو أيوب إِلَى راحلته فركبها راجعا إِلَى الْمَدِينَة، فَمَا أدركته جائزة مسلمة بْن مخلد إلا بعريش مصر.
أَبُو سَعْد الأعمى هُوَ الْمَكِّي لا يعرف اسمه، ذكره الذهبي فِي الضعفاء فِي ميزانه، لكنه لَمْ يتكلم فِيهِ بجرح ولا تعديل
والحَدِيث عِنْدَ جَعْفَر الخلدي،
حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنِي مُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ، أَنَّ رَجُلا مِنَ الأَنْصَارِ رَكِبَ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، وَهُوَ بِمِصْرَ حَتَّى لَقِيِهُ، فَقَالَ لَهُ: أَنْتَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«مَنْ سَتَرَ مُؤْمِنًا فِي الدُّنْيَا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَكَبَّرَ الأَنْصَارِيُّ، وَحَمِدَ اللَّهَ ثُمَّ انْصَرَفَ
অতঃপর আবু আইয়ুব তাঁর সওয়ারির দিকে ফিরে গেলেন এবং তাতে আরোহণ করে মদীনার দিকে ফিরে চললেন। মাসলামা বিন মুখাল্লাদের প্রেরিত উপহার তাঁকে মিশরের আরিশ নামক স্থানের আগে নাগাল পায়নি।
আবু সাদ আল-আমা হলেন মক্কী, তাঁর নাম জানা যায় না। আয-যাহাবী তাঁর 'মীযান' গ্রন্থে দুর্বল বর্ণনাকারীদের তালিকায় তাঁকে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা (জারহ) কিংবা নির্ভরযোগ্যতা (তাদীল) বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এবং হাদিসটি জাফর আল-খুলদী’র নিকট সংরক্ষিত আছে।
আমাদের নিকট আবু আলী বিশর ইবনে মুসা আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুসলিম ইবনে ইয়াসার বর্ণনা করেছেন যে, আনসারদের জনৈক ব্যক্তি মদীনা থেকে উকবা ইবনে আমিরের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সওয়ারি চালিয়ে মিশরে আসলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন: আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে:
«যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন»? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আনসারী ব্যক্তি তাকবীর দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর প্রস্থান করলেন।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২২০)
قَالَ الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى أَبُو هَاشِمٍ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ إِلَى مِصْرَ، فَقَالَ لِحَاجِبِ أَمِيرِهَا قُلْ لِلأَمِيرِ يَخْرُجُ إِلَيَّ.
فَقَالَ الْحَاجِبُ: مَا قَالَ لَنَا أَحَدٌ مُنْذُ نَزَلْنَا هَذَا الْبَلَدِ غَيْرُكَ، إِنَّمَا كَانَ يُقَالُ: اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى الأَمِيرِ، قَالَ: ايتِهِ فَقُلْ لَهُ: هَذَا فُلانٌ بِالْبَابِ، فَخَرَجَ إِلَيْهِ الأَمِيرُ، فَقَالَ: إِنَّمَا أَتَيْتُكَ أَسْأَلُكَ عَنْ حَدِيثٍ وَاحِدٍ فِيمَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ مُسْلِمٍ.
হারিস ইবনে আবু উসামা বলেন: কাসীর ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে বুরকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আবু হাশিম আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনার অধিবাসীদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি মিশরে এলেন। অতঃপর তিনি আমীরের দ্বাররক্ষীকে বললেন, "আমীরকে বলো তিনি যেন আমার নিকট বেরিয়ে আসেন।"
দ্বাররক্ষী বলল, "আমরা যখন থেকে এই শহরে এসেছি তখন থেকে আপনি ব্যতীত আর কেউ আমাদের এমন কথা বলেনি; বরং সবসময় এভাবেই বলা হতো যে, 'আমাদের জন্য আমীরের নিকট প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করুন'।" তিনি বললেন, "তার নিকট যাও এবং বলো যে, অমুক ব্যক্তি দরজায় উপস্থিত।" অতঃপর আমীর তার নিকট বেরিয়ে এলেন। তিনি বললেন, "আমি কেবল আপনার নিকট একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি, যা কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন করা সম্পর্কিত।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২২১)
قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ:
«مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ مُسْلِمٍ فَكَأَنَّمَا أَحْيَا مَوْءُدَةً» .هَذَا الأَمِيرُ هُوَ مَسْلَمَةُ بْنُ مَخْلَدِ بْنِ الصَّامِتِ الْخَزْرَجِيُّ السَّاعِدِيُّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
قَالَ مَعْنُ بْنُ عِيسَى: أنا مَالِكٌ أَنَّ رَجُلا خَرَجَ إِلَى مَسْلَمَةَ بْنِ مَخْلَدِ بْنِ الصَّامِتِ بِمِصْرَ فِي حَدِيثٍ سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের গোপনীয়তা রক্ষা করল (দোষ গোপন করল), সে যেন জীবন্ত প্রোথিত কোনো কন্যাসন্তানকে পুনর্জীবিত করল»।এই আমির হলেন মাসলামাহ বিন মাখলাদ বিন আস-সামিত আল-খাজরাজি আস-সাঈদি আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
মান বিন ঈসা বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি মিশরে মাসলামাহ বিন মাখলাদ বিন আস-সামিতের নিকট রওনা হলেন এমন এক হাদিসের জন্য যা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২২৩)
أَخْبَرَتْنَا الشَّيْخَةُ الصَّالِحَةُ أُمُّ مُحَمَّدِ بِنْتُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُنِيرِ بْنِ سُلَيْمَانَ الذَّهَبِيُّ، وَعَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الدِّمَشْقِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهُمَا، وَأَنَا شَاهِدَةٌ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّنُوخِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ بَرَكَاتُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْخُشُوعِيُّ، أَخْبَرَنَا جَمَالُ الأُمَنَاءِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ أَبُو مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَرْبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ زِيَادٍ الْمُقْرِئُ النَّقَّاشُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ بِنَيْسَابُورَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلالٍ، ثنا جَعْفَرٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ: بَلَغَنِي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، حَدِيثٌ أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيَكْتُبُ لِعَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ بِالْحَسَنَةِ الْوَاحِدَةِ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ» ، فَحَجَجْتُ ذَلِكَ الْعَامَ، وَلَمْ أَكُنْ أُرِيدُ الْحَجَّ إِلا لِلِقَائِهِ فِي هَذَا الحَدِيثِ، فَأَتَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، فَقُلْتُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، بَلَغَنِي عَنْكَ حَدِيثٌ، فَحَجَجْتُ الْعَامَ، وَلَمْ أَكُنْ أُرِيدُ الْحَجَّ إِلا لأَلْقَاكَ.
قَالَ: فَمَا هُوَ؟ قُلْتُ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَيَكْتُبُ لِعَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ بِالْحَسَنَةِ الْوَاحِدَةِ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ» .
فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: لَيْسَ هَكَذَا، وَلَمْ يَحْفَظِ الَّذِي حَدَّثَكَ.
قَالَ أَبُو عُثْمَانَ: فَظَنَنْتُ أَنَّ الْحَدِيثَ قَدْ سَقَطَ.
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবতী শায়খা উম্মু মুহাম্মদ বিনতে মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুনির বিন সুলাইমান আদ-দাহাবি এবং আবদুর রহিম বিন ইবরাহিম বিন ইসমাইল আদ-দিমাশকি—তাঁদের উভয়ের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আর আমি উপস্থিত ছিলাম—তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ ইসমাইল বিন ইবরাহিম আত-তানুখি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির বারাকাত বিন ইবরাহিম আল-খুশুয়ি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জামালুল উমানা হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ আবু মুহাম্মদ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হারবি; তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন জিয়াদ আল-মুকরি আন-নাক্কাশ; তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন খুজাইমাহ নাইসাবুরে; তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন বিশর বিন হিলাল; তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জাফর; তিনি আলী বিন জায়েদ থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে বর্ণনা করেন, আবু উসমান বলেন: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে আমার নিকট একটি হাদিস পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার জন্য একটি নেকির বিনিময়ে দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন।" তাই আমি সেই বছর হজ করলাম, অথচ এই হাদিসটি সম্পর্কে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা ছাড়া হজের অন্য কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না। এরপর আমি আবু হুরায়রার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিকট আসলাম এবং বললাম: হে আবু হুরায়রা! আপনার পক্ষ থেকে আমার নিকট একটি হাদিস পৌঁছেছে, তাই আমি এই বছর হজ পালন করেছি; অথচ আপনার সাথে সাক্ষাৎ করা ছাড়া হজের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না।
তিনি বললেন: "সেটি কী?" আমি বললাম: "(হাদিসটি হলো) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার জন্য একটি নেকির বিনিময়ে দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন।"
তখন আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বললেন: "বিষয়টি এমন নয়; যে তোমাকে এটি বর্ণনা করেছে সে তা সঠিকভাবে মুখস্থ রাখতে পারেনি।"
আবু উসমান বলেন: "তখন আমি মনে করলাম যে হাদিসটি বোধহয় ভিত্তিহীন হয়ে গেল (বা বাদ পড়ে গেল)।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২২৪)
قَالَ: إِنَّمَا قُلْتُ: «إِنَّ اللَّهَ لَيُعْطِي عَبْدَهُ الْمُؤْمِنَ بِالْحَسَنَةِ الْوَاحِدَةِ أَلْفَيْ أَلْفِ حَسَنَةٍ» ، ثُمَّ قَالَ: أَوْ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى ذَلِكَ، قُلْتُ: كَيْفَ؟ قَالَ: " لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى، يَقُولُ: {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً} [البقرة: 245] ، وَالْكَثِيرَةُ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل أَكْثَرُ مِنْ أَلْفَيْ أَلْفِ، وَأَلْفَيْ أَلْفِ "
তিনি বললেন: আমি কেবল একথাই বলেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাকে একটি নেকির বিনিময়ে বিশ লক্ষ নেকি দান করেন», অতঃপর তিনি বললেন: এটি কি মহান আল্লাহর কিতাবে নেই? তা, আমি বললাম: কীভাবে? তিনি বললেন: "কেননা মহান আল্লাহ বলছেন: {কে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? ফলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন} [আল-বাকারাহ: ২৪৫], আর পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট 'বহুগুণ' হলো বিশ লক্ষ এবং বিশ লক্ষ থেকেও অধিক।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসুন ফী হাদীসি জাবির
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
وبالإسناد إِلَى أَبِي بَكْر الخطيب، قَالَ: أنشدني أَبُو عَلِي الْحَسَن بْن عَلِي بْن مُحَمَّد الوخشي بأصبهان، قَالَ: أنشدني أَبُو الفضل الْعَبَّاس بْن مُحَمَّد الخراساني:
رحلت أطلب أصل العلم مجتهدا … وزينة المرء فِي الدنيا الأحاديثلا يطلب العلم إلا بازل ذكر … وليس يبغضه إلا المخانيث
لا تعجبن بمال سوف تتركه
… فإنما هذه الدنيا مواريث
এবং আবূ বকর আল-খাতীব পর্যন্ত সনদের মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইসফাহানে আবূ আলী আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াখশি আমাকে কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবূ আল-ফজল আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল-খুরাসানী আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:
আমি জ্ঞানের মূল অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করে দেশভ্রমণ করেছি … আর দুনিয়াতে মানুষের সৌন্দর্য হলো হাদীসসমূহপরিশ্রমী পুরুষ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জ্ঞান অন্বেষণ করে না … আর হীন ব্যক্তিরাই কেবল একে ঘৃণা করে
তুমি এমন ধন-সম্পদ দেখে মুগ্ধ হয়ো না যা তুমি অচিরেই ছেড়ে যাবে
… কেননা এই দুনিয়া তো কেবলই উত্তরাধিকার