(খণ্ড: ১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: -)
سبيل الرشاد ط 2 القسم: كتب السنة
الكتاب: سبيل الرشاد، هَدْي محمد صلى الله عليه وسلم
جمعه وصنفه وشرحه: السيد أبو المعاطي النوري [ت 1401 هـ]- ومحمود محمد خليل - وآخرون
الطبعة: الثانية، 1441 هـ - 2020 مـ
[تنبيه: المطبوع ورقيا هو الإصدار الأول، أما هذا الإصدار الثاني فهو إلكتروني]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الأول 1442
সাবীলুর রাশাদ ২য় সংস্করণ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: সাবীলুর রাশাদ, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিদায়াত
সংগ্রহ, সংকলন ও ব্যাখ্যা করেছেন: আস-সাইয়্যিদ আবু আল-মাআতি আন-নূরী [মৃত্যু ১৪০১ হিজরী]- এবং মাহমুদ মুহাম্মদ খলীল - এবং অন্যান্যগণ
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪১ হিজরী - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
[সতর্কবার্তা: কাগজে মুদ্রিত সংস্করণটি হলো প্রথম প্রকাশনা, আর এই দ্বিতীয় সংস্করণটি হলো ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: سبيل الرشاد
هَدْي محمد صلى الله عليه وسلم
جمعه وصنفه وشرحه:
السيد أبو المعاطي النوري - ومحمود محمد خليل
وناسٌ آخرون جاهدوا في إخراجه بأموالهم وأنفسهم
الله يعلمهم
الطبعة الثانية 1441 هـ - 2020 مـ
গ্রন্থ: সাবিলুর রাশাদ
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিদায়াত
এটি সংগ্রহ, সংকলন এবং ব্যাখ্যা করেছেন:
সাইয়্যিদ আবু আল-মাআতি আন-নূরী - এবং মাহমুদ মুহাম্মাদ খালীল
এবং আরও অন্যান্য ব্যক্তি যারা তাদের সম্পদ ও শ্রমের মাধ্যমে এটি প্রকাশের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন
আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত
দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪৪১ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২)
-
تمهيدالحمد لله ربِّ العالمين، الرَّحمَن الرحيم، مالكِ يوم الدين، له الحمدُ في الأُولى والآخرة، ولهُ الحكمُ، وإِليه تُرجعون، أَشهد أَن لا إِلهَ إِلَّا الله، وحدَهُ لا شريكَ لهُ، وأَشهدُ أَن مُحَمدًا عبدُه ورسولُه، اللَّهم إياك نعبدُ، فاجعل عبادَتَنا خالصةً لك، مأجورةً منك، بعيدةً عن الرِّياء والشِّركِ، وإياكَ نستعينُ، فأَعِنَّا بمددك الذي لا حدَّ له، ولا تكِلنا إِلى أَنفسنا طرفةَ عينٍ، أَو إِلى بابِ غيرك، ولا تُذِلَّنا بالخضوعِ لسواك، وتقبل منا إِنَّك أَنت السميعُ العليمُ، وتجاوز عن ذنوبنا وتقصيرنا، وهذا حالُنا لا يخفى عليك، فاغفر يا غفور، وارحم يا رحيم، آمين.
اللَّهم، أَنت ربي،
وأَنا الضعيفُ الذي قَوَّيتَ، والجاهلُ الذي علمتَ، والكسيرُ الذي جبرتَ، والمريضُ الذي شفيتَ، والخائف الذي أَمَّنتَ، والغريبُ الذي آويتَ، والفقيرُ الذي أغنيتَ، والعاصي الذي سترتَ، والضالُّ الذي يرجو هدايتك، والمُسرف الذي يطمع في رحمتك.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁরই প্রশংসা, এবং তাঁরই একক কর্তৃত্ব, আর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ, আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি, অতএব আমাদের ইবাদতকে আপনার জন্য একনিষ্ঠ করুন, আপনার পক্ষ থেকে পুরস্কারযোগ্য করুন, এবং একে লোকদেখানো ও শিরক থেকে দূরে রাখুন। আমরা একমাত্র আপনারই সাহায্য চাই, অতএব আপনার অসীম সাহায্য দিয়ে আমাদের সাহায্য করুন, এবং পলকের জন্যও আমাদের নিজেদের ওপর অথবা আপনার ব্যতীত অন্য কারো ওপর ছেড়ে দেবেন না। আপনার পরিবর্তে অন্য কারো কাছে নতি স্বীকারের মাধ্যমে আমাদের লাঞ্ছিত করবেন না; আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। আমাদের পাপ ও ত্রুটিসমূহ মার্জনা করুন; এটিই আমাদের অবস্থা যা আপনার কাছে গোপন নয়, অতএব আপনি ক্ষমা করুন হে অতি ক্ষমাশীল, এবং দয়া করুন হে অতি দয়ালু। আমীন।
হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রতিপালক।
আর আমি সেই দুর্বল যাকে আপনি শক্তি দান করেছেন, সেই অজ্ঞ যাকে আপনি জ্ঞান দান করেছেন, সেই ভগ্নহৃদয় যাকে আপনি সান্ত্বনা দিয়েছেন, সেই অসুস্থ যাকে আপনি আরোগ্য দান করেছেন, সেই ভীত যাকে আপনি নিরাপত্তা দিয়েছেন, সেই প্রবাসী যাকে আপনি আশ্রয় দিয়েছেন, সেই দরিদ্র যাকে আপনি অভাবমুক্ত করেছেন, সেই পাপিষ্ঠ যার গুনাহ আপনি গোপন রেখেছেন, সেই পথভ্রষ্ট যে আপনার হেদায়েত কামনা করে, এবং সেই সীমালঙ্ঘনকারী যে আপনার রহমতের আকাঙ্ক্ষা করে।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ৩)
أما بعد؛
فَمِن نِعَم الله، عز وجل، التي لا تُحصى، أَن بعثَ إِلى خلقه خيرةَ خَلقهِ من الأَنبياءِ والمُرسَلينَ، ومِن أَعظمِ نِعَمِه، سبحانَه، علينا، أَن بعثَ فينا رسولًا مِنَّا، خَتم به الرُّسلَ والرسالةَ، وأَنزل عليه كتابًا، هو الفصلُ، ليس بالهزلِ، لا يأتيه الباطلُ من بين يديه ولا من خَلفهِ، فأَنزله اللهُ، عز وجل، على رسولِه صلى الله عليه وسلم قولًا ثقيلًا، لو نَزل على جبلٍ لخشعَ وتصدَّعَ، فنزل على قلب محمد النبي الأُمِّي الكريم صلى الله عليه وسلم، فحَمل الأَمانةَ، وصَدَعَ بما أُمِرَ، وبَلَّغ ما أُنزل إِليه من رَبِّهِ، ما زاد حرفًا، وما أَخفى حرفًا، ما ترك شيئًا يُقربنا منَ الجنة إِلَّا وأَمرنا به، وما تركَ شيئًا يُقربنا من النار إِلَّا ونَهانا عنه، فأُوذيَ وصَبَرَ، وقوتِلَ وغَفَرَ، وأُخرِجَ من بلدِه حتى جاءَهُ فتحُ الله وانتصرَ.
অতঃপর;
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর অগণিত নিয়ামতসমূহের অন্যতম হলো যে, তিনি তাঁর সৃষ্টির নিকট তাদের মধ্য থেকেই মনোনীত নবী ও রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। আর আমাদের প্রতি মহান পবিত্র আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতসমূহের অন্যতম হলো, তিনি আমাদের নিকট আমাদের মধ্য থেকেই এমন একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি রাসূলগণের আগমন ও রিসালাতের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা সত্য ও মিথ্যার মাঝে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী এবং যা মোটেও কোনো নিরর্থক বিষয় নয়; যার সম্মুখ বা পশ্চাৎ—কোনো দিক থেকেই বাতিল বা মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এটি এক গুরুভার বাণী হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন; যদি তা কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ হতো, তবে তা বিনীত হয়ে বিদীর্ণ হয়ে যেত। এটি সম্মানিত উম্মী নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি আমানত রক্ষা করেছেন, যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা স্পষ্টভাবে প্রচার করেছেন এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা কিছু তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিয়েছেন; তিনি তাতে একটি অক্ষরও বৃদ্ধি করেননি এবং একটি অক্ষরও গোপন করেননি। জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন কোনো কল্যাণকর বিষয় তিনি অবশিষ্ট রাখেননি যার আদেশ আমাদের দেননি, এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এমন কোনো অকল্যাণকর বিষয় তিনি ছাড়েননি যা থেকে আমাদের নিষেধ করেননি। তাঁকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন, তাঁর সাথে যুদ্ধ করা হয়েছে কিন্তু তিনি ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন এবং তাঁকে তাঁর নিজ দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে—যতক্ষণ না আল্লাহর বিজয় উপস্থিত হলো এবং তিনি জয়যুক্ত হলেন।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ৪)
ومع طول الأَمَدِ، وابتعادِ الناس عن عصر النُّبوَّة، تَبَدَّلَ كلُّ شيءٍ، أَو كادَ، فلم يَعد أَحدٌ يرد أمره إلى هذا النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، إِلَّا مَن رَحِمَ ربُّك
وهذا هو الدافع لجمع الحديث الصحيح ليرجع إليه الناس في أمورهم بعد كتاب الله العزيز.
* * *
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে এবং নবুওয়াতের যুগ থেকে মানুষের দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কারণে সবকিছুই পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে অথবা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে তোমার প্রতিপালক যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত আর কেউ তাদের বিষয়াবলি এই সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় না।
আর এটিই হলো সহীহ হাদীস সংকলনের মূল প্রেরণা, যাতে আল্লাহর মহাগ্রন্থের পর মানুষ তাদের বিষয়াদিতে এর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারে।
* * *
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم وتعريفبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حمدًا كثيرا طيبا مباركًا فيه
سبيل الرشاد هو كتابٌ يحاول أن يقول للناس:
اتَّبِعوا ما أنزله الله إليكم، وهو القرآن الكريم.
واتَّبِعوا من أرسله الله إليكم، وهو النبي الأمي الكريم محمد صلى الله عليه وسلم.
والِاتِّباع؛ هو السمع والطاعة لأي شيء، فأي إنسان، أو شهوة، أو هوى، تسمع له وتطيع، فأنت تابعٌ له وعبد.
وهذا الكتاب يحاول أن يأخذ بيدك لإنقاذك من طاعة أي إنسان، أو شهوة، أو هوى، لكي تكون تابعًا لمن أمرك الله باتباعه، بل وحذرك من اتباع غيره.
قال سبحانه: {المص * كِتَابٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ * اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ} الأعراف: (1: 3).
وقال سبحانه: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} الأعراف: (157).
فهناك كتابٌ كريم، أنزله ربٌّ كريم، على رسولٍ كريم.
ভূমিকা ও পরিচিতিপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা অগণিত, পবিত্র ও বরকতময়।
‘সাবীলুর রাশাদ’ (সঠিক পথের দিশা) এমন একটি বই যা মানুষকে একথাই বলতে চায়:
তোমাদের প্রতি আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তোমরা তার অনুসরণ করো, আর তা হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআন।
এবং আল্লাহ তোমাদের নিকট যাকে পাঠিয়েছেন তার অনুসরণ করো, আর তিনি হলেন উম্মী ও সম্মানিত নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
আর অনুসরণ হলো কোনো কিছুর কথা শোনা ও তার আনুগত্য করা; সুতরাং যে কোনো মানুষ, কুপ্রবৃত্তি বা লালসার কথা আপনি শোনেন ও তার আনুগত্য করেন, তবে আপনি তারই অনুসারী ও দাসে পরিণত হন।
আর এই বইটি আপনাকে যে কোনো মানুষের আনুগত্য, কুপ্রবৃত্তি বা লালসা থেকে উদ্ধার করতে আপনার হাত ধরতে চায়, যাতে আপনি কেবল তাঁরই অনুসারী হতে পারেন যার অনুসরণের আদেশ আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন, বরং তিনি অন্যের অনুসরণ করা থেকে আপনাকে সতর্ক করেছেন।
তিনি পবিত্র সত্তা বলেন: {আলিফ-লাম-মীম-সাদ। এটি একটি কিতাব যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে—সুতরাং তোমার মনে যেন এ নিয়ে কোনো সংকোচ না থাকে—যাতে তুমি এর দ্বারা সতর্ক করতে পারো এবং এটি মুমিনদের জন্য একটি উপদেশ। তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো।} আল-আ'রাফ: (১-৩)।
তিনি পবিত্র সত্তা আরও বলেন: {যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যে উম্মী নবী, যার উল্লেখ তারা তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; তিনি তাদেরকে সৎ কাজের নির্দেশ দেন ও অসৎ কাজে বাধা দেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে সেই বোঝা ও শৃঙ্খল সরিয়ে দেন যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।} আল-আ'রাফ: (১৫৭)।
সুতরাং এখানে রয়েছে এক সম্মানিত কিতাব, যা এক সম্মানিত রব নাযিল করেছেন এক সম্মানিত রাসূলের ওপর।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ৬)
وفي سطور الكتاب سترى مَشرِق النور شيئًا فشيئًا، فاقرأ.
أسأل الله تعالى أن يشرح صدري وصدرك للإسلام، وأسأله سبحانه أن يجعل لي ولك نورًا نمشي به في الناس.
{وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} النور: (40).
* * *
এই কিতাবের পঙ্ক্তিগুলোতে আপনি ধাপে ধাপে নূরের উদয়স্থল দেখতে পাবেন, অতএব পাঠ করুন।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার ও আপনার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মোচিত করে দেন এবং আমি তাঁর পবিত্র সত্তার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার ও আপনার জন্য এমন এক নূর দান করেন যার মাধ্যমে আমরা মানুষের মাঝে চলতে পারি।
“আর আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না, তার জন্য কোনো নূর নেই।” (আন-নূর: ৪০)।
* * *
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ৭)
-
قصة كتاب سبيل الرشادتعلمنا كيف نكفر بالطاغوت، بل بالطواغيت جميعها، وأَن نُؤمن بالله وحده، وأَن علامة هذا الإِيمان هي الاحتكام إِلى كتاب الله عز وجل، وإِلى هَدْي رسوله صلى الله عليه وسلم، وأَن لا نجد في أَنفسنا حرجًا من أَي حكم، أَو أَمر أَو نهي، ما دام ذلك صادرًا عن كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
من هنا؛ عندنا كتابُ الله، القرآن الكريم، لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، تكفل الله بحفظه، ويَسَّره بلسان محمد صلى الله عليه وسلم.
ولكن، وللحقيقة، تبقى مشكلةُ الأَحاديث المنسوبة إِلى النبي صلى الله عليه وسلم، وكثرتُها، حتى قَسَمها كُتَّاب المصطلح إِلى عشرات الأَنواع، حتى صرنا نسمع وراء كل قصة حديثًا من الأَحاديث، في الباذنجان، والبطيخ، والعدس، وأَبغض الحلال عند الله الطلاق، واختلاف أُمتي رحمة، لدرجة أَنه من بين كل أَلف حديث تسمعها، ربما تجد فيها أَربعةً صحاحًا! ! .
সাবিলুর রাশাদ কিতাবটির প্রেক্ষাপটআমরা শিখেছি কীভাবে তাগুতকে অস্বীকার করতে হয়, বরং সকল প্রকার তাগুতকেই; এবং কীভাবে কেবল এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে হয়। এই ঈমানের নিদর্শন হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনার কাছে বিচার ও ফয়সালা সমর্পণ করা। যতক্ষণ কোনো ফয়সালা, আদেশ বা নিষেধ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে উৎসারিত হবে, ততক্ষণ যেন আমরা আমাদের অন্তরে তা নিয়ে কোনো প্রকার দ্বিধা বা সঙ্কীর্ণতা অনুভব না করি।
এই প্রেক্ষাপটে আমাদের কাছে রয়েছে আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনুল কারীম, যার সম্মুখ বা পশ্চাৎ—কোনো দিক থেকেই মিথ্যা বা বাতিল আসতে পারে না। আল্লাহ নিজেই এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষার মাধ্যমে একে সহজবোধ্য করেছেন।
কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হাদীসসমূহের আধিক্যের সমস্যাটি এখনো বিদ্যমান। এমনকি হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষাবিদগণ সেগুলোকে কয়েক ডজন প্রকারে বিভক্ত করেছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, প্রতিটি প্রসঙ্গের পেছনেই কোনো না কোনো হাদীস শোনা যায়; যেমন—বেগুন, তরমুজ কিংবা মসুর ডাল সম্পর্কিত বর্ণনা, অথবা ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় হালাল হলো তালাক’, কিংবা ‘আমার উম্মতের মতপার্থক্য রহমত’—এই জাতীয় কথাবার্তা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আপনার শোনা প্রতি এক হাজার হাদীসের মধ্যে হয়তো মাত্র চারটি সহীহ হাদীস পাওয়া দুষ্কর! !
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومن هنا؛ كان البدء بالطريق الصعب، والعمل الشاق، والهدف هو الوصول إِلى الحديث الصحيح الثابت، المروي بنقل العالِم الأَمين الثقة العدل الحافظ.
لأَن الأَمر دينٌ، صلاة وصوم، زكاةٌ وحج، جنةٌ ونار، إيمان وكفر.
فلم يكن البحث هنا عن أَيَّة أَحاديث، ولا عن أَي نوع من الرواة
الله سبحانه يقول: {وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَنْ يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللهِ لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ * الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الأَلْبَابِ} الزُّمَر: (17 و 18).
وهنا، شعرتُ وإخواني، بمشقة الطريق، ووحشته، وقد قل فيه السائرون، وكثر حوله المشككون، والمثبطون، والذين تثاقلوا إِلى الأَرض.
ووفق الله تعالى بفضله ورحمته، ويسر الله تعالى بعطائه وكرمه، وبَصَّر بمدد من عنده، لم ينقطع، فإذا نحن على بداية الطريق، ونرى في آخره بداية الأَمل.
এখান থেকেই শুরু হয়েছিল কঠিন পথ এবং কঠোর পরিশ্রম; যার লক্ষ্য হলো সেই সহীহ ও সুসাব্যস্ত হাদিস পর্যন্ত পৌঁছানো, যা নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত, ন্যায়পরায়ণ এবং প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন আলেমের বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে।
কারণ বিষয়টি হলো দ্বীন—নামাজ ও রোজা, জাকাত ও হজ, জান্নাত ও জাহান্নাম, ইমান ও কুফর।
সুতরাং এখানে অনুসন্ধানটি কোনো সাধারণ হাদিসের ব্যাপারে ছিল না, আর না ছিল সাধারণ কোনো স্তরের বর্ণনাকারীর ব্যাপারে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: "আর যারা তাগুতকে বর্জন করে তার ইবাদত করা থেকে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয়, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দিন আমার সেই বান্দাদেরকে—যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। তারাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং তারাই বোধশক্তিসম্পন্ন।" সূরা যুমার: (১৭ ও ১৮)।
আর এখানে আমি ও আমার ভাইয়েরা এই পথের কাঠিন্য ও নিঃসঙ্গতা অনুভব করেছি, যেখানে পথচারীদের সংখ্যা কমে গিয়েছে এবং এর চারপাশে সংশয়বাদী, নিরুৎসাহকারী ও পার্থিব মোহে মগ্ন ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর আল্লাহ তায়ালা তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে তাওফিক দিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর দান ও বদান্যতায় বিষয়টিকে সহজ করে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা অবিচ্ছিন্ন সাহায্যের মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন; ফলে এখন আমরা এই পথের প্রারম্ভে উপনীত হয়েছি এবং এর শেষ প্রান্তে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ৯)
فمن أَجل الوقوف على معرفة صحة الحديث من ضعفه، كان يجب جمع طرق كل حديث.
وهناك؛ في هذه القرية الصغيرة، أَولاد صقر، من أَعمال محافظة الشرقية، في عام 1398 هـ، 1978 م، بدأَ العمل في جمع الأَسانيد، أَو ما صدر بعد ذلك باسم «المسند الجامع» وعندها لم يكن في تصورنا لا المسند، ولا الجامع، كل الذي كان أَمامنا، وما زال حتى الساعة، ونحن في عام (1441 هـ - 2020 م)، هو أَننا كفرنا بالطواغيت كلها، وعندنا كتاب الله، ويجب جمع طرق الأَحاديث، من أَجل تمحيصها، للوصول إِلى الحديث الصحيح، للعمل به، والدعوة إليه
হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি হাদীসের সনদ বা সূত্রসমূহ (তুরুক) সংগ্রহ করা আবশ্যক ছিল।
আর সেখানে, শারকিয়া প্রদেশের আওলাদ সাকর নামক এই ক্ষুদ্র পল্লীতে, ১৩৯৮ হিজরি মোতাবেক ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে সনদসমূহ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে 'আল-মুসনাদ আল-জামি' নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। সেই সময়ে আমাদের ভাবনায় 'মুসনাদ' কিংবা 'জামি' কোনোটিই ছিল না; বরং আমাদের সামনে যা ছিল—এবং বর্তমান ১৪৪১ হিজরি মোতাবেক ২০২০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যা বিদ্যমান রয়েছে—তা হলো আমরা সকল তাগুতকে অস্বীকার করেছি এবং আমাদের নিকট রয়েছে আল্লাহর কিতাব। আর সহীহ হাদীসে উপনীত হওয়ার জন্য হাদীসের সূত্রগুলো সংকলন করা আবশ্যক ছিল, যাতে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে সে অনুযায়ী আমল করা যায় এবং তার দাওয়াত প্রচার করা যায়।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১০)
وبدأَ العمل أَولا، في تلك القرية، من سنة 1978، وحتى سنة 1981، وفي هذه السنة سافرنا إِلى الأردن، على أَمل الانتقال منها إِلى العراق، ووصلنا إِلى العراق، وهناك فتح الله أَمامنا أَبواب النور، حيث آلاف المخطوطات، والكتب المطبوعة، والتي يسر الله لنا بفضله مفاتيحها، وعشنا هناك بنسائنا وأَولادنا، في أَمان تام، لا يعرف أَحدٌ عنا شيئا، إلا كبار المحققين العراقيين.
وانتهت بفضل الله تعالى المرحلة الأُولى، من الهدف الذي شعرنا أَن الله سبحانه قد حمَّلنا أَمانته، وصدر «المسند الجامع»
(1) في عشرين مجلدًا، وجمع أَسانيد الكتب التي التزم بجمعها، صحيحها وضعيفها.
وبدأَت عملية تمحيص وتدقيق هذا الكتاب، والذي يحتوي على عشرات الآلاف من الأَسانيد، وذلك للوصول إِلى الإصدار الأَول لكتاب «سبيل الرشاد»، والذي يحتوي على الأَحاديث الصحيحة فقط.
--------------------------------------------
সর্বপ্রথম সেই গ্রামে ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত কাজ শুরু হয়। সেই বছর আমরা জর্ডানে ভ্রমণ করি, সেখান থেকে ইরাকে যাওয়ার আশায়। আমরা ইরাকে পৌঁছালাম এবং সেখানে আল্লাহ আমাদের সামনে আলোর দুয়ার খুলে দিলেন, যেখানে রয়েছে হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত গ্রন্থ, যেগুলোর চাবিকাঠি আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। আমরা সেখানে আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পূর্ণ নিরাপত্তায় বসবাস করেছি, ইরাকের শীর্ষস্থানীয় গবেষকগণ ছাড়া আমাদের সম্পর্কে কেউ কিছু জানত না।
আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে সেই লক্ষ্যের প্রথম পর্যায় সমাপ্ত হলো, যেটির আমানত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের উপর অর্পণ করেছেন বলে আমরা অনুভব করেছিলাম। ২০ খণ্ডে «আল-মুসনাদ আল-জামি»
(১) প্রকাশিত হলো, এবং এটি সেই কিতাবগুলোর সনদসমূহ সংগ্রহ করেছে যা সংকলনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—এর সহিহ এবং জয়িফ উভয় প্রকারই।
অতঃপর এই কিতাবটি যাচাই-বাছাই ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু হলো, যাতে রয়েছে দশ হাজারেরও বেশি সনদ; আর তা করা হয়েছিল «সাবিলুর রাশাদ» কিতাবের প্রথম সংস্করণ প্রস্তুত করার জন্য, যা কেবল সহিহ হাদিসসমূহ ধারণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১১)
وتم عرض جميع أَسانيد «المسند الجامع» على أُمهات كتب رجال الحديث، لمعرفة الثقات والضعفاء، وبعد استخراج الأَحاديث الصحيحة فقط، أُعيد عرضها على كتب علل الحديث، وانتهى ذلك وتم، بمددٍ من العزيز الحكيم، وصدر كتاب «سبيل الرشاد» هَدْي محمد صلى الله عليه وسلم
(1).
فصار عندنا «المسند الجامع»، و «سبيل الرشاد».
وبدأَت المرحلة الثانية، وشاء الله أَن تكون في هذه القرية، التي عُدنا إليها من العراق عام (1990)
--------------------------------------------
'আল-মুসনাদ আল-জামি'-এর সকল সনদকে হাদিস শাস্ত্রের মৌলিক রিজাল গ্রন্থসমূহের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যাতে নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের পার্থক্য করা যায়। এবং শুধুমাত্র সহিহ হাদিসসমূহ গ্রহণ করার পর, সেগুলোকে পুনরায় 'ইল্লালুল হাদিস' (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সাথে যাচাই করা হয়েছে। মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্যে এই কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং 'সাবিলুর রাশাদ: হাদয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে
(১)।
এভাবে আমাদের নিকট 'আল-মুসনাদ আল-জামি' এবং 'সাবিলুর রাশাদ' সংকলিত হলো।
অতঃপর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হলো, এবং আল্লাহ চাইলেন যেন তা এই গ্রামেই সম্পাদিত হয়, যেখানে আমরা ১৯৯০ সালে ইরাক থেকে ফিরে এসেছিলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومع إخواني، وفي عام 1993، بدأَت رحلة «المُسند المُصَنَّف المُعَلَّل»، فأَضفنا على «المسند الجامع» كُتبًا جديدة، وقمنا، حسب الطاقة، بتفريغ كتب علل الحديث فيه، في الموضع المناسب، بل وقمنا بتخريج أَحاديثه من الكتب التي ليست من مصادر الكتاب.
ولأَننا في أَمس الحاجة إِلى المصادر الأُولى لرجال الحديث، مصادر القرون الثلاثة الأُولى، من أُصول علماء الحديث الأَوائل، الذين حملوا الحديث روايةً ودراية، فبجانب «المُسند المُصَنَّف المُعَلَّل» كان العمل يجري لإِخراج الكُتب التي تساعد في معرفة الرواة، للعمل بالصحيح الثابت، وترك الضعيف.
فكان أَن صدر لنا قبل، وأَثناء مرحلة العمل في «المُسند المُصَنَّف المُعَلَّل»:
1 ـ «الجامع في الجرح والتعديل»
(1)، لأَقوال البخاري، ومسلم، والعِجلي، وأَبي زُرعة الرازي، وأَبي داود، ويعقوب الفَسوي، وأَبي حاتم الرازي، والتِّرمِذي، وأَبي زُرعة الدِّمشقي، والنَّسائي، والبزار، والدَّارَقُطني.
--------------------------------------------
আমার ভাইদের সাথে নিয়ে ১৯৯৩ সালে 'আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল'-এর যাত্রা শুরু হয়। আমরা 'আল-মুসনাদ আল-জামি'-এর সাথে নতুন কিছু কিতাব যুক্ত করেছি। সাধ্যানুযায়ী ইলালুল হাদিসের কিতাবগুলো উপযুক্ত স্থানে এতে সন্নিবেশিত করেছি। এমনকি মূল কিতাবের উৎস নয় এমন গ্রন্থগুলো থেকেও এর হাদিসগুলোর তাখরিজ সম্পন্ন করেছি।
যেহেতু আমরা রিজাল শাস্ত্রের (হাদিস বর্ণনাকারীদের জীবনী) প্রাথমিক উৎসগুলোর—বিশেষত প্রথম তিন শতাব্দীর উৎসগুলো, যা সেই প্রারম্ভিক হাদিস বিশারদদের মূল কাজ থেকে সংগৃহীত যারা রিওয়ায়াত ও দিরায়াত উভয় দিক থেকে হাদিস সংরক্ষণ করেছিলেন—তীব্র মুখাপেক্ষী ছিলাম, তাই 'আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল'-এর পাশাপাশি রাবিদের পরিচয় জানার ক্ষেত্রে সহায়ক কিতাবগুলো প্রকাশের কাজও চলছিল, যাতে সহিহ ও সুসাব্যস্ত হাদিসের ওপর আমল করা যায় এবং দুর্বল হাদিস বর্জন করা যায়।
ফলে 'আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল'-এর কাজের পূর্বে এবং চলাকালীন আমাদের পক্ষ থেকে যা প্রকাশিত হয়েছিল:
১ ـ 'আল-জামি ফিল জারহি ওয়াত তাদিল'
(১), যা বুখারি, মুসলিম, ইজলি, আবু যুরআ আর-রাজি, আবু দাউদ, ইয়াকুব আল-ফাসাবি, আবু হাতিম আর-রাজি, তিরমিজি, আবু যুরআ আদ-দিমাশকি, নাসায়ি, বাজ্জার এবং আদ-দারা কুতনির উক্তি সম্বলিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2 ـ موسوعة أَقوال أَحمد بن حنبل في رجال الحديث وعلله
(1).
3 ـ موسوعة أَقوال أَبي الحسن الدارقطني في رجال الحديث وعلله
(2).
4 ـ موسوعة أَقوال يحيى بن مَعين في رجال الحديث وعلله
(3).
واستمر العمل في «المُسند المُصَنَّف المُعَلَّل»، على قواعد «المسند الجامع»، وذلك بَدءًا من سنة (1993)، قاطعًا الأَيامَ والليالي، جَمعًا، وتصنيفًا، وتحقيقًا، فما عرَضت لنا من عَقَبةٍ إلا ويسرها الله، وما وقف أَمامنا من صعب إلا وجعله الرحمن سهلًا، حتى بلغنا بلطفه وعونه سنة (2013)، وفي الشهر الثالث منها، كنا على موعدٍ مع السطر الأَخير من «المُسند المُصَنَّف المُعَلَّل»
(4)، والذي وقع في أَربعين مجلدًا، وذلك تقدير العزيز العليم.
--------------------------------------------
২ ـ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ইলমুর রিজাল এবং হাদিসের ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ক উক্তি সংকলন
(১)।
৩ ـ আবুল হাসান আদ-দারা কুতনীর ইলমুর রিজাল এবং হাদিসের ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ক উক্তি সংকলন
(২)।
৪ ـ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের ইলমুর রিজাল এবং হাদিসের ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ক উক্তি সংকলন
(৩)।
এবং 'আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল' এর কাজ 'আল-মুসনাদ আল-জামি' এর মূলনীতির ভিত্তিতে ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হয়ে দিন-রাত এক করে সংগ্রহ, বিন্যাস এবং তাহকিকের মাধ্যমে অব্যাহত ছিল। আমাদের সামনে যে বাধাই আসত, আল্লাহ তা সহজ করে দিতেন এবং যে কঠিন বিষয়ই আমাদের সামনে দাঁড়াত, দয়াময় (রাহমান) তা সহজ করে দিতেন। পরিশেষে তাঁর অনুগ্রহ ও সাহায্যে আমরা ২০১৩ সালে পৌঁছালাম এবং এর তৃতীয় মাসে আমরা 'আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল' এর শেষ লাইনের মুখোমুখি হলাম
(৪), যা চল্লিশটি খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে; আর এটি মহা পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولم، ولن يكون الهدف، هو مجرد التأليف، وجمع الأَحاديث للعمل على كثرة المجلدات، بل هي النِّية الأُولى التي بدأَ بها العمل منذ عشرات السنين:
جمع الأَحاديث، للوقوف على مجموع طُرُق كل حديث، وعرضها على كتب الرجال والعلل، والقصد: الوصول إِلى الحديث الصحيح، للعمل به، والدعوة إليه
وكما فعلنا بعد صدور «المسند الجامع»، وخرج «سبيل الرشاد» بطبعته الأُولى، جرى العمل مع «المُسند المُصَنَّف المُعَلَّل»، بتدقيق أَسانيده، ومراجعة علله، وبذلنا في ذلك ما وفقنا الله إِلى بذله، ليكون بين يديك الآن «سبيل الرشاد» بطبعته الثانية
উদ্দেশ্য কেবল গ্রন্থ রচনা এবং খণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাদীস সংগ্রহ করা ছিল না এবং কখনও হবেও না; বরং এটিই ছিল সেই আদি সংকল্প যার মাধ্যমে কয়েক দশক পূর্বে কাজ শুরু করা হয়েছিল:
হাদীসসমূহ সংগ্রহ করা, যাতে প্রতিটি হাদীসের সমস্ত সূত্রের ওপর সম্যক ধারণা লাভ করা যায় এবং সেগুলোকে রিজাল ও ইলাল শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির নিরিখে যাচাই করা যায়; আর এর লক্ষ্য হলো: সহীহ হাদীস পর্যন্ত পৌঁছানো, যাতে সে অনুযায়ী আমল করা যায় এবং সেদিকে দাওয়াত দেওয়া যায়।
আর যেভাবে আমরা ‘আল-মুসনাদ আল-জামি’ প্রকাশের পর করেছিলাম এবং ‘সাবীলুর রাশাদ’-এর প্রথম সংস্করণ বের হয়েছিল, সেভাবেই ‘আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল’-এর সনদসমূহের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও এর ইলালসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের যতটুকু তাওফীক দিয়েছেন আমরা তাতে সেই শ্রম ব্যয় করেছি, যাতে এখন আপনার সামনে ‘সাবীলুর রাশাদ’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ পেশ করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هنا حديث محمد صلى الله عليه وسلم، فهنا: سمعنا وأَطعنا.
وسوف ترى حديثه هو النور في جميع ما يتصل بعلاقتك برب العالمين، وستدرك حتمًا بأَنه صلى الله عليه وسلم، ما ترك من خيرٍ إلا وهدى إليه، وأَمر به، وما ترك من شر إِلا وحَذَّر منه، ونهى عنه.
فقد تحدث إليك النبي صلى الله عليه وسلم هنا، في أَبواب: الإيمان، والقَدَر، والطهارة، والصلاة، والجنائز، والزكاة، والصيام، والحج، والنكاح، والطلاق، والعتق، والبيوع والمعاملات، واللقطة، والمزارعة، والوصايا، والفرائض، والهبة، والعُمرى، والأَيمان، والنذور، والحدود والديات، والأَقضية، والأطعمة، والأشربة، واللباس والزينة، والصيد والذبائح، والأَضاحي، والطب والمرض، والأَدب، والذكر والدعاء، والتوبة، والرؤيا، والقرآن، والسنة، والعلم، والجهاد، والإمارة، والمناقب، والزهد والرقائق، والفتن، وأَشراط الساعة، والقيامة والجنة والنار.
এখানে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস রয়েছে; সুতরাং এখানে আমাদের নীতি হলো: আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম।
আপনি দেখতে পাবেন যে, রব্বুল আলামীনের সাথে আপনার সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে তাঁর হাদীসই হলো আলো। আর আপনি অবশ্যই উপলব্ধি করবেন যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোনো কল্যাণই অবশিষ্ট রাখেননি যার দিকে তিনি পথপ্রদর্শন করেননি এবং যার নির্দেশ দেননি; আর এমন কোনো অনিষ্টই অবশিষ্ট রাখেননি যা থেকে তিনি সতর্ক করেননি এবং যা নিষেধ করেননি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে আপনার সাথে কথা বলেছেন এই অধ্যায়গুলোতে: ঈমান, তাকদীর, পবিত্রতা, সালাত, জানাযা, যাকাত, সিয়াম, হজ, বিবাহ, তালাক, দাসমুক্তি, ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেন, কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, বর্গা চাষ, অসিয়ত, মিরাস, দান, আজীবন দান, শপথ, মানত, দণ্ডবিধি ও রক্তপণ, বিচারব্যবস্থা, খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, পোশাক ও অলঙ্কার, শিকার ও জবাই, কুরবানি, চিকিৎসা ও ব্যাধি, শিষ্টাচার, যিকর ও দুআ, তাওবা, স্বপ্ন, কুরআন, সুন্নাহ, জ্ঞান, জিহাদ, নেতৃত্ব, গুণাবলি, দুনিয়াবিমুখতা ও হৃদয়স্পর্শী আলোচনা, ফিতনা, কিয়ামতের আলামত এবং কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وراعينا في ترتيب الأَحاديث الواردة في الكتاب الواحد، ما راعاه البخاري ومسلم، وغيرهما من علماء الحديث، في ترتيب طريقة سرد الأَحاديث، فأَحاديث الصلاة مثلًا، روعي في ترتيبها بأَن تبدأَ بفضائل الصلاة، ثم المواقيت، ثم الأَذان، ثم ما يُصلى عليه وإليه، ثم التكبير، وهكذا، وروعي في كتاب المناقب، البدء بمناقب الأَنبياء، صلى الله عليهم جميعًا وسلم، ثم مناقب النبي صلى الله عليه وسلم، ثم مناقب الصحابة، بدءًا بخيرهم، وخليفة نبيهم، وثاني اثنين، أَبي بكر، ثم عمر، ثم عثمان، ثم علي، ثم رتبنا باقي الصحابة رضوان الله عليهم جميعًا بعدهم على حروف الأَلف باء.
وسترى عقب الأحاديث شرحا مختصرا لمعاني الكلمات التي صارت صعبة لابتعادنا عن لغتنا العربية، لكنها في الأَساس من أَيسر كلمات اللغة.
وسترى في حواشي الكتاب، تخريجات أَحاديثه في أمهات الكتب.
আমরা প্রতিটি অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ হাদিস বর্ণনার পদ্ধতিতে যা অনুসরণ করেছেন, তা-ই অনুসরণ করেছি। উদাহরণস্বরূপ, সালাত অধ্যায়ের হাদিসগুলোর বিন্যাসে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যেন তা সালাতের ফজিলত দিয়ে শুরু হয়, এরপর সালাতের ওয়াক্তসমূহ, এরপর আজান, এরপর যার ওপর এবং যার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা হয়, এরপর তাকবির—এভাবে পর্যায়ক্রমে আসে। আর মর্যাদা (মানাকিব) অধ্যায়ে আমরা সকল নবীগণের (তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) মর্যাদা বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করার বিষয়টি লক্ষ্য রেখেছি, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা, এরপর সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা; যা শুরু হয়েছে তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি, তাঁদের নবীর খলিফা এবং গুহার সেই দুইজনের দ্বিতীয়জন আবু বকর-এর মাধ্যমে, এরপর উমর, এরপর উসমান, এরপর আলী। এরপর অবশিষ্ট সাহাবীগণকে (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমরা তাঁদের পরে বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছি।
হাদিসগুলোর শেষে আপনি এমন শব্দগুলোর অর্থের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেখতে পাবেন যা আমাদের আরবি ভাষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে কঠিন মনে হয়, যদিও মূলত সেগুলো ভাষার অত্যন্ত সহজ শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
আর আপনি কিতাবটির পাদটিকাগুলোতে মূল উৎসগ্রন্থসমূহ হতে হাদিসগুলোর তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ) দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هذا «سبيل الرشاد»، فيه الصحيح من الأَسانيد التي نَقَلَت حديثَ محمد صلى الله عليه وسلم، فخذها، واجعل من عينيك لها سكنًا، ومن أذنيك لها السمع، ومن جوارحك لها الطاعة، ومن قلبك لها مستقرًا ومقامًا.
هذا هو الصحيح من حديث النبي والرسول والشاهد والمبشر والنذير، محمد صَلى الله عَليه وسَلم
এটি ‘সাবেলুর রাশাদ’, এতে রয়েছে সেই সকল সহিহ সনদ যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণনা করেছে। সুতরাং আপনি একে গ্রহণ করুন এবং একে আপনার চোখের আবাস, আপনার কানের শ্রবণস্থল, আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আনুগত্যের পাথেয় এবং আপনার অন্তরের বিশ্রামস্থল ও অবস্থানে পরিণত করুন।
এটিই হলো নবী, রাসূল, সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের সহিহ বর্ণনা।
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وصدق رب العالمين؛
{رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} النساء: (165).
السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته.
السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين.
* * *
এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক সত্যই বলেছেন;
{সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলগণকে (প্রেরণ করা হয়েছে), যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} নিসা: (১৬৫)।
হে নবী! আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
* * *
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المجلد الأول
بسم الله الرحمن الرحيم
سبيل الرشاد
هدي محمد صلى الله عليه وسلم
الحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، له الحمد في الأُولى والآخرة، وله الحُكم وإليه تُرجعون، أنعم علينا بنعمة الإسلام فأكمله، وتفضل علينا بهذه النعمة فأتمها، فله الشكر على أن رَضي لنا الإسلام دينًا، ثم تفضل وتَكَرَّم، فأجزل من عطائه وأَنْعَم، فاختار محمدًا صلى الله عليه وسلم من بين خلقه جميعًا، ليكون خاتَمَ النبيين، وآخِرَ من يحمل رسالةً من ربه إلى الناس أجمعين، قال له: {اقْرَأْ} وهو النبي الأُمي، فأنزل عليه الكتاب والحكمة، وعَلَّمه ما لم يكن يعلم، وكان فضل الله عليه عظيمًا.
حمل الرسالةَ فبَلَّغَها، وتلقى الأمانة فأَداها، أمرنا بالمعروف، ونهانا عن المنكر، وأحل لنا الطيبات، وحَرَّم علينا الخبائث، وأوجب الله تعالى طاعته، وحذرنا من مخالفة أمره، أو الاحتكام إلى سواه.
فصلى الله وسلم وبارك عليه، وعلى آله وصحبه، كبيرِهم وصغيرهم، أولهم وآخرهم، وعلى التابعين له صلى الله عليه وسلم بإحسان إلى يومٍ يقوم الناس فيه لرب العالمين.
* * *
প্রথম খণ্ড
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
সঠিক পথ
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়েত
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অজস্র, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। দুনিয়া ও আখেরাতে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই, সমস্ত বিধান কেবল তাঁরই এবং তাঁর কাছেই তোমরা ফিরে যাবে। তিনি আমাদের ইসলাম নামক নেয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন এবং তা পূর্ণ করেছেন, আমাদের ওপর এই নেয়ামতের অনুগ্রহ করেছেন এবং একে পরিপূর্ণ করেছেন। সুতরাং তাঁরই শোকর যে, তিনি আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। অতপর তিনি অনুগ্রহ ও মেহেরবানি করেছেন, তাঁর দানকে বিশাল করেছেন এবং নেয়ামত দান করেছেন। ফলে তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টির মধ্য থেকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মনোনীত করেছেন, যাতে তিনি নবীগণের মোহর এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে সমস্ত মানুষের নিকট রিসালাত বহনকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হতে পারেন। তিনি তাঁকে বললেন: {পাঠ করুন}, অথচ তিনি ছিলেন উম্মী নবী। এরপর তিনি তাঁর ওপর কিতাব ও হিকমত নাযিল করলেন এবং তাঁকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দিলেন যা তিনি জানতেন না। আর তাঁর ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল অতি মহান।
তিনি রিসালাতের দায়িত্ব বহন করেছেন এবং তা পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত গ্রহণ করেছেন এবং তা আদায় করেছেন। তিনি আমাদের সৎকাজের আদেশ দিয়েছেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, আমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেছেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর আনুগত্যকে আমাদের ওপর আবশ্যক করেছেন এবং তাঁর নির্দেশের অবাধ্যতা করা অথবা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো কাছে বিচারপ্রার্থী হওয়া থেকে আমাদের সতর্ক করেছেন।
অতএব আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর—তাঁদের বড় ও ছোটদের ওপর, তাঁদের প্রথম ও শেষ সবার ওপর, এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁর অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
* * *
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২০)
بسم الله الرحمن الرحيم
حديث الاستفتاحهناك أحاديث عند عملية التصنيف والترتيب تذهب إلى مواضعها دون عناء أو جُهد، فالحديث من موضوعه تراه يذهب للوضوء، وآخر للصيام، وثالث للجهاد، وفي المقابل هناك أحاديث لابد أن توضع في عدة أبواب من أبواب العلم، مثل حديث: «بُني الإسلام على خمس»، فهذا يوضع في الإيمان والصلاة والزكاة والصيام والحج، وهناك أحاديث يجب أن توضع في كل باب من أبواب العلم والعمل، فهي الأساس الذي يُبنى عليه العمل، ومن هذه الأحاديث حديث: «إنما الأعمال بالنيات»، فقد جمع الأعمالَ كلها.
• قال عبد الرَّحمَن بن مهدي: ينبغي أن يُوضع هذا الحديث في كل باب. «جامع التِّرمِذي» (1647).
• وقال محمد بن إسماعيل البُخاري، صاحب «الصحيح»: الأعمال بالنية، والحِسبة، ولكل امرئٍ ما نوى، فدخل فيه الإيمان، والوضوء، والصلاة، والزكاة، والحج، والصوم، والأحكام. «صحيح البُخاري» (54).
ومن هنا رأينا أن نستفتح كتابنا هذا بهذا الحديث الطيب، وقد سبق أن جعله البُخاري يرحمه الله الحديث الأول في «صحيحه»، فعلى بركة الله.
* * *
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
সূচনামূলক হাদীসবিন্যাস ও শ্রেণীবিন্যাস প্রক্রিয়ার সময় এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা কোনো প্রকার শ্রম বা কষ্ট ছাড়াই নিজ নিজ স্থানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ফলে হাদীসটি তার বিষয়বস্তুর কারণে আপনি তাকে অযুর অধ্যায়ে, অন্যটিকে সিয়ামের অধ্যায়ে এবং তৃতীয়টিকে জিহাদের অধ্যায়ে যেতে দেখবেন। এর বিপরীতে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা ইলমের একাধিক অধ্যায়ে রাখা আবশ্যক, যেমন: ‘ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত’—এই হাদীসটি। ফলে এটি ঈমান, সালাত, যাকাত, সিয়াম ও হজ—সব কটি অধ্যায়ই রাখা হয়। আবার এমন কিছু হাদীস আছে যা ইলম ও আমলের প্রতিটি অধ্যায়ে রাখা আবশ্যক; কারণ এগুলো এমন ভিত্তি যার ওপর আমল নির্মিত হয়। আর এ জাতীয় হাদীসসমূহের একটি হলো: ‘নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’। কেননা এটি সমস্ত আমলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
• আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: এই হাদীসটি প্রতিটি অধ্যায়ে রাখা উচিত। "জামে তিরমিযী" (১৬৪৭)।
• ‘সহীহ’ গ্রন্থকার মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী বলেন: আমল নিয়ত ও সওয়াবের আশার ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। ফলে ঈমান, অযু, সালাত, যাকাত, হজ, সিয়াম ও বিধানাবলি এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। "সহীহ বুখারী" (৫৪)।
এখান থেকেই আমরা আমাদের এই গ্রন্থটি এই বরকতময় হাদীসের মাধ্যমে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিপূর্বে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) এটিকে তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে প্রথম হাদীস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অতএব আল্লাহর বরকতের ওপর ভরসা করে (শুরু করছি)।
* * *
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২১)
1 - عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَى الْمِنْبَرِ يُخْبِرُ بِذَلِكَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
«إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»
(1).
• وفي رواية
(2): «الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم»
(3).
--------------------------------------------
১ - আলকামা ইবন ওয়াক্কাস আল-লায়সী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে»
(১).
• এবং অন্য এক বর্ণনায়
(২): «আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে। আর যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে»
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২২)
1 ـ كتاب الإيمان
১ - ঈমান অধ্যায়
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২৩)
2 - عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ:
«كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: الْإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكِتَابِهِ، وَلِقَائِهِ، وَرُسُلِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الْآخِرِ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: الْإِسْلَامُ أَنْ تَعْبُدَ اللهَ، لَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا: إِذَا وَلَدَتِ الْأَمَةُ رَبَّهَا، فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا، وَإِذَا كَانَتِ الْعُرَاةُ الْحُفَاةُ الْجُفَاءُ رُؤُوسَ النَّاسِ، فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا، وَإِذَا تَطَاوَلَ رِعَاءُ الْبَهْمِ فِي الْبُنْيَانِ، فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا، فِي خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللهُ، ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الْآيَةَ: {إِنَّ اللهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ}، ثُمَّ أَدْبَرَ الرَّجُلُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: رُدُّوا عَلَيَّ الرَّجُلَ، فَأَخَذُوا لِيَرُدُّوهُ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا، فَقَالَ: هَذَا جِبْرِيلُ، عليه السلام، جَاءَ لِيُعَلِّمَ النَّاسَ دِينَهُمْ»
(1).
--------------------------------------------
২ - আবু যুরআ বিন আমর বিন জারীর থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কী? তিনি বললেন: ঈমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবের প্রতি, তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং তুমি বিশ্বাস করবে শেষ পুনরুত্থানের প্রতি। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: ইসলাম হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরয সালাত কায়েম করবে, নির্ধারিত যাকাত প্রদান করবে এবং রমযানের রোযা রাখবে। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইহসান কী? তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর এমনভাবে ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: যাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞাত নন, তবে আমি তোমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলব: যখন দাসী তার প্রভুকে প্রসব করবে, তা এর আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যখন উলঙ্গ, পদব্রজ ও অজ্ঞ লোকেরা মানুষের নেতা হবে, তা এর আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর যখন মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে, তাও এর আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কিয়ামতের জ্ঞান পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} এরপর লোকটি চলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। তারা তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য গেল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন: ইনি ছিলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, তিনি মানুষকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন»
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২৪)
3 - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ:
«بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ، إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ، شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلَامِ؟ قَالَ: أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، قَالَ: صَدَقْتَ، فَعَجِبْنَا أَنَّهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، ثُمَّ قَالَ: أَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ؟ قَالَ: أَنْ تُؤْمِنَ بِالله، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الآخِرِ، وَالْقَدَرِ كُلِّهِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ؟ قَالَ: أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ؟ قَالَ: مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ بِهَا مِنَ السَّائِلِ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَن أَمَارَاتِهَا؟ قَالَ: أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ، رِعَاءَ الشَّاءِ، يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ، قَالَ عُمَرُ: فَلَبِثْتُ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: يَا عُمَرُ، هَلْ تَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟ قُلْتُ: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ، عليه السلام، أَتَاكُمْ لِيُعَلِّمَكُمْ أَمْرَ دِينِكُمْ»
(1).
--------------------------------------------
৩ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন:
«একদিন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম, এমন সময় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন, যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং মাথার চুল ছিল ভীষণ কালো। তাঁর মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাঁকে চিনতেন না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাতের তালু নিজের দুই উরুর ওপর রাখলেন। তারপর বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ করা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তাঁর বিষয়ে আমরা বিস্মিত হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছেন। এরপর তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু জানেন না। তিনি বললেন: আমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে এবং তুমি দেখবে বস্ত্রহীন, নগ্নপদ, অভাবী মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে। উমর বলেন: এরপর আমি তিন দিন অতিবাহিত করলাম। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: হে উমর, তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন জিবরীল (আলাইহিস সালাম), তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীনের বিষয় শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।»
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২৫)
4 - عَنْ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الأَصْبَحِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللهِ يَقُولُ:
«جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ، ثَائِرَ الرَّأْسِ، يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ، وَلَا يُفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا، فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ، قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ؟ قَالَ: لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ، قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامَ شَهْرِ رَمَضَانَ، قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟ قَالَ: لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ، قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الصَّدَقَةَ، قَالَ: فَهَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: لَا، إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ، فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ: وَاللهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا، وَلَا أَنْقُصُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ»
(1).
• وفي رواية
(2): «عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيدِ اللهِ؛ أَنَّ أَعْرَابيًّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَائِرَ الرَّأْسِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَخْبِرْنِي مَاذَا فَرَضَ اللهُ عز وجل عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ؟ قَالَ: الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ شَيْئًا، قَالَ: أَخْبِرْنِي بِمَا افْتَرَضَ اللهُ عَلَيَّ مِنَ الصِّيَامِ؟ قَالَ: صِيَامَ شَهْرِ رَمَضَانَ، إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ شَيْئًا، قَالَ: أَخْبِرْني بِمَا افْتَرَضَ اللهُ عَلَيَّ مِنَ الزَّكَاةِ؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِشَرَائِعِ الإِسْلَامِ، فَقَالَ: وَالَّذِي أَكْرَمَكَ، لَا أَتَطَوَّعُ شَيْئًا ولَا أَنْقُصُ مِمَّا فَرَضَ اللهُ عَلَيَّ شَيْئًا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ، أَوْ دَخَلَ الْجَنَّةَ إِنْ صَدَقَ»
(3).
--------------------------------------------
৪ - মালিক ইবনে আবি আমির আল-আসবাহি থেকে বর্ণিত যে, তিনি তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন:
«নজদবাসীদের মধ্য থেকে উস্কোখুস্কো চুলে এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলেন। তার কণ্ঠের গুনগুন শব্দ শোনা যাচ্ছিল কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা বোঝা যাচ্ছিল না, যতক্ষণ না তিনি নিকটবর্তী হলেন। দেখা গেল তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কিছু (ফরজ) আছে? তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু আদায় করো। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট রমজান মাসের রোজা সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু আদায় করো। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট সদকা (যাকাত) সম্পর্কেও আলোচনা করলেন। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু আদায় করো। তখন লোকটি প্রস্থান করলেন এই বলতে বলতে যে: আল্লাহর কসম, আমি এর চেয়ে বাড়াব না এবং কমাব না। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে যদি সত্য বলে থাকে তবে সে সফল হবে।»
(১).
• এবং এক বর্ণনায়
(২): «তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণিত; জনৈক বেদুঈন উস্কোখুস্কো চুলে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমার ওপর সালাতের মধ্য থেকে কী ফরজ করেছেন তা আমাকে জানান। তিনি বললেন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু আদায় করো। তিনি বললেন: আল্লাহ আমার ওপর রোজা থেকে কী ফরজ করেছেন তা আমাকে জানান। তিনি বললেন: রমজান মাসের রোজা, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু আদায় করো। তিনি বললেন: আল্লাহ আমার ওপর যাকাত থেকে কী ফরজ করেছেন তা আমাকে জানান। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে অবহিত করলেন। তখন তিনি বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন, আমি নফল হিসেবে কিছুই করব না এবং আল্লাহ আমার ওপর যা ফরজ করেছেন তা থেকেও কিছুই কম করব না। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে যদি সত্য বলে থাকে তবে সফল হবে, অথবা (বলেছেন) সে যদি সত্য বলে থাকে তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।»
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২৬)
5 - عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ:
«إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ لَمَّا قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مِمَّنِ الْوَفْدُ، أَوْ قَالَ: الْقَوْمُ؟ قَالُوا: رَبِيعَةَ، قَالَ: مَرْحَبًا بِالْوَفْدِ، أَوْ قَالَ: الْقَوْمِ، غَيْرَ خَزَايَا، وَلَا نَدَامَى، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، أَتَيْنَاكَ مِنْ شُقَّةٍ بَعِيدَةٍ، وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ، وَلَسْنَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيَكَ إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ، فَأَخْبِرْنَا بِأَمْرٍ نَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ، وَنُخْبِرُ بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا، وَسَأَلُوهُ عَنْ أَشْرِبَةٍ، فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ، وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ، أَمَرَهُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللهِ، قَالَ: أَتَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللهِ؟ قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَأَنْ تُعْطُوا الْخُمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ، وَنَهَاهُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ، وَالْحَنْتَمِ، وَالنَّقِيرِ، وَالْمُزَفَّتِ، (قَالَ: وَرُبَّمَا قَالَ: وَالْمُقَيَّرِ)، قَالَ: احْفَظُوهُنَّ، وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ»
(1).
• وفي رواية
(2): «عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنهما، قَالَ: قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّا مِنْ هَذَا الْحَيِّ مِنْ رَبِيعَةَ، قَدْ حَالَتْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضَرَ، فَلَسْنَا نَخْلُصُ إِلَيْكَ إِلَّا فِي كُلِّ شَهْرٍ حَرَامٍ، فَلَوْ أَمَرْتَنَا بِأَمْرٍ نَأْخُذُهُ عَنْكَ، وَنُبَلِّغُهُ مَنْ وَرَاءَنَا، قَالَ: آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ، وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: الْإِيمَانِ بِاللهِ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَأَنْ تُؤَدُّوا إِلَى اللهِ خُمُسَ مَا غَنِمْتُمْ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ، وَالْحَنْتَمِ، وَالنَّقِيرِ، وَالْمُزَفَّتِ»
(3).
--------------------------------------------
৫ - আবু জামরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি:
«আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তিনি বললেন: তোমরা কোন প্রতিনিধি দল? অথবা তিনি বললেন: কোন সম্প্রদায়? তারা বলল: রাবিআহ। তিনি বললেন: মারহাবা (স্বাগতম) এই প্রতিনিধি দলকে—অথবা বললেন: এই সম্প্রদায়কে—যারা লাঞ্ছিত ও অনুতপ্ত না হয়েই এসেছে। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার নিকট অনেক দূর পথ অতিক্রম করে এসেছি, আর আমাদের ও আপনার মাঝে কাফির মুযার গোত্রের এই জনপদটি অবস্থিত। আমরা নিষিদ্ধ মাসগুলো ছাড়া আপনার নিকট আসতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু কাজের আদেশ দিন যা পালন করলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব এবং আমাদের পেছনে যারা রয়ে গেছে তাদেরও আমরা তা জানাতে পারব। তারা তাঁকে পানীয় সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাদের চারটি জিনিসের আদেশ দিলেন এবং চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করলেন। তিনি তাদের আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আদেশ দিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি জান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তারা বলল: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা। আর তিনি তাদের লাউয়ের খোল, সবুজ কলস, খেজুর গাছের গুঁড়ি খোদাই করা পাত্র এবং আলকাতরা মাখানো পাত্র থেকে নিষেধ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন: কখনও তিনি 'মুকাইয়ার' (আলকাতরা মাখানো পাত্র)-এর কথাও বলতেন)। তিনি বললেন: তোমরা এগুলো মুখস্থ রেখো এবং তোমাদের পেছনে যারা আছে তাদের এগুলো জানিয়ে দিও»
(১)।
• এবং অন্য এক বর্ণনায়
(২): «আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা রাবিআহ গোত্রের এই জনপদ থেকে এসেছি। আমাদের ও আপনার মাঝে মুযার গোত্রের কাফিররা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আমরা নিষিদ্ধ মাসগুলো ছাড়া আপনার কাছে পৌঁছাতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু বিষয়ের নির্দেশ দিন যা আমরা আপনার কাছ থেকে গ্রহণ করব এবং আমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের কাছে পৌঁছে দেব। তিনি বললেন: আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা—তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং তোমরা যা গনীমত হিসেবে লাভ করো তা থেকে এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করা। আর আমি তোমাদের লাউয়ের খোল, সবুজ কলস, খেজুর গাছের গুঁড়ি খোদাই করা পাত্র এবং আলকাতরা মাখানো পাত্র ব্যবহার করা থেকে নিষেধ করছি»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২৭)
6 - عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ؛
«أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا بَعَثَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ إِلَى الْيَمَنِ، قَالَ: إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ، فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ عز وجل افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، فَإِنْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ، وَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ، فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ، وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ، فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللهِ عز وجل حِجَابٌ»
(1).
--------------------------------------------
6 - আবু মাবাদ থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন;
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজ ইবনে জাবালকে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ, সুতরাং তুমি তাদের এই সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এই কথা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা এটিও মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর তাদের সম্পদে সদকা (যাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া (বণ্টন করা) হবে। যদি তারা এটিও মেনে নেয়, তবে তুমি তাদের উত্তম সম্পদসমূহ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কেননা তার এবং আল্লাহ তায়ালার মধ্যে কোনো পর্দা নেই»
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২৮)
7 - عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ: أَلَا تَغْزُو؟ قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
«إِنَّ الْإِسْلَامَ بُنِيَ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَصِيَامِ رَمَضَانَ، وَحَجِّ الْبَيْتِ»
(1).
--------------------------------------------
৭ - ইকরিমাহ ইবনে খালিদ আল-মাখযুমি থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে বললেন: আপনি কি জিহাদে অংশ নেবেন না? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«নিশ্চয়ই ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং বায়তুল্লাহর হজ করা»
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২১)
সাবীলুর রাশাদ ত ২
(পৃষ্ঠা: ২৯)
8 - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
«بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ»
(1).
--------------------------------------------
৮ - মুহাম্মাদ ইবন যাইদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
«ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হাজ্জ সম্পাদন করা এবং রমযানের সিয়াম পালন করা।»
(১)।
--------------------------------------------